পাকিস্তান ও ভারত নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে

ধরা যাক পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে খেলা হচ্ছে ঢাকা স্টেডিয়ামে। খেলা দেখতে এসেছে হিনা রাব্বানী – বসে আছেন ভিআইপি বক্সে। দর্শকদের উত্তেজিত অংশের একজন গালের মধ্যে লিখে নিলেন: “ভইরা দিমু হিনা”। সেটা দেখানো হোলো টিভিতে। পরের দিন অনলাইনে এর প্রতিক্রিয়া কী হবে? একটু সততার সাথে কল্পনা করুন।

– চরম মামা চরম
– সিরাম হইছে বস
– আমারটাও সাথে নিয়েন কইলাম
– আস্তে দিয়েন বস, পিছনে আছি

যিনি ভরে দিতে চান তাকে বীরের সম্ভাষণ দেয়া হবে ২৪ ঘন্টার মধ্যে (এটাও এক অদ্ভুত প্রবণতা আমাদের, ভার্চুয়াল আর রিয়ালের মাঝে কোনো পর্দা দেখি না আর)। এবার একটু অন্যভাবে কল্পনা করুন। যে মেয়েটি “ম্যারি মি আফ্রিদি” লিখেছিলো সে কি “ভইরা দিমু হিনা”রই নারী সংস্করণ নয়? দুটোর মাঝে কি খুব পার্থক্য আছে? দুজনই বিপরীত লিঙ্গের একজন বিখ্যাত পাকিস্তানীকে কামনা করেন। কিন্তু মেয়েটাকে দেখা হয় অবক্ষয়ের নিম্নতম নিদর্শন হিসাবে আর ছেলেটাকে দেখা হবে বীর হিসাবে (তবে একটু ফাজিল টাইপ)।

ম্যারি মি আফ্রিদি নিয়ে ফেসবুকে যে সমালোচনার গণজোয়ার তার অন্তর্নিহিত কারণটি হোলো সেক্সিস্ট। ট্রাইবাল মানুষেরা বিভিন্ন সময়ে অন্য গোত্র দ্বারা নিজের গোত্রের মেয়েদের উঠিয়ে নিয়ে যাওয়াকে জীনপুলের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখেছে (ম্যারি মি আফ্রিদি’র প্রতিক্রিয়া) কিন্তু একই সাথে অন্য গোত্রের মেয়েকে উঠিয়ে আনাকে দেখেছে শিরোপা হিসেবে (ভইরা দিমু হিনা’র প্রতিক্রিয়া)।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসে আমি প্রথম অনুধাবন করি যে পাকিস্তান ও ভারত দুটো দেশ সম্বন্ধে আমাদের যে বক্তব্য তার প্রায় আগাগোড়াই ভণ্ডামিতে ভরা এবং যেহেতু সমাজে এ প্রসঙ্গে একটা হাশ হাশ প্রচলিত (কেননা সবাই এ প্রসঙ্গে কতোটা পলিটিকালি কারেক্ট বক্তব্য দেয়া যায় তারই প্র্যাকটিস করেন, সত্যের কিংবা নিজের মনের ধার ধারেন না), সেহেতু ক্রমাগতই দুটো দেশ সম্বন্ধে আমাদের ধারণা অসুস্থ থেকে অসুস্থতর হচ্ছে। আমি এ নিয়ে কিছু বলতে চাই।

Image

আমার প্রথম অবজারভেশন হোলো সংজ্ঞার সমস্যা। পাকিস্তান বলতে দেশপ্রেমিক পাকিস্তানের সরকার বোঝায় না ভূগোল বোঝায়, না রাজনীতি বোঝায়, না সংস্কৃতি বোঝায়, না কি ঐ দেশের প্রতিটি ব্যক্তিকে বোঝায় এ সম্বন্ধে তার পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। উদাহরণ দেয়া যাক। মশিউল আলমের একটা গল্প বেরিয়েছিলো কয়েক বছর আগে “পাকিস্তান” নামে। এই গল্পে লেখক নিজেই বলছেন যে, “আই হেইট পাকিস্তান! আই হেইট অল অফ ইউ, পাকিস্তানিস!” এবং বলেছিলেন এক পাকিস্তানীকেই। ভালো কথা। আপনি সকল পাকিস্তানীকে ঘৃণা করেন কায়মনোবাক্যে – এর মধ্যে কোনো যদি কিন্তু নাই।

কিছুদিন পরের কথাও লেখক আমাদের জানান এই গল্পে। ইমতিয়াজ নামের যে তরুণকে এই কথাটা লেখক শুনিয়েছিলেন তার বোনকে দেখেই তিনি তার প্রেমে পড়ে গেলেন। তখন কিন্তু তিনি ভুলে গেলেন যে ইমতিয়াজের অনিন্দ্য সুন্দরী বোন ফারহানা কিন্তু বাঙালি নন, পাকিস্তানীই। সম্ভবত মশিউল আলমের মনে পাকিস্তান নামের যে ধারণা, তার মধ্যে মেয়েরা অনুপস্থিত – অন্তত ফারহানাকে যে পাকিস্তানের ঘেরাটোপে আটকে রাখা যাবে না সেটা নিশ্চিত। পাকিস্তানী মাত্রই ঘৃণিত, শুধু সুন্দরী মেয়েরা দুধভাত।

মনে করবেন না এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। যারা বাংলাদেশে থাকেন তারা যেহেতু ব্যক্তিগত জীবনে ভারতীয় ও পাকিস্তানীদের খুব একটা দেখেন না সেহেতু তাদের পক্ষে ধারণা করা কঠিন যে দেশপ্রেমিক জনগণ যখন আসলেই ভারতীয় ও পাকিস্তানীদের সামনাসামনি হন তখন কী করেন। আই হেইট অল অফ ইউ, পাকিস্তানিস, ইন্ডিয়ানস মুখে বলা খুব সহজ। যারা ঘৃণা-বিদ্যায় এতো পারদর্শী তারা পাকিস্তানিস কিংবা ইন্ডিয়ানস দের ভিড়ে আসলে কী করেন সেটা না দেখলে তাদের কনভিকশানের দৌড় কতোদূর এটা বোঝা মুশকিল।

সৌভাগ্যক্রমে আমি এই তামাশা অনেক দেখেছি – অনেক। সাম্প্রতিকতম একটা উদাহরণ দেয়া যাক। বাংলাদেশের এক চরম পাকিস্তান বিদ্বেষী ও আওয়ামী মনোভাব সম্পন্ন পরিবারের মেয়ের কথা। আমাদের এক বন্ধুর বন্ধু। অস্ট্রেলিয়াতে থাকেন বহু বছর – বাংলাদেশে খুব ভালো পরিবার বলে কী একটা জিনিস আছে না – ওটা মেয়েটির আছে। কিছুদিন আগে হুট করে দেখি যে এই মেয়ের নতুন বয়ফ্রেন্ড পাকিস্তানী – আবার তার সাথে কথাও বলে উর্দুতে (যদিও এই মেয়ে খুব ভালো ইংরেজি জানে)। মেয়েটার ভাষ্যে এই ছেলেটা শুধুই পাঠান – এন্ড য়ু নো পাঠানস আর নট রিয়ালি লাইক পাঞ্জাবিজ।

দেখুন আমার দৃষ্টিকোণে খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয় – আপনি হিন্দু, পাকিস্তানি, আরব যে কারো প্রেমে পড়তেই পারেন (তবে এরশাদ এরশাদ খেলায় একটু অরুচি আছে) – কিন্তু আপনি তো আগে একটা শর্ত নিজেই বসিয়েছিলেন যে আই হেইট অল অফ ইউ, পাকিস্তানিস – এটা তো আমার কথা না। তাহলে কেন একটা পাকিস্তানীর সাথেও বা প্রেম।

এর বিপরীত নক্সাটা এতোই সহজলভ্য যে আলাদা করে কিছুই বলার নেই। দেশটারে ইন্ডিয়া ফাকায় দিচ্ছে, মালুগুলারে সাইজ করা দরকার, পোন্দে মাতরম – বলেন জাতীয়তাবাদী। যে ঘরে টিভি সেখানেই রয়েছে আয়াতুল কুরসীর ক্যালিগ্রাফি কিন্তু মুন্নী বদনাম হলে তিনি আর নিজেকে স্থির রাখতে পারেন না। কোনো এক অদ্ভুত কারণে তার নীচের তলার অভিষেকের বাবা-মা যার চোদ্দ গুষ্ঠীর কায়কায়বার এই দেশে, – তারা ইন্ডিয়াকে রেপ্রেজেন্ট করে কিন্তু মুন্নী ইন্ডিয়াকে রেপ্রেজেন্ট করে না কারণ মুন্নী তাকে আরাম দেয়। আরামদায়ীর কোনো ধর্ম ও জাতীয়তা হতে নেই।

বাংলাদেশে অবস্থা দাড়িয়েছে এমন যে পাকিস্তান ও ভারত সম্বন্ধে আপনার আসল মনোভাব কি সেটা ভুলেও উচ্চারণ করা যাবে না কারণ যদি ব্যালান্সিং এক্টে আপনি সামান্য ভুল করেন তাহলে আপনি হয় হবেন ছাগু কিংবা রাজাকার না হয় হবেন দালাল কিংবা চেতনাবাজ। ক্রিকেটের সময় আসলে ঘৃণার পারা আরেকটু উপরে উঠে – তখন আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি পাকিস্তান ও ইন্ডিয়া উভয়কেই পাক্কা সমান ভাবে ঘৃণা করেন এবং শুধু বাংলাদেশের সাথেই আপনার ঘনপ্রেম।

এই বিচিত্র প্রবণতা কেন গড়ে ওঠে বাংলাদেশে – অনেক ভেবেছি এই নিয়ে এবং পেয়েছি অনেক কারণ; কিন্তু সর্বপ্রথম কারণ হোলো এইটি: আমি নিশ্চিত হয়ে বলছি – মনের কোনো এক কোণে আমরা নিজেদের পাকিস্তানী কিংবা ভারতীয়দের সমকক্ষ বলে মনে করতে পারি না। মনে করি যে আমি ওদের চেয়ে ইনফিরিওর।

এই ইনফিরিওরিটির কারণে আপনার একটা ক্রোধ সৃষ্টি হয় আর এই ক্রোধের পলিটিকালি কারেক্ট এক্সপ্রেশন হোলো “আই হেইট অল অফ ইউ, পাকিস্তানিস” কিংবা “পোন্দে মাতরম” – নিজ নিজ পরিমণ্ডলে। (দয়া করে ভাববেন না যে ইন্ডিয়ানদের চেয়ে নিজেকে ইনফিরিওর মনে করে সে পাকিস্তানিদের তুলনায় নিজেকে খুব সুপিরিওর মনে করবে। এই যে না জেনে, না বুঝে শুধুমাত্র জাতীয়তা কিংবা চেহারা-সুরত দেখে কারো থেকে নিজেকে ইনফিরিওর কিংবা সুপিরিওর মনে করা – এটা একটা মূর্খতাজনিত রোগ। যে একবার ইন্ডিয়ানদের তুলনায় নিজেকে ইনফিরিওরয়র মনে করেছে সে খুব সম্ভবত শাদাদের চাইতেও নিজেকে ছোটো মনে করে)।

যে মানুষ নির্বিচারে ঘৃণা করতে সক্ষম, অর্থাৎ ধর্ম, বর্ণ, জাতীয়তা, ইতিহাস কোনো কিছুর ভিত্তিতে আরেকটা মানুষকে না জেনেই তাকে ঘৃণা করে সে সুনিশ্চিতভাবে অক্ষম মানুষ। ঘৃণা একটি খুবই মূল্যবান অনুভূতি। কাজের মানুষ এটা অকাতরে বিলোয় না – সেটা করে গর্দভরা।

আপনি যদি কোনো একটা জাতিকে যে কারণেই হোক ঘৃণা করবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন তাহলে আপনি নিজেকে একটা শর্তের মধ্যে আবিষ্কার করেন। শর্তটা কী বোঝানো মুশকিল – চেষ্টা করি। ইমতিয়াজ পাকিস্তানি। আপনার মনের মধ্যে ইমতিয়াজের যে অস্তিত্ব সেটা “অস্তিত্ব” হিসেবে কেবল তখনই কোয়ালিফাই করবে যখন আপনি তাকে ঘৃণা করবেন। ফলে ইমতিয়াজের অস্তিত্বকে একটা ঘৃণা-নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে কল্পনা করাও মুশকিল। এর পরেই আপনি নিজেকে বোঝাতে সক্ষম হবেন যে এই যে আপনি ইমতিয়াজকে ঘৃণা করছেন – এর মাধ্যমে যে একটা বিষয়কে “পবিত্র” মানেন (এই ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা) সেই পবিত্রতাকে গৌরবমণ্ডিত করছেন। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পবিত্র ও শুদ্ধতর হয়ে উঠবে আপনার কাজ দিয়ে না, মনের ঘৃণা দিয়ে।

এই পর্যায়টি খুব বিপজ্জনক একটা পর্যায়। কেননা এই সময়ে দেশপ্রেমিক নিজের প্রতি তীব্র একটা ভালোবাসা বোধ করে। এই ভালোবাসা হোলো মহত্তর একটা পবিত্রতার মাঝে নিজেকে শামিল করতে পারার তুষ্টি-জনিত গর্ববোধ। অক্ষম আবিষ্কার করে যে সে আর কোনোভাবেই তুচ্ছ নেই। বেভারলি হিলসে Chopard এর দোকানের সামনে দাড়ালেই যেমন মনে হয় এই বুঝি প্রীটি ওমেনের জুলিয়া রবার্টস বেরিয়ে আসবে এবং সব কিছু সিনেমা হয়ে যাবে।

বিপজ্জনক বলছি এজন্যে যে একজন বামন মানুষ এই ঘৃণার মৌতাত একবার খুঁজে পেলে তার পক্ষে এমন দ্বিতীয় কোনো মৌতাত খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন যা ঘৃণার মৌতাতকে টেক্কা দেবে। সে বারে বারেই ঘৃণার মাঝেই তার চৈতন্যের সারবত্তা খুঁজে পাবে। আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি – খুঁজে দেখুন – যে পাকিস্তানী কিংবা ভারতীয়দের ঘৃণা করে ইতিহাসের জন্য পাইকারী হারে, সে আপনার নিজের দেশেও বিরাট একটা জনগোষ্ঠীকে ঘৃণা করছে কোনো না কোনো কারণে। মনে রাখবেন, এই পর্যায়ে “ঘৃণা” আর কোনো স্টেট অফ মাইন্ড না, একটা লাইফ স্টাইল – তাকে ঘৃণা করতেই হয়। একটা অতি সাধারণ কথা কোনোদিনও তাকে বোঝানো সম্ভব হবে না যে এই যে ভাই আপনি একটা মানুষকে পাকিস্তানী বলেই ঘৃণা করা শুরু করে দিলেন এর মধ্যে দিয়ে কি তাকে অতিরিক্ত পাত্তা দিচ্ছেন না? পাকিস্তানীরা তো মানুষের জাত না বলে আপনার ধারণা, তাহলে তাকে আপনি এতো পাত্তা দিচ্ছেন কেন?

হুবুহু একই জিনিস আমি দেখি শাহবাগীরা যাদের ছাগু বলে প্রমত্ত হয় – তাদের মাঝেও। ইন্ডিয়ার প্রতি ঘৃণা বলতে তারা যে অনেক সময়েই হিন্দুদের ঘৃণা করা বোঝান – এই অনুভূতি টুকুও লোপ পায়। তারা ভুলে যান ছোটবেলায় যে কিছু বড় মানুষ আমাদের যে শিখিয়েছিলেন লাল পিপড়া হোলো হিন্দু পিপড়া – সেটা মুসলমানের সাম্প্রদায়িকতা ছিলো। গম্ভীর মুখে বলেন, “ভাই এর দরকার আছে”।

এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?

আমার জানা নেই কিন্তু আমি কী করি তা বলতে পারি। আপনিও বলুন, আমি শিখতে চাই।

বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে আমি পাকিস্তানী ও ভারতীয় – উভয় দেশের মানুষকেই মোটের ওপর ভালোবাসি – মানে অন্তত তাদের ঘৃণা করি না। আজকের প্রজন্মের বহু পাকিস্তানী যাদের ৭১ এর জন্য লজ্জিত হতে দেখেছি – তাদের আমি আগের প্রজন্মের পাপের উত্তরসুরী মনে করি না। ঠিক তেমনি তিস্তার পানির ভাগ পাচ্ছি না বা ফালানিকে মেরে ফেলা হয়েছে দেখে পুরা ভারতকে ঘৃণা করতে হবে এই চিন্তা ভাবনার মানুষও আমি নই। পাকিপ্রেম, মালুপ্রেম এবং বাঙ্গুপ্রেম – তিনটাই আমার মধ্যে ক্রিয়াশীল। ফুল হাতে না আসলেও আমি কাওকে অবিশ্বাস করি না এবং ল্যাটকামিও করি না। দেখুন; খুব কম মানুষের সাথে বিশ্বাস করতে হয় – এমন পরিস্থিতিতে আমি নিজেকে ফেলি – বাঙ্গুপ্রেম, মালুপ্রেম এবং পাকিপ্রেম বজায় রাখা আমার জন্য খুব মুশকিল কিছু না।

কেন?

কারণ আমার চোখে পুরা ভারতবর্ষ হোলো কংগ্রেগেশান অফ আ ভেরী লার্জ ক্রাউড অফ ইডিয়েটস। সত্যিকারভাবে অর্থে এমন কোনো পার্থক্য আমার চোখে পড়ে না যা থেকে মনে হবে যে চিটায়ঙ্গারা গুজরাটি কিংবা পাঠানদের চেয়ে অনেক অনেক আলাদা। একই আমাদের বেদনা, একই আমাদের খাসলত। একই রকম আমাদের নীচতা এবং একই রকম আমাদের গন্তব্য। শুধু কেউ বলেন আল্লাহ ভরসা, কেউ বলেন দুগ্গা দুগ্গা আর কেউ বা বলেন জয় বাংলা। অনেকেই দুই বঙ্গের মাঝেও বিশাল তফাৎ দেখতে পান, আমি পাই না। আমার চোখে ভারতীয় সরকার আর ভারতের মানুষ দুটো এক জিনিস না। কিন্তু ভারতের সাধারণ মানুষ আর আমাদের সাধারণ মানুষের মাঝে খুব বেশি পার্থক্য আমি দেখতে পাই না। ঠিক তেমনি ভাবে ৭১ এ যেমন, আজো তেমন পাকিস্তানের সরকার বাংলাদেশের বন্ধু হতে পারে নি যেটা পেরেছে সেখানকার সাধারণ মানুষ।

বাকী থাকে রাষ্ট্রের কথা। দেখুন ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র একটা আজগুবী ধারণা – সে হিসাবে পাকিস্তান একটা সাম্প্রদায়িক ধারণা – সন্দেহ নাই। কিন্তু রাষ্ট্র মাত্রই সাম্প্রদায়িক ধারণা। রাষ্ট্রকে সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠতেই হবে – এটাই রাষ্ট্রের গন্তব্য। state is an imperfect solution for fighting idiots wo don’t have the necessary means or will to anhilate the others entirely. এতো বিপুল সংখ্যক গর্দভকে জায়গা করে দিতে হলে একটা পলিটিকাল সিস্টেমকে সাম্প্রদায়িক হতেই হবে। এই কথাটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য যেমন সত্য তেমনি সত্য বাংলাদেশের জন্যেও। এবং এই সাম্প্রদায়িকতাকে ধারণ না করলে আপনি কোনোভাবেই পলিটিকাল সিস্টেমের অংশীদার হতে পারবেন না।

কাওকে ঘৃণা না করে সবাইকে ভালবাসার ওয়াজ কি একটু বেশীই ক্যাথলিকসুলভ সুকোমল হয়ে গেলো?

হয় তো, কিন্তু এটাই আমি – আমি উপেক্ষায় বিশ্বাসী, ঘৃণায় না। সততার সাথে এতোটুকু বলতে পারি: কোনো পাকিস্তানী কিংবা ইন্ডিয়ান – এক মুহুর্তের জন্যেও আমার মনে হয় না – যে আমি পারবো না – এবসলিউটলি নেভার। এর একটাই কারণ: আমি কাওকে ঘৃণার মালা দিয়ে সম্ভ্রমের উচু চেয়ারে বসাই না। যে মানুষ একবার ঘৃণার ব্যবসা শুরু করবে সে কোনোদিনও সততার সাথে বলতে পারবে না – আই ডোন্ট গিভ আ ফাক। অনেকেই কথাটা বলেন রেগে গিয়ে – আমি বলি মন থেকে।

পুনশ্চ: অন্ধ দেশপ্রেম এবং জাতি বিদ্বেষ যে খুব বেশীদূর এগোয় না – এর একটা কারণ আছে। গর্দভদের নিজেদের মধ্যেকার যে প্রীতি সেটা ঘন হতে পারে খুব – কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হয় না কখনোই।

গরুদের জন্য সহীহ ফটোশপ টিউটোরিয়াল

13

আপনার অপদার্থ দানা নেতাটি মদ্যপান করে গাড়ি চালিয়ে আমেরিকাতে ধরা পড়ে জেল খেটেছে? এখন অন্য দলের জনপ্রিয় নেতাকে সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনতে চান? তাহলে নীচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

১/ প্রথমে তুরষ্কের একটি নাইটক্লাবের ছবি জোগাড় করুন;

TR-5

২/ এবার এবার ফটোশপ ব্যবহার করে ছবিটির হরাইজন্টাল মিরর ইমেজ তৈরী করুন;

TR-6

৩/ এরপর যে নেতার চরিত্র হনন করে আপনার মদারু নেতার সমপর্যায়ে আনতে চান সেই নেতার তৃণমূল সমাবেশ থেকে একটি ছবি যোগাড় করুন।

TZ

৪/ এখন নাইট ক্লাবের ছবিটিকে সুবিধামত ক্রপ করুন

TR-2

৫/ নাইট ক্লাবের ছবিতে থাকা কোন দাঁড়ি ওয়ালা লোককে সনাক্ত করুন। এটা খুবই জরুরী স্টেপ, কারণ এর উপর নির্ভর করছে একই ঢিলে ইসলাম ধর্ম এবং জনপ্রিয় নেতাকে হেয় করা। প্রয়োজনে নির্মলেন্দু গুণ বা রবীন্দ্রনাথের ছবি ব্যবহার করুন কিন্তু দাড়ী থাকতে হবে টুপিসহ যোগাড় করতে পারলে তো সোনায় সোহাগা।

৬/ এইবার দাড়িওয়ালা লোকটির মুখ কেটে ফটোশপের মাধ্যমে ঐ জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতার মুখ বসান।

TR-4

৭/ এবার এডিট করা ছবিটিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন।

TR-7

৮/ আপনার ক্রোমোজমে কুকুরের জিন থাকলে শিরোনাম দিন, “সহীহ হেফাজতি, জামায়াতি কায়দায় জীবন উপভোগ করছেন …..” আর যদি ভারতীয় গরুর জিন থাকে তাহলে শিরোনাম দিন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশঃ লন্ডনের নাইট ক্লাবে …..

গরু হাম্বা হাম্বা করে, ফেসবুকের আনন্দ বাড়ে!

জিয়া কবরে ফুল চান নাকি অন্য কিছু?

Zia কারাগার থেকে বের হয়ে বিএনপি নেতারা প্রথমে ছুটে যান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে। ইদানীংকালে টেলিভিশনে বিএনপি নেতাদের জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিতে বেশি বেশি দেখা যাচ্ছে। এর অবশ্য একটা ব্যাখ্যা হলো- আওয়ামী লীগ দ্বারা বিএনপি নেতাদের গ্রেফতারের হার নজিরবিহীনভাবে বেড়ে যাওয়ার সুবাদে জামিনে মুক্তির সংখ্যাও বেড়েছে। আর সেকারণে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। ঘটনার সংখ্যা বাড়লেও টেলিভিশনের ক্যামেরায় দৃশ্যটি কমবেশি একই রকম দেখা যায়। যিনি বা যারা মুক্তি পেয়েছেন তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা দলবেধে মরহুম জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতে যান। ফুল দেন। তারপর ক্যামেরার সামনে কথা বলেন। সমসাময়িক কোন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন।

প্রশ্ন হলো ৭৫ উত্তরকালে রাজনীতি যখন টালমাটাল, দেশের সেই ক্রান্তিলগ্নে হালধারণকারী একদার রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান কবর থেকে কিভাবে জীবিত নেতাদের সহায়তা করবেন? কারণ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে তারা সঠিকভাবে ধারণ করেন কিনা সেটা যথেষ্ট অস্পষ্ট। তাদের চাল চলন, কথা বার্তা, নেতৃত্ব কোন কিছুতেই জিয়াউর রহমানের কাজের ধারাবাহিকতা তেমনভাবে সুস্পষ্ট নয়। দলীয়ভাবে বিএনপি আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করা ছাড়া এখন নতুন কিছু উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে।

জিয়াউর রহমানের যুগান্তকরী অসমাপ্ত পদক্ষেপ খাল কাটা কর্মসূচি কিংবা উন্নয়ন চিন্তার ধারাবাহিকতা জিয়া উত্তর বিএনপিতে তেমনভাবে দেখা যায় না। বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব জিয়ার রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলো নিয়ে লেখাপড়াটা পর্যন্ত করেন না বলেই প্রতীয়মান হয়। জিয়াকে নিয়ে বরং লেখাপড়াটা বেশি করে আওয়ামী লীগ। যেকারণে বিএনপিকে কিভাবে মোকাবেলা করা হবে সেটা তারা প্রতিনিয়ত গবেষণা করে ঠিক করে নিতে পারছে। এছাড়াও অন্তত আওয়ামী লীগের একজন জাদরেল নেতা জিয়ার দূরদর্শী খাল কাটা কর্মসূচি নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করেছে বলে শোনা যায়। নিন্দুকেরা অবশ্য বলেন যে, সেটা জিয়াউর রহমানকে ভালোবেসে নয় বরং নিজের আখের গোছাতেই সে জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচি বেছে নিয়েছিল।

উল্টোদিকে, আজকে নদী তীরবর্তী শহরগুলোতে বসবাসকারী আওয়ামী লীগের নেতারা যেভাবে নদী ভরাট করে দখল করছে সেটা নিয়ে বিএনপির কোন গবেষণাধর্মী রাজনৈতিক পদক্ষেপ দেখা যায় না। দেশের নদীকে সচল করতে এবং মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করতে জিয়াউর রহমান যে খালকাটা কর্মসূচি চালু করেছিলেন তার ধারাবাহিকতায় বিএনপি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং পরবর্তীকালে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল। তারা সেই সুযোগ কাজে লাগায়নি।

নদী বাংলাদেশের প্রাণ। বিশ্বের কোন দেশে নদীকে মরতে দেয়া হয় না। ইংল্যান্ডে এখনো শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহমান খালগুলোকে সচল করার জন্য কাজ চলে। আর আমাদের ঢাকা মহানগরীর খালগুলোকে দখল আর ভরাট করে আমরা একটি নোংরা আবর্জনাময় শহর তৈরি করছি। যারা জিয়ার কবরে ফুল দিতে যান তারা এর কি জবাব দেবেন? ক্ষমতায় তো তারাও ছিলেন। ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে না পারা এবং বর্ষার পানি ধরে রাখার জন্য তারা নদ-নদী খাল বিলকে কেন উপযুক্ত করে গড়ে তোলেননি সেই জবাব কি দেবেন? ফ্ল্যাশ ফ্ল্যাড মোকাবেলায় খালগুলো হতে পারত একটি বড় সহায়ক শক্তি। দেশের মানুষের চলাচল এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নদীপথ যে ভূমিকা নিতে পারত সে ব্যাপারে জিয়ার কবরে ফুল দেয়া মানুষগুলো কি কিছু করেছেন, যেটা জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন?

বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান কখনো শেখ মুজিবকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অস্বীকার করেননি। শেখ মুজিবও জিয়াকে পছন্দ করতেন। সেক্টর কমান্ডার জলিলকে বীর উত্তম খেতাব থেকে বঞ্চিত করলেও জিয়াকে করেননি। আর জিয়া শেখ মুজিবের পক্ষে সবসময়ই লড়াই করেছেন। সেটা ১৯৭১ সালে। এমনকি ১৯৭৬ সালেও। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্বৃত্তি দিয়েই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি শেখ মুজিবুরের ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের ধারাবাহিকতায় দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছিলেন। বলা যায় অকাল মৃত্যুর শিকার শেখ মুজিবুরে যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন জিয়া। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত রাজনীতিকদের সীমাহীন দুর্নীতি ও ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় শেখ মুজিব রাজনীতিকদের ব্যাপারে খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি তৎকালীন নেতাদের চোর বলতেন। শেখ মুজিব রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিতে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়ায় খুবই রুষ্ট ছিলেন, সেটা তার সেসময়কার বক্তৃতাগুলো শুনলেই জানা যায়। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতার দায়িত্ব নেয়ার পর তার সততা ও নেতৃত্ব দিয়ে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গঠনে ব্রতী হওয়ার পথে সকলকে তারই মতো সৎ ও নিষ্ঠাবান হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উদাহরণ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তিনি রাজনীতিতে সেই ধারা প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন যেখানে নেতা শুধুমাত্র অন্যকে সৎ হতে বলবে না বরং নিজেও সকল সময় সততার চর্চা করবে। তিনি আশা করেছিলেন শেখ মুজিব যাদের ‍উপর রুষ্ট ছিলেন সেইসব দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ সোজা পথে আসবে। যেকারণে তিনি শেখ মুজিবের ডাকে সাড়া না দেয়া দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর দি পলিটিশিয়ানস’; স্বাধীনতার পরপরই সীমাহীন দুর্নীতি চর্চাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়া রাজনীতিকদের শুদ্ধ পথে আনার আগেই তাকে চলে যেতে হয়েছে।

ব্যক্তিগত সততা ও নিষ্ঠা এবং দেশের প্রতি চূড়ান্ত আনুগত্য দেখাতে পারলেও দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের দুর্নীতিমুক্ত করতে পারেননি। বরং তিনি তার পূর্বসূরি নেতা শেখ মুজিবের মতোই আততায়ীদের হাতে নিহত হলেন। শেখ মুজিব যে কম্বল চোরদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিলেন সেই কম্বল চোরদের জন্য রাজনীতিকে ডিফিকাল্ট করার আগেই এবং সর্বোপরি একদল দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ তৈরির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারা তৈরির আগেই তাকে মেরে দেয় সেই সব দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকরা। তার গড়া বিএনপিতে সেই নেতৃত্ব আর পাওয়া যায়নি যিনি ও যারা তাদের সর্বোচ্চ দেশপ্রেম দিয়ে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের বাধ্য করবেন সৎ ও সুন্দরের পথে আসার জন্য।

সেকারণেই প্রশ্ন হলো- কবরবাসী জিয়া কি ফুল চান নাকি অন্য কিছু? শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কবরে ফুল দেয়াটা একটা গৌণ কাজমাত্র। ফুল পেয়ে মৃত মানুষ খুশি হন কিনা আজতক জানা যায়নি। কখনো জানা যাবেও না। তবে কমনসেন্স থেকে বোঝা যায় যে, কবরে ফুলের চেয়ে মৃত আত্মা বেশি তৃপ্তি পেতে পারেন যদি দেখেন যে, তার আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ফাইনম্যানের চিঠি

ব্রিলিয়ান্ট ও ফ্ল্যাম্বয়্যান্ট ফিজিসিস্ট এবং নোবেল লরিয়েট রিচার্ড ফাইনম্যানের (Richard Feynman) সাথে ফেলো ফিজিসিস্ট ও নোবেল লরিয়েট মারী গেল-ম্যানের (Murray Gell-Mann) খোঁটাখুঁটি লেগেই থাকতো। দুজনেই সুপার স্মার্ট, একই সাথে সুপার ইগোটিস্ট। ফাইনম্যানের গাড়ির লাইসেন্স প্লেটে লেখা ছিল ‘কোয়ান্টাম'(লাইসেন্স প্লেটে সর্বোচ্চ ছয়টি অক্ষর আঁটতো, অগত্যা QANTUM), তো গেল-ম্যানের লাইসেন্স প্লেটে ‘কোয়ার্কস'(QUARKS)। দু’জন যুগ্মভাবে Weak Decay এর একটি মডেল আবিষ্কার করেন, অথচ তাঁদের মুখোমুখি আলাপে প্রথম কথার পর দ্বিতীয় কথাই হতো ‘এটা আমাকে শেখাতে এসো না, এ আমার ভাল করেই জানা আছে!’ বড় বিব্রতকর পরিস্থিতি! ফাইনম্যান সম্পর্কে গেল-ম্যান মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি অনেক সময় ও এনার্জি ব্যয় করতেন তাঁর মজার মজার কাণ্ড নিয়ে গল্প ছড়াতে। কথা মিথ্যে নয়। সম্প্রতি ফিজিক্স ওয়ার্ল্ডে সায়েন্টিস্টদের ভোটে শ্রেষ্ঠ (পপুলার) পদার্থবিদদের মধ্যে সপ্তম (গ্যালিলীওর ঠিক পরই) নির্বাচিত জিনিয়াস সায়েন্টিস্ট ফাইনম্যান একইসাথে ছিলেন শিশুসুলভ, আমুদে, হৈচৈপ্রিয়। সে তুলনায় গেল-ম্যান গম্ভীর, নির্জন, চিন্তাশীল। তাঁকে নিয়ে আরেকদিন বলা যাবে।

ফাইনম্যানের Dodge Tradesman Maxivan গাড়িটির গায়ে আঁকা ছিল বিখ্যাত ফাইনম্যান ডায়াগ্রামস। একবার রাস্তায় অপরিচিত একজন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল গাড়িতে ফাইনম্যান ডায়াগ্রামস আঁকা কেন? জবাবে তিনি খুব মজা করে বলেছিলেন,’কারণ,আমিই রিচার্ড ফাইনম্যান!’ ফাইনম্যানের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ১ ডলারে গাড়িটি বন্ধু ও জীবনীকার রালফ লেইটন (Ralph Leighton) কে দিয়ে দেন। ফাইনম্যানের ভাষ্যে লেইটন বেশ কয়েকটি বই লেখেন যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘Surely You’re Joking, Mr. Feynman!’ যাতে ফাইনম্যানের চরিত্রের quirky দিকটি অসংখ্য ঘটনার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে। ফাইনম্যান সম্পর্কে লেইটন মন্তব্য করেছিলেন,

“That one person could have so many wonderfully crazy things happen to him in one life is sometimes hard to believe. That one person could invent so much innocent mischief in one life is surely an inspiration.”

Richard and Arline Feynman

১৯৪৫ এ ২৭ বছর বয়সী ফাইনম্যান যখন লস অ্যালামস (Los Alamos) ল্যাবে Manhattan Project এ অ্যাটম বোমা তৈরির উপর কাজ করছিলেন, তখন তাঁর ২৫ বছর বয়স্ক প্রথম স্ত্রী আরলিন যক্ষ্মা এবং Hodgkin’s lymphoma তে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর বিছানার পাশেই ছিল একটি পুরনো ঘড়ি। আরলিন ফাইনম্যানকে বলেছিলেন ঘড়িটি তাঁদের একসাথে কাটানো আনন্দময় অতীতের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকবে। আরলিন যেদিন মারা যান, নার্স একটুকরো কাগজে মৃত্যুর ক্ষণটি লিখে ফাইনম্যানকে দেন। কাকতালীয় ব্যাপার হোল, ঘড়িটাও ঠিক ঐ একই সময়ে স্থির হয়ে ছিল, যেন আরলিনের প্রাণ যাওয়ার মুহূর্তে অলৌকিকভাবে ঘড়িটিও বন্ধ হয়ে যায়! ফাইনম্যানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তিনি এর মাঝে কোন আলৌকিক যোগসূত্র খুঁজে পেয়ে ছিলেন কিনা। ফাইনম্যান বলেছিলেন, এক মুহূর্তের জন্যেও না। তাঁর অনুসন্ধিৎসু মন তাৎক্ষণিকভাবে লেগে পড়ে এর ব্যাখ্যা কি হতে পারে, তা উদ্ধারে। ভেবেচিন্তে যে ব্যাখ্যায় তিনি স্থির হন তা হোল, পুরনো ঘড়িটি এর কিছু আগেই সম্ভবত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। নার্স মৃত্যুর ক্ষণ রেকর্ড করার সময় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে যে সময়টি দেখেছে, সেটাই লিপিবদ্ধ করেছে। দুয়ে দুয়ে চার!

ঘটনাটা পড়ে খুব বেরসিক, কাঠখোট্টা টাইপ কিছু মনে হলেও এর সাথে হৃদয়ের যোগ নেই কোনও। এককালের হাইস্কুল সুইটহার্ট আরলিনকে হারিয়ে ফাইনম্যান ভেঙ্গে পড়েছিলেন। আরলিনের মৃত্যুর প্রায় দেড় বছর পর ১৯৪৬ এর অক্টোবরে ফাইনম্যান তাঁর উদ্দেশ্যে আবেগপূর্ণ শেষ চিঠিটি লেখেন যাতে তাঁর একাকীত্ব এবং আরলিনের প্রতি ভালবাসা ফুটে ওঠে। তাঁর অনুভূতিগুলোকে কেবল এই এক ছত্রেই প্রকাশ করা চলে, “You, dead, are so much better than anyone else alive.” খামে বন্ধ এ চিঠিটি ১৯৮৮তে ফাইনম্যানের মৃত্যুর পরই প্রথম খোলা হয়।

October 17, 1946

D’Arline,

I adore you, sweetheart.

I know how much you like to hear that — but I don’t only write it because you like it — I write it because it makes me warm all over inside to write it to you.

It is such a terribly long time since I last wrote to you — almost two years but I know you’ll excuse me because you understand how I am, stubborn and realistic; and I thought there was no sense to writing.

But now I know my darling wife that it is right to do what I have delayed in doing, and that I have done so much in the past. I want to tell you I love you. I want to love you. I always will love you.

I find it hard to understand in my mind what it means to love you after you are dead — but I still want to comfort and take care of you — and I want you to love me and care for me. I want to have problems to discuss with you — I want to do little projects with you. I never thought until just now that we can do that. What should we do. We started to learn to make clothes together — or learn Chinese — or getting a movie projector. Can’t I do something now? No. I am alone without you and you were the “idea-woman” and general instigator of all our wild adventures.

When you were sick you worried because you could not give me something that you wanted to and thought I needed. You needn’t have worried. Just as I told you then there was no real need because I loved you in so many ways so much. And now it is clearly even more true — you can give me nothing now yet I love you so that you stand in my way of loving anyone else — but I want you to stand there. You, dead, are so much better than anyone else alive.

I know you will assure me that I am foolish and that you want me to have full happiness and don’t want to be in my way. I’ll bet you are surprised that I don’t even have a girlfriend (except you, sweetheart) after two years. But you can’t help it, darling, nor can I — I don’t understand it, for I have met many girls and very nice ones and I don’t want to remain alone — but in two or three meetings they all seem ashes. You only are left to me. You are real.

My darling wife, I do adore you.

I love my wife. My wife is dead.

Rich.

PS Please excuse my not mailing this — but I don’t know your new address.

আরলিন সর্বতোভাবেই তাঁর অনুপ্রেরণা ও সঙ্গী ছিলেন, যিনি তাঁকে খুব ভালো বুঝতেন। ফাইনম্যানের দ্বিতীয় বিয়ে খুব অল্প দিন টেকে। ডিভোর্সের আবেদনে তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ ছিল যে ফাইনম্যান ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত ক্যালকুলাস ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারেন না। তৃতীয় এবং সর্বশেষ স্ত্রী গুয়েনেথ তাঁর প্রবল জীবনবোধ এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়তাকে ভালবাসতেন। ৬৯ বছর বয়সে ক্যান্সারে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর সাথেই ফাইনম্যান তাঁর বাকি জীবন অতিবাহিত করেন। স্বভাবসুলভ লঘুতায় তাঁর শেষ ধারণকৃত উক্তিটি ছিল “I’d hate to die twice. It’s so boring.”

শরীরী প্রেম

কার্ল ফন কোজেল আমাদের সমস্যায় ফেলেন, গভীর সমস্যায় ফেলেন – দিনরাত নষ্ট করা অস্বস্তি এক।

তার গল্পের প্রথম অংশটুকু শুনতে খারাপ লাগবে না। কান পাতি আসুন।

Image

প্রথম দেখায় মনে হবে যে সত্যজিৎ রায় এই লোককে দেখেই প্রফেসর শঙ্কুর ছবি এঁকেছিলেন। প্রফেসর শঙ্কুর মতো এই জার্মান শাদা দাড়িও বিজ্ঞানী – তবে সেটা কেবল তার নিজের দাবী। ১৯২৬ এ ফ্লোরিডায় চলে আসেন। বলে রাখা ভালো যে ফ্লোরিডা পৌঁছানোর আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন এবং তার আগে সম্ভবত ভারতেও ছিলেন (১৯২২ এ জন্ম হয় নেয়া মেয়ে আয়েশা ট্যানজলারের নামের বানান – Ayesha। আমার ধারণা তিনি ভারতে সত্যিই ছিলেন – নৈলে বানানটা হতো Aisha অথবা A’isha) আমেরিকায় এসে চাকরির জন্য কি না জানি না – অনেক মিথ্যা বলতে শুরু করেন। ৯টা কলেজ ডিগ্রী আছে, আগে সাবমেরিনে কাজ করতেন এই জাতীয় গপ্পোবাজি। নামটাও বদলে ফেলেন – আগে ছিলো কার্ল ট্যানজলার (Carl Tanzler) এখন কার্ল ফন কোজেল (Carl von Cosel)। বন্ধুরা বলে ‘কাউন্ট’ কার্ল ফন কোজেল – এলাহী কারবার। চাকরি শুরু করলেন কী ওয়েস্ট হসপিটালের টিউবারকিলোসিস ওয়ার্ডে এক্স-রে টেকনিশিয়ান হিসেবে।

তখনও যক্ষার চিকিৎসা আবিষ্কার হয় নি। জানা আছে যে দরিদ্রদের মধ্যে যক্ষার প্রকোপটা বেশী। এমনি এক গরীব ঘরের মেয়ে মারিয়া এলেনা মিলাগ্রো ডি হোয়োস। কিউবান-আমেরিকান, বয়স মাত্র ২১, অনিন্দ্য সুন্দরী এবং মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে। প্রেমে পড়ে যান ফন কোজেল। শুরু হোলো উপহারের পালা – আজ এটা তো কাল সেটা। কিন্তু হোয়োস কোনো সাড়া দেয় না; ২১ বছরের মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত জেনে ৫২ বছরের “বুড়ার” প্রেমে পড়ার কথাও না। কিন্তু ফন কোজেল তরফে ভাবনা: রোগটা সাড়ানো গেলে নির্ঘাৎ প্রেমের দাবী তৈরী হবে।

Image

ফন কোজেল নিজে ডাক্তার ছিলেন না কিন্তু ওস্তাদী করতে পিছপা হলেন না। হোয়োসের গরীব পরিবার সম্মতিও দিলো। এলেকট্রিক শক, রেডিয়েশন থেরাপি, বিচিত্র সব কেমিকেল আর গাছগাছড়ার – সবেরই প্রয়োগ হোলো কিন্তু বাঁচানো গেলো না মেয়েটাকে। ১৯৩১ এ মারা গেল হোয়োস।

যারা মনে করছেন যে গল্পের শেষ এখানেই তারা ভুল করলেন। গল্প সবে শুরু।

পশ্চিমে ফিউনেরাল খুব শস্তা জিনিস না। এ ব্যয়ভার বহন করলেন প্রায়-অপরিচিত জন ফন কোজেল। শুধু তাই না, তিনি একটা বিশাল স্মৃতিসৌধও তৈরী করলেন। লালবাগে পরীবিবির স্মৃতিসৌধটা যে রকম। বড় একটা ঘর, মাঝখানে শুধু সার্কোফ্যাগাস। একটু বুঝতে হবে ব্যাপারটা। কফিনে দাফন করলে জমিনের পানির জন্য লাশ পচে যায় তাড়াতাড়ি। কিন্তু বন্ধ পাকা ঘরে সার্কোফ্যাগাসের মধ্যে ময়শ্চার কম। তাই লাশ গলবে দেরীতে।

Image

সময় পাওয়া গেলো।

সারাদিন অফিস করে রাতে কবরে চলে যান ফন কোজেল। হোয়োস পরিবার জানে যে এ লোক হোয়োসের প্রেমে পড়েছিলো সত্যিই। তাই তারা ভদ্রলোকের মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়াটাকে ভালোবাসার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবেই নেয়। যে ঘরে হোয়োসের কবর সে ঘরের দুটো চাবি। অন্যটা হোয়োসের বোনের কাছে। কিন্তু পরিবার জানে না রাতে গিয়ে ফন কোজেল কী করে? ফন কোজেল আসলে সার্কোফ্যাগাসের মধ্যে ফর্মালডিহাইড আর অন্যান্য মশলাপাতি দিয়ে লাশটাকে সংরক্ষণ করতে চাইছিলো কাউকে না জানিয়ে।

Image

 

তখনকার দিনে আরো একটা চল ছিলো। মারা যাওয়ার পরপরই ডেথ মাস্ক বানানো হতো – মানে প্লাস্টার অফ প্যারিস জাতীয় কিছু দিয়ে মুখের একটা ছাচ বানানো হতো এবং এই ছাচ অনুযায়ী আবক্ষ মূর্তি। রাজা রামমোহন রায়েরও ডেথ মাস্ক বানানো হয়েছিলো। ফন কোজেল ডেথ মাস্কও তৈরী করেছিলেন হোয়োসের।

Image

দু বছর ধরে সংসার করতে থাকলেন ওই ছোট্ট স্মৃতিসৌধে। রোজ যান, কথা হয় হোয়োসের সাথে। একটা ফোনও লাগালেন প্রিয়তমার সাথে কথা বলার জন্য – ঠিক কবরের মধ্যে। এভাবে চললো দু বছর।

তারপর হুট করে আর তাকে দেখা যায় না। চাকরিও গেলো চলে হাসপাতাল থেকে – প্রেম খুব ঘন বলে কথা। একদিন দুইদিন করতে করতে দশ বছর চলে গেলো মারা যাওয়ার কিন্তু ফন কোজেলের দেখা নেই। হোয়োসের বোনের কেন যেন সন্দেহ হোলো, বুড়োর তো কবরে আসার কথা। স্মৃতিসৌধে গিয়ে খোঁজ লাগাতে গিয়ে যে ভয়টা সবাই পাচ্ছিলো সেটাই সত্য হোলো। সার্কোফ্যাগাসে হোয়োসের লাশ নেই।

ফন কোজেল বহু আগেই লাশটা ওখান থেকে সরিয়ে ফেলেছে। চাকরি চলে যাওয়ার পর সে দূরে ছোট্ট একটা বাসায় ওঠে এবং সেখানে সে নিয়ে যায় হোয়োসের মৃতদেহ। বড় একটা বিছানার এক পাশে সে আর অন্য পাশে হোয়োস। দশ বছর ধরে লাশ নষ্ট না করার জন্য বিশেষ ধরনের চেম্বার এবং টেকনোলজি প্রয়োজন, বাড়ীতে সে ব্যবস্থা করা অন্তত আশি বছর আগে সম্ভব ছিলো না। তাই লাশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো। প্রচুর পারফিউম, নানান ধরনের তেল ও কেমিকেল ব্যবহার করে ফন কোজেল চেষ্টা করছিলেন প্রিয়তমাকে রক্ষা করার জন্য। মারা যাওয়ার পরপরই তার চুল কেটে রাখা হয়। সেই চুল আর গলে ঝড়ে পড়া চুল দিয়ে তৈরী করা হয় উইগ। আর ডেথ মাস্ক ব্যবহার করে তৈরী হয় মোমের মুখোশ। চোখের কটোরে ঢোকানো হোলো মার্বেলের চোখ। হাড়গুলো জোড়া রাখা হোলো পিয়ানোর তার দিয়ে। নষ্ট হয়ে যাওয়া চামড়ার জায়গায় সিল্ক আর মোমের জগাখিচুড়ি – ভয়াবহ এক পুতুল। পরিয়ে রাখা হয় বিয়ের গাউন।

Image

ফন কোজেলের মতে এটা তার সুখের সংসার। প্রিয়তমাকে সে গান শোনায়, পিরীতের কথা বলে – সংসার হয়ে ওঠে সাবলীল।

এদিকে হোয়োসের বোন মুখোমুখি হয় ফন কোজেলের। জিজ্ঞেস করলো তার বোনের লাশের কথা। ফন কোজেলের গলায় কোনো ভয় কিংবা ক্ষোভ ছিল না। সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা মাথায় তিনি বললেন হোয়োসের সাথে তার সুখের সংসারের কথা। দেখাতেও নিয়ে গেলেন ওপর তলায় এবং বললেন আবার আসতে তার বোনের সংসার দেখার জন্য।

ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। কল্পনা করুন আপনার বোনের দশ বছরের পুরোনো লাশ আরেকজনের বিছানায় এবং আপনি তার সামনে দাড়িয়ে। ভয়ার্ত বোন ছুটে গেলো পুলিসের কাছে। এরপর রাষ্ট্র হোলো পুরো ঘটনা। সেন্সেশেনাল ঘটনা, পুরো দেশের মনোযোগ ফ্লোরিডা কীতে। ময়না তদন্ত হোলো হোয়োসের শরীর, জিজ্ঞেস করা হোলো বুড়োকে। বিচার বসলো। সবাইকে অবাক করে দিয়ে সায়ক্রিয়াটিস্টরা জানালো যে ফন কোজেল মানসিক ভাবে অসুস্থ নন।

১৯৫২ সালে ৮৩ বছর বয়সে ফন কোজেল স্বাভাবিকভাবে মারা যান নিজের ঘরে। মারা যাওয়ার সময় একটা লাইফ সাইজের পুতুলকে তিনি জড়িয়ে ধরে ছিলেন। পুতুলের মুখে ডেথ মাস্ক দিয়ে বানানো মুখোশ। তার ডায়েরীর শেষ কথা ছিলো: Human jealosy has robbed me of the body of my Elena ……. yet divine happiness is flowing through me …… for she has survivied death for ever ….. for ever she is with me.

Image

বলে রাখা ভালো যে সে সময়ে ফন কোজেলের প্রেমের এই ঘটনাকে খুবই রোম্যান্টিক বলে ভাবা হতো। ব্যাটা পাগল কিন্তু ভালোবাসায় কোনো খাদ নেই। কিন্তু এখন আর ফন কোজেলকে সেভাবে দেখা হয় না।

হোয়োসের ময়না তদন্ত যারা করেছিলো তারা ১৯৭০ এর দিকে বোমা ফাটান। সময় এবং সমাজটা ভিন্ন বলে সে সময়ে একটা সত্য তারা চেপে গিয়েছিলেন। ফন কোজেল হোয়োসের যোনিপথে একটা টিউব বসিয়েছিলেন এবং টিউবের শেষ প্রান্তে তারা তুলার মধ্যে সীমেন খুঁজে পেয়েছিলেন।

ফন কোজেল হোয়োসের মৃত দেহের সাথে যৌনসঙ্গম করতেন, তিনি ছিলেন নেক্রফিলিয়ায় আক্রান্ত।

আসলেই তিনি হোয়োসের সাথে সেক্স করতেন কি না সেটা নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই যেহেতু সমসাময়িক কোনো প্রমাণ নেই এই দাবীর। তবে মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে এই বাজে কাজটা করে আসছে এবং ফন কোজেলের বাকী কাজ নেক্রফিলিয়ার ইঙ্গিত দেয় সত্যিই। বিশ্বাস-অবিশ্বাস আপনার ওপর। এই হলো পাঠক; ফন কোজেলের গল্প।

 

 

আপাত দৃষ্টিতে খুবই ডিস্টার্বিং এই ঘটনা – অস্বীকার করবো না – তবে সেটা গল্পের একটা লেয়ার। অন্য অনেক লেয়ারে গল্পটা আমার কাছে খুবই খুবই ফ্যাসিনেটিং।

কেন?

