বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র: জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান

এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান

Zia-01

স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ চার দশক পার হয়ে আরো দুই বছর অতিক্রম করেছে। কর্মঠ জনশক্তি আর উর্বর মাটিসহ অফুরান প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে এই সময়ে আমাদের দেশ দক্ষিণ কোরিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো একটি মধ্যম উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত হতে পারত। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বকে সুগভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ধ্বংস করে বা সরিয়ে দিয়ে বারবার বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের উৎস দেশের বাইরে হলেও কুশীলবরা দেশের ভেতরেরই মানুষ। তারা জানে, একটি দেশের অগ্রগতিকে থামাতে হলে তাকে নেতৃত্বশূন্য করতে হয়। সে কারণে বারবারই তারা দেশপ্রেমিক ও জনপ্রিয় গতিশীল নেতৃত্বকে সরাতে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিভেদ তৈরি করেছে, নেতাদের চরিত্রে কালিমা লেপন করেছে, তারপর নেতাদের হয় হত্যা, নয় পঙ্গু করে নির্বাসনে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করেছে।

বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতি খুব খারাপ সময় অতিক্রম করছে। সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনকে বাদ দেবার পর দশেরে ৮০% জনগনের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে গত ৫ জানুয়ারী একটি প্রহসনের জাতীয় নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ অবধৈভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। আর সেই ক্ষমতা নিরংকুশ করতে একের পর এক বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গুম-খুন করে বাংলাদেশকে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করানো হয়েছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর দমন নির্যাতনের মাত্রা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পর্যন্ত বাংলাদেশেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে। প্রশাসন হতে শুরু করে শিক্ষা, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে পরীক্ষিত সরকারি দলের লোক না হলে তাকে নিষ্কৃয় করে রাখা হয়েছে। একটি দেশের অর্ধেকের ও বেশি মানুষকে নিষ্কৃয় করে রেখে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব হয় না।

এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে দুর্নীতিবাজ আমলা, রক্তচোষা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অসাধু ব্যবসায়ী আর দাগী অপরাধীরা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। শেয়ারবাজারে  গিয়ে  সর্বস্ব হারিয়ে পথের ফকির হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ, এমএলএম ব্যবসার ফাঁদে পড়ে পথের ফকির হয়েছেন আরো কয়েক লক্ষ বিনিয়োগকারী। সামান্য মুদী দোকানদারও ব্যাংক জালিয়াতী করে লুট করেছে জনগণের চার হাজার কোটি টাকা। কুইক রেন্টালের নামে জনগণের সম্পদ লুট করার কারণে বিদ্যুতের মূল্য ছয়গুণ বৃদ্ধি করে মানুষের জীবনযাত্রাকে করে তোলা হয়েছে কঠিন থেকে কঠিনতর। তেল-গ্যাসের দাম বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে গেছে বাসভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। দেশের মূল্যবান জ্বালানী সম্পদ লুণ্ঠনের ওপর প্রতিবেদন তৈরী করতে গিয়ে খুন হয়েছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী আর টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গুম হয়েছেন জননেতা ইলিয়াস আলী। এমন গুম আর খুনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে; নদী-খাল-বিলে এখন পঁচা লাশের মিছিল।

এইসব সমস্যা নিরসনে দেশে একজন গতিশীল জাতিয়তাবাদী নেতার প্রয়োজন। যুগে যুগে কোন দেশের রাজনৈতিক সংকট হতে উত্তরণের জন্য গতিশীল জাতীয়তাবাদী নেতারাই নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমন উদাহরণ বাংলাদেশেও রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজনৈতিক নেতাদের অনুপস্থিতিতে তৎকালীন মেজর জিয়া থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলো, সেই স্বপ্নকে ভেংগে ধুলিষ্যাৎ করে দেয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। তারা স্বাধীন দেশে আবারো নিপীড়ন নিষ্পেষনের স্টিম রোলার চালাতে শুরু করে। মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতি, বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে হত্যা এবং গনতন্ত্রকে হত্যা করে এক দলীয় শাসন কায়েম করে দেশের মানুষের জীবন দুর্বিসহ করে তোলে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ক্ষমতাসীন দলের উপদলীয় কোন্দলে সেনাবাহিনীর মধ্যমসারীর কর্মকর্তাদের অভুত্থানে শেখ মুজিব নির্মমভাবে সপরিবারে নিহত হন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন তৎকালিন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

পরবর্তী তিন মাসে একাধিক অভুত্থান ও পাল্টা অভুত্থানের পর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনী হতে জোর করে অবসরে পাঠানো মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সিপাহী-জনতার সম্মিলিত শক্তি দেশ বাঁচানোর জন্য নেতা হিসেবে মনোনীত করেন। তিনি চাইলে তখনই প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করতে থাকেন। রাষ্ট্রপতি সায়েম বার্ধক্যজনিত কারণে অবসরে গেলে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৭১ সালে দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জেড-ফোর্স ও এক নম্বর সেক্টরের বীর নেতা আবারো নিজ দেশের নেতৃত্ব দিলেন এক দুর্দান্ত ও চৌকষ গতিতে। রাষ্ট্রপতি হবার পর জেনারেল জিয়া বাংলাদেশের মানুষের জন্য সর্ব প্রথমে একটি অভিন্ন জাতীয়তা নির্ধারণের প্রয়োজন অনুভব করেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মতের ও ধর্মের নানা জাতিগোষ্ঠি বাস করে। তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার ধরণ একে অপরের থেকে ভিন্ন। তাই শহীদ জিয়া মনে করতেন যে, ভাষা বা সংস্কৃতির ভিত্তিতে নয়, বরং ভূখণ্ডের ভিত্তিতেই জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করা উচিত। তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সকল জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের ঐক্য ও সংহতির পথ তৈরী করেন। এই পদক্ষেপই ছিল দেশের সকল মানুষকে একসাথে ঐক্যবদ্ধ করার প্রথম পদক্ষেপ।

শহীদ জিয়া বাংলাদেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত করেন এবং দেশের গুণীজনদের সম্মাননা প্রদানের জন্য ‘একুশে পদক’ প্রবর্তন করেন। অত্যন্ত্র দ্রুত গতিতে তিনি সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং পুলিশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসেন। মানুষের মত প্রকাশের সুবিধার্থে ফিরিয়ে দিতে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।

মাত্র চার বছরের ক্ষমতাকালে তিনি দেশে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসেন; পূর্বে আলোচিত পদক্ষেপের বাইরে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান; জাতীয় সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি; বিচার বিভাগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া; দেশে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনে বিপ্লব; সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও পুন:খনন; গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লক্ষ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান; প্রায় ৩ হাজার মাইল রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করা; ২৭ হাজার ৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার প্রভূত উন্নতির পাশাপাশি জন্ম নিয়ন্ত্রণে অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন; নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ এবং সরকারি কল-কারখানায় তিনটি শিফট চালু করে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি করা; সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে খাদ্য রপ্তানীর পর্যায়ে উন্নীতকরণ; যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়  সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুব ও নারী সমাজকে সম্পৃক্তকরণ; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত সাফল্যের মধ্যে রয়েছে- জাপানের মত শক্তিশালী দেশকে নির্বাচনে পরাজিত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্যপদ লাভ; তিন সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদস কমিটিতে সদস্যপদ লাভ; দক্ষিণ এশিয়ায় একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা হিসেবে সার্ক প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক উন্নতির মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানীর পথ উন্মুক্ত করা। অনবদ্য ভাষায় নিজের দেশের স্বার্থকে যৌক্তিকভাবে বিদেশে উপস্থাপনের উদাহরণ হিসেবে সৌদি বাদশাহ খালিদ বিন আব্দুল আজিজ এর সাথে তার প্রথম সাক্ষাতের ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে।
বাদশাহর সাথে কুশল বিনিময়ের পরপরই জিয়াউর রহমান বললেন,
–    তোমার দেশে যা নেই, আমার দেশে তা আছে, আবার আমার দেশে যা নেই, তা তোমার দেশে আছে।
সউদি বাদশাহ থতমত খেলেন। গরীব একটা দেশের এই কালো নাতিদীর্ঘ প্রেসিডেন্ট বলে কি!
জিয়াউর রহমান আবারো বললেন,
–    আমার দেশে অনেক পরিশ্রমী মানুষ আছে, তারা অনেক কাজ করতে পারে। আর তোমার দেশে যেমন কাজ আছে, তেমনি টাকাও আছে।

একইভাবে আর্জি নিয়ে গেলেন মরুভূমির প্রায় সবগুলো দেশে। বাংলাদেশের মূল্যবান জনশক্তি প্রথমবারের মত রাষ্ট্রীয়ভাবে বিদেশে রপ্তানী শুরু হলো। বিদেশে প্রশিক্ষিত শ্রমিকের বেতন বেশি হওয়ার কারণে তিনি দেশ্যব্যাপী কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে বাংলাদেশের বেকার যুবকদের দ্রুত  প্রশিক্ষিত করার ব্যবস্থা করলেন। প্রায় শূন্য থেকে শুরু করে আজ সউদি আরবে তিরিশ লাখ বাংলাদেশী, সংযুক্ত আরব-আমিরাতে এগারো লাখ, কুয়েতে আড়াই লাখ, ওমানে সোয়া দুই লাখ, কাতারে প্রায় পৌনে দুই লাখ আর বাহরাইনে প্রায় এক লাখ মানুষ বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মূদ্রা উপার্জন করছেন। আজ সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমিকদের যে শ্রম বাজার তৈরী হয়েছে তার একক কৃতিত্ব শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের।

