প্যালেষ্টাইনী রক্ত আমার আপনার হাতে!

download (7) 1

By Watchdog BD

আরব রাজা বাদশাহদের কথা না হয় বুঝা গেল। সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে এমনটা করা ছাড়া তাদের কোন বিকল্প ছিলনা। কারণ প্যালেষ্টাইনিদের সমর্থন করা হবে গণতন্ত্রকে সমর্থন করা। দুঃখজনক হলেও সত্য গোটা মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইসরাইল এবং প্যালেস্টাইন ছাড়া বাকি সব দেশে রাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র সহ অলৌকিক সব তন্ত্র বিদ্যমান। ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতে গিয়ে কোন আরব রাষ্ট্রই ইসরাইলি পশুত্বের বিরুদ্ধে টু শব্দটুকু করেনি। এমনকি আল্লাহর ঘরের কথিত রক্ষকরাও না। তাদের ভূমিকা পাশে রেখে আমরা যদি বাকি বিশ্বের দিকে চোখ ফেরাই সেখানেও সুনসান নীরবতা। অথচ নিকট অতীতে আফ্রিকান খরা, হাইতির ভূমিকম্প, রুয়ান্ডার গণহত্যা নিয়ে বিশেষ করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিখ্যাত ব্যক্তিরা সচেতনা সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক তথা মানবিক সাহায্যের হাত বাড়াতে কার্পণ্য করেন নি। কি এমন ঘটল যার ফলে শত শত প্যালেষ্টাইনি শিশুর ছিন্নভিন্ন মৃতদেহও তাদের বিবেককে নাড়া দিচ্ছেনা? ঘটনার গভীরে যাওয়ার প্রায় তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনার দিকে পাঠকদের নিয়ে যেতে চাই। হলিউড সুপার স্টার মেল গিবসনের বিরুদ্ধে শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগ আনেন তার রুশ বান্ধবী অকসানা গ্রিগেরয়েভনা। অনেকদিন ধরেই তাদের ভেতর সমস্যা চলছিল। সূক্ষ্ম হিসাবে পারদর্শী অকসানা কায়দা করে মাতাল অবস্থায় গিবসনের কিছু মন্তব্য প্রকাশ করে দেয়। আর তাতেই টলে উঠে হলিউড। ভিডিওতে দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ান সুপারস্টার মাতাল অবস্থায় গোটা বিশ্বের দুরবস্থার জন্য ইহুদিদের দায়ী করছেন এবং এর প্রতিকার ও প্রতিশোধের আহ্বান জানাচ্ছেন। হলিউড মানে ইহুদি বিনিয়োগ। এদের সমালোচনা মানে সুশৃঙ্খল একটা ইনিস্টিটিউশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। গিবসন তাই করলেন এবং এর জবাব পেলেন খুব দ্রুত। প্রযোজকরা রাতারাতি মুখ ফিরিয়ে নিলেন গিবসন অভিনীত ছবি হতে। হুমকি দিলেন আজীবনের জন্য কালো তালিকভক্ত করতে। গিবসনকে ভাতে ও পানিতে মারার আয়োজন সম্পূর্ণ করতে জোটবদ্ধ হলেন বিনিয়োগকারীরা। ব্যাপারটা সুরাহা করতে এই হলিউড তারকা কতটা নীচে নেমে ছিলনে তার কোন প্রমাণ কারও হাতে নেই। কিন্তু এরপর গিবসনের মুখ হতে ইহুদিদের নিয়ে কোন মন্তব্য কেউ শুনেছে বলে দাবি করতে পারবেনা।

ইসরায়েলি বর্বরতার শুরুতে গায়িকা রিহানা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিবাদ জানিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন। ইহুদি নিয়ন্ত্রিত মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি কঠিন ম্যাসেজ পৌঁছে দেয় গায়িকার দুয়ারে। পৌঁছে দেয় ফলাফলের আগাম বার্তা। আবারও ভাতে মারার হুশিয়ারি। প্রতিবাদ শিকেয় তুলে নিজের ক্যারিয়ার বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পরেন এই গায়িকা। ফলশ্রুতিতে সোশ্যাল মিডিয়া হতে রাতারাতি উঠিয়ে নেন নিজের মন্তব্য। বিশ্ব বিবেককে ওরা এভাবেই জিম্মি করে রেখেছে নিজেদের ধন-সম্পদের কাছে। চলচ্চিত্র, মিউজিক, পারফর্মি আর্ট, স্পোর্টস হতে শুরু করে এমন কোন ব্যবসা-বাণিজ্য নেই যার চালকের আসনে ইহুদিরা বসে নেই। খালি চোখে ওদের উপস্থিতি বুঝা যায়না। কারণ অভিনয়ের জন্য ওরা শুটিং’এ যায়না অথবা খেলার জন্য মাঠে নামেনা। এসবে অনেক পরিশ্রম। কিন্তু যে টাকায় একটা সফল চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, যাদের অর্থে ফুটবল অথবা বেসবল টিম মাঠে সচল থাকে তার অনেকটাই আসে তাদের পকেট হতে। সে বিনিয়োগ লাভ হয়ে চক্রবৃদ্ধি হারে ফিরে যায় তাদের পকেটে। এবং সে পকেট সদা-সর্বদা উন্মুক্ত থাকে মধ্যপ্রাচ্যের ইসরায়েলে জন্য। আমরা যারা হলিউডের ব্লকবাষ্টার দেখার জন্য সিনেমাহলে উপচে পরি তাদের অনুরোধ করবো ছবি শেষে প্রদর্শিত নাম গুলো ধৈর্য ধরে পড়ে নেয়ার জন্য। বার্গ, ষ্টেইন, হফফ আর ভিচ দিয়ে যাদের নাম শেষ হয় ওরাই তারা। মেল গিবসন, রিয়ানা আর ইউ-টু’র বনো তাদেরই খেলোয়াড়। আমরা যারা গাঁটের পয়সা খরচ করে তাদের তৈরি ছায়াছবি, স্পনসরড্‌ সংগীত অথবা মালিকানাধীন দলের খেলা দেখতে হলে অথবা মাঠে যাই এক অর্থে সহযোগিতা করি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে। এক বোতলে কোক কিনলে তার একটা অংশ চলে যায় কথিত প্রমিজ ল্যান্ডে। এবং সে অংশ বিন্দু হতে সিন্ধু হয়ে আঘাত হানে প্যালেষ্টাইনি শিশুদের। আমরা যারা সোশ্যাল মিডিয়াতে ইসরায়েলি বর্বরতা নিয়ে চীৎকার করছি তারাও ইসিরায়েলি অপরাধের সহযোগী।

One thought on “প্যালেষ্টাইনী রক্ত আমার আপনার হাতে!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s