“বাকশালীদের দিন শেষ, তারেক জিয়ার বাংলাদেশ…”

by WatchDog

ভিন্ন জনের ভিন্ন কারণ থাকতে পারে, আমার জন্য আওয়ামী বিরোধিতার মূল কারণ ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস। বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের মত জনসংখ্যাবহুল তৃতীয় বিশ্বের দেশকে অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়াতে চাইলে চাই উন্নত বিশ্বের সার্বিক সহযোগীতা। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দাবিদার বৈরী দুটি রাজনৈতিক দল এ কাজে কতটা সফল তার প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। দাতা গুষ্টির কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বিদেশ হতে দয়া দাক্ষিণ্য এনে বার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন একটা উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারেনা। তার জন্য চাই উচ্চাকাক্ষী এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। যারা সুদকে অভিশাপ আখ্যা দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা নিয়ে আহাজারি করছেন তাদের বেশির ভাগই দলকানা নেত্রীদাস অথবা নেত্রীকানা দলদাসের সদস্য। নেত্রী সুদখোর বলেছেন বিধায় এসব দাসদের মুখেও সুদখোরের গিবত। অবস্থা রাতারাতি পালটে যাবে যদি আগামীকাল একই নেত্রী ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে অন্যভাবে আখ্যায়িত করেন। এমনটাই আজকের বাস্তবতা। গোটা বিশ্বের অর্থনীতি চলে সুদের উপর। আমাদের ব্যবসা বানিজ্য, বিনিয়োগ, দৈনন্দিন জীবন, রিটায়ারমেন্ট সহ সবকিছু এখন ব্যাংক ভিত্তিক। ব্যাংক মানেই সুদ। তাই সুদ নিয়ে রাজনীতি করার রাস্তা সীমিত। নেত্রীরা বিদেশ হতে অল্প সুদে ঋণ এনে দেশে বেশি সুদে লগ্নি খাটান এবং তাতে যা লাভ হয় তা দিয়ে সরকার চালান। মন্ত্রি, প্রধানমন্ত্রী সে সরকারেরই অংশ। এ অর্থে তারা সবাই সুদখোর। ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে সুদখোর বলে সুদকে অবজ্ঞা করা এক ধরণের হিপোক্রেসি এবং নোংরা রাজনীতি। আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতির প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতা অনেক পুরানো রোগ। এ কাজে লবিং করার জন্য দেশে অলিখিত মন্ত্রনালয় কাজ করে থাকে। আগের টার্মে আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীরের নেত্রীত্বে সরকারী অর্থায়নে গোটা এক বাহিনী নিয়োজিত ছিল পদক যোগারের কাজে। গোটা দশেক পিএইচডি সে মিশনেরই বাই-প্রোডাক্ট। এ টার্মে পদক আহরণে ভাটা লাগে মূলত ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের কারণে। এবং এখানেই শুরু ইউনূস সাগা। গ্রামীন ব্যাংকের সাথে যৌথভাবে নোবেল পাওয়াটা যেন ছিল বেচারার জন্য রাষ্ট্রীয় অপরাধ। পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক ভাবে স্বীকৃত চোর আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের অযোগ্যতাই প্রমাণ করেননি বরং প্রমাণ করেছেন রাষ্ট্রীয় চোরদের আসল অভিভাবক তিনি নিজে। ইউনূস দেবতা নন। তিনি নিজেও তা দাবি করেন না। তাকে দেবতার আসনে বসানোর কাজে গোপন কোন মিশনও কাজ করছেনা। বরং উন্নত বিশ্ব সহ বাকি বিশ্বের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা ই ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে কাছে টানছেন এবং আগ্রহ প্রকাশ করছেন ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসায়। আজকে ডক্টর মোহম্মদ যে আসনে বসে আছেন তার কাছাকাছি পৌঁছতে শেখ হাসিনাকে হিমালয় পাড়ি দিতে হবে। এমনটা বুঝতে পেরেই হয়ত ইউনূসের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রের সবকটা ইনস্টিটিউশনকে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শেখ হাসিনা ইদানিং যা করছেন তা নিয়ে যারা চিন্তিত তাদের ভাল করেই জানা আছে দেশীয় রাজনীতির দুই রাজনৈতিক শক্তি একে অপরের পরিপূরক, মুদ্রার এ পীঠ ও পীঠ। দুই মহিলার একজনকে ক্ষমতায় দেখতে চাইবো অথচ হরতাল, জ্বালাও, পোড়াও দেখতে চাইব না এ অলীক ও অবাস্তব চাওয়া। রাজপথের লাশ নিয়ে আজকে যারা আহাজারি করছেন তারা আসলে মৃতদের জন্য আহাজারি করছেন না, করছেন লাশকে পুঁজি বানিয়ে নির্বাচনী মুনাফার জন্য। এতটাই রুগ্ণ আমাদের রাজনীতি এবং এর সাথে জড়িত দলদাসের দল।

তারেক জিয়ার অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলার রায় বেরিয়েছে। অনেকের জন্য এ রায় ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত। হয়ত খোদ তারেক জিয়ার আইনজীবীরাও এমনটা আশা করেননি। যার প্রমান রায়ের আগে বিবাদী পক্ষের প্রতিবাদের প্রস্তুতি। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা এবং এর উচ্চ নিম্ন আদালত সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকার প্রধান এবং উনার লেফটেন্যান্টদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার কাজে আদালত ক্ষমতাসীনদের সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করে থাকে। তাই সবাই আশা করছিল তারেক জিয়াকে শাস্তি প্রধানের মাধ্যমে আদালত আরও একজন শত্রু নিধনে সরকার প্রধানকে সহযোগীতা করবে। ঠিক যেমনটা করা হয়েছিল ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের বেলায়। কি এমন ঘটল যার দরুন নিম্ন আদালতের বেতনভুক্ত কর্মচারী বিচারক মহাশয় সরকারকে হতাশ করলেন? এখানে দুটি সম্ভাবনা থাকতে পারে। এক, এ রায় সরকারের নতুন কোন মিশনের অংশ; দুই, বিচারক মহাশয় নির্বাচনী হাওয়া অনুভব করছেন এবং আগ বাড়িয়ে নিজের পদোন্নতি নিশ্চিত করার জন্যে এ রায় দিয়েছেন। সন্দেহ নেই বিএনপি ক্ষমতা ফিরে পেলে এই বিচারকের স্থান হবে উচ্চ আদালতে। বিচার ব্যবস্থার এই কলঙ্কিত অধ্যায় ধারাবহিকভাবে অবদান রেখে যাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায়। সরকারের হাতে আরও ১৩ মামলার অস্ত্র আছে যা দিয়ে তারেক জিয়াকে ঘায়েল করা যাবে। হতে পারে অর্থ পাচার মামলার রায় সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ যার মূল আর্কিটেক্ট আমারের প্রতিবেশী। তবে একটা বাস্তবতা এখানে উল্লেখ না করলে তারেক জিয়া গংদের প্রতি অবিচার করা হবে। খাম্বা মামুনের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের দুর্নীতির যে চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল তা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে বর্তমান সরকারের লুটপাটের কাছে। সরকারের অর্থমন্ত্রী বলছেন লুট হয়ে যাওয়া ৪০০০ কোটি টাকা এমন কোন অংক নয় যা নিয়ে সময় ব্যায় করতে হবে। স্টক মার্কেট এবং কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে যে টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে তার তুলনায় খাম্বা মামুনদের খাম্বা চুরি মহাসমুদ্রে এক ফোটা বৃষ্টি মনে হতে বাধ্য। তারেক জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে জেলে নিতে সরকারের কালো বিড়ালদের ক্ষমতা হারানোর পরবর্তী বাস্তবতাও চিন্তা করতে হবে। হতে পারে এটাও একটা কারণ।

বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতা দুটি পরিবারের জন্য সংবিধিবদ্ধ সম্পত্তি। পাকিস্তান আমলে যা ছিল ২২ পরিবারের তা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে এসে ঠেকেছে দুইয়ে। ছাগলের ৩নং বাচ্চা হিসাবে আমরা ১৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ জন নাগরিক চাইলে এ নিয়ে গর্ব করতে পারি। ‘বাকশালীদের দিন শেষ, তারেক জিয়ার বাংলাদেশ…’আদালতে শত শত শিক্ষিত আইনজীবীদের এই একটা স্লোগানই নির্ধারন করে আমাদের গন্তব্য। অন্তত আগামী পাচ বছরের জন্য।

দূর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ

2
বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ওয়াবসাইট থেকে দেখা যায় তাদের প্রকাশিত Corruption Perception Index-এ বাংলাদেশ প্রথম ব্যাপক আলোচিত হয় ২০০১ সালে প্রকাশিত ২০০০-২০০১ সালের CPI তালিকায়।
সেই হিসাবে এই তালিকায় বাংলাদেশ গত এক যুগ ধরে বিভিন্ন স্কোর পেয়ে বিভিন্ন অবস্থানে ছিলো।
এই তালিকায় আমাদের গত একযুগে কখন কি অবস্থা ছিলো তা নিয়ে কিছু বিশ্লেষণ প্রয়োজন, কারণ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে বিভিন্ন ভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যে তালিকা প্রকাশ করে থাকে তা হচ্ছে মূলত জরিপের উপর জরিপ।
অন্তত তিনটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যের উপর জরিপ করে স্কোর নির্ধারণ করে এই তালিকায় তা উল্লেখ করাহয়।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে ERC (Ethics Resource Center), EIU (Economics Intelligence Unit)-সহ আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে যেকয়টা CPI-এর হদিস পাওয়া গেছে সেই সবকয়টা মিলিয়ে এখনপর্যন্ত সবচেয়ে কম স্কোর উঠেছে ২০০১ সালে প্রকাশিত রিপোর্টেই- ০.৪ (বর্তমানে ১০০-এর স্কেলে যা ৪)।
এই বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী বাংলাদেশ।বলাই বাহুল্য নিচের দিক থেকে প্রথম অবস্থানটাও আমাদেরই ছিল।আমাদের নিকটতম দেশ ছিল নাইজেরিয়া, যাদের স্কোর ছিল আমাদের চেয়ে আড়াইগুণ বেশি (১.০)।
CPI2001

তখন মহাপরাক্রমশালী আওয়ামীলীগ সরকারের শেষ বছর চলছিলো। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মরহুম এস এম কিবরিয়া এই রিপোর্ট সরাসরি প্রত্যাখান করেছিলেন, যদিও দেশে দুর্নীতির অবস্থা আসলেই খারাপ ছিলো।

১৯৯৬সালে ক্ষমাতায় এসেই ১৯৯১ থেকে বন্ধ কালোটাকা সাদা করার বিধানকে চালু করে দেন কিবরিয়া সাহেব তাঁরপ্রথম বাজেটেই। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চর দখলের মতো দখল করে সভাপতির পদে বসে পড়েন নেতারা।শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারীর রেশ তখনও কাটেনি। এই স্কোর তাই অনুমিতই ছিলো।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার।

এই সরকারকে মানুষ অনেক আশা নিয়ে ক্ষমতায় বসালেও এদের সময়ও দুর্নীতি খুব একটা কমেনি, তবে বাড়েনি তা নিশ্চিত। প্রমাণ দেয়া হবে।

কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কারণে ২০০২ সালে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের কোন পরিবর্তননা হলেও স্কোর বেড়ে দাঁড়ায় ১.২-এ (বর্তমান স্কেলে ১২)।

নিকটতম রাষ্ট্র ছিল দুর্নীতি জর্জরিত নাইজেরিয়া ১.৬ পয়েন্ট নিয়ে। বাংলাদেশের সাথে ব্যবধান ছিল ০.৪ পয়েন্টের, আগেরবছর যা ছিল ০.৬ পয়েন্ট।

২০০২ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হলে বাংলাদেশের স্কোর ২০০৩ সালের তালিকায় সামান্য বেড়ে ১.৩-এ দাঁড়ায়(বর্তমান স্কেলে ১৩)।

এবছরও নিকটতম রাষ্ট্র ছিল নাইজেরিয়া ১.৪ পয়েন্ট নিয়ে। এবছর বাংলাদেশের সাথে নিকটতম রাষ্ট্রের ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ০.১-এ।

২০০৪ সালের প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায় আমাদের স্কোর সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ১.৫-এ (বর্তমান স্কেলে ১৫)। আগের বছরের তুলনায় যা ছিল ০.২ বেশি। এবছর আমাদের সাথে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ‘গৌরবে’ ভাগ বসায় হাইতি। নিকটতম রাষ্ট্র ছিল নাইজেরিয়া, যাদের স্কোর ছিল ১.৬।

অর্থাৎ আমাদের সাথে নিকটতম রাষ্ট্রের ব্যবধান আগের বছরের মতই ০.১-এই আটকে ছিলো।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে ইফতেখারুজ্জামানের নালিশ

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে ইফতেখারুজ্জামানের নালিশ

২০০৪ সাল থেকে শুরু হয় প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল। অর্থের বিনিময়ে কাজ দেয়ার কিছু ঘটনাও বের হয়ে আসা শুরু করে। জ্বালানীমন্ত্রীকে জিপ কেলেঙ্কারী নিয়ে সরে যেতে হয়। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে আরও অনেকের বিরুদ্ধে। এর প্রভাব পড়ে ২০০৫ সালের রিপোর্টে। বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে। স্কোরের বৃদ্ধি ছিল আগের মতই। তবে আমাদের সাথে আগের বছর একই অবস্থানে থাকা হাইতি কিছুটা উন্নতি করে নিকটতম রাষ্ট্রের কাতারে চলে যায় ০.১ পয়েন্টের ব্যবধান নিয়ে। হাইতির জায়গায় আসে চাদ। ২০০৫ সাল মিলিয়ে বাংলাদেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।

২০০৫-২০০৬ সাল ছিল রাজনৈতিকভাবে টালমাটাল একটা বছর। অবশ্য বিরোধীদলের প্রবল আন্দোলনের কারণে এ বছর মাঠপর্যায়ে সরকারি কাজও ছিল কম, তাই দুর্নীতিও কম হয় যার ফলে ২০০৬ সালের জোট সরকারের আমলের শেষ রিপোর্টে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান থেকে বেরিয়ে আসে।

তবে এই বছরের টিআইবি রিপোর্টের সাথে টিআইবির কর্তাব্যক্তিদের কথায় মিল ছিল কম। অনেকের অনেক কাজ ছিল সন্দেহজনক। টিআইবির ইফতেখারুজ্জামানকে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে বাংলাদেশের দুর্নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে রীতিমত নালিশ করতে দেখা যায়। তিনি খালেদা জিয়া এবং তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে বিভিন্ন খতিয়ান দেন যা পরবর্তীতে উইকিলিকসে প্রকাশিত হয়।

ইফতেখারুজ্জামান নিজেই পরে একে নীতিমালা বহির্ভুত কাজ হিসেবে স্বীকার করেন

কিন্তু ২০০৬ সালের টিআইবির প্রতিবেদন ছিল এর উলটো। ২০০৬ সালে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের স্কোর বেড়ে দাঁড়ায় ২.০-তে। অবস্থানও হয় তৃতীয়। যা ইফতেখারুজ্জামানকে ভুল প্রমাণিত করে। যদিও damages were done, বাংলাদেশ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নেতিবাচক তাঁরবার্তা পাঠানো হয়।

