বাবার কাধ

1

images (2)

আজ ৩০ দিন হলো ব্যারিস্টার রফিক কারারুদ্ধ। সম্পূর্ণ বানোয়াট অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমানাদি ছাড়া একজন নাগরিককে বন্দী করে রাখা বাংলাদেশেই সম্ভব। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ চার্জশিট দাখিলে ব্যর্থ হয়- এমতাবস্থায় নিম্ন আদালত সাধারনত মামলা বাতিল করে দেয়। কিন্তু এক্ষেত্রে উল্টো তদন্তের সময় দিয়ে অভিযুক্তদের কারাগারে প্রেরণ করে- যেই তদন্ত হবার কথা গ্রেপ্তারের আগেই- এও এক নতুন দৃষ্টান্ত। তদন্তকারী গোয়েন্দারা ব্যারিস্টার রফিক কে বলে ‘স্যার, আমাদের কোনো প্রশ্ন নাই’।

রাজনীতির প্যাচ এ পড়া এসব গোয়েন্দাদের জন্য দুখ্যই হয় – বেচারারা জীবিকার তাগিদে স্বৈরাচারের চাকর এখন – তাদেরতো চাকুরী করতেই হবে।

আব্বা কিন্তু খুব সফল আইনজীবী – রাজনীতি থেকে দুরে থেকে আর দশটা সুশীলের মত ঘরের সোফায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দেবার কথা তার। তিনি আর তার ছেলেমেয়েরা ‘নাগরিকের’ বেশে তাদের বিত্তবান জীবন উপভোগ করবেন – আর্ট এক্সিবিশন এ যাবেন, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত এর আসরে মাথা দুলাবেন আর রাজনীতিবিদদের কটু গন্ধে নাক সিটকাবেন – এমনটাই হবার কথা। যখন তাদের নিরাপত্তার বলয় ভেঙ্গে যাবে, তখন তারা দোষারোপ করবেন সেই কটু রাজনীতিকেই। যেই মানুষটি ষষ্ট শ্রেণী থেকেই নিজের জীবন-জীবিকা নিজেই উপার্জন করেছেন, তিনি এই বিলাশিতাতুকু করতেই পারতেন ।

কিন্তু তিনি কখনই দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। তিনি আমাদের প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দিয়েছেন সুবিধাপ্রাপ্ত সক্ষম মানুষ হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্বের কথা। আর সেই দায়িত্ব সবচেয়ে কার্যকরীভাবে পালন করা যায় দেশের নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখে – সেই লক্ষেই রাজনীতিতে অংশগ্রহন। রাজনীতি অবশ্যই সেচ্ছানীতি নয়, এই উপলব্ধিটা আমাদের রক্তের মধ্যে মিশিয়ে দিতে চেয়েছেন তিনি- সারাজীবন।

আমার ছোটবেলার সবচেয়ে মধুর স্মৃতি আব্বার জন্য জোর করে জেগে থাকা – তিনি খুব রাত করে ফিরতেন। সারাদিন হয়ত ঠিকঠাক খাওয়াও হয়নি, কিন্তু বাড়ি ফিরে তার প্রথম কাজ ছিল আমাকে কাধে নিয়ে ঘুম পাড়ানো – তা তিনি যতই ক্লান্ত-ক্ষুধার্ত হন না কেন । যেই পরম মমতায় তিনি আমাকে কাধে নিতেন, দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন তার থেকে হাজারগুন বেশি ভালবাসায়- আর কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক – তার পরিবারের এই একটি বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই।

আজ সেই রাজনীতির দায়ে এক সেচ্ছাচারী স্বৈরাচারী শাসকের শিকার তিনি। আর কতদিন বন্দী থাকবেন তা একমাত্র স্বৈরচারই জানে। আমার বাবাকে কাধে নেবার শক্তি বা সামর্থ আমার নেই – কিন্তু আমার বিশ্বাস যে দেশকে তিনি পরিবার করে নিয়েছেন , সেই দেশের অবশ্যই আছে।

মৃত্যুর মিছিলে আরও কজন

“মৃত্যুর মিছিলে আরও দুজন”- আজকের প্রথম আলোর হেডিং। বাসে আগুনে পুড়ে  দুটো মানুষ মরে গেলো। কী জঘন্য, কী ভয়ংকর! এই অপরাধের কোনো মাফ নেই। এই অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার হওয়া উচিত। এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার হওয়া খুব দরকার , শাহবাগে এ সকলের একত্রিত হওয়া দরকার। বাংলাদেশের “জেগে উঠা” দরকার। “ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই”, বলে স্লোগানে স্লোগানে মাতিয়ে দেওয়া দরকার “স্বাধীন” বাংলার আকাশ বাতাস। 

সেদিন ১৪ আর ১৬ বছরের দুটো ছেলে মরে গেল,  তবে আগুনে নয়, পুলিশের গুলিতে । গত কদিনে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে প্রায় ৫০ জনের মত। বেশীরভাগই তরুণ, কিশোর। সেই মৃত্যু- মিছিল আরো বড়, অনেক বড়। এভাবে গত ক’ বছরে হাজার হাজার নেতা-কর্মী মারা গেছে, গুম হয়েছে, জেলে গেছে।  প্রথম আলো কিংবা ডেইলি স্টার এদের নিয়ে  “সম্পূর্ণ রঙ্গীন” কোনো রিপোর্টিং করে না। এদের নিয়ে কোনো হৃদয়বিদারক টাইটেল হয় না। একই টাইটেল, মাসের পর মাস। “পুলিশের গুলিতে নিহত”।

কেনই বা করবে?  এরা তো গরীব “মানুষ” নয়। এরা গরীব “জানোয়ার”। “জানোয়ারের” আবার মানবাধিকার কী? এদের “জানোয়ার” ছানাপোনাগুলো চিৎকার করে আকাশ বাতাস কাঁদিয়ে তুললেও কোনো ফটোগ্রাফারের কিছু যায় আসে না। এদের মা “জানোয়ার” গুলো এদের কবরে বার বার হাত বুলালেও কিছুই যায় আসে না, আমাদের সেলিব্রিটি কলামিস্টদের।  ভ্রু কুচকে ভাবে-  “কেন” যে এরা  আমাদের “ট্রিগার হ্যাপী ” পুলিশের গুলির সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়!  এদের জীবনে কোনো “গল্প” নেই। এদের কোনো স্বপ্ন ছিল না । এরা কেউ স্কুলে প্রথম হয় নি! এদের তো প্রেয়সী থাকতেই নেই। “জানোয়ারের” জীবনে আবার কিসের প্রেম?

