প্রহসনের নির্বাচন ও বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যত নিয়ে কিছু ব্যাক্তিগত ভাবনা

by Sazzad Rahman

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র সোল এজেন্ট বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। রাজনীতির মাঠের প্রাচীনতম ও দর্শকনন্দিত এই খেলোয়াড় এখন এতটাই জনবিছিন্ন হয়ে পড়েছে যে তাদের আহবানে দেশের সাধারণ ভোটারদের একশতাংশও আজকে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসেনি। গণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদ, ভারতের আধিপত্যবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতার বিরুদ্ধে এক নীরব বিপ্লব দেখলো আজকে বাংলাদেশ। সম্ভবত আমার এই কথার সাথে তারাই দ্বিমত পোষণ করবেন যারা বিটিভি, চ্যানেল আই, একাত্তর ইত্যাদি “নিরপেক্ষ” মিডিয়া ও রাকিবউদ্দিন গংদের “নিরপেক্ষ” কমিশনের একান্ত গুণমুগ্ধ বংশবদ। একপক্ষীয়ভাবে নগ্ন সমর্থন দিয়ে ভারত আওয়ামীলীগের মত একটি ঐতিহ্যবাহী দলকে একেবারে খাদের কিনারায় নিয়ে এসেছে।

 

ভারত নাকি সুপার পাওয়ার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু সুপার পাওয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখা একটি দলের ডিপ্লোমেসি এতটা অপরিপক্ক কিভাবে হয় তা আমার বুঝে আসেনা। ভারতেরই পত্র-পত্রিকারই ভাষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের মানুষের ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্টে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। দীর্ঘদিনের সাংষ্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে তারা দেশের মানুষের মাঝে যতটা আসন গেঁড়ে নিয়েছিল তার অনেকটাই তারা খুইয়েছে গণবিরোধী একটি দলকে অন্ধভাবে সমর্থন দিয়ে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট এখন এতটাই প্রবল যে সম্ভবত সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালানো ছাড়া বাংলাদেশকে পুরোপুরিভাবে ভারতের নিয়ন্ত্রনে আনা কতটা সম্ভব তা প্রশ্নসাপেক্ষ। ভারত অনেক বড় সামরিক শক্তি সেটা যেমন বাস্তব তেমনি এটাও বাস্তব তাদের চেয়েও শতগুণ বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকেও ইরাক-আফগানিস্তানে সামরিক আগ্রাসনের বোঝা বইতে গিয়ে প্রায় দেউলিয়া হতে হয়েছিল। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রই হাবুড়ুবু খায় সেখানে ভারত কি সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালানোর মত দুঃসাহস দেখাবে? মনে রাখতে হবে ভারতের পঞ্চাশ শতাংশের বেশি মানুষ এখনোও খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়।

 

ভারতের সামনে দ্বিতীয় পথ যেটি খোলা থাকে তা হলো আওয়ামীলীগকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় রাখা। কিন্তু আওয়ামীলীগ ভারতের হাতের পুতুল হতে গিয়ে যেভাবে পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে তাতে পশ্চিমারা যদি একবার অর্থনৈতিক অবরোধ দেয় তাহলে ভারতের পক্ষে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের বোঝা বহন করা কতটা সম্ভব তা ভাববার বিষয়। তার উপর ইসলাম বিদ্বেষী অবস্থান নেওয়ার কারণে মুসলিম বিশ্বের সাথেও আওয়ামীলীগের সম্পর্ক শীতল। আর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনামান ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনমানের চেয়ে কোন অংশেই কম না, বরং অনেক ক্ষেত্রেই তা অনেক উন্নত।

 

এখনোও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র গণক্ষোভ জমা হয়েছে। কিন্তু মানুষ যখন চলমান ব্যাবসায়িক অচলাবস্থা ও সম্ভবত আসন্ন অর্থনৈতিক অবরোধর কারণে না খেয়ে থাকবে তখন এই গণক্ষোভ গণবিষ্ফোরণে পরিণত হবে যা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, যৌথবাহিনী দিয়েও তা ঠেকানো যাবেনা। এমনকি ভারতের দাদাবাবুরাও তা সামাল দিতে পারবেনা, যেমনটা ইরানে শাহদের বিরুদ্ধে চলা গণবিষ্ফোরণকে সামলাতে পারেনি খোদ যুক্তরাষ্ট্রই।

তামাশার নির্বাচন ও আওয়ামীপন্থীদের উদ্দেশ্যে কিছু প্রশ্ন

 

আতিক হাসান
 

১. ২০০৬ সালে  সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল বিচারপতি কে এম হাসানের। কিন্তু জনাব হাসানকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে সাংবিধানিক সেই বাধ্যবাধকতাকে আওয়ামীলীগ তখন মানেনি। তাহলে বলুন, শেখ হাসিনা নিজেই সরকারপ্রধান হিসেবে থেকে নির্বাচন করলে এবং সেই নির্বাচনকে ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা’ আখ্যা দিলে সেটা কি বিএনপির মেনে নেয়া উচিত? কে এম হাসানের অধীনে নির্বাচনে আস্থা রাখা না গেলে শেখ হাসিনার অধীনে আস্থা রাখা যায় কি?

২. আওয়ামীপন্থী সুশীলরা বলছেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া যেমন অধিকার, ঠিক তেমনি নির্বাচনে অংশ না নেয়াও কোনো রাজনৈতিক দলের অধিকার। তাহলে বলুন, এরশাদকে জোর করে নির্বাচনে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করল কেন আ’লীগ? মনোনয়ন প্রত্যাহার করা সত্ত্বেও জাপার বহু সদস্যের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হয়নি কেন? নির্বাচনে অংশ না নেয়া কি শুধু বিএনপিরই অধিকার? জাপার সেই অধিকার নেই???

