মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বৈরতন্ত্রের নকশা এবং আপনার মানসিক সুস্থতার পরীক্ষা

1

A police officer on a street in Dhaka1031100_472316

By Nur Hossain

ছবিগুলো  ভালো করে দেখুন। স্বাধীন দেশটির এরকম রূপ দেখতে কেমন লাগছে? বুকের মধ্যে একটুও কি কষ্ট হচ্ছেনা?যদি না হয় তাহলে এই লেখা আপনের জন্যই লিখছি।

দিন বদলের কথা দিয়েছিলো আওয়ামিলীগ। ঢাকায় বসে যখন একথা লিখছি, তখন উপলব্ধি করলাম আসলেই তো। দিন বদলে দিয়েছে আওয়ামিলীগ। এতো মৃত্যু, এতো কান্না,এতো রক্ত, এতো আগুন আমার ২৫ বছরের জীবনদশায় আগে কখনো দেখিনি। আজকাল ঘর থেকে বের হবার সময় মনে হয় আর কি ফিরে আসতে পারব? আর কি দেখতে পাবো আমার মায়ের এবং বাবার প্রিয় মুখটা?এখন চারিদিকে মানুষের মধ্যে একটা শংকা,তাদের দু-চোখে ধিকিধিকি জ্বলছে চাপা ক্রোধের আগুন। প্রিয় দেশটাকে হারানোরক্রোধ। আসলে দেশটা তো হারিয়েই গিয়েছে।

কিন্তু কিভাবে আমার দেশটা হারালো? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্মাদনায়। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আওয়ামীলিগ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে স্বৈরতন্ত্র চালু করার জন্য। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আওয়ামীলিগ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে লুটতরাজ করার জন্য। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আওয়ামীলিগ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে গণমাধ্যমের কন্ঠকে বন্ধ করার জন্য। এই চেতনাকে ঢাল হিসেবে আওয়ামিলিগ ব্যবহার করেছে বিচার-ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ এবং পুলিশ প্রশাসনকে দলীয় অঙ্গসংগঠনে রূপান্তর করার যুক্তি হিসেবে।

চেতনার কথা বলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রতিবাদী মানবাধিকার সংঘটনগুলোর মুখ। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এখন মহা সমারোহে ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালে তালে চলছে একদলিয় সরকার গঠনের পায়তারা। হয়ত, দেশের ৯০% মানুষের মতকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে, সারি সারি লাশের উপর হেটে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঢাল এবং ঢাক জোরেশোর বাজিয়ে গায়ের জোরে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করেই ফেলবে। কিন্তু বাংলাদেশটা হারিয়েই যাচ্ছে। এই হারানো আর কেউ ঠেকাতে পারবেনা। যারা সবচেয়ে দরকারী ভূমিকা রাখতে পারতো সেই সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষিত তরুণরা ও আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্মাদনায় পাগলপ্রায় হয়ে পরেছে। স্বাভাবিক বিচার-বুদ্ধি লোপ পাওয়ার যোগাড়। এদের মধ্যে কিছু আছে অবস্য পেইড এজেন্ট। এদের কাজ হচ্ছে ‘নিরপেক্ষ’ থাকা। এবং এই নিরপেক্ষতার তকমা এটে দিনের পর দিন সংবাদপত্রে, ব্লগে, টিভিতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম আওয়ামীলীগের অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচারকে সাপোর্ট করা। সাধারণ ছেলে-পেলে যারা চেতনার উন্মাদনায় পাগল এরা এইসব পেইড এজেন্টদের বিষাক্ত বাণীতে দুষিত হতে হতে স্বৈরাচারের আন-পেইড এজেন্ট -এ রুপান্তরিত হয়েছে।

এখন স্বাধীনতার চেতনা মানে শুধুই বিরোধীদল দমন করা ও গুলি করে হত্যা করা । এক কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এখন পলিটিক্যাল এসাসিনেশনের আরেক নাম। আওয়ামীলিগ জানে যে দলীয় সরকারের অধীনে বিরোধী দল নির্বাচন মেনে নিবেনা। জেনে শুনে দলটি দেশকে ঠেলে দিলো আগুনের মধ্যে। শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রানী শেখহাসিনার গদি আগলে রাখার জন্য। মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। আর আওয়ামীলিগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবহার করছে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঢাল হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধের  চেতনাকে দলটি ব্যবহার করেছে মুক্তিযুদ্ধের সাথে বেইমানি করার জন্য।

দেশটা স্বাধীন হয়েছিলো কি এইজন্য? ইতিহাস পড়লে জানা যাবে দেশটা স্বাধীন হয়েছিল সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তির আশায়। আসুন গত পাঁচ বছরে স্বাধীনতায় উজ্জেবিত সরকার আমাদের দেশে কি করেছে তা দেখে নেই।

স্বাধীন রাষ্ট্রে গত পাচ বছরের সমাজ,রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকজীবনের বাস্তব চিত্র:

ইচ্ছেমত যখন খুশি গুম করা হচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিকদের। একটা স্বাধীন দেশে ট্রেন সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম, প্রতিদিন দূর-দুরান্তের হাঠে-মাঠে এবং ঘাটে মরছে দেশের তরুনরা। মারছে ও তরুনরা। বাসে আগুন দেয়া হচ্ছে, পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন দেয়া হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে বড় চাকুরীদানকারী ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাত -গার্মেন্ট শিল্পে আজ নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা। প্রায় প্রতিদিনই রাস্তায় নেমে আসে শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরির দায়ে। গার্মেন্ট মালিকেরা রাস্তায় নেমে আসছেন নিরাপদে ব্যবসার সুযোগ চাইতে। একরাতের নোটিসে দেশের সবচেয়ে বড় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হলো।মধ্যবিত্ত বিনিয়োগ কারীদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হলো শেয়ার বাজার থেকে। রাতের অন্ধকারে দূর-দুরান্ত থেকে আগত রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুবিধা-বঞ্চিত, নিম্নবিত্ত লক্ষ লক্ষ ধর্ম প্রাণ তরুনদের কুকুরের মতো মেরে ধরে রাজধানী থেকে খেদিয়ে দেয়া হলো। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংক গুলো থেকে কোটি কোটি টাকা চুরি করা হলো। কোটি লোকের জীবনের এবং ব্যবসার সুবিধা হতো যে সেতুটি হলে, নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে সে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়া হলো। একটা স্বাধীন দেশের গর্ব হচ্ছে তার সেনাবাহিনী। সেই সেনাবাহিনীর ৫২ জন সেনাকর্মকর্তাকে নির্মমভাবে এবং অত্যন্ত অপমানজনক ভাবে খুন করা হলো। তাদের হত্যার বিচারের নামে করা হলো নাটক।

