বুয়েট ভ্যানটেইজ পয়েন্টঃ উপসংহার

By: Aman Abduhu

বুয়েট শিক্ষক পেটানোর ঘটনায় বিশাল তিন পর্বের ফিকশন লিখে ফেললাম। কেন লিখলাম জানিনা। সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা হওয়াতে। বিশ্ববিদ্যালয় শুনলেই মনে হয়, পড়ালেখা আর কো-কারিকুলারে ব্যস্ত ইয়ং ছেলেমেয়ে। বিভিন্নরকম ক্রিয়েটিভ কাজ আর প্রতিযোগিতা। টিচারদের সাথে বিভিন্ন সুযোগে বিতর্ক, সেমিনার। এখানে ওখানে নোটিশ আর এনাউন্সমেন্ট, বিভিন্ন রকম বৈচিত্র্যময় কাজ পড়ালেখা আর এসাইনমেন্টে দিন সপ্তাহ মাস বছরগুলো চোখের পলকে চলে যাওয়া। জীবনের সবচেয়ে সেরা সময়। বিশাল বিশাল ভবন, দীর্ঘ করিডোর, নিরব লাইব্রেরী আর পুরনো বইএর গন্ধ। সাথে নতুন নতুন সব প্রযুক্তির সুযোগ সুবিধা। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেখি, সাথে সাথে বুকের মাঝে একটু কষ্ট হয়, যদি আমাদের দেশে এমন থাকতো।

সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা হয়, বিষয়টা কল্পনা করে অবাক লাগে। আমি বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করি। সাথে সাথে পার্টটাইম টিউটর হিসেবে পড়াই। ঐসব ছাত্রছাত্রীরা আমাকে, অথবা কোন ফুল ফ্লেজেড টিচারকে পেটাচ্ছে, ভাবা যায় না। তাই হয়তো নাড়া খেয়েছি। যাইহোক, শেষকথাগুলো হলোঃ

১. ফিকশনে বাস্তবতার শতভাগ প্রতিচ্ছবি আশা করা বোকামী। ইতিহাস আর গল্প একসাথে লেখা একটি শাহবাগি কাজ। আমি গল্প লিখেছি, ইতিহাস না। বিস্তারিত ফুটনোটে*১ এ প্রসঙ্গে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা থেকে নেয়া কিছু কথা আছে। একই সাথে বাস্তবতার সাথে বিরোধী বা অসততা যেন না হয়, তা খুব দরকারী বিষয়। যেমন শুভ্রজ্যোতি শেরাটনের বারে গিয়ে এলকোহল টেনে সেলিব্রেশন করছিলো, এটা ফিকশন। কিন্তু ধর্ষক চাঁদাবাজ খুনী ছাত্রলীগের নেতাদের জন্য এটা স্বাভাবিক। কিংবা রাগিব হাসান সরাসরি কোথাও বলেনি এই শিক্ষককে জামায়াত করার অপরাধে বের করে দেয়া হোক, কারণ সে বুদ্ধিমান এবং তার কথার কনসিকোয়েন্স সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু এই কথা, চিন্তা ও কাজগুলোকে সে সবসময় মোটিভেট ও প্রমোট করেছে।

২. এই জঘন্য ঘটনার কারণ হলো ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ালেখার জায়গা। পিরিয়ড। টিচাররা কেউ আওয়ামী লীগ করবে, কেউ জামায়াত করবে, কেউ বিএনপি করবে, ভিসি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক নিয়োগ হবে দলীয় বিবেচনায়, ঐ শিক্ষাঙ্গনে খুন ধর্ষণ আর মারামারি করাটাই স্বাভাবিক। এই হলো বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়।

৩. সবসময় বলি, আওয়ামী-শাহবাগি এটা একটা দুষ্টচক্র। সব আওয়ামী শাহবাগি, কিন্তু সব শাহবাগি আওয়ামী না। জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির রাতে অনলাইনে জামায়াত সমর্থক শিক্ষককে তার জামায়াত সমর্থক মন্তব্যের কারণে গালমন্দ করা হয়েছে, ব্যান করা হয়েছে, তাচ্ছিল্যের সুরে তাকে ট্রিট করা হয়েছে। সেই থেকে অন্যরা শিখেছে যে শাহবাগী মতের ভিন্ন মতের শিক্ষককে বেয়াদবীর সুরে কথা বলা যায়, ধমক দেওয়া যায়, গালি দেওয়া যায়। পরের দিন ছাত্রলীগ যে বেয়াদবী করেছে তার শিক্ষা তারা ঐ গ্রুপের এডমিন এবং বেয়াদব কিছু ছাত্রদের থেকে পেয়েছে। আমি যতদূর জানি, এর আগে ছাত্রলীগ বুয়েটের কোন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার সাহস করেনি। কিন্তু শাহবাগীরা সেই সাহস তাদের যোগান দিয়েছে। সুতরাং প্রমাণ হয়ে যায়, শাহবাগিরা পলিসি মেকার, আর ছাত্রলীগের গুন্ডারা হলো তাদের মাসলম্যান।

৪. ঐ শিক্ষক জয় মা কালী, জয় ইনডিয়া লিখে মন্তব্য করেছিলেন। আসলেই কি তা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য? আমি মনে করিনা। বরং তা বাস্তব সত্যভাষণ। বাংলাদেশের ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন এবং ডিসক্রিমিনেশন করা হচ্ছে পরিস্কার। এবং এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও জঙ্গিবাদ উসকে দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দীর্ঘমেয়াদে বেনিফিশিয়ারী হতে চায়। দেশ আর সমাজ ধ্বংস হোক, ব্যাপার না। ক্ষমতায় থাকাটাই বড় কথা। হিন্দুরা এখানে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

৫. বাংলাদেশে স্বাধীনতার চেতনার নামে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে। এখানে দ্বিমত পোষণ করার অর্থ, রাজনৈতিক মতভিন্নতার অর্থ হলো বাংলাদেশী থাকার সুযোগ হারানো। আপনাকে পাকিস্তান চলে যেতে হবে। ঐ শিক্ষক জামায়াত করেন, তার অর্থ যদি হয় তাকে ক্যাম্পাসে পেটানো এবং নির্মমভাবে অপমান অপদস্থ করা বৈধ, তাহলে তা পরিস্কার করে বলা উচিত।

