নেতারা খায় পোলাও কোর্মা, কর্মীরা খায় গুলি।

বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে আওয়ামিলীগের চেয়ে বিএনপির ঢাকাকেন্দ্রিক শীর্ষ নেতারাই ক্রমশঃ দলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার যেই মুহুর্তে একগুঁয়ে মনোভাব নিয়ে নির্দলীয় সরকারের নামে নিজেদের নিয়ন্ত্রনাধীন ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন করতে যাচ্ছে তখন দরকার ছিল একটা শক্তিশালী গণআন্দোলনের। প্রাথমিকভাবে বলা যায়, বিএনপির নেতৃত্ত্বাধীন ১৮দলীয় জোট আন্দোলন সফল করায় উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যর্থ। দায়ভার স্বভাবতই জোটের বড় দল হিসেবে বিএনপির ঘাড়েই বর্তায়। এমনকি বিএনপির শক্তি নিয়ে সরকারীদল থেকে শুরু সাধারণ মানুষ পর্যন্ত ঠাট্টা করতে ছাড়ছে না। বলাবলি হচ্ছে, রাজপথে জামাত ছাড়া বিএনপি এতিম। সেই নব্বই কিম্বা ছিয়ানব্বইয়ের বিএনপির সাথে আজকের বিএনপির তুলনা শুধুই হতাশার জন্ম দেয়। এই কি সেই বিএনপি, নাকি তার খোলস?

বিষয়টা খালেদা জিয়ারও নজর এড়ায়নি। তাই সম্প্রতি ঢাকাকেন্দ্রিক শীর্ষ নেতাদের প্রতি তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদেরকে হুঁশিয়ারী করে দেন। শোনা যায়, তিনি মির্জা আব্বাস, খোকাসহ ঢাকা মহানগরীর পাঁচ প্রভাবশালী নেতাকে শোকজ করেছেন।  তিনি বলেছেন, সারাদেশ যেখানে উত্তাল সেখানে ঢাকা নিরব কেন? ভীতু ও মোনাফেকদের জায়গা বিএনপিতে নেই। পলাতক ও আপসকামী নেতাদের দলে জায়গা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ার ‍ুউচ্চারণ করেন।  তিনি আরো বলেন, সারা দেশের লাখ লাখ কর্মী যখন পুলিশের গুলি উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করছে, সেখানে কতিপয় নেতার পলায়নপরতা এবং আপষকামীতার জন্য আন্দোলন মাঠে মারা যাচ্ছে।

খালেদা জিয়ার উদ্বেগের কারণ যথার্থ। আজকে সরকার ঘোষনা দিক যে, তারা নির্দলীয় ব্যাবস্থায় নির্বাচন দেবে, কাল থেকেই বিএনপির এই সব নেতারা গোপন আস্থানা থেকে বের হয়ে বীরের বেশে (!) বড় বড় ব্যানার নিয়ে, নানা মোসাহেবী এবং বিপ্লবী শ্লোগান নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসবেন।

বিরোধীদল আন্দোলন করছে একটা ন্যায় সঙ্গত দাবীকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এ কথা সত্য যে, কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি চিরস্থায়ী হতে পারে না। কিন্তু সেটাকে বাদ দিয়ে পুরোপুরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন সেটা কি হয়েছে? আস্থা তো দূরের কথা পারস্পরিক সম্মানেরও ছিঁটেফোটা নেই। নেতানেত্রীরা একে অন্যকে যে ভাষায় গালিগালাজ করেন তা রীতিমতো বিস্ময়কর! সেদিনও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিপক্ষের পরচুলা নিয়ে মশকরা করলেন। তাছাড়া নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্টরা কি সরকারের প্রভাবের বাইরে গিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার সামর্থ্য রাখেন? এখনো পুলিশের পাশে সরকারদলীয় অস্ত্রধারীদের প্রকাশ্যে দেখা যায়। নির্বাচন কমিশন চলে সরকারের মর্জি মাফিক। আদালত কি সরকারের প্রভাবমুক্ত? দা কুড়ালের কথা বলে খোকা আছেন দৌঁড়ের উপর, ফেইসবুকে অন্যের আইডি থেকে দেয়া ষ্ট্যাটাসের মাশুল দিচ্ছে পরিবেশবাদী অধ্যাপক একেএম ওয়াহিদু্জ্জামান এ্যাপোলো। অন্যদিকে, হরতালকারীদের ঘরে ঘরে ঢুকে হত্যার হুমকীদাতা সরকারীদলীয় নেতা লতিফ সিদ্দিকী এবং ’নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের’ হত্যা করার ইচ্ছা পোষনকারী প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয়ের ব্যাপারে আদালত নিরব। এই সামগ্রিক বৈরী পরিস্থিতিতে এখনো আমাদের দেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির বিকল্প নাই।  সেই সাথে বর্তমান সরকারের গত পাঁচ বছরে হাতে গোণা কিছু সাফল্যের সাথে উল্লেখযোগ্য পরিমাণের ব্যার্থতা রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের কাছে একের পর এক দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নানা চুক্তি মেনে নেবার নয়।