শুধু তাই নয়, তারেক রহমান এবং কোকোর ব্যাপারে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম কারণ ইফতেখারুজ্জামানেরা।

এই ছয় বছরের টিআই’র খতিয়ান দেখলে দেখা যায় বাংলাদেশের স্কোরে উন্নতি হয় ১.৬ (বর্তমান স্কেলে ১৬) পয়েন্ট। বাংলাদেশ দুর্নীতি কমিয়ে এনেছে, তথা বাংলাদেশে ২০০০ সালের তুলনায় ২০০৬ সালে দুর্নীতি কম হচ্ছে এমন মত প্রকাশ করে ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। অন্তত তাদের প্রতিবেদনের স্কোর এবং অবস্থান তাই নির্দেশ করে।

তবে বাংলাদেশের অতি উৎসাহী একটি শ্রেণী ঠিকভাবে রিপোর্ট না দেখেই বিভিন্ন মন্তব্য করে থাকেন যা অনভিপ্রেত। টিআই’র রিপোর্টে শুধুই একটা দেশের অবস্থান দেয়া থাকে না; একই সাথে সেই দেশের গত বছরের অবস্থান, দুর্নীতির ক্ষেত্রে দেশটির স্কোর- এগুলোও থাকে, যা অনেকেই খেয়াল করেন না। করলে অবশ্যই বুঝতেন বাংলাদেশ কিভাবে দুর্নীতি কমে এসেছিল।

এরপর দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী ক্ষমতা নেয় সেনা সমর্থিত সরকার। এই সরকার দুর্নীতি দমনের নামে বেশ কিছু অভিযান চালায়। তবে এই সকল অভিযানের একটা বড় অংশই ছিল লোকদেখানো। এই সময় দুর্নীতির তেমন কোন হেরফের ঘটেনি। বরং জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশের স্কোর বৃদ্ধির যে ধারা বজায় ছিল তাও থেমে যায়। জোট সরকারের শেষ বছরের স্কোর ২.০ থেকে এক দশমিক পয়েন্টও বাড়েনি ২০০৭ সালের টিআই’র দুর্নীতির ধারণাসূচকে। যেখানে ছিল সেখানেই থাকে।

উলটো সেনা সমর্থিত সেই সরকারের সময় ব্যবসায়ীদের ধরে এনে চাঁদাবাজির সাথেও জড়িয়ে পড়ে অনেক সেনা কর্মকর্তা। দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক কর্মযজ্ঞের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ২০০৮ সালের টিআই’র সূচকে বাংলাদেশ মাত্র ০.১ শতাংশ যোগ করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবী করে তখন সেনাদের একাংশ দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিল। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালের এগারোই জানুয়ারির পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুবছরের শাসনামলে সশস্ত্র বাহিনীর একাংশ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অর্থ ও সম্পদ অর্জন করে এবং গণমাধ্যমের ওপরও তারা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

এরপর ক্ষমতা নেয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। মহাজোট মন্ত্রীসভার অধীনে প্রথম বছর যথেষ্ট ভালো কাটে বাংলাদেশের। এছাড়া ঐ বছর কিংবা তার পরের বছরও কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা যায়নি। এছাড়া বড় ধরণের দুর্নীতির অভিযোগও ওঠেনি। যার প্রভাব পড়ে টিআই’র সূচকেও। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের স্কোর বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২.৪ এ (বর্তমান স্কেলে ২৪)।

পরের বছর, ২০১০ সালেও অবশ্য এই স্কোরের কোন পরিবর্তন হয়নি। যদিও তেমন কোন বড় ঘটনা ঘটেনি। কিংবা সরকারও কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়নি নিজেদের দুর্নীতির মামলাগুলো প্রত্যাহার করা ছাড়া।

২০১১ সালে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২.৭, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। তবে ২০১১ সালে কিছু মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা বাদে দুদক তেমন কোন কাজই করেনি। তবে উল্লেখ্য যে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-সাংসদের বিরুদ্ধে এই বছরে অভিযোগ উঠতে থাকে। এদের কয়েকজনকেই দুদক তলব করে।

২০১২ সাল ছিল এক বোমা ফাটার বছর। একের পর এক দুর্নীতি উন্মোচিত হতে থাকে। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দেয় বিশ্বব্যাংক। বের হতে থাকে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারী। যার সামান্য প্রভাব পড়ে টিআই’র সূচকেও। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ধারণা সূচকে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায়বাংলাদেশের অবস্থান ২০১১ সালের মতো ২০১২ সালেও ১৩তম অবস্থানে থাকলেও কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশেরতালিকায় (উচ্চক্রমে) বাংলাদেশের অবস্থান ২৪ ধাপ পিছিয়েছে। স্কোর কমে দাঁড়ায় ২.৬-এ, বর্তমান স্কেলে ২৬।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং ভীতিকর বিষয় হচ্ছে গত প্রায় এক যুগের মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশের স্কোরে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেল। যার অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ যেভাবে গত এক যুগে ধীরে ধীরে হলেও দুর্নীতি কমিয়ে আনছিল তা এই বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় এই অবস্থা আরও হতাশাজনক।

এক যুগের মধ্যে সূচকে বাংলাদেশের প্রথম পয়েন্ট খোয়ানো

এক যুগের মধ্যে সূচকে বাংলাদেশের প্রথম পয়েন্ট খোয়ানো

এ অবস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন,
এই অবস্থান প্রমাণ করে, গত বছরের তুলনায় দুর্নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থার অবনতি হয়েছে।বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতির কারণ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা লিখিত মূল্যায়নে বলা হয়, দুর্নীতি দমনে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ক্রমবর্ধমান ঘাটতি, পদ্মা সেতু, রেলওয়ে কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজার, হলমার্ক কেলেঙ্কারির মতো বহুল আলোচিত দুর্নীতির অভিযোগ, ক্ষমতাবানদের নির্বিচারে জমি ও নদীর জলাশয় দখল, ক্ষমতাশালীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ না করা, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা হ্রাসের উদ্যোগ, উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতির ব্যাপারে দুদকের বিতর্কিত ভূমিকা, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাপকসংখ্যক ফৌজদারি ও দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার, বয়কট ও স্বার্থের দ্বন্দ্বে জর্জরিত সংসদ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর রাজনীতিকীকরণ, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রাখা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা দুর্বল থেকে দুর্বলতর হওয়ার ঘটনা সার্বিক সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এক যুগে বাংলাদেশের স্কোরের তুলনাচিত্র

এক যুগে বাংলাদেশের স্কোরের তুলনাচিত্র

সার্বিক বিবেচনায় দেখা যায় জোট সরকার যেখানে স্কোরের হিসেবে ১.৬ বা বর্তমান স্কেলে ১৬ উন্নতি করেছিল, মহাজোট সরকার করেছে মাত্র ০.৫ বা বর্তমান স্কেলে ৫ পয়েন্ট।
তাই দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের গান যারা শোনায় তাদের জন্যে একটাই কথা। আপনারা দুর্নীতি করে স্কোর কুয়ার মধ্যে ফেলে গেছিলেন। কোন কিছু কুয়াতে ফেলা যত সহজ তোলা তত সহজ না। যা এখন সম্ভবত হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। কারা আসল চ্যাম্পিয়ন তাও এখন বোঝা যাচ্ছে।
কটা কথা মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশ তথা টিআই’র ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্কোর আওয়ামী লীগেরই কীর্তিস্তম্ভ।

একধাপ এগিয়ে এ দলঃ বি দলের করনীয় কি?

132017991_101n

By Shikin Aman      পূর্ববর্তী সূত্রঃ http://shikinaman.wordpress.com/2013/11/03/strategy2/

সরকারী দল হওয়ার সুবাদে এ দলের কিছু ইনহেরেন্ট সুবিধা থাকারই কথা, এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে দলটি তার এই সুবিধাকে ম্যাক্সিমাইজ করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, মিডিয়া ও বিচার বিভাগের উপর প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রন এর বহিঃপ্রকাশ। তাছাড়া ধারণা করা যায় যে জেলা প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের উপর তাদের যথেষ্ট আস্থা আছে, যা তাদেরকে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের সময় সাহায্য করবে। তারা নিজেদের দুর্বলতাগুলোকে জনগণের দৃষ্টি ও বিরোধীদের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য একটি সমন্বিত ষ্ট্র্যটেজি নিয়েছে যা ইতিমধ্যে তাদেরকে একটি নিরাপত্তাবোধ দিয়েছে। অপরদিকে বি দলকে তারা চতুর্মখী আক্রমনের মাধ্যমে বিপর্যস্ত করে রেখেছে (লিস্ট) যার ফলে বি দল অবিরাম হরতাল ছাড়া আর কিছু করণীয় খুজে পাচ্ছেনা। এ দল পরিকল্পনায় একধাপ এগিয়ে থাকায় হরতালেও তারা বি দলকে ব্যাকফুটে নেয়ার একটি কার্যকর কৌশল বের করে ফেলেছে। তার সাথে তারা পরবর্তী একটি ধাপের জন্য জাল পেতে চলেছে, যেটার লক্ষ্য হতে পারে বি দলের একটি অংশকে পাতানো নির্বাচনে অংশ নেয়ানো। আজকের লেখাতে এই দুইটি বিষয়ে আলোচনা করবো।

হরতাল প্রসংগঃ

শান্তিপূর্ণ হরতাল বলে কোন হরতাল কালচার বাংলাদেশে নেইঃ এটা নিয়ে কোন দ্বিমত করার অবকাশ নাই। এখনকার পরিস্থিতিতে পিকেটিং মানেই পুলিশের বা এ দলীয় ক্যাডারদের সাথে মারামারি অবধারিত। পুলিশ আসলে নিজ দ্বায়িত্ব পালন করছে মাত্র। এ দলীয় ক্যাডাররা করছে মাঠ দখলের চেষ্টা। এক্ষেত্রে পুলিস যে কাজটি আইনসঙ্গতভাবে করছেনা সেটা হচ্ছে, এ দলের সমর্থকরা অস্ত্রধারী হয়েও পুলিশের কাছ থেকে কোন বাধা পাচ্ছেনা। দ্বিতিয়ত কোথাও কোথাও পুলিশ অপ্রয়োজনে গুলি করছে। খালী হাতে থাকা জনতার উপর গুলিবর্ষণ পুলিস কোন আইন দিয়ে বৈধ করতে পারবেনা। উপরস্থ কর্মকর্তার আদেশে হলেও এটা বৈধ আদেশ হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক না। কিন্তু  বেআইনি কাজটাকে এ দল এক ঢিলে দুই পাখি মারতে ব্যবহার করছে। একদিকে এটা দ্বারা বি দলের আন্দোলনকে শক্ত বাধার মুখে ফেলে দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের একটা বাকশালী ড্রাগ দেয়া হচ্ছে। ড্রাগ বললাম কারণ সুস্থমাথায় নিজের দেশের লোকের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো সম্ভব না (দলীয় ক্যাডার থেকে পুলিস হওয়া ব্যতীত), অন্যদিকে একবার খুন করার পরে একটা বোধ কাজ করে যে এই কাজের জন্য আবার বিচার হবেনা তো? তখনই না চাইলেও বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখার একটা প্রবণতা চলে আসবে। বুদ্ধিমান এ দলের তো লাভই লাভ।

দ্বিতীয় ইস্যু হচ্ছে পুড়িয়ে বা বোমা মেরে সাধারণ মানুষকে হত্যা। এইটাও সাধারণ সুস্থমস্তিষ্কের লোকের কাজ হতে পারেনা। সাধারণ মানুষের সম্পত্তির ক্ষতিও মেনে নেওয়া যায়না।এটা চললে বি দলের জনমতে ক্ষয় ধরবে। বিশ্বজিত হত্যার পরে ছাত্রলিগের ইমেজের একটা বড় ক্ষতি হয়েছিল। লক্ষ্য করে থাকবেন, মনির হত্যার পর কিছু এ দলের নুন খাওয়া ও অন্ধভক্ত কেন এটাকে বিশ্বজিত হত্যার সাথে তুলনা করা হচ্ছেনা এই নিয়ে অনেক কান্নাকাটি করেছে। এই দুইটা সাধারণের চোখে সমান হয়নি কারণ প্রথম হত্যাকান্ডটি চিনহিত এ দলীয় ক্যাডার বাহিনী দ্বারা টিভি ক্যামেরার সামনে করা খুন। আর দ্বিতিয়টি হরতালে গাড়িতে আগুন দেয়ার সময় সঙ্ঘটিত  হত্যাকান্ড (ইচ্ছাকৃত হত্যা কিনা নিশ্চিত না)।

এ হত্যাকান্ডের হোতারা কোন দলের চিনহিত নেতা নয়। সুতরং ঢালাওভাবে এর দায় কারো উপরে দেয়া সম্ভব না। কিন্তু এ দল ইতোমধ্যে দলীয় মিডিয়া ও অনলাইন প্রপাগান্ডার মাধ্যমে একে সম্ভব হলে ম্যাডামের প্রত্যক্ষ আদেশে সংঘটিত হত্যা প্রমাণ করতে চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের বিপদ এখানেই শেষ না। সাধারণের লাশের রাজনীতির ধারা বলে, এখন বি দলকে কেন্দ্রীয় নির্দেশ দিয়েও এই ধরণের হত্যা রুখতে বেগ পেতে হবে। এখন প্রয়োজনে এ দলের লোক (নিজেরা মেরে হলেও) এই ধারা বজায় রাখবে, কারণ এতে বি দলের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ জনগণ এখানে শুধুই খেলার পুতুল।

সুতরাং বি দলের এই অবস্থায় করণীয় কি?

