পাবলিক কি নিয়ে গুগলে সার্চ করে?

4

শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর জনগণ কি ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে গুগলে সার্চ করে তার নিয়মিত এনালাইসিস হয়। এ থেকে মানুষের সাম্প্রতিক উৎসাহ, উদ্দীপনা, শংকা, আগ্রহ ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যায়।

এই মুহূর্তে  বাংলাদেশীরা কি কি বিষয়ে গুগলে সার্চ করছেন তা জানতে পারলে খুব ভালো হতো। কিন্তু তা জানার উপায় আমার নেই। নুরালদীন ব্লগ খুলা হয়েছিল ৩ মাস আগে। এই তিন মাসে নুরালদীনের পাঠকরা কি কি বিষয় সার্চ দিয়ে নুরালদীনের ওয়েব সাইটে এসেছিলেন, তার একটা তালিকা হাতে পেয়েছি। মন্দের ভালো হিসেবে এই তালিকাটা খারাপ না। 

এই সার্চ তালিকায় এমন কিছু বিচিত্র সার্চ আইটেম ছিল, যা বেশ চমকপ্রদ। কোন কোন সার্চ ওয়ার্ড কেন নুরালদীনের ওয়েবসাইট খুঁজে পেয়েছে তাও আমার অজানা। যাহোক, পাঠকদের পড়ার সুবিধার জন্যে সার্চ আইটেমগুলোকে কয়েকটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিচে তুলে দেয়া হলো। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্যে আমার ব্যাক্তিগত পছন্দের উইনার ও রানার্স-আপ ঘোষণা করে দিলাম। আপনাদের পছন্দের গুলো কমেন্টসে জানাতে পারেন। আঠারো প্লাস আইটেমগুলো সব শেষ আকর্ষন হিসেবে নিচের দিকে দেয়া হলো।

—————————–
রাজনইতিকঃ এই কেটাগরিতে সরকার বিরোধিতা, সাম্প্রতিক ইসু, ইত্য়াদি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।
——————————

আওয়ামীলিগ এর বিরুদ্ধে লিখা
এমপির রক্ষিতা
জামাতের ভুল
awami league terrorism picture against another party
গীতা রানী শেখহাসিনা
নির্বাচন এর পরে যুদ্ধাপরাধ এর ফাসি
সেনা শাসনের আভাস
সামরিক হস্তক্ষেপের
আওয়ামী লীগ সত্যিই অনেক বেশী বেশী করতেছে (Winner)
ম্যাডাম বের না হলে
বর্তমান অবস্থানে খালেদার আচরন
হায়রে গণতন্ত্রের লড়াই (Runners-Up)
দাদাগিরি
গোলাম মাওলা রনির নির্বাচিত কলাম
গোপালগঞ্জ জেলা উঠে যাবে
এই বছরের নির্বাচিত হাস্যকর রাজনৈতিক উক্তি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে “র” ও ভারত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে “র”
late pri mister ziaur rahman
কসাই কাদের
আওয়ামী লীগের মন্দির তৈরি ৫ বছরের তালিকা
চুপ থাকো, বেয়াদব কোথাকার video youtube khaleda zia

————————————–
ঐতিহাসিকঃ এই ক্যাটাগরিতে সিকিম ও সিকিমের লেন্ডুপ দর্জি সম্পর্কে মানুষের মাত্রাতিক্ত জানার আগ্রহ দেখা গেছে।
————————————–

মুক্তিযুদ্ধে জামাতের ভুমিকা
৭১ বনাম ২০১৩
pilkhana tragedy shocking pics
ভারত ১৯৭১ সালে কী বাংলাদেশের সম্পদ লুঠ করেছিল? (Runners-Up)
সিকিম ও চীন
বসনিয়ার ইতিহাস
ভারত
লেন্দুপ দোরজি’র ইতিহাস
casandra moment
বাংলাদেশ 1971 ইতিহাস
bangladesh rifles mutiny pictures
দর্জি সিকিম
in pilkhana tragedy how many were raped
শেখ মুজিব বামপন্থি
সিকিম বিভ্রান্তি
1971 মুসলিম মেয়ে ধর্ষন
সিকিম অসম্ভব
বাংলাদেশ সিকিম হবে না (Winner)
মিলিটারিদের বেতন
সিকিম দর্জি

———————
সামাজিকঃ
———————

দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে কিশোরদের অবদান
চালেন ২৪ সংবাদ পাঠকের বেতন
want to know about anjan roy tv conductor bangladesh
আবাসিক হোটেল কতটা নিরাপদ
বাংলাদেশের 2013- এর j.s.c ফলাফল দেহা
ধুমপান থেকে মুক্তি পেতে
কিভাবে বাড়িতে খেলনা হেলিকপ্টার তৈরী করা যায় (Runners-Up)
ইসলামিক sms
শীত কালে গরিবদের কস্ট নিয়ে কবিতা
লোকের উচ্চতার পেছনে কারন কী
সেবা দাসী
এ বছরটা আমার ভালো গেলনা
কত দুঃখে যে একটা বছর চলে গেল পোস্ট
এক মাইয়ার স্ট্যাটাস
আলেম পরীক্ষার পর কী করব
বুদ্ধিমান হওয়ার কৌশল
ফেন্সিডিল কি দিয়ে তৈরি হই
একটি মহিলার রাক্ষসের বাচ্চা হয়েছে তার ফটো চাই (Winner)
ঠোট ঝুলে গেলে কি করা উচিত
মেয়ে হওয়ায় দোষ কি
ইসলামে লিঙ্গের চুল কাটা

———————–
আঠারো প্লাসঃ
———————–

বাংলা নতুন চটি গল্পের তালিকা 2013
শাহাবাগি উলঙ্গ ছেলে মেয়ের ছবি (Winner)
বাংলার হট মাল
নাটোরের মেয়ে
পাতলা শাড়ী পড়া মেয়েদের ছবি
হোল এর সাইজ কত হওয়া উচিত ?
জামাই শাশুরী চটি
দেশি মেয়েদের বর দুত
কীভাবে আমার বাড়া বড় করব
নগ্নতা
যৌনাঙ্গ মুখে নেওয়া কি জায়েজ আছে
প্রথমে ধর্ষণ করেছিলাম
নগ্ন chobi keno
গ্রামের মেয়েদের নগ্ন ছবি
কাপড় ছাড়া female
বাবার আমেরিকান বন্ধু জোর করে মায়ের ইজ্জত নষ্ট করে দিল
মিলার খারাপ ছবি ও দৃশ্য
bangladeshi meyeder sex vabna 18
ষাটের দশকে মেয়ে সিগারেট
থার্টি ফার্স্ট নাইটের নগ্নতা
ঢাকার সুন্দরী মাগিদের নগ্ন ছবি
ইউরোপে নগ্ন মেয়ে
opu ukil awami hot picture (Runners-Up)
হিন্দু মেয়ে ধর্ষণ চটি গল্প
http://www.bd army ledy offcers.com
নেত্রিদের নগ্ন ছবি

২০১৩ ছিল লজ্জার বছর, বিভাজনের বছর, নতুন মেরুকরনের বছর

1

by শাফকাত রাব্বী অনীকঃ 

“আনলাকি থারটিন” কথাটি একটা কুসংস্কার। কিন্তু কোন একটা বিচিত্র কারণে এই ১৩ সংখ্যাটি অনেক ক্ষেত্রে আসলেই আনলাকি হয়ে যায়। বাংলাদেশের জন্যে ২০১৩ ছিল ঠিক তেমন একটা সংখ্যা। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৩ এর চাইতে বেশি মানুষ এর আগে  কোনদিন পুলিশের গুলি খেয়ে মারা যায়নি। ২০১৩ সালে যতো রাউন্ড গুলি বিভিন্ন বাহিনী নিরস্ত্র জনগণের উপরে ছুঁড়েছে এতো রাউন্ড গুলি যুদ্ধ ব্যাতিত এর আগে কোনদিন ছোড়া হয়নি।

