অবহেলিত জনপদের দগ্ধ ওরা বিহারী? না কি মানুষ?

by Elora Zaman

একদিন গিয়েছিলাম বেনারসী পল্লীতে শাড়ি কিনতে। ঝলমলে দোকান পাট! রঙীন সব শাড়ি। কত নারী তার বাসর সাজিয়েছে ঐসব লাখ টাকা দামী শাড়ি দিয়ে। জীবন শুরু করেছে ওখান থেকে। বিত্তশালী সব নারীরা, সুনীলের চৌধুরীদের সূবর্ণ কঙ্কন পড়া রমণীদের মতো। দোকানী বললো, আপা! কারিগর শাড়ি দিতে দেরী করতেছে। দেইখ্যা আসি, কি অবস্থা।

আমার অতিউৎসাহী মন দোকানীর সাথে যেতে চাইলো। বললাম, আমায় নিয়ে চলেন। পান খাওয়া লাল দাঁত বের করে দোকানী হেসে বললো, যাইবেন? আচ্ছা চলেন। কিন্তু সহ্য করতে পারবেন তো? আমিও একগাল মিষ্টি হেসে বললাম, সহ্য করতে পারবো। আমি গরীবের মেয়ে, সব সহ্য করতে পারি। অসুবিধা নাই। চলেন।

কিছুদূর হেঁটেই দেখলাম ঝুপড়ির মতো ছোট ছোট ঘর। সোজা হয়ে হাঁটা যাচ্ছিলো না, নিচু হয়ে পাশ কেটে হাঁটতে হচ্ছিলো। এতোসব চিপা গলি, নোংরা, দুর্গন্ধ। কারিগরের রুমে ঢুকে খেলাম এক বিশাল ধাক্কা। দেখলাম ঘামে ভেজা কিছু উদোম শরীর। দরদর করে ঘাম পড়ছে সেইসব বারো-তেরো বছরের বিহারী কিশোর ছেলেদের শরীর থেকে। ওরা কাজ করে যাচ্ছে। সুতো টেনে টেনে, খটখট। অগ্নিকুন্ডের মত অবস্থা, তেল চিটচিটে লুঙ্গি গামছা! আমি বাহানা করে বেরিয়ে এলাম, সহ্য করতে পারছিলাম না। বাইরে এসে ভাবলাম, এরাও কি মানুষ?

পৃথিবীর সবচাইতে অবহেলিত একটি জনপদকে দেখে কষ্ট লেগেছিলো। কিন্তু ভুলে গেলাম অতি দ্রুত তার পাশেই ঝলমলে ডাউনটাউন দেখে। আজকে আবার মনে পড়লো সেই বিহারী পল্লীর কথা।

মীরপুরে এগারোজন মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে আর গুলি করে মেরে ফেলার খবর পড়ে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি। তারচেয়ে বেশি হতবাক হয়েছি এ ঘটনার পর বাংলাদেশের মানুষদের বিশাল একটা অংশের প্রতিক্রিয়ায়। আমরা কি সভ্য মানুষ? অথবা ‘মানুষ’ শব্দটা দিয়ে পরিচিত হওয়ার যোগ্য? এটা কি দুইহাজার চৌদ্দ সাল?

আজকের সময়ে এমন নৃশংস একটা ঘটনায় কেউ জংলী ক্যানিবাল ট্রাইবের মতো আনন্দ প্রকাশ করে কিভাবে? যারা এমন করছে, এরা তো আমাদেরই আশেপাশের মানুষ, ভাই-বোন-বন্ধু-আত্মীয়। আমরা কি ধরণের মানুষদের সাথে বসবাস করছি! পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে নিরব সমর্থন দিয়েছে। কেন দেবেনা? যুবলীগ ছাত্রলীগের ছেলেদের কাজে বাঁধা দেবে, এমন সাহস আর ক্ষমতা কি পুলিশের আছে না কি?

কতটা অসহিষ্ণু এবং উন্মাদ হয়ে গিয়েছি আমরা? শিশু সহ যে মানুষগুলো পুড়ে মারা গেলো, তাদের জায়গায় আমরা নিজেরা অথবা আমাদের কোন আত্মীয়-স্বজন থাকলে তখন কেমন লাগতো? বাচ্চাগুলো আর বড় হওয়ার সুযোগ পেলোনা। নিরপরাধ নারীরা অভাব-অনটনের সংসারের ভেতরেও বেঁচে থাকার অধিকারটুকু পেলো না।

দেশে যেহেতু কোন অন্যায়ের বিচার নেই, সরকারী দলের লোক হলে তাদের যা ইচ্ছা তাই করার ক্ষমতা আছে, তারা তাদের এলাকার স্থানীয় মারামারিতে ক্ষমতার প্রকাশ দেখালো। সেই ক্ষমতায় দেয়া আগুনে কার্বন মনোঅক্সাইড বিষে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে, একটু একটু করে শরীর পুড়ে গিয়ে, বিকৃত হয়ে মারা গেলো দশজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ।

এরপর শুরু হলো এরচেয়ে বড় উন্মাদনা, পাশবিক উন্মত্ততা। শিক্ষিত ও রুচিশীল মানুষেরা এ ঘটনাকে সমর্থন করা শুরু করেছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নাম দিয়ে যে পাগলামি ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে সারা দেশে, এর শেষ কোথায়? সত্যিই কি এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা?

আসলেই কি একটা জাতির মুক্তির সংগ্রাম এরকম ঘৃণা আর অমানবিকতার ভিত্তিতে ঘটতে পারে? বিশ্বাস করিনা। বরং এ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো আওয়ামী-শাহবাগিদের চাষাবাদ করা ঘৃণার জমিন। এ ঘৃণা আর বিভেদের আগুন বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের বর্তমান আর ভবিষ্যতকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিচ্ছে।

সব ছাড়িয়ে বারবার মনে হচ্ছে, নিরপরাধ মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে পারিনা কেন আমরা? কেন পারিনা ঘৃণিত সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতে? আমাদের চেয়ে বেশি রেইসিষ্ট জাতি কি আর কোনটা আছে? ধিক আমাদের! বাংলাদেশী পরিচয় দিতে লজ্জা হয় আজ!

বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র: জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান

এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান

Zia-01

স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ চার দশক পার হয়ে আরো দুই বছর অতিক্রম করেছে। কর্মঠ জনশক্তি আর উর্বর মাটিসহ অফুরান প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে এই সময়ে আমাদের দেশ দক্ষিণ কোরিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো একটি মধ্যম উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত হতে পারত। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বকে সুগভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ধ্বংস করে বা সরিয়ে দিয়ে বারবার বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের উৎস দেশের বাইরে হলেও কুশীলবরা দেশের ভেতরেরই মানুষ। তারা জানে, একটি দেশের অগ্রগতিকে থামাতে হলে তাকে নেতৃত্বশূন্য করতে হয়। সে কারণে বারবারই তারা দেশপ্রেমিক ও জনপ্রিয় গতিশীল নেতৃত্বকে সরাতে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিভেদ তৈরি করেছে, নেতাদের চরিত্রে কালিমা লেপন করেছে, তারপর নেতাদের হয় হত্যা, নয় পঙ্গু করে নির্বাসনে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করেছে।

বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতি খুব খারাপ সময় অতিক্রম করছে। সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনকে বাদ দেবার পর দশেরে ৮০% জনগনের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে গত ৫ জানুয়ারী একটি প্রহসনের জাতীয় নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ অবধৈভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। আর সেই ক্ষমতা নিরংকুশ করতে একের পর এক বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গুম-খুন করে বাংলাদেশকে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করানো হয়েছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর দমন নির্যাতনের মাত্রা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পর্যন্ত বাংলাদেশেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে। প্রশাসন হতে শুরু করে শিক্ষা, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে পরীক্ষিত সরকারি দলের লোক না হলে তাকে নিষ্কৃয় করে রাখা হয়েছে। একটি দেশের অর্ধেকের ও বেশি মানুষকে নিষ্কৃয় করে রেখে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব হয় না।

এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে দুর্নীতিবাজ আমলা, রক্তচোষা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অসাধু ব্যবসায়ী আর দাগী অপরাধীরা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। শেয়ারবাজারে  গিয়ে  সর্বস্ব হারিয়ে পথের ফকির হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ, এমএলএম ব্যবসার ফাঁদে পড়ে পথের ফকির হয়েছেন আরো কয়েক লক্ষ বিনিয়োগকারী। সামান্য মুদী দোকানদারও ব্যাংক জালিয়াতী করে লুট করেছে জনগণের চার হাজার কোটি টাকা। কুইক রেন্টালের নামে জনগণের সম্পদ লুট করার কারণে বিদ্যুতের মূল্য ছয়গুণ বৃদ্ধি করে মানুষের জীবনযাত্রাকে করে তোলা হয়েছে কঠিন থেকে কঠিনতর। তেল-গ্যাসের দাম বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে গেছে বাসভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। দেশের মূল্যবান জ্বালানী সম্পদ লুণ্ঠনের ওপর প্রতিবেদন তৈরী করতে গিয়ে খুন হয়েছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী আর টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গুম হয়েছেন জননেতা ইলিয়াস আলী। এমন গুম আর খুনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে; নদী-খাল-বিলে এখন পঁচা লাশের মিছিল।

এইসব সমস্যা নিরসনে দেশে একজন গতিশীল জাতিয়তাবাদী নেতার প্রয়োজন। যুগে যুগে কোন দেশের রাজনৈতিক সংকট হতে উত্তরণের জন্য গতিশীল জাতীয়তাবাদী নেতারাই নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমন উদাহরণ বাংলাদেশেও রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজনৈতিক নেতাদের অনুপস্থিতিতে তৎকালীন মেজর জিয়া থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলো, সেই স্বপ্নকে ভেংগে ধুলিষ্যাৎ করে দেয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। তারা স্বাধীন দেশে আবারো নিপীড়ন নিষ্পেষনের স্টিম রোলার চালাতে শুরু করে। মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতি, বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে হত্যা এবং গনতন্ত্রকে হত্যা করে এক দলীয় শাসন কায়েম করে দেশের মানুষের জীবন দুর্বিসহ করে তোলে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ক্ষমতাসীন দলের উপদলীয় কোন্দলে সেনাবাহিনীর মধ্যমসারীর কর্মকর্তাদের অভুত্থানে শেখ মুজিব নির্মমভাবে সপরিবারে নিহত হন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন তৎকালিন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

পরবর্তী তিন মাসে একাধিক অভুত্থান ও পাল্টা অভুত্থানের পর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনী হতে জোর করে অবসরে পাঠানো মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সিপাহী-জনতার সম্মিলিত শক্তি দেশ বাঁচানোর জন্য নেতা হিসেবে মনোনীত করেন। তিনি চাইলে তখনই প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করতে থাকেন। রাষ্ট্রপতি সায়েম বার্ধক্যজনিত কারণে অবসরে গেলে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৭১ সালে দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জেড-ফোর্স ও এক নম্বর সেক্টরের বীর নেতা আবারো নিজ দেশের নেতৃত্ব দিলেন এক দুর্দান্ত ও চৌকষ গতিতে। রাষ্ট্রপতি হবার পর জেনারেল জিয়া বাংলাদেশের মানুষের জন্য সর্ব প্রথমে একটি অভিন্ন জাতীয়তা নির্ধারণের প্রয়োজন অনুভব করেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মতের ও ধর্মের নানা জাতিগোষ্ঠি বাস করে। তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার ধরণ একে অপরের থেকে ভিন্ন। তাই শহীদ জিয়া মনে করতেন যে, ভাষা বা সংস্কৃতির ভিত্তিতে নয়, বরং ভূখণ্ডের ভিত্তিতেই জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করা উচিত। তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সকল জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের ঐক্য ও সংহতির পথ তৈরী করেন। এই পদক্ষেপই ছিল দেশের সকল মানুষকে একসাথে ঐক্যবদ্ধ করার প্রথম পদক্ষেপ।

শহীদ জিয়া বাংলাদেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত করেন এবং দেশের গুণীজনদের সম্মাননা প্রদানের জন্য ‘একুশে পদক’ প্রবর্তন করেন। অত্যন্ত্র দ্রুত গতিতে তিনি সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং পুলিশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসেন। মানুষের মত প্রকাশের সুবিধার্থে ফিরিয়ে দিতে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।

মাত্র চার বছরের ক্ষমতাকালে তিনি দেশে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসেন; পূর্বে আলোচিত পদক্ষেপের বাইরে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান; জাতীয় সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি; বিচার বিভাগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া; দেশে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনে বিপ্লব; সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও পুন:খনন; গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লক্ষ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান; প্রায় ৩ হাজার মাইল রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করা; ২৭ হাজার ৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার প্রভূত উন্নতির পাশাপাশি জন্ম নিয়ন্ত্রণে অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন; নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ এবং সরকারি কল-কারখানায় তিনটি শিফট চালু করে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি করা; সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে খাদ্য রপ্তানীর পর্যায়ে উন্নীতকরণ; যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়  সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুব ও নারী সমাজকে সম্পৃক্তকরণ; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত সাফল্যের মধ্যে রয়েছে- জাপানের মত শক্তিশালী দেশকে নির্বাচনে পরাজিত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্যপদ লাভ; তিন সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদস কমিটিতে সদস্যপদ লাভ; দক্ষিণ এশিয়ায় একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা হিসেবে সার্ক প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক উন্নতির মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানীর পথ উন্মুক্ত করা। অনবদ্য ভাষায় নিজের দেশের স্বার্থকে যৌক্তিকভাবে বিদেশে উপস্থাপনের উদাহরণ হিসেবে সৌদি বাদশাহ খালিদ বিন আব্দুল আজিজ এর সাথে তার প্রথম সাক্ষাতের ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে।
বাদশাহর সাথে কুশল বিনিময়ের পরপরই জিয়াউর রহমান বললেন,
–    তোমার দেশে যা নেই, আমার দেশে তা আছে, আবার আমার দেশে যা নেই, তা তোমার দেশে আছে।
সউদি বাদশাহ থতমত খেলেন। গরীব একটা দেশের এই কালো নাতিদীর্ঘ প্রেসিডেন্ট বলে কি!
জিয়াউর রহমান আবারো বললেন,
–    আমার দেশে অনেক পরিশ্রমী মানুষ আছে, তারা অনেক কাজ করতে পারে। আর তোমার দেশে যেমন কাজ আছে, তেমনি টাকাও আছে।

একইভাবে আর্জি নিয়ে গেলেন মরুভূমির প্রায় সবগুলো দেশে। বাংলাদেশের মূল্যবান জনশক্তি প্রথমবারের মত রাষ্ট্রীয়ভাবে বিদেশে রপ্তানী শুরু হলো। বিদেশে প্রশিক্ষিত শ্রমিকের বেতন বেশি হওয়ার কারণে তিনি দেশ্যব্যাপী কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে বাংলাদেশের বেকার যুবকদের দ্রুত  প্রশিক্ষিত করার ব্যবস্থা করলেন। প্রায় শূন্য থেকে শুরু করে আজ সউদি আরবে তিরিশ লাখ বাংলাদেশী, সংযুক্ত আরব-আমিরাতে এগারো লাখ, কুয়েতে আড়াই লাখ, ওমানে সোয়া দুই লাখ, কাতারে প্রায় পৌনে দুই লাখ আর বাহরাইনে প্রায় এক লাখ মানুষ বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মূদ্রা উপার্জন করছেন। আজ সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমিকদের যে শ্রম বাজার তৈরী হয়েছে তার একক কৃতিত্ব শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের।

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে সরকারি হিসেবে ছাব্বিশ হাজার এবং বেসরকারি হিসেবে দশ লক্ষ মানুষের জীবনহানী হয়েছিলো যখন দেশের জনসংখ্যা ছিলো মাত্র সাড়ে সাত কোটি। সেই সময় কেউ কি ভেবেছিলেন যে, এই ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের মধ্যেই ষোল কোটি মানুষ খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারবেন? শহীদ জিয়ার সবুজ বিপ্লবের কারণেই আজ বাংলাদেশের মানুষ কোনরূপ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি না হয়ে বেঁচে আছেন।

বলা বাহুল্য, যে গতিতে তিনি বাংলাদেশে উন্নয়নের জোয়ার এনেছিলেন তা বাংলাদেশের শত্রুদের পছন্দ হয়নি। সাবেক ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা অশোক রায়নার লেখা ‘ইনসাইড র’ বই এবং কোলকাতা হতে প্রকাশিত ‘উইকলি সানডে’ পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ‘র’ প্রধান কাও এর নেতৃত্বে জেনারেল জিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোরারাজি দেশাই এই পরিকল্পনা স্থগিত করার আদেশ দেন, যদিও ততদিনে পরিকল্পনা অনেক এগিয়ে গিয়েছিলো। পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় আসলে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা করা হয়।

শহীদ জিয়ার সেই সকল কর্মসূচী এবং জাতীয় ঐক্য এর পরের সরকারগুলো মোটামুটি রক্ষা করে চললেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে সর্ব প্রথম বিরোধী দল ও বিরোধী দলের সাথে সম্পর্ক রক্ষাকারী বা বিরোধীদলের সমর্থক সন্দেহে দেশের একটি বিশাল জনশক্তিকে দেশ গঠনের কাজ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে জাতি বিভক্তিকরণ প্রক্রিয়ায় দেশ শাসনের সূত্রপাত করে। বলা বাহুল্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ/বিপক্ষ হিসেবে এই বিভাজন করা হলেও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চিহ্নিত যুদ্ধপরাধী ফায়জুল হককে তারা মন্ত্রী করে। সুতরাং একথা নিশ্চিত যে, এই বিভাজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে/বিপক্ষে করার অযুহাত দেয়া হলেও মূলত: এই বিভেদ তৈরী করা হয়েছিলো আওয়ামী লীগ ও তার বিরোধীদের মধ্যে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর এই বিভেদ এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

একটি দেশের নাগরিকরা এভাবে রাজনৈতিক বিভক্তির শিকার হলে কখনোই সেই দেশে উন্নয়ন আসতে পারে না বরং দেশি-বিদেশি অপশক্তি এই সুযোগে দেশের ক্ষতি করার কাজে লিপ্ত হয়। বিগত দুই যুগের রাজনৈতিক চর্চা এবং জাতীয় নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহনের ধরণ দেখে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে বাংলাদেশের জনগণ এখনো প্রধান দুই দল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই থাকতে আগ্রহী। রূঢ় বাস্তবতা হচ্ছে এই দুই দলের বাইরে নতুন বিকল্প শক্তি হিসেবে জনগণের মন জয় করার মত কোন ক্যারিশমেটিক নেতাও নেই।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের একটি বিরাট অংশের সমর্থন থাকলেও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক সত্যি হচ্ছে, এই দলের নেতার নেতৃত্বে গতিশীলতা এবং প্রাজ্ঞতার কোনটাই নেই। রাজনৈতিক পরিবেশে উনার অরাজনৈতিক বক্তব্য এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে যেমন নষ্ট করেছে ঠিক তেমনি কুটনৈতিক পর্যায়ে অকুটনৈতিক আচরণের কারণে বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতার কারণে দেশের জনগণ যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তেমনি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের মূল্যবান শ্রমবাজার হাতছাড়া হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সাথে অপ্রীতিকর বাক্য ও পত্র বিনিময় তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

আওয়ামী লীগের মধ্যে পরবর্তী নেতৃত্বেও তেমন কোন প্রাজ্ঞ ও গতিশীল নেতা দেখা যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন এবং কোন কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংযুক্ত ছিলেন। দলের কোন পর্যায়ে সদস্যপদ না থাকা অবস্থায় উনার এই কর্মকাণ্ড খোদ দলের নেতাদের মধ্যেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর পূত্র জনাব সজিব ওয়াজেদ জয় এবং কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের সদস্য নন। তবে তাঁদেরকে বিভিন্ন বিদেশী অতিথির আগমনে এবং বিদেশে সরকারি সফরের সময় রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে অবস্থান করতে দেখা যায়। এমনকি ২০১২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে এই দুই ভাই-বোনকে প্রধানমন্ত্রী ও কুটনীতিকদের আসনে বসে থাকতে দেখা যায়, যা সমগ্র বিশ্বে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য যে এই তিন সম্ভাব্য নেতার কেউই বাংলাদেশে অবস্থান করেন না এবং বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের সাথে তাঁদের কোন যোগাযোগও নেই।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র জনাব তারেক রহমান উত্তরাধিসূত্রে নয় বরং পরিবারে বিদ্যমান রাজনীতির পরিবেশের কারণেই নিজের ব্রত হিসেবে রাজনীতিকে বেছে নিয়েছেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি বগুড়া জেলায় বিএনপির নির্বাচন প্রচারনা অভিযানে সংযুক্তির মাধ্যমে দলীয় রাজনীতিতে সরাসরি সংযুক্ত হন। এরপর তিনি বগুড়া বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বগুড়া জেলায় সংগঠনের ভিত্তি দৃঢ় করেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০২ সালে জনাব তারেক রহমানকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। দলের উর্দ্ধতন পর্যায়ে নিয়োগ লাভের পর পরই তিনি দেশব্যাপী দলের মাঠপর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সাথে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন। মূল সংগঠনসহ সহযোগী সংগঠন যেমন জাতীয়তাবাদী যুবদল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কর্তৃক আয়োজিত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে জনাব তারেক রহমান কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং মাঠপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও মতামত গ্রহণ করেন।