কারণ ফন কোজেল আমাদের এমন সব গুরুতর দার্শনিক প্রশ্নের মুখোমুখি করেন যার কোনো সহজ ব্যাখ্যা নেই। আমার মনোযোগ এই গল্পের খুটিনাটিতে না বরং মানুষ এই ঘটনায় কীভাবে রিএক্ট করেছে যুগ যুগ ধরে – সেখানেই আছে এলেম।

আমাদের প্রথম প্রশ্ন: who owns death?

যারা দর্শন পড়ান তারা মোরালিটি এবং ইথিক্স এর ফারাক নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপ করেন – সে পথ আমাদের না। তবে খুব মোটা দাগে – মানে অশ্লীল রকমের মোটা দাগে মোরালিটিকে বলা যেতে পারে ব্যক্তি পর্যায়ের নৈতিকতা আর ইথিক্স হোলো ব্যক্তি সমাজ পর্যায়ে যে নৈতিকতার প্রয়োগ করে। আপনি ঘুষ খান না – এটা মোরালিটির প্রশ্ন কিন্তু বিশাল একটা প্রতিষ্ঠানের কর্তা হিসেবে আপনি কর্মরত মেয়েদের মা হওয়া জনিত ছুটি দেবেন কি না – সেটা ইথিক্সের প্রশ্ন।

একটা ছোটো কিন্তু আছে। আমরা মানুষ ইথিক্সের প্রশ্ন তখনই তুলি যখন সে প্রসঙ্গে আমাদের ওনারশিপ থাকে। অপ্টামাস প্রাইম অটোবট এলিটার সম্পত্তি মেরে খেলে আমাদের মনে কোনো ইথিক্সের প্রশ্ন জাগে না কারণ সাইবাট্রন গ্রহকে আমরা ওন করি না।

মৃতের সৎকারের সাথে পরিচ্ছন্নতার সম্পর্ক প্রত্যক্ষ মানি কিন্তু মূলত এটা ইথিক্সের প্রশ্ন। তাই যদি হয় তাহলে মৃত্যু অর্থাৎ এক্ষেত্রে মৃতদেহকে ওন করছে কে?

মৃত ব্যক্তিটি, মৃতের পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, প্রকৃতি না আল্লাহ?

যাকেই আপনি ফন কোজেলের গল্প বলবেন সেই প্রথমে বলবে য়াক, ডিজগাস্টিং। মন বলে, ফন কোজেল কাউকে বা কিছু একটা ভায়োলেট করেছে। এই “কেউ”টা কে? বেশীরভাগ মানুষ প্রথমেই বলবেন যে ফন কোজেল হোয়োসের শরীরকে ভায়োলেট করেছেন যেহেতু হোয়োসের শরীর ব্যবহার করা হয়েছে অনুমতি ছাড়া। এই কাজটা আমরা বছরের পর বছর ইজিপশিয়ান ফারাওদের মমি প্রদর্শন করে (ফারাওরা কি অনুমতি দিয়েছিলেন তাদের মৃতদেহ জাদুঘরে রাখার?)। মানুষ কি তাহলে মৃত্যুর পর তার দেহের ওপর অধিকার হারিয়ে ফেলে?

অন্তত ত্রিশ বছর মানুষ জেনেছে যে ফন কোজেল দশ বছর ধরে একটা লাশের সাথে ঘর-বসতি করেছিলো – এতে তারা প্রশ্রয় সূচক বিস্ময়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছে মাত্র। কিন্তু যখন জেনেছে যে তিনি হোয়োসের মৃত শরীরের সাথে যৌনতাও সম্পন্ন করতেন তখন তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েছে – ব্যাটা একটা অসুস্থ দানব। কথা হোলো – কারো তো অজানা ছিলো না যে ফন কোজেলের নিজের মতে সে সংসার করছিলো হোয়োসের সাথে (আদালতেও তিনি এ সাক্ষ্য দিয়েছিলেন)। যে মানুষ একটা লাশকে বিছানার পাশে রেখে দশ বছর ঘর করতে পারে তার জন্য সে লাশের ওপরে ওঠা আর এমন কি?

আমরা মানুষ যে নৈতিকতা নির্ণয়ে কোনো যুক্তি মানি না – সম্ভবত এ ঘটনাও তার একটা প্রমাণ।

আবার

পশ্চিমের মানুষেরা নৈতিকতার প্রশ্নকে “ক্ষতি” দিয়ে মাপে। অর্থাৎ কোনো কিছু যদি কারো কোনো ক্ষতি না করে তাহলে তা অনৈতিক না (আমরা আবার এরকম না। কেউ বাংলাদেশের পতাকার ডিজাইনের আন্ডারওয়ের পরে এবং কাউকে সে যদি তা নাও দেখায় তাহলেও তা অনৈতিক)। কিছুক্ষণের জন্য চিন্তা করুন যে হোয়োসের বোনটি যদি ‘৪২ এ মারা যেত তাহলে হয়তো কেউই কোনদিন জানতো না যে বুড়া মৃত শরীরের সাথে সেক্স করে। সেক্ষেত্রে কিন্তু কারো কোনো “ক্ষতি” হয় না। মনে রাখতে হবে যে ফন কোজেল ঠিক টেড বান্ডী না – মানে তিনি মৃতের সাথে সেক্স করার জন্য জীবিতকে হত্যা করেন নি। একটা মৃত মানুষের সে যদি সেক্স করে এবং কেউ যদি তা জানতে না পারে এবং আরেকটা শর্ত যদি আমরা কল্পনায় যোগ করে নিই যে এই সঙ্গমে কোনো রোগ বাহিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই – তাহলে পিওর রিজনের দিক থেকে এই বন্দোবস্তে কারো কিন্তু কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। সেক্ষত্রেও কি এই বন্দোবস্ত অনৈতিক?

আমার ধারণা যারা হার্ম প্রিন্সিপাল ধরে নৈতিকতার শুমার করেন তাদের অধিকাংশও এ কাজটাকে অনৈতিক বলবেন। মানুষ যে নৈতিকতার প্রশ্নে প্রথমে ইন্সটিংটিভলি সিদ্ধান্তে আসে তারপর সুবিধামতোন যুক্তি দিয়ে তার পেছনের সিদ্ধান্তকে জাস্টিফাই করে এ ঘটনা হয়তো তার আরো একটি প্রমাণ দেবে।

আমার সবশেষ পর্যবেক্ষণ: মানুষ এক অদ্ভূত কারণে জীবিতের শরীরের প্রশ্নে পবিত্রতাকে প্রাসঙ্গিক মনে করে না কিন্তু মৃতের শরীর – যা নিথর এবং পচনশীল – তাকে মনে করে পবিত্র। ফন কোজেল কোনো নিথর মরদেহ না, পবিত্রতা প্রসঙ্গে আমাদের যে অলংঘনীয় উচ্চ ধারণা – সম্ভবত তার ওপরেই সওয়ার হয়েছিলো।

Human Rights, Human Wrongs: The Case of the European Union and Bangladesh

By Surma:

“Do not trust the horse, Trojans. Whatever it is, I fear the Greeks even when they bring gifts.”

Virgil’s Aeneid, Book 2.

Much sifting through tea leaves and midnight oil burning has been going on in Bangladesh and the diaspora over the recent European Union (EU) parliamentary resolution on the recent (s)elections in Bangladesh, from the apocalyptic visions of the disenfranchised, to gloating from supporters of the AL government. I have always argued with my fellow Bangladeshi nationalists, that we should not invest much hope in outside powers, and that real change will only come internally, from the Bangladeshi people themselves. For the European Union as well other international powers, economic and security interests as well as domestic political ideologies will trump the human rights violations and the democracy deficit of the current Awami League regime.

This argument is reinforced by the resolution in the EU Parliament, and requires reference to remember historical experiences and discourses. The Bangladeshi public should be weary of anything which is done in their interests by an outside power, especially the European Union, as the saying goes, ‘beware of Greeks bearing gifts’.

Two Continents Apart

On the week following the 5th of January elections, I was contacted by a distraught human rights researcher. She was just on the phone with a teenage daughter of an English Literature teacher. Her father was involved in Islamic student politics. The family thought themselves immune from the current government crackdown on the political opposition.

A few days after the election, the family’s world was torn asunder when their house was raided by the security forces. The teenage girl along with her father were dragged out of their houses, then for four hours the girl was forced to watch as the security forces took shifts in beating her father to a pulp. The researcher recounted her conversation the girl, who intermittently broke down into tears, could not understand the motivation or the roots of hatred the security forces had for her father, nor the impunity in which they were operating.

Fast forwarding to Strasbourg just a few days later, and the European Union Parliament on Thursday 16th of January debated on the issue of the Bangladesh elections and the violence surrounding those elections. A moot mention of brutality by state security forces, but all the the blame on the violence seemed to be laid squarely at the feet of the opposition, especially its Islamist wing, Jamaat and more bizarrely the qawmi (community) madrassa students of Hefazote Islam who were victims of the 6th of May Massacre.

Many fellow Bangladeshis were surprised by this parallel universe in which the European Union Parliament seemed to reside, of blaming the victims of state brutality, while simultaneously absolving the state of any responsibility of such violence. But for me, as a Bangladeshi European Union citizen, it was the prejudicial reversion to type, that I expected of my fellow continentals.

Encounters at the Heart of the Dark Continent

The historian Mark Mazower, argues in his book Dark Continent: Europe’s 20th Century, that for much of the 20th century liberal democracy was not the European norm but the European exception. He further argued that the current triumph of democracy in Europe was not inevitable but rather the result of chance and political agency on the part of citizens, subjects and leaders. Thus the spectre of fascism is always lurking beneath the surface in Europe, as witnessed by the growth of the far right in many European countries, in particular the 2011 Norway massacre

My first encounter with this dark European reality was as a law school undergraduate, in the late 1990s I attended a seminar titled ‘Muslims and Human Rights’. The seminar was delivered by an English barrister, himself a convert to Islam. He opened his speech with the statement, “… as far as Muslims are concerned in Europe, they have no Human Rights”, he then proceeded to relate an anecdote to a stunned audience to illustrate his point.

He was invited to the annual dinner of an European association of Muslim lawyers.  Amongst the dignitaries were sitting judges of the European Court of Justice (ECJ) and European Court of Human Rights (ECHR). The dinner was hosted soon after the the ECHR upheld the Turkish government’s ban on headscarves in universities so some of the lawyers approached the ECHR judges to justify their reasoning. One of the judges answered that, ‘we will not tolerate in the school rooms of Europe a religion which asks its women to cover up and cuts the hands of thieves’.

Alas, two decades on, things have not progressed all that much for immigrants in Europe and for Muslims in particular if we note the minaret bans, face veil bans and head scarf bans, as well as the increasing frequency and ferocity of attacks on Muslims. This current prejudice is illustrated by the European Union’s refusal to allow majority Muslim, but deeply secular, Turkey to become a member, despite negotiations dating back from 1959. In this light, it was not surprising to see a rendition of the anti-immigrant Muslim bogeyman being replayed in the European Union parliament’s make believe resolution of madrassah students burning the homes of Hindu families in Bangladesh.

Gay Imperialism and the Progressive Empire

Picture 4 (http://imgur.com/dY6ZF) CAPTION A British merchant being carried by a Sikkimese lady on her back. West Bengal circa 1903.

This European position was also mirrored by the pronouncements and activities of the British High Commissioner, Robert Gibson. In a meeting a few days after the election, he squarely laid the blame of political violence on the door of the opposition leader Khaleda Zia, laying a false equivalence and conveniently forgetting her virtual house arrest and the disproportionate use of force by security services.

Around about the same time as the dead bodies of political activists were appearing all over the countryside in Bangladesh, Robert Gibson was providing progressive window dressing to the Bangladeshi government, he was proudly launching an LGBT magazine in Dhaka.

1535553_10152180597937673_548202387_n

 

Instead of addressing the pressing human rights concern of people being killed for their political beliefs, we find Britain’s ‘our man in Dhaka’, providing a smoke screen and legitimacy to the current, questionably elected Awami League regime. Thus following in the footsteps of his 19th century colonial predecessor’s discourse for justifying oppression, the British High Commissioner has taken mission civilisatrice to new levels, where higher races have a duty to civilize the inferior races. Perhaps it would have been more fitting for Gibson to have a recited Kipling’s White Man’s Burden to his captive audience.

As Professor Mahmood Mamdani of Makarere University puts it , ‘power can instrumentalise free speech (and human rights) to frame a minority and present it for target practice’. In the Alice Through The Looking Glass world of Bangladeshi politics, the minority is the powerless and vote less majority.

Looking for Silver Linings

In times of adversity new alliances are formed and experiences are shared. Both in Europe and in Bangladesh in the face of overwhelming odds, bigotry, the shared injustices suffered are compelling communities and political factions to come together to fight a common enemy. For example in Europe, rising prejudices have brought Muslims and Jewish communities together, from fighting bans on kosher and halal meat at a European level, to joining forces to protect each other’s places of worship as in Stamford Hill, North London.

The same can be seen emerging in Bangladesh, where secular nationalists, religious conservatives and political Islamists, are beginning to work together to combat the increasing autocracy of the Awami League government. One also see’s the shining example of the LGBT and development activist Shawn Ahmed, who in the aftermath of the 6th of May massacre of the Hefazot protesters, courageously ventured out and interviewed survivors of the massacre at a Dhaka hospital. This act of bravery has opened new avenues of discourse and has earned him respect from religious conservatives.

Edward Said

Edward Said

 

Liberal Rhetoric versus Liberal Realities

I remember an interview with the Palestinian public intellectual and literary theorist Edward Said in which he said that one had to distinguish between liberal rhetoric and liberal reality. He cited the examples of Alexis De Tocqueville and John Stuart Mill. Tocqueville lamented the plight of the Cherokees in his Democracy in America, but was a staunch supporter of the brutal French colonisation in Algeria. Mill advocated equal rights for women in the United Kingdom, but supported the Imperial British subjugation of the Indian Subcontinent.

The same argument applies in the context of Bangladesh. Bangladeshi activists have to distinguish between the rhetoric and realities of outside powers. Real and enduring reform of the political situation and order will have to result from internal processes not external pressure. The European Parliament resolution is an affirmation of this reality.

What has galling for me was not the resolution itself, but the sight of Awami League supporters working with politicians harbouring open and closet anti-immigrant/Islamophobic views, to lobby for the resolution. If white skinned, deeply secular Turks are not accepted as part of the European Project by these politicians what chance do our brown skinned ‘Joy Bangla’ brigade have. To paraphrase Lenin, they were nothing but mere ‘useful idiots’.Or does the incident in the European Parliament illustrate a deeper and more troubling question. Are our irreligious (nastik) Bengali Nationalists and the European Far Right, two sides of the same bigoted, intolerant, Islamophobic coin?

শেখ মুজিবের প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়ায়…

by  WatchDog Bd

বোধহয় ১৯৭৩ সালেই বুঝতে পেরেছিলেন। যে বিশাল জনসমর্থন আর ভালবাসা নিয়ে দেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন তা ফিকে হয়ে আসছে। রাজনীতির মাঠ এবং সংসদ কোন ফ্রন্টেই স্বস্তিতে ছিলেন না। একদিকে মাওলানা, অন্যদিকে ইনু, মিনু, রব, মতিয়াদের রণহুংকার, পাশাপাশি গাজী গোলাম মোস্তফার ঔরসে জন্ম নেয়া চাটা আর লুটেরার দল, কোনটারই সুরাহা করতে পারেননি তিনি। হয়ত খুব তাড়াতাড়ি বুঝে গিয়েছিলেন অঙ্গুলি হেলনে জাতিকে নাচানো আর ক্ষমতার মসনদে বসে দেশ চালানো এক জিনিস নয়। ৭৪ সালের শুরুর দিকে বুঝাই যেত না দেশে কোন প্রশাসন আছে। পরাধীন জাতি হিসাবে এ দেশের মানুষ যা দেখেনি তাই দেখতে শুরু করল স্বাধীনতার উষালগ্নে। হত্যা, গুম, খুন আর লাশের মিছিল। শতকার ৯৯ ভাগ জনসমর্থন হয়ত ৮০-৮৫ ভাগে নেমে এসেছিল। তিনি সহজ ভাবে নিতে পারেননি নিম্নমুখী এই যাত্রা। আজকের জাদরেল মন্ত্রী তোফায়েল আহমদের হাতে ধরেই রচিত হয় কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনার পর্ব। অভ্যুদয় হয় নতুন এক বাহিনী…রক্ষীবাহিনী। কন্যা হাসিনার মত বাবা শেখ মুজিবও রাতের অন্ধকারে পাঠাতেন তাদের। মধ্যরাত অথবা শেষরাতের দিকে দরজায় কড়া নাড়ত। খুলতে দেরি হলে হায়েনার উন্মত্ততায় ঝাঁপিয়ে পরত। পরের ইতিহাস জানতে খুব গভীরে যেতে হবেনা আমাদের। আজকের শেখ হাসিনা উনার বাবারই কার্বন কপি। বুক হতে সন্তানকে নামিয়ে ওরা চোখ বেধে গাড়িতে উঠাত। তারপর মিলিয়ে যেত রাতের অন্ধকারে। পরদিন বেওয়ারিশ লাশের তালিকায় যুক্ত হত নতুন একটা লাশ। উচ্ছিষ্ট খোর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীর দল বলতো, ওহ! উনি তো সবার পিতা, তাই একটু শাসন করছেন মাত্র। কিন্তু হায়, এ শাসন বুক খালি করে দিত হাজারো মায়ের। স্ত্রীকে করতো স্বামীহারা, পিতাকে করতো সন্তানহারা। আজকের মত সেদিনও কাউকে কাঁদতে দেয়া হতোনা। পিতার থানা-পুলিশ সন্তানদের জন্য ছিল নিষিদ্ধ। ৭৫’এর শুরুর দিকে জাতি হঠাৎ করেই বোবা বনে যায়। অনিশ্চিত স্তব্ধতায় থেমে যায় জনজীবন। ততদিনে দল হিসাবে আওয়ামী লীগকে ইস্যু করা হয়ে গেছে জাতি ধর্ষনের স্থায়ী লাইসেন্স । তাও সেই পিতার হাত ধরেই। কন্যা শেখ হাসিনার মতই সমালোচনা হজম করার উদর নিয়ে জন্ম নেননি পিতা শেখ মুজিব। কলমের এক খোঁচায় গোটা দেশ হজম করার আইন করেছিলেন। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের মুখে এবার বেজে উঠে নতুন সুর, আহ! এ যে সমাজতন্ত্রের লাল সূর্য!

পচাত্তরের হত্যাকারীরা অন্তত একটা উপকার করে দিয়ে গেছে শেখ পরিবারের জন্য। একজন ব্যর্থ সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে অমর করে দিয়ে গেছে চিরদিনের জন্য। বাকশাল নিয়ে পিতা শেখ মুজিব যে পথে হাঁটা শুরু করেছিলেন তার শেষ গন্তব্য ছিল ভাগার। যারা বিস্তারিত জানতে আগ্রহী তাদের জিম্বাবুয়ের এক কালের পিতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের জীবন কাহিনী পরে দেখার অনুরোধ করবো।
http://www.amibangladeshi.org/blog/01-22-2014/1440.html

বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যত

17

ধরা যাক ২০২০ কিংবা ২০২৫/ খালেদা- হাসিনা দুজনই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন – তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে? ইসলামিস্টরা কি তৃতীয় শক্তি হবে? জামাত কি ইসলামিস্টদের নেতৃত্ব দেবে না নতুন কোনো দল ইসলামিস্টদের প্রতিনিধিত্ব করবে? ইসলামিস্টরা কি বিএনপি-লীগ থেকেও শক্তিশালী হয়ে যাবে তখন?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ডিপ্লোম্যাটরা রাজনীতিবিদদের এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন, চিন্তিত নাগরিকরা করেন সাংবাদিকদের। বহু মানুষের সাথে আমিও বারবার আলোচনা করেছি এ প্রসঙ্গে। আমার কিছু বন্ধু আছে যারা মেধা, শিক্ষা ও পেশা – সব দিক থেকেই আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; তাদের সাথে আলাপচারিতাতেও এই প্রসঙ্গটি বারবার ফিরে আসে। মনে হলো আমাদের আজকের ভাবনাগুলো লিখে রাখা খুব দরকার, ৩০ বছর পর এই সময়টাকে আমরা কীভাবে দেখছিলাম সেটা হয়তো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হবে।

প্রথমেই কিছু শব্দের সীমানা নির্ধারণ করি, এটা জরুরী, ভবিষ্যতে এই শব্দগুলোর প্রাসঙ্গিকতা বদলে যাবে।

আমি “ইসলামিস্ট” বলতে বোঝাচ্ছি তাদের যারা পলিটিকাল ইসলামে বিশ্বাস করেন এবং সে মতে রাজনীতি ও এক্টিভিজম করেন। পাঁচ বেলা মসজিদে যাওয়ার মানে কিন্তু ইসলামিস্ট না, আবার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করাই ইসলামিস্ট হওয়ার একমাত্র শর্ত না। এটা একটা আমব্রেলা টার্ম এবং আমি সেই হিসাবেই ব্যবহার করেছি। ইসলামাইজেশান বলতে আমি অন্য ধর্ম থেকে ইসলামে আসা বলছি না এই লেখায়। শুধুমাত্র এই লেখার জন্য ইসলামাইজেশান শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে মুসলমানদেরই ইসলাম ধর্মের নতুন উদ্বোধন হওয়া অর্থে। এই ঘটনাটির কোনো সর্বজনগ্রাহ্য নির্ণায়ক শব্দ খুঁজে পাই নি দেখে এই ধারকর্জ। “সেনট্রিস্ট” বলতে আমি বুঝিয়েছি সে সমস্ত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা মানুষের কথা যারা সব দলের সহাবস্থানে বিশ্বাস করেন, বাস্তবতা ও যুক্তি-তর্ককে চেতনা ও আদর্শের ওপরে স্থান দেন এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে উগ্রবাদী নন। আমার অভিজ্ঞতা বলে বাংলাদেশে সঠিক অর্থে সেনট্রিস্ট দল না থাকলেও বিএনপি অন্য দুটি মূল থেকে চরিত্রে বেশী সেনট্রিস্ট এবং সব দলেই সেনট্রিস্ট প্রবণতার লোকজন আছে। যারাই শাহবাগে গেছে তারাই শাহবাগী – এই অর্থে আমি “শাহবাগী” বলছি না। আমার কাছে (এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত) আওয়ামী লীগের কাছে যখন টাকা থাকে তখন সেটা স্পিরিচুয়াল প্রজেক্টে পরিণত হয়, কোনো রাজনৈতিক দল থাকে না। শাহবাগী বলতে আমি বুঝি এই স্পিরিচুয়াল প্রজেক্টের ফুট সোলজারদের। লক্ষ্যনীয় হোলো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সংস্লিষ্ট না হয়েও আপনি এই স্পিরিচুয়াল প্রজেক্টের ফুট সোলজার হতে পারবেন।

সবার আগে আমার জীবনের ছোট্ট একটা পর্যবেক্ষণ।

৮৭-৯০ সালের কথা মনে করছি। আমি তখন ছোটো কিন্তু বড়দের কিছু কথা আমার স্পষ্ট মনে পড়ে। আমার বাবা যেহেতু ৫০ এর দশকে বিমান বাহিনীতে যোগ দেন, তার বন্ধুরা প্রায়ই কে চীফ অফ স্টাফ হবে এ বিষয়ে খুব আলোচনা করতেন (তখনও তাদের সমসাময়িকরা কেউ কেউ চাকরি করছিলেন) /  এয়ার ভাইস মার্শাল জামাল (তখনও তিনি চীফ হন নি) প্রসঙ্গে তাদের কেউ কেউ মনে করতেন যে জামাল কোনোভাবেই চীফ হতে পারবে না কারণ – সহজ বাংলায় তিনি হুজুর এবং তার স্ত্রী হেজাবী।

২৫ বছর ফাস্ট ফরওয়ার্ড।

আজকে বাংলাদেশে শুধুমাত্র “হুজুর” হওয়ার কারণে উপরের দিকে ওঠাটা মনে হয় অতোটা কঠিন না কারণ “হুজুর” ও হেজাবীদের এখন যথেষ্ট ভিজিবিলিটি আছে সমাজের সব স্তরে। আমাদের ছোটোবেলায় এর ধারে কাছেও কিছু দেখি নি।

অন্যদিকে এখন যতো স্লীভলেস কামিজ ও ব্লাউজ দেখা যায় সামাজিক অনুষ্ঠানে, তার ধারে কাছেও কিছু আমরা দেখি নি ছোটোবেলায়। মজার ব্যাপার হোলো এই বিশেষ ব্যাপারটা অর্থাৎ স্লীভলেস কামিজ ও ব্লাউজ কিংবা কোনিকাল ব্রা পরাটা আমাদের জন্মের আগে মানে ৬০ ও ৭০ এর দশকে বাংলাদেশের আপার মিডলক্লাসে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিলো (হলিক্রস স্কুলের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটা CD বানানো হয়েছিলো বেশ কিছু বছর আগে। ঐ CD ‘র ফটোগ্রাফ দেখলে এর সত্যতা খুঁজে পাবেন)।

আবার

৮০’র দশকে আমার মা’দের যে বয়স ছিলো এখন আমাদের স্ত্রীদের সেই বয়স। তখন দেখতাম তারা প্রতি বৃহস্পতিবার বিকালে মিলাদ করতেন এবং আমার খেয়াল আছে এই মিলাদে আসতেন একদম উঁচু তলার স্ত্রীরাও। এটাকে তাদের সময়ের হ্যাং আউট বলবেন কি না আপনার ইচ্ছা কিন্তু আমার মনে হয় তখনকার অহিজাবীরা এখনকার অহিজাবীদের চেয়ে বেশী ধর্মসম্মত জীবন যাপন করতেন।

আমার ধারণা যারা ঢাকায় বড় হয়েছেন তারা কম বেশী আমার এই পর্যবেক্ষণগুলোয় সায় দেবেন। আপনি যদি এই সব বিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ থেকে “একটা” প্যাটার্ন বের করতে চান কিংবা সামাজিক পর্যবেক্ষণ থেকে রাজনৈতিক উপসংহারে আসতে চান, আপনি ভুল করবেন। এই সোশাল এভোলিউশানের কোনো সহজ ব্যাখ্যা নেই। তবে এরিক হবসবম ঠিক কাছাকাছি একটা প্যাটার্নের কথা উল্লেখ করেছিলেন শিল্প-বিপ্লবোত্তর ব্রিটেনে – যেখানে নতুন পুঁজি সৃষ্টির সাথে সাথে বিপুল ভাবে বেড়েছিলো ধর্মীয় এক্টিভিটি। একদল “উচ্ছন্নে” যাচ্ছিলো আরেক দল ক্রিশ্চিয়ানিটির ব্যাপক প্রসারকেই মনে করেছিলো এ রোগের দাওয়াই।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে উল্লিখিত জটিলতা হোলো সমাজ পর্যায়ের। এর উপর যোগ করেন রাজনৈতিক জটিলতা – এমন কঠিন এক জিগ স পাজল তৈরী হবে যার কোনো সমাধান নেই। এবং সমস্যা হোলো এমন অবস্থায় আপনি যে দৃষ্টিভঙ্গিই পোষণ করবেন, খুব সহজেই আপনার মতো করে একটা ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। যেমন শাহবাগীরা মনে করেন যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে দেশ পুরা আফগানিস্তান হয়ে যাবে। আবার বিএনপির লোকেরা মনে করে যে বাংলাদেশে ঐ রকম রাডিকাল ইসলামাইজেশানের কোনো সম্ভাবনাই নেই, বরং উদ্ধ্বত সেকুলারিজমই সবচেয়ে বড় সমস্যা। মোদ্দা কথা আপনার নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস যাই হোক না কেন, সেই অনুযায়ী এবং অনুপাতে একটি ভয়াবহ ভবিষ্যত আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে।

প্রথম প্রশ্ন হোলো বাংলাদেশে গত ২৫-৩০ বছরে বিশেষ করে শেষ ১৫ বছরে এতো দ্রুত ইসলামাইজেশান হোলো কেন?