৩. শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে সংলাপে যোগ না দেয়ায় আওয়ামীপন্থী সুশীলরা বেগম জিয়াকে দোষী করেন এবং বলতে চান যে সেই সংলাপটি অনুষ্ঠিত হলেই বুঝি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত! আসলেই কি বেগম জিয়া শেখ হাসিনার সংলাপে অংশ নিলেই সব কিছুর সমাধান হয়ে যেত? ধরলাম, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে খুব ভুল করেছেন। কিন্তু বিএনপির সিনিয়র নেতারা তো ঠিকই আ’লীগের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সঙ্গে তারানকোর মধ্যস্থতায় সংলাপে বসেছিলেন! সংলাপের মধ্য দিয়েই সমঝোতা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকলে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হলো কেন?

৪. আ’লীগ-বিএনপি উভয় দলকেই ছাড় দেয়া দরকার বলে সুশীলরা বলেছেন। কিন্তু বিএনপির কাছ থেকে কোন ধরনের ছাড় আশা করেন তারা? বিএনপি তো হুবহু ত্রয়োদশ সংশোধনীর আদলে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়নি, চেয়েছে যেকোনো ফরম্যাটের একটা নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার। রাষ্ট্রপতির অধীনে নির্বাচন করতে চাইলেও বিএনপি তা মেনে নিত বলে দলটির নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে সেরকম নমনীয়তা দেখা গেছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচন করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বার কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। কিন্তু এরকম কোনো প্রস্তাবকেই গ্রাহ্য করেনি আ’লীগ।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, তার হাতে অসীম ক্ষমতা রেখেই নির্বাচন করতে চেয়েছে আ’লীগ। এমতাবস্থায় বিএনপির কি উচিত ছিল ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষের সমর্থনপুষ্ট নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ছাড় দেয়া?

৫. আ’লীগের অধীনে নির্বাচনে গেলে সেটা যে বিএনপির জন্য পায়ে কুড়াল মারা হতো, সেটা কি এই নির্বাচন কমিশনের আচরণ থেকে স্পষ্ট হয়নি? মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরও এই নির্বাচন কমিশন জাপার প্রাথীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেনি; আবার প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও আওয়ামীপন্থীদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী করার জন্য বিপক্ষ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে প্রার্থীদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন কিন্তু আ’লীগের চাপে সেই তথ্য ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আওয়ামীলীগ আইন লঙ্ঘন করে প্রচার-প্রচারণা চালালেও নির্বাচন কমিশন আপত্তিটুকুও জানায়নি। সাবেক আওয়ামী মন্ত্রী আবু সাঈদ এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী প্রার্থীর পক্ষে খোদ পুলিশ নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছে! এরকম ভূরি ভূরি নজিরের পরও কি আওয়ামীপন্থী সুশীলরা বলবেন যে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হওয়া সম্ভব ছিল?

৬. অনেকেই বলছেন, বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত আন্দোলন তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন, আ’লীগ যে বন্দুকের শাসন কায়েম করেছে, শত শত মানুষ হত্যা-গুম করেছে, তার বিপরীতে সাধারণ নিরস্ত্র মানুষ যে প্রতিরোধ তৈরি করেছে, সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন নয় কি? বঙ্গবন্ধুর মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বকে হত্যার পর তার প্রতিবাদ জানাতে বন্দুকের মুখে মানুষ রাস্তায় নামতে পারেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে পূর্বে কখনোই এবারের মতো বন্দুকের নলের শাসন কায়েম হয়নি। কখনোই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানুষের ওপর এভাবে নির্বিচারে গুলি চালায়নি, গুম করেনি (আওয়ামীপন্থী আইন ও সালিস কেন্দ্র বলছে, কেবল ২০১২ সালের অর্ধেক পর্যন্ত এই সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে একশরও বেশি মানুষ গুম হয়েছে)। সুতরাং, বন্দুকের শাসনের মুখে বঙ্গবন্ধুর খুনের বিরুদ্ধে যেখানে মানুষ প্রতিবাদ করতে পারেনি, সেখানে অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা-গুমের পরও যে বিরোধী দলের কর্মীরা এখনো রাস্তায় নামছে, প্রতিরোধের চেষ্টা করছে, সেটা কম কিসে?

এই মুহূর্তে কেবল বিরোধী দলের সক্রিয় কর্মীরা মাঠে নামছে, সাধারণ মানুষ নীরবে আ’লীগের নির্যাতন প্রত্যক্ষ করছে, নির্বাচন হলে তারা ব্যালটের মধ্য দিয়ে আ’লীগকে শাস্তি দিত, যার আভাস পাওয়া গিয়েছিল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনগুলিতে। আগামীতে আওয়ামী সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইলে নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষও অতীষ্ঠ হয়ে একসময় মাঠে নামবে। ইতিহাস তেমনটাই বলে না কি?

