বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প কি সোনালী আঁশের পরিণতি বরণ করতে চলেছে?

by শঙ্খচিলের ডানা

বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প কি সোনালী আঁশের পরিণতি বরণ করতে চলেছে? Will we let history repeat itself?

2013-11-29T062806Z_1454074546_GM1E9BT13MP01_RTRMADP_3_BANGLADESH-GARMENTS-FIRE

“পাকিস্তানী বাহিনীর সারেন্ডারের পর ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশী সরকারের অনুরোধে বাংলাদেশে থেকে চলে যায়। বিজয়ী সেনা হিসেবে বা অন্য কোন কারণেই হোক চলে যাবার আগে তারা হাতিয়ার, অস্ত্রশস্ত্র, ভারী কামান, ট্যাঙ্ক, গোলাবারুদ, যুদ্ধের অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি এবং মিল কারখানার মেশিনপত্রও খুলে নিয়ে যায় ভারতে। তারা অধিকৃত শহর ও সেনানিবাসগুলো থেকে আসবাবপত্র, ফিটিংস ফার্নিচার, এমনকি কমোড-বেসিন পর্যন্ত খুলে নিয়ে যেতে থাকে। অনিক পত্রিকায় ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বর ইস্যুতে ছাপা হয়, “ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ১০০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্রশস্ত্র, মেশিনপত্র, যুদ্ধ-সরঞ্জাম ও কাচাঁমাল ভারতে নিয়ে যায়।” স্বাধীনতার পর খুলনায় ডেপুটি কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত জনাব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ভারতের কাছে সরকারিভাবে এক প্রটেষ্ট নোটের মাধ্যমে জানান যে, তার জেলা থেকে ভারতীয় বাহিনী লক্ষ লক্ষ টাকার মালসামগ্রী অন্যায়ভাবে ভারতে নিয়ে গেছে। তিনি ভারতীয় বাহিনীর এ ধরণের লুটপাটের ঘোর বিরোধিতা করেন। ভারত ও পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে আগেও চোরাকারবার চলতো। কিন্তু বাংলাদেশ হবার পর চোরাকারবারের মাত্রা বেড়ে যায় চরমভাবে। স্বাধীনতার পর বেশ কিছুদিন পর্যন্ত সীমান্ত সম্পূর্ণ খোলা রাখা হয়। মাওলানা ভাসানী দাবি করেন, “বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক নিয়ে যাওয়া অস্ত্র ও যুদ্ধসম্ভার এবং চোরাচালানের মাধ্যমে সর্বমোট ৬০০০ কোটি টাকা মুল্যের জিনিসপত্র ও কাঁচামাল ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের আগষ্ট পর্যন্ত সময়ে চোরাচালানের মাধ্যমে ২০০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্রব্য সামগ্রী ভারতে পাচার হয়েছে বলে দাবি করেন বাংলা সংবাদপত্র অনিক। বাংলাদেশ সরকার দেশে ফিরেই ভারতে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের রফতানির উপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা উঠিয়ে নেয়। এর ফলে খোলা বর্ডার দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে উৎপাদিত পাট ও পাটজাত দ্রব্যের একটি বৃহৎ অংশ ভারতে চলে যাওয়ার পথ আরো সুগম হয়। ১লা জানুয়ারী ১৯৭২ সরকার বাংলাদেশী টাকার মান কমিয়ে দিয়ে ভারতীয় রুপির সমপর্যায়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সরকার একই সাথে আরো ঘোষণা করে, ১৬ই ডিসেম্বরের আগে পাট ও পাটজাত সংক্রান্ত সমস্ত দ্রব্যের ব্যাপারে রফতানির সকল চুক্তি বাতিল বলে গন্য করা হবে। দি বাংলাদেশ অবজারভার ২/১/১৯৭২ সংখ্যায় লেখে, “ব্যবসায়ী এবং অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে উল্লেখিত সরকারি তিনটি সিদ্ধান্তই ভারতের স্বার্থে প্রণীত হয়েছে। ভারতীয় সরকারের চাপের মুখেই এ ধরণের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন।” এরপর সরকার কর্তৃক টাকার মান কমাবার পর পাটের দাম পুনঃনির্ধারণ করার ফলে সৎভাবে ব্যবসা করার চেয়ে চোরাচালান অনেক লাভজনক হয়ে দাড়ায়। ফলে বাংলাদেশের জীবন সোনালী আশের রপ্তানী হ্রাস পায়। এতে জাতীয় বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমে যায় এবং জাতীয় সঞ্চয়ও কমে যায়। উৎপাদনে ভাটা পড়ে। ১৯৭৪ সালে রহস্যজনকভাবে নাশকতামূলক কার্যকলাপের ফলে অনেক জায়গায় পাটের গুদাম আগুনে পুড়ে যায়। গুদামে ভরা কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য এভাবে পুড়ে যাওয়ার ফলে পাট শিল্পের ক্ষেত্রে সরকারের প্রচন্ড ক্ষতি হয়। গুদামে আগুন লেগে পুড়ে যাওয়ার ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা করতে গিয়ে পাটমন্ত্রী ১৯৭৪ সালে সংসদে বলেন, “আগুন লেগে প্রায় ১৩৯২ মিলিয়ন টাকার শুধু পাটই পুড়ে যায়। পাটজাত দ্রব্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।” প্রচন্ড এই ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে BJMC এবং BJTC সরকারি ভুর্তুকির উপর চলতে থাকে। আজঅব্দি পাট শিল্পক্ষেত্রে সরকার কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে চলেছে। একদিনের সোনালী আশঁ আজ জাতির গলায় হয়ে পড়েছে ফাঁস।

পক্ষান্তরে যে ভারত কখনোই পাট রফতানি করতে পারত না, এমন কি পাটের অপর্যাপ্ত উৎপাদনের ফলে অনেক জুট মিল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে হয়েছিল, সেখানে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর অবস্থা সম্পূর্ণভাবে বদলে যায়। ১৯৭৩ সালে ভারত ১ মিলিয়ন বেল পাট রফতানি করে বিদেশের মার্কেটে এবং ১৯৭৪ সালের মধ্যে শুধু যে তাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলগুলোই আবার ফুল শিফটে চালু করা হয় তা নয়; তারা ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তে আরো নতুন দু’টো মিল স্থাপন করে।”

– মুজিবের সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
http://www.majordalimbubangla.com/52.html

বাঙ্গালীর “গণহত্যা”

by Saleh Hasan Naqib

শাহবাগিরা তখন তুঙ্গে। ট্রাইব্যুনালের রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে ব্যপক সহিংসতা। দেখতে দেখতে নিহতের সংখ্যা শত ছাড়িয়ে যায়। পুলিশ গুলি করেছে point blank range থেকে। কখনো বা পড়ে থাকা মানুষের গায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে। মারা পরেছে নারীও শিশু। খালেদা বললেন, “গনহত্যা” বন্ধ করুন। শাহবাগিদের গায়ে আগুন ধরে গেল। কয়েকশত মানুষের মৃত্যুকে বলে “গণহত্যা”/ মুক্তিযুদ্ধের “চেতনাকে” অপমান!!! তখন কষ্ট পেয়েছি। মানুষের জীবনের ক্ষয় যাদের কাছে অপাংক্তেয় তারা কখনো সুবিচারের পক্ষে দাঁড়াতে পারে না। “ফাঁসি” চাওয়া পর্যন্তই এদের দৌড়। গতকাল অগ্নিদগ্ধদের দেখতে যেয়ে হাসিনা বললেন, “গণহত্যা” বন্ধ করুন। এবার ঠিক আছে। হাসিনা যখন বলেছেন, তখন নিশ্চয়ই গণহত্যা হচ্ছে। প্রতিটি অগ্নিদগ্ধ মানুষ আমাদের হৃদয়কে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে ঠিক যেমনটি অনুভব করেছি ফেব্রুয়ারি, মার্চ বা মে মাসে রক্তাক্ত মানুষের লাশ দেখে। শাহবাগিরা অন্য প্রজাতি। এদের বোঝা আমার দৌড় নয়। এরা বেশির ভাগ “খাঁটি বাঙ্গালী”/ রবীন্দ্রনাথের ভাষাতে বলতে হয় “রেখেছ বাঙ্গালী করে মানুষ করনি”।

বাকস্বাধীনতা কেবল মুসলিম বিদ্বেষী, গনহত্যাকামীদের জন্যে

দেশে অস্থিরতা-সহিংসতার বিস্তার রোধ করার অজুহাত তুলে, মিথ্যাচার ও বিদ্বেষ এর অভিযোগ এনে আমারদেশ, দিগন্ত টিভি, সোনার বাংলা এরকম অনেক মিডিয়া হাউসকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কোনো রকম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই। এদিকে আওয়ামী লীগের সরাসরি তত্বাবধানে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ব্লগগুলিতে, আওয়ামী সমর্থনের নামে চলছে তীব্র মুসলিম বিদ্বেষ। এটা শুধু ইসলাম বা মুসলিম ধর্ম বিদ্বেষ নয়, এটি মুসলিম নামধারী মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার মতো তীব্র বিদ্বেষ। লেখাগুলি দেখলেই বোঝা যায় এগুলি কোনো প্রাক্তন মুসলিম নাস্তিকের লেখা নয়। একজন নাস্তিকও নিজের পিতা-মাতা, আত্মীয় স্বজন, নিজ সমাজবাসীকে নিশ্চিহ্ন করার মতো বিদ্বেষ কখনোই ধারন করতে পারে না। এগুলি কেবল মাত্র অন্য ধর্মের তীব্র বিদ্বেষীদের পক্ষেই সম্ভব। আওয়ামী সমর্থকেরা, যারা অনেকেই ধর্ম পালন করার চেষ্টা করে, তারা দলীয় সমর্থনের নামে এই বিজাতীয় ধর্মবিদ্বেষকে দেখেও না দেখার ভান করছে কিংবা উৎসাহিত করছে। তাদের বিন্দুমাত্র হুশ নেই নেই স্বধর্মী অন্য রাজনীতির মানুষদের দমনের জন্যে নেকড়ে দের উৎসাহিত করার মাধ্যমে তারা নিজেরাই কতো ভয়ংকর পরিনতি কে আহবান করছে।

বাংলা ব্লগ জগতে ‘আমারব্লগ’ বেশ পরিচিতো। আওয়ামী লীগের সরাসরি তত্বাবধানে পরিচালিত এই ব্লগটিই হলো অমি পিয়াল, আইজুদ্দীন নামের ব্লগজগতের বড়ো বড়ো মহারথীদের লালনভূমি বলে পরিচিতো। এই ব্লগে বিএনপি, জামাত বিরোধিতা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানোর ফাকে ফাকে তীব্র ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া হয়। এটা এমনভাবে চলে যে সাধারন আওয়ামী সমর্থকেরা সাধারন রাজনৈতিক প্রচারণার ফাকে এই বিদ্বেষকে আলাদা করতে পারে না। এটা হলো Subliminal message এর উৎকৃষ্ট ব্যবহার। কিন্তু সময়ে, সময়ে কোনো কোনো সংবাদে এই বিধর্মী নেকড়েগুলি এতোই উল্লসিত হয়ে উঠে যে তারা তাদের নখদাতগুলি আড়াল করতে ভুলে যায় এবং এদের স্বরূপ বেড়িয়ে আসে।

সম্প্রতি আফ্রিকার এংগোলায় ইসলাম ও মসজিদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই নামে একটি বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদে ইসলাম বিরোধী মহলে তীব্র আনন্দল্লাস বয়ে যায় এবং একের পর এক ইসলামবিরোধী পোস্ট প্রকাশ করা হয়। আমারব্লগে বর্তমানে তীব্র বিএনপি বিরোধী ও আওয়ামী সমর্থক ব্লগারদের মধ্যে ঋতানৃত তূর্য্য নামের একজন আছেন। তার বিএনপি বিরোধী ব্লগার পরিচয়ের আড়ালে যে এক ভয়ংকর মুসলিম বিদ্বেষী, গনহত্যাকামী রয়েছে সেটা আর তিনি আড়াল রাখতে পারেন নি। সেদিনই “নিষিদ্ধ ইসলাম! এমনই হবার ছিলো…” (তারিখঃ সোমবার, ২৫/১১/২০১৩ – ২৩:৪৩) নামের একপোস্টে তিনি বাংলাদেশের ইসলাম ও মুসলিমদের স্পষ্ট হুমকি দিলেন বিশ্বজুড়ে গনহত্যার ভয় দেখিয়ে। তার নিজের কথাতেই,

” পৃথিবী থেকে মুসলমানদের নাম-নিশানা মুছে দেয়ার বহুবিধ কারণ আছে। আমি কেবল দু-তিনটি পয়েন্ট উল্লেখ করবো-
– মুসলমানেরা পৃথিবীকে কি দিয়েছে বা দিচ্ছে??

– এমনিতেই পৃথিবী জনসংখ্যার ভারে নূজ্ব্য তার উপরে মুসলমানেরা “মুখ দিয়াছেন যিনি, আহার দেবেন তিনি” -মনে মনে জপতে জপতে বছর বছর সন্তান উৎপাদন করেন। যেনো বিয়া করা হৈছে সন্তান উৎপাদনের মেশিন হিসেবে! আর তা হবেই বা না কেনো। কোনো এক হাদীসে আছে, নবী বলেছেন- যে মেয়ের বংশ “বহুপ্রসবা” সে মেয়েবে বিয়া করতে; বংশে বন্ধ্যা থাকলে সেখানে বিয়া না করতে। এই বিপুল জনসংখ্যা পৃথিবীর বোঝাই শুধু বাড়াচ্ছে।

– পৃথিবীর খাদ্যভাণ্ডার ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। এমনকি প্রাকৃতিক সম্পদও। আর আল্লাও সেই পৃথিবী তৈরির সময় যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়েছিলেন সেটার আপডেট করেননি। ফলে যারা দুনিয়ার জন্য বোঝা তাদের আখিরাতে পাঠাবার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এ দৌড়ে মুসলমানেরাই এগিয়ে। অবশ্য আফ্রিকার কয়েকটি দেশও ইনক্লুড হতে পারে।

সুতরাং আবারো বলছি, এখনো সময় আছে- ধর্মীয় ভাতৃত্ববোধ বজায় রাখুন। ষংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু টার্মগুলো মস্তিষ্ক থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন; আখেরে ভালো হবে। ভুলে যাবেন না- বাপেরও বাপ থাকে…”

এই বাপের বাপ বলতে কাকে বোঝাচ্ছেন এই ব্লগার তা নিশ্চই না বোঝার কারন নেই। এই রকম স্পষ্ট গনহত্যাকামী, ধর্মবিদ্বেষী লেখা স্বত্বেও আমারব্লগের মতো আওয়ামী ব্লগগুলো কোন চিন্তা ছাড়াই চলে দিনের পর দিন। আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তীর্যক মন্তব্যের ভূয়া অভিযোগে খ্যাতনামা ব্লগারদের জামিন ছাড়াই জেলে আটকে রাখা হয় মাসের পর মাস। ভবিষৎ-এ আওয়ামী লীগের শাসনের বাংলাদেশ এর চিত্র কল্পনা করতে এই ইংগিতগুলিই যথেষ্ট।

এখানে সেই ব্লগপোস্ট টির লিংক দেয়া হলো। সেই সাথে মুছে ফেলার আগেই রেকর্ডের জন্যে দুটি স্ক্রীনশট।

https://www.amarblog.com/Rheetanreeto-Tourzoo/posts/175374

Amar 2

amar

ইসলামবিদ্বেষীদের নবআবিষ্কৃত ‘তেঁতুল তত্ত্ব’ ও কিছু বিশ্লেষণ

by আজগর খান

ইসলাম ও মুসলিমের ছিদ্রান্বেষণে চিরঅক্লান্ত ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠি তথা ধর্মনিরপেক্ষ ধারার মূল ধ্বজাধারীরা সম্প্রতি একটি নতুন আবিষ্কার করে অনলাইনে ব্যপকভাবে ও বাস্তবে থেমে থেমে কিছুটা উল্লম্ফনে মত্ত হয়েছেন। ব্যক্তিচরিত্রে কালিমা লেপনের মত নারীঘটিত দলিল তন্ন তন্ন করে খুঁজেও না পেয়ে হতাশ হয়ে তারা আল্লামা শফির যারা জীবনের ওয়াজ-বক্তব্য খুঁজে খুঁজে, ঘেঁটে ঘেঁটে যাচাই বাছাই করতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত মোটামুটি দাঁড় করানোর মত একটাই তত্ত্ব পাওয়া গেল যেটাকে কিছুটা টুইস্টেড ভঙ্গিতে পরিবেশন করতে পারলে দলের যম হেফাজতের সর্বগ্রাসী প্রভাব কমানোয় ধন্বন্তরি ওষধির কাজ দিলেও দিতে পারে। তারা ধরেই রেখেছিলেন এই তত্ত্বের যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে হেফাজতকর্মী থেকে শুরু করে আপামর ইসলামপ্রিয় জনতা যারা ইসলামের সাম্প্রতিক প্রাধান্য বিস্তারে পুলকিত হয়েছিলেন তারা মুষড়ে পড়বেন। আদতে নিজেরাই গণবিচ্ছিন্ন হওয়ায় পর্বতের মূষিক প্রসবের মত এত মারাত্মক অস্ত্র নিক্ষেপ করেও এত অল্প ফলাফল পাওয়া যাবে এ আশা ঘুণাক্ষরেও তারা করেননি। যাই হোক এই পোস্টের আলোচনা আল্লামা শফির অবস্থানকে কিছুটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টাকে ঘিরেই আবর্তিত হবে।

 

সারাদেশের আলেমওলামা তথা তাওহীদি জনতা এবং সাধারণ ধর্মভীরু জনগণের কাছে আল্লামা শফি একটি অতি সম্মানিত নাম। যাঁর এক ডাকে সারা দেশের এক এক জেলায় লক্ষ লক্ষ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসে তাঁর চেয়ে আলোকিত মানুষ আর কে হতে পারে ? এই মূহুর্তে বাংলাদেশের ইতিহাসে জনপ্রিয়তম একটি নাম হচ্ছে আল্লামা শফি। উনি এবং ওনার ডাকে মানুষ কাফন পরে শাহাদাতের জন্য তৈরি হয়ে যায়, এখনো ডাক দিলে আবার আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ হবে। একমাত্র ইসলামের খাঁটি দুশমন যারা তারা ছাড়া আর বাকি সবার কাছে উনি শুধু আলোকিত না, জ্যোতির্ময় একটি নাম।

 

হ্যাঁ সরকার ও সরকাররের অন্ধ সমর্থকদের জন্য অবশ্য উনি খুবই বিপজ্জনক একটি নাম। কারণ বিএনপি-জামাতকে প্রায় হজম করে ফেলে ২০২১ পর্যন্ত নিজেরা ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশকে লুটেপুটে সর্বস্বান্ত করা ও অবশেষে ভারতের অঘোষিত উপনিবেশে পরিণত করার ব্যবস্থা যখন প্রায় পাকা _ ঠিক তখনই আল্লামা শফি আহুত স্মরণকালের বৃহত্তম গণআন্দোলনে সেই পরিকল্পনা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমানে এই হেফাজতের প্রভাবেই প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে যত্নের সাথে অপ্রতিরোধ্যভাবে হেরে ভূত হয়ে চলেছে সরকার। জনসমর্থন স্মরণকালের নিম্নতম শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে ৬৫ বছরের ইতিহাসে এই আল্লামা শফির আন্দোলনের কারণেই। সেজন্যেই আল্লামা শফি ও হেফাজত এখন সরকারি দলের আতঙ্কের আরেক নাম, যাকে যুগপৎ ভীষণ ভয় ও ঘৃণা করে সরকার এবং সরকারের অন্ধ সমর্থকরা।

 

মাওলানা শফির ওয়াজ সাধারণ ইসলামপ্রেমী মানুষের জন্য। উনি আঞ্চলিক ভাষায় ওয়াজ করেন। ইসলামে যা আছে তাই বলেছেন বাড়তি কিছু বলেন নি। আঞ্চলিক ভাষায় করা সাবলীল এই ওয়াজটি অধিকাংশ মডারেট মুসলিমদের মত ‘উচ্চশিক্ষিত’ রুচিবান’ ‘শহুরে’ মানুষদের জন্য নয়, যেহেতু না মানতে না মানতে ইসলামের খুব কম হুকুম মানার যোগ্যতাই এখন তাদের অবশিষ্ট আছে। আল্লাহর দ্বীনকে তারা মোটামুটি খেলতামাশার বস্তু বানিয়ে ফেলেছেন যেটুকু ইচ্ছা হয় মানেন, যেটুকু ইচ্ছা হয় না মানেন না। এই ওয়াজ তাদের মত মানুষদের জন্য না, যারা মানতে অভ্যস্ত ও মানতে পারেন সেইসব কম শিক্ষিত কিন্তু অনুগত সহজ সরল সাধারণ মানুষদের জন্য। সাধারণভাবে মডারেট মুসলিমদের জন্য জন্য সহজপাচ্য ওয়াজ ও ফতওয়াও মাওলানা শফি দিয়েছেন। যেমন ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটুকু পর্দা করেন বা পোষাক পরেন, সেটুকু পর্দা করলে বা পোষাক পরলেও গ্রহণযোগ্য হবে।’ মনে পড়ে এই কথাও শফি সাহেব বলেছিলেন ?

