জামাতে ইসলামি সম্বন্ধে আমার ধারণা

Asif Shibgat Bhuiyan

এমফ্যাসিস দেখুন প্রথমত, আমার ধারণা। তার মানে হচ্ছে এখন আমি যে কথাগুলো বলব সেগুলো কুরআন হাদীসের আপ্ত বাণী নয়, সেই এক্সপেকটেশান আমার কাছে করাও ভুল। এই ধারণায় আমার ব্যক্তিগত ইসলামি চিন্তার প্রভাব রয়েছে এবং নিঃসংকোচে মানতে রাজি আছি যে আমার ব্যক্তিগত ইসলামি চিন্তা সবাইকে গ্রহণ করতে হবে না। যে কেউ আমার সাথে এ ব্যাপারে দ্বিমত করতে পারেন এবং আমিও যে কারও সাথে দ্বিমত করতে পারি। কমেন্টে খিস্তি খেউড় করে বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করে লাভ নেই। তবে সমালোচনা করতেই পারেন, সেই সমালোচনা গ্রহণ বা বর্জন করার এক্সক্লুসিভ রাইট আমার রয়েছে।

এই লেখাটি একটা তাগিদ থেকে লিখছি। মানুষজনের কথাবার্তা শুনলে মনে হয় একজন ইসলামপন্থি হতে হলেও আমাকে জামাতকে অচ্ছ্যুৎ ঘোষণা করে কথা বলতে হবে। আমি সেটা একদমই সাপোর্ট করি না।

আমি জামাতের সদস্য নই আমি জামাত করি না। পিরিয়ড। তবে আমার জামাত না করাটা আমার জন্য কোনও ক্রেডিটের কথা নয় এবং জামাতের জন্যও কোনও ডিসক্রেডিটের কথা না। আমি এত গুরুত্বপূর্ণ কেউ নই এবং সেটা আমি প্রিটেন্ডও করব না। আমি কি জামাতকে রাজনৈতিক ভাবে সাপোর্ট করি? কমপ্লিকেটেড প্রশ্ন। আমি কোনও ইসলামি দলকে একক ভাবে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখতে চাই না, না জামাত, না তাবলীগ, না আহলে হাদীস, না এইচটি। আমি শরি’আর পক্ষপাতী কিন্তু সেটা বাংলাদেশের মানুষের শরি’আ বাস্তবায়নের যে হাস্যকর ইম্ম্যাচিউর আন্ডারস্ট্যান্ডিং সেই শরি’আ না। যেহেতু এই স্ট্যাটাস এই বিষয়ের না, আমি বিশদ ব্যাখ্যায় যাবো না। আবার আমি কোনও সেক্যুলার পন্থি দলকেও একা সরকারে দেখতে চাই না। আমার ব্যক্তিগত ধারণা যে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় ইসলামি দল সহ কয়েকটি ডানপন্থি দলের যে জোট – এটিই এই মুহুর্তে বেটার। খেয়াল করবেন যে এটা আমার প্র্যাকটিকাল স্ট্যান্স, আইডিওলজিকাল স্ট্যান্স না। আইডিয়ালি কী হওয়া উচিৎ, সেটা অ্যাকাডেমিক আলোচনা, আরেকদিন। সুতরাং আমি রাজনীতিতে বিএনপি-জামাত ও অন্যান্য দল সম্বলিত জোটকে সাপোর্ট করি। একা বিএনপিকেও না, একা জামাতকেও না।

জামাতের ১৯৭১ এর ভূমিকা – এটি আমার সিনসিয়ার স্বীকারোক্তি যে ১৯৭১ এর ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আমি কনফিউজ্‌ড। এটা এডুকেটেড কনফিউশান, আমি বেশ কিছু বই পড়েছি এবং রেসাল্ট দাঁড়িয়েছে এই যে পিকচারটা আমার কাছে গ্রে। গ্রে-কে আমি জোর করে সাদা বা কালো বানাতে পারব না। কোলাবরেশান – আমার কাছে কোনও ফ্যাক্টর নয়। সত্যি কথা বলতে আমি যখন চিন্তা করি যে ১৯৭১ সালে আমি থাকলে কী করতাম, আমার মাথা ব্ল্যাঙ্ক থাকে। দিস ইজ গড’স অনেস্ট ট্রুথ। ওয়ার ক্রাইম? অবশ্যই! আমি সেই নবীর গর্বিত উম্মতের সদস্য যিনি বলেছিলেন যা যদি তার মেয়ে ফাতিমাও চুরি করে, তাহলে তার হাত কেটে নেয়া হবে। আফসোস যে হতভাগারা ইসলামে চোরের হাত কাটা নিয়ে মানবতাবাদের মায়াকান্না দেখে, কিন্তু ইসলামের ইমপেকেব্‌ল সেন্স অফ জাস্টিস খুঁজে পায় না। মানবতাবাদ সুবিচার ছাড়া আর কী? যাই হোক জামাতের যে কোনও সদস্য যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী থাকলে বিচার হতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তিও হতে হবে। কিন্তু অবশ্যই অবশ্যই সুষ্ঠ বিচারের মাধ্যমে কোনও রকম পক্ষপাতিত্বের বিন্দুমাত্র সুযোগ না রেখে প্রকৃত অপরাধীকে শাস্তি দিতে হবে। একজন নিরাপরাধ ব্যক্তি শাস্তি পাওয়ার চেয়ে লাখ লাখ অপরাধী খালাস পেয়ে যাওয়া একটি ইসলামি প্রিন্সিপ্‌ল এবং মানবতার বেসিক দাবী। এটা নিয়ে কোনও কথাও হতে পারে না, অসম্ভব। আপনি চূড়ান্ত বুদ্ধু বা চূড়ান্ত পাজি না হলে এটা স্বীকার করে নেয়াটা আপনার মানুষ হওয়ার প্রমাণ। আমি মনে করি যে জামাতের নিজের উদ্যোগ নিয়ে সুষ্ঠ বিচারে সহায়তা করা উচিৎ। ঠিক যেমন ‘উমার তার নিজ ছেলেকে ব্যভিচারের শাস্তি দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি।

জামাতের ইসলামিক কমিটমেন্ট – জামাত রাজনৈতিক কর্মকান্ডে প্রচুর ভুল করেছে -পলিটিকাল, স্ট্র্যাটেজিকাল এবং ইসলামিকও। যে কোনও দল বা গ্রুপ মাত্রই ভুল করবে না এটা হওয়াটা অসম্ভব, অসম্ভব। জামাত, তাবলীগ, আহলে হাদীস, এইচটি, মুসলিম ব্রাদারহুড, দেওবন্দী সব্বার ভুল আছে। যে দল মনে করে তারা ভুল করে না তারা ডিসইলিউশনড। আমাদের দেশের একজন প্রসিদ্ধ স্কলার আমাকে বলেছেন যে তারা জামাতের থিংক ট্যাংককে কিছু সংস্কারের প্রস্তাব লিখিত আকারে দিয়েছিলেন। তারা গ্রহণ করেননি। সুতরাং হ্যাঁ, জামাতের ভুল আছে, সংখ্যায়ও সেগুলো কম নয়। অন্য সব দলের অবস্থা তথৈবচ। নবীজী (সা:) চলে যাওয়ার পর ত্রিশ বছর ইসলামি স্টেট একটা আদর্শিক অবস্থায় ছিলো, উইথ মাইনর হিকাপস। এরপর কিছু ডিস্ক্রিট রিজিনাল বা ইনডিভিজুয়াল ব্রিলিয়ান্স ছাড়া ইসলামিক স্টেট এবং এর সামষ্টিক অভিজ্ঞতা সবসময়ই প্রশ্নবোধক ছিলো। এতে এত উতলা হওয়ার কিছু নেই। ইসলাম মাসুম, মুসলিমরা নয়, ব্যক্তিগত ভাবেও নয়, সামষ্টিক ভাবেও নয়।

যে ব্যাপারটির আমি ঘোর বিরোধী সেটি হোলো জামাতকে ডিহিউম্যানাইজ করার ক্রমাগত চেষ্টা, কখনও তাদের ১৯৭১ এর ভূমিকা নিয়ে, কখনও তাদের ইসলামিক ভুলের দোহাই দিয়ে। ইদার কেস, আমি তাদের ডিহিউম্যানাইজ করার পক্ষপাতি নই। তাদের কড়া সমালোচনা করা হোক, তাদের ভুল পাবলিকলি আলোচিত হোক। যেমন আর সব দলকে করা হয়, হবে। কিন্তু তাদের মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, তাও যুগ-যুগান্ত ধরে, নাতি-পুতি সবাইকে? সমালোচনার পাশাপাশি তাদের সকল নাগরিক অধিকারকে ডিনাই করা (যার মাঝে তাদের রাজনৈতিক অধিকার) আমি সমর্থন করি না। এই ক্ষেত্রে আপামর মুসলিমদের ভূমিকার আমি নিন্দা জানাই। আজকে কাদের মোল্লার এই পরিণতির জন্য আপনি আমি তো ভাবের স্ট্যাটাস দিচ্ছি, কিন্তু এই অবস্থায় ব্যাপারটাকে নিয়ে আসার জন্য গত কয়েক দশক ধরে অজামাতি মুসলিমদের ভূমিকা রয়েছে। রক্তের দাগ আপনার আমার হাতেও।

জামাতের উল্লেখ করার মতো বহু কাজ আছে। প্রচুর ইসলামি বইয়ের পাবলিকেশন ও দোকান তাদের। বাংলাদেশে দুটি কনসেপ্টের আনডাউটেড পাইয়োনিয়ার তারা – ইসলামিক স্কুল এবং ইসলামিক ব্যাংকিং। আপনি এসবের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবেন না? আমি ইনশাআল্লাহ্‌ বুকে হাত দিয়ে করব। একটা ভায়োলেন্সের দায়ে অভিযুক্ত দলের নাগরিক অবদানগুলো যদি স্বীকার না করা হয় তবে তো তাদেরকে এক্সপায়েট করার কোনও সুযোগই আপনি রাখলেন না। এরপর যদি সেই দলের মূল নেতারা না হোক, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা যদি ধৈর্য হারায়, আপনি তো সমালোচনা করে খালাস, কিন্তু দায় কি এড়াতে পারবেন?

না শিবিরের সন্ত্রাস সমর্থনযোগ্য নয়, যেমনটি নয় ছাত্রদলের বা ছাত্রলীগের। বাংলাদেশের সবচেয়ে সন্ত্রাসী সংগঠন আর যেই হোক শিবির নয়। তার মানে এই নয় যে জামাত বা শিবির দায় এড়াতে পারবে। তার মানে এও নয় যে শুধুমাত্র জামাতকেই আপনি টার্গেট করে সলিটারি কনফাইনমেন্টে পাঠাবেন।

বহু জামাত কর্মী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে আমার কথা হয়েছে। তারা নর্মাল মানুষ, আমার মতোই, অনেকে আমার চেয়েও বেটার, অ্যাজ এ মুসলিম অ্যাজ এ পার্সন। এটা আমার হার্টফেল্ট বিলিফ যে সব মুসলিমই আমার চেয়ে বেটার মুসলিম।

সম্মিলিত ‘মুসলিম ঐক্য’ ছাড়া এইবার বাঁচন নাই

Image

জামাতকে সেকুলাররা ইনজেনারেল মডারেট মুসলিমদের সবচেয়ে ডেডিকেটেড, সবচেয়ে অর্গানাইজড পলিটিক্যাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করে। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে যে মত পোষণ করি ইসলামের ব্যাপারে তা অনেক ইসলামপন্থিদের কাছে অর্থোডক্স মনে হতে পারে। ব্যাপার না মুসলিমদের মাঝে নানান মত থাকবেই বাগানের সব ফুলের গন্ধ এক হয় না। খেয়াল করে দেখুন হেফাজতের ৫ ই মের গণহত্যা বা জামাতশিবিরের বছরজুড়ে গণহত্যা দুটোই সেকুলারদের কাছে, আহলে কুফফারদের কাছে পশুপাখি মারা যাওয়ার সংবাদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ না। এবারের লড়াইটা ‘মুসলিমদের’ বিরুদ্ধে, রাজনৈতিক রঙটা একটা মিথ্যা আবরণ মাত্র। আসল উদ্দেশ্য আড়াল করার জন্য।

তাই একই সঙ্গে আমি মনে করি এখন সমস্ত বিভেদ ভুলে মুসলিমদের এক হওয়ার সময় এসেছে। এক কালিমার পতাকাতলে, এখন অমুকবাদ তমুকিজমের দিন শেষ। এক কালিমা এক রাসূল(সাঃ) এর উম্মত হিসেবে সব বিভেদ ভুলে আমাদের এক কাতারে দাঁড়ানোর সময় এর আগে এত নিদারুণভাবে আসেনি। আজ এক শিবিরনেতা যিনি লক্ষীপুরে নৃশংস হত্যাকান্ডের চাক্ষুষ সাক্ষী, বললেন ভারতীয় দালালদের প্রাথমিক টার্গেট জামাত-শিবির, জামাত-শিবির শেষ হলে পরবর্তী টার্গেট হেফাজত। বলাই বাহুল্য একে একে সব ইসলামিক দল বা প্ল্যাটফর্মই আক্রান্ত হবে, কলোনিয়াল কাজিনস যাদেরই হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে। এখানে একটা হিসেব বাইরে থেকেও ঠিক বাইরেও নেই তা হল তাবলীগের একটা বিরাট অংশ হেফাজত সমর্থক, আবার হেফাজতের সমর্থকদের বেশিরভাগই নিয়মিত তাবলীগে সময় লাগায় বা একই আক্বীদার মুসলিম। চরমোনাই খুব বিপরীত মেরুর নয়। সবাই ইসলামপন্থি হিসেবে ইন কমন সেকুলারদের কাছে বিবেচিত এবং কারো জন্যই সেকুলারপন্থিদের হৃদয়ে এতটুকু মমতা যে নেই _ সেটি আজকের প্রেক্ষাপটে বড় মূল্য দিয়ে, বড় নিদারুণভাবে মুসলিমদের বুঝতে হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশে না _ মিশর, সিরিয়া, তুরষ্কসহ বিভিন্ন দেশে।

