শ্রমিক দিবসের চেতনা এবং প্রাসঙ্গিক দৃষ্টিকোন- মুজতাহিদ বাপ্পী

1
আমাদের প্রজন্মের একটি দোষ হচ্ছে বর্তমান পৃথিবীর কোন প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকেই আমরা সরলভাবে বিশ্বাস করতে পারিনা । মাঝে মাঝে মনে হয় একবিংশ শতাব্দী সম্পূর্ণরুপে একটা এন্টি-ট্রাস্ট ফেইজ । আমরা এমন কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে গড়ে উঠতে পারিনি যেই ব্যবস্থা বাহ্যিক উৎকর্ষের সাথে সাথে শতভাগ আত্মার প্রশান্তি এনে দেবে । এজন্যেই বিশ্বাসের ভিত্তি যেমন দুর্বল হয়েছে, মনের খুঁতখুতে স্বভাবও বেড়েছে । জেনারেশন এক্স-ওয়াই-জেড পার হয়ে আমরা এখন কোন টাইম-স্পেস ফ্রেইমে অবস্থান করছি সেটাও সুনির্দিষ্ট নয় ।যাইহোক, এরকম সন্দিহান মন নিয়ে এবারের মহান মে দিবসে কি করণীয় হতে পারে তাই ভাবছিলাম । আমাদের দেশেও দেখলাম অনেক মহল ঘটা করেই মে দিবস পালনের চেষ্টায় ব্রতী হয়েছেন । উইকিপিডিয়াতে জানতে চাইলাম মে দিবস কিভাবে পালন করতে হবে ! ওখানে বলা আছে এটা হলো উত্তর গোলার্ধের বসন্ত উৎসব । এইদিন প্যাগানদের উপাসনার জন্য বিখ্যাত । ছোটশিশুরা হোমওয়ার্ক বাদ দিয়ে সারাদিন মে-পোল নামক একটা সার্কাসের চারিদিকে ঘুরতে থাকবে, তরুণীরা কুমারী মেরী সেজে একটা ঝুড়িতে ফুল-ফল নিয়ে প্রতিবেশীদেরকে বিতরণ করতে থাকবে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সমুদ্রসৈকতে মাইলটেস্ট দিতে থাকবে, কিছু অনুষ্ঠানসর্বস্ব সুবিধাভোগীর দল মরিস ড্যান্সিং নামে রাস্তায় রাস্তায় একটা প্যাগান রিচুয়েল পালন করতে থাকবে । মে দিবসের এহেন কর্মকান্ড দেখে আমি অবাক হয়ে এনসাইক্লোপিডিয়া খুলে বসলাম ।
হায় হায়, এরাও বলতেসে মে দিবস মোটামুটি চৌদ্দ-পনেরটা উৎসবের সম্মিলিত দিন ! এ কি অবস্থা ! আমরা সারাজীবন মুখস্ত করে এলাম এটা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, শ্রমিকেরা আন্তর্জাতিক কর্মঘন্টার স্বীকৃতি আদায়ে রক্ত দিয়েছে, ঘর্ম দিয়েছে, চর্ম দিয়েছে, আরো কতো কি ! সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনেই মে দিবসের এমন ভিন্ন রুপ ! পরে বৃহত্তর কিউরিওসিটি নিয়া গুগলিং করে করে যা বুঝলাম তা হইলো পুরা মে দিবস জিনিসটা অন্যান্য আন্তর্জাতিক দিবসের মতোই নিছক একটা দাবার চাল ছাড়া আর কিছুই নয় । এই দিনে কোন শ্রমিক নিহত হয়নি । এই দিনে কোন মালিক উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত মালিকানা হারায়নি । এই দিনে কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান দুর্ঘটনায় ধ্বসে পড়তেও দেখা যায়নি । শুধুই একটা অন্ধ প্রচলনের কক্ষপথে পুরা পৃথিবী যেনো আবর্তন করে যাচ্ছে ।মে দিবসের নামে যে ঘটনাটি প্রচার করা হয় তার সাথে ভ্যালেন্টাইন দিবসের কাহিনীর মিল আছে । কারণ দুইটির একটিও কোন নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত নয় । আবার শিকাগো শহরের হে-মার্কেট রায়ট নামে যে ঘটনার বর্ণনা আমাদের কাস্তে-কোদাল চিণ্হিত লালমহলে জোরেশোরে আলোচিত হয় সেটিও ঘটেছিলো ১৮৮৬ সালের ৪ মে, পহেলা মে-তে নয় । শ্রমিকদের একটি র‌্যালি থেকে নিক্ষিপ্ত বোমা বিস্ফোরিত হয়ে সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয় । তারপর পুলিশের গুলিতে চারজন শ্রমিক নিহত হয় । তাতে একটি সাময়িক দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে বিচারের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে ফাঁসিতে মৃত্যদন্ড দেওয়া হয় । ব্যস্ এই হলো ঘটনা । যেটা আমাদের দেশে ছাড়াও পৃথিবীর বহু দেশে এখন নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র । কিন্তু সেই ঘটনাকে টেনে নিয়ে ঘুটি চালাচালি শুরু করলো রাজনৈতিক তৃতীয় পক্ষ । ১৮৮৯ সালে ফরাসী বিপ্লবের শতবর্ষ পালন উপলক্ষ্যে “সোশালিস্ট ইন্টারন্যাশনাল” নামে একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম শুরু হয় প্যারিসে । রুশ বিপ্লবের নায়ক লেনিন ছিলেন এই সংগঠনের কর্মী । অল্প সময়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়ার উপায় হিসেবে তারা শিকাগোর ঘটনা এবং পূর্বের শতাব্দিতে সংঘটিত ফরাসি বিপ্লবকে সামনে নিয়ে আসে । এইভাবে তারা ঘোষণা দেয় মে মাসের এক তারিখ হবে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, যদিও তারা নিজেরা এমন ঘোষণা দেয়ার কতটুকু সক্ষমতা বা গ্রহণযোগ্যতা রাখে সেটাই প্রশ্নবিদ্ধ । তারাই আবার ১৯১০ সালে ঘোষণা দেয় মার্চ মাসের ৮ তারিখ হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ! নিছক রাজনীতি ছাড়া একটির পর একটি দিবস ঘোষণা করা কোন দলের কাজ নয় এটা বোঝার ক্ষমতা আধুনিক বিশ্বে মোটামুটি সবাই রাখেন ! আর সত্যিই যদি শ্রমিকদের কোন স্বার্থে এই দিবস ঘোষণা করা হতো, তবে একই সংগঠন প্রলেতারিয়েত রাজনীতিতে অংশ নেবে কেন ? যাইহোক দিবসনির্ভর রাজনীতি চালিয়ে বেশিদূর যেতে পারলোনা দলটি । প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা খেয়ে তারা নিরুদ্দেশ হয়ে গেলো ১৯১৬ সালের মধ্যে । কিন্তু তাদের ফেলে যাওয়া দিবস দুখানি (মে দিবস এবং নারী দিবস) এখনো পৃথিবীর আনাচে কানাচে অসহায় মানুষের জন্য মিথ্যে আশা কুহকিনী হয়েই বেঁচে রইলো যেনো ।কারণ যতোটুকু শ্রমিকদের স্বার্থে ব্যবহার হবার কথা ছিলো, মে দিবস তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি ব্যবহৃত হয়েছে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া তৃতীয় সুবিধাবাদী গোষ্ঠির দাবার চাল হিসেবে ।এবার দেখে নেয়া যাক রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে মে দিবসের ভূমিকা কেমন ছিলো । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মে দিবস পালনের নামে নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠি সবসময় রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টায় সক্রিয় ছিলো । বিশেষ করে ১৯৩০ সালের দিকে গ্রেট ডিপ্রেশনকে কাজে লাগিয়ে তারা দিবসটি পালন করতো এবং নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, সিয়াটল প্রভৃতি স্থানে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করতো । অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকার মে দিবসের বদলে শ্রমিক দিবস অন্য দিনে নির্ধারণ করায় এই প্রচেষ্টা কখনো সফলতা পায়নি । যুক্তরাষ্ট্রে এখনো শ্রমিক দিবস পালিত হয় সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সোমবার । এমনকি কানাডাতেও শ্রমিক দিবস সেপ্টেম্বরে পালিত হয় । এছাড়া অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট জাতীয় আন্দোলনগুলো সবসময় মে দিবসের সংবেদনশীলতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে । জার্মানীতে মে দিবসকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা বাঁধানোর ইতিহাস প্রায় পঁচিশ বছরের । এমনকি ২০১০ সালেও বামপন্থী শিবিরের প্ররোচনায় বার্লিনে দাঙ্গা হয়েছে মে দিবসে । রাশিয়াতে মে দিবস মানেই বলশেভিক বনাম মেনশেভিক দ্বন্দ্ব । ২০১৪ সালের মে দিবসে সম্ভবত পুতিনের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্যে রেড স্কোয়ারে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ান ফেডারেল ট্রেড ইউনিয়ন । মুসলিম বিশ্বের মধ্যে তুরস্কে ১৯৭৭ সালে তাকসিম স্কয়ারে কম্যুনিস্টরা মে দিবস পালনের নামে যে দাঙ্গা শুরু করে তা শেষ পর্যন্ত ১৯৮০ সালের সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেষ হয় । বর্তমানে এরদোগান সরকার তাকসিম স্কয়ারে সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করার পূর্ব পর্যন্ত নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠি মে দিবসের প্রতি মানুষের সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বারবার সরকার পতনের চেষ্টা চালিয়েছে দিনটিকে উপলক্ষ্য বানিয়ে ।

 

সম্ভবত এসব দাঙ্গা-নৈরাজ্যের কথা মাথায় রেখেই ইরান, জাপান, কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি রাষ্ট্র মে দিবসের সরকারি ছুটি বাতিল করেছে । দোষ কিন্তু মে দিবসের নয় । বরং সুবিধাভোগী বিশেষ বিশেষ গং দের ট্রেড ইউনিয়নের আড়ালে দেশের শিল্প-বাণিজ্যকে রাজনৈতিক কূটচালের উপকরন হিসেবে ব্যবহার করাই মূল সমস্যা । যদি কোন সত্যিকার দেশপ্রেমিক সরকার ক্ষমতায় আসে, তবে চক্রান্তকারীদের প্রথম আক্রমণের জায়গা হয় দেশের অর্থনীতি । আর এসময় শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার নাম করে কতিপয় ট্রেড ইউনিয়ন নামের মুখোশধারী দাঙ্গাবাজ পলিটিক্যাল থাগ দের খেলা শুরু হয় । অতএব দেশরক্ষার ভবিষ্যৎ ক্যালকুলেশনে শুধু সামাজিক ইস্যু ভ্যালেন্টাইন ডে-পহেলা বৈশাখের অশ্লীলতা নিয়ে ভাবলেই চলবেনা, রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে শ্রমিক দিবসের নামে শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা এবং রাজনৈতিক স্বার্থে শ্রমিকদের ব্যবহার নিয়েও বোধহয় নতুন করে ভাবা দরকার ।

 

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে শ্রমিক সংঘের নাম আছে । অথচ শ্রমিকদের সত্যিকার বেতন-ভাতা নির্ধারণ, কাজের সুন্দর পরিবেশ তৈরি, সামাজিক সম্মান বা কোন দুর্ঘটনায় জানমালের ক্ষতি হলে সঠিক ক্ষতিপূরণের জন্যে কেউই তেমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে জানা নেই । নির্যাতনকারী মালিকপক্ষকে ভাসা ভাসা তিরস্কার, বুঝেও না বোঝার ভান, মৃদু ভৎসর্নার নীতি গ্রহণ, অর্থনীতির সঞ্চারপথে খুব একটা সুখকর ভবিষ্যৎ বয়ে আনেনা ।

 

অতএব- কেবল দিবসে দিবসে চেতনার বুদবুদ গ্রহণের পূর্বে একটু সতর্ক হবার সময় এসেছে বলেই মনে করি । আমরা চাই বছরের প্রতিটি দিন যেনো শ্রমিকেরা তাদের প্রাপ্য মর্যাদা এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা নিয়ে কাটাতে পারেন সেই পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হোক । শ্রমিকদের জন্য দুর্ঘটনা-ভাতার ব্যবস্থা করা হোক । তাদের সন্তানদেরকে যেনো লেখাপড়ায় ইস্তফা দিয়ে শিশুশ্রমিক হিসেবে অল্পবয়সে জীবিকার সন্ধানে বের হতে না হয় সেই রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা বিধান করা হোক । হয়তো তাহলেই সত্যিকার শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত হবে । নিছক দিবসের আড়ালে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি বন্ধ হবে । শ্রমিক দিবস তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে । সেদিন হয়তো “দুনিয়ার কুলি-মজুর এক হও লড়াই করো” শ্লোগানের বিপরীতে নতুন শ্লোগান হবে “মোরা সভ্যতার কারিগর- স্বদেশ করবো স্বনির্ভর” ।

 

আমায় ভাসাইলিরে, . আমায় ডুবাইলিরে

Bu Watchdog Bd

ওরা মারে, ওরা মরে…ওরা শীতলক্ষ্যার পানিতে ভাসে!

সিদ্ধিরগঞ্জ। আর দশটা জনপদের মত বাংলাদেশের আরও একটা জনপদ। পালাবদলের সাথে এখানেও বদল হয় ভগবানদের চেহারা। সাথে বদল হয় তাদের দোসর থানা পুলিশ, এসপি, ডিসি, আইন, আদালত ও বিচারক। রাষ্ট্র ও সরকারের সর্বোচ্চ পদে বসে অপরাধ ও অপরাধীদের লালন করার অভয়ারণ্য আমাদের জন্মভূমি। এখানে দস্যুবৃত্তির মাধ্যমে যেমন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করা যায়, তেমনি ক্ষমতার ছত্রছায়ায় প্রতিপক্ষকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে পোক্ত করা যায় লুটে পাওয়া সে ক্ষমতা। সিদ্বিরগঞ্জও এর বাইরে নয়। এখানেও ভগবান আছেন। তারা নিরাকার। খালি চোখে দেখা যায়না। কেবল ঘাড়ের কাছে তাদের নিশ্বাস অনুভব করা যায়। শিমরাইল টেক পাড়া এলাকার মৃত হাজি বদরুদ্দিনের ছেলে নুর হোসেন। কর্মজীবন শুরু করেন সিদ্ধিরগঞ্জ ইকবাল ট্রাক গ্রুপের হেল্পার হিসাবে। ১৯৮৯ সালে একই এলাকার ট্রাক চালক ও হেল্পার ইউনিয়নের নেতা বনে যান গায়ের জোর। ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাক চালক দাইমুদ্দিনকে উচ্ছেদ করে দখল নেন ইউনিয়নের এবং ক্ষমতাসীন দল জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে পোক্ত করে নেনে অবৈধ দখল। ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নাম লেখান বিএনপির রাজনীতিতে। ক্ষমতার সিঁড়ি টপকানোর শুরুটা হয় এখানেই। এরপর তরতর করে পদানত করেন ইউপি চেয়ারম্যানের মসনদ। ’৯৬ সালে জয়ী হন দ্বিতীয় টার্মেও। বিএনপি ছেড়ে হাত মেলান শামীম ওসমানের সাথে। বনে যান আওয়ামী নেতা। ২০০২ সাল পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় শিমরাইল মোড়ে গড়ে তোলেন চাঁদাবাজীর সিন্ডিকেট। ভগবানের চরণে নিয়মিত পূজা দিয়ে আবিস্কার করতে থাকেন সম্পদ আহরণের নতুন নতুন দিগন্ত। পরবর্তী স্টপেজ নারায়ণগঞ্জ ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ। ক্ষমতার সিঁড়ি বাংলাদেশে কখনোই মসৃণ হয়না। নুর হোসেনের বেলায়ও ব্যতিক্রম হয়নি। নজরুল ইসলাম একই এলাকার বাসিন্দা এবং ক্ষমতার সিঁড়ি টপকানোতে নুর হোসেনের প্রবল প্রতিপক্ষ। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে গিয়ে থামতে হয় নজরুল ইসলামকে। নুর হোসেনের সাথে নজরুল ইসলামের রেশারেশি ক্ষমতার রুটি হালুয়া নিয়ে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক সিন্ডিকেট, বেশ্যালয় সহ শত শত অবৈধ ব্যবসার মালিকানা নিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী লড়াই। ১৭ বছর একনাগাড়ে চলতে থাকে এ লড়াই।

10339700_10203944204584954_4392159966178853964_n

১৯৯৭ সালের ১৭ই জুলাই। মাগরিব নামাজের পর মিজমিজি চৌধুরী পাড়া এলাকায় নজরুলের ক্যাডারদের হাতে খুন হন সাইফুদ্দিন নামের এক ভদ্রলোক। পরে বের হয় ভুল টার্গেট ছিল এই সাইফুদ্দিন। নামের গোলমালে প্রাণ দিয়ে হয় তাকে। ২০০০ সালের ১৭ই আগষ্ট। নুর হোসেনের সমর্থক জহিরুল ইসলাম নামের এক সব্জি বিক্রেতা নির্বাচনী পোস্টার লাগানোর দায়িত্ব পালন করছিলেন। নজরুলের উপস্থিতিতে তার ক্যাডাররা খুন করে জহিরুল ইসলামকে। এর প্রতিদান ফিরিয়ে দিতে দেরি করেনি নুর হোসেন। তার ক্যাডাররা ১লা অক্টোবর স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে ঢুকে খুন করে নজরুলের সমর্থক যুবলীগ নেতা আবদুল মতিনকে। তারও আগে ১৯৯৬ সালে শিমরাইল মোড়ে নিহত হন আওয়ামী লীগ কর্মী আলী হোসেন। নুর হোসেনকে আসামী করা হলেও ভগবানের হাত ধরে অব্যাহতি পান মামলা হতে। নজরুলে ক্যাডার শিপন, রনি ও ফারুখ ২০০১ সালের ৩১শে মার্চ শিল্পী নামের এক তরুনীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। তার অপরাধ, বিয়ের প্রস্তাবে অনিচ্ছা প্রকাশ। ২০০০ সালের ৩রা মার্চ ধানমন্ডির ১৫ নং সড়কের ১৬নং বাড়িতে খুন হন এডভোকেট বাবর এলাহি। তদন্তে প্রকাশ পায় নজরুল ভাড়াটে খুনি দিয়ে খুন করায় তাকে। খুনের মূল্য ছিল ৫ লাখ টাকা। দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল ২০০৪ সালে নজরুলকে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করে। পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পালিয়ে যান এই নেতা। এবং ফিরে আসেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার বছর। হাইকমান্ডের নির্দেশে হাইকোর্টের আওয়ামী বিচারকগণের হাত ধরে খালাস পান খুনের মামলা হতে। ২০০৯ সালের ১৩ই অক্টোবর মিজমিজি পূর্বপাড়ার নিজ বাড়ির সামনে খুন হন বাংলাদেশ চুন প্রস্তুতকারক সমিতির সহ-সভাপতি জনাব আবু তালেব। তদন্তে পাওয়া যায় নজরুলের সংশ্লিষ্টতা।

২০১৪ সালের ৩০শে এপ্রিল। বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকা। এলাকার বুক চিড়ে বহমান শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ভাসমান কটা লাশ দেখে উৎসুক হয়ে উঠে স্থানীয় জনগণ। খবর দেয় স্থানীয় পুলিশকে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খবর দেয় আত্মীয়দের। লাশের মিছিলে খুঁজে পাওয়া যায় নজরুলের লাশ। সনাক্ত করেন তার স্ত্রী। অবশ্য ততদিনে নজরুলের পরিচয়ে কিছু উপাধি যুক্ত হয়ে হয়ে গেছে; যেমন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল চেয়ারম্যান। প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুলকে একা ভাসতে দেখা যায়নি শীতলক্ষ্যা নদীর ঠান্ডা পানিতে। সাথে ছিল তার তিন সহযোগী। সাথে কো-ল্যাটারাল ড্যামেজ হিসাবে প্রাণ হারায় এক এডভোকেট ও তার ড্রাইভার। তাদের অপরাধ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে সাংবাদিক সাগর-রুনির মত তারাও স্বাক্ষী হয়েছিল ভগবানদের বড় কোন অপরাধের।

পাঠক, এবার আসুন নজরুল ও নুর হোসেনদের কাপড় খুলে উন্মোচন করি তাদের লজ্জাশীন অঙ্গ সমূহ। অনেকের মত নজরুল-নুর গংদের জন্ম ক্ষমতার ঘরজামাই, বিশ্ব বেশ্যা সমিতির আজীবন চেয়ারম্যান জনাব হোমো এরশাদের জরায়ুতে। বেশ্যা ভোগের মত বেগম জিয়ার বাহিনীও ভোগ করে গেছে তাদের সার্ভিস। লগিবৈঠা বাহিনীর প্রধান ও ক্ষমতার জারজ কন্যা শেখ হাসিনা কেবল উপভোগই করেই ক্ষান্ত হননি, বরং জাতির গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন পচনশীল মহামারী হিসাবে। দেশের উচ্চ আদালতে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডার কাম বিচারকরাও বাইরে থাকেননি এ সিন্ডিকেটের। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়ে প্রমান করেছেন তারাও ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট খোর। চেতনার যোনিপথে ফিল্টার লাগিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধের সাথে সহবাস করছেন তাদের হীমশীতল নীরবতা এসব দানবদের উত্থানে ফার্টিলাইজার হিসাবে কাজ করেছে মাত্র। যে দেশে সরকার তার নাগরিকদের রাতের অন্ধকারে খুন করে ক্ষমতার পথ মসৃণ করার জন্য, সে দেশে নুর হোসেন তথা শামীম ওসমানরা নজরুল গংদের শীতলক্ষ্যার গভীর পানিতে সমাহিত করবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের বাতাসে এখন লাশের গন্ধ। এ গন্ধ বিচ্ছিন্ন কোন গন্ধ নয়। বরং এ গন্ধের মাথা আছে, মগজ আছে, হাত-পা আছে। গন্ধের সূত্র চাইলে তা শীতলক্ষ্যার গভীর পানিতে নয়, বরং সন্ধান করতে হবে ভগবানদের দরবারে।
http://www.amibangladeshi.org/blog/05-01-2014/1455.html

রানা প্লাজা হত্যাকাণ্ডে ‘নিখোঁজ’ ঘোষিত ১৪৬ জনকে ‘নিহত’ ঘোষনা করুন প্লিজ

২৩ এপ্রিল ২০১৩ যখন রানা প্লাজায় ফাঁটল দেখা দেয় তখনই ঐ ফাটলগুলো পর্যবেক্ষণের পর বিপদজনক ঘোষনা করে একজন প্রকৌশলী একুশে টিভিতে সাক্ষাৎকার দেন। কিন্তু সন্ধায় ভবনের মালিক সোহেল রানা সাভারের তৎকালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে বৈঠক শেষে ঐ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সোহেল রানা দুই জনই একুশে টিভিতে ভবনটি সম্পূর্ন নিরাপদ ঘোষনা করেন। (উল্লেখিত দিনে একুশে টিভির সন্ধা সাতটার খবরটির ফুটেজ আর্কাইভ থেকে যোগাড় করলেই এটা পাওয়া যাবে)।

 

২৪ এপ্রিল ২০১৩ সকালে হরতাল বিরোধী মিছিল করার জন্য যুবলীগের কর্মী সমর্থকরা রানা প্লাজার নীচে সোহেল রানার অফিসে জড়ো হয়। অন্যদিকে গার্মেন্টসের শ্রমিকরা রানা প্লাজার বাইরে জড়ো হয়ে ঝুঁকিপূর্ন ভবনে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানাতে থাকে। গার্মেন্টস এর কর্মকর্তারা বিষয়টি সোহেল রানাকে জানালে সে তার দলীয় কর্মীদের দিয়ে জোর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে শ্রমিকদের ভবনটিতে গিয়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে।

 

শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবার কিছুক্ষণ পরেই লোড শেডিং শুরু হয় এবং ভবনটির বিভিন্ন তলায় থাকা জেনারেটরগুলো একসাথে চালু হয়। এর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই রানা প্লাজা ধ্বসে যেতে শুরু করে। ধারণা করা হয়, জেনারেটরগুলোর সম্মিলিত কম্পন ফাঁটল ধরা রানা প্লাজার দুর্বল স্তম্ভগুলো সহ্য করতে পারে নাই।

 

একটি ঝুঁকিপূর্ন ভবনকে নিরাপদ ঘোষনা কারা করেছিলো, তার প্রমান টিভি ফুটেজে রয়েছে। কারা জোর করে শ্রমিকদের ঐ ভবনে পাঠিয়েছিলো তার প্রমানও বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের সাক্ষাৎকারে পাওয়া যায়। তাহলে কী কারণে এখনো এই এক বছর পরও তদন্ত শেষ হলো না? রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঝুঁকিপূর্ন ভবনকে নিরাপদ ঘোষনা করার পর সেখানে শ্রমিকদের জোর করে কাজ করানোর কারনে এই ঘটনাকে আর ‘দুর্ঘটনা’বলার উপায় নেই; বরং এটি একটি ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’!

 

রানা প্লাজার হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক রূপ দিতে গিয়ে দেয়া দুইজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির দেয়া নির্মম বক্তব্য আজো সবাইকে পীড়া দেয়। সেগুলো হচ্ছে-

“যারা মারা গেছে তারা মূল্যবান সামগ্রী সরাতে গিয়েছিলো”

“পিলার ধরে হরতালকারীরা নাড়া দেয়ায় ভবন ধস”

 

একজন মানুষ নিহত হলে তার পরিবার ও উত্তরাধীকারীরা তার সম্পদের বন্টন করতে পারে, তার জন্য বরাদ্দ ক্ষতিপূরণ পেয়ে ঐ কর্মক্ষম লোকটির ওপর নির্ভরশীল মানুষগুলো বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু নিখোঁজ ঘোষনা করলে পরিবার ও উত্তরাধীকারীরা এই ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হবার পাশাপাশি স্বজনদের ফিরে পাবার এক দুরাশা নিয়ে দিন কাটায়। বিষয়টা যে কী পরিমান কষ্টকর তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে না।

 

নিখোঁজ ঘোষিতদের স্বজনদের অপেক্ষা

নিখোঁজ ঘোষিতদের স্বজনদের অপেক্ষা

হে আমার রাষ্ট্র ও কর্তৃপক্ষ, আপনারা যদি মানবিক যুক্তি না বুঝতে চান তাহলে পাশবিক যুক্তি দিয়েই বোঝাই। ধরে নিন একটি বাক্সে ১০টি গিনিপিগ আছে। বাক্সটিকে যদি একটি ল্যান্ড রোলারের নীচে চাপা দেন তাহলে কী কয়েকটি গিনিপিগ নিখোঁজ হয়ে যাবে?

 

রাষ্ট্র ও কর্তৃপক্ষের কাছে কড়জোরে অনুরোধ করছি, রানা প্লাজা হত্যাকাণ্ডে ‘নিখোঁজ’ ঘোষিত ১৪৬ জনকে ‘নিহত’ ঘোষনা করুন প্লিজ।

 

এমন নির্মম অপেক্ষার ছবি আর দেখতে চাই না।

 

(ছবির উৎস:  ইন্টারনেট)

প্রতিবাদ। গুম, গুলি, অপহরন সংস্কৃতি। সামাজিক ও নাগরিক প্রঠিস্থান এর দায়বদ্ধতা!