২০১৩ সালে রাজনৈতিক প্রতিবাদের বিচিত্র প্রয়োগে গাছ কাটার রেকর্ড হয়েছে, গাড়ি পুরানোর রেকর্ড হয়েছে, বাসে আগুন দেয়ার রেকর্ড হয়েছে (যে পক্ষই দিক), পুলিশের উপর সরাসরি আক্রমনের ও পুলিশ খুনের রেকর্ড হয়েছে। মানুষ গুমের রেকর্ড হয়েছে, কোন ব্যাক্তিকে ধরতে না পেরে মা-বাবা-শশুর-শাশুরি-ছেলে-মেয়ে ধরার রেকর্ড হয়েছে। রানা প্লাজায় একটি বিল্ডিং ভেঙ্গে, কোন একক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ মারা যাবার রেকর্ড হয়েছে। ৫ই মের হেফাজতের রাত্রে কোন একক অভিযানে পুলিশের গুলির রেকর্ড হয়েছে, সিভিলিয়ান অপারেশনে গ্রেনেড ফাটানোর রেকর্ড হয়েছে। হেফাজতের এক রাত্রে সর্বাধিক সংখ্যক মিডিয়া বন্ধ করে দেয়ার রেকর্ড হয়েছে, অভিযান চালানোর অভিপ্রায়ে শহরের বাতি নেভানোর রেকর্ড হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির মাত্র দু’দিনে ১৫৬ জন মানুষকে গুলি করে মারা হয়েছে, দেলোয়ার হোসেন সাইয়িদির রায় পরবর্তী প্রেক্ষাপটে। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোন একক ঘটনায় এতো অল্প সময়ে এতো মানুষকে গুলি করে মারা হয়নি। ২০১৩ এর শেষের দিকে এসে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকদের বাসা-বাড়ী বুল্ডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া শুরু হয়েছে। আমাদের ৪২ বছরের ইতিহাসে এই ঘটনার কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

২০১৩ সালে যতোজন মানুষের গুলি খেয়ে কিংবা লাঠির বাড়ি খেয়ে লুটিয়ে পড়ার লাইভ ভিডিও পাওয়া গেছে, তার কোন তুলনা এর আগে কোন ইতিহাসে নেই। যতোগুলো ক্যামেরা ডেথ হয়েছে, যতো মানুষকে ক্যামেরার সামনে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করার ভিডিও কিংবা ছবি পাওয়া গেছে, আমাদের ৪২ বছরের ইতিহাসে এতোগুলো ক্যামেরা-রেকর্ড নেই। দেশে মিডিয়া কিংবা ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি এই রেকর্ডে কিছুটা ভুমিকা রাখলেও, রেকর্ড ব্রেকিং হানাহানির ঘটনাই এক্ষেত্রে মুখ্য ভুমিকা পালন করেছে।

অর্থাৎ সহজ বাংলায় বলতে গেলে, ন্যাক্কার জনক রাজনৈতিক নিপীড়নের ও হানাহানির রেকর্ডের পর রেকর্ড হয়েছে ২০১৩ সালে, যার লিস্ট উপরে প্রদত্ত রেকর্ডের থেকে আরও অনেক বড়।

উপরের রেকর্ডগুলো সারাটা বছর জুড়ে ধীরে ধীরে গড়েছে। স্বাভাবিক ভাবে চিন্তা করলে, দেশের মানুষকে অনেক বিচলিত করার কথা ছিল উপরের রেকর্ডগুলোর। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ উল্লিখিত খুনাখুনিকে মেনে নিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্য উল্লাস প্রকাশ করেছেন। ২০১৩ সালে বিভিন্ন ঘটনায় যতো মানুষ মৃত্যু-উল্লাস করেছেন, আমার দেখা গত ৩০ বছরে, মৃত্যু-উল্লাসের এতো অধিক সংখ্যক পারটিসিপেশনের কোন রেকর্ড আমার জানা নাই।

একটি বড় জনগোষ্ঠীর উপরে সরকারী বাহিনীর আগ্রাসন, আর পুরো ঘটনায় সরকার সমর্থকদের নিদারুণ বিনোদন ২০১৩ সালকে ইতিহাসের পাতায় নিয়ে যাবে পুরো জাতিকে পরিপূর্ণভাবে বিভাজিত করে রাখার বছর হিসেবে। সেই ১৯৫১ সাল থেকে বাংলাদেশী-বাঙ্গালি জাতিকে একটি বিশেষ বিভাজনে বিভাজিত করার প্রবল প্রচেষ্ঠা চলে আসছিল। সেটা হচ্ছে ইসলাম বনাম ইসলাম বিদ্বেষের বিভাজন। সকল প্রচেষ্ঠাকে ভেস্তে দিয়ে, বাংলাদেশী বাঙ্গালিদের এই বিভাজনে বিভাজিত করা যায়নি গত ৫০টি বছর। ব্রিটিশরা পারেনি, পাকিস্তানিরা পারেনি। কিন্তু ২০১৩-এ এসে, মাত্র হাতে গোনা কিছু ছেলেমেয়ে এই অসাধ্যকে  সাধন করেছে। বাংলদেশিদের আস্তিক-নাস্তিকের বিভাজন কমপ্লিট হয়েছে, চেতনা বনাম ধর্মের লড়াইয়ের আড়ালে।

তবে এতো হতাশার মাঝেও ২০১৩ নিয়ে এসেছে অনেক আশার আলো, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ও স্বাধীনতাকে করবে সুসংহত অদুর ভবিষ্যতে। এই পজিটীভ বিষয়গুলোকে নিচে তুলে ধরছিঃ

– ২০১৩ সালে এসে গত ৪২ বছরের অনেক মিথ ভেঙ্গে গেছে। চেতনা চর্চার আড়ালে গত ৪২ বছরে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছিল ঘৃণার ব্যাবসা, প্রতিহিংসার ব্যাবসা, ধর্মীয় অনুভুতিকে ভোতা করবার ব্যাবসা, আর একটি বিশেষ দেশের নির্লজ্জ স্বার্থ রক্ষার ব্যাবসা। এই কথাগুলো এতোদিন ডানপন্থীদের কন্সপিরেসি থিউরি হিসেবে উড়িয়ে দিতেন অনেকেই। ২০১৩ এর নানান ঘটনাবলী দেশের বিশাল বড় একটি অংশের মনে এই উপলব্ধিটুক জাগ্রত করেছে, প্রমাণিত করেছে।

– দেশের মেইন স্ট্রিম থিঙ্কিং-এ অনেকগুলো টাবু বা নিষিদ্ধ বিষয় ছিল, যা নিয়ে শংশয় পোষণ করার, কিংবা নির্দোষ তাত্ত্বিক বিতর্কে জড়ানোরও কোন উপায় আগে ছিল না। ২০১৩ এ এসে এধরনের অনেক মেইন স্ট্রিম ডগমাই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেক ডগমাই ভেঙ্গে চুরে চুরমার হয়ে গেছে।