Image

উপরের ছবিটি দেখুন। বাচ্চা মেয়েটির চোখগুলো দেখছেন? বিস্ময়। অগাধ বিস্ময়। মেয়েটি দেখছিল তার বাবাকে হত্যার দৃশ্য। নাটোরের বাবুর হত্যার দৃশ্য। বাংলাদেশে অবশ্য  আওয়ামী লীগ যারা করেন, এদের সমর্থক এবং যারা রাজনীতিকে “ঘৃণা” করেন, এদের ছাড়া আর কারো মানবাধিকার নেই। মেয়েটি সেটা জানে না। তার আছে “জানোয়ারের” অধিকার। তাইতো তার বাবা, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্তেও , রাস্তায়, প্রকাশ্য দিবালোকে, আওয়ামীদের হাতে “জানোয়ারের”  মৃত্যু বরণ করে, দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে  তাকে হত্যা  করা হয়। ফুটফুটে  মেয়েগুলো, বাবুর তিন মেয়ে, বিস্ময়ের সাথে দেখে তাদের বাবার জানোয়ার হওয়ার দৃশ্য। প্রথম আলো কিংবা ডেইলি স্টার এদের নিয়ে  “সম্পূর্ণ রঙ্গীন” কোনো রিপোর্টিং করে জানায় না এরা কেমন আছে। পাঠক জানতে পারে না,  ফুটফুটে মেয়েগুলো কত বড় হলো! বাবুর বউ, মহুয়া নামের রূপসী মেয়েটি, কেমন আছে!

ইলিয়াস আলী হঠাৎ এক রাতে হারিয়ে যায়। তার ছোটো মেয়েটা কাঁচা হাতে চিঠি লেখে। বাবাকে খুঁজে। ইলিয়াসের বউ, ছেলে মেয়ে নিয়ে ছুটে যায় গণভবনে। বিশাল ক্ষমতার অধিকারিনী, বাংলাদেশ আল্লাহর পরে যার ক্ষমতা (এবং কারো কারো মতে যার ক্ষমতা সেই একজনেরও নীচে না) সেই মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর পায়ে পড়ে যায়। “দিন না খুঁজে ইলিয়াসকে”/তার আগে এবং পরে  হারিয়ে গেছে আরো হাজার হাজার নেতা কর্মী। পুলিশের কাস্টডিতে মরে যায় মইন নামের এক মেধাবী তরুণ আইনজীবী। ছোট্ট একটি বাচ্চা নিয়ে মইন এর তরুণী স্ত্রী নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। নেতাকে না পেয়ে তার বউ, মেয়ে, জামাই, শাশুড়ি এমনকি শালার বৌকে পর্যন্ত ধরে নিয়ে যায় এরা। ঠিকই তো আছে, শুধু নেতা কেন, নেতার চৌদ্দ পুরুষের মানবাধিকার থাকতে নেই, থাকতে পারে না।  নেতার বাসায় ককটেল ছুরুক, নেতার মেয়ের গাড়ী “দুর্বৃত্তদের” আক্রমণে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাক, জমানো টাকা শেষ হয়ে যাক মামলার পেছনে, পাড়ার লোকদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়া “মানুষেরা” রেখে যায় বোতল ভর্তি পেট্রোল, উদ্দেশ্য পুড়িয়ে দিবে, জ্বালিয়ে দেবে নেতার সব, কী হয়েছে তাতে? নেতা তো “মানুষ” না। শুধু নেতা কেন, নেতার চৌদ্দ পুরুষের মানবাধিকার থাকতে নেই, থাকতে পারে না।

নেতা ভালো ছাত্র ছিল, বাবার আশা ছিলো ছেলে পিএইচডি করে থিতু হবে। কোথায় কি? দেশ জ্বলছে অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে। নেতা ফিরে আসে দেশে। ঝাঁপিয়ে পড়ে  মুক্তি সংগ্রামে। কোথায় যায় ক্যারিয়ার!  যোগ দেয় শিক্ষকতায়। সারাজীবন সমঝোতা করেছেন বিবাদমান দলগুলোর মাঝে, তবে সমঝোতা করেন নি আদর্শের সাথে। আদর্শ খেতে খেতে নেতার বউ এর উঠে নাভিশ্বাস।  পাতি নেতা এসে বলে, স্যার, লাল কুমার বড্ড জ্বালায়। ভোট তো এমনিতেই দিবে না, একটু ঠাণ্ডা করে দেই স্যার? নেতা চিৎকার করে উঠে। খবরদার! একজন লাল কুমার ও যেন কষ্টে না থাকে। কিন্তু লাল কুমার ভোট দেয় না। লাল কুমারদের বড় দুঃখ, সবইতো ঠিক আছে,  নেতার মার্কাটা কেন নৌকা হইলো না!