প্রথমেই কেন্ত্রীয়ভাবে এই ধরণের হত্যাকান্ডের প্রতি দলের অসমর্থন ও নিন্দা জ্ঞাপন করে নিজ দলের সমর্থকদের এ জাতীয় কাজ থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দিতে হবে। দলের মধ্যে যারা আদেশ পাওয়ার পরও এ কাজে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করবে, তাদেরকে হাতে নাতে ধরে প্রয়োজনে পুলিশে সমর্পন করতে হবে, কারণ তারা আসলে দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে (হয়ত এ দলের টাকার বিনিময়ে)।

হরতাল চলাকালীন পয়েন্টে পয়েন্টে নিজস্ব ক্যামেরাম্যান রাখতে হবে। যদি অন্য কোন দলের লোক এই ধরনের কাজ করে, তাদের ছবি তুলে রাখতে হবে। পুলিসের মাত্রাতিরিক্ত শক্তিপ্রয়গের প্রমাণ ও কেন্ত্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তবে একে সূক্ষভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে যাতে এ দলের এক ঢিলে দুই পাখী মারার (উপরে বর্ণিত) নীতি কার্যকর না হয়। সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ধংস যথাসম্ভব এড়াতে হবে। টায়ার পোড়ানো বা অবস্থান দখলের মাধ্যমে হরতাল কার্যকর করার চেস্টা করা যেতে পারে। ভাংচুর এর মাধ্যমে নয়। এ দলের ক্যাডারদের রাজপথ থেকে দূরে রাখতে পরলে এম্নিতেই হরতাল সফল ও কার্যকর হবে। বি দল তার সমস্ত শরিকদের নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করলেই এটা সম্ভব। এ দল গ্রেফতার ও নির্যাতনের শংকা তৈরি করে বি দলের নেতাদের রাজপথে থাকতে দিবেনা, আর পাশাপাশি পোষা মিডিয়াতে সর্বশক্তিতে প্রচার চালাবে যে বি দলের নেতারা মাঠে থাকেনা। আজকের দিনে রেগুলার, অনলাইন সব পোষা লেখকদের লেখা ও ষ্ট্যাটাস এ এর প্রমাণ পাবেন। এতে বি দলের কর্মীদের নেতাদের উপর আস্থা হারালে চলবে না। বরং নেতাদের ছিনিয়ে নিতে আসা যে কাউকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করেই এর জবাব দেয়া সম্ভব। এর ফলে সারা দেশের কর্মীদের কাছে পসিটিভ মেসেজ পৌছে যাবে।

নির্বাচন প্রসংগঃ

নির্বাচনে বি দলকে না নিতে পারলে সে নির্বাচন আন্তর্জাতিক সিকৃতি পাবেনা, এটা সবাই বূঝে। সুতরাং এ দল এখন যেসব কাজ করছে তার অন্যতম লক্ষ্য থাকবে বি দলকে নির্বাচনে নেয়া। সম্ভব না হলে বি দলের বর্তমান বা পুরাতন কিছু নেতাকে দল ভাঙ্গিয়ে বি দল হিসেবে নির্বাচনে নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। যেহেতু সংসদ চলবে, এক্ষেত্রে কোন নির্বাচনী আইন বা সংবিধান (!)  সংশোধণ প্রয়োজন হলে সেটাও করা হবে! অবাক হওয়ার আসলে আর কোন স্কোপ নাই। প্রয়োজনে কোর্ট আদেশ দিবে দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে বি দলের আগ্রহী অংশকে নির্বাচনে অংশ নিতে। এই মগের মুল্লকে কিছুই অসম্ভব না।

ব্যাপারটা বি দলের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল ও হতে পারে। যাতে চাপে পরে বি দল সাজানো নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে বি দল ইতোমধ্যে তাদের তিন ধাপের কৌশল নির্ধারণ করেছে। তফশীলের আগে, তফশীলের পরে আর নির্বাচনের দিন ও তার পরেঃ এই তার তিন ধাপ। আমি আশা করব বি দল এর বাইরেও কিছু কন্টিনজেন্সি ষ্ট্র্যটেজি নির্ধারণ করেছে। সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে নির্বাচন প্রতিহত করার কৌশল কি হবে,  কোন নেতা দলত্যাগের চেষ্টা করলে তার জন্য করণীয় কি, নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি কি ইত্যাদি নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি কুটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ডাঃ ইউনুসের প্রভাবকে যতটা সম্ভব দেশের স্বার্থে পসিটিভলি ব্যবহার করা যেতে পারে।

শেষকথাঃ

বি দলের জন্য এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের সমর্থন।  দল এতে ভাঙ্গন ধরানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। বি দলকে যেকোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে এদিকে লক্ষ রাখতে হবে। JSC  পরীক্ষা, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এগুলো ভুলে গেলে চলবে না। মানুষের কাছে নিজেদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা (ইস্তেহার) তুলে ধরতে হবে। প্রিন্ট, ভিজুয়াল ও অনলাইন মিডিয়াতে সমন্বিতভাবে নিজেদের সুস্থ মনোভাব ও দেশের জন্য সুন্দর পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে থানায় থানায় প্রিন্টিং প্রেস বা বিকল্প প্রিন্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের মনোভাবকে পৌছে হবে। মানূষ পরিবর্তন চায়। তাদেরকে সেই স্বপ্নের পথ দেখাতে হবে। এ ব্যাপারে পরে আবার লিখার আশা রইলো।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও একটি দলের ষ্ট্র্যাটেজিক এনালাইসিস (পর্ব-২ এ দলের ষ্ট্র্যাটেজি ) by bdmylove

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও একটি দলের ষ্ট্র্যাটেজিক এনালাইসিস (পর্ব-২ঃ এ দলের ষ্ট্র্যাটেজি )

ভূমিকা

ষ্ট্র্যাটেজি এনালাইসিস সম্পর্কে আগের পর্বে (পর্ব-১) যে ধারণা আমরা পেয়েছি, এই পর্বে তাকে আমরা এ দলের ষ্ট্র্যাটেজি বোঝার কাজে ব্যাবহার করবো। এ দল সরকারী দল হওয়াতে সে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজের সুবিধামত ব্যাবহারের সুযোগ পেয়েছে। তাই তাদের ষ্ট্র্যাটেজি ব্যাপকভাবে অফেন্সিভ এবং বহুমুখী। তারা রাষ্ট্রের সকল নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য পাওয়ার কারণে তাদের কাছে সম্ভাব্য সকল তথ্য ও রিসোর্স আছে যার মাধ্যমে তারা ষ্ট্র্যাটেজি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সহযে করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের এই বহুমূখী রিসোর্স থাকার কারণে তারা কিছু কার্যক্রম লোকচক্ষুর আড়ালে করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু আশা করা যায় সঠিক এনালাইসিস করা হলে আমরা সেগুলো সনাক্ত করতে পারবো।

মূলমন্ত্র

অফেন্সিভ ষ্ট্র্যাটেজির মূলমন্ত্র হচ্ছে নিজের CG (Centre of Gravity) কে প্রতিপক্ষের আক্রমন থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষের CG কে ধ্বংস করা। CG কে ধ্বংস করার মাধ্যম হচ্ছে প্রতিপক্ষের CC (Critical Capability) গুলোকে আক্রমন করা। কিন্তু যেহেতু প্রতিপক্ষও তার CG কে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর থাকবে তাই খুজে বের করতে হবে প্রতিপক্ষের CV (Critical Vulnerabilities), যেগুলো তার CC গুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দুর্বলতা কিংবা যেগুলোকে বিভিন্ন কারণে রক্ষা করা প্রতিপক্ষের সাধ্যের বাইরে। এরপর সব ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে সেগুলোকে ধ্বংস, নিস্তেজ বা দুর্বল করতে হবে।

chess

এ ও বি দলের CG এনালাইসিস

          CG এনালাইসিস একটা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া যা সাধারণত একটা অভিজ্ঞ এনালাইসিস টিমের মাধ্যমে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সম্পন্ন হয়। আমাদের জন্য সুখবর হচ্ছে আমরা ইতিমধ্যে এই দুই দলের কার্যক্রম থেকে তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়েছি। অন্যথায় প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম থেকে আমরা কনফিউজড হতাম নিশ্চিত। উপস্থাপনার সুবিধার্থে এই এনালাইসিসগুলো ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। প্রথমেই দেখা যাক এই দুই দলের কাঙ্খিত এন্ডস্টেট (Desired End State) ও CG কি হতে পারেঃ

দল

এন্ডস্টেট

CG

পুনরায় নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠণ জনগণের ম্যান্ডেট/ নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন
বি নির্বাচনে সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া জনগনের মতামত/সাপোর্ট/ম্যান্ডেট

এখানে আমরা যতটা নিশ্চিতভাবে এই CG নির্ধারণ করতে পারছি তা আজকে থেকে চার বছর আগে সম্ভব হতোনা। এইটা আসলে একটা পোস্ট এনালাইসিস। লক্ষ্যণীয় যে এ দলের প্রাথমিক CG ও সভবত ছিল জনগণের ম্যান্ডেট, যা এক পর্যায়ে তাদের বিভিন্ন কার্যকলাপের কারনে অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পরায় (জরিপের ফলাফলে)তারা CG বদল করতে বাধ্য হয়। এখন আসুন দেখা যাক এই CG গুলোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রধাণ CC (Critical Capability) গুলো কি কিঃ

এ দল (CG- নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন)

বি দল (CG-জনগনের ম্যান্ডেট)

নেত্রীর অধীনে সর্বদলীয় সরকার দলের ইমেজ
প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ন্ত্রন বি-জা জোট
পুলিশের আনুগত্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার
অনুগত ও দুর্বল নির্বাচন কমিশন দলের সাংগঠনিক ক্ষমতা
মিডিয়ার উপর নিয়ন্ত্রন প্রচার ক্ষমতা/ মিডিয়া সমর্থন
ভবিষ্যত নেতৃত্বের বিকাশ (**) যুব নেতৃত্ব (তারেক)
গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান JSbr এর পেশীশক্তি
কূটনৈতিক মহলের সমর্থন কূটনৈতিক মহলের সমর্থন
ভারতের সমর্থন অর্থনৈতিক সাপোর্ট
চেতনা ব্যাবসা প্রশাসনে সুপ্ত সিম্পেথাইজার
সামরিক বাহিনীর সমর্থন/নীরবতা শেষ পর্যায়ে সরকারী বাহিনীগুলোর সমর্থন

উপরের তালিকাটি একান্তই আমার চিন্তাপ্রসূত এবং আমার ধারণা আপনাদের অনেকে আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু CC লিস্ট করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু তা আমাদের এই সিস্টেমেটিক বিশ্লেষণকে ব্যাহত করবে না।

যেহেতু, এই পর্বে আমরা এ দলের সম্ভাব্য  ষ্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলোচনা করছি, তাই আমরা এই পর্যায়ে বি দলের CC গুলোকে বিশ্লেষণ করে এর দুর্বলতাগুলো (CV) চিনহিত করবো। বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার জন্য এখানে একটা ধাপ এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা হলো এই CC গুলোর CR (Critical Requirements) বিশ্লেষণ। নিচে বি দলের CV এনালাইসিস ও  সম্ভাব্য ষ্ট্র্যাটেজি দেয়া হলো। এই তালিকার সাথেও অনেকে একমত না হতেই পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার মতামত জানাবেন। (এই ধাপে আপনাকে এ দলের সমর্থকের/নীতিনির্ধারকের মত করে চিন্তা করতে হবে, তবেই আপনি সেই দলের কর্মকান্ড ব্যাখ্যা করতে পারবেন। কিছু কিছু CV কল্পনাপ্রসূত হতে হবে, যা গোয়েবলসের প্রপাগান্ডা নীতি অনুসারে জনগণের মনে ঢুকাতে হবে)ঃ

 

বি দলের CV এনালাইসিস ও এ দলের সম্ভাব্য ষ্ট্র্যাটেজি

CC (Critical Capabilities)

CV (Critical Vulnerabilities)

এ দলের  সম্ভাব্য ষ্ট্র্যাটেজি

দলের ইমেজ নেত্রীর ইমেজ

  • পুথিগত বিদ্যার কমতি
  • ৭১ এ অবস্থান
  • সৌন্দর্য সচেতনতা

যুবদল/তারেকের ইমেজ

  • বিগত আমলের দুর্নীতি
  • বিভিন্ন মামলা
  • উচ্ছৃংখল জীবন
  • বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক

অন্যান্য টপ নেতাদের ইমেজ

  • বিগত আমলের দুর্নীতি
  • মাঠপর্যায়ের আন্দোলনে অনুপুস্থিতি
  • দল বদলের ইতিহাস
  • ৭১ এ ভূমিকা
  • প্রথাগত মিডিয়ায় অপপ্রচার
  • অপ্রথাগত/ সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার/ প্রপাগান্ডা
  • পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসকে নিজস্ব সুবিধা মতো বদল
  • তরুণ প্রজন্মকে চেতনা ব্যাবসায় উদ্বুদ্ধ করা
  • শেষ মুহুর্তে তারেকের মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে বিতর্কিত করা
  • রাজপথে পুলিশ দ্বারা অসম্মান করে (*ফারুক)নেতাদের ইমেজ নষ্ট করা
  • নেতাদের মাঠে উপস্থিত হতে না দেয়া
  • নেতাদের দল বদলে/দলের বিরুদ্ধে বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ/পুরষ্কৃত করা
  • শাহবাগ টাইপ আন্দোলন করে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা
বি-জা জোট জমায়েত দলের ইমেজ

  • ৭১ এ ভূমিকা
  • নেতাদের যুদ্ধাপরাধ
  • শিবিরের তান্ডব/ রগকাটা রাজনীতি
  • বোমাবাজি সংশ্লিষ্টতা