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি খোলা চিঠি

by Jahid Islam:

সম্মানিত নেতৃবৃন্দ,

কেমন আছেন ? একটু চিন্তিত থাকলেও আশা করি আপনাদের ভয় কেটে গেছে। আপনাদের নেত্রী যে বক্তৃতা দিলেন এতেই গণতন্ত্রের সুস্পষ্ট বিজয় নিশ্চিত হয়েছে । আপনারা যে দিনভর বাসায় শুয়ে বা নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে ‘স্বৈরাচার’ বলে শেখ হাসিনাকে তাঁর ফ্যসিবাদি চরিত্রের জন্য গালি দিলেন এবং আপনাদের নেত্রী যে আল্লাহর গজবের জন্য বদ’দোয়া দিলেন এতে আওয়ামী লীগ যার পর নাই ভয় পেয়েছে।

তবে নেত্রী সভাস্থলে আসলে যে আরও কিছু একটা হত এ বিষয়ে আমরা সাধারণ লোকজন ত বটেই, স্বয়ং বারাক ওবামাও অবিচল আস্থা জ্ঞাপন করেছেন। নেত্রী যে সমাবেশ স্থলে আসতে পারেননি, এটিও তেমন বড় কোন বিষয় নয়। কেননা, আপনারা ত একটি স্বৈরাচার বিরোধী প্রতিনিধি সম্মেলনেরই আয়োজন করেছিলেন যেখানে সকল দলের দলীয় প্রধানদের কথা বলবার কথা ছিল, জাতিকে একটা মেসেজ দেয়ার কথা ছিল । আপনাদের নেত্রী যেতে পারেননি তাতে কি ? দুঃখ করবেন না, তাঁর বক্তৃতা ত পৌঁছে গেছে, তাই না ? উনি যা বলতে চেয়েছেন সেটা ত মানুষ শুনেছেই। কাজেই আর চিন্তা নেই।

আমরা জানি আপনারা একটু ব্যস্ত আছেন। অবশ্য থাকারই কথা। সামনে ক্ষমতায় আসলে কে কোন মন্ত্রী হবেন, কে কোন পদে বসবেন এর হিসাব মেলানো ত আর চাট্টিখানি কথা না । তাছাড়া, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিডিয়ার এবং টেলিকমের লাইসেন্স, টেন্ডার ভাগাভাগির হিসাব মেলানো আসলেই একটা দুরহ কাজ। আপনারা কোন চিন্তা করবেন না, আমরা জনগন আপনাদের দুঃখ-কষ্ট বুঝি। আমরা বুঝতে পারছি যে, আপনারা নিশ্চয়ই হিসাব করতে করতে ক্লান্ত। তাই সভাস্থলে যেতে পারেন নি। এটিকে আমরা অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করেছি।

আপনারা একদমই ভাববেন না, আমরা যারা জনগন আছি, আমরা হাজারে হাজারে বেরিয়ে আসব। পুলিশের বাধা সহ সকল বাধা উপেক্ষা করে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে অপসারণ করে আপনাদের জন্য বিজয় ছিনিয়ে আনব। দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব। এই সহজ কাজটুকুই যদি আমরা না করতে পারলাম আমরা আর কিসের জনগণ? আমরা এটা পারবই। কেননা আমাদের সামনে প্রেরণা হিসেবে আছেন আপনাদের মত অকুতোভয় নেতারা ।

দোহাই আপনাদের, আপনারা এই সময়টাতে ঘরে বা অন্য যে কোন নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন। আপনাদের জীবনের মূল্য অনেক। আপনাদের কিছু হলে জাতিকে নেতৃত্ব দিবে কে?  তবে আশার কথা হল আপনাদের সহযোগী হিসেবে মাঠে আছে জামায়াত। ওরা ত ইতিমধ্যেই আপনাদের লাঠিয়াল বাহিনী হয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

মাঝখানে যখন শুনলাম একজন মারা গেছে আমরা একটু শঙ্কিত হয়েছিলাম। আপনাদের কেউ নয়তো ? পরে শুনলাম, না; আপনারা ভাল আছেন। স্বস্তি ফিরে পেলাম। মারা গেছে আপনাদের লাঠিয়াল বাহিনীর একজন। ওরা মরলে তেমন ক্ষতি নেই। ওরা ত আছে আপনাদের স্বার্থেই। তাছাড়া আপনাদের উপর আমাদের রয়েছে অগাধ আস্থা। আজ হোক কাল হোক সময়মত ওদের কে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করেই দিবেন এ বিষয়েও আমরা নিশ্চিত। তাই ওদের কাজের যাবতীয় দায়িত্ত্ব থেকেও আপনারা পুরোপুরি মুক্ত।

জেনে রাখবেন, আপনারা যেভাবে চলছেন এর সাথে আমাদের রয়েছে পূর্ণ সমর্থন। তাই আমাদেরকে নিয়ে ভাববেন না। ভোট যে আমরা আপনাদেরকেই দিব এ বিষয়ে আমরা যে আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে পেরেছি জেনে ভাল লাগছে । বিজয়ী দল হিসেবে সরকার গঠন করা এখন ত শুধু সময়ের ব্যাপার, তাই না ? তাই আর মাত্র কটা দিন আপনারা ধৈর্য ধরে আত্মগোপনে থাকুন। এই দিকটাও আমরাই সামলে নেব। আর দু’চার দিন নেত্রীর বক্তৃতা এবং দু’চারটা কড়া অভিশাপ ! এরপরই আওয়ামী লীগের খেলা শেষ।

আপনাদেরকে আমাদের পক্ষ হতে বিজয়ের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে আজ এখানেই শেষ করছি।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দবাদ।

কালেকটিভ কনশানস বা গণনৈতিকতা -বিএনপির ২৯ ডিসেম্বর এর ফাকা মাঠ আন্দোলন এর একটি কারণ বিশ্লেষণ

 আজকের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি নিয়ে বিএনপির এক্সপেকটেশন কি ছিল, তা আমি এখনো ক্লিয়ার হতে পারছিনা।

তারা কি ভাবছিল,হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে ? আওয়ামী লিগ যে সব কিছু ব্লক করবে, তাতো জানা কথা। বিএনপি কি ভাবছিল যে, আওয়ামী লিগ এর গুণ্ডাদের সকল বাধা আর পুলিশ এর বাধার মুখে জনতা রাস্তায় নামবে ?