৬. সবশেষে, এ ঘটনা কোন সুস্থ স্বাভাবিক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটলে, সাথে সাথে নিরপেক্ষ তদন্ত হতো, গুন্ডাগিরি করা ছাত্রদেরকে প্রশাসনিক শাস্তি তো দেয়া হতোই, সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সরকারী আইন শৃংখলা কতৃপক্ষ তাদেরকে ফিজিকাল এসল্ট, এটেম্প টু মার্ডার সহ বিভিন্ন মারাত্বক অপরাধের শাস্তি হিসেবে বেশ কয়েকবছরের কারাদন্ড দিতো নিশ্চিত। পাশাপাশি ঐ ভিকটিম শিক্ষক তাকে নিরাপত্তা দেয়ার ব্যর্থতার কারণে ভার্সিটি থেকে কয়েক কোটি টাকা কমপেনসেশন বা ক্ষতিপূরণ পেতেন। বাংলাদেশে কি হবে? শুভ্রজ্যোতি আর কনকদের মতো গুন্ডারা মন্ত্রী এমপি এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দাঁত বের করে ছবি তুলে ফেইসবুকে আপলোড করবে আর দামী গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াবে।

জয় বাংলা।

*১ in my view, although I do agree with Churchwell on the paramount importance of meticulous research. But novelists are not history teachers. It’s not our job to educate people, and if we start using words like “duty” and “responsibility” about historical fiction – or any fiction – we’re in danger of leaching all the vigour out of it with a sense of worthiness. A novelist has no real duty to anything except the story he or she is creating, the characters who inhabit it and whatever view of the world he or she is offering with the novel’s ending. But if you are going to play fast and loose with historical fact for the sake of a good story, you’d better have done your research thoroughly if you want readers to take you seriously; only then will you have the authority to depart from those facts.

বুয়েট ভ্যানটেইজ পয়েন্টঃ তিন

1

By: Aman Abduhu
মিশকাত আজ বেশ উত্তেজিত, এইমাত্র জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি হয়ে গেছে। ফেইসবুকে উত্তেজনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তার পূর্বসূরী বাংলা ব্লগাররা দশ বছর আগে যে কথা কল্পনা করতে শুরু করেছিলো, আজ বাংলাদেশে তাই ঘটছে। অসম্ভবকে সম্ভব করেছে সরকারী শক্তি, নিজেদের ট্রাইবুনাল আর পুলিশ। বিভিন্ন গ্রুপে প্রচুর মেসেজ আসছে, আপডেট আসছে।

সে ভাবলো এখন ল্যাপটপটা শাটডাউন করে একটু বেড়িয়ে পড়া ভালো হবে। রাস্তায় ঘুরে বন্ধুদের সাথে সেলিব্রেট করার সময় এখন। শাহবাগ নিশ্চয় জমজমাট হয়ে উঠেছে। যাওয়া দরকার। এমন সময় হঠাৎ সে দেখলো তাদের বুয়েটিয়ান গ্রুপে এক স্যার মন্তব্য করেছে। মন্তব্যটা কামারুজ্জামানের ফাঁসির বিপক্ষে।

এই স্যারটাকে তারা চেনে, ইনি বেশ কট্টর জামায়াতের লোক। শাহবাগিদের তো প্রশ্রয় দেয়ই না, উল্টা নিয়মিত নামাজ কালাম পড়ে। স্যারের বউটা বোরকা পড়ে, নন্দিতা নিউমার্কেটে দেখেছিলো স্যারের সাথে। সিনিয়র ভাইরা বলেছেন, ইনি স্টুডেন্ট লাইফেও শিবির করতেন। সুতরাং এটাই সবচেয়ে সেরা সুযোগ। মিশকাত বাকি সব ভুলে গেলো আপাতত।

একই সাথে ঠিক একই মিথস্ক্রিয়া ঘটে গেলো বিভিন্ন হলের রুম থেকে ফেইসবুকে একটিভ থাকা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কিছু ছাত্রের মাথায়। আরো ঘটলো কিছু প্রাক্তণ ছাত্র, যারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আছে, তাদের মাথায়। উপর্যুপরি আক্রমণ শুরু হয়ে গেলো মন্তব্যে। আর নতুন নতুন পোস্টে। গ্রুপের বাইরেও পাবলিক পোস্ট আসা শুরু হলো। অন্য বেশিরভাগ বুয়েটিয়ান চুপ করে দেখে গেলো। নীরব থাকা ছাড়া উপায় নেই, কিছু বলার অর্থই হলো বিপদে পড়া। ট্রাইবুনালের সাথে, যুদ্ধাপরাধ কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের এ আওয়ামী কাজের সম্পর্কে দ্বিমত করার অর্থ হলো নিজেকে স্বাধীনতাবিরোধী বানিয়ে ফেলা। কেউ কেউ ভাবতে থাকলো, কোন দরকার ছাড়া জাহাঙ্গীর স্যার এখন এসব মন্তব্য করে কেন বিপদে পড়তে গেলেন? কি দরকার ছিলো, চুপ করে থাকলেই তো হতো।

মিশকাত দ্রুত অন্য এডমিনদের সাথে মেসেজ থ্রেডে আলাপ সেরে নিলো। আমেরিকা কানাডা থেকে বড়ভাইরা গ্রিন সিগনাল দিলো। সবাই একমত। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে বুয়েট শিক্ষক প্রফেসর জাহাঙ্গীরকে ছাগু গালি দিয়ে বুয়েটিয়ানদের গ্রুপ থেকে ব্যান করে দেয়া হলো।

অনেক উত্তেজনা হলো সব মিলে। এড্রেনালিন রাশ থাকতে থাকতেই গভীর রাতে বন্ধুরা সবাই সেলিব্রেট করতে বের হয়েছে। সবাই অনেক ফুর্তিতে আছে। লাবিব একটা স্টিক বানিয়েছে খুব জবরদস্ত করে। এক টান দিতেই পিনিক এসে গেছে। রুবেল গলা খুলে গান ধরেছে, মুক্তির মন্দির সোপান তলে কত প্রাণ হলো বলিদান। বাকিরাও গলা মেলাচ্ছে, ওদের অনেক আবেগ এসে গেছে। মুক্তিযুদ্ধ বিজয়ের একটা অনুভূতি সবার মাথায়।

নীরব নির্জন চানখারপুলের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই ওদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগার আরিফ বললো, দোস্ত সবাই একটা জিনিস ভেবে দেখ, এইসব রাজাকারদের ফাঁসি দিয়ে আসলে লাভ নেই। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির শেকড় তুলে ফেলতে হবে। এখনো এই রাজাকারি মানসিকতার লোকজন আমাদের ক্লাশমেট আছে, টিচার আছে। সমাজের সব স্তরে এরা অনেক শক্তিশালী। এদের শিক্ষা দিতে হবে। বুঝিয়ে দিতে হবে, বাংলাদেশে এদের জায়গা নেই।