2
by ফয়েজ তৈয়্যব
বিগত অর্ধ দশকে রাজনীতিবিদদের গুমের সংস্কৃতি বেশ জমজমাট অথবা ভায়াবহ আকার ধারন করেছে। সেই সাথে প্রায় এক যুগ থেকে নিয়মিত বা অনিয়মিত বিরতিতে ক্রমবর্ধমান হারে র‍্যাবের তথাকথিত ক্রসফায়ার চলছেই। যুক্ত হয়েছে পুলিশেরও এঙ্কাউন্টার। সম্ভভত বিজিবি এই ধারায় এনলিস্টেড হবার অপেক্ষায়!
এই সময়ে আমরা দেখেছি জামাতিদের মিছিলে নির্বিচার গুলির মহাসমারোহ। বিশেষভাবে মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পরবর্তীতে। আমাদেরকে বলা হয়েছিল শিবির বা জামাতিরা রাজাকার তাইদেশে থাকার অধিকার রাখে না, তাই তাদের উপর নির্বিচার গুলি চালানো বৈধ। (ঠিক এই মুহূর্তে সেই বৈধতা বহাল কিনা সংশয়ে আছি, তবে সময়ে যে হয়ে যাবে সে ব্যাপারে আমি নিঃসংশয়!)। আত্মরক্ষার নামে যে কোন আমলে বিরোধী দের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির বটিকা তো আছেই। একদিনে তাই দেশে যুদ্ধাবস্থা ছাড়াই সভ্য দেশে শতাধিক লোক নিহত হতে পারে।
রাজনৈতির মাঠে শক্তি প্রদর্শনে আপাত পরাজিত দল বিএনপি এই দশকে গুম ও অপহরন উভয়ের নির্মম শিকার বলা চলে। প্রথমে বিএনপি নিজেদের কিছু অবাধ্য নেতা কে নিজেরাই সিলেক্টেড ক্রসফায়ার করেছিল যার জন্য তারা সমাজে প্রশংসিতও হয়েছিল। (বলা হয়ে থাকে এটা ক্ষমতা আর আধিপত্যের রক্তক্ষয়ী রাজনীতিতে তাদেরকে দুর্বল করেছে )। সেই সাথে ছিল অন্যান্ন দলের সন্ত্রাসীদের ও ক্রসফায়ার। দ্বিতীয় ধাপ আওয়ামীলীগ শুরু করে, এটা একটা একমুখী গুম এবং গুলি চালানোর সরল প্রশিক্ষণ। সম্ভভত চৌধুরী আলম কে দিয়ে এই ব্যাপক হত্যা যজ্ঞের রাজনৈতিক প্লটের সুত্রপাত। এর মাত্র দুটি পর্যায়। হয় গুম ফোলোড বাই নদীতে লাশ ভেশে উঠা, নয়ত ক্রসফায়ার।  অবশ্য মুক্তিপণ আদায়ে দেশে ব্যবসায়িক অপহরনের সামান্য চল ছিল আগেই থেকেই। বিএনপি নেতা জামালুদ্দীন তাঁর প্রমান।
আওয়ামী গডফাদার কেন্দ্রিক সন্ত্রাসের ব্যাপক বিস্তারের প্রেক্ষাপটে বিএনপি আমলে সৃষ্ট এলিট ফোর্স র‍্যাব ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় কিছু চাঞ্চ্যল্লকর ঘটনায়  বিএনপি  সহ  প্রায় সব দলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী হাত্যার মাধ্যমে। মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা এতটাই নাজুক ছিল যে দেশের নাগরিক এবং দেশে অবস্থানরত ভিনদেশী সবাই এই এলিট ফোর্স এর কর্মকাণ্ড কে স্বাগত জানিয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে আমরা উতফুল্ল ছিলাম। অন্যতম একটা উদাহরণ ছিল নাঃগঞ্জের জুবদল নেতা ডেভিড হত্যা। পরিবহন খাত বন্ধন প্রাইভেট লিমিডেট নামক পরিবহন ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রক জেলার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিড র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়।রাজপথে তাঁর লাশ নগর জীবনে স্বস্তি এলে দিয়েছিল। এই অসামান্য ঘটনা আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণে ব্যাপক তাৎপর্য মন্ডিত।
অর্থাৎ আমাদের এমন এক সমাজ যেখানে আমরা বিনা বিচারে হত্যা কে জেনে বুঝে সমর্থন করছি বা করতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু দেশের বাইরে বিনা বিচারে হত্যা নিয়ে সকল মহল অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, কারন আধুনিক সমাজে এটা চুড়ান্ত অসভ্যতা।
এইসব বিনা বিচার হত্যার সমর্থনের যায়গা গুলো অত্যন্ত নাজুক যা আক্রান্ত ব্যক্তি, তার পরিবার, সংশ্লিষ্ট এলাকা  কিংবা জাতীয় পর্যায়েরও হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশেষ দলের ব্যক্তি সমর্থন তাঁর দল কর্তৃক বিনা বিচার হত্যার সমর্থনের প্লট তৈরি করে দেয়।
সরল বিশ্বাসে বলা যায়, অধিকাংশ রাজনীতিবিদই ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতি গ্রস্ত, গরীব আর রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠনকারী এবং প্রতারক হবার কারনে তাদের এই অপমৃত্যু অনেক মানুষকে ভাবায় না। বিশেষ ভাবে বলা চলে সরকারী দলের সরব বা মৌন সমর্থক রা এতে যার পর নাই উতফুল্ল হয়। উল্লেখ্য যে দুঃশাসন এর শৃঙ্খলে বন্ধী দেশে নাগরিক সমাজের শিক্ষিত একাংশ সবসময়য়েই ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভোগী হয়ে থাকে। তারা এইসময় মৌনতা অবলম্বন করেন।
এই উভয় ধারাই দুরব্রিত্তয়ায়িত রাজনীতিতে বিরোধী মত দমন এবং ন্যায় ও সত্য চর্চার বিকাশে ব্যাপক প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়া করায়। অর্থাৎ প্রথমে আঘাত আসে ক্ষমতার প্রতিপক্ষের উপর। পরবর্তী পর্যায়ে আসে নাগরিক সমাজের সেই অংশের উপর যারা সত্যিকার ভাবে দুর্নীতির বিরোধিতা করে, সুশাসনের কথা বলে, চুরি ঠেকানোর কথা বলে কিংবা রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনা চলা বা রাষ্ট্রীয় প্রঠিস্থানের ক্ষমতায়নের কথা বলে অথবা ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলে। এই দ্বিতীয় স্তরের আঘাতেই আসলে দেশ আর তাঁর স্বায়তসাশিত সঙ্ঘঠন সমুহু বিলীন হতে থেকে। বাংলাদেশে এই ধারা ১৯৭২ ই শুরু হয়। পরবর্তী প্রতিটি সরকার একে বেগবান করেছে। বর্তমান আমলে ইহা মহামারীর এক ভয়ঙ্কর বিপর্যস্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নাগরিক সমাজ এই অপশাসনের প্রতিবাদ বিরোধী দলের কাছে আশা করে, কিন্তু চারিত্রিক সংঘর্ষ না থাকায় বিরোধীরা দুর্নীতি ও প্রাঠিস্থানিক ধ্বংস সাধনের এই কর্মকাণ্ডে মৌনতা দেখায়। শুধুমাত্র লাভের যায়গাটি ব্যতিরেকে।  কিন্তু কাউকে না কাউকে প্রতিবাদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব না নিলে একটি রাষ্ট্র সফল টিকে থাকে না। অর্থাৎ গরীবের আর্থিক মুক্তি আর সামাজিক নিরাপত্তার রাষ্ট্রীয় লক্ষ বহাল থাকে না। থাকে শুধু ধনী আর ক্ষমতাসীন তোষণের একটা অন্যায় আর অবিচারী ব্যবস্থা। বাংলাদেশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও যাতনাদায়ক পথে অগ্রসরমান।
রাজনৈতিক দল সমুহের কে বা কারা দুর্নীতি, অপশাসন, লুটপাটের বর্তমান সুবিধাভগী বা কারা অতিত সুবিধা ভোগী ছিল, সেই চরিত্র নির্ণয়ের পাসাপাশি আমাদেরকে আমাদের রাষ্ট্রের অঙ্গ প্রঠিস্থানের চরিত্র নির্ণয় করতে হবে। যাতে করে একটি প্রঠিস্থানিক সত্ত্বা বিদ্যমান থাকে  যা নাগরিক ও তার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কে সুরক্ষা দিবে।
উদাহরণ স্বরূপ বর্তমান ও সাবেক আমলে যাওয়া কিছু অঘটন আলোচনায় আনবো।
এই আমলে রাষ্ট্রের একাধিক আর্থিক প্রথিস্থান এ যার পর নাই লুটপাট হয়েছে (শেয়ার বাজার, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক), আদালত কে তাঁর মৌলিক বিচারকি কাজে বিরত রেখে রাজনৈতিক  সমস্যা সমাধানে ব্যাস্ত রাখা হয়েছে,
কৃষি পণ্য পরিবহন এর চেইন নষ্ট করা হয়েছে,
দৃষ্টিকটু ভারত তোষণে নদী ও নদীর পানির জলাঞ্জলি দেয়া হয়েছে,
ভারতকে ফ্রি সড়ক, নৌ ট্রানজিট দেয়ার পরিকল্পনা হয়েছে,
টেলি ট্রানজিট দেয়া হয়েছে,
বিদ্যুৎ ট্রানজিট দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে,
ব্যাপক হারে প্রশ্ন ফাঁস করে পাশের হারের ব্যাপকতা বাড়ানো হয়েছে,
ঘোষণা দিয়ে সরকারী নিয়োগে দলীয়করন করা হয়েছে,
প্রসাশনে অপসন্দের কর্মকর্তা দের ও এস ডি করামকরত,
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আন্দলোনে আদালত পুলিশ আর দলীয় কর্মী দ্বারা  বাঁধা দেয়া হয়েছে
লজ্জাজনক ভাবে নির্বাচন কিমিশন কে দলীয় কার্যালয়ে পরিনত করা হয়েছে
দুর্নীতি দমন কমিশন কে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে
রাষ্ট্রের নির্বাহী ও তার পরিবার সরাসরি একটি সেতু বিষয়ক কেলেঙ্কারি তে জড়িয়ে দেশের অবকাঠামো খাতের সহনীয় ফান্ডিং হারিয়েছে
ডেস্টিনি বা অন্যান্য কো অপারাটিভ সমিতির যোগসাজশে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কারী দের মূলধন গায়েব করা হয়েছে। দলীয় ছাত্র সংঘটন এর দৌরাত্বে একাডেমিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট
অর্থ পাচার
ব্যক্তির অনুকুলে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ খাতের অতীব ব্যবহুল স্বল্প মেয়াদের প্রকল্প চালু
গুম সংস্কৃতির আবির্ভাব
অসম চুক্তি সাধন
জঙ্গী সংস্কৃতি কে রাজনৈতিক ফায়দার মোড়কে পুনর্বাসনের চেষ্টা
ইত্যাদি
পূর্ববর্তী সময়ের উল্লেখ যোগ্য অঘটনঃ
দুর্নীতির প্রাঠিস্থানিকি করন
সমান্তরাল প্রশাসন সৃষ্টি
অর্থ পাচার
কৃষক এর উপর গুলি
বিদ্যুৎ খাতে অবহেলা
ক্রসফায়ার
অসম চুক্তি
জঙ্গী সংস্কৃতি কে গুরুত্ব না দেয়া
ইত্যাদি ইত্যাদি
উপরের প্রত্যেকটি অঘটনের সাথে নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তায় আঘাত হানার ব্যাপার জড়িত। সেই সাথে আছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার সমস্যা তৈরির অদূরদর্শী ব্যাপার সমূহ।
তাই আজ যখন পরাজিত বিরোধীরা নাগরিক স্বার্থের অনুকুলে নেই বা অসমর্থ, তখন প্রয়োজন আমাদের চিন্তাশীল নাগরিক, নাগরিক সংঘটন, রাষ্ট্রীয় সংঘটন এর মিলিত শক্তি। আর এই পর্যায়ে আঘাত আসবে অরাজনৈতিকের উপর যারা কিনা সত্যিকারের নীতিবান, অথবা সেই সব সঙ্ঘঠন এর উপর যারা নাগরিকের স্বার্থ তার ভবিষ্যৎ, তার আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বলে, যারা সুশাসনের কথা বলে।
ফ্রেডরিক গুস্তাভ এমিল মার্টিন নাইমোলার এর বিখ্যাত কবিতা First They Came এর কিছু লাইন (অনুবাদ) দিয়ে শেষ করব। আমাদের জাতীয় জীবনে যেন সেই অবস্থা  আর সময় না হয়, যখন আমরা প্রতিবাদের চরিত্র দ্বন্দের ফাঁদে হারিয়ে ফেলব, যখন স্বম্ভিত ফিরে পাব তখন বড্ড দেরি হয়ে যাবে আর সেই সময় ব্যক্তির উপর নির্বিচার খড়্গ নেমে আসবে। এই আঘাত সম্মিলিত। ক্ষমতাসীন, তার উচ্ছিষ্ট ভোগী বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া, সাম্রাজ্যবাদী আর অর্থনৈতিক আগ্রাসী, দেশি বিদেশী কর্পোরেট সবাই ভিন্ন ভিন্ন বা সম্মিলিত ফ্রন্টে আঘাত হানবে।
গনতন্ত্রায়নের ২৫ বৎসর সব আমল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে পরখ করার পর আমাদের সব নাগরিকেরই মেনে নিতে হবে “সরকার তোমার বন্ধু নয়”। ক্ষমতা বলয় জনস্বার্থে কাজ করে না। সতরাং প্রতিবাদ ই বিকল্প।
First They Came  (অনুবাদ)
ফ্রেডরিক গুস্তাভ এমিল মার্টিন নাইমোলার
প্রথমে ওরা এলো কমিউনিস্টদের ধরতে, আমি প্রতিবাদ করিনি­
কেননা আমি কমিউনিস্ট ছিলাম না।
তারপর তারা সোস্যালিস্টদের ধরতে এসেছিল, আমি প্রতিবাদ করিনি­
কারণ আমি সোস্যালিস্ট ছিলাম না।
তারপর তারা এলো ট্রেড ইউনিস্টদের ধরতে, আমি প্রতিবাদ করিনি­
কারণ আমি ট্রেড ইউনিয়নপন্থী ছিলাম না।
তারপর তারা এলো ইহুদিদের ধরতে, আমি প্রতিবাদ করিনি­
কারণ আমি ইহুদি ছিলাম না।
তারপর ওরা আমাকে ধরতে এলো­
তখন আর আমার হয়ে প্রতিবাদ করার কেউ ছিল না।

প্রথম বাংলা গে প্রাইড

image_73073.gay-rally

by আমান আবদুহু

সমকামিতা নতুন কোন ব্যাধি না। এর সাথে আমার প্রথম পরিচয় ক্লাশ ফাইভে।

বৃত্তি পরীক্ষার জন্য আমরা ভোরবেলায় জাহিদ স্যারের বাসায় গিয়ে অংক পড়তাম। আমাদের মধ্যে মাহমুদ ছিলো একটু বেশি সুন্দর। চট্টগ্রামের ভাষায় যাকে বলে লাল-পোয়া। স্যারের বাইরের রুমে প্রাইভেট পড়ানোর টেবিল ইউথ বেঞ্চি ছিলো। একদিন স্যার কি একটা কাজে ভেতরের রুমে গেছেন। উনার কলেজপড়ুয়া শ্যালক মফিজ এসে মাহমুদের পাশে বসলো। আমি তেমন কিছু খেয়াল করিনাই। অংক নিয়ে ঘাম বের হয়ে যাচ্ছে। একটু পড়ে স্যার আসার পর হঠাৎ মাহমুদ বলে উঠলো, স্যার, মফিজ ভাই আমাকে দিয়ে উনার *** ধরাইসে।

আমরা সবাই চমকে উঠলাম। তারপরেই জাহিদ স্যার স্বমুর্তিতে আবির্ভাব হলেন। সে কি মাইর! তখন এক ধরণের বেত নতুন এসেছিলো, বাদামী রংএর বৃত্ত ওয়ালা। আমরা ডাকতাম কেরাত বেত। সেদিন মফিজের সর্বাঙ্গে স্যার তিন চারটা কেরাত বেত ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। লিটারালি মাথার চুল থেকে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত। আর স্যারের বউ পর্দার আড়াল থেকে বারবার ডাকছিলেন আর থামতে অনুরোধ করছিলেন।

নিজে ভিকটিম হলাম ক্লাশ নাইনে উঠে। কিছুদিন ঢাকায় ছিলাম। প্রতিদিন সকালে বাসে করে মীরপুর থেকে ফার্মগেট যেতাম। শুরুর দিকে ভীড় থাকতো না, কাজীপাড়া শেওড়াপাড়া যেতে যেতে বাসের ভেতর দমবন্ধ ভীড় হয়ে যেতো। আমি আইল সিটে বসে আছি। হঠাৎ টের পেলাম কাঁধের নিচে বাহুতে একজনের উত্থিত অঙ্গ চেপে আছে। মনে করলাম ভীড়ের চোটে হইসে। ঝুঁকে সামনের সিটে মাথা রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। তারপর ঐ লোকও একটু সরে এসে আবার। তখন আবার নিজের সিটে হেলান দিয়ে বসলাম। আবার। লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি ক্লিনশেভ ত্যালতেলে চেহারার চল্লিশ পয়তাল্লিশ বছর বয়স্ক এক লোক। উদাসী দৃষ্টিতে বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে প্রচন্ড মনযোগের সাথে মানুষজন গাড়িঘোড়া দেখে যাচ্ছে। ভেতরে কি হচ্ছে তার যেন কোন খবর নাই। বললাম, ভাই সরে দাড়ান একটু। আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে সরে দাড়ালো।

দুইতিনদিন পরে আবার। হুবহু একই ঘটনা। একই লোক। এবার প্রথমবারেই মেজাজ চড়ে গেলো। বমি আসতেসিলো। সিট ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে পেছনে চলে গেলাম। এর কয়েকদিন পরে দেখি ঐ লোক আবার। তবে এইবার ঠেকায় নাই। আমি যে সিটে বসে আছে, তার কয়েক সিট সামনে দাড়িয়ে আছে। মাঝে মাঝে চোখাচোখি হলো। এর কয়েকদিন পর আমি জানালার পাশে সিট পেয়ে বসে আছি। কেন জানি অন্যমনস্ক ছিলাম। হঠাৎ পায়ের উপর কেউ হাত রাখাতে তাকিয়ে দেখি আমার সেই বন্ধু আমার পাশেই সিট পেয়ে গেছে। এবং আমি তাকানোতে হাত না সরিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, বাবু তোমার নাম কি? মুখে সেই ত্যালতেলে হাসি।

হালার পুত হালা। লম্বায় তখন আমি তার চাইতে এটলিষ্ট একফুট উঁচা। মাত্র শেভ করা শুরু করেছি। জাহাঙ্গীর স্যারের কাছে সপ্তাহে তিনদিন গিয়ে ইচ নি সান সি গো বলে চিৎকার করে গলা ফাটাই। আর আমারে ডাকে বাবু?? ব্যাগের বাইরের পকেটে একটা লার্জ সাইজের স্ন্যাপ-ব্লেড থাকতো তখন। বাংলাদেশে বলে এন্টি কাটার। টাকা পয়সা জমিয়ে কিনেছিলাম, এসডিআই ব্রান্ডের। প্লাস্টিকের না। বাইরের কাভারটাও চকচকে স্টিল বা এলুমুনিয়ামের ছিলো। একটু জং ধরতে শুরু করলেই ব্লেড বদলে ফেলতাম। বের করে ব্লেডটা ঠেলে বের করলাম। তারপর তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, ঐটা যদি গায়ে লাগে তাইলে কেটে দিবো। এখন হাত সরান।

দাড়ানো কয়েকজন তাকিয়ে ছিলো। আর ঐ বেচারা স্প্রিং এর মতো লাফ দিয়ে সিট থেকে উঠে পেছনের দিকে চলে গেলো। আর কোনদিন দেখিনাই তাকে।

এর অনেক বছর পরে অন্য একটা ঘটনার কথা জেনেছিলাম। তেমন কিছু করার ছিলো না। চেষ্টা করেছিলাম প্রতিবিধানের, কিন্তু আমার আওতার বাইরে ছিলো। এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেখেছি। জানি, এই বিকৃতি বাংলাদেশের সমাজে প্রচুর আছে। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা আত্মীয়দের হাতে নিগৃহীত হয়। তাদের মধ্যে অনেকে বড় হয়ে নিজেরাই নিগ্রহকারীর ভুমিকা নেয়। বাকীদের জীবনে মানসিক ট্রমা থেকে যায়, সারাজীবন কষ্ট দেয়।

আবার সমকামী জুটির মধ্যে সত্যিকার ভালোবাসা বা মানসিক টানও দেখেছি। দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছি। কিন্তু রোগ রোগই। কোন অজানা কারণে একজনের বেডসোর থেকে কেলভিন ক্লাইনের সুগন্ধি আসতে শুরু করলেও বেডসোরের পচন ও ক্ষতির পরিবর্তন হয়ে যাবেনা।

সবাই পুরুষ সমকামীদের দিকে ফোকাস করছেন। আমার ধারণা, বাংলাদেশে নারী সমকামী কম না। বরং বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। তাদের বিষয়টা বাইরে প্রকাশ হয়না। কিছু ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা যে দেখেছি বা জেনেছি, তার অনেকগুলোর ভিত্তিতে এ ধারণা। ছেলে মেয়ে যাই হোক, এরা সবাই মানসিক ভাবে অসুস্থ। এদেরকে জাহিদ স্যারের মতো ধোলাই দিলে কোন লাভ হবে না। ভালো কিছু হবে না। এদের কাউন্সেলিং দরকার, সামাজিক প্রেষণা দরকার সুস্থ জীবনযাপনের জন্য। পিতামাতা এমনকি দরকার হলে শিশু-কিশোরদেরও পর্যাপ্ত মাত্রায় সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার।

এ সমকামিতা অনেক পুরনো ব্যাধি হলেও, নতুন ব্যাধি হলো এর সামাজিক আত্মপ্রকাশের চেষ্টা। মানুষের ইতিহাসে এমনটা খুব বেশি দেখা যায়নি। আধুনিক যুগেও এটা আগে ছিলো ব্যাক্তিগত বিকৃতি। সামাজিকভাবে অপরাধ ছিলো। সুতরাং অনেক পটেনশিয়ালিটি আর বাস্তবে আসতো না। এখন এর জন্য উৎসাহমূলক পরিবেশ তৈরী হবে আস্তে আস্তে। একদিন আমার ছোট ভাই বা বোন হয়তো ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবে, প্রাউড টু বি এ হোমো!!

এখন এই বিকৃতিতে সুন্দর শব্দে এলজিবিটি নাম দিয়ে ডাকা হচ্ছে। ভার্সিটির মেইল আসে, নিচে রংধনু চিহ্ন দিয়ে লেখা থাকে, উই প্রাকটিস ডাইভার্সিটি। চুলের ডাইভার্সিটি। এবং এই শয়তানিকে মানুষের চিন্তায় সহ্য করিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন দেশে এরা সমকামিতার গর্ববোধক মিছিল বা গে প্রাইড প্যারেড বের করে। রাস্তাঘাটে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে ঘুরে বেড়ায়।

এই গর্ববোধক মিছিল শেষপর্যন্ত বাংলাদেশেও শুরু হলো। পয়লা বৈশাখে ঢাকায় প্রগতিশীল মঙ্গলযাত্রার সাথে এইসব সমকামিদের রঙীন শোভাযাত্রা দেখা গেলো। অনেকে বলছেন, একদিন বাংলাদেশে গে প্রাইড প্যারেড হবে। হবে কি? হয়েই তো গেছে। এইটা একটা বিশাল ঐতিহাসিক ঘটনা।

সুতরাং অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন। অভিনন্দন প্রিয় লেখক শফিক রেহমানকেও। তিনি এদেশে ভ্যালেন্টাইনস ডে এনেছেন। কড়া ষ্টিগমা না থাকলে এলজিবিটি রাইটস ও আনতেন বলে অনুমান করি। তিনি এখন যা করবেন তা হলো গে প্রাইড প্যারেডের ইতিহাস, দুনিয়ার কোথায় কোথায় হয় এবং কি হয়, তার সাথে রাজনৈতিক কিছু ঘটনা যেমন মালয়েশিয়াতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে সডমির মিথ্যা চার্জে ঘায়েল করার চেষ্টা, এসব মিলিয়ে মিশিয়ে একটা লেখা লিখবেন।

আরও অভিনন্দন জানাই সমস্ত শাহবাগি প্রগতিশীল চক্রকে। অভিনন্দন নাস্তিকচক্রকে, যারা দীর্ঘদিন থেকে বাংলা অনলাইনস্ফিয়ারে সমকামিতা এমনকি পশুকামিতা বা পারিবারিক অজাচারের পক্ষেও ওকালতি করে যাচ্ছেন। অভিনন্দন বাঙালী সংস্কৃতি বনাম ধর্মকে, যা উদযাপনের সুযোগে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম মার্দি গ্রাস প্যারেড হয়ে গেলো। পয়লা বৈশাখের দিনে এই কাজ হওয়াটা একটু কৌতুহল-উদ্দীপক। চারুকলা-টিএসসি-শাহবাগি কেন্দ্রিক প্রগতিশীল, যারা আবহমান বাঙালী সংস্কৃতি নির্ধারণ করেন, তাদের অনুষ্ঠানের সাথে সাথে এই অনুষ্ঠান উদযাপন উড়িয়ে দেয়ার মতো কিছু না। আজ থেকে পাঁচ-দশ বছর পরে গিয়ে কি তাহলে বাংলা গে প্রাইড শোভাযাত্রা করাটা মঙ্গল শোভাযাত্রা আর পান্তা-ইলিশের মতোই নববর্ষ উদযাপনের আরেকটা অংশ হয়ে দাড়াবে?

