রিপাবলিকান পার্টি ভার্সাস আওয়ামী লীগ

  • পলিটিক্যাল ওরিয়েন্টেশনে উল্টো মেরুর হলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সমর্থকদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টি, বিশেষভাবে নিও-কনদের ব্যাপক মিল লক্ষ্য করা যায়। রিপাবলিকান পার্টির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অন্যদলের তৈরি স্থিতিশীল ও বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির কাঁধে চড়ে ক্ষমতায় এসে সবকিছু ফেলে রেখে যুদ্ধের দামামা বাজানো শুরু করা। হাওয়া থেকে পাওয়া, অথবা ক্ষেত্রবিশেষে নিজেদের তৈরি করা খবরের উপর ভিত্তি করে পায়ে পা বাঁধিয়ে যুদ্ধাবস্থা তৈরি করা বা যুদ্ধ লাগিয়ে ছাড়া। তাদের পালে ক্রমাগত হাওয়া দিতে থাকে হেরিটেজ ফাউন্ডেশন বা ফক্স চ্যানেলের মতো আশীর্বাদপুষ্ট ঘৃণাজীবি থিংকট্যাঙ্ক ও মিডিয়া – ব্যাপারটা যেন, এ মুহূর্তে আমেরিকা বা বিশ্বের জন্য এটাই সবচেয়ে জরুরী কাজ, বাকি সব গৌণ। অন্য সকল ক্ষেত্রে তাদের ব্যাপক ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে কৃত্রিম ভাবে যুদ্ধাবস্থা তৈরির এই কৌশল রিপাবলিকান পার্টির সিগনেচার মুভ। পেছন থেকে মদদ যোগায় AIPAC এর মতো যায়োনিস্ট লবি এবং ডিক চেনির হ্যালিবার্টনের মতো সংস্থাগুলো যারা যুদ্ধক্ষেত্রে রসদ ও সার্ভিস পৌঁছানোর বিলিয়ন ডলারের কন্ট্রাক্ট নিয়ে কাড়াকাড়ি করে, যুদ্ধ যাদের কাছে শুধুই ব্যবসা। চতুর্মাত্রিক প্রচারণায় বিভ্রান্ত জনগণ পুরোপুরি বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ।

    আমেরিকার জনগণের বৈশিষ্ট্য হোল এরা যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্টের পাশে থাকে, অন্তত বেশ কিছু সময়ের জন্য। জাতির ক্রান্তিলগ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জনগণের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে অনায়াসে পার করে দেয়া যায় দুই টার্ম। কিন্তু ততদিনে সর্বনাশ যা হবার তা হয়ে গেছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা যুদ্ধে উদরপূর্তি হয়েছে হ্যালিবার্টন সমগোত্রের, ফলস্বরূপ জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড গেছে ভেঙ্গে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সাধারণ জনগণ যখন অনুধাবন করে পরের বেলার অন্ন সংস্থানই এ মুহূর্তে তাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা – বিশাল কোন মতাদর্শিক সংকট বা গায়ে পড়ে বিশ্বের মোড়লগিরি নয়, পরবর্তী নির্বাচনে তাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করে। অন্য দল ক্ষমতায় আসার পর আর সব ছাপিয়ে তাদের একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান হয়ে ওঠে বা উঠতে বাধ্য হয় ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতির পুনরুদ্ধার। ভুল এ দলটিও যে করে না, তা নয়। তবে পায়ে পা বাঁধিয়ে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায় তাদের উৎসাহ কম, আর সে সুযোগই বা কোথায়? বন্ধ হয়ে যাওয়া অর্থনীতির চাকা রাতারাতি চালু হচ্ছে না কেন, এ নিয়ে জনগণ ও বিরোধী দলের কাছে ক্রমাগত জবাবদিহি করতেই নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম। একসময় অর্থনীতির চাকা ঘোরে, স্থিতিশীল ও বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির কাঁধে বন্দুক রেখে রিপাবলিকানরা জনগণকে বুঝিয়ে চলে Clash of Civilization এর সংকট এবং তাতে আমেরিকার নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা। হালে সবখানে তারা দেখতে পায় মৌলবাদ ও ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের উত্থান, কেউ না চাইলেও তারা দেখতে পায় আমেরিকায় বসে শরীয়াহ আইন বাস্তবায়নের অবাস্তব দাবী এবং তার মারাত্মক কুফল! শুরু হয় তাদের সিগনেচার ট্যাক্টিক্স – fear and hate mongering. মৌলিক চাহিদা পূরণ হবার পর উদ্বৃত্ত অর্থনীতিতে বলীয়ান জনগণ মনে করে, তাই তো! দেখাতে চাওয়া জুজু তারা আবার দেখতে শুরু করে। অতীত-অভিজ্ঞতা ভুলে গিয়ে তারা চেতনাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে। শুরু হয় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি!

    ডিটেইলস ও পরিসরে পার্থক্য ছাড়া আমেরিকার জায়গায় বাংলাদেশ এবং রিপাবলিকান পার্টির জায়গায় আওয়ামী লীগকে প্রতিস্থাপন করুন – ঘটনাপ্রবাহ খুব চেনা মনে হয় কি?

    তবে কিনা যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এ খেলায় তিতিবিরক্ত হয়ে উঠলে আর কিছু না হোক, চার বছর পরপর অন্তত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্যান্য চেক-অ্যান্ড-ব্যালান্সের সুযোগ নিশ্চিত রাখার কথা বাদই দিলাম। অন্যদিকে কেবল নামে গনতান্ত্রিক হয়ে ওঠার দাবিদার বাংলাদেশে পাঁচ বছর পরপর একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের গ্যারান্টিও নেই!

ভূমি-দেশ-রা​ষ্ট্র

by Mohsen Alam

সময়টা যদি সাতচল্লিশের পর কোনো একদিন হয়, তাহলে চাটগাঁ অথবা মাদারীপুরের কৃষক চাষ করতেছিল পাকিস্থানের পূর্ব-বাংলাতে। আচ্ছা সেদিন কি কোনো ‘পাকিস্থানী বাঙালি’ই একটা নতুন দেশ-পতাকার জন্য গর্ববোধ করে নাই? মনে হয়, করেছিল। এখন অস্বীকার করলে কিচ্ছু সমস্যা নাই, তবে করেছিল মনে হয়। হ্যাঁ, বাংলার খন্ডন নিয়ে অনেকের বেদনা ছিল তা সত্য, তবে স্বাধীন হওয়ার আনন্দও কম মানুষের ছিল বলে মনে হয়না। পয়ষট্টির যুদ্ধে আনন্দের শরীকও কম ছিলনা বলে জানি। কিন্তু এইসব আনন্দ-উল্লাস কখনো ধ্রুব বিষয় না। ধ্রুব হল মুক্তির ব্যাপারটা। আনন্দ থাক আর না থাক, মুক্তির চাহিদা ফুরায় না কখনো। এই চাহিদাটার স্বরূপ কেমন? এই চাহিদার বলে বলীয়ান হয়ে কৃষক যে ব্রিটিশ শাসিত ভূমিতে চাষ দিত সেই ভূমি পাকিস্থান শাসিত হয়। এই চাহিদার জন্যেই নয়া পতাকা নিয়ে তৃপ্ত হতে হয়। কিন্তু এই যে আনন্দের চেয়ে মুক্তি বড়, আর মুক্তির জন্য দুঃখ সহ্যে লজ্জা থাকেনা, তখন সেই চাষকৃত ভূমির নয়া নাম দরকার হয়। নয়া নামের আড়ালে নয়া শাসনতন্ত্রের অধীনের শাসিত হয়। শাসনতন্তের শাসন আর শাসিতের শোষিত হওয়ার মাত্রার যুগল যখন বড় বেশী উদ্দাম হয়ে যায়, তখন সেই ভূমি আনচান করে উঠে। চাষ দিতে যাওয়া কৃষকেরা সেই আনচান টের পেয়ে যায়। এই টের পাওয়া যাওয়ার ঘটনাটা সোজা-সরল না, কষ্ট আছে। এই কষ্টের বিনিময়-মূল্য হিসেবে মনে হয় আরেকটা নয়া পতাকা লাগে, নয়া নিঃশ্বাস লাগে। সেই ভূমি কিন্তু একই। এই ভূমির নাম-মালিকানা পরিবর্তন কখন কখন দরকার হয়ে পড়ে তা গুরুত্বপূর্ন। আনন্দ কখন নিঃশেষ হয়ে যায়, সেই ক্ষনটা বুঝার জন্য চাষ দিতে হয়, চাষ দিতে হয় হাজার বছরের পুরনো ভূমিতে, মালিকানা পরিবর্তন হওয়ার আখ্যান সে ছাড়া আর কেউই জানেনা।

কোন শাসনতন্তের শাসিত হবে সেইটা নির্ধারন করার অধিকার ভূমিরই, এই অধিকার খর্ব করে ফেলা যায় না কোনো সাফ কবলা-রেজিস্ট্রি করে।

শাসিত হওয়াটাই একটা শোষিত ধারনা। তারপরও একটা সময় শোষনের ব্যাপার পষ্ট হয়ে আরো উঠে। সেই সময়ে শোষনের বিপক্ষে, শাসনতন্ত্রের বিপক্ষে বলাটাই, প্রতিরোধে যাওয়াটাই ভূমি-কর্তব্য, দেশপ্রেম। আর প্রতিরোধের প্রতিপক্ষ বনে যাওয়া মানে রাষ্ট্রপ্রেমে মশগুল হওয়া, রাজাকারিতে লিপ্ত হওয়া, সর্বোপরি নৈতিক শয়তানের দিকে ধাবিত হওয়া। যেই শয়তান অত্যন্ত নৈতিক কারনে মাটির আদমেরে সিজদা দিতে অস্বীকার করে!

আমি ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিকভাবে শাসনের রাজনীতির লোক না। আমার রাজনীতি খেদমতের। কিন্তু তাও শাসক-শাসন-শোষিতের পূর্বেকার হিসাবের ফয়সালা করা নায্যতা হারায় না। প্রকৃতির খেদমত করে তাকে কাজে লাগানো, আর প্রকৃতিকে শাসন করে ভোগ করা; পার্থক্যটা এমনই। গরু কোরবান দেওয়া, আর গরু হত্যা করা; ফলাফল যদিও এক মনে হয় চর্মচোখে, দেখতে গেলে কিন্তু ভিন্ন। প্রানের দায় স্বীকারই রাজনীতি।

রফিউর রাব্বি – যিনি হাঁটছেন আপনার বিপরীতে

by Fakaruddin Ahmed

টর্চারসেল পরিচালনাকারীরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে।  এটা কোন বি এন পি জামাতির কথা না , এটা রফিউর রাব্বি আজ ফেসবুকে লিখেছেন ।

রফিউর রাব্বি নারায়ন গঞ্জ আওমি লীগের একজন নিবেদিত প্রান কর্মি, তার বাইরে উনি মুলতঃ একজন শিল্প সাহিত্যর মানুষ । আজ আমাদের চোখ এমন পট্টি দিয়ে আবৃত , আমরা তার কান্না দেখছি না ,  আমাদের কান ভরা তুলা আমরা তার কান্না শুনতে পারছি না ।
একটা যুদ্ধে মানুষের মৃতুকে আপনি জাসটিফাই না করেন, তবু মেনে নেন। তার বিচার হতে পারে; তা আমরা দেখেছি।
কিন্তু তকির মৃতুকে কিভাবে মেনে নিব আমরা ?
ত্বকি হত্যার বিচারের জন্য কি আমরা ৪২ বছর অপেক্ষা করতে চাই ?
আর ত্বকি হত্যার আসামি মাফিয়া গোস্টি-কে আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিয়ে যাব ?
একটা প্রতিবাদ হবে না ?
আমাদের মিডিয়া , আমাদের মধ্যবিত্ত সুশিলতা, আমাদের ইন্টেলেকচুয়াল হতে চাওয়া চোখ ব্যস্ত পাকিস্থানি ইমরানের পাছায় লাঠির ঘা বসাতে কিংবা দশিটার পাছায় মলমের মালিশ দিতে ।

কিন্তু একজন মানুষ, একজন রফিউর রাব্বি নিজের ত্বকিকে

হারিয়ে ভাবছেন বাংলাদেশের সব ত্বকিদের কথা।
এভাবেই কী একজন রফিউর রাব্বি-ই কি আমার প্রত্যেকের ঘরের ত্বকির কথা ভাববে ?

বিশ্বজিত হত্যা মামলার নিস্পত্তি নাকি আরেক নাটক?

 

এম এন বি আসাদুল্লাহ

দীর্ঘ একবছর পর পুরান ঢাকার দর্জি বিশ্বজিত হত্যা মামলায় অবশেষে একটা সুরাহা হল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ শাখার ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় আজ।

আমরা সবাই এই রায়ে সন্তুষ্ট। কিন্তু এই খুনের দায়ে কারা দায়ী এটা তো অনেকেই আগে থেকে জানেন, তাহলে রায় হতে দেরি হল কেন?

এখন সরকার যদি বলে যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য তারা অতি বেস্ত ছিলেন, তাহলে তারা বিশ্বজিতের মামলাটাকে স্পিডি ট্রায়াল ট্রাইব্যুনালের মধ্যে কেন রাখলেন?

দ্রুত বিচার মানেটা কি? মানে হল, এই অপরাধে যারা দায়ী তাদের অপরাধ বেশ গুরুতর হবার কারনে তাদের দ্রুত শাস্তি নির্ধারণ করা। সরকারের কাছে দ্রুত মানে এক বছর, সেটা বুঝতে পারছি এখন।

৪২ বছর আগে যে যুদ্ধাপরাধ হয়েছিল সেগুলোর শাস্তি হবে অবশ্যই, কিন্তু মাত্র কিছুদিন আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন নিরপরাধ মানুষ খুন হয়েছে তার প্রতি ন্যায়বিচার হওয়াটাও ততধিক প্রয়োজন।

আরেকটা প্রশ্ন যে কারো মনে আসাটা স্বাভাবিক সেটা হল যুদ্ধাপরাধের বিচারতো বহুদিন ধরেই চলছে, সরকারের একবারের মেয়াদে তো সেটা শেষ হয়নি। তাহলে এত তড়িঘড়ি কেন?

সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজার শেষ মুহূর্তে কাদের মোল্লার ফাঁসি এবং বিশ্বজিত হত্যা মামলার রায়ের একটা সম্পর্ক না থেকে যায়ই না।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত এক আসামি বলেন তার কিছুই হবে না। ঠিকই ফাঁসি এড়িয়ে উনি সহিসালামত বের হয়ে আসবেন। মৃত্যুদণ্ড পাবার পর এমন আত্মবিশ্বাস সরকারের চাটুকার ছাড়া আর কারো থাকাটা স্বাভাবিক না।

এটা বিশ্বাস করাটা মোটেই অস্বাভাবিক না যে সরকার পরিবর্তন হবার আগে হয়ত এই ফাঁসি কার্যকর হবেনা। আর যদি নাই হয়, তাহলে এই শাস্তি কালের অতলে হারিয়ে জাবার সম্ভাবনা তো থাকছেই।

ধরে নিলাম, সরকার আরেকবার ক্ষমতায় আসল এবং এখনও পর্যন্ত যেটা খুবই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তাহলে কি হবে? তাহলে কি ফাঁসি কার্যকর হবে?

ফাঁসি কার্যকর না হলে কি গনজাগরণের মত কোন জাগরণ জাগ্রত হবে? নাকি এদেশের মানুষের কাছে পরিস্থিতি অনুযায়ী অপরাধের রঙ বদলায়?

ফেলানি হত্যা রায়ের পর কিন্তু আমরা এমন কোন গণজাগরণ দেখিনি। তখন আমাদের শাহবাগি চেতনা কি উটপাখির মত মাথা লুকিয়ে বসেছিল?

আছে সাগর-রুনির হত্যা মামলা। সাংবাদিক মহল ছাড়া আর কাউকে কিন্তু তাদের চেতনা দেখাতে রাস্তায় বের হতে দেখা যায়নি।

এই সরকার যখন হাটি হাটি পা পা তখনি বিডিআর হত্যাযজ্ঞ হয়। কয়জন মানুষকে রাস্তায় দেখা গেছে আমাদের সোনার ছেলেদের মৃত্যুর বিচার দাবি করতে?

যদি ফাঁসি কার্যকর হয়েই যায় তাহলে তো ভাল নাহলে কি হয় সেটাই দেখার বিষয়। আশা করব চেতনা দুই চখামি করবেনা।

সময়েই সব বলে দিবে কি হয়।

প্রথম কৌতুক, দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের পরে……

by নিরীহ পাবলিক

এক লোক নদীর কিনারায় হাঁটু পানিতে নেমে কি যেন খোঁজাখুঁজি করছে। আরেক লোক পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জিগায়, ‘ও ভাই, হাঁটু পানিতে নেমে কি খুঁজতাছো?’

১ম লোকঃ ‘আমার হাত ঘড়িটা নদীতে পইড়া গেছে, সেটাই খুঁজতাছি’।

২য় লোকঃ ‘তা কোন জায়গায় পড়ছে সেইটা মনে আছে’?

১ম লোকঃ ‘হ ভাই মনে আছে, নৌকা দিয়া নদী পার হইতে ছিলাম, যেই মাঝ নদীতে আইলাম অমনি হাত থেইকা ঘড়িটা পড়ে গেলো’।

২য় লোক এইবার তাজ্জব হয়ে বললোঃ ‘ঘড়ি পড়ছে নদীর মাঝখানে আর খুঁজতাছো এই কিনারে আইসা?! মাথামুথা ঠিক আছেতো তোমার’?

