‘চেতনার’ সর্বনাশা হেরোইন

s4
The Imminent Danger 
The enemy of Islam understand that the full conversion of Bengali Muslims to non-Islam is difficult. But they also understand that it is very easy make them cultural converts. It is no less harmful either. Indeed, this way they are pulling the Muslims away from Islam’s fundamental belief and practice, and making easy inroads into Muslims’ inner circles of politics and other activities. Since culture itself is the expression of Muslim faith; and many Bengali Muslims are indeed mere cultural Muslim with little Islamic knowledge and aqeeda, such cultural conversion will be highly detrimental to Islam in Bangladesh. Ultimately, that will lead to massive de-Islamisation. And such de-Islamisation would adequately serve the enemy’s political and strategic purpose

http://www.hrwbd.org/2013/03/indias-war-in-bangladesh.html#sthash.CmccuUG1.dpuf

দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সচেতন নাগরিকসমাজ বারবার অনলাইনে অজস্র লেখায় একথা বার বার স্মরণ করিয়ে দিয়ে জাতিকে সতর্ক করে চলেছেন _ যারা এখনো বুঝতে পারছেন না যখন বুঝতে পারবেন নিজের চোখের জলের মাঝে স্বজন হারানোর বেদনায় নিজেই একদিন ভাসতে হবে, এবং সেই দিন খুব বেশি দূরে নয়। ভারতীয় বর্ণবাদি হিন্দুরা কোনদিন আমাদের বন্ধু হবে _ এটা কোন মুসলিম বিশ্বাস করতে পারে না। কারণ এটি বিশ্বাস করলে কোরআনকে অবিশ্বাস করতে হয় যা একজন মুসলিম দুঃস্বপ্নেও করতে পারে না। কোরআন অনুযায়ী ইয়াহুদ-নাসারা-মুশরিক কখনো মুসলিমদের চিরস্থায়ী খাঁটি বন্ধু হতে পারে না।

আজ স্বাধীন বাংলাদেশের ওপর ভারতীয় আগ্রাসনের যে অশুভ ধূসর ছায়া আমরা দেখতে পাচ্ছি তা কি ‘রাজনীতিবিদ’ নামের কিছু সুবিধাবাদির আঁতাতনির্ভর বিশ্বাসঘাতকতার ফসল নয় ? চেতনার মায়াবড়ি খাইয়ে অবশ করে রেখে দিব্যি দিনেদুপুরে পুরো দেশটাকে নিজস্ব প্রভাববলয়ের চাদরে ঢেকে দিয়েছে ভারতীয় বর্ণবাদি আধিপত্যকামীরা। আবুল মাল আবুল মুহিতের মত লোক ভারত-বাংলাদেশে অভিন্ন মুদ্রা চালু করার পর্যন্ত প্রস্তাব দেয়ার দুঃসাহস পাচ্ছে আজ। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার অধ্যূষিত সুন্দরবনের মত সবেধন নীলমণি একটি গৌরবময় জাতীয় সম্পদকে ভারতীয় তাঁবেদার সরকারের নির্লজ্জ মেরুদন্ডহীন সহযোগিতায় ভারতের হাতে তুলে দিয়ে নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সুজাতা সিংহের মত মামুলি অনভিজ্ঞ ভিনদেশি একজন আমলা এসে একটি স্বাধীন দেশের সর্বোচ্চ নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করে জাতীয় নির্বাচনের মত একান্ত স্পর্শকাতর আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ক্ষমতায় কে আসবে না আসবে সে বিষয়ে হাসিমুখে তাচ্ছিল্য সহকারে নির্দ্বিধায় খোলাখুলি কথা বলার স্পর্ধা দেখাতে সাহস পাচ্ছে !

খালি এক কুমীরের বাচ্চার মত ‘৭১ এর জুজু বার বার দেখালে হবে না আজকের প্রেক্ষাপটে ভাবতে হবে। কেন গণচীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও ‘স্বাধীন’ দেখতে চান সে কথা চিন্তা করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বাংলাদেশের আপামর জনতার এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বিজিত হয়েছে। ‘৪৭ এ দেশবিভাগের আগে উত্তর ভারতীয় তথা দেশবিভাগের পরে পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের স্বার্থের ব্যাপারে অমানুষিকভাবে আমানতের খেয়ানত করায় পর্যায়ক্রমে ২৪ নছর পর জালিমের হাত থেকে বাঁচার আকাঙ্খায় আসে মুক্তিযুদ্ধ। ‘৭১ পরবর্তী সমস্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে একের পর এক নানা কৌশল জনগণের আমানতই খেয়ানত করে গেছেন। আর বঙ্গবন্ধু ? ‘৭১ এ যে ভূমিকা গণমানুষের মুক্তিতে তিনি রেখেছিলেন পরবর্তীতে ঠিক তার বিপরীত ভূমিকা রেখে স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করে স্বৈরাচারিতার নতুন ধারাবাহিকতার সাড়ম্বর উদ্বোধন করে গেছেন। শেখ মুজিবুর রাহমান যে মাত্রায় মানবাধিকার লঙ্ঘন করে গেছেন একমাত্র আজকের শাসকদল ছাড়া আর কোন আমলে কোন শাসকগোষ্ঠিই সে কল্পনাতীত উচ্চতায় আরোহণ করতে পারেনি। এসব সত্য আমরা জেনেও বলতে চাই না, ভাবতে চাই না। আবেগে অন্ধ হয়ে আমরা ব্যক্তিপূজায় লিপ্ত হয়ে যাই অথচ এটা শিরক, শিরক কখনো আল্লাহর কাছে ক্ষমার যোগ্য নয়।