আমার পরিচিত এক বাংলাদেশী ক্যানবেরান যিনি বাংলাদেশে ৮৪ সালে গ্রামে শিক্ষকতা করেছেন তার অভিজ্ঞতা হোলো তখন গ্রামে দশ জনের মধ্যে বড়জোর এক জন হিজাব করতো আর এখন সেই স্কুলেই দশ জনের মধ্যে আট জন হিজাব করে কিন্তু এখন তাদের প্রায় প্রত্যেকেই “দুই নম্বর” কিন্তু ৮৪ সালে প্রতিটি মেয়েই সহজ সরল ছিলো। তার ধারণা এর মূল কারণ হোলো এনজিও – সহজ কথায় মিডল ইস্টের টাকা।

Image

তিনি যে ডেমোগ্রাফির কথা বলছেন সেখানে মিডল ইস্ট ও জামাতের টাকা ইসলামাইজেশানের কাজে এসেছে এ কথা সত্য (তবে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে না) কিন্তু সমস্যা হোলো তিনি ধর্মকে একটা প্রডাক্ট হিসেবে জ্ঞান করছেন অর্থাৎ যত বেশী টাকা (= মাইলেজ = ইনভেস্টমেন্ট), ততো বেশি ইসলামাইজেশান। সোশাল এভোলিউশানের এরকম শুধু টাকা-ভিত্তিক ব্যাখ্যা একেবারেই খাটে না।

কিন্তু এই ব্যাখ্যার সবচেয়ে বড় খুঁত হোলো – যে ইসলামাইজেশানের জন্য এখন মনে হচ্ছে যে বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির উত্থান হতে চলেছে অর্থাৎ শহুরে অনূর্ধ্ব ৪০ জনগোষ্ঠির মাঝে ইসলামের প্রসার সেখানে এই অয়েল মানি প্রায় কোনো কাজেই আসে নি।

আমি দেখেছি যে অসংখ্য তরুণ-তরুণী যারা উচ্চ মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্ত ঘরের সন্তান এবং শহরের নাম করা স্কুল কলেজ থেকে পাশ করে পেশার দিক থেকে খুবই সফল – এরা ইসলামের প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠছে যেটা ৮০’র দশকে আমার ছেলেবেলায় প্রায় কখনোই দেখা যেতো না। আমার এক বন্ধু টেলিভিশনের মডেলিং থেকে দাড়ি রাখা উঁচু বেতনের এগজিকিউটিভ হয়ে গেছে। আমাদের আরেক বন্ধু আইবিএ থেকে পাশ করে এখন আরবী শেখায়। এবং এই পরিবর্তন একটা দুটা না, হাজারে হাজারে।

এই ঘটনাটা কীভাবে ঘটলো?

প্রথমে আমার একটা অতি সরলীকৃত ব্যাখ্যা: আমরা স্কুল কলেজের বই পুস্তকে যা পড়ি, বিস্ময়কর হলেও সত্য যে বাস্তব জীবনে কেবল ইসলাম ধর্ম শিক্ষাই প্রাসঙ্গিক। বাংলা বইয়ে যে ভাষা শিখি সে বাংলাতে কেউই কথা বলে না, এমন কি টিভিতেও এখন আর তেমন শোনা যায় না। যে ইংরেজি বইয়ে থাকে সে ইংরেজি কোনোদিনও কোনো দেশে চর্চা হতো কি না আমার সন্দেহ, দশ বছরের ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নির্ভুল বালকদের আজগুবি সব কেচ্ছা-কাহিনীতে ভরা। অঙ্ক আর বিজ্ঞানে শিখি যে দুই আর দুই চার – বাস্তব জীবনে এই যোগফল পাঁচ, ছয় এমন কি পাঁচ শও হতে পারে। বিজ্ঞানের প্রায় কোনোই ব্যবহার নেই দৈনন্দিন জীবনে (বিজ্ঞান ব্যবহার করা আর অন্যের বানানো টেকনোলজি এস্তেমাল করা এক জিনিস না)/ ইসলাম শিক্ষায় বলে সমর্পণ করো, শান্তি পাবে। বাস্তবে কী হয় এ সম্পর্কে আমার জ্ঞান খুব অল্প কিন্তু যারাই ইসলামের প্রতি অনুরক্ত তারাই বলে যে ধর্ম শিক্ষা বই যা প্রমিজ করে তা ডেলিভারও করে, নিজেদেরকে সমর্পণ করে তারা শান্তির খোঁজ পেয়েছেন।

আমাদের কালে, আমি বলবো মোটামুটি মিড নাইনটিজ থেকেই বিশ্বব্যাপী একটা ঘটনা ঘটেছে আর সেটা হোলো আমাদের জীবনে এখন কোনো ফিলোসফি নেই। মানুষ এমন একটা প্রাণী যে নিজের জীবনের পরিপূর্ণতা দেখার জন্য কোনো একটা ফিলোসফির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। আমাদের দেশে ৬০ থেকে নিয়ে ৮০ এর দশক পর্যন্ত সোশালিজমের মধ্যে দিয়ে তরুণরা দর্শনের খিদেটা মিটিয়েছে। নানা কারণে নাইনটিজে এসে এই বন্দোবস্ত বদলে যায়। সভিয়েট য়ুনিয়েনের পতন, বাংলাদেশী বামদের আদর্শিক স্খলন, বিশ্বব্যাপী বামপন্থার প্রতি আকর্ষণ কমে যাওয়া – সবই মনে হয় এর পেছনে কম বেশী কাজ করেছে।

অন্তত আমাদের দেশে দর্শনের অভাব কিছুটা মিটিয়েছে ইসলাম – অন্তত কিছু মানুষের জীবনে। এর একটা অবশ্যম্ভাবী প্রতিক্রিয়া হোলো পলিটিকাল ইসলামের প্রতি আকর্ষণ-বোধ। ইসলাম ধর্মটা একটু বিচিত্র এই বাবদে। দশ জন লোক যদি ইসলামী অনুশাসনে মনোযোগী হয়ে ওঠেন দেখা যাবে যে পাঁচজনই সামগ্রিক মুক্তির জন্য পলিটিকাল ইসলামকে আবশ্যক মনে করে – এই ব্যাপারটা অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বলাই বাহুল্য এই পাঁচজন যদি শিক্ষিত তরুণ হয় তাহলে ধীরে ধীরে দেখা যাবে যে কোনো একটা ইসলামী দলের মধ্যে দিয়েই তাদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হচ্ছে।

শাহবাগী এবং আওয়ামী মনোভাব সম্পন্ন মানুষেরা এই ব্যাপারটার দুটো ভুল ব্যাখ্যা করে। প্রথমটা হোলো যে তারা মনে করে যে এই তরুনেরা অধিকাংশই জামাতী। ইন ফ্যাক্ট এই যে নতুন এনলাইটেন্ড ইসলামিস্ট ক্লাস, তাদের পলিটিকাল আইডেনটিটির দুটো মূল প্রতিপাদ্য হোলো জামাতকে অপছন্দ করা এবং কওমী মাদ্রাসা তথা হিফাজতকে একটু তাচ্ছিল্যের চোখে দেখা এবং এর মধ্যে দিয়ে উভয়ের থেকেই আলাদা হওয়ার চেষ্টা করা। তার মানে কিন্তু আবার এই না যে বিএনপি যেভাবে আওয়ামী লীগকে ঘৃণা করে – এটা সেই পর্যায়ের রেশারেশি। বলা যেতে পারে এটা একটা ইন্টেলেকচুয়াল ফ্যাড কিন্তু পরস্পরের সাথে রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক একাত্মতা ঘোষণা না করার জন্য যথেষ্ট। ভিকারুন্নিসা স্কুল থেকে পাশ করা মেয়েরা যেমন করে ভারতেষ্মরী হোমসের মেয়েদের দেখে অনেকটা সেরকম।

কিন্তু এই ভুলটা ততোটা মারাত্মক না যতোটা দ্বিতীয়টি। শাহবাগী, আওয়ামী, সেনট্রিস্ট, বিএনপি,সুশীল, ডিজুস – মানে আরবান ক্লাসের বিশাল একটা অংশ মনে করে যে এই ইসলামিস্টরা আন্ডার এচিভার কিংবা সহজ বাংলায় ভোন্দা গাজীর দল।

বাংলাদেশে ৬০ ও ৭০ এর দশকে সবচেয়ে মেধাবীরা বাম রাজনীতি করতো, এখনকার বাংলাদেশে সবচেয়ে মেধাবীরা রাজনীতি-বিমুখ বললে কম হবে, সম্ভবত অনেকে ঘৃণাই করে এই বিষয়টি। কিন্তু যারা রাজনীতি করে (অর্থাৎ সশরীরে এক্টিভিজম করেন, দল করেন, সংগঠিত হন – ফেসবুকে না শুধু), তাদের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী ও পড়াশোনা জানা ছেলে-মেয়েরা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক ধারায় হয় ইসলামিস্ট, নয়তো বাম ধারার (কিন্তু বাম ধারার সংখ্যাটা খুবই কম) / ছাত্রদল কিংবা ছাত্রলীগের ছেলে-পুলেরা মেধার দিক থেকে ইসলামিস্টদের ধারে কাছেও না।

আরো একটা অদ্ভুত ব্যাপার হোলো সারা পৃথিবীতে যারা নিজেদের প্রগ্রেসিভ ঘরানার রাজনীতি করেন বলে দাবী করেন তারা অনেক বেশী সহনশীল হন আর ইসলামিস্টরা হয় অসহনশীল। বাংলাদেশে হয়েছে সম্পূর্ণ উল্টা। এখানে যে নিজেকে লিবার্টিন বলে দাবী করে, সে আবার ফাসিও চায়। একদিকে সে নিজেকে সেকুলার বলছে অন্য দিকে “প্রয়োজনে লাখ খানেক মানুষকে হত্যা” করার পরামর্শও দিচ্ছে। এবং সব সময় সে রেগে থাকে – মানে ভয়ঙ্কর ধরনের রাগ। পরমতসহিষ্ণুতার দিক থেকে বাংলাদেশের তথাকথিত প্রগ্রেসিভ ক্লাস এতোটাই প্রতিক্রিয়াশীল যে “সভ্য মত বিনিময়” মোটামুটি অসম্ভব হয়ে যায়।

আশ্চর্য ব্যাপার হোলো ইসলামিস্টরা অপেক্ষাকৃত বেশী সহনশীল (আমি বাসুদা ও মেজবাহ আহমেদ পর্যায়ের ইসলামিস্টদের কথা বলছি না)/ তাদের সাথে অন্তত কিছু সময় আপনি গালিগালাজ ছাড়া তর্ক করতে পারবেন (এটা নিতান্তই আমার পর্যবেক্ষণ)।

কথা হোলো, আসল কথা হোলো – ইসলামিস্টরা কি সংগঠিত হতে পারবে এবং হলেও তারা কোন ধরনের ইসলামিস্ট হবে?

প্রথমত একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশের ইসলামিস্টরা চরিত্রে টার্কিশ ইসলামিস্টদের কাছাকাছি, তালেবানদের মতো না কারণ ইসলামিস্ট নেতা এবং নেতৃস্থানীয়দের বিরাট অংশ আদতে অন্টাপ্রেনিওর – সহজ ভাষায় তাদের কাছে টাকা আছে এবং তারা ইসলাম না বুঝলেও ব্যবসাটা ভালো বোঝেন। সুদূর ভবিষ্যতে তারা যদি কোনোদিন ক্ষমতায় যায় – যে একটি পেশার মানুষ তাদের ব্যাপারে সব চেয়ে খুশী থাকবে বলে আমার ধারণা – তারা হোলো ব্যবসায়ী শ্রেণী।

কিন্তু ক্ষমতায় যেতে হলে যে পরিমাণ সংহতি ও পরিপক্কতা দেখাতে হবে তা কি তারা পারবে?

সম্ভবত না।

বাংলাদেশের ইসলামিস্টরা বাঙালি ইসলামিস্টও বটে – অনর্থক তর্কে তাদের অনন্ত অনুরাগ। নিজেদের মধ্যে কারা শুদ্ধতম ইসলামের অনুসারী – এ আলোচনার ক্ষুধা তাদের কেয়ামতের পরেও বলবৎ থাকবে। এটাকে মুসলমানদের কুইনটাসেনশিয়াল বৈশিষ্ট্য বললেও অত্যুক্তি হবে না।

কিন্তু

শাহবাগীরা মনে করেন বিএনপির যে বিশাল জনসমর্থন আছে দেশব্যাপী তারা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে ইসলামিস্ট হয়ে উঠবে। এর কারণ হিসেবে তারা যা মনে করেন তা হোলো বিএনপি আদর্শিক ভিত্তি দুর্বল পক্ষান্তরে ইসলাম একটি ১৪ শ বছরের পুরোনো আদর্শ। বিএনপি টিকে আছে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের কারণে। তার মৃত্যুর পর এন্টি-আওয়ামী লীগ সেন্টিমেন্টের জন্য বেটার আউটলেট হয়ে যাবে ইসলাম এবং বিএনপি ছেড়ে সবাই ইসলামপন্থীই হয়ে যাবে। অর্থাৎ সেনট্রিস্টরা ক্রমশ এক্সট্রিমিস্ট হয়ে উঠবে। মোটামুটি কাছাকাছি ধারণা আমি দেখেছি কিছু কিছু বিএনপিপন্থীদের মাঝেও।

প্রশ্নটা আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে যিনি মোটামুটি পঞ্চাশ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি দেখেছেন কাছে থেকে এবং যার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ওপর আস্থা রাখা যায়। তিনি বললেন আর সব কিছু যদি মেনেও নেই, ইসলামিস্টদের নেতৃত্বটা দেবে কে? তার মতে ইসলামিস্টদের মধ্যে জামাত ছাড়া অন্য কোনো অংশ “রাজনীতি” “বোঝে” না এবং জামাতেরও যে একজনমাত্র নেতাকে তার মনে হয়েছে যে পরিবর্তিত পৃথিবীতে ইসলাম-পন্থী দলের ভূমিকা কী হবে এটা বোঝার মতো প্রয়োজনীয় সফিস্টিকেশান ও দূরদৃষ্টি আছে – তিনিও জেলে এবং সম্ভবত তার ফাঁসি হবে (আমার অপ্রয়োজনীয় মত: এই লোকটা আমার জানামতে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী এবং তার মৃত্যুদন্ড হওয়াটা হবে সঙ্গত)

কিন্তু যদি এমন হয় –

খালেদা-হাসিনার পর বাংলাদেশে অন্তত আওয়ামী লীগ-বিএনপির কোনো নেতা কোনোদিনও এ পরিমাণ ক্ষমতা সংহত করতে পারবেন না – সেটা জানা কথা। সে ফাঁকে ইসলামিস্টরা যদি একটা ইমরান খান খুঁজে পায়। পশ্চিম-ফেরত, ইংরেজিতে বক্তৃতা দেয়, ক্লীন শেভড, জন স্টুয়ার্ট মিল কোট করে, মিল্টন ফ্রিডম্যান কোট করে আবার কোরানের আয়াতও শুদ্ধ আরবীতে উচ্চারণ করে মেঠো বক্তৃতায়। অন্তত বিএনপি-আওয়ামী লীগের চেয়ে ইসলামিস্টরা যে গভর্নেন্সের দিক থেকে সফল হবে এ ব্যাপারে বেশীরভাগ লোক একমত হবেন। বিভিন্ন দলের সেনট্রিস্টরা যদি ইসলামের পতাকাতলে চলে এসে? এরকম একটা অবস্থার নিপুন বর্ণনা দিয়েছেন শফিকুর রহমান। তখন তো ইসলামিস্টরা এগিয়ে আসতে পারে।

আমি এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিই না। কিন্তু আমার ধারণা ইসলামিস্টরা সফল হবেন না। কেন?

সমস্যাটা ইসলাম নিজে। লিবারেল আইডিয়োলজির একটা সুবিধা আছে যেটা ইসলামের নেই। ব্যক্তিগত প্রশ্ন আসলেই লিবারেল আইডিয়োলজি বলতে পারে – এটা বাপু তোমার সমস্যা, ডু ওয়াটএভার য়ু লাইক। আপনি মদ খাবেন না স্লীভলেস কামিজ পরবেন এটা আপনার নিজের ব্যাপার – এখানে আমার কিছু করার নেই। বাই ডেফিনিশন ইসলাম একটা ধর্ম, তাকে রিএক্ট করতে হয়, দর্শকের ভুমিকা নিতে পারে না। ইসলাম বলতে পারে না গো ফাক য়োরসেল্ফ, এটা আমার সমস্যা না। রাষ্ট্র চালাতে গেলে “এটা আমার সমস্যা না” বলাটা খুব জরুরী, যেটা ইসলাম পারে না। ইসলাম একটা ধর্ম কিন্তু রাষ্ট্র একটা পলিটিকাল কনস্ট্রাক্ট। দিন শেষে বাস্তবতা হোলো য়োরোপিয়ান এনলাইটেনমেন্টের ফলাফল যে রাষ্ট্রব্যবস্থা, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থার দিক-নির্দেশনা কারী মতবাদ হিসেবে পলিটিকাল ইসলাম কমপ্যাটিবল না। রাষ্ট্রের দার্শনিক গন্তব্য হোলো ব্যক্তিস্বাধীনতা আর ইসলামের দার্শনিক গন্তব্য হোলো সমর্পনের মাধ্যমে অর্জিত শান্তি। প্রশ্নটা ইসলাম ভালো না লিবারেল ডেমোক্রাসি ভালো – তা না; বরং এটা কমপ্যাটিবিলিটির ইসু – “রাষ্ট্রব্যবস্থার” সাথে ইসলাম যায় কি না?

Image

আমাদের দেশে পলিটিকাল ইসলামের প্রাথমিক সাফল্য অর্জন করতে হলেও কয়েকটা মৌলিক প্রশ্নের সুরাহা করতে হবে। সারা পৃথিবীর ইসলামিস্টদেরই বোধ করি করতে হবে।

এগুলো কী?

পলিটিকাল ইসলামের দিক নির্দেশনা প্রত্যক্ষভাবে কোরানে নেই (যেমন আপনার নেতাকে ভোট দিয়ে নির্বাচন করা হবে কি না)/  কিন্তু মুসলমানের ব্যক্তিজীবন কেমন হবে – এর অতি খুটিনাটি ব্যাখ্যাও কোরানে আছে। পলিটিকাল ইসলামকে রাষ্ট্র-পরিচালনাকারী মতবাদ হিসেবে যারা দেখতে চান তাদের এমন কিছু বিষয়ে আপোষ করতে হবে যার নির্দেশনা কোরানে আছে। যেমন ধরুন ইসলামিস্টদের বাংলাদেশে হিন্দু প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কি না কিংবা পোষাক পরিধানে ইসলামের কিছু বাধ্য-বাধকতা আছে, এর মাঝে কোনো যদি কিন্তু নেই। কিন্তু অনেক মুসলমান ছেলেমেয়েই আছে যারা এই বাধ্য-বাধকতা মানেন না কিংবা মানতে চান না। এখন ইসলামিস্টরা চোখ বুজে থাকতে পারেন কেননা তারা বলতে পারেন যে ভাই এটা তো আমাদের মাথা-ব্যথা না কারণ আমাদের কাছে ক্ষমতা নেই। যখন ক্ষমতা আসবে তখন কিন্তু তারা দর্শক থাকতে পারবেন না, পক্ষ নিতে হবে। রাষ্ট্র পর্যায়ে ইসলামের বাস্তবায়ন করার জন্য (যার সরাসরি নির্দেশনা নেই কোরানে), তারা কি ব্যক্তি পর্যায়ের ইসলামের সাথে আপোষ করার মতো (যার সরাসরি নির্দেশনা নেই কোরানে) সাহস দেখাতে পারবেন?

আমার ধারণা বিশ্বব্যাপী এ ধরনের সাহসী পদক্ষেপের জন্য যে ধরনের কনসেনসাস প্রয়োজন, ইসলামিস্টরা তার ধারে কাছেও আসতে পারে নি। বাঙালি তর্কপ্রিয় এবং শিশুতোষ তর্কে তার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি (অর্থনীতির নোবেল প্রাইজ যে আসলে নোবেল প্রাইজ না এবং অর্থনীতির নোবেল লরিয়েটদের নোবেল লরিয়েট বলা হলে বিশাল অপরাধ হয়ে যাবে – এ নিয়ে বাংলার দামাল বুদ্ধিজীবী ন্যশনাল মিডিয়ায় দীর্ঘ সময় আলাপ করেন)।

এটা আমাদের মাথাব্যথা না – আপনি যেভাবে খুশী করেন, এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই – এ ধরনের চিন্তা করাও বাঙালির পক্ষে অসম্ভব।

বাংলাদেশের মানুষ চরিত্রে সেনট্রিস্ট – সে ওয়াজে গিয়ে চোখের পানি ফেলে আবার যাত্রা দেখেও আদ্র করে মন। দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে সফল হওয়ার চাবিকাঠি এই ব্যালেন্সিং এক্টের মধ্যে। যে একদিকে বেশী ঝুঁকে পড়বে তারই বিপদ। এই জিনিসটা বোঝে বিএনপি এবং এককালে আওয়ামী লীগও বুঝেছিলো। কাজটা করার জন্য সামষ্টিকভাবে যে পরিপক্কতা প্রয়োজন, ইসলামিস্টদের তা তাদের নেই। ভবিষ্যতে হবে কি না জানি না তবে ইসলামিস্টদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হোলো আওয়ামী লীগ। যে একমাত্র যুদ্ধে ধর্মের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা হোলো ধর্মযুদ্ধ এবং আওয়ামীবাদ ইসলামিস্টদের একটা ধর্মযুদ্ধই উপহার দিয়েছে। যে পোলারাইজেশান প্রজেক্ট আওয়ামী লীগ হাতে নিয়েছে তার একমাত্র ফলাফল হোলো দুটো ধর্মীয় উন্মাদনা: শাহবাগী চেতনা বনাম ইসলামী জজবা। এই ধর্মীয় উন্মাদনা চেতনাবাদকে কয়েকবার ধ্বংস করার জন্য যে যথেষ্ট – এ বিষয়ে আমার সন্দেহ নাই, পুরো দেশটাই না ধংসাত্মক উন্মাদনায় মশগুল হয় – সেটাই দেখার বিষয়।

সারভাইভাল এক্টে চিন্তা ভাবনার কোনো সুযোগ থাকে না। সমস্যা হোলো সারভাইভাল এক্টের বিজয়ীদের চিন্তা ভাবনা করতে না দেয়ার খেসারত দেয় পুরো জাতি – ইতিহাসে এর শত শত উদাহরন আছে।

সত্য হোলো; শুধুমাত্র যে একটি পথে ইসলামিস্টরা সফল হতে পারে, ঠিক ওই পথেই তাদের ধাওয়া করছে লীগ।

ফোটো ক্রেডিট:

David Lazar (Girl with green eyes and red headscarf)

পাভেল রহমান/AP

Flying with broken wings

A magical realist masterpiece, Salman Rushdie’s Midnight’s Children has weird and improbable events and people juxtaposed against the history of the 20th century South Asia up to the late 1970s. One such improbable fact was that at the time of writing, and thus the story’s culmination, military rulers of the erstwhile two wings of Pakistan had the same first name.

This is not the only parallel between the political history of Bangladesh and post-1971 Pakistan.

Both successor states of United Pakistan started with larger-than-life charismatic leaders, whose rules ended in tragic denouement inconceivable in 1972.  Both giants found governance to be much harder than populist rhetoric, both resorted to un-democracy, and both ended up meeting cruel ends at the hand of their trusted guards.  Both countries succumbed to dictatorships in the 1980s, although the extent and mechanism varied.  In both countries democratic opposition developed.  In both countries, some form of democratic politics came into practice by the 1990s.