আর ঢাকার বাহিরের মানুষের ঢাকা আসার কথা বলছেন কেন ? ঢাকার মধ্যে এক কোটি মানুষ আছে। এরা কই ছিল ?

এরা কেন নামে নাই।

হেফাজত এর মুভমেন্ট এর আগে, ঠিক একই রকম বাধা দেয়া হইছিল (হয়ত মাত্রা আরো বেশি ছিল) কিন্তু মানুষের জোয়ার এর মুখে সকল বাধা ভেঙ্গে পরছিল।

এরা আসছেনা কেন ?এই প্রশ্নটা বিএনপি কি নিজেকে করছে ?

বিএনপির আন্দোলন এর লেজিটিমেসি আছে, কিন্তু বিএনপির কি লেজিটিমেসি আছে ? এইটা বিএনপি কখনো নিজেদের জিজ্ঞেস করছে ।

রাষ্ট্র যখন, ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার দাস হয়ে যায়, সকল ইন্সটিটিউশন যখন ভেঙ্গে পরে যখন কোন নিরপেক্ষ মিডিয়া থাকেনা, মানুষ যখন আদর্শিক ভাবে বিভাজিত হয়ে পরে, সংবিধান যখন সরকার এর ক্ষমতা রক্ষার পুস্তকে পরিণত হয়  তখন যেই সব দল শুধু নাকি কান্না গাইতে থাকে তারা ইতিহাসের থেকে কোন শিক্ষা নেয় নাই।

সেই শিক্ষা হল, এই ধরনের অবস্থায় জন মানুষের কালেকটিভ নৈতিকতা বা কালেকটিভ মরালিটি সব চেয়ে  গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়।

সমাজের কালেকটিভ মরালিটি, কালেকটিভ কনশানস বা জন-নৈতিকতা কি বলে, সেইটা হয়ে যায় সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান।

এই সংবিধান ধরা যায় না, এইটা লিখতে হয় না। এইটা প্রতিটা মানুষের মনে তখন গাথা হয়ে থাকে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা ধরেন। প্রতিটা মানুষ তখন বিশ্বাস করতো এই দেশকে নিজের রক্ত দিয়ে মুক্ত করতে হবে। মানুষ তখন অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরছে।

৯০ এর এরশাদ এর পতনের কথা ধরেন। প্রতিটা মানুষ জানত, ওই লুচ্চা রে নামাইতে হবে। এইটা কালেকটিভ মরালিটি, কালেকটিভ কনশানস জনতার বিবেক। লুচ্চাটা আর্মির সাপোর্ট  ধরেও আর  টিকে থাকতে পারে নাই । আর্মিও শেষ পর্যন্ত সমর্থন প্রত্যাহার  করে নিছে ।

আজকে তাই বিএনপি কে প্রশ্ন করতে হবে, কেন আজকের এত অত্যাচার , অন্যায়, রাষ্ট্রের পেটে ছুরি চালিয়ে ইন্ডিয়ার দালালি  আর সীমাহীন  লুটপাট এবং পরিষ্কার অগণতান্ত্রিক আচরণ দেখেও তাদের ডাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে নাই ?

আওয়ামী পুলিশের বাধা, আর ছাত্র লিগ এর গুণ্ডা দের ভয়ে ?

৭১ এ আর্মি ছিল এলএমজি হাতে তাও মানুষ পাত্তা দেয় নাই – আর এই কয়টা ছাত্র লিগ , আর রেব পুলিশ ? ফুহ।

আজকে তাই  প্রশ্ন করতে হবে, আওয়ামী  লিগ যদি আরো ৫ বছর যদি অবৈধ ভাবে দেশ শাসন করে যায়, তাও কি সাধারণ মানুষ কি মাঠে নেমে তাদের বিরুদ্ধে গণ মিছিলে নামবে, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এর মত ?

পাঁচ বছর পরের কথা জানিনা, কিন্তু আজকে সে পরিস্থিতি এখনো হয় নাই।

এই কালেকটিভ  মরাল কনশানস টা এখন দানা বাধতাছে মাত্র – এখনো ফর্ম করে নাই। কিন্তু, তার আগেই বিএনপি মানুষরে রাস্তায় চায়।

বটম লাইন হইলো, বিএনপি নিজের নৈতিকতা মানুষের কাছে পরিষ্কার করতে পারে নাই।

বিএনপি এখন পর্যন্ত চিন্তা করতে পারে নাই, একটা মূল কাজ বাদ দিয়ে তারা আন্দোলন এ নামছে । তাদের মানুষকে একটা ভিশন দেখাতে হবে  বা আগের পাপের জন্যে ক্ষমা চাইতে হবে  বা দেখাতে হবে  যে তারা একটা সোল সার্চিং করছে- কোন লিপ সার্ভিস না।

সবাই মনের চক্ষে দেখতে পাচ্ছে , বিএনপি শান দিচ্ছে তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট এ–আরো জোর গতিতে লুটপাট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে, কালেকটিভ মরাল কনশানস – বিএনপির পক্ষে দাড়ায় নাই।