বি দলের অবস্থান

  • জমায়েতের আনুগত্য
  • ৭১ সম্পর্কিত (যুদ্ধাপরাধ) অবস্থান
  • তথাকথিত চেতনার অভাব
  • যুদ্ধাপরাধ মামলার পদ্ধতি ও রায় নিয়ন্ত্রন করতে জনমত তৈরি করা
  • প্রথাগত এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচার/অপপ্রচার/ প্রপাগান্ডা
  • নেতাদের বোমাবাজি মামলায় জড়ানো
  • নির্বাচনে জমায়েতের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা
  • শেষ মুহুর্তে সকল জমায়েত নেতাদের নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা
  • নির্বাচনী সংলাপের সময় ভিজুয়াল মিডিয়াতে বি দলকে জমায়েতের সমর্থন নিয়ে বিব্রত করা
নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার
  • নিরপেক্ষ লোকের অভাব
  • অনির্বাচিত সরকারের কালো(!) অধ্যায় (মঈন-ফখরুল)
  • তত্তাবধায়ক সরকার আমলে রাজনীতিবিদদের দুর্ভোগ
  • সংবিধানের সীমাবদ্ধতা
  • ডাঃ ইউনুসকে বিতর্কিত করা
  • সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা
  • উন্নত দেশের নির্বাচনের উদাহরণ
  • রাজনীতিবিদদের সম্ভাব্য দুর্ভোগ নিয়ে সচেতন করা
  • তৃতীয় শক্তির জুজু
  • (আগ্রহ প্রকাশকারী)সম্মানিত ব্যক্তিদের বিতর্কিত করা
দলের সাংগঠনিক ক্ষমতা
  • তৃণমূল সংগঠনের সদস্যদের নিরাপত্তা
  • তৃণমূল নেতাদের মামলা সংশ্লিষ্টতা
  • তৃণমূল নেতাদের স্থাবর সম্পদের নিরাপত্তা
  • প্রধাণ নেতাদের এলাকায় অনুপস্থিতি
  • তারেকের অনুপস্থিতি
  • নেতৃত্তের উপর অনাস্থা
  • পুলিশ/মামলার মাধ্যমে হয়রানী
  • মামলার রায় ঘোষণা করে ফেরারী করা
  • নেতাদের স্থাবর সম্পত্তি জবর দখল করে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা
  • প্রধাণ নেতাদের এলাকায় গমনকে অনিরাপদ করা
  • নেতাদের নামে ইচ্ছাকৃত অনুপস্থিতির অপপ্রচার/ প্রপাগান্ডা
  • তারেকের সাথে যোগাযোগ নিয়ন্ত্রন
  • শেষ সময়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নিরাপত্তা/ টেন্ডার ভাগাভাগির আশ্বাস দিয়ে নিস্ক্রীয় করা
প্রচার ক্ষমতা/ মিডিয়া সমর্থন
  • পৃষ্ঠপোষকতার অভাব
  • সরকারী বিজ্ঞাপন
  • মামলা সংশ্লিষ্টতা
  • বিতর্কিত মিডিয়া আইন পাশ
  • বিরোধী মিডিয়া নিষিদ্ধ করা
  • মিডিয়া মালিকদের জেল/জরিমানা/ হয়রানী
  • সকল বিরোধী মিডিয়াকে হয়রানী
  • সামাজিক মাধ্যমে কঠোর নিয়ন্ত্রন
যুব নেতৃত্ব (তারেক)
  • মামলা সংশ্লিষ্টতা
  • দেশে বিদেশে ইমেজ
  • নির্বাচনের আগে অনুপস্থিতি
  • তারেকের মামলার রায়
  • বিদেশী সংস্থা কতৃক তারেককে হয়রানীর চেষ্টা
  • তারককে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত দেশে অবাঞ্চিত করা
JSbr এর পেশীশক্তি
  • মামলা সংশ্লিষ্টতা
  • JSbr এর ইমেজ
  • জংগী সংশ্লিষ্টতা
  • মামলা ও গ্রেফতারের মাধ্যমে হয়রানী
  • রগকাটা ইমেজ প্রচার/ প্রপাগান্ডা
  • JSbr কে বোমাবাজি সংশ্লিষ্ট প্রমাণ করা
  • JSbr কে নিষিদ্ধ সংগঠণ ঘোষণা করা
কূটনৈতিক মহলের সমর্থন
  • বি দলের ইসলামপন্থী ইমেজ
  • ভারত বিরোধী ইমেজ
  • জংগী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
  • কুটনৈতিকদের নিরাপত্তা
  • পশ্চিমাবিরোধীতার জুজু
  • তালেবান রাষ্ট্র সৃষ্টির জুজু
  • ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য লাভের চেষ্টা
  • নেতাদের সাথে আন্তর্জাতিক জংগীদের যোগাযোগ প্রমণের চেষ্টা
  • কূটনৈতিকদের উপর আক্রমন করে দায়ভার বিরোধীদের উপর চাপানো
অর্থনৈতিক সাপোর্ট
  • বি দল সমর্থক ব্যাবসায়ীদের নিরাপত্তা
  • দেশী/ বিদেশি একাউন্ট
  • মধ্যপ্রাচ্য থেকে গোপন সাহায্য সম্ভাবনা
  • বি দল সমর্থক ব্যাবসায়ীদের প্রকাশ্যে ও গোপনে পুলিশী হয়রানী
  • সহায়তাকারীদের একাউন্ট জব্দ
  • বিদেশী সাহায্য মনিটর ও সম্ভব হলে জংগী সংশ্লিষ্ট প্রমান
প্রশাসনে সুপ্ত সিম্পেথাইজার
  • চাকুরী নিরাপত্তা
  • গুরূত্বপূর্ণ পদে অবস্থান
  • প্রশাসনে বি দলের সমর্থনকারীদের সনাক্ত করে সাইডলাইন করা
  • সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিজস্ব লোক বসানো
  • বিরোধী মতকে দৃষ্টান্তমূলকভাবে দমন
শেষ পর্যায়ে সরকারী বাহিনীগুলোর সমর্থন
  • গুরুত্বপূর্ণ পদ
  • আর্থিক চাহিদা
  • পরবর্তী আমলে সুবিধাপ্রাপ্তি
  • আইনগত জটিলতা
  • সকল গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজস্ব লোক বসানো
  • প্রমোশন এর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে ফেভার না করে, পরবর্তী মেয়াদে্র স্বপ্ন/ মূলা দেখানো
  • পুলিশ/ প্রশাসনকে বেআইনী কাজের ফাদে ফেলে তাদের নামে মামলার হুমকী সৃষ্টি করা, যাতে তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এ দলের পুনঃর্নিবাচন সমর্থন করতে বাধ্য হয়

উপরের ছকটিতে এ দলের সম্ভাব্য ষ্ট্র্যাটেজিগুলো সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে নির্ধারনের একটা একাডেমিক প্রয়াস নেয়া হয়েছে। আগেই বলেছি এই ধরণের কাজের জন্য অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারকদের একটি দল দীর্ঘসময় নিয়ে কাজ করে এবং পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে তাকে আপডেট করে।  বোল্ড লেখা দিয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যত ষ্ট্র্যাটেজি বোঝানো হয়েছে। এগুলো ছাড়াও দলটি তাদের নিজস্ব CC (Critical Capability) কে রক্ষার প্রয়োজনে কিছু পদক্ষেপ নিবে, যা আলোচনা সংক্ষিপ্ত করার জন্য এড়িয়ে যাওয়া হলো।

পরিশিষ্ট

এ দল রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বি দলের প্রায় সকল দুর্বলতায়  ইতিমদ্ধে আঘাত এনেছে। এ কারণেই ব্যাপক জনমত থাকা সত্ত্বেও বি দলকে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রন পেতে অসম্ভব বেগ পেতে হচ্ছে। বি দলের নীতিনির্ধারকদের সম্ভবত বিভিন্ন মামলা, কার্যালয়ে যেতে বাধা ও হয়রানীর মাধ্যমে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিতে প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে । ষ্ট্র্যাটেজির ভাষায় একে বলে প্রতিপক্ষের ডিশিসন সাইকেল ভেঙ্গে দেওয়া। এ দল এক্ষেত্রে অসাধারণ পারদর্শিতা দেখিয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস। তবে বি দলের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগনের কাছে তাদের ত্তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীর গ্রহণযোগ্যতা। তাই তারা ষ্ট্র্যাটেজির দৌড়ে একটু পিছিয়ে থাকলেও এখনও ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ আছে বৈকি!

Blogger Wahiduzzaman – Release him Immediately

20131107-072315.jpg

This is Bangladesh of 2013. This is Prime Minister Sheikh Hasina’s Bangladesh. In this Bangladesh, even if you chop a local government elected leader Sanaullah Babu to death in broad daylight under rolling TV cameras you will not be brought to justice, you will keep terrorizing people – as long as you are a supporter of prime Ministers party. In this Bangladesh you can commit dozens of most brutal horrific murders, you can cut your opposition politician Nurul Islam into pieces before dumping in river Meghna, you will special presidential pardon to get out of jail – as long as you have the blessings of Prime Minister Sheikh Hasina. In this Bangladesh in front of live news TV camera, a poor Biswajit may be stabbed hundreds of times to death – but the known perpetrators will remain out of reach of any law enforcement – only because the the killers reportedly are followers of Prime Minster Sheikh Hasina’s ideology.

And this is the same country University teacher and blogger Wahiduzzaman will not get a bail on a silly false case and will land in jail – only because he dared speak up in social media against injustices of the government – only because he dared point out the irreparable harm Rampal power plant will bring upon Bangladesh – only because through his writings, he dared expose the extreme injustice imposed the people of Bangladesh by the tyrannical regime of Sheikh Hasina.

Wahiduzzaman is a great geography teacher. He is an environmental activist as well. And more importantly – he is a very popular social media activist and blogger. He is a Bangladeshi nationalist. Through his writings – he brings forward the concerns of the silent and voiceless majority of Bangladesh.

In the past when bloggers representing less than 5% peoples’ views, bloggers disparaging popular faiths, religions were subject to state persecution – the loud progressive class, rightly so, exploded in a chorus of protest. That is the way it should be. Even in farther past when media activist came under the ire of the military regime that preceded this regime, all media and online activists protested in unison. Ideology, party affiliation, faith gaps did not stand in the course of the protests.

But today when Wahiduzzaman spends his first night on the dirty concrete floor of Dhaka central jail, the world is very silent. Painfully silent.

Our progressive class is now dominated by a bunch of Talibans without AK 47. While these so called progressive Talibans can be most lethal, linguistically violent and abusive towards anyone working or writing in favor of any ideology outside of their narrow and petty political standing – when it comes to the writings and commentaries of others – these so called progressive are more intolerant than even the Talibans. That’s why, when Wahiduzzaman lands in in jail, there is hardly any chatter of protests in the social media world.

While the whole world can remain silent about the state oppression and unlawful incarceration of Wahiduzzaman, we cannot keep silent about it.
Wahiduzzaman is one of our own. He is one of the core Nuraldeen bloggers. He is our friend. We demand, in the strongest terms, immediate and unconditional release of Wahiduzzaman.

Because Wahiduzzaman speaks for the oppressed and voiceless silent majority, he is the lonely warrior today. Hardly there is any strong voice out there to speak for him. All the voices who should have spoken out are silenced with state imposed fear tactic, red eye a new draconian law to reign on free cyber activism.

But people fail to recognize one simple fact that if Wahiduzzaman has to land in jail today because he chose not to remain silent and dared criticize anti-people policies of the government – what is the future of a social media activist or blogger under a future government? Where is our constitutionally mandated space for free speech? Or in this new political order all we only have is our right to remain silent?

Wahiduzzaman Apollo – victim of the new war to emancipate Bangladesh

If you are living in Bangladesh and if you are not in Facebook, you probably have not heard about Wahiduzzaman Apollo. He is an unashamedly nationalist activist, aligned with BNP. What is different about him is, he is the part of new generation of activist, who protects their party dogma through an exercise of intellect. He is one of those new generation who does not seek financial dividend in return of their activism.  Wahidujjaman Apollo is not a single person.

A new Bangladesh is emerging in the online space where constantly ideas are expressed, debated and challenged. For one Wahiduzzaman Apollo in support of nationalist movement and BNP there is another Doctor Aiju or Omi Pial in favor of Awami league and the Bengali nationalist movement , who’s name you may not have heard either. There are other, Baki Billah and Parvej Alam who challenges the narrative of both Awami League and BNP, it is unlikely that you have heard their name as well.

The mentioned few are all part of a new generation of online warriors who are trying to portray a new Bangladesh, that is trying to break out of the shackles of old, protected intellectual establishment, which is now settled in their comfort zone and unable to add value to the dynamic narrative of the new Bangladesh that is emerging.

This is a genuine fight of the generation. A new war to be free, definitely not comparable with the liberation war that was fought in 1971 when 3 million lives were lost to give birth to a new nation called Bangladesh but a fresh one to create a new emancipated, open and enlightened Bangladesh that earlier generation has failed to establish.

The new generation of online warriors  operate in the space of Facebook, blogs and other online medias. They have their own followers in tens and thousands, who subscribe to their views. They are constantly debating with each other with their status updates and  each of their words is tested in a space by their followers and opposition as the media allows each person to freely express their minds. So, none can get away with an outright lie as each  word is validated by a huge group of people, who enjoys an absolute freedom of speech in this new medium.
In a country, where all the traditional media has been captured by political elites and their business allies – people are fed with news and debate which eventually protects the standing of the establishment only. So, facebook, blogs and the online space where the small debates take place are the only free space left for people to express their mind. The freedom to write anything is the central tenant that fuels these debates and allows new ideas to flourish.
This freedom is now allowing a new narrative of a Bangladesh which is showing the way forward or building up a space which will show the way forward for the country.

The importance of these small debates cannot be undermined. Shahbag movement, which has fundamentally changed the country for better or worse is a result of this debates on online space. Wahiduzzaman Apollo is one of the catalyst of this new wave.
Government and the current political establishment are aware of this impact. The latest ICT law which has provisions of 7 years jail term without any bail was one of the tool that has been thought out by the political establishment to control this space and curtail the freedom that is enjoyed by these new generation activists.

AKM Wahiduzzaman Apollo, is the first victim of this law. A case were filed against him few weeks back and yesterday AKM Wahiduzzaman Apollo has been put behind bars for his opinion. Wahiduzzaman Apollo is an imperfect man, he is also guilty of selective judgment. But, he is done nothing wrong other than to speak his mind. He has neither preached religious hatred or nor did anything other than saying what is being said by most people-the corruption and the ill doings of the government and the evil nature of the leadership.
It is clear, the establishment which is now headed by Awami League wants to give a signal to the online community to curtail their thoughts and limit their speech and bully them to stop criticizing government. The case filed against Wahiduzzaman Appollo is designed to mime him and other vocal activists to silent them. There is no doubt in anyones mind that, when this establishment will change its leader and BNP will come to power, similar miming of voice will be carried out, as it was done before.
This makes AKM Wahiduzzaman one of the the first victims of the  new war to liberate Bangladesh. A war that is being fought to free Bangladesh from the old establishment which has captured all the power, asset, space and voice and established a narrative which does not state the real voices of people.
This is a fight between evil and the good, the establishment and not haves, the new and old, the real and fake. This is the second liberation war that Bangladesh awaits to free its people from the evil establishment that now controls everything.

We unequivocally condemn the arrest of Wahiduzzaman Apollo.

The old establishment is not aware that, their days are numbered. They are not aware that an arrest of one Wahiduzzaman will give rise to 160 million Wahiduzzaman and government cannot put them all behind bars. There is not enough seats in the jails of Bangladesh to arrest them all.
We demand, that Wahidzzaman Apollo should be freed immediately with an apology else these will snowball into something that the establishment will be totally unable to control.

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ও পুনরুত্থান প্রশ্ন

কানপুরের নানা সাহেব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক বৃত্তিহারা হওয়ার পরপরই কোম্পানি কর্তৃক আরও বেশ কিছু অপমানের সম্মুখীন হলেন। কোম্পানি শাসনকালে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কোন সিদ্ধান্ত মনঃপূত না হলে দেশীয় অকর্মণ্য রাজারা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্রিটেনে কোম্পানির কোর্ট অব ডিরেক্টরসদের সভায় আপিল করতেন।

কানপুরের অসন্তুষ্ট নানা সাহেবও তার প্রতি অবিচারের ফিরিস্তি তুলে ধরতে লন্ডনে একজন প্রতিনিধি পাঠালেন। এই প্রতিনিধি ছিলেন সুদর্শন সুপুরুষ আজিমুল্লাহ খান। এক সময়ের এই পরিচারক কঠোর পরিশ্রম করে ইংরেজি এবং ফারসি ভাষা রপ্ত করেন, নিজেকে সুশিক্ষিত করে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন।

আজিমুল্লাহ খান লন্ডনে কিছুদিন অবস্থান করে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেই উপলব্ধি করতে পারলেন যে কোন আবেদনে-নিবেদনেই তার মনিবের কোন লাভ হবে না। তাই তিনি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনাচক্রে তাঁর সফরকালীন সময়ে তিনি জানতে পারলেন মাল্টায় জারের রুশ সৈন্যদের কাছে ব্রিটিশ-ফরাসি যৌথ বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। এই সংবাদে আজিমুল্লাহ উৎসাহিত বোধ করলেন। তিনি সরাসরি ভারতের জাহাজে না চড়ে কনস্টান্টিপোল গেলেন। সেখান থেকে তিনি গেলেন বর্তমান ইউক্রেনের ক্রিমিয়ায়, রুশ সৈন্যদের দেখতে। তিনি নিরাপদ দুরত্ব থেকে লক্ষ্য করতে লাগলেন রুশদের যুদ্ধ কৌশল, কিভাবে ব্যাটারিগুলো থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়।

কনস্টান্টিপোলে তার সাথে দেখা হয় এক ব্রিটিশ সাংবাদিকের, নাম উইলিয়াম হাওয়ার্ড রাসেল। রাসেলের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে আলাপচারিতা হয়। তাঁর সম্পর্কে রাসেল মন্তব্য করেন, ‘ক্রিমিয়াতে যা ঘটেছে আপন চোখে দেখার এত গভীর আগ্রহ দেখে কি অবাক না হয়ে পারা যায়? একজন ইউরোপবাসীর এরকম কৌতূহল থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু অসামরিক গোত্রের একজন এশিয়বাসীর এ কৌতূহল অস্বাভাবিক নয় কি?’

