গণজাগরণ মঞ্চের রাজনীতি, সংঘাত ও একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প!

5
রাষ্ট্রের বিচার বিবেচনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে এভাবেই লক্ষাধিক মানুষ প্রথমে গণজাগরণ মঞ্চে যোগ দিয়েছিলো।

রাষ্ট্রের বিচার বিবেচনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে এভাবেই লক্ষাধিক মানুষ প্রথমে গণজাগরণ মঞ্চে যোগ দিয়েছিলো।

যে সাধারণ মানুষের আবেগ ও স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি হয়েছিলো সেই মানুষদের হয়ে রাজনীতি করার যোগ্যতা যে গণজাগরণ মঞ্চের নেই এবং তারা যে মানুষের রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে না, সেটা আমি প্রায় ১১ মাস আগে বলেছিলাম যখন তারা রানা প্লাজায় ‘উদ্ধার অভিযান ফটো সেশন’ করতে এসেছিলো।

রাজনীতি তো মানুষের কথা বলবে। শেয়ার বাজারে পুঁজি হারানো মানুষের কথা বলবে, গার্মেন্টস শ্রমিকের অধিকারের কথা বলবে, পাঁচ বছর পর একদিনের রাজা ভোটারের ভোটের অধিকারের কথা বলবে, বলবে দেশের তেল-গ্যাস-বন্দর লুট হওয়ার কথা, রামপাল, টিপাইমুখ, সীমান্ত হত্যা, অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা, ধার্মিকের ধর্ম পালনের আর অধার্মিকের ধর্ম না পালন করার অধিকারের কথা।

গণজাগরণ মঞ্চ একটি বিশাল জন সমর্থন নিয়ে এই রাজনীতির কথাগুলো বলে দেশের রাজনীতিকে পাল্টে দিতে পারতো। কিন্তু তা না করে শাহবাগে প্রতিবাদী মানুষের জমায়েতকে এই মঞ্চ স্বৈরাচারী কায়দায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একটি মাত্র চেতনা নাৎসী দাবীতে আটকে রেখেছিলো দিনের পর দিন। দাবী একটাই, ‘ফাঁসি’! অন্য কোন দাবী মানেই ‘ছাগু’! বাংলা পরীক্ষা দিতে হবে দিনের পর দিন মাসের পর মাস; অন্য কোন পরীক্ষার দিনক্ষণ জানতে চাওয়ার মানে হচ্ছে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি, রাজাকারের তালিকায় নাম লেখানো!

নিজেদের চেতনা নাৎসী আদর্শের কারণে মাত্র এক বছরের মধ্যেই গণজাগরণ মঞ্চের মিছিল এমন শীর্ণ হয়ে গিয়েছে।

নিজেদের চেতনা নাৎসী আদর্শের কারণে মাত্র এক বছরের মধ্যেই গণজাগরণ মঞ্চের মিছিল এমন শীর্ণ হয়ে গিয়েছে।

এই মঞ্চের আড়ালে টিকফা চুক্তিতে লুট হয়ে গেছে আমাদের ভোক্তা অধিকার, রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার চুক্তির মাধ্যমে চুড়ান্ত করা হয়েছে সুন্দরবন ধ্বংশের নীল নকশা। এমন কী তাজরীন আর রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায় বিচারের আর্তনাদকেও টুটি চেপে স্তব্ধ করে রেখেছিলো এই চেতনা নাৎসী মঞ্চ।

এখানেই শেষ নয়। এই গণজাগরণ মঞ্চ থেকেই বিরোধী মিডিয়া বন্ধ করে বিরোধী কন্ঠস্বরকে রূদ্ধ করার এবং বিনা বিচারে হত্যাকে সমর্থন করে একটি চেতনা নাৎসী জনমত তৈরী করে দেয়া হয়েছিলো। কাউকে ‘ছাগু’ প্রমান করতে পারলেই তাকে বিনা বিচারে হত্যা করা বৈধ, বৈধ তার কণ্ঠস্বর চেপে ধরে জেলে পাঠিয়ে দেয়া বা গুম করে দেয়া। এই চেতনা নাৎসী জনমতের কারণেই রাষ্ট্র বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত প্রতিবাদী মিছিলে সরাসরি গুলি করে মানুষ হত্যার ম্যান্ডেট পেয়েছিলো এবং নির্বিচারে প্রতিবাদী মানুষকে হত্যা করা শুরু করেছিলো; যে ধারা এখনো বর্তমান। এই মঞ্চের ফ্যাসিবাদী দাবী রক্ষার্থেই সরকার বন্ধ করে দিয়েছে ‘আমার দেশ’, ‘দিগন্ত টিভি’, ‘ইসলামী টিভি’সহ অনেক গণমাধ্যম এবং জেলে পাঠানো হয়েছে মাহামুদুর রহমানের মত সম্পাদক ও আদিলুর রহমান শুভ্রর মত মানবাধিকার কর্মীকে।

গত ৪ এপ্রিল ২০১৪, শুক্রবার গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশটির সাথে এভাবেই পুলিশের সংঘাত হয়!

গত ৪ এপ্রিল ২০১৪, শুক্রবার গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশটির সাথে এভাবেই পুলিশের সংঘাত হয়!

জনগণের দাবীকে টুটি চেপে ধরে যে গণজাগরণ মঞ্চ রাষ্ট্রের সমান্তরাল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো, চাইলেই যারা জাতীয় পতাকা উঠানো-নামানোর এবং শপথ করিয়ে মানুষকে হেদায়েত করতে পারতো, তা মাত্র এক বছরের মাথায় এখন আর নেই! এখন তাদেরকে সরকারী দলের অঙ্গ সংগঠনের কর্মী এবং একদা প্রহরী পুলিশের সংঘাতে জড়িয়ে হেনস্তা হতে হচ্ছে!

এই হেনস্তা হবার ঘটনায় বিভিন্ন জন বিভিন্ন অনুমান ও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। যার মধ্যে একটি অনুমান হচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চ সরকারী দমন নিপীড়নের শিকার হয়ে মানুষের সহানুভূতি অর্জন করতে চাচ্ছে এবং ভারতের ‘আম আদমী পার্টি’র অনুরূপ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাচ্ছে।

গণজাগরণ মঞ্চকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভারত পন্থী মিডিয়াগুলোর যে একটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা আছে, সেটা ৫ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে প্রকাশিক দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠা দেখলে বোঝা যায়। যে পত্রিকাটি পুলিশের নিয়মিত ট্রিগার হ্যাপী আচরণ বা ক্রস ফায়ারে সরকার বিরোধী রাজনীতিবিদদের হত্যাকাণ্ডের খবর ছাপে না, তারা সামান্য পুলিশি টানা হেঁচড়াকে তিন কলামে প্রায় সিকি পৃষ্ঠা জুড়ে কাভারেজ দিয়েছে।

গত ৫ এপ্রিল ২০১৪, শনিবার দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় গণজাগরণ মঞ্চের সাথে পুলিশের সংঘাতকে এভাবেই গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়!

গত ৫ এপ্রিল ২০১৪, শনিবার দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় গণজাগরণ মঞ্চের সাথে পুলিশের সংঘাতকে এভাবেই গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়!

বর্তমানে ভারত রাষ্ট্রটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিলেও তারা ক্ষমতাসীন দলটির অজনপ্রিয়তায় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিকে খুঁজছে, যারা ভারতের মিত্র হিসেবে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারবে। শুরু থেকেই গণজাগরণ মঞ্চের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ভারত তাই এখন আম আদমী পার্টির স্টাইলে এদেরকে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।

লক্ষ্য করুন, গণজাগরণ মঞ্চ কিন্তু আজ পর্যন্ত টিপাইমুখ, রামপাল, সীমান্ত হত্যা, তিস্তাসহ বাংলাদেশের নদীগুলো থেকে ভারতের পানি প্রত্যাহার বিষয়ে টু শব্দটি করে নাই। আর ভারতের পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ থাকলে মঞ্চের অন্যতম সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু কী ভাষায় ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছিলো তা মনে করার চেষ্টা করুন।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বরাবরই মানুষকে বোকা বানিয়ে সারপ্রাইজ দিতে পছন্দ করে। ৯১ সালে এরশাদকে জেলে পাঠানোর দাবী করে ৯৬ সালে এরশাদের সাথে জোট করা আর ৯৩ সালে গোলাম আযমকে জেলে পাঠানোর দাবী করে ৯৪ সালে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট করা এর অন্যতম প্রমাণ। সে কারণে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সরকারের এই সংঘাত যদি ভারতের পরিকল্পিত ছকে নতুন গৃহপালিত বিরোধী দল সৃষ্টির জন্য করা হয়ে থাকে তাহলে অবাক হবার কিছুই থাকবে না।

এ কারণেই শিরোনামে লিখেছি গণজাগরণ মঞ্চ ও সরকারের সংঘাতের মধ্যে একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প আছে। আর সেই গল্পটির বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রথম পক্ষ ভারতের ভালোবাসার দাবীদার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পক্ষ আওয়ামী লীগ এবং গণজাগরণ মঞ্চের মধ্যে সংঘাত (পরিকল্পিত বা অপরিকল্পিত)।

অনেকেই কৌতুহলী হয়ে আছেন জাফর ইকবাল, শাহরিয়ার কবির, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, ড. আনোয়ার হোসেনরা এখন কোন পক্ষ নেন সেটা দেখতে। উনারা সবাই সেফ সাইডে খেলেন। যদি মিডিয়ার হাইপ তুলে আসলেই গণজাগরণ মঞ্চকে একটি রাজনৈতিক প্লাটফরম হিসেবে গড়ে তোলা যায় তাহলে উনারা মঞ্চের পক্ষ নিয়ে গৃহপালিত বিরোধী দলীয় নেতা বনে যাবেন। যদিও মিডিয়ায় হাইপ তুলে সেলিব্রেটি তৈরী করা গেলেও এখনো পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক নেতা তৈরী করতে পারার দৃষ্টান্ত নেই। সেই ক্ষেত্রে স্যার জাফররা আপাতত নিরপেক্ষ থেকে আকাশের তারা গুনবেন বলেই মনে হচ্ছে।

ক্ষমতার তাজমহল

By Watchdog BD 

সুযোগটা গর্ভাচেভেরই সৃষ্টি।        ক্ষমতা হাতে পাওয়ার অল্পদিনের ভেতর ডিক্রি জারি করে প্রতিটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেন এখন হতে দেশের যে কোন বিষয়ে খোলামেলা তর্ক করা যাবে। তাতে অতীতের মত সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে যাওয়ার ভয় থাকবেনা। ব্যাপারটা হজম করার মত স্বাস্থ্যবান উদর রুশদের পেটে তখনো বেড়ে উঠেনি। তাই একনায়কতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় তর্ক বিতর্কের সংজ্ঞা নতুন করে ফরমুলেট করার মত দার্শনিক তাৎক্ষণিক ভাবে হাতে পাওয়া যায়নি। স্বভাবতই এ নিয়ে দেখা দিল অনিশ্চয়তা।

অনিশ্চয়তার ঢেউ আমাদের শ্রেণীকক্ষেও আঘাত হানল। বৈজ্ঞানিক সাম্যবাদ নামক বাধ্যতামূলক একটা সাবজেক্টে গতবাঁধা বুলি আওড়ানোর ফাঁকে শিক্ষক জানিয়ে দিলেন আজ আমাদের তর্ক করতে হবে। এবং সেটাও বাধ্যতামূলক। তর্কের বিষয়, সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সোভিয়েত দেশের জাতিগত সমস্যা। ১০০টা ভাষা এবং ততধিক সংস্কৃতির একটা দেশে জাতিগত কোন সমস্যা আছে কিনা তা তর্ক করে বের করতে হবে। ২৬ জনের একটা ক্লাশে প্রায় সবাই নাম লেখাল এক পক্ষে। অর্থাৎ এ দেশে এ জাতীয় কোন সমস্যা নেই। রুশ, ইউক্রেনিয়ান, তাতার, উজবেক, চেচেন, আর্মেনিয়ান, ওরা সবাই হাতে হাত রেখে সোভিয়েত পতাকার নীচে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। দুই পক্ষ ছাড়া যে বিতর্ক হয়না অধিকাংশ রুশদের মগজে ঢুকাতে শিক্ষকের বেশ কষ্ট হল। বিপক্ষে আমি একা। অবাক হল বাকি সবাই। অনেকে অভিযোগ করল তাদের রুটি-হালুয়া খেয়ে তাদেরই বিরোধীতা করছি। শিক্ষক অভয় দিলেন। শুরু হল বিতর্ক। রেশারেশি, ক্রোধ এবং অসন্তুষ্টি এমন একটা পর্যায়ে গেল যেখান হতে সবাই সমস্বরে জানতে চাইল সমস্যা থাকলে এর সমাধান কি। আমি নিজেও ছিলাম উত্তেজিত। হয়ত মুখ ফসকেই বলে ফেললাম, জগাখিচুড়ির সোভিয়েত দেশকে ভেঙ্গে পনেরটা দেশে পরিনত করতে হবে। এবং প্রত্যেকটা জাতিকে তার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দিতে হবে। হা হয়ে গেল সবার মুখ। পীন পতনের নীরবতা নেমে এল ক্লাশে। দুদিন আগে এ ধরনের বক্তব্যের একটাই ছিল শাস্তি, বিদেশিদের দ্রুত বিদায় এবং স্বদেশি রুশদের নির্বাসন। সময়টা ছিল গ্লাসনস্ত ও পেরেস্ত্রইকার সময়। তাই পার পেয়ে গেলাম পরাক্রমশালী সোভিয়েত দেশের সংহতির বিরুদ্ধে কথা বলে।

পাঁচ বছর পরের কথা। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরের যে দিনটায় সোভিয়েত সাম্রাজ্যের পতন হয় ছিলাম কক্সবাজারের একটা রেস্টহাউজে। আনবিক, পারমাণবিক বোমা আর লাখ লাখ সৈন্য সামন্ত নিয়ে কথিত সর্বহারাদের একনায়কতন্ত্র কেবল স্বদেশেই ক্ষমতা ধরে রাখার মিশনে ছিলনা, বরং গোটা পৃথিবীকে একদিন তাদের ক্যাম্পে আনার স্বপ্ন দেখত। তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে গেল তাদের ঘর। আস্তাকুঁড়ে ঠাই নিল মার্কস, এঙ্গেলস ও লেনিনের সাম্যবাদী পৃথিবীর স্বপ্ন। বন্দুকের নলের মুখে ১০০টা জাতিকে দাসত্বের শৃংখলে আবদ্ধ রেখে একদল সুবিধাভোগী রাজনীতিবিদ ও তাদের সহযোগীরা কেবল দেশকে লুটেই ক্ষান্ত থাকেনি পাশাপাশি গোটা বিশ্বকে ঠেলে দিয়েছিল অনিশ্চয়তার গভীর অন্ধকারে। সোভিয়েত দেশে ঘটে যাওয়া এ ক্ষুদ্র ঘটনাটা মনে করার একটা উপলক্ষ হচ্ছে ক্ষমতা নিয়ে বর্তমান আওয়ামী সরকারের মনোভাব। ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনকে ঘিরে যে অন্যায়, অবৈধ ও অসুস্থ সংস্কৃতি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে ক্ষমতাসীনরা ধরে নিয়েছে জাতি হিসাবে আমরা তা মেনে নিতে বাধ্য। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাচনকে তছনছ করা হয়েছে পেশিশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে। কলঙ্কিত বগুড়া উপনির্বাচনের জন্য বিএনপির গায়ে মাখানো হয়েছিল হাজারো কালিমা, অথচ আওয়ামী লীগের হাতে ধারাবাহিকভাবে দেশের সবকটা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধর্ষিত হচ্ছে। তারা মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত, রাজাকার, এসব ইস্যুকে বানিজ্যিক পণ্য বানিয়ে নতুন প্রজন্মের একটা বিরাট অংশকে মোহাবিষ্ট করতে সক্ষম হচ্ছে এবং পাশপাশি ব্যবহার করছে বিশেষ পরিবারের গোয়েবলসীয় প্রচারনায়। এসব পণ্যে ধার দেয়ার জন্য থেমে থেমে আয়োজন করছে মানব বন্ধনে পতাকা তৈরী ও জাতীয় সঙ্গীতে বিশ্বরেকর্ড করার মত হাস্যকর অনুষ্ঠান। এসব পণ্য হতেও লুটেরার দল বাগিয়ে নিচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ।

১৯১৭ হতে ১৯৯১। পরাশক্তির তকমা গায়ে লাগিয়েও সোভিয়েতরা পারেনি। মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে গুটি কয়েক সুবিধাভোগী নিজেদের ভাগ্য গড়ার যে বিশাল আয়োজন তারা করেছিল তা এত বছর পরে হলেও ধ্বসে গিয়েছিল। এটাই মানব ধর্ম। এভাবেই সভ্যতা বিবর্তিত হয়। গায়ের জোর আর মিথ্যার ফানুসে চড়ে বেশিদূর যাওয়া যায়না। আওয়ামী ঘোড়ায় চড়ে শেখ পরিবারের যাত্রাও যে বেশিদূর গড়াবে না তা সময়ই বলয়ে দেবে। ততদিন আসুন একদল রাষ্ট্রীয় লুটেরা ও খুনিদের বলাৎকার জমা-খরচের খাতায় লিপিবদ্ধ করতে থাকি। সময় হলেই তা সুদে আসলে পরিশোধ করে দেব।

ফ্যাসীবাদের প্রেরণা -গুরু’র নতুন বাণী

6

আজকের বাংলাদেশে যে আওয়ামী ফ্যাসীবাদ পূর্নশক্তিতে জাকিয়ে বসেছে তার পিছনে মূল প্রেরণা হিসেবে রয়েছে কোনো বিশাল নেতা অথবা নেত্রী নয়, কোনো খ্যাতনামা রাজনীতির তাত্বিক নয়, রয়েছে একজন স্ব-আখ্যায়িত শিশুসাহিত্যিক। ফ্যাসীবাদের মূল নিয়ামক কিন্তু একজন ভয়ংকর কতৃত্ববাদী একনায়ক, একটি সর্বগ্রাসী রাজনৈতিক দল কিংবা গনদলনে সিদ্ধহস্ত পুলিশবাহিনী নয়। যেকোনো ফ্যাসীবাদের মূলে থাকে একটি কঠোর ও বিশুদ্ধ আইডিওলজী। পৃথিবীতে অনেক দেশেই নানারকম টিনপট ডিক্টেটরশীপ, একপার্টির রাজত্ব দেখা গেছে গত একশ বছরে কিন্তু প্রকৃত ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের সাথে এসব হীরক রাজার দেশগুলির মূল পার্থক্য হলো একটি ফ্যাসিস্ট আইডিওলজী। জনগনের গনতান্ত্রিক অধিকারকে সম্পূর্নভাবে নসাৎ করে এবং সেই সাথে জনগনের একটি বড়ো অংশের নি:শর্ত আনুগত্য বজায় রাখতে কেবল বিশাল পুলিশবাহিনী কিংবা বিদেশী সাহায্য যথেষ্ট নয়, এর জন্যে প্রয়োজন হয় একটি কঠোর ও জনপ্রিয় আইডিওলজীর। বাংলাদেশে ২০১৩-১৪ সালে যে নতুন ফ্যাসীবাদের সূচনা হয়েছে তার মূলের রয়েছে একটি আইডিওলজী, সেটি হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বর্তমানে এই আইডিওলজীর মূল প্রেরণা-গুরু হলো মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

575468_10151728328535653_444069226_n

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কেমন করে বাংলাদেশে ফ্যাসীবাদের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এটি বোঝার জন্যে প্রেরনা গুরুর সর্বশেষ লেখাটিই খুব ভালো উপকরন হতে পারে। এই লেখায় এই নতুন ফ্যাসীবাদের ভিত্তিগুলি পরিষ্কারভাবেই উঠে এসেছে যারা বুঝতে সক্ষম তাদের জন্যে। “স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর” শীর্ষক মুহম্মদ জাফর ইকবালের এই লেখাটিতে (http://www.priyo.com/2014/03/28/61144.html) অনেক কথাই রয়েছে, তবে আসল বক্তব্য রয়েছে কয়েকটি লাইনেই।

” শুরুতে বলেছিলাম দেশটাকে এগিয়ে নিতে হলে মূল কিছু বিষয়ে সবার একমত হতে হবে, বঙ্গবন্ধু যে এই দেশের স্থপতি সেটি হচ্ছে এরকম একটি বিষয়। এই দেশটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ করে পাওয়া একটি দেশ। তাই মুক্তিযুদ্ধের যে স্বপ্ন নিয়ে এই দেশটি শুরু করা হয়েছিল সেই স্বপ্নকে ভিত্তি করে তার ওপর পুরো দেশটি দাঁড় করানো হবে, এই সত্যটিও সেরকম একটি বিষয়। আমরা আজকাল খুব ঘন ঘন গণতন্ত্র শব্দটি শুনতে পাই, যখনই কেউ এই শব্দটি উচ্চারণ করেন তখনই কিন্তু তাকে বলতে হবে এই গণতন্ত্রটি দাঁড় করা হবে মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তির ওপরে।

আমরা মুক্তিযদ্ধের ভিত্তি সরিয়ে একটা গণতন্ত্র তৈরি করব, সেই গণতন্ত্র এই দেশটিকে একটা সাম্প্রদায়িক দেশ তৈরি করে ফেলবে, সকল ধর্মের সকল বর্ণের সকল মানুষ সেই দেশে সমান অধিকার নিয়ে থাকতে পারবে না সেটা তো হতে পারে না।

কাজেই ধর্ম ব্যবহার করে রাজনীতি করা গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দাবি করা হলেও সেটি কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের সাথে খাপ খায় না।” (2014/03/28/)

এই পুরো লেখাটিতে অনেক কথাবার্তার ভীড়ে মূল পয়েন্ট রয়েছে তিনটি। সেই তিনটি পয়েন্ট আলাদা করে বিশ্লেষন প্রয়োজন এটি বুঝতে যে কেমন করে জাফর ইকবাল আজকে আওয়ামী ফ্যাসীবাদের প্রধান প্রেরনাগুরু হয়ে উঠেছেন।

এই লেখায় তিনি বারবার এটা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবার এই ঐক্যমত্যে আসতে হবে যে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্থপতি। একথা ঠিক যে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে হলে সমাজের সদস্য-নেতৃত্ব সবাইকে নুন্যতম কিছু ভিত্তির উপরে কনসেনসাসে পৌছতে হয়। আগেরকার রাজতন্ত্রিক দেশগুলোতে সেই ভিত্তি ছিলো রাজার সার্বভৌম ক্ষমতা। আধুনিক যুগে বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন ব্যবস্থায় নানারকম নুন্যতম ঐক্যমত দেখা গেছে। যেমন সবার সমান অধিকার, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সমতা এরকম আরো কিছু। কিন্তু এই সব কিছুর উপরে আধুনিক রাষ্ট্রে যে ঐক্যমত্যে দেশের সকল নাগরিক ও রাজনীতিবিদদের একত্রিত হতে হয় সেটি হলো আইন ও সংবিধানের শাসন। দেশের মানুষ ও রাজনীতি আইন ও সংবিধানের বিভিন্ন ধারার বিরোধিতা করতে পারে, সেটি নিয়ে রাজনীতি করতে পারে, কিন্তু যতক্ষন আইন ও সংবিধান বলবৎ রয়েছে সেটি মেনে চলবে এবং তা ভংগ করলে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে, এটিই হলো আধুনিক দেশশাসনের মূলভিত্তি।

রাষ্ট্রে কোনো একজন ব্যাক্তি অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা চেষ্টা ফ্যাসীবাদ প্রতিষ্ঠারই অন্যতম পদক্ষেপ। শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্থপতি কিংবা জাতির পিতা, এটি কোনো ঐতিহাসিক সত্য নয় এটি একটি ঐতিহাসিক মত। শেখ মুজিব বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আর্কিটেকচারাল  ব্লুপ্রিন্ট প্রস্তুত করে সেটি জাতিসংঘ থেকে পাশ করিয়ে আনেন নি কিংবা নিজ ঔরস থেকে কোটি কোটি বাংলাদেশীর জন্ম দিয়ে বার্থ সার্টিফিকেট নেন নি।আমাদের বুঝতে হবে যে জাতির পিতা, মহাবীর, দ্বিগ্ধীজয়ী, বিদ্যাসাগর, বিশ্বকবি এই রকম খেতাবগুলি কোন ঐতিহাসিকভাবে প্রাপ্ত সনদ নয় বরং ইতিহাসে অনেক মানুষ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে দেয়া টাইটেল মাত্র। এই খেতাবগুলির সারবত্তা নিয়ে যেমন ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে তেমনি এগুলির বিরূদ্ধে মতপ্রচারের পূর্ন অধিকারও রয়েছে। কোন দেশের প্রতিষ্ঠায় কে সবচেয়ে বড়ো, কার অবদান ছাড়া রাষ্ট্র জন্মই নিতো না, এই ধরনের মতামতগুলি কোনো আধুনিক রাষ্ট্রের রাজনীতি ও সমাজের মূল ঐক্যমত্যের ভিত্তি হতে পারে না। এই ধরনের ব্যাক্তিকেন্দ্রিক দাবী তোলাও আজকের দিনে হাস্যকর। আজকের পৃথিবী ব্যাক্তি বা বংশ-কেন্দ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে অনেক আগেই উত্তরিত হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস পড়লে অধিকাংশ সুস্থির মতের মানুষই এই সিদ্ধান্ত নেবেন যে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যে মানুষটির একক অবদান সবার চেয়ে বেশী তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। তারা এটাও বলবেন যে তার অবদানের ধারে কাছে কেউ নেই। কিন্তু এই ব্যাপক সমর্থন থাকা স্বত্তেও শেষ পর্যন্ত এটি একটি ঐতিহাসিক মত, ঐতিহাসিক সত্য নয়। অবদান, ভূমিকা, এসবই সাবজেক্টিভ ব্যাপার, অবজেক্টিভ নয়। এই ধরনের ব্যাপক প্রচলিত মত সম্পর্কে দ্বিমত করারও অবকাশ রয়েছে এবং যেকোন সভ্য রাষ্ট্রে সেই দ্বিমত করার সুযোগও অবশ্যই থাকতে হবে।