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে সরকারি হিসেবে ছাব্বিশ হাজার এবং বেসরকারি হিসেবে দশ লক্ষ মানুষের জীবনহানী হয়েছিলো যখন দেশের জনসংখ্যা ছিলো মাত্র সাড়ে সাত কোটি। সেই সময় কেউ কি ভেবেছিলেন যে, এই ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের মধ্যেই ষোল কোটি মানুষ খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারবেন? শহীদ জিয়ার সবুজ বিপ্লবের কারণেই আজ বাংলাদেশের মানুষ কোনরূপ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি না হয়ে বেঁচে আছেন।

বলা বাহুল্য, যে গতিতে তিনি বাংলাদেশে উন্নয়নের জোয়ার এনেছিলেন তা বাংলাদেশের শত্রুদের পছন্দ হয়নি। সাবেক ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা অশোক রায়নার লেখা ‘ইনসাইড র’ বই এবং কোলকাতা হতে প্রকাশিত ‘উইকলি সানডে’ পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ‘র’ প্রধান কাও এর নেতৃত্বে জেনারেল জিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোরারাজি দেশাই এই পরিকল্পনা স্থগিত করার আদেশ দেন, যদিও ততদিনে পরিকল্পনা অনেক এগিয়ে গিয়েছিলো। পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় আসলে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা করা হয়।

শহীদ জিয়ার সেই সকল কর্মসূচী এবং জাতীয় ঐক্য এর পরের সরকারগুলো মোটামুটি রক্ষা করে চললেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে সর্ব প্রথম বিরোধী দল ও বিরোধী দলের সাথে সম্পর্ক রক্ষাকারী বা বিরোধীদলের সমর্থক সন্দেহে দেশের একটি বিশাল জনশক্তিকে দেশ গঠনের কাজ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে জাতি বিভক্তিকরণ প্রক্রিয়ায় দেশ শাসনের সূত্রপাত করে। বলা বাহুল্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ/বিপক্ষ হিসেবে এই বিভাজন করা হলেও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চিহ্নিত যুদ্ধপরাধী ফায়জুল হককে তারা মন্ত্রী করে। সুতরাং একথা নিশ্চিত যে, এই বিভাজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে/বিপক্ষে করার অযুহাত দেয়া হলেও মূলত: এই বিভেদ তৈরী করা হয়েছিলো আওয়ামী লীগ ও তার বিরোধীদের মধ্যে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর এই বিভেদ এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

একটি দেশের নাগরিকরা এভাবে রাজনৈতিক বিভক্তির শিকার হলে কখনোই সেই দেশে উন্নয়ন আসতে পারে না বরং দেশি-বিদেশি অপশক্তি এই সুযোগে দেশের ক্ষতি করার কাজে লিপ্ত হয়। বিগত দুই যুগের রাজনৈতিক চর্চা এবং জাতীয় নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহনের ধরণ দেখে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে বাংলাদেশের জনগণ এখনো প্রধান দুই দল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই থাকতে আগ্রহী। রূঢ় বাস্তবতা হচ্ছে এই দুই দলের বাইরে নতুন বিকল্প শক্তি হিসেবে জনগণের মন জয় করার মত কোন ক্যারিশমেটিক নেতাও নেই।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের একটি বিরাট অংশের সমর্থন থাকলেও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক সত্যি হচ্ছে, এই দলের নেতার নেতৃত্বে গতিশীলতা এবং প্রাজ্ঞতার কোনটাই নেই। রাজনৈতিক পরিবেশে উনার অরাজনৈতিক বক্তব্য এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে যেমন নষ্ট করেছে ঠিক তেমনি কুটনৈতিক পর্যায়ে অকুটনৈতিক আচরণের কারণে বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতার কারণে দেশের জনগণ যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তেমনি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের মূল্যবান শ্রমবাজার হাতছাড়া হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সাথে অপ্রীতিকর বাক্য ও পত্র বিনিময় তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

আওয়ামী লীগের মধ্যে পরবর্তী নেতৃত্বেও তেমন কোন প্রাজ্ঞ ও গতিশীল নেতা দেখা যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন এবং কোন কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংযুক্ত ছিলেন। দলের কোন পর্যায়ে সদস্যপদ না থাকা অবস্থায় উনার এই কর্মকাণ্ড খোদ দলের নেতাদের মধ্যেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর পূত্র জনাব সজিব ওয়াজেদ জয় এবং কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের সদস্য নন। তবে তাঁদেরকে বিভিন্ন বিদেশী অতিথির আগমনে এবং বিদেশে সরকারি সফরের সময় রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে অবস্থান করতে দেখা যায়। এমনকি ২০১২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে এই দুই ভাই-বোনকে প্রধানমন্ত্রী ও কুটনীতিকদের আসনে বসে থাকতে দেখা যায়, যা সমগ্র বিশ্বে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য যে এই তিন সম্ভাব্য নেতার কেউই বাংলাদেশে অবস্থান করেন না এবং বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের সাথে তাঁদের কোন যোগাযোগও নেই।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র জনাব তারেক রহমান উত্তরাধিসূত্রে নয় বরং পরিবারে বিদ্যমান রাজনীতির পরিবেশের কারণেই নিজের ব্রত হিসেবে রাজনীতিকে বেছে নিয়েছেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি বগুড়া জেলায় বিএনপির নির্বাচন প্রচারনা অভিযানে সংযুক্তির মাধ্যমে দলীয় রাজনীতিতে সরাসরি সংযুক্ত হন। এরপর তিনি বগুড়া বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বগুড়া জেলায় সংগঠনের ভিত্তি দৃঢ় করেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০২ সালে জনাব তারেক রহমানকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। দলের উর্দ্ধতন পর্যায়ে নিয়োগ লাভের পর পরই তিনি দেশব্যাপী দলের মাঠপর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সাথে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন। মূল সংগঠনসহ সহযোগী সংগঠন যেমন জাতীয়তাবাদী যুবদল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কর্তৃক আয়োজিত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে জনাব তারেক রহমান কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং মাঠপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও মতামত গ্রহণ করেন।

এই সভাগুলোতে তিনি মূলত দলের গঠনতন্ত্র, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নেতাকর্মীদের সাথে দীর্ঘ মতবিনিময় করতেন। বিস্তারিত মতবিনিময়ের বিষয়বস্তুর মাঝে আরও থাকতো দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে দলের করণীয় ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন- অগ্রগতি নিশ্চিতকরণে সরকারী দল হিসেবে বিএনপির করণীয় প্রসঙ্গে আলোচনা। পরবর্তীতে দেখা গেছে যে এই জনসংযোগ কার্যক্রমের ফলে দলের নেতাকর্মীদের তরুণ অংশটির মনোবল অসামান্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই জনাব তারেক রহমান শুধুমাত্র দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের পরিচিতি থেকে মুক্ত হয়ে দলের একজন দক্ষ সংগঠক ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বাবা-মার পরিচয়ে পরিচিত না হয়ে নিজের স্বতন্ত্র ইমেজ তৈরীর জন্য ২০০২ সালে ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক জনসভায় তিনি ঘোষণা করেন, “আমি তারেক জিয়া হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমি তারেক রহমান হিসেবে পরিচিত হতে চাই।”

Zia griculture

কৃষি প্রধান অর্থনীতি এবং গ্রামপ্রধান দেশে যে কোন বিপ্লবের সূচনা করতে হয় গ্রাম থেকে। ১৯৪১ সালে চেয়ারম্যান মাও সেতুং চীনে এভাবেই বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন যা বিশাল লংমার্চ এ রূপ নিয়ে শেষ হয়েছিলো ১৯৪৯ সালে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও গ্রাম থেকেই তাঁর রাজনীতি শুরু করেছিলেন। খাল খনন ও সবুজ বিপ্লবের কাজে তিনি প্রায় প্রতিদিনই ঘুরে বেড়িয়েছেন গ্রামেগঞ্জে। তারই সুযোগ্য সন্তান হিসেবে তারেক রহমানও একই পথ বেছে নিয়েছিলেন। নব্বই এর গণ অভ্যুত্থানের পর থেকে একটা ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিলো যে সরকার রক্ষা করতে হলে ঢাকা দখল করতে হবে। তাই তখন বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকা- ঢাকাকেন্দ্রীক ছিল।

তারেক রহমান যেন হঠাৎ করেই বাঁধ ভেঙে দিয়ে জোয়ারের সৃষ্টি করলেন। ‘গ্রাম মার্চ’ কর্মসূচীর মাধ্যমে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগঠনের কাজ করতে শুরু করলেন। দরিদ্র কৃষকের জন্য বিনামূল্যে ‘কমল বীজ’ আর দরীদ্র নারীদের জন্য হাঁস-মুরগী বিতরণ করে গ্রামের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে অবস্থান তৈরী করলেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এর পক্ষ হতে মেধাবৃত্তি এবং কম্পিউটার ও ল্যাপটপ প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। শীতের তীব্রতায় কষ্ট পাওয়া গরীব মানুষের পশে তিনি প্রতিবছর শীতবস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। সেই সময় থেকেই বিএনপির অসংখ্য কর্মী তারেক রহমানের মধ্যে দেখেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি।

Zia-02

বর্তমান সরকারি দল আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের সমূদ্রসীমা নির্ধারণের রায়কে ‘সমূদ্র বিজয়’ বর্ণনা করে নিজেদের কৃতিত্ব দাবী করছে। অথচ এই সমূদ্র সীমা হতে দেশের জনগণের উপকারের জন্য এখনো পর্যন্ত তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ২০০৩ সালেই এক টিভি সাক্ষাৎকারে জনাব তারেক রহমান বঙ্গোপসাগরের মোহনায় বাঁধ দিয়ে পলি সংগ্রহ করে দেশের আয়তন বৃদ্ধির চিন্তা করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের বনানীস্থ কার্যালয় থেকে ২০০৪ সালের শুরুর দিকে জনাব তারেক রহমান দলীয় যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ইন্টারনেট এবং ফোনের মাধ্যমে প্রায় ২ ঘণ্টা যাবৎ তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। যদিও সে সময় বাংলাদেশে তথাকথিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নামে কোনো শ্লোগান ছিল না; তবে তথ্য-প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করে একটি আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কার্যকর পদক্ষেপ ছিল সেটাই প্রথম; সেটাই ছিল বাংলাদেশকে ই-গভর্নেন্সের আওতায় আনার বাস্তবমুখী উদ্যোগ। তিনি রাজনৈতিক উদারতার অকপট উদাহরণ তৈরী করেছেন টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে গিয়ে এবং সজিব ওয়াজেদ জয়কে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়ে।