সারাজীবন ভদ্র লোকের রাজনীতি করেছেন। এই নেতা তার কর্মীদের উজ্জীবিত করতে বলে ” শুধু দু একটি গাড়ি ভাঙলেই আন্দোলন হয় না, রাস্তায় হাজারে হাজারে নামতে হবে, সরকারের পতন ঘটাতে হবে”/এই কথা শুনে নড়ে চড়ে উঠে “মানুষেরা”/ তথ্য বাবা এবং তার চেলা চামুন্ডারা শুরু করে তথ্য বিকৃতি। যেন নেতার আদেশেই বাস পুড়ছে!  টপাটপ মামলা। মামলার সংখ্যা আর নেতার বয়স প্রায় ছুই ছুই – ৬৫ হয়ে গেছে মনে হয় এরই মধ্যে! তবুও নেতাকে টলানো যায় না। এরপর শুরু হয় তথ্যবাবার ফুট সোলজারদের আরেক কান্ড। তার স্বাক্ষর নকল করে ভুয়া পদত্যাগ পত্র প্রকাশ যার সারমর্ম আবার অহিংস – মানে তার প্রেসক্রিপশান মতো অহিংস আন্দোলন না হওয়াতেই পদত্যাগ! দলের “সহিংস” কর্মকাণ্ড সহ্য করতে না পেরে নেতা প্রস্থান করছেন! কতো দেউলিয়া আজ তথ্যবাবা এবং তার চেলারা। ষড়যন্ত্রে, প্রপাগান্ডায় কনসিস্টেন্সি পর্যন্ত রক্ষা করতে পারে না!

বাংলাদেশে গত দুবছর নেতার সাথে মেয়ের দেখা হয়েছে শুধু কাশিমপুর জেলে। চারদিকে গোয়েন্দারা বসে, নেতা গল্প করে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভয়াবহ শক্তির কথা,  গল্প করে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের কথা,  গল্প করে বিচার ব্যবস্থার দেউলিয়াত্বের কথা।  নেতাকে মেয়ে লেখে। বাবা, ভীষণ চিন্তা হচ্ছে। এই বয়সে , এই শরীরে তুমি কোথায় আছো, কী খাচ্ছো ! দিনের পর দিন, রাতের পর রাত। আর কত দিন? কবে ভোর হবে?

ভোর তিনটায় নেতাকে গ্রেফতার করে অফিস থেকে, পায়ে তার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলির ক্ষত;  লাঠিটি পর্যন্ত নিতে দেওয়া হয় না। তো কী হয়েছে? এরা তো  “মানুষ” নয়। এদের নেই “মানুষের” অধিকার। তাই ভীষণ যন্ত্রনায় পুড়ে ছারখার হয়ে গেলেও বলি- তবু দেশটা শান্তিতে থাকুক। দেশে আজ যে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে তা নিভে যাক। দেশটা স্বাধীন থাকুক, সার্বভৌম থাকুক। আর একটা “মানুষও” যেন না মরে। দেবতারা সব মর্ত্যে নামুক। জয় হোক “মানুষের”।

এরপরেও  কথা থাকে। আমার শিক্ষা, মূল্যবোধ না হয় আমাকে  গান্ধীবাদে  দীক্ষা দিলো .এবং নিরাপদ আস্তানায় বসে এধরনের অদ্ভূত প্রার্থনায় উদ্বুদ্ধ  করলো.কিন্তু, আজ  রাস্তার ওই মিছিলটা, যেটা  বড় হচ্ছে খুব দ্রুত, ওই মিছিলটা কিন্তু একটা সিম্বল হয়ে যাচ্ছে। আরো হাজার হাজার মানুষ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে, প্রার্থনায় নয়, বরং “জানোয়ারের” মৃত্যু বরণে। দেশের প্রচন্ড ক্ষমতাশীল ঐ “মানুষটি” পারবে না এই প্রলয় রুখতে। আর সেই প্রলয়ে ভাসবে কিন্তু সবাই। “মানুষ” এবং “জানোয়ার” সবাই।

ভারতীয় চেতনানাশক ‘স্বাধীনতার চেতনার’ মাদক ও বিপন্ন গার্মেন্ট শিল্প। বাংলাদেশটাকে বাঁচান প্লীজ!

???????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????

 

পটভূমি 

এদেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ভাবে গণতন্ত্রের চর্চা করে প্রতি ৫ বছর পর পর একবার। এই পাঁচ বছর পরে একটি দিন মানুষ সত্যিকারভাবেই ক্ষমতার মালিক হয় । এবারকার ভোট পদ্ধতি নিয়ে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৯০- ভাগ মানুষ চায় তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। অথচ এই একটি দিনের জন্যও শেখ হাসিনা জনগনকে বিশ্বাস করছেনা। যদিও তিনি জনগনের প্রধান মন্ত্রী। তার মানে হচ্ছে শেখহাসিনার ক্ষমতার উত্স আর জনগণ নয়। তার ক্ষমতার মূল হচ্ছে ভারত। এর মানে কি দাড়ালো? নিজ দেশেই এদেশের জনগণ পরাধীন।কারণ তার গণতান্ত্রিক ভোটাধিকারের প্রক্রিয়া ঠিক করে দেয় আরেক দেশ।

ভারতীয় চেতনানাশক মাদক  ‘স্বাধীনতার চেতনা’ 

ভারত চায় যে কোনো মূল্যে শেখহাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে। এর ফলে ভারতের অর্থনৈতিক লাভ অনেক। আর আওয়ামীলীগের লাভ হচ্ছে দেশের সবথেকে বড় প্রতিবেশী ভারতের ছত্রছায়ায় তার শত্রুপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করা।এই লক্ষ্যে এখন মনে হচ্ছে ভারত এবং আওয়ামিলিগ কাজ করছে গত কয়েক বছর ধরে।এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় চলেছে সংবিধানে তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করা যদিও এ ব্যাপারে আওয়ামিলিগ জনগনের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নেয় নাই। অর্থাৎ তারা নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে এ ব্যাপারটি রাখেনি। একারণে আমরা একে সংবিধান-ক্যু বলতেই পারি।