_________________

‘৭১ এ নিঃসন্দেহে পশ্চিম পাকিস্তানিদের অবর্ণনীয় জুলুমের শিকার হয়েছে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান। ভারতীয়রা সেসময় সাহায্যও করেছিল আমাদের। কিন্তু সেটা কি ভারত অনেকটাই নিজের স্বার্থে করে নি ? যদি নাই করে থাকে তাহলে কেন ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ‘ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ’ তকমা দিয়েছিল ? কেন মুজিবনগর সরকার বা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন সরকারের কাছে পশ্চিম পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণ না করিয়ে নিজেদের সামরিক বাহিনীর কাছে করিয়েছিল ? কেন পশ্চিম পাকিস্তানিদের অস্ত্রসমর্পণের পর স্বাধীন বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর প্রাপ্য হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র তারা আমাদের ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিনা বাধায় ভারতে নিয়ে গিয়েছিল ? আজ কেন এক একটি সেক্টরে হাজার হাজার কোটি টাকা ভারতীয় বণিক গোষ্ঠি লুন্ঠন করে নিয়ে যেতে পারছে চিন্তা করতে হবে। এই দূর্বৃত্তদের আবার এক সাগর রক্তের বিনিময়ে হলেও তাড়াতে হবে, জাতীয় সম্পদ যথেচ্ছ লুটপাটে বাধা দিতে হবে। ‘৭১ এ আমাদের নির্যাতিত পূর্বপুরুষ মুক্তিযুদ্ধ করে হানাদার পাকিস্তানিদের হটিয়ে দিয়েছিল সেই অতীত গৌরবের ধোঁয়ায় সারাক্ষণ হেরোইনের মত নেশায় বুঁদ হয়ে থাকার কিছু নেই। সেটা অবশ্যই আমাদের গৌরবময় অতীত, কিন্তু সেটা তখনকার বাস্তবতা। আজকের বাস্তবতা হচ্ছে ভারতীয় আগ্রাসন এবং ‘৭১ এর চেতনায় আচ্ছন্ন হয়ে অবশ পড়ে থেকে ২০১৩ তে ভারতীয় বুটের লাথি খাওয়া ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ না। ভারতীয় তাঁবেদার গোষ্ঠির অন্ধ আনুগত্য ২০১৩ তে দেশপ্রেমও না। কি সেটা বিবেকবান পাঠকই বুঝে নেবেন।

আগেও বলেছি এখনও বলছি _ শাহবাগ ভয়ংকর সাম্রাজ্যবাদি এক মহাচক্রান্তের ক্রীড়নক মাত্র। প্রতিবেশী একটি ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের বাণিজ্যিক-সামরিক ভারসাম্যমূলক আধিপত্যবাদের প্রাথমিক পর্যায় বিনা বাধায় অতিক্রম করার জন্য সাংষ্কৃতিক ট্রোজান হর্স। এটাকে জাতির চোখের সামনে রেখে ধোঁকার বিভ্রান্তি-কুয়াশা সৃষ্টি করে জাতিকে অতি সহজে শতধাবিভক্ত করে সর্বব্যাপী সংঘাত-গৃহযুদ্ধ সৃষ্টির মাধ্যমে মহানৈরাজ্যের পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটিয়ে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করে পর্দার অন্তরালে নিজেদের অঘোষিত অঙ্গরাজ্য হিসেবে ধারাবাহিক শোষণের অভয়ারণ সৃষ্টির রাক্ষুসে মতলব। জাতি সময়ে সতর্ক হয়ে জেগে না উঠলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরো অকার্যকর হয়ে পড়বে। ক্যান্সারের জীবাণু প্রাইমারি স্টেজে প্রতিরোধ করা যতটুকু সহজ _ লাস্ট স্টেজে তত বেশি কঠিন। পরাধীনতা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রকৃত স্বাধীনতার চেতনায় জেগে উঠতে হবে, শাহবাগি চেতনার হেরোইন খেয়ে ফার্মের মুরগির মত ঝিমোলে হবে না।
‘৪৭ এ প্রেক্ষাপটে নিজেদের জাতিগত স্বার্থ গঠিত পাকিস্তানের দেশপ্রেম কিন্তু ‘৭১ এ এসে শেষ হয়ে যায়। ‘৭১ এর প্রেক্ষাপটে ‘৪৭ এ যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল তা বাংলার জেগে ওঠা মানুষের কাছে দুঃস্বপ্ন পরিণত হয়। ‘৭১ পরবর্তী শাসকদের ক্রমাগত ব্যর্থতার ধারাবাহিকতার একটি চুড়ান্ত পর্যায়ে বাংলাদেশ আজ ভারতীয় আগ্রাসনের নির্মম শিকার। ভারতের হাতে একদিন মাতৃভূমি তুলে দিতে হবে এজন্য নিশ্চয় ‘৭১ এ মুক্তিযোদ্ধারা সর্বস্ব বাজি রেখে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনেন নি। কাজেই আমাদের এবার জেগে উঠতে হবে। যে যুক্তিতে ‘৭১ এ পাকিস্তানকে এই ভূমি তুলে দেই নি, ২০১৩ তে সেই একই যুক্তিতে ভারতকেই দেবো না। ‘৭১ এ পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদারদের দোসর রাজাকারদের যেমন ‘না’ বলেছিলাম _ ঠিক তেমনি ২০১৩ তে ভারতীয় আগ্রাসী হানাদারদের দোসর যারা তাদেরও সমস্বরে ‘না’ বলতে হবে অযুত কন্ঠে। আল্লাহর কাছে স্বাধীনতা চাইতেও হবে, আমাদের সরকারগুলো বঙ্গভবনে শপথবাক্য পাঠ করার ভড়ং করে একের পর এক লুটপাটের নতুন নতুন রেকর্ডই সৃষ্টি করে গেছে।

আরেকটি ব্যাপার হল আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ) কে যারা গালিগালাজ করে তারা নিদারুণ অভিশপ্ত। তারা নিজেরা অভিশপ্ত, এমনকি তাদের অভিশপ্ত বদ আমলের কারণে তারা যে জনপদে বসবাস করে সেই জনপদও শংকামুক্ত নয়। সেজন্যে তাদের ও তাদের আশ্রয়প্রশ্রয়দাতারাও অভিশপ্ত, আল্লাহর আজাব-গজবের ভাগীদার। কোন যুক্তিতেই এই ধরণের অভিশপ্ত লোকদের সমর্থন করা যাবে না, নীতিগতভাবে না বা অন্য কোনভাবে না। করলে সারা দেশ খোদাঈ আজাবগজবের সম্মুখীন হতে হবে। খোদাদ্রোহিতা একটি অভিশপ্ত বিষয় যেটির কারণে লক্ষ বছর ইবাদাতও মূল্যহীন হয়ে যায়।আল্লাহ আমাদের গোটা জাতিকে এই অভিশাপ থেকে হেফাজত করুন।

ইনশাআল্লাহ তাহলেই আল্লাহর সাহায্যে অচিরেই আমরা আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে সমর্থ হবো। অন্যথায় ঔদ্ধত্য-অবাধ্যাচারিতা-অনাচার এগুলো খুবই দ্রুত কুফরির বিরুদ্ধে নিয়ে যাবে এবং ফলস্বরুপ যে আজাব আসবে তার ভাগীদার প্রতিবাদ-প্রতিবিধান না করায় তা আমাদেরও ছেড়ে কথা বলবে না।

General Ershad: The Brutal Dictator or The Saviour of Democracy?