সমূদ্র স্নান বিশেষ করে সেন্ট মার্টিনে যাবার আগে জেনে নিন

3

সরকারী কলেজে চাকরী করার সময় পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবেই শিক্ষার্থীদের ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা সফরে নিয়ে যেতে হতো। মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা সব সময়ই কক্স বাজার, সেন্ট মার্টিন যেতে চাইতো। সেই সময়ের অভিজ্ঞতার আলোকেই কিছু কথা বলছি। হয়তো এই কথাগুলো কেউ পড়লে এবং মেনে চললে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মত অনাকাঙ্খিত প্রাণহানি আর ঘটবে না।

১/ আপনি সাঁতার জানেন তো? সাঁতার না জানলে সমূদ্রে আপনার নিরাপদ এলাকা হচ্ছে, ভাটার সময় গোড়ালি পর্যন্ত আর জোয়ারের সময় হাঁটু পর্যন্ত (তাও যদি আশেপাশে সাঁতার জানা লোক থাকে)

২/ সমূদ্রে নামার আগে জেনে নিন জোয়ার চলছে, না ভাটা চলছে। ভাটার সময় সমূদ্রে নামা ভয়ঙ্কর বিপদজনক! খুব বেশি নিরুপায় হলে ভাটার সময় বড়জোর পায়ের গোড়ালি ভেজাতে পারেন, এর বেশি নয়।

৩/ জোয়ারের সময় যদি সাতার কাঁটতে বা গোসল করতে পানিতে নামতে চান, তাহলে প্রথমে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জেনে নিয়ে নিশ্চিত হোন কোন জায়গাটা সাতার/গোসলের জন্য নিরাপদ। সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ কক্সবাজারের বিশাল সৈকতে সাতারের অভিজ্ঞতা নিয়ে টেকনাফ বা সেন্ট মার্টিনের সৈকতে সাতার/গোসল করতে নেমে বিপদে পরে। এই বিষয়টা ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নিন যে, কক্সবাজারের মত এত ধীর ঢালের এবং দীর্ঘ সৈকত পৃথিবীর খুব কম জায়গাতেই আছে। তাই হাটু পানি থেকে কোমর পানিতে যাবার আগে অবশ্যই দশবার চিন্তা করুন। ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন ওখানে কোন বিপরীত তলদেশীয় স্রোত বা ডুবো গর্ত আছে কী না।

৪/ আপনি নিশ্চিত সাঁতার জানেন। কিন্তু এটা খেয়াল আছে কী কতদিন আগে আপনি শেষবারের মত সাঁতার কেটেছেন? এ কথা সত্যি যে সাঁতার শিখলে তা ভোলা সম্ভব না। কিন্তু সাঁতার হচ্ছে একটি কঠিন ব্যায়াম যাতে শরিরের প্রায় প্রতিটি পেশি কাজ করে। যে কারণে দীর্ঘদিন পর সাঁতার কাটতে গেলে অনেক সময় পায়ের পেশি সংকোচন সমস্যা (কাফ মাসল বা থাই মাসল পুল) দেখা দেয়। পেশি সংকোচন হলে যে যন্ত্রণা হয় তাতে সাঁতার অব্যাহত রাখা মুশকিল হয়ে পরে। এই কারণে সমূদ্রের গভীর এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে অনেকে সাতার জানা থাকার পরও ডুবে যান।

৫/ সেন্ট মার্টিনে গিয়ে কখনো জেটি থেকে নেমেই ডান দিকের (দ্বীপের পূর্ব দিক) সৈকত ধরে আগাবেন না (ম্যাপে নীল চিহ্নিত দাগ)। তা না করে বরং মূল রাস্তা ধরে দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম অংশে চলে যান। সেখানে গিয়ে সমূদ্রে নামুন। তারপরও জোয়ার-ভাটার বিষয়ের সাথে সাথে খেয়াল রাখুন সেন্ট মার্টিন একটি প্রবাল দ্বীপ। এর সৈকত খুবই সংকীর্ণ এবং এখানে হাটু-পানির চেয়ে বেশি দূরত্বে যাওয়া মোটেই নিরাপদ নয় (তা আপনি যত বড় সাঁতারুই হোন)।

সেন্ট মার্টিনের বিপদজনক সৈকতের মানচিত্র

৬/ জেটি থেকে নামার পর নিতান্তই যদি আপনি সৈকতে হাটার লোভ সামলাতে না পারেন, তাহলে নীল দাগ ধরে হাটতে চাইলে হাটুন। তবে সাবধান! কোন ক্রমেই পানিতে নামবেন না। একবার পানিতে নামলে আপনার আর উঠতে ইচ্ছে করবে না এবং হাটতে হাটতে আপনি সেন্টমার্টিনের মৃত্যু অন্তরীপ উত্তর-পূর্ব সৈকতে চলে যাবেন। দ্বীপের এই সৈকতে পরষ্পর বিপরীতমূখী পৃষ্ঠ ও তলদেশীয় স্রোতের কারণে অনেকগুলো ডুবো গর্ত তৈরী হয়েছে। তাছাড়া তলদেশীয় বিপরীত স্রোত (বটম কারেন্ট) আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং অবশ্যই এই লাল চিহ্নিত বিপদজনক এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে সফরে যাবার বাজে অভিজ্ঞতার দিক হচ্ছে, ওখানে গেলে ওরা কেউ আর আমাদের কথা শুনতে চায় না, নিষেধ মানতে চায় না। ওরা স্বাধীনভাবে সব কিছু করতে চায়; সাহস দেখাতে চায়। অভিজ্ঞদের পরামর্শ না শুনে এবং অতিরিক্ত সাহস দেখিয়ে আর কোন জীবন যেন ঝরে না যায় সে বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে বোঝানোর প্রয়োজন অনুভব করছি।

রাষ্ট্রের প্রতি আমার কোন দাবী নেই। টানা পনেরো বছর পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা বিধানের অনুরোধ করে উপেক্ষিত হবার পর এটা বুঝেছি যে, রাষ্ট্র শুধু আমাদের মত আম জনতার কাছ থেকে নিতেই জানে। তারা দেয় কেবলমাত্র উঁচু তলার মানুষকে। তাই আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের নিজেদেরই দেখতে হবে।

পরিশেষে ওয়ার্ল্ডভিউ-২ উপগ্রহ থেকে তোলা ছেঁড়া দ্বীপসহ সেন্ট মার্টিন দ্বীপের একটি ফলস কালার ইনফ্রারেড কম্পোজিট ইমেজ।

সেন্ট মার্টিনের উপগ্রহ চিত্র

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সরকার: এদেশ – ওদেশ

1

শিবলী সোহায়েল

 

মোবাইলটা বেজে উঠতেই রিমি ফোন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ভাবল কোন ওভারসিস কল হবে। ফোনটা রিসিভ করেই বুঝল ঠিকই ধরেছে, রাজিতের কল। গাল ভরা হাসি নিয়ে রিমি বলল, কি খবর? অনেক দিন পর?

– হ্যাঁ অনেকদিন পর। আজ এখানে অস্ট্রেলিয়ায় হারমনি ডে মানে সম্প্রীতি দিবস তো তাই সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব বন্ধুদের ফোন করে খবরাখবর নিচ্ছি।

– ও তাই? তো তোমাদের এই সম্প্রীতি দিবস টা কি? প্রশ্নটা করেই রিমি ভাবল এবার শুরু হবে রাজিতের তত্ত্ব কথা। শুনতে অবশ্য খারাপ লাগেনা। জানা যায় বেশ কিছু আর নিজের ভাবনাগুলোও শেয়ার করা যায়।

রাজিত সোৎসাহে শুরু করল, প্রেমপ্রীতি ছাড়া যেমন সংসার টেকে না, তেমনি সম্প্রীতি ছাড়াও দেশ টেকে না। অস্ট্রেলিয়া তাই প্রতি বছর ২১ শে মার্চ পালন করে সম্প্রীতি দিবস। আদিবাসীরা ছাড়াও এখানে বসবাস করে পৃথিবীর কোনা-কাঞ্চি থেকে উড়ে আসা, ভেসে আসা হাজার ধর্মের, হাজার বর্ণের, বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষেরা। ভিন্নতা সত্ত্বেও সবাই যেন একে অপরকে শ্রদ্ধা করে মিলেমিশে থাকে সেটাই উদ্দেশ্য। এই দিন বাচ্চারা সবাই নিজ নিজ সংস্কৃতি অথবা ধর্মীয় পরিচয় বহন করে এমন পোশাক পড়ে স্কুলে যায় আর একসাথে গান ধরে-

“উই আর ওয়ান বাট উই আর মেনি

এন্ড ফ্রম অল দি ল্যান্ডস অন আর্থ উই কাম

উই শেয়ার এ ড্রিম এন্ড সিং উইথ ওয়ান ভয়েস

আই এম, ইউ আর, উই আর অস্ট্রেলিয়ান…”

আমার সাত বছরের মেয়েটাও যাচ্ছে টুকটুকে লাল শাড়ী পড়ে। তাও আবার কুঁচি দিয়ে না, ঐ যে গ্রামের মেয়েরা যেমন করে পড়েনা সেই রকম। ফুটফুটে লাগছে…

রাজিতের উৎসাহী কণ্ঠে তাল মিলিয়ে রিমি বলল, মজার তো। তোমাদের ওখানে তাহলে তো দেখছি সম্প্রীতিতে ভরপুর। কোন ক্যাচাল, কোন ঝগড়া-লড়াই নেই একদম?

– একেবারে যে নেই তা না। শতভাগ পারফেক্ট বলে কি দুনিয়ায় কিছু আছে? কোথাও কম কোথাও বেশী, এই যা। মানুষের কাজ হচ্ছে এই ক্যাচালগুলোকে কমিয়ে রাখা, ঝামেলাবাজদের দমিয়ে রাখা। আর এ ব্যাপারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে সরকার।

– সরকারের ভূমিকা? সে আবার কি রকম? আমাদের বাংলাদেশে তো এখন সরকারই ইস্যু তৈরি করছে, বিতর্ক উস্কে দিচ্ছে এমনকি ঢালিউডের সিনেমার কাহিনীও তৈরি করছে ।রেশমা নাটকের কথা তো নিশ্চয় শুনেছ?

রিমির প্রশ্নের জবাব না দিয়ে একটু তাত্ত্বিক ভঙ্গিতে বলে চলল রাজিত, সমাজে কিছু কিছু মানুষ থাকবেই যাদের কাজ হচ্ছে বিদ্বেষ ছড়ানো আর উস্কানি দেয়া। মিডিয়ার কাজ হচ্ছে এই উস্কানিকে উৎসাহ না দেওয়া। সরকারের কাজ হচ্ছে সতর্কতার সাথে বিষয়টাকে দমিয়ে দেয়া।

– তাঁর মানে কি ওখানেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্যাচাল লেগে যায়? রিমি জিজ্ঞেস করল।

– ওয়ান্স ইন এ ব্লু মুন। কালে ভদ্রে বলতে পার। যেমন ধর প্রায় বছর আটেক আগে ২০০৫ সালে ঘটেছিল একবার। সিডনীর ক্রনুলা নামে এক জায়গায়। দোষটা মূলত ছিল মাইগ্রেটেড মিডিল-ইস্টার্ন কিছু বখাটেদের। ওরা ক্রনুলা সমুদ্র সৈকতে ভলান্টারি লাইফ সেভার মেয়েদের উত্যক্ত করল। ঘটনার শুরু সেখান থেকেই। মেয়েগুলো ছিল ‘অসি’ (Aussie)।

– অসি?

images (2)

– হ্যাঁ ‘অসি’।কয়েক পুরুষ ধরে বসবাসকারী  ইউরোপিয়ানদেরকেই মূলত এরা ‘অসি’ (Aussie)   বলে। এই ঘটনায় ক্ষেপে গিয়ে এলাকার সব  অসিরা মিডিল-ইস্টার্ন  বখাটেদের শায়েস্তা করতে জোট বেধে রাস্তায় নেমে গেল। কিন্তু কিছু সাম্প্রদায়িক চেতনাবাজ অসিরা এই ক্যাচালকে কাজে লাগিয়ে শ্লোগান তুলল, “উই গ্রিউ হিয়ার, ইউ ফ্লিউ হিয়ার”।মানে হচ্ছে, “আমরা এখানে বেড়ে উঠেছি আর তোমরা এখানে উড়ে এসেছ”।স্লোগানটা বেশ নির্দোষ শোনালেও এখানে ধারাল বিদ্বেষের বিষ আছে। এটা এক নিমিষে জাতীকে বিভক্ত করতে পারে মাইগ্রেন্ট এবং নন-মাইগ্রেন্ট এই দুই ভাগে। এখানকার সরকার জানে যে এই চেতনার জোয়ার প্লাবিত হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে সারা দেশে। আর তাই মোটেও দেরি না করে চেতনাবাজ স্লোগান ধারিদের ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করলো দুদিনেই। যদিও শুরুটা হয়েছিল মিডিল-ইস্টার্ন বখাটেদের দোষে কিন্তু কিছু সাম্প্রদায়িক চেতনা ব্যবসায়ীদের কারণে মার খেতে হোল বেচারা অসিদেরকেই। এখানে সরকারের ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসা করার মত। ভোট ব্যাঙ্কের পরোয়া না করে সরকার দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব পালন করল।

-তো ঐ মিডিল ইস্টার্ন বখাটেদের কিছু হলো না?

-অবশ্যই, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

রিমি ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, হুম, মনে হচ্ছে বাংলাদেশেও সম্প্রীতি দিবসের আয়োজন করতে হবে, যা শুরু হয়েছে আজকাল। আগে কখনই এর প্রয়োজন হয়নি। আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তোমাদের অস্ট্রেলিয়ার চাইতেও ভাল ছিল। তাই দিবস টিবসের কখনো দরকার হয়নি।

– কি বলছ? উপমহাদেশের প্রায় সব কটা দেশেই তো সাম্প্রদায়িক সমস্যা মারাত্মক রকমের। অবাক কণ্ঠে বলল রাজিত।

– তা সত্যি, তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কিন্তু যথেষ্ট ভিন্ন। স্বাধীনতার পর থেকে উল্লেখ করার মত সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা পাবে মাত্র হাতে গোনা ৪ থেকে ৫ টি। এই ধর ১৯৯০ সালের ঘটনা, ২০১২ সালের রামুর ঘটনা, ২০১৩ সালের নভেম্বরে পাবনা ও বরিশালের ঘটনা এবং ২০১৪-র জানুয়ারিতে যশোরের ঘটনা।

– তাই নাকি? রাজিতের কণ্ঠে হালকা অবিশ্বাস।

– রিমি কিছুটা জোর দিয়েই বলল, হ্যাঁ তাই, “List of Ethnic Riots” গুগল করে দেখ, বাংলাদেশে উল্লেখ করার মত মাত্র এই কয়েকটা ঘটনাই ঘটেছে।

রাজিত আবার অবাক কণ্ঠে বলল, ‘ভেরি ইন্টারেস্টিং! দেখতে হবে তো! ১৯৯০ সালের পর বাকি সবগুলো ঘটনাই তো দেখছি একেবারে রিসেন্ট। তবে ৯০ এর ঘটনাটাকে আমি সাম্প্রদায়িক  বলতে পারছিনা। আমি তখন দেশে ছিলাম, নিজে দেখেছি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। এই আন্দোলনের মোড় ঘুরাতে এরশাদই একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধাবার চেষ্টা করেছিল। ওটা ছিল মোর পলিটিকাল।

রিমি বলল, হ্যাঁ সবারই তাই মত, ভারতের বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার পরপরই এই ইস্যুটাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল এরশাদ। আর হাঙ্গামা বাধাবার জন্য কিছু উগ্রবাদী তো সবসময়ই থাকে। সেইসময় বাবরী মসজিদ নিয়ে যে সাম্প্রদায়িক জোয়ার উঠেছিল তার ধাক্কা বাংলাদেশ লাগাটা খুব অস্বাভাবিক ছিলোনা। কিন্তু বাংলাদেশ সত্যিই ব্যতিক্রম ছিল।

-আমার এখনও মনে আছে সেসময় আমার বাপ চাচারা অন্যান্য মুসল্লিদেরকে নিয়ে সারারাত বসে ছিলেন নারিন্দার গড়িয়া মঠের সামনে, যাতে কেউ মন্দির আক্রমণ করতে না পারে। কি আজব! সরকার উস্কানি দিচ্ছে আর সাধারণ মানুষ চেষ্টা করছে থামাতে! কৌতুক মেশানো কণ্ঠে বলল রাজিত।

Ramu

-২০১২, ১৩ র ঘটনা গুলো তো আরও আজব যেমন ধর রামুর ঘটনা। হাজার বছর ধরে বৌদ্ধ-মুসলিম সেখানে একসাথে বসবাস করছে, কখনো কিন্তু কিছুই শোনা যায়নি। হঠাৎ  করেই কি ভয়ানক একটা ঘটনা ঘটে গেল ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ মধ্যরাতে। তুমি বলছিলে সরকারের ভূমিকার কথা। ধরে নিচ্ছি ঘটনাটা ঘটে গেছে হঠাৎ  করেই চোখের পলকে সরকারের কোন কিছু করার ছিলোনা। মেনে নিলাম। কিন্তু এটা তো একটা সাধারণ প্রত্যাশা যে এরপর সরকার দোষীদের কে ধরবে, সাজা দেবে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। অবাক হবার মত ঘটনা কি জান, সরকার তদন্ত টদন্ত না করেই দোষ দিলো রোহিঙ্গাদের।তার মানে তারা আরেকটা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উস্কে দিতে চাইলো। অকল্পনীয়। জানিনা আর কোন দেশে এমন উদাহারন পাওয়া যাবে কিনা।

অবাক হয়ে বলল রাজিত, বল কি? কি করে সম্ভব?

– তুমি অনেক বছর ধরে বাইরে আছ তাই অবাক হচ্ছ। এদেশে আজকাল অনেক কিছুই সম্ভব হচ্ছে। বিশ্বাস করবে, যেদিন রাতে এই ঘটনা ঘটলো সেদিন বিকেলে সরকারীদলের লোকজন উস্কানিমূলক মিছিল করছিল রামুতে? আমার কথা বিশ্বাস করার দরকার নেই তুমি ২৪ অক্টোবর ২০১২ এর ডেইলি স্টার খুলে দেখ। সত্যিই এগুলো বলতে মোটেই ভাল লাগেনা, কি দেশটা ধিরে ধিরে যে কি হয়ে যাচ্ছে! বলতে গিয়ে রিমির গলায় একটুখানি আবেগ আটকে গেল তাই গলাটা একটু ঝেড়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করল, ২০১৩ সালের পাবনা সাথিয়ার ঘটনাটা তো শুনেছ?

– হ্যাঁ শুনেছি।

– ৭ ই নভেম্বর ২০১৩-র ডেইলি স্টারের রিপোর্টটা চোখে পড়েছে? হেডিংটা দেখেছ? “Some attackers seen with Tuku”। টুকু কে জান তো? টুকু হচ্ছে তখনকার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

– কি বললে? স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী? মানে হোম …

রাজিতকে শেষ করেতে না দিয়েই বলল রিমি, হ্যাঁ, যার দায়িত্ব দেশের সকল মানুষকে নিরাপত্তা দেয়া। সেসময়কার নিউজগুলো পড়লে যে কারো মাথা খারাপ হতে বাধ্য। কোন কোন পত্রিকা লিখেছে “হিন্দুদের ওপর হামলা, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিয়াই তসলিম উদ্দিন খান কে গ্রেফতার” আবার কেউ কেউ লিখেছে, “চাপে পড়ে পরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিয়াই তসলিম উদ্দিন খানকে ছেড়ে দেয়া হয়”।

– বরিশাল আর যশোরের ঘটনাও কি একই রকম? জিজ্ঞেস করল রাজিত।

– বরিশালের ঘটনায় ২১ নভেম্বর ২০১৩ সরকারী সমর্থক পত্রিকা কালের কণ্ঠের রিপোর্টটা দেখ, “বরিশালে মন্দির ও বাড়িতে আগুন দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা!” আর যশোরের ঘটনাটা ঘটলো ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে, নির্বাচনের পরপরই। বিষয়টি ছিল, পরাজিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল ওহাব বনাম একই দলের এমপি রণজিতের বিরোধ। ওহাব তার প্রতিপক্ষ বিজয়ী রণজিতের সাথে পেরে না উঠে হামলা পরিচালনা করে। যেহেতু ওহাব নাম ধারী মুসলমান, বিজয়ী রণজিৎ হিন্দু, তাই সহজেই এটাকে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। জানুয়ারি মাসের পেপার পত্রিকা এবং টিভি রিপোর্ট থেকে এই ধারনাই পাওয়া যায়।

– তুমি কি আজকাল বিরোধীদল কর নাকি? শুধু সরকারকেই দোষ দিচ্ছ? সরকার কেন এসব করতে যাবে? একটু খোঁচা দিয়ে প্রশ্ন করল রাজিত।

– না আমি মোটেই সরকারকে দোষ দিতে চাচ্ছি না। আমি বলছি সরকারের ভূমিকার কথা। ঘটনা যাই হোক, দোষী যেই হোক সেটা খুঁজে বের করা তো সরকারের দায়িত্ব নাকি? কখনও কি শুনেছ সরকার এর ওর ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে চুপচাপ বসে থাকে? এই যে সেদিন মালয়েশিয়ান প্লেনটা হারিয়ে গেলো। মালয়েশিয়ান সরকার কি টেররিস্টদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বসে আছে? ওদের ট্রান্সপোর্ট মিনিস্টারের তো এখন রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। ওরা চীন, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল, সন্ধানী দল সবাই কে সাথে নিয়ে খোজা খুজি করছে হারিয়ে যাওয়া প্লেনটা।শুধু তাই না হারিয়ে যাওয়া যাত্রীদের পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা, সাহায্য দিতে নিয়োগ করেছে ৭০০ জন সেবক- সেবিকা ।তারা রাত দিন ২৪ ঘণ্টা এই পরিবারগুলোর দেখ-ভাল করছে। আর আমরা? সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর মন্ত্রীরা এর-ওর উপর দোষ চাপিয়ে, নড়া চড়া তত্ত্ব দিয়ে, বিদেশী সাহায্যে কে নাকচ করে দিয়ে একটা যা তা অবস্থা। কথা হচ্ছে সমস্যা একটা হতেই পারে কিন্তু তারপর আমরা কি করছি। যে দায়িত্ব দিয়ে মানুষ সরকারকে বসিয়েছে সে দায়িত্ব সরকার পালন করছে কিনা? অবিশ্বাস্য হচ্ছে উপরের ঘটনাগুলোর একটি ক্ষেত্রেও সরকার তা করেনি। তাই প্রশ্ন উঠেছে সরকারের ভূমিকা নিয়ে। তাছাড়া তুমি যদি লক্ষ্য কর দেখবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকার কোন না কোন একটা ইস্যুকে ধামা চাপা দিয়েছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলোকে সামনে এনে।

-মানে?

-মানে হচ্ছে ঠিক ১৯৯০ সালে এরশাদ যা করতে চেয়েছিল এখনও সম্ভবত তাই হচ্ছে।এটা মোটেও নতুন কিছু নয়। কিছুদিন আগে মিশরের সামরিক জান্তা সংখ্যালঘু খৃষ্টান-চার্চে আক্রমণ করিয়ে বিরোধীদের দোষারোপ করল। আরে বাবা আন্দোলন যখন দানা বেধে উঠেছে, বিরোধীরা কোন আক্কেলে কপ্টিক চার্চ আক্রমণ করে আন্দোলনকে ভণ্ডুল করবে? একটু খেয়াল করে দেখ, বাংলাদেশে ২০১৩–র নভেম্বরে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন তুঙ্গে তখনই কিন্তু ঘটল পাবনা আর বরিশালের ঘটনা। আর নির্বাচনের পর যখন একতরফা কারচুপির নির্বাচন নিয়ে সরকার দেশে বিদেশে প্রবল সমালোচনার মুখে তখন ঘটলো যশোরের ঘটনাটা। ব্যাপারগুলো কি একেবারেই কাকতালীয়? শুধু আমিই না হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন গুলোও সরকারের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি সরকারী মানবাধিকার কমিশনও এই একই কথা বলে কিঞ্চিৎ দৌড়ের উপর আছে।

রিমির রাশভারী যুক্তিগুলো শুনে রাজিত একটু গম্ভীর স্বরে বলল, অবিশ্বাস্য বটেই, কোন কোন সরকার অনেক সহনশীল জনগণকে নিয়েও সম্প্রীতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে আর কোন কোন সরকার অসংখ্য চরমপন্থিদের নিয়েও সম্প্রীতি ধরে রেখেছে শুধুমাত্র আইন, সুশাসন, সুবিচার ও সমতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে। যেমন ধর দক্ষিণ আফ্রিকা অথবা ধর আমাদের কাছের দেশ মালয়েশিয়া অথবা সিঙ্গাপুরের কথা। মাত্র ৩০/৪০ বছর আগেও ওদের সাম্প্রদায়িক সমস্যা কতটাই না  গভীর ছিল। অথচ সরকারের সঠিক ভূমিকার ফলে সব কিছুকে পিছনে ফেল ওরা কতটা এগিয়ে গেছে, এগিয়ে যাচ্ছে।

– সেটাই। যাক অনেকদিন পর অনেক কথা হোল। দেশের সম্পর্কে অনেক ভালো ভাল কথা বলতে ইচ্ছে করে, ভাবতে ইচ্ছে করে। কিন্তু কি করার আজকাল শুধু সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষই নয় রাজনৈতিক বিদ্বেষের বিষ ছড়ানো হচ্ছে আরও বেশী।

– সেদিন প্রথম আলোতে সৈয়দ আবুল মকসুদ এর একটা লিখা পড়লাম। খুব ভাল লাগলো। লিখাটা উনি শেষ করেছেন এভাবে, সেদিন মুক্তিযুদ্ধ হয়েই ছিল একটি সংহত, সম্প্রীতি-পূর্ণ ও আত্মমর্যাদা শীল জাতি গঠনের জন্য, যেখানে থাকবে না হিংসা, ঘৃণা ও বৈষম্যের কোনো স্থান।এই পরিস্থিতিতে এসে আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরাও যখন একটি সংহত, সম্প্রীতি-পূর্ণ ও আত্মমর্যাদা শীল জাতির কথা বলছে, তোমার আমার মত দেশের সাধারণ মানুষও যেহেতু সম্প্রীতি-পূর্ণ সমাজের প্রয়োজন বুঝতে পারছে, সরকারকেও বুঝতে হবে আজ অথবা কাল।

রিমি এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, দোয়া করো যেন তাড়াতাড়ি বোঝে, মেঘনায় আর কোন লাশ ভাসা দেখতে চাই না।

 

রাজিত এবার একটু মজা করেই বলল, এক কাজ করো তোমরাও অস্ট্রেলিয়ার মত একটা সম্প্রীতি দিবস পালন কর। যেদিন বিভিন্ন ধর্ম, দল ও আদর্শের সবাই একসাথে জড়ো হবে। কেউ ধুতি পড়ে, কেউ টুপি পড়ে, কারো গলায় হোলী ক্রস, কারো গায়ে মুজিব কোট, কারো হাতে তারবীরের ছবি, কারো হাতে তারপিরের ছবি। সবাই একসাথে মিলে, হাতেহাত ধরে দাঁড়িয়ে লাখ কণ্ঠে সম্প্রীতি সঙ্গীত গাইবে, বিশ্ব রেকর্ড গড়তে নয়, সম্প্রীতি গড়তে-

 Flag Old

নানা ধর্মের, নানা মতের তবু আমরা মানুষ এক

এই মাটিতেই আমরা সবাই জন্মেছি এক ঝাঁক,

আমরা একই স্বপ্ন দেখি ধরি একই গলায় গান

আমি, তুমি, আমরা সবাই বাংলার সন্তান।।

গণজাগরণ মঞ্চের রাজনীতি, সংঘাত ও একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প!

