নির্বাচনমুখী আন্দোলন বনাম লতিফ কার্ড!

|| এ.কে.এম ওয়াহিদুজ্জামান ||

১৭ বছর আগে নিজে হাজ্জ্ব পালন করার পরও গত সেপ্টেম্বরে আমেরিকা সফরের সময় হাজ্জ্ব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। বিএনপিসহ এবং ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো তখন তাকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণ এবং বিচার করার দাবী জানিয়েছিলো। সরকার সেটা মেনেও নিয়েছে। লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাকে মন্ত্রীসভা এবং আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। সেই গ্রেফতারী পরোয়ানা মাথা নিয়ে দেশে ফেরা এবং গ্রেফতার এড়িয়ে এয়ারপোর্ট ত্যাগ করার পর হেফাজতে ইসলামীর হরতাল এবং ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচী বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে সেই সময়ে, যখন বিএনপিসহ গণতান্ত্রিক দলগুলো নির্বাচনমূখী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএনপি’র সামনে এখন দুইটা পথ; লতিফ ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করা অথবা লতিফ ইস্যুকে উল্টো সরকারের কোর্টে ঠেলে দিয়ে নির্বাচনমূখী আন্দোলনটাই গড়ে তোলার চেষ্টা করা। ৯০ দশকে কম্যুনিজম বিরোধী স্বস্তা সেন্টিমেন্টের মৃত্যুর পর ইসলামী জঙ্গী বিরোধী স্বস্তা সেন্টিমেন্টের বাজার দর এখন চড়া। বিএনপি যদি এখন হেফাজতে ইসলামী এবং জামায়াতে ইসলামীকে সাথে নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী ইস্যুতে আন্দোলন শুরু করে, তাহলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক বাজারকে কেবল আরেকবার দেখিয়ে দেবে যে, বিএনপি গণতন্ত্র নয় বরং জঙ্গীবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। প্রয়োজনে ৬মে ২০১৩’র মত আরেকটা ঘটনা ঘটিয়ে প্রমানও করে দেবে যে, বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ঠেকাতে কেবলমাত্র আওয়ামী লীগই উপযুক্ত দল।

দ্বিতীয় পথ অনুসরণ করে বিএনপি যদি লতিফ ইস্যুকে উল্টো সরকারের কোর্টে ঠেলে দিয়ে বলে যে- সরকার তার বিচার করবে বলেছিলো এখন বিচার করুক, যদি বিচার না করে তাহলে সেটা সরকারের ব্যার্থতা। তাহলে বলটা সরকারের কোর্টে যাবে। সরকারকে তখন হয় লতিফ সিদ্দিকীর বিচার করতে হবে কিম্বা তাকে দিয়ে ভুল স্বীকার করিয়ে ক্ষমা প্রার্থনাশেষে তওবা করানোর ব্যবস্থা নিতে হবে, অথবা তাকে বিচারের আওয়তায় না এনে ইসলামিস্টদের আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রথম ক্ষেত্রে হেফাজতে ইসলামীর দাবী মেনে নিয়ে সরকার লতিফ সিদ্দিকীর বিচার করে, বা লতিফ সিদ্দিকী নিজেই হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় গিয়ে তওবা করে পুনরায় কলেমা পাঠ করে মুসলমান হয়ে একটা চমক সৃষ্টি করতে পারেন। যদিও এটা খুবই দুর্বল একটা সম্ভাবনা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ লতিফ সিদ্দিকী অনেক কাঠ-খড়-কেরোসিন পুড়িয়ে নিজের যাবতীয় দুর্নীতি ও অপকর্মের আলোচনা ধামাচাপা দিয়ে এখন সুশিল সমাজের মাধ্যমে দাউদ হায়দার ও তসলিমা নাসরীনের পাশে স্থান করে নিয়েছেন। এই স্থান থেকে সরে এসে নিজের দুর্নীতি ও অপকর্মের মামলাগুলোকে নিশ্চই তিনি প্রাধান্য দিয়ে আলোচনায় আনতে চাইবেন না।

Untitled-1

এমতাবস্থায় দ্বিতীয় বিকল্প অনুযায়ী, হেফাজতে ইসলামীর দাবী না মেনে নিয়ে সরকার তাদেরকে আন্দোলন করার সুযোগ করে দিতে পারে। যার নমূনা আজ ২৪ নভেম্বর দেখা গেছে। বিএনপির কোন সংগঠন পুলিশের গ্রেফতার-পিটুনীর কারণে রাস্তায় মিছিল করতে না পারলেও হেফাজতে ইসলামী মিছিল করতে পারছে। মানে সরকার তাদেরকে মিছিল করার সুযোগ দিচ্ছে। এটাকে তারা সাফল্য ভেবে চুড়ান্তভাবে ঢাকা অবরোধের ডাক দিলেও সম্ভবত সরকার সেটা করতে দেবে। এতে দ্বিমুখী লাভ। প্রথমত: এতে করে সরকার বিরোধী আন্দোলন করার মত শক্তিকে দ্বিখণ্ডিত করা যাবে, যাতে লাভবান হবে আওয়ামী লীগ। দ্বিতীয়ত: জঙ্গীবাদ তত্ত্ব প্রচার ও প্রমান এবং দমনের দক্ষতা প্রমাণের মোক্ষম সুযোগ। সরকার আগের মতই বিনাবাঁধায় হেফাজতে ইসলামী ও অন্য ইসলামিস্ট দলগুলোকে মিছিল, সমাবেশ এবং ভাংচুর করতে দিয়ে সেই দৃশ্য টিভি চ্যানেলে সম্প্রচার করে প্রথমে বর্হিবিশ্বকে জঙ্গীবাদের উত্থান দেখাবে, তারপর তা কঠোর হাতে দমন করে নিজেদের সক্ষমতা দেখাবে।