১ম লোকঃ ‘ধুর মিয়া, আমারে পাগল পাইছো! নদীর মাঝখানে যে গভীর পানি আর যে খরা স্রোত! ঐখানে নাইমা ঘড়ি খুঁজবো, আমার কি জানের মায়া নাই!? কিনারে পানি কম আছে, তাই এইখানেই খুঁজতাছি’।

আমাগো শাহবাগী মুক্তিবাহিনীর কান্ড দেইখা কৌতুকটা মনে পড়লো। কাদের মোল্লার ফাঁসী নিয়া ইউরোপ, আমেরিকা, জাতিসংঘ সবাই বিরোধীতা কইরা নাক গলাইলো (যাদের গলিত নাকের প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব চাইতে বেশী)। শাহবাগী মুক্তিবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোন কর্মসুচী দেয়ার সাহস পাইলো না। যেই পাকিস্তানীরা (যাদের পরের দেশে তো বটেই নিজেদের দেশেই নিজেদের নাক গলানোর ক্ষমতা নাই) ঘটনার নিন্দা জানাইলো অমনি আমাদের শাহবাগী মুক্তিবাহিনী বিপুল বিক্রমে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো। মরা ছাগল মাইরা বীর বাঙ্গালী বীরত্ব দেখাইতাছে। আরে বেটা হিম্মত থাকলে আমেরিকান এম্বেসী ঘেরাও কর, আমেরিকা সহ যেসব দেশ ফাঁসীর বিরোধীতা করছে তাদের এম্বেসী ঘেরাও করে সেইসব দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন কর, সেইসব দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার কর।

দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিবাহিনীর হিম্মত দেইখা সন্দেহ হইতাছে আমাগো চেতনাধারী বুদ্ধিজীবিরা থর থর আবেগী গলায় যে ১ম মুক্তিযুদ্ধের দুর্দান্ত কাহিনী শোনান সেগুলা কি আসলেই সত্য, নাকি সেগুলাও তাদের রংচং লাগানো এই মরা ছাগল মারার কাহিনী। একদিকে সাধারণ মানুষ অকাতরে জীবন দিছে আর মুরগী শাহরিয়াররা মুরগী সাপ্লাইয়ের মাঝখানে মরা ছাগল মেরে বীর বাঙ্গালী হয়ে গেছে। বিশেষ করে আমাদের নব্য ইতিহাসবিদ, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ শাহবাগী, ১ম মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট (পলাতক) মুক্তিযোদ্ধা জাফর ইকবালের ইতিহাসের বয়ান শুনে খালি আরেক বিশিষ্ট প্রগতিশীল হুমায়ূন আজাদের প্রবচন খানা মনে পড়ে, ‘ইতিহাস হচ্ছে বিজীতদের বিরুদ্ধে বিজয়ীদের রচিত একরাশ কুৎসা’/ সমালোচকদের কাছে সময় থাকতে বলে রাখা ভালো মতখানা আমার নয়। যাওজ্ঞা, ছোটবেলা থেকে বিশ্বাস করে আসছি জাফর ইকবাল স্যার ‘কল্পকাহিনী’ ভালো লেখেন, স্যারের প্রতি আমার সেই বিশ্বাস এখনো অটুট আছে।

“দি মুক্তিযুদ্ধ ইন্ডাস্ট্রি”

by Jahid Islam

“দি হলকাস্ট ইন্ডাস্ট্রি” নামে একটা বইটি আছে । লিখেছেন অ্যামেরিকান ভদ্রলোক নরম্যান ফিঙ্কেলস্টাইন। বইটিতে তিনি তুলে ধরেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদীদের উপর নির্যাতন এর কাহিনীকে কেন্দ্র করে কীভাবে একটি বিশেষ সুবিধাবাদী শ্রেণী গড়ে উঠেছে। কোন সন্দেহ নেই যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদীদের উপর কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে ভয়াবহ অত্যাচার হয়েছে। তবে এটিকে কেন্দ্র করে যেই সুবিধাবাদী শ্রেণী মুনাফা অর্জন করছে তিনি এই বইতে তাদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। তিনি দি নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকাকে এই কনসেপ্টের প্রমোশনাল ভেহিকেল বলেছেন।

আমাদের দেশের জন্য একটা বই লেখা দরকার। নাম হতে পারে দি মুক্তিযুদ্ধ ইন্ডাস্ট্রি”।আমাদের  দেশে ইন্ডাস্ট্রির সদস্যরা নিউকনিয়ান ভাবধারায় বিশ্বাসী। সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং ইনসাফ এই যে সকল মূলনীতির উপর ভিত্তি করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এই শ্রেণীর এতে বিশেষ ইন্টারেস্ট নেই। নিউকনিয়ানদের মূল বক্তব্য অনেকটা এরকম সাম্রাজ্যবাদকে আমরা যেভাবে মন্দ বলে এতদিন বিচার করে এসেছি সেটা ভুল। একেব্যতিক্রম’ বলে গণ্য করতে হবে। কারণ পাশ্চাত্য সভ্যতাই একমাত্র সভ্যতা। যুদ্ধ করেই এই সভ্যতাকে রক্ষা করতে হবে। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিরোধিতা এতদিন করা হয়েছে একটা উদারনৈতিক পাপবোধ থেকে, অর্থাৎ মনে করা হয়েছে যুদ্ধবিগ্রহ হানাহানির কাজটা বোধহয় ঠিক হচ্ছে না। এখন এইসব পাপবোধ ঝেড়ে ফেলতে হবে। পাশ্চাত্য সভ্যতাকে রক্ষা করাই এখন প্রধান ও একমাত্র কাজ।আপনি এখানে সাম্রাজ্যবাদএর স্থলে “ আওয়ামী বাকশাল” পড়ুনদেশী সেপাইদের মতামত হল- আওয়ামী বাকশালকে আমরা যেভাবে মন্দ বলে এতদিন বিচার করে এসেছি সেটা ভুল। একেব্যতিক্রমবলে গণ্য করতে হবে। কারণ এটি একমাত্র চেতনাবাহি দল । যে কোন মূল্যে এই দলকে  রক্ষা করতে হবে। প্রয়োজন হলে যত দরকার মানুষ মারতে হবে। বাকশালের বিরোধিতা এতদিন করা হয়েছে একটা উদারনৈতিক পাপবোধ থেকে, অর্থাৎ মনে করা হয়েছে  মত প্রকাশ করতে না দেওয়ার কাজটা বোধহয় ঠিক না। এখন এইসব পাপবোধ ঝেড়ে ফেলতে হবে। এই দলটিকে রক্ষা করাই এখন প্রধান ও একমাত্র কাজ। কনসেপ্টটা এক, শুধু প্রেক্ষাপট অনুযায়ী চরিত্রও গুলোর পরিবর্তন হয়েছে।” এই ইন্ডাস্ট্রির প্রচারিত মতামতের সাথে আপনি কোন ভাবেই দ্বিমত পোষণ করতে পারবেন না। যদি করেন এই ইন্ডাস্ট্রি আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। এবার আপনি ডানপন্থী, বামপন্থি, আস্তিক, নাস্তিক, জামায়াত, হেফাজত ,বা  আরও যে সব শ্রেণী বিভাগ এর কথা চিন্তা করা যায় তার যেটিরই অন্তর্ভুক্ত হন না কেন। এদের মূখপাত্র হিসেবে আছে বেশ কিছু প্রভাবশালী মিডিয়াও, ঠিক যেমনটা আছে নিউকনিয়ানদের।

 

আজকের এই দিনে খোলা চোখে দেখলে আপনার মনে হতে পারে যে, দেশে আপাত চলমান এই সমস্যার মূল কারণ হয়ত ৭১’এর যোদ্ধাপরাধীদের বিচার। আপনি যদি এটি ধরে থাকেন অপেক্ষায় থাকুন, আপনি খুব তাড়াতাড়ি ভুল প্রমাণিত হতে যাচ্ছেন। কেননা,  নিউকনিয়ান ভাবধারায় বিশ্বাসীদের সবসময় শত্রু প্রয়োজন।একটা শ্রেণীকে এদের দরকার যার ভয়ে মানুষ এদের ভোট দিবে, ক্ষমতায় আনবে বা এদের প্রভাব বজায় থাকবে । তাই নিয়ম অনুসারে যোদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়ে যাওয়ার পর আসবে অন্য কোন ইস্যু যেমন- ইসলামিক টেররিজম কিংবা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঠিক যেমনটা অ্যামেরিকান মুভিতে কমিউনিস্টদের পতনের পর  রাশিয়ান ভিলেনদের বদলে এসেছে আরব ভিলেন। আবার যদি কখনো অন্য কোন একটি আইডিয়োলজি আওয়ামীলীগের জন্য হুমকির কারণ হিসেবে আত্তপ্রকাশ করে তখন সেটিই এই শত্রুর স্থানটি দখল করবে । কেননা শত্রুর এ স্থানটিই হল এই  ইন্ডাস্ট্রির ভ্যালু প্রপোজিশন যেটি কোন ক্রমেই ফাঁকা রাখা যাবে না । “দি মুক্তিযুদ্ধ ইন্ডাস্ট্রি” লেখার জন্য একজন দেশী নরম্যান ফিঙ্কেলস্টাইন দরকার।”

(“দি মুক্তিযুদ্ধ ইন্ডাস্ট্রি” নামের উদ্দেশ্য কোন ভাবেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান হানিকরা নয় বরং যারা এটাকে নিয়ে ব্যবসা করে তাদের সঠিক চিত্র তুলে ধরা।)

 

রেকর্ড-বিজয়-পরাজয়

মোহছেন উল আলম

কারো কাছে গুগলে বাংলাদেশকে চিনে ফেলছে বিয়াল্লিশ বছর পর, এইটা বড় আশ্চর্যজনক ঘটনা!(গুগল ডোডল বেশীরভাগ দিন দেখি, ব্যক্তিগত অজ্ঞতার কারনে বেশীরভাগকে চিনি না। একটা স্বাধীন রাষ্ট্রকে সম্মানিত করতে পেরে যেখানে কোম্পানীর কৃতজ্ঞ হওয়ার করতে পারে, সেখানে জাতিগত অজ্ঞতার কারনে পুরো রাষ্ট্র নিজেরে জাতে উঠছে মনে করে, সমস্যা নাই!) বাইশ-তেইশহাজার মানুষ পতাকা সাজাইছে তাই বিশ্ব-রেকর্ড হইল, কত্ত খুশি প্রানে!

এইসব রেকর্ড দেখে খুশি হইতে আমি দোষের কিছু দেখি না! কারন, যেই রাষ্ট্রের প্রায় সব নাগরিক খুনের দায়ে দায়ী, অর্থাত খুনী, এবং খুনের দায় মাথায় নিয়ে আজন্ম জেলখানাতে বসবাস করে, তাদের একটু খুশি-হাসি-তামাশাকে ভালো চোখে দেখার নিয়ম আছে; কয়েদীর মানবাধিকার তো আর অস্বীকার করা যায় না!

যাদের মনে দ্বন্দ্ব আছে নিজের কয়েদ-দশার ব্যাপারে, তাদের প্রতি ক্ষমাপ্রার্থী।
যারা কয়েদে-দশা নিয়ে সচেতন, লেট’স চিয়ার্স!

কথা হল যখন আমি-আপনি হাসতেছি ঠিক সেই মুহূর্তে কোনো একটা ঘর থেকে কেউ একজন নাই হয়ে গেল। কোনো এক ঘরের কোনো একজন মানুষ আর ফিরে এল না, লাশ হয়েও না। অথবা, কোনো এক নদীর তীরে কোনো একটি লাশ ভেসে উঠল, কারন লাশ খাওয়ার মত পাঙ্গাস-মাগুর-কুমির আমাদের আর নাই। অথবা, সাভারের সেই গ্রাম যেখানে মানুষের হাড় টোকাইয়ের বস্তায় ঢুকে গরুর হাড় হিসেবে, সেখানে কালকে সকালে আরেকটি টোকাই হেসে উঠবে গরুর হাড়ের প্রাচুর্যে।
আমি-আপনি-আমরা  এইসব ভালো করেই জানি, তারচেয়েও ভালো করে জানি কিভাবে জানা জিনিস ভুলে যেতে হয়। জানা-অজানা জিনিসে দুঃখ পেতেই হবে এমন কোনো শর্তে আবদ্ধ হয়ে আমরা নাগরিকত্ব পাই নাই। আমার দুঃখ সবার, তার দুঃখ তার; আমরা ভালো করেই জানি। সুতরাং দুঃখিত হওয়ার কোনো দরকার নাই।

একদিন, কোনো একদিন, একজন স্কুলশিক্ষক আজিজকে হত্যার দায়ে যদি কোনো একটি রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ভাঙ্গার প্রয়োজন হয় সেইদিন আপনাদের চেতনা ফুলে উঠবে, ফুলে-ফেপে উঠুক।

এ অরাজকতা থামাতে হবে – Shah Alam

Shah Alam

না ! আর থাকতে পারলাম না। ছোট ছোট আশংকা গুলোর বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি । মস্তিস্কে আরও ভয়াবহ শঙ্কা বাসা বেধেছে। দেশ কি তবে যুদ্ধে উপনীত ? আবার যুদ্ধ ? ভাবতেই ভয়ানক আতংকে চমকে উঠছি  প্রতি মুহূর্তে । তাহলে কি বাঙ্গালী জাতি আরেকবার ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠবে ক্ষমতার উৎকট উষ্ণ স্বাদের জন্য ? প্রতিদিন মৃতের মিছিল ভারি হচ্ছে । দেশ- জনপদ অরাজকতার কিনারায় গা ঘেঁষাঘেঁষি করছে । দাউ দাউ করে জলছে গাড়ী-বাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা। কৃষকরা সোনার ফসল নিয়ে কেঁদে কেঁদে ফিরছে । অশান্তির আগুনে পুড়ছে গার্মেন্টস শ্রমিক। মালিকরা দেউলিয়াত্তের হাতছানি দেখতে পাচ্ছে । ন্যুনতম সম্মানবোধও বিসর্জন দিয়ে স্রমিকদের মতই রাস্তায় নামছে । কি এক ভয়ানক জাঁতাকলে সবাই পিষ্ট হচ্ছে । না ! অসহ্য । শৈত্য প্রবাহের মধ্যেও শরীর ঘামছে ।

মানবাধিকার কর্মীরা একবারও ভাবছেনা সহিংস কর্মকাণ্ড ও প্রতিঘাত প্রতিনিয়ত মানবাধিকার পদদলিত করছে । নারি নেত্রীরা ভাবছেনা দেশ-জনপদের এই সংঘাত অনেক নারিকে বিধবা করছে, হয়ত পেটে অনাগত সন্তান, কি জবাব দেবে তার শিশুকে ? কই তার বাবা ? তৈরি হবে আরেকটি অসুস্থ প্রজন্ম । আরেকটা শ্রেণিসমাজের আত্মপ্রকাশ ঘটবে । সপ্নের বাংলাদেশ মধ্যযুগে বন্দী হবে । না, এসব তারা ভাবছে না । হয়ত ধ্বংসযজ্ঞের পরে ভাববে । বিশাল হল-রুমে সংবাদ সম্মেলন করে বলবে “ বাল মে কুছ কালা হ্যাঁয়” । ধিক্কার তোমাদের ।

ইতিহাসবিদরা ভাবছে অন্যকথা । পুরনো ইতিহাস অনেক আগেই বিকৃত হয়ে গন্ধ ছড়িয়েছে । তাতে  ঘৃণা বেড়েছে বৈকি।  আবার নতুন ইতিহাস হবে । মুক্তিযোদ্ধা, বীর সৈনিক, রাজাকার, সংগ্রাম কমিটি, প্রতিরোধ কমিটি নামে জাতিসত্তা খণ্ডবিখণ্ড হবে। ইতিহাসবিদদের নিরন্তর প্রচেষ্টায় উঠে আসবে গা শিওরে ওঠা বীভৎস সব চিত্র । কোন এক তরুণ বুদ্ধিজীবী কালজয়ী সিনেমা বানাবে । বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হবে । একদল গবেষক বলবে, ২ লক্ষ মারা গেছে, পঙ্গু হয়েছে ২০ লক্ষ, ৭০ হাজার নারি সম্ভ্রম হারিয়েছে, ৩০ লক্ষ শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। নতুন করে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ, প্রত্যক্ষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ কোটি আর সমগ্রিক অর্থনীতি দুর্ভিক্ষে পতিত । আরেক দলের প্রতিবেদন আরও ভয়াবহ। ইতিহাস হয়ত আরও নির্মম হবে । জাতিসংঘের ত্রান নিয়ে আবার কাড়াকাড়ি শুরু হবে। ইউনিসেফের সরবরাহকৃত শিশু-খাদ্য এনজিও গুলো হস্তগত করে বস্তাপচা খাবার বিতরন করবে। ভিক্ষা নির্ভর অসুস্থ রোগাক্রান্ত একটি জাতি তৈরি হবে।  বিজয়ী পক্ষ বিরোধীদের সব অপকর্মের দায় চেপে দেবে। একদল সুশীল তাতে মৌনসূচক সম্মতি দেবে। নতুন নতুন চাটুকার তৈরি হবে। হলুদ খ্যাতির আশায় বিকৃত ইতিহাস সৃষ্টি হবে। আরেক প্রজন্ম এসে বিচার দাবি করবে। আবার হানাহানি- সংঘাত হবে । এ যেন এক নিরন্তর খেলা যা চক্রাকারে ঘুরে ফেরে আসে। শুনেছি জলবায়ু পরিবর্তনের মত মহাদুর্যোগগুলো চক্রাকারে আসে নির্দিষ্ট সময় পরপর। দুর্যোগপ্রবণ বাঙ্গালী জাতি বোধহয় ভাঙ্গা-গড়ার শিক্ষাটা সেখান থেকেই নিয়েছে। কবি সাহিত্যিকেরা এরকম কথা দিয়েই অমর সাহিত্য রচনা করবে সিক্ত ভালোবাসা আর অর্থের মোহনিয় আশায়। সাহিত্যে পুতে রাখবে বিভক্তির উর্বর বীজ। বাঙ্গালীদের এই নিরন্তর হোলি খেলা চলতেই থাকবে ।

ইতিহাসবিদদের মানবিকতা আর নৈতিকতার চিন্তা করা চলেনা। তাতে পেটে ভাত জোটে না । মনের মাধুরী মিশিয়ে নতুন নতুন ইতিহাস বানিয়ে হইচই ফেলে দিতে পারলেই হোল। অর্থ, সুনাম, যশ একেবারে হুড়োহুড়ি। সে কেন মানবিকতাই গা ভাসাবে ? দাঙ্গা-হাঙ্গামা, অনাচার-ব্যাভিচার, অভাব-দুর্ভিক্ষ এসব সাহিত্যের অমুল্য মাল-মসলা। এসব না ঘটলে সাহিত্যিকের রক্ত গরম হয়না। আবেগ অংকুরিত হয়না । শুধু গাঁজার নেশায় বুঁদ হয়ে মগজে বুদ্ধির বজ্রপাত হয়না। ঘটার পরে টের পায় । বুদ্ধি মাথা থেকে কলমের আগায় জোয়ারের মত প্রবাহিত হয়। গরম কফিতে চুমুক দিতে দিতে তোমরা সে রকম একটি সময়ের জন্যই করনীয় ঠিক কর। মনুষ্যত্বকে নেশাগ্রস্থ করে বিকৃত সুখ নাও। তোমরা কখনও অরাজকতা বন্ধ করতে পারনি, এবারো করতে হবেনা।  মানুষ বৃদ্ধ হলে রক্তের তেজ কমে যায়, দুর্বল হয়ে পরে । প্রবল প্রতাপশালীও ঠাণ্ডা হয়ে যায়। জাতির যদি বৃদ্ধকাল থাকে তবে বাঙ্গালী জাতি হয়ত বৃদ্ধ হয়েই শান্ত হবে। ততদিনে লাল সবুজের এই দেশ স্তব্ধ হয়ে যাবে। বীভৎস-বিভীষিকাময় এক জনপদ প্রত্যক্ষ হবে । দিনের আকাশে শকুনের আনাগোনা, রাতে অজস্র লোকালয়ে আলো জ্বলবেনা, শুনশান নিরবতার মাঝে শিয়াল কুকুরের মল্ল-যুদ্ধ চলবে ।

সত্যই যদি এরকম ঘটে! এই ভাবনা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে অজস্র মানুষকে। যারা রাষ্ট্রের অতিসাধারন তাদেরকে। আর্ত চিৎকারে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে লক্ষ্য লক্ষ তরুনের। জাতির অবিভাবকরা সম্বিত ফিরে পাচ্ছেনা । কে হবে কাণ্ডারি?  পথহারা জাতিকে কে এসে বাঁচাবে? সবায় হয়ত চেয়ে আছে আরেকজন বঙ্গবন্ধু আসবে। কিন্তু সে সম্ভাবনা একেবারেই নেই । মানবাধিকার কর্মী নারি নেত্রী, সুশীল, কবি-সাহিত্যিক তোমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে সামনের কাতারে। দেশের তৃনমূল জনসাধারন শান্তি চায় । তাদের পাশে দাড়াও। রাজনিতিকে কলুষমুক্ত কর। সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে রাজনিতিকদের সমঝোতার চাপ দাও। একবারের জন্য তোমাদের মানবিকতাকে জাগাও । অন্তত এবার একটি ভাল কাজ কর । বিপন্ন  জাতি তোমাদের কাছেই আশ্রয় চায় ।

পাদটীকাঃ নোবেল জয়ী ড. ইউনুস ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্রতাকে জাদুঘরে পাঠাতে চেয়েছেন। তরুণ প্রজন্মকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর উৎকর্ষতার সাথে সাথে সামাজিক কল্পকাহিনীর কথা বলেছেন। মানুষের জন্য কল্যাণকর অতি উচু মানের সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখতে বলেছেন। রাজনীতি যদি গণতন্ত্রের জন্য হয়, মানুষের কল্যাণের জন্য হয় তবে রাজনিতিকরাই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে। রাজনীতির সৃষ্টি সে জন্যই । সকল রাজনিতিক একসাথে হাত রাখ, এখন পর্যন্ত যা ঘটেছে সেখান থেকেই বেরিয়ে আস তাতে ক্ষতি সামান্যই হয়। নয়ত জাতির জন্য বিভীষিকা অপেক্ষা করছে। ড. ইউনুসের সোশ্যাল ফিকশান উল্টে যাবে। ২০৩০ সালের আগেই দারিদ্রতার পরিবর্তে রাজনিতিকদের মানুষ যাদুঘরে পাঠাবে। ভয়ংকর বীভৎসতার নিদর্শন স্বরূপ।

