Awami League’s Rite of Passage

To any progressive, dispassionate observer of Bangladesh politics, one thing must seem very puzzling and intriguing. He would wonder, why Awami League, one of the two main political parties that has experience of governing this diverse country for many years, is still so intolerant, fundamentalist and exclusionary in its words and outlook? Why cannot Awami League accept that there are other political parties in the country that have values and programs that are respectable and legitimate by the criteria of any other democracies in the world? Why does Awami League think that it has a divine mandate to rule the Land of Bangalees and all other parties with stints in power are usurpers? Why does Awami League supporters still so underestimates the popular support base of their opponents in spite of suffering repeated humiliating defeats in fair elections accepted by everyone else? Why do Awami League intellectuals still think that they can pass off their highly parochial, ethnic and history based cultish ideology as progressive liberalism in this day and age?

The answers to these questions are surely complex and require analysis comprising hundreds of thousands of words but I think a deceptively simple answer underlies as a unifying strand among all the analyses. I think a simple answer is that Awami League didn’t have the benefit of a simple rite of passage that would hand deliver it to political maturity and normalcy. In the absence of that rite of passage, Awami League is still stuck in an emotional age of political juvenility.

Rites of passage are ceremonial occasions that celebrate a person’s passage from one significant stage of life to another. Everybody knows about popular rites of passage like the Jewish Bar Mitzvah or the Baby Shower of the first expectant mother. The political rite of passage that Awami League missed out is the normal Bangladeshi experience of a governing party to lose power in face of wide and violent popular unrest. Awami League has not yet lost power by yielding to a popular street movement and thus missed out its rite of passage.

[This was a Bangla post before, now it is translated for timely relevance]

 

১৯৭৩ আর ২০১৩

১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনে যখন আওয়ামী লীগের নিরংকুশ বিজয় সুনিশ্চিত, শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা যখন তুংগে, তখনো এই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সরকার কারচুপি, জালিয়াতি, ভোট ডাকাতির মহোৎসব করে ২৯৩ আসনে জয় এনেছিলো। আজকে যখন এই দলটির পরাজয় নিশ্চিৎ, যখন তীব্র জনরোষের ভয়ে দলটি আশ্রয় নিয়েছে দেশী-বিদেশী মার্সেনারীদের দেয়ালের পিছনে, তখন কোন পাগলে বিশ্বাস করতে পারে যে এই দলটি কোন সুষ্ঠু নির্বাচনে আগ্রহী?

“Electoral irregularities in Bangladesh began at the time of the first post-liberation parliamentary elections held in March 1973. Although the charisma of Sheikh Mujibur Rahman and the popularity of the Awami League all but guaranteed victory for the party at the polls, the elections were marred by numerous malpractices. The Awami League’s determination to win a total victory led the party to engage in a reign of terror against its opponents in prestige constituencies; opposition candidates were prevented from filing or were forced to withdraw their nomination papers, and ballot boxes were stolen and replaced by new ones stuffed with Awami League votes.”

(Page 377) Corruption and Criminalization of Politics in South Asia. By  Stanley A Kochanek

Routledge Handbook of South Asian Politics: India, Pakistan, Bangladesh, Sri Lanka, and Nepal (Routledge Handbooks) 

Paul R. Brass (Editor) April 2010. 

 

রাজনীতিবিদ​রা এবং আমাদের ঘৃনা !!! – Rahul Reza

আমি ফেসবুক এবং ব্লগ এ বাংলাদেশ এর শিক্ষিত ! সমাজের Activity গুলো কে নির্মল বিনোদন মনে করি । আমি মনে করি না, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এর কোনো প্রভাব আছে বা থাকবে । আমি জানি , আমার এই প্রথম ২টি বাক্য পড়েই সবাই আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বেন ।  ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকুন – এর মাঝে আমি ২টা কথা বলে নিই । ফেসবুক এবং ব্লগে সবচেয়ে লিখিত উক্তি হলো-” শালা এই পলিটিশিয়ানদের জন্য দেশের এই অবস্হা অথবা কোথাও ভালো কিছু হয়েছে– কেউ বলছে দেখুন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে- অন্য একজন সেই ফেসবুক এর ফিড এ গিয়ে লিখছেন — ব্লাডি পলিটিশিয়ান রাই দেশটা ১২ টা বাজাচ্ছে-নতুবা-দেশটা কোথা য় চলে যেত”- কারা লিখছে বা বলছে এই কথাগুলো –যারা বাংলাদেশের সব চেয়ে মেধাবী এবং শিক্ষিত ! সমাজ। মূল কথা হলো , আপনারা যত সংখ্যক লাইক পান না কেন অথবা যত বড় ব্লগার হোন না কেন , এই দেশ এর পরিবর্তনে আপনারা কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না বা আপনাদের ভূমিকা শূন্য । জনাব ফেসবুকার , ব্লগার আপনার স্টাটাস ঢাকা থেকে এরিয়াল দূরত্ব ৪০ কিমি এর এক হাওর গ্রামের কৃষক  কে ভাব তাড়িত করে না । এই গ্রামে ঢাকা থেকে  যেতে ১২ ঘন্টা লাগে– মাত্র  !!! । 
 
