২৯শে ডিসেম্বরের রাজনীতি by রোমেল আহমেদ

 

অনেকে বলেন ২৯ ডিসেম্বর বিএনপি জনসভা করতে পারে নাই, বিএনপি ব্যর্থ হইছে। কিন্তু ফলাফলটা দেখেন, ঠান্ডা মাথায়।

 

সবার কাছে, জনগনের কাছে, বিদেশীদের কাছে কী মেসেজ গেছে-

১ ) বিএনপি কে শান্তিপূর্ন কর্মসূচি করতে দেয়া হয় নাই।

২ ) বিএনপি জনসভা করলে মানুষ আসত, মানুষ আসলেই কী? মানুষকে কিসের ভয়। এত জনাতঙ্ক কেন ?

৩) যেই জনসমুদ্র হবে, তাঁকে আওমি লীগ কী মোকাবিলা করতে পারবে না?

৪) সবচেয়ে ভয়ের ব্যপার, বিরোধী দলকে ঠেকানোর জন্য জনগণকে, এমনকি কূটনীতিকদের জিম্মি করে রাখা হইছে।

৫) ৬ মিনিটের অগ্নি বৃষ্টি।

 

সবাই, জনগন, বিদেশীরা কী বুঝল-

১) আওমি লীগ একটা ফ্যাসিস্ট দল।

২) যারা প্রেস ক্লাব, সুপ্রিম কোর্টে নারকীয় আক্রমন করতে পারে।

৩) বিএনপি-এর জন্য হরতাল বা অবরোধ ছাড়া কোন স্পেস এই সরকার খোলা রাখে নাই ।

৪) মুল তান্ডব কারিরা , আওমি লীগ, এক্সপোজড।

৫) পুলিশ খুব পারটীজান রোল প্লে করে।

বিবেচনা করলে দেখা যাবে, এই জনসভা না করা , কিংবা না করতে পারা , বিএনপির জন্য লাভজনক হইছে।

 

এখন দেখা যাক,

আমি আপনি যে কোন সিধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পজেটীভ, নেগেটীভ দুইটাই ভেবে নেই-

এই জনসভা ঘোষণার ব্যাপারেও দুইটা অনুসিধান্ত নেয়া হইছে –

১) পজেটীভ।- জনসভা করতে দিলে তো ভালই ।

২) নেগেটীভ ।

বিএনপির থিংক-টেঙ্ক কি আশা করছিল আওমি লীগ এই জনসভার ব্যাপারে একটুও ছাড় দিবে? গত ৫ বছরের, বিশেষ করে ২০১৩ এর অভিজ্ঞতা একটুও বিবেচ্য হইলে বিএনপির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এই আশা করে নাই । এই জন্যই পাতানো সংলাপের ফাদে বিএনপি পা দেয় নাই।

আর বিএনপির থীঙ্ক ট্যাঙ্ক জনসভার ঘোষণা দিয়ছিল দুই অনুসিধান্ত কে মাথায় রেখেই, বিশেষ করে আওমি লীগ যে কোন উপায়ে জনসভা আটকাবে- এই চিন্তা মাথায় রেখেই।

হাসিনার গেস্তাপো বাহিনী ঠিক পাতানো ফাদেই পা দিয়ে দিছে।

যা যা কাহিনি করছে সব অসাধারণ । ইতিহাসের সবচে ন্যাক্কারজনক কাজ গুলা । ঠিক অনেক ইভেণ্ট না , কিছু দারুন হাইলাইট – আওমি লীগ কি চিজ -একদম এক্স পোজড।

 

এবং আউটকাম ইজ মাচ মোর দেন এক্সপেক্টেড ফ্রম দ্য ট্র্যাপ ।

হাসিনা , কট বাই ছাত্রলিগ যুবলীগ বোল্ড খালেদা ।

লেন্দুপ দর্জির ইতিহাস

বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া পুলিশ ও সরকারকে লেন্দুপ দর্জির ইতিহাস পড়তে বলেছেন। আসুন আমরা জেনে নেই কে এই লেন্দুপ দর্জি ?

সিকিম ভারতের উত্তরাংশে অবস্থিত তিব্বতের পাশের একটি রাজ্য। রাজ্যটির স্বাধীন রাজাদের বলা হত চোগওয়াল। ভারতে বৃটিশ শাসন শুরুর পুর্বে সিকিম তার পার্শ্ববর্তী নেপাল আর ভুটানের সাথে যুদ্ধ করে স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল। বৃটিশরা আসার পর তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নেপালের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় সিকিম। এসময় রাজা ছিলেন নামগয়াল।কিন্তু বৃটিশরা তিব্বতে যাওয়ার জন্য এক সময় সিকিম দখল করে নেয় এবং ১৮৮৮ সালে রাজা নামগয়াল আলোচনার জন্য কলকাতা গেলে তাঁকে বন্দী করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ১৮৯২ সালে তাকে মুক্তি দেয়া হয় এবং সিকিমের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়া হয়। প্রিন্স চার্লস ১৯০৫ সালে ভারত সফরে আসলে সিকিমের চোগওয়ালকে রাজার সম্মান দেয়া হয়। চোগওয়ালপুত্র সিডকং টুলকুকে অক্সফোর্ডে লেখাপড়া করতে পাঠানো হয়।টুলকু নামগয়াল মতায় বসে সিকিমের ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন। বৃটিশের কাছে সিকিম তার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা লাভ করে।

পরবর্তী চোগওয়াল (রাজা) থাসী নামগয়ালের সময়ে বৃটিশরা ভারত ছেড়ে গেলে গণভোটে সিকিমের মানুষ ভারতের বিরুদ্ধে রায় দেয় এবং ভারতের পন্ডিত নেহরু সিকিমকে স্বাধীন রাজ্য হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হন।

১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর সিকিমের গুরুত্ব বেড়ে যায়। ১৯৬৩ সালে থাসী নামগয়াল এবং ১৯৬৪ সালে নেহরু মারা গেলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। চোগওয়াল হন পাল্ডেন থন্ডুপ নামগয়াল। এ সময় ভারতের প্রধানমস্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সর্বশক্তি নিয়োগ করেন সিকিমকে দখল করার জন্য। তিনি কাজে লাগান সিকিমের প্রধানমন্ত্রী কাজী লেন্দুপ দর্জিকে। ১৯৭০ সালে নেহেরু প্রভাবিত সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসকে লেন্দুপ দর্জি ব্যবহার করে অরাজকতা সৃষ্টি করেন। রাজপ্রাসাদের সামনে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে ইন্দিরা সরকার রাজার নিরাপত্তার কথা বলে ভারতীয় বাহিনী পাঠায়। কিন্তু তারা রাজাকে গৃহবন্দী করেন। বহির্বিশ্বের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং বিএস দাশকে ভারত সরকার সিকিমের প্রধান প্রশাসক নিয়োগ করে। এই সময় আমেরিকান এক পর্বতারোহী গোপনে সিকিম প্রবেশ করেন এবং সিকিমের স্বাধীনতা হরণের খবর বিশ্বের নিকট তুলে ধরেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে যায়। সিকিম জাতিসংঘের সদস্য পদভুক্তিরও প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এর মধ্যে ভারতের তাঁবেদার লেনদুপ দর্জির নেতৃত্বাধীন সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস (এসএনসি) ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পার্লামেন্টের ৩২ আসনের মধ্যে ৩১টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে জিতে ২৭ মার্চ ১৯৭৫ প্রথম ক্যাবিনেট মিটিং-এ প্রধানমন্ত্রী লেনদুপ দর্জি রাজতন্ত্র বিলোপ ও জনমত যাচাইয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত নেন। ততদিনে সিকিমে ভারতীয় সেনাবাহিনী ঘাঁটি গেড়ে ফেলেছে। তারা বন্দুকের মুখে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করে। পুরো ঘটনা ছিল সাজানো। ৬ এপ্রিল ১৯৭৫ সালের সকালে সিকিমের রাজা যখন নাস্তা করতে ব্যস্ত সে সময় ভারতীয় সৈন্যরা রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে এবং রাজাকে বন্দী করে প্রাসাদ দখল করে নেয়। তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে গ্রাস করে ভারতের প্রদেশে পরিণত করে।সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো সিকিম সেনাবাহিনীকে সহায়তা ও প্রশিণ দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী।

ভারতীয় সাংবাদিক সুধীর শর্মা ‘পেইন অব লুজিং এ নেশন’ (একটি জাতির হারিয়ে যাওয়ার বেদনা) নামে একটি প্রতিবেদনে জানান, ভারত তার স্বাধীনতার গোড়া থেকেই সিকিম দখলের পরিকল্পনা করেছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওয়াহের লাল নেহেরু অনেকের সাথে কথোপকথনে তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সাবেক পরিচালক অশোক রায়না তার বই ‘ইনসাইড স্টোরী অব ইন্ডিয়াস সিক্রেট সার্ভিস’-এ সিকিম সম্পর্কে লিখেন, ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ১৯৭১ সালেই সিকিম দখল করে নেয়া হবে। সে ল্েয সিকিমে প্রয়োজনীয় অবস্থা সৃষ্টির জন্য আন্দোলন, হত্যা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছিল।তারা ছোট ছোট ইস্যুকে বড় করার চেষ্টা করে এবং সফল হয়। তার মধ্যে হিন্দু- নেপালী ইস্যু অন্যতম। সাংবাদিক সুধীর শর্মা লিখেন, লেনদুপ দর্জি নিজেই শর্মাকে বলেছেন, ‘ভারতের ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর লোকেরা বছরে দু’তিনবার তার সাথে দেখা করে পরামর্শ দিত কিভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা যাবে। তাদের একজন এজেন্ট তেজপাল সেন ব্যক্তিগতভাবে তাকে অর্থ দিয়ে যেতো এআন্দোলন পরিচালনার জন্য। এ অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক সন্ত্রাস পরিচালিত হতো।’শর্মা আরো লিখেছেন, এই ‘সিকিম মিশনের’ প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা, যা সর্বত্র ‘র’ নামে পরিচিত।

ক্যাপ্টেন ইয়াংজু লিখেছেন, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক পোশাকে রাজার বিরুদ্ধে গ্যাংটকের রাস্তায় মিছিল, আন্দোলন ও সন্ত্রাস করত। নেহেরুর পরামর্শ, মদদ ও উৎসাহে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন লেনদুপ দর্জি। শ্লোগান তুলেছিলেন, ‘গণতন্ত্রের সংগ্রাম চলছে, চলবে’/লেনদুপ দর্জির গণতন্ত্রের শ্লোগান শুনে সিকিমের সাধারণ জনগণ ভাবতেই পারেনি, এই শ্লোগানের পিছনে প্রতিবেশী দেশ একটি জাতির স্বাধীনতা হরণ করতে আসছে।সিকিমের জনগণকে দ্বিধাবিভক্ত করে ভারত তার আগ্রাসন সফল করতে এবং এক পকে মতায় এনে তাদের দ্বারা দেশ বিক্রির প্রস্তাব তুলে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছিল।সিকিমের মত ঘটনার অবতারণা বাংলাদেশেও যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে দলমতনির্বিশেষে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। কারণবাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রতিরা ভারত দিনের পর দিন জোরদার করে চলেছে। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের ভেতরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়ে চলেছে। এই কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত সীমান্ত আউট পোস্টগুলোর (বিওপি) একটি থেকে আরেকটির দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার থেকে হ্রাস করে ৪/৫কিলোমিটারে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং এগুলোতে বিএসএফ-এর শক্তি দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

বিএসএফ এই সীমান্তে থারমাল নাইটভিশন ডিভাইস, টেলিস্কোপিক বন্দুকসহ উচ্চমানের হাতিয়ার মোতায়েন রেখেছে। এই সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার এলাকাকে কাঁটাতারের বেড়াসহ ফাড লাইটের আওতায় আনার এবং প্রশিতি কুকুর মোতায়েন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনেকটা এগিয়েছে বলে জানা গেছে।বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের ২৭৭ কিলোমিটার এলাকা ফাড লাইটের আওতায় আনার কাজ দু’বছর আগেই সম্পন্ন হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৯৯ সালের কারগিল কনফিক্টের পর থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিরা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত- প্রতিরা শক্তিশালী করার এই উদ্যোগ নেয়া হয়।ভারত তার বাংলাদেশ সীমান্তে প্রথম পর্যায়ে ৮৫৪ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণ করে এবং একই সঙ্গে পাকা সড়ক নির্মাণ করে ২ হাজার ৬শ’ ৬ কিলোমিটারের বেশী এলাকা।দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ২ হাজার ৪শ’ ৩০ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণ, ৭শ’ ৯৭ কিলোমিটার সড়ক এবং ২৪ কি.মি সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে । প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম সীমান্তে বেড়া ও সড়ক নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। ২০০৬ সাল নাগাদ ভারত মোট ২ হাজার ৫শ’ ৩৬ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া এবং ৩ হাজার ২শ’ ৫১ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করেছে বলে ভারতীয় একটি সূত্রে জানা গেছে।

যদিও ১৯৭৪ সালের ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোন প্রতিরা কাঠামো নির্মাণ করা নিষিদ্ধ, তবুও ভারত তা করে চলেছে। বলাবাহুল্য, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সড়ক তৈরী প্রতিরা কাজের মধ্যেই পড়ে । ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত দু’দেশের বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হলেও তা কোন ফল দেয়নি। ভারতের বর্তমান প্রস্তুতি অনুযায়ী সীমান্ত সড়ক দিয়ে অনায়াসে সমর যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এরফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিরা ব্যবস্থাও জোরদার করতে পারবে।

ভারতের বর্ডার আউট পোস্ট-বিওপি’র সংখ্যা পূর্বের তুলনায় অন্তত তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এগুলোতে মোতায়েন জওয়ানের সংখ্যাও সে তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।একারণেই বাংলাদেশের জনসাধারণের মধ্যে ‘সিকিমফোবিয়া’ কাজ করছে প্রবলভাবে। ভারতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অবিশ্বাসের অন্যতম কারণ হলো বাংলাদেশও সিকিমের পরিণতি বরণ করে কিনা। আর সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টিতে এজেন্ট তৈরীর নানা প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে । বড় দেশ হিসেবে ভারতের অন্যতম কৌশল হলো, ছোট দেশের কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, কূটনীতিক পর্যায়ের প্রভাব সৃষ্টিকারী ব্যক্তিবর্গের মগজগুলো কিনে নেয়া। ভারত যদি বাংলাদেশকে স্বাধীন-স্বার্বভৌম দেখতে চায় তবে মাথা কেনার কৌশল বাদ দিতে হবে। এই বিষয়গুলোর ব্যাপারেও ভারতের কাছ থেকে ব্যাখ্যা-বক্তব্য আসা উচিত- যাতে বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর হতে পারে । তাছাড়া নতুন বাঙালী প্রজন্মকে সিকিমের করুণ পরিণতির ইতিহাস জানাতে হবে। ইতিহাস বলে,ভারত সিকিমে এ কৌশলে চেষ্টা করে সফল হয়েছে। এখানেও সেই চেষ্টা করছে বলে অনেকেই সন্দেহ করেন। এসব কাজ অব্যাহত থাকলে সেটা হবে অবন্ধুসুলভ। মূলতঃ সিকিমের ইতিহাস হলো ভারতের সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার সবচেয়ে প্রকৃষ্ট উদাহরন ।

(সংগ্রহীত)

http://wp.me/p43ryU-1C

বাংলাদেশের মিডিয়া – এক্সিস অফ ইভিল

by  রোমেল আহমেদ:

কিংবদন্তি গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলী একটা গল্প বললেন ,এক কুখ্যাত ডাকাত মৃত্যুর পূর্বে তার সন্তানদের ডেকে বলল- ‘বাবারা আমার মৃত্যুর পর তোমরা এমন কাজ কইরো যাতে লোকেরা আমাকে ভালো বলে’ , সেই ডাকাতের সন্তানেরা সেদিনের পর থেকে কোন বাড়িতে ডাকাতি শেষে ফেরার সময় সেই বাড়িতে আগুন দিয়ে আসত, ফলে লোকেরা সহসাই বলাবলি করা শুরু করলো ‘আহা ওদের বাবাই ভালো ছিল লোকটা শুধু ডাকাতিই করত, ছেলেদের মত আগুন দিত না’। ইশপের শিক্ষাঃ আম্লীগের বর্তমান কাজকাম অতিতের বাকশালের স্মৃতি কে মধুর করে দিচ্ছে ।

স্বাধীনতার যুদ্ধের মাঝের সময় থেকে শুরু করে ৭৫ পর্যন্ত সময়ে ভাশানি ন্যাপ সহ সব বিরোধী দল্কে যেই অত্যাচারের স্টিম রোলার সইতে হইছে – এরই ধারাবাহিকতা বি এন পির নিরযাতিত চেহারা । আর জাসদের সাথে যা হইছে তার উদাহরণ আজকের প্রতিবাদি লাখ তরুণরা – যারা নানা ভাবে আওয়ামি জাহেলিয়াতের শিকার । আমার লেখায় যাদের একটু খটকা আছে, তাদের ইনু মিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটে ঘুরে আসা দরকার, রনো-র লেখা , ভাশানির হক কথা পড়া উচিত।

স্বাধীন বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, আওয়ামী লিগ একটি দুর্বৃত্ত , সন্ত্রাসি , উগ্র-উদ্ভট মানসিকতার ফ্যাসিবাদি দলে পন্থি দলে পরিবর্তিত হয়েছে।

দুর্বৃত্তআয়নের কারনেই সন্ত্রাসী বাহিনির জন্ম দিতে হয়েছে, আর দুর্বৃত্তআয়ন-এর জন্যই দরকার ছিল চাতুকারিতা, নেতাকে দেবতা বানানোর অপচেস্টা। আর এই অপচেষ্টা চলতে থাকা সময়কালে প্রকৃতি যখন শায় হলও না , নিজেদের দাম্ভিকতার কারনে তৈরি হয় দুর্ভিক্ষ । জনরোষএর ভয়েই হোক, আর সমাজতন্ত্রের পেত্নির লোভে পরেই শুরু বাকশাল-এর। এক উগ্র-উদ্ভট মানসিকতার বিকাশ । দুরবৃত্তায়ন, সন্ত্রাস, দুর্ভিক্ষ ঢাকার জন্য দরকার হয় এক শ্রেণির গোয়েবলশের , উগ্র-উদ্ভট মানসিকতার বিকাশএর জন্য দরকার হয়ে পরে ইকবাল সোবহানদের,বাংলার বানির। পোশা মিডিয়ার , প্রাভদার মতন ।

হীটলারের। স্টালিনে্র, চসেস্কু, মুগাবের মত কুখ্যাত ডিক্টেটরদের দরকার; পোষা মিডিয়ার যারা যে কোন ঊপায়ে প্রভুকে রক্ষা করবে ।

এই ধরনের মীডীয়ার কাজ এক নায়কের, বা নায়িকার পোষা গেস্তাপো বাহিনির স্যতানি আড়াল করবে, আড়াল করবে পারটির ক্যাডারদের শিশ্ন , যারা আরাল করবে সালমান-তাপস- আজিজ খান- মনজুর এলাহিদের সম্পদের কালা পাহাড়। এই ধরনের পোষা পশুদের কাজ হইতেছে এদের প্রভুর ইচ্ছা- অনিচ্ছাকে সুবিধা মত হালাল -হারামের তকমা দেওয়া। এদের মনুষ্যত্ব সততা প্রত্যাশা করে কোন পাগল ! স্বাধীন বাংলাদেশের সবচে বড় দুর্ভাগ্য আওমিলিগ না ।

বরং আওয়ামি ঊরদু লিগাররা যে দালাল মিডিয়ার “এক্সিস অফ ইভিল” “একটা পয়জন আইভি” তৈরি করতে পারছে -সেইটাই সবচে বড় দুর্ভাগ্য ।

 আর এক্সিস অফ ইভিল- জন্ম দিছে আজকের দুনিয়ার সবচে ধূর্ত ডিক্টেটরকে ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি খোলা চিঠি

by Jahid Islam:

সম্মানিত নেতৃবৃন্দ,

কেমন আছেন ? একটু চিন্তিত থাকলেও আশা করি আপনাদের ভয় কেটে গেছে। আপনাদের নেত্রী যে বক্তৃতা দিলেন এতেই গণতন্ত্রের সুস্পষ্ট বিজয় নিশ্চিত হয়েছে । আপনারা যে দিনভর বাসায় শুয়ে বা নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে ‘স্বৈরাচার’ বলে শেখ হাসিনাকে তাঁর ফ্যসিবাদি চরিত্রের জন্য গালি দিলেন এবং আপনাদের নেত্রী যে আল্লাহর গজবের জন্য বদ’দোয়া দিলেন এতে আওয়ামী লীগ যার পর নাই ভয় পেয়েছে।

তবে নেত্রী সভাস্থলে আসলে যে আরও কিছু একটা হত এ বিষয়ে আমরা সাধারণ লোকজন ত বটেই, স্বয়ং বারাক ওবামাও অবিচল আস্থা জ্ঞাপন করেছেন। নেত্রী যে সমাবেশ স্থলে আসতে পারেননি, এটিও তেমন বড় কোন বিষয় নয়। কেননা, আপনারা ত একটি স্বৈরাচার বিরোধী প্রতিনিধি সম্মেলনেরই আয়োজন করেছিলেন যেখানে সকল দলের দলীয় প্রধানদের কথা বলবার কথা ছিল, জাতিকে একটা মেসেজ দেয়ার কথা ছিল । আপনাদের নেত্রী যেতে পারেননি তাতে কি ? দুঃখ করবেন না, তাঁর বক্তৃতা ত পৌঁছে গেছে, তাই না ? উনি যা বলতে চেয়েছেন সেটা ত মানুষ শুনেছেই। কাজেই আর চিন্তা নেই।