শেষ কথা
একটা দেশের সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব থাকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা দেয়া। আর সরকার ম্যানেজ করার দায়িত্বে থাকে একটি দল। গত পাঁচ বছর ধরে আওয়ামীলিগ সরকারের প্রতেকটি সংস্থা ব্যবহার করেছে বিরোধী দল দমনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে। এর ফলে এখন শুরু হয়েছে চোরা-গুপ্তা হামলা। এ হামলা কে করছে তা কেউই বলতে পারছেনা। এটা বিরোধীদল ও করতে পারে, সরকারী দলও করতে পারে বিরোধীদলকে স্যাবোটাজ করার জন্য। মাঝখানে পুড়ছে মানুষ, বাড়ি-ঘর আর কোটি মানুষের মন। একটু খেয়াল করেন, আপনেরও কি এতে ইন্ধন ছিলোনা? আপনি ও কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্মাদনায় পাগল হননি? পাগলের মতো আওয়ামীলীগের প্রত্যেকটি অনৈতিক কাজকে সাপোর্ট করেননি? এখন যখন স্বাধীন বাংলাদেশের মাটি তার সন্তানদের রক্তে লাল হচ্ছে, স্বাধীন বাংলাদেশের বাতাসে শুধু শোনা যায় স্বজন হারার আর্তনাদ, আপনার কেমন লাগছে? আপনি কি এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেছিলেন? যদি করে থাকেন তাহলে জেনে নিন আপনি একজন মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষ, আপনের পছন্দের দলটির নেতৃত্বের মতই। যিনি সারা বাংলাদেশে আগুন জ্বালিয়ে, ইতিহাসের জঘন্যতম সংবিধান ক্যু করে প্রতিদিন গণতন্ত্রের এবং সংবিধানের জিকির তুলতে তুলতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অশ্লীল চিন্তায় পাগল হয়ে গিয়েছেন।

Bangladesh’s Pro-Government Supporters : Are they Intellectually defendable?

1

https://www.facebook.com/photo.php?v=657179600971982

By Shafquat Rabbee:

Although decreasing in number, openly enthusiastic defenders of the current Bangladesh government should find their defense of the government intellectually un-defendable. The ruling Awami League, which traditionally have been a center-left political party, with a massive organization from the cities to the rural towns, is behaving more like a cult of delusional suicide-teens, following an increasingly demented leader.

Gone are the concerns for ever having to contest in a democratic election or care for human rights and dignity. Even self-interest driven concern for preservation of wealth accumulated during the last 5 years seems to be missing among the ruling class. With ever increasing political brinkmanship, which defies popular and global will (excluding that of India’s), the Awami League supporters are now running the risk of losing both their “tangibles” and “intangibles”, if/when Sheikh Hasina, leaves the scene — willingly or unwillingly.

In this write-up, a few key examples of intellectual bankruptcy of the Awami League supporters will be highlighted. It is to be noted that, by Awami League supporters, one has to take into consideration its coalition partners, most of who are from a number of communist parties. Besides the communists, there are the new kids-in-town: the Shahabag movement youth– popularly known as the Shahbagis. All of these elements of the Bangladeshi political spectrum are now can safely be deemed as “pro-government”.

Tricky waters of Caretaker:

Pakistan, the country from which Bangladesh earned its independence only 42 years ago, has just held its general election using a Caretaker government in 2013. It is to be noted, Bangladesh’s political disharmony is almost as chaotic as that of Pakistan; absent just the car-bombs and the Talebans. Another South-Asian country Nepal, which is almost equal in land size as Bangladesh, is using a Caretaker administration to fix its constitution. And of course, Bangladesh, one of the laboratories of the Caretaker system for poll time administration, had held 4 of its last 23 years’ general elections using caretaker administrations. Yet, fully knowing the South Asian and Bangladeshi realities, the government supporters and intellectuals, are now supporting complete abolition of the caretaker system based on a court verdict.

One has to remember that only 7 years ago, the Awami League did not accept a university professor and another retired Chief Justice, both with solid professional track records, as the head of caretaker/poll time administration, accusing them of being partisan. Yet, the same Awami League now has no qualms forcing its own leader, Sheikh Hasina, as the head of the poll time administration, as both a player and a referee in the upcoming national election!

“Fetish” over the constitution:

Several scientific polls conducted by globally respected polling firms have shown solid 80% support for the caretaker government system in Bangladesh. Even Awami League’s own poll, conducted by party sympathizer Aly Zaker / Iresh Zaker’s polling firm MRC Mode showed more than 70% support for the caretaker government. Yet, the Awami League and its supporters defend the abolition of the caretaker system, taking their fetish-like adherence to the constitution.

It has become a habit of the government supporters to state that the election will be held “as per the constitution”. However, no one ever states the fact that the very constitution in question was changed only a year ago. And comically, the same people who changed the constitution are now defending tooth-n-nail the amended constitution, clearly defying more than 70% of the popular will!

The government’s handling of the constitution have become so farcical, that Sheikh Hasina, herself has now become the constitution! Often time several key senior leaders and eminent pro-government scholars have been noticed saying sentences as follows: “Things will happen as per the constitution, but if Sheikh Hasina wants, she can decide to entertain opposition demands … …!!” Translation: Sheikh Hasina can always find her preferred way, as long as the constitution is concerned.