আপনারা স্বপ্ন দেখতে থাকুন , আমার গ্রামের কৃষক , তার আই ফোন বা ল্যাপ টপে , ফেসবুকে আপনার স্টাটাস পড়ে সচেতন হবে আর জাগরিত হবে আর বাংলাদেশ  সহসাই  সোনার বাংলা হয়ে যাবে । দিন শেষে  আওয়ামী লীগ বা বিএনপি র নেতা / কর্মী দের দ্বারাই তারা পরিচালিত হন-খারাপ বা ভালো সেটা যেভাবেই হোক না কেন । হয়তো বা অবশ্যই এরা দূর্নীতিবাজ , সন্ত্রাসী বা খারাপ। কিন্ত এরা এই কৃষক আর আপমর সাধারন মানুষের সাথে থাকে । আপনি মনে করছেন -আপনার অনলাইন এক্টিভিটি দিয়ে তাদের প্রভাবিত করবেন- নো ওয়ে-আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন । তারা আপনার চেয়ে হয়তো মেধাবী না হতে পারেন – কিন্তু আপনার চেয়ে এক কাঠি সরেস এবং সুচতুর । আপনাকে খুব বাহবা দিবে-আপনি মার্ক্স পড়ছেন, কোরান পড়ছেন, দেশের দূর্নীতি নিয়ে ভাবছেন –কিন্তু  এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন তার নিজের মত করে । আপনি মনে করছেন-সৈয়দ আবুল হোসেন কে আপনি অনলাইনে ফাটিয়ে ফেলেছেন বা আমানুল্লাহ আমান কে ধরাশায়ী করে ফেলেছেন বা শহীদ উদ্দীন চৌধুরীকে সন্ত্রাসী বা রাজাকার বানিয়ে ফেলেছেন অথবা সুরন্জিত বাবু কে কালো বেড়াল বানিয়ে ফেলেছেন– কোনো লাভ নাই– মাদারীপুর এর লোক ঠিক আবুল হোসেন কে এমপি বানিয়ে আনবেন– কেরানি গন্জ এর মানুষ ঠিকই আমান কে ভোট দিবে — লক্ষীপুর এর মানুষ ঠিকই এ্যানি কে জয়যুক্ত করবে– সুনামগন্জ এর লোক ঠিকই আপনাদের চোখকে পাল্টি মেরে সুরন্জিত কে নির্বাচিত করে আনবে । আপনারা মনে করছেন অনেক বড় গন জাগরন করে ফেলেছেন -সেইটা আপনার ল্যাপটপে আর শাহবাগে । অবাক হয়েন না, যদি জামাত ৫ বা তারও অধিক সীট নিয়ে আসে ।মূল কথা হলো আপনারা হলেন আমাদের রাজনীতি বিদ দের কাছে দুধ-ভাত -কোনো বেইল নাই। পরিশেষে একটা কথা বলি– বাংলাদেশের     সকল রাজনীতিবিদ দের সালাম জানাই-তারা এক চিমটি  পরিমান হলেও আপনাদের চেয়ে দেশ প্রেমিক । কেন সেইটা -আর একদিন বিস্তারিত বলবো। 
বি: দ্র: এই লেখার ” আপনাদের” শ্রেনীতে আমিও অর্ন্তভুক্ত

চেতনা বনাম গনতন্ত্র

2

গত কয়েকমাসে আওয়ামী লীগ সমর্থক বুদ্ধিজীবিদের বিভিন্ন কলাম ও টকশো এর বক্তব্যগুলি থেকে একটি টকিং পয়েন্ট বার বার উঠে এসেছে। যখনই তারা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে যে এককভাবে জনগনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দিয়ে আওয়ামী সরকার গনতন্ত্র ও ভোটাধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে কি না, তখনই তারা নানাভাবে ইতস্তত করে একটি বক্তব্যই বার বার বলেছে। তারা বলে থাকে যে গনতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার আগে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে যারা দেশের ‘স্বাধীনতার চেতনা’র বিরুদ্ধে, যারা যুদ্ধাপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়, তাদেরকে কি আমরা আবার ক্ষমতায় আসতে দিবো কি না। তারা বলে যে নির্বাচনের আগে আমাদের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র পক্ষ বিপক্ষের ক্ষমতা নিয়ে মীমাংসা করতে হবে। এই বক্তব্যের পরে অনিবার্য প্রতিপ্রশ্ন এসে যায় যে তবে কি এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গনতন্ত্র সাংঘর্ষিক? সংগত ও বোধগম্য কারনেই এই প্রশ্নটি আমরা এতোদিন গনমাধ্যমে উপস্থাপিত হতে দেখি নি।

কিন্তু এখন এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। গতকাল ইন্টারনেটে একটি টকশো এর অংশ দেখছিলাম। বুধবারে ‘বৈশাখী’ চ্যানেলের এই টকশোতে উপস্থিত দুই ব্যাক্তিত্বই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রতিনিধি বলে পরিচিত। সিপিবি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও কলামিস্ট অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী। অনুষ্ঠানে চলার সময়ে অধ্যাপক পাটোয়ারীর নানা বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উপস্থাপক অবশেষে প্রশ্নটি করেই ফেললেন যে, “আজকের দিনে কি পরিস্থিতিটি কি মুক্তিযুদ্ধ বনাম গনতন্ত্রের লড়াইতে এসে দাড়িয়েছে’? খুব সংগত কারনেই রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবি দুজনেই এই প্রশ্নটি এড়িয়ে গেলেন। কিন্তু জনগনের চিন্তার মধ্যে এই প্রশ্নটি এড়ানোর কোন উপায় নেই। আজকে এই প্রশ্নটি সবার সামনে জ্বলন্ত হয়ে উপস্থাপিত হচ্ছে যে চেতনা ও গনতন্ত্র কি মুখোমুখি সংঘর্ষে উপস্থিত?