আমরা জানি আপনারা একটু ব্যস্ত আছেন। অবশ্য থাকারই কথা। সামনে ক্ষমতায় আসলে কে কোন মন্ত্রী হবেন, কে কোন পদে বসবেন এর হিসাব মেলানো ত আর চাট্টিখানি কথা না । তাছাড়া, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিডিয়ার এবং টেলিকমের লাইসেন্স, টেন্ডার ভাগাভাগির হিসাব মেলানো আসলেই একটা দুরহ কাজ। আপনারা কোন চিন্তা করবেন না, আমরা জনগন আপনাদের দুঃখ-কষ্ট বুঝি। আমরা বুঝতে পারছি যে, আপনারা নিশ্চয়ই হিসাব করতে করতে ক্লান্ত। তাই সভাস্থলে যেতে পারেন নি। এটিকে আমরা অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করেছি।

আপনারা একদমই ভাববেন না, আমরা যারা জনগন আছি, আমরা হাজারে হাজারে বেরিয়ে আসব। পুলিশের বাধা সহ সকল বাধা উপেক্ষা করে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে অপসারণ করে আপনাদের জন্য বিজয় ছিনিয়ে আনব। দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব। এই সহজ কাজটুকুই যদি আমরা না করতে পারলাম আমরা আর কিসের জনগণ? আমরা এটা পারবই। কেননা আমাদের সামনে প্রেরণা হিসেবে আছেন আপনাদের মত অকুতোভয় নেতারা ।

দোহাই আপনাদের, আপনারা এই সময়টাতে ঘরে বা অন্য যে কোন নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন। আপনাদের জীবনের মূল্য অনেক। আপনাদের কিছু হলে জাতিকে নেতৃত্ব দিবে কে?  তবে আশার কথা হল আপনাদের সহযোগী হিসেবে মাঠে আছে জামায়াত। ওরা ত ইতিমধ্যেই আপনাদের লাঠিয়াল বাহিনী হয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

মাঝখানে যখন শুনলাম একজন মারা গেছে আমরা একটু শঙ্কিত হয়েছিলাম। আপনাদের কেউ নয়তো ? পরে শুনলাম, না; আপনারা ভাল আছেন। স্বস্তি ফিরে পেলাম। মারা গেছে আপনাদের লাঠিয়াল বাহিনীর একজন। ওরা মরলে তেমন ক্ষতি নেই। ওরা ত আছে আপনাদের স্বার্থেই। তাছাড়া আপনাদের উপর আমাদের রয়েছে অগাধ আস্থা। আজ হোক কাল হোক সময়মত ওদের কে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করেই দিবেন এ বিষয়েও আমরা নিশ্চিত। তাই ওদের কাজের যাবতীয় দায়িত্ত্ব থেকেও আপনারা পুরোপুরি মুক্ত।

জেনে রাখবেন, আপনারা যেভাবে চলছেন এর সাথে আমাদের রয়েছে পূর্ণ সমর্থন। তাই আমাদেরকে নিয়ে ভাববেন না। ভোট যে আমরা আপনাদেরকেই দিব এ বিষয়ে আমরা যে আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে পেরেছি জেনে ভাল লাগছে । বিজয়ী দল হিসেবে সরকার গঠন করা এখন ত শুধু সময়ের ব্যাপার, তাই না ? তাই আর মাত্র কটা দিন আপনারা ধৈর্য ধরে আত্মগোপনে থাকুন। এই দিকটাও আমরাই সামলে নেব। আর দু’চার দিন নেত্রীর বক্তৃতা এবং দু’চারটা কড়া অভিশাপ ! এরপরই আওয়ামী লীগের খেলা শেষ।

আপনাদেরকে আমাদের পক্ষ হতে বিজয়ের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে আজ এখানেই শেষ করছি।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দবাদ।

চেতনার মর্মবাণী জাগাও প্রাণে

নিরীহ পাবলিক

২৭ ডিসেম্বর ২০১৩/ দুই দিন আগেও যেই সরকার আর্মি, পুলিশের সশস্ত্র পাহারায় জোর পূর্বক গাড়ি চলাচলে বাধ্য করছিলো তারাই এখন আবার সেই আর্মি, পুলিশ দিয়েই জোর পূর্বক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ঢাকার আবাসিক হোটেলগুলোর কর্তৃপক্ষকে সরকারীভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তারা যেন অপরিচিত কাউকে রুম ভাড়া না দেয়। হোটেল ওয়ালার জ্ঞাতী গোষ্টি ছাড়া কেউ যদি থাকতে না পারে তাহলে তাকে হোটেক বলার মানে কি? সরকারের এইসব ভাঁড়ামো কর্মকান্ডে এমন নিদারুণ পরিস্থিতেও নিরীহ পাবলিক কৌতুক বোধ করে। কিন্তু যাদের সব দেহছিদ্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঠাসা তারা নিশ্চয় এসবের মর্মার্থ বুঝতে পারেন, বুঝতে পেরেই মনে মনে তাদের চেতনাবাদী নেত্রীর প্রশংসা করেন। গত চল্লিশ বছরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নানান দিক নিত্যনতুন আলোকে উদ্ভাসিত হয়েছে। বিগত কিছুদিন যাবত এই চেতনা উপচে পড়ছে। চেতনায় উদ্ভাসিত এইসব কর্মকান্ডে কৌতুকবোধ না করে বরং এগুলোকে সরবে বা নিরবে আত্নস্ত্ব করার মধ্যেই প্রকৃত বাঙ্গালীত্ব নিহিত আছে। এছাড়াও চেতনাপন্থী বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিকদের গত চার দশকের কর্মকান্ডে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কতিপয় মৌলিক বৈশিষ্ট্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা রাজাকার ব্যতীত সকল বাঙ্গালীরই গলাধঃকরন করা কর্তব্য। চেতনার তিন লক্ষণঃ

১/ মিথ্যাচারঃ যে যত বেশী মিথ্যা বলতে পারবে সে তত বড় চেতনাধারী। গাঁজাখুরি গল্পের আবেগী বয়ান বিশেষভাবে চেতনা বর্ধক। শুনেছিলাম গ্রামদেশে পলাতক মুক্তিযোদ্ধার কৌতুক প্রচলিত আছে- যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়া যুবক এখন গর্বের সাথে নিজের বীরত্ব জাহির করে বেড়ায়, ‘আমিতো পাঞ্জাবীদের সাথে একবার মুখোমুখি যুদ্ধ করেছি, সে-কি গোলাগুলি! হঠাৎ একটা বুলেট আমার কানের পাশ দিয়ে সাঁই করে চলে যাচ্ছিলো, তাকাইয়া দেখি বুলেটের গায়ে লেখা ‘মেইড ইন চায়না’/ আমাদের চেতনাবাদী পলাতক মুক্তিযোদ্ধারাও এমন গল্প করেন এবং সেগুলোই চেতনাবাদীদের চেতনার মূল উপজীব্য, মুক্তিচেতনা জাগিয়ে রাখার একমাত্র ভাবসম্পদ। আর আমাদের চেতনাবাদী শাসকগোষ্ঠির মিথ্যাচার তো এখন মহাকাব্যের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

২/ গুম, খুন, লাশোল্লাসঃ গুম করে খুন করা কিংবা খুন করে গুম করা। সদল বলে পিটিয়ে কোন নিরস্ত্র মানুষকে লাশ বানানো, লাশ নিয়ে মানুষখেকো জংলী কায়দায় লাফালাফি করে উল্লাস করা এসবই এখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অংশ হয়ে গেছে। চেতনাপন্থীদের রাজত্ব আর কিছু দিন চললে ডিসকোভারী চ্যানেল আমাজন জংগল ছেড়ে ঢাকা শহরে আসবে মানুষখেকোদের ভিডিও দৃশ্য ধারন করতে। হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ দূরত্বে বসে তারা ভিডিও করবে আর চেতনাপন্থী লগী বৈঠা বাহিনী রক্ত মাখা দাঁত বের করে অট্টহাসি দেবে টিভির পর্দায়।

৩/ ভারতের দালালীঃ ভারতের দালালী না করে কেউই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাধারী হতে পারে না। ভারতের জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানানো হবে, দেশে দূর্ভিক্ষ লাগিয়ে হলেও ভারতের স্বার্থে বাঁধ নির্মান করা হবে, ভারতকে ট্রানজিট দিতে নদীর মাঝখানে রাস্তা বানিয়ে দেয়া হবে, ভারতীয় বাহিনী যাকে যখন খুশি গুলি করে মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখবে। একমাত্র রাজাকার ছাড়া কেউ এসবের বিরুদ্ধে কথা বলবে না, বলতে পারে না। এজন্যই এর আগে যখনই ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোন মিছিল সমাবেশ হয়েছে তাতে চেতনাধারী বাহিনী হামলা করেছে। করাই স্বাভাবিক। কারণ বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে ভারতের শাসকগোষ্ঠির সেবাদাসী হিসেবে টিকে থাকার জন্য। বন্ধু রাষ্ট্রের গুলিতে সীমান্তে বীর বাঙ্গালী বেঘোরে প্রান দিবে-এটাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অংগীকার, জাতির পিতার স্বপ্ন। বন্ধুরাষ্ট্রের দেয়া বাঁধে বাংলার জনতা পানির অভাবে আর্সেনিক খেয়ে মরবে এটাই আমাদের গৌরবের অর্জন। এই সত্য যারা এখনো বুঝতে পারে নাই তারাই ভারতের বিরোধীতা করে- তারাই রাজাকার। মূর্খরা ভাবে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করেছে। চেতনাধারীরা ঠিকই জানে এইদিন বাংলাদেশের অধীনতা পাকিস্তানের কাছ থেকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে মাত্র।

 

 

 

 

 

 

 

Parliament is not for discussion, but for decision

by Sainul Hossain

I often found myself clueless to see that our leading commentators, political analysts are blaming the opposition alliance (and to some extent, the ruling coalition) not to bring up the urgent issues of Bangladesh in parliament and discuss there. I think we need to make a distinction between discussion and decision.

I understand ordinary people are so much habituated to political discussion that they would feel tempted to see “lively” debate in parliament and thereby, feed their own subsequent chat with friends. Some topics-hungry editors may also find tempted to serve a palatable editorial by blaming the politicians for worthless (and in some cases, harmful) discussion.

However, my pain is why our intellectual class would harp on the same tune and hide the gruesome unpleasant truth that Parliament is more a place of formal decision and is far from a place of discussion. And this is true both in theory and of course, in practice.

Article 70 of our constitution disproves any debate on any important issue to decide. Why should I listen to the argument of my opposition when it won’t change my vote on that topic if my party-chief has already made clear the position about the issue? What is the discussion for other than entertaining people engaged in living-room conversation or live talk-show in TV?

By theory (i.e., if we want our member of parliaments to follow the constitution), an MP can’t vote against that MP’s party’s decision. So, what is the use of having that MP try to initiate a “reasoned” debate with his peers, be they in position or opposition. No MP is allowed to change their mind after the argument or debate or whatever we name the discussion. For whose sake, should I, a humble tax-payer, spend money for useless discussion on a forlorn conclusion? There is a theoretical limit here. This can’t be (or at least, should not be) crossed how much sincere our public representatives are.  Period.

Now, the less said about the practice, the better. History tells us that discussion in our parliament is something where reasoning is the number one absentee. People tend to resort to the past, side away the topic, make the conversation at best as irrelevant and at worst as chaotic and so on. Again, this practice simply happens not because our public representatives are not educated. Most of them are highly educated, talented and rich. They just do not have any other alternatives. They have the theoretical limit.

So, there is no use of lamenting on why our opposition do not attend the parliament and talk for the people or why our governments MPs are not making the parliament “effective”. What I would expect from the media is to take a one-step back and inform the people how the government or opposition party is making their decision outside the parliament. Journalists should ask these questions to the respective party chiefs to make open their internal decision-making process within their party. Public deserves that as public has trusted with the article 70 on them (as of today, officially). If our media-intellectuals can demand such transparency more and more, this will help to establish and grow our democracy.

Some may argue that we already know how this decision is made within the party (or to be specific, who is actually makes the decision unilaterally within the party). But lets not go for assumption. For the sake of democracy, let us unearth it, establish the transparency and provide oxygen to our own public representatives to grow. Parliament is a place of decision for official record and as such only some cosmetic attendance by the public representatives would suffice. For discussion, our media really need to chase the internal decision process within a party. If that process is in shambles (and many believe, indeed they are), let us go after it, rather than asking for happy pastime in the parliament under the disguise of discussion.

One final word, just in extension or as an example. The debate on caretaker government must happen anywhere outside the parliament. I have already explained before why. Only, in that way, we can provide meaning to the opposition for coming to the parliament for the “formal” decision and consequent legislation. Otherwise, we may see the funny game of “kontho-bhote” followed by funnier discussion.

 

The author is a post-liberation-war generation and is currently working in an International Telecommunication company. This article reflects author’s personal opinion. Comments/criticisms are welcomed tohossain_sainul@yahoo.co.jp

টিক্কা খানের আসনে আওয়ামী লীগ!

by Watchdog Bd
কাদের মোল্লার ফাঁসির তাবিজ গলায় ঝুলিয়ে ডেডিকেটেড আওয়ামী একটিভিষ্টরা অনলাইনে যেসব গান গাইছে তা এখন লাশ নিয়ে গোরস্তানে যাওয়ার গানের মত শোনাচ্ছে। মিহি সুরের এসব গানে আগের মত প্রাণ নেই। গলায়ও নেই তেমন জোর। অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচারকে ডিফেন্ড করার বাংলা শব্দের ভান্ডার খুব ধনী নয়। লম্বা সময় ধরে এসব সীমিত শব্দের ব্যবহার খেই হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা তৈরী করে মাত্র। ছাগল, ছাগু ও পাকি, এই তিন শব্দের কীর্তন এ মুহূর্তে নেতিয়ে পরা চেতনা উজ্জীবিত করার জন্য যথেষ্ট হবে বলে মনে হচ্ছেনা। কারণ আওয়ামী লীগ এখন ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খানের আসনে। আর আপনারা যারা এদের নিয়ে নাচতে গিয়ে অন্তর্বাস খুলে ফেলছেন তারা বসেছেন কাদের মোল্লা, আমিনি, নিজামীদের চেয়ারে। অন্যায়, অবিচার আর অত্যাচারের কোন দেশ, কাল, পাত্র থাকেনা। সব দেশে সব কালে এরা খুনি, তস্কর ও লুটেরা হিসাবেই চিহ্নিত হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের জন্য এ মুহূর্তে নতুন কোন সংজ্ঞা তৈরী হবে তার সম্ভাবনাও কম। আপনাদের লীগ এখন মরা হাতী। যারা কাকের মত কা কা সুরে এই হাতির ঘুম ভাঙ্গাতে চাইছেন তাদের চেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা একবারেই শূন্য। মরা হাতী এক সময় লায়াবিলিটি হয়ে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত কেউ না কেউ উদ্যোগ নিয়ে ছুড়ে ফেলবে ভাগাড়ে। আরও কটা দিন হয়ত হাতে রাইফেল নিয়ে পুলিশের তাফালিং চলবে, অন্ধকারে চোখে কালো চশমা লাগিয়ে র‌্যাব নিজেদের র‌্যাম্বো ভাবতে থাকবে, সেনাবাহিনীর কামানে চড়ে হানিফ, লতিফ, ইনু, হাসানদের টেংরা মাছের নাচ অব্যাহত থাকবে।

৭১’এ কাদির কসাইরাও একই নাচ নেচেছিল। কিন্তু হায়, নাচের সমুদ্র এক সময় নদী হয়ে যায়, নদী হয় পুকুর এবং পুকুর রূপান্তরিত হয় ডোবায়। ডোবার টেংরা মাছ অক্সিজেনের অভাবে চিতপটাং দিয়ে নেচে নেয় শেষ নাচ এবং বিদায় নেয় ইহজগৎ হতে। ৭৫ সালে ক্ষমতার দাপট এবং তা চিরস্থায়ী করার লিপ্সা হতে শেখ মুজিব যে ভুল করেছিলেন দল হিসাবে সে ভুলের মাশুল আওয়ামী লীগকে গুনতে হয়েছিল অনেকদিন। এবং অনেক গুলো বছর। ২০১৩’তে এসে শেখ হাসিনা যে ভুল করলেন তার মূল্য দল হিসাবে আওয়ামী লীগকেই শোধ করতে হবে। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিলনা। আওয়ামী ছিল জনগণের দল। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ছিল তাদের ভাগ্য। পাকিস্তানী সামরিক স্বৈরশাসক, ৭১’এর ইয়াহিয়া-টিক্কা চক্র, এরশাদ চক্রের নয় বছর হতে মুক্তির লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ ছিল অগ্রপথিক। কিন্তু একজন মহিলা তছনছ করে দিল এ ঐতিহ্য। নিজের ইচ্ছা, পারিবারিক স্বার্থ আর প্রতিবেশী দেশের তাবেদারি করতে গিয়ে খেয়াল খুশিমতো দলকে ব্যবহার করলেন এবং টেনে আনলেন এমন একটা অবস্থায় যেখান হতে দলীয় পরিচয়ে নেতা কর্মীরা জনগণের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে। কারণ তাদের জন্য দেশের অলিগলিতে পাতা আছে মৃত্যু ফাঁদ। এ ফাঁদ কেবল জামাতি ফাঁদ নয়, সাধারণ জনগণেরও ফাঁদ। বন্দুকের নলের মুখে দেশ শাসন ইয়াহিয়া টিক্কা খানদের শোভা পায়, আওয়ামী লীগের মত জনগণের দলকে নয়।

জামাতি, পাকি আর রাজাকার বচন হয়ত ক্ষণিকের আনন্দ দেয়, উল্লাস করতে খোরাক যোগায়। কিন্তু তা ক্ষতির জায়গায় ইট-সুরকি সিমেন্ট বসাতে সহায়তা করেনা। রাজনীতি করতে নেতা-নেত্রীর পাশাপাশি জনগণ লাগে। এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সব আছে। আছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী, একদল নেত্রীকানা দলদাস। কেবল নেই জনগণ। প্রমান চাইলে সব ছেড়েছুড়ে নির্বাচনে গিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করে আসুন। দুঃখ পাবেন, কষ্ট লাগবে। জান নিয়ে পালিয়ে আসতে পারলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করবেন।
http://www.amibangladeshi.org/blog/12-27-2013/1428.html

 

মাদ্রাসা শিক্ষাঃ সাব-অল্টার্নের ক্ষমতা

 

খন্দকার রাক্বীব, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

raquib_bdf@yahoo.com

ra

ক্ষমতার প্রশ্নে খুব বড় দু’জন তাত্ত্বিক হলেন গ্রামসি আর ফুকো। গ্রামসির বক্তব্য ছিল হেজেমনিক লোকরা দলিত শ্রেনির লোকদের উপর ক্ষমতাবান। ফুকো এই মতবাদ খারিজ করে দিয়ে বলেন ‘সাব-অল্টার্ন’রাও ক্ষমতাবান হইতে পারে। তার বিখ্যাত উক্তি ছিল ‘পাওয়ার ইজ ইভরিহোয়ার’।

ফুকোর এই বক্তব্য আমার চিন্তার নতুন ধার খুললো। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে বসে ওরিয়েন্টাল ডিসকোর্স খারিজ করে পশ্চিমা কিছু তাত্ত্বিকের তত্ত্ব নির্ভর করে আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করি তা যথার্থ না। আমাদের জানা কথা যে উপমহাদেশে ‘মেইনস্ট্রিম’ শিক্ষাধারার বাইরে মাদ্রাসা শিক্ষার ‘ইন্সটিটিউশনালাইজেশন’ শুরু হয় মূলত ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের পরে, এক ধরনের উপনিবেশবিরোধি আন্দোলনের মোড়কে। ১৮৩১ সালে বালাকোটের যুদ্ধে পরাজয়ের পর মুসলিম শিক্ষাবিদরা এবং ফারায়েজিরা একটা বিশাল ধাক্কা খায়। পরবর্তিতে ১৮৫৭সালে সিপাহি বিপ্লবে ফারায়েজি মুসলিমরা উপনিবেশবাদবিরোধী সিপাহি আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে আবার পরাজিত হয়। যে পরাজয়ের মাশুলও তাদের দিতে হয় চরমভাবে। শেরশাহ’র ‘সড়ক-ই-আজম’ এর পাশে এমন কোন গাছ ছিলনা যার পাশে মুসলিম উলামাদের লাশ ঝুলানো ছিলনা।

উপনিবেশবাদি শক্তির বিরুদ্ধে মুসলিম উলামারা যখন এভাবে টিকতে ব্যর্থ হচ্ছিল তখন তারা উপনিবেশবিরোধি আন্দোলনের চিহ্ন আর নিজস্ব স্বকিয়তা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে সমাজের মূল স্রোতধারার বাইরে চলে যায়। ফারায়েজিদের সহায়তায় নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে। অসংখ্য মাদ্রাসা-মক্তব তৈরি করে। মাওলানা নানুতবি এসময়ে তৈরি করেন দেওবন্দ মাদ্রাসা।

 

তারা উপনিবেশবাদবিরোধি সংগ্রামে পর্যদুস্ত হয়ে এক ধরণের রেসিস্ট্যান্স মনোভাব নিয়ে ‘প্রান্তিক’ পর্যায়ে চলে যায়। আজো তারা ফিরে আসেনি। আমরাও তাদের দূরে ঠেলে দিয়েছি, কখনো কাছে টানার চেষ্টা করিনি, সংকীর্ন রাজনৈতিক কারণ আর একান্ত প্রয়োজন ছাড়া। তাদের সুযোগ-সুবিধা, সুখ-দুঃখ তাদের ভাষায় না বুঝে আমাদের ভাষায় বুঝতে চেয়েছি। আমরা নিজেদের ‘কেন্দ্র’ ভেবে ওদের ভাবলাম ‘প্রান্তিক’ হিসেবে। প্রান্তের ক্ষমতায়ন অস্বীকার করলাম, যেমন করি প্রান্তে যেতেও।  যেটা ছিল আমাদের মারাত্মক ভুল।