Hindu minority oppression by the government goons:

The Awami League, as a party is known to be popular among the Hindu population of the country. Yet, they pro-government supporters go silent when there were glaring evidences suggesting that the Hindu minority population of the country were victims of heinous crimes committed by the local leaders of the Awami League. Case in point, there were clear evidence of involvement of a Minister’s supporters in burning of several Hindu houses in Pabna. Several venerable dailies, including the Daily Star, published photos of goons responsible for the Hindu house burning incidence, standing right behind a Minister in a political procession. Yet, the pro-government supporters remained quiet in general.

There are several other instances of Hindu minority oppressions in the hands of the government party operatives. For example, an eminent TV journalist Anjan Roy’s ancestral land was illegally taken away by pro-government goons. Anjan Roy, himself being deemed as a pro-government intellectual, eventually took up his pen to write Op-editorials detailing his sad situation. Such land related issues between Hindu minority and the pro-government goons are widespread across Bangladesh at the moment. Yet, very few pro-government supporters have been seen voicing the issue, despite the fact that the Awami League often claims itself to be the protector of the Hindu minority,

Super-partial defense of human rights:

It started with the arrest of four bloggers who were victims of the government’s uncivilized detentions according to international standards, after they published religiously offensive rants. The pro-government supporters voiced strong oppositions and protested those arrests citing those very standards. However, these same supporters then became ecstatic when another writer cum Editor of a national daily, Mahmudur Rahman, was not only illegally detained, but also remanded and tortured by the government forces, violating all internationally accepted standards.

Then came the night of 5th May, where the government supporters logically and validly criticized some of the violence orchestrated by the Hefajot activists. However, these same individuals became ecstatic when the government very clearly violated international norms of crowd control and used excessive force on that fatal night of May 5th, for which the death toll is still a matter of serious contention.

Defying all international norms and protests, these same government supporters were happy when the government arrested Bangladesh’s leading Human Rights activist Adilur Rahman for merely carrying out and providing an estimate of the death toll on the night of May 5th.

Currently the government supporters are validly and reasonably concerned about the bus-arsons and countrywide violence during the days of anti-government protests. However, these same folks are not questioning the excessive use of force, i.e., rubber bullets, metal bullets, which are being randomly shot by the police all across the country to disperse even the most regular of street protests. Point to note, direct firing of bullets was never a common occurrence in Bangladesh before the current government. In fact, there was even a myth among the political activists in Bangladesh that “a minister’s signature is necessary before police can open fire”. No such myth exists no more!

Making matters even more horrific, plain clothed gun-men (as seen in the picture above), are shooting unarmed protesters from point-blank distance. Many of the guns are allegedly from the legitimate government forces, but their bearers are often not known,. Government party leaders have been seen wearing government forces uniforms, according to eye witnesses. Yet, no government supporting intellectual questions such wanton violation of police norms and human rights!

Disregard for almost every international institution:

The situation has become so reckless and unprofessional, that the government supporters and party operatives ridicule and question the credibility of almost every international organization; let that be Human Rights Watch, Amnesty International, The Economist, The Guardian, The New York Times, The House of Lords or The European Parliament. Almost any observer that voices any concern about issues that the pro-government folks care, gets the accusation that it was bought by money! There are no qualms about professional dignity or concerns.

The latest episode of such delusion was visible when The New York Times published a very direct editorial criticizing the Bangladesh government for its blatant abuse of human rights. The pro-government folks immediately accused The New York Times for being bought with money!

In this delusional state of affairs, the pro-government supporters appear almost like a group of paranoid schizophrenics, who believe that a global web of conspiracy is buying-off everything to destroy what the Awami League finds near and dear!

Emotional and intellectual bankruptcy of the pro-government supporters, intellectuals, and media personnel have created a situation where the most legitimate of grievances of the opposition camp is being suppressed in the crudest of manners. Such humiliating disregard for human rights and dignity can only result in radicalization and irreparable division among the population, where the moderate and the centrists will take the side line, and only the extremists will collide.

We are sitting on a ticking time bomb, and all relevant parties should be strongly warned.

Blogger Wahiduzzaman – Release him Immediately

20131107-072315.jpg

This is Bangladesh of 2013. This is Prime Minister Sheikh Hasina’s Bangladesh. In this Bangladesh, even if you chop a local government elected leader Sanaullah Babu to death in broad daylight under rolling TV cameras you will not be brought to justice, you will keep terrorizing people – as long as you are a supporter of prime Ministers party. In this Bangladesh you can commit dozens of most brutal horrific murders, you can cut your opposition politician Nurul Islam into pieces before dumping in river Meghna, you will special presidential pardon to get out of jail – as long as you have the blessings of Prime Minister Sheikh Hasina. In this Bangladesh in front of live news TV camera, a poor Biswajit may be stabbed hundreds of times to death – but the known perpetrators will remain out of reach of any law enforcement – only because the the killers reportedly are followers of Prime Minster Sheikh Hasina’s ideology.

And this is the same country University teacher and blogger Wahiduzzaman will not get a bail on a silly false case and will land in jail – only because he dared speak up in social media against injustices of the government – only because he dared point out the irreparable harm Rampal power plant will bring upon Bangladesh – only because through his writings, he dared expose the extreme injustice imposed the people of Bangladesh by the tyrannical regime of Sheikh Hasina.

Wahiduzzaman is a great geography teacher. He is an environmental activist as well. And more importantly – he is a very popular social media activist and blogger. He is a Bangladeshi nationalist. Through his writings – he brings forward the concerns of the silent and voiceless majority of Bangladesh.

In the past when bloggers representing less than 5% peoples’ views, bloggers disparaging popular faiths, religions were subject to state persecution – the loud progressive class, rightly so, exploded in a chorus of protest. That is the way it should be. Even in farther past when media activist came under the ire of the military regime that preceded this regime, all media and online activists protested in unison. Ideology, party affiliation, faith gaps did not stand in the course of the protests.