যেকোন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই কয়েকটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। একেবারে সামনা সামনি সবচেয়ে প্রত্যক্ষ লড়াই হলো ব্যাক্তির সাথে ব্যাক্তির (যেমন খালেদা বনাম হাসিনা)/ এর পরের স্তর বলা যেতে পারে এই লড়াই দল ও সমর্থকদের মধ্যে। আরো উচ্চস্তরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হলো চিন্তা ও আদর্শের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এই বছরে চিন্তার জগৎ এ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে অনেক রকম লেবেল দেয়া হয়েছিলো, বিচার বনাম অবিচার, ধর্মীয় মৌলবাদ বনাম ধর্মনিরপেক্ষতা, এরকম আরো বেশ কিছু। কিন্তু এই সব লেবেল পরিত্যাক্ত হয়ে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের সামনে এসে এই মতবাদের লড়াই পর্যবাসিত হয়েছে চেতনা ও গনতন্ত্রের মধ্যে।

দেশজুড়ে সমর্থকেরা যেভাবেই এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে দেখুক না কেনো, দুই বৃহৎ প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতারা ও কর্মীরা কিন্তু খুব ভালোভাবেই জানে এই লড়াই শুধুমাত্র পার্থিব ক্ষমতার লড়াই। বাংলাদেশে এখন ক্ষমতায় আসীন হওয়া মানে সাম্রাজ্যের অধিপতি হওয়া সহ আলাদীনের চেরাগ পাওয়া। আর ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হওয়া মানে বনবাসে নির্বাসন, নির্যাতন, ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যু পর্যন্ত। সুতরাং তারা খুবভালো করেই জানে এই লড়াই আসলে কিসের জন্যে।

এই রাজনীতিবিদদের কাছে বিভিন্ন রকম চিন্তা-আদর্শের বুলি হলো ক্ষমতার জন্যে তাদের নগ্ন-লোভী যুদ্ধকে জনসাধারনের কাছ থেকে ঢেকেঢুকে রাখার জন্যে একটি ছদ্মাবরন মাত্র। কিন্তু রাজনীতির সমর্থকেরা, যারা একেকটি রাজনৈতিক পরিচয়ের সাথে নিজের আত্মপরিচয় এক করে ফেলেছে, তাদের কাছে এই দ্বন্দ্ব হলো চিন্তা ও আদর্শের লড়াই, যে লড়াই এর জয় পরাজয়ে নির্ধারিত হয় নিজের আত্মপরিচয়েরও স্বীকৃতি। রাজনীতিবিদদের সরাসরি লড়াই এর চেয়ে কিন্তু এই চিন্তা ও আদর্শের লড়াই কম গুরুত্বপূর্ন নয় কারন সময়ের দীর্ঘমেয়াদী স্কেলে, ব্যাক্তিত্ব ও দল ছাপিয়ে এই চিন্তার লড়াইটিই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথ দেখায়।

২০১৩ এর শেষে, এই রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও চিন্তার লড়াই কিন্তু অনেক আগে থেকেই স্পষ্ট অনিবার্য ছিলো। ২০১১ তে একক ইচ্ছায় তত্বাবধয়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দেয়ার সময়েই এই সংঘর্ষের স্ক্রীপ্ট লেখা হয়ে গিয়েছিলো। যেকোন সচেতন নাগরিকের কাছে এটাও স্পষ্ট ছিলো যে ক্ষমতা নামের আলাদীনের চেরাগকে সুসংহত করতেই ক্ষমতাসীন দল এই অজনপ্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছিলো। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকেরা এই স্পষ্ট রাহাজানিটিকে জনতার সমানে গ্রহনযোগ্য করে তোলার জন্যে নানারকম মজাদার কথাবার্তা উপস্থাপন করতো। একটি কথা এই গ্রীষ্মে প্রায়ই শোনা যেতো যে শেখ হাসিনা নাকি বাংলাদেশে গনতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্যে বদ্ধপরিকর। তিনি নাকি তত্বাবধায়ক নামের জোড়াতালি ব্যবস্থা বাদ দিয়ে পুরোপুরি নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গনতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে যেতে চান এবং এটিকেই তার সবচেয়ে বড়ো লিগ্যাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যেতে চান।

কিন্তু গত কয়েকমাসে নির্বাচন কমিশনের একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপে ও সাজানো নির্বাচন থেকে বিএনপি’কে যে কোন প্রকারে থেকে দূরে রাখার চেষ্টার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আসলে পুরোটাই ছিলো সেই পুরাতন ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতাকে কুক্ষীগত রাখার চেষ্টামাত্র। সর্বশেষ যে খোড়া অজুহাত ছিলো সংবিধান সমুন্নত রাখার দৃঢ়তা, সেটিও জনতার সামনে হাস্যকরভাবে বাতিল হয়েছে মন্ত্রীদের পদত্যাগের অ্যাবসার্ড নাটকের মতো ঘটনায়। এখন চেতনা ছাড়া আর কোন আদর্শের তীর নেই তূনীরে।

