খালেদা জিয়ার বক্তব্য

2

খোমেনী ইহসান:
খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তাকে অনেকে বিকৃত করছে। যারা এটা করছে, তারা আসলে স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানাচ্ছেন। এদের চরিত্র সম্পর্কে মানুষ হুঁশিয়ার হোক। মুর্খরা কথা বিকৃত করে নিজেদের বিদ্যা ফলাতে চায়। নাহলে বুঝতো যে তাদের মানুষ কতখানি প্রত্যাখ্যান করে। 

সরকারের প্রতি বক্তব্য  

‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে না দেয়ায় খালেদা জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনা রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিচ্ছেন। এই রক্তের গঙ্গার ওপর দিয়ে তিনি তার নৌকায় চড়ে ক্ষমতায় বসবেন। এই আশা দুরাশা। সেটা ভুলে যেতে বলেন। দেখবো কতদিন আটকে রাখতে পারেন। কর্মসূচি চলবে যতদিন এ রকম করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ভুলে যাইনি সেই দিনগুলোর কথা। আজকে সারা দেশকে কি অবস্থা করে রেখেছেন। সাহস থাকলে ছেড়ে দিতেন। দেখতেন যে কিভাবে জনগণ রাস্তায় নেমে আসে। মা-বোন, ভাই, কৃষক-শ্রমিক, মেহনতি জনতা, ছাত্র-যুবক সব বেরিয়ে আসতো আজকে।

আপনারা জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছেন। দেশের প্রতিটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছেন। এই সরকারই না বলেছিল, খালেদা জিয়া বের হোক রাস্তায়? আজকে আমি রাজপথে যেতে চাই। কেন বাধা দিচ্ছেন? তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তাদের তো রাজপথে নামার সাহস নেই। দুনিয়ার সিকিউরিটি নিয়ে চলেন, আর মানুষ মারেন। মানুষ গুম করেন। মানুষ খুন করেন। সারা দুনিয়া জেনে গেছে যে হাসিনা কত মানুষ খুন করেছে। কত মানুষ গুম করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব বাহিনী। কাজেই, আজকে না হলে কালকে হবে এই অবস্থান। কালকে আমাদের মিছিল হবে। বন্ধ করুন আপনারা, আমরাও দেখবো। আর কত মানুষ মারবেন? তা-ও দেখবো। এর আগেও তো মেরেছেন। তার পিতা ক্ষমতায় থেকে ৩০ হাজার লোক মেরেছেন। আর এখন আরও মারছেন। মারেন।

এর পরিণতি যে শুভ হবে না- তা তারা বুঝেছেন। জনগণ দেখেছে। এর পরিণতি শুভ হয় না। এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও কঠিন। জবাবদিহি করার জন্য প্রস্তুত থাকেন। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আইনজীবীদের ওপর আক্রমণ করেন, গ্রেপ্তার করেন, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন, মা-বোনদের ওপর নির্যাতন করছেন। আপনি না (প্রধানমন্ত্রী) মহিলা। আপনার মহিলাদের প্রতি এতটুকু সম্মান নেই। এতটুকু দরদ নেই। যে, আমরা মহিলাদের অন্তত সম্মানটা রক্ষা করি। সেটাতো আপনারা করেন না। কি আচরণ করেছেন?

অথচ আমাদের সময় ১৭৪ দিন আপনারা হরতাল করেছেন। অবরোধ করেছেন। নানা রকম বিশৃঙ্খলা করেছেন। লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ মেরেছেন। একটা গুলিও আমি চালাইনি। দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি দরদ আছে আমাদের। মায়া আছে। সেজন্যই আমরা জনগণকে গুলি করে হত্যা করতে পারি না। কিন্তু আপনারা যেভাবে নৃশংসভাবে গুলি করছেন, হত্যা করছেন। তার জবাবদিহি করতে হবে। তার জবাব আপনাদেরকে দিতে হবে। এই রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে নৌকা তার গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে না। আজকে রক্তের সাগরে নৌকায় করে উনি হাওয়া খেতে যাচ্ছেন। দেখতে পাবেন ক’দিন পরেই তার পরিণতি।

এই সমাবেশ আজকে হয়নি। আবার কালকে করবো। দেখবো, আপনারা আসেন, বসে থাকেন গেটের কাছে। ঠিক আছে। প্রতিদিন আমিও একই কাজই করবো। চলুক কতদিন চলে। আপনি মনে করেছেন কি? দেশটা কি আপনাদের একার? পৈতৃক সম্পত্তি হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের- যে গুণ্ডা বাহিনী দিয়ে আমাদের সমাবেশ বন্ধ করতে চায়, পুলিশ বাহিনী দিয়ে সমাবেশ বন্ধ করতে চায়? সাহস থাকলে কাউন্টার প্রোগ্রাম করে দেখাতেন। সাহস নেই। ১০টা লোকও আসে না। ভাড়াটিয়া লোক আনে। ডিসি-এসপিদের দিয়ে লোক আনায়। বুঝি এটা আমরা। না হলে এমন করুণ পরিণতি হয়? ১৫৪টা আসন আনকনটেস্টেড হয়ে যায়? আর বাকি রয়েছে কি? বাকিগুলোও করে ফেলবেন। ওটা কোন ইলেকশন নয়। এটা যে সিলেকশন হয়েছে তা আজকে জাতির কাছে পরিষ্কার। দেশের মানুষের কাছে পরিষ্কার। তাই মানুষ আজকে ধিক্কার দিচ্ছে। ধিক্কার দেই আমরা এই সরকারকে।

পুলিশের প্রতি বক্তব্য 
পুলিশকে লক্ষ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, কি করছেন? আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। আপনারা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু আমি মনে করি যে, দায়িত্বটা সুন্দরভাবে পালন করুন। সম্মানের সঙ্গে থাকুন যেন আমরাও কাজ করতে পারি। আপনারাও কাজ করতে পারেন। আপনারা পুলিশ বাহিনী। কিন্তু এটা তো ঠিক নয় যে, আমাকে আমার বাড়ি থেকে বের হতে দেবেন না। এটা তো ঠিক নয়। এখানে আপনাদের যে অফিসার ছিল, সে গেল কোথায়। তার সঙ্গে তো আমি কথা বলতে চেয়েছি। সে কোথায়? কেন আমার পথ আটকিয়েছে? কেন সে আসছে না এখন সামনে? এতক্ষণ তো অনেক কথা বললেন। এখন মুখটা বন্ধ কেন? এই যে মহিলা। আপনার মুখটা এখন বন্ধ কেন? বলেন তো কি বলছিলেন এতক্ষণ ধরে। মুখটা বন্ধ কেন এখন? দেশ কোথায়? গোপালী? গোপালগঞ্জ জেলার নামই বদলে যাবে বুঝেছেন? গোপালগঞ্জ আর থাকবে না।

সরকারের প্রতি বক্তব্য 

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, আল্লার গজব পড়বে, আপনারা যা শুরু করে দিয়েছেন। কতগুলো আলেমকে হত্যা করেছেন। এতিমকে হত্যা করেছেন। কতগুলো বিডিআর অফিসারকে হত্যা করেছেন। সেদিন কোথায় ছিল হাসিনা? এতগুলো অফিসারকে মারলো। ৫৭ জন অফিসার হত্যা করলো। সেদিন হাসিনার এ ফোর্স কোথায় ছিল? কেন সে পাঠায়নি। আসলে তো সে নিজেই জড়িত ছিল বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে। সেজন্যই আজকে, নতুন নতুন অনেক অপরিচিত চেহারা দেখা যায়। যাদেরকে চেনা যায় না যে, তারা আসলেই বাংলাদেশী কিনা। বাংলাদেশের আজকের যে কর্মসূচি ছিল, আপনারা যদি দেশকে ভালবাসতেন, তাহলে আজকে ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মার্চ ফর ডেমোক্রেসি ছিল আমাদের কর্মসূচি। আপনারা গণতন্ত্রও চাবেন না, দেশ রক্ষা করতেও দেবেন না। গোলামি করবেন? দালালি করবেন? এই গোলাম তো রাখবে না। লেন্দুপ দোরজি’র ইতিহাসটা পড়ে দেখুন। সেও কিন্তু টেকেনি বেশিদিন। তাকেও বিদায় দিয়েছে এত দালালি করে, দেশ বিক্রি করে। কাজেই এই দেশ বিক্রি চলবে না। দেশ রক্ষা হবেই ইনশাআল্লাহ।