But today when Wahiduzzaman spends his first night on the dirty concrete floor of Dhaka central jail, the world is very silent. Painfully silent.

Our progressive class is now dominated by a bunch of Talibans without AK 47. While these so called progressive Talibans can be most lethal, linguistically violent and abusive towards anyone working or writing in favor of any ideology outside of their narrow and petty political standing – when it comes to the writings and commentaries of others – these so called progressive are more intolerant than even the Talibans. That’s why, when Wahiduzzaman lands in in jail, there is hardly any chatter of protests in the social media world.

While the whole world can remain silent about the state oppression and unlawful incarceration of Wahiduzzaman, we cannot keep silent about it.
Wahiduzzaman is one of our own. He is one of the core Nuraldeen bloggers. He is our friend. We demand, in the strongest terms, immediate and unconditional release of Wahiduzzaman.

Because Wahiduzzaman speaks for the oppressed and voiceless silent majority, he is the lonely warrior today. Hardly there is any strong voice out there to speak for him. All the voices who should have spoken out are silenced with state imposed fear tactic, red eye a new draconian law to reign on free cyber activism.

But people fail to recognize one simple fact that if Wahiduzzaman has to land in jail today because he chose not to remain silent and dared criticize anti-people policies of the government – what is the future of a social media activist or blogger under a future government? Where is our constitutionally mandated space for free speech? Or in this new political order all we only have is our right to remain silent?

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ও পুনরুত্থান প্রশ্ন

কানপুরের নানা সাহেব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক বৃত্তিহারা হওয়ার পরপরই কোম্পানি কর্তৃক আরও বেশ কিছু অপমানের সম্মুখীন হলেন। কোম্পানি শাসনকালে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কোন সিদ্ধান্ত মনঃপূত না হলে দেশীয় অকর্মণ্য রাজারা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্রিটেনে কোম্পানির কোর্ট অব ডিরেক্টরসদের সভায় আপিল করতেন।

কানপুরের অসন্তুষ্ট নানা সাহেবও তার প্রতি অবিচারের ফিরিস্তি তুলে ধরতে লন্ডনে একজন প্রতিনিধি পাঠালেন। এই প্রতিনিধি ছিলেন সুদর্শন সুপুরুষ আজিমুল্লাহ খান। এক সময়ের এই পরিচারক কঠোর পরিশ্রম করে ইংরেজি এবং ফারসি ভাষা রপ্ত করেন, নিজেকে সুশিক্ষিত করে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন।

আজিমুল্লাহ খান লন্ডনে কিছুদিন অবস্থান করে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেই উপলব্ধি করতে পারলেন যে কোন আবেদনে-নিবেদনেই তার মনিবের কোন লাভ হবে না। তাই তিনি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনাচক্রে তাঁর সফরকালীন সময়ে তিনি জানতে পারলেন মাল্টায় জারের রুশ সৈন্যদের কাছে ব্রিটিশ-ফরাসি যৌথ বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। এই সংবাদে আজিমুল্লাহ উৎসাহিত বোধ করলেন। তিনি সরাসরি ভারতের জাহাজে না চড়ে কনস্টান্টিপোল গেলেন। সেখান থেকে তিনি গেলেন বর্তমান ইউক্রেনের ক্রিমিয়ায়, রুশ সৈন্যদের দেখতে। তিনি নিরাপদ দুরত্ব থেকে লক্ষ্য করতে লাগলেন রুশদের যুদ্ধ কৌশল, কিভাবে ব্যাটারিগুলো থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়।

কনস্টান্টিপোলে তার সাথে দেখা হয় এক ব্রিটিশ সাংবাদিকের, নাম উইলিয়াম হাওয়ার্ড রাসেল। রাসেলের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে আলাপচারিতা হয়। তাঁর সম্পর্কে রাসেল মন্তব্য করেন, ‘ক্রিমিয়াতে যা ঘটেছে আপন চোখে দেখার এত গভীর আগ্রহ দেখে কি অবাক না হয়ে পারা যায়? একজন ইউরোপবাসীর এরকম কৌতূহল থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু অসামরিক গোত্রের একজন এশিয়বাসীর এ কৌতূহল অস্বাভাবিক নয় কি?’

আজিমুল্লাহ ঘোর নাস্তিক ছিলেন, কোনপ্রকার ধর্মীয় উন্মাদনা থেকে ছিলেন শত ক্রোশ দূরে। তাঁর জ্বলজ্বল চোখে সেদিন যে আগ্রহ খেলা করছিল তা ছিল সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদজাত। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে ব্রিটিশ বাহিনী অজেয় নয়, তাদের হারানো যায়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিল ক্রিমিয়ায় ব্রিটিশ বাহিনীর সেই প্রাথমিক পরাজয়।

আজিমুল্লাহ খানের চোখে যেই আকাঙ্ক্ষা-উন্মাদনা সেদিন দেখা গিয়েছিল, প্রায় একই ধরণের উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল নাইন-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বিশ্বে একটা বড় অংশের মুসলিমদের মধ্যে। অর্থোডক্স মুসলিমরা চিন্তা করতে শুরু করে সুরক্ষিত মার্কিন আকাশসীমার ভেতরে ঢুকে যদি এত ক্ষয়ক্ষতি করা সম্ভব হয়, তবে পৃথিবীর যেকোন দেশের যেকোন স্থানে আঘাত হানা সম্ভব। তাদের এই চিন্তাধারা প্রভাবিত করে তরুণ মুসলিমদেরকেও।

এই চিন্তাধারা যে সমগ্র পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়েছিল তার প্রমাণ পরবর্তীকালে লন্ডনের সেভেন সেভেন বোমা হামলা, ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের বোমা হামলা, মুম্বাইয়ের টুয়েন্টি সিক্স ইলেভেনসহ বহু জঙ্গি হামলার ঘটনা। একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে বাংলাদেশও পুরো পৃথিবীর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকেনি।

বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষে ইংরেজ রাজত্বের শুরুর দিকে ওহাবিরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুগের পর যুগ লড়াই করেছে। সে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ইংরেজদের জয় হয়েছে, কিন্তু ওহাবিরা অন্তর থেকে এই পরাজয় মেনে নেয়নি। তাদের ব্রিটিশ বিরোধী জঙ্গি-চেতনা তারা ধারণ করে গেছে। প্রায় আড়াই লাখ ওহাবি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিভিন্ন সময়ে শহীদ হয়েছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশে এই ওহাবিদের সমর্থকদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। খেলাফত আন্দোলনের ব্যানারে এরা ঐক্যবদ্ধ। ওহাবিরা তাদের জঙ্গি চেতনা বিভিন্নভাবে সময়ে সময়ে কাজ করেছে, তবে এই জঙ্গিবাদী চেতনা ছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী। ওহাবি তরিকার বহু মানুষ আশির দশকে শেষভাগে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যায়। সিআইএ-আইএসআইর দ্বারা প্রশিক্ষিত এই যোদ্ধারা অনেকে শহীদ হন, অনেকে যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত টিকে যায়।

প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের জঙ্গিরা মূলত আফগানিস্তানের সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ফেরত আসা ‘জিহাদি’ মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে সংগঠিত হতে শুরু করে। বাংলাদেশের জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের সূচনা ২০০১ সালের নাইন ইলেভেনেরও আগে থেকে।

আফগান ফেরত এই জঙ্গির ছোট ভাই তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা মুন্সি আনিসুল ইসলামের নামে ১৯৯৭ সালের ৩০ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পনগরীর ৭ নম্বর প্লটে চার হাজার ৫০০ বর্গফুট জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এই জমিতেই তৈরি করা হয় সেই সাবান কারখানা যেখানে পাওয়া গিয়েছিল মুফতি হান্নানের বিশালাকৃতির বোমা তৈরির উপাদান ও সরঞ্জাম।

২০০০ সালের ২০ ও ২৩ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাস্থলে দুইদফা অভিযান চালিয়ে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার সাথে তৎকালীন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ এবং গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন মুফতি হান্নান।

এছাড়া আফগান ফেরত জঙ্গিরা ১৯৯৯ সালে তিনটি ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটায়। এতে ১৮ জন নিহত হলেও আহত হন দুশতাধিক মানুষ। এই বছর সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে যশোরের টাউন হল ময়দানের বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সম্মেলনে। এ হামলায় ১০ জন নিহত হয় আহত হয় শতাধিক। এছাড়াও ১৯৯৯ সালের ৮ অক্টোবর খুলনার আহমেদিয়া মসজিদে বোমা হামলায় আট জন নিহত ও আহত হয় ৫০ জন।

আল্লাহর দল একটি সংগঠন কবি শামসুর রাহমানের বাসায় ঢুকে কবির উপর হামলা চালানোর চেষ্টাও চালায়।

২০০১ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫ পাঁচটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব বোমা হামলায় ৫৯ জনের প্রাণহানী ঘটে ।
এরমধ্যে ঢাকার পল্টনে কমউনিস্ট পার্টির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ৭ জন, রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ১১ জন, গোপালগঞ্জের বানিয়ারচরের গির্জায় ১০ জন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের অফিসে ২১ জন, বাগেরহাট জনসভায় ৯ জন, সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতা সুরঞ্জিত সেনের জনসভায় বোমা হামলায় চার জন নিহত হয়। আহত হয় কয়েক শতাধিক।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের এইসব বোমা হামলাগুলোতে অন্তত ৭৬ জন নিহত হন

১৯৯৯ সাল থেকেই মূলত ব্যাপক হারে জঙ্গি হামলা ও গ্রেনেডের ব্যাবহার শুরু হলেও ১৯৯৭ সালের ৩০ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পনগরীতে মুফতি হান্নানের ভাইয়ের জমির বরাদ্দ পাওয়া নির্দেশ করে যে, অন্তত ১৯৯৭ সাল থেকেই মুফতি হান্নান ও তার সাথীরা বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা চালানো এবং ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করে।

তৎকালীন সরকারের উদাসীনতার এবং আওয়ামী লীগের অনেক নেতার জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি গোপালগঞ্জে মুফতি হান্নানের জমি বরাদ্দ পাওয়া, সেখানে নির্বিঘ্নে বোমা তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো, কোন জঙ্গিকে না ধরতে পারা এবং পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় মুফতি হান্নানের সেই স্বতঃপ্রনোদিত ‘জবানবন্দী’।

প্রায় একই সময়ে বাংলাদেশে আরেকটি জঙ্গি সংগঠনের জন্ম হয় বাংলাদেশে- জামায়াত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেমবি)। এই সংগঠনটির সাথে আরব বিশ্বের জঙ্গিদের যোগাযোগ ও বিদেশী ফান্ড আনার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে এরা রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে কাজ করলেও পরে টুইন টাওয়ার হামলা ও এর প্রেক্ষিতে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন তাদের বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম বিস্তারে উৎসাহিত করে। 

সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলাভাইর সাথে এক সাক্ষাৎকার প্রকাশ পায় ইংরেজী দৈনিক The Daily Star-এ ২০০৪ সালের ১৩ মে। সেখানে তিনি দাবি করেন তিনি স্কুল জীবনে ছাত্রলীগ করত, পরে কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেয়। ১৯৯৫ সালে শিবির ছাড়ে জামায়াতে ইসলামী নারী নেতৃত্ব মেনে নেয়ায়

জেএমজেবির আমির আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের দুলাভাই শায়খ আব্দুর রহমান ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত সৌদি এম্বেসিতে কাজ করে বলে জানা যায়। এরপর সে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায়। এরপর আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসে। এসময় এই জঙ্গি নেতা ওহাবি মতাদর্শে প্রভাবিত হয়। শায়খ আব্দুর রহমান একসময় জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ছিল।