‘ঘাতক’

by Mohsen Alam

‘ঘাতক’ শব্দটা কি যে একটা দোতন্যাময় আঘাত দিয়ে গেল মনে।

একজন পুলিশের কথা মনে পড়ল, যে বিশটা মত ক্রসফায়ারের কর্তা-সাক্ষী হয়ে একদিন সেতু থেকে নদীতে ঝাপিয়ে বড় শান্তির ঘুমে ঘুমাইছিল। কেন গো এত যাতনা? মনে হয়, যখন সে লাফ দিচ্ছিল, ঘাতক শব্দের অর্থ তাঁর চেয়ে ভালো কেউ বুঝে নাই দুনিয়াতে।
এই একটা ঘটনা আমার অস্তিত্ত্বকেই নাই করে দেয়ার মত জর্জরিত করে। কারন, আমি-আমরা তো সেইসব মানুষ যারা প্রতিটি ক্রসফায়ার নাটকের পান্ডুলিপি পাঠ করতাম বড় বেশী নির্লিপ্ত চিত্তে। সেই পাঠগুলি কোনো বিকার ঘটাতো না, মাঝে মাঝে তৃপ্তির হাসি ফুটতো গালে। সেই সব হাসিগুলো বোধহয় জমা হয়েছিল ওই পুলিশের ঘাড়ে, যার ভার নিতে ক্লান্ত হয়ে একটু ঘুমের দরকার ছিল।
আমরা তখন কত শত যুক্তি দিয়েছিলাম, এখনো কতকেউ কত শত যুক্তি দেয় সেইসব খুনের ব্যাপারে, কিন্তু সব যুক্তি তো উল্টে হয়ে ফিরে আসে নিজেদের খুনের সাক্ষ্য হয়ে ওই লাফদেওয়া পুলিশের ঘুমের ঘটনাতে।
সেতু থেকে নদীর পানি, তারপর পানিতে পানিতে ফুসফুস বন্ধ হয়ে যাওয়ার যতগুলি মুহূর্ত সবগুলি আমার চোখে ভাসে, আর নিজের খুনীর পরিচয় প্রকাশ করে দেয়। সে ফুসফুস ভরা পানি নিয়ে সে প্রমান করে দিল যে, সে যে বড় নির্লিপ্তে চিত্তে গুলি ছুড়ে দিতে তা মিথ্যা, আমরা যে বড় করে শ্বাস নিয়ে ফুসফুস ফুলিয়ে ফেলতাম অক্সিজেনে তা মিথ্যা ছিল। নিজের জীবনের কতগুলি শ্বাস-প্রশ্বাস মিথ্যা ছিল তার হিসাব করি আজ। এই হিসাব করতে বসার আগে ভুলে যেতে হয়, কতক্ষন শ্বাস বন্ধ থাকলে মৃত্যু ঘটে।

ঘাতকের একাল-সেকাল আছে কিনা জানিনা, তবে ঘাত হওয়া সব মানুষেরা একই কালের মানুষ। খুনের কালের মানুষ। জন্মের চেয়ে মৃত্যু বড়, তাই মৃত্যুকাল দিয়ে মানুষের কাল বিচার করলে সবাই একই খুনের কালের মানুষ।

একজন খুন হয়েছে, আরেকজন খুনী। এই গাণিতিক সরল অঙ্কের চেয়ে একটুখানি কম বুঝি বলে জানি যে, একজন খুনের শিকার হওয়া মানে সেই খুনীর ন্যায়-বিচার যতদিন না হবে ততদিন খুনের দায় মাথায় থাকা। আর রাষ্ট্রীয় খুনের শিকার কেউ হলে তো ওইখানে শুধু দায় না, নিজেই সম্পূর্ন দায়ী। কারন আমরা টাকা দিয়েছি বলেই খুন সংঘটিত হয়েছে।

বাংলা, তুমি আজ ধন্য হে। স্বাধীন হয়েছ বলেই সব নাগরিক খুনের স্বাধীনতা পেয়েছে।
জয় বাংলা, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে​র সাথে প্রথম মুক্তিযুদ্ধে​র সামঞ্জস্যতা এবং উত্তরণের ধারনাঃ

by Abdullah Mahmud
 
লেখাটা যখন লিখছি তখন চলছে সরকারের পেটুয়া যৌথ বাহিনীর অভিযান। অনেকেই বর্তমান সংকটকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। সংকটের মূল কিন্তু একজায়গায়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছিল কিন্তু পাকিস্তানের স্বৈরশাসক ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে ছিল। স্বৈরশাসক ক্ষমতা হস্তান্তর না করাতে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল ১৯৭১ সালে। সংকট শুধুমাত্র ক্ষমতা হস্তান্তর না করার প্রেক্ষাপটই ছিলনা সাথে যুক্ত হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানের দীর্ঘ দিনের শোষণ-নিপীড়ন এবং জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে জনগণের বিস্ফোরণ। অনেকেই বর্তমান সংকট কে মুক্তিযুদ্ধের সাথে তুলনা করে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর তাই দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সাথে প্রথম মুক্তিযুদ্ধের সামঞ্জস্যতা খোঁজার একটা প্রয়াস থেকেই এই লেখা।
 
২০১৩ সালের সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের প্রথম সামঞ্জস্যতা হোল; ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরির অন্যতম কারন ছিল জনগণের রায়ে নির্বাচনে জয়ী দলকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে স্বৈরশাসকের জোরপূর্বক ক্ষমতা ধরে রাখা। ২০১৩ সালের  সংকটের মুলেও জনগণের মতকে তোয়াক্কা না করে স্বৈরশাসকের ন্যায় জোরপূর্বক ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা।
 
২০১৩ সালের সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের দ্বিতীয় মিল হোল; ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরির আরকটি কারন হোল পশ্চিম পাকিস্তানের দীর্ঘ দিনের শোষণ-নিপীড়ন এবং জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে জনগণের বিস্ফোরণ। আজকের প্রেক্ষাপটেও যে সংকট তৈরি হয়েছে তা শুধুমাত্র নির্বাচন কেন্দ্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয় না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ১৯৭১ সালের মতই সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ-নিপীড়ন এবং জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে জনগণের বিস্ফোরণ। গ্রামে গঞ্জে সাধারন জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে।
 
২০১৩ সালের সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের তৃতীয় মিল হোল; ১৯৭১ সালে প্রভাবশালী রাষ্ট্রের বেশির ভাগই পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যায় যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। ২০১৩ সালের সংকটেও এখন পর্যন্ত বুজা যাচ্ছে প্রভাবশালী রাষ্ট্রের বেশির ভাগই আওয়ামীলীগের অন্যায়কে পরোক্ষ ভাবে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে।
 
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের চতুর্থ সামঞ্জস্যতা হোল; ১৯৭১ সালে আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতারা সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি, তাদের অধিকাংশের নিকট প্রথম দিকে প্রেক্ষাপটটা ছিল ক্ষমতায় যাওয়ার আর তাই কেউ স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেছিলেন কেউবা ভারতে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছিলেন। ক্ষমতার জন্য আন্দোলন আর জনগণের মুক্তির জন্য সংগ্রাম এক জিনিস নয়। জনগণের মুক্তির সংগ্রাম অধিকাংশ স্বার্থপর রাজনীতিবিদরা করতে পারেননা। মুক্তি সংগ্রামে যে ধরনের সততা, ঐকান্তিকতা এবং নিষ্ঠার প্রয়োজন হয়, তা দুর্নীতিপরায়ন রাজনীতিবিদদের থাকেনা। ২০১৩ সালে এসেও বিএনপির অধিকাংশ নেতারা ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করছেন, জনগণের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করতে পারছেননা। জনগণের মুক্তির সংগ্রাম করতে পারছেননা বলেই সারাদেশে মানুষ যখন তীব্র আন্দোলন করছে তখন ঢাকায় নেতারা ১৯৭১ সালের মতই কেউ স্বেচ্ছায় কারাবরণ করছেন আর কেউবা আত্মরক্ষার জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের পঞ্চম মিল হোল; ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষ নিগ্রহের শিকার হয়েছিল অন্য অঞ্চল থেকে আসা পশ্চিম পাকিস্তানিদের রাষ্ট্রযন্ত্রের সিদ্ধান্তের দ্বারা। ২০১৩ সালে এসেও মানুষ নিগৃহীত হচ্ছে অন্য অঞ্চল ভারত থেকে সরাসরি রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়ন্ত্রনের দ্বারা।
 
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের ষষ্ট মিল হোল; ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানিরা পাক হানাদার বাহিনী দ্বারা নির্বিচারে পাখির মত গুলি করে মানুষ মেরেছিল। এখনকার সরকারও নিজেদের স্বৈরশাসন আঁকড়ে রাখার জন্য পাক হানাদার বাহিনির ন্যায় যৌথ বাহিনী দিয়ে নির্বিচারে পাখির মত গুলি করে মানুষ মারছে।
 
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের সপ্তম মিল হোল; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সংকটে অপরচুনিস্ট গ্রুপ অনেক ছিল। ইনফ্যাকট শেখ মুজিবুর রহমান তার লেজিটিমেট ক্ষমতা চেয়েছিলেন; স্বাধীনতা বা স্বাধীন বাংলাদেশের ধারনা উনার নিকট ছিলনা। ২০১৩ সালের সংকটেও অনেক ধরনের অপরচুনিস্ট গ্রুপ কাজ করছে।
 
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের অষ্টম মিল হোল; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম আরেকটি কারন হোল মুষ্টিমেয় গুষ্ঠির স্বার্থ, সংস্কৃতি রক্ষার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের উপর রাষ্ট্রযন্ত্রের নিষ্পেষণ, ২০১৩ সালে এসেও  মুষ্টিমেয় গুষ্ঠির স্বার্থ, সংস্কৃতি রক্ষার জন্য রাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের উপর নিষ্পেষণ চালাচ্ছে।
 
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের নবম মিল হোল; ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের মিডিয়ার অধিকাংশই পাকিস্তান সরকারের অন্যায় দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। ২০১৩ সালে এসেও বাংলাদেশের অধিকাংশই মিডিয়াই সরকারের অন্যায় দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের দশম সামঞ্জস্যতা হোল; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের কিছু মানুষ পাকিস্তানকে রক্ষার জন্য দেশের সাথে বেঈমানি করে রাজাকার হয়েছিল। ২০১৩ সালে এসেও এদেশেরই কিছু মানুষ চেতনা রক্ষার নামে দেশের অধিকংশ মানুষের মতের বিরুদ্ধে ভারতের দালালী করছেন।
 
এভাবে আরও অনেক সামঞ্জস্যতা আপনি খুঁজে পাবেন  ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সাথে ২০১৩ সালের সংকটের। এই সংকট থেকে উত্তরনের পথ সম্পর্কে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের কথা বলছেন। উত্তরনের সম্ভাব্য উপায় কি হতে পারে সে সম্পর্কে  আলকপাত করছি-
যারা বলছেন দুইদলের মধ্যে সংলাফের মাধ্যমে সমাধান করতে; তাদের বুজা উচিত আওয়ামীলীগ চাইলেও সমঝোতায় পৌঁচতে পারবেনা, কেননা আওয়ামীলীগ চালাচ্ছে ভারতের নীতিনির্ধারক। ভারতের এজেনডা বাস্তবায়নের জন্যই ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসেছে। (সত্যিকার জনগণের ভোটে সরকার ক্ষমতায় আসেনি- এ সহজ হিসাব বুজার জন্য পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর ভোট কাস্টিঙের পরিসংখ্যান দেখলেই বুজতে পারবেন)।
 
যারা ভাবছেন জাতিসংঘ কিংবা বিভিন্ন পরাশক্তির হস্তক্ষেপে সমাধান হতে পারে; তাদের ধারনাও ভুল। কোন দেশেরই সংকট উত্তরণে জাতিসংঘ কিংবা বিভিন্ন পরাশক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনা যদিনা তাদের সরাসরি স্বার্থজড়িত থাকে। সে দিক থেকে চিন্তা করলে আমাদের উল্টো আতঙ্কিত হতে হয়; কেননা পরাশক্তির পক্ষে যায় এমন উপকরন সরকার লালন করছে।
 
আরেকটি ধারনা হোল সেনাবাহিনীর ক্যুর মাধ্যমে সমাধান হতে পারে। তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি; পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করা হয়েছিল একারনেই যে ভারতের স্বার্থপরিপন্থী কোন দেশপ্রেমিক এবং আপোষহীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যাতে তাদের ছকের বাধা না হতে পারে। এখনকার সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসাররা ভারতের প্রতি নতজানু। কেন ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার কথা বলা হয় তা বোধকরি ব্যাখ্যা করার প্রয়জন নেই।
 
সংকট থেকে মুক্তির আরেকটা ধারনা হোল সুশীলসমাজ এবং বুদ্ধিজীবীদের নেত্রিত্তে এই সরকারকে উৎখাত করে তৃতীয় শক্তির মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন। সে ধরনের সম্ভাবনাও খুবই ক্ষীণ। আর সেটা হলেও সংকট থেকে উত্তরনের সুযোগ থাকবেনা। তৃতীয় শক্তির এমন কোন শক্তি নেই যে তারা সার্বভৌমত্ত রক্ষা করে দেশ চালাবেন। তৃতীয় শক্তি আসলে তা ভারতের নিকট নতজানু হয়েই আসবে। রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের কোন জনসম্পৃক্ততা নেই। জনগণের মুক্তির আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকার আর আঁতাতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকারের রুপ, সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকতার ধরনও আলাদা হবে। তাই তৃতীয় শক্তির মাধ্যমে সমাধান হলে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না হয়ে পরাশক্তিদের উদ্দেশ্যের বাস্তবায়ন হবে।
 
এতক্ষন সংকট উত্তরণের ধরনগুলো শুনে অনেকেই হয়তোবা হতাশ হয়ে পড়েছেন। যেকোনো সংকট হলে তা থেকে উত্তরণের পথ অবশ্যই থাকে। অনেকগুলো ওয়ে আউটের মধ্যে বেস্ট অপশানটা কি হতে পারে তার জন্যই সকল অপশানের পর্যালোচনা।
 
বেস্ট অপশানটা তাহলে কি? আমার মতে বেষ্ট অপশান হোল জনগণের মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয় এমন সরকারের বাস্তবায়ন। সেক্ষেত্রে মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহনকারী যোগ্য নেতাদের, যারা হীন ব্যাক্তি কিংবা গোষ্ঠী স্বার্থের উদ্দেশ্যে আন্দোলন না করে জনগণের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করছেন, তাদেরকে ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। জনগণের মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহন না করে আত্মরক্ষার জন্য পালিয়ে বেড়ানো নেতাদের রাষ্ট্রযন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করলে দেশ ১৯৭২ সালের মতই সংকটে পড়বে।  পাকিস্তান আমাদের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার থেকে বঞ্চিত করেছিল বলেই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা লাভ করেছিলাম।  ১৯৭২ এ যে সংবিধান প্রণীত হয়েছিল তাতে বাংলাদেশের সকল মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। আর এই জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলিত না হওয়ার কারন হোল যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন না করে দিল্লী বসেছিল তারাই ৭২ এ এসে ভারতের সংবিধানের আদলে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেছিল।
 
এতো গেল সংকট থেকে উত্তরণের পরের ধাপ। প্রশ্ন হোল বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কি? উত্তর হল জনতার মুক্তি সংগ্রাম। সেই সংগ্রাম শুরু হয়ে গেছে। গ্রামে গঞ্জে সাধারন জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন পাকহানাদার বাহিনির ন্যায় সরকারের পেটুয়া যৌথবাহিনী পাখির মত গুলি করে মানুষ মারছে। সাধারন জনতা বুলেটের মোকাবেলা করছে বাঁশ, লাঠি আর ইট-পাটকেল দিয়ে। প্রশ্ন হোল এভাবে কি পারা যাবে? না এভাবে পারা যাবেনা। এ সংগ্রামে জয়ী হতে হলে যৌথবাহিনীর দেশপ্রেমিক সিপাহীদেরকে সাধারন জনগণের পক্ষে এসে দাড়াতে হবে। যৌথবাহিনীর সকল সদস্য সরকারের পাচাটা গোলাম নয়; অনেকেই বাধ্য হয়ে কর্তব্য পালন করছে মাত্র। এ মুহূর্তে একজন মেজর জিয়াউর রহমানের প্রয়োজন। যিনি কিনা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও এদেশের স্বার্থে পাকিস্তান সরকারকে তোয়াক্কা না করে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। আজ জাতি এমন একজন জিয়াউর রহমানের অপেক্ষায় যার ডাকে রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে বহু দেশপ্রেমিক পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রের অন্যায় যুদ্ধের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।  যুদ্ধ অবশ্য সকলে করতে পারেনও না। ১৯৭১ সালেও বহু মানুষের যুদ্ধ করার বয়স এবং সামর্থ্য থাকার পরেও যুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি। এ সংকটেও তারাই এগিয়ে আসবেন, যারা সততা এবং ন্যায়পরায়ণতার সাথে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণের মুক্তি সংগ্রামের পাশে দাঁড়াবেন।  রাষ্ট্রযন্ত্রের দেশপ্রেমিক নাগরিকগন এ সংকট মুহূর্তে এগিয়ে না আসলে বহু রক্তে অর্জিত সার্বভৌমত্ত আর টিকে থাকবেনা। এদেশ সিরিয়ার ন্যায় গৃহযুদ্ধে দুকে দুকে মরবে।

আসাদুজ্জামান নুরের হত্যাচেষ্টা ও একজন বাকের ভাইয়ের ফাঁসি…

by WatchDog

জনাব আসাদুজ্জামান নুর , রাজনীতির মাঠে আপনি বাকের ভাই নন যার উপর আক্রমনের প্রতিবাদে আমাদেরও চোখের পানি ফেলতে হবে। এদেশের জীবন হতে সে সব দিন বিদায় নিয়েছে যখন নাটকের বাকের ভাইয়ের জন্যও মানুষ সহমর্মিতা দেখাত। সে হৃদয় আজ শকুনের ছোবলে ক্ষতবিক্ষত। নুর সাহেব, আপনি সেসব শকুনদেরই একজন। আপনি তাদেরই একজন যারা এদেশকে আলীবাবা চল্লিশ চোরের সিসিম ফাঁক মন্ত্রবলে ফাঁক করেছে, ধর্ষণ করেছে, লুটেছে, চাটার মত চেটেপুটে খেয়েছে। রাজনীতির খাতায় প্রথম যেদিন নাম লিখিয়েছিলেন সাথে শকুনের খাতায়ও নাম লিখিয়েছিলেন সেদিন। বাংলাদেশের রাজনীতি, রাজনৈতিক দল ও তার খেলোয়াড়দের পরিচয় না জেনে এ পথে পা বাড়িয়েছিলেন বিশ্বাস করা কঠিন। আশাকরি ভুলে যাননি লুটের পয়সায় সন্তানকে লন্ডন পাঠানোর ইতিবৃত্ত। সুসংবাদ হচ্ছে, এ পথে আপনি একা নন। আপনার আশপাশের সবাই একই পথের পথিক। দেশকে গৃহযুদ্ধের আগুনে ঠেলে দিয়ে আপনারা উত্তাপ নিচ্ছেন শীত নিবারণের। জ্বলজ্যান্ত মানুষকে গুম করছেন, বছরের পর বছর ধরে লম্বা করছেন লাশের মিছিল। কেবল এক ব্যক্তির সেবা করতে গিয়ে বিসর্জন দিয়েছেন মানুষ হিসাবে পরিচয় দেয়ার ন্যূনতম মনুষ্যত্ব। নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তামাশা করতে গিয়েছিলেন নীলফামারীর জনপদে। নুর সাহেব, ভেবে দেখুন একজন বাকের ভাইয়ের ফাঁসির জন্য যে নীলফামারীর মানুষ রাস্তায় নেমেছিল একই মানুষ তাদের প্রিয় আসাদুজ্জামান নুর ভাইকে হত্যার জন্য ককটেল, গ্রেনেড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরতে দ্বিধা করেনি। একবারও কি ভেবে দেখেছেন কেন এমনটা হয়? যারা আপনাকে মারতে গিয়েছিল তারা এলিয়ন নয়। এদেশেরই সন্তান। রাজনৈতিক পছন্দ মানুষের জন্মগত অধিকার। আপনি যেমন একটা দল বেছে নিয়েছেন, তাদেরও অধিকার আছে বেছে নেয়ার। মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রতিপক্ষ নির্মূল করার অধিকার আপনাদের কেউ দেয়নি। কিন্তু আপনারা তাই করছেন।