তখন দীপক বললো, এক কাজ করা যায়। ছাত্রলীগের পোলাপানকে লাগিয়ে দিতে হবে। এরা জাহাঙ্গীর স্যারকে গিয়ে সামনাসামনি থ্রেট দিলে তা ক্যাম্পাসে বিশাল ইমপ্যাক্ট করবে কিন্তু। সবাই একমত হওয়ার পর আর দেরী করার অর্থ হয়না। দীপক ওখান থেকেই কল করলো শুভ্রজ্যোতি দাদার নাম্বারে। দাদা তখন সেলিব্রেশনে, তবু মন দিয়ে শুনলেন সব। বললেন ব্যাবস্থা নেবেন। এরপর দীপক ফোন করে জানিয়ে রাখলো ছাত্রলীগের সেক্রেটারী কনককেও। কনক ভাই বললেন তিনি ফেইসবুকে সব দেখছেন। সব কিছু তিনি জানেন। চিন্তা করার কিছু নেই।

এরপরের ঘটনা ইতিহাস। পরদিন দুপুরে ডিপার্টমেন্টের বারান্দায় দাড়িয়ে মিশকাত-দীপকরা দেখলো, শুভ্রজ্যোতি আর কনকের নেতৃত্বে লীগের ছেলেরা জাহাঙ্গীর স্যারের কলার ধরে টেনে তাকে অফিস থেকে বের করে আনছে। লাথি আর চড় দিতে দিতে পাঁচতলা থেকে নামানো, পঁচা ডিম আর মিষ্টি মাখিয়ে তাকে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরানো, শেষে পিটিয়ে ভিসি অফিসের সামনে রেখে যাওয়া। সবকিছু দেখলো পুরো ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীরা, শিক্ষকরা।

বাংলাদেশের নামকরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন হলো প্রকাশ্য দিবালোকে ছাত্রদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের মার খাওয়ার মাধ্যমে। অপরাধ রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা। সুতরাং জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে গায়ের জোরে আগে বাড়লো বুয়েট, মগজের জোর পরাজিত হলো উচ্চশিক্ষার আঙিনায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর ডাকাতদের গ্রাম হিসেবে দ্বিতীয় স্থান দখলে বুয়েট স্বার্থক ও সফল।

বুয়েট ভ্যানটেইজ পয়েন্টঃ দুই

By: Aman Abduhu
আজকে শুভ্রর মনটা বেশ ফুরফুরে। ফুর্তিতে তার আকাশে উড়তে ইচ্ছা করছে। সন্ধ্যার সময় ফোনে মন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে পেরেছিলো ফাঁসির কথা। তারপর থেকে ক্যাম্পাসে ঘুরাঘুরি আড্ডা, টিএসসি শাহবাগে মেয়েদের দেখে চোখের ব্যায়াম সেরে নতুন গাড়িতে চড়ে স্টার কাবাব। বুয়েট ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে সে এ ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়িটা ব্যবহার করছে। ঠিক সাড়ে দশটার সময়, যখন ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে, তখন সে দলবল নিয়ে কাচ্চি খাচ্ছিলো। পরের কয়েক ঘন্টা সে কাটালো হোটেল শেরাটনের বারে, দলের সহকর্মী বন্ধুদের সাথে। ফুর্তি আর ফুর্তি। দুনিয়াটাকে পায়ের নিচের কার্পেট মনে হয়। বিচার বিভাগ পুলিশ আর্মি সরকারী অফিস আদালত সব এখন শুভ্রজ্যোতিদের কথায় উঠে আর বসে। সে মাঝে মাঝে কল্পনা করে এভাবে দশ পনেরো বছর যেতে পারলে সেও একদিন পলক ভায়ের মতো তরুণ মন্ত্রী হয়ে যাবে। এখন গাড়িতে পতাকা নেই। তখন পতাকা থাকবে, পুলিশের এসকর্ট থাকবে।

শেষ রাতে হলে ফেরার পথে ফোনটা আসলো। তার এক চ্যালা জানালো, ফেইসবুকের বুয়েটের গ্রুপে জাহাঙ্গীর স্যার একটা মন্তব্য করেছে। ব্লগার পোলাপান তাকে ওখানে চেপে ধরেছে। ছাত্র ইউনিয়নের পোলাপান আবার লেখালেখিতে ভালো। তারা ফেইসবুকে লিখে স্যারকে চেপে ধরেছে। শেষ পর্যন্ত স্যারকে তারা ঐ গ্রুপ থেকে ব্যানই করে দিয়েছে। তারা যা করার করেছে, বাকিটা ছাত্রলীগের হাতে। বিস্তারিত শুনে সে বললো, এই সুযোগে জামাতি টিচারটাকে একটা শিক্ষা দিতে হবে। কাল তোরা ক্যাম্পাসে দেখা করিস। প্রথম কাজ হবে এইটা।

বারোটার দিকে তার শুভ্রর ভেঙেছে কনকের ফোন পেয়ে। তার সেক্রেটারী। খুব জোশিলা ছেলে, সবসময় তার হাত পা চলে, মুখ ততটা চলে না। নাজমুল ভাই ওবায়দুল কাদের ভাইদের সাথে সবসময় যোগাযোগ মেইনটেইন করে। শুভ্র জানে, কনকও মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবে সে কনককে হুমকি মনে করেনা। শুভ্র হিন্দু, তার কিছু বাড়তি সুযোগ আছে। এখন সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেই হলো। কিন্তু প্রতিযোগিতাও অনেক, প্রতিযোগী অনেক।

কাঁচা ঘুম ভেঙে এলকোহলের হ্যাংওভারে মাথাটা ব্যাথা করছে অনেক। কিন্তু ঐদিকে কনক চিৎকার করে যাচ্ছে সমানে। ফেইসবুকের ঐ জাহাঙ্গির স্যারের মন্তব্য নিয়ে না কি অনেক কিছু হয়ে গেছে। এই সুযোগে সবার সামনে একটা উদাহরণ রাখা দরকার। জামাতি হলে কারো মাফ নাই, এমনকি টিচার হলেও। পোলাপান সবাই কেন্টিনে আছে। কনফার্ম খবর আছে, জাহাঙ্গীর স্যার অফিসে এসেছে সাড়ে বারোটার দিকে। তারা সবাই এখন নেতার জন্য অপেক্ষা করছে। টায়ার্ড লাগলেও সে আর দেরি করলো না। হাতমুখ ধুয়ে বেরিয়ে পড়লো।

পরের ঘটনাগুলো সব দ্রুত ঘটে গেলো। স্যার প্রথমে একটু অবাক হয়ে তাকিয়েছিলেন। উথালপাথাল লাথি আর ঘুষি আর থাপ্পড় শুরু হওয়ার পর অবশ্য আর তাকানোর অথবা কোন কিছু বলার সুযোগ পেলেন না। পরে কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিলেন। ততক্ষণে তারা স্যারকে মারতে মারতে পাঁচতলা থেকে নামিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার সামনের রাস্তাটা হয়ে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর সামনে নিয়ে এসেছে। পচা ডিম আর মিষ্টিতে মাখামাখি হয়ে জাহাঙ্গীর স্যারের অবস্থা করুণ। শেষপর্যন্ত অবশ্য শুভ্রর একটু খারাপই লাগলো। তাছাড়া সিনিয়র স্যাররাও বের হয়ে আসছেন। ভিসি এসে পড়বেন যে কোন সময়। সে অন্যদের বললো, যথেষ্ট হইছে। এবার সবাই চল।