কিছুদিনের মধ্যেই নেপালে নরেন্দ্র মোদীর সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। তারপর দেশে আসবেন নিশা দেশাই বিসওয়াল। সেই সময় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রসঙ্গে আলোচনা এড়ানোর জন্য জঙ্গী ইস্যুর চেয়ে গরম ইস্যু আর কোনটা হতে পারে? মোদি সরকার আওয়ামী লীগের সাথে সাধারণ বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষা করলেও ভারতের পলিসিমেকার সাউথ ব্লক এখনো আওয়ামী লীগেরই কট্টোর সমর্থক। লতিফ সিদ্দিকী সেই ভারত হয়েই বাংলাদেশে ফিরেছেন। কাজেই তিনি আগুনে ঝাঁপ দিতে নয়, বরং আগুন নিয়ে খেলা করতে এসেছেন। এখন তার লেজে আগুন দিয়ে লঙ্কাকাণ্ড বাঁধানো দেখার অপেক্ষা।

Des(h)i progressives’ nightmare

“But see, I don’t want to vote for AL. I do not think AL should return to power. We need checks and balances. BNP should come. But how can I vote for BNP when they are in an alliance with JI.”

That’s what a friend told me in December.  I have the deepest respect for this person’s sincerity.  She is a genuine progressive.  She wants a democratic Bangladesh — of this I have no doubt.  And I understand her reasons for aversion to Jamaat — never mind 1971, Jamaat categorically rejects some liberal-progressive tenets such as equal citizenship rights.  Had she said “I will not vote for Jamaat”, I would have accepted it.

But that’s not what she said.  She implicitly rejected BNP for its electoral alliance with Jamaat.

I didn’t engage in a prolonged conversation with her.  She is hardly the only person I know who made that leap about conflating Jamaat and BNP.  Bangladesh is full of self-proclaimed progressives who choose to reject democracy,never mind the facts.  I just don’t have the mental energy to engage in fruitless debates these days.  At least my friend had the decency to not engage in that kind of sophistry.

I didn’t engage in a political discussion with her, but was reminded of her comment after the Indian election.  You see, I had heard similar stuff from my Indian progressive friends.  Way back in the early 2000s, I heard people say “don’t want to vote for Congress, don’t like the sycophancy/dynasty, and the Vajpayee government isn’t so bad, but you know, how can BJP be supported when they have someone like Modi”.

And now Modi is the prime minister.

My Indian friends could have supported Vajpayee or other moderates in BJP/NDA government.  They could have provided the left flank of a genuinely centrist alternative to Congress.  But their self-inflicted intellectual blind spot meant that they couldn’t even contemplate such a course — never mind that such an alternative would have served India well.

A lot of things contributed to Mr Modi’s rise to power.  The progressives’ blind spot is just one factor, and probably not even an important one.  But to the extent that he represents a lot of things progressives loath, they have no one but themselves to blame.

I fear whether someday my Bangladeshi progressive friend will wake up to her political nightmare.  Jamaat’s importance in Bangladesh is constantly over-rated, and BNP’s strength under-rated, by everyone.  Of course, Jamaat benefits from the inflated power projection.  And the Jamaat bogey suits the Awamis fine.  The thing is, as the centrist opposition is systematically denied any political space, and as the ruling party degenerates into an orgy of violence (google Narayanganj / Feni murders), Islamists (Jamaat or otherwise) may well emerge as the only alternative.

My friend is genuine progressive, not a closet Awami fascist.  Will people like her act to prevent their own worst nightmare?

http://jrahman.wordpress.com/

জনাবা হাসিনা; অনির্বাচিত ও অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দ্যেশ্যে

by Watchdog Bd

জনাবা হাসিনা,

মাননীয়া সম্বোধন করে আপনাকে সন্মান দেখাতে পারছিনা বলে দুঃখিত। প্রথমত, বিশ্ব হতে উপনিবেশবাদ অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে। বৃটিশ প্রভুদের কায়দায় কথায় কথায় মাননীয়া জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে নিজকে দুইশত বছর আগের দাস যুগে ফিরিয়ে নিতে চাইনা। খোদ বৃটিশরাও এখন আর এ জাতীয় শব্দ ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়। বারাক ওবামা আমার দত্তক নেয়া দেশের প্রেসিডেন্ট। পৃথিবীর সবাচাইতে শক্তিধর প্রেসিডেন্টকে আমি জনাব প্রেসিডেন্ট বলতেই অভ্যস্ত। এ নিয়ে খোদ ওবামা যেমন অভিযোগ করেননি, তেমনি তার দল ডেমোক্রাটরাও আমাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানোর চেষ্টা করেনি। আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি হাজার ব্যস্ততার মাঝেও প্রেসিডেন্ট ওবামা আমার মত একজন সাধারণ সমর্থক ও নির্বাচনী কর্মীর সাথে নির্বাচন উত্তর যোগাযোগ রাখতে ভুল করেন না। দ্বিতীয়ত, আপনি বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার প্রধান নন। আপনি দলীয় প্রশাসন ও বন্দুকের নলের মুখে অনির্বাচিত সরকারের প্রধান। তাই আমাদের সংস্কৃতিতে স্বীকৃত ও প্রাপ্য সন্মান দেখাতে পারছিনা বলেও দুঃখিত। আইনগতভাবে আপনি কোনটারই দাবিদার হতে পারেন না। আপনি জারজ সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী। চাইলে দলীয় চামচা ও প্রশাসনের ভাড়াটিয়া বাহিনী পাঠিয়ে আমাকে শায়েস্তা করার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি আমি যা বলতে যাচ্ছি তার সবটুকু বলা সম্ভব না হলেও কেউ না কেউ একদিন এসব কথা মুখ ফুটে বলতে শুরু করবে। বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষের সবাইকে ভয়, সন্ত্রাস ও পেশী শক্তির কাছে জিম্মি রেখে, গায়ের জোরে ক্ষমতার সিংহাসন আলোকিত করার নিশ্চয়তা কেউ আপনাকে দিতে পারবেনা। সময় আসবে এবং আপনার প্রতি সেকেন্ড কর্মকান্ডের জবাবদিহিতার দাবি উঠবে। এবং তা হবে সভ্যতার দাবি। সময়ের চাহিদা।