জনাব নুর, আপনারা দেশকে ভাগ করেছেন। শহর-বন্দর, হাট-বাজার, নদী-নালা সহ সবকিছু ভাগ করেছেন। ভাগ করেছেন প্রতিটা পরিবার। কেবল দেশ নয়, বাংলাদেশের প্রতিটা পরিবার এখন যুদ্ধের মাঠ। এখানে ভাই লড়ছে ভাইয়ের বিরুদ্ধে, বাপ লড়ছে সন্তানের বিরুদ্ধে, এথনিক ক্লিনজিংয়ের দোর গোড়ায় দাড়িয়ে প্রিয় জন্মভূমি। এবং সবকিছু হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নামে। রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পারিবারিক লড়াইকে আপনারা নাম দিয়েছেন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। জনাব, জাতি হিসাবে আমাদের বয়স ৪২ বছর পেরিয়ে গেছে। অনেক কিছু বুঝতে শিখেছি আমরা। আপনাকে চিনতেও ভুল হয়নি। আপনি তাদেরই একজন যাদের হাতে জিম্মি ১৫ কোটি মানুষের জীবন। ট্যাংক, কামান, থানা, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও প্রতিবেশী দেশের শক্তিশালী প্রভু নিয়ে রক্তাক্ত করছেন দেশের অলিগলি রাজপথ। যে প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তাদের উন্মাদ বানিয়েছেন, শিরায় শিরায় পৌছে দিয়েছেন ঘৃণার বিষাক্ত বীজ। জনাব, ভুলে গিয়েছেন কি এ দেশের মানুষ কেন পাকিস্তানী সেনা শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল? আপনার মত সেবাদাসদের ক্ষমতায় পাঠিয়ে বিশেষ পরিবারের সেবা করার জন্য নয় নিশ্চয়? পাকিস্তানী সামরিক স্বৈরশাসক ও তাদের দোসর ২২ পরিবারের শোষন, নিপীড়ন হতে মুক্তি পাওয়ার জন্যই এদেশের মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়েছিল। অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা, মাথার উপর ছাদ, স্বাভাবিক জন্ম-মৃত্যুর নিশ্চয়তার জন্য স্বাধীনতা এনেছিল। অথচ আপনার মত কৃতদাসরা আমাদের মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছেন রাজাকার নিধন আর জামাতি নিশ্চিহ্ন করার অপর নামই নাকি স্বাধীনতা।

জনাব নুর, যুদ্ধের মাঠে আপনি একজন সৈনিক। এবং প্রতিপক্ষের বৈধ টার্গেট। নীলফামারীর যুদ্ধে আপনি চার সহযোগী হারিয়েছেন। কাঁদছেন কেন? চোখের পানি আর নাকের পানি একাকার করে আপনি যখন হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা বর্ণনা করছেন একই সময় আপনার পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও দলীয় ক্যাডারের দলও ট্যাংক, কামান নিয়ে বিরান করছে দেশের বিভিন্ন জনপদ। মানুষ মারছে পাখির মত। হত্যাই যদি সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে রাজনীতির মাঠে কেবল আপনারা হত্যা করবেন আর প্রতিপক্ষ পালাতে থাকবে তা হতে পারেনা। ওরাও হত্যা করবে এবং তা হবে বৈধ। চাইলে যুদ্ধ সংক্রান্ত জেনেভা কনভেনশন পড়ে দেখতে পারেন।

রক্তের দাগ হাতে নিয়ে বাকের ভাইয়ের ভালবাসা চাওয়ার ভেতর গৌরবের কিছু নাই,…… আছে পরাজয়ের গ্লানি। যতদুর জানি শেখ হাসিনার সৈনিকদের অভিধানে পরাজয় বলে কোন শব্দ নেই…শুভ কামনা।

http://www.amibangladeshi.org/blog/12-17-2013/1423.html

Rogue ইনসটিটিউশন এবং নাগরিক আনুগত্য

by  সায়নুল হোসেন

জিয়া হাসানের “ইনস্টিটিউশন এর পক্ষে থাকুন – আমার স্টেটাস এর সমালোচকদের সমালোচনার জবাব“ শিরোনামের পোস্ট-টিতে যে মত-বিনিময় হচ্ছে এবং তার উত্তর দিতে গিয়ে জিয়া হাসান যে স্ট্যান্ডার্ড দাঁড় করাচ্ছেন, তাতে একটি জিনিস পরিষ্কার,  স্বাধীন বাংলাদেশে ডাবল স্ট্যান্ডার্ডই যেন একমাত্র স্ট্যান্ডার্ড।

 

   সম্মানিত সংসদ-সদস্য বা বিশিষ্ট সংস্ক্রৃতি-ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামানের গাড়ি-বহরের উপড় যে হামলা হয়েছিল, তা একটি নিন্দনীয় অপরাধ। জিয়া হাসান তুলে ধরতে চেয়েছিলেন কেন তা অপরাধ। তুলে ধরতে গিয়ে, ইনস্টিটিউটের ভায়োলেন্সের রাইট আছে বলেছেন। তাহলে কখন ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে ভায়োলেন্স জায়েজ হবে? তাঁর উত্তর অনুযায়ী, সোশাল মোরাল সেটি ঠিক করবে। সমাজ যখন মনে করবে, জায়েজ, তখন ভায়োলেন্স জায়েজ। জনতা যে আন্দোলনে  সম্পৃক্ত হবে, সেখানে আইন-বাহিনীর সব চেক-পোস্ট কর্পূরের মত উড়ে যাবে। এইটা তাঁর স্টান্স। এই জায়গাতে তাঁর সাথে আমার ভিন্নমত।

   তাঁর কথা যদি মেনে নিই, তবে নূরের গাড়িতে যদি কয়েকজন জামাতী আক্রমণ না করে কয়েক লক্ষ বাঙ্গালী আক্রমণ করত, তবে তা হত জায়েজ। আর আমি মনে করি, নূরের গাড়িতে লক্ষ লোক কেন, যদি ষোল কোটি লোকও আক্রমণ করত, তা-ও হত নিন্দনীয়, বিচারযোগ্য অপরাধ। কিংবা আরও সহজভাবে বলি, শাহবাগের লক্ষ লক্ষ জনতা যদি হাতের সামনে মাহমুদুর রহমানের গাড়ি পেয়ে সেখানে সামান্য একটা ঢিল দিত, সামাজিক নৈতিকতার আধিক্য বা প্রাধান্য দিয়ে সেটাকে জায়েজ ভাবার কোন কারণই নেই।

   জিয়া হাসান এই পোস্টটিতে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড যেখানে আমাদের একটিমাত্র সিংগল স্ট্যান্ডার্ড, সেখানে ইন্সটিউশনের ভায়োলেন্সের রাইট নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড লিখতে গেলে তাকে আরও কয়েকটা নোট লিখে যেতে হবে মনে হচ্ছে। তাঁর লেখাগুলোর অপেক্ষায় রইলাম। তবে, আমি কেন লিখতে বসেছি? কারণ, এই বিতর্ক আমার বড় কাম্য বিতর্ক। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড-এর যে ধুম্রজাল গত বিয়াল্লিশ বছর ধরে আমাদেরকে অন্ধ করে রেখেছে, সে ধুম্রজালটি সরাতে হবে এখনই।

   এবং, এই ধুম্রজাল সরানোর জন্যে, চলুন, দবির-কবীর-এর উদাহরণের আশ্রয় নিই। ধরুন, দবীর তার প্রিয় সাইকেলটি হারিয়ে ফেলল (বা কেউ সেটাকে চুরি করে নিয়ে গেল)। একদিন দবীর দেখল, সাইকেলটি তার পাড়ার কবীর দিব্যি চালিয়ে বেড়াচ্ছে। সাইকেলটি রাখাও হচ্ছে কবীরের বাড়িতে। দবীর এখন কি করতে পারে?

(১) কবীরের কাছ থেকে জোড় করে সাইকেলটি তুলে নিয়ে আসতে পারে (কারণ, সাইকেলের আসল মালিক তো দবীরই)।

(২) পাড়ার সরকারী ছাত্রনেতাকে অনুরোধ করতে পারে সাইকেলটি উদ্ধার করে দেয়ার জন্যে (কারণ, ছাত্ররাই তো জনগণের অধিকার রক্ষার আদায়ে বারবার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছে)

(৩) দবীর নিজের সাইকেলের কথা ভুলে গিয়ে অন্য কোন নিরীহ সাবের-এর সাইকেলটি চুরি করে নিজেই চালাতে পারে (“যে রাষ্ট্রে যে নিয়ম”, সমাজের মোরাল হয়তো এখানে যেতে পারে)

(৪) উপড়ের সবগুলোই

   উপড়ের প্রশ্নের উত্তর নিয়ে ভাবতে থাকুন। সে ফাঁকে, জাপানে ইন্‌জিনিয়ারের চাকুরি করেও ম্যানেজমেন্টে আইন নিয়ে সামান্য যে জ্ঞান নিতে হয়েছে, তার কিছুটা শেয়ার করি।

   গণতান্ত্রিক সমাজ-ব্যবস্থায় আইনের একটি মূল নীতি হল, ব্যক্তির নিজের সিদ্ধান্ত নিজের নেয়ার মৌলিক অধিকার অন্য কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আপনি দিনে ষাট টাকা রোজগার করে পঞ্চাশ টাকার চটপটি খাওয়ার ইচ্ছা করলে, আইন বলবে, আপনার সেটা খাওয়ার অধিকার আছে। “এত সামান্য উপার্জনের লোক-এর চটপটি খাওয়ার দরকারটি কি?”-এ নিয়ে নৈতিকতার বিতর্ক হয়তো করা যায়, কিন্তু ষোলকোটি লোক তাকে ছিঃ ছিঃ করলেও কোনভাবেই তার চটপটি খাওয়ার অধিকারকে বাধা দিতে পারবে না। এটাই গণতন্ত্রে আইনের অধিকার। একইভাবে ব্যক্তি তার পছন্দমত সাইকেল কিনবে, সেটা তার মৌলিক অধিকার।  আমার-আপনার বা রাষ্ট্র নামক কোন ইনস্টিটিউশনের ক্ষমতা নেই তার এই সাইকেলের স্বত্বাধিকার থেকে তাকে বঞ্চনা করার।

   আইনের আরেকটি মূল নীতি হল, আইন প্রয়োগের ক্ষমতা আম-জনতার নেই। উপড়ের দবীর-কবীর-এর উদাহরণে দবীরের সাইকেলটি কবীরের বাসা থেকে নিয়ে আসার ক্ষমতা আছে শুধু পুলিশের, এবং এই নির্দেশটি দেয়ার দায়িত্ব আছে শুধু বিচারকের। আপনার সাইকেল, তাই বলে আপনি নিজে গিয়ে নিয়ে আসবেন, এই অধিকার আপনার নেই। এই অধিকারটি আছে শুধু সরকারের (বা পুলিশের)। জিয়া হাসান ভাই-এর এখানেই ভুল। রাষ্ট্রের ভায়োলেন্সের অধিকার আছে যে তত্ত্বটি দিয়েছে, তা সঠিক নয় । রাষ্ট্রের কেবল আইন প্রয়োগের অধিকার আছে।

   কথা হল, কবীর যদি বিচারপতির নির্দেশ সত্বেও সাগ্রহে সাইকেলটি পুলিশের বা রাষ্ট্রের হাতে দিতে রাজী না হয়, রাষ্ট্রের তো তখন ভায়োলেন্স প্রয়োগ করতেই হবে। আমি সেখানে একমত। তবে, বুঝতে হবে, এটি আইনের মধ্যে থাকা শক্তি-প্রয়োগ। কবীরকে গুলি করে সাইকেলটি নিয়ে আসার ক্ষমতা রাষ্ট্রকে দেয়া হয় নি। সাইকেলটি কবীরের কাছ থেকে নিয়ে আসার জন্যে “সমানুপাতিক” শক্তি-প্রয়োগের বাইরে রাষ্ট্র কোন ভায়োলেন্স-এ যেতে পারবে না। আর, রাষ্ট্র নিজেই ঐ সাইকেলটি নিজের বলে দাবী করতে পারবে না। দুটোই বে-আইনী।

   প্রশ্ন হল, পুলিশ বা বিচারক উভয়ই যদি আইনের বাইরে যায়, তাহলে কি হবে? বিচারক যদি বলে সাইকেলটা দবীরের হলেও সাইকেল চালাতে পারবে কেবল কবীরই কিংবা পুলিশ গিয়ে যদি দবীরকে বলে, সাইকেলটা দবীর নিজের দাবী করলেই দবীরকে জামাত-শিবির নামে আখ্যায়িত করা হবে, সুতরাং, অফ্‌ যাওয়াই ভাল, তাহলে দবীর কি করবে? তার অধিকার রক্ষার দায়িত্ব এবং ক্ষমতা যাদের দেয়া হয়েছে, তারাই যদি সংবিধান বা আইন না মেনে চলে, তবে কে আইন প্রয়োগ করবে?

এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। ফুটবল খেলায় একটি বলের বদলে দুইটি বল দিয়ে খেললে কি হবে তার উত্তর যেমন আমার জানা নেই, ব্যাপারটিও তাই। একটি নৈরাজ্য তৈরি হবেই। সেখানে সন্দেহ নেই। এবং এই নৈরাজ্যের কারণে দবীর বা কবীর-এর চাইতে হাজারো গুণ বেশি দায়ী হবে বিচারক বা পুলিশ (সরকার) কারণ ক্ষমতা ও প্রিভিলেজ তাদেরকে বেশি দেয়া হয়েছিল।

   একাত্তরে (সত্যিকার অর্থে, সত্তরের নির্বাচনে) পাকিস্তান নামক দেশ শাসনের ক্ষমতা বঙ্গবন্ধু অর্জন করেছিলেন। আইনানুযায়ী বঙ্গবন্ধুর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা। রাষ্ট্র (মিলিটারী জান্তা) নিজেই আইন ভঙ্গ করলো। উল্টো হানাদার হয়ে আক্রমণ করলো নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের। দবীর বা কবীর নয়, রাষ্ট্র নিজেই আইনের বাইরে চলে গেল। এখানে রাষ্ট্রের উপড় ভরসা করার আর কোন আইনগত ভিত্তি ছিল না। কাজেই, নতুন করে আইনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে এই  পাকিস্তান নামক হানাদার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ছাড়া উপায় ছিল না। একাত্তরে খানসেনাদের মারাটা জায়েজ ছিল কি-না, সরকার যেখানে নিজেই আইনকে তোয়াক্কা করে নি, সেখানে এই প্রশ্নটি অবান্তর। তখনকার জামাতী-মুসলিম লিগারদের মোরাল-এর বিচারে যাওয়ার আগে, আইনের জায়গায়ই এখানে ওরা নিজেদেরকে বে-আইনী হয়ে গেছে, সেটা উপলব্ধি করাটা জরুরী।

   আজকের অবস্থা কি একই রকম? আজকের আওয়ামী লীগের সরকার আর একাত্তরের ইয়াহিয়ার সরকারের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? অর্থাৎ সরকার আইনের বাইরে নিজেকে নিয়ে গেছে কি? বিচারপতিরাও সংবিধান-রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে নিজেদেরকে সংবিধানের উপড়ে ভাবা শুরু করছে কি? রাষ্ট্র (সরকার ও বিচার বিভাগ) যখন দবীর-কবীরের অধিকার রক্ষা না করে নিজেকে আইনের বাইরে নিয়ে যায়, তখনও দবীর-কবীর-রা কি আইনের খেলা খেলবে? আমি জানি, জিয়া হাসান কি উত্তর দেবেন। উনি বলবেন, জনগণ যদি বাঁধ-ভাঙ্গা স্রোতের মত বের হয়, তবে সব স্বৈরাচার বিদায় নেবে। কিন্তু, এই উত্তরে একাধিক সমস্যা আছে। প্রথমত, সব জনগণ বের হবে না (যেমন, কবীরের মত সুবিধাভোগীরা বা দবীরের মত নীরবে নিভৃতে ক্রন্দনকারীরা)/যারা ঘরে থাকবে তাদেরকে কি হিসেবে চিহ্নিত করবেন? বাধ-ভাংগার পক্ষে না বিপক্ষে? মোরাল হ্যাজার্ড যে চলে আসবে না তা কিভাবে বুঝবেন (অর্থাৎ, অসৎ উদ্দেশ্যের লোকেরাই যে জোর-গলায় শ্লোগান দেবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়?)/ দ্বিতীয়ত, এই বাঁধ-ভাঙ্গার কাজটি রমনার বটতলায় বসে বৈশাখীর গান শোনার মত ফ্রি হবে না, অনেক জীবন যাবে এখানে। তাহিরির স্কয়ারের জোয়ার আনতে গিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই বার শ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। তার বদলে কোন এক বে-আইনী লোক হোসনী মোবারক-কে গুলি করে তাকে সরিয়ে দিলে ১১শ নিরানব্বই লোকের জীবন বাচতো। জিয়া হাসানের সমাধানে এই ১১শ নিরানব্বই লোকের জীবন বাঁচানোর অপ্‌শন নেই।

   উপসংহার হল, রাষ্ট্র স্বৈরাচারী হয়ে গেলে সবকিছু অমানবিক হয়ে যায়। আইনের সোপান ব্যর্থ হয়। এখানে ফল্ট্‌-টলারেন্ট সিস্টেম কাজ করে না। আমার-আপনার সবচাইতে পবিত্র দায়িত্ব আমাদের সরকারকে স্বৈরাচারী না হতে দেয়া। এখানে মোরাল-এর মত সাব্‌জেক্টিভ বিষয় আনতে গেলে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড অনিবার্য ভাবে চলে আসবে। লক্ষ লক্ষ শাহবাগী দিয়ে মাহমুদুর রহমানকে ভয় দেখানো আর কয়েক ডজন জামাতী দিয়ে নূরকে আঘাত করা দুটোই বে-আইনী, কে করছে তা দিয়ে ন্যায্যতা যাচাই করার ব্যাপার এটা না। আমাদের এমন কিছুকে আস্কারা দেয়া ঠিক হবে না, যেখানে বে-আইনী হওয়াটা অনিবার্য আইন হয়ে উঠে।

   পুনশ্চঃ আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-কে অবরোধ করার কর্মসূচীর বিরুদ্ধে। দবীর-কবীর-এর উদাহরণে অবরোধ বা পিকেটিং-এর কোন ন্যয্যতা নেই। কেউ নিজেকে বঞ্চিত মনে করলে বিচারকের কাছে যান। বিচারক বঞ্চিত-এর বিরুদ্ধে রায় দিলে মেনে নিতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণ-আন্দোলন বলে কোন শর্ট-কার্ট নেই। স্বৈরাচার সরানোর কোন গণতান্ত্রিক উপায়ও নেই।

Sainul Hossain’s Blog is www.prottasha-bd.com

শাহবাগ আন্দোলনঃ আমার ভাবনা

by Sadat Shibli

ইদানিং প্রায়ই আমাকে পুলিশ আটকায়। আমার আবার থুতনিতে যে অল্প কয়টা হয় সে কয়টা দাড়ি আছে। শখে রাখসি। কাধে একটা ব্যাগ নিয়ে রিক্সায় করে অফিসে আসা-যাওয়া করি। পথে প্রায়ই পুলিশ থামায়। গম্ভির মুখে ব্যাগ চেক করে, ফায়দা মত কিছু না পেয়ে বলে “আচ্ছা যান, দিন-কাল খারাপতো তাই”/ চেহারায় সন্ত্রাসিভাব আছে কিনা বুঝতেসি না। অফিস কলিগদের জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনারা এই রকম পুলিশি চেকিং এ পড়সেন কিনা?” কেউই হ্যা বলল না। বললাম আমার চেহারায় কি সন্ত্রাসিভাব আছে? কেউ বলল – না, কেউ মুচকি হাসে। বুঝলাম চেহারাটাই মারসে। কালো হইলে যা হয় আরকি। ফরসাকারি ক্রিমওয়ালারা ফর্সা করার লোভ দেখাইয়া পকেট কাটে আর পুলিশ সন্ত্রাসী ভাইবা রাস্তায় ধরে। কি আর করা।

কিন্তু হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসলো আগে তো পুলিশ এই সন্ত্রাসী চেহারা থাকা সত্ত্বেও কোথাও আটকায় নাই। তাইলে এখন কেন? বুঝলাম শাহবাগ আন্দোলনের ভুমিকা এইটা। যে দাড়ি, পাঞ্জাবি, টুপি ইসলাম এর ব্র্যান্ড ছিল তাকে জামাতিরা নিজেদের ব্র্যান্ড বানানোর মাধ্যমে ইসলামেরই বিরাট ক্ষতি করেছে। শাহবাগ এর তরুণ প্রজন্ম যদিও বলতেসে যে তাদের এ আন্দোলন ধর্মের বিরুদ্ধে না কিন্তু বিভিন্ন কার্টুন, কেরিকেচার ও লেখায় তারা কিন্তু এই পোশাককেই টারগেট করছেন, যার প্রভাব পরোক্ষভাবে হলেও ইসলামের উপর পড়ছে। একই সাথে তাঁরা এমন কিছু লোক নিয়ে আন্দোলন করছে যারা নিজেদেরকে নাস্তিক বলে প্রচার করলেও আসলে তারা ধর্মের বিরুদ্ধে উস্কানিমুলক ও আপত্তিকর লিখার মাধ্যমে মুলত ধর্মের চরম অবমাননাই করেছে। এটার ফলফল কি হচ্ছে আমরা কেউ ভেবে দেখছি না।  এখন অনেকেই দাড়ি, পাঞ্জাবি ও টুপিওয়ালা কাউকে দেখলেই বিরুপ মন্তব্য করে অথবা সরাসরি জামাত বা রাজাকারের তকমা দিয়ে দেয়।  আমার নিজের দেখা ঘটনা যেখানে দুজন বাচ্চা মাদ্রাসার ছাত্র টুপি ও পাঞ্জাবি পরে হেটে যাওয়ার সময় অন্য কিছু স্কুলের ছেলেরা তাদেরকে শুনিয়েই বলতেসিল “দেখ দেখ, রাজাকারের বাচ্চারা যায়”/  বাচ্চা দুটি মাথা নিচু করে হেঁটে চলে যায়। আমার কথা হল এই বাচ্চা দুটির দোষ কোথায়? তাদেরকে আমরা কিসের মধ্যে ফেলে দিচ্ছি ভেবে দেখার সময় চলে যায় নাই এখনো। অনেকে যারা জামাত ও করে না আবার রাজাকারও না, আবার দাড়ি, টুপি ও পাঞ্জাবি পরে তাদের মানসিক অবস্থাটা কি হচ্ছে তা কি কেউ ভাবছে??!!