আজিমুল্লাহ ঘোর নাস্তিক ছিলেন, কোনপ্রকার ধর্মীয় উন্মাদনা থেকে ছিলেন শত ক্রোশ দূরে। তাঁর জ্বলজ্বল চোখে সেদিন যে আগ্রহ খেলা করছিল তা ছিল সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদজাত। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে ব্রিটিশ বাহিনী অজেয় নয়, তাদের হারানো যায়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিল ক্রিমিয়ায় ব্রিটিশ বাহিনীর সেই প্রাথমিক পরাজয়।

আজিমুল্লাহ খানের চোখে যেই আকাঙ্ক্ষা-উন্মাদনা সেদিন দেখা গিয়েছিল, প্রায় একই ধরণের উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল নাইন-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বিশ্বে একটা বড় অংশের মুসলিমদের মধ্যে। অর্থোডক্স মুসলিমরা চিন্তা করতে শুরু করে সুরক্ষিত মার্কিন আকাশসীমার ভেতরে ঢুকে যদি এত ক্ষয়ক্ষতি করা সম্ভব হয়, তবে পৃথিবীর যেকোন দেশের যেকোন স্থানে আঘাত হানা সম্ভব। তাদের এই চিন্তাধারা প্রভাবিত করে তরুণ মুসলিমদেরকেও।

এই চিন্তাধারা যে সমগ্র পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়েছিল তার প্রমাণ পরবর্তীকালে লন্ডনের সেভেন সেভেন বোমা হামলা, ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের বোমা হামলা, মুম্বাইয়ের টুয়েন্টি সিক্স ইলেভেনসহ বহু জঙ্গি হামলার ঘটনা। একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে বাংলাদেশও পুরো পৃথিবীর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকেনি।

বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষে ইংরেজ রাজত্বের শুরুর দিকে ওহাবিরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুগের পর যুগ লড়াই করেছে। সে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ইংরেজদের জয় হয়েছে, কিন্তু ওহাবিরা অন্তর থেকে এই পরাজয় মেনে নেয়নি। তাদের ব্রিটিশ বিরোধী জঙ্গি-চেতনা তারা ধারণ করে গেছে। প্রায় আড়াই লাখ ওহাবি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিভিন্ন সময়ে শহীদ হয়েছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশে এই ওহাবিদের সমর্থকদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। খেলাফত আন্দোলনের ব্যানারে এরা ঐক্যবদ্ধ। ওহাবিরা তাদের জঙ্গি চেতনা বিভিন্নভাবে সময়ে সময়ে কাজ করেছে, তবে এই জঙ্গিবাদী চেতনা ছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী। ওহাবি তরিকার বহু মানুষ আশির দশকে শেষভাগে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যায়। সিআইএ-আইএসআইর দ্বারা প্রশিক্ষিত এই যোদ্ধারা অনেকে শহীদ হন, অনেকে যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত টিকে যায়।

প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের জঙ্গিরা মূলত আফগানিস্তানের সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ফেরত আসা ‘জিহাদি’ মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে সংগঠিত হতে শুরু করে। বাংলাদেশের জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের সূচনা ২০০১ সালের নাইন ইলেভেনেরও আগে থেকে।

আফগান ফেরত এই জঙ্গির ছোট ভাই তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা মুন্সি আনিসুল ইসলামের নামে ১৯৯৭ সালের ৩০ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পনগরীর ৭ নম্বর প্লটে চার হাজার ৫০০ বর্গফুট জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এই জমিতেই তৈরি করা হয় সেই সাবান কারখানা যেখানে পাওয়া গিয়েছিল মুফতি হান্নানের বিশালাকৃতির বোমা তৈরির উপাদান ও সরঞ্জাম।

২০০০ সালের ২০ ও ২৩ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাস্থলে দুইদফা অভিযান চালিয়ে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার সাথে তৎকালীন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ এবং গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন মুফতি হান্নান।

এছাড়া আফগান ফেরত জঙ্গিরা ১৯৯৯ সালে তিনটি ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটায়। এতে ১৮ জন নিহত হলেও আহত হন দুশতাধিক মানুষ। এই বছর সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে যশোরের টাউন হল ময়দানের বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সম্মেলনে। এ হামলায় ১০ জন নিহত হয় আহত হয় শতাধিক। এছাড়াও ১৯৯৯ সালের ৮ অক্টোবর খুলনার আহমেদিয়া মসজিদে বোমা হামলায় আট জন নিহত ও আহত হয় ৫০ জন।

আল্লাহর দল একটি সংগঠন কবি শামসুর রাহমানের বাসায় ঢুকে কবির উপর হামলা চালানোর চেষ্টাও চালায়।

২০০১ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫ পাঁচটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব বোমা হামলায় ৫৯ জনের প্রাণহানী ঘটে ।
এরমধ্যে ঢাকার পল্টনে কমউনিস্ট পার্টির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ৭ জন, রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ১১ জন, গোপালগঞ্জের বানিয়ারচরের গির্জায় ১০ জন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের অফিসে ২১ জন, বাগেরহাট জনসভায় ৯ জন, সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতা সুরঞ্জিত সেনের জনসভায় বোমা হামলায় চার জন নিহত হয়। আহত হয় কয়েক শতাধিক।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের এইসব বোমা হামলাগুলোতে অন্তত ৭৬ জন নিহত হন

১৯৯৯ সাল থেকেই মূলত ব্যাপক হারে জঙ্গি হামলা ও গ্রেনেডের ব্যাবহার শুরু হলেও ১৯৯৭ সালের ৩০ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পনগরীতে মুফতি হান্নানের ভাইয়ের জমির বরাদ্দ পাওয়া নির্দেশ করে যে, অন্তত ১৯৯৭ সাল থেকেই মুফতি হান্নান ও তার সাথীরা বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা চালানো এবং ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করে।

তৎকালীন সরকারের উদাসীনতার এবং আওয়ামী লীগের অনেক নেতার জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি গোপালগঞ্জে মুফতি হান্নানের জমি বরাদ্দ পাওয়া, সেখানে নির্বিঘ্নে বোমা তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো, কোন জঙ্গিকে না ধরতে পারা এবং পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় মুফতি হান্নানের সেই স্বতঃপ্রনোদিত ‘জবানবন্দী’।

প্রায় একই সময়ে বাংলাদেশে আরেকটি জঙ্গি সংগঠনের জন্ম হয় বাংলাদেশে- জামায়াত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেমবি)। এই সংগঠনটির সাথে আরব বিশ্বের জঙ্গিদের যোগাযোগ ও বিদেশী ফান্ড আনার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে এরা রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে কাজ করলেও পরে টুইন টাওয়ার হামলা ও এর প্রেক্ষিতে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন তাদের বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম বিস্তারে উৎসাহিত করে। 

সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলাভাইর সাথে এক সাক্ষাৎকার প্রকাশ পায় ইংরেজী দৈনিক The Daily Star-এ ২০০৪ সালের ১৩ মে। সেখানে তিনি দাবি করেন তিনি স্কুল জীবনে ছাত্রলীগ করত, পরে কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেয়। ১৯৯৫ সালে শিবির ছাড়ে জামায়াতে ইসলামী নারী নেতৃত্ব মেনে নেয়ায়

জেএমজেবির আমির আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের দুলাভাই শায়খ আব্দুর রহমান ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত সৌদি এম্বেসিতে কাজ করে বলে জানা যায়। এরপর সে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায়। এরপর আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসে। এসময় এই জঙ্গি নেতা ওহাবি মতাদর্শে প্রভাবিত হয়। শায়খ আব্দুর রহমান একসময় জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ছিল।

বাংলাদেশে এই দুই জঙ্গি নেতা জঙ্গিবাদের বিস্তারের ক্ষেত্রে মাও সে তুং-এর সেই বিখ্যাত উক্তি “The guerrilla must move amongst the people as a fish swims in the sea”-এর প্রয়োগ ঘটায়। মানুষের সাথে মিশে কাজ করতে তারা জামালপুর থেকে রাজশাহীর বাগমারায় আসে।

সীমান্তবর্তী রাজশাহী জেলায় প্রবল ভারতবিরোধী এবং ইসলামপন্থী মনোভাব তাদের এই কাজের জন্যে বেশ সুবিধাজনক ছিল। গঠন করা হয় জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি) ।

জেএমজেবি প্রাথমিকভাবে দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তারা মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রচার করে এইসব অঞ্চলের জেলাসমূহের অধিবাসীদের প্রধান শত্রু সর্বহারা বাহিনী। ফলে তারা ঐসব এলাকায় সাময়িক জনসমর্থন পায়।

রাজশাহীসহ ঐসব অঞ্চলের নেতারা, গোয়েন্দারা এবং সরকার জেএমজেবির ব্যাপারে উদাসীন থাকে, অনেকেই তাদের সমর্থন যোগায়। যার পেছনে কাজ করেছিলো পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টিসহ সকল বামপন্থী চারমপন্থীদের বিরুদ্ধে জেএমজেবিকে কাজে লাগানোর ইচ্ছা

সরকার ডিভাইড অ্যান্ড রুল খেলতে এসে জেএমজেবির ফাঁদে পা দেয়। জঙ্গিরা সারা দেশে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করে তোলে, এবং ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে পাঁচশতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালিয়ে প্রায় ৬৬ জনকে হত্যা করে জোট সরকার আমলে। এর মধ্যে ময়মনসিংহের সিনেমা হল, ঝালকাঠির দুই আইনজীবী, ব্রিটিশ হাইকমিশনার, যাত্রাপালায় বোমা হামলা উল্লেখযোগ্য। এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার উপর হুজির সেই মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে হামলা হয়।

উইকিলিকসের ফাঁস করা কেবলে দেখা যায় বিএনপি সরকারের শেষ ভাগে জেএমবির নেতাদের মৃত্যুদন্ডের পর এমনকি এর অর্থ যোগানের পথও বন্ধ করে দেয়ার পর ঢাকার ইউএস এম্বেসি মন্তব্য করে, "অবশেষে জেএমবির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া গেল"।

উইকিলিকসের ফাঁস করা কেবলে দেখা যায় বিএনপি সরকারের শেষ ভাগে জেএমবির নেতাদের মৃত্যুদন্ডের পর এমনকি এর অর্থ যোগানের পথও বন্ধ করে দেয়ার পর ঢাকার ইউএস এম্বেসি মন্তব্য করে, “অবশেষে জেএমবির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া গেল”।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের পর সরকার হুজি, জেএমজেবি ও জেএমবির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানে নামে। সারা পৃথিবীতেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ফলে জঙ্গিদের পৃথিবী ছোট হয়ে আসতে থাকে।

২০০৫ সালের ১ অক্টোবর মুফতি হান্নান, ২০০৫ সালের ২০ নভেম্বর শায়খ আব্দুর রহমানের মেয়ের জামাই ও জেএমজেবির মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুল আউয়াল, ২০০৫ সালের ৭ ডিসেম্বর আতাউর রহমান সানি, ২০০৬ সালের ২ মার্চ শায়খ আব্দুর রহমানকে সিলেট থেকে এবং চারদিন পর বাংলাভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০০৬ সালের ২৬ এপ্রিলের মধ্যে সরকার জেএমজেবির সকল মজলিশে শুরা সদস্যসহ হাজার হাজার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ১৪১টি মামলা দায়ের করে, ২২জনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া হয়।

সরকার জঙ্গি অর্থায়নের দায়ে Revival of Islamic Heritage Society নামক এনজিওর স্থানীয় অফিস বন্ধ করে করে দেয়া হয়। সর্বোপরি জেএমজেবি, জেএমবি এবং হুজির মেরুদন্ড ভেঙে দেয়া হয়; ২০০৬ সালের তিন মে তারিখে মার্কিন তারবার্তার ভাষায়- The JMB’s back really does look broken।

সফলভাবে জঙ্গিদের দমন করার পর টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন

সফলভাবে জঙ্গিদের দমন করার পর টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন

এখন প্রশ্ন হচ্ছে জঙ্গিদের উপর এত বড় ক্র্যাক ডাউনের পর কি তাদের পক্ষে পুনরায় বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম চালানো আদৌ সম্ভব কিনা?

উত্তরটা অনেক কিন্তু ও যদির সাথে যুক্ত। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যত জঙ্গি কার্যক্রমের বিস্তার দেখা গেছে তার মধ্যে প্রতিটিতেই রাজনৈতিক উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক সহায়তা কম বেশি ছিল। কোন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাই চাইবে না তাদের সরকারের সময় দেশ অস্থিতিশীল হোক, তবে স্থানীয় ইসলাম পছন্দ নেতারা নিজেদের জিহাদে শামিল করতে কিংবা কোন রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে জঙ্গিদের ব্যবহার করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

সম্প্রতি বগুড়ায় আওয়মী লীগ নেতার বাসায় জঙ্গিদের আস্তানা আর বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার, কক্সবাজারে আওয়ামী লীগ নেতার প্রশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের নেতার অবাধ বিচরণ আর কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধমন্দিরে ‘সর্বদলীয়’ হামলার ঘটনা তাই প্রমান করে।

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করা গেলে আর সরকার কঠোর হলে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম ও এর বিস্তার বন্ধ করা অসম্ভব নয়। আর নাইন ইলেভেন পর থেকে সারা পৃথিবীতে জঙ্গিদের উপর যে ধরণের কড়া নজরদারি চলছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেভাবে কাজ করছে তাতে জঙ্গিবাদের পুনরুত্থান প্রায় অসম্ভব।

তাই অহেতুক জঙ্গিবাদ নামক জুজুর ভয় দেখিয়ে এই মৃত ইস্যুটিকে মমি করার আওয়ামী প্রচেষ্টা অর্থহীন।

What are (Were) we thinking? Are ( Were) we out of our minds?

1

I was visiting Bangladesh when pilkhana massacre happened. As the events were unfolding on the morning of February 25 2009, I was returning to Dhaka from Chittagong. As I returned to Dhaka that afternoon the general narrative dominating our media and civil society discourse puzzled me. I wrote the following post during late afternoon of February 25 2009. I lost the post as the blog website hosting the post went offline-
Today, after the trial verdict of the massacre came out, a friend discovered the post for me from a web archive-
The narrative of public mind, our media and educated class as I described that afternoon is a fascinating reminder of the fickleness of our collective thinking process –

20131105-215646.jpg

Feb 25, 2009
Posted by- rumi
Tag – Army

Are we out of our minds?

Lets first see what happened today in BDR HQ in Pilkhana area of Dhaka.

The soldiers of an armed paramilitary border security force staged a public mutiny. As a part of the mutiny, it is near confirmed that they have killed senior leadership and their family members of this force. TV footages have shows footage of uniformed bodies lying on the ground within the HQ campus. They did not stop there. These rampant gun-trotting soldiers attacked civilians around the HQ. Poor people like rickshaw-wallahs, peddlers, pedestrians were killed. TV reporting has shown bodies lying near Dhanmondi lake and bleeding to death. There was no one to save that life. Another footage showed a father was running aimlessly helplessly holding his school dressed daughter on his chest. Undressed bodies are being recovered from sewage draining out of the BDR HQ area.