সাধারণ মানুষ একটা সুন্দর জীবিকা নিয়ে, পরিবার পরিজন সহ সুন্দর ভাবে বেচে থাকতে চায়, দুর্নীতির থেকে মুক্তি চায়- বিএনপি কি সেই ভিশন দেখাইতে পারছে সাধারণ মানুষ কে ? নাকি মানুষ জানে, বিএনপি আসলে তারা আরো জোর গতিতে বিগত পাঁচ বছরের হারানো সম্পদ ফিরে পেতে জোর গতিতে লুটপাট শুরু করবে ।

জনমানুষের এই কালেকটিভ মরালিটির বিষয়ে বিএনপি চিন্তাও করে নাই। করতাছেনা। তারা জাস্ট ক্ষমতা চায়, যে কোন মূল্যে যেন এইটা তাদের বাপ এর তালুক, যেন এইটা তার রাইট। তারা জাস্ট ধরে নিচ্ছে, আওয়ামী লিগ এর উপর মানুষ চেতা, স মানুষ এখন দলে দলে তাদের পক্ষে নেমে ক্ষমতা তাদের হাতে তুলে দিবে ।

আমি পরিষ্কার, আওয়ামী লিগ এই অবৈধ নির্বাচন করে আরো কয় এক বছর ক্ষমতা ধরে রাখার মত দলীয়, সাংগঠনিক,প্রাতিষ্ঠানিক,আন্তর্জাতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক সক্ষমতা এবং  কুটচালি বুদ্ধি রাখে।

শেখ হাসিনা অনেক হেডস্ট্রং লেডি। ডক্টর ইয়ুনুস ইস্যুতে উনি বছর এর পর বছর আমেরিকার মত পরাশক্তির হাজারো কান্না কাটি পাত্তাও দেন নাই। প্লাস উনার সাথে ইন্ডিয়া আছে। স, উনার একজিট রুট রেডি। প্লাস দেশের আনাচে কানাচে প্রাশনের আনাচে কানাচে আওয়ামী লিগ জায়গা মত  বসে আছে।

তারা এখন দেখতে পাচ্ছে, তাদের আর কোন নৈতিকতার ধার ধরতে হচ্ছেনা ফলে এখন তাদের আর কোন চক্ষু লজ্জা দেখাতে হচ্ছেনা। কারণ, এই  হাস্যকর নির্বাচন এর কারণে তাদের অবস্থান এখন এত দিনের আলোর মত অবৈধ । ফলে, নৈতিকতার ধার তাদের আর ধরতে হচ্ছেনা ।

ফলে, তারা এখন যা ইচ্ছা তা করতে পারবে এবং কারো কোন নিষেধ শোনার তাদের প্রয়োজন নাই। তারা জানে তারা এখন  চাইলেই, ঘরে ঢুকে মানুষ মেরে যদি জাস্ট ডিক্লেয়ার করে দেয়, লাশ টা জামাতের কেও কোন প্রশ্ন করবেনা। তারা জানে, একটা ওপেন মিছিলে গুলি মেরে মানুষকে মেরে ওরা যদি  বলে, এইটা ছিল হিজবুত তাহরীর তো, সবাই চুপ মেরে যাবে। তারা জানে, তাদের নেতারা সব গুলো সিরিয়ালি  চুরি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা খাইছে  নেতাদের নিজেদের হলফ করা সম্পদ এর বিবরণী থেকে- ফলে তারা এখন এইটা নিয়েও আর চিন্তিত না। তারা বুঝে, একটা ইলেকশনে ১৫৪ জনকে আগে নির্বাচিত করেও তারা গণতন্ত্র আর সংবিধান এর নাম, পার পেয়ে যাবে- সমাজের এক দল মানুষ তাদের সাথে থাকবে, যুদ্ধাপরাধী বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র বলে।

ফলে, আওয়ামী লিগ  জানে, কেও তাদের  জোর না করলে, তাদের  কিছু ছাড়তে হবেনা।

ফলে,রাজতন্ত্রের আরেক ক্রাউন প্রিন্স বিএনপিকে  আরো অনেক বছর ধরে ফ্রাস্ট্রেটেড হতে হবে।

এবং  যত দিন তারা মানুষের কালেকটিভ মরাল কনশানসটা অর্জন না করবে এই ধরনের আন্দোলন আওয়ামী লিগ ফু  মেরে উড়িয়ে দিবে, আজকে যেমন করেছে । আওয়ামী লিগকে সহজে কেও নাড়াতে পারবেনা।

এইটা ঠিক, আওয়ামী লিগ যত অন্যায় করতে থাকবে, তত বেশি তার বিরুদ্ধে মরাল কনশানস জমা হবে, কিন্তু, আওয়ামী লিগ এর নেগেটিভ কনশানস ইজ নট ইকুয়াল টু বিএনপির পজিটিভ কনশানস।

বিএনপির নিজেরটা নিজেকে অর্জন করতে হবে। মানুষ বোঝে, এই সেই বিএনপি যার নেতারা ৫ বছরে ধরে দেশকে লুট করছিল । এই সেই বিএনপি যে নিজেও, ক্ষমতা দখল করে রাখার জন্যে অনেক কুটচাল চালছে ।

বিএনপিকে যদি ক্ষমতার ধরে কাছে যেতে হয় তবে অবশ্যই একটা সোল সার্চিং করে, নিজের ভুল স্বীকার করে সত্যিকার এর পরিবর্তন হইছে তার কনভিনসিং  প্রমাণ দিয়ে মানুষের কাছে আসতে হবে ।

নইলে, অনলাইন এ বা রাস্তা ঘাটে আওয়ামী লিগ এর বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ কে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে ধরে নিয়ে যদি, আন্দোলন প্ল্যান তাদের চরম ভাবে হতাশ করবে।