এতো সব সহায়ক পরিবেশ পেয়েও বিএনপি কেন কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছে না। এর কারণ হতে পারে মোটামুটিঃ

প্রথমতঃ নেতাদের পলায়নপরতা এবং আপষকামীতা কর্মীদের হতাশ করেছে।

দ্বিতীয়তঃ শুধু আন্দোলন করলেই চলে না, আন্দোলনের তাৎপর্যটা জনগণকে বুঝাতে হয়। বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতারা হয়তো বুঝতে অক্ষম যে, গত পাঁচ বছরের আগের বিশ্ব এবং আজকের বিশ্বের মধ্যে বিশাল ফারাক সৃষ্টি হয়েছে। একটা সময়ে ছিল সংবাদপত্রই একমাত্র খবর সংগ্রহের মাধ্যম ছিল। এখন বাঙলাদেশে অগনিত টিভি চ্যানেল, অনলাইন পত্রিকা, ইন্টারনেট বিশেষ করে ফেইসবুক, ব্লগ ইত্যাদি নানা প্রযুক্তির বিকাশ হয়েছে। অঁজ পাড়াগায়ে থেকেও মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুহুর্তেই তারা জানতে পারছে তরতাজা খবর। ফেইসবুক, ব্লগে সাধারণ মানুষ মূলধারার সংবাদপত্রের বাইরেও জানতে পারছে সাধারণের প্রতিক্রিয়া। জানাতে পারছে নিজের ভাবনার কথা। আগে সাধারণ মানুষ পত্রিকার খবর বা বিশ্লেষন পড়ে প্রভাবিত হোত। এখন তারাও অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প গণমাধ্যমের মারফত নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে অন্যদের প্রভাবিত করতে পারে। ভুলে যান আগের কথা। নতুন করে নতুন বিশ্বকে দেখুন।

তৃতীয়তঃ ’সাধারণ মানুষ কেন আন্দোলনে শরীক হয়ে নিজেদের জীবন বিপন্ন করবে’- এই ভাবনাটা সেদিনও ছিল না, এখন হয়েছে। মানুষের মনোজগতের এই পরিবর্তনটা কি বিএনপির নেতারা উপলব্ধি করতে পারছেন? নিরব জনগণের সবাই যে সরকারের সমর্থক তা নয়। তারা শুধু আন্দোলনের ফলাফলের সাথে নিজেদের লাভালাভের হিসেবটা করছে। আন্দোলন থেকে নেতাদের পিছুটান একেবারেই ব্যাক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। কিন্তু জনগণের একটা অংশের অসম্পৃক্ততা কিম্বা নৈতিক সমর্থন না থাকার পিছনে জনগণের স্বার্থ যতোটা না ব্যাক্তিগত, তারচেয়ে বেশী সামষ্টিক। সমষ্টির মধ্যে তারা ব্যাক্তিগত স্বার্থ খুঁজছে। অর্থাৎ আজ সরকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ যেমন, স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব, দুর্নিতি, সন্ত্রাস, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, ইত্যাকার বিষয়ে আন্দোলনরত দলগুলো ক্ষমতায় এলে কি করবে? পরিবর্তনটা যদি সেই অর্থে না আসে তবে অযথা জীবন বিপন্ন করে কার লাভ কার ক্ষতি? বলতে গেলে সেই এরশাদ আমল থেকে একই খেলা চলছে। এর মধ্যেও বিএনপির সাথে আওয়ামিলীগের গুণগত পার্থক্য কি সেই এডুকেশনটা বিএনপি জনগণকে দিতে পারেনি।