Image

‘গাযওয়ায়ে হিন্দ’ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী মুশরিকদের সাথে মহাযুদ্ধ এমনিতেই সমাগত প্রায়। এখন আমরা যা দেখছি তা সূচনা বা ক্ষেত্র প্রস্তুতকৃত হওয়া। সেদিন এক শুভান্যুধায়ী মারফত এক তাবলীগি মারকাজের জেলা শুরা, বড় আলেম _ সাধারণতঃ খুবই ডিসিপ্লিনড এবং সেল্ফ-কন্ট্রোলড একজন মানুষ, হিসেবের বাইরে কোন কথাই বলতে শোনা যায় না, সেদিন সাধারণ হিসেবের বাইরে অদ্ভূত এক কথা বললেন যা আরেকজনের মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে। তা হল ‘গাযওয়ায়ে হিন্দ’ সমাগত এবং তার মূল স্ফূলিঙ্গের স্ফূরণ ঘটবে খুব সম্ভবতঃ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে। ভারতের আশেপাশের কয়েকটি রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশের চট্টগ্রামই হবে মূল কেন্দ্র। এক এনালাইজার দেখলাম কিছু তথ্যের ভিত্তিতে একটি তত্ত্বও দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন তা হল ২০১৭ সালের কিছু আগে বা কিছু পরে ঘটবে এটি। ভারত সম্পূর্ণভাবে পদানত হবার পর মুজাহিদ মুসলিমদের যারা জীবিত থাকবেন তারা খোরাসান হয়ে দামেশকের দিকে রওনা হবেন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য।

যাই হোক মোটামুটি এটা তো আমরা অবশ্যই লক্ষ্য করছি যে গত এক বছরে ভারতীয় উপমহাদেশে এবং বিশেষতঃ বাংলাদেশে যা ঘটছে, ঘটে চলেছে তা ইতিপূর্বে কখনোই ঘটেনি। এটি অবশ্যই ম্যাচিওর হচ্ছে এবং চুড়ান্ত একটি পরিণতির দিকে যাওয়া ছাড়া ক্ষান্ত হবে না। যত বিভেদ আমরা এখন তৈরি করব তত বেশি ক্ষয়ক্ষতি আমাদের হতে থাকবে, এক এবং একাত্ম হওয়া ছাড়া আসমান-জমিনের কোন রাস্তা আমাদের জন্য খোলা নেই। এখন মুসলিমদের ওপর যেভাবে আক্রমণ হচ্ছে সেটির পজিটিভ দিক হল এতে মতভেদ-বিভেদ ভুলে এক কালিমার ছায়াতলে সমবেত হবার বিরাট সুযোগ। এটি যত তাড়াতাড়ি আমরা বুঝতে পারবো যে এখন মুসলিম ঐক্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় ইসলামের স্বার্থে, আমাদের অস্তিত্বেরও স্বার্থে _ ততই মঙ্গল।

অতএব, বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ার মুসলিমদের যে রক্তের ধারা আমরা প্রবাহিত হতে দেখছি তা আগামী দিনগুলোতে স্ফীত থেকে স্ফীততরই হতে থাকবে। মুসলিমরা যতক্ষণ পর্যন্ত নানা মতভেদ ভুলে গিয়ে এক কালিমার পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামের শত্রুদের জন্য মুসলিমনিধন সহজেই সম্ভব হবে। মুসলিমদের অন্তঃকলহের সুযোগে নানা কৌশলে তারা এটি করতে সমর্থ হচ্ছে, প্রতিরোধে ব্যর্থ হলে দিনে দিনে তারা আরো হিংস্র আরো আগ্রাসী হবে। মনে রাখতে হবে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যে মুশরিকদের তথা ভারতীয় বর্ণবাদি হিন্দুদের প্রধান টেনশন এখন দুটো দলকে নিয়ে, জামাত ও হেফাজত। হেফাজতের লংমার্চে স্মরণকালের বৃহত্তম মুসলিম অংশগ্রহণ দেখে তাদের উদ্বেগ ও আতঙ্ক জন্মেছে, যেন তারা তাদের মরণকে দেখেছে। উল্লেখ্য ভারত সে অর্থে সেকুলার নয়, যদিও ভাব ধরে থাকে। নরেন্দ্র মোদির মত তীব্র সাম্প্রদায়িক মুসলিমবিদ্বেষী সেখানে সম্ভবতঃ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছে, দিল্লিসহ সাম্প্রতিক ৫ টি রাজ্যে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মেরুকরণ হচ্ছে। আগের দিন আর নেই সেটা বুঝতে হবে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, বিজেপির একটি অংশ ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ হিন্দু মৌলবাদির সমাবেশ ঘটিয়ে সবাইকে নিয়ে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে’ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘বাংলাদেশ চলো’ নামক যুদ্ধংদেহি পদযাত্রার হুমকি দিয়েছে।  আজ হয়তো তারা আসবে না, কিন্তু কাল বা পরশু অথবা অচিরেই একদিন তারা অবশ্যই আসবে তাতে সন্দেহ নেই। তাদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা প্রবল এবং আসার পর ভারতের এতদিনকার ‘বাংলাদেশ নীতি’ অনেকটাই পরিবর্তিত হবার সম্ভাবনা। এতদিন যা পায়নি সেই ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণও তারা লাভ করবে। কাজেই তার আগেই বাংলার মুসলিমদের দলমতনির্বিশেষে সমস্ত বিভেদ ভুলে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে। ইসলামের স্বার্থে তো বটেই, নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেও। অন্যথায় গুজরাটে নরেন্দ্র মোদিদের ইন্ধনে যে ভয়াবহ বীভৎস হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যপক ও বিরাট আকারে, এমনকি ‘৭১ এর হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের চেয়ে ভয়ংকর পৈশাচিক অভিজ্ঞতা বাংলার মুসলিমদের জন্যে অপেক্ষা করছে। আমি চাই আমার এই আশংকা সত্য না হোক, কায়মনোবাক্যে চাই। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, বিপরীত অভিজ্ঞতা লাভ করাও অসম্ভব নয়।

আল্লাহ সমস্ত বিভেদ ভুলে আমাদের এক হওয়ার তাওফিক এনায়েত করুন।

আমিন।

আমি শাহবাগ দেখেছি

by Asif Shibgat Bhuiyan

শাহবাগী ভাঙননৃত্য শেষ হলে কয়েকটি জিনিস ধীরে ধীরে প্রতিভাত হবে বলে আমার ধারণা। এখানে বলে ফেলি।
বহুদিন ধরে একটি মহলের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক হেজিমনির মূল উৎস ছিলো ১৯৭১ এর জুজুর ভয় দেখানো। গত ৪২ বছর ধরে একটি একচেটিয়া পারসেপশন তারা মানুষের মাঝে তৈরি করে রেখেছে। গত এক বছরে এই পারসেপশনের নাটকীয় পতন ঘটেছে। অত্যাচারী ভিলেনের সাথে চির অত্যাচারিত হিরোর একটি অসম লড়াই যাতে হিরোরা প্রাথমিকভাবে জয়ী হলেও ওঁতপেতে থাকা ভিলেন যে কোনও সময় আবার আক্রমণ করবে – এই চিত্র আমাদের মর্মমূলে একেবারে গেঁথে দেয়া হয়েছিলো। এই মানসিক দৃশ্যপট এখনকার তরুণ প্রজন্মটির মনে গেঁথে ছিলো গত বছর পর্যন্তও। এ বছরে এসে প্রথম হিরোদের সাথে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভিলেনরা মাটি পাওয়া শুরু করেছে। এতে ভিলেনদের তেমন কিছু করতে হয়নি। হিরোরা হঠাৎই অহেতুক ফাউল করে নিজেদের ফেয়ার প্লে নষ্ট করেছে এবং সুযোগ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের সমর্থন ধীরে ধীরে বাড়িয়ে তোলার। এই আত্মহননে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে হিরোদের অফিশিয়াল চিয়ারলিডাররা – শাহবাগীরা।

একটি রাজনৈতিক সিদ্ধিলাভের প্রহসনের বিচার কার্যে শাহবাগীরা কেবল সমর্থনই দেয়নি, ইন্ধন যুগিয়েছে। তাদের মনোভাব ছিলো একরোখা “রাজনীতি বুঝি না, ফাঁসি চাই”। বরং তারা ট্রাইব্যুনালের ফাঁক ফোকরগুলো খেয়াল করে যদি এই দাবী তুলতো যে “অবিলম্বে সুষ্ঠ বিচার চাই এবং প্রকৃত অপরাধীর বিপক্ষে মজবুত প্রমাণ সাপেক্ষে শাস্তি চাই।” তাহলে সেটা সবদিক থেকেই ফেয়ার হতো, যুদ্ধাপরাধের দায়মুক্তিও হতো এবং পুরো প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক ফাউল প্লে থেকে মুক্ত থাকতো। সেটা না করে শাহবাগ ঐ কাজটাই করল যা এই বিচার পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্যকে সার্ভ করে – রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধি।

শাহবাগীরা দ্বিতীয় যে ব্লান্ডারটি করল সেটি হোলো এই দেশের জনমনে সবচেয়ে বড় যে দুটি চেতনা একই সাথে মানুষ লালন করে এসেছে এতদিন, সে দুটির মাঝে ক্ল্যাশ লাগিয়ে দেয়া। ৭১ এর চেতনা এবং ইসলামি চেতনা। শাহবাগীরা মঞ্চের প্রাথমিক সাফল্যে দ্বিতীয় চেতনাটিকে তাচ্ছিল্য করে বসেছিলো। এখানে বলে রাখা ভালো যে অন্তত ২০১২ পর্যন্ত মডারেট ইসলামি চেতনা ও ৭১এর জাতীয়তাবাদী চেতনা মানুষ একসাথে যত্নে লালন করে এসেছে। এটি একটি ফ্যাক্ট – এটাকে অস্বীকার করা বিরাট বোকামো। এ দুটি চেতনার কোনও একটি এক্সট্রিম (অপরটিকে আমল না দিয়ে) এদেশের মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। এটার প্রমাণ হোলো যে জামাতের এতদিনকার কোনঠাসা অবস্থা। কারণ জামাতের ইসলামি চেতনার ঝান্ডাটি হাতে থাকলেও, ৭১ এর ব্যাগেজের কারণে তারা এতদিন কোনঠাসা ছিলো। সেক্যুলাররা তো বটেই, সাধারণ অজামাতি মুসলিমদের একটি বড় অংশ তাদের বখে যাওয়া সৎ ভাই হিসেবে দেখতো। জামাতিদের প্রত্যাখ্যান করার কারণ যতটা ছিলো ইসলামিক মতবিরোধ তার চেয়েও বেশি তাদের এই ব্যাগেজ।

শাহবাগীরা নিজেদের পায়ে কুড়ালটা মেরেছে যুদ্ধাপরাধের বিচার চেয়ে নয় অবশ্যই, বরং অন্য দুটি কারণে। এক, একটি ভুল বিচার পদ্ধতিকে আরও ইন্ধন যুগিয়ে এবং দুই, ৭১ এর চেতনার সাথে ইসলামি চেতনার যে ডেলিকেট ব্যালেন্স এই দেশে রক্ষা করে চলতে হয় সেটি করতে ব্যর্থ হয়ে। এই অর্ডার আমি সময়ের প্রেক্ষিতে করেছি নতুবা সমস্যা শুরু হয়েছে বরং দ্বিতীয়টা দিয়ে। তাদের প্রাথমিক সাফল্যের ব্যাপারে মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে যখন তারা এদেশের অরিজিনাল সিন করে বসল – ইসলামি চেতনাটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিতে পেরে, বরং পায়ে ঠেলে। তারা বলেছে অবশ্য সময়ে সময়ে যে এটা তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু আন্দোলন কেবল ইমোশানের ওপর চলে না, তার ট্যাক্টিক্স ঠিক থাকতে হয়। তাদের আগেই বোঝা উচিৎ ছিলো যে দুটি চেতনার মাঝে ব্যালেন্স না করলে চলবে না। যখন তাদের বিরুদ্ধে ইসলামকে অবজ্ঞা করার অভিযোগ আসল এবং একই সাথে বিচারের বিভিন্ন অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও শাহবাগীরা সেটিকে সাপোর্ট করে গেল, তখন সাধারণ মানুষ দুই দুইয়ে চার করা শুরু করল। শাহবাগীদের জাতীয়তাবাদী চেতনার চেয়ে প্রাধান্য পেল তাদের অইসলামি চেতনা।

শাহবাগীরা যখন বুঝলো যে ইসলামি চেতনাকে তাচ্ছিল্য করার প্রবলেমটা তারা এটা বিভিন্ন ভাবে বোঝাতে শুরু করল যে তাদের মূল দাবী ছিলো যুদ্ধাপরাধের বিচার, ইসলামের সাথে তাদের কোনও বিরোধ নেই। তাদের এই দাবীও ছিলো যে এটা যারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায় না তারা এই তকমা তাদের গায়ে লাগিয়ে দিতে চাইছে। এটা একটা ভালো যুক্তি, এবং নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষদের অনেকেই, বিশেষ করে যারা তাদের সেকেন্ড চান্স দিতে চেয়েছে, তাদের যুক্তিটি মনে ধরেছিলো। আপনাদের মনে থাকবে নিশ্চয়ই মঞ্চে একজন মহিলাকে দিয়ে কুরআন পড়ানো এবং আরেকজনকে শ্রোতা হিসেবে রাখার কৌতুহলোদ্দীপক ছবিটির কথা। কিন্তু এরপরই শাহবাগ করল একটি আত্মঘাতী কাজ যা থেকে তারা আর রিকাভার করতে পারেনি এবং আর কখনও পারবেও না আমার ধারণা।