জনাবা হাসিনা,

ঘটনা হাজার রজনীর আরব্য উপন্যাস হতে নেয়া নয়। ৬০-৭০’এর দশক এখনো ইতিহাসের পাতায় সমাহিত হয়নি। আমরা যারা বেঁচে আছি তারা ভুলে যাইনি কেন এবং কোন প্রেক্ষপটে এ দেশের মানুষ সংযুক্ত পাকিস্তানকে লা-কুম দিনু-কুম জানিয়েছিল। স্বৈরাচারী সামরিক জান্তা ও তাদের পোষ্য ২২ পরিবারের শোষন, পিষন ও সন্ত্রাসের নাগপাশ হতে মুক্তি পাওয়ার ভ্রুণেই জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ নামক দেশের স্বপ্ন। সে স্বপ্ন অংকুরিত হয়ে পল্লবিত হয়েছিল ৭০’এর দশকে। ফলশ্রুতিতে মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়েছিল এবং ইতিহাসের অমেঘো পরিনতিতে সংযুক্ত পাকিস্তান ঠাঁই নিয়েছিল আস্তাকুঁড়ে। আজ আমরা নিজেদের স্বাধীন এবং সার্বভৌম বলে দাবি করি। আসলেই কি তাই? আপনার অভিধানে স্বাধীনতার সংজ্ঞা কি আমাদের জানা নেই। তবে আমাদের অভিধানে এ সংজ্ঞা কেবল আপনার বাবাকে দেবতার আসনে বসিয়ে পুজা অর্চনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাধীনতা ২২ পরিবারের খপ্পর হতে বেরিয়ে ১ পরিবারের রাজতন্ত্র কায়েম করাও নয়। স্বাধীনতা একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভৌগলিক দিয়ে শুরু হলেও এর শেষ ঠিকানা অর্থনৈতিক মুক্তি তথা সামাজিক নিরাপত্তায়। জাতিকে আপনি অথবা আপনারা কি দিয়েছেন ভেবে দেখেছেন কি? গোটা দেশ পরিনত হয়েছে মাফিয়া স্বর্গরাজ্যে। লুটপাটতন্ত্র রাজত্ব করছে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্র। খুন, লাশ, গুম পরিনত হয়েছে দৈনিক ডাল ভাতে। মানুষ মরছে জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে, শয়ণকক্ষে। লাশ হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে নদী-নালা, খাল-বিল, ডোবায়। আতংকের কালো ছায়া গ্রাস করে নিয়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন। বলতে বাধ্য হচ্ছি জনাবা, সবকিছু হচ্ছে আপনার নেত্রীত্বে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আপনাদের পারিবারিক সম্পত্তি। এর অংগ সংগঠন সমূহ আপনার পেশিশক্তি। এদের যৌথ প্রযোজনায় যে পশুশক্তি জন্ম নিয়েছে তার কাছে অসহায় হয়ে পরেছে গোটা জাতি। গোটা দেশের মালিকানা চীরস্থায়ী বন্দোবস্ত নেয়ার লালসায় দেশের সবকটা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আপনি তচনচ করেছেন। কেড়ে নিয়েছেন নাগরিকদের ভোট দেয়ার অধিকার। দুমড়ে মুচড়ে তক্তা বানিয়েছেন কথা বলার স্বাধীনতা।

মুক্তিযুদ্ধ আপনার বাবা অথবা পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি নয় যা দিয়ে আজীবন ব্যবসা করে যাবেন। যুদ্ধের কোন ফ্রন্টেই আপনাদের কারও কোন অবদান ছিলনা। আপনারা কেউ যুদ্ধে যাননি। দখলদার বাহিনীর নিরাপদ আশ্রয়ে নিজেদের চামড়া বাচিয়েছিলেন কেবল। চাপাবাজি আর পেশি শক্তির উপর ভর করে মুক্তিযুদ্ধ তথা স্বাধীনতাকে বানিয়েছেন ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লাভজনক পণ্য, প্রতিপক্ষ নির্মূল করার ধারালো হাতিয়ার। শেখ পরিবারে আজীবন দাসত্ব করার জন্য বাংলাদেশের জন্ম হয়নি। এ দেশের জন্ম হয়েছিল বুক ভরে নিশ্বাস নেয়ার জন্য, স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্য, অন্ন,বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা সহ মৌলিক অধিকার সমূহের নিশ্চয়তা পাওয়ার জন্য। আজ কোথায় এসব? স্বাধীনতাকে আপনি কবর দিয়েছেন শীতলক্ষ্যার পানিতে। বর্গা দিয়েছেন র‌্যাব, পুলিশ ও ছাত্রলীগের পদতলে। ওরা জাতির গলা চিপে শ্বাস বের করে আনছে এবং পৈশাচিক উল্লাসে আনন্দ করছে। আপনি গণভবনের চার দেয়ালে বসে মুচকি হাসছেন এবং মিথ্যাচারের গর্ভে জন্ম দিচ্ছেন নতুন এক দশ। অচল ও বিকলাঙ্গ বাংলাদেশ।