আমেরিকার রাজনীতির ইতিহাসে এ পর্যন্ত ৪৪ জন প্রেসিডেন্ট এর মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ এবং কার অবদান সবচেয়ে বেশী এ নিয়ে বিতর্ক, র‍্যাংকিং লিস্ট করা এসব ইতিহাসবিদ এবং জনগন সবারই একটি বহু পুরাতন এবং নিয়মিত অভ্যাস। এই বিষয় নিয়ে প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো লিস্ট বের হয়। এই সব লিস্টে প্রায় অবধারিতভাবেই যে তিন জনের নাম এক, দুই ও তিন এর মধ্যে থাকে তারা হলো প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন, ষোড়শতম আব্রাহাম লিংকন এবং বত্রিশতম ফ্র‍্যাংকলিন রুজেভেল্ট। এদের মধ্যে আবার সবচেয়ে বেশীবার শ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন আব্রাহাম লিংকন। ১৯৪৮ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত করা বিশেষজ্ঞদের ১৭ টি বিভিন্ন সার্ভেতে লিংকন শ্রেষ্ঠতম বিবেচিত হয়েছেন ১০ বার, দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠতম ৫ বার এবং তৃতীয় ২ বার। উইকিপিডিয়াতে এই আর্টিকেলটি বিস্তারিত রয়েছে (http://en.wikipedia.org/wiki/Historical_rankings_of_Presidents_of_the_United_States#Scholar_survey_results)। অর্থাৎ আমেরিকার প্রায় আড়াইশত বছরের ইতিহাসে আব্রাহাম লিংকন যে শ্রেষ্ঠতম নেতা কিংবা শ্রেষ্ঠের খুবই কাছাকাছি, এ বিষয়ে ইতিহাসবিদরা মোটামুটি একমত। শুধু ইতিহাসবিদরাই নন, এমনকি আমেরিকার সাধারন ও জনপ্রিয় ইতিহাসে আব্রাহাম লিংকন মোটামুটি প্রায় অতিমানবীয় অনন্য একজন সাধু-দার্শনিক-নেতা হিসেবেই পরিচিত, তার কাছের অবস্থানেও কেউ নেই।

এই যে মহান আব্রাহাম লিংকন, সেই লিংকনকে আমেরিকার দক্ষিন অংশ-যে দক্ষিনের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সিভিল ওয়ারে উত্তরের নেতৃত্বে ছিলেন লিংকন- গত দেড়শত বছর ধরে কি ভাবে দেখা হয়? সোজা ভাষায় বলা যায় যে আমেরিকার দক্ষিনের শ্বেতবর্নের রক্ষনশীলেরা -যারা এখনো দক্ষিনের সবচেয়ে বড়ো এবং প্রভাবশালী অংশ- আব্রাহাম লিংকনকে শয়তানের সাক্ষাৎ অবতার হিসেবে মনে করে। এই মতামত শুধু দক্ষিনের সাধারন নাগরিকেরা নয়, দক্ষিনের রাজনীতিবিদরাও অকপটে প্রকাশ্যে বলতে কোনো দ্বিধা করে না। আমেরিকার রক্ষনশীলেরা এবং অন্যান্য অনেকেই প্রায় প্রতি বছরই বিভিন্ন বই-গবেষনা প্রকাশ করে যেখানে তুলে ধরা হয় যে আব্রাহাম লিংকন কিভাবে একটি অনাবশ্যক যুদ্ধের সূত্রপাত করে আমেরিকার জনগনের উপরে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও ধ্বংসাত্মক অধ্যায়কে চাপিয়ে দিয়েছেন। এসব আমার মতামত নয় বরং অনেক আমেরিকান রক্ষনশীলের মত। তারা লিংকনকে ঘৃনা করার পেছনে যুক্তি হিসেবে কি বলে তা বোঝার জন্যে ২০১০ এ প্রকাশিত Abraham Lincoln: The Southern View (http://www.amazon.com/Abraham-Lincoln-The-Southern-View/dp/0982770006) বইটির সারসংক্ষেপের কয়েকটি লাইন তুলে ধরা যেতে পারে।

লেখক Lochlainn Seabrook এই বইটিতে দক্ষিনের চোখে যে লিংকনকে তুলে ধরেছেন সেই লিংকন একজন – “an unscrupulous demagogue and anti-Christian liberal who broke hundreds of laws; ignored and even subverted the Constitution; used money from the Yankee slave trade to fund his war; sanctioned the murder of both Southern blacks (who would not enlist in the Union army) and harmless Southern noncombatants (including women and children); had tens of thousands of innocent Northerners arrested, imprisoned, and sometimes tortured and executed without charge or trial; rigged the 1860 and 1864 elections; confiscated and destroyed private property; censored governmental debate over secession; and more. Throughout all of this, Southern historians estimate that some 3 million Americans, of all races, died in direct consequence of his actions.”

বলাই বাহুল্য লিংকনের শ্রেষ্ঠত্ব অথবা লিংকনের নিকৃষ্টতা, এই সবই ইতিহাসের ফ্যাক্ট নয় এগুলি ইতিহাসের মতামত। আর মতামত নিয়ে বিভাজন থাকতেই পারে।

এখন প্রশ্ন হলো যে আব্রাহাম লিংকন এর নেতৃত্ব ও তার উত্তরাধিকার নিয়ে আমেরিকার উত্তর ও দক্ষিনের এর তীব্র বিভাজনের জন্যে কি আমেরিকার রাজনীতির ক্রমাগত বিবর্তন ও উন্নয়ন থেমে রয়েছে? কোনো ভাবেই নয়, এই বিভাজনকে নিয়েই আমেরিকার গনতন্ত্র দিনে দিনে আরো বিস্তৃত ও সংহত হয়েছে। সিভিল ওয়ারে বিজয়ের পরে বিজয়ী উত্তর দক্ষিনকে এই আদেশ করে নি যে সবাইকে লিংকনের নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌছতে হবে। প্রতিটি মানুষ ও রাজনৈতিক সংগঠনের রয়েছে নিজস্ব মত ধারন ও প্রচারের অধিকার। কিন্তু সবাইকে দেশের আইন ও সংবিধান মেনে চলতে হবে। আমেরিকার দক্ষিন যুদ্ধে পরাজয়ের পরে মৌলিক নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে প্রদেশের উপরে ফেডারেল ইউনিয়নের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছে, সেটি মন থেকে মেনে নিয়েছে নাকি তার বিরুদ্ধে এখনো প্রচার করছে এটি দেশের সরকারের কোনো বিবেচনার বিষয় নয়, দেশের আইন মেনে চলছে কিনা এটিই সরকারের একমাত্র বিবেচ্য।

শুধু লিংকনই নয়, আজকের আমেরিকায় যদি কেউ বলে যে আমেরিকায় রাজনীতি করতে হলে স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের শ্রেষ্ঠ ভূমিকা স্বীকার করতে হবে, তবে তাকে মানুষ পাগলের চেয়েও যুক্তিবিহীন বলে মনে করবে। আর সেই দেশে দীর্ঘদিন থেকে, সেই দেশ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ সেজে মুহম্মদ জাফর ইকবাল ফতোয়া দেন যে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে ‘ বঙ্গবন্ধু এই দেশের স্থপতি ‘ এই বিষয়ে সবার একমত হতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতি আলোচনায় আমেরিকা-বৃটেন এর তুলনা আনলেই অনেকে হারে রে করে তেড়ে ওঠেন যে এই দেশের সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতির সাথে ঐসব দেশের যোজন যোজন পার্থক্য সুতরাং এই ধরনের তুলনার মাধ্যমে কোনো ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা অনর্থক বাতুলতা মাত্র। ঠিক আছে। তাহলে এবার এমন একটি দেশের ইতিহাস-রাজনীতিই দেখা যাক যেটি মাত্র ৬০ বছর আগেও অর্থনীতি ও রাজনীতিতে আমাদের দেশের অবস্থানের খুব কাছেই ছিলো।

পার্ক চুং হি (Park Chung-hee) একজন জেনারেল যিনি একটি ক্যু এর মাধ্যমে ১৯৬১ সালে দ: কোরিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন এবং এর পরে প্রায় একনায়কের মতোই ১৮ বছর দ: কোরিয়া শাসন করেন, যে শাসনের অবসান ঘটে ১৯৭৯ সালে আততায়ীর হাতে পার্ক নিহত হবার পরেই। পার্ক চুং হি তার শাসনামলেই আধুনিক কোরিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন করেন এবং তাকে একারনেই বিশ্বজুড়ে Father of Korean Economic Miracle বলা হয়। টাইম ম্যাগাজিন তাদের মিলেনিয়াম প্রকাশনায় পার্ক চুং হি কে বিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ দশজন এশিয়ানদের একজন হিসেবে নির্বাচন করেছিলো। আজ পর্যন্ত দ: কোরিয়ার ডানপন্থী রাজনীতির সমর্থকেরা পার্ককে তীব্র ভক্তির সাথে স্মরন করে। অনেকটা তার স্মৃতির উপরে ভর করেই পার্কের কন্যা পার্ক গুন হেই (Park Geun-hye) ২০১৩ সালে দ: কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

পার্ক চুং হি যেমন একদিকে দেশের বিপুল অংশের কাছে দেবতুল্য ভক্তির ধারক তেমনি আরেক বৃহৎ অংশের কাছে তীব্র ঘৃনার পাত্র। পার্ক তার শাসনের সময়ে বামপন্থী ও গনতান্ত্রিক রাজনীতি ও কর্মীদের উপরে চরম অত্যাচার ও নিষ্পেষন চালিয়েছেন। দেশের শ্রমিকদের অধিকারকে দলন করে বড়ো কোম্পানীগুলিকে সবরকমের সুবিধা দিয়েছেন। তার সময়ে কোরিয়ার নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার বলতে কিছু ছিলো না। কোরিয়ার জনগনের পার্কের সময় হতে শুরু করে আরো অনেক দিন পর পর্যন্ত একের পর এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করে অবশেষে সেখানে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। এরকম আরো অনেক কারনেই দ: কোরিয়ার বিপুল অংশের কাছে পার্ক চুং হি একটি ঘৃন্য নাম।

দ: কোরিয়ার জনগনের মধ্যে তাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রধানতম ব্যাক্তিত্ব নিয়ে যে এই বিশাল দ্বিভাজন, তার কারনে কি তাদের উন্নতি, প্রগতি বাধাগ্রস্থ হয়েছে? ১৯৭০ সালেও যখন দ: কোরিয়া আর উত্তর কোরিয়ার মাথাপিছু আয় একই সমান ছিলো সেখানে আজকে দ: কোরিয়ার মাথাপিছু আয় বাকশালী-ঐক্যমত্যের দেশ উ: কোরিয়ার চেয়ে প্রায় বিশগুন বেশী।

বস্তুত ইতিহাস নিয়ে ঐক্যমত্য ছাড়া এগুনো যাবে না এই ধরনের কথাবার্তার কোন সারবত্তা নেই। তৃতীয় বিশ্বের উপনিবেশ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দেশগুলির ইতিহাস নিয়ে পর্যালোচনা করলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাবে যে যেসব দেশে মুক্তি সংগ্রামের গৌরবোজ্বল ইতিহাস নেই, যারা ঔপনিবেশিক প্রভুদের সাথে হ্যান্ডশেক করার মাধ্যমে নতুন দেশ হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে, তারাই অর্থনীতি ও সমাজে বেশী উন্নতি করেছে। দেশের উন্নতির জন্যে ইতিহাস বা মতবাদ নিয়ে একমত হবার জন্যে যারা বেশী সরব তাদের অন্য কোন এজেন্ডা থাকে। এই এজেন্ডা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হলো দেশে ঘৃনার চাষ করে দ্বিভাজন সৃষ্টি করা। আর আমরা বার বার দেখেছি যে এই ঘৃনার দ্বিভাজন ও কৃত্রিমভাবে মতবাদের ঐক্যমত্যের চেষ্টাই গত কয়েক দশকে একের পর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও গনহত্যার জন্ম দিয়েছে।
এই ইতিহাস নিয়ে ঐক্যমত্যের উপরেই রয়েছে জাফর ইকবালের দ্বিতীয় ও মূল পয়েন্ট, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। জাফর ইকবাল বাংলাদেশে যেই ফ্যাসীবাদ প্রতিষ্ঠার জন্যে প্রাণাতিপাত করে চলেছেন সেই ফ্যাসীবাদের মূল ভিত্তিই হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা (বা স্বপ্ন, যে নামেই বলুন জিনিষটি একই)। এই লেখাতে এবং এর আগেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের চেয়ে বড়ো কিছুই নেই।

“তাই যারা প্রাণ দিয়ে, রক্ত দিয়ে যুদ্ধ করে এই দেশটা এনে দিয়েছে তার যে স্বপ্ন দেখেছিল সেটাই হচ্ছে বাংলাদেশ। তাই এই দেশের রাজনীতি হোক, অর্থনীতি হোক, লেখাপড়া হোক, চাষ আবাদ হোক, গানবাজনা হোক, সুখ-দুঃখ মান-অভিমান হোক, কোনো কিছুই মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাইরে হতে পারবে না। অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজনীতির প্রথম মাপকাঠি হচ্ছে ‍মুক্তিযুদ্ধ। যারা এটিকে অস্বীকার করে তাদের এই দেশে রাজনীতি করা দূরে থাকুক, এই দেশের মাটিতে রাখার অধিকার নেই।” (০১/১৭/২০১৪)
http://www.priyo.com/2014/01/17/49312.html

মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাইরে এই বাংলাদেশে একটি গাছের পাতাও নড়তে পারবে না এই বিশ্বাস হলো জাফর ইকবাল আর তার লক্ষ লক্ষ ভাবশিষ্যের ইমানের মূল স্তম্ভ।  কিন্তু এখানে শুভংকরের সবচেয়ে বড়ো ফাকি হলো যে এই যে অতীব গুরুত্বপূর্ন মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন, সেই স্বপ্নটি আসলে কি তার কোনো কংক্রীট বিবরন এই সব ফ্যাসিস্ট প্রফেটদের কাছে আপনি কখোনই পাবেন না। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই দেশের বিভিন্ন মত, বিভিন্ন বিশ্বাসের লক্ষ কোটি যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী আর যুদ্ধ পলাতক মিলে কিভাবে একটিই বিশুদ্ধ আর মৌলিক স্বপ্ন দেখে ফেললো আর সেই স্বপ্নের খাবনামাও সেই সকলের কাছেও তর্কাতীত ছিলো, এই রহস্যের কোন ব্যাখা আপনি পাবেন না। ম্যাজিশিয়ানের ট্রিকের মতো মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নও দূর থেকে দেখা আলো আধারির স্টেজ শো, কাছে গিয়ে বিশ্লেষন করলেই সেটা আর স্বপ্ন থাকে না।

বেশী চেপে ধরলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের দিশারীরা অবলম্বন করেন ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতিকে এবং তার ভিত্তিতেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তাসের ঘর নির্মানের চেষ্টা করেন তারা। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গনতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই চার মৌলিক উপাদানেই তৈরী মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্নের ভিত্তির উপরেই বাংলাদেশের রাজনীতি দাড় করাতে হবে এটাই শেষ পর্যন্ত দাবী করা হয়। এই দাবীটি যখন স্পষ্টভাবে বলা হয় তখনই এর শুভংকরের ফাকিটিও সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

জাতীয়তাবাদ নিয়ে এখানে বেশী কথা বলার দরকার নেই। জাতীয়তাবাদ নিয়ে এই দেশে এত লক্ষ লক্ষ পাতা আর শতকোটি শব্দ ব্যয় করার পরও জাতীয়তাবাদ নিয়ে সবার মাঝে যে কনফিউশন রয়ে গেছে তার বিন্দুমাত্র লাঘব ঘটে নি। ভৌগলিক, রাজনৈতিক, সাংষ্কৃতিক, নৃতাত্বিক, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের এই নানারূপের গোলোকধাধায় কোন একটি coherent মতবাদ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এই দাবী অনায়াসেই করা যায় যে বাংলাদেশে এখন এমন দুইজন শিক্ষিত নাগরিক পাওয়া যাবে না যারা জাতীয়তাবাদ বলতে পুরো একই রকম একটি বিশ্বাস ধারন করেন।

এরপরেই আসে মুক্তিযু্দ্ধের স্বপ্নের সবচেয়ে স্পষ্ট Achilles Heel সমাজতন্ত্রের কথা। লক্ষ্যনীয় যে এই সমাজতন্ত্র মানে পরবর্তীতে আরোপ করা সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি,  সোশ্যাল ডেমোক্র‍্যাসী এই ধরনের নির্দোষ, নিরীহ শ্লোগান নয়। ১৯৭২ এর সমাজতন্ত্র মানে সমাজতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থা। সেই সংবিধানেই স্পষ্ট বলা আছে,

“১০/ মানুষের উপর মানুষের শোষন হইতে মুক্ত ন্যায়নুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশিত করিবার উদ্দ্যেশ্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে।”

এই সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আরো বিশদ বলা হয়েছে ১৩ অনুচ্ছেদে।

Somaj

সমাজতন্ত্র নিয়ে বিশদ আলোচনা করাও এই লেখার উদ্দ্যেশ্য নয়। শুধু একটি কথাই বলা যেতে পারে যে আজকের বাংলাদেশে কতোজন লোক মনে করে যে এই দেশের অর্থনীতির প্রধান ক্ষেত্র গুলি, যেমন শিল্প, গার্মেন্টস এই সবের জাতীয়করন করা প্রয়োজন? কারা মনে করে দেশের জন্যে দরকার আরো অনেক ‘দোয়েল ল্যাপটপ’ প্রজেক্ট? কয়জন মনে করে যে সমবায়ের ভিত্তিতে কৃষিকে পরিচালনা করতে হবে? কারা বিশ্বাস করে যে সারা দুনিয়ায় কালেক্টিভ অর্থনীতি ফেল মারার পরে এই বাংলাদেশেই সমাজতন্ত্র তার সমুজ্বল ভবিষৎ নির্মানের সূচনা করবে? সমাজতন্ত্র যদি মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন হয়ে থাকে তবে সেই স্বপ্ন এইদেশে অনেক আগেই টুটে গেছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের নামে যেই মতবাদটির যাবতীয় তর্ক-বিতর্কের মূলে রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মনিরপেক্ষতা একটি আধুনিক, গনতান্ত্রিক, যুক্তিসম্মত আদর্শ। যে কোন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যাক্তিই এর বিরোধিতা করতে দ্বিধা করবে। ১৯৭২ এর সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে বোঝানো হয়েছে,

dhormo

এখানে (ক), (খ) এবং (ঘ) অনুচ্ছেদ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই বললেই চলে। এমনকি যারা ধর্মীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন তারাও এই নীতিগুলির সরাসরি বিরোধিতা করবেন না বরং সমর্থনই করবেন। মূল বিতর্ক (গ) অনুচ্ছেদ নিয়ে। পৃথিবীর কোনো গনতান্ত্রিক দেশে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে রাজনীতি করার অধিকার খর্ব করা হয় নি। প্রতিটি গনতান্ত্রিক দেশে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে রাজনীতির অধিকার রয়েছে কারন এটি রাজনীতি করার মৌলিক অধিকার প্রশ্নেই অংগাগীভাবে জড়িত। কিন্তু এই বাংলাদেশেই, এই মূর্খ ফ্যাসীবাদীরা, এক অনন্য হবুচন্দ্র মার্কা রাজত্ব কায়েমের জন্যে এই ফ্যাসীবাদী মতকে দেশের উপরে চাপিয়ে দেবার জন্যে বদ্ধপরিকর।

ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে এই ক্ষুদ্র, এলিটিস্ট গোষ্ঠী যে ফ্যাসীবাদী মতকে দেশের উপরে চাপিয়ে দিতে চান তার সাথে বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কোন আত্মিক সংযোগ নেই। এটা ১৯৭১ এ ছিলো না, ১৯৭২ এও ছিলো না, আজকে আরো নেই। এই প্রসংগে আবুল মনসুর আহমেদ এর সেই ক্ল্যাসিক লেখা “আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর” এর লেখা স্মর্তব্য,

অথচ প্রকৃত অবস্থাটা এই যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় পাকিস্তানও ভাংগে নাই “দ্বিজাতিতত্ত্ব”ও মিথ্যা হয় নাই। এক পাকিস্তানের জায়গায় লাহোর-প্রস্তাব মত দুই পাকিস্তান হইয়াছে। ভারত সরকার লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়নে আমাদের সাহায্য করিয়াছেন। তারা আমাদের কৃতজ্ঞতার পাত্র। দুই রাষ্ট্রের নামই পাকিস্তান হয় নাই, তাতেও বিভ্রান্তির কারণ নাই। লাহোর প্রস্তাবে “পাকিস্তান” শব্দটার উল্লেখ নাই, শুধু ‘মুসলিম-মেজরিটি রাষ্ট্রের’ উল্লেখ আছে। তার মানে রাষ্ট্র-নাম পরে জনগণের দ্বারাই নির্ধারিত হওয়ার কথা। পশ্চিমা জনগণ তাদের রাষ্ট্র-নাম রাখিয়াছে “পাকিস্তান”। আমরা পূরবীরা রাখিয়াছি “বাংলাদেশ”। এতে বিভ্রান্তির কোনও কারণ নাই।

—         ইংরেজ আমলের আগের চারশ বছরের বাংলার মুসলমানের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। সেখানেও তাদের রুপ বাংগালী রুপ। সে রুপেই তারা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সৃষ্টি করিয়াছে। সেই রুপেই বাংলার স্বাধীনতার জন্য দিল্লীর মুসলিম সম্রাটের বিরুদ্ধে লড়াই করিয়াছে। সেই রুপেই বাংলার বার ভূঁইয়া স্বাধীন বাংলা যুক্তরাষ্ট্র গঠণ করিয়াছিলেন। এই যুগ বাংলার মুসলমানদের রাষ্ট্রিক, ভাষিক, কৃষ্টিক ও সামরিক মণীষা ও বীরত্বের যুগ। সে যুগের সাধনা মুসলিম নেতৃত্বে হইলেও সেটা ছিল ছিল উদার অসাম্প্রদায়িক। হিন্দু-বৌদ্ধরাও ছিল তাতে অংশীদার। এ যুগকে পরাধীন বাংলার রুপ দিবার উদ্দেশ্যে “হাজার বছর পরে আজ বাংলা স্বাধীন হইয়াছে” বলিয়া যতই গান গাওয়া ও স্লোগান দেওয়া হউক, তাতে বাংলাদেশের জনগণকে ভুলান যাইবে না। আর্য্য জাতির ভারত দখলকে বিদেশী শাসন বলা চলিবে না, তাদের ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, রাজপুত, কায়স্থকে বিদেশী বলা যাইবে না, শুধু শেখ-সৈয়দ-মোগল-পাঠানদেরই বিদেশী বলিতে হইবে, এহেন প্রচারের দালালরা পাঞ্জাবী দালালদের চেযে বেশী সফল হইবে না। এটা আজ রাষ্ট্র-বিজ্ঞানের সর্বজন-স্বীকৃত সত্য যে, কৃষ্টিক স্বকীয়তাই রাষ্ট্রীয় জাতীয় স্বকীয়তার বুনিয়াদ। কাজেই নয়া রাষ্ট্র বাংলাদেশের কৃষ্টিক স্বকীয়তার স্বীকৃতি উপমহাদেশের তিন জাতি-রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা-ভিত্তিক স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হইবে॥”

– আবুল মনসুর আহমদ / আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর ॥ [খোশরোজ কিতাব মহল – ডিসেম্বর, ১৯৯৯ । পৃ: ৬৩২-৬৩৮]

আসলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের নামে জাফর ইকবাল এবং তার শিষ্যদের সকল আহাজারির মূলেই রয়েছে একটি জিনিষ, সেটি হলো গনতন্ত্র। তারা ভালোভাবেই জানে যে তারা যে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন দেখেন সেই স্বপ্ন বাংলার জনগন ১৯৭১ এ দেখেনি আজও দেখে না। এই কারনেই গনতন্ত্রকে তাদের এতো ভয়। একারনেই নানারকম ছলছুতো, শর্ত দিয়ে গনতন্ত্রকে পর্দার আড়ালে ফেলতে তাদের এতো প্রচেষ্টা। জাফর ইকবাল যে গোষ্ঠীর প্রেরণাগুরু, মন্ত্রী-এশিয়াটিক ডিরেক্টর আসাদ্দুজ্জান নূর যেই গোষ্ঠীর যোগানদার, শামীম ওসমান-তাহের গং যে গোষ্ঠীর সিপাহসালার এবং শাহবাগীরা যেই গোষ্ঠীর ফুট সোলজার, সেই গোষ্ঠীর একটিই লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে আওয়ামী ধর্মের একছত্র রাজত্ব কায়েম করা।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যে তারা দেশের জনগনকে সরাসরি বাধ্যতামূলক প্রেসক্রিপশনও দিয়ে রেখেছেন। প্রথমেই আপনাকে শেখ মুজিবের নবুয়ত স্বীকার করতে হবে। এরপরে আওয়ামী আদর্শগুলিতে ইমান আনতে হবে। তারপরে সকল আওয়ামী বিরোধীকে ঘৃনাভরে বর্জন করতে হবে। এই প্রেসক্রিপশন মেনে নেয়ার পরেই আপনি যত ইচ্ছা রাজনীতি করতে পারেন। এর আগে রাজনীতি-গনতন্ত্র এসব কোনকিছুই বিবেচনা করা যাবে না।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই সময়ে সবচেয়ে বড়ো বাস্তবতা যে দেশের ভাগ্য জনগনের হাতে নেই। একটি চরমপন্থী গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে বার্ষিক ১৫০ বিলিয়ন ডলার অর্থনীতির একটি আস্ত রাষ্ট্রকে কুক্ষীগত করে ফেলেছে। এই বাস্তবতা হতে চোখ ফিরিয়ে, জনগনের অক্ষমতাকে ভুলিয়ে দিতে ফ্যাসীবাদের প্রেরনাগুরু গনতন্ত্রকে তুচ্ছ করে একের পর এক ঐশীবাণী দিয়েই যাবেন প্রতিটি মাসে একের পর এক উপলক্ষকে আশ্রয় করে। আর সেই বাণী সোৎসাহে প্রচার করতে থাকবে চেতনায় বুদ হয়ে থাকা বাংলাদেশী হিটলার ইয়ুথ (Hitlerjugend)। স্টেডিয়ামে পতাকা নিষেধাজ্ঞা, বৃহত্তম পতাকা, লক্ষকন্ঠে জাতীয় সংগীত, এইসব Fascist Mass Spectacle এই প্রোগ্রামেরই অংশ।