 

পবিত্র কুরআনে ‘সূরা ইয়াছিনে’ পড়েছিলাম  ‘‘জনপদের প্রান্ত থেকে এক লোক শহরবাসির কাছে দৌড়াতে দৌড়াতে এসে বলল ‘হে আমার জনপদের লোকেরা তোমরা দয়াময় আল্লাহ্‌র এ রসুলদের অনুসরণ কর। এরা এমন রসুল যারা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চায় না।’ যারাই তার অনুসরণ করবে তারাই হবে হেদায়াত প্রাপ্ত। ……আফসোস যদি আমার জাতি এটা জানতে পারত(আয়াত-২০-২৬)’’

 

উপরের এই আয়াত সমূহ আমাকে খুব ভাবিয়েছে এই যুক্তিতে যে, এখানে পষ্টভাবে প্রান্তিক শক্তির কথা বলা হয়েছে। আমরা যারা নিজেদের কেন্দ্রের মানুষ ভাবি, আমাদের জানার ক্ষেত্রে অনেক ঘাটতি থাকে, যা আল্লাহ’র ভাষায় ‘আফসোস যদি কেন্দ্রের লোকরা এটা জানত’। এটাও পষ্ট যে, প্রান্তিকরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রের থেকেও ভালো যানে, এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলও বেশী। যা আমরা বুঝতে পারি না, অনেক ক্ষেত্রে অস্বীকার করি। আজ আমাদের মাঝে কেন্দ্রে যাবার প্রবনতা বেশী, কেউ প্রান্তিক হতে চায় না। অথচ আরাফাতের ভাষণের পর ইসলাম ধর্মের প্রচারকরা সবাই প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে গেছে। উপনিবেশবাদি আর সাম্রাজ্যবাদীদের দেখি তারাও প্রান্তে প্রান্তে ছড়ানো। মার্কিন গবেষকদের একটা বিশাল অংশ আছে যারা কখনো তাদের নিজ দেশের রাজধানী শহরেও যায়নি, কিন্তু ঠিক-ই মধপ্রাচ্যের কোন একটা অঞ্চলে এসে আরবি ভাষা শিখে নিজের থিসিস দেশে গিয়ে জমা দিচ্ছে। আমাদেরও প্রান্তে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আমেরিকা না, আফ্রিকাতেও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা যায় সে চেতনা লালন করা দরকার।

 

মাদ্রাসা শিক্ষিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাই বলা চলে নিজেদের অবস্থান থেকেও ক্ষমতাবান। মনে রাখা দরকার, একরোখা চিন্তা অনুকরণে আমরা যখন এগ্রিকালচারকে  এগ্রিবিজনেসের দিকে নিয়ে যাচ্ছি, তখন তারা আজও আমাদের সে আবহমান ‘গ্রামীণ’ সংস্কৃতি আর এগ্রিকালচারকে টিকিয়ে রেখেছে।

 

রেনেসাঁ যুগে অসংখ্য পশ্চিমা তাত্ত্বিকদের অনেকের লেখায় দেখেছি, আমাদের ভারতীয় মুসলিমদের লেখার উদ্ধৃতি দিতে। আমাদের মনে রাখা দরকার ১৮৩৫সালের আগে এখানকার মুসলিমদের ভাষা ছিল ফার্সি আর উর্দু। মুসলিমরা ঐ সময়ে সাহিত্য-কলা-সমাজ-বিজ্ঞান-আইন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অসংখ্য বই লিখেছে আরবি-ফার্সি-উর্দু ভাষায়। যেগুলো আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সম্পদ, আমাদের গর্ব। এগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, যা সংরক্ষন করা জরুরী। রাজা রামমোহনের পরে এগুলো নিয়ে খুব কম লেখালেখি হয়েছে। আমাদের জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক একসময় আফসোস করেছিলেন আমাদের মাঝে ‘আরবি-ফার্সি-উর্দু’ ভাষা চর্চা হারিয়ে যাচ্ছে বলে। মাদ্রাসা শিক্ষিতরা এখনো এগুলো ধারণ করে-লালন করে, কিন্তু প্রকাশ খুব কম-ই করে।

সম্প্রতি তাদের সরকারি স্বীকৃতির কথা উঠেছে, কিন্তু আমরা আবার আগের ভুল করছি। আমাদের মত করে তাদের সমস্যা ব্যাখ্যা করছি, তাদের উপর আমাদের চিন্তা চাপিয়ে দিচ্ছি। তাদের সুযোগ-সমস্যা তাদের মত বুঝতে চাই নি। তাদের সমস্যা তাদের মুখে শুনতে হবে, তাদের মত করে তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে। আমাদের মত করে ‘মেইনস্ট্রিম’ না ভেবে তারা কিভাবে তাদের ‘মেইনস্ট্রিম’ ভাবছে সেটা বিবেচনা করতে হবে। তবেই প্রান্তিকতার বয়ান একটা সুনির্দিষ্ট যথার্থ জায়গায় নিজেকে সমাসীন করতে পারবে।

 

A Rejoinder to the opinion piece by Hammad Ali titled “Rights, Responsibilities and Privileges”

by M. Aktaruzzaman (Zaman):

http://opinion.bdnews24.com/2013/11/14/rights-responsibilities-and-privileges/

“Few things are harder to put up with than a good example”

The header of this write up is a borrowed quote from Mark Twain, the witty guy with a big mustache. I used to work in a little town on the mighty Mississippi, where Mark Twain lived his childhood days! Whenever, I visit downtown for a little coffee or anything else, on the hill, I see the Mark Twain Boyhood Museum and I think of this quote.

It, indeed, is very hard to put up with a good example. In the heydays of the current administration (early 20111), an honorable minister and Awami League (AL) secretary general again invoked the name our only Nobel laureate to give a little extra credit to our sitting prime minister (for she helped Yunus get the bank going!). Other ministers, AL leaders and even the attorney general, at various time, tried to spray an extra glow for the prime minister. Yes, the witty man with a big mustache from Hannibal said it right ….ha .. ha..

But why? Why the Prime Minister, having all the hard powers of the state juggernaut at her disposal consider her feat a lesser feat than that of Yunus? She has all the love (!) in the land. She is the undisputed heiress of the most powerful political Ghorana. She lacks nothing. And yet she longs for what Yunus never longed for! He dreamed and worked hard and he himself became an example international repute. And he got what he deserved!

For whatever reason, the nation has given our prime minister the biggest gift one can ever have. They gave her the opportunity to serve them for five years. And she had visions too. She came with a dream of Digital Bangladesh – that can make governing open and transparent thus reducing all the other maladies that accompany our “as usual” governance. If she just kept on working for this very noble goal, she can be a transformational leader ushering her poor millions in the new era of information and prosperity. I bet, Yunus and his intellectual tools are ready to be tapped for the benefit of the people. But naught … the long hand of the governmental juggernaut, instead, decided to discredit the Yunus for no good reason. The PM called him a blood sucker usurer, even though Yunus does not own the bank and even though she herself claims to be a facilitator for the whole enterprise. Her ministers called names. And her Attorney General even announced that the PM deserved the laurel for her extra-ordinary work for negotiating a peace treaty in Chittagong Hill Tracts.

With this prelude I would like to offer a rejoinder to Mr. Hammad Ali’s opinion piece “Rights, Responsibilities and Privileges” published on November 14, 2013.

In the third paragraph Mr. Ali posited, “Why would a man whose life mission is to eradicate poverty in his own motherland, a man who is above all trying to work for the common man, have his influence measured in terms of how many heads of states and business tycoons he knows?” The matter of fact is far from Mr. Ali’s contention. Muhammad Yunus, at the prime of his life, left a very highly ranked university in the US (Vanderbilt to be precise) and settled in the quaint outskirts of Chittagong in early 70’s. He was nothing more than a young economist with a desire to do the best for a nascent nation-state. “We are poor, because we are poor” – this aphorism is economics bothered Yunus. He desired and devined a pragmatic approach to provide capital to the poor without collateral. Thus came the village of Zobra and thus came the Grameen Bank. Yes, the then Prime Minister Sheikh Hasina deserves kudos for her helping hand. “True influence, I believe, has to be bottom up, and not top down” – Yes, this is what the story of Yunus is! He fact that his circle of influence is so wide is a function of his work that he started at the subaltern. It is never top town …

The second cliché point Mr. Ali mentioned is the notion that “Yunus has changed the national image for the better”. This has merit, but I agree with Mr. Ali when writes, “No, just knowing that your country produced a Nobel Laureate does not change their attitude about you overnight.” This especially is true when we also are doing certain non-kosher things like Hawa-Bhavon, Khamba, Hallmark, Padma and etc etc … Image of a nation is more like a kaleidoscope of myriad images that morphs with succession of images – good or bad. More images of the likes of Muhammad Yunus of GB, Sir Fazle Hasan Abed of BRAC and Quader of BIKASH someday shall make the image of Bangladesh brighter…

Yunus’ short but unsuccessful foray into politics in 2007 is dubbed as the “Main Issue” by the erudite scribe. He reasoned that Yunus’ venture to test the water of politics made him a lesser man.“If Dr. Yunus thought his credentials put him on fast track for political success, then he was probably not the man many of us thought he was” – thus goes Mr. Ali, however, he, I hope not, shall argue against the inalienable right of any citizen to enter the crowded political arena. Bangladesh yearns for a man of his stature and integrity to be in politics. I wish, he did not retreat in the face of less-than optimal support. It just is a measure of his less-than-expected political astuteness. It does not make him a lesser man. In fact, this makes him a better man because he tried to do what felt was right!
Then fast forward to Grameen Bank. The scribe says “I fail to understand why the government of a country cannot ask for greater monitoring of an organization that has already been questioned several times as to their methods.” Yes, questions were asked several times but no irregularities were discovered after extensive examinations. A government that loves to govern by judiciary shall not resort to judiciary proceedings in case of irregularities on the part of Yunus are hard to believe. Anyway, end-game is still to unfold. I only hope that the Nobel winning back does succumb to the Sonali-entropy!

The quote on red, Mr. Ali used, to waylay Yunus is jejune at best. It is nothing more than an cliché expression of an exasperated man. In the age of “Da-Kural” and “Logi-Boita” this is very very benign!!

At the end I would like share a personal story. Few years ago, we had a chance to meet Dr. Yunus when he delivered a lecture at Principia college in Illinois, USA. Yunus was simply electric. My daughter who just finished her college was inspired to do public good. She applied for a public service position. During the interview, because of my daughters ethnic origin the issue of Yunus came along. My daughter, believes that the inspirational image of Yunus helped her get that coveted position.

And such is the image of Muhammad Yunus outside the bounds of his own homeland.

(This was sent to bdnews24.com but was not published)

M. Aktaruzzaman (Zaman), MD, FACAAI
Potsdam, New York

Awaiting a Cassandra moment

2

by Mohammad Zaman

However loathsome they are, the matter of fact still remains germane that the two bickering ladies remain the sole arbiters of power in Bangladesh. Like her predecessor the sitting Prime Minister wields unfettered muscle even beyond her constitutional ambit. If desired she has the chance to undo even the most difficult of the Gordian Knots.

But the million dollar question is – does she has the desire … or does she still has the unfettered power she once had, for we know, political entropy has a life of its own.

Sheikh Mujibur Rahman once famously posited that he is surrounded by thieves. Such dawning was not followed by effective executive measures. If that was done, our history possibly would not have been so incarnadine. Well, following the widespread destruction of the infrastructure and an empty exchequer, he did not have the best hands to play well. However, things are different now. Bangladesh no longer is a bottomless basket. Entrepreneurs in Bangladesh are achieving international acclaim. Muhammad Yunus and Fazle Hasan Abed stand out – but there are thousand others.

Competent, smart and well educated Bangladeshi abounds both at home and abroad. They are the real engine of economy that, for lack of right governmental vision, continues to lumbar forward in struts and frets. A dream of joining the club of other Asian Tigers is yonder – separated only by the lack of a visionary leader.

For us, the chemistry is ripe. Although our Prime Minister has squandered five-years worth of time and even more of political capital – she, or her absence thereof, still remains the only option left. At this precipice, not much time left to reign on her non-ideologue sycophants who never cared for the country to begin with. It is high time; she begin to listen to the outside voices of sanity and unleash the power of governmental juggernaut for the right causes.

If the story from the news outlets is right and if the AL-goons start their mop-up operation under the aegis of government outfits, eventual chaos shall supervene… and her high flying wings of irrational grandiosity is sure to melt like those of Icarus…

Yes, the beautiful daughter of Priam was blessed with an ability to foretell and, at the same time, was cursed with a perpetual inability of being convincing enough. Or was it the stupidity of haughty politicians and macho warriors that lead to the disastrous consequence that befell on Troy?

But that was then when communication was not a cobweb surfed so easily. No, today there is no scope of such stupidity!

Nation voted for a change.
Nation voted for a Din Bodoler Ongokar.
Sheikh Hasina is bound by her promise.
Rightfully, nation deserves a Cassandra Moment.

MZ
Potsdam, New York 

আওয়ামী বাস্তবতা ও চেতনার দ্বন্দ্ব

by এ আর প্রধান

বাস্তবতাঃ আজ বাংলাদেশের পতাকা বানানোর দায়ে একজন গ্রেফতার হয়েছেন

চেতনাঃ হতেই পারেনা, এটা অসম্ভব। মুক্তিযুদ্ধ শুধুমাত্র আওয়ামীলীগ করেছে। বাংলাদেশের পতাকাও শুধুমাত্র তাদের। রেজিস্টার করা জিনিশ। আমার ধারণা ট্রেড লাইসেন্স ও আছে। আওয়ামীলীগ সরকারে থাকতে এটা হতেই পারেনা।

বাস্তবতাঃ দেশের কোন কোন জেলায় পতাকা বানানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চেতনাঃ হতেই পারেনা, এটা অসম্ভব। মাত্র ক’দিন আগেই আওয়ামী লীগ এর হাতে বাংলাদেশ পতাকার বিশ্ব রেকর্ড করেছে। বাংলাদেশের পতাকা গিনিজ বুকে স্থান নিয়েছে। পতাকা বানানো নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ সরকার করতেই পারেনা।

বাস্তবতাঃ বিরোধী দলের নেতাকে না পেয়ে তার স্ত্রী ও বোনকে ধরে নিয়ে গেছে যৌথবাহিনী

চেতনাঃ হতেই পারেনা, অসম্ভব। এই ধরনের কাজ পাকিস্তান/ বিএনপি/জামায়াত/শিবির/১৮ দল করতে পারে। স্বাধীনতার সপক্ষের ১ মাত্র শক্তি আওয়ামীলীগ সরকারে থাকতে এটা হতে পারেনা।

বাস্তবতাঃ সরকারই এখন সব চাইতে কঠোর হরতাল / অবরোধ শুরু করে দিয়েছে

চেতনাঃ হতেই পারেনা, অসম্ভব। দেশের মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে, দেশকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করে আওয়ামীলীগ এটা করতে পারেনা। হরতাল / অবরোধ এইগুলা আওয়ামীলীগ এর সাথে যায়না।

উপরের আওয়ামী বাস্তবতা আর চেতনার দ্বন্দ্ব আমি বিশ্বাস করিনা। আমি বিশ্বাস করি,

– তীব্র শীতে এবং ছোট জায়গায় বাংলাদেশের পতাকা বানাতে কষ্ট হচ্ছিল, তাই বড় এবং উষ্ণ পরিবেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
– বিরোধী দলের নেতার স্ত্রী ও বোন লুকিয়ে থেকে দুষ্টামি করছে। একটু পরেই বলবে “টুকি”।
– সারা দেশের ১৮ দলের নেতাকর্মীরা বলেছিল, এই ঠাণ্ডায় বাসাবাড়ির কম্বলের নিচে আছি, ভাল আছি, ঢাকা যেতে ইচ্ছা হয়না। ভাই আপনাদের প্লিজ লাগে, বাস-লঞ্চ-ফেরি-ট্রেন বন্ধ করে দেন।

কোন দিকে যাচ্ছে প্রজন্ম?

by Maruf Raihan Khan :

আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু একটা মেয়েকে পছন্দ করতো।
সে সাহস নিয়ে খুব আশা করে তার
বাবাকে বলতে গিয়েছিল, বাবা আমি বিয়ে করে ফেলব। সব
শুনে-টুনে আঙ্কেল এত ক্ষ্রিপ্ত হয়েছিলেন যে, তার যুবক
ছেলেকে মারধোর পর্যন্ত করেছিলেন। আমার বন্ধুর
মতো মানুষ খুব কম হয়। সে নিয়মিত নফল
রোজা রেখে ধৈর্যধারণ করে আর নিজের চরিত্র সংরক্ষণ
করতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়।

একটা ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে বিয়ে করতে চাইলে সবচে
প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়- “তুই
বিয়ে করে বউকে কী খাওয়াবি? তোকে ভরণ-পোষণ করেছি,
এখন তোর বউকেও আমি খাওয়াব?” স্যার শুনুন, আপনার
ছেলে গার্লফ্রেণ্ডের সাথে শুধু ফোনে কথা বলতে কত
টাকা খরচ করে তার হিসেব কি আপনি রাখেন?
প্রতি ডেটিঙে তার রেস্টুরেন্ট বিল কত হাজার অনুমান
করতে পারেন? ফ্যান্টাসি কিংডমে যেয়ে ওয়াটার
কিংডমের ফ্যান্টাসিতে ডুবে জলকেলি করতে একেবারে কম
খরচ
না কিন্তু। সেসব টাকাও কিন্তু আপনার মানিব্যাগ
থেকেই বিভিন্ন ছলে-বলে-কৌশলে যায়।
বাংলাদেশি একটা সাধারণ মেয়ের ভরণ-পোষণের খরচ
আর
কতইবা। নিশ্চয়ই আপনার ছেলের চরিত্রের দামের
চেয়ে বেশি না। এমনও তো হতে পারে, ছেলে-মেয়ের
মাঝে বিয়ে হয়ে থাকলো। মেয়ে মেয়ের বাসায়ই থাকবে।
ছেলে পাশ করার পর মেয়েকে তুলে আনবে। এরমাঝে তাদের
‘হালাল প্রেম’ চলতে থাকলো!

এইতো কিছুক্ষণ আগে আমার এক বন্ধু বলছিল,
“জানো আমি পর্ণোগ্রাফির নেশাটা এখনও
ছাড়তে পারিনি। অনেক চেষ্টা করেও। কিন্তু
আমি জানি বিয়ের পর আমার এ নেশাটা আর
থাকবে না।”

আমি আমার অনেক বন্ধুকে জানি, যারা পর্ণগ্রাফির
নেশায় প্রবলভাবে আসক্ত। এগুলো তাদের জীবনের অংশ
হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। সাইকোলজিটা সহজ। একটা প্রচণ্ড
ক্ষুধার্ত মানুষকে যদি দিনের পর দিন না খাইয়ে রাখা হয়,
তাহলে ক্ষুধার যন্ত্রণা আর সহ্য না করতে পেরে একসময়
তার চুরি করে খাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অস্বীকার
করার উপায়
নেই, যৌবনে পদার্পণ করার পর একটা মানুষ
শূন্যতা অনুভব
করতে থাকে, বিপরীত লিঙ্গের
আরেকটা মানুষকে সে নিবিড়ভাবে পেতে চায়। মন আর দেহ
দুটোই। এজন্যই বোধহয় বিয়ে প্রথার প্রচলন।

এক্সট্রিম পর্যায়ে চলে গেলে চলন্ত বাসে-ট্রেনে-ট্য
াক্সিতে, বোটানিক্যাল গার্ডেন-বলধা গার্ডেন-
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঝোপের আড়ালে,
লিটনের ফ্ল্যাটে, নগরীর হোটেল-বার-লাউঞ্জে, পাঁচ-
সাততারা আবাসিক
হোটেলে মানবতা রেইপড হয়। মানবতার আর্ত-চিতকার
আমাদের আল্ট্রামডার্ণ- ব্রডমাইণ্ডেড-ফ্যাশন সচেতন
কর্ণকুহরে পৌঁছুতে পারে না।

আর যখনই আমরা এই সহজাত-স্বাভাবিক
প্রক্রিয়াতে বাঁধা সৃষ্টি করি, তখনই ঘটে বিপত্তিটা। কিছু
তরুণ হয়তো প্রচণ্ড ধৈর্যশক্তির পরিচয়
দিয়ে বহুকষ্টে চরিত্রটা সুরক্ষিত রাখে। আর
অপরদিকে অজস্র তরুণ গা ভাসিয়ে দেয় বহমান স্রোতে,
গড্ডালিকা প্রবাহে। শুরু হয় নারীদেহের ভাঁজে-
খাঁজে তাকানো, বাসে অচেনা নারীর দেহে অবৈধ স্পর্শ,
রাতের গভীরে পর্ণগ্রাফিতে শান্তি খোঁজা আরও কত
কী।

সোসাইটির ভাব-সাব দেখে মনে হয়,
বেশি বয়সে বিয়ে করা মোটামুটি একটা আভিজাত্যের প্রতীক।
এটা অস্বীকার করব না, এখন আমাদের লাইফ-স্ট্যান্ডার্ড ঠিক
করে দেয় ওয়েস্টার্নরা। তাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণের মাঝেই
যেন কামিয়াবি! সেটা ভালো কি মন্দ তা বোঝার জন্য
মেধা খাটানোর সময় কই। এখন পশ্চিমাদের
দেখাদেখি যদি আমরাও যদি মধ্যত্রিশে-চল্ল
িশে গিয়ে বিয়ে করা শুরু করি তাহলে তো বিপদ!