Noor Hossain:

It is ironic that I’m writing this piece on our Victory Day that marked the end of our quest for freedom in 1971 . This is the day we’ve achieved territorial freedom.  The history says, we have achieved our political freedom in 1990 when the autocratic regime of Ershad had fallen against years of mass movement.   After the fall of Ershad, we have achieved  freedom for democracy– the freedom of politics in Bangladesh.

Perhaps my narrative would hurt the memories of Noor Hossain or Dr. Milon, two iconic martyrs who were fallen in our struggle to democracy and freedom during the autocratic regime of Ershad.

However, the responsibility of insult, if any to the fallen martyrs, requires to be taken by Awami League, who in the name of democracy and freedom, confiscated freedom and democracy in Bangladesh, step by step, day by day, by force and by bullets –all in the name of freedom and democracy.

Ershad was brutal too. He ruled Bangladesh for about nine years. He curtailed freedom of media, picked up people, played with parliament and so forth. However, no body had seen Ershad or law enforcers were firing indiscriminately to the citizens of Bangladesh, months after months, with little care.

Indeed, Ershad did not declare war against the people of Bangladesh to save his regime. Not to the extent we’re seeing it today. This year, hundreds have been dead in political violence and more are to be dead as Awami League decided to crack down on the opponents with the help of law-enforcing agencies. They’re to launch the attack from December 17, according to reports by newspapers.

Yes you read it right, Awami League decided to crack down opponents. I suggest you to read that  Awami League would shoot down opponents with the help of law-enforcers in this case.

Imagine the picture, a group of civilians are going to kill civilians from opposition with support from state institutions of law enforcing agencies by subverting judicial procedures. It seems, we are in the dress rehearsal session for Afghanistan or Iraq in Bangladesh, where mercenaries are to join hands with militaries to counter oppositions. After all Chatroleagues are mercenaries, they are paid to avail socio-political privileges, in exchange of their dirty work to protect a monarchy or that type!

This means the judicial institution of the state is compromised. It has been done long ago but it is official now. Interestingly, extra-judicial killings of opponents by Awami League who are using state institutions to support its dirty agenda, is not without support from our public intellectuals as Facebook celebrity Zia Hassan or Prothom-Alo editorial member Sohrab Hosain, who publicly urged in separate forms, to support, ‘State Institution’ that  in reality  is compromised by a political party or ‘  Rab and Police to encounter opposition’ against the backdrop of mayhem and chaos, deliberately created by the ruling party to deviate public attention from election issue.

In this state when intellectuals are at their lowest ebb of morality and ethics and the government had pushed the country on the verge of a civil war with its agenda to go ahead with an  one sided election, surprisingly a man stood up in favour of political freedom and democracy–it was Generel Ershad.

As a repercussion of his decision,  Ershad was arrested for not supporting a sham election. He even divorced his wife in accusation of betraying for striking a dirty deal with the current government to support an one-sided election, at least publicly. Skeptics argue that Ershad is staging a soap opera to divert attention.

After 23 years of the fall of his tyrannical regime, it remains to be seen though how Ershad is to be evaluated in course of history.  Will we see him as a former autocrat who stood up against a present autocrat to save democracy in 2013?

Nevertheless, we need to agree that  Ershad is the rock n roll star of Bangladesh politics. Cause no body in the history of Bangladesh politics could rock and roll with the beat of political doldrums and sustain the way Ershad did.

সম্মিলিত ‘মুসলিম ঐক্য’ ছাড়া এইবার বাঁচন নাই

Image

জামাতকে সেকুলাররা ইনজেনারেল মডারেট মুসলিমদের সবচেয়ে ডেডিকেটেড, সবচেয়ে অর্গানাইজড পলিটিক্যাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করে। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে যে মত পোষণ করি ইসলামের ব্যাপারে তা অনেক ইসলামপন্থিদের কাছে অর্থোডক্স মনে হতে পারে। ব্যাপার না মুসলিমদের মাঝে নানান মত থাকবেই বাগানের সব ফুলের গন্ধ এক হয় না। খেয়াল করে দেখুন হেফাজতের ৫ ই মের গণহত্যা বা জামাতশিবিরের বছরজুড়ে গণহত্যা দুটোই সেকুলারদের কাছে, আহলে কুফফারদের কাছে পশুপাখি মারা যাওয়ার সংবাদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ না। এবারের লড়াইটা ‘মুসলিমদের’ বিরুদ্ধে, রাজনৈতিক রঙটা একটা মিথ্যা আবরণ মাত্র। আসল উদ্দেশ্য আড়াল করার জন্য।