18w91xufbk7ayjpg

পরিশেষে পুনরায় আবার মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বা চেতনা নিয়ে অতুলনীয় আবুল মনসুর আহমেদ এর ই আরেকটি বক্তব্য।

 “… জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতার মহান আদর্শই আমাদের বীর জনগণকে মুক্তি-সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল। তথ্য হিসাবে কথাটা ঠিক না। আওয়ামী লীগের ছয়-দফা বা সর্বদলীয় ছাত্র একশন কমিটির এগার-দফার দাবিতেই আমাদের মুক্তি-সংগ্রাম শুরু হয়। এইসব দফার কোনটিতেই ঐ সব আদর্শের উল্লেখ ছিল না। ঐ দুইটি ‘দফা’ ছাড়া আওয়ামী লীগের একটি মেনিফেস্টো ছিল। তাতেও ওসব আদর্শের উল্লেখ নাই।

বরঞ্চ ঐ মেনিফেস্টোতে ‘ব্যাংক-ইনশিওরেন্স, পাট ব্যবসা ও ভারি শিল্পকে’ জাতীয়করণের দাবি ছিল। ঐ ‘দফা’ মেনিফেস্টো লইয়াই আওয়ামী লীগ ৭০ সালের নির্বাচন লড়িয়াছিল এবং জিতিয়াছিল। এরপর মুক্তি সংগ্রামের আগে বা সময়ে জনগণ, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের পক্ষ হইতে আর কোনও ‘দফা’ বা মেনিফেস্টো বাহির করার দরকার বা অবসর ছিল না। আমাদের সংবিধান রচয়িতারা নিজেরা ঐ মহান আদর্শকে সংবিধানযুক্ত করিযাছিলেন। তাই জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ঐ ভুল তথ্য পরিবেশন করিয়াছেন।

রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের মতাদর্শকে জনগণের মত বা ইচ্ছা বলিয়া চালাইয়াছেন বহু বার বহু দেশে। সবসময়েই যে তার খারাপ হইয়াছে, তাও নয়। আবার সব সময়ে তা ভালও হয় নাই। পাকিস্তানের সংবিধানের বেলায় ‘ইসলাম’ ও বাংলাদেশের সংবিধানের বেলায় ‘সমাজতন্ত্র, জাতীয়তা ও ধর্ম-নিরপেক্ষতা’ও তেমনি অনাবশ্যকভাবে উল্লিখিত হইয়া আমাদের অনিষ্ট করিয়াছে। আমাদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বহু জটিলতার সৃষ্টি করিয়াছে। এসব জটিলতার গিরো খুলিতে আমাদের রাষ্ট্র-নায়কদের অনেক বেগ পাইতে হইবে॥”

– আবুল মনসুর আহমদ / আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর ॥ [খোশরোজ কিতাব মহল – ডিসেম্বর, ১৯৯৯ । পৃ: ৬২০-৬২১]

[আবুল মনসুর আহমেদ এর book excerpts are courtesy of FB blogger Kai Kaus   https://www.facebook.com/kay.kavus?fref=ts    ]

 

 

 

 

বাঙালীয়ানা যাচাই ফিল্টার

2

 by: Aman Abduhu

দেশপ্রেম দিয়ে গিনেজ রেকর্ড করার বালখিল্যতা নিয়ে লিখেছিলাম। আমার বক্তব্য ছিলো, কোন ব্যাতিক্রমী মানুষ বা প্রতিষ্ঠান সাধারণত এইসব রেকর্ড করে পরিচিতি বাড়ায়। কিন্তু কোন রাষ্ট্র এর পেছনে দৌড়াচ্ছে, পুরো দেশের মানুষ মিলে বানর নাচ নেচে যাচ্ছে, এমনটা অভূতপূর্ব।

ফেসবুকের সে লেখাতে একজন দেশপ্রেমিক বাঙালী এসে আলগোছে মন্তব্য করেছেন “আপনি বাংলায় স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বাঙ্গালী বলে মনে হয়। আসলে কি তাই?”

এমনিতে মনে হয় প্রশ্নটা খুবই নীরিহ। নরম সুরে কোমলভাবে উত্থাপন করা ভয়ংকর এ প্রশ্নটা আমাকে আনন্দ দিয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন মাতৃজঠরে থেকে সম্প্রতি ভুমিষ্ঠ হওয়া বাঙালী-চেতনাধর্মের ফ্যাসিবাদী দাঁতালো চেহারা আবারও বের হয়ে এসেছে। ঐ ধর্মাবলম্বী ভদ্রলোকটি আমাকে হাতের নাগালে পাচ্ছেন না বলে অন্তর্জালে চমৎকার এ নিরীহদর্শন প্রশ্নটি করেছেন। সামনে পেলে এবং তার ক্ষমতা থাকলে প্রশ্নের ধরণ হতো অন্যরকম।

1964867_233278453532679_896769875_n

আমি নিজে সাধারণ একজন নাগরিক, এবং হাজার হাজার ফেসবুকারের একজন। কিন্তু যখন কোন উল্লেখযোগ্য মানুষ এসে সে চেতনায় আঘাত করে বসেন, এ প্রশ্নটা আর হালকা কোন প্রশ্ন হয়ে থাকেনা। তখন ফ্যাসিজম তার আসল চেহারা দেখায়। তখন গুম হয়ে যেতে হয়, গালিগালাজ ও অপমানের তোপের মুখে পড়তে হয়, অথবা মাহমুদুর রহমানের মতো জেলখানায় পঁচতে হয়। এমনকি মিনা ফারাহ’র মতো নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়। কারণ ফ্যাসিজম কখনো ইনক্লুসিভ হয়না। ঐ পথে হাটা এদের এ বাঙালী ধর্মও হয়নি। কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করলে তাকে সমাজচ্যুত করা এ ধর্মের বৈশিষ্ট্য। এবং ভদ্রলোক তার সহফেসবুকার আমাকে সমাজচ্যুত করার সে তাড়না থেকেই তার নিরীহদর্শন প্রশ্নটি করে বসেছেন।

বড় কথা হলো, প্রশ্নটি দেখে আমি দু’জন মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করেছি। হিটলার এবং মুসোলিনী। এ দুই ফ্যাসিষ্ট ডিক্টেটর ইতিহাসে এমন সব কাজ করে গেছেন, শেখ হাসিনার মতো নব্য ফ্যাসিষ্ট ও তার শাহবাগি অনুসারীদের কাজের বিশ্লেষণ করতে গেলে উদাহরণ খুঁজে পেতে সমস্যা হয়না। বুঝতে কষ্ট হয়না।

বাঙালীয়ানা থাকা না থাকার প্রশ্ন উত্থাপনে মনে পড়লো দুইটা আইনের কথা; দুটাই ছিলো জাতীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট অধিকার থাকা না থাকা সংক্রান্ত। ১৯৩৫ সালে জার্মানিতে হিটলার বাস্তবায়ন করেন ন্যুরেমবার্গ রেইস ল, এবং ১৯৩৮ সালে ইটালিতে তার শিষ্য মুসোলিনি বাস্তবায়ন করেন মেনিফেস্টো অভ রেইস। এ দুই আইনের মূলকথা ছিলো, খাটি আর্য/আরিয়ান জাত ছাড়া অন্য কেউ জার্মানি এবং ইটালির পূর্ণ অধিকারপ্রাপ্ত নাগরিক না। এবং ইহুদিরা কোন নাগরিকই না।

আলেক্সান্ডার ডি গ্রান্ড তার ‘জুইশ ইন ইটালি আন্ডার ফ্যাসিস্ট এন্ড নাজি রুল’ বইয়ে ইটালির ঘটনাগুলো বিস্তারিত লিখেছেন। আমাদের জাফর ইকবালের মতো তাদেরও সেসময় তাত্ত্বিক পন্ডিতেরও অভাব ছিলো না। এইসব জ্ঞানীগুণীরা তখনও শিশুর মতো সরল মন নিয়ে সাদাসিধে ভাবে ফ্যাসিজমের সেবা করে গিয়েছেন, বিভেদ-বৃক্ষের গোড়াতে আপনমনে পানির সেচ দিয়ে গেছেন।

ড. গুইডো লন্ড্রা নামে এক এনথ্রোপলজিস্ট বিজ্ঞানী গবেষণা করে তখন এক বৈজ্ঞানিক নীতিমালা প্রণয়ন করেন। ইটালির সে চেতনা ফিল্টারের নাম ছিলো ‘মেনিফেষ্টো অভ রেইসাল সায়েন্টিস্টস’, খাঁটি আর্যরা সে ফিল্টারের ভেতরে ঢুকে অন্যদিক দিয়ে নাগরিক হয়ে বের হতো। আর রক্তে সমস্যা থাকলে অথবা চেতনায় ঘাটতি থাকলে ফিল্টারে আটকে যেতো। ফ্যাসিজমের বিরোধীতা করা মানুষরা আর ইহুদিরা আটকে যেতো, তাদের খাঁটি ইটালিয়ানত্ব এবং খাঁটি জার্মানত্ব বাতিল করা হতো। তারপর তাদেরকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে নিয়ে, শ্রমিক বানিয়ে, নির্যাতন করে, এবং হত্যা করে চেতনার বাস্তবায়ন করা হতো।

ফ্যাসিজম এমনই। যুগে যুগে ঘুরে ফিরে আসে। এসে এসে জাতীয়তা এবং আত্মপরিচয়ে কত আনা খাদ আছে তা যাচাই করতে মহাব্যস্ত হয়ে পড়ে। চেতনা ধর্মে অন্ধ এই মানুষগুলো এতো বেশি স্পর্ধা পেয়ে যায় যে, তারা দেশের সর্বোচ্চ স্থান থেকে শুরু করে বাসায় বাসায় ঢুকে যেখানে সেখানে তাদের চেতনার এসিড টেষ্ট শুরু করে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠানের সামনে দাড়িয়ে তাদের ছোট ছোট পিচকালো চেতনা প্রদর্শন করে। আবার পথ চলতে সামনে কাউকে পেলে জিজ্ঞাসা করে বসে, আপনি কি বাঙালী?

এরা বুঝতে অক্ষম, সাময়িক সময়ের জন্য শক্তির জোরে এইসব বাঙালী চেতনা ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা যায়, লাখো কণ্ঠে অর্থহীন রেকর্ড করে রাষ্ট্রকাঠামোর সম্মান ও মর্যাদাকে খেলো করা যায়, কিন্তু শেষপর্যন্ত তাদের স্থান হয় ইতিহাসের ভাগাড়ে। ঘৃণিত হতে হয়।

আমাদের সামনে দুইটা পথ আছে। এইসব ছোট ছোট পিচকালো চেতনাধারীদের সাথে তর্ক করে সময় কাটাতে পারি। কোন লাভ হবে না। এদের চ্যাতনা অন্ধত্ব কাটবে না, কিন্তু ঝগড়াঝাটি করে গালিগালাজ দিয়ে কিছুটা হয়তো দমানো হবে। অন্য আরেকটা পথ হলো হিটলার ও মুসোলিনীর মতো ফ্যাসিষ্টদের সাথে শেখ হাসিনা ও তার শাহবাগি চ্যাতনাজীবি অনুসারীদের মিল ও অমিল, এবং কখনো বরং বাড়াবাড়ির বিষয়গুলো, খুঁজে বের করে ইতিহাসের জন্য, আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারি।

আমার মনে হচ্ছে প্রথম কাজটা পুরোপুরি বাদ দেয়া না গেলেও, দ্বিতীয় কাজটা অনেক বেশি দরকারী।

গিনেজ বাংলাদেশ

by: Aman Abduhu

গিনেজ রেকর্ডের সাথে পরিচয় ছোটবেলায়, না বুঝতে শেখার বয়স থেকেই শুরু।

ইত্তেফাকের ভেতরের পাতায় এ ধরনের কাজকর্মের ছবি থাকতো। সম্ভবত গিনেজ বা রিপলিস বিলিভ ইট অর নট। মাঝে মাঝে রহস্যপত্রিকা, বিচিত্রা, রিডার্স ডাইজেষ্ট বা ঢাকা ডাইজেষ্টেও দেখতাম। অদ্ভুত সব ঘটনা আর সাথে চমৎকার হাতে আঁকা ছবি। অমুক দেশে একজন চুল দিয়ে ঘর ঝাড়ু দিচ্ছে, তমুক দেশে আরেকজন পানির উপর ঘুমাচ্ছে, পিপড়ারা মিলে সাতফুট উঁচু পিপড়া-বাড়ি বানিয়েছে। এ ধরণের মজার মজার ছবিগুলো দেখে ভাবতাম পৃথিবী কতইনা আজব একটা জায়গা!

আর আজকে আমার দেশ, বাংলাদেশটাই হয়ে গিয়েছে পৃথিবীর আজবতম দেশ। যেদেশে নাগরিকরা খেতে পায় না চিকিৎসা পায় না শিক্ষা পায় না, সে দেশে আজ রেকর্ড বানানোর জন্য শতকোটি টাকা লুটোপুটি খায়। এই দেশে মানুষ স্বাভাবিক অধিকারগুলো পায় না। প্রতিদিন নারীরা ধর্ষিত হয় শুধুমাত্র বাকি জীবনটুকু ভয়ংকর আতংক নিয়ে বুকফাটা কান্না চেপে রাখার জন্য। প্রকাশ্য দিনের বেলায় সবার সামনেই মানুষ খুন হয় বিচারহীন, অথবা রাতের বেলায় গুম হয়ে যায় হারিয়ে যায় চিরদিনের জন্য। আর সেদেশের মানুষ দরদ দিয়ে গান গায়, আমার সোনার বাংলা! আশ্চর্য সব ছবির সাথে বলার মতো বাংলাদেশের গিনেজ রেকর্ড কি পতাকা বা গানে? আমার তো মনে হয় আসল গিনেজ রেকর্ড এগুলোই।

ছবি দেখার বয়স পেরিয়ে একটু বড় হয়ে যখন বুঝতে শিখলাম, তখন থেকে দেখে আসছি বিভিন্ন ধরণের ব্যাতিক্রমী মানুষেরা গিনেজ রেকর্ড করে। মাঝে মাঝে অনেক মানুষ মিলেও রেকর্ড করে। এসব ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠান, অর্গানাইজেশন বা কোম্পানী এইসব কাজকর্ম স্পন্সর করে। তাদের নামও রেকর্ডের সাথে যোগ হয়।

কিন্তু কোন দেশ?? পুরো একটা দেশ মিলে গিনেজ রেকর্ডের মতো একটা প্রতিষ্ঠানের হালকা স্বীকৃতি পাওয়ার মতো কাজের পেছনে দৌড়াতে থাকে! আমার দুর্বল স্মৃতিতে এমন ঘটনা আর মনে পড়ে না। মনে করতাম, দেশ বা রাষ্ট্র আরো অনেক উঁচু পর্যায়ের বিষয়। ধারণা ভুল ছিলো।

এখন দেখি বাংলাদেশ দৌড়াচ্ছে। বাংলাদেশের পতাকা রেকর্ড হলো। দেখে বাংলাদেশের সৎ ভাই পাকিস্তানের হিংসা হলো। তারাও দৌড়ালো। পৃথিবীতে এমন অদ্ভুত দেশ কি আর তৃতীয় কোনটা আছে? এসব দেখে বিবমিষা হয়েছিলো আমার। গাড়ির পেছনে একটা লাল সবুজ কাগজের পতাকা লাগিয়ে রেখেছিলাম। যেদিন পতাকা রেকর্ডের ছবিটা প্রথম দেখলাম, ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে কার ওয়াশে গিয়ে ঘষে ঘষে তুলে ফেলেছি। প্রচন্ড রাগ হচ্ছিলো, ঘৃণা লাগছিলো। তারপর বাসায় ফিরে দেখি পড়ার টেবিলের উপর টেবিল ল্যাম্পে আরেকটা পতাকা লাগানো; কাপড়ের ব্যান্ডানা। অনেক ভাবলাম এটাও নোংরা করে বিনে ফেলে দেই। কিন্তু পারিনি। লাল বৃত্তটার দিকে তাকিয়ে এখন লিখছি। এতো বদমায়েশির পরও ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের মাটি আর লাল সবুজের পতাকা অনেক কষ্ট দেয়।

তবে স্বীকার করতে হয়, বাংলাদেশ আর পাকিস্তান এ দুটো দেশ হলো অনন্য। কোন তুলনা নেই। দেশের বাইরে গেলে থার্ড আই ভিউতে দেখা যায়, এ দুই দেশের মানুষেরা কেমন। আমরা বাংলাদেশীরা এভারেজে যতটা খারাপ, পাকিস্তানীরাও ইন জেনারেল ততটা বদমাইশ। সত্যিকার অর্থে ব্যর্থ দুইটা দেশ। ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বানানো অতীত ছাড়া এ দুই দেশেরই গর্ব করার মত তেমন কোন অর্জন নেই। পাকিস্তানীদের নিউক্লিয়ার পাওয়ার আছে অবশ্য, কিন্তু তা আসলে জলা জমির উপর দাঁড় করিয়ে রাখা রিয়েল এষ্টেট কোম্পানীর সাইনবোর্ডগুলোর মতো। ভেতরে ফাঁপা, ঠনঠন। এই ধরণের অর্থহীন এবং ফাঁপা কাজে তাদের কাউন্টারপার্ট বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সামর্থ্য একটু কম। তাই তাদের দৌড় হলো পিলখানায় প্রতিবেশী বন্ধুদের হাতে নিজের ব্লাড ব্রাদার্সদের ব্লাডশেড ঠিক মতো সম্পন্ন হওয়া তত্ত্বাবধান করা। এবং অবৈধ সরকারের খুঁটি হিসেবে দাড়িয়ে থাকা। সুতরাং বাংলাদেশকে সেই সব গর্বের সাইনবোর্ড টাঙানোর জন্য গিনেজের দ্বারস্থ হতে হয়, যেখানে লাখো কণ্ঠে কিছু বোধবুদ্ধিহীন চিৎকার শোনা যায় শুধু “আমার সোনার বাংলা ……………..”।

আসলে, ভালোই হয়েছে। ভিনদেশে অজপাড়াগাঁয়ের কেউ যদি জানতে চায়, বাংলাদেশ টা কোথায়? গর্ব করে উত্তর দিতে পারবো, গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায়।

৫০ কোটি টাকার জাতীয় সঙ্গীতের বিশ্ব রেকর্ড এবং সুরেন্দ্র কারবারি পাড়ার ১.৫ লক্ষ টাকার স্কুলের ছাদ- আমি ব্যবহৃত হতে অস্বীকার করি।

March 25, 2014 at 8:59pm


আজকে সকাল ১০টা থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে(সুত্রঃ সংস্কৃতি মন্ত্রী)  , মন্ত্রী এমপিদের  সরকারের সাথে ব্যবসা করার আইন ভঙ্গ করে, প্রতিটা ব্যাঙ্ক এবং বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের  সাথে বাধ্যতামূলক চাঁদাবাজি করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের এক সাথে  জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার বিশ্ব রেকর্ড।
একটা মর্মস্পর্শী ছবি 
কে জানে, এমন একটা রেকর্ড  প্রতিদিন  আমরা ভাঙছি কিনা, স্কুল ঘর না থাকায় পৃথিবীতে সর্বোচ্চ সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী প্রতিদিন খোলা মাঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার এবং পাঠ দান নেয়ার । কিন্তু, এঁর মধ্যেই  ফেসবুকে, তন্দ্রা চাকমার স্ট্যাটাস অনেকেই দেখেছেন, খাগড়াছড়ির সদর উপজেলায়  সুরেন্দ্র কারবারি পাড়ার মহাসেনের আঘাতে ভেঙ্গে যাওয়া স্কুলের টিন-শেড ঠিক করে দেয়ার জন্যে  ১.৫ লক্ষ  টাকা জোগাড় করতে।
পেছন থেকে তোলা, একটা ভাঙ্গা স্কুল ঘরের সামনে চার লাইনে দাড়িয়ে শপথ নিতে থাকা এই অত্যন্ত মর্মস্পর্শী এই  ছবিটা দেখলেই বোঝা যায়, এই রাষ্ট্র-যন্ত্র কি ভাবে তার  জনগণের বেসিক চাহিদা পূরণ করতে পদে পদে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
এক বছর আগে হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের ভেঙ্গে যাওয়া স্কুলঘর ঠিক করতে যেই রাষ্ট্র ব্যর্থ , সেই রাষ্ট্রের কোন অধিকার নাই ৫০ কোটি টাকা খরচ করে, জাতীয় সঙ্গীতের বিশ্ব রেকর্ড করার।
কিন্তু, সেই গুলো করছে আওয়ামী  লিগের সরকার ।কেন  করছে ? কারণ, এই দলের জনগণের কাছে কোন দায়বদ্ধতা নাই। এই দল জানে, তারা মানুষের ভোট জিতে ক্ষমতায় আসে নাই। তারা জানে, তারা ক্ষমতায় আসছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে দেশকে দুইটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রকম গুটি-বাজি করে এবং  ইন্ডিয়ার স্বার্থ রক্ষা করার মাধ্যমে। ফলে তাদের সমস্ত চিন্তা চেতনায় এই দুইটি ধারা প্রবাহিত  হয়।
এই জন্যে আমরা দেখেছি, সমালোচনার মুখেও তারা  ৫০ কোটি টাকা খরচ করে, এই অর্থহীন অনুষ্ঠানটা করে যাচ্ছে। কারো  কথায়  কান দিচ্ছেনা।   এই গুলো  ক্লাসিক  স্বৈরচারী আচরণ। বড় বড় মূর্তি বানানো, বড় বড় অনুষ্ঠান করা  ।  স্বৈরাচার নিজেই তার গড়া এই ফানুসে উড়ে বেরায়। তার ধারনা থাকে,  মানুষের জীবনে শান্তি সুখের নহর বয়ে যাচ্ছে। এই জন্যে স্বৈরাচার নিয়ম করে, আচ্ছা জনগণের যেহেতু অনেক টাকা, সেহেতু আমরা সব রাস্তায় টোল বসিয়ে দেই। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেই।
এই অনুষ্ঠান আরও অনেক গুলো সম্পূরক প্রশ্নের জন্ম দেয় ।  
তা হলো  রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই ভাবে কোন অনুষ্ঠানের জন্যে বাধ্যতামূলক চাঁদাবাজি করা আইন সম্মত কিনা? এ কোন রাষ্ট্র সৃষ্টি করলাম আমরা যার সরকার এই ধরনের ভ্যানিটি প্রজেক্টের জন্যে নিজেই চাঁদাবাজি করে?  এই টাকার একাউন্টেবিলিটি কে নিশ্চিত করছে? এই টাকাটা অডিটেবেল কিনা? সরকার যাদের কাছ থেকে এই  টাকা নিয়েছে, তারা এই অনুদানের কি পে-ব্যাক নিবে ?
এই টাকা সরকারী নিয়ম মেনে খরচ হয়েছে কিনা। এবং এই অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি-মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরের প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিকের তত্ত্বাবধানে হওয়াতে মন্ত্রী এমপিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সরকারের সাথে ব্যবসা না করার যে নিয়ম  তার প্রকাশ্য বাত্যয় হলো, দুদক তার তদন্ত করবে কিনা? এই রাষ্ট্র কি, এতো নাঙ্গা হয়ে গ্যেছে যে, এই ধরনের দুর্নীতি করতে আজ রাখ ঢাক ও করতে হয় না?
এই প্রশ্ন  গুলোকে উপেক্ষা করে 
আজকে যখন সমালোচনার  ঝড় ওঠে, ইসলামি ব্যাঙ্কের কাছ থেকে টাকা নেয়া  মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বরখেলাপ কিনা  তখন বোঝা যায়, সরকার  চাইছে  নবীনদেরকে এবং প্রতিবাদীদেরকে দেশপ্রেমের  একটা  ধোঁয়াটে অন্ধকারে বুঁদ করে রাখা যাতে, আজকের প্রজন্ম , তার চোখের সামনে লুটপাট দেখেও সঠিক প্রশ্ন করতে ব্যর্থ হয়। যাতে সে সুশাসন না চায়, প্রকাশ্য দুর্নীতি  দেখলেও বিভাজিত রাজনীতিতে নিজের অবস্থানের কারণে চুপ থাকে, প্রতিবাদী না হয়।
যাতে সে দেখতে ব্যর্থ হয়, সুরেন্দ্র কারবারি  পাড়ার বাচ্চাদের সরকারী স্কুলের ঘর মাত্র ১.৫ লক্ষ টাকার জন্যে , নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয় যে সরকার সেই সরকারের  ৫০ কোটি টাকার বিনিময়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার লুটপাটের মহোচ্ছবের কোন অধিকার নাই। এই উৎসব বার বার মনে করিয়ে দেয়,  সেমুয়েল জনসনের বিখ্যাত উক্তি, patriotism is the last refuge of a scoundrel ।  বদমাইশের  শেষ আশ্রয় হচ্ছে দেশ প্রেম।
এই প্রজন্মকে মনে রাখতে হবে , দেশ  কিন্তু  মা। মাকে নিয়ে ব্যবসা করতে হয়না।
 এবং যারা করে, তারা কোন একটা ধান্দার জন্যে করে।  এই প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ, সেই ধান্ধাবাজদের সৃষ্ট ধোয়ার থেকে সত্যকে দেখতে পাওয়া এবং   সঠিক প্রশ্নটা করা। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার দায়, এই চেতনা ব্যবসায়ীদের হাতে  ব্যবহৃত না হওয়া।
আজকে  আমাদেরকে তাই এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর চাইতে হবে। এই চাদাবাজি আইনসম্মত কিনা ? এর একাউন্টিবিলিটি কে দেখবে ? এবং  মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক আইন ভঙ্গ করে  কিভাবে এই  কাজ পায় ?
যাদের সামর্থ্য  আছে, তারা সুরেন্দ্র কারবারি  পাড়ার মহাসেনের আঘাতে ভেঙ্গে যাওয়া সরকারী স্কুলের পরিচালক দয়ানন্দ দাদার সাথে যোগাযোগ করবেন ০১৮২৮৮৬১৩০৩  নাম্বারে। এই স্কুলটি ঠিক করতে ১.৫ লক্ষ টাকা লাগবে। সরকার যদি না করে, আমরাই পারবো এই স্কুল ঠিক করে দিতে। এইটাই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা।
আই রিফিউজ টু বি ইউজড, আমি ব্যবহৃত হতে অস্বীকার করি ।  এবং এই ৫০ কোটি টাকার প্রতিটা পয়সার হিসেব চাই। সবাইকে ২৬শে মার্চের শুভেচ্ছা।

আমি একটা সুসংবাদ দেই, আমার ফেসবুক বন্ধু জাপান প্রবাসী দিদার কচি Didar Kochiভাই জানিয়েছেন, তন্দ্রাদির স্ট্যাটাস পড়ার পরে,তিনি এবং তার বন্ধুরা ইতিমধ্যেই ৮০০ ডলার কমিট করেছেন এবং ইতি মধ্যেই Tandra Chakma তন্দ্রা দিকে জানিয়েছেন, আগামি সপ্তাহের মধ্যে দের লক্ষ টাকা সুরেন্দ্র কারবারি পাড়ার মহাসেনের আঘাতে ভেঙ্গে যাওয়া সরকারী স্কুলের ফান্ডে দিবেন।

ধন্যবাদ কচি ভাই এবং আপনার বন্ধুদেরকে। এক টিকেটে দুই ছবি দেখার মত চেতনা ব্যবসা আর টাকা লুটপাট করা নতুন মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ীদের যুগে , আপনারাই দেখিয়ে দিচ্ছেন, দেশপ্রেম কি জিনিষ ।

৫০ কোটি টাকার সাথে তুলনা করলে, দেড় লক্ষ টাকা হয়তো কিছুই নাই, কিন্তু , মিথ্যার মধ্যে সত্যকে বেছে নেয়ার ইচ্ছাটাই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা।

 

সূত্র ঃ
তন্দ্রা চাকমার ফেসবুক স্ট্যাটাস।
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10152321709877152&set=a.310807447151.183524.719932151&type=1&stream_ref=10
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন। প্রায় তিন লাখ লোক একসঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ৫০ কোটি টাকা খরচ হবে।
http://bangla.bdnews24.com/ bangladesh/article759318.bdnews

 

 

Accommodating the New Imperial Order: The Dhaka Tribune and the Ruling Culture of Subservience

By Surma

They plunder, they slaughter, and they steal: this they falsely name Empire (Superpower), and where they make a wasteland, they call it peace – Tacitus (56 – 117 AD)

Have you heard the one about the Bangladeshi farmer and the Indian Border Guard?

felani.jpg

Picture of 15 year old Felani killed by Indian Border Guards (BSF) on the 7 January 2011

There was once a Bangladeshi farmer who was ploughing his fields with his cattle near the Indian Border. The Indian border guards (BSF) as part of their live exercises, for the sake of target practice, crossed the border shot the farmer and took his cattle. The BSF re-brand the cattle as Indian cattle and then sell it to an Indian cattle smuggler, who in turn smuggles the cattle into Bangladesh, with the help of the BSF, and sells at a premium. All this time our helpless Bangladeshi farmer is lying in his field bleeding to death.