5
রাষ্ট্রের বিচার বিবেচনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে এভাবেই লক্ষাধিক মানুষ প্রথমে গণজাগরণ মঞ্চে যোগ দিয়েছিলো।

রাষ্ট্রের বিচার বিবেচনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে এভাবেই লক্ষাধিক মানুষ প্রথমে গণজাগরণ মঞ্চে যোগ দিয়েছিলো।

যে সাধারণ মানুষের আবেগ ও স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি হয়েছিলো সেই মানুষদের হয়ে রাজনীতি করার যোগ্যতা যে গণজাগরণ মঞ্চের নেই এবং তারা যে মানুষের রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে না, সেটা আমি প্রায় ১১ মাস আগে বলেছিলাম যখন তারা রানা প্লাজায় ‘উদ্ধার অভিযান ফটো সেশন’ করতে এসেছিলো।

রাজনীতি তো মানুষের কথা বলবে। শেয়ার বাজারে পুঁজি হারানো মানুষের কথা বলবে, গার্মেন্টস শ্রমিকের অধিকারের কথা বলবে, পাঁচ বছর পর একদিনের রাজা ভোটারের ভোটের অধিকারের কথা বলবে, বলবে দেশের তেল-গ্যাস-বন্দর লুট হওয়ার কথা, রামপাল, টিপাইমুখ, সীমান্ত হত্যা, অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা, ধার্মিকের ধর্ম পালনের আর অধার্মিকের ধর্ম না পালন করার অধিকারের কথা।

গণজাগরণ মঞ্চ একটি বিশাল জন সমর্থন নিয়ে এই রাজনীতির কথাগুলো বলে দেশের রাজনীতিকে পাল্টে দিতে পারতো। কিন্তু তা না করে শাহবাগে প্রতিবাদী মানুষের জমায়েতকে এই মঞ্চ স্বৈরাচারী কায়দায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একটি মাত্র চেতনা নাৎসী দাবীতে আটকে রেখেছিলো দিনের পর দিন। দাবী একটাই, ‘ফাঁসি’! অন্য কোন দাবী মানেই ‘ছাগু’! বাংলা পরীক্ষা দিতে হবে দিনের পর দিন মাসের পর মাস; অন্য কোন পরীক্ষার দিনক্ষণ জানতে চাওয়ার মানে হচ্ছে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি, রাজাকারের তালিকায় নাম লেখানো!

নিজেদের চেতনা নাৎসী আদর্শের কারণে মাত্র এক বছরের মধ্যেই গণজাগরণ মঞ্চের মিছিল এমন শীর্ণ হয়ে গিয়েছে।

নিজেদের চেতনা নাৎসী আদর্শের কারণে মাত্র এক বছরের মধ্যেই গণজাগরণ মঞ্চের মিছিল এমন শীর্ণ হয়ে গিয়েছে।

এই মঞ্চের আড়ালে টিকফা চুক্তিতে লুট হয়ে গেছে আমাদের ভোক্তা অধিকার, রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার চুক্তির মাধ্যমে চুড়ান্ত করা হয়েছে সুন্দরবন ধ্বংশের নীল নকশা। এমন কী তাজরীন আর রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায় বিচারের আর্তনাদকেও টুটি চেপে স্তব্ধ করে রেখেছিলো এই চেতনা নাৎসী মঞ্চ।

এখানেই শেষ নয়। এই গণজাগরণ মঞ্চ থেকেই বিরোধী মিডিয়া বন্ধ করে বিরোধী কন্ঠস্বরকে রূদ্ধ করার এবং বিনা বিচারে হত্যাকে সমর্থন করে একটি চেতনা নাৎসী জনমত তৈরী করে দেয়া হয়েছিলো। কাউকে ‘ছাগু’ প্রমান করতে পারলেই তাকে বিনা বিচারে হত্যা করা বৈধ, বৈধ তার কণ্ঠস্বর চেপে ধরে জেলে পাঠিয়ে দেয়া বা গুম করে দেয়া। এই চেতনা নাৎসী জনমতের কারণেই রাষ্ট্র বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত প্রতিবাদী মিছিলে সরাসরি গুলি করে মানুষ হত্যার ম্যান্ডেট পেয়েছিলো এবং নির্বিচারে প্রতিবাদী মানুষকে হত্যা করা শুরু করেছিলো; যে ধারা এখনো বর্তমান। এই মঞ্চের ফ্যাসিবাদী দাবী রক্ষার্থেই সরকার বন্ধ করে দিয়েছে ‘আমার দেশ’, ‘দিগন্ত টিভি’, ‘ইসলামী টিভি’সহ অনেক গণমাধ্যম এবং জেলে পাঠানো হয়েছে মাহামুদুর রহমানের মত সম্পাদক ও আদিলুর রহমান শুভ্রর মত মানবাধিকার কর্মীকে।

গত ৪ এপ্রিল ২০১৪, শুক্রবার গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশটির সাথে এভাবেই পুলিশের সংঘাত হয়!

গত ৪ এপ্রিল ২০১৪, শুক্রবার গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশটির সাথে এভাবেই পুলিশের সংঘাত হয়!

জনগণের দাবীকে টুটি চেপে ধরে যে গণজাগরণ মঞ্চ রাষ্ট্রের সমান্তরাল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো, চাইলেই যারা জাতীয় পতাকা উঠানো-নামানোর এবং শপথ করিয়ে মানুষকে হেদায়েত করতে পারতো, তা মাত্র এক বছরের মাথায় এখন আর নেই! এখন তাদেরকে সরকারী দলের অঙ্গ সংগঠনের কর্মী এবং একদা প্রহরী পুলিশের সংঘাতে জড়িয়ে হেনস্তা হতে হচ্ছে!

এই হেনস্তা হবার ঘটনায় বিভিন্ন জন বিভিন্ন অনুমান ও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। যার মধ্যে একটি অনুমান হচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চ সরকারী দমন নিপীড়নের শিকার হয়ে মানুষের সহানুভূতি অর্জন করতে চাচ্ছে এবং ভারতের ‘আম আদমী পার্টি’র অনুরূপ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাচ্ছে।

গণজাগরণ মঞ্চকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভারত পন্থী মিডিয়াগুলোর যে একটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা আছে, সেটা ৫ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে প্রকাশিক দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠা দেখলে বোঝা যায়। যে পত্রিকাটি পুলিশের নিয়মিত ট্রিগার হ্যাপী আচরণ বা ক্রস ফায়ারে সরকার বিরোধী রাজনীতিবিদদের হত্যাকাণ্ডের খবর ছাপে না, তারা সামান্য পুলিশি টানা হেঁচড়াকে তিন কলামে প্রায় সিকি পৃষ্ঠা জুড়ে কাভারেজ দিয়েছে।

গত ৫ এপ্রিল ২০১৪, শনিবার দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় গণজাগরণ মঞ্চের সাথে পুলিশের সংঘাতকে এভাবেই গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়!

গত ৫ এপ্রিল ২০১৪, শনিবার দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় গণজাগরণ মঞ্চের সাথে পুলিশের সংঘাতকে এভাবেই গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়!

বর্তমানে ভারত রাষ্ট্রটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিলেও তারা ক্ষমতাসীন দলটির অজনপ্রিয়তায় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিকে খুঁজছে, যারা ভারতের মিত্র হিসেবে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারবে। শুরু থেকেই গণজাগরণ মঞ্চের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ভারত তাই এখন আম আদমী পার্টির স্টাইলে এদেরকে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।

লক্ষ্য করুন, গণজাগরণ মঞ্চ কিন্তু আজ পর্যন্ত টিপাইমুখ, রামপাল, সীমান্ত হত্যা, তিস্তাসহ বাংলাদেশের নদীগুলো থেকে ভারতের পানি প্রত্যাহার বিষয়ে টু শব্দটি করে নাই। আর ভারতের পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ থাকলে মঞ্চের অন্যতম সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু কী ভাষায় ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছিলো তা মনে করার চেষ্টা করুন।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বরাবরই মানুষকে বোকা বানিয়ে সারপ্রাইজ দিতে পছন্দ করে। ৯১ সালে এরশাদকে জেলে পাঠানোর দাবী করে ৯৬ সালে এরশাদের সাথে জোট করা আর ৯৩ সালে গোলাম আযমকে জেলে পাঠানোর দাবী করে ৯৪ সালে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট করা এর অন্যতম প্রমাণ। সে কারণে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সরকারের এই সংঘাত যদি ভারতের পরিকল্পিত ছকে নতুন গৃহপালিত বিরোধী দল সৃষ্টির জন্য করা হয়ে থাকে তাহলে অবাক হবার কিছুই থাকবে না।

এ কারণেই শিরোনামে লিখেছি গণজাগরণ মঞ্চ ও সরকারের সংঘাতের মধ্যে একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প আছে। আর সেই গল্পটির বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রথম পক্ষ ভারতের ভালোবাসার দাবীদার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পক্ষ আওয়ামী লীগ এবং গণজাগরণ মঞ্চের মধ্যে সংঘাত (পরিকল্পিত বা অপরিকল্পিত)।

অনেকেই কৌতুহলী হয়ে আছেন জাফর ইকবাল, শাহরিয়ার কবির, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, ড. আনোয়ার হোসেনরা এখন কোন পক্ষ নেন সেটা দেখতে। উনারা সবাই সেফ সাইডে খেলেন। যদি মিডিয়ার হাইপ তুলে আসলেই গণজাগরণ মঞ্চকে একটি রাজনৈতিক প্লাটফরম হিসেবে গড়ে তোলা যায় তাহলে উনারা মঞ্চের পক্ষ নিয়ে গৃহপালিত বিরোধী দলীয় নেতা বনে যাবেন। যদিও মিডিয়ায় হাইপ তুলে সেলিব্রেটি তৈরী করা গেলেও এখনো পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক নেতা তৈরী করতে পারার দৃষ্টান্ত নেই। সেই ক্ষেত্রে স্যার জাফররা আপাতত নিরপেক্ষ থেকে আকাশের তারা গুনবেন বলেই মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়দের (বা অন্য বিদেশীদের) ওয়ার্ক পারমিট, আয়কর ও শুল্ক ফাঁকি, আয়কর ফাঁকি রোধের কিছু উপায়।

2

by Faiz Taiyeb

প্রতিবেশী দেশ এর সাথে বাণিজ্য করে শক্তিশালী দেশ একটু বেশি সুবিধা পাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে এই সম্পর্ক এতটা একপেশে হবে কেনো? আপনি জানেন কি কত জন বাংলাদেশী ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন থেকে ওয়ার্ক পারমিট পাচ্ছেন? ঢাকা থেকে তারা ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করে কি আদৌ?

 

আমরা ২ বন্ধু ২০০৯ এর শেষ দিকে (টেলিকম এর বিশ্ব মন্দায়) এরিকসন ভারতে 3G কন্সাল্ট্যান্ট হিসেবে কন্ট্রাক্ট জব পাই। আমার বন্ধুটি কে মাস ২ ঘুরিয়ে বলে দিয়েছে ঢাকা থেকে তারা ওয়ার্ক পারমিট দেয় না। অন্য একটা দেশে জব পেয়ে যাওয়ায় পরে আমাকে আর ভিসা অ্যাপ্লাই করতে হয়নি। গুগল ইন্ডিয়া তে জব পেয়ে আরেক বন্ধু প্রতিম আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাংলাদেশী প্রোগ্রামার কেও এভাবে হেরাসড হতে হয়েছে।

 

কন্সাল্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে হলেও ওয়ার্ক পারমিট থাকা চাই। আমরা নিজেরা ওয়ার্ক পারমিট নিয়েই বিভিন্ন দেশে সুনামের সাথে কাজ করছি। বাংলাদেশ থেকে ভারতের অভ্যন্তরে শুধুমাত্র বৈধ ভাবে রেমিটেন্ন্স পাঠানো ৫ লক্ষ সেমি টেকনিসিয়ান শ্রমিক এর কত জনের বাংলাদেশী ওয়ার্ক পারমিট আছে? গার্মেন্টস, এপোলো হসপিট্যাল, এরিক্সন বাংলাদেশ, ইউনিলিভার, রেকিট, এয়ারটেল, আরিভা, কোকাকোলা সহ শত শত কম্পানী তে এরা যে ওয়ার্কপারমিট ছাড়াই কাজ করে। একদিকে তারা ওয়ার্ক পারমিট না নিয়ে চুরি করে কাজ করে, অন্যদিকে শুল্ক না দিয়েই আবাধে বিভিন্ন পন্য নিয়ে আসছে। (আমাদের ইমিগ্রেশন ও শুল্ক আধিদপ্তর তাদের মহান সেবায় নিয়োজিত)।

 

আমরা চাই সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয় গুলোতে একটু মনযোগী হোক, ভারতীয়রা এই দেশে কাজ করলে আইনগত বা কাঠামোগত কনো সমস্যা নাই। যদিও এটা লজ্জার যে মেধায় তারা এগিয়ে না থাকলেও তাদের কে আমাদের পদ ছেড়ে দিতে হচ্ছে, এখানে এসে তারা রকেট সাইঞ্চ ডেভেলপ করছে না, বরং নিন্ম মানের ভারতীয় টেকনো শ্রমিকরাই এখানে আসছে, উল্টো এরা আমাদের গার্মেন্টস উৎকর্ষ চুরি করছে আর নিজ দেশে ইপিজেড প্রসেস গুলো করে কপি করে আমাদের আর এম জি কাস্টোমার ও অর্ডার সরিয়ে নিচ্ছে। আমরা চাই এই ভারতীয় সেমি টেকনিশিয়ান রা বৈধভাবে কাজ করুক, বাংলাদেশকে প্রাপ্য আয়কর দিক। এভাবে দেশ কোটি কোটি টাকার আয়কর ও শুল্ক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

আপরদিকে ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন বাংলাদেশীদের ওয়ার্ক পারমিট দিচ্ছে না সেটা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আল্টিমেটাম ভিত্তিক আলোচনা হওয়া দরকার। ভারত যদি আমাদের ওয়ার্ক ভিসা দেয়া শুরু করে তাহলে ভালো, যদি না দেয় অবৈধ ভারতীয়দের সোজা বের করে না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আয়কর ও শুল্ক ফাঁকি সম্পর্কিত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এটাই সঠিক সময়, তারা আমেরিকার সাথে একই ইস্যু নিয়ে বিবাদে আছে। তাদের মুখোশ টাও উন্মোচন করা দরকার আইনগত দিক থেকে, কৈশলী হয়ে। যতই মোড়লগিরি করুক না কেন আয়কর ও শুল্ক বিষয়ক ব্যাপার নিয়ে বেশি দূর আগাতে পারবে না, আয়কর ও শুল্ক ফাঁকি দেবার বিষয় গুলো আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত নিচু মানের, যার পর নাই গর্হিত কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চরম অসৎ দিক।

 

অবৈধ ভাবে কাজ করা বিদেশীদের বিরুধে কিভাবে আইনগত ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেয়া যায় সেই দিকে একটু আলোকপাত করব ।

 

১ প্রথমেই পর্যাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করতে হবে। এটা অনেক ধৈর্য ইন্টারফেস তৈরি এবং সময়ের ব্যপার। ভিআইপি ও ভিভিআইপি কর্পোরেট কোম্পানী গুলোর মধ্যে যারা ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া উচ্চ বা মধ্য মানেজমেন্ট লেভেল এ রিসোর্স আনে তাদের আগে আইডেন্টিফাই করতে হবে। এই ধরনের অরগানাইজেশন এর শর্ট টার্ম (এক্সপার্ট, কন্সাল্ট্যান্ট) এই ধরনের ফ্লটিং এক্সপার্ট দের আগে ধরতে হবে।

 

২ এই কোম্পানী গুলোর এইচ আর কে অতন্ত্য মডেস্ট ভাবে চিঠি দিয়ে ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া লোক না আনতে বারন করতে হবে। এতসম্পরকিত দেশের আইন গুলো সংক্ষেপে উল্লেখ পূর্বক দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ করতে হবে। আয়কর আর শুল্ক ফাঁকির ব্যপার গুলোতে স্থানীয় আইন মানার এবং সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করার আহবান জানাতে হবে। আগেই বলে রাখছি যে কোম্পানীকে চিঠি দেয়া হবে তার পুরবেই সেই কোম্পানীর পর্যাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করে ফেলতে হবে। তারা কোন কোন উপায়ে হিউম্যান রিসোর্স নিয়ে আসে, তার পুরো ট্রেন্ড এনালাইসিস শেষ করেই চিঠি দেয়ার কাজ করতে হবে। এই কাজে ইন্টেলিজেঞ্চ ইঊনিট দের কে সতর্ক ভাবে ব্যবহার করতে হবে।

 

৩ যে কোন শর্ট টার্ম কিংবা লং টার্ম রিসোর্স কে লোকাল পেমেন্ট এর আওতায় আনা বাধ্যতা মুলক করতে হবে।

 

৪ ব্যাংক গুলোকে (দেশে অপারেট করা বিদেশী ব্যাংক সহ) এই ধরনের কোম্পানীর শর্ট টার্ম কিংবা লং টার্ম রিসোর্স দের (এক্সপার্ট, কন্সাল্ট্যান্ট) হেসেল ফ্রি (ওয়ান স্টপ) সেবা দেবার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে। এই ধরনের ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ করতে হবে। ব্যাংক কোনো ভাবেই যাতে পুলিশি বা ইমিগ্রশন পারপাস সারভ করার মোটিভ না দেখায় সেটা তাদের কাজ কর্মে নিশ্চিত করতে হবে, অর্থাৎ কোলেটারল ডকুমেন্ট যত সম্ভভ কম চাইতে হবে। (একগাদা কাগজ পত্র চাবার ব্যাপারে আমাদের বাংক গুলোর ব্যাপক সুনাম আছে, সেটা বাংলাদেশ ব্যাংক এর নির্দেশনায় তাদের করতে হয়, তারপর ও আয়কর ফাঁকি বাজ দের নিরধারন করা যায় না) এই ধরনের ব্যাপার গুলো বাদ দিতে হবে।

 

৫ যাবতীয় পেমেন্ট অবশ্যই লোকাল কারেন্সি বা টাকায় হতে হবে।

 

৬ উৎস মূলে আয়কর কাটতে হবে। অর্থাৎ মাসিক বেতন-ভাতা বাংক হিসেবে শুধু মাত্র আয়কর দেয়ার পরেই রিফ্লেক্টেড হবে।

 

৭ বিদেশী থার্ড পার্টি এম্পয়ার এর মাধ্যমে লোক এনে বাইরে থেকে ফরেন কারেঞ্চি তে পে করার যাবতীয় পথ বন্ধ করতে হবে। এটাই সবচেয়ে কমন পথ। লোকাল থার্ড পার্টি “এইচ আর” ফার্ম প্রমোট করতে হবে, তাদের সাথে আয়কর বিভাগ কে লঙ্ক করতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংক এ সবাই কে সাদর সংবর্ধনা দেয়া হবে, যে কনো ধরনের একাঊন্ট খোলা বা বাঙ্কিং ট্রানজেকশন করার অনুমুতি দিয়ে একটা পরোক্ষ ইন্টারফেইস গড়ে তুলতে হবে। যার একদিকে থাকবে ব্যাংক <-> থার্ড পার্টি “এইচ আর” ফার্ম অন্যদিকে থাকবে থার্ড পার্টি “এইচ আর” ফার্ম <> আয়কর বিভাগ।

 

এখানে একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন, সাধারণত স্থায়ী বা লং টার্ম রিসোর্স কম্পানীর পে রোল এ আসে, তারা আয়কর দেয়। এই ধরনের এমপ্লয়ি মাল্টি নেশন কোম্পানী তে কম হয়, কারন এদের বেতন, বিভিন্ন অবকাশ ভাতা, হেলথ, বাচ্ছার স্কুল, লোকাল এক্সপেঞ্চ, লিগ্যাল প্রটেক্ট, কষ্ট অফ ওয়ারকিং ইন লো প্রফাইল কান্ট্রি ইত্যাদি ইত্যাদি দিতে অনেক অনেক খরছ। সুতরাং এই ধরনের এমপ্ল্যিদের পিছনে সময় ব্যয় করা যাবে না। বরং শর্ট টার্ম রিসোর্স বা রিসোর্স অন ফরেন আসাইন্মেন্ট এর লোকদের ধরতে হবে।

 

৮ এই পর্যায়ে এসে আবারো অবজারভ করতে হবে, রেপুটেড কোম্পানী গুলো অনেকটা লাইনে চলে আসবে। কেউ না আসলে তাদের জন্য একটা বম্ব রেডি করতে হবে। তাদেরকে দ্বিতীয় দফা চিঠি দিয়ে জানাতে হবে, এই ধরনের অপরাধের পর্যাপ্ত তথ্য প্রমান আয়কর বিভাগ এর হেফাজতে আছে।

 

৯ চূড়ান্ত পর্যায়ে এদের কে জানাতে হবে যে, আয়কর বিভাগ ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়াতে কোম্পানীর আয়কর ফাঁকির ব্যাপার ফ্ল্যাশ করে, আর্থিক জরিমানা করবে। বিশেষ ভাবে ওই কম্পানী যে যে স্টক এ এনলিস্টেড সেখানে নিউজ পাঠানোর ব্যাবস্থা করা হচ্ছে, এই মর্মে হুঁশিয়ারি দিতে হবে। এটা ক্লিয়ার করে দিতে হবে যে সরকার তাদের অবৈধ কার্যক্রমের লাগাম টেনে ধরবে তার শেয়ার রেপুটেশন কে নস্ট করার মাধ্যমে।

 

১০ কোন ভাবেই এই সময়ের মধ্যে ফরেন এম্পয়ারদে অযথা হয়রানি করতে দেয়া যাবে না। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিটাকে জেন্টেল ম্যান শো হিসেবে পরিচালনা করতে হবে। উপরোক্ত ধাপ গুলোতে মাল্টি নেশন গুলোতে অবৈধ রিসোর্স কমে আসবে। এতেই আসল কাজ হয়ে যাবে, মানে এরাই কিছুটা উচ্চ বেতন এ লোক আনে, এই বেতনের ১৫-২০% আয়কর হিসেবে দেশের রাজস্ব ভান্ডারে জমা হলেই প্রধান টার্গেট অরজন হবে।

 

মনে রাখতে হবে, এখানে ইনভেস্ট করতে হবে, প্রয়োজন হলে দেশী বিদেশী অডিট এক্সপার্ট ও কাজে লাগাতে হবে। প্রায় ৩০-৪০ হাজার কোটি টাকার ১৫% বা ২০% যখন প্রাপ্য আয়কর চুরি হচ্ছে তখন এটা অনেক সিন্সিয়ারলি নিতে হবে।

 

১১ কিন্তু মধ্য পর্যায়ের অনেক কোম্পানী যারা ছ্যাছড়া টাইপের তাদের বেলায় এইসব কাজে আসবে কম, কারন তাদের অনেকেই রেপুটেশন নিয়ে ভাবে না। মিড্যাতে নিউজ আসলে তাদের শেয়ার প্রাইস ফল করার কিছু নাই। এই সমস্ত কম্পানীর বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন এ যেতে হবে, মানে বাংলাদেশী এইচ আর ম্যানেজার, সি ই ও , পরিচালক এদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে হবে। এখানে খেয়াল রাখতে হবে, কোন ভাবেই কোম্পানী বন্ধ বা অফিস সিল গালা, বিদেশীদের ধরা, হয়রানি করা এইসব করা যাবে না, এতে বৈদেশিক বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

১২ আয়কর কে যেমন উৎস মূলে আদায় করতে হবে (দেশী বিদেশী সবার জন্য), রিটার্ন জমাদান কে ঝামেলা মুক্ত করতে হবে, সহজে অনলাইনে সেবা দানের মানসিকতা আনতে হবে। অপ্রয়োজনীয় পেপার ওয়ার্ক কে কোন ভাবেই এঙ্কারেজ করা যাবে না।

 

১৩ সর্বোপরি আয়কর দাতার অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে, তাকে সঠিক সময়ে তথ্য জানার অধিকার দিতে হবে। অধিক হারে কর্তিত অর্থ সহজে ফেরত দিতে হবে। তাকে সমান্নিত করতে এই দেশের ও তার নিজ দেশের সামাজিক উৎসব গুলোতে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে হবে।

 

১৪ হুন্ডি চক্র গুলোকে নিয়ন্ত্রনে স্থলবন্দর গুলোতে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থা গুলোর ভিতরের ক্রিমিনাল দের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নিতে হবে।

 

১৫ সবশেষে আসবে আমাদের পররাষ্ট্র মিশন গুলোতে বার্তা পাঠানো। অতন্ত্য ভদ্রতার সাথে এটা সম্পাদন করতে হবে। পর পর আপ্লাই করা  ভিজিট ভিসা কে কঠিন না করে সহজ করতে হবে কিন্তু ফি ব্যাপক বাড়াতে হবে, এই লোক গুলোকে নজরদারিতে আনার জন্য দূতাবাস গুলো আয়কর বিভাগ কে সরাসরি জানাবে। এটা প্রথম ভিজিটর দের বেলায় করা যাবে না।

 

১৬ ওয়ার্ক পারমিট অতি দীর্ঘ মেয়াদে দেয়া যাবে না। এটাও করতে হবে আর্থিক হিসেব সামনে নিয়ে, সল্প সময়ের ভিসা পারমিট দিয়ে বেশি ফি (আবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের বাইরে নায়) আদায় করতে হবে।

 

সামগ্রিক পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে রাষ্ট্রের আর্থিক  ক্ষতি কে পুষিয়ে তোলার নিমিত্তে, এখানে রাজনীতি, মেঠো ভারতবিরোধী ব্যাপার স্যাপার কে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। যাবতীয় কাজকর্ম ভদ্রতার লেবাসে, সেবা সুলভ ভঙ্গিতে সম্পাদন করতে হবে।

 

১৭ বাংলাদেশ বিবিয়োগ বোর্ড সাধারণত ওয়ার্ক পারমিট এর সিদ্ধান্ত নেয়। সমস্যা হলো এরা আবেদন গুলো নিয়ে ৬ মাস পর পর বসে। তাই কোম্পানি গুলো তাদের শর্ট টার্ম এমপ্লয়ী দের ৫ মাসের কন্ট্রাক্ট বা ৫ মাসের কাছাকাছি সময়ে নিয়োগ দিতে পারে ওয়েটিং এপ্লিকেশন রেখেই। এবং ৬ মাসের এক্সপেয়ারি তে নতুন নতুন মোড়কে পাঠা্নোর সুযোগ পায়, এর মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট চাড়াই ওদের বহু কন্ট্রাক্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশ বিবিয়োগ বোর্ড কে এই ধরনের আবেদনের সাড়া দিতে হবে প্রতি সপ্তাহে, আর অবশ্যই এর জন্য চেয়ারম্যান এর দরকার নাই।  ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন হয়ে গেলে আয়কর ফাঁকি দেয়া মুশকিল হয়ে পড়বে চর্য বৃত্তিতে লিপ্তদের।

 

১৮ নিয়ম মতে ছয় মাসের বেশি অবস্থান করা এক্সপার্ট বা শ্রমিক কে এক্সিট পোর্ট এর ইমিগ্রিশন এ ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট দেখাতে হয়। ঢাকা বিমানবন্দরে বা হিলি বাংলাবন্ধা বা বেনাপোল স্থল বন্দরে এইসব লোকদের কাছে ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট  চাওয়া হয় কিনা তদন্ত করতে হবে। সম্ভবত ঘুষের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এইসব কঠোর নজরদারিতে আনতে হবে। রাষ্ট্রের রাজস্ব ছুরি কে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

 

 

(এই নোটটির দ্বিতীয় অংশটি হাইপোথিসিস নয়, প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় বিশ্বের দেশে কাজ করতে গেলে আমাদের ঠিক যেভাবে ট্রিট করা হয় তার ই একটি  ধারা বিবরনী মাত্র)

 

ধন্যবাদ।


With regards,

Faiz Taiyeb
RAN Technical Architect
Vodafone Netherlands

চেতনা-পরাবাস্তবতাঃ তুরস্ক বনাম বাংলাদেশ

2

by: Aman Abduhu

গত রবিবার তুরস্কে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়ে গেলো। সে নির্বাচনে ছদ্ম-ইসলামপন্থী প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের দল এগিয়ে গেছে। এর প্রতিক্রিয়া এখন বাংলাদেশেও দেখছি; ইসলামপন্থীরা প্রচুর আনন্দ প্রকাশ করছেন।

এই ইসলামপন্থীদের একটা জিনিস খুব ভালোভাবে বুঝা দরকার। এটা ঠিক যে কঠিন একটা সেক্যুলার পরিবেশে এরদোগান কিছু কাজ করেছেন, যা বৈশিষ্ট্যবিচারে ইসলামী। যেমন, কোন মেয়ে হিজাব করতে চাইলে পারবে, এটা তিনি অনুমোদন করিয়েছেন শেষপর্যন্ত। পাবলিক প্লেসে এলকোহল নিষিদ্ধ করেছেন। কিন্তু এসব বিষয় তুরস্কের নির্বাচনে কোন ডিসাইসিভ ফ্যাক্টর ছিলোনা। ঐদেশের মানুষজন এইসব সস্তা ইসলামী জযবায় উত্তেজিত হয়ে এরদোগানকে ভোট দেয়নি। বরং তুরস্কে গেলে মেয়েদের বেশভুষা এবং আরো কিছু দেখে ইসলামপন্থীদের হার্ট এটাক হয়ে যেতে পারে। এখন অলরেডি ফেসবুকে কানে তালা লেগে যায়। আর বাংলাদেশের দৃশ্যমান অবস্থা তুরস্কের মতো হলে তো ইসলাম-রক্ষক ভাইদের চিৎকারে ফেসবুকে কানের পর্দাই ফেটে যেতো।

তুরস্কের মানুষ বাংলাদেশের মানুষজনের মতো হুজুগে না। তারা আমাদের মতো অর্থহীন ইস্যু আর অতীত নিয়ে এতোটা মেতে থাকে না। বরং ইউরোপ আর এশিয়ার মাঝে থাকার অবস্থানগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা দেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করে।

এরদোগান আমার প্রিয় একজন নেতা। বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের মাঝে তাকে অন্যতম সফল একজন নেতা মনে করি। অর্জনের দিক থেকে মাহাথিরের চেয়েও বেশি। কারণ দেশী-বিদেশী এতো বেশি ষড়যন্ত্র আর বিরোধীতার মুখোমুখি মাহাথিরকে হতে হয়নি। তুরস্কের কনটেক্সটও মালয়েশিয়ার চেয়ে ভিন্ন এবং অপেক্ষাকৃত কঠিন ছিলো। এরদোগান লোকটা সবচেয়ে বেশি প্রাগমাটিকও।

তবে ভদ্রলোক সম্প্রতি ডিকটেটরদের মতো কাজকর্ম শুরু করেছেন। সাংবাদিকদেরকে জেলে ভরা, টুুইটার ইউটিউব ব্লক করা, বিশাল বিশাল গণজমায়েতের ছবি দিয়ে পাবলিককে ইমপ্রেস করার চেষ্টা, এসব। যদি শেষপর্যন্ত এসব সামলে নিতে পারেন, হয়তো তিনি আরো বেশি উচ্চতায় পৌছে যেতে পারেন। কারণ আলটিমেটলি তিনি তার দেশের জন্য ক্ষতিকার শাসক না। শেখ হাসিনার মতো নেতিবাচক মানুষ না। কিন্তু এভাবে সামলাতে পারার সম্ভাবনা কম। তারচেয়ে বরং তাঁর অবসর নেয়া উচিত। একে পার্টির হায়ারারকিতে যোগ্য মানুষজন আরো আছে।

এইসব কাজকর্ম করার পরও কেন এরদোগানের দল বিজয় পেলো? তুরস্কের নির্বাচন কি বাংলাদেশের মতো? সোমবারের পঞ্চম দফা উপজেলা নির্বাচনে যেভাবে বাংলাদেশে আওয়ামী মাফিয়া লীগের লোকজন কেন্দ্র দখল করছে? বিরোধীদলের পোলিং এজেন্টদের বের করে দিচ্ছে, সিল মেরে বাক্স ভরাচ্ছে।?