এ ব্যাপারটি থেকে জনগনের দৃষ্টি সরিয়ে রাখার জন্য তৈরী করা হলো নাটক। নাটকের নাম শাহবাগ। মঞ্চের অভিনেতাদের মধ্যে আছেন এসময়ের তুমুল জনপ্রিয় কিছু শিক্ষক, সংস্কৃতি কর্মী-যাদের মধ্যে বলা হয় বেশ কয়েকজন ভারতীয় এজেন্ট। অবশ্য কোনো প্রমান নেই। উনারা গানের তালে তালে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিলেন এবং স্বাধীনতার ফেন্সি চেতনার নামে তরুণ সমাজকে গৃহযুদ্ধের ফর্মুলা ধরিয়ে দিলেন। টিভিতে, পত্রিকায়, ব্লগে সব জায়গায় দেখা যায় স্বাধীনতার চেতনা। আসলে এটা চেতনানাশক চেতনা। নাহলে যখন দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় দিনের পর দিন লোক মরছে , ব্যবসা-বানিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম, স্কুল কলেজ বন্ধ, তখনও চেতনা-নাশক ড্রাগে তরুণ সমাজ ঘুমিয়ে! স্বাধীনতার চেতনা নিশ্চয় ছিলোনা দেশকে মোটামুটি বসবাসের অযোগ্য করে তোলা?১৯৭১ ছিলো দেশ গড়ার যুদ্ধ আর ২০১৩র কথিত দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের নাম ভাঙ্গা হচ্ছে দেশ। এর কারণ ভারত চায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষতি। লাভ ভারতের। সংকীর্ণ দলীয় চিন্তায় আওয়ামিলীগ ও আটকে পড়েছে ভারতীয় জালে।

চেতনার মাদকের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আমাদের গার্মেন্ট শিল্পের ভয়াবহ সংকট 

ভারত কেনো আওয়ামীলীগকে একতরফা সাহায্য করছে?দুই কারণে।অর্থনৈতিক সুবিধা এবং নিজ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায়। প্রথিতজশা চিন্তাবিদ বদরুদ্দিন উমর বলেছেন,’হাসিনা সরকারের একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানে মদত জুগিয়ে ভারত আর সাম্রাজ্যবাদী চেহারা উন্মোচন করেছে।’ বদরুদ্দিন উমরের দাবি গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামীলিগ সরকার রাষ্ট্রের স্বার্থের বাইরে যায় এমন অনেক চুক্তি করেছে। সেটা তো আছেই। এছাড়াও আওয়ামী সরকারের ঘাড়ে বসে ভারত বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের চূড়ান্ত নকশায় মেতে উঠেছে। ব্যাপারটা এখন এমন মনে হচ্ছে- আওয়ামীলীগ ধংস করবে তার বিরোধী পক্ষ আর ভারত ধংস করবে বাংলাদেশ। একটা উদাহরণ হচ্ছে – এদেশের গার্মেন্ট শিল্প।

গত ২৬নভেম্বরে নয়াদিগন্তের এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরী এবং নাশকতার পিছনে ভারতীয় ইন্ধন আছে। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্প খাতে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার বিদেশী কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে ২০ হাজারই ভারতীয়। একেক কারখানায় ১০ থেকে ২০ জন ভারতীয় মিলে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ নয়া দিগন্তকে বলেন, “কারখানাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এসব কর্মকর্তা এতটাই ক্ষমতাশালী যে, অনেক সময় স্বল্পশিক্ষিত মালিকদের তারাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। কৌশলে তারাই শ্রমিকদের সাথে মালিকদের সম্পর্ক তিক্ত করেন।” নয়াদিগন্তের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত আট থেকে ১০ বছরে যেসব কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ হয়েছে তার বেশির ভাগই ছিল কমপ্লায়েন্ট। এসব কারখানায় কর্মপরিবেশ ভালো, নিয়মিত বেতন-ভাতা দেয়া হয়, ওভার টাইম দেয়া হয়, টিফিন থেকে শুরু করে বেশির ভাগ যুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেই এসব কারখানার শ্রমিকেরা সন্তুষ্ট। অথচ কখনো রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক মৃত্যুর অজুহাতে, কখনো শ্রমিক গুম কিংবা টয়লেটে ভূত থাকার মতো গুজব ছড়িয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করানো হচ্ছে এসব কারখানায়। কার লাভ হচ্ছে এসব করে?

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ালস্ট্রিটজার্নাল পত্রিকায় প্রকাশিত গত ২২ মার্চের প্রতিবেদনে দেখা যায় ‘স্বাধীনতার চেতনা’ সংক্রান্ত রাজনৈতিক গন্ডগোলের কারণে বিদেশী ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার সরিয়ে ভারতে দিয়েছে।গত ৫ ডিসেম্বরের ভারতের ইকনমিক টাইমস পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয় বাংলাদেশে রাজনৈতিক গন্ডগোলের কারণে ভারতের পোশাকরপ্তানী খাতের রপ্তানী প্রায় ১৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে দৈনিক প্রথম-আলোতে যাকে অনেকে গালি দেন ‘ভারতের -আলো’ নামে এসংক্রান্ত কোনো রিপোর্ট নেই।

চেতনার মাদকের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট 

ভারতীয়রা অভিযোগ করে ভারতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পরে গতবারের  বিএনপি -জামাত সরকারের আমলে। তাদের মতে পাকিস্তান ভারতকে বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করেছিল ভারতে সন্ত্রাসবাদ রপ্তানিতে। আর আওয়ামিলীগ অভিযোগ করে বিএনপি-জামাতের  একটিঅংশ হয়তো সরকারের অগোচরে পাকিস্তানের সয়াহতায় ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মত ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটিয়ে ছিলো। এ অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমান হয়নি। অনেকে বলে এটা একটা অজুহাত।