পুলিশের প্রতি বক্তব্য 

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, হাসিনার দালালি করে লাভ হবে না। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে থাকুন। জনগণের সঙ্গে থাকুন। দেশের মানুষের সঙ্গে থাকুন। তবেই কাজে দেবে। দেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে। আজকে সবার দায়িত্ব হয়ে গেছে দেশ বাঁচানোর। মানুষ বাঁচানোর। আর আপনারা ঘরে ঢুকে এখন মানুষ হত্যা করছেন। মনে করেন যে, এগুলোর হিসাব নেই? এই মা-বোনের কান্না। এই আলেমে দ্বীনের কান্না, বিডিআর অফিসারদের স্ত্রীদের কান্না এগুলো কি বৃথা যাবে? এগুলো কোনও দিনই বৃথা যাবে না। আজকে যারা এই জুলুম-নির্যাতন করছেন তাদেরকেও এদের মতো একদিন চোখের পানি ফেলতে ফেলতে চোখ বন্ধ হয়ে যাবে। এখনও সময় আছে।
এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। তখন তাদেরকে বিরোধী নেত্রী বলেন, ধাক্কাধাক্কি বন্ধ করুন। আমরা কোন ধাক্কাধাক্কি করতে আসিনি। আমি বলছি, আপনারা চাকরি করেন, চাকরি করবেন। কিন্তু এ রকম আমাদের গায়ের উপরে উঠে পড়বেন না। দূরে থাকুন। আপনাদের জায়গা যেখানে সেখানে থাকুন। আজ আপনাদের তো রাস্তার উপর থাকার কথা। আপনারা বাড়ির মধ্যে এসে গেছেন কেন? আপনাদের মেয়েরা এত ঝগড়া করে কেন? উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আরও বলেন, এই মেয়েরা। চুপ করো। ক’দিনের চাকরি হয়েছে যে, এত কথা বলো? কিসের জন্য এত কথা বলো? চুপ থাকো। বেয়াদব কোথাকার। আপনার অফিসার কোথায় গেল? আসলো না? তাদের বলবেন, আমার সঙ্গে দেখা করতে। আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাই। বুঝেছেন? কি বোঝেননি কথাটা। এটা তো বাংলাভাষা। নাকি অন্য কোন ভাষায় বলতে হবে আপনাদেরকে। বুঝেছেন? সেই অফিসার কোথায়? তাকে আমার সঙ্গে দেখা করতে বলবেন।’

Where Are We Heading?

1

By Sabuz Khan

Since the 1947’s India-Pakistan separation – West Pakistan imposed Urdu as the official language of East Pakistan and proposed to write Bengali in Arabic scripts. Fuelling outrage amongst the people, where the majority (54%) speaks in Bengali, leading to a country-wide Language Movement outcry and criticism. Pakistan finally decided to recognise Bangla as the second official language in 1956, followed by the major protest in 1952. The thought of having an independent country has started since then.

What a wonderful language. Many have given lives; you’re familiar with some of them. Now we speak Bengali (some speaks Hingli*) – and proudly celebrate 21st February every year.

CHANGE IN STATE OF PLAY!
India is a passing craze! Indian TV channels are getting increasingly popular in Bangladesh, influencing the country’s culture and lifestyles. Bangladesh pays hefty annual subscription fees of appx. BDT 1,706,532,410, whereas Bangla channels are banned in India.

Bollywood songs are played in Bangla serials & movies, including the concerts paying tribute to the national events days. People happily use Hindi terms/words in their daily conversations and Social Medias. Non-resident Bangladeshis’ shamelessly speaks in Hindi/Urdu. National politics itself is far involved with India, than any time before!

The idea is pathetic. We have given lives to earn our independence from one country – now handing over ourselves to another.

Polarised Conflicts In Bangladesh And The Idea Of Bengali Culture

1

By M Ahmedullah (PhD in Epistemology and Politics)

 

The causes of polarised politics:

Many people are baffled by the intense levels of hatred that exists between different factions in Bangladesh and fail to understand the possible underlying reasons behind the current conflict. Complex factors are no doubt at play, including attachments to certain historical events of importance and their interpretations. There is also the inability of players and decision makers in the country to help break out of the confines of the seemingly sequential and deterministic process of cause and effect, and the effect becomes the cause for the next effect, strangling and suffocating Bangladesh. Rival groups have been engaged in tit-for-tat actions, reactions and counter reactions against each other for a very long time, driven by a revenge instinct and zero sum politics. A lack of respect for fairness and justice, a winner takes for all attitude and an inability to have empathy for rivals’ perspectives have lead to a continuous cycle of hate, violence, justification, outrage, more hate, more violence, more justification, more outrage and so on.

It seems that the current political conflicts in Bangladesh can be directly traced back sequentially to a very distant past, where some groups forcefully pushed forward changes without rational justification and used unethical means, muscle power or state resources, which some other groups opposed or could not oppose effectively at the time due to their relative weaknesses. The opposing groups then tried to undo, reverse or change the course taken by the previous group when their power increased by the use of similar or more unethical means.  Although chronologically this has not been a uniform process, in terms of the nature, size, issues and the ideological orientations of people involved in each stage of the conflict, along the long timeline, this kind of disputes has been a part of our political and social life for generations. The current political conflicts, accompanied by violence and polarisation within society, seems to me to sequentially go back to at least since the violent politics unleashed during the aftermath of the first Bengal partition in 1905. Some of the same issues and emotions of this partition are still alive and at play in the current conflict, although the players and their configurations are different. Individuals and groups involved in this tit-for-tat politics seems to be driven by some kind of logic, impulse or invisible power, beyond their control.

 

 

gjm1

The process of cause and effect instigated by political rivalry could have been positive and constructive if it was minus the use of unethical means, disregard for fairness and justice and the use of violent force. Unfortunately, this has not been the case in Bangladesh, and as a result, we have continually experienced, without an end or break, the domination of a dangerous and destructive political culture. One very important factor in generating and perpetuating the conflict, in my view, is the idea of ‘Bengali Culture’ – a powerful driving force behind motivations and destructive actions of many people in Bangladesh. The emotions, world views, anti-Muslim sentiments, desire for self sufficiency, pride in motherland, considering Islam and Muslim culture of Bengal to be outside the acceptable cultural and spiritual realms and heritage of mother Bengal, etc. of the movement against the 1905 Bengal partition directly links the Bangladesh Awami League’ s adoption of the idea of  Bengali Culture as one of the major underpinnings of their ideology of Bengali Nationalism.

The idea of Bengali Culture in Bangladesh, with associated emotions, intensity of feelings and hatred of the 1905-1911 and the Pakistan periods, which consider Islam and Muslim culture as foreign and originating from Muslim invasion of India, is a major factor in the country’s current divisive politics. This is really unfortunate and caused by a serious failure to understand how human dynamics, social evolution, world trade, power politics, artistic and dietary exchanges between peoples impact on the development and evolution of culture. The Bengali Nationalists have a serious misunderstanding of what constitutes human culture.

 

In Bangladesh when people talk about ‘Bengali Culture’ they are, in fact, not talking about ‘what is’ the actuality on the ground, rather, they are talking about ‘what ought to be’, which is actually an ideological aspiration, falsely dressed up as reality. This is because the cultural landscape of Bangladesh has so many components and diverse origins mixing and remixing for ever since time immemorial, a fact it shares with most other human societies. The dangerous consequences of this error, treating ‘ought’ of an ideology as the ‘is’ of our complex reality is that we have an unnecessary conflict in Bangladesh.  Many people are driven by this idea to engage in ethnic cleansing style cleansing activities against Islam and Muslim culture and their representatives in the country, wrongly feeling that this is completely justified.

 

Definition of culture

In 2009, I attempted to define culture for myself before embarking on an exhibition project called Powers of Festivals.  I visited a number of far distant places around the world  to see how minorities and native peoples use arts, culture and public celebratory events as a way of developing their confidence and survive in a world that is often hostile towards them, particularly bigger countries or communities who are either their neighbours or who dominate the country they share together.

The understanding that I arrived at is provided below.

 

Culture is about lifestyles and creativity of individuals and groups. It encompasses everyday living, special occasions and the beautiful and useful creations of poets, artists, musicians, writers, scientists, architects, businesses people, voluntary groups, etc. The social or isolated activities that people undertake are all forms of cultural expressions.

Interactions of people and their lifestyles do not happen in a vacuum. Individuals and groups do this or that because there are meanings associated with decisions and actions. Theories, myths, social values, religious rules, aesthetic feelings and tastes, etc. underpin all human activities. Over time actions and meanings mutually influence each other’s development and evolution.

Sometimes the process of change takes place predominantly through the interplay of a community’s own internal factors, if the group in question is relatively isolated. More dynamic and dramatic changes within a group are usually associated with greater levels of interactions with the outside world.

Whether internally caused or the result of external factors or a combination of both the changes in human activities and their underpinned meanings are primarily rooted within the original or earlier foundations of a community’s cultural base.

A better understanding of the dynamics and evolution of human cultures will enable people from diverse backgrounds to co-exist and benefit from increased interactions. (M Ahmedullah, 2009)

 

When I was in Bolivia in February 2013, visiting, taking video and still images of Oruro Festival and learning about I never heard anyone taking about Spanish culture or any other culture. They talked about their cultural diversity, made up of elements from Spanish, black African and various native ethnic groups and how they, over time, mixed and combined in different ways to create a Bolivian cultural repertoire. In Bangladesh its completely different where the proponents of Bengali Nationalists say that our culture is ‘Bengali culture’.

 

Superficial thinking

The strangulation faced by Bangladesh and the country’s inability to escape from years of vicious cycle politics, in my view, is partly caused by the idea of Bengali culture. People and leaders in Bangladesh lack the ability to understand how different factors are working in complex and mysterious ways to cause the country’s problems and then work through creative imagination to find solutions. This is because most Bangladeshis operate at a very superficial level and from a very poor knowledge base, including that of historical understanding.

 

As a result, not only is the country unable to find long term sustainable solutions of continuous improvements, various players are constantly blindly adding further complexities and barriers towards a better future. It also seems to me that very few Bangladeshis are interested in looking for the root causes of the country’s problems. Although it is never possible to fully get to the root causes of any complex problems and conflicts, attempts to understand root causes can help deepen one’s appreciation of the problem, and thereby, improve the chances of finding better quality solutions.