না। একে পার্টিকে এসব করে নির্বাচনে জিততে হয়নি। এবং ফাঁপা বেলুনভর্তি জযবার উপর ইসলাম মার্কাটি লাগিয়ে দিয়ে ঐদেশে জেতা যায় না, তা তো আগেই বলেছি। বরং এখনো এরদোগানের বিজয়ের কারণ দুইহাজার এগারো সালের জুনে আলজাযিরায় প্রকাশিত একটা রিপোর্টে বুঝা যায়। “ফ্রম স্ট্রিট সেলার টু গ্লোবাল স্টেটসম্যান”।

এরদোগান প্রথম জীবনে বাড়তি উপার্জনের জন্য তার এলাকা কাশিমপাশার রাস্তায় খাবার বিক্রি করতেন। এটাও একটা চিন্তা করার মতো বিষয়। ঐদেশে মৃত বাবা বা স্বামীর দড়ি ধরে মানুষজন রাজনীতিতে আসার সুযোগ তেমন একটা পায় না। নিজের যোগ্যতা দরকার হয়।

সেই রিপোর্টে এরদোগানের শাসন সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইস্তাম্বুলের টেক্সি ড্রাইভার মেরাল বলছিলেন “আমার বয়স এখন পঞ্চাশের কোঠায়। আমার জীবনে প্রথমবারের মতো আমি ইন্সুরেন্স পেয়েছি, আমাদের প্রাইম মিনিস্টারকে ধন্যবাদ এর জন্য। আমার যদি কিছু একটা হয়ে যায়, তাহলে আমার পরিবার কোন সমস্যায় পড়বে না। আমার দশ বছর বয়সী মেয়েটা মিষ্টি বেশি খেয়ে খেয়ে দাঁত নষ্ট করে ফেলেছে। আগে হলে তার চিকিৎসার জন্য আমাকে ফতুর হয়ে যেতে হতো। আর এখন আঠারো বছর বয়সের কম সবার চিকিৎসার খরচ দেয় সরকার।”

এরদোগানের ইয়ং বয়সে তাঁর চুল কেটে দিতো যে সেলুন মালিক, তিনি আলজাযিরার রিপোর্টারকে বলেছিলেন “আমি যখন আটানব্বই সালে হজ্ব করতে সউদী আরব যাই তখন এক মিলিয়ন টার্কিশ লিরার নোটও এক্সচেঞ্জ করার জন্য কেউ নিচ্ছিলো না। আর দুইহাজার দশ সালে যখন আবার গেলাম, একশ লিরার নোট দিয়ে আমি দুইশ পঞ্চাশ রিয়াল পেলাম। ঠিক তখনই আমি বুঝতে পারলাম, আমাদের জীবন বদলে গেছে। আমাদের একটা ভবিষ্যত আছে এখন।”

মানুষ এ পৃথিবীতে খুব বেশি কিছু চায় না। একটু শান্তিতে বাঁচতে চায়। এরদোগানের মতো নেতারা যখন সে প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করেন, তখন মানুষ তাদের ভালোবাসে। অথবা উন্নত দেশগুলোতে বিভিন্ন ইনষ্টিটিউশন ও ট্রাডিশনের কারণে নেতারা এর বাইরে যেতে পারেন না। আর আমাদের মতো দেশে? রাজনীতিবিদ নেতারা ব্যস্ত আছে একজন আরেকজনের সাথে নোংরা মারামারি আর রাষ্ট্রের সম্পদ চুরি করে খাওয়াতে।

আর তাছাড়া, নেতা তো উঠে আসে মানুষদের মধ্য থেকেই। ঐসব দেশের মানুষেরা ব্যস্ত থাকে কাজ করতে, অবসরে নিজের আনন্দ নিতে। ওদের ফেসবুকে গেলে দেখা যায় হয় নিজেরা বেড়াচ্ছে খাচ্ছে। দেশের বড় কোন সামষ্টিক ইস্যু যেমন নির্বাচন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা অর্থনৈতিকভাবে বড় কোন ঘটনা, এসব নিয়ে কালেভাদ্রে মাথা ঘামাচ্ছে।

আর আমাদের দেশে আমরা সবাই তালেবর। সবাই দেশপ্রেমে টুইটুম্বুর স্থবির গর্ভবতী। যেদেশে মানুষ আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে ভিক্ষা করে, চিকিৎসা পায় না, বিচার পায় না, সেদেশে এখনো আমরা পরে আছি একাত্তর নিয়ে। সম্ভব হলে বিপ্লব করতে ব্রিটিশ আমলেও চলে যাই পারলে, এমন অবস্থা। এখনো আমরা গিনেজ রেকর্ডের মতো ফালতু একটা প্রতিষ্ঠানের পেছনে পুরো দেশ মিলে দৌড়াচ্ছি। অথবা হিমালয়ে উঠার জন্য ধাক্কাধাক্কি করে যাচ্ছি।

ওদের দেশের বুদ্ধিজীবিরা পত্রিকায় কলাম লেখে জমির দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে, বিদেশের সাথে অর্থনৈতিক ঘাটতি নিয়ে, অন্য দেশের যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে, রিফিউজিদের সমস্যা নিয়ে। আর আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবিরা মুজিবকে সম্মান দেয়া হয়নাই, জাতীয় সঙ্গীত সবার সেরা, মুক্তিযুদ্ধ না থাকলে দেশ আগাবে না এইসব নিয়ে আবর্জনা লেখাতে ব্যস্ত।

এমন একটা অতীতমুখী দেশের কোন বর্তমান বা ভবিষ্যত কিভাবে থাকবে? আর কিভাবেই বা এইরকম ঊন-মানুষদের মাঝে এরদোগান, মাহাথির বা জিয়ার মতো স্টেটসম্যান জন্ম নেবে?

বাঙালীয়ানা যাচাই ফিল্টার

2

 by: Aman Abduhu

দেশপ্রেম দিয়ে গিনেজ রেকর্ড করার বালখিল্যতা নিয়ে লিখেছিলাম। আমার বক্তব্য ছিলো, কোন ব্যাতিক্রমী মানুষ বা প্রতিষ্ঠান সাধারণত এইসব রেকর্ড করে পরিচিতি বাড়ায়। কিন্তু কোন রাষ্ট্র এর পেছনে দৌড়াচ্ছে, পুরো দেশের মানুষ মিলে বানর নাচ নেচে যাচ্ছে, এমনটা অভূতপূর্ব।

ফেসবুকের সে লেখাতে একজন দেশপ্রেমিক বাঙালী এসে আলগোছে মন্তব্য করেছেন “আপনি বাংলায় স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বাঙ্গালী বলে মনে হয়। আসলে কি তাই?”

এমনিতে মনে হয় প্রশ্নটা খুবই নীরিহ। নরম সুরে কোমলভাবে উত্থাপন করা ভয়ংকর এ প্রশ্নটা আমাকে আনন্দ দিয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন মাতৃজঠরে থেকে সম্প্রতি ভুমিষ্ঠ হওয়া বাঙালী-চেতনাধর্মের ফ্যাসিবাদী দাঁতালো চেহারা আবারও বের হয়ে এসেছে। ঐ ধর্মাবলম্বী ভদ্রলোকটি আমাকে হাতের নাগালে পাচ্ছেন না বলে অন্তর্জালে চমৎকার এ নিরীহদর্শন প্রশ্নটি করেছেন। সামনে পেলে এবং তার ক্ষমতা থাকলে প্রশ্নের ধরণ হতো অন্যরকম।

1964867_233278453532679_896769875_n

আমি নিজে সাধারণ একজন নাগরিক, এবং হাজার হাজার ফেসবুকারের একজন। কিন্তু যখন কোন উল্লেখযোগ্য মানুষ এসে সে চেতনায় আঘাত করে বসেন, এ প্রশ্নটা আর হালকা কোন প্রশ্ন হয়ে থাকেনা। তখন ফ্যাসিজম তার আসল চেহারা দেখায়। তখন গুম হয়ে যেতে হয়, গালিগালাজ ও অপমানের তোপের মুখে পড়তে হয়, অথবা মাহমুদুর রহমানের মতো জেলখানায় পঁচতে হয়। এমনকি মিনা ফারাহ’র মতো নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়। কারণ ফ্যাসিজম কখনো ইনক্লুসিভ হয়না। ঐ পথে হাটা এদের এ বাঙালী ধর্মও হয়নি। কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করলে তাকে সমাজচ্যুত করা এ ধর্মের বৈশিষ্ট্য। এবং ভদ্রলোক তার সহফেসবুকার আমাকে সমাজচ্যুত করার সে তাড়না থেকেই তার নিরীহদর্শন প্রশ্নটি করে বসেছেন।

বড় কথা হলো, প্রশ্নটি দেখে আমি দু’জন মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করেছি। হিটলার এবং মুসোলিনী। এ দুই ফ্যাসিষ্ট ডিক্টেটর ইতিহাসে এমন সব কাজ করে গেছেন, শেখ হাসিনার মতো নব্য ফ্যাসিষ্ট ও তার শাহবাগি অনুসারীদের কাজের বিশ্লেষণ করতে গেলে উদাহরণ খুঁজে পেতে সমস্যা হয়না। বুঝতে কষ্ট হয়না।

বাঙালীয়ানা থাকা না থাকার প্রশ্ন উত্থাপনে মনে পড়লো দুইটা আইনের কথা; দুটাই ছিলো জাতীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট অধিকার থাকা না থাকা সংক্রান্ত। ১৯৩৫ সালে জার্মানিতে হিটলার বাস্তবায়ন করেন ন্যুরেমবার্গ রেইস ল, এবং ১৯৩৮ সালে ইটালিতে তার শিষ্য মুসোলিনি বাস্তবায়ন করেন মেনিফেস্টো অভ রেইস। এ দুই আইনের মূলকথা ছিলো, খাটি আর্য/আরিয়ান জাত ছাড়া অন্য কেউ জার্মানি এবং ইটালির পূর্ণ অধিকারপ্রাপ্ত নাগরিক না। এবং ইহুদিরা কোন নাগরিকই না।

আলেক্সান্ডার ডি গ্রান্ড তার ‘জুইশ ইন ইটালি আন্ডার ফ্যাসিস্ট এন্ড নাজি রুল’ বইয়ে ইটালির ঘটনাগুলো বিস্তারিত লিখেছেন। আমাদের জাফর ইকবালের মতো তাদেরও সেসময় তাত্ত্বিক পন্ডিতেরও অভাব ছিলো না। এইসব জ্ঞানীগুণীরা তখনও শিশুর মতো সরল মন নিয়ে সাদাসিধে ভাবে ফ্যাসিজমের সেবা করে গিয়েছেন, বিভেদ-বৃক্ষের গোড়াতে আপনমনে পানির সেচ দিয়ে গেছেন।

ড. গুইডো লন্ড্রা নামে এক এনথ্রোপলজিস্ট বিজ্ঞানী গবেষণা করে তখন এক বৈজ্ঞানিক নীতিমালা প্রণয়ন করেন। ইটালির সে চেতনা ফিল্টারের নাম ছিলো ‘মেনিফেষ্টো অভ রেইসাল সায়েন্টিস্টস’, খাঁটি আর্যরা সে ফিল্টারের ভেতরে ঢুকে অন্যদিক দিয়ে নাগরিক হয়ে বের হতো। আর রক্তে সমস্যা থাকলে অথবা চেতনায় ঘাটতি থাকলে ফিল্টারে আটকে যেতো। ফ্যাসিজমের বিরোধীতা করা মানুষরা আর ইহুদিরা আটকে যেতো, তাদের খাঁটি ইটালিয়ানত্ব এবং খাঁটি জার্মানত্ব বাতিল করা হতো। তারপর তাদেরকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে নিয়ে, শ্রমিক বানিয়ে, নির্যাতন করে, এবং হত্যা করে চেতনার বাস্তবায়ন করা হতো।

ফ্যাসিজম এমনই। যুগে যুগে ঘুরে ফিরে আসে। এসে এসে জাতীয়তা এবং আত্মপরিচয়ে কত আনা খাদ আছে তা যাচাই করতে মহাব্যস্ত হয়ে পড়ে। চেতনা ধর্মে অন্ধ এই মানুষগুলো এতো বেশি স্পর্ধা পেয়ে যায় যে, তারা দেশের সর্বোচ্চ স্থান থেকে শুরু করে বাসায় বাসায় ঢুকে যেখানে সেখানে তাদের চেতনার এসিড টেষ্ট শুরু করে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠানের সামনে দাড়িয়ে তাদের ছোট ছোট পিচকালো চেতনা প্রদর্শন করে। আবার পথ চলতে সামনে কাউকে পেলে জিজ্ঞাসা করে বসে, আপনি কি বাঙালী?

এরা বুঝতে অক্ষম, সাময়িক সময়ের জন্য শক্তির জোরে এইসব বাঙালী চেতনা ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা যায়, লাখো কণ্ঠে অর্থহীন রেকর্ড করে রাষ্ট্রকাঠামোর সম্মান ও মর্যাদাকে খেলো করা যায়, কিন্তু শেষপর্যন্ত তাদের স্থান হয় ইতিহাসের ভাগাড়ে। ঘৃণিত হতে হয়।

আমাদের সামনে দুইটা পথ আছে। এইসব ছোট ছোট পিচকালো চেতনাধারীদের সাথে তর্ক করে সময় কাটাতে পারি। কোন লাভ হবে না। এদের চ্যাতনা অন্ধত্ব কাটবে না, কিন্তু ঝগড়াঝাটি করে গালিগালাজ দিয়ে কিছুটা হয়তো দমানো হবে। অন্য আরেকটা পথ হলো হিটলার ও মুসোলিনীর মতো ফ্যাসিষ্টদের সাথে শেখ হাসিনা ও তার শাহবাগি চ্যাতনাজীবি অনুসারীদের মিল ও অমিল, এবং কখনো বরং বাড়াবাড়ির বিষয়গুলো, খুঁজে বের করে ইতিহাসের জন্য, আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারি।

আমার মনে হচ্ছে প্রথম কাজটা পুরোপুরি বাদ দেয়া না গেলেও, দ্বিতীয় কাজটা অনেক বেশি দরকারী।

গিনেজ বাংলাদেশ

by: Aman Abduhu

গিনেজ রেকর্ডের সাথে পরিচয় ছোটবেলায়, না বুঝতে শেখার বয়স থেকেই শুরু।

ইত্তেফাকের ভেতরের পাতায় এ ধরনের কাজকর্মের ছবি থাকতো। সম্ভবত গিনেজ বা রিপলিস বিলিভ ইট অর নট। মাঝে মাঝে রহস্যপত্রিকা, বিচিত্রা, রিডার্স ডাইজেষ্ট বা ঢাকা ডাইজেষ্টেও দেখতাম। অদ্ভুত সব ঘটনা আর সাথে চমৎকার হাতে আঁকা ছবি। অমুক দেশে একজন চুল দিয়ে ঘর ঝাড়ু দিচ্ছে, তমুক দেশে আরেকজন পানির উপর ঘুমাচ্ছে, পিপড়ারা মিলে সাতফুট উঁচু পিপড়া-বাড়ি বানিয়েছে। এ ধরণের মজার মজার ছবিগুলো দেখে ভাবতাম পৃথিবী কতইনা আজব একটা জায়গা!

আর আজকে আমার দেশ, বাংলাদেশটাই হয়ে গিয়েছে পৃথিবীর আজবতম দেশ। যেদেশে নাগরিকরা খেতে পায় না চিকিৎসা পায় না শিক্ষা পায় না, সে দেশে আজ রেকর্ড বানানোর জন্য শতকোটি টাকা লুটোপুটি খায়। এই দেশে মানুষ স্বাভাবিক অধিকারগুলো পায় না। প্রতিদিন নারীরা ধর্ষিত হয় শুধুমাত্র বাকি জীবনটুকু ভয়ংকর আতংক নিয়ে বুকফাটা কান্না চেপে রাখার জন্য। প্রকাশ্য দিনের বেলায় সবার সামনেই মানুষ খুন হয় বিচারহীন, অথবা রাতের বেলায় গুম হয়ে যায় হারিয়ে যায় চিরদিনের জন্য। আর সেদেশের মানুষ দরদ দিয়ে গান গায়, আমার সোনার বাংলা! আশ্চর্য সব ছবির সাথে বলার মতো বাংলাদেশের গিনেজ রেকর্ড কি পতাকা বা গানে? আমার তো মনে হয় আসল গিনেজ রেকর্ড এগুলোই।

ছবি দেখার বয়স পেরিয়ে একটু বড় হয়ে যখন বুঝতে শিখলাম, তখন থেকে দেখে আসছি বিভিন্ন ধরণের ব্যাতিক্রমী মানুষেরা গিনেজ রেকর্ড করে। মাঝে মাঝে অনেক মানুষ মিলেও রেকর্ড করে। এসব ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠান, অর্গানাইজেশন বা কোম্পানী এইসব কাজকর্ম স্পন্সর করে। তাদের নামও রেকর্ডের সাথে যোগ হয়।

কিন্তু কোন দেশ?? পুরো একটা দেশ মিলে গিনেজ রেকর্ডের মতো একটা প্রতিষ্ঠানের হালকা স্বীকৃতি পাওয়ার মতো কাজের পেছনে দৌড়াতে থাকে! আমার দুর্বল স্মৃতিতে এমন ঘটনা আর মনে পড়ে না। মনে করতাম, দেশ বা রাষ্ট্র আরো অনেক উঁচু পর্যায়ের বিষয়। ধারণা ভুল ছিলো।

এখন দেখি বাংলাদেশ দৌড়াচ্ছে। বাংলাদেশের পতাকা রেকর্ড হলো। দেখে বাংলাদেশের সৎ ভাই পাকিস্তানের হিংসা হলো। তারাও দৌড়ালো। পৃথিবীতে এমন অদ্ভুত দেশ কি আর তৃতীয় কোনটা আছে? এসব দেখে বিবমিষা হয়েছিলো আমার। গাড়ির পেছনে একটা লাল সবুজ কাগজের পতাকা লাগিয়ে রেখেছিলাম। যেদিন পতাকা রেকর্ডের ছবিটা প্রথম দেখলাম, ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে কার ওয়াশে গিয়ে ঘষে ঘষে তুলে ফেলেছি। প্রচন্ড রাগ হচ্ছিলো, ঘৃণা লাগছিলো। তারপর বাসায় ফিরে দেখি পড়ার টেবিলের উপর টেবিল ল্যাম্পে আরেকটা পতাকা লাগানো; কাপড়ের ব্যান্ডানা। অনেক ভাবলাম এটাও নোংরা করে বিনে ফেলে দেই। কিন্তু পারিনি। লাল বৃত্তটার দিকে তাকিয়ে এখন লিখছি। এতো বদমায়েশির পরও ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের মাটি আর লাল সবুজের পতাকা অনেক কষ্ট দেয়।

তবে স্বীকার করতে হয়, বাংলাদেশ আর পাকিস্তান এ দুটো দেশ হলো অনন্য। কোন তুলনা নেই। দেশের বাইরে গেলে থার্ড আই ভিউতে দেখা যায়, এ দুই দেশের মানুষেরা কেমন। আমরা বাংলাদেশীরা এভারেজে যতটা খারাপ, পাকিস্তানীরাও ইন জেনারেল ততটা বদমাইশ। সত্যিকার অর্থে ব্যর্থ দুইটা দেশ। ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বানানো অতীত ছাড়া এ দুই দেশেরই গর্ব করার মত তেমন কোন অর্জন নেই। পাকিস্তানীদের নিউক্লিয়ার পাওয়ার আছে অবশ্য, কিন্তু তা আসলে জলা জমির উপর দাঁড় করিয়ে রাখা রিয়েল এষ্টেট কোম্পানীর সাইনবোর্ডগুলোর মতো। ভেতরে ফাঁপা, ঠনঠন। এই ধরণের অর্থহীন এবং ফাঁপা কাজে তাদের কাউন্টারপার্ট বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সামর্থ্য একটু কম। তাই তাদের দৌড় হলো পিলখানায় প্রতিবেশী বন্ধুদের হাতে নিজের ব্লাড ব্রাদার্সদের ব্লাডশেড ঠিক মতো সম্পন্ন হওয়া তত্ত্বাবধান করা। এবং অবৈধ সরকারের খুঁটি হিসেবে দাড়িয়ে থাকা। সুতরাং বাংলাদেশকে সেই সব গর্বের সাইনবোর্ড টাঙানোর জন্য গিনেজের দ্বারস্থ হতে হয়, যেখানে লাখো কণ্ঠে কিছু বোধবুদ্ধিহীন চিৎকার শোনা যায় শুধু “আমার সোনার বাংলা ……………..”।

আসলে, ভালোই হয়েছে। ভিনদেশে অজপাড়াগাঁয়ের কেউ যদি জানতে চায়, বাংলাদেশ টা কোথায়? গর্ব করে উত্তর দিতে পারবো, গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায়।

৫০ কোটি টাকার জাতীয় সঙ্গীতের বিশ্ব রেকর্ড এবং সুরেন্দ্র কারবারি পাড়ার ১.৫ লক্ষ টাকার স্কুলের ছাদ- আমি ব্যবহৃত হতে অস্বীকার করি।