তাই একই সঙ্গে আমি মনে করি এখন সমস্ত বিভেদ ভুলে মুসলিমদের এক হওয়ার সময় এসেছে। এক কালিমার পতাকাতলে, এখন অমুকবাদ তমুকিজমের দিন শেষ। এক কালিমা এক রাসূল(সাঃ) এর উম্মত হিসেবে সব বিভেদ ভুলে আমাদের এক কাতারে দাঁড়ানোর সময় এর আগে এত নিদারুণভাবে আসেনি। আজ এক শিবিরনেতা যিনি লক্ষীপুরে নৃশংস হত্যাকান্ডের চাক্ষুষ সাক্ষী, বললেন ভারতীয় দালালদের প্রাথমিক টার্গেট জামাত-শিবির, জামাত-শিবির শেষ হলে পরবর্তী টার্গেট হেফাজত। বলাই বাহুল্য একে একে সব ইসলামিক দল বা প্ল্যাটফর্মই আক্রান্ত হবে, কলোনিয়াল কাজিনস যাদেরই হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে। এখানে একটা হিসেব বাইরে থেকেও ঠিক বাইরেও নেই তা হল তাবলীগের একটা বিরাট অংশ হেফাজত সমর্থক, আবার হেফাজতের সমর্থকদের বেশিরভাগই নিয়মিত তাবলীগে সময় লাগায় বা একই আক্বীদার মুসলিম। চরমোনাই খুব বিপরীত মেরুর নয়। সবাই ইসলামপন্থি হিসেবে ইন কমন সেকুলারদের কাছে বিবেচিত এবং কারো জন্যই সেকুলারপন্থিদের হৃদয়ে এতটুকু মমতা যে নেই _ সেটি আজকের প্রেক্ষাপটে বড় মূল্য দিয়ে, বড় নিদারুণভাবে মুসলিমদের বুঝতে হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশে না _ মিশর, সিরিয়া, তুরষ্কসহ বিভিন্ন দেশে।

Image

‘গাযওয়ায়ে হিন্দ’ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী মুশরিকদের সাথে মহাযুদ্ধ এমনিতেই সমাগত প্রায়। এখন আমরা যা দেখছি তা সূচনা বা ক্ষেত্র প্রস্তুতকৃত হওয়া। সেদিন এক শুভান্যুধায়ী মারফত এক তাবলীগি মারকাজের জেলা শুরা, বড় আলেম _ সাধারণতঃ খুবই ডিসিপ্লিনড এবং সেল্ফ-কন্ট্রোলড একজন মানুষ, হিসেবের বাইরে কোন কথাই বলতে শোনা যায় না, সেদিন সাধারণ হিসেবের বাইরে অদ্ভূত এক কথা বললেন যা আরেকজনের মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে। তা হল ‘গাযওয়ায়ে হিন্দ’ সমাগত এবং তার মূল স্ফূলিঙ্গের স্ফূরণ ঘটবে খুব সম্ভবতঃ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে। ভারতের আশেপাশের কয়েকটি রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশের চট্টগ্রামই হবে মূল কেন্দ্র। এক এনালাইজার দেখলাম কিছু তথ্যের ভিত্তিতে একটি তত্ত্বও দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন তা হল ২০১৭ সালের কিছু আগে বা কিছু পরে ঘটবে এটি। ভারত সম্পূর্ণভাবে পদানত হবার পর মুজাহিদ মুসলিমদের যারা জীবিত থাকবেন তারা খোরাসান হয়ে দামেশকের দিকে রওনা হবেন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য।

যাই হোক মোটামুটি এটা তো আমরা অবশ্যই লক্ষ্য করছি যে গত এক বছরে ভারতীয় উপমহাদেশে এবং বিশেষতঃ বাংলাদেশে যা ঘটছে, ঘটে চলেছে তা ইতিপূর্বে কখনোই ঘটেনি। এটি অবশ্যই ম্যাচিওর হচ্ছে এবং চুড়ান্ত একটি পরিণতির দিকে যাওয়া ছাড়া ক্ষান্ত হবে না। যত বিভেদ আমরা এখন তৈরি করব তত বেশি ক্ষয়ক্ষতি আমাদের হতে থাকবে, এক এবং একাত্ম হওয়া ছাড়া আসমান-জমিনের কোন রাস্তা আমাদের জন্য খোলা নেই। এখন মুসলিমদের ওপর যেভাবে আক্রমণ হচ্ছে সেটির পজিটিভ দিক হল এতে মতভেদ-বিভেদ ভুলে এক কালিমার ছায়াতলে সমবেত হবার বিরাট সুযোগ। এটি যত তাড়াতাড়ি আমরা বুঝতে পারবো যে এখন মুসলিম ঐক্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় ইসলামের স্বার্থে, আমাদের অস্তিত্বেরও স্বার্থে _ ততই মঙ্গল।

অতএব, বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ার মুসলিমদের যে রক্তের ধারা আমরা প্রবাহিত হতে দেখছি তা আগামী দিনগুলোতে স্ফীত থেকে স্ফীততরই হতে থাকবে। মুসলিমরা যতক্ষণ পর্যন্ত নানা মতভেদ ভুলে গিয়ে এক কালিমার পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামের শত্রুদের জন্য মুসলিমনিধন সহজেই সম্ভব হবে। মুসলিমদের অন্তঃকলহের সুযোগে নানা কৌশলে তারা এটি করতে সমর্থ হচ্ছে, প্রতিরোধে ব্যর্থ হলে দিনে দিনে তারা আরো হিংস্র আরো আগ্রাসী হবে। মনে রাখতে হবে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যে মুশরিকদের তথা ভারতীয় বর্ণবাদি হিন্দুদের প্রধান টেনশন এখন দুটো দলকে নিয়ে, জামাত ও হেফাজত। হেফাজতের লংমার্চে স্মরণকালের বৃহত্তম মুসলিম অংশগ্রহণ দেখে তাদের উদ্বেগ ও আতঙ্ক জন্মেছে, যেন তারা তাদের মরণকে দেখেছে। উল্লেখ্য ভারত সে অর্থে সেকুলার নয়, যদিও ভাব ধরে থাকে। নরেন্দ্র মোদির মত তীব্র সাম্প্রদায়িক মুসলিমবিদ্বেষী সেখানে সম্ভবতঃ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছে, দিল্লিসহ সাম্প্রতিক ৫ টি রাজ্যে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মেরুকরণ হচ্ছে। আগের দিন আর নেই সেটা বুঝতে হবে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, বিজেপির একটি অংশ ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ হিন্দু মৌলবাদির সমাবেশ ঘটিয়ে সবাইকে নিয়ে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে’ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘বাংলাদেশ চলো’ নামক যুদ্ধংদেহি পদযাত্রার হুমকি দিয়েছে।  আজ হয়তো তারা আসবে না, কিন্তু কাল বা পরশু অথবা অচিরেই একদিন তারা অবশ্যই আসবে তাতে সন্দেহ নেই। তাদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা প্রবল এবং আসার পর ভারতের এতদিনকার ‘বাংলাদেশ নীতি’ অনেকটাই পরিবর্তিত হবার সম্ভাবনা। এতদিন যা পায়নি সেই ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণও তারা লাভ করবে। কাজেই তার আগেই বাংলার মুসলিমদের দলমতনির্বিশেষে সমস্ত বিভেদ ভুলে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে। ইসলামের স্বার্থে তো বটেই, নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেও। অন্যথায় গুজরাটে নরেন্দ্র মোদিদের ইন্ধনে যে ভয়াবহ বীভৎস হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যপক ও বিরাট আকারে, এমনকি ‘৭১ এর হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের চেয়ে ভয়ংকর পৈশাচিক অভিজ্ঞতা বাংলার মুসলিমদের জন্যে অপেক্ষা করছে। আমি চাই আমার এই আশংকা সত্য না হোক, কায়মনোবাক্যে চাই। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, বিপরীত অভিজ্ঞতা লাভ করাও অসম্ভব নয়।