বর্তমানের এই চেতনা এবং গনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে দেশের জনগনের অবস্থান কোথায়? আগের দিনের মতো এই প্রশ্নের উত্তর খোজার জন্যে এখন আর বুদ্ধিজীবি-বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা এখন জনমত জরীপের যুগে প্রবেশ করেছি, এটা পুরাতন রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা বুঝতে যত দেরীই করুক না কেন। এই বছরে প্রকাশিত চার-পাচটি জরীপে বের হয়ে আসা ফলাফল দ্ব্যর্থহীন, দেশের কমপক্ষে ৭০ -৮০% জনগন চায় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, কারন তারা মনে করে কোন রাজনৈতিক সরকার তাদের ভোটাধিকারের সুরক্ষা করবে না। আর যারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র ক্ষমতার লড়াইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে-বিপক্ষের লড়াই বলে অভিষিক্ত করেন, তাদের এই মতই জনতার মধ্যে কতটুকু প্রতিফলিত? সর্বশেষ প্রকাশিত জরীপগুলোতে দেখা গেছে এখন বিএনপি’র জনপ্রিয়তা ৫০% এর উপরে আর আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা নিম্ন তিরিশ কিংবা তারও নীচে।

রাজনীতির লড়াইকে বুদ্ধিজীবি-সমর্থকেরা যে কোন আদর্শিক লেবেলই লাগাক না কেন, জনগনের কাছে এটি সেই পুরাতন ক্ষমতাসীন আর ক্ষমতাসীনদের সড়ানোর জন্যে একমাত্র সক্ষম প্রতিপক্ষেরই লড়াই।আওয়ামী লীগ-বিএনপি’ লড়াইতে এই জনমতের এই বিপুল পরিবর্তনের কারনটাও প্রথম পরিসংখ্যানটিই স্পষ্ট করে দেয়। কুশাসনের প্রতিযোগিতায় এই দুই দলের অতীত কেউ কারো চেয়ে কম কলংকিত না হলেও জনগন জানে এই সময়ে কোন দলটি তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রে মগ্ন। সাধারন জনতার কাছে গনতন্ত্রের একমাত্র অবশিষ্ট অধিকার, ভোটাধিকারকে নিয়ে চরম অবিবেচক পদক্ষেপই ক্ষমতাসীন দলের গনভিত্তিতে বিশাল ফাটল ধরিয়েছে।

চেতনার পক্ষের যারা কিছুটা বাস্তব সচেতন তারা আর এখন দেশের রাজনীতি ও জনসমর্থনের ভূপ্রকৃতির এই স্পষ্ট রূপটিকে অগ্রাহ্য করতে পারে না। এদের অনেকেই এখন সরাসরি বলে যে গনতন্ত্রের ভোটের মাধ্যম্যে দুই কুকুরের ক্ষমতার হাড্ডি নিয়ে চলা দশকের পর দশক লড়াই এর চেয়ে তাদের কাছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন ও তার রায়ের পূর্ন বাস্তবায়ন হওয়া অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ন। তারা বলে যে যতক্ষন না দেশের জন্মলগ্নের এই আদি কলংকের মোচন ঘটছে ততক্ষন মানুষের ভোটাধিকারের সুষ্ঠু প্রয়োগ হলো কি না এটি তাদের কাছে বড়ো বিবেচ্য নয়। কোনো সন্দেহ নেই যে এই অত্যেন্ত সচেতন নাগরিকদের এই মতটির পেছনে যুক্তি আছে, ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে চলমান বিচার প্রক্রিয়া যে পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু পাচ বছর সময় পাওয়ার পরও বিচারের অজুহাতে গনতন্ত্রকে আপাতত পর্দার অন্তরালে সড়িয়ে রাখার এই চিন্তাটি দেশের জনগনের বৃহদংশ তো দূরের কথা, এক উল্লেখযোগ্য অংশই ধারন করে কি না সেটি নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ আছে। আর গনতন্ত্রে একজন উচ্চশিক্ষিত, চেতনায় ভরপুর নাগরিকের মতামত, আর নয় কোটি নিরানব্বই লক্ষ, নিরানব্বই হাজার, নয়শ নিরানব্বই জনের চেয়ে সামান্যতম বেশী দামী নয়। চেতনার অজুহাতে একটি ক্ষুদ্র অংশের মতকে জনগনের বৃহদংশের উপরে চাপিয়ে দেয়ার প্রতিক্রিয়া অবশ্যই হবে চেতনার জন্যে অনেক বেশী প্রতিকূল।