হরতালের কারণ হিসেবে বিএনপি বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনপ্রতিষ্ঠা। আপাতদৃষ্টিতে আন্দোলনকে মনে হতে পারে, নির্দলীয় ব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামিলীগের বদলে বিএনপির ক্ষমতায় যাবার প্রক্রিয়া হিসেবে। আসলে যে বিষয়টা এমন সাদাকালো নয়, বরং এর সাথে জনস্বার্থ তথা দেশের স্বার্থও জড়িত সেই বিষয়গুলো বিএনপি পরিস্কার করতে পারছে না। কেন নির্দলীয় ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন করা জরুরী, সরকারীদল কেন সেটা চায় না- ইত্যাকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জনগণের সামনে বিরোধীদল তুলে ধরতে পারেনি। শুধু হরতাল ডাকলেই হবে না। হরতাল কেন তা বুঝানোর জন্য এবং হরাতালে মানুষের সমর্থন আদায়ের জন্য যে গণসংযোগ দরকার সেটা দলের পক্ষ থেকে না করায় যৌক্তিক আন্দোলনটা কিছুটা হলেও জনণের বিরক্তের কারণ হয়ে পড়ছে।

পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, জীবন জীবিকার তাগিদে সাধারণ মানুষের বাইরে বের হতেই হবে। তাদের অফিসে যেতে হবে, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে হবে। আবার গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে, একদলীয় নির্বাচন প্রতিহত করতে চাইলে এই পরিস্থিতিতে কঠোর কর্মসূচীরও অন্য বিকল্প নাই। এই দুই প্রয়োজনীয়তা পূরণের একটা কার্যকর ভারসাম্যতা সৃষ্টি করা জরুরী।

চতুর্থঃ কোন এক অজানা কারণে অধিকাংশ সংবাদপত্র কেন জানি বিএনপির প্রতি বিমাতাসুলভ। ফলে জনগণের কাছে মূলধারার সংবাদপত্র থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যৌক্তিকতা ঠিকভাবে পৌঁছছে না।  মধ্যিখানে সহিংসতার শিকার হয়ে মারা পড়ছে সাধারণ মানুষ।

মোদ্দাকথা, আন্দোলন জোরদার করতে না পারা এবং আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে না পারার পুরোটা দায়ভার বড় দল হিসেবে বিএনপির।  এর পিছনের কারণ হোল দলীয় পদ দখল করে রাখা কিছু সুযোগসন্ধানী নেতা। চিন্তা করুন, বিরোধীদলের নেতার বাসায় পানির লাইন, খাবার সরবরাহ কেটে দেয়া হোল। অথচ একজন নেতাকে দেখা যায়নি প্রতিবাদ করতে।

ক্ষমতায় আসলে যে সব রথী মহারথীরা মন্ত্রী এমপি হবেন দলের এই কঠিন সময়ে তাদের বাতি জ্বালিয়েও পাওয়া যায় না। এসি রুমে বসে পোলাও কোর্মা খেয়ে স্বপ্ন দেখছেন কেউকেটা হবার। ওদিকে রাজপথে কর্মীরা অকাতরে পুলিশের গুলি খাচ্ছে।  রাজপথে নেমে মামলা খেলে আপনাদের সামর্থ্য আছে তার মোকাবেলা করার। সরকার খুব বেশী নির্যাতনও করতে পারবে না। কারণ আপনারা বড় নেতা। ঝামেলা হয়ে গেলে দেশে বিদেশে সরকার নানামুখী চাপের মধ্যে পড়বে। এতোগুলো সেফটি নেট থাকা সত্ত্বেও হরতালের ডাক দিয়ে আন্দোলনের মাঠে অনুপস্থিত থেকে মীর জাফরের মতো কর্মীদের সঙ্গে বেঈমানী করছেন। নেতারা হয়তো ভেবেছিলেন, রাজপথে ওনারা আন্দোলনে নামবেন আর সরকারীদল তাদের বরনের জন্য ফুলের মালা হাতে দাঁড়িয়ে থাকবে। সেটা তো হবার নয়।

