সীমান্তের এপার ওপার – পর্ব ১

by Watchdog Bd

সময়টা ’৯৫ সাল, অষ্ট্রেলিয়াতে সবেমাত্র মাইগ্রেট করেছি। সিডনির কেনসিংটনে ২ রুমের একটা ফ্লাটে আরও দু বাঙালীর সাথে শেয়ার করছি। ১১ বছরের ইউরোপীয় জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছিলাম মা, মাটি আর মানুষের টানে। প্রথম চাকরী, প্রথম প্রেম, প্রথম ভালবাসা, প্রথম বিরহ, এমন অনেক কিছুই ছিল প্রথম, যার মাঝে মিশে গিয়ে কখন যে মাছে-ভাতের বাঙালী বনে গিয়েছিলা বুঝতেও পারিনি। আমি না বুঝলে কি হবে, আমাকে বুঝিয়ে দেয়ার মানুষের কিন্তূ অভাব হলনা। রাজনীতির পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত একটা দেশে সূস্থ হয়ে বেচে থাকতে চাই ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদ, সে আশীর্বাদ পাওয়ার যোগ্যতা আমার কোন কালেই ছিলনা, কারণ ঈশ্বরের অস্তিত্ত্ব নিয়েই আমি ছিলাম দ্বিধান্নিত। রোজার ঈদ সামনে, চারদিকে মহা আয়োজন। বরেন্দ্র গভীর নলকুপ বিদ্যুতায়ন প্রকল্প নিয়ে নওগা জেলার হাওর-বাওর চষে বেড়াচ্ছি। ৭/৮ জন সহকারী প্রকৌশলী সহ একটা টিম নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি গাধার মত। ঈদের সময়, সবার বেতন চাই, ভাতা চাই, বোনাস চাই, চারদিকে শুধু চাই আর খাই খাই ভাব। কাজের পারিশ্রমিক আদায়ের লক্ষ্যে রাজশাহী বিদ্যুৎ অফিসে বিল জমা দিতেই আমার জন্যে অপেক্ষা করছিল অন্য এক জন্মভূমি। চাঁদপুরের অধীর সাহা নির্বাহী প্রকৌশলী, খুলনার আবু বকর সহকারী প্রকৌশলী, রহিম সাহেব প্রধান প্রকৌশলী, ইত্যাদি ইত্যাদি, সবাই আমাকে ডেকে পাঠাল আপন কুঠুরীতে, ব্যক্ত করল নিজ নিজ চাহিদা। শুভ্র দাড়িওয়ালা দুই হাতে ১১ আংগুলের আবু বকরকে সৃষ্টিকর্তা বোধহয় অতিরিক্ত একটা আংগুল দিয়েছিলেন পাপের টাকা গোনার জন্যে। সেই আঙ্গুল দিয়েই গুনলেন টাকাগুলো এবং তা ছিল শেষ তারাবির ওজু অবস্থায়। মসজিদে ওজুরত প্রকৌশলীর ঘুষ গ্রহন, এ দৃশ্যটা আমাকে সাড়া জীবন তাড়িয়ে বেড়াবে ঈশ্বরের নৈকট্য হতে।

1796695_10203414187734864_514804841_n

পত্নীতলা, বদলগাছি, মহাদেবপুর এবং ধামুইরহাটের ধানচাষীদের সাথে অন্যরকম একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এক বছরে, তাদের অনেকের আতিথেয়তা আবু বকরদের মত অসৎ মানুষদের কলুষতার নীচে চাপা পড়তে দেয়নি। আমার মুখ হতে শোনা বিদ্যুৎ আগমনী বার্তা তাদের কাছে ছিল রূপকথার কল্প-কাহিনীর মত। পৃথিবীর উত্তর দক্ষিন মেরুর অনেক প্রান্ত চষে বেড়িয়েছি, হরেক রকম মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি, কিন্তূ নওগা জেলার সীমান্ত এলাকার ঐ মানুসগুলোর কথা আমার এই কাচা কলম দিয়ে মূল্যায়ন করলে তাদের প্রতি অবিচার করা হবে। বরং তাদের কথা, এবং সে এলাকার মানুষ গুলোর বেচে থাকার লড়াইয়ের কথা জন্মভূমির ভাল কোন কিছুর প্রতীক হিসাবে তুলে রাখব হূদয়ের খুব গভীরে। ঈদ শেষে প্রমোশন পেয়ে প্রকল্প প্রকৌশলী হতে প্রকল্প পরিচালক হয়ে মুক্তি পাই অবৈধ লেনদেনের এই অস্বাস্থ্যকর চক্র হতে, কিন্তূ পাশাপাশি মিস করতে শুরু করি খুব কাছ হতে জন্মভূমিকে দেখার র্নিভেজাল সূযোগকে।

বেশীদিন টিকতে পারিনি ঢাকা শহরে, মোহম্মদপুরের ছোট অফিসটায় রাজনীতি নামের গুন্ডাদলের নিয়মিত পদধূলি জীবন অতিষ্ঠ করে তুলে। সকালে চাঁদা, বিকেলে চাদা, রাতে চাঁদা, বিএনপির চাদা, আওয়ামী চাদা, ওয়াজ মাহফিল, ব্যডমিন্টন টুর্নামেন্ট, একুশে ফেব্রুয়ারী, রাস্তায় নিহত পথচারী সৎকারের চাঁদা, চাঁদার সমুদ্রে হাবুডুবু খেতে গিয়ে একটা সময় এল যখন জীবন যুদ্বের এ পর্ব পূনঃমূল্যায়ন করতে বাধ্য হলাম। অনেক আগে বাংলাদেশ বিমানের একটা কমার্শিয়াল দেখতে খুব ভাল লাগত, ‘ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী‘। হঠাৎ করে আমার পৃথিবীও কেমন যেন ছোট মনে হল, শ্বাষ নিতেও কষ্ট হয়। কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিতে আমার অফিসে কোন এক সুন্দর সকালে হাজির হয় খোলা তরবারির মত ধারালো অনিত্য সুন্দরী এক টিভি মডেল, তার ফোন করা দরকার। এভাবেই শুরু, তারপর তাকে প্রায়ই দেখা যেত আমাদের অফিসে, না না ছুতায়, হরেক রকম বাহানায়।

দিনটা ভূলে যাওয়ার মত ছিলানা, অঝোর বর্ষনে কাঁদছিল ঢাকা শহর। শ্রাবনের বর্ষনে ভরা এমন একটা দিনের কথা ইউরোপে বাস করতে গিয়ে কত শতবার যে কল্পনা করেছি তার হিসাব নেই। গভীর তন্ময়ে মোহগ্রস্থ হয়ে গিলছিলাম বৃষ্টির বিরামহীন কান্না। দলবেধে তারা এল, বয়স ১৮ হতে ৩০/ হাতে হরেক রকম অস্ত্র; ছুরি, রামদা, নানচাকু, পিস্তল। বাসা হতে পালিয়েছে টিভি কন্যা, যাওয়ার সময় বান্ধবীদের বলে গেছে মোহম্মদপুর অফিসের ঐ প্রকৌশলীর সাথে জীবন গড়তে পা বাড়াচ্ছে অচেনা পথে।

চলবে…

Posted Sun, 04/19/2009 – 15:51 by WatchDog

উপাধি আর প্রশংসা – by Ayman Rahat

 

র বেলায় পাওয়ার সাথে চাওয়া সমান্তরালে বাড়ে। যতই পায় ততই চায়। যোগ্যতার বেশি কিছু পেলেও সাদরে স্বাগতম। মুখে যতই ‘আমি এর যোগ্য না বা মানুষের জন্য করি’ জাতীয় কথা বলুক না কেন উপাধি আর প্রশংসা না নেয়ার ভান করেও যত পায় তত নেয়। ঠিক অনেকটা হাসি দিয়ে ‘কি দরকার ছিল’ টাইপের। বিখ্যাত মানুষদের হঠকারিতা সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায় এক্ষেত্রে।

আমরা জানি নোবেল দেওয়া হয় ছয় বিষয়ে। কিন্তু এটা একটা ডাহা মিথ্যা প্রচার। আলফ্রেদ নোবেল ১৮৯৫ সালে তার উইলে যে নির্দেশনা দিয়ে যান তাতে অর্থনীতি উল্লেখ ছিল না। তাতে অন্য পাঁচটি বিষয় ছিল। এবং এই পাঁচটি বিষয়ে কোন কোন প্রতিষ্ঠান বা কারা বিজয়ী নির্বাচন করবেন তার নীতিমালা নোবেল নিজেই দিয়ে যান। ১৯০১ সাল থেকে শুরু হয় ঐ পাঁচ বিষয়ে নোবেল দেওয়া। ১৯৬৮ সালে সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার ৩০০ বছর পূর্তিতে নোবেল ফাউন্ডেশনকে একটি বিরাট অঙ্কের অর্থ দান করে যা নতুন একটি বিষয়ে পুরষ্কার দেয়ায় ব্যবহৃত হবে। বিষয় ঠিক হল অর্থনীতি। কিন্তু জটিলতা দেখা দিল নোবেলের করা ১৮৯৫ সালের উইলে। নোবেল পুরষ্কার নামে ঐ পাঁচটি ব্যতীত অন্য নতুন কোন বিষয়ে পুরষ্কার দেয়া উইল পরিপন্থী। তারপর সিদ্ধান্ত হল নোবেল নামে নয় তবে অর্থনীতিতে নোবেল পুরষ্কারের সমমানের পুরষ্কার হিসেবে এটি ভূষিত হবে। আর এর নাম দেয়া হয় The Sveriges Riksbank Prize in Economic Sciences in Memory of Alfred Nobel. পুরস্কারটি দেয়া হয় আলফ্রেদ নোবেলের স্মরণে। খেয়াল করে দেখবেন ইন মেমরি অব আলফ্রেদ নোবেল যার মানে এটা নোবেল পুরষ্কার নয়। অন্য পাঁচটির বেলায় সরাসরি নোবেল প্রাইয লেখা থাকে।

কিন্তু বিশ্ব মিডিয়া বা কর্তৃপক্ষ এটাকে মুখে মুখে সবসময় নোবেল পুরষ্কার বলে থাকেন। অবশ্য যখন অর্থনীতিতে পুরষ্কার দেয়া হয়ে থাকে তখন নোবেল প্রাইয উল্লেখ করা হয়না। অন্য পাঁচটিতে যেমন উল্লেখা করা হয়। দলিল কখনই এটাকে নোবেল পুরষ্কার বলে না। ১৯৬৯ সাল থেকে এযাবৎ কতো জনই না অর্থনীতিতে এই পুরষ্কার পেলেন কিন্তু এটা নোবেল পুরষ্কার নয় জেনেও নিজেদের টাইটেলে নিজেকে নোবেল লরিয়েট উল্লেখ করে থাকেন। আপনি অমর্ত্য সেন কিংবা পল স্যামুয়েলসনের বই হাতে নিলে দেখবেন নিজেদের নোবেল লরিয়েট দাবী করে এটা ওটা লেখা। এত বিখ্যাত মানুষ হয়েও কিন্তু তারা এই হঠকারিতা বেছে নিয়েছেন। সবই ঐ প্রথম বাক্যে সীমাবদ্ধ। উপাধি আর প্রশংসার বেলায় পাওয়ার সাথে চাওয়া সমান্তরালে বাড়ে।