আমরা আমাদের বাচ্চাদেরকে কি শিখাচ্ছি, বিচার না চেয়ে ফাসি চাওয়া!! এইবার না হয় আমরা ঠিক আছি, কিন্তু একবার যদি ফাসি চাওয়া শিখে যায় তখন মতের বিপক্ষে গেলেই কি এরা ফাসি চাওয়া শুরু করবে না!!! তখন বিচার বাবস্থার কি হবে!!?? এখন তো দেখি ব্র্যান্ডিং এর রাজনীতি চলতেসে।  রাজাকার হইতে নাকি দুই সেকেন্ড ও লাগে না। শাহবাগ এর মতের সাথে একটু এদিক কিংবা ঐদিক হইসেত আপনি রাজাকার হইয়্যা যাইবেন। অথবা “ছাগু”/ ছাগুর মানেটা ক্লিয়ার হইতে পারতেসি না, তবে মনে হয় ছাগলেরই অপভ্রংশ হবে। কাদের সিদ্দিকীর মত বাঘা মুক্তিযোদ্ধাও নাকি এখন রাজাকার।  তাঁকে কে “বঙ্গবীর” উপাধি দিসে এবং আদৌ তা যৌক্তিক কিনা তাও নাকি এখন খতিয়ে দেখতে হবে। জিয়াউর রহমানের মত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও নাকি পাকিস্তানের চর আসিল। সত্যিই কি বিচিত্র এই দেশের বাসিন্দারা। নিজের মতের সাথে না মিললে চরিত্র হননে আমাদের মত expert আর আছে কিনা, কে জানে।

শাহবাগ এর আন্দোলন নিয়ে আমার বিরাট আশা ছিল। এরকম স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন তো বাংলাদেশ আগে কখনও দেখে নাই। কিন্তু এদের কর্মকাণ্ড এবং বিপক্ষদের ঘায়েল করার চিরচারিত ও বিকৃত পদ্ধতি দেখে আমাকে এদের নিয়ে ভাবতেই হল। আমার ধারণা আমার মত আরও অনেককেই ভাবতে বাধ্য করেছে। এটি নাকি মুক্তচিন্তকদের আন্দোলন। মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার আন্দোলন। মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার মানে নিয়ে একটু টেনশানে আছি। এর মানে কি আমি যা বলব তাই সঠিক, অন্য কেউ কিছু বললেই জামাত নয়তো রাজাকার নয়তো ছাগু বলে ভোট দিয়ে দেওয়া নাকি বিভিন্ন্ মতামত সত্ত্বেও এক লক্ষে এগিয়ে যাওয়া। কেউ যদি একটু ক্লিয়ার করে দিতেন, এই অবুঝের বড়ই উপকার হত।  পাইকারি হারে মানুষ মারার (১০০+) পর ও এদের কাউরে দেখলাম না যে এর বিরুদ্ধে একটা শব্দ উচ্চারণ করতে। বরং তারা পুলিশ প্রেমে একেবারে মুগ্ধ। যখন সঙ্খালঘুদের বসতবাড়ি ও মন্দিরে হামলা করতে গিয়ে আওয়ামীলীগের লোকজন ধরা পড়ে দেখলাম না একটা কিছু বলতে। যখন বোমা বানাতে গিয়ে আওয়ামীলীগের ১ জন নিহত ও কয়কজন আহত হয় তখন ও দেখলাম না কাউকে কিছু বলতে। যেখানে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাবলম্বীদের মিছিলে পুলিশ গুলি করে পাখীর মত মানুষ মারে, যেখানে ঘটনাস্থল থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে থেকেও মির্জা ফখরুল ময়লার গাড়ি পোড়ানোর আসামী হয়ে জেল খাটেন, সেখানে দেশে এতগুলো সংখ্যালঘুর বাড়ী পোড়ানোর ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হবে না? এর মানে কি?? এগুলই কি মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার মানে। মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার মানেই কি বিরোধীদের গলা চেপে ধরা? নইলে সকল পত্রিকা পক্ষে থাকা সত্ত্বেও আসল দাবি থেকে সরে এসে একটি পত্রিকার সম্পাদককে গ্রেফতারের জন্য আল্টিমেটাম এর পর আল্টিমেটাম কেন? কেন তার কণ্ঠ রোধের এত চেষ্টা।  প্রায় সকল পত্রিকা পক্ষে থাকা সত্ত্বেও একটি পত্রিকার এত শক্তি কেন যে গণমানুষের এরকম একটি আন্দোলনকে ব্যর্থ করার ভয়ে তার সম্পাদককে গ্রেফতার করতে হবে। তাহলে তিনি যা বলছেন তাকি অনেক মানুষ বিশ্বাস করছেন। কেন? তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নাকি বানানো কথা লিখে মানুষকে উস্কে দিচ্ছেন। বানানো নাকি সত্য সেটা আরেক বিতর্ক। কিন্তু কথা হল তিনিত একা এগুলো ছাপান নাই। শুনেছি আরও দুটি পত্রিকাও নাকি ছাপিয়েছিল, কিন্তু এদেরকে কিছুই বলা হচ্ছে না কেন!!?? বিষয়টা যে কি, কিছুই বুঝতেসি না। এ লেখালেখিতেতো বরং লাভ হইসে দেখতেসি। সরকার এখন সবাইকে sms পাঠাচ্ছে যে “সরকার ইসলাম ও মহানবি (সাঃ) এর অবমাননা বন্ধে বদ্ধপরিকার”/ বলতেই হয় সরকারের এটি একটি ভাল উদ্যোগ।

শাহবাগ এর আন্দোলন নাকি ৭১ এর মতোই আরেক মুক্তিযুদ্ধ। শুনে হাসব না কাঁদবো বুঝতেসি না। এদের বেশিরভাগই ৭১ দেখে নাই (আমিও দেখি নাই, কিন্তু যারা দেখেছে ও যুদ্ধ করেছে তাদের কাছে শুনেছি), খুব সহজেই তুলনা করে ফেলে। ৭১ ছিল জীবন-মৃত্যুকে হাতে নিয়ে ঘোরা, চারিদিকে গোলাগুলির মধ্যে বাঁচা-মরা, Torture, Rape, সংঘাত, প্রিয়জনকে হারানো, মৃত্যু এবং তারমাঝেও বিজয়। ৭১ ছিল ৭১, তার সাথে কোনকিছুর তুলনা হতে পারে না। শাহবাগের মত সরকারি প্রহরায়, নাচ-গান ও স্লোগান নির্ভর কোন আন্দোলন এর তো নয়ই। যুদ্ধাপরাধিদের বিচার দেশের সবাই চায়। আমি শাহবাগের আন্দোলনকারি কারো চাইতে কোন কম অংশে যুদ্ধাপরাধিদের বিচার চাই তা না, বরং বেশিই চাই। কারণ একজন মুসলিম হিসেবে আমি জানি যে জামাতই এসব যুদ্ধাপরাধিদের নেতা বানিয়ে রাজনীতি করে ইসলামের সবচেয়ে ক্ষতি করেছে এবং এখনো করছে। কিন্তু এ রকম একটি বৃহত্তর  আন্দোলন থেকে যখন কেবল বিরোধীদলের যুদ্ধাপরাধিদের বিরুদ্ধেই ফাসি চাওয়া হয় এবং অন্য দল বিশেষ করে সরকারি দলে থাকা রাজাকার, যুদ্ধাপরাধিরা বগল বাজায়, তখন পুরো আন্দোলন এর পিছনে অন্ন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ জাগলে কি কাউকে দোষ দেওয়া যায়!

আমার লেখায় অনেকগুলো “বিচার চাই কিন্তু…যদি…তবে” ইত্যাদি ভাব চলে এসেছে। সুত্র মতে আমি হয় ছাগু নয় রাজাকার অথবা উভয়ই। শ  তে শিবলী তুই রাজাকার তুই রাজাকার…।

Who represents the ‘people’?

by Zahedul Amin 

As the country gets increasingly mired in political crisis resulting in arson, destruction and death to innocent civilians, the general people seem to be running out of patience. Both PM and opposition leader have been claiming to represent the general mass, while at the same time, conveniently ignoring their views.  As made amply clear in recent opinion polls, a vast majority of people support a poll time caretaker government over a more partisan one. While people squarely reject hartals and it’s crippling impact on the economy. Responsibility for civilian deaths during recent strikes falls squarely on the opposition and their failure to apologize will prove costly in coming poll.

The current crisis emanated from the Supreme Court verdict which declared the caretaker government system as unconstitutional, allowing the government to amend constitution. Despite leeway in terms of undertaking two more polls under caretaker government, and initial opposition from senior leaders of the ruling party, the government went ahead with the amendment. The biggest irony is that AL, while in opposition in mid 90s had to force the BNP government to enact the caretaker government bill enforcing 183 days hartal.

Although almost all polls under the current AL government have been deemed fair, the upcoming national election has greater weight with far reaching ramifications inducing the AL government to possibly rig it. The crux of the matter boils down to the lack of trust between the two major parties which is unlikely to alter overnight. The recent phone conversation between the PM and opposition leader is the case in point for the non-existence of a proper working relationship.

The situation is expected to escalate beyond control if the status quo remains. A poll without the main opposition is unlikely to be credible, both nationally and internationally, and may suffer the fate of the Feb 15, 1996 poll government. The opposition is also likely to continue agitation post Jan 5 poll which will further devastate the economy.

The opposition, on its part, should make utmost effort to accommodate a compromise for ensuring participation. Recent opinion polls have given them an edge in terms of electoral support which may translate into a big majority. So far, Opposition have clearly failed to pay its cards well and had to resort to arson instead of engaging the general people in the anti-government movement.

 Government has a larger responsibility in the dialogue process and their highhanded behavior is totally uncalled for. Despite knowing about impending political turmoil from 2011 onwards, they haven’t taken any concrete steps to resolve the CTG issues keeping it for the last moment. The Bangladeshi constitution provides supreme authority to the PM subordinating the influence of other cabinet members. Hence the balance of power is unlikely to be evened out even if major opposition leaders were to accept crucial ministries in the ‘all-party’ government keeping PM at the helm.

The future dialogue (if any) will primarily hinge on the person heading the interim poll-time government. It will be naïve on the part of government to expect opposition to accept the AL chief as the head the interim government, while the opposition must not expect the government to go beyond the purview of the constitution.

Civil society leaders and constitution experts have suggested several solutions falling within the tenets of current constitution. Both parties have so far ignored these voices and are going ahead with their plans.

As the Game of Throne for the country’s Prime Minister-ship draws near, we find both leaders at loggerhead again. One is championing the constitution while the other wants the return of Caretaker/neutral government. Don’t be surprised if their roles change in five years time again claiming to represent peoples’ views.

Zahedul Amin is the director of Finance at LightCastle Partners, an emerging market specialized business planning and intelligence firm. (for details visit www.lightcastlebd.com)

 

 

শাহবাগঃ আত্মপরিচয়ের সন্ধান বনাম আত্মপ্রতারণা — আমান আবদুহু

by Aman Abduhu

আমি শাহবাগকে অভিনন্দন জানাই। ওরা তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে সফল। বাংলাদেশের রাম-বামপন্থী প্রগতিশীলের দল কিছু লাফাঙ্গা ছেলেমেয়েকে এক জায়গায় জড়ো করে বড় একটা কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে। বরং ওরা এমন একটা কাজ করতে পেরেছে, যে কাজের কোন কন্ট্রোল-অল্টার-ডিলিট বাটন নেই।

বর্তমান বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে বড় প্রসঙ্গ। একটা জাতি স্বাধীনতার চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় পরে এসে নিজের শেকড়ের সন্ধানে, নিজের ইতিহাস খননে, সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছে। সাদা চোখে দেখলে খুব অভূতপূর্ব একটা ঘটনা। সমস্যা হলো, এই পৃথিবী আর পৃথিবীর মানুষগুলো এতো জটিল যে সাদাচোখে কিছু দেখাটা নিরেট বোকামি। ঐ বোকামী না করতে গেলে দেখতে হয়, কারা এই আন্দোলন করেছে? কারা বাস্তবায়ন করলো বাংলাদেশে ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার’?

এ কলংকমুক্তির আন্দোলনের মূল শক্তি হলো পনেরো ষোল বছর বয়সী কিশোর কিশোরী থেকে শুরু করে ত্রিশ পয়ত্রিশ বছর বয়সী যুবক যুবতীর দল। এরা মুক্তিযুদ্ধ চোখে দেখা দূরের কথা, জন্মই নিয়েছে বহু বছর পরে। আর যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছে, যুদ্ধের সময় বিভিন্ন কষ্ট করেছে, ঐ প্রজন্মটা চুপ করে বসে থেকেছে। কি চমৎকার? যার বিয়ে তার খবর নাই, পাড়াপড়শীর ঘুম নাই।

তাহলে ঠিক কি কারণে এই নতুন প্রজন্ম হ্যামিলনের ইঁদূরের পালের মতো দলে দলে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাস্তবায়ন করাটাকে তাদের জীবন যৌবনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে নিয়েছে? আমার মতে এ প্রশ্নের উত্তরে মাঝেই আছে বর্তমান বাংলাদেশ কে সঠিকভাবে বুঝবার উপায়।

মানুষ পৃথিবীতে শান্তির সাথে, আনন্দের সাথে বাঁচতে চায়। মানুষের বেসিক চাওয়া হলো নিরাপদে নিজ পরিবার বন্ধু সমাজের সাথে ভালোভাবে জীবনটা কাটানো। এরপর গিয়ে মানুষ ন্যায় অন্যায় হিসাব করে, নিজ মতপ্রকাশের অধিকার চায়। আব্রাহাম মাসলোর হায়রার্কি।

বাংলাদেশ একটা পশ্চাতপদ দেশ। পৃথিবীর অন্য দেশে, যেখানে মানুষের অধিকার আর স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার স্বাভাবিক গ্যারান্টি আছে, ওখানে গেলে বিষয়টা ভালোভাবে বুঝা যায়। বাংলাদেশে একটা নির্বোধ মানুষও কিশোরবেলাতেই বুঝে যায়, ভবিষ্যতে কি হবে তার কোন ঠিক ঠিকানা নাই। ন্যায় অন্যায়ের কোন বালাই নাই, সবজায়গাতে চুরি দুর্নীত ধান্দাবাজি আর শক্তির জয়জয়কার। ফলে মোটামুটিভাবে সবার ভেতরে অবচেতনে একধরণের বিক্ষুদ্ধ হতাশা গুমড়ে মরে। ঠিক এটাকেই কাজে লাগিয়েছে আওয়ামী ও বামপন্থীরা। নতুন প্রজন্মের সব হতাশা আর নপুংসকতার ক্ষোভের জন্য পত্র পত্রিকা আর জাফর ইকবালের দলদের দিয়ে বেশ কবছর ধরে স্কেপগোট বানিয়ে তুলেছে জামায়াতকে। সত্যিকার যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তান আর্মিকে হাতে কাছে না পাওয়ার ক্ষোভ এই রাগকে আরো ভালোভাবে ফেনিয়ে তুলেছে।

নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করে, স্বাধীনতার মূল চেতনা হলো যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করে, যুদ্ধাপরাধ করেছে জামায়াত। এ বিশ্বাসের আগুনে আগুনে লাকড়ির যোগান দিয়েছে জামাত নেতাদের নির্বুদ্ধিতা। এবং একটা মানুষ যখন কিছু বিশ্বাস করে, তার শক্তি অনেক বেশি। নতুন প্রজন্ম আরো অবচেতনে গিয়ে বিশ্বাস করে, এই রাস্তা ধরে হাটলে তারপরে সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। নতুন সুর্য উঠবে, তার সোনালী রোদে হেসে খেলে নেচে গেয়ে ঘুরতে থাকবে বাংলাদেশীরা।

বর্তমান বাংলাদেশ আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর জার্মানীর মাঝে আশ্চর্যজনক সব সাদৃশ্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটা যখন বিধ্বস্ত, চাকরি বাকরি খাবার নিরাপত্তা কিছুর গ্যারান্টি নাই, তখন হিটলার মানুষের সে ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ করেছিলো। সেই একই সংঘবদ্ধ ক্ষোভকে শক্তিকে পরিণত করেছে রাম-বামপন্থী ফ্রগতিশীলরা। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার স্বার্থে তাকে কাজে লাগাচ্ছে। সুতরাং জাতি এখন বিপুল ক্ষোভে বুকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ, যদিও ক্ষোভটা আসলে মুক্তিযুদ্ধের না, এদের তো যুদ্ধের সময় জন্মই হয়নাই, বরং ক্ষোভটা হলো নিজের অক্ষমতার। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কলংক মোচনের পথে যাত্রা শুরু করেছে দানবীয় একটা শক্তি। যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে।

সমস্যা হলো মুক্তিযুদ্ধের কলংকমোচনের পরও বাংলাদেশ সেই পশ্চাতপদ, অনুন্নত, সন্ত্রাসাক্রান্ত এবং নিজেরা নিজেদের ধ্বংস করতে ব্যস্ত একটা দেশ হিসেবেই থেকে যাবে অবধারিতভাবে। বরং সংঘর্ষে সংঘর্ষে অবস্থা আরো খারাপ হবে। তখন এই শাহবাগিরা হতবাক হয়ে একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করবে, কামডা কি হইলো? এবং তখন এই ফ্রান্কেষ্টাইন দানবের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য দরকার হবে নতুন নতুন স্কেপগোটের।

তবে মুনতাসির মামুন আর জাফর ইকবালের দল আপনার আমার ধারণার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান। তারা ইসলামী জঙ্গিবাদকে সেই ভিকটিম হিসেবে ফর্ম করার জন্য এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে। যারা বাংলাদেশের ভালো চান,তাদের উচিত দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা উন্নত করার জন্য কাজ করা। তা যদি না হয়, তাহলে এই জাতি আজীবন বিপ্লবী হিসেবে থেকে যাবে এবং দানবীয় একটা সাপের মতো নিজেই নিজের লেজ চাবাতে থাকবে।

জামাতের সাথে যা হয়েছে, তাতে জামাত পয়েন্ট অভ নো রিটার্ণে চলে গেছে। সরাসরি সংঘাত না হলেও, ঘৃণা আর বিভক্তির এই সীমারেখা বাংলাদেশে আর কোনদিন মুছবে না। এবং আগামী দিনগুলোতে একাত্তর নিয়ে আরো অনেক কথাবার্তা হবে। একাত্তরের যুদ্ধের মূল কারণ কি ছিলো? পশ্চিম পাকিস্তানিদের অত্যাচার? না কি গাদ্দার মুজিবের সাথে ভারতের ষড়যন্ত্র? এইসব প্রশ্ন আরো অনেক বেশি শোনা যাবে। আমার জন্ম একাত্তরের বহু পরে। এখন আমি যদি শর্মিলা বসুর মতো তথ্যনির্ভর একটা বই লিখে ফেলতে পারি অথবা একটা মুভি বানিয়ে ফেলতে পারি, তখন শাহবাগ প্রাণপণে চেষ্টা করবে যুদ্ধাপরাধ যেহেতু সম্ভব না, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে আমাকে ফাঁসি দিতে। শাহবাগ এমন একটা শক্তি, যার কাছে বিচারের অর্থ হলো ফাঁসি। শাহবাগের হাত ধরে বাংলাদেশের এই দেশপ্রেম এমনটা শক্তি হিসেবে বড় হবে, যার কাছে বিরোধী মতের একমাত্র প্রতিকার হলো ফাঁসি।

কিন্তু সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা যখন পার হয়ে যাবে, তখন রাষ্ট্র হিসেবে এই বাংলাদেশের গর্ব করার আর কিছু থাকবেনা। তখন একাত্তরের সাত বীরশ্রেষ্ঠকে নতুন ইতিহাসে লেখা হবে সাত বিশ্বাসঘাতকশ্রেষ্ঠ হিসেবে। মুক্তিযোদ্ধারা কেউ হবে বেকুব,আর কেউ হবে এ মাটির সাথে বিশ্বাসঘাতকারী। এমনটা হলে তা হবে সেই আত্মত্যাগকারী মহান মানুষগুলোর চুড়ান্ত অবমাননা। তারা কেউ আওয়ামী লীগ নেতাদের মতো কলকাতায় দলে দলে গিয়ে মদ মাংসের উৎসবে দিন কাটাননি। ঐ মানুষগুলোর ত্যাগের সত্যিকার মূল্যয়ন সত্য ইতিহাস দিয়েই সম্ভব, মিথ্যা আর গণউন্মত্ততা কোনদিন তাদের জন্য সম্মান আনবে না।

বরং বাংলাদেশ যদি স্বাভাবিক ও মধ্যআয়ের দেশ না হয়,রাজনৈতিক হানাহানি যদি চলতেই থাকে, তাহলে আমাদের পরের প্রজন্মকে আমরা বর্তমান বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ একটা জাহান্নামে রেখে যাবো। কলংকমোচন তো দূরের কথা, বেঁচে থাকার জন্য চিৎকারই হবে ঐ বাংলাদেশের একমাত্র আকুতি।

The curious case of Abdul Kader Molla

by Ahmad Abdullah

Mr. Abdul Qader Mollah is probably the most talked about Bangladeshi
these days. The highest court in our country had ordered him to be
executed through a questionable legal[1] process and in violation of
international [2]and human rights [3]laws. Worrying yet is the huge
pressure on the government, both from within and outside, to carry out
the execution at the earliest date possible. Even the attorney general
of Bangladesh has called for immediate implementation [4]of this
judicial execution.
In this short note, we provide three damning arguments proving why the
sentence by the Supreme-court of Bangladesh is in and of itself
fundamentally flawed.
1. Retroactively sentenced: The death sentence against Mr. Mollah
was handed down based on retroactively amended legislation. The
International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR), to which
Bangladesh is a state party, prohibits the retroactive application of
criminal law1; and as such retroactively amended legislation is not
valid in Bangladesh itself and clearly violates international fair
trial standards.