March 25, 2014 at 8:59pm


আজকে সকাল ১০টা থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে(সুত্রঃ সংস্কৃতি মন্ত্রী)  , মন্ত্রী এমপিদের  সরকারের সাথে ব্যবসা করার আইন ভঙ্গ করে, প্রতিটা ব্যাঙ্ক এবং বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের  সাথে বাধ্যতামূলক চাঁদাবাজি করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের এক সাথে  জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার বিশ্ব রেকর্ড।
একটা মর্মস্পর্শী ছবি 
কে জানে, এমন একটা রেকর্ড  প্রতিদিন  আমরা ভাঙছি কিনা, স্কুল ঘর না থাকায় পৃথিবীতে সর্বোচ্চ সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী প্রতিদিন খোলা মাঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার এবং পাঠ দান নেয়ার । কিন্তু, এঁর মধ্যেই  ফেসবুকে, তন্দ্রা চাকমার স্ট্যাটাস অনেকেই দেখেছেন, খাগড়াছড়ির সদর উপজেলায়  সুরেন্দ্র কারবারি পাড়ার মহাসেনের আঘাতে ভেঙ্গে যাওয়া স্কুলের টিন-শেড ঠিক করে দেয়ার জন্যে  ১.৫ লক্ষ  টাকা জোগাড় করতে।
পেছন থেকে তোলা, একটা ভাঙ্গা স্কুল ঘরের সামনে চার লাইনে দাড়িয়ে শপথ নিতে থাকা এই অত্যন্ত মর্মস্পর্শী এই  ছবিটা দেখলেই বোঝা যায়, এই রাষ্ট্র-যন্ত্র কি ভাবে তার  জনগণের বেসিক চাহিদা পূরণ করতে পদে পদে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
এক বছর আগে হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের ভেঙ্গে যাওয়া স্কুলঘর ঠিক করতে যেই রাষ্ট্র ব্যর্থ , সেই রাষ্ট্রের কোন অধিকার নাই ৫০ কোটি টাকা খরচ করে, জাতীয় সঙ্গীতের বিশ্ব রেকর্ড করার।
কিন্তু, সেই গুলো করছে আওয়ামী  লিগের সরকার ।কেন  করছে ? কারণ, এই দলের জনগণের কাছে কোন দায়বদ্ধতা নাই। এই দল জানে, তারা মানুষের ভোট জিতে ক্ষমতায় আসে নাই। তারা জানে, তারা ক্ষমতায় আসছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে দেশকে দুইটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রকম গুটি-বাজি করে এবং  ইন্ডিয়ার স্বার্থ রক্ষা করার মাধ্যমে। ফলে তাদের সমস্ত চিন্তা চেতনায় এই দুইটি ধারা প্রবাহিত  হয়।
এই জন্যে আমরা দেখেছি, সমালোচনার মুখেও তারা  ৫০ কোটি টাকা খরচ করে, এই অর্থহীন অনুষ্ঠানটা করে যাচ্ছে। কারো  কথায়  কান দিচ্ছেনা।   এই গুলো  ক্লাসিক  স্বৈরচারী আচরণ। বড় বড় মূর্তি বানানো, বড় বড় অনুষ্ঠান করা  ।  স্বৈরাচার নিজেই তার গড়া এই ফানুসে উড়ে বেরায়। তার ধারনা থাকে,  মানুষের জীবনে শান্তি সুখের নহর বয়ে যাচ্ছে। এই জন্যে স্বৈরাচার নিয়ম করে, আচ্ছা জনগণের যেহেতু অনেক টাকা, সেহেতু আমরা সব রাস্তায় টোল বসিয়ে দেই। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেই।
এই অনুষ্ঠান আরও অনেক গুলো সম্পূরক প্রশ্নের জন্ম দেয় ।  
তা হলো  রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই ভাবে কোন অনুষ্ঠানের জন্যে বাধ্যতামূলক চাঁদাবাজি করা আইন সম্মত কিনা? এ কোন রাষ্ট্র সৃষ্টি করলাম আমরা যার সরকার এই ধরনের ভ্যানিটি প্রজেক্টের জন্যে নিজেই চাঁদাবাজি করে?  এই টাকার একাউন্টেবিলিটি কে নিশ্চিত করছে? এই টাকাটা অডিটেবেল কিনা? সরকার যাদের কাছ থেকে এই  টাকা নিয়েছে, তারা এই অনুদানের কি পে-ব্যাক নিবে ?
এই টাকা সরকারী নিয়ম মেনে খরচ হয়েছে কিনা। এবং এই অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি-মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরের প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিকের তত্ত্বাবধানে হওয়াতে মন্ত্রী এমপিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সরকারের সাথে ব্যবসা না করার যে নিয়ম  তার প্রকাশ্য বাত্যয় হলো, দুদক তার তদন্ত করবে কিনা? এই রাষ্ট্র কি, এতো নাঙ্গা হয়ে গ্যেছে যে, এই ধরনের দুর্নীতি করতে আজ রাখ ঢাক ও করতে হয় না?
এই প্রশ্ন  গুলোকে উপেক্ষা করে 
আজকে যখন সমালোচনার  ঝড় ওঠে, ইসলামি ব্যাঙ্কের কাছ থেকে টাকা নেয়া  মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বরখেলাপ কিনা  তখন বোঝা যায়, সরকার  চাইছে  নবীনদেরকে এবং প্রতিবাদীদেরকে দেশপ্রেমের  একটা  ধোঁয়াটে অন্ধকারে বুঁদ করে রাখা যাতে, আজকের প্রজন্ম , তার চোখের সামনে লুটপাট দেখেও সঠিক প্রশ্ন করতে ব্যর্থ হয়। যাতে সে সুশাসন না চায়, প্রকাশ্য দুর্নীতি  দেখলেও বিভাজিত রাজনীতিতে নিজের অবস্থানের কারণে চুপ থাকে, প্রতিবাদী না হয়।
যাতে সে দেখতে ব্যর্থ হয়, সুরেন্দ্র কারবারি  পাড়ার বাচ্চাদের সরকারী স্কুলের ঘর মাত্র ১.৫ লক্ষ টাকার জন্যে , নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয় যে সরকার সেই সরকারের  ৫০ কোটি টাকার বিনিময়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার লুটপাটের মহোচ্ছবের কোন অধিকার নাই। এই উৎসব বার বার মনে করিয়ে দেয়,  সেমুয়েল জনসনের বিখ্যাত উক্তি, patriotism is the last refuge of a scoundrel ।  বদমাইশের  শেষ আশ্রয় হচ্ছে দেশ প্রেম।
এই প্রজন্মকে মনে রাখতে হবে , দেশ  কিন্তু  মা। মাকে নিয়ে ব্যবসা করতে হয়না।
 এবং যারা করে, তারা কোন একটা ধান্দার জন্যে করে।  এই প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ, সেই ধান্ধাবাজদের সৃষ্ট ধোয়ার থেকে সত্যকে দেখতে পাওয়া এবং   সঠিক প্রশ্নটা করা। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার দায়, এই চেতনা ব্যবসায়ীদের হাতে  ব্যবহৃত না হওয়া।
আজকে  আমাদেরকে তাই এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর চাইতে হবে। এই চাদাবাজি আইনসম্মত কিনা ? এর একাউন্টিবিলিটি কে দেখবে ? এবং  মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক আইন ভঙ্গ করে  কিভাবে এই  কাজ পায় ?
যাদের সামর্থ্য  আছে, তারা সুরেন্দ্র কারবারি  পাড়ার মহাসেনের আঘাতে ভেঙ্গে যাওয়া সরকারী স্কুলের পরিচালক দয়ানন্দ দাদার সাথে যোগাযোগ করবেন ০১৮২৮৮৬১৩০৩  নাম্বারে। এই স্কুলটি ঠিক করতে ১.৫ লক্ষ টাকা লাগবে। সরকার যদি না করে, আমরাই পারবো এই স্কুল ঠিক করে দিতে। এইটাই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা।
আই রিফিউজ টু বি ইউজড, আমি ব্যবহৃত হতে অস্বীকার করি ।  এবং এই ৫০ কোটি টাকার প্রতিটা পয়সার হিসেব চাই। সবাইকে ২৬শে মার্চের শুভেচ্ছা।

আমি একটা সুসংবাদ দেই, আমার ফেসবুক বন্ধু জাপান প্রবাসী দিদার কচি Didar Kochiভাই জানিয়েছেন, তন্দ্রাদির স্ট্যাটাস পড়ার পরে,তিনি এবং তার বন্ধুরা ইতিমধ্যেই ৮০০ ডলার কমিট করেছেন এবং ইতি মধ্যেই Tandra Chakma তন্দ্রা দিকে জানিয়েছেন, আগামি সপ্তাহের মধ্যে দের লক্ষ টাকা সুরেন্দ্র কারবারি পাড়ার মহাসেনের আঘাতে ভেঙ্গে যাওয়া সরকারী স্কুলের ফান্ডে দিবেন।

ধন্যবাদ কচি ভাই এবং আপনার বন্ধুদেরকে। এক টিকেটে দুই ছবি দেখার মত চেতনা ব্যবসা আর টাকা লুটপাট করা নতুন মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ীদের যুগে , আপনারাই দেখিয়ে দিচ্ছেন, দেশপ্রেম কি জিনিষ ।

৫০ কোটি টাকার সাথে তুলনা করলে, দেড় লক্ষ টাকা হয়তো কিছুই নাই, কিন্তু , মিথ্যার মধ্যে সত্যকে বেছে নেয়ার ইচ্ছাটাই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা।

 

সূত্র ঃ
তন্দ্রা চাকমার ফেসবুক স্ট্যাটাস।
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10152321709877152&set=a.310807447151.183524.719932151&type=1&stream_ref=10
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন। প্রায় তিন লাখ লোক একসঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ৫০ কোটি টাকা খরচ হবে।
http://bangla.bdnews24.com/ bangladesh/article759318.bdnews

 

 

Accommodating the New Imperial Order: The Dhaka Tribune and the Ruling Culture of Subservience

By Surma

They plunder, they slaughter, and they steal: this they falsely name Empire (Superpower), and where they make a wasteland, they call it peace – Tacitus (56 – 117 AD)

Have you heard the one about the Bangladeshi farmer and the Indian Border Guard?

felani.jpg

Picture of 15 year old Felani killed by Indian Border Guards (BSF) on the 7 January 2011

There was once a Bangladeshi farmer who was ploughing his fields with his cattle near the Indian Border. The Indian border guards (BSF) as part of their live exercises, for the sake of target practice, crossed the border shot the farmer and took his cattle. The BSF re-brand the cattle as Indian cattle and then sell it to an Indian cattle smuggler, who in turn smuggles the cattle into Bangladesh, with the help of the BSF, and sells at a premium. All this time our helpless Bangladeshi farmer is lying in his field bleeding to death.

First the the local Awami League Chairman comes along, see’s the farmer walks over the farmer, crosses the border and has tea with the BSF guards at their station.

Second, a civil society, Sushil type, Nirmul Committee member comes along, see’s the farmer, takes pictures and then crosses the border and writes a report with the BSF guards. In the report the farmer was part of international Islamist terror network, and his cattles were being used to fund that terror network, thus both the farmer and his cattle created an existential threat to the Bangladeshi state and needed to be neutralised.

Third, a correspondent from the Dhaka Tribune arrives and takes an interview of the farmer, noting down all the facts, then writes a sympathetic piece in the paper about the problems faced of being an Indian Border Guard.

The above comical anecdote sadly reflects the state of affairs that is amongst the ruling clique, political and civil in Bangladesh. A culture of submission to an aggressive foreign power, which regularly kills citizens of the country, interferes in domestic politics and is economically exploiting the country’s resources. It is a culture of subservience which permeates the ruling Awami League, to a myopic civil society members, whose indignity is masked by spineless corporate media.  This pro india bias was recently highlighted by former ambassador Sirajul Islam, in the Weekly Holiday. The Dhaka Tribunes role of propaganda as an extension of the state was confirmed when it and its editor Zafar Sobhan received an award by the Better Bangladesh Bangladesh Foundation (BBF) for creating a better image for the country. The other awardees are (post Rana Plaza) Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association for its contribution in the garment sector, the (post internationally criticised elections) Ministry of Foreign Affairs for contribution in the field of international relations, Bangladesh Armed Forces for serving in the United Nations Peace Support Operations and International Committee of the Red Cross (ICRC) for its role during the Liberation War and Foreign Minister AH Mahmood Ali.

Policy of Appeasement – ‘Please Sir, can I have some more!’

muncih 1938.jpgoliver twist.jpg

(l) Neville Chamberlain proclaiming foolishly ‘peace in our times’, after rewarding Nazi aggression at Munich 1938. ( r) Famous scene from Oliver Twist 1968, ‘Please sir can i have some more!’

This culture of subservience reached new heights, with the recent editorial by the Dhaka Tribune by its editor Zafar Sobhan, where he beseeches the Indians to extend the cricketing Indian Premier League into Bangladesh:

“The most obvious way in which to do this would be to let Dhaka bid for a franchise in the next application process and let economics sort it out. With a catchment area that would comprise the entire country in terms of local fan base, or even simply taking Dhaka as the focal metropolis, such a franchise would be a better bet than some that are already in the IPL”

The article and its timing displayed new a new marker for the paper, in its ‘Walter Mitty’, type editorial policy, a new level of a comic detachment from the reality faced by ordinary Bangladeshis. Instead of confronting criticism of the papers Islamophobic and pro India bias, the article just confirmed those accusations and further silenced an ever decreasing number of sympathisers, The reality on the ground, which the paper ignores and is insensitive to, is that one sided elections were held with the open support of the Indian government, with a brutal security crackdown with an alleged assist from the Indian army, all held against the backdrop of an increasing number of Bangladeshi citizens being killed by the Indian security forces at the border.

The content and timing of the piece could be interpreted as a rerun of Munich 1938, where instead of aggression against the sovereignty of a neighbouring country being opposed and resisted, we have a cringe worthy acceptance of the aggression by masking it up and seeking to reward such aggression, in this case unilaterally seeking an IPL franchise.

The ignorance multiplier effect – one import size fits all

The proposal shows an incredible disregard for developing Bangladeshi cricket, which can be throttled by importation of franchise and precious resources being diverted to it. Instead of advocating investment and development of local clubs, the newspaper’s solution, like so many other solutions adopted in current Bangladesh, is to import a ready made manufactured Indian solution. This is in the foolish belief that such a solution, of a single franchise, is for the benefit of development of the game in a country of over 150 million.

A similar dynamic, rather stagmatic, can be observed in every domain of indigenous social-technological development, from water resources engineering, to urban planning and education. The systematic undernourishment of our own talents is no basis for a state with pretensions of autonomy. Realise this, even (y)our foreign development partners are laughing all the way to the bank and up their career ladders

The attitude in the paper seems to be hangover of the Mujib-era one party state of the early 70s, where dogma superseded practical technicalities. Then it was the import of ill fitting Soviet blueprints, now we have the advocacy of ill fitting, counter productive Indian ones, for our politics, culture, economics and now cricket. For too long, the Dhaka Tribune and its ilk, has gotten away with weaving a fairytale of Bangladesh. Until people start complaining – and loudly too – the corporate media agenda will be shaped by supporters of government, pro AL big business and Indian foreign policy. That does not just subvert honest journalism: it undermines our democracy.

famine 1974.jpgdefinition of journalism.jpg

(l) Scene from the famine of 1974, mainly caused by the political and economic ineptitude of the government of the day. ( r) Memo to the Dhaka Tribune and the corporate media of Bangladesh, from a real journalist, George Orwell.

‘সেকুলার রাষ্ট্রে’র বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক আবাসিক হল কেন?

আলাউদ্দীন মোহাম্মদ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ধর্মগুরু তৈরির প্রকল্প নিয়ে শুরু হলেও ষোড়শ শতকের ইংল্যান্ডের রেনেসাঁসের  সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা সাধারণ্যের, বিশেষত উচ্চবিত্তের কাতারে নামতে থাকে। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থার সূচিকাগার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত আদিতে ধর্মযাজকদের শিক্ষার কলেজ ছিল। ব্রিটিশেরও পূর্বে  ‘হোলি রোমান সাম্রাজ্যে’ ১০৮৮ সালে যাজক বানানোর জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয়। তার পূর্বে আফ্রিকার মিশরে ৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ও ছিল ইসলামী ধর্মচর্চার কেন্দ্র। আর  প্রাচীণ ভারতের নালন্দায় খ্রিস্টপূর্ব ১০ শতকে (সম্ভবত) প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় তক্ষশিলাও ছিল বৌদ্ধ ধর্মের ভিক্ষুদের জ্ঞানচর্চার বিহার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সাধারণ্যের কাতারে নামার সাথে সাথে এবং ‘এনলাইটেনমেন্টে’র প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদর্শনও বিবর্তিত হয়ে এক বিশ্ববোধের চেতনায় উন্নীত হয়। অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা তাই আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার এক অনিবার্য অংশ।

HJH1

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যেভাবে বড় গলায় নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার বাতিঘর হিসেবে দাবী করে থাকেন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের সূতিকাগার বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিহিত করে থাকেন সেখানে ভাবতে অবাক লাগে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই সবচেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িক (অপ)সংস্কৃতির চর্চা হয়ে থাকে। পৃথিবীর মূলধারার কোন বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি বাংলাদেশের গণবিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত মুসলিম বনাম অন্যান্য সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভেদসহ আলাদা আবাসিক হলের কোন নজির নেই। স্বভাবতই তাই প্রশ্ন জাগে বাংলাদেশের মত অসাম্প্রদায়িক একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে দশকের পর দশক ধরে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কীভাবে এ সাম্প্রদায়িকতার চর্চা হতে পারে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠণের ব্যার্থতার দায় এ বিশ্ববিদ্যালয় এড়াতে পারে কিনা?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালে পূর্ববঙ্গের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে ক্ষমতায়নের দায় নিয়ে। যেহেতু লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বাংলাকে ভাগ করে ফেলেছিল এবং এই ভাগ করার বিরুদ্ধে কলকাতাকেন্দ্রিক জমিদার ও প্রভাবশালী হিন্দুরা তীব্র প্রতিবাদ করে ১৯১১ সালে  এটিকে ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল তাই ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ কে সন্তুষ্ট করতেই ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। এক বাংলায় দুইটি আর্থ-সাংস্কৃতিক কেন্দ্র অখন্ড বাংলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে মর্মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাটিও খুব সহজ ছিল না। আমাদের কবিগুরুও সে দেয়ালের পিলার ছিলেন বলে অনেক কুৎসা আছে। সে যাই হোক, অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়টি যখন যাত্রা শুরু করল তখন এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর উত্থান ঠেকানো এড়ানো না গেলেও তখনকার সামাজিক জাত-বর্ণ প্রথার প্রেক্ষাপটে এটি একটি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র নিয়ে এর যাত্রা শুরু করতে পারেনি। এর অন্যতম নিদর্শন মুসলিম এবং অমুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা আবাসিক হলের প্রবর্তন। ব্রিটিশ উপনিবেশের ‘ভাগ করো ও শাসন করো’নীতির আলোকে সাম্রাজ্য পরিচালনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজন তৈরির এ দ্বৈতনীতিও স্বাভাবিকভাবেই উপনিবেশের স্বার্থেই দরকার ছিল!

আর পরবর্তীতে পাকিস্তান যেহেতু একটি ধর্মরাষ্ট্ররূপে কিংবা মুসলমানদের রাষ্ট্ররূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেখানেও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি দেয়াল তৈরি করে রাখা প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। কিন্তু যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ধর্মরাষ্ট্রের আদর্শকে চ্যালেঞ্জ করে একটি ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সে বাংলাদেশে বছরের পর বছর ধরে এই ধরণের জঘন্য সাম্প্রদায়িক একটা ব্যবস্থা কীভাবে প্রশ্নাতীতভাবে টিকে আছে সেটা এক মহাগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বটে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেকেই বলে থাকেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাতিঘর। পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান রাষ্ট্রের আদর্শকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একটি নতুন অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বপ্ন এবং এর সফল বাস্তবায়নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ই নেতৃত্ব দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান পর্যন্তও বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নেতৃত্বে এ বিশ্ববিদ্যালয়ই অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে। এটা সত্য যে রাজনৈতিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিস্তারের কেন্দ্রেই অবস্থান করছে। কিন্তু এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক গড়ণ কীভাবে হচ্ছে তার খবর কি সচরাচর রাখা হয়? শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে যখন তার শিক্ষার্থীদের পৃথক পৃথক গোয়ালঘরে ঢুকানো হয় তখন কি তা বিশ্ববিদ্যালয়টির মৌলিক আদর্শকে চ্যালেঞ্জ করে বসে না? শুধু কি তাই, মোটা দাগে এটি কি রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষকতাই করছে না?

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৬ টি। কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের আলাদা করে রাখা হয়। এমনকি আমরা যদি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকাই সেখানেও দেখতে পাব বিশ্ববিদ্যালয়টির নামের সাথেই একটা সম্প্রদায়ের বিশ্বাসের সম্পৃক্ততা থাকার পরেও সেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা আবাসনের কোন ব্যবস্থা নেই।

পার্শ্ববর্তী ইন্ডিয়ার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও ধর্মীয়ভাবে শিক্ষার্থীদের আলাদা আলাদা বাসস্থানের কোন ব্যবস্থা নেই। ইন্ডিয়ার যে কয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সাথেই ধর্মীয় পরিচয় স্পষ্ট করে দেওয়া আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি, জামিয়া মিল্লাহ ইসলামিয়া, বানারাস হিন্দু ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি।

উত্তর প্রদেশে আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৫ সালে উত্তর ভারতের প্রখ্যাত মুসলিম সমাজ সংস্কারক স্যার সৈয়দ আহমেদের হাত ধরে। মজার ব্যাপার হল বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন একজন হিন্দু রাজা রাজা জয় কিসান দাস।  বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে অধ্যায়ন করছেন প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী। ১৯ টি আবাসিক হলের বিশ্ববিদ্যালয়টিতে হিন্দু-মুসলিম সব বিখ্যাত ব্যক্তির নামেই আবাসিক হল থাকলেও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোন হলকে চিহ্নিত করা নেই। দিল্লীর জামিয়া মিল্লাহ ইসলামিয়া এখন ইন্ডিয়ার সেন্ট্রাল মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কাজ করছে। ১৯২০ সালে মাওলানা মুহাম্মদ আলি এবং মাওলানা শওকত আলির নেতৃত্বে  মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম ভাইস চ্যাঞ্চেলর ছিলেন ড.জাকির হোসেন। ৫০ শতাংশ আসন মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য বরাদ্দ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে অধ্যয়ন করছেন ১৭ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী।  বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছেলে এবং মেয়েদের জন্য আলাদা হলের ব্যবস্থা থাকলেও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোন আবাসন বৈষম্য নেই। বানারাস হিন্দু ইউনিভার্সিটি এশিয়ার  অন্যতম বৃহৎ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৬ সালে। দুইটি ক্যাম্পাসে বিস্তৃত বিশ্ববিদ্যালয়টির আয়তন ১৬ বর্গকিলোমিটার। বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০ হাজার শিক্ষার্থী ছড়িয়ে আছে এর ৬০ টি আবাসিক হোস্টেলে। নামে হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির আবাসনে ধর্মীয় পরিচয়ের কোন ভূমিকাই নেই।

ইন্ডিয়ার অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই, পাকিস্তানসহ বিশ্বের আধুনিক রাষ্ট্রের কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের আলাদা আবাসনের নজির নেই। আর অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে তো এটা কল্পনারও বাইরে।

যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয়টি মুখ্য এবং স্পর্শকাতরই হয়ে থাকে তাহলে লিঙ্গীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বঞ্চিত করাও সুস্পষ্টভাবে বৈষম্যমূলক। সে প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় পরিচয়ের সূত্রে ছেলেদের জন্য আলাদা হলের ব্যবস্থা থাকলেও মেয়েদের জন্য আলাদা কোন হলের ব্যবস্থা নেই। এটি যেন এমন যে, ছেলেদের জাত যাওয়ার ভয় থাকলেও মেয়েদের জাত-পাতের কোন বালাই নেই! এবং একটি রাষ্ট্রের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় যখন এভাবে লিংগীয় বৈষম্যমূলক এবং পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসারে ভূমিকা রাখে তখন রাষ্ট্রযন্ত্রটির আদর্শ নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন দাবী করে।

রাষ্ট্রযন্ত্রটির আদর্শ নিয়ে পূণর্ভাবনা কেন দরকার তার জন্য সামাজিকীকরণের বিষয়টার দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। যেমন, ধর্মবিশ্বাস একটি মানসিক প্রক্রিয়া। ধর্মবিশ্বাসের রূপ যখন মানুষের আচরণে ফুটে উঠে তখনই আমরা কেবল জানতে পারি সে কোন ধর্মজাত। একটি সম্প্রদায়ের বিশ্বাসের বলয়ে যে মানসিকতা গড়ে উঠে সে মানসিকতার কাছে যখনই অন্য ধর্ম-বিশ্বাস এবং জীবনাচরণ প্রকাশ পায় তখনই তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয় এবং সে তখন সে বিশ্বাসের প্রতি এক ধরণের প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে। এই প্রতিক্রিয়া যখন এক ধর্মের অথবা এক সম্প্রদায়ের সাথে অন্য সম্প্রদায়ের মধ্যে হয় তখন আমরা বলি এটা সাম্প্রদায়িক আচরণ। যেহেতু মানুষ গোত্রপ্রথা থেকে বের হয়ে এসে আধুনিক রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে বসবাস করতে শুরু করেছে তাই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র, সম্প্রদায় পরিচয়ের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতেই দরকার একটি অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি। তা না হলে সমাজে সবল দূর্বলের উপর, সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘুর উপর নিপীড়ণ চালাবে। তাই একটি স্থীতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখার জন্যই দরকার অসাম্প্রদায়িক নাগরিক এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজচেতনা।

এই অসাম্প্রদায়িক সমাজচেতনার জন্য প্রথমেই যেটি দরকার সেটি হল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে স্বাভাবিক সহাবস্থানের মানসিকতা তৈরি। এই মানসিকতা তৈরি হয় সমাজের বিভিন্নক্ষেত্রে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সক্রিয়ভাবে নিজেদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া বাড়ানোর মধ্য দিয়ে। আর এই মিথস্ক্রিয়া বাড়লে এক সম্প্রদায় অন্য সম্প্রদায়ের বিশ্বাস এবং জীবনবোধের কাছাকাছি আসতে পারে। এই কাছাকাছি আসা থেকে তাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয়। আর এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ যে সমাজে বিদ্যমান থাকে সে সমাজে সাম্প্রদায়িকতা দানা বাঁধতে পারে না। যেকোন সমাজের সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তাই দায়িত্ব হচ্ছে এমন কাঠামো তৈরি করা যেটি নাগরিকদের মধ্যে এই উদার মানসিকতার সৃষ্টি করবে।

আর এই মিথস্ক্রিয়া যেখানে থাকে না সেখানে এক সম্প্রদায়ের মানুষ অন্য সম্প্রদায়কে এলিয়েন ভাবে এবং নিজেদের অজ্ঞতা থেকে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধার ঘাটতি দেখা দেয়। এই ঘাটতি থেকে এক সম্প্রদায়ের অন্য সম্প্রদায়ের অনুভূতিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার মানসিকতা তৈরি হয় যা থেকে বিদ্বেষ বাড়ে যেটি অনিবার্যভাবেই সাম্প্রদায়িকতার আঁতুড়ঘর ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু’দের আলাদা হলের বরাদ্দ নিয়ে ভাবনাগুলোকে মোটা দাগে চারটি পয়েন্টে ভাগ করা যায়।

প্রথমতঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিমদের জন্য রয়েছে এক প্রকার হল এবং মুসলিম ভিন্ন অন্য সব ধর্মবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে একটি হল। এখানে মুসলিম বনাম অন্যান্য(সংখ্যালঘু) ধর্মের আড়ালে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসীসহ বিভিন্ন ধর্মের স্বতন্ত্র্যতা রক্ষা করা হয়নি।

দ্বিতীয়তঃ সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম ধর্মবিশ্বাসীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভিন্নমতের(ভিন্ন ধর্ম) নূন্যতম অস্তিত্ব না থাকায় তাদের মধ্যে সহাবস্থানের একটি অন্তর্নিহিত চেতনা তৈরি হয় না যেটি তাঁর গণতান্ত্রিক মানসিকতার গঠনকে বাধাগ্রস্ত করে।

তৃতিয়তঃ কিছুদিন পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটা রটনা উঠল যে একটি জঙ্গী সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংখ্যালঘু হল’ আক্রমণ করবে। তখন হলটির শিক্ষার্থীগণ নিজেরা এটাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে রাতভর হলটি পাহারা দেয়। তার মানে হলটির ‘সংখ্যালঘু’ পরিচয়টিই তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি যেটি ১৯৭১ সালেও এই পরিচয়ের কারণেই মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছিল।

চতুর্থতঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যদি এই হলটি চালিয়ে রাখার সপক্ষে  পর্যাপ্ত যুক্তি থেকেও থাকে তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের ব্যাপারটি এড়িয়ে যাওয়ার দায়ভার নেবে কে? বিশ্ববিদ্যালয়টি অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রের মত এখানেও পুরোপুরি লিঙ্গবৈষম্যকেই স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছে।

এটা মেনে নেওয়া কঠিন যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ৪৩ বছর বয়স হওয়া স্বত্বেও এই নীতিগত অসামঞ্জস্যটি নিয়ে কেউ শক্তভাবে কথা বলেননি কিংবা বলার সাহস পাননি! এবং এই দুই কারণের কোনটাই কম বিপদজনক নয়। আমাদের চোখের সামনে দিয়ে নির্বিঘ্নে চলতে থাকা সাম্প্রদায়িকতার এ মালগাড়ীতেই সওয়ার হয়েছে রাষ্ট্র যেটির গতির সাথে জড়িয়ে রয়েছে অন্তর্দন্দ্ব। রাষ্ট্রটির কি তার এঞ্জিন নিয়ে ভাবতে শুরু করা উচিত নয়?