First the the local Awami League Chairman comes along, see’s the farmer walks over the farmer, crosses the border and has tea with the BSF guards at their station.

Second, a civil society, Sushil type, Nirmul Committee member comes along, see’s the farmer, takes pictures and then crosses the border and writes a report with the BSF guards. In the report the farmer was part of international Islamist terror network, and his cattles were being used to fund that terror network, thus both the farmer and his cattle created an existential threat to the Bangladeshi state and needed to be neutralised.

Third, a correspondent from the Dhaka Tribune arrives and takes an interview of the farmer, noting down all the facts, then writes a sympathetic piece in the paper about the problems faced of being an Indian Border Guard.

The above comical anecdote sadly reflects the state of affairs that is amongst the ruling clique, political and civil in Bangladesh. A culture of submission to an aggressive foreign power, which regularly kills citizens of the country, interferes in domestic politics and is economically exploiting the country’s resources. It is a culture of subservience which permeates the ruling Awami League, to a myopic civil society members, whose indignity is masked by spineless corporate media.  This pro india bias was recently highlighted by former ambassador Sirajul Islam, in the Weekly Holiday. The Dhaka Tribunes role of propaganda as an extension of the state was confirmed when it and its editor Zafar Sobhan received an award by the Better Bangladesh Bangladesh Foundation (BBF) for creating a better image for the country. The other awardees are (post Rana Plaza) Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association for its contribution in the garment sector, the (post internationally criticised elections) Ministry of Foreign Affairs for contribution in the field of international relations, Bangladesh Armed Forces for serving in the United Nations Peace Support Operations and International Committee of the Red Cross (ICRC) for its role during the Liberation War and Foreign Minister AH Mahmood Ali.

Policy of Appeasement – ‘Please Sir, can I have some more!’

muncih 1938.jpgoliver twist.jpg

(l) Neville Chamberlain proclaiming foolishly ‘peace in our times’, after rewarding Nazi aggression at Munich 1938. ( r) Famous scene from Oliver Twist 1968, ‘Please sir can i have some more!’

This culture of subservience reached new heights, with the recent editorial by the Dhaka Tribune by its editor Zafar Sobhan, where he beseeches the Indians to extend the cricketing Indian Premier League into Bangladesh:

“The most obvious way in which to do this would be to let Dhaka bid for a franchise in the next application process and let economics sort it out. With a catchment area that would comprise the entire country in terms of local fan base, or even simply taking Dhaka as the focal metropolis, such a franchise would be a better bet than some that are already in the IPL”

The article and its timing displayed new a new marker for the paper, in its ‘Walter Mitty’, type editorial policy, a new level of a comic detachment from the reality faced by ordinary Bangladeshis. Instead of confronting criticism of the papers Islamophobic and pro India bias, the article just confirmed those accusations and further silenced an ever decreasing number of sympathisers, The reality on the ground, which the paper ignores and is insensitive to, is that one sided elections were held with the open support of the Indian government, with a brutal security crackdown with an alleged assist from the Indian army, all held against the backdrop of an increasing number of Bangladeshi citizens being killed by the Indian security forces at the border.

The content and timing of the piece could be interpreted as a rerun of Munich 1938, where instead of aggression against the sovereignty of a neighbouring country being opposed and resisted, we have a cringe worthy acceptance of the aggression by masking it up and seeking to reward such aggression, in this case unilaterally seeking an IPL franchise.

The ignorance multiplier effect – one import size fits all

The proposal shows an incredible disregard for developing Bangladeshi cricket, which can be throttled by importation of franchise and precious resources being diverted to it. Instead of advocating investment and development of local clubs, the newspaper’s solution, like so many other solutions adopted in current Bangladesh, is to import a ready made manufactured Indian solution. This is in the foolish belief that such a solution, of a single franchise, is for the benefit of development of the game in a country of over 150 million.

A similar dynamic, rather stagmatic, can be observed in every domain of indigenous social-technological development, from water resources engineering, to urban planning and education. The systematic undernourishment of our own talents is no basis for a state with pretensions of autonomy. Realise this, even (y)our foreign development partners are laughing all the way to the bank and up their career ladders

The attitude in the paper seems to be hangover of the Mujib-era one party state of the early 70s, where dogma superseded practical technicalities. Then it was the import of ill fitting Soviet blueprints, now we have the advocacy of ill fitting, counter productive Indian ones, for our politics, culture, economics and now cricket. For too long, the Dhaka Tribune and its ilk, has gotten away with weaving a fairytale of Bangladesh. Until people start complaining – and loudly too – the corporate media agenda will be shaped by supporters of government, pro AL big business and Indian foreign policy. That does not just subvert honest journalism: it undermines our democracy.

famine 1974.jpgdefinition of journalism.jpg

(l) Scene from the famine of 1974, mainly caused by the political and economic ineptitude of the government of the day. ( r) Memo to the Dhaka Tribune and the corporate media of Bangladesh, from a real journalist, George Orwell.

রনির কেস ষ্টাডিঃ এক স্বঘোষিত লেখকের দলীয় মিথ্যাচার

3

– আমান আবদুহু

 

গোলাম মাওলা রনি নামের সুপরিচিত রাজনীতিবিদ ভদ্রলোকটি একটা স্ট্যাটাস লিখেছেন। তিনবার পড়লাম। এবং পড়ে শেষপর্যন্ত অনেক হাসলাম। এ আনন্দদানের জন্য বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আওয়ামী নেতাটিকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।

গ্রামে একশ্রেণীর মাওলানারা সারারাত ওয়াজ করেন, ইনিয়ে বিনিয়ে বিভিন্ন ধরণের গল্পকাহিনী শোনান। একসময় মানুষ ঘুমে ঢুলতে থাকে, তবুও তাদের বিরক্তি আসে না। বছরের একটা রাতে আধোঘুমে আধোজাগরণে এইসব বিস্তারিত কিচ্ছাকাহিনী শুনতে তাদের ভালো লাগে। সংবৎসরের নিরুত্তাপ জীবনের মাঝে ফসল তোলার ক্লান্তি শেষে এক রাতের আনন্দটা মূল্যবান। আকাশের উপরে মাটির নিচে নানা রঙের ঘটনা নিয়ে রঙীন আলাপের আনন্দ, এ আমেজটা শহুরে আমাদের অনেকের পক্ষে বুঝে উঠা একটু কঠিন। তবে সব বাংলাদেশীদের সামষ্টিক মানসিকতায় বিনোদনের প্রতি কাঙালীপনার এ দিকটা রনি খুব ভালো করেই বুঝে নিয়েছেন।

সালমান এফ রহমানের সাথে নিজ স্বার্থসংশ্লিষ্ট মারামারিকে ন্যায় বনাম অন্যায় যুদ্ধের রুপকথা বানিয়ে তিনি বাংলাদেশীদের মুগ্ধ করেছেন। কাদের মোল্লা প্রসঙ্গে জেলখানা, উস্তাভাজি ও চিরকুটের হৃদয়গ্রাহী বয়ান দিয়ে ইসলামপ্রিয় জনতার হৃদয়ের মণিকোঠাতে ঠাঁই গেড়েছেন তিনি। সুর করে দরুদ মিলাদ পড়ান, লেখায় আল্লাহ রাসুল ইসলাম কোরআন হাদিসের বন্যা বয়ে যায়, গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের সাধারণ জীবনের কথাও বলেন। মাঝে মাঝে নিজ দল আওয়ামী লীগের টুকটাক অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের আপোষহীন নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বলেন।

ভন্ডামী বাটপারি মিথ্যাচার এগুলো আমাদের দেশে রাজনীতিবিদদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। আমরা এসব মেনেও নিয়েছি অনন্যোপায় হয়ে। তবে এসবের বাইরে রনিকে শেষপর্যন্ত বিশেষ আরেকটা ক্রেডিট না দিলে অন্যায় হবে। একেকজন নেতার ভক্তরা হয় একেক গোষ্ঠীর। কিন্তু ডাইভার্স টাইপের মানুষ অথবা বিভিন্ন দলের অনুসারীদের মাঝে অনুরক্ততা পায় খুব কম সংখ্যক নেতা। রনির ভক্তরা ডাইভার্স। জামায়াত শিবির এমনকি বিএনপিরও অনেক লোকজনের কথা শুনলে মাঝে মাঝে আমার খুব বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় রনি লোকটা আসলে প্রায় হেদায়েতের পথে চলে এসেছে। এই যে, আরেকটু বাকি আছে। হয়ে যাবে। মারহাবা মারহাবা।

ইসলামের ঝান্ডাবাহী এ আওয়ামী সিপাহসালারের লেখাটার শিরোনাম “সরকারের বিরোধীতা – কেনো করবেন! কখন করবেন!”। তার আজকের এ লেখাটার একবাক্যে সারমর্ম হলো, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধীতা করা ঠিক না। লেখার

কেন আওয়ামী সরকারের বিরোধীতা করা উচিত না? রনির ভাষ্যে এর কারণ হলো, শেষবিচারে আওয়ামী লীগ সরকার হিসেবে দারুণ সফল। যেসব ইস্যুতে সাধারণ মানুষ আওয়ামী বিরোধীতা করছে, ওগুলো আসলে যুক্তির ধোপে টেকেনা। তার কথা হলো, আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো। বড় বড় সন্ত্রাসী গডফাদারদের দাপট আর নেই এখন। এখন আর কেউ রাস্তাঘাটে ছিনতাই চাঁদাবাজি সন্ত্রাসের শিকার হয়না। আরেকটা বড় কারণ হলো হাতেগোণা বারো তেরো জন আওয়ামী নেতা ছাড়া আর কোন মন্ত্রী এমপি বা নেতা আসলে দুর্নীতির সাথে জড়িত না। রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিও দুর্নীতিমুক্ত। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে এখন “ইউরোপ-আমেরিকা-অষ্ট্রেলিয়া-কানাডার তুলনায় ভালো” করে যাচ্ছে গত পাঁচ বছর ধরে।

রনির বিশাল স্ট্যাটাসের সারকথা হলো উপরে লেখা প্যারাগ্রাফটি। এই কথা পাবলিককে বুঝাতে গিয়ে তিনি সারারাত ধরে অনেক মজা দিয়ে ওয়াজ করেছেন। প্রথমে শুরু করেছেন বেশ আত্ববিশ্বাসের সাথে। দক্ষ যুক্তিবাদী ও বাগ্মী একজন মানুষ তিনি। তার সাথে যারা এ প্রসঙ্গে তর্ক করতে আসে তারা একপর্যায়ে এবড়োথেবড়ো  হয়ে যায় তার যুক্তির ঘুর্নিঝড়ের সামনে পরে গিয়ে, এবং তারপর তারা নিরুপায় হয়ে আসমানী গজবের প্রত্যাশায় বিহবল চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। এ বিষয়টির একটি দীর্ঘ বর্ণনা দিয়েছেন লেখক। পাঠক মজা পায়, তারপর রনির ম্যাসেজ গ্রহণ করে। জাতি বুঝতে পারে তারা এতোদিন কি ভুলের মাঝে ডুবে ছিলো! সত্যিইতো!! আওয়ামী লীগের বিরোধীতা কি কোন সুস্থ মানুষ করতে পারে?

জাতি যখন অনুশোচনায় ভুগে, তখন রনি আবার মাহফিল জমানো মাওলানার মতো নিয়ে আসেন বিভিন্ন স্বাদের রস টসটসে মশলা কাহিনী। ভারতে এমপিরা মারামারি করে একজন আরেকজনের নাকের বদনা (নাকের বদনা কি জিনিস এইটা আমি অবশ্য বুঝতে পারিনি কয়েকবার চিন্তার চেষ্টা করেও) ফাটিয়ে দেয়। মরিচের গুড়া ছিটায়। আর বাংলাদেশের এমপিরা কতো ভালো, মাসুম বাচ্চার মতো। তারা সংসদে বসে শান্তিতে ঘুমায়, তবু বাংলাদেশীরা এতো অকৃতজ্ঞ কেন?

রনির মনে অনেক আক্ষেপ বাংলাদেশের মানুষ পুলিশকে কেন খারাপ বলে, তা নিয়ে। অথচ অন্যদেশের সাথে তুলনা করলে তারাও মাসুম বাচ্চা, জনগণের একনিষ্ঠ সেবক। এখানে রনি গুয়ানটানামো কারাগারের কথা বলেন, বুঝান যে আমেরিকা খুব খারাপ। এবং রনির শেষ কার্ডটা হলো ট্রাম্পকার্ড। রাতের শেষপ্রহরে যখন সবাই চরম ঢুলতে থাকে তখন হুজুর শুরু করেন মেয়েদের নিয়ে কথাবার্তা। কামলীলা। লোকজন লুল সামলাতে সামলাতে আবার সচকিত হয়। রনি এখানে এসে ভারতীয় ডিপ্লোম্যাট দেবযানির একটা মনোরম বর্ণনা তুলে ধরেছেন। উজ্জল শ্যাম বর্ণের ছিপছিপে মেধাবী কর্মকর্তা, “যুবতী ও তরুণীর মাঝামাঝি বয়স”। আমেরিকান পুলিশ তাকে তুচ্ছ এক সাংসারিক কারণে থানায় নিয়ে (বাকীটা রনির ভাষাতে) ….

“উলঙ্গ করে ফেললো। সম্পূর্ন বিবস্ত্র। তারা বললো দেবযানীর কাছে মাদক আছে। এই ওছিলায় পুরুষ পুলিশ গুলো দেবযানীর শরীরের স্পর্শকাতর যায়গায় হাত ঢুকিয়ে দেলো। মহিলা পুলিশরা খিল খিলিয়ে হাসতে লাগলো। দেবযানী সংজ্ঞা হারালেন। তার সারা শরীর কুকুর দিয়ে পরীক্ষা করা হলো এর পর তাকে পাঠানো হলো থানা হাজতে। দেবযানীর যখন সংজ্ঞা ফিরে এলো তখন গভীর রাত। সে দেখতে পেল অনেকগুলো বেশ্যার সংগে তাকে রাখা হয়েছে। বেশ্যাগুলো দেবযানীকে কাতুকুতু দিয়ে তার বিশেষ বিশেষ স্থানে আঘাত করতে করতে বললো হায় খোদা! তুমি এতো কুৎসিৎ- এমন পুরুষও কি দুনিয়ায় আছে যে কিনা তোমার মতো বেশ্যার সঙ্গে রমন করতে চায়!”

চমৎকার। মাহফিলে জনগণ উত্থিত হয়েছে। এ উত্থানের ফাকে রনি বুঝিয়ে দিলেন, দেখেন তো ভাই চিন্তা করে আমেরিকান পুলিশ কত খারাপ?? বাংলাদেশের পুলিশের নামে এরকম কিছু শুনছেন?? সুতরাং বাংলাদেশী পুলিশের হাতে নিশ্চিন্তমনে আপনার স্ত্রী-কন্যাকে পাহারায় দায়িত্ব নিয়ে এবার বাতাস খেতে বেরিয়ে পড়ুন। আওয়ামীলীগের প্রাক্তণ সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির আজকের লেখার এই হলো অবস্থা। এখন আপনি একজন বিবেকবান মানুষ, পাঠক। সুতরাং আওয়ামীলীগ সরকারকে খারাপ বলতে পারেন না আপনি। সমর্থন দিন, জয়ধ্বনি করুন। জয়বাংলা বলে আগে বাড়ুন।

এ পর্যন্ত যা লিখেছি তা হলো রনির লেখার রিভিউ। লেখাটা তিনবার পড়েছি। প্রথমবার পড়ে হতবাক হয়ে গিয়েছি, একজন সুস্থ-মস্তিস্কের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এতোটা নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনার সাথে নির্বিকার মিথ্যাচার কিভাবে করে যেতে পারে, সে কথা ভেবে। ধাক্কাটা সামলাতে দ্বিতীয়বার পড়লাম, তার প্রতিটা পয়েন্টের বিপক্ষে পাল্টা যুক্তি ও প্রমাণ কি হতে পারে তা একটু ভাবার জন্য। রিভিউ লিখতে গিয়ে এ পর্যন্ত যে বিশাল লেখা হয়ে হলো, রিফিউটেশন বা বিপক্ষের যুক্তি লিখতে লেখতে হবে এরচেয়ে বড় আরেকটা লেখা। এবং তৃতীয়বার পড়লাম বিশুদ্ধ বিনোদন নেয়ার জন্য।

নাহ, এতোকিছুর পরও আমাদের তাদের নেতারা একবিন্দু বদলায়নি। মিথ্যাচার এবং অনৈতিকতা পুরোদমে রাজত্ব করে যাচ্ছে বাংলাদেশে। এ দুইহাজার চৌদ্দ সালের ফেব্রুয়ারীতে এসেও।

তার এ লেখার বিস্তারিত রিফিউটেশন সম্ভবত আমার লেখা হয়ে উঠবে না। কারণ কাজটা অনর্থক। এধরণের নৈতিকতাবিহীন দ্বিমুখী মানুষদের বিপক্ষে দাড়িয়ে লাভ নেই। সংক্ষেপে শুধু নিজেকে স্মরণ করাই, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। এদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক আচরণ এখন ফোকলা হয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। ফাঁপা অর্থনীতির ফলাফল ইতোমধ্যে দেশের মানুষ বুঝতে শুরু করেছে। রনির লেখা অক্ষর আর শব্দ মিলিয়ে পড়তে অনেক ভালো লাগে। কিন্তু যে আলু চাষীর রক্ত আর ঘামে উৎপাদিত ফসল রাস্তায় ফেলে দিয়ে শুয়ে থাকা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই, সে হাড়ে হাড়ে অনুভব করে দেশ কি আর অর্থনীতি কি!

এদেশের নব্বই শতাংশ রাজনীতিবিদ অসচ্চরিত্র এবং দুর্নীতিগ্রস্থ। সব এমপি আর মন্ত্রীরা অবৈধ টাকা ও সম্পদে গলা পর্যন্ত ডুবে আছে। বাংলাদেশের পুলিশ হলো লাইসেন্সধারী খুনী সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ এবং ধর্ষক, অলরাউন্ডার। এরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যথেচ্ছ ভাংচুর করে, মানুষকে গ্রেফতারের নামে কিডন্যাপ করে মুক্তিপণ আদায় করে এবং ইচ্ছামতো গুলি করে হত্যা করে। মেক্সিকান ড্রাগ কার্টেলের লোকজনও বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের এ আনন্দ পায় না, যা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা পায়।

কিন্তু তবু আওয়ামী সরকার টিকে আছে কেন? কারণটা সরল। জনগণের বিরুদ্ধে একটা অন্যায় স্বৈরাচার ব্যাবস্থাকে টিকে থাকতে হলে কয়েকটা কোর ইনষ্টিটিউশনের সহায়তা দরকার হয়। বাংলাদেশে মিডিয়া, জুডিশিয়ারী, সিভিল সার্ভিস এবং মিলিটারি, চারটা সেক্টরই আওয়ামী লীগকে কৃতদাস কাফ্রী খোঁজার মতো পরিপূর্ণ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

এখন গোলাম মাওলা রনি যদি শুধু সারারাত না, বরং রাতের পর রাতও তার রসালো ওয়াজ করে যেতে পারেন। এবং এই সেবার বিবরণ তার নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে সাবমিট করে দলীয় অবস্থান পূণরুদ্ধারের একটা শক্তিশালী চেষ্টাও করতে পারেন বটে। কিন্তু পাবলিককে আর বুঝানো যাবে বলে বিশ্বাস করিনা। শেষরাতের ঘুমে ঢুলুঢুলু মানুষেরা উত্থানের মজাটা নেবে, কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষ এখন জানে আওয়ামীলীগ কতটা সফল অথবা ব্যর্থ। প্রত্যেকটা মানুষ বুঝে যে, একসময় সন্ত্রাস ছিলো গডফাদার বা এলাকার গুন্ডাদের হাতে, আর এখন সে সন্ত্রাস সর্বব্যাপী হয়েছে পুরো দেশে, প্রতিটা এলাকায়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাফিয়া অর্গানাইজেশন আওয়ামী লীগের প্রত্যেক সক্রিয় নেতাকর্মীই এখন সন্ত্রাসী। মানুষকে এসব বুঝানোর জন্য শেয়ার বাজার, হলমার্ক, পদ্মা সেতু, সুরঞ্জিত কেলেংকারী, আবুল হোসেন, সজীব ওয়াদের জয়ের কমিশন ও দোয়েল ব্যাবসা, হেফাজত গণহত্যা, ক্রসফায়ার নাটক, পুলিশের চাঁদাবাজি খুন ধর্ষণ, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যৌথবাহিনীর নিপীড়ন, দেশের বিচার ব্যাবস্থা ধ্বংস, সাগর-রুনি, বিশ্বজিৎ, রানা প্লাজা এমন হাজার হাজার ঘটনা নাম ধরে ধরে মনে করিয়ে দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। মানুষ এতো বোকা না। সারারাত ওয়াজ শুনে বাকি জীবন কেউ স্বপ্ন দেখে কাটায় না, বরং সময় হলে হালের বলদের কান ধরে টানতে টানতে তারাই আবার জমিতে গিয়ে নামে।

সুতরাং রনির লেখাটার রিফিউটেশন বা বিপক্ষ জবাবের আসলে দরকার নাই। এটা ভালো একটা বিনোদন হয়েছে। রনির আওয়ামী ল্যাঞ্জাটি একইসাথে উত্তমরুপে উন্মোচিত হয়েছে।

তবে শুরুর কথাটা শেষে আবারও বলতে হয়। বাঙালী বিনোদনের জন্য বড়ই কাঙাল। বাঙালী সব বুঝে, কিন্তু তবুও ঐসব মিথ্যাবাদী গল্পকার হুজুরদের পেছনে দৌড়ায়। আমরা আবেগী, স্মৃতিশক্তিও খুব ক্ষণস্থায়ী। সুতরাং রনি ঠিকঠাকমতো চাল দিলে আশা করি অন্যদিকের মার্কেট আবারও ধরতে পারবেন। তারপর সম্ভবত আবারও ফাকে ফাকে এরকম দালালীসুলভ মিথ্যাচারী লেখা ছাড়বেন। সেই লেখার জন্য রিভিউ করবো না। বরং রনির লেখাগুলো কিভাবে ক্লাসিকাল ফ্যালাসি দিয়ে ভর্তি; ফলস এনালজি/ ইনকনসিসটেন্সি/ এড-হোমিনেম এবং ষ্ট্রম্যান আর্গুমেন্টের মতো অর্থহীন কথাবার্তা ছাড়া তার লেখায় অন্য কিছু নেই, ইচ্ছা হলে সেদিন তা নিয়ে লিখবো। আরেকটা কথাও পরিস্কার করা উচিত। এ লেখাতে আমি এড-হোমিনেম এবং ষ্ট্রম্যান আর্গুমেন্ট ব্যাবহার করেছি। ইচ্ছা করেই করেছি। কারণ মিথ্যুককে আমি সম্মান করিনা। সে এবার কাদের মোল্লাকে নিজ কাঁধে তুলে শহীদ বানাক অথবা রাসুল সা. এর নামে দরুদ টানতে গিয়ে গলা ভেঙে ফেলুক, মিথ্যুক শেষপর্যন্ত মিথ্যুকই।