৬ মের ভোরে সরকার কর্তৃক হেফাযতকে উৎখাত করার ঘটনা এবং সেই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে যখন একটি পাল্টাপাল্টি কনফিউশান চলছিলো তখন শাহবাগীদের হাতে একটি সুবর্ণ সু্যোগ ছিলো নিজেদের ইসলামি চেতনা রিলেটেড ইমেজটিকে পুনরুদ্ধার করার। তারা এই বিষয়টিতে সম্পূর্ণ চুপ থাকতে পারত। তদের ঘটে বুদ্ধি আর একটু বেশি থাকলে তারা ইন ফ্যাক্ট সরকারের কাছে এই দাবীও জানাতে পারত যে ৬ই মের ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত হোক। আশ্চর্যজনক ভাবে তারা, বিশেষ করে সোশাল মিডিয়াতে তাদের নেতারা এবং অন্যান্য পাতি চেলাচামুন্ডারা ঘটনাটি নিয়ে রসিকতা করা শুরু করে, বিশেষ করে হেফাযতের দাবী করা সংখ্যাটিকে ঘিরে। তারা ভুলে গিয়েছিলো যে ৩০ লাখের ট্যালিসমান সংখ্যাটি তারা এতদিন জপে এসেছে সেটা ঠিক ততটাই বায়বীয় ছিলো যতটা ছিলো হেফাযতেরটি। আমি পূর্ণ কনফিডেন্স নিয়ে বলতে চাই যে এটাই ছিলো গেইম, সেট, ম্যাচ। শাহবাগীদের বিপক্ষে।

কেন শাহবাগীরা এরকম হঠকারিতা করল? বোঝা ডিফিকাল্ট। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে গোয়ার্তুমি বা রেকলেস স্বভাব। আফটার অল তারা দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক। আসলে কারণ এটি নয় আমার মতে। শাহবাগীরা তাদের মূল দাবীতে কখনই সৎ ছিলো না, তারা যুদ্ধাপরাধের আড়ালে একটি সেক্যুলার প্যারাডাইম শিফটের কাজ করতে চেয়েছিলো ঠিকই। শুধু মাত্র বিপদের সময়ই তারা সেটাকে ঢাকতে চেয়েছিলো। সেটা ছিলো থাবাবাবার মৃত্যুপরবর্তী হেফাযতের মিটিয়রিক উত্থানের সময়টি। কিন্তু যে দুবার তারা মনে করেছে তারা কন্ট্রোলে চলে এসেছে সে দুবারই তারা তাদের সেক্যুলার অ্যাটিচিউড ও অবজেক্টিভ লুকাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রথমত, শাহবাগের প্রাথমিক উত্থানের সময় এবং দ্বিতীয়ত, ৬ই মেতে হেফাযতের উৎখাতের পর। অন্যভাবে বলতে গেলে তাদের সকল বাগাড়ম্বর ছিলো সরকারের ছত্রছায়ায়। সরকার যেমন তাদের ব্যবহার করেছে তারাও সরকারের লেজ ধরেই ঝুলে ছিলো।

এখন শাহবাগ যে আস্ফালনগুলো থেকে থেকে দেখাচ্ছে এটা বিপ্লবীদের হুংকার নয়, বরং চিয়ারলিডারদের কত্থক। সরকার যখনই গোল দিচ্ছে শাহবাগীরা উদ্বাহু নৃত্য শুরু করছে। লক্ষ্য করবেন যে সরকার এখন ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে যাচ্ছে যার ফলে দেশে একটি অরাজক অবস্থা তৈরি হয়েছে। এসময় তাদের উচিৎ ছিলো, যদি সত্যিকার দেশপ্রেমিক তারা হয়ে থাকতো, এই অবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। একটি সাংগঠনিক ভিত্তি যেহেতু দাঁড়িয়েই গেছে তারাই ছিলো এই কাজের সবচেয়ে উপযুক্ত দল। পাঠকরা নিশ্চয়ই ইমরান এইচ সরকারের সেই দম্ভোক্তি ভুলে যাননি যখন সে বলেছিলো সরকারের চেয়ে শাহবাগই বেশি শক্তিশালী। কিন্তু দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে শাহবাগ তাদের চিয়ারলিডিঙের কাজেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলো। প্রথমে তারা ইসলামি চেতনার পরীক্ষায় লাড্ডু মেরেছে, এবার তারা জাতীয়তাবাদী চেতনাতেও ফেল করে বসল।

দেশের প্রধান দুটি চেতনার পরীক্ষায় ডাব্বা মারা দলটি একটি দূর্নীতিপরায়ণ “স্কুল কমিটির” খুঁটির জোরে স্কুলে টিকে থাকলো তো বটে, কিন্তু এই টিকে থাকা তো আর সত্যিকারের বেঁচে থাকা নয়, বরং লাইফ সাপোর্টে বেঁচে থাকার শামিল। আপনি স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন হলে বুঝবেন যে এই সরকার পরিবর্তিত হয়ে গেলে শাহবাগকে বসতে দেয়া হবে না এটা যেমন ঠিক – তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে শাহবাগ নিজেই আর বসবে না। আন্দোলন আর চিয়ারলিডিঙের মাঝে যে স্থুল পার্থক্য – তা এতদিন যদি আপনার কাছে পরিষ্কার না হয়ে থাকে, সেদিন হবে।

আশ্চর্যজনক ব্যাপার যে শাহবাগ নিজেদের কর্মকান্ডকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে দেখাতে চেয়েছিলো। প্রথম মুক্তিযুদ্ধের সাথে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের মিল একটিই – কম বেশি একই সময় স্থায়ী ছিলো দুটোই। কিন্তু মিলের এখানেই সমাপ্তি। কোথায় একটি বিদেশী শক্তির সাথে ৭১ এর প্রাণপন গেরিলা যুদ্ধ আর কোথায় এই বিরানীর গন্ধে ভুর ভুর করা পরিবেশে নৃত্যপটিয়সদের রোমাঞ্চকর মিলনমেলা। হায়, যে জাফর স্যার দূর্বার যৌবনকালেও কোনও এক অজানা কারণে মুক্তিযুদ্ধ মিস করে ফেলেছিলেন, আজ এই বার্ধক্যের করাল গ্রাসকে ফাঁকি দিয়ে তিনিও চলে এলেন যুদ্ধনৃত্যে যোগ দিতে।

দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের নামে যে তামাশা শাহবাগীরা করল আগামি যত মাস এই সরকার থাকে তাতে চিয়ারলিডিং তারা চালিয়ে যেতে পারবে সন্দেহ নেই। কিন্তু যবনিকা পতনের পর দুটি জিনিস প্রতিভাত হবে স্পষ্ট ভাবে আমার বিশ্বাস:

১. “দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের” ভিস্যুয়াল সার্কাসের কারণে প্রথমটির ব্যাপারে যে কাল্পনিক রোমাঞ্চ এই প্রজন্ম এতদিন মনে মনে পুষে এসেছিলো সেটি অনেকাংশেই নষ্ট হয়ে গেছে।

২. এতদিন ৭১ ভিত্তিক জাতীয় চেতনা ও ইসলামি চেতনার মাঝে যে সমতা বিরাজ করছিলো সেটি নষ্ট হয়ে গেছে। এগিয়ে এসেছে ইসলামি চেতনা। ইসলামপন্থিরা যদি বিশাল গাধামো না করে তবে সামনে তাদের জন্য সুদিন রয়েছে। যদিও তাদের গাধামো করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না, সেটা একটা ভ্যালিড সম্ভাবনা বটে। কিন্তু সে আরেকদিনের কথা।

Our ‘Comfortably Numb’ Citizens and Their Vulgar Civility

1

comfortably-numb-brick

By Nur Hossain

In reply to my article in ‘Classical Music Festival 2013, India and our vulgar civility,’ published in this blog, writer Tibra Ali in a blog of AlalDulal, borrowing a term from the Czech writer Milan Kundera, accused me of being a Political ‘Misomusist,’ to refer a person who hates arts.

He dismissed my effort of raising an important point about the political process behind this festival as ‘pot-shot,’  that tries to invalidate the rich and shared cultural heritage of South Asia.

Ali, further mentions that against his intention, he had to write criticism of my ‘so called political commentary ’ cause he is worried that people might be misguided with my intention of raising a point about politicisation of our culture space and he stresses that events such as Bengal Music Festival celebrating Indian classical music requires to be evaluate apolitically, otherwise we’ll do a ‘great disservice to us as people.’

I think, Ali’s careless use of words such as ‘pot-shot’  to reject my argument without defining ‘pot-shot,’  his intention of not explaining the historical context behind the emergence of the term ‘Misomusist’  and  how it applies in my case, reveals what I call a ‘fundamentalist’ pattern in his reaction. This pattern underpins emotional not logical reaction of a person who is not willing to accept logical discussion and engage in a respectful debate on an issue or belief that is close to their heart.

We see such reactionary pattern in radical Christians or radical Hindus or radical Islamist who use ‘quotes from Holy Books’ to dismiss opposing views but ignore explaining the historical context behind the emergence of such quote and relevance of using it in present context. Researchers found that in most cases, literal use of quotes or terms, that were emerged in a historical context, does not do any justice to the term itself if  used in present context. Therefore, I am interested to know more about the history of ‘Misomusist’ and relevance and explanation for using the term to define my work.

Before going into the main response, let me clarify two points raised by Ali. Firstly, quoting Afsan Chowdhury, Ali said, usage of Felani in my writing serves ‘narrow political purpose.’ This is an  interesting and a vague statement. If I agree with Ali and Chowdhury, I wonder, would they agree with the argument that the construction of Jahanara Imam as a Shaheed Janani, or Bangabandhu as the Father of the Nation too serves narrow political interests?Even if they agree, one would raise the question, so what?  I’m in support of ‘narrow political interest’ as I think this is the reality in which we have to live, at least at the moment.

Secondly, I think Ali is right in spotting the disconnection between my careless use of ‘public demand’ and ‘a section of upper middle class’ in my writing. Even though I did not mean upper middle classes are excluded from public, my careless use of the two variables gave such impression to Ali. I think this is a fair point. Let me now answer main criticisms’ of Ali.

My Response

This is a useful effort of Ali to raise an important point about the usefulness of cultural exchange across nation states. It is true that without exchanging various languages of cultures i.e music, cinema, drama, visual arts, people across nation states wouldn’t have learned about diverse customs of the world and be respectful of each other. Therefore, I agree with Ali that sharing and celebrating cultural products across nation states is an absolute necessity.

However, I’m afraid that Ali missed the whole point of my writing. While I’ve been trying to raise awareness about the political process behind the organisation of such ‘musical festival,’ Ali seems busy justifying the usefulness about the content or ‘art’ of the festival. I find premise of such criticism is irrelevant, misguided and unnecessary as a reply to my piece as both of us are answering different questions.

However, Ali’s delusional approach about ignoring the political process behind organisation of this ‘musical festival’ makes my point stronger. An audience must know about the political process through which this event was organised. One must also know why they are listening to this genre of music at a period when India- Bangladesh are striking what Badruddin Umar said, ‘unclear deals supporting Indian imperialism in Bangladesh and against the interest of Bangladesh’ and when powerful Bangladeshi liberals decide to cover up/ not questioning dirty tale of political and economic arrangement between AL and India, subverting public interest.

One must know further, who are the key actors behind this festival and what is the broader objective behind this program. Or why pro-government and anti-BNP civil society forces alongside with Indian High Commission officials have seen to be supporting such program. Or what is the key objective behind the promotion of ‘what ITC-SRA,’ one of the organisers of the program, says, ‘propagation of Hindustani Classical Music in Bangladesh?’  and finally why this program is exclusive of  presence of any BNP leader in capacity of guests? Is it incidental? I guess, these are not co-incidence and apolitical arrangement!

Awareness about the nexus between the process of a production and identification of actors involved with production and the nature of the content of production have always been a politically significant question. Otherwise, the liberals of Bangladesh or a section of it, wouldn’t raise questions about the nexus between extremism and some  preaching session or Waz Mahfils, content of which may soothe some listeners’  apolitical spiritual hunger only. The point is, it is plausible to evaluate Waz Mahfils apolitically but that does no rule out the political side of that Mahfil.

Similarly, one must acknowledge that application of an apolitical framework to understand ‘classical music festival’ does not invalidate the political nature of the event or nullify political aspect about heavy engagement of influential political actors of certain quarter behind this program.

I argued that this festival is an event promoting public diplomacy of Bangladesh and India, supported by the partnership of two corporations (Bengal and ITC-SRA), to influence public attitudes in a manner that they become supportive of their foreign policy and national interests. I stand by my point.

I argue that the political intention of this event is to neutralise negative public image of AL-India nexus that has been striking ‘unclear deals’ and now undermining public voice while ready to put peoples’ lives in danger knowing that BNP would unleash a violent protest if AL does not step down even though 90% people of the country said they want an election under a neutral caretaker government. I also defend the using  the death of Felani as a symbol that refers Indian disregard to the  people of Bangladesh. I see there is little scope of disconnecting the timing of this event and political upheaval on the ground as organisers of this festival and mastermind of political doldrums are close allies, if not same actors.

Therefore, my point about our vulgar civility of not protesting double standard of Indian policy is justified.

Finally, I am in full favour of exchanging cultural languages across political boundaries. I am also in favour of celebrating ‘Hindustani Music’ in Bangladesh and Bangladeshi music in India. I think constructive flow of cultural ideas is an important aspect to underpin cultural bondage between two countries  in order to serve common political interest.

However, I am not in support of Ali’s apolitical approach, if it is not intentional, to understand this event. I call Ali’s approach a ‘comfortably numb’ approach, borrowing the title from a famous Pink Floyd song, to underpin his state of delirium detached from reality to justify his disregard to political process of this program. For that matter, his effort of borrowing a term from Milan Kundera to define me as a ‘Misomusist’ is a reflection of his ‘comfortable numbness.’ This is a poor choice to justify his ‘vulgar civility’ by which I mean selfish and unquestionable justification of endorsing a process deeply rooted in a questionable political arrangement which formed a legacy to disregard popular opinion of Bangladesh.