আগে একটা ফ্যাক্ট বলে নিই। আমার ইউরোপে পড়ুয়া বন্ধু
বলছিল, তাদের হোস্টেলটা কম্বাইণ্ড, অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে একই
হোস্টেলে থাকে। যদিও ফ্লোর ভিন্ন। তো গভীর
নিশিতে কোনো মেয়েকে কোনো ছেলের রুমে আপত্তিকর
অবস্থায় পাওয়া যাওয়া বিস্ময়কর কিছু না। এছাড়া পশ্চিমাদের
সোসাইটিতে আছে লিভ-টুগেদার, গার্লফ্রেণ্ড-বয়ফ্রেণ্ড
কালচারে অবাধ যৌনাচার। কার গর্ভে যে কার সন্তান অনেকেই
তো বলতে পারে না। তো আমি বলি, তাদের বিয়ে করার
দরকারটা কী! কেন শুধু শুধু ঝামেলা করতে যাবে! যে যাই বলুক,
আমি বিশ্বাস করি, আমার দেশ এখনও অতটা নষ্ট হয়নি।
তবে প্রজন্ম যদি পশ্চিমাদের অনুসরণে ও সংস্কৃতির
দিকে এগুতে থাকে, তাহলে দায়ভার কে নেবে?
ভেবে দেখা যেতে পারে এখনই।

ভিন্ন কথায় আসি। আমাদের আগের জেনারেশানগুলোতে
বিয়ে কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম বয়সেই হোতো। তাদের প্রেম-
ভালোবাসা-আবেগ-অনুভূতি-রোমান্স-মায়া-মহব্বত-অনুরোধ-
অনুযোগ-অভিমান সব স্বামী-স্ত্রীকে ঘিরেই আবর্তিত হোতো।
ছিল না তাদের সময় সামাজিক এত বেহায়াপনা, প্রযুক্তির
অপব্যবহার কমই ছিল। এজন্যই হয়তো তারা আজকের তরুণের
মাইণ্ডটা ঠিকভাবে রিড করতে পারছেন না।

এই সমাজে যে তরুণটি পালিত হচ্ছে, সে দেখছে নির্বোধ যুবতীর
সেমিনগ্ন-কোয়ার্টারনগ্ন বিচরণ। মেয়েটি দেখছে অসভ্য-
বেহায়া-বর্বর পুরুষের লোভী চাহনী। ওরা দেখছে ফ্রি মিক্সিংয়ের
নামে বন্ধু-বান্ধবীদের একজন আরেকজনের গায়ে ঢলে পড়া।
টিভি চ্যানেলে চামড়া-ব্যবসা, রূপের পসরা সাজিয়ে বাণিজ্য।
সঙ্গীতে অশ্লীল শীতকার। সিনেমাতে ব্লুফিল্মের আবেশ।
কাব্য-গল্প-উপন্যাসের নামে চটি-সাহিত্য। সহজলভ্য
ইন্টারনেটে সহজলভ্য মহিলার বিষাক্ত গোপন সৌন্দর্য।
গার্লফ্রেণ্ড
নিয়ে সীসা লাউঞ্জে সীসা টানতে টানতে সেলফোন-
ট্যাবে পর্ণগ্রাফি দেখতে দেখতে ভাদ্র মাসের পাগলাটে কুকুর-
কুকুরীর মতো আচরণ। থার্টিফার্স্ট আর ভ্যালেন্টাইনস
ডেতে ফার্মেসিগুলোতে কনডম আর পোস্ট কয়টাল পিল বিক্রির
হিড়িক। বন্ধুদের আড্ডায় পিনিক নিতে এফ্রোডিসিয়াক
ইয়াবা আর গাঁজার ধোঁয়া। এ ধোঁয়া সমগ্র বাংলাদেশ অবক্ষয়ের
অনলে পুড়ে যাবার ধোঁয়া নয় তো?

এই সময়ে এই সমাজে একটা যুবক-যুবতীকে তার চরিত্র সুরক্ষিত
রাখতে কতটা কষ্ট-যন্ত্রণা-অপমান-অভিযোগ-পরীক্ষা-
ঠাট্টা-বিদ্রুপ আর ধৈর্যধারণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা কেবল
ভুক্তভোগীই জানে। আর কেউ বোঝে না। বোঝার চেষ্টাও
হয়তো করে না।
এক্সট্রিম পর্যায়ে চলে গেলে চলন্ত বাসে-ট্রেনে-ট্য
াক্সিতে, বোটানিক্যাল গার্ডেন-বলধা গার্ডেন-
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঝোপের আড়ালে,
লিটনের ফ্ল্যাটে, নগরীর হোটেল-বার-লাউঞ্জে, পাঁচ-
সাততারা আবাসিক
হোটেলে মানবতা রেইপড হয়। মানবতার আর্ত-চিতকার
আমাদের আল্ট্রামডার্ণ- ব্রডমাইণ্ডেড-ফ্যাশন সচেতন
কর্ণকুহরে পৌঁছুতে পারে না।

একটি ফুটবল খেলা

By Ibrahim Mahmud:

গুরুত্বপূর্ন একটি ফুটবল খেলা শুরু হবে, এমন সময় একটি বিস্ময়কর জিনিস লক্ষ্য করা গেলো। গত ম্যাচের বিজয়ী দলের অধিনায়ক রেফারীর বাঁশি নিয়ে মাঠে ঢুকছে। গত ম্যাচ জেতায় এটা নাকি এখন তার অধিকার! বিদেশী কোন কোচ নাকি তার মাথায় এই বুদ্ধি দিছে। নতুন নিয়ম সে নিজেই করছে, সেটা এখন তার পকেটে শোভা পাচ্ছে।

সে মাঠে ঢুকেই প্রতিপক্ষের খেলোয়ারদের লাল কার্ড দেয়া শুরু করল। দর্শক নাকি কেবল তার দলের জার্সি যারা পরা তাদের খেলাই দেখতে চায়। কিছুক্ষনেই মাঠ খালি।

কেমন দেখায়! সাইড লাইন থেকে দুইটা খেলোয়ারকে ধরে আনা হল। তারাও মাঠে পা দিয়ে বুঝল ভুল করছে। বের হয়ে যেতে চাইল, কিন্তু জোর করে তাদের আটকে রাখা হল, মাঠে পা দিলে নাকি খেলতেই হবে!

এদিকে ফাঁকা মাঠ পেয়েতো তার দলের খেলোয়ারেরা মহা খুশি। খেলা শুরুর আগেই ডজন খানেক গোল দিয়ে ফেলল। স্কোরার আগেই হাত করা, সেও বলল গোল হইছে কিনা এটা দেখাই তার ব্যাপার, অন্য কিছু রেফারী বুঝবে। নিয়মের খাতায় তাই নাকি লেখা আছে। ফলে খেলা শুরুর আগেই স্কোর ১২-০।

এদিকে এমন অদ্ভুত খেলা দেখে দর্শক খেপে যাচ্ছে। তারা দুয়োধ্বনি দিচ্ছে।

কিন্তু অধিনায়কের কোনো বিকার নাই। বিদেশী কোচের আশ্বাসতো আছেই তার উপর এখন তার পকেটে নিয়মের খাতা আর হাতে রেফারীর বাঁশি। সে মনের আনন্দে পু পু করে বাঁশি বাজিয়ে চলছে…

নির্বাচনী হলফনামা ও চেতনার পাইকারী ব্যবসা…

মনোনয়নপত্র জমা দিতে তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে এলাকায় গেলেন এবং জমা শেষে একই ফ্লাইটে ঢাকা ফিরে এলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ এক নতুন সংযোজন এবং মনে হচ্ছে তা টিকে থাকার জন্য এসেছে। পরিবর্তনের এ ধারা কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছিলাম শেষবার বাংলাদেশ বেড়াতে গিয়ে। এক বছর আগের ঘটনা। জর্জ (ছদ্ম নাম) আমার ছোটবেলার বন্ধু। তার বাবা ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়ামের সদস্য। মারা যাওয়ার আগে জীবনের শেষ পাঁচটা বছর ভাগ্যের সাথে অসফল লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন। দলের তখন ভাদ্র মাস। চারদিকে নাই নাই ভাব। টেবিলে তিন বেলা খাবার যোগার দিতে রীতিমত হিমসিম খেতে হয়। আয় বলতে কেবল শহরের বানিজ্যিক এলাকায় মার্কেট ভাড়া। জীবন যুদ্ধের এ কঠিন বাস্তবতা আগে কোনদিন মোকাবেলা করতে হয়নি বনেদি এ পরিবারকে। নিউ ইয়র্কে বসে খবর পাই জর্জের বাবার মৃত্যুর। তত্ত্বাবধায়ক নামক ঝামেলার শেষে আওয়ামী লীগ যেদিন ক্ষমতার শপথ নেয় সেদিন আমি দেশে। বাবা নেই, তাই বলে জর্জ বসে থাকেনি। সুদিনকে স্বাগত জানাতে গুলসান এলাকায় মাসিক ৭৫ হাজার টাকায় ফ্লাট ভাড়া নিতে অসুবিধা হয়নি। কারণ জিজ্ঞেস করতে রহস্যজনক হাসি দিয়ে এড়িয়ে গেল সে প্রসঙ্গ। কিছুটা হলেও ধারণা ছিল কি হতে যাচ্ছে এর পর।

২০১২ সালে দেশে গিয়ে যা জানার জানলাম, যা দেখার তাই দেখলাম। ছুরির মত ধারালো শরীরের স্বল্প বসনা এক তরুণী আমাকে ওয়েটিংরুমে বসিয়ে ভেতরে গেল বসের সন্ধানে। চারদিক ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম। রূপকথার মত মনে হল সবকিছু। শান সৈকতের এমন জটিল ও ভয়াবহ সমাহার কেবল কল্পলোকেই সম্ভব। সবকিছু সাজানো গোছানো। চারদিকে মৃতপুরীর স্বব্দতা। মাঝে মধ্যে ফাইল হাতে দুয়েকজন এদিক সেদিক করছে। তাও খুব সন্তর্পণে। বাবার মতই বদমেজাজ ছেলের। সামান্য কিছুতে রেগে যায় এবং ছোটবড় কারও উপর হাত তুলতে দ্বিধা করেনা। এ অফিসের কিসের ব্যবসা হয় জানিনা, কিন্তু কর্মচারীদের চেহারা দেখলে আন্দাজ করতে পারি এ আমার বন্ধু জর্জের ব্যবসা। আমরা একসাথে বড় হয়েছি। পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমন করেছি। অনেক ভ্রমর হতে একসাথে মধু পান করেছি। কিছুটা হতাশ হলাম বন্ধুর দর্শনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে। আগে কখনও এমনটা হয়নি। সাধারণত তাকেই অপেক্ষা করতে হয়েছে। মন হল মেয়েটা ইচ্ছা করে নিতম্ব দোলাচ্ছে। স্কার্টের উপর সাদা শার্টের দুটা বোতাম খোলা রাখছে বিশেষ উদ্দেশ্যে। তার বাবার কথা মনে পড়ল। ভদ্রলোকের চরিত্রও ছিল ভেজালে ভর্তি। ব্যবসায় সুন্দরী সেক্রেটারি তার অন্যতম। পর নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক অনেকটা খোলামেলা ভাবেই প্রকাশ করতে পছন্দ করতেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সাথে টানাপোড়নের অন্ত ছিলনা। আমি ছিলাম তাদের ভেতরের মানুষ। সব পক্ষই আমাকে স্বাক্ষী মানতে স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করত। নিতম্বের শেষ দোলাটা আমার ঠিক মুখটার কাছে এসে শেষ হল। যান্ত্রিক একটা হাসি দিয়ে জানাল একটু দেরি হবে, স্যার এখন ব্যস্ত। আমার নিজেরও সময় ছিলনা। তাই উঠতে হল। নামটা জিজ্ঞেস করে একটা ম্যাসেজ রেখে দরজার দিক পা বাড়ালাম। হয়ত গলার আওয়াজেই হুস হল বন্ধুর। ঝড়ো গতিতে বেরিয়ে এল এবং আমাকে দেখে উল্লাসে ফেটে পরল। কর্মচারীরা মনে হল ভূত দেখার মত কিছু একটা দেখল তাদের অফিসে।

বিশেষ একটা কক্ষ। থরে থরে সাজানো লাল নীল বোতল। এক কোনায় সিংহাসনের মত একটা খাট। পূর্ব লন্ডনের একটা সরকারী ফ্লাট কটা দিন একসাথে শেয়ার করেছি বন্ধুর সাথে। তখনই তার মুখে শুনতাম হবু ব্যবসার স্বপ্নীল কাহিনী। অফিস এবং সাথে সাজানো গোছানো একটা রুম। পুরনো মদের কালেকশন এবং যৌবনা নারী। কাজ আর আনন্দে কেটে যাবে জীবন। কোন কিছুই বাদ রাখেনি স্বপ্নপূরীর সে অফিস হতে। খুব দ্রুত পরিচয় করিয়ে দিল সখের মদ কালেকশনের সাথে। অন্তরঙ্গ মুহুর্তে নতুন করে পরিচয় হল একটু আগে দেখা মেয়েটার সাথে। তার রক্ষিতা। খুব উঁচু পরিবারের কেউ না হলেও ট্রেনিং দিয়ে তাকে উঁচুতে উঠানো হয়েছে। ব্যবসায়িক মনোরঞ্জন তার মূল পেশা। তবে সবকিছুই হয় বিদেশে। থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া সহ ইউরোপের অনেক দেশে তার যাতায়াত। লাভের অংক আশাতীত হওয়ার পরই কেবল উপঢৌকন হিসাবে কদিনের জন্য ছেড়ে দেয়া হয় ক্লায়েন্টের হাতে। শর্ত একটাই, দেশের বাইরে। দু দুটা অসফল বিয়ের পর বন্ধু এখন একা। মনে হল এ নিয়ে খুশির অন্ত নেই তার। যৌন মিলনের ঝাঁপিটা খোলার আগেই থামাতে হল তাকে।

ব্যবসা প্রসঙ্গ আসতে বদলে গেল সবকিছু। তালিকাটা লম্বা। যোগ বিয়োগ শেষে যা বুঝাতে চাইল তার পরিমান মাসিক ২ হতে ৩ কোটি টাকা নীট মুনাফা। এলাকায় অনেককে পালন করতে হয়, তাই লাভের অংশ এতটা ’কম।’ দুয়েকজন কমন বন্ধুর তুলনা দিয়ে জানাল তাদের মাসিক আয় ১০-১৫ কোটির উপরে। দুয়েকটা উপরওয়ালার নাম চাইলে বন্ধু সজাগ হয়ে গেল এবং কৌশলে এড়িয়ে গেল। অবশ্য না বললেও আমি জানি তাদের। কারণ তার বাবার মুখেই শুনেছি কারও কারও নাম। বন্ধু তার পুরানো আক্ষেপটা নতুন করে প্রকাশ করল। আমি দেশে থাকলে তার আয় রোজগার নাকি দশ গুনা বাড়ানো সম্ভব ছিল। মগজ এবং কানেকশনের সমাহার অনেক কিছু বদলে দেয় বাংলাদেশে, চাইলে আমরা দুজনে হতে পারতাম তার চমৎকার উদাহরন। এসব কথাবার্তায় কোন চমক ছিলনা আমার জন্য। টাকা পয়সা আর বিত্ত বৈভবের গল্প বেশিক্ষন শোনা যায়না। বিরক্ত লাগে। এক সময় ক্রোধ এসে জড়ো হতে থাকে। কক্সবাজার ঘুরে আসার প্রস্তাবটা বন্ধুই দিল। পুরানো স্মৃতি রোমন্থন নাকি আসল উদ্দেশ্য। সময় এবং ট্রাফিক জ্যামের কারণ দেখিয়ে এড়াতে চাইলে হো হো করে হেসে উঠল। একটু অবাক হলাম তার অপ্রাসঙ্গিক হাসির জন্য। উওরে জানাল ট্রাফিক কোন সমস্যা নয়, আমরা হেলিকপ্টার ভাড়ায় নিয়ে যাবো। কেবল তখনই কিছুটা হলে আন্দাজ করতে পারলাম বন্ধুর সম্পদের পরিমান। নিউজিল্যান্ডের রটোরোয়া বলে একটা হট স্প্রীং এলাকা আছে। হেলিকপ্টারে চড়ার অভিজ্ঞতা ওখানেই সেরে নিয়েছি জানাতে বন্ধু দমে গেল। রাতে একটা প্রাইভেট ক্লাবে আসার দাওয়াত দিল। অনেক সিনে ও টিভি তারকাদের খোলামেলা জীবনের সাথে চাইলে নাকি পরিচিত হওয়া যাবে। এসব আমার জন্য সব চাইতে অনাকাঙ্খিত উপাদান। তাই ধন্যবাদ জানিয়ে প্রত্যাখান করলাম। বিদায়টা খুব সুখকর হলনা। বন্ধু বুঝতে পারল আমি বিরক্ত হচ্ছি। খালাম্মার কথা জিজ্ঞেস করে অনেকটা গায়ের জোরে বিদায় নিলাম।

গুলসানের এ এলাকাটা খুব অপরিচিত লাগল আমার কাছে। বাড়ি ঘর, রাস্তা ঘাট সবকিছু মনে হল এক একটা অর্থ কামানোর ফ্যাক্টরি। এক সময় জর্জের সাথে প্রতিটা রাস্তা চষে বেড়িয়েছি। অমাবশ্যা জোৎস্না রাতে গলির ধারের ট্রলি হতে ফুচকা খেয়েছি। মিটমিটে আলোর রেষ্টুরেন্ট হতে গরম গরম পরোটা ও ভাজি দিয়ে রাতের খাবার সেরেছি। আর্থিক কষ্ট নিয়ে দুজনের কেউই আমরা বড় হয়নি। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতা ছিল। তাই সবকিছু শেয়ার করেছি। মাঝে মধ্যে রিক্সা ভাড়া নিয়ে দ্বিধায় পরেছি, তর্ক করেছি। আবার হাতে পয়সা এলে দুহাত উজার করে খরচ করেছি। কিন্তু এত বছর পর কোথায় যেন একটা ছন্দপতন অনুভব করলাম। আমার সব চাইতে কাছের বন্ধু এখন কয়েক শ কোটি টাকার মালিক। এবং বয়স তার মাত্র ৪৩ বছর। রাজনীতি নামক ক্যান্সার সমাজের পরতে পরতে চষে বেড়ায় জানতাম, কিন্তু তা এত কাছে আসতে পারে কল্পনা করিনি। বন্ধুর নারায়ণগঞ্জ বাসার তিন তলার ছাদে কত রাত আমরা জোৎস্না দেখেছি, নির্জন শহর দেখার লোভে হাটতে বেরিয়েছি। কিছুই মেলাতে পারলাম না আজ। মনে হল রাজনীতি আসলে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ, যার ছোঁয়ায় রাতকে দিন আর দিনকে রাত করা যায়। আমেরিকার হিংস্র পশ্চিমে অখ্যাত শহরে আমার বাড়িটার কথা মনে পড়ল। রক্ত পানি করা কামানো অর্থের কিছুটা আগাম দিয়ে বাড়িটা কিনতে হয়েছে। বাকিটা শোধ করতে হয়ত আমার এক বছরের ছোট কন্যাকেও এক সময় হাল ধরতে হবে। কর্পোরেট আমেরিকার মাসে দুবার করে পে-চেকের অংকটার কথা মনে হতে দ্বিধায় পরে গেলাম। আমি কি তাহলে জীবন নামক দৌড়ে ব্যর্থ!