One may question, what is wrong with it, as long as it serves a noble
purpose – namely bringing the perpetrators of 1971 to justice. Well,
first of all, the perpetrators of 1971 is a long story that is beyond
our scope here; but suffice it to say, the whole International Crimes
Tribunal (ICT) fiasco is far from bringing the perpetrators of 1971 to
justice. More importantly, the end cannot justify the means in a legal
context; and the practice of retroactive legislation can end up in
very murky waters. For example, suppose a staunchly anti-shahbag
government comes to power with two-third majority in the future, and
passes a retroactive legislation making all activities related to the
shahbag protest tantamount to treason! Then there would be no legal
barrier to executing all those involved in shahbag movement.

2. Innocence proven beyond doubt, yet found guilty: Although Mr.
Mollah’s defense team was only allowed 6 defense witnesses; they were
able to prove beyond reasonable doubt[5], that Mr. Mollah was not
involved whatsoever with the horrendous allegations against him. In
fact, he had trained to participate in the liberation war, and was
awaiting his turn in Faridpur to join the battle. He resumed his
studies at Dhaka University immediately after 1971, and had later
become a teacher at the Udayan school and the Rifles school in the
center of Dhaka. He was also a member of the Chatra Union (Matia
group) and an ex-comrade of Matia Chowdhury and Nurul Islam Nahid
during his student days[6]. It seems his only crime is to have taken a
principled stand in the politics of Bangladesh rather than being one
of the many opportunists all around us.

3. Sentence for execution on the basis of lies and deceit: Momena
Begum was about 12 or 13 when her immediate family members were
brutally massacred in Mirpur, Dhaka by unknown assailants on March 26,
1971. Up until 2007, Momena Begum, a class five graduate, had neither
filed any complaints to any court of law, nor brought up the issue of
her family member’s massacre to any media. Then, on 28 September 2007,
she gave a statement in relation to her family’s massacre to a
researcher at Jallad Khana, the annex of the Liberation War Museum
officer, in which she blamed her Bihari neighbours for her family’s
brutal murder[7]. Of all her family members, only she survived as she
had left for her father-in-law’s place two days prior to the fatal
incident. Fast forward five years, and this Momena Begum reappears in
the ICT testifying that she had heard Mr. Mollah was an associate of
one Akter Gunda who had killed people in Mirpur (Note: sill no
allegation of Mr. Mollah’s involvement in her family’s killing).
Surprisingly such a contradictory and inconclusive statement[8] was
sufficient to find Mr. Mollah guilty and ‘deserving’ the death
sentence!!
Worse still is the recent revelation of the fact that the Momena Begum
who testified at the ICT in 2012 is not the real Momena Begum,
daughter of Hazrat Ali. It was ‘someone else’ – possibly an associate
of the state prosecutors – pretending to be her[9]. It has been
further reported, though could not be independently confirmed, that
the actual Moment Begum has been kidnapped and is being held at an
unknown location by the state security forces.
The judiciary in Bangladesh does not have an exemplary record of being
just and fair, especially in recent times. However, executing Mr.
Mollah through such a flawed process would definitely be a new
(all-time) abyss, and a disgrace to any process of law anywhere in the
world. We must stand up and voice out against such a violation of the
fundamental rights of a fellow Bangladeshi for the sake of Truth,
Justice and our Bangladesh herself.
——————————
[1] http://www.hrw.org/news/2013/12/08/bangladesh-halt-execution-war-crimes-accused
2 http://www.icj.org/bangladesh-abdul-quader-mollah-death-sentence-violates-international-law/
3 https://www.amnesty.org/en/for-media/press-releases/bangladesh-death-sentence-without-right-judicial-appeal-defies-human-rights
4 http://tinyurl.com/ozb3fzr

5 See http://bangladeshwarcrimes.blogspot.dk/search/label/Molla%20index

for detailed proceedings.
6 Confirmed by a BAL MP in one of his writings (I can’t find the
reference at the moment).
7 http://www.newagebd.com/detail.php?date=2013-10-07&nid=68309#.UqSkar-D5R9

8 Justice Abdul Wahhab commented in the judgment of Mr. Mollah “PW3
(Momena Begum) in her statements made to the Investigation Officer
during investigation did not implicate the accused with the horrific
incident which took place on 26.03.1973 and specifically stated that
the Biharis and the Pakisan army committed the crime” –
http://tinyurl.com/pfyrp7g
, pg.473
9 http://tinyurl.com/nouhhv6

তোমরা যারা এখনো আওয়ামীলীগে​র গোঁয়ার্তুমি​র যুক্তিকতা খুঁজে পাও——

কথা হচ্ছিল এক সুশীল ভাবাপন্ন লোকের সাথে যিনি নিজেকে ম্যাংগো পিপল বলে দাবী করেন(আদতে ঘাপটি মারা আওয়ামীলীগ )। উনি মহা বিরক্ত হয়ে বলছিলেন যত কষ্ট আমাদের ম্যাংগো পিপলের, খালেদা জিয়া দেশটারে শেষ কইরা ফেলছে।
আমি বললাম ভাই ক্রাইসিস তৈরি করল হাসিনা আর আপনে দোষ দিচ্ছেন খালেদাকে, ব্যাপার কি?
খালেদারে দোষ দিবনা তো হাসিনারে দিব, হাসিনাকি অবরোধ দিছে?
আমি বললাম, অবরোধ সৃষ্টির কারণটা কে তৈরি করেছে?
উনার উত্তর খালেদা। হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হইয়াও তারে ফোন দিছিল সমযতার জন্য কিন্তু খালেদা তার জবাবে সাড়া দেয়নি। সে ওই সময় সমযতায় আসলেই তো ল্যাঠা চুকে যেত।
আমি বললাম,  ভাই চমৎকার  আপনার ব্যাখ্যা! ক্রিকেট খেলা তো দেখছেন? খেলায় আম্পায়ার যে থাকে সে কিন্তু কোন দলের প্লেয়ার না। সে তৃতীয় আরেকজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। মনে করেন বাংলাদেশ আর ভারত ক্রিকেট খেলা হবে; এখন ভারত খেলার নিয়ম পরিবর্তন করে বলল খেলার আম্পায়ার হিসেবে থাকবেন ভারতের অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধনি। বাংলাদেশ বলল না আমরা নিরপেক্ষ আম্পায়ার চাই। ভারত বলল আচ্ছা তোমাদের থার্ড আম্পায়ার পদটা দেয়া হবে। বাংলাদেশ বলল না আমরা নিরপেক্ষ আম্পায়ার চাই। নিরপেক্ষ আম্পায়ার না হলে আমরা খেলব না। ভারত বলল ঠিক আছে দাদা খেইল না। আমরা ওয়াকওভার পাইয়া এমনেই জিতে যাব। এখন আপনি যদি বলেন ভারত এত শক্তিদর হয়েও বাংলাদেশকে থার্ড আম্পায়ার পদটা দিতে চাইছে আর বাংলাদেশ সেটা নিল না। কত বড় স্পর্ধা! খেলা কেন্দ্রিক যে সংকট তৈরি হোল তার জন্য বাংলাদেশই দায়ী তাহলে আপনার মানসিক সুস্থতা নিয়ে যে কেউই প্রশ্ন তুলবে। নিয়ম পরিবর্তন করে সংকট তৈরি করল ভারত আর আপনি দুষছেন বাংলাদেশকে। বাংলাদেশতো বলে নি যে খেলার আম্পায়ার মুশফিকুর রহিম কে দিতে হবে। বাংলাদেশের দাবি হোল নিরপেক্ষ আম্পায়ার এর অধীনে খেলা অনুষ্ঠিত হতে হবে, নয়তো এ খেলা হবেনা।
এবার আসি খালেদা-হাসিনার ফোনালাপ প্রসঙ্গে। আপনারা খুব সুকৌশলেই বলেন খালেদা,  হাসিনার ফোনের সময় যদি আলোচনায় আসতেন তাহলে এত সংকট হতো না। অথচ খালেদা জিয়া ফোনে স্পষ্টই বলেছিলেন – “আপনি কি র্নিদলীয় সরকার নিয়ে আলাপ করার জন্য আমাকে ডেকেছেন ? যদি এটি নিয়ে ডাকেন তাহলে আমি আসব। র্নিদলীয় সরকারের দাবি আমার একার না। এটা দেশের সব মানুষের দাবি। এখনো যদি নীতিগতভাবে র্নিদলীয় সরকারের দাবি মেনে নেন, তাহলে হরতালসহ সব কর্মসূচি বন্ধ করার দায়িত্ব আমি নেবো। সমাধান হয়ে গেলে তো আর কোন কর্মসূচির দরকার হবে না।  এখানে চিন্তার কিছু নেই। আপনি দাবি মেনে নিন। দেশের মানুষকে শান্তি দিন। এই দেশটা আপনারও না, আমারও না, ১৬ কোটি মানুষের। তাদের শান্তির কথা, স্বার্থের কথা চিন্তা করেন। আমি তো সেসময়ে আপনার দাবি মেনে ছিলাম। আমি তো এখন আমার দলের সরকার চাই না। আমার নিজের সরকারও চাই না। চাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্দলীয় লোকদের সরকার। সেটা মানতে আপনার আপত্তি কেন বুঝতে পারছি না”।
ফোনালাপ যে আওয়ামীলীগের কৌশলই ছিল তা তারা ফোনালাপ প্রকাশের মাধ্যমেই বুজিয়ে দিয়েছে। পরবর্তী গোঁয়ার্তুমিগুলো সকলেরই জানা। মন্ত্রীদের পদত্যাগের নাটক, সর্বদলীয় সরকারের নামে মহাজোটীয় সরকার গঠন নাটক। আওয়ামীলীগের কৌশলই হচ্ছে যে কোন উপায়ে বিএনপিকে নির্বাচনের বাহিরে রাখা। আপনি যে আওয়ামীলীগকে উদার বলছেন; তারা দেখতে পাচ্ছে প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে আসছে না তারপরও তারা নির্বাচন করবেই বলে গোঁ ধরে আছে, এর থেকে নির্লজ্জ গোঁয়ার্তুমি আর কি হতে পারে। এরশাদ বলল সে নির্বাচনে যাবেনা, তারপরও  আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বলেছেন “এরশাদ সাময়িক মনবঞ্চনা থেকে এই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আবার নির্বাচনে ফিরে আসবেন”  এরশাদ যখন বলল তাকে জোর করা হলে সে আত্মহত্যা করবে, তখন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বলেছেন “নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে যা যা করার সবই করা হবে”/ তারমানে এরশাদকে জোর করে হলেও নির্বাচনে আনা হবে অথবা বহু মানুষ মেরে হলেও তারা ক্ষমতায় থাকবে।
উনারা খুবই বুদ্ধিমান! উনারা ভাবছেন সাধারন মানুষ উনাদের এই ছ্যাঁচড়ামো বুজতেছেনা। দূর! আমি যে কি বলছি? উনারা তো মানুষের মতের তোয়াক্কা করছেন না। উনারা মানুষের মতের তোয়াক্কা করলে, সংবিধান থেকে গণভোটের প্রথা তুলে দিতেন না। উনারা জনগণের ভোটে নয় বন্দুকের নলের উপর ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইছেন। উনাদের নিকট গণতন্ত্র হল গভর্নমেন্ট অফ দ্যা ভারত, বাই দ্যা পুলিশ, ফর দ্যা আওয়ামীলীগ।
আমার মাথায় আসছে না, আওয়ামীলীগের এতো গোঁয়ার্তুমির পরও কিছু মানুষ তাদের অযুক্তিক দাবির যুক্তিকতা খুঁজে পান কেন?  এরা কি ম্যাংগো পিপল নাকি আওয়ামীলীগ?

শেখ হাসিনার এক্সিট রুট

by WatchDog

Awami League and BNP

যতই গো ধরেন না কেন যেতে উনাকে হবেই। ভাগ্যলিখন উনার লেখা হয়ে গেছে। তা ৫ই জানুয়ারির আগে হোক আর পরে হোক। ক্ষমতা বদলের যে অসুস্থ পথ তিনি আবিস্কার করে গেছেন একই পথ উনাকেও মাড়াতে হবে। অস্কার ফার্নান্দোরা সময়ের কালক্ষেপণ মাত্র। অতীতের স্যার নিনিয়ান অভিজ্ঞতা তাই বলে। এরশাদ ছিলেন বুদ্ধিমান, তাই ক্ষমতার পালাবদলে শেখ হাসিনার ভূমিকায় নামেননি। প্রায় মসৃন পথে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ক’বছর জেল খাটলেও রাজনীতির মাঠ হতে কেউ তাকে নির্বাসনে পাঠাতে পারেনি। প্রতিশোধের জন্য খুন করতেও কেউ পিছু নেয়নি। এরশাদ বেঁচে আছেন আপন মহিমায়। হোক তা গৌরবের অথবা কালিমার। কেমন হবে শেখ হাসিনার এক্সিট? এ নিয়ে জল্পনা করার কি সময় আসেনি? অনেকে বলবেন প্রিম্যাচিউরড হয়ে যাবে এ জল্পনা। পায়ের তলার মাটি অনেকটা ভূমি ধ্বসের মতই সরে যাচ্ছে। সরকারী সুবিধার আড়ালে উনি হম্বিতম্বি যাই করেছেন তা কেবলই বাগরম্বতা, মৃত্যু পথযাত্রীর শেষ চীৎকার। উনি নিজেও তা জানেন। আসুন গণতন্ত্র ও সংবিধানের খাদেম এই স্বৈরশাসকের এক্সিট রুটের একটা ছবি আঁকার চেষ্টা করি।

নিকট অতীতের ইয়াজ উদ্দিনের মত বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে সরকার প্রধান বানিয়ে নির্বাচনে গেলেন। এবং বিপুল বিক্রমে পরাজিত হলেন। যদিও বিএনপি নেত্রী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন, ফলাফল ঘোষনার রাতে সে নিশ্চয়তা হুর মুর করে ভেঙ্গে পরার সমূহ সম্ভাবনা থেকে যাবে। অনেকের অনেক বকেয়া মেটানো বাকি নেত্রীর সাথে। তাই ইয়াজ উদ্দিন মার্কা নির্বাচন নেত্রীর এক্সিট রুটকে মোটেও মসৃন করতে পারবেনা।

দেশত্যাগ। বাই বর্ণ নৌকার সমর্থকরা নিশ্চয় চমকে উঠবেন। জননেত্রী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, শান্তির কন্যা উপাধিতে ভূষিত এই নেত্রীর যুদ্ধের মাঠ হতে পলায়ন এক কথায় উড়িয়ে দেবেন। অতীত অভিজ্ঞতা কিন্তু তা বলেনা। তত্ত্বাবধায়ক ঝড় হতে বাঁচার জন্য তিনি কিন্তু পালিয়েছিলেন। এবং পরিবর্তনের পালে হাওয়া লাগার পরই ফিরে এসেছিলেন দেশে। প্রশ্ন, কোথায় যাবেন?

১) ভারত – ভারতীয় সরকার তার অতিথির তালিকায় শেখ হাসিনাকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে ধন্য হবে। কিন্তু সমস্যা একটা থেকে যাবে। উলফা। আসামের স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত এই দলের প্রায় প্রত্যেক নেতাকে ভারত সরকার হাতে তুলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাদের কেউ কেউ প্রতিশোধের জন্য এগিয়ে আসবেনা বিশ্বাস করা কঠিন। ভারত সরকারও চব্বিশ ঘন্টার পাহারা বসিয়ে নেত্রীকে আগলে রাখবে তারও নিশ্চয়তা নেই। তবে যাদের জন্য দেশের নদী আটকে রাস্তা করে দিয়েছিল বিনিময়ে তাদের কাছে সেফ প্যাসেজ আশা করা অন্যায় কিছু হবেনা।

১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – সন্দেহ নেই নেত্রীর প্রিয় জায়গা। আপন সন্তানেরও বাস সে দেশে। মার্কিন মুলুকে বৈধ পথে আসায় কোন বাঁধা থাকবেনা। কিন্তু সমস্যা হবে ষ্ট্যাটাস নিয়ে। ওবামা সরকারের ন্যূন্যতম প্রটোকল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবেনা বহুমুখি কারণে। এক, তিনি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন না। দ্বিতীয়, গেল ৪ বছর ধরে মার্কিন সরকারকে যত্রতত্র হেনস্থা করে গেছেন এই নেত্রী। সে দেশের অকৃত্রিম বন্ধু এবং বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ডক্টর মোহম্মদ
ইউনূসকে অপদস্থ করা সহজভাবে নেয়নি মার্কিন সরকার ও জনগণ। তার মূল্য কিছুটা হলেও পরিশোধ করতে হবে নেত্রীকে।

৩) অন্দরমহলের খবর হচ্ছে নেত্রী আগ বাড়িয়েই নাকি সমাধা করে রেখেছেন এ সমস্যা। রাশিয়া সফর এবং সে দেশ হতে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র আমদানী তারই মূল্য শোধ। কদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যের একটা দেশের সাথে রাশিয়ার ভোট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ রাশিয়ার পক্ষ নেয়ায় সে সন্দেহে হাওয়া লাগতে শুরু করেছে।

৪) পরাজয় মেনে নিয়ে বাংলাদেশে থেকে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক জনরোষ থিতিয়ে আসলেও মূল ভয় থেকে যাবে সেনাবাহিনীর তরফ হতে। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর সেনানিবাস পরিদর্শনে গিয়ে নেত্রী যে বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তা ভুলে যাওয়া হবে মারাত্মক ভুল। শেখ হাসিনা ভাল করেই জানেন এই বাহিনী তার ৫৭ অফিসার হত্যাকাণ্ড এত সহজে ভুলে যাবেনা। এবং সময় সুযোগ বুঝে প্রতিশোধ নিতে এক মিনিট দেরি করবেনা।

শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রস্থান নিয়ে আমার মত ম্যঙ্গোদের চিন্তা করার কোন কারণ আছে বলে মনে হয়না। নেত্রী নিজেই নিজের কবর খুড়ে রেখেছেন। সে কবরে পা দেয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে শারীরিক অপমৃত্যু সব সময়ই থাকবে অনাকাঙ্খিত। কারণ এ ধরণের মৃত্যু একজন অপদার্থকে পদার্থ বানায় এবং জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয় মহান বানানোর চাপ। আর এই চাপ আমাদের বাধ্য করে তার জন্মদিন, মৃত্যুদিন, আগমন, নির্গমন নিয়ে সার্কাসের আয়োজন করতে।

সিকিম হবে না কিন্তু পাকিস্তান-আফগানিস্তান হয়ে যাবে

by আজগর খান 

//আওয়ামী সুশীলঃ বিএনপি জামাত আবার ক্ষমতায় আসবে, দেশ পাকিস্তান আর আফগানিস্তান হয়ে যাবে।

জনৈক ব্যক্তিঃ হ্যাঁ ঠিক আছে, আওয়ামীলীগ আসলে দেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য হবে, আমরা সবাই ভারতীয় হবো! তাজমহল, গোয়া, কাশ্মীর, কন্যাকুমারী, দার্জিলিং সব জায়গায় বিনা পাসপোর্ট যখন তখন ঘুরতে পারবো। বলিউডের সুন্দর সুন্দর মুভিগুলা ভারতের অন্যান্য জায়গার সাথে আমাদের পূর্ব বাংলায় ও একযোগে মুক্তি পাবে। কি মজা!

