শাহবাগ-২: পুরাতন বোতলে পুরাতন মদ

52a7327b1c847-1a 2

By শাফকাত রাব্বী অনীক:

এই লেখাটি টাইপের সময় ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ছোট খাটো আকারে শাহাবাগের মিলন-মেলা। মিডিয়ার কিছু পরিচিত মুখ নড়াচড়া শুরু করেছেন মিলন-মেলা জমানোর কাজে।

মনে রাখা দরকার, যুদ্ধপরাধীর বিচার আওয়ামী লীগের একটা নিছক রাজনৈতিক অস্ত্র। যখন দরকার পরে, তখনই এটার ধুয়া তুলে আওয়ামী লীগ নিজেদের সুবিধা হাসিল করে। এটার সাথে ন্যায় বিচার কিংবা স্বাধীনতার কোন সম্পর্ক আগেও ছিল না এখনো  নাই। এই মন্তব্যের যৌক্তিকতা প্রমান করে এই মুহুর্তে আবারও শাহবাগ মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে।

সিনেমাতে সিকুয়েল বলে একটা জিনিস আছে। একটি মুভি যেখানে শেষ, তারপর থেকে আবার একটা মুভি শুরু হলে, তাকে বলে সিকুয়েল। মুভি ইন্ডাস্ট্রির একটা নিয়তি হলো, কোন হিট মুভির রিমেইক, সিকুয়েল ইত্যাদি সাধারনত প্রথম হিটের চাইতে কম হিট হয়। একারণে নির্মাতারা অনেক চেষ্ঠা করেন সিকুয়েলে নতুন নতুন বৈচিত্র আনতে। নির্মাতারা আনেন নতুন নায়ক, নায়িকা কিংবা টেকনোলজি। উদাহরণ স্বরূপ, টার্মিনেটর মুভিটির কথা উল্লেক্ষ করার মতো। এই সিরিজের প্রতিটি মুভি আগেরটার চাইতে ব্যয়বহুল ছিল নতুন নতুন টেকনোলজির ব্যবহারে।

টার্মিনেটরের আলোকে চিন্তা করলে, বলতে হবে দুর্ভাগ্য আওয়ামী-শাহাবাগিদের। কেননা, শাহাবাগ-১ এবং  শাহবাগ-২ এর মূল চরিত্র, মঞ্চায়ন, ক্যামেরা,  প্রডিউসার, এমনকি দর্শক–সব কিছুই একই।

শাহবাগ-১ এর পোস্টার-বয় ছিলেন কাদের মোল্লা সাহেব। উনি পোস্টারে ভিক্টরি চিহ্ন দেখিয়েছিলেন। এখন তার পরিবর্তে তার বোরখা পরিহিত স্ত্রীর ভিক্টরি চিহ্ন দেখানো পোস্টার দিয়ে শুরু হচ্ছে শাহাবাগ-২।

শাহবাগ-১ শুরু হয়েছিল এমন একটা সময়ে যখন শাহাবাগিরাও বলতো যে বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক। শাহবাগে না আসলেই জনপ্রিয়তা শেষ হয়ে যাবে। প্রেক্ষাপট এখনও তেমনই। বরং আগের চাইতে আরো বেশি প্রকোটভাবে পরিস্থিতি বিএনপি ও বিরোধী জোটের অনুকূলে।

শাহবাগ-১ মঞ্চায়ন করে আওয়ামী লীগ ভেবেছিল যে তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া জনপ্রিয়তা ফিরে পেয়েছে। তরুনের বসে যাওয়া চেতনা শেষমেষ  দাড়িয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটও সেই একই রকম। তরুনের চেতনা ডাউন। এটা প্রায় নিশ্চিত যে ফেয়ার ইলেকশন হলে আওয়ামী লীগ জিতবে না। ক্ষমতা আঁকড়ে পরে থাকার সিচুয়েসনেও হাসিনার সেভাবে নেই। একটি দেশ ছাড়া সারা দুনিয়া মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বিরোধী দলগুলোতো বটেই, এরশাদের মতো ব্যক্তিও এখন মুখের উপরই বলছে যে আওয়ামী লীগের কোন জনপ্রিয়তাই নাকি নেই। তো এখন জনপ্রিয়তা জাহির করার জন্যে আওয়ামী লিগ কি করতে পারে?

জমাও শাহবাগ!!

