ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবি হত্যা, কিছু প্রশ্ন

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে কতজন বুদ্ধিজীবিকে হত্যা করা হয়েছিলো? সাধারন বাংলাদেশীদের মনে সম্ভবত এই সংখ্যাটি বেশ বড়ো, তবে সেটা ব্যাক্তিভেদে যে কোনো কিছু হতে পারে। অনেকেই মনে করেন এই সংখ্যা শত শত, কিংবা হাজার হাজার। এই বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া দুষ্কর। কিছু কিছু তথ্য যা সহজে পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে,

১৯৭১ এর ডিসেম্বরে মে: জেনারেল রাও ফরমান আলীর ডাইরীতে করা ২৫০ টি নামের তালিকা যাদেরকে হত্যার টার্গেট করা হয়েছিলো(1)। বাংলাপেডিয়া’র বুদ্ধিজীবি গনহত্যা পাতায় বলা হয়েছে যে ১৬ই ডিসেম্বরের তিন চারদিন আগ থেকে বুদ্ধিজীবি হত্যার কার্যক্রম শুরু হয় এবং ১৪ই ডিসেম্বর রাতে ২০০ জনেরও বেশী বুদ্ধিজীবিকে তাদের বাসা হতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় (2)।এছাড়া আরো দেখা যায় ১৯৭১ এর ডিসেম্বর ২২ তারিখে আজাদ পত্রিকার একটি সংবাদ যেখানে ভারতের আকাশবাণীকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশ সরকারের একজন কর্মকর্তা, রুহুল কুদ্দুস, বলেন যে কমপক্ষে ২৮০ জন পেশাজীবি ও বুদ্ধিজীবিকে ডিসেম্বরের ১৪ ও ১৫ তারিখে হত্যা করা হয়েছে ঢাকা, সিলেট, খুলনা ও ব্রাম্মনবাড়িয়ায়(3)।  এই রকম আরো কিছু তথ্যের ভিত্তিতে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক যে ডিসেম্বরের ১২-১৫ তারিখের মধ্যে ঢাকায় ও সারাদেশে কয়েকশত বুদ্ধিজীবি হত্যা করা হয়েছে।

আমরা মোটামুটি সবাই জানি যে ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবি হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়া সবচেয়ে কুখ্যাত ঘাতক হলো সেই সময়ে ইসলামী ছাত্র সংঘ নেতা ও আল বদর নেতা চৌধুরী মইন উদ্দীন এবং আশরাফুজ্জামান খান।  এদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে অভিযোগ ও মামলা করা হয়ে এবং অভিযুক্তরা পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদন্ড শাস্তি পায়। এই শাস্তিটি তাদের অপরাধ অনুযায়ী কোনক্রমেই অবাক করার মতো কিছু নয়, কিন্তু অবাক করার মতো ব্যাপার হলো যে ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবি হত্যায় নেতৃত্ব দেয়া এই দুই অপরাধীর বিরুদ্ধে যখন প্রসিকিউশন চার্জ গঠন করে তখন তাদের কে কেবল মাত্র ঢাকায় ১৮ জন বুদ্ধিজীবি হত্যায় অভিযুক্ত করা হয় (4)। প্রসিকিউশনের রিপোর্ট বলে যে এই ১৮ জন বুদ্ধিজীবির মধ্যে রয়েছেন ৯ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ৬ জন সাংবাদিক ও তিন জন চিকিৎসক।

আমরা অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি যে প্রতি বছর ১৪ই ডিসেম্বর আসলে শত বুদ্ধিজীবি হত্যার কথা বলা হয়, রাও ফরমান আলীর শত জনের লিস্টের কথা বলা হয়, কিন্তু পত্রিকায় নাম ও ছবি আসে ১৫ থেকে ১৯ জনেরই মাত্র। নামসহ যাদের ছবিটি উপরে দেয়া হয়েছে। আমরা আরো দেখলাম যে কোর্টে মামলার জন্যে যখন সুনির্দিষ্ট তথ্যের দরকার পড়লো তখন প্রসিকিউশন মাত্র ১৮ জনেরই একটা লিস্ট হাজির করলো, যে লিস্টটি খুব সম্ভবত প্রতি বছর ১৪ই ডিসেম্বরে পত্রিকার লিস্টটির অনুলিপি মাত্র।

 

এই থেকে আমাদের মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে ১৪ ই ডিসেম্বর কতজন বুদ্ধিজীবিকে হত্যা করা হয়েছে? এই ১৮ জন ছাড়া আর কাকে কাকে হত্যা করা হয়েছে? তাদের নাম, ছবি আমরা ১৪ই ডিসেম্বরে কেনো দেখি না? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আজকেই পত্রিকার পাতায় (১৪/১২/১৪)। আজকের New Age পত্রিকায় বলা হয়েছে পুরো ১৯৭১ এ কতো জন বুদ্ধিজীবি হত্যা করা হয়েছে এ সম্পর্কে জাতির কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের কাছে কোনো পূর্নাংগ লিস্ট নেই তবে কিছু সরকারী ও ব্যক্তিগত এস্টিমেশন রয়েছে যার সংখ্যার রেন্জ ২৩২থেকে ১১১১ পর্যন্ত(5)। আজকের The Daily Star এ বলা হয়েছে যে এই বছর ৭ই ফেব্রুয়ারী আওয়ামী লীগ সরকার পার্লামেন্টে ঘোষনা করেছিলো যে ২০১৪ এর জুন মাসের মধ্যেই ১৯৭১ এ শহীদ সকল বুদ্ধিজীবির একটি পূর্নাংগ তালিকা প্রকাশ করবে (3)। জুন পেরিয়ে এখন ২০১৪শেষ হবার পথে, তবে সেরকম কোনো লিস্ট দেখা যাচ্ছে না।

 

উপরে New Age পত্রিকায় যে ১১১১জনের কথা বলা হয়েছে সেটি সম্ভবত বাংলাপেডিয়ার এস্টিমেট। এই এস্টিমেট অনুযায়ী পুরো ১৯৭১ এ নিহত বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে ২১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবি ও প্রায় ৯৫০ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাতীত বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক রয়েছেন(2)। তবে এটি একটি ব্যাক্তিগত এস্টিমেটই, কোনো নির্ভরযোগ্য তালিকা নয়। আজকের New Age পত্রিকায় স্বয়ং শাহরিয়ার কবিরই বলেছেন যে বুদ্ধিজীবি হত্যার কয়েকটি কেস ছাড়া অধিকাংশ তথ্য ও অভিযোগের উপরে কোনো রিসার্চ করা হয় নি (5)।

 

১৯৭১ এর পরে আরো তেতাল্লিশটি ১৪ই ডিসেম্বর আসলেও আমরা এখনো এই প্র্শ্নের উত্তর দিতে পারি না যে ১২-১৫ ই ডিসেম্বর কতো জন বুদ্ধিজীবিকে হত্যা করা হয়েছে? পরিচিত ১৮ জনের বাইরে আর কাদের হত্যা করা হয়েছে? তাদের নাম ছবি কেনো আমরা দেখি না কোনো ১৪ ই ডিসেম্বরে?

 

আমাদের দেশের লোকের একটু লিস্টের ব্যাপারে এলার্জি আছে এটা মেনে নিয়েও বলা যায় লক্ষ-মিলিয়নের লিস্ট না হোক, হাজার জনের লিস্ট তো করা যেতেই পারে, তাই না?

 

[ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবি হত্যা নিয়ে সমর্থিত-অসমর্থিত সকল রকম সংবাদ ও বিশ্লেষনের একটা ভালো সংগ্রহ রয়েছে চৌধরী মইনউদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান এর বিচারের রায়ে। দেড়শ পাতার এই রিপোর্টের পিডিএফ কপি রয়েছে এই লিংকে। https://www.dropbox.com/s/3xckpr73pyzap4p/bangladesh_tribunal_chowdhury_mueenuddin_judgment.pdf  ]

 

Reference

(1) http://www.genocidebangladesh.org/?page_id=32

(2) http://www.banglapedia.org/HT/K_0330.htm

(3) http://www.thedailystar.net/cold-killing-design-55227

(4) http://www.dhakatribune.com/bangladesh/2013/oct/31/mueen-ashraf-verdict-sunday

(5) http://newagebd.net/76478/no-complete-list-of-martyred-intellectuals-44-years-on/#sthash.PcYoLBRk.dpbs

China and India: Leadership in Contrast

1

by Shafiqur Rahman

The Indian Election results are astounding, and that is a euphemism. All the wishful thinking and self-justifying commentaries from secular intellectuals proved to be just that, self-deluding. Even as the exit polls carried on the tradition of failing to capture the complexity of electoral preference of Indian voters, they failed not in predicting the BJP victory but failing to gauge the magnitude of the victory. In terms of representative democracy, this is truly an epochal election in India. There is virtually no main opposition party in the Parliament. Sansad Bhaban, the house of Parliament of India, is really the house of Mr Modi now.

Two things stand out to me in the post-quake landscape of Indian politics. First, with barely 38% of the votes the BJP led coalition now commands 62% of the total seats. With support from one or two smaller regional parties, the NDA coalition can comfortably cross over the hallowed 67% or two third Special Majority mark. And with Special Majority, Emergency Proclamation, Amendment of the Constitution via article 368, Removal of Supreme Court Judges, Removal of President etc. are all within the grasp of an NDA government led by Mr Modi.

This election has been all about Mr Modi and India is now his oyster. Rarely in recent Indian history have hopes and fears of billions of people in and around India been centered on a single personality like now. For his detractors, coronation of Mr Modi raises the spectre of the most notorious human cliché from 1930’s Germany. To his devotees, Mr Modi carries the ambition for an Indian Lee Kwan Yew; who will firmly taking charge of India Incorporated and unleash the dynamism to make the country a world economic and political superpower, not just in theory and potentially but in reality. What Mr Modi will think and do is ‘known unknowns’; to quote from the famous saying of Mr Rumsfeld. In short, dramatic change for better or worse is in the cards and with it entails huge uncertainty. Those who dismiss the potential for disruptive change in an established democracy like India do not pay sufficient heed to the confluence of charismatic and ambitious leadership, large and enthusiastic support from people and resourceful interests and power of mass media in shaping mass psychology; a conjunction that has shown its potency in recent history time and time again. And that brings us to the main thesis of this article, a high level glimpse on the stability and uncertainty of political leadership in democracy and other systems.

Rightly, in this purported Asian Century, all developments in India is compared and contrasted with China, currently the third and the second biggest economies by PPP. Throughout the last two decades, when China has been growing at unprecedented breakneck speed and India was developing at solid, respectable rate but was increasingly falling behind, both Indian and western political commentators comforted the worldwide adherents of plural politics by rationalizing that, while China’s growth is spectacular, it’s economy and society is increasingly in precarious position because of a forced marriage of an autocratic political system with a free-capitalistic economy. India on the other hand was regularly complimented because of the stability and robustness of its plural political system and diverse society. As we can see now that even established and healthy democracies can throw up great uncertainty in the form of unknowns focalized in a singular leadership, it is a good time as any to evaluate the Chinese political leadership during the transformational recent decades.