দেখা যাচ্ছে আওয়ামিলীগ এবং ভারতের সখ্যতার মূল ভিত্তি হচ্ছে শত্রু নিধন। অর্থাৎ নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি এবং অর্থনৈতিক ইন্টারেস্ট-এ এরা দুজনে দুজনার। আওয়ামিলীগ মারবে বিএনপি-জামাতকে, পাকিস্তানকে মারবে ভারত আবার বাংলাদেশকেও মারবে ভারত। এই আত্মঘাতী বন্ধনে আটকা পরেছে বাংলাদেশ।সমস্যাটা হচ্ছে এরা দেশটার জনগনের জান-মালের তোয়াক্কা করছেনা। স্বাধীনতার (পরাধীনতার) চেতনায় একটা তাবেদার সরকার দেশের কোনো তোয়াক্কা না করে, ভারতের বুদ্ধিতে নিজের দেশ ধংসের খেলায় মেতে উঠেছে, একের পর এক দেশ বিরোধী চুক্তি করছে, রাজনৈতিক স্থবিরতায় দেশকে অচল করে দিয়েছে, তার শত্রুকে ধ্বংশ করার জন্য।আরেদিক বাংলাদেশে পরম শক্তিশালী ভারতীয়রা দেশের গার্মেন্ট শিল্পের ধংসের নীলনকশায় মেতে উঠেছে।

শেষ কথা 

এর মানে কি এই যে আপনি ৭১এর মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার চাবেননা? অবশ্যই চাবেন, কিন্তু এর মানে এই না যে আপনি অন্যায়কে প্রশ্ন করবেননা? এর মানে এই না যে আপনি দুর্নীতিকে প্রশ্ন করবেননা? শ্রমিকের নায্য মজুরি নিয়ে প্রশ্ন তুলবেননা? রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে দলীয় সন্ত্রাস নিয়ে প্রশ্ন তুলবেননা? স্বাধীনতার চেতনা কি ছিল বাংলাদেশে ভারতকে একছত্র আধিপত্য দেয়া? এখনো সময় আছে স্বাধীনতার চেতনার মাদককে না বলুন। বাংলাদেশের পক্ষে দাড়ান দল-মত নির্বিশেষে।ভারতীয়দের দেখেননা তারা কতো দেশপ্রেমিক। আর আমরা? দলপ্রেমিক।দলের জন্য দেশটাকে বিসর্জন দিতে রাজি আছি। ভারতীয় মদদে তৈরী  চেতনা নাশক স্বাধীনতার বিষাক্ত চেতনার বড়ি গিলে সত্যিকারের স্বাধীনতাটাকে  বিকিয়ে দিচ্ছি। যে আবেগটা নিয়ে শাহবাগে গিয়েছিলেন সেই আবেগটা নিয়ে দেশটাকে বাঁচান। প্লীজ। গর্জে উঠে বলুন দেশটা পাকিস্তানকে দেই নাই, ভারতকেও দেবোনা।

১৯৭৩ আর ২০১৩

১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনে যখন আওয়ামী লীগের নিরংকুশ বিজয় সুনিশ্চিত, শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা যখন তুংগে, তখনো এই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সরকার কারচুপি, জালিয়াতি, ভোট ডাকাতির মহোৎসব করে ২৯৩ আসনে জয় এনেছিলো। আজকে যখন এই দলটির পরাজয় নিশ্চিৎ, যখন তীব্র জনরোষের ভয়ে দলটি আশ্রয় নিয়েছে দেশী-বিদেশী মার্সেনারীদের দেয়ালের পিছনে, তখন কোন পাগলে বিশ্বাস করতে পারে যে এই দলটি কোন সুষ্ঠু নির্বাচনে আগ্রহী?

“Electoral irregularities in Bangladesh began at the time of the first post-liberation parliamentary elections held in March 1973. Although the charisma of Sheikh Mujibur Rahman and the popularity of the Awami League all but guaranteed victory for the party at the polls, the elections were marred by numerous malpractices. The Awami League’s determination to win a total victory led the party to engage in a reign of terror against its opponents in prestige constituencies; opposition candidates were prevented from filing or were forced to withdraw their nomination papers, and ballot boxes were stolen and replaced by new ones stuffed with Awami League votes.”

(Page 377) Corruption and Criminalization of Politics in South Asia. By  Stanley A Kochanek

Routledge Handbook of South Asian Politics: India, Pakistan, Bangladesh, Sri Lanka, and Nepal (Routledge Handbooks) 

Paul R. Brass (Editor) April 2010. 

 

Bangladesh ~ Democracy in peril ~ Extreme Destabilization on hand ?

1
Bangladesh ~ Democracy in peril

Bangladesh ~ Democracy in peril

‘Bangladesh Syndrome’ is a term widely used in global diplomatic and economic think tanks in recent decades as an ever-broken system, which is run by mostly corrupt and dysfunctional political leaderships, progressing forward just by the will and resilience of the citizens themselves. Bangladesh is a place where optimism, hard-work and hope for a better future co-exist side by side with mindless corruption, endless poverty and needless political bickering. As a country and society Bangladesh has failed to address the timely needs of its hard-working regular citizens in most of the years since the time of the inception of the country in 1971. Failing to get a functionally neutral judiciary, failure to ensure the freedom of press and freedom of expression and failure to construct a non-partisan free and fare Election system are among the few of the said failures.

Current prime minister Mrs Sheikh Hasina finishing her 2nd term as the country's head of government. She refused to go to poll in 1996 in a similar situation when then prime minister Mrs Khaleda Zia refused to step down as the head of government.

Current prime minister Mrs Sheikh Hasina finishing her 2nd term as the country’s head of government. She refused to go to poll in 1996 in a similar situation when then prime minister Mrs Khaleda Zia refused to step down as the head of government.