আল্লাহ সমস্ত বিভেদ ভুলে আমাদের এক হওয়ার তাওফিক এনায়েত করুন।

আমিন।

আওয়ামিলীগের প্রহসনের বিচার কাদের মোল্লাকে কিংবদন্তী বানিয়ে দিলো।

মাহবুব মিঠু।

কিছু প্রশ্নের উত্তর অমিমাংসিত রেখেই কাদের মোল্লার ফাঁসীর রায় কার্যকর হোল। অস্বিকার করার ‍উপায় নেই, আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মুসলিম লীগ এবং জামাতে ইসলামের ভূমিকা ছিল দেশের বিপক্ষে। মুক্তিযুদ্ধের গোটা নয় মাস জুড়ে এই দুই দল সারাদেশে পাকীদের সাথে একই কাতারে দাঁড়িয়ে দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অনেক সূর্য সন্তানকে হত্যা করেছিল। ১৪ই ডিসেম্বর, শুধুমাত্র একদিনে তারা খুন করেছিল অগনিত মানুষকে। তাই ৭১ এর নৃশংসতার শাস্তি জড়িতদের অবশ্যই প্রাপ্য।

এই বিষয়ে কারো প্রশ্ন থাকলে সে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি নয়। পুরো বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আজ জাতি যে দ্বিধাবিভক্ত তার উৎসমূলেও কিন্তু “যুদ্ধপরাধীদের বিচার করা যাবে না” তাও নয়। বিভক্তির জায়গাটা একটা নৈতিক অবস্থান থেকে। বিচার প্রক্রিয়ার দলীয়করণ চরিত্র দেখে বিবেকবান মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এটা কি ’বিচার নাকি প্রতিশোধ’? প্রতিশোধই যদি নিতে হবে তাহলে ট্রাইবুনাল গঠন করে, এতো এতো লোকজনের বেতন ভাতার ব্যাবস্থা করে জনগণের ট্যাক্সের টাকার শ্রাদ্ধ কেন? আওয়ামিলীগের দৃষ্টিকোণে প্রতিপক্ষের যাকে যাকে মনে হয় যুদ্ধপরাধী তাদের সোজা ধরে এনে লটকে দিলেই হয়!

মূলতঃ বিচার নাকি প্রতিশোধ, এই নৈতিক অবস্থান থেকে সরে যারা কাদের মোল্লার ফাঁসী নিয়ে মাতামাতি করছেন তাদের অপরাধের প্রকৃতিও কিছুটা সেই ৭১ এর ঘাতকদের মতোই জিঘাংসা থেকে উদ্ভুত।

স্বাধীনতার চেতনার একটা বড় অংশ ছিল সমাজে ন্যায় বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। শুরু থেকে যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে সরকার যে প্রহসন করেছে তাতে কি মনে হয় স্বাধীনতার এই চেতনার কোন সংযোগ ছিল? সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বিচার প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু হয়। সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হোল, বিচার কাজে সুষ্ঠুতা  দিতে সরকারের যে অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সেই আইন বিভাগের প্রধান আইনমন্ত্রী, সদা বাচালতায় স্বিদ্ধহস্ত কামরুল ইসলাম এবং তার পরিবার নিয়ে যুদ্ধপরাধ সংক্রান্ত যথেষ্ট অভিযোগ আছে। বেয়াইর কথা বাদই দিলাম। লিখতে লিখতে ক্লান্ত। রাষ্ট্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তৎকালীন প্রধান মহিউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে স্বয়ং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী যুদ্ধপরাধের অভিযোগ তুলেছেন। এভাবে দেখতে গেলে বর্তমান আওয়ামিলীগ করছেন জীবিত এমন অন্ততঃ তিন ডজন রাজাকার এবং যুদ্ধপরাধী নেতা আছেন, যাদের কাউকেই বিচারের আওতায় আনা হয়নি। এই লিষ্ট বিএনপির করা নয়। এটা করেছিলেন প্রয়াত জাহানারা ইমাম।  যুদ্ধপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত সালাহউদ্দিন কাদেরের একটা উক্তি বেশ মজার! তিনি বলেছিলেন, আওয়ামিলীগ এমন একটা কল যার একদিক দিয়ে রাজাকার ঢুকালে অন্যদিক দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বের হয়। তবে আমরা দেখেছি মুখ দিয়ে খাবার ঢুকালে পাছা দিয়ে হাগু বের হয়। অর্থাৎ কোন ভাল মানুষ আওয়ামিলীগ করলে সে আবুল হোসেন হয়।

আরেকটি হাস্যকর দিক এড়িয়ে যাবার নয়। ‘স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি’ নামে পরিচিত লাভ করা সেই ঘাদানিকের প্রধান শাহরিয়ার কবির যুদ্ধের সময় পাক আর্মিদের মুরগী সাপ্লাই দিত। এরাই হোল বিচারের সংগঠক এবং ব্যবস্থাপক। বুঝুন এবার!