 

আগের যুগে পুঁথি পড়া হত, নামতার সুরে গ্রামবাংলার অজ পাড়াগেঁয়ে মানুষের কথ্য ‘প্রাকৃত’ ভাষায় যেসব অপভ্রংশনির্ভর পালাগান রচনা করা হত _ যার প্রতিফলন যাত্রা-পালাগানেও আমরা এখনো দেখতে পাই, সেটি আবহমান বাংলার গ্রামীণ লোকায়ত সংষ্কৃতির আবহের সাথে যতটা সাযুজ্যপূর্ণ, উপভোগ্য, ইন্টারএ্যাকটিভ _ শহুরে আধুনিক নগরসভ্যতার ঘুণচক্করের পাঁচমিশালি মিশ্রশংকর বাকপটু জটিল সংষ্কৃতি প্লাস কোলকাতার বাবুসংষ্কৃতির কুটিল মিশ্রণে ‘গোছানো’ কথাবার্তায় অভ্যস্ত শহরবাসীদের মানসিক গঠনের কাছে ততটাই দূর্বোধ্য, বিরক্তিকর। এখন শহুরে ভাষায় ওয়াজ করলে তা হবে গ্রাম্য মানুষদের কাছে দূর্বোধ্য _ তাদের জীবনযাপন-রঙ্গরসিকতা-বোধগম্যতা কিছুই শহরের মানুষদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এখন পালাগান গায়কই হোক বা ধর্মজ্ঞানী আল্লামা শফিই হন _ যার যার যে মেসেজ গ্রাম্য মানুষদের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন সেটি তাদের মত করেই তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। আমার ধারণা আল্লামা শফি এই ক্ষেত্রে মূল বক্তব্যটি পৌঁছাতে পেরেছেন।

 

বলা বাহুল্য আজকের দিনে পুঁথিপাঠ-পালাগান গ্রামের সহজিয়া সংষ্কৃতির ধারক কৃষক-শ্রমিকদের কাছে এখনো যে আবেদন রাখে, রাত জেগে পরম আগ্রহ নিয়ে সরলমনে যেভাবে তারা শোনে _ শহরের মানুষ পাঁচ মিনিট শুনলেই হাই তুলতে শুরু করবে, বিরক্তি প্রকাশ করবে। পুঁথিপাঠ-পালাগানের মতই সহজিয়া সংষ্কৃতির আরেকটি অনুসঙ্গ হচ্ছে ‘ওয়াজ মাহফিল’, যে লিংকটি দিয়েছেন সেটি গ্রামের ওয়াজ মাহফিল যাতে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করে সাধারণ গ্রামবাংলার মানুষের কাছে সহজ সরল ভাষায় কিন্তু ‘তাদের মত করে’ ‘উপভোগ্য’ করে ‘সহজবোধ্য’ করে ধর্মের বাণী পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এখন এই গ্রাম্য অডিয়েন্সের সামনে আঞ্চলিক ওয়াজকে যদি আপনি ‘আধুনিক শহুরে রুচির’ পাল্লায় মাপেন তাহলে সেটি ‘অবিচার’ হবে।

 

উপসংহার :

 

যারা আজ আল্লামা শফির বক্তব্যের ছিদ্রান্বেষণে পাগলপারা হচ্ছে তারা কারা এবং তাদের উদ্দেশ্য ও বিধেয় কি তা বাংলাদেশের আপামর তাওহীদি জনতার অজানা নেই। ৫ টি নির্বাচনে গণমানুষের কাছে তাদের অবস্থান কোথায় তাও স্পষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দলের পুরনোদের কাছেও তাদের পারফরমেন্স আজ বিপজ্জনকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় মরিয়া হয়ে তারা আত্মরক্ষার পথ খুঁজছে। হেফাজত ঝড়ে তাদের ২০০৮ এর নির্বাচনী রণতরী আজ ভাঙ্গাতরী হয়ে টালমাটাল অবস্থায় বিক্ষুব্ধ সমুদ্রে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে। বেদিশা হয়ে তাই মিশন নিয়েছে কি করে হেফাজতের প্রভাব খর্ব করা যায়। কারণ জনমনে হেফাজতের যে প্রভাব তা কমাতে না পারলে আগামী নির্বাচনে জয়লাভ তো দূরের কথা পিঠের চামড়া অক্ষত থাকবে কি না সেটাই এখন জ্বলজ্যান্ত দুশ্চিন্তা হিসেবে তাদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।

 

সেজন্যেই তারা একদিকে ইসলামবিদ্বেষীদের তোষণ করে, আরেকদিকে আলেমওলামাদের গণহত্যা করে ‘লালরঙ’ তত্ত্ব দিয়ে বিদ্রুপ করে। কোরআন নিয়ে কুৎসিত ব্যঙ্গবিদ্রুপাত্মক রচয়িতা থাবা বাবাকে শহীদ আখ্যা দেয় _ আবার নিজেরা কোরআন পুড়িয়ে জীবন্ত কোরআন আলেমওলামা-হাফেজ সাহেবানদের ওপর কোরআন পোড়ানোর অপবাদ চাপাতে কসুর করে না। এরাই একদিকে ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে সারাদেশে ধর্ষণের মহোৎসবে মেতে ওঠে _ আবার শফি সাহেবের পুরনো ওয়াজ ঘেঁটে ‘তেঁতুল তত্ত্ব’ আবিষ্কার করে নারীর দরদে দরদি হয়।

 

তবে কিনা চোরের দশদিন গৃহস্থের একদিন। এদের ছলাকলা চাতুরি শয়তানি পাবলিকের সামনে এমন স্পষ্টভাবে নগ্ন হয়ে গেছে যে এখন কোন জারিজুরিতেই আর কাজ হবে না।

[Previously published in Shodalap Blog]

Classical Music Festival 2013, India and our vulgar civility

4

By Nur Hossain

ITC-Banner-Closed-Banner-19-November-1

From 28th of November 2013, Bangladesh’s Bengal Foundation and Calcutta based ITC-SRA are organizing a four-day classical music festival. Indians are heavily dominating the lineups of the artists. It is perceptible that, like last year’s occasion of same kind, Indian High Commission in Dhaka played a key role in bringing Indian artists here in Dhaka. It is expected that similar to the previous occasion, we’ll hear a lot of praise about Indian high commission for making this festival a successful one.

It is also expected that a good number of young middle and upper class urban families would spend nights in the festival appreciating a genre of music, which was arguably originated here and whose authority is now claimed by India. Social media networks are supposed to be full of appreciation of this festival. Last year, a big number of our reputed civil society members were seen to gather in the Army Stadium to celebrate ‘ Indian classical music’.

In an ideal world there is nothing wrong in celebrating music of our biggest neighbor. However, the timing of organizing and celebrating this music festival raises several questions and requires public attention. A series of questions should be raised about this festival: is Bangladesh in a festive mood now? what are we celebrating? why are we celebrating? who organized this celebration and why? Was there a public demand for this event?
music-fest1
The festival is taking place at a time when the state of Bangladesh is in severe crisis. Properties are being burnt, lives are being lost, crude hand bombs are being hurled indiscriminately in exchange of indiscriminate police shooting, businesses are on halt, and public lives are in high tension and anxiety because the ruling party does not want to delegate the power to the people of Bangladesh to practice their true democratic right of voting for a day in five year in a free and fair manner.

The ruling party supported opposition’s alibi of violent protest by not entering into dialogue for a peaceful solution to the present political crisis. For the last two years, the Opposition organized non-violent protest activities such as road-march, human chain to raise their demand to amend the constitutional coup, which plunged the country in present crisis. But no one gave a proper heed.

At present many pockets outside of Dhaka such as Rajshahi, Comilla, Chittagong, Bogra, Patukhali, Sitakunda have turned into battlefield. The pattern of conflict underpins that it would be a mater of time when Dhaka would turn into a battlefield. A major sponsor of this crisis is India.

Our neighbor India, instead of pushing for democracy in Bangladesh is stubbornly sponsoring the actors who are causing unnecessarily loss of lives of Bangladeshis. It is true that India helped us achieving independence and it is also true that independence of Bangladesh was never been a priority for Indians, rather they were interested in supporting the split of Pakistan for its own geo-political interest. Which is fine to us- the lucky and proud generation who were born in an independent Bangladesh which however became sub-servant state of India in many ways in recent years.

The evidence of Indians’ disregard to our independence and sovereignty was brutally portrayed recently when the BSF, the border security force of Indian government, not only shot a Bangladeshi unarmed teenage civilian girl Felani dead, but also they hanged the dead body of that poor little girl on the barbwire of Bangladesh-India border fence with arrogance. Bangladesh died on that day and it still is dead. An independent country has a dignity but that is lost with Felani.

It is widely reported that Delhi now controls Bangladesh. For this extra ordinary service of India, our ruling party had to offer almost free transit, cheap Internet bandwidth, power plant near mangrove forest, and many more to Pranabda. Ironically, this ruling party claims to uphold the spirit of independence but in reality it sold our independence to India for narrow family interest.

Therefore, it is true that Indians have lot to celebrate and the classical music festival is the perfect platform for that. However one might wonder what are we celebrating? Are we celebrating our loss of brothers? Are we celebrating our loss of democracy? Are we celebrating our loss of national dignity? Are we celebrating our loss of peace and stability? Are we celebrating the loss of Felani? There should be a limit to our vulgar civility.

ক্রাইসিস মোমেন্টে আপনার ভুমিকা কি ছিল?

বাংলাদেশে বর্তমানে এক নাম্বার ইস্যু কি? এই ব্যাপারে সবাই একমত হবেন। কিন্তু সবাই এ ব্যাপারে কথা বলবেননা। দুই দলের ক্ষমতার লড়াই বলে বসে আছে ম্যাংগো পিপলরা। রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করছে তাদের স্বার্থের জন্য, আমরা কেন কথা বলব? বর্তমান রাজনৈতিক সিস্টেমকে ঘৃণা করি বলে আপনি তৃপ্তিতে ভোগেন। প্রশ্ন হোল কোন কথা না বলা কি একধরনের স্বার্থপরতা নয় কি? অন্যের ঘরে আগুন লাগছে বলে বসে থাকলে, আগুন নেবানোর উদ্যোগ না নিলে আমার ঘরেও আগুন লাগবে। দেশের স্বার্থে রাজনীতি করছেন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর একথা সত্য  কিন্তু দেশের ক্রান্তিলগ্নে দেশের আপামর জনতা থেকে কিছু মানুষ কে সোচ্চার হতেই হয়; সোচ্চার না হলে  এই ক্রান্তি থেকে উত্তরন হয়না।  যেকোনো ক্রাইসিসে দুটি পক্ষ থাকে; এক পক্ষ ক্রাইসিস তৈরির উদ্যোক্তা আর অন্য পক্ষ ক্রাইসিস থেকে উত্তরনের উদ্যোক্তা। একই সাথে দুটি পক্ষ ক্রাইসিস তৈরির উদ্যোক্তা হতে পারেনা। আপনি আমার সাথে একমত না হলে ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন; সকল ক্রাইসিসে পক্ষ দুটি এবং দুটি পক্ষই ক্রাইসিস ঘনীভূত করার কাজ করলে তো আর পক্ষ দুটি থাকেনা একপক্ষই হয়ে যায়। অথচ আমাদের ম্যাংগো পিপল যারা নিজেদের খুব স্মার্ট ভাবেন, তারা বলছেন বর্তমান ক্রাইসিসের জন্য দুটি পক্ষই দায়ী। আমার প্রশ্ন হোল দুটি পক্ষই দায়ী হলে তো এক পক্ষই হয়ে গেল, তাহলে উত্তরণের পক্ষ কোথায়? বলবেন এ থেকে উত্তরণ সম্ভব শুধুমাত্র দুইপক্ষকে মাইনাস করে। এটা কোন ফিসিবল সলুশান না। হ্যাঁ আমি এগ্রি করছি দুই পক্ষই যে ধারার রাজনীতি করছেন তার থেকে গঠনমূলক রাজনীতি প্রয়োজন; কিন্তু সেটা হচ্ছে লংটার্ম সলুশান। তা দিয়ে বর্তমান ক্রাইসিস থেকে উত্তরনের সুযোগ নেই। বর্তমান ক্রাইসিস থেকে উত্তরনের জন্য ফিসিবল সলুশান হচ্ছে চলমান রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকেই একটি পক্ষকেই ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা অবশ্যই গঠনমূলক রাজনীতি এবং স্থিতিশীল ও সহিষ্ণু গণতন্ত্র তৈরির জন্য প্রচেষ্টা চালাব। কিন্তু সেই প্রশ্ন এই ক্রাইসিস মোমেন্টে উঠানো একেবারেই অবান্তর। আপনি হুট করে পুরো প্রচেসটা পরিবর্তন করতে পারবেননা। যারা লংটার্ম সলুশানকে সর্টটার্ম ক্রাইসিস থেকেউত্তরণের কথা বলছেন; তারা আদতে সলুশান চান কিনা প্রশ্ন উঠতে পারে। তারা হয়ত ভাবছেন এই ক্রাইসিস দীর্ঘদিন কনটিনিউ করলে লংটার্মে  গঠনমূলক রাজনীতির পরিবেশ তৈরি হতে পারে। যারা এ ধরনের ম্যানটালিটি পোষণ করেন, তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি; আপনি আমেরিকান স্টাইল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেও ক্রাইসিস থাকবে। সেক্ষেত্রে সলুশানও হবে উদারনৈতিক কিংবা সহিষ্ণু পন্থায়। এখনো সে ধরণের পরিবেশ তৈরি হয়নি অথচ আপনি এক্সপেক্ট করছেন সে পরিবেশের সলুশান।
এবার আসা যাক বর্তমান ক্রাইসিসের উদ্যোক্তা কারা? এ ব্যাপারেও অধিকাংশ মানুষই একমত হবেন যে, ক্রাইসিসের উদ্যোক্তা আওয়ামীলীগ; তারা নিজেদের স্বার্থে সংবিধান পরিবর্তন করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। মজার ব্যাপার হোল আপনি ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে পাবেন বেশীর ভাগ ক্রাইসিসের উদ্যোক্তা রাষ্ট্র শক্তি। ১৯৫২, ৭১, ৯০, ৯৬  তে ক্রাইসিস তৈরি করেছিল রাষ্ট্র শক্তিই। ১৯৯৬ সালে বিএনপির হাতে রাষ্ট্র শক্তি ছিল তারা সে শক্তিকে ইউজ করে ক্রাইসিস তৈরি করেছিল আর আওয়ামীলীগ তখন জামায়াতকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করে ক্রাইসিস থেকে উত্তরনের ব্যবস্থা করেছিল। আর এখন আওয়ামীলীগ রাষ্ট্র শক্তিকে ইউজ করে ক্রাইসিস তৈরি করেছে আর বিএনপি জামায়াতকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করে ক্রাইসিস থেকে উত্তরনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।
প্রশ্ন হোল ম্যাংগো পিপলরা কি ভূমিকা রাখতে পারে? ক্রাইসিস মোমেন্টে সাধারন জনতার মধ্য থেকেই অনেকে ভুমিকা পালন করে থাকেন। যাদের উদ্দেশ্য হীন ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ নয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশেরই আপামর জনসাধারণ থেকে কিছু মানুষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। যারা বিবেকের তাড়নায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন; তারা কিন্তু চেতনার ব্যবসা করেননি। যারা চেতনার ব্যবসা করছেন, তারা কিন্তু সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেননি। তারা রাজনীতিবিদ হিসেবে পুরো যুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতায় অবস্থান করেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ফায়দা হাসিল করা তারা সে ফায়দা হাসিল করে চলেছে। সে সময়ও যদি মুক্তিযুদ্ধারা এই ভেবে চুপ থাকতেন যে এটা রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা দখলের কৌশল, তাহলে কি দেশ স্বাধীন হতো?  ক্রাইসিস থেকে উত্তরণ হতো? মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন এ দেশেরই কিছু নাগরিক ক্রাইসিস উদ্যোক্তাদের পক্ষে ভূমিকা পালন করেছিলেন; তারাই ছিল রাজাকার। মুক্তিযুদ্ধে এ দুটি পক্ষের বাহিরে অনেকেই ছিলেন। সবাই কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করতে পারেনি। অনেকে বয়স, সামর্থ্য থাকার পরও অংশ গ্রহন করেননি। এরাই ছিলেন তখনকার ম্যাংগো পিপল! এই ম্যাংগো পিপলরা সকল কালে এবং যুগে অপেক্ষায় থাকে পানি কোন দিকে গড়ায়।
তাহলে বর্তমান সময়ে কিভাবে ভুমিকা রাখা যেতে পারে? ভুমিকা রাখার জন্য আপনাকে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির অংশীদার হওয়ার প্রয়োজন নেই। ক্রাইসিস থেকে উত্তরনের জন্য আপনি আপনার অবস্থান থেকেই সমাজ সচেতনতা তৈরির ভুমিকা রাখতে পারেন। আর আপনি যদি রাজনীতিবিদদের কামড়া-কামড়ি বলে চুপ করে বসে থাকেন, তাহলে আপনি হয়ে যাবেন কাপুরুষ ম্যাংগো পিপল! এবার আপনিই ডিসাইড করুন; এই ক্রাইসিস মোমেন্টে আপনার ভুমিকা কি হবে? আপনি কি ক্রাইসিস উত্তরণের যোদ্ধা হবেন, না ক্রাইসিস তৈরির উদ্যোক্তাদের ক্রিয়ানক হিসেবে এই ক্রাইসিসের রাজাকার হবেন; নাকি ম্যাংগো পিপল হয়ে দেখবেন পানি কোন দিকে গড়ায়। আপনার ভুমিকা ইতিহাসের অংশ হচ্ছে; ইতিহাসই বলে দিবে ক্রাইসিস মোমেন্টে আপনার ভুমিকা কি ছিল?