Fruits of her labour ​​

2

– By Seema Amin

The hair strands of time, were they highlighted, would strike a striking look in 2009.

A few vermilion slashes down the back of the head (for a mutiny-cum-massacre), some gray-tinted purples (inaugural stones in buildings) and ….an almost imperceptible greenish-blue for the Indian Ocean Island of Mauritius; the Mauritian incident, that is, buried in the general darkness of that year…

The Mumbai bombs gregariously exploded in 2008; one of the recovered traces of the ‘terrorists’ was a forged passport purportedly belonging to a Mauritian. The slight of build, coral-bejeweled State of Mauritius alleged that it was the passport of a Bangladeshi migrant labourer with footprints leading to the EPZs, where migrant labour, composed largely of women from China and Bangladesh, constitutes the majority of workers. One hungry (or should we say ‘weak’) state accused another. ..

beasts-of-the-southern-wild-movie-photo-13

Ramola Ramtohul, in ‘The influence of state patriarchy and sexual politics on contract labour migration policy in Mauritius,’ (2010) notes that were it not for then Foreign Minister Dipu Moni’s pleading with the state, the latter’s decision to deport all Bangladeshi male workers from its Export Processing Zones (EPZs) would have been official policy following the 2008 Mumbai blast; she argues that the state’s patriarchal stance in deporting men, rather than women, reveals not only that such potential threats work to further weaken the power of migrant labour in the EPZs but that the unwritten codes of the new international strategy of labour demasculinizes male migrant labourers as part of the processes of feminization in global commodity chains. The attempt to establish oneself as a legitimate citizen, through marriage, and possibly having terrorist links, is termed an illegitimate attempt at ‘regaining masculinity’, where the very qualities of submissiveness, invisibility, informality and vulnerability constitute the (gendered) preference for ‘nimble hands.’ In Bangladesh, these ‘low-skilled’ young women almost never move from ‘operator’ to ‘helper’, much the less, supervisor—reserved for men.

The tale of Bangladeshi men in Mauritius has a few unlikely things to say about intersection of what can be called eroding paternalism and global feminization. The EPZs are constituted of a feminized work force where neither the state nor the suppliers or buyers provide the paternalistic values of protection, i.e. given in more traditional gender structures or in feudal paternalistic relations. Initially, a preference was given to female workers in the textile EPZs(as the industry grew through the MFA–Multi-Fibre-Agreement–and European duty-free access, much like Bangladesh earlier); a decade later, as globalization and the end of the MFA accelerated the race to the bottom, they imported higher numbers of male and female workers from China and India. Ramtohul describes the ‘demasculinization’ of the men as an effect of the high level of state and employer control over the migrant workers, including the the threat of deportation in the case of trade unionism, rendering them (as) powerless (as women are meant to be). Even as the threat of deportation is dangled over men based on ‘illegitimate’ activities, Ramtohul shows how the ‘illegal’ activities of female migrant labour, prostitution, is completely ignored: “The sex trade appears to be treated as a private issue over which officials prefer to remain quiet, as long as it does not hinder the performance of the workers at work. This suits both the employers and the state.” Thus ‘feminization’ seems to constitute a zone of infra-darkness, women accelerate the race to not just the ‘bottom’ in terms of wages; they take us into a more controlled, shrouded realm. To exercise agency becomes ‘masculine’ and thus the rules of ‘legitimacy’ are gendered.

The need for more and more vulnerable workers and the conditions of hard work where overtime is the rule rather than the exception have led to a highly feminized workforce in Bangladesh as well. The threat of deportation does not exist here, but one of the justifications for not taking away GSP or destroying the industry for its famous statistics does include the hidden threat of laid-off workers descending into the ‘blacker’ market, i.e. prostitution. Unlike the Maurituan girls who made some extra cash, the girls rarely choose another job outside the garments trade (it is, first of all, all-consuming); they live or die with it; and we all know what kind of death has merged with the atrocity of survival….

The garments industry in Bangladesh, composed of largely rural migrants, is often cited as a more empowering, if low-skilled, over-worked alternative to other ‘feminine’ alternatives, simply for the independence that free-wage labour provides. We don’t have to quote Marx on free wage labour to sense the irony in such a process of empowerment where feminization–with its corollaries of unprotesting and thus exhilaratingly cheap labour based on informal contracts with unwritten rights–and globalization are the twin processes that even allow such ‘empowerment’ to unfold.

But the atmosphere in the ‘90s was eerily hopeful. In 2001 Naila Kabeer quoted the Director of the Labour Department of Bangladesh saying, “I believe that the ‘culture of compliance’ is far ahead in the garment manufacturing sector and changes in the RMG sector are dramatic compared to other sectors.” Discussing ‘Resources, Rights and the Politics of Accountability,’ she echoes the sentiments from a national workshop: “The women workers in the Bangladesh garment industry have had more public attention to their rights than any group of workers in the entire history of the country.”

The atrocity of exhibition? 2009. One hungry (or should we say ‘weak’) state accused another. ..

Forgeries…identity.

‘Shob kichu bhua.’ Sumaya.

She is hungry, but she can’t eat. She eats, but the tumor blocking her nose, bloating and bursting through her eyes, takes a shot at grinding her down its root canal first. Dark there, unreal, like some impossible Rana Plaza.

And she tells me, ‘Waking up darkness, going to sleep darkness… everything looks the same. Kotha bolte khub iche kore…’ Yes, the ability to bear monotony– that was her ‘skill’, the monotony that now is the fruit of her labour. PG Hospital. Have a Look. It’s the Elephant Man. (And I can promise you, you would wish you were blind).

There has been no health research on how the garments industry has gradually, over time, eroded the strength and immunity of teenagers who began their gender-empowered career young, at fourteen perhaps like Sumaya, who is too thin, too weak, to support an operation to alleviate even an hour’s itch from the tumor bursting through her skin that cannot hold the stretched, dangling eye (indescribable, without morphine).

Even if the PM and all the foreign and domestic funds in the world were channeled somehow, magically, to her, she has already been so ‘feminized’, so ‘nimble,’ such an exemplary example of push-pull and supply and demand, that the process begun could never be reversed; damage done; poshai hojom, kaj kothom. But let’s get back to patriarchy, all that intangible subversion of dignity; how does it work when capital becomes the mid-wife, between the Man and the fruit.

Shob bhua. Two graves for one person. Can’t Match DNA.

It’s International Woman’s Day soon and hundreds– or should I say –billions of women’s rights’ NGOs and activists affiliated with OBR (One Billion Rising) or not will, umm…. RISE.

Sumaya will try to sleep.

Naomi Klein wrote in ‘Patriarchy gets Funky’ (2001) on how the culture industries made identity politics and diversity a mantra of global capital. She quotes cultural critic Richard Goldstein, “This revolution…turned out to be the savior of late capitalism.”

Pedagogy of the Oppressed. A handful of definitions. Sumaya, were you a student of mine, I would have asked you to teach me:

Patriarchy/Peri-ousia– Ousia in ancient Greek refers to one’s being or essence. Peri-ousia is that which surrounds one’s essential being and thus defines “who” one “is.” Patriarchy can be seen as a system of male domination in which men dominate women through the control of female sexuality or a system which developed along with the development of private property and state power. Or, it can be seen as both system and discourse.

Discourse— a regulated set of statements which combine with others in predictable ways. Foucault says: ‘We must conceive of discourse as a violence which we do to things, or in any case as a practice which we impose upon them; and it is in this practice that the events of discourse find the principle of their regularity.”

Then I would have told her, run after these words, kill them if you can. Burn them alive. In your body, the body arrested. In the body, the body bearing. In the body, the body unbearable.

She does not know how hysterical we get over Rights, she wants to eat ice cream and see again. She has decided my hands are softer than Shobuj’s; I don’t tell her no, mine are not nimble hands; don’t scold Shobuj, he loves you as though you were the last thing he would ever see with both eyes still able to shut and open.

Was it like a root canal, Rana Plaza? Well, what’s fire like anyway? Metaphors and similes were lost to Saydia when she tried to relay her experiences to me. Now that Sumaya has become an installation carved into her own skull, such literary devices seem unnecessary. Yes, the poets keep poetically describing the sky. And what exactly does your sky look like, Bangladesh? Looks like Boi Mela, February. Mela? Kothai Mela, Sumaya is almost excited, an excitement that wants to ‘see’ vicariously what else submerges us while she floats in the slow sure nausea of a malignant ‘pregnancy’ ‘without a due date.

Yeah, Boi Mela. You know, fun and games, books. Saris and panjabis. Very poetic poetry, poetically recited through reciting voices in recorded tapes, broken record invoking the beauty of our mother tongue… Well the language laboring between us in PG seems to be of another world; beyond Bangla. It’s all very otherworldly down there, in PG, cave-like; she yearns to speak but our tongues are gone.

There were men diseased who looked like lepers in New Market when I was a child. They’re not quite there anymore. I had hoped that along with ‘progressive’, ‘empowering,’ birth control and the garments industry they would have disappeared too, vodoo. Now I see that you Sumaya are the laboratory of the new leprosies. You’ve been kept in the dark, all winter they prepared for the celebrations of our liberated language, but you remained locked in ‘discourse’: ‘ultra poor,’ ‘ultra vulnerable,’ ‘slave-like conditions.’

Freed slave Sojourner Truth famously said, Ain’t I Woman? In the 1851 Womens Rights Convention in Ohio:

“And a’n’t I a woman? Look at me! Look at me! Look at my arm! I have ploughed, and planted, and gathered into barns, and no man could head me! And a’n’t I a woman? I have borne thirteen chilern, and seen ’em mos’ all sold off to slavery, and when I cried out with my mother’s grief, none but Jesus heard me! And a’n’t I a woman?”

Sojourner, how would you compensate that indomitable arm? They’ve been trying to work out some formula for the compensation of an arm or leg, head… Slavery must have easily measured up the pieces of your body, your teeth…It’s just so hyped, the hyperbole of ‘slavery=garments industry or slavery= women’s oppression.’ There is no heroism in Sojourner’s voice when she cries out ‘none but Jesus heard me!’ The echo there resounds because a deaf world is no world worthy of man or woman. Glorifying the strength of women is as equally patriarchal as denigrating their fortitude.

Given the immeasurable cause and effect of her affliction, it is difficult to conceive ‘compensation’ for Sumaya. But she seems to know everything about what Alice Walker connotes as strength when she advises: ‘Be Nobody’s Darling.’ Sumaya ain’t anyone’s darling.

Visitors to Sumaya like me whisper some recent news:

Hey you know Delwar’s in jail.

Good. His wife too…

Yes, she was culpable too, no? (Though the practice of marrying to avoid culpability is not unknown here).

Yeah. You know, ‘The Law.’ We made it bend a little towards the scales of justice. Justice, does that word have a ring, Sumaya?

Sumaya?

There is nothing I know or want in this world to beautify the horror you live,

I only want it to end.

Ssh! No Islam Please, We’re Bengali

This article investigates the seemingly Islamophobic editorial policy of the Dhaka Tribune, and relates it to the deeper question of why Bangladesh’s current ruling elite have such an aversion to the Islam and Muslim culture of their subjugated population. It is high time that this state of affairs was transformed.

man reading newspaper in bangladesh.jpg

‘The Matrix’ that is Bangladesh: Which pill will you take, the red pill or the blue pill, reality or rhetoric?

Two Worlds Apart

In late February 2014 two meetings were held on the rights of ‘indigenous’ people. One was held in Dhaka at the Cirdap auditorium, the other in London at King’s College. Both were talking about the rights of indigenous people, the threats they faced and depictions of Islam.

The Bangladesh conference talked in alarmist tones of the epidemic of indigenous children being converted shock horror, to Islam in Muslim majority Bangladesh. There was no mention of Christian missionary activity, but only Muslims propagating their faith. In the imaginary world of the organisers, Islam is not a universal and dynamic tradition, but a static religion established 1400 years ago, it became the second largest religious tradition, purely on the reproductive abilities of its original adherents.

This view runs against the everyday reality experienced by Muslims in their lives and throughout their histories. From the earliest community, lead by the Prophet (pbuh), down to the Sufi giants of the Indian subcontinent, calling people to God has been one of the essential foundations of the faith and community. Frustration at the double standards applied towards Muslim vis a vis Christian missionary work in the Chittagong Hill Tracts region was expressed in Hefazat e Islam’s tenth point in their first set of demands last year.

Stop anti-Islamic activities in Chittagong propagated by several NGOs and Christian missionaries under the guise of religious conversion.

The Dhaka gathering stood in stark contrast in attitude to the one held in London by Reprieve, a human rights organisation that works for fair trials and justice for the most vulnerable and powerless against the most powerful states. Reprieve’s intervention aimed to highlight the plight of large communities in the tribal areas of Pakistan who live under constant fear of extrajudicial killing from drone attacks by the United States with the complicity of sections of the Pakistani state and wider society. Theirs is risky work, their key speaker, journalist Kareem Khan, whose son and father had been extrajudicially killed in a drone strike in December 2009, had been kidnapped then released in Pakistan only days earlier. The 2012 report Living Under Drones is well worth digesting for more background. The key difference here was that neither the participants nor their western liberal audience viewed Islam as an anathema, but instead as a source of strength in the struggle for universal humanity and rule of law. From Kareem Saheb’s opening prayer with the prayer of the Prophet Moses before facing his Pharaonic stepfather, to the supplications of solidarity he extended to the victims of state crimes in Dhaka last May. Kareem Saheb, took the same message of shared humanity,  universal rights and pride in Islam to the European Parliament. The European Parliament showed their approval of the message by passing a resolution demanded European Union Member States not to “perpetrate unlawful targeted killings or facilitate such killings by other states” and called on them to “oppose and ban practices of extra judicial targeted killings.

Comparing both conferences, what I found incredulous were not the views expressed in Dhaka, Muktasree Chakma Sathi is entitled to her opinions, misunderstandings and key performance indicators. There is a  need for more genuine, faithful interfaith space in Bangladesh, and in the absence of justice for any majority, minorities are vulnerable to co-option, division and rule. I was dumbfounded at how these views could be produced and published in the Dhaka Tribune without any challenge or right to reply.

‘Crusading’ Churnalism from Dhaka to London

crusading knight.jpg

‘Crusading’ journalism at the Dhaka Tribune proving indeed that ‘the pen is  mightier than the sword’.

This is not the first time the newspaper has run a negative, irrational news story on Islam and Muslims. Over its short lifespan of a year, there is a recurring pattern of negative and irrational attitudes toward the belief of the Muslim community in Bangladesh. From cursory, non-scientific search of the stories run by the Dhaka Tribune using the adjective Islamic, between a third to half of the stories are related to violence, militancy and terrorism. This gives any reader, prone to believing what they read in print, the impression that Islam is a regressive and violent religion, with a large section of its adherents engaged in militant terrorist activities.

It is worth scratching the skin of a particularly smug example or the irrational Muslim meme. On Language Day the Dhaka Tribune published an article with the title ‘New Fatwa deems Mars Trips Haram’. It was a story that clerics in the UAE had given a legal opinion that it is prohibited for a Muslim to fly to Mars, deliberately distorting the facts by a fatwa to the Mars One mission. The actual relevance of the story to Bangladesh I am yet to figure out (answers on a postcard please), but the psychic intention is clear. The Dhaka Tribune claimed that following the fatwa, ‘Muslims banking on a holiday to Mars will have to cancel their plans on space travel.’

This particular piece came just days after the right wing anti-immigrant Daily Mail published the story in the UK. The Daily Mail is currently being investigated by the UK Press Complaints Commission after it published a racist and Islamophobic op-ed piece ‘satirising’ a private community visit to a children’s theme park. The piece, which wrote of busses, with Muslim children on, blowing themselves up, was met with right wing revelry and public revulsion. More than 25 national Muslim groups wrote a letter of complaint to the editor  with regards to the paper’s piece on Islam and Muslims, arguing that the piece has increased the risk of attack on Muslims from far right groups.

The story, printed by both the neocon Daily Mail and ‘progressive’ Dhaka Tribune for similar effect is patently untrue. A rebuttal was issued from the UAE, explaining that the answer was to a kamikaze-like, one-way trip to Mars. Given the Muslim moral abhorrence of suicide, the answer was a prohibition rather than an affirmation. The entire episode is lampooned elsewhere on the internet.

It begs the question of why the Dhaka Tribune would publish a story so clearly negative about Muslims, of no relevance to Bangladesh, echoing a right wing anti immigrant newspaper, and which was based on a cruel twisted half truth. To put the impression this gives of Dhaka Tribune’s professionalism, integrity and agenda even more clearly, the Daily Mail piece in the UK was actually much better.  They at least buried the correct context of the story in the text beneath their sensationalist Muslim-negative headline, whereas the Dhaka tribune further spun the story out of context with its own Fatwa saying it meant that flying to Mars was morally reprehensible (haraam).

The American Muslim cleric Musa Furber, argued the episode demonstrated a deliberate media distortion of facts. He stated, the type of voyage Mars One plans is not analogous to the type of voyage presented in the article. Mars One aims to establish a permanent and sustainable human colony on Mars, as is apparent from its mission goals, roadmap, and the risks and challenges involved. It is obvious that this isn’t the type of voyage addressed in article, nor is it the type deemed impermissible in UAE fatwa authorities clarification.

The Ignorance Multiplier Effect and The War on Terror Economy

Needless to say, the story underscores the ignorance, and ignorance multiplier effect of the Dhaka Tribune on Islam, as it was misleading its audience that a fatwa issued in the UAE was somehow a binding space-exploration legislation upon all Muslims over all time and space, like the equivalent of a Catholic papal bull. The exact opposite is the truth and as this is a recurring error, briefly outlined next.

A fatwa is nothing more than a personal legal opinion, optional for everyone else to follow and morally binding only upon the person who issues it. An analogy might be made to the issue of legal opinions from courts in common-law systems. Fatwās generally contain the details of the scholar’s reasoning, typically in response to a particular case, and are considered a binding precedent by those Muslims who have morally bound themselves to that scholar, including future muftis. Mere rulings can be compared to memorandum opinions. The primary difference between common-law opinions and fatwās however, is that fatwās are not universally binding. The Islamic legal traditions are not universally consistent nor are they hierarchically structured. Contrary to what some would have us know, fatwās do not carry the sort of weight that secular common-law opinions do.

A well-trodden social response to the editorial policy of the Dhaka Tribune, would be to judge that its editor, staff and proprietors are anti-Muslim. A similar accusation was raised by a staff member at the paper, arguing that the paper was promoting intellectual attacks on Islam.   Proponents of such a view might point to editor Zafar Sobhan’s facebook page where he suggests Salman Rushdie’s ‘Satanic Verses’, a book banned in Bangladesh, to be one of his favourite.

zs.jpg

Zafar Sobhan’s facebook page is a regular portal for the Dhaka flatterati to pay tribute.

Such arguments are too blunt for the challenge at hand, but have indicative value. They are dismissed, by the religiously indifferent of course, with statements like ‘but there is a prayer room in the Gencom building’, or some derivation of ‘brown people can’t be racist’, and ‘how can he have an irrational antipathy towards Islam when he was born Muslim?’ Vocal objection to this publication’s apparent approach to perhaps the majority of its reader’s, if not their parent’s din might even be met with the well worn liberal-sounding excuse of “Well if you don’t like it, nobody is asking you to read it.”

Yet it is very much in the public interest to dwell on the matter for longer.  As the War on Terror economy booms in Bangladesh, it becomes steadily more deadly and systematic as corporate media and corrupt scholarship seek more control over our intellects, bodies and relations with each other. We must penetrate deeper than observation and frustration at systematic bias, to examine the broken record that plays us for fools.

 Introducing the Three Bankruptcies of Islamophobia in Bangladesh

The irrational antipathy the paper has towards Islam and Muslims in Bangladesh, emanates from a three pronged bankruptcy: intellectual, economic and moral, which have their origins and development deep in history. It creates an anaesthetising alienation and a homebrew Southern Comfort for the powerful and the privileged.

It is a crying shame that the self proclaimed liberal elites of Bangladesh do not deem it fit to extend such values of tolerance and compassion to their less advantaged neighbours. Instead of honouring their expensive educations by partnering with fellow citizens in tough predicaments, they continue to lap up the global war on terror narrative to preserve the status quo, keeping their neighbours, and themselves, in their place.

This is in sharp contrast to the acts and works of Professor Akbar S Ahmed, who in his latest volume The Thistle and the Drone, advocates the rights of ordinary citizens on the periphery of modern states who have found themselves victimised like the Pakistani tribesman by drones, the Age of Globalisation’s most terrifying kill technology.

The Islamophobia manifesting through the Dhaka Tribune is more insidious than Bollywood, and its buzz reverberates amongst many within the current power elite and ‘polite’ circles that Mr Sobhan services. It is the result of internalisation of a racist 19th century Britisher argument which at it core says that one cannot be both a Liberal and a practicing Muslim. It is as if they are two static, mutually exclusive categories. According to such a warped development indicator, one measures progress by the distance one keeps from living Muslim traditions. It is an outdated, bankrupt ‘essentialist’ view of Islam, ignoring its diversity and dynamics, gaining inspiration from the dictum of the imperialist British poet Rudyard Kipling: ‘OH, East is East, and West is West, and never the twain shall meet…’

J S Mill.jpg

Do as I say not as I do: J S Mill was one of the founders of modern liberalism, who also worked in the British Imperial Indian Civil Service

This argument has its roots in the works of J S Mill, who made it clear in On Liberty and Representative Government that his views there could not be applied to India, because Indians were civilizationally, if not racially inferior. This powerful view continues, tacitly and explicitly, despite vivid contradictory evidence, from Reprieve’s work with Pakistanis against drones, to Hasan Suroor’s recent study with Indian Muslims.  It is an opinion that sheds more light on the insecurities of its advocates than the inadequacies of non-European civilisations.

Revis(it)ing Two Economies and The Song of Bangladesh

Indian classical festival.jpg

Indian fiddling while Dhaka burns: Bengal Classical Music Festival (BCMF) held at the Army Stadium from November 28 to December 1 2013 – during which time when opposition party members were being rounded up and killed by security services for their agitation for free and fair elections.

The Dhaka Tribune, with its combination of op-ed declamation, hypnotic kitsch history, mass choreography of facts and dramatic partisan lighting finds its model in a party street rally rather than the liberal newspaper it purports to be. A construction of a grandiose theatre rather than debate, its readership are offered images of themselves as the editorials want, with little correspondence with reality.

It would appear that Mr Sobhan is trying  to recreate a spectacle of a Bangladesh in his reader’s mind that shall forever be Calcutta, and a second-rate one at that, with a colonially capital driven and Muslim-lite metropolis extracting resources and cheap labour for global markets from a Muslim rural hinterland. A century on and  The Song Remains the Same.

In this two (cultural) economy theory, Eastern Bengal (Bangladesh) has a dependent and binary relationship with its Western half. According to the theory, the ruling elites of Bangladesh, in return for economic concessions and precious foreign exchange,  purchase kitsch manufactured cultural products, political attitudes and certainties from a Delhi directed West Bengal. This attitude is exemplified in the newspaper’s favourable attitude towards the Indian government and turning a blind eye to the increasing Indian interference in domestic politics and domination over the economy.

The paper’s metropolitan myopia barely picks up the looming environmental crisis in rural Bangladesh, amongst other factors caused by the unilateral construction of upstream dams by the Indian government. A recent classical music festival is given more coverage than barrages and rivers in a country where millions are displaced environmental refugees. Multiple environmental crises are devastating certain parts of the rural economy and society, causing rural depopulation and driving desperate throngs into the crowded slums of Dhaka, where many are compelled to accept dangerous working conditions for meager wages. It is a labour market where wages are artificially kept low by the ruthless clampdown on dissent, as witnessed by the brutal torture and murder of labour activist Aminul Islam by individuals linked to the security forces. The Rana Plaza industrial disaster and its production are not the exception to the rule, but a tip of the iceberg of the two economies of Bangladesh.

It is a familiar image, but with different technology, of the absentee landlord, his rent collector and the tenant farmer, a return to the supposed ‘cultural’ heydays of British Raj following the 1793 Permanent Settlement, where centuries-old flexible land tenures were unilaterally appropriated then handed over by the British to a select, pliant moneyed class. This fundamental, multi-generational mutilation of social and ecological relations fueled the much celebrated 19th century Bengali renaissance that rested on the back of dispossession and pauperisation in the countryside.

A reminder of the true human cost of Bengal under the British is recorded in Noam Chomsky’s, World Orders Old and New:

“A British enquiry commission in 1832 described the effect of sponsored government created through Permanent Settlement Act of British Parliament. The commission found “the settlement fashioned with great care and deliberation has to our painful knowledge subjected almost the whole of the lower classes to most grievous oppression.” In the words of Director of East India Company, “The misery hardy finds a parallel in the history of commerce. The bones of cotton weavers are bleaching the plains of India” Nevertheless Governor-General of India, Mr. Bentinck, was unmoved and observed, ” The permanent settlement, … has this great advantage, at least , of having created vast body of rich landed proprietors deeply interested in the continuance of the British Dominion and having complete command over mass of the people.”

Let them eat culture: (l) An illustration of famine victims of the Permanent Settlement Acts, and (r ) the 19th century Bengali Renaissance was result of a joint venture interaction between British Administrators and their Bengali Zamindari (feudal) colleagues.

Let them eat culture: (l) An illustration of famine victims of the Permanent Settlement Acts, and (r ) the 19th century Bengali Renaissance was result of a joint venture interaction between British Administrators and their Bengali Zamindari (feudal) colleagues.

The fear, and reality, of economic bankruptcy is an under-explored driver of human behaviour. Politically produced famines have claimed the lives and hopes of millions of our forefathers and mothers  through 1770, 1943 and most recently 1974.  In the shadow of such absence, this verse of Joan Baez’s haunting lament over our most recent military war is given new layers of meaning.

The story of Bangladesh

Is an ancient one again made fresh

By blind men who carry out commands

Which flow out of the laws upon which nations stand

Which is to sacrifice a people for a land

Morality and The ‘New’ Anandabazar School of Journalism

Intellectual, economic and moral factors intermingle in the messiness of real life, but the moral sphere is our next zone of interest. For those who can remember as far back as 2007, Mr Sobhan once reimagined the theatre of Bangladesh using the Christian Biblical story of Original Sin. Exhibiting symptoms of the Clark Kent ‘Ubermensch’ syndrome, Sobhan urged his countrymen to, ‘cleanse the poison from our bloodstream’. Since taking power in 2008 the Awami League government has obliged, we continue to see a rising number of political disappearances and deaths, not to mention mass incarceration and criminalisation of opposition activists.

This concept of Original Sin is opposed by the Qur’anic narrative and Muslim world view of Adam (ah) and his progeny – us – of original innocence, forgiveness, spiritual equality and personal responsibility. Original Sin is a fatalistic doctrine of Western Christianity, which is an anathema to and challenged by the egalitarian spirit of Islam.

A more apt Qur’anic and Judaic narrative that speaks to the reality of Bangladesh would be that of Cain and Abel.  Cain, who killed his brother Abel the herdsman, and built a city, prefigured the modern call one hears from the polite circles of Dhaka, of the necessary cost of ‘progress’. The story gives us a framework to  understand how ‘civilised’ people like Zafar Sobhan can dehumanise and applaud brutality against their fellow citizens, as we saw from the Dhaka Tribune’s production and coverup of the 6th of May Massacre.

zsliveblog.jpg

In an interview for the University of Liberal Arts Bangladesh, Dhaka Tribune Editor Zafar Sobhan extols the virtues of media ethics and modern technology, stumbling ( choking? ) over a reference to his paper’s live blogging of  “May 5th, 6th… the Hefazot in Dhaka”.