Chinese economic growth in the last three decades is an unprecedented macro event in recorded human history.  In 1980, real per-capita income of China was one fortieth of an US citizen and now it is almost one-fourth. Analysts say that China will overtake USA as the largest economy in within the next few years. The social change is no less outstanding; in 1980 only a fifth of Chinese people lived in cities, now more than a half does. These dizzying statistics of change often mask another remarkable thing, despite high and regular turnover of people at the apex, Chinese political leadership remained uniquely stable, continuous and focused during these years of tumultuous change. This stability is mainly due to the hierarchical and grouped structure of Chinese leadership and decision-making.

China’s political system is divided into three major institutions: the government, the Chinese Communist Party (CCP), and the military. The Party sits at the apex, subordinating all others. The Communist Party has 80 million members (5% of Chinese Population) and people only become member after a selective process that can take several years. The Party is organized into three major bodies: the Central Committee, the Politburo, and the Politburo Standing Committee. The Central Committee is comprised of 200 members who are elected in the Party National Congress which is held every five years. Committee members include senior party and government officials, different agency heads, military generals, provincial governors, head of State-owned companies etc. The Central Committee appoints the 25-man Politburo, which is then narrowed even further into a 5 to 9-man Politburo Standing Committee (PSC) that really runs the Party and the country.  Each PSC member generally in is in charge of a portfolio covering a major area such as the economy, legislation, internal security, or propaganda. Although most of the important policy decisions are often dictated from top down in this hierarchy, Central Committee does wield real power through the five years; it sets the direction of policy and leadership changes and ratifies them. There is intense politics and lobbying in the committee between different groups.

Top leader

The seven members of the Politburo Standing Committee (PSC) are ranked in order of primacy, from one to seven. The rankings do not exactly refer to the official post of the members, sometimes members do not hold any official post but still is ranked high and wields huge influence. Usually though, the President and the Prime Minister holds the first and second rank. The most important point of the PSC is that the person at the top is not the leader of the group but the first among equals. It is a consultative and collective decision making body, no one can impose a view upon others; a decision must garner substantial support from the members. The second important feature of the PSC is its regular turnover. There is an enforced retirement age of 68 which effectively limit the term of members, including the top ranked leader. Also leaders who fail to perform are often dropped after the first term or even within term.

The age limit not only curbs unchecked ambition of charismatic leaders but also initiates a long grooming process. The small number of promising people who can rise to the top must be given ministerial or provincial leadership positions in their early and mid-50s so that they can be ready for PSC when they are 60. Many Politburo members in China have been involved in business, corruption or other profit-seeking activities and became fabulously wealthy. But no matter how influential they become, no one can stay beyond the term limit. Also China is notoriously nepotistic; children and family of political leaders enjoy huge perks in all aspects of society. But no one can place their children in top political positions, everyone has to go the long and process of membership, committee, appointments and prove themselves consistently as leader and manager. Interestingly, Engineers and Technical people heavily dominated the previous Chinese top leadership; all members of the 16th PSC (2002-07) were engineers. But six out of the seven members of the current PSC (2012-17) are trained in social sciences. This reflects a more awareness of politics and society than just economic growth.

20-politburo-standing-committee

The gradual evolution to collective leadership has engendered several broad trends in Chinese statecraft. The most visible is the stability and continuity; Chinese policy direction does not make radical changes on whims of new leader but reflects deliberative and broad-based decision-making. This stability is highly prized by international and domestic businesses who regard uncertainty as a principal impediment to long-term business and economic planning.

Secondly, although China is a one-party state where the party seeks to maintain a tight control over the population, current Chinese leadership also recognizes that control can only be achieved by a careful balancing of freedoms and restrictions. The Chinese government pays very close attention to public opinion while trying to control it; the government prioritizes wealth accumulating economic growth but at the same time try to ensure wide distribution of the spoils from growth. There is no magic formula for these kind balances and it is continuously changing. A single-apex leadership system would have been very inadequate for such careful fine tuning; collective decision-making enable a robust leadership mode with sufficient flexibility and rigidity to chart the huge country through tumultuous changes. Chinese leaders clearly see that even among their senior leaders there is divide between those who are more inclined to reforms and liberalization and those who are more conservative. The Chinese leadership institutionalized robustness in leadership by ensuring that both camps are adequately represented in the highest bodies but no camp gains an overwhelming advantage.

This collective leadership arose a lot due to the three-decade long all-powerful and capricious rule of Mao Zedong. During Mao’s rule the PSC was a totally ineffectual body and there were no mechanism or institution to check Mao’s disastrous policy decisions like the Great Leap Forward in the 1950s or the Cultural Revolution in the 1960s. After Mao’s death Deng Xiaoping started to develop rules to govern decision-making at the top level and manage power succession. From 12th Party Congress gradually the new rules were introduced and by the Congress in 2002 most of the current implicit and explicit rules have become established.

A similar reaction also took place in the Soviet leadership during the Communist Party rule. Stalin’s rule (1922-53) was the archetype of godlike, dictatorial regime. After Stalin there was strong demand for collective leadership at the top. Nikita Khrushchev was largely ousted from leadership because of his failure to institute collective leadership. After him, the regimes of Brezhnev, Andropov, Chernenko all had strong collective leadership. Perestroika; the policy that opened up the Soviet Union and initiate its eventual demise, did not spring out of the head of Mikhail Gorbachev alone; there were lot of institution support for far-reaching change from various quarter of the Soviet Central Committee. Even then Gorbachev had to do continuous to-and-from with politburo members to get majority approval for his policy changes. Many historians would contend that the group-leadership of the Soviet Politburo during the Cold War was no more irrational or arbitrary than the elected Presidential leaders of America. Soviet Union failed because of failure of economic system not political leadership; a lesson the Chinese leaders internalized assiduously.

Political scientists construct the spectrum of leadership by democratic and autocratic leadership at two extremes. Democratic leadership style supposedly emphasize group participation, discussion, and group decisions while an autocratic leader keeps tight control over group decisions and determines all policies only through own consent. Curiously there are often mismatch between leadership and politics. Democratic system throws up autocratic leaders quite often and sometimes autocratic systems have remarkable democratic decision-making process. We in Bangladesh need no lesson in how democratic elections can produce the most autocratic leaders. Interestingly, most established and mature democracies have a democratic system of electing leaders but give remarkably autocratic and arbitrary decision making power to the top. Most often, democratically elected leaders are moderate and reasonable men but occasionally we also see leaders like man-on-a-mission George W Bush, who religiously believed he has divine mandate.

Democracy is not just a system of selecting leaders democratically but also checking bad decisions of elected leaders and getting rid of them easily when they fail dismally. The Chinese collective leadership with its institutionalized development of leaders, group decision making and regular turnover at the top seem to have integrated many of the best features of democratic leadership. This is not an advocacy for Chinese Political system; China is after all a one-party state where people have very little say about the course of their destiny. But we should not overlook the attractive features of the Chinese leadership. Democracy is not a formula but a participatory argument. Democracy should evolve with the need and circumstances of the time and place.

Leadership function arose in the biological world to solve coordination and collective action problem of large groups of social animals. Anthropologists say that pre-civilization human societies had more group decision making than hierarchical leadership. The vast increase of social complexity due to founding of cities and states produced need for powerful, centralized and formal leadership structures. But as the communication and knowledge revolution vastly changed the coordination problem of big societies, the formal-singular leadership system is now increasingly questionable. The paradox of leadership is that versatility, the ability to do multiple, even competing roles is greatly correlated with leadership effectiveness but individuals who can do that are very rare indeed. Democracy is the best method of selecting leaders but even it often fails to find those rare individuals, particularly in countries where the choice is very limited.

Whether one believes in the End of History thesis of Francis Fukuyama or not, one cannot deny that most of the world citizenry now do not hunger for revolutionary change but for improvement and problem-solving. In this day and age, where there is huge pool of expert and informed leaders in every society, entrusting fate of hundreds of millions or even billions upon hit or miss charismatic leaders seem to be risky proposition indeed. Collective leadership as a mechanism of power-sharing through checks and balances among competing political camps, but also incorporating more dynamic and pluralistic decision-making process seem to be more suited for the age we live in.

I believe that single leaders as messiah or savior is out of place in today’s world. We need real time participatory democracy. We need checks against uncertainty of democratically elected dictators and we need mechanisms for diversity and robustness at the top of decision making. How to develop such mechanisms is an argument that we must join vigorously.

Islamophobia is no Cry Wolf (A compilation)

In a huffingtonpost article, “The Phobia of Being Called Islamophobic” (28/4/14) by Ali A. Rizvi a Pakistani-Canadian writer is saying that Muslims in the west are using Islamophobia label to suppress genuine criticism of Muslims and Islam. He is saying that just as powerful Jewish groups have suppressed objective criticism of Israel’s policy and practice by the Anti-Semitic label in the past decades, Muslim groups in the west are now seeking to quash all criticism of Islam and Muslims. In Author’s own words

 

“In addition to calling out prejudice against Muslims (a people), the term “Islamophobia” seeks to shield Islam itself (an ideology) from criticism. It’s as if every time you said smoking was a filthy habit, you were perceived to be calling all smokers filthy people. Human beings have rights and are entitled to respect. But when did we start extending those rights to ideas, books, and beliefs? You’d think the difference would be clear, but it isn’t. The ploy has worked over and over again, and now everyone seems petrified of being tagged with this label.

The phobia of being called “Islamophobic” is on the rise — and it’s becoming much more rampant, powerful, and dangerous than Islamophobia itself.”

(http://www.huffingtonpost.com/ali-a-rizvi/the-phobia-of-being-calle_b_5215218.html)

The main example the author puts in the article is a recent, much publicized episode about Brandeis University and Ayaan Hirsi Ali. (Those who are not familiar with Ayaan Hirsi Ali should please look her up in Wikipedia). The latest controversy began when Brandeis  University, a well-known Liberal US university known for its progressive Jewish roots, decided to confer honorary Doctorate to Ayann Hirsi Ali and few other noted personalities.

The decision immediately drew widespread condemnation from different groups, some of them Islamic, because of Ms Ali’s widely known anti-Islamic views. Bloggers and students took the initiative in protesting the decision of Brandeis  University and then Muslim advocacy groups joined them.  Council on American-Islamic Relations contacted its members though email and social media, and urging them to complain to the university. Ibrahim Hooper, a spokesman for CAIR said “She is one of the worst of the worst of the Islam haters in America, not only in America but worldwide. I don’t assign any ill will to Brandeis. I think they just kind of got fooled a little bit.”