সেমি-নগ্নতা + কোয়ার্টার নগ্নতা = পুরুষের মনোরঞ্জন

images (1)

By Tarannum

আমার মনে হলো আমি কোন ইংলিশ/হিন্দি মুভির ট্রেলার দেখছি!যেমন মেয়েটির পোশাক,তেমনি ছেলেটিরও।তবে ইংলিশ মুভিতে নায়িকা থেকে নায়ক আলাদা করা যায়,এখানে দেখলাম আলাদা করাটা একটু না,ভালোই টাফ।পিছন থেকে কনফিউজিং বেশ,হু ইজ হোয়াট!কারণ নায়কের চুল নায়িকার চুলের প্রায় সমান লম্বা,হাতে চুড়ির মতো কি তা ঠিক বুঝলামনা।হবে হাল ফ্যাশানের কিছু একটা,ভেবে আমি গবেষণা থেকে ক্ষান্ত দিলাম।তবে যে গবেষণা থেকে ক্ষান্ত দেয়া গেলনা তা হলো এদের ঘনিষ্ট হয়ে বসার ভঙ্গি এবং মেয়েটির অতীব ‘আধুনিক’ পোশাক।পোশাকের বিবরণে আমি যাবনা।তবে তা বাঙালী কেন,গোটা উপমহাদেশীয় ট্র্যাডিশনাল পোশাকের ধারেকাছেও নাই।

বলছি,আমি একটি নামী প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বছর পাঁচেক আগে এমবিএ-তে ভর্তি হতে গিয়েছিলাম।সেখানকারই ঘটনা।আমি হিজাবী মানুষ,ওখানে গিয়ে যথেষ্ট হকচকিয়ে গিয়েছিলাম,কুন্ঠিতও হয়েছিলাম।মনে হচ্ছিল আমাকে ওখানে মানাচ্ছেনা,২-৩ ঘন্টায় যেসব মেয়েদের দেখলাম তাদের কারোর পোশাকই আমার মতো ‘ক্ষ্যাত’ নয়,বড়ই ‘আধুনিক’!তা সে ৫ বছর আগের কথা এবংপরবর্তীতে কিছুদিন পর্যন্ত এই ঘটনা মনে পড়লে এই ভেবে সান্ত্বনা দিতাম নিজেকে যে যাদের দেখেছিলাম তারা সবাই বড়লোক বাপের “বড়মানুষ” বাচ্চাকাচ্চা,তারা কি আর আমার দেশের ৮০% মানুষকে রিপ্রেজেন্ট করে?

তবে এই ভেবে শান্তিতে কিন্তু বেশীদিন থাকা গেলনা।এমবিএ-তে ভর্তি না হয়ে চলে গেলাম মৌলভীবাজারে চাকরী করতে।সিলেট নাকি ওলি-ওয়ালাদের এলাকা,সেখানে উপরের ঘটনার মতো কিছু ঘটতে দেখার চিন্তাও করিনি কখনো।কিন্তু সেখানেই ‘লন্ডনী’ কন্যাদেরকে রাস্তায়-রেস্টুরেন্টে আমি লন্ডনের পরিবেশের অভাব পূরণ করে নিতে দেখলাম,এ্যামেজিং!খোদ সিলেট শহরে যখন পোস্টিং হলো তখনতো লন্ডনী,সেমি-লন্ডনী (লন্ডনীদের আত্মীয়) মেয়েদের দৌরাত্ম্যে অবাক লাগা বিরক্তিতে পরিণত হলো।ইউনিভার্সিটি এলাকা যেখানে লন্ডনী,সেমি-লন্ডনী নাই,সেখানে?শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে আমরা যখন পড়তাম তখনও কিছু মেয়ের পোশাক কখনোই অতটা শালীন পর্যায়ের ছিলোনা,সেটা তখন এ্যাবনরমাল কিছুও মনে হতোনা।কারণ কিছু মানুষ কখনোই গোটা এলাকার রিপ্রেজেন্টেটিভ হয়না এবং হাতের পাঁচ আঙ্গুল সমানও হয়না।তাই সেগুলো এ্যালার্মিং কিছু ভাবিনি।কিন্তু চাকরী করতে আবার সিলেট গিয়ে দেখলাম ২-৩ বছরে সাস্টের চেহারা পুরাই পাল্টে গেছে আর সেখানকার মেয়েরাও এ্যাবনরমাল রেটে পোশাকের শালীনতা/পরিমিতিবোধ হারাচ্ছে।ফ্যাশন বদলাতে পারে,কিন্তু শালীনতা/পরিমিতিবোধ এতো দ্রুত পাল্টায়?তাও ধনাত্মক নয়,ঋণাত্মক দিকে!

এরপর লক্ষ্য করলাম সমাজের সবখানেই এই অবস্হা শুরু হয়ে গেছে।হয়তো আরও আগেই শুরু হয়েছে,আমিই লক্ষ্য করেছি দেরীতে।উদাহরণ দেই,’প্রথম আলো’ ছাড়া আর কোন পত্রিকা পড়া হতোনা তখন (মনে হতো এরা কম নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্বের দিক থেকে,তাই মন্দের ভাল বলে পড়তাম),তাই অন্যদের কথা বলতে পারবোনা।কিন্তু এই পত্রিকাটি আমাকে বড়ই অবাক করে ‘নকশা’ নামের প্রতি মঙ্গলবারের ফিচার পাতায় মেয়েদের এমন সব ছবি দিতে লাগলো যে আমি হতভম্ব শুধু না,মর্মাহত হতে লাগলাম।কারণ এইসব ছবি দেখার জন্যে আমার এক্স ছেলে কলিগরা প্রায় প্রতি মঙ্গলবার ম্যানেজারের রুমে ‘নকশা’ পাঠানো বাদ দিয়ে দিলো এবং এসব ছবি নিয়ে ‘রসালো’ আলাপের মাঝে তারা মেয়েদের আগমণ পছন্দ করতোনা,আমাদের বলতো-পরে আসো,’অনলি বয়েজ’ আলোচনা চলছে!মেয়েরা কিছু বললে তাদের উত্তর হতো,’তোমরা আমাদের ‘দেখাচ্ছো’,আমরা দেখবোনা?!’এ ছিলো তাদের বিনোদন,বিবাহিত-অবিবাহিত,নামাজী-বেনামাজী নির্বিশেষে।ওদের দেখে আমার মনে হতো বলি,তোমাদের মাঝে তো ৯৫%-ই মুসলমান!ইসলাম কেবল কি মেয়েদের পর্দা করতে বলেছে?প্রথম আদেশ/নির্দেশ তো মেয়েদের না,ছেলেদের উদ্দেশ্যে!তাদের চোখের পর্দা নিয়ে!একটি মেয়ের নাহয় নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে,কিন্তু সেটা কেন ছেলেটির নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হবে?

কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায় ছিল।কারণ যে মেয়ে স্বেচ্ছায় নিজেকে ছেলেদের বিনোদনের বস্তু বানিয়ে রেখেছে তার হয়ে আমি ওদের কিছু বলেই বা কি করবো? যে মেয়ে নিজেকে পণ্য বানিয়ে মহান ‘আধুনিকা’ হয়ে পত্রিকায় মডেল হয়েছে,তার এমন পোশাক পড়ার কারণ কি?সে কাকে এমনআবেদনময়ী স্বরুপ দেখাতে চেয়েছে?আরেকটি মেয়েকে??নাকি ছেলেদেরকেই যারা তাকে দেখবে?আচ্ছা,তার মনে কি কখনো প্রশ্ন আসে,’আমার সাথে মাঝে-মাঝে যে ছেলেটি মডেল হয়,তার পোশাক তো আমার মতো হয়না!সে কেন পুরো কাপড় পরে মডেল হবে আর আমি কেন স্লিভলেস পরে,পাতলা শাড়ী পরে,কোমড় দেখিয়ে তবেই মডেল হবো?তবে কি তার অভিনয়-শৈলী,অভিব্যাক্তি ফুটিয়ে তোলার যোগ্যতা আমার চেয়ে বেশী বলেই আমাকে অতিরিক্ত কিছু করে(পোশাক খুলে) ছবি তুলতে হচ্ছে যাতে লোকেরা তার পাশে আমাকেও কিছুটা দেখে?’না,এই প্রশ্ন তার ‘নারী স্বাধীনতা’-র ধোঁয়া তুলে ওয়াশকৃত ব্রেইনে আসেনা।তাই প্রকৃত নারীবাদী হয়ে পুরুষ কলিগদেরকে জোর গলায় কিছু বলার মতো উপায় আমার ছিলোনা।

ঢাকায় এলাম এরপর,একটি নামী প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি–তে আবারো ভর্তি হলাম…অনুমান করে নেয়ার জন্যে ধন্যবাদ এখানে আমাকে গত দুই বছরে কত কিছু দেখতে হয়েছে।শুধু মেয়েদের নৈতিক অবক্ষয় না,তার সাথে পাল্লা দিয়ে ছেলেদের শালীনতা,রুচি,বিনোদন জ্ঞান পাতালের নিকষ অন্ধকারে নেমেছে।একটা প্রবাদ আছে,‘একে তো নাচুনী বুড়ি,তার উপর যদি পায় ঢোলের বাড়ি!’ছেলেরা হলো সেই বুড়ি,আর মেয়েরা ঢোলে বাড়ি দিচ্ছেন ঢুলী হয়ে।এখন প্রশ্ন হলো,কেন এমন হচ্ছে?সমস্যা কোথায়?

সমস্যা মেয়েদেরকে দেখার,বোঝার দৃষ্টিভঙ্গিতে।

সেই আদ্যিকাল থেকে পুরুষ শাসিত সমাজ মেয়েদেরকে বারবার নিজের পায়ের তলায় ঠেলে দিয়েছে।তাই মেয়েরা যোগ্যতায়, মেধায়-মননে,উৎকর্ষতায় কখনোই তাদের ছাপিয়ে উপরে উঠে আসতে পারেনি।
ইসলাম এলো,নারী এবং পুরুষ নির্বিশেষে শান্তির এই ধর্মটি জানালো তাদের পারষ্পরিক সম্পর্ক কেমন হবে;কেউ কারো প্রতিদন্ধী নয় বলল,দুজনকেই পরষ্পরের জায়গা দেখিয়ে দিলো।বললোঃ
“And one of the signs of His existence and power is this: He has created for you helpmates in order to make you feel comfortable with one another, and He ordained between you love and mercy. There are lessons in this sign for those who reflect” (Al-Qur’an 30:21).

দুঃখজনক এবং দুভার্গ্যজনকভাবে এই শান্তির ধর্মকে অশান্তির বানানোর যারা হোতা তারা মেয়েদের ইসলামীক অধিকারকেও সমানভাবে অশান্তির করে তুললেন।যুগে-যুগে মেয়েরা ইসলামে নিজেদের সম্মানিত স্হানতো পায়ইনি,বরং অসম্মানের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে লাগলো।ইসলামের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সবই হতে লাগলো ভুলভাবে এবং মেয়েদের সেই পুরনো পুরুষ শাসিত সমাজের পায়ের তলাতেই জায়গা হতে লাগলো।পর্দার ভুল ব্যাখ্যা এবং তার দোহাই দিয়ে মেয়েদের আবারও বন্দী করা হলো চার-দেয়ালের কারাগারে।বলা হলো তোমার জায়গা রান্নাঘরে,বাচ্চা মানুষ করায়,আর কোথাও তোমার লম্বা নাক ভুলেও গলাতে যেওনা।যে ইসলাম মেয়েদের মুক্তির দূত হয়ে এসেছিলো,সেই ইসলামকে বুমেরাং বানিয়ে মেয়েদের দাসত্ব যুগ ফিরিয়ে আনা হলো।

এ তো গেলো ভয়াবহতার একদিক,পশ্চিমা পুরুষ শাসিত সমাজ/দেশগুলো এরমাঝে নারীর মুক্তির নামে,তাকে ন্যায় বিচার দেবার নামে,ভয়াবহ আরেক শাসনব্যবস্হা কায়েম করে ফেললো।’ঘর আর তোমার জায়গা নয়,ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসো,আমাদের হাতে হাত মিলাও,আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে তোমরা’-এই মন্ত্রনা দিয়ে তারা মেয়েদের ঘরের খাঁচা খেকেতো বের করে আনলো,তবে তা আবারও মেয়েদের জন্য প্রহসনের রুপে ধরা দিলো ভিন্ন আঙ্গিকে,ভিন্ন মাত্রায়।মেয়েরা আসলে খাঁচা ছেড়ে বেরোলো না,নতুন করে খাঁচার জন্তুতে পরিণত হলো,নতুন খাঁচার নতুন জন্তু।এবং নির্বোধ নারী ভাবলো,‘আহ্!অবশেষে আমি মুক্তি পেলাম!’কিন্তু কি সেই মুক্তি?

মুক্তির নামে নগ্নতার/যৌনতার প্রদর্শনের শৃঙ্খল-বেড়ী সেচ্ছায় নিজ গলায়/পায়ে জড়িয়ে নিলো তারা।পুরুষের শিখিয়ে দেয়া পথে চলে তারা পুরুষ শাসনের অর্গলেই নিজেদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিলো।আর তারই ফল দাঁড়ালো মিস ওয়ার্ল্ড/মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগীতার নামে নারীদের পণ্য বানানো,পত্রিকায়-ম্যাগাজিনে-টিভি-ইন্টারনেটে-বিজ্ঞাপণে নারীকে পণ্য বানানো…সর্বত্র নারী হয়ে দাঁড়ালো পণ্য,পণ্য আর পণ্য।পুরুষেরা ধন্য!আসলেই তারা সৃষ্টির রাজা বটে!কি চালে দাসী নারীকে তারা কুপোকাত করেছে বেকুব নারী টেরও পায়নি।ঘরের খাঁচার জন্তু বাইরে এসেও তাকে এখন বিনোদন দিচ্ছে,আগের চেয়ে অনেক বেশী আকর্ষণীয় রূপে/অনেক বেশী রোমান্চকরভাবে!জয়তু পুরুষ!