 

জাফর ষাঁড় কিন্তু জানেন তিনি ড্রোন আবিষ্কারক নন। তিনি একজন বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ায় তার কাছে Discovery, Invention আর Replica ‘র অর্থ খুবই পরিষ্কার।  তবুও ঐ প্রশংসার বেলায় যা পায় তাই নেয়। মিডিয়া আর কিছু চেতনাধারি তুষাররা তাকে ড্রোন আবিষ্কারক বলে সম্বোধন করায় তার বরং আরও ভাল লেগেছে। তাই এরকম একটা মিথ্যা উপাধি নিয়েও মনে মনে নৃত্য করেছেন। সব বিখ্যাত মানুষেরই এই বদ গুণটা আছে বলা যায়। জাফর ষাঁড়ের বেলায় সেটার ব্রেক ঘটুক সেটা আমিও প্রত্যাশা করিনা। কিন্তু সমস্যা হল তার মত একজন চেতনা সাপ্লাইয়ারের পক্ষে এরকম হঠকারিতা মানায় না। মানতে পারিনা। তার চেতনায়ই তো আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে।

ভ্যালেন্টাইন উইশ

by Jahid Islam

শোন তুমি, তোমাকে আজ সৃষ্টি জগতের সেরা গল্পটা বলব।
ঠিকই ধরেছ তুমি, ইউসুফের গল্পটির কথাই আমি বলছি।

ইউসুফ কিন্ত ছিলেন অতি সুদর্শন, আমরা এ যুগে যাকে বলি ‘গুড লুকিং বয়’
নগরের মহিলারা ত তাকে দেখে এতটাই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল যে,
ভোজসভায় যখন তাকে ডাকা হল
তাকে দেখে তারা ছুরি দিয়ে নিজেদের হাত কেটে ফেলল।
এরপর বলল –“এ ব্যক্তি ত মানব নয়,এ তো মহান ফেরেশতা”।
আশাকরি তিনি কত সুদর্শন ছিলেন এবারে তুমি বুঝতে পেরেছ।

তবে আমাদের আজকের আসল গল্পটা কিন্তু এটা নয়।
গল্পের যে অংশটি আমি তোমাকে বলতে চাই সেটি হল,
যে মহিলার ঘরে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন ক্রীতদাস হিসেবে
সে মহিলা তাকে ফুসলাতে লাগল
এরপর আচমকা একদিন নির্জনে ইউসুফকে তার ঘরে ডাকল,
এরপর কক্ষের দরজাসমূহ বন্ধ করতে তালা ঝুলিয়ে দিল,
একটি নয়, একে একে অনেকগুলো,
যাতে ইউসুফ কোন অবস্থাতেই বেরিয়ে যেতে না পারেন।

ইউসুফ ত তার উপর আল্লাহর রহমতকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন,
আর তাই তিনি সীমালঙ্ঘন না করার ব্যপারে আল্লাহর সাহায্য চাইলেন।

সে পাপাচারী মহিলার উদ্দ্যেশ্য বুঝতে পেরে

তিনি দরজার দিকে দৌড়ে আসলেন,
সে মহিলা তাকে চিৎকার করে পেছন থেকে বলল,
“এদিকে আস তুমি”।
এরপর তাকে কাবু করতে না পেরে

তার শার্ট টেনে ধরল পেছন থেকে
এতে গায়ের শার্ট ছিড়ে গেল তার ।
তবে আল্লাহর ইচ্ছায় সে পরিবারেরই একজন
ইউসুফের সৎ চরিত্র নিয়ে সাক্ষ্য দিল।

তোমাকে আসলে যা বলতে চাইছি সেটা হল-
ইউসুফের জ্ঞান ছিল এ কথা সত্য,
তিনি ত ছিলেন আল্লাহর নবী যার জ্ঞান থাকাই স্বাভাবিক,
তবে এখানে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার হল তার দৃঢ়তা।

জেনে রাখবে তুমি, জ্ঞান দিয়ে লালসাকে অতিক্রম করা যায় ,
তবে পুরোটা যায় না, সাথে লাগে দৃঢ়তা।
আর শোন, বলছি তোমাকে – “ পাপ কাকে বলে ? ”
যেটা তোমারে অন্তরে আঘাত করে,
এবং লোকের সামনে প্রকাশিত হয়ে গেলে লজ্জা পাবে তুমি।

আমার ইচ্ছা তোমার মধ্যেও দৃঢ়তা সৃষ্টি হোক,
ঠিক আল্লাহর নবী ইউসুফের মত।
তোমার অন্তঃকরণ হোক সফেদ সাদা
যাতে তুমিও প্রত্যাখান করতে পার নির্জনে কোন সুন্দরী রমণীর আহবানকে।
এরপর নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তোমাকে ভালবাসবেন
তোমার নামও থাকবে তাঁর প্রিয় বান্দাদের তালিকায়।
ফেরেশতাদের ডেকে তিনি বলবেন-
তিনি তোমাকে ভালবাসেন,
অতএব, তারাও যেন তোমাকে ভালবাসে।

তুমি সম্মানিত হবে দুনিয়া এবং আসমান বাসীদের কাছে,
এরপর তিনি কেয়ামতের তপ্ত দিনে তোমাকে ডেকে নিবেন
তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিতে,
যেদিন মানুষের আশ্রয় নেবার মত আর কোন ছায়া থাকবে না।
তোমাকে ভালবেসে এটাই তোমার প্রতি আমার ভ্যালেন্টাইন উইশ।

বাঙালি মধ্যবিত্তের মন ও মাদ্রাসা শিক্ষার ভবিষ্যৎ

1

by Alauddin Mohammad

 

বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জের নিম্নবিত্ত মুসলমানরা এখনো ১০০ টাকা আয় করলে পরম ভক্তিভরে ১০ টাকা রেখে দেয় এলাকার মসজিদ ও মাদ্রাসায় দানের জন্য। অনেক অঞ্চলে নতুন ফসল ঘরে তোলার আগেই স্থানীয় মাদ্রাসায় চলে যায় একটা অংশ। আর এভাবেই টিকে আছে দেশের মোট শিক্ষার্থীর প্রতি ৩ জনের ১ জনের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অংশ। আর এই মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে শহুরে মধ্যবিত্ত ভদ্রলোকেদের দৃষ্টিভঙ্গি আবার খুব একটা সুবিধার নয়।

Madrassa

তাদের অনেকেরই এই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর শুভ্র জোব্বায় ভীষণ ভয়। আর ’৭১ এর একটি বিশেষ গোষ্ঠীর দোহাই দিয়ে তাঁদের গল্প-উপন্যাস-সিনেমায় মাদ্রাসা শিক্ষিত মোল্লা-মুন্সীদের খলনায়ক বানানোর চিরস্থায়ী প্রকল্প তো চলছেই। ইদানিংকালে আবার যুক্ত হয়েছে জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের ঠেকানোর জিহাদ। এ অবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নীরব থাকাটাও একটা নাগরিক ব্যাধি।

 

বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ কোন মাত্রায় আছে কিংবা আদৌতেই আছে কিনা এখানে সে তর্কে যাব না। তবে বর্তমান সরকারের কর্মপরিধির একটা বিরাট অংশজুড়ে যে রয়েছে ‘জঙ্গিবাদের উত্থান’ ঠেকানো এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের মূলেও যে রয়েছে এই জঙ্গিবাদ ফ্যাক্টর সেটা নিয়ে অবশ্য তর্কের অবকাশ নেই। বাংলাদেশে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ইসলামী জঙ্গিবাদকেই বুঝিয়ে থাকেন। এই ইসলামী জঙ্গিবাদের সাথে ইসলামী শিক্ষার রয়েছে এক শক্তিশালী সম্পর্ক।

 

উপমহাদেশের মুসলমানদের শিক্ষার সূচিকাগার মাদ্রাসা শিক্ষা এভাবেই জড়িয়ে যায় জঙ্গিবাদের আমলনামায়। মাদ্রাসা শিক্ষা বললেই আমাদের মাথায় ইসলামী শিক্ষার একটা চিত্র ভেসে উঠলেও এই মাদ্রাসা শিক্ষাও কিন্তু একমুখী নয়। শিশুশিক্ষণ মক্তবের বাইরে বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের মাদ্রাসা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রথম প্রকারে আছে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত আলীয়া মাদ্রাসা এবং দ্বিতীয় প্রকারে আছে ওয়াহাবী দর্শনের মাদ্রাসা যেটি কওমী নামেই বেশি পরিচিত।

 

ঐতিহাসিকভাবেই এই দুই ধরনের মাদ্রাসা আলাদা আঙ্গিকে গড়া। ব্রিটিশ ভারতে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৮০ সালে প্রথম আলীয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। গোঁড়া থেকেই এই মাদ্রাসার সাথে রয়েছে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার সম্পর্ক। অন্যদিকে কওমী মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষা ওয়াহাবী দর্শনের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। উপমহাদেশে উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনের শুরুটাই হয়েছে ওয়াহাবীদের দ্বারা যারা উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের জন্য ভারতের উত্তর প্রদেশে ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেওবন্দ দারুল ওলুম মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসার পথিকৃৎ হল শহীদ সৈয়দ আহমদ বেরেলভীর আদর্শ। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কংগ্রেসের প্রথম সারির মুসলিম নেতারা দেওবন্দ মাদ্রাসার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং মাদ্রাসার স্কলারগণ শায়খুল হাদিস হোসাইন আহমদ মাদানির নেতৃত্বে পাকিস্তান ধারণার সক্রিয় বিরোধিতাও করেন।

deoband

মাদ্রাসাটি আজো দেওবন্দ অঞ্চলের মুসলিমদের অনুদান বিশেষত এলাকাবাসীর ফসলের একটা অংশের দ্বারা পরিচালিত। বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোও দেওবন্দের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সরকারবহির্ভূত খাতের সাহায্যেই টিকে আছে।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২০১১ সালের তথ্যমতে, আলিয়া মাদ্রাসার মোট সংখ্যা ৭০০০ এবং তাহমিমা আনামের গার্ডিয়ানে প্রদত্ত তথ্যমতে, দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কলা এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের শতকরা ৩২ শতাংশই এই আলিয়া মাদ্রাসা থেকে শিক্ষালাভ করেছেন।

 

অন্যদিকে দেশে কওমী মাদ্রাসা রয়েছে প্রায় ৬৫০০টি এবং এর মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষের মতো। এই সংখ্যা তাহমিমা আনামসহ বাঙালি মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় পাঠ করছেন ভয়ার্তভাবে! কারণ এই মাদ্রাসা শিক্ষিতরা সমাজের যে তলানি থেকে উঠে আসছেন তাদের বিশ্বাস করা যায় না। যেকোনো সময় এরা অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে! অথচ এই তলানিতে যে তলে তলে একটা নূন্যতম শিক্ষার ছোঁয়া পৌঁছে গিয়েছে সেদিকে তাঁহাদের নজর পড়বে না।

 