তারা হৈ হৈ করে আনন্দ করতে করতে হলের দিকে ফিরে যাচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা সবাই ভয় আর সমীহমাখানো দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে। সবার সামনে হিন্দি সিনেমার নায়কের মতো শুভ্রজ্যেতি। পুরনো সেই অনুভুতিটা তার আবারও হচ্ছে। দুনিয়াটাকে ইদানিং তার পায়ের তলায় বিছানো কার্পেটের মতো মনে হয়।

বুয়েট ভ্যানটেইজ পয়েন্টঃ এক

By: Aman Abduhu
জাহাঙ্গীর আলম সাহেবের মনটা বেশ বিষণ্ণ। বাংলাদেশে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মারা যায়। মানুষের মৃত্যুতে এতো বিষণ্ণ হওয়ার কিছু নেই। তবে কয়েক মিনিট আগে ফাঁসিতে নিহত কামারুজ্জামান সাহেবের জন্য একটু বেশিই খারাপ লাগছে। মানুষটাকে তিনি দেখেননি। কিছু ঘনিষ্ঠ পরিচিতদের কাছ থেকে শুনেছেন তার কথা। যেসব অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে এসবের মিথ্যা হওয়া নিয়ে, ট্রাইবুনালের অন্যায় ও অবিচার নিয়ে তার যথেষ্ট অনুযোগ আছে। কিন্তু কিছু করার নেই। একটা রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের মেকানিজম আর বেশিরভাগ মানুষ মিলে এমন অন্যায় করতে পারে, এসব ভেবে তার ভালো লাগছে না। অসহায় লাগছে খুব। আগামীকাল সকালে ক্লাশ নেই, তাই মন খারাপ কাটাতে রাতের বেলাতেও ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছেন বুয়েটের শিক্ষক প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম। কিছু করতে পারছেন না। বারবার নিউজ সাইটগুলোতে খবরের আপডেট আর ফেইসবুকে বিভিন্ন লেখা আর মন্তব্য পড়ে যাচ্ছেন।

বন্ধু জামিলের কথা মনে পড়ছে। দুজন একসাথে পিএইচডি করেছিলেন জাপানে। পিএইচডি শেষে জামিল ওখানে থেকে যায়। হোন্ডা রোবোটিকস এ চাকরী নিয়ে। তার নিজের রেজাল্ট বরং জামিলের চেয়ে বেশি ভালো ছিলো। চাকরীর সুযোগ তার বেশি ছিলো। জামিলও অনেক বুঝিয়েছিলো। ভেবে দেখ দোস্ত, গাড়ি বাড়ি নিরাপত্তা শান্তি। আমরা গরীব দেশের মানুষ। আর কি চাই? এখানে নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ আছে, কাজের সুযোগ আছে। মানসিক শান্তি পাবি। বাংলাদেশে গিয়ে কি করবি? ঐ দেশের মানুষ আর মানুষ নাই। আল্লাহ এখানে সুযোগ দিয়েছেন, থেকে যা দোস্ত।

জাহাঙ্গীর তখন মুচকি হেসেছিলেন। তার শুধু মায়ের কথা মনে পড়ে। প্রিয় বুয়েট ক্যাম্পাসের কথা মনে পড়ে। গ্রামের কথা মনে পড়ে। এমনকি হাতিরপুল বাজারের ডাস্টবিনের ময়লাগুলোকেও তার কাছে টোকিওর সাজানো গুছানো পার্কের চেয়ে সুন্দর মনে হয়। পরীক্ষার আগের রাতে রিভিশন শেষ করে ক্লান্ত হয়ে পলাশীর মোড়ে গিয়ে এক কাপ চা খেতে ইচ্ছা হয়। তার মনে হয়, পাবলিক ভার্সিটিতে জনগণের টাকায় পড়ালেখার দায় পুরোটা শোধ না হলেও কিছু অন্তত শোধ করা যাবে ওখানে পড়িয়ে। ওখানে চাকরী করে। ক্লাসরুমে বসে উম্মুখ তাকিয়ে থাকা, শিখতে ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদেরকে শেখাতে আর নতুন নতুন বিষয় জানাতে তার ভালো লাগে। সে এদেশে ফিরে এসেছিলো।

এলোমেলো এইসব ভাবনার সাথে জাহাঙ্গীর আলম সাহেব ফেইসবুকে বিভিন্নজনের বিভিন্ন লেখাও পড়ছিলেন। বুয়েটিয়ানদের একটা গ্রুপ আছে, নাম ‘বুয়েটে আড়িপেতে শোনা’। হঠাৎ গ্রুপের একটা পোস্ট ভেসে আসলো টাইমলাইনে। দীপু সরকার নামে এক ছাত্র কামারুজ্জামানের ফাঁসির খবর শেয়ার করেছে। তার নিচে চন্দ্রনাথ নামে আরেকজন উল্লাসের সাথে লিখেছে, জয় বাংলা। আধাঘন্টাও হয়নি ফাঁসি দেয়া হয়েছে। একজন ইসলামিক নেতার মৃত্যুতে হিন্দুদের এইসব লাফালাফি দেখে তার ভালো লাগছে না। তিনি জানেন এখন চুপ করে থাকাই ভালো। কিন্তু পারলেন না, ওখানে মন্তব্যে করে বসলেন ‘জয় মা কালী, জয় ইনডিয়া”।

ব্যাস, তান্ডব শুরু হয়ে গেলো। বুয়েটের অনেক ছাত্র-শিক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়লো ঐ পোষ্টে। শাহবাগ সমর্থক এবং শাহবাগি নিয়ে একটিভ ছাত্রদের ওখানে মারাত্বক সব মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে। সবাই জাহাঙ্গীর আলম সাহেবের ঐ মন্তব্য নিয়ে ব্যস্ত। তুমুল প্রতিক্রিয়া। মন্তব্য প্রতিমন্তব্য গালাগালি। তাকে স্বাধীনতার শত্রু, সাম্প্রদায়িক, বাংলাদেশে থাকা পাকি জারজ বানানো হলো। অন্যান্য শাহবাগিরাও প্রচন্ড চিৎকারে ফেটে পড়ছে। একজন শত্রু পাওয়া গেছে। একে ধ্বংস করার আনন্দে শাহবাগিরা দলবেধে উৎফুল্ল ভয়ংকর এখন। তারা অনেক দেশপ্রেমিক।