The government has shown utmost restraint so far. None other than the PM has declared a general amnesty. Political delegation has visited the revolting soldiers. Even PM and other senior leaders of the government met 16 members of the revolting forces.

In TV channels, all day we have heard how corrupt was the reportedly slain officers of BDR. Jawans staging the mutiny got unprecedented media access and a total one-sided propaganda dominated the media as well as the blogs all day. We’ve head all day how bad was BDR DG. We never bothered to dig his side of the story. And we’ve never bothered to ask even if all the corruption charges were true, is there any justification of the mindless killing that took place today?

Electronic media was one step ahead. They have transmitted all the real time info of all army movement to the BDR folks.

We have heard how deprived the BDR folks were. We were told again and again how army gets five times more benefits that of BDR. We were not told how BDR jawans get 100 fold more benefit that police forces. And how police forces gets thousands time more benefit compared to a vegetable vendor or a rickshaw puller.

The morning of August 16 1975 is still very vivid in my mind. The talk of the town that day was similar to all the talks we heard today. Stories of unbelievable massive scale corruption, arrogance of all those killed were all over the town.

We got to remember and remind ourselves that taking up arms and start indiscriminate killing just out of speculation is never a right thing to do.

Our government must take a decisive stand against this mutiny. This mutiny must be trampled first. If an investigating team identifies any injustice, necessary steps must be taken in the future. But negotiations must not be only option in dealing with such a situation. Once the revolting soldiers disobeyed and rejected the amnesty offer of the supreme commander, the immediate next step would be containment.

If government submits to BDR demands today, the police will revolt and kill tomorrow. Then army will also revolt with their demands. Not to mention other professionals like rickshaw pullers, street vendors etc.

I am hearing all the latest developments in negotiations. News tickers are showing that after a meeting with home minister and reps of the mutineers, the rebel soldiers have agreed to lay off their arms. If this turns to be true, this will be great news. I am however very skeptic about this. I fear this will end in total collapse of rebel chain of command.

While government need to be decisive in not tolerating such mutiny, utmost caution must be taken to minimize loss of lives. Sometimes simple waiting and patience game can do the job.

*****************************************************

And BTW, Bangladesh armed forces have done a super job so far. A reminder to all of us, this is the kind of job military is for. They have mobilized and got ready to storm the BDR HQ in a very quick time. Despite all the anger and provocation from inside, they have kept their fingers away from the triggers most of the time. And even they have been quite tolerant to the menacing natured electronic media people of Bangladesh and curious onlookers. 46th independent infantry brigade has done the job it is intended to do.

___________________________________________________________

The following are the comments made by bloggers and readers —

BDR, Mutiny
35 Comments

Globetrotter • Feb 26, 2009 @1:33 am
I agree. There can be no pardon for cold blooded murder. The story about the DG of BDR shooting and killing a Jawan is nonsense, and even if all the allegations of corruption are true, it doesnt justify a mutiny of this scale. The rule of law must be upheld at all cost.

Fariha • Feb 26, 2009 @1:34 am
kintu rumi bhai, amnesty na dile plan-B ta ki hoto?

Globetrotter • Feb 26, 2009 @1:38 am
fariha, the amnesty should cover those jawans who got caught up in the events, and took up arms later. But those who first broke the command structure and slaughtered their officers must be tried and punished.

Fariha • Feb 26, 2009 @1:41 am
hmm..but in the face of the growing unrest in the city, what else could the PM have done but grant them all general amnesty? A full investigation to find out who broke the command chain first would’ve been impossible in the afternoon, no?

Arif • Feb 26, 2009 @1:46 am
Faria,

Plan B jodi kono akta follow hoito, tailay plan A niyee akta lekha akhon lekha hoito.

Globetrotter • Feb 26, 2009 @1:47 am
…and what signal would that send, fariha? If you don’t like your superiors, kill them. Create enough “unrest” and lo and behold! You will be granted amnesty!

Shabab • Feb 26, 2009 @1:50 am
Fariha,

In this extraordinary situation, I think its fair for the government to withdraw its amnesty. I agree with you that there was little to no options for the government in the evolving crisis. It did the right thing to go ahead and negotiate, offering amnesty as the bate. However, there is a serious concern of the precedent this amnesty sets – for the sake of the nation’s integrity, the government will have to deal with this strong handedly, even if that mean going back on their promise.

Fariha • Feb 26, 2009 @1:51 am
but that is exactly what happened.

what do you think the PM should’ve done to tackle the situation?

Globetrotter • Feb 26, 2009 @1:57 am
I think I am repeating myself, but the general amnesty should not cover the ring leaders of the mutiny. Let us uphold the rule of law, otherwise this will happen again and again.

Fariha • Feb 26, 2009 @2:01 am
And you think just granting general amnesty to only the seemingly innocent jawans (who in all likelihood could’ve fired at the civilians and media) as opposed to all of BDR with the mutiny planner would’ve helped resolve the crisis?

The BDR reps who went to Jamuna would’ve happily gone to gallows knowing that their voice was at least heard and their lower ranking jawans would get amnesty?

Either you’re naive or i’m just disillusioned!

Badmarsh • Feb 26, 2009 @2:03 am
Preventing future mutinies should be done through institutional reform. The sub-game perfect outcome (in game theory jargon) of crushing this one violently to prevent future mutinies does not apply here. Institutional reforms in the police & BDR have been long overdue.

mamoon haroon • Feb 26, 2009 @2:09 am
How can Sheikh Hasina “pardon” killers within the BDR while she pursues the killers of her own father and family. Shoudn’t justice be awarded to all, without prejudice!

Bluish red • Feb 26, 2009 @2:29 am
Uff horrible…if i work with a group…and if someone from other part comes and shoots at any of my friend/collegue…i’ll definately shoot them back.,thats a reflex…
Bdr’s dint start it..1stly some of bdr shoulders were killed by DG and highier officials…that is what triggered them up…and i think u guys know it well…after watching whole days news..

Bluish red • Feb 26, 2009 @2:32 am
Someone has compared bdr jawan with veg vendors or rickshaw pullers…well bdr and army’s r said to get the same benefits …ensured by their ranks,,….comparing them with veg vendors or civillians is very low level joke i guess

Globetrotter • Feb 26, 2009 @2:34 am
Fariha, I am not naive, I just believe in the rule of law. And I am against appeasement. I think youre taking a myopic view. Other countries have had mutinies. The lesson to be learnt is appeasement brings more pain, not less. Usually this is done by initially diffusing the situation, and then investigating and bringing the perpetrators to justice.

Globetrotter • Feb 26, 2009 @2:36 am
Let’s use common sense here, shall we? The DG and about 40 of his fellow officers are surrounded by 10000 BDR jawans. But the DG shoots and kills a BDR jawan anyway. Makes sense, doesnt it?

Bluish red • Feb 26, 2009 @3:20 am
Huh…the dg shooted at one shoulder inside the darbar hall…ya use common sense,,how can 10000bdr be inside the darbar hall in a meeting,surounding the dg?? Does it make sense…we all heard it through news channels,only a limited no of jawans had the chance to be in the meeting which were held early in the morningwhere the 1st incident took place…
So i think u guys shuold use commomsense,as well as hear the full news before u make any silly comment here.,

Muhit Rahman • Feb 26, 2009 @5:14 am
It is nice to see and read so much interest in developments in Bangladesh. Most of the comments have some merit and some of the comments have considerable merit. However, if one were to make just one conclusion from all the reports – that would be that it is clear that a definitive account of events is yet to be established. Given that, I’d encourage everyone to be a bit more patient and a bit less judgmental. As facts are determined – and surely [I hope] there will be some serious investigations – the right course of action will become more apparent.

Meanwhile, I will commend the restraint shown by the Bangladeshi government and all other powers, whoever they might be, in their response. I only wish that curfew had been slapped on immediately in the affected neighborhoods (with exceptions to allow people to go home or pick up children, etc., and for reporters and emergency personnel) in order to limit the onlookers who, in famous Bengali tradition, seem to have come out in thousands!

There will be a time for finger pointing and for justice. The first and foremost job at the moment should be to bring the situation under control. I am happy to see that that seems to be the way we are going. Meanwhile, once again, I would suggest that we (the commentators) hold our fire as well.

Regards.

mamun haroon • Feb 26, 2009 @9:05 am
I am curious whether the Prime Minister of our country has the constitutional power to pardon murderers, which she promised to the mutineer.

Doesn’t the ability to arbitarily pardon murderers tentamount to or even exceed dictotorial power??

Does her pardon mean that the families of those who have died during the mutiny will not be able to file charges againts suspects involved in the murders which took place inside the BDR compound?

Asif Syed • Feb 26, 2009 @9:56 am
Why do we hate BD Army so much ?

Arif • Feb 26, 2009 @10:00 am
What is the just thing to do?
– Announce amnesty and solve the crisis for now.
– No amnesty, use force, kill more (including civilians).
– Promise amnesty, make them surrender, break the promise, and lose all trust from the border security force.

I am not sure what is the just thing to do.

Robot • Feb 26, 2009 @10:14 am
Arif, what abot amnesty for the movement but not for killing?

I think Blogger Rumi made a good point on the August 75 issue. Was the young chidren of sheikh family made any crime?

The army budget/army adminstration need to be more transparent.

Arif • Feb 26, 2009 @10:23 am
How you know who killed whom? Did you see Munni Saha’s report? Did you find any command? But lets wait few more hours to figure out actual loses.

Arif • Feb 26, 2009 @10:24 am
ps. 75 has nothing to do with this incident. This analogy is very annoying.

Rakib • Feb 26, 2009 @10:27 am
I am sad to write this. Unconfirmed report indicates much more ghenious disaster. Brutal killing took place. Women, children are taken hostage and here we are doing what! Bashing army! We talk about due process and here we are castigating one side without knowing what is taking place! I hear 100s dfead and here we are pardoning the killers!

From TV, a pregnant lady locked in quarter gurad, woman with children hgiding in bathroom, corpses hidden, thrown in sewerage line, only to float in kamrangir char! I just heard one officer dead, who I know to be honest personally and here we are raping the deads, castigating them without due process without even knowing what they did!

Did the officers commit such crime to deserve such indignity! Such brutal killing! Raped in dead!

Blogger, its time to think. This mutiny will have far reaching consequences if not addressed properly. Tomorrow, Ansar will revolt. Day after Police. Next Army.

Its time, we condemn the killers.

Thank you RUMI……………For being the sane voice in the middle of nowhere.

THANK YOU.

SC • Feb 26, 2009 @10:57 am
Just finished talking to my family in Dhaka. Two of my relatives (both army officers) and their young son are among the hostages. No whereabouts of them till now. Heard Matia Chowdhury is going in again to continue the discussion. Talking to a crying teenager whose mom, dad and brother are still missing in the melee is not easy. Army did not setup any information cell for the families.

I made my opinion known in http://unheardvoice.net/blog/2009/02/25/bdr-mutiny when the events were unfolding. I heard some other voices here and in the TV expressing similar thoughts addressing “amnesty”, “intelligence failure”, “corruption rumor”.

I will start with the quotation from a passionate blogger, “They’ve already killed their officers, so they know that they will have to face the music from the army.” Note that, not “music of the law” not “music of the land”, I guess it was not poor choice of words; it just reflects our national psyche and might be one of the root cause of the somber happenings. “Army as institute, as individual is superior to the rest of us and they can do anything they want” – has destroyed the essential characteristics of a patriotic army. This fact along with the failure to maintain chain of command from the officers, the lack of loyalty among the jawans, killing of a general in front of his officers (I hear the number was around 100 in the Darbar Hall) is disgracing to any professional army. The managers should go back to the drawing board and look deeply in their training program rather than lecturing on democracy.

Another one, “However, there is a serious concern of the precedent this amnesty sets – for the sake of the nation’s integrity, the government will have to deal with this strong handedly, even if that mean going back on their promise”. I was among the first who questioned the amnesty and asked for clear answer from the PM, but, I think it is a heinous suggestion. PM is not a police officer who can make false promises in order to draw a confession.

Another blogger used smiley faces and other jolly expressions in the same link. It is purely distasteful when we are facing a grave situation.

Not everything is dark and gloom. A civil government handled the situation with dignity and without huge loss of life. We have seen courageous young leadership Gini, Taposh, Nanak, Azam. Even at the height of the tension, parliament continued the regular business. The civil government was able to rein in the military. Someone, please, confirm that army was deployed at the direction of PM, not by some general to save their comrades – that will make my day.

Though the slain officers, jawans did not receive the dignity they deserve, we as a country should not treat the rebels the same way. Let them face the army court or civil court as appropriate and NO retaliation against the families.

Ahbab Aziz • Feb 26, 2009 @11:50 am
Many, if not most, of the people of Bangladesh have been surprised by the turn of events surrounding the BDR mutiny. However, is there any reason to be so surprised? I don’t think so, as this sort of event is not totally unexpected when lack of accountability is rampant in the armed forces, as in other sectors of the country. To stop this kind of marauding things from recurring, accountability must be established in the defense services, which cannot be done keeping them beyond the purview of civilian / elected authority. The elected govt. must take the lead in ensuring accountability in the armed forces if healthy chain of command is to sustain.

Fariha • Feb 26, 2009 @11:57 am
Ahbab Aziz, you’re right..

With due respect to the dead, I don’t think anyone was surprised by the stories of rampant army abuse and corruption.

As far as the chain of command of BDR being broken, that is a shame. But we have to remember here that this is, as some have correctly pointed out, a failure of their commanding officers who turned out to be members of the army. Bullying is not the best leadership style.

Abul • Feb 26, 2009 @12:11 pm
The Mutiny and the Untold Stories

The recent mutiny of the BDR is the result of extreme polarisation that have developed within BDR forces along the dividing line of Army vs Non-Army. And this polarisation has come into fruition involving this DAL-BHAT KORMOSHUCHI. This DAL-BHAT has been enough to spark the whole tragic event. In analyzing the even, one must reflect on it. Blame game will not lead anyone to anywhere else.

Indeed, it has been very naive on the part of our army personnel to get involved in profit making activities. For that, they have now paid a heavy price. Their image has been tarnished to a large extent. It is not good for the country. It will only contribute to the loss of people’s trust on them in the long run.

However, one must acknowledge that this state does not appear to have any mind or vision. The short-sighted policy makers never realise that the security forces can never be monetised which can only breed greed. This is not the proper economic force to generate money by doing ’social business’. Indeed such kind of activity always weakens their morale. As a result, in many cases, the border line between an army officer and a businessman gets blurred, creating further ‘anti-army’ sentiment among mass people even.

It is also true that it seems sky is the only limit for the army officers. They get plots at DOHS, almost free of cost and many other facilities which no one can get even by doing a very decent job in Bangladesh. Taking the advantage of their structural closeness with the government, the Army officers always make fortunes not only for themselves, but also for their families. Indeed, they have already established medical college, engineering college, university and what not with the money of the tax payers. Still their children and relatives get preference for admission. Their children/relatives pay less amount of money than general students for studying in those institutions. Just imagine how this structural position of advantage is being institutionalized by the Army officers for their next generations also in a country which already has huge gap between poor and rich.