এই সভাগুলোতে তিনি মূলত দলের গঠনতন্ত্র, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নেতাকর্মীদের সাথে দীর্ঘ মতবিনিময় করতেন। বিস্তারিত মতবিনিময়ের বিষয়বস্তুর মাঝে আরও থাকতো দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে দলের করণীয় ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন- অগ্রগতি নিশ্চিতকরণে সরকারী দল হিসেবে বিএনপির করণীয় প্রসঙ্গে আলোচনা। পরবর্তীতে দেখা গেছে যে এই জনসংযোগ কার্যক্রমের ফলে দলের নেতাকর্মীদের তরুণ অংশটির মনোবল অসামান্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই জনাব তারেক রহমান শুধুমাত্র দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের পরিচিতি থেকে মুক্ত হয়ে দলের একজন দক্ষ সংগঠক ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বাবা-মার পরিচয়ে পরিচিত না হয়ে নিজের স্বতন্ত্র ইমেজ তৈরীর জন্য ২০০২ সালে ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক জনসভায় তিনি ঘোষণা করেন, “আমি তারেক জিয়া হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমি তারেক রহমান হিসেবে পরিচিত হতে চাই।”

Zia griculture

কৃষি প্রধান অর্থনীতি এবং গ্রামপ্রধান দেশে যে কোন বিপ্লবের সূচনা করতে হয় গ্রাম থেকে। ১৯৪১ সালে চেয়ারম্যান মাও সেতুং চীনে এভাবেই বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন যা বিশাল লংমার্চ এ রূপ নিয়ে শেষ হয়েছিলো ১৯৪৯ সালে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও গ্রাম থেকেই তাঁর রাজনীতি শুরু করেছিলেন। খাল খনন ও সবুজ বিপ্লবের কাজে তিনি প্রায় প্রতিদিনই ঘুরে বেড়িয়েছেন গ্রামেগঞ্জে। তারই সুযোগ্য সন্তান হিসেবে তারেক রহমানও একই পথ বেছে নিয়েছিলেন। নব্বই এর গণ অভ্যুত্থানের পর থেকে একটা ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিলো যে সরকার রক্ষা করতে হলে ঢাকা দখল করতে হবে। তাই তখন বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকা- ঢাকাকেন্দ্রীক ছিল।

তারেক রহমান যেন হঠাৎ করেই বাঁধ ভেঙে দিয়ে জোয়ারের সৃষ্টি করলেন। ‘গ্রাম মার্চ’ কর্মসূচীর মাধ্যমে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগঠনের কাজ করতে শুরু করলেন। দরিদ্র কৃষকের জন্য বিনামূল্যে ‘কমল বীজ’ আর দরীদ্র নারীদের জন্য হাঁস-মুরগী বিতরণ করে গ্রামের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে অবস্থান তৈরী করলেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এর পক্ষ হতে মেধাবৃত্তি এবং কম্পিউটার ও ল্যাপটপ প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। শীতের তীব্রতায় কষ্ট পাওয়া গরীব মানুষের পশে তিনি প্রতিবছর শীতবস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। সেই সময় থেকেই বিএনপির অসংখ্য কর্মী তারেক রহমানের মধ্যে দেখেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি।

Zia-02

বর্তমান সরকারি দল আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের সমূদ্রসীমা নির্ধারণের রায়কে ‘সমূদ্র বিজয়’ বর্ণনা করে নিজেদের কৃতিত্ব দাবী করছে। অথচ এই সমূদ্র সীমা হতে দেশের জনগণের উপকারের জন্য এখনো পর্যন্ত তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ২০০৩ সালেই এক টিভি সাক্ষাৎকারে জনাব তারেক রহমান বঙ্গোপসাগরের মোহনায় বাঁধ দিয়ে পলি সংগ্রহ করে দেশের আয়তন বৃদ্ধির চিন্তা করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের বনানীস্থ কার্যালয় থেকে ২০০৪ সালের শুরুর দিকে জনাব তারেক রহমান দলীয় যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ইন্টারনেট এবং ফোনের মাধ্যমে প্রায় ২ ঘণ্টা যাবৎ তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। যদিও সে সময় বাংলাদেশে তথাকথিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নামে কোনো শ্লোগান ছিল না; তবে তথ্য-প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করে একটি আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কার্যকর পদক্ষেপ ছিল সেটাই প্রথম; সেটাই ছিল বাংলাদেশকে ই-গভর্নেন্সের আওতায় আনার বাস্তবমুখী উদ্যোগ। তিনি রাজনৈতিক উদারতার অকপট উদাহরণ তৈরী করেছেন টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে গিয়ে এবং সজিব ওয়াজেদ জয়কে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়ে।

জনাব তারেক রহমান বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়কে দলের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কেন্দ্রে পরিণত করেছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপির নির্বাচনী কর্মকাণ্ড, কৌশল নির্ধারণ, প্রচার-প্রচারণা সব কিছুই এই কার্যালয়ে বসে করা হয়েছে। দলীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা আনতে এই কার্যালয়ে গড়ে তোলা হয়েছিলো দেশের প্রথম কোন রাজনৈতিক দলের কম্পিউটারাইজড ডাটাবেজ। দলীয় নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ড মনিটর করা এবং দেশব্যাপী দলের কার্যক্রমের বিস্তারিত এ্যাকশন প্ল্যান করা হতো এই কার্যালয় থেকেই।

এসব কারণে ২০০১ সালের নির্বাচনের পর থেকে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিরোধী শক্তিগুলো উদীয়মান গতিশীল নেতা তারেক রহমান এবং তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কার্যালয়কে জনসমক্ষে হেয় করার জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তারা এটা বুঝতে পেরেছিলো যে, তারেক রহমান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিএনপির ভবিষ্যত নেতা হিসেবে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন অথচ তাঁর বিপরীতে দাঁড় করানোর মত কোন বিকল্প নেতা নেই। এই কারণেই জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তারা পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা বিষেদগার করে গেছে। কক্সবাজারে তিনি যে হোটেলে কর্মী সম্মেলন করেছেন, সেই হোটেলকে তাঁর হোটেল বলে প্রচার করা হয়েছে, অন্যের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে ২০০৮ সালে দৈনিক আমাদের সময়ের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম লিখেছিলেন, “হাওয়া ভবনকে দুর্নীতির কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা এবং সেটা প্রতিষ্ঠিত করার একটি চেষ্টা ২০০১ সালের নির্বাচনের কিছুকাল পর থেকেই লক্ষ্য করা গেছে। হাওয়া ভবন সংশ্লিষ্টদের ২০০১ সালের নির্বাচনে ভূমিকা এবং বিপুল সফলতা হাওয়া ভবনকে টার্গেট হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।”

২০০৭ সালের অবৈধ মঈন-ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে জেলে পাঠানো হয় এবং পরিকল্পিত উপায়ে তাঁর উপর নির্যাতন করে তাঁকে পঙ্গু করে দেয়া হয়। কোন মামলাতেই তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির প্রমাণ না পাওয়ায় তিনি সবগুলো মামলায় জামিন লাভ করে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মূক্ত হন। জরুরী অবস্থা চলাকালীন সময়েও তাঁর মুক্তির দিনটিতে ঢাকা শহর কার্যত অচল হয়ে যায়। ঢাকা শহরের সকল মানুষের গন্তব্য সেদিন বিকেলে এক হয়ে গিয়েছিলো শাহবাগের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে; যেখানে তিনি তখন চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ অপপ্রচার, নির্যাতন এবং মামলার পরও তাঁর জনপ্রিয়তা সামান্যতম হ্রাস না পাওয়ায়, আতঙ্কিত স্বৈরাচারীরা তাঁকে বিদেশে নির্বাসনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য এমনিতেও তার বিদেশে যাবার প্রয়োজন ছিলো। বাংলাদেশের রাজনীতি সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত এই নেতার অপেক্ষায় আছে।

যে, দেশে গুণীজনের কদর নেই, সে দেশে গুণীজন জন্মায় না। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর এই বাণীকে অবহেলা করে আমরা বারবার আমাদের দেশপ্রেমিক নেতাদের হত্যা করতে দিয়েছি, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে তাঁদের মরনোত্তর চরিত্রহানি করেছি এমন কি পাঠ্য পুস্তকে মিথ্যা ইতিহাস পর্যন্ত সংযোজন করেছি। আমরা আমাদের জাতীয় বীরদের অপমান করে নিজেরাই পশ্চাৎপদ ও পরমুখাপেক্ষী হয়ে আছি। মুক্তিকামী চেচেনদের নেতা যোখার দুদায়েভ এর মৃত্যুর পর চেচনিয়ার স্বাধীনতা অধরাই রয়ে গেছে। একজন ভাল নেতার অভাবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা তাঁদের ওপর চলা অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞকে বিশ্বের কাছে পৌছে দিতে পারছে না। আমরা সৌভাগ্যবান যে জিয়াউর রহমানের মত নেতা আমাদের দেশকে অগ্রগতির পথে নিয়ে এসেছিলেন এবং তারেক রহমানের মত নেতা আমাদের দেশকে ‘ইমার্জিং টাইগার’ পরিচিতি দিয়ে উন্নয়নের রানওয়েতে নিয়ে এসেছিলেন। ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে আমাদের উন্নয়নের বিমান উড্ডীন হয়নি। এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এইসব ষড়যন্ত্র ও ষড়যন্ত্রের হোতাদের মোকাবেলা করে দেশে ও দশের উন্নয়নের জন্য তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণাকারীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

কেউ কি স্যারকে ধরবেন?

1

শাফকাত রাব্বী অনীকঃ একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাস হওয়া নিয়ে স্যার জাফর তার স্বভাব সুলভ ও আপাত দৃষ্টিতে শিশুতোষ একটি লেখা লিখেছেন। লেখার টাইটেলে স্যারের নির্দোষ প্রশ্ন “কেউ কি আমাকে বলবেন?” টাইটেলটা অনেকটা সাদাসিদা ভাবে “কেউ আমারে ধর” টাইপের শুনালেও, আসলে কিন্তু চালাকিতে ভরা।

ক্যাজুয়াল রিডারদের বোকা বানানোর জন্যে স্যার জাফরের লেখার স্টাইল খুবই এফেক্টিভ । পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই ক্যাজুয়াল রিডার, আমি নিজেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাই। তবে স্যার জাফরের লেখা গুলো এন্টেনা খাড়া করে, বেশ ক্রিটিকাল ভাবে পড়ি। কেননা স্যার জাফর উপরে-উপরে সাদাসিদা ভাব ধরলেও, তার প্রতিটি লেখা দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। এন্টেনা উচা করে না পড়লে সেই দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ধরা পরে না।

যেমন ধরুন নিজে সিভিল সমাজের একজন লোক হয়েও স্যার জাফর মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের কর্ণধার আদিলুর রহমান শুভ্রর জেলে যাওয়ার সাফাই গেয়ে সাদাসিদে প্রতারণা মূলক নিবন্ধ লিখেছিলেন। প্রতারনামূলক কেন বললাম তা জানতে সে সময় আমার লেখা আরটিকেলটি (http://www.priyo.com/shafquatrabbee/2013/08/16/27087.html) পড়ে দেখতে পারেন। আমার জানা নেই পৃথিবীর অন্য কোন দেশে লিডিং কোন প্রফেসর পাওয়া যাবে কিনা যিনি তার দেশের আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিত মানবাধিকার কর্মির জেলে যাওয়াকে সাফাই গেয়ে লেখা দিতে রাজী হবেন। এমন পিকিউলিয়ার ইন্টেলেকচুয়াল পৃথিবীতে বিরল। এমনকি দালাল ও কোম্প্রমাইজিং ক্যারেক্টারে ভরা বাংলাদেশেও।

৫ই জানুয়ারী নির্বাচন থামাতে সিভিল সোসাইটির বড় বড় হর্তাকর্তারা একত্রিত হয়ে সরকারকে একতরফা নির্বাচন রহিত করতে বলেছিলেন নির্বাচনের ঠিক আগে একটি জরুরী সভায়। ডেইলি ষ্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ সহ উচ্চ বর্নের আওয়ামী ঘরনার সেকুলার সুশিলদের উপস্থিতি এই হাই-ভোল্টেজ মিটিংএ ছিল উল্লেখ করার মতো। সেই হাই ভোল্টেজ মিটিং এর ড্যামেজ কন্ট্রল করতে, তরিঘরি করে সেকন্ড গ্রেডের সেকুলার সুশিলদের নিয়ে একটি পাল্টা-পাল্টি সভা ডাকা হয়েছিল। স্যার জাফর ছিলেন সেই সভার মূল আকর্ষন। এই সভাতেই স্যার জাফর তার বিখ্যাত ফিল্টার থিওরি উপস্থাপন করেছিলেন। দেশের বাকি সুশীলদের শাসিয়ে দিয়ে, ইনিয়ে বিনিয়ে, সাদাসিদে, শিশুসুলভ, ও আবেগী গল্প ফেঁদে স্যার জাফর ফিল্টার থিউরীর প্রয়োগ করে বোঝাতে চেয়েছিলেন কেন, কিভাবে তখন একটি একতরফা নির্বাচন দেশের জন্যে খারাপ হতো না।

সেই স্যার জাফরই এখন কিনা নির্দোষ প্রশ্ন করছেন, “কেউ কি আমাকে বলবে, সদ্য নবায়নকৃত সরকারের অধীনে একের পর এক প্রশ্ন পত্র লিক হওয়া নিয়ে আমার কোমলমতি ছাত্রীকে আমি কি উত্তর দিবো?” নিজে একজন শিক্ষক হিসেবে স্যার জাফরের খুব ভালো ভাবে জানা থাকার কথা প্রশ্ন কিভাবে আউট হয়, কেন আউট হয়, এবং এর প্রতিকারই বা কি? তাই একজন স্যার হিসেবে নিজে প্রশ্ন না করে, তার তো উচিত সমস্যার উত্তর বা সলিউশন খুজে দেয়া! সেই সলিউশন কর্তৃপক্ষ না শুনলে প্রতিবাদে ফেঁটে পড়া!

সাধারণ মানুষেরই বরং উচিত স্যার জাফরের কাছে গিয়ে জিগ্গেস করা, স্যারের দেয়া চেতনার বাস্তবায়নকারী সরকারের আমলে কেন একের পর এক প্রশ্নপত্র লিক হচ্ছে? এই সরকার যেহুতু স্যার জাফরের ফিল্টার পাশ, তাহলে সেই মহান ফিল্টারে কেন আউট হয়ে যাওয়া প্রশ্নপত্রগুলো আটকে যাচ্ছে না?

স্যার জাফররা ঘৃনা আর বিভাজনের চাষবাস করে একটা পারফেক্ট জঙ্গল সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। তাদের স্বপ্নের সেই জংগল হবে এমনই পারফেক্ট জঙ্গল যেখানে জংলি আইন- কানুন, অধিকারহীনতা, লাঞ্চনা, বঞ্চনা, ভোটাধিকারহীনতা — সব কিছু শুধু স্যার জাফরদের প্রতিপক্ষকেই সইতে হবে। আর তাদের পক্ষের মানুষজন পারফেক্ট জঙ্গলের পারফেকশন উপভোগ করে সুখে শান্তিতে, চেতনাময় দিন কাটাবে।

সরি স্যার জাফর, জঙ্গলকে নিজেদের জন্যে যতই পারফেক্ট বানানোর চেষ্ঠা করুন, দেয়ার ইজ নো পারফেক্ট জঙ্গল। তাই দায়িত্ব এড়ানোর জন্যে নিজে থেকে প্রশ্ন না ছুড়ে, আপনার কোমলমতি ছাত্রীদের বরং বোঝান এই জঙ্গল সৃষ্টিতে আপনার কোন ভূমিকা ছিল কিনা।

রানা প্লাজা হত্যাকাণ্ডে ‘নিখোঁজ’ ঘোষিত ১৪৬ জনকে ‘নিহত’ ঘোষনা করুন প্লিজ

২৩ এপ্রিল ২০১৩ যখন রানা প্লাজায় ফাঁটল দেখা দেয় তখনই ঐ ফাটলগুলো পর্যবেক্ষণের পর বিপদজনক ঘোষনা করে একজন প্রকৌশলী একুশে টিভিতে সাক্ষাৎকার দেন। কিন্তু সন্ধায় ভবনের মালিক সোহেল রানা সাভারের তৎকালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে বৈঠক শেষে ঐ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সোহেল রানা দুই জনই একুশে টিভিতে ভবনটি সম্পূর্ন নিরাপদ ঘোষনা করেন। (উল্লেখিত দিনে একুশে টিভির সন্ধা সাতটার খবরটির ফুটেজ আর্কাইভ থেকে যোগাড় করলেই এটা পাওয়া যাবে)।

 

২৪ এপ্রিল ২০১৩ সকালে হরতাল বিরোধী মিছিল করার জন্য যুবলীগের কর্মী সমর্থকরা রানা প্লাজার নীচে সোহেল রানার অফিসে জড়ো হয়। অন্যদিকে গার্মেন্টসের শ্রমিকরা রানা প্লাজার বাইরে জড়ো হয়ে ঝুঁকিপূর্ন ভবনে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানাতে থাকে। গার্মেন্টস এর কর্মকর্তারা বিষয়টি সোহেল রানাকে জানালে সে তার দলীয় কর্মীদের দিয়ে জোর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে শ্রমিকদের ভবনটিতে গিয়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে।

 

শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবার কিছুক্ষণ পরেই লোড শেডিং শুরু হয় এবং ভবনটির বিভিন্ন তলায় থাকা জেনারেটরগুলো একসাথে চালু হয়। এর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই রানা প্লাজা ধ্বসে যেতে শুরু করে। ধারণা করা হয়, জেনারেটরগুলোর সম্মিলিত কম্পন ফাঁটল ধরা রানা প্লাজার দুর্বল স্তম্ভগুলো সহ্য করতে পারে নাই।

 

একটি ঝুঁকিপূর্ন ভবনকে নিরাপদ ঘোষনা কারা করেছিলো, তার প্রমান টিভি ফুটেজে রয়েছে। কারা জোর করে শ্রমিকদের ঐ ভবনে পাঠিয়েছিলো তার প্রমানও বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের সাক্ষাৎকারে পাওয়া যায়। তাহলে কী কারণে এখনো এই এক বছর পরও তদন্ত শেষ হলো না? রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঝুঁকিপূর্ন ভবনকে নিরাপদ ঘোষনা করার পর সেখানে শ্রমিকদের জোর করে কাজ করানোর কারনে এই ঘটনাকে আর ‘দুর্ঘটনা’বলার উপায় নেই; বরং এটি একটি ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’!