বাংলাদেশে এই দুই জঙ্গি নেতা জঙ্গিবাদের বিস্তারের ক্ষেত্রে মাও সে তুং-এর সেই বিখ্যাত উক্তি “The guerrilla must move amongst the people as a fish swims in the sea”-এর প্রয়োগ ঘটায়। মানুষের সাথে মিশে কাজ করতে তারা জামালপুর থেকে রাজশাহীর বাগমারায় আসে।

সীমান্তবর্তী রাজশাহী জেলায় প্রবল ভারতবিরোধী এবং ইসলামপন্থী মনোভাব তাদের এই কাজের জন্যে বেশ সুবিধাজনক ছিল। গঠন করা হয় জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি) ।

জেএমজেবি প্রাথমিকভাবে দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তারা মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রচার করে এইসব অঞ্চলের জেলাসমূহের অধিবাসীদের প্রধান শত্রু সর্বহারা বাহিনী। ফলে তারা ঐসব এলাকায় সাময়িক জনসমর্থন পায়।

রাজশাহীসহ ঐসব অঞ্চলের নেতারা, গোয়েন্দারা এবং সরকার জেএমজেবির ব্যাপারে উদাসীন থাকে, অনেকেই তাদের সমর্থন যোগায়। যার পেছনে কাজ করেছিলো পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টিসহ সকল বামপন্থী চারমপন্থীদের বিরুদ্ধে জেএমজেবিকে কাজে লাগানোর ইচ্ছা

সরকার ডিভাইড অ্যান্ড রুল খেলতে এসে জেএমজেবির ফাঁদে পা দেয়। জঙ্গিরা সারা দেশে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করে তোলে, এবং ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে পাঁচশতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালিয়ে প্রায় ৬৬ জনকে হত্যা করে জোট সরকার আমলে। এর মধ্যে ময়মনসিংহের সিনেমা হল, ঝালকাঠির দুই আইনজীবী, ব্রিটিশ হাইকমিশনার, যাত্রাপালায় বোমা হামলা উল্লেখযোগ্য। এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার উপর হুজির সেই মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে হামলা হয়।

উইকিলিকসের ফাঁস করা কেবলে দেখা যায় বিএনপি সরকারের শেষ ভাগে জেএমবির নেতাদের মৃত্যুদন্ডের পর এমনকি এর অর্থ যোগানের পথও বন্ধ করে দেয়ার পর ঢাকার ইউএস এম্বেসি মন্তব্য করে, "অবশেষে জেএমবির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া গেল"।

উইকিলিকসের ফাঁস করা কেবলে দেখা যায় বিএনপি সরকারের শেষ ভাগে জেএমবির নেতাদের মৃত্যুদন্ডের পর এমনকি এর অর্থ যোগানের পথও বন্ধ করে দেয়ার পর ঢাকার ইউএস এম্বেসি মন্তব্য করে, “অবশেষে জেএমবির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া গেল”।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের পর সরকার হুজি, জেএমজেবি ও জেএমবির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানে নামে। সারা পৃথিবীতেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ফলে জঙ্গিদের পৃথিবী ছোট হয়ে আসতে থাকে।

২০০৫ সালের ১ অক্টোবর মুফতি হান্নান, ২০০৫ সালের ২০ নভেম্বর শায়খ আব্দুর রহমানের মেয়ের জামাই ও জেএমজেবির মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুল আউয়াল, ২০০৫ সালের ৭ ডিসেম্বর আতাউর রহমান সানি, ২০০৬ সালের ২ মার্চ শায়খ আব্দুর রহমানকে সিলেট থেকে এবং চারদিন পর বাংলাভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০০৬ সালের ২৬ এপ্রিলের মধ্যে সরকার জেএমজেবির সকল মজলিশে শুরা সদস্যসহ হাজার হাজার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ১৪১টি মামলা দায়ের করে, ২২জনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া হয়।

সরকার জঙ্গি অর্থায়নের দায়ে Revival of Islamic Heritage Society নামক এনজিওর স্থানীয় অফিস বন্ধ করে করে দেয়া হয়। সর্বোপরি জেএমজেবি, জেএমবি এবং হুজির মেরুদন্ড ভেঙে দেয়া হয়; ২০০৬ সালের তিন মে তারিখে মার্কিন তারবার্তার ভাষায়- The JMB’s back really does look broken।

সফলভাবে জঙ্গিদের দমন করার পর টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন

সফলভাবে জঙ্গিদের দমন করার পর টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন

এখন প্রশ্ন হচ্ছে জঙ্গিদের উপর এত বড় ক্র্যাক ডাউনের পর কি তাদের পক্ষে পুনরায় বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম চালানো আদৌ সম্ভব কিনা?

উত্তরটা অনেক কিন্তু ও যদির সাথে যুক্ত। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যত জঙ্গি কার্যক্রমের বিস্তার দেখা গেছে তার মধ্যে প্রতিটিতেই রাজনৈতিক উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক সহায়তা কম বেশি ছিল। কোন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাই চাইবে না তাদের সরকারের সময় দেশ অস্থিতিশীল হোক, তবে স্থানীয় ইসলাম পছন্দ নেতারা নিজেদের জিহাদে শামিল করতে কিংবা কোন রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে জঙ্গিদের ব্যবহার করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

সম্প্রতি বগুড়ায় আওয়মী লীগ নেতার বাসায় জঙ্গিদের আস্তানা আর বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার, কক্সবাজারে আওয়ামী লীগ নেতার প্রশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের নেতার অবাধ বিচরণ আর কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধমন্দিরে ‘সর্বদলীয়’ হামলার ঘটনা তাই প্রমান করে।

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করা গেলে আর সরকার কঠোর হলে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম ও এর বিস্তার বন্ধ করা অসম্ভব নয়। আর নাইন ইলেভেন পর থেকে সারা পৃথিবীতে জঙ্গিদের উপর যে ধরণের কড়া নজরদারি চলছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেভাবে কাজ করছে তাতে জঙ্গিবাদের পুনরুত্থান প্রায় অসম্ভব।