আর আমার দেশেও পালে তার-ই হাওয়া লেগেছে…সে অনেকদিন হল।আমার দেশের আজকের ‘নকশা’-র মেয়েরা,বিজ্ঞাপণের ‘আরসি-র মজা কত,তোমার মতো যখন যেমন চাই’ মেয়েরা,বিলবোর্ডের অর্ধনগ্ন,কোয়ার্টার-নগ্ন ‘আবেদনময়ী’ মেয়েরা,প্রাইভেট/পাবলিক ইউনিভার্সিটির তথাকথিত ‘আধুনিক শিক্ষিত’ মেয়েরা,মধ্যবিত্ত মেয়েরা..সবাই পশ্চিমা পুরুষদের দাসীদের অনুকরণশীল বান্দরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।মারহাবা!মারহাবা!!

কোথায় স্বাধীন মেয়েরা!কোথায়?এ লজ্জা আর অপমান কোথায় রাখি যখন আমার দেশের মোল্লারা প্রেম করার অপরাধে ছেলেটিকে বাদ দিয়ে কেবল মেয়েটিকে দোররা মারেন,পাশের দেশে বাসে মেয়ে গণধর্ষণের স্বীকার হয়ে মারা যায়,যখন অভিশপ্ত দেশ পাকিস্তানে তালেবানরা মেয়েদের পড়তে চাওয়ার দোষে গুলি করে,আবার যখন সেই মেয়েকে নিজ দেশে স্হান দেয়া ইংল্যান্ডে শোবিজে কাজ করতে আসা মেয়েরা দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের স্বীকার হয় এবং সেসব উন্নত দেশের উন্নত মেয়েরা কাউকে বলার মতো,অভিযোগ করার মতো অবস্হায়ও থাকেনা,যখন সেসব দেশের পত্রিকায় রিপোর্ট আসেঃ Three decades ago one out of three rape attacks reported to the police ended in conviction; today it is just one in 20 (দি গার্ডিয়ান),যখন দেখি সেসব দেশে বিখ্যাত বাবা নিজের মেয়েকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন করে বেড়ান,টেনিসে মেয়েদের পোশাক আরো ছোটো না করলে থেলা আকর্ষণীয় হচ্ছেনা বলা হয়?..কোথায় আমি স্বাধীন??ব্যাসিক্যালি,কোথাও না!এ সব দেশের মেয়েদের অবস্হা দেখুনঃ

(http://www.theguardian.com/media/2012/oct/14/savile-tv-culture-of-female-harassment

http://www.theguardian.com/media/2012/oct/12/jimmy-savile-broadmoor-volunteer-role

http://www.theguardian.com/uk/2013/jan/11/jimmy-savile-police-report

http://www.theguardian.com/media/2013/jan/12/jimmy-savile-deborah-orr

http://www.theguardian.com/commentisfree/2006/mar/31/politics.ukcrime?INTCMP=SRCH

http://www.theguardian.com/world/2013/jan/10/klaus-kinski-rape-claims-daughter?INTCMP=SRCH)
কিন্তু তবু কিছু বেল্লিক(বুদ্ধিজীবী??)আছেন আমাদের দেশে যারা ওইসব দেশকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিয়ে ওদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন,বলেন:ওদের দেশের মেয়েদের মতো হতে হবে আমাদের মেয়েদের,তবেই মহিলা মুক্তি সম্ভব!আর গন্ডমূর্খ মেয়েরাও তালিয়া বাজায়,’চলো,চলো,আমরাও ওদের মতো হবো।পাশের দেশ পশ্চিমাদের অনুকরণে যেমন গায়িকা-নায়িকা-‘নাচ-বালিয়ে’ বানিয়ে বিশাল নারী দেহ নির্ভর ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলেছে,আমরাও সেভাবেই ‘উন্নত’ হবো!মাথা খাটানোর দরকার নেই;অরুন্ধতী রায় হবার দরকার নেই,কে চেনে ওঁর মতোদের?চেনেতো প্রিয়াংকা চোপড়াকে,চেনেতো সিরিয়ালের ‘খুশী’কে যারা ফেয়ার এন্ড লাভলীর এড করে ফর্সা চামড়া-শরীর দেখিয়ে বেড়ায় তাদের।দ্যান,হোয়াট আর উই ওয়েটিং ফর!আমরাও লাক্স সুন্দরী হবো!মাথা খাটানোর যত ক্ষেত্র তার সব ছেলেদের দখলে ছেড়ে আমরা কাপড়ের কোথায় কোন ছাটটা অমুক হলিউডি/বলিউডি নায়িকার মতো হলো সেই প্রতিযোগীতায় নামবো’।

আশ্চর্য লাগে যখন নামী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এইসব ‘হাই-ফাই ফ্যাশন্যাবল’ মেয়েদের দেখি হিন্দি সিরিয়ালের কাহিনী নিয়ে ঘন্টা দুয়েক আলাপ করতে,অফিসের কোন কাজ করতে গেলে চৌদ্দটা গন্ডগোল করতে,আর ইংলিশে দুই কলম লিখতে তিন কলম ভুল বানান লিখতে।আবার এরাই থার্টি-ফার্স্ট নাইটে নামী হোটেলে স্বামীর সাথে মদ খেতে যান।এরাই আমাদের ‘আধুনিক নারী’!! হলিউডি/বলিউডি অনুকরনে অন্ধ,শরীর সর্বস্ব,মাথা খালি।না,কেউ যদি বলেন,এ শুধু উচ্চবিত্তের কাহিনী,তবে তিনি ভুল করছেন।বাসার কাজের মেয়েটাও এখন ঈদে হিন্দি সিরিয়ালের নায়িকার মতো ড্রেস বানায়।গ্রামের মেয়েদের আমি কাঁধ থেকে নেটের ট্রান্সপারেন্ট হাতওয়ালা জামা পড়তে দেখেছি,গ্রামের মেয়েরাও এখন ‘আনারকলি’ পরে,ওড়না বুক থেকে গলায় তুলে নিয়েছে ওরাও কয় বছর আগেই!নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত নাকি জাতির আধার,এরাই দেশকে রিপ্রেজেন্ট করে।তো আমাদের রিপ্রেজেন্টিটিভদের এই হলো দশা!

এর শেষ কোথায়?কবে মেয়েরা জানবে তালেবান আর এ দেশীয় মোল্লা যেমন তার শত্রু,দিপিকা পাড়ুকোনে কিংবা শাকিরা-ও তার সমান শত্রু তাকে পুরুষের বগলদাবা হতে চাওয়া শোপিস বানানোর জন্যে?কবে আমরা জানবো যে বেগম রোকেয়ার বলা ২০০ রকমের আচার,৪০০/৫০০ রকমের চাটনী-মোরব্বা বানানোর সময় আমরা পুরুষের পেটের ক্ষুধা মেটাতাম আর এখন সেখান থেকে বেড়িয়ে ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আমরা তাদের শারীরিক আনন্দ/চোখের আনন্দ মেটাচ্ছি?কবে আমরা প্রশ্ন করতে শিখবো-
১.স্কুলে কেন ছেলেরা ফুল স্লিভ/হাফ স্লিভের সাথে ফুল প্যান্ট পরবে আর মেয়েরা স্কার্ট পরে পা বের করে ঘুরবে?ছোটবেলা থেকেই প্রভুর মনোরঞ্জন করা শুরু হতে হবে?
২.অফিসে ড্রেস কোডে ছেলেদের জন্যে ফুল স্লিভ,ফুল প্যান্ট আর মেয়েদের জন্যে ফ্ল্যাশি(?) ছাড়া বাকি সব জায়েজ কেন?যাতে মেয়েরা বাহু-কোমড় অবমুক্ত রেখে,আঁটোসাটো কাপড়ে খাঁজভাজ দেখিয়ে প্রভুর মনোরঞ্জন করতে পারে?
৩.বিয়েতে ছেলেরা পায়জামা-পাঞ্জাবী-শেরওয়ানী পড়বে,পাঁচ মিনিটে তৈরি হয়ে যাবে আর মেয়েরা শাড়ী-লেহেঙ্গা-ঘাগড়া পরে হাজার হাজার টাকা খরচ করে বিউটি পার্লার গিয়ে তিন-চার ঘণ্টা খরচ করে ‘মোহিনী-রমণী’ কেন সাজবে?কাদের দেখার জন্য?নাহলে বিয়ে হবেনা?
৪.পুরুষ সোনার চামুচ,সে বাঁকা হলেই কি!তাই তাদের পোশাক রংবিহীন হয়,আর নারীর জন্য দুনিয়ার রং নিয়ে কাপড়-চোপড়ের বাহার সাজিয়ে রেখেছে বস্তুবাদী দুনিয়ার বস্তুবাদী সব মার্কেট।কেন??আমরা কি ইমিটেশানের চামুচ??

এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু করো নারী,এই একুশ শতকেও না খুঁজলে আর কবে খুঁজবে?আর কতো খেলনা হবে সখার?নাকি তুমি এই-ই চাও?তোমাকে আপত্তিকর শব্দ রমণী (রমণ থেকে যার পত্তি!) ডেকে কবিতা লিখবে ওরা,আর তুমি আহলাদে গদগদ হয়ে ভাববে,‘ওয়াও!আমার পূজা-অর্চনা হচ্ছে,আমি শ্রেষ্ঠ!’ ধিক তোমার বুদ্ধিবৃত্তির!চিন্তা করতে শিখো মেয়ে,বিধাতা মাথা দিয়েছেন চিন্তা করার জন্যে,শুধু বালিশে রেখে ঘুমাবার জন্যে নয়।

বাকস্বাধীনতা কেবল মুসলিম বিদ্বেষী, গনহত্যাকামীদের জন্যে

দেশে অস্থিরতা-সহিংসতার বিস্তার রোধ করার অজুহাত তুলে, মিথ্যাচার ও বিদ্বেষ এর অভিযোগ এনে আমারদেশ, দিগন্ত টিভি, সোনার বাংলা এরকম অনেক মিডিয়া হাউসকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কোনো রকম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই। এদিকে আওয়ামী লীগের সরাসরি তত্বাবধানে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ব্লগগুলিতে, আওয়ামী সমর্থনের নামে চলছে তীব্র মুসলিম বিদ্বেষ। এটা শুধু ইসলাম বা মুসলিম ধর্ম বিদ্বেষ নয়, এটি মুসলিম নামধারী মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার মতো তীব্র বিদ্বেষ। লেখাগুলি দেখলেই বোঝা যায় এগুলি কোনো প্রাক্তন মুসলিম নাস্তিকের লেখা নয়। একজন নাস্তিকও নিজের পিতা-মাতা, আত্মীয় স্বজন, নিজ সমাজবাসীকে নিশ্চিহ্ন করার মতো বিদ্বেষ কখনোই ধারন করতে পারে না। এগুলি কেবল মাত্র অন্য ধর্মের তীব্র বিদ্বেষীদের পক্ষেই সম্ভব। আওয়ামী সমর্থকেরা, যারা অনেকেই ধর্ম পালন করার চেষ্টা করে, তারা দলীয় সমর্থনের নামে এই বিজাতীয় ধর্মবিদ্বেষকে দেখেও না দেখার ভান করছে কিংবা উৎসাহিত করছে। তাদের বিন্দুমাত্র হুশ নেই নেই স্বধর্মী অন্য রাজনীতির মানুষদের দমনের জন্যে নেকড়ে দের উৎসাহিত করার মাধ্যমে তারা নিজেরাই কতো ভয়ংকর পরিনতি কে আহবান করছে।

বাংলা ব্লগ জগতে ‘আমারব্লগ’ বেশ পরিচিতো। আওয়ামী লীগের সরাসরি তত্বাবধানে পরিচালিত এই ব্লগটিই হলো অমি পিয়াল, আইজুদ্দীন নামের ব্লগজগতের বড়ো বড়ো মহারথীদের লালনভূমি বলে পরিচিতো। এই ব্লগে বিএনপি, জামাত বিরোধিতা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানোর ফাকে ফাকে তীব্র ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া হয়। এটা এমনভাবে চলে যে সাধারন আওয়ামী সমর্থকেরা সাধারন রাজনৈতিক প্রচারণার ফাকে এই বিদ্বেষকে আলাদা করতে পারে না। এটা হলো Subliminal message এর উৎকৃষ্ট ব্যবহার। কিন্তু সময়ে, সময়ে কোনো কোনো সংবাদে এই বিধর্মী নেকড়েগুলি এতোই উল্লসিত হয়ে উঠে যে তারা তাদের নখদাতগুলি আড়াল করতে ভুলে যায় এবং এদের স্বরূপ বেড়িয়ে আসে।

সম্প্রতি আফ্রিকার এংগোলায় ইসলাম ও মসজিদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই নামে একটি বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদে ইসলাম বিরোধী মহলে তীব্র আনন্দল্লাস বয়ে যায় এবং একের পর এক ইসলামবিরোধী পোস্ট প্রকাশ করা হয়। আমারব্লগে বর্তমানে তীব্র বিএনপি বিরোধী ও আওয়ামী সমর্থক ব্লগারদের মধ্যে ঋতানৃত তূর্য্য নামের একজন আছেন। তার বিএনপি বিরোধী ব্লগার পরিচয়ের আড়ালে যে এক ভয়ংকর মুসলিম বিদ্বেষী, গনহত্যাকামী রয়েছে সেটা আর তিনি আড়াল রাখতে পারেন নি। সেদিনই “নিষিদ্ধ ইসলাম! এমনই হবার ছিলো…” (তারিখঃ সোমবার, ২৫/১১/২০১৩ – ২৩:৪৩) নামের একপোস্টে তিনি বাংলাদেশের ইসলাম ও মুসলিমদের স্পষ্ট হুমকি দিলেন বিশ্বজুড়ে গনহত্যার ভয় দেখিয়ে। তার নিজের কথাতেই,

” পৃথিবী থেকে মুসলমানদের নাম-নিশানা মুছে দেয়ার বহুবিধ কারণ আছে। আমি কেবল দু-তিনটি পয়েন্ট উল্লেখ করবো-
– মুসলমানেরা পৃথিবীকে কি দিয়েছে বা দিচ্ছে??