 

রানা প্লাজার হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক রূপ দিতে গিয়ে দেয়া দুইজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির দেয়া নির্মম বক্তব্য আজো সবাইকে পীড়া দেয়। সেগুলো হচ্ছে-

“যারা মারা গেছে তারা মূল্যবান সামগ্রী সরাতে গিয়েছিলো”

“পিলার ধরে হরতালকারীরা নাড়া দেয়ায় ভবন ধস”

 

একজন মানুষ নিহত হলে তার পরিবার ও উত্তরাধীকারীরা তার সম্পদের বন্টন করতে পারে, তার জন্য বরাদ্দ ক্ষতিপূরণ পেয়ে ঐ কর্মক্ষম লোকটির ওপর নির্ভরশীল মানুষগুলো বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু নিখোঁজ ঘোষনা করলে পরিবার ও উত্তরাধীকারীরা এই ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হবার পাশাপাশি স্বজনদের ফিরে পাবার এক দুরাশা নিয়ে দিন কাটায়। বিষয়টা যে কী পরিমান কষ্টকর তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে না।

 

নিখোঁজ ঘোষিতদের স্বজনদের অপেক্ষা

নিখোঁজ ঘোষিতদের স্বজনদের অপেক্ষা

হে আমার রাষ্ট্র ও কর্তৃপক্ষ, আপনারা যদি মানবিক যুক্তি না বুঝতে চান তাহলে পাশবিক যুক্তি দিয়েই বোঝাই। ধরে নিন একটি বাক্সে ১০টি গিনিপিগ আছে। বাক্সটিকে যদি একটি ল্যান্ড রোলারের নীচে চাপা দেন তাহলে কী কয়েকটি গিনিপিগ নিখোঁজ হয়ে যাবে?

 

রাষ্ট্র ও কর্তৃপক্ষের কাছে কড়জোরে অনুরোধ করছি, রানা প্লাজা হত্যাকাণ্ডে ‘নিখোঁজ’ ঘোষিত ১৪৬ জনকে ‘নিহত’ ঘোষনা করুন প্লিজ।

 

এমন নির্মম অপেক্ষার ছবি আর দেখতে চাই না।

 

(ছবির উৎস:  ইন্টারনেট)

সমূদ্র স্নান বিশেষ করে সেন্ট মার্টিনে যাবার আগে জেনে নিন

3

সরকারী কলেজে চাকরী করার সময় পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবেই শিক্ষার্থীদের ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা সফরে নিয়ে যেতে হতো। মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা সব সময়ই কক্স বাজার, সেন্ট মার্টিন যেতে চাইতো। সেই সময়ের অভিজ্ঞতার আলোকেই কিছু কথা বলছি। হয়তো এই কথাগুলো কেউ পড়লে এবং মেনে চললে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মত অনাকাঙ্খিত প্রাণহানি আর ঘটবে না।

১/ আপনি সাঁতার জানেন তো? সাঁতার না জানলে সমূদ্রে আপনার নিরাপদ এলাকা হচ্ছে, ভাটার সময় গোড়ালি পর্যন্ত আর জোয়ারের সময় হাঁটু পর্যন্ত (তাও যদি আশেপাশে সাঁতার জানা লোক থাকে)

২/ সমূদ্রে নামার আগে জেনে নিন জোয়ার চলছে, না ভাটা চলছে। ভাটার সময় সমূদ্রে নামা ভয়ঙ্কর বিপদজনক! খুব বেশি নিরুপায় হলে ভাটার সময় বড়জোর পায়ের গোড়ালি ভেজাতে পারেন, এর বেশি নয়।

৩/ জোয়ারের সময় যদি সাতার কাঁটতে বা গোসল করতে পানিতে নামতে চান, তাহলে প্রথমে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জেনে নিয়ে নিশ্চিত হোন কোন জায়গাটা সাতার/গোসলের জন্য নিরাপদ। সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ কক্সবাজারের বিশাল সৈকতে সাতারের অভিজ্ঞতা নিয়ে টেকনাফ বা সেন্ট মার্টিনের সৈকতে সাতার/গোসল করতে নেমে বিপদে পরে। এই বিষয়টা ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নিন যে, কক্সবাজারের মত এত ধীর ঢালের এবং দীর্ঘ সৈকত পৃথিবীর খুব কম জায়গাতেই আছে। তাই হাটু পানি থেকে কোমর পানিতে যাবার আগে অবশ্যই দশবার চিন্তা করুন। ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন ওখানে কোন বিপরীত তলদেশীয় স্রোত বা ডুবো গর্ত আছে কী না।

৪/ আপনি নিশ্চিত সাঁতার জানেন। কিন্তু এটা খেয়াল আছে কী কতদিন আগে আপনি শেষবারের মত সাঁতার কেটেছেন? এ কথা সত্যি যে সাঁতার শিখলে তা ভোলা সম্ভব না। কিন্তু সাঁতার হচ্ছে একটি কঠিন ব্যায়াম যাতে শরিরের প্রায় প্রতিটি পেশি কাজ করে। যে কারণে দীর্ঘদিন পর সাঁতার কাটতে গেলে অনেক সময় পায়ের পেশি সংকোচন সমস্যা (কাফ মাসল বা থাই মাসল পুল) দেখা দেয়। পেশি সংকোচন হলে যে যন্ত্রণা হয় তাতে সাঁতার অব্যাহত রাখা মুশকিল হয়ে পরে। এই কারণে সমূদ্রের গভীর এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে অনেকে সাতার জানা থাকার পরও ডুবে যান।

৫/ সেন্ট মার্টিনে গিয়ে কখনো জেটি থেকে নেমেই ডান দিকের (দ্বীপের পূর্ব দিক) সৈকত ধরে আগাবেন না (ম্যাপে নীল চিহ্নিত দাগ)। তা না করে বরং মূল রাস্তা ধরে দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম অংশে চলে যান। সেখানে গিয়ে সমূদ্রে নামুন। তারপরও জোয়ার-ভাটার বিষয়ের সাথে সাথে খেয়াল রাখুন সেন্ট মার্টিন একটি প্রবাল দ্বীপ। এর সৈকত খুবই সংকীর্ণ এবং এখানে হাটু-পানির চেয়ে বেশি দূরত্বে যাওয়া মোটেই নিরাপদ নয় (তা আপনি যত বড় সাঁতারুই হোন)।

সেন্ট মার্টিনের বিপদজনক সৈকতের মানচিত্র

৬/ জেটি থেকে নামার পর নিতান্তই যদি আপনি সৈকতে হাটার লোভ সামলাতে না পারেন, তাহলে নীল দাগ ধরে হাটতে চাইলে হাটুন। তবে সাবধান! কোন ক্রমেই পানিতে নামবেন না। একবার পানিতে নামলে আপনার আর উঠতে ইচ্ছে করবে না এবং হাটতে হাটতে আপনি সেন্টমার্টিনের মৃত্যু অন্তরীপ উত্তর-পূর্ব সৈকতে চলে যাবেন। দ্বীপের এই সৈকতে পরষ্পর বিপরীতমূখী পৃষ্ঠ ও তলদেশীয় স্রোতের কারণে অনেকগুলো ডুবো গর্ত তৈরী হয়েছে। তাছাড়া তলদেশীয় বিপরীত স্রোত (বটম কারেন্ট) আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং অবশ্যই এই লাল চিহ্নিত বিপদজনক এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে সফরে যাবার বাজে অভিজ্ঞতার দিক হচ্ছে, ওখানে গেলে ওরা কেউ আর আমাদের কথা শুনতে চায় না, নিষেধ মানতে চায় না। ওরা স্বাধীনভাবে সব কিছু করতে চায়; সাহস দেখাতে চায়। অভিজ্ঞদের পরামর্শ না শুনে এবং অতিরিক্ত সাহস দেখিয়ে আর কোন জীবন যেন ঝরে না যায় সে বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে বোঝানোর প্রয়োজন অনুভব করছি।

রাষ্ট্রের প্রতি আমার কোন দাবী নেই। টানা পনেরো বছর পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা বিধানের অনুরোধ করে উপেক্ষিত হবার পর এটা বুঝেছি যে, রাষ্ট্র শুধু আমাদের মত আম জনতার কাছ থেকে নিতেই জানে। তারা দেয় কেবলমাত্র উঁচু তলার মানুষকে। তাই আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের নিজেদেরই দেখতে হবে।

পরিশেষে ওয়ার্ল্ডভিউ-২ উপগ্রহ থেকে তোলা ছেঁড়া দ্বীপসহ সেন্ট মার্টিন দ্বীপের একটি ফলস কালার ইনফ্রারেড কম্পোজিট ইমেজ।

সেন্ট মার্টিনের উপগ্রহ চিত্র

মারুফ কামাল সাহেব – আপনের কাজটা কি ? পদত্যাগ করেননা কেন?

নুর হোসেন

গত ২বছরে মিডিয়া বিএনপির বিপক্ষে এবং আওয়ামীলীগের পক্ষে যেভাবে কাজ করেছে তাতে একটা ব্যাপার পষ্ট। সেটা হচ্ছে বিএনপির মিডিয়া উইং সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ। সাহসী সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান একা চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার তাকে জেলে ভরে বিএনপির পক্ষের মিডিয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে যে দলের পক্ষে কথা বলার মতো মিডিয়া না থাকলে বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের উপর ব্যর্থতা কতটুকু বর্তায়? আমার মতে পুরোটুকুই। এইব্যাপারে একটা ছোটখাটো বিশ্লেষণ দেয়ার আগে বলে নেই মিডিয়ার কাজ কি? মিডিয়ার কাজ হচ্ছে পারসেপশন তৈরী করা. হ্যা! পারসেপশন মানে ধারণা। মিডিয়া পারে ধারণা তৈরী করতে। আর আমাদের দেশের ইতিহাস বলে ,একসময় ধারণা সত্যে রুপান্তরিত হয়. যেমন ধরেন মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদ। একটু হিসাব করেনতো নয় মাসে ৩০ লক্ষ শহীদ করতে হলে দিনে কতজন মরতে হয়? ঠিকই ধরসেন। ৩০ লক্ষ লোক নয়মাসে শহীদ হওয়া আজগুবি ব্যাপার। এবং এই ৩০ লক্ষ শহীদের ধারনাকে স্পষ্ট করেছে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ধারণা দেয়া দৈনিক পত্রিকাগুলো।

এখন আসেন দেখি গত ১ বছরে বিএনপির সবচেয়ে বড় মিডিয়া ব্যর্থতা কোন গুলা ? অনেকগুলোর মধ্যে আমার মনে হয় এক নম্বর হচ্ছে বিএনপি যে একটা মুক্তিযোদ্ধাদের দল, এই দলটা যে একজন বীরসেনানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সে মেসেজটা পরিষ্কার ভাবে বাংলাদেশের তরুণ জনগনের কাছে দিতে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে। ২ নম্বর ব্যর্থতা হচ্ছে দলটি ক্রমাগত ‘মিডিয়া আক্রমন’ সয়ে গেছে। মিডিয়াতে প্রায় রক্ষনাত্মক ছিল দলটির পজিশন। মামলা-হামলা-গুম-অত্যাচার- রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করলো আওয়ামিলিগ আর মিনমিন করে গেলো বিএনপি। কি তামাশা! গ্রামে-ঘাটে-গঞ্জে কুকুরের মত মারা হলো বিএনপির নেতা কর্মীদের, আর পত্রিকা/ টিভি গুলা “বিএনপি সন্ত্রাস করে বিএনপি সন্ত্রাস করে’ গেল.

এতে বিএনপির জনসমর্থন কমে নাই. কিন্তু তা বলে মারুফ কামাল যে তার পদে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ তাতে কারো দ্বিমত থাকার কথা না. আধুনিক যুগে প্রেস সচিবের দায়িত্ব শুধু প্রেস রিলিজ লেখা না. মিডিয়াকে দলীয় কেমপেইনের সাথে চতুরতার সাথে যুক্ত করা, প্রতিপক্ষ সম্পর্কে একটা নেগেটিভ ধারণা তৈরী করা, বিভিন্নভাবে মিডিয়াস্পিন তৈরী করা, দলের অফিসিয়াল লাইন অব পাবলিক কমিউনিকেশন কি হবে তা ঠিক করা. আওয়ামিলিগ এর মিডিয়া উইং প্রত্যেকটিতে সক্ষম হয়েছে। মিডিয়া উইংয়ের একটা ব্যাপক কাজ হচ্ছে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করা. এর মানে হচ্ছে পাবলিক ডোমেইন -এ কোন মেসেজ যাবে, মানুষ কি নিয়ে কথা বলবে, পত্রিকা রাজনীতির কোন বিষয় নিয়ে বেশি গুরুত্ব সহকারে ছাপবে, টিভি কোন বিষয় নিয়ে টক শো করবে তা ঠিক করে দেয়া।

আমি একজন সাধারণ বিএনপির সমর্থক হিসেবে মারফ কামালের ফেসবুক ফলো করি. উনার চিন্তা-ভাবনা বোঝার চেষ্টা করি. এবং প্রায় বছর খানেক ধরে উনাকে ফলো করার পরে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে উনার বিনেপির কেনো আধুনিক যুগে কোনো সমবায় সমিতির প্রেস সচিব হবার যোগ্যতা নেই. গত বছরের একটা বিরাট সময় যখন তরুণ সমাজের একটা বিরাট অংশ বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের অবস্থান নিয়ে বেওয়াকুফি করছে মারুফ কামাল সেই সময় একটা জিন্নাহটুপি মাথায় দিয়ে ফেসবুকের প্রফাইল ফটো দিয়ে রেখেছেন।

মারুফ কামালের ইদানিং কালের স্টেটাস দেখলে মনে হয় উনি বিধবা নারী! স্বামী মারা গেছে এখন অকুল পাথারে পড়েছেন। ভালো মতো ঠাউর করে উঠতে পারছেননা চারিদিকের পরিবেশ। এখনো তিনি আওয়ামীলীগের ধরায় দেয়া ইসু বুঝতে পারেননা । একটা উদাহরণ দেই:

“দীর্ঘদিনের গলাগলির পর গজাম ও ছালীর মধ্যে আচানক গালাগালি ও পুলিসের “নিরপেক্ষ লাঠিচার্জ” একটি সেমসাইড ড্রামায় খানিকটা ক্লাইমেক্স সৃষ্টি করেছে। এখন গল্প কোন দিকে মোড় নেয় তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।ব্যাপারটা কি সুপরিকল্পিতভাবে সাজানো? নাকি কাজ ফুরানোয় গজামকে ছুঁড়ে ফেলা? অথবা ভাগাভাগির দ্বন্দ? কিংবা আরো বড়ো কোনো অপরাধ বা ঘটনা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তৈরি মক-ফাইট? ভালো করে না বুঝে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
প্লিজ, ওয়েট এণ্ড সি।

ফুটনোটঃ গজাম=গণজাগরণ মঞ্চ।
ছালী=ছাত্রলীগ”

বিএনপির প্রেস সচিবের স্ট্যাটাস এটা !! উনি ‘ভালো করে বুঝতে পারছেননা গণজাগরণ মঞ্চের’ নতুন ধারাবাহিক নাটক। এটা উনি না বুঝতেই পারেন। কারণ আধুনিক যুগের ‘মিডিয়া স্পিন ‘ বোঝার ধারণা উনার নাই. কিন্তু আমাদের বোঝার বাকি নাই যে উনি যোগ্য লোক নন. উনি বিএনপির রাজনীতিতে নেমে পড়তে পারেন। কিন্তু প্রেস উইংয়ের মত সফিস্টিকেটেড বিষয়ে উনার কোনো ধারণা নাই. এটা উনি বুঝে সরে যাওয়াই শ্রেয়। ভাই আপনি পদত্যাগ করেন।

Fruits of her labour ​​

2

– By Seema Amin

The hair strands of time, were they highlighted, would strike a striking look in 2009.

A few vermilion slashes down the back of the head (for a mutiny-cum-massacre), some gray-tinted purples (inaugural stones in buildings) and ….an almost imperceptible greenish-blue for the Indian Ocean Island of Mauritius; the Mauritian incident, that is, buried in the general darkness of that year…

The Mumbai bombs gregariously exploded in 2008; one of the recovered traces of the ‘terrorists’ was a forged passport purportedly belonging to a Mauritian. The slight of build, coral-bejeweled State of Mauritius alleged that it was the passport of a Bangladeshi migrant labourer with footprints leading to the EPZs, where migrant labour, composed largely of women from China and Bangladesh, constitutes the majority of workers. One hungry (or should we say ‘weak’) state accused another. ..

beasts-of-the-southern-wild-movie-photo-13

Ramola Ramtohul, in ‘The influence of state patriarchy and sexual politics on contract labour migration policy in Mauritius,’ (2010) notes that were it not for then Foreign Minister Dipu Moni’s pleading with the state, the latter’s decision to deport all Bangladeshi male workers from its Export Processing Zones (EPZs) would have been official policy following the 2008 Mumbai blast; she argues that the state’s patriarchal stance in deporting men, rather than women, reveals not only that such potential threats work to further weaken the power of migrant labour in the EPZs but that the unwritten codes of the new international strategy of labour demasculinizes male migrant labourers as part of the processes of feminization in global commodity chains. The attempt to establish oneself as a legitimate citizen, through marriage, and possibly having terrorist links, is termed an illegitimate attempt at ‘regaining masculinity’, where the very qualities of submissiveness, invisibility, informality and vulnerability constitute the (gendered) preference for ‘nimble hands.’ In Bangladesh, these ‘low-skilled’ young women almost never move from ‘operator’ to ‘helper’, much the less, supervisor—reserved for men.

The tale of Bangladeshi men in Mauritius has a few unlikely things to say about intersection of what can be called eroding paternalism and global feminization. The EPZs are constituted of a feminized work force where neither the state nor the suppliers or buyers provide the paternalistic values of protection, i.e. given in more traditional gender structures or in feudal paternalistic relations. Initially, a preference was given to female workers in the textile EPZs(as the industry grew through the MFA–Multi-Fibre-Agreement–and European duty-free access, much like Bangladesh earlier); a decade later, as globalization and the end of the MFA accelerated the race to the bottom, they imported higher numbers of male and female workers from China and India. Ramtohul describes the ‘demasculinization’ of the men as an effect of the high level of state and employer control over the migrant workers, including the the threat of deportation in the case of trade unionism, rendering them (as) powerless (as women are meant to be). Even as the threat of deportation is dangled over men based on ‘illegitimate’ activities, Ramtohul shows how the ‘illegal’ activities of female migrant labour, prostitution, is completely ignored: “The sex trade appears to be treated as a private issue over which officials prefer to remain quiet, as long as it does not hinder the performance of the workers at work. This suits both the employers and the state.” Thus ‘feminization’ seems to constitute a zone of infra-darkness, women accelerate the race to not just the ‘bottom’ in terms of wages; they take us into a more controlled, shrouded realm. To exercise agency becomes ‘masculine’ and thus the rules of ‘legitimacy’ are gendered.

The need for more and more vulnerable workers and the conditions of hard work where overtime is the rule rather than the exception have led to a highly feminized workforce in Bangladesh as well. The threat of deportation does not exist here, but one of the justifications for not taking away GSP or destroying the industry for its famous statistics does include the hidden threat of laid-off workers descending into the ‘blacker’ market, i.e. prostitution. Unlike the Maurituan girls who made some extra cash, the girls rarely choose another job outside the garments trade (it is, first of all, all-consuming); they live or die with it; and we all know what kind of death has merged with the atrocity of survival….

The garments industry in Bangladesh, composed of largely rural migrants, is often cited as a more empowering, if low-skilled, over-worked alternative to other ‘feminine’ alternatives, simply for the independence that free-wage labour provides. We don’t have to quote Marx on free wage labour to sense the irony in such a process of empowerment where feminization–with its corollaries of unprotesting and thus exhilaratingly cheap labour based on informal contracts with unwritten rights–and globalization are the twin processes that even allow such ‘empowerment’ to unfold.

But the atmosphere in the ‘90s was eerily hopeful. In 2001 Naila Kabeer quoted the Director of the Labour Department of Bangladesh saying, “I believe that the ‘culture of compliance’ is far ahead in the garment manufacturing sector and changes in the RMG sector are dramatic compared to other sectors.” Discussing ‘Resources, Rights and the Politics of Accountability,’ she echoes the sentiments from a national workshop: “The women workers in the Bangladesh garment industry have had more public attention to their rights than any group of workers in the entire history of the country.”

The atrocity of exhibition? 2009. One hungry (or should we say ‘weak’) state accused another. ..

Forgeries…identity.

‘Shob kichu bhua.’ Sumaya.

She is hungry, but she can’t eat. She eats, but the tumor blocking her nose, bloating and bursting through her eyes, takes a shot at grinding her down its root canal first. Dark there, unreal, like some impossible Rana Plaza.

And she tells me, ‘Waking up darkness, going to sleep darkness… everything looks the same. Kotha bolte khub iche kore…’ Yes, the ability to bear monotony– that was her ‘skill’, the monotony that now is the fruit of her labour. PG Hospital. Have a Look. It’s the Elephant Man. (And I can promise you, you would wish you were blind).