সত্যি কথা কি, মাহমুদুর রহমান, পিয়াস করিম, তুহিন মালিক, নুরুল কবির, আসিফ নজরুল, ওয়াহিদুজ্জামান এ্যাপোলো, এদের হাঁটুর গোঁড়ায় যতোটুকু সাহস আছে, বিরোধীদলের নেতাদের ততোটুকু হিম্মত থাকলেও সরকারের এতোদিন টনক নড়ে যেত।

Mahalom72@msn.com

গল্পটা শুনে ওনারা হাসতেই পারেন………

Appolo vi

প্রায় মাসখানেক আগে ফেইসবুকে দেয়া একটা পোষ্টকে কেন্দ্র করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তরুণ পরিবেশ আন্দোলনকারী এবং জনপ্রিয় অনলাইন এ্যাকটিভিষ্ট জনাব ওয়াহিদুজ্জামান এ্যাপোলো ভাইর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। হাইকোর্ট তাকে কিছুদিনের জামিন দিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হবার সময়সীমা বেঁধে দেয়। বেঁধে দেয়া সময়সীমার কিছু আগেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি নিম্নআদালতে আত্নসমর্পন করলে তাকে নতুন করে জামিন না দিয়ে জেল হাজতে পাঠান হয়। এখনো তিনি জেলে আছেন। সরকার যেখানে আদালত চালায়  সেখানে এই মামলার ভবিশ্যত কি সেটা আইনের প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়। এই মামলার পরিণতি নিশ্চিতভাবে সরকারের ভবিশ্যত পরিণতির সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। এ্যাপোলো ভাইর পরিবার এবং তার শুভাকাঙ্খীদের আতঙ্কের কারণ এটাই।

এই সময়ের বাঙলাদেশের রাজনৈতিক হট্টগোলের গুরুত্বের বিবেচনায় এ্যাপোলো ভাই ব্যাক্তি হিসেবে অতোটা গুরুত্ব পাবার কথা নয়। দেশে একদিকে চলছে নির্বাচন নিয়ে সরকারের একরোখা অবস্থান এবং একে কেন্দ্র করে সারা দেশে আন্দোলনের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে পাশ্ববর্তী বৃহৎ প্রতিবেশী দেশের অনাকাংখিত হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। বাঙলাদেশের একান্ত নিজস্ব সমস্যা এখন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সাথে জড়িয়ে গেছে। ঠিক এই মুহুর্তে একজন তরুণ পরিবেশবিদের কোন কারণে জেলে যাওয়ার ঘটনা দেশের মূলধারার মিডিয়ার কাছে কোন মতেই গুরুত্বপূর্ণ খবর হতে পারে না। তবুও বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মূলতঃ দু’টি কারণে। প্রথমতঃ এ্যাপোলো ভাইর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে জেলে পুরার ঘটনা কিছু বিষয়কে উৎকটভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। বাঙলাদেশে চলছে এক তরফা রাজনৈতিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা। এর বিরুদ্ধে কারো অবস্থান তা যতোই যৌক্তিক হোক না কেন সরকার কর্তৃক সমর্থিত নয়। সারা দেশে এই কারণে বিভিন্ন ইস্যুতে হাজার হাজার মানুষ জেলে বন্দী হয়ে আছেন। এ্যাপোলো ভাইর ঘটনা মূলতঃ দেশের মধ্যকার সেই সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। দ্বিতীয়তঃ তার গ্রেফতার করার প্রেক্ষাপটটা। এ্যাপোলো ভাইর উপরে সরকার যে অত্যন্ত বেজার তা আজকের ঘটনা নয়। অনেকেই বলে থাকেন, তাকে গ্রেফতারের মূল কারণ কথিত সেই ষ্ট্যাটাস নয়, বরং তিনি নিরবিচ্ছিন্নভাবে, অত্যন্ত বলিষ্ট যুক্তি দিয়ে এবং তথ্য প্রমাণসহ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য বিষয়ে ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং সেই সাথে বর্তমান সরকারের নতজানু নীতির কারণে বাঙলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেবার বিষয়গুলো খুবই সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে তুলে এনেছেন।