– জাতির থিঙ্কিং জগতে চেইঞ্জ ওব গার্ড বা প্রহরীর পরিবর্তন হয়েছে। গত ৩০-৪০ বছর ধরে রাজত্ব করা থিঙ্কারদের আড়াল করে দিয়ে, নতুন নতুন অনেক লেখক ও কমেন্টেটর এসেছেন, যাদের অনেকের পাঠকের সংখ্যা অতীতের অনেক রথি মহারথির পাঠকের সংখ্যার চাইতে বেশি। রাজনৈতিক মতাদর্শের উভয় পার্শ্বেই নতুনদের এই ভিড় চোখে পড়ার মতো। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে দেশে চিন্তা-চেতনা বিকাশের সত্যিকারের গণতান্ত্রিকায়ন হয়েছে ২০১৩-তে এসে। এই গণতন্ত্রায়নে, মেসেঞ্জারের চাইতে মেসেজের গুরুত্ব অনেক বেশি হয়ে গেছে। আগে মেসেঞ্জারের গুরুত্বই বেশি ছিল, উনারা যা বলতেন মানুষ তাই শুনতো। যার ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ মানুষের কাছে আড়াল করা যেতো। ২০১৩ পরবর্তী গণতান্ত্রিক মেধা ভিত্তিক মার্কেটে এখন আর কোন ভ্রান্ত মিথলজিকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। একারণে ইতিহাসের খাতায় ২০১৩ হয়ে যাবে একটা গুরুত্বপূর্ণ জংশন।

– শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে কোন কথা না বললে ২০১৩ এর রিভিউ সম্পূর্ণ হবে না। ২০১৩ এর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ছিল শাহবাগ আন্দোলন। সারা বছর জুড়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু, জেল, জুলুম, ও পালিয়ে থাকার চিয়ার লিডার ছিল এই শাহবাগ। জাতীয় জীবনকে বিভাজিত করার এবং মানুষে মানুষে ঘৃণার যে লালন-পালন শাহাবাগ আন্দোলন করেছে, তার ফল আরও অনেকদিন ধরে পেতে হবে বাংলাদেশকে।

তবে শাহবাগ যদি হয় একটি বিপ্লব, তাহলে এর প্রতিক্রিয়ায় যে প্রতি-বিপ্লব হয়েছিল, আমার মতে তা ছিল মূল বিপ্লবের চাইতে অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকরী। এ বিষয়ে উল্লখ্য, প্রথম আলোতে প্রকাশিত একমাত্র বৈজ্ঞানিক জরিপ অনুযায়ী দেশের ২২ শতাংশ মানুষের সমর্থন ছিল শাহবাগ আন্দোলনে। মজার কথা হলো, শাহাবাগিরা বুঝে হোক আর না বুঝে হোক, তাদের ২২ শতাংশের সমর্থনের তিন গুন বেশি মানুষকে তারা একত্রিত করে ফেলেছেন তাদের প্রতি-বিপ্লবে। দেশের মানুষের মাঝে ৩০-৭০ কিংবা ৪০-৬০ এর একটি ঐতিহাসিক বিভাজন আগে থেকেই ছিল। গত ৩০ বছরের ইলেকশন রেজাল্ট ঘাটা ঘাটী করলে এই বিভাজন স্পষ্ঠ হয়ে যাবে। এই বিভাজনের বৃহৎ অংশটির লোকেরা এর আগে কোনদিন একত্রীত হতে পারেনি, সব সময় বিভাজিত থেকেছেন। শাহাবাগ আন্দোলন তার ম্যাজিক দিয়ে সেই ৬০ কিংবা ৭০ শতাংশ মানুষের বিভাজন দূর করেছে। শাহবাগ এই ৬০ কিংবা ৭০ শতাংশ মানুষকে একটি “মাদার অব অল এলাইন্সের” দারপ্রান্তে এনে দাড়া করিয়েছে। এই অসাধ্য সাধিত হয়েছে ২০১৩ সালে, তাও আবার মাত্র নয় মাসে।

এই “মাদার অব অল এলাইন্স” — যা ২০১৩ সালে সৃষ্টি হয়েছে, তার সুদীর্ঘ সুফল পাবে বাংলাদেশ। আর এই গ্র্যান্ড এলাইন্স-ই হলো শাহাবাগের বুমেরাং, যার কারনে ভেস্তে যাবে একাধিক দেশের কূটনীতি ও তাদের দেশীয় ক্রিড়ানকদের গেইম প্ল্যান।

সরি জাফর স্যার, ২০১৩ সালে আপনাদের স্বল্প সময়ের জন্যে চৌরাস্তা ছেড়ে দিয়েছিল মানুষ। কিন্তু তাদের সত্যিকারের স্বাধীনতার স্পৃহা, স্বাধীন ও মুক্ত বাংলাদেশের বাসনা আপনাদের হাতে দিয়ে দেয়নি। আর একারণেই বলতে হচ্ছে, ২০১৩ সালে আপনাদের বিজয় নয়, পতনের শুরু হয়েছিল। প্লিজ, “মাদার অব অল এলাইন্স” এই শব্দটি মনে রাখবেন।

 

 

Is this a party of Liberals?

3

By Shafquat Rabbee:

Bangladesh Awami League is the de-facto choice of Bangladesh’s liberal political class. This write up will seriously question how this party is currently manifesting clear attributes of intolerance, and often fascism. Despite its ever-growing authoritarian tendencies, how the party still maintains the loyal support of educated liberals, should be a topic for an academic undertaking.

To explore whether the Awami League is demonstrating fascist tendencies, one has to read the following excerpt from Wikipedia defining the term “fascism”:

“….Fascists sought to unify their nation through a totalitarian state that promoted the mass mobilization of the national community and were characterized by having a vanguard party that initiated a revolutionary political movement ……. fascist movements shared certain common features, including the veneration of the state, a devotion to a strong leader, and an emphasis on ultra-nationalism …. Fascism views political violence, war, and imperialism as a means to achieve national rejuvenation….

Fascist ideology consistently invokes the primacy of the state. Leaders such as Benito Mussolini in Italy and Adolf Hitler in Germany embodied the state and claimed indisputable power….”

Source: http://en.wikipedia.org/wiki/Fascism

Please check the appropriate references provided in the Wikipedia page on fascism for further theoretical queries and for ascertaining the validity of the above characterization. Now, as per the above characterization of “Fascism”, please see below some of the recent activities of the Awami League to formulate your opinion as to whether this is a fascist party:

“Fascists sought to unify their nation through a …. vanguard party that initiated a revolutionary political movement…” – Awami League is spending enormous energy to achieve this via its relentless reference to its leadership role in the 1971 Liberation war of Bangladesh.

According to the above definition, fascists share the following common features:

a. The veneration of the state: The Awami League Party and its supporters often show jingoism and superficial affection to a mythological state that they refer to as “Bangla”, which some critics struggle to confine within the current geographical region of Bangladesh. The Awami League supporters, and their latest ultra-purist clan known as “Shahabagis”, have a tendency to defy global opinions even on matters related to human rights or civil liberty buoyed by their superficial confidence on the mythological state of “Bangla”.

b. A devotion to a strong leader: Awamis and Shahbagis have Godlike reverence to their political leader Late Sheikh Mujibur Rahman, who is often referred as the “Father of the Nation” and “Friend of the Nation” or Bongobondhu– both at the same time.

Today’s Awamis and Shahbagis end all of their political utterings with the slogan “Joy Bangla” [victory for Bangla] and “Joy Bongobondhu” [victory for Bongobondhu].

The Awamis and Shahbagis are seen using these two chants like religious pronouncements in almost all of their political events, including ceremonial burials of party activists, formal and informal political communications, social media writings, political gatherings, and even during political fightings while they attack their opponents! The uttering of “Joy Bongobondhu” was heard on December 29, 2013, while the Awami-Shahabagis attacked Bangladesh’s supreme court building and inhumanly beat Supreme Court lawyers, many of whom were unarmed females.

The zeal and political importance of these two sentences are so intense that party adherents start quarrels if one of the two sentences is missing in anyone’s speech. For example, only a few days ago, one of the most prominent leaders of the Shahabagis found faults with even the grandson of the Bongobondhu Sheikh Mujibur Rahman for failing to type both “Joy Bangla” and “Joy Bongobondhu” in his Facebook status (the grandson only wrote Joy Bangla!).

c. An emphasis on ultra-nationalism: Awamis and Shahabagis use ultra-Bengali Nationalism as their main political philosophy. Although historically Bengalis have always had a hybrid cultural heritage, borrowing deeply from Arabs, Persians, Portuguese, Spanish, British, Turks or Moguls, Indian-Aryans, Pakistanis etc, the so-called Bengalism propagated by today’s Awami-Shahabagis align itself more with present day Indian heritage, than any of the other cultural lineages of Bangladeshis.