তাই অহেতুক জঙ্গিবাদ নামক জুজুর ভয় দেখিয়ে এই মৃত ইস্যুটিকে মমি করার আওয়ামী প্রচেষ্টা অর্থহীন।

বেগম জিয়ার কাছে জাতির প্রত্যাশা

জনগণ প্রার্থনা করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য যে বাংলাদেশ বিভক্ত নয়; যে দেশ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতমুখী; শুধুই অতীতআশ্রয়ী নয়। যে বাংলাদেশ জনগণের; ক্ষমতাসীনদের লুটপাটের দেশ নয়। যে বাংলাদেশ প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় কিন্তু নতজানু ক্রীতদাস হতে চায় না। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে জনগণ আপনার কাছ থেকে তেমন রাজনীতিই আশা করছে, যে রাজনীতি বাংলাদেশী নাগরিকদের মাথা উচুঁ করে বাঁচতে সহায়তা করবে।

খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া

বেগম জিয়া একজন মিতভাষী মানুষ। তার শান্ত ও ধীর স্হির বক্তব্য এদেশের কোটি কোটি মানুষের পছন্দ। এমনকি যে মানুষটি বিএনপির রাজনীতি করে না সেই মানুষটিও প্রতিপক্ষের উত্তেজনাময় বক্তৃতার বিপরীতে তার ধীরস্হির ও শান্ত বক্তব্যকে প্রশংসা করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বেগম জিয়ার শেষ মুহুর্তের বক্তৃতা বিএনপির কয়েক শতাংশ ভোট বাড়িয়ে দিয়েছিল। ভাসমান ভোট ব্যাংকের ভোটগুলো তার দলের ভোট বাক্সে পড়েছিল। ফলে আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক বেশি সিট পেয়ে তিনি সরকার গঠন করেছিলেন।

তিনি রাজনীতির সঙ্গে প্রথম পরিচিত হন ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধের মাধ্যমে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ একটি রাজনৈতিক লড়াইও ছিলো। সেই লড়াইয়ে তার স্বামী লে. জেনারেল (তৎকালীন সময়ে মেজর) জিয়াউর রহমান একজন লড়াকু সৈনিক হিসেবে প্রথমে ১ নং সেক্টর এবং পরে জেড ফোর্সের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অকুতোভয় এই সেনা কর্মকর্তা জীবন বিপন্ন করে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পাকিস্তানের কারাগারে স্বেচ্ছাবন্দী নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বীরের মতো রনাঙ্গনে লড়েছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বীর উত্তম উপাধি দিয়েছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়া এমনই একজন বীর সেনার স্ত্রী, যিনি শুধু দেশ স্বাধীন করার লড়াইয়ে নিজেকে সপে দেননি, ১৯৭৫ সালে জাতি যখন গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত তখন দেশ রক্ষায় সাহসিকতার সঙ্গে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন। দল মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন। যে ঝড় ঝাপটা মোকাবেলা জিয়াকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে হয়েছিল, জেনারেল জিয়ার স্ত্রী হিসেবে সেই ঝড় ঝাপটা থেকে তিনিও রেহাই পাননি। প্রাণপ্রিয় স্বামীর মৃত্যুতে ভেঙ্গে পড়েননি। বরং দেশের প্রয়োজনে নিজেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেছেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনেক পরে যোগ দিলেও বেগম জিয়া অনেক ঝানু পলিটিশিয়ানের চেয়েও নিজেকে একজন প্রজ্ঞাশীল রাজনীতিক হিসেবে প্রমাণ করেছেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে। সেকারণেই ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ তার প্রতি আস্হা রেখেছিল। দীর্ঘ নয়বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন তিনি। আর জনগণ তাকে উপহার দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীত্ব।

একাধিকবার বাংলাদেশ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা থেকে বেগম জিয়া নিশ্চয়ই উপলব্ধি করছেন, দেশ পরিচালনা সহজ নয়। বাংলাদেশ একটি ছোট্ট ভূখন্ড। কিন্তু ১৬ কোটি মানুষ। যখন দেশটি স্বাধীন হয়েছিল তখন লোকসংখ্যা ছিল মাত্র সাড়ে সাত কোটি। সেই মানুষদের চাহিদা পূরণ করতে গিয়েও হিমশিম খেয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলা করে দেশ পরিচালনা করার ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিতে ব্যর্থতা এবং স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশে শতাব্দীর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিল। শেখ মুজিব নিজ দলের মধ্যে চরম বিশৃঙখলা আর দুর্নীতির ভয়াবহতায় নিজেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, আমার কম্বল কোথায়?

স্বাধীনতার পরপর রাজনীতিতে তোষামোদকারীদের প্রাধান্য ও প্রভাব সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ধারা জিয়াউর রহমান সততা আর সাহস দিয়ে ভাঙ্গতে চেষ্টা করেছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালকের ব্যবস্হাপনাগত ব্যর্থতা ও তোষামোদে বিগলিত হওয়ার ফলে কি হতে পারে বাংলাদেশের মানুষ সেটি দেখেছিল ১৯৭২ থেকে ৭৫ সময়কালে। শুধু নেতার সততা ও সদুদ্দেশ্য দিয়ে যে কাজ হয় না, সৎ প্রশাসন ও ব্যবস্হাপনার যে দক্ষ টিম দরকার হয়, সেটি এই দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছিল জিয়ার শাসনামলে। এই দুই ধারা থেকে আমাদের করণীয় জেনে নেয়া প্রয়োজন। আমাদের দরকার একজন সৎ নেতার নেতৃত্বে একটি সৎ, সুদক্ষ ও আধুনিক ব্যবস্হাপনা টিম।

সরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডে বেগম জিয়ার অসন্তুষ্টির কথা গত পৌনে পাঁচ বছরে অনেকবার আমরা শুনেছি। এখন সময় হয়েছে নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বকে জনগণের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের দুর্বলতাগুলো তুলে ধরার। এ ব্যাপারে বিএনপি এবং এর নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের প্রস্তুতি কেমন জানি না। জনগণ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ওয়াদা বরখেলাপের বড় বড় ঘটনা দেখেছে। কিন্তু তা নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে চুলচেরা বিশ্লেষণ দেখতে পায়নি। বিরোধী দল হিসেবে শেয়ার বাজার দুনর্ীতি, হলমার্ক দুনর্ীতি কিংবা এমন আরো বড় বড় আর্থিক দুনর্ীতির বিরুদ্ধে কার্যকর চাপ সৃষ্টি করেনি। জনগণ দেখেনি সংসদে তাদেও সরব উপস্হিতি কিংবা সাগর রুনি হত্যাকান্ডসহ অমিমাংসিত হত্যাকান্ডগুলোর ব্যাপারে সোচ্চার হতে। ভারতের সীমান্ত হত্যার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির সুনির্দিষ্ট ও কঠোর সমালোচনা জনগণের সামনে ফুঁটে উঠেনি। আরো অনেক বিষয় রয়েছে যেখানে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা দেখা যায়নি, যা জনগণের একান্ত প্রত্যাশা ছিল।

নির্বাচনের সময় যতো ঘনিয়ে আসছে টেনশন বাড়ছে। সাধারণ জনগণ উদ্বিগ্ন। বিরোধী দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা প্রতিপক্ষ দলের নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকান্ড মোকাবেলায় প্রয়োজনে জনগণকে ‘দা-কুড়াল’ নিয়ে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। এই তো সেদিন ২০০৬ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায়, তখন তাদের বিরুদ্ধে লগি-বৈঠা নিয়ে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা। ফলে লাশ পড়েছিল ঢাকার রাস্তায়। সাধারণ মানুষের চোখের সামনে সেদিনের নৃশংস তান্ডব এখনো স্পষ্ট। সেই সূত্রে দেশে দুই বছরের জন্য পরোক্ষ সেনা শাসন এসেছিল। জনগণ তেমন পরিস্হিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। বিএনপি কি শেখ হাসিনা ও তার দলের দেখিয়ে দেয়া পথে হাটতে চায়?

১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তার শাসনামল দীর্ঘায়িত করেছিল। বেগম জিয়া সেপথে হাটেননি। নীতি ও আদর্শ বিচ্যুত হননি, যেকারণে জনগণ তাকে ‘আপোসহীন নেত্রী’ আখ্যা দিয়েছিল। ২০০৭ সালে ক্ষমতায় আসা সেনাসমর্থিত সরকার যখন ‘মাইনাস টু থিওরি’ বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়, তখন তার অনমনীয় মনোভাবের কারণেই তা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগ যখন হাল ছেড়ে দিয়েছিল, তখন বেগম জিয়াই হাল ধরেছিলেন এবং দেশকে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে এনেছিলেন। এভাবে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার স্বাথর্র্ে নীতি ও আদর্শ বিবর্জিত কূটকৌশলের আপসকামী রাজনীতির সাথে তার ও তার দলের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জনগণ দেখেছে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিভাবে জামায়াতের সঙ্গে দোস্তি গড়ে তুলেছিল। কিভাবে ধর্মকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসেবে বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করেছে। আবার সুবিধামতো ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্হান নিচ্ছে। পক্ষান্তরে, জনগণ বিএনপির মধ্যে বৈপরিত্য কিংবা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লোক দেখানো কর্মকান্ড নয়, বরং রাজনীতির ধারাবাহিকতা দেখতে পায়। এই প্রেক্ষাপটে বেগম জিয়া যখন কোন কথা বলেন তখন মানুষ সে কথায় আস্হা রাখে; বিশ্বাস করে। দীর্ঘ ৩০ বছরের রাজনীতির মাধ্যমে তিনি মানুষের আস্হা ও বিশ্বাস অর্জন করেছেন। সে কারণেই জনগণ মনে করে, দেশের ক্রান্তিলগ্নে তিনি দেশ রক্ষায় এগিয়ে আসবেন। জনগণ প্রত্যাশা কওে, ২০০৬ সালের মতো কোনো ‘লগি-বৈঠা’ মার্কা রাজনীতিতে তার নেতৃত্বাধীন দল জড়াবে না। বিএনপি কথা বলবে না আওয়ামী লীগের ভাষায়।

জিয়াউর রহমানের মতো একজন তরুণ বীর যোদ্ধা ও সৎ রাষ্ট্রনায়কের হাতে গড়া বিএনপিকে দেশের সাড়ে সাত কোটি কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর দল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের একটি নতুন কাঠামো নিয়ে ভাবতে হবে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। বিএনপি যে স্বাধীনতার মূল শক্তির বাংলাদেশী দল, সেই বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়। আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা স্টাইলের রাজনীতির পরিবর্তে জনগণকে নতুন ধারার রাজনীতি উপহার দিতে হবে। এর ইঙ্গিত সাম্প্রতিককালে বেগম জিয়া দিয়েছেন। জনগণ আশা করছে, তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তেমন কর্মসূচিই ঘোষণা করবেন যা জনগণকে সঠিক পথে চালিত করবে। জনগণ প্রার্থনা করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য যে বাংলাদেশ বিভক্ত নয়; যে দেশ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতমুখী; শুধুই অতীতআশ্রয়ী নয়। যে বাংলাদেশ জনগণের; ক্ষমতাসীনদের লুটপাটের দেশ নয়। যে বাংলাদেশ প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় কিন্তু নতজানু ক্রীতদাস হতে চায় না। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে জনগণ আপনার কাছ থেকে তেমন রাজনীতিই আশা করছে, যে রাজনীতি বাংলাদেশী নাগরিকদের মাথা উচুঁ করে বাঁচতে সহায়তা করবে।