মসজিদে মাদ্রাসা শিক্ষিত মৌলভীদের পেছনে নামাজ আদায় আর বাবার জানাজার জন্য মহল্লার সবচেয়ে বুজুর্গ মাওলানাটির খোঁজ করা হলেও সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি কোন শ্রদ্ধাপূর্ণ দৃষ্টি নেই। মাদ্রাসা শিক্ষিত দাঁড়ি-টুপিওয়ালাদের কথা মাথায় আসলেই একটা অবজ্ঞার ভঙ্গি ফুটে উঠে তাদের মানস-চরিত্রে। তারা মাদ্রাসাশিক্ষিতদের দেখতেও চান সিনেমা-নাটকে রাজাকার-দেশদ্রোহী কিংবা দুষ্ট চরিত্রের অবয়ব হিসেবে। অথচ প্রকৃত বিচারে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের তুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষিতদের সামাজিক অপরাধে সংশ্লিষ্টতার হার সিকি ভাগও নয়। ইদানিংকালে এই মাদ্রাসা শিক্ষিতদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা মধ্যবিত্তের অবজ্ঞা ও উন্নাসিক মনোভাবকে আরো উস্কে দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষিতদের কল্পিত প্রতিপক্ষ হিসেবেই দাঁড় করিয়েছে।

 

এ অবস্থায় আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিতদের কাছ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিও একটি রাজনৈতিক দাবি হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। এর অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ এই মাদ্রাসার সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।

 

মাদ্রাসা শিক্ষার কিছু কিছু দিক হয়তো বর্তমান বাস্তবতায় সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ক্ষেত্রেও অনেকখানি সত্য। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাটা মূলত ধর্মশিক্ষা কিংবা পরকালীন বিশ্বাসকেন্দ্রিক জীবন চেতনা থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বহুদূরে অবস্থিত। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা টিকেই আছে এক দ্বৈত চেতনার সম্মিলন হিসেবে। এ কথা বলা হয়তো অন্যায় হবে না যে, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ইহলৌকিকতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এবং মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ইহলৌকিকতা স্বীকারপূর্বক পরলৌকিক মুক্তির আলোকে প্রতিষ্ঠিত।

 

মাদ্রাসা শিক্ষার এই ইহলৌকিক জায়গাটা নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষিতদের পুনর্বিবেচনা সময়ের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিতরা যখন নিজেদের একটা ঊর্ধ্বতন স্থানে ভেবে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কারের দাবি তোলেন তখন মাদ্রাসা শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ তাদের দাবিকে লেজ কাটা বানরের পরামর্শতুল্যই ভেবে থাকেন। আর এভাবে তারা হয়ে উঠেন একে অপরের প্রতিপক্ষ।

 

এই মুখোমুখি অবস্থানের পরোক্ষ ফল হচ্ছে গণবিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রান্তিকীকরণ। বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়ে থাকে। এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যারা যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুযোগ তার জন্যই অবধারিত হওয়ার কথা। কার্যত সে রকম একটা ব্যবস্থাই ঐতিহাসিকভাবে চলে এসেছে। সে ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে অনেক মাদ্রাসা শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গই জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পেয়েছেন। ঢাকার দুই প্রান্ত যাত্রাবাড়ী এবং টঙ্গীকেন্দ্রীক উন্নতমানের আলীয়া ও ক্যাডেট মাদ্রাসার উত্থান মাদ্রাসা ছাত্রদের এ সুযোগকে আরো প্রসারিত করেছে। সে সুবাদে গত দুই দশক ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাদ্রাসা ছাত্রদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে এই বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের সহাবস্থান দিয়েছে আধুনিক শিক্ষার সাথে মাদ্রাসা শিক্ষিতদের এক সমন্বয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় আসতে শুরু করে গুণগত পরিবর্তন যেখানে একই শ্রেণীকক্ষে ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীদের চিন্তার সংশ্লেষণ বাড়তে থাকে। এক কথায় মাদ্রাসা শিক্ষিতদের আধুনিক শিক্ষায় স্বাগতম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ওয়ালারা এ পরিবর্তনকে যেন মেনে নিতে পারলেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকগণ এক এক করে প্রথম পছন্দের বিভাগগুলোকে মাদ্রাসা ছাত্রদের জন্য অবাঞ্চিত ঘোষণা শুরু করলেন। যে নীতিনির্ধারকেরা মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার ও আধুনিকীকরণে সদা ব্যতিব্যস্ত তাঁরাই মাদ্রাসা শিক্ষিতদের জন্য আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবাঞ্চিত করলেন। রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এ দ্বৈত ভূমিকা যেকোন বিচারেই অবৈধ এবং এটি শিক্ষাব্যবস্থার সংকটকে গভীরতর করেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রান্তিকীকরণ মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকীকরণের প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিতদের বহু বছর ধরে চলে আসা দাদাগিরিকে ভণ্ডামির পৈতা পরিয়ে দিয়েছে। এমনকি সরকারি ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাতে ধর্মীয় শিক্ষার পরিবর্তে ব্রতচারী কিংবা মানবতাবাদী শিক্ষা বাস্তবায়নের চেষ্টা মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে উচ্চকণ্ঠদের প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষকদের অনাস্থা, ঘৃণা ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। সে প্রেক্ষাপটে মাদ্রাসা শিক্ষা কীরূপে আধুনিক হবে ও কতটুকু আধুনিক হওয়া দরকার তার অনুধাবন ও দাবি মাদ্রাসা শিক্ষিতদের মধ্য থেকেই আসতে হবে। অন্যদিকে সংস্কারের দাবিদারদের এটাও মাথায় রাখতে হবে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতরা ‘আধুনিকতা’কে যেভাবে ইহলৌকিকতা অর্থে গ্রহণ করে থাকেন মাদ্রাসা শিক্ষার মূলনীতির সাথে এর কোন তফাৎ আছে কিনা।

 

একদল অসভ্য বর্বর শ্রেণীকে সভ্য করতে হবে এই রকম ‘হোয়াইট ম্যান’স বার্ডেন’ জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার দিকে তাকানো বাংলাদেশি মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও নীতিনির্ধারকদের এক ধরনের মানসিক হীনমন্যতা। মাদ্রাসা শিক্ষার সামাজিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে স্বীকারপূর্বকই কেবল এই ব্যবস্থার পরিবর্তন কিংবা কালোপযোগীকরণ নিয়ে কথা বলা যায় এবং সেটা আসতে হবে মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকেই। সে পরিবেশ কীভাবে তৈরি করা যায় সেটা নিয়েই রাষ্ট্রযন্ত্রের ভাবনা-চিন্তা করা উচিত।

 

সেক্যুলার বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিকগণ বাংলাদেশের প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীর একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী হওয়ার অবস্থাকে ভয়ানক বলে দাবি করছেন। পরিস্থিতি সত্যিকার অর্থেই ভয়ানক কিনা এটা বলা মুশকিল। তবে এ তথ্যকে আমরা একটু অন্যভাবে পাঠ করতে পারি। যেহেতু বাংলাদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাদ্রাসার চেয়ে ব্যক্তি ও সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা অধিক সে হিসাবে প্রতি ছয় জন শিক্ষিতের একজন ব্যক্তি অনুদানের মাদ্রাসার উদ্যোগে ন্যূনতম শিক্ষার আলো লাভ করছে। আর সে বিচারে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সামাজিকভাবে মানুষ হিসেবে তুলে ধরায় ও শিক্ষার বিস্তারে এই মাদ্রাসাগুলোর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে যে কারণে মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে যুক্ত হয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কেন্দ্রে উঠে আসার সংগ্রাম।

 

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত নীতিনির্ধারকগণ যদি এইভাবে মাদ্রাসা শিক্ষার দিকে দৃষ্টি দিতে সক্ষম হন কেবল তখনই তারা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মবিশ্বাস আশ্রিত শিক্ষাব্যবস্থাটির নৈর্বক্তিক মূল্যায়নে সক্ষম হবেন। আর এ কাজটি করতে পারলে মাদ্রাসা শিক্ষিত এবং মাদ্রাসা শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার গ্রহণযোগ্য দিকটির প্রতি আকৃষ্ট করা যাবে। তাতে দুইটি ভিন্ন ধারায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটা আস্থার সম্পর্ক তৈরি হবে।

 

তখন হয়তো একটি অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকেও অধিকতর বিজ্ঞানমুখী এবং আধুনিক করে গড়ে তোলা যাবে। এটা না করে জঙ্গিবাদের ধোঁয়া তুলে স্বল্পকালীন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য যেভাবে একটি প্রান্তিক শ্রেণিকে নির্মূলের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে তা আখেরে রাষ্ট্রের ভিতকেই নাড়িয়ে তুলতে পারে।

Tahmima Anam and the New York Times: Where fiction and reality collide

8

By Surma:

Meet Tahmima Anam, budding novelist and daughter of the Daily Star editor Mahfuz Anam. Self described anthropologist and writer. Ms Anam has left the world of literary fiction to comment on current affairs in Bangladesh, writing for the Guardian  of London and the New York Times. She recently seen at an event hosted by the Mayor of Hackney, a north London Borough, together with Tulip Siddiq, the Labour Party candidate for Hampstead and Kilburn, the daughter of  Sheikh Rehana and niece of Sheikh Hasina, the Prime Minister of Bangladesh via a controversial election.

Meet Joe Carroll, fictional character in the Fox TV series, ‘The Following’. A former professor of English literature at Winslow University. Carroll’s teaching emphasizes the romantic period. He initially began to make “art” by disemboweling his female students. He ultimately killed fourteen of them before he was caught. While serving out his sentence at prison, Carroll gathers a cult-like collection of followers, who are willing to murder, kidnap, and even sacrifice themselves in order to execute his plan of revenge. Carroll’s only published novel, The Gothic Sea, was inspired by Poe’s The Light-House, but was a commercial and critical failure.

Once upon a time from New York….

Both Tahmima Anam and Joe Carroll collided into my reality the other evening. After a long day at the office I decided to wind down by watching the latest episode of the ‘The Following’. As I was watching Joe Carroll confess to a priest (his next victim) about how he was suffering from self pity as a failed author, husband and father, I received an alert on a posting of Anam’s latest article in the New York Times.

In her article Ms Anam seems to have extended her historical fiction writing to the present day. She carries on with the make believe story of bearded and skull cap wearing men burning the homes of Hindus, with all the perpetrators being members of Jamaat. This conveniently ignores the facts that members of the ruling Awami League have been involved in such attacks around the recent ‘elections’, as well as during the tenure of the Awami League government

Ms Anam rounds off her recent piece with a fairy tale ending of happily ever after, stating:

There has been no major public outcry yet over this lopsided election. Children are going back to school. The roads in the capital are reassuringly clogged with traffic again. Butter has returned to the supermarket shelves.

She shamefully neglects the massive crackdown of state security forces on political opposition, and the dead bodies of political activists turning up all over the country. While Anam is free to express her opinions in the foreign press, journalists in Bangladesh have been imprisoned for publishing stories critical of the government.