এক ঘন্টা ধরে জাহাঙ্গীর সাহেব এসব দেখলেন। ক্লান্ত লাগছে। অসহয়ায় লাগছে। তিনি মন্তব্য এডিট করে লিখলেন ‘জয় ইনডিয়া, জয় মাসল পাওয়ার, জয় নেসটি পলিটিক্স, জয় ইনজাস্টিস’। একটু পরেই হঠাৎ দেখলেন গ্রুপে মিশকাত আল-আলভী নামে এক শাহবাগি প্রগতিশীল ছাত্র, যে গ্রুপের একজন এডমিনও, সে পোস্ট দিয়েছে ‘কেপি টেস্টে সাফল্যের সাথে পাশ করার জন্য বুয়েট শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রুপ থেকে ব্যান করা হলো। ধন্যবাদ। ছাগুসব করে রব ফাঁসি হইলো।’

কিছুক্ষণ পর থেকে তিনি আর গ্রুপে ঢুকতে পারলেন না। বুঝতে পারলেন তাকে বুয়েটিয়ানদের ঐ গ্রুপে ব্যান করা হয়েছে। একজন প্রফেসর হয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে ছাত্রদের কাছ থেকে, সহকর্মী শিক্ষকদের কাছ থেকে এ ধরণের আচরণ পেয়ে তার বেশ মন খারাপ হলো।

পরদিন দুপুর দেড়টা। জাহাঙ্গীর আলম সাহেব ডিপার্টমেন্টে তার অফিসে বসে একটা জার্নালে চোখ বুলাচ্ছেন। দরজা ঠেলে রুমে ঢুকলো কয়েকজন ছাত্র। একটু চমকে উঠলেন তিনি। আবু সাইদ কনককে তিনি চেনেন। বুয়েট ছাত্রলীগের সেক্রেটারী। আর শুভ জ্যোতি টিকাদারকে তো সবাই চেনে। বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি। সাথে আরো সাত আটজন। কয়েকজন তার পরিচিত, বাকীরা অপরিচিত। তবে বুঝা যায় সবাই এখানকার ছাত্র। তিনি বললেন, কি ব্যাপার?

ছাত্রদের একজন চিৎকার করে বললো, শুয়েরের বাচ্চা, রাজাকারের বাচ্চা। কি ব্যাপার জিগাস? তিনি অবাক হয়ে গেলেন। কি বলবেন বুঝতে পারছেন না।

এর মাঝেই শুভজ্যোতি এগিয়ে এসে তার কলার ধরে টেনে তাকে দাঁড় করিয়ে দিলো। গালে এসে পড়লো কনকের জোরালো থাপ্পর। বাকিরাও এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করলো। কাপড় ছিড়ে চুল এলোমেলো হয়ে বিশৃংখল অবস্থা। জাহাঙ্গীর সাহেব হঠাৎ এসবের মুখে পড়ে শকড হয়ে গেলেন। কি করবেন বুঝতে পারছেন না। এর মাঝেই তাকে এই ছাত্রের দল মারতে মারতে আর ধাক্কাতে ধাক্কাতে বের করে নিয়ে আসে। ডিপার্টমেন্টের আশেপাশের অফিস থেকে অন্য শিক্ষকরা আর ক্লাসরুম গুলো থেকে শত শত ছাত্রছাত্রী বের হয়ে এসেছে। সবাই চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। কারো কিছু বলার সাহস নেই।

লজ্জায় অপমানে প্রফেসর জাহাঙ্গীর সাহেবের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। তিনি বুঝতে পারছেন না ঠিক কি হচ্ছে। মার খেতে খেতে তিনি বুঝতে পারলেন শুভজ্যোতি তার মাথায় একটা ডিম ভেঙ্গে লেপটে দিচ্ছে। বাকিরাও প্রচন্ড উৎসাহিত হয়ে পড়লো। তারাও ডিম নিয়ে তার মুখে ভেঙ্গে লেপটে দিতে লাগলো। ডিমের কুসুম আর আঠালো রসে তার মুখ চুল নোংরা হয়ে একাকার একাকার। কনক একটা প্যাকেট থেকে আঠালো মিস্টি নিয়ে তার নাকে মুখে ঢুকিয়ে দিলো। আর হাসতে হাসতে বললো, এইটা তোর বাপ রাজাকারের ফাসির মিষ্টি। খা শুয়োরের বাচ্চা। রাশেদ নামের তারই আরেক ছাত্র কয়েকটা মিষ্টি তার পিঠে ডলে দিলো।

আনন্দ করতে করতে, তাকে লাথি আর থাপ্পড় দিতে দিতে সবাই মিলে তাকে পাঁচতলা থেকে নামাতে থাকলো। সিড়িতে ছাত্রছাত্রীরা এসব দেখে আঁতকে সরে দাড়াচ্ছে। অনেক শিক্ষক চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। পরবর্তী দশ পনেরো মিনিট যাবত তাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এ গ্রুপটা কুকুরের মতো মারতে মারতে ক্যাফেটেরিয়ার সামনের রাস্তায় নিয়ে গেলো। ওখানে দেখানো শেষ হলে রেজিষ্ট্রার বিল্ডিং এর সামনেও নিয়ে যাওয়া হলো।

শেষপর্যন্ত তাদের মনের সব আনন্দ মিটে গেলে, শুভজ্যোতি চিৎকার করে বললো, শুয়োরের বাচ্চা আর কোনদিন পারলে মা কালী অথবা ইনডিয়ার নাম নিস। তখন তোর জিহবা টেনে ছিড়ে ফেলবো। আজকে ছেড়ে দিলাম। এই চল। বাকী সবাইকে সে আদেশ দেয়ার পর সবাই উল্লাসে জয় বাংলা স্লোগান দিতে দিতে একাডেমিক বিল্ডিং এর দিকে চলে গেলো। আজ অনেক উত্তেজনা হয়েছে। এখন বোতল খুলে সেলিব্রেট করতে হবে। তার আগে হাত ধুতে হবে। ডিম মিস্টি রক্ত সব লেগে আছে হাতে। অবশ্য রাশেদ জিনসের প্যান্টে হাতটা মুছে নিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়েছে।

ছেড়া শার্ট আর বাকি সব ময়লাতে মাখামাখি হয়ে প্রফেসর জাহাঙ্গীর রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর রাস্তায় পড়ে আছেন। প্রচন্ড মার খেয়েও তিনি তেমন একটা ব্যাথা অনুভব করছেন না অবশ্য। শিক্ষক মানুষ, অপমানবোধ একটু বেশি প্রখর। অপমানের যন্ত্রণায় তার শরীরের ব্যাথা ঢেকে গেছে। এটা একটা ভালো দিক।

Correction: This Article previously said that  রাগিব হাসান নামের পুরনো শাহবাগি নেতাও বেশ আবেগঘন বয়ান দিয়ে যাচ্ছে। তার আর বুয়েটের শিক্ষক থাকার অধিকার নেই। তাকে বুয়েট থেকে বের করে দেয়া হোক। Mr Ragib Hasan protested that although he condemned the comments of Mr Zahangir, he never said he cannot be a BUET teacher anymore and he also vehemently protested the attack on Mr Zahangir. We apologize for the mis-attribution in the article.