লাগাও গিট্টু। সেই পুরনো গিট্টু। একবার বলো ফাঁসি দিবা। কিন্তু দেও যাবতজীবন। তারপরে দাও আবার ফাঁসি। বলো আপিল করার অধিকার নেই। তারপরেই আপিল করাও। বলো রিভিউ করার আইন নেই। তারপরে রাত ১০ টায় রিভিউ করাও। বলো যে বিচারপতি শেষ, আর নাই। তারপরে বলো নানা বিচারপতি পাওয়া গেছে!! এটা বলে আবার সেই একই বিচারপতিকে দিয়েই ফাঁসি স্হগিত করাও। একবার ফাঁসির জামা পরাও, তার পরে খুলো।

উন্মাদনার প্রতিটা স্টেপে কড়া নজর রাখো তারুন্যের চেতনার দিকে। মনোযোগ দিয়ে দেখো চেতনা দাড়িয়েছে কিনা। না দাড়ানো পর্যন্ত লেবু কচলাতে থাকো! চেতনা দাড়ালেই কেল্লা ফতে। তারপরে ক্যামেরা নিয়ে মজা লুটো। ফটো সেসন।

আমার ধারণা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিশ্চয়ই জানেন যে তারা একদল আবেগী যুবক-যুবতীকে ক্রমাগত ধোকা দিচ্ছেন। খারাপ লাগে পুরো গেইম প্লান জানার পরেও ধোকা খায় অনেকেই। যদিও ধোকা খানেওয়ালার সংখ্যা অনেক কমেছে। তবে এখনো অনেকেই শংকিত হন এটা ভেবে যে, আওয়ামী লীগ হয়তো কখনই এই যুদ্ধ-অপরাধের বিচার একবারে শেষ করতে চাইবে না। কিছু মানুষ ধোকা খেতেই থাকবে।

কাদের মোল্লা সাহেবের ফাঁসি হোক আর না হোক, যুদ্ধ অপরাধের মামলা আওয়ামীরা সারা জীবন চালাতে পারলে তাই চালাবে। নিত্য নতুন নাটক বানাবে। এই লেবু কচলাতে কচলাতে যতো দূর যাওয়া যায় তারা যাবে। পচিয়ে গন্ধ করে ফেলবে, তার পরেও কচলাবে। এমন সিস্টেম করে দিয়ে যাবে, যাতে পরবর্তিতে অন্য কেউ ক্ষমতায় এলেও এই ইস্যু বেঁচে থাকে। কারণ এই ইস্যু বাঁচলেই কেবল বাঁচবে তাদের চেতনার ব্যবসা। ব্যবসা বাঁচলে বাঁচবে ইনভেস্টর, হল সেলার, স্পন্সর, ও তাদের পরিবার।

এর আগে শাহবাগ-১ করতে পুলিশী প্রহরা লাগতো। এবার হয়তো পূর্ণাঙ্গ সামরিক মর্যদায় শাহবাগ-২ হবে। দেশে এখন আর ১৬ই ডিসেম্বরের সামরিক কুচকাওয়াজের দরকার হয় না। কারণ অনেকের চোখে শাহাবাগিদের মহড়াও কম গৌরবের না। তবে মনে রাখতে হবে, নতুন বোতলে পুরাতন মদ খায় বোকারা। আর পুরাতন বোতলে পুরাতন মদ খায় যারা, তারাই কিন্তু আসল মাতাল। একারণে একপাল মাতাল নিয়ে রাজনীতির নির্মম মাঠে কতদূর টিকে থাকে চেতনার ব্যবসা, তা দেখার অধীর অপেক্ষায় আছে অনেকেই।

2 thoughts on “শাহবাগ-২: পুরাতন বোতলে পুরাতন মদ

  1. এই ডামাডোলে মাঝখান থেকে বেচারা বেকুব শাহবাগিদেরকে কিরকম বিপদের মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে কেউ কি একবার সেকথা ভাবছে ? হাম্বালীগ তো পড়ে যাবে যে কোন সময় তারপর হাম্বারা দুদ্দাড় করে পালাতে থাকবে তখন এই শাহবাগিদের কে বাঁচাবে ? কে তাদের প্রটেকশন দেবে, কে তাদের বিরিয়ানি খাওয়াবে, কে শোনাবে আশার বাণী _ এই নির্বিরোধী গোবেচারা শাহবাগিদের জীবন-সম্মান-নিরাপত্তা সবকিছু ভবিষ্যত হমকির সম্মুখীন করায় রাজনৈতিক মতলববাজ হাম্বাদের তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জ্ঞাপন করছি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s