আমরা কি হুঁশিয়ার আছি?

খোমেনী ইহসান:

ভাইয়েরা ও বইনেরা বুঝতেছে না যে বাংলাদেশকে হীনস্বার্থে যে দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে তাতে করে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছ আইনগত উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধের বিচার, ক্ষমতা হস্তান্তর, জাতীয় প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির বিবাদগুলান মীমাংসা করা উচিত ছিলে। কিন্তু একপক্ষ চাচ্ছে ইসলামবিরোধী গ্লোবাল পরিস্থিতি ও ভারতের সম্প্রসারণবাদী নীতির মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে হত্যা,জখম ও বন্দিত্বের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করে দিতে।আরেক পক্ষ ইসলামের দোহাই দিয়ে যুদ্ধাপরাধ ও ভুল রাজনীতির অভিযোগগুলানকে ককটেল-হরতাল-অবরোধ দিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

 
মুশকিল হলো উভয়ে পক্ষের এই অগ্রহণযোগ্য কাজের কারণে বাংলাদেশে প্রতিদিন রক্ত ঝরেতেছে। অনেক গুরুতর ঘটনা ঘটতেছে। সব কিছু ভেঙে পড়ছে। খোদার বিচারপতিদের ভূমিকাও যুব সংগঠনের ক্যাডারের মতো। এ অবস্থায় মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। গুজব  আর প্রচারণায় সয়লাব দেশ। আবদুল কাদের মোল্লাকে কি কসাই কাদের হিসেবে ফাঁসি দেয়া হলো? তার এই ফাঁসি দিতে গিয়ে বিচার করা হলো নাকি প্রতিশোধ নেয়া হলো? দুই পক্ষের প্রচারণা থেকে বুঝার উপায় নাই। মোল্লা ও মুক্তিযুদ্ধকালে ক্ষতিগ্রস্ত উভয়ে হয়তো সত্য বলেছে। কিন্তু সরকার ও জামায়াত তো মনে হয় মিথ্যার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ। যেমন তারা হত্যা ও নাশকতার প্রতিযোগিতা করছে। গণমাধ্যমগুলান এখানে ভাগ হয়ে গেছে। উভয়েই রক্ত চায়। কালো হরফে ছাপা হচ্ছে লাল রক্তপাতের ইশতেহার।

 
আমরা দেখছি এই যে গণজাগরণ মঞ্চ, আ্ওয়ামী লীগ ও নাগরিক সমাজ এরা কিন্তু রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর ফ্যাসিবাদ কায়েমের লক্ষ্যে মাঠে গড়াগড়ি করতেছে। আর আছে জামায়াত-শিবির। তারা সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়ার জন্য সহিংসতা করছে এবং নিজেরো গণহত্যার শিকার হচ্ছে।মুশকিল হলো আমাদের নিয়তি এই দুই পক্ষের এ্যাকশন, রিএ্যাকশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে। দেশে যেভাবে রক্তপাত হচ্ছে, নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে, খোরাকির দাম বাড়ছে তাতে করে দেশে চরম অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে।আমরা ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জেনেছি ছাত্রলীগ ও যুবলীগ, সরকারপন্থী পুলিশ-আমলাদের মধ্যে ভীতি তৈয়ার হয়েছে। কেউ কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছেন। কেউ আবার পালানোর চেষ্টা করছেন।

 
অন্য যারা যেতে পারছেন না তার ভয় পেয়ে আগ্নেয়াস্ত্র বহন শুরু করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ কর্মীরা, মহানগর ও শহর-বন্দরে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিক লীগ নেতাকর্মীরাও অস্ত্র ধারণ করেছেন। তাদের যে সরকার অস্ত্র দিয়েছ তাও পুরো সত্য নয়। তাদের ভীতিকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় পক্ষ অস্ত্র দিচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদল ও জামায়াত-শিবিরের লোকেরা ব্যাপকতর হত্যা, পঙ্গুত্ববরণের শিকার হয়েছে। তারা কেউ ঘরে থাকতে পারছে না। ফেরার জীবন যাপন করছে। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে কেউ কেউ অস্ত্র ধারণ করছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 
আমরা ধারণা করতে পারি সারা দেশে উভয় পক্ষেই অস্ত্র ধারণের তাগিদ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ীরা এবং সেক্যুলার ও ইসলামী সন্ত্রাসবাদীরা এ অবস্থার সুযোগ নিতে চাইছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সেক্যুলার সন্ত্রাসবাদের প্রধান মদদদাতা ভারতের অবস্থান প্রকাশিত হয়েছে। অতিসম্প্রতি আবার পাকিস্তানের তালেবানের একটি বক্তব্য পাওয়া গেল। তারা পাকিস্তান বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু তারা যে বাংলাদেশে অস্ত্র ও মতবাদ রফতানি করবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নাই।
এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো গেরিলাযুদ্ধের বাস্তবতা বিচার করলে প্রায় সমতলভূমির বাংলাদেশের অবস্থা নিরাপদ মনে হতে পারে। কিন্তু ঘনবসতি ও মানবজঙ্গল আকীর্ণ বাংলাদেশ আরবান গেরিয়া ওয়ারফেয়ারে উর্বর ময়দান। এখানে যদি একবার ভারি অস্ত্র ঢুকে যায় তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে।

 
আমরা যে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি-সেনাবাহিনীকে যোগ্য ও দক্ষ মনে করতেছি, সামরিক সক্ষমতার কথা চিন্তা করলে তাদের নিয়ে আমাদের হতাশ হতে হবে। তারা নিরস্ত্র লোকদের মিছিল-সমাবেশ ও ককটেলবাজিকে ছত্রভঙ্গ করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু সম্মুখ সমর বা ভারি অস্ত্রের চোরাগোপ্তা হামলা মোকাবেলা করার মতো সক্ষমতা তাদের আছে কি না এটা বেশ প্রশ্নবিদ্ধ।আমরা দেখতেছি ক্যান্টনমেন্টগুলান ছাড়া বাংলাদেশের আর কোন স্থাপণাতেই সন্ত্রাস মোকাবেলা করার মতো যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই। আমরা প্রতিদিন উভয় পক্ষে যাদের এতো এতো উস্কানি দিতে দেখছি তাদের না আছে নিরাপত্তা, না আছে শারীরিক সক্ষমতা। যদি সন্ত্রাস জন্ম নেয়ার মতো পরিস্থিতিকে এখন নিয়ন্ত্রণ করতে উভয় পক্ষে সমঝোতা না হয় তবে সবাইতো নিরাপত্তাহীন হয়ে যাব।
কাজেই আমি মনে করি সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও একটা উদ্যোগ নেয়া দরকার। যা কিছু হওয়ার হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে। এখন-
১. সব পক্ষের সন্ত্রাস-হত্যা-সহিংসতা বন্ধ করা হোক।
২. বিচার্য বিষয়গুলান আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সহীহভাবে নিষ্পত্তি করা হোক।
৩. বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করে দিয়ে নতুন সংবিধান সভার জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হোক।
৪. নতুন সংবিধান গঠিত হলে তার অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বশীল নির্বাচিত হোক।
৫. নতুন সরকার ন্যাশনাল রিকন্সিলেশন কমিশনের মাধ্যমে ক্ষমা, দয়া ও দরদ কায়েম করুক।

Cutting Through the Paper Tiger of Rising ‘Islamic’ Militancy in Bangladesh

2

By Surma of the Khichuri for nuraldeen.com

On her recent visit to Bangladesh the Indian foreign secretary Sujatha Singh argued that Bangladesh has an Islamic militancy problem, and that was the main reason for the Indian government’s unstinting support to the increasingly autocratic Awami League government. Right on cue, the pro-government Daily Star issued an op-ed by its executive editor, Syed Badrul Ahsan, which framed the current crisis using the imagery of the 1971 as war against Islamic militancy. On the other side of the subtlety spectrum we have David Lewis at the LSE, continuing the Manichaean narrative of secular versus religious struggle in Bangladesh. Ignoring the above misrepresentation of facts and bearing in mind that the current opposition movement being led by the Bangladeshi nationalist BNP is calling for a neutral caretaker government, the multi-billion dollar question is, does Bangladesh have an Islamic militancy problem?

Historical (Dis)continuity

The above question is linked to the powerful and persistent question of whether Bangladesh is a secular country or religious one, answers to both are interlinked with the approach one takes to Bangladesh and South Asia in general.

One approach could be  termed as a DWEM approach to history, that is history through the eyes of Dead White European Males (DWEM), which is subsequently seconded by local Macaulay Minutemen and minutewomen. That is the history of chronologies and maps, empires and nations, wars and revolutions. According to the DWEM approach Bangladesh is a secular society, and has been since the abolition of the titular Mughal Empire following the 1857 Uprising against British subjugation. The 1971 Bangladesh War and subsequently imposed and alienating constitution is an affirmation of that secular reality.

Another reading of history is to see it as a living entity, embodied, decolonial and subaltern. This reading can be summarised by the Persian saying that, “The greatness of a city lies not in its monuments or buildings, nor in its market or gardens but in the men buried inside its walls”. The demonstrative reality of this history is seen in the cities and towns throughout South Asia, amongst the daily throngs that visit the shrines of these great men.

It is a sacred reading of history that starts with Data Ganj Bakhsh Hujwiri in Lahore, through Moinuddin Chisti in Ajmer, then from Nizamuddin Auliya in Delhi to Shahjalal in Sylhet. After all, it was Nizamuddin who gave Shahjalal the famous flock of doves whose descendants we see at the shrine (dargah) today. To understand the subaltern Muslim civilisation in South Asia we can focus on Moinuddin Chishti (1141-1236), who settled in the city of Ajmer, when the Delhi kings conquered their. His dwelling soon became a fountainhead of Muslim civilisation in the Indian subcontinent.

Rembrandt’s picture of the founders of the four Sufi schools in Indian subcontinent c.1656 [Source: British Museum, Schimmel]

Rembrandt’s picture of the founders of the four Sufi schools in Indian
subcontinent c.1656 [Source: British Museum, Schimmel]

As the Chishtis journeyed through the land spreading the dual message of spiritual equality and social justice, their straightforward preaching and practice of the love of God and one’s neighbours impressed many, particularly those from the lower castes and even members of the scheduled castes.The fact that these khanqahs (mystic lodges) avoided any discrimination between their guests and practiced a classless society attracted many people into their fold. One taster of the teachings of Moinuddin Chishti and company is that a human being should possess “a generosity like that of the ocean, a mildness like that of the sun and a modesty like that of earth.”

This sacred tradition and history has survived and continues to this day and is an integral part of the ordinary citizens of Bangladesh, if you look. In the cities, mufassil towns and villages, anecdotes from Hujwiri’s Kashf al Mahjub (Revelation of Mystery), still resonate in Friday sermons today. Aspects of the curriculum that Nizamuddin Aulia designed and taught can be found in the country’s madrassas. The classless generosity of Moinuddin Chisti is emulated in the weekly communal feasts of the Tablighi Jamaat. This group claim links to the Chishtis through their founder Maulana Ilyas, and their annual Bishwa Ijtema, in Tongi, Dhaka is renowned as  a global mega event and the largest gathering of Muslims outside the Hajj.

Politics and Religion: an explanation of the paradox that is Maulana Bhashani

The interconnections between religious and political spheres in South Asia have been uneasy and tumultuous at times to say the least.  This tradition of connection goes all the way back to the Emperor Ashoka and his incorporation of Buddhist principles into state policy. More recently we can see this relation exemplified by the changing fortunes of the Naqshbandi Tariqa (brotherhood) who arrived in South Asia with the Mughal conquest.

The Naqshbandi’s had a continuous influence on regional politics, from Ahmed Sirhindi on the Mughal Emperors, through to Shah Waliullah on the Afghan King, Ahmad Shah Abdali. Their footprints can be discerned in the modern day politics of the subcontinent; from the Composite Nationalism concept of Congress-aligned Hussain Ahmed Madani (teacher of Hefazat leader Allama Shafi), to Muslim League aligned figures such as Mufti Muhammad Shafi Usmani, the first grand mufti of Pakistan.

There is an argument that one hears that modern Bangladesh is an exception to the rule, that there is no place for religion in politics. However, if one goes beyond the rhetoric and delves into the historical experience, one finds the paradoxical figure of Maulana Bhashani, and a continuation of the Naqshbandi tradition.

A disciple of the Baghdadi Pir Sahib of Lakhimpur in Assam, Bhashani was advised to journey to Deoband in Uttar Pradesh to study under the Naqshbandi anti-imperialist, Maulana Mahmudul Hassan. Upon returning from his trip, he joined and led the struggle against the exploitation that tenant farmers face from of the xenophonic Line System. This spurred the Moulana on his long political journey to emancipate his people; to economic liberation from the feudal system, to political liberation from the British Raj in 1947, political freedoms from the Sandhurst educated Rawalpindi generals of United Pakistan, and hunger from the ravages of the 1974 Bangladesh famine. Spanning three nationhoods, his last great public act was against India’s hydro hegemonic erection, The Long March of the Farakka Dam in 1976, which is arguably the last time a Bangladeshi politician was taken seriously in the Lok Sabha.

Like a Prophet Moses, he died before he could take his people to the promised land of true independence. Jami, a Naqshbandi Persian wrote a couplet that speaks to this journey.

The Naqshbandiyya are strange caravan leaders

Who bring the caravan through hidden paths into the sacred sanctuary

6th of May 2013 – A War Against Whom?

In London in recent weeks, Kamal Ahmed, former BBC Bengali Service Editor and regular Prothom Alo contributor, made an interesting statement at a presentation with Frances Harrison at the International Institute for Strategic Studies (IISS), ‘Political Islam and the issues at stake in the Bangladeshi elections’. He said that a ‘choice will need to be made soon, whether democracy is good or Islamist forces should be tackled’. Such a proposition presupposes that the state is being threatened by a rising tide of Islamism. But, is society being radicalised, or are state institutions and elites are becoming more radically alienated from the citizenry?

In Dhaka, in the early hours of Monday 6th of May, a journalist reported the commanding officer of about two thousand, armed police and paramilitary troops pumping up his subordinates with the words ‘Are you all prepared to go to war?’ The massacre that followed, against unarmed and mainly sleeping protesters tired from a long day’s demonstration, was covered up, and remains shrouded in both public denial and fear. Two outspoken TV stations and a popular newspaper were shut down by the government at the time and it is alleged that between scores and hundreds of unarmed protesters were killed. Subsequent investigations have been hampered by the arrests of human rights investigators, not to mention fundamental elite disinterest. Reading the pages of the corporate media, as well as the selective pronouncements from civil society and their ‘development partners’, we could be forgiven if we were to conclude that such a brutal crackdown was universally sanctioned and supported.

The immediate municipal electoral defeats of the Awami League in municipal elections and their general unpopularity express a wide-scale revulsion amongst the population with regards to the massacre. Preliminary investigations have shown that the protests attracted the presence and support of more than the community madrassa sector. People from very different walks of society were killed, injured and terrorised, from labour activists and journalists to a student at an elite engineering university. In one unverified report, a leading Awami League party member from the greater Noakhali region lost three of his nephews. It is as if the institutions that were supposed to protect the citizenry suddenly turned upon them.

Overnight, the native became the alien in the eyes of state institutions. Investigations have revealed that contrary to the official narrative of a clean crowd control operation, protestors were misdirected by security forces to cordoned off ambush zones, and were subsequently set upon. This is a familiar terror tactic commonly used by security forces in Indian Occupied Kashmir and reported by survivors of the 2002 Gujarat Massacre.

The above inversion, of government turning on its citizens was replicated by wider civil society leaders, who instead of championing the violated rights of their citizenry, either remained in complicit silence or cheered on the security forces. In a scene pulled out of Macbeth, we had the human rights Lady, Sultana Kamal, head of the donor financed human rights organisation Ain o Salish Kendra, egging on the security forces to ‘eradicate’ the Islamists. This outburst was followed a few days by protest leader Junaid Babnugari being shifted from police custody to a critical care unit and having a leg amputated due to mistreatment at the hands of the security forces. With civil society in Bangladesh emerging as a simple extension of state terror, questions need to be asked about how such an arrangement has come about and what sustains it.

The Parable of the Boy and the Tiger: From Ahsan to Lewis

Yann Martel’s ‘Life of Pi’ was inspired by the Moacyr Scliar’s earlier novel, ‘Max and the Cats’, a story that worked with the allegory of the rise of European fascism. After several conflicts between the Big Cat and the Boy, a fight to the death and rescue, it appears that the Big Cat was a projection of the Boy’s imagination, an inner demon.

The Boy and the Tiger: Life of Pi

The Boy and the Tiger: Life of Pi

This also appears to be the case for a lot of the parochial war on terror industry spokespeople such as Syed Badrul Ahsan, and their international harmonisers in the guise of David Lewis, the myth of an Islamic Militancy plays the similar role of the Tiger.  This phantom of a rising militancy, gives them a get out jail card for analysing the dysfunctionality of politics in Bangladesh and their own personal intellectual failings. This paper Tiger is also reflected in the Indian government’s diplomatic stance, as the New Age newspaper recently pointed out, they know that in reality there is no real threat of an Islamic Militancy, but the myth serves as fig leaf for its own diplomatic incompetence of hoisting it colours so publicly to the increasingly unpopular Awami League.

Yes there is violence against minorities, yes there are hindrances to speech and discourse. But it is the followers of secular political parties that have attacked minorities, not seminary students or followers of a sufi pir. It is the secular courts and security forces that lock up and tortured newspaper editors and online activists, not some obscure religious court.

The evident and underlying tensions in Bangladeshi society are not due to a rising Islamic militancy, but due to the alienation of the ruling elite from the population and a breakdown in state institutions. This breakdown is exemplified by the controversy over the International  Crimes Tribunal and the recent ‘judicial murder’ of Abdul Quader Mollah. The myth of an Islamic militancy is being used as band aid to cover these ever widening cracks in society, between self-appointed leaders and the people. As an old saying goes, “beware who you point the finger at, for when you point the figure at someone or something, there are three fingers pointing back at you.”

Religion is not an anathema but a defining factor in the modern story of Bangladesh. This journey began with the Composite Nationalism of Hussain Ahmed Madani, and was sustained by the selfless activism of Maulana Bhashani as well as the conciliatory Bangladeshi Nationalism of Zia ur Rahman. The recognition of Islam in the constitution by the BNP and its allies is a view shared by the majority of grassroot activist in the AL, and so the journey still continues.

To conclude, Shahbag and its antecedent of high and exclusive West Bengal orientated nationalism is not the logical outcome nor endpoint of the Bangladesh story, but it is a reaction against its natural course.

Or as the sufis say,

The dogs start barking, when the caravan starts moving….

তোমরা যারা বিএনপি বিদ্বেষী

খোমেনী ইহসান:
‘তোমরা যারা বিএনপি করো’ শিরোনামে ব্রাদার মনোয়ার রুবেল অনলাইন দৈনিক ‘বাংলানিউজ২৪ ডটকম’ এ একখান প্রচারণাপত্র লিখেছেন। মনোয়ার তার এই লেখায় অনেকখানি চক্রান্ত বিদ্যা চর্চা করেছেন। যা এই কারণেই হাস্যকর হয়েছে যে, বিএনপির লোকেরা তার কোনো কথাই গ্রহণ করবে না। মনোয়ার একবুক বিএনপি বিদ্বেষকে গোপন করে বিএনপি দরদী সাজলেও দলটির নেতাকর্মীদের আবেগানুভূতির প্রতি সামান্যতম সংহতিও দৃশ্যমান করতে পারেননি। বরং তিনি বিএনপির লোকেদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর লোকদের রাজনৈতিক ফারাক সূচিত করতে গিয়ে অসম্মান ও বিদ্বেষই জারি রেখেছেন।

খেয়াল করে দেখি মনোয়ার কী করছেন। তিনি লিখেছেন, ‘তোমরা বিএনপি/ছাত্রদল করো তারা হয়তো একটি জিনিস নিশ্চয়ই জানো, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি দল। শহীদ জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা। জিয়াউর রহমানের বীরত্বগাথা যুদ্ধের কাহিনী স্কুলগুলোতে পড়ানো হয়।’ মনোয়ার চালাকি করে সম্মান দেখানোর নামে জিয়াউর রহমানের প্রতি তাদের বিদ্বেষকে ঠিকই জারি রেখেছেন। কারণ যারা জিয়া বিদ্বেষী তারা তাকে শুধু মুক্তিযোদ্ধা মনে করে। বিদ্বেষের মধ্যে একটু উদারতা দেখাতে গিয়ে তারা কষ্ট করে স্বীকার করে যে জিয়া মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। কিন্তু জিয়া শুধুই মুক্তিযোদ্ধা বা সেক্টর কমাণ্ডার নন। জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। তার ঘোষণার মাধ্যমেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে আওয়ামী লীগের নেতারা পালিয়ে যান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী হানাদারদের তত্ত্বাবধানে গ্রেফতার বরণ করেন। অপারেশন সার্চ লাইটের তাণ্ডবে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রাণ্তে অগুণতি বাংলাদেশির লাশ ছড়িয়েছিটিয়ে পড়েছিল। বিপুল শোক, স্বজন হারানোর আহাজারি আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও দিক নির্দেশনাহীনতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় মুক্তিকামী জনতা। এ অবস্থায় বাংলাদেশের আপামর জনগণকে ইতিহাসের উত্থানপর্বে উন্নীত করতে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে এলেন মেজর জিয়া। প্রথমে তিনি নিজের নামেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনই যার প্রধান লক্ষ্য, তিনি কূটরাজনৈতিক বিবাদকে দানা বাধতে দিতে পারেন না। তাই পরের ঘোষণায় তিনি স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও অন্তর্ভূক্ত করে নিলেন। তার নামে নতুন করে ঘোষণা দিলেন। যার ফলাফল হলো জিয়ার প্রথম ঘোষণায় উজ্জীবিত জনগণ আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ়তার জমিনে আরো বেশি সিনা টানটান করে দাড়িয়ে গেলো। ইতিহাসের দুর্দান্ত সময়ে জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যে মহান কর্তব্য পালন করেছেন, যে সেনাপতিসুলভ প্রজ্ঞা দেখিয়েছেন এবং স্বাধীনতাকামী জনগণকে শোক-বেদনা-হতাশা উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধে শামিল হতে উদ্বুদ্ব করেছেন তার প্রতি বাংলাদেশের গণমানুষের বিপুল সমর্থন, সংহতি ও শ্রদ্ধা রয়েছে। জনগণের এই শ্রদ্ধাকে বিএনপি/ছাত্রদলের সব নেতাকর্মীই অন্তরে ধারণ করেন।