আমাদের দেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতার চেতনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি ফ্যাক্টর হওয়া সত্বেও এই চেতনার স্বরূপ কি কিংবা দেশের জনগনের মধ্যেই এর প্রতিফলন কতটুকু, এই সব নিয়ে নিরাবেগ আলোচনা কখনো হয় নি। এর অন্যতম কারন অবশ্যই হলো যে এই চেতনা, যুদ্ধাপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীদের মতো অমীমাংসিত বিষয়ের কারনে আমাদের কাছে অতীতের কোন ব্যাপার নয় বরং জলজ্যান্ত বর্তমানে তীব্র আবেগের আধার। তবে আশা করা যায় যে অবশেষে ২০১৩ এই তুমুল ঘটনাপ্রবাহ যখন স্তিমিত হয়ে যাবে তখন আমরা এই অতি প্রয়োজনীয় আলোচনাটি শুরু করতে পারবো। আমি এই লেখায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্লেষনের মতো বিশাল কাজ নেয়ার স্পর্ধা করতে পারি না তবে লেখার মূল বক্তব্য তুলে ধরার জন্যেই চেতনা নিয়ে কিছু কথা সংক্ষেপে হলেও বলা প্রয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধের চে্তনা বলতে কি বুঝায় এই প্রশ্নের উত্তরে বহুদিন ধরে স্ট্যান্ডার্ড উত্তর ছিলো আমাদের ১৯৭২ এর সংবিধান এর চার মূলনীতি, বাংগালী জাতীয়তাবাদ, গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সময়ের সাথে সাথে এক অখন্ড চেতনার সাথে এই চার মূলনীতির সামন্জস্যতা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন এলেও এসব নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা খুব কম হয়েছে। এর কারন অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের মতো ইতিহাসে একক ঘটনার সাথে এই নীতিগুলিকে সম্পৃক্ত করে ফেলা। কিন্তু এখন আর এই অসামন্জস্যতাগুলো এড়ানোর কোনো উপায় নেই। গনতন্ত্রের সাথে সমাজতন্ত্র সামন্জস্যপূর্ন নয়। জাতীয়তাবাদের মতো একটি রক্ষনশীল মতবাদের স্থান উদার গনতন্ত্রে কতটুকু এনিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে তো বটেই, সেই মুক্তিযুদ্ধের সময়েও মুক্তিকামী সংগ্রামীদের কতজন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চেয়েছিলো সেটি নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ আছে।

চেতনা হলো মানুষের মনের মধ্যে উৎসারিত বৃহৎ কোন অনুভূতি, কিন্তু কোন দুটি মানুষের মন যেমন এক রকম হয় না ঠিক তেমনি কোনো দুটি মানুষের চেতনা অবিকল এক হয় না। মুক্তিযুদ্ধের মত বিশাল ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেও প্রতিটি মুক্তিকামী যোদ্ধা, জনতা ও নেতা পুরোপুরি একই রকম চেতনায় আন্দোলিত হয় নি, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবন, অভিজ্ঞতা ও মানসিকতার পার্থক্যে চেতনার মধ্যেও কমবেশি পার্থক্য ছিলো। কিন্তু আমরা যদি চেতনাকে একটি অখন্ড বোধ হিসেবে না দেখে একটি স্তরে স্তরে বিন্যস্ত সাধারন মূল্যবোধ হিসেবে দেখি তবে আমরা বিশাল জনতার মধ্যে অনিবার্য পার্থক্যকেও চেতনার মধ্যে ধারন করতে পারবো।

আমি মনে করি আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন চেতনার প্রাথমিক স্তরে অর্থাৎ সকল মুক্তিকামী মানুষের মধ্যে বিস্তারিত চেতনার প্রথমে রয়েছে স্বাধীনতা। সেই সময়ে মুক্তিকামী প্রত্যেকেই পাকিস্তান নামে দুই হাজর মাইল দূরের একটি বিজাতীয় দেশ কতৃক আমাদের দেশের উপরে শ্রেফ ধর্মের অজুহাতে প্রভুত্ব চালানোর বিরোধী ছিলো। বিদেশীদের থেকে স্বাধীনতার মতো মানব ইতিহাসের অত্যন্ত প্রাচীন কিন্তু মৌলিক একটি গোষ্ঠীগত চেতনাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক চেতনা। আমার মতে এর পরের স্তরে, অর্থাৎ প্রথম স্তরের চেয়ে কম হলেও পরবর্তী ব্যাপক বিস্তারিত চেতনা ছিলো গনতন্ত্র। মুক্তিকামী লোকদের অধিকাংশই মনে করতো এই দেশে, জনগনের ভাগ্য নিয়ন্তা হবে জনগনই। এই দুটি প্রাথমিক চেতনার স্তরের পরেই ছিলো অন্যান্য আকাংখা বৈষম্যহীন সমাজ, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাংগালী সংষ্কৃতি এরকম অন্যান্য। এর কোনটি অন্য কোনটির আগে অথবা পরে এটি আলোচনা করা এখানে সম্ভব নয়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কিছুটা বিশ্লেষন করলেই আজকে এই ‘চেতনা বনাম গনতন্ত্রে’র দ্বন্দ্বে ভয়াবহ কন্ট্রাডিকশনটি চোখে পড়ে সরাসরি। গনতন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম প্রধান অংশ। চেতনা সেই গনতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে নিজেকেই একটি চরম সেলফ কন্ট্রাডিকশনের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই কন্ট্রাডিকশনটি যদি দ্রুত নিরাময় না করা হয় তবে এর পরিনতি কি হবে এটি অনুমান করা শক্ত নয়। গনতন্ত্রের মতো আধুনিক মানুষের মৌলিক এবং সার্বজনীন একটি চেতনার বিরুদ্ধে দাড়িয়ে অক্ষত অবস্থায় দ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, সেটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতো শক্তিশালী অনুভূতি হলেও।