ফলে, আরো অনেক  বছর ধরে, যদি এই আন্দোলন চলে জন ভোগান্তি, অর্থনীতি ধ্বংসের চক্র চলতেই থাকবে।

এবং আওয়ামী লিগ এর ক্ষমতার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন যদি আরো দুই থেকে পাঁচ  বছর ধরেও চলে, আমি অবাক হবনা।

কারণ, আওয়ামী লিগ এখন ডেস্পারেট। এবং আগামী ৫ জানুয়ারি ইলেকশন এর পরে, তারা আরো বেশি ডেস্পারেট হবে তাদের দল এর প্রায় ২ লক্ষ লোক রুজি রোজগার এর ইস্যু এইটা- এইটা তারা ছাড় দিবেনা।

তাই যখন সংবিধান যখন ক্ষমতাসীন এর ক্ষমতা টেকানোর অস্ত্র তখন জনগণের কালেকটিভ কনশানস নিজের পক্ষে  নিয়ে আসাটা আজকে যে কোন রাজনৈতিক দল এর আন্দোলন এর প্রধান ভিত্তি হয়ে দাড়ায় ।

এবং জন-নৈতিকতা এবং জনগণ এর কালেকটিভ কনশানস যদি বিএনপির তার পক্ষে আনতে না পারে , তাহলে আর যতই ডাক দিক কোন গন-জোয়ার বিএনপির পক্ষে নামবে  না। আওয়ামী লিগ নিজেই  হয়তো এইটা সেইটা করে, পরিস্থিতি গরম করে রাখবে –কারণ তারা এত অনৈতিক দল যে সম্পূর্ণ বিবেক বর্জিত হয়ে তারা এখন যে কোন কিছু করতে পারে। কিন্তু, গণ-মানুষ এর জোয়ার বিএনপির পক্ষে নামবে বলে মনে হয় না । নামলে অবাক হব ।

আজকে যারা কিবোর্ডে ঝড় তুলে ফাটায় ফেলতাছে, টক শোতে নিজের একটা কথা শোনানোর জন্যে ঘণ্টার অপর ঘণ্টা  ফোন টিপ্তাছেন, আড্ডায়, ফেসবুকে এমপিদের অবৈধ সম্পদ, অবৈধ ইলেকশন , মানুষের মৃত্যু,এই ফ্যাসিবাদী সরকার  কিভাবে নিজেই ঢাকা অবরোধ করলো – এইটা সেইটা বলে ঝড় তুলতাছেন  – এবং নৈতিক সাহস টা নিজের সাথে না থাকার কারণে

এই কিবোর্ড বিপ্লবী আর চা এর কাপে ঝড় তোলা লোক গুলোই বিএনপির হয়ে আওয়ামী গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে না।   

বাকি সাইলেন্ট মেজরিটি  তো আরো অনেক দুরের বিষয়।

একটি ফুটবল খেলা

By Ibrahim Mahmud:

গুরুত্বপূর্ন একটি ফুটবল খেলা শুরু হবে, এমন সময় একটি বিস্ময়কর জিনিস লক্ষ্য করা গেলো। গত ম্যাচের বিজয়ী দলের অধিনায়ক রেফারীর বাঁশি নিয়ে মাঠে ঢুকছে। গত ম্যাচ জেতায় এটা নাকি এখন তার অধিকার! বিদেশী কোন কোচ নাকি তার মাথায় এই বুদ্ধি দিছে। নতুন নিয়ম সে নিজেই করছে, সেটা এখন তার পকেটে শোভা পাচ্ছে।

সে মাঠে ঢুকেই প্রতিপক্ষের খেলোয়ারদের লাল কার্ড দেয়া শুরু করল। দর্শক নাকি কেবল তার দলের জার্সি যারা পরা তাদের খেলাই দেখতে চায়। কিছুক্ষনেই মাঠ খালি।

কেমন দেখায়! সাইড লাইন থেকে দুইটা খেলোয়ারকে ধরে আনা হল। তারাও মাঠে পা দিয়ে বুঝল ভুল করছে। বের হয়ে যেতে চাইল, কিন্তু জোর করে তাদের আটকে রাখা হল, মাঠে পা দিলে নাকি খেলতেই হবে!

এদিকে ফাঁকা মাঠ পেয়েতো তার দলের খেলোয়ারেরা মহা খুশি। খেলা শুরুর আগেই ডজন খানেক গোল দিয়ে ফেলল। স্কোরার আগেই হাত করা, সেও বলল গোল হইছে কিনা এটা দেখাই তার ব্যাপার, অন্য কিছু রেফারী বুঝবে। নিয়মের খাতায় তাই নাকি লেখা আছে। ফলে খেলা শুরুর আগেই স্কোর ১২-০।

এদিকে এমন অদ্ভুত খেলা দেখে দর্শক খেপে যাচ্ছে। তারা দুয়োধ্বনি দিচ্ছে।

কিন্তু অধিনায়কের কোনো বিকার নাই। বিদেশী কোচের আশ্বাসতো আছেই তার উপর এখন তার পকেটে নিয়মের খাতা আর হাতে রেফারীর বাঁশি। সে মনের আনন্দে পু পু করে বাঁশি বাজিয়ে চলছে…

Of Causes and Means

2

by Shafiqur Rahman

Power Politics means political action characterized by exercise of power and especially of physical force by a political group as a means of coercion in the attainment of its objectives. Like many political terms with aggressive undertones, the term came from the Germans, machtpolitik, who were determined to set out to develop the archetypes in un-subtlety in political actions  in their not too distant past. In Bangladesh too, the main political parties have been engaging in naked power politics since the dawn of the new democratic era in 1991 but it has reached hitherto unknown depth of depravity this time around.