কাজেই জিয়াকে যখন শুধুই মুক্তিযোদ্ধা সম্বোধনে বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপদেশ খয়রাত করা হয় তখন তারা দেখতে পান উপদেষ্টাবন্ধুর মুখোশধারী লোকটি আসলে জিয়া বিদ্বেষী। কারণ এই দেশে যারা জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক স্বীকার করেন না তারা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি কী মনোভাব পোষণ করে তা আর অজানা নয়। এই বিদ্বেষীদের অনেকেই তো সংসদে, সংবাদ সম্মেলনে, জনসভায় শহীদ জিয়াকেজ স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অস্বীকার করেছেন। বলে বেড়িয়েছেন জিয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। শহীদ জিয়া নাকি আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার অভিনয় করেছেন। তারা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে এই মিথ্যাচারই করছেন না। তারা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ভূমিকার জন্যও জিয়াকে অপবাদ দেন। তারা বলেন জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য দায়ী। জিয়া সেই সময় সেনাবাহিনীর উপপ্রধান ছিলেন। ৫ আগস্ট ভোরে বঙ্গবন্ধু নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য সাহায্য চেয়ে তাকে ফোন করেননি। বঙ্গবন্ধু ফোন করেছিলেন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে।তিনি মুখের উপর বঙ্গবন্ধুর জীবন বাচাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। সেই শফিউল্লাহ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ক্যুদেতাদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। বিদেশে রাষ্ট্রদূতের চাকরি নিয়ে দেশ ছেড়ে গেছেন। কিন্তু শফিউল্লাহ আওয়ামী লীগের কাছে উপেক্ষিত থাকেননি।তিনি দলটির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জিয়া বিদ্বেষীরা অভিযোগ করেন তিনি রাজাকার-আলবদরদের রাজনীতিতে পুনর্বহাল করেছেন। কিন্তু তারা বলেন না যে জিয়া একাজটি করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর নীতির ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে। তার এই কথা ধামাচাপা দিতে গিয়েই আড়াল করে যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার-দালালদের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাকে। বঙ্গবন্ধু সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার না করে পাকিস্তানের সাথে সমঝোতার চুক্তি করেছিলো। মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ভুট্টোর সাথে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু গলাগলি ও কোলাকুলি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বিনা বিচারে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল কারবন্দি হাজার হাজার রাজাকার-দালালদেরকে। তারা শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়ার নজিরকে সামনে এনে শহীদ জিয়া বিরোধী যে প্রচারণা চালান তার মধ্যে কোন উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয় তাও তো কারো অজানা নয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম, সংবাদপত্র, বিচার বিভাগ ও বাক স্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে জাতীয় জীবনে নৈরাজ্য ও হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরির ফলে বাংলাদেশে জাতীয় সংহতি বিনষ্ট হয়েছিল। দেশ নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল আমাদের জন্মভূমি। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মহান সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ জিয়ার কাঁধে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্বভার অর্পিত হয়েছিল। জাতীয় সংহতির পথ উন্মোচিত করতে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্র-বিচার বিভাগ-বাক স্বাধীনতা কায়েম করেছিলেন। তিনি বাকশালে বিলুপ্ত আওয়ামী লীগ ও সিপিবিসহ সব রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। জিয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও দেশে ফেরত এনে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছেন।

জিয়া বিদ্বেষীরা অভিযোগ করেন জিয়া জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলছি স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকার যে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল তার প্রমাণ দেখান। তিনি ভারতের সাথে কলা ২৫ সালা গোলামীর চুক্তি মোতাবেক সংবিধানে জোর করে ধর্মনিরপেক্ষতা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। এর ফলে জামায়াত রাজনীতি করার সুযোগ হারিয়েছিল কিন্তু তিনি তো কখনোই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেননি। সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি বাঙ্গালীর জাতীয়তাবাদকে সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। অথচ বাংলাদেশে আরো কমপক্ষে ৫০টি জাতি সত্ত্বা রয়েছে। তারপরেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাংবিধানিকভাবে সাম্প্রদায়িকতা কায়েম করা হলে। অথচ বাঙ্গালীদের মতো বাংলাদেশে মুসলমানরাও সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের ধর্মকে উপেক্ষা করে ধর্মনিরপেক্ষতা কায়েম হতে পারে না। সত্যিকারের সেক্যুলার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাইলে এটা সম্ভব নয়। এ কারণে জিয়া ইসলামপন্থী দলগুলোকেও জাতীয় ঐক্যের মধ্যে আসতে দিয়েছেন। এটা তার অপরাধ ছিল না, বরং তার সুদূরপ্রসারী ঐক্য চিন্তার সৌন্দর্য্য। জাতীয় ঐক্য ও সংহতির মতো মহান লক্ষ্যের জন্য জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে রাজনীতি করতে দেয়ায় বিএনপি ও জিয়া বিদ্বেষীরা অপরাজনীতি করে বেড়ায়। অথচ তারা তো একবারও বলেনা যে শুধু বিএনপি বিরোধী আন্দোলন করতে ও ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগ কিভাবে জামায়াতের সাথে এক টেবিলে বসে রাজনীতি করে।কিভাবে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করে? কিভাবে অধ্যাপক গোলাম আযমের কাছে আওয়ামী লীগ দলীয় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দোয়া আনতে যায়? আওয়ামী লীগের ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করা যদি দোষের না হয় তবে জিয়ার সিদ্ধান্ত কেন মহাননুভবতা হিসেবে স্বীকৃত হবে না?

মনোয়ার রুবেল তার লেখার সমালোচনার কারণে বিএনপি ও ছাত্রদলের লোকদের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের সাথে সুর মেলানোর অভিযোগ করেছেন। তার এ অভিযোগ অপবাদই নয় শুধু বিএনপি ও জিয়া পরিবার বিরোধী চক্রান্তেরই অংশ। কারণ আমরা দেখেছি গত ৫টি বছর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাতে গিয়ে প্রায় সময়েই জিয়া বিদ্বেষীরা বলেছে বিএনপি ও জামায়াত একই রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী। তারা স্বাধীনতার ঘোষক ও দেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার দলকে বলে বেড়ায় পাকিস্তানপন্থী দল। এসব অপবাদ তো শুধু অপবাদ ছিল না। এই অপবাদ ছিলো বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ইশতেহারের অংশ। তাইতো আমরা দেখি তারা খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে নিষ্ঠুরভাবে ঈদের আগে উচ্ছেদ করেছে। অথচ রাষ্ট্রের কাছ থেকে বরাদ্দ পেয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ঢাকায় বাড়ি করেছেন। তার বাড়ি কিন্তু বহাল আছে। সরকার মুজাহিদ পরিবারকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ দূরে থাক, এ জন্য একটি শব্দও খরচ করেননি জিয়া বিদ্বেষীরা। আমরা দেখেছি বিদ্বেষীরা কিভাবে দিনের পর দিন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও কোকোকে অপবাদ দিয়েছে। তারেকের বিরুদ্ধে তারা আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআইয়ের লোকদের সাক্ষী হিসেবে উড়িয়ে এনে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন তিনি দুর্নীতিবাজ। কিন্তু আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে তারেক নির্দোষ। আদালতের এই ঘোষণার পর কিন্তু তারা একবারও ‘সরি’ বলেনি।

আজকে বিএনপি ও জামায়াতের সুর এক হয়ে গেছে বলে তারা অভিমান করছেন। ছাত্রদলের ছেলেরা শিবিরের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে কথা বলছে বলে গোস্বা করছেন। কিন্তু বিএনপি সব সময় জানিয়েছে তাদের আদর্শ বাংলাদেশী জাতীয়তবাদ। তারা জামায়াতের সাথে আদর্শিক ঐক্য নয়, ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের জোট করেছে। যার প্রমাণ আমরা বিএনপির কথা ও কাজে দেখেছি। কিন্তু যারা আজ বিএনপি দরদী তারা কি বিএনপি ও জামায়াতের সাথে কোনো ফারাক করেছে? তাহলে জামায়াত-শিবিরকে হত্যা-গুমের মতো করে তারা বিএনপি বা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হত্যা-গুম করে? বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল মনে করার নমুনা কি ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, ছাত্রদল নেতা আশিককে গুম করা? মাঝরাতে মই বেয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে অনুপ্রবেশ করে রিজভী আহমেদকে তুলে নিয়ে যাওয়া? ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এমকে আনোয়ার, ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, আসম হান্নান শাহকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি করে রাখা? ছাত্রদল ও শিবিরের সাথে পার্থক্য করার মানে কি ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ও হাবিবুর রশীদ হাবিবকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি করে রাখা। গত এক মাসে ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছেন। আমরা দেখিনি কেউ ছাত্রদলকে শিবিরের থেকে আলাদা ছাত্রসংগঠন মনে করে তাদের পক্ষে দুটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন।

সত্যি কথা কি, আওয়ামী লীগ বিনা ইশতেহারে, প্রতীকে, ভোটে যখন ১৫৪টি আসনে নিজেকে বিজয়ী করে ফেলে তখন কূটনীতিকরা হতভম্ব হয়ে যান। তারা সেই সরকারের আমন্ত্রণে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে হাস্যকর সরকারের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকেন। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এর কূটনৈতিক মূল্য বুঝেন। তাই যারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষে থাকার কথা বলে ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থার পক্ষে নির্লজ্জভাবে অবস্থান নেয় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রতিবাদী বক্তব্যকে অনুধাবন করে ফ্যাসিবাদকে সমর্থনের জন্য যখন কেউ দুঃখিত-লজ্জিত না হয়ে যখন বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জামায়াত/শিবির করার জন্য অভিযুক্ত করা হয় তখন সব কিছু পষ্ট হয়ে যায়। বিএনপি ও জিয়া পরিবার বিদ্বেষীরা আজ আস্তিনে খঞ্জর লুকিয়ে ভালো সাজতে এসেছে! কিন্তু তাদের কথা শুনে বিএনপি/ছাত্রদল নিঃস্ব হয়ে পড়লে যে খঞ্জর নিয়ে ঝাপিয়ে পড়বে না তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য নজির নাই।

মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি, তবে…

1

অতিথি লেখক- খোমেনী এহসান 

আমি আগের কোনো একটা লেখায় বলেছিলাম যে দেশে ৬৯ এর মতো গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমি আজকের লেখায় বলছি দেশে ১৯৭১ এর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতোই রাষ্ট্রের পক্ষের (পাকিস্তানের বদলে এখন বাংলাদেশ) হানাদার বাহিনী ও রাজাকারেরা দেশের নানান জায়গায় স্বৈরশাসক ( ইয়াহিয়া খানের বদলে শেখ হাসিনা) বিরোধীদের বাড়িঘরে হানা দিচ্ছে। বিরোধীদের দেখামাত্রই গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে।এসবই ফ্যাক্ট। ঘটনা। বাস্তবতা। গণমাধ্যম প্রচার করুক বা না করুক। ঘটনা ঘটছে। মানুষ খুন হচ্ছে। গণহত্যা হচ্ছে। ক্লিনজিং চলছে। নির্মূলাভিযান। ১৯৭১ এও প্রচার নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। ধামাচাপা দিয়েছে গণমাধ্যম। কিন্তু হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি।
২.
আমি খুব বেশি আবেগতাড়িত থাকতে পারছি না। তাই বলছি, নাগরিকদের বিরুদ্ধে স্বৈরশাসকদের যে ভূমিকা তা শুধু শেখ হাসিনাই পালন করছেন না। এই ভূমিকা স্বাধীন বাংলাদেশের সব সরকারই কমবেশি পালন করেছে।এটা বুঝতে হলে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফের বদলে ধর্ম বা জাতীয়তাবাদ দিয়ে গঠিত রাষ্ট্র মাত্রই জুলুমের রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্রের সব সরকারই স্বৈরশাসন চালায়। কেউ বেশি চালায় আর কেউ কম চালায়। মাত্রা কমবেশির কারণে আমরা স্বৈরশাসন নিয়ে আবেগ তাড়িত থাকি। শেখ মুজিবকে ভালোবাসি বা জিয়াকে গালি দেই। আবার জিয়াকে ভালোবাসি বা শেখকে গালি দেই। একইভাবে শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি বা খালেদা জিয়াকে গালি দেই। আবার খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি বা শেখের বেটিকে গালি দেই।

কিন্তু ইয়াহিয়া খানের শাসন, পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্র, পাকিস্তানী আর্মি-পুলিশের মতো হানাদার বাহিনী ও দালাল-রাজাকারদের চিনে নেওয়ার জন্য একটি বিষয়ই যথেষ্ট। রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধায়নে নাগরিকদের হত্যা। ব্যস, চেনা হয়ে গেলে। লাশ দেখে আমরা রাষ্ট্রকে চিনে নিতে পারি। আমার ভাই ১৯৭১ এ না ২০১৩ এ খুন হয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ কে খুন করছে। কে আমাদের বুকে বন্দুক তাক করে রেখেছে। নিশ্চয় চূড়ান্ত ধান্দাবাজ জালেম ছাড়া কেউ এ কথা বলতে পারে না যে পাকিস্তানীদের হাতে খুন হতে কষ্ট লাগে, আর বাংলাদেশীদের হাতে খুন হতে আরাম লাগে। খুনের স্বাদ সব স্থান কাল পাত্র ভেদে একই। যেমন মায়ের দুধের স্বাদ, মা ইংরেজ না বাঙালী ভেদে আলাদা নয়।
৩.
মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি বিরাজ করলেই যে সব সময় মুক্তিযুদ্ধ চলে এটা ঠিক নয়। দুনিয়া জুড়েই মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশেও স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪২ বছর ধরেই মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ হয়নি।
শেখ মুজিবের সময় শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার চেষ্টা করেছিলেন। পারেননি। জিয়ার সময় চেষ্টাও ছিল না। সেনাবাহিনীতে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শুধু লাশ পড়েছে। এরশাদের সময় একটা চেষ্টা ছিলো। সেনাশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াই। ছাত্ররা নতুন গঠনতন্ত্রের আওয়াজ তুলেছিলেন যদিও। কিন্তু গণতন্ত্রের লড়াই শেষ পর্যন্ত ত্রিদলীয় জোটের রূপরেখায় এরশাদের শাসনের বৈধতা, ধারাবাহিকতার নামে বিদ্যমান সংবিধান বহাল রাখা ও সামন্ত প্রভুদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে পরিণত হয়েছে।
অত্যন্ত নোংরা কাজ হয়েছে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সরকারগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়। এখানে জনগণের পক্ষে কোনো দাবি দাওয়া ছিল না। বিরোধী দলের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন হয়েছে। সরকারগুলান টিকে থাকতে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে একবারই সুযোগ এসেছিল। এক এগারর সেনা-সুশীল শাসনের দুই বছরের সময়। কিন্তু ছাত্ররা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। রাজনৈতিক দলের ভাড়া খাটার দাস মানসিকতা আর নতুন রাষ্ট্র গড়ার বাসনার অনুপস্থিতিই এর কারণ।
৪.
মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্যমান হওয়া নাগরিকদের রাজনৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। এটা অবশ্য করতে হয় রাজনৈতিক দলকে। ১৯৭১ এ এটা শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সম্ভব করেছিল।আজ আমরা স্বীকার করতে চাই যে, মুক্তিযুদ্ধটা সম্ভব হয়েছিল সত্যিকার অর্থেই শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের কারণে। ধরেন শেখ মুজিব ভুট্টোর সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে রাজি হলেন। তাহলে কি মুক্তিযুদ্ধ হতো? হতো না।কে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবে, কে গোটা পাকিস্তান শাসন করবে এই প্রশ্নের সুরাহা না হওয়ায় যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তা ঠিক না। পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার যে দ্বন্দ্ব তাকে ক্ষমতার জায়গার চেয়ে জাতিগত দ্বন্দ্ব হিসেবে হাজির করতে পেরেছিল আওয়ামী লীগ। তারা শুধু এট হাজিরই করেনি। বরং তারা গোটা পাকিস্তানের মসনদে আওয়ামী লীগের বসতে পারা না পারারা প্রশ্নকে পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির প্রশ্নে পরিণত করেছিল।
আমরা দেখতে পেলাম পশ্চিম পাকিস্তানীরা রাজনৈতিকভাবে সমঝোতার বৈঠকে এ প্রশ্নের সুরাহা করতে পারেনি। তারা বরং বন্দুকের জোরে এই প্রশ্নের জবাব দিতে চেয়েছে। যার ফলে মুক্তিযুদ্ধ হয়ে গেল। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হলো। শেখ মুজিব কী পেলো, আওয়ামী লীগ কী পেলো এটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ না। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার স্বাদ পেতে গিয়ে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপহার দিয়েছে। এখন এই স্বাধীনতাকে আমরা কতখানি অর্থবহ করতে পারি সেটার সাফল্য ব্যর্থতা আমাদেরই। আওয়ামী লীগ তার চাওয়ার মধ্যেই খাবি খাবে এটাই স্বাভাবিক।
৫.
তাহলে আমরা এ আলোচনার উপসংহারে পৌছাতে পারি। বিরোধী দলও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার দাবি তুলে আন্দোলন করেছে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের প্রশ্নটি সরকার রাজনৈতিকভাবে সমঝোতার বৈঠকে সুরাহা করতে চায়নি। তারা ইয়াহিয়া খানের মতো বন্দুক বেছে নিয়েছে।ইয়াহিয়ার মতোই এ সরকারের তাকত। কারণ ইয়াহিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যেমন ছিল তেমনি শেখ হাসিনার পাশে ভারত আছে। তবে ভারত অপেক্ষাকৃত দুর্বল, শেখ হাসিনাও দুর্বল। তাই ১৯৭১ এর মতো বড় গণহত্যা হচ্ছে না। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো বিরোধী দল নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিকে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নের বাইরে বড় পরিসরে হাজির করতে পারেনি। তারা বলতে পারছে না যে কেন শেখ হাসিনার বদলে তাদের ক্ষমতায় আনতে হবে। তাদের ক্ষমতায় আনলে শেখ হাসিনার চেয়ে আলাদা কী উপহার দেবে তারা?
দুঃখের বিষয় খালেদা জিয়া মাঝেমধ্যে নানা সংবাদ সম্মেলনে বা জনসভায় এই প্রশ্নের একটা গোজামিলের জবাব দেন। তিনি বলেন ক্ষমতায় গেলে শেখ হাসিনার চেয়ে কম মাত্রায় শোষণ জুলুম করবেন। তাই তো তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে তারা ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার সরকার করবেন। দুর্নীতি করবেন না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করবেন, সব গণমাধ্যমকে সুযোগ দেবেন। কিন্তু খালেদা জিয়া কিন্তু একবারও বলেন না স্বৈরতান্ত্রিক সংবিধান বদলাবেন, র‌্যাব ভেঙ্গে দেবেন, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার করবেন, বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থা বাতিল ও দুর্নীতিবাজ দলীয় বিচারপতিদের বিচার করবেন। এমনকি তিনি বলেন না যে সাংবিধানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী পদকে যেভাবে হিটলারের মতো নাৎসীগিরি করার সুযোগ দেয়া হয়েছে তা থেকে তিনি বিরত থাকবেন এবং তিনি এই অসহ্য ক্ষমতাকে তিনি হ্রাস করবেন। তিনি বলেন না যে ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করবেন। তিনি বলেন না রাষ্ট্রের সর্বত্র না পারেন অন্তত ক্ষমতাসীন দলে তিনি গণতন্ত্র কায়েম করবেন।কাজেই মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতিতে অসংখ্য মানুষের খুন দুঃখজনক অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন আমাদের কাজ হলো এই সব খুন বন্দ করা এবং বিরোধী দল-সরকারের মধ্যে সমঝোতা করা।
মুক্তিযুদ্ধ হলে আমরা অবশ্য নিজেরাই মুক্তিযোদ্ধা হতে পাত্তুম।

NINETEEN SEVENTY-FIVE (1975): A Defining Year for Bangladesh

mujib_zia

What is clear is that just as in Pakistan when Bengali Muslims were not willing to allow the destruction of their Bengali identity, in Bangladesh they were not willing to allow their Muslim identity to be undermined.  They are both Bengalis and Muslims at the same time.

By M Ahmedullah, PhD in Epistemology and Politics

BAKSAL

Nineteen seventy-five (1975) was both a momentous and traumatic year for Bangladesh.  On the one hand, the dream that inspired the Bengalis of East Pakistan to fight against the dominance of West Pakistan and the non-democratic rule of the military lay shattered with the ‘second revolution’ and the creation of BAKSAL.  It was a political system designed for one-party rule – the newly created party BAKSAL was to rule Bangladesh under the supreme leadership of Sheikh Mujib, and no other party was to be allowed to function.  All, but four, newspapers were banned.  The expectation of economic benefits arising from the ending of Pakistani rule did not materialize – in fact, in many respects, matters only became worse.  Off course, Bangladesh faced a gigantic task of rehabilitating millions of displaced people and rebuilding the shattered economy in the aftermath of the devastating war of liberation.  However, given the post-war assistance Bangladesh received from sympathetic nations around the world, corruption and incompetence of the Mujib government quickly began to be seen to be the main factors behind the lack of progress.  Added to that, the summer flood of 1974, a factor that caused the subsequent famine and the loss of a large number of innocent lives, were fresh in the minds of the people.  Again, Mujib and his government were blamed.  The sacrifices that the unarmed people made in 1971 to liberate Bangladesh in the name of ‘Jatir Pita Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman’ were beginning to be seen to have been in vain.  The people of Bangladesh trusted Mujib and thought that his democratic vision for Bangladesh was based on a clear and deep understanding of political theory and the process of democratic politics.  The BAKSAL was seen as another experiment of a confused leader that had very little knowledge or understanding of politics and economy.

The assassination of Sheikh Mujib and the Rise of General Zia

On the other hand, Bangladesh became faced with a very dangerous political crisis with the assassination of the ‘Father of the Nation’ in August 1975, which unfolded for several months before the situation began to stabilize after the 7th November soldiers uprising and the installation of General Ziaur Rahman as the ruler of Bangladesh under a military dictatorship.  The irony is that many individuals, both military personnel and politicians, who fought the war of liberation under the leadership of Mujib, including many of his close associates, joined those who killed ‘Bangabandhu’.  This included Zia, who was known for both his service during the liberation struggle and his declaration of independence from Chittagong radio on 26 March 1971 when the Pakistani military assault began.  Although Zia was not directly linked to the killing of Sheikh Mujib, his position as the military ruler and many of the changes he instituted are definitely antithetical to the ideology of both Awami League and BAKSAL. Further, as the situation in Bangladesh continued to stabilize, the reputation and acceptance of Zia increased progressively.  The question that comes to mind is, how can it be explained that individuals like Zia, who fought bravely during the liberation war under the leadership of Mujib, de facto supported his removal from power and subsequently initiated steps to dismantle the ideology of Mujibbad?  Many factors no doubt contributed to this, and people do go through conversions.  However, not only did Zia challenge the ideological dominance of the Awami League and Mujibbad, he also created an opposite ideology and called it ‘Bangladeshi Nationalism’.  This was created to particularly challenge the identity definition of Bengali Nationalism as propagated by the Awami League.  Further, how can it also be explained that even after 32 years of the assassination of Zia, the ideology of Bangladeshi Nationalism still attracts support from a very sizeable population of people in Bangladesh?