– এমনিতেই পৃথিবী জনসংখ্যার ভারে নূজ্ব্য তার উপরে মুসলমানেরা “মুখ দিয়াছেন যিনি, আহার দেবেন তিনি” -মনে মনে জপতে জপতে বছর বছর সন্তান উৎপাদন করেন। যেনো বিয়া করা হৈছে সন্তান উৎপাদনের মেশিন হিসেবে! আর তা হবেই বা না কেনো। কোনো এক হাদীসে আছে, নবী বলেছেন- যে মেয়ের বংশ “বহুপ্রসবা” সে মেয়েবে বিয়া করতে; বংশে বন্ধ্যা থাকলে সেখানে বিয়া না করতে। এই বিপুল জনসংখ্যা পৃথিবীর বোঝাই শুধু বাড়াচ্ছে।

– পৃথিবীর খাদ্যভাণ্ডার ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। এমনকি প্রাকৃতিক সম্পদও। আর আল্লাও সেই পৃথিবী তৈরির সময় যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়েছিলেন সেটার আপডেট করেননি। ফলে যারা দুনিয়ার জন্য বোঝা তাদের আখিরাতে পাঠাবার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এ দৌড়ে মুসলমানেরাই এগিয়ে। অবশ্য আফ্রিকার কয়েকটি দেশও ইনক্লুড হতে পারে।

সুতরাং আবারো বলছি, এখনো সময় আছে- ধর্মীয় ভাতৃত্ববোধ বজায় রাখুন। ষংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু টার্মগুলো মস্তিষ্ক থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন; আখেরে ভালো হবে। ভুলে যাবেন না- বাপেরও বাপ থাকে…”

এই বাপের বাপ বলতে কাকে বোঝাচ্ছেন এই ব্লগার তা নিশ্চই না বোঝার কারন নেই। এই রকম স্পষ্ট গনহত্যাকামী, ধর্মবিদ্বেষী লেখা স্বত্বেও আমারব্লগের মতো আওয়ামী ব্লগগুলো কোন চিন্তা ছাড়াই চলে দিনের পর দিন। আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তীর্যক মন্তব্যের ভূয়া অভিযোগে খ্যাতনামা ব্লগারদের জামিন ছাড়াই জেলে আটকে রাখা হয় মাসের পর মাস। ভবিষৎ-এ আওয়ামী লীগের শাসনের বাংলাদেশ এর চিত্র কল্পনা করতে এই ইংগিতগুলিই যথেষ্ট।

এখানে সেই ব্লগপোস্ট টির লিংক দেয়া হলো। সেই সাথে মুছে ফেলার আগেই রেকর্ডের জন্যে দুটি স্ক্রীনশট।

https://www.amarblog.com/Rheetanreeto-Tourzoo/posts/175374

Amar 2

amar

ইসলামবিদ্বেষীদের নবআবিষ্কৃত ‘তেঁতুল তত্ত্ব’ ও কিছু বিশ্লেষণ

by আজগর খান

ইসলাম ও মুসলিমের ছিদ্রান্বেষণে চিরঅক্লান্ত ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠি তথা ধর্মনিরপেক্ষ ধারার মূল ধ্বজাধারীরা সম্প্রতি একটি নতুন আবিষ্কার করে অনলাইনে ব্যপকভাবে ও বাস্তবে থেমে থেমে কিছুটা উল্লম্ফনে মত্ত হয়েছেন। ব্যক্তিচরিত্রে কালিমা লেপনের মত নারীঘটিত দলিল তন্ন তন্ন করে খুঁজেও না পেয়ে হতাশ হয়ে তারা আল্লামা শফির যারা জীবনের ওয়াজ-বক্তব্য খুঁজে খুঁজে, ঘেঁটে ঘেঁটে যাচাই বাছাই করতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত মোটামুটি দাঁড় করানোর মত একটাই তত্ত্ব পাওয়া গেল যেটাকে কিছুটা টুইস্টেড ভঙ্গিতে পরিবেশন করতে পারলে দলের যম হেফাজতের সর্বগ্রাসী প্রভাব কমানোয় ধন্বন্তরি ওষধির কাজ দিলেও দিতে পারে। তারা ধরেই রেখেছিলেন এই তত্ত্বের যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে হেফাজতকর্মী থেকে শুরু করে আপামর ইসলামপ্রিয় জনতা যারা ইসলামের সাম্প্রতিক প্রাধান্য বিস্তারে পুলকিত হয়েছিলেন তারা মুষড়ে পড়বেন। আদতে নিজেরাই গণবিচ্ছিন্ন হওয়ায় পর্বতের মূষিক প্রসবের মত এত মারাত্মক অস্ত্র নিক্ষেপ করেও এত অল্প ফলাফল পাওয়া যাবে এ আশা ঘুণাক্ষরেও তারা করেননি। যাই হোক এই পোস্টের আলোচনা আল্লামা শফির অবস্থানকে কিছুটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টাকে ঘিরেই আবর্তিত হবে।

 

সারাদেশের আলেমওলামা তথা তাওহীদি জনতা এবং সাধারণ ধর্মভীরু জনগণের কাছে আল্লামা শফি একটি অতি সম্মানিত নাম। যাঁর এক ডাকে সারা দেশের এক এক জেলায় লক্ষ লক্ষ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসে তাঁর চেয়ে আলোকিত মানুষ আর কে হতে পারে ? এই মূহুর্তে বাংলাদেশের ইতিহাসে জনপ্রিয়তম একটি নাম হচ্ছে আল্লামা শফি। উনি এবং ওনার ডাকে মানুষ কাফন পরে শাহাদাতের জন্য তৈরি হয়ে যায়, এখনো ডাক দিলে আবার আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ হবে। একমাত্র ইসলামের খাঁটি দুশমন যারা তারা ছাড়া আর বাকি সবার কাছে উনি শুধু আলোকিত না, জ্যোতির্ময় একটি নাম।

 

হ্যাঁ সরকার ও সরকাররের অন্ধ সমর্থকদের জন্য অবশ্য উনি খুবই বিপজ্জনক একটি নাম। কারণ বিএনপি-জামাতকে প্রায় হজম করে ফেলে ২০২১ পর্যন্ত নিজেরা ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশকে লুটেপুটে সর্বস্বান্ত করা ও অবশেষে ভারতের অঘোষিত উপনিবেশে পরিণত করার ব্যবস্থা যখন প্রায় পাকা _ ঠিক তখনই আল্লামা শফি আহুত স্মরণকালের বৃহত্তম গণআন্দোলনে সেই পরিকল্পনা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমানে এই হেফাজতের প্রভাবেই প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে যত্নের সাথে অপ্রতিরোধ্যভাবে হেরে ভূত হয়ে চলেছে সরকার। জনসমর্থন স্মরণকালের নিম্নতম শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে ৬৫ বছরের ইতিহাসে এই আল্লামা শফির আন্দোলনের কারণেই। সেজন্যেই আল্লামা শফি ও হেফাজত এখন সরকারি দলের আতঙ্কের আরেক নাম, যাকে যুগপৎ ভীষণ ভয় ও ঘৃণা করে সরকার এবং সরকারের অন্ধ সমর্থকরা।

 

মাওলানা শফির ওয়াজ সাধারণ ইসলামপ্রেমী মানুষের জন্য। উনি আঞ্চলিক ভাষায় ওয়াজ করেন। ইসলামে যা আছে তাই বলেছেন বাড়তি কিছু বলেন নি। আঞ্চলিক ভাষায় করা সাবলীল এই ওয়াজটি অধিকাংশ মডারেট মুসলিমদের মত ‘উচ্চশিক্ষিত’ রুচিবান’ ‘শহুরে’ মানুষদের জন্য নয়, যেহেতু না মানতে না মানতে ইসলামের খুব কম হুকুম মানার যোগ্যতাই এখন তাদের অবশিষ্ট আছে। আল্লাহর দ্বীনকে তারা মোটামুটি খেলতামাশার বস্তু বানিয়ে ফেলেছেন যেটুকু ইচ্ছা হয় মানেন, যেটুকু ইচ্ছা হয় না মানেন না। এই ওয়াজ তাদের মত মানুষদের জন্য না, যারা মানতে অভ্যস্ত ও মানতে পারেন সেইসব কম শিক্ষিত কিন্তু অনুগত সহজ সরল সাধারণ মানুষদের জন্য। সাধারণভাবে মডারেট মুসলিমদের জন্য জন্য সহজপাচ্য ওয়াজ ও ফতওয়াও মাওলানা শফি দিয়েছেন। যেমন ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটুকু পর্দা করেন বা পোষাক পরেন, সেটুকু পর্দা করলে বা পোষাক পরলেও গ্রহণযোগ্য হবে।’ মনে পড়ে এই কথাও শফি সাহেব বলেছিলেন ?

 

আগের যুগে পুঁথি পড়া হত, নামতার সুরে গ্রামবাংলার অজ পাড়াগেঁয়ে মানুষের কথ্য ‘প্রাকৃত’ ভাষায় যেসব অপভ্রংশনির্ভর পালাগান রচনা করা হত _ যার প্রতিফলন যাত্রা-পালাগানেও আমরা এখনো দেখতে পাই, সেটি আবহমান বাংলার গ্রামীণ লোকায়ত সংষ্কৃতির আবহের সাথে যতটা সাযুজ্যপূর্ণ, উপভোগ্য, ইন্টারএ্যাকটিভ _ শহুরে আধুনিক নগরসভ্যতার ঘুণচক্করের পাঁচমিশালি মিশ্রশংকর বাকপটু জটিল সংষ্কৃতি প্লাস কোলকাতার বাবুসংষ্কৃতির কুটিল মিশ্রণে ‘গোছানো’ কথাবার্তায় অভ্যস্ত শহরবাসীদের মানসিক গঠনের কাছে ততটাই দূর্বোধ্য, বিরক্তিকর। এখন শহুরে ভাষায় ওয়াজ করলে তা হবে গ্রাম্য মানুষদের কাছে দূর্বোধ্য _ তাদের জীবনযাপন-রঙ্গরসিকতা-বোধগম্যতা কিছুই শহরের মানুষদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এখন পালাগান গায়কই হোক বা ধর্মজ্ঞানী আল্লামা শফিই হন _ যার যার যে মেসেজ গ্রাম্য মানুষদের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন সেটি তাদের মত করেই তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। আমার ধারণা আল্লামা শফি এই ক্ষেত্রে মূল বক্তব্যটি পৌঁছাতে পেরেছেন।

 

বলা বাহুল্য আজকের দিনে পুঁথিপাঠ-পালাগান গ্রামের সহজিয়া সংষ্কৃতির ধারক কৃষক-শ্রমিকদের কাছে এখনো যে আবেদন রাখে, রাত জেগে পরম আগ্রহ নিয়ে সরলমনে যেভাবে তারা শোনে _ শহরের মানুষ পাঁচ মিনিট শুনলেই হাই তুলতে শুরু করবে, বিরক্তি প্রকাশ করবে। পুঁথিপাঠ-পালাগানের মতই সহজিয়া সংষ্কৃতির আরেকটি অনুসঙ্গ হচ্ছে ‘ওয়াজ মাহফিল’, যে লিংকটি দিয়েছেন সেটি গ্রামের ওয়াজ মাহফিল যাতে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করে সাধারণ গ্রামবাংলার মানুষের কাছে সহজ সরল ভাষায় কিন্তু ‘তাদের মত করে’ ‘উপভোগ্য’ করে ‘সহজবোধ্য’ করে ধর্মের বাণী পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এখন এই গ্রাম্য অডিয়েন্সের সামনে আঞ্চলিক ওয়াজকে যদি আপনি ‘আধুনিক শহুরে রুচির’ পাল্লায় মাপেন তাহলে সেটি ‘অবিচার’ হবে।

 

উপসংহার :

 

যারা আজ আল্লামা শফির বক্তব্যের ছিদ্রান্বেষণে পাগলপারা হচ্ছে তারা কারা এবং তাদের উদ্দেশ্য ও বিধেয় কি তা বাংলাদেশের আপামর তাওহীদি জনতার অজানা নেই। ৫ টি নির্বাচনে গণমানুষের কাছে তাদের অবস্থান কোথায় তাও স্পষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দলের পুরনোদের কাছেও তাদের পারফরমেন্স আজ বিপজ্জনকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় মরিয়া হয়ে তারা আত্মরক্ষার পথ খুঁজছে। হেফাজত ঝড়ে তাদের ২০০৮ এর নির্বাচনী রণতরী আজ ভাঙ্গাতরী হয়ে টালমাটাল অবস্থায় বিক্ষুব্ধ সমুদ্রে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে। বেদিশা হয়ে তাই মিশন নিয়েছে কি করে হেফাজতের প্রভাব খর্ব করা যায়। কারণ জনমনে হেফাজতের যে প্রভাব তা কমাতে না পারলে আগামী নির্বাচনে জয়লাভ তো দূরের কথা পিঠের চামড়া অক্ষত থাকবে কি না সেটাই এখন জ্বলজ্যান্ত দুশ্চিন্তা হিসেবে তাদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।

 

সেজন্যেই তারা একদিকে ইসলামবিদ্বেষীদের তোষণ করে, আরেকদিকে আলেমওলামাদের গণহত্যা করে ‘লালরঙ’ তত্ত্ব দিয়ে বিদ্রুপ করে। কোরআন নিয়ে কুৎসিত ব্যঙ্গবিদ্রুপাত্মক রচয়িতা থাবা বাবাকে শহীদ আখ্যা দেয় _ আবার নিজেরা কোরআন পুড়িয়ে জীবন্ত কোরআন আলেমওলামা-হাফেজ সাহেবানদের ওপর কোরআন পোড়ানোর অপবাদ চাপাতে কসুর করে না। এরাই একদিকে ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে সারাদেশে ধর্ষণের মহোৎসবে মেতে ওঠে _ আবার শফি সাহেবের পুরনো ওয়াজ ঘেঁটে ‘তেঁতুল তত্ত্ব’ আবিষ্কার করে নারীর দরদে দরদি হয়।

 

তবে কিনা চোরের দশদিন গৃহস্থের একদিন। এদের ছলাকলা চাতুরি শয়তানি পাবলিকের সামনে এমন স্পষ্টভাবে নগ্ন হয়ে গেছে যে এখন কোন জারিজুরিতেই আর কাজ হবে না।

[Previously published in Shodalap Blog]

Bangladesh ~ Democracy in peril ~ Extreme Destabilization on hand ?