The Awami-Shahbagis go as far as to posit their ultra-Bengali nationalism as a counterpart of Islam- the religion. This particular overreach of a Bengali linguistic-ethnographic heritage against Islam.  Awami-Shahbagi Bengali ultra-nationalism often believes in their ability to even overtake religious identity using an ever-changing Bengali cultural identity.

– “Fascism views political violence, war, and imperialism as a means to achieve national rejuvenation”: This characteristic of Fascism is exemplified in Awami-Shahabagis’ call for another “Mukti Juddho” or “Liberation War” every other week. The Awami-Shahabagi leadership regularly calls for violence against their major political rivals, the latest of this was seen on December 29, 2013, when the following happened:

– Awami-Shahabagi activists attacked Bangladesh Supreme Court premise. This is the first such instance in Bangladesh’s 42 years of history, where party activists of any political party went inside the Supreme Court premise and beat up Supreme Court Lawyers (see video).

http://www.youtube.com/watch?v=2uOyiyh7-sI

– Awami-Shahabagi activists attacked Bangladesh Press Club. This is perhaps the second instance in Bangladesh’s 42 years of history, where political party activists attacked the Press Club. Both the attacks were carried out by Awami League activists, once during the early 70’s and the second time on December 29, 2013. The attackers were carrying Bangladeshi flag, and wearing bandanna made out of the Bangladeshi flags (see video).

http://www.youtube.com/watch?v=-MLILmRZPg4

– Awami-Shahbagi activists attacked female Lawyers, who were completely unarmed. The Awami-Shahbagi activists used Bangladesh’s national Flag stands as weapons for beating the female lawyers, and the attackers were wearing the national flag in their head (an overt example of Ultra-nationalism). See pictures below.

FemaleLawyerBeating

– Awami-Shahbagi activists attacked Dhaka University professors, a very rare occurrence even in Bangladesh’s turbulent political standards.

http://dailynayadiganta.com/details.php?nayadiganta=NjI2OA%3D%3D&s=MTc%3D

The Awami-Shahbagis earlier in the year of 2013 took possession of Shahbag Square of Dhaka (hence the name Shahabagi), and demanded death sentences of key accused of the 1971 War Crimes. All major independent observers like the United Nations, Human Rights Watch, Amnesty International, International Commission of Jurists etc have termed the War Crimes Tribunal flawed and lacking international standards. The US Senate passed a resolution number 318 where the tribunal was termed as lacking international standards. Yet, the Awami-Shahabagis continued for months their so called “Second Muktijuddho” or “Second Liberation War”, where they were demanding “specific verdicts” instead of “proper trial”, as a lynch mob. The trial remained popular across the board in Bangladeshi society, although a vast majority, according to scientific opinion polls, remained skeptical about the fairness of the trial proceedings. The Awami-Shahabagis, disregarded all calls for fairness in the trial proceedings, and found it to be their ultra-nationalistic duty to defy all credible international calls for remedial actions regarding the trial proceedings. Such misguided ultra-nationalism now has squandered Bangladesh’s only chance to render proper justice to the victims of 1971 atrocities.

FemaleShahabaginiswith Stick

Awami-Shahabagis call for violence can be further exhibited in the below incidences:

– Awami League activists for the first time in the history of Bangladesh conducted processions with sticks against Supreme Court Judges back in the early 2000’s

– Awami League activists for the first time in the history of Bangladesh asked its party men to show up in the streets of Dhaka with oar and sticks to beat up their opposition, which ultimately resulted in the first nationally televised live killing of a opposition party men (see video)

http://www.youtube.com/watch?v=6-dRC-NfDNg

–  The fact that Awami-Shahbagis can beat up old folks due to political disagreement, is perhaps worse than even fascism (see pic)

oldman beating2 oldman beating

– Awami League activists for the first and only time in Bangladesh’s history attacked and beaten up Bangladesh Army personnel (see pics), clearly showing the ultra-nationalistic invincibility felt by the Awami-Shahbagi activists

army beatingarmy kick 2

Despite all the historical evidences above, and being a textbook case of fascism, Awami-Shahbagis are still the favorites of Dhaka’s liberal elites! The world needs to study this phenomenon closely.

মার্চ এগেইনস্ট হিপোক্রেসি

2

by শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

৭০ বছরের একজন মহিলা, যার হাঁটুতে একাধিক অপারেশন, তিনি কেন রাস্তায় নেমে মিছিল করেন না তা নিয়ে টিক্কা-টিপ্পনী কেটেছেন একদল মানুষ। ঠিক সেই মহিলাই যে মুহূর্তে বললেন আমি মিছিলে যাবো, সাথে সাথে তার বাসাতে মোতায়েন হলো ৩ প্লাটুন পুলিশ, বিজিবি, আর ৩ ট্রাক বালু। যিনি হাঁটেনই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে, সেই তাকে বহন করতে যেন আসতে না পারে কোন গাড়ি তা নিয়ে সে কি প্রাণান্ত চেষ্ঠা- যেখানে লাজ-লজ্জার কোন লেশমাত্র নেই। বাই চান্স ভদ্রমহিলা যদি পায়ে হেটে বেড় হতে চান, তাহলে যেন তাকে শাড়ি পরা অবস্থায় ৩ ট্রাক বালু ডিঙ্গাতে হয় সেই ব্যবস্থা করে নিজেদের চেতনার রকেট সায়েন্টিস্ট ভাবছেন নির্বোধের দল। খিস্তি খেউরে অভ্যস্থ নিম্ন রুচির সমর্থকদের খুশি করতে এধরণের চটকদারি আইডিয়াই যে একটি দলের একমাত্র ভরসা, তা তো বলাই বাহুল্য।

মাত্র ক’দিন আগেই পতাকা মাথায় তুলে দাড়িয়ে থাকলো ২৭ হাজার মানুষ। পাকিস্তানীদের হাতে থাকা পতাকার রেকর্ড ভাঙ্গা হলো চেতনার জোসে। আর এই মহান রেকর্ড ভাঙ্গার রেশ কাটতে না কাটতেই, গতকাল থেকে পতাকা বানানোর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়ে গেল বিভিন্ন স্থানে। গ্রেপ্তার করা হলো দর্জিকে, পতাকা বানানোর অপরাধে। স্বাধীন দেশে এখন নাকি পতাকা বানাতে পুলিশের পারমিশনও লাগে! এসব দেখে পতাকার রেকর্ড ভাঙ্গা চেতিয়ালের দল শুধুই মুচকি হাসে। এইতো তাদের পতাকা প্রেম!

১৬ই ডিসেম্বরে খবর বেড় হয়েছিলো কোথায় কোন পতাকা বিক্রেতাকে নাকি পতাকা বিক্রিতে বাধা দিয়েছিল কে-বা-কাহারা। তাই নিয়ে উত্থিত চেতনায় সেকি জ্বালাতন। অথচ গতকাল দোকানে দোকানে গিয়ে সরকারী পুলিশ বলে দিল কেউ যেন পতাকা বিক্রি না করে। পুলিশের মুরুব্বীদের শঙ্কা নাকি ছিল একটাই। চেতনার পতাকা যেন চেতনাহীন বিরোধী দলের হাতে না যায়! অর্থাৎ চেতনার ব্যাবসা যার, পতাকা যে শুধুই তার!