পাঠক, নির্বাচনী হলফনামা বলতে প্রার্থীদের যে আমলনামা বেরিয়েছিল তা পড়তে গিয়ে আপনার কি নিজেকে একবারও ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা বলে মনে হয়নি? ওরা রাজনীতির চাক হতে চুকচুক করে মধু লুটছে আর আপনি সে লোটায় উদ্বেলিত হয়ে তালি দিচ্ছেন, একবারও কি এরকম কিছু মনে হয়নি? স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধের চেতনা, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, কাদির মোল্লা, খালেদা জিয়ার জন্মদিন, ফাঁসি – এসব কথন একবারও কি মনে হয়নি বাংলাদেশ নামক দেশটাকে নেংটা করার সিসিম ফাঁক মন্ত্র মাত্র? পড়ে থাকলে মনে আছে কি আলীবাবা চল্লিশ চোরের সে গল্প? আমার কিন্তু মনে আছে। কারণ আমার বন্ধু জর্জদের বাসায় আমি দেখেছি চেতনা বিকাশের এসব সৈনিকদের তৎপরতা। ১৫ই আগষ্ট ওদের বাসায় রান্না বন্ধ থাকে। ২১শে ফেব্রুয়ারী কেটে যায় শহীদ মিনারের পাদদেশে। ১৬ই ডিসেম্বর আসে মহোৎসবের প্রলয় নিয়ে, দলবেঁধে ছুটে যায় জাতীয় শহীদ মিনারে। ওরা রাজাকার নিধনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, খালেদা জিয়া উৎখাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আবার ১লা বৈশাখের সকাল কাটে পানি পান্তায়। কিন্তু দিনশেষ ওদের কুলায় ফিরতে হয়। এবং নামতে হয় বিরামহীন ধান্ধায়। এ ধান্ধা যেনতেন ধান্ধা নয়, দেশকে উলংগ করার ধান্ধা, ধর্ষনের ধান্ধা। তেতাল্লিশ বছর বয়সে কয়েক শ কোটি টাকার মালিক বনতে চাইলে বাংলাদেশে রাস্তা একটাই, চেতনার পাইকারি ব্যবসা। বাকি সব ধাপ্পাবাজি, ধোকাঁবাজি, চাপাবাজি, ছলচাতুরি, ফটকাবাজি ।

বাংলাদেশের জীবনযাত্রায় নাটকের প্রভাব

by Jahid Islam

বাঙ্গালি জাতির নাটকপ্রিয়তা নিয়ে জ্ঞানীগুণী গবেষকরা হয়ত ইতিমধ্যেই বিস্তর লিখেছেন। নাটক ব্যাপারটি যে আমাদের মজ্জাগত-ছোটখাট কিছু উদাহরণ এর মধ্য দিয়ে এই পুরনো সত্যটিকে আবারও তুলে ধরার চেষ্টা থেকে এই লেখার প্রয়াস।

আমি যখন ছোট, আমাদের গ্রামের অনেক বাড়িতেই তখন টেলিভিশন ছিলনা। তবে আমাদের ঘরে একটা সাদা কালো টিভি ছিল। এতে রাতে সাপ্তাহিক বা প্যাকেজ নাটক দেখতে আসা উপচে পড়ার ভিড়ের কথা আমার এখনো মনে আছে। আমাদের যে রুমটাতে টিভি ছিল ঠিক সেই রুমের বিছানাটার মাঝখানের একটা তক্তা ভেঙ্গে গেছে একটা সময়। হয়ত ঘুণে ধরা কাঠ ছিল। তবু আমার বিশ্বাস এতে হাউসফুল দর্শকের একটা না একটা ভূমিকা না থেকে যায় না। “কোথাও কেউ নেই” নাটকে বাকের ভাইয়ের আসন্ন ফাঁসির কথা কল্পনা করে ভক্তকুলের মধ্যে যারা মহিলা দর্শক ছিলেন (আমি এবং আমার ভাই ছাড়া প্রায় সবাই এবং তারা বেশীর ভাগ ছিলেন আমার চাচি ও ফুপু সম্প্রদায়ের) কয়েক পর্ব ধরে তাদের সে কি মলিন চেহারা ! এমনকি এই নাটকে বাকের ভাইয়ের ফাঁসির বিরুদ্ধে ঢাকা শহরে মিছিল এবং হুমায়ূন আহমদের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের মত ঘটনা শুনেছি। ঘটনার সত্যতা যাচাই করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে যদি সত্য নাও হয় তবু এই ধরনের জনশ্রুতি তৈরির ব্যাপারটি নাটকের প্রতি আমাদের ভালবাসাকেই নির্দেশ করে।

নাটকের এই প্রভাব গ্রামীণ সাদাসিধে মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চ শ্রেণীর শিক্ষিত মানুষ,সবার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। এমনকি এই দেশের আদালতে পর্যন্ত। যোদ্ধাপরাধীদের বিচারে আসামীর বিরদ্ধে অপরাধের প্রমাণ স্বরূপ যে সব ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হয় তাতে স্থান পেয়েছে মুনতাসির মামুনের লেখা নাটক। হেরেসিম লেবেদেফ যিনি বাংলা নাটকের সূত্রপাত করেন বলে এক সময় মাধ্যমিক শ্রেণীর বইয়ে পড়েছিলাম আজ বেঁচে থাকলে তাকে হয়ত জিজ্ঞেস করা যেত, “ ভাইসাব আপনার উদ্ভাবিত জিনিসটির এই সাফল্য দেখে আপনার অনুভূতি কেমন” ?  তিনি যে জিনিস চালু করেছিলেন তার প্রভাব যে একদিন একটা গোটা জাতির প্রাত্যহিক জীবনে পড়বে এবং এ দিক থেকে যে তিনি একদিন শেকসপিয়ারকেও ছাড়িয়ে যাবেন তিনি কি তা কখনো চিন্তাও করেছিলেন ?

দেশীয় রাজনীতিতে নাটকের প্রভাব আরও প্রকট। আর তাই  নাট্যকাররা  জনপ্রিয় পলিটিক্যাল কমেনট্রিও লিখে থাকেন দৈনিক পত্রিকায়। এমনকি টিভি টকশোতও রয়েছে তাদের প্রাধান্য। তাদের যুতসই বিশ্লেষণ পড়ে পাঠক চলে যান কল্পনার রাজ্যে। দর্শক বা পাঠকের উদ্ভাবনী শক্তিকে উসকে দেন এই নাট্যকাররা। ঘোরতর সঙ্কট হতে জাতিকে রক্ষা করার জন্য জাতীয় পতাকা দিয়ে রেকর্ড করার মত নাটকীয় বিষয়টি খুঁজে বের করেন সমঝদার পাঠকবৃন্দ। এখানেই শেষ নয়। এই নাটকের অভিনেতারা অনেকেই দেশের সেবায় নিয়োজিত সাংসদ। তাঁরা যে কোন সঙ্কটে দেশকে রক্ষা করবেন ঠিক সেভাবে যেমনটা সিনেমাতে প্রিয় গোথাম নগরীকে রক্ষা করেন ব্যাটম্যান।

পিছিয়ে নেই মঞ্চ নাটকও। সমানতালে এর প্রভাবও রয়েছে দেশের রাজনীতিতে। মঞ্চ নাটকে যেমন জোরে জোরে সংলাপ বলা হয়, আমাদের রাজনীতিবিদরাও বক্তৃতায় অনেকটা সে কাজই করেন। যিনি যত জোরে সংলাপ বলবেন তিনিই এই মঞ্চে তত ভাল বক্তা বা অভিনেতা। এমনকি নাটকের আদলে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ সাজানোও ত আমাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্যেরই অংশ।

নাটকের দৃশ্যে কাহিনীর প্রয়োজনে দৃশ্যপটে উঠে আসে হারিয়ে যাওয়া পুরনো চরিত্র। এমনটা আছে আমাদের রাজনীতিতেও। কয়েকদিন আগে দেখলাম শামীম ওসমান সাহেব বক্তৃতা দিচ্ছেন এবং জনতা এই মহান বীরকে তুমুল করতালি দিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছে। ঠিক যেন রোমান বীর জুলিয়াস সিজারের মত। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে তার ভোট না গণনা করেই যে প্রতিপক্ষের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা সম্ভব এ সত্যটিও এই মহান নেতা খুব ভাল করেই জানেন। কিন্তু তবু তিনি জনপ্রিয় নেতার ভূমিকায় অভিনয় করবেন এবং বাজারে এই অভিনয়ের সমঝদার দর্শকও কাছে। আওয়ামি লীগ যদি সত্যিই অনেক দিন  ক্ষমতায় থাকে তখন তিনি আসবেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যেমনটা আসতেন জয়নাল হাজারি । মানুষ তাকে নতজানু হয়ে সালাম দিবে। আর ভাব করবে এমন – “ আহা আপনাকেই ত জাতি চায়। এতো দিন কোথায় ছিলেন ? ”/ জাতির ক্রান্তি লগ্নে জাতিকে মূল্যবান পরামর্শ দেবার জন্য তিনি টকশোতেও হাজির হবেন। কিংবা “সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল” শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে তিনি আসতেই পারেন অতিথি বক্তা হিসেবে।

শাহবাগ আন্দলনের অন্যতম নায়ক ইমরান এইচ সরকার পুলিশের হাতে মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনিও এ জাতির আরেকজন দক্ষ নেতা (পড়ুনঃ অভিনেতা)/ ছোট বেলায় পড়েছিলাম দক্ষ নেতারা নাকি উপদেশের বদলে উদাহরণ দেন। তিনি যে সরকার দলের সমর্থক নন তা তিনি জাতিকে উদাহরণ দিয়ে (অভিনয় দিয়ে) বুঝিয়ে দিতে চাইলেন। আর তাই তিনি গুলশান নাটক মঞ্চস্থ করলেন। শুয়ে শুয়ে শ্লোগান দিয়ে (ডায়ালগ দিয়ে) যে নাটকে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করা যায় এখানেই বিশ্ব এই অভিনব কলার সাথে প্রথম পরিচিত হল।

 

থেমে নেই আমাদের প্রধানমন্ত্রীও। তিনি থেমে থাকলে চলবে কেন, তিনিই যে এ সময়ে নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র ! বর্তমান নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল যে কেবল আদালতের রায় ও সংবিধান সমুন্নত করার জন্যই এবং এটি যে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কোন স্বার্থ বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লোভ থেকে নয় গোটা জাতির সামনে কান্নার অভিনয়ের মাধ্যমে তা তিনি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে মৃত মানুষের পরিবারকে বা আগুনে ঝলসে যাওয়া মানুষকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তিনি যত দ্রুত কান্না করতে পারেন, তা দেখে বিজ্ঞজন মাত্রই স্বীকার করবেন যে সঠিক সময় এমেরিকায় জন্ম হলে তিনিই হতেন রোণাল্ড রিগ্যান কিংবা আর্নল্ড শোয়ারজনিগার এর মত অভিনয়ে পারদর্শীদের সবচেয়ে উপযুক্ত রাজনৈতিক প্রতিযোগী।

বর্তমান পরস্থিতিতে বিরোধী দলবিহীন এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিশ্চিতভাবেই  জয় লাভ করবে। এই নির্বাচন করা না করা সমার্থক। কিন্ত না, যে কোন মূল্যে এই “নির্বাচন-নির্বাচন” নাটকটি মঞ্চায়িত করতে হবে। এটিত আসলে ১৯৯৬ সালে মঞ্চায়িত নাটকটিরই দ্বিতীয় পর্ব। একদলীয় হলে কি ! সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে কোন ছাড় নেই। তাই সেনা মোতায়েনও করা হবে । এটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে কিনা তা দেখতে সদা তৎপর রয়েছে “৭১ টিভি” / সকাল হতে বিকেল তারা এর লাইভ কাভারেজ দিবে।

হাসিনা এই নির্বাচন না করেই ক্ষমতায় থাকতে পারতেন, যেমনটা স্বৈর শাসকরা করে থাকেন। একজন স্বৈর শাসকের সাথে তার গুণগত পার্থক্য না থাকলেও এই অভিনয় তিনি করবেন। সহ অভিনেতা হিসেবে এই নাটকে তিনি বেছে নিয়েছেন রাজনৈতিক নাটকের অন্যতম থ্রিলার কিংবদন্তী এরশাদকে। পার্শ্ব অভিনেত্রি হিসেবে রওশন বরাবরের মত এবারেও ভাল।

আমরা যে সরকারদলীয় মন্ত্রী, এমপিদের হলফনামা দেখে শোকে মুহ্যমান হবার ভান করি, তারা যে এরকম এই ব্যাপারটা কি আমাদের অজানা ছিল, নাকি তাদের চরিত্র সম্পর্কে আমাদের  যে ধারনা এই ঘটনা তার সাথে একেবারেই বেমানান ? তাও আমরা অবাক হবার ভান করি।কেননা এতে নাটকীয়তা বজায় থাকে।

নাটক যে আমাদের অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে সেটা আরও ভাল বুঝা যায় যখন আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতিরা (সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে নরম মনের মানুষেরা এই পদ অলংকৃত করেন) ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্ত আসামিকে মাফ করে দেন। তারা আবার পুনর্জীবন লাভ করে। দণ্ড মাফ প্রাপ্ত কৃতী সন্তানরা দেশ জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। কেউ কেউ তাই এম পি মন্ত্রী হয়ে জাতির সেবায় মগ্ন হন। আবার যাবজ্জীবন দণ্ড পেলেও হয়ত অনেকের মুক্তি নেই। কেননা দর্শকদের চাহিদা মাথায় রেখে তৈরি হয় নাটক। প্রয়োজনে চাহিদা অনুসারে কাহিনীর পরিবর্তন ঘটে। দর্শকের কাঙ্খিত ভিলেনের ফাঁসি হয়। দর্শক এবং নির্মাতা সকলেই নির্মল আনন্দ লাভ করেন।

 

তবে কেউ যেন ভাবতে না পারে যে দেশে সুবিচারের ব্যত্যয় হয়েছে সেই দিকেও রয়েছে সরকার বাহাদুরের কড়া দৃষ্টি। আর তাই  সরকার দলীয় এমপি মন্ত্রী পর্যন্ত  ন্যয় বিচারের দণ্ড থেকে রেহাই পান না। টাকার ব্যাগ সহ ধরা পড়লেও কে যে নির্দোষ, বিদেশী লবির অপপ্রচারনার শিকার কোন দেশ প্রেমিক নেতা কিংবা নিপাট ভদ্রলোক সেজে থাকেলও কে যে আসলে সাংবাদিক পেটান তার সব রহস্যই ভেদ করে সরকার। অনেকটা ডিটেকটিভ নাটকের সুক্ষ্ণদর্শী ডিটেকটিভের মত।

পরিশেষে, বলা যায় নাটক আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিছেদ্য অংশ। দেশের রাজনীতির তুলনা হতে পারে কোন জনপ্রিয় থ্রিলার নাটকের সাথে যার প্রতিটি মুহূর্তে আছে নাটকীয়তা। সমঝদার দর্শকই হয়ত সময়মত ব্জানিয়ে দেবেন যে তাঁরা ভবিষ্যতে কাকে মঞ্চে দেখতে চান আর কাকে চান না।

ভাতের বদলে চেতনা খান, দিদির উপর চাপ কমান

by নিরীহ পাবলিক:

গুম, হত্যা, খুনাখুনি, বোমাবাজী, অবরোধ, হরতাল, অস্ত্র মিছিলে দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। শত শত গার্মেন্টস বন্ধের পথে, ঘর্মাক্ত কৃষক তার সারা বছরের সাধনার ফসল বেচতে না পেরে নিজেই তাতে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে ফেলছে, ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প প্রতিষ্ঠান সব কিছু কার্যত অচল। আর এরই ব্যাকগ্রাউন্ডে চেতনা’বাদী সরকার বিশ্বরেকর্ড করা পতাকা বানিয়ে তার অচেতন সমর্থকদের নিয়া চোখ বুঝিয়া গাহিতেছে, ‘ওমা ফাগুনে তোর আমার বনে ঘ্রানে পাগল করে’। চোখ খুলিয়া একটু ঘিলু খাটালেই তাদের বুঝার কথা এই ঘ্রান আমের নয়- এই ঘ্রান গোলা-বারুদ আর রক্তের। কিন্তু আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর মনুষ্য ঘিলু একই মানবদেহে থাকতে পারে না। তাই এই চেতনাবাদীদের ঘিলু খাটানোর প্রশ্নই আসে না। বিদেশী শক্তির দাসত্ব করতে করতে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এনে এখন ভূখা নাঙ্গা দিশেহারা পাবলিকদের চেতনায় চেতাইয়া দিদি ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কতিপয় ঘিলু বিহীন দ্বিপদী তাতে চোখ বুজে চন্দ্রনৃত্য করবে সেটা বলাই বাহুল্য। ১০ টাকা কেজি চাল, ডিজিটাল বাংলাদেশ আর দিন বদলের মুলা দেখিয়ে দিদি ক্ষমতায় এসেছিলেন। আর তার বিদেশী প্রভুদের কাছে প্রতিজ্ঞা করে এসেছিলেন ইসলামী রাজনীতির ঠেকানোর, বোরখা বিক্রি কমানোর, সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে ইসলামী চেতনা দূর করে সেনাবাহিনীকে ভারত প্রেমিক করে তোলার, দেশকে সম্পূর্নরূপে ভারতের সেবাদাসী বানানোর। দিদি তার বিদেশী প্রভূদের কাছে দেয়া নির্বাচনী ওয়াদা ঠিক মতোই পালন করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। আর দেশের পাবলিকের কাছে ১০ টাকা কেজি চাল দেয়ার ওয়াদা ভোলাতে চেতনার বাণিজ্যে নেমেছেন। চালের বদলে চেতনা চিবিয়ে এখন দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে হবে।

কিন্তু সমস্যা অন্যখানে। হাসিনার বাপের আমলে চেতনার ডিব্বা সবচেয়ে বেশী টইটম্বুর ছিলো। তবুও বাঙ্গালী ভাতের বদলে চেতনা খেতে রাজী হয় নাই- ক্ষেপে গিয়ে তারা বরং উড্ডীন পতাকা আর মানচিত্র খেতে চেয়েছিলো। এই কালে হাসিনা তার ঘিলু বিহীন দ্বিপদীদের কাঁধে ভর করে কতদিন বাঙ্গালীদের ভাতের বদলে চেতনা খাওয়াইয়া অচেতন করে রাখতে পারবে! শেষে না বাঙ্গালী আবার বিছানো পতাকা খেতে চায়! বিশ্ব রেকর্ড সাইজের পতাকায়ও তাতে কুলাবে না। কারন চেতনাবাদী বুদ্ধিজীবিদের এতো ঘ্যানর ঘ্যানর, প্যানর প্যানর, ছাত্রলীগের রাম-দা, চাপাতী আর হাসিনার এতো নাকি কান্না সত্ত্বেও দেশে এখন মুক্তিযোদ্ধার চাইতে রাজাকারের সংখ্যা বেশী।

হিংসার দৌড় জিঘাংসা পর্যন্ত

by Fakaruddin Ahmed:

আমার মতোই অনেকেই আছেন, যারা কাদের মোল্লার নামই হয়ত শুনি নাই বা শুনলেও মনে রাখি নাই । আজকে তাদেরও পরিস্থিতির কারনে এই ব্যাক্তির নাম শুনতে হইছে, জানতে হইছে। চেতনার কেরামতিতে আরও কতকাল যে এই ব্যাক্তির নাম শুনতে হবে , আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন ।

এইতো সেদিন ঢাকা মানুষে মানুষে ভরে উঠল। পুরো মিরপুরে কয় ঘর লোক ছিল, আমি তো সেই ছোট থেকেই যাই। সেইখানে ২২-২৪ বছরের এক শিক্ষিত তরুণ অমন অস্থির দিন গুলাতে বলা নাই কয়া নাই, একেবারে সব চিনে ফেলবে, তারপর পাড়ার- গ্রামের- এলাকার সবচেয়ে বড় রংবাজ হয়ে উঠবে, তারপর সেই সব মানুষকে এমন কেয়ামত দেখায়া ছাড়বে ! বুঝি না কেমনে সম্ভব ! তামিল ছবির স্টোরি শুনতেছি না , তো।

আবার কেরানীগঞ্জ ! মিশন ইমপসিবল – ২ !

জামায়াত ইসলামির পলিটিকাল চেইন দুমড়ে মুচড়ে একাকার হয়ে যাওয়ার পর তৈরি হইছে এক ভয়াবহ সমস্যা। এই সমস্যা কেবল জামাতের না এইটা সবার সমস্যা । তৃনমূলের জামাতিদের কনটেঈন করা যাইতেছে না। এইটা যে একটা এক-কালিন সমস্যাই কেবল না এর ভবিষ্যৎ মুখি ডায়নামিক্স আছে ।

সমাধানের পথ , একটা হইতেছে – শান্তিপূর্ণ , মেধাবি সবার জন্য উইন-উইন  এবং দীর্ঘ মেয়াদে ফলপ্রশু। এই পথ ধরে হেঁটেছে সব সফল জাতি। আর সেই পথ ধরে সাঊথ আফৃকায় গড়ে উঠে রেইনবো নেশন । একেই বলে নেশন বিল্ডিং।

সমাধানের পথ আরেকটা হচ্ছে- ক্লিনসিং -যেইটা আওয়ামি লীগ করতেছে। নির্মূল তাত্ত্বিকদের নির্মূল তত্ত্ব একজিকিউট করাই এমন  সমাধআনের পথ , সেই পটহের শেষ আছে কিনা কেউ জানি না, দেখছিও না , কিন্তু যে উন্মাদনা দেখছি তা ভয়ের।

হিংসা , অবিশ্বাসের , অশ্রদ্ধা , প্রবঞ্চনার, ফ্যসিজমের, ভুল ত্তত্বের আর তার বিপরীতে প্রতিরোধের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়ে গেছে সমাজে ।
কেমন করে আগাব আগামির দিনগুলাতে সেই ভয় তো সবাই পাচ্ছি।
আর এই ক্লিন্সিং ডকট্রিন কাজ করে না , যেইটা ইসরাইলী(ফিলিস্থিনি) , হিন্দুস্থানি(কাস্মিরি), রাশান (চেচেন), চিন(উইঘ্র) উদাহরণ থেকে শিখে নিতে পারলে সবচে ভাল হয়।
কাদের মোল্লা, সাইদির মত লেসার , স্ট্যাটিক, ভুলে যাবার মত পলিটিকাল ফিগার দের কিভাবে এনলার্জ আর ডায়নামিজম দেয়া হইল , সেইটা সাধারণ মানুষ জানে , কিন্তু জাতির ঘাড়ে চেপে বসা অসাধারণ মানুষগুলা জানে না, বুঝবেও না। কারন  হিংসার দৌড় জিঘাংসা পর্যন্ত , সত্য আর সুন্দর পর্যন্ত পৌছায় না।
আমার আপনার নিজের চেতনার, রাগের, প্রতিশোধের না হয় বিজয় হবে
কিন্তু আমার পরেও আমি থাকব, আমাদের সন্তানেরা , ছোট ভাইরা থাকবে;
তাদেরও কি এক বৃত্তে আটকে থাকতে হবে।

ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প (সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে)

by Watchdog bd

সকালটা কেমন যেন অন্যরকম মনে হল ছ্যারছ্যারের কাছে। রাতে ভাল ঘুম হয়নি। প্রতিরাতের মত দুঃস্বপ্ন আজও পিছু ছাড়েনি। মধ্যরাত হতে বিছানায় এপাশ ওপাশ করেছে কেবল। ফজরের নামাজেও যাওয়া হয়নি আজ। অন্ধকারকে এমনিতেই ভয় পায় সে। তার উপর যোগ হয়েছে অবিশ্বাস্য রকম কুয়াশা। শীতকালটা বলতে গেলে ঘরে বসে কাটাতে হচ্ছে তাকে। কোথায় যেন থমকে গেছে তার জীবন। গেল একটা বছর এক রাতের জন্যেও ভাল করে ঘুমাতে পারেনি। চোখ বন্ধ করলে সামনে এসে দাড়ায় চেনা একটা মুখ। রক্তমাংস হীন কঙ্কালের মত অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে থাকে তার দিকে, কি যেন জিজ্ঞেস করতে চায়। প্রশ্নটা শোনার আগেই ঘুম ভেঙ্গে যায় তার। দরদর করে ঘামতে থাকে। ধর ফর করে উঠে বসে বিছানার উপর। রাতের পর রাত ঘটে যাওয়া ঘটনার আজও ব্যতিক্রম হলনা। কিন্তু তারপরও সকালটা কেমন যেন অন্যরকম মনে হল তার কাছে। প্রতিদিনের মত কুয়াশার হিস হিস শব্দটাও আজ তীব্র অনুভূত হলনা। সূর্যটাও মনে হল সকাল সকাল বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। দরজা খুলে শীতের সকালটা দেখার ইচ্ছা আজ আর চেপে রাখতে পারল না। বেরিয়ে এলো নিঃশব্দে।