There has been no health research on how the garments industry has gradually, over time, eroded the strength and immunity of teenagers who began their gender-empowered career young, at fourteen perhaps like Sumaya, who is too thin, too weak, to support an operation to alleviate even an hour’s itch from the tumor bursting through her skin that cannot hold the stretched, dangling eye (indescribable, without morphine).

Even if the PM and all the foreign and domestic funds in the world were channeled somehow, magically, to her, she has already been so ‘feminized’, so ‘nimble,’ such an exemplary example of push-pull and supply and demand, that the process begun could never be reversed; damage done; poshai hojom, kaj kothom. But let’s get back to patriarchy, all that intangible subversion of dignity; how does it work when capital becomes the mid-wife, between the Man and the fruit.

Shob bhua. Two graves for one person. Can’t Match DNA.

It’s International Woman’s Day soon and hundreds– or should I say –billions of women’s rights’ NGOs and activists affiliated with OBR (One Billion Rising) or not will, umm…. RISE.

Sumaya will try to sleep.

Naomi Klein wrote in ‘Patriarchy gets Funky’ (2001) on how the culture industries made identity politics and diversity a mantra of global capital. She quotes cultural critic Richard Goldstein, “This revolution…turned out to be the savior of late capitalism.”

Pedagogy of the Oppressed. A handful of definitions. Sumaya, were you a student of mine, I would have asked you to teach me:

Patriarchy/Peri-ousia– Ousia in ancient Greek refers to one’s being or essence. Peri-ousia is that which surrounds one’s essential being and thus defines “who” one “is.” Patriarchy can be seen as a system of male domination in which men dominate women through the control of female sexuality or a system which developed along with the development of private property and state power. Or, it can be seen as both system and discourse.

Discourse— a regulated set of statements which combine with others in predictable ways. Foucault says: ‘We must conceive of discourse as a violence which we do to things, or in any case as a practice which we impose upon them; and it is in this practice that the events of discourse find the principle of their regularity.”

Then I would have told her, run after these words, kill them if you can. Burn them alive. In your body, the body arrested. In the body, the body bearing. In the body, the body unbearable.

She does not know how hysterical we get over Rights, she wants to eat ice cream and see again. She has decided my hands are softer than Shobuj’s; I don’t tell her no, mine are not nimble hands; don’t scold Shobuj, he loves you as though you were the last thing he would ever see with both eyes still able to shut and open.

Was it like a root canal, Rana Plaza? Well, what’s fire like anyway? Metaphors and similes were lost to Saydia when she tried to relay her experiences to me. Now that Sumaya has become an installation carved into her own skull, such literary devices seem unnecessary. Yes, the poets keep poetically describing the sky. And what exactly does your sky look like, Bangladesh? Looks like Boi Mela, February. Mela? Kothai Mela, Sumaya is almost excited, an excitement that wants to ‘see’ vicariously what else submerges us while she floats in the slow sure nausea of a malignant ‘pregnancy’ ‘without a due date.

Yeah, Boi Mela. You know, fun and games, books. Saris and panjabis. Very poetic poetry, poetically recited through reciting voices in recorded tapes, broken record invoking the beauty of our mother tongue… Well the language laboring between us in PG seems to be of another world; beyond Bangla. It’s all very otherworldly down there, in PG, cave-like; she yearns to speak but our tongues are gone.

There were men diseased who looked like lepers in New Market when I was a child. They’re not quite there anymore. I had hoped that along with ‘progressive’, ‘empowering,’ birth control and the garments industry they would have disappeared too, vodoo. Now I see that you Sumaya are the laboratory of the new leprosies. You’ve been kept in the dark, all winter they prepared for the celebrations of our liberated language, but you remained locked in ‘discourse’: ‘ultra poor,’ ‘ultra vulnerable,’ ‘slave-like conditions.’

Freed slave Sojourner Truth famously said, Ain’t I Woman? In the 1851 Womens Rights Convention in Ohio:

“And a’n’t I a woman? Look at me! Look at me! Look at my arm! I have ploughed, and planted, and gathered into barns, and no man could head me! And a’n’t I a woman? I have borne thirteen chilern, and seen ’em mos’ all sold off to slavery, and when I cried out with my mother’s grief, none but Jesus heard me! And a’n’t I a woman?”

Sojourner, how would you compensate that indomitable arm? They’ve been trying to work out some formula for the compensation of an arm or leg, head… Slavery must have easily measured up the pieces of your body, your teeth…It’s just so hyped, the hyperbole of ‘slavery=garments industry or slavery= women’s oppression.’ There is no heroism in Sojourner’s voice when she cries out ‘none but Jesus heard me!’ The echo there resounds because a deaf world is no world worthy of man or woman. Glorifying the strength of women is as equally patriarchal as denigrating their fortitude.

Given the immeasurable cause and effect of her affliction, it is difficult to conceive ‘compensation’ for Sumaya. But she seems to know everything about what Alice Walker connotes as strength when she advises: ‘Be Nobody’s Darling.’ Sumaya ain’t anyone’s darling.

Visitors to Sumaya like me whisper some recent news:

Hey you know Delwar’s in jail.

Good. His wife too…

Yes, she was culpable too, no? (Though the practice of marrying to avoid culpability is not unknown here).

Yeah. You know, ‘The Law.’ We made it bend a little towards the scales of justice. Justice, does that word have a ring, Sumaya?

Sumaya?

There is nothing I know or want in this world to beautify the horror you live,

I only want it to end.

On the edge of order and chaos

It seems that every man, woman, child, their pets, even their Apple devices seem to have an opinion on what BNP should have done.  Well, I am not going to add to that volume.  I don’t presume to lecture politicians who have been practising their craft since before I was a twinkling in my parent’s eyes on what they should have done.  I can, however, revisit what I wrote exactly halfway through the Awami League’s last term, and make an educated guess about how things could unfold from here on.

chaos

… there are good reasons to expect an AL win in 2013 election.  What happens then?

… AL may well win the 2013 election, but its ability to hold on to power and govern successfully will depend on four key powerbrokers in Bangladesh: the bureaucracy, the army, foreign powers, and the business sector.

That’s what I wrote in July 2011.  To be sure, I got a lot of things wrong.  Follow through the links and you’ll find that I was fearing that a fragmented BNP would hand Awami League a narrow victory in a flawed election.  The reality is that while BNP was more united than at any time in its history — not a single member of any standing left the party to join the 5 January election — and might have won any semi-decent election in a landslide, Mrs Wajed decided to hold an election that surpassed the 1996 or 1988 farces to rival the 1971 ‘by elections’ held under Lt Gen Niazi.

Clearly, I did not see this coming.  But then again, very few did.

As such, the Prime Minister’s ability to push the envelop should not be underestimated. Nonetheless, it might still be instructive to think about how the four bastions of power needed to govern Bangladesh are likely to behave from here on.

The analysis is most straightforward with the army.  As I’ve argued in a number of places (for example, here), the only likely scenario under which a military coup is plausible is during a political crisis where the army is asked to crack down on civilian population.  And let me stress the ‘crack down’ — not mere deployment, not a specific operation by a select unit in a faraway place like Satkhira, but a general order to kill hundreds if not thousands of people.  The Awami government has thus far managed to keep the army away from any such conflagration.  With the opposition’s street protests essentially ending, at least for now, the army is not expected to be asked to crack down on anyone.  Hence, at least for now, Mrs Wajed is probably not fearing any coup.

It’s slightly trickier to analyse the civilian bureaucracy, whose active co-operation is needed to govern the country.  Let me reproduce what I said in July 2011:

The people who make up mid-to-senior ranks of the bureaucracy have spent most of their working lives during the post-1990 era.  Like everything else in the country, these officers are directly or indirectly categorised (by themselves, their peers, and their bosses) along partisan lines.  And most officers have learnt to live with the system — if your party is out of power, you cover your head, put up with the situation, and survive for five years, after which your party will be back, and you’ll make up for the lost time with accelerated promotions and foreign trips.

The two years of 1/11 rule had slightly upset this balance.  But because both Awami/pro-71 types and nationalist/Islam-pasands were hurt equally, it was a wash overall.  If all of a sudden it appears that there is no prospect of a non-AL government beyond 2013, a significant part of the bureaucracy will reassess the situation.

One possible scenario is that anyone who lacks the strongest Awami credential (family from Gopalganj, elected into some student council in the 1980s with a Mujibist BCL ticket, suffered under BNP) will become extremely risk averse.  The result, implementation of various programmes and policies will become even more lacklustre than is already the case.

But beyond worsening the quality of governance, it’s not clear whether the bureaucracy will actively precipitate a political crisis, let alone recreate a civilian coup like 1996.

One reading of the new cabinet line up — whereby the political nobodies like Dipu Moni and Rezaul Karim Heera are out and stalwarts like Tofail-Amu-Naseem are back — is that the Prime Minister is well aware of bureaucratic lethargy undermining her government.  And nowhere would a seasoned, experienced minister be needed more than in the ministry that deals with the big end of the town.

In this government, after the Prime Minister herself, the most important person is the Commerce Minister.  He is the man who has to ensure that major business houses (and NGOs such as BRAC) are not hostile to the government.  For the most important industry that matters for the economy — the readymade garments — Minister Tofail Ahmed is already working to to ensure that the international buyers come back quickly and stick around (the outlook for the industry is much rosier than some would have you believe — subject of a different post).  For other products, Minister Tofail will have to work with the businessmen to ensure that Dhaka markets are well supplied so that the cityfolks are content.

As long as the Prime Minister can maintain overall stability, it’s quite likely that the Commerce Minister will keep the business sector content — after all, what matters most to the businessmen is certainty and stability.

Stability is also the thing that foreigners ultimately want in Bangladesh.  India-China-America, everyone has their agenda, and these agendas may not align.  But no one wants instability in a country of 150 million Muslims.  Given the distrust — justified or otherwise — of Tarique Rahman and Jamaat-e-Islami, and the BNP chairperson’s practical difficulties in dissociating with them, the Prime Minister appears to have convinced the interested foreigners that she is better placed to provide stability and certainty.

Thus, it appears that powers-that-be needed to govern Bangladesh are willing to stick with a Prime Minister who promises order.  And at least for now, it’s hard to see what BNP can do alter this.  But perhaps BNP doesn’t need to do anything.

One cannot stress enough that the Prime Minister’s grip on the pillars-of-power rests on one and only one claim: she can provide stability.  Not the spirit of 1971.  Not development records.  Not Digital Bangladesh.  Nothing like that.  All she has is the promise — seemingly justified at this stage — that she can provide order, while her rival invites the risk of chaos.

What can make lie of this promise?  Why, events, my dear reader, events.  Just consider if something like two events from the Prime Minister’s last term were to occur now.

Just imagine that there is a sudden and violent mutiny in the head quarters of RAB, killing dozens of majors and colonels, while the Prime Minister dithered.  In 2009, when this happened at the BDR head quarters, the government wasn’t even two-months old, and frankly, even people like Farhad Mazhar and Nurul Kabir propagated the downtrodden-BDR-vs-fat-cat-army line.  If something like this happened now, the reaction from all quarters would be very, very different.

Alternatively, just imagine that a Bangla translation of this book is associated with Hassanul Huq Inu or some other leftist minister of the current government, the word is spread around the Bangla cyberspace rapidly, and a hitherto little-known group of Islamists, based in the capital’s major education institutions, organise a million-strong march in the heart of the capital?  You see, in the specific circumstances of early 2013, the government had gotten away with the events of 5 May 2013.  But 2014 and beyond will be very different.

The Prime Minister has told the powers-that-be that she will keep order.  The reality, however, is that she stands on the precipice of chaos, for the simple reason that Bangladesh — a super-densely populated humid swamp — is always at the edge of chaos.  Usually, mandate from a democratic election, or the prospect of the next one, keeps us from falling over the cliff.  By taking away the option of a democratic election, the Prime Minister has effectively put a ticking time bomb on herself.

The real record — inflation (continued)

For those coming in late, even though inflation has risen under the current government (Chart 1), real GDP per capita has grown by around 4½ per cent a year under successive governments over the past decade.

c1 (2)

Over the last couple of weeks, I have had a bit of correspondence about inflation. This post answers some of the questions.

Continue Reading

আমরা কি হুঁশিয়ার আছি?

খোমেনী ইহসান:

ভাইয়েরা ও বইনেরা বুঝতেছে না যে বাংলাদেশকে হীনস্বার্থে যে দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে তাতে করে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছ আইনগত উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধের বিচার, ক্ষমতা হস্তান্তর, জাতীয় প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির বিবাদগুলান মীমাংসা করা উচিত ছিলে। কিন্তু একপক্ষ চাচ্ছে ইসলামবিরোধী গ্লোবাল পরিস্থিতি ও ভারতের সম্প্রসারণবাদী নীতির মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে হত্যা,জখম ও বন্দিত্বের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করে দিতে।আরেক পক্ষ ইসলামের দোহাই দিয়ে যুদ্ধাপরাধ ও ভুল রাজনীতির অভিযোগগুলানকে ককটেল-হরতাল-অবরোধ দিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

 
মুশকিল হলো উভয়ে পক্ষের এই অগ্রহণযোগ্য কাজের কারণে বাংলাদেশে প্রতিদিন রক্ত ঝরেতেছে। অনেক গুরুতর ঘটনা ঘটতেছে। সব কিছু ভেঙে পড়ছে। খোদার বিচারপতিদের ভূমিকাও যুব সংগঠনের ক্যাডারের মতো। এ অবস্থায় মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। গুজব  আর প্রচারণায় সয়লাব দেশ। আবদুল কাদের মোল্লাকে কি কসাই কাদের হিসেবে ফাঁসি দেয়া হলো? তার এই ফাঁসি দিতে গিয়ে বিচার করা হলো নাকি প্রতিশোধ নেয়া হলো? দুই পক্ষের প্রচারণা থেকে বুঝার উপায় নাই। মোল্লা ও মুক্তিযুদ্ধকালে ক্ষতিগ্রস্ত উভয়ে হয়তো সত্য বলেছে। কিন্তু সরকার ও জামায়াত তো মনে হয় মিথ্যার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ। যেমন তারা হত্যা ও নাশকতার প্রতিযোগিতা করছে। গণমাধ্যমগুলান এখানে ভাগ হয়ে গেছে। উভয়েই রক্ত চায়। কালো হরফে ছাপা হচ্ছে লাল রক্তপাতের ইশতেহার।

 
আমরা দেখছি এই যে গণজাগরণ মঞ্চ, আ্ওয়ামী লীগ ও নাগরিক সমাজ এরা কিন্তু রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর ফ্যাসিবাদ কায়েমের লক্ষ্যে মাঠে গড়াগড়ি করতেছে। আর আছে জামায়াত-শিবির। তারা সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়ার জন্য সহিংসতা করছে এবং নিজেরো গণহত্যার শিকার হচ্ছে।মুশকিল হলো আমাদের নিয়তি এই দুই পক্ষের এ্যাকশন, রিএ্যাকশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে। দেশে যেভাবে রক্তপাত হচ্ছে, নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে, খোরাকির দাম বাড়ছে তাতে করে দেশে চরম অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে।আমরা ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জেনেছি ছাত্রলীগ ও যুবলীগ, সরকারপন্থী পুলিশ-আমলাদের মধ্যে ভীতি তৈয়ার হয়েছে। কেউ কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছেন। কেউ আবার পালানোর চেষ্টা করছেন।

 
অন্য যারা যেতে পারছেন না তার ভয় পেয়ে আগ্নেয়াস্ত্র বহন শুরু করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ কর্মীরা, মহানগর ও শহর-বন্দরে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিক লীগ নেতাকর্মীরাও অস্ত্র ধারণ করেছেন। তাদের যে সরকার অস্ত্র দিয়েছ তাও পুরো সত্য নয়। তাদের ভীতিকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় পক্ষ অস্ত্র দিচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদল ও জামায়াত-শিবিরের লোকেরা ব্যাপকতর হত্যা, পঙ্গুত্ববরণের শিকার হয়েছে। তারা কেউ ঘরে থাকতে পারছে না। ফেরার জীবন যাপন করছে। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে কেউ কেউ অস্ত্র ধারণ করছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 
আমরা ধারণা করতে পারি সারা দেশে উভয় পক্ষেই অস্ত্র ধারণের তাগিদ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ীরা এবং সেক্যুলার ও ইসলামী সন্ত্রাসবাদীরা এ অবস্থার সুযোগ নিতে চাইছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সেক্যুলার সন্ত্রাসবাদের প্রধান মদদদাতা ভারতের অবস্থান প্রকাশিত হয়েছে। অতিসম্প্রতি আবার পাকিস্তানের তালেবানের একটি বক্তব্য পাওয়া গেল। তারা পাকিস্তান বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু তারা যে বাংলাদেশে অস্ত্র ও মতবাদ রফতানি করবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নাই।
এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো গেরিলাযুদ্ধের বাস্তবতা বিচার করলে প্রায় সমতলভূমির বাংলাদেশের অবস্থা নিরাপদ মনে হতে পারে। কিন্তু ঘনবসতি ও মানবজঙ্গল আকীর্ণ বাংলাদেশ আরবান গেরিয়া ওয়ারফেয়ারে উর্বর ময়দান। এখানে যদি একবার ভারি অস্ত্র ঢুকে যায় তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে।

 
আমরা যে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি-সেনাবাহিনীকে যোগ্য ও দক্ষ মনে করতেছি, সামরিক সক্ষমতার কথা চিন্তা করলে তাদের নিয়ে আমাদের হতাশ হতে হবে। তারা নিরস্ত্র লোকদের মিছিল-সমাবেশ ও ককটেলবাজিকে ছত্রভঙ্গ করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু সম্মুখ সমর বা ভারি অস্ত্রের চোরাগোপ্তা হামলা মোকাবেলা করার মতো সক্ষমতা তাদের আছে কি না এটা বেশ প্রশ্নবিদ্ধ।আমরা দেখতেছি ক্যান্টনমেন্টগুলান ছাড়া বাংলাদেশের আর কোন স্থাপণাতেই সন্ত্রাস মোকাবেলা করার মতো যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই। আমরা প্রতিদিন উভয় পক্ষে যাদের এতো এতো উস্কানি দিতে দেখছি তাদের না আছে নিরাপত্তা, না আছে শারীরিক সক্ষমতা। যদি সন্ত্রাস জন্ম নেয়ার মতো পরিস্থিতিকে এখন নিয়ন্ত্রণ করতে উভয় পক্ষে সমঝোতা না হয় তবে সবাইতো নিরাপত্তাহীন হয়ে যাব।
কাজেই আমি মনে করি সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও একটা উদ্যোগ নেয়া দরকার। যা কিছু হওয়ার হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে। এখন-
১. সব পক্ষের সন্ত্রাস-হত্যা-সহিংসতা বন্ধ করা হোক।
২. বিচার্য বিষয়গুলান আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সহীহভাবে নিষ্পত্তি করা হোক।
৩. বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করে দিয়ে নতুন সংবিধান সভার জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হোক।
৪. নতুন সংবিধান গঠিত হলে তার অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বশীল নির্বাচিত হোক।
৫. নতুন সরকার ন্যাশনাল রিকন্সিলেশন কমিশনের মাধ্যমে ক্ষমা, দয়া ও দরদ কায়েম করুক।

Cutting Through the Paper Tiger of Rising ‘Islamic’ Militancy in Bangladesh

2

By Surma of the Khichuri for nuraldeen.com

On her recent visit to Bangladesh the Indian foreign secretary Sujatha Singh argued that Bangladesh has an Islamic militancy problem, and that was the main reason for the Indian government’s unstinting support to the increasingly autocratic Awami League government. Right on cue, the pro-government Daily Star issued an op-ed by its executive editor, Syed Badrul Ahsan, which framed the current crisis using the imagery of the 1971 as war against Islamic militancy. On the other side of the subtlety spectrum we have David Lewis at the LSE, continuing the Manichaean narrative of secular versus religious struggle in Bangladesh. Ignoring the above misrepresentation of facts and bearing in mind that the current opposition movement being led by the Bangladeshi nationalist BNP is calling for a neutral caretaker government, the multi-billion dollar question is, does Bangladesh have an Islamic militancy problem?

Historical (Dis)continuity

The above question is linked to the powerful and persistent question of whether Bangladesh is a secular country or religious one, answers to both are interlinked with the approach one takes to Bangladesh and South Asia in general.

One approach could be  termed as a DWEM approach to history, that is history through the eyes of Dead White European Males (DWEM), which is subsequently seconded by local Macaulay Minutemen and minutewomen. That is the history of chronologies and maps, empires and nations, wars and revolutions. According to the DWEM approach Bangladesh is a secular society, and has been since the abolition of the titular Mughal Empire following the 1857 Uprising against British subjugation. The 1971 Bangladesh War and subsequently imposed and alienating constitution is an affirmation of that secular reality.