(http://www.nytimes.com/2014/04/09/us/brandeis-cancels-plan-to-give-honorary-degree-to-ayaan-hirsi-ali-a-critic-of-islam.html)

Even the faculty of Brandeis  University joined the protest. In a publicized open letter signed by many of them, they said,

Dear President Lawrence,

We are writing to urge you to rescind immediately the invitation to Ms. Ayaan Hirsi Ali for an honorary doctorate, a decision about which we are shocked and dismayed, owing to her virulently anti-Muslim public statements. 

A few of many examples will suffice. David Cohen quotes Ms. Hirsi Ali as saying: “Violence is inherent in Islam – it’s a destructive, nihilistic cult of death. It legitimates murder. The police may foil plots and freeze bank accounts in the short term, but the battle against terrorism will ultimately be lost unless we realise that it’s not just with extremist elements within Islam, but the ideology of Islam itself….Islam is the new fascism” (LondonEvening Standard, 2-7-07).

We are filled with shame at the suggestion that the above-quoted sentiments express Brandeis’s values.

We are saddened that Brandeis would choose to honor such a divisive individual at commencement, a moment of unity for the Brandeis community.  Her presence threatens to bring unnecessary controversy to an event that should rightly be about celebrating Brandeis’ graduates and their families. 

The selection of Ms. Hirsi Ali further suggests to the public that violence toward girls and women is particular to Islam or the Two-Thirds World, thereby obscuring such violence in our midst among non-Muslims, including on our own campus. It also obscures the hard work on the ground by committed Muslim feminist and other progressive Muslim activists and scholars, who find support for gender and other equality within the Muslim tradition and are effective at achieving it. We cannot accept Ms. Hirsi Ali’s triumphalist narrative of western civilization, rooted in a core belief of the cultural backwardness of non-western peoples.”

(http://www.truthrevolt.org/news/revealed-brandeis-faculty-letter-pressured-president-drop-hirsi-ali)

Faced with such diverse criticism,Brandeis  University withdrew the decision to confer PHD to Ayaan Hirsi Ali. Its statement said, “We cannot overlook that certain of her past statements are inconsistent with Brandeis University’s core values. Ms. Hirsi Ali is welcome to join us on campus in the future to engage in a dialogue. Universities consider it important to make a distinction between inviting a speaker who may air unpopular or provocative views that the institution does not endorse, and awarding an honorary degree, which is more akin to affirming the body of a recipient’s work.”

Immediately after Brandeis  made this decision to withdraw, the right wing and anti-Islam dedia in USA erupted in furious condemnation. A sample of their view of the matter.

“conservative media figures have rushed to defend Hirsi Ali, some using her life experience to explain away her Islamophobic comments. Weekly Standard editor Bill Kristol called the move an “example of a war on women” and argued that the university had “caved to Muslim thugs.” Fox News’ Sean Hannity said the university’s decision was an “example of left-wing appeasement.” On April 10, Fox contributor Monica Crowley asked, “Where are the moderate Muslims? Where are people who, like Ali, have left the faith and are willing to courageously speak about it? And yet when somebody does show the guts and gets out there to do it, this is how they’re treated?”

(http://mediamatters.org/blog/2014/04/11/why-aayan-hirsi-ali-gets-a-conservative-media-s/198856)

This view of ‘Muslim thugs’ using Islamophobia label to stop debate and discussion of Islam is the main topic of the article I first mentioned. Reading the article in the morning, I got reminded of the famous Aesop story of ‘Cry Wolf’, how the boy cried wolf when the wolf is not there. But the problem is that often the wolf is really there, waiting to devour the herd of sheep. One can easily find lots of example of Ayaan Hirsi Ali’s deeply prejudiced and hateful words against Islam and Muslims. Just a small sample here would suffice.

In An interview with Reason magazine in 2007 is where she elaborated her view on Islam most clearly.

Reason: Should we acknowledge that organized religion has sometimes sparked precisely the kinds of emancipation movements that could lift Islam into modern times? Slavery in the United States ended in part because of opposition by prominent church members and the communities they galvanized. The Polish Catholic Church helped defeat the Jaruzelski puppet regime. Do you think Islam could bring about similar social and political changes?

Hirsi Ali: Only if Islam is defeated. Because right now, the political side of Islam, the power-hungry expansionist side of Islam, has become superior to the Sufis and the Ismailis and the peace-seeking Muslims.

Reason: Don’t you mean defeating radical Islam?

Hirsi Ali: No. Islam, period. Once it’s defeated, it can mutate into something peaceful. It’s very difficult to even talk about peace now. They’re not interested in peace.

Reason: We have to crush the world’s 1.5 billion Muslims under our boot? In concrete terms, what does that mean, “defeat Islam”?

Hirsi Ali: I think that we are at war with Islam. And there’s no middle ground in wars. Islam can be defeated in many ways. For starters, you stop the spread of the ideology itself; at present, there are native Westerners converting to Islam, and they’re the most fanatical sometimes. There is infiltration of Islam in the schools and universities of the West. You stop that. You stop the symbol burning and the effigy burning, and you look them in the eye and flex your muscles and you say, “This is a warning. We won’t accept this anymore.” There comes a moment when you crush your enemy.

Reason: Militarily?

Hirsi Ali: In all forms, and if you don’t do that, then you have to live with the consequence of being crushed.

 

Reason: In Holland, you wanted to introduce a special permit system for Islamic schools, correct?

Hirsi Ali: I wanted to get rid of them. I wanted to have them all closed, but my party said it wouldn’t fly. Top people in the party privately expressed that they agreed with me, but said, “We won’t get a majority to do that,” so it never went anywhere.

Reason: Well, your proposal went against Article 23 of the Dutch Constitution, which guarantees that religious movements may teach children in religious schools and says the government must pay for this if minimum standards are met. So it couldn’t be done. Would you in fact advocate that again?

Hirsi Ali: Oh, yeah.

Reason: Here in the United States, you’d advocate the abolition of—

Hirsi Ali: All Muslim schools. Close them down. Yeah, that sounds absolutist. I think 10 years ago things were different, but now the jihadi genie is out of the bottle. I’ve been saying this in Australia and in the U.K. and so on, and I get exactly the same arguments: The Constitution doesn’t allow it. But we need to ask where these constitutions came from to start with—what’s the history of Article 23 in the Netherlands, for instance? There were no Muslim schools when the constitution was written. There were no jihadists. They had no idea.

 

(http://reason.com/archives/2007/10/10/the-trouble-is-the-west/singlepage)

 

We all know of the Norwegian Islamophobe Anders Brevik who killed 80 young kids and adults because he felt Europe was silently falling under Muslim domination. Ayaan Hisri Ali was an inspiration for Brevik. Hirsi Ali later in a speech said that she should not be blamed for Brevik’s hate crime but the culture of silence about true nature of Islam.

 

[T]hat one man who killed 77 people in Norway, because he fears that Europe will be overrun by Islam, may have cited the work of those who speak and write against political Islam in Europe and America – myself among them – but he does not say in his 1500 page manifesto that it was these people who inspired him to kill. He says very clearly that it was the advocates of silence. Because all outlets to express his views were censored, he says, he had no other choice but to use violence.”

(http://www.loonwatch.com/2012/05/ayaan-hirsi-ali-sympathizes-with-terrorist-anders-behring-breivik/)

We can really see that sometimes Islamophobe label is very appropriate. People like Ayaan Hirsi Ali promote hatred and intolerance that should not be awarded recognition in a democratic society. But the most important take in this episode is how Islamophobia has fallen from fashion to stigma in US public life. 8-10 years ago, Ayaan Hirsi Ali’s views would have been mainstream and Muslim groups would not dare to be very vocal against such bigotry. If if they protested, their protest would have been drowned by a flood of anti-Islam rhetoric from the right and the left. But the world has changed and particularly America. Muslims and Islam are increasingly seen as essential part of American life.

A blog post in Economist magazine perhaps gives the best verdict of the latest Ayaan Hirsi Ali brouhaha from a detached point of view.

“ In deciding to rescind its offer of an honorary degree to her, Brandeis was in part drawing a line between the kind of discourse on religion that is acceptable in mainstream American intellectual life, and the kind that has arisen over the past decade and a half in the Netherlands. The university was not silencing Ms Hirsi Ali; it still invited her to come to the university to “engage in a dialogue”. As Isaac Chotiner puts it, the “controversy isn’t about shunning someone from polite society. It is about giving a person an honorary degree.” Asking Ms Hirsi Ali to speak to students at Brandeis is a great idea; giving her an honorary degree as part of graduation ceremonies suggests that Brandeis thinks calling for a war on Islam is an acceptable statement within the bounds of normal political and social discourse. The fact that such statements are not welcomed in American public discourse is one reason why the American model of integration and tolerance works better than the Dutch model, and why the Netherlands continues to be wracked by tensions over Islam and integration—years after those tensions forced Ms Hirsi Ali herself to leave.”

(http://www.economist.com/blogs/democracyinamerica/2014/04/ayaan-hirsi-ali)

ফ্যাসীবাদের প্রেরণা -গুরু’র নতুন বাণী

6

আজকের বাংলাদেশে যে আওয়ামী ফ্যাসীবাদ পূর্নশক্তিতে জাকিয়ে বসেছে তার পিছনে মূল প্রেরণা হিসেবে রয়েছে কোনো বিশাল নেতা অথবা নেত্রী নয়, কোনো খ্যাতনামা রাজনীতির তাত্বিক নয়, রয়েছে একজন স্ব-আখ্যায়িত শিশুসাহিত্যিক। ফ্যাসীবাদের মূল নিয়ামক কিন্তু একজন ভয়ংকর কতৃত্ববাদী একনায়ক, একটি সর্বগ্রাসী রাজনৈতিক দল কিংবা গনদলনে সিদ্ধহস্ত পুলিশবাহিনী নয়। যেকোনো ফ্যাসীবাদের মূলে থাকে একটি কঠোর ও বিশুদ্ধ আইডিওলজী। পৃথিবীতে অনেক দেশেই নানারকম টিনপট ডিক্টেটরশীপ, একপার্টির রাজত্ব দেখা গেছে গত একশ বছরে কিন্তু প্রকৃত ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের সাথে এসব হীরক রাজার দেশগুলির মূল পার্থক্য হলো একটি ফ্যাসিস্ট আইডিওলজী। জনগনের গনতান্ত্রিক অধিকারকে সম্পূর্নভাবে নসাৎ করে এবং সেই সাথে জনগনের একটি বড়ো অংশের নি:শর্ত আনুগত্য বজায় রাখতে কেবল বিশাল পুলিশবাহিনী কিংবা বিদেশী সাহায্য যথেষ্ট নয়, এর জন্যে প্রয়োজন হয় একটি কঠোর ও জনপ্রিয় আইডিওলজীর। বাংলাদেশে ২০১৩-১৪ সালে যে নতুন ফ্যাসীবাদের সূচনা হয়েছে তার মূলের রয়েছে একটি আইডিওলজী, সেটি হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বর্তমানে এই আইডিওলজীর মূল প্রেরণা-গুরু হলো মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