 

What is your identity: Bengali first or Muslims first?

I will briefly look at identity issues faced by Bangladesh and show, with examples and arguments, why the idea of Bengali culture is a major problem in Bangladesh. It is often asserted that many Muslims in Bengal, particularly between late 19th – mid 20th century, could not make up their minds regarding their cultural identity – whether they were Bengalis or Muslims. Further, it is also claimed that some Bengali Muslims even refused to identify themselves as Bengalis, or at least, tried to define themselves in terms of Moghul / Middle Eastern cultural forms. The Bengali language movement narratives have been combined with the above assertions and utilised to make many unfounded claims, which are found especially in public meetings, community interactions, magazine articles, etc. For example, Bengali Muslims who are very proud of their Muslim identity are often described as traitors who want to sell the motherland, Bengali culture and language to foreigners, such as to Pakistanis or Arabs, and instead adopt their cultures and customs.  Even though this is not true for the vast majority of the cases, this rather deeply entrenched view, within the minds of a sizable many, generates unnecessary misunderstanding and conflicts.

 

I have been asked many times by a wide range of people whether I was a Muslim first or a Bengali first. Naturally, I found the question strange, because I never thought of these two elements being separate and mutually contradictory as far as my life was concerned. At the beginning I used to answer without thinking properly, but still tried to be logical. The usual answer I gave was: I am a Bengali by birth and a Muslim by choice, currently living in London, and that my culture was a mixture of these three elements of my experience. I have heard other people responding to this question in different ways. Some people say that they are Bengalis first, and others say that they are Muslims first. There are some others who say that they are British Muslims, or British Bengalis, or British Bengali Muslims. There are still others who say that they are Muslims in Britain, or Bengalis in Britain, or Bengali Muslims in Britain.

 

Later, during my personal evolution and life’s journey, when I started to think more deeply about the question I came to the conclusion that this was not a simple question to answer. I also wanted to understand why people are interested in this question in the first place. I began to realise that essentially there can only be two possible meanings to the question. Depending on the perspectives and ideological orientations of individuals people adopt the meaning most appropriate for their circumstances. On the one hand, the question may be concerned about whether it was regarding ‘first’ in a chronological sense, in terms of the time dimension, either the history of one’s community or the development of one’s own consciousness. On the other hand, the question may be interested in finding out the ‘first’ in the order of importance – that is, which one is more important to a Bengali Muslim, being a Muslims or a Bengali. I thought about these two possible meanings and found that they are often related and can also be complementary, rather than necessarily separate and mutually contradictory.

In many cases when one decides on one’s own ‘firstness’ from the two possible options one relies on the other for support. For example, when some people assert that they are Bengalis ‘first’, in the order of importance, they try to show that they are also Bengalis ‘first’, chronologically. For example, according to Abdul Huq, a Bengali writer and activist during the Pakistan period, religion seems to be ‘second’ both in the order of importance and in chronological terms.

 

After the birth, a child is known only as a tiny man. Then he is known as a Bengali, a Punjabi, an Arab or an English and that according to his mother tongue and or his home land. At last he is known as a Muslim or a Christian according to his religious beliefs.

(Islam in Bangladesh, page143)

 

I wonder how Abdul Huq came to such a bizarre conclusion. Did he undertake any long periods of study involving a large number of people or did he just feel that this was the case? Second, as far as my own consciousness was concerned, I tried to identify when I thought I was a Bengali and when I thought I was a Muslim. I found it infinitely difficult to answer this except to say that my earliest recollections were a dream consisting of an aeroplane flying over our mud house in Bangladesh and a discussion I had with some boys about the day of judgement (what it was, what it meant and when it would come). Other people with different upbringings will have different recollections.

 

It is really a ridiculous claim to make that you are known as a tiny man first, then a Bengali and so on. The term ‘known’ implies a prior categorising and defining process involving history and society.  Therefore, even if Abdul Huq was right in some cases he was wrong to generalise with regard to how the natural development of the life of a child takes place over time as he or she grows up and becomes an adult. This means that there are pre-existing structures and contexts that a child is born into, linked to and partly defined by politics, society, culture and history. In addition, a tiny man, a Bengali, a Muslim seem to be mutually contradictory qualities, according to Abdul Huq. It seems that one quality cannot exist with the other quality in the same person at the same time. Therefore, a tiny man cannot be a Bengali and vice versa. However, when he says that at last he is known as a Muslim or a Christian, does it mean that when the child grows to become an adult and becomes known as a Muslim all the other earlier identities, such as Bengali or Pakistani, are no longer part of the identity or superseded by or contained as a sub identity under the Muslim identity, or just vanishes in thin air.

Based on the above view expressed Abdul Huq tried to demonstrate how chronologically a Bengali Muslim was a ‘Bengali first’ in order to show why in the order of importance a Bengali Muslims was also a ‘Bengali first’.  According to Ghulam Murshid, a Bengali academician, Abdul Huq

 can be identified as a Bengali first, then a Pakistani, and at last as a Muslim. It seems that he had no confusion whatever regarding his identity (Islam in Bangladesh, page 143).

Although Mr Huq may have thought that he was not confused, but from the above, I have no doubt that his thinking was quite muddle up. Also just because this is how he thought and felt about himself it does not mean that this was also true of other Bengali Muslims. There has been similar and too many generalisations from various sides during the history of our land.

 

Relative backwardness and identity issues faced by Bengali Muslims in late 19th and early 20th century Bengal

Regarding the question why some people who lived in Bengal during the late 19th and early 20th century, who can be classified as ethnically Bengalis, refused to identify themselves as Bengalis, according to Ghulam Murshid, Abdul Huq thought the communal attitudes of some Bengali Muslims were the determining factor in this regard. Many people who share a similar standpoint as Abdul Huq also blame Muslim communalism for encouraging Muslims to distance themselves from the Bengali linguistic and cultural identity. Although this is no doubt partly true, what they fail to consider is the period earlier and the cause that created this effect. This is an example of the superficial thinking of too many Bangladeshis. They do not seem to know and understand who first defined and categorised Bengali Muslims as Muslims and contrasted them with Hindu Bengalis, who were categorised as Bengalis. Bengali Muslims at that time were not able to respond effectively by assessing and redefining their identity generated by outsiders, due to their relative backwardness.

 

Although at the moment, the language controversy and the question whether we are Bengalis first, or Muslims first have been solved to an extent, because a large section of the people in Bangladesh or Bangladeshis abroad, if asked, will say that their Islamic and Bengali identities are one and the same and that their language is Bengali, it is still the case that a section of the people in Bangladesh derive enormous propaganda values from the controversies which took place many years ago. The Pakistan period was a golden opportunity for them to take full advantage of the relative weaknesses of arguments brought to the fore in favour of the identity of ‘Muslims first’. This is because ideas and world views developed during 19th century Bengal excluded Bengali Muslims, because of their relative poverty and the British divide and rule policies. This inability was perhaps inevitable given the context of the period.  I will not explore this issue further in this paper but will write in greater details about this the future.

 

The Bengali Muslims found themselves in a position of relative intellectual weakness and poor material base. Their social and economic position meant that they were not in a position to respond in appropriate, creative and sophisticated ways to the exclusion they suffered from and the outsiders’ attempt to categorise and define them during the late 19th and early 20th century. They responded in various ways, mostly in my views, many of which were inadequate and some were quite  silly and inconsistent. This gave fuel to those who wanted to further ridicule Bengali Muslims and their culture and way of life.

 

The Idea of Bengali Culture

The controversy with regard to Urdu as a state language policy of Pakistan triggered a backlash in East Bengal, the name of the eastern wing of Pakistan at that time. The revolt and opposition to the policy created the language movement, which most Bengali Muslims supported. The overwhelming support base of the language movement was later hijacked by a group in Bangladesh espousing Bengali nationalism. The process of language movement in Bangladesh during the 1950s and 1960s resulted in the creation of the idea of Bengali Culture in the Bangladesh context.  According to this idea, some aspects of our life and culture are seen as legitimately ours, while anything originating with Islam framed as something alien coming from the outside as a result of the Muslim invasion of India. Thus excluding 800 years of the deep Islamic cultural roots that not only Bengali Muslims but also others in Bengal developed as a result of centuries of multi dimensional links and relationships with the worldwide Muslim communities.

 

The exclusion of Islam from Bengali identity and Bengali culture is one of the main causes of our current problems. On the one hand, Bengali nationalists see Muslim culture in Bangladesh as alien, the result of Muslim invasion of India, even though it has been our adopted way of life for more than 800 years. On the other hand, how can Bengali Muslims see Bengali culture as theirs when the idea of Bengali culture represent an attempt to annihilate who they are as cultural and moral human beings with aims, values, customs, life’s goals and dreams linked to Islam. Considering Bengali Muslim culture as alien, originating from the Muslim invasion of India and therefore illegitimate, is an assumption of Bengali nationalism and underpins many of the other their beliefs or practical undertakings. This assumption drives many Bengali Nationalists, who have not thought through the implications of their views, to consider Bengali Muslims as people who do not want to be Bengalis but prefer to be like the Pakistanis or Arabs. The Bengali nationalists very often and quite offensively suggest that they leave Bangladesh for good and go to Pakistan or the Middle East.