৫ লাখ লোক চৌরাস্তার মোড় দখলে নিয়ে, ২৪ ঘন্টা টিভি কাভারেজ দিয়ে, মিলনমেলা বসানো হয়েছিল প্রজন্মের সহবাস লাইভ টেলিকাস্টিং করতে। সে কি বাহবা, মারহাবা, মারহাবা, যেন পুরো দেশ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ সব এক কাতারে উদ্ধার হচ্ছে। সাথে সাথে চলেছে বিরোধিদের দিকে টিটকারি। কোথায়? তোমাদের কোন জমায়েতে এতো লোক কি হয় কখনও?

হ্যাঁ, লোক হয়েছিল, একবার না দুই বার। তাও আবার ৫ লাখ না। কেউ বলে ৫০।

কিন্তু ওগুলোতেও হিপোক্রিটদের মন ভোলে না। ওসব পঞ্চাশ-ফঞ্চাশ ডাজ নট কাউন্ট। কেননা যারা এসেছিল ওরাতো ছিল হুজুর। যারা চেক্টিভিস্টদের চোখে ছিল প্রান্তিক, চেতনা বিবর্জিত লুজার। সুতরাং ওদের কেন গণনায় ধরবে হিপোক্রিটের দল?

তো আজ যখন বিএনপির ডাকে আসতে চাইলো নন-হুজুরদের দল, সাথে সাথে করা হলো সারা দেশ অচল। হুজুরদেরতো তাও মিটিং এর পারমিশন দেয়া হয়েছিল। নন-হুজুরদের তাও দেয়া হলো না। চেতনার ফেরিওয়ালার আবার সেই মুচকী হাসি। পারলে পায়ে হেঁটে আয়না, দেখি তোরা কতগুলো নন-হুজুর।

যখন পায়ে হেঁটেও আসবে বলছে মানুষ, ঠিক তখন চেতনার পাইকারের শেষ সম্বল হয়ে দাড়ালো হুঙ্কার, লাঠি, বন্দুক, গুলি আর চেতনার সমন্বিত শিৎকার।

আর এই উন্মত্ততার মাঝেই ৫০ বছরের বেশিকাল ধরে টিকে থাকা আওয়ামী লীগ আজ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে শুধু তার নেতৃত্ব ও সমর্থকদের হিপোক্রেসির বন্যায়। যদিও জাতীয় জীবনে কমবেশি হিপোক্রেসি হয়েছে আগেও । কিন্তু ক’সপ্তাহের ব্যাবধানে একের পর এক নির্লজ্জ হিপোক্রেসির এমন কন্টিনিউয়াস খেলা এর কেউ আগে দেখেছে বলে জানা নেই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বর্ণনায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক

By শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

কিছু দিনের মধ্যেই বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম হাস্যকর নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। আর ঠিক এরকম সময়ে, দেশের শহুরে মধ্যবিত্তদের ফোকাস সরিয়ে রাখতে নতুন করে চালু করা হয়েছে পাকিস্তান বিষয়ক বিতর্ক।

কাদের মোল্লা সাহেবের মৃত্যুর পরে, সম্পূর্ণ হোম-ওয়ার্ক বিহীন একটি সংসদীয় প্রস্তাবনা আনা হয়েছিল পাকিস্তানের পার্লামেন্টে। প্রস্তাবনাটির ভাষা, যুক্তি ও টাইমিং দেখে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে পাকিস্তানের কোন মেধা সম্পন্ন গোয়েন্দা-ফোয়েন্দা তো বটেই, চিকন বুদ্ধি সম্পন্ন কোন কূটনীতিকও মনে হয় আর বাংলাদেশে চাকরি করেন না।

শাহাবাগিরা পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। গুলি ও গুমে অভ্যস্থ পুলিশ বাহিনীর মৃদু লাঠি চার্জেই সেই আল্টিমেটাম আপাতত নাই হয়েছে।

গতকাল জনৈক শাহাবাগি জিজ্ঞেস করছিলেন, পাকিস্তান বিষয়ে আমার ধারণা কি। তাদের সাথে সম্পর্ক থাকবে কি থাকবে না। এবং আমি পাকিস্তানকে বাংলাদেশের বন্ধু ভাবি কিনা। আমি উত্তরে বলেছিলাম, যেহুতু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্র ক’মাস আগেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গালে চুমু খেয়েছিলেন, সেহুতু বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বন্ধু রাষ্ট্র। ফাজলামোপূর্ণ উত্তরটি শাহাবাগি ভদ্রলোকের পছন্দ হয়নি। ভাগ্যক্রমে, আজকে এক ছোট ভাই কিছু ডকুমেন্ট দেখালেন শেখ মুজিবের পাকিস্তান দর্শন সম্পর্কে। ভাবলাম এটা নিয়ে একটা লেখা দেয়া প্রয়োজন। সবাইকে দেখিয়ে দেয়া প্রয়োজন যে দেশের স্বাধীনতার প্রধান আর্কিটেক্টের মাথার বুদ্ধি বর্তমানে স্বাধীনতার চেতনা বিক্রি করে খাওয়া ফেরিওয়ালাদের চাইতে কতটা বেশি ছিল।

BANGLADESH- Not Yet Shonar Bangla নামে একটা প্রতিবেদন ছাপা হয় ১৯৭৩ সালের ০১ জানুয়ারী বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে।

time 1974 1 Time 1974 2

প্রতিবেদনটিতে তৎকালীন বাংলাদেশের অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। তা হলো বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার না করা এবং কোন প্রকার কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও ১৯৭২ সাল থেকেই পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। সিঙ্গাপুর বন্দরের মাধ্যমে গোপনে দেশের মানুষকে না জানিয়েই এই বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পাদন করা হত।

১৯৭৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী ওআইসি সম্মেলনের প্রস্তুতি চলা কালে, জুলফিকার আলী ভুট্টো ঘোষনা দেন যে পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে পারে শুধু একটা শর্তে। সেই শর্ত হলো যে ১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তা যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ বাংলাদেশ এনেছিল তার বিচারে বাংলাদেশ কোন পদক্ষেপ নিতে পারবে না। ২২ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান, ইরান এবং তুরস্ক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, শেখ মুজিবুর রহমান ওআইসি সম্মেলনে যোগ দেন।

পাকিস্তান থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দরে সাংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে শেখ মুজিব কিছু তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেন। কথাগুলো নিচে ইংরেজিতে দেয়া হলো উইকিলিক্স থেকে। আমি বাংলা অনুবাদ করে দিলাম।

মার্কিন দলিলের সূত্রে জানা যায়, যখন মুজিবকে বাংলাদেশে পাকিস্তানী বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের কথা মনে করিয়ে দেয়া হয়, তখন মুজিব বলেছিলেন, ” আমি ঐ সব কিছু ভুলে যেতে চাই। আমি চাই আমার দেশের লোকেরাও সেই সব কথা ভুলে যাক। আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে। তুমি জানো যে, মানুষের স্মৃতিশক্তি সংক্ষিপ্ত।”

SheikhMujibon Pakistan

ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নিয়ে মুজিব বলেন, “আমদের দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশকে ভালো প্রতিবেশির মতো থাকতে হবে। আমাদের সকল সমস্যার সমাধান করতে হবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে”।

জুলফিকার আলি ভুট্টোর ব্যাপারে শেখ মুজিব বলেন,  আমি ভুট্টোকে সাহায্য করতে চাই। উনি আমার পুরোন বন্ধু। মুজিব আরও বলেন, “আমি ভুট্টোর সততায় মুগ্ধ। আমি আপ্লূত হয়েছি পাকিস্তানের জনগণের ভালোবাসায়। হাজারে হাজার পাকিস্তানী রাস্তার দুই ধারে দাড়িয়ে ছিল। তারা আমাকে মুজিব বলে ডেকেছে। ছেলে-মেয়েরা আবেগ নিয়ে হাত নেড়েছে যখন তারা তাদের পরিচিত কুর্তা-পায়জামা পরা অবস্থায় আমাকে তাদের মাঝে পেয়েছে।”

বন্দি পাকিস্তানী ১৯৫ জন সেনার ব্যাপারে মুজিব বলেছিলেন, “এব্যাপারে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একত্রে সিদ্ধান্ত নেবে দিল্লি চুক্তি মোতাবেক।”

সোর্স ঃ (http://www.wikileaks.org/plusd/cables/1974LONDON02652_b.html)

FRIENDLY COMMENTS ON PAKISTAN FROM SHAIKH MUJIB
Date:1974 March 1, 17:06 (Friday) Canonical ID:1974LONDON02652_b

1. EXCLUSIVE INTERVIEW WITH SHAIKH MUJIBUR RAHMAN
PUBLISHED IN THE TIMES FEBRUARY 29, BY KULDIP NAYAR,
TAKES VERY FRIENDLY LINE TOWARDS BHUTTO AND PAKISTAN.