একটু আগে বললাম, এ্যাপোলো ভাইর নামে ‘মিথ্যা মামলা’ দেয়া হয়েছে। মামলাটা মিথ্যা তার কারণ হোল, এ্যাপোলো ভাইর নাম এবং ছবি ব্যবহার করে যে পোষ্টটি দেয়া হয় সেটা তার নিজস্ব নয়। দুঃখজনক বিষয় হোল, অধিকাংশ পত্রিকায় এর আগে এবং এবারও এ্যাপোলো ভাইর ফেইসবুকে দেয়া ষ্ট্যাটাস নিয়ে অর্ধসত্য কথা ছাপা হয়েছে। যে পোষ্টটিকে তার নামে চালান হচ্ছে সেটা মূলতঃ তার কোন এক ভক্ত তার নামে পেজ খুলে সেই পেজে দিয়েছিল। বেশ কিছুদিন আগে যখন বারবার সরকারদেলীয় লোকজন গণ রিপোর্টিং করে তার আইডিটা ব্লক করে দিচ্ছিল ঠিক তখন তার কোন এক ফলোয়ার বা ফেইসবুক বন্ধু হয়তো তার নামেএই পেজ খুলে থাকবেন। এটা ভার্সুয়াল জগতে খুবই সাধারণ একটা ঘটনা। যে পোষ্টটার জন্য তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে সেটা অশালীনতা বা তথ্য বিকৃতি কোন অভিযোগের মধ্যেও পড়ে না। তারপরেও এটা তার নামে চালিয়ে দিয়ে মিথ্যা মামলা ঠুকে দেয়া হোল।

এ ব্যাপারে জেলে যাবার আগে তিনি একটা লেখা লিখেন যেটা অনলাইন নিউজ পোর্টাল উন্মোচনে প্রকাশিত হয়।  এখানে তিনি দেখিয়েছেন, কিভাবে তিনি এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলার শিকার হন।

http://www.unmochon.com/2013/11/06/55157.html#.Un3VBTYbodl

তাছাড়া তিনি তো এখন জেলে আছেন। তার পক্ষে তো কোন পোষ্ট দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু যদি নিচের পেজে যান তবে দেখবেন তার জেলে যাবার পরেও অনেক পোষ্ট ছাড়া হয়েছে। এর থেকে কি প্রমাণিত হয় না যে পোষ্টটার কারণে তাকে জেলে পাঠান হয়েছে তার দায়দায়িত্ব তার নয়?

https://www.facebook.com/AkmWahiduzzamanApollo

এ রকম তার নামে আরো কয়েকটি পেজ খোলা হয় তার ভক্তদের দ্বারা। এর বাইরেও বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধ মতাবলম্বী বিশেষ করে সরকারীদলের অন্ধ সমর্থকরা তার নাম এবং ছবি ব্যবহার করে ফেক  আইডি খুলে। এবং তা থেকে নানা আপত্তিকর পোষ্ট দিয়ে চরিত্রহণনের চেষ্টা চালিয়েছিল। এ্যাপোলো ভাইকে তবু কমবেশী অনেকেই চিনেন। সেই তুলনায় আমি একদম অখ্যাত। আমার নামেও একবার এ রকম ফেক আইডি খুলে বন্ধুদের করা মন্তব্যের জবাব খুব বাজে শব্দ ব্যবহার করে দেয়া হচ্ছিল।  অনলাইনের এই ভালনারাবিলিটির কথা কি সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার আইটি বিশেষজ্ঞরা জানে না? অবশ্যই জানে। বরং আমার আপনার চেয়েও বেশ ভাল জানেন। তারপরেও এই ধরনের হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা প্রমাণ করে সরকারের ফ্যাসিষ্ট চরিত্রকে।

এই মামলার মাধ্যমে প্রমাণিত হোল, নতুন এই তথ্য প্রযুক্তি আইন ভবিশ্যতে কতোটা ভয়াবহভাবে ব্যবহার হতে পারে। শত্রুতাবশতঃ যে কেউ যে কারো নামে তার ছবি ব্যবহার করে এ রকম পেজ বা ভুয়া আইডি খুলে কোন আপত্তিকর পোষ্ট দিয়ে তাকে ফাঁসিয়ে দিতে পারে। আর এই আইনের সাজা এতোটা মারাত্নক যে, গাড়ী চাপা দিয়ে মানুষ মারার চেয়ে ভয়াবহ। এমনকি অনেকক্ষেত্রে ডাকাতি, মানুষ জখম করার চেয়েও কঠিন সাজা।