হায়রে চেতনা!

by Shikin Aman

(এই লেখার পূর্ববর্তী ভার্সনে সুশীলতা ছিল, এই ভার্সনটা বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে পরিমার্জিত। বাকশালী মনোভাবের লোকজনকে লেখাটি এড়িয়ে যেতে বিনীতভাবে অনুরোধ রইলো)

unnamed

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। আড়াইশত বছর পরাধীনতার পরে আমরা একটা স্বাধীণ দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাড়াই এই মহান যুদ্ধের মাধ্যমে। এই যুদ্ধে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তারা আমাদের জাতীয় বীর।দেশের একটা ক্রান্তিলগ্নে তারা আমাদের মুক্তির পথের দিশারী ছিলেন। তাদের সেই মহান আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন কি আমরা করতে পেরেছি, নাকি আমরা তাদের অর্জনকে শুধু ক্ষুদ্রস্বার্থে (চেতনা) ব্যাবসার কাজে লাগাচ্ছি? আমাদের দেশের উন্নতির জন্য কি এই মহান স্মৃতি পথিকৃত এর ভুমিকা রাখছে, নাকি এর অপব্যাবহারে আমাদের উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে? দেশের উন্নতির জন্য ভবিষ্যত সরকারের কাছে আমাদের কি চাওয়া থাকতে পারে?

  • মুক্তিযোদ্ধা প্রসংগঃ

আজকে ৪২ বছর গত হয়েছে সেই মহান স্বাধীণতা যুদ্ধের। দেশ আর দেশের মানুষ এখন অনেক বদলে গেছে। সেই সময়ে যারা যুদ্ধে গিয়েছিলেন তারা সবাই আজকে ষাঠোর্ধ বৃদ্ধ।

দেশের কাছ থেকে বিনিময়ে কিছু নিবেন এমন মনোভাব নিয়ে যুদ্ধে গেছেন এমন যোদ্ধা পাওয়া যাবে কিনা আমার সন্দেহ আছে।বিভিন্ন সময় তাদের সাক্ষাতকারে আমি দেখেছি, সাধারণ যোদ্ধাদের একমাত্র চাওয়া ছিল একটা শোষণ ও নির্যাতনমুক্ত সমাজ। শিক্ষিতদের চাওয়া ছিল রাজনৈতিক স্বাধীণতা, দেশের সম্পদ দেশে থাকার নিশ্চয়তা, মুক্তচিন্তার বিকাশ, সাথে একটা উন্নত দেশের স্বপ্ন। তবে হ্যা, রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকে হয়তো ভাবতেন, স্বাধীণ দেশে মন্ত্রী মিনিস্টার হবেন, পতাকা লাগানো গাড়ীতে ঘুরবেন।আমি মনে করি এই স্বপ্ন তারা দেখতেই পারেন। সেইজন্যে তারা দেশের মুক্তির জন্য তদবীর করেছেন। কোলকাতায় কষ্ট করে থেকেছেন (১৯৭০ সালে নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে কয়জন যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন? সাংসদ বাদ দিলাম, কতজন বড় নেতা যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন? কিন্তু ভুলবেন না, তারা তখন স্বামর্থবান ছিলেন) এই প্রসংগটা আনতাম না।(ভুল বুঝবেন না প্লিস।। আমি অবশ্যই মানি যুদ্ধকালীন একটা সরকার আবশ্যক ছিল, তবে সব নেতাদেরই কোলকাতায় বসে থাকা দরকার ছিলো কিনা তাতে আমার সন্দেহ আছে) এই প্রসংগ আনার কারণ হচ্ছে, রাজনীতিবিদরা সাধারণ যোদ্ধাদের মনোভাব আর নিজেদের মনোভাব এক করে ফেলেন। তাই যুদ্ধের ৪২ বছর পরেও তারা ওই যুদ্ধ নিয়ে রাজনীতি করে চলেছেন।তারা মনে করেন মুক্তিযোদ্ধারা হয়তো তাদের মতই স্বাধীণ দেশের কাছে পাওনা (!) বুঝে পেতে চাইবেন।তারা ভুলে যান, এই যোদ্ধারা জীবন যৌবন বাজী রেখে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। কিছু পাওয়ার লোভ থাকলে, নিরাপদ কোথাও আত্মগোপনে থাকতেন, সম্মুখ সমরে যাওয়ার সাহস করতেন না। আর যে মহান যোদ্ধা বুলেটের মুখে হাসিমুখে দৌড়ে যেতে পারেন, সে জীবনযুদ্ধে অন্যের সাহায্যের আশায় বসে থাকবেন, এটা আমার কাছে দুরুহকল্পনা। যুদ্ধাহত যোদ্ধাদের কথা আলাদা। তারা না চাইলেও রাষ্ট্রের উচিত পুনর্বাসন করা। তবে সেই সময়ও পার হয়ে গেছে। ৪২ বছর পরে এসে এই প্রসংগ অবান্তর।

এই কথাগুলো বলার উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে, এতদিন পরেও আমারা মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ বিতরন করে চলেছি, আর ক্যান্সেল করে চলেছি। তাদের নাতি নাতনিদের কোটা দিয়ে বেড়াচ্ছি।প্রকৃত যোদ্ধারা এইসব নিয়ে মাতামাতি করবে আমার বিশ্বাস হয়না। যারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীণ করার মতো সাহস রাখে, তারা রাষ্ট্রের দয়ার জন্য বসে আছেন, এটা কখনই সম্ভব না। (আমি কোটা নিয়ে বিতর্কের সময় খেয়াল করেছি, অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেছেন, তার কাছে বাবার সনদ আছে, কিন্তু তিনি নিজ যোগ্যতায় ক্যারিয়ার গড়েছেন। তারা গর্বিত যোদ্ধার গর্বিত সন্তান)।

তাহলে, এই সনদ ব্যাবসায়ীরা কারা? অনিচ্ছা স্বত্তেও আমার চোখ চলে যায়, তাদের দিকে যারা আসলে যুদ্ধটাকে একটি ব্যাবসা হিসেবে গণ্য করে। যারা মনে করে দেশ স্বাধীণ হয়েছে, এখন বিদেশি শোষকরা যে ভাগটুকু নিয়ে যেতো তা আমার প্রাপ্য!! আমাদের দুর্ভাগা জাতি, শত বছরের বিদেশী শাষণ শেষে যার দেশীয় রক্ষকরা ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ন?

  • রাজাকার প্রসংগঃ

এবার আসি রাজাকার প্রসংগে।। স্বাধীণতা যুদ্ধের সময় আমাদের দেশেরই কিছু লোক স্বাধীণতার বিপক্ষে ছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল একটি রাজনৈতিক দলঃ জামায়াতে ইসলাম। তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। তাদের অনেক সদস্য আল বদর, আল শামস ইত্যাদি দল গঠন করে স্বাধীনতা ্যুদ্ধের বিরোধীতা করেছে। তাছাড়াও অনেক সুযোগ সন্ধানীরা এই সময় দেশের অস্থিতিশীলতার সুযোগে এইসকল সংগঠনে যোগ দিয়ে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করেছে।এখানে দুই ধরনের লোক আছে। একদল লোক মনে করতেন পাকিস্তান একটি ইসলামী রাষ্ট্র, ভারত চক্রান্ত করে তাকে দ্বিখন্ডিত করার চেষ্টা করছে, তাই তারা এই বিচ্ছিন্নতা বাদের বিরুদ্ধে। তারা দেশের কোটি লোকের আবেগ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। কিন্তু তাদের অনেকেই আমানবিক যুদ্ধাপরাধের সাথে যুক্ত ছিলেন না। আরেকদল লোক ছিলেন যারা দেশের শত্রুদের হাতে হাত মিলিয়ে যুদ্ধাপরাধ করেছেন।সিভিল লোকদের হত্যা, নির্দ্ধাযাতন, ধর্ষণ, লুটপাট ইত্যাদি এর অন্তর্ভূক্ত।যারা এইসব গর্হিত কাজ করেছে তারা কোন মতাদর্শের জন্য এসব করেনি। তারা অমানুষ, তাদের বিবেকবোধ লালসায় নিমজ্জিত ছিল তাই সুবিধাবাদী কাজ করেছে। এদের মধ্যে সকল দলের লোক ছিল, যেমন আজকের দিনেও সব দলেই খারাপ লোক আছে। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে একজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলেছি, যার পরিবার স্বাধীণতার পর তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা নির্যাতন ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। এই স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা (অদ্যাক্ষর মো হো মা) মুখে কাপড় বেধে ডাকাতি করছিলেন, একপর্যায়ে তার মুখের কাপড় সরে যায়। তিনি এখন চেতনার ধজ্জাবাহক।

সুতরাং দল মত নির্বিশেষে যারা এইসব কুকর্ম করেছেন, তারা নিঃসন্দেহে অপরাধী। তাদেরকে স্বাধীণতার পরপরই ঝুলিয়ে দেয়া দরকার ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা অনেক ক্ষেত্রেই এই শুভকাজটি সম্পন্ন করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে করতে পারেননি বিভিন্ন কারণে।এরপর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্বায়িত্ব ছিল তাদের বিচারের কাঠগরায় দাড়া করানোর। বেশ কিছু অপরাধীকে বিচার করাও হয়। আমাদের স্বাধীণতা আন্দোলনের মহান নেতা বংগবন্ধু তখন নেতৃত্বে ছিলেন। আমার বিশ্বাস তিনি সেই সময়ের সকল নেতার চেয়ে বেশী দেশপ্রেমী ও ভবিষ্যতদ্রষ্টা ছিলেন। তিনি সল্প সময়ের মধ্যেই এই বিষয় নিয়ে মাতামাতি বন্ধ করেন। এর কারণ কি?

একটা স্বাধীণ দেশের উন্নতির জন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন হলো জাতীয় একাত্মতা (national reconciliation)। প্রতিশোধ আর হানাহানির রাজনীতি কখনই দেশের জন্য সুফল আনেনা। বিচার ও শাস্তির সাইকোলজিকাল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যত অপরাধীদের  সতর্ক করা, সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখা। জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্বীকৃতি হয়ে যাবার পর আর পাকিস্তান একীভূত হওয়ার কোন আশংকা ছিলোনা। তাই তখন যুদ্ধুপরাধীদের বিচার সেই সাইকোলজিকাল গুরুত্ব হারায়। বঙ্গবন্ধু ঠিকই বুঝেছিলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে এইসব হানাহানি বন্ধ করতে হবে। তাই তিনি আইন করে জিঘাংসা রোধ করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি জাতীয় একাত্মতা প্রশ্নে একটু চরম্পন্থা নিয়ে ফেলেন (বাকশাল আইন)। তিনি হয়ত দেশের ভালই চেয়েছিলেন। কিন্তু যেই স্বাধীণতার জন্য এত জীবনদান, অনেকের কাছেই বাকশাল এর উলটো পথ!

এরপরে আসেন জেনারেল জিয়া।তার ক্ষমতার পথ যেমনই হোক, দেশের উন্নতির জন্য তার পরিকল্পনাও সদূরপ্রসারী ছিলো। স্বভাবতই তিনিও যুদ্ধকালীন কর্মকান্ড নিয়ে হানাহানির পথে যাননি। সকল মত আর পথকেই নিজের সাথে একীভূত করার চেষ্টা করেছেন। তার কাছেও নিঃসন্দেহে মূল প্রয়োজন ছিল দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন। এরপর আসলেন এরশাদ।তার শাষণ আমলেও দেশের মধ্যে যুদ্ধকালীন কর্মকান্ড নিয়ে মাতামাতি দেখা যায়না। এরপর আসলো সাধের গনতন্ত্র।।

৯১ গেলো, ৯৬ গে্লো, ২০০১ ও গেলো! ৯/১১ তে আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর দেশে দেশে সন্ত্রাসবাদ মাথা চাড়া দিল।আফগানিস্তান/ ইরাকের পশ্চিমা বিরোধী ঢেউ আমাদের দেশ সহ সব মুসল্মান দেশেই ছোয়া দিয়ে গেল। ফলে ওই সময়টাতে দেশে দেশে জঙ্গিবাদের দেখা মিলল। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া (বালির বোমাহামলা ভুলেননি নিশ্চয়ই) ইত্যাদি মুসলিমপ্রধাণ দেশগুলোও এর শিকার হয়। তাই এর সাথে দেশের সরকারকে সরাসরি যুক্ত করা ঠিক হবেনা।

২০০১ এর নির্বাচনে একটা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে।। আওয়ামিলীগ মোট ভোট বেশি পেয়েও, নির্বাচনে ব্যাপকভাবে হারে। ভোটের রাজনীতিতে যোগ হয় এক নতুন মাত্রা। হিসাবে দেখা যায়, বিএনপি ও জামাত জোট না বাধলে আওয়ামীলিগের অন্ধ ভোটারদের সমর্থনের জোরে আওয়ামীলিগ বার বার ক্ষমতায় যেতে পারে! এই নির্বাচনী হিসাবের প্রেক্ষিতে আওয়ামীলিগ ২০০১ নির্বাচনের পর থেকেই জামাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, যুদ্ধাপরাধ ইত্যাদি অভিযোগ আনতে থাকে। যদিও জঙ্গীবাদের মূল উতস ও কারণ কোনটাই জামাতের রাজনীতির সাথে যুক্ত না। এর কারণ আমেরিকার ঘোষিত global war on terrorism  আর দেশে দেশে চলমান গোপন আন্দোলন Islamic Caliphate। যেহেতু জামাতের কর্মীরা ইসলামপন্থী, তাদের কিছু প্রাক্তন সদস্য স্বাভাবিক ভাবেই আমেরিকার গ্লোবাল ওয়ার এর বিপক্ষে যোগ দিতে আফগানিস্তান ইরাক যায়, এবং ফলস্রুতিতে নিষিদ্ধ সংগঠনে যুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু দেশীয় রাজনীতির সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই বললেই চলে।তাছাড়া ততকালীন সরকার বিশেষ বাহিনী র‌্যাব গঠন করে বেশ কঠোর ভাবেই জঙ্গীবাদ দমন করে।বাংলা ভাই আর তার সাংগ পাংগদের ফাসী দিয়ে সেই কালো অধ্যায়ের ইতি ততকালীন সরকারই টেনে দেয়।

কিন্তু আওয়ামীলিগের জন্য এটা ছিল প্রধাণ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির নির্বাচনকালীন মিত্র জামাতকে ঘায়েল করার সুবর্ণ সুযোগ। তারা বিদেশী শক্তিদের কাছে  জামাতকে তথা সরকারকে জঙ্গীসংশ্লিষ্ট প্রমান করতে মরিয়া হয়ে উঠে।উপরে বর্ণিত কারণে (জামাতের কিছু সদস্যের পশ্চিমাবিরোধী যুদ্ধে যোগদানের প্রমাণ ও পরবর্তীতে দেশে ফিরে জঙ্গী সংগঠণের সাথে যোগাযোগের প্রমাণ) তারা এ ক্ষেত্রে সফলও হয়। একই সাথে তারা জামাতকে যুদ্ধাপরাধকারী দল হিসেবে তরূণ প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধের বিচার করার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী ম্যানিফ্যাস্টো করে। যেই national reconciliation বা জাতীয় ঐক্যের জন্য বঙ্গবন্ধু/ জিয়া ৪০ বছর আগে এই ইস্যুকে শেষ করেছিলেন, ক্ষমতায় যাবার জন্য আবার সেই ইস্যুকে জাগ্রত করা হয়

গত ৪২ বছরের মধ্যে আর কখনো বাঙ্গালী জাতি এতোটা দ্বিধাবিভক্ত ছিলোনা। কারণ দলকানা ছাড়া যে কেউ স্বীকার করবে এই বিচারের আসল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা। দেশের উন্নতি, অগ্রগতির সাথে এই বিশাল যজ্ঞের কোন সম্পর্ক নাই। নাহলে কেন যুদ্ধাপরাধীরা প্রায় সবাই একটা বিশেষ দলের টপ নেতাই? আর কোন যুদ্ধ অপরাধী দেশে নাই?? একজন অপরাধীর ফাসির আদেশের বিরোধীতা করতে গিয়ে শত লোকের জীবনদান, বাঙ্গালী ইতিহাসে তো দূরের কথা, পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তার মানে কি এই হাজার হাজার লোক যারা এই বিচারের বিরোধীতা করেছে সবাই ব্রেইন ওয়াশড? তার মানে কি বাঙ্গালি জাতির বিশাল অংশ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী? নাকি বাঙ্গালী এই বিচার ব্যাবস্থায় আস্থা রাখেনা?? যতদূর জা্না যায় এইসব যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সাক্ষী দেয়ার জন্য শত শত লোক ছিল কিন্তু আইন বদল করে তাদের সাক্ষী দিতে দেয়া হয় নাই। অপরদিকে বিপক্ষে সাক্ষী দেয়ার লোকদের সেফ হোমে রাখা হয়েছে। আদেশ মতো সাক্ষ্য না দিলে গুম করে ভারতের কারাগারে পাঠানোর উদাহরণও আছে! ( আমার মতে ৪০ বছর পরে একটা বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়া দূরুহ ব্যাপার। আর বাংলাদেশে আমরা যেভাবে দলকানা, তাতে  নেতা আদেশ করলে আমরা মিথ্যা সাক্ষ্য দিতেও পিছপা হবেনাঃ জনগনের উপর এই আস্থা আমার আছে।এই ধারা না বদল হলে আগামী দিনে আরো নতুন নতুন যুদ্ধাপরাধীর দেখা মিলবে বলে আমার বিশ্বাস!)   আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে বলে, ‘আমার দলে যোগ দিলে তুমি ভাল, আর নাহলে তুমি ছাগু’- এই তত্ত্বে যারা বিশ্বাসী, তাদেরই ব্রেইন প্রকৃতভাবে ওয়াশড! ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে একটা দেশের জনগনকে বিভক্ত করার এমন উদাহরণ ও পৃথিবীতে বিরল (রুয়ান্ডা একটা উদাহরণ হতে পারে)।

কোন সন্দেহ নাই রাজাকারের বিচার দরকার আছে।। তাহলে এতদিনে বিচার শেষ করে ফাসি/জেল দেয়া হলোনা কেন? পাচ ছয়জন লোকের বিচার করতে কি পাচ বছর লাগে? সরকার বিচারের রায়ের সময়কাল নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম এইটা বুঝতে আইনস্টাইন হওয়া লাগেএকসাথে সবগুলি আসামীকে  ফাসি দিলেও আমার মনে হয় এর চেয়ে বেশী রিয়াকশন হইত না। তার মানে বুঝা যাচ্ছে আপনাদের আসল উদ্দেশ্য এদের বিচার না!! আপনারা আশায় আছেন এদের ফাসি দেয়ার ধুয়া তুলে জনগণকে ব্ল্যাক্মেইল করবেন!! এদের ফাসি দেয়ার জন্য আপনাদের চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকা জরুরী! বাহ কি সুন্দর আপনাদের যুক্তিবোধ! এখানে আমার এক ফেসবুক ভাইয়ের ডায়লগ মনে পরে গেলঃ বাংগালীরে হাইকোর্ট দেখানো বন্ধ করেন!!