 

Another end result is that a political party like the Bangladesh Awami League often ends up becoming unintentionally fascist.  Among the Awami Leagures some are either unaware of the fascistic implications of one of the main underpinnings of their ideology, which is Bengali nationalism, or in self denial. According to Bengali nationalism the culture of West Bengal and Bangladesh is Bengali culture, practiced by the Bengali ethnic group, derived from local history and traditions going back to thousands of years – rich traditions of arts, music, dance, folk stories, etc., including the contributions of poets like Tagore in the development of Bengali culture.  This kind of definition and representations of Bengali culture generate a deep feeling in many Bengalis of a love for their motherland and a desire to carryon, enjoy and build on that cultural tradition. This is something quite positive. However, this definition also has dark and negative implications. The problem with this idea of Bengali culture is that it does not include the experiences and traditions of 800 years of Islam in Bengal, which is treated as alien, directly and openly by more fanatical individuals, and in indirectly, by the more tolerant and liberal supporters of Bengali nationalism.

 

All shades of Bengali nationalism, with the exception of a tiny minority as there must always be exceptions, see Islam and Muslim influence in Bangladesh as alien, originating from Muslim invasion of India and Bengal. This creates a variety of nationalistic feelings and responses against Muslim culture and practices in Bengal. Initially this attitude was developed, adopted and articulate by some Bengali Hindus, particularly based in Kolkata, but subsequently and especially after the creation of Pakistan many Bengalis from a Muslim background also adopted this nationalism for themselves. The end result is the creation of a culture clash where a large number of people feel a significant element of their life does not belong to them as Islam is not a part of Bengali culture.  Very strong nationalist feelings are often generated against Bengali Muslim way of life and culture. Off course the idea of Bengali culture is nonsense but it is this nonsense, which is the root causes of Bengali nationalist fascism in Bangladesh.

 

According to my definition of culture above Islam and Muslim norms, manners, values, traditions, belief systems are a very much part of the Bengali culture. If this was not the case then the logical deduction would be as follows: the majority of the people in Bangladesh do not practice Bengali culture. Therefore, in order to better understand the nature of the cultures of Bangladesh it is necessary to undertake new researches, generate fresh explanations and develop new terminologies to map and explain the cultural realm of Bangladesh..

 

Conclusion

In this short paper my purpose was to introduce a number of issues concerning what I call the sequentially deterministic cause and effect politics of Bangladesh and suggest that one of the major factors causing the problem was the false idea of ‘Bengali Culture’. Bengali culture as an aspiration or a major element of the lifestyles of a very tiny percentage of the people of Bangladesh is not false. However, with regard to the life of the 160 million people in Bangladesh there is no basis for thinking that the actual culture practiced in Bangladesh is Bengali culture as defined by the Bengali Nationalists, which excludes the vast influences of Islam and worldwide Muslim communities in our culture – way of life, values, aspirations, celebrations, dresses, social interactions, our names, greetings, prayers, get buried after death, etc.

 

There is a very poor understanding of the nature and evolution of human culture in Bangladesh and it is this misunderstanding that is responsible for many of our seemingly unsolvable problems. There is an urgent need to have a serious, civilised, ongoing and wide ranging debate and discussion about culture within Bangladesh and Bangladeshi Diaspora. A better understanding and appreciation of human culture, cultural evolution / development, cultural diversity will help us collectively to redefine the cultures of Bangladesh. This will help us better understand who we are actually, rather than be driven by an aspiration to destroy a large element of who we are, which is an impossibility to achieve.

আমরা কি হুঁশিয়ার আছি?

খোমেনী ইহসান:

ভাইয়েরা ও বইনেরা বুঝতেছে না যে বাংলাদেশকে হীনস্বার্থে যে দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে তাতে করে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছ আইনগত উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধের বিচার, ক্ষমতা হস্তান্তর, জাতীয় প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির বিবাদগুলান মীমাংসা করা উচিত ছিলে। কিন্তু একপক্ষ চাচ্ছে ইসলামবিরোধী গ্লোবাল পরিস্থিতি ও ভারতের সম্প্রসারণবাদী নীতির মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে হত্যা,জখম ও বন্দিত্বের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করে দিতে।আরেক পক্ষ ইসলামের দোহাই দিয়ে যুদ্ধাপরাধ ও ভুল রাজনীতির অভিযোগগুলানকে ককটেল-হরতাল-অবরোধ দিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

 
মুশকিল হলো উভয়ে পক্ষের এই অগ্রহণযোগ্য কাজের কারণে বাংলাদেশে প্রতিদিন রক্ত ঝরেতেছে। অনেক গুরুতর ঘটনা ঘটতেছে। সব কিছু ভেঙে পড়ছে। খোদার বিচারপতিদের ভূমিকাও যুব সংগঠনের ক্যাডারের মতো। এ অবস্থায় মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। গুজব  আর প্রচারণায় সয়লাব দেশ। আবদুল কাদের মোল্লাকে কি কসাই কাদের হিসেবে ফাঁসি দেয়া হলো? তার এই ফাঁসি দিতে গিয়ে বিচার করা হলো নাকি প্রতিশোধ নেয়া হলো? দুই পক্ষের প্রচারণা থেকে বুঝার উপায় নাই। মোল্লা ও মুক্তিযুদ্ধকালে ক্ষতিগ্রস্ত উভয়ে হয়তো সত্য বলেছে। কিন্তু সরকার ও জামায়াত তো মনে হয় মিথ্যার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ। যেমন তারা হত্যা ও নাশকতার প্রতিযোগিতা করছে। গণমাধ্যমগুলান এখানে ভাগ হয়ে গেছে। উভয়েই রক্ত চায়। কালো হরফে ছাপা হচ্ছে লাল রক্তপাতের ইশতেহার।

 
আমরা দেখছি এই যে গণজাগরণ মঞ্চ, আ্ওয়ামী লীগ ও নাগরিক সমাজ এরা কিন্তু রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর ফ্যাসিবাদ কায়েমের লক্ষ্যে মাঠে গড়াগড়ি করতেছে। আর আছে জামায়াত-শিবির। তারা সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়ার জন্য সহিংসতা করছে এবং নিজেরো গণহত্যার শিকার হচ্ছে।মুশকিল হলো আমাদের নিয়তি এই দুই পক্ষের এ্যাকশন, রিএ্যাকশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে। দেশে যেভাবে রক্তপাত হচ্ছে, নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে, খোরাকির দাম বাড়ছে তাতে করে দেশে চরম অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে।আমরা ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জেনেছি ছাত্রলীগ ও যুবলীগ, সরকারপন্থী পুলিশ-আমলাদের মধ্যে ভীতি তৈয়ার হয়েছে। কেউ কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছেন। কেউ আবার পালানোর চেষ্টা করছেন।

 
অন্য যারা যেতে পারছেন না তার ভয় পেয়ে আগ্নেয়াস্ত্র বহন শুরু করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ কর্মীরা, মহানগর ও শহর-বন্দরে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিক লীগ নেতাকর্মীরাও অস্ত্র ধারণ করেছেন। তাদের যে সরকার অস্ত্র দিয়েছ তাও পুরো সত্য নয়। তাদের ভীতিকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় পক্ষ অস্ত্র দিচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদল ও জামায়াত-শিবিরের লোকেরা ব্যাপকতর হত্যা, পঙ্গুত্ববরণের শিকার হয়েছে। তারা কেউ ঘরে থাকতে পারছে না। ফেরার জীবন যাপন করছে। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে কেউ কেউ অস্ত্র ধারণ করছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 
আমরা ধারণা করতে পারি সারা দেশে উভয় পক্ষেই অস্ত্র ধারণের তাগিদ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ীরা এবং সেক্যুলার ও ইসলামী সন্ত্রাসবাদীরা এ অবস্থার সুযোগ নিতে চাইছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সেক্যুলার সন্ত্রাসবাদের প্রধান মদদদাতা ভারতের অবস্থান প্রকাশিত হয়েছে। অতিসম্প্রতি আবার পাকিস্তানের তালেবানের একটি বক্তব্য পাওয়া গেল। তারা পাকিস্তান বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু তারা যে বাংলাদেশে অস্ত্র ও মতবাদ রফতানি করবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নাই।
এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো গেরিলাযুদ্ধের বাস্তবতা বিচার করলে প্রায় সমতলভূমির বাংলাদেশের অবস্থা নিরাপদ মনে হতে পারে। কিন্তু ঘনবসতি ও মানবজঙ্গল আকীর্ণ বাংলাদেশ আরবান গেরিয়া ওয়ারফেয়ারে উর্বর ময়দান। এখানে যদি একবার ভারি অস্ত্র ঢুকে যায় তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে।