Do as I say not as I do: Life and Death Matters

The similarities between Anam and Carroll extend beyond their confluence that evening to their largely self-centred notions of humanity. Carroll’s victim appealed to him to reciprocate the humanity they had shown to him, yet Carroll ignored such pleading and proceeded by stabbing the priest in the heart. The scene reminded me of a promotional interview given by Anam where she relates the inspiration for her book with an anecdote of how an appeal to humanity can cut across political ideologies and fraught circumstances. It was August 1971 and her grandmother’s home, a known safe house for (then) rebel fighters was visited and searched by the Pakistan’s Army, the day after her uncle blew up a power plant. At the end of this encounter, the army officer left her grandmother along with her children. As Anam puts it,

“I suppose it’s one of those things that happens between two humans…. and maybe he ..um… just took pity on her… or she became real to him… she wasn’t just the enemy”

Like Carroll, Anam is happy to benefit from the humanity of her opponents, but is unwilling to reciprocate it towards people who politically differ from her. This is evident from the sugar-coating of the current political crisis in the New York Times, to making libellous, and baseless accusations in the London based Guardian newspaper earlier last year. In her article in the Guardian, Anam culturally ‘translated’ the case for a retrospective death sentence of Abdul Quader Mollah. Thus Anam became a chief spokesperson for a growing, intolerant hypernationalism unknown in Bangladesh, since its creation in 1971.

Mollah was executed in December on the basis of the hearsay of a single testimony (inadmissible as evidence in a normal court of law), during controversial and highly politicised war crimes trials which have garnered international and national criticism. Anam supported the government sponsored crowds in the street, marketed as The Shahbag Movement, demanding the enactment of retrospective legislation to raise his life sentence to death. Just this December, Mollah’s hanging was hurried through without applying the jail code procedures, but in time for the national Victory Day, thus providing the ruling Awami League with a pyrrhic victory and a blood sacrifice, before the one sided elections on the 5th of January.

In order to explain and justify the bloodlust at Shahbag square to her western liberal audience in the Guardian, Anam has once again collapsed the boundary between fact and fiction. She regurgitated the unproven accusations that Mollah was the ‘Butcher of Mirpur’, and had personally slit the throat of a poet.

Fortunately for Anam, the dead cannot sue for libel in the English courts.

Resurrection of the Ubermensch

And yet Tahmima Anam and Joe Carroll have another thing in common, their self-image. Both authors provide a priest-like legitimacy, and intellectual fig leaves for the cult-like violence of their respective followers. Just like the law enforcement agencies held Joe Carroll responsible for the actions of his fellow ideological bedfellows, so should Anam and her fellow ‘Shahbag Stormtroopers’ be held to account for covering up and giving succour to an oppressive regime in Bangladesh.

While Joe Carroll followers stabbed and killed commuters in the New York subway, shouting, ‘Resurrection! Resurrection! Joe Carroll lives!’ Anam’s fellow travellers, the Joy Bangla Brigade of the Awami League, are attacking and murdering those who politically differ from them, inviting their audiences, and investors, to a retro 1975 themed one party state.

Resurrection! Resurrection! BAKSAL lives!!

জননী জন্মভূমি…

by Watchdog Bd

বিএনপির দ্বিতীয় টার্মের সময় তখন। প্রবাস জীবনে ব্রেক নিয়ে দেশে অবস্থান করছি। বাবার মৃত্যুর পর অর্ধশতাব্দি পুরানো আমাদের পারিবারিক শিল্পকারখানার চরম দুরবস্থা। জীবন প্রদীপ নিভু নিভু করছে প্রায়। এ অবস্থা হতে বেরিয়ে আসতে হবে এবং যথাসম্ভব দ্রুত…এমন একটা দায়িত্ব নিতে মার জরুরি তলবের কারণে অস্ট্রেলিয়া হতে ফিরে আসতে হল। বছর দেড়েক লাগল নড়বড়ে অবস্থা গুছিয়ে নিতে। এবং দুই বছরের মাথায় শুরু হল নতুন যাত্রা। কর্তন বর্ধনের পর প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী নিয়ে শিল্পের ভিত্তিটা শক্ত পায়ের উপর দাঁড়িয়ে গেল।

চারদিকের বাণিজ্য বাতাস তখন অস্বাভাবিক ভারী। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কাছ হতে দেখলে গোটা শহরকে মনে হবে চাঁদাবাজীর লাস ভেগাস। সহজ আয়ের এসব বীর সৈনিকদের সংখ্যা হাতে গুনে মুখস্ত রাখা সমস্যা হয়ে দেখা দিল। শেষপর্যন্ত মাছের ভাগার মত ভাগ করতে বাধ্য হলাম। এক ভাগা বিএনপির, এক ভাগা ছাত্রদলের, এক ভাগা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোদ্ধাদের, এক ভাগা মসজিদ, মাদ্রাসা, ওয়াজ, মিলাদ, জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে, খৎনা, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ও একভাগা মাননীয় সরকার মহোদয়ের বেতনভুক কর্মচারীদের। ডিসি সাহেব চাঁদার ইংরেজী তরজমা করে এর গায়ে কন্ট্রিবিউশন তকমা লাগিয়ে ঘন ঘন এলান ফরমানো শুরু করলেন। ওসি সাহেবের কেবল টাকা নয়, সুন্দর এক সকালে এত্তেলা পাঠালেন স্ত্রী ঢাকা যাবেন মার্কেটিংয়ে, আমাদের গাড়িটা দরকার। সাথে থাকতে হবে ট্যাংকভর্তি তেল। বাংলাদেশ নামক দেশটার জন্মের উষালগ্ন হতে দেশের বাইরে। তাই অনেক কিছুর উপর নূন্যতম ধারণা ছিলনা। একটা জাতি সন্মিলিতভাবে এভাবে নোংরামির কোমর পানিতে নামতে পারে আমার জন্য তা ছিল অভাবনীয়, বিস্ময়কর।

দুপুরের খাবারের জন্য বাসায় ফিরছি। কড়া রোদ। রিক্সা নেই কোথাও, তাই হেঁটেই রওয়না দিলাম। কয়েক শ গজ যাওয়া হয়নি, ঘ্যাচ করে হুড খোলা একটা জীপ পথরোধ করে ফেলল। পুলিশ। থ্রি নট থ্রি রাইফেল তাক করে মাটিতে শুয়ে পরার তাগাদা দিল। আমি মূর্তির মত ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম। অন্য একজন ওকিটকিতে কথা বলতে শুরু করল।
-স্যার একজনরে ধরছি। মসজিদের সামনে। বাকিরা পলাইছে। ঠিক আছে, জলদি আসেন।
একটু পর পালের গোদা থানার ওসি এসে হাজির। এসেই মা-বাবার নামে কুৎসিত একটা গালি দিল এবং সহকারীকে নির্দেশ দিল পাশের সেলুন হতে কাঁচি এনে আমার চুল গুলো কেটে দিতে। প্রমাদ গুনলাম। হিসাব কষে দেখলাম নিজকে প্রকাশের এটাই উত্তম সময়। অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক হিসাবে সাময়িক ভিসা নিয়ে বাস করছি বাংলাদেশে। নিজের অধিকার সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। বাংলা নয়, ইংরেজিতেই শুরু করলাম চোর-পুলিশ খেলা।
হু দ্যা ফাক ইউ আর টু কাট মাই হেয়ার?
স্তম্ভিত হয়ে গেল কথিত একজন সন্ত্রাষীর মুখে ইংরেজি শুনে।
তুই বড় চুলের মাস্তান। তোর কাছে এতকিছুর জবাব দিতে বাধ্য নই।
ডাজ কনষ্টিটিউশন অব বাংলাদেশ লিমিটস ইটস সিটিজেনস রাইট টু হেভ লং হেয়ার? ইফ সো, প্রভাইড মি এভিডেন্স।
এবার থেমে গেল ওসির মুখ। হয়ত আশা করেনি তর্কের সবটা ইংরেজিতে চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ।
– ইউ আর আন্ডার এরেষ্ট।
– নো প্রবলেম। লেট মি টক টু মাই এম্বাসি এন্ড গেট সাম হেল্প।
সংখ্যায় ওরা ছিল ৭/৮ জন। পিনপতনের নীরবতা নেমে এল ঘটনাস্থলে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের ড্রাইভিং লাইসেন্সটা পকেটেই ছিল। নিজের পরিচয় যেচেই প্রকাশ করলাম। দমে গেল পুলিশ বাহিনী। এ ফাঁকে খবর চলে গেলে আমাদের কারখানায়। শিফট বন্ধ করে প্রায় ১০০ শ্রমিক ঘেরাও করে ফেললো গোটা এলাকা। চারদিকে টান টান উত্তেজনা। পুলিশ দল নিজেদের ভেতর ফিসফাস শুরু করে দিল। একজন এসে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি রহমান সাহেবের ভাই?
– নট রিয়েলি, আই এম নট, রাদার হি ইজ মাই ব্রাদার। ইংগার ব্রদার।
– আমরা কি আপনাদের কারখানায় গিয়ে কথা বলতে পারি? অতি বিনয়ের সাথে পালের গোদা অনুরোধ জানালেন।
– অভার মাই ডেড বডি। উই উইল স্কয়্যার আওয়ার ইস্যু রাইট হেয়ার।
এবার পুলিশের ঘাড়ে চেপে বসলাম আমি। শুধু শুধু নাম ধাম জিজ্ঞেস করতে থাকলাম। শুরু হল ক্ষমা পর্ব। ভাষ্য মতে কত গুলো মাস্তানকে ধাওয়া করছিল ওরা। তাদের সবার মাথায় লম্বা চুল। দেখতে আমিও নাকি তাদের মত। ততক্ষণে জনতার স্রোত বাড়তে শুরু করল। ঘটনাস্থলে আমাদের পারিবারিক বন্ধু পৌরসভার চেয়ারম্যানকে দেখতে পেলাম। সাথে আমার ছোট ভাই। ওরা শহরের হোমরা চোমরা, মুরুব্বি। জোর করে সরিয়ে আনল আমাকে। রক্তের দাপাদাপি থামাতে ডাক্তার ডাকা হল। তিনদিনের মাথায় সবকিছু থিতু হয়ে এল।

corrupt-police
মাস না গড়াতেই মার সাথে বুঝাপড়ায় বসতে হল। স্বপ্ন আর বাস্তবতার লড়াইয়ে বাস্তবতাই জয়ী হল। ফিরে গেলাম দত্ত্বক নেয়া দেশ অস্ট্রেলিয়ায়।…

ক্ষমতার পালাবদল কি বদলাতে পারবে এসব অসূস্থ সংস্কৃতি? নাকি নতুন বোতলে পুরানো মদ ঢালার মত জাতীয়তাবাদিরাও ঢালতে শুরু করবে চরিত্র সংকটের নতুন সিফিলিস? তাহলে আর কিসের জন্য এ হা হুতাস…কারণ আমার জন্য স্বাধীনতা মানে চুলেরও স্বাধীনতা, গণতন্ত্র মানে মুক্ত বাতাসে চলাফেরার স্বাধীনতা…

আধুনিকতা নাকি নগ্নতা …by Husasain Sumrat

সোশ্যাল মিডিয়াতে ঘুরতে যেয়ে একটি লিঙ্কে যেয়ে একটি লেখা পড়লাম ও এর কমেন্টে দেখালাম যারা হিজাব পরে তাঁদেরকে খুব অবজ্ঞার চোখে দেখে অনেকে।ঠিক তখনই লেখাটি লেখি।লেখাটির মূল লিঙ্ক