Path towards a multi-party-democracy for Bangladesh has not been easy. Multiple autocratic rulers have tried to install one-party democracy in the ‘70s and ‘80s and was rejected by people. After long history of revolt and political struggle finally in 1990, after the fall of then autocratic dictator H M Ershad, its seemed like that Bangladesh finally has settled into a system where all political parties can co-exist in a parliamentarian democratic eco-system. Well, we were grossly wrong in our calculation and got too hopeful too early I assume.

Vote rigging, voter intimidation and election engineering are among the list of regular corrupt political practices among political parties in Bangladesh. The facts and evidence are so historically true that nobody even denies that. As per the mis-trust of each other among political parties themselves, a ‘neutral non-partisan caretaker government’ was installed just to run the election in 90 days time frame and was constitutionalized in 1996 and so it became the law of the land – same rule for everybody.

Current opposition leader Mrs Khaleda Zia, have been prime minister of the country for 3 times previously, refuses to go to poll while prime minister Mrs Sheikh Hasina stays as the head of the government.

Current opposition leader Mrs Khaleda Zia, have been prime minister of the country for 3 times previously, refuses to go to poll while prime minister Mrs Sheikh Hasina stays as the head of the government.

On a surprise move current ruling political party Bangladesh Awami League, led by Prime Minister Sheikh Hasina, suddenly abolished the ‘neutral non-partisan caretaker government’ from the constitution and thus asked the country to go to pole while she stays as the chief executive of the country during the election time. The main opposition party Bangladesh Nationalist Party (BNP), led by 3-times Prime Minister of the country Khaleda Zia has refused to join the poll if the current Prime Minister Sheikh Hasina stays as the chief executive of the country as wide-spread vote rigging and election engineering is expected by the ruling party. In recent months all the polls, conducted by even the govt-leaning media outlets, have shown that popularity of the current ruling party has taken a deep in past 5 years and if elections are held in a free fare non-partisan way Bangladesh Nationalist Party (BNP) will win a land-slide victory.

Global democratic communities, including European Union and US Congressional body, have openly called for a free a fare election in Bangladesh where an election can not be called a ‘credible one’ without the participation of the main opposition party of last election Bangladesh Nationalist Party (BNP). There were several attempts of dialogue in both domestic and diplomatic arena but have gone in vein due to lack of willingness of the current ruling party Bangladesh Awami League to give up the chief executive position during the election time.

Social Media sites like FaceBook have been flooded by the news of the arrest of opposition supporters and activists as Govt has effectively imposed media-blockade against opposition. University teachers have been apprehended and imprisoned for their stance against govt on FaceBook.

Social Media sites like FaceBook have been flooded by the news of the arrest of opposition supporters and activists as Govt has effectively imposed media-blockade against opposition. University teachers have been apprehended and imprisoned for their stance against govt on FaceBook.

Finally the election commission of Bangladesh has declared the date to conduct poll in a nationally televised broadcast by the chief election commissioner 12 hours ago when this blog is being written. If this election goes throw as it is, this will effectively kill the essence and tradition of multi-party-democracy in Bangladesh for foreseeable future and will install a one-party-parliament by conducting a single-party-poll. Wide-spread protest and political clash has griped the country no sooner than the Election Commission announced the date for the up coming single-party-poll. Lawlessness and uncertainties about the future has made the entire country worrisome as you read. Activists and supporters of main opposition party are being mass-arrested by security forces at this very moment.

Bangladesh has experienced violent history full of bloodshed and destabilization in early '70s when failed leftists movements were fighting among themselves and with the govt.

Bangladesh has experienced violent history full of bloodshed and destabilization in early ’70s when failed leftists movements were fighting among themselves and with the govt.

Although Bangladeshis are mostly peace-loving hard-working people both the extreme-left and extreme-right are vividly present in the political eco-system. The first president of the country Sheikh Mujibur Rahman had decided not to give the extreme-lefts any sort of political accommodation during his tenure from ’72 to ’75 and Bangladesh has seen very violent bloody past of the failed leftists movements in first half of the ’70 decade. In order to restore safety and security in the country, then govt forces have defused the leftists movement through bloodshed where 40,000+ leftists were killed during that time. Extreme-rights have largely been contained by political accommodation as of yet so far. But future of this political accommodation is un-known as current ruling gov of Bangladesh Awami League has taken away the ‘right to do politics’ of Jamaat-E-Islami, the largest Islamist party in the country, for their role during the liberation war in 1971.

The absence of multi-party democracy and meaningful political accommodation will create political vacuums effective enough for the rise of fundamental Islamists.

The absence of multi-party democracy and meaningful political accommodation will create political vacuums effective enough for the rise of fundamental Islamists.

Most of 160 millions of people of Bangladesh are poor while financial concern is #1 in 85% of citizens mind. An absence of multi-party-democracy will not only destabilize the economic rhythm of the nation but also will create political vacuum for the extremists Islamist to make permanent footstep in the country. The rise of extremist Islam always takes place when political accommodation of the Islamists are not possible in a democratic eco-system. ANY political scientists will confirm this fact if you ask.

Current destabilization of the country runs the risk of extreme elements to rise and the country going back to the early ’70s where the country was an effective war-zone while govt forces are always fighting the extremists inside the country. Only difference is this time around it will be the extreme-rights.