তাছাড়া কটুক্তি আমরা কাকে বলব? রাজনীতি করে এমন ব্যাক্তির অনেক কাজই সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। এক্ষেত্রে তাদের কি অধিকার নেই রাজনীতিবিদদের এসব কাজের সমালোচনা করার? রাজনীতিবিদদের কাজের সমালোচনা করা কি কটুক্তির পর্যায়ে পড়বে? এ্যাপোলো ভাই তার ফেইসবুকের সমস্ত পোষ্ট জুড়ে ভারতের কাছে বাঙলাদেশ সরকারের নতজানু পররাস্ট্রনীতি এবং একপেঁশে বন্ধুতের ফলস্বরূপ দেশের স্বার্থ বলি হবার বিরুদ্ধে তথ্যমূলক এবং বিশ্লেষণধর্মী লেখা লিখেছেন। এটাই কি তার জন্য কাল হোল? আমাদের নেতানেত্রীরা প্রত্যহ যেভাবে একে অন্যকে আক্রোশমূলক ভাষায় আক্রমণ করে তাতে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। দু’দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বক্তব্যে খালেদা জিয়ার পরচুলা নিয়ে অত্যন্ত বাজেভাবে আক্রমণ করেছেন। আদালত যদি নিরপেক্ষ হোত, আইন যদি দেশের সকল নাগরিকের জন্য সমান হোত, তবে শেখ হাসিনারও কি তার বক্তব্যের জন্য জবাবদিহি করতে হোত না? নতুন তথ্য প্রযুক্তি আইনে জেলে যেতে হোত না?

সবশেষে একটা প্রচলিত কৌতুক বলে শেষ করব।

এক রাবনের রাজত্বে  তিন ব্যাক্তি বেড়াতে গেল। সেই কথা শুনে রাবনতো মহা রাগান্বিত।  বাহিনীকে হুকুম করল, তিনজনকে ধরে আনার। যথাযথভাবে তা পালিত হোল। রাবণ তাদের সামনে পেয়ে বাজখাই গলায় জানতে চাইল, কেন তারা রাবণের অনুমতি না নিয়েই এখানে ঢুকে পড়েছে।  অতএব, আইন অমান্যের জন্য তাদের মৃত্যুদন্ড ঘোষনা করা হোল। তিনজনই ভয়ে কাঁচুমাচু। রাবণ বেশ মজাই পেল। অবশেষে সে হুংকার দিয়ে বলল, ঠিক আছে। তোদের ক্ষমা করতে পারি এক শর্তে। এই মুহুর্তে তোরা বনে বের হয়ে পড়বি। সবাইকে এমন একটা করে ফল আনতে হবে যে, যেটা আমি জীবনে কখনোই খাইনি। যদি তা না পারিস তবে যে যেটা আনবি সেটা তার পশ্চাৎদেশ দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়া হবে। এটাই হবে তোদের শাস্তি। সবাই বের হয়ে পড়ল এমন অদেখা ফলের সন্ধানে। বেশ কিছু সময় পরে প্রথমজন ফিরে এলো। হাতে একটা বড় আম। রাবণ তাই দেখেতো মহা খেপা। যেই কথা সেই কাজ। আমটা পাচার করা হোল উক্ত ব্যাক্তির নির্দিষ্ট জায়গা দিয়ে। লোকটা ব্যাথায় কাতরাতে থাকল।

দ্বিতীয়জন ফিরে এলো হাতে একটা ছোট সাইজের বেল নিয়ে। এবারও রাবণ খেপে গিয়ে একই কাজ করল। কিন্তু একটু পড়েই রাবণতো অবাক! কি ব্যাপার! কিছুক্ষণ আগেই সামান্য আমের কষ্ট সইতে না পেরে একজনের জান যায় যায় অবস্থা। অথচ দ্বিতীয়জন গোটা বেলটা পশ্চাৎদেশে হজম করে দিয়ে দিব্যি হো হো করে হাসছে। ব্যাপারটা কি? জিজ্ঞেস করতেই দ্বিতীয় ব্যাক্তি করজোড়ে বলল, রাবণরাজ, না হেসে পারলাম না। কারণ একটু আগে দেখে  এলাম তৃতীয়জন ইয়া বড় সাইজের কাঁঠাল নিয়ে আপনার দরবারের দিকে আসছে। কাঁঠালটা কথিত পথে ঢুকালে ওর কি অবস্থা হবে সেই কস্টে আমি নিজের দুঃখ বেমালুম ভুলে গিয়ে হাসছি।