2. AMONG QUOTES ATTRIBUTED TO SHAIKH MUJIB ARE: “WE
ALL THREE COUNTRIES IN THE SUB-CONTINENT HAVE TO LIVE
LIKE GOOD NEIGHBORS AND MUST SOLVE OUR PROBLEMS THROUGH
PEACE”.

3. ALSO: “I AM IMPRESSED BY MR. BHUTTO’S SINCERITY.
I AM OVERWHELMED BY THE LOVE AND AFFECTION SHOWN BY THE
PEOPLE OF PAKISTAN. THOUSANDS OF THEM LINED THE
ROUTE FROM THE AIRPORT TO THE VENUE OF THE ISLAMIC
SUMMIT. THEY CALLED ME BY MY NAME, MUJIB. THEY —
UNCLASSIFIED

UNCLASSIFIED

PAGE 02 LONDON 02652 011712Z

BOYS AND GIRLS ALSO — LUSTILY CHEERED ME WHEN THEY
SAW THE FAMILIAR KURTA-PYJAMA CLAD FIGURE AMONG THEM.”

4. WHEN REMINDED OF THE ATROCITIES COMMITTED IN
BANGLADESH BY PAKISTAN, MUJIB IS REPORTED TO HAVE
SAID: “I WANT TO FORGET ALL THOSE. I WANT MY PEOPLE
TO FORGET THOSE. WE HAVE TO START AFRESH. YOU KNOW
THAT PEOPLE’S MEMORY IS SHORT.” REVERTING TO BHUTTO,
MUJIB SAID: “I WANT TO HELP HIM. HE IS AN OLD FRIEND.”

5. MUJIB REFUSED TO DISCUSS THE QUESTION OF KASHMIR.

6. ASKED HOW SOON BANGLADESH WOULD HAVE DIPLOMATIC
TIES WITH PAKISTAN, MUJIB SAID, “VERY SOON”. HE
PARRIED QUESTIONS ON HOW PAKISTAN’S RECOGNITION OF
BANGLADESH HAD COME ABOUT.

7. AS TO FUTURE OF 195 POW’S, MUJIB SAID DECISION ON
THEM WOULD BE TAKEN BY INDIA, PAKISTAN AND BANGLADESH
IN ACCOREANCE WITH DELHI AGREEMENT. HE INDICATED
BANGLADESH ALREADY IN TOUCH WITH DELHI TO DECIDE TIME
AND VENUE OF CONFERENCE WHICH, ACCORDING TO HIM, WILL
BE AT THE FOREIGN MINISTER LEVEL FIRST, “AND THEN
WE SHALL MEET”.

8. WHEN TOLD THAT THERE WAS GROWING ANTI-INDIAN
FEELING IN BANGLADESH, HE REPLIED: “SOME VESTED
INTERESTS AND FOREIGN POWERS” WERE OUT TO CREATE BAD
BLOOD BETWEEN THE TWO COUNTRIES. HE SAID INDIA HAS
NOT INTERFERED IN BANGLADESH AFFAIRS AND VICE-VERSA.

ANNENBERG

UNCLASSIFIED

NNN

সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ : বিপক্ষের যুক্তি

5

by শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

প্রতি ৫ বছর পর পর সামরিক বাহিনীর দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকা জাতি পৃথিবীতে কম আছে। দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উভয় প্রকার দুর্যোগে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ বাংলাদেশীরা খুব খুশি মনে মেনে নেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের উভয় সাইডের পাবলিকদেরকে গত দশ বছরের কোন না কোন সময় সামরিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করতে দেখা গেছে। ফক-ইউ-আহমেদ-দের ২ বছরের শাসন আমলে দেশের সাধারণ মানুষদের একটি বড় অংশকে রীতিমতো সামরিক শাসন এনজয় করতেও দেখা গেছে।

শোনা যায় বর্তমানে দেশের একটা বড় জনগোষ্ঠি মনে প্রানে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। ধারণা করা যেতে পারে খোদ সরকারপন্থীদের অনেকেও সামরিক হস্তক্ষেপ মেনে নেবেন। তারপরেও তারা বিরোধী জোটের হাতে ক্ষমতা দেবেন না।

এখন প্রশ্ন হলো সামরিক বাহিনী কি ভাবছে? দেশের যে পরিমান ক্ষতি ইতোমধ্যে হয়ে গেছে, যতো মানুষকে গুলি করে মারা হয়েছে, যতো মানুষ আগুনে পুড়েছে, যতো প্রকার নির্লজ্জ বিদেশী হস্তক্ষেপ হয়েছে, এবং সর্বোপরি জনমনে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা যতোটা বেড়েছে, সাধারণ দৃষ্টিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করার এর চাইতে বেশি যুক্তি সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন হবার কথা না । তারপরেও সামরিক হস্তক্ষেপ হচ্ছে না কেন? রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সামরিক বাহিনীর অনাগ্রহী হবার অনেকগুলো কারনের মধ্যে নীচের ইস্যু গুলো থাকবেঃ

– জেনেরালদের অনেকে মনে করেন প্রতি ৫ বছর পরপর সামরিক হস্তক্ষেপ করা কোন দেশের মিলিটারির দায়িত্ব হতে পারে না। আজকে এ দল নামাতে মাঠে নামলে, পাঁচ বছর পরে অন্য দল ঠেঙ্গাতে মাঠে নামা লাগবে। এর চাইতে চুপচাপ প্রফেশনালভাবে রাজনীতিবিদদের উন্মত্ততা দেখে গেলে এক সময় না এক সময় অযোগ্য রাজনীতিবিদরাই শেষ হয়ে যাবেন, অথবা নিজেদের অসুস্থ রাজনীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হবেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপে।

– ১/১১ এর অভিজ্ঞতা সামরিক বাহিনীর জন্যে ভালো ছিল না। যদিও একথা সত্য যে সামরিক বাহিনীর কেউ কেউ ১/১১ এর সময় বেশ বাড়াবাড়ি করেছিলেন। কেউ হয়তো নিজের ইচ্ছায় একটু বেশি এডভেঞ্চার করতে গিয়েছিলেন, আর কেউ হয়তো অন্য কারও হুকুমে নিরুপায় হয়ে বাড়াবাড়ি করেছিলেন। ২০০৮-এর পরে কয়েক ডজন বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাকে তাদের জীবনের নিরাপত্তায় বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। এদের বেশীর ভাগই এখন আছেন আমেরিকায়। এরা কবে দেশে ফিরতে পারবেন কেউ জানে না।