সাপের মত হেলে দুলে এদিক ওদিক করছে সকালের কুয়াশা। দশ হাত দুরের জুমাঘরটাও দেখতে অসুবিধা হল ছ্যারছ্যারের। উচু মিনারটাকে দেখাচ্ছে অনেকটা দৈত্যের মত। প্রতিদিনের মত আজ আর ভয় পেলো না সে। ভাল কিছু ঘটতে যাচ্ছে আজ, বাতাসে তার গন্ধ পেল। কুয়াশা ভেদ করে কারও হাঁটাচলার আওয়াজ পেয়ে সজাগ হয়ে উঠল সে। সক্রিয় হয়ে গেল তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। পকেটে হাত দিয়ে পিস্তলের উপস্থিতিটা নতুন করে পরখ করে নিল। বিদ্যুৎ গতিতে পিছু ফিরল এবং পিস্তল উচিয়ে খোঁজ করল অদেখা শত্রুর।

’ভয় পাইয়েন না মামা, আমি চেঙ্গিস দফাদার, আফনের ড্রাইভার কাম বডিগাট’।

চেঙ্গিসকে দেখে অবাক হলনা ছ্যারছ্যার। গেল একটা বছর ছায়ার মত লেগে আছে তার পেছনে। যেখানেই যায় তার যাওয়াও বাধ্যতামূলক। এমনটাই নাকি ওপরমহলের নির্দেশ। বাংলাদেশি আসল ন্যাশনালিস্ট পার্টি ছেড়ে আমজনতা লীগে যোগ দেয়ার পর হতেই এসবের শুরু। গুড়া কৃমির মত বংশবিস্তার করেছে তার শত্রু। এমনকি তালাক দেয়া স্ত্রীদের কেউ কেউ নাম লেখাচ্ছে শত্রু শিবিরে। এসব বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় ছ্যারছ্যারের। তালাক দিলেও মাসোহারা দিচ্ছে চার স্ত্রীর সবাইকে। অনিয়মিত শারীরিক মিলনও বাদ যাচ্ছে না মেনু হতে। ঘরের তিন বিবির এ নিয়ে আক্ষেপের শেষ নেই। তবু কেন শত্রু ক্যাম্পে নাম লেখাতে হবে এর কোন কুল কিনারা করতে ব্যর্থ হল ছ্যারছ্যারের মগজ।

’চ্যাঙ্গিস, তুই ঘরে যা। আইজ একলা ঘুরতে মুন চাইতাছে। আমার কিছু হইব না। যা ঘরে গিয়া নাস্তা খা’ চেঙ্গিসেরও অন্য চাহিদা মেটানোর সময় ছিল এটা। তাই সানন্দে, অনেকটা ভুতুরে কায়দায় মিলিয়ে গেল কুয়াশার ঘন চাদরে। চেঙ্গিসের বিদায়ের সাথে সাথে চারদিকটা নতুন করে দেখে নিল ছ্যারছ্যার। আকাশের দিকে তাকাল এবং বুক ভরে লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিল। ছাগলনাইয়া তার পাচ আঙ্গুলের মত, অথচ একটা বছর অনেকটা গর্তের ভেতর কাটাতে হয়েছে তাকে। রাজনীতির পাশাপাশি পাবলিক ফাংশনও বন্ধ। সাত পাচ মিলিয়ে এমনটা হওয়ার কোন কারণ ছিলনা। অনেক আশা নিয়ে যোগ দিয়েছিল আমজনতা লীগে।

তত্ত্ববধায়ক আমলের শুরুতে ছ্যারছ্যার বুঝে গিয়েছিল আসল ন্যাশনালিষ্ট পার্টির দিন শেষ। মাল কামানোর দৌড়ে টিকে থাকতে হলে তাকে দল বদলাতে হবে, এবং তা যথা সম্ভব দ্রুত। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্বান্ত নিতে আগে অনেকবার দেরি করেছে। তার ফলও পেয়েছে হাতেনাতে। তাই এ যাত্রায় সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার মনস্থির করল। বন্ধু ইলশা হাজি তাকে রাস্তা দেখাল। ফেঁপে উঠা ব্যাংক ব্যালেন্সের মাপকাঠিতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদটা খুব ছোট মনে হয়েছিল তার কাছে। তাই চোখ উপরের দিকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিল। হাজির ভাষায় পুরানো এমপি তত্ত্বাবধায়কের দালালি করেছে বিধায় নমিনেশনের বাজার এবার খোলা। চাইলে যে কেউ সওদা করতে পারবে। পৌষ মাসের কোন এক সোনাঝরা সকালে গায়ে আতর, মুখে তিব্বত স্নো আর সাথে সাত নম্বর বিবি নিয়ে রওয়ানা দিল ঢাকার দিকে।

নমিনেশন বোর্ডের মুখোমুখি হতে পাক্কা একমাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল ছ্যারছ্যারকে। দিনটা ছিল শুক্রবার। রোজা রাখতে বাধ্য করেছিল বিবি খামুসি বেগম। মিরপুর মাজারেও মানত করেছিল। গুলশানের গেস্ট হাউজ হতে ধানমন্ডি নমিনেশন বোর্ডে পৌঁছতে পাক্কা দুই ঘন্টা লেগে গেল তাদের। নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা দেরি হওয়ায় তেলে বেগুনে ভাজি হয়ে অপেক্ষায় ছিলেন নেত্রী। হাজির হতেই তাৎক্ষণিক ভাবে ফুটন্ত কড়াইয়ে নামিয়ে দিল ছ্যারছ্যারকে। মৌখিক সালামের পাশাপাশি পা ছুয়ে সালাম দেয়ার চেষ্টা করতে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিল তাকে।

’অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ মিয়া। আপনে তামাম দুনিয়ারে বোকা বানাইবার পারেন, মাগর আমারে পারবেন না। আমি এ লাইনের ডক্টর।’নেত্রীর কঠিন ভাষায় সজাগ হয়ে গেল ছ্যারছ্যার। নমিনেশন বোর্ডে যাদের আশা করছিল তাদের কাউকে না দেখে একটু হতাশ হল। কথা ছিল ফেনীর আয়নাল হাজারীও থাকবে এবং সমর্থন জানাবে তার প্রার্থিতার। নেত্রী আর তার একমাত্র বোনকে দেখে প্রথম ধাক্কায় বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিল সে। ভাবলেশ হীন দুই বোনের চেহারার সবটা জুড়ে ছিল খাই খাই ভাব। এর প্রমান পেতেও ছ্যারছ্যারকে বেশিক্ষণ আপেক্ষা করতে হয়নি।

’মুখের কথায় চিড়া ভিজে না মিয়া, পান চিনি লাগে। তা কত দিতে পারবা খোলাসা কর। ইলশা হাজী ৫৫ লাখের অফার দিছে। এক পয়সা কম হলে দোকান বন্ধ।’ ৮৫ লাখে দফারফা হল শেষপর্যন্ত। সিদ্ধান্ত হল ৮০ লাখ যাবে বাবার নামে তৈরী মাজারে, আর বাকি ৫ লাখ দলীয় ফান্ডে। প্রথম অংকটা পরিশোধ যোগ্য কেবল নগদে, দ্বিতীয়টা চেক হলেও নাকি ক্ষতি নেই। সবকিছু ভালয় ভালয় শেষ হওয়ায় ফুরফুর মেজাজেই বের হল ইন্টারভিউ বোর্ড হতে। রাজ্যের উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষমান খামুসি বেগম খবরটা পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরল। অবশ্য কান্নাকাটি ও রোজা আনন্দে আর পানাহারে রূপ নিতে বেশিক্ষণ লাগল না। ছ্যারছ্যার আনন্দেও কমতি ছিলনা, কিন্তু একটা বাস্তবতা তার মনে খচখচ করতে থাকল, ইলিশা হাজী! হাজীর সমর্থন নিয়েই সে ঢাকায় এসেছিল, অথচ নেত্রী জানাল সওদার বাজারে সেও নাকি একজন সওদাগর। ব্যাপারটা তার কাছে ঘোলাটে মনে হল। খোলাসা করার তাৎক্ষণিক তাগাদা হতে ফোন করল ইলশাকে। কিন্তু ও প্রান্ত হতে কেউ উত্তর দিল না। ছ্যারছ্যারের মনে হল হাজির ব্যাটা ইচ্ছা করেই তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। অশ্লীল একটা গালি দিয়ে ছুড়ে ফেলল ফোনটা।

পরের ছয়টা মাস বহমান নদীর মত বয়ে গেল ছ্যারছ্যারের জীবন। ইলেকশন বাতাসে লন্ডভন্ড হয়ে গেল তামাম দুনিয়া। তিন বিবি আর ইলশাকে নিয়ে ছাগলনাইয়্যার আকাশ আর মাটি এক করে ফেলল সে। আমজনতা লীগের অনেকেই সমর্থন নিয়ে এগিয়ে গেল, অনেকে আবার গোপনে আসল ন্যাশনালিস্ট পার্টির দালালি করল। এ নিয়ে খুব একটা চিন্তা করল না ছ্যারছ্যার। রাজনীতির সমীকরণ তার ভাল করেই জানা ছিল। এ-ও জানা ছিল এখানে স্থায়ী শত্রু-মিত্রের পাশাপাশি দিনরাত বলেও কিছু নেই। সবকিছু ছিল টাকার খেলা। তার চোখে টাকায় যেমন নমিনেশন কেনা যায় তেমনি দিনকে ও রাত বানানো যায় রাজনীতির সুক্ষ্ম চালে । ছ্যারছ্যার নিজকে সওদাগর ভাবতে ভালবাসে। তার চোখে সওদার ময়দানে অসম্ভব বলে কিছু নেই, মুল কথা দিন শেষে আসল পণ্যের মালিকানা। নির্বাচনে জিতে তেমনি এক পণ্যের মালিক বনে গেল রাতারাতি। ইলশার সাথে ভুল বুঝাবুঝিটা ইলেকশনের শুরুতে মিটিয়ে নিয়েছিল অনেকটা বাধ্য হয়ে। হাজীর সমর্থনটা তার জন্যে জরুরি ছিল বিভিন্ন কারণে। কোটি টাকা খরচের জন্যে বিশ্বস্ত দুটো হাতের প্রয়োজন ছিল, পাশাপাশি প্রয়োজন ছিল তিন বিবি ম্যানেজ করার কৌশলী একজন খেলোয়ড়। ইলশাকে চিনতে ভুল হয়নি তার। কারণ সে ছিল তেমনি একজন পাকা খেলোয়াড়। এবং ভুলটা করেছিল এখানেই।

ইলশা হাজী আর খামুসি বেগমের গোপন সম্পর্কটা তরতর করে বেড়ে উঠে অনেকটা ছ্যারছ্যারের নাকের ডগায়। নির্বাচন উপলক্ষে ছাগলনাইয়ার গ্রামে গঞ্জে ওরা একসাথে ঘুরে বেরিয়েছে বিনা বাধায়। গঞ্জের বাজারে স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মিলিত হতেও কোন অসুবিধা হয়নি। ছ্যারছ্যারের লোকেরাও তাদের চিনতে পারেনি খামুসী বেগমের চোখ মুখ বন্ধ করা বোরকার কারণে। ইঙ্গিতটা প্রথম পায় ড্রাইভার চেঙ্গিসের কাছ হতে। কিন্তু ইলেকশনের কারণে আমলে নেয়ার সময় পায়নি। তাছাড়া চেঙ্গিসকে সময় অসময়ে আসল ন্যাশনালিস্ট পার্টির দালাল বলে সন্দেহ হয়েছে তার। তাই বিশ্বাস অবিশ্বাসেরও একটা প্রশ্ন ছিল। এমপি হওয়ার কারণে ছাগালনাইয়্যা ছেড়ে ঢাকা আসাটা ছিল বাধ্যতামূলক। ৩ কোটি টাকার নির্বাচনী বিনিয়োগ লাভজনক করায় প্রয়োজন ছিল বিরামহীন পরিশ্রমের। কম বয়সী খামুসিকে ঢাকায় আনতে তাই মন সায় দেয়নি। কারণ সে জানত ঢাকায় তাকে সকাল-সন্ধ্যা ব্যস্ত থাকতে হবে। তাছাড়া চেঙ্গিসের ইঙ্গিতটাও সে ভুলেনি। কিন্তু এ ব্যাপারে ইলশার যুক্তির কাছে হার মেনেছিল অন্য কারণে। মন্ত্রিত্ব চাইলে স্ত্রী-সংসার থাকা নাকি বাধ্যতামূলক।

দুপুরটা চাইলেও ভুলতে পারবেনা ছ্যারছ্যার। আসল ন্যাশনালিস্ট পার্টির ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছিল সেদিন। সৌদি সাহায্য ফান্ডের জনৈক সৌদিকে ৫০ লাখ টাকা কমিট করেও দিতে পারছিল না ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে। বাসায় রাখা নগদের কথা মনে হতে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে সেদিকেই রওয়ানা দিল। ঝামেলায় এতটাই মগ্ন ছিল খামুসিকে ফোন করতে ভুলে গেল। রাস্তার হরেক ঝামেলা চুকিয়ে গুলশানের বাসায় যখন হাজির হল ততক্ষণে বেলা বেশ পরে গেছে। এমন অসময়ে শেষ কবে বাসায় এসেছিল মনে করতে পারল না। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পরল দৃশ্যটা। খামুসি আর ইলশা এক অন্যকে জড়িয়ে গড়াগড়ি গাচ্ছে বৈঠকখানার মেঝেতে। দুজনেই উলঙ্গ। ভূমিকম্পটা কোথা হতে শুরু করবে কিছু বুঝে উঠতে পারল না সে। নামে হাজী হলেও বয়সে তরুণ ইলশা আসলে হাজী নয়। হাজী নিয়ে হজ্ব ব্যবসা তার আদিম ব্যবসা। ব্যবসার খাতিরেই হাজী টাইটেল ব্যবহার করতে হয়েছে তাকে। কুচকুচে কালো চেহারা, পেটা শরীর আর মুখে ঘন কালো চাপ দাড়ির কারণে দেখতেও অনেকটা আজরাইলের মত দেখায়। বয়সের পার্থক্য থাকলেও তাকে বন্ধু হিসাবেই নিয়েছিল ছ্যারছ্যার। উপহার হিসাবে সামনের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদটাও বরাদ্দ রেখেছিল তার জন্যে। ইলশাও জানত ব্যাপারটা।

পয়েন্ট ফাইভ ক্যালিবারের পিস্তলটা পকেটে না থাকায় সে যাত্রায় বেচে গিয়েছিল ইলশা। তবে তা বেশিদিনের জন্যে নয়।

আইডিয়াটা মাথায় ঢুকে চেঙ্গিসের একটা মন্তব্যে। পরিকল্পনার বাকিটা ছিল তার নিজের। সমঝোতার কথা বলে সংসদ ভবনে নিয়ে আসার দায়িত্ব দিল চেঙ্গিসকে। সবকিছু জানার পর বিপদের খুটিনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল চেঙ্গিস। কিন্তু এ নিয়ে তর্কে গেলনা সে। তার দায়িত্ব ছিল মোহম্মদপুর বাসা হতে ভুলিয়ে ভালিয়ে ইলশাকে গাড়িতে উঠানো। এ কাজে তার কামিয়াভির আসল কাহিনী ছ্যারছ্যারের বোধহয় কোনদিনই জানা হবেনা। কথা মত দশটার আগেই ইলিশাকে হাজির করা হল সংসদ ভবনের আঙ্গিনায়। চেঙ্গিসের ফোন পেয়ে উপর হতে নেমে এলো ছ্যারছ্যার। পকেটে পয়েন্ট ফাইভ ক্যালিবারের লোডেড পিস্তল। নাটকের নাটবল্টু আগেই টাইট দেয়া ছিল, অপেক্ষা ছিল কেবল শেষ পর্বের। দরজা খুলে ইলশাকে দেখে বাঁকা একটা হাসি দিল ছ্যারছ্যার। চোখ মুখ ঠান্ডা হয়ে গেল ইলশার। ছ্যারছ্যারের এহেন চাউনির সাথে তার পরিচয় অনেকদিনের। কি ঘটতে যাচ্ছে তা অনুমান করতে সামান্যতম অসুবিধা হলনা। ভয়ে বিস্ময়ে ছানাবড়া হয়ে গেল তার চোখ মুখ। মুখ হতে মৃত্যুর কলেমাটা বেরিয়ে এল অনেকটা যন্ত্রের মত। শেষ করতে পারল না কলেমা তার আগেই গর্জে উঠল ছ্যারছ্যারের পিস্তল। ছাতি বরাবর ছোড়া গুলিটা এপাশ ভেদ করে ওপাশে চলে গেল। রক্তের প্লাবন এসে ধাক্কা দিল ছ্যারছ্যারের চোখে মুখে। পকেট হতে রুমাল বের করে মুছার চেষ্টা করল। কাজ হলনা তাতে। ব্যকসীটে লুকানো গামছার বস্তাটা বের করে দিল চেঙ্গিস। প্রয়োজনীয় পানিও তৈরী ছিল পরিকল্পনা মাফিক।

’মামা, হেয় দেহি মরে নাই। কৈ মাছের মতন খালি চিৎপটাং দিতাছে। কি করুম জলদি কন’।
চেঙ্গিসের কথায় খুব একটা অবাক হলনা ছ্যারছ্যার। শক্ত লোহা পেটানো শরীরে বুলেট ঠিকমত ঢুকবে কিনা এ নিয়ে তার আগেই সন্দেহ ছিল। ’যা, এইবার প্লান বি মত কাজ কর। খানকির পুতেরে পুরানো ঢাকার আলেয়া ক্লিনিকে নিয়া যা। কথা বলা আছে হেগো লগে, শেষ কামটা হেরাই কইরা দিব।’ কথাটা বলে শেষবারের মত ফিরে তাকাল ইলশার দিকে। রক্তের সমুদ্রে ডুবন্ত একটা লাশ দেখে ভয় পেয়ে গেল সে। মনে হল চোখ দুটো এখনো নড়ছে ইলশার, ঠোট দুটোও কাঁপছে। কি যেন একটা বলতে চাইছে সে। ’বান্দীর বাচ্চা, ৩ কুটি খরচা কইরা এম্পি হইছি। তুর মত দশটা ইলশা এক লগে ভাজি খাওনের খেমতা রাখি আমি। সইত্যডা সময় মত বুঝলে ইলশা হইয়া তুই আজ কৈ মাছের মত দাপাদাপি করতিনা।’ চোয়াল শক্ত করে লৌহ কঠিন ভাষায় উচ্চারণ করল শেষ কথা গুলো। ইলশার লাল রক্তাক্ত মুখের উপর নোংরা একদলা থু থু মেরে ঝড়ো বেগে বেরিয়ে গেল গাড়ি হতে।

ঘটনার দিন হতে বাকি বছরটা ছ্যারছ্যারকে কাটাতে হয়েছে অজানা আশংকায়। একদিকে জেলের ভয়, অন্যদিকে ক্ষমতা হারানোর শংকা। সবচেয়ে বেশি জ্বালাতন করেছে পেপারওয়ালারা। খামুসি বেগমকে ছাগলনাইয়া পাঠাতেও কষ্ট হয়েছে তার। স্ত্রীর মুখ বন্ধ রাখাটা ছিল খুবই জরুরি। এ কাজে সাহায্য করার মত কাউকে খুজে পায়নি এ যাত্রায়। অবশ্য সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এমনটা বললে মিথ্যা বলা হবে। দুর্দিনে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল প্রশাসন। একে একে পাশে দাঁড়িয়েছিল থানা-পুলিশ, কোট-কাচারি, ব্যাবসায়ী-রাজনীতিবিদ। ফাগুন মাসের শেষ দিন দেশের প্রধান বিচারপতি পর্যন্ত ফোন করে নিশ্চয়তা দিয়েছিল। তাতেও নিশ্চিত হতে পারেনি ছ্যারছ্যার। হাতে কাগজ অথবা নেত্রীর ফোন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়ার উপায় ছিলনা তার। দিনগুলো একে একে মাসে রূপান্তরিত হচ্ছিল, মাস গুলো বনে যাচ্ছিল বছর। অন্তহীন অপেক্ষার শেষ কোন বন্দরে তা খুঁজতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছিল ছ্যারছ্যার।

হাওয়া বদলের পালাটা শুরু হয় তিন মাস আগে। ইলশা হত্যার তদন্তের ভার তারই আপন ভায়রা ভাইয়ের হাতে ন্যস্ত হওয়ার পর বুঝে গিয়েছিল কি ঘটতে যাচ্ছে। এ ফাঁকে কথা বলে চেঙ্গিসকে রাজী করানো গেছে। নগদ হিসাবে তাকে দেয়া হবে এক কোটি, ঢাকায় একটা ফ্লাট, সাথে পরিবারের দায় দায়িত্ব। পিস্তল নিয়ে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা গেছে ইলশা। আর এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার দায় দায়িত্বের সবটাই বর্তাবে চেঙ্গিসের ঘাড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে নাম আসবে ছ্যারছ্যারের। চেঙ্গিস জেলে যাবে এবং খবর ওয়ালাদের মাথা ঠান্ডা হওয়ার সাথে সাথে রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে অপরাধ মাপ করে দেবেন খোদ প্রেসিডেন্ট। অপরাধ ও শাস্তি পর্বের এমন ঝাঁঝালো কাহিনী অতি উঁচুমহলেও সত্যায়িত হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু কিছু কাগজপত্রের।