Off course, the political process since 1971 has been rather complex and therefore the precise answers to the above questions may be difficult to unearth.  Further, it may never be possible to grasp the totality of the processes, induced by diverse related and unrelated factors, that lead to the alienation of a large section of the Bangladesh from Mujib and his leadership.  However, there may be some pointers that could lead to an improved understanding.

Lessons from creation of Pakistan and Liberation of Bangladesh

A comparison with the creation of Pakistan and certain subsequent events may throw some lights in the right direction.  Nobody doubts that the vast majority of the Muslim people of Bengal supported the creation of Pakistan, including the leadership of many parties.  This does not however mean that they were all ideologically united under one single clearly defined Islamic political vision.  There seems to be two main reasons why various Muslim groups and the Muslim population supported the creation of Pakistan.  On the one hand, they wanted to escape from actual and perceived Hindu domination, partly the result of historical experiences and the fear that they developed about living in a future independent India under Hindu domination.  On the other hand, they wanted to develop their society according to Islamic principles.  After the creation of Pakistan, it became quite clear that not all the Muslim people of Bengal, who supported the creation of Pakistan, did so for the same reasons, and disputes soon arose as to what kind of Pakistan one should build.  One principle on which the vast majority of the Bengalis in East Pakistan was united under was on the question of their Bengali identity.  Although they supported the creation of Pakistan to safeguard their interest as Muslims, they were not prepared to allow the destruction of their Bengali identity.  The struggle to preserve their Bengali identity, together with their struggle against economic injustice and military dictatorship, lead to the 1971 Liberation War.  The struggle’s undisputed champion was Sheikh Mujib, who was called by the people ‘Jatir Pita Bangabandhu Sheikh Mujib’.   Just as before, when they struggled to create Pakistan under Jinnah’s undisputed leadership, the vast majority of the Muslim Bengalis supported the creation of Bangladesh under Sheikh Mujib, who was their brave champion.

What is General Zia’s Bangladeshi Nationalism?

Similarly, soon after the creation of Bangladesh disputes began to arise about what kind of Bangladesh one should build.  Zia created Bangladeshi Nationalism to reflect the Muslim and Bengali aspirations of the people of Bangladesh, and he has mass support in this regard.  What does this show?  Clearly, despite what the proponents of Bengali Nationalism say, a large section of the people of Bangladesh are very proud of their Islamic identity.  They want to see a future that incorporates the Bengali and Islamic elements of their experiences, way of life, culture and identity, and fuses them into one whole to march forward into the future.  The struggle for freedom of the Bengalis in Pakistan began because certain sections of the Muslim League and Pakistani ruling class wanted to obliterate element of their Bengali identity.  Similarly, the alienation of a large section of the Bangladeshi people from Mujib began, in the immediate aftermath of the Liberation War, because Bengali nationalism did not accept that eight hundred years of Islam in Bengal meant that the culture of the people of Bangladesh was based on deep Islamic roots.  What is clear is that just as in Pakistan when Bengali Muslims were not willing to allow the destruction of their Bengali identity, in Bangladesh they were not willing to allow their Muslim identity to be undermined.  They are both Bengalis and Muslims at the same time.

উইকেটাধিকার চাই

বাংলাদেশে গত কয়েকদিনের পত্রিকায় রাজনৈতিক সংঘাতে নিহতদের সংখ্যা দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন হিসাব মতে গত এক বছরে হেফাজতের আন্দোলনে নিহতদের ছাড়াই প্রায় দুইশতাধিক মানুষ রাজনৈতিক সংঘাতে মারা গেছে।

এত এত মানুষ একদিনে মারা যান নি। এই বছরের ফেব্রুয়ারী থেকে থকে শুরু হয়েছে এই সংঘাত, আর পরিণতিতে মৃত্যুর ঘটনা। এই মানুষদের যদি যদি একটা এদের মৃত্যুর কারণসহ তালিকা করা হয় তাহলে সেই তালিকায় সবচেয়ে বেশি থাকবে কোনটা জানেন? পুলিশের গুলিতে মৃত্যু।

এই একমাসে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে বগুড়ার ইউসুফ; সিরাজগঞ্জের সাকমান; কুমিল্লার দেলোয়ার, বাবুল; ফরিদপুরের মারুফ; কক্সবাজারের বাদশা, মিজান; চাঁদপুরের আরিফ, সিয়াম, রতন, তাজুল ইসলাম; নাটোরের সুজন; ফেনীর মফিজুর; চট্টগ্রামের শরিফুল ইসলাম; সাতক্ষীরার হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, শামছুর রহমানসহ আরও অন্তত দশ থেকে বারোজন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে আমরা একজন মনির কিংবা গীতা সরকারের কথা জানি। আমরা জানি নাহিদ-বাবুসহ রহস্যজনক আগুনে নিহত দশ থেকে বারোজনের কথা। তাদের কাদের কি অবস্থা, তার প্রতিটা খবর এদেশের “রাজনীতি সচেতন” কথিত সুশিল সমাজ রাখেন। তাদের সব আপডেট জানার জন্যে টিভির সামনে বসে থাকে সুশিল হওয়ার চেষ্টারত আমাদের মধ্যবিত্তরাও। কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি তাদের কেউই গত এক মাসে পুলিশের গুলিতে নিহতদের একজনের নামও জানেন না। বলতেও পারবেন না। অথচ পুলিশের গুলিতে নিহতের সংখ্যা নাশকতায় নিহতদের দ্বিগুন থেকে তিনগুন।

কারণটা খুব সহজ। আমাদের মিডিয়া এদের ব্যাপারে নীরবতা পালন করে। বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মী মারা গেলে সে আর তখন মানুষ থাকে না তাদের কাছে, তারা পরিণত হয় একেকটি উইকেটে । একজন রাজনৈতিক কর্মী মারা যাওয়া মানে একজন মানুষের মৃত্যু না, একটা উইকেটের পতন। এই ‘উইকেটগুলোর’ কোন মূল্য আমাদের মূলধারার মিডিয়ার নেই। এই উইকেটগুলোর যে বাবা-মা আছে, এদেরও যে স্ত্রী-সন্তান আছে, এরা মারা যাওয়ার পর তাদের পরিবার কি অবস্থায় আছে, এদের সন্তানরাও যে মৃত্যুর পর হাউমাউ করে কাঁদে, এদের পরিবারও যে এদের মৃত্যুর পর অভাবে-অনটনে দিন কাঁটাচ্ছে- তা মূলধারার মিডিয়ার মাথাব্যাথার কারণ নয়।

এক অন্তঃসত্ত্বা গার্মেন্টসকর্মী বাসায় চুলার আগুনে পুড়ে রসিয়ে রসিয়ে মিথ্যা গল্প বানিয়ে বললেও তার জন্যে পত্রিকার প্রথম পাতার দুই কলাম বরাদ্দ রাখা হয়, কিন্তু বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক কর্মীর বুক পুলিশের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গেলেও তার জন্যে বরাদ্দ থাকে পত্রিকার এক লাইন। উলটো বুক ঝাঁজরা হওয়ার খবর অনলাইন ভার্সনে থাকলেও সকালের মূল পত্রিকায় তা গায়েব হয়ে যায়। এই নিহতদের কোন স্বজনের আহাজারির ছবি পত্রিকায় আসে না, চ্যানেলগুলো প্রচার করে না।

পুলিশের গুলিতে বুক ঝাঁজরা হয়ে যাওয়া সিয়াম এবং মাথায় গুলি লাগা রতন

পুলিশের গুলিতে বুক ঝাঁজরা হয়ে যাওয়া সিয়াম এবং মাথায় গুলি লাগা রতন

এই উইকেটগুলোরও যে কিছু অধিকার আছে, তা আমাদের মিডিয়াকর্মী বা সুশীল সমাজ চেপে যায়। এরা হচ্ছে তাদের কাছে নিছকই বলির পাঁঠা। বাকি সবাই মানুষ। আর তারা তো অতি উচ্চশ্রেণীর মানুষ।

পতিত স্বৈরশাসক এরশাদ জীবনে হাজার হাজার মিথ্যা কথা বললেও গতকাল একটা সত্য কথা বলেছেন

আওয়ামী লীগ যখন মারে, তখন নীরবতা দেখি। কারণ, বেশির ভাগ কবি ও সাংস্কৃতিক কর্মী আওয়ামী লীগের দিকে। তাই তাঁরা কবিতা লেখেন না। দুঃখ পান না।

যেমন, বিপরীত ধারার কেউ অন্যায় করলে বের হয় মোহাব্বত আলীর একদিন, নিজ ধারার কেউ অন্যায় করলে লেখা হয় এই লজ্জা কোথায় রাখি

Our ‘Comfortably Numb’ Citizens and Their Vulgar Civility

1

comfortably-numb-brick

By Nur Hossain

In reply to my article in ‘Classical Music Festival 2013, India and our vulgar civility,’ published in this blog, writer Tibra Ali in a blog of AlalDulal, borrowing a term from the Czech writer Milan Kundera, accused me of being a Political ‘Misomusist,’ to refer a person who hates arts.

He dismissed my effort of raising an important point about the political process behind this festival as ‘pot-shot,’  that tries to invalidate the rich and shared cultural heritage of South Asia.

Ali, further mentions that against his intention, he had to write criticism of my ‘so called political commentary ’ cause he is worried that people might be misguided with my intention of raising a point about politicisation of our culture space and he stresses that events such as Bengal Music Festival celebrating Indian classical music requires to be evaluate apolitically, otherwise we’ll do a ‘great disservice to us as people.’

I think, Ali’s careless use of words such as ‘pot-shot’  to reject my argument without defining ‘pot-shot,’  his intention of not explaining the historical context behind the emergence of the term ‘Misomusist’  and  how it applies in my case, reveals what I call a ‘fundamentalist’ pattern in his reaction. This pattern underpins emotional not logical reaction of a person who is not willing to accept logical discussion and engage in a respectful debate on an issue or belief that is close to their heart.

We see such reactionary pattern in radical Christians or radical Hindus or radical Islamist who use ‘quotes from Holy Books’ to dismiss opposing views but ignore explaining the historical context behind the emergence of such quote and relevance of using it in present context. Researchers found that in most cases, literal use of quotes or terms, that were emerged in a historical context, does not do any justice to the term itself if  used in present context. Therefore, I am interested to know more about the history of ‘Misomusist’ and relevance and explanation for using the term to define my work.

Before going into the main response, let me clarify two points raised by Ali. Firstly, quoting Afsan Chowdhury, Ali said, usage of Felani in my writing serves ‘narrow political purpose.’ This is an  interesting and a vague statement. If I agree with Ali and Chowdhury, I wonder, would they agree with the argument that the construction of Jahanara Imam as a Shaheed Janani, or Bangabandhu as the Father of the Nation too serves narrow political interests?Even if they agree, one would raise the question, so what?  I’m in support of ‘narrow political interest’ as I think this is the reality in which we have to live, at least at the moment.

Secondly, I think Ali is right in spotting the disconnection between my careless use of ‘public demand’ and ‘a section of upper middle class’ in my writing. Even though I did not mean upper middle classes are excluded from public, my careless use of the two variables gave such impression to Ali. I think this is a fair point. Let me now answer main criticisms’ of Ali.

My Response

This is a useful effort of Ali to raise an important point about the usefulness of cultural exchange across nation states. It is true that without exchanging various languages of cultures i.e music, cinema, drama, visual arts, people across nation states wouldn’t have learned about diverse customs of the world and be respectful of each other. Therefore, I agree with Ali that sharing and celebrating cultural products across nation states is an absolute necessity.

However, I’m afraid that Ali missed the whole point of my writing. While I’ve been trying to raise awareness about the political process behind the organisation of such ‘musical festival,’ Ali seems busy justifying the usefulness about the content or ‘art’ of the festival. I find premise of such criticism is irrelevant, misguided and unnecessary as a reply to my piece as both of us are answering different questions.

However, Ali’s delusional approach about ignoring the political process behind organisation of this ‘musical festival’ makes my point stronger. An audience must know about the political process through which this event was organised. One must also know why they are listening to this genre of music at a period when India- Bangladesh are striking what Badruddin Umar said, ‘unclear deals supporting Indian imperialism in Bangladesh and against the interest of Bangladesh’ and when powerful Bangladeshi liberals decide to cover up/ not questioning dirty tale of political and economic arrangement between AL and India, subverting public interest.

One must know further, who are the key actors behind this festival and what is the broader objective behind this program. Or why pro-government and anti-BNP civil society forces alongside with Indian High Commission officials have seen to be supporting such program. Or what is the key objective behind the promotion of ‘what ITC-SRA,’ one of the organisers of the program, says, ‘propagation of Hindustani Classical Music in Bangladesh?’  and finally why this program is exclusive of  presence of any BNP leader in capacity of guests? Is it incidental? I guess, these are not co-incidence and apolitical arrangement!

Awareness about the nexus between the process of a production and identification of actors involved with production and the nature of the content of production have always been a politically significant question. Otherwise, the liberals of Bangladesh or a section of it, wouldn’t raise questions about the nexus between extremism and some  preaching session or Waz Mahfils, content of which may soothe some listeners’  apolitical spiritual hunger only. The point is, it is plausible to evaluate Waz Mahfils apolitically but that does no rule out the political side of that Mahfil.

Similarly, one must acknowledge that application of an apolitical framework to understand ‘classical music festival’ does not invalidate the political nature of the event or nullify political aspect about heavy engagement of influential political actors of certain quarter behind this program.

I argued that this festival is an event promoting public diplomacy of Bangladesh and India, supported by the partnership of two corporations (Bengal and ITC-SRA), to influence public attitudes in a manner that they become supportive of their foreign policy and national interests. I stand by my point.

I argue that the political intention of this event is to neutralise negative public image of AL-India nexus that has been striking ‘unclear deals’ and now undermining public voice while ready to put peoples’ lives in danger knowing that BNP would unleash a violent protest if AL does not step down even though 90% people of the country said they want an election under a neutral caretaker government. I also defend the using  the death of Felani as a symbol that refers Indian disregard to the  people of Bangladesh. I see there is little scope of disconnecting the timing of this event and political upheaval on the ground as organisers of this festival and mastermind of political doldrums are close allies, if not same actors.

Therefore, my point about our vulgar civility of not protesting double standard of Indian policy is justified.

Finally, I am in full favour of exchanging cultural languages across political boundaries. I am also in favour of celebrating ‘Hindustani Music’ in Bangladesh and Bangladeshi music in India. I think constructive flow of cultural ideas is an important aspect to underpin cultural bondage between two countries  in order to serve common political interest.

However, I am not in support of Ali’s apolitical approach, if it is not intentional, to understand this event. I call Ali’s approach a ‘comfortably numb’ approach, borrowing the title from a famous Pink Floyd song, to underpin his state of delirium detached from reality to justify his disregard to political process of this program. For that matter, his effort of borrowing a term from Milan Kundera to define me as a ‘Misomusist’ is a reflection of his ‘comfortable numbness.’ This is a poor choice to justify his ‘vulgar civility’ by which I mean selfish and unquestionable justification of endorsing a process deeply rooted in a questionable political arrangement which formed a legacy to disregard popular opinion of Bangladesh.

ভারতীয় চেতনানাশক ‘স্বাধীনতার চেতনার’ মাদক ও বিপন্ন গার্মেন্ট শিল্প। বাংলাদেশটাকে বাঁচান প্লীজ!

???????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????

 

পটভূমি 

এদেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ভাবে গণতন্ত্রের চর্চা করে প্রতি ৫ বছর পর পর একবার। এই পাঁচ বছর পরে একটি দিন মানুষ সত্যিকারভাবেই ক্ষমতার মালিক হয় । এবারকার ভোট পদ্ধতি নিয়ে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৯০- ভাগ মানুষ চায় তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। অথচ এই একটি দিনের জন্যও শেখ হাসিনা জনগনকে বিশ্বাস করছেনা। যদিও তিনি জনগনের প্রধান মন্ত্রী। তার মানে হচ্ছে শেখহাসিনার ক্ষমতার উত্স আর জনগণ নয়। তার ক্ষমতার মূল হচ্ছে ভারত। এর মানে কি দাড়ালো? নিজ দেশেই এদেশের জনগণ পরাধীন।কারণ তার গণতান্ত্রিক ভোটাধিকারের প্রক্রিয়া ঠিক করে দেয় আরেক দেশ।

ভারতীয় চেতনানাশক মাদক  ‘স্বাধীনতার চেতনা’ 

ভারত চায় যে কোনো মূল্যে শেখহাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে। এর ফলে ভারতের অর্থনৈতিক লাভ অনেক। আর আওয়ামীলীগের লাভ হচ্ছে দেশের সবথেকে বড় প্রতিবেশী ভারতের ছত্রছায়ায় তার শত্রুপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করা।এই লক্ষ্যে এখন মনে হচ্ছে ভারত এবং আওয়ামিলিগ কাজ করছে গত কয়েক বছর ধরে।এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় চলেছে সংবিধানে তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করা যদিও এ ব্যাপারে আওয়ামিলিগ জনগনের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নেয় নাই। অর্থাৎ তারা নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে এ ব্যাপারটি রাখেনি। একারণে আমরা একে সংবিধান-ক্যু বলতেই পারি।

এ ব্যাপারটি থেকে জনগনের দৃষ্টি সরিয়ে রাখার জন্য তৈরী করা হলো নাটক। নাটকের নাম শাহবাগ। মঞ্চের অভিনেতাদের মধ্যে আছেন এসময়ের তুমুল জনপ্রিয় কিছু শিক্ষক, সংস্কৃতি কর্মী-যাদের মধ্যে বলা হয় বেশ কয়েকজন ভারতীয় এজেন্ট। অবশ্য কোনো প্রমান নেই। উনারা গানের তালে তালে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিলেন এবং স্বাধীনতার ফেন্সি চেতনার নামে তরুণ সমাজকে গৃহযুদ্ধের ফর্মুলা ধরিয়ে দিলেন। টিভিতে, পত্রিকায়, ব্লগে সব জায়গায় দেখা যায় স্বাধীনতার চেতনা। আসলে এটা চেতনানাশক চেতনা। নাহলে যখন দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় দিনের পর দিন লোক মরছে , ব্যবসা-বানিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম, স্কুল কলেজ বন্ধ, তখনও চেতনা-নাশক ড্রাগে তরুণ সমাজ ঘুমিয়ে! স্বাধীনতার চেতনা নিশ্চয় ছিলোনা দেশকে মোটামুটি বসবাসের অযোগ্য করে তোলা?১৯৭১ ছিলো দেশ গড়ার যুদ্ধ আর ২০১৩র কথিত দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের নাম ভাঙ্গা হচ্ছে দেশ। এর কারণ ভারত চায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষতি। লাভ ভারতের। সংকীর্ণ দলীয় চিন্তায় আওয়ামিলীগ ও আটকে পড়েছে ভারতীয় জালে।

চেতনার মাদকের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আমাদের গার্মেন্ট শিল্পের ভয়াবহ সংকট 

ভারত কেনো আওয়ামীলীগকে একতরফা সাহায্য করছে?দুই কারণে।অর্থনৈতিক সুবিধা এবং নিজ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায়। প্রথিতজশা চিন্তাবিদ বদরুদ্দিন উমর বলেছেন,’হাসিনা সরকারের একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানে মদত জুগিয়ে ভারত আর সাম্রাজ্যবাদী চেহারা উন্মোচন করেছে।’ বদরুদ্দিন উমরের দাবি গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামীলিগ সরকার রাষ্ট্রের স্বার্থের বাইরে যায় এমন অনেক চুক্তি করেছে। সেটা তো আছেই। এছাড়াও আওয়ামী সরকারের ঘাড়ে বসে ভারত বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের চূড়ান্ত নকশায় মেতে উঠেছে। ব্যাপারটা এখন এমন মনে হচ্ছে- আওয়ামীলীগ ধংস করবে তার বিরোধী পক্ষ আর ভারত ধংস করবে বাংলাদেশ। একটা উদাহরণ হচ্ছে – এদেশের গার্মেন্ট শিল্প।

গত ২৬নভেম্বরে নয়াদিগন্তের এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরী এবং নাশকতার পিছনে ভারতীয় ইন্ধন আছে। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্প খাতে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার বিদেশী কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে ২০ হাজারই ভারতীয়। একেক কারখানায় ১০ থেকে ২০ জন ভারতীয় মিলে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ নয়া দিগন্তকে বলেন, “কারখানাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এসব কর্মকর্তা এতটাই ক্ষমতাশালী যে, অনেক সময় স্বল্পশিক্ষিত মালিকদের তারাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। কৌশলে তারাই শ্রমিকদের সাথে মালিকদের সম্পর্ক তিক্ত করেন।” নয়াদিগন্তের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত আট থেকে ১০ বছরে যেসব কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ হয়েছে তার বেশির ভাগই ছিল কমপ্লায়েন্ট। এসব কারখানায় কর্মপরিবেশ ভালো, নিয়মিত বেতন-ভাতা দেয়া হয়, ওভার টাইম দেয়া হয়, টিফিন থেকে শুরু করে বেশির ভাগ যুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেই এসব কারখানার শ্রমিকেরা সন্তুষ্ট। অথচ কখনো রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক মৃত্যুর অজুহাতে, কখনো শ্রমিক গুম কিংবা টয়লেটে ভূত থাকার মতো গুজব ছড়িয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করানো হচ্ছে এসব কারখানায়। কার লাভ হচ্ছে এসব করে?