Real Face of Danger: Harassing University Teacher in Bangladesh

By: Elora Zaman

Bangladesh, a tiny country, is going through a lot these days; so many things are happening there everyday that one can easily loose tracks. However, a particular event needs attention in my opinion. Harassing and beating a university teacher is not an insignificant thing, especially when it takes place in the context of current emotion-based political issues. Such a phenomenon would drive us to the dark age of ignorance and injustice. Such a task, if it will be left unattended and untreated, would only make a rotten society of us.

Ahmad Safa, a renowned Bangladeshi intellectual, once said, the nation is halted for one year if the university is closed for one day. Teachers are the architects of the society. So the question is, why they are prohibited from thinking freely, and expressing their opinion honestly and openly in current Bangladesh in the hands of the so-called freethinkers and liberals?

Good governance is strongly associated with good and proper education. Good educators are essential in the society for manufacturing good citizens and honest human beings, who will be capable of establishing and maintaining good governance. In our society, these educators are being harassed and beaten by political thugs, and those thugs get their shelter from the government. This is a greatest irony.

Last week, some students beat Jahangir Alam, a professor of the Civil Engineering Department in Bangladesh University of Engineering and Technology, BUET, in the campus, even inside a classroom. They were not content by verbally and virtually abusing him, they started beating him on the following day of his alleged crime. His crime was to express his opinion in a facebook group regarding the ongoing Tribunal of Crime against Humanity in Bangladesh, especially one of its verdicts that hanged a political leader on that night.

The students in our society are known for respecting their teachers, traditionally, and treating them with more honour than their own parents. This respect is considered as one of the major elements in our socio-psychological construct. Unlike Western culture, our eastern culture conventionally sees that the teachers have rights even to beat their pupils occasionally in order to teach them. That’s why it is extra-ordinarily shocking to see that one of those respected teachers are now being verbally and physically abused by the hand of their own students. Which is more shocking is to see that thousands of teachers in Bangladesh are silent today; they don’t protest and seek justice in this regard. All these are taking place only with the support of current oppressive regime of Awami League, led by the hardliner Prime Minister Sheikh Hasina. Now it has become a commonplace to see that our teachers are forced to act like obedient pets in front of the political leaders.

We can see that many oppressive rulers and monarchs treated the teachers with honour. Many kings are ill-reputed in the history for their deeds, but even they were usually respectful towards the teachers and the scholars. What is happening in current Bangladesh in the name of 1971 war-industry doesn’t know any bound in this regard. Now, every conscious soul is mistreated if they dare to express their opinion freely. Naturally, the educators have become a primary victim in that closed and fascist structure. Do those political thugs and leaders know the place of the educator class in a human society? Or they forget everything due to their physical power and dare to destroy the power of intellectual beings? I urge to everyone concerned about Bangladesh to be aware of the significance of this event and to protest against this with all means possible.

বাংলাদেশের গ্রেট ডিভাইডঃ ইতিহাসের প্রেক্ষিতে

by: Aman Abduhu
রোমান সম্রাজ্যে যখন গ্ল্যাডিয়েটরদেরকে বাঘ-সিংহের মুখে ছেড়ে দেয়া হতো, অথবা নিজেদের মধ্যে মৃত্যু পর্যন্ত মারামারি করতে হতো, তখন কলোসিয়াম বা স্টেডিয়ামে জড়ো হওয়া হাজার হাজার দর্শক সেইসব বন্য মারামারি দেখে চরম আনন্দে ফেটে পড়তো। এরা অন্যায়ভাবে মারা যাচ্ছে, না কি সম্পদ বা খ্যাতির জন্য এ কাজ করছে, না কি অত্যাচারী সম্রাটের ইচ্ছার সামনে অসহায় হয়ে এরেনাতে গিয়ে দাঁড়ানো ছাড়া তার আর কোন গত্যন্তর নেই, এসব কোন ধর্তব্য বিষয় ছিলো না মানুষের কাছে। মানুষ বিভৎস মারামারি দেখতে ভালোবাসতো। একজন আরেকজনকে খুঁচিয়ে মেরে ফেলছে, অথবা কোন পশু এসে একটা মানুষকে কামড়ে কামড়ে ছিড়ে নিচ্ছে এসব দেখতে তারা ভালোবাসতো। বাস্তবতার যাতাকলে পিষ্ট মানুষজনের কাছে এগুলো ছিলো বিনোদন, কিছুটা বাঁচার আনন্দ। যত বেশি নিষ্ঠুরতা তত বেশি আনন্দ। এসব দেখতে দেখতে তারা সোৎসাহে মহাউল্লাসের চিৎকারে ফেটে পড়তো। চল্লিশ পঞ্চাশ হাজার মানুষের গর্জনে আকাশ বাতাস ভরে যেতো। আর প্রধানমন্ত্রী কিংবা সম্রাটের সিংহাসনে বসে ক্যালিগুলা, নিরো অথবা টাইবেরিয়াসের মতো অত্যাচারী বিলাসপ্রবণ সম্রাটের দল মুচকি মুচকি হেসে আনন্দ নিতো। সবশেষে বুড়ো আঙ্গুল নিচু করে হত্যার ইশারা করতো, অনুমতি দিতো। তখন স্পার্টাকাস, ক্রিক্সাস অথবা ভেরাসের মতো গ্ল্যাডিয়েটররা হয় মারতো, অথবা মরে যেতো। সম্রাট হয়তো মহাউত্তেজনা শেষে হেলান দিয়ে বসে সুরাপাত্রে একটা চুমুক দিতেন। ক্ষমতার স্বাদ বড় মধুর।

সেই প্রাচীন রোমের সাথে আজকের তথাকথিত আধুনিক যুগের বাংলাদেশের তেমন বেশি একটা তফাৎ নেই। তখনও বেশ প্রতিষ্ঠিত বিচারব্যাবস্থা ছিলো, আনুষ্ঠানিক রায় দেয়া হতো। এখনও ট্রাইবুনালের নামে মোটামোটি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। স্বাক্ষী মিথ্যাবাদী অথবা স্বাক্ষী নেই কিংবা জাল দলিলপত্র অথবা বাস্তবে বিবাদী ছিলো অন্য কোথাও, এসব বিবেচ্য বিষয় না। বিষয় হলো মানুষের দাবী পুরণ। মানুষ বাস্তবে দেখে বাংলাদেশ একটি ব্যার্থ অথর্ব রাষ্ট্র, দুর্নীতি সন্ত্রাস শ্রেণীবৈষম্য অনায্যবন্টন নিরাপত্তাহীনতা সব মিলে দেশটা দিন দিন পাতালে যাচ্ছে। সুতরাং মানুষের একটু রিলিফ দরকার। দেশ নিয়ে গর্বের জায়গাতে মলমের প্রলেপ দেয়ার জন্য ফাঁসি দরকার। এভাবে তথাকথিত কলংকমুক্তির সান্তনা দরকার।