This attitude reenacts the tragic history of the bloody fields of Plassey in 1757 in modern day Bangladesh. At the heart of the tragedy lies the betrayal by Mir Jafar of Siraj Ud Daulah, a tragedy we replay time and again, one betrayal after another, of brother against brother, all in the name of  a misconceived notion of ‘progress and development’.

marchofprogress

The onward march of ‘progress’ in the history of the Bangladeshi people: (l) From the fratricide of Cain and Abel, to the (c) 1757 betrayal at Plassey and  a (r)  scene from the May Massacre in Dhaka .

Following in the footsteps of Zafar Sobhan in the use of Christian Biblical terms, the best summation of the Dhaka Tribune and its editor is:

And the LORD said unto Cain, Where is Abel thy brother? And he said, I know not: Am I my brother’s keeper?

(King James Bible, Genesis 4:9)

or as Sher e Bangla Fazlul Haq is reported to have said:

‘I worry the day when I see that the Anandabazar* has printed something positive about me, because that is the day I understand that I have done something against the interest of the Bengali Muslims’.

sher e bangla.jpg

The Lion of Bengal ‘Sher e Bangla’, A K Fazlul Haq, founder of the Krishak Praja Party (Farmer’s People’s Party) and the first elected premier of Bengal

* Anandabazar Patrika is a Kolkata based Bangla daily newspaper, founded in 1922, it was then seen as representing the interests of absentee landlords against their mainly Muslim tenant farmers.

প্রেক্ষিত হিজাবঃ এ কেস স্টাডি ফর দ্য গ্রোথ অব লিবারেল ফ্যনাটিসিজম

1

by Jahid Islam

বাংলাদেশের একটা শ্রেণী নিজেরদেরকে লিবারেল দাবি করে। বাস্তবে এরা ফ্যানাটিক। শুধু ফ্যানাটিক বললে কম বলা হবে। ফ্যনাটিসিজমের ১০ এর স্কেলে এদের স্কোর ৯.৯। এমাজান জঙ্গলের ‘মানুষ আকৃতির’ যেসব প্রাণী অন্য মানুষের মাংস খায় কেবল তারাই এ স্কেলে এদের চেয়ে উপরে আছে।

গড আছে নাকি নাই এটা কিন্তু নতুন কোন বিতর্ক না। এ বিতর্কের ইতিহাস অনেক পুরোনো। যারা এ তর্ক করেন আমার কাছে তাদেরকে খারাপ লাগে না। তাদের অনেকেই নিজেদের যুক্তি এবং আন্ডারস্ট্যান্ডিং ব্যবহার করে কনভিন্সড হতে চান। এতে দোষের কিছু নাই। বাস্তবে এটাই আদর্শ পদ্ধতি হওয়া উচিত। যারা গডে বিশ্বাস করেন না কিন্তু রেশনালি চিন্তা করার চেষ্টা করেন এবং সে থেকে তাদের এ কনভিকশন আমি তাদেরকে রেসপেক্টও করি। এদের বেশিরভাগই নিজে গড বিশ্বাস করেন না, কিন্ত অন্যের বিশ্বাস এবং আচরণকে শ্রদ্ধা করেন। ‘গড’ বিশ্বাস করেন এমন কারও সাথে আলোচনা বা তর্ক হলে তারা নিজেদের যুক্তি দিয়ে তাদের বিশ্বাসের পেছনে কারণকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেন। সমাজের ভিন্ন মতের মানুষের সাথে কোএগজিসটেন্স এ বিশ্বাস করেন। এরা আসলেই লিবারেলিজমে (প্লুরালিজম) বিশ্বাস করেন।

7bbae7bd7f30fc7e74a47780ac8bce0d

আমি যে ফ্যনাটিকদের কথা বলছি তারা অন্যের জীবন থেকে ‘গড ডিলিউশন’ দূর করতে গিয়ে নিজেরাই একটা ধর্মের জন্ম দিয়েছেন। যে ধর্মের প্রধান ডকট্রিন হল সবার জীবন থেকে গডের ধারনা দূর করা এবং সেটা যে কোন মূল্যে। প্রয়োজন হলে জোর করে। বলাই বাহুল্য, আমাদের দেশে তাদের প্রধান টার্গেট হল ইসলাম। বাস্তবে সমাজে যারা বিভিন্ন ধর্মে ধার্মিক হিসেবে পরিচিত এ শ্রেণী এর চেয়েও অনেক ডেডিকেটেডলি তাদের এ “গডলেস ডিলিউশন” ধর্ম পালন করেন। তারা হিজাব পরা বা পরানোকে খুব একটা পজিটিভলি দেখেন না। মনে করেন যে, হিজাব পরলে নারীদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হয়। এখানে আন্ডারলায়িং এসাম্পশান হল একটা বিরাট অংশকে জোর করে হিজাব পরানো হয়। যারা স্বেচ্ছায় হিজাব পরে তারাও আসলে বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর লোক এবং হিজাব পরাই তাদের ইন্টেল্যাকচুয়াল ইনফেরিওরিটির প্রমাণ। তারা কেউ কেউ প্রচার করে বেড়ান যে, আরবের ১৪০০ বছর আগের গরম ‘লু হাওয়া’ থেকে বাঁচার জন্য মহিলারা হিজাব পরত। তাদের এ এসাম্পশান এবং আর্গুমেন্ট ঐতিহাসিক এবং তত্ত্বগত দিক থেকে ভুল। ইতিহাস এবং ধর্ম বিষয়ে সামান্য জ্ঞান থাকলেই এ যুক্তির অসাড়তা বোঝা যায়।

যেহেতু তারা মনে করেন যে অনেককেই জোর করে হিজাব পরানো হয় বা তারা নিজেরা কেবল হিজাব না পরার কারণেই হিজাব ব্যবহারকারীদের চেয়ে ইন্টেল্যাকচুয়ালি সুপিরিয়র, অতএব তাদের অধিকার আছে জোর করে সবার মাথা থেকে হিজাব খুলার।
জোর করে হিজাব পরানোর ঘটনা যে অল্প কিছু ঘটতে পারে সেটা মানছি। এ শ্রেণী কিন্তু তাদেরকে bullying করে না। তাদের ফিল্ড অফ ইন্টারেস্ট হল স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষিত শ্রেণীর মেয়েরা যাদের প্রায় সবাই স্বেচ্ছায়,কনশাসলি হিজাব পরে এবং এটাকে ধর্মীয় অনুশাসন মনে করে। জোর করে কাউকে হিজাব পরানো যদি ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হয়, জোর করে হিজাব খোলানো বা bullying যে সেটারই মিরর ইমেজ এ বাস্তবতা তাদের স্থূল মস্তিষ্কে প্রবেশ করে না। আরও মজার ব্যপার হল, এদের কেউ কেউ টিভি টকশোতে এসে ইসলামকে এ দেশে মাইনরিটির ধর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করে। অথচ এ দেশের বেশির ভাগ লোক যে মুসলিম এ ফ্যাক্ট ক্লাস ৪ এর একটা বাচ্চাও জানে। দেখলে মনে হয় যেন কোন একটা ধর্ম মাইনরিটির ধর্ম হলে সে ধর্মের উপর মেজরিটির রিলিজিয়াস ডকট্রিন চাপিয়ে দেয়া বিশেষ পুণ্যের কাজ। মাইনরিটি হিসেবে মনে করার এ কাজটা যদি আসলেই তারা তাদের কনভিকশন থেকে করে থাকেন সে ক্ষেত্রে অবশ্য এদেরকে মানসিক রোগী হিসেবে ট্রিট করতে হবে।

এদের আরেকটি প্রধান ট্রেড মার্ক হল কিছু দিন পর পর তারা ‘বাঙ্গালী না মুসলমান’ এ অর্থহীন বিতর্ক উসকে দেয়। ভাবটা এমন যে কেবল তাদের কাছেই এর একটি অবজেক্টিভ উত্তর আছে। এ মিনিংলেস বিতর্ক চাঙ্গা করাকেই তারা নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তির সবচেয়ে বড় উৎকর্ষতা মনে করে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এটা অবশ্য জীবিকা। সে ক্ষেত্রে এটা বোধগম্য। প্রকৃতপক্ষে, অল্প কিছু Schizophrenia আক্রান্ত লোক যারা মাথায় বড় লাল টিপ দেয়া, স্লিভলেস ব্লাউজ পড়া এবং শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারাকেই বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতার অন্যতম প্যারামিটার হিসেবে মনে করেন এবং আসমানি গ্রন্থের বয়ানের মত বিশ্বাস সহকারে ’৭১ টিভি’ দেখেন তারা ছাড়া এ শ্রেণীর কার্যকলাপ অন্যদের কাছে মনে হয় অর্থহীন ফ্যনাটিসিজম। এ শ্রেণীর সুডো লিবারেলদের প্রগলভতা অল্প সময়ের সাময়িক উন্মাদনার জন্ম দেয় মাত্র। আদতে এরা লিবারেল আদর্শ প্রতিষ্ঠা ত দূরের কথা, লিবারেলিজম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে।

যে কোন আদর্শের অনুসারিদের মনের খায়েশ থাকতেই পারে যে তাদের অনুসৃত আদর্শ বিজয়ী হবে। সে ক্ষেত্রে নিজেদের আদর্শ প্রচারের জন্য তাদের প্রথম কাজ হবে তারা যে সমাজে এ আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চায় সে সমাজের বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করা এবং পটেনশিয়াল ফলোয়ারদের মন-মগজ ও রুচির বাস্তবতা অনুধাবন করা। এরপর নিজেদের মডেলকে সে সমাজের বাস্তবতা অনুসারে এডজাস্ট করা। এছাড়া অন্য কিছু করে যারা কেবলি নিজেদের কনভিকশন অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চায় (সেটা তাদের কাছে যত শুদ্ধই হোক) তারা সে আদর্শ সম্পর্কে একটা পাবলিক ফোবিয়া তৈরি করে মাত্র। এতে সে আদর্শের ক্ষতি ছাড়া উপকার হয় না। সম্ভবত, বাংলাদেশের এ ‘সুডো লিবারেল’ ফ্যনাটিক শ্রেণী দেশের সমাজ বাস্তবতা জানেন কিন্ত, মানতে চান না। তারা ভিন্ন মতের মানুষকে ইনক্লুশানে না বরং নিত্য নতুন কারণ দেখিয়ে এক্সক্লুশানের মাধ্যমে নিজেরদের এক্সক্লুসিভনেস প্রমাণ করতে চান। যারা নিজেদেরকে লিবারেলিজমের অনুসারি মনে করেন এবং নিজেদের আদর্শ ( liberty and equality, civil rights, freedom of the press, freedom of religion) সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা রাখেন তাদের উচিত হবে এগিয়ে এসে এ ফ্যনাটিক শ্রেণীর আদর্শিক এবং মানসিক সু চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

আদর্শিক রাজনীতি ও বাস্তবতা

by Jahid Islam

দেশের একজন সাহসী চিন্তাবিদ ছিলেন আহমদ ছফা। তাঁর চিন্তায় স্বচ্ছতা ছিল। তিনি যা বিশ্বাস করতেন তাই বলতেন, লিখতেন। এতে কে খুশি হল, কে বেজার হল সেটার প্রতি খুব একটা ভ্রুক্ষেপ করতেন বলে মনে হয় না। তাঁর লেখা একটা চমৎকার প্রবন্ধ হল, “বাঙ্গালী মুসলমানের মন”। এখানে তিনি এক জায়গায় লিখেছেন- “বাঙ্গালী মুসলমান সমাজ স্বাধীন চিন্তাকেই সবচেয়ে ভয় করে। তার মনের আদিম সংস্কারগুলো কাটেনি। সে কিছুই গ্রহণ করে না মনের গভীরে। ভাসাভাসাভাবে অনেক কিছুই জানার ভান করে আসলে তার জানাশোনার পরিধি খুবই সঙ্কুচিত। বাঙ্গালি মুসলমানের মন এখনো একেবারে অপরিণত, সবচেয়ে মজার কথা এ-কথাটা ভুলে থাকার জন্যই সে প্রাণান্তকর চেষ্টা করতে কসুর করে না।”

এ প্রবন্ধের শেষ প্যারায় লিখেছেন-“বাঙ্গালি মুসলমানের মন যে এখনো আদিম অবস্থায়, তা বাঙ্গালি হওয়ার জন্যও নয় এবং মুসলমান হওয়ার জন্যও নয়। সুদীর্ঘকালব্যাপী একটি ঐতিহাসিক পদ্ধতির দরুণ তার মনের ওপর একটি গাঢ় মায়াজাল বিস্তৃত হয়ে রয়েছে,সজ্ঞানে তার বাইরে সে আসতে পারে না। তাই এক পা যদি এগিয়ে আসে, তিন পা পিছিয়ে যেতে হয়। মানসিক ভীতিই এই সমাজকে চালিয়ে থাকে। দু’ বছরে কিংবা চার বছরে হয়তো এ অবস্থার অবসান ঘটানো যাবেনা, কিন্তু বাঙ্গালী মুসলমানের মনের ধরন-ধারণ এবং প্রবণতাগুলো নির্মোহভাবে জানার চেষ্টা করলে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটা পথ হয়তো পাওয়াও যেতে পারে।”
এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সোল এজেন্ডা মুক্তিযুদ্ধ ও সেকুলারিজম। তারা নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র ধারক ও বাহক হিসেবে মনেপ্রাণে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। প্রগতির কথা বলে শিক্ষিত মিডেল ক্লাসের কাছে আবেদন রাখতে চায়। সেকুলারিজম এবং আঞ্চলিক জঙ্গিবাদের উথানের ভয় দেখিয়ে বাইরেরর দুনিয়ার সমর্থন আদায় করতে চায়। শাহবাগে হাজার লোকের সমাগম দেখে তারা ভাবে এবার জোয়ার এসেছে, আর ঠেকায় কে ! এই বারের চোটে রাজীব হায়দার (থাবা বাবা) কেও শহীদ ঘোষণা করে দেয় শেখ হাসিনা। শাহরিয়ার কবিররা ভাবেন- “কম্যুনিজম প্রতিষ্ঠা করা না গেলেও যেহেতু বাহাত্তরের সংবিধানের কাছাকাছি কিছু একটা এখন আছে যাতে মূলনিতী হিসেবে ‘কম্যুনিজম’ এর কথা উল্লেখ আছে, সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম বাদ পড়েছে,শাহবাগে হাজার হাজার মানুষ এসেছে, এবারে অন্তত ধর্ম নামের আফিমের হাত থেকে মুক্তি মিলবে।”

বাস্তবতা হল এরকম যে, বাঙ্গালী মুসলমান শাহবাগে জড় হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে যদি শবে বরাত হয় (শবে বরাত পালন সহিহ কিনা সেটা অন্য তর্ক) সে তার পুরোনো পাঞ্জাবীতে শান দিয়ে, টুপি মাথায় দিয়ে হাজির। নফল ইবাদতের মাধ্যমে ভাগ্য বদলের জন্য দোয়া করে সারারাত। হয়ত পরের দিন থেকেই আবার নামাজ পড়ে না। কিন্ত আওয়ামী লীগের উগ্র সেকুলারিজমে সে বিশ্বাস করে না। নবীজিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে শুনে শাহবাগ থেকে সে হাত গুটিয়ে নেয়। সংবিধানে আল্লাহর নাম নিয়ে কাটা ছেঁড়াও তার বিশেষ পছন্দ না। কম্যুনিজম এবং উগ্র সেকুলারিজমের প্রধান মুফতি শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসির মামুন শবে বরাতের রাতে নামাজকে আদিখ্যেতা মনে করে। মনে মনে বলে, “ শালার বাঙ্গালী। আবার মসজিদে যাও না ! এত্ত বুঝাই তাও কাম হয় না !”।

 

আবার আল্লামা শফির ডাকে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় এসেছে অনেক বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে। সাধারণ পথচারীরাও প্রিয় নবীজিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে শুনে এতে শামিল হয়েছে। ইসলামপন্থীরা ভাবে এবার বাংলাদেশ ইসলামি রাষ্ট্র হয়ে যাওয়া কেবলই সময়ের ব্যাপার। তবে এ ক্ষেত্রে বাস্তবতা হল, যেই বাঙ্গালী নিয়ে আল্লামা শফি বা জামায়াতে ইসলামি, দেশে ইসলামি শাসনের স্বপ্ন দ্যাখেন/দ্যাখে সেই বাঙ্গালী মাজারে যায়। পীরের মুরিদ হয়, মৃত ব্যক্তির কবরে সিজদা করে, গলায় তাবিজ দেয়, মিলাদ পড়ে। এছাড়াও আরও অনেক রকম শিরক করে, বিদআতি কাজ কর্ম করে।

files

আবার এটাও ঠিক যে, সে ইসলামকে ভালবাসে। শুক্রবারের জুম্মার খুতবায় হুজুরের ওয়াজ “ভাইয়েরা আমার, ইসলাম-ই একমাত্র মুক্তির পথ”, শুনে সে মাথা নাড়ায় এরপর ঘরে এসে আরাম করে বসে শুক্রবারের সিনেমা দেখে। সে যে ইসলামকে ভালবাসে, সেটা সে প্রকাশ করে মসজিদের হুজুরকে দাওয়াত দিয়ে ঘরে এনে খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে। সকালে সে তার ছেলে মেয়েকে আরবী পড়তে মক্তবে পাঠায়। শহর হলে হুজুর বাসায় এসে পড়ায়। ছেলে মেয়েরা কোরআন পড়া শিখে, নামাজের নিয়ম কানুন শিখে । সে মনে করে ব্যস-এই ত ইসলাম, আর কি ?

সে পলিটিক্যাল ইসলামে কনভিন্সড না।  মসজিদের হুজুরকে সে নামাজের মিম্বরে কিংবা ওয়াজের জায়গায় চিন্তা করতে পারে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী/এমপির সিটে না। তার কাছে রাজনীতি একটা খারাপ জায়গা। হুজুরের সেখানে কি কাজ ? জামায়াতের নেতাদের ক্ষেত্রে, যে কোন মূল্যে তাদের ফাঁসি হোক এটা সে চায় না (এটা আধুনিক শিক্ষিত শ্রেণীর কথা না, সাধারণ মানুষের কথা)। তবে ৭১ এ তারা ছিল দেশ বিরোধী এটাই সে বিশ্বাস করে । তাই তাদেরকেও ভোট দিতে সে খুব একটা উৎসাহি না, অন্তত জামায়েতের ব্যানারে না। সেকুলারিজম, কম্যুনিজম, জাতীয়তাবাদ কিংবা ইসলামি শাসন এগুলো সব ইন্টেল্যকচুয়াল কনভিকশন। সে এত কিছু বোঝে না। আমি বাজি ধরে বলতে পারি দেশের অন্তত ৫০ ভাগ লোক দেশে কয়টি সেক্টরে যুদ্ধ হয়েছে, বা স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, শহীদ দিবস কবে বলতে পারবে না। ৮০ ভাগ বা তার চেয়েও বেশি লোক সহিহ উচ্চারণে কোরআন পড়তে পারে না।

সে যে ৫ বছর পর পর সুইং ভোট দিয়ে সরকারের পতন ঘটায় এটা এ জন্য না যে, ৫ বছর পর একদিন আচমকা ঘুম থেকে উঠার পর তার মাথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের খায়েশ জাগে । অথবা দেশকে ভালবেসে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে । অথবা একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজ থেকে আর নামাজ ক্বাযা নয়। এবার থেকে পুরোপুরি সে ইসলামি পথই অনুসরণ করবে। সে এটা করে দুই দলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে। তার এত কিছু নিয়ে চিন্তা করার সময় নাই। সে ছোটে পেটের তাগিদে। এরপর যতটুকু পারে ধর্ম কর্ম করে। মূলত তার নামাজ জুম্মার নামাজ, ঈদের নামাজ আর জানাজার নামাজে সীমাবদ্ধ। আর ইসলামি জ্ঞানের একমাত্র সম্বল হল শুক্রবারের ওয়াজ।

সেকুলারিজম বা ন্যশনালিজম বা পলিটিক্যাল ইসলাম আবার কি ! এত হ্যাভিওয়েট ডেফিন্যাশন সে জানবে কোথা থেকে ? এটা হল পিউর বাস্তবতা। কোন সুগার কোটিং নাই। আপনি সেকুলারিজম, কম্যুনিজম, জাতীয়তাবাদ কিংবা ইসলামি শাসন যাই কায়েম করতে চান এটা ভাল মত বুঝে এরপর শুরু করতে হবে। এটাই কাজ শুরুর প্রথম ধাপ।এরপর সে অনুযায়ী মডেল বানাতে হবে। এখানে ভারত বা ফ্রান্সের সেকুলারিজম, ব্রিটিশ ন্যশনালিজম অথবা মিশর কিংবা তুরস্কের ইসলামি মডেল চলবে না। চীন রাশিয়ার প্রেতাত্মা ত আগেই দূর হয়েছে। এদেশে স্রেফ একটাই চলবে, সেটা হল –“বাংলাদেশি মডেল”। এতে অন্যান্য মডেলের কনসেপ্ট থাকতে পারে, তবে সবশেষে হতে হবে একেবারে কাস্টমাইজ করা দেশী জিনিস । “কমরেড” বা “ইয়া আখি” টাইপ পরিভাষা এখানে চলবে না। অন্তত শুরুতে  না। পরিস্থিতির বাস্তবতা বুঝে যে যত রিয়েলিস্টিক মডেল বানাতে পারে তার মডেল তত ভাল কাজ করবে। প্রথমে প্র্যাকটিক্যাল কেস থেকে শুরু করে এরপর এটাকে আস্তে আস্তে ক্যালিব্রেট করতে হবে আইডিয়াল মডেলের দিকে।

সীমান্তের এপার ওপার – পর্ব ২

 by WatchDog

ব্ল্যাক-মেইলিং’এর এমন মুখোরচক গল্পের সাথে একেবারে যে পরিচয় ছিলনা তা নয়, কিন্তূ তা সীমাবদ্ব ছিল কেবল খবরের কাগজে। কিন্তূ এ ধরনের অভিজ্ঞতা সাক্ষাৎ যমদূত হয়ে আমার নিজের সামনে হাজির হবে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি। একদিকে অফিসে আমার সততা, অন্যদিকে দু’টো বাসা পর ভালবাসার মানুষটার কথা মনে হতেই মনে হল আমি ঘামছি। ভারি বৃষ্টির কারণে অনেকেই আফিসে আসতে পারেনি সেদিন, আর যার কথা ভেবে বেশী চিন্তিত হচ্ছিলাম সে ছিল রাজশাহীতে, ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজে ভর্তি পর্ব সমাধানে ব্যস্ত। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বুকে সাহষ নিয়ে মুখোমুখি হলাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক জারজ সন্তানদের। এবং এটা ছিল এ ধরনের অনেক মুখোমুখির শুরু মাত্র।

আমার জন্যে অপেক্ষা করছিল রাজ্যের বিস্ময়। এক; রিং লীডার যার নেত্রীত্ত্বে স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনারের ছত্রছায়ায় এ লাভজনক ব্যবসা প্রসার লাভ করছিল, সম্পর্কে সে আমার মামা, মার আপন খালাত ভাই। বহু বছর মামাবাড়ি যাওয়া হয়নি বলে এমন আজরাইল উত্থানের সাথে পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়নি আমার। মামা এ জন্যে হাজার আফসোস করতে লাগলেন। সাংগ পাংগদের বের করে দুপা জড়িয়ে রাজ্যের মাফ চাওয়া শুরু করল আমার মামা। কথা দিতে হল আমার জেলা শহরের কাউকে এ ঘটনার কথা জানতে দেবনা। আগামী নির্বচনে বিএনপির আশীর্বাদ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা তার। সব ভন্ডুল হয়ে যেতে পারে আমার গল্পে। তা ছাড়া আমাদের পারিবারিক প্রত্যাঘাত সামলাবার মত কোমরের জোড় আমার মামুর যে ছিলনা তা বলাই বাহুল্য।

দুই; গল্পের নায়িকার প্রসংগ আসতেই জানতে পারলাম চমকপ্রদ এক কাহিনী। বাংলাদেশের রাজপুটিন আজিজ মোহম্মদ ভাইয়ের সুন্দরী নেটওয়ার্কের সে ছিল পোষ্য সদস্য, ব্যবসার অন্যতম অংশীদার ছিল তার মা। কালের চক্রে এই টিভি সুন্দরীর সাথে ভিন্ন পরিস্থিতীতে দেখা হয়েছিল, কথা হয়েছিল তার মার সাথে। সে কাহিনী লিখতে গেলে বিশাল এক উপন্যাসের সূত্রপাত হয়ে যাবে, যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনীতি এবং এর সূবিধাভোগীদের নিয়ে স্ল্যাম ডগ মিলিওনিয়ারের মত মহাকাব্যিক এক ছায়াছবি বানানো যাবে হয়ত। তুলে রাখা যাক এ কাহিনী অন্য এক সময়ের জন্যে। এ ফাকে বলে রাখা ভাল, এ ঘটনার পর অফিসে চাঁদাবাজি ভোজাবাজির মত মিলিয়ে যায়।

মন এমনিতেই তিতিয়ে ছিল ঢাকা শহরের প্রতি, মডেল কন্যার ঘটনাটা সিদ্বান্তটা এগিয়ে আনতে সাহায্য করল। আমি ঢাকা ছেড়ে নিজ শহরে চলে যাচ্ছি। কোটি মানুষের ঢাকা শহর আমার মত নগন্য একজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাবে তার কোন সম্ভাবনাই ছিলনা, বাস্তবেও হল তাই। চোরের মত পালিয়ে গেলাম এ শহর ছেড়ে। ক’টা মাস আগেও জীবন ছিল মস্কো, লন্ডন, বার্লিন এবং ইউরোপের বিভিন্ন জমকালো শহর ভিত্তিক, অথচ ঢাকায়ও আমার জায়গা হলনা আজ। যাওয়ার আগে এক বন্ধুর পরামর্শে হাজার দশেক টাকা খরচ করে স্কীল মাইগ্রেশনের জন্য গুলসানস্থ অষ্ট্রেলিয়ান দূতাবাসে একটা দরখাস্ত জমা দিয়ে গেলাম।

যে বাড়িতে আমার জন্ম, যেখানে আমি বড় হয়েছি, বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যে মেঘনা নদীর কুল ঘিরে বেড়ে উঠেছে আমার শৈশব, কৈশোর, সে মাটিতে আমি ফিরে গেলাম। মাঝ খানে অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেছে, নদীতে গড়িয়ে গেছে অনেক পানি। দু’টা মাস শুধু ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলাম; ইউরোপের ক্লান্তি, ঢাকা শহরের ক্লান্তি সব ধুয়ে মুছে কোন এক সুন্দর ঝলমল সকালে হাজির হলাম পারিবারিক শিল্প-প্রতিষ্ঠানে। এখানে আমাকে কাটাতে হবে পরবর্তী বেশ ক’টা বছর, মুখোমুখি হতে হবে রাজনীতির কদার্য এবং কুৎসিত চেহারার সাথে। আমরা যারা বাংলাদেশের রাজনীতিকে নেত্রী এবং দল ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভেবে মূল্যয়ন করতে অভ্যস্ত, তাদের জন্যে আমার পরবর্তী লেখাগুলো হতে পারে চক্ষু উন্মোচনের শুরু হিসাবে।

চলবে..

Posted Wed, 04/22/2009 – 00:35