ভ্যালারে রনি! এই দেশে বেঁচে থাক চিরকাল।

images (1)

 

আদর্শিক রাজনীতি ও বাস্তবতা

by Jahid Islam

দেশের একজন সাহসী চিন্তাবিদ ছিলেন আহমদ ছফা। তাঁর চিন্তায় স্বচ্ছতা ছিল। তিনি যা বিশ্বাস করতেন তাই বলতেন, লিখতেন। এতে কে খুশি হল, কে বেজার হল সেটার প্রতি খুব একটা ভ্রুক্ষেপ করতেন বলে মনে হয় না। তাঁর লেখা একটা চমৎকার প্রবন্ধ হল, “বাঙ্গালী মুসলমানের মন”। এখানে তিনি এক জায়গায় লিখেছেন- “বাঙ্গালী মুসলমান সমাজ স্বাধীন চিন্তাকেই সবচেয়ে ভয় করে। তার মনের আদিম সংস্কারগুলো কাটেনি। সে কিছুই গ্রহণ করে না মনের গভীরে। ভাসাভাসাভাবে অনেক কিছুই জানার ভান করে আসলে তার জানাশোনার পরিধি খুবই সঙ্কুচিত। বাঙ্গালি মুসলমানের মন এখনো একেবারে অপরিণত, সবচেয়ে মজার কথা এ-কথাটা ভুলে থাকার জন্যই সে প্রাণান্তকর চেষ্টা করতে কসুর করে না।”

এ প্রবন্ধের শেষ প্যারায় লিখেছেন-“বাঙ্গালি মুসলমানের মন যে এখনো আদিম অবস্থায়, তা বাঙ্গালি হওয়ার জন্যও নয় এবং মুসলমান হওয়ার জন্যও নয়। সুদীর্ঘকালব্যাপী একটি ঐতিহাসিক পদ্ধতির দরুণ তার মনের ওপর একটি গাঢ় মায়াজাল বিস্তৃত হয়ে রয়েছে,সজ্ঞানে তার বাইরে সে আসতে পারে না। তাই এক পা যদি এগিয়ে আসে, তিন পা পিছিয়ে যেতে হয়। মানসিক ভীতিই এই সমাজকে চালিয়ে থাকে। দু’ বছরে কিংবা চার বছরে হয়তো এ অবস্থার অবসান ঘটানো যাবেনা, কিন্তু বাঙ্গালী মুসলমানের মনের ধরন-ধারণ এবং প্রবণতাগুলো নির্মোহভাবে জানার চেষ্টা করলে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটা পথ হয়তো পাওয়াও যেতে পারে।”
এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সোল এজেন্ডা মুক্তিযুদ্ধ ও সেকুলারিজম। তারা নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র ধারক ও বাহক হিসেবে মনেপ্রাণে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। প্রগতির কথা বলে শিক্ষিত মিডেল ক্লাসের কাছে আবেদন রাখতে চায়। সেকুলারিজম এবং আঞ্চলিক জঙ্গিবাদের উথানের ভয় দেখিয়ে বাইরেরর দুনিয়ার সমর্থন আদায় করতে চায়। শাহবাগে হাজার লোকের সমাগম দেখে তারা ভাবে এবার জোয়ার এসেছে, আর ঠেকায় কে ! এই বারের চোটে রাজীব হায়দার (থাবা বাবা) কেও শহীদ ঘোষণা করে দেয় শেখ হাসিনা। শাহরিয়ার কবিররা ভাবেন- “কম্যুনিজম প্রতিষ্ঠা করা না গেলেও যেহেতু বাহাত্তরের সংবিধানের কাছাকাছি কিছু একটা এখন আছে যাতে মূলনিতী হিসেবে ‘কম্যুনিজম’ এর কথা উল্লেখ আছে, সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম বাদ পড়েছে,শাহবাগে হাজার হাজার মানুষ এসেছে, এবারে অন্তত ধর্ম নামের আফিমের হাত থেকে মুক্তি মিলবে।”

বাস্তবতা হল এরকম যে, বাঙ্গালী মুসলমান শাহবাগে জড় হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে যদি শবে বরাত হয় (শবে বরাত পালন সহিহ কিনা সেটা অন্য তর্ক) সে তার পুরোনো পাঞ্জাবীতে শান দিয়ে, টুপি মাথায় দিয়ে হাজির। নফল ইবাদতের মাধ্যমে ভাগ্য বদলের জন্য দোয়া করে সারারাত। হয়ত পরের দিন থেকেই আবার নামাজ পড়ে না। কিন্ত আওয়ামী লীগের উগ্র সেকুলারিজমে সে বিশ্বাস করে না। নবীজিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে শুনে শাহবাগ থেকে সে হাত গুটিয়ে নেয়। সংবিধানে আল্লাহর নাম নিয়ে কাটা ছেঁড়াও তার বিশেষ পছন্দ না। কম্যুনিজম এবং উগ্র সেকুলারিজমের প্রধান মুফতি শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসির মামুন শবে বরাতের রাতে নামাজকে আদিখ্যেতা মনে করে। মনে মনে বলে, “ শালার বাঙ্গালী। আবার মসজিদে যাও না ! এত্ত বুঝাই তাও কাম হয় না !”।

 

আবার আল্লামা শফির ডাকে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় এসেছে অনেক বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে। সাধারণ পথচারীরাও প্রিয় নবীজিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে শুনে এতে শামিল হয়েছে। ইসলামপন্থীরা ভাবে এবার বাংলাদেশ ইসলামি রাষ্ট্র হয়ে যাওয়া কেবলই সময়ের ব্যাপার। তবে এ ক্ষেত্রে বাস্তবতা হল, যেই বাঙ্গালী নিয়ে আল্লামা শফি বা জামায়াতে ইসলামি, দেশে ইসলামি শাসনের স্বপ্ন দ্যাখেন/দ্যাখে সেই বাঙ্গালী মাজারে যায়। পীরের মুরিদ হয়, মৃত ব্যক্তির কবরে সিজদা করে, গলায় তাবিজ দেয়, মিলাদ পড়ে। এছাড়াও আরও অনেক রকম শিরক করে, বিদআতি কাজ কর্ম করে।

files

আবার এটাও ঠিক যে, সে ইসলামকে ভালবাসে। শুক্রবারের জুম্মার খুতবায় হুজুরের ওয়াজ “ভাইয়েরা আমার, ইসলাম-ই একমাত্র মুক্তির পথ”, শুনে সে মাথা নাড়ায় এরপর ঘরে এসে আরাম করে বসে শুক্রবারের সিনেমা দেখে। সে যে ইসলামকে ভালবাসে, সেটা সে প্রকাশ করে মসজিদের হুজুরকে দাওয়াত দিয়ে ঘরে এনে খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে। সকালে সে তার ছেলে মেয়েকে আরবী পড়তে মক্তবে পাঠায়। শহর হলে হুজুর বাসায় এসে পড়ায়। ছেলে মেয়েরা কোরআন পড়া শিখে, নামাজের নিয়ম কানুন শিখে । সে মনে করে ব্যস-এই ত ইসলাম, আর কি ?

সে পলিটিক্যাল ইসলামে কনভিন্সড না।  মসজিদের হুজুরকে সে নামাজের মিম্বরে কিংবা ওয়াজের জায়গায় চিন্তা করতে পারে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী/এমপির সিটে না। তার কাছে রাজনীতি একটা খারাপ জায়গা। হুজুরের সেখানে কি কাজ ? জামায়াতের নেতাদের ক্ষেত্রে, যে কোন মূল্যে তাদের ফাঁসি হোক এটা সে চায় না (এটা আধুনিক শিক্ষিত শ্রেণীর কথা না, সাধারণ মানুষের কথা)। তবে ৭১ এ তারা ছিল দেশ বিরোধী এটাই সে বিশ্বাস করে । তাই তাদেরকেও ভোট দিতে সে খুব একটা উৎসাহি না, অন্তত জামায়েতের ব্যানারে না। সেকুলারিজম, কম্যুনিজম, জাতীয়তাবাদ কিংবা ইসলামি শাসন এগুলো সব ইন্টেল্যকচুয়াল কনভিকশন। সে এত কিছু বোঝে না। আমি বাজি ধরে বলতে পারি দেশের অন্তত ৫০ ভাগ লোক দেশে কয়টি সেক্টরে যুদ্ধ হয়েছে, বা স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, শহীদ দিবস কবে বলতে পারবে না। ৮০ ভাগ বা তার চেয়েও বেশি লোক সহিহ উচ্চারণে কোরআন পড়তে পারে না।

সে যে ৫ বছর পর পর সুইং ভোট দিয়ে সরকারের পতন ঘটায় এটা এ জন্য না যে, ৫ বছর পর একদিন আচমকা ঘুম থেকে উঠার পর তার মাথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের খায়েশ জাগে । অথবা দেশকে ভালবেসে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে । অথবা একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজ থেকে আর নামাজ ক্বাযা নয়। এবার থেকে পুরোপুরি সে ইসলামি পথই অনুসরণ করবে। সে এটা করে দুই দলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে। তার এত কিছু নিয়ে চিন্তা করার সময় নাই। সে ছোটে পেটের তাগিদে। এরপর যতটুকু পারে ধর্ম কর্ম করে। মূলত তার নামাজ জুম্মার নামাজ, ঈদের নামাজ আর জানাজার নামাজে সীমাবদ্ধ। আর ইসলামি জ্ঞানের একমাত্র সম্বল হল শুক্রবারের ওয়াজ।

সেকুলারিজম বা ন্যশনালিজম বা পলিটিক্যাল ইসলাম আবার কি ! এত হ্যাভিওয়েট ডেফিন্যাশন সে জানবে কোথা থেকে ? এটা হল পিউর বাস্তবতা। কোন সুগার কোটিং নাই। আপনি সেকুলারিজম, কম্যুনিজম, জাতীয়তাবাদ কিংবা ইসলামি শাসন যাই কায়েম করতে চান এটা ভাল মত বুঝে এরপর শুরু করতে হবে। এটাই কাজ শুরুর প্রথম ধাপ।এরপর সে অনুযায়ী মডেল বানাতে হবে। এখানে ভারত বা ফ্রান্সের সেকুলারিজম, ব্রিটিশ ন্যশনালিজম অথবা মিশর কিংবা তুরস্কের ইসলামি মডেল চলবে না। চীন রাশিয়ার প্রেতাত্মা ত আগেই দূর হয়েছে। এদেশে স্রেফ একটাই চলবে, সেটা হল –“বাংলাদেশি মডেল”। এতে অন্যান্য মডেলের কনসেপ্ট থাকতে পারে, তবে সবশেষে হতে হবে একেবারে কাস্টমাইজ করা দেশী জিনিস । “কমরেড” বা “ইয়া আখি” টাইপ পরিভাষা এখানে চলবে না। অন্তত শুরুতে  না। পরিস্থিতির বাস্তবতা বুঝে যে যত রিয়েলিস্টিক মডেল বানাতে পারে তার মডেল তত ভাল কাজ করবে। প্রথমে প্র্যাকটিক্যাল কেস থেকে শুরু করে এরপর এটাকে আস্তে আস্তে ক্যালিব্রেট করতে হবে আইডিয়াল মডেলের দিকে।

আল কায়েদা হুমকি ও ক্ষমতা সমীকরণের মধুচন্দ্রিমা..

by Watchdog BD

পাঠকদের মনে থাকতে পারে বিএনপির শেষ টার্মের শেষ দিকের কিছু ঘটনা। হঠাৎ করে ভারতীয় মিডিয়া ইনিয়ে বিনিয়ে প্রচার করতে শুরু করে আল কায়েদার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মিশরীয় ডাক্তার আইমেন আল জাওহিরি নাকি বাংলাদেশে। এবং বাংলাদেশি সরকার তাকে সব ধরণের সহযোগীতা দিয়ে লুকিয়ে রাখছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র সফরের আসেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী জনাবা শেখ হাসিনা। তিনি পরিষ্কার ভাষায় মার্কিনিদের জানিয়ে দেন এখনই ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে পরবর্তী আফগানিস্থান। ভাষাগত দুর্গন্ধে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই মহিলার দাবির প্রেক্ষাপটে তাৎক্ষণিক মার্কিন কোন সৈন্য বাংলাদেশে হয়ত পা রাখেনি অথবা পাকিস্তানের মত ড্রোন হামলা চালিয়ে নির্বিচারে নারী,পুরুষ ও শিশু হত্যা করেনি। তবে সতর্ক বার্তাকে হেলাফেলা করেও উড়িয়ে দেয়নি মার্কিন কতৃপক্ষ। গ্রিনকার্ডধারী গোটা বাংলাদেশি সমাজকে তাৎক্ষণিকভাবে ইমিগ্রেশনে রিপোর্ট করে তাদের চলাচলের রোডম্যাপ অবহিত করতে ডিক্রি জারি করে দেশটার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়। অনেকের মত ব্যাক্তিগতভাবে আমিও বিশ্বাস করি খালেদা অধ্যায়ের করুণ পরিণতি, আহমদ গংদের উত্থান এবং শেখ ডাইনেস্টির ক্ষমতারোহনের অন্যতম ইনগ্রেডিয়েন্ট হিসাবে কাজ করেছিল ভারতীয় মিডিয়ার এ অপপ্রচার এবং পাশাপাশি নেত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর। অন্তত উদ্দিন গংদের প্রতি মার্কিন তথা পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন এ বিশ্বাসকে আরও জোরালো করে। পাঠকদের আরও মনে থাকার কথা তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে শেখ হাসিনার মন্তব্য, … ‘এ আমাদের আন্দোলনের ফসল’ এবং ‘ক্ষমতায় গেলে তাদের সব কাজের বৈধতা দেব’।

jawahiri-ed

দেশীয় রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হিসাবে আবারও হাজির হয়েছেন আল জাওহিরি। মার্কিনিদের সন্ত্রাসী তালিকায় এই ব্যাক্তির নাম সবার উপরে। এবং তারা যে কোন মূল্যে আল কায়েদার কমান্ডার-ইন-চীফকে নির্মূল করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ উন্নত বিশ্বের কোন দেশই সন্তুষ্ট নয়। প্রায় প্রতিদিনই মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকাগুলো এ নিয়ে লেখালেখি করছে। পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী সিনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটিতে শুনানী হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে নেত্রীর চামচারা যতই লম্ফঝম্ফ করুন না কেন অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পশ্চিমা বিশ্বের সহযোগীতা বাধ্যতামূলক। পদ্মা সেতুর অর্থায়নে সরকার বৈদেশিক মুদ্রার রেকর্ড পরিমান রিজার্ভে হাত দিতে যাচ্ছে। অনিশ্চিত মানব সম্পদ রফতানি এবং তৈরী পোষাক শিল্পের উপর পশ্চিমাদের উপর্যুপরি হুমকির প্রেক্ষাপটে রিজার্ভের উপর হাত দেয়া কতটা বিপদজনক তা মাল মুহিত সহ অর্থনীতিবিদদের জানা থাকার কথা। এ অনিশ্চিত অবস্থা হতে উত্তরণে অতীতের মত আবারও আইমেন আল জাওহিরি ফ্যাক্টরকে সামনে আনা হয়েছে।

সরকারের বহুমুখী আক্রমণে জামাত সহ বাংলাদেশের সবকটা বিরোধী দল এখন বিধ্বস্ত। হামলা মামলার পাশাপাশি গুম ও বন্দুকযুদ্ধ নাটকের শিকার হয়ে দলের নেতারা হাটে মাঠে ঘাটে প্রাণ হারাচ্ছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে হেফাজত-জামাতের পক্ষে আল কায়েদার সমর্থন কার হাত শক্তিশালী করবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক  নির্বাচন হতে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্যই আল কায়েদা হুমকির সূত্রপাত।

এখন বাকি থাকবে বাংলাদেশের জনবহুল কোন অংশে আল কায়েদার নামে বোমা মেরে বেশ কিছু মানুষ হত্যা করা। ৫ই জানুয়ারীর ভোট ডাকাতির ধারাবাহিকতা ও ক্ষমতা নামক সমীকরণের অংশ হিসাবে আইমেন আল জাওহিরির উপস্থিতি পশ্চিমা দুনিয়ায় কাজ করলেও খোদ বাংলাদেশে তা কাজ করবেনা। কারণ দেশের ১৫ কোটি মানুষের প্রায় সবাই জানে শেখ হাসিনা হয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় পর্যন্ত শেখ ডায়নাস্টি টিকিয়ে রাখতে এ মুহূর্তে এর কোন বিকল্প নেই।

ড্রোনাচার্য জাফর স্যার এখন থাবা বাবার ভ্যালেন্টাইন?

2

By শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

বাংলা-বিহার-উরিস্যার স্বঘোষিত ড্রোনরাজ, চেতনাৎসী মতাদর্শের প্রধান প্রচারক ও লিপিকার, বিশ্বখ্যাত ফিল্টার থিউরির জনক, এবং বাংলা সাহিত্যের প্ল্যাজিয়ারিজম ধারার কর্নধার জনাব ডক্টর জাফর স্যার আবারও ফাপরবাজী করতে গিয়ে মারাত্মক ধরা খেয়েছেন।

আমার গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের ছোটভাই, বিখ্যাত শাহাবাগি ব্লগার, প্রথম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লেখক, দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম “শহীদ” এবং বিশিষ্ট ইসলাম গবেষক জনাব মরহুম থাবা বাবা ওরফে রাজিব হায়দারের সাথে নিজের দেখা হবার সাদা-সিধে গল্প ফাঁদতে গিয়ে এবার জাফর স্যার চিপায় পড়েছেন।

জাফর স্যার খেলনা প্লেনকে ড্রোন বলে চালিয়ে দেবার সাদা-সিধে ফন্দি করে ধরা খাবার ঝক্কি সামলিয়ে উঠতে না উঠতেই থাবা বাবাকে নিয়ে প্লেইন-এন্ড-সিম্পল মিথ্যে কথা বলে ধরা খেয়ে তাঁর ভক্তকূলকে রীতিমত লজ্জায় ফেলে দিয়েছেন।

Thaba Baba 2

স্যার তাঁর বিডিনিউজ২৪ এর লেটেস্ট সাদা-সিধা কলামে লিখেছেন (http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/15172) ঃ

“আমি হেঁটে হেঁটে ট্রাকের পিছনে গিয়েছি, তখন লম্বা একটা ছেলের সঙ্গে কথা হল। মাথায় হলুদ ফিতা, তাই সেও নিশ্চয়ই একজন ব্লগার, আমাকে বলল, “স্যার, একটা বিষয় জানেন?’ আমি বললাম, “কী?” সে বলল, “এই পুরো ব্যাপারটি শুরু করেছি আমরা ব্লগাররা, কিন্তু এখন কেউ আর আমাদের কথা বলে না!” কথা শেষ করে ছেলেটি হেসে ফেলল। আমি তখনও জানতাম না যে এই ছেলেটি রাজীব এবং আর কয়েকদিন পরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে একত্র হওয়া এই তরুণদের ‘নাস্তিক’ অপবাদ দিয়ে বিশাল একটা প্রচারণা শুরু হবে, আর সেই ষড়যন্ত্রের প্রথম বলি হবে এই তরুণটি।”

এক্ষেত্রে বলে নেয়া ভালো উপরের কথোপকোথন আদৌ হয়েছে কিনা তা ভেরিফাই করার তেমন কোন উপায় নেই। স্যার এর আগেও তাঁর লেখা প্লেইন-এন্ড-সিম্পল গারবেজগুলোতে জাতির বিশেষ সব ক্রান্তি লগ্নে নানা বিধ কাল্পনিক চরিত্রের সাথে নিজের কথোপকথনের ফিরিস্তি দিয়েছেন। বলা বাহুল্য এই কাল্পনিক কথোপকথনগুলোকে স্যার এক্কেবারে রিয়াল ফ্লেভার দিয়ে নিয়মিত চালিয়ে দেন। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই কথোপকথনগুলো যাদের সাথে হয় তারা হয় কোন অন্যায়-অবিচারের ভিক্টিম, কিংবা ভবিষ্যতে ভিক্টিম হয়ে যাবে-যাবে এমন দুঃচিন্তাগ্রস্থ তরুন-তরুনী।

জাফর স্যারের থাবা বাবা বিষয়ক এবারের ফাপরবাজীটা আর কারও কাছে না হোক আমার জন্যে ধরা খুব সহজ ছিল। কেননা জনাব থাবা বাবা ওরফে রাজিব হায়দার সম্পর্কে আমার জানা শোনা স্যারের চাইতে বেশী। স্কুল জীবনের যেই স্মৃতি রাজিব সম্পর্কে আমার আছে, তাতে ওকে আমার এককথায় লম্বা হিসেবে পরিচয় দেবার মতো কেউ বলে মনে পরে না। রাজীবের দাড়িয়ে থাকা ছবি ঘাঁটলেও আমার এই কথার সত্যতা যাচাই করতে পারবেন যে কেউ।

রাজীব বিষয়ে স্যারের দ্বিতীয় মিথ্যাচার ছিল ছেলেটির কপালে বাঁধা “ফিতে” নিয়ে। রাজীবের যে ছবিগুলো পাওয়া যায়, তাতে দেখা যায় ওর মাথায় সাদা পট্টি থাকতো, স্যারের বর্ণনায় দেয়া হলুদ পট্টি না। যদিও তর্কের খাতিরে মেনে নিতেই হবে সাদার পাশাপাশি হলুদ পট্টীও রাজীব পরে থাকতেই পারে। যদিও হাতে থাকা এভিডেন্স তা বলে না।

1553326_10152168922021007_2081839109_o

[ From Facebook Page of Journalist জ.ই. মামুন

ব্লগার রাজীব হায়দারকে আমি চিনতাম না, তার নৃশংস হত্যাকান্ডের পরেই অন্য অনেকের মত তার নাম জেনেছি। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে আমার ক্যামেরায় তার একটি ছবি আছে। শাহবাগ আন্দোলন গণজাগরণ মঞ্চ নাম ধারণের আগেই, অর্থাৎ গতবছরের ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ শাহবাগে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে তরুণ সমাজের আন্দোলন শুরুর পরদিন, ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আমি কমবেশি প্রতিদিন শাহবাগে যেতাম, সাথে থাকতো আমার শখের ক্যামেরা। কোনো কারন ছাড়াই ছবি তুলতাম। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম সমাবেশের দিন সন্ধ্যার আগে আগে দেখি মঞ্চের পেছনে কয়েকটা ছেলে মেয়ে ল্যাপটপে কাজ করছে। কেন যেন একটা ক্লিক করেছিলাম। এতদিন পর কাল সেই ছবিগুলো দেখতে দেখতে লাকি Lucky Akter বলল, এটাই রাজীব হায়দার! বিন্মিত হলাম, তাই আজ ছবিটা আপলোড করছি। তবু আমি নিশ্চিত নই এটি আসলেই রাজিব কি না। গণজাগরণ মঞ্চের বন্ধুরা নিশ্চিত করতে পারবেন

তবে রাজীব বিষয়ে জাফর স্যারের সবচাইতে বড় ফাপরবাজীটি হলো থাবা বাবাকে নাস্তিকতার অভিযোগ থেকে পরিত্রান দেবার হাল্কার উপর ঝাপসা এটেমট নেবার ব্যাপারটি।

জাফর স্যারের মতো নির্লজ্জ স্বরচিত ইতিহাসবীদ হয়তো ভুলে গিয়েছেন যে শাহাবাগ কিন্তু তিতাল্লিশ বছর আগে ঘটে যাওয়া  ১৯৭১ না,  যে বর্তমান প্রজন্ম তাঁর মতো ফিকশনাল ইতিহাসবিদকে বেনেফিট অব ডাউট দিবে।

থাবা বাবা নিয়ে আমার মতো মানুষের জাফর স্যারের লেখা স্বরচিত ইতিহাস পড়া লাগে না, কেননা এখত্রে আমরা নিজেরাই থাবা বাবার জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষী। আমি নিজে সাক্ষী দিয়ে বলতে পারবো থাবা বাবা কোথায় কি লিখত।

তবে শক্তকণ্ঠে বলে নিচ্ছি, রাজীবের নৃশংস খুনের পুর্নাংগ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার আমি কামনা করি স্কুলের বড় ভাই হিসেবে। কিন্তু তাই বলে রাজীব যে ধর্ম নিয়ে নিকৃষ্ট কথা বার্তা বলে সেলিব্রিটি হয়েছিল সেই ইতিহাসতো আর আমি জাফর স্যারকে ফাপরবাজী করে গায়েব করে দিতে আলাউ করতে পারি না। আর তাছাড়া রাজীবের মৃত্যুর আগে তাঁর সাত হাজার ছয়শ এর মতো ফলোয়ার ছিল। এই সাত হাজার মানুষ খুব ভালো করেই জানে রাজীব কি কি লিখত।

রাজীবের পুরো ফেইসবুক প্রোফাইলের পিডিএফ নিশ্চয়ই কেউ না কেউ সেইভ করে রেখেছিলেন ওর মৃত্যুর ঠিক পরে পরেই।

ওর মৃত্যুর পরে কোন কোন শাহাবাগি কার কার কাছে গিয়েছিলেন থাবা বাবার ফেইসবুক প্রোফাইল বিটিয়ারসি থেকে ব্লক করে দিতে, সে ইতিহাসও বের হয়ে গেছে ইতমধ্যেই। কেন তখন শাহাবাগিরা প্যানিক করেছিল থাবা বাবার প্রোফাইল নিয়ে, তা কিন্তু জাফর স্যার তাঁর স্নেহ ধন্য কোন শাহাবাগিকে এখনও জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে পারেন।

জাফর স্যার ভ্যালেন্টাইন ডে তে শাহাবাগের থাবা বাবার ইমেজ রিপেয়ার করার ধান্দা করার মাধ্যমে একটা ইন্টেরেস্টিং মেজেস দিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। বুড়ো বয়েসে স্যারের ভ্যালেন্টাইন প্রেম হয়তো এখন শাহাবাগি থাবা বাবা ওরফে রাজীব হায়দারের সাথে।

তবে খারাপ লাগছে এই ভেবে যে জাফর স্যারের ড্রোন নিয়ে ফাপরবাজীটা ছোটলোকি হলেও শিশু সুলভ ছোটলোকি ছিল। কিন্তু এবার থাবা বাবা নিয়ে এক প্যারাগ্রাফে একাধিক মিথ্যে কথা বলতে গিয়ে স্যার একেবারে ড্রোন থেকে নেমে ড্রেনে পা ফেলেছেন।