575468_10151728328535653_444069226_n

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কেমন করে বাংলাদেশে ফ্যাসীবাদের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এটি বোঝার জন্যে প্রেরনা গুরুর সর্বশেষ লেখাটিই খুব ভালো উপকরন হতে পারে। এই লেখায় এই নতুন ফ্যাসীবাদের ভিত্তিগুলি পরিষ্কারভাবেই উঠে এসেছে যারা বুঝতে সক্ষম তাদের জন্যে। “স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর” শীর্ষক মুহম্মদ জাফর ইকবালের এই লেখাটিতে (http://www.priyo.com/2014/03/28/61144.html) অনেক কথাই রয়েছে, তবে আসল বক্তব্য রয়েছে কয়েকটি লাইনেই।

” শুরুতে বলেছিলাম দেশটাকে এগিয়ে নিতে হলে মূল কিছু বিষয়ে সবার একমত হতে হবে, বঙ্গবন্ধু যে এই দেশের স্থপতি সেটি হচ্ছে এরকম একটি বিষয়। এই দেশটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ করে পাওয়া একটি দেশ। তাই মুক্তিযুদ্ধের যে স্বপ্ন নিয়ে এই দেশটি শুরু করা হয়েছিল সেই স্বপ্নকে ভিত্তি করে তার ওপর পুরো দেশটি দাঁড় করানো হবে, এই সত্যটিও সেরকম একটি বিষয়। আমরা আজকাল খুব ঘন ঘন গণতন্ত্র শব্দটি শুনতে পাই, যখনই কেউ এই শব্দটি উচ্চারণ করেন তখনই কিন্তু তাকে বলতে হবে এই গণতন্ত্রটি দাঁড় করা হবে মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তির ওপরে।

আমরা মুক্তিযদ্ধের ভিত্তি সরিয়ে একটা গণতন্ত্র তৈরি করব, সেই গণতন্ত্র এই দেশটিকে একটা সাম্প্রদায়িক দেশ তৈরি করে ফেলবে, সকল ধর্মের সকল বর্ণের সকল মানুষ সেই দেশে সমান অধিকার নিয়ে থাকতে পারবে না সেটা তো হতে পারে না।

কাজেই ধর্ম ব্যবহার করে রাজনীতি করা গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দাবি করা হলেও সেটি কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের সাথে খাপ খায় না।” (2014/03/28/)

এই পুরো লেখাটিতে অনেক কথাবার্তার ভীড়ে মূল পয়েন্ট রয়েছে তিনটি। সেই তিনটি পয়েন্ট আলাদা করে বিশ্লেষন প্রয়োজন এটি বুঝতে যে কেমন করে জাফর ইকবাল আজকে আওয়ামী ফ্যাসীবাদের প্রধান প্রেরনাগুরু হয়ে উঠেছেন।

এই লেখায় তিনি বারবার এটা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবার এই ঐক্যমত্যে আসতে হবে যে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্থপতি। একথা ঠিক যে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে হলে সমাজের সদস্য-নেতৃত্ব সবাইকে নুন্যতম কিছু ভিত্তির উপরে কনসেনসাসে পৌছতে হয়। আগেরকার রাজতন্ত্রিক দেশগুলোতে সেই ভিত্তি ছিলো রাজার সার্বভৌম ক্ষমতা। আধুনিক যুগে বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন ব্যবস্থায় নানারকম নুন্যতম ঐক্যমত দেখা গেছে। যেমন সবার সমান অধিকার, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সমতা এরকম আরো কিছু। কিন্তু এই সব কিছুর উপরে আধুনিক রাষ্ট্রে যে ঐক্যমত্যে দেশের সকল নাগরিক ও রাজনীতিবিদদের একত্রিত হতে হয় সেটি হলো আইন ও সংবিধানের শাসন। দেশের মানুষ ও রাজনীতি আইন ও সংবিধানের বিভিন্ন ধারার বিরোধিতা করতে পারে, সেটি নিয়ে রাজনীতি করতে পারে, কিন্তু যতক্ষন আইন ও সংবিধান বলবৎ রয়েছে সেটি মেনে চলবে এবং তা ভংগ করলে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে, এটিই হলো আধুনিক দেশশাসনের মূলভিত্তি।

রাষ্ট্রে কোনো একজন ব্যাক্তি অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা চেষ্টা ফ্যাসীবাদ প্রতিষ্ঠারই অন্যতম পদক্ষেপ। শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্থপতি কিংবা জাতির পিতা, এটি কোনো ঐতিহাসিক সত্য নয় এটি একটি ঐতিহাসিক মত। শেখ মুজিব বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আর্কিটেকচারাল  ব্লুপ্রিন্ট প্রস্তুত করে সেটি জাতিসংঘ থেকে পাশ করিয়ে আনেন নি কিংবা নিজ ঔরস থেকে কোটি কোটি বাংলাদেশীর জন্ম দিয়ে বার্থ সার্টিফিকেট নেন নি।আমাদের বুঝতে হবে যে জাতির পিতা, মহাবীর, দ্বিগ্ধীজয়ী, বিদ্যাসাগর, বিশ্বকবি এই রকম খেতাবগুলি কোন ঐতিহাসিকভাবে প্রাপ্ত সনদ নয় বরং ইতিহাসে অনেক মানুষ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে দেয়া টাইটেল মাত্র। এই খেতাবগুলির সারবত্তা নিয়ে যেমন ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে তেমনি এগুলির বিরূদ্ধে মতপ্রচারের পূর্ন অধিকারও রয়েছে। কোন দেশের প্রতিষ্ঠায় কে সবচেয়ে বড়ো, কার অবদান ছাড়া রাষ্ট্র জন্মই নিতো না, এই ধরনের মতামতগুলি কোনো আধুনিক রাষ্ট্রের রাজনীতি ও সমাজের মূল ঐক্যমত্যের ভিত্তি হতে পারে না। এই ধরনের ব্যাক্তিকেন্দ্রিক দাবী তোলাও আজকের দিনে হাস্যকর। আজকের পৃথিবী ব্যাক্তি বা বংশ-কেন্দ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে অনেক আগেই উত্তরিত হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস পড়লে অধিকাংশ সুস্থির মতের মানুষই এই সিদ্ধান্ত নেবেন যে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যে মানুষটির একক অবদান সবার চেয়ে বেশী তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। তারা এটাও বলবেন যে তার অবদানের ধারে কাছে কেউ নেই। কিন্তু এই ব্যাপক সমর্থন থাকা স্বত্তেও শেষ পর্যন্ত এটি একটি ঐতিহাসিক মত, ঐতিহাসিক সত্য নয়। অবদান, ভূমিকা, এসবই সাবজেক্টিভ ব্যাপার, অবজেক্টিভ নয়। এই ধরনের ব্যাপক প্রচলিত মত সম্পর্কে দ্বিমত করারও অবকাশ রয়েছে এবং যেকোন সভ্য রাষ্ট্রে সেই দ্বিমত করার সুযোগও অবশ্যই থাকতে হবে।

আমেরিকার রাজনীতির ইতিহাসে এ পর্যন্ত ৪৪ জন প্রেসিডেন্ট এর মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ এবং কার অবদান সবচেয়ে বেশী এ নিয়ে বিতর্ক, র‍্যাংকিং লিস্ট করা এসব ইতিহাসবিদ এবং জনগন সবারই একটি বহু পুরাতন এবং নিয়মিত অভ্যাস। এই বিষয় নিয়ে প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো লিস্ট বের হয়। এই সব লিস্টে প্রায় অবধারিতভাবেই যে তিন জনের নাম এক, দুই ও তিন এর মধ্যে থাকে তারা হলো প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন, ষোড়শতম আব্রাহাম লিংকন এবং বত্রিশতম ফ্র‍্যাংকলিন রুজেভেল্ট। এদের মধ্যে আবার সবচেয়ে বেশীবার শ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন আব্রাহাম লিংকন। ১৯৪৮ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত করা বিশেষজ্ঞদের ১৭ টি বিভিন্ন সার্ভেতে লিংকন শ্রেষ্ঠতম বিবেচিত হয়েছেন ১০ বার, দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠতম ৫ বার এবং তৃতীয় ২ বার। উইকিপিডিয়াতে এই আর্টিকেলটি বিস্তারিত রয়েছে (http://en.wikipedia.org/wiki/Historical_rankings_of_Presidents_of_the_United_States#Scholar_survey_results)। অর্থাৎ আমেরিকার প্রায় আড়াইশত বছরের ইতিহাসে আব্রাহাম লিংকন যে শ্রেষ্ঠতম নেতা কিংবা শ্রেষ্ঠের খুবই কাছাকাছি, এ বিষয়ে ইতিহাসবিদরা মোটামুটি একমত। শুধু ইতিহাসবিদরাই নন, এমনকি আমেরিকার সাধারন ও জনপ্রিয় ইতিহাসে আব্রাহাম লিংকন মোটামুটি প্রায় অতিমানবীয় অনন্য একজন সাধু-দার্শনিক-নেতা হিসেবেই পরিচিত, তার কাছের অবস্থানেও কেউ নেই।

এই যে মহান আব্রাহাম লিংকন, সেই লিংকনকে আমেরিকার দক্ষিন অংশ-যে দক্ষিনের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সিভিল ওয়ারে উত্তরের নেতৃত্বে ছিলেন লিংকন- গত দেড়শত বছর ধরে কি ভাবে দেখা হয়? সোজা ভাষায় বলা যায় যে আমেরিকার দক্ষিনের শ্বেতবর্নের রক্ষনশীলেরা -যারা এখনো দক্ষিনের সবচেয়ে বড়ো এবং প্রভাবশালী অংশ- আব্রাহাম লিংকনকে শয়তানের সাক্ষাৎ অবতার হিসেবে মনে করে। এই মতামত শুধু দক্ষিনের সাধারন নাগরিকেরা নয়, দক্ষিনের রাজনীতিবিদরাও অকপটে প্রকাশ্যে বলতে কোনো দ্বিধা করে না। আমেরিকার রক্ষনশীলেরা এবং অন্যান্য অনেকেই প্রায় প্রতি বছরই বিভিন্ন বই-গবেষনা প্রকাশ করে যেখানে তুলে ধরা হয় যে আব্রাহাম লিংকন কিভাবে একটি অনাবশ্যক যুদ্ধের সূত্রপাত করে আমেরিকার জনগনের উপরে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও ধ্বংসাত্মক অধ্যায়কে চাপিয়ে দিয়েছেন। এসব আমার মতামত নয় বরং অনেক আমেরিকান রক্ষনশীলের মত। তারা লিংকনকে ঘৃনা করার পেছনে যুক্তি হিসেবে কি বলে তা বোঝার জন্যে ২০১০ এ প্রকাশিত Abraham Lincoln: The Southern View (http://www.amazon.com/Abraham-Lincoln-The-Southern-View/dp/0982770006) বইটির সারসংক্ষেপের কয়েকটি লাইন তুলে ধরা যেতে পারে।

লেখক Lochlainn Seabrook এই বইটিতে দক্ষিনের চোখে যে লিংকনকে তুলে ধরেছেন সেই লিংকন একজন – “an unscrupulous demagogue and anti-Christian liberal who broke hundreds of laws; ignored and even subverted the Constitution; used money from the Yankee slave trade to fund his war; sanctioned the murder of both Southern blacks (who would not enlist in the Union army) and harmless Southern noncombatants (including women and children); had tens of thousands of innocent Northerners arrested, imprisoned, and sometimes tortured and executed without charge or trial; rigged the 1860 and 1864 elections; confiscated and destroyed private property; censored governmental debate over secession; and more. Throughout all of this, Southern historians estimate that some 3 million Americans, of all races, died in direct consequence of his actions.”