জনাবা হাসিনা,

ক্ষমতার স্বাদ খুবই সুস্বাদু। সহজে কেউ ভুলতে পারেনা। আপনি পারবেন না। কিন্তু সময় আসবে এবং আপনার স্বপ্নের তখত তাউসে আগুন লাগবে। সে আগুনে আর কেউ জ্বলবেনা,জ্বলবেন আপনি এবং আপনার পরিবার। অযোগ্যতাই হবে আপনার পতনের মুল কারণ। বাংলাদেশের মত জটিল আর্থ-সামাজিক দেশ পরিচালনা করার নূন্যতম যোগ্যতা নেই আপনার। তাই জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বিদায় নিন। ইতিহাসকে আপন গতিতে চলতে দিন। এ দেশের মানুষ গোলাম হয়ে জন্ম নিয়ে গোলাম হয়ে মরতে অভ্যস্ত নয়। তারা ঘুরে দাড়াতে জানে।
http://www.amibangladeshi.org/blog/05-14-2014/1458.html

মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ

 

By Faiz Taiyeb

কুকুরের লেজ যেমন সোজা হয় না, তেমন অত্যাচারী শাসক ও ভালো কাজ করতে পারে না। স্বৈরাচারী শাসক এবং নাগরিক স্বার্থে ভালো কাজ করা, এই দুই আসলে “মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ”।
৫ জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচনের আগে আওয়ামীলীগ পন্থী বুদ্ধিজীবিরা ইনিয়ে বিনিয়ে উপর্যপুরি বলার চেষ্টা করেছেন, অবৈধ কিন্তু সাংবিধানিক (!) নির্বাচনের পর হাসিনা ভালো কিছু কাজ করে মানুষের মন জয় করবেন। আমারও সেরকম অনেক আশা ছিল। কারন এই মহিলা ৩ বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তিনি দলে একনায়ক, দেশের সেনাবাহিনী কে আর্থিক প্রাচুর্যের বিহ্বলতায় চড়িয়েছেন, আদালতকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেছেন, নির্বাচন কমিশন কে হুকুমের চাকর বানিয়েছেন, রাজনৈতিক চালে বিরোধীদের কুপোকাত করেছেন। মোটকথা দেশের নিরুঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী প্রধান নির্বাহী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। অধুনা একনায়করাও সম্ভভত এইধরনের একচেটিয়া ক্ষমতা ভোগ করেন না। কিন্তু অতীতে যাই করুক না কেন, প্রান্তিক নাগরিক হিসেবে অধিকাংশই চায় এই দুর্নীতিবাজ প্রতারক নেতা গুলান ভালো হয়ে যাক। সবাই আসলে একটি নতুন ভোরের অপেক্ষায়। ভালো কাজ করতে শুরু করলেই এই বঞ্চিত নির্যাতিত লোক গুলো অতীতের সব গ্লানি ভুলে এদের মাফ করে দিবে। আমরা বড়ই ইমোশনাল এক জাতি।
সুতরাং রক্তক্ষয়ী হিংস্র ক্ষমতার লড়াইয়ে জয়ী হয়ে ষাটোর্ধ একজন লেডির সেলফ সেটেস্ফিকশন আসবে এটা ভাবা খুব কঠিন ছিল না। কিন্তু বিধি বাম। তাই ওইসব বুদ্ধিজীবী আর সেইসব আশার কথা শুনাচ্ছেন না। বরং পুরা রাজনৈতিক কালচার কে দোষারোপ করছেন। ইন্টারপোল লিস্ট এ থাকা মস্তান কর্তিক একজন ফাঁসির আসামির খুন হয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার মৃদু বিবৃতি দিয়ে সমর্থনের লেজ আকড়ে ধরে উছিস্ট ভোগের সাময়িক ফন্দি ঠিক রেখছেন ।
এইদিকে, আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী রা আছেন ভিন্ন হিসেব নিয়ে, ইউএস, ই ইঊ র নীরব সমর্থন বেশি টিকবে না ভেবে সবাই আগের গোছাতে ব্যস্ত, সবাই বেসামাল বেপারয়া লুটপাটে লিপ্ত। এতই বেপরোয়া যে, দলের ভিতর বাহির যেখান থেকেই বাধা আসুক সবাইকে কচুকাটা করা হচ্ছে। সমানে ভিতর বাইরের বিরোধীদের ধরে নিয়ে গলাটিপে নদীতে বস্তাবন্দী করে ফেলা দেবার কি হিংস্র এক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত সবাই। এমন উৎসাহ যে এলিট ফোর্স র‍্যাব ও বসে থাকতে পারছেনা। কিছু কন্ট্রিবিউট করছে।
তাই পদ্মা সেতুর অর্থায়নও আর শুরু হয় না, বরং এই সল্প সময়ে কিভাবে ভারত কে স্থল ট্রানজিট গছিয়ে দেয়া যায় সেটা নিয়ে কিছুটা তোড়ঝোড় দেখা যাচ্ছে। যাতে এটা বেচে আবার কিছু একটা করা যায়।
অবৈধ বেপরোয়া ক্ষমতা আর ভালো কাজ একসাথে চলে না, পৃথিবীর কোথায়ও চলে নি কোন কালে। সতরাং এইসব জনবিচ্ছিন্ন অত্যাচারী শাসকের বিদায় দরকার, অন্তত সমস্যার সাময়িক সমাধান এর নিমিত্তে। এর পর দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান পেতে সমাজ, নাগরিক ও নাগরিক সংঘঠন সমূহকে ঠিক করতে হবে, তারা কি গণতান্ত্রিক সিস্টেমের মধ্যেই কয়েকজন চোর এর মধ্যে ছোট চোরকে বেছে নিবে, নাকি তাদের সৎ পথে আনার সাহস দেখাবে আর বাধ্য করবে, নাকি এই চোরদের চুরি প্রতিহত করার সিস্টেম দাঁড়া করাবে।