Another reading of history is to see it as a living entity, embodied, decolonial and subaltern. This reading can be summarised by the Persian saying that, “The greatness of a city lies not in its monuments or buildings, nor in its market or gardens but in the men buried inside its walls”. The demonstrative reality of this history is seen in the cities and towns throughout South Asia, amongst the daily throngs that visit the shrines of these great men.

It is a sacred reading of history that starts with Data Ganj Bakhsh Hujwiri in Lahore, through Moinuddin Chisti in Ajmer, then from Nizamuddin Auliya in Delhi to Shahjalal in Sylhet. After all, it was Nizamuddin who gave Shahjalal the famous flock of doves whose descendants we see at the shrine (dargah) today. To understand the subaltern Muslim civilisation in South Asia we can focus on Moinuddin Chishti (1141-1236), who settled in the city of Ajmer, when the Delhi kings conquered their. His dwelling soon became a fountainhead of Muslim civilisation in the Indian subcontinent.

Rembrandt’s picture of the founders of the four Sufi schools in Indian subcontinent c.1656 [Source: British Museum, Schimmel]

Rembrandt’s picture of the founders of the four Sufi schools in Indian
subcontinent c.1656 [Source: British Museum, Schimmel]

As the Chishtis journeyed through the land spreading the dual message of spiritual equality and social justice, their straightforward preaching and practice of the love of God and one’s neighbours impressed many, particularly those from the lower castes and even members of the scheduled castes.The fact that these khanqahs (mystic lodges) avoided any discrimination between their guests and practiced a classless society attracted many people into their fold. One taster of the teachings of Moinuddin Chishti and company is that a human being should possess “a generosity like that of the ocean, a mildness like that of the sun and a modesty like that of earth.”

This sacred tradition and history has survived and continues to this day and is an integral part of the ordinary citizens of Bangladesh, if you look. In the cities, mufassil towns and villages, anecdotes from Hujwiri’s Kashf al Mahjub (Revelation of Mystery), still resonate in Friday sermons today. Aspects of the curriculum that Nizamuddin Aulia designed and taught can be found in the country’s madrassas. The classless generosity of Moinuddin Chisti is emulated in the weekly communal feasts of the Tablighi Jamaat. This group claim links to the Chishtis through their founder Maulana Ilyas, and their annual Bishwa Ijtema, in Tongi, Dhaka is renowned as  a global mega event and the largest gathering of Muslims outside the Hajj.

Politics and Religion: an explanation of the paradox that is Maulana Bhashani

The interconnections between religious and political spheres in South Asia have been uneasy and tumultuous at times to say the least.  This tradition of connection goes all the way back to the Emperor Ashoka and his incorporation of Buddhist principles into state policy. More recently we can see this relation exemplified by the changing fortunes of the Naqshbandi Tariqa (brotherhood) who arrived in South Asia with the Mughal conquest.

The Naqshbandi’s had a continuous influence on regional politics, from Ahmed Sirhindi on the Mughal Emperors, through to Shah Waliullah on the Afghan King, Ahmad Shah Abdali. Their footprints can be discerned in the modern day politics of the subcontinent; from the Composite Nationalism concept of Congress-aligned Hussain Ahmed Madani (teacher of Hefazat leader Allama Shafi), to Muslim League aligned figures such as Mufti Muhammad Shafi Usmani, the first grand mufti of Pakistan.

There is an argument that one hears that modern Bangladesh is an exception to the rule, that there is no place for religion in politics. However, if one goes beyond the rhetoric and delves into the historical experience, one finds the paradoxical figure of Maulana Bhashani, and a continuation of the Naqshbandi tradition.

A disciple of the Baghdadi Pir Sahib of Lakhimpur in Assam, Bhashani was advised to journey to Deoband in Uttar Pradesh to study under the Naqshbandi anti-imperialist, Maulana Mahmudul Hassan. Upon returning from his trip, he joined and led the struggle against the exploitation that tenant farmers face from of the xenophonic Line System. This spurred the Moulana on his long political journey to emancipate his people; to economic liberation from the feudal system, to political liberation from the British Raj in 1947, political freedoms from the Sandhurst educated Rawalpindi generals of United Pakistan, and hunger from the ravages of the 1974 Bangladesh famine. Spanning three nationhoods, his last great public act was against India’s hydro hegemonic erection, The Long March of the Farakka Dam in 1976, which is arguably the last time a Bangladeshi politician was taken seriously in the Lok Sabha.

Like a Prophet Moses, he died before he could take his people to the promised land of true independence. Jami, a Naqshbandi Persian wrote a couplet that speaks to this journey.

The Naqshbandiyya are strange caravan leaders

Who bring the caravan through hidden paths into the sacred sanctuary

6th of May 2013 – A War Against Whom?

In London in recent weeks, Kamal Ahmed, former BBC Bengali Service Editor and regular Prothom Alo contributor, made an interesting statement at a presentation with Frances Harrison at the International Institute for Strategic Studies (IISS), ‘Political Islam and the issues at stake in the Bangladeshi elections’. He said that a ‘choice will need to be made soon, whether democracy is good or Islamist forces should be tackled’. Such a proposition presupposes that the state is being threatened by a rising tide of Islamism. But, is society being radicalised, or are state institutions and elites are becoming more radically alienated from the citizenry?

In Dhaka, in the early hours of Monday 6th of May, a journalist reported the commanding officer of about two thousand, armed police and paramilitary troops pumping up his subordinates with the words ‘Are you all prepared to go to war?’ The massacre that followed, against unarmed and mainly sleeping protesters tired from a long day’s demonstration, was covered up, and remains shrouded in both public denial and fear. Two outspoken TV stations and a popular newspaper were shut down by the government at the time and it is alleged that between scores and hundreds of unarmed protesters were killed. Subsequent investigations have been hampered by the arrests of human rights investigators, not to mention fundamental elite disinterest. Reading the pages of the corporate media, as well as the selective pronouncements from civil society and their ‘development partners’, we could be forgiven if we were to conclude that such a brutal crackdown was universally sanctioned and supported.

The immediate municipal electoral defeats of the Awami League in municipal elections and their general unpopularity express a wide-scale revulsion amongst the population with regards to the massacre. Preliminary investigations have shown that the protests attracted the presence and support of more than the community madrassa sector. People from very different walks of society were killed, injured and terrorised, from labour activists and journalists to a student at an elite engineering university. In one unverified report, a leading Awami League party member from the greater Noakhali region lost three of his nephews. It is as if the institutions that were supposed to protect the citizenry suddenly turned upon them.

Overnight, the native became the alien in the eyes of state institutions. Investigations have revealed that contrary to the official narrative of a clean crowd control operation, protestors were misdirected by security forces to cordoned off ambush zones, and were subsequently set upon. This is a familiar terror tactic commonly used by security forces in Indian Occupied Kashmir and reported by survivors of the 2002 Gujarat Massacre.

The above inversion, of government turning on its citizens was replicated by wider civil society leaders, who instead of championing the violated rights of their citizenry, either remained in complicit silence or cheered on the security forces. In a scene pulled out of Macbeth, we had the human rights Lady, Sultana Kamal, head of the donor financed human rights organisation Ain o Salish Kendra, egging on the security forces to ‘eradicate’ the Islamists. This outburst was followed a few days by protest leader Junaid Babnugari being shifted from police custody to a critical care unit and having a leg amputated due to mistreatment at the hands of the security forces. With civil society in Bangladesh emerging as a simple extension of state terror, questions need to be asked about how such an arrangement has come about and what sustains it.

The Parable of the Boy and the Tiger: From Ahsan to Lewis

Yann Martel’s ‘Life of Pi’ was inspired by the Moacyr Scliar’s earlier novel, ‘Max and the Cats’, a story that worked with the allegory of the rise of European fascism. After several conflicts between the Big Cat and the Boy, a fight to the death and rescue, it appears that the Big Cat was a projection of the Boy’s imagination, an inner demon.

The Boy and the Tiger: Life of Pi

The Boy and the Tiger: Life of Pi

This also appears to be the case for a lot of the parochial war on terror industry spokespeople such as Syed Badrul Ahsan, and their international harmonisers in the guise of David Lewis, the myth of an Islamic Militancy plays the similar role of the Tiger.  This phantom of a rising militancy, gives them a get out jail card for analysing the dysfunctionality of politics in Bangladesh and their own personal intellectual failings. This paper Tiger is also reflected in the Indian government’s diplomatic stance, as the New Age newspaper recently pointed out, they know that in reality there is no real threat of an Islamic Militancy, but the myth serves as fig leaf for its own diplomatic incompetence of hoisting it colours so publicly to the increasingly unpopular Awami League.

Yes there is violence against minorities, yes there are hindrances to speech and discourse. But it is the followers of secular political parties that have attacked minorities, not seminary students or followers of a sufi pir. It is the secular courts and security forces that lock up and tortured newspaper editors and online activists, not some obscure religious court.

The evident and underlying tensions in Bangladeshi society are not due to a rising Islamic militancy, but due to the alienation of the ruling elite from the population and a breakdown in state institutions. This breakdown is exemplified by the controversy over the International  Crimes Tribunal and the recent ‘judicial murder’ of Abdul Quader Mollah. The myth of an Islamic militancy is being used as band aid to cover these ever widening cracks in society, between self-appointed leaders and the people. As an old saying goes, “beware who you point the finger at, for when you point the figure at someone or something, there are three fingers pointing back at you.”

Religion is not an anathema but a defining factor in the modern story of Bangladesh. This journey began with the Composite Nationalism of Hussain Ahmed Madani, and was sustained by the selfless activism of Maulana Bhashani as well as the conciliatory Bangladeshi Nationalism of Zia ur Rahman. The recognition of Islam in the constitution by the BNP and its allies is a view shared by the majority of grassroot activist in the AL, and so the journey still continues.

To conclude, Shahbag and its antecedent of high and exclusive West Bengal orientated nationalism is not the logical outcome nor endpoint of the Bangladesh story, but it is a reaction against its natural course.

Or as the sufis say,

The dogs start barking, when the caravan starts moving….

মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি, তবে…

1

অতিথি লেখক- খোমেনী এহসান 

আমি আগের কোনো একটা লেখায় বলেছিলাম যে দেশে ৬৯ এর মতো গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমি আজকের লেখায় বলছি দেশে ১৯৭১ এর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতোই রাষ্ট্রের পক্ষের (পাকিস্তানের বদলে এখন বাংলাদেশ) হানাদার বাহিনী ও রাজাকারেরা দেশের নানান জায়গায় স্বৈরশাসক ( ইয়াহিয়া খানের বদলে শেখ হাসিনা) বিরোধীদের বাড়িঘরে হানা দিচ্ছে। বিরোধীদের দেখামাত্রই গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে।এসবই ফ্যাক্ট। ঘটনা। বাস্তবতা। গণমাধ্যম প্রচার করুক বা না করুক। ঘটনা ঘটছে। মানুষ খুন হচ্ছে। গণহত্যা হচ্ছে। ক্লিনজিং চলছে। নির্মূলাভিযান। ১৯৭১ এও প্রচার নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। ধামাচাপা দিয়েছে গণমাধ্যম। কিন্তু হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি।
২.
আমি খুব বেশি আবেগতাড়িত থাকতে পারছি না। তাই বলছি, নাগরিকদের বিরুদ্ধে স্বৈরশাসকদের যে ভূমিকা তা শুধু শেখ হাসিনাই পালন করছেন না। এই ভূমিকা স্বাধীন বাংলাদেশের সব সরকারই কমবেশি পালন করেছে।এটা বুঝতে হলে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফের বদলে ধর্ম বা জাতীয়তাবাদ দিয়ে গঠিত রাষ্ট্র মাত্রই জুলুমের রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্রের সব সরকারই স্বৈরশাসন চালায়। কেউ বেশি চালায় আর কেউ কম চালায়। মাত্রা কমবেশির কারণে আমরা স্বৈরশাসন নিয়ে আবেগ তাড়িত থাকি। শেখ মুজিবকে ভালোবাসি বা জিয়াকে গালি দেই। আবার জিয়াকে ভালোবাসি বা শেখকে গালি দেই। একইভাবে শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি বা খালেদা জিয়াকে গালি দেই। আবার খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি বা শেখের বেটিকে গালি দেই।

কিন্তু ইয়াহিয়া খানের শাসন, পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্র, পাকিস্তানী আর্মি-পুলিশের মতো হানাদার বাহিনী ও দালাল-রাজাকারদের চিনে নেওয়ার জন্য একটি বিষয়ই যথেষ্ট। রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধায়নে নাগরিকদের হত্যা। ব্যস, চেনা হয়ে গেলে। লাশ দেখে আমরা রাষ্ট্রকে চিনে নিতে পারি। আমার ভাই ১৯৭১ এ না ২০১৩ এ খুন হয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ কে খুন করছে। কে আমাদের বুকে বন্দুক তাক করে রেখেছে। নিশ্চয় চূড়ান্ত ধান্দাবাজ জালেম ছাড়া কেউ এ কথা বলতে পারে না যে পাকিস্তানীদের হাতে খুন হতে কষ্ট লাগে, আর বাংলাদেশীদের হাতে খুন হতে আরাম লাগে। খুনের স্বাদ সব স্থান কাল পাত্র ভেদে একই। যেমন মায়ের দুধের স্বাদ, মা ইংরেজ না বাঙালী ভেদে আলাদা নয়।
৩.
মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি বিরাজ করলেই যে সব সময় মুক্তিযুদ্ধ চলে এটা ঠিক নয়। দুনিয়া জুড়েই মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশেও স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪২ বছর ধরেই মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ হয়নি।
শেখ মুজিবের সময় শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার চেষ্টা করেছিলেন। পারেননি। জিয়ার সময় চেষ্টাও ছিল না। সেনাবাহিনীতে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শুধু লাশ পড়েছে। এরশাদের সময় একটা চেষ্টা ছিলো। সেনাশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াই। ছাত্ররা নতুন গঠনতন্ত্রের আওয়াজ তুলেছিলেন যদিও। কিন্তু গণতন্ত্রের লড়াই শেষ পর্যন্ত ত্রিদলীয় জোটের রূপরেখায় এরশাদের শাসনের বৈধতা, ধারাবাহিকতার নামে বিদ্যমান সংবিধান বহাল রাখা ও সামন্ত প্রভুদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে পরিণত হয়েছে।
অত্যন্ত নোংরা কাজ হয়েছে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সরকারগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়। এখানে জনগণের পক্ষে কোনো দাবি দাওয়া ছিল না। বিরোধী দলের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন হয়েছে। সরকারগুলান টিকে থাকতে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে একবারই সুযোগ এসেছিল। এক এগারর সেনা-সুশীল শাসনের দুই বছরের সময়। কিন্তু ছাত্ররা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। রাজনৈতিক দলের ভাড়া খাটার দাস মানসিকতা আর নতুন রাষ্ট্র গড়ার বাসনার অনুপস্থিতিই এর কারণ।
৪.
মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্যমান হওয়া নাগরিকদের রাজনৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। এটা অবশ্য করতে হয় রাজনৈতিক দলকে। ১৯৭১ এ এটা শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সম্ভব করেছিল।আজ আমরা স্বীকার করতে চাই যে, মুক্তিযুদ্ধটা সম্ভব হয়েছিল সত্যিকার অর্থেই শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের কারণে। ধরেন শেখ মুজিব ভুট্টোর সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে রাজি হলেন। তাহলে কি মুক্তিযুদ্ধ হতো? হতো না।কে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবে, কে গোটা পাকিস্তান শাসন করবে এই প্রশ্নের সুরাহা না হওয়ায় যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তা ঠিক না। পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার যে দ্বন্দ্ব তাকে ক্ষমতার জায়গার চেয়ে জাতিগত দ্বন্দ্ব হিসেবে হাজির করতে পেরেছিল আওয়ামী লীগ। তারা শুধু এট হাজিরই করেনি। বরং তারা গোটা পাকিস্তানের মসনদে আওয়ামী লীগের বসতে পারা না পারারা প্রশ্নকে পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির প্রশ্নে পরিণত করেছিল।
আমরা দেখতে পেলাম পশ্চিম পাকিস্তানীরা রাজনৈতিকভাবে সমঝোতার বৈঠকে এ প্রশ্নের সুরাহা করতে পারেনি। তারা বরং বন্দুকের জোরে এই প্রশ্নের জবাব দিতে চেয়েছে। যার ফলে মুক্তিযুদ্ধ হয়ে গেল। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হলো। শেখ মুজিব কী পেলো, আওয়ামী লীগ কী পেলো এটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ না। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার স্বাদ পেতে গিয়ে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপহার দিয়েছে। এখন এই স্বাধীনতাকে আমরা কতখানি অর্থবহ করতে পারি সেটার সাফল্য ব্যর্থতা আমাদেরই। আওয়ামী লীগ তার চাওয়ার মধ্যেই খাবি খাবে এটাই স্বাভাবিক।
৫.
তাহলে আমরা এ আলোচনার উপসংহারে পৌছাতে পারি। বিরোধী দলও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার দাবি তুলে আন্দোলন করেছে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের প্রশ্নটি সরকার রাজনৈতিকভাবে সমঝোতার বৈঠকে সুরাহা করতে চায়নি। তারা ইয়াহিয়া খানের মতো বন্দুক বেছে নিয়েছে।ইয়াহিয়ার মতোই এ সরকারের তাকত। কারণ ইয়াহিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যেমন ছিল তেমনি শেখ হাসিনার পাশে ভারত আছে। তবে ভারত অপেক্ষাকৃত দুর্বল, শেখ হাসিনাও দুর্বল। তাই ১৯৭১ এর মতো বড় গণহত্যা হচ্ছে না। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো বিরোধী দল নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিকে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নের বাইরে বড় পরিসরে হাজির করতে পারেনি। তারা বলতে পারছে না যে কেন শেখ হাসিনার বদলে তাদের ক্ষমতায় আনতে হবে। তাদের ক্ষমতায় আনলে শেখ হাসিনার চেয়ে আলাদা কী উপহার দেবে তারা?
দুঃখের বিষয় খালেদা জিয়া মাঝেমধ্যে নানা সংবাদ সম্মেলনে বা জনসভায় এই প্রশ্নের একটা গোজামিলের জবাব দেন। তিনি বলেন ক্ষমতায় গেলে শেখ হাসিনার চেয়ে কম মাত্রায় শোষণ জুলুম করবেন। তাই তো তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে তারা ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার সরকার করবেন। দুর্নীতি করবেন না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করবেন, সব গণমাধ্যমকে সুযোগ দেবেন। কিন্তু খালেদা জিয়া কিন্তু একবারও বলেন না স্বৈরতান্ত্রিক সংবিধান বদলাবেন, র‌্যাব ভেঙ্গে দেবেন, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার করবেন, বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থা বাতিল ও দুর্নীতিবাজ দলীয় বিচারপতিদের বিচার করবেন। এমনকি তিনি বলেন না যে সাংবিধানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী পদকে যেভাবে হিটলারের মতো নাৎসীগিরি করার সুযোগ দেয়া হয়েছে তা থেকে তিনি বিরত থাকবেন এবং তিনি এই অসহ্য ক্ষমতাকে তিনি হ্রাস করবেন। তিনি বলেন না যে ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করবেন। তিনি বলেন না রাষ্ট্রের সর্বত্র না পারেন অন্তত ক্ষমতাসীন দলে তিনি গণতন্ত্র কায়েম করবেন।কাজেই মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতিতে অসংখ্য মানুষের খুন দুঃখজনক অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন আমাদের কাজ হলো এই সব খুন বন্দ করা এবং বিরোধী দল-সরকারের মধ্যে সমঝোতা করা।
মুক্তিযুদ্ধ হলে আমরা অবশ্য নিজেরাই মুক্তিযোদ্ধা হতে পাত্তুম।

কতদূর যাবে আওয়ামী লীগ?