বলাই বাহুল্য লিংকনের শ্রেষ্ঠত্ব অথবা লিংকনের নিকৃষ্টতা, এই সবই ইতিহাসের ফ্যাক্ট নয় এগুলি ইতিহাসের মতামত। আর মতামত নিয়ে বিভাজন থাকতেই পারে।

এখন প্রশ্ন হলো যে আব্রাহাম লিংকন এর নেতৃত্ব ও তার উত্তরাধিকার নিয়ে আমেরিকার উত্তর ও দক্ষিনের এর তীব্র বিভাজনের জন্যে কি আমেরিকার রাজনীতির ক্রমাগত বিবর্তন ও উন্নয়ন থেমে রয়েছে? কোনো ভাবেই নয়, এই বিভাজনকে নিয়েই আমেরিকার গনতন্ত্র দিনে দিনে আরো বিস্তৃত ও সংহত হয়েছে। সিভিল ওয়ারে বিজয়ের পরে বিজয়ী উত্তর দক্ষিনকে এই আদেশ করে নি যে সবাইকে লিংকনের নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌছতে হবে। প্রতিটি মানুষ ও রাজনৈতিক সংগঠনের রয়েছে নিজস্ব মত ধারন ও প্রচারের অধিকার। কিন্তু সবাইকে দেশের আইন ও সংবিধান মেনে চলতে হবে। আমেরিকার দক্ষিন যুদ্ধে পরাজয়ের পরে মৌলিক নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে প্রদেশের উপরে ফেডারেল ইউনিয়নের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছে, সেটি মন থেকে মেনে নিয়েছে নাকি তার বিরুদ্ধে এখনো প্রচার করছে এটি দেশের সরকারের কোনো বিবেচনার বিষয় নয়, দেশের আইন মেনে চলছে কিনা এটিই সরকারের একমাত্র বিবেচ্য।

শুধু লিংকনই নয়, আজকের আমেরিকায় যদি কেউ বলে যে আমেরিকায় রাজনীতি করতে হলে স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের শ্রেষ্ঠ ভূমিকা স্বীকার করতে হবে, তবে তাকে মানুষ পাগলের চেয়েও যুক্তিবিহীন বলে মনে করবে। আর সেই দেশে দীর্ঘদিন থেকে, সেই দেশ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ সেজে মুহম্মদ জাফর ইকবাল ফতোয়া দেন যে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে ‘ বঙ্গবন্ধু এই দেশের স্থপতি ‘ এই বিষয়ে সবার একমত হতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতি আলোচনায় আমেরিকা-বৃটেন এর তুলনা আনলেই অনেকে হারে রে করে তেড়ে ওঠেন যে এই দেশের সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতির সাথে ঐসব দেশের যোজন যোজন পার্থক্য সুতরাং এই ধরনের তুলনার মাধ্যমে কোনো ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা অনর্থক বাতুলতা মাত্র। ঠিক আছে। তাহলে এবার এমন একটি দেশের ইতিহাস-রাজনীতিই দেখা যাক যেটি মাত্র ৬০ বছর আগেও অর্থনীতি ও রাজনীতিতে আমাদের দেশের অবস্থানের খুব কাছেই ছিলো।

পার্ক চুং হি (Park Chung-hee) একজন জেনারেল যিনি একটি ক্যু এর মাধ্যমে ১৯৬১ সালে দ: কোরিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন এবং এর পরে প্রায় একনায়কের মতোই ১৮ বছর দ: কোরিয়া শাসন করেন, যে শাসনের অবসান ঘটে ১৯৭৯ সালে আততায়ীর হাতে পার্ক নিহত হবার পরেই। পার্ক চুং হি তার শাসনামলেই আধুনিক কোরিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন করেন এবং তাকে একারনেই বিশ্বজুড়ে Father of Korean Economic Miracle বলা হয়। টাইম ম্যাগাজিন তাদের মিলেনিয়াম প্রকাশনায় পার্ক চুং হি কে বিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ দশজন এশিয়ানদের একজন হিসেবে নির্বাচন করেছিলো। আজ পর্যন্ত দ: কোরিয়ার ডানপন্থী রাজনীতির সমর্থকেরা পার্ককে তীব্র ভক্তির সাথে স্মরন করে। অনেকটা তার স্মৃতির উপরে ভর করেই পার্কের কন্যা পার্ক গুন হেই (Park Geun-hye) ২০১৩ সালে দ: কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

পার্ক চুং হি যেমন একদিকে দেশের বিপুল অংশের কাছে দেবতুল্য ভক্তির ধারক তেমনি আরেক বৃহৎ অংশের কাছে তীব্র ঘৃনার পাত্র। পার্ক তার শাসনের সময়ে বামপন্থী ও গনতান্ত্রিক রাজনীতি ও কর্মীদের উপরে চরম অত্যাচার ও নিষ্পেষন চালিয়েছেন। দেশের শ্রমিকদের অধিকারকে দলন করে বড়ো কোম্পানীগুলিকে সবরকমের সুবিধা দিয়েছেন। তার সময়ে কোরিয়ার নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার বলতে কিছু ছিলো না। কোরিয়ার জনগনের পার্কের সময় হতে শুরু করে আরো অনেক দিন পর পর্যন্ত একের পর এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করে অবশেষে সেখানে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। এরকম আরো অনেক কারনেই দ: কোরিয়ার বিপুল অংশের কাছে পার্ক চুং হি একটি ঘৃন্য নাম।

দ: কোরিয়ার জনগনের মধ্যে তাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রধানতম ব্যাক্তিত্ব নিয়ে যে এই বিশাল দ্বিভাজন, তার কারনে কি তাদের উন্নতি, প্রগতি বাধাগ্রস্থ হয়েছে? ১৯৭০ সালেও যখন দ: কোরিয়া আর উত্তর কোরিয়ার মাথাপিছু আয় একই সমান ছিলো সেখানে আজকে দ: কোরিয়ার মাথাপিছু আয় বাকশালী-ঐক্যমত্যের দেশ উ: কোরিয়ার চেয়ে প্রায় বিশগুন বেশী।

বস্তুত ইতিহাস নিয়ে ঐক্যমত্য ছাড়া এগুনো যাবে না এই ধরনের কথাবার্তার কোন সারবত্তা নেই। তৃতীয় বিশ্বের উপনিবেশ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দেশগুলির ইতিহাস নিয়ে পর্যালোচনা করলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাবে যে যেসব দেশে মুক্তি সংগ্রামের গৌরবোজ্বল ইতিহাস নেই, যারা ঔপনিবেশিক প্রভুদের সাথে হ্যান্ডশেক করার মাধ্যমে নতুন দেশ হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে, তারাই অর্থনীতি ও সমাজে বেশী উন্নতি করেছে। দেশের উন্নতির জন্যে ইতিহাস বা মতবাদ নিয়ে একমত হবার জন্যে যারা বেশী সরব তাদের অন্য কোন এজেন্ডা থাকে। এই এজেন্ডা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হলো দেশে ঘৃনার চাষ করে দ্বিভাজন সৃষ্টি করা। আর আমরা বার বার দেখেছি যে এই ঘৃনার দ্বিভাজন ও কৃত্রিমভাবে মতবাদের ঐক্যমত্যের চেষ্টাই গত কয়েক দশকে একের পর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও গনহত্যার জন্ম দিয়েছে।
এই ইতিহাস নিয়ে ঐক্যমত্যের উপরেই রয়েছে জাফর ইকবালের দ্বিতীয় ও মূল পয়েন্ট, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। জাফর ইকবাল বাংলাদেশে যেই ফ্যাসীবাদ প্রতিষ্ঠার জন্যে প্রাণাতিপাত করে চলেছেন সেই ফ্যাসীবাদের মূল ভিত্তিই হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা (বা স্বপ্ন, যে নামেই বলুন জিনিষটি একই)। এই লেখাতে এবং এর আগেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের চেয়ে বড়ো কিছুই নেই।

“তাই যারা প্রাণ দিয়ে, রক্ত দিয়ে যুদ্ধ করে এই দেশটা এনে দিয়েছে তার যে স্বপ্ন দেখেছিল সেটাই হচ্ছে বাংলাদেশ। তাই এই দেশের রাজনীতি হোক, অর্থনীতি হোক, লেখাপড়া হোক, চাষ আবাদ হোক, গানবাজনা হোক, সুখ-দুঃখ মান-অভিমান হোক, কোনো কিছুই মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাইরে হতে পারবে না। অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজনীতির প্রথম মাপকাঠি হচ্ছে ‍মুক্তিযুদ্ধ। যারা এটিকে অস্বীকার করে তাদের এই দেশে রাজনীতি করা দূরে থাকুক, এই দেশের মাটিতে রাখার অধিকার নেই।” (০১/১৭/২০১৪)
http://www.priyo.com/2014/01/17/49312.html

মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাইরে এই বাংলাদেশে একটি গাছের পাতাও নড়তে পারবে না এই বিশ্বাস হলো জাফর ইকবাল আর তার লক্ষ লক্ষ ভাবশিষ্যের ইমানের মূল স্তম্ভ।  কিন্তু এখানে শুভংকরের সবচেয়ে বড়ো ফাকি হলো যে এই যে অতীব গুরুত্বপূর্ন মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন, সেই স্বপ্নটি আসলে কি তার কোনো কংক্রীট বিবরন এই সব ফ্যাসিস্ট প্রফেটদের কাছে আপনি কখোনই পাবেন না। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই দেশের বিভিন্ন মত, বিভিন্ন বিশ্বাসের লক্ষ কোটি যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী আর যুদ্ধ পলাতক মিলে কিভাবে একটিই বিশুদ্ধ আর মৌলিক স্বপ্ন দেখে ফেললো আর সেই স্বপ্নের খাবনামাও সেই সকলের কাছেও তর্কাতীত ছিলো, এই রহস্যের কোন ব্যাখা আপনি পাবেন না। ম্যাজিশিয়ানের ট্রিকের মতো মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নও দূর থেকে দেখা আলো আধারির স্টেজ শো, কাছে গিয়ে বিশ্লেষন করলেই সেটা আর স্বপ্ন থাকে না।