Bangladesh army is also doing business in many other sectors. Even for purchasing armaments, some retired army officers do commission business. Their ‘military-business empire’ have also extended more rapidly particularly in the last two years. Even the Cantonment area now includes Bijoy Shoroni with a new connecting road for Mirpur and Old Airport cantonments. Still some people are more concerned about the subsidy of the state for the public universities. None raises eyebrows with regard to the business ventures of Bangladesh Army with tax payers’ hard earned money or to the issues of transparency and accountability in financial matters. It reminds me of the book written by a Pakistani Author Ayesha Siddika titled PAKISTAN MILITARY INC. Under the circumstances, Army officers should also realise what actually has gone wrong on their part taking the condition of present Pakistan into account.

In fact, it is the ultimate outcome of the whole society becoming a MONEY SLAVE. Defence officer seeks to have a comfortable life like a businessman and businessmen want to have state-power along with their money power. It is also true for other professionals. None is satisfied in this age of ECONOMIC GLOBALISATION. Thus it is more like that this kind of events will take place in the coming days also.

On the other hand, the whole event has also put the utility and credibility of the DGFI into question. If they are very good in arresting students and teachers and punishing them for collecting statements, why they were not being able to sense this incident! Indeed all the intelligence agencies failed in the past to prevent some zealots from hurling grenades on the political leaders and exploding bombs countrywide.

However, it is really shocking for all citizens of Bangladesh to witness such tragic event. Not a single citizen likes to see such event in the country. As citizens of Bangladesh we must condemn the incident.

Asif Syed • Feb 26, 2009 @8:06 pm
Is it really that hard to condemn the killing of a human being ? Do we always have to find some reason behind the killing ? Do we need numbers to make this situation more dramatic ? Isn’t every single life precious whether that person is an Army, BDR or civilian ? There is no doubt that the demands of the BDR revolters legitimate, but was this the way to go ahead ? Do you think this wound will just heal in few days ? Can anyone here please answer ?

Abul • Feb 26, 2009 @9:44 pm
“An eye for eye an makes the whole world blind”.

Rudro • Feb 26, 2009 @11:48 pm
It is so disheartening to watch this killing and chaos. Our society could not get over with the culture of ‘taking law in own hand’ and ‘extreme mrasures’. If this kind of mutiny still happens, we do not have the assurance that another coup would not happen and disrupt the present positive politacal development in the country.

But I see some encouragement in fact that army showed tremendous restraint so far letting PM, Home Minister and MPs tackle the situation. I think the political leadership has also shown maturity.

Finally one suggestion: Can we start a discussion and campaign for REMOVAL AND RELOCATION OF MILITARY AND PARAMILITARY ESTABLISHMENT FROM THE HEART OF THE CAPITAL DHAKA. It will diminish the influence of the entrenched power structure for the better future of Bangladesh.

Saleh Tanveer • Feb 27, 2009 @3:47 am
This mutiny brings to the fore deep problems within BD society and culture at the present time:

No grievance, no matter how legitimate, gets attention of authorities unless aggrieved people resort to violence and destruction. On the other hand, no matter how unfair demands may be, aggrieved parties feel that violence will get them what they want.
We have degenerated into a culture where burning of random cars following an accident, random killings and destruction of property to advance a political cause, mutiny in the armed forces are all considered legitimate tools by the aggrieved. There is no societal outrage unless it touches our near and dear ones.

Beyond punishing some of the involved Jawans of BDR, which many in the privileged class will call for, our politicians are incapable of arresting this destructive trend since they themselves have contributed to this culture in the name of “brihottoro shartho”.

indianguy • Feb 27, 2009 @1:31 pm
I feel bad for he senseless loss of life. A few important things come to mind. Sheikh Hasina just won a landslide victory, after 2 years of military rule. This is one incident that would at the very least strain her relations with the army.
The army I am sure realises that the mutineers have shaken the very core of the army command structure, and would have pushed to use force. Sheikh Hasina keen to avoid bloodshed would do anything to avoid use of force.
But the general amnesty, granted to those who were supposed to protect Bangladesh but instead turned their guns on their fellow citizens is a terrible idea.
All their gripes do not take away from the fact that they have killed Bangladeshi’s. I am not sure why I don’t sense aany public outrage.

Reza • Mar 1, 2009 @1:24 am
Mr. Saleh Tanveer,

Your comments came across as insensitive and cruel.

Are you sure that only representatives of the “privileged class” will seek punishment for the BDR criminals? Is there no room for punishment proportionate to the criminal act in your book.

I am confident that the vast majority of Bangladesh will seek justice for the prematurely killed soldiers of our army. And as for societal injustices, mass rebellions have never been the solution. By killing innocent officers, the BDR soldiers have made it exponentially difficult for future generations of their rank to seek any benefits.

A look back on the war that was never fought

2

20131105-082040.jpg
Some sort of trial was going on for the Pilkhana massacre of 2009 that killed about 74 people including 57 smart officers belonging to Bangladesh Army. 847 people were charged with murder in a Dhaka civil court. Trial started on August 24 2011.  847 people were tried over a period of nearly 300 days. The verdict was announced yesterday. 152 people were given death sentence while 161 were given life in prison. 362 defendants got various jail terms while 271 were acquitted.

If one wants to put the stats of the trial process – it will be like this –

1 judge
847 defendants
300 plus days of trial
<.5 days for each dependent
152 lives to be taken by state
161 lives to kept behind bars till death
262 will be behind bar on various terms
271 will get Scott free

Wow!

This judge must be a super super superman!

_________________________________________________________________________________

The above stats are sufficient to show the political nature of the trial. Awami League government needed a political gimmick to keep people and the army happy. A major strategic blunder was committed 4 years ago that took 74 lives including 57 of our brightest and the best military officers. If PM Hasina could act swiftly and smartly on the ill fated morning of February 25 2009 – this gimmick of blood feast would not be needed.

The following piece written originally a couple of days after the Pilkhana massacre described how our government failed on February 25 2009.

_________________________________________________________________________________
In February 25-26, 2009 a group of violent soldiers of the Bangladesh border security force, BDR, revolted. They occupied the part of capital Dhaka where their garrison is located and held hundreds of military officers, general soldiers and civilians hostage. During this occupation of nearly two days, the marauding soldiers committed one of the worst massacres in the history of Bangladesh. During this rebellion, 57 senior officers of Bangladesh Armed forces were murdered.

In response, instead of a bold decisive action against the soldiers involved in the killing spree, the one-month old government of Awami League opted to negotiate with the mutineers, thus indirectly giving those soldiers enough time to hunt and kill the senior officers trapped inside the occupied Peelkhana campus and commit an array of other crimes including loot, arson, rape etc.

Immediately after the incident, considering the sensitivity of the issue or out of political indecisiveness, while the main opposition party refrained from being overtly critical of the government’s stand, the media gave the government a free ride by not critically discussing the government’s handling of the mutiny.

The media spin that was most widely used during the immediate aftermath was this — by sacrificing 57 senior army officers, the government prevented an even bigger civilian casualty in the heart of Dhaka. This logic is based on a hypothetical scenario that a group of paramilitary soldiers without heavy weapons will fight a fierce artillery gunfight and war with a combined force of the army, navy and the air force and thus endanger the safety of residents living nearby.

Although the government’s decision got a free ride with the media and civil society at the time of the incident, it is imperative that we discuss the decision from a critical point of view. This kind of discussion is very important for formulating a national strategy for any such problem in the future.

First basic flaw in the civilian casualty spin is the hypothetical nature of the consequences. It is very difficult to believe that a group of BDR soldiers will be able to fight such a fierce war against an all-out ground, aerial and naval assault by the conventional forces. This sort of situation is not unprecedented in Bangladesh. Since independence there are instances where similar occupation/hostage situation in the heart of Dhaka or other parts of the country were dealt with decisive military counter-offensive without any civilian casualty. Examples that can be cited include the 1977 occupation of Dhaka Airport at Tejgaon, 1994 occupation of Ansar HQ in Khilgaon, 1977 revolt in Bogra cantonment.

Second logic was that it was a hostage situation and the government had no option but to give in to the demands of the killers. Examples of Pakistan Lal Mosque, aircraft hijacking, and lately, Mumbai Taj Hotel incident, etc. were cited. But one has to understand that Peelkhana is not an aircraft or a mosque or a hotel. It is a part of Bangladesh, double the size of Vatican City. This area of Dhaka has two graduate level colleges, three schools, several mosques, a botanical garden with rose/orchid sections, paddy fields, markets, shops and even a zoo within its walled boundary. In addition, there are residential quarters, lush green fields and a sports complex. It was not a hostage-like situation; it was occupation of a part of Bangladesh. A war was declared. A soldier, called to duty by the government, was shot and killed on the morning of Feb 25 in front of BDR gate without provocation and another soldier was wounded who later died. Civilians were also shot at indiscriminately and killed by the rebel BDR soldiers.

Although heavily armed military units were deployed within 30 minutes of the first shot at Peelkhana, the forces were kept idle and later withdrawn. While the supreme commander and the army chief is expected to be in a secure war room in defence HQ, our army chief was seen sitting all day at the unsecured civilian residence of the PM that was also within firing distance from Peelkhana.

The rest of the story is more pathetic. Frantic SOS calls from the brightest officers stopped one after one. Mysteriously, after two days of permissive killing, a large number of mutineers fled the campus under the cover of darkness. No effort was made to prevent them from fleeing. Two days later when mass graves, charred bodies were being discovered, most of the killers were out of reach with an unknown amount of weapons and ammunition.

A frequently made point is that bloodshed had been avoided by the government’s ‘cool headed’ act. It is painfully difficult to understand what this school of thought tries to say. In any conventional war of modern time, loss of any general or other senior level military officer is seen as major debacle. In all recent war literature, loss of senior officers, especially generals, is depicted as one of the worst-case scenarios. We did not lose one general but more than 50 of our smartest, brightest and senior-most military officers. The whole of our army’s senior command got destabilised. How can one find solace that Sheikh Hasina’s able leadership had avoided blood loss? What about those 57 military officers’ blood?

In the coming years, there will be more discussion on the handling of Peelkhana massacre. This would look like a big failure of the prime minister and will keep haunting her.

During the wee hours of August 1975, When the killers were encroaching the Dhanmondi compound of PM Hasina’s father, Bangbandhu Sheikh Mujibur Rahman, his frantic phone calls did not bring any help from the army high command or his paramilitary Rakhkhi Bahini. This has always been an issue of pain for Hasina. A 15th August style massacre was replicated under her watch. Children of Major General Shakil or Colonel Mujib lost both of their parents and hundreds of others lost their parents, husbands, brothers, sisters, sons or daughters. Even teen-aged domestic aids were killed.

This failure was not Hasina’s alone. It was a failure of total civilian and military leadership. There was an inherent problem among her advisers. In Pilkhana type situation, it was the job of the military chief to set up a command centre, devise a strategy, design specific plans and present the prime minister with the defence/military perspective in dealing with such scenario. In this regard, the person who failed most miserably is the then army chief. Post 1/11 role of this army chief created an uneasy relationship between him and the civilian leadership. The prime minister probably could not trust this army chief. Hence she kept him sitting in her living room all day under a house arrest of sort.

The government was very new too. It was the job of the chief of army staff to advise and convince the prime minister to take prompt action and present her with the strategy and the plans. But this chief’s post 1/11 activities handicapped his ability to perform his job with authority. This army chief had no moral or legal right to remain as army chief after his failed ‘coup’ of 1/11.

In an ideal world, there must not be any lack of trust between the head of the government and the army chief. If that develops, any patriotic army chief, who cares more for his forces and the country than his own job, should resign. But Moeen U Ahmed was so eager to keep his job that he totally failed to defend the country as well as protect his officers. He failed his army as well as the nation.

We must learn from our experience of 25-26 February, 2009. As a nation, we must know what we will do if Myanmar sends 500 mercenaries to take over Cox’s Bazaar, or the Jamaatul Mujahideen Bangladesh takes over Bholarhat Upazila and impose strict Islamic law or the Maldives sends troops to capture Mongla port. Would we send the local MP with a white flag to negotiate with mutineers/invaders?

We always talk about the spirit of 1971. On the night of 25th March of 1971, EPR jawans/officers were attacked in the same garrison in Peelkhana. Those soldiers did not raise a white flag citing the case of neighbourhood civilians. As a war was declared, EPR jawans fought back. This was the spirit of 1971. A war was imposed on us on Feb 25-26, 2009. We raised a white flag without fighting. This was not in line with the spirit of 1971.

If we have to send local MPs with white flags to deal with occupation and mutiny and make the army retreat with their dead comrades, why do we build and maintain the armed forces?

A battle was imposed on us on Feb 25 2009. We failed to respond appropriately, thus losing 57 of our brightest military officers.

It is a shame. And it was a command failure of the civilian and military leadership.

Concession, pragmatism and moving forward

4

A Statesman and Two Pragmatic leaders –

In a speech to the nation on November 30 1978, President Ziaur Rahman declared parliamentary election to be held on January 27 of the next year and also declared that martial law will be withdrawn immediately after the election. Although newly formed BNP and some other small parties started preparing for the polls – most major opposition political parties including both fractions of AL, Muslim league (still a big player then), JSD, NAP etc. decided to boycott the election unless their demands were met. The combined opposition’s demand included immediate withdrawal of martial law, resignation of Zia from army chief position, removing ban on open politics, repeal the fundamental rights suspension which was in effect since 1974, restoration of parliamentary democracy and 1972 constitution by repealing 4th amendment etc. On the face of boycott by major opposition political parties, Zia made a far reaching set of concessions. He restored fundamental rights, made proposals of sovereign parliament with ability to impeach the president. He also removed presidential veto power on bills passed by parliament, put a limit on technocrat ministers and conceded on opposition demand on the selection criteria of leader of the house.

After these concessions although Muslim league decided to join elections- other opposition parties including factions of AL, JSD etc. continued with the decision to boycott the polls.

To resolve the political impasse, President Zia called for a dialogue with political parties – all parties went to Bangavaban, prolonged deliberations took place but nothing fruitful came out of that dialogue.

As Awami League factions kept insisting on election boycott and as it seemed country is stuck in a hopeless deadlock, President Zia, against the advice of his political advisors, unilaterally made another set of sweeping concessions. He withdrew martial law restrictions regarding open politics, started the process of release of all political prisoners, and as demanded by opposition, pushed the election date back by a few weeks to give the opposition parties enough time to prepare for the elections.

President Zia’s gambles paid off, an all-party election was made possible, Bangladesh moved one big step closer to restoration of democracy – the rest is history.
IMG_0465

The Come Back of Awami League

This little snippet from the past shows how much and how little our politics has evolved in last 3 decades. Whatever Zia ‘a distractors  will say, Bangladesh is this Bangladesh today because Zia could hold his nerve during those tumultuous years of mid-late 70s and at the same time he made some very smart political moves including the series of concessions as described above. At the same time, the pragmatic reality based politics of AL leaders Mr. Abdul Malek Ukil and Mr. Mizanur Rahman Chowdhury did shape the history of Bangladesh. Within 4 years after supposedly annihilation of August 75, AL again came out as a major political party with intact wide grassroots support base. Although AL factions won only 41 seats in the election, it secured nearly 30% of the votes. In most seats where BNP won, AL came out close second.