বিএনপি আর যা করতে পারে -Md. Mustafizur Rahman

বিএনপির – দাবি নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার আবার এখানে মাঝে মাঝে বলা হয়, আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচনে তারা অংশ গ্রহণ করবেন না। দরকষাকষিতে এখন যদি একজন নির্দলীয় ব্যক্তিকেই নির্বাচন কালীন সরকার হিসাবে মনে নেওয়া হয় , আর মন্ত্রীপরিষদ যদি সর্বদলীয় করে  সাজানো হয় , তাহলেই কি  নিরপেক্ষ ও ফেয়ার ইলেকশন অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে  ??
আমি, তা মনে করি না ঐ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বর্তমান দলীয় প্রশাসনকে  পূর্ণ-বিন্যাস করা সম্ভব না । এ জন্য সেই অবিশ্বাস থেকেই যাবে !!
আবার, শেখ হাসিনা এই রকম ছাড় দিতে রাজি হবেন না ।

যে বিষয়টি নিয়ে আমি সবচেয়ে কনসার্ন তা হচ্ছে এই নির্বাচন কমিশন । এটা তার নিরপেক্ষতা সম্পূর্ণ ভাবে হারিয়েছে । সরকারের ফ্রেমেই তারা চলতেছে।
অথচ, বিএনপির এ বিষয়ে কোন কনসার্ন নেই ।

আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানে যতটুকু বুঝি, দলীয় সরকারের আন্ডারে যে কারণগুলোর জন্য ফ্রি ও ফেয়ার ইলেকশন সম্ভব না তা হলোঃ

১ /জনপ্রশাসন
যাদের সম্পূর্ণ দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে , এদের সবাই এই সরকার দ্বারা সুবিধা প্রাপ্ত , তাই তারা এমন কোন সরকারকে জিততে দিবে না , যারা ক্ষমতায় আসলে তাদের জন্য অসুবিধা হয় ।

২/ পুলিশ প্রশাসন
ব্যাপক দলবাজ রাষ্ট্র যন্ত্রের এই প্রতিষ্ঠান বিরোধীদলকে নিপীড়নের এ যাবৎ কালের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়েছে । বৃষ্টির মত গুলি ছোঁড়ে মানুষ হত্যা তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে । তাই প্রশাসনের এই অফিসারদের দ্বারা বিরোধীদল জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা অনেক কষ্টকর । এরা কখনোই চাইবে না , তাদের সুবিধা প্রদানকারী দলের পরাজয় ।

তাই, আমি বিরোধীদলের মতই বিশ্বাস করি । একটি ফ্রি ও ফেয়ার ইলেকশনের জন্য নিরপেক্ষ সরকার প্রয়োজন যারা , ক্ষমতাসীনদের বর্তমান প্রশাসনিক বিন্যাস ভাঙ্গতে পারে । কিন্তু আমারা জানি সরকার অন্যায়ভাবে সংবিধানকে নিজেদের ফেবারে নিয়ে কাটছাঁট করেছে আর এখন এর দোহাই দিচ্ছে , গণতন্ত্রে স্পিরিটের কথামালা শুনানো হচ্ছে “ অনির্বাচিত কেউ  দেশ চালাতে পারে না, এটা গণতন্ত্রের সাথে যায় না  ” ।

তাই, বিরোধীদলকে আমার অনুরোধ, চূড়ান্ত বর্জনের আগে,  সরকারকে দুইটি প্রস্থাব দেওয়ার জন্য ।

১/ সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং সম্পূর্ণ নতুন নির্বাচন কমিশন ।
সংসদ সম্পূর্ণ রূপে ভেঙ্গে দিতে হবে ।  সেই সাথে নির্বাচনকালীন সময়ে এই কমিশনের হাতে সম্পূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দিয়ে দিতে হবে, সকল প্রকার নিয়োগ ও বদলির ক্ষমতা প্রদান করে  যাতে নির্বাচন কমিশন প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে পারে । এখানে উল্লেখ্য এই ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন ছাড়া আর কোন ডিপার্টমেন্ট এর আমলাতান্ত্রিক ঝামেলা জড়িত থাকবে না , কমিশন সরাসরি প্রজ্ঞাপন জারি করবে এবং তা প্রয়োগ হবে ।

এখন হয় সরকারকে এই প্রস্থাবে রাজি করাতে হবে , যা একটা স্থায়ী স্যলুয়েশন এবং তা আমাদের গণতন্ত্রকে নিয়ে যেতে পারে নতুন উচ্চাতায় ।

আর, যদি সরকার রাজি না হয় , তাহলে তো এটাই প্রমাণিত হয়ে যায় , সরকার ফেয়ার ও ফ্রি নির্বাচন যায় না ।

বিকল্প প্রস্থাব হচ্ছে ,  ক্লিয়ার এবং সোজা ।

২ নির্দলীয় সরকার ।

সরকার যদি দুইটার কোনটাই না মনে , তাহলে তো আর কিছু করার নাই , আন্দোলন ও বর্জন ব্যতিত ।
একটা কথা বিএনপির ভাল করে মনে রাখা প্রয়োজন “ এই নির্বাচন কমিশন এবং এই সরকারের পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে ফ্রি ও ফেয়ার ইলেকশন সম্ভব না ” ।

তাই, যে সমঝোতায় যে পদ্ধতিতেই ইলেকশনে যান না কেন ?? সেই পদ্ধতিতে যেন এই সাজানো প্রশাসন পূর্ণ-বিন্যাস্ত হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে ।

Concession, pragmatism and moving forward

4

A Statesman and Two Pragmatic leaders –

In a speech to the nation on November 30 1978, President Ziaur Rahman declared parliamentary election to be held on January 27 of the next year and also declared that martial law will be withdrawn immediately after the election. Although newly formed BNP and some other small parties started preparing for the polls – most major opposition political parties including both fractions of AL, Muslim league (still a big player then), JSD, NAP etc. decided to boycott the election unless their demands were met. The combined opposition’s demand included immediate withdrawal of martial law, resignation of Zia from army chief position, removing ban on open politics, repeal the fundamental rights suspension which was in effect since 1974, restoration of parliamentary democracy and 1972 constitution by repealing 4th amendment etc. On the face of boycott by major opposition political parties, Zia made a far reaching set of concessions. He restored fundamental rights, made proposals of sovereign parliament with ability to impeach the president. He also removed presidential veto power on bills passed by parliament, put a limit on technocrat ministers and conceded on opposition demand on the selection criteria of leader of the house.