আমি চাই আওয়ামীলীগই ক্ষমতায় আসুক!

পাকিস্তান আফগানিস্তানের চাইতেও ভারত ভাল তো! ভালো না? মেরা ভারত মহান!

আওয়ামী সুশীলঃ (ধরা খাইসে, এখন আমতা আমতা করে বলতেসে)

না না! ঐরকম কেন বলছেন? দেশ ভারত হবে কেন? বাংলাদেশই থাকবে? ঐসবে কান দেবেন না! কথাতো ঐ একটাই শিখছেন, ভারতের অঙ্গরাজ্য! ভারতের অঙ্গরাজ্য! আপনি কিভাবে বুঝলেন দেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য হবে?

জনৈক ব্যক্তিঃ তো *** **(!) তুই কিভাবে বুঝলি দেশ পাকিস্তান আর আফগানিস্তান হবে?//

* (সংগৃহীত একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস)

 

চেতনার হোলসেলার লীগ এবং শাহবাগিরা দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ-ফেসবুক-পোস্ট-কমেন্টে বিরোধীমতের যত লোককে ভার্চুয়ালি ‘ফাকিস্তানে’ পাঠিয়েছেন তার মোট সংখ্যা বোধকরি বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যার চেয়ে বেশি না হলেও খুব কম হবে না ! রাজনৈতিক একটি ধর্মমতকে তারা প্রায় একটি ধর্মের মর্যাদায় নিয়ে গেছে, সামাজিক-সাম্প্রদায়িকভাবে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী হলেও মূলতঃ তাদের মূল ধর্ম হিসেবে ‘চেতনা’ কেই তারা বার বার তুলে ধরে থাকে।  ভিন্নমত হওয়া বা যূথবিচ্ছিন্ন হওয়ামাত্রই তারা ‘বঙ্গবীর’ কে মূহুর্তে রাজাকার বানিয়ে দিতেও কসুর করে না, স্বাধীন সংবিধান রচয়িতাকেও ‘বিভীষণ’ তকমা দিয়ে দেয় _ এই ২য় প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধারা ‘৭১ না দেখেও প্রয়োজনের সময় হয়ে ওঠেন ‘৭১ এর আসল মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়েও অনেক বড় মুক্তিযোদ্ধা !

বাংলাদেশে ইসলামের ইতিহাস প্রায় হাজার বছরের পুরনো। এর মাঝে মুহাম্মাদ-বিন-কাসিমের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বহু শতাব্দী গত হলেও দেশ আজ পর্যন্ত কখনো পাকিস্তান বা আফগানিস্তান হয় নি। এমনকি খোদ পাকিস্তান আমলেও এই জাতি ঠিক ‘পাকিস্তানি’ হতে পারেনি, ‘৫২ র ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুকে রাষ্ট্রীয় ভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে এসে অকাতরে গুলির মুখে গর্জে উঠে রক্তদান করা জাতি এই জাতি, আজ ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে সারা বিশ্বে আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারীই পালিত হয় _ পৃথিবীর কোন জাতি মাতৃভাষার জন্য এত প্রগাঢ় আবেগ দেখাতে পারেনি। পাকিস্তান আমলেও কিন্তু কোলকাতায় তথা বিভক্ত ভারতে, এবং এই বাংলায় ‘পূর্ব বাংলা’ ‘পূর্ববঙ্গ’ ‘এপার বাংলা’ বলা হত।  ‘৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ করে হানাদারদের নারকীয় শোষণ-নিপীড়ন থেকে সুদীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়া এই জাতি ‘৭১ এর আগে হাজার বছরে কিংবা ‘৭১ পরবর্তী ৪২ বছরে কখনো পাকিস্তান বা আফগানিস্তান হয় নি। শুধু গত কয়েক দশকেই তো ইসলামের বিরাট বিরাট নানান আওয়াজ এই বদ্বীপ প্রকম্পিত করেছে। সারা দুনিয়া থেকে আগত প্রায় কোটি-অর্ধকোটি লোকের সমাগমে ঢাকার টঙ্গীতে ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হয় _ দেশ কি ‘পাকিস্তান’ বা ‘আফগানিস্তান’ হয়েছে ?

এর মাঝে চেতনার হোলসেলাররা যদি ২ বার(যে করেই হোক না কেন) ক্ষমতায় এসে থাকে তাহলে তাদের অভিযুক্ত ‘বিএনপি-জামাত গং’ ৩ বার ক্ষমতায় এসেছে _ তখনো দেশ ‘পাকিস্তান’ বা ‘আফগানিস্তান’ হয়নি। তাহলে আজ কেন এই অভিযোগ ?

অভিযোগ এজন্য যে তারা নিকৃষ্টতম ঘেঁটুপুত্র হিসেবে যাদের সেবাদাসত্ব করে যাচ্ছে সেও ভারতীয় বর্ণবাদি সাম্রাজ্যবাদি গোষ্ঠির ‘প্রেসক্রিপশন’-‘ব্লুপ্রিন্ট’ অনুযায়ী যা প্রদত্ত সিলেবাস তার বাইরে যাওয়ার মত ব্যক্তিত্ব-সৎসাহস-দেশপ্রেম কোনটাই তাদের নেই। ক্রীতদাসসম ঘেঁটুপুত্রদের অবশ্য তা থাকার কথাও নয়। যাদের প্রভুরা হচ্ছে রাজা লক্ষণ সেনের বংশধর, যিনি বখতিয়ার খিলজির মাত্র ১৭ জন অশ্বারোহীর হ্রেষাধ্বনি শুনে বিচলিত হয়ে মধ্যাহৃভোজন অসমাপ্ত রেখেই রান্নাঘরের দরজা দিয়ে পত্রপাঠ পলায়ন করেন _ তার বংশধর, ইসলাম তথা মুসলিমবিদ্বেষ-মুসলিমভীতি যাদের রক্তে জেনেটিক্যালি শত শত বছর ধরে প্রবাহিত হচ্ছে, তার থেকে আলাদা কিছু কিভাবে হবে ?

 

ব্যক্তিগতভাবে আমি সাঈদি বা শেখ মুজিব কারোরই ভক্ত-টক্ত না বা কারোর ব্যাপারেই মোহাচ্ছন্ন না _ কিন্তু সামান্য রিংটোনের মত একটা মামুলি বিষয় নিয়ে বৃদ্ধ একজন মানুষকে একদল তরুণ যে চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বীরদর্পে বেদম পিটিয়ে থানায় সোপর্দ করে _ সেই ‘চেতনা’ সম্পর্কে চিন্তিত হতেই হয়। একই যুক্তিতে আগামী দিনে ৭ ই মার্চের ভাষণ কারো রিংটোনে বেজে উঠলে একইরকম ঘটনা রিভার্স হওয়াও কি খুব বিচিত্র কিছু ?

 

ফ্ল্যাশব্যাকে মনে পড়ে যায় ৬ ই এপ্রিল জাগরণমঞ্চের কর্মীদের একটা ছবি প্রকাশিত হয়েছিল রমনা পার্কে একদল তরুণের একজন পক্ককেশ বৃদ্ধকে প্রচন্ড মারধর করে রক্তাক্ত করে পাঞ্জাবির কলার ধরে বীরদর্পে এগিয়ে যাওয়ার বিরল দৃশ্য। আসল বীরপুরুষ আসলে ছিলেন ‘৭১ এর আসল মুক্তিযোদ্ধারা, যাদের বুকে ছিল আগুন, যারা অমিতবিক্রমে বুকে মাইনে বেঁধে ট্যাংকের সামনে নির্দ্বিধায় ঝাঁপিয়ে পড়তেন, তারা আসলেই অকুতোভয় ছিলেন। কারণ কি ? কারণ ‘৭১ কে নিজের চোখে দেখার কারণে, সে আগুনের সাথে ‘ইনভলভড’ হবার কারণেই সেই আগুণের পরশমণি হৃদয়ে ধারণ করতে পেরেছিলেন। তারা নিজেরাই পশ্চিম পাকিস্তানীদের শোষণ-বঞ্চনা-অত্যাচার-স্বজন হারানোর বেদনার প্রত্যক্ষ অংশীদার ছিলেন _ সেজন্যে ‘৭১ এর মহান চেতনাকে ‘কল্পনা’ করে তাদের ধারণ করতে হয় নি, রীতিমত এক অনিবার্য প্রাকৃতিক অবশ্যম্ভাবীতায় তা তাদের রক্ত-অস্থিমজ্জায় মিশে গিয়েছিল, যেতে বাধ্য হয়েছিল। ওনাদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই ‘৭১ এর চেতনা ‘ন্যাচারাল’ একটি বিষয়, যা অপরিহার্য-অবিচ্ছেদ্য একটি প্রত্যঙ্গের মত।

 

আজকের শাহবাগিদের চেতনা মোটেই সেরকম বা তার ধারেকাছে কিছু নয় ! শাহবাগি চেতনা একটি টকসিকেটেড ভালগার রোমান্টিসিজম। ৪২ বছর আগের একটি সময় যার সাথে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-ভৌগোলিক-সমাজতাত্ত্বিক-সাংষ্কৃতিক কোন রকমের কোন সাযুজ্যতা নেই, কোনরকম কোন সংযোগ নেই, কোনরকম কোন ‘সংশ্লিষ্টতা’ বা ‘ইনভলভমেন্ট’ সরাসরি নেই _ নিতান্ত রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে একটি সাম্রাজ্যবাদি গোষ্ঠি ও তাদের ‘প্রাদেশিক’ তাঁবেদার শ্রেণীর ঘটানো একটি কৃত্রিম অভ্যুত্থান _ যাকে আসল বিপ্লব না বলে ‘উৎপ্লব’ বলে অভিহিত করা যায়। অতিমাত্রায় কৃত্রিমতা এবং অন্তঃসারশূণ্যতার কারণে গৃহপালিত মতলববাজির ফসল অস্বাভাবিক এক ‘উৎপ্লব’।

 

প্রথম কয়েকদিন চমক সৃষ্টি করলেও অচিরেই এই উৎপ্লব এক ঐতিহাসিক তামাশায় পরিণত হয়, না হয়ে উপায়ও অবশ্য ছিল না। কারণ এই ‘২য় মুক্তিযুদ্ধ’ এর মহান বিপ্লবীরা ছিলেন ‘৭১ এর সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থায়। ‘৭১ এর আসল মুক্তিযোদ্ধারা যে ভীষণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রথম সারির একটি পেশাদার সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়েছিলেন অনন্যোপায় হয়ে, নারকীয় বঞ্চনা আর অগ্নিগর্ভ ক্ষোভের যে আগুন তাদের বুকে ছিল তার কিছুই শাহবাগিদের দেখতে হয়নি, ফেস করতে হয়নি। অনাহারে-অর্ধাহারে নিরস্ত্র হয়েও সে আগুন তাদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছিল বাংলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে বিক্ষুব্ধ ঝঞ্ঝার মত।

 

শাহবাগি প্রেক্ষাপটে শহরের সুবিধাভোগী পেটি বুর্জোয়া শ্রেণীর একপাল বালকবালিকা, ক্ষমতাসীন সরকারের পরম পৃষ্ঠপোষকতায় চোখের সামনে ৩ স্তরের সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা বেষ্টনী/ ব্যক্তিগত গানম্যান/ সরকারি খরচে মঞ্চ/ প্রচুর অর্থ/দেশবিদেশ থেকে আসা বিপুল পরিমাণ চাঁদা/ বিভিন্ন সুযোগসুবিধা/ রেগুলার গরমাগরম বিরিয়ানির প্যাকেট/ মোবাইল টয়লেট/স্লিপিং ব্যাগ লেপতোষক/ অবাধে নারীসঙ্গে দিনরাত নাচে-গানে-স্লোগানে নরক গুলজার করার জন্য উম্মুক্ত রঙ্গমঞ্চে মুক্তকচ্ছ উল্লম্ফনের জন্য ৩ মাসব্যাপী নিশ্চিন্ত আবাস ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।  আসল মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার কিছুই শাহবাগিদের ফেস করতে হয় নি _ ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। ফার্মের মুরগি দিয়ে আর যাই হোক _ বিপ্লব হয় না।

 

ফার্মের মুরগিকে দানা, মানে এক জায়গায় বসিয়ে দীর্ঘকাল ধরে অনবরত পোলট্রি ফিড খাওয়াতে খাওয়াতে যেমন সেগুলো নির্জীব একদল স্বাস্থ্যবান মুরগিতে পরিণত হয়, যা শুধুমাত্র জনজীবনে মাংসের ৩য় শ্রেণীর চাহিদা মেটাতে বিস্বাদ একটি বিকল্প _ শাহবাগিরা তার চেয়ে বেশিমাত্রায় লীগদের শুধু হতাশই করেনি, ৬৫ বছরের পুরনো একটি রাজনৈতিক দলকে দীর্ঘকালস্থায়ী বিপদের মধ্যে নিপতিত করেছে। যে কারণে প্রথমদিকে মঞ্চে ওঠার জন্যে লীগ নেতারা পাগলপারা হলেও আজ ভুলক্রমেও তাদের শাহবাগের নাম নিতেও শোনা যায় না, শাহবাগ এখন চেতনার হোলসেলারদের কাছে একটি অব্যক্ত দুঃস্বপ্নের মত। একদল ফার্মের মুরগিকে দিয়ে লড়াকু বিপ্লবের দুঃস্বপ্ন দেখার অশুভ ক্ষণটিকে আজ হয়তো শুধু অব্যক্ত গালাগালি দিয়ে যাচ্ছে, তবে আগামী দিনে চেতনার হোলসেলাররা বছরের পর বছর ধরে আসল ভুক্তভোগী হতে হতে অবিরাম অভিশাপ-শাপশাপান্ত করে যাবে শাহবাগিদেরকে।

 

২০১৩ প্রজন্ম ‘৭১ দেখেনি, কিন্তু তারা চোখের সামনে দেখছে কিভাবে শক্তিশালী প্রতিবেশী ভারত সুন্দরবন গ্রাস করতে চাচ্ছে, ট্রানজিটের নামে দেশের সড়কগুলোর ১২টা বাজিয়ে ভারী ভারী লরি নিয়ে বেনাপোল থেকে ত্রিপুরা বিনামূল্যে নির্বিঘ্নে চলে যাচ্ছে ত্রিপুরায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য, বাংলাদেশকে সেজন্যে মূল্য বা বিদ্যুতের পরিবর্তে দেয়া হচ্ছে শুকনো ‘ধন্যবাদ’, চড়া মূল্যে ভারত ঠিকই বিক্রি করছে বিদ্যুত আলাদা চুক্তি করে, ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যান্ডউইডথ ভারতকে ২০ বছরের নবায়নযোগ্য চুক্তিতে মাত্র ৮০ কোটি(!!) টাকায় দিয়ে দেয়া হচ্ছে, প্রতিদিন সীমান্তে ৩য় শ্রেণীর নোংরা বিএসএফ হত্যা করছে বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে, ফেলানির লাশ ঝুলে থাকছে কাঁটাতারের বেড়ায় বেকসুর খালাস পাচ্ছে ফেলানির খুনি _ আরো হাজার ঘটনা কিন্তু এই প্রজন্ম নিজের চোখে দেখছে, দেখে যাচ্ছে। তারাই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বেকুব _ যারা মনে করে এই ‘দেখে যাওয়া’ র কোন প্রতিক্রিয়াই বাংলাদেশের ২০১৩ প্রজন্মের যুবকদের থেকে কখনো হবে না।

তারা যদি মনে করে সমস্ত অপকর্ম ‘চেতনা’ নামতা শুনিয়ে এভাবেই চালিয়ে যাবে _ তার মূল্য বড় মর্মান্তিকভাবে তাদের অচিরেই শোধ করতে হবে, একইভাবে তাদের উত্তরসূরীদেরকেও এর দায় বহন করে যেতে হবে। সত্যি বলতে কি এর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশে।

এখন ঘটনার উত্তাল পালাবদলে না হোক, কালক্রমে তারা বুঝতে সমর্থ হবে যে কি কুক্ষণেই না অভিশপ্ত এক ইডিয়সীর শিকার হয়ে তারা ৮৫% মুসলমানের দেশে ‘সেকুলারগিরির’ এর প্যাকেজে শয়তানের মুত্র ভরে অমৃতজ্ঞানে আকন্ঠ পান করেছিল !

সেমি-নগ্নতা + কোয়ার্টার নগ্নতা = পুরুষের মনোরঞ্জন

images (1)

By Tarannum

আমার মনে হলো আমি কোন ইংলিশ/হিন্দি মুভির ট্রেলার দেখছি!যেমন মেয়েটির পোশাক,তেমনি ছেলেটিরও।তবে ইংলিশ মুভিতে নায়িকা থেকে নায়ক আলাদা করা যায়,এখানে দেখলাম আলাদা করাটা একটু না,ভালোই টাফ।পিছন থেকে কনফিউজিং বেশ,হু ইজ হোয়াট!কারণ নায়কের চুল নায়িকার চুলের প্রায় সমান লম্বা,হাতে চুড়ির মতো কি তা ঠিক বুঝলামনা।হবে হাল ফ্যাশানের কিছু একটা,ভেবে আমি গবেষণা থেকে ক্ষান্ত দিলাম।তবে যে গবেষণা থেকে ক্ষান্ত দেয়া গেলনা তা হলো এদের ঘনিষ্ট হয়ে বসার ভঙ্গি এবং মেয়েটির অতীব ‘আধুনিক’ পোশাক।পোশাকের বিবরণে আমি যাবনা।তবে তা বাঙালী কেন,গোটা উপমহাদেশীয় ট্র্যাডিশনাল পোশাকের ধারেকাছেও নাই।

বলছি,আমি একটি নামী প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বছর পাঁচেক আগে এমবিএ-তে ভর্তি হতে গিয়েছিলাম।সেখানকারই ঘটনা।আমি হিজাবী মানুষ,ওখানে গিয়ে যথেষ্ট হকচকিয়ে গিয়েছিলাম,কুন্ঠিতও হয়েছিলাম।মনে হচ্ছিল আমাকে ওখানে মানাচ্ছেনা,২-৩ ঘন্টায় যেসব মেয়েদের দেখলাম তাদের কারোর পোশাকই আমার মতো ‘ক্ষ্যাত’ নয়,বড়ই ‘আধুনিক’!তা সে ৫ বছর আগের কথা এবংপরবর্তীতে কিছুদিন পর্যন্ত এই ঘটনা মনে পড়লে এই ভেবে সান্ত্বনা দিতাম নিজেকে যে যাদের দেখেছিলাম তারা সবাই বড়লোক বাপের “বড়মানুষ” বাচ্চাকাচ্চা,তারা কি আর আমার দেশের ৮০% মানুষকে রিপ্রেজেন্ট করে?