দুইহাজার বছর পরে এসে এখন রোমান সাম্রাজ্য নিয়ে অনেক বই অনেক মুভি হয়। ওখানে কোন গ্ল্যাডিয়েটর অত্যাচারের শিকার হলে দেখানো হয়। সম্রাট নিরো অথবা কমোডাস এর মতো রাজাদের অত্যাচারের কাহিনী দেখানো হয়। তাতে অবশ্য সেইসব গ্ল্যাডিয়েটর অথবা রাজাদের কি আসে যায় আমি বুঝি না। তারা যারা মারার মেরেছে, যারা মরার মরেছে, যারা অত্যাচার শোষণ করার করে গেছে। এখনও যার ফাঁসি হয় সে তার জীবনে যা করার করে গেছে। যে ফাঁসি দেয় সেও গরীব দেশের গরীব মানুষকে ভুখা রেখে রাজকীয় বিলাস করে যায়। আর আমরা গরীবের দল সেই ফাঁসি কখন দেয়া হবে, কিভাবে দেয়া হবে, এখনো দেয়া হচ্ছে না কেন, লাশ নিয়ে কি হবে, কে ভি চিহ্ন দেখিয়ে আঙ্গুল দিয়ে চেতনাকে সমস্যাগ্রস্থ করে দিলো, কে সাহসী হয়ে আদর্শের জন্য ত্যাগ স্বীকার করলো আর কে কলংকমুক্তিজনিত পুলক পেলো এইসব নিয়ে মেইনস্ট্রিম আর অল্টারনেটিভ মিডিয়াতে সেই দুইহাজার বছর আগের প্রাচীন রোমের উন্মাদ জনগণের মতো হিস্টিরিয়াগ্রস্থ চিৎকার করে যাই।

‘রাম যদি হেরে যেতো রামায়ণ লেখা হতো/ রাবণ দেবতা হতো সেখানে’।

আসল কথা একটাই। সময় একটা চলমান প্রক্রিয়া দুনিয়ার বাকী সব থেমে গেলেও যেইটা কখনো থামেনা। সুতরাং একজন মানুষের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত অথবা একটা প্রসেসের সমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ব্যর্থ অথবা সফল বলার পুরোপুরি সুযোগ আসে না। এবং সে মূল্যায়নে যে চলে গেছে তার কিছু আসে যায় না। কেউ টাইবেরিয়াসের মতো আটাত্তর বছর বয়সে গিয়ে মরে, একজন অত্যাচারী রাজার পক্ষে যা করা সম্ভব তা করে। অথবা কেউ নিরোর মতো মাত্র তের চৌদ্দ বছর রাজত্ব করার সুযোগ পায় আত্বহত্যার আগে, তবে এই অল্প সময়ে যা করে তাতেই অত্যাচার অনাচারের ইতিহাসে অমর হয়ে যায়। কোন গ্ল্যাডিয়েটর দীর্ঘদিন এমফিথিয়েটারে রাজত্ব করে। কেউ যোগ্যতা অথবা ভাগ্যের মারপ্যাচে পড়ে অল্পদিন পরে শেষ হয়ে যায়। ইতিহাস তাকে কিভাবে বিচার করলো বা না করলো তাতে ঐ মানুষটার কিছু আসে যায় না। সে নিজের কাছে নিজেকে কিভাবে বুঝে নিলো, উপভোগ করলো না কি হতাশ হলো, ততটুকুই তার প্রাপ্তি। আর আমরা আমজনতা থেকে যাই বিভিন্ন ব্যাখ্যা আর অর্থহীন লম্ফঝম্ফ নিয়ে ব্যস্ত।

মানুষের সমাজে জনগণ কেবলমাত্র তখনই মূল্যবান হয়ে উঠে যখন বিপ্লব সংঘটিত হয়। যখন মানুষ তার অমিত শক্তি নিয়ে জেগে উঠে সব সাজানো এমফিথিয়েটার তছনছ করে দিতে পারে। আর বাকী সব কিছু উপলক্ষ এবং পার্শ্বপ্রসঙ্গ।

মানবতা মুছে ফেলো টিস্যুতে!

By: Aman Abduhu

‘একাত্তর ইস্যুতে/ মানবতা মুছে ফেলো টয়লেট টিস্যুতে’ স্লোগানটা বহু বছর আগে ব্লগে প্রথম দেখেছিলাম। চমকে উঠেছিলাম। আজ এতো বছর পরও মনে পড়ে, প্রথমবার দেখে সেদিন কেমন থমকে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিলো এর জের বহুদূর টানতে হবে বাংলাদেশকে। একটা গোষ্ঠীর চিন্তার প্রকাশ যদি এমন হয়, এবং তা সমাজের শিক্ষিত অংশের মাঝে সমাদৃতও হয়, তবে তার পরিণতি কারো জন্য ভালো হওয়ার কথা না। হয়ওনি। এরপরের বছরগুলোতে শাহবাগিদের প্রিয় সে স্লোগানটা বিভিন্ন উপলক্ষে বারবার, অসংখ্যবার মনে পড়েছে। আজ আবার মনে পড়লো বিহারী পল্লীর হত্যাকান্ডের ঘটনায়।

ঢাকার বিহারী পল্লীতে যুবলীগ নেতাদের নেতৃত্বে উম্মত্ত জনতা আগুনে পুড়িয়ে আর পুলিশ গুলি করে এগারো জন মানুষকে মেরেছে। বেশিরভাগ শিশু আর নারী। শবে বরাতের রাতে আতশবাজি জ্বালানোর মতো তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে। এবং তারপর বীর বাঙালী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উল্লাসে ফেটে পড়ছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্রিকেট খেলায় জিতে আবার মুক্তিযুদ্ধ জয়ের মতো অর্বাচীন সে উল্লাস। সবার সে কি আনন্দ। নিজের অপরাধবোধ আর পশুবৃত্তিকে ঢেকে রাখার কি নিদারুণ চেষ্টা। বিহারী মারলে অসুবিধা নেই। বরং ভালো হয়েছে। এরা স্বাধীনতার শত্রুদের বংশ। এগুলোকে এভাবেই মারা দরকার!!