Cartoon

খোমেনী এহসান/অতিথি লেখক :

ভোট ছাড়াই বিজয়ী হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। হাস্যকর লাগছে অনেকের কাছে। ইতিহাসের নজির খুঁজে না পাওয়ার চমকে যাচ্ছেন।কিন্তু কিছুই হাস্যকর নয়। পথই আজ পথিককে টেনে নিচ্ছে শুয়রের খোয়ারের দিকে। তবে যারা আজো অন্ধ তাদের কাছে আইনী উছিলা আর চেতনা সংক্রান্তির অযুহাত আছে।

সবাইকে বলি বিপদে আপনারা নাই। বিপদ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের। তিনি ফ্যাসিবাদ নামক এমন এক পথে হাটছেন যে গন্তব্য নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। সময় এখন আর বাকি নাই। ফিরতে চাইলেও আর পারবেন না। তার থেকেও অনেক বেশি দেশপ্রেমিক ছিলেন মীর কাশিম। বেচারি ইংরেজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে গিয়ে নিহত হলেন, তবুও ফিরতে পারলেন না। ফেরাতে পারলেন না দেশের স্বাধীনতা। শেখ হাসিনা তার দেশপ্রেমের তুলনায় অনেক পেছনের মানুষ। কাজেই তিনি আর পারবেন না।

যেহেতু শেখ হাসিনার পথ ফ্যাসিবাদ কায়েম করা সেহেতু ভোট ছাড়া এমপি বানানোর মতো হাস্যকর কাজ করেই থেমে থাকবেন না। এক সময় তিনি বলতে বাধ্য হবেন যে দেশটা শুধুই তার ও তার দলের। কাজেই তিনি অন্যদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করবেন। এটা নির্মূল ও পালাতে বাধ্য করার মাধ্যমেই তিনি করবেন। এক সময় তিনি নিজেকে আমৃত্যু প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করবেন। বলবেন তার মৃত্যুর পর বংশানুক্রমিকভাবে তার সন্তান-নাতিন-পুতিনরা প্রধানমন্ত্রী হবেন।

ফ্যাসিবাদ সম্পর্কে যতদূর জেনেছি তাতে এটা পষ্ট ভিন্নমত দমনে নিয়ন্ত্রণ আরো পাকাপোক্ত হবে। সক্ষম লোকেরা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী হতে বিদেশে চলে যাবে। অক্ষম ও বীর লোকেরা জেলে পঁচবে বা গুম হবে।জামায়াতে ইসলামীকে সন্ত্রাসবাদী দল আখ্যা দিয়ে অবশ্যই নিষিদ্ধ করা হবে। এ দলটির সাথে জড়িত বা এ দলটির ভাবাদর্শ সমর্থন করে এই অভিযোগে একে একে দখল করা হবে সব ব্যাংক-বীমা-ব্যবসায়-শিক্ষা-চিকিৎসা-পরিবহন-রিয়েলস্টেট সহ সব প্রতিষ্ঠান। এ দলটি নিজের বিপদকে কাটিয়ে ওঠার মতো কোনো কাজ করতে জানে না। তাই যত বিপদ আসবে ততোবেশি তাকে সন্ত্রাসবাদের তকমা ধারণ করতে হবে।

বিএনপিকে নিজের মতো গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগ চেষ্টা করবে। যতখানি পারবে, ততখানি ছাড়। না পারার ব্যাপারগুলানে মুগুর পেটা। ধারণা করা যায় বিএনপি নিষিদ্ধ হবে না। তবে খালেদা জিয়াকে মওলানা ভাসানীর মতো পরিণতি বরণ করতে বাধ্য করা হবে। খালেদা জিয়া ঠিকই শেখ হাসিনাকে ছাপিয়ে রাজনীতির প্রধান চরিত্র হয়ে থাকবেন, কিন্তু তার দল বিএনপির অবস্থা ভাসানী ন্যাপের মতো।যতদিন যাবে ফ্যাসিবাদের সব ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে বাধ্য হবেন শেখ হাসিনা। তিনি থামতে চাইলেও পারবেননা। পথ তাকে অনেক অনেক দূর হাটতে বাধ্য করবে। একটা পর্যায়ে এই পথের সীমাহীনতার কারণে তিনি ক্লান্ত হবেন এবং অক্ষমতার কারণে ক্ষান্ত হবেন। সেই দিন নিকট ভবিষ্যত নয় নিশ্চয়। অনেক অনেক বছর হয়তো।

যদিও সেনাবাহিনী নিয়ে অনেকেই সাত আসমানব্যাপী আশাবাদী। কিন্তু যা কিছু পরিস্থিতি শেখ হাসিনা তৈরি করে যাবেন তাতে করে এদেশের ইসলামপন্থীরা স্বশস্ত্র আল কায়েদা না হলেও একই ধরনের দমনাভিযান মোকাবেলা করতে হবে। কারণ সোজা। এদেশে ককটেল বিস্ফোরণকে টুইন টাওয়ারে হামলা, সহিংসতাকে জঙ্গীবাদ ও ইসলামপন্থীদের পাদকে পারমানবিক বোম বিস্ফারণ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার মতো দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যমের কোনো অভাব নাই।আর উর্বর মস্তিস্কগুলান নিত্যনতুন জঙ্গী সংগঠন আবিষ্কার ও তার সাথে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততার গল্পগুলান সরবরাহ করতেই থাকবে।কাজেই গণমাধ্যমে চাপে হলেও সেনাবাহিনীকে দমনাভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ আধুনিক বিশেষ সেনাশাসনে মিডিয়ার সহযোগিতা অপরিহার্য। আর অপরিহার্যতার মধ্যে বিনিময়ের সম্পর্ক থাকাই স্বাভাবিক। রাম লীলাকে চায়, লীলা কী চায়?

আর আমরা এটা বলতে পারি না যে, জামায়াত-শিবিরের দুর্দশাকে পুঁজি করে এখানে সক্রিয় জঙ্গী সংগঠন বা বিদেশী এজেন্সির পকেটগুলান সন্ত্রাসবাদী তৎপরতার নজির কায়েম করতে চেষ্টা করবে কি না। পরিস্থিতি যা তাতে এমনটি হয়। যাতে আবার রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো হাত নাও থাকতে পারে। তখন বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রকে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হয়। ব্যবস্থা বেশির সময়েই কিন্তু ঠিক ঠিক তদন্ত দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বেশির ভাগ সময়েই কিন্তু তারা জঙ্গীদের বা এজেন্সির শর্তই পূরণ করে দেয়।তারানকো কিন্তু তার ক্ষয়িষ্ণু প্রতিষ্ঠানটির লোকেদের জন্য নতুন চাকরির ক্ষেত্রটা যাচাই করতে এসেছিলেন। শান্তিরক্ষী মিশনে কিন্তু বাংলাদেশের সেনাবাহিনীও চাকরি করে। কাজেই দেশে বসেই রেমিট্যান্স কামাই হচ্ছে দেখে এ নিয়ে খুশিতে গদগদ হতে লোকের অভাব হবেনা। এনজিও গুলানও তো অনেক প্রজেক্ট পাচ্ছে। টিভিগুলানকে সিসারা দেশে সিসিটিভি বসানোর ফান্ড, হেলিকপ্টার, গাড়িঘোড়া দেয়া হবে। মন্দ কি?

Why Has Mollah Become An Innocent Martyr?

2

molla

The clear perversion of the judiciary in this case means that Mollah’s execution will be seen as an innocent man who has been judicially murdered

By M Ahmedullah, PhD in Politics and Epistemology:

Those who support the Bangladesh War Crimes Trial and are cheering at the hanging of Mollah, wrongly believing that similar to what the Nazi did in Europe during the 2nd World War was done by the Pakistani army with the help of Jamaat, will never be able to, with full joy and moral confidence, proclaim that justice has been done. The killers of Mollah and their supporters can only enjoy brief moments of bloodthirsty euphoria as it cannot last for long. This is because Mollah was not given a fair and transparent trial and the whole world knows. It was a cooked up process designed to kill Mollah and others using the justification of the judiciary and state power / resources.

The supporters of Mollah and those who are opposed to the Bangladesh ICT as it has been operating, due to immorality, involvement of party politics and judicial perversion, will always have the high moral grounds and justifiably feel that a big injustice has been done. These include people who fought for Bangladesh bravely in 1971. Previously, only one side in Bangladesh had the monopoly of narrative generation and dissemination and they used arts to educate and mis-educate people about the war, rather than science and evidence. This time and in the future they will never have that monopoly again, neither will they possess the high moral grounds, which they had for about four decades, with some justification but mostly due to the dominance of their narratives.

The AL, their supporters and Shahbagists will forever be haunted by the injustice and perverse use of the judiciary carried out to achieve political goals. They will never be able to justify what they have done, morally, rationally, legally and with evidence in support of their political use of the judiciary. They will be reminded of how unjustifiable were what they did and supported. They will be challenged, disturbed and hounded wherever they try to raise their heads in support of this judicial murder and the war crimes trial.

The clear perversion of the judiciary in this case means that Mollah’s execution will be seen as an innocent man who has been judicially murdered. Even if Mollah was guilty of some or all of the crimes that he was accused of being responsible for, as a fair trial and transparent and credible court have not made a judgment based on hearing and examining the evidence, the supporters of the execution of Mollah will never be able to confidently claim and successfully proclaim that he was a war criminal. There will never be another chance to prove that Mollah was guilty of war crimes. Therefore, Mollah through this hanging has become an innocent martyr, judicially murdered for political reasons.

NINETEEN SEVENTY-FIVE (1975): A Defining Year for Bangladesh

mujib_zia

What is clear is that just as in Pakistan when Bengali Muslims were not willing to allow the destruction of their Bengali identity, in Bangladesh they were not willing to allow their Muslim identity to be undermined.  They are both Bengalis and Muslims at the same time.

By M Ahmedullah, PhD in Epistemology and Politics

BAKSAL

Nineteen seventy-five (1975) was both a momentous and traumatic year for Bangladesh.  On the one hand, the dream that inspired the Bengalis of East Pakistan to fight against the dominance of West Pakistan and the non-democratic rule of the military lay shattered with the ‘second revolution’ and the creation of BAKSAL.  It was a political system designed for one-party rule – the newly created party BAKSAL was to rule Bangladesh under the supreme leadership of Sheikh Mujib, and no other party was to be allowed to function.  All, but four, newspapers were banned.  The expectation of economic benefits arising from the ending of Pakistani rule did not materialize – in fact, in many respects, matters only became worse.  Off course, Bangladesh faced a gigantic task of rehabilitating millions of displaced people and rebuilding the shattered economy in the aftermath of the devastating war of liberation.  However, given the post-war assistance Bangladesh received from sympathetic nations around the world, corruption and incompetence of the Mujib government quickly began to be seen to be the main factors behind the lack of progress.  Added to that, the summer flood of 1974, a factor that caused the subsequent famine and the loss of a large number of innocent lives, were fresh in the minds of the people.  Again, Mujib and his government were blamed.  The sacrifices that the unarmed people made in 1971 to liberate Bangladesh in the name of ‘Jatir Pita Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman’ were beginning to be seen to have been in vain.  The people of Bangladesh trusted Mujib and thought that his democratic vision for Bangladesh was based on a clear and deep understanding of political theory and the process of democratic politics.  The BAKSAL was seen as another experiment of a confused leader that had very little knowledge or understanding of politics and economy.

The assassination of Sheikh Mujib and the Rise of General Zia

On the other hand, Bangladesh became faced with a very dangerous political crisis with the assassination of the ‘Father of the Nation’ in August 1975, which unfolded for several months before the situation began to stabilize after the 7th November soldiers uprising and the installation of General Ziaur Rahman as the ruler of Bangladesh under a military dictatorship.  The irony is that many individuals, both military personnel and politicians, who fought the war of liberation under the leadership of Mujib, including many of his close associates, joined those who killed ‘Bangabandhu’.  This included Zia, who was known for both his service during the liberation struggle and his declaration of independence from Chittagong radio on 26 March 1971 when the Pakistani military assault began.  Although Zia was not directly linked to the killing of Sheikh Mujib, his position as the military ruler and many of the changes he instituted are definitely antithetical to the ideology of both Awami League and BAKSAL. Further, as the situation in Bangladesh continued to stabilize, the reputation and acceptance of Zia increased progressively.  The question that comes to mind is, how can it be explained that individuals like Zia, who fought bravely during the liberation war under the leadership of Mujib, de facto supported his removal from power and subsequently initiated steps to dismantle the ideology of Mujibbad?  Many factors no doubt contributed to this, and people do go through conversions.  However, not only did Zia challenge the ideological dominance of the Awami League and Mujibbad, he also created an opposite ideology and called it ‘Bangladeshi Nationalism’.  This was created to particularly challenge the identity definition of Bengali Nationalism as propagated by the Awami League.  Further, how can it also be explained that even after 32 years of the assassination of Zia, the ideology of Bangladeshi Nationalism still attracts support from a very sizeable population of people in Bangladesh?

Off course, the political process since 1971 has been rather complex and therefore the precise answers to the above questions may be difficult to unearth.  Further, it may never be possible to grasp the totality of the processes, induced by diverse related and unrelated factors, that lead to the alienation of a large section of the Bangladesh from Mujib and his leadership.  However, there may be some pointers that could lead to an improved understanding.

Lessons from creation of Pakistan and Liberation of Bangladesh

A comparison with the creation of Pakistan and certain subsequent events may throw some lights in the right direction.  Nobody doubts that the vast majority of the Muslim people of Bengal supported the creation of Pakistan, including the leadership of many parties.  This does not however mean that they were all ideologically united under one single clearly defined Islamic political vision.  There seems to be two main reasons why various Muslim groups and the Muslim population supported the creation of Pakistan.  On the one hand, they wanted to escape from actual and perceived Hindu domination, partly the result of historical experiences and the fear that they developed about living in a future independent India under Hindu domination.  On the other hand, they wanted to develop their society according to Islamic principles.  After the creation of Pakistan, it became quite clear that not all the Muslim people of Bengal, who supported the creation of Pakistan, did so for the same reasons, and disputes soon arose as to what kind of Pakistan one should build.  One principle on which the vast majority of the Bengalis in East Pakistan was united under was on the question of their Bengali identity.  Although they supported the creation of Pakistan to safeguard their interest as Muslims, they were not prepared to allow the destruction of their Bengali identity.  The struggle to preserve their Bengali identity, together with their struggle against economic injustice and military dictatorship, lead to the 1971 Liberation War.  The struggle’s undisputed champion was Sheikh Mujib, who was called by the people ‘Jatir Pita Bangabandhu Sheikh Mujib’.   Just as before, when they struggled to create Pakistan under Jinnah’s undisputed leadership, the vast majority of the Muslim Bengalis supported the creation of Bangladesh under Sheikh Mujib, who was their brave champion.

What is General Zia’s Bangladeshi Nationalism?

Similarly, soon after the creation of Bangladesh disputes began to arise about what kind of Bangladesh one should build.  Zia created Bangladeshi Nationalism to reflect the Muslim and Bengali aspirations of the people of Bangladesh, and he has mass support in this regard.  What does this show?  Clearly, despite what the proponents of Bengali Nationalism say, a large section of the people of Bangladesh are very proud of their Islamic identity.  They want to see a future that incorporates the Bengali and Islamic elements of their experiences, way of life, culture and identity, and fuses them into one whole to march forward into the future.  The struggle for freedom of the Bengalis in Pakistan began because certain sections of the Muslim League and Pakistani ruling class wanted to obliterate element of their Bengali identity.  Similarly, the alienation of a large section of the Bangladeshi people from Mujib began, in the immediate aftermath of the Liberation War, because Bengali nationalism did not accept that eight hundred years of Islam in Bengal meant that the culture of the people of Bangladesh was based on deep Islamic roots.  What is clear is that just as in Pakistan when Bengali Muslims were not willing to allow the destruction of their Bengali identity, in Bangladesh they were not willing to allow their Muslim identity to be undermined.  They are both Bengalis and Muslims at the same time.

বাংলাদেশে কলকাতার আনন্দবাজারের দাদাগিরি

anandabazar_patrika-400x400বলাই
নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যালয়ে বাংলাদেশের সাহিত্যের গতি-প্রকৃতির ওপর একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। হাইকমিশনের উদ্যোগেই ছিল এ আয়োজন। বাংলাদেশের সুপরিচিত লেখকদের অনেকেই সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন। সেমিনারে আলোচ্যসূচীর মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশের উপন্যাসের ভাষা কী রকম হবে।সেমিনারে সভাপতি ছিলেন সুনীল গঙ্গেপাধ্যায়। বাংলাদেশের লেখকরা একে একে তাদের বক্তব্য পেশ করার পর আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের পালা এল। তিনি ডায়াসে দাড়িয়ে কাটা কাটা কথায় বলেছিলেন, বাংলাদেশের সাহিত্যের ভাষা হবে বাংলাদেশের জনগণের মুখের ভাষার কাছাকাছি, তাতে করে যদি পশ্চিম বাংলার ভাষার চাইতে বাংলাদেশের সাহিত্যের ভাষা, বিশেষ করে উপন্যাসের ভাষা যদি সম্পূর্ণ আলাদা খাতে প্রবাহিত হয়ে যায়, সেটা সকলের স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া উচিত।

ইলিয়াসের এই বলিষ্ঠ উচ্চারণ যে পশ্চিমবাংলার সাহিত্যের মোড়লদের অনেকেরই ভালো লাগেনি সেদিন সন্ধ্যাতেই তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। কলকাতার সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক আনন্দবাজার গ্রান্ড হোটেলে বাংলাদেশের লেখকদের সম্মানে একটি ডিনারের আয়োজন করেছিল। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সব লেখককে সেখানে নিমন্ত্রণ করা হলেও ইলিয়াসকে ডাকা হয়নি। আনন্দবজারের এই অভদ্র আচরণে ইলিয়াস খুব ব্যাথিত হয়েছিলেন, অপমানিত বোধ করেছিলেন। দেশে ফিরে সমসাময়কি লেখকদের কাছে সে ক্ষোভের কথা গোপন করেননি তিনি। পরে তার জবাবটাও দিয়েছিলেন খাসা। বাংলাদেশের উপন্যাসের ভাষা কিভাবে বাংলাদেশের মানুষের মুখের ভাষার অনুবর্তী হয় খোয়াবনামা লিখে তার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেখিয়েছিলেন তিনি।

হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রগঠনের গোপন বাসনা থেকে বঙ্কিম তার আনন্দমঠ উপন্যাসে যে সোশাল ডিসকোর্স তৈরি করেছিলেন ইলিয়াস তার খোয়াবনামায় সেটাকে ভেঙ্গে খান খান করে দেন। তবে ইলিয়াস আনন্দমঠের ডিসকোর্স ভাঙতে পারলেও আনন্দবাজার গোষ্ঠীর তাতে খুব সমস্যা হয়নি। কারণ এক ইলিয়াস প্রতিবাদ জানালেও বাংলাদেশের নামকরা অনেক জিনিয়াসই ততদিনে দাদাদের পকেটে ঢুকে গেছেন। আনন্দবাজার ভেতরে ভেতরে তার হিন্দুত্ববাদী আদর্শকে লালন করলেও উপরে উপরে অসাম্প্রদায়িকতার মিথ্যা বুলি আউড়ে যাচ্ছে। আসলে আনন্দবাজারের চোখে বাংলাদেশ কখনই স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়নি। বরং তারা বাংলাদেশকে বরাবর ‘ছোটভাই’ হিসেবে দেখতেই অভ্যস্ত। প্রযোজনে একে ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ব্যবসায়িক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে তারা।

humayunsunil

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম লেখক। তার লেখার ধরন, মান নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন কারোরই নেই। এপার-ওপার মিলিয়ে সমসাময়িক লেখকদের তুলনায় জনপ্রিয়তায় তার অবস্থান ছিল শীর্ষে, এ নিয়ে দ্বিমত করলে বাজিতে হারতে হবে। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকাগুলো বিশেষ সংখ্যা বের করেছে। আর আনন্দবাজার হুমায়ূনের মৃত্যু সংবাদ ছেপেছে টুকরো খবরে। শিরোনাম ছিল ‘প্রয়াত কথাকার হুমায়ূন আহমেদ’। আনন্দবাজার গোষ্ঠী তাদের দেশ পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় হুমায়ূনের লেখা ছাপতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও হুমায়ূনের মৃত্যু সংবাদ তাদের মনে শোকের ভাব জাগায়নি। কারণ জীবীত হুমায়ূনকে নিয়ে ব্যবসায় সুযোগ থাকলেও মৃত হুমায়ূনে তাদের কোনো আগ্রহ ছিল না।