তবে এই ভেবে শান্তিতে কিন্তু বেশীদিন থাকা গেলনা।এমবিএ-তে ভর্তি না হয়ে চলে গেলাম মৌলভীবাজারে চাকরী করতে।সিলেট নাকি ওলি-ওয়ালাদের এলাকা,সেখানে উপরের ঘটনার মতো কিছু ঘটতে দেখার চিন্তাও করিনি কখনো।কিন্তু সেখানেই ‘লন্ডনী’ কন্যাদেরকে রাস্তায়-রেস্টুরেন্টে আমি লন্ডনের পরিবেশের অভাব পূরণ করে নিতে দেখলাম,এ্যামেজিং!খোদ সিলেট শহরে যখন পোস্টিং হলো তখনতো লন্ডনী,সেমি-লন্ডনী (লন্ডনীদের আত্মীয়) মেয়েদের দৌরাত্ম্যে অবাক লাগা বিরক্তিতে পরিণত হলো।ইউনিভার্সিটি এলাকা যেখানে লন্ডনী,সেমি-লন্ডনী নাই,সেখানে?শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে আমরা যখন পড়তাম তখনও কিছু মেয়ের পোশাক কখনোই অতটা শালীন পর্যায়ের ছিলোনা,সেটা তখন এ্যাবনরমাল কিছুও মনে হতোনা।কারণ কিছু মানুষ কখনোই গোটা এলাকার রিপ্রেজেন্টেটিভ হয়না এবং হাতের পাঁচ আঙ্গুল সমানও হয়না।তাই সেগুলো এ্যালার্মিং কিছু ভাবিনি।কিন্তু চাকরী করতে আবার সিলেট গিয়ে দেখলাম ২-৩ বছরে সাস্টের চেহারা পুরাই পাল্টে গেছে আর সেখানকার মেয়েরাও এ্যাবনরমাল রেটে পোশাকের শালীনতা/পরিমিতিবোধ হারাচ্ছে।ফ্যাশন বদলাতে পারে,কিন্তু শালীনতা/পরিমিতিবোধ এতো দ্রুত পাল্টায়?তাও ধনাত্মক নয়,ঋণাত্মক দিকে!

এরপর লক্ষ্য করলাম সমাজের সবখানেই এই অবস্হা শুরু হয়ে গেছে।হয়তো আরও আগেই শুরু হয়েছে,আমিই লক্ষ্য করেছি দেরীতে।উদাহরণ দেই,’প্রথম আলো’ ছাড়া আর কোন পত্রিকা পড়া হতোনা তখন (মনে হতো এরা কম নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্বের দিক থেকে,তাই মন্দের ভাল বলে পড়তাম),তাই অন্যদের কথা বলতে পারবোনা।কিন্তু এই পত্রিকাটি আমাকে বড়ই অবাক করে ‘নকশা’ নামের প্রতি মঙ্গলবারের ফিচার পাতায় মেয়েদের এমন সব ছবি দিতে লাগলো যে আমি হতভম্ব শুধু না,মর্মাহত হতে লাগলাম।কারণ এইসব ছবি দেখার জন্যে আমার এক্স ছেলে কলিগরা প্রায় প্রতি মঙ্গলবার ম্যানেজারের রুমে ‘নকশা’ পাঠানো বাদ দিয়ে দিলো এবং এসব ছবি নিয়ে ‘রসালো’ আলাপের মাঝে তারা মেয়েদের আগমণ পছন্দ করতোনা,আমাদের বলতো-পরে আসো,’অনলি বয়েজ’ আলোচনা চলছে!মেয়েরা কিছু বললে তাদের উত্তর হতো,’তোমরা আমাদের ‘দেখাচ্ছো’,আমরা দেখবোনা?!’এ ছিলো তাদের বিনোদন,বিবাহিত-অবিবাহিত,নামাজী-বেনামাজী নির্বিশেষে।ওদের দেখে আমার মনে হতো বলি,তোমাদের মাঝে তো ৯৫%-ই মুসলমান!ইসলাম কেবল কি মেয়েদের পর্দা করতে বলেছে?প্রথম আদেশ/নির্দেশ তো মেয়েদের না,ছেলেদের উদ্দেশ্যে!তাদের চোখের পর্দা নিয়ে!একটি মেয়ের নাহয় নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে,কিন্তু সেটা কেন ছেলেটির নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হবে?

কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায় ছিল।কারণ যে মেয়ে স্বেচ্ছায় নিজেকে ছেলেদের বিনোদনের বস্তু বানিয়ে রেখেছে তার হয়ে আমি ওদের কিছু বলেই বা কি করবো? যে মেয়ে নিজেকে পণ্য বানিয়ে মহান ‘আধুনিকা’ হয়ে পত্রিকায় মডেল হয়েছে,তার এমন পোশাক পড়ার কারণ কি?সে কাকে এমনআবেদনময়ী স্বরুপ দেখাতে চেয়েছে?আরেকটি মেয়েকে??নাকি ছেলেদেরকেই যারা তাকে দেখবে?আচ্ছা,তার মনে কি কখনো প্রশ্ন আসে,’আমার সাথে মাঝে-মাঝে যে ছেলেটি মডেল হয়,তার পোশাক তো আমার মতো হয়না!সে কেন পুরো কাপড় পরে মডেল হবে আর আমি কেন স্লিভলেস পরে,পাতলা শাড়ী পরে,কোমড় দেখিয়ে তবেই মডেল হবো?তবে কি তার অভিনয়-শৈলী,অভিব্যাক্তি ফুটিয়ে তোলার যোগ্যতা আমার চেয়ে বেশী বলেই আমাকে অতিরিক্ত কিছু করে(পোশাক খুলে) ছবি তুলতে হচ্ছে যাতে লোকেরা তার পাশে আমাকেও কিছুটা দেখে?’না,এই প্রশ্ন তার ‘নারী স্বাধীনতা’-র ধোঁয়া তুলে ওয়াশকৃত ব্রেইনে আসেনা।তাই প্রকৃত নারীবাদী হয়ে পুরুষ কলিগদেরকে জোর গলায় কিছু বলার মতো উপায় আমার ছিলোনা।

ঢাকায় এলাম এরপর,একটি নামী প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি–তে আবারো ভর্তি হলাম…অনুমান করে নেয়ার জন্যে ধন্যবাদ এখানে আমাকে গত দুই বছরে কত কিছু দেখতে হয়েছে।শুধু মেয়েদের নৈতিক অবক্ষয় না,তার সাথে পাল্লা দিয়ে ছেলেদের শালীনতা,রুচি,বিনোদন জ্ঞান পাতালের নিকষ অন্ধকারে নেমেছে।একটা প্রবাদ আছে,‘একে তো নাচুনী বুড়ি,তার উপর যদি পায় ঢোলের বাড়ি!’ছেলেরা হলো সেই বুড়ি,আর মেয়েরা ঢোলে বাড়ি দিচ্ছেন ঢুলী হয়ে।এখন প্রশ্ন হলো,কেন এমন হচ্ছে?সমস্যা কোথায়?

সমস্যা মেয়েদেরকে দেখার,বোঝার দৃষ্টিভঙ্গিতে।

সেই আদ্যিকাল থেকে পুরুষ শাসিত সমাজ মেয়েদেরকে বারবার নিজের পায়ের তলায় ঠেলে দিয়েছে।তাই মেয়েরা যোগ্যতায়, মেধায়-মননে,উৎকর্ষতায় কখনোই তাদের ছাপিয়ে উপরে উঠে আসতে পারেনি।
ইসলাম এলো,নারী এবং পুরুষ নির্বিশেষে শান্তির এই ধর্মটি জানালো তাদের পারষ্পরিক সম্পর্ক কেমন হবে;কেউ কারো প্রতিদন্ধী নয় বলল,দুজনকেই পরষ্পরের জায়গা দেখিয়ে দিলো।বললোঃ
“And one of the signs of His existence and power is this: He has created for you helpmates in order to make you feel comfortable with one another, and He ordained between you love and mercy. There are lessons in this sign for those who reflect” (Al-Qur’an 30:21).

দুঃখজনক এবং দুভার্গ্যজনকভাবে এই শান্তির ধর্মকে অশান্তির বানানোর যারা হোতা তারা মেয়েদের ইসলামীক অধিকারকেও সমানভাবে অশান্তির করে তুললেন।যুগে-যুগে মেয়েরা ইসলামে নিজেদের সম্মানিত স্হানতো পায়ইনি,বরং অসম্মানের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে লাগলো।ইসলামের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সবই হতে লাগলো ভুলভাবে এবং মেয়েদের সেই পুরনো পুরুষ শাসিত সমাজের পায়ের তলাতেই জায়গা হতে লাগলো।পর্দার ভুল ব্যাখ্যা এবং তার দোহাই দিয়ে মেয়েদের আবারও বন্দী করা হলো চার-দেয়ালের কারাগারে।বলা হলো তোমার জায়গা রান্নাঘরে,বাচ্চা মানুষ করায়,আর কোথাও তোমার লম্বা নাক ভুলেও গলাতে যেওনা।যে ইসলাম মেয়েদের মুক্তির দূত হয়ে এসেছিলো,সেই ইসলামকে বুমেরাং বানিয়ে মেয়েদের দাসত্ব যুগ ফিরিয়ে আনা হলো।

এ তো গেলো ভয়াবহতার একদিক,পশ্চিমা পুরুষ শাসিত সমাজ/দেশগুলো এরমাঝে নারীর মুক্তির নামে,তাকে ন্যায় বিচার দেবার নামে,ভয়াবহ আরেক শাসনব্যবস্হা কায়েম করে ফেললো।’ঘর আর তোমার জায়গা নয়,ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসো,আমাদের হাতে হাত মিলাও,আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে তোমরা’-এই মন্ত্রনা দিয়ে তারা মেয়েদের ঘরের খাঁচা খেকেতো বের করে আনলো,তবে তা আবারও মেয়েদের জন্য প্রহসনের রুপে ধরা দিলো ভিন্ন আঙ্গিকে,ভিন্ন মাত্রায়।মেয়েরা আসলে খাঁচা ছেড়ে বেরোলো না,নতুন করে খাঁচার জন্তুতে পরিণত হলো,নতুন খাঁচার নতুন জন্তু।এবং নির্বোধ নারী ভাবলো,‘আহ্!অবশেষে আমি মুক্তি পেলাম!’কিন্তু কি সেই মুক্তি?

মুক্তির নামে নগ্নতার/যৌনতার প্রদর্শনের শৃঙ্খল-বেড়ী সেচ্ছায় নিজ গলায়/পায়ে জড়িয়ে নিলো তারা।পুরুষের শিখিয়ে দেয়া পথে চলে তারা পুরুষ শাসনের অর্গলেই নিজেদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিলো।আর তারই ফল দাঁড়ালো মিস ওয়ার্ল্ড/মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগীতার নামে নারীদের পণ্য বানানো,পত্রিকায়-ম্যাগাজিনে-টিভি-ইন্টারনেটে-বিজ্ঞাপণে নারীকে পণ্য বানানো…সর্বত্র নারী হয়ে দাঁড়ালো পণ্য,পণ্য আর পণ্য।পুরুষেরা ধন্য!আসলেই তারা সৃষ্টির রাজা বটে!কি চালে দাসী নারীকে তারা কুপোকাত করেছে বেকুব নারী টেরও পায়নি।ঘরের খাঁচার জন্তু বাইরে এসেও তাকে এখন বিনোদন দিচ্ছে,আগের চেয়ে অনেক বেশী আকর্ষণীয় রূপে/অনেক বেশী রোমান্চকরভাবে!জয়তু পুরুষ!

আর আমার দেশেও পালে তার-ই হাওয়া লেগেছে…সে অনেকদিন হল।আমার দেশের আজকের ‘নকশা’-র মেয়েরা,বিজ্ঞাপণের ‘আরসি-র মজা কত,তোমার মতো যখন যেমন চাই’ মেয়েরা,বিলবোর্ডের অর্ধনগ্ন,কোয়ার্টার-নগ্ন ‘আবেদনময়ী’ মেয়েরা,প্রাইভেট/পাবলিক ইউনিভার্সিটির তথাকথিত ‘আধুনিক শিক্ষিত’ মেয়েরা,মধ্যবিত্ত মেয়েরা..সবাই পশ্চিমা পুরুষদের দাসীদের অনুকরণশীল বান্দরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।মারহাবা!মারহাবা!!

কোথায় স্বাধীন মেয়েরা!কোথায়?এ লজ্জা আর অপমান কোথায় রাখি যখন আমার দেশের মোল্লারা প্রেম করার অপরাধে ছেলেটিকে বাদ দিয়ে কেবল মেয়েটিকে দোররা মারেন,পাশের দেশে বাসে মেয়ে গণধর্ষণের স্বীকার হয়ে মারা যায়,যখন অভিশপ্ত দেশ পাকিস্তানে তালেবানরা মেয়েদের পড়তে চাওয়ার দোষে গুলি করে,আবার যখন সেই মেয়েকে নিজ দেশে স্হান দেয়া ইংল্যান্ডে শোবিজে কাজ করতে আসা মেয়েরা দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের স্বীকার হয় এবং সেসব উন্নত দেশের উন্নত মেয়েরা কাউকে বলার মতো,অভিযোগ করার মতো অবস্হায়ও থাকেনা,যখন সেসব দেশের পত্রিকায় রিপোর্ট আসেঃ Three decades ago one out of three rape attacks reported to the police ended in conviction; today it is just one in 20 (দি গার্ডিয়ান),যখন দেখি সেসব দেশে বিখ্যাত বাবা নিজের মেয়েকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন করে বেড়ান,টেনিসে মেয়েদের পোশাক আরো ছোটো না করলে থেলা আকর্ষণীয় হচ্ছেনা বলা হয়?..কোথায় আমি স্বাধীন??ব্যাসিক্যালি,কোথাও না!এ সব দেশের মেয়েদের অবস্হা দেখুনঃ

(http://www.theguardian.com/media/2012/oct/14/savile-tv-culture-of-female-harassment

http://www.theguardian.com/media/2012/oct/12/jimmy-savile-broadmoor-volunteer-role

http://www.theguardian.com/uk/2013/jan/11/jimmy-savile-police-report

http://www.theguardian.com/media/2013/jan/12/jimmy-savile-deborah-orr

http://www.theguardian.com/commentisfree/2006/mar/31/politics.ukcrime?INTCMP=SRCH

http://www.theguardian.com/world/2013/jan/10/klaus-kinski-rape-claims-daughter?INTCMP=SRCH)
কিন্তু তবু কিছু বেল্লিক(বুদ্ধিজীবী??)আছেন আমাদের দেশে যারা ওইসব দেশকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিয়ে ওদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন,বলেন:ওদের দেশের মেয়েদের মতো হতে হবে আমাদের মেয়েদের,তবেই মহিলা মুক্তি সম্ভব!আর গন্ডমূর্খ মেয়েরাও তালিয়া বাজায়,’চলো,চলো,আমরাও ওদের মতো হবো।পাশের দেশ পশ্চিমাদের অনুকরণে যেমন গায়িকা-নায়িকা-‘নাচ-বালিয়ে’ বানিয়ে বিশাল নারী দেহ নির্ভর ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলেছে,আমরাও সেভাবেই ‘উন্নত’ হবো!মাথা খাটানোর দরকার নেই;অরুন্ধতী রায় হবার দরকার নেই,কে চেনে ওঁর মতোদের?চেনেতো প্রিয়াংকা চোপড়াকে,চেনেতো সিরিয়ালের ‘খুশী’কে যারা ফেয়ার এন্ড লাভলীর এড করে ফর্সা চামড়া-শরীর দেখিয়ে বেড়ায় তাদের।দ্যান,হোয়াট আর উই ওয়েটিং ফর!আমরাও লাক্স সুন্দরী হবো!মাথা খাটানোর যত ক্ষেত্র তার সব ছেলেদের দখলে ছেড়ে আমরা কাপড়ের কোথায় কোন ছাটটা অমুক হলিউডি/বলিউডি নায়িকার মতো হলো সেই প্রতিযোগীতায় নামবো’।

আশ্চর্য লাগে যখন নামী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এইসব ‘হাই-ফাই ফ্যাশন্যাবল’ মেয়েদের দেখি হিন্দি সিরিয়ালের কাহিনী নিয়ে ঘন্টা দুয়েক আলাপ করতে,অফিসের কোন কাজ করতে গেলে চৌদ্দটা গন্ডগোল করতে,আর ইংলিশে দুই কলম লিখতে তিন কলম ভুল বানান লিখতে।আবার এরাই থার্টি-ফার্স্ট নাইটে নামী হোটেলে স্বামীর সাথে মদ খেতে যান।এরাই আমাদের ‘আধুনিক নারী’!! হলিউডি/বলিউডি অনুকরনে অন্ধ,শরীর সর্বস্ব,মাথা খালি।না,কেউ যদি বলেন,এ শুধু উচ্চবিত্তের কাহিনী,তবে তিনি ভুল করছেন।বাসার কাজের মেয়েটাও এখন ঈদে হিন্দি সিরিয়ালের নায়িকার মতো ড্রেস বানায়।গ্রামের মেয়েদের আমি কাঁধ থেকে নেটের ট্রান্সপারেন্ট হাতওয়ালা জামা পড়তে দেখেছি,গ্রামের মেয়েরাও এখন ‘আনারকলি’ পরে,ওড়না বুক থেকে গলায় তুলে নিয়েছে ওরাও কয় বছর আগেই!নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত নাকি জাতির আধার,এরাই দেশকে রিপ্রেজেন্ট করে।তো আমাদের রিপ্রেজেন্টিটিভদের এই হলো দশা!

এর শেষ কোথায়?কবে মেয়েরা জানবে তালেবান আর এ দেশীয় মোল্লা যেমন তার শত্রু,দিপিকা পাড়ুকোনে কিংবা শাকিরা-ও তার সমান শত্রু তাকে পুরুষের বগলদাবা হতে চাওয়া শোপিস বানানোর জন্যে?কবে আমরা জানবো যে বেগম রোকেয়ার বলা ২০০ রকমের আচার,৪০০/৫০০ রকমের চাটনী-মোরব্বা বানানোর সময় আমরা পুরুষের পেটের ক্ষুধা মেটাতাম আর এখন সেখান থেকে বেড়িয়ে ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আমরা তাদের শারীরিক আনন্দ/চোখের আনন্দ মেটাচ্ছি?কবে আমরা প্রশ্ন করতে শিখবো-
১.স্কুলে কেন ছেলেরা ফুল স্লিভ/হাফ স্লিভের সাথে ফুল প্যান্ট পরবে আর মেয়েরা স্কার্ট পরে পা বের করে ঘুরবে?ছোটবেলা থেকেই প্রভুর মনোরঞ্জন করা শুরু হতে হবে?
২.অফিসে ড্রেস কোডে ছেলেদের জন্যে ফুল স্লিভ,ফুল প্যান্ট আর মেয়েদের জন্যে ফ্ল্যাশি(?) ছাড়া বাকি সব জায়েজ কেন?যাতে মেয়েরা বাহু-কোমড় অবমুক্ত রেখে,আঁটোসাটো কাপড়ে খাঁজভাজ দেখিয়ে প্রভুর মনোরঞ্জন করতে পারে?
৩.বিয়েতে ছেলেরা পায়জামা-পাঞ্জাবী-শেরওয়ানী পড়বে,পাঁচ মিনিটে তৈরি হয়ে যাবে আর মেয়েরা শাড়ী-লেহেঙ্গা-ঘাগড়া পরে হাজার হাজার টাকা খরচ করে বিউটি পার্লার গিয়ে তিন-চার ঘণ্টা খরচ করে ‘মোহিনী-রমণী’ কেন সাজবে?কাদের দেখার জন্য?নাহলে বিয়ে হবেনা?
৪.পুরুষ সোনার চামুচ,সে বাঁকা হলেই কি!তাই তাদের পোশাক রংবিহীন হয়,আর নারীর জন্য দুনিয়ার রং নিয়ে কাপড়-চোপড়ের বাহার সাজিয়ে রেখেছে বস্তুবাদী দুনিয়ার বস্তুবাদী সব মার্কেট।কেন??আমরা কি ইমিটেশানের চামুচ??

এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু করো নারী,এই একুশ শতকেও না খুঁজলে আর কবে খুঁজবে?আর কতো খেলনা হবে সখার?নাকি তুমি এই-ই চাও?তোমাকে আপত্তিকর শব্দ রমণী (রমণ থেকে যার পত্তি!) ডেকে কবিতা লিখবে ওরা,আর তুমি আহলাদে গদগদ হয়ে ভাববে,‘ওয়াও!আমার পূজা-অর্চনা হচ্ছে,আমি শ্রেষ্ঠ!’ ধিক তোমার বুদ্ধিবৃত্তির!চিন্তা করতে শিখো মেয়ে,বিধাতা মাথা দিয়েছেন চিন্তা করার জন্যে,শুধু বালিশে রেখে ঘুমাবার জন্যে নয়।