Continue Reading

?Fascist Entropy of a once-Democratic Politics in Bangladesh

“Fascism denies, in democracy, the absurd conventional untruth of political equality dressed out in the garb of collective responsibility ….” Benito Mussolini.

Even after a decade of Mussolini’s pronouncement as to the basic reactionary tenets of fascism, the word rapidly suffered a massive interpretative inflection, that George Orwell in his 1944-essay “What is Fascism” could not come up with a good definition of what fascism is and wrote in desperation: “all one can do for the moment is to use the word with a certain amount of circumspection and not, as is usually done, degrade it to a level of a swearword.” In the today’s miasmic milieu of Bangladeshi Politics, in addition to the swearword “razakar”, the word “fascist” is also being thrown around in random both by BNP and its perpetual nemesis AL. It may not have poignancy right at this point, but it certainly is very important to examine the issue further for the future politics of our country. In this write up I would like expound the situation a little further.

What is Fascism?

“Fascis” (an Italian word) means bundle or unit, while “fasces” (a Latin word) is a symbol of bound sticks used as a totem of power in ancient Rome. These two roots aptly describes the basic tenets of fascism: unity and power. However, the nature of fascism espoused by Hitler in Germany, Mussolini in Italy or Franco in Spain is not exactly the same, still there are some basic features than characterizes any fascist movement:

Authoritarian leadership:
A fascist state requires a single leader with absolute authority who is all-powerful and lords over the totality of the state affairs with no limits whatsoever. There also can be a cult of personality around the leader.

Absolute power of state:
the fascist state organizes the nation, but leaves a sufficient margin of liberty to the individual; the latter is deprived of all useless and possibly harmful freedom, but retains what is essential; the deciding power in this question can not be the individual, but the state alone” – thus goes Mussolini to encapsulate the fact that there is no law or other power that can limit the authority of the state. This is an antithesis of liberal doctrines of individual autonomy and rights, political pluralism and representative government as espoused by the likes of Rousseau – yet it envisions broad popular support.

Strict social order:
To eliminate the possibility of chaos than can undermine state authority, fascism maintains a social order in which every individual has a specific place that can not be altered. This “new order” often is in clash with traditional institution and hierarchies.

Nationalism/ super-patriotism/ Jingoism:
Fascism digs into the past with unreal romanticism and espouses an historic mission and national rebirth. Aggression is felt to be a virtue while pacifism a cowardice. This is how Mussolini writes – “fascism ….. believes neither in the possibility nor the utility of perpetual peace….. war alone brings up to its highest tension all human energy and puts the stamp of nobility upon the people who have the courage to meet it.”

Dehumanization and scapegoating of the enemy:
Typically every fascist regime seek out certain group or groups of people – ethnic or religious or ideological as enemy.

Is the Current Bangladesh Regime Fascist?

With the above features of fascism in mind, let’s see how our current regime in Bangladesh fares:

Leadership:
In democratic states, power of state is kept in check by constitutional provisions whereby the stately business is run, usually, by three co-equal branches of government, namely, executive, legislative and judicial. In Bangladesh, the legislative wing is clipped by article 70 for many years. Its integrity also is jeopardized by a lack of intra-mural democracy in most of the political parties including the ruling Awami League. Coupled with the prevailing trickle-down politics, where leadership is bestowed upon as a blessing from the party chief for nonpolitical reasons that at times can be plainly nefarious, has brewed a miasma where the party chief enjoys a demi-God status. Judiciary independence, in addition, is a total sham as evidenced by open executive intervention in judicial matters. In fact, the current regime abetted by its myriad of political outfits, has shown a keen interest in using judiciary for the sole purpose of harassment, intimidation and silencing of opposing voices. Thus all the three branches of government has now morphed into a single behemoth bent to serve the wish one single person who is none but the all-powerful Prime Minister – Sheikh Hasina Wajed.

She wields extraordinary power beyond her constitutional ambit. Borrowing a certain amount of mana from her slain father, she also has cultivated a cult where, even her ministers kisses her feet with no shame whatsoever. It is widely reported that even the Awami League leadership was not in favor of the 15th. amendment, and it was not part of her election pledges in 2008, yet it happened only because of the singular wish of Sheikh Hasina. The eventual entropy that has befallen on today’s Bangladesh thus falls squarely on her shoulder. Now after a flawed election on 01/2014, even though her electoral popularity is at nadir, she continues to remain the only person whose opinion matters. With over 3/4th majority in the 10th. parliament, and with Article 70 in place, she still has the capacity to rule by further amendment in constitution, if she chooses.

Although the Prime Minister continues to chant the popular democratic slogans, actually she has become a hindrance by disenfranchising more than 50% of voting population by cunning political games.

State Power:
Power of state is on the rise for more than a decade in Bangladesh. Although there is no declared state of emergency at over the past years, the case Limon vs Government is not only a forme fruste, but a routine daily fact of national life. State outfits like Rapid Action Battalion, Police etc. can trample individual rights with impunity. Slapping of a national pride – Shohag Gazi is a daily happenstance.

State can now put political leaders behind bar even without prima facie evidence of any wrongdoing. Given the prevailing politicization of Judiciary, individual rights almost to the point of forfeiture. Benito Mussolini conceptualized the process as “all within the state, nothing outside the sate, nothing against the sate.”

Social Order:
By introducing three hundred fiefdoms, each headed by a member of the parliament; by nominating non-politician businessmen and thugs for member of parliament; by decapitating the law-making power of the members of parliament (MP); and by clipping the wings of the elected local governing bodies – the government has instituted a social order where the cadres of government-affiliated outfits (“leagues” and “porishods” of variegate Awami shades and colors) rule over the commoners with impunity. On top on that, there are governmental outfits like police, RAB etc. also continue to be used as enforcers of governmental whims. At the same time, traditional non-political institutions and hierarchies are being decapitated by rampant politicization (both by the ruling Awami League and by its perpetual nemesis Bangladesh Nationalist Party).

Nationalism and Superpatriotism and dehumanization and/or scapegoating of enemies:
The government, instead of promoting quiet inclusive nationalism, is bent on promoting a super-patriotism at the expense of non-Bengali Bangladesh nationals. Denial of existence of indigenous ethnic population by our ex-foreign minister is just a naked example. It also is curious, how blatantly the ruling party labels every opposing voice as “rajakar-sympathizer”. It has divided the nation two camps; pro-Liberation and anti-Liberation. Even valiant and decorated heroes of liberation war are not being spared.

As for, jingoism, militarily, Bangladesh is not powerful enough to consider military expansion, yet it’s portrayal of simple wining of a legal battle as “somudra-bijoy” talks of its mental makeup. But, yes, they are in a permanent war against those whose voice are not in sync with the ideas and ideals of the ruling Awami League.

How about BNP?

Authoritarian leadership is a staple in BNP-politics since its inception. This has now morphed into a family-owned enterprise of the “lesser Rahman” – I mean General Ziaur Rahman. Their intolerance to opposing (or even neutral) view is amply exemplified by the way the treated one of their founder member – Dr. B. Chowdhury.

Despite a disastrous leadership during “2006 to 2008-debacle” Khaleda Zia continues to rule over the party with an authority that is unheard of in any any democracy sans Bangladesh. Her heir apparent, Tareq Zia, despite his reprehensible Hawa-Vobon activities during the last BNP-regime, still holds more power than the any senior party leaders. It is a widely reported story that Khaleda once forfeited all the cellular devices from her senior leadership during a meeting, is just an example of her crude power that overwhelms the collective power of the party leaders. Just like in Awami League, they also a slain leader who has become more like a cult-leader in BNP-culture.

The consolidation of the state power to the verge of tyranny, in fact, began during the previous BNP-regime by introducing the now-infamous Operation Clean Heart that rapidly degenerated into an Operation Heart Attack! And the origin of RAB and the the concept of extra-judicial execution by “cross-fire” is of BNP-origin.

Just like AL, BNP also is guilty of promoting the gradual degeneration of traditional social order by empowering parliament members at the expense of local government. Pan-politicization of every sphere of national life is also a staple of BNP.

However, BNP did not had a jingoistic attitude, however, their favorite scapegoat, under the leadership of Khaleda Zia, remained India.

Conclusion:

Yes, definition of fascism fluid, but is definitely not democracy as its biggest proponent Mussolini once said, “democracy is beautiful in theory; in practice it is a fallacy”. And it will not be an untrue statement if one posits that the state of democracy in Bangladesh, currently in a state of total shamble. Election occurred where voter participation was an all-time low and where more than fifty percent voters were disenfranchised to begin with. As per an eminent Bangladeshi jurist – Shahdin Malik, it was more negotiated and predetermined than was competitive.

Given the reasons and the facts in ground, it is very easy to label a regime with characteristics of the current Awami League regime as fascist. There can be arguments both pro and con, but certain facts are undeniable. BNP right now, is not in power. However, the history of BNP under the leadership of Khaleda Zia is not very kosher either.

Our hope for sanity to prevail is perpetual. But the leadership of our God-forsaken homeland, apparently, has a bigger saint to heed to:

history of saints is a history of insane people”.
(Benito Mussolini)

এখন যা জরুরি

খোমেনী ইহসান 

যেখানে পরিস্থিতি এমন যে সরকার বিরোধীদেরকে সমূলে নির্মূল করতে পারবে না আবার বিরোধীরাও গণঅভ্যুত্থান করতে পারবে না সেখানে সমঝোতা জরুরি।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়ে গেছে। যে যেভাবেই দেখিনা কেন হিংসাত্মক রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে নিয়মরক্ষার এ নির্বাচন করেছে সরকার। এতে সংবিধানে স্পিরিট, গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণ চিন্তা কতখানি কাজ করেছে তা নিয়ে তর্ক করলে অনেক করা যাবে।
তবে বাংলাদেশে যে ধরনের জাতীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে করে সংবিধান সম্মত আইনত বৈধ এ নির্বাচন করার বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না আওয়ামী লীগের। আমাদেরকে এটা মানতে হবে।

জরুরি অবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ যে অন্ধকূপে পতিত হয়েছে, তার ব্যাপকতা আমরা কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারি না। সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়েছে। দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী সুশীল সমাজের কারো বিচার হয়নি। দুর্নীতি বেড়েছে। বিরোধী দলও টাকার বিনিময়ে দলের পদ-পদবী বিক্রি করলো। জনগণের পক্ষে কথা বলার মতো লোক কোথাও নাই। বিরোধী দলও গণবিরোধী রাজনীতি করেছে।

এ অবস্থায় আমরা শুধু প্রতিশোধের কথা শুনেছি। সরকারি দলের লোকেরা বলছে এখন প্রতিশোধ নিতে হবে। বিরোধীরা বলছে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে তারা প্রতিশোধ নেবে। দুই পক্ষের এই প্রতিশোধ ‍উন্মত্ততা কতো জঘন্য তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের তরফে করা হত্যাযজ্ঞ আর বিরোধীদের বোমা-ককটেলবাজির নিষ্ঠুরতার মধ্যে দৃশ্যমান হতে দেখেছি।

সব মিলিয়ে এখন যা পরিস্থিতি তাতে পরষ্পরকে দোষ দেয়া ও ঘায়েল করাটা মেনে নেয়া যায় না। কে জিতলো বা হারলো তার হিসাব কষে পুলকিত হওয়াটা কোনো সংবেদনশীল মানুষের কাজ হতে পারে না। এখন খুব জরুরি দরকার হলো রিকন্সিলিয়েশন বা সমঝোতার পথটি উন্মোচিত করা। সমঝোতার কাজটি দ্রুত করতে হবে। এখন দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা খুব বেশি দরকারি হয়ে পড়েছে।

আশা করি প্রধানমন্ত্রী শেখ আগামী কাল যে নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন তাতে তিনি পষ্ট করে সমঝোতার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের আশ্বস্ত করবেন। আমি চাই প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতির ব্যাপারে নির্মোহ থাকবেন। নিজের স্বার্থের হিস্যা মাথায় রেখে হলেও তিনি সমঝোতার ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করবেন।

সমঝোতার জন্য শেখ হাসিনার কাছে আমি কিছু প্রস্তাব তুলে ধরছি-

১. দশম সংসদ বসবে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করার জন্য। এ সংক্রান্ত বিল পাশের পরপরই সংসদ ভেঙে যাবে। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা কালকের সংবাদ সম্মেলনে তার ওয়াদার কথা রাখঢাক ছাড়াই জানাবেন।

২. কম সময়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে কতদিন সময় নেবেন প্রধানমন্ত্রী তা পষ্ট করে বলবেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি অবশ্যই বিরোধী দলকে লক্ষ্য করে কোনো দমনাভিযান পরিচালনা করবেন না। তার দলের নেতাকর্মীদেরও এ ব্যাপারে নিবৃত্ত করবেন।

৩. দ্রুত ইনক্লুসিভ নির্বাচনের ওয়াদা করার পর শেখ হাসিনা বিরোধী দলকে অবশ্যই সহিংস আন্দোলন বন্ধ করতে বলবেন। বিরোধী নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দেবেন। যৌথবাহিনীর অভিযান বন্ধ করবেন। গুলি বন্ধ করতে বলবেন। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবেন।

৩. জামায়াত নেতাদের বিচারের বিষয়টিকে প্রতিশোধপরায়ণতার জায়গা থেকে না দেখার ওয়াদা করবেন। স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া ও প্রাপ্য সব মানবাধিকার সংরক্ষণ করে তাদের বিচার স্বাভাবিক গতিতে করতে দেবেন। জামায়াতের নেতাকর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেবেন। তাদের নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। জামায়াতকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যবস্থা করবেন।

সব শেষ কথা হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবশ্যই এটা নিশ্চিত করতে হবে যে তার সরকার নাগরিকদের প্রাণ রক্ষা, সাংবিধানিক নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকারের ব্যাপার যথেষ্ট সংবেদনশীল থাকবে।

শেখ হাসিনা নিশ্চয় এটা বুঝবেন যে এখন খুব জরুরি হলো দেশকে স্থিতিশীল করার করণকর্তব্য পালন করা। এ জন্য নতুন করে দমনাভিযান বন্ধ করতে হবে এবং বিরোধীদেরকে সমঝোতা করতে বাধ্য করতে হবে। এক্ষেত্রে তাকে এটা বুঝতে হবে যে, জামায়াতকে নির্মূল করা স্থিতিশীলতা আনবে না। কাজেই তাকেই ঠিক করতে হবে কিভাবে সবাইকে নিয়ে সমঝোতা করা যায়।

স্থিতিশীলতার বদলে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করলে আমরা মেনে নেব না। সব পক্ষকেই আমরা জবাবদিহি করতে বাধ্য করবো।

পাবলিক কি নিয়ে গুগলে সার্চ করে?

4

শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর জনগণ কি ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে গুগলে সার্চ করে তার নিয়মিত এনালাইসিস হয়। এ থেকে মানুষের সাম্প্রতিক উৎসাহ, উদ্দীপনা, শংকা, আগ্রহ ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যায়।

এই মুহূর্তে  বাংলাদেশীরা কি কি বিষয়ে গুগলে সার্চ করছেন তা জানতে পারলে খুব ভালো হতো। কিন্তু তা জানার উপায় আমার নেই। নুরালদীন ব্লগ খুলা হয়েছিল ৩ মাস আগে। এই তিন মাসে নুরালদীনের পাঠকরা কি কি বিষয় সার্চ দিয়ে নুরালদীনের ওয়েব সাইটে এসেছিলেন, তার একটা তালিকা হাতে পেয়েছি। মন্দের ভালো হিসেবে এই তালিকাটা খারাপ না। 

এই সার্চ তালিকায় এমন কিছু বিচিত্র সার্চ আইটেম ছিল, যা বেশ চমকপ্রদ। কোন কোন সার্চ ওয়ার্ড কেন নুরালদীনের ওয়েবসাইট খুঁজে পেয়েছে তাও আমার অজানা। যাহোক, পাঠকদের পড়ার সুবিধার জন্যে সার্চ আইটেমগুলোকে কয়েকটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিচে তুলে দেয়া হলো। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্যে আমার ব্যাক্তিগত পছন্দের উইনার ও রানার্স-আপ ঘোষণা করে দিলাম। আপনাদের পছন্দের গুলো কমেন্টসে জানাতে পারেন। আঠারো প্লাস আইটেমগুলো সব শেষ আকর্ষন হিসেবে নিচের দিকে দেয়া হলো।

—————————–
রাজনইতিকঃ এই কেটাগরিতে সরকার বিরোধিতা, সাম্প্রতিক ইসু, ইত্য়াদি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।
——————————

আওয়ামীলিগ এর বিরুদ্ধে লিখা
এমপির রক্ষিতা
জামাতের ভুল
awami league terrorism picture against another party
গীতা রানী শেখহাসিনা
নির্বাচন এর পরে যুদ্ধাপরাধ এর ফাসি
সেনা শাসনের আভাস
সামরিক হস্তক্ষেপের
আওয়ামী লীগ সত্যিই অনেক বেশী বেশী করতেছে (Winner)
ম্যাডাম বের না হলে
বর্তমান অবস্থানে খালেদার আচরন
হায়রে গণতন্ত্রের লড়াই (Runners-Up)
দাদাগিরি
গোলাম মাওলা রনির নির্বাচিত কলাম
গোপালগঞ্জ জেলা উঠে যাবে
এই বছরের নির্বাচিত হাস্যকর রাজনৈতিক উক্তি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে “র” ও ভারত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে “র”
late pri mister ziaur rahman
কসাই কাদের
আওয়ামী লীগের মন্দির তৈরি ৫ বছরের তালিকা
চুপ থাকো, বেয়াদব কোথাকার video youtube khaleda zia

————————————–
ঐতিহাসিকঃ এই ক্যাটাগরিতে সিকিম ও সিকিমের লেন্ডুপ দর্জি সম্পর্কে মানুষের মাত্রাতিক্ত জানার আগ্রহ দেখা গেছে।
————————————–

মুক্তিযুদ্ধে জামাতের ভুমিকা
৭১ বনাম ২০১৩
pilkhana tragedy shocking pics
ভারত ১৯৭১ সালে কী বাংলাদেশের সম্পদ লুঠ করেছিল? (Runners-Up)
সিকিম ও চীন
বসনিয়ার ইতিহাস
ভারত
লেন্দুপ দোরজি’র ইতিহাস
casandra moment
বাংলাদেশ 1971 ইতিহাস
bangladesh rifles mutiny pictures
দর্জি সিকিম
in pilkhana tragedy how many were raped
শেখ মুজিব বামপন্থি
সিকিম বিভ্রান্তি
1971 মুসলিম মেয়ে ধর্ষন
সিকিম অসম্ভব
বাংলাদেশ সিকিম হবে না (Winner)
মিলিটারিদের বেতন
সিকিম দর্জি

———————
সামাজিকঃ
———————

দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে কিশোরদের অবদান
চালেন ২৪ সংবাদ পাঠকের বেতন
want to know about anjan roy tv conductor bangladesh
আবাসিক হোটেল কতটা নিরাপদ
বাংলাদেশের 2013- এর j.s.c ফলাফল দেহা
ধুমপান থেকে মুক্তি পেতে
কিভাবে বাড়িতে খেলনা হেলিকপ্টার তৈরী করা যায় (Runners-Up)
ইসলামিক sms
শীত কালে গরিবদের কস্ট নিয়ে কবিতা
লোকের উচ্চতার পেছনে কারন কী
সেবা দাসী
এ বছরটা আমার ভালো গেলনা
কত দুঃখে যে একটা বছর চলে গেল পোস্ট
এক মাইয়ার স্ট্যাটাস
আলেম পরীক্ষার পর কী করব
বুদ্ধিমান হওয়ার কৌশল
ফেন্সিডিল কি দিয়ে তৈরি হই
একটি মহিলার রাক্ষসের বাচ্চা হয়েছে তার ফটো চাই (Winner)
ঠোট ঝুলে গেলে কি করা উচিত
মেয়ে হওয়ায় দোষ কি
ইসলামে লিঙ্গের চুল কাটা

———————–
আঠারো প্লাসঃ
———————–

বাংলা নতুন চটি গল্পের তালিকা 2013
শাহাবাগি উলঙ্গ ছেলে মেয়ের ছবি (Winner)
বাংলার হট মাল
নাটোরের মেয়ে
পাতলা শাড়ী পড়া মেয়েদের ছবি
হোল এর সাইজ কত হওয়া উচিত ?
জামাই শাশুরী চটি
দেশি মেয়েদের বর দুত
কীভাবে আমার বাড়া বড় করব
নগ্নতা
যৌনাঙ্গ মুখে নেওয়া কি জায়েজ আছে
প্রথমে ধর্ষণ করেছিলাম
নগ্ন chobi keno
গ্রামের মেয়েদের নগ্ন ছবি
কাপড় ছাড়া female
বাবার আমেরিকান বন্ধু জোর করে মায়ের ইজ্জত নষ্ট করে দিল
মিলার খারাপ ছবি ও দৃশ্য
bangladeshi meyeder sex vabna 18
ষাটের দশকে মেয়ে সিগারেট
থার্টি ফার্স্ট নাইটের নগ্নতা
ঢাকার সুন্দরী মাগিদের নগ্ন ছবি
ইউরোপে নগ্ন মেয়ে
opu ukil awami hot picture (Runners-Up)
হিন্দু মেয়ে ধর্ষণ চটি গল্প
http://www.bd army ledy offcers.com
নেত্রিদের নগ্ন ছবি

সাম্বাদিক বাপু, তুহারা পেরেস কিলাবে…

সাম্বাদিক বাপু, তুহারা পেরেস কিলাবে বসিয়া মদ গিলিবেক, জুয়া খেলিবেক কিন্তু তুহারা রাজনীতি করিবেক নাই রে বাপু রাজনীতি করিবেক না …রাজনীতি বহুত গান্ধা জিনিস রে বাপু বহুত গান্ধা জিনিস …

সাম্বাদিক বাপু, তুহারা পেরেস কিলাবে বসিয়া ধান্দা করিবেক, নেতা’গো চামচামি করিবেক, একদল আরেকদলের ফুটায় আঙ্গুল চালাইবেক কিন্তু তুহারা রাজনীতি করিবেক নাই রে বাপু রাজনীতি করিবেক না …রাজনীইতি বহুত গান্ধা জিনিস রে বাপু বহুত গান্ধা জিনিস ..

সাম্বাদিক বাপু, তুহারা পেরেস কিলাবে বসিয়া পেয়ার মহব্বত ইশক করিবেক, পরকিয়া করিবেক, গিরিঙ্গি চাল চালিবেক কিন্তু তুহারা রাজনীতি করিবেক নাই রে বাপু রাজনীতি করিবেক না …রাজনীতি বহুত গান্ধা জিনিস রে বাপু বহুত গান্ধা জিনিস …

সাম্বাদিক বাপু, তুহারা একবাল সুবহান বাপুর মতন সাফ সুতরা মানুষ রে বাপু, তুহারা রাজনীতির মতন গান্ধা কাজ করিবিক কেনু!! তুহারা একবাল সুবহান বাপুর মতন সাফ সুতরা হয়া পেরেস কিলাবে বসিয়া যা খুসি তাই করিবিক কিন্তু তুহারা রাজনীতি করিবেক নাই রে বাপু রাজনীতি করিবেক না …রাজনীতি বহুত গান্ধা জিনিস রে বাপু বহুত গান্ধা জিনিস …

বেগম খালেদা জিয়া শহীদ জিয়ার রাজনীতি অনুসরণ করুন

খোমেনী ইহসান: 

বাংলাদেশ সিকিম নয়। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া একটি দেশ। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ শুধু ঔপনিবেশিক পাকিস্তানকে পরাস্ত করেনি, ভারতকেও হারিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে বাংলাদেশতে নিয়ে অনেক কুবাসনাই করেছিল ভারত। এজন্য মুক্তি বাহিনীর বাইরে মুজিব বাহিনীর মতো একটি স্বশস্ত্র গ্রুপেরও জন্ম দিয়েছিল তারা। যেই বাহিনীকে ভারত সামরিক ও রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, যেন তারা ৭১ এর পরেও পাঁচটি বছর ভারতের হয়ে বাংলাদেশে সক্রিয় থাকে।

কিন্তু বাংলাদেশের মু্ক্তিযুদ্ধের রিয়েল ফাইটারদের কারণে এটা সম্ভব হয়নি। মুজিব বাহিনীকে ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধারা, যারা বেশির ভাগই ভারতে আশ্রয় বা প্রশিক্ষণ নেননি এবং দেশটির মতাদর্শিক দীক্ষা নেননি, সফল হয়েছিল। তারাই সম্মুখ সমরে পাকিস্তানী হানাদারদের একের পর এক পরাজয় ছুঁড়ে দিয়েছিলেন।

খোদ ভারতে যাওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের বেশির ভাগও ভারতীয় রাজনীতির গুটি হননি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়লে আমরা দেখতে পাই প্রবাসী সরকারের বেশির ভাগ সদস্য ভারতের ভূমিকার ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকে যেন ভারত নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে দখলে নিতে না পারে এজন্য তাদের সচেতনতা ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের।

আমরা দেখেছি ভারতের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার স্বীকার করেও কিভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভারতীয় আধিপত্য এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। শেখ মুজিব তাই ২৫ মার্চ রাতে ভারতে পালিয়ে না গিয়ে গ্রেফতার হয়ে পাকিস্তানে নীত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়েল পর পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি প্রথমে লন্ডনে গেছেন। পরে ভারতে গেছেন। সেক্যুলার রাষ্ট্র পরিগঠনের পরেও তিনি মুসলিম দেশগুলোর সাথে দ্রুত সম্পর্ক তৈরি করেছেন। এমনকি ১৯৭১ এর গণহত্যার অন্যতম খলনায়ক ভুট্টোকে বুকে টেনে নিয়েছেন। লালগালিচা সম্বর্ধনা দিয়েছেন।

আমরা ভুলে যাই যে শেখ মুজিব স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বিমানবন্দরে দাড়িয়েই ভারতকে বলেছেন তার সৈন্য-সামন্ত ফিরিয়ে নিতে। অথচ ভারত চেয়েছিল অনেক বছরের জন্য সৈন্য মোতায়েন রাখতে। ভারত বাংলাদেশের সিভিল প্রশাসনেও নিজস্ব লোক বসাতে চেয়েছিল। এমনকি অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থাও চেয়েছিল। বুড়ো-বুড়িরা নিশ্চয় মনে করতে পারবেন যে স্বাধীনতার পর কিছু দিন ভারতীয় মুদ্রা চলেছিলও বটে।

ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত টানতে পারি যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কখনোই ভারতের ব্যাপার অসতর্ক ছিলোনা। তারা ভারতের সহযোগিতা নিলেও বাংলাদেশের স্বাধীন সত্ত্বা কায়েমের প্রতি জোর দিয়েছেন। তবে স্বাধীনতাকে পুঁজি করে একটি দল, গোষ্ঠী ও শ্রেণীর ক্ষমতা লিপ্সা চরিতার্থ হওয়ার কারণে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিগঠন হয়নি, যার ফলে বাংলাদেশের স্বাধীন সত্ত্বা পুরোপুরি বিকশিত হতে পারেনি।

কিন্তু আমি অন্য একটি জায়গা ফোকাস করতে চাই। বিশ্ব বাস্তবতা ও নিজস্ব সক্ষমতার প্রশ্নে ভারত ১৯৭১ এ বাংলাদেশকে দখল করে নেয়নি এটি সত্য। কিন্তু ভারত যদি চাইতো তবে কি এটি অসম্ভব ছিলো? ভারত কি কিছু দিনের জন্য, কয়েক মাস বা বছরের জন্যও এটা পারতো না?