জনাব তারেক রহমান বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়কে দলের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কেন্দ্রে পরিণত করেছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপির নির্বাচনী কর্মকাণ্ড, কৌশল নির্ধারণ, প্রচার-প্রচারণা সব কিছুই এই কার্যালয়ে বসে করা হয়েছে। দলীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা আনতে এই কার্যালয়ে গড়ে তোলা হয়েছিলো দেশের প্রথম কোন রাজনৈতিক দলের কম্পিউটারাইজড ডাটাবেজ। দলীয় নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ড মনিটর করা এবং দেশব্যাপী দলের কার্যক্রমের বিস্তারিত এ্যাকশন প্ল্যান করা হতো এই কার্যালয় থেকেই।

এসব কারণে ২০০১ সালের নির্বাচনের পর থেকে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিরোধী শক্তিগুলো উদীয়মান গতিশীল নেতা তারেক রহমান এবং তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কার্যালয়কে জনসমক্ষে হেয় করার জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তারা এটা বুঝতে পেরেছিলো যে, তারেক রহমান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিএনপির ভবিষ্যত নেতা হিসেবে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন অথচ তাঁর বিপরীতে দাঁড় করানোর মত কোন বিকল্প নেতা নেই। এই কারণেই জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তারা পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা বিষেদগার করে গেছে। কক্সবাজারে তিনি যে হোটেলে কর্মী সম্মেলন করেছেন, সেই হোটেলকে তাঁর হোটেল বলে প্রচার করা হয়েছে, অন্যের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে ২০০৮ সালে দৈনিক আমাদের সময়ের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম লিখেছিলেন, “হাওয়া ভবনকে দুর্নীতির কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা এবং সেটা প্রতিষ্ঠিত করার একটি চেষ্টা ২০০১ সালের নির্বাচনের কিছুকাল পর থেকেই লক্ষ্য করা গেছে। হাওয়া ভবন সংশ্লিষ্টদের ২০০১ সালের নির্বাচনে ভূমিকা এবং বিপুল সফলতা হাওয়া ভবনকে টার্গেট হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।”

২০০৭ সালের অবৈধ মঈন-ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে জেলে পাঠানো হয় এবং পরিকল্পিত উপায়ে তাঁর উপর নির্যাতন করে তাঁকে পঙ্গু করে দেয়া হয়। কোন মামলাতেই তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির প্রমাণ না পাওয়ায় তিনি সবগুলো মামলায় জামিন লাভ করে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মূক্ত হন। জরুরী অবস্থা চলাকালীন সময়েও তাঁর মুক্তির দিনটিতে ঢাকা শহর কার্যত অচল হয়ে যায়। ঢাকা শহরের সকল মানুষের গন্তব্য সেদিন বিকেলে এক হয়ে গিয়েছিলো শাহবাগের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে; যেখানে তিনি তখন চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ অপপ্রচার, নির্যাতন এবং মামলার পরও তাঁর জনপ্রিয়তা সামান্যতম হ্রাস না পাওয়ায়, আতঙ্কিত স্বৈরাচারীরা তাঁকে বিদেশে নির্বাসনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য এমনিতেও তার বিদেশে যাবার প্রয়োজন ছিলো। বাংলাদেশের রাজনীতি সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত এই নেতার অপেক্ষায় আছে।

যে, দেশে গুণীজনের কদর নেই, সে দেশে গুণীজন জন্মায় না। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর এই বাণীকে অবহেলা করে আমরা বারবার আমাদের দেশপ্রেমিক নেতাদের হত্যা করতে দিয়েছি, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে তাঁদের মরনোত্তর চরিত্রহানি করেছি এমন কি পাঠ্য পুস্তকে মিথ্যা ইতিহাস পর্যন্ত সংযোজন করেছি। আমরা আমাদের জাতীয় বীরদের অপমান করে নিজেরাই পশ্চাৎপদ ও পরমুখাপেক্ষী হয়ে আছি। মুক্তিকামী চেচেনদের নেতা যোখার দুদায়েভ এর মৃত্যুর পর চেচনিয়ার স্বাধীনতা অধরাই রয়ে গেছে। একজন ভাল নেতার অভাবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা তাঁদের ওপর চলা অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞকে বিশ্বের কাছে পৌছে দিতে পারছে না। আমরা সৌভাগ্যবান যে জিয়াউর রহমানের মত নেতা আমাদের দেশকে অগ্রগতির পথে নিয়ে এসেছিলেন এবং তারেক রহমানের মত নেতা আমাদের দেশকে ‘ইমার্জিং টাইগার’ পরিচিতি দিয়ে উন্নয়নের রানওয়েতে নিয়ে এসেছিলেন। ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে আমাদের উন্নয়নের বিমান উড্ডীন হয়নি। এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এইসব ষড়যন্ত্র ও ষড়যন্ত্রের হোতাদের মোকাবেলা করে দেশে ও দশের উন্নয়নের জন্য তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণাকারীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

Major Zia’s war

A few years ago, I noted how the typical discourse on Ziaur Rahman is full of lies. An (Awami League supporting) old friend asked me to write a positive account of Zia’s politics: instead of rebutting X, write about Y, he told me. This (painfully slowly progressing) series is an attempt at that. Meanwhile, a regular reader asked me to write about Zia’s role during the war — not to refute the preposterous propaganda about him being a Pakistani spy, but about what Zia actually did after the radio declarations of March.

Interestingly, not much is readily available on the matter. While it is well known that Major Abu Taher or Major Khaled Mosharraf were injured in the battles of Kamalpur and Kasba respectively, even the typical BNP supporter wouldn’t be able to name a battle Zia was associated with. According to Muyeedul Hassan’s Muldhara ’71 (among other sources), Zia wanted Osmani to establish a war council. I have also heard from a number of freedom fighters that Zia worked hard to build a regular army. But these weren’t exactly the stuff of ‘battlefield valor’.

This well-researched post by the nationalist blogger দাসত্ব shows that Zia was actually quite intricately involved with a number of battles in 1971. I highlight some key points from the post over the fold. All the photos are from his post as well.

Continue Reading

ওরা মুক্তিযোদ্ধা নয়, ট্রেইটর!

মাহবুব মিঠু।।

মতিউর রহমান সম্পাদিত প্রথম আলো এবং গোলাম সারওয়ারের সমকাল পত্রিকায় মোদির রাজনৈতিক উত্থান বর্ণনা প্রসঙ্গে আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধকে ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধ বলে বর্ণনা করেছে। মাঝখানে দুইটা দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পত্রিকা অফিস থেকে কোন ব্যাখ্যা না পাওয়াতে আমরা ধরে নিতে পারি এটা কোন অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসকে অমর্যাদার জন্যই তাদের এই অপচেষ্টা। সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া না আসাতে ধরে নেয়া যায় সরকারের অবস্থানও একই। কিছুদিন আগে ভারতের একটা ছবিতেও ইতিহাস বিকৃতির এই অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রতিবাদের মুখে তারা ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়। এতোকিছুর পরেও প্রথম আলো এবং সমকালের এই ইতিহাস বিকৃতি নিছক ভুল বলা হলে নিজের বিবেচনা এবং বিচার শক্তিকে অবজ্ঞা করা হবে।

 

ইতিহাস বিকৃতির পিছনে তাদের উদ্দেশ্য কি সেটা একদিন প্রকাশিত হবেই। তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ আখ্যা দিয়ে একাধারে ত্রিশ লক্ষ শহীদদের আত্নাকে আহত করেছে। ৭১ সালের যুদ্ধ যদি ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ হয়, তবে বাঙলাদেশী যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল তাদের অবস্থান কোন পক্ষে ছিল? যেহেতু তারা পাক সেনাদের বিরুদ্ধে লড়েছে, তাই অবশ্যই তাদের অবস্থান ভারতের পক্ষে। অর্থাৎ আমরা যাদের মুক্তিযোদ্ধা বলি তারা প্রথম আলো এবং সমকালের ভাষায় মুক্তিযোদ্ধা নয়, বরং ভারতের সহযোগী শক্তি হিসেবে নিজ দেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ করেছিল। তখন বাঙলাদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত থাকায় যেহেতু তারা ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে ভারতের পক্ষে অস্ত্র ধরেছিল, তাই তারা মুক্তিযোদ্ধা নয়, বরং ট্রেইটর ছিল।

এই স্পর্ধা কোথায় পেল প্রথম আলো এবং সমকাল পত্রিকা?

 

তাদের ইতিহাস বিকৃতির আরেকটি ব্যাখ্যা করা যায়। আমাদের কাছে যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরম শ্রদ্ধার ব্যাক্তি, তারা মূলতঃ তখনকার নিজ দেশের সৈনিক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল শত্রুরাষ্ট্র (পাকিস্তানের শত্রু রাষ্ট্র যেহেতু ভারত ছিল)ভারতের পক্ষ হয়ে| তারই বাই প্রোডাক্ট আমাদের আজকের স্বাধীন বাঙলাদেশ। যেহেতু এটা আমাদের লড়াইয়ের ফসল নয়, বরং ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের বাই প্রডাক্ট, তাই আমরা স্বাধীন হয়েও ভারতের কাছে এতোটা ঋণী যে, পুরো দেশটা তাদের হাতে এক প্রকার তুলে দিয়েও সে ঋণ শোধ হবার নয়।

 

প্রথম আলো এবং সমকালের এই ঔদ্ধত্যের কি কোন বিচারই হবে না?