কিন্তু আরো আশংকার কথা যে ২০১৩ এর শেষে চেতনাকে শুধুমাত্র গনতন্ত্রের মতো শক্তিশালী একটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দাড় করানো হয় নি, ঘটনা প্রবাহের পরিনতিতে চেতনা অবস্থান হয়ে পড়ছে আরো মৌলিকতম একটি চেতনা ও আবেগের বিরুদ্ধে। সেটি হলো বিজাতীয় শক্তির প্রভূত্বের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আকাংখা। চেতনা যদি স্বাধীনতার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয় তবে জনগনের মধ্যে তার অবস্থান কি হতে পারে এটি তুলে ধরার কোন প্রয়োজন পড়ে না।

আমরা যদিও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জনগনের কাছে স্পষ্ট করি নি তবু স্বাধীনতার পরে গত চার দশকে এই চেতনা আমাদের গনতন্ত্র ও রাজনীতিতে অনেক গুরূত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় মৌলবাদের মতো প্রচন্ড শক্তিশালী একটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই চেতনাই এখনো আমাদের গনতন্ত্রের সবচেয়ে বড়ো অবলম্বন কারন আমাদের জাতির মধ্যে উদারনৈতিক মূল্যবোধের প্রসার এখনো ঘটে নি। একারনে গনতন্ত্রের সাথে চেতনাকে বিরোধে জড়িয়ে ফেলাতে মৌলবাদের পথই আরো সুগম হচ্ছে। যারা চেতনা রক্ষার সরব-উচ্চকন্ঠ, তাদের একটা জিনিষ বোঝা উচিৎ যে রাজনীতিতে পট পরিবর্তন ঘটে সময়ের স্কেলে খুব দ্রুততার সাথেই। কেউই কখনো একাধারে এগিয়ে বা পিছিয়ে থাকে না, দ্রুত পরিবর্তনই রাজনীতির চিরায়ত বৈশিষ্ট। কিন্তু কোনো আদর্শ বা চিন্তা যদি একবার জনগনের মধ্যে বিচ্যুত, পতিত বলে গণ্য হয়, তবে তার পূর্নবাসন হতে সময় লাগে অনেক অনেক বেশী, কখনো সেটি আর হয়ে ওঠেই না।

দলকানা নেত্রীদাস ও নেত্রীকানা দলদাস…প্রসঙ্গ তত্ত্ববধায়ক সরকার

by    WatchDog Bd

বিচারপতি হাসান, বিচারপতি আজিজ, ইয়েস উদ্দিন আর লাশের উপর ব্রাজিলিয়ান সাম্বা নাচের জরায়ুতে জন্ম নিয়েছিল সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। হরতালের পর হরতাল, দানবীয় ভাংচুর, সীমাহীন নৈরাজ্য আর লাশের মিছিলে পথ পাকা করে ক্ষমতা নামক সোনার হরিনের দেখা পেয়েছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু হায়, ক্ষমতার স্বাদ তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রীর বলেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারণেই না-কি ১/১১ এসেছিল। বাক্যটা তিনি অসম্পূর্ণ রেখেছেন হয়ত ইচ্ছে করেই। কিন্তু আমরা যারা শেখ আর রহমান পরিবারের নেশায় নেশাগ্রস্ত নই তাদের ভাল করেই জানা আছে এই ১/১১’র কারণেই আওয়ামী লীগ আজ ক্ষমতায়। ’এই সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল, এদের সব কাজের বৈধতা দেব আমরা’ – কথাগুলো কি অন্য গ্রহের এলিয়ন শেখ হাসিনার কথা ছিল? হয়ত চাটুকার আর মোসাহেবদের বলয় ভেদ করে খবরটা পৌছে গেছে প্রধানমন্ত্রীর অন্দরমহলে, নৌকায় চড়ে নির্বাচনী বৈতরনী পাড়ি দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা এ যাত্রায়। একই ম্যাসেজ বেগম জিয়াও হাতে পেয়েছিলেন এবং যথাযত ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন ক্ষমতার জোরে আইন পাশ করিয়ে পছন্দের বিচারপতিকে ক্ষমতায় বসালেই নিশ্চিত হয়ে যাবে তারেক জিয়ার রাজত্ব। কিন্তু হয়নি, কারণ আইনের জন্যে মানুষ নয়, মানুষের জন্যে আইন, আর ক্ষমতাও পারিবারিক সম্পত্তি নয়। এ সহজ সত্যগুলো রাজনীতিবিদেরা কেন জানি ক্ষমতারোহনের প্রথম দিনেই ভুলে যান। সরকারী কোষাগারের চাবিটা হাতে পেয়েই ভাবতে শুরু করেন এ আমার, এ আমার সন্তানের, এ সন্তানের সন্তানের। হাসান আর খয়রুলরা এ দেশেরই সন্তান। বিচারপতি প্রফেশন হলেও এদের আসল পরিচয় পারিবারিক দাস হিসাবে। প্রভুর আইনী স্বার্থ দেখভাল করার জন্যেই এদের ক্ষমতায় বসানো হয়। খায়রুল সে দাস বংশেরই একজন। কলমের এক খোচায় ১৫ কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেয়ার কোন অধিকার ছিলনা এসব গোলামদের।
রাজনীতিবিদেরা মুখ খুলে না বললেও আমরা বুঝতে পারি নাজিম উদ্দিন রোডের স্মৃতি তাড়া করছে উনাদের। ক্ষমতায়নের মোক্ষম অস্ত্র শেখ হাসিনার হরতাল এখন বেগম জিয়ার হাতে। এ কেবল শুরু। বেগম জিয়া আসলেই যদি ক্ষমতা ফিরে পেতে চান উনাকে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। সে পথে থাকবে হরতাল ম্যারাথন, ভাংচুরের মহাপ্রলয়, জীবন্ত পুড়িয়ে মারার দানবীয় চিত্র আর লগি-বৈঠার তান্ডব। এ গুলোই আমাদের রাজনীতি। এ সব নিয়ে উদ্বেগ করার কোন কারণ দেখি না। শেখ হাসিনার বেলায় যা বৈধ তা অন্য কারও বেলায় বৈধ হতে বাধ্য। বেগম জিয়া এই অন্যদেরই একজন। আসুন উপভোগ করতে শিখি রাজনীতি নামের এই পশুত্ব। কেবল হাসান বা খয়রুলই নয়, আমরা বাকিরাও রাজনীতির কেনা গোলাম, শেখ আর রহমান পরিবারের কুন্তাকিন্তে। এক কথায় দলকানা নেত্রীদাস অথবা নেত্রীকানা দলদাস।