এই ঘটনা উল্লেখ না করলে লেখাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।  গত ফেব্রুয়ারী মাসে এই কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে শাহবাগে যে সত্যিকারের গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কমে কেন রায় বাস্তবায়নের সময়ে শতেক খানেক লোকে এসে ঠেকল? আজকে তো কোটি জনতার উল্লাসে মুখরিত হবার কথা ছিল শাহবাগ চত্ত্বর। খুব তাড়াতাড়ি সত্যিকার স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ বুঝতে সক্ষম হয় তারা সরকারের পাতানো জালে আটকে যাচ্ছে। বন্যার পানি সরে যাবার মতো তাই দ্রুততার সাথে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও কমতে থাকে। মূলতঃ এই ট্রাইবুনালের রায় স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে কিম্বা অপরাধের মেরিট অনুযায়ী যতোটুকু দেয়া হয়েছে তার চেয়ে বেশী প্রভাবিত হয়েছে সরকারের ইশারায়। কাদের মোল্লার রায়ে দেয়া যাবজ্জীবন ছিল পুরো খেলার একটা অংশ। সরকার দুর্নিতি, ভারতপ্রীতি, মানুষ অপহরণ, গুম নিয়ে যে ঝামেলায় পড়ে গিয়েছিল সেখান থেকে উত্তোরণের জন্য এই প্রহসনের খেলা জরুরী ছিল। যদিও শেষমেষ খেলা জমাতে পারে নাই। রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ জনতা শাহবাগে ভীর জমাতে থাকে। শ্লোগান ওঠে, জামাতের সাথে ’সরকারের’ এই আঁতাতের রায় মানি না। দু’দিন না যেতেই শাহবাগের সেই আন্দোলনের ভিতরের কুশীলবরা আসল পরিচয় নিয়ে হাজির হয়। শুরুতে সরকার ভিলেন থাকলেও তারাই ধীরে ধীরে মঞ্চে এসে নায়কের চরিত্রে অভিনয় শুরু করে। আরো ক’দিন যেতেই মূল ইস্যু অর্থাৎ যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসীর দাবীর পরিবর্তে সামনে আসে বিএনপি বিরোধীতা।   বিএনপির এ্যানির নেতৃত্বে প্রাক্তন ছাত্রদলের অনেক নেতা ‘নব্বই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতার’ ব্যানারে শাহবাগের সেই প্রথমদিককার সত্যিকার গণজাগরণে একাত্নতা প্রকাশ করতে চেয়েছিল। আজকে আওয়ামিলীগ কর্তৃক পিতৃ সম্পত্তি হারানোর শোকে কাতর অঞ্জন রায় কার সাথে পরামর্শ করে তখন এ্যানিকে ‘না’ করেছিলেন? কেনই বা ‘না’ করেছিলেন? এই প্রশ্নগুলোর সদুত্তর পাই নাই তাকে জিজ্ঞেস করে। বাইন মাছের মতো পিছল কেটেছেন।

অঞ্জন রায়কে আরেকটি প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি আমার অনেক প্রশ্নের উত্তর দিলেও এই দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতেও সাহস পাননি। কয়েক সপ্তাহ আগে আমার ফেইসবুকের নিউজফিডে অঞ্জন রায়ের একটা পোষ্ট ভেসে ওঠে। মন্তব্য করতে না করতে মেসেজ আসে, পোষ্টটা ডিলিট করা হয়েছে। ওখানে অঞ্জন রায় লিখেছিলেন যা তার সারমর্ম হোল, তিনিও অনেক আশা নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে একাত্নতা দেখিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মূল চেতনার সাথে লাইনচ্যুত হওয়ায় তিনি আর পূর্বের অবস্থানে থাকতে পারেননি। উল্লেখ্য, ওনার লেখার ভাষাটা আমি দিতে পারব না। কারণ উনি মুহুর্তের মধ্যে সেটা মুছে দিয়েছেন। যেহেতু আমি একবার পড়তে সক্ষম হয়েছিলাম, তাই মূল কথাটা আমার নিজের ভাষায় লিখে দিয়েছি। অঞ্জন রায়কে প্রশ্ন করেছিলাম কিসের এবং কাদের ভয়ে পোষ্টটা মুছলেন? কি কারণে আপনার অবস্থানের এই পরিবর্তন? উনি নিরব থেকেছেন। আমার মনে হয়েছে অঞ্জন রায়ের সরকারের বিরুদ্ধে যতোটুকু অবস্থান সেটা শুধুমাত্র পিতৃসম্পত্তি হাতছাড়া হবার শোকে। বাকী আনুগত্য ঠিকই আছে। সম্পত্তি ফিরে পেলে পুরোটাই ঠিক থাকবে।

যাইহোক, গণজাগরণ মঞ্চের হঠাৎ ইউটার্ন নেয়া দেখে কারো বুঝতে বাকী থাকল না, কেন কাদের মোল্লাকে ফাঁসী নয় , যাবজ্জীবন দন্ড দেয়া হোল। কেনই বা সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি হোল। তারপরেও এখনো কিছু মানুষ গণজাগরণ নিয়ে ভ্রান্তিতে আছেন। তাদের তুলনা শুধুমাত্র নেশাগ্রস্ত মানুষদের সাথে করা যায়। এ এক অদ্ভুদ বাতিকগ্রস্ততা! মনুষ্য সমাজের অনেকেই নিজের অবস্থান ঠিক করতে নিজের মাথা না খাটিয়ে চোখ খাটাতে ভালবাসেন। মাথা অর্থাৎ নিজের বিবেক বুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ না করে অন্যের আচরণ দেখে স্বিদ্ধান্ত নেন। মনে পড়ে ছোটবেলায় হাতাকাটা ভোজেন (নামটা ভুল হতে পারে। অনেক ছোটবেলার কাহিনী।) গেঞ্জী পড়ে ‍চুলের দুইদিকের চিপ কানের উপর বরাবর কেটে ভাব নেয়াটাই ছিল ফ্যাশন। স্কুলের অঙ্কের শিক্ষকের চুল টানা খেয়ে শুধরে নিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সিগারেট ফুঁকাও অনেকের কাছে স্মার্টনেস! এই ধরনের ’চোখে দেখে’ স্বিদ্ধান্ত নেবার মতো কিছু লোক এখনো আছে। এরা ’বিচার’ এবং ‘প্রতিশোধ” কিম্বা ‘প্রতিপক্ষকে দমনের’ সরকারী কৌশল বুঝে কিম্বা না বুঝে শুধুমাত্র ‘আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী’ এই তকমা পাবার জন্যই এতদসংক্রান্ত সরকারের সমস্ত অপকর্মে নিজেদের বিবেককে বিসর্জন দিয়ে স্বাধীনতার মূল চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