কিছুটা বাড়তি যোগঃ

লেখাটা আমার ফেইসবুকে দেবার পরে এক বন্ধু নয়া দিগন্ত পত্রিকার একটা লিঙ্ক দিল। যেখানে প্রথম আলোর মতো একই রিপোর্ট হুবহু দেখান হয়েছে। অর্থাৎ ইতিহাস বিকৃতিতে প্রথম আলো এবং সমকালের সাথে নয়া দিগন্ত পত্রিকাও একই কাতারে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়া দিগন্ত পত্রিকা প্রথম আলো এবং সমকালের বিপরীত অবস্থানে। নয়া দিগন্ত জামাতপন্থী পত্রিকা হিসেবেই বেশী পরিচিত।

নয়া দিগন্ত তাদের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে গন্ডগোল কিম্বা ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধ বলে স্বাচ্ছন্দবোধ করার কথা। কারণ তখন জামাতের অবস্থান ছিল মুসলীম লীগের মতো পাকিস্তানের পক্ষে। কাজেই তারা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরতে পারলে যাদেরকে আমরা রাজাকার কিম্বা যুদ্ধপরাধী বলি তারা মূলতঃ হয়ে যাবে দেশপ্রেমিক।

Reflections on Islamist politics in the Bangladesh context

5

by Anon

Let us define the Islamist voter as someone who would blindly vote any party or candidate basing their platform on Islam.  Vast majority of such voters in Bangladesh do not have more than few years of formal schooling.  And the small minority that is educated are not capable of leading the rest because these two groups of Islamist voters have quite different visions of Islam.

 

And this difference in how Islam is to be envisaged goes many years back to the 11th century, when a schism emerged among the Muslims on education and knowledge.  Specifically, Imam Gazali called for madrassah education to focus only on religious study, ignoring science, statecraft, philosophy and mathematics.

 

When Muslims conquered Syria they came across hundreds of books by Greek philosophers and mathematicians. During the Abbasid Caliphate starting from 750 AD, Muslims actively searched, translated and disseminated such books of knowledge under royal patron ship. Although many of the ideas in those books contradicted Muslim cultural and religious beliefs at that time, they still went ahead with studying and distributing them in the interest of acquiring knowledge. Meanwhile Europe was in the dark ages where all scholarship was confined into monastery based theological studies.

 

But things turned upside down from the effects of Crusade and then Mongol invasion. From the interactions of European Christians and Arab Muslims, the Europeans acquired the secular study of knowledge in the Arab lands and the Muslims took up the Church-based education of Europe. The hope continuing the tradition of Ibne Rushd, Ibne Sina, Al-Beruni, Al-Khwarizmi, Al-Farabi, Al-Kindi, Jabir Al-Haiyan etc, withered into nothing.

 

Imam Gazali was chiefly responsible for this. He forbid all heretical ideas and thoughts to preserve Islam. He fiercely attacked Ibne Sina in his book Tahafut Al Falasifa. Because of the vehemence of his attacks, even bold thinkers like Omar Khayyam withdrew from broadcasting their ideas vigorously. Because of Gazali, madrassah education, which was the only mass education system for youth apart from the universities for higher education, confined itself only on religious studies. But there were oppositions to this restriction in mass education in different parts of the Muslim world.

 

Eventually, this schism led to three regional schools: a science oriented one based on Egypt’s Al Azhar; a syncretistic one in Turkey; and a religion-focused one based in Samarkent.

 

Bangladesh’s madrassahs are the heir to the Islamic discourse written in Farsi a millennium ago in Samarkent.  The Samarkent school was abolished by the Soviets, but its literature survived in the madrassahs of Afghanistan, Pakistan, India (Deoband) and Bangladesh’s qaumi madrassahs.

 

The textbooks used in Bangladeshi madrassahs are all based on the Samarkent school literature, and are written in Farsi or archaic Urdu.  Indeed, there are instances of Hadiths of questionable authenticity taught in our madrassahs based on this literature.  For example, only recently such a dubious Hadith was circulated in social media, claiming that the Prophet (pbuh) ordered us to attack India.  Being the heir of the Samarkent school, madrassah students of Bangladesh tend to read archaic Urdu and Farsi more than modern Arabic-Farsi-Urdu.

 

After 9/11/2001, modernisation of Bangladesh’s madrassahs became a priority.  The then BNP government, with the assistance of Jamaat and large foreign funding, attempted a modernisation drive.  This led to an intense conflict between qaumi madrassahs and aliya madrassahs and those trained from Medina University — with the latter denounced as Jew-trained-heretic by some eminent leaders of the qaumi madrassahs.

 

The Imams of nine out of ten mosques in Bangladesh are from these qaumi madrassahs.  They are the role models of Bangladeshi Islamists.  Scholars from different schools are viewed with suspicion by those trained in the Samarkent tradition. To expect modernising Islamists like Fetullah Gulen or Tariq Ramadan is thus unrealistic in the Bangladeshi context.

 

And how big is the Islamist vote in Bangladesh anyway?  Let’s think about it through attendance at mosques.  The same mosque that can’t fit the jamaat on a Friday, causing a traffic jam outside, can’t find a single line of Muslims for the Fajr prayer.  That is the blunt reality of Islamism in Bangladesh.

 

The apparent rise of Islamism in today’s Bangladesh is a socio-cultural reaction against Awami misrule and Shahbagi cultural hubris.  It is similar to the socio-cultural reaction against the upper caste Hindu chauvinism a century ago.  Just like the Muslim League politics ended after partition, sympathy for the Islamists will also wane once the political scene changes.

 

Before an Islamic revolution is even plausible in Bangladesh, Islam has to be actually practiced along side science and technology.  Vast majority of us practice neither.  Those who practice both however don’t represent the Samarkent traditionalists, who are the actual Islamists.

 

And that’s why Islamist politics is a non-starter in Bangladesh.

(Picture Bayt al-Hikma was a librarytranslation institute and school established in Abbasid-era BaghdadIraq)

ঘৃণা আর কদমবুচি

by Hafiz M Ullah

 

আমাদের অভিধানে এবং সংস্কৃতিতে একদিকে “ঘৃণা” আর তার পাশেই “কদমবুচি” করার চল এতোটাই গেড়ে বসেছে যে, কয়েকটা জেনেরেশন পার হতে হবে এই পঙ্কিলতা থেকে পরিত্রান পেতে। এভাবেই আমাদের মন-মানসিকতা গড়া হয়েছে যে জীবনের অন্তিমকালে এসে সেগুলি unlearn and relearn এর সুযোগ নেই। বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

আমরা সাধারন নাগরিক আমাদের পাশের দেশের তুলনায় পিছিয়েই থাকব। কারন তারা চায় না প্রতিবেশী আবার প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। সেজন্য তারা আমাদের দুই দেশের মাঝের বিদ্যমান সমস্যাগুলি সমাধান না করে যুগ যুগ ধরে ঝুলিয়ে রাখছে। তাদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার জন্য অনুদানের বা সুবিধা দেয়ার তুলনায় তাদের উতপাদিত পণ্য ও মেডিক্যালসেবা আমাদের কাছে বিক্রির চেস্টা নানান কৌশলে করে থাকে।

আমি ১৯৭৩-৭৪ সালের দিকে ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয় একজন শিক্ষক এর সাথে দেখা করতে গেলে উনি দুইটা ইংরেজী শব্দ ব্যাবহার করেছিলেন তার প্রফেসি (prophecy) হিসাবে যে, “আজ থেকে কয়েকযুগ পরে আমাদের দেশে intellectual bankruptcy দেখা দিবে” (Intellectual means involving a person’s ability to think and to understand ideas and information। Bankruptcy: A person who is totally lacking in a specified resource or quality)। আজ আমি সেটার নজির রাস্ট্রের সর্বোচ্চ লেভেল থেকে সাধারান জনগনের মাঝে প্রকট আকারে দেখছি। আমরা যুক্তিতর্ক প্রয়োগ না করে ধমকের সাথে বা গায়ের জোরে প্রতিপক্ষকে কাবু করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করি।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সেই বিখ্যাত ছবির গরুর গাড়ীর চাকার মত বাংলাদেশকেও যেন আজও কাদামাটি থেকে ধাক্কা দিয়ে তোলা যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাহেব তার এক ভাষনে বলেছিলেন যে, বিএনপি যদি কখনো উত্তর দিকে দৌড় দেয় তবে আওয়ামী লীগ চোখ বন্ধ করে দক্ষিন দিকে দৌড়াবে এবং vice versa (with the order reversed; the other way around) এর মানে, তুমি যেটা বিশ্বাস করবে বা করতে চাইবে আমি তার উল্টোটা করব। নইলে আমি তোমার ফলোয়ার হয়ে গেলাম। যেটা আমার নিজের আর দলের জন্য অবমাননাকর ব্যাপার। তাই, সব কিছুতে বিরোধীতা করা চাই।

