ডিজিটাল বাকশাল ইজ ক্লিনিকালি ডেড

Image

ডিজিটাল বাকশাল ইজ ক্লিনিকালি ডেড
———————————————
ওয়েবসাইটের কিংবা ফেইসবুকের ভুয়া খবরে বিভ্রান্ত হবেন না। সব সময় কমন সেন্স ব্যাবহার করুন। আগামীর দিনগুলোতে নীচের বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক প্রোপাগান্ডা হতে পারেঃ

১) যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত হাসিনার অধীনেই নির্বাচন চায়। এই লাইনের কথা শুনলেই বুঝবেন ভুয়া। কারণ ডুবন্ত নৌকায় চড়ার কোন প্রয়োজন যদি আপনার মতো সাধারণ পাবলিকের না থাকে, তাহলে এই পরাক্রমশালী দেশগুলোর থাকারও কোন কারণ নাই। তাছাড়া দেশে এতবড় দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ কোন দলেই খুব বেশি নাই যারা এই দু’দেশের কথাবার্তা অগ্রাহ্য করবেন। সুতরাং, হাসিনার জন্যে দেওয়ানা হবার কোন প্রকার যুক্তি উভয় পরাশক্তিরই থাকার কথা না। এটাই নির্মম বাস্তবতা। হাসিনাকে অপছন্দ করেন এবং দেশের সত্যিকারের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন এমন মানুষদের জন্যে এই বাস্তবাতাটুকু একই সাথে আনন্দের এবং খুবই দুঃখের।

৩) বাংলাদেশকে মিশর কিংবা সিরিয়া বানিয়ে হলেও হাসিনা ক্ষমতায় থেকে যেতে পারবে। এটা আর একটা ভুয়া কথা। মিশর কিংবা সিরিয়া হতে দেশে যে পরিমান বিভাজন প্রয়োজন, যে পরিমানে “দ্বিপাক্ষিক ঘৃণার” আবাদ-সাবাদ হওয়া প্রয়োজন, আল্লাহর অশেষ রহমতে এখনও পর্যন্ত আমাদের দেশে সে পরিমান বিভাজন কিংবা “দ্বিপাক্ষিক ঘৃণা” নাই। “দ্বিপাক্ষিক ঘৃণা” শব্দটা ব্যাবহার করলাম একারণে যে, সমাজের একটা বিশেষ অংশে মিশর কিংবা সিরিয়ার মতোই প্রতিপক্ষের প্রতি ঘৃণার আবাদ-সাবাদ চলেছে তুমুল উৎসাহে কয়েক যুগ ধরে। কিন্তু অন্য পক্ষের মাথায় ব্যাপক ভাবে ঘৃণার বীজ বপন করার মতো ফাপর-বাজ ঘৃনা-চাষী দেশে এখনও নাই। তবে এটা ঠিক, আল্লাহ দেশকে বাঁচিয়েছেন শাহাবাগি কালচারাল রেভুলুশনটি এই সরকারের পড়ন্ত বেলায় শুরু ও বিলুপ্ত করে দিয়ে। এই কালচারাল রেভুলুশন্টি আরও বেশি দিন ধরে চললে, “দ্বিপাক্ষিক ঘৃণার” ব্যাপক ভিত্তিক আবাদ-সাবাদ মিশর-সিরিয়া পর্যায়ে গেলেও যেতে পারতো।

জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘৃণার আবাদ ছাড়াও, মিশর-সিরিয়ার মতো সিচুয়েশন কোন দেশে বানাতে হলে কোন একটা বুনিয়াদী পরাশক্তির “সেই রকম” উৎসাহ থাকা লাগে। আল্লাহর অশেষ রহমতে, বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলকে নিয়েই কোন বুনিয়াদী পরাশক্তির “সেই রকম” ন্যাস্টি লেভেলের উৎসাহ নাই। যদিও ফকিন্নি পরাশক্তির কিছুটা উৎসাহ থাকতে পারে, কিন্তু সেটা ঐ উৎসাহ পর্যন্তই।

তাছাড়া মিশর কিংবা সিরিয়া বানাতে টাকা-কড়িও লাগে। যেমন ধরুন মিশর-সিরিয়ায় একাধিক দেশের বিলিওন-বিলিওন ডলারের খেলা চলছে। আমাদের দেশে ওরকম পরিস্থিতি বানাতে গেলেও একই লেভেলের টাকাই খরচ করতে হবে। হুদা কামে এতো টাকা খরচ করার কোন লজিকাল কারণ কোন বুনিয়াদী পরাশক্তির থাকার কথা না। আর অন্যদিকে, ফকিন্নি পরাশক্তির তো হুদা খরচ করার মতো টাকাই নাই!

৪) দেশের সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্র পুরাপুরি আওয়ামী লীগের দখলে আছে, থাকবেও চিরকাল। এটাও একটা ভুয়া কথা। কেননা, বাংলাদেশে যারা সরকারী চাকুরী করেন তাদের জীবনের একটা মূল লক্ষ্য হলো সারাজীবন সেই চাকরিটি করা। একারণে তেল-বাজী কিংবা জেলা-বাজী করে ভালো পোস্টিংটি বাগিয়ে নিলেও, সময় মতো পালটি খেতেই ওস্তাদ আমাদের আমলারা। সেটা সামরিক হোক আর বেসামরিক হোক। খুব অল্প সংখ্যক কিছু আমলা যারা এখন রীতিমত জানের ভয়ে আছেন তারা বাদে, শুধুমাত্র জয়-বাংলা-জয়-বঙ্গবন্ধু বলে যারা এতদিন মধু খেয়েছেন, তারা নিশ্চিন্তে জিয়ার সৈনিক হয়ে যাবেন অতি-শীঘ্রই। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি।

৫) জামাত-আওয়ামী লীগ আঁতাত হয়েছে। এই লাইনের কথা ভুয়াতো বটেই, থিউরিটিকালিও সম্ভব না। এটা বুঝতে আপনাকে কমন সেন্স ব্যাবহার করলেই চলবে। জামাত বিষয়ে সারা বিশ্বে শাহাবাগি ও আওয়ামী বিষ-বাষ্প এতটাই প্রকোট ভাবে ছড়ান হয়েছে যে এই দুই দলের শীর্ষ নেতারা যদি এখন রাজিও হয়ে যান যে তারা আঁতাত করবেন, তাহলেও দেখবেন এদের সাপরটাররাই এদের ধুতি ও লুঙ্গি টেনে টেনে ছিড়ছে। তার সাথে অন্যান্য আরও অনেক কিছু ছিঁড়ার সম্ভাবনাও প্রবল।

যদিও শুনা যায় যে আওয়ামীদের কাছে নাকী এমন মেশিন আছে যার একদিক দিয়ে রাজাকার ভরলে অন্য দিক দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বের হয়। তারপরেও বলছি, খেলা এখন অল মোস্ট ওভার। এই অন্তিম সময়ে আওয়ামী লীগের সাথে পল্টি খেতে হলে নিজেদের জানের প্রতি যে পরিমান অপরিসীম মায়া থাকা দরকার, তা মনে হয় জামাতের লোকজনের নাই।

সবাই সজাগ থাকুন। নিশ্চিন্তে থাকুন।

ডিজিটাল বাকশাল ইজ ক্লিনিকালি ডেড।

অক্টোবর ২৬, ২০১৩

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s