আমি মনে করি বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব বেশি জানে ভারত। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে সবচেয়ে ভালো জানে বলেই ১৯৭১ সালে এদেশকে বাগে পেয়েও দখলের সাহস করেনি। কুবাসনা তাদের মধ্যে থাকতেই পারে। কিন্তু সাহস দৃশ্যমান করেনি, এটাই বাস্তবতা।

কেন দখল করেনি ভারত? তারা জানে বাংলাদেশকে দখল করলে খবর আছে। মানে ১৯৪৭ এর সীমানা মুছে দিলে বাংলাদেশীরা সাবেক সুবে বাংলা এবং অরুনাচল ও সেভেন সিস্টার নিয়ে আবার স্বাধীন হওয়ার জন্য সংগ্রাম করে দেবে বলে ভারতের একটা সন্দেহ আছে।

বৃটিশ উপনিবেশ ও পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের জনগণ কী আচরণ করেছে এটা তো ভারত দেখেছে। ভারত ভালো করেই জানে যে ভারতবর্ষের অন্য জায়গার লোকেরা যখন ইংরেজদের গোলামি করাকে নিয়তি মেনে নিয়েছিল তখনও সুবে বাংলার মানুষেরা লড়াই করেছিল। ১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ পর্যন্ত বৃটিশের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র সংগ্রাম চলেছে। ভারতবর্ষের অন্য এলাকার মানুষেরা ইংরেজি শিখেছে, মদ খেয়েছে, ফর্সা মেয়েদের সাথে শুয়েছে। কিন্তু হাতে গোণা কিছু উচ্চ বর্নের হিন্দু-মুসলমান ছাড়া অন্যরা এসব করেনি।

অনেককেই দেখি বদরাজনীতি করতে গিয়ে ইতিহাস-নৃতত্ত্বও গুড়িয়ে দিতে চান। সুবে বাংলার বিশেষ করে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের ইতিহাসও বৃটিশের দালালির ইতিহাস নয়। ফকিরদের সময় থেকেই তারা লড়াই করেছে। এই যে পাকিস্তান হয়েছে তার পক্ষেও তারা লড়াই করেছে। দুই পাঞ্জাবের স্থানান্তর আর পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার স্থানান্তর সম্পর্কে খোঁজ নিলেই বুঝা যাবে এখানকার হিন্দুরা মাতৃভূমির সাথে কিভাবে সম্পর্কিত।

যাই হোক বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের এখনো আতঙ্ক আছে। তাই তারা বাংলাদেশ দখল করতে চায় না। তারা ভালো করেই জানে বাংলাদেশ সিকিম, আসাম-ত্রিপুরা, কাশ্মীর বা আহমেদাবাদ নয়। এই সব দেশের স্বাধীন সত্ত্বা, তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, স্বাধীনতা টেকানোর সক্ষমতা ও জনগণের রাজনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশের মতো ছিলো না। এই সব দেশের ভারতের সাথে মিশে যাওয়ার কিছু বাস্তবতাও ছিল।

আর বাংলাদেশ মানে বাংলাদেশ। এটি এমন একটি দেশ যার স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস আছে। পৃথিবীর আর কোনো দেশের বিজয় দিবস নেই।

আমি বলছি না যে ভারত বাংলাদেশকে সকাল বিকাল চুমো খেতে চায়। বলছি না যে, ভারত প্রতিনিয়ত সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশের জনগণকে হত্যা করে না। আন্তর্জাতিক নদীতে ফারাক্কাসহ অন্যান্য বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করছে না। ফেন্সিডিল ও চোরাচালান দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষতি করছে না। বাংলাদেশের মেয়েদেরকে ভারতীয় ব্রোথেলগুলোতে পাচার করছে না। অন্তর্ঘাতমূলক নানা কর্মকাণ্ড করছে না।

আমি এই সব ঘটনাঘটন স্বীকার করেও বলছি যে ভারত অবশ্যই বাংলাদেশকে দখল করতে চেষ্টা করছে না। তাহলে ভারত কী করছে? তারা এমন কিছু করছে যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অস্বাভাবিক ও অস্বীকৃত নয়। ভারত অবশ্যই বাংলাদেশে আধিপত্য করছে।

বাংলাদেশে ভারত নিজেদের নিয়ন্ত্রণন কায়েম করতে চায়। এজন্য তারা এখানে বশংবাদ সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে চায়। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পদে নিজের নাগরিকদের, নিদেনেপক্ষে ভারতীয় দালালদের বসাতে চায়। বাংলাদেশের গণমাধ্যম, সংস্কৃতি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা ও পুলিশিংয়ে ভারত আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। আরো অনেক কিছু চায় এবং তার জন্য ভারত কাজ করে।

ভারতের এই আচরণকে আমরা স্বাভাবিক ও স্বীকৃতি ব্যাপারই মনে করি। কারণ এটি দুনিয়ার সব শক্তিশালী দেশ তার দুর্বল প্রতিবেশীর সাথে করে থাকে। আমাদের কাছে বিষয়টি পষ্ট হবে যদি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিাকোর, সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবেক রাষ্ট্রগুলোর সাথে রাশিয়ার, সিরিয়ার সাথে লেবাননের, সৌদির সাথে বাহরাইন ও ইয়েমেনের, কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার সাথে পাশের দেশগুলানের সম্পর্ককে বিচার করে দেখি।

এখন কথা হচ্ছে রাজনীতি করতে চাইলে তো কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। সব দুর্বল দেশেই হায় হায় করার রাজনীতি আছে। সিকিম টাইপের সিনড্রোম আছে। কিন্তু প্রতিবেশী শক্তির আধিপত্য যদি খর্ব করতে হয় তবে হায় হায় করার কিছু নাই। সিকিমের জিগির তোলারও প্রয়োজন নাই। কিভাবে, কোথায়, কেন আধিপত্য তৈরি হচ্ছে কিভাবে হচ্ছে তাকে বুঝে ঠিক কাজটি করাই দরকারি।

ঠিক কাজ হলো দুর্বলতা কাটিয়ে উঠা। সক্ষমতা অর্জন করা। সমৃদ্ধি অর্জন করা। কেন আমার দেশের মানুষ প্রতিবেশী দেশের দালালি করছে, তার কারণ খুঁজে সমাধান দেওয়া। কেন ৫৮ সিট পাওয়া বিরোধী দলটি বাধ্য হয়ে ভারতের বশংবদ হয়ে গেছে তার জন্য কার কতখানি দায়-দায়িত্ব আছে তার প্রতিকার করা।

ঠিক কাজটি না করে শুধু শুধ কথা খরচ করলে কী লাভ হবে যে ভারত বাংলাদেশের সব কিছুর মালিকহয়ে গেছে? কী লাভ এ কথা বলায় যে সেনাবাহিনীতের র’র পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলছে? কী লাভ এ কথা বলায় যে গণভবন পাহাড়া দিচ্ছে ভারতীয় অফিসাররা? কী লাভ এ কথা বলায় যে বাংলাদেশে কে ক্ষমতায় বসবে, না আসবে তার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দিল্লীর সাউথ ব্লক?

আমি মনে করি প্রতিবেশী দেশ সব নিয়ে গেল, নিয়ে গেল বলে চিৎকার করাটা প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি। বাংলাদেশে এই রাজনীতির কোনো সফলতা নাই। বরং এই রাজনীতি আত্মঘাতী।

১৯৭১ এও ভারতকে নিয়ে বাড়বাড়ন্ত ভীতি ছড়ানো হয়েছিল। যেই ভীতির চোটে জামায়াত-মুসলিম লীগ আত্মহত্যা করেছে। ভারতের ব্যাপারে তাদের সতর্কতা ঠিক থাকলেও একে ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা, হানাদারকে সমর্থক হওয়াটা ভালো কোনো ব্যাপার নয়।

যাই হোক বাংলাদেশের পরিণতি সিকিমের মতো হচ্ছে মনে করে খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার দরকার নাই। আতঙ্কের রাজনীতির বদলে তার উচিত সাহসের রাজনীতি করা। দেশ দখল হয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করার বদলে তার উচিত জিয়ার মতো ভাবা কিভাবে দেশকে গড়ে তোলা যায়, কিভাবে প্রতিযোগীকেও টেনশনে রাখা যায়।

বেগম খালেদা জিয়া, আপনি জিয়ার রাজনীতি করেননি। এবং করছেন না। দেশ ভারত দখল করবে মনে করে অপশক্তির রাজনৈতিক মতাদর্শের ফাঁদে পড়া আর দেশকে স্বাধীন করতে জিয়ার মতো এগিয়ে যাওয়া এক ব্যাপার নয়।

আপনার কাছে অনেক যোগ্য লোক, সাহসী ও সৃজনশীল এক সমর্থক বাহিনী আছে। তাদের নিয়ে আপনি রাজনীতি পুনর্গঠন করুন। প্রতিষ্ঠান গড়ুন। যারা সৃজনশীল তাদের কাজের সুযোগ দিন। যারা এখন আপনাকে ভুল রাজনীতি করিয়ে অসহায় করে তুলছে তাদের তাড়িয়ে দিন। তারা আপনাকে ব্যবহার করছে, নিরাপদে থেকে ব্যবহার করছে, কিন্তু আপনার বিপদের সময়ে পাশে দাড়াচ্ছে না।

খালেদা জিয়ার বক্তব্য

2

খোমেনী ইহসান:
খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তাকে অনেকে বিকৃত করছে। যারা এটা করছে, তারা আসলে স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানাচ্ছেন। এদের চরিত্র সম্পর্কে মানুষ হুঁশিয়ার হোক। মুর্খরা কথা বিকৃত করে নিজেদের বিদ্যা ফলাতে চায়। নাহলে বুঝতো যে তাদের মানুষ কতখানি প্রত্যাখ্যান করে। 

সরকারের প্রতি বক্তব্য  

‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে না দেয়ায় খালেদা জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনা রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিচ্ছেন। এই রক্তের গঙ্গার ওপর দিয়ে তিনি তার নৌকায় চড়ে ক্ষমতায় বসবেন। এই আশা দুরাশা। সেটা ভুলে যেতে বলেন। দেখবো কতদিন আটকে রাখতে পারেন। কর্মসূচি চলবে যতদিন এ রকম করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ভুলে যাইনি সেই দিনগুলোর কথা। আজকে সারা দেশকে কি অবস্থা করে রেখেছেন। সাহস থাকলে ছেড়ে দিতেন। দেখতেন যে কিভাবে জনগণ রাস্তায় নেমে আসে। মা-বোন, ভাই, কৃষক-শ্রমিক, মেহনতি জনতা, ছাত্র-যুবক সব বেরিয়ে আসতো আজকে।

আপনারা জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছেন। দেশের প্রতিটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছেন। এই সরকারই না বলেছিল, খালেদা জিয়া বের হোক রাস্তায়? আজকে আমি রাজপথে যেতে চাই। কেন বাধা দিচ্ছেন? তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তাদের তো রাজপথে নামার সাহস নেই। দুনিয়ার সিকিউরিটি নিয়ে চলেন, আর মানুষ মারেন। মানুষ গুম করেন। মানুষ খুন করেন। সারা দুনিয়া জেনে গেছে যে হাসিনা কত মানুষ খুন করেছে। কত মানুষ গুম করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব বাহিনী। কাজেই, আজকে না হলে কালকে হবে এই অবস্থান। কালকে আমাদের মিছিল হবে। বন্ধ করুন আপনারা, আমরাও দেখবো। আর কত মানুষ মারবেন? তা-ও দেখবো। এর আগেও তো মেরেছেন। তার পিতা ক্ষমতায় থেকে ৩০ হাজার লোক মেরেছেন। আর এখন আরও মারছেন। মারেন।

এর পরিণতি যে শুভ হবে না- তা তারা বুঝেছেন। জনগণ দেখেছে। এর পরিণতি শুভ হয় না। এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও কঠিন। জবাবদিহি করার জন্য প্রস্তুত থাকেন। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আইনজীবীদের ওপর আক্রমণ করেন, গ্রেপ্তার করেন, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন, মা-বোনদের ওপর নির্যাতন করছেন। আপনি না (প্রধানমন্ত্রী) মহিলা। আপনার মহিলাদের প্রতি এতটুকু সম্মান নেই। এতটুকু দরদ নেই। যে, আমরা মহিলাদের অন্তত সম্মানটা রক্ষা করি। সেটাতো আপনারা করেন না। কি আচরণ করেছেন?

অথচ আমাদের সময় ১৭৪ দিন আপনারা হরতাল করেছেন। অবরোধ করেছেন। নানা রকম বিশৃঙ্খলা করেছেন। লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ মেরেছেন। একটা গুলিও আমি চালাইনি। দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি দরদ আছে আমাদের। মায়া আছে। সেজন্যই আমরা জনগণকে গুলি করে হত্যা করতে পারি না। কিন্তু আপনারা যেভাবে নৃশংসভাবে গুলি করছেন, হত্যা করছেন। তার জবাবদিহি করতে হবে। তার জবাব আপনাদেরকে দিতে হবে। এই রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে নৌকা তার গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে না। আজকে রক্তের সাগরে নৌকায় করে উনি হাওয়া খেতে যাচ্ছেন। দেখতে পাবেন ক’দিন পরেই তার পরিণতি।

এই সমাবেশ আজকে হয়নি। আবার কালকে করবো। দেখবো, আপনারা আসেন, বসে থাকেন গেটের কাছে। ঠিক আছে। প্রতিদিন আমিও একই কাজই করবো। চলুক কতদিন চলে। আপনি মনে করেছেন কি? দেশটা কি আপনাদের একার? পৈতৃক সম্পত্তি হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের- যে গুণ্ডা বাহিনী দিয়ে আমাদের সমাবেশ বন্ধ করতে চায়, পুলিশ বাহিনী দিয়ে সমাবেশ বন্ধ করতে চায়? সাহস থাকলে কাউন্টার প্রোগ্রাম করে দেখাতেন। সাহস নেই। ১০টা লোকও আসে না। ভাড়াটিয়া লোক আনে। ডিসি-এসপিদের দিয়ে লোক আনায়। বুঝি এটা আমরা। না হলে এমন করুণ পরিণতি হয়? ১৫৪টা আসন আনকনটেস্টেড হয়ে যায়? আর বাকি রয়েছে কি? বাকিগুলোও করে ফেলবেন। ওটা কোন ইলেকশন নয়। এটা যে সিলেকশন হয়েছে তা আজকে জাতির কাছে পরিষ্কার। দেশের মানুষের কাছে পরিষ্কার। তাই মানুষ আজকে ধিক্কার দিচ্ছে। ধিক্কার দেই আমরা এই সরকারকে।

পুলিশের প্রতি বক্তব্য 
পুলিশকে লক্ষ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, কি করছেন? আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। আপনারা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু আমি মনে করি যে, দায়িত্বটা সুন্দরভাবে পালন করুন। সম্মানের সঙ্গে থাকুন যেন আমরাও কাজ করতে পারি। আপনারাও কাজ করতে পারেন। আপনারা পুলিশ বাহিনী। কিন্তু এটা তো ঠিক নয় যে, আমাকে আমার বাড়ি থেকে বের হতে দেবেন না। এটা তো ঠিক নয়। এখানে আপনাদের যে অফিসার ছিল, সে গেল কোথায়। তার সঙ্গে তো আমি কথা বলতে চেয়েছি। সে কোথায়? কেন আমার পথ আটকিয়েছে? কেন সে আসছে না এখন সামনে? এতক্ষণ তো অনেক কথা বললেন। এখন মুখটা বন্ধ কেন? এই যে মহিলা। আপনার মুখটা এখন বন্ধ কেন? বলেন তো কি বলছিলেন এতক্ষণ ধরে। মুখটা বন্ধ কেন এখন? দেশ কোথায়? গোপালী? গোপালগঞ্জ জেলার নামই বদলে যাবে বুঝেছেন? গোপালগঞ্জ আর থাকবে না।

সরকারের প্রতি বক্তব্য 

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, আল্লার গজব পড়বে, আপনারা যা শুরু করে দিয়েছেন। কতগুলো আলেমকে হত্যা করেছেন। এতিমকে হত্যা করেছেন। কতগুলো বিডিআর অফিসারকে হত্যা করেছেন। সেদিন কোথায় ছিল হাসিনা? এতগুলো অফিসারকে মারলো। ৫৭ জন অফিসার হত্যা করলো। সেদিন হাসিনার এ ফোর্স কোথায় ছিল? কেন সে পাঠায়নি। আসলে তো সে নিজেই জড়িত ছিল বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে। সেজন্যই আজকে, নতুন নতুন অনেক অপরিচিত চেহারা দেখা যায়। যাদেরকে চেনা যায় না যে, তারা আসলেই বাংলাদেশী কিনা। বাংলাদেশের আজকের যে কর্মসূচি ছিল, আপনারা যদি দেশকে ভালবাসতেন, তাহলে আজকে ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মার্চ ফর ডেমোক্রেসি ছিল আমাদের কর্মসূচি। আপনারা গণতন্ত্রও চাবেন না, দেশ রক্ষা করতেও দেবেন না। গোলামি করবেন? দালালি করবেন? এই গোলাম তো রাখবে না। লেন্দুপ দোরজি’র ইতিহাসটা পড়ে দেখুন। সেও কিন্তু টেকেনি বেশিদিন। তাকেও বিদায় দিয়েছে এত দালালি করে, দেশ বিক্রি করে। কাজেই এই দেশ বিক্রি চলবে না। দেশ রক্ষা হবেই ইনশাআল্লাহ।

পুলিশের প্রতি বক্তব্য 

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, হাসিনার দালালি করে লাভ হবে না। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে থাকুন। জনগণের সঙ্গে থাকুন। দেশের মানুষের সঙ্গে থাকুন। তবেই কাজে দেবে। দেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে। আজকে সবার দায়িত্ব হয়ে গেছে দেশ বাঁচানোর। মানুষ বাঁচানোর। আর আপনারা ঘরে ঢুকে এখন মানুষ হত্যা করছেন। মনে করেন যে, এগুলোর হিসাব নেই? এই মা-বোনের কান্না। এই আলেমে দ্বীনের কান্না, বিডিআর অফিসারদের স্ত্রীদের কান্না এগুলো কি বৃথা যাবে? এগুলো কোনও দিনই বৃথা যাবে না। আজকে যারা এই জুলুম-নির্যাতন করছেন তাদেরকেও এদের মতো একদিন চোখের পানি ফেলতে ফেলতে চোখ বন্ধ হয়ে যাবে। এখনও সময় আছে।
এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। তখন তাদেরকে বিরোধী নেত্রী বলেন, ধাক্কাধাক্কি বন্ধ করুন। আমরা কোন ধাক্কাধাক্কি করতে আসিনি। আমি বলছি, আপনারা চাকরি করেন, চাকরি করবেন। কিন্তু এ রকম আমাদের গায়ের উপরে উঠে পড়বেন না। দূরে থাকুন। আপনাদের জায়গা যেখানে সেখানে থাকুন। আজ আপনাদের তো রাস্তার উপর থাকার কথা। আপনারা বাড়ির মধ্যে এসে গেছেন কেন? আপনাদের মেয়েরা এত ঝগড়া করে কেন? উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আরও বলেন, এই মেয়েরা। চুপ করো। ক’দিনের চাকরি হয়েছে যে, এত কথা বলো? কিসের জন্য এত কথা বলো? চুপ থাকো। বেয়াদব কোথাকার। আপনার অফিসার কোথায় গেল? আসলো না? তাদের বলবেন, আমার সঙ্গে দেখা করতে। আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাই। বুঝেছেন? কি বোঝেননি কথাটা। এটা তো বাংলাভাষা। নাকি অন্য কোন ভাষায় বলতে হবে আপনাদেরকে। বুঝেছেন? সেই অফিসার কোথায়? তাকে আমার সঙ্গে দেখা করতে বলবেন।’

Where Are We Heading?

1

By Sabuz Khan

Since the 1947’s India-Pakistan separation – West Pakistan imposed Urdu as the official language of East Pakistan and proposed to write Bengali in Arabic scripts. Fuelling outrage amongst the people, where the majority (54%) speaks in Bengali, leading to a country-wide Language Movement outcry and criticism. Pakistan finally decided to recognise Bangla as the second official language in 1956, followed by the major protest in 1952. The thought of having an independent country has started since then.

What a wonderful language. Many have given lives; you’re familiar with some of them. Now we speak Bengali (some speaks Hingli*) – and proudly celebrate 21st February every year.

CHANGE IN STATE OF PLAY!
India is a passing craze! Indian TV channels are getting increasingly popular in Bangladesh, influencing the country’s culture and lifestyles. Bangladesh pays hefty annual subscription fees of appx. BDT 1,706,532,410, whereas Bangla channels are banned in India.

Bollywood songs are played in Bangla serials & movies, including the concerts paying tribute to the national events days. People happily use Hindi terms/words in their daily conversations and Social Medias. Non-resident Bangladeshis’ shamelessly speaks in Hindi/Urdu. National politics itself is far involved with India, than any time before!

The idea is pathetic. We have given lives to earn our independence from one country – now handing over ourselves to another.