এই অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তিকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষেত্রে। এই বিচার প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নেবার অর্থ হোল কলঙ্কিত এবং পক্ষপাতদুষ্ট বিচার প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানানো। অর্থাৎ স্বাধীনতার চেতনা যা কিনা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া।

আরো কিছু জিজ্ঞাসার কোন উত্তর পায়নি জনগণ। আওয়ামিলীগের প্রাক্তন এমপি রনির দু’টো লেখায় উঠে  এসেছে কিছুটা। এই কাদের মোল্লা কি সেই ঘৃণিত কসাই কাদের মোল্লা?

কাদের মোল্লার দাবী ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সে জেসিও মফিজুর রহমানের কাছে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ধলা মিয়ার দুই মেয়েকে যুদ্ধচলাকালীন সময়ে কাদের মোল্লার দাবী মোতাবেক তিনি প্রাইভেট পড়াতেন।

কসাই কাদের খ্যাত এতো বড় একজন খুনী কি করে যুদ্ধের ঠিক এক বছর পরে ৭২-৭৩ সালে বাঙলাদেশের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সুযোগ পেল? কি করেই বা সে শেখ মুজিবের আমলে স্কুলে চাকরী পেল?

এর একটা প্রশ্নের উত্তরও আমাদের কাছে পরিস্কার নয়।

উপরের দাবীগুলোর সত্যতা বা মিথ্যা প্রমাণে সরকার কি কি পদক্ষেপ নিয়েছিল আমরা তা জানি না। এই অস্বচ্ছতা অনেক মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। নামের কারণে যমে টানল না তো বেচারাকে? এই বিভ্রান্তি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়বে। উত্তর না মিললে এক সময় এটা বিশ্বাসে পরিণত হবে।

যুদ্ধপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকরের দিন ঢাকা আতঙ্কের নয়, বরং উৎসবের নগরী হবার কথা ছিল। যে আকাঙ্খিত রায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে আজ সারাদেশে সম্মিলিত আনন্দ উৎসব হতে পারত, বর্তমান সরকারের ঘৃণ্য এবং একপেঁশে বিচার প্রক্রিয়ার কারণে জাতি আজ দ্বিধাবিভক্ত। আখেরে এই পুরো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামাত শিবিরের উত্থান আরো ত্বরান্বিত হবে।

এতোগুলো প্রশ্নের উত্তর অমিমাংসিত রেখে আওয়ামিলীগ কাদের মোল্লার ফাঁসী দিয়ে যুদ্ধপরাধের বিচার কতোটুকু করতে পারল জানি না। তবে তড়িঘড়ি করে রায়ের বাস্তবায়ন করে কাদের মোল্লাকে অপরাধী হিসেবে নয়, একজন ইসলামী আন্দোলনের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে দিল। আগামী অন্ততঃ কয়েক যুগ কাদের মোল্লার গল্প বলে শত শত মুসলিম যুবককে তারা দলে ভিড়াবে।

এমনটিই হয়তো চেয়েছিল আওয়ামিলীগ এবং তাদের একান্ত বন্ধু আমাদের প্রতিবেশী ভারত। বাঙলাদেশকে জঙ্গীবাদের ট্যাগ লাগাতে পারলে সুবিধা বিএনপির অনুকূলে নয়, সেটা যাবে এই দুই শক্তির পক্ষে। বাঙলাদেশ আফগানিস্তান হলে লাভ বিএনপির নয়, পুরোটাই সুদসহ মূলধন এই দুই শক্তির পকেটস্থ হবে।

কিভাবে?

এই বুঝটা যে সব মনুষ্য প্রজাতির নেই তাদের আমার লেখা পড়াটাই ভুল ছিল।

Mahalom72@msn.com

জামাত, যুদ্ধাপরাধ, কাদের মোল্লার ফাঁসি ও জোটের রাজনীতি

Z Force

যে দেশে পুলিশের গুলিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ জন মৃত্যু বরন করে (আট বছরের শিশু থেকে বয়স্ক প্রৌঢ়, সাধারণ মানুষ থেকে বিরোধী দলের বড় নেতা পর্যন্ত ), প্রতিদিন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নামে গুম হয় ৫-১০ জন (যাদের হয় আর কোনও হদিস মিলেনা, বা পাওয়া যায় কোনও নির্জন স্থানে), সেই দেশে ভুল রায়ে একজন কে মৃত্যুদণ্ড দিলে সেটা খুব বড় কোনও ব্যাপারনা। 
দেশে আসলেই মানুষের জীবনের কোনও মুল্য নাই। বিরোধী দল তো ‘মানুষের জাত না’ এরকমও একটি তত্ত্ব দিয়েছেন জনৈক বিতর্কিত ভুঁইফোঁড় বিজ্ঞানী। কিন্তু যখন বিষয়টি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সঙ্ঘটিত অপরাধে কাউকে ফাঁসি দেবার ব্যাপারে হয়, তখন সেটি বিশেষ বিশ্লেষণের দাবীদার অবশ্যই। কারণ, এর সাথে জড়িত আমাদের সকলের আবেগ এবং ইতিহাসের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা।