– ১/১১ এর পেছনে আমেরিকা ও ইন্ডিয়ার ভুমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু আশ্রয় নেবার ক্ষেত্রে আমেরিকাকেই বেছে নিয়েছেন সামরিক বাহিনীর অনেকেই। আমেরিকানরা গ্রিন কার্ড কিংবা অন্যকোন বিশেষ ব্যাবস্থায়  নিয়ে গেছে ১/১১ এর বিতর্কিত মিলিটারি কর্মকর্তাদের। কিন্তু আমেরিকা তাদের জীবনের নিরাপত্তা দেবার বাইরে আর বেশি কিছু দেয়নি। একারণে কর্মকর্তাদের অনেকেই ছোটখাটো কাজ করে আমেরিকায় কষ্টকর জীবন যাপন করছেন। একজন অত্যন্ত ক্ষমতাবান সামরিক ব্যাক্তি পিজ্জা ডেলিভারির কাজ করতে যেয়ে ক্যামেরা বন্দি হয়েছিলেন নিউ ইয়র্কের বাংলা পত্রিকায়। এসব অভিজ্ঞতা সামরিক বাহিনীর জন্যে সুখকর নয়।

– পরিবর্তিত সংবিধানে সামরিক হস্তক্ষেপের শাস্তি মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। সামরিক বাহিনীর জেনেরালরা জানেন যে কোন না কোন দিন আজকে যাদের সরিয়ে দেয়া হবে, তাদের দল আবার ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে। তখন এসে বিচার শুরু করলে, দেশের উভয় রাজনৈতিক দলের কাছ থেকেই কোন সাহায্য নাও পাওয়া যেতে পারে। সামরিক কর্মকর্তাদের চাকরি জীবনের ও ক্ষমতার রিটায়ারমেন্ট আছে। রাজনীতিবিদদের কোন রিটায়ারমেন্ট নেই। একারণে রাজনীতিবিদদের প্রতিশোধ নেবার সুযোগ ও সময় থাকে অফুরন্ত।

– বর্তমান বিএনপির উপর সামরিক বাহিনীর ডানপন্থীদের অনেকেই খুশি না। ফারুক-রশিদ-ডালিমদের পরিনতি সামরিক বাহিনী দেখেছে। বিএনপির শাসন আমলের পুরোটা সময় ফারুক-রশিদদের অনেককেই জেলে থাকতে হয়েছে। অনেকের দৃষ্টিতে ফারুক-রশিদদের সৃষ্ট ইতিহাসের পূর্ণ রাজনৈতিক বেনিফিট বিএনপি পেলেও, বিএনপি প্রতিদান স্বরূপ ফারুক-রশিদদের দুঃসময়ে পাশে এসে দাঁড়ায়নি। তাদের বিচার শুরু হয়ে যাবার পরে বিএনপির নিরবতাকে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। এই ঘটনায় অনেকে মনে করেন রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সুবিধাবাদিতা ফুটে উঠেছিল। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ইস্যুতেও বিএনপি নিরবতাপালন করেই চলেছে। যা অনেকের চোখে সুবিধাবাদিতা হিসেবে ধরা দিচ্ছে। সামরিক বাহিনীর কেউ মনে করতেই পারেন বিএনপি কখনই সেই সব মানুষের পাশে দাঁড়ায় না, যারা এই দলটির জন্যে রিস্ক নেয়।

– সামরিক বাহিনীর জীবন সব সময়ই সিভিলিয়ানদের থেকে ঝামেলা মুক্ত ছিল। হরতাল অবরোধ হানাহানি তাদের স্পর্শ করতো না আগেও, এখনও করে না। এই নির্ঝঞ্ঝাট জীবনে এখন যোগ হয়েছে বিদেশে যেয়ে হালাল টাকা রোজগারের উপায়। একারণে দেশীয় রাজনীতির ঝামেলায় জড়িয়ে পরার কোন কারণ সামরিক বাহিনীর অনেকে দেখেন না।

– বিভিন্ন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রভাব বেড়েছে সামরিক বাহিনীর উপর। একটি দেশ না, একাধিক দেশ। জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণও বেড়েছে, কেননা জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর সার্ভিস নিয়ে থাকে। অনেক বেতন দেয়। জাতিসংঘ চায় না তাদের ভাড়া করা সেনাবাহিনী কোন দেশে ক্ষমতা দখল করুক। বিদেশী রাষ্ট্রের কিংবা গোষ্ঠির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব সামরিক বাহিনীর রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামানো দুরূহ করে দিয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, রাজনীতি বিমুখ হয়ে বাংলাদেশের সেনা বাহিনী যদি সত্যিই তাদের প্রফেশনাল ইমেজ বজিয়ে রাখতে পারে, তাহলে দেশের দীর্ঘ মেয়াদী লাভ হবে। তবে সেনা বাহিনীর উচিত হবে সব সময় খেয়াল রাখা তারা যেন পুলিশ, র‍্যাব, কিংবা বিজিবির মতো ঠ্যাঙ্গারে বাহিনী হিসেবে কোনও রাজনৈতিক শক্তির দ্বারা ব্যবহৃত না হন। সাধারণ মানুষকে কিংবা যে কোন দলের রাজনৈতিক কর্মীদের যেন তাদের হাতে কোনদিন গুলি খেয়ে মরতে না হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার একমাত্র স্তম্ভ হচ্ছে আমাদের সেনা বাহিনী। সকল দল ও মতের মানুষের সাথে সেনা বাহিনীর সুসম্পর্ক থাকা একারণে খুবই জরুরী।

আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনীর উচিত হবে কোন ভাবেই দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠির সাথে সরাসরি মারামারিতে জড়িয়ে না যাওয়া। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধরে রাখতে হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সাথে সেনা বাহিনীর নিবিড় আস্থার সম্পর্ক প্রয়োজন। কোন একটি রাজনৈতিক সরকারের হঠকারিতায় এই আস্থায় যেন চিড় না ধরে তা সেনা বাহিনীকেই নিশ্চিত করতে হবে।

মহিলা ডিপ্লোম্যাট উলঙ্গ করা নিয়ে ভারত ও আমেরিকার টানাপোরন

5

By শাফকাত রাব্বী অনীকঃ আজকের ভারতীয় মিডিয়া পড়লে মনে হবে যে কোন কারণ ছাড়াই আমেরিকানরা ভারতীয় নারী কূটনীতিকদের ধরে উলঙ্গ করে ছেড়ে দিচ্ছে নিউ ইয়র্ক শহরে। আর একারণেই প্রতিবাদে ফেটে পরেছে ভারতীয় মিডিয়া। দেশপ্রেমের উন্মাদনায় ঝাপিয়ে পরেছে নব্য ডলারের স্বাদ পাওয়া ভারতীয় মিডলক্লাস। আর পাশে দাড়িয়ে তালি বাজাচ্ছে খোলা আকাশে বড় কাজ সাড়া দলিত-ক্লাস। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের অনেকে ভারতীয়দের দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ ভেবে রোমান্টিকতায় ভুগছেন।

মূল ঘটনা কি হয়েছিল বলছি। ভারতের ৩৯ বছরের মহিলা ডেপুটি কনসাল জেনেরাল দেবযানী খোবরাগাডেকে নিউ ইয়র্কের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে। ভদ্রমহিলা ভারত থেকে কাজের মহিলা এনেছিলেন ভিসার মাধ্যমে। ভিসার এপ্লিকেশনে উল্লেখ করেছিলেন ঘন্টায় ৯ ডলার ৭৫ সেন্ট বেতন দিবেন। নিউ ইয়র্কে বৈধ ভাবে কাউকে ৭ ডলার ৫০ সেন্ট এর নিচে বেতন দেয়া যায় না। ঘটনাক্রমে আমেরিকানরা জেনে গিয়েছিল যে কাজের মহিলাকে ঘন্টায় মাত্র ৩ ডলার বেতন দিচ্ছেন দেবযানী। ব্যাস, নিউ ইয়র্ক পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল দেবযানীকে।