বেশী চেপে ধরলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের দিশারীরা অবলম্বন করেন ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতিকে এবং তার ভিত্তিতেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তাসের ঘর নির্মানের চেষ্টা করেন তারা। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গনতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই চার মৌলিক উপাদানেই তৈরী মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্নের ভিত্তির উপরেই বাংলাদেশের রাজনীতি দাড় করাতে হবে এটাই শেষ পর্যন্ত দাবী করা হয়। এই দাবীটি যখন স্পষ্টভাবে বলা হয় তখনই এর শুভংকরের ফাকিটিও সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

জাতীয়তাবাদ নিয়ে এখানে বেশী কথা বলার দরকার নেই। জাতীয়তাবাদ নিয়ে এই দেশে এত লক্ষ লক্ষ পাতা আর শতকোটি শব্দ ব্যয় করার পরও জাতীয়তাবাদ নিয়ে সবার মাঝে যে কনফিউশন রয়ে গেছে তার বিন্দুমাত্র লাঘব ঘটে নি। ভৌগলিক, রাজনৈতিক, সাংষ্কৃতিক, নৃতাত্বিক, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের এই নানারূপের গোলোকধাধায় কোন একটি coherent মতবাদ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এই দাবী অনায়াসেই করা যায় যে বাংলাদেশে এখন এমন দুইজন শিক্ষিত নাগরিক পাওয়া যাবে না যারা জাতীয়তাবাদ বলতে পুরো একই রকম একটি বিশ্বাস ধারন করেন।

এরপরেই আসে মুক্তিযু্দ্ধের স্বপ্নের সবচেয়ে স্পষ্ট Achilles Heel সমাজতন্ত্রের কথা। লক্ষ্যনীয় যে এই সমাজতন্ত্র মানে পরবর্তীতে আরোপ করা সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি,  সোশ্যাল ডেমোক্র‍্যাসী এই ধরনের নির্দোষ, নিরীহ শ্লোগান নয়। ১৯৭২ এর সমাজতন্ত্র মানে সমাজতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থা। সেই সংবিধানেই স্পষ্ট বলা আছে,

“১০/ মানুষের উপর মানুষের শোষন হইতে মুক্ত ন্যায়নুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশিত করিবার উদ্দ্যেশ্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে।”

এই সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আরো বিশদ বলা হয়েছে ১৩ অনুচ্ছেদে।

Somaj

সমাজতন্ত্র নিয়ে বিশদ আলোচনা করাও এই লেখার উদ্দ্যেশ্য নয়। শুধু একটি কথাই বলা যেতে পারে যে আজকের বাংলাদেশে কতোজন লোক মনে করে যে এই দেশের অর্থনীতির প্রধান ক্ষেত্র গুলি, যেমন শিল্প, গার্মেন্টস এই সবের জাতীয়করন করা প্রয়োজন? কারা মনে করে দেশের জন্যে দরকার আরো অনেক ‘দোয়েল ল্যাপটপ’ প্রজেক্ট? কয়জন মনে করে যে সমবায়ের ভিত্তিতে কৃষিকে পরিচালনা করতে হবে? কারা বিশ্বাস করে যে সারা দুনিয়ায় কালেক্টিভ অর্থনীতি ফেল মারার পরে এই বাংলাদেশেই সমাজতন্ত্র তার সমুজ্বল ভবিষৎ নির্মানের সূচনা করবে? সমাজতন্ত্র যদি মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন হয়ে থাকে তবে সেই স্বপ্ন এইদেশে অনেক আগেই টুটে গেছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের নামে যেই মতবাদটির যাবতীয় তর্ক-বিতর্কের মূলে রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মনিরপেক্ষতা একটি আধুনিক, গনতান্ত্রিক, যুক্তিসম্মত আদর্শ। যে কোন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যাক্তিই এর বিরোধিতা করতে দ্বিধা করবে। ১৯৭২ এর সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে বোঝানো হয়েছে,

dhormo

এখানে (ক), (খ) এবং (ঘ) অনুচ্ছেদ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই বললেই চলে। এমনকি যারা ধর্মীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন তারাও এই নীতিগুলির সরাসরি বিরোধিতা করবেন না বরং সমর্থনই করবেন। মূল বিতর্ক (গ) অনুচ্ছেদ নিয়ে। পৃথিবীর কোনো গনতান্ত্রিক দেশে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে রাজনীতি করার অধিকার খর্ব করা হয় নি। প্রতিটি গনতান্ত্রিক দেশে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে রাজনীতির অধিকার রয়েছে কারন এটি রাজনীতি করার মৌলিক অধিকার প্রশ্নেই অংগাগীভাবে জড়িত। কিন্তু এই বাংলাদেশেই, এই মূর্খ ফ্যাসীবাদীরা, এক অনন্য হবুচন্দ্র মার্কা রাজত্ব কায়েমের জন্যে এই ফ্যাসীবাদী মতকে দেশের উপরে চাপিয়ে দেবার জন্যে বদ্ধপরিকর।

ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে এই ক্ষুদ্র, এলিটিস্ট গোষ্ঠী যে ফ্যাসীবাদী মতকে দেশের উপরে চাপিয়ে দিতে চান তার সাথে বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কোন আত্মিক সংযোগ নেই। এটা ১৯৭১ এ ছিলো না, ১৯৭২ এও ছিলো না, আজকে আরো নেই। এই প্রসংগে আবুল মনসুর আহমেদ এর সেই ক্ল্যাসিক লেখা “আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর” এর লেখা স্মর্তব্য,

অথচ প্রকৃত অবস্থাটা এই যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় পাকিস্তানও ভাংগে নাই “দ্বিজাতিতত্ত্ব”ও মিথ্যা হয় নাই। এক পাকিস্তানের জায়গায় লাহোর-প্রস্তাব মত দুই পাকিস্তান হইয়াছে। ভারত সরকার লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়নে আমাদের সাহায্য করিয়াছেন। তারা আমাদের কৃতজ্ঞতার পাত্র। দুই রাষ্ট্রের নামই পাকিস্তান হয় নাই, তাতেও বিভ্রান্তির কারণ নাই। লাহোর প্রস্তাবে “পাকিস্তান” শব্দটার উল্লেখ নাই, শুধু ‘মুসলিম-মেজরিটি রাষ্ট্রের’ উল্লেখ আছে। তার মানে রাষ্ট্র-নাম পরে জনগণের দ্বারাই নির্ধারিত হওয়ার কথা। পশ্চিমা জনগণ তাদের রাষ্ট্র-নাম রাখিয়াছে “পাকিস্তান”। আমরা পূরবীরা রাখিয়াছি “বাংলাদেশ”। এতে বিভ্রান্তির কোনও কারণ নাই।

—         ইংরেজ আমলের আগের চারশ বছরের বাংলার মুসলমানের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। সেখানেও তাদের রুপ বাংগালী রুপ। সে রুপেই তারা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সৃষ্টি করিয়াছে। সেই রুপেই বাংলার স্বাধীনতার জন্য দিল্লীর মুসলিম সম্রাটের বিরুদ্ধে লড়াই করিয়াছে। সেই রুপেই বাংলার বার ভূঁইয়া স্বাধীন বাংলা যুক্তরাষ্ট্র গঠণ করিয়াছিলেন। এই যুগ বাংলার মুসলমানদের রাষ্ট্রিক, ভাষিক, কৃষ্টিক ও সামরিক মণীষা ও বীরত্বের যুগ। সে যুগের সাধনা মুসলিম নেতৃত্বে হইলেও সেটা ছিল ছিল উদার অসাম্প্রদায়িক। হিন্দু-বৌদ্ধরাও ছিল তাতে অংশীদার। এ যুগকে পরাধীন বাংলার রুপ দিবার উদ্দেশ্যে “হাজার বছর পরে আজ বাংলা স্বাধীন হইয়াছে” বলিয়া যতই গান গাওয়া ও স্লোগান দেওয়া হউক, তাতে বাংলাদেশের জনগণকে ভুলান যাইবে না। আর্য্য জাতির ভারত দখলকে বিদেশী শাসন বলা চলিবে না, তাদের ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, রাজপুত, কায়স্থকে বিদেশী বলা যাইবে না, শুধু শেখ-সৈয়দ-মোগল-পাঠানদেরই বিদেশী বলিতে হইবে, এহেন প্রচারের দালালরা পাঞ্জাবী দালালদের চেযে বেশী সফল হইবে না। এটা আজ রাষ্ট্র-বিজ্ঞানের সর্বজন-স্বীকৃত সত্য যে, কৃষ্টিক স্বকীয়তাই রাষ্ট্রীয় জাতীয় স্বকীয়তার বুনিয়াদ। কাজেই নয়া রাষ্ট্র বাংলাদেশের কৃষ্টিক স্বকীয়তার স্বীকৃতি উপমহাদেশের তিন জাতি-রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা-ভিত্তিক স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হইবে॥”

– আবুল মনসুর আহমদ / আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর ॥ [খোশরোজ কিতাব মহল – ডিসেম্বর, ১৯৯৯ । পৃ: ৬৩২-৬৩৮]

আসলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের নামে জাফর ইকবাল এবং তার শিষ্যদের সকল আহাজারির মূলেই রয়েছে একটি জিনিষ, সেটি হলো গনতন্ত্র। তারা ভালোভাবেই জানে যে তারা যে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন দেখেন সেই স্বপ্ন বাংলার জনগন ১৯৭১ এ দেখেনি আজও দেখে না। এই কারনেই গনতন্ত্রকে তাদের এতো ভয়। একারনেই নানারকম ছলছুতো, শর্ত দিয়ে গনতন্ত্রকে পর্দার আড়ালে ফেলতে তাদের এতো প্রচেষ্টা। জাফর ইকবাল যে গোষ্ঠীর প্রেরণাগুরু, মন্ত্রী-এশিয়াটিক ডিরেক্টর আসাদ্দুজ্জান নূর যেই গোষ্ঠীর যোগানদার, শামীম ওসমান-তাহের গং যে গোষ্ঠীর সিপাহসালার এবং শাহবাগীরা যেই গোষ্ঠীর ফুট সোলজার, সেই গোষ্ঠীর একটিই লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে আওয়ামী ধর্মের একছত্র রাজত্ব কায়েম করা।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যে তারা দেশের জনগনকে সরাসরি বাধ্যতামূলক প্রেসক্রিপশনও দিয়ে রেখেছেন। প্রথমেই আপনাকে শেখ মুজিবের নবুয়ত স্বীকার করতে হবে। এরপরে আওয়ামী আদর্শগুলিতে ইমান আনতে হবে। তারপরে সকল আওয়ামী বিরোধীকে ঘৃনাভরে বর্জন করতে হবে। এই প্রেসক্রিপশন মেনে নেয়ার পরেই আপনি যত ইচ্ছা রাজনীতি করতে পারেন। এর আগে রাজনীতি-গনতন্ত্র এসব কোনকিছুই বিবেচনা করা যাবে না।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই সময়ে সবচেয়ে বড়ো বাস্তবতা যে দেশের ভাগ্য জনগনের হাতে নেই। একটি চরমপন্থী গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে বার্ষিক ১৫০ বিলিয়ন ডলার অর্থনীতির একটি আস্ত রাষ্ট্রকে কুক্ষীগত করে ফেলেছে। এই বাস্তবতা হতে চোখ ফিরিয়ে, জনগনের অক্ষমতাকে ভুলিয়ে দিতে ফ্যাসীবাদের প্রেরনাগুরু গনতন্ত্রকে তুচ্ছ করে একের পর এক ঐশীবাণী দিয়েই যাবেন প্রতিটি মাসে একের পর এক উপলক্ষকে আশ্রয় করে। আর সেই বাণী সোৎসাহে প্রচার করতে থাকবে চেতনায় বুদ হয়ে থাকা বাংলাদেশী হিটলার ইয়ুথ (Hitlerjugend)। স্টেডিয়ামে পতাকা নিষেধাজ্ঞা, বৃহত্তম পতাকা, লক্ষকন্ঠে জাতীয় সংগীত, এইসব Fascist Mass Spectacle এই প্রোগ্রামেরই অংশ।