যাইহোক, বাকশালী নির্যাতনের শিকার আজকের তথ্যমন্ত্রী জনাব ইনু সবকিছু ভুলে গিয়ে বর্তমান সরকারের সাথে থেকে আবারো সেই পথে হাঁটছেন। যে ফ্যাসিবাদের শিকার হয়েছিলেন তিনি এবং তার দল, আজ এতোটা বছর পরে তিনিই সেই দলের সহযোগী হয়ে একই কাজ করলেন। আজকে যারা এই নতুন আইনের বলি হচ্ছেন, তারা কষ্ট না পেয়ে হাসতেই পারেন। কারণ বেলটা তাদের ভাগ্যে পড়লেও ক্ষমতা হারালে কাঁটাযুক্ত ইয়া সাইজের কাঁঠাল অপেক্ষা করছে ইনুদের জন্য।

Mahalom72@msn.com

আজকে আলোচিত পিলখানা হত্যাকান্ডের বিচারের রায় এবং কিছু কথা।

আজকে আমাদের ইতিহাসে ৭১ এর পরে সবচেয়ে ঘৃণিত হত্যাকান্ডের বিচারের রায় দেয়া হবে। বলাবাহুল্য, ৭১ এবং পিলখানা হত্যাকান্ডের বিচার বর্তমান সরকারের আমলে শুরু হলেও উভয় বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। উভয় বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। পিলখানা হত্যাকান্ডে ভারতের যোগসাজশে সরকারদলীয় কিছু নেতার ষড়যন্ত্রে সংঘটিত হয় এ রকম জোর গুজব থাকা সত্ত্বেও তদন্তে সরকারদলীয় কথিত অভিযুক্তদেরকে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির করতে দেয়া হয়নি। এর মাধ্যমে সরকারের জড়িত থাকার গুজবটা আরো বেশী বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। এই হত্যাকান্ডের পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সেনা অফিসারদের যে বৈঠক হয় সেখানেও অফিসাররা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গীমায় অফিসারদের যৌক্তিক প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যান।

কেন?

সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া একটা ভিডিও ক্লীপে জনৈক বিদ্রোহীকে দেখা যায় উত্তেজিতভাবে বক্তৃতা দিতে। সে তার বক্তব্য শেষ করে জয় বাঙলা শ্লোগান দিয়ে। উইকিলিকসেও ‘র’ এর তত্ত্বাবধানে সরকারদলীয় লোকদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই হত্যাকান্ডের সম্পর্কে বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

তারপরেও ৭১ এর মানবতা বিরোধী হত্যাকান্ডের বিচারের মতো সরকারদলীয় জড়িতদের বাদ রেখে হত্যাকান্ডের বিচার করা হচ্ছে। এই বিচার যদি দ্রুত কার্যকর করা হয় তবে জাতি কোনদিনই জানতে পারবে না মূল পরিকল্পনাকারীদের কথা এবং তাদের উদ্দেশ্যের কথা। যেমন করে মিল্কী হত্যাকারীকে ক্রসফায়ারে দিয়ে দলীয় মূল হত্যা পরিকল্পনাকারীদের রেহাই দেয়া হয়েছে।

এই মামলায় বিএনপিদলীয় নেতা পিন্টুও আসামী। সালাহউদ্দিন কাদেরের রায় নিয়ে দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া না দেখানোটা ছিল বুদ্ধিমানের কাজ। তবে আজকে বিচারের রায়ে যদি পিন্টুকে অভিযুক্ত দেখান হয় তবে বিএনপিকে চুপ থাকলে চলবে না। তারা যদি পিন্টুর জড়িত থাকার বিষয়টি সত্য মনে করেন তবে তাকে অচিরেই বহিস্কার করতে হবে। নচেৎ এই পক্ষপাতমূলক বিচারের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান ‍উচিত। এবং সেটা অবশ্যই যথেষ্ট তথ্য প্রমাণসহ বিশ্বাষযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