In the everyday violent melee of the power politics it is sometimes easy to lose sight of the strategies behind the tactics. With some presumption, it is not hard to divine the broad strategies behind the two warring faction. Basically the AL government is pursuing a two pronged strategy. Its preferred strategy is to get BNP to participate in an election managed and supervised by AL so that the next AL government gets the stamp of legitimacy from domestic constituents and international partners. Failing that, ALs second option is to try to paint Jamaat as full-fledged terrorist organization internationally and BNP as its patron-accomplice and manage the low level insurgency by BNP and Jamaat indefinitely while seating snugly at the throne of state power.

BNPs strategy is singular; it is going by the tested and proved way to pry open the governments grip on power by preparing the ground for a third party to intervene. BNP incapable of creating that scenario on its own, that’s why Jamaat is so indispensable to them now. Few can doubt that if BNP can achieve the goal of power politics without the help of Jamaat, it will discard Jamaat in an instance like an used tissue paper.

In pursuance of this strategy BNP is again following the manual of tactics to create maximum destabilization by interrupting the regular life of the country. But this year the BNP led opposition has upped the ante. Not only the life of the general people are being interrupted but also their life itself is being targeted. Especially the series of vehicle burning with people inside has aroused universal disgust and apprehension of this dastardly deed becoming regular part of Bangladesh politics.

The ruling Awami League on the other hand is using state power in unprecedented crushing of political opposition. Whole ranks of senior leadership has been rounded up and all mass-political activity has been clamped upon. In scenes reminiscing brutal foreign occupation, law enforcement agencies are using lethal forces without restraint.

In the daily barrage of the atrocities and excesses of the political power players it is easy to lose sight of the root cause that underlie this current round of confrontation. BNP wants a free and fair election; a election that most neutral observers agree that BNP will win handsomely. AL also recognizes that and that why it is determined to hold an election under its term and deny the people have its say. This foundational subtext of power politics is not due to any inherent virtue of the two parties, the situation is essentially reverse of what was in place in1996 and 2006. The only difference being that this time, opinion polls and local elections have repeatedly underscored this fact of ground.

The AL government is aware of the original sin of its position that is why it is throwing around a host of allegations about BNP to obfuscate the issue. BNP doesn’t want election, it wants to free war-criminals. BNP do not want to respect the rule of law as enshrined in the constitution recently amended by AL to uphold democracy. BNP wants to install a religious theocracy. BNP is colluding with hostile foreign entities. BNP wants to reverse the great developmental achievements of the AL government. BNP is joined in the hip with Jamaat, a terrorist organization. Terror tactics cannot be allowed to succeed. Terrorism is the biggest threat facing the country and so on.

Every time I hear this litany of complaint from AL leaders and apologists, I am reminded of the world’s most contentious issue, the Israel-Palestinian conflict. The global community broadly recognizes the fundamental injustice at the heart of the Is-Pal conflict, an occupying power appropriating land from a native people and denying them freedom to choose their own destiny. Again to obfuscate the core injustice, apologists of Israeli lebensraum employ myriad complaints against the Palestinians.

They say that Israel doesn’t have a reliable partner in Palestinians for peaceful settlement. Palestinians do not want peace. Palestinian authority is deeply in cahoots with religious absolutists and terrorists. Palestinians use heinous terror tactics. Palestinians are backed by foreign entities determined to annihilate Israel. Palestinians are living far better under Israeli occupation than their counterparts living in Arab absolutist regimes. Israel is an oasis of civilization and progress in the midst of a sea of barbarism. Sound’s familiar? And all the while Israel is busy changing the facts in the ground so that a peaceful settlement becomes all but impossible.

Just like Israel-Palestinian issue, the current political problem in Bangladesh is complex and there is no easy solution that will satisfy all parties. But this should not mask the simple injustice lying at the heart of the issue. The controversy about the means used in the political confrontation should not mask the cause of the conflict.