এই বাজে vicious cycle (one trouble leads to another that aggravates the first) থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হলে দলমত নির্বিশেষে একজন গ্রহনযোগ্য নেতার প্রয়োজন। যিনি হয়ত নিজ থেকে উড়ে এসে জুড়েও বসতে পারেন। কিন্তু দেশটাকে একছন্দে আর তালে এগিয়ে নেয়ার স্পৃহা জনগনের মাঝে প্রথিত করে যেতে পারেন তেমন নেতার প্রয়োজন ছিল। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের জানুয়ারীর ১০ তারিখে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্য (লন্ডন) হয়ে পথে কলকাতায় থেমে পরে ঢাকায় আমাদের মাঝে এসেছিলেন। তখন তিনিই আমাদের সেই স্বপ্নের নেতা হিসাবে সদ্যস্বাধীন দেশের মাঝে অনেক আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন। সেই সময়ে আমরা সমগ্র ৭৫ মিলিয়ন বাংগালী (বাংলাদেশী) ওনার মুখের দিকে অনেক আশা নিয়ে চেয়েছিলাম। এমন কোন কাজ ছিল না যেটা উনি দেশবাসীকে বলতেন বা আমাদের কাছ থেকে চাইতেন আর সেটা তখন মানা হত না বা আমরা করতাম না। কিন্তু যে কোন কারনেই হউক উনি নিজেকে জনগনের সম্মুখ থেকে গুটিয়ে নিয়ে রাস্ট্রের রুটিন কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। যার ফলে তখন আমরা আমাদের তখনকার দিনের প্রিয় নেতাকে ৭৩ সাল থেকেই হারাতে শুরু করেছিলাম আর ৭৫ সালে সম্পুর্ণ ভাবে হারিয়েছিলাম। সেই ৭২-৭৫ সালে আমারা বাংলাদেশের ম্যানেজার হিসাবে শেখ মুজিবকে পেয়েছিলাম। কিন্তু তখন আমাদের একজন স্টেটসম্যান দরকার ছিল। যেটাতে উনি পুরোপুরি ব্যার্থ হয়েছিলেন। বাদ বাকিটা তো ইতিহাস হয়ে আছে।

বাই দ্যা ওয়ে, Four Qualities of a True Statesman (1) A Bedrock of Principles (2) A Moral Compass (3) A Vision and (4) The Ability to Build a Consensus to Achieve that Vision

http://www.naturalawakeningsmag.com/Natural-Awakenings/October-2012/The-Four-Qualities-of-a-True-Statesman/

কাকু,আব্বু, আমি ও বাকি ত্রিশ লাখ…

by Watchdog BD

খবরে প্রকাশ নতুন করে আদমশুমারী করতে যাচ্ছে সরকার। শীঘ্রই এ ব্যাপারে লোকবল ও অর্থ বিনিয়োগ সংক্রান্ত ঘোষনা দেয়া হবে। যে কোন উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে সঠিক পরিসংখ্যান। হোক তা উন্নত বিশ্বে অথবা বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে। আমাদের পরিসংখ্যান খাত বাকি দশটা খাতের মতই দুর্নীতির মহামারিতে আক্রান্ত। বিনিয়োগকৃত অর্থ পকেটস্থ করার উদ্দেশ্যে অনেক পরিসংখ্যানই জন্ম নেয় টেবিলে। গরু ঘাস খায়, গাধা ঘাস খায়, সুতরাং গরু = গাধা, এ ধরনের উদ্ভট ম্যাথমেটিক্যাল মডেলিং কায়দায় সমাধান করা হয় পরিসংখ্যান বিষয়ক সমীকরণ। যার দরুন দেশের মোট জনসংখ্যা নিয়ে রয়েছে বহুমুখি সন্দেহ। লিমিট মডেলিংয়ে সংখ্যাটার উপরের ভ্যালু পনের হলে নীচেরটা হবে সতের। অর্থাৎ পনের কোটি হতে সতের কোটির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে দেশের মোট জনসংখ্যা। আমদানী নির্ভর একটা দেশের অর্থনীতির জন্য এ ধরণের উঠানামা খুবই ভয়ংকর যা বিশ্ব অর্থনীতির সমসাময়িক বাস্তবতায় খাদ্য ও জ্বালানী নিরাপত্তায় ডেকে আনতে পারে নজিরবিহীন বিপর্যয়। এসব নিয়ে ক্ষমতাসীনদের আদৌ কোন মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয়না। বাস্তবতা হল, এখানে রাজনীতিকে অর্থনীতি ডমিনেট করেনা, বরং তার উল্টোটাই বাংলাদেশের বেলায় প্রযোজ্য। তারও আছে বহুবিধ কারণ। যেমন, ক্ষমতা ধরে রাখা অথবা ফিরে পাওয়ায় এ দেশে অর্থনীতির কোন ভূমিকা নেই। সকাল-সন্ধ্যা বিরামহীন ব্যক্তি বন্দনাই মসৃণ করে ক্ষমতার সিঁড়িঁ । আদমশুমারী সংক্রান্ত সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পেছনেও হয়ত রয়ে গেছে ব্যক্তি বিশেষের নতুন ইচ্ছা অথবা অভিপ্রায় বাস্তবায়নের নীলনকশা। এটাই আমাদের রাজনীতি, এটাই আমাদের অর্থনীতি। এবং এমনটাই আমাদের নিয়তি। আদমশুমারী নামক গৌরি সেনের টাকায় নতুন শ্রাদ্ধের সাথে চাইলে নতুন একটা ইস্যু যোগ করা যায়। এর জন্য নতুন কোন বাজেটের যেমন দরকার হবেনা, তেমনি দরকার হবেনা অতিরিক্ত কোন লোকবল অথবা বাহুবলের। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে নিহত ত্রিশ লাখ শহীদ ও তিন লাখ ধর্ষিতা বীরাঙ্গনার একটা তালিকা। সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আসুন পরিসংখ্যান নিয়ে আরও কিছুটা সময় ব্যায় করি।

10314583_10203911655491247_6497602888689130159_n

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ হতে ১৬ই ডিসেম্বর। মাসের হিসাবে ৮ মাস ২৩ দিন। দিনের হিসাবে ২৬৭দিন। ঘন্টার হিসাবে ৬৬৭৫ ঘন্টা, মিনিটের হিসাবে ৪,০০০,৫০০ মিনিট এবং সেকেন্ডের হিসাবে মোট ২,৪০,৩০,০০০ সেকে¨। বলা হয় ২৬৭ দিনের যুদ্ধে পাকিস্তানিরা মোট ৩০,০০,০০০ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছিল। এবার আসুন যোগ বিয়োগ, পুরন ভাগ দিয়ে সংখ্যাটার একটা ফ্রিকোয়েন্সি দাঁড় করানোর চেষ্টা করি। যা বেরিয়ে আসবে তাতে দেখা যায় পাকিস্তানিরা প্রতিদিন মোট ১১,২৩৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছিল। ঘন্টার হিসাবে তা হবে ঘন্টায় ৪৫০জন, মিনিটে ৭।৫ জন এবং সেকেন্ডের হিসাবে ০।১২ জন। এবার আসুন এই ত্রিশ লাখ শহীদের লাশের একটা বিহিত করার চেষ্টা করি। বলা হয় প্রতিটা মুসলমানকে দাফন করতে মোট সাড়ে তিন হাত মাটির প্রয়োজন হয়। এ হিসবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ১,০৫,০০০,০০ হাত জায়গার প্রয়োজন হয়েছিল ত্রিশ লাখ দাফনের জন্য। আমরা যদি গজের হিসাবে দুই হাত সমান এক গজ ধরি তা দাঁড়াবে ৫২,৫০,০০০ গজে। যদি ভুল না হয় ৫,২৮০ গজ সমান এক মাইল। এ হিসাবে মোট গজকে মাইলে নিয়ে গেলে তা হবে ৯৯৪ মাইল। এবং কিলোমিটারের হিসাবে ১৫৯০ কিলোমিটার। ৫৪ হাজার বর্গমাইল আয়তনের একটা দেশে ত্রিশ লাখ লাশ দাফন করতে কত বর্গমাইল জায়গার দরকার তা বের করার দায়িত্বটা পাঠকদের উপরই ছেড়ে দিলাম। অনেকে বলবেন ত্রিশ লাখের সবাইকে দাফনের ব্যবস্থা করা গেছে এমনটা নয়। অনেকে আবার প্রশ্ন তুলবেন শহীদদের অনেকেই ছিল অমুসলিম এবং স্বভাবতই তাদের দাফন করার প্রশ্ন আসেনি। খুবই যুক্তিপূর্ণ প্রশ্ন। এটাও সত্য ত্রিশ লাখ শহীদদের কাউকেই বাংলাদেশের বাইরে হত্যা করা হয়নি। দাফন না করা গেলে তাদের মৃতদেহ কোথাও না কোথাও ঠাঁই পেয়েছিল। যদি স্বতন্ত্রভাবে সবাই দাফন করা সম্ভব না হয়ে থাকে প্রশ্ন উঠবে শত শত গণকবরের। হিন্দুদের ব্যাপারটা খুব সোজা। ৭১সালে বাংলাদেশের কোথাও কোন চিতায় আগুন জ্বলেনি। পাকিস্তানিরা জ্বলতে দেয়নি। তাদের লাশও কংকাল হয়ে বাংলাদেশের মাটিতে কোথাও না কোথাও ঠাঁই পেয়েছে। পরিসংখ্যান গুলো একত্র করলে একটা প্রশ্ন জন্ম নিতে বাধ্য, আট মাস তেইশ দিনে আসলেই কি সম্ভব ছিল ত্রিশ লাখ হত্যা করার? নিশ্চয় অসম্ভব কিছু নয়। আমরা যদি সমসাময়িক সময়ে আফ্রিকার রুয়া¨ায় ঘটে যাওয়া গণহত্যার দিকে চোখ ফেরাই তাহলে একবাক্যে স্বীকার করবো বাংলাদেশেও সম্ভব ছিল। ১০০ দিনের গৃহযুদ্ধে ১০ লাখ রুয়া¨ান প্রাণ হারিয়েছিল, যা ছিল দেশটার মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগ। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড গোটা পৃথিবীর সামনে ঘটেছে। লাশের মিছিল ট্রাকে করে ময়লা আবর্জনার মত গণকবর দেয়া হয়েছে। যুদ্ধ শেষে সে সব গণকবরের সন্ধান করে দেশটার সরকার তথা গোটা বিশ্ব নিহতদের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করেছে।