(https://www.facebook.com/HussainSumrat/notes) ।

আধুনিকতা বলতে কি বুঝাই?কোথাও আমি এর সংজ্ঞার্থ পড়িনি।তবে নিজে নিজে একটি সংজ্ঞা তৈরি করে নিয়েছিলাম এবং সেটাই ছিল আমার কাছে যথেষ্ট।তাই কখনও কোথাও খুঁজতে যাইনি।কিন্তু আজ আমি যখন ভাবলাম আমার চারপাশের মানুষরা কি বলছে বা কি করছে এই আধুনিকতা নিয়ে।তখন আমি কিছুটা চুপ হয়ে যাই।যদিও আমি আমার তৈরি করা সেই সংজ্ঞার্থ থেকে সরে আসিনি।কারণ আমি আমার সংজ্ঞার্থ বিশ্বাস করি।এটা আমার কোন ধারণা না এটা আমার বিশ্বাস।যাইহোক,আমি খুবই ভীত হয়ে যাই যখন শুনি মেয়েদের পরাধীন করে রাখা যাবেনা।ভীত হবার কারণ একটাই স্বাধীনতা বলতে তাঁদের কি করা হচ্ছে।আমিও চাই মেয়েরা চার-দেয়ালের মাঝে নিজেদের বন্দী করে না রাখুক।কিন্তু চাই না তাঁরা কোন ডিস্ক বারের ডিস্ক গার্ল হোক।যদি এটাই হয় স্বাধীনতা তাহলে আমি চাইব মেয়েদের স্বাধীনতা দরকার নাই।আমাদের দাদি-নানিদের মতো তাঁরা শুধু রান্নার কাজই করুক।আধুনিক হওয়ার দরকার নেই।আমাদের মতো গরীব দেশে অনেকেই লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার বানানোর নোংরামি কাজে টাকা খরচ করবে কিন্তু কোন ছেলে বা মিয়ে টাকার অভাবে ভাল ভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারছেনা সেটার দিকে নজর দিবেনা।অবশ্য কাউকে সুপারস্টার বানানো গেলে তারা তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ব্যাবহার করতে পারবে। সেদিক থেকে ভাবলেতো মন্দ হয়না টাকা খরচ করলে।আমাদের আপুমনিরা অবশ্য তাদেরকে আধুনিক বানাইতে খুবই ততপর।এই আধুনিক হওয়াটা যদি তারা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে হতেন তাইলে কোন কিছু বলার ছিলনা।কিন্তু না…তারা ঐশ্বরিয়া, ক্যাটরিনাদের অ্যাড দেখে লাক্স সাবান ব্যাবহার করবে আর সুপারস্টার হওয়ার চিন্তাই বিভর থাকবে।তাতে যদি আই বি এর মতো প্রতিষ্ঠান থেকে বিতারিত হতেও হয় তারা রাজি।তারা কি একটুও ভেবে দেখেনা যে তাদের দেহের এপাশ ওপাশ সবপাশ দেখিয়ে সুপারস্টার কি নাহলেই না।এতে আসলে অনেকেই আমাকে বলবেন ধুর তুমি খুব সেকেলে।আমি তাদের বলব আমি আপনার স্ত্রী আপনার মেয়ের সাথে একরাত বারে ডিস্ক নাচ নাচতে চাই।তখন তারা আবার বলবেন এ যুগের ছেলে-পেলেরা খুব বেয়াদব হয়ে গেছে।আরে ভাই আপনি একজন মেয়ের এপাশ ওপাশ দেখছেন আর সুপারস্টার বানাচ্ছেন আর আমি একরাত আপনার মেয়ের সাথে ডিস্ক করতে গেলেই বেয়াদব আর আপনি এইসব করেও সমাজের আধুনিক মানুষ।আমাদের আফামুনিরা কি একটুও ভেবে দেখেনা – ঐশ্বরিয়া বা ক্যাটরিনা কখনই এই লাক্স সাবান ব্যাবহার করেনা এবং করবেও না।মেয়েদের শালীনতা নিয়ে কথা বলতে গেলে আবার অনেকেই আমাকে বলবেন আমি জঙ্গিবাদী।আবার অনেকেই বলবেন গোরা মুসলমান।আমি তাদের বলব চিপাচাপা জিন্স আর টিশার্ট পরলেই আধুনিক হওয়া যাইনা।আপনি এই পৃথিবীকে কতটা ভাল কিছু দিতে পারছেন সেটাই আপনার মাপকাঠি।

 

আপনি কি জানেন – গত মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপে সেরাদের সেরা একটি দল হয়েছিল কাতারের এক দল।যাদের সবাই ছিল মেয়ে এবং হিজাব পরিহিত।তোমরা যারা সুপারস্টার তারা ওদের কাছে কিছুই না।তোমরা আসলে ওইসব পারবানা দেখেই শরীর দেখিয়ে বেরাও।আপনারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন কয়দিন পর রমনা পার্কের ১০০ টাকার এক মেয়ে আর আপনাদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবেনা।ওরা হল কম টাকার Prostitute আর আপনারা চড়া দামের।আপনি এখনও জানেননা মজিলা আর গুগল এর মধ্যে পার্থক্য আর হাইহিল পরে নিজেকে আধুনিক মনে করেন।আগের যুগে মেয়েদেরকে জোর করে এইরকম করা হত আর এখন মেয়েরা নিজের ইচ্ছাতেই এইরকম হয়ে যাচ্ছে।এতে আপনারা আধুনিক হতে পারছেন না বরং হয়ে যাচ্ছেন পণ্য।আমাদের উপর তালার লোকেরা মধ্য-রাতে স্কছ-হুইছকির সাথে সাথে আপনাদের রুপের সুধা নিয়ে যাচ্ছে।কর্পোরেট বেনিয়াদের কাছে নিজেকে তুলে দিয়ে আধুনিক হওয়ার দরকার নেই।আপনি যখন একটি পর্যায়ে পৌছবেন তখন আপনার নাম এমনিতেই প্রচার হবে।অর্ধনগ্ন হওয়ার দরকার পরবেনা।শালীনতা মানে পিছিয়ে পরা না।বরং এভাবে নাম কামানো মানেই পিছিয়ে পরা।চামড়াকে ডলে ডলে সাদা করার দরকার নেই।আপনি কি জানেন আপনার স্বপ্নের দেশ আমেরিকার অনেক কালো চামড়ার লোকেরাই মার্সিডিজে চড়ে, আর অনেক সাদা চামড়া ভিক্ষা করে।আমরা যদি এইভাবে চলতে থাকি তাহলে আমাদের অবস্থা খুব একটা ভাল হবেনা।আমরা আসলে ততদিন পর্যন্ত আধুনিক হতে পারবনা যতদিন পর্যন্ত শুধু বাইরের রুপ দেখব।৩৬-২৪-৩৬ ফিগার না করে জ্ঞানী-মেধাবী-বুদ্ধিমান হন।নইলে সবাই একদিন বলবে ওই শালী বেশ্যা…

ওয়াজ, আলেম ওলামাগণ এবং সুশীল সমাজ…

2

by Ammena Tarannum

গত রাতে আমার বাসার সামনের মাঠে কনসার্ট হয়ে গেলো।কি বৃত্তান্ত?রেড ক্রিসেন্টের কোন একটি ক্যাম্প চলছিলো সেই মাঠে সপ্তাহ খানেক ধরে।সেখানে সারাদিন মাইক পূজা চলতোই।মাঠের পাশে মসজিদ,সেদিকে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ ছিলনা।নামাজ-আযানে তাঁরা ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন কিনা-সে নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা দেখা যায়নি।তা এগুলো তাঁদের কাছে ব্যাপার না…সুশীল সমাজ বলে কথা!বলি,সুশীল সমাজ তো সমাজ নিয়ে এবং তার মানুষ নিয়ে চিন্তিত হবার কথা বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন!কিন্তু এই সুশীলরা সেরকম কিছু তাদের কাজে-কর্মে প্রমাণ করতে পারলেননা।দিন-রাত মাইকে সুকণ্ঠ-কুকণ্ঠ মিলিয়ে গান-কবিতা শুনিয়ে এলাকাবাসীর কান ঝালাপালা করেছেন গেলো কিছুদিন।কাল রাতে তা চরম আকার ধারন করলো কনসার্ট এবং ফ্যাশন শোর মাধ্যমে…মধ্যরাত পর্যন্ত কানের বারোটা বাজিয়ে তবে তাঁরা চুপ করেছেন।

waz

শব্দ দূষণ…এ আমার যেন নিত্য সঙ্গী!যে যা ভয় পায়,তাকে তা-ই তাড়া করে ফেরে,আমি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।যেসব জায়গায় এই অধম ছোটবেলা থেকে শুরু করে আজ অবধি বাস করে আসছি সে জায়গাগুলোর উপর এই দূষণটির কারনে আমি ত্যক্ত-বিরক্ত।জিজ্ঞেস করুন,কিভাবে?বলছি।

ছোটবেলা ছিলাম ছোট জায়গায়,মফস্বল শহরে।শীতকাল আসলেই বাড়ি থেকে একটু দূরে ধানের জমি খালি থাকতো,সেখানে রাতের বেলা দশদিগন্তকে শোনানোর ব্যবস্হা করে ওয়াজ শুরু হতো।শীত ছাড়াও হতো,যেকোনো দিন বিকাল বেলায় ঘোষণা দেয়া হতো”আজ রাতে আমাদের মাঝে উপস্হিত হবেন উপমহাদেশের নয়নমনি,জগদ্বিখ্যাত,বিশিষ্ট ওলামা অমুক…”

ব্যস,রাতের ঘুম শেষ সুমধুর সুরেলা কন্ঠের ঝংকারে।সবচে’ খারাপ যা তা হলো,আপনি যে জেগে থেকে উনাদের বিতরণকৃত জ্ঞান আহরণ করে ধন্য হবেন..নৈব নৈব চ!কারন কিছু দূর থেকেই বক্তব্য আর কিছু বোঝা যায়না,খালি দূর্বোধ্য কান ফাটানো গগনবিদারী চিৎকার ছাড়া কিছুই আপনি বুঝবেন না।তাহলে কি দাঁড়ালো?আমার না হলো ঘুম,না হলো কোন ধর্মীয় উপকার।কেন এই শাস্তি তাহলে মেনে নিতে হচ্ছে?আর ধর্ম কি বলে এই ব্যাপারে?ইসলাম তো অন্যের ঘুম নষ্ট করে কুর’আন জোরে পড়তেও নিষেধ করে!

“Sometimes, it is Makruh (reprehensible) to recite the Qur’an as when one recites it in a loud voice disturbing other reciters or worshipers, or annoying those who are sleeping.

http://www.alifta.net/Fatawa/FatawaChapters.aspx?languagename=en&View=Page&PageID=37&PageNo=1&BookID=15

ইসলাম আরো বলে,Narrated Anas bin Malik (رضي الله عنه‏): The Prophet (صلى الله عليه وسلم) said, “Facilitate things to people (concerning religious matters), and do not make it hard for them and give them good tidings and do not make them run away (from Islam).”

[Sahih Bukhari, Volume 1, The Book of Knowledge, No. 69]

তো আমরা মুসলিমরা যদি এভাবে চিল চিৎকার করে মানুষের রাতের ঘুম হারাম করতে থাকি,তবে মানুষ ধর্মের কাছে আসবে না দূরে যাবে?একজন অমুসলিম যদি ঠিক ওয়াজের মাঠের পাশে বাস করেন,তার কি প্রতিক্রিয়া হবে??