It was a time the mere survival of the fledgling country of Bangladesh was uncertain. Yet concessions made by one political leader and pragmatic politics by the others made us defy the overwhelming odds against our survival.

Today as we are in another crossroads of the history, we need similar concessions and pragmatic reality based politics from our Prime Minister and the leader of the opposition.

Late president Zia was a military strongman running a turbulent country with martial law. Yet he made concession after concession to facilitate the democratic journey. Now it’s time for PM Hasina to show her political maturity and statesmanship and seal her image as the needed statesman for the time.

The Shelf life of The Administration –
Holding an opposition less election is not in the best or long term interest of the country as well as of the party of Prime Minister Hasina. Yes she can ignore opposition demands, and if she really wants to hold the elections unilaterally using brute state force, the opposition will not be able to stop her.  But by doing so – she will harm her country as well as her own party.
As a result of the election without all party participation, our fledgling democracy would go back by one decade. We will turn into another poor 3rd world autocracy. All sorts of militancy will start rising its ugly head in different corners of this impoverished country. Public disapproval of her government will reach unfathomable low. Extreme infighting will overrun her party. Leadership deprived of government positions and perks will get desperate to depose those enjoying all the perks and privileges. If the fictions and clashes during the five year term of current Hasina Government are indicators what Awami League has in its future as an incumbent party, it can be easily predicted that intra party feuds, sabotage will reach an epidemic proportion. Any political observer can safely predict that way before completing her second five year mark; PM Hasina’s government will be inches away from implosion.

Concessions – the need of the time –

On the other hand, if PM Hasina can be seen making the concession on her own, not under pressure, she will look like showing statesman quality Ziaur Rahman exhibited during late 70s. It is PM Hasina who has to take the steps to convince the opposition to join the elections. She has to do something tangible or convince the opposition come to elections. She will have to sort it out with the opposition and negotiate with them to bring them to election. Most likely she will lose the election. This loss will be the best exit strategy for her. This loss will pave the way for quick and another big comeback of her party.

It is almost certain that if BNP returns to power, it’s newly gained popularity will vanish rapidly. A return of Tarique Rahman will significantly curtail BNP’s support among middle of road BNP supporters.  Along with Tarique Rahman’s return to day to day affairs of governance, Anti-incumbency factors as well as upper hand of ultra-right wing political backers of BNP will quickly dissipate all the inroads BNP made in urban educated classes and ‘middle of the road’ Zia admirers through Mrs. Khaleda Zia’s visionary leadership style between 2008 and 2013.

Now PM Hasina will have to decide which option will be in the best long term interest of her country and her party. She can hang on for her second consecutive term, let her party implode and face an ignominious ouster to face another long term public rejection like it experienced post 1975. Or she can take a short term leave from power only to return to power with more popular, a better rooted and organized party. If Awami League cannot free itself of the curse of incumbency, there is no reason to believe that BNP will be free from the same curse next election cycle.
IMG_0466
Exit out of this Mayhem, options for the opposition parties

Leader of opposition led her party to an unprecedented come back from oblivion. She accomplished this major feat not by violent street confrontation but by avoiding exactly the same. It is understandable that after her bitter experience at the lack of level playing field during 2008 elections, this time it will be hard to convince her to join election in a suboptimal state of affairs pertaining to the elections. However the leader of the opposition also need to understand that with the type of organization she leads, it will be very difficult to stop the government from holding the election. And once an election is held, her party will be under more intense pressure from the state law enforcement agencies. Leader of opposition knows very well that under any condition, if BNP joins the election, it will be nearly impossible to deprive BNP a landslide victory. If the leader of the opposition weighs the options she has at her hand which are – launching brutal street agitation to force Government into accepting the demands or somehow find a way to join the election, even accepting a short term defeat about the election time government, BNP has much more to gain, much less to risk. Under current conditions – with more connectivity, aggressive media activity on the ground – mass scale rigging of election to change the total results will be nearly impossible and even if that happens – that government will not be able to hide the massive irregularities. A movement against a widely perceived rigged election will have better traction than a failed movement against a non-participatory election.  It seems no matter what the Government offers, for BNP, joining the elections is the best exit strategy out of the mayhem.

And exit out of this mayhem – that is what the whole country is eagerly rooting for.

গনতন্ত্রে অবিশ্বাসীদের চিনে রাখুন

গত কয়েকমাসে একটি জিনিষ চৈত্রের দুপুরের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দেশের কাছে। আওয়ামী লীগ জনগনের রায়কে ছিনতাই করে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার জন্যে বদ্ধপরিকর। এমন একটি দিন যায় নি যেদিন তাদের কোন না কোন একটি পদক্ষেপ পরিষ্কার ইংগিত দেয় নি যে তারা কি চায় এবং কি করতে যাচ্ছে। প্রতিদিন একটি একটি নাটবল্টু জোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত করছে স্মরনাতীতকালের সবচেয়ে নগ্ন ও লজ্জাহীন প্রকাশ্যে ভোট চুরির ষড়যন্ত্র। শুধুমাত্র আজকের পত্রিকা থেকে কয়েকটি নিউজ

Continue Reading

দুর্নীতির চেক এন্ড ব্যালান্স করার জন্যে এই প্যাটার্ন টাকে ভাঙ্গা – বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষার একটা বড় প্রশ্ন

1

জিয়া হাসানঃ  তত্ত্বাবধায়ক এর সাথে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্বের একটা বড় সংকটের সমাধান বা মেনেজমেন্ট ইস্যু জড়িত |

আমার উভয় দল দুর্বৃত্তায়িত –তাদের হাতে খাওয়ার সুযোগ ছিল কিন্তু খায় নাই এমন কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ আমাদের দেশে আর অস্তিত্ব নাই | এইটা স্বাধীনতার পর থেকেই ঘটে যাচ্ছে এবং গত বিশ বছরের এই খাওয়া খাওয়ির সিস্টেমটা একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্নে চলছে |

সেইটা হইলো পাচ বছরে একটা দল রাষ্ট্রীয় সম্পদের সম্ভব সর্বোচ্চ পরিমান লুটপাট করে এবং সর্বোচ্চ পরিমান স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পরবর্তী ইলেকশনটাকে তার নিজের ইচ্ছামত করার একটা আয়োজন করছে |

জনগণ রিয়ালায়জ করছে, এই দুর্বৃত্তায়িত প্রশাসন কে ভেঙ্গে যদি নতুন করে কনস্ট্রাকট না করা যায় এবং যদি আরো পাচ বছর একই স্ট্রাকচারটা বহাল থাকে তো তাদের দুর্বৃত্তায়নের ফাউন্ডেশন এত শক্ত হবে যে তারা একটা ভয়ঙ্কর রূপ নিবে এবং তাদেরকে আবার ভাঙ্গা অসম্ভব হবে | এই চেতনা থেকে ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু করে প্রতিটা সরকার পরিবর্তন এর সময় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নির্দলীয় জনগণ যারা ভোটারদের সব চেয়ে বড় অংশ তারা বিরোধী দল এর সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করছে এবং সাথে থাকছে | এবং তাদের নিজের হাতে গড়া প্রশাসনের হাতে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই প্যাটার্ন টা ভাঙ্গা অসম্ভব চিন্তা করে তারা নির্দিধায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইছে |Continue Reading

দেশের মানুষের বাঁচা মরা শেখ হাসিনার হাতে

পাহাড়ের নিচের বসবাসকারী বুদ্ধিমান ব্যক্তির হাতে ধরা পাখি জীবিত না মৃত সেই প্রশ্নের উত্তরের মতোই শেখ হাসিনার হাতেই রয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে আরো রক্ত ঝরবে নাকি রক্ত ঝরা বন্ধ হবে সেই প্রশ্নের উত্তর।

এক জ্ঞানী ও পাখির গল্পটা কজন জানেন? হাত তুলুন। যারা জানেন তারা গল্পটা বাদ দিয়ে বাকিটুকু পড়ুন। অন্যরা আমার সঙ্গে থাকুন।

গল্প

গল্পটা হলো এমন। এক পাহাড়ের গোড়ায় এক দুষ্ট প্রকৃতির বুদ্ধিমান লোক বাস করতেন। লোকজন তার কাছে বুদ্ধি পরামর্শ নিতে আসত। তাকে শ্রদ্ধা সম্মান করত। টাকা পয়সা, সোনা দানা উপহার দিত। এভাবেই দিন কাটছিল। একসময় তিনি লক্ষ্য করলেন, তার ওখানে লোকজনের আসা কমে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, লোকজন তারই ঘরের পাশ দিয়ে পাহাড়ে উঠে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, পাহাড়ের উপরে নতুন এক জ্ঞানী ব্যক্তির আগমন ঘটেছে। সবাই সেখানেই যায়। লোকজন বলাবলি করে পাহাড়ের উপরের লোকটির জ্ঞান নাকি তার চেয়ে বেশি। পাহাড়ের গোড়ায় বাস করা লোকটির একথা শুনে হিংসে হলো। মনে মনে ঠিক করল যেভাবেই হোক পাহাড়ের উপরের লোকটাকে শায়েস্তা করতে হবে। এবং প্রমাণ করতে হবে যে, পাহাড়ের উপরের লোকটা জ্ঞানী তো নয়ই বরং একটা আস্ত বোকা। তাকে অপদস্থ করতে হবে। যেভাবেই হোক লোকজনকে আবার তার কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে।Continue Reading

নেত্রী, অডিও লীকটা খালেদা জিয়ার দেয়া গোল নয়, আপনার ওউন গোল

sheikh-hasina-own-goal

কেমব্রিজ, ৩০ অক্টোবার ২০১৩

এইচ.টি. ইমামের বার্ধক্যে জর্জরিত স্টান্ট সত্ত্বেও শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপিই টেলি কনভার্সেশনের অডিও ফাঁস করেছে।

নেত্রী, গোলটা দিয়েছে আপনার টীমেরই প্লেয়ার, কিন্তু নিজেদের, দ্যাট মিনস আপনার নেটে। এটাকে ওউন গোল বলে। ওউন গোলের স্কোর সব সময়ে “বিরোধী” পক্ষেই কাউন্ট হয়। এটা এত প্রচার করে বলার কিছু নেই।

আর আপনি ওউন গোল খাবেন না বা কেন? আপনার এক প্লেয়ার বলেছিল আপনার বাবার জার্সি খুলে ডুগডুগি বানাবে। আরেক প্লেয়ার আপনার বাবাকে রেড কার্ড দেখানো সেলিব্রেট করতে ট্যাংকের উপর নেচেছিল। আরেক প্লেয়ার যারা রেড কার্ড দেখিয়েছে তাদের শপথ অনুষ্ঠান কনডাক্ট করেছে। এসব লোকজন আজ আপনার ফার্স্ট টীমের প্লেয়ার। এদের দেয়া গোল অপনেন্টের জালে না পড়ে আপনার জালে পড়বে, তাতে আশ্চর্যের কী আছে?
Continue Reading

এইচ টি ইমাম- ম্যাটাডোর’স ক্লোক

KazumaKaneko-Matador
আমার মনে হয় অনেকেই এই ফোনালাপ এনট্র‍্যাপমেন্ট এ উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এর ভূমিকাকে ভুলভাবে দেখছে। আমার তো স্পষ্ট মনে হচ্ছে এইচ টি ইমাম এর ৭১ নিয়ে বিতর্কিত কথা ছিলো বুলফাইটে ম্যাটাডোরের লাল ক্লোকের মতো একটি ডিসেপসন ট্যাকটিক, এই পুরো এনট্র‍্যাপমেন্ট এর অংগাংগী অংশ। প্রথম থেকেই আওয়ামী সরকারের উদ্দ্যেশ্য ছিলো ফোনালাপ ফাস করা। এইচ টি ইমাম ইচ্ছে করেই ফোনালাপের একটি অংশ বিকৃত করে মিডিয়াতে জোর দিয়ে প্রচার করে। আওয়ামী সাংবাদিক জ ই মামুন সোৎসাহে সেটি এম্ফ্যাসাইজ করে। জ ই মামুন তার ফেসবুক ফিডে একবার নয়, বারবার এই অংশটি প্রচার করে। Continue Reading

দুই শীর্ষ নেতার রেকর্ডকৃত টেলিফোন আলাপ প্রকাশ করার ফলে যা হলো…

z

নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবীতে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো আন্দোলন করছে। তাদের এই আন্দোলন যে যৌক্তিক, এই বিষয়টি কুটনৈতিক পর্যায়ে দৌড়-ঝাঁপ, সংবিধান থেকে সরে এসে সরকার দলীয় নেতার নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার সংক্রান্ত প্রস্তাব এবং বিরোধী দলীয় নেতার নির্দলীয় সরকারের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সরকারী নেতা ও বুদ্ধিজীবীগণ কর্তৃক জীবিত নির্দলীয় ব্যক্তি খোঁজার প্রচেষ্টার মাধ্যমেই প্রমানিত হয়েছে।
Continue Reading

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য এগজিট রুট

প্রথমেই বলে রাখি এই লেখাটি মূলত আওয়ামী লীগের রাজনীতি যারা সমর্থন করেন তাদের জন্য কিন্তু আমি নিজে সেসব সমর্থকদের একজন নই। সম্ভবত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমর্থক না হওয়ার জন্যে আমার পক্ষে আউট অফ দা বক্স চিন্তা করাটা যতোটা সহজ, অন্য অনেকের জন্যে ঠিক ততোটা সহজ নাও হতে পারে।
Image
Continue Reading

The answer -my friend – is blowin’ in the wind

20131028-204159.jpg

1. Why Mrs. Khaleda Zia did not withdraw the hartal after the meeting invitation from Sheikh Hasina?

2. Why PM Hasina would invite Khaleda Zia for a face to face meeting after refusing to even think of it for the last five years?

3. Why Mrs. Zia is taking an aggressive stand and showing a position of advantage?

4. Why PM Hasina and her administration seem a bit in a compromising position?

5. Why PM Hasina fired Mahbubul Alam Hanif from the job of ruling party spokesperson?

6. Why ambassador Mozena is visiting India?

Continue Reading

শাহবাগ আমাদের টলারেন্স আর র‍্যাশনেলকে কতটুক প্রভাবিত করেছে?

shahbag-rationale-intolerance

কেমব্রিজ, ২৬ অক্টোবার ২০১৩

শাহবাগের সাফল্য যথারীতি জটিল আলোচনা। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই যদি এর উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে জমায়েত হয়ে একটা জায়গায় দিনের পর দিন বসে থাকা কোন অ্যাপ্রোচ হওয়ার কথা না। কারণ বিচার হচ্ছে আদালতের ব্যাপার, সাক্ষ্য প্রমাণের ব্যাপার। বিত্তবান খুনী জনপ্রতি পাঁচশো টাকা ধরে মোট দশ কোটি টাকা খরচ করে দুই লক্ষ লোককে দিয়ে আদালত ঘেরাও করলেও যেমন ন্যায়বান বিচারকের রায় বদলাবে না, তেমনি কারও কাছে সাক্ষ্য থাকলে সে আদালতে না গিয়ে জাফর ইকবালের মত শাহবাগে গিয়ে বসে থাকলেও বিচারের কোন সুবিধা হবে না।Continue Reading