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ালস্ট্রিটজার্নাল পত্রিকায় প্রকাশিত গত ২২ মার্চের প্রতিবেদনে দেখা যায় ‘স্বাধীনতার চেতনা’ সংক্রান্ত রাজনৈতিক গন্ডগোলের কারণে বিদেশী ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার সরিয়ে ভারতে দিয়েছে।গত ৫ ডিসেম্বরের ভারতের ইকনমিক টাইমস পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয় বাংলাদেশে রাজনৈতিক গন্ডগোলের কারণে ভারতের পোশাকরপ্তানী খাতের রপ্তানী প্রায় ১৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে দৈনিক প্রথম-আলোতে যাকে অনেকে গালি দেন ‘ভারতের -আলো’ নামে এসংক্রান্ত কোনো রিপোর্ট নেই।

চেতনার মাদকের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট 

ভারতীয়রা অভিযোগ করে ভারতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পরে গতবারের  বিএনপি -জামাত সরকারের আমলে। তাদের মতে পাকিস্তান ভারতকে বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করেছিল ভারতে সন্ত্রাসবাদ রপ্তানিতে। আর আওয়ামিলীগ অভিযোগ করে বিএনপি-জামাতের  একটিঅংশ হয়তো সরকারের অগোচরে পাকিস্তানের সয়াহতায় ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মত ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটিয়ে ছিলো। এ অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমান হয়নি। অনেকে বলে এটা একটা অজুহাত।

দেখা যাচ্ছে আওয়ামিলীগ এবং ভারতের সখ্যতার মূল ভিত্তি হচ্ছে শত্রু নিধন। অর্থাৎ নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি এবং অর্থনৈতিক ইন্টারেস্ট-এ এরা দুজনে দুজনার। আওয়ামিলীগ মারবে বিএনপি-জামাতকে, পাকিস্তানকে মারবে ভারত আবার বাংলাদেশকেও মারবে ভারত। এই আত্মঘাতী বন্ধনে আটকা পরেছে বাংলাদেশ।সমস্যাটা হচ্ছে এরা দেশটার জনগনের জান-মালের তোয়াক্কা করছেনা। স্বাধীনতার (পরাধীনতার) চেতনায় একটা তাবেদার সরকার দেশের কোনো তোয়াক্কা না করে, ভারতের বুদ্ধিতে নিজের দেশ ধংসের খেলায় মেতে উঠেছে, একের পর এক দেশ বিরোধী চুক্তি করছে, রাজনৈতিক স্থবিরতায় দেশকে অচল করে দিয়েছে, তার শত্রুকে ধ্বংশ করার জন্য।আরেদিক বাংলাদেশে পরম শক্তিশালী ভারতীয়রা দেশের গার্মেন্ট শিল্পের ধংসের নীলনকশায় মেতে উঠেছে।

শেষ কথা 

এর মানে কি এই যে আপনি ৭১এর মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার চাবেননা? অবশ্যই চাবেন, কিন্তু এর মানে এই না যে আপনি অন্যায়কে প্রশ্ন করবেননা? এর মানে এই না যে আপনি দুর্নীতিকে প্রশ্ন করবেননা? শ্রমিকের নায্য মজুরি নিয়ে প্রশ্ন তুলবেননা? রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে দলীয় সন্ত্রাস নিয়ে প্রশ্ন তুলবেননা? স্বাধীনতার চেতনা কি ছিল বাংলাদেশে ভারতকে একছত্র আধিপত্য দেয়া? এখনো সময় আছে স্বাধীনতার চেতনার মাদককে না বলুন। বাংলাদেশের পক্ষে দাড়ান দল-মত নির্বিশেষে।ভারতীয়দের দেখেননা তারা কতো দেশপ্রেমিক। আর আমরা? দলপ্রেমিক।দলের জন্য দেশটাকে বিসর্জন দিতে রাজি আছি। ভারতীয় মদদে তৈরী  চেতনা নাশক স্বাধীনতার বিষাক্ত চেতনার বড়ি গিলে সত্যিকারের স্বাধীনতাটাকে  বিকিয়ে দিচ্ছি। যে আবেগটা নিয়ে শাহবাগে গিয়েছিলেন সেই আবেগটা নিয়ে দেশটাকে বাঁচান। প্লীজ। গর্জে উঠে বলুন দেশটা পাকিস্তানকে দেই নাই, ভারতকেও দেবোনা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বৈরতন্ত্রের নকশা এবং আপনার মানসিক সুস্থতার পরীক্ষা

1

A police officer on a street in Dhaka1031100_472316

By Nur Hossain

ছবিগুলো  ভালো করে দেখুন। স্বাধীন দেশটির এরকম রূপ দেখতে কেমন লাগছে? বুকের মধ্যে একটুও কি কষ্ট হচ্ছেনা?যদি না হয় তাহলে এই লেখা আপনের জন্যই লিখছি।

দিন বদলের কথা দিয়েছিলো আওয়ামিলীগ। ঢাকায় বসে যখন একথা লিখছি, তখন উপলব্ধি করলাম আসলেই তো। দিন বদলে দিয়েছে আওয়ামিলীগ। এতো মৃত্যু, এতো কান্না,এতো রক্ত, এতো আগুন আমার ২৫ বছরের জীবনদশায় আগে কখনো দেখিনি। আজকাল ঘর থেকে বের হবার সময় মনে হয় আর কি ফিরে আসতে পারব? আর কি দেখতে পাবো আমার মায়ের এবং বাবার প্রিয় মুখটা?এখন চারিদিকে মানুষের মধ্যে একটা শংকা,তাদের দু-চোখে ধিকিধিকি জ্বলছে চাপা ক্রোধের আগুন। প্রিয় দেশটাকে হারানোরক্রোধ। আসলে দেশটা তো হারিয়েই গিয়েছে।

কিন্তু কিভাবে আমার দেশটা হারালো? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্মাদনায়। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আওয়ামীলিগ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে স্বৈরতন্ত্র চালু করার জন্য। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আওয়ামীলিগ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে লুটতরাজ করার জন্য। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আওয়ামীলিগ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে গণমাধ্যমের কন্ঠকে বন্ধ করার জন্য। এই চেতনাকে ঢাল হিসেবে আওয়ামিলিগ ব্যবহার করেছে বিচার-ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ এবং পুলিশ প্রশাসনকে দলীয় অঙ্গসংগঠনে রূপান্তর করার যুক্তি হিসেবে।

চেতনার কথা বলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রতিবাদী মানবাধিকার সংঘটনগুলোর মুখ। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এখন মহা সমারোহে ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালে তালে চলছে একদলিয় সরকার গঠনের পায়তারা। হয়ত, দেশের ৯০% মানুষের মতকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে, সারি সারি লাশের উপর হেটে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঢাল এবং ঢাক জোরেশোর বাজিয়ে গায়ের জোরে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করেই ফেলবে। কিন্তু বাংলাদেশটা হারিয়েই যাচ্ছে। এই হারানো আর কেউ ঠেকাতে পারবেনা। যারা সবচেয়ে দরকারী ভূমিকা রাখতে পারতো সেই সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষিত তরুণরা ও আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্মাদনায় পাগলপ্রায় হয়ে পরেছে। স্বাভাবিক বিচার-বুদ্ধি লোপ পাওয়ার যোগাড়। এদের মধ্যে কিছু আছে অবস্য পেইড এজেন্ট। এদের কাজ হচ্ছে ‘নিরপেক্ষ’ থাকা। এবং এই নিরপেক্ষতার তকমা এটে দিনের পর দিন সংবাদপত্রে, ব্লগে, টিভিতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম আওয়ামীলীগের অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচারকে সাপোর্ট করা। সাধারণ ছেলে-পেলে যারা চেতনার উন্মাদনায় পাগল এরা এইসব পেইড এজেন্টদের বিষাক্ত বাণীতে দুষিত হতে হতে স্বৈরাচারের আন-পেইড এজেন্ট -এ রুপান্তরিত হয়েছে।

এখন স্বাধীনতার চেতনা মানে শুধুই বিরোধীদল দমন করা ও গুলি করে হত্যা করা । এক কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এখন পলিটিক্যাল এসাসিনেশনের আরেক নাম। আওয়ামীলিগ জানে যে দলীয় সরকারের অধীনে বিরোধী দল নির্বাচন মেনে নিবেনা। জেনে শুনে দলটি দেশকে ঠেলে দিলো আগুনের মধ্যে। শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রানী শেখহাসিনার গদি আগলে রাখার জন্য। মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। আর আওয়ামীলিগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবহার করছে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঢাল হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধের  চেতনাকে দলটি ব্যবহার করেছে মুক্তিযুদ্ধের সাথে বেইমানি করার জন্য।

দেশটা স্বাধীন হয়েছিলো কি এইজন্য? ইতিহাস পড়লে জানা যাবে দেশটা স্বাধীন হয়েছিল সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তির আশায়। আসুন গত পাঁচ বছরে স্বাধীনতায় উজ্জেবিত সরকার আমাদের দেশে কি করেছে তা দেখে নেই।

স্বাধীন রাষ্ট্রে গত পাচ বছরের সমাজ,রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকজীবনের বাস্তব চিত্র:

ইচ্ছেমত যখন খুশি গুম করা হচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিকদের। একটা স্বাধীন দেশে ট্রেন সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম, প্রতিদিন দূর-দুরান্তের হাঠে-মাঠে এবং ঘাটে মরছে দেশের তরুনরা। মারছে ও তরুনরা। বাসে আগুন দেয়া হচ্ছে, পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন দেয়া হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে বড় চাকুরীদানকারী ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাত -গার্মেন্ট শিল্পে আজ নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা। প্রায় প্রতিদিনই রাস্তায় নেমে আসে শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরির দায়ে। গার্মেন্ট মালিকেরা রাস্তায় নেমে আসছেন নিরাপদে ব্যবসার সুযোগ চাইতে। একরাতের নোটিসে দেশের সবচেয়ে বড় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হলো।মধ্যবিত্ত বিনিয়োগ কারীদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হলো শেয়ার বাজার থেকে। রাতের অন্ধকারে দূর-দুরান্ত থেকে আগত রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুবিধা-বঞ্চিত, নিম্নবিত্ত লক্ষ লক্ষ ধর্ম প্রাণ তরুনদের কুকুরের মতো মেরে ধরে রাজধানী থেকে খেদিয়ে দেয়া হলো। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংক গুলো থেকে কোটি কোটি টাকা চুরি করা হলো। কোটি লোকের জীবনের এবং ব্যবসার সুবিধা হতো যে সেতুটি হলে, নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে সে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়া হলো। একটা স্বাধীন দেশের গর্ব হচ্ছে তার সেনাবাহিনী। সেই সেনাবাহিনীর ৫২ জন সেনাকর্মকর্তাকে নির্মমভাবে এবং অত্যন্ত অপমানজনক ভাবে খুন করা হলো। তাদের হত্যার বিচারের নামে করা হলো নাটক।

শেষ কথা
একটা দেশের সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব থাকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা দেয়া। আর সরকার ম্যানেজ করার দায়িত্বে থাকে একটি দল। গত পাঁচ বছর ধরে আওয়ামীলিগ সরকারের প্রতেকটি সংস্থা ব্যবহার করেছে বিরোধী দল দমনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে। এর ফলে এখন শুরু হয়েছে চোরা-গুপ্তা হামলা। এ হামলা কে করছে তা কেউই বলতে পারছেনা। এটা বিরোধীদল ও করতে পারে, সরকারী দলও করতে পারে বিরোধীদলকে স্যাবোটাজ করার জন্য। মাঝখানে পুড়ছে মানুষ, বাড়ি-ঘর আর কোটি মানুষের মন। একটু খেয়াল করেন, আপনেরও কি এতে ইন্ধন ছিলোনা? আপনি ও কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্মাদনায় পাগল হননি? পাগলের মতো আওয়ামীলীগের প্রত্যেকটি অনৈতিক কাজকে সাপোর্ট করেননি? এখন যখন স্বাধীন বাংলাদেশের মাটি তার সন্তানদের রক্তে লাল হচ্ছে, স্বাধীন বাংলাদেশের বাতাসে শুধু শোনা যায় স্বজন হারার আর্তনাদ, আপনার কেমন লাগছে? আপনি কি এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেছিলেন? যদি করে থাকেন তাহলে জেনে নিন আপনি একজন মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষ, আপনের পছন্দের দলটির নেতৃত্বের মতই। যিনি সারা বাংলাদেশে আগুন জ্বালিয়ে, ইতিহাসের জঘন্যতম সংবিধান ক্যু করে প্রতিদিন গণতন্ত্রের এবং সংবিধানের জিকির তুলতে তুলতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অশ্লীল চিন্তায় পাগল হয়ে গিয়েছেন।

বিএনপি সিনিয়র নেতারা এবং মাঠপর্যায়ের আন্দোলন by Shikin Aman

আজকাল দেখতে পাচ্ছি বিএনপি সিনিয়র নেতারা মাঠে না থাকা নিয়ে একটা ব্যাপক মত জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে- বিশেষত বিএনপি অনলাইন এক্টিভিস্টদের মধ্যে। তারা নেতাদের হাতের কাছে পাইলে শিক্ষা দিবে, ম্যাডাম কিছু করতেসেনা এইসব লিখা দিয়া স্ট্যাটাস ভরে ফেলছেন। কেউ খোলা চিঠিতে তিরস্কার তো কেউ নেতাদের  ভাগায়ে দেয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন। আমি এ ব্যাপারে সবিনয়ে একটু দ্বিমত পোষণ করতে চাই।

 

আমার মনে হচ্ছে এই বিএনপি পন্থী এক্টিভিস্টরা বুঝে ( আল্লাহ না করুক) কিংবা না বুঝে একটা গুরুত্বপূর্ণ আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। আওয়ামী ষ্ট্র্যাটেজী এনালাইসিস অনুযায়ী তাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ষ্ট্র্যাটেজী হচ্ছে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তাদের নেতাদের উপর আস্থাহীনতা তৈরি করা আর নেতাদের উদ্বুদ্ধ করা দলত্যাগ করে পাতানো নির্বাচনে হিস্যা নিতে। সেই লক্ষ্যে তারা নেতাদের মাঠে পাওয়া মাত্র কোন মামলা ছাড়াই গ্রেফতার করছে, পরে পূরান বা নতুন মামলাতে রিমান্ডে নিচ্ছে। এমনকি মাঠে না বাসা থেকেও যাকে পাচ্ছে নিয়ে যাচ্ছে। এ যেন হামাস নেতৃত্বের প্রতি ইসরাইলের দেয়া হুমকীর ফটোকপি! গ্রেফতার তারা হতেই পারেন, এটা দলের জন্য এক ধরণের কোরবানী! এমন অনেকে ভাবেন! কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে যে আপনার নেত্রির সেই বয়স নাই যে একলা পল্টন অফিসে বসে দল চালাবেন। দলের ষ্ট্র্যাটেজীক ডিশিসন নিতে উনার পাশে উপদেষ্টাদের প্রয়োজন আছে। আপনার মনে হতে পারে এমন ডিশিসন তো আপনেই নিতে পারেন, ঐ সিনিয়র নেতারা না থাকলেও দলের চলবে! কিন্তু বিনয়ের সাথে বলতে হচ্ছে আসলে গ্যালারীতে বসে ‘মার ছক্কা’ বলা যত সহজ, তামীমকে রিপ্লেস করা ততো সহজ না!

 

অনেকদিন ধরেই বাকশালপন্থী এক্টিভিস্টরা বিএনপির নেতারা মাঠে থাকেনা, এই প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে আর সফলভাবে কর্মীদের হতাশ করতেসে। মনে রাখবেন তাদের অনলাইন ষ্ট্র্যাটেজী সেন্ট্রালী নিয়ন্ত্রিত। তারা তাদের প্রপাগান্ডা থিম কেন্দ্র থেকে পায়। এই থিমের সাথে মিল রেখে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের সাহায্য করে- যেমন পুলিশ এইক্ষেত্রে করতেসে। আপনারা ভাল মানুষের মতো তাদের ফাদে পা দিচ্ছেন। আমি আশংকা করি তাদের কিছু এক্টিভিস্ট ভোল পালটে আপনাদের মাঝেও আছে। তারা আপনাদের উস্কানী দিচ্ছে। এই উস্কানীতে এর পর দেখা যাবে বিএনপি কর্মীরা তাদের নেতাদের উপর হামলা করে বসছে, বা নিজেদের মধ্যে মারামারি শুরু করছে। তারপর লাঞ্চিত নেতা দলত্যাগ করসেন। সেই সময় বুবুজান মুখ টিপে হাসবে আর পুরো বিএনপির স্ট্রাকচার ভেঙ্গে পরবে। সুতরাং সময় থাকতে সাধু সাবধান!

 

কেউ কেউ বলতেসেন তারেক দেশে এসে লিড নেয়া উচিত। আবার কেউ আশংকা করছেন সে দেশে আসলে খুন হয়ে যেতে পারে। আপনি বুকে হাত দিয়ে বলেন তো আসলেই খুন হয়ে গেলে এই ইসরাইলী টাইপ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বিএনপি কি প্রতিক্রিয়া করতে পারবে? বড়জোর সাতদিন হরতাল। খালেদা জিয়া থাকবেন আইসিইউ তে আর বিএনপি নেতারা দলে দলে বিএনএফ এ জয়েন করবে! সন্দেহ আছে? আপনার থাকতে পারে, অনেকের নাই! সো যারা নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধে কর্মীদের খেপাচ্ছেন, আই হোপ না বুঝে করছেন! তবে হ্যা তারেকের এখন একটা অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে গাইডেন্স দেয়া উচিত। যারা বলেন ফোনে এই কাজ করতে, তারা সম্ভবত জানেন না, আমাদের এলিট ফোর্স ফোন ট্যাপিং এ বেশ পারদর্শী, কয়েকশো কোটি টাকার ইকুইপমেন্ট- একটু সফিস্টিকেটেড হওয়ার ই কথা বটে!

 

এখন আমাকে বলেন টপ নেতাদের মাঠে না পাইলে আন্দোলন হবেনা, এত সহজে এই আওয়ামী শরবত খাওয়ার কারণ কি? মাঝারী নেতারা আগে মাঠ দখল করেন, যাতে পুলিশ চাইলেও নেতাদের গ্রেফতার না করতে পারে! দুই চারবার পুলিশকে গ্রেফতার করা থেকে বিরত করেন, তখন এমনিই নেতারা মাঠে থাকবে। তা না করে উল্টা যারা পাব্লিক খেপাচ্ছেন, অনুগ্রহ করে একটু বিবেচনা করবেন আমার কথাগুলি। নেতৃত্বের উপর কর্মীদের আস্থা ও সমর্থন একটা সফল আন্দোলনের জন্য অত্যাবশ্যক। ধণ্যবাদ।

মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে নিয়ে একটা আকাশ কুসুম স্বপ্ন

2

মুহাম্মদ জাফর ইকবালের পদত্যাগটা আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির যে কাজ তিনি করছিলেন – সেটার বিরুদ্ধে বামপন্থী সংগঠন আর আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের
অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে ।
তার পদত্যাগ পত্রে সেই অভিমান স্পষ্ট ।
আমার মনে হয় – সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আইডিয়া খুবই চমৎকার । নিজে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে গিয়ে পরীক্ষা দেবার কারনে জানি শুধু একটা ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হওয়া গেলে ব্যাপার কতো ভালো হতো আমার জন্য ।

একটা জেলায় একটা বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেই সেটার ৫০% কোটা সুবিধা সে জেলার লোক পাবে – এমন হাস্যকর দাবী শুধু সিলেটিদের পক্ষেই করা সম্ভব । বলাবাহুল্য
শিক্ষিত হিসাবে সিলেটিদের খুব সুনাম কোন কালেই ছিলো না । লন্ডনি পয়সায় লাফঝাপ দেয়া – আর মননে শিক্ষিত হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার ।
(যদিও বাংলাদেশের সবচে প্রগেসিভ অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সিলেটি – তবে তাকে হিসাবের বাইরে রাখতে হবে – কারন মাল মুহিতের মতো ছাগল অর্থমন্ত্রী হয়ে – তাকে ক্যান্সেল করে হিসাব সমান করে ফেলেছে  )
এইরকম একটা অযৌক্তিক দাবী করে – তারা দেশেবাসীর সামনে ভাড় হিসাবে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরলেন ।
যদিও ৫০% কোটার সাথে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের পদত্যাগের কোন সুত্র খুজে পাচ্ছি না ।
তাই যারা প্রতিবাদ করছেন – সঠিক চ্যানেলে প্রতিবাদ করেন । প্রতিবাদটা মন্ত্রীদ্বয় আর বাম সংগঠন গুলোর বিরুদ্ধে হওয়া দরকার ।

=====
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন । তার রাজাকার বিরোধী অবস্থান তীব্র ছিলো সবসময়ই । আদর্শিক অবস্থানে তার মতো তীব্রতা না থাকলে তার অবস্থানকে যথেষ্ঠ শ্রদ্ধা করতাম । মূলত আমাদের প্রজন্ম এবং পরের প্রজন্মকে রাজাকার ঘৃণা করানো শেখানোতে তার অনেক অবদান আছে । এই কারনে মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে
রাজাকাররা এবং রাজাকারপ্রেমীরা তীব্র ঘৃণার চোখে দেখে । যেটা খুব সহজেই আগে বোঝা যেতো – বিনা কারনে জাফর ইকবাল বিদ্বেষ দেখে ।

সম্প্রতি সময়ে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল নিজেই নিজের দেবতুল্য অবস্থান বিতর্কিত করেছেন – খোলাখুলি আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে । রাজাকারের বিচার আর জামাত নিষিদ্ধ করন নিয়ে আওয়ামী টালবাহানাকে উনি হালকা করতে চেষ্টা করেছেন । যেনো রাজাকার বিরোধী ঘৃণার রোষ আওয়ামী লীগের ঘাড়ে না বর্তায় ।

ব্যক্তিগত ভাবে আমার অবাক লেগেছে – উনি বিএনপির সময় সব দূর্নীতি, কূটচাল, মানবাধিকার লংঘন , ষড়যন্ত্র দেখতে পান — কিন্তু আওয়ামী লীগের ডাকাতী , সন্ত্রাস , মানবাধীকার লংঘন , কূটচাল , ষড়যন্ত্র দেখতে পান না । সম্প্রতি সময়ে তার লেখা পড়ে মনে হয়েছে , যে কোন মূল্য আওয়ামী লীগ ক্ষমতা যাক এটাই দেখতে চেয়েছিলেন ।
নিরপেক্ষ নির্বাচন হৌক , প্রধানমন্ত্রী দুনিয়ার সবচে বড়ো মিথ্যুক জোচ্চর হোক , যেকোন উপায়ে ক্ষমতা আকড়ে থাকুক – এসব তিনি এড়িয়ে গেছেন । রাজাকার বিরোধী ঘৃণা
তার এইপর্যায়ে গেছে – যে বর্তমানে আওয়ামী লীগের দেশ লুন্ঠনকে তিনি বৈধতা দিচ্ছেন ।

এটা আমার জন্য খুব কষ্টকর একটা ব্যাপার – যাকে রোল মডেল মনে করতাম – তার দলকানাত্ব শুধু আমার উপর না – দেশের উপরই নেগেটিভ ইফেক্ট ফেলে ।

====

কিন্তু যে দলই করুন না কেন – মুহাম্মদ জাফর ইকবালের মতো মানুষ বাংলাদেশের দরকার আছে । তার প্রভাবের কথা বর্ণনা করে – আরো ৫০০০ লাইন যোগ করবো না এই লেখাতে।
যারা তার প্রভাব সম্পর্কে সচেতন তারা জানেন তিনি কি। রাজাকাররা আর রাজাকারপ্রেমীরাও তার প্রভাব সম্পর্কে সচেতন ।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার প্রয়োজনীয়তা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। উনার বিজ্ঞান-প্রযুক্তি দিয়ে পরিচালিত মন আর মনন দরকার আছে – দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একটির ।

উনি পদত্যাগ পত্র বাতিল করে আবার তার অবস্থানে ফেরত যান এই কামনা করি । যদিও তিনি সরাসরি আওয়ামী লিগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশের অধিকাংশ মানুষের মুখোমুখি দাড়িয়েছেন — আশা করবো – তিনি তার ঘৃণা শুধু রাজাকার বিরোধীতায় সীমাবদ্ধ রাখবেন –
গড়পড়তা সব মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাবেন না ।
কারন হচ্ছেন – তার বিরোধীপক্ষ – যদি রাজাকার ধরি – তারাও শক্তিশালী । আর তিনি যে দলের জন্য অন্ধ – সে দলেও তার শুভাকাংক্ষী কম । ভালো মানুষের শুভাকাংক্ষী কম থাকে ।
তার দলের ভিতরে তার পিঠে ছুড়ি মারা মানুষের অভাব হবে না; কার্যত – এরা জামাতীদের চেয়ে কম নোংরা না ।
====
যদিও জানি এসব লিখে কোন ফল হবে না – কারন বাংলাদেশে ট্রেন্ডই আছে – জ্ঞানী গুণী মানুষদের কোন একটা ট্যাগ দিয়ে নোংরাতম ভাষায় তাকে আক্রমন করে অপদস্থ করার ।
মুহাম্মদ জাফর ইকবালের দলই এই কাজ-এ সবচে দক্ষ এবং পাইওনিয়র ।

সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে তার দাবী মেনে তাকে তার পদে ফেরত দেয়ার – একটা
আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখতে পারি ।

ভাবতে পারি মুহাম্মদ জাফর ইকবাল – শুধু আওয়ামী লীগের জন্য না লিখে – দেশের সবার জন্য লিখবেন ।

ভাবতে পারি – বিএনপির লোকজন – রাজাকারপ্রেম বাদ দিয়ে – মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে তার প্রাপ্য সম্মান দিয়ে আওয়ামী লীগের মতো ট্যাগবাজিতা থেকে বের হয়ে আসবে ।

একটা পারফেক্ট বাংলাদেশের মনে হয় আমরা এই স্বপ্ন সফল করে ফেলতে পারবো ।
কিন্তু বাস্তব অনেক কঠিন ।

Bangladesh ~ Democracy in peril ~ Extreme Destabilization on hand ?