একা একা ঘুরতে আজ আর ভাল লাগল না ছ্যারছ্যারের। মনটা কেমন আনচান করে উঠল। মেয়ে মানুষের অভাবটা হঠাৎ করেই মাথায় চাপল। ঝামেলার কারণে এ দিকটায় চোখ ফেরানো হয়নি অনেকদিন। ইলশার নিকেতনের ঢেরাটা আপনা হতেই তার কাছে চলে আসবে, মনে হতেই নেচে উঠল তার চোখ মুখ। ভীষন হালকা মনে হল নিজেকে। দুরে কোথাও পাখীর ডাক শুনতে পেল। কুয়াশার ফাক গলে সূর্যটাও বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। সংসদে যাওয়া হয়নি অনেকদিন। নাওয়া খাওয়া সেরে ওদিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল মনে মনে।

দরজায় পা রাখার আগেই বেজে উঠল ফোনটা। ভায়রা ভাইয়ের নাম্বারটা দেখে উড়ন্ত ঈগলের মত ঝাপিয়ে পরল তার উপর। এদিক ওদিক তাকিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিল।

’দুলাভাই আছেন কিমুন? শৈলডা বালা নি? মনডা বালা নি? – কথার খৈ ফুটল ছ্যারছ্যারের মুখে।
’হ ছোট মিয়া বালা, তয় খবর তো আমার না, খবর আফনের’।
’কি কৈতে চান জলদি জলদি কন, মশকারা বালা লাগে না’
’আরে ছোট মিয়া রিপোর্ট যে দিয়া দিলাম হেই খবর কি আছে আফনের?’
’রিপোর্ট? কন কি? কবে? কার কাছে?
’ধীরে মিয়া, ধীরে। তিনডা মাস কষ্ট করলাম আমি, আর আফনে তা তিন মিনিটে গিলতে চান।’
’দুলাভাই, যা কওনের চালাইয়্যা কন, তর সইতাছে না আর’।
’বুঝি মিয়া বুঝি, আরে আমরাও এই পথা মাড়াইছি। খুন খারাবি আমরাও করছি। তাই খবরের মর্ম বুঝতে কষ্ট হয়না’
’তা কি আছে রিপোর্টে?’
’বিস্তারিত অহন কওন যাইব না, তয় জানাইয়া রাখি শুক্কুর বার বাদ জুমা আফনের ড্রাইভাররে নিতে আইব। ইলশা খুনের অপরাধে তার সামান্য কিছু বিচার হইব। আফনে হইলেন তার স্বাক্ষী।’

আকাশের দিকে তাকালো ছ্যারছ্যার। কুয়াশা ভেদ করে লুটিয়ে পরা সূর্যের রশ্মি গুলো লক্ষ কোটি মাইল বেগে ধেয়ে আসা উল্কা তরঙ্গের মত মনে হল তার কাছে। অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল ঐ দিকটায়। ঈশান কোনে ঝুলে থাকা কুয়াশার শেষ খন্ডটা দেখতে কেমন যেন ইলশার মুখটার মত দেখাল। দাঁত বের করে হো হো করে হেসে উঠল সে। ’আমি রাজনীতিবিদ, ৮৫ লাখ খরচ্চা কইরা নমিনেশন কিনছি, এ খালি এমপি হওয়ার নমিনেশন না, তোর মত বান্দীর পোলা গো খুন করারও নমিনেশন। আবার জন্ম নিলে ৫৫ লাখ না, দুই কুটি লইয়া ঢাকা আহিস।’ ছ্যারছ্যারের অট্টহাসিতে ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল সকালের নীরবতা।

গোলাম আযমের গ্রেফতার উপলক্ষে ঢাকাস্থ ছাগলনাইয়্যা সমিতির র‍্যালিতে যোগ দিতে হবে ছ্যারছ্যারকে। র‍্যালির প্রধান অতিথি সে। ইলশা পর্ব এখানেই সমাহিত করে পা বাড়াল বাইরের দুনিয়ায়।

কাদের মোল্লা, কসাই কাদের ও কিছু প্রশ্ন

3

by অগ্নি বীনা :

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বহুল আলোচিত বিষয় কাদের মোল্লার ফাঁসি। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর যুদ্ধাপরাধের বিচারের মতো সংবেদনশীল একটি বিষয় এর সাথে জড়িত থাকায় আলোচনার ব্যপ্তি ছিল বিচার প্রক্রিয়া, রায়, প্রতিক্রিয়া হিসেবে শাহবাগের গণজাগরণ, আইন সংশোধন, রায় পরিবর্তন, এবং শেষপর্যন্ত ফাঁসি নিয়ে। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফাঁসির মধ্য দিয়েই ঘটনার যবনিকাপাত ঘটেনি। উঠে এসেছে নতুন কিছু প্রশ্ন।

 কাদের মোল্লার বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মূলতঃ দুটি বিষয়ে –

  •  বিচার প্রক্রিয়ায় আপাতঃ অনিয়ম, অন্যায্যতা, বা আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় ব্যর্থতা
  •  কাদের মোল্লার পরিচয় সংক্রান্ত জটিলতা

প্রথম ইস্যুটি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে বিস্তর। এর মধ্যে সাংবাদিক David Bergman এর ব্লগ http://bangladeshwarcrimes.blogspot.com/ উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে প্রমাণে জটিলতার কারণে দ্বিতীয় ইস্যুটিতে আলোচনা কম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে রয়েছে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অভিযুক্তের সংশ্লিষ্ট অপরাধে নিজেকে নির্দোষ দাবি করা যা প্রতীয়মান হয় জেল থেকে সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনিকে লেখা চিরকুট বা ফাঁসির পূর্বে স্ত্রীকে লেখা শেষ চিঠি থেকে। এ থেকে প্রশ্ন জাগে অভিযুক্ত কাদের মোল্লা এবং যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কুখ্যাত মিরপুরের কসাই কাদের একই ব্যক্তি কিনা।

১/ জবানবন্দি

 আদালতে প্রদত্ত জবানবন্দি অনুযায়ী, ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামের মরহুম সানাউল্লা মোল্লার ছেলে আবদুল কাদের মোল্লা ১৯৪৮ সালের ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে আমিরাবাদ ফজলুল হোক ইন্সটিটিউশন থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৬৬ সালে রাজেন্দ্র কলেজে বিএসসি প্রথম বর্ষে পড়ার সময় ছাত্র ইউনিয়ন ছেড়ে ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগদান করেন। ১৯৬৮ সালে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন কাদের মোল্লা। তিনি শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। জবানবন্দি অনুসারে ১৯৭১ এ পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্সের শেষবর্ষের ছাত্র থাকাকালীন ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগীয় চেয়ারম্যান ডঃ ইন্নাস আলীর পরামর্শমতো  ১১ই মার্চ তিনি গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আমিরাবাদে ফিরে যান এবং ধলা মিয়া পীর সাহেবের বাড়িতে আশ্রয় পান। পীর সাহেবের আনুকূল্যে তিনি তদস্থ চৌদ্দরশি বাজারে ব্যবসা করতেন পীর সাহেবের দোকানঘরে বসে। ঐ সময়ে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন আওয়ামী লীগের প্রাদেশিক পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন এবং সদরপুর পুলিশ স্টেশনের চেয়ারম্যান শাহজাহান তালুকদারের সঙ্গে। জবানবন্দি অনুযায়ী স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবের শাসনকালেই ১৯৭২ সালের শেষদিকে তিনি ঢাকা ফিরে আসেন, কিন্তু পড়াশোনায় দীর্ঘ বিচ্ছেদের কারণে পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করতে ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় ১৯৭৪ সনে শহীদুল্লাহ হলে থাকা অবস্থায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে ডিপ্লোমা ইন এডুকেশনে ভর্তি হন এবং ১৯৭৫ এ ঐ বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন সহ ডিপ্লোমা শেষ করেন। ১৯৭৪-৭৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত উদয়ন স্কুলে শিক্ষকতাও করেন। ১৯৭৭ সালে একই ডিপার্টমেন্ট থেকে এডুকেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স শেষ করেন এবং পরবর্তীতে ঢাকা রাইফেলস পাবলিক স্কুলে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। ২০০৭ সালে মামলার আগ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দেশের কোথাও কোন মামলা বা সাধারণ ডায়েরি দাখিল করা হয়নি।

২/ সহপাঠীর বক্তব্য

 সম্প্রতি কাদের মোল্লার এক সহপাঠী ডঃ মোজাম্মেল খানের লিখিত একটি নিবন্ধ ইন্টারনেটে শেয়ার করা হচ্ছে যার মূল বক্তব্য হোল কাদের মোল্লা মুক্তিযুদ্ধের আগেই ইসলামী ছাত্র সংঘের সাথে জড়িত ছিলেন, তা দেখানো। এ বক্তব্যটি অবশ্য কাদের মোল্লার জবানবন্দির সাথে সাংঘর্ষিক নয় যেহেতু তিনি নিজেও তা উল্লেখ করেছেন। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে লেখক বলতে পেরেছেন –

  • কাদের মোল্লা তার রাজেন্দ্র কলেজের ১৯৬৪-১৯৬৬ এইচএসসি ব্যাচের সহপাঠী ও হাউজমেট ছিলেন।
  • ১৯৬৬ সালে লেখকের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাওয়া এবং কাদের মোল্লার ফরিদপুরেই থেকে যাবার পর অভিযুক্তের সাথে তাঁর ফের দেখা হয় ১৯৭৯ সালে – তাঁদের কথোপকথনে প্রতীয়মান হয় লেখক জয় বাংলা পন্থী এবং কাদের মোল্লা জিন্দাবাদ পন্থী ছিলেন।

বাকি সব আর্গুমেন্ট শোনা কথার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং দুই-দুই এ চার মেলানো।

  • লেখক কাদের মোল্লার পরিবারকেই কোট করছেন যে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। লেখক ধরে নিয়েছেন ৭২-৭৫ সে আত্মগোপনে ছিল, কারণ দুই বছরের এমএসসি ডিগ্রীর জন্য ৮ বছর লাগতে পারে না। এ যুক্তিটি গ্রহণযোগ্য নয় কারণ ১৯৭৫ সালে কাদের মোল্লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ থেকে ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন অর্জন করেন যা থেকে প্রতিভাত হয় তিনি অন্তত ১৯৭৪ শিক্ষাবর্ষে ((বা মুক্তিযুদ্ধের পর এবং ১৯৭৫ এর আগে অন্তত দুই বছর)) ঢাবিতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
  • লেখক ধরে নিয়েছেন যে রাজেন্দ্র কলেজে ১৯৬৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসির পর ঢাবিতে তিনি দুই বছরের মাস্টার্স ডিগ্রি করেছেন যাতে এতো সময় লাগার কথা নয়। কিন্তু উপরে প্রদত্ত তথ্য অনুসারে মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে ১৯৬৯ সনে পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্সে ভর্তি হলেও, যুদ্ধের পর তিনি বিষয় পরিবর্তন করে ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৭৫ এ ডিপ্লোমা এবং ১৯৭৭ এ মাস্টার্স – দুটি ডিগ্রি সমাপ্ত করেন যা জবানবন্দির সময়ের সাথে মিলে যায়। ধরে নেয়া যেতে পারে বক্তব্যের সমর্থনে প্রাসঙ্গিক সকল সার্টিফিকেট তিনি আদালতে সাব্যস্ত করেছেন – অন্যথায় তাঁর যুক্তি উড়িয়ে দেয়া প্রসিকিউশনের জন্য খুবই সহজ ছিল।
  • লেখকের উপস্থাপনা কাদের মোল্লার রাজনৈতিক মতাদর্শের দিকে ইঙ্গিত করলেও এমন কোন তথ্য প্রদান করে না যা ফরিদপুরের কাদের মোল্লাকে ঢাকার মিরপুরে অপরাধ সংঘটনের স্থলে প্রতিষ্ঠিত করে।

৩। ৭৫ এর পূর্বে না পরে?

  • ১৯৭৫ সালে কাদের মোল্লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ থেকে তাঁর পূর্ববর্তী বিষয় (পদার্থবিজ্ঞান) হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়ে (শিক্ষা) ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন অর্জন করেন যা থেকে প্রমাণ হয় তিনি অন্তত ১৯৭৪ শিক্ষাবর্ষে (বা মুক্তিযুদ্ধের পর এবং ১৯৭৫ এর আগে অন্তত দুই বছর) ঢাবিতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
  • অভিযুক্ত কাদের মোল্লা ১৯৭৪-৭৫ সনে খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যস্থিত উদয়ন বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন বলে দাবী করেছেন। এর বিপরীতে উদয়ন বিদ্যালয় কোন অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট দিয়েছেন বলে জানা যায় নি যা তাঁর দাবীকে অসত্য প্রমাণ করতে পারত।
  • এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে কাদের মোল্লা ৭৫ এর পটপরিবর্তনের পর নয়, বরং তার আগেই ঢাকায় পুনর্বাসিত হন এবং শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় বিচরণ করেন।
  • এখানে দ্রষ্টব্য যে দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ ১৯৭২ এর অধীনে ৩৭০০০+ লোককে আটক করা হয়। সত্যাসত্য, ব্যক্তিগত শত্রুতা চরিতার্থ সহ মামলা/অভিযোগ ছিল আরও অনেক বেশি। সেখানে ‘মিরপুরের কসাই’ নামে কুখ্যাত এ লোকটি স্বাধীনতার পর কোনও মামলা ছাড়াই সবার নাকের ডগার উপর দিয়ে খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি করল? এ নিয়ে কোন মামলা ছাড়াই লোকসমক্ষে ঘুরে বেড়াল ৪০ বছর? এ ব্যাপারটি এতই অবিশ্বাস্য যে  নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা এই ভিডিওটিতে – কাদের মোল্লা কসাই কাদের হলে যুদ্ধের পর কিভাবে ঢাবিতে পড়ে?

কাদের মোল্লা পাকিস্তানপন্থী হয়তো সে ছিল, তবে প্রশ্ন জাগে এই কাদের মোল্লাই কুখ্যাত কসাই কাদের কিনা যার অপরাধের দায়ভার নিয়ে এ লোকটিকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।

 মামার বক্তব্য 

প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষী ছিলেন শহীদুল হক মামা। ষাটের দশকে মিরপুরের বাসিন্দা হিসেবে তিনি ঘটনা চলাকালীন সময়ে মিরপুরে কাদের মোল্লার উপস্থিতি প্রমাণে একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। একজন সুপরিচিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিভিন্ন সময়ে তার প্রদত্ত বক্তব্য ও সাক্ষ্যে  কিছু অসঙ্গতি দেখা যায় –

  • আদালতে প্রদত্ত সাক্ষ্যে তিনি কালানুক্রমিক ঘটনা বর্ণনা করার সময় প্রথম মিরপুরে কাদের মোল্লার নাম ও উপস্থিতি উল্লেখ করেন ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন চলার সময়কালে –

Prosecutor: State about the movement of 1966.

Witness: There was a movement in 1966 for the demand of 6 items. I participated in that movement. That movement was Bangalies’ demand for life.

Defense Counsel (Ekramul Haque): It seems that, the prosecutor friend is deriving information by licking the witness.

Prosecutor: What was the background of this movement?

Witness: At first the movement demanded 6 items, then the students’ movement demanded 11 items – the main sight behind both these movements were the confinement of the hero of history under the conspiracy case of Agartala.

Defense Counsel (Ekramul Haque): My Lord, I am sorry. My learned friend is thinking that I understand nothing. His way of questioning is not correct.

Prosecution Witness (Sayed Shahidul Haque Mama) told angrily, you have come as the agent of Rajakars of 1971, but I have come here in response of my conscience.

Prosecutor (Mohammad Ali) cooled down and told to say his statement.

Witness: By keeping 6 items’ and 11 items’ in front, we participated in movements. We went in front of Beauty Cinema Hall of Mirpur with procession. Then the leader of Muslim League S.A Khaleque and the sun of Monem Khan Md. Khoshru attacked and fired at the procession with their team.

Prosecutor: Then, what happened?

Witness: Then Quader Mollah of Jamaat-e-Islami, Dr. T. Ali, Hakka Gunda, Akhter Gunda, Nehal, Hasib Hashmi, Abbas Chairmen, Kana Hafez along with their followers invited Muslim League leader Khan Abdul Kaiyum who was known as Tiger of Border to defend 6 items’ and 11 items’ movement.

পরবর্তীতে, তিনি এই একই নামসমূহ মিরপুর এলাকার অন্যান্য পাকিস্থানপন্থি বিভিন্ন ঘটনার সাথে উল্লেখ করতে থাকেন। এ থেকে অনুমান করা যায় যে জনৈক কাদের মোল্লা অন্তত ১৯৬৬ সাল বা তারও আগ থেকে মিরপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে, অভিযুক্তের দাবি অনুসারে (এবং ধরে নেয়া যায় বক্তব্যের সমর্থনে অফিসিয়াল সার্টিফিকেট সরবরাহ করা হয়েছে) ১৯৬৬ সালে তিনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৬৮ সালে বিএসসি পাশ করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। শুধু তাই নয়, কাদের মোল্লার  বিরোধী শিবির কর্তৃক বহুল প্রচারিত উপরোক্ত কাদের মোল্লার সহপাঠী মোজাম্মেল খানের ভাষ্য এই বিবরণটিকেই সমর্থন দেয় যেখানে তিনি দাবী করেছেন ১৯৬৪-১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে এইচএসসি পড়াকালীন সময়ে কাদের মোল্লার হাউজমেট ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রকৌশল পড়ার জন্য ঢাকায় চলে আসেন, কিন্তু কাদের মোল্লা ঐ একই কলেজে বিএসসি পড়তে রয়ে যান।

এ থেকে প্রশ্ন জাগে, কোন কাদের মোল্লা তবে মামার ভাষ্য অনুযায়ী ১৯৬৬ সালে মিরপুরে বিহারীদের সাথে পাকিস্থানপন্থি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিল? কিভাবে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজের একজন নিয়মিত ছাত্র পড়া চলাকালীন সময়ে নিয়মিত ঢাকার মিরপুরে বিভিন্ন ঘটনায় অংশ নেয়?

  • ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ চলা কালে মিরপুরে বাঙ্গালি ও অবাঙ্গালি বিহারীদের মধ্যে চলা সংঘর্ষ ও নির্মম ঘটনাবলী নিয়ে তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টারি হচ্ছে Mirpur, The Last Frontier  

Mirpur, The Last Frontier, Part 1

Mirpur, The Last Frontier, Part 2

মিরপুরের বিভিন্ন ঘটনাবলীর চাক্ষুষ সাক্ষী হিসেবে শহীদুল হক মামা এবং কবি কাজি রোজি এই প্রামাণ্যচিত্রে বক্তব্য দেন। সমস্যা হোল, বিশেষভাবে মিরপুরের ঘটনাবলীর উপর নির্মিত দুই পর্বের এ প্রামাণ্যচিত্রের কোথাও শহীদুল হক মামা এবং কাজি রোজি কাদের মোল্লার নামই উল্লেখ করেননি, বরং কবি মেহেরুন্নেসা হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় বিশেষভাবে কেবল বিহারীদের কথা উল্লেখ করেছেন। শহীদ কবি মেহেরুন্নেসার উপর বিশেষভাবে লিখিত একটি বইতেও কবি কাজি রোজি কাদের মোল্লার নাম উল্লেখ করেননি। এ অসঙ্গতি আদালতের গোচরীভূত করা সত্ত্বেও আদালত তা আমলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। মিরপুরের শুধু একটি ঘটনায় ৩৪৪ জনের গণহত্যার মতো অভিযোগ যে লোকটির বিরুদ্ধে, তার নাম মিরপুরের ঘটনাবলীর উপর নির্মিত এতো বিশদ প্রামাণ্যচিত্রের কোথাও উল্লিখিত না হওয়া বিচিত্র নয় কি? আরও অদ্ভুত বিষয় হল, প্রামাণ্যচিত্রটিতে শহীদুল হক মামা বিশেষভাবে মিরপুরের কসাইখানার কথা উল্লেখ করেছেন যেখানে বিহারী কসাইরা বাঙ্গালীদের নির্মমভাবে অত্যাচার করেছে। এ থেকে প্রশ্ন জাগে ‘মিরপুরের কসাই’ নামে কুখ্যাত ব্যক্তিটি কি আক্ষরিক অর্থেই একজন ‘কসাই’ ছিল, যে সম্পর্কে জনশ্রুতি রয়েছে?

৫/ কসাই কাদের?