অথচ একই বছরের ২৩ অক্টোবর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর আনন্দবাজার আট কলামে ব্যানার শিরোনামে সংবাদ ছেপেছিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠতে পারে, একই অঙ্গনের জনপ্রিয় দুই ব্যক্তিত্বকে নিয়ে পত্রিকায় কাভারেজ দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বৈষম্য কেন? এক কথায় এর উত্তর হলো, ব্যবসায়িক স্বার্থ। সঙ্গে সাম্প্রদায়িক চেতনা। সাহিত্যের ক্ষেত্রে আনন্দবাজার এমন একটি ভাব দেখায় যেন তারা বাংলা সাহিত্যের একমাত্র ধারক ও বাহক। অভিভাবকও। তাই বাংলাদেশের সাহিত্যের বাজারটাও তাদের দখলে থাকাটাই বাংলা সাহিত্যের জন্যই মঙ্গলজনক। এ বাজারটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তারা নানারকম কূটকৌশল নিয়ে থাকে। সেগুলোর প্রকাশও নানারকম। কখনো বাংলাদেশের কোনো লেখক-লেখিকার বই ছেপে বিতর্ক সৃষ্টি করে পয়সা রোজগারের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে, কখনো এ দেশের লেখকদের একাংশকে সম্মাননা দিয়ে নিজেদের স্বার্থরক্ষার খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আনন্দবাজার গোষ্ঠী। আর কোনো ব্যক্তিকে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ সিদ্ধির অন্তরায় মনে করলে তাকে সমূলে ধ্বংস করতেও কখনো কুণ্ঠিত হয় না তারা। আন্দবাজারের ষড়যন্ত্রের কারণে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি লাঞ্ছিত হয়েছে।

এখানে প্রসঙ্গক্রমেই এসে যাবে তসলিমা নাসরিনের কথাও। ভারতে মৌলবাদীরা যখন বাবরি মসজিদ ভাঙলো এবং তার জেরে ধরে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় সপ্তাহখানেক সময়ের মধ্যে প্রায় এক হাজার মানুষ খুন হয়ে গেল তখন পৃথিবীজুড়ে মানুষ ভারতের দিকে সমালোচনার আঙ্গুল তুলেছিল। তারা বলেছিল ভারত একটি নিপীড়নকারী রাষ্ট্র, সেখানে সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা নেই। এ নিয়ে ভারতীয় বুদ্ধিজীবীমহল যখন চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিল, ঠিক তখনই তাদের সামনে ‘আলোর রেখা’ হয়ে হাজির হয়েছিল তসলিমা নাসরিনের ‘লজ্জা’। ‘লজ্জা’ দিয়ে নিজেদের অপরাধবোধ চাপা দেওয়ার মস্ত সুযোগ পেয়েছিলেন তারা। আনন্দবাজার তসলিমার একটি ভাবমূর্তি তৈরি করতে টানা তিন বছর ধরে ক্রমাগত চেষ্টা করে গেছে। এপার-ওপার বাংলায় তাদের পোষা বুদ্ধিজীবীরা তসলিমাকে নিয়ে অব্যাহতভাবে কলম চালিয়ে গেছেন। লজ্জাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল সেদিকে বিশ্বের নজর ঘুরিয়ে দেওয়াই ছিল তাদের মূল কাজ। যাতে ভারতের সংঘটিত দাঙ্গার ওপর থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘুরে যায়। বাস্তবে তা হয়েছিলও বৈকি! বাংলাদেশে বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার দাবি উঠেছিল।লক্ষণীয় বিষয় হলো প্রয়োজন শেষে আনন্দবাজার কিন্তু তসলিমাকে ঠিকই ছুড়ে ফেলেছে।

সাহিত্য ছেড়ে খেলার মাঠের দিকে এগুলেও একই চিত্র পাওয়া যাবে। ক্রিকেটে আজ বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত শক্তিই বলা যায়। আজ এ খেলায় বাংলাদেশকে বলে-কয়ে হারানোর দিন শেষ। কিন্তু ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো সাফল্যই আনন্দবাজার গোষ্ঠীর বাহবা পায় না। গত ৪ নভেম্বরে এক-দিবসী ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। পরদিন বাংলাদেশের পত্রিকাগুলো এ নিয়ে প্রধান বা দ্বিতীয় শিরোনামে খবর ছাপলেও আন্দবাজারে একটি লাইনও লেখা হয়নি। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল ঢাকায়। টেলিগ্রাফ, বিবিসি, ক্রিকইনফো, সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের রিপোর্টে বলা হল, ঢাকায় দুর্দান্ত অনুষ্ঠান হয়েছে। অথচ একই অনুষ্ঠান কাভার করে আনন্দবাজারের গৌতম ভট্টচার্য্য যে লেখা লিখলেন তাতে মূল বিষয় বাদ দিয়ে সাংবাদিকদের একটু হেটে প্রেসবক্সে ঢোকার কষ্টটাকে ফুটিয়ে তোলাতেই নজর ছিল বেশি। অথচ গৌতমরা ভুলে যান, ১৯৯৬ সালে কলকাতা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ওপেনিং করতে গিয়ে লেজার শোর নামে কেলেঙ্কারি করে ফেলেছিল। সেদিন সারা পৃথিবীতে ‘ছি ছি’ পড়ে গিয়েছিল। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ একযুগ পার করলেও আজ পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশকে তাদের দেশে খেলার আমন্ত্রণ জানায়নি। এ নিয়ে কিন্তু আনন্দবাজারের কোনো রা নেই।

সাহিত্য, খেলা ছাপিয়ে যদি রাজনীতির কথা ওঠে তো দেখা যাবে সেখানে আরেক কাঠি এগিয়ে আছে আনন্দবাজার গোষ্ঠী। যে পত্রিকায় হুমায়ূনের মৃত্যু সংবাদ ছাপা হয় টুকরো খবরে, নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশের খবরই ছাপা হয় না, সেই একই পত্রিকায় বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে খবর ছাপা হয় হর-হামেশা। যেন বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তাদের আগ্রহ অসীম। যদিও সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে তারা বেশিরভাগ খবরেই বস্তুনিষ্ঠতার ধার ধারে না। বরং নিজেদের মতো করে একপাক্ষিকভাবে খবর প্রকাশের দিকেই মনোযোগ বেশি। সম্প্রতি প্রায় প্রতিদিনই আনন্দবাজারে বাংলাদেশ নিয়ে খবর থাকছে। খালেদা, হাসিনা, এরশাদ, জামায়াত কবে কখন কী করল, কী বলল তার সবই নিজেদের মতো ছাপছে তারা।কিছুদিন আগে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তারেক রহমানকে আইএসআইয়ের সহযোগী বানিয়ে সংবাদ ছাপিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল তারা। জামায়াত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোপনে নাশকতার চেষ্টা করছে, জঙ্গি দল গঠন করছে বলে খবর ছড়াচ্ছে তারা। অথচ আগামী লোকসভা নির্বাচন ঘিরে বিজেপির মতো কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল যে কংগ্রেসকে চোখ রাঙাচ্ছে সেদিকে যেন চোখ নেই আনন্দবাজার গোষ্ঠীর। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে বলে আনন্দবাজারের যে উদ্বেগ সেই একই উদ্বেগ ভারতের বেলায় দেখাচ্ছে না তারা। মূল কথা হলো বাজার দখলে রাখা। সেটা সাহিত্য-সংস্কৃতি থেকে শুরু করে, রাজনীতি, অর্থনীতি সবখানেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে তাদের বাজার দখলে রাখতে সুবিধা হয়, তাই বিএনপির উত্থান ঠেকাতে তারা মরিয়া।

জামাতের জঙ্গি আচরণেকে ইঙ্গিত করে আসলে তারা বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে চায়। তাই আওয়ামী লীগ আমলে ফেলানি হত্যা, তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি না হওয়া কিংবা স্থল সীমান্ত চুক্তি নিয়ে মমতার অনাগ্রহ নিয়ে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে নীরব ভূমিকা পালন করে।তবে বাজার দখলে রাখার ক্ষেত্রে বিএনপি বেশি সুবিধা দিলে আওয়ামী লীগকে ছুড়ে ফেলতে এক মুহূর্তও ভাববে না তারা। যে বাঙালী জাতিয়তাবাদের কথা আনন্দবাজার বলে বেড়ায় সেটা আসলে সাম্প্রদায়িক চেতনায় ধারণ করা জাতীয়তাবাদ। বস্তুত আমাদের অসাম্প্রদায়িক ভাবনার সঙ্গে তাদের জাতিয়তাবাদের ধরন মেলে না। ব্রিটিশ আমলে দ্রুত ইংরেজী শিখে ইংরেজের দালালি করে কাচা পয়সা রোজগার করে যে মধ্যবিত্ত বাঙালী হিন্দু শ্রেণী বিকাশ লাভ করেছিল সেই শ্রেণীর বানানো হিন্দুত্ববাদী জাতিয়তাবাদেকই ধারণ করছে আনন্দবাজার।

এখনো মুসলমানদের পিছিয়ে পড়া আতরাফ জনগোষ্ঠীর অংশ ভাবতেই পছন্দ করে তারা। আর নিজেদের ভাবে আশরাফ। নিজের অঞ্চলে নিজেদের ভাবনা প্রতিষ্ঠা করলে সমস্যা ছিল না, সমস্যা তখনই বাধে যখন তাদের ভাবনা তারা জোর করে আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে বাণিজ্য করে যায়।

The Hay Festival Dhaka: The Potemkin Village of the Secular Liberal Elite in Bangladesh

anams

Nuraldeen  argued that our ‘illiberal’ cultural elites and their supportbase are comfortably numb and vulgarly civil when it comes to the celebration of ‘culture’ as they ignore the  turbulent political context  and questionable political process behind the formation of a cultural event. With a special request from a guest writer Jamuna we’re running this article that critically examines the political context of Hay Festival Dhaka and the role of our cultural elites. The Blog was originally published in Khichuri on 15th November,2013.

By Jamuna

In the next few days, Bangladesh’s ‘liberal’ ‘secular’ establishment will convene at the Hay Festival Dhaka. Just like the original  Hay Festival in Wales, the event will assemble a bevy of personalities who dominate the English-speaking public sphere. It is a time for publics to explore, for a chosen few new writers to gain exposure and approval, established columnists to issue compilations, publishers to push their wares and agendas, and intercultural interpretation.

Big names such as Pankaj Mishra, Ahdaf Soueif and Tariq Ali will be joined by more local figures such as Tahmina Anam, who is a co-organiser and a rather dull novelist as well as a key gatekeeper between literary establishments in Bangladesh and Britain. Ms Anam’s father, Mahfuz Anam is the editor of the Transcomm Group associated Daily Star, Bangladesh’s largest English language daily, on-and-off cheerleader of the Awami League regime and – wait for it – the title sponsor.

Cultural inbreeding and nepotism are not a new phenomenon in any society, after all The Krays were brothers and the Redgraves are fabulous, but it makes Hay Dhaka intriguing, worrying and important not to take at face value given Anam Snr’s recent warning that The Sons are Coming. It is intriguing because we can read into its inclusions and silences about Bangladesh’s contested cultural frames, and concerning because – like the debate around the Commonwealth Heads of Government meeting in nearby Sri Lanka – one questions the wisdom of organising such an event in a country that is in the midst of such tumultuous transition, and crackdown on dissent.

Granted, the level and nature of state violence and suppression witnessed this year could hardly have been foreseen in the festival’s planning horizon. But what is concerning is that the festival is in collaboration with the cheerleaders and PR men of the Awami League regime: people who have covered up, justified and even applauded their violent actions. This regime and its client intelligentsia have serious questions to answer for gross human rights abuses, including: the mass killing of unarmed demonstrators in May; the internationally discredited war crimes tribunals; the illegal closure of opposition media; and detention of human rights defenders.

Freedom of (who’s) expression?

One might also ask: why have state censors granted permission for this festival to go ahead while other, more indigenous, non-elite cultural expressions remain suppressed? The annual Mela in honour of the legendary political leader, renowned as the Red Maulana and Father of the Oppressed, Moulana Bhashani in Tangail that was due to commence on his 37th death anniversary next week has been refused permission. Furthermore a demonstration by the community-based religious establishment, demanding investigation of the killings of 6th May in Dhaka, was pencilled in for Friday 15th. But this has been challenged by the government’s own religious puppets hungry for coalition seats in the next parliament.

posters

We might conclude that Hay Dhaka is more than a legitimising PR exercise, but that thought control, patrol and presentation are key functions of it. Indeed, such bread and circuses have their place and provide some relief for the world-weary, but in Bangladesh’s climate of fear, massacre and political illegitimacy, they also need to be read as they are and through the sycophancy, flattery and pretentiousness upon which they are based.

Assembling a Potemkin Village

Legend has it that the aristocrat Grigory Potemkin erected fake settlements along the banks of the Dnieper River in order to impress his lover, the Russian Empress Catherine II during her visit to Crimea in 1787. This ruse is now known as the ‘Potemkin village’, a phrase to describe literal and figurative constructs whose sole purpose is to dupe observers with an agreeable depiction of affairs. So keen was Potemkin to influence his lover, his villages became mobile, were demolished and then rebuilt downstream to keep up with Catherine’s barge, with his own men pretending to be the local peasant population.

Fast forward to two and a half centuries to Dhaka in November 2013 and we see another Potemkin village reassembled by the Dhaka Metropolitan elite for its literary development partners in front of the hallowed grounds of the Bangla Academy. Just like an end of year review put on for parents and school governors, we have the usual assemblage of actors, wealth, echo chambers, clichés, and cronies, courtesy of The Daily Star. No mention of massacres by security forces,  kidnapping and detentions of political opponents, the hounding of dissent and the muzzling of the opposition press, or the controversial war crimes tribunals. Instead, visitors will be treated to the airbrushed Never Never Land of Golden Bengal, the land of tolerance and sophistication, with a smattering of Nazrul Islam, Tagore and Lalon.

The Usual Suspects

Providing media promotion and a fair chunk of economic capital is the aforementioned Mahfuz Anam, school master of ‘right thinking’ secular liberals everywhere and a media baron popular in diplomatic quarters. Another Daily Star luminary, Syed Badrul Ahsan, The Oracle and Keeper of the True Historical Record, makes a cameo appearance, ironically in a session on short stories. His adulation of the Prime Minister and applause for her government’s brutality grows more deranged with every passing day. The model student, co-organiser and schoolmaster’s daughter, Tahmima Anam, graces the stage twice over the festival, including once in a cringingly titled ‘Best Young Novelist’ session. Nepotism? Who? Us?

In a set up whose geopoetics could not be made up, we see Zafar Sobhan, understudy to the school master for so many years, currently trying to edit pro government propaganda sheet, the Dhaka Tribune. At the festival he is moderating a conversation about ‘Egypt and Beyond’ with Ahdaf Soueif and a random Etonian. Soueif’s justification, then tepid explanations of the Egyptian coup and the violence against those deposed – together with Sobhan’s participation in the government disinformation campaign regarding this May’s Dhaka Massacre – are interesting parallels to explore from the point of view of reputational risk management at home and abroad in a time of massacre and injustice. It has been a bloody year in both the Bengal and Nile delta’s, with the origin of fascistic violence clearly emanating from the purportedly secular liberal quarter in both cases. #Tamarod and #Shahbag, in polite and less polite forms, have much in common with each other for those who reflect.

From a technocratic point of view, the programme has much to praise, official diversity guidelines and feedback from the previous festival have been responded to, there are sessions in Bengali, coverage of other languages and dialects, Zafar Iqbal has been let loose on the children and the country’s Shi’i Muslim literary heritage even gets a look in. The highlights promise to be Pankaj Mishra’s interventions, his recent book ‘From the Ruins of Empire: The Revolt against the West and the Remaking of Asia’ offers – ironically – the most interconnected and sympathetic perspectives on pan-Islamism in the subcontinent permitted at the event, and may serve as a safe portal for alternate political imaginaries.

Conclusion: Last Days of Empire

The Hay Festival in Dhaka represents the completion of a narrative which began with Macaulay’s Minute on Indian Education and terminates with the internalisation of Anglo-Saxon culture by the hegemonic establishment elites of Dhaka, as exemplified by the festival’s corporate media backers. This is a process whose ramifications on Bangladesh have been covered extensively by Nurul Kabir, the editor of the New Age newspaper.

However, as any student of Hindu theology will explain, the completion of a cycle or narrative results in its Shiva-like destruction and the creation of new cycle. This dance of Shiva has been and is continuously being played out in the streets of Dhaka, and in the many mufassil towns and villages dotted across the country. Starting with the police firings of 28th Februarythe Long March on 5th April and the 5/6th of May Massacre, the political chemistry and discourse of the country is being transformed by a resurgent expressions of Muslimness, deriving inspiration not just from Westminster, but the hallowed and sacred grounds of Mecca and Medina and the Bengal Muslim’s own heritage. This is visible in the  Bangladeshi Prime Minister’s own recent claim that her government would be run according to the Medinan charter of the Prophet Muhammad. These trajectories of Political Islams in the country have not been set in stone, as all the major political players, from the Awami League, BNP, Jamaat to the ‘new kids on the block’, Hefazot-e-Islam and Tariqat Federation are all trying to capture, fashion and benefit from them.

Hay Dhaka 2013 presents a largely besieged mentality, of an elite trying to hang onto illusory certainties in turbulent times and an absolute failure to connect with the masses in whose names they claim to speak, as epitomised by the program of the festival and its Potemkin-like objectives. We have been here before, several times. The medieval Arab historian Ibn Khaldun gave the average empire/dynasty the lifespan of 150 years. Time travelling back from Dhaka to Delhi just over 150 years, and one might perceive a resemblance with a scene of a decadent outdated elite being replaced by a more contemporary vigorous movement.

The scene is that of 1857, and the last day of the Mughal Empire after the failed Indian Independence War. There is an apocryphal story that the last Mughal Emperor, Bahadur Shah II, called one final session of the court. In full knowledge of the failure of the uprising against the British which he symbolically led, the Last Emperor invited the poet Ghalib to the Empire’s last supper. Amidst the backdrop of a burning city besieged by the British, the Emperor and his courtiers sought solace in their wine cups and each other’s company in the Red Fort. They listened attentively to Ghalib and his panegyrics, reminiscing the past glories.

History has cyclical, linear, multidirectional and cosmic qualities. In 2013 the besiegers have now become the besieged.  In this historical loop in Dhaka, the metropolitan elite, the descendants of earlier besiegers the British Raj, are themselves besieged in the Hay Festival, their version of the Red Fort by the descendants of those who lay besieged in an earlier age. One historical cycle was representing an aggressive Europe, the other a resurgent and ever increasingly confident Muslim identity.