1
Bangladesh ~ Democracy in peril

Bangladesh ~ Democracy in peril

‘Bangladesh Syndrome’ is a term widely used in global diplomatic and economic think tanks in recent decades as an ever-broken system, which is run by mostly corrupt and dysfunctional political leaderships, progressing forward just by the will and resilience of the citizens themselves. Bangladesh is a place where optimism, hard-work and hope for a better future co-exist side by side with mindless corruption, endless poverty and needless political bickering. As a country and society Bangladesh has failed to address the timely needs of its hard-working regular citizens in most of the years since the time of the inception of the country in 1971. Failing to get a functionally neutral judiciary, failure to ensure the freedom of press and freedom of expression and failure to construct a non-partisan free and fare Election system are among the few of the said failures.

Current prime minister Mrs Sheikh Hasina finishing her 2nd term as the country's head of government. She refused to go to poll in 1996 in a similar situation when then prime minister Mrs Khaleda Zia refused to step down as the head of government.

Current prime minister Mrs Sheikh Hasina finishing her 2nd term as the country’s head of government. She refused to go to poll in 1996 in a similar situation when then prime minister Mrs Khaleda Zia refused to step down as the head of government.

Path towards a multi-party-democracy for Bangladesh has not been easy. Multiple autocratic rulers have tried to install one-party democracy in the ‘70s and ‘80s and was rejected by people. After long history of revolt and political struggle finally in 1990, after the fall of then autocratic dictator H M Ershad, its seemed like that Bangladesh finally has settled into a system where all political parties can co-exist in a parliamentarian democratic eco-system. Well, we were grossly wrong in our calculation and got too hopeful too early I assume.

Vote rigging, voter intimidation and election engineering are among the list of regular corrupt political practices among political parties in Bangladesh. The facts and evidence are so historically true that nobody even denies that. As per the mis-trust of each other among political parties themselves, a ‘neutral non-partisan caretaker government’ was installed just to run the election in 90 days time frame and was constitutionalized in 1996 and so it became the law of the land – same rule for everybody.

Current opposition leader Mrs Khaleda Zia, have been prime minister of the country for 3 times previously, refuses to go to poll while prime minister Mrs Sheikh Hasina stays as the head of the government.

Current opposition leader Mrs Khaleda Zia, have been prime minister of the country for 3 times previously, refuses to go to poll while prime minister Mrs Sheikh Hasina stays as the head of the government.

On a surprise move current ruling political party Bangladesh Awami League, led by Prime Minister Sheikh Hasina, suddenly abolished the ‘neutral non-partisan caretaker government’ from the constitution and thus asked the country to go to pole while she stays as the chief executive of the country during the election time. The main opposition party Bangladesh Nationalist Party (BNP), led by 3-times Prime Minister of the country Khaleda Zia has refused to join the poll if the current Prime Minister Sheikh Hasina stays as the chief executive of the country as wide-spread vote rigging and election engineering is expected by the ruling party. In recent months all the polls, conducted by even the govt-leaning media outlets, have shown that popularity of the current ruling party has taken a deep in past 5 years and if elections are held in a free fare non-partisan way Bangladesh Nationalist Party (BNP) will win a land-slide victory.

Global democratic communities, including European Union and US Congressional body, have openly called for a free a fare election in Bangladesh where an election can not be called a ‘credible one’ without the participation of the main opposition party of last election Bangladesh Nationalist Party (BNP). There were several attempts of dialogue in both domestic and diplomatic arena but have gone in vein due to lack of willingness of the current ruling party Bangladesh Awami League to give up the chief executive position during the election time.

Social Media sites like FaceBook have been flooded by the news of the arrest of opposition supporters and activists as Govt has effectively imposed media-blockade against opposition. University teachers have been apprehended and imprisoned for their stance against govt on FaceBook.

Social Media sites like FaceBook have been flooded by the news of the arrest of opposition supporters and activists as Govt has effectively imposed media-blockade against opposition. University teachers have been apprehended and imprisoned for their stance against govt on FaceBook.

Finally the election commission of Bangladesh has declared the date to conduct poll in a nationally televised broadcast by the chief election commissioner 12 hours ago when this blog is being written. If this election goes throw as it is, this will effectively kill the essence and tradition of multi-party-democracy in Bangladesh for foreseeable future and will install a one-party-parliament by conducting a single-party-poll. Wide-spread protest and political clash has griped the country no sooner than the Election Commission announced the date for the up coming single-party-poll. Lawlessness and uncertainties about the future has made the entire country worrisome as you read. Activists and supporters of main opposition party are being mass-arrested by security forces at this very moment.

Bangladesh has experienced violent history full of bloodshed and destabilization in early '70s when failed leftists movements were fighting among themselves and with the govt.

Bangladesh has experienced violent history full of bloodshed and destabilization in early ’70s when failed leftists movements were fighting among themselves and with the govt.

Although Bangladeshis are mostly peace-loving hard-working people both the extreme-left and extreme-right are vividly present in the political eco-system. The first president of the country Sheikh Mujibur Rahman had decided not to give the extreme-lefts any sort of political accommodation during his tenure from ’72 to ’75 and Bangladesh has seen very violent bloody past of the failed leftists movements in first half of the ’70 decade. In order to restore safety and security in the country, then govt forces have defused the leftists movement through bloodshed where 40,000+ leftists were killed during that time. Extreme-rights have largely been contained by political accommodation as of yet so far. But future of this political accommodation is un-known as current ruling gov of Bangladesh Awami League has taken away the ‘right to do politics’ of Jamaat-E-Islami, the largest Islamist party in the country, for their role during the liberation war in 1971.

The absence of multi-party democracy and meaningful political accommodation will create political vacuums effective enough for the rise of fundamental Islamists.

The absence of multi-party democracy and meaningful political accommodation will create political vacuums effective enough for the rise of fundamental Islamists.

Most of 160 millions of people of Bangladesh are poor while financial concern is #1 in 85% of citizens mind. An absence of multi-party-democracy will not only destabilize the economic rhythm of the nation but also will create political vacuum for the extremists Islamist to make permanent footstep in the country. The rise of extremist Islam always takes place when political accommodation of the Islamists are not possible in a democratic eco-system. ANY political scientists will confirm this fact if you ask.

Current destabilization of the country runs the risk of extreme elements to rise and the country going back to the early ’70s where the country was an effective war-zone while govt forces are always fighting the extremists inside the country. Only difference is this time around it will be the extreme-rights.

“বাকশালীদের দিন শেষ, তারেক জিয়ার বাংলাদেশ…”

by WatchDog

ভিন্ন জনের ভিন্ন কারণ থাকতে পারে, আমার জন্য আওয়ামী বিরোধিতার মূল কারণ ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস। বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের মত জনসংখ্যাবহুল তৃতীয় বিশ্বের দেশকে অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়াতে চাইলে চাই উন্নত বিশ্বের সার্বিক সহযোগীতা। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দাবিদার বৈরী দুটি রাজনৈতিক দল এ কাজে কতটা সফল তার প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। দাতা গুষ্টির কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বিদেশ হতে দয়া দাক্ষিণ্য এনে বার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন একটা উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারেনা। তার জন্য চাই উচ্চাকাক্ষী এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। যারা সুদকে অভিশাপ আখ্যা দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা নিয়ে আহাজারি করছেন তাদের বেশির ভাগই দলকানা নেত্রীদাস অথবা নেত্রীকানা দলদাসের সদস্য। নেত্রী সুদখোর বলেছেন বিধায় এসব দাসদের মুখেও সুদখোরের গিবত। অবস্থা রাতারাতি পালটে যাবে যদি আগামীকাল একই নেত্রী ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে অন্যভাবে আখ্যায়িত করেন। এমনটাই আজকের বাস্তবতা। গোটা বিশ্বের অর্থনীতি চলে সুদের উপর। আমাদের ব্যবসা বানিজ্য, বিনিয়োগ, দৈনন্দিন জীবন, রিটায়ারমেন্ট সহ সবকিছু এখন ব্যাংক ভিত্তিক। ব্যাংক মানেই সুদ। তাই সুদ নিয়ে রাজনীতি করার রাস্তা সীমিত। নেত্রীরা বিদেশ হতে অল্প সুদে ঋণ এনে দেশে বেশি সুদে লগ্নি খাটান এবং তাতে যা লাভ হয় তা দিয়ে সরকার চালান। মন্ত্রি, প্রধানমন্ত্রী সে সরকারেরই অংশ। এ অর্থে তারা সবাই সুদখোর। ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে সুদখোর বলে সুদকে অবজ্ঞা করা এক ধরণের হিপোক্রেসি এবং নোংরা রাজনীতি। আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতির প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতা অনেক পুরানো রোগ। এ কাজে লবিং করার জন্য দেশে অলিখিত মন্ত্রনালয় কাজ করে থাকে। আগের টার্মে আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীরের নেত্রীত্বে সরকারী অর্থায়নে গোটা এক বাহিনী নিয়োজিত ছিল পদক যোগারের কাজে। গোটা দশেক পিএইচডি সে মিশনেরই বাই-প্রোডাক্ট। এ টার্মে পদক আহরণে ভাটা লাগে মূলত ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের কারণে। এবং এখানেই শুরু ইউনূস সাগা। গ্রামীন ব্যাংকের সাথে যৌথভাবে নোবেল পাওয়াটা যেন ছিল বেচারার জন্য রাষ্ট্রীয় অপরাধ। পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক ভাবে স্বীকৃত চোর আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের অযোগ্যতাই প্রমাণ করেননি বরং প্রমাণ করেছেন রাষ্ট্রীয় চোরদের আসল অভিভাবক তিনি নিজে। ইউনূস দেবতা নন। তিনি নিজেও তা দাবি করেন না। তাকে দেবতার আসনে বসানোর কাজে গোপন কোন মিশনও কাজ করছেনা। বরং উন্নত বিশ্ব সহ বাকি বিশ্বের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা ই ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে কাছে টানছেন এবং আগ্রহ প্রকাশ করছেন ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসায়। আজকে ডক্টর মোহম্মদ যে আসনে বসে আছেন তার কাছাকাছি পৌঁছতে শেখ হাসিনাকে হিমালয় পাড়ি দিতে হবে। এমনটা বুঝতে পেরেই হয়ত ইউনূসের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রের সবকটা ইনস্টিটিউশনকে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শেখ হাসিনা ইদানিং যা করছেন তা নিয়ে যারা চিন্তিত তাদের ভাল করেই জানা আছে দেশীয় রাজনীতির দুই রাজনৈতিক শক্তি একে অপরের পরিপূরক, মুদ্রার এ পীঠ ও পীঠ। দুই মহিলার একজনকে ক্ষমতায় দেখতে চাইবো অথচ হরতাল, জ্বালাও, পোড়াও দেখতে চাইব না এ অলীক ও অবাস্তব চাওয়া। রাজপথের লাশ নিয়ে আজকে যারা আহাজারি করছেন তারা আসলে মৃতদের জন্য আহাজারি করছেন না, করছেন লাশকে পুঁজি বানিয়ে নির্বাচনী মুনাফার জন্য। এতটাই রুগ্ণ আমাদের রাজনীতি এবং এর সাথে জড়িত দলদাসের দল।

তারেক জিয়ার অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলার রায় বেরিয়েছে। অনেকের জন্য এ রায় ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত। হয়ত খোদ তারেক জিয়ার আইনজীবীরাও এমনটা আশা করেননি। যার প্রমান রায়ের আগে বিবাদী পক্ষের প্রতিবাদের প্রস্তুতি। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা এবং এর উচ্চ নিম্ন আদালত সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকার প্রধান এবং উনার লেফটেন্যান্টদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার কাজে আদালত ক্ষমতাসীনদের সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করে থাকে। তাই সবাই আশা করছিল তারেক জিয়াকে শাস্তি প্রধানের মাধ্যমে আদালত আরও একজন শত্রু নিধনে সরকার প্রধানকে সহযোগীতা করবে। ঠিক যেমনটা করা হয়েছিল ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের বেলায়। কি এমন ঘটল যার দরুন নিম্ন আদালতের বেতনভুক্ত কর্মচারী বিচারক মহাশয় সরকারকে হতাশ করলেন? এখানে দুটি সম্ভাবনা থাকতে পারে। এক, এ রায় সরকারের নতুন কোন মিশনের অংশ; দুই, বিচারক মহাশয় নির্বাচনী হাওয়া অনুভব করছেন এবং আগ বাড়িয়ে নিজের পদোন্নতি নিশ্চিত করার জন্যে এ রায় দিয়েছেন। সন্দেহ নেই বিএনপি ক্ষমতা ফিরে পেলে এই বিচারকের স্থান হবে উচ্চ আদালতে। বিচার ব্যবস্থার এই কলঙ্কিত অধ্যায় ধারাবহিকভাবে অবদান রেখে যাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায়। সরকারের হাতে আরও ১৩ মামলার অস্ত্র আছে যা দিয়ে তারেক জিয়াকে ঘায়েল করা যাবে। হতে পারে অর্থ পাচার মামলার রায় সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ যার মূল আর্কিটেক্ট আমারের প্রতিবেশী। তবে একটা বাস্তবতা এখানে উল্লেখ না করলে তারেক জিয়া গংদের প্রতি অবিচার করা হবে। খাম্বা মামুনের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের দুর্নীতির যে চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল তা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে বর্তমান সরকারের লুটপাটের কাছে। সরকারের অর্থমন্ত্রী বলছেন লুট হয়ে যাওয়া ৪০০০ কোটি টাকা এমন কোন অংক নয় যা নিয়ে সময় ব্যায় করতে হবে। স্টক মার্কেট এবং কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে যে টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে তার তুলনায় খাম্বা মামুনদের খাম্বা চুরি মহাসমুদ্রে এক ফোটা বৃষ্টি মনে হতে বাধ্য। তারেক জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে জেলে নিতে সরকারের কালো বিড়ালদের ক্ষমতা হারানোর পরবর্তী বাস্তবতাও চিন্তা করতে হবে। হতে পারে এটাও একটা কারণ।

বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতা দুটি পরিবারের জন্য সংবিধিবদ্ধ সম্পত্তি। পাকিস্তান আমলে যা ছিল ২২ পরিবারের তা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে এসে ঠেকেছে দুইয়ে। ছাগলের ৩নং বাচ্চা হিসাবে আমরা ১৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ জন নাগরিক চাইলে এ নিয়ে গর্ব করতে পারি। ‘বাকশালীদের দিন শেষ, তারেক জিয়ার বাংলাদেশ…’আদালতে শত শত শিক্ষিত আইনজীবীদের এই একটা স্লোগানই নির্ধারন করে আমাদের গন্তব্য। অন্তত আগামী পাচ বছরের জন্য।

দূর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ

2
বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ওয়াবসাইট থেকে দেখা যায় তাদের প্রকাশিত Corruption Perception Index-এ বাংলাদেশ প্রথম ব্যাপক আলোচিত হয় ২০০১ সালে প্রকাশিত ২০০০-২০০১ সালের CPI তালিকায়।
সেই হিসাবে এই তালিকায় বাংলাদেশ গত এক যুগ ধরে বিভিন্ন স্কোর পেয়ে বিভিন্ন অবস্থানে ছিলো।
এই তালিকায় আমাদের গত একযুগে কখন কি অবস্থা ছিলো তা নিয়ে কিছু বিশ্লেষণ প্রয়োজন, কারণ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে বিভিন্ন ভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যে তালিকা প্রকাশ করে থাকে তা হচ্ছে মূলত জরিপের উপর জরিপ।
অন্তত তিনটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যের উপর জরিপ করে স্কোর নির্ধারণ করে এই তালিকায় তা উল্লেখ করাহয়।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে ERC (Ethics Resource Center), EIU (Economics Intelligence Unit)-সহ আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে যেকয়টা CPI-এর হদিস পাওয়া গেছে সেই সবকয়টা মিলিয়ে এখনপর্যন্ত সবচেয়ে কম স্কোর উঠেছে ২০০১ সালে প্রকাশিত রিপোর্টেই- ০.৪ (বর্তমানে ১০০-এর স্কেলে যা ৪)।
এই বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী বাংলাদেশ।বলাই বাহুল্য নিচের দিক থেকে প্রথম অবস্থানটাও আমাদেরই ছিল।আমাদের নিকটতম দেশ ছিল নাইজেরিয়া, যাদের স্কোর ছিল আমাদের চেয়ে আড়াইগুণ বেশি (১.০)।
CPI2001

তখন মহাপরাক্রমশালী আওয়ামীলীগ সরকারের শেষ বছর চলছিলো। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মরহুম এস এম কিবরিয়া এই রিপোর্ট সরাসরি প্রত্যাখান করেছিলেন, যদিও দেশে দুর্নীতির অবস্থা আসলেই খারাপ ছিলো।

১৯৯৬সালে ক্ষমাতায় এসেই ১৯৯১ থেকে বন্ধ কালোটাকা সাদা করার বিধানকে চালু করে দেন কিবরিয়া সাহেব তাঁরপ্রথম বাজেটেই। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চর দখলের মতো দখল করে সভাপতির পদে বসে পড়েন নেতারা।শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারীর রেশ তখনও কাটেনি। এই স্কোর তাই অনুমিতই ছিলো।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার।

এই সরকারকে মানুষ অনেক আশা নিয়ে ক্ষমতায় বসালেও এদের সময়ও দুর্নীতি খুব একটা কমেনি, তবে বাড়েনি তা নিশ্চিত। প্রমাণ দেয়া হবে।

কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কারণে ২০০২ সালে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের কোন পরিবর্তননা হলেও স্কোর বেড়ে দাঁড়ায় ১.২-এ (বর্তমান স্কেলে ১২)।

নিকটতম রাষ্ট্র ছিল দুর্নীতি জর্জরিত নাইজেরিয়া ১.৬ পয়েন্ট নিয়ে। বাংলাদেশের সাথে ব্যবধান ছিল ০.৪ পয়েন্টের, আগেরবছর যা ছিল ০.৬ পয়েন্ট।

২০০২ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হলে বাংলাদেশের স্কোর ২০০৩ সালের তালিকায় সামান্য বেড়ে ১.৩-এ দাঁড়ায়(বর্তমান স্কেলে ১৩)।

এবছরও নিকটতম রাষ্ট্র ছিল নাইজেরিয়া ১.৪ পয়েন্ট নিয়ে। এবছর বাংলাদেশের সাথে নিকটতম রাষ্ট্রের ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ০.১-এ।

২০০৪ সালের প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায় আমাদের স্কোর সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ১.৫-এ (বর্তমান স্কেলে ১৫)। আগের বছরের তুলনায় যা ছিল ০.২ বেশি। এবছর আমাদের সাথে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ‘গৌরবে’ ভাগ বসায় হাইতি। নিকটতম রাষ্ট্র ছিল নাইজেরিয়া, যাদের স্কোর ছিল ১.৬।

অর্থাৎ আমাদের সাথে নিকটতম রাষ্ট্রের ব্যবধান আগের বছরের মতই ০.১-এই আটকে ছিলো।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে ইফতেখারুজ্জামানের নালিশ

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে ইফতেখারুজ্জামানের নালিশ

২০০৪ সাল থেকে শুরু হয় প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল। অর্থের বিনিময়ে কাজ দেয়ার কিছু ঘটনাও বের হয়ে আসা শুরু করে। জ্বালানীমন্ত্রীকে জিপ কেলেঙ্কারী নিয়ে সরে যেতে হয়। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে আরও অনেকের বিরুদ্ধে। এর প্রভাব পড়ে ২০০৫ সালের রিপোর্টে। বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে। স্কোরের বৃদ্ধি ছিল আগের মতই। তবে আমাদের সাথে আগের বছর একই অবস্থানে থাকা হাইতি কিছুটা উন্নতি করে নিকটতম রাষ্ট্রের কাতারে চলে যায় ০.১ পয়েন্টের ব্যবধান নিয়ে। হাইতির জায়গায় আসে চাদ। ২০০৫ সাল মিলিয়ে বাংলাদেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।

২০০৫-২০০৬ সাল ছিল রাজনৈতিকভাবে টালমাটাল একটা বছর। অবশ্য বিরোধীদলের প্রবল আন্দোলনের কারণে এ বছর মাঠপর্যায়ে সরকারি কাজও ছিল কম, তাই দুর্নীতিও কম হয় যার ফলে ২০০৬ সালের জোট সরকারের আমলের শেষ রিপোর্টে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান থেকে বেরিয়ে আসে।

তবে এই বছরের টিআইবি রিপোর্টের সাথে টিআইবির কর্তাব্যক্তিদের কথায় মিল ছিল কম। অনেকের অনেক কাজ ছিল সন্দেহজনক। টিআইবির ইফতেখারুজ্জামানকে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে বাংলাদেশের দুর্নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে রীতিমত নালিশ করতে দেখা যায়। তিনি খালেদা জিয়া এবং তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে বিভিন্ন খতিয়ান দেন যা পরবর্তীতে উইকিলিকসে প্রকাশিত হয়।

ইফতেখারুজ্জামান নিজেই পরে একে নীতিমালা বহির্ভুত কাজ হিসেবে স্বীকার করেন

কিন্তু ২০০৬ সালের টিআইবির প্রতিবেদন ছিল এর উলটো। ২০০৬ সালে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের স্কোর বেড়ে দাঁড়ায় ২.০-তে। অবস্থানও হয় তৃতীয়। যা ইফতেখারুজ্জামানকে ভুল প্রমাণিত করে। যদিও damages were done, বাংলাদেশ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নেতিবাচক তাঁরবার্তা পাঠানো হয়।