৭৫’এর হত্যা যদি অবৈধ হয় এ হত্যাও অবৈধ…

by Watchdog Bd
নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে মানুষ। ভুতুরে কায়দায় হাওয়া হয়ে যাচ্ছে ওরা। নগর, বন্দর, হাট-মাঠ-ঘাট হতে কোন এক অলৌকিক শক্তিবলে উধাও হচ্ছে দু’হাত দু’পা ওয়ালা আদম। ১৯৩৯ হতে ৪৫ সাল পর্যন্ত ইউরোপে অহরহই ঘটতো এ ঘটনা। ১৯৭৩-৭৫ সালে সদ্য জন্ম নেয়া বাংলাদেশও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল নিখোঁজ হওয়ার ভৌতিক অধ্যায়। হিটলারের গেস্টাপো আর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীর রক্ষীবাহিনী নীরবে, নিঃশব্দে, অনেকটা ’ইনভিজিবল ম্যান’ কায়দায় হানা দিত দুয়ারে। এ যেন মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে খোদ আজরাইলের আগমন। এ ধরণের শাহী আগমনের শেষ গন্তব্য কোন বন্দর তা জানতে আমাদের হয়ত কবর হতে উঠিয়ে আনতে হবে ৫০ হতে ৭০ মিলিয়ন ইউরোপীয়, এশিয় আর আফ্রিকান জীবন। বাংলাদেশের বেলায় এর সঠিক পরিসংখ্যান আমরা কোনোদিনই জানতে পারবো না মেরুকরণ নামক রাষ্ট্রীয় কলেরার কারণে। পরিসংখ্যান ব্যুরো কেন, কবরেও আমাদের মেরুকরণের ভুত। এ ভুত যেনতেন ভুত নয়, খোদ আজরাইল নিযুক্ত যান্ত্রিক ভুত, যা দম দেয়া পুতুলের মত খোঁড়াক যোগায় রাষ্ট্রীয় ’তামাশার’… হিটলার ও তার গেস্টাপো বাহিনী এখন ইতিহাস। মানব সভ্যতার এ কলংকিত অধ্যায় সভ্যতা মূল্যায়নের উপকরণ হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সামনেও করে যাবে আরও হাজার বছর। কিন্তু হায়! বিনা বিচারে নাগরিক হত্যা ঠাই নিতে পারেনি আমাদের ইতিহাসে। বরং এ অবৈধ সাংস্কৃতি স্থায়ী আসন করে নিয়েছে শাসন ব্যবস্থার কাঠামোতে। শেখ মুজিব হতে শুরু করে জিয়া, এরশাদ, খালেদা এবং হাসিনা চক্রের কোন চক্রই বেরিয়ে আসতে পারেনি দেশ শাসনের এই আজরায়েলি ভুত হতে। খালেদা জিয়া সরকার RAB নামের যে গেস্টাপো বাহিনীর জন্ম দিয়েছিল হাসিনা সরকারের ছায়াতলে পল্লবিত হয়ে তা পরিণত হয়েছে বিশাল মহীরুহে। ম্যান্ডেট নিয়ে দেশ শাসনের গণতান্ত্রিক রেওয়াজে অলিখিত আইন হয়ে গেছে বিনা বিচারে হত্যা নামের পশুত্ব। এবং তা বৈধতা পাচ্ছে সরকার ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় হতে। ক্রসফায়ার নামক হুমায়ুন আহম্মদিয় নাটক শুরুতে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল শাসন ব্যবস্থার অক্ষমতা ও নাগরিক অধিকার ফিরে পাওয়ার আকুতি হতে। শত শত হত্যাকান্ডের পর কতটা সফল হয়েছে এ আয়োজন? স্বাভাবিক জন্মমৃত্যু সহ একটা সহজ সরল জীবনের কতটা কাছে যেতে পেরেছি আমরা? দুর্নীতি, হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ সহ সমাজের অবক্ষয় গুলো কতটা কমানো গেছে হত্যাকান্ডের মাধ্যমে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এখন ঘরের বাইরে যেতে হয়না, বরং দুয়ারে এসে জানিয়ে দেয় দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নামক রাষ্ট্রীয় অলংকারের শক্তিমত্তা। দুর্নীতিতে উপর্যুপরি চ্যাম্পিয়নশীপ জাতি হিসাবে আমাদের এনে দিয়েছিল বিশ্বখ্যাতি। এ অধ্যায়ের সফলতম সংযোজন হিসাবে কাজ করছে আজকের বিনাবিচারে হত্যাকান্ড। বিশ্ব মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে মানবতাবিবর্জিত বাংলাদেশি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। স্বভাবতই সরকারকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে আর্ন্তজাতিক চাপ। এবং এখানেই হয়ত অন্যের সাথে নিজের পার্থক্য ও বুদ্ধিমত্তা তুলে ধরতে পেরেছেন দেশপ্রেমের ১নং দাবিদার আমাদের প্রধানমন্ত্রী। হয়ত প্রতিপক্ষের সৃষ্টি হত্যাযন্ত্র ভোতা হয়ে আসছিল ডিজিটাল যুগে। তাই আবিস্কার করতে বাধ্য হন এর ডিজিটাল সংস্করণ। রাতের আধারে ক্রসফায়ার নাটক সাজানোর বাংলাদেশি মিথ্যাচার সহজে গেলানো যাচ্ছিল না আর্ন্তজাতিক মহলে। স্বভাবতই হুমকির মুখে পরছিল দেশটার বৈদশিক সম্পর্ক। সমস্যার এমন সহজ ও কার্যকর সমাধানের জন্যে চাইলে হাসিনা সরকারকে নোবেল দেয়া যেতে পারে। আসলেই তো, প্রয়োজন কি রাতের আধারে ক্রসফায়ার নামক মঞ্চনাটকের! বরং ’শক্তিধর’ শত্রুকে ভুত বানিয়ে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা অথবা দেশটার হাওর-বাওর, বিলে ফেলে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়! কেউ জানবে না কে হত্যা করেছে, কেন করেছে, এবং এ নিয়ে জবাবদিহিতারও প্রয়োজন হবেনা আর্ন্তজাতিক মহলে। আইন-আদালত সহ দেশিয় বিচার ব্যবস্থার প্রায় সবটাই তুলে দেয়া হয়েছে দলীয় কর্মীদের হাতে। দলীয় ক্যাডার হতে সদ্য প্রমোশন পাওয়া আদালতের বিচারকগণও টগবগ করছেন সরকার প্রধানের প্রতিদান ফিরিয়ে দিতে। আইনী ঝামেলার দেশীয় ফ্রন্ট সরকারের জন্য ঝামেলামুক্ত।

6a00e0097e4e6888330120a67ddcd2970c-500wi

রাষ্ট্র ও সমাজের শক্র হিসাবে জুয়েল, মিজান, রাজিব ও ইসমাইলদের কতটা কুপ্রভাব ছিল যা দুর করতে তাদের লাশ ডোবা নালায় পুত্‌তে হল? স্থানীয় এসব পেটি-দুষ্কৃতিকারীদের জন্ম ও উত্থানের পেছনে কাদের হাত থাকে নাগরিক হিসাবে আমাদের সবার জানা। বিচার দুরে থাক এ নিয়ে কথা বলাও রাষ্ট্রীয় অপরাধ। এবং এ অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে এক পায়ে দাড়িয়ে থাকে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা। একজন আবুল মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয় নয়, বরং সমসাময়িক বিশ্বের অর্থনৈতিক মোড়ল খোদ বিশ্বব্যাংকের। তাদের অভিযোগ, মন্ত্রীর ক্ষমতাবলে এই বাংলাদেশি বিশ্বব্যাংকের মত আর্ন্তজাতিক সংস্থায় ক্যাডার পাঠিয়েছিল অবৈধ লেনাদেনার তাগাদা দিতে। ক্ষমতা না থাকায় চাইলেও তারা পারেনি আবুল হোসেনকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে। কিন্তু তারা যা করেছে তা ১৫ কোটি মানুষের পেটে লাথি মারার শামিল। অথচ বিচারের দায়িত্বটা ছিল সরকারের। একই সরকার যারা শাস্তির নামে জুয়েল, ইসমাইলদের বিনাবিচারে জীবন্ত কবর দেয়, পাশাপাশি পুরস্কৃত করে আবুল মন্ত্রীর মত মেগা লুটেরাদের। রাজনীতির অন্দরমহলে কথাটা নিয়ে ফিসফাস চলে, অনেক সময় হাসি-ঠাট্টা পর্যন্ত গড়ায়। বলা হয়, আবুল মন্ত্রী নগদ ৬০ কোটি টাকায় মন্ত্রিত্ব ক্রয় করে নিয়েছেন । তাই বিচার দুরে থাক, মন্ত্রীসভা হতে বিদায়ের রাস্তাও নাকি তার জন্যে ছিল বন্ধ। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের বিশাল এক প্রকল্প এই আবুল হোসেনের জন্যে থমকে গেছে। অথচ সরকার প্রধান আসামীর কাঠগড়ায় দাড় করাচ্ছেন বিশ্বব্যাংকের মত আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানকে। সংসদ ভবনের রাজকীয় আসনে বসে দেশের আইন-আদালত আর ন্যায় অন্যায় নিয়ে যারা কথা বলেন তাদের শতকরা ৯৯ জনের ব্যাকগ্রাউন্ড ঘাঁটলে কি বেরিয়ে আসবে তা অনুমান করার জন্যে মনোবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। এসব আউলিয়াদের কাহিনী কি একজন জুয়েল অথবা ইসমাইলের চাইতেও ভয়াবহ নয়?

প্রধানমন্ত্রী হয়ত ভুলে গেছেন অথবা জেনেও না জানার ভান করেন, ১৯৭৫ সালে উনার পিতাকে হত্যা করার প্রেক্ষাপটও কিন্তু তৈরী করা হয়েছিল অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে। এসব অভিযোগ আদালতে উঠানোর সুযোগ না দিয়ে রাতের আধারে তাকে হত্যা করা হয়েছিল কাপুরুষের মত। প্রধানমন্ত্রী নিজেও কি একই কাজ করছেন না? RAB দিয়ে গুম করিয়ে গোপনে যাদের হত্যা করছেন তারাও কি কারো পিতা, সন্তান অথবা ভাই নন? পার্থক্যটা কোথায়? জাতির পিতার সন্তানদের শোক কি তাহলে বাকি শোকের চাইতে ভিন্ন? জানতে চাইলে জিজ্ঞেস করে দেখতে হবে মিজান অথবা রাজীব পরিবারের কাউকে। ৭১’এর আত্মস্বীকৃত খুনি আর ধর্ষকদের বিচারের জন্যে আয়োজন করা হয়েছে কোটি টাকার আদালত। অথচ ক্রসফায়ার নাটকে কাউকে বলি করতে চাইলে তা হওয়া উচিৎ ছিল গোলাম আযম, নিজামী, আমিনী আর সাকা চৌধুরীর দল। একজন ইসমাইলের অপরাধ কি তাহলে নিজামীর অপরাধের চাইতে বেশি?

মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্যতম অধিকার তার স্বাভাবিক জন্ম-মৃত্যুর নিশ্চয়তা। ব্যর্থ রাজনীতি আর অপশাসন-কুশাসনের কুটজালে আটকে মানুষ আজ নাম লেখাতে বাধ্য হচ্ছে অন্যায় আর অবৈধ পথে বেচে থাকার মিছিলে। এ মিছিলের হোতা আর নেত্রীত্বে যারা আছে তাদের গায়ে হাত না দিয়ে যদু, মধু, রাম, শ্যামদের মতো বাই-স্ট্যান্ডার্ডদের গায়ে হাত দিয়ে আর যাই হোক সুশাসন কায়েম যে সম্ভব নয় তা অনুধাবন করার সময় এসেছে। ১৯৭৫ সালে যেমন সম্ভব হয়নি ২০১১ সালেও তা সম্ভব হবেনা।

চেতনাৎসী ড্রোন এবং তুষারের আদর্শিক পদস্খলন প্রসঙ্গেঃ

1

by Aman Abduhu

ফ্যাসিজমের বড় একটা সুবিধা হলো, এখানে বৃহত্তর ডিসকোর্সের স্রোতে গা ভাসিয়ে আরামের সাথে ভেসে যাওয়া যায়। এবং ফ্যাসিজমের বড় একটা বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে ঐ স্রোতে গা ভাসানো বাধ্যতামূলক।

back-Drone_photo0497

 
মজার বিষয় হলো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে আগে ফ্যাসিষ্ট শব্দটা গর্ববোধক ছিলো, তাদের কাছে ইতিবাচক অর্থবোধক ছিলো। আদর্শের পরিচয়বোধক ছিলো। ইটালীতে মুসোলিনির পার্টি সদস্য ওঅনুসারীরা বুক ফুলিয়ে স্লোগান দিতো “লিবরো আ ম্যাসেটো/ ফ্যাসিষ্টা পারফেটো”, অর্থ্যাৎ “বই এবং রাইফেল/ একজন যথার্থ ফ্যাসিষ্ট”।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাজয় এবং সারা পৃথিবীজুড়ে ইন্ড্রাষ্টিয়ালাইজেশনের সাথে সাথে ইনডিভিজুয়ালিষ্টিক চিন্তাভাবনার উত্থানে এখন ফ্যাসিজম শব্দটা একটা গালি হয়ে গেছে। বিষয়টা অনেকটা বাংলাদেশে “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা” ও “শাহবাগি” শব্দদ্বয়ের মতো।

ফ্যাসিজম নিন্দিত, কিন্তু ফ্যাসিজমের জয়জয়কার এখনো পৃথিবীর অনেক দেশে। বাংলাদেশ তার ইতিহাসে ফ্যাসিজমের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে এখন। আদর্শ যখন বলবে লাল সবুজ পতাকা পড়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে, এবং তা না করলে তখন আপনে দেশদ্রোহী। চেতনার ইয়াবাখোর কমান্ডাররা যদি বলে জয় বাংলা স্লোগান না দিলে মুক্তিযোদ্ধা না, তাহলে জীবনের মায়া বাদ দিয়ে পরিবার পরিজন ফেলে পাকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ করা লোকটা হয়ে যায় রাজাকার।

ব্যাক্তিগতভাবে ফ্যাসিজম নিয়ে আমি ফ্যাসিনেটেড। মানুষের সাম্প্রতিক ইতিহাসে মানুষ কিভাবে মানুষের মৌলিক একটা বৈশিষ্ট্য- স্বাধীন মত প্রকাশের আজন্ম বেদনাময় চিৎকার ও আকাংখা- কে বারবার দমাতে চেয়েছে এসব পড়তে গিয়ে বারবার আশ্চর্য হই। এখন অবশ্য আর পড়তে হয়না, চোখের সামনে দেখছি সবসময়। যখন পড়তাম, তখন একটা বিষয় আমাকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছিলো।

ফ্যাসিজমের ভেতর থেকেই কোন না কোন সময় দ্বিমতের জন্মচিৎকার শুরু হয়। সে চিৎকারের মুখে লবণ দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টাও চিরন্তন। আপনি জামায়াত করেন, মধু মাখিয়ে যান কোন অসুবিধা নাই। যখন দ্বিমত করবেন তখন দেখবেন দ্বিনি ভাই চমৎকার। যশোরের দলত্যাগী এমপি শাখাওয়াতের ছেলে যখন প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেলো তখন জামায়াতের লোকজন বলতে শুরু করলো, এইটা আল্লাহ প্রদত্ত শাস্তি!! এতোটাই ব্যাক্তিগত প্রতিহিংসার জন্ম দেয় ফ্যাসিজম।

ট্রটস্কি ছিলো রাশিয়াতে পার্টির অনেক উপরের পর্যায়ের লোক। রেড আর্মির কমান্ডার, যুদ্ধমন্ত্রী। ষ্টালিনের সাথে যখন তার নীতিগত মতপার্থক্য হলো, দেখা গেলো দ্বিনী ভাই চমৎকার।

নাৎসী নেতা এবং গণহত্যার হোতা হিমলার ছিলো হিটলারের ডানহাত, শেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে যখন সে এলাইড ফোর্সের সাথে ডিলিংস প্রসঙ্গে হিটলারের সাথে দ্বিমত করলো, জারি হয়ে গেলো গ্রেফতার করে হত্যার নির্দেশ। সারাজীবন ধরে নাৎসি আদর্শের খেদমত তুচ্ছ হয়ে গেলো।

এসবকিছু কারণ ঐ একটাই, ফ্যাসিজম কখনো দ্বিমত সহ্য করেনা। স্রোতের সাথে ভাসতে হয়, স্রোতের সাথেই ডুবতে হয়। জীবনে মরণে আমি তোমার তুমি আমার।

সুতরাং চেতনাগুরু বিশিষ্ট কল্পগল্প নকলবাজ আইজাক জাফরের চোরামি ধরিয়ে দিলে এই বাংলাদেশে হতে হয় স্বাধীনতার শত্রু। আর ততদূর না গিয়েও, ড্রোন প্রসঙ্গে তার দাবীর সাথে দ্বিমত করে যুক্তিতর্ক খুঁজলেই দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নোংরা আক্রমণের টার্গেট হয়ে যেতে হয়।

তরুণ প্রজন্মকে একাত্তরের চেতনাৎসী আদর্শে দীক্ষিত করার আগে বিষয়টা ভাবা দরকার ছিলো, এখন ভেবে লাভ নাই। চেতনাগুরুরা যদি আদেশ জারি করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য আপনার বউকে উলঙ্গ হয়ে একহাতে মোম্বাত্তি আরেকহাতে লালসবুজ বেলুন নিয়ে ফার্মগেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রোড মার্চ করতে হবে, তাহলে তাই করতে হবে তুষার। আপনি এখানে যুক্তি ব্যাখ্যা খুঁজতে গেসেন? স্বাধীনতার শত্রু!! চেতনাশত্রুর জাটকা/ ফিলটারে খাইসে আটকা!

এইটা ফ্যাসিজমের চিরকালীন ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য। সুতরাং জেনেবুঝে আগুনে লাফ দেবেননা। জাফর ইকবাল ষাড়কে ড্রোনের আবিস্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ধন্য ধন্য রবে মেতে উঠুন; স্বাধনিতার চেতনা বাস্তবায়ন করুন। উনি যদি ভবিষ্যতে দাবী করেন উনি চেতনার বলে বলীয়ান হয়ে নতুন ধরণের স্মার্ট ফোন আবিস্কার করছেন, যেখানে রিংটোন হিসেবে জয়বাংলা স্লোগান দেয়, তাহলে তাকে স্মার্টফোনের আবিস্কারক হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়ে ধন্য ধন্য রবে ফেটে পড়ুন। স্রোতে গা ভাসিয়ে দিন। নিরাপদে থাকুন।

জয় বাংলা।

The dark anarchy rises … Bakshal returns with its hallmark anarchy …

police 1

The abuse of the judiciary and law enforcement agencies have been persistent, since the birth of Bangladesh, very true. Almost all regimes have abused their power in persecuting the opponents in varying degrees (And I guess this practice isn’t endemic to Bangladesh only, many countries with similar socio-political stature face the same phenomena)

However, some interesting and noteworthy aberrations during the past (and present thanks to a farcical election) government’s regime include the arrest and continued incarceration of high profile opposition leaders. At least 25 leaders of the topmost leadership of the opposition party is currently in jail. Starting from the secretary general to the common ward committee members of the main opposition parties have been constantly being subjected to police harassment and sentences. Cases against them include farces like burning of garbage trucks, stealing trivial things from anonymous people etc. Despite the High court rulings that set very strict standards for obtaining remand, police and the lower judiciary are seen abusing those standards and are granted remands. More and more opposition leaders are denied bails. For unknown reasons, eminent people are being kept in prison without granting bails. The list includes newspaper editors, human rights activists, online activists and people from the academia as well.

04_Khaleda%20Zia's%20House_291213

Many opposition leaders are getting arrested just as they voice their demand in public, being shown arrested in previous cases, which are in most cases of absolutely no merit . As a result an atmosphere of fear has been created, an all out police state is being implemented. Many leaders are afraid of coming out in public. Let alone the grass roots level activists who are seldom spending the nights at their own places. And not only that, police are arresting other family members of the leaders family too, including female members. The houses are being ransacked, in some cases bulldozed. There are also reports of the combined forces looting valuables from the households form the opposition activists. In some cases mass arrests are leading upto bribes, and people are being freed based on the amount of bribe being given to police. The already overcapacity prisons are getting are even more crowded by thsese wholesale arrests. There was an instance of arresting 200 topmost leaders of the opposition en mass from their party office, over a case of cocktails been found in their party office premises.

All this harsh treatment meted out to the opposition has an even more harsher underlying subtext . It is true that the prisons have been over capacity for years. But, how are these new prisoners being accommodated ? There lies the more shocking tale. Many convicts are let go by the government. The list includes top terror crime bosses, sentenced ruling party thugs, known drug peddlers, known petty criminals. Some of these criminals are let go on the promise of staying in the field alongside ruling party activists to thwart any political movement of the opposition. Many newspaper reports an increase in the supply of guns in the recent months. Before every other election, their was a strong drive to recover illegal weapons by the previous election time caretaker governments. This time the political government totally shied away from that drive. And a servile Election Commission didn’t push for it either. They even published a farcical decree to not even submit the weapons, insisting only not to carry it !!.

So, spreading the blame equally across the board seems to do injustice to the prominent role this quasi fascist regime, elected through pseudo-elections, is playing in completely decimating the rule of law. The abuse of power to persecute opposition coupled with a flagrant disregard for the rule of law under the current regime is simply shocking and is plainly reminding of the anarchy of the mid seventies.

একজন আকরাম খান, ক্রিকেট এবং আমাদের নব্য রাজাকারি

 বিসিসিবি যখন ভারতীয় আনুগত্য স্বীকার করে বাংলাদেশের ক্রিকেট কে ধ্বংস করার প্রস্তাব নিল, সেই প্রস্তাবে যেই সব  ডিরেক্টর সমর্থন জানাইছে তাদের মধ্যে আকরাম খান এর নাম দেখে অনেকেই অবাক হইছে।সুইট, কাডলি, পছন্দনীয় ব্যক্তিত্ব আকরাম খান যার হাত ধরে আইসিসি  সহযোগী দেশ থেকে ওয়ার্ল্ড কাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো এবং সেই পথ ধরে টেস্ট স্ট্যাটাস পেলো –সেই আকরাম খান বাকি ২০ জন ডাইরেক্টর এর সাথে দেশের পেটে ছুরি মারবে সেইটা অবিশ্বাস্য লাগছে অনেকের কাছে।

download (6)

আমার  শহরের প্রোডিগাল সান হিসেবে আকরাম ভাই এর আকরাম খান হয়ে ওঠা নিজের চোখে দেখেছি।

উনার মত এত মিষ্টি-ভাসি এবং এত  চমৎকার মানুষ হয় না। শুধু উনি না, উনার পুরো ফ্যামিলিটারই ব্যবহার, চলন, বলন অনুসরণ করার মত । মৃদু ভাষী, খেলা ধুলার ব্যাপারে অসম্ভব প্যাশনেট  এই এই পরিবার থেকে বাংলাদেশের সেরা সেরা  প্রতিভা উঠে আসছে এবং দেশ এই পুরো পরিবারটার কাছ থেকে অনেক পেয়েছে । এবং খেলা পাগল এই মানুষটা দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দেয়ার একটা প্রস্তাবে বিনা বাধায় সম্মতি দিছে সেইটা মানতে উনাকে যারা চিনে তাদের অনেকেরই অবিশ্বাস্য লাগবে।

তার প্রজন্মের অনেকের মতই আকরাম খান  উঠে এসেছে চিটাগাং এর স্টার যুব ক্রিকেট থেকে।

এক সময় জাতীয় দলে ১১ জনের মধ্যে ৭ জন ছিল চিটাগাং এর। সেইটা বলতে গেলে স্টার যুব ক্রিকেটের অবদান।

আমাদের যখন কৈশোর তখন শীত আসলে হই হই রই রই পরে যেত। তখন ক্রিকেট খেলা হত শীত কালে। এবং এই টুর্নামেন্টের এক একটা খেলায় কি পরিমাণ প্যাশন থাকত সেইটা বলে কেও বোঝাতে পারবেনা। তখন অনেক গুলো লেয়ারে খেলা হতো।

স্কুল পর্যায়ে নির্মাণ স্কুল, নবীনদের জন্যে স্টার যুব, তারপর ফার্স্ট ডিভিশন। ফার্স্ট ডিভিশনের  বেশির ভাগ দলের একটা জুনিয়র টিম থাকত যারা স্টার যুবতে খেলত। এবং স্টার যুবতে ভালো খেললে সিনিয়ার টিমের সাথে প্রাকটিসে এর সুযোগ। এবং সেইখানে পারফর্ম করতে পারলে ফার্স্ট ডিভিশন।

একদম অতিরিক্ত ন্যাকা গুডিবয়  স্বভাবের ছেলেরা বাদে মধ্যবিত্ত পরিবার প্রতিটা ছেলে তখন বিকেলে খেলতে বেরোত।

নাম বেটে বা  ইট দিয়ে  নাম্বার লিখে  ব্যাট দিয়ে ঢেকে লটারি করে। কেও যদি ভালো খেলতো তো সে চাইলে স্টার যুব টিমের নেটের পাশে  গিয়ে রিকুয়েস্ট টিকুয়েস্ট করে, একটু বোলিং বা ব্যাটিং করার সুযোগ পেত।   এবং ভালো দেখলেই কোচেরা তাকে সুযোগ দিত।  তারপর আরো ভালো খেললে ফার্স্ট টীমে সুযোগ। এবং এইটা ছিল বিশাল কুল ব্যাপার।

আমার কৈশোরের  বড় একটা সময় গ্যাছে, স্টার যুবতে পাড়ার দলে চান্স পাওয়ার আশায় বাসার সামনের মাঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাত ঘুরিয়ে লেগ ব্রেক আর গুগলি প্রাকটিস করতে গিয়ে। কিন্তু গুগলিটারে  কখনোই কন্ট্রোল করতে পারি নাই। ফলে আমার শিকে ছিড়ে নি। কিন্তু বড় ভাইরা সবাই স্টার যুবতে খেলেছিল। আমি ন্যাচারাল স্পোর্টস-ম্যান না। আর  ভাল না খেললে চান্স পাওয়া অসম্ভব ছিল।