উপরোল্লিখিত ঘটনার বিবরণ এবং সময়লিপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাদের মোল্লার নয়, বরং সেই সময়ে মিরপুরের বাসিন্দা জনৈক কসাই কাদেরের উপস্থিতি সম্পর্কিত থিওরিকেই বরং সমর্থন করে বেশি। কসাই কাদের বলে আসলেই কি কেউ ছিল? এ সম্পর্কে নেট সার্চ করে যা পাওয়া যায়, তা হোল – 

  • জনৈক মোঃ নূরুল আমিন এর লেখা নিবন্ধ যাতে তিনি উল্লেখ করেছেন

…আমি ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রথমত ছাত্র হিসেবে পরে শিক্ষক সাংবাদিক হিসেবে ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনের সাথে জড়িত ছিলাম। কিন্তু কাদের মোল্লা নামের কোনও ব্যক্তিকে আমি জামায়াত বা ছাত্রসংঘের হয়ে কাজ করতে দেখিনি। মিরপুরে কসাই কাদের নামে একজন কাদের মোল্লা ছিলেন তার নাম আমরা শুনেছি। তিনি পেশায় কসাই ছিলেন এবং মানুষ হত্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। তার একভাই বহুদিন পর্যন্ত কাওরান বাজারে গোশত বিক্রি করতো। তার কাছে শুনেছি কসাই কাদের তথা মিরপুরের কাদের মোল্লাকে স্বাধীনতার পর হত্যা করা হয়েছে। আগেই বলেছি জামায়াতের কাদের মোল্লাকে ৭১ সালে আমি কখনো দেখিনি। তার বাড়ি ফরিদপুর; তিনি কখনো মিরপুরের বাসিন্দা ছিলেন না। … যেহেতু জামায়াতের কাদের মোল্লা কখনো মিরপুরে ছিলেন না, কোনও অপরাধ করেননি সেহেতু স্বাধীনতার পর থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তার বিরুদ্ধে কোথাও কোনও জিডি হয়নি, দালাল আইনে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি।

  • Somewhereinblog এ ভ্রমনবিলাসী বালকের লেখা

এটিএন বাংলা কসাই কাদের মোল্লার অপরাধ খুঁজতে গিয়ে আমাদের ঢাকা মিরপুর আসনের আসলামুল হকের পিতার নাম এসেছিল।কিন্তু মুফতে তার নাম গাপ করে ফেলা হয়েছে । এখন কেরানীগঞ্জে গেলে কিছু জানতে পারবেন কিনা জানি না । কিন্তু এটিএন বাংলায় এর তথ্য প্রমাণ সংবলিত ভিডিও গাপ না করে দিলে পেতে পারেন

  • শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা আর কসাই কাদের কি এক? ছবি কি বলে? তথ্যসূত্র এখানে

উপরের ছবিটি ট্রাইব্যুনালে সংরক্ষিত সরকার পক্ষের কৌসুলিদের জমা দেয়া কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মহা গুরুত্বপূর্ন একটি ডকুমেন্ট। ছবিতে জেনারেল এ এ কে নিয়াজীর পিছনে দাঁড়ানো মিরপুরের বিহারী ‘কসাই কাদেরকে’ আব্দুল কাদের মোল্লা বলে চালানো হয়েছে।নিচের ছবিতে ৯২ সালের রোকন সম্মেলনে তৎকালীন আমীরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের পাশে দাঁড়ানো আব্দুল কাদের মোল্লা।

বিশ্লেষণঃ ১৯৭১ সালে-

নিয়াজীঃ উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী নিয়াজীর বয়স ছিল ৫৭ বছর। উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি।

কাদের মোল্লাঃ বিভিন্ন সূত্রের তথ্যানুযায়ী কাদের মোল্লার বয়স ছিল ২২/২৩ বছর। উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি।

কসাই কাদেরঃ অসমর্থিত সূত্র এবং বিশ্লেষণ অনুযায়ী কসাই কাদেরের বয়স ছিল ৪৮ বছর। পাশে দাঁড়ানো নিয়াজীর সাথে তুলনা করলে বিহারী কসাই কাদেরের উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি।

প্রশ্ন-১: ৯২ সালে নিচের ছবিতে অধ্যাপক গোলাম আযমের পাশে দাঁড়ানো ৪৩/৪৪ বছর বয়স্ক কাদের মোল্লাকে যদি ২১ বছর আগে কল্পনা করা হয় তাহলে কি নিয়াজীর পাশে দাঁড়ানো ৪৮ বছর বয়স্ক ‘কসাই কাদেরের’ মতো মনে হবে?

প্রশ্ন-২: হিসাব অনুযায়ী নিয়াজীর চেয়ে প্রায় পৌনে ১ ফুট কম উচ্চতার কাদের মোল্লাকে নিয়াজীর পাশে দাড় করালে তাকে কি (কসাই কাদেরের মতো) প্রায় নিয়াজী বরাবর মনে হওয়ার কথা?

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকি বীরউত্তম, শাহবাগ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী তার এক কলামে বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে স্যাটায়ার করে লিখেন-

“পিতা, কাদের মোল্লাকে নিয়ে দেশ এখন উত্তাল, পুরা দেশে এক নাম- কাদের মোল্লা! তার ফাঁসির দাবী চলছে। কিন্তু পিতা তুমি হয়তো এই কাদের মোল্লাকে চিনোনা, কারণ আমাদের সময়ে যাদের যাদের বিচারের লিষ্ট আমরা বানিয়েছিলাম তাতে এই কাদের মোল্লা ছিলোনা। তুমি কীভাবে চিনবে, আমরাই তো কেউ চিনতাম না।”

৬/ সাক্ষী মোমেনা

যে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যে কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ হয়, তাঁর তিনটি ভিন্ন সময়ে একই ঘটনার তিনটি ভিন্ন বিবরণ পাওয়া যায় যা পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।  ২০০৭ এবং ২০১০ সালে দেয়া দুটি ভিন্ন বক্তব্যে তিনি অপরাধের জন্য কেবল বিহারী এবং পাক সেনাদের দায়ী করেছেন এবং কাদের মোল্লা বা অন্য কোন বাঙ্গালী এর সাথে জড়িত থাকার কথা বলেননি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রথম বক্তব্যে তিনি প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না বরং শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে উল্লেখ করেন। কেবলমাত্র তৃতীয় দফায় ক্যামেরা ট্রায়ালে মুখ ঢাকা অবস্থায় যে মোমেনা বেগমের সাক্ষ্য নেয়া হয়, তাতে তিনি কাদের মোল্লার নাম উল্লেখ করেন ও নিজেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে দাবী করেন। এ অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দাতার সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে ফাঁসির রায় দেয়া নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে। তাঁর পূর্ববর্তী বিবরণ ‘সাক্ষ্য’ ছিল, না ‘জবানবন্দি’ ছিল, না ‘বক্তব্য’ ছিল, তা নিয়ে আইনের ত্যানা পেঁচিয়ে পাতার পর পাতা ভর্তি করে ফেলা এবং তার ভিত্তিতে আদালতে তাঁর পূর্ববর্তী সাংঘর্ষিক বক্তব্য তুলে ধরার পরেও আদালত কর্তৃক তা আমলেই না নেয়ার সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ জাস্টিফাই করার চেষ্টা করতেই পারেন, তবে জনসাধারন্যে স্বাভাবিকভাবে এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় –      

 ৭/ ভি চিহ্ন 

অভিযুক্ত কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় পাবার পর ভি চিহ্ন দেখানোকে কেউ কেউ অন্যায়ের প্রতি তাঁর সমর্থনসূচক ভঙ্গি হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। এ ব্যাখ্যা যে ভুল, অভিযুক্তের স্ত্রীকে লেখা শেষ চিঠিই তার প্রমাণ যেখানে তিনি অভিযোগসমূহের দায়ভার সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এবং তার প্রতি আদালতের রায়কে প্রতিশোধমূলক ও অন্যায় বলে উপস্থাপন করে তাঁর পরিণতিকে মিসরীয় ধর্মীয় নেতা সাইয়্যেদ কুতুবের জালিমের হাতে শহীদি মৃত্যুর সাথে তুলনা করেছেন – সত্য এই যে, কেবল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় পাবার পর নয়, বরং ফাঁসির রায় পাবার পর, এমনকি ফাঁসির আগে তাঁর স্ত্রী তাঁর সাথে শেষ দেখা করে ফেরার পথেও ভি চিহ্ন দেখিয়েছেন। কাদের মোল্লা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে উত্থাপিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং যে অপরাধ তিনি করেননি তার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতেও অস্বীকার করেছেন। ভয় ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাকে তিনি তাঁর নৈতিক বিজয় হিসেবেই দেখেছেন বলে মনে হয়।

৮/ পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া 

১৯৭১ এ পাকিস্তানকে সমর্থন করার কারণেই জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হয়েছে, এ মর্মে পাকিস্তানের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের বক্তব্যকে অনেকে কাদের মোল্লার অপরাধ প্রমাণে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে নিয়েছেন। এ যুক্তি হাস্যকর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির বিষয়টি ঠিক এভাবেই উপস্থাপিত হয়েছে, তাই এ বক্তব্য তার প্রতিক্রিয়া হওয়াই স্বাভাবিক। মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পর কাদের মোল্লাই যে মিরপুরের কসাই কাদের, তা প্রমাণ করতে প্রসিকিউশনের বাঘা বাঘা উকিলদের ঘাম ছুটে গেল, আর কোথাকার কোন ইমরান খান, যিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজনীতির ধারেকাছেও ছিলেন না, যিনি কাদের মোল্লাকে কখনও দেখেছেন বলেও জানা যায় না,  তাঁর এক কথাতেই প্রমাণ হয়ে গেল কাদের মোল্লাই ছিলেন মিরপুরের কসাই?

৯/হাতের লেখার ভিন্নতা

সম্প্রতি সাবেক এমপি রনিকে লেখা কাদের মোল্লার চিরকুট এবং স্ত্রীকে লেখা শেষ চিঠির হাতের লেখায় ভিন্নতা তুলে ধরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিষয়টি যদিও আদালতে ধর্তব্য ছিল না, তবে একটি বিষয় না বললেই নয়, এমপি রনির নিজস্ব সংবাদপত্রে প্রথম প্রকাশিত খবরে এ জাতীয় কোন চিরকুটের ছবি দেয়া হয়নি এবং এখনও নেই। বরং সংবাদটি প্রকাশিত হবার পর বহু রকম চিরকুটের ছবিই ইন্টারনেটে তুলে দেয়া হয় যার একটি নিচে দেয়া হোল। নিজ নামে কোন চিরকুটের ছবি প্রকাশ না করা ছাড়া এর পক্ষে-বিপক্ষে রনির কোন বক্তব্য চোখে পড়েনি।

১০। পরিশেষ 

সাম্প্রতিককালে ফাঁসিপ্রাপ্ত কাদের মোল্লাই ‘মিরপুরের কসাই কাদের’ কিনা, এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই।  এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কাদের মোল্লার বিরোধী পক্ষ সচরাচর বলে থাকেন, কাদের মোল্লা যদি ‘মিরপুরের কসাই কাদের’ না হবেন, তবে তাঁর কৌঁসুলিদেরই প্রমাণ করার দায়িত্ব ছিল আসল কাদের মোল্লা কে ছিল, কোথায় গেল, ইত্যাদি। উপরে উল্লিখিত তত্ত্বসমূহ বাদ দিলেও এ যুক্তির অসারত্ব প্রমাণে বলা চলে – burden of proof lies with the accuser, not the defendant. ফরিদপুরের কাদের মোল্লা তাঁর ফরিদপুর কেন্দ্রিক জীবন বৃত্তান্ত এবং ঘটনা চলাকালীন সময়ে ফরিদপুরের সদরপুরে তাঁর উপস্থিতি প্রমাণে একাধিক অন্যত্রস্থিতি (alibi) সাক্ষী উপস্থিত করেছেন প্রসিকিউশন যাদের বক্তব্য মিথ্যা প্রতীয়মান করতে পারেননি। অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এটুকু করাই যথেষ্ট। সত্য এই যে, অভিযুক্তকে কেবল পাঁচজন alibi  সাক্ষীরই অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এর বাইরেও অভিযুক্ত একাধিক বরেণ্য ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন যাদের উপস্থিত করেও প্রসিকিউশন অভিযুক্তের alibi এবং ভাষ্য মিথ্যা প্রমাণ করতে পারতেন। এ বিষয়ে আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি, যার জন্মস্থান আলোচিত ফরিদপুরের  সদরপুরে, তিনি “কাদের মোল্লা বনাম কসাই কাদের” শীর্ষকনিবন্ধে লিখেছেন

কাদের মোল্লা উল্লেখ করেছেন, তিনি সদরপুরে আরও ৩০-৩৫ জনের একদল যুবককে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছেন! কি ভয়াবহ বক্তব্য। প্রসিকিউশনের উচিত ছিল যথাযথ যুক্তিপ্রমাণ উত্থাপন করে এ বক্তব্যটিকে মিথ্যা প্রমাণ করা। কাদের মোল্লা বলেছেন, যুদ্ধকালীন পুরোটা সময় তিনি পীর সাহেবের বাড়িতে ছিলেন। তার টাকা দিয়ে তিনি চৌদ্দরশি বা সাড়ে সাতরশি বাজারে ব্যবসা করতেন পীর সাহেবের দোকানঘরে বসে। চৌদ্দরশি বাজার ফরিদপুর জেলার মধ্যে অন্যতম বৃহৎ বাজার। স্বাধীনতার সময়ও এই বাজার বসত প্রতি শনি এবং মঙ্গলবার। কম করে হলেও ৫০ হাজার লোকের আগমন ঘটত হাটের দিনে। পীর সাহেবের দোকানটি ছিল সবচেয়ে বড় এবং বাজারের একমাত্র দ্বিতল টিনের ঘর। পীর সাহেবের মেজ ছেলে রহিচ ব্যবসা-বাণিজ্য দেখতেন। পরবর্তীতে তিনি ডাকাতের গুলিতে মারা যান। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের সময় কাদের মোল্লা যদি ওই বাজারে ব্যবসা করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে অন্তত এক লাখ লোককে সাক্ষী হিসেবে পাওয়া যাবে। আরও একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে পাওয়া যেতে পারে। সাপ্তাহিক বিচিত্রার এককালীন চিফ রিপোর্টার বিশিষ্ট সাংবাদিক কাজী জাওয়াদ মুক্তিযুদ্ধ ও তৎপরবর্তী সময়ে চৌদ্দরশি বাজারে ব্যবসা করতেন। কাজী জাওয়াদ বিচিত্রা ছেড়ে লন্ডনে বিবিসি বাংলা বিভাগে চাকরি করতেন এবং এখন তিনি বিলাত প্রবাসী। তাকেও সাক্ষী হিসেবে আনা যেত। কাদের মোল্লা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা-উত্তরকালে তিনি রাইফেলস্ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যাপনা এবং স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে বাইশরশি স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। তার ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন উঁচুপদে এমনকি সচিব পদমর্যাদায় চাকরি করছেন। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রসিকিউশন আরও অনেক নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে পারতেন। তিনি ঢাকা প্রেস ক্লাবের সদস্য_ দু-দুইবার নির্বাচিত সহ-সভাপতি ছিলেন। কাজেই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এমন একাধিক জাতীয় ও বরেণ্য সাংবাদিককে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা যেত।

alibi সাক্ষীদের বক্তব্যের বিপরীতে ফরিদপুরের কাদের মোল্লাই যে ৭১ এর কুখ্যাত “মিরপুরের কসাই” – এ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার দায়িত্ব ছিল প্রসিকিঊশনের, ফরিদপুরের কাদের মোল্লার নয়। উপরে উল্লেখিত বিভিন্ন প্রশ্ন ও তথ্য সম্পর্কিত অসঙ্গতিই প্রমাণ করে কাদের মোল্লার আইডেন্টিটি এবং অপরাধ সংঘটন স্থলে তাঁর উপস্থিতি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে প্রসিকিঊশন ব্যর্থ হয়েছেন। কাদের মোল্লা ও মিরপুরের কসাই কাদেরের পরিচয় নিয়ে প্রশ্নের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে যার কিয়দংশ এখানে তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃত সত্য কোনটি তা আল্লাহই ভাল জানেন। আমাদের জন্যে তাঁর পথ-নির্দেশনা কেবল এটুকুই –

“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে এবং কোন সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। সুবিচার কর, এটাই খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে খুব জ্ঞাত।”  – আল মায়িদাহ, ৫:৮

“O ye who believe! Stand out firmly for Allah, as witnesses to fair dealing, and let not the hatred of others make you swerve to wrong and depart from justice. Be just: that is next to piety: and fear Allah. For Allah is well-acquainted with all that ye do.” – Al Mayidah, 5:8

১১/ এক নজরে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

তথ্যসূত্র:

  1. http://bangladeshwarcrimes.blogspot.com/
  2. http://blog.priyo.com/golam-maula-rony/41154.html
  3. http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/12/18/228822#.UrEe-mp8Opo
  4. http://bangladeshwarcrimes.blogspot.com/2013/02/15-nov-2012-mollah-1st-defense-witness.html
  5. http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=16&dd=2013-09-22&ni=149559
  6. http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2_%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8_(%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7_%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B2)_%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6_%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AD%E0%A7%A8
  7. http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=38384
  8. http://bangladeshwarcrimes.blogspot.com/2012/07/10-jul-molla-1st-witness-testimony.html
  9. http://www.youtube.com/watch?v=0g-JWMQD1BU
  10. http://www.youtube.com/watch?v=VcoXGiKNU7o
  11. http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=127976
  12. http://www.somewhereinblog.net/blog/qamark67/29767717
  13. http://chairmanbd.blogspot.com/2013/12/blog-post_6406.html
  14. http://webcache.googleusercontent.com/search?q=cache:Mij688HzN-gJ:www.somewhereinblog.net/blog/hiravisa/29769330+&cd=2&hl=en&ct=clnk&gl=us
  15. http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2_%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8_(%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7_%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B2)_%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6_%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AD%E0%A7%A8

A Time to Love and a Time to Die- 1 – A Note on Neo- Nazi Propaganda Machine of AL

7

by M Chowdhuri

“Be careful of what you say” – is the common theme of all advises I have received from friends and families in my recent visit to Dhaka. Deserted streets of the capital, news of death and there was fear in the air; I could not help but feeling like the Erich Maria Remarque character Ernst Graeber in Nazi Germany. Since I don’t have any delusion about soldiers of any war, that “Graeber Syndrome” passed away soon enough. However, I could not stop wondering if what I am feeling and seeing is a Deja Vu from someone living in Berlin during the rise of Nazis.

This uneasy feeling kept growing with every passing day as I continue to witness how the government is controlling the media (social and otherwise), manipulating the nation with effective use of propaganda and amongst all these, the regime is steadily working towards what it wants with. And it is working to an extent.  The regime’s ultra nationalist armies ( “GonoJagoron Moncho” and all) playing their parts with organizing  colourful rallies, gathering, protests and actions keeps reminding me of the SA of the German Nazis, their elite intelligentsia with all its extreme dedication for the cause reminds me of the Ahnenerbe if the Nazis.

Last few weeks our national headlines reported, death of 100+ people in a time span of little over 3 weeks, various cities being “occupied” by the Oppositions ( as if we are in a middle of a war), questionable execution of a political personality  and the law enforcement agencies preparing for assaults (and then the assault) in the “occupied territory” with the help of Chatra League, Awami Leagues student wing. During the same period, the regime also “re-elected” themselves by gaining majority seats in the parliament in a “voteless” election.

 clip_image002[2]

However, the regime did attempt diversions to everything above with staging events like 1) creation of the largest national flag, 2) National Anthem sing-off with 200 thousand voices etc.  Apparently the nation “came together” as “one” and celebrated the “days of days” with pride. I asked one of my friends, if he felt in any shame in celebrating a victory that failed to establish justice and peace in the land if there was a pang of indignity in celebration when the nation is clearly in dismay; with pride he told me that I did not know what I was talking about and if I were there ( in the flag making event), I too would be “mesmerized” by the “unity of the nation”.

And that gave me clarity; The rallies, the mass gathering and celebrations has the power to create a sense of belongingness. And the current regime has been using this as a propaganda weapon for at least a year now. It all makes sense, this is why when an “issue” dies out, the so called GonoJagoron Moncho need to find another “issue” to keep ball rolling.

 I once read a confession of a Nazi (Hans Grimdt) I read once, it goes like:

“It was my first time at a rally in 1935.  …..The sight of tens of thousands people standing shoulder to shoulder with each other shouting Heil Hitler took my breath away. From that moment on, I love the Nazis”

 clip_image004[2]

I know a number of people (who were not used to be pro-Awami League) blown away by the calls of “Ditiyo Muktijuddho” describing their experience of the ” GonoJagoron ” festivities using similar words- the similarity of the experience is frightening .

Hitler and Goebbles operated in an all encompassing propaganda machine which included press (controlled), art, music, rallies, posters, radio, schooling and parades etc.  A careful consideration of the propaganda machine of the current regime in Bangladesh will make you wonder if a modernized and more aggressive propaganda machine is in play. The greatest display of the neo-fascist mentality of the Bangladesh’s Awami regime is the example they made out of “Amar Desh” editor Mahmudur Rahman and other media (Diganta TV, Islamic TV), which is not very different from the strategy adopted by Nazi regime in Germany.  I was particularly baffled by the ban on the Islamic TV- one of my friend ( who is a virtual spoke person of the GonoJagoron Moncho) explained to me that the Islamic TV (the fundamentalist Islamic people) promotes ideas that are “un bengal”. I ignored this as a personal view initially, but I was convinced when the Awami Intelligentsia decided to propagate the same ideas in national TV. This ultra-nationalist tactics is no different than Nazi tactics of labeling opposing ideas  as “un-German” ( in a famous move, Joseph Goebbls disrupted  the premier of the movie All Quiet on the Western Front on December  5, 1931 and later banned the movie as un-German).

And the Awami propaganda machine is somewhat successful in creating a group of people who, blinded by the Awami dogma are trying to fighting a battle which is long over. This same group of people stands by the regime supporting the massacre of Shapla Chottor in the name of progressiveness, shows absolute zero reactions to the arrests of fellow online activists in the name of peace  and forgets to utter a single word of protest when the regime “re-elects”  itself in a voteless election. This groups labels anyone against the doctrine  as “enemy of the state” ( Razakar, Paki etc. etc.)  with such conviction that renowned freedom fighters like Kader Siddiqi is not even spared. All in the name of democracy and liberation. What Awami propaganda machine does for the regime is exactly what Hitler dreamt his own propaganda machine to do:

“Propaganda tries to force a doctrine on the whole people… Propaganda works on the general public from the standpoint of an idea and makes them ripe for the victory of this idea.”

After Kader Mollas execution, I asked a friend if he was convinced of his guilt. His answer was,

“No, I am not. The excuse of justice should not stop us from eradicating the Razakars from Bangladesh ” .

Frightfully close to Hermann Göring declared on March 3rd, 1933:

“I don’t have to worry about justice; my mission is only to destroy and exterminate, nothing more!”