শুধু তাই নয়, তারেক রহমান এবং কোকোর ব্যাপারে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম কারণ ইফতেখারুজ্জামানেরা।

এই ছয় বছরের টিআই’র খতিয়ান দেখলে দেখা যায় বাংলাদেশের স্কোরে উন্নতি হয় ১.৬ (বর্তমান স্কেলে ১৬) পয়েন্ট। বাংলাদেশ দুর্নীতি কমিয়ে এনেছে, তথা বাংলাদেশে ২০০০ সালের তুলনায় ২০০৬ সালে দুর্নীতি কম হচ্ছে এমন মত প্রকাশ করে ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। অন্তত তাদের প্রতিবেদনের স্কোর এবং অবস্থান তাই নির্দেশ করে।

তবে বাংলাদেশের অতি উৎসাহী একটি শ্রেণী ঠিকভাবে রিপোর্ট না দেখেই বিভিন্ন মন্তব্য করে থাকেন যা অনভিপ্রেত। টিআই’র রিপোর্টে শুধুই একটা দেশের অবস্থান দেয়া থাকে না; একই সাথে সেই দেশের গত বছরের অবস্থান, দুর্নীতির ক্ষেত্রে দেশটির স্কোর- এগুলোও থাকে, যা অনেকেই খেয়াল করেন না। করলে অবশ্যই বুঝতেন বাংলাদেশ কিভাবে দুর্নীতি কমে এসেছিল।

এরপর দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী ক্ষমতা নেয় সেনা সমর্থিত সরকার। এই সরকার দুর্নীতি দমনের নামে বেশ কিছু অভিযান চালায়। তবে এই সকল অভিযানের একটা বড় অংশই ছিল লোকদেখানো। এই সময় দুর্নীতির তেমন কোন হেরফের ঘটেনি। বরং জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশের স্কোর বৃদ্ধির যে ধারা বজায় ছিল তাও থেমে যায়। জোট সরকারের শেষ বছরের স্কোর ২.০ থেকে এক দশমিক পয়েন্টও বাড়েনি ২০০৭ সালের টিআই’র দুর্নীতির ধারণাসূচকে। যেখানে ছিল সেখানেই থাকে।

উলটো সেনা সমর্থিত সেই সরকারের সময় ব্যবসায়ীদের ধরে এনে চাঁদাবাজির সাথেও জড়িয়ে পড়ে অনেক সেনা কর্মকর্তা। দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক কর্মযজ্ঞের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ২০০৮ সালের টিআই’র সূচকে বাংলাদেশ মাত্র ০.১ শতাংশ যোগ করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবী করে তখন সেনাদের একাংশ দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিল। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালের এগারোই জানুয়ারির পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুবছরের শাসনামলে সশস্ত্র বাহিনীর একাংশ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অর্থ ও সম্পদ অর্জন করে এবং গণমাধ্যমের ওপরও তারা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

এরপর ক্ষমতা নেয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। মহাজোট মন্ত্রীসভার অধীনে প্রথম বছর যথেষ্ট ভালো কাটে বাংলাদেশের। এছাড়া ঐ বছর কিংবা তার পরের বছরও কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা যায়নি। এছাড়া বড় ধরণের দুর্নীতির অভিযোগও ওঠেনি। যার প্রভাব পড়ে টিআই’র সূচকেও। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের স্কোর বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২.৪ এ (বর্তমান স্কেলে ২৪)।

পরের বছর, ২০১০ সালেও অবশ্য এই স্কোরের কোন পরিবর্তন হয়নি। যদিও তেমন কোন বড় ঘটনা ঘটেনি। কিংবা সরকারও কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়নি নিজেদের দুর্নীতির মামলাগুলো প্রত্যাহার করা ছাড়া।

২০১১ সালে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২.৭, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। তবে ২০১১ সালে কিছু মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা বাদে দুদক তেমন কোন কাজই করেনি। তবে উল্লেখ্য যে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-সাংসদের বিরুদ্ধে এই বছরে অভিযোগ উঠতে থাকে। এদের কয়েকজনকেই দুদক তলব করে।

২০১২ সাল ছিল এক বোমা ফাটার বছর। একের পর এক দুর্নীতি উন্মোচিত হতে থাকে। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দেয় বিশ্বব্যাংক। বের হতে থাকে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারী। যার সামান্য প্রভাব পড়ে টিআই’র সূচকেও। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ধারণা সূচকে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায়বাংলাদেশের অবস্থান ২০১১ সালের মতো ২০১২ সালেও ১৩তম অবস্থানে থাকলেও কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশেরতালিকায় (উচ্চক্রমে) বাংলাদেশের অবস্থান ২৪ ধাপ পিছিয়েছে। স্কোর কমে দাঁড়ায় ২.৬-এ, বর্তমান স্কেলে ২৬।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং ভীতিকর বিষয় হচ্ছে গত প্রায় এক যুগের মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশের স্কোরে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেল। যার অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ যেভাবে গত এক যুগে ধীরে ধীরে হলেও দুর্নীতি কমিয়ে আনছিল তা এই বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় এই অবস্থা আরও হতাশাজনক।

এক যুগের মধ্যে সূচকে বাংলাদেশের প্রথম পয়েন্ট খোয়ানো

এক যুগের মধ্যে সূচকে বাংলাদেশের প্রথম পয়েন্ট খোয়ানো

এ অবস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন,
এই অবস্থান প্রমাণ করে, গত বছরের তুলনায় দুর্নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থার অবনতি হয়েছে।বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতির কারণ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা লিখিত মূল্যায়নে বলা হয়, দুর্নীতি দমনে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ক্রমবর্ধমান ঘাটতি, পদ্মা সেতু, রেলওয়ে কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজার, হলমার্ক কেলেঙ্কারির মতো বহুল আলোচিত দুর্নীতির অভিযোগ, ক্ষমতাবানদের নির্বিচারে জমি ও নদীর জলাশয় দখল, ক্ষমতাশালীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ না করা, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা হ্রাসের উদ্যোগ, উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতির ব্যাপারে দুদকের বিতর্কিত ভূমিকা, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাপকসংখ্যক ফৌজদারি ও দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার, বয়কট ও স্বার্থের দ্বন্দ্বে জর্জরিত সংসদ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর রাজনীতিকীকরণ, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রাখা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা দুর্বল থেকে দুর্বলতর হওয়ার ঘটনা সার্বিক সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এক যুগে বাংলাদেশের স্কোরের তুলনাচিত্র

এক যুগে বাংলাদেশের স্কোরের তুলনাচিত্র

সার্বিক বিবেচনায় দেখা যায় জোট সরকার যেখানে স্কোরের হিসেবে ১.৬ বা বর্তমান স্কেলে ১৬ উন্নতি করেছিল, মহাজোট সরকার করেছে মাত্র ০.৫ বা বর্তমান স্কেলে ৫ পয়েন্ট।
তাই দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের গান যারা শোনায় তাদের জন্যে একটাই কথা। আপনারা দুর্নীতি করে স্কোর কুয়ার মধ্যে ফেলে গেছিলেন। কোন কিছু কুয়াতে ফেলা যত সহজ তোলা তত সহজ না। যা এখন সম্ভবত হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। কারা আসল চ্যাম্পিয়ন তাও এখন বোঝা যাচ্ছে।
কটা কথা মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশ তথা টিআই’র ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্কোর আওয়ামী লীগেরই কীর্তিস্তম্ভ।

একধাপ এগিয়ে এ দলঃ বি দলের করনীয় কি?

132017991_101n

By Shikin Aman      পূর্ববর্তী সূত্রঃ http://shikinaman.wordpress.com/2013/11/03/strategy2/

সরকারী দল হওয়ার সুবাদে এ দলের কিছু ইনহেরেন্ট সুবিধা থাকারই কথা, এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে দলটি তার এই সুবিধাকে ম্যাক্সিমাইজ করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, মিডিয়া ও বিচার বিভাগের উপর প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রন এর বহিঃপ্রকাশ। তাছাড়া ধারণা করা যায় যে জেলা প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের উপর তাদের যথেষ্ট আস্থা আছে, যা তাদেরকে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের সময় সাহায্য করবে। তারা নিজেদের দুর্বলতাগুলোকে জনগণের দৃষ্টি ও বিরোধীদের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য একটি সমন্বিত ষ্ট্র্যটেজি নিয়েছে যা ইতিমধ্যে তাদেরকে একটি নিরাপত্তাবোধ দিয়েছে। অপরদিকে বি দলকে তারা চতুর্মখী আক্রমনের মাধ্যমে বিপর্যস্ত করে রেখেছে (লিস্ট) যার ফলে বি দল অবিরাম হরতাল ছাড়া আর কিছু করণীয় খুজে পাচ্ছেনা। এ দল পরিকল্পনায় একধাপ এগিয়ে থাকায় হরতালেও তারা বি দলকে ব্যাকফুটে নেয়ার একটি কার্যকর কৌশল বের করে ফেলেছে। তার সাথে তারা পরবর্তী একটি ধাপের জন্য জাল পেতে চলেছে, যেটার লক্ষ্য হতে পারে বি দলের একটি অংশকে পাতানো নির্বাচনে অংশ নেয়ানো। আজকের লেখাতে এই দুইটি বিষয়ে আলোচনা করবো।

হরতাল প্রসংগঃ

শান্তিপূর্ণ হরতাল বলে কোন হরতাল কালচার বাংলাদেশে নেইঃ এটা নিয়ে কোন দ্বিমত করার অবকাশ নাই। এখনকার পরিস্থিতিতে পিকেটিং মানেই পুলিশের বা এ দলীয় ক্যাডারদের সাথে মারামারি অবধারিত। পুলিশ আসলে নিজ দ্বায়িত্ব পালন করছে মাত্র। এ দলীয় ক্যাডাররা করছে মাঠ দখলের চেষ্টা। এক্ষেত্রে পুলিস যে কাজটি আইনসঙ্গতভাবে করছেনা সেটা হচ্ছে, এ দলের সমর্থকরা অস্ত্রধারী হয়েও পুলিশের কাছ থেকে কোন বাধা পাচ্ছেনা। দ্বিতিয়ত কোথাও কোথাও পুলিশ অপ্রয়োজনে গুলি করছে। খালী হাতে থাকা জনতার উপর গুলিবর্ষণ পুলিস কোন আইন দিয়ে বৈধ করতে পারবেনা। উপরস্থ কর্মকর্তার আদেশে হলেও এটা বৈধ আদেশ হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক না। কিন্তু  বেআইনি কাজটাকে এ দল এক ঢিলে দুই পাখি মারতে ব্যবহার করছে। একদিকে এটা দ্বারা বি দলের আন্দোলনকে শক্ত বাধার মুখে ফেলে দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের একটা বাকশালী ড্রাগ দেয়া হচ্ছে। ড্রাগ বললাম কারণ সুস্থমাথায় নিজের দেশের লোকের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো সম্ভব না (দলীয় ক্যাডার থেকে পুলিস হওয়া ব্যতীত), অন্যদিকে একবার খুন করার পরে একটা বোধ কাজ করে যে এই কাজের জন্য আবার বিচার হবেনা তো? তখনই না চাইলেও বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখার একটা প্রবণতা চলে আসবে। বুদ্ধিমান এ দলের তো লাভই লাভ।

দ্বিতীয় ইস্যু হচ্ছে পুড়িয়ে বা বোমা মেরে সাধারণ মানুষকে হত্যা। এইটাও সাধারণ সুস্থমস্তিষ্কের লোকের কাজ হতে পারেনা। সাধারণ মানুষের সম্পত্তির ক্ষতিও মেনে নেওয়া যায়না।এটা চললে বি দলের জনমতে ক্ষয় ধরবে। বিশ্বজিত হত্যার পরে ছাত্রলিগের ইমেজের একটা বড় ক্ষতি হয়েছিল। লক্ষ্য করে থাকবেন, মনির হত্যার পর কিছু এ দলের নুন খাওয়া ও অন্ধভক্ত কেন এটাকে বিশ্বজিত হত্যার সাথে তুলনা করা হচ্ছেনা এই নিয়ে অনেক কান্নাকাটি করেছে। এই দুইটা সাধারণের চোখে সমান হয়নি কারণ প্রথম হত্যাকান্ডটি চিনহিত এ দলীয় ক্যাডার বাহিনী দ্বারা টিভি ক্যামেরার সামনে করা খুন। আর দ্বিতিয়টি হরতালে গাড়িতে আগুন দেয়ার সময় সঙ্ঘটিত  হত্যাকান্ড (ইচ্ছাকৃত হত্যা কিনা নিশ্চিত না)।

এ হত্যাকান্ডের হোতারা কোন দলের চিনহিত নেতা নয়। সুতরং ঢালাওভাবে এর দায় কারো উপরে দেয়া সম্ভব না। কিন্তু এ দল ইতোমধ্যে দলীয় মিডিয়া ও অনলাইন প্রপাগান্ডার মাধ্যমে একে সম্ভব হলে ম্যাডামের প্রত্যক্ষ আদেশে সংঘটিত হত্যা প্রমাণ করতে চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের বিপদ এখানেই শেষ না। সাধারণের লাশের রাজনীতির ধারা বলে, এখন বি দলকে কেন্দ্রীয় নির্দেশ দিয়েও এই ধরণের হত্যা রুখতে বেগ পেতে হবে। এখন প্রয়োজনে এ দলের লোক (নিজেরা মেরে হলেও) এই ধারা বজায় রাখবে, কারণ এতে বি দলের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ জনগণ এখানে শুধুই খেলার পুতুল।

সুতরাং বি দলের এই অবস্থায় করণীয় কি?

প্রথমেই কেন্ত্রীয়ভাবে এই ধরণের হত্যাকান্ডের প্রতি দলের অসমর্থন ও নিন্দা জ্ঞাপন করে নিজ দলের সমর্থকদের এ জাতীয় কাজ থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দিতে হবে। দলের মধ্যে যারা আদেশ পাওয়ার পরও এ কাজে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করবে, তাদেরকে হাতে নাতে ধরে প্রয়োজনে পুলিশে সমর্পন করতে হবে, কারণ তারা আসলে দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে (হয়ত এ দলের টাকার বিনিময়ে)।

হরতাল চলাকালীন পয়েন্টে পয়েন্টে নিজস্ব ক্যামেরাম্যান রাখতে হবে। যদি অন্য কোন দলের লোক এই ধরনের কাজ করে, তাদের ছবি তুলে রাখতে হবে। পুলিসের মাত্রাতিরিক্ত শক্তিপ্রয়গের প্রমাণ ও কেন্ত্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তবে একে সূক্ষভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে যাতে এ দলের এক ঢিলে দুই পাখী মারার (উপরে বর্ণিত) নীতি কার্যকর না হয়। সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ধংস যথাসম্ভব এড়াতে হবে। টায়ার পোড়ানো বা অবস্থান দখলের মাধ্যমে হরতাল কার্যকর করার চেস্টা করা যেতে পারে। ভাংচুর এর মাধ্যমে নয়। এ দলের ক্যাডারদের রাজপথ থেকে দূরে রাখতে পরলে এম্নিতেই হরতাল সফল ও কার্যকর হবে। বি দল তার সমস্ত শরিকদের নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করলেই এটা সম্ভব। এ দল গ্রেফতার ও নির্যাতনের শংকা তৈরি করে বি দলের নেতাদের রাজপথে থাকতে দিবেনা, আর পাশাপাশি পোষা মিডিয়াতে সর্বশক্তিতে প্রচার চালাবে যে বি দলের নেতারা মাঠে থাকেনা। আজকের দিনে রেগুলার, অনলাইন সব পোষা লেখকদের লেখা ও ষ্ট্যাটাস এ এর প্রমাণ পাবেন। এতে বি দলের কর্মীদের নেতাদের উপর আস্থা হারালে চলবে না। বরং নেতাদের ছিনিয়ে নিতে আসা যে কাউকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করেই এর জবাব দেয়া সম্ভব। এর ফলে সারা দেশের কর্মীদের কাছে পসিটিভ মেসেজ পৌছে যাবে।

নির্বাচন প্রসংগঃ

নির্বাচনে বি দলকে না নিতে পারলে সে নির্বাচন আন্তর্জাতিক সিকৃতি পাবেনা, এটা সবাই বূঝে। সুতরাং এ দল এখন যেসব কাজ করছে তার অন্যতম লক্ষ্য থাকবে বি দলকে নির্বাচনে নেয়া। সম্ভব না হলে বি দলের বর্তমান বা পুরাতন কিছু নেতাকে দল ভাঙ্গিয়ে বি দল হিসেবে নির্বাচনে নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। যেহেতু সংসদ চলবে, এক্ষেত্রে কোন নির্বাচনী আইন বা সংবিধান (!)  সংশোধণ প্রয়োজন হলে সেটাও করা হবে! অবাক হওয়ার আসলে আর কোন স্কোপ নাই। প্রয়োজনে কোর্ট আদেশ দিবে দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে বি দলের আগ্রহী অংশকে নির্বাচনে অংশ নিতে। এই মগের মুল্লকে কিছুই অসম্ভব না।

ব্যাপারটা বি দলের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল ও হতে পারে। যাতে চাপে পরে বি দল সাজানো নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে বি দল ইতোমধ্যে তাদের তিন ধাপের কৌশল নির্ধারণ করেছে। তফশীলের আগে, তফশীলের পরে আর নির্বাচনের দিন ও তার পরেঃ এই তার তিন ধাপ। আমি আশা করব বি দল এর বাইরেও কিছু কন্টিনজেন্সি ষ্ট্র্যটেজি নির্ধারণ করেছে। সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে নির্বাচন প্রতিহত করার কৌশল কি হবে,  কোন নেতা দলত্যাগের চেষ্টা করলে তার জন্য করণীয় কি, নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি কি ইত্যাদি নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি কুটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ডাঃ ইউনুসের প্রভাবকে যতটা সম্ভব দেশের স্বার্থে পসিটিভলি ব্যবহার করা যেতে পারে।

শেষকথাঃ

বি দলের জন্য এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের সমর্থন।  দল এতে ভাঙ্গন ধরানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। বি দলকে যেকোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে এদিকে লক্ষ রাখতে হবে। JSC  পরীক্ষা, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এগুলো ভুলে গেলে চলবে না। মানুষের কাছে নিজেদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা (ইস্তেহার) তুলে ধরতে হবে। প্রিন্ট, ভিজুয়াল ও অনলাইন মিডিয়াতে সমন্বিতভাবে নিজেদের সুস্থ মনোভাব ও দেশের জন্য সুন্দর পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে থানায় থানায় প্রিন্টিং প্রেস বা বিকল্প প্রিন্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের মনোভাবকে পৌছে হবে। মানূষ পরিবর্তন চায়। তাদেরকে সেই স্বপ্নের পথ দেখাতে হবে। এ ব্যাপারে পরে আবার লিখার আশা রইলো।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও একটি দলের ষ্ট্র্যাটেজিক এনালাইসিস (পর্ব-২ এ দলের ষ্ট্র্যাটেজি ) by bdmylove

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও একটি দলের ষ্ট্র্যাটেজিক এনালাইসিস (পর্ব-২ঃ এ দলের ষ্ট্র্যাটেজি )

ভূমিকা

ষ্ট্র্যাটেজি এনালাইসিস সম্পর্কে আগের পর্বে (পর্ব-১) যে ধারণা আমরা পেয়েছি, এই পর্বে তাকে আমরা এ দলের ষ্ট্র্যাটেজি বোঝার কাজে ব্যাবহার করবো। এ দল সরকারী দল হওয়াতে সে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজের সুবিধামত ব্যাবহারের সুযোগ পেয়েছে। তাই তাদের ষ্ট্র্যাটেজি ব্যাপকভাবে অফেন্সিভ এবং বহুমুখী। তারা রাষ্ট্রের সকল নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য পাওয়ার কারণে তাদের কাছে সম্ভাব্য সকল তথ্য ও রিসোর্স আছে যার মাধ্যমে তারা ষ্ট্র্যাটেজি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সহযে করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের এই বহুমূখী রিসোর্স থাকার কারণে তারা কিছু কার্যক্রম লোকচক্ষুর আড়ালে করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু আশা করা যায় সঠিক এনালাইসিস করা হলে আমরা সেগুলো সনাক্ত করতে পারবো।

মূলমন্ত্র

অফেন্সিভ ষ্ট্র্যাটেজির মূলমন্ত্র হচ্ছে নিজের CG (Centre of Gravity) কে প্রতিপক্ষের আক্রমন থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষের CG কে ধ্বংস করা। CG কে ধ্বংস করার মাধ্যম হচ্ছে প্রতিপক্ষের CC (Critical Capability) গুলোকে আক্রমন করা। কিন্তু যেহেতু প্রতিপক্ষও তার CG কে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর থাকবে তাই খুজে বের করতে হবে প্রতিপক্ষের CV (Critical Vulnerabilities), যেগুলো তার CC গুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দুর্বলতা কিংবা যেগুলোকে বিভিন্ন কারণে রক্ষা করা প্রতিপক্ষের সাধ্যের বাইরে। এরপর সব ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে সেগুলোকে ধ্বংস, নিস্তেজ বা দুর্বল করতে হবে।

chess

এ ও বি দলের CG এনালাইসিস

          CG এনালাইসিস একটা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া যা সাধারণত একটা অভিজ্ঞ এনালাইসিস টিমের মাধ্যমে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সম্পন্ন হয়। আমাদের জন্য সুখবর হচ্ছে আমরা ইতিমধ্যে এই দুই দলের কার্যক্রম থেকে তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়েছি। অন্যথায় প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম থেকে আমরা কনফিউজড হতাম নিশ্চিত। উপস্থাপনার সুবিধার্থে এই এনালাইসিসগুলো ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। প্রথমেই দেখা যাক এই দুই দলের কাঙ্খিত এন্ডস্টেট (Desired End State) ও CG কি হতে পারেঃ

দল

এন্ডস্টেট

CG

পুনরায় নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠণ জনগণের ম্যান্ডেট/ নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন
বি নির্বাচনে সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া জনগনের মতামত/সাপোর্ট/ম্যান্ডেট

এখানে আমরা যতটা নিশ্চিতভাবে এই CG নির্ধারণ করতে পারছি তা আজকে থেকে চার বছর আগে সম্ভব হতোনা। এইটা আসলে একটা পোস্ট এনালাইসিস। লক্ষ্যণীয় যে এ দলের প্রাথমিক CG ও সভবত ছিল জনগণের ম্যান্ডেট, যা এক পর্যায়ে তাদের বিভিন্ন কার্যকলাপের কারনে অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পরায় (জরিপের ফলাফলে)তারা CG বদল করতে বাধ্য হয়। এখন আসুন দেখা যাক এই CG গুলোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রধাণ CC (Critical Capability) গুলো কি কিঃ