এটা পরিস্কার বোঝা যায়, যুদ্ধাপরাধী বিচার শুধুই একটা ইস্যুঃ উদ্যেশ্য এক ঢিল এ দুই পাখী! একঃ বিএনপি-জামাত জোট ভাঙ্গা। দুইঃ জনগনের ইমোশন নিয়ে খেলা করে ভোটের রাজনীতিতে লাভ করা। দেশের উন্নতি-অগ্রগতির সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই। এইখানে প্রসংগত গজা মঞ্চের কথা চলে আসে, কিন্তু সেইটা আরেক প্যাচঃ কে খেলোয়ার, কে কোচ, কে ফাইনান্সার আর গোলপোস্ট কোনদিকে সেইটা সল্পসংখক লোকেরই জানা আছে। এই মঞ্চ আসলে এই মুহুর্তে দেশের জন্য কোন ভুমিকা রাখার ক্ষমতাও রাখেনা। তাই এই লেখায় তাদের নিয়ে আলোচনায় যাবো না।

জনগণের চাওয়া কি?

আমি ভাই আমজনতা।স্বাধীনতা যুদ্ধ, যুদ্ধের সূর্যসন্তানরা আমার গর্ব। আমার মা বোনের ইজ্জত যারা নিসে তাদের আমি মনে প্রাণে ঘৃণা করি।বঙ্গবন্ধুকে আমি শ্রদ্ধা করি, ১৯৪৮ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত তার অসামান্য নেতৃত্বের জন্য। জিয়াকেও আমি শ্রদ্ধা করি এক দুঃসময়ে দেশের হাল শক্ত হাতে ধরার জন্য। কিন্তু তার মানে এই না ৪০ বছর আগের দুঃসপ্ন দেখায়া, বারবার মৃত সম্মানিত নেতাদের গল্প শুনায়া আমার ভোট আপনি নিয়া যাবেন। ওইসব গল্পের দিন শেষ। ব্যাকগ্রাউন্ড কাহিনী বাদ দেন।

এই লেখাটার পূর্ববর্তী ভার্সনে এই কথাগুলী দুই নেত্রীর উদ্দেশ্যে বলসিলাম। কিন্তু বিগত কয়েকদিনে সরকারী দলের বাকশালী কর্মকান্ড দেখে বুঝলাম, তাদের এইসব কথা বলে লাভ নাই। তারা চেতনা ব্যাবসা করেই দিন কাটাবে ঠিক করসে। এই আফিমের ঘোরে তারা দেশের কোটি কোটি লোককে আচ্ছন্ন করে রাখসে। এই চেতনা দিয়ে দেশের কোন উন্নতি হবেনা যেনেও তারা না জানার ভান করে আছে, কারণ ব্যাবসাটা তাদের জন্য বেশ লাভজনক। দেশের সম্পদ লুঠ, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী আর দেশের কাংখিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে দলীয় লোকদের দুর্নীতি প্রকাশ হওয়ার পর তাদের কাছে ক্ষমতায় টিকে থাকার একটা রাস্তাই খোলা আছে বলে মনে হয়- সেটা হলো চেতনা ব্যাবসা। ঘুমের অভিনয় করা লোককে তো আর ঘুম থেকে তুলা যায়না। তাই সে চেষ্টা ক্ষান্ত দিলাম। তাই এই ভার্সনে শুধু বি এন পি নেত্রীর প্রতি আহবান রইলো।

আপনি ইতিমদ্ধে দুইবার প্রধাণ মন্ত্রী হইসেন। দেশের মানুষ আপনাকে অনেক সম্মান দিসে। বয়স ও তো কম হইলো না! এইবার ই হয়তো শেষ সুযোগ দেশকে একটু এগিয়ে নেয়ার।শেষ সুযোগ দেশের জন্য সত্যিই কিছু করার। নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে সঠিক পথে চলার অংগীকার করার জন্য প্রচন্ড আন্তরিকতা ও সতসাহস প্রয়োজন। এটার রাজনৈতিক ঝুকিও আছে। কিন্তু কখনো কখনো ঝুকি নিলে তা বৃথা যায়না। আর আমার ব্যক্তিগতভাবে  মনে হয়  আপনার মধ্যে সেই প্রচন্ড সাহসটাও আছে। দেশের স্বার্থে একবার একটা বোল্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে দেখেন না!

আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবেনা সেই আশঙ্কা প্রবল। কিন্তু কমন্সেন্স বলে, বিএনপি যদি নিজেদের ভুলের জন্য জনসমর্থন না হারায়, তাহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবেনা কিংবা  নির্বাচন করে বেশীদিন ক্ষমতায় তারা থাকতে পারবেনা। সুতরাং বিএনপি কে এখন সঠিক পথে চলতে হবে, যাতে গণমানুষ তাদের উপর থেকে আস্থা না হারায়। রাজপথে যথেষ্ট সমর্থন অর্জন না করে জনদুর্ভোগ দীর্ঘায়িত করলে জনগণের আস্থা হারানোর সম্ভাবনা প্রবল। তাই এখনই সময় কিভাবে জনগণকে আপনাদের দাবীর সাথে সম্পৃক্ত করা যায় তা ভাবার। আমার মতে তা করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একটা সঠিক নির্বাচনী এজেন্ডা প্রকাশ করা যা জনগনের চাহিদাকে পূরণ করতে পারবে। এগুলো যাতে জনগণের কাছে  ফাকা বুলি মনে না হয়, সেজন্য প্রয়োজনে খসড়া আইন (দূর্নীতি দমন, টেন্ডার, আইন বিভাগ ইত্যাদি নিয়ে) প্রনয়ন ও প্রকাশ করতে হবে, যা আপনারা ক্ষমতায় গেলে কার্যকর করবেন। জনগন যদি আপনাদের কথা ও কাজে আন্তরিকতার ছোয়া পায় তাহলে, গণজোয়ার কেউ ঠেকাতে পারবেনা।

এই কথা নিশ্চিত যে দেশের জনগণের সমর্থন যদি পেতে চান, তাহলে তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন আপনাদের নির্বাচনি এজেন্ডায় পড়তে হবে। অন্য দল খারাপ এইজন্য ভোট দেন, এই হিসাবে হয়ত নির্বাচনে জেতা যায় কিন্তু এই আশায় থাকলে এইবার আর নির্বাচনে যাওয়া লাগবেনা। আপনাদের ছাড়াই ডিজিটাল নির্বাচনে ৮০% ভোট পড়ে যাবে। পুলিশ, আর্মী কেউই এর বিরোধিতা করবেনা। বরং আপনারা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে বিপদে পড়বেন। আর্মি মাঠে থাকলে নির্বাচন বানচাল করা কঠিনই হবে। তাই বলছি জনগনকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেন, যাতে এই নির্বাচন না হয় কিংবা জনগণ দৃশ্যমানভাবে নির্বাচন বর্জন করে। জনগণ আপনাদের কাছ থেকে কি চায় তা আপনারা ভালই জানেন। তবু এই অভাজন আপনাদের একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাইঃ

  • কথা দিতে হবে প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ আর দুর্নীতির রাজনীতি বন্ধ করবেন।
  • দল মত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের কাজে একত্রিভূত করবেন। মেধার মূল্যায়ন করবেন, দলীয় পরিচয়ের না।
  • দূর্নীতি দমনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের সম্পদের লুন্ঠন বন্ধ করবেন। দুর্নীতিবাজদের দমনে কঠিন আইন করবেন।
  • বিরোধী মতকে শক্তি দিয়ে দমন করবেন না। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন।
  • পুলিশকে পুলিশের কাজ করতে দিবেন, যাতে জনগন নিরাপদে থাকে। দলীয় কাজে ব্যাবহার করবেন না।
  • বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করবেন না। তাদের জনগনের সেবা করতে বাধ্য করবেন।
  • দলীয় টেন্ডারবাজী বন্ধ করে সচ্ছতা নিশ্চিত করবেন। উন্নত দেশের আদলে সচ্ছভাবে সরকারী টাকা খরচের হিসাব অনলাইনে দিবেন।
  • ছাত্র রাজনীতি সীমিত করে প্রকৃত ছাত্রদের নেতা বানাবেন। মেধার বিকাশ ও মূল্যায়নে সাহায্য করবেন। চাদাবাজদের দল থেকে বিতারিত করবেন।
  • আমদানি, রপ্তানী বানিজ্য, গার্মেন্টস, শেয়ারবাজার রাহুমুক্ত করবেন।
  • মানবসম্পদ রপ্তানী করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো, কূটনীতি, সাপোর্ট এর ব্যাবস্থা করবেন।
  • সংসদে বিরোধী দলকে হেয় করবেন না। সংবিধানে সংশোধনী এনে সকল এমপিদের দেশের স্বার্থে প্রয়জনে দলের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার সুযোগ দিবেন।
  • যোগ্য, তরুণ মেধাবীদের মন্ত্রী করবেন।দেশের সেরা মেধাগুলোকে একসাথে করে সরকারের সাথে নিয়ে দেশসেবায় নিয়োজিত করবেন।

নেত্রী আমার আশংকা হচ্ছে আপনার আশেপাশের ঝুনা নেতারা আপনাকে এই পথে আসতে বাধা দিবে। তারা যুক্তি দিবে, দুর্নীতি বন্ধ করলে আর দেশের স্বার্থ দেখলে কি এর সুবিধাভোগি ব্যাবসায়ী, আমলা, পার্শবর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, তাদের সাথে যুক্ত রাজনৈতিক দল, এরা আমাদের সরকারকে টিকতে দিবে? বছর না ঘুরতে ১/১১ সরকারের মতো বিপদে পড়বো আমরা! কিন্তু আসলে ১/১১ সরকার আর নির্বাচিত সরকার এক না।। আপনারা যদি দেশের সত্যিকার উন্নতির জন্য চেষ্টা করেন দেশের দেশপ্রেমী মানুষ, পুলিশ, আর্মী সবাই আপনার জন্য বুক পেতে দাড়ায়ে যাবে। হয়ত কিছুদিন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য জন্য জনগনের কষ্ট হবে, কিন্তু আপনারা আন্তরিক হলে জনগণ সব বুঝতে পারবে। আর বাংগালী একবার যদি জাগ্রত হয়, কারো সাধ্য নাই, তাদের দমিয়ে রাখে।

একবার সরকার গঠণ করলে পাচবছরের মধ্যে কারো ক্ষমতা নাই সরকারকে হটায়! কিন্তু পাচ বছরের মধ্যে দেশটা একটা ফ্লায়িং ষ্টার্ট পেতে পারে। সাথে আপনারাও হয়ত সক্ষম হবেন পাচ বছর পরেও জনপ্রিয়তা ধরে রাখার সুযোগ। আপানাদের আবার পাচ বছর পরে পাতানো নির্বাচনের চেষ্টা করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার প্রয়োজন হবে না। শুধু আপনাদের একটু সৎসাহস আর সদিচ্ছার মুখাপেক্ষি আমরা। দিবেন নাকি প্রকাশ্য জনসভায় বা মিডিয়াতে একটা যুগান্তকারী ঘোষনা??? দিবেন নাকি আমাদের একটা বিশ্বাসযোগ্য আর আন্তরিক আশ্বাস, সাদা-কালো রেফারেন্স সহ?  আমরা জনগনরা যেনো ভবিষ্যতে সেই রেফারেন্স দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি? আমার আন্তরিক বিশ্বাস এই দেশের জনগণের একটা বিশাল অংশ দেশের প্রকৃত উন্নতির জন্য প্রয়োজনে  ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।। তাদের অপেক্ষা শুধু একটা সৎ, দেশপ্রেমী আর যোগ্য নেতৃত্বের। পথ চেয়ে আছে বাংলাদেশ!

Is this the only way the people can have their say?

Intro: EC has announced election schedule without any compromise between the two parties.  particularly, opposition BNP is concerned with the partisan set up.  polls suggest that 80-90% agree with BNP’s demand.  within 24 hours of EC’s announcement, there has been protests around the country.  the govt is trying to maintain an appearance of stability in Dhaka, and mainstream media is either complicit or cowed into not reporting the truth.  this post highlights a few incidences of nationwide protest.
There cannot be no condoning of the violence and deaths taking place everyday. But one must also understand the context. We are essentially going through a hot and cold war where the two warring parties are trying to deny each other victory. Even the suave and civilized foreign interlocutors have essentially gave up trying to mediate and said the people of Bangladesh will decide their future. Is this the only way we can decide our future?
5 die on 2nd day of 48-hour blockade
Deadly clash in Rajshahi, 50 including city mayor injured

——

In Mymensingh, 120 km north of Dhaka, there were explosions in front of the residence of Mrs Rowshan Ershad — wife of former president HM Ershad, a minister in the AL-led coalition government.

Roads were blockaded and cars burnt in the port city of Chittagong.

The highway was blockaded in Dinajpur, 360km north of Dhaka.

Explosions rocked the Chief Election Commissioner’s Dhaka residence.

Explosions and fires around the capital, including the Dhaka University. Shots were fired at a rally of the ruling Awami League. A local office of Jatiya Party, junior partner in the governing coalition, was burnt.

Over 50 were injured in sustained clashes in Rajshahi, the largest northern city.

Around 25 shot by police around the country.

Police kills one in Comilla, 60km east of Dhaka.

Police under attack in Bogra, 200km north of Dhaka.

Cars burnt in Habiganj, 170km north east of Dhaka.

Cars burnt in Laxmipur-Dhaka highway southeast of the capital.

Cars burnt in Khulna, the largest southern city.

কঠোর আন্দোলন ও সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষাঃ পরস্পরবিরোধী? করণীয় কি??

by Shikin Aman

১।   দেশব্যাপী বাকশালের বিরুদ্ধে শক্তিশালী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার এখনই সময়। হরতাল অবরোধ কখনোই শান্তিপূর্ণ হয়না, অনিবার্যভাবেই সহিংসতা এর সাথে জড়িত। অনেকক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করলেও সরকারী বাহিনীর আক্রমনে বা প্ররোচনায় সহিংসতা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু কিছু ব্যাপারে সতর্ক থাকা দল দেশের স্বার্থে প্রয়োজন অনেকের দ্বিমত থাকতে পারে, সেইসব দ্বিমতের ব্যাপারে আমি শ্রদ্ধাশীল। আমি শুধুই নিজের বিবেক ও জ্ঞানত যা ঠিক মনে হয় তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলামঃ

 hartal

ক।    অবরোধ কার্যকর করার জন্য এর সাথে সম্পর্কযূক্ত নয় এমন কারো প্রাইভেট গাড়ি ভাংচুর করা কতটা যুক্তিসংগত? হরতাল কার্যকর করার জন্য পিকেটিং দরকার আছে, মানলাম। সে জন্যে টায়ার জ়্বালিয়ে বা গুরুতপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিয়ে  রাস্তা দখল করে রাখতে পারলে এমনিতেই সব গাড়ি চলা বন্ধ করবে। এর পরও যদি কোন গাড়ি এগিয়ে আসে, হয়ত তার প্রয়োজনটা তার জানমালের নিরাপত্তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। দুই একটা গাড়ীকে মানবিক বিবেচনায় ছাড় দিলে হরতাল/অবরোধ ব্যর্থ হবেনা। বরং হরতালকারীদের মানবিকতার পরিচয় পাওয়া যাবে। এর সুফল দল নির্বাচনের সময় পাবে। এর বাইরেও অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি ভাংচুর করা হয়। আমার মনে হয় ত্রাস সৃষ্টির চেয়ে এই ধরণের কাজ মানুষের মনে ঘৃণা সৃষ্টি করে বেশী, আর দল হারায় একটি পুরো পরিবারের সহানূভূতি ও ভোট। আমরা কি আর একটু সুবিবেচক হতে পারিনা?

খ।    হরতাল সফল করার অংশ হিসেবে নিরপরাধ পথচারী, নারী, বৃদ্ধ, শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কিছু করা কি ঠিক? হ্যা আমি জনসমাগম এলাকায় বোমাবাজী, মানুষসহ পাবলিক বা ব্যাক্তিগত ট্রান্সপোর্টে আগুন, বা গরিব রিকশাওয়ালা বা সিএনজিওয়ালার জীবিকার একমাত্র সম্বল জ্বালিয়ে  দেয়ার কথা বলছি। আমরা কি একটু মানবিক হতে পারি না? রিকশার হাওয়া ছাড়া আর সিএনজি পথ আটকানো পর্যন্ত মানলাম, এর উপরে যাওয়ার আগে একবার কি আমরা আমাদের মতই একজন গরীব মানূষের তিল তিল করে করে গড়া স্বপ্ন পোড়ার কথা ভেবে দেখি? জেনেশুনে মানূষ পোড়ার কথা আমি বলবনা- আমি বিষ্বাস করতে চাই এই কাজ সুস্থ মস্তিস্কের আমাদের কেউ করেনা। হয় এটা কোন অসুস্থ মস্তিস্ক লোকের কান্ড, অথবা এটা আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার অপকৌশল। এভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন ভেঙ্গে বা পূড়িয়ে কি আমরা আসলে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে পারবো? ভাবার বিষয় আছে নিঃসন্দেহে!