1
Bangladesh ~ Democracy in peril

Bangladesh ~ Democracy in peril

‘Bangladesh Syndrome’ is a term widely used in global diplomatic and economic think tanks in recent decades as an ever-broken system, which is run by mostly corrupt and dysfunctional political leaderships, progressing forward just by the will and resilience of the citizens themselves. Bangladesh is a place where optimism, hard-work and hope for a better future co-exist side by side with mindless corruption, endless poverty and needless political bickering. As a country and society Bangladesh has failed to address the timely needs of its hard-working regular citizens in most of the years since the time of the inception of the country in 1971. Failing to get a functionally neutral judiciary, failure to ensure the freedom of press and freedom of expression and failure to construct a non-partisan free and fare Election system are among the few of the said failures.

Current prime minister Mrs Sheikh Hasina finishing her 2nd term as the country's head of government. She refused to go to poll in 1996 in a similar situation when then prime minister Mrs Khaleda Zia refused to step down as the head of government.

Current prime minister Mrs Sheikh Hasina finishing her 2nd term as the country’s head of government. She refused to go to poll in 1996 in a similar situation when then prime minister Mrs Khaleda Zia refused to step down as the head of government.

Path towards a multi-party-democracy for Bangladesh has not been easy. Multiple autocratic rulers have tried to install one-party democracy in the ‘70s and ‘80s and was rejected by people. After long history of revolt and political struggle finally in 1990, after the fall of then autocratic dictator H M Ershad, its seemed like that Bangladesh finally has settled into a system where all political parties can co-exist in a parliamentarian democratic eco-system. Well, we were grossly wrong in our calculation and got too hopeful too early I assume.

Vote rigging, voter intimidation and election engineering are among the list of regular corrupt political practices among political parties in Bangladesh. The facts and evidence are so historically true that nobody even denies that. As per the mis-trust of each other among political parties themselves, a ‘neutral non-partisan caretaker government’ was installed just to run the election in 90 days time frame and was constitutionalized in 1996 and so it became the law of the land – same rule for everybody.

Current opposition leader Mrs Khaleda Zia, have been prime minister of the country for 3 times previously, refuses to go to poll while prime minister Mrs Sheikh Hasina stays as the head of the government.

Current opposition leader Mrs Khaleda Zia, have been prime minister of the country for 3 times previously, refuses to go to poll while prime minister Mrs Sheikh Hasina stays as the head of the government.

On a surprise move current ruling political party Bangladesh Awami League, led by Prime Minister Sheikh Hasina, suddenly abolished the ‘neutral non-partisan caretaker government’ from the constitution and thus asked the country to go to pole while she stays as the chief executive of the country during the election time. The main opposition party Bangladesh Nationalist Party (BNP), led by 3-times Prime Minister of the country Khaleda Zia has refused to join the poll if the current Prime Minister Sheikh Hasina stays as the chief executive of the country as wide-spread vote rigging and election engineering is expected by the ruling party. In recent months all the polls, conducted by even the govt-leaning media outlets, have shown that popularity of the current ruling party has taken a deep in past 5 years and if elections are held in a free fare non-partisan way Bangladesh Nationalist Party (BNP) will win a land-slide victory.

Global democratic communities, including European Union and US Congressional body, have openly called for a free a fare election in Bangladesh where an election can not be called a ‘credible one’ without the participation of the main opposition party of last election Bangladesh Nationalist Party (BNP). There were several attempts of dialogue in both domestic and diplomatic arena but have gone in vein due to lack of willingness of the current ruling party Bangladesh Awami League to give up the chief executive position during the election time.

Social Media sites like FaceBook have been flooded by the news of the arrest of opposition supporters and activists as Govt has effectively imposed media-blockade against opposition. University teachers have been apprehended and imprisoned for their stance against govt on FaceBook.

Social Media sites like FaceBook have been flooded by the news of the arrest of opposition supporters and activists as Govt has effectively imposed media-blockade against opposition. University teachers have been apprehended and imprisoned for their stance against govt on FaceBook.

Finally the election commission of Bangladesh has declared the date to conduct poll in a nationally televised broadcast by the chief election commissioner 12 hours ago when this blog is being written. If this election goes throw as it is, this will effectively kill the essence and tradition of multi-party-democracy in Bangladesh for foreseeable future and will install a one-party-parliament by conducting a single-party-poll. Wide-spread protest and political clash has griped the country no sooner than the Election Commission announced the date for the up coming single-party-poll. Lawlessness and uncertainties about the future has made the entire country worrisome as you read. Activists and supporters of main opposition party are being mass-arrested by security forces at this very moment.

Bangladesh has experienced violent history full of bloodshed and destabilization in early '70s when failed leftists movements were fighting among themselves and with the govt.

Bangladesh has experienced violent history full of bloodshed and destabilization in early ’70s when failed leftists movements were fighting among themselves and with the govt.

Although Bangladeshis are mostly peace-loving hard-working people both the extreme-left and extreme-right are vividly present in the political eco-system. The first president of the country Sheikh Mujibur Rahman had decided not to give the extreme-lefts any sort of political accommodation during his tenure from ’72 to ’75 and Bangladesh has seen very violent bloody past of the failed leftists movements in first half of the ’70 decade. In order to restore safety and security in the country, then govt forces have defused the leftists movement through bloodshed where 40,000+ leftists were killed during that time. Extreme-rights have largely been contained by political accommodation as of yet so far. But future of this political accommodation is un-known as current ruling gov of Bangladesh Awami League has taken away the ‘right to do politics’ of Jamaat-E-Islami, the largest Islamist party in the country, for their role during the liberation war in 1971.

The absence of multi-party democracy and meaningful political accommodation will create political vacuums effective enough for the rise of fundamental Islamists.

The absence of multi-party democracy and meaningful political accommodation will create political vacuums effective enough for the rise of fundamental Islamists.

Most of 160 millions of people of Bangladesh are poor while financial concern is #1 in 85% of citizens mind. An absence of multi-party-democracy will not only destabilize the economic rhythm of the nation but also will create political vacuum for the extremists Islamist to make permanent footstep in the country. The rise of extremist Islam always takes place when political accommodation of the Islamists are not possible in a democratic eco-system. ANY political scientists will confirm this fact if you ask.

Current destabilization of the country runs the risk of extreme elements to rise and the country going back to the early ’70s where the country was an effective war-zone while govt forces are always fighting the extremists inside the country. Only difference is this time around it will be the extreme-rights.

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ও পুনরুত্থান প্রশ্ন

কানপুরের নানা সাহেব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক বৃত্তিহারা হওয়ার পরপরই কোম্পানি কর্তৃক আরও বেশ কিছু অপমানের সম্মুখীন হলেন। কোম্পানি শাসনকালে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কোন সিদ্ধান্ত মনঃপূত না হলে দেশীয় অকর্মণ্য রাজারা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্রিটেনে কোম্পানির কোর্ট অব ডিরেক্টরসদের সভায় আপিল করতেন।

কানপুরের অসন্তুষ্ট নানা সাহেবও তার প্রতি অবিচারের ফিরিস্তি তুলে ধরতে লন্ডনে একজন প্রতিনিধি পাঠালেন। এই প্রতিনিধি ছিলেন সুদর্শন সুপুরুষ আজিমুল্লাহ খান। এক সময়ের এই পরিচারক কঠোর পরিশ্রম করে ইংরেজি এবং ফারসি ভাষা রপ্ত করেন, নিজেকে সুশিক্ষিত করে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন।

আজিমুল্লাহ খান লন্ডনে কিছুদিন অবস্থান করে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেই উপলব্ধি করতে পারলেন যে কোন আবেদনে-নিবেদনেই তার মনিবের কোন লাভ হবে না। তাই তিনি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনাচক্রে তাঁর সফরকালীন সময়ে তিনি জানতে পারলেন মাল্টায় জারের রুশ সৈন্যদের কাছে ব্রিটিশ-ফরাসি যৌথ বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। এই সংবাদে আজিমুল্লাহ উৎসাহিত বোধ করলেন। তিনি সরাসরি ভারতের জাহাজে না চড়ে কনস্টান্টিপোল গেলেন। সেখান থেকে তিনি গেলেন বর্তমান ইউক্রেনের ক্রিমিয়ায়, রুশ সৈন্যদের দেখতে। তিনি নিরাপদ দুরত্ব থেকে লক্ষ্য করতে লাগলেন রুশদের যুদ্ধ কৌশল, কিভাবে ব্যাটারিগুলো থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়।

কনস্টান্টিপোলে তার সাথে দেখা হয় এক ব্রিটিশ সাংবাদিকের, নাম উইলিয়াম হাওয়ার্ড রাসেল। রাসেলের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে আলাপচারিতা হয়। তাঁর সম্পর্কে রাসেল মন্তব্য করেন, ‘ক্রিমিয়াতে যা ঘটেছে আপন চোখে দেখার এত গভীর আগ্রহ দেখে কি অবাক না হয়ে পারা যায়? একজন ইউরোপবাসীর এরকম কৌতূহল থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু অসামরিক গোত্রের একজন এশিয়বাসীর এ কৌতূহল অস্বাভাবিক নয় কি?’

আজিমুল্লাহ ঘোর নাস্তিক ছিলেন, কোনপ্রকার ধর্মীয় উন্মাদনা থেকে ছিলেন শত ক্রোশ দূরে। তাঁর জ্বলজ্বল চোখে সেদিন যে আগ্রহ খেলা করছিল তা ছিল সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদজাত। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে ব্রিটিশ বাহিনী অজেয় নয়, তাদের হারানো যায়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিল ক্রিমিয়ায় ব্রিটিশ বাহিনীর সেই প্রাথমিক পরাজয়।

আজিমুল্লাহ খানের চোখে যেই আকাঙ্ক্ষা-উন্মাদনা সেদিন দেখা গিয়েছিল, প্রায় একই ধরণের উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল নাইন-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বিশ্বে একটা বড় অংশের মুসলিমদের মধ্যে। অর্থোডক্স মুসলিমরা চিন্তা করতে শুরু করে সুরক্ষিত মার্কিন আকাশসীমার ভেতরে ঢুকে যদি এত ক্ষয়ক্ষতি করা সম্ভব হয়, তবে পৃথিবীর যেকোন দেশের যেকোন স্থানে আঘাত হানা সম্ভব। তাদের এই চিন্তাধারা প্রভাবিত করে তরুণ মুসলিমদেরকেও।

এই চিন্তাধারা যে সমগ্র পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়েছিল তার প্রমাণ পরবর্তীকালে লন্ডনের সেভেন সেভেন বোমা হামলা, ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের বোমা হামলা, মুম্বাইয়ের টুয়েন্টি সিক্স ইলেভেনসহ বহু জঙ্গি হামলার ঘটনা। একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে বাংলাদেশও পুরো পৃথিবীর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকেনি।

বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষে ইংরেজ রাজত্বের শুরুর দিকে ওহাবিরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুগের পর যুগ লড়াই করেছে। সে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ইংরেজদের জয় হয়েছে, কিন্তু ওহাবিরা অন্তর থেকে এই পরাজয় মেনে নেয়নি। তাদের ব্রিটিশ বিরোধী জঙ্গি-চেতনা তারা ধারণ করে গেছে। প্রায় আড়াই লাখ ওহাবি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিভিন্ন সময়ে শহীদ হয়েছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশে এই ওহাবিদের সমর্থকদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। খেলাফত আন্দোলনের ব্যানারে এরা ঐক্যবদ্ধ। ওহাবিরা তাদের জঙ্গি চেতনা বিভিন্নভাবে সময়ে সময়ে কাজ করেছে, তবে এই জঙ্গিবাদী চেতনা ছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী। ওহাবি তরিকার বহু মানুষ আশির দশকে শেষভাগে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যায়। সিআইএ-আইএসআইর দ্বারা প্রশিক্ষিত এই যোদ্ধারা অনেকে শহীদ হন, অনেকে যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত টিকে যায়।

প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের জঙ্গিরা মূলত আফগানিস্তানের সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ফেরত আসা ‘জিহাদি’ মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে সংগঠিত হতে শুরু করে। বাংলাদেশের জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের সূচনা ২০০১ সালের নাইন ইলেভেনেরও আগে থেকে।

আফগান ফেরত এই জঙ্গির ছোট ভাই তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা মুন্সি আনিসুল ইসলামের নামে ১৯৯৭ সালের ৩০ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পনগরীর ৭ নম্বর প্লটে চার হাজার ৫০০ বর্গফুট জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এই জমিতেই তৈরি করা হয় সেই সাবান কারখানা যেখানে পাওয়া গিয়েছিল মুফতি হান্নানের বিশালাকৃতির বোমা তৈরির উপাদান ও সরঞ্জাম।

২০০০ সালের ২০ ও ২৩ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাস্থলে দুইদফা অভিযান চালিয়ে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার সাথে তৎকালীন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ এবং গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন মুফতি হান্নান।

এছাড়া আফগান ফেরত জঙ্গিরা ১৯৯৯ সালে তিনটি ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটায়। এতে ১৮ জন নিহত হলেও আহত হন দুশতাধিক মানুষ। এই বছর সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে যশোরের টাউন হল ময়দানের বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সম্মেলনে। এ হামলায় ১০ জন নিহত হয় আহত হয় শতাধিক। এছাড়াও ১৯৯৯ সালের ৮ অক্টোবর খুলনার আহমেদিয়া মসজিদে বোমা হামলায় আট জন নিহত ও আহত হয় ৫০ জন।

আল্লাহর দল একটি সংগঠন কবি শামসুর রাহমানের বাসায় ঢুকে কবির উপর হামলা চালানোর চেষ্টাও চালায়।