এ দল (CG- নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন)

বি দল (CG-জনগনের ম্যান্ডেট)

নেত্রীর অধীনে সর্বদলীয় সরকার দলের ইমেজ
প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ন্ত্রন বি-জা জোট
পুলিশের আনুগত্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার
অনুগত ও দুর্বল নির্বাচন কমিশন দলের সাংগঠনিক ক্ষমতা
মিডিয়ার উপর নিয়ন্ত্রন প্রচার ক্ষমতা/ মিডিয়া সমর্থন
ভবিষ্যত নেতৃত্বের বিকাশ (**) যুব নেতৃত্ব (তারেক)
গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান JSbr এর পেশীশক্তি
কূটনৈতিক মহলের সমর্থন কূটনৈতিক মহলের সমর্থন
ভারতের সমর্থন অর্থনৈতিক সাপোর্ট
চেতনা ব্যাবসা প্রশাসনে সুপ্ত সিম্পেথাইজার
সামরিক বাহিনীর সমর্থন/নীরবতা শেষ পর্যায়ে সরকারী বাহিনীগুলোর সমর্থন

উপরের তালিকাটি একান্তই আমার চিন্তাপ্রসূত এবং আমার ধারণা আপনাদের অনেকে আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু CC লিস্ট করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু তা আমাদের এই সিস্টেমেটিক বিশ্লেষণকে ব্যাহত করবে না।

যেহেতু, এই পর্বে আমরা এ দলের সম্ভাব্য  ষ্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলোচনা করছি, তাই আমরা এই পর্যায়ে বি দলের CC গুলোকে বিশ্লেষণ করে এর দুর্বলতাগুলো (CV) চিনহিত করবো। বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার জন্য এখানে একটা ধাপ এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা হলো এই CC গুলোর CR (Critical Requirements) বিশ্লেষণ। নিচে বি দলের CV এনালাইসিস ও  সম্ভাব্য ষ্ট্র্যাটেজি দেয়া হলো। এই তালিকার সাথেও অনেকে একমত না হতেই পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার মতামত জানাবেন। (এই ধাপে আপনাকে এ দলের সমর্থকের/নীতিনির্ধারকের মত করে চিন্তা করতে হবে, তবেই আপনি সেই দলের কর্মকান্ড ব্যাখ্যা করতে পারবেন। কিছু কিছু CV কল্পনাপ্রসূত হতে হবে, যা গোয়েবলসের প্রপাগান্ডা নীতি অনুসারে জনগণের মনে ঢুকাতে হবে)ঃ

 

বি দলের CV এনালাইসিস ও এ দলের সম্ভাব্য ষ্ট্র্যাটেজি

CC (Critical Capabilities)

CV (Critical Vulnerabilities)

এ দলের  সম্ভাব্য ষ্ট্র্যাটেজি

দলের ইমেজ নেত্রীর ইমেজ

  • পুথিগত বিদ্যার কমতি
  • ৭১ এ অবস্থান
  • সৌন্দর্য সচেতনতা

যুবদল/তারেকের ইমেজ

  • বিগত আমলের দুর্নীতি
  • বিভিন্ন মামলা
  • উচ্ছৃংখল জীবন
  • বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক

অন্যান্য টপ নেতাদের ইমেজ

  • বিগত আমলের দুর্নীতি
  • মাঠপর্যায়ের আন্দোলনে অনুপুস্থিতি
  • দল বদলের ইতিহাস
  • ৭১ এ ভূমিকা
  • প্রথাগত মিডিয়ায় অপপ্রচার
  • অপ্রথাগত/ সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার/ প্রপাগান্ডা
  • পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসকে নিজস্ব সুবিধা মতো বদল
  • তরুণ প্রজন্মকে চেতনা ব্যাবসায় উদ্বুদ্ধ করা
  • শেষ মুহুর্তে তারেকের মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে বিতর্কিত করা
  • রাজপথে পুলিশ দ্বারা অসম্মান করে (*ফারুক)নেতাদের ইমেজ নষ্ট করা
  • নেতাদের মাঠে উপস্থিত হতে না দেয়া
  • নেতাদের দল বদলে/দলের বিরুদ্ধে বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ/পুরষ্কৃত করা
  • শাহবাগ টাইপ আন্দোলন করে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা
বি-জা জোট জমায়েত দলের ইমেজ

  • ৭১ এ ভূমিকা
  • নেতাদের যুদ্ধাপরাধ
  • শিবিরের তান্ডব/ রগকাটা রাজনীতি
  • বোমাবাজি সংশ্লিষ্টতা

বি দলের অবস্থান

  • জমায়েতের আনুগত্য
  • ৭১ সম্পর্কিত (যুদ্ধাপরাধ) অবস্থান
  • তথাকথিত চেতনার অভাব
  • যুদ্ধাপরাধ মামলার পদ্ধতি ও রায় নিয়ন্ত্রন করতে জনমত তৈরি করা
  • প্রথাগত এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচার/অপপ্রচার/ প্রপাগান্ডা
  • নেতাদের বোমাবাজি মামলায় জড়ানো
  • নির্বাচনে জমায়েতের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা
  • শেষ মুহুর্তে সকল জমায়েত নেতাদের নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা
  • নির্বাচনী সংলাপের সময় ভিজুয়াল মিডিয়াতে বি দলকে জমায়েতের সমর্থন নিয়ে বিব্রত করা
নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার
  • নিরপেক্ষ লোকের অভাব
  • অনির্বাচিত সরকারের কালো(!) অধ্যায় (মঈন-ফখরুল)
  • তত্তাবধায়ক সরকার আমলে রাজনীতিবিদদের দুর্ভোগ
  • সংবিধানের সীমাবদ্ধতা
  • ডাঃ ইউনুসকে বিতর্কিত করা
  • সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা
  • উন্নত দেশের নির্বাচনের উদাহরণ
  • রাজনীতিবিদদের সম্ভাব্য দুর্ভোগ নিয়ে সচেতন করা
  • তৃতীয় শক্তির জুজু
  • (আগ্রহ প্রকাশকারী)সম্মানিত ব্যক্তিদের বিতর্কিত করা
দলের সাংগঠনিক ক্ষমতা
  • তৃণমূল সংগঠনের সদস্যদের নিরাপত্তা
  • তৃণমূল নেতাদের মামলা সংশ্লিষ্টতা
  • তৃণমূল নেতাদের স্থাবর সম্পদের নিরাপত্তা
  • প্রধাণ নেতাদের এলাকায় অনুপস্থিতি
  • তারেকের অনুপস্থিতি
  • নেতৃত্তের উপর অনাস্থা
  • পুলিশ/মামলার মাধ্যমে হয়রানী
  • মামলার রায় ঘোষণা করে ফেরারী করা
  • নেতাদের স্থাবর সম্পত্তি জবর দখল করে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা
  • প্রধাণ নেতাদের এলাকায় গমনকে অনিরাপদ করা
  • নেতাদের নামে ইচ্ছাকৃত অনুপস্থিতির অপপ্রচার/ প্রপাগান্ডা
  • তারেকের সাথে যোগাযোগ নিয়ন্ত্রন
  • শেষ সময়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নিরাপত্তা/ টেন্ডার ভাগাভাগির আশ্বাস দিয়ে নিস্ক্রীয় করা
প্রচার ক্ষমতা/ মিডিয়া সমর্থন
  • পৃষ্ঠপোষকতার অভাব
  • সরকারী বিজ্ঞাপন
  • মামলা সংশ্লিষ্টতা
  • বিতর্কিত মিডিয়া আইন পাশ
  • বিরোধী মিডিয়া নিষিদ্ধ করা
  • মিডিয়া মালিকদের জেল/জরিমানা/ হয়রানী
  • সকল বিরোধী মিডিয়াকে হয়রানী
  • সামাজিক মাধ্যমে কঠোর নিয়ন্ত্রন
যুব নেতৃত্ব (তারেক)
  • মামলা সংশ্লিষ্টতা
  • দেশে বিদেশে ইমেজ
  • নির্বাচনের আগে অনুপস্থিতি
  • তারেকের মামলার রায়
  • বিদেশী সংস্থা কতৃক তারেককে হয়রানীর চেষ্টা
  • তারককে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত দেশে অবাঞ্চিত করা
JSbr এর পেশীশক্তি
  • মামলা সংশ্লিষ্টতা
  • JSbr এর ইমেজ
  • জংগী সংশ্লিষ্টতা
  • মামলা ও গ্রেফতারের মাধ্যমে হয়রানী
  • রগকাটা ইমেজ প্রচার/ প্রপাগান্ডা
  • JSbr কে বোমাবাজি সংশ্লিষ্ট প্রমাণ করা
  • JSbr কে নিষিদ্ধ সংগঠণ ঘোষণা করা
কূটনৈতিক মহলের সমর্থন
  • বি দলের ইসলামপন্থী ইমেজ
  • ভারত বিরোধী ইমেজ
  • জংগী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
  • কুটনৈতিকদের নিরাপত্তা
  • পশ্চিমাবিরোধীতার জুজু
  • তালেবান রাষ্ট্র সৃষ্টির জুজু
  • ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য লাভের চেষ্টা
  • নেতাদের সাথে আন্তর্জাতিক জংগীদের যোগাযোগ প্রমণের চেষ্টা
  • কূটনৈতিকদের উপর আক্রমন করে দায়ভার বিরোধীদের উপর চাপানো
অর্থনৈতিক সাপোর্ট
  • বি দল সমর্থক ব্যাবসায়ীদের নিরাপত্তা
  • দেশী/ বিদেশি একাউন্ট
  • মধ্যপ্রাচ্য থেকে গোপন সাহায্য সম্ভাবনা
  • বি দল সমর্থক ব্যাবসায়ীদের প্রকাশ্যে ও গোপনে পুলিশী হয়রানী
  • সহায়তাকারীদের একাউন্ট জব্দ
  • বিদেশী সাহায্য মনিটর ও সম্ভব হলে জংগী সংশ্লিষ্ট প্রমান
প্রশাসনে সুপ্ত সিম্পেথাইজার
  • চাকুরী নিরাপত্তা
  • গুরূত্বপূর্ণ পদে অবস্থান
  • প্রশাসনে বি দলের সমর্থনকারীদের সনাক্ত করে সাইডলাইন করা
  • সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিজস্ব লোক বসানো
  • বিরোধী মতকে দৃষ্টান্তমূলকভাবে দমন
শেষ পর্যায়ে সরকারী বাহিনীগুলোর সমর্থন
  • গুরুত্বপূর্ণ পদ
  • আর্থিক চাহিদা
  • পরবর্তী আমলে সুবিধাপ্রাপ্তি
  • আইনগত জটিলতা
  • সকল গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজস্ব লোক বসানো
  • প্রমোশন এর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে ফেভার না করে, পরবর্তী মেয়াদে্র স্বপ্ন/ মূলা দেখানো
  • পুলিশ/ প্রশাসনকে বেআইনী কাজের ফাদে ফেলে তাদের নামে মামলার হুমকী সৃষ্টি করা, যাতে তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এ দলের পুনঃর্নিবাচন সমর্থন করতে বাধ্য হয়

উপরের ছকটিতে এ দলের সম্ভাব্য ষ্ট্র্যাটেজিগুলো সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে নির্ধারনের একটা একাডেমিক প্রয়াস নেয়া হয়েছে। আগেই বলেছি এই ধরণের কাজের জন্য অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারকদের একটি দল দীর্ঘসময় নিয়ে কাজ করে এবং পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে তাকে আপডেট করে।  বোল্ড লেখা দিয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যত ষ্ট্র্যাটেজি বোঝানো হয়েছে। এগুলো ছাড়াও দলটি তাদের নিজস্ব CC (Critical Capability) কে রক্ষার প্রয়োজনে কিছু পদক্ষেপ নিবে, যা আলোচনা সংক্ষিপ্ত করার জন্য এড়িয়ে যাওয়া হলো।

পরিশিষ্ট

এ দল রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বি দলের প্রায় সকল দুর্বলতায়  ইতিমদ্ধে আঘাত এনেছে। এ কারণেই ব্যাপক জনমত থাকা সত্ত্বেও বি দলকে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রন পেতে অসম্ভব বেগ পেতে হচ্ছে। বি দলের নীতিনির্ধারকদের সম্ভবত বিভিন্ন মামলা, কার্যালয়ে যেতে বাধা ও হয়রানীর মাধ্যমে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিতে প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে । ষ্ট্র্যাটেজির ভাষায় একে বলে প্রতিপক্ষের ডিশিসন সাইকেল ভেঙ্গে দেওয়া। এ দল এক্ষেত্রে অসাধারণ পারদর্শিতা দেখিয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস। তবে বি দলের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগনের কাছে তাদের ত্তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীর গ্রহণযোগ্যতা। তাই তারা ষ্ট্র্যাটেজির দৌড়ে একটু পিছিয়ে থাকলেও এখনও ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ আছে বৈকি!

Wahiduzzaman Apollo – victim of the new war to emancipate Bangladesh

If you are living in Bangladesh and if you are not in Facebook, you probably have not heard about Wahiduzzaman Apollo. He is an unashamedly nationalist activist, aligned with BNP. What is different about him is, he is the part of new generation of activist, who protects their party dogma through an exercise of intellect. He is one of those new generation who does not seek financial dividend in return of their activism.  Wahidujjaman Apollo is not a single person.

A new Bangladesh is emerging in the online space where constantly ideas are expressed, debated and challenged. For one Wahiduzzaman Apollo in support of nationalist movement and BNP there is another Doctor Aiju or Omi Pial in favor of Awami league and the Bengali nationalist movement , who’s name you may not have heard either. There are other, Baki Billah and Parvej Alam who challenges the narrative of both Awami League and BNP, it is unlikely that you have heard their name as well.

The mentioned few are all part of a new generation of online warriors who are trying to portray a new Bangladesh, that is trying to break out of the shackles of old, protected intellectual establishment, which is now settled in their comfort zone and unable to add value to the dynamic narrative of the new Bangladesh that is emerging.

This is a genuine fight of the generation. A new war to be free, definitely not comparable with the liberation war that was fought in 1971 when 3 million lives were lost to give birth to a new nation called Bangladesh but a fresh one to create a new emancipated, open and enlightened Bangladesh that earlier generation has failed to establish.

The new generation of online warriors  operate in the space of Facebook, blogs and other online medias. They have their own followers in tens and thousands, who subscribe to their views. They are constantly debating with each other with their status updates and  each of their words is tested in a space by their followers and opposition as the media allows each person to freely express their minds. So, none can get away with an outright lie as each  word is validated by a huge group of people, who enjoys an absolute freedom of speech in this new medium.
In a country, where all the traditional media has been captured by political elites and their business allies – people are fed with news and debate which eventually protects the standing of the establishment only. So, facebook, blogs and the online space where the small debates take place are the only free space left for people to express their mind. The freedom to write anything is the central tenant that fuels these debates and allows new ideas to flourish.
This freedom is now allowing a new narrative of a Bangladesh which is showing the way forward or building up a space which will show the way forward for the country.

The importance of these small debates cannot be undermined. Shahbag movement, which has fundamentally changed the country for better or worse is a result of this debates on online space. Wahiduzzaman Apollo is one of the catalyst of this new wave.
Government and the current political establishment are aware of this impact. The latest ICT law which has provisions of 7 years jail term without any bail was one of the tool that has been thought out by the political establishment to control this space and curtail the freedom that is enjoyed by these new generation activists.

AKM Wahiduzzaman Apollo, is the first victim of this law. A case were filed against him few weeks back and yesterday AKM Wahiduzzaman Apollo has been put behind bars for his opinion. Wahiduzzaman Apollo is an imperfect man, he is also guilty of selective judgment. But, he is done nothing wrong other than to speak his mind. He has neither preached religious hatred or nor did anything other than saying what is being said by most people-the corruption and the ill doings of the government and the evil nature of the leadership.
It is clear, the establishment which is now headed by Awami League wants to give a signal to the online community to curtail their thoughts and limit their speech and bully them to stop criticizing government. The case filed against Wahiduzzaman Appollo is designed to mime him and other vocal activists to silent them. There is no doubt in anyones mind that, when this establishment will change its leader and BNP will come to power, similar miming of voice will be carried out, as it was done before.
This makes AKM Wahiduzzaman one of the the first victims of the  new war to liberate Bangladesh. A war that is being fought to free Bangladesh from the old establishment which has captured all the power, asset, space and voice and established a narrative which does not state the real voices of people.
This is a fight between evil and the good, the establishment and not haves, the new and old, the real and fake. This is the second liberation war that Bangladesh awaits to free its people from the evil establishment that now controls everything.

We unequivocally condemn the arrest of Wahiduzzaman Apollo.

The old establishment is not aware that, their days are numbered. They are not aware that an arrest of one Wahiduzzaman will give rise to 160 million Wahiduzzaman and government cannot put them all behind bars. There is not enough seats in the jails of Bangladesh to arrest them all.
We demand, that Wahidzzaman Apollo should be freed immediately with an apology else these will snowball into something that the establishment will be totally unable to control.

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ও পুনরুত্থান প্রশ্ন

কানপুরের নানা সাহেব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক বৃত্তিহারা হওয়ার পরপরই কোম্পানি কর্তৃক আরও বেশ কিছু অপমানের সম্মুখীন হলেন। কোম্পানি শাসনকালে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কোন সিদ্ধান্ত মনঃপূত না হলে দেশীয় অকর্মণ্য রাজারা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্রিটেনে কোম্পানির কোর্ট অব ডিরেক্টরসদের সভায় আপিল করতেন।

কানপুরের অসন্তুষ্ট নানা সাহেবও তার প্রতি অবিচারের ফিরিস্তি তুলে ধরতে লন্ডনে একজন প্রতিনিধি পাঠালেন। এই প্রতিনিধি ছিলেন সুদর্শন সুপুরুষ আজিমুল্লাহ খান। এক সময়ের এই পরিচারক কঠোর পরিশ্রম করে ইংরেজি এবং ফারসি ভাষা রপ্ত করেন, নিজেকে সুশিক্ষিত করে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন।

আজিমুল্লাহ খান লন্ডনে কিছুদিন অবস্থান করে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেই উপলব্ধি করতে পারলেন যে কোন আবেদনে-নিবেদনেই তার মনিবের কোন লাভ হবে না। তাই তিনি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনাচক্রে তাঁর সফরকালীন সময়ে তিনি জানতে পারলেন মাল্টায় জারের রুশ সৈন্যদের কাছে ব্রিটিশ-ফরাসি যৌথ বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। এই সংবাদে আজিমুল্লাহ উৎসাহিত বোধ করলেন। তিনি সরাসরি ভারতের জাহাজে না চড়ে কনস্টান্টিপোল গেলেন। সেখান থেকে তিনি গেলেন বর্তমান ইউক্রেনের ক্রিমিয়ায়, রুশ সৈন্যদের দেখতে। তিনি নিরাপদ দুরত্ব থেকে লক্ষ্য করতে লাগলেন রুশদের যুদ্ধ কৌশল, কিভাবে ব্যাটারিগুলো থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়।

কনস্টান্টিপোলে তার সাথে দেখা হয় এক ব্রিটিশ সাংবাদিকের, নাম উইলিয়াম হাওয়ার্ড রাসেল। রাসেলের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে আলাপচারিতা হয়। তাঁর সম্পর্কে রাসেল মন্তব্য করেন, ‘ক্রিমিয়াতে যা ঘটেছে আপন চোখে দেখার এত গভীর আগ্রহ দেখে কি অবাক না হয়ে পারা যায়? একজন ইউরোপবাসীর এরকম কৌতূহল থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু অসামরিক গোত্রের একজন এশিয়বাসীর এ কৌতূহল অস্বাভাবিক নয় কি?’