গ।    এরপর আসি সরকারী বেসরকারী যানবাহন আর সম্পত্তি ধংসের ব্যাপারে।বিআরটিসি বাস, ট্রেন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, সরকারি গাড়ি, সরকারী সম্পত্তি এগুলো পোড়ালে যে ক্ষতি হয় তা বুবুজানের সংগিদের গায়ে লাগে বলে আপনি মনে করেন?? বুকে হাত দিয়ে বলেন তো! যারা ক্ষমতায় থাকতে দেশ বিক্রি করতে পিছপা হয়না, তাদের কাছে তো সরকারী সম্পত্তি ধ্বংস নস্যি! এইসব নেতাদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট থাকে সুইটজারল্যান্ড, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, ইউকে এইসব দেশে। সারাদেশ জ্বলে যাওয়ার পর তারা টিভিটা বন্ধ করে পরিবারকে বলবে, চলো কিছুদিন বিদেশ থেকে ঘুরে আসি। এই ট্রেন গাড়ি কিনার জন্য তারা বিদেশ থেকে আপনার আমার নামে লোন নিবে, যা আমাদের ট্যাক্সের টাকা থেকেই বিশ বছর ধরে কাটা যাবে। সুতরাং এগুলো পোড়ানো আর নিজের বাড়িতে আগুন লাগানো একই কথা।

ঘ।    আমি আপনাদের আবেগের কথা অনুভব করতে পারি, হরতাল সফলের জন্য ত্রাসের প্রয়োজনীয়তাও বুঝি। কিন্তু আমাদের সব কার্যাবলী পরিস্থিতি আর দলের প্রয়োজনের সাথে মিলিয়ে করা দরকার। এই মূহুর্তে দলের দরকার সম্পূর্ণ জনগোষ্টির সমর্থন (বালকানা ব্যাতীত) যাতে সতঃস্ফুর্তভাবে মানুষ এই জালিম বাকশাল সরকারকে প্রতিহত করে। তাছড়া এই আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা আছে নিঃসন্দেহে। সেই ক্ষেত্রে প্রতিদিন এমন হাজার হাজার লোককে খেপিয়ে তোলা কতটুকু কার্যকর হবে?

২।  অভিজ্ঞ কর্মীরা হয়ত বলবেন, এই কাজ তো আমরা একা করছিনা। এই বাল যখন বিরোধী দলে ছিল, তখন তারা এর চেয়ে বেশী নৈরাজ্য করেছে। কিন্তু মনে করে দেখেন, ১৯৯৬ বা ২০০৭ সালে সাধারণ মানুষ হত্যা করে কোন ফলাফল আসেনি। সরকার তখনই আন্তর্জাতিক মহল বা সামরিক বাহিনীর চাপের মুখে পড়েছিল যখন রাজনৈতিক দলগুলো মুখোমুখি হয়ে একটা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। অর্থাৎ আপনার আক্রমনের লক্ষ্য হতে হবে আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সাধারণ মানুষ কখনোই না!  সাধারণ মানুষের জানমালে হামলা করতে থাকলে পুলিশ, বিজিবি স্বাভাবিক নিয়মেই তা রক্ষা করতে গুলি চালাবে। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করা তাদের মৌলিক এবং আইনি দ্বায়িত্ব। এক্ষেত্রে যদি সেনাবাহিনীও নামানো হয়, তারাও নির্দ্বিধায় গুলি চালাবে। কারণ তারা এটাকে সাধারণ মানুষের জীবন বাচানো হিসেবে দেখবে। তখন আন্দোলনের গতি যে থমকে যাবে তা বুঝতে হলে বেশী জ্ঞানী হওয়া লাগে কি? বহির্বিশ্বের কোন দেশও এই ধরণের কাজ ঠেকাতে সরকারের নেয়া কোন পদক্ষেপকে নিন্দা জানাবে না।  গুলি করে শত শত মানুষ মারলেও না। ২৫ নভেম্বরে মজিনা ভাইয়ের বক্তব্যে এর আভাস পাওয়া গেছে। এই বছরও আমেরিকা ড্রোন হামলা করে ইয়েমেনে একজন আমেরিকান নাগরিক হত্যা করেছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে! সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকী মোকাবেলায় তাদের দেশের পুলিশও গুলি করার ক্ষমতা রাখে। সুতরাং সাধারণ মানুষকে হত্যা করলে, বা সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ধ্বংস করে সরকারকে এক চুলও নড়ানো যাবেনা। আপনারা এই কাজ করবেন আশা করেই বুবু তার বিখ্যাত ‘এক চুল না নড়ার’ ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এখনও পর্যন্ত সফলভাবে কথা রেখে যাচ্ছেন!

৩।  আমার মনে হয় এতক্ষনে আমার উপরে অনেকেই ক্ষেপে গেছেনঃ গালি দিচ্ছেন ভাদা বলে। একটু ধৈর্য ধরে লেখাটা পড়ে শেষ করেন। কিন্ত আমি আসলে নিজেকে বাংলাদেশের দালাল ভাবতে গর্ববোধ করি। আমার চিন্তাচেতনার লক্ষ্য আমার দেশের সামগ্রিক উন্নতি। আমার কাছে দলের চেয়ে দেশ বড়। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। বাকশাল সরকারকে হটানো দরকার কারণ তারা দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েছে এবং আরো দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের জীবন, জীবিকা, শেষ সম্বল ধ্বংস করে দলকে ক্ষমতায় নেয়ার চেষ্টা আমার বিবেকের পরিপন্থী। সেটা আসলে কোন পথও না। কারণটা উপরের প্যারায় বলেছি। এটা এই বাকশাল সরকার জানে, এইজন্যেই তারা এতো আত্মবিশ্বাসী! তাহলে এই জালিম সরকার হটানোর উপায় কি?

৪।  আমাদের এই যুদ্ধকে বিশ্বের দরবারে রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক দন্দ্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে তা আন্দোলনকে শুধুই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে! রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মাঠে নামানোর ব্যবস্থা করে তাদের টার্গেট করতে হবে। বেশিদিন তারা ঘরে থাকবেনা, তাদের ইগো তাদের এটা করতে দিবেনা। তখন এই যুদ্ধকে রাজনৈতিক রূপ দেয়ার মোক্ষম সময়। অনেক সময় মিছিলে পুলিশ অকারণে (সাধারণ মানুষের জানমাল বাচাতে নয়) গুলি চালায়। এমন কার্যকলাপকারী সদস্যরা অনেকেই কিছুদিন আগেও ছিল বালের ক্যাডার। এখন উর্দি পরে তারা বেআইনি কাজ করছে। এমন সদস্যদের উপযুক্ত প্রমাণসহ (ভিডিও) চিনহিত করতে হবে এবং পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। সাধারণ/ নিরিহ পুলিশসদস্য যারা নিতান্তই কর্মকর্তার আদেশে দ্বায়িত্ব পালনে এসেছে, তাদের হঠাত বাগে পেয়ে হেনস্তা করাটা আসলে নিতান্তই অমানবিক। সঠিক লোককে ধরতে হবে। এই ট্রেন্ড যদি শুরু করা যায় খুব শীঘ্রই সাধারণ পুলিশ সদস্যদের সহানুভূতি আপনারা পেতে শুরু করবেন। এটা খুবই গুরূত্বপূর্ণ- বিলিভ মি। হরতাল সফলের জন্য পাড়ায় পাড়ায় জনগণের কাছে দল বেধে যেতে হবে, বুঝাতে হবে। তাদের সাহায্যে রাস্তা দখল করে হরতাল সফল করতে হবে, সেক্ষেত্রে বাধা আসলে উপরে ফেলতে হবে।

৫।  আমি যেগুলো বললাম এটা সাধারণ কর্মীরা হয়তো পুরোপুরি অনুধাবণ করতে পারবে না। এগুলোর সাথে স্বাধীণ দেশের সরকারের কার্যক্রমে (বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া ) যেকোন শক্তির হস্তক্ষেপ রোধকারী আন্তর্জাতিক আইন জড়িত।  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর শানুভূতি অর্জনের সাথে সম্পর্কিত মানসিক ও মানবিক বিষয়গুলিও জড়িত। তাই নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় মোটিভেশন করতে হবে। কেন্দ্র থেকে এই ব্যাপারে নির্দেশনা আসতে হবে। তবেই এই আন্দোলনের কাঙ্খিত ফল পাওয়া যাবে। যখনই আপনার মনে হবে বালও তো মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, নিজেকে মনে করিয়ে দিবেনঃ মানুষ মানুষের জন্য। আমরা বাল না আমরা মানুষ!!!

বিএনপি সিনিয়র নেতারা এবং মাঠপর্যায়ের আন্দোলন by Shikin Aman

আজকাল দেখতে পাচ্ছি বিএনপি সিনিয়র নেতারা মাঠে না থাকা নিয়ে একটা ব্যাপক মত জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে- বিশেষত বিএনপি অনলাইন এক্টিভিস্টদের মধ্যে। তারা নেতাদের হাতের কাছে পাইলে শিক্ষা দিবে, ম্যাডাম কিছু করতেসেনা এইসব লিখা দিয়া স্ট্যাটাস ভরে ফেলছেন। কেউ খোলা চিঠিতে তিরস্কার তো কেউ নেতাদের  ভাগায়ে দেয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন। আমি এ ব্যাপারে সবিনয়ে একটু দ্বিমত পোষণ করতে চাই।

 

আমার মনে হচ্ছে এই বিএনপি পন্থী এক্টিভিস্টরা বুঝে ( আল্লাহ না করুক) কিংবা না বুঝে একটা গুরুত্বপূর্ণ আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। আওয়ামী ষ্ট্র্যাটেজী এনালাইসিস অনুযায়ী তাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ষ্ট্র্যাটেজী হচ্ছে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তাদের নেতাদের উপর আস্থাহীনতা তৈরি করা আর নেতাদের উদ্বুদ্ধ করা দলত্যাগ করে পাতানো নির্বাচনে হিস্যা নিতে। সেই লক্ষ্যে তারা নেতাদের মাঠে পাওয়া মাত্র কোন মামলা ছাড়াই গ্রেফতার করছে, পরে পূরান বা নতুন মামলাতে রিমান্ডে নিচ্ছে। এমনকি মাঠে না বাসা থেকেও যাকে পাচ্ছে নিয়ে যাচ্ছে। এ যেন হামাস নেতৃত্বের প্রতি ইসরাইলের দেয়া হুমকীর ফটোকপি! গ্রেফতার তারা হতেই পারেন, এটা দলের জন্য এক ধরণের কোরবানী! এমন অনেকে ভাবেন! কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে যে আপনার নেত্রির সেই বয়স নাই যে একলা পল্টন অফিসে বসে দল চালাবেন। দলের ষ্ট্র্যাটেজীক ডিশিসন নিতে উনার পাশে উপদেষ্টাদের প্রয়োজন আছে। আপনার মনে হতে পারে এমন ডিশিসন তো আপনেই নিতে পারেন, ঐ সিনিয়র নেতারা না থাকলেও দলের চলবে! কিন্তু বিনয়ের সাথে বলতে হচ্ছে আসলে গ্যালারীতে বসে ‘মার ছক্কা’ বলা যত সহজ, তামীমকে রিপ্লেস করা ততো সহজ না!

 

অনেকদিন ধরেই বাকশালপন্থী এক্টিভিস্টরা বিএনপির নেতারা মাঠে থাকেনা, এই প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে আর সফলভাবে কর্মীদের হতাশ করতেসে। মনে রাখবেন তাদের অনলাইন ষ্ট্র্যাটেজী সেন্ট্রালী নিয়ন্ত্রিত। তারা তাদের প্রপাগান্ডা থিম কেন্দ্র থেকে পায়। এই থিমের সাথে মিল রেখে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের সাহায্য করে- যেমন পুলিশ এইক্ষেত্রে করতেসে। আপনারা ভাল মানুষের মতো তাদের ফাদে পা দিচ্ছেন। আমি আশংকা করি তাদের কিছু এক্টিভিস্ট ভোল পালটে আপনাদের মাঝেও আছে। তারা আপনাদের উস্কানী দিচ্ছে। এই উস্কানীতে এর পর দেখা যাবে বিএনপি কর্মীরা তাদের নেতাদের উপর হামলা করে বসছে, বা নিজেদের মধ্যে মারামারি শুরু করছে। তারপর লাঞ্চিত নেতা দলত্যাগ করসেন। সেই সময় বুবুজান মুখ টিপে হাসবে আর পুরো বিএনপির স্ট্রাকচার ভেঙ্গে পরবে। সুতরাং সময় থাকতে সাধু সাবধান!

 

কেউ কেউ বলতেসেন তারেক দেশে এসে লিড নেয়া উচিত। আবার কেউ আশংকা করছেন সে দেশে আসলে খুন হয়ে যেতে পারে। আপনি বুকে হাত দিয়ে বলেন তো আসলেই খুন হয়ে গেলে এই ইসরাইলী টাইপ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বিএনপি কি প্রতিক্রিয়া করতে পারবে? বড়জোর সাতদিন হরতাল। খালেদা জিয়া থাকবেন আইসিইউ তে আর বিএনপি নেতারা দলে দলে বিএনএফ এ জয়েন করবে! সন্দেহ আছে? আপনার থাকতে পারে, অনেকের নাই! সো যারা নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধে কর্মীদের খেপাচ্ছেন, আই হোপ না বুঝে করছেন! তবে হ্যা তারেকের এখন একটা অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে গাইডেন্স দেয়া উচিত। যারা বলেন ফোনে এই কাজ করতে, তারা সম্ভবত জানেন না, আমাদের এলিট ফোর্স ফোন ট্যাপিং এ বেশ পারদর্শী, কয়েকশো কোটি টাকার ইকুইপমেন্ট- একটু সফিস্টিকেটেড হওয়ার ই কথা বটে!

 

এখন আমাকে বলেন টপ নেতাদের মাঠে না পাইলে আন্দোলন হবেনা, এত সহজে এই আওয়ামী শরবত খাওয়ার কারণ কি? মাঝারী নেতারা আগে মাঠ দখল করেন, যাতে পুলিশ চাইলেও নেতাদের গ্রেফতার না করতে পারে! দুই চারবার পুলিশকে গ্রেফতার করা থেকে বিরত করেন, তখন এমনিই নেতারা মাঠে থাকবে। তা না করে উল্টা যারা পাব্লিক খেপাচ্ছেন, অনুগ্রহ করে একটু বিবেচনা করবেন আমার কথাগুলি। নেতৃত্বের উপর কর্মীদের আস্থা ও সমর্থন একটা সফল আন্দোলনের জন্য অত্যাবশ্যক। ধণ্যবাদ।

বিশ্ব বেহায়া হতে থুতু এরশাদ…অভিনন্দন হোসেইন মো এরশাদকে

by WatchDog Bd

হোসেন মোহম্মদ এরশাদকে অভিনন্দন না জানালে তার প্রতি অন্যায় করা হবে। বাংলাদেশের কর্দমাক্ত রাজনীতির মাঠে অনেক বড় বড় খেলোয়াড় খেলেতে গিয়ে ঘায়েল হয়েছেন। বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই আহত নিহত হয়ে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। শেখ মুজিবের মত আজন্ম রাজনীতিবিদও নিজেকে নিরাপদ রেখে খেলেতে পারেননি। জিয়ার মত জাদরেল জেনারেলকেও বিদায় নিতে হয়েছে অত্যন্ত করুণ ভাবে। সে তুলনায় জেনারেল এরশাদ অনেকটাই সফল। অন্তত গদি হতে বিদায় পর্বে পূর্বসূরিদের ভাগ্য বরণ করে বিদায় নিতে হয়নি। জেনারেলের ভরা যৌবন ও ভাটা পর্বের প্রায় সবটা সময় দেশে ছিলাম। তাই তার শাসনামলের অটোপসি জানতে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট খোর স্বদেশি মিডিয়ার সাহায্য নিতে হয়না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একটা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান শর্ত। এ অর্থে এরশাদ আমলকে দুভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, স্বৈরতান্ত্রিক উপায়ে হোক আর যেভাবেই হোক তার আমলের কটা বছর দেশ রাজনৈতিক ঝামেলামুক্ত ছিল। ফলশ্রুতিতে ক্ষুদ্র শিল্পের একটা ভিত্তি গড়ে উঠার প্রবণতা শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, তার আমলের অন্তিম লগ্নেই বপিত হয় ক্ষমতা পালাবদলের নতুন বীজ, ক্যান্সার। গাজী গোলাম মোস্তফাকে দুর্নীতির আদি পিতা বললে বোধহয় খুব একটা অন্যায় হবেনা। কারণ রেডক্রসের প্রধান হয়ে কম্বল চুরির মাধ্যমে এই নেতাই দেশে দুর্নীতি নামক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিলেন। পরবর্তীতে এ অধ্যায় শাখা প্রশাখা বিস্তার করে গোটা বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছিল হিমালয়ের চূড়ায়। আজকের পদ্মা সেতুর আবুল ও রেলের কালো বিড়াল সুরঞ্জিত গাজি গোলাম মোস্তফার কম্বল চুরিরই ’গর্বিত’ সন্তান। এ লাইনে মোহম্মদ এরশাদ হোসেনের সাফল্য ছিল অনেকটা নীরব বিপ্লবের মত। বলতে গেলে গাজীর বপিত বীজ হতে এরশাদ বিশাল এক বটগাছের জন্ম দিয়েছিলেন। এবং এ বটের ছায়ায় রাজনৈতিক চোরের দল অনেকটা নীরবে নিঃশব্দে রূপান্তরিত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় ডাকাত দলে।

এরশাদ মন্ত্রিসভার অনেকের সাথে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভাবে জানা শোনা ছিল। গৃহপালিত এসব মন্ত্রিদের মুখ হতেই শোনা জেনারেলের দুর্নীতির লোমহর্ষক উপাখ্যান। এরশাদ নিজ হাতে অর্থকড়ি নিতেন না। টাকা পয়সা দুই উপায়ে জমা হত তার ভাণ্ডারে। এক, রওশন এরশাদ। সরকারী সূতিকাগারে জন্ম নেয়া কোন প্রকল্পই রওশন এরশাদকে বাইপাস করার সুযোগ পেতনা। বাকিতে কাজ করতে অভ্যস্ত ছিলেন না এই মহিলা। এমনকি দলের মন্ত্রীরাও ব্যক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্বে রওশনের পাওনা পরিশোধ করতে বাধ্য ছিলেন। এর হেরফের হলে মধ্যরাতে সক্রিয় হতেন স্বামী এরশাদ। মন্ত্রিদের ফোন করে ঘুম ভাঙ্গাতেন এবং মনে করিয়ে দিতেন মিসেসের গোস্বার কথা। ঐ আমলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সবটাই নির্ভর করত রওশন এরশাদের গোস্বা দূরীকরণের উপর। অবাধ্য মন্ত্রীদের শায়েস্তা করার জন্য জেনারেল নিজেই মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ করতেন এবং তাদের হাতে তুলে দিতেন মন্ত্রীদের নাম ও তাদের দুর্নীতির বিবরণ। জেনারেল এরশাদের মূল আয় ছিল বিদেশ ভিত্তিক কমিশন। আর্ন্তজাতিক দরপত্র ও বিদেশি পণ্য দেশীয় বাজারে বিপনন করতে চাইলে এরশাদের বিদেশি একাউন্টের স্বাস্থ্য স্ফীত করা ছিল জরুরি। মন্ত্রিদের মতে স্ত্রী রওশন এরশাদকে অর্থকড়ি আদায়ের স্বাধীনতা দিতেন বিশেষ কিছু কারণে। তার অন্যতম নিজ রক্ষিতাদের ভোগ করার মূল্য। রক্ষিতাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম ছিলনা। এদের পিছনেও রাষ্ট্রকে অনেক অর্থ ব্যায় করতে হত। পরবর্তীতে যারা এরশাদকে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে উৎখাত করার আন্দোলনে নেমেছিলেন তাদের প্রায় সবাই গোপনে জেনারেলের অনুকম্পায় নিজেদের ভাগ্য গড়েছিলেন। এদের তালিকায় এমন কিছু নাম আছে যা প্রকাশ পেলে চমকে উঠতে হবে।