 
আমরা যে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি-সেনাবাহিনীকে যোগ্য ও দক্ষ মনে করতেছি, সামরিক সক্ষমতার কথা চিন্তা করলে তাদের নিয়ে আমাদের হতাশ হতে হবে। তারা নিরস্ত্র লোকদের মিছিল-সমাবেশ ও ককটেলবাজিকে ছত্রভঙ্গ করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু সম্মুখ সমর বা ভারি অস্ত্রের চোরাগোপ্তা হামলা মোকাবেলা করার মতো সক্ষমতা তাদের আছে কি না এটা বেশ প্রশ্নবিদ্ধ।আমরা দেখতেছি ক্যান্টনমেন্টগুলান ছাড়া বাংলাদেশের আর কোন স্থাপণাতেই সন্ত্রাস মোকাবেলা করার মতো যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই। আমরা প্রতিদিন উভয় পক্ষে যাদের এতো এতো উস্কানি দিতে দেখছি তাদের না আছে নিরাপত্তা, না আছে শারীরিক সক্ষমতা। যদি সন্ত্রাস জন্ম নেয়ার মতো পরিস্থিতিকে এখন নিয়ন্ত্রণ করতে উভয় পক্ষে সমঝোতা না হয় তবে সবাইতো নিরাপত্তাহীন হয়ে যাব।
কাজেই আমি মনে করি সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও একটা উদ্যোগ নেয়া দরকার। যা কিছু হওয়ার হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে। এখন-
১. সব পক্ষের সন্ত্রাস-হত্যা-সহিংসতা বন্ধ করা হোক।
২. বিচার্য বিষয়গুলান আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সহীহভাবে নিষ্পত্তি করা হোক।
৩. বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করে দিয়ে নতুন সংবিধান সভার জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হোক।
৪. নতুন সংবিধান গঠিত হলে তার অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বশীল নির্বাচিত হোক।
৫. নতুন সরকার ন্যাশনাল রিকন্সিলেশন কমিশনের মাধ্যমে ক্ষমা, দয়া ও দরদ কায়েম করুক।

Cutting Through the Paper Tiger of Rising ‘Islamic’ Militancy in Bangladesh

2

By Surma of the Khichuri for nuraldeen.com

On her recent visit to Bangladesh the Indian foreign secretary Sujatha Singh argued that Bangladesh has an Islamic militancy problem, and that was the main reason for the Indian government’s unstinting support to the increasingly autocratic Awami League government. Right on cue, the pro-government Daily Star issued an op-ed by its executive editor, Syed Badrul Ahsan, which framed the current crisis using the imagery of the 1971 as war against Islamic militancy. On the other side of the subtlety spectrum we have David Lewis at the LSE, continuing the Manichaean narrative of secular versus religious struggle in Bangladesh. Ignoring the above misrepresentation of facts and bearing in mind that the current opposition movement being led by the Bangladeshi nationalist BNP is calling for a neutral caretaker government, the multi-billion dollar question is, does Bangladesh have an Islamic militancy problem?

Historical (Dis)continuity

The above question is linked to the powerful and persistent question of whether Bangladesh is a secular country or religious one, answers to both are interlinked with the approach one takes to Bangladesh and South Asia in general.

One approach could be  termed as a DWEM approach to history, that is history through the eyes of Dead White European Males (DWEM), which is subsequently seconded by local Macaulay Minutemen and minutewomen. That is the history of chronologies and maps, empires and nations, wars and revolutions. According to the DWEM approach Bangladesh is a secular society, and has been since the abolition of the titular Mughal Empire following the 1857 Uprising against British subjugation. The 1971 Bangladesh War and subsequently imposed and alienating constitution is an affirmation of that secular reality.

Another reading of history is to see it as a living entity, embodied, decolonial and subaltern. This reading can be summarised by the Persian saying that, “The greatness of a city lies not in its monuments or buildings, nor in its market or gardens but in the men buried inside its walls”. The demonstrative reality of this history is seen in the cities and towns throughout South Asia, amongst the daily throngs that visit the shrines of these great men.

It is a sacred reading of history that starts with Data Ganj Bakhsh Hujwiri in Lahore, through Moinuddin Chisti in Ajmer, then from Nizamuddin Auliya in Delhi to Shahjalal in Sylhet. After all, it was Nizamuddin who gave Shahjalal the famous flock of doves whose descendants we see at the shrine (dargah) today. To understand the subaltern Muslim civilisation in South Asia we can focus on Moinuddin Chishti (1141-1236), who settled in the city of Ajmer, when the Delhi kings conquered their. His dwelling soon became a fountainhead of Muslim civilisation in the Indian subcontinent.

Rembrandt’s picture of the founders of the four Sufi schools in Indian subcontinent c.1656 [Source: British Museum, Schimmel]

Rembrandt’s picture of the founders of the four Sufi schools in Indian
subcontinent c.1656 [Source: British Museum, Schimmel]

As the Chishtis journeyed through the land spreading the dual message of spiritual equality and social justice, their straightforward preaching and practice of the love of God and one’s neighbours impressed many, particularly those from the lower castes and even members of the scheduled castes.The fact that these khanqahs (mystic lodges) avoided any discrimination between their guests and practiced a classless society attracted many people into their fold. One taster of the teachings of Moinuddin Chishti and company is that a human being should possess “a generosity like that of the ocean, a mildness like that of the sun and a modesty like that of earth.”

This sacred tradition and history has survived and continues to this day and is an integral part of the ordinary citizens of Bangladesh, if you look. In the cities, mufassil towns and villages, anecdotes from Hujwiri’s Kashf al Mahjub (Revelation of Mystery), still resonate in Friday sermons today. Aspects of the curriculum that Nizamuddin Aulia designed and taught can be found in the country’s madrassas. The classless generosity of Moinuddin Chisti is emulated in the weekly communal feasts of the Tablighi Jamaat. This group claim links to the Chishtis through their founder Maulana Ilyas, and their annual Bishwa Ijtema, in Tongi, Dhaka is renowned as  a global mega event and the largest gathering of Muslims outside the Hajj.

Politics and Religion: an explanation of the paradox that is Maulana Bhashani

The interconnections between religious and political spheres in South Asia have been uneasy and tumultuous at times to say the least.  This tradition of connection goes all the way back to the Emperor Ashoka and his incorporation of Buddhist principles into state policy. More recently we can see this relation exemplified by the changing fortunes of the Naqshbandi Tariqa (brotherhood) who arrived in South Asia with the Mughal conquest.

The Naqshbandi’s had a continuous influence on regional politics, from Ahmed Sirhindi on the Mughal Emperors, through to Shah Waliullah on the Afghan King, Ahmad Shah Abdali. Their footprints can be discerned in the modern day politics of the subcontinent; from the Composite Nationalism concept of Congress-aligned Hussain Ahmed Madani (teacher of Hefazat leader Allama Shafi), to Muslim League aligned figures such as Mufti Muhammad Shafi Usmani, the first grand mufti of Pakistan.

There is an argument that one hears that modern Bangladesh is an exception to the rule, that there is no place for religion in politics. However, if one goes beyond the rhetoric and delves into the historical experience, one finds the paradoxical figure of Maulana Bhashani, and a continuation of the Naqshbandi tradition.

A disciple of the Baghdadi Pir Sahib of Lakhimpur in Assam, Bhashani was advised to journey to Deoband in Uttar Pradesh to study under the Naqshbandi anti-imperialist, Maulana Mahmudul Hassan. Upon returning from his trip, he joined and led the struggle against the exploitation that tenant farmers face from of the xenophonic Line System. This spurred the Moulana on his long political journey to emancipate his people; to economic liberation from the feudal system, to political liberation from the British Raj in 1947, political freedoms from the Sandhurst educated Rawalpindi generals of United Pakistan, and hunger from the ravages of the 1974 Bangladesh famine. Spanning three nationhoods, his last great public act was against India’s hydro hegemonic erection, The Long March of the Farakka Dam in 1976, which is arguably the last time a Bangladeshi politician was taken seriously in the Lok Sabha.

Like a Prophet Moses, he died before he could take his people to the promised land of true independence. Jami, a Naqshbandi Persian wrote a couplet that speaks to this journey.

The Naqshbandiyya are strange caravan leaders

Who bring the caravan through hidden paths into the sacred sanctuary

6th of May 2013 – A War Against Whom?

In London in recent weeks, Kamal Ahmed, former BBC Bengali Service Editor and regular Prothom Alo contributor, made an interesting statement at a presentation with Frances Harrison at the International Institute for Strategic Studies (IISS), ‘Political Islam and the issues at stake in the Bangladeshi elections’. He said that a ‘choice will need to be made soon, whether democracy is good or Islamist forces should be tackled’. Such a proposition presupposes that the state is being threatened by a rising tide of Islamism. But, is society being radicalised, or are state institutions and elites are becoming more radically alienated from the citizenry?

In Dhaka, in the early hours of Monday 6th of May, a journalist reported the commanding officer of about two thousand, armed police and paramilitary troops pumping up his subordinates with the words ‘Are you all prepared to go to war?’ The massacre that followed, against unarmed and mainly sleeping protesters tired from a long day’s demonstration, was covered up, and remains shrouded in both public denial and fear. Two outspoken TV stations and a popular newspaper were shut down by the government at the time and it is alleged that between scores and hundreds of unarmed protesters were killed. Subsequent investigations have been hampered by the arrests of human rights investigators, not to mention fundamental elite disinterest. Reading the pages of the corporate media, as well as the selective pronouncements from civil society and their ‘development partners’, we could be forgiven if we were to conclude that such a brutal crackdown was universally sanctioned and supported.

The immediate municipal electoral defeats of the Awami League in municipal elections and their general unpopularity express a wide-scale revulsion amongst the population with regards to the massacre. Preliminary investigations have shown that the protests attracted the presence and support of more than the community madrassa sector. People from very different walks of society were killed, injured and terrorised, from labour activists and journalists to a student at an elite engineering university. In one unverified report, a leading Awami League party member from the greater Noakhali region lost three of his nephews. It is as if the institutions that were supposed to protect the citizenry suddenly turned upon them.