আমাদের জাতীয় বীরদের হত্যাকারীরা যে দলেরই হোক, তাদেরকে ক্ষমা নেই। এই হত্যাকান্ডের গুরুত্ব ৭১ এর বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই উভয় হত্যাকান্ডই ঘটান হয় জাতি হিসেবে আমাদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেবার জন্য।

প্রেমালাপের প্রাথমিক শর্ত এবং একটি রেড (সংঘাতের) সংলাপ।

প্রেমের শুদ্ধ বা ফলপ্রসু আলাপের প্রাথমিক শর্তই হোল হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা, পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মান থাকা। শুরুটা এর উল্টো হলে প্রেম হওয়া তো দূরের কথা, বরং সম্পর্ক চাট্টিবাট্টি গোল করে পালাবে। শেখ হাসিনা হয়তো সত্যি সত্যিই ফোন করে থাকতে পারেন। এবং সত্যি সত্যি খালেদা জিয়ার ফোন বিকল থাকার জন্য যৌক্তিক কারণে রিংটোন শোনা যায়নি। এবার দেখুন গতকাল প্রধান প্রধান খবরের কাগজগুলোতে খবর ছাপা হয়, খালেদা জিয়ার রেড ফোন ঠিক করা হয়েছে। তাহলে কি প্রমাণিত হোল? ডিজিটাল বাঙলাদেশ গঠনের নেত্রী বুঝেন না কোনটা রিং টোন আর কোনটা ফলস টোন!

ওএমজি!
Continue Reading

মাঝে মাঝেই পিছনে হাঁটতে ইচ্ছে করে….

সেই আশির দশকের কথা। খুব বেশী আগের নয়, আবার একদম কালকেরও নয়। বাস শুধু ঢাকা থেকে পাটগাতী পর্যন্ত চল। বাসগুলো ছিল মুড়ির টিনের চেয়ে কিঞ্চিত উন্নত। বাসষ্টান্ডে নেমেই বাকী ৬/৭ মাইলের চিন্তায় কষ্টে খুব কান্না পেত। বর্ষাকালে অবস্থা ছিল আরো ভয়াবহ।  ঢাকায় দিনটা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সাধারণত: রাতের গাড়ীতেই রওয়ানা দিতাম। খুব সকালে গাড়ী পৌঁছে যেত টুংগীপাড়া-পাটগাতী বাসষ্ট্যান্ডে। ফজরের আজান পড়তে অনেক দেরী। রাতের কিছুটা কোনমতে বাসে কাটাতে দিলেও সূর্যের আলো ফোটার অনেক আগেই হাঁকডাক পড়ে যেত নেমে যাবার জন্য। গাড়ী সাফ সুতরা করতে হবে।

তখনো অনেক ভোর। সূর্যের দেখা নেই। শুকনো মৌসুমে দু’একটা ভ্যান চললেও বর্ষা মৌসুমে নৌকা, লঞ্চ এবং দু’পাই একমাত্র ভরসা। লঞ্চের অপেক্ষায় বসে থাকলে সকাল আটটা। কমছে কম আরো তিন চার ঘন্টা। এরপরেও কোন নিশ্চয়তা নেই। লঞ্চ চলে বাঙলা টাইমে। একা অপেক্ষার কষ্ট, হাঁটার চেয়েও বেশী। হাঁটলে তবুও গতি থাকে। অপেক্ষা বড় নিথর, চুপচাপ। এতোটা পথ এসে বাড়ী পৌঁছনোর তাড়াও থাকে। সে যুগে কোন মোবাইল ফোনও ছিল না। থাকলে বাটন টিপে সময় পার করা যেত। বাধ্য হয়েই জোর পায়ে হাঁটা ধরতাম। বাসষ্টেশন থেকে পাটগাতী বাজার পর্যন্ত সম্ভবত: তখন ইট সুড়কির রাস্তা ছিল। পাটগাতী বাজারে পৌঁছেই বাম দিকে মোড়। এরপরেই মাটির পথ।Continue Reading