কাদের মোল্লা, কসাই কাদের ও কিছু প্রশ্ন

3

by অগ্নি বীনা :

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বহুল আলোচিত বিষয় কাদের মোল্লার ফাঁসি। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর যুদ্ধাপরাধের বিচারের মতো সংবেদনশীল একটি বিষয় এর সাথে জড়িত থাকায় আলোচনার ব্যপ্তি ছিল বিচার প্রক্রিয়া, রায়, প্রতিক্রিয়া হিসেবে শাহবাগের গণজাগরণ, আইন সংশোধন, রায় পরিবর্তন, এবং শেষপর্যন্ত ফাঁসি নিয়ে। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফাঁসির মধ্য দিয়েই ঘটনার যবনিকাপাত ঘটেনি। উঠে এসেছে নতুন কিছু প্রশ্ন।

 কাদের মোল্লার বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মূলতঃ দুটি বিষয়ে –

  •  বিচার প্রক্রিয়ায় আপাতঃ অনিয়ম, অন্যায্যতা, বা আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় ব্যর্থতা
  •  কাদের মোল্লার পরিচয় সংক্রান্ত জটিলতা

প্রথম ইস্যুটি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে বিস্তর। এর মধ্যে সাংবাদিক David Bergman এর ব্লগ http://bangladeshwarcrimes.blogspot.com/ উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে প্রমাণে জটিলতার কারণে দ্বিতীয় ইস্যুটিতে আলোচনা কম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে রয়েছে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অভিযুক্তের সংশ্লিষ্ট অপরাধে নিজেকে নির্দোষ দাবি করা যা প্রতীয়মান হয় জেল থেকে সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনিকে লেখা চিরকুট বা ফাঁসির পূর্বে স্ত্রীকে লেখা শেষ চিঠি থেকে। এ থেকে প্রশ্ন জাগে অভিযুক্ত কাদের মোল্লা এবং যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কুখ্যাত মিরপুরের কসাই কাদের একই ব্যক্তি কিনা।

১/ জবানবন্দি

 আদালতে প্রদত্ত জবানবন্দি অনুযায়ী, ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামের মরহুম সানাউল্লা মোল্লার ছেলে আবদুল কাদের মোল্লা ১৯৪৮ সালের ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে আমিরাবাদ ফজলুল হোক ইন্সটিটিউশন থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৬৬ সালে রাজেন্দ্র কলেজে বিএসসি প্রথম বর্ষে পড়ার সময় ছাত্র ইউনিয়ন ছেড়ে ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগদান করেন। ১৯৬৮ সালে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন কাদের মোল্লা। তিনি শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। জবানবন্দি অনুসারে ১৯৭১ এ পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্সের শেষবর্ষের ছাত্র থাকাকালীন ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগীয় চেয়ারম্যান ডঃ ইন্নাস আলীর পরামর্শমতো  ১১ই মার্চ তিনি গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আমিরাবাদে ফিরে যান এবং ধলা মিয়া পীর সাহেবের বাড়িতে আশ্রয় পান। পীর সাহেবের আনুকূল্যে তিনি তদস্থ চৌদ্দরশি বাজারে ব্যবসা করতেন পীর সাহেবের দোকানঘরে বসে। ঐ সময়ে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন আওয়ামী লীগের প্রাদেশিক পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন এবং সদরপুর পুলিশ স্টেশনের চেয়ারম্যান শাহজাহান তালুকদারের সঙ্গে। জবানবন্দি অনুযায়ী স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবের শাসনকালেই ১৯৭২ সালের শেষদিকে তিনি ঢাকা ফিরে আসেন, কিন্তু পড়াশোনায় দীর্ঘ বিচ্ছেদের কারণে পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করতে ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় ১৯৭৪ সনে শহীদুল্লাহ হলে থাকা অবস্থায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে ডিপ্লোমা ইন এডুকেশনে ভর্তি হন এবং ১৯৭৫ এ ঐ বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন সহ ডিপ্লোমা শেষ করেন। ১৯৭৪-৭৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত উদয়ন স্কুলে শিক্ষকতাও করেন। ১৯৭৭ সালে একই ডিপার্টমেন্ট থেকে এডুকেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স শেষ করেন এবং পরবর্তীতে ঢাকা রাইফেলস পাবলিক স্কুলে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। ২০০৭ সালে মামলার আগ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দেশের কোথাও কোন মামলা বা সাধারণ ডায়েরি দাখিল করা হয়নি।

২/ সহপাঠীর বক্তব্য

 সম্প্রতি কাদের মোল্লার এক সহপাঠী ডঃ মোজাম্মেল খানের লিখিত একটি নিবন্ধ ইন্টারনেটে শেয়ার করা হচ্ছে যার মূল বক্তব্য হোল কাদের মোল্লা মুক্তিযুদ্ধের আগেই ইসলামী ছাত্র সংঘের সাথে জড়িত ছিলেন, তা দেখানো। এ বক্তব্যটি অবশ্য কাদের মোল্লার জবানবন্দির সাথে সাংঘর্ষিক নয় যেহেতু তিনি নিজেও তা উল্লেখ করেছেন। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে লেখক বলতে পেরেছেন –

  • কাদের মোল্লা তার রাজেন্দ্র কলেজের ১৯৬৪-১৯৬৬ এইচএসসি ব্যাচের সহপাঠী ও হাউজমেট ছিলেন।
  • ১৯৬৬ সালে লেখকের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাওয়া এবং কাদের মোল্লার ফরিদপুরেই থেকে যাবার পর অভিযুক্তের সাথে তাঁর ফের দেখা হয় ১৯৭৯ সালে – তাঁদের কথোপকথনে প্রতীয়মান হয় লেখক জয় বাংলা পন্থী এবং কাদের মোল্লা জিন্দাবাদ পন্থী ছিলেন।

বাকি সব আর্গুমেন্ট শোনা কথার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং দুই-দুই এ চার মেলানো।

  • লেখক কাদের মোল্লার পরিবারকেই কোট করছেন যে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। লেখক ধরে নিয়েছেন ৭২-৭৫ সে আত্মগোপনে ছিল, কারণ দুই বছরের এমএসসি ডিগ্রীর জন্য ৮ বছর লাগতে পারে না। এ যুক্তিটি গ্রহণযোগ্য নয় কারণ ১৯৭৫ সালে কাদের মোল্লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ থেকে ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন অর্জন করেন যা থেকে প্রতিভাত হয় তিনি অন্তত ১৯৭৪ শিক্ষাবর্ষে ((বা মুক্তিযুদ্ধের পর এবং ১৯৭৫ এর আগে অন্তত দুই বছর)) ঢাবিতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
  • লেখক ধরে নিয়েছেন যে রাজেন্দ্র কলেজে ১৯৬৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসির পর ঢাবিতে তিনি দুই বছরের মাস্টার্স ডিগ্রি করেছেন যাতে এতো সময় লাগার কথা নয়। কিন্তু উপরে প্রদত্ত তথ্য অনুসারে মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে ১৯৬৯ সনে পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্সে ভর্তি হলেও, যুদ্ধের পর তিনি বিষয় পরিবর্তন করে ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৭৫ এ ডিপ্লোমা এবং ১৯৭৭ এ মাস্টার্স – দুটি ডিগ্রি সমাপ্ত করেন যা জবানবন্দির সময়ের সাথে মিলে যায়। ধরে নেয়া যেতে পারে বক্তব্যের সমর্থনে প্রাসঙ্গিক সকল সার্টিফিকেট তিনি আদালতে সাব্যস্ত করেছেন – অন্যথায় তাঁর যুক্তি উড়িয়ে দেয়া প্রসিকিউশনের জন্য খুবই সহজ ছিল।
  • লেখকের উপস্থাপনা কাদের মোল্লার রাজনৈতিক মতাদর্শের দিকে ইঙ্গিত করলেও এমন কোন তথ্য প্রদান করে না যা ফরিদপুরের কাদের মোল্লাকে ঢাকার মিরপুরে অপরাধ সংঘটনের স্থলে প্রতিষ্ঠিত করে।

৩। ৭৫ এর পূর্বে না পরে?

  • ১৯৭৫ সালে কাদের মোল্লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ থেকে তাঁর পূর্ববর্তী বিষয় (পদার্থবিজ্ঞান) হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়ে (শিক্ষা) ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন অর্জন করেন যা থেকে প্রমাণ হয় তিনি অন্তত ১৯৭৪ শিক্ষাবর্ষে (বা মুক্তিযুদ্ধের পর এবং ১৯৭৫ এর আগে অন্তত দুই বছর) ঢাবিতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
  • অভিযুক্ত কাদের মোল্লা ১৯৭৪-৭৫ সনে খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যস্থিত উদয়ন বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন বলে দাবী করেছেন। এর বিপরীতে উদয়ন বিদ্যালয় কোন অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট দিয়েছেন বলে জানা যায় নি যা তাঁর দাবীকে অসত্য প্রমাণ করতে পারত।
  • এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে কাদের মোল্লা ৭৫ এর পটপরিবর্তনের পর নয়, বরং তার আগেই ঢাকায় পুনর্বাসিত হন এবং শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় বিচরণ করেন।
  • এখানে দ্রষ্টব্য যে দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ ১৯৭২ এর অধীনে ৩৭০০০+ লোককে আটক করা হয়। সত্যাসত্য, ব্যক্তিগত শত্রুতা চরিতার্থ সহ মামলা/অভিযোগ ছিল আরও অনেক বেশি। সেখানে ‘মিরপুরের কসাই’ নামে কুখ্যাত এ লোকটি স্বাধীনতার পর কোনও মামলা ছাড়াই সবার নাকের ডগার উপর দিয়ে খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি করল? এ নিয়ে কোন মামলা ছাড়াই লোকসমক্ষে ঘুরে বেড়াল ৪০ বছর? এ ব্যাপারটি এতই অবিশ্বাস্য যে  নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা এই ভিডিওটিতে – কাদের মোল্লা কসাই কাদের হলে যুদ্ধের পর কিভাবে ঢাবিতে পড়ে?

কাদের মোল্লা পাকিস্তানপন্থী হয়তো সে ছিল, তবে প্রশ্ন জাগে এই কাদের মোল্লাই কুখ্যাত কসাই কাদের কিনা যার অপরাধের দায়ভার নিয়ে এ লোকটিকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।

 মামার বক্তব্য 

প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষী ছিলেন শহীদুল হক মামা। ষাটের দশকে মিরপুরের বাসিন্দা হিসেবে তিনি ঘটনা চলাকালীন সময়ে মিরপুরে কাদের মোল্লার উপস্থিতি প্রমাণে একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। একজন সুপরিচিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিভিন্ন সময়ে তার প্রদত্ত বক্তব্য ও সাক্ষ্যে  কিছু অসঙ্গতি দেখা যায় –

  • আদালতে প্রদত্ত সাক্ষ্যে তিনি কালানুক্রমিক ঘটনা বর্ণনা করার সময় প্রথম মিরপুরে কাদের মোল্লার নাম ও উপস্থিতি উল্লেখ করেন ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন চলার সময়কালে –

Prosecutor: State about the movement of 1966.

Witness: There was a movement in 1966 for the demand of 6 items. I participated in that movement. That movement was Bangalies’ demand for life.

Defense Counsel (Ekramul Haque): It seems that, the prosecutor friend is deriving information by licking the witness.

Prosecutor: What was the background of this movement?

Witness: At first the movement demanded 6 items, then the students’ movement demanded 11 items – the main sight behind both these movements were the confinement of the hero of history under the conspiracy case of Agartala.

Defense Counsel (Ekramul Haque): My Lord, I am sorry. My learned friend is thinking that I understand nothing. His way of questioning is not correct.

Prosecution Witness (Sayed Shahidul Haque Mama) told angrily, you have come as the agent of Rajakars of 1971, but I have come here in response of my conscience.

Prosecutor (Mohammad Ali) cooled down and told to say his statement.

Witness: By keeping 6 items’ and 11 items’ in front, we participated in movements. We went in front of Beauty Cinema Hall of Mirpur with procession. Then the leader of Muslim League S.A Khaleque and the sun of Monem Khan Md. Khoshru attacked and fired at the procession with their team.

Prosecutor: Then, what happened?

Witness: Then Quader Mollah of Jamaat-e-Islami, Dr. T. Ali, Hakka Gunda, Akhter Gunda, Nehal, Hasib Hashmi, Abbas Chairmen, Kana Hafez along with their followers invited Muslim League leader Khan Abdul Kaiyum who was known as Tiger of Border to defend 6 items’ and 11 items’ movement.

পরবর্তীতে, তিনি এই একই নামসমূহ মিরপুর এলাকার অন্যান্য পাকিস্থানপন্থি বিভিন্ন ঘটনার সাথে উল্লেখ করতে থাকেন। এ থেকে অনুমান করা যায় যে জনৈক কাদের মোল্লা অন্তত ১৯৬৬ সাল বা তারও আগ থেকে মিরপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে, অভিযুক্তের দাবি অনুসারে (এবং ধরে নেয়া যায় বক্তব্যের সমর্থনে অফিসিয়াল সার্টিফিকেট সরবরাহ করা হয়েছে) ১৯৬৬ সালে তিনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৬৮ সালে বিএসসি পাশ করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। শুধু তাই নয়, কাদের মোল্লার  বিরোধী শিবির কর্তৃক বহুল প্রচারিত উপরোক্ত কাদের মোল্লার সহপাঠী মোজাম্মেল খানের ভাষ্য এই বিবরণটিকেই সমর্থন দেয় যেখানে তিনি দাবী করেছেন ১৯৬৪-১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে এইচএসসি পড়াকালীন সময়ে কাদের মোল্লার হাউজমেট ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রকৌশল পড়ার জন্য ঢাকায় চলে আসেন, কিন্তু কাদের মোল্লা ঐ একই কলেজে বিএসসি পড়তে রয়ে যান।

এ থেকে প্রশ্ন জাগে, কোন কাদের মোল্লা তবে মামার ভাষ্য অনুযায়ী ১৯৬৬ সালে মিরপুরে বিহারীদের সাথে পাকিস্থানপন্থি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিল? কিভাবে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজের একজন নিয়মিত ছাত্র পড়া চলাকালীন সময়ে নিয়মিত ঢাকার মিরপুরে বিভিন্ন ঘটনায় অংশ নেয়?

  • ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ চলা কালে মিরপুরে বাঙ্গালি ও অবাঙ্গালি বিহারীদের মধ্যে চলা সংঘর্ষ ও নির্মম ঘটনাবলী নিয়ে তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টারি হচ্ছে Mirpur, The Last Frontier  

Mirpur, The Last Frontier, Part 1

Mirpur, The Last Frontier, Part 2

মিরপুরের বিভিন্ন ঘটনাবলীর চাক্ষুষ সাক্ষী হিসেবে শহীদুল হক মামা এবং কবি কাজি রোজি এই প্রামাণ্যচিত্রে বক্তব্য দেন। সমস্যা হোল, বিশেষভাবে মিরপুরের ঘটনাবলীর উপর নির্মিত দুই পর্বের এ প্রামাণ্যচিত্রের কোথাও শহীদুল হক মামা এবং কাজি রোজি কাদের মোল্লার নামই উল্লেখ করেননি, বরং কবি মেহেরুন্নেসা হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় বিশেষভাবে কেবল বিহারীদের কথা উল্লেখ করেছেন। শহীদ কবি মেহেরুন্নেসার উপর বিশেষভাবে লিখিত একটি বইতেও কবি কাজি রোজি কাদের মোল্লার নাম উল্লেখ করেননি। এ অসঙ্গতি আদালতের গোচরীভূত করা সত্ত্বেও আদালত তা আমলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। মিরপুরের শুধু একটি ঘটনায় ৩৪৪ জনের গণহত্যার মতো অভিযোগ যে লোকটির বিরুদ্ধে, তার নাম মিরপুরের ঘটনাবলীর উপর নির্মিত এতো বিশদ প্রামাণ্যচিত্রের কোথাও উল্লিখিত না হওয়া বিচিত্র নয় কি? আরও অদ্ভুত বিষয় হল, প্রামাণ্যচিত্রটিতে শহীদুল হক মামা বিশেষভাবে মিরপুরের কসাইখানার কথা উল্লেখ করেছেন যেখানে বিহারী কসাইরা বাঙ্গালীদের নির্মমভাবে অত্যাচার করেছে। এ থেকে প্রশ্ন জাগে ‘মিরপুরের কসাই’ নামে কুখ্যাত ব্যক্তিটি কি আক্ষরিক অর্থেই একজন ‘কসাই’ ছিল, যে সম্পর্কে জনশ্রুতি রয়েছে?

৫/ কসাই কাদের?

উপরোল্লিখিত ঘটনার বিবরণ এবং সময়লিপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাদের মোল্লার নয়, বরং সেই সময়ে মিরপুরের বাসিন্দা জনৈক কসাই কাদেরের উপস্থিতি সম্পর্কিত থিওরিকেই বরং সমর্থন করে বেশি। কসাই কাদের বলে আসলেই কি কেউ ছিল? এ সম্পর্কে নেট সার্চ করে যা পাওয়া যায়, তা হোল – 

  • জনৈক মোঃ নূরুল আমিন এর লেখা নিবন্ধ যাতে তিনি উল্লেখ করেছেন

…আমি ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রথমত ছাত্র হিসেবে পরে শিক্ষক সাংবাদিক হিসেবে ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনের সাথে জড়িত ছিলাম। কিন্তু কাদের মোল্লা নামের কোনও ব্যক্তিকে আমি জামায়াত বা ছাত্রসংঘের হয়ে কাজ করতে দেখিনি। মিরপুরে কসাই কাদের নামে একজন কাদের মোল্লা ছিলেন তার নাম আমরা শুনেছি। তিনি পেশায় কসাই ছিলেন এবং মানুষ হত্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। তার একভাই বহুদিন পর্যন্ত কাওরান বাজারে গোশত বিক্রি করতো। তার কাছে শুনেছি কসাই কাদের তথা মিরপুরের কাদের মোল্লাকে স্বাধীনতার পর হত্যা করা হয়েছে। আগেই বলেছি জামায়াতের কাদের মোল্লাকে ৭১ সালে আমি কখনো দেখিনি। তার বাড়ি ফরিদপুর; তিনি কখনো মিরপুরের বাসিন্দা ছিলেন না। … যেহেতু জামায়াতের কাদের মোল্লা কখনো মিরপুরে ছিলেন না, কোনও অপরাধ করেননি সেহেতু স্বাধীনতার পর থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তার বিরুদ্ধে কোথাও কোনও জিডি হয়নি, দালাল আইনে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি।

  • Somewhereinblog এ ভ্রমনবিলাসী বালকের লেখা

এটিএন বাংলা কসাই কাদের মোল্লার অপরাধ খুঁজতে গিয়ে আমাদের ঢাকা মিরপুর আসনের আসলামুল হকের পিতার নাম এসেছিল।কিন্তু মুফতে তার নাম গাপ করে ফেলা হয়েছে । এখন কেরানীগঞ্জে গেলে কিছু জানতে পারবেন কিনা জানি না । কিন্তু এটিএন বাংলায় এর তথ্য প্রমাণ সংবলিত ভিডিও গাপ না করে দিলে পেতে পারেন

  • শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা আর কসাই কাদের কি এক? ছবি কি বলে? তথ্যসূত্র এখানে

উপরের ছবিটি ট্রাইব্যুনালে সংরক্ষিত সরকার পক্ষের কৌসুলিদের জমা দেয়া কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মহা গুরুত্বপূর্ন একটি ডকুমেন্ট। ছবিতে জেনারেল এ এ কে নিয়াজীর পিছনে দাঁড়ানো মিরপুরের বিহারী ‘কসাই কাদেরকে’ আব্দুল কাদের মোল্লা বলে চালানো হয়েছে।নিচের ছবিতে ৯২ সালের রোকন সম্মেলনে তৎকালীন আমীরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের পাশে দাঁড়ানো আব্দুল কাদের মোল্লা।

বিশ্লেষণঃ ১৯৭১ সালে-

নিয়াজীঃ উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী নিয়াজীর বয়স ছিল ৫৭ বছর। উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি।

কাদের মোল্লাঃ বিভিন্ন সূত্রের তথ্যানুযায়ী কাদের মোল্লার বয়স ছিল ২২/২৩ বছর। উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি।

কসাই কাদেরঃ অসমর্থিত সূত্র এবং বিশ্লেষণ অনুযায়ী কসাই কাদেরের বয়স ছিল ৪৮ বছর। পাশে দাঁড়ানো নিয়াজীর সাথে তুলনা করলে বিহারী কসাই কাদেরের উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি।

প্রশ্ন-১: ৯২ সালে নিচের ছবিতে অধ্যাপক গোলাম আযমের পাশে দাঁড়ানো ৪৩/৪৪ বছর বয়স্ক কাদের মোল্লাকে যদি ২১ বছর আগে কল্পনা করা হয় তাহলে কি নিয়াজীর পাশে দাঁড়ানো ৪৮ বছর বয়স্ক ‘কসাই কাদেরের’ মতো মনে হবে?

প্রশ্ন-২: হিসাব অনুযায়ী নিয়াজীর চেয়ে প্রায় পৌনে ১ ফুট কম উচ্চতার কাদের মোল্লাকে নিয়াজীর পাশে দাড় করালে তাকে কি (কসাই কাদেরের মতো) প্রায় নিয়াজী বরাবর মনে হওয়ার কথা?

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকি বীরউত্তম, শাহবাগ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী তার এক কলামে বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে স্যাটায়ার করে লিখেন-

“পিতা, কাদের মোল্লাকে নিয়ে দেশ এখন উত্তাল, পুরা দেশে এক নাম- কাদের মোল্লা! তার ফাঁসির দাবী চলছে। কিন্তু পিতা তুমি হয়তো এই কাদের মোল্লাকে চিনোনা, কারণ আমাদের সময়ে যাদের যাদের বিচারের লিষ্ট আমরা বানিয়েছিলাম তাতে এই কাদের মোল্লা ছিলোনা। তুমি কীভাবে চিনবে, আমরাই তো কেউ চিনতাম না।”

৬/ সাক্ষী মোমেনা

যে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যে কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ হয়, তাঁর তিনটি ভিন্ন সময়ে একই ঘটনার তিনটি ভিন্ন বিবরণ পাওয়া যায় যা পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।  ২০০৭ এবং ২০১০ সালে দেয়া দুটি ভিন্ন বক্তব্যে তিনি অপরাধের জন্য কেবল বিহারী এবং পাক সেনাদের দায়ী করেছেন এবং কাদের মোল্লা বা অন্য কোন বাঙ্গালী এর সাথে জড়িত থাকার কথা বলেননি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রথম বক্তব্যে তিনি প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না বরং শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে উল্লেখ করেন। কেবলমাত্র তৃতীয় দফায় ক্যামেরা ট্রায়ালে মুখ ঢাকা অবস্থায় যে মোমেনা বেগমের সাক্ষ্য নেয়া হয়, তাতে তিনি কাদের মোল্লার নাম উল্লেখ করেন ও নিজেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে দাবী করেন। এ অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দাতার সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে ফাঁসির রায় দেয়া নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে। তাঁর পূর্ববর্তী বিবরণ ‘সাক্ষ্য’ ছিল, না ‘জবানবন্দি’ ছিল, না ‘বক্তব্য’ ছিল, তা নিয়ে আইনের ত্যানা পেঁচিয়ে পাতার পর পাতা ভর্তি করে ফেলা এবং তার ভিত্তিতে আদালতে তাঁর পূর্ববর্তী সাংঘর্ষিক বক্তব্য তুলে ধরার পরেও আদালত কর্তৃক তা আমলেই না নেয়ার সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ জাস্টিফাই করার চেষ্টা করতেই পারেন, তবে জনসাধারন্যে স্বাভাবিকভাবে এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় –      

 ৭/ ভি চিহ্ন 

অভিযুক্ত কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় পাবার পর ভি চিহ্ন দেখানোকে কেউ কেউ অন্যায়ের প্রতি তাঁর সমর্থনসূচক ভঙ্গি হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। এ ব্যাখ্যা যে ভুল, অভিযুক্তের স্ত্রীকে লেখা শেষ চিঠিই তার প্রমাণ যেখানে তিনি অভিযোগসমূহের দায়ভার সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এবং তার প্রতি আদালতের রায়কে প্রতিশোধমূলক ও অন্যায় বলে উপস্থাপন করে তাঁর পরিণতিকে মিসরীয় ধর্মীয় নেতা সাইয়্যেদ কুতুবের জালিমের হাতে শহীদি মৃত্যুর সাথে তুলনা করেছেন – সত্য এই যে, কেবল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় পাবার পর নয়, বরং ফাঁসির রায় পাবার পর, এমনকি ফাঁসির আগে তাঁর স্ত্রী তাঁর সাথে শেষ দেখা করে ফেরার পথেও ভি চিহ্ন দেখিয়েছেন। কাদের মোল্লা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে উত্থাপিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং যে অপরাধ তিনি করেননি তার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতেও অস্বীকার করেছেন। ভয় ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাকে তিনি তাঁর নৈতিক বিজয় হিসেবেই দেখেছেন বলে মনে হয়।

৮/ পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া 

১৯৭১ এ পাকিস্তানকে সমর্থন করার কারণেই জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হয়েছে, এ মর্মে পাকিস্তানের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের বক্তব্যকে অনেকে কাদের মোল্লার অপরাধ প্রমাণে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে নিয়েছেন। এ যুক্তি হাস্যকর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির বিষয়টি ঠিক এভাবেই উপস্থাপিত হয়েছে, তাই এ বক্তব্য তার প্রতিক্রিয়া হওয়াই স্বাভাবিক। মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পর কাদের মোল্লাই যে মিরপুরের কসাই কাদের, তা প্রমাণ করতে প্রসিকিউশনের বাঘা বাঘা উকিলদের ঘাম ছুটে গেল, আর কোথাকার কোন ইমরান খান, যিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজনীতির ধারেকাছেও ছিলেন না, যিনি কাদের মোল্লাকে কখনও দেখেছেন বলেও জানা যায় না,  তাঁর এক কথাতেই প্রমাণ হয়ে গেল কাদের মোল্লাই ছিলেন মিরপুরের কসাই?