উইকেটাধিকার চাই

বাংলাদেশে গত কয়েকদিনের পত্রিকায় রাজনৈতিক সংঘাতে নিহতদের সংখ্যা দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন হিসাব মতে গত এক বছরে হেফাজতের আন্দোলনে নিহতদের ছাড়াই প্রায় দুইশতাধিক মানুষ রাজনৈতিক সংঘাতে মারা গেছে।

এত এত মানুষ একদিনে মারা যান নি। এই বছরের ফেব্রুয়ারী থেকে থকে শুরু হয়েছে এই সংঘাত, আর পরিণতিতে মৃত্যুর ঘটনা। এই মানুষদের যদি যদি একটা এদের মৃত্যুর কারণসহ তালিকা করা হয় তাহলে সেই তালিকায় সবচেয়ে বেশি থাকবে কোনটা জানেন? পুলিশের গুলিতে মৃত্যু।

এই একমাসে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে বগুড়ার ইউসুফ; সিরাজগঞ্জের সাকমান; কুমিল্লার দেলোয়ার, বাবুল; ফরিদপুরের মারুফ; কক্সবাজারের বাদশা, মিজান; চাঁদপুরের আরিফ, সিয়াম, রতন, তাজুল ইসলাম; নাটোরের সুজন; ফেনীর মফিজুর; চট্টগ্রামের শরিফুল ইসলাম; সাতক্ষীরার হোসেন আলী, আরিজুল ইসলাম, শামছুর রহমানসহ আরও অন্তত দশ থেকে বারোজন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে আমরা একজন মনির কিংবা গীতা সরকারের কথা জানি। আমরা জানি নাহিদ-বাবুসহ রহস্যজনক আগুনে নিহত দশ থেকে বারোজনের কথা। তাদের কাদের কি অবস্থা, তার প্রতিটা খবর এদেশের “রাজনীতি সচেতন” কথিত সুশিল সমাজ রাখেন। তাদের সব আপডেট জানার জন্যে টিভির সামনে বসে থাকে সুশিল হওয়ার চেষ্টারত আমাদের মধ্যবিত্তরাও। কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি তাদের কেউই গত এক মাসে পুলিশের গুলিতে নিহতদের একজনের নামও জানেন না। বলতেও পারবেন না। অথচ পুলিশের গুলিতে নিহতের সংখ্যা নাশকতায় নিহতদের দ্বিগুন থেকে তিনগুন।

কারণটা খুব সহজ। আমাদের মিডিয়া এদের ব্যাপারে নীরবতা পালন করে। বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মী মারা গেলে সে আর তখন মানুষ থাকে না তাদের কাছে, তারা পরিণত হয় একেকটি উইকেটে । একজন রাজনৈতিক কর্মী মারা যাওয়া মানে একজন মানুষের মৃত্যু না, একটা উইকেটের পতন। এই ‘উইকেটগুলোর’ কোন মূল্য আমাদের মূলধারার মিডিয়ার নেই। এই উইকেটগুলোর যে বাবা-মা আছে, এদেরও যে স্ত্রী-সন্তান আছে, এরা মারা যাওয়ার পর তাদের পরিবার কি অবস্থায় আছে, এদের সন্তানরাও যে মৃত্যুর পর হাউমাউ করে কাঁদে, এদের পরিবারও যে এদের মৃত্যুর পর অভাবে-অনটনে দিন কাঁটাচ্ছে- তা মূলধারার মিডিয়ার মাথাব্যাথার কারণ নয়।

এক অন্তঃসত্ত্বা গার্মেন্টসকর্মী বাসায় চুলার আগুনে পুড়ে রসিয়ে রসিয়ে মিথ্যা গল্প বানিয়ে বললেও তার জন্যে পত্রিকার প্রথম পাতার দুই কলাম বরাদ্দ রাখা হয়, কিন্তু বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক কর্মীর বুক পুলিশের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গেলেও তার জন্যে বরাদ্দ থাকে পত্রিকার এক লাইন। উলটো বুক ঝাঁজরা হওয়ার খবর অনলাইন ভার্সনে থাকলেও সকালের মূল পত্রিকায় তা গায়েব হয়ে যায়। এই নিহতদের কোন স্বজনের আহাজারির ছবি পত্রিকায় আসে না, চ্যানেলগুলো প্রচার করে না।

পুলিশের গুলিতে বুক ঝাঁজরা হয়ে যাওয়া সিয়াম এবং মাথায় গুলি লাগা রতন

পুলিশের গুলিতে বুক ঝাঁজরা হয়ে যাওয়া সিয়াম এবং মাথায় গুলি লাগা রতন

এই উইকেটগুলোরও যে কিছু অধিকার আছে, তা আমাদের মিডিয়াকর্মী বা সুশীল সমাজ চেপে যায়। এরা হচ্ছে তাদের কাছে নিছকই বলির পাঁঠা। বাকি সবাই মানুষ। আর তারা তো অতি উচ্চশ্রেণীর মানুষ।

পতিত স্বৈরশাসক এরশাদ জীবনে হাজার হাজার মিথ্যা কথা বললেও গতকাল একটা সত্য কথা বলেছেন

আওয়ামী লীগ যখন মারে, তখন নীরবতা দেখি। কারণ, বেশির ভাগ কবি ও সাংস্কৃতিক কর্মী আওয়ামী লীগের দিকে। তাই তাঁরা কবিতা লেখেন না। দুঃখ পান না।

যেমন, বিপরীত ধারার কেউ অন্যায় করলে বের হয় মোহাব্বত আলীর একদিন, নিজ ধারার কেউ অন্যায় করলে লেখা হয় এই লজ্জা কোথায় রাখি

Our ‘Comfortably Numb’ Citizens and Their Vulgar Civility

1

comfortably-numb-brick

By Nur Hossain

In reply to my article in ‘Classical Music Festival 2013, India and our vulgar civility,’ published in this blog, writer Tibra Ali in a blog of AlalDulal, borrowing a term from the Czech writer Milan Kundera, accused me of being a Political ‘Misomusist,’ to refer a person who hates arts.

He dismissed my effort of raising an important point about the political process behind this festival as ‘pot-shot,’  that tries to invalidate the rich and shared cultural heritage of South Asia.

Ali, further mentions that against his intention, he had to write criticism of my ‘so called political commentary ’ cause he is worried that people might be misguided with my intention of raising a point about politicisation of our culture space and he stresses that events such as Bengal Music Festival celebrating Indian classical music requires to be evaluate apolitically, otherwise we’ll do a ‘great disservice to us as people.’

I think, Ali’s careless use of words such as ‘pot-shot’  to reject my argument without defining ‘pot-shot,’  his intention of not explaining the historical context behind the emergence of the term ‘Misomusist’  and  how it applies in my case, reveals what I call a ‘fundamentalist’ pattern in his reaction. This pattern underpins emotional not logical reaction of a person who is not willing to accept logical discussion and engage in a respectful debate on an issue or belief that is close to their heart.

We see such reactionary pattern in radical Christians or radical Hindus or radical Islamist who use ‘quotes from Holy Books’ to dismiss opposing views but ignore explaining the historical context behind the emergence of such quote and relevance of using it in present context. Researchers found that in most cases, literal use of quotes or terms, that were emerged in a historical context, does not do any justice to the term itself if  used in present context. Therefore, I am interested to know more about the history of ‘Misomusist’ and relevance and explanation for using the term to define my work.

Before going into the main response, let me clarify two points raised by Ali. Firstly, quoting Afsan Chowdhury, Ali said, usage of Felani in my writing serves ‘narrow political purpose.’ This is an  interesting and a vague statement. If I agree with Ali and Chowdhury, I wonder, would they agree with the argument that the construction of Jahanara Imam as a Shaheed Janani, or Bangabandhu as the Father of the Nation too serves narrow political interests?Even if they agree, one would raise the question, so what?  I’m in support of ‘narrow political interest’ as I think this is the reality in which we have to live, at least at the moment.

Secondly, I think Ali is right in spotting the disconnection between my careless use of ‘public demand’ and ‘a section of upper middle class’ in my writing. Even though I did not mean upper middle classes are excluded from public, my careless use of the two variables gave such impression to Ali. I think this is a fair point. Let me now answer main criticisms’ of Ali.

My Response

This is a useful effort of Ali to raise an important point about the usefulness of cultural exchange across nation states. It is true that without exchanging various languages of cultures i.e music, cinema, drama, visual arts, people across nation states wouldn’t have learned about diverse customs of the world and be respectful of each other. Therefore, I agree with Ali that sharing and celebrating cultural products across nation states is an absolute necessity.

However, I’m afraid that Ali missed the whole point of my writing. While I’ve been trying to raise awareness about the political process behind the organisation of such ‘musical festival,’ Ali seems busy justifying the usefulness about the content or ‘art’ of the festival. I find premise of such criticism is irrelevant, misguided and unnecessary as a reply to my piece as both of us are answering different questions.

However, Ali’s delusional approach about ignoring the political process behind organisation of this ‘musical festival’ makes my point stronger. An audience must know about the political process through which this event was organised. One must also know why they are listening to this genre of music at a period when India- Bangladesh are striking what Badruddin Umar said, ‘unclear deals supporting Indian imperialism in Bangladesh and against the interest of Bangladesh’ and when powerful Bangladeshi liberals decide to cover up/ not questioning dirty tale of political and economic arrangement between AL and India, subverting public interest.

One must know further, who are the key actors behind this festival and what is the broader objective behind this program. Or why pro-government and anti-BNP civil society forces alongside with Indian High Commission officials have seen to be supporting such program. Or what is the key objective behind the promotion of ‘what ITC-SRA,’ one of the organisers of the program, says, ‘propagation of Hindustani Classical Music in Bangladesh?’  and finally why this program is exclusive of  presence of any BNP leader in capacity of guests? Is it incidental? I guess, these are not co-incidence and apolitical arrangement!

Awareness about the nexus between the process of a production and identification of actors involved with production and the nature of the content of production have always been a politically significant question. Otherwise, the liberals of Bangladesh or a section of it, wouldn’t raise questions about the nexus between extremism and some  preaching session or Waz Mahfils, content of which may soothe some listeners’  apolitical spiritual hunger only. The point is, it is plausible to evaluate Waz Mahfils apolitically but that does no rule out the political side of that Mahfil.

Similarly, one must acknowledge that application of an apolitical framework to understand ‘classical music festival’ does not invalidate the political nature of the event or nullify political aspect about heavy engagement of influential political actors of certain quarter behind this program.

I argued that this festival is an event promoting public diplomacy of Bangladesh and India, supported by the partnership of two corporations (Bengal and ITC-SRA), to influence public attitudes in a manner that they become supportive of their foreign policy and national interests. I stand by my point.

I argue that the political intention of this event is to neutralise negative public image of AL-India nexus that has been striking ‘unclear deals’ and now undermining public voice while ready to put peoples’ lives in danger knowing that BNP would unleash a violent protest if AL does not step down even though 90% people of the country said they want an election under a neutral caretaker government. I also defend the using  the death of Felani as a symbol that refers Indian disregard to the  people of Bangladesh. I see there is little scope of disconnecting the timing of this event and political upheaval on the ground as organisers of this festival and mastermind of political doldrums are close allies, if not same actors.

Therefore, my point about our vulgar civility of not protesting double standard of Indian policy is justified.

Finally, I am in full favour of exchanging cultural languages across political boundaries. I am also in favour of celebrating ‘Hindustani Music’ in Bangladesh and Bangladeshi music in India. I think constructive flow of cultural ideas is an important aspect to underpin cultural bondage between two countries  in order to serve common political interest.

However, I am not in support of Ali’s apolitical approach, if it is not intentional, to understand this event. I call Ali’s approach a ‘comfortably numb’ approach, borrowing the title from a famous Pink Floyd song, to underpin his state of delirium detached from reality to justify his disregard to political process of this program. For that matter, his effort of borrowing a term from Milan Kundera to define me as a ‘Misomusist’ is a reflection of his ‘comfortable numbness.’ This is a poor choice to justify his ‘vulgar civility’ by which I mean selfish and unquestionable justification of endorsing a process deeply rooted in a questionable political arrangement which formed a legacy to disregard popular opinion of Bangladesh.

ভারতীয় চেতনানাশক ‘স্বাধীনতার চেতনার’ মাদক ও বিপন্ন গার্মেন্ট শিল্প। বাংলাদেশটাকে বাঁচান প্লীজ!

???????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????

 

পটভূমি 

এদেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ভাবে গণতন্ত্রের চর্চা করে প্রতি ৫ বছর পর পর একবার। এই পাঁচ বছর পরে একটি দিন মানুষ সত্যিকারভাবেই ক্ষমতার মালিক হয় । এবারকার ভোট পদ্ধতি নিয়ে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৯০- ভাগ মানুষ চায় তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। অথচ এই একটি দিনের জন্যও শেখ হাসিনা জনগনকে বিশ্বাস করছেনা। যদিও তিনি জনগনের প্রধান মন্ত্রী। তার মানে হচ্ছে শেখহাসিনার ক্ষমতার উত্স আর জনগণ নয়। তার ক্ষমতার মূল হচ্ছে ভারত। এর মানে কি দাড়ালো? নিজ দেশেই এদেশের জনগণ পরাধীন।কারণ তার গণতান্ত্রিক ভোটাধিকারের প্রক্রিয়া ঠিক করে দেয় আরেক দেশ।

ভারতীয় চেতনানাশক মাদক  ‘স্বাধীনতার চেতনা’ 

ভারত চায় যে কোনো মূল্যে শেখহাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে। এর ফলে ভারতের অর্থনৈতিক লাভ অনেক। আর আওয়ামীলীগের লাভ হচ্ছে দেশের সবথেকে বড় প্রতিবেশী ভারতের ছত্রছায়ায় তার শত্রুপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করা।এই লক্ষ্যে এখন মনে হচ্ছে ভারত এবং আওয়ামিলিগ কাজ করছে গত কয়েক বছর ধরে।এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় চলেছে সংবিধানে তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করা যদিও এ ব্যাপারে আওয়ামিলিগ জনগনের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নেয় নাই। অর্থাৎ তারা নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে এ ব্যাপারটি রাখেনি। একারণে আমরা একে সংবিধান-ক্যু বলতেই পারি।

এ ব্যাপারটি থেকে জনগনের দৃষ্টি সরিয়ে রাখার জন্য তৈরী করা হলো নাটক। নাটকের নাম শাহবাগ। মঞ্চের অভিনেতাদের মধ্যে আছেন এসময়ের তুমুল জনপ্রিয় কিছু শিক্ষক, সংস্কৃতি কর্মী-যাদের মধ্যে বলা হয় বেশ কয়েকজন ভারতীয় এজেন্ট। অবশ্য কোনো প্রমান নেই। উনারা গানের তালে তালে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিলেন এবং স্বাধীনতার ফেন্সি চেতনার নামে তরুণ সমাজকে গৃহযুদ্ধের ফর্মুলা ধরিয়ে দিলেন। টিভিতে, পত্রিকায়, ব্লগে সব জায়গায় দেখা যায় স্বাধীনতার চেতনা। আসলে এটা চেতনানাশক চেতনা। নাহলে যখন দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় দিনের পর দিন লোক মরছে , ব্যবসা-বানিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম, স্কুল কলেজ বন্ধ, তখনও চেতনা-নাশক ড্রাগে তরুণ সমাজ ঘুমিয়ে! স্বাধীনতার চেতনা নিশ্চয় ছিলোনা দেশকে মোটামুটি বসবাসের অযোগ্য করে তোলা?১৯৭১ ছিলো দেশ গড়ার যুদ্ধ আর ২০১৩র কথিত দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের নাম ভাঙ্গা হচ্ছে দেশ। এর কারণ ভারত চায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষতি। লাভ ভারতের। সংকীর্ণ দলীয় চিন্তায় আওয়ামিলীগ ও আটকে পড়েছে ভারতীয় জালে।

চেতনার মাদকের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আমাদের গার্মেন্ট শিল্পের ভয়াবহ সংকট 

ভারত কেনো আওয়ামীলীগকে একতরফা সাহায্য করছে?দুই কারণে।অর্থনৈতিক সুবিধা এবং নিজ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায়। প্রথিতজশা চিন্তাবিদ বদরুদ্দিন উমর বলেছেন,’হাসিনা সরকারের একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানে মদত জুগিয়ে ভারত আর সাম্রাজ্যবাদী চেহারা উন্মোচন করেছে।’ বদরুদ্দিন উমরের দাবি গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামীলিগ সরকার রাষ্ট্রের স্বার্থের বাইরে যায় এমন অনেক চুক্তি করেছে। সেটা তো আছেই। এছাড়াও আওয়ামী সরকারের ঘাড়ে বসে ভারত বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের চূড়ান্ত নকশায় মেতে উঠেছে। ব্যাপারটা এখন এমন মনে হচ্ছে- আওয়ামীলীগ ধংস করবে তার বিরোধী পক্ষ আর ভারত ধংস করবে বাংলাদেশ। একটা উদাহরণ হচ্ছে – এদেশের গার্মেন্ট শিল্প।

গত ২৬নভেম্বরে নয়াদিগন্তের এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরী এবং নাশকতার পিছনে ভারতীয় ইন্ধন আছে। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্প খাতে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার বিদেশী কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে ২০ হাজারই ভারতীয়। একেক কারখানায় ১০ থেকে ২০ জন ভারতীয় মিলে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ নয়া দিগন্তকে বলেন, “কারখানাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এসব কর্মকর্তা এতটাই ক্ষমতাশালী যে, অনেক সময় স্বল্পশিক্ষিত মালিকদের তারাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। কৌশলে তারাই শ্রমিকদের সাথে মালিকদের সম্পর্ক তিক্ত করেন।” নয়াদিগন্তের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত আট থেকে ১০ বছরে যেসব কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ হয়েছে তার বেশির ভাগই ছিল কমপ্লায়েন্ট। এসব কারখানায় কর্মপরিবেশ ভালো, নিয়মিত বেতন-ভাতা দেয়া হয়, ওভার টাইম দেয়া হয়, টিফিন থেকে শুরু করে বেশির ভাগ যুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেই এসব কারখানার শ্রমিকেরা সন্তুষ্ট। অথচ কখনো রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক মৃত্যুর অজুহাতে, কখনো শ্রমিক গুম কিংবা টয়লেটে ভূত থাকার মতো গুজব ছড়িয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করানো হচ্ছে এসব কারখানায়। কার লাভ হচ্ছে এসব করে?

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ালস্ট্রিটজার্নাল পত্রিকায় প্রকাশিত গত ২২ মার্চের প্রতিবেদনে দেখা যায় ‘স্বাধীনতার চেতনা’ সংক্রান্ত রাজনৈতিক গন্ডগোলের কারণে বিদেশী ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার সরিয়ে ভারতে দিয়েছে।গত ৫ ডিসেম্বরের ভারতের ইকনমিক টাইমস পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয় বাংলাদেশে রাজনৈতিক গন্ডগোলের কারণে ভারতের পোশাকরপ্তানী খাতের রপ্তানী প্রায় ১৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে দৈনিক প্রথম-আলোতে যাকে অনেকে গালি দেন ‘ভারতের -আলো’ নামে এসংক্রান্ত কোনো রিপোর্ট নেই।

চেতনার মাদকের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট 

ভারতীয়রা অভিযোগ করে ভারতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পরে গতবারের  বিএনপি -জামাত সরকারের আমলে। তাদের মতে পাকিস্তান ভারতকে বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করেছিল ভারতে সন্ত্রাসবাদ রপ্তানিতে। আর আওয়ামিলীগ অভিযোগ করে বিএনপি-জামাতের  একটিঅংশ হয়তো সরকারের অগোচরে পাকিস্তানের সয়াহতায় ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মত ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটিয়ে ছিলো। এ অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমান হয়নি। অনেকে বলে এটা একটা অজুহাত।

দেখা যাচ্ছে আওয়ামিলীগ এবং ভারতের সখ্যতার মূল ভিত্তি হচ্ছে শত্রু নিধন। অর্থাৎ নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি এবং অর্থনৈতিক ইন্টারেস্ট-এ এরা দুজনে দুজনার। আওয়ামিলীগ মারবে বিএনপি-জামাতকে, পাকিস্তানকে মারবে ভারত আবার বাংলাদেশকেও মারবে ভারত। এই আত্মঘাতী বন্ধনে আটকা পরেছে বাংলাদেশ।সমস্যাটা হচ্ছে এরা দেশটার জনগনের জান-মালের তোয়াক্কা করছেনা। স্বাধীনতার (পরাধীনতার) চেতনায় একটা তাবেদার সরকার দেশের কোনো তোয়াক্কা না করে, ভারতের বুদ্ধিতে নিজের দেশ ধংসের খেলায় মেতে উঠেছে, একের পর এক দেশ বিরোধী চুক্তি করছে, রাজনৈতিক স্থবিরতায় দেশকে অচল করে দিয়েছে, তার শত্রুকে ধ্বংশ করার জন্য।আরেদিক বাংলাদেশে পরম শক্তিশালী ভারতীয়রা দেশের গার্মেন্ট শিল্পের ধংসের নীলনকশায় মেতে উঠেছে।

শেষ কথা 

এর মানে কি এই যে আপনি ৭১এর মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার চাবেননা? অবশ্যই চাবেন, কিন্তু এর মানে এই না যে আপনি অন্যায়কে প্রশ্ন করবেননা? এর মানে এই না যে আপনি দুর্নীতিকে প্রশ্ন করবেননা? শ্রমিকের নায্য মজুরি নিয়ে প্রশ্ন তুলবেননা? রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে দলীয় সন্ত্রাস নিয়ে প্রশ্ন তুলবেননা? স্বাধীনতার চেতনা কি ছিল বাংলাদেশে ভারতকে একছত্র আধিপত্য দেয়া? এখনো সময় আছে স্বাধীনতার চেতনার মাদককে না বলুন। বাংলাদেশের পক্ষে দাড়ান দল-মত নির্বিশেষে।ভারতীয়দের দেখেননা তারা কতো দেশপ্রেমিক। আর আমরা? দলপ্রেমিক।দলের জন্য দেশটাকে বিসর্জন দিতে রাজি আছি। ভারতীয় মদদে তৈরী  চেতনা নাশক স্বাধীনতার বিষাক্ত চেতনার বড়ি গিলে সত্যিকারের স্বাধীনতাটাকে  বিকিয়ে দিচ্ছি। যে আবেগটা নিয়ে শাহবাগে গিয়েছিলেন সেই আবেগটা নিয়ে দেশটাকে বাঁচান। প্লীজ। গর্জে উঠে বলুন দেশটা পাকিস্তানকে দেই নাই, ভারতকেও দেবোনা।