Not a mindless atrocity but an atrocity of ‘war’

 

Death relieves his pain | http://www.thedailystar.net

Death relieves his pain |
http://www.thedailystar.net

The boy Monir died at last after three days of indescribable pain from burning of 95% of his body. The whole country silently prayed that Monir die sooner than later, prayed so that the merciful god takes Monir in his peaceful embrace and deliver him from the hell on earth called Bangladesh. We have seen the pictures. Monir sitting on the ground with his whole body blackened with third degree burn. Monir’s father carrying the charred but still living body of his beloved son. No words can convey the thoughts and emotions that go through a sentiment human when watching these images.

 

Read the Rest at AlaloDulal.org

Not a mindless atrocity but an atrocity of ‘war’

ফাইনাল খেলা অ্যাট বাংলার বিবেক! by Mohammad Hasan

ফাইনাল খেলা অ্যাট বাংলার বিবেক!

পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে একটি খেলার মাঠে চলছে তুমুল ডামাডোল। জায়গার নাম বাংলার বিবেক। এই গল্পের নায়ক হচ্ছে একজন সাংবাদিক(বোকা) /তো চলুন গল্পে প্রবেশ করি।

বোকার ঘুম ভাঙ্গল এক সাংবাদিকের ফোনে।বিকেলের ঘুম ভাঙলে খুব একটা বিরক্ত লাগেনা কিন্ত তার আজকে খুবি বিরক্ত লাগছে কারন সে জানে ফোনটি ধরলেই তাকে আবার দৌড়াতে হবে কোথাও না কোথাও।

সাংবাদিকঃ হ্যালো ভাই বলুনতো কি করছেন আপনাকে কখন থেকে ফোনে করছি।

বোকাঃ সরি ভাই চোখটা লেগে এসেছিল, বলুন কি ব্যাপার।

সাংবাদিকঃ মাঠে চলে আসুন, ব্রেকিং নিউজ পেয়ে যাবেন, আমি ওখানেই যাচ্ছি ,রাখলাম।

বোকাঃও আচ্ছা,ধন্যবাদ।

বোকা দ্রুত চলে আসল মাঠে। চিতকার চেচামেচিতে বিচ্ছিরি অবস্থা। পাবলিকের কাছে বোকা যা জানতে পারল তা হল আজ মাঠে ফাইনাল খেলা হওয়ার কথা টিম এ এবং টিম বি’র মধ্যে।কিন্তু বি টিম খেলতে রাজি হচ্ছে না এবং ওয়াকওভারও দিচ্ছে না।তো বোকা গেল মাঠের মাঝখানে সেখানে দুই টিম এবং খেলার কমিটির বাক বিতণ্ডা চলছে।কিছু সাংবাদিক ছবি তুলছে এবং তাদের সামনে গিয়ে কিছু লোক পোজ দিচ্ছে আর হাত নেড়ে চিতকার করছে”এই আমি সুশীল ক্রিয়া বোদ্ধা, আমি সুশীল”/যাহোক বোকা সোজা গিয়ে বি দলের কাছে জানতে চাইল কি ব্যাপার আপনারা খেলছেন না আবার  ওয়াকওভারও দিচ্ছেন না ব্যাপার কি।

বি দলঃআর বলবেন না ভাই বলে কিনা এটা হোম ভেনু তাই ওদের দলের ক্যাপ্টেন নাকি হবে ম্যাচ রেফারী।

সাথে সাথে এ দলের প্রতিক্রিয়াঃ আরে ভাই আমাদের ক্যাপ্টেন একজন যোগ্য ব্যাক্তি তার পরিচালনাতেই খেলা হবে।

বোকা ঠিক ব্যাপারটি বুঝতে পারল না তাই সে ক্রিয়া কমিটির প্রধানের কাছে জানতে চাইল”একটি দলের ক্যাপ্টেন রেফারী হওয়াটি কি যুক্তি যুক্ত ?