১৮ দলীয় জোটে বিএনপি এর একটি শরীক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ১৯৭১ সালে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত স্পষ্টতই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির বিরুদ্ধে। তাদের সেই অবস্থান তারা বিভিন্ন সময়ে ব্যাখ্যা করার চেস্টা করেছেন। তাদের সেইসব যুক্তি গ্রহন বা বর্জনের দায়ভারে সাধারণ জনগণের হাতেই ন্যস্ত। রাজনৈতিক এবং বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিএনপি র করা ১৮ দলীয় জোটের অংশ দেশের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার্থে । কিন্তু তাতে দুই দলের কারও স্বকীয়তা বিন্দুমাত্র হারিয়ে জায়নি, বা একে অন্যের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়নি। উদাহরণ স্বরুপ ইউকে তে কনজারভেটিভ দল এবং লিবারেল দল আদর্শিক দিক থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত হলেও লেবার পার্টির অনেকদিনের অপশাসনের বিরুদ্ধে (তাদের ভাষ্যমতে) তারা একজোট হয়ে রাজনীতি করছে। এতে এই দুইদল একে অন্যের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়নি। এরকম ভুরি ভুরি অসংখ্য উদাহরণ আছে, যা দিতে থাকলে পুরো পোস্ট ভরে যাবে।

যেই ব্যাপারে এই পোস্ট সেই ব্যাপারে আসি। আব্দুল কাদের মোল্লা নামে জামাতের এক শীর্ষ নেতার মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার শেষে এখন ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষায় পুরো জাতি। এই লোকটিকে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন দিলেও, পরবর্তীতে হাইকোর্ট ফাঁসির আদেশ দেন। আইনজ্ঞদের মতে এরকম নজির বাংলাদেশ তথা গোটা উপমহাদেশে এই প্রথম। তবে উপযুক্ত প্রমাণ পেলে অবশ্যই তার প্রাপ্য সাজা সে পাবে। আর ১৯৭১ এ কসাই কাদের নামের ঢাকায় একজন অতি পরিচিত মানবতা বিরোধী অপরাধী ছিল, সেটা ঐতিহাসিক সত্য। তবে এই দুই কাদের যে একই ব্যাক্তি সেটি নিরঙ্কুশ ভাবে প্রমাণিত হয়েছে কিনা সেটা একান্তই বিচারিক বিষয়। মহামান্য আদালতের মতে এই দুই কাদেরই এক। ট্রাইব্যুনালের পরে একজন প্রত্যক্ষদর্শী মহিলার সাক্ষ্যে তার সাজা যাবজ্জীবন থেকে ফাঁসি হয়, জিনি বলেন তার পিতাকে তাঁর সামনেই হত্যা করে কসাই কাদের। তো সেটি সত্য হলে তো ফাঁসি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তো এতো বাক্যব্যয় কেন করছি তাহলে ? কারণ সেই মহিলার আসল পরিচয় নিয়েও সন্দেহের গুঞ্জন উঠেছে। কাদের মোল্লার পরিবার ও তার দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে থাকা সেই মহিলার ছবির সাথে সাক্ষ্যদানকারীর মিল নেই। অবশ্য ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত অধিকাংশ আসামীই সবসময় নিজেকে নির্দোষ দাবী করে। কিন্তু এই সব অভিযোগকে বিন্দুমাত্র আমলে না নেওয়াটাও খুব স্বাভাবিক না। আর কোনও সুশীল মিডিয়াকেও দেখলাম না অনুসন্ধান করে সত্য উদ্ঘাটন করতে। এর আগেও কাদের মোল্লা তৎকালে মতিয়া, মেনন দের মতো সমাজতন্ত্রী ছিলেন বলে খোদ ক্ষমতাসীন ভারত লীগের সদস্যরাই বলেছে। এতো দুর্ধর্ষ গুন্ডা কিভাবে প্রেস ক্লাবে নির্বাচিত হয়েছিলো, বা ১৯৭২ এই কিভাবে সরকারী চাকরি পেয়েছিল, সেটাও বোধগম্য নয়। তবে, সেটা হয়তো আমাদের বোঝার ক্ষমতার অভাব, কারণ বিজ্ঞ আদালত নিশ্চয়ই এমন কিছু পেয়েছেন যাতে এসব কিছুকে একেবারে নিরঙ্কুশ ভাবে উড়িয়ে দিয়ে ফাঁসি বলবত করা হয়েছে। আবার তার রিভিউ পিটিশনও করার অধিকার নাই শুনলাম।

আমাদের ভয় হয় যে শেখ হাসিনা না আবার কাদের মোল্লাকে একজন মহানায়ক বানিয়ে দেন বাড়াবাড়ি করতে যেয়ে। কোনও একদিন যদি প্রমাণিত হয় এই দুই কাদের একছিলনা, সেইদিন হয়ত চূড়ান্ত ভাবে অপমান করা হবে স্বাধীনতার চেতনাকে। আর যাদের বিচার করা হচ্ছে তারা হচ্ছে পাকিস্তানী বাহিনীর সহায়ক (auxiliary) শক্তি। এখানে মুখ্য (principal) শক্তি সেই পাকিস্তানীদের কে কিন্তু টোকাও দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। গত পাঁচ বছরে সেই চেষ্টাও কিন্তু করা হয়নি। সব প্রচেস্টা কেন্দ্রীভূত ছিল বিরোধী দলের কয়েকজন ‘হাই প্রফাইল’ নেতাদের অপরাধী প্রমাণ করার প্রতি। শেখ মুজিবুর রহমান কিসের জন্য ১৯৫ জন পাকিস্থানী যুদ্ধাপরাধী কে ছেড়ে দিলেন সিমলা চুক্তি করে, কিসের জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ কামাল হোসেন সেই চুক্তিতে সই করেছিলেন তা আজও অজানা। আশা করি একদিন তিনি নিজেই সবাইকে বিস্তারিত বলবেন। মুজিবের সাথে টিক্কা খানের করমর্দন বা ভুট্টর সাথে সেই উষ্ণ আলিঙ্গনের কারণও অজানা এখনও।

তবে ১৯৭১ এ জামাতের ভূমিকা যেমন ছিল বাংলাদেশের জন্মের বিরুদ্ধে, তেমনি বসনিয়ার জন্মের বিরুদ্ধেও ছিল সার্ব ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। তাদের প্রতিষ্ঠাতা নেতা Radovan Karadžić কিন্তু হেগের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের আসামী, অসংখ্