হোসেন মোহম্মদ এরশাদ জাতিকে আবারও চমক উপহার দিয়েছেন। সদলবলে মহাজোটের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে নতুন করে প্রমান করেছেন বাংলাদেশের রাজনীতির প্রায় সবটাই বেশ্যাবৃত্তি এবং এ লাইনের তিনি সফল দালাল। এরশাদ কোন দলে যোগ দেবেন, কার সঙ্গে জোট বাঁধবেন আর কার সঙ্গ ত্যাগ করবেন তা একান্তই তার নিজস্ব ও দলীয় ব্যাপার। এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার মাঠ রাজনীতিবিদদের জন্য কেউ বন্ধ করেনি। কিন্তু এ পথে হাঁটার জন্য এরশাদ যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তা একান্তই একজন দেহপসারিনী দালালের পথ। বিশ্ব বেহায়া উপাধি হতে অনেকটাই নিরাপদে ছিলেন নিজের পার্টনার-ইন-ক্রাইম শেখ হাসিনার কারণে। কিন্তু এ যাত্রায় ’থুথু এরশাদ’ উপাধি বলতে গেলে নিজেই নিজের কপালে এঁটে দিলেন। এরশাদকে থুতু আখ্যা দিলে আমি বলবো থুতু কে অপমান করা হবে। থুতুর একটা রং আছে, পরিচয় আছে, ধর্ম আছে। কিন্তু হোসেন মোহম্মদ এরশাদ তার ধারে কাছেও নেই। এরশাদের মত একজন প্রফেশনাল মহিলাবাজ, রাষ্ট্রীয় ডাকাত অন্য একজন নির্লজ্জ ক্ষমতালিপ্সু দস্যুর সাথে আঁতাত করবে এতে যারা অবাক হয়েছেন তাদের উচিৎ হবে দেশীয় রাজনীতির ধারাপাত পড়ে দেখা। এরশাদকে আমি অভিনন্দন জানাই, কারণ ১৫ কোটি জনগণের ৩০ কোটি খোলা চোখের সামনে এ ধরণের বেশ্যাবৃত্তি করাও এক ধরনের সাফল্য।

http://www.amibangladeshi.org/blog/11-24-2013/1416.html

হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ – Emrul Mahmud

একই ঘটনা বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মত ঘটল; শুধুমাত্র কুশীলবদের স্থান পরিবর্তন। অনেকেই অনেক ভাবে এরশাদ কে নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন। আমি বলব হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ।
বাংলাদেশের রাজনিতিতে একমাত্র খালেদা জিয়াই প্রিঞ্চিপাল ঠিক রেখে রাজনীতি করে আসছেন। ১৯৮৬ সালে যেমন তিনি স্বৈরশাসকের সাথে আপোষ করেননি, ঠিক তেমনি ২০০৭ সালেও মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের অবৈধ সরকারের নিকট মাথা নত করে দেশ ত্যাগ করতে রাজি হননি। শেখ হাসিনা কিন্তু সে সময়ে ঠিকই দেশত্যাগ করেছিলেন। খালেদা জিয়ার এই ক্লিন ইমেজের কারনেই তাকে আপোষহীন নেত্রী বলা হয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী প্রোপাগান্ডার মিথ্যাচারগুলো আপনি একটু সজাগ হলে খুব সহজেই ধরতে পারবেন। আওয়ামীলীগ যে বিষয়গুলো নিজেদের জন্য প্রযোজ্য তাই বিএনপির উপর চাপিয়ে দেয়। আওয়ামীলীগ বলে থাকে বিএনপি ক্যান্টনমেন্টের দল। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আপনি দেখতে পাবেন ক্যান্টনমেন্টের সাথে আওয়ামীলীগেরই সখ্যতা বেশি। বাংলাদেশের সব সামরিক অভ্যুত্থানের সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত। পঁচাত্তরে সেনাবাহিনী আসছে মোশতাক আহমেদের হাত ধরে। বিরাশিতে যখন এরশাদ আসলো তখন এই শেখ হাসিনা বিবিসিকে বলেছিলেন ‘আই অ্যাম নট আনহ্যাপি’, আওয়ামী লীগের তৎকালীন মুখপাত্র বাংলার বাণী লিখেছিল ‘এত সুন্দর একটা ক্যু, এক ফোঁটা রক্তও ঝরে নাই’/ ছিয়ানব্বিতে নাসিমের ক্যুয়ের সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত ছিল। এরপর মঈন উদ্দীনের ক্যুয়ের সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত ছিল। ২০০৭ সালে শেখ হাসিনা বলেছিলেন মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকারের বৈধতা দিবেন। খালেদা জিয়া সে সময়ে মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের অবৈধ সরকারকে স্বাগত জানাননি।
দ্বিতীয় আরেকটি প্রোপাগান্ডা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি যে জাতীয় পার্টির নেতাদের সাথে বিএনপির সখ্যতা বেশি। অথচ স্বৈরাচারী এরশাদের দল কখনই বিএনপির সাথে যুক্ত হয়নি। ১৯৯৬ সালে এরশাদ আওয়ামীলীগকে মেজরিটি পেতে সহায়তা করে। ২০০১ সালেও নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এরশাদ ডিগবাজী দিয়ে চারদলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। ২০০৭ সালেও মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের অবৈধ সরকার আসার পিছনে কাজ করেছিল এরশাদের নির্বাচন বরজনের ঘোষণা। আর ২০০৮ সালের নির্বাচনে এরশাদ অংশগ্রহন করেছিল আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অধীনে।
গত কিছুদিন যাবত এরশাদ বলে আসছিল আমি মহাজোটের সর্বদলীয় সরকারে গেলে লোকে আমাকে থুতু মারবে, জাতীয় বেঈমান বলবে। আর আজ সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়ে প্রমান করলেন যে উনি আসলেই জাতীয় বেঈমান। এরশাদ এর স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে একটি সভায় বলেছিলেন “শুধুমাত্র একটি জাতীয় বিশ্বাসঘাতক এই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন,” / এই ঘোষণার একদিন পরে শেখ হাসিনা নির্বাচনে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এবং জাতীয় বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই এরশাদ এর অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি অংশগ্রহন করেনি। ১৯৮৬ সালের ওই নির্বাচনের পর এরশাদ (১৯৮৮ সালের একদলীয় নির্বাচন ব্যতীত) আর কোন নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদাটুকুও পাননি। উনি এ যাবতকাল বাংলাদেশের রাজনিতিতে টিকে আছেন বানরের ন্যায় ডাল বেয়ে বেয়ে। আওয়ামীলীগ কি পাতানো নির্বাচন করে সেই পরিনতির দিকেই যাবে?

তারেক রহমানের বেকসুর খালাসপ্রাপ্তি ও কিছু প্রশ্ন: -আহমেদ রাশেদ

 নিম্ন আদালত সম্প্রতি মানি লন্ডারিং মামলায় তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে। এটি নিঃসন্দেহে বিএনপি নেতা-কর্মীদের জন্যে একটি সুখবর! আওয়ামী পন্থী ও চেতনা লিমিটেডের জন্যে বিরক্তিকর ও বটে। কিন্তু, আমি বা আমার মত সাধারণ মানুষ যারা সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত নয় অথচ রাষ্ট্রের ভবিষ্যত চিন্তায় কিছুমাত্র হলেও চিন্তিত, তাদের মনে কয়েকটি প্রশ্ন পেন্ডুলামের মতই দুলছে। তবে কি সরকার তারেক রহমানকে খালাস দিয়ে নিজেদের ভবিষ্যত মামলার হাত থেকে পরিত্রানের উপায় খুঁজে নিল? নাকি শেষ সময়ে এসে প্রমান করতে চাইছে যে বিচার বিভাগ স্বাধীন ভাবে কাজ করে এবং এর ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নাকি এর মাধ্যমে জনগনের আই ওয়াশের ব্যবস্থা করা হলো যে এই সরকারের অধীনেই নির্বাচন সুষ্ঠু এবং প্রভাবমুক্ত হতে যাচ্ছে।
তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেই যে উপরিল্লিখিত ধারণা সকল সঠিক তাহলে আরেকটি প্রশ্ন অবারিত ভাবে উঠে আসে। আর সেটি হলো, তাহলে কি অপরাপর বিএনপি নেতাকর্মী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী সহ সকল মিথ্যা মামলার আসামীরা খালাস বা মুক্তি পাচ্ছেন অচিরেই? নাকি এসবই সাজানো নাটক মাত্র! বিএনপির কাছেও জনগন অন্তত এটুকু প্রত্যাশা করবে যেন তারা ক্ষমতা লাভের উপায় হিসেবে কোনো প্রকার অলিখিত চুক্তিতে নিজেদের আবদ্ধ করে জনগনের সাথে হঠকারিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন না করেন।
আর যদি ধরে নেয়া যায় আমাদের অনুমান সঠিক নয়, সে ক্ষেত্রে বুঝতে হবে সরকার এর আগামী পদক্ষেপ কি হতে পারে? তারা কি একদলীয় নির্বাচন থেকে জনগনের দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নেবার কৌশল হিসেবে এই রায়টিকে ব্যবহার করছেন? নাকি নিম্ন আদালতের এই রায়ের পর উচ্চ আদালত থেকে আরো কঠোরতর রায় আসছে শীঘ্রই?
জনগনের জন্যে এবং জনগনের দ্বারা নির্বাচিত যে কোনো সরকার জনগনের উন্নতিকল্পে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন এটাই জনগনের প্রত্যাশা। জনস্বার্থে যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের আগে যদি সরকার সুশীল সমাজের মতামত গ্রহণের পাশাপাশি জনগনের প্রত্যাশা এবং মতামত জেনে সিদ্ধান্ত নেন নিঃসন্দেহে তা হবে দেশ ও জাতির জন্যে মঙ্গলজনক। আগামীতে যে সরকার ই নির্বাচিত হোক, জনগনের প্রত্যাশা ও স্বার্থ রক্ষাকে অগ্রাধিকারদান পূর্বক জাতীয় উন্নতিকল্পে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবেন এইটুকু আশা করা যেতেই পারে। সেই সাথে মামলা-হামলা বর্জিত একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে এমনটাই কামনা ও প্রার্থনা করি আমরা।

আমেরিকার কংগ্রেসে বাংলাদেশ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ শুনানি এবং কিছু কথা

by Shafquat Rabbee

সম্প্রতি আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের উপর আমেরিকান কংগ্রেশনাল হেয়ারিং। দেশে এখন আর বাংলাদেশ বিষয়ে অবজেক্টিভ কথা বলার মানুষ বেশি নেই। দলীয় লেজুরবৃত্তি-উন্মাদনা আর ভয়ের এক বিশ্রি ককটেলে সচেতন-সুশীল সমাজ এখন ন্যায্য কথা বলতেই ভুলে গেছেন। এই রকম দমবন্ধকর অবস্থায়, কংগ্রেসনাল হেয়ারিং-এ বাংলাদেশের যে মোটামুটি একটা অবজেক্টিভ চিত্র ফুটে উঠেছে তা সবার দেখা উচিত।

বাংলাদেশ বিষয়ে আমেরিকান ডিসিশন মেকিং করে থাকে কয়েকটি সংস্থা। নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ নিয়ে এনালাইজ করে স্টেট ডিপারটমেন্ট আর গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। আইন প্রণয়নকারি সিনেট ও কংগ্রেসনাল সাব-কমিটির ভুমিকা থাকে প্রয়োজন অনুসারে বাংলাদেশ বিষয়ক আইনগত পলিসি নির্ধারণ করা। আমেরিকান আর্মির প্যাসিফিক কমান্ড এর লোকজন মিলিটারি এঙ্গেল থেকে বাংলাদেশকে এনালাইজ করে। আর এর বাইরে প্রেসিডেন্ট এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বিশেষ ভুমিকা থাকে বাংলাদেশ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ নীতি নিরধারনে। ১৯৭১ সালে আমেরিকান একজিকিউটিভ ব্রাঞ্চ উপরে উল্লিখিত একাধিক ব্রাঞ্চের কথা উপেক্ষা করে পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষে থাকার ভুল সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল। এক্ষেত্রে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা উপদেষ্টার বিশেষ ভুমিকা ছিল বলে ধারণা করা হয়।

আমেরিকান কংগ্রেশনাল হেয়ারিং এর মুল্য অসীম। এটা আমাদের দেশীয় সংসদ সদস্যদের সময়-ক্ষেপণ, পদলেহন, আর একে অপরের পিন্ডি-চপকানোর সেশন না। বিশেষ করে ছোট খাটো দেশের উপরে চালানো হেয়ারিং-এ কংগ্রেসম্যানরা সাধারণত বেশ তাড়াতাড়ি ফাইনাল সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন। নিশ্চিত ভাবে ধরে নিতে পারেন, বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ে আমেরিকান সিদ্ধান্ত আগামি দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই ফাইনাল হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে গত কালকের হিয়ারিং গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।

গতকালকের হিয়ারিং এর পূর্ব প্রকাশিত মূল বিষয়বস্তু ছিল তিনটি। ১) নির্বাচনকালীন সরকার, ২) পোশাক কারখানা শ্রমিকদের নিরাপত্তা, আর ৩) মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনাল। তবে হিয়ারিং এর দিন হঠাৎ করে যোগ হয়ে যায় “হিন্দু জেনসাইড” এর বিষয়টি।

এটা উল্লেখ্য যে, আমার জানা মতে এর আগে কোন বাংলাদেশ বিষয়ক কংগ্রেশনাল হিয়ারিং হয়নি যেখানে একসাথে দু’জন বাংলাদেশী কথা বলেছেন। এটা এবারই প্রথম হয়েছে বলে আমার ধারণা।

শুনানিতে অংশ নিতে যাওয়া মেজর জেনারেল মুনিরুজ্জামান বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন। আলি রিয়াজ আমেরিকাতেই থাকেন। উনার বইয়ের তালিকায় ইসলাম ও সন্ত্রাস নিয়ে অনেকগুলো বই আছে, তার সাথে আছে তসলিমা নাসরিনের উপরে লেখা একটি বই। উনি বাম কিংবা আওয়ামীপন্থী ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত অনেকের কাছে। উনি প্রথম আলো সহ আরও কিছু আওয়ামী বান্ধব পত্রিকায় লেখেন। অপর আলোচক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জন সিফটোন একজন আমেরিকান ব্যাক্তি। তরুন আইনজীবী তুরিন আফরোজের নেতৃত্বে এই ভদ্রলোকের নামে একটি মামলা করা হয়েছিল কিছু দিন আগে।

আলোচনার শুরুতেই মার্কিন কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট অল্প সময় ধরে শুনানির একটি ভুমিকা দেন। তার ভুমিকাতে মুলত নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন, শ্রমিক নিরাপত্তা, আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বক্তব্য ছিল। উনার কথার ডিটেইল থেকে এটা নিশ্চিত বুঝা যাচ্ছিল যে উনি বাংলাদেশের নির্বাচন আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন।

স্টিভ শ্যাবটের স্পিচে মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিপু মনির একটা কথা উল্লেখ করা হয়। শ্যাবট বলেন যে বাংলাদেশে এসে উনি পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যুদ্ধপরাধী ট্রাইবুনাল আন্তরজাতিক স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলছে না কেন? উত্তরে মাননীয় মন্ত্রী নাকি বলেছিলেন যে তারা “নতুন আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করছেন”! বলাই বাহুল্য এই কথাটি উল্লেখ করে স্টিভ শ্যাবট তার কলিগদের বুঝাতে চেয়েছেন ট্রাইবুনালের বর্তমান অবস্থা।

পুরা আলোচনায় মেজর জেনারেল মুনিরুজ্জামানের কথা বলার স্টাইল আর প্রেজেন্টেশন যেকোন বাংলাদেশীকে গর্বিত করবে বলে মনে করি। উনি যেভাবে বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে, এবং বর্তমান সংকটকে নির্মোহভাবে বর্ণনা করেছেন, তা শুনে অনেকেই আশ্বস্ত হবেন। বিশেষত রাস্ট্রের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল সেনাবাহিনীর উপর আমেরিকানরা সহ দেশের সংখ্যাগরিস্ট মানুষের আস্থা বজায় রাখার কাজটি মেজর জেনারেল মুনিরুজ্জামান খুব ভালো ভাবে করতে পেরেছেন।

জন সিফটোনের কথা ছিল একজন সত্যিকারের প্রফেসনাল মানবতাবাদীর মতোই। উনি একবারের জন্যেও বাংলাদেশ সরকারের হাতে তার সংস্থার হেনস্তা হবার কথা বলেননি। শাহাবাগের আইনজীবী তুরিন আফরোজরা হয়তো এই ভদ্রতা থেকে কিছুটা হলেও শিখতে পারবেন। আলোচনায় মাত্র একবার মুহাম্মদ ইউনুসের প্রসঙ্গ উঠেছিল, তবে কোন ফলো-আপ আলোচনা হয়নি।

হেয়ারিং-এ উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লোকজন ছিলেন অনেকে। জামাতের কেউ কেউ ছিলেন। অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য হারে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান হিন্দু এসোসিয়েশনের লোকজন। এদের অনেকেই নিয়ে গিয়েছিলেন একাধিক রঙিন কাগজ পত্র, যেখানে দেখানো হচ্ছিল বাংলাদেশে “হিন্দু নিধন” হচ্ছে, যাকে তারা তাদের ভাষায় হিন্দু জেনোসাইড বলেছেন। দেশে জেনসাইড হচ্ছে কি হচ্ছে না সেই তর্কে না গিয়ে এটুক বলা যেতে পারে যে, হিন্দু এসোসিয়েশনের বিলি করা কাগজপত্রে বর্তমান সরকারের বিশেষ কোন লাভ হয়নি। বরং কংগ্রেসম্যানরা হয়তো ভেবেছেন বর্তমান সরকারের হাতেও হিন্দু জেনসাইড হচ্ছে। তার উপর মেজর জেনারেল মুনিরুজ্জামান যখন বলেছেন যে পাবনাতে হিন্দুদের উপর অত্যাচার করেছে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিদের লোকজন, তখন বর্তমান সরকারের বিপদ আসলেই বেড়েছে।