ক্রিয়া কমিটির প্রধানঃ দেখুন আমাদের রুলবুকে কোথায় লেখা নেই যে দলের ক্যাপ্টেন রেফারী হতে পারবে না। আর রেফারী নির্বাচন আমাদের এখতিয়ারে নেই।তাছাড়া তিনি নিজে যখন আমাদের ক্রিয়া কমিটি গঠন করেছেন আমাকে প্রধান করেছেন তো তিনি রেফারী হলে অসুবিধা কোথায় বলুন।

বোকাঃ অ্যাঁ দলের ক্যাপ্টেন ক্রিয়া কমিটি গঠন করেছে!! (বোকার মাথা আরো ঘুরিয়ে যায়)

বলে কি লোকটা (বিড়বিড় করে)

ক্রিয়া কমিটির প্রধানঃ আমায় কিছু বললেন ? বোকা না সুচক উত্তর দিয়ে সরে আসে ওখান থেকে। বোকা এবার যায় সেই  ক্রিয়া বোদ্ধাদের সাথে কথা বলতে

বোকাঃ আচ্ছা দলের ক্যাপ্টেন রেফারী হতে চাইছেন এটা কি করে সম্ভব ?

ক্রিয়া বোদ্ধা একঃ আপনি কি গাঁজাখোর ?

বোকাঃমানে?

ক্রিয়া বোদ্ধা একঃগাঁজাখোরের মত প্রশ্ন করলেন যে বড়।আপনি কি জানেন না এ দলের ক্যাপ্টেনের পিতাকে বলা হত বাংলার বিবেক আর তার সন্তান রেফারী হতে পারবেনা এটা কি মানা যায় । আপনার মত গাজাখোরদের এই বাংলার বিবেকে ঠাই নেই ঠাই নেই।

বোকা মানে মানে কেটে পড়ল তার কাছ থেকে সামনেই আরেক বোদ্ধা তার কাছে জানতে চাইল

এ দলের ক্যাপ্টেন রেফারী হিসেবে কতটা যোগ্য?(আগের বারের কথা মনে রেখে এবার বোকার ডিপ্লোম্যাটিক প্রশ্ন)

বোদ্ধা দুইঃদেখুন এটা একটি অসাধারন প্রশ্ন।এই প্রশ্নের উত্তর দেব ভেবে আমার গর্ববোধ হচ্ছে।এ দলের ক্যাপ্টেন বৈজ্ঞানিক ভাবে তার যোগ্যতা প্রমানিত করেছেন। সুদূর মঙ্গলের ভেরিফাইড গননা বিজ্ঞানী তা প্রমান করেছেন।তাছাড়া এই বাংলার সবচে নামি যেই মেডিছিন  “মলমে চেতনা” ওই ক্যাপ্টেনের পারিবারিক ঐতিহ্য । এই লোক ছেড়ে আর কোথায় পাবেন যোগ্য রেফারী

বোকা এবার আসলেই বোকা বনে রইল । কিন্তু তাকে তো একটি স্টেটমেনট লিখতে হবে তাই এবার সে গেল ধারাভাষ্যকারের কাছে

ধারাভাষ্যকারঃ জি দেখুন সবারই ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

বোকা এবার একটু আশস্থ হয়ে বলল কিন্তু বি দল এখানে কিই বা ছাড় দিতে পারে?

ধারাভাষ্যকারঃ আহা দেখুন রেফারী তো আর একজন হয়না সাইড লাইনে আরো দুজন দাড়ানো থাকে এদের একজন বি দলের থেকে নেয়া হবে তা হলেই তো হল।

বোকা যথারীতি আশাহত তো এবার সে গেল মাঠের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানের কাছে?

বোকাঃখেলা যদি না হয় তবে দর্শকরা কি টাকা ফেরত পাবে?

নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানঃ খেলা হবেই

বোকাঃতা কিভাবে বি টিম তো খেলবে না রেফারী পরিবর্তন না হলে

নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানঃবি টিম কে তো এভাবেই ডিসকোয়ালিফাইড করা উচিত এরা খেলায় হারবে জেনে ষড়যন্ত্র করে মাঠ ধরে নাড়াচাড়া করেছে, মাঠের ক্ষতি করেছে। আমরা সর্ব সমস্যার মেডিছিন মলমে চেতনা লাগিয়ে মাঠ প্রস্তত করেছি ।খেলা এখানে হবেই।বি টিম খেলবে না তো কি হয়েছে আমাদের এ টিমের অতিরিক্ত খেলোয়ার দিয়ে দল গঠন করে খেলা হবে আর দর্শক সেই খেলা দেখবে, উপভগ করবে এবং এ টিমের প্রত্যাশিত জয়ের পর দর্শক নাচবে।বি টিম এই মাঠ কে মুরগীর খোয়ারে পরিনত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত দর্শকদের নিয়ে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। ……………………………………………………………………………।

গল্পটি এখনো চলছে এই গল্পের শেষ কোথায় আমার জানা নেই কেননা এ দল আর বি দলে সবসময়ই বিভক্ত থাকব আমরা আর খেলার মর্যাদার নয় স্বীয় দলের বিজয় উল্লাস দেখতেই পছন্দ করব।  আর এরকম বোকারা ঘটনার একটি জাস্টিফাইড স্টেট দাড় করানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাবে একসময় তারাও বায়াস থটের ভিড়ে হারিয়ে যাবে।

(এই মূল্যহীন লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। লেখাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। নিজ দায়িত্তে বাস্তব চরিত্রের সাথে মিল খুজুন,মিল পেলে লেখক দায়ী নয় ….)