কিন্তু, আবেগের অভাব ছিলনা।  স্কুল শেষে ভাত খেয়েই বিছানায়, লেপ এর মধ্যে লম্বা বালিশ ঢুকিয়ে একটা মানুষের অবয়ব সৃষ্টি করে পেছনের দরজা দিয়ে আউটার স্টেডিয়ামে দৌড়। কি সব দারুন খেলা হত ? এনভায়রনমেন্টটা ছিল নেশার মত। দুইটাকার সি বিখ্যাত ওভালটিন আইসক্রিম  যেটায়  একটা কিসমিস থাকতো। আর আব্বাসের বিখ্যাত  গালি ? হায়রে কি সব স্মৃতি। “কোক খাই নাইম্মোস  না ?”  । ফ্রেন্ডস ক্লাবের সাথে মোহামাডান ব্লুজের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব।

আকরাম খান  সেই ভাবেই উঠে আসে। উনি চিটাগাং এর প্রোডিগাল সান ।

উনি নামলে ছক্কা নিশ্চিত।  “আকরাম!! বাংলা হোটেল পঞ্চাশ “ ।  মানে ছক্কা যদি বাংলা হোটেলে গিয়ে লাগে, তাইলে ৫০ টাকা। আউটার স্টেডিয়াম প্রস্থে ছোট। উনি খুব কমই মিস করেছেন। উনাকে দেখতাম সারা দিন টুকটুক করে একটা রশিতে বল ঝুলিয়ে নক করত, বারান্দায়। চিটাগাং  এর ভাল প্লেয়ারদের ঢাকায় নিয়ে যেত রেলওয়ে টিমে খেলার জন্যে । পেপারে দেখতাম রেলওয়ে টিম কেমন করছে, আকরাম ভাই কত রান করেছে।  উনি এই শহরবাসীকে নিরাশ করেন নি। উনি আকরাম খান  হয়েছেন। আইসিসি ট্রফি জিতে বাংলাদেশকে ওয়ার্ল্ড কাপে এনেছেন।

সেই স্টার যুব ক্রিকেট বন্ধ হয়ে গেল কেন জানিনা।

শুনেছিলাম, আজগর ফ্যামিলির, ইস্পাহানী, আর আবেদিন ফ্যামিলির গ্যাঞ্জামে  – আমি এত ডিটেল জানিনা। শুধু জানি হটাত  বন্ধ হয়ে গেল। তারপর দেখলাম, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুরু  হলো। ডিসেম্বর এর ১ তারিখ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত বাঁশ দিয়ে খুড়ে বারোয়ারী মেলা। মাঠ নষ্ট করে দিল, পিচ নষ্ট করে দিল, অসংখ্য মানুষের পদতলে আউটার স্টেডিয়াম এর চমৎকার সবুজ ঘাস নষ্ট হয়ে গেল – চট্টগ্রাম এর অসাধারণ সুন্দর ক্রিকেট কালচার নষ্ট হয়ে গেল, কিশোর আর তরুণদের খেলা বন্ধ হয়ে গেল, পরিচিত অনেকেই ফেন্সি আর গাঞ্জায় ঢুকে গেল। আউটার  স্টেডিয়ামকে আর ভাঙ্গা   হোল ইনার সটেডিয়ামকে দুই তলা করার জন্যে। অদ্ভুত সিদ্ধান্ত। শুধু বছরে এক কি দুইবার ইন্টারনাশ্নাল  খেলায় একটু বেশি দর্শকের জন্যে, শহরের তরুনদের খেলার মাঠ ধ্বংস করা হোল। বিশাল বিশাল ফ্লাড  লাইট দিয়ে মাঠের বসার জায়গা নষ্ট করা হোল। চট্টগ্রাম এর ক্রিকেট থেকে   সত্যিকার এর প্রতিভা আসা বন্ধ হয়ে গেল। অথচ  এই চট্টগ্রাম এক সময় জাতীয়  দলে এক সাথে ৭ জন ক্রিকেটার ফার্স্ট টিমে খেলতো।

2012-05-08__sp04

আমি বিশ্বাস করি, শুধু  মাত্র স্টার যুব ক্রিকেট যদি ঠিক মত চালু থাকত বাংলাদেশের ক্রিকেট  এখন  ভারত পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ার লেভেলে থাকতো।

কিন্তু, সেই ক্রিকেট এখন চেঞ্জ হয়ে গ্যেছে। এখন পুরো দেশের ক্রিকেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার জাতীয় দলের ১১ জন খেলোয়াড় তৈরী করার জন্যে ডিজাইন করা। এইটা আমার অদ্ভুত লাগে।

কারণ আমি সব সময় মনে করছি, একটা স্পোর্টস হচ্ছে পাবলিক আর পোলাপানের খেলার জিনিস। মাস  পিপল  স্পোর্টসে পার্টিসিপেট করবে,সেই খান থেকে ফিজিক্যাল ফিটনেস হবে, কম্পিটিটিভনেস শিখবে, হারতে শিখবে। এবং সেই মাস পার্টিসিপেশানে যারা ভালো করবে তারা  কম্পিটিটিভ লিগ খেলবে। এবং লেয়ারে লেয়ারে এগিয়ে এক সময় দেশের প্রধান  লিগে সারা দেশের সব চেয়ে প্রতিভাবানরা খেলবে। এবং তাদের মধ্যে সেরা ১১ জন ন্যাশনাল টীমে   খেলবে।

এইটা একটা বটম আপ ইস্যু। টপ ডাউন না।

এবং এই জন্যে আবার ক্রিকেটকে  অনেকে সমালোচনা করত এই বলে,  এই খেলায় যেহেতু ব্যাট প্যাড এত কিছু লাগে, তাই

এইটা কখনই দেশের প্রধান খেলা হইতে পারবেনা। শুধু মিডল ক্লাস বা আপার মিডল ক্লাস এর খেলা হবে। কারণ, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের সেই সামর্থ্য নাই।

সারা পৃথিবীতে সব স্পোর্টস এর মোজেজা এই। আমাদের দেশেও  এই রকম ছিল । আসল ইস্যু হইলো, দেশের ম্যাক্সিমাম মানুষের পার্টিসিপেশান । জাতীয় দলের জন্যে খেলা না, খেলার জন্যে জাতীয় দল।

কিন্তু এখন বিসিসিবি আর তার ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট এমন  ভাবে সাজানো হইছে তাতে এখন আছে কিছু ট্রেনিং ইন্সটিটিউশন আর ক্লাব।  সেই খানে বড় লোকের পোলা পাইন মাঞ্জা মেরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পার্ট দেখাইতে দেখাইতে গিয়ে নেট প্রাকটিস করবে, এবং সেই প্রাকটিসে করে তারা এক সময় বিসিসিবির এলিট প্রোগ্রাম, এই প্রোগ্রাম সেই প্রোগামে আরো প্রাকটিসে করে জাতীয় দলে যাবে। কিন্তু দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর খেলার দরকার নাই।

আমি ঢাকায় বিকেলে ঘুরতে গিয়ে শুধু আনমনেই  খুঁজি  খোলা মাঠ। কেও  ক্রিকেট খেলছে কিনা । কেও বোলিং করতে দেখলে, একটু থমকে দেখি বলটা কেমন করলো। তার ডেলিভারি টা কেমন, ব্যাটসম্যান এর স্টান্স টা কেমন। প্রায়ই হতাশ হই, দেখি টোক্কা বোলিং করতে। এবং কষ্ট লাগে যখন দেখি,  সারা শহরে হাতে গোনা কিছু জায়গা ছাড়া – তেমন কেও খেলছে। সারা শহরে ১ হাজার ছেলেও বোধ হয় খেলার  সুযোগ পায় না।    অথচ এই শহরে ১ কোটি মানুষ। দুঃখ তার  মধ্যে ১ হাজার কিশোর ক্রিকেট খেলার মাঠ পায় না। তাহলে কিসের জন্যে জাতীয় দল ? আর সেই জাতীয় দল কেমনে  ভালো খেলবে ? মানুষ যদি খেলার সুযোগ না পায় তো জাতীয়  দল দিয়ে কি হবে ?  সেই দল ভালো খেলবে কেমনে ? নেট প্রাকটিসে করে করে ? ফুহ। খেলা শুরু করতে হয় , নাম বেটে। ইট দিয়ে, দাগ দিয়ে। হারতে শিখে, জিততে শিখে, বাপের টাকায় ট্রেনিং একাডেমীর পিচে নেট প্রাকটিস করে কখনোই খেলা শিখা  যায় না- টেকনিক শিখা যায়। খেলা আর টেকনিক একই জিনিস না।

এইটা আমরা মেনে নিছি। ক্রিকেট এখন হয়ে গ্যাছে, বিসিসিবি সিজেকেপি এবং অন্যান্য সংস্থা গুলোর টাকা বানানোর মেশিন।

বিভিন্ন জেলার ধান্দাবাজ টপ রাজনীতিবিদেরা এখন সেই জেলা ক্রীড়া সংস্থার  চেয়ারম্যান। তারা চিন্তা করে, স্টেডিয়াম এর মাঠে কেমনে একটা মার্কেট করা যায়। কেমনে খোলা মাঠের পাসে দুইটা চেয়ার বসায় দিয়ে চটপটি-ওয়ালাদেরকে দিয়ে ধান্দা করা যায়। বিসিসিবি এখন আইসিসি থেকে টাকা পায়, বিভিন্ন টুর্নামেন্ট করলে, স্পন্সর এবং টিকেট বেচা থেকে টাকা পায়। এবং বিভিন্ন ভাবে বিশাল টাকা  কামানোর মামলা আজকে  বিসিসিবি।  সেই মেশিন চালু রাখতে তাদের জাতীয় দল লাগে।

আজকে বিসিসিবির চেয়ারম্যান যখন সরকারী পলিসি হিসেবে ভারতের দাস থাকার ধারাবাহিকতায় দেশের ক্রিকেটের পেটে ছুরি মারার সিধান্ত নিল তখন আকরাম খানের প্রতিবাদ করতে পারেনা। কারণ, এইযে আকরাম খান – উনি যে ওই খানকার ডাইরেক্টর উনি এই টাকা বানানোর মেশিনের একটা পার্ট।

এই বিসিসিবি ভিত্তিক যে টাকা কামানোর ধান্দা এইটা অনেক বড় ধান্দা। এবং বিসিসিবির সব ডাইরেক্টর এবং আকরাম খানের সেই ভিত্তিক অনেক স্টেক আছে। আমি বলছিনা দুর্নীতি। কিন্তু হয়ত দেখেন, উনার যে ব্যবসা আছে সেইটা তে উনার এর ওর হেল্প লাগে। বাংলাদেশের আজকে কানেকশনের দেশ। আকরাম খান যে বিসিসিবির একজন ডাইরেক্টর সেইটার ভিত্তিতে উনার আজকে এদিক ওদিকে  প্রবলেমে পড়লে মুস্কিল আসান সহজ হয়ে যায়। বা ব্যবসা বাণিজ্যে সুবিধা হয়। প্রধান মন্ত্রীর সাথেও প্রয়োজনে কথা বলা যাবে।

সুইট কাডলি আকরাম খান এখনো সুইট কাডলি আছে। কিন্তু উনি এই নষ্ট যন্ত্রের একটা খুঁটিতে পরিনত হইছেন ।

একজন বিসিসিবির ডিরেক্টর হিসেবে উনার যে ইনফ্লুয়েন্স সেইটা ব্যবহার করে উনার চলতে হয়। বাকি অনেকের মতই। তাই এই পজিশন উনি ছাড়তে পারবেনা।

আমি নিশ্চিত কেউ যদি এই বিষয়ে যদি কেউ উনার সাথে কথা বলেন, আমি নিশ্চিত উনি বলবেন  – দেখো  আমার হাত পা বাধা । আমাদেরকে প্রেশার দিছে। বোর্ড চেয়ারম্যান এর সাথে লাগতে যাবে কে ? আপনিও চিন্তা করে দেখবেন। আসলেই তো কি আর করা ? ভারতের দালাল আওয়ামী লিগ সব দখল করে নিয়ে যাচ্ছে। চেয়ারম্যান যা বলে সেইটা না শুনে কি  টিকতে পারবে কেউ ?আসলেই কিছু করার নাই।

কিন্তু একজেকটলি এই খানেই আসে একজন বিশ্বাস ঘাতকের সাথে দেশ প্রেমিকের পার্থক্য।

আমি বোর্ড এর ইনার মেকানিজম জানিনা। কিন্তু, এইটা জানি। তিনটা মানুষ কিন্তু ছাড় দেয় নাই। প্রতিবাদ করছে। প্রেশার অবশ্যই ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই তিনটা ডিরেক্টর কিন্তু সেই প্রেশার উপেক্ষা করছে। বাকি ২০ জন ডিরেক্টর এবং আকরাম খান প্রতিবাদ করতে পারে নাই। দালাল হইছে। যে সন্তানকে উনারা জন্ম দিছেন, নিজের ব্যক্তি স্বার্থ এবং সুবিধাবাদের কারণে সেই সন্তানের পেটে চুরি মারতে উনারা দ্বিধা করেন নাই। যেই তিন জন ডিরেক্টর বোর্ড চেয়ারম্যান এর ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাড়াইছে আমি তাদেরকে চিনিনা। তারা হইল এই দেশের ট্রু হিরো। আমি নিশ্চিত তারাও বিসিসিবি  কেন্দ্রিক ধান্দাবাজি করে। কিন্তু দেশের স্বার্থ যখন বিঘ্নিত হইছে তখন তারা প্রতিবাদ করছে, নিজের ধান্দার দিকে তাকায় নাই।

শুধু আকরাম খান বা বাকি ২২ জন ডাইরেক্টর নয় দেশ মাতা না ব্যক্তি স্বার্থ এই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি আপনি আমি সবাই নিয়ত মুখোমুখি হই। এবং এই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে  কে সুবিধাবাদের পথ ধরি এবং কে দেশের পক্ষ নেই, তাতেই  নিয়ত নির্ধারিত হয় কে ২০১৪ সালে এসে কে  নব্য রাজাকার কে নব্য মুক্তিযোদ্ধা।

দুঃখ জনক ভাবে আমাদের দেশে এখনো প্রতি ২৩টা মানুষের মধ্যে ২০ টা মানুষ দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

এবং আমরা সবাই মিলে  এই ছোট একশন গুলোতে সম্মিলিত ভাবে দেশকে বাঁশ দেই । কিন্তু মুখে আমাদের পিরিতির অভাব থাকেনা। আমরা সবাই, নিজের জায়গা থেকে এই সব যুক্তি দেই। আমাদের তো অসুবিধা আছে, আমার তো পরিবার আছে, আমি যদি ছাড় না দেই তাইলে ক্ষতি হয়ে যাবে এই সব বলে – দেশের পেছন দিয়ে যখন আমরা ঢুকায় দেই তখন যেই ভাঙ্গা দেশটা দাড়ায় সেই দেশটাই হয় বাংলাদেশ।

Flying with broken wings

Jyoti Rahman

Pakistani voters queue outside a polling

A magical realist masterpiece, Salman Rushdie’s Midnight’s Children has weird and improbable events and people juxtaposed against the history of the 20th century South Asia up to the late 1970s. One such improbable fact was that at the time of writing, and thus the story’s culmination, military rulers of the erstwhile two wings of Pakistan had the same first name.

This is not the only parallel between the political history of Bangladesh and post-1971 Pakistan.

Both successor states of United Pakistan started with larger-than-life charismatic leaders, whose rules ended in tragic denouement inconceivable in 1972.  Both giants found governance to be much harder than populist rhetoric, both resorted to un-democracy, and both ended up meeting cruel ends at the hand of their trusted guards.  Both countries succumbed to dictatorships in the 1980s, although the extent and mechanism varied.  In both countries democratic opposition developed.  In both countries, some form of democratic politics came into practice by the 1990s.

But democracy has failed to take root in either, with military interventions or threats thereof, remaining a constant feature.  In both countries, electoral democracy has meant two mutually antagonistic parties/coalitions who differ little on policy, but much on personality and the thirst for power over patronage and privilege.  Both countries have experienced increasing religious extremism. More recently, in both countries, judiciary and media are experimenting with new found powers, not always to the best effect.

Throw in the political economy of NGO-led development in Bangladesh, or the misfortune of being next to a theatre of the Great Game for Pakistan, and it’s easier to see why democracy may have had such a hard time in these countries. Indeed, with increasing NGO activities in Pakistan and the Great Game coming to Myanmar — a theatre closer to Bangladesh — both countries have much to learn from each other’s misfortunes.

2014-01-05T144958Z_01_DHA056_RTRIDSP_3_BANGLADESH-ELECTION-8825

Of course, in Bangladesh, the discourse around Pakistan is so full of vitriolic jingoism that any suggestion of learning something from the Pakistani experience is likely to be met with scorn.  But even outside Bangladesh, there is not much by way of comparative studies of Bangladesh and Pakistan.

William B Milam’s Bangladesh and Pakistan: flirting with failure in South Asia is a rare exception.  This slender —276 pages including reference and index —volume begins with a brief history of the erstwhile united Pakistan, and then tracks the military-civilian back-and-forth in the two countries up to 2008.  The author, a former American Ambassador to both countries, can bring unique perspective to the subject matter.  And the book’s conclusion —the tipping points between real democracy and more of the same in Bangladesh and Pakistan are yet to be reached—is something one can hardly quibble with.

One does not read a retired career diplomat for facts and figures.  And this book is not full of facts and figures.  However, one might expect a lot of interesting anecdotes from someone who served in Bangladesh as the Ershad regime ended and in Pakistan when the Musharraf regime started.  Sadly, Milam does not give us such tidbits.

Instead, he opens up a range of questions that could be, ought to be, explored in depth.  Truth be told, it’s a tad disappointing that Milam does not push any of these issues further.  But then again, at least Milam has written a book.  Surely there are others who can add to the literature.

What are these questions?  One is about the role of India in the two country’s politics.  Another is Islam.  I am going to skirt over these two, not because they are unimportant, but because these are fairly well trodden grounds.

Instead, let me pick up the issue of military involvement, and withdrawal, from politics in the two countries.

From the vantage point of December 1971, one might have expected some form of military involvement in Bangladeshi politics.  The nucleus of the Bangladesh army was the victorious Mukti Bahini, and its commanders like Ziaur Rahman might have expected some say in the new country’s affairs — historically, states founded by guns tend to give armed men some (if not all) power.

However, it should have been a different matter in what was left of Pakistan.  If there was a state where the army rule, directly or otherwise, should have been thoroughly repudiated, it should have been Pakistan after December 1971.  Army rule had lost half the country.  A quarter of the army itself was taken prisoner-of-war by the ‘hated enemy’.  The country was bankrupt, with its major port severely damaged.  The idea that generals could save Pakistan should have died in the swamps of Bengal.

Of course, it didn’t.

ZA Bhutto used the army to silence legitimate dissent in Balochistan. And then, in 1977, he tried to rig an election that he might have won anyway, resulting in months of street violence and political gridlock, which paved the way for Gen Zia-ul-Huq’s grim rule.

That’s the most straightforward reading of things.  Writers as diverse as Tariq Ali or Anatol Lieven agree that Mr Bhutto deserves to be blamed, if not solely or in whole measure, then at least substantially, for the remilitarisation in Pakistan.  So, the question then is, was Pakistan just unlucky to have Bhutto, or was there something about Pakistan that made his power grabs more likely?

Let’s look at the issue from a different perspective.  Milam ends his book with the observation that the prospect of democracy, indeed the very survival of the state, was bleaker in Pakistan than Bangladesh.

As of 2008, Bangladesh army —not formally in charge in the first place — was in the process of handing over power to a democratically elected government.  In Pakistan, on the other hand, there was a shaky coalition facing jihadi violence, with everyone assuming that it was the clean-shaved general and not the mustached civilian who had the ultimate power.

As of 2008, hardly anyone doubted that the incoming Awami League government would finish its five year term.  After all, three previous elected governments had finished their full terms, something no elected government (with possible exception of Mr Bhutto, depends on how one sees things) in Pakistan had done until then.  In Pakistan, at the time, hardly anyone expected Asif Ali Zardari to finish his term peacefully and hold an election in five years’ time.

As it happens, the Awami League did finish its five year term, and has just elected itself —not sure how else to put it politely —for another five years.  But surprising everyone, Mr Zardari also lasted five years in office, as did the Pakistani parliament that was elected in 2008.  For the first time in Pakistan’s history, a democratically elected civilian government handed over power to another such government last year.

So, did Pakistan get lucky with Zardari (or Nawaz Sharif, or Gen Ashfaq Kayani)?  Or did something about Pakistan change between the 1970s, or even the 1990s, to now?

Bangladesh army has shown little interest in running the country in recent years.  Had it wanted to, there were many occasions in the past year where the army could have toppled the government, with a large section of the civil society and opinionmaking class fully cheering on any coup.  But by all accounts, the army has chosen to remain out of politics.  Even its 2007 not-quite-formally-a-coup was at best a half-hearted affair, with full insistence of constitutional fig leaves, no matter how muslin-thin the leaves might have been.

What had changed about Bangladesh army from its coup-prone past?

Why do armies intervene, or not intervene?  Let’s go through a few conjectures.

At the simplest level, perhaps it’s all about the base, corporate interest.  Pay them well, and the armies will be happily in the barracks?  This may well be a major story in Bangladesh.  After all, dal-bhaat grievances were a major (though by no means the only) factor in soldiers’ mutinies of 1975 and 2009.  However, considering the lavishes spent on the forces by the current government, money should not matter for any would be Bangladeshi coupmaker.  And to the extent that no one —not even Bhutto le pere—tried to clip the army’s economic interests in Pakistan, it’s hard to argue that this has been a deciding factor there.

Perhaps the story is a bit more highbrow?

As is widely accepted, Pakistan army sees itself as the ultimate arbiter of that country’s foreign and defense policies, particularly when it comes to relations with India. As long as these domains are untouched, perhaps the generals are content to let the civilians govern.  In that respect, perhaps Pakistan army is similar to the ‘guardian’ armies of Turkey or various Arab republics or Thailand, where the army decides, for whatever historical reasons, that certain areas are no-go for civilian politicians, and they enforce the no‑go-zones through coups if necessary.

Does Bangladesh army see itself in such a guardian role?  When a crisis hits, does it see its role as the national saviour?  In the blood-soaked 1970s, individual officers saw themselves as potential national heroes—call it the curse of the majors.  But from the 1980s onwards, as a collective, perhaps Bangladesh army waits for orders rather than marching to their own bit?  After all, in February 2009, the entire brass held fire and waited for orders that never came.

Of course, this is exactly how it should be.  Armies are meant to be guards, not guardians.  On balance, it’s a good thing that the army has not intervened during Bangladesh’s latest political drama.

But can that remain the case indefinitely?  After all, it was Bhutto’s hubris that allowed Zia’s power grab in 1977.  Could something like that happen yet again?

Even if it doesn’t, it’s important to understand that military rule is not the only obstacle to democracy in Bangladesh and Pakistan —a theme that runs through Milam’s book, and one that needs to be explored further.  After all, it was Mr Bhutto who opened the door for the generals to march back in.  So, the question again, was Pakistan unlucky with Mr Bhutto, or was there something about Pakistan?  And more recently, did it get lucky with Messrs Zardari and Sharif, or has something changed there?

Here is another conjecture —for all their personal genius, foibles and shortcomings, it wasn’t the individuals, rather, something did change in Pakistan between the time of Bhutto and Zardari.  In the intervening years, multiple centres of power —not just the army-bureaucracy and a towering politician, but also political parties representing different provinces and ethnicities and constituencies, as well as media, judiciary and other civil society organisations —developed in Pakistan.  While this fragmentation of authority may hamper its policy deliberations, it probably has driven home to Pakistani politicians the need to coexist and tolerate each other.  Papa Bhutto stood above everyone, and couldn’t countenance anyone else’s existence.  Sharif brothers had learnt to live with others.  Perhaps that’s what has saved Pakistan, at least for now.

What about Bangladesh?

This is what Milam says in the penultimate page: Perhaps there is more hope that a real, sustainable democratic culture can develop in Bangladesh, but old habits die hard.

And thus we come to today’s Bangladesh, on which, Milam observes:

…a government which, because of the perverted institutions of the state, is in a position to eliminate the opposition as a force to be reckoned with, and move towards a one-party state. This election, instead of deja vu all over again, could be the tipping point to something entirely new on the subcontinent.

Bangladesh may well have come a full circle in the past four and half decades.  At the beginning of the 1970s, with the left fractious and the right discredited for its role in the country’s freedom struggle, Awami League was the only major organised political force in Bangladesh.  Whatever we have, it’s not democracy.

And, Sheikh la fille may well prove to be more successful than her father.  Again, over to Milam:

But politics aside, it is 2014 in Bangladesh. The chronic instability and near-anarchy, as well as the abject poverty that prevailed in 1975, have long since disappeared. Bangladesh, while still poor and in the stage of economic development where gains can easily be reversed, is now wired into the global economy with its vibrant garment and other export industries. Growth has been strong for most of the past two decades, and the country as a whole is much more prosperous. More importantly, it has a much more literate and healthy population because of the strides that have been made in mass education and in reducing gender disparity.

In Shame, his novel on not-quite-Pakistan, Rushdie calls the country Peccavistan. Peccavi in Latin means I have sinned.  This is the message Sind’s English conqueror sent back to the John Company after he took the country by deception and ‘rascality’.  Pakistan used to be governed by deception and rascality, hence the name Peccavistan.

When the results of Pakistan’s first general election became known 37 years ago, a western journalist quipped that Pakistan would soon be replaced by Mujibdesh and Bhuttostan.  As things stand, we should rename our country East Peccavistan.

And things will remain as they are unless we choose democratic politics.  Make no mistake, that’s hard work.  But that’s what it comes down to.  A bird cannot fly with broken wings.  Our democracy is broken.  People governing the country are doing so not with democratic mandate.  Choosing democracy means opposing this deception and rascality.  Only by joining and fixing the opposition, so that when the table turns it lives and lets live, can we end East Peccavistan.

Dear reader, the choice is yours, will you choose Bangladesh?

Fascist Entropy of an once-Democratic Politics in Bangladesh

M. Aktaruzzaman (Zaman)

“Fascism denies, in democracy, the absurd conventional untruth of political equality dressed out in the garb of collective responsibility ….” Benito Mussolini.