18w91xufbk7ayjpg

পরিশেষে পুনরায় আবার মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বা চেতনা নিয়ে অতুলনীয় আবুল মনসুর আহমেদ এর ই আরেকটি বক্তব্য।

 “… জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতার মহান আদর্শই আমাদের বীর জনগণকে মুক্তি-সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল। তথ্য হিসাবে কথাটা ঠিক না। আওয়ামী লীগের ছয়-দফা বা সর্বদলীয় ছাত্র একশন কমিটির এগার-দফার দাবিতেই আমাদের মুক্তি-সংগ্রাম শুরু হয়। এইসব দফার কোনটিতেই ঐ সব আদর্শের উল্লেখ ছিল না। ঐ দুইটি ‘দফা’ ছাড়া আওয়ামী লীগের একটি মেনিফেস্টো ছিল। তাতেও ওসব আদর্শের উল্লেখ নাই।

বরঞ্চ ঐ মেনিফেস্টোতে ‘ব্যাংক-ইনশিওরেন্স, পাট ব্যবসা ও ভারি শিল্পকে’ জাতীয়করণের দাবি ছিল। ঐ ‘দফা’ মেনিফেস্টো লইয়াই আওয়ামী লীগ ৭০ সালের নির্বাচন লড়িয়াছিল এবং জিতিয়াছিল। এরপর মুক্তি সংগ্রামের আগে বা সময়ে জনগণ, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের পক্ষ হইতে আর কোনও ‘দফা’ বা মেনিফেস্টো বাহির করার দরকার বা অবসর ছিল না। আমাদের সংবিধান রচয়িতারা নিজেরা ঐ মহান আদর্শকে সংবিধানযুক্ত করিযাছিলেন। তাই জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ঐ ভুল তথ্য পরিবেশন করিয়াছেন।

রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের মতাদর্শকে জনগণের মত বা ইচ্ছা বলিয়া চালাইয়াছেন বহু বার বহু দেশে। সবসময়েই যে তার খারাপ হইয়াছে, তাও নয়। আবার সব সময়ে তা ভালও হয় নাই। পাকিস্তানের সংবিধানের বেলায় ‘ইসলাম’ ও বাংলাদেশের সংবিধানের বেলায় ‘সমাজতন্ত্র, জাতীয়তা ও ধর্ম-নিরপেক্ষতা’ও তেমনি অনাবশ্যকভাবে উল্লিখিত হইয়া আমাদের অনিষ্ট করিয়াছে। আমাদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বহু জটিলতার সৃষ্টি করিয়াছে। এসব জটিলতার গিরো খুলিতে আমাদের রাষ্ট্র-নায়কদের অনেক বেগ পাইতে হইবে॥”

– আবুল মনসুর আহমদ / আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর ॥ [খোশরোজ কিতাব মহল – ডিসেম্বর, ১৯৯৯ । পৃ: ৬২০-৬২১]

[আবুল মনসুর আহমেদ এর book excerpts are courtesy of FB blogger Kai Kaus   https://www.facebook.com/kay.kavus?fref=ts    ]

 

 

 

 

Jamaat should preempt sanctions

1


It’s now clear that the big winner in the first round of Upzilla Elections is Jamaat-e-Islami. The party contested in 23 seats and won in 12 in conjunction or independently of its political ally BNP.  This is a huge shot in the arms to JI who has been going through its most critical period since its revival in independent Bangladesh. The party has been beleaguered from all fronts in the last few months. The bulk of its apex leadership is either behind bars, waiting in the death row or lying six feet under. The Awami League government and its foreign friend have been quite successful in branding Jamaat as a violent and extremist party. Even western governments, on whose support BNP depended so much, have been hinting that they like BNP to dissociate it from Jamaat. Moreover, Jamaat is barred from taking part in elections in the foreseeable future and the court case of complete political ban is hanging over its shoulder like a sword on a thread. I would argue that JI must take this show of support and window of breathing space to preempt all sanctions by re-launching and re-branding itself as a new organization.

There is no doubt that Jamaat has considerable direct and indirect support throughout the country. Polls after polls conducted in the last few months have shown that although people of Bangladesh disproved of Jamaat’s rampant violence, a majority of them consistently supported its right to take part in politics and elections. However, Jamaat must not mistake the extent of public toleration as validation of its legitimacy. Even in a democracy, right and wrong are not determined by majority vote; a convicted criminal do not get to be absolved of crimes even if he is elected in office by a thumping majority. There is an indelible mark of Cain on JI-Bangladesh. It fought with the losing side in the War of Liberation of Bangladesh and actively collaborated with foreign invaders in committing atrocities against fellow countrymen. The state of Bangladesh has eminent right backed by widespread precedence to refuse continuance of such an organization even if that organization is tolerated by a large number of citizens.

Jamaat must be aware of the potential and peril awaiting before them. The arc of history of the last couple of decades have shown that conservative-religious politics in a democratic framework has great prospects in the developing nations. In this post ideological age religious values are often a source of conviction that other political ideals fail to muster. Throughout Muslim world, wherever  democratic politics is taking hold, Islamic parties that adopted practices of participatory democracy are gaining influence.  In Bangladesh too, there is a huge space for religious values politics. If the two main parties in Bangladesh continue in their trajectory of dynastic reign and control by cronyism, the space for religious value driven politics will only get wider.

Jamaat must see that the mainstream religious political space is Bangladesh is its to take if it can just only shed its criminal past. There is no other visible claimant, either from below or laterally. The wax and wane of Hefazot in 2013 has once again showed that subaltern politics in Bangladesh remains hopelessly inadequate to mount serious challenge to affect leadership of a country that has 150 million people and a interconnected economy of $ 150 billion. Only a religious party that has a deep bench of career politicians, processionals, academics, experts and thinkers can get a permanent place in the top rungs of power structure.

The prospects can turn very perilous for Jamaat too.  The seemingly ripple-less crack down on Muslim Brotherhood in Egypt has shown that international community has little sympathy for religious organizations that veers to radicalism to some extent even if they command generous public support. In Bangladesh politics, Jamaat’s fate is now largely dependent upon the jostling and maneuvering of the two contenders for power, AL and BNP. The business and professional class will demand a faster resolution to the maneuvers of balance of the two heavyweights and it will increasingly see a decision on Jamaat a quick way to downgrade the complexity and uncertainty of the political game.

We have read that Jamaat leadership has, from time to time, discussed overhauling and rebranding the organization under a new name. Allegedly, the main stumbling block was that the old guard regarded such a move as completely betrayal to hundreds of Jamaat activists (“martyrs” in its jargon)  that have died for the organization in political violence over the last three decades. Jamaat members should know that ‘Blood of Martyrs’ is the most often used but also most often useless excuse. Every political side have martyrs dying in every calendar day of the year. It is only by giving lip service to martyrs memories but going forward by passing them that the world functions at all. If every organization or entity in the world stuck unrelenting with their martyrs causes then the world will be a continuous free-form war.

Pragmatism is mostly a very dirty word for religious political parties because they often equate pragmatism with compromise with core beliefs. But it is pragmatism that has enabled thousand year old religions to survive and prosper in a ever changing world. If Jamaat can recast itself to a new organization and get rid of the fascistic components in its ideology, it will find that there is great prospect for them in Bangladesh political arena. If it fails to do so, few will mourn its disappearance, whichever way the end comes.

Of Causes and Means

2

by Shafiqur Rahman

Power Politics means political action characterized by exercise of power and especially of physical force by a political group as a means of coercion in the attainment of its objectives. Like many political terms with aggressive undertones, the term came from the Germans, machtpolitik, who were determined to set out to develop the archetypes in un-subtlety in political actions  in their not too distant past. In Bangladesh too, the main political parties have been engaging in naked power politics since the dawn of the new democratic era in 1991 but it has reached hitherto unknown depth of depravity this time around.

In the everyday violent melee of the power politics it is sometimes easy to lose sight of the strategies behind the tactics. With some presumption, it is not hard to divine the broad strategies behind the two warring faction. Basically the AL government is pursuing a two pronged strategy. Its preferred strategy is to get BNP to participate in an election managed and supervised by AL so that the next AL government gets the stamp of legitimacy from domestic constituents and international partners. Failing that, ALs second option is to try to paint Jamaat as full-fledged terrorist organization internationally and BNP as its patron-accomplice and manage the low level insurgency by BNP and Jamaat indefinitely while seating snugly at the throne of state power.

BNPs strategy is singular; it is going by the tested and proved way to pry open the governments grip on power by preparing the ground for a third party to intervene. BNP incapable of creating that scenario on its own, that’s why Jamaat is so indispensable to them now. Few can doubt that if BNP can achieve the goal of power politics without the help of Jamaat, it will discard Jamaat in an instance like an used tissue paper.

In pursuance of this strategy BNP is again following the manual of tactics to create maximum destabilization by interrupting the regular life of the country. But this year the BNP led opposition has upped the ante. Not only the life of the general people are being interrupted but also their life itself is being targeted. Especially the series of vehicle burning with people inside has aroused universal disgust and apprehension of this dastardly deed becoming regular part of Bangladesh politics.

The ruling Awami League on the other hand is using state power in unprecedented crushing of political opposition. Whole ranks of senior leadership has been rounded up and all mass-political activity has been clamped upon. In scenes reminiscing brutal foreign occupation, law enforcement agencies are using lethal forces without restraint.

In the daily barrage of the atrocities and excesses of the political power players it is easy to lose sight of the root cause that underlie this current round of confrontation. BNP wants a free and fair election; a election that most neutral observers agree that BNP will win handsomely. AL also recognizes that and that why it is determined to hold an election under its term and deny the people have its say. This foundational subtext of power politics is not due to any inherent virtue of the two parties, the situation is essentially reverse of what was in place in1996 and 2006. The only difference being that this time, opinion polls and local elections have repeatedly underscored this fact of ground.