৭১’এ পাকিস্তানিরা এ দেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। সংখ্যা এদিক ওদিক করে এ অপরাধ লঘু করার কোন উপায় নেই। বর্বরদের বর্বরতা ইতিহাস কোনদিন ক্ষমা করেনা, আমারাও করবো না। কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন উঠতে বাধ্য, এই যে ত্রিশ লাখের কথা বলছি তার কোন তালিকা তৈরীর কেন চেষ্টা করছিনা? নাকি খুঁজতে গেলে পাওয়া যাবেনা এ সংখ্যা? পরিচিত এক আওয়ামী নেতা আমাকে বলেছিলেন মৃতদের নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে নাকি পাপ হয়। আত্মারা অভিশাপ দেয়। আপাদমস্তক একজন চোরের মুখে হঠাৎ করে পাপের কথা শুনলে শিউরে উঠতে হয়। আমি অবশ্য অবাক হয়নি, বরং চমকিত হয়েছি। লাশের সংখ্যাকে রাজনৈতিক উপাদান বানিয়ে ক্ষমতার বাজারে মুনাফা লোটা খুব সোজা। বিশেষ করে ৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তাদের জন্য এ সংখ্যা ঈশ্বরের ওহী বাণীর মত কাজ করতে বাধ্য। যার প্রতিফলন দেখা যায় আজকের সোস্যাল মিডিয়ায়। ত্রিশ লাখ সংখ্যার প্রবর্তক আওয়ামী লীগ জেনশুনে কাজটা করে থাকলে সাধুবাদ জানাতে হয় তাদের সুদুরপ্রসারী চিন্তাভাবনার জন্য। জাতিকে একটা বিশেষ পরিবারের সেবাদাস বানাতে এর চাইতে ভাল অস্ত্র দলটা হাতে পাবে বলে মনে হয়না। একবার ভেবে দেখুন, প্রতিবেশী একটা দেশের পানি আগ্রাসনে আমাদের নদী গুলো এখন সর্বশান্ত। নদী তীরের জীবন এখন ইতিহাস। খা খা করছে ফসলের মাঠ। ওরা সীমান্ত হতে আমাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। পশু পাখির মত হত্যা করছে, পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। যাকেই দরকার নিজেদের গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে খোদ রাজধানী হতে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অসম বানিজ্যিক ভারসাম্যের বোঝা কাধে চাপিয়ে জাতিকে করেছে বিকলাঙ্গ। ড্রাগ এবং অস্ত্রের পাশাপাশি উন্মুক্ত তথ্য প্রবাহের সুযোগ নিয়ে নিজেদের বিকৃত সংস্কৃতি দিয়ে লন্ড ভন্ড করে দিচ্ছে আমাদের সামাজিক ভারসাম্য। এসব নিয়ে প্রশ্ন তুললে ত্রিশ লাখ শহীদের মায়াকান্নায় সমাহিত করে দিচ্ছে আজকের বেচে থাকা। লুটেরার দল দেশ লুটছে, খুন করছে, গুম করছে, করছে ভোট ডাকাতি। এবং দিন শেষে পাপ মোচন হিসাবে ব্যবহার করছে ত্রিশ লাখ শহীদের লাশ।

বাস্তবতা হচ্ছে ৭১’এ ত্রিশ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়নি এ দেশে। কোনভাবেই সম্ভব ছিলনা এ ধরণের পাইকারি সংখ্যা। মিনিটে ৭ জনের লাশ পরেনি এ দেশে। অন্তত আমরা যারা ৭১’এ দেশে ছিলাম এমনটা দেখিনি। মাটি খুঁড়লেও পাওয়া যাবেনা এত লাশ। হাজার হাজার লাশের গণকবরও নেই আমাদের দেশে। কারও সন্দেহ থাকলে আসুন নিজের পরিবার হতে শুরু করি এর যাচাই। কজন প্রাণ হারিয়েছিল আপনার পরিবারে? গ্রামে অথবা শহরে? সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যার ত্রিশ লাখ মানে শতকরা প্রায় ৪ ভাগ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন বাংলাদেশির ৪জন করে প্রাণ হারিয়ে ছিল সে যুদ্ধে। সে হিসাবে আমাদের প্রত্যেকের হাতে থাকার কথা স্বজন হারানোর তালিকা। আছে আপনার হাতে? তাহলে প্রকাশ করুন। এ সংখ্যার ফয়সালা জরুরি পাকিদের পাপ হাল্কা করার জন্য নয়, বরং একদল ক্ষমতালোভী রাক্ষসদের লাশ বানিজ্য বন্ধ করার জন্য। সোস্যাল মিডিয়া হতে পারে এ শুরুর আসল প্ল্যাটফর্ম। আসুন ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধে নিহত প্রতিটা লাশের পরিচয় লিপিবদ্ধ করি। এ সংখ্যা যদি ত্রিশ লাখে দাঁড়ায় সেটাই হবে আমাদের আসল সংখ্যা। শ্রদ্ধাভরে সন্মান জানবো সে সংখ্যাকে। কিন্তু আমরা প্রত্যেক শহীদের নাম জানতে চাই। জানতে চাই তার যাপিত জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ। এ দেশের রাস্তাঘাটের নাম দেখতে চাই এ সব শহীদদের নামে। এক শেখ মুজিবের নাম গোটা বাংলাদেশের রাস্তা-ঘাট, নদী-নালা, মুতখানা, লঙ্গরখানা কভার করার জন্য যথেষ্ট নয়। চাই আরও নাম। যুদ্ধের প্রথম প্রহরে যে ব্যক্তি শত্রু ক্যাম্পের মেহমান হয়ে নিজের রাজনৈতিক চামড়া বাচাতে সচেষ্ট ছিলেন তার নামের বন্যায় গোটা দেশ ভেসে যাবে, আর বাকি ত্রিশ লাখ কেবল মায়াকান্নার উপাদান হিসাবে রয়ে যাবে তা হতে পারেনা।

এবারের আদমশুমারী হতে পারে শহীদ সংখ্যা তালিকাভুক্ত করার মোক্ষম মাধ্যম। শুমারির কাজে সরকারী লোকজন দেশের প্রত্যেকটা দুয়ারে কড়া নাড়বে। মাথা গুনবে মোট জনসংখ্যা নির্ধারণের অংশ হিসাবে। একই লোকজন পাশাপাশি আরেকটা তথ্য বের করে আনতে পারে, আর তা হল ৭১’এর শহীদদের নাম, ধাম ও পরিচয়। মনে আছে হুমায়ুন আহমেদের ’বহুব্রীহি’ নাটকের শেষ পর্বের কথা? আবুল হায়াত গরুর গাড়িতে চড়ে অজানার পথে বেরিয়ে পরছেন নতুন এক দায়িত্ব নিয়ে। সে দায়িত্ব ছিল ত্রিশ লাখ শহীদের পরিচয় উদ্বারের দায়িত্ব। কাউকে না কাউকে নিতে হবে সে দায়িত্ব।

http://www.amibangladeshi.org/blog/04-27-2014/1454.html

Remembering Maulana Bhashani: The ‘Play’ of Religion and Politics in Bangladesh

1

In this article the Brethren explore some rarely mentioned aspects of Abdul Hamid Khan Bhashani’s political practice. A close reading of his oath of allegiance, adds a new dimension to our existing understanding of his political project. It excites and liberates us from the Manichean question of secular-versus-religious politics that dominates our discourse so unproductively. It is in the greater interest to supersede this intellectual roadblock, which causes national self-harm, but is woven into a narrow account of our people’s historical experience. It is high time to question current ‘banking’ education narratives and ask whether it is not time for a new ‘Historiography of the Oppressed’.

 Down I went into the Diaspora (Piraeus)

Have you heard the one about the Maulana and the Marxist?

My first brush with the meanings of Maulana Bhashani was at one of those social gatherings that are part of London diaspora life. It was at the height of the kitsch culture madness of Shahbag in early 2013, which was reaching its Islamophobic conclusion of calling for a banning of religion from politics in Bangladesh. I sat next to a former graduate of Sylhet’s famed MC College, a lifelong JSD (National Socialists Party) member, and a Maulana, a Qawmi Madrassa graduate. Their conversation soon descended into an argument, with the JSD member scolding the Maulana, ‘Why don’t you Mullahs give up politics?’ To this the Maulana replied, ‘How does the son question the existence of his father?’ He continued, ‘Without a free India and Pakistan there would be no Bangladesh, without Bhashani there is no Mujib, where do you think free India and Maulana Bhashani came from?’

 or the one about the ‘Bismillah Capitalist’?

Related to the above topic, I remember a conversation with the late Dhaka University’s Dr Aftab Ahmed, months before his 2006 assassination and the 2007 Diplomat’s Coup. He was puzzled by a conundrum that came out of study on Islami Chhatra Shibir alumni. He found that a minority progressed into the hierarchy of Jamaat e Islami, and a small number would leave to pursue their spiritual quest, mainly ending up in the ranks of the quietist Tablighi Jamaat. The majority went into the corporate world or private business, and became good capitalists.  He noted an important limitation of the party, that it was basically a modern one with a sprinkling of Islam here and there.

Living in London, which comically pitches itself as global Islamic Finance hub, I observe a similar phenomenon. We call them ‘Bismillah Capitalists’, capitalism with a sprinkling of Islam to make it palatable for an indigenous market, and switch off our people’s critical faculties.   A thread of the conversation I am sorry not to have developed was Dr Aftab’s call for a Liberation Theology amongst Muslims, and the courage to see and study the politics between the Prophet’s (pbuh) companions. Perhaps the optic of Maulana Bhashani’s soulful politics provides some yeast for the former.

Escape from the shadow of Lagado: Preventing Violent Eurocentrism (PVE)

 To understand the significance of Bhashani, we are minded to read him within his tradition.  Thus as readers we have to leave our prejudices and let the Maulana speak for himself and be understood in his own categories and definitions.