বাঙালীর এ আনন্দ-উল্লাস দেখে মনে পড়ে বইয়ে পড়া গহীন অরণ্যের আদিম নরখাদক জংলী গোষ্ঠীর উল্লাসের কথা। আগুনে পোড়ানো হচ্ছে কিছু নারী আর শিশুকে। তাদের চামড়া পুড়িয়ে আগুন আরো ভেতরে যাচ্ছে, জ্বালাচ্ছে। চুল পুড়ছে, হাত পুড়ছে, পা পুড়ছে। শ্মশানের পাশে যেমন গন্ধ পাওয়া যায়, সেই মাংসপোড়া গন্ধ ভাসে বাতাসে। আর তাদের চারপাশ ঘিরে ফেসবুকের জঙ্গলে উল্লাসে হৈ হৈ করে নাচছে, লাফাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আপ্লুত বাঙালীর দল। আদিম সেই উল্লাস, খাদ্য জুটছে তাদের প্রতিহিংসাপরায়ণ অন্ধ মনের।

একাত্তরের চেয়ে মানবতা অনেক বড় একটা বিষয়। আর কয়েক জেনারেশন পর একাত্তর স্রেফ অতীতের একটা ঘটনা হয়ে যাবে। কয়েকশ বছর পরে থাকবে বই এর পাতায়। কিন্তু পৃথিবীর শেষ মানুষটা বেঁচে থাকা পর্যন্ত মানবতা একটা দরকারী বিষয়। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী একাত্তরে মানবতার তোয়াক্কা করেনি বলেই তারা এতো ঘৃণিত।

বিহারী পল্লীর এ ঘটনায় একাত্তর কোনভাবে প্রাসঙ্গিকই না। তারপরও তা টেনে এনে নাচানাচি করা বিকৃত মানসিকতা। যে বিকৃতি আজ বাংলাদেশে মহামারীর মতো। আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় বুদ্ধিজীবি আর শাহবাগির দল সে বিকৃতিকে পুরো দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের বড় একটা অংশের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। হেডোনিস্টিক ভোগবাদি জীবন যাপনের পাশাপাশি এইধরণের খেলা বা খুনের ঘটনায় এরা দেশপ্রেমের দায়িত্ব পালনের তৃপ্তি পায়।

তাই গত কয়েকবছর ধরে যে অবিচার আর অমানবিকতা চলে আসছে, তাতে মানুষের আর বিকার হয় না। পুলিশ যাকে ইচ্ছা তাকে ধরে নির্বিকার খুন করে ফেলতে পারে, ছাদ থেকে ফেলে দিতে পারে, গুম করতে পারে, কোন বিচার নাই। ছাত্রলীগ যুবলীগও যা ইচ্ছা খুন ধর্ষন চালিয়ে যেতে পারে, কোন সমস্যা নাই। বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে কুপিয়ে মারা ছাত্রলীগ নেতা সবার সামনে উঁচু গলায় তার পরিবারকে জানিয়ে দেয়, সমস্যা হবে না কোন। গ্রেফতার টেফতার এগুলো ফরমালিটিজ। নারী শিশুদেরকে পুড়িয়ে মারার পর সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাসিমুখে বলতে পারে, এটা নিছক দুর্ঘটনা। একই দিনে শেখ হাসিনার কথা বলার বিষয় হলো খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিষোদগার। বিহারী পল্লীতে না হয়ে এতজন মানুষ ক্যান্টনমেন্টে মারা গেলে হাসিনা দৌড়ে যেতো, তাদের পরিবারের ভরণপোষনের দায়িত্ব নেয়ার রেডিমেইড নাটকও মঞ্চস্থ হয়ে যেতো এতোক্ষণে।

সমসাময়িক বাংলাদেশে মানবতার এ দুর্দশা শুরু হয়েছিলো আঠাশে অক্টোবরে পল্টনে লগি-বৈঠার সেই ঘটনায়। যেদিন হাসিনার নির্দেশের ফলে মানুষকে আর মানুষের সম্মান দেয়া হয়নি। পশুর মতো পিটিয়ে মারা হয়েছে, প্রকাশ্য দিবালোকে। এবং তার কোন বিচার হয়নি। সে ঘটনার মানসিক প্রভাব ছিলো সুদূরপ্রসারী। আওয়ামী মাফিয়া লীগের লোকজন জেনে গেছে, তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। প্রফেশনাল দুবৃত্ত, চোর-ডাকাত, খুনী-ছিনতাইকারীরা বুঝে নিয়েছে, আওয়ামী লীগের সাথে থাকলে তাদের প্রফেশনাল কাজকর্মের কোন সমস্যা নাই। মীরপুরের ঘটনা এলাকার যুবকদের মারামারি হলেও, তাতে নেতৃত্ব দিয়েছে যুবলীগ নেতা রানা, সেন্টু, শরিফুল। বাংলাদেশে এখন কোন ঘটনাই রাজনৈতিক ছত্রছায়া ছাড়া ঘটে না।

কোন একজন মানুষও কি মনে করেন, এ ঘটনার কোন বিচার হবে? এভাবে নারী আর শিশুদেরকে পুড়িয়ে মারলো যারা, তারা শাস্তি পাবে?

বরং আঠাশে অক্টোবরের সে ঘটনা থেকে শুরু করে বড় বড় ঘটনাগুলোর ন্যায়বিচার না হলে, আজকের বিহারী পল্লীতে ঘটে যাওয়া এই ধরণের গণউন্মাদনার মতো পশুবৃত্তি কখনোই বন্ধ হবে না। কাল বিহারী পল্লীতে এগারোজন মরলো। কয়েকবছর আগে শবে বরাতে আমিনবাজারে ছয় ছাত্র মারা গিয়েছিলো। কয়েক বছর পরে অবশ্যই আমি আপনি মারা যাবো। আগুনে পুড়তে পুড়তে, অথবা মব হিস্টিরিয়ার গণপিটুনিতে দুমড়ে মুচড়ে হোক, কিংবা আওয়ামী দুবৃত্তদের উদ্ভাবিত নতুন কোন উপায়ে। আর গণভবনে বসে রক্তপিপাসু ডাইনী হাসিনা এসব মৃত্যুর খবর পেয়ে সবার সামনে চোখের পানি দেখানোর আগে জিন্দেগী জিন্দেগী গানের তালে একটু নেচে নেবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা!! হাহ!

ফুটনোটঃ একাত্তর নিয়ে আমরা যেই সরল গল্প-কাহিনী জানি, তার বাইরেও কিছু অলটারনেটিভ কথা আছে। আজকের বাঙালীদের এ উল্লাস দেখে মনে হয়, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েনের লেখা ‘একাত্তরের স্মৃতি’ বইয়ে যুদ্ধের আগে বিহারীদের উপর গণহত্যা চালানোর যে ঘটনাগুলো আছে, তা সত্যও হতে পারে। আমাদের বাবা-দাদারাই তো ছিলেন।