দুটি ঘটনা উল্লেখ করছিঃ

১/আয়েশা (রাঃ) একজন মুসলিম বক্তাকে বলেছিলেন,Restrict your voice to your audience and address them only as far as they are attentive to your speech. When they turn their faces from you, stop.

২/আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ “An orator used to deliver his sermons before the door of Ai’sha (R.A). She complained to ‘Umar (R.A) saying, “This man has caused me discomfort and has left me in a position that I cannot hear anything (except the voice of the orator).” ‘Umar (R.A) sent a message to the orator asking him to refrain from speaking so loudly before the door of the mother of the Muslims. But the orator repeated his practice once again. When ‘Umar (R.A) was informed about it, he himself went to him and subjected him to punishment.”

http://bookmyla.com/deeni%20books/Contemporary%20Fatawa/Salah_Namaz/misuseloudspeaker.htm

http://www.sunniforum.com/forum/archive/index.php/t-51758.html

এই ঘটনা গুলো কি আমাদের হুজুরদের আর আলেমদের অজানা?তাঁরা কি কখনো সত্যিকারের ইসলামিক রীতিনীতি নিয়ে মাথা ঘামান?

যাই হোক,আমার ঘটনায় ফেরত যাই;এরপর এলাম সিলেট শহরে।সেখানেও দরগাহ-র মাঠে গগনবিদারী সুরেলা ওয়াজ হতো।আবার ঘুম হারাম!এরপর উত্তরা,ঢাকা..এখানেও একই না হলেও বিরক্তি উদ্রেক করার মতো যথেষ্ট ওয়াজ দূষণ বিদ্যমান।ওয়াজ ছাড়াও ভোরে ফজরের নামাজের আগে মসজিদে যেদিন ইচ্ছা হয় সেদিন জিকির,সূরা পাঠ কিংবা হামদ-নাত শুরু হয়ে যায় আমাদের দেশে…কি বলে একে?হ্যাঁ,out of the blue!এতে কারো কি লাভ হচ্ছে? না,ক্ষতি হচ্ছেঃ

১/কেউ যদি ফজরের নামাজের আগে তাহাজ্জুদ পড়েন,এতে তাঁর নামাজের ব্যাঘাত ঘটে। বিশেষ করে তাঁর বাসা/বাড়ি যদি মসজিদের কাছে হয়,তাহলে তো বলাই বাহুল্য।রমজান মাসে এরকম সমস্যা প্রতিদিন ঘটে।

২/ যিনি অমুসলিম,তাঁর দুঃখের তো আর সীমাসংখ্যা থাকেনা।তিনি ভোরের ঘুম হারাম হওয়ার পর মুসলিমদের চৌদ্দ পুরুষদের মনে মনে নিষ্ফল গালমন্দ না করে আর কি করতে পারবেন?ইসলামের প্রতি তাকে বীতশ্রদ্ধ করার এই অধিকার মসজিদের হুজুরদের কে দিলো?

উত্তরায় বিশ্ব ইজতেমার সময় আরেক ব্যাপার হয়।প্রায় সকল রোড-এ মাইক লাগিয়ে ইজতেমার ওয়াজ এবং দোয়া শোনানোর ব্যবস্থা করা হয়।আজব!এর দরকারটা কোথায়?যিনি প্রয়োজন মনে করবেন,তিনি ইজতেমায় গিয়ে এসব শুনে আসবেন।তার উপর একটি লাইনও স্পষ্ট বোঝার উপায় পর্যন্ত নেই।শুধুই উচ্চ হাউকাউ-এ আপনার জান জেরবার!

এতো গেলো  ধর্মীয় দিকের কথা।আমাদের সুশীল সমাজের সমস্যাও এখানে প্রকট যার উদাহরণ লেখার শুরুতেই দিয়েছিলাম।তারাও খোলা জায়গা যেখানে পান সেখানে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।12-12-12উদযাপন,নিউ ইয়ার(বাংলা, ইংলিশ, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান যাই হোক)উদযাপন,শহীদ দিবস,বিজয় দিবস,৭ই মার্চ,বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস,জিয়ার মৃত্যু দিবস…দিবসের কোন শেষ তাদের নাই।এবং সেগুলোতে তাদের মাইক চর্চার বাড়াবাড়ির কোন শেষও নাই।

ও হ্যাঁ,এই এলাকায় আবার গোঁদের উপর বিষফোঁড়ার মতো মাঝেমাঝে হিন্দুদের ভজন আর গান বাজনাও শুরু হয়ে যায়রাতব্যাপী..দীর্ঘশ্বাস!অভাগা যেদিকে চায়,সাগর শুকায়ে যায়(আমার বেলায় চায় না,যায় হবে শব্দটা)…

বলি,এদের সবাইকে সবিনয়ে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করে,নিজেরা কিছু উদযাপন করতে চাইলে,ধর্মীয়,অধর্মীয় যাবতীয় ওয়াজ-মাহফিল,জ্ঞান অর্জন,শ্রদ্ধা নিবেদন,স্মৃতিচারণ-যে কোন রকমের অনুষ্ঠান করতে চাইলে সেটা কি নিজেদের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখা যায়না?কেন এমন ভাবা জরুরী যে আমরা যা করছি তাতে অন্যরাও সামিল আছে?অন্যরাও আমাদের আনন্দে অথবা দুঃখে সমান ভাগ পেতে চায়?কেন ভাবা জরুরী যে আমরা যখন জ্ঞান আহরণ করছি তখন অন্যরাও তা-ই করতে চায়?আমরা যখন গান গাইছি তখন অন্যরা সেটা শোনার জন্যে উদগ্রীব?আমাদের আগ্রহ কেন অন্যের অসুবিধার কারণ হবে?কেন একটি হল ঘরে ওয়াজ/কনসার্ট হবেনা?কেন সেখানে এমন সাউন্ড সিস্টেম হবেনা যা হলের বাইরে পৌঁছে অন্যদের বিরক্ত করবেনা?এই প্রশ্নগুলো শব্দ দূষণকারীদের কাছে রইলো,সাথে দেশের শব্দদূষণ আইনের(আছে কী এদেশে এমন কোন আইন?!)কাছেও রইলো।রক্ষা করুন সাধারণ মানুষদেরকে মাইক পূজার বাড়াবাড়ি আবেগ আর উৎসাহ থেকে!দোহাই আপনাদের!

The dark anarchy rises … Bakshal returns with its hallmark anarchy …

police 1

The abuse of the judiciary and law enforcement agencies have been persistent, since the birth of Bangladesh, very true. Almost all regimes have abused their power in persecuting the opponents in varying degrees (And I guess this practice isn’t endemic to Bangladesh only, many countries with similar socio-political stature face the same phenomena)

However, some interesting and noteworthy aberrations during the past (and present thanks to a farcical election) government’s regime include the arrest and continued incarceration of high profile opposition leaders. At least 25 leaders of the topmost leadership of the opposition party is currently in jail. Starting from the secretary general to the common ward committee members of the main opposition parties have been constantly being subjected to police harassment and sentences. Cases against them include farces like burning of garbage trucks, stealing trivial things from anonymous people etc. Despite the High court rulings that set very strict standards for obtaining remand, police and the lower judiciary are seen abusing those standards and are granted remands. More and more opposition leaders are denied bails. For unknown reasons, eminent people are being kept in prison without granting bails. The list includes newspaper editors, human rights activists, online activists and people from the academia as well.

04_Khaleda%20Zia's%20House_291213

Many opposition leaders are getting arrested just as they voice their demand in public, being shown arrested in previous cases, which are in most cases of absolutely no merit . As a result an atmosphere of fear has been created, an all out police state is being implemented. Many leaders are afraid of coming out in public. Let alone the grass roots level activists who are seldom spending the nights at their own places. And not only that, police are arresting other family members of the leaders family too, including female members. The houses are being ransacked, in some cases bulldozed. There are also reports of the combined forces looting valuables from the households form the opposition activists. In some cases mass arrests are leading upto bribes, and people are being freed based on the amount of bribe being given to police. The already overcapacity prisons are getting are even more crowded by thsese wholesale arrests. There was an instance of arresting 200 topmost leaders of the opposition en mass from their party office, over a case of cocktails been found in their party office premises.

All this harsh treatment meted out to the opposition has an even more harsher underlying subtext . It is true that the prisons have been over capacity for years. But, how are these new prisoners being accommodated ? There lies the more shocking tale. Many convicts are let go by the government. The list includes top terror crime bosses, sentenced ruling party thugs, known drug peddlers, known petty criminals. Some of these criminals are let go on the promise of staying in the field alongside ruling party activists to thwart any political movement of the opposition. Many newspaper reports an increase in the supply of guns in the recent months. Before every other election, their was a strong drive to recover illegal weapons by the previous election time caretaker governments. This time the political government totally shied away from that drive. And a servile Election Commission didn’t push for it either. They even published a farcical decree to not even submit the weapons, insisting only not to carry it !!.

So, spreading the blame equally across the board seems to do injustice to the prominent role this quasi fascist regime, elected through pseudo-elections, is playing in completely decimating the rule of law. The abuse of power to persecute opposition coupled with a flagrant disregard for the rule of law under the current regime is simply shocking and is plainly reminding of the anarchy of the mid seventies.

পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দী মানবতা

by মুহাম্মদ আব্দুল খালিক

মানুষ জন্মগতভাবেই স্বাধীন, তবে (বেড়ে ওঠার পর থেকে) সে সর্বত্র (বিভিন্নভাবে) পরাধীনতার শৃঙ্খলে থাকে আবদ্ধ।’ যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজে-সম্প্রদায়ে, রাজ্যে-রাষ্ট্রে, সভ্যতায়-মতাদর্শে এর প্রতিফলন আমরা লক্ষ্য করি।

image

 

সমাজে আমরা কোনো না কোনোভাবে শৃঙ্খলে আবদ্ধ হই। বাল্যকালে আমরা আমাদের পিতা-মাতা শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকি। আমাদের পিতা-মাতা ভুল মতবাদ বা প্রথা শিক্ষা দিয়ে সহজেই আমাদেরকে বিপথগামী করতে পারেন, শিক্ষকমন্ডলী ভুল আদর্শ বা জ্ঞান শিক্ষা দিয়ে আমাদের মস্তিষ্ককে ভারী করে তুলতে পারেন। আর আমাদেরকে তাই করতে হয় যা তারা বলেন বা যে নির্দেশনা তারা দেন। বড় হলে জীবিকার তাগিদে আমাদের বেছে নিতে হয় কোনো পেশা বা কর্মকে। সেখানে আমাদেরকে হুকুম মেনে চলতে হয় আমাদের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের। এমনকি চাকুরি বাঁচাতে তাদের অন্যায় আদেশও মানতে থাকি আমরা বাধ্য। রাষ্ট্রে বসবাস করতে যেয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত মেনে চলতে হয় হাজারো আইন-কানুন। রাষ্ট্রের কর্তারা তাদের ক্ষমতাকে আরো পাকাপোক্ত করার জন্য কিংবা তাদের স্বার্থ আদায়ের জন্য এসব আইনে রেখে দেন প্রয়োজনীয় ফাঁক-ফোঁকর। আমাদের এতে বলার থাকে না কিছুই। তাদের স্বার্থের কাছে আমাদের স্বাধীনতার জলাঞ্জলি দিয়ে আমাদের সাজতে হয় সুনাগরিক। নইলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর হাত তো রয়েছেই।