We must avoid the mistake of many academics at the Academy of Lagado (La-puta), who use Eurocentric monocles, even when gazing in the mirror. This use of an outdated and discredited tradition is unwittingly kept alive today in the field of Bangladesh Studies (BS) by the likes of Ali Riaz and his supporters of publicists and hangers on. It is an academic practice which claims to understand Islam and Muslims, but has no training in philology or religion but a combination of journalism, political science and interests in (self) sustainability. These experts take a cue from a section of their colleagues in Middle Eastern studies, and speak in the name of foreign policy and development, creating an arid landscape ready for the neo-con mind to wrap its talons around. The consequences of such misdirection is increased ignorance and grist to the burgeoning ‘War on Terror’ industry, with ever increasing collateral damage, bordering and crossing over into Islamophobia. An ignorance multiplier effect, exposed by Farhad Mazhar about media manipulation in general and specifically by a recent article on the editorial policy of a national newspaper in Bangladesh, the Dhaka Tribune.

This approach has been critiqued in terms of its professed political objectivity by Edward Said in his Orientalism’, and methodologically by the Native American scholar Ward Churchill in his seminal ‘White Studies’. For the interested, a good starting point for a constructive and knowledge-based philological study of Islam are the works the Malaysian thinker Syed Naquib al Attas, especially his Islam and Secularism’.

The Tao of Remembrance (Mudhakara)

Bhashani’s life reflects the journey of his people, born and educated during the British Raj, he mobilised throughout the United Pakistan period (when not incarcerated) and was revered in Independent Bangladesh. Politically he began with Jamiatul Ulema-e-Hind and signed off in the left wing National Awami Party.

One document that that might help us understand the essence of this enigmatic figure is the disciple’s oath (bayah) he administered to his followers. It is reproduced and translated below.

 “I give an undertaking that in Allah the Supreme I profess firm belief. I will believe with certainty that Rasulullah is the sent messenger. I will abide by all the regulations pertaining to the permitted and disallowed, as propagated by the Messenger.  

I will not bow my head to anyone besides Allah.

I will endeavour tirelessly  to establish socialism, the only way to relieve all forms of human extortion and embezzlement.  

I will join the volunteer’s corps of the peasantry to eradicate from society all forms of imperialism, capitalism, feudalism, usury and corruption.

I will perform litanies, contemplation, meditation, prayers and fasting… according to the tariqah of Qadria,  Naqshbandiya,  Chistiyyah.

Every year on the 19/20th January 5 Magh I will attend the large seminar at Santos, Tangail and assist in the advancement and progression of the Islamic University.”

The disciple’s oath presents two features of Islamic pedagogy; action melded with belief and an anchoring to an oral tradition. Action, or orthopraxy, is seen in the obligation of adherents to engage physically from prayer, fasting, to attending annual gatherings. It is similar to the Aristotelian concept of hexis, a state of being, conditioned by habits and practice known colloquially in Bangladesh as ‘adab’.

The oral tradition is seen in reference to the Chistiyyah, Qadiriya and Naqshbandi Sufi orders and their practices. The Islamic tradition is oral before being written, even the word Qur’an means recitation. Arabs often distinguish between the Qur’an as recitation, and the written copy of it, the mus’haf. Oral primacy is maintained in Islamic pedagogy: from Qur’an memorisation; to the science of understanding where a Prophetic tradition has been narrated from; to the teaching genealogies preserved in the supplications of the Sufis. Such live oral traditions continue to breathe in Bangladesh, through the independent, non-government Qawmi (community) Madrassas, and the Sufi orders.

People with Muslim heritage can relate to this oral tradition through their formative childhood experiences, through the teaching and memorisation of short verses of the Quran, to the method of how to perform the five canonical prayers. This cycle of instruction and embodied practice is communicated from the first community in Makkah with a template established during the early Prophetic period, with the Angel Gabriel teaching the Prophet (pbuh) to recite and memorise the first verses from the Quran, and showing him how to pray.

The principles of this epistemology are laid out in a Prophetic tradition found in the Muwatta of Imam Malik ibn Anas, founder of the Maliki legal school and author of the first book of sacred law. Imam Malik knew many traditions recommending the seeking of knowledge, but felt suffice just to narrate this single hadith on the matter, one which expresses the essence of seeking knowledge, heart to heart – ‘sina ar sina’, teacher to student all the way back to the Prophet (pbuh),

 Luqman the Sage (pbuh) made his will and counselled his son, saying, “My son! Sit with the learned men and keep close to them. For Allah gives life to the hearts with the light of wisdom as Allah gives life to the dead earth with the abundant rain of the sky.”

 

Genealogy of Resistance (Mujahada)

‘Let there be among you who enjoin what is right and forbid what is wrong’.

(Qur’an 3:104)

 The Oath affirms actions and a continuous struggle against imperialism and feudalism. Our 2013 Twin Towers of industrial and state crimes deserve better than, the paparazzi politics of the Reshma Rescue, the middle class guilt of Lungi March and the Dad’s Army that is Sushil Samaj. The Oath excites a soulful politics of the human solidarity and spiritual awakening – towards the creation of Al Insan al Kamil (the Perfect and Universal Man).

The impact of the Sacred on Bhashani’s political training can be seen not just in the oath’s content and monotheistic refusal to submit to all but God, but in the relationship of his teacher’s to the growing power of colonial capital. As T S Eliot wrote in ‘Tradition and the Individual Talent’,

 No poet, no artist of any art, has complete meaning alone. His significance, his appreciation, is the appreciation of his relation to the dead poets and artists. You cannot value him alone; you must set him, for contrast and comparison, among the dead.”

 Bhashani was the disciple of the Baghdadi Pir of Lakhimpur in Assam, who advised him to journey to the Deoband seminary in Uttar Pradesh to study under Maulana Mahmudul Hassan.  Bhashani’s chain of teachers were deeply committed to anti-imperial activities against the British before, during and after the 1857 War of Liberation.

 Mahmudul Hassan accompanied his father in the war as a boy, and his own teacher Rashid Ahmed Gangohi had to flee from the British for his participation, he was later caught and imprisoned. Gangohi was the spiritual disciple of the Sufi Master Haji Imdad Ullah Makki. The pictures below of Delhi show the ferocity of British retribution on the built environment in the aftermath of 1857, and the simplicity of the graves, reflecting the humility of those who took part in the struggle.

 All three scholars (Hassan, Gangohi and Makki) were either influenced, intimately took part in, or were inheritors of the Madrassa Rahimiyyah, the intellectual centre of resistance to the British in 1857. Scholars and students from Rahimiyyah participated in the war intellectually and physically, giving it moral legitimacy and directing movements and defences. Rahimiyyah, translates as an adjective of the enduring manifestation of Divine mercy, grace and love, as a consequence of human work, sacrifices and supplications. The madrassa was established in the 17th century during the reign of the Emperor Aurangzeb by Shah Abdul Rahim, who also helped to compile the Fatawa Alamgiri, a landmark codification of the Muslim legal tradition.

When the British eventually captured Delhi, amongst other civilising barbarities, their Army decided to destroy the leading Islamic educational institute in India, ordering the Rahimiyyah closed and selling it to Hindu businessman. The poet Mirza Ghalib is quoted in William Dalrymple’s The Last Mughal,

“The madrasas were almost all closed, and their buildings were again mostly bought up-and in time demolished – by Hindu moneylenders. The most prestigious of all, the Madrasa-i-Rahimiyyah was auctioned off to one of the leading baniyas, Ramji Das, who used it as a store (p463)”.

Out of the ashes of Rahimiyyah, its alumni began a new wave of Muslim institutional innovation, with Deoband (1866), Aligarh (1875) and Nadwatul Ulema (1894) founded to establish dignity, social justice and representation for radically disempowered Muslim communities. These institutions were supported across India, cascading regional developments. Without Deoband, Aligarh and Nadwatul Ulema, there would be no Hathazari or Dhaka University. They also schooled leaderships for the Indian National Congress and the Muslim League, who led the freedom struggle for Independence. This contribution was recognised in the anniversary celebrations of the Deoband Madrassa in March 1982, by the attendance of Prime Minister Indira Gandhi, and leading members of her opposition including Raj Narain, Jagjivan Ram, and Chandra Shekar.

 

The Academy and the Maulana : Escaping the Cave

Talking about Bhashani connects with wider narratives of religion, politics and the subaltern Bangladesh. He is claimed by most factions as their own, from members of Jamiatul Ulema to Marxists who place his picture beside Marx and Lenin. He continues to suffer poor treatment from the Joy Bangla Kitsch Culture Machine.  Recovering Bhashani washes away the formaldehyde into which Bangladesh’s (mis)leadership has tried to drown and trade religion, and remove dynamic religion from both the political sphere and informed public debate. Recovering Bhashani transcends this bourgeois political cul-de-sac of the post-Liberation era.

 In the unfortunate political shorthand of our times, leftists are invariably considered atheists who battle with rightists, who invariably aren’t. Figures who cross these two immiscible currents are pathologised if not dismissed outright, for example the case of Abul Hashem, author of ‘The Revolutionary Character of the Kalima’, a formative influence on the Awami League and proponent of Islamic Socialism. His son, Marxist-Leninist historian Badruddin Umar is on the record as saying that his father was ‘a political schizophrenic’.

 Between the politics of competition and class considerations, enchantment with the Maulana is not shared by all. In a certain camp of Political Islam, Bhashani has even been takfired upon. His politics of the dispossessed disturbs the tactical movements for business as usual, but with beards. A deconstruction of the cold war politics and the personal anxieties of the individual allegedly behind this dismissal is long overdue. Looking through the eyes of the colonially colour blinded, it seems Bhashani was a flash in the pan never to be found again. Yet the same kind of personalities and struggles against oppression can be found all over the Muslim world.