Overnight, the native became the alien in the eyes of state institutions. Investigations have revealed that contrary to the official narrative of a clean crowd control operation, protestors were misdirected by security forces to cordoned off ambush zones, and were subsequently set upon. This is a familiar terror tactic commonly used by security forces in Indian Occupied Kashmir and reported by survivors of the 2002 Gujarat Massacre.

The above inversion, of government turning on its citizens was replicated by wider civil society leaders, who instead of championing the violated rights of their citizenry, either remained in complicit silence or cheered on the security forces. In a scene pulled out of Macbeth, we had the human rights Lady, Sultana Kamal, head of the donor financed human rights organisation Ain o Salish Kendra, egging on the security forces to ‘eradicate’ the Islamists. This outburst was followed a few days by protest leader Junaid Babnugari being shifted from police custody to a critical care unit and having a leg amputated due to mistreatment at the hands of the security forces. With civil society in Bangladesh emerging as a simple extension of state terror, questions need to be asked about how such an arrangement has come about and what sustains it.

The Parable of the Boy and the Tiger: From Ahsan to Lewis

Yann Martel’s ‘Life of Pi’ was inspired by the Moacyr Scliar’s earlier novel, ‘Max and the Cats’, a story that worked with the allegory of the rise of European fascism. After several conflicts between the Big Cat and the Boy, a fight to the death and rescue, it appears that the Big Cat was a projection of the Boy’s imagination, an inner demon.

The Boy and the Tiger: Life of Pi

The Boy and the Tiger: Life of Pi

This also appears to be the case for a lot of the parochial war on terror industry spokespeople such as Syed Badrul Ahsan, and their international harmonisers in the guise of David Lewis, the myth of an Islamic Militancy plays the similar role of the Tiger.  This phantom of a rising militancy, gives them a get out jail card for analysing the dysfunctionality of politics in Bangladesh and their own personal intellectual failings. This paper Tiger is also reflected in the Indian government’s diplomatic stance, as the New Age newspaper recently pointed out, they know that in reality there is no real threat of an Islamic Militancy, but the myth serves as fig leaf for its own diplomatic incompetence of hoisting it colours so publicly to the increasingly unpopular Awami League.

Yes there is violence against minorities, yes there are hindrances to speech and discourse. But it is the followers of secular political parties that have attacked minorities, not seminary students or followers of a sufi pir. It is the secular courts and security forces that lock up and tortured newspaper editors and online activists, not some obscure religious court.

The evident and underlying tensions in Bangladeshi society are not due to a rising Islamic militancy, but due to the alienation of the ruling elite from the population and a breakdown in state institutions. This breakdown is exemplified by the controversy over the International  Crimes Tribunal and the recent ‘judicial murder’ of Abdul Quader Mollah. The myth of an Islamic militancy is being used as band aid to cover these ever widening cracks in society, between self-appointed leaders and the people. As an old saying goes, “beware who you point the finger at, for when you point the figure at someone or something, there are three fingers pointing back at you.”

Religion is not an anathema but a defining factor in the modern story of Bangladesh. This journey began with the Composite Nationalism of Hussain Ahmed Madani, and was sustained by the selfless activism of Maulana Bhashani as well as the conciliatory Bangladeshi Nationalism of Zia ur Rahman. The recognition of Islam in the constitution by the BNP and its allies is a view shared by the majority of grassroot activist in the AL, and so the journey still continues.

To conclude, Shahbag and its antecedent of high and exclusive West Bengal orientated nationalism is not the logical outcome nor endpoint of the Bangladesh story, but it is a reaction against its natural course.

Or as the sufis say,

The dogs start barking, when the caravan starts moving….

তোমরা যারা বিএনপি বিদ্বেষী

খোমেনী ইহসান:
‘তোমরা যারা বিএনপি করো’ শিরোনামে ব্রাদার মনোয়ার রুবেল অনলাইন দৈনিক ‘বাংলানিউজ২৪ ডটকম’ এ একখান প্রচারণাপত্র লিখেছেন। মনোয়ার তার এই লেখায় অনেকখানি চক্রান্ত বিদ্যা চর্চা করেছেন। যা এই কারণেই হাস্যকর হয়েছে যে, বিএনপির লোকেরা তার কোনো কথাই গ্রহণ করবে না। মনোয়ার একবুক বিএনপি বিদ্বেষকে গোপন করে বিএনপি দরদী সাজলেও দলটির নেতাকর্মীদের আবেগানুভূতির প্রতি সামান্যতম সংহতিও দৃশ্যমান করতে পারেননি। বরং তিনি বিএনপির লোকেদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর লোকদের রাজনৈতিক ফারাক সূচিত করতে গিয়ে অসম্মান ও বিদ্বেষই জারি রেখেছেন।

খেয়াল করে দেখি মনোয়ার কী করছেন। তিনি লিখেছেন, ‘তোমরা বিএনপি/ছাত্রদল করো তারা হয়তো একটি জিনিস নিশ্চয়ই জানো, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি দল। শহীদ জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা। জিয়াউর রহমানের বীরত্বগাথা যুদ্ধের কাহিনী স্কুলগুলোতে পড়ানো হয়।’ মনোয়ার চালাকি করে সম্মান দেখানোর নামে জিয়াউর রহমানের প্রতি তাদের বিদ্বেষকে ঠিকই জারি রেখেছেন। কারণ যারা জিয়া বিদ্বেষী তারা তাকে শুধু মুক্তিযোদ্ধা মনে করে। বিদ্বেষের মধ্যে একটু উদারতা দেখাতে গিয়ে তারা কষ্ট করে স্বীকার করে যে জিয়া মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। কিন্তু জিয়া শুধুই মুক্তিযোদ্ধা বা সেক্টর কমাণ্ডার নন। জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। তার ঘোষণার মাধ্যমেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে আওয়ামী লীগের নেতারা পালিয়ে যান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী হানাদারদের তত্ত্বাবধানে গ্রেফতার বরণ করেন। অপারেশন সার্চ লাইটের তাণ্ডবে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রাণ্তে অগুণতি বাংলাদেশির লাশ ছড়িয়েছিটিয়ে পড়েছিল। বিপুল শোক, স্বজন হারানোর আহাজারি আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও দিক নির্দেশনাহীনতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় মুক্তিকামী জনতা। এ অবস্থায় বাংলাদেশের আপামর জনগণকে ইতিহাসের উত্থানপর্বে উন্নীত করতে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে এলেন মেজর জিয়া। প্রথমে তিনি নিজের নামেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনই যার প্রধান লক্ষ্য, তিনি কূটরাজনৈতিক বিবাদকে দানা বাধতে দিতে পারেন না। তাই পরের ঘোষণায় তিনি স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও অন্তর্ভূক্ত করে নিলেন। তার নামে নতুন করে ঘোষণা দিলেন। যার ফলাফল হলো জিয়ার প্রথম ঘোষণায় উজ্জীবিত জনগণ আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ়তার জমিনে আরো বেশি সিনা টানটান করে দাড়িয়ে গেলো। ইতিহাসের দুর্দান্ত সময়ে জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যে মহান কর্তব্য পালন করেছেন, যে সেনাপতিসুলভ প্রজ্ঞা দেখিয়েছেন এবং স্বাধীনতাকামী জনগণকে শোক-বেদনা-হতাশা উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধে শামিল হতে উদ্বুদ্ব করেছেন তার প্রতি বাংলাদেশের গণমানুষের বিপুল সমর্থন, সংহতি ও শ্রদ্ধা রয়েছে। জনগণের এই শ্রদ্ধাকে বিএনপি/ছাত্রদলের সব নেতাকর্মীই অন্তরে ধারণ করেন।