মানব ইতিহাস হচ্ছে শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস’ বা ‘মানব সভ্যতার ইতিহাস হচ্ছে সত্য-মিথ্যার মধ্যে দ্বন্দ্বের ইতিহাস’, যাই বলি না কেন; যুগে যুগে মানুষ যে শক্তিমানদের দ্বারা নির্যাতন, নিষ্পেষণ, বঞ্চনা গঞ্জনার শিকার হয়েছে কথা বলা যায় অনায়াসেই। ইতিহাসের পাতায় পাতায় তাই আমরা খুঁজে পাই ভয়ানক যুদ্ধ, রক্ত নিয়ে হুলি-খেলা, নির্যাতন, নিষ্পেষণ, ধর্ষণ আর পেশী শক্তির আধিপত্য।

আমাদের জানা-শুনা সভ্যতাগুলোর মধ্যে মেসোপটেমিয়া, সুমেরিয়, মিশরীয়, গ্রীক, রোমান, পারস্য, ইনকা, আজটেক মুসলিম সভ্যতা উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি সভ্যতার মধ্যে ছিল ক্ষমতা দখলের অসুস্থ লড়াই। পর রাষ্ট্র আক্রমণে প্রতিটি সভ্যতাতেই ছিল সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের উপস্থিতি। মানবাধিকার লঙ্ঘনে কোনো কোনো সভ্যতা এতই নীচে নেমে গিয়েছিল যে, সময়টাকে ইতিহাসে অভিহিত করা হয়েছে ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবে।

গ্রীক সভ্যতায় জ্ঞানচর্চা সত্য প্রচারের জন্য ইতিহাসশ্রেষ্ঠ মনীষী সক্রেটিসকে শিকার হতে হয় মৃত্যুদন্ডের, প্লেটোকে জীবন বাঁচানোর জন্য এথেন্স থেকে রাতের আঁধারে পাড়ি জমাতে হয় স্পার্টায়।  রাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন লোকদের দ্বারা জ্ঞান সত্য প্রচারকারী লোকজন এভাবে বিভিন্ন রকম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নারীদের অবস্থা ছিল খুবই নাজুক। পতিতাবৃত্তি পুরুষের সেবা দাসে পরিণত করা হয়েছিল নারীদের। প্রচলন ছিল জঘন্য দাস প্রথার। শক্তিমান মানুষরা (?) আবির্ভূত হয়েছিল দুর্বল মানুষদের প্রভু হিসেবে।

রোমান সভ্যতাও নির্যাতনে পিছিয়ে ছিল না কোনোদিকেই। শহরকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছিল অভিজাত শ্রেণী যাদের দ্বারা পরিচালিত হতো সাম্রাজ্যের শাসনকার্য। প্রচলন ছিল ঘৃণ্য দাস প্রথারও।  তারা এতটাই নীচে নেমে গিয়েছিল যে, ঐসব দাসদের দ্বারা আয়োজন করতো ‘গ্লাডিয়েটর’ নামক বর্বরোচিত ক্রীড়ার, যেখানে তাদেরকে পরস্পর অবতীর্ণ হতে হতো মৃত্যু পর্যন্ত জীবন সংহারী লড়াইয়ে। আর রক্তের হুলি-খেলা দেখে আনন্দ পেত অভিজাত (?) নামীয় ক্ষমতাবানরা।  সম্পদ ক্ষমতার লোভে তারা আক্রমন করতো বিভিন্ন রাজ্য সম্প্রদায়ের উপর। সাম্রাজ্য সম্প্রসারণবাদী উন্মাদতা তাদের মধ্যে এতটাই শিকড় গেড়েছিল যে, বিনা অপরাধে বিনা প্ররোচনায় দুর্বল সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর তারা হামলা করতো। রোমানরা এতটাই যুদ্ধবাজ ছিল যে, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সকল পুরুষকেই সামরিক বাহিনীতে সেবা দিতে হতো। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা তখন রাষ্ট্রের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছিল। নিরীহ জনপদের ওপর আক্রমনে ব্যবহৃত হতো ধর্ম প্রচারের ছুঁতো। অশ্লীলতা বেহায়াপনার বিস্তার ঘটেছিল ব্যাপকভাবে। নারীকে পরিণত করা হয়েছিল পুরুষের মনোরঞ্জনের উপকরণ হিসেবে। বেশ্যাবৃত্তি, বহুমাগামিতা, অবাধ যৌনাচার তখন অভিজাত শ্রেণীর সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছিল

পারস্য সভ্যতায় ক্ষমতাসীন শ্রেণী জনগণের ভাগ্য নির্ধারকের আসনে সমাসীন হয়েছিল। তাদের নির্দেশ বিধিই ছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। তারা ছিল অগ্নি উপাসক। অন্য কোনো ধর্ম বা আদর্শ মেনে চলার কোনো এখতিয়ার জনগণের ছিল না। নারীদের অবস্থাও ছিল নাজুক। তাদেরকে পরিণত করা হয়েছিল পুরুষের ভোগের পণ্যে। প্রচলন ছিল দাসত্বপ্রথারও। যেখানে শক্তিমানরাই ছিল প্রভু, আর দুর্বলরা পরিণত হতো তাদের দাসে। যুদ্ধের নামে ক্ষমতা সাম্রাজ্য বিস্তারের ঘৃণ্য প্রতিযোগিতায় মত্ত ছিল তারাও

মুসলিম সভ্যতাও সবদিক বিবেচনায় সে বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। মুসলিমরা যে সময়কে ‘সোনালী যুগ’ হিসেবে অভিহিত করে সে সময়টা ছাড়া পরবর্তী সময়গুলোতে ক্ষমতা দখলের নেক্কারজনক প্রতিযোগিতা মুসলিম শাসক বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে বিরাজমান ছিল। উসমানীয়, আব্বাসীয় প্রভৃতি সম্প্রদায়ে তারা বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। এদের মধ্যে এতো বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব ছিল যে, মৃত ব্যক্তির কবরে গিয়েও তারা প্রতিশোধ গ্রহণের চেষ্টা চালাত। তবে সোনালী যুগের শাসকসহ বিভিন্ন সময়ে অনেক শাসকের উপস্থিতিও আমরা মুসলিম সভ্যতায় লক্ষ্য করি যারা মানবতার জন্য, জ্ঞানের বিকাশের জন্য কাজ করে গেছেন। মুসলিম সভ্যতর সবচেয়ে বড় অবদান হলো- তারা চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা থেকে মানব জাতির ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়ে মানুষের মধ্যে সত্যিকারের মূল্যবোধ জাগ্রত করেছিল। বিশ্বে প্রথমবারের মত প্রতিষ্ঠা করেছিল নারী অধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার; দাসত্ব প্রথা রোধে গ্রহণ করেছিল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা

পাশ্চাত্য সভ্যতায় জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্য-প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী উন্নয়ন ঘটেছে কথা স্বীকার করতেই হবে। তবে পাশ্চাত্য সভ্যতার সম্পর্কে প্রাচ্যে সবচেয়ে প্রচলিত কথাটি হলো- ‘পাশ্চাত্য সভ্যতা দিয়েছে বেগ, আর কেড়ে নিয়েছে আবেগ। বস্তুবাদ আর ভোগবাদী মানসিকতার জোয়ারে পাশ্চাত্যে আজ মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা বিলুপ্তির পথে। অর্থ উপার্জন, সম্পদ আহরণে নিচুতর পদক্ষেপ নিতেও তারা পিছপা হয় না। কিছু সংখ্যক কর্পোরেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছে সাধারণ মানুষ। সরকারও কাজ করছে কর্পোরেটদের স্বার্থ রক্ষায়। আর বিশ্বব্যাপী পাশ্চাত্য আধিপত্য বিস্তারের নিকৃষ্ট  জঘন্য প্রতিযোগিতা তো রয়েছেই। ১ম ২য় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা মানব জাতিকে উপহার দিয়েছে এই পাশ্চাত্য সভ্যতাই। ঔপনিবেশিক যুগে উপনিবেশ স্থাপন করতে যেয়ে হত্যা করেছে লাখো লাখো মানুষকে। আর এসবই করা হয়েছে তাদের আধিপত্য বিস্তার অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিল করার জন্য। বর্তমানেও পৃথিবীব্যাপী এক ত্রাসের রাজ্য তারা প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছে যেখানে তাদের স্বার্থের বাইরে যাওয়া মানেই নির্যাতন নিষ্পেষণের তীব্র আঘাত। নারীদের উন্নয়নে প্রশংসনীয় বেশ কিছু উদ্যোগ নিলেও নারীকে পুরুষের ভোগের পণ্যে পরিণত করার বৃত্ত থেকে এখনো বের করে আনা সম্ভব হয়নি। মানুষের মধ্যে শিক্ষার প্রসার তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার মত গুরুত্বপূর্ণ অবদানও রেখেছে বর্তমান সভ্যতা। তবে বৃহশক্তি কর্তৃক দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে শাসন শোষণ করার মনোভাব তা ব্যাহত করছে প্রতিনিয়ত

বলা হয়, মানবজাতি বর্তমানে আধুনিক-উত্তর যুগে বাস করছে। মানুষ প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রত্যেকটি শাখায়। কলা, দর্শন, বিজ্ঞান, আইন, মহাকাশ, তথ্য-প্রযুক্তি, ধর্মশিক্ষা কোন ক্ষেত্র বাকী আছে যে সম্পর্কে মানুষ গবেষণা করেনি? মানুষের পথচলার জন্য এসব জ্ঞান, তথ্য তত্ত্ব দিতে পারে সঠিক পথের দিশা। তবে এজন্য সাধারণ মানুষকে কায়েমী স্বার্থান্বেষী পুঁজিপতি ক্ষমতাশালীদের চক্রান্ত সম্পর্কে থাকতে হবে সচেতন। নিজেদেরকে জ্ঞানে, দক্ষতায় আরো উন্নত করে পারস্পরিক ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রুখে দিতে হবে এসব তথাকথিত স্বার্থান্বেষী মহলকে। তাহলেই হয়তো মানবজাতি একটি কল্যাণপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা  করতে পারবে

মাদ্রাসা শিক্ষাঃ সাব-অল্টার্নের ক্ষমতা

খন্দকার রাক্বীব, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Madrassa

ক্ষমতার প্রশ্নে খুব বড় দু’জন তাত্ত্বিক হলেন গ্রামসি আর ফুকো। গ্রামসির বক্তব্য ছিল হেজেমনিক লোকরা দলিত শ্রেনির লোকদের উপর ক্ষমতাবান। ফুকো এই মতবাদ খারিজ করে দিয়ে বলেন ‘সাব-অল্টার্ন’রাও ক্ষমতাবান হইতে পারে। তার বিখ্যাত উক্তি ছিল ‘পাওয়ার ইজ ইভরিহোয়ার’।