পুরো শুনানিতে অনেক প্রশ্ন এসেছে। কিন্তু একটি ব্যাপারে কেউ কথা বাড়াননি। সেটা হলো তত্তবাবধায়ক সরকারের ইস্যু। কংগ্রেসম্যানরা সহ প্রতিটি বক্তা এই পদ্ধতির সমর্থন করেছেন। একাধিক বক্তা বলেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোন নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হবে না। এই ইস্যুতে কেউ কোন দ্বিতীয় প্রশ্নও করেননি। মনে হয়েছে এই ইস্যুটা এতোটাই কমনসেন্স ইস্যু ছিল যে কেউ প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করতে চাননি। এতে করে তত্বাবোধায়ক ইস্যুতে আমেরিকানদের কংগ্রেসম্যানদের মনোভাব কিছুটা হলেও বুঝা গিয়েছে।

একাধিক বক্তাদের কথা বার্তায় বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনটি পথের ধারণা পাওয়া গেছেঃ ১) সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন, যার সম্ভাবনা দিনে দিনে কমছে, ২) একক নির্বাচন ও ব্যাপক হানা হানি, এবং ৩) সামরিক শাসন।

পুরো আলোচনায় ভারতের বাংলাদেশ বিষয়ক অতি-উৎসাহ নিয়ে কেউ কোন আলোচনা করেননি। এটা কেউ করলে খুব ভালো হতো। আলি রিয়াজ তার বক্তব্যে বাংলাদেশের নিরাপত্তার কথা না বলে, ভারতের নিরাপত্তার কথা আগ বাড়িয়ে বলেছেন। শুনানির আলোচকদের উচিত ছিল আমেরিকানদের জানানো যে ভারতের সর্মথনে বাংলাদেশে এমন একটি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে যেখানে বাংলাদেশতো বটেই, খোদ ভারত ও আমেরিকার স্বার্থও এখন হুমকির মুখে। যদিও জন সিফটন একবার বলেছেন যে, ভারতের উচিত হবে না বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দলের সাইড নেয়া।

শুনানিতে একাধিক বক্তা বর্তমান সরকারের সংবিধান সংশোধনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। সকল সমস্যার মূল হিসেবেও এই সংশোধনকে বলা হয়েছে। একাধিক বক্তা বলেছেন যে দেশে হিংসা হানাহানি হলে ইসলামপন্থীদের উত্থান ঘটবে।

বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে মেজর জেনেরাল মুনিরুজ্জামান সামরিক বাহিনীর লোক হয়েও সিভিল সোসাইটির একাধিক ইস্যু তুলে ধরেছেন, যা আলি রিয়াজ তুলে ধরেননি। যেমন, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, টিভি চ্যানেল বন্ধ করার মতো ইস্যুগুলো আলি রিয়াজের মতো লেখক কাম অধ্যাপকের বলার কথা ছিল, একজন মেজর জেনেরালের না।

শুনানির দিন সকাল বেলায় প্রভাবশালি আমেরিকান পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটা অত্যন্ত ডাইরেক্ট এডিটোরিয়াল এসেছে। যেখানে শেখ হাসিনাকে বর্তমান অচলাবস্থার জন্যে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। যুদ্ধপরাধিদের বিচারকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। কংগ্রেস হেয়ারিং ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের এডিটরিয়ালের টাইমিং খুবই গুরুত্ববহ। এর আগে ইন্ডিয়ার দৈনিক হিন্দুতেও একই সুরের একটি এডিটরিয়াল এসেছে।

পরিশেষে বলতে চাই, এভাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দেশের সিভিল সোসাইটি/মিডিয়া যদি ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করে, তাহলে তা দেশের জন্য কতটুকু মঙ্গল বয়ে আনবে তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।

যারা হেয়ারিং-টি দেখেননি, দেখে নিন নিচের লিঙ্ক থেকে- (৫০ মিনিট থেকে দেখুন)

“বাকশালীদের দিন শেষ, তারেক জিয়ার বাংলাদেশ…”

by WatchDog

ভিন্ন জনের ভিন্ন কারণ থাকতে পারে, আমার জন্য আওয়ামী বিরোধিতার মূল কারণ ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস। বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের মত জনসংখ্যাবহুল তৃতীয় বিশ্বের দেশকে অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়াতে চাইলে চাই উন্নত বিশ্বের সার্বিক সহযোগীতা। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দাবিদার বৈরী দুটি রাজনৈতিক দল এ কাজে কতটা সফল তার প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। দাতা গুষ্টির কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বিদেশ হতে দয়া দাক্ষিণ্য এনে বার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন একটা উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারেনা। তার জন্য চাই উচ্চাকাক্ষী এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। যারা সুদকে অভিশাপ আখ্যা দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা নিয়ে আহাজারি করছেন তাদের বেশির ভাগই দলকানা নেত্রীদাস অথবা নেত্রীকানা দলদাসের সদস্য। নেত্রী সুদখোর বলেছেন বিধায় এসব দাসদের মুখেও সুদখোরের গিবত। অবস্থা রাতারাতি পালটে যাবে যদি আগামীকাল একই নেত্রী ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে অন্যভাবে আখ্যায়িত করেন। এমনটাই আজকের বাস্তবতা। গোটা বিশ্বের অর্থনীতি চলে সুদের উপর। আমাদের ব্যবসা বানিজ্য, বিনিয়োগ, দৈনন্দিন জীবন, রিটায়ারমেন্ট সহ সবকিছু এখন ব্যাংক ভিত্তিক। ব্যাংক মানেই সুদ। তাই সুদ নিয়ে রাজনীতি করার রাস্তা সীমিত। নেত্রীরা বিদেশ হতে অল্প সুদে ঋণ এনে দেশে বেশি সুদে লগ্নি খাটান এবং তাতে যা লাভ হয় তা দিয়ে সরকার চালান। মন্ত্রি, প্রধানমন্ত্রী সে সরকারেরই অংশ। এ অর্থে তারা সবাই সুদখোর। ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে সুদখোর বলে সুদকে অবজ্ঞা করা এক ধরণের হিপোক্রেসি এবং নোংরা রাজনীতি। আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতির প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতা অনেক পুরানো রোগ। এ কাজে লবিং করার জন্য দেশে অলিখিত মন্ত্রনালয় কাজ করে থাকে। আগের টার্মে আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীরের নেত্রীত্বে সরকারী অর্থায়নে গোটা এক বাহিনী নিয়োজিত ছিল পদক যোগারের কাজে। গোটা দশেক পিএইচডি সে মিশনেরই বাই-প্রোডাক্ট। এ টার্মে পদক আহরণে ভাটা লাগে মূলত ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের কারণে। এবং এখানেই শুরু ইউনূস সাগা। গ্রামীন ব্যাংকের সাথে যৌথভাবে নোবেল পাওয়াটা যেন ছিল বেচারার জন্য রাষ্ট্রীয় অপরাধ। পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক ভাবে স্বীকৃত চোর আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের অযোগ্যতাই প্রমাণ করেননি বরং প্রমাণ করেছেন রাষ্ট্রীয় চোরদের আসল অভিভাবক তিনি নিজে। ইউনূস দেবতা নন। তিনি নিজেও তা দাবি করেন না। তাকে দেবতার আসনে বসানোর কাজে গোপন কোন মিশনও কাজ করছেনা। বরং উন্নত বিশ্ব সহ বাকি বিশ্বের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা ই ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে কাছে টানছেন এবং আগ্রহ প্রকাশ করছেন ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসায়। আজকে ডক্টর মোহম্মদ যে আসনে বসে আছেন তার কাছাকাছি পৌঁছতে শেখ হাসিনাকে হিমালয় পাড়ি দিতে হবে। এমনটা বুঝতে পেরেই হয়ত ইউনূসের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রের সবকটা ইনস্টিটিউশনকে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শেখ হাসিনা ইদানিং যা করছেন তা নিয়ে যারা চিন্তিত তাদের ভাল করেই জানা আছে দেশীয় রাজনীতির দুই রাজনৈতিক শক্তি একে অপরের পরিপূরক, মুদ্রার এ পীঠ ও পীঠ। দুই মহিলার একজনকে ক্ষমতায় দেখতে চাইবো অথচ হরতাল, জ্বালাও, পোড়াও দেখতে চাইব না এ অলীক ও অবাস্তব চাওয়া। রাজপথের লাশ নিয়ে আজকে যারা আহাজারি করছেন তারা আসলে মৃতদের জন্য আহাজারি করছেন না, করছেন লাশকে পুঁজি বানিয়ে নির্বাচনী মুনাফার জন্য। এতটাই রুগ্ণ আমাদের রাজনীতি এবং এর সাথে জড়িত দলদাসের দল।

তারেক জিয়ার অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলার রায় বেরিয়েছে। অনেকের জন্য এ রায় ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত। হয়ত খোদ তারেক জিয়ার আইনজীবীরাও এমনটা আশা করেননি। যার প্রমান রায়ের আগে বিবাদী পক্ষের প্রতিবাদের প্রস্তুতি। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা এবং এর উচ্চ নিম্ন আদালত সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকার প্রধান এবং উনার লেফটেন্যান্টদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার কাজে আদালত ক্ষমতাসীনদের সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করে থাকে। তাই সবাই আশা করছিল তারেক জিয়াকে শাস্তি প্রধানের মাধ্যমে আদালত আরও একজন শত্রু নিধনে সরকার প্রধানকে সহযোগীতা করবে। ঠিক যেমনটা করা হয়েছিল ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের বেলায়। কি এমন ঘটল যার দরুন নিম্ন আদালতের বেতনভুক্ত কর্মচারী বিচারক মহাশয় সরকারকে হতাশ করলেন? এখানে দুটি সম্ভাবনা থাকতে পারে। এক, এ রায় সরকারের নতুন কোন মিশনের অংশ; দুই, বিচারক মহাশয় নির্বাচনী হাওয়া অনুভব করছেন এবং আগ বাড়িয়ে নিজের পদোন্নতি নিশ্চিত করার জন্যে এ রায় দিয়েছেন। সন্দেহ নেই বিএনপি ক্ষমতা ফিরে পেলে এই বিচারকের স্থান হবে উচ্চ আদালতে। বিচার ব্যবস্থার এই কলঙ্কিত অধ্যায় ধারাবহিকভাবে অবদান রেখে যাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায়। সরকারের হাতে আরও ১৩ মামলার অস্ত্র আছে যা দিয়ে তারেক জিয়াকে ঘায়েল করা যাবে। হতে পারে অর্থ পাচার মামলার রায় সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ যার মূল আর্কিটেক্ট আমারের প্রতিবেশী। তবে একটা বাস্তবতা এখানে উল্লেখ না করলে তারেক জিয়া গংদের প্রতি অবিচার করা হবে। খাম্বা মামুনের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের দুর্নীতির যে চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল তা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে বর্তমান সরকারের লুটপাটের কাছে। সরকারের অর্থমন্ত্রী বলছেন লুট হয়ে যাওয়া ৪০০০ কোটি টাকা এমন কোন অংক নয় যা নিয়ে সময় ব্যায় করতে হবে। স্টক মার্কেট এবং কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে যে টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে তার তুলনায় খাম্বা মামুনদের খাম্বা চুরি মহাসমুদ্রে এক ফোটা বৃষ্টি মনে হতে বাধ্য। তারেক জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে জেলে নিতে সরকারের কালো বিড়ালদের ক্ষমতা হারানোর পরবর্তী বাস্তবতাও চিন্তা করতে হবে। হতে পারে এটাও একটা কারণ।

বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতা দুটি পরিবারের জন্য সংবিধিবদ্ধ সম্পত্তি। পাকিস্তান আমলে যা ছিল ২২ পরিবারের তা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে এসে ঠেকেছে দুইয়ে। ছাগলের ৩নং বাচ্চা হিসাবে আমরা ১৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ জন নাগরিক চাইলে এ নিয়ে গর্ব করতে পারি। ‘বাকশালীদের দিন শেষ, তারেক জিয়ার বাংলাদেশ…’আদালতে শত শত শিক্ষিত আইনজীবীদের এই একটা স্লোগানই নির্ধারন করে আমাদের গন্তব্য। অন্তত আগামী পাচ বছরের জন্য।

দুটি ঘটনার সূত্র –

সায়ান তানভি

ঘটনা -১
এক নবদম্পতি গাড়ীতে করে যাচ্ছিল ।দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোজাম্মেল দলবলসহ গাড়িটি আটক করে ,ড্রাইভার আর নববধূর স্বামীকে হত্যা করে ,মেয়েটিকে সবাই মিলে ধর্ষণ করে ,অতঃপর তিনদিন পর তাঁর লাশ পাওয়া যায় টঙ্গি ব্রীজের নীচে ।
পৈশাচিক এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র ।বিশেষ অভিযানে দায়িত্বরত মেজর নাসেরের হাতে মোজাম্মেল ধরা পড়ে ,মোজাম্মেল মেজরকে বলে ,ঝামেলা না করে আমাকে ছেড়ে দিন ,আপনাকে তিন লাখ টাকা দেবো ।বিষয়টা সরকারি পর্যায়ে নেবেন না ।স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমি ছাড়া পাবো ।আপনি পড়বেন বিপদে ।আমি তুচ্ছ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে জড়াতে চাই না ।মেজর নাসের হুঙ্কার ছাড়লেন ,এটা তুচ্ছ বিষয় ?আমি অবশ্যই তোমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবার ব্যবস্থা করবো ।তোমার তিনলাখ টাকা তুমি তোমার গুহ্যদ্বারে ঢুকিয়ে রাখো ।
এরপরের কাহিনী অতি সরল ।কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোজাম্মেলের বাবা ,দুই ভাই গেল শেখ মুজিবের কাছে ,তিনি আসতেই তার পা জড়িয়ে কান্নার রোল পড়লো ।মুজিব জিজ্ঞাসিলেন ,ঘটনা কি ?টঙ্গি আলীগের সভাপতি বললেন ,আমাদের সোনার ছেলে মোজাম্মেল মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে ।মেজর নাসির তাকে ধরে নিয়ে গেছে ,বলেছে তিন লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দিবে ।কাঁদতে কাঁদতে আরো বললো ,এই মেজর আলীগের নাম শুনলেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে ।সে প্রকাশ্যে ঘোষনা করেছে ,টঙ্গিতে আমি আলীগের কোন শূয়োর রাখবো না ।বঙ্গবন্ধু !আমি নিজেও এখন ভয়ে অস্থির !টঙ্গিতে থাকি না ।ঢাকায় চলে আসছি ।এবার হুঙ্কার ছাড়লেন বঙ্গবন্ধু ,কাঁদার মতো কিছু হয় নাই ।আমি এখনো বেঁচে আছি ,মরে যাই নাই ।এখনি ব্যবস্থা নিচ্ছি ।
অতঃপর মোজাম্মেলকে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং মেজর নাসেরকে টঙ্গি থেকে সরিয়ে দেয়া হলো ।
ঘটনা -২
নারায়নগন্জের নাগরিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নেতা ,সন্ত্রাস-চাদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বীর ছেলে ,স্কুল পড়ুয়া ত্বকীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ।অতঃপর তারা দায় চাপায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর ।সুনির্দিষ্ট প্রমান এবং অভিযোগের পরও পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনরুপ ব্যবস্থা নেয়ার আগ্রহ দেখায় নি ,অথবা বলা যায় কোন
প্রভাবশালী উচ্চ মহল থেকে তাদের নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল ।তবে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত র্যাব একটু সাহসী কাজই করে ফেলে ,তারা হত্যাকান্ডে জড়িত একজনকে ধরে ফেলে এবং তার জবানবন্দি অনুযায়ী হত্যাকান্ডের মূল অভিযুক্ত শামীম ওসমানদের একটি টর্চার সেলে অভিযান চালায় ,উদ্ধার করে রক্তমাখা জিনস প্যান্ট ,গজারির লাঠি ,নাইলনের রশি ।দেয়ালে ও শোকেসে অসংখ্য গুলির
আলামত খুজে পায় ।অথচ প্রধানমন্ত্রী তখনো বললেন ,আইভি এবং শামীমের বিরোধকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী পক্ষই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে ।

র্যাবের ঐ অভিযানের পর অভিযুক্ত শামীম ওসমান র্যাবের বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদগার করেন ,এবং এর পরপরই ত্বকী হত্যা মামলার তদারককারী কর্মকর্তা র্যাব ১১ এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর আলমকে চট্টগ্রামে র্যাব ৭ এ বদলি করা হয় ।থমকে যায় আলোচিত এ মামলার তদন্তকাজ ।পাঠক ,প্রথম ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন ,অবিশ্বাস্যরকম মিল খুজে পাবেন ।খুন ,অতঃপর প্রধানমন্ত্রীর অকুন্ঠ সমর্থন ,খুন করেও সর্বসমক্ষে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানো ,তদন্তকারী সেনা কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক অপসারন ।ওহ কি আশ্চর্য মিল ।পিতার আদর্শ সন্তানই বটে ।একেবারে কার্বন কপি ।আমার এক প্রেমিকা ছিল একদা ,বাবার মতোই ,শ্যামল বর্ণের ,প্রগলভ ,বাচাল ,নির্বোধ ,রুক্ষ ,অসৎ ,অযোগ্য ,দাম্ভিক অথচ বাইরে থেকে মনে হতো দয়াদ্র ,স্নেহপ্রবন ,যদিও এ সবই ছিল বাহুল্য ,লোক দেখানো ,ছ্যাবলামি ।
আজ ১৫ নভেম্বরের প্রথম আলোর খবর ,ত্বকী হত্যাকান্ডে জড়িত আরেকজন র্যাবের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন খুনটি শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানই করেছিল ।এবার প্রধানমন্ত্রী কি বলবেন ,তবুও কি বলবেন বিরোধী দলই হত্যাকান্ডে জড়িত ?তিনি কি আরেক দফা র্যাবের কর্মকর্তাকে বদলির ব্যবস্থা করবেন ?অবশ্য তিনি যদি বঙ্গবন্ধুর (সোনার বাংলা!) গড়ার স্বপ্নই দেখে থাকেন শয়নে স্বপনে ,তাহলে প্রশ্নের উত্তর না দিলেও চলবে ।উত্তর আমাদের জানাই আছে ।

সায়ান তানভি

ভারত বনাম আমেরিকাঃ খেলা কোন পথে?