 To the West, in Syria we have Abd al Rahman al Shaghouri (1914 – 2004), a scholar of sacred law, poet and sufi. Originally a weaver, then a textile mechanic and later foreman of technicians at a fabric plant, his story has more than a few lessons of how we think of our garments workers. Al Shagouri was instrumental in unionising workers in Damascus and was part of the team that led the Syrian Textile Workers Union to a successful 40 day strike for workers compensation. To the East, in Malaysia we see Nik Abdul Aziz, graduate of indigenous punduk seminaries and elected premier of Kelantan State for a period of 23 years. Last year we saw a coalition of his Islamic party, Chinese Malaysians and Anwar Ibrahim’s Kedalan forming Pakatan Ryat, The People’s Alliance, and mount the biggest challenge to the Malay ethnonationalist UMNO establishment so far.

 Nearly four decades after Bhashani, there seems to be a deliberate attempt to cover up his politics and enduring contributions. The erasure takes several forms, from the demotion of his life in textbooks, to the  festival cancellation, following his annual death memorial prayers. In Bangladesh today there is only room for the cultural hegemony of the feudal-industrial complex, which splices the dynasty of ‘The Sheikh’ to the kitsch culture of Shahbag. Judging by the quantity of faces on billboards, or media mentions, or columns in print, the legacy of Maulana has  faded away.

 The urge to forget emanates from a structural push by literary custodians of elite history to exorcise the undecidability and derailment that Bhashani brings to their ‘Little Boxes’. The false dichotomies we see bandied around today, of religious vs secular, urban vs rural etc, were delivered by ‘Biman’s’ own ‘cabin crew’. The court painters of the Republic’s history have stopped exercising their memory and have forgotten themselves. Their reliance on external marks of writing instead of their internal capacity to remember and relate, holds them hostages to their own appearances.  Seemingly knowledgeable and connected, but unfortunately quite the opposite, they are thoroughly intolerant of dissenting views. We see this attitude evident in the ‘Academy’ of Bangladesh today, like three prongs of the same thrusting trident. The  flat earth mantra of 3 million war dead, mediated by faux objective civil society speak, and somewhat more sophisticated but juvenile ersatz Jean-Luc Godard, Marxist Existentialist mirages of ‘Utopia’.

Can the subaltern remember?

Unfortunately for his detractors, the ghost of the Maulana and the legacy he represents refuses to die and continues to live in the body politics of Bangladesh. He is the tip of an iceberg of a living collective memory and continuity that permeates and ennobles the lives of ordinary people. Bhashani is more than politics, and in many ways emblematises the country’s story (mistakes included) of an uphill struggle for truth, justice and dignity. It is a narrative which also unfolds in India, as expressed by Mahmood Madani in a recent intervention with Tehelka.

 Such a narrative disrupts the orthodoxies of contemporary politics, from the traditional far left arguments of religion being an opium of the masses, to the public Islam offered by Jamaat, of an Islam in the public sphere, relegated to the Islami Bank, local shopping centres, and a few ministries in a coalition government. Tariq Ramadanechoes a similar view when he observes that the present generation of Political Islam in Egypt had strayed from his interpretation of their original raison d’etre – of Liberation Theology.  Bhashani’s anchoring in the Sacred speaks to a greater narrative of the Bangladeshi people, which we visit next.

The struggle continues: (left) Maulana Bhashani (1880 – 1976) and (right) Aminul Islam (1973 -2012) trade unionist who struggled for workers rights, and was tortured and killed by individuals linked to the security services of the current Bangladeshi government.

Uncovering the Story(ies) of Bangladesh

 Clifford Geertz’s definition of culture as ‘the stories we tell ourselves about ourselves’. 

In 1989 the British Broadcaster Channel 4, commissioned a three part documentary called the ‘The Story of Bangladesh’. It was directed Faris Kermani, and the theme was betrayal, from Plassey to the modern day. Following the tumultuous events of 2013 and our most farcical election in January it’s hard to say anything has changed. Maybe it’s time for critical introspection, into whether these are isolated events or woven into an overarching narrative of self harm.

The nation’s elite and their foreign partners tout the creation of Bangladesh in 1971 as the end of history. It is a story, of a land without progress and development for progressives and developers without a land. A story which is the exclusive property and achievement of the elites. The villain on this blank canvass is the country bumpkin, who doubles up as an Islamic militant if not a microloan borrower, in a tale faithfully retold recently in the Washington Post.

Viewing the world with this history explains the radio silence and editorial misdirection of its adherents regarding the government’s human rights violations, hamstringing of oppositional voices and state crimes in Bangladesh. The case for investigation has been submitted and is being processed by the International Criminal Court (ICC). Contrast this complicit silence with the amplitude of humane concern when that same alleged state sponsored violence spills over into the homes of minority religious communities. The secret, open to all who work in and know the sector, is in the funding streams and the agendas that frame them.

 Towards a Historiography of the Oppressed

 There are other histories, for those who listen, rarely recorded by foreign observers and their native informants, but spoken and heard locally and regionally, amongst the people. This Deshnama has its roots in the deeper history of the Bangladeshi people, the places they have been and the peoples from whom they are descended. It is where the history of a sacred land meets its residents, a memory that not only has its (re)source in the Medinan community of the Prophet Muhammad (pbuh), but connects with precedents in the edicts of Ashoka.

 It is a familiar synthesis, to the incorporation of the Ethics of Aristotle and the Republic of Plato, into Christian thought by St Augustine and St Aquinas, co-authored and harmonised in the works of medieval Muslim theologians such as Al Ghazali, Al Razi and Averroes. These authors, books and ideas are still read and heard in the mosques, madrassas, churches and temples that bejewel Bangladesh today. The country’s music and poetry is filled with the same cosmopolitan religious symbolism shared and contested by all those who live within it.

Near my abode, there is a wondrous City of Mirror,

where my Great Neighbour lives.

(The Great Neighbour’ – Lalon Shah)

 It is a chronicle prologued by Atish Dipankar, who arose amidst the general background of the Buddhist struggle in Bengal against the hegemony of the Brahmin led caste system. To invoke a few Prophetic paradigms, it is like a replay of the battle between the Prophet David (pbuh) and Goliath with the dialogue of the Prophet Moses (pbuh) with Pharaoh.

 Oppression (zulm) transforms with time from local rajas, Delhi Emperors, the inimitable British East India Company, The British Crown, Calcutta zamindars, military juntas to Indian hegemony. The same can be said for the movements and figures that champion the oppressed (mazlum) like Shahjalal, Isa Khan,Nuraldeen,Titu Mir, Dudu Mian,  and Bhashani. Post independence, we might observe Ziaur Rahman’s struggles and achievements, against internal and external opposition, in this vein, in laying the foundations of a modern democratic state amongst the ‘basket case’ ruins of despotictotalitarianism and the devastating 1974 Famine .

 This is a story of people with a rich culture, entangled in global and regional developments, and a history of struggling against great odds, with great losses, for justice and dignity, inspired and strengthened by the Sacred. In this narrative, 1971 is a continuation of that history and not its end.

 When an individual participates in this of sort historical experience, he or she comes to a new sense of awareness of self, has a new sense of dignity, and is stirred by a new hope. It gives the individual the tools to take on the arrogance, violence and false ending, that characterises the power discourse in Bangladesh today, or at least partially defang it.

Finally, have you heard the one about the Maulana and the Britisher Teacher?

During my research on the 2013 May Massacre in Dhaka, I was fortunate to meet a graduate of the Hathazari Madrassa. He had moved to the UK, taken up a career in business and was now married with children. In our discussions on the importance of education placed by the historian Ibn Khaldun (1332 – 1406), he narrated an anecdote.

That one day, his son came home from school and told him that he learnt from his teacher that Bangladesh was a poor and backward country, to which the UK government gives a lot of money for development. The next day, instead of dropping his son off to school, the Maulana took him on a day out, stopping first at the Tower of London. As they stood looking at the crown jewels, the Maulana pointed at the Kohi Noor stone and asked his son, ‘where do you think that came from?’ All day father and son visited various landmarks throughout London, which breathes heavily with the impacts of colonial capital, and discussed their history.

 The next day at school the furious head teacher wanted to take the Maulana to task for taking his son out of education. When pressed by the head teacher for an explanation, the Maulana indicated to his son to reply. His response and act of defiance is something worth sharing across our amnesiac nation, ‘We learnt in school that Bangladesh was a poor country but that’s a lie, because all its wealth is here in the UK along with the riches of other nations stolen by the British Empire’.

“But the Emperor has nothing at all on!” said a little child.

(Emperor’s New Clothes –

Hans Christian Anderson)

 As practitioners of the ‘Academy, Journalism and Art’ and as seasoned desh watchers, our roles should be to listen and record the stories that the people of Bangladesh tell us, not the ones that our foreign ‘development partners’ (funders & masters) pay for and want to hear. The challenge is to cultivate a dignifying and polyphonic history to humanise each other and heal the divisions that plague Bangladesh  – a new ‘Historiography of the Oppressed’.

 

O you who have attained to faith!,

Be ever steadfast in upholding equity,

bearing witness to the truth for the sake of God,

even though it be against yours own selves,

or your parents and kinsfolk.

Whether the person be rich or poor;

God’s claim takes precedence over [the claims of] either of them.

Do not then, follow your own desires,

lest you swerve from justice:

for if you distort [the truth], behold,

God is indeed aware of all that you do!

(Quran 4:135)

_________________________

We would like to dedicate this article to Mohammed Burhan Uddin who passed on a few days ago in Tangail, Bangladesh. Pictured here in his mid 80s, he was one of Bhashani’s oldest surviving disciples (mourides). He became involvedas a young man in the 1950s when he heard Maulana Bhashani pray openly  ‘don’t do anything for my kids but provide freedom for all’.

He was a cultivator who had not finished his primary education, but well informed about Syria and American Imperialism in general. He was part of a cultivator’s committee which went around checking prices of fish from market to market – just to make sure people were not getting swindled.

A few years ago on the 20th night of Ramadan,  Bhashani appeared to him in a dream instructing him to struggle, (Shongram kor) and that modern technology was insufficient, only a people’s movement would work.