৯/হাতের লেখার ভিন্নতা

সম্প্রতি সাবেক এমপি রনিকে লেখা কাদের মোল্লার চিরকুট এবং স্ত্রীকে লেখা শেষ চিঠির হাতের লেখায় ভিন্নতা তুলে ধরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিষয়টি যদিও আদালতে ধর্তব্য ছিল না, তবে একটি বিষয় না বললেই নয়, এমপি রনির নিজস্ব সংবাদপত্রে প্রথম প্রকাশিত খবরে এ জাতীয় কোন চিরকুটের ছবি দেয়া হয়নি এবং এখনও নেই। বরং সংবাদটি প্রকাশিত হবার পর বহু রকম চিরকুটের ছবিই ইন্টারনেটে তুলে দেয়া হয় যার একটি নিচে দেয়া হোল। নিজ নামে কোন চিরকুটের ছবি প্রকাশ না করা ছাড়া এর পক্ষে-বিপক্ষে রনির কোন বক্তব্য চোখে পড়েনি।

১০। পরিশেষ 

সাম্প্রতিককালে ফাঁসিপ্রাপ্ত কাদের মোল্লাই ‘মিরপুরের কসাই কাদের’ কিনা, এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই।  এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কাদের মোল্লার বিরোধী পক্ষ সচরাচর বলে থাকেন, কাদের মোল্লা যদি ‘মিরপুরের কসাই কাদের’ না হবেন, তবে তাঁর কৌঁসুলিদেরই প্রমাণ করার দায়িত্ব ছিল আসল কাদের মোল্লা কে ছিল, কোথায় গেল, ইত্যাদি। উপরে উল্লিখিত তত্ত্বসমূহ বাদ দিলেও এ যুক্তির অসারত্ব প্রমাণে বলা চলে – burden of proof lies with the accuser, not the defendant. ফরিদপুরের কাদের মোল্লা তাঁর ফরিদপুর কেন্দ্রিক জীবন বৃত্তান্ত এবং ঘটনা চলাকালীন সময়ে ফরিদপুরের সদরপুরে তাঁর উপস্থিতি প্রমাণে একাধিক অন্যত্রস্থিতি (alibi) সাক্ষী উপস্থিত করেছেন প্রসিকিউশন যাদের বক্তব্য মিথ্যা প্রতীয়মান করতে পারেননি। অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এটুকু করাই যথেষ্ট। সত্য এই যে, অভিযুক্তকে কেবল পাঁচজন alibi  সাক্ষীরই অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এর বাইরেও অভিযুক্ত একাধিক বরেণ্য ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন যাদের উপস্থিত করেও প্রসিকিউশন অভিযুক্তের alibi এবং ভাষ্য মিথ্যা প্রমাণ করতে পারতেন। এ বিষয়ে আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি, যার জন্মস্থান আলোচিত ফরিদপুরের  সদরপুরে, তিনি “কাদের মোল্লা বনাম কসাই কাদের” শীর্ষকনিবন্ধে লিখেছেন

কাদের মোল্লা উল্লেখ করেছেন, তিনি সদরপুরে আরও ৩০-৩৫ জনের একদল যুবককে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছেন! কি ভয়াবহ বক্তব্য। প্রসিকিউশনের উচিত ছিল যথাযথ যুক্তিপ্রমাণ উত্থাপন করে এ বক্তব্যটিকে মিথ্যা প্রমাণ করা। কাদের মোল্লা বলেছেন, যুদ্ধকালীন পুরোটা সময় তিনি পীর সাহেবের বাড়িতে ছিলেন। তার টাকা দিয়ে তিনি চৌদ্দরশি বা সাড়ে সাতরশি বাজারে ব্যবসা করতেন পীর সাহেবের দোকানঘরে বসে। চৌদ্দরশি বাজার ফরিদপুর জেলার মধ্যে অন্যতম বৃহৎ বাজার। স্বাধীনতার সময়ও এই বাজার বসত প্রতি শনি এবং মঙ্গলবার। কম করে হলেও ৫০ হাজার লোকের আগমন ঘটত হাটের দিনে। পীর সাহেবের দোকানটি ছিল সবচেয়ে বড় এবং বাজারের একমাত্র দ্বিতল টিনের ঘর। পীর সাহেবের মেজ ছেলে রহিচ ব্যবসা-বাণিজ্য দেখতেন। পরবর্তীতে তিনি ডাকাতের গুলিতে মারা যান। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের সময় কাদের মোল্লা যদি ওই বাজারে ব্যবসা করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে অন্তত এক লাখ লোককে সাক্ষী হিসেবে পাওয়া যাবে। আরও একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে পাওয়া যেতে পারে। সাপ্তাহিক বিচিত্রার এককালীন চিফ রিপোর্টার বিশিষ্ট সাংবাদিক কাজী জাওয়াদ মুক্তিযুদ্ধ ও তৎপরবর্তী সময়ে চৌদ্দরশি বাজারে ব্যবসা করতেন। কাজী জাওয়াদ বিচিত্রা ছেড়ে লন্ডনে বিবিসি বাংলা বিভাগে চাকরি করতেন এবং এখন তিনি বিলাত প্রবাসী। তাকেও সাক্ষী হিসেবে আনা যেত। কাদের মোল্লা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা-উত্তরকালে তিনি রাইফেলস্ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যাপনা এবং স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে বাইশরশি স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। তার ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন উঁচুপদে এমনকি সচিব পদমর্যাদায় চাকরি করছেন। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রসিকিউশন আরও অনেক নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে পারতেন। তিনি ঢাকা প্রেস ক্লাবের সদস্য_ দু-দুইবার নির্বাচিত সহ-সভাপতি ছিলেন। কাজেই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এমন একাধিক জাতীয় ও বরেণ্য সাংবাদিককে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা যেত।

alibi সাক্ষীদের বক্তব্যের বিপরীতে ফরিদপুরের কাদের মোল্লাই যে ৭১ এর কুখ্যাত “মিরপুরের কসাই” – এ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার দায়িত্ব ছিল প্রসিকিঊশনের, ফরিদপুরের কাদের মোল্লার নয়। উপরে উল্লেখিত বিভিন্ন প্রশ্ন ও তথ্য সম্পর্কিত অসঙ্গতিই প্রমাণ করে কাদের মোল্লার আইডেন্টিটি এবং অপরাধ সংঘটন স্থলে তাঁর উপস্থিতি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে প্রসিকিঊশন ব্যর্থ হয়েছেন। কাদের মোল্লা ও মিরপুরের কসাই কাদেরের পরিচয় নিয়ে প্রশ্নের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে যার কিয়দংশ এখানে তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃত সত্য কোনটি তা আল্লাহই ভাল জানেন। আমাদের জন্যে তাঁর পথ-নির্দেশনা কেবল এটুকুই –

“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে এবং কোন সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। সুবিচার কর, এটাই খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে খুব জ্ঞাত।”  – আল মায়িদাহ, ৫:৮

“O ye who believe! Stand out firmly for Allah, as witnesses to fair dealing, and let not the hatred of others make you swerve to wrong and depart from justice. Be just: that is next to piety: and fear Allah. For Allah is well-acquainted with all that ye do.” – Al Mayidah, 5:8

১১/ এক নজরে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

তথ্যসূত্র:

  1. http://bangladeshwarcrimes.blogspot.com/
  2. http://blog.priyo.com/golam-maula-rony/41154.html
  3. http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/12/18/228822#.UrEe-mp8Opo
  4. http://bangladeshwarcrimes.blogspot.com/2013/02/15-nov-2012-mollah-1st-defense-witness.html
  5. http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=16&dd=2013-09-22&ni=149559
  6. http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2_%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8_(%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7_%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B2)_%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6_%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AD%E0%A7%A8
  7. http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=38384
  8. http://bangladeshwarcrimes.blogspot.com/2012/07/10-jul-molla-1st-witness-testimony.html
  9. http://www.youtube.com/watch?v=0g-JWMQD1BU
  10. http://www.youtube.com/watch?v=VcoXGiKNU7o
  11. http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=127976
  12. http://www.somewhereinblog.net/blog/qamark67/29767717
  13. http://chairmanbd.blogspot.com/2013/12/blog-post_6406.html
  14. http://webcache.googleusercontent.com/search?q=cache:Mij688HzN-gJ:www.somewhereinblog.net/blog/hiravisa/29769330+&cd=2&hl=en&ct=clnk&gl=us
  15. http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2_%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8_(%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7_%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B2)_%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6_%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AD%E0%A7%A8

সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ : বিপক্ষের যুক্তি

5

by শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

প্রতি ৫ বছর পর পর সামরিক বাহিনীর দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকা জাতি পৃথিবীতে কম আছে। দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উভয় প্রকার দুর্যোগে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ বাংলাদেশীরা খুব খুশি মনে মেনে নেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের উভয় সাইডের পাবলিকদেরকে গত দশ বছরের কোন না কোন সময় সামরিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করতে দেখা গেছে। ফক-ইউ-আহমেদ-দের ২ বছরের শাসন আমলে দেশের সাধারণ মানুষদের একটি বড় অংশকে রীতিমতো সামরিক শাসন এনজয় করতেও দেখা গেছে।

শোনা যায় বর্তমানে দেশের একটা বড় জনগোষ্ঠি মনে প্রানে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। ধারণা করা যেতে পারে খোদ সরকারপন্থীদের অনেকেও সামরিক হস্তক্ষেপ মেনে নেবেন। তারপরেও তারা বিরোধী জোটের হাতে ক্ষমতা দেবেন না।

এখন প্রশ্ন হলো সামরিক বাহিনী কি ভাবছে? দেশের যে পরিমান ক্ষতি ইতোমধ্যে হয়ে গেছে, যতো মানুষকে গুলি করে মারা হয়েছে, যতো মানুষ আগুনে পুড়েছে, যতো প্রকার নির্লজ্জ বিদেশী হস্তক্ষেপ হয়েছে, এবং সর্বোপরি জনমনে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা যতোটা বেড়েছে, সাধারণ দৃষ্টিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করার এর চাইতে বেশি যুক্তি সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন হবার কথা না । তারপরেও সামরিক হস্তক্ষেপ হচ্ছে না কেন? রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সামরিক বাহিনীর অনাগ্রহী হবার অনেকগুলো কারনের মধ্যে নীচের ইস্যু গুলো থাকবেঃ

– জেনেরালদের অনেকে মনে করেন প্রতি ৫ বছর পরপর সামরিক হস্তক্ষেপ করা কোন দেশের মিলিটারির দায়িত্ব হতে পারে না। আজকে এ দল নামাতে মাঠে নামলে, পাঁচ বছর পরে অন্য দল ঠেঙ্গাতে মাঠে নামা লাগবে। এর চাইতে চুপচাপ প্রফেশনালভাবে রাজনীতিবিদদের উন্মত্ততা দেখে গেলে এক সময় না এক সময় অযোগ্য রাজনীতিবিদরাই শেষ হয়ে যাবেন, অথবা নিজেদের অসুস্থ রাজনীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হবেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপে।

– ১/১১ এর অভিজ্ঞতা সামরিক বাহিনীর জন্যে ভালো ছিল না। যদিও একথা সত্য যে সামরিক বাহিনীর কেউ কেউ ১/১১ এর সময় বেশ বাড়াবাড়ি করেছিলেন। কেউ হয়তো নিজের ইচ্ছায় একটু বেশি এডভেঞ্চার করতে গিয়েছিলেন, আর কেউ হয়তো অন্য কারও হুকুমে নিরুপায় হয়ে বাড়াবাড়ি করেছিলেন। ২০০৮-এর পরে কয়েক ডজন বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাকে তাদের জীবনের নিরাপত্তায় বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। এদের বেশীর ভাগই এখন আছেন আমেরিকায়। এরা কবে দেশে ফিরতে পারবেন কেউ জানে না।

– ১/১১ এর পেছনে আমেরিকা ও ইন্ডিয়ার ভুমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু আশ্রয় নেবার ক্ষেত্রে আমেরিকাকেই বেছে নিয়েছেন সামরিক বাহিনীর অনেকেই। আমেরিকানরা গ্রিন কার্ড কিংবা অন্যকোন বিশেষ ব্যাবস্থায়  নিয়ে গেছে ১/১১ এর বিতর্কিত মিলিটারি কর্মকর্তাদের। কিন্তু আমেরিকা তাদের জীবনের নিরাপত্তা দেবার বাইরে আর বেশি কিছু দেয়নি। একারণে কর্মকর্তাদের অনেকেই ছোটখাটো কাজ করে আমেরিকায় কষ্টকর জীবন যাপন করছেন। একজন অত্যন্ত ক্ষমতাবান সামরিক ব্যাক্তি পিজ্জা ডেলিভারির কাজ করতে যেয়ে ক্যামেরা বন্দি হয়েছিলেন নিউ ইয়র্কের বাংলা পত্রিকায়। এসব অভিজ্ঞতা সামরিক বাহিনীর জন্যে সুখকর নয়।

– পরিবর্তিত সংবিধানে সামরিক হস্তক্ষেপের শাস্তি মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। সামরিক বাহিনীর জেনেরালরা জানেন যে কোন না কোন দিন আজকে যাদের সরিয়ে দেয়া হবে, তাদের দল আবার ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে। তখন এসে বিচার শুরু করলে, দেশের উভয় রাজনৈতিক দলের কাছ থেকেই কোন সাহায্য নাও পাওয়া যেতে পারে। সামরিক কর্মকর্তাদের চাকরি জীবনের ও ক্ষমতার রিটায়ারমেন্ট আছে। রাজনীতিবিদদের কোন রিটায়ারমেন্ট নেই। একারণে রাজনীতিবিদদের প্রতিশোধ নেবার সুযোগ ও সময় থাকে অফুরন্ত।

– বর্তমান বিএনপির উপর সামরিক বাহিনীর ডানপন্থীদের অনেকেই খুশি না। ফারুক-রশিদ-ডালিমদের পরিনতি সামরিক বাহিনী দেখেছে। বিএনপির শাসন আমলের পুরোটা সময় ফারুক-রশিদদের অনেককেই জেলে থাকতে হয়েছে। অনেকের দৃষ্টিতে ফারুক-রশিদদের সৃষ্ট ইতিহাসের পূর্ণ রাজনৈতিক বেনিফিট বিএনপি পেলেও, বিএনপি প্রতিদান স্বরূপ ফারুক-রশিদদের দুঃসময়ে পাশে এসে দাঁড়ায়নি। তাদের বিচার শুরু হয়ে যাবার পরে বিএনপির নিরবতাকে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। এই ঘটনায় অনেকে মনে করেন রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সুবিধাবাদিতা ফুটে উঠেছিল। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ইস্যুতেও বিএনপি নিরবতাপালন করেই চলেছে। যা অনেকের চোখে সুবিধাবাদিতা হিসেবে ধরা দিচ্ছে। সামরিক বাহিনীর কেউ মনে করতেই পারেন বিএনপি কখনই সেই সব মানুষের পাশে দাঁড়ায় না, যারা এই দলটির জন্যে রিস্ক নেয়।

– সামরিক বাহিনীর জীবন সব সময়ই সিভিলিয়ানদের থেকে ঝামেলা মুক্ত ছিল। হরতাল অবরোধ হানাহানি তাদের স্পর্শ করতো না আগেও, এখনও করে না। এই নির্ঝঞ্ঝাট জীবনে এখন যোগ হয়েছে বিদেশে যেয়ে হালাল টাকা রোজগারের উপায়। একারণে দেশীয় রাজনীতির ঝামেলায় জড়িয়ে পরার কোন কারণ সামরিক বাহিনীর অনেকে দেখেন না।

– বিভিন্ন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রভাব বেড়েছে সামরিক বাহিনীর উপর। একটি দেশ না, একাধিক দেশ। জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণও বেড়েছে, কেননা জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর সার্ভিস নিয়ে থাকে। অনেক বেতন দেয়। জাতিসংঘ চায় না তাদের ভাড়া করা সেনাবাহিনী কোন দেশে ক্ষমতা দখল করুক। বিদেশী রাষ্ট্রের কিংবা গোষ্ঠির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব সামরিক বাহিনীর রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামানো দুরূহ করে দিয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, রাজনীতি বিমুখ হয়ে বাংলাদেশের সেনা বাহিনী যদি সত্যিই তাদের প্রফেশনাল ইমেজ বজিয়ে রাখতে পারে, তাহলে দেশের দীর্ঘ মেয়াদী লাভ হবে। তবে সেনা বাহিনীর উচিত হবে সব সময় খেয়াল রাখা তারা যেন পুলিশ, র‍্যাব, কিংবা বিজিবির মতো ঠ্যাঙ্গারে বাহিনী হিসেবে কোনও রাজনৈতিক শক্তির দ্বারা ব্যবহৃত না হন। সাধারণ মানুষকে কিংবা যে কোন দলের রাজনৈতিক কর্মীদের যেন তাদের হাতে কোনদিন গুলি খেয়ে মরতে না হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার একমাত্র স্তম্ভ হচ্ছে আমাদের সেনা বাহিনী। সকল দল ও মতের মানুষের সাথে সেনা বাহিনীর সুসম্পর্ক থাকা একারণে খুবই জরুরী।

আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনীর উচিত হবে কোন ভাবেই দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠির সাথে সরাসরি মারামারিতে জড়িয়ে না যাওয়া। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধরে রাখতে হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সাথে সেনা বাহিনীর নিবিড় আস্থার সম্পর্ক প্রয়োজন। কোন একটি রাজনৈতিক সরকারের হঠকারিতায় এই আস্থায় যেন চিড় না ধরে তা সেনা বাহিনীকেই নিশ্চিত করতে হবে।

রফিউর রাব্বি – যিনি হাঁটছেন আপনার বিপরীতে

by Fakaruddin Ahmed

টর্চারসেল পরিচালনাকারীরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে।  এটা কোন বি এন পি জামাতির কথা না , এটা রফিউর রাব্বি আজ ফেসবুকে লিখেছেন ।

রফিউর রাব্বি নারায়ন গঞ্জ আওমি লীগের একজন নিবেদিত প্রান কর্মি, তার বাইরে উনি মুলতঃ একজন শিল্প সাহিত্যর মানুষ । আজ আমাদের চোখ এমন পট্টি দিয়ে আবৃত , আমরা তার কান্না দেখছি না ,  আমাদের কান ভরা তুলা আমরা তার কান্না শুনতে পারছি না ।
একটা যুদ্ধে মানুষের মৃতুকে আপনি জাসটিফাই না করেন, তবু মেনে নেন। তার বিচার হতে পারে; তা আমরা দেখেছি।
কিন্তু তকির মৃতুকে কিভাবে মেনে নিব আমরা ?
ত্বকি হত্যার বিচারের জন্য কি আমরা ৪২ বছর অপেক্ষা করতে চাই ?
আর ত্বকি হত্যার আসামি মাফিয়া গোস্টি-কে আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিয়ে যাব ?
একটা প্রতিবাদ হবে না ?
আমাদের মিডিয়া , আমাদের মধ্যবিত্ত সুশিলতা, আমাদের ইন্টেলেকচুয়াল হতে চাওয়া চোখ ব্যস্ত পাকিস্থানি ইমরানের পাছায় লাঠির ঘা বসাতে কিংবা দশিটার পাছায় মলমের মালিশ দিতে ।

কিন্তু একজন মানুষ, একজন রফিউর রাব্বি নিজের ত্বকিকে

হারিয়ে ভাবছেন বাংলাদেশের সব ত্বকিদের কথা।
এভাবেই কী একজন রফিউর রাব্বি-ই কি আমার প্রত্যেকের ঘরের ত্বকির কথা ভাববে ?

মহিলা ডিপ্লোম্যাট উলঙ্গ করা নিয়ে ভারত ও আমেরিকার টানাপোরন

5

By শাফকাত রাব্বী অনীকঃ আজকের ভারতীয় মিডিয়া পড়লে মনে হবে যে কোন কারণ ছাড়াই আমেরিকানরা ভারতীয় নারী কূটনীতিকদের ধরে উলঙ্গ করে ছেড়ে দিচ্ছে নিউ ইয়র্ক শহরে। আর একারণেই প্রতিবাদে ফেটে পরেছে ভারতীয় মিডিয়া। দেশপ্রেমের উন্মাদনায় ঝাপিয়ে পরেছে নব্য ডলারের স্বাদ পাওয়া ভারতীয় মিডলক্লাস। আর পাশে দাড়িয়ে তালি বাজাচ্ছে খোলা আকাশে বড় কাজ সাড়া দলিত-ক্লাস। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের অনেকে ভারতীয়দের দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ ভেবে রোমান্টিকতায় ভুগছেন।

মূল ঘটনা কি হয়েছিল বলছি। ভারতের ৩৯ বছরের মহিলা ডেপুটি কনসাল জেনেরাল দেবযানী খোবরাগাডেকে নিউ ইয়র্কের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে। ভদ্রমহিলা ভারত থেকে কাজের মহিলা এনেছিলেন ভিসার মাধ্যমে। ভিসার এপ্লিকেশনে উল্লেখ করেছিলেন ঘন্টায় ৯ ডলার ৭৫ সেন্ট বেতন দিবেন। নিউ ইয়র্কে বৈধ ভাবে কাউকে ৭ ডলার ৫০ সেন্ট এর নিচে বেতন দেয়া যায় না। ঘটনাক্রমে আমেরিকানরা জেনে গিয়েছিল যে কাজের মহিলাকে ঘন্টায় মাত্র ৩ ডলার বেতন দিচ্ছেন দেবযানী। ব্যাস, নিউ ইয়র্ক পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল দেবযানীকে।

আমেরিকান থানা হেফাজতে ঢুকানোর আগে উলঙ্গ করে শরীর চেক করা হয়। শরীরের কোন বিশেষ গহবরে টাকা-পয়সা, ছোট্ট চাকু, বিষ, ড্রাগস ইত্যাদি লুকানো আছে কিনা তা দেখার জন্যেই মনে হয় এমন স্ট্রিপ সার্চ করা হয়। একে বেশ ডিটেইল চেক-আপ বলা যেতে পারে। দেবযানী ভদ্রমহিলাকেও ঠিক এভাবেই চেক-আপ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা যায়। ভদ্রমহিলাকে  যে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল সেখানে রুমমেট হিসেবে উনি পেয়েছিলেন ড্রাগস ও পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত আরো কিছু ভদ্র মহিলাকে। নিউ ইয়র্কের প্রেক্ষাপটে এটাও কোন অস্বাভাবিক ঘটনা না।

দেবযানী বিষয়ক উপরোক্ত খবর ভারতীয়দের জানানোর সময় ভারতের মিডিয়া বেশ চালাকি করেছে। কি কারণে ভদ্রমহিলাকে হাজতে নেয়া হয়েছিল তা আড়াল করে, কেন তাকে উলঙ্গ করে চেক করা হয়েছে এবং কেন পতিতার সাথে একই হাজতে রাখা হয়েছে তা নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। উলঙ্গপনা ও পতিতাবৃত্তি — এই দুটো বিষয় ভারতীয়দের বেশ টাচ করে।

তবে একটা বিষয়ে আমি ভারতীয়দের সাথে একমত। এই পুরো ঘটনায় দেবযানীকে আমেরিকানরা  ডিপ্লোম্যাট হিসেবে একটু খাতির করলেই পারতো । তার অপরাধ যাই হোক না কেন। বিশেষ কোন একটা কারণে আমেরিকানরা তাকে ডিপ্লম্যাটের সুযোগ-সুবিধা দেন নাই। এটা ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির জন্যে একটা চাঞ্চল্যকর এবং আশংকাজনক বিষয়। কেন এমনটা হলো তা এখনই নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে না।

ইদানিংকালে বেশ কিছু বিষয়ে ভারতের সাথে আমেরিকানদের ডিপ্লোম্যাটিক সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠছিল। ভারতের জন্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু আছে। সর্বাধিক গুরুত্বের দিক থেকে চিন্তা করলে, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মায়ানমার বিষয়ক ইস্যু তে আমেরিকার সাথে ভারতীয়রা দরকষা কষি করে। এর মধ্যে কোন কোন ইস্যুতে ভারত বর্তমানে আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক কমিউনিটির বেপরোয়া বিরোধিতা শুরু করেছে।

ভারতের রাজনীতিতে এখনো আমেরিকা বিরোধী মনোভাব ভোটের সংখ্যা বাড়ায়। সামনে ভারতে নির্বাচন। ঐতিহাসিক ভাবে আমেরিকা-বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস এখন ক্ষমতায়। তাদের রাজনৈতিক অবস্থা আমাদের শেখ হাসিনার চাইতে একটু ভালো। তবে খুব বেশি ভালো না। অর্থাৎ কংগ্রেসের আবার ভোটে জিতার সম্ভাবনা অনেকটাই কম। একারণে যে কোন উছিলায় এন্টি-আমেরিকান মনোভাব দেখিয়ে ভোট বাড়ানোর চেষ্ঠা করে থাকতে পারে নোংরা-রাজনীতির জন্যে বিখ্যাত কংগ্রেস পার্টী। আর কংগ্রেস যদি আমেরিকার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে, তাহলে হিন্দু-মৌলবাদী বিজেপি নিজেদের আমেরিকা-পন্থী মনোভাব ঢাকতে কংগ্রেসকেই ফলো করবে, এটাই স্বাভাবিক।

ভারতীয়রা অতি উৎসাহী হয়ে বেশ কিছু এন্টি-আমেরিকান কান্ড ঘটিয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব সম্পূর্ণ কয়েকজন আমেরিকান কংগ্রেসম্যান এই মুহূর্তে ভারত সফরে আছেন। ভারতের শীর্ষ নেতা-নেত্রিরা এদের সাথে দেখা করেননি। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দুই প্রধান মন্ত্রী রাহুল গান্ধী এবং নরেন্দ্র মোদী উভয়েই একই কাজ করেছেন। এই প্রতিবাদটা যদিও বেশ ভদ্র প্রতিবাদ। ভারতীয়রা এখানে থামলেই ভালো করতো। কিন্তু তা না করে, ভারতীয়রা আরও কিছু বাড়াবাড়ি প্রতিবাদ করেছে। আমেরিকানদের কাজের লোকের বেতনের রিসিট তলব করেছে, মদ ও বিলাসী পন্য আমদানির ক্ষমতা বিলোপ করেছে, আইডী কার্ড কেড়ে নিয়েছে, আমেরিকান স্কুলের টিচারদের বেতন ও ট্যাক্স নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করেছে। এগুলোকে আপাতত দৃষ্টিতে খুব বাহবা দেবার মতো প্রতিবাদ মনে হলেও, ভারতের অর্থনীতির আমেরিকা নির্ভরতা বিচার করলে এগুলো আসলে নির্বোধের প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু না। ভারত সব চাইতে বাড়াবাড়ি করেছে আমেরিকান এম্বাসির নিরাপত্তা ব্যাবস্থা শিথিল করে দিয়ে। এটা মারাত্মক রকমের একটা বেয়ারা আচরন। বিদেশী অতিথির নিরাপত্তা প্রত্যাহার খুবই নিচু শ্রেণীর মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

এতো হম্বি তম্বি করার সময় ভারত হয়তো ভুলে যাচ্ছে যে তারা কিন্তু চীন না। ভারতের হাজার হাজার আইটি কর্মী তীর্থের কাকের মতো আমেরিকায় কাজের প্রত্যাশায় এখনও বসে থাকে। ভারতের কয়েকটা প্রদেশের দু’বেলার খাদ্য জোটে আমেরিকানদের সাথে টেলিফোনে কথা বলে। আমেরিকান বিলাসী প্রেমিকা কিংবা স্ত্রীরা তাদের প্রিয় পুরুষের বীর্য শিশিতে করে ভারতে পাঠিয়ে দেন। তারপরে ভারতীয় মহিলারা সেই বীর্য তাদের শরীরে ভরে ১০ মাস ১০ দিনের ডেলিভারি সারভিস দেন। এর নাম ম্যাটারনিটি আউট সরসিং। ভারতের অনেক হিট সিনেমার শুটিং আমেরিকায় করার জন্যে বাইজীর বহর নিয়ে ভারতীয়রা আমেরিকায় যায়।

আমেরিকা নির্ভরতার উপরের উদাহরনের আলোকে বলা যায়, ভারতীয়দেড় মাত্রাতিরিক্ত রিয়াকশোন দেখানোর ফলাফল হবে খুবই সিম্পল। চিরাচরিত ভারতীয় কায়দায়, ভারতের কোন শিংকে আমেরিকা এসে আমেরিকান কারো কাছে মাফ চেয়ে যেতে হবে খুব শিঘ্রই। এটাই হলো বাস্তবতা। একারণে খামাখা এতোটা হম্বি তম্বি না করলেই পারতো ভারত।

পরিমিতিবোধ জিনিসটি ভারতীয়দের শুধু টাকাকড়ি বিষয়ক কিপ্টামিতেই সীমাবদ্ধ। বোঝা যাচ্ছে ভারতীয় সিনেমার মতোই ভারতীয় ডিপ্লমেসিতেও পরিমিতি বোধের অভাব প্রকোট। প্রতিহিংসাপরায়নতাও ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের মতো তাদের ডিপ্লোম্যাসিতে ঢুকে পড়েছে। বাংলাদেশিরা এই বিষয় গুলো বেশ ভালোই জানেন। এখন আমেরিকানরাও জানলো। ঘটনার টাইমিং এবং প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেললেও অবাক হবো না।