কাজেই জিয়াকে যখন শুধুই মুক্তিযোদ্ধা সম্বোধনে বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপদেশ খয়রাত করা হয় তখন তারা দেখতে পান উপদেষ্টাবন্ধুর মুখোশধারী লোকটি আসলে জিয়া বিদ্বেষী। কারণ এই দেশে যারা জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক স্বীকার করেন না তারা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি কী মনোভাব পোষণ করে তা আর অজানা নয়। এই বিদ্বেষীদের অনেকেই তো সংসদে, সংবাদ সম্মেলনে, জনসভায় শহীদ জিয়াকেজ স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অস্বীকার করেছেন। বলে বেড়িয়েছেন জিয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। শহীদ জিয়া নাকি আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার অভিনয় করেছেন। তারা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে এই মিথ্যাচারই করছেন না। তারা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ভূমিকার জন্যও জিয়াকে অপবাদ দেন। তারা বলেন জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য দায়ী। জিয়া সেই সময় সেনাবাহিনীর উপপ্রধান ছিলেন। ৫ আগস্ট ভোরে বঙ্গবন্ধু নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য সাহায্য চেয়ে তাকে ফোন করেননি। বঙ্গবন্ধু ফোন করেছিলেন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে।তিনি মুখের উপর বঙ্গবন্ধুর জীবন বাচাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। সেই শফিউল্লাহ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ক্যুদেতাদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। বিদেশে রাষ্ট্রদূতের চাকরি নিয়ে দেশ ছেড়ে গেছেন। কিন্তু শফিউল্লাহ আওয়ামী লীগের কাছে উপেক্ষিত থাকেননি।তিনি দলটির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জিয়া বিদ্বেষীরা অভিযোগ করেন তিনি রাজাকার-আলবদরদের রাজনীতিতে পুনর্বহাল করেছেন। কিন্তু তারা বলেন না যে জিয়া একাজটি করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর নীতির ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে। তার এই কথা ধামাচাপা দিতে গিয়েই আড়াল করে যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার-দালালদের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাকে। বঙ্গবন্ধু সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার না করে পাকিস্তানের সাথে সমঝোতার চুক্তি করেছিলো। মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ভুট্টোর সাথে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু গলাগলি ও কোলাকুলি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বিনা বিচারে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল কারবন্দি হাজার হাজার রাজাকার-দালালদেরকে। তারা শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়ার নজিরকে সামনে এনে শহীদ জিয়া বিরোধী যে প্রচারণা চালান তার মধ্যে কোন উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয় তাও তো কারো অজানা নয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম, সংবাদপত্র, বিচার বিভাগ ও বাক স্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে জাতীয় জীবনে নৈরাজ্য ও হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরির ফলে বাংলাদেশে জাতীয় সংহতি বিনষ্ট হয়েছিল। দেশ নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল আমাদের জন্মভূমি। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মহান সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ জিয়ার কাঁধে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্বভার অর্পিত হয়েছিল। জাতীয় সংহতির পথ উন্মোচিত করতে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্র-বিচার বিভাগ-বাক স্বাধীনতা কায়েম করেছিলেন। তিনি বাকশালে বিলুপ্ত আওয়ামী লীগ ও সিপিবিসহ সব রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। জিয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও দেশে ফেরত এনে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছেন।

জিয়া বিদ্বেষীরা অভিযোগ করেন জিয়া জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলছি স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকার যে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল তার প্রমাণ দেখান। তিনি ভারতের সাথে কলা ২৫ সালা গোলামীর চুক্তি মোতাবেক সংবিধানে জোর করে ধর্মনিরপেক্ষতা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। এর ফলে জামায়াত রাজনীতি করার সুযোগ হারিয়েছিল কিন্তু তিনি তো কখনোই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেননি। সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি বাঙ্গালীর জাতীয়তাবাদকে সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। অথচ বাংলাদেশে আরো কমপক্ষে ৫০টি জাতি সত্ত্বা রয়েছে। তারপরেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাংবিধানিকভাবে সাম্প্রদায়িকতা কায়েম করা হলে। অথচ বাঙ্গালীদের মতো বাংলাদেশে মুসলমানরাও সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের ধর্মকে উপেক্ষা করে ধর্মনিরপেক্ষতা কায়েম হতে পারে না। সত্যিকারের সেক্যুলার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাইলে এটা সম্ভব নয়। এ কারণে জিয়া ইসলামপন্থী দলগুলোকেও জাতীয় ঐক্যের মধ্যে আসতে দিয়েছেন। এটা তার অপরাধ ছিল না, বরং তার সুদূরপ্রসারী ঐক্য চিন্তার সৌন্দর্য্য। জাতীয় ঐক্য ও সংহতির মতো মহান লক্ষ্যের জন্য জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে রাজনীতি করতে দেয়ায় বিএনপি ও জিয়া বিদ্বেষীরা অপরাজনীতি করে বেড়ায়। অথচ তারা তো একবারও বলেনা যে শুধু বিএনপি বিরোধী আন্দোলন করতে ও ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগ কিভাবে জামায়াতের সাথে এক টেবিলে বসে রাজনীতি করে।কিভাবে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করে? কিভাবে অধ্যাপক গোলাম আযমের কাছে আওয়ামী লীগ দলীয় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দোয়া আনতে যায়? আওয়ামী লীগের ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করা যদি দোষের না হয় তবে জিয়ার সিদ্ধান্ত কেন মহাননুভবতা হিসেবে স্বীকৃত হবে না?

মনোয়ার রুবেল তার লেখার সমালোচনার কারণে বিএনপি ও ছাত্রদলের লোকদের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের সাথে সুর মেলানোর অভিযোগ করেছেন। তার এ অভিযোগ অপবাদই নয় শুধু বিএনপি ও জিয়া পরিবার বিরোধী চক্রান্তেরই অংশ। কারণ আমরা দেখেছি গত ৫টি বছর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাতে গিয়ে প্রায় সময়েই জিয়া বিদ্বেষীরা বলেছে বিএনপি ও জামায়াত একই রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী। তারা স্বাধীনতার ঘোষক ও দেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার দলকে বলে বেড়ায় পাকিস্তানপন্থী দল। এসব অপবাদ তো শুধু অপবাদ ছিল না। এই অপবাদ ছিলো বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ইশতেহারের অংশ। তাইতো আমরা দেখি তারা খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে নিষ্ঠুরভাবে ঈদের আগে উচ্ছেদ করেছে। অথচ রাষ্ট্রের কাছ থেকে বরাদ্দ পেয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ঢাকায় বাড়ি করেছেন। তার বাড়ি কিন্তু বহাল আছে। সরকার মুজাহিদ পরিবারকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ দূরে থাক, এ জন্য একটি শব্দও খরচ করেননি জিয়া বিদ্বেষীরা। আমরা দেখেছি বিদ্বেষীরা কিভাবে দিনের পর দিন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও কোকোকে অপবাদ দিয়েছে। তারেকের বিরুদ্ধে তারা আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআইয়ের লোকদের সাক্ষী হিসেবে উড়িয়ে এনে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন তিনি দুর্নীতিবাজ। কিন্তু আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে তারেক নির্দোষ। আদালতের এই ঘোষণার পর কিন্তু তারা একবারও ‘সরি’ বলেনি।

আজকে বিএনপি ও জামায়াতের সুর এক হয়ে গেছে বলে তারা অভিমান করছেন। ছাত্রদলের ছেলেরা শিবিরের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে কথা বলছে বলে গোস্বা করছেন। কিন্তু বিএনপি সব সময় জানিয়েছে তাদের আদর্শ বাংলাদেশী জাতীয়তবাদ। তারা জামায়াতের সাথে আদর্শিক ঐক্য নয়, ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের জোট করেছে। যার প্রমাণ আমরা বিএনপির কথা ও কাজে দেখেছি। কিন্তু যারা আজ বিএনপি দরদী তারা কি বিএনপি ও জামায়াতের সাথে কোনো ফারাক করেছে? তাহলে জামায়াত-শিবিরকে হত্যা-গুমের মতো করে তারা বিএনপি বা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হত্যা-গুম করে? বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল মনে করার নমুনা কি ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, ছাত্রদল নেতা আশিককে গুম করা? মাঝরাতে মই বেয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে অনুপ্রবেশ করে রিজভী আহমেদকে তুলে নিয়ে যাওয়া? ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এমকে আনোয়ার, ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, আসম হান্নান শাহকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি করে রাখা? ছাত্রদল ও শিবিরের সাথে পার্থক্য করার মানে কি ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ও হাবিবুর রশীদ হাবিবকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি করে রাখা। গত এক মাসে ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছেন। আমরা দেখিনি কেউ ছাত্রদলকে শিবিরের থেকে আলাদা ছাত্রসংগঠন মনে করে তাদের পক্ষে দুটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন।

সত্যি কথা কি, আওয়ামী লীগ বিনা ইশতেহারে, প্রতীকে, ভোটে যখন ১৫৪টি আসনে নিজেকে বিজয়ী করে ফেলে তখন কূটনীতিকরা হতভম্ব হয়ে যান। তারা সেই সরকারের আমন্ত্রণে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে হাস্যকর সরকারের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকেন। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এর কূটনৈতিক মূল্য বুঝেন। তাই যারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষে থাকার কথা বলে ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থার পক্ষে নির্লজ্জভাবে অবস্থান নেয় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রতিবাদী বক্তব্যকে অনুধাবন করে ফ্যাসিবাদকে সমর্থনের জন্য যখন কেউ দুঃখিত-লজ্জিত না হয়ে যখন বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জামায়াত/শিবির করার জন্য অভিযুক্ত করা হয় তখন সব কিছু পষ্ট হয়ে যায়। বিএনপি ও জিয়া পরিবার বিদ্বেষীরা আজ আস্তিনে খঞ্জর লুকিয়ে ভালো সাজতে এসেছে! কিন্তু তাদের কথা শুনে বিএনপি/ছাত্রদল নিঃস্ব হয়ে পড়লে যে খঞ্জর নিয়ে ঝাপিয়ে পড়বে না তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য নজির নাই।

মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি, তবে…

1

অতিথি লেখক- খোমেনী এহসান 

আমি আগের কোনো একটা লেখায় বলেছিলাম যে দেশে ৬৯ এর মতো গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমি আজকের লেখায় বলছি দেশে ১৯৭১ এর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতোই রাষ্ট্রের পক্ষের (পাকিস্তানের বদলে এখন বাংলাদেশ) হানাদার বাহিনী ও রাজাকারেরা দেশের নানান জায়গায় স্বৈরশাসক ( ইয়াহিয়া খানের বদলে শেখ হাসিনা) বিরোধীদের বাড়িঘরে হানা দিচ্ছে। বিরোধীদের দেখামাত্রই গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে।এসবই ফ্যাক্ট। ঘটনা। বাস্তবতা। গণমাধ্যম প্রচার করুক বা না করুক। ঘটনা ঘটছে। মানুষ খুন হচ্ছে। গণহত্যা হচ্ছে। ক্লিনজিং চলছে। নির্মূলাভিযান। ১৯৭১ এও প্রচার নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। ধামাচাপা দিয়েছে গণমাধ্যম। কিন্তু হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি।
২.
আমি খুব বেশি আবেগতাড়িত থাকতে পারছি না। তাই বলছি, নাগরিকদের বিরুদ্ধে স্বৈরশাসকদের যে ভূমিকা তা শুধু শেখ হাসিনাই পালন করছেন না। এই ভূমিকা স্বাধীন বাংলাদেশের সব সরকারই কমবেশি পালন করেছে।এটা বুঝতে হলে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফের বদলে ধর্ম বা জাতীয়তাবাদ দিয়ে গঠিত রাষ্ট্র মাত্রই জুলুমের রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্রের সব সরকারই স্বৈরশাসন চালায়। কেউ বেশি চালায় আর কেউ কম চালায়। মাত্রা কমবেশির কারণে আমরা স্বৈরশাসন নিয়ে আবেগ তাড়িত থাকি। শেখ মুজিবকে ভালোবাসি বা জিয়াকে গালি দেই। আবার জিয়াকে ভালোবাসি বা শেখকে গালি দেই। একইভাবে শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি বা খালেদা জিয়াকে গালি দেই। আবার খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি বা শেখের বেটিকে গালি দেই।

কিন্তু ইয়াহিয়া খানের শাসন, পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্র, পাকিস্তানী আর্মি-পুলিশের মতো হানাদার বাহিনী ও দালাল-রাজাকারদের চিনে নেওয়ার জন্য একটি বিষয়ই যথেষ্ট। রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধায়নে নাগরিকদের হত্যা। ব্যস, চেনা হয়ে গেলে। লাশ দেখে আমরা রাষ্ট্রকে চিনে নিতে পারি। আমার ভাই ১৯৭১ এ না ২০১৩ এ খুন হয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ কে খুন করছে। কে আমাদের বুকে বন্দুক তাক করে রেখেছে। নিশ্চয় চূড়ান্ত ধান্দাবাজ জালেম ছাড়া কেউ এ কথা বলতে পারে না যে পাকিস্তানীদের হাতে খুন হতে কষ্ট লাগে, আর বাংলাদেশীদের হাতে খুন হতে আরাম লাগে। খুনের স্বাদ সব স্থান কাল পাত্র ভেদে একই। যেমন মায়ের দুধের স্বাদ, মা ইংরেজ না বাঙালী ভেদে আলাদা নয়।
৩.
মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি বিরাজ করলেই যে সব সময় মুক্তিযুদ্ধ চলে এটা ঠিক নয়। দুনিয়া জুড়েই মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশেও স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪২ বছর ধরেই মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ হয়নি।
শেখ মুজিবের সময় শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার চেষ্টা করেছিলেন। পারেননি। জিয়ার সময় চেষ্টাও ছিল না। সেনাবাহিনীতে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শুধু লাশ পড়েছে। এরশাদের সময় একটা চেষ্টা ছিলো। সেনাশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াই। ছাত্ররা নতুন গঠনতন্ত্রের আওয়াজ তুলেছিলেন যদিও। কিন্তু গণতন্ত্রের লড়াই শেষ পর্যন্ত ত্রিদলীয় জোটের রূপরেখায় এরশাদের শাসনের বৈধতা, ধারাবাহিকতার নামে বিদ্যমান সংবিধান বহাল রাখা ও সামন্ত প্রভুদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে পরিণত হয়েছে।
অত্যন্ত নোংরা কাজ হয়েছে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সরকারগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়। এখানে জনগণের পক্ষে কোনো দাবি দাওয়া ছিল না। বিরোধী দলের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন হয়েছে। সরকারগুলান টিকে থাকতে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে একবারই সুযোগ এসেছিল। এক এগারর সেনা-সুশীল শাসনের দুই বছরের সময়। কিন্তু ছাত্ররা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। রাজনৈতিক দলের ভাড়া খাটার দাস মানসিকতা আর নতুন রাষ্ট্র গড়ার বাসনার অনুপস্থিতিই এর কারণ।
৪.
মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্যমান হওয়া নাগরিকদের রাজনৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। এটা অবশ্য করতে হয় রাজনৈতিক দলকে। ১৯৭১ এ এটা শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সম্ভব করেছিল।আজ আমরা স্বীকার করতে চাই যে, মুক্তিযুদ্ধটা সম্ভব হয়েছিল সত্যিকার অর্থেই শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের কারণে। ধরেন শেখ মুজিব ভুট্টোর সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে রাজি হলেন। তাহলে কি মুক্তিযুদ্ধ হতো? হতো না।কে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবে, কে গোটা পাকিস্তান শাসন করবে এই প্রশ্নের সুরাহা না হওয়ায় যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তা ঠিক না। পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার যে দ্বন্দ্ব তাকে ক্ষমতার জায়গার চেয়ে জাতিগত দ্বন্দ্ব হিসেবে হাজির করতে পেরেছিল আওয়ামী লীগ। তারা শুধু এট হাজিরই করেনি। বরং তারা গোটা পাকিস্তানের মসনদে আওয়ামী লীগের বসতে পারা না পারারা প্রশ্নকে পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির প্রশ্নে পরিণত করেছিল।
আমরা দেখতে পেলাম পশ্চিম পাকিস্তানীরা রাজনৈতিকভাবে সমঝোতার বৈঠকে এ প্রশ্নের সুরাহা করতে পারেনি। তারা বরং বন্দুকের জোরে এই প্রশ্নের জবাব দিতে চেয়েছে। যার ফলে মুক্তিযুদ্ধ হয়ে গেল। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হলো। শেখ মুজিব কী পেলো, আওয়ামী লীগ কী পেলো এটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ না। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার স্বাদ পেতে গিয়ে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপহার দিয়েছে। এখন এই স্বাধীনতাকে আমরা কতখানি অর্থবহ করতে পারি সেটার সাফল্য ব্যর্থতা আমাদেরই। আওয়ামী লীগ তার চাওয়ার মধ্যেই খাবি খাবে এটাই স্বাভাবিক।
৫.
তাহলে আমরা এ আলোচনার উপসংহারে পৌছাতে পারি। বিরোধী দলও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার দাবি তুলে আন্দোলন করেছে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের প্রশ্নটি সরকার রাজনৈতিকভাবে সমঝোতার বৈঠকে সুরাহা করতে চায়নি। তারা ইয়াহিয়া খানের মতো বন্দুক বেছে নিয়েছে।ইয়াহিয়ার মতোই এ সরকারের তাকত। কারণ ইয়াহিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যেমন ছিল তেমনি শেখ হাসিনার পাশে ভারত আছে। তবে ভারত অপেক্ষাকৃত দুর্বল, শেখ হাসিনাও দুর্বল। তাই ১৯৭১ এর মতো বড় গণহত্যা হচ্ছে না। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো বিরোধী দল নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিকে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নের বাইরে বড় পরিসরে হাজির করতে পারেনি। তারা বলতে পারছে না যে কেন শেখ হাসিনার বদলে তাদের ক্ষমতায় আনতে হবে। তাদের ক্ষমতায় আনলে শেখ হাসিনার চেয়ে আলাদা কী উপহার দেবে তারা?
দুঃখের বিষয় খালেদা জিয়া মাঝেমধ্যে নানা সংবাদ সম্মেলনে বা জনসভায় এই প্রশ্নের একটা গোজামিলের জবাব দেন। তিনি বলেন ক্ষমতায় গেলে শেখ হাসিনার চেয়ে কম মাত্রায় শোষণ জুলুম করবেন। তাই তো তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে তারা ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার সরকার করবেন। দুর্নীতি করবেন না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করবেন, সব গণমাধ্যমকে সুযোগ দেবেন। কিন্তু খালেদা জিয়া কিন্তু একবারও বলেন না স্বৈরতান্ত্রিক সংবিধান বদলাবেন, র‌্যাব ভেঙ্গে দেবেন, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার করবেন, বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থা বাতিল ও দুর্নীতিবাজ দলীয় বিচারপতিদের বিচার করবেন। এমনকি তিনি বলেন না যে সাংবিধানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী পদকে যেভাবে হিটলারের মতো নাৎসীগিরি করার সুযোগ দেয়া হয়েছে তা থেকে তিনি বিরত থাকবেন এবং তিনি এই অসহ্য ক্ষমতাকে তিনি হ্রাস করবেন। তিনি বলেন না যে ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করবেন। তিনি বলেন না রাষ্ট্রের সর্বত্র না পারেন অন্তত ক্ষমতাসীন দলে তিনি গণতন্ত্র কায়েম করবেন।কাজেই মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতিতে অসংখ্য মানুষের খুন দুঃখজনক অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন আমাদের কাজ হলো এই সব খুন বন্দ করা এবং বিরোধী দল-সরকারের মধ্যে সমঝোতা করা।
মুক্তিযুদ্ধ হলে আমরা অবশ্য নিজেরাই মুক্তিযোদ্ধা হতে পাত্তুম।