The AL government is aware of the original sin of its position that is why it is throwing around a host of allegations about BNP to obfuscate the issue. BNP doesn’t want election, it wants to free war-criminals. BNP do not want to respect the rule of law as enshrined in the constitution recently amended by AL to uphold democracy. BNP wants to install a religious theocracy. BNP is colluding with hostile foreign entities. BNP wants to reverse the great developmental achievements of the AL government. BNP is joined in the hip with Jamaat, a terrorist organization. Terror tactics cannot be allowed to succeed. Terrorism is the biggest threat facing the country and so on.

Every time I hear this litany of complaint from AL leaders and apologists, I am reminded of the world’s most contentious issue, the Israel-Palestinian conflict. The global community broadly recognizes the fundamental injustice at the heart of the Is-Pal conflict, an occupying power appropriating land from a native people and denying them freedom to choose their own destiny. Again to obfuscate the core injustice, apologists of Israeli lebensraum employ myriad complaints against the Palestinians.

They say that Israel doesn’t have a reliable partner in Palestinians for peaceful settlement. Palestinians do not want peace. Palestinian authority is deeply in cahoots with religious absolutists and terrorists. Palestinians use heinous terror tactics. Palestinians are backed by foreign entities determined to annihilate Israel. Palestinians are living far better under Israeli occupation than their counterparts living in Arab absolutist regimes. Israel is an oasis of civilization and progress in the midst of a sea of barbarism. Sound’s familiar? And all the while Israel is busy changing the facts in the ground so that a peaceful settlement becomes all but impossible.

Just like Israel-Palestinian issue, the current political problem in Bangladesh is complex and there is no easy solution that will satisfy all parties. But this should not mask the simple injustice lying at the heart of the issue. The controversy about the means used in the political confrontation should not mask the cause of the conflict.

You arrogant ass! You killed us!

1

You arrogant ass! You killed us! অহংকারী গর্দভ! তুমি আমাদেরকেই মেরে ফেললে!

The Hunt for Red October মুভীটি অনেকেই দেখেছেন। সদ্যপ্রয়াত লেখক টম ক্ল্যান্সি’র থ্রিলার অবলম্বনে বানানো এই ছবিটিকে সাবমেরিন লড়াইএর যাবতীয় মুভীগুলির অন্যতম সেরা বলা হয় (সাধারনত জার্মান ক্ল্যাসিক Das Boot ছবির পরেই)/ টান টান, রুদ্ধশ্বাসের পুরো ছবিটির ক্ল্যাইম্যাকটিক একশন দৃশ্যটি থিলার এর চরম উৎকর্ষতায় উন্নীত। এই ক্ল্যাইম্যাক্স সীন থেকেই মনে দাগ কেটে থাকা উপরের লাইনটি নেয়া। নীচে ইউটিউবের দুই মিনিটের ভিডিওটিতে এই চূড়ান্ত মূহুর্ত গুলি আছে। তার আগে যারা ছবিটি দেখেন নি কিংবা উইকিপেডিয়া বা IMDb তে যাওয়ার সময় নেই, তাদের জন্যে কিছুটা অবতরনিকা।

৮০’র দশকের শুরুতে কোন এক তীব্র শীতের ভোরে এক সোভিয়েত নেভাল বেস থেকে প্রথম পে্ট্রলে বের হলো সোভিয়েত নেভীর নতুনতম সংযোজন, টাইফুন ক্লাস মিসাইল সাবমেরিন Red October। এই নতুন সাবমেরিনে প্রথম সংযোজিত হয়েছে এক রিভলিউশনারী প্রযুক্তি, ম্যাগনেটো-হাইড্রোডাইনামিক প্রোপালশন সিস্টেম, যেটা কোনো প্রপেলার ছাড়া নি:শব্দে পানি নীচে সাবমেরিনকে চালিত করবে। নি:শব্দে , রাডার এড়িয়ে চলতে পারাই সাবমেরিনের সবচেয়ে আকাংখিত বৈশিষ্ট্য। নতুন প্রযুক্তির এই নতুন সাবমেরিনের ক্যাপ্টেনের দ্বায়িত্ব দেয়া হলো সোভিয়েত নেভীর সবচেয়ে চৌকষ আর অভিজ্ঞ সাবমেরিনার মার্কো রেমিয়াস (শন কনোরী) কে। কিন্তু নেভীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মোটেই আচ করতে পারে নি যে ক্যাপ্টেন মার্কো রেমিয়াস এর মনে রয়েছে সম্পূর্ন অন্যরকম বাসনা।

দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে রেমিয়াস সোভিয়েত রাষ্ট্রব্যবস্থার উপরে বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠছিলেন। তিনি ভালোই বুঝতে পেরেছিলেন যে এই নতুন নি:শব্দ প্রযুক্তি শীতলযুদ্ধের ব্যালেন্স ওফ পাওয়ার কি রকম উল্টে দেবে। কারন এই প্রযুক্তির সাহায্যে ষোলটি নিউক্লিয়াস মিসাইল সমৃদ্ধ এক একটি টাইফুন-ক্ল্যাস সাবমেরিন একেবারে আমেরিকার উপকূলে চুপকরে বসে থাকতে পারবে এবং এর ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন যেকোন সময়ে অতি দ্রুত মিসাইল লন্চ করে ব্যালেন্স পাল্টে দেয়া আকস্মিক ফার্স্ট স্ট্রাইক ক্যাপেবিলিটি অর্জন করবে। রেমিয়াস সিদ্ধান্ত নেয় যে সে এই নতুন সাবমেরিন নিয়েই আমেরিকার পক্ষে ডিফেক্ট করবে যেনো এই প্রযুক্তি একটি পরাশক্তির কুক্ষিগত না থাকে। রেমিয়াস তার সাবমেরিনের অন্যান্য অফিসারদেরকেও আগে থেকে বুঝিয়ে সুজিয়ে সম্মিলিত ডিফেকশনের পক্ষে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। রেমিয়াস Red October ঘাটি ত্যাগ করার আগ মূহুর্তে পাঠানো এক চিঠিতে নেভীর উচ্চতম কর্মকর্তাদের তার ডিফেকশনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়।

এই সংবাদটি পাওয়া মাত্রই সোভিয়েত নেতৃত্বে চরম তোলপাড় শুরু হয়। আটলান্টিকে থাকা সকল সোভিয়েট নৌযানকে আদেশ দেয়া হয় যেভাবেই হোক রেড অক্টোবরকে খুজে পেয়ে ধ্বংস করতে। রেড অক্টিবরের আমেরিকা যাত্রাপথে সবচেয়ে কাছা কাছি ছিলো সোভিয়েট অ্যাটাম সাবমেরিন (সাবমেরিন শিকারী) Konovalov আর আমেরিকান সাবমেরিন ইউএসএস ডালাস। এদের কাছে কিছুক্ষনের জন্যে রেড অক্টোবরের উপস্থিতি রাডারে ধরা পরে। এরপরেই শুরু হয় আটলান্টিকের গভীরে রেড অক্টোবর, কোনোভালভ আর ডালাস এই তিন সাবমেরিনের ইদুর-বেড়াল খেলা এবং এটিই ছবিটির মূল ঘটনা।

শিকারী সাবমেরিন কোনোভালভ এর ক্যাপ্টেনের দ্বায়িত্বে ছিলো ভিক্তর তুপোলেভ নামের একজন অফিসার। এই তুপোলেভ আবার রেড অক্টোবরের ক্যাপ্টেন রেমিয়াসেরই একজন প্রাক্তন ছাত্র এবং সাবমেরীন যুদ্ধের আসল দীক্ষাই তার হয়েছে রেমিয়াসের হাতে। কিন্তু অহংকারী, দূর্বিনীত এবং মতান্ধ তুপোলেভ, তার লিবারেল, জনপ্রিয় শিক্ষক রেমিয়াস মনে মনে আগে থেকেই তীব্র অপছন্দ করতো এবং এবার আসল সাবমেরীন যুদ্ধে তার শিক্ষককে হারিয়ে দিয়ে ধ্বংস করার সুযোগ পেয়ে তুপোলেভ একেবারে মরীয়া এবং একরোখা হয়ে পড়ে। রেড অক্টোবরকে ধাওয়া করার মধ্যে মরীয়া তুপোলেভ একের পর এক ঝুকিপূর্ন সিদ্ধান্ত নিতে থাকে। তুপোলেভ এর অধীনস্থ অফিসাররা, বিশেষত তার এক্স-ও (এক্সিকিউটিউভ অফিসার) বার বার তুপোলেভকে সতর্ক করে যে তার পদক্ষেপগুলি কোনোভালভকেই বিপন্ন করতে পারে। কিন্তু একগুয়ে, অহংকারী তুপোলেভ কোনো কথাই কানে তোলে না। আর জাহাজে ক্যাপ্টেনের আদেশের অমান্য করা মানে সরাসরি বিদ্রোহ করা, যা নেভীতে প্রায় অমার্জনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত।

অ্যাকশনের চূড়ান্ত মূহুর্তে রেড অক্টোবরকে হাতের কাছে পেয়ে তুপোলেভ আরেকটি হটকারী সিদ্ধান্ত নেয়। সাবমেরীন থেকে নিক্ষেপ করা টর্পেডোতে একটি সেফটি সুইচ থাকে, যে সুইচটি নিক্ষেপের পর বেশ কিছুদূর যাওয়ার পরে অটোমেটিক্যালী ওফ হয়ে যেয়ে টর্পেডোর বিস্ফোরককে আর্মড করে ফেলে। এর কারন যদি সেফটি অন না থাকে, তবে এই সব টার্গেট সিকিং টর্পেডো সবচেয়ে নিকটস্থ জাহাজ হিসেবে, নিক্ষেপকারী সাবমেরীনকেই টার্গেট চিহ্নিত করে ঘুরে আসতে পারে। রেড অক্টোবর যখন খুব কাছে, তখন এক্স-ও’র তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে, নিজেই সুইচ টিপে, তুপোলেভ কোনোভালভ সাবমেরিন থেকে সেফটি ওফ করা টর্পেডো ছুড়ে রেড অক্টোবরের দিকে।

রেড অক্টোবরের ক্যাপ্টেন রেমিয়াসের কৌশলের ফলে শেষ মুহুর্তে তুপোলেভ এর ছোড়া টর্পেডো ঘুরে আসে তার সাবমেরীন কোনোভালভ এর দিকেই অমোঘভাবে। যখন নিশ্চিৎ মৃত্যু আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড দূরে, তখন তুপোলেভ এর এক্স-ও তীব্র ঘৃনাভরে তুপোলেভকে বলে

You arrogant ass! You killed us! অহংকারী গর্দভ! তুমি আমাদেরকেই মেরে ফেললে!

একেবারে শেষমুহুর্তে নিস্ফল গালি দেবার চেয়ে আগে থেকেই কোনো পদক্ষেপ নেয়া দরকার নয় কি?