 

Even after a decade of Mussolini’s pronouncement as to the basic reactionary tenets of fascism, the word rapidly suffered a massive interpretative inflection, that George Orwell in his 1944-essay “What is Fascism” could not come up with a good definition of what fascism is and wrote in desperation: “all one can do for the moment is to use the word with a certain amount of circumspection and not, as is usually done, degrade it to a level of a swearword.” In the today’s miasmic milieu of Bangladeshi Politics, in addition to the swearword “razakar”, the word “fascist” is also being thrown around in random both by BNP and its perpetual nemesis AL. It may not have poignancy right at this point, but it certainly is very important to examine the issue further for the future politics of our country. In this write up I would like expound the situation a little further.

 

What is Fascism?

“Fascis” (an Italian word) means bundle or unit, while “fasces” (a Latin word) is a symbol of bound sticks used as a totem of power in ancient Rome. These two roots aptly describes the basic tenets of fascism: unity and power. However, the nature of fascism espoused by Hitler in Germany, Mussolini in Italy or Franco in Spain is not exactly the same, still there are some basic features than characterizes any fascist movement:

Authoritarian leadership: A fascist state requires a single leader with absolute authority who is all-powerful and lords over the totality of the state affairs with no limits whatsoever. There also can be a cult of personality around the leader.

Absolute power of state: “the fascist state organizes the nation, but leaves a sufficient margin of liberty to the individual; the latter is deprived of all useless and possibly harmful freedom, but retains what is essential; the deciding power in this question can not be the individual, but the state alone” – thus goes Mussolini to encapsulate the fact that there is no law or other power that can limit the authority of the state. This is an antithesis of liberal doctrines of individual autonomy and rights, political pluralism and representative government as espoused by the likes of Rousseau – yet it envisions broad popular support.

Strict social order: To eliminate the possibility of chaos than can undermine state authority, fascism maintains a social order in which every individual has a specific place that can not be altered. This “new order” often is in clash with traditional institution and hierarchies

Nationalism and super-patriotism: Fascism digs into the past with unreal romanticism and espouses an historic mission and national rebirth.

Jingoism: Aggression is felt to be a virtue while pacifism a cowardice. This is how Mussolini writes – “fascism ….. believes neither in the possibility nor the utility of perpetual peace….. war alone brings up to its highest tension all human energy and puts the stamp of nobility upon the people who have the courage to meet it.”

Dehumanization and scapegoating of the enemy: Typically every fascist regime seek out certain group or groups of people – ethnic or religious or ideological as enemy.

 

Is the Current Bangladesh Regime Fascist?

With the above features of fascism in mind, let’s see how our current regime in Bangladesh fares:

Leadership: In democratic states, power of state is kept in check by constitutional provisions whereby the stately business is run, usually, by three co-equal branches of government, namely, executive, legislative and judicial. In Bangladesh, the legislative wing is clipped by article 70 for many years. Its integrity also is jeopardized by a lack of intra-mural democracy in most of the political parties including the ruling Awami League. Coupled with the prevailing trickle-down politics, where leadership is bestowed upon as a blessing from the party chief for nonpolitical reasons that at times can be plainly nefarious, has brewed a miasma where the party chief enjoys a demi-God status.  Judiciary independence, in addition, is a total sham as evidenced by open executive intervention in judicial matters. In fact, the current regime abetted by its myriad of political outfits, has shown a keen interest in using judiciary for the sole purpose of harassment, intimidation and silencing of opposing voices. Thus all the three branches of government has now morphed into a single behemoth bent to serve the wish one single person who is none but the all-powerful Prime Minister – Sheikh Hasina Wajed.

 

She wields extraordinary power beyond her constitutional ambit. Borrowing a certain amount of mana from her slain father, she also has cultivated a cult where, even her ministers kisses her feet with no shame whatsoever. It is widely reported that even the Awami League leadership was not in favor of the 15th. amendment, and it was not part of her election pledges in 2008, yet it happened only because of the singular wish of Sheikh Hasina. The eventual entropy that has befallen on today’s Bangladesh thus falls squarely on her shoulder. Now after a flawed election on 01/2014, even though her electoral popularity is at nadir, she continues to remain the only person whose opinion matters. With over 3/4th majority in the 10th. parliament, and with Article 70 in place, she still has the capacity to rule by further amendment in constitution, if she chooses.

Although the Prime Minister continues to chant the popular democratic slogans, actually she has become a hindrance by disenfranchising more than 50% of voting population by cunning political games.

State Power: Power of state is on the rise for more than a decade in Bangladesh. Although there is no declared state of emergency at over the past years, the case Limon vs Government is not only a forme fruste, but a routine daily fact of national life. State outfits like Rapid Action Battalian, Police etc. can trample individual rights with impunity. Slapping of a national pride – Shohag Gazi is a daily happenstance. State can now put political leaders behind bar even without prima facie evidence of any wrongdoing. Given the prevailing politicization of Judiciary, individual rights almost to the point of forfeiture. Benito Mussolini conceptualized the process as “all within the state, nothing outside the sate, nothing against the sate.”

Social Order: By introducing three hundred fiefdoms, each headed by a member of the parliament; by nominating non-politician businessmen and thugs for member of parliament; by decapitating the law-making power of the MPs; and by clipping the wings of the elected local governing bodies – the government has instituted a social order where the cadres of government-affiliated outfits (“leagues” and “porishods” of variegate Awami shades and colors) rule over the commoners with impunity. On top on that, there are governmental outfits like police, RAB etc. also continue to be used as enforcers of governmental whims. At the same time, traditional non-political institutions and hierarchies are being decapitated by rampant politicization (both by the ruling Awami League and by its perpetual nemesis Bangladesh Nationalist Party).

Nationalism and Superpatriotism and dehumanization and/or scapegoating of enemies: The government, instead of promoting quiet inclusive nationalism, is bent on promoting a super-patriotism at the expense of non-Bengali Bangladesh nationals. Denial of existence of indigenous ethnic population by our ex-foreign minister is just a naked example. It also is curious, how blatantly the ruling party labels every opposing voice as “rajakar-sympathizer”. It has divided the nation two camps; pro-Liberation and anti-Liberation. Even valiant and decorated heroes of liberation war are not being spared.

Jingoism: Well, militarily, Bangladesh is not powerful enough to consider military expansion, yet it’s portrayal of simple wining of a legal battle as “somudra-bijoy” talks of its mental makeup. But, yes, they are in a permanent war against those whose voice are not in sync with the ideas and ideals of the ruling Awami League.

How about BNP?

Authoritarian leadership is a staple in BNP-politics since its inception. This has now morphed into a family-owned enterprise of the “lesser Rahman” – I mean General Ziaur Rahman. Their intolerance to opposing (or even neutral) view is amply exemplified by the way the treated one of their founder member – Dr. B. Chowdhury. Despite a disastrous leadership during “2006 to 2008-debacle” Khaleda Zia continues to rule over the party with an authority that is unheard of in any any democracy sans Bangladesh. Her heir apparent, Tareq Zia, despite his reprehensible Hawa-Vobon activities during the last BNP-regime, still welds more power than the any senior party leaders. It is a widely reported story that Khaleda once forfeited all the cellular devices from her senior leadership during a meeting, is just an example of her crude power that overwhelms the collective power of the party leaders. Just like in Awami League, they also a slain leader who has become more like a cult-leader in BNP-culture.

The consolidation of the state power to the verge of tyranny, in fact, began during the previous BNP-regime by introducing the now-infamous Operation Clean Heart that rapidly degenerated into an Operation Heart Attack! And the origin of RAB and the the concept of extra-judicial execution by “cross-fire” is of BNP-origin.

Just like AL, BNP also is guilty of promoting the gradual degeneration of traditional social order by empowering parliament members at the expense of local government. Pan-politicization of every sphere of national life is also a staple of BNP.

However, BNP did not had a jingoistic attitude, however, their favorite scapegoat, under the leadership of Khaleda Zia, remained India.

 

Conclusion:

Yes, definition of fascism fluid, but is definitely not democracy as its biggest proponent Mussolini once said, “democracy is beautiful in theory; in practice it is a fallacy”. And it will not be an untrue statement if one posits that the state of democracy in Bangladesh, currently in a state of total shamble. Election occurred where voter participation was an all-time low and where more than fifty percent voters were disenfranchised to begin with. As per an eminent Bangladeshi jurist – Shahdin Malik, it was more negotiated and predetermined than was competitive.

 

Given the reasons and the facts in ground, it is very easy to label a regime with characteristics of the current Awami League regime as fascist. There can be arguments both pro and con, but certain facts are undeniable. BNP right now, is not in power. However, the history of BNP under the leadership of Khaleda Zia is not very kosher either.

In a previous op-ed in the daily start (December 19th, 2013) I hoped for sanity to prevail. But the leadership of our God-forsaken homeland, apparently, has a bigger saint to heed to:

history of saints is a history of insane people”. (Benito Mussolini

M. Aktaruzzaman (Zaman)

?Fascist Entropy of a once-Democratic Politics in Bangladesh

“Fascism denies, in democracy, the absurd conventional untruth of political equality dressed out in the garb of collective responsibility ….” Benito Mussolini.

Even after a decade of Mussolini’s pronouncement as to the basic reactionary tenets of fascism, the word rapidly suffered a massive interpretative inflection, that George Orwell in his 1944-essay “What is Fascism” could not come up with a good definition of what fascism is and wrote in desperation: “all one can do for the moment is to use the word with a certain amount of circumspection and not, as is usually done, degrade it to a level of a swearword.” In the today’s miasmic milieu of Bangladeshi Politics, in addition to the swearword “razakar”, the word “fascist” is also being thrown around in random both by BNP and its perpetual nemesis AL. It may not have poignancy right at this point, but it certainly is very important to examine the issue further for the future politics of our country. In this write up I would like expound the situation a little further.

What is Fascism?

“Fascis” (an Italian word) means bundle or unit, while “fasces” (a Latin word) is a symbol of bound sticks used as a totem of power in ancient Rome. These two roots aptly describes the basic tenets of fascism: unity and power. However, the nature of fascism espoused by Hitler in Germany, Mussolini in Italy or Franco in Spain is not exactly the same, still there are some basic features than characterizes any fascist movement:

Authoritarian leadership:
A fascist state requires a single leader with absolute authority who is all-powerful and lords over the totality of the state affairs with no limits whatsoever. There also can be a cult of personality around the leader.

Absolute power of state:
the fascist state organizes the nation, but leaves a sufficient margin of liberty to the individual; the latter is deprived of all useless and possibly harmful freedom, but retains what is essential; the deciding power in this question can not be the individual, but the state alone” – thus goes Mussolini to encapsulate the fact that there is no law or other power that can limit the authority of the state. This is an antithesis of liberal doctrines of individual autonomy and rights, political pluralism and representative government as espoused by the likes of Rousseau – yet it envisions broad popular support.

Strict social order:
To eliminate the possibility of chaos than can undermine state authority, fascism maintains a social order in which every individual has a specific place that can not be altered. This “new order” often is in clash with traditional institution and hierarchies.

Nationalism/ super-patriotism/ Jingoism:
Fascism digs into the past with unreal romanticism and espouses an historic mission and national rebirth. Aggression is felt to be a virtue while pacifism a cowardice. This is how Mussolini writes – “fascism ….. believes neither in the possibility nor the utility of perpetual peace….. war alone brings up to its highest tension all human energy and puts the stamp of nobility upon the people who have the courage to meet it.”

Dehumanization and scapegoating of the enemy:
Typically every fascist regime seek out certain group or groups of people – ethnic or religious or ideological as enemy.

Is the Current Bangladesh Regime Fascist?

With the above features of fascism in mind, let’s see how our current regime in Bangladesh fares:

Leadership:
In democratic states, power of state is kept in check by constitutional provisions whereby the stately business is run, usually, by three co-equal branches of government, namely, executive, legislative and judicial. In Bangladesh, the legislative wing is clipped by article 70 for many years. Its integrity also is jeopardized by a lack of intra-mural democracy in most of the political parties including the ruling Awami League. Coupled with the prevailing trickle-down politics, where leadership is bestowed upon as a blessing from the party chief for nonpolitical reasons that at times can be plainly nefarious, has brewed a miasma where the party chief enjoys a demi-God status. Judiciary independence, in addition, is a total sham as evidenced by open executive intervention in judicial matters. In fact, the current regime abetted by its myriad of political outfits, has shown a keen interest in using judiciary for the sole purpose of harassment, intimidation and silencing of opposing voices. Thus all the three branches of government has now morphed into a single behemoth bent to serve the wish one single person who is none but the all-powerful Prime Minister – Sheikh Hasina Wajed.

She wields extraordinary power beyond her constitutional ambit. Borrowing a certain amount of mana from her slain father, she also has cultivated a cult where, even her ministers kisses her feet with no shame whatsoever. It is widely reported that even the Awami League leadership was not in favor of the 15th. amendment, and it was not part of her election pledges in 2008, yet it happened only because of the singular wish of Sheikh Hasina. The eventual entropy that has befallen on today’s Bangladesh thus falls squarely on her shoulder. Now after a flawed election on 01/2014, even though her electoral popularity is at nadir, she continues to remain the only person whose opinion matters. With over 3/4th majority in the 10th. parliament, and with Article 70 in place, she still has the capacity to rule by further amendment in constitution, if she chooses.

Although the Prime Minister continues to chant the popular democratic slogans, actually she has become a hindrance by disenfranchising more than 50% of voting population by cunning political games.

State Power:
Power of state is on the rise for more than a decade in Bangladesh. Although there is no declared state of emergency at over the past years, the case Limon vs Government is not only a forme fruste, but a routine daily fact of national life. State outfits like Rapid Action Battalion, Police etc. can trample individual rights with impunity. Slapping of a national pride – Shohag Gazi is a daily happenstance.

State can now put political leaders behind bar even without prima facie evidence of any wrongdoing. Given the prevailing politicization of Judiciary, individual rights almost to the point of forfeiture. Benito Mussolini conceptualized the process as “all within the state, nothing outside the sate, nothing against the sate.”

Social Order:
By introducing three hundred fiefdoms, each headed by a member of the parliament; by nominating non-politician businessmen and thugs for member of parliament; by decapitating the law-making power of the members of parliament (MP); and by clipping the wings of the elected local governing bodies – the government has instituted a social order where the cadres of government-affiliated outfits (“leagues” and “porishods” of variegate Awami shades and colors) rule over the commoners with impunity. On top on that, there are governmental outfits like police, RAB etc. also continue to be used as enforcers of governmental whims. At the same time, traditional non-political institutions and hierarchies are being decapitated by rampant politicization (both by the ruling Awami League and by its perpetual nemesis Bangladesh Nationalist Party).

Nationalism and Superpatriotism and dehumanization and/or scapegoating of enemies:
The government, instead of promoting quiet inclusive nationalism, is bent on promoting a super-patriotism at the expense of non-Bengali Bangladesh nationals. Denial of existence of indigenous ethnic population by our ex-foreign minister is just a naked example. It also is curious, how blatantly the ruling party labels every opposing voice as “rajakar-sympathizer”. It has divided the nation two camps; pro-Liberation and anti-Liberation. Even valiant and decorated heroes of liberation war are not being spared.

As for, jingoism, militarily, Bangladesh is not powerful enough to consider military expansion, yet it’s portrayal of simple wining of a legal battle as “somudra-bijoy” talks of its mental makeup. But, yes, they are in a permanent war against those whose voice are not in sync with the ideas and ideals of the ruling Awami League.

How about BNP?

Authoritarian leadership is a staple in BNP-politics since its inception. This has now morphed into a family-owned enterprise of the “lesser Rahman” – I mean General Ziaur Rahman. Their intolerance to opposing (or even neutral) view is amply exemplified by the way the treated one of their founder member – Dr. B. Chowdhury.

Despite a disastrous leadership during “2006 to 2008-debacle” Khaleda Zia continues to rule over the party with an authority that is unheard of in any any democracy sans Bangladesh. Her heir apparent, Tareq Zia, despite his reprehensible Hawa-Vobon activities during the last BNP-regime, still holds more power than the any senior party leaders. It is a widely reported story that Khaleda once forfeited all the cellular devices from her senior leadership during a meeting, is just an example of her crude power that overwhelms the collective power of the party leaders. Just like in Awami League, they also a slain leader who has become more like a cult-leader in BNP-culture.

The consolidation of the state power to the verge of tyranny, in fact, began during the previous BNP-regime by introducing the now-infamous Operation Clean Heart that rapidly degenerated into an Operation Heart Attack! And the origin of RAB and the the concept of extra-judicial execution by “cross-fire” is of BNP-origin.

Just like AL, BNP also is guilty of promoting the gradual degeneration of traditional social order by empowering parliament members at the expense of local government. Pan-politicization of every sphere of national life is also a staple of BNP.

However, BNP did not had a jingoistic attitude, however, their favorite scapegoat, under the leadership of Khaleda Zia, remained India.

Conclusion:

Yes, definition of fascism fluid, but is definitely not democracy as its biggest proponent Mussolini once said, “democracy is beautiful in theory; in practice it is a fallacy”. And it will not be an untrue statement if one posits that the state of democracy in Bangladesh, currently in a state of total shamble. Election occurred where voter participation was an all-time low and where more than fifty percent voters were disenfranchised to begin with. As per an eminent Bangladeshi jurist – Shahdin Malik, it was more negotiated and predetermined than was competitive.

Given the reasons and the facts in ground, it is very easy to label a regime with characteristics of the current Awami League regime as fascist. There can be arguments both pro and con, but certain facts are undeniable. BNP right now, is not in power. However, the history of BNP under the leadership of Khaleda Zia is not very kosher either.

Our hope for sanity to prevail is perpetual. But the leadership of our God-forsaken homeland, apparently, has a bigger saint to heed to:

history of saints is a history of insane people”.
(Benito Mussolini)

অভিনন্দন, বেগম খালেদা জিয়া!

2

২৩ বছর পর বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি থেকে পতাকা নেমে গেছে। এতে কষ্টের কিছু নাই। আশাহত হওয়ারও কোনো কারণ দেখিনা। মানুষের পোড়া মাংসের গন্ধ, বারুদে দীর্ণ হয়ে যাওয়া খেটে খাওয়া শরীর কিম্বা রাতের আঁধারে-দিনের আলোতে ইজ্জত হারা নারীর কাছে এই ‘গণতন্ত্র’ ও ‘সংবিধান’ রক্ষার ‘নির্বাচনে’র কোনো মূল্য নাই। এ রকম নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজের জন্য সরকারি গাড়ি, বাড়ি আর পতাকা বরাদ্দ না নিয়ে ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছেন বেগম থালেদা জিয়া। অর্জন করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 

তারেক মোরতাজা:

গণতন্ত্র’, ‘সংসদ’, ‘সংবিধান’ এবং ‘নির্বাচন’ নিয়ে ৪২ বছর বয়সী যে দেশটির মানুষ দ্বিধা বিভক্ত। যে দেশে জামায়াত শিবিরের গুটি কতক মানুষের ভয়ে আওয়ামী লীগের মত একটা দল এক তরফা ‘নির্বাচন’ নামের একটা জুয়াখেলাকে নিজেদের জন্য ফরজ করে নিয়েছে। সে দেশেও আমাদের আশা আছে!

কারণ এ দেশটা এখন নতুন প্রজন্মের হাতে যাচ্ছে, ধীর লয়ে। যখন পুরোপুরি দ্বৈত নাগরিক ও দ্বৈত আদর্শের লোকরা রাজনীতি থেকে অবসরে যাবেন কিম্বা বয়সের কাছে হার মানতে বাধ্য হবেন- তখন নতুন, ভালো এবং উদার কিছু আশা করা সম্ভব।

২৩ বছর পর বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি থেকে পতাকা নেমে গেছে। এতে কষ্টের কিছু নাই। আশাহত হওয়ারও কোনো কারণ দেখিনা। মানুষের পোড়া মাংসের গন্ধ, বারুদে দীর্ণ হয়ে যাওয়া খেটে খাওয়া শরীর কিম্বা রাতের আঁধারে-দিনের আলোতে ইজ্জত হারা নারীর কাছে এই ‘গণতন্ত্র’ ও ‘সংবিধান’ রক্ষার ‘নির্বাচনে’র কোনো মূল্য নাই। এ রকম নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজের জন্য সরকারি গাড়ি, বাড়ি আর পতাকা বরাদ্দ না নিয়ে ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছেন বেগম থালেদা জিয়া। অর্জন করেছেন মানুষের ভালোবাসা।

বাংলাদেশের সৃষ্টির সাথে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল জিয়া সরাসরি জড়িত ছিলেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বেগম জিয়া ছিলেন আপসহীন। মানুষ মনে রেখেছে। রাজনীতি মানে কেবলই ক্রমাগত বল প্রয়োগ কিম্বা মানুষ হত্যা নয়। অনেকে বলবেন বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী অভিযুক্ত করছেন। এ রকম অভিযুক্ত অনেকেই হযেছে। এথেন্সে সক্রেটিসকেও অভিযুক্ত করে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু সত্য টিকে গেছে।

জামায়াত বিএনপির সাথে আন্দোলনে আছে। আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সাথে ছিল। যে সময় সরকারি অফিসগামি কর্মীকে রাস্তায় ন্যাংটা করা হয়েছে সে সময় আওয়ামী লীগ-জামায়াত সখ্য দেখেছে মানুষ।
এখন যেহেতু জামায়াত বিএনপির সাথে, তাই এটাকে অপরাধ বিবেচনা করা হচ্ছে- কারণ জামায়াত আওয়ামী লীগের সাথে নেই। আওয়ামীলীগের সাথে থাকলে আমরা সবাই চুপ করে থাকাটা কর্তব্যমনে করতাম। যে রকম হাসিনার এরশাদ প্রাপ্তিকে জ্ঞান করি।

আওয়ামী লীগ এত জামায়াত বিরোধি মনোভাব দেখায় তো তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করছে না কেনো? উত্তর একটাই তাইলে যুদ্ধাপরাধী আর স্বাধীনতা বিরোধি তাবিজের বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এইবার নাকি নিষিদ্ধ করবে!

প্রহসনের নির্বাচন ও বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যত নিয়ে কিছু ব্যাক্তিগত ভাবনা

by Sazzad Rahman

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র সোল এজেন্ট বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। রাজনীতির মাঠের প্রাচীনতম ও দর্শকনন্দিত এই খেলোয়াড় এখন এতটাই জনবিছিন্ন হয়ে পড়েছে যে তাদের আহবানে দেশের সাধারণ ভোটারদের একশতাংশও আজকে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসেনি। গণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদ, ভারতের আধিপত্যবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতার বিরুদ্ধে এক নীরব বিপ্লব দেখলো আজকে বাংলাদেশ। সম্ভবত আমার এই কথার সাথে তারাই দ্বিমত পোষণ করবেন যারা বিটিভি, চ্যানেল আই, একাত্তর ইত্যাদি “নিরপেক্ষ” মিডিয়া ও রাকিবউদ্দিন গংদের “নিরপেক্ষ” কমিশনের একান্ত গুণমুগ্ধ বংশবদ। একপক্ষীয়ভাবে নগ্ন সমর্থন দিয়ে ভারত আওয়ামীলীগের মত একটি ঐতিহ্যবাহী দলকে একেবারে খাদের কিনারায় নিয়ে এসেছে।

 

ভারত নাকি সুপার পাওয়ার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু সুপার পাওয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখা একটি দলের ডিপ্লোমেসি এতটা অপরিপক্ক কিভাবে হয় তা আমার বুঝে আসেনা। ভারতেরই পত্র-পত্রিকারই ভাষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের মানুষের ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্টে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। দীর্ঘদিনের সাংষ্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে তারা দেশের মানুষের মাঝে যতটা আসন গেঁড়ে নিয়েছিল তার অনেকটাই তারা খুইয়েছে গণবিরোধী একটি দলকে অন্ধভাবে সমর্থন দিয়ে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট এখন এতটাই প্রবল যে সম্ভবত সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালানো ছাড়া বাংলাদেশকে পুরোপুরিভাবে ভারতের নিয়ন্ত্রনে আনা কতটা সম্ভব তা প্রশ্নসাপেক্ষ। ভারত অনেক বড় সামরিক শক্তি সেটা যেমন বাস্তব তেমনি এটাও বাস্তব তাদের চেয়েও শতগুণ বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকেও ইরাক-আফগানিস্তানে সামরিক আগ্রাসনের বোঝা বইতে গিয়ে প্রায় দেউলিয়া হতে হয়েছিল। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রই হাবুড়ুবু খায় সেখানে ভারত কি সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালানোর মত দুঃসাহস দেখাবে? মনে রাখতে হবে ভারতের পঞ্চাশ শতাংশের বেশি মানুষ এখনোও খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়।

 

ভারতের সামনে দ্বিতীয় পথ যেটি খোলা থাকে তা হলো আওয়ামীলীগকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় রাখা। কিন্তু আওয়ামীলীগ ভারতের হাতের পুতুল হতে গিয়ে যেভাবে পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে তাতে পশ্চিমারা যদি একবার অর্থনৈতিক অবরোধ দেয় তাহলে ভারতের পক্ষে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের বোঝা বহন করা কতটা সম্ভব তা ভাববার বিষয়। তার উপর ইসলাম বিদ্বেষী অবস্থান নেওয়ার কারণে মুসলিম বিশ্বের সাথেও আওয়ামীলীগের সম্পর্ক শীতল। আর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনামান ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনমানের চেয়ে কোন অংশেই কম না, বরং অনেক ক্ষেত্রেই তা অনেক উন্নত।

 

এখনোও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র গণক্ষোভ জমা হয়েছে। কিন্তু মানুষ যখন চলমান ব্যাবসায়িক অচলাবস্থা ও সম্ভবত আসন্ন অর্থনৈতিক অবরোধর কারণে না খেয়ে থাকবে তখন এই গণক্ষোভ গণবিষ্ফোরণে পরিণত হবে যা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, যৌথবাহিনী দিয়েও তা ঠেকানো যাবেনা। এমনকি ভারতের দাদাবাবুরাও তা সামাল দিতে পারবেনা, যেমনটা ইরানে শাহদের বিরুদ্ধে চলা গণবিষ্ফোরণকে সামলাতে পারেনি খোদ যুক্তরাষ্ট্রই।