by Shafquat Rabbee Anik

দেশে-বিদেশে ক্রমেই একা হয়ে যাওয়া আওয়ামি-শাহাবাগিদের শেষ সম্বল এখন ভারত। তাদের ধারণা ভারতের মতো বিচক্ষন একটি দেশ, সকল প্রকার কমনসেন্স হারিয়ে, নিজের জিও-পলিটিকাল সিকিউরিটি বিপন্ন করে আওয়ামি-শাহাবাগিদেরকে সুপার ম্যানের মতো এযাত্রায় বাঁচিয়ে দেবে। স্বাধীনতার চেতনা বিক্রি করে খাওয়া এই আওয়ামি-শাহাবাগিরা কেন একটি বিদেশী রাস্ট্রের কাছে নিজেদের সর্বস্য বিক্রি করে দিয়ে বুভুক্ষের মতো তাকিয়ে আছে এটা নিয়ে একাডেমিক স্টাডি করা প্রয়োজন।

অনেক দুঃখ নিয়ে বলতে হচ্ছে, দেশ এখন সার্বভৌম কেবল নামকাওয়াস্তে। আমেরিকা, ভারত, আর চীনের হাতেই খেলার চাবি কাঠি।

আমেরিকানদের মতিগতি ফাইনাল বুঝা যাবে নিশা দেসাই বিশাল নামে ভারতীয় বংশদ্ভুত আমেরিকান উপ-পররাস্ট্র মন্ত্রির বাংলাদেশ সফরকালে। উনি নভেম্বর এর ১৬ তারিখে তিন দিনের সফরে বাংলাদেশ আসবেন। এটুক বলতে পারি, আমেরিকায় জন্ম নেয়া এই ভদ্র মহিলার বাবা-মা ভারতীয় বলে খুব বেশি চিন্তিত কিংবা আশান্নিত কোনটাই হবার প্রয়োজন নেই। আমেরিকান সিস্টেমে একক ব্যাক্তির সিদ্ধান্তে কোন কাজ হবে না।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে আমেরিকা থেকে ডিপ্লমেটিক বার্তা গেছে ইন্ডিয়াতে। সেখানে বলা ছিল আমেরিকা বাংলাদেশ প্রশ্নে কোন নিরদিস্ট রাজনৈতিক দলে “ইনভেস্টেড” না। তারা শুধু মাত্র একটা সুস্থ “প্রসেসে” ইনভেস্টেড। আমেরিকান ডিপ্লমেসির এই ভাষার ট্রান্সলেশন হলো, আওয়ামি-শাহাবাগিদের বিক্রি করা চেতনা কিংবা জঙ্গিবাদের মলম আমেরিকায় এখন পর্যন্ত ভালো ভাবে বেচা বিক্রি হয় নাই। একারণে, সুস্থ প্রসেসে (অর্থাৎ ইলেকশনে) যে কেউ পাওয়ারে আসলেই আমেরিকানরা খুশি।

ভারতীয়রা খুব নগ্ন ভাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে এতদিন। কিন্তু এই নগ্ন সমর্থনটিকে আজীবনের পাওনা হিসেবে ধরে নিয়ে আওয়ামীরা অপচয় করেছে। এটা ভাবার কোনই কারণ নেই যে ভারতীয়রা আওয়ামী লীগের ব্যারথ রাষ্ট্র পরিচালনায় খুব খুশি। আমার ধারণা, ভারতীয়রা আওয়ামী লীগের উপর যথেষ্টই বিরক্ত। তবে তারা নিতান্তই বাংলাদেশের ভালো চেয়ে বিরক্ত কিনা তা বলতে পারবো না। তারা খুব সম্ভবত বিরক্ত তাদের নিজেদের সাজান বাগান বেকুব মালির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে– এই কারণে।

ভারতে এখন কংগ্রেস সরকারের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। আগামি ইলেকশনে কংগ্রেসের জিতার সম্ভাবনা খুব বেশি না। ভারত ও বাংলাদেশে একই সময়ে ইলেকশন হবার কথা। একারণে ভারতের কংগ্রেস চাইছে না আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ভরাডুবিতে পড়ুক। কারণ কংগ্রেস-আওয়ামি প্রেমের গল্প বাংলাদেশ ও ভারতে এক যোগে প্রচারিত। আওয়ামী লীগের ভরাডুবি একারণেই ভারতীয় নির্বাচনে কংগ্রেসকে বেকায়দায় ফেলবে। কিন্তু তার মানে এও না যে ভারতীয় প্রফেসনাল আমলারা সারা জীবন কংগ্রেস ও আওয়ামী লিগের ব্যারথতার বোঝা বহন করবেন। একারণে ধারণা করা যেতে পারে, যেকোন সময় কংগ্রেস ও আওয়ামী লীগ বিমুখ হয়ে যাবে ভারতীয় আমলাযন্ত্র। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় আমলারা, যেকোন একটা তরিকা বেড় করে তাদের বাগান রক্ষা করতে সচেষ্ট হবেন অচিরেই। প্রথম আলো , ডেইলি স্টারের মতো ভারতীয় পত্রিকার জরিপ ও সাম্প্রতিক লেখালিখির মতিগতি এ ধারনাই দেয়। এই পুরো ঘটনায় বিএনপির লাভ হবে কিনা জানি না, তবে এটা নিশ্চিত, আওয়ামী-শাহাবাগিদের লাভ হবে না এযাত্রায়।

ইদানিং একটা শঙ্কা খুবই প্রচলিত। অনেকেই বলছেন ভারতের চাপে আমেরিকা মাথা নোয়াবে। এই শঙ্কা আমি মানতে রাজী না। আমার জীবনে আমি অসংখ্য ইন্ডিয়ান দেখেছি আর আমেরিকান দেখেছি। আমার জীবনে আমি কোনদিন কোন ইন্ডিয়ানকে আমেরিকান তো দুরের কথা, সাদা চামড়ার কোন মানুষকেই ডমিনেট করতে দেখিনি। এরোগেন্স এর খেলায় ভারতীয়রা এখনও নতুন। আরও কিছু দিন সময় লাগবে তাদের এরোগেন্ট হতে। একারণে, বিদেশি-বিদেশির মারামারিতে, আমেরিকা ও পশ্চিমা শক্তি যা চাইবে, তাই হবে। এটাই ফাইনাল কথা।

আপাতত এটুকুই। ইনশা আল্লাহ আগামি কিছু দিনের মধ্যে সব কিছু আরও ক্লিয়ার হয়ে যাবে। তবে এটুক নিশ্চিত, আওয়ামী-শাহাবাগিদের হারতে হবেই। ইট ইজ নট এ কয়েশ্চেন অফ ইফ, ইট ইজ নাও এ কয়েশ্চেন অফ হয়েন।

নভেম্বর ১৫, ২০১৩

চেতনার বড়ি by Emrul Mahmud

Capacity আর achievement যে এক জিনিস না, তাও আবার বুজাইতে হয় চেতনাজীবীদের। দূর মিয়া, আপনাগো এই এক সমস্যা সবকিছুতেই বাম হাত না ডুকাইলে আপনাদের হয়না; বি পজিটিভ। অন্যের অর্জনকে সাধুবাদ জানাইতে শেখেন। হ ভাই লাইনে আইছেন। আমরা তো সাধুবাদ জানাতে চাই; কিন্তু ভণ্ডামি করার দরকারটা কি? আমাদের তো প্রশ্ন ওই ভণ্ডামিতে। আপনি হাফ সেঞ্চুরি করছেন ভালো কথা, বাহবা আপনার প্রাপ্যই। খেলা যেহেতু শেষ হয়নি, ওভার ও আছে; দেখেশুনে খেলতে পারলে সেঞ্চুরিও করা যাবে। হাফ সেঞ্চুরি করছেন দর্শক হাততালি দিবে; এটাইতো স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি হাফ সেঞ্চুরি করে যদি সেঞ্চুরি উদযাপনের ভঙ্গি করেন; তখন দর্শকরা তো ভড়কাবেই। হাফ সেঞ্চুরি কইরা যদি কোন ব্যাটসম্যান হেলমেট খুলে দুইহাতে ব্যাট আর হেলমেট উপরে উঠান আর দর্শকদের উদ্দেশ্যে ব্যাট নাচাতে নাচাতে পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করেন; তখন দর্শক হিসেবে আপনি কি হতভম্ব হবেননা। হতভম্ব হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। না আপনি যেহেতু চেতনার ট্যাবলেট খেয়েছেন তাই হতভম্ব না হওয়ার ভান করছেন। অস্বাভাবিকতাই আপনার কাছে স্বাভাবিকতা। যিনি স্বাভাবিকভাবেই হতভম্ব হয়েছেন, তাকে নিয়েও আপনার তেনা প্যাঁচানো – তিনি কেন হতভম্ব হয়েছেন? চেতনার ট্যাবলেট খেয়ে এতই বিবেক হারিয়েছেন যে, প্রতিনিয়ত সরকারের অস্বাভাবিক আচরণ আপনার দৃষ্টিগত হয়না। যারা কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেয়, তারাই সুস্পষ্ট সংবিধান লঙ্গন করলেও আপনারা যুক্তি খুঁজে পান। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে, চেতনা পরিপন্থি কাজ করলেও আপনাদের দৃষ্টিগোচর হয়না। মজার ব্যাপার হোল অধিকাংশ চেতনাজীবী চেতনাটা কি তাই জানেনা। একবার এক চেতনাজীবীকে জিজ্ঞেস করলাম, সবসময় যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলস, সেই চেতনাটা কি? সে আমাকে সদউত্তর দিতে পারেনি। আমি তাকে বললাম আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত’ ভাবে কায়েম করবার জন্য। ‘বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করণার্থে’ সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র কায়েম এটাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। ১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করা হয়েছিল। ঘোষণা করা হয়েছিল ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’/সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে, ‘সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র’ রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হচ্ছে ‘বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করণার্থে’/পাকিস্তান আমাদের ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার থেকে বঞ্চিত করেছিল বলেই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা লাভ করেছিলাম। তুই আমাকে বল, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বুলি আওড়ান তারাই চেতনা পরিপন্থী কাজে বেশি লিপ্ত। সমাজের একটি অংশকে সামাজিক সুবিচার থেকে কি বঞ্চিত রাখা হচ্ছে না? সে আমাকে জবাব দিল, স্বাধীনতার পর থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত আওয়ামীলীগই একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লালন করছে এবং বাস্তবায়ন করেছে। আমি আর কথা বাড়ালাম না, শুধু বললাম গরু-ছাগলের দল যেমন জানে না তাদের যারা হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তারা তাদের চারণক্ষেত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, না কসাইখানার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তারা কেবল চোখ বন্ধ করে যারা হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদের ইশারায় চলতেই থাকে। তোদের অবস্থা গরু-ছাগলের মতই, চেতনার বড়ি খেয়ে তোরা বুজতেই পারছিসনা চেতনা পরিপন্থি কাজ কি?

Arson attack on bus kills 9 -Daily Star June 05, 2004

Flames grow higher on a state-owned double-decker, left, on the Gulistan-Mirpur Road that came under bomb attack in front of Dhaka Sheraton Hotel yesterday; and a girl, right, tries to climb down the burning vehicle in her desperate bid to survive the terror. PHOTO: Anisur Rahman

Flames grow higher on a state-owned double-decker, left, on the Gulistan-Mirpur Road that came under bomb attack in front of Dhaka Sheraton Hotel yesterday; and a girl, right, tries to climb down the burning vehicle in her desperate bid to survive the terror. PHOTO: Anisur Rahman

 

 

 

Arson attack on bus kills 9
Bomb hurled on transport in several city areas
Staff Correspondent

Unknown assailants carried out an arson attack on a double-decker bus in front of Dhaka Sheraton Hotel, killing nine passengers including a two-year-old girl and injuring 15 in one of a series of assaults on public transport in the capital last night.

The flames soon leapt to both decks of the state-owned BRTC bus on the Gulistan-Mirpur route, prompting most passengers to storm out except for the nine who got trapped inside.

Police and witnesses said six people were incinerated in the bus, a fire-burnt man jumped to death on the street and two others including a two-year-old child died from injuries at Dhaka Medical College Hospital (DMCH).

 

Three of the nine dead are identified as Meem, 2,Yasmin, 25, and Tahura, 27. Thirteen of the 15 injured admitted to the DMCH are Meem’s mother Monwara, 22, Wahed, 14, Abdur Rahim, 35, Abul Kalam, 45, Rowshan Ara, 30, her son Rony, 12, Alamgir, 14, Jognu Akhter, 18, Mustafiz, 40, Saidur, 22, Babu, 8, Kabir, 40, and Rabbi, 4.

 

The fire left the bus in a charred, blackened metal structure, burning out all seats and other flammables before fire fighters could douse the blaze.

“I have no idea who carried out the grisly attack, but they are very cold-blooded murderers who worked to a well-orchestrated plan,” Dhaka Metropolitan Police (DMP) Commissioner Ashraful Huda told reporters after the arson.

 

“This sort of incidents take place before every hartal and you also know the perpetrators,” he said.

Terming the incident a bestial one, the DMP commissioner said, “The nature of the fire suggests the killers poured gunpowder on both decks of the bus before setting it on fire.”

A string of bomb attacks on public transports was also reported in other areas of the city last night, hours before a 24-hour countrywide opposition strike from 6:00am today and visit of US Defence Secretary Donald Rumsfeld in the afternoon.

The attacks largely came on buses and minibuses near Mirpur Heart Foundation Hospital, National Zoo, Pallabi, Rampura TV Station, Mugda and Shyampur.

Explosions also rocked Gulshan-1, Shukrabad, Gabtali, Motijheel and Paltan areas.

The double-decker, coming from Minto Road direction, caught fire soon after it reached the road stretch in front of the hotel, unfolding a scene of horror.

“Sitting close to the driver, I saw fire behind the driver’s seat all on a sudden which was fast spreading,” 35-year-old Rahima Begum said, adding she rushed out of the bus with her son Ali.

 

As the bus driver sped, fire engulfed the vehicle and the busload of passengers including men, women and children found it difficult to come out through an exit and half-closed windows.

“The fire caught my wife Yasmin and burnt her alive before my eyes on the upper deck,” said Abdur Rahim, driver of an autorickshaw, bursting into tears.

 

“But I didn’t lose my sense and whisked my niece Litu off the bus,” said Rahim, who took the vehicle at Gulistan for Mirpur-12.

Meem, who was on the upper deck with her mother and other relatives, was incinerated on her mother’s lap. Her mother Monwara, 22, survived the blaze with serious burns all-over and is now being treated at the DMCH.

Meem’s aunt Rowshan Ara and her 12-year-old son Rony also suffered burns before falling on the street from the bus amid a crushing scramble.

Her cousin Jognu Akhter, 18 and Alamgir, 14, also received injuries jumping to the street from the upper deck.

The fire left Wahed, 13, all burnt and he was fighting a grim battle with death with little hope for his life.

Rana, an 11-year-old boy who survived the inferno, said: “All on a sudden we saw a red flame leaping from just behind the driver’s seat.”

“My elder brother Badal and myself could jump out of the exit, leaving masses of passengers scrambling to get out of the exit behind,” he told The Daily Star, disconsolate with grief.

Habib, a bookseller, said, “The passengers were desperately pushing for the exit, but a crowd blocked the narrow staircase. I saw some trying to get out through the windows.”

“Casualty could have been lowered, had the driver stopped the bus immediately after it caught fire,” he said, adding the driver kept going on despite hearing screams.

 

Sergeant Rakibuddin, who was on duty near the crossing, said, “Flames engulfed the whole bus in a moment.”

“Seeing passengers trying to escape through the door, I shouted at them to jump through the windows,” Rakibuddin said, adding he saved two who jumped down.

ঢাকা-নরসিংদী রুটের গাড়ি আজিমপুর গেল কেমনে?

by Monsur Rashed
একটা জিনিস ঠিক বুঝতে পারছিনা! বিআরটিসির একটা ঢাকা-নরসিংদী রুটের গাড়ি পুড়ানো হয়েছে। বলেন দেখি কোথায়? আজিমপুরে!!! জি ভাই! আজিমপুরে! ঢাকা-নরসিংদী রুটের গাড়ি আজিমপুরে কি করে? সব সম্ভবের দেশেও আজব লাগে মাঝে মাঝে!
চলুন একটা নাগরিক তদন্ত তদন্ত খেলি!
কি কি কারনে এই ডাবল ডেকার বাস আজিমপুর যেতে পারে?
এক – জ্যামের কারনে জায়গা না থাকায় গাড়ি ঘুরাইতে আজিমপুর গেলো?
দুই – গাড়ির চালকের বাড়ি আজিমপুর, তাই খাইতে অথবা ছাড়তে গেলো?
তিন – গাড়িতে একটা সুন্দরী মেয়ে ছিল ইডেনের, নামায় দিতে গেলো?
চার – গাড়ির চালকের বাড়ি আজিমপুর, ব্যাটা নতুন বিয়া করসে! 🙂
পাঁচ – চালক আজিমপুর কবরস্তানে তাঁর ওস্তাদের কবর জিয়ারত করতে গেলো?
ছয় – গণজাগরণ মঞ্চে ঘুরপথে যাওয়ার চেষ্টা করছিল!
সাত – চালক নরসিংদীর। প্রথম ঢাকায় আসছে গাড়ি চালায় এবং পথ হারাইসে!
আঁট – আজিমপুর কলোনিতে চালকের পরকিয়ার প্রেমিকা থাকেন!
নয় – বলাকা সিনেমা হলে “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা” দেখতে যাচ্ছিল!
দশ – চালক সানি লিওন না থুক্কু সানি দেওলের “মে নিকলা গাঁডডি লেকে” শুইনা ইন্সপাইরড, সো ‘জাইতাসি জাইতাসি কই জাইতাসি জানিনা’ মুডে গাড়ি চালাইতে চালাইতে আজিমপুর আইসা হাজির,
এগার – মউদুদ, এম কে আনোয়ার আর রফিকুল ইসলাম মিয়া সাথে খালেদা জিয়াকে হত্যা করার প্লান করতে নিউমার্কেট যাচ্ছিল!
বারো – কাঁটাবনে জাপানি কুত্তা কিনতে যাচ্ছিল!
তেরো – এইটা আওয়ামী লীগ ইচ্ছা করে করাইসে! বিএনপিকে দাঙ্গাবাজ প্রমান করার জন্য!
আপনাদের কি মনে হয়? কোনটা ঠিক? কোনটা বেশী লজিকাল?
সরকারতো আর এইটার তদন্ত করবে না! এইটা একটু খোঁজ খবর নেয়া দরকার! আমি তো আমার সীমিত পরিসরে অল্প একটু তদন্ত তদন্ত খেললাম! আপনারাও একটু খেলে দেখেন না। প্লীজ!
btw আল্লাহ্‌র লানত পড়ুক ওদের উপর যারা আগুনে পুরাইয়া মানুষ মারে! ১২ জন মারুক আর এক জন, কারো মাফ নাই!
সুত্রঃ নুরুল কবির, বাংলাভিশন টকশো, ১২:১০ এ এম, ১০ই নভেম্বর