আমেরিকান থানা হেফাজতে ঢুকানোর আগে উলঙ্গ করে শরীর চেক করা হয়। শরীরের কোন বিশেষ গহবরে টাকা-পয়সা, ছোট্ট চাকু, বিষ, ড্রাগস ইত্যাদি লুকানো আছে কিনা তা দেখার জন্যেই মনে হয় এমন স্ট্রিপ সার্চ করা হয়। একে বেশ ডিটেইল চেক-আপ বলা যেতে পারে। দেবযানী ভদ্রমহিলাকেও ঠিক এভাবেই চেক-আপ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা যায়। ভদ্রমহিলাকে  যে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল সেখানে রুমমেট হিসেবে উনি পেয়েছিলেন ড্রাগস ও পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত আরো কিছু ভদ্র মহিলাকে। নিউ ইয়র্কের প্রেক্ষাপটে এটাও কোন অস্বাভাবিক ঘটনা না।

দেবযানী বিষয়ক উপরোক্ত খবর ভারতীয়দের জানানোর সময় ভারতের মিডিয়া বেশ চালাকি করেছে। কি কারণে ভদ্রমহিলাকে হাজতে নেয়া হয়েছিল তা আড়াল করে, কেন তাকে উলঙ্গ করে চেক করা হয়েছে এবং কেন পতিতার সাথে একই হাজতে রাখা হয়েছে তা নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। উলঙ্গপনা ও পতিতাবৃত্তি — এই দুটো বিষয় ভারতীয়দের বেশ টাচ করে।

তবে একটা বিষয়ে আমি ভারতীয়দের সাথে একমত। এই পুরো ঘটনায় দেবযানীকে আমেরিকানরা  ডিপ্লোম্যাট হিসেবে একটু খাতির করলেই পারতো । তার অপরাধ যাই হোক না কেন। বিশেষ কোন একটা কারণে আমেরিকানরা তাকে ডিপ্লম্যাটের সুযোগ-সুবিধা দেন নাই। এটা ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির জন্যে একটা চাঞ্চল্যকর এবং আশংকাজনক বিষয়। কেন এমনটা হলো তা এখনই নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে না।

ইদানিংকালে বেশ কিছু বিষয়ে ভারতের সাথে আমেরিকানদের ডিপ্লোম্যাটিক সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠছিল। ভারতের জন্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু আছে। সর্বাধিক গুরুত্বের দিক থেকে চিন্তা করলে, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মায়ানমার বিষয়ক ইস্যু তে আমেরিকার সাথে ভারতীয়রা দরকষা কষি করে। এর মধ্যে কোন কোন ইস্যুতে ভারত বর্তমানে আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক কমিউনিটির বেপরোয়া বিরোধিতা শুরু করেছে।

ভারতের রাজনীতিতে এখনো আমেরিকা বিরোধী মনোভাব ভোটের সংখ্যা বাড়ায়। সামনে ভারতে নির্বাচন। ঐতিহাসিক ভাবে আমেরিকা-বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস এখন ক্ষমতায়। তাদের রাজনৈতিক অবস্থা আমাদের শেখ হাসিনার চাইতে একটু ভালো। তবে খুব বেশি ভালো না। অর্থাৎ কংগ্রেসের আবার ভোটে জিতার সম্ভাবনা অনেকটাই কম। একারণে যে কোন উছিলায় এন্টি-আমেরিকান মনোভাব দেখিয়ে ভোট বাড়ানোর চেষ্ঠা করে থাকতে পারে নোংরা-রাজনীতির জন্যে বিখ্যাত কংগ্রেস পার্টী। আর কংগ্রেস যদি আমেরিকার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে, তাহলে হিন্দু-মৌলবাদী বিজেপি নিজেদের আমেরিকা-পন্থী মনোভাব ঢাকতে কংগ্রেসকেই ফলো করবে, এটাই স্বাভাবিক।

ভারতীয়রা অতি উৎসাহী হয়ে বেশ কিছু এন্টি-আমেরিকান কান্ড ঘটিয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব সম্পূর্ণ কয়েকজন আমেরিকান কংগ্রেসম্যান এই মুহূর্তে ভারত সফরে আছেন। ভারতের শীর্ষ নেতা-নেত্রিরা এদের সাথে দেখা করেননি। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দুই প্রধান মন্ত্রী রাহুল গান্ধী এবং নরেন্দ্র মোদী উভয়েই একই কাজ করেছেন। এই প্রতিবাদটা যদিও বেশ ভদ্র প্রতিবাদ। ভারতীয়রা এখানে থামলেই ভালো করতো। কিন্তু তা না করে, ভারতীয়রা আরও কিছু বাড়াবাড়ি প্রতিবাদ করেছে। আমেরিকানদের কাজের লোকের বেতনের রিসিট তলব করেছে, মদ ও বিলাসী পন্য আমদানির ক্ষমতা বিলোপ করেছে, আইডী কার্ড কেড়ে নিয়েছে, আমেরিকান স্কুলের টিচারদের বেতন ও ট্যাক্স নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করেছে। এগুলোকে আপাতত দৃষ্টিতে খুব বাহবা দেবার মতো প্রতিবাদ মনে হলেও, ভারতের অর্থনীতির আমেরিকা নির্ভরতা বিচার করলে এগুলো আসলে নির্বোধের প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু না। ভারত সব চাইতে বাড়াবাড়ি করেছে আমেরিকান এম্বাসির নিরাপত্তা ব্যাবস্থা শিথিল করে দিয়ে। এটা মারাত্মক রকমের একটা বেয়ারা আচরন। বিদেশী অতিথির নিরাপত্তা প্রত্যাহার খুবই নিচু শ্রেণীর মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

এতো হম্বি তম্বি করার সময় ভারত হয়তো ভুলে যাচ্ছে যে তারা কিন্তু চীন না। ভারতের হাজার হাজার আইটি কর্মী তীর্থের কাকের মতো আমেরিকায় কাজের প্রত্যাশায় এখনও বসে থাকে। ভারতের কয়েকটা প্রদেশের দু’বেলার খাদ্য জোটে আমেরিকানদের সাথে টেলিফোনে কথা বলে। আমেরিকান বিলাসী প্রেমিকা কিংবা স্ত্রীরা তাদের প্রিয় পুরুষের বীর্য শিশিতে করে ভারতে পাঠিয়ে দেন। তারপরে ভারতীয় মহিলারা সেই বীর্য তাদের শরীরে ভরে ১০ মাস ১০ দিনের ডেলিভারি সারভিস দেন। এর নাম ম্যাটারনিটি আউট সরসিং। ভারতের অনেক হিট সিনেমার শুটিং আমেরিকায় করার জন্যে বাইজীর বহর নিয়ে ভারতীয়রা আমেরিকায় যায়।

আমেরিকা নির্ভরতার উপরের উদাহরনের আলোকে বলা যায়, ভারতীয়দেড় মাত্রাতিরিক্ত রিয়াকশোন দেখানোর ফলাফল হবে খুবই সিম্পল। চিরাচরিত ভারতীয় কায়দায়, ভারতের কোন শিংকে আমেরিকা এসে আমেরিকান কারো কাছে মাফ চেয়ে যেতে হবে খুব শিঘ্রই। এটাই হলো বাস্তবতা। একারণে খামাখা এতোটা হম্বি তম্বি না করলেই পারতো ভারত।

পরিমিতিবোধ জিনিসটি ভারতীয়দের শুধু টাকাকড়ি বিষয়ক কিপ্টামিতেই সীমাবদ্ধ। বোঝা যাচ্ছে ভারতীয় সিনেমার মতোই ভারতীয় ডিপ্লমেসিতেও পরিমিতি বোধের অভাব প্রকোট। প্রতিহিংসাপরায়নতাও ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের মতো তাদের ডিপ্লোম্যাসিতে ঢুকে পড়েছে। বাংলাদেশিরা এই বিষয় গুলো বেশ ভালোই জানেন। এখন আমেরিকানরাও জানলো। ঘটনার টাইমিং এবং প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেললেও অবাক হবো না।