কৈফিয়ত
সবসময় চেষ্টা করি প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধি করন নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা করতে। নেতাদের সমালোচনা না করতে। কারন আমরা সব পেশার লোকেরাই রাষ্ট্রকে সমানে বলাৎকার করছি নিয়ত। সমস্যা হলো সব জায়গাতেই রাজনৈতিক দুরব্রিত্ত্বায়নের ছোবল এতটা গভীর যে এই অযোগ্য অপদার্থ লোক গুলারে (জাতে মাতাল কিন্তু টাকা মারার তালে ঠিক) আলোচনায় না এনে পারা যায় না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, সুশাসন, লোভ মুক্ত নেতৃত্ব, নৈতিকতার ও নিয়মতান্ত্রিকতার কিংবা দূরদর্শিতার যে বেইজ এডুকেশন এটা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই, সব গুলো দলই ভন্ডে ভরা। সবার উদ্দেশ্যই দেশের আর দেশের মানুষের টাকা মারা, যখন পারে, যেভাবে পারে। এটা করতে গিয়ে দেশের সব কিছু তারা অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ভরে ফেলেছে। অথচ দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ভাল নেতৃত্ব লাগবেই লাগবে। এর দ্বিতীয় কোন বিকল্প জানা নাই।
২ বার, ৩ বার এক একজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, দেশের লক্ষ কোটি শিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত আর অশিক্ষিত জনতা তাদের ভয় বা সম্মান করেন (মন থেকে কিংবা বাধ্য হয়ে)। আর কি কি পেলে উনাদের আত্ব তৃপ্তি আসবে? ওনারা পৃথিবীর কত কত জনপদ দেখেন, কত কত দেশ ঘুরেন, একটি বারও কি উনাদের ইচ্ছে করে না, এই দেশটাকে ঠিক করে দেয়ার চেষ্টা করবেন। আজ রাজনৈতিক ইস্যু সমাধান বা ধামাচাপা দেয়ার জন্যে যে তোড়ঝোড়, এত এত ফোরস ডিপ্লয়ম্নেট, এত চিন্তা, এত কালক্ষেপণ, এর সামান্য যদি আমরা ঘুষ, দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যয় করি তাহলে দেশটা ঠিক হয়ে যায়। ২ টা মাত্র দল। ক্ষমতাসীন হলেই অসীম শক্তি আর প্রতিপত্তি, মানুষ কে নির্দেশনা দেয়া ও সহজ তাদের জন্য।
ব্যাপারটা তো এরকম নয় যে, দেশ উন্নত হয়ে গেলে হাসিনা বা খালেদা (মুজিব আর জিয়া পরিবার) গরীব হয়ে যাবে, তাদের সম্মান কমবে। ব্যাপারটা তো উল্টো। যে দেশ যত উন্নত তার নেতৃত্ব তত বেশি সম্মানিত, দেশে আর দেশের বাইরে।
আল্লাহ্‌ পাক আমাদের নেতৃত্ব কে বুঝ দিন। আমাদেরকেও বুঝ দিন। হতে পারে ব্যাপারটা এমন যে, ব্যক্তি জীবনমান আর সামাজিক উন্নয়ন আমাদেরকে সামাজিক আন্দোলন করেই আদায় করে নিতে হবে। অধিকার এমনি এমনি আসে না গরীব আর অভাগাদের কপালে।

 

জনগণের নির্বাচন ও ‘সাংবিধানিক’ নির্বাচন

1

by মুহাম্মদ আব্দুল খালিক

 

১.

সমাজ বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে মানুষ সমাজ থেকে রাষ্ট্রের পত্তন করেছে। প্রথমে ছোট ছোট নগর রাষ্ট্র, তারপর বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠেছে অধুনা রাষ্ট্রব্যবস্থা। সাম্য, সমানাধিকার, সমসুযোগ, স্বাধীনতা, মানবাধিকার রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিতকরণকে সামনে রেখে উদ্ভব ঘটেছে রাষ্ট্রব্যবস্থার। আর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ‘গণতন্ত্রকে’ বিবেচনা করা হয় সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও উত্তম ব্যবস্থা হিসেবে। এর মাধ্যমে নিজ নিজ রাষ্ট্রের জনগণ নির্ধারণ করে তাদের শাসক। নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের জন্য জনগণ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ‘ম্যান্ডেট’ দিয়ে থাকে। আর এসবই পরিচালনা করা হয় রাষ্ট্রের সংবিধানের আলোকে। প্রত্যেক রাষ্ট্রেই ঐ রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন। আমরা জানি যে, রাষ্ট্র গঠনের মূল উপাদান ৪টি- ভূখণ্ড, জনসমষ্টি, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। এখানে লক্ষণীয় যে, রাষ্ট্রের মূল উপাদানের মধ্যে ‘সংবিধানের’ উল্লেখ নেই, তবে ‘সংবিধান’ অবশ্যই রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