After these concessions although Muslim league decided to join elections- other opposition parties including factions of AL, JSD etc. continued with the decision to boycott the polls.

To resolve the political impasse, President Zia called for a dialogue with political parties – all parties went to Bangavaban, prolonged deliberations took place but nothing fruitful came out of that dialogue.

As Awami League factions kept insisting on election boycott and as it seemed country is stuck in a hopeless deadlock, President Zia, against the advice of his political advisors, unilaterally made another set of sweeping concessions. He withdrew martial law restrictions regarding open politics, started the process of release of all political prisoners, and as demanded by opposition, pushed the election date back by a few weeks to give the opposition parties enough time to prepare for the elections.

President Zia’s gambles paid off, an all-party election was made possible, Bangladesh moved one big step closer to restoration of democracy – the rest is history.
IMG_0465

The Come Back of Awami League

This little snippet from the past shows how much and how little our politics has evolved in last 3 decades. Whatever Zia ‘a distractors  will say, Bangladesh is this Bangladesh today because Zia could hold his nerve during those tumultuous years of mid-late 70s and at the same time he made some very smart political moves including the series of concessions as described above. At the same time, the pragmatic reality based politics of AL leaders Mr. Abdul Malek Ukil and Mr. Mizanur Rahman Chowdhury did shape the history of Bangladesh. Within 4 years after supposedly annihilation of August 75, AL again came out as a major political party with intact wide grassroots support base. Although AL factions won only 41 seats in the election, it secured nearly 30% of the votes. In most seats where BNP won, AL came out close second.

It was a time the mere survival of the fledgling country of Bangladesh was uncertain. Yet concessions made by one political leader and pragmatic politics by the others made us defy the overwhelming odds against our survival.

Today as we are in another crossroads of the history, we need similar concessions and pragmatic reality based politics from our Prime Minister and the leader of the opposition.

Late president Zia was a military strongman running a turbulent country with martial law. Yet he made concession after concession to facilitate the democratic journey. Now it’s time for PM Hasina to show her political maturity and statesmanship and seal her image as the needed statesman for the time.

The Shelf life of The Administration –
Holding an opposition less election is not in the best or long term interest of the country as well as of the party of Prime Minister Hasina. Yes she can ignore opposition demands, and if she really wants to hold the elections unilaterally using brute state force, the opposition will not be able to stop her.  But by doing so – she will harm her country as well as her own party.
As a result of the election without all party participation, our fledgling democracy would go back by one decade. We will turn into another poor 3rd world autocracy. All sorts of militancy will start rising its ugly head in different corners of this impoverished country. Public disapproval of her government will reach unfathomable low. Extreme infighting will overrun her party. Leadership deprived of government positions and perks will get desperate to depose those enjoying all the perks and privileges. If the fictions and clashes during the five year term of current Hasina Government are indicators what Awami League has in its future as an incumbent party, it can be easily predicted that intra party feuds, sabotage will reach an epidemic proportion. Any political observer can safely predict that way before completing her second five year mark; PM Hasina’s government will be inches away from implosion.

Concessions – the need of the time –

On the other hand, if PM Hasina can be seen making the concession on her own, not under pressure, she will look like showing statesman quality Ziaur Rahman exhibited during late 70s. It is PM Hasina who has to take the steps to convince the opposition to join the elections. She has to do something tangible or convince the opposition come to elections. She will have to sort it out with the opposition and negotiate with them to bring them to election. Most likely she will lose the election. This loss will be the best exit strategy for her. This loss will pave the way for quick and another big comeback of her party.

It is almost certain that if BNP returns to power, it’s newly gained popularity will vanish rapidly. A return of Tarique Rahman will significantly curtail BNP’s support among middle of road BNP supporters.  Along with Tarique Rahman’s return to day to day affairs of governance, Anti-incumbency factors as well as upper hand of ultra-right wing political backers of BNP will quickly dissipate all the inroads BNP made in urban educated classes and ‘middle of the road’ Zia admirers through Mrs. Khaleda Zia’s visionary leadership style between 2008 and 2013.

Now PM Hasina will have to decide which option will be in the best long term interest of her country and her party. She can hang on for her second consecutive term, let her party implode and face an ignominious ouster to face another long term public rejection like it experienced post 1975. Or she can take a short term leave from power only to return to power with more popular, a better rooted and organized party. If Awami League cannot free itself of the curse of incumbency, there is no reason to believe that BNP will be free from the same curse next election cycle.
IMG_0466
Exit out of this Mayhem, options for the opposition parties

Leader of opposition led her party to an unprecedented come back from oblivion. She accomplished this major feat not by violent street confrontation but by avoiding exactly the same. It is understandable that after her bitter experience at the lack of level playing field during 2008 elections, this time it will be hard to convince her to join election in a suboptimal state of affairs pertaining to the elections. However the leader of the opposition also need to understand that with the type of organization she leads, it will be very difficult to stop the government from holding the election. And once an election is held, her party will be under more intense pressure from the state law enforcement agencies. Leader of opposition knows very well that under any condition, if BNP joins the election, it will be nearly impossible to deprive BNP a landslide victory. If the leader of the opposition weighs the options she has at her hand which are – launching brutal street agitation to force Government into accepting the demands or somehow find a way to join the election, even accepting a short term defeat about the election time government, BNP has much more to gain, much less to risk. Under current conditions – with more connectivity, aggressive media activity on the ground – mass scale rigging of election to change the total results will be nearly impossible and even if that happens – that government will not be able to hide the massive irregularities. A movement against a widely perceived rigged election will have better traction than a failed movement against a non-participatory election.  It seems no matter what the Government offers, for BNP, joining the elections is the best exit strategy out of the mayhem.

And exit out of this mayhem – that is what the whole country is eagerly rooting for.