২০০১ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫ পাঁচটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব বোমা হামলায় ৫৯ জনের প্রাণহানী ঘটে ।
এরমধ্যে ঢাকার পল্টনে কমউনিস্ট পার্টির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ৭ জন, রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ১১ জন, গোপালগঞ্জের বানিয়ারচরের গির্জায় ১০ জন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের অফিসে ২১ জন, বাগেরহাট জনসভায় ৯ জন, সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতা সুরঞ্জিত সেনের জনসভায় বোমা হামলায় চার জন নিহত হয়। আহত হয় কয়েক শতাধিক।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের এইসব বোমা হামলাগুলোতে অন্তত ৭৬ জন নিহত হন

১৯৯৯ সাল থেকেই মূলত ব্যাপক হারে জঙ্গি হামলা ও গ্রেনেডের ব্যাবহার শুরু হলেও ১৯৯৭ সালের ৩০ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পনগরীতে মুফতি হান্নানের ভাইয়ের জমির বরাদ্দ পাওয়া নির্দেশ করে যে, অন্তত ১৯৯৭ সাল থেকেই মুফতি হান্নান ও তার সাথীরা বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা চালানো এবং ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করে।

তৎকালীন সরকারের উদাসীনতার এবং আওয়ামী লীগের অনেক নেতার জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি গোপালগঞ্জে মুফতি হান্নানের জমি বরাদ্দ পাওয়া, সেখানে নির্বিঘ্নে বোমা তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো, কোন জঙ্গিকে না ধরতে পারা এবং পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় মুফতি হান্নানের সেই স্বতঃপ্রনোদিত ‘জবানবন্দী’।

প্রায় একই সময়ে বাংলাদেশে আরেকটি জঙ্গি সংগঠনের জন্ম হয় বাংলাদেশে- জামায়াত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেমবি)। এই সংগঠনটির সাথে আরব বিশ্বের জঙ্গিদের যোগাযোগ ও বিদেশী ফান্ড আনার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে এরা রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে কাজ করলেও পরে টুইন টাওয়ার হামলা ও এর প্রেক্ষিতে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন তাদের বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম বিস্তারে উৎসাহিত করে। 

সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলাভাইর সাথে এক সাক্ষাৎকার প্রকাশ পায় ইংরেজী দৈনিক The Daily Star-এ ২০০৪ সালের ১৩ মে। সেখানে তিনি দাবি করেন তিনি স্কুল জীবনে ছাত্রলীগ করত, পরে কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেয়। ১৯৯৫ সালে শিবির ছাড়ে জামায়াতে ইসলামী নারী নেতৃত্ব মেনে নেয়ায়

জেএমজেবির আমির আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের দুলাভাই শায়খ আব্দুর রহমান ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত সৌদি এম্বেসিতে কাজ করে বলে জানা যায়। এরপর সে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায়। এরপর আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসে। এসময় এই জঙ্গি নেতা ওহাবি মতাদর্শে প্রভাবিত হয়। শায়খ আব্দুর রহমান একসময় জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ছিল।

বাংলাদেশে এই দুই জঙ্গি নেতা জঙ্গিবাদের বিস্তারের ক্ষেত্রে মাও সে তুং-এর সেই বিখ্যাত উক্তি “The guerrilla must move amongst the people as a fish swims in the sea”-এর প্রয়োগ ঘটায়। মানুষের সাথে মিশে কাজ করতে তারা জামালপুর থেকে রাজশাহীর বাগমারায় আসে।

সীমান্তবর্তী রাজশাহী জেলায় প্রবল ভারতবিরোধী এবং ইসলামপন্থী মনোভাব তাদের এই কাজের জন্যে বেশ সুবিধাজনক ছিল। গঠন করা হয় জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি) ।

জেএমজেবি প্রাথমিকভাবে দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তারা মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রচার করে এইসব অঞ্চলের জেলাসমূহের অধিবাসীদের প্রধান শত্রু সর্বহারা বাহিনী। ফলে তারা ঐসব এলাকায় সাময়িক জনসমর্থন পায়।

রাজশাহীসহ ঐসব অঞ্চলের নেতারা, গোয়েন্দারা এবং সরকার জেএমজেবির ব্যাপারে উদাসীন থাকে, অনেকেই তাদের সমর্থন যোগায়। যার পেছনে কাজ করেছিলো পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টিসহ সকল বামপন্থী চারমপন্থীদের বিরুদ্ধে জেএমজেবিকে কাজে লাগানোর ইচ্ছা

সরকার ডিভাইড অ্যান্ড রুল খেলতে এসে জেএমজেবির ফাঁদে পা দেয়। জঙ্গিরা সারা দেশে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করে তোলে, এবং ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে পাঁচশতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালিয়ে প্রায় ৬৬ জনকে হত্যা করে জোট সরকার আমলে। এর মধ্যে ময়মনসিংহের সিনেমা হল, ঝালকাঠির দুই আইনজীবী, ব্রিটিশ হাইকমিশনার, যাত্রাপালায় বোমা হামলা উল্লেখযোগ্য। এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার উপর হুজির সেই মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে হামলা হয়।

উইকিলিকসের ফাঁস করা কেবলে দেখা যায় বিএনপি সরকারের শেষ ভাগে জেএমবির নেতাদের মৃত্যুদন্ডের পর এমনকি এর অর্থ যোগানের পথও বন্ধ করে দেয়ার পর ঢাকার ইউএস এম্বেসি মন্তব্য করে, "অবশেষে জেএমবির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া গেল"।

উইকিলিকসের ফাঁস করা কেবলে দেখা যায় বিএনপি সরকারের শেষ ভাগে জেএমবির নেতাদের মৃত্যুদন্ডের পর এমনকি এর অর্থ যোগানের পথও বন্ধ করে দেয়ার পর ঢাকার ইউএস এম্বেসি মন্তব্য করে, “অবশেষে জেএমবির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া গেল”।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের পর সরকার হুজি, জেএমজেবি ও জেএমবির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানে নামে। সারা পৃথিবীতেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ফলে জঙ্গিদের পৃথিবী ছোট হয়ে আসতে থাকে।

২০০৫ সালের ১ অক্টোবর মুফতি হান্নান, ২০০৫ সালের ২০ নভেম্বর শায়খ আব্দুর রহমানের মেয়ের জামাই ও জেএমজেবির মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুল আউয়াল, ২০০৫ সালের ৭ ডিসেম্বর আতাউর রহমান সানি, ২০০৬ সালের ২ মার্চ শায়খ আব্দুর রহমানকে সিলেট থেকে এবং চারদিন পর বাংলাভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০০৬ সালের ২৬ এপ্রিলের মধ্যে সরকার জেএমজেবির সকল মজলিশে শুরা সদস্যসহ হাজার হাজার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ১৪১টি মামলা দায়ের করে, ২২জনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া হয়।

সরকার জঙ্গি অর্থায়নের দায়ে Revival of Islamic Heritage Society নামক এনজিওর স্থানীয় অফিস বন্ধ করে করে দেয়া হয়। সর্বোপরি জেএমজেবি, জেএমবি এবং হুজির মেরুদন্ড ভেঙে দেয়া হয়; ২০০৬ সালের তিন মে তারিখে মার্কিন তারবার্তার ভাষায়- The JMB’s back really does look broken।

সফলভাবে জঙ্গিদের দমন করার পর টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন

সফলভাবে জঙ্গিদের দমন করার পর টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন

এখন প্রশ্ন হচ্ছে জঙ্গিদের উপর এত বড় ক্র্যাক ডাউনের পর কি তাদের পক্ষে পুনরায় বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম চালানো আদৌ সম্ভব কিনা?

উত্তরটা অনেক কিন্তু ও যদির সাথে যুক্ত। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যত জঙ্গি কার্যক্রমের বিস্তার দেখা গেছে তার মধ্যে প্রতিটিতেই রাজনৈতিক উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক সহায়তা কম বেশি ছিল। কোন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাই চাইবে না তাদের সরকারের সময় দেশ অস্থিতিশীল হোক, তবে স্থানীয় ইসলাম পছন্দ নেতারা নিজেদের জিহাদে শামিল করতে কিংবা কোন রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে জঙ্গিদের ব্যবহার করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

সম্প্রতি বগুড়ায় আওয়মী লীগ নেতার বাসায় জঙ্গিদের আস্তানা আর বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার, কক্সবাজারে আওয়ামী লীগ নেতার প্রশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের নেতার অবাধ বিচরণ আর কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধমন্দিরে ‘সর্বদলীয়’ হামলার ঘটনা তাই প্রমান করে।

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করা গেলে আর সরকার কঠোর হলে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম ও এর বিস্তার বন্ধ করা অসম্ভব নয়। আর নাইন ইলেভেন পর থেকে সারা পৃথিবীতে জঙ্গিদের উপর যে ধরণের কড়া নজরদারি চলছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেভাবে কাজ করছে তাতে জঙ্গিবাদের পুনরুত্থান প্রায় অসম্ভব।

তাই অহেতুক জঙ্গিবাদ নামক জুজুর ভয় দেখিয়ে এই মৃত ইস্যুটিকে মমি করার আওয়ামী প্রচেষ্টা অর্থহীন।

উগ্র ধর্মপন্থার মোকাবেলায় কাকে বেশি প্রয়োজন?

এই লেখাটি পড়ার সময় মনে রাখতে হবে যে এখানে আমি একটি মাত্র প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছি – সেটা হোলো উগ্র ধর্মপন্থার মোকাবেলার প্রশ্ন। এখানে দূর্নীতি, মানবাধিকার, অর্থনীতি এসকল প্রশ্ন Ceteris Paribas  অর্থাৎ অন্য সকল ইস্যুকে ধ্রুব ধরে কথা বলা হচ্ছে। উগ্র ধর্মপন্থিদের মোকাবেলার জন্য দুটি জিনিস দরকার: এক, এর কারণসমূহ দূর করা এবং দুই, যদি উগ্রপন্থা কেউ অবলম্বন করেই ফেলে তবে তাকে নিরস্ত করা। আমি এই দুটি দিক থেকে আলোচনাটা করতে চাই। Continue Reading

নেত্রী, অডিও লীকটা খালেদা জিয়ার দেয়া গোল নয়, আপনার ওউন গোল

sheikh-hasina-own-goal

কেমব্রিজ, ৩০ অক্টোবার ২০১৩

এইচ.টি. ইমামের বার্ধক্যে জর্জরিত স্টান্ট সত্ত্বেও শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপিই টেলি কনভার্সেশনের অডিও ফাঁস করেছে।

নেত্রী, গোলটা দিয়েছে আপনার টীমেরই প্লেয়ার, কিন্তু নিজেদের, দ্যাট মিনস আপনার নেটে। এটাকে ওউন গোল বলে। ওউন গোলের স্কোর সব সময়ে “বিরোধী” পক্ষেই কাউন্ট হয়। এটা এত প্রচার করে বলার কিছু নেই।

আর আপনি ওউন গোল খাবেন না বা কেন? আপনার এক প্লেয়ার বলেছিল আপনার বাবার জার্সি খুলে ডুগডুগি বানাবে। আরেক প্লেয়ার আপনার বাবাকে রেড কার্ড দেখানো সেলিব্রেট করতে ট্যাংকের উপর নেচেছিল। আরেক প্লেয়ার যারা রেড কার্ড দেখিয়েছে তাদের শপথ অনুষ্ঠান কনডাক্ট করেছে। এসব লোকজন আজ আপনার ফার্স্ট টীমের প্লেয়ার। এদের দেয়া গোল অপনেন্টের জালে না পড়ে আপনার জালে পড়বে, তাতে আশ্চর্যের কী আছে?
Continue Reading

সংখ্যালঘু নিরাপত্তা প্রসঙ্গ: ইসলাম কী বলে?

আসিফ সিবগাত ভূঞা

আমাদের দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সবসময়ই একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে পরিগণিত হয়। বিশেষ করে সেক্যুলার ও বামপন্থি রাজনৈতিক মহলের একটি অভিযোগ যে বিএনপি সমর্থিত জোট – যার সাথে ইসলামপন্থি দলগুলো রয়েছে – ক্ষমতায় এলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সমূহ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতার আসার সাথে সাথে এথনিক ক্লেনজিঙের একটি জোর অভিযোগ উঠেছিলো। বহু পত্রপত্রিকায়, বিশেষ করে ডেইলি স্টারে, সচিত্র কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিলো।

Continue Reading

শাহবাগ আমাদের টলারেন্স আর র‍্যাশনেলকে কতটুক প্রভাবিত করেছে?

shahbag-rationale-intolerance

কেমব্রিজ, ২৬ অক্টোবার ২০১৩

শাহবাগের সাফল্য যথারীতি জটিল আলোচনা। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই যদি এর উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে জমায়েত হয়ে একটা জায়গায় দিনের পর দিন বসে থাকা কোন অ্যাপ্রোচ হওয়ার কথা না। কারণ বিচার হচ্ছে আদালতের ব্যাপার, সাক্ষ্য প্রমাণের ব্যাপার। বিত্তবান খুনী জনপ্রতি পাঁচশো টাকা ধরে মোট দশ কোটি টাকা খরচ করে দুই লক্ষ লোককে দিয়ে আদালত ঘেরাও করলেও যেমন ন্যায়বান বিচারকের রায় বদলাবে না, তেমনি কারও কাছে সাক্ষ্য থাকলে সে আদালতে না গিয়ে জাফর ইকবালের মত শাহবাগে গিয়ে বসে থাকলেও বিচারের কোন সুবিধা হবে না।Continue Reading

Who are the communal forces in Bangladesh?

by TAJ HASHIMI for Nuraldeen

Of late, some new players have entered the arena of the so-called Communal Violence — aka “Ethnic Cleansing”, “Sectarian Conflict”, “Religious Conflict”, “Hindu-Muslim Violence” and “Muslim-Non-Muslim Conflict” — monks and clerics in Myanmar, Pakistan and elsewhere. Then again, the case of Bangladesh is quite different.

Continue Reading