ফুকোর এই বক্তব্য আমার চিন্তার নতুন ধার খুললো। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে বসে ওরিয়েন্টাল ডিসকোর্স খারিজ করে পশ্চিমা কিছু তাত্ত্বিকের তত্ত্ব নির্ভর করে আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করি তা যথার্থ না। আমাদের জানা কথা যে উপমহাদেশে ‘মেইনস্ট্রিম’ শিক্ষাধারার বাইরে মাদ্রাসা শিক্ষার ‘ইন্সটিটিউশনালাইজেশন’ শুরু হয় মূলত ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের পরে, এক ধরনের উপনিবেশবিরোধি আন্দোলনের মোড়কে। ১৮৩১ সালে বালাকোটের যুদ্ধে পরাজয়ের পর মুসলিম শিক্ষাবিদরা এবং ফারায়েজিরা একটা বিশাল ধাক্কা খায়। পরবর্তিতে ১৮৫৭সালে সিপাহি বিপ্লবে ফারায়েজি মুসলিমরা উপনিবেশবাদবিরোধী সিপাহি আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে আবার পরাজিত হয়। যে পরাজয়ের মাশুলও তাদের দিতে হয় চরমভাবে। শেরশাহ’র ‘সড়ক-ই-আজম’ এর পাশে এমন কোন গাছ ছিলনা যার পাশে মুসলিম উলামাদের লাশ ঝুলানো ছিলনা।

উপনিবেশবাদি শক্তির বিরুদ্ধে মুসলিম উলামারা যখন এভাবে টিকতে ব্যর্থ হচ্ছিল তখন তারা উপনিবেশবিরোধি আন্দোলনের চিহ্ন আর নিজস্ব স্বকিয়তা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে সমাজের মূল স্রোতধারার বাইরে চলে যায়। ফারায়েজিদের সহায়তায় নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে। অসংখ্য মাদ্রাসা-মক্তব তৈরি করে। মাওলানা নানুতবি এসময়ে তৈরি করেন দেওবন্দ মাদ্রাসা।

 

তারা উপনিবেশবাদবিরোধি সংগ্রামে পর্যদুস্ত হয়ে এক ধরণের রেসিস্ট্যান্স মনোভাব নিয়ে ‘প্রান্তিক’ পর্যায়ে চলে যায়। আজো তারা ফিরে আসেনি। আমরাও তাদের দূরে ঠেলে দিয়েছি, কখনো কাছে টানার চেষ্টা করিনি, সংকীর্ন রাজনৈতিক কারণ আর একান্ত প্রয়োজন ছাড়া। তাদের সুযোগ-সুবিধা, সুখ-দুঃখ তাদের ভাষায় না বুঝে আমাদের ভাষায় বুঝতে চেয়েছি। আমরা নিজেদের ‘কেন্দ্র’ ভেবে ওদের ভাবলাম ‘প্রান্তিক’ হিসেবে। প্রান্তের ক্ষমতায়ন অস্বীকার করলাম, যেমন করি প্রান্তে যেতেও।  যেটা ছিল আমাদের মারাত্মক ভুল।

 

পবিত্র কুরআনে ‘সূরা ইয়াছিনে’ পড়েছিলাম  ‘‘জনপদের প্রান্ত থেকে এক লোক শহরবাসির কাছে দৌড়াতে দৌড়াতে এসে বলল ‘হে আমার জনপদের লোকেরা তোমরা দয়াময় আল্লাহ্‌র এ রসুলদের অনুসরণ কর। এরা এমন রসুল যারা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চায় না।’ যারাই তার অনুসরণ করবে তারাই হবে হেদায়াত প্রাপ্ত। ……আফসোস যদি আমার জাতি এটা জানতে পারত(আয়াত-২০-২৬)’’

 

উপরের এই আয়াত সমূহ আমাকে খুব ভাবিয়েছে এই যুক্তিতে যে, এখানে পষ্টভাবে প্রান্তিক শক্তির কথা বলা হয়েছে। আমরা যারা নিজেদের কেন্দ্রের মানুষ ভাবি, আমাদের জানার ক্ষেত্রে অনেক ঘাটতি থাকে, যা আল্লাহ’র ভাষায় ‘আফসোস যদি কেন্দ্রের লোকরা এটা জানত’/ এটাও পষ্ট যে, প্রান্তিকরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রের থেকেও ভালো যানে, এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলও বেশী। যা আমরা বুঝতে পারি না, অনেক ক্ষেত্রে অস্বীকার করি। আজ আমাদের মাঝে কেন্দ্রে যাবার প্রবনতা বেশী, কেউ প্রান্তিক হতে চায় না। অথচ আরাফাতের ভাষণের পর ইসলাম ধর্মের প্রচারকরা সবাই প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে গেছে। উপনিবেশবাদি আর সাম্রাজ্যবাদীদের দেখি তারাও প্রান্তে প্রান্তে ছড়ানো। মার্কিন গবেষকদের একটা বিশাল অংশ আছে যারা কখনো তাদের নিজ দেশের রাজধানী শহরেও যায়নি, কিন্তু ঠিক-ই মধপ্রাচ্যের কোন একটা অঞ্চলে এসে আরবি ভাষা শিখে নিজের থিসিস দেশে গিয়ে জমা দিচ্ছে। আমাদেরও প্রান্তে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আমেরিকা না, আফ্রিকাতেও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা যায় সে চেতনা লালন করা দরকার।

 

মাদ্রাসা শিক্ষিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাই বলা চলে নিজেদের অবস্থান থেকেও ক্ষমতাবান। মনে রাখা দরকার, একরোখা চিন্তা অনুকরণে আমরা যখন এগ্রিকালচারকে  এগ্রিবিজনেসের দিকে নিয়ে যাচ্ছি, তখন তারা আজও আমাদের সে আবহমান ‘গ্রামীণ’ সংস্কৃতি আর এগ্রিকালচারকে টিকিয়ে রেখেছে।

 

রেনেসাঁ যুগে অসংখ্য পশ্চিমা তাত্ত্বিকদের অনেকের লেখায় দেখেছি, আমাদের ভারতীয় মুসলিমদের লেখার উদ্ধৃতি দিতে। আমাদের মনে রাখা দরকার ১৮৩৫সালের আগে এখানকার মুসলিমদের ভাষা ছিল ফার্সি আর উর্দু। মুসলিমরা ঐ সময়ে সাহিত্য-কলা-সমাজ-বিজ্ঞান-আইন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অসংখ্য বই লিখেছে আরবি-ফার্সি-উর্দু ভাষায়। যেগুলো আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সম্পদ, আমাদের গর্ব। এগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, যা সংরক্ষন করা জরুরী। রাজা রামমোহনের পরে এগুলো নিয়ে খুব কম লেখালেখি হয়েছে। আমাদের জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক একসময় আফসোস করেছিলেন আমাদের মাঝে ‘আরবি-ফার্সি-উর্দু’ ভাষা চর্চা হারিয়ে যাচ্ছে বলে। মাদ্রাসা শিক্ষিতরা এখনো এগুলো ধারণ করে-লালন করে, কিন্তু প্রকাশ খুব কম-ই করে।

সম্প্রতি তাদের সরকারি স্বীকৃতির কথা উঠেছে, কিন্তু আমরা আবার আগের ভুল করছি। আমাদের মত করে তাদের সমস্যা ব্যাখ্যা করছি, তাদের উপর আমাদের চিন্তা চাপিয়ে দিচ্ছি। তাদের সুযোগ-সমস্যা তাদের মত বুঝতে চাই নি। তাদের সমস্যা তাদের মুখে শুনতে হবে, তাদের মত করে তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে। আমাদের মত করে ‘মেইনস্ট্রিম’ না ভেবে তারা কিভাবে তাদের ‘মেইনস্ট্রিম’ ভাবছে সেটা বিবেচনা করতে হবে। তবেই প্রান্তিকতার বয়ান একটা সুনির্দিষ্ট যথার্থ জায়গায় নিজেকে সমাসীন করতে পারবে।

যে বন্ধু কষ্টে আছে…Maruf Raihan Khan

আমি এখন যে কথা বলব, সে সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা অনেকেরই থেকে থাকবে। আমার ছোট বোনের এক ক্লাসমেট আছে, ও খালার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। পারিবারিক স্ট্যাটাস খুব একটা স্বচ্ছল না বোধহয়। ফলে অন্যান্য উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের বন্ধুদের মায়েরা যতটা যত্ন নিয়ে, আবেগ ও মমতা নিয়ে টিফিন পিরিয়ডের জন্য টিফিন বানিয়ে দেবেন— ওর জন্য নিশ্চয়ই অতটা কখনও বরাদ্দ থাকবে না। অন্য বন্ধুরা টিফিনে যে টাকাটা চকোলেট- চিপস-চটপটি-বার্গারে ব্যয় করবে, তার পক্ষে সেটা সম্ভব হবে না।

কিন্তু ওর শখ-আহ্লাদ তো কখনই কম হবার কথা না, পেটের ক্ষুধাটাও ওর সাথে খুব বেশি কম্প্রোমাইজ করবে না বেশিক্ষণ। ঐ মেয়েটা একসময় না পেরে তার বন্ধুকে যদি ন্যুডলস খেতে দেখে বলে, “কী খাচ্ছ? তোমার ন্যুডলসটা খুব মজা হয়েছে মনেহয় আজকে!” কিংবা পার্ক/ কিটক্যাট খেতে দেখে যদি বলে “জানো, আমার না পার্ক চকোলেট খুব পছন্দের।” বন্ধুরা তখন নিজেদের খাবারটা শেয়ার করে ওর সাথে। আমার বোনের মতো করে হয়তো বলে, আমি সকালে খেয়ে এসেছি, তুমি এটা খাও। হয়তো প্রথমে একটু-আধটু না করবে, কিন্তু আরেকটু সাধলে সে খাবে।
একটা জিনিস খেয়াল করুন— কলেজে পড়ুয়া একটা মেয়ের আত্নাভিমান কিন্তু প্রকট থাকে। আমার বোন এ ঘটনা বলার পর থেকে আমার মাঝে মাঝেই ঐ মেয়েটার কথা মনে হয়, যেমন আজকে মনে হচ্ছে। ও নিশ্চয়ই একবুক কষ্ট নিয়ে ওর বন্ধুদের টিফিন খাওয়া দেখে, এক্সট্রিম পর্যায়ে লজ্জার মাথা খেয়ে বন্ধুদেরকে পরোক্ষভাবে বোঝ ও ক্ষুধার্ত। নিশ্চয়ই ওর আত্নসম্মানে বাঁধে। হয়তো ভাবে, সবাই ওরকম আর শুধু আমিই কেন এরকম!

সমস্যা হচ্ছে, এদেরকে কিন্তু সরাসরি সাহায্যও করা যায় না যে, তুমি এ টাকাটা রাখো। নিজের কাছেই লজ্জা লাগে, আর ওরাও নিশ্চয়ই কষ্ট পায়, ভীষণ লজ্জিত হয়, হীনমন্যতায় ভোগে। কারণ সে একটা ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ে, ভালো রেজাল্ট করে। আমার ব্যক্তিগত সাজেশান হচ্ছে, এই মানুষগুলোকে এমনভাবে ট্রিট করা যাতে ওরা বুঝতে না পারে ওদেরকে স করা হচ্ছে, খুব কাছের বন্ধুর মতো পাশে থাকা। একটু মাথা খাটালে আরও বুদ্ধি বের হওয়া সম্ভব। আর কিছু না পারলেও, ওদেরকে নিয়ে যেন আমরা কখনও হাসি-ঠাট্টা না করি, তুচ্ছ- তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে না দেখি। কথার বিষাক্ত কাঁটায় অন্তর রক্তাক্ত না করে দিই।