পৃথিবীব্যাপী যা কিছু আছে সবই মানুষকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। রাষ্ট্রও গড়ে ওঠেছে মানুষের প্রয়োজনের তাগিদেই। মানুষ রাষ্ট্রকে গড়েছে তাদের জীবনযাত্রার মানকে উন্নত ও শৃঙ্খলার সাথে পরিচালনা করতে, সম্মিলিতভাবে উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে। তাই সব ব্যবস্থাতে মানুষের কল্যাণই মুখ্য বিষয়। আর এ বিষয়টি পৃথিবীর সকল জাতিরাষ্ট্রের সংবিধানেই প্রতিধ্বনিত হয়েছে ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’-এই নীতিটি সন্নিবেশিত করার মাধ্যমে। তাই আপাত দৃষ্টিতে কোনো বিষয় সংবিধানসম্মত মনে হলেও যদি তা ‘জনগণের ক্ষমতাকে’ অবজ্ঞা করে তাহলে অবশ্যই তা পরিবর্তনীয়।

 

২.

গণতন্ত্র বা ডেমোক্রেসী শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ ডেমোক্রেসিয়া থেকে, যার অর্থ ‘জনগণের শাসন’/ শব্দটির উৎপত্তি ডেমোস (জনগণ) ও ক্রাটোস (ক্ষমতা) থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতকে এথেন্স ও অন্যান্য নগর রাষ্ট্রে বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝাতে শব্দটির প্রথম ব্যবহার করা হয়। গণতন্ত্র হলো কোন জাতিরাষ্ট্রের (অথবা কোন সংগঠনের) এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের নীতিনির্ধারণ বা সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমান ভোট বা অধিকার আছে। গণতন্ত্রে আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন ও তৈরির ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের অংশগ্রহণের সমান সযোগ রয়েছে, যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হয়ে থাকে।

 

৩.

আন্তর্জাতিকভাবে যে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মর্মে বিবেচিত হতে হলে তিনটি শর্ত পূরণের আবশ্যকতা রয়েছে। যথা- (ক) নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে হবে, (খ) নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হতে হবে এবং (গ) সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃত দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে হবে। দশম সংসদ নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, এ তিনটি শর্তের কোনোটিই পূরণ হওয়ার মতো পরিস্থিতি বিদ্যমান নেই। তাই এ নির্বাচনটিকে কোনো বিবেচনাতেই গ্রহণযোগ্য ও ‘জনগণের নির্বাচন’ বলে যায় না এবং এটি গণতন্ত্রের মৌলিক শর্তাবলিও পূরণ করে না।

 

৪.

তবে সরকারদলীয় নেতা-নেত্রী ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশের মাঝে এই নির্বাচনকে সংবিধানসম্মত বলে প্রতিষ্ঠিত করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা বলতে চাচ্ছেন যে, সংবিধানের বিধান মেনে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই এটি সংবিধানসম্মত। এখানে কোনো দলের (এমনকি একমাত্র বিরোধী দল হলেও) অংশগ্রহণ করা না-করা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এতে নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। তারা এমনকি এটাও বলে থাকেন যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই গণতন্ত্রের স্বার্থেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াটা জরুরি। তাদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারও একই কথা বলেছেন।

তাদের এ সব যুক্তিগুলো পর্যালোচনা করলে খুবই বিস্মিত হতে হয়। লক্ষণীয় যে তারা খুবই খেলোভাবে এমন সব বিষয়ের মাধ্যমে দশম নির্বাচনকে ‘সংবিধানসম্মত’ বলার চেষ্টা করছেন যা সচেতন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবার কথা নয়। তারা বলছেন যে, সংবিধানে সরকার মেয়াদ শেষে নির্দিষ্ট সময়ের শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা আছে, তাই এর ব্যত্যয় ঘটাবার সুযোগ নেই; কিন্তু তারা এটা বলছেন না যে, সংবিধানের মূলনীতিতে জনগণের সমসুযোগ তৈরি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিতকরণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’।

 

৫.

যেখানে ১৫৪টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে গেল তাকে কি নির্বাচন বলা চলে? এছাড়া বাকী আসনগুলোতে ভোটারবিহীন নামমাত্র যে নির্বাচন হলো তা কি নির্বাচনের পর্যায়ভুক্ত? সেখানে কি যোগ্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল? ৫৩% ভোটার যেখানে তাদের ভোট প্রদানের সুযোগই পেল না তাকে কি গণতন্ত্র বলা যাবে? যেখানে কোনো আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক ছিল না সেটা কি সুষ্ঠু নির্বাচনের বৈধতা পাবে? বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল যে নির্বাচনে অংশ নিল না সে নির্বাচন কি জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী বলা যাবে?

বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থাকে এমনিতেই বলা হয় সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র; যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে সব রকমের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে (আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগ)। দশম নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কি তা ১৯৭৪ সালের বাকশাল বা স্বৈরতন্ত্রের দিকে এগিয়ে গেল? একদলীয় এই নির্বাচন দেশকে কোন বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যায় তাই এখন দেখার পালা।

লেখক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলএম অধ্যয়নরত।

সংখ্যালঘু নিপীড়ন, উদ্বাস্তুদের মিছিল ও মুক্তিযুদ্ধ

1

ফুয়াদ হাসান

হিন্দুরা আবারো আক্রমণের শিকার হলেন। এবার আর বিচারের কথা বলবনা। প্রমাণ হয়ে গেছে বিচার চেয়ে কোন লাভ নেই।

ফেসবুকপূর্ব যুগে আমাদের মিডিয়া আমাদেরকে বোঝাত যে, হিন্দুদেরকে শুধু বিএনপি আর জামায়াতই মারে। গত পাঁচ বছরে আমরা বুঝে গেছি আসলে তাদেরকে আওয়ামী লীগও মারে।

আমাদের দেশে সরকারী দলের লোকজনের অপরাধের সাধারণত বিচার হয়না। এমনকি বিরোধী দলের লোকদের যে অপরাধের বিচার করলে সেই একই অপরাধে সরকারী দলের লোকদেরও বিচারের দাবি জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তেমন অপরাধে সাধারণত বিরোধী দলকেও ছাড় দেয়া হয়। তাই সরকার হিন্দুদের ওপর কোন আক্রমণেরই বিচার করবেনা। এধরনের অপরাধে বিচার করার সংস্কৃতিই কেউ তৈরি করবেনা। কোথাও কোথাও বিচারে রাজনৈতিক ফায়দা থাকার সম্ভাবনা থাকলেও উপরে বলা কারণেই তা করবেনা। বরং, যাদের হাতে শক্তি ও ক্ষমতা আছে তারা এখন নতুন করে পরিত্যাক্ত জমি-জমা দখলের উৎসব করবে।

আমাদের এই সরকারের আপাদমস্তক ভারতের কাছে সমর্পিত হলেও ভারতীয়রা তাদের ধর্মের এই ভাইবোনদের জন্যও এমন কিছু করবেনা যাতে এই সরকার খুব বিব্রত হয় বা চাপে পড়ে। আর আমাদের মত তাদের দেশী ভাই-বন্ধুরা তাদের জন্য অকাজের সমবেদনা বোধ করা ছাড়া কিছু করার ক্ষমতাও রাখিনা।

সবচেয়ে সভ্য দেশে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতীয়তা ইত্যাদি নির্বিশেষে যে কোন সংখ্যালঘু ব্যক্তি, গোষ্ঠীবদ্ধ থাকুক বা না থাকুক, সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করে। এই মাণদন্ডই আমদেরকে বলে দেয় আজ আমরা কোথায় আছি।

ইতিমধ্যেই ভিটেছাড়া হিন্দুদের ছবি ফ্রেমবন্দী হয়েছে। এদের অনেকেই নিশ্চিতভাবে দেশছাড়া উদ্বাস্তুদের মিছিলে যোগ দেবেন।

গত কয়েক বছরে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়েরই অসংখ্য মানুষ দেশ ছাড়ার আয়োজন শুরু করেছেন। নিরাপত্তাহীনতা ও কার্যত দেশের উপর রাজনৈতিক অধিকার না থাকার অনুভূতি তাদের মধ্যে যে উদ্বাস্তু হওয়ার বিশাল অথচ বিক্ষিপ্ত এক নীরব মিছিল তৈরি করেছে সে মিছিলের ছবি ফ্রেমবন্দী করা সম্ভব হবেনা। সেটা নিয়ে কোন গুরুত্ববহ সংবাদও হয়ত প্রকাশিত হবেনা।

সংখ্যালঘুদের আর্তনাদ আমাদের চোখ ভিজিয়ে দেবে, এই “সংখ্যাগুরু”দের(!) আর্তনাদ আমরা কোনদিন শুনতেই পাবনা। এরাও শেষ পর্যন্ত “প্রেফারেবলি আনহার্ড” বা “ডেলিবারেটলি সাইলেন্সড” হয়ে যাবে। সেটা দেখে বা ভেবে অবশ্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বুকের ভার হালকা করারও কিছু নেই।

গত নয়-দশ মাস ধরে খুব শুনছি দেশে ২য় মুক্তিযুদ্ধ চলছে। ১ম মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত পক্ষের কতজন মরেছিল জানিনা। তারা শত্রুপক্ষের ও অন্য দেশের মানুষ ছিল। দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ইতিহাস গবেষক ও অধ্যাপক লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ২য় মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত পক্ষের প্রায় দুই লাখ লোককে মেরে ফেলতে হবে। হায়! আমরা মূর্খ-অশিক্ষিত মানুষেরা এই দুই লাখ লোককে এতদিন এদেশেরই মানুষ বলে জানতাম!!

বোঝা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু উদ্বাস্তুদের এই মিছিল বড় হতেই থাকবে।

উদ্বাস্তুদের মিছিলের ছবি ছাড়া যুদ্ধের ছবি যে সম্পূর্ণ হয়না …

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণিত নাটক

২০১৩ সালে বাংলাদেশের মানুষকে অনেকগুলো নাটক উপহার দিয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ।  এ ধরনের নাটক স্বাধীন বাংলাদেশে ইতিপূর্বে দেখা যায়নি। রেশমা নাটক, পদত্যাগ নাটক, এরশাদ চাচার গ্রেপ্তার নাটক, সর্বোপরি বছর জুড়েই ছিল শাহবাগিদের নাটক। সকল নাটকের মূল নাটক আজ ৫ই জানুয়ারি ২০১৪ তে মঞ্চস্থ হয়েছে সমগ্র দেশ জুড়ে। ২০১৩ সালের নাটকগুলো মঞ্চস্থিত হয়েছিল ২০১৪ সালের এই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্যই। আজকের নির্বাচনী নাটকের ব্যাকগ্রাউন্ড সকলেরই জানা। নাটক করে মাঠ ফাঁকা করা হয়েছে; তাতেও কাজ হয়নি। কি ধরনের হাস্যকর নির্বাচনী নাটক জাতিকে আওয়ামীলীগ উপহার দিল তার কিছু নমুনা আপনারা দেখতে পাবেন নিচের ভিডিও লিংকগুলোতে। ভিডিও লিংকগুলো গনমাধ্যমেই প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া কাভারেজেও এই চিত্র ফুটে উঠেছে। বাস্তবতা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা আমরা সকলেই অবহিত।
১. ভোট দিয়েও আবার লাইনে আছেন ভোটার !
 ২. “মাঠ যেন ফাঁকা না থাকে, একশ ছেলে সবসময় লাইনে থাকবে।”

আওয়ামী লীগের নির্দেশনা মোতাবেক ভোটকেন্দ্রে ভোটার দেখাতে নিয়ে আসা হচ্ছে ভোটার তালিকায় নামই ওঠেনি এমন কিশোরদের। দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে লাইনে।

একুশে টিভির ধরা পড়ে গেল এমনই কয়েকজন যারা ঘন্টাব্যাপী শুধু লাইনেই দাঁড়িয়ে আছে, ভোট দিচ্ছে না। বুথেও ঢুকছে না।

৩. সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদে ভোট হচ্ছে ঢাকায়… আর সেই ঢাকার একটি ভোটেকেন্দ্রের দৃশ্য দেখিয়েছেন চ্যানেল ২৪ এর রিপোর্টার সাহেদ আলম… ৩ ঘন্টায় কেন্দ্রটিতে ভোট পড়েছে মাত্র ১টি…. এমন রিপোর্ট দেখে হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা…..
৪. ৬ ঘন্টায় ভোট পড়েছে ২টি…
সময় : দুপুর দেড়টা..
স্থান : রাজধানীর উত্তরার একটি ভোটকেন্দ্র…
রিপোর্টার : শাহেদ আলম, চ্যানেল ২৪..
৫. নবাবপুরে লাইনে লাইনে ভুয়া ভোটার।

বৈধ কাগজ-পত্র ছাড়াই আওয়ামী লীগের নির্দেশে দাঁড়িয়ে আছে সুযোগ পেলেই বুথে ঢোকার অপেক্ষায়। মিডিয়ার ক্যামেরা দেখেই কেঁটে পড়ে।

৬. খুলনায় প্রচুর জালভোট দেওয়া হচ্ছে। একসাথে ৫০ জন ঢুকে ভোট দিচ্ছেন। ৫ আঙ্গুলে কালির দাগ। ৫ জায়গায় ভোট দিয়েছেন এক ভোটার
৭. বিধ্বস্ত সাতক্ষীরাবাসীর নিরব প্রতিবাদ

ভোট পড়েনি একটিও। দলমত নির্বিশেষে ভোট দিতে যাননি কেউ।

৮. জাল ভোট দিয়ে দৌড়ে পালানোর সময় জাল ভোটকারীকে হাতেনাতে ধরলো একুশে রিপোর্টার । অনেক ক্ষণ দৌড়ানোর পর পিছন দিক থেকে তার কলার চেপে ধরে আটকি ফেলে সেই সাহসী রিপোর্টারটি। প্রচুর সংখ্যক পুলিশ সেখানে থাকলেও জালভোট প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানালো রিপোর্টারটি।
৯. ভোট চুরি কাকে বলে! ভিডিওটি দেখবেন আর বিচারের ভার আপনাদের।
১০. ৬৪৭টি ভোটের মধ্যে পড়েছে মাত্র ২২টি।
এছাড়াও কথিত নির্বাচনে কিছু লোক ভোট দিতে এসেও ভোট দিতে পারেনি আওয়ামী জালিয়াতির কারনে।
শেয়ার করে আ.লীগের এই ডিজিটাল শয়তানী মানুষকে জনান
১১. এজেন্টের কান্নার দৃশ্য
অনেকেই বলছেন আওয়ামীলীগ এই ভোট নাটক করে আরো ভয়ানকরূপে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরবে। তারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার জন্য অবশ্যই আরো বহু মানুষ কে মারবে; কিন্তু কোন ইন্সিডেন্টই তাদেরকে শক্তিশালী করবেনা, বরং আরো দুর্বল করবে। একটা মিথ্যাকে ঢাকার জন্য তারা হাজারটা মিথ্যা জন্ম দিচ্ছে। আর হাজারটা অন্যায়কে ঢাকার জন্য তারা লক্ষটি অন্যায় করে যাবে। কিন্তু কোন প্রচেষ্টাই তাদের এই প্যাঁচ থেকে উত্তরন করবেনা। তাই যারা হতাশ হচ্ছেন; তাদেরকে বলছি জালিম স্বৈরাচারের পতন অবশ্যম্ভাবী। ইটস নট কোয়েশ্চেন এবাউট হাউ, ইটস এবাউট হয়েন? যত তাড়াতাড়ি হবে তত ভালোভাবে আওয়ামীলীগ বিদায় নিবে। আর যত দেরিতে আওয়ামীলীগ বিদায় নিবে তত তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে হারিয়ে যেতে থাকবে।