আসাদুজ্জামান নুরের হত্যাচেষ্টা ও একজন বাকের ভাইয়ের ফাঁসি…

by WatchDog

জনাব আসাদুজ্জামান নুর , রাজনীতির মাঠে আপনি বাকের ভাই নন যার উপর আক্রমনের প্রতিবাদে আমাদেরও চোখের পানি ফেলতে হবে। এদেশের জীবন হতে সে সব দিন বিদায় নিয়েছে যখন নাটকের বাকের ভাইয়ের জন্যও মানুষ সহমর্মিতা দেখাত। সে হৃদয় আজ শকুনের ছোবলে ক্ষতবিক্ষত। নুর সাহেব, আপনি সেসব শকুনদেরই একজন। আপনি তাদেরই একজন যারা এদেশকে আলীবাবা চল্লিশ চোরের সিসিম ফাঁক মন্ত্রবলে ফাঁক করেছে, ধর্ষণ করেছে, লুটেছে, চাটার মত চেটেপুটে খেয়েছে। রাজনীতির খাতায় প্রথম যেদিন নাম লিখিয়েছিলেন সাথে শকুনের খাতায়ও নাম লিখিয়েছিলেন সেদিন। বাংলাদেশের রাজনীতি, রাজনৈতিক দল ও তার খেলোয়াড়দের পরিচয় না জেনে এ পথে পা বাড়িয়েছিলেন বিশ্বাস করা কঠিন। আশাকরি ভুলে যাননি লুটের পয়সায় সন্তানকে লন্ডন পাঠানোর ইতিবৃত্ত। সুসংবাদ হচ্ছে, এ পথে আপনি একা নন। আপনার আশপাশের সবাই একই পথের পথিক। দেশকে গৃহযুদ্ধের আগুনে ঠেলে দিয়ে আপনারা উত্তাপ নিচ্ছেন শীত নিবারণের। জ্বলজ্যান্ত মানুষকে গুম করছেন, বছরের পর বছর ধরে লম্বা করছেন লাশের মিছিল। কেবল এক ব্যক্তির সেবা করতে গিয়ে বিসর্জন দিয়েছেন মানুষ হিসাবে পরিচয় দেয়ার ন্যূনতম মনুষ্যত্ব। নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তামাশা করতে গিয়েছিলেন নীলফামারীর জনপদে। নুর সাহেব, ভেবে দেখুন একজন বাকের ভাইয়ের ফাঁসির জন্য যে নীলফামারীর মানুষ রাস্তায় নেমেছিল একই মানুষ তাদের প্রিয় আসাদুজ্জামান নুর ভাইকে হত্যার জন্য ককটেল, গ্রেনেড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরতে দ্বিধা করেনি। একবারও কি ভেবে দেখেছেন কেন এমনটা হয়? যারা আপনাকে মারতে গিয়েছিল তারা এলিয়ন নয়। এদেশেরই সন্তান। রাজনৈতিক পছন্দ মানুষের জন্মগত অধিকার। আপনি যেমন একটা দল বেছে নিয়েছেন, তাদেরও অধিকার আছে বেছে নেয়ার। মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রতিপক্ষ নির্মূল করার অধিকার আপনাদের কেউ দেয়নি। কিন্তু আপনারা তাই করছেন।

জনাব নুর, আপনারা দেশকে ভাগ করেছেন। শহর-বন্দর, হাট-বাজার, নদী-নালা সহ সবকিছু ভাগ করেছেন। ভাগ করেছেন প্রতিটা পরিবার। কেবল দেশ নয়, বাংলাদেশের প্রতিটা পরিবার এখন যুদ্ধের মাঠ। এখানে ভাই লড়ছে ভাইয়ের বিরুদ্ধে, বাপ লড়ছে সন্তানের বিরুদ্ধে, এথনিক ক্লিনজিংয়ের দোর গোড়ায় দাড়িয়ে প্রিয় জন্মভূমি। এবং সবকিছু হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নামে। রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পারিবারিক লড়াইকে আপনারা নাম দিয়েছেন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। জনাব, জাতি হিসাবে আমাদের বয়স ৪২ বছর পেরিয়ে গেছে। অনেক কিছু বুঝতে শিখেছি আমরা। আপনাকে চিনতেও ভুল হয়নি। আপনি তাদেরই একজন যাদের হাতে জিম্মি ১৫ কোটি মানুষের জীবন। ট্যাংক, কামান, থানা, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও প্রতিবেশী দেশের শক্তিশালী প্রভু নিয়ে রক্তাক্ত করছেন দেশের অলিগলি রাজপথ। যে প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তাদের উন্মাদ বানিয়েছেন, শিরায় শিরায় পৌছে দিয়েছেন ঘৃণার বিষাক্ত বীজ। জনাব, ভুলে গিয়েছেন কি এ দেশের মানুষ কেন পাকিস্তানী সেনা শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল? আপনার মত সেবাদাসদের ক্ষমতায় পাঠিয়ে বিশেষ পরিবারের সেবা করার জন্য নয় নিশ্চয়? পাকিস্তানী সামরিক স্বৈরশাসক ও তাদের দোসর ২২ পরিবারের শোষন, নিপীড়ন হতে মুক্তি পাওয়ার জন্যই এদেশের মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়েছিল। অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা, মাথার উপর ছাদ, স্বাভাবিক জন্ম-মৃত্যুর নিশ্চয়তার জন্য স্বাধীনতা এনেছিল। অথচ আপনার মত কৃতদাসরা আমাদের মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছেন রাজাকার নিধন আর জামাতি নিশ্চিহ্ন করার অপর নামই নাকি স্বাধীনতা।

জনাব নুর, যুদ্ধের মাঠে আপনি একজন সৈনিক। এবং প্রতিপক্ষের বৈধ টার্গেট। নীলফামারীর যুদ্ধে আপনি চার সহযোগী হারিয়েছেন। কাঁদছেন কেন? চোখের পানি আর নাকের পানি একাকার করে আপনি যখন হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা বর্ণনা করছেন একই সময় আপনার পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও দলীয় ক্যাডারের দলও ট্যাংক, কামান নিয়ে বিরান করছে দেশের বিভিন্ন জনপদ। মানুষ মারছে পাখির মত। হত্যাই যদি সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে রাজনীতির মাঠে কেবল আপনারা হত্যা করবেন আর প্রতিপক্ষ পালাতে থাকবে তা হতে পারেনা। ওরাও হত্যা করবে এবং তা হবে বৈধ। চাইলে যুদ্ধ সংক্রান্ত জেনেভা কনভেনশন পড়ে দেখতে পারেন।

রক্তের দাগ হাতে নিয়ে বাকের ভাইয়ের ভালবাসা চাওয়ার ভেতর গৌরবের কিছু নাই,…… আছে পরাজয়ের গ্লানি। যতদুর জানি শেখ হাসিনার সৈনিকদের অভিধানে পরাজয় বলে কোন শব্দ নেই…শুভ কামনা।

http://www.amibangladeshi.org/blog/12-17-2013/1423.html