আজিমুল্লাহ ঘোর নাস্তিক ছিলেন, কোনপ্রকার ধর্মীয় উন্মাদনা থেকে ছিলেন শত ক্রোশ দূরে। তাঁর জ্বলজ্বল চোখে সেদিন যে আগ্রহ খেলা করছিল তা ছিল সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদজাত। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে ব্রিটিশ বাহিনী অজেয় নয়, তাদের হারানো যায়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিল ক্রিমিয়ায় ব্রিটিশ বাহিনীর সেই প্রাথমিক পরাজয়।

আজিমুল্লাহ খানের চোখে যেই আকাঙ্ক্ষা-উন্মাদনা সেদিন দেখা গিয়েছিল, প্রায় একই ধরণের উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল নাইন-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বিশ্বে একটা বড় অংশের মুসলিমদের মধ্যে। অর্থোডক্স মুসলিমরা চিন্তা করতে শুরু করে সুরক্ষিত মার্কিন আকাশসীমার ভেতরে ঢুকে যদি এত ক্ষয়ক্ষতি করা সম্ভব হয়, তবে পৃথিবীর যেকোন দেশের যেকোন স্থানে আঘাত হানা সম্ভব। তাদের এই চিন্তাধারা প্রভাবিত করে তরুণ মুসলিমদেরকেও।

এই চিন্তাধারা যে সমগ্র পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়েছিল তার প্রমাণ পরবর্তীকালে লন্ডনের সেভেন সেভেন বোমা হামলা, ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের বোমা হামলা, মুম্বাইয়ের টুয়েন্টি সিক্স ইলেভেনসহ বহু জঙ্গি হামলার ঘটনা। একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে বাংলাদেশও পুরো পৃথিবীর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকেনি।

বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষে ইংরেজ রাজত্বের শুরুর দিকে ওহাবিরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুগের পর যুগ লড়াই করেছে। সে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ইংরেজদের জয় হয়েছে, কিন্তু ওহাবিরা অন্তর থেকে এই পরাজয় মেনে নেয়নি। তাদের ব্রিটিশ বিরোধী জঙ্গি-চেতনা তারা ধারণ করে গেছে। প্রায় আড়াই লাখ ওহাবি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিভিন্ন সময়ে শহীদ হয়েছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশে এই ওহাবিদের সমর্থকদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। খেলাফত আন্দোলনের ব্যানারে এরা ঐক্যবদ্ধ। ওহাবিরা তাদের জঙ্গি চেতনা বিভিন্নভাবে সময়ে সময়ে কাজ করেছে, তবে এই জঙ্গিবাদী চেতনা ছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী। ওহাবি তরিকার বহু মানুষ আশির দশকে শেষভাগে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যায়। সিআইএ-আইএসআইর দ্বারা প্রশিক্ষিত এই যোদ্ধারা অনেকে শহীদ হন, অনেকে যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত টিকে যায়।

প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের জঙ্গিরা মূলত আফগানিস্তানের সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ফেরত আসা ‘জিহাদি’ মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে সংগঠিত হতে শুরু করে। বাংলাদেশের জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের সূচনা ২০০১ সালের নাইন ইলেভেনেরও আগে থেকে।

আফগান ফেরত এই জঙ্গির ছোট ভাই তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা মুন্সি আনিসুল ইসলামের নামে ১৯৯৭ সালের ৩০ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পনগরীর ৭ নম্বর প্লটে চার হাজার ৫০০ বর্গফুট জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এই জমিতেই তৈরি করা হয় সেই সাবান কারখানা যেখানে পাওয়া গিয়েছিল মুফতি হান্নানের বিশালাকৃতির বোমা তৈরির উপাদান ও সরঞ্জাম।

২০০০ সালের ২০ ও ২৩ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাস্থলে দুইদফা অভিযান চালিয়ে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার সাথে তৎকালীন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ এবং গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন মুফতি হান্নান।

এছাড়া আফগান ফেরত জঙ্গিরা ১৯৯৯ সালে তিনটি ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটায়। এতে ১৮ জন নিহত হলেও আহত হন দুশতাধিক মানুষ। এই বছর সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে যশোরের টাউন হল ময়দানের বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সম্মেলনে। এ হামলায় ১০ জন নিহত হয় আহত হয় শতাধিক। এছাড়াও ১৯৯৯ সালের ৮ অক্টোবর খুলনার আহমেদিয়া মসজিদে বোমা হামলায় আট জন নিহত ও আহত হয় ৫০ জন।

আল্লাহর দল একটি সংগঠন কবি শামসুর রাহমানের বাসায় ঢুকে কবির উপর হামলা চালানোর চেষ্টাও চালায়।

২০০১ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫ পাঁচটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব বোমা হামলায় ৫৯ জনের প্রাণহানী ঘটে ।
এরমধ্যে ঢাকার পল্টনে কমউনিস্ট পার্টির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ৭ জন, রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ১১ জন, গোপালগঞ্জের বানিয়ারচরের গির্জায় ১০ জন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের অফিসে ২১ জন, বাগেরহাট জনসভায় ৯ জন, সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতা সুরঞ্জিত সেনের জনসভায় বোমা হামলায় চার জন নিহত হয়। আহত হয় কয়েক শতাধিক।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের এইসব বোমা হামলাগুলোতে অন্তত ৭৬ জন নিহত হন

১৯৯৯ সাল থেকেই মূলত ব্যাপক হারে জঙ্গি হামলা ও গ্রেনেডের ব্যাবহার শুরু হলেও ১৯৯৭ সালের ৩০ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পনগরীতে মুফতি হান্নানের ভাইয়ের জমির বরাদ্দ পাওয়া নির্দেশ করে যে, অন্তত ১৯৯৭ সাল থেকেই মুফতি হান্নান ও তার সাথীরা বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা চালানো এবং ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করে।

তৎকালীন সরকারের উদাসীনতার এবং আওয়ামী লীগের অনেক নেতার জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি গোপালগঞ্জে মুফতি হান্নানের জমি বরাদ্দ পাওয়া, সেখানে নির্বিঘ্নে বোমা তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো, কোন জঙ্গিকে না ধরতে পারা এবং পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় মুফতি হান্নানের সেই স্বতঃপ্রনোদিত ‘জবানবন্দী’।

প্রায় একই সময়ে বাংলাদেশে আরেকটি জঙ্গি সংগঠনের জন্ম হয় বাংলাদেশে- জামায়াত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেমবি)। এই সংগঠনটির সাথে আরব বিশ্বের জঙ্গিদের যোগাযোগ ও বিদেশী ফান্ড আনার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে এরা রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে কাজ করলেও পরে টুইন টাওয়ার হামলা ও এর প্রেক্ষিতে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন তাদের বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম বিস্তারে উৎসাহিত করে। 

সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলাভাইর সাথে এক সাক্ষাৎকার প্রকাশ পায় ইংরেজী দৈনিক The Daily Star-এ ২০০৪ সালের ১৩ মে। সেখানে তিনি দাবি করেন তিনি স্কুল জীবনে ছাত্রলীগ করত, পরে কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেয়। ১৯৯৫ সালে শিবির ছাড়ে জামায়াতে ইসলামী নারী নেতৃত্ব মেনে নেয়ায়

জেএমজেবির আমির আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের দুলাভাই শায়খ আব্দুর রহমান ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত সৌদি এম্বেসিতে কাজ করে বলে জানা যায়। এরপর সে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায়। এরপর আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসে। এসময় এই জঙ্গি নেতা ওহাবি মতাদর্শে প্রভাবিত হয়। শায়খ আব্দুর রহমান একসময় জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ছিল।

বাংলাদেশে এই দুই জঙ্গি নেতা জঙ্গিবাদের বিস্তারের ক্ষেত্রে মাও সে তুং-এর সেই বিখ্যাত উক্তি “The guerrilla must move amongst the people as a fish swims in the sea”-এর প্রয়োগ ঘটায়। মানুষের সাথে মিশে কাজ করতে তারা জামালপুর থেকে রাজশাহীর বাগমারায় আসে।

সীমান্তবর্তী রাজশাহী জেলায় প্রবল ভারতবিরোধী এবং ইসলামপন্থী মনোভাব তাদের এই কাজের জন্যে বেশ সুবিধাজনক ছিল। গঠন করা হয় জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি) ।

জেএমজেবি প্রাথমিকভাবে দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তারা মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রচার করে এইসব অঞ্চলের জেলাসমূহের অধিবাসীদের প্রধান শত্রু সর্বহারা বাহিনী। ফলে তারা ঐসব এলাকায় সাময়িক জনসমর্থন পায়।

রাজশাহীসহ ঐসব অঞ্চলের নেতারা, গোয়েন্দারা এবং সরকার জেএমজেবির ব্যাপারে উদাসীন থাকে, অনেকেই তাদের সমর্থন যোগায়। যার পেছনে কাজ করেছিলো পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টিসহ সকল বামপন্থী চারমপন্থীদের বিরুদ্ধে জেএমজেবিকে কাজে লাগানোর ইচ্ছা

সরকার ডিভাইড অ্যান্ড রুল খেলতে এসে জেএমজেবির ফাঁদে পা দেয়। জঙ্গিরা সারা দেশে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করে তোলে, এবং ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে পাঁচশতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালিয়ে প্রায় ৬৬ জনকে হত্যা করে জোট সরকার আমলে। এর মধ্যে ময়মনসিংহের সিনেমা হল, ঝালকাঠির দুই আইনজীবী, ব্রিটিশ হাইকমিশনার, যাত্রাপালায় বোমা হামলা উল্লেখযোগ্য। এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার উপর হুজির সেই মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে হামলা হয়।

উইকিলিকসের ফাঁস করা কেবলে দেখা যায় বিএনপি সরকারের শেষ ভাগে জেএমবির নেতাদের মৃত্যুদন্ডের পর এমনকি এর অর্থ যোগানের পথও বন্ধ করে দেয়ার পর ঢাকার ইউএস এম্বেসি মন্তব্য করে, "অবশেষে জেএমবির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া গেল"।

উইকিলিকসের ফাঁস করা কেবলে দেখা যায় বিএনপি সরকারের শেষ ভাগে জেএমবির নেতাদের মৃত্যুদন্ডের পর এমনকি এর অর্থ যোগানের পথও বন্ধ করে দেয়ার পর ঢাকার ইউএস এম্বেসি মন্তব্য করে, “অবশেষে জেএমবির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া গেল”।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের পর সরকার হুজি, জেএমজেবি ও জেএমবির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানে নামে। সারা পৃথিবীতেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ফলে জঙ্গিদের পৃথিবী ছোট হয়ে আসতে থাকে।

২০০৫ সালের ১ অক্টোবর মুফতি হান্নান, ২০০৫ সালের ২০ নভেম্বর শায়খ আব্দুর রহমানের মেয়ের জামাই ও জেএমজেবির মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুল আউয়াল, ২০০৫ সালের ৭ ডিসেম্বর আতাউর রহমান সানি, ২০০৬ সালের ২ মার্চ শায়খ আব্দুর রহমানকে সিলেট থেকে এবং চারদিন পর বাংলাভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০০৬ সালের ২৬ এপ্রিলের মধ্যে সরকার জেএমজেবির সকল মজলিশে শুরা সদস্যসহ হাজার হাজার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ১৪১টি মামলা দায়ের করে, ২২জনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া হয়।

সরকার জঙ্গি অর্থায়নের দায়ে Revival of Islamic Heritage Society নামক এনজিওর স্থানীয় অফিস বন্ধ করে করে দেয়া হয়। সর্বোপরি জেএমজেবি, জেএমবি এবং হুজির মেরুদন্ড ভেঙে দেয়া হয়; ২০০৬ সালের তিন মে তারিখে মার্কিন তারবার্তার ভাষায়- The JMB’s back really does look broken।

সফলভাবে জঙ্গিদের দমন করার পর টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন

সফলভাবে জঙ্গিদের দমন করার পর টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন

এখন প্রশ্ন হচ্ছে জঙ্গিদের উপর এত বড় ক্র্যাক ডাউনের পর কি তাদের পক্ষে পুনরায় বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম চালানো আদৌ সম্ভব কিনা?

উত্তরটা অনেক কিন্তু ও যদির সাথে যুক্ত। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যত জঙ্গি কার্যক্রমের বিস্তার দেখা গেছে তার মধ্যে প্রতিটিতেই রাজনৈতিক উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক সহায়তা কম বেশি ছিল। কোন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাই চাইবে না তাদের সরকারের সময় দেশ অস্থিতিশীল হোক, তবে স্থানীয় ইসলাম পছন্দ নেতারা নিজেদের জিহাদে শামিল করতে কিংবা কোন রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে জঙ্গিদের ব্যবহার করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

সম্প্রতি বগুড়ায় আওয়মী লীগ নেতার বাসায় জঙ্গিদের আস্তানা আর বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার, কক্সবাজারে আওয়ামী লীগ নেতার প্রশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের নেতার অবাধ বিচরণ আর কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধমন্দিরে ‘সর্বদলীয়’ হামলার ঘটনা তাই প্রমান করে।

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করা গেলে আর সরকার কঠোর হলে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম ও এর বিস্তার বন্ধ করা অসম্ভব নয়। আর নাইন ইলেভেন পর থেকে সারা পৃথিবীতে জঙ্গিদের উপর যে ধরণের কড়া নজরদারি চলছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেভাবে কাজ করছে তাতে জঙ্গিবাদের পুনরুত্থান প্রায় অসম্ভব।

তাই অহেতুক জঙ্গিবাদ নামক জুজুর ভয় দেখিয়ে এই মৃত ইস্যুটিকে মমি করার আওয়ামী প্রচেষ্টা অর্থহীন।

বিএনপি-র রাজনীতির বিদায় ঘণ্টা কি শুনতে পাচ্ছি?

মহাজোট তৈরির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রদর্শন করার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা তার পছন্দের একটি বিরোধী দল তৈরির মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখে আগামীতে দেশ পরিচালনা করার যে রণকৌশল নিয়ে আগাচ্ছেন সেটি সফল হলে বাংলাদেশ বিশ্বের রাজনীতির ইতিহাসে নতুন চ্যাপ্টারের সূচনা করবে। যে চ্যাপ্টারের জনক হিসেবে ইতিহাসে শেখ হাসিনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কিন্তু একে কেউ বাকশাল বা একদলীয় শাসন বলতে পারবে না।

এক.

আওয়ামী লীগের ভিতরেই আরেকটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তৈরি হচ্ছে। এটি বিএনপি-র রাজনীতির বিদায় ধ্বনি কিনা সেই প্রশ্ন মনে আসতেই পারে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একাধিক শক্তিশালী দল দরকার। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে গিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য প্রতিপক্ষ তৈরি হলে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা গণতন্ত্র চর্চার জন্য ফুরাতে বাধ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত ম্যাচিওর রাজনীতি করছেন। এই প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৬ সালের প্রধানমন্ত্রী নন। তিনি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে তার দূরদৃষ্টির ছাপ রাখছেন। ২০২১ সালের যে রূপকল্প তিনি তৈরি করেছেন সেটি নিজ হাতে বাস্তবায়নের পথও তিনি রচনা করছেন। তিনি একটি বিষয় সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি অনেক সুদূর প্রসারী ও কূটনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। বিএনপির মতো পুকুরের পানির সারফেসে তারা বসবাস করে না।

দুই.

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির জন্মই হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় রাজনীতির বিরোধীতাকারীদের নিয়ে। আমরা লক্ষ্য করি, বিএনপি-তে তারাই যোগ দিয়েছেন যারা পদ ও ক্ষমতা প্রত্যাশী কিন্তু আওয়ামী লীগে জায়গা পাচ্ছিলেন না। এই ধরনের একটি পরিস্থিতি বর্তমানে আওয়ামী লীগে বিরাজমান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখন প্রবীণ ও চেনা মুখগুলোর পরিবর্তে নতুনদের নিয়ে একটি মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়। এতে কিছুটা হলেও নিজেদের বঞ্চিত ভেবেছেন প্রবীণ ও চেনা মুখগুলো। কিন্তু শেখ হাসিনা তাদেরকে ম্যানেজ করেছেন অত্যন্ত দক্ষভাবে।

তিন.

বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি, আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রবীণ ও চেনা মুখগুলো যারা ক্ষমতা ও পদ প্রত্যাশী ছিলেন তারা আওয়ামী লীগের মধ্যে আওয়ামী রাজনীতির বিরোধীতা করছেন। এই গ্রুপে যে আওয়ামী রাজনীতিবিদগণ আছেন তাদের যেমন বিপুল জনসমর্থন ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি রয়েছে তেমনি এই গ্রুপে সাবেক মন্ত্রী ও আমলরা রয়েছেন। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো, শেখ হাসিনা তাদেরকে যে একদম বঞ্চিত রেখেছেন তাও নয়। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে তাদেরকে স্থান দেয়া হয়েছে। সংসদেও তাদেরকে ব্যাপক সম্মান দেখানো হচ্ছে। তারপরও তারা কিন্তু সরকারের কঠোর সমালোচনা করছেন। এবং এটি তারা অনেকটা বিনা বাধায় করতে পারছেন। সেটাই বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। তবে কি শেখ হাসিনা আরো বড় কোন চিন্তা নিয়ে আগাচ্ছেন? তিনি কি তার চেনাজানা প্রতিপক্ষ চান?

চার.

আমরা লক্ষ্য করছি, যে সমীকরণের মধ্য দিয়ে একসময় বিএনপি-র রাজনীতিতে এই দেশের রাজনীতিবিদরা যোগ দিয়েছিল সেই সমীকরণ এখন দেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ দল আওয়ামী লীগের মধ্যে তৈরি করা হয়ে হয়েছে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ যদি ভেঙ্গে আরেকটি নতুন দল তৈরি হয় তাহলে বিএনপি-র রাজনীতি বেকায়দায় পড়তে বাধ্য। বিএনপি-কে মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগের নেতাদের তৈরি করা কোন দল বিএনপি-র বদরুদ্দোজা কিংবা অলি আহমেদের দল হবে না। যে দলে সুরঞ্জিত, তোফায়েল, মান্নার মতো রাজনীতিবিদরা থাকবেন সেদলের জনসমর্থন অনেক বেশি হবে। তাছাড়া, আমার ধারণা যদি সত্যি হয়। এই দল যদি জননেত্রী শেখ হাসিনার আর্শিবাদে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কাবু করার রণকৌশল হিসেবে তৈরি হয় সেক্ষেত্রে বিএনপি-র রাজনীতি পথে বসতে বাধ্য। কারণ, সুরঞ্জিত তোফায়েলরা কোন দল গঠন করলে সেই দলে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি থেকেও নেতৃবৃন্দ যোগ দেবে। যেমনটা একসময় বিএনপি-তে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের নেতারা যোগ দিয়েছিল।

পাঁচ.

মহাজোট তৈরির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রদর্শন করার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা তার পছন্দের একটি বিরোধী দল তৈরির মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখে আগামীতে দেশ পরিচালনা করার যে রণকৌশল নিয়ে আগাচ্ছেন সেটি সফল হলে বাংলাদেশ বিশ্বের রাজনীতির ইতিহাসে নতুন চ্যাপ্টারের সূচনা করবে। যে চ্যাপ্টারের জনক হিসেবে ইতিহাসে শেখ হাসিনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কিন্তু একে কেউ বাকশাল বা একদলীয় শাসন বলতে পারবে না।

(লেখাটি ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মুসাবিদা করা হয়েছে। প্রায় তিন বছর হতে চলল। পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। শুধুমাত্র চার নাম্বার প্যারার অধীনে লেখা কিছু বাক্য পরিবর্তন করা দরকার। সেটা আরো দুই মাস পরে করলেও চলবে। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।)

Concession, pragmatism and moving forward

4

A Statesman and Two Pragmatic leaders –

In a speech to the nation on November 30 1978, President Ziaur Rahman declared parliamentary election to be held on January 27 of the next year and also declared that martial law will be withdrawn immediately after the election. Although newly formed BNP and some other small parties started preparing for the polls – most major opposition political parties including both fractions of AL, Muslim league (still a big player then), JSD, NAP etc. decided to boycott the election unless their demands were met. The combined opposition’s demand included immediate withdrawal of martial law, resignation of Zia from army chief position, removing ban on open politics, repeal the fundamental rights suspension which was in effect since 1974, restoration of parliamentary democracy and 1972 constitution by repealing 4th amendment etc. On the face of boycott by major opposition political parties, Zia made a far reaching set of concessions. He restored fundamental rights, made proposals of sovereign parliament with ability to impeach the president. He also removed presidential veto power on bills passed by parliament, put a limit on technocrat ministers and conceded on opposition demand on the selection criteria of leader of the house.

After these concessions although Muslim league decided to join elections- other opposition parties including factions of AL, JSD etc. continued with the decision to boycott the polls.

To resolve the political impasse, President Zia called for a dialogue with political parties – all parties went to Bangavaban, prolonged deliberations took place but nothing fruitful came out of that dialogue.

As Awami League factions kept insisting on election boycott and as it seemed country is stuck in a hopeless deadlock, President Zia, against the advice of his political advisors, unilaterally made another set of sweeping concessions. He withdrew martial law restrictions regarding open politics, started the process of release of all political prisoners, and as demanded by opposition, pushed the election date back by a few weeks to give the opposition parties enough time to prepare for the elections.

President Zia’s gambles paid off, an all-party election was made possible, Bangladesh moved one big step closer to restoration of democracy – the rest is history.
IMG_0465

The Come Back of Awami League

This little snippet from the past shows how much and how little our politics has evolved in last 3 decades. Whatever Zia ‘a distractors  will say, Bangladesh is this Bangladesh today because Zia could hold his nerve during those tumultuous years of mid-late 70s and at the same time he made some very smart political moves including the series of concessions as described above. At the same time, the pragmatic reality based politics of AL leaders Mr. Abdul Malek Ukil and Mr. Mizanur Rahman Chowdhury did shape the history of Bangladesh. Within 4 years after supposedly annihilation of August 75, AL again came out as a major political party with intact wide grassroots support base. Although AL factions won only 41 seats in the election, it secured nearly 30% of the votes. In most seats where BNP won, AL came out close second.

It was a time the mere survival of the fledgling country of Bangladesh was uncertain. Yet concessions made by one political leader and pragmatic politics by the others made us defy the overwhelming odds against our survival.

Today as we are in another crossroads of the history, we need similar concessions and pragmatic reality based politics from our Prime Minister and the leader of the opposition.

Late president Zia was a military strongman running a turbulent country with martial law. Yet he made concession after concession to facilitate the democratic journey. Now it’s time for PM Hasina to show her political maturity and statesmanship and seal her image as the needed statesman for the time.

The Shelf life of The Administration –
Holding an opposition less election is not in the best or long term interest of the country as well as of the party of Prime Minister Hasina. Yes she can ignore opposition demands, and if she really wants to hold the elections unilaterally using brute state force, the opposition will not be able to stop her.  But by doing so – she will harm her country as well as her own party.
As a result of the election without all party participation, our fledgling democracy would go back by one decade. We will turn into another poor 3rd world autocracy. All sorts of militancy will start rising its ugly head in different corners of this impoverished country. Public disapproval of her government will reach unfathomable low. Extreme infighting will overrun her party. Leadership deprived of government positions and perks will get desperate to depose those enjoying all the perks and privileges. If the fictions and clashes during the five year term of current Hasina Government are indicators what Awami League has in its future as an incumbent party, it can be easily predicted that intra party feuds, sabotage will reach an epidemic proportion. Any political observer can safely predict that way before completing her second five year mark; PM Hasina’s government will be inches away from implosion.

Concessions – the need of the time –

On the other hand, if PM Hasina can be seen making the concession on her own, not under pressure, she will look like showing statesman quality Ziaur Rahman exhibited during late 70s. It is PM Hasina who has to take the steps to convince the opposition to join the elections. She has to do something tangible or convince the opposition come to elections. She will have to sort it out with the opposition and negotiate with them to bring them to election. Most likely she will lose the election. This loss will be the best exit strategy for her. This loss will pave the way for quick and another big comeback of her party.

It is almost certain that if BNP returns to power, it’s newly gained popularity will vanish rapidly. A return of Tarique Rahman will significantly curtail BNP’s support among middle of road BNP supporters.  Along with Tarique Rahman’s return to day to day affairs of governance, Anti-incumbency factors as well as upper hand of ultra-right wing political backers of BNP will quickly dissipate all the inroads BNP made in urban educated classes and ‘middle of the road’ Zia admirers through Mrs. Khaleda Zia’s visionary leadership style between 2008 and 2013.

Now PM Hasina will have to decide which option will be in the best long term interest of her country and her party. She can hang on for her second consecutive term, let her party implode and face an ignominious ouster to face another long term public rejection like it experienced post 1975. Or she can take a short term leave from power only to return to power with more popular, a better rooted and organized party. If Awami League cannot free itself of the curse of incumbency, there is no reason to believe that BNP will be free from the same curse next election cycle.
IMG_0466
Exit out of this Mayhem, options for the opposition parties

Leader of opposition led her party to an unprecedented come back from oblivion. She accomplished this major feat not by violent street confrontation but by avoiding exactly the same. It is understandable that after her bitter experience at the lack of level playing field during 2008 elections, this time it will be hard to convince her to join election in a suboptimal state of affairs pertaining to the elections. However the leader of the opposition also need to understand that with the type of organization she leads, it will be very difficult to stop the government from holding the election. And once an election is held, her party will be under more intense pressure from the state law enforcement agencies. Leader of opposition knows very well that under any condition, if BNP joins the election, it will be nearly impossible to deprive BNP a landslide victory. If the leader of the opposition weighs the options she has at her hand which are – launching brutal street agitation to force Government into accepting the demands or somehow find a way to join the election, even accepting a short term defeat about the election time government, BNP has much more to gain, much less to risk. Under current conditions – with more connectivity, aggressive media activity on the ground – mass scale rigging of election to change the total results will be nearly impossible and even if that happens – that government will not be able to hide the massive irregularities. A movement against a widely perceived rigged election will have better traction than a failed movement against a non-participatory election.  It seems no matter what the Government offers, for BNP, joining the elections is the best exit strategy out of the mayhem.

And exit out of this mayhem – that is what the whole country is eagerly rooting for.