A Bridge too far

Image

প্রথম কিস্তি
দ্বিমতের  অবকাশ নেই, বাংলাদেশীরা জাতি হিসেবে homogenous ! শ্যামলা গায়ের রঙ, উচ্চতা মাঝারী, চেহারা তেমন sharp নয়, চুল কালো। গড়ে শারীরিক অবয়বটা অনেকটা এরকম। সাধারনত  কমন জেনেটিক মেকআপ এর জন্যই এমনটি হয়।  আমি অনেকদিন ধরেই এ জাতির মানসিক দিকটি নিয়ে ভাবছি।  বিদেশী কিছু সার্ভেতে দেখা গেছে- এরা খুব সুখী। অত্যন্ত আনন্দের কথা। দারিদ্র, উষ্ণ জলবায়ু, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ট্রাফিক জ্যাম, দুর্নীতি, বিশাল জনগোষ্ঠী ইত্যাদি সমস্যার পরেও এ জাতি কেন সুখী? আসলেই কি সুখী?  চাহিদা কম ?  জেনেটিক মেকআপের কথা আগেই বলেছি। জেনেটিক মেকআপ শুধু শারীরিক অবয়ব নির্ধারণ করে না, মানসিকতাও প্রভাবিত করে! এমনও  জিন ( Anger gene) আবিষ্কার হয়েছে, যার একটু “এদিক ওদিক” (gene mutation ) শুধু মাত্র রাগী মানুষদের শরীরে পাওয়া যায়।  কিছু gene mutation  হয়তো কাউকে করে অতিরিক্ত অভিমানী!
আচ্ছা, বাংলাদেশীদের কিছু exclusive  gene mutation তো হতেই পারে! একারণেই বোধ হয়, কেউ কেউ আমরা গাড়ি ভাঙ্গি, রাস্তাঘাটে গালি  গালাজ করি, কথা বেশি বলি, এবং এত সমস্যার পরেও নিজেদের সুখী ভাবি। আমরা কিছুটা পরশ্রীকাতরও  ( আমার জানামতে, পরশ্রীকাতরতার কোনো ইংরেজি নেই, শব্দটি একেবারেই বাঙালী জাতির উদ্ভাবন, এরকম আরেকটি শব্দ হলো অভিমান) ! সব সময় আবেগের তুঙ্গে অবস্থান আমাদের! আবার রানা প্লাজা ধসে পড়ে যখন, এ জাতির মানুষেরাই দিগ্বিদিক ভুলে ঝাপিয়ে পড়ে উদ্ধার কাজে, জীবনের তোয়াক্কা না করে! আমি ভাবছিলাম বাংলাদেশীদের  জেনেটিক মেকআপ নিয়ে। এদের জিনের “এদিক ওদিক” গুলো কেমন? কেন হলো? কিভাবে হলো? কবে হলো?
একটু পিছনে যাই।
১৯৪৪ এর মাঝামাঝি সময়কার কথা বলছি। মিত্র বাহিনী এলো ইউরোপে- উদ্দেশ্য- নাজি বাহিনীকে একটা শিক্ষা দিতে হবে ! মিত্র বাহিনীর  “অপারেশান মার্কেট গার্ডেন”; লক্ষ্য- হল্যান্ডে রাইন নদীর উপরে একটি সেতু ছিল, তার নিয়ন্ত্রন নেওয়া ( A bridge too far ছবিতে এই ঘটনাটিরই বর্ণনা আছে). স্থানীয় ডাচরাও অংশ নিল সেই বিদ্রোহে। কিন্তু, চরম পরাজয় হোল মিত্র বাহিনীর, সেই সাথে, ভয়াবহ শাস্তি পেল স্থানীয় ডাচরা। তাদের খাদ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নিল নাজি বাহিনী। প্রাপ্তবয়স্কদের রেশন নেমে হোল ৫৮০ ক্যালরি/দিন যা কিনা একজন প্রাপ্তবয়স্কের প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন ক্যালরির চার ভাগের মাত্র এক ভাগ। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস, সে বছরে শীতও পড়ল প্রচণ্ড। ফলে খাবারের ঘাটতি রুপ নিলো  ভয়ংকর । এরি পরিণতি- ১৯৪৪এর সেই বিখ্যাত ডাচ দুর্ভিক্ষ। কিন্তু, গল্পের শেষ এখানে নয়।
কম খেতে পাওয়ায় গর্ভবতী মেয়েরা জন্ম দিলো অস্বাভাবিক ছোট আকারের শিশুর। তবে অদ্ভুত ঘটনাটার শুরু আরও পরে, ৬০ এর দশকে। ৪০এর দশকে জন্ম নেওয়া ছোট মেয়েশিশুগুলো যখন বড় হোল, ৬০এর দশকে জন্ম দিলো সন্তানের, এই সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুগুলো হোল স্বাভাবিকের থেকে ছোট আকারের!  আবার এই শিশুগুলো বড় হয়ে ৮০র দশকে জন্ম দিলো সেই একই রকম ছোট আকারের শিশুর।
কেন এমন হোল? পাঠক, ৪৪ এর সেই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ডাচ গর্ভবতী নারীর গর্ভের সন্তানের DNA তে স্থায়ী পরিবর্তন (gene mutation ) এনেছিল, শুধু তাই নয়, ৪০এর দশকের সেই দুর্ভিক্ষের অভিশাপ ৪০ বছর ধরে বয়ে নিয়ে গেলো এরা, প্রজন্মের পর প্রজন্মে।
“এক্স-ফাইলস” এর মতো শোনাচ্ছে?  ডানা স্কালি কি উত্তর দেবেন, জানেন? “এর ব্যাখ্যা আর কিছুই নয়ঃ-  “epigenetics /এপিজেনেটিক্স”।
এপি একটি গ্রীক শব্দ যার অর্থ “কাছাকাছি/নিকট”। আর জেনেটিক্স এর অর্থ তো আমরা কমবেশি সকলেই জানি, সহজ বাংলায় এটা হোল এমন একটি বিদ্যা, যা প্রানীর হেরেডিটি এবং উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে আলোচনা করে। জেনেটিক্স এর আসল মজাই হোল DNA তে। তাহলে, এপিজেনেটিক্স DNA এর কাছাকাছি “কিছু একটা” নিয়ে আলোকপাত করে।তাই না?তাহলে এই “কিছু একটা” ব্যপারটা কি? এটা বুঝতে হলে জেনেটিক্স এর আরও একটু গভীরে যেতে হবে।
আমাদের শরীরে প্রায় একশো ট্রিলিয়ন সেল (কোষ) আছে যার প্রত্যেকটিতেই আছে DNA। শুধু বাদ গেছে RBC (লোহিত কনিকা) আর সেক্স সেল।   একটি মানুষ ক্লোন করতে যতটুকু DNA দরকার তার অর্ধেক আছে সেক্স সেলে । পুরুষের সেক্স সেল হোল স্পারম আর নারীর ওভাম। তো, sexual intercourse এর সময় স্পারম আর ওভাম একসাথে ঠিকমত মিললে, তৈরি হয় একটি fertilized এগ। এবং সেই সাথে মানুষ ক্লোন করার জন্য প্রয়োজনীয় DNA সেট হয় কমপ্লিট। এই অনেকটা  মই এর মতো। মইয়ের প্রত্যেকটি ধাপে আছে চারটি করে nucleotide। এরই মধ্যে যেকোনো তিনটির নির্দিষ্ট বিন্যাস বলে দেয়, কোন amino acid তৈরি হবে। একটি amino acid আরও amino acid এর সাথে মিলে তৈরি করে protein । উদাহরণ;  Insulin । প্রায় ১০০০ amino acid মিলে তৈরি হয় এই Insulin। যথেষ্ট পরিমাণ protein একসাথে হলে, তৈরি হচ্ছে একটি মানুষের শরীর। DNA থেকে পুরো একটি মানুষ…কি চমৎকার! এটাকে বিজ্ঞানীরা central dogma বলেন।
জেনেটিক্স DNA এর এই অসাধারণ ক্ষমতার কথাই বলে। ধারণা করা হতো, DNA থেকে protein; এই মানুষ তৈরির প্রক্রিয়াটার (মানুষটি দেখতে কেমন হবে, উচ্চতা কত, চুলের রঙ ইত্যাদি) নির্দেশ আসে এক দিক থেকেই, DNA তার উৎপত্তিস্থল। অর্থাৎ আমার উচ্চতা ৫ ফিট সাড়ে ৫ ইঞ্চি অথবা আমার চোখ ছোট, এটা আমার DNA এই ঠিক করে দিয়েছে।
তবে ১৯৪৪ সালের সেই ঘটনা? চিন্তা করুন, দুর্ভিক্ষের মতো একটি এনভাইরনমেন্টাল ফ্যাক্টর অনাগত শিশুর আকার ঠিক করে দিচ্ছে, শুধু তাই নয়, এই আকার ঠিক করে দেওয়ার নির্দেশটি পালিত হচ্ছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে! অর্থাৎ এনভাইরনমেন্টাল ফ্যাক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে অনাগত শিশুরও উত্তরাধিকারীদের জেনোটাইপ এবং ফেনোটাইপ! এযে central dogmaর ঠিক উল্টো কথা ! তাহলে এই নির্দেশ দুদিকেই যাচ্ছে, অর্থাৎ, DNA থেকে protein আবার protein থেকে DNA তে।
আজকের বাংলাদেশীদের যে মানসিক অবয়ব, এর পেছনেও কি কাজ করছে “epigenetics”? ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসন, পশ্চিম পাকিস্তানিদের বঞ্চনা, স্বৈরশাসকদের অত্যাচার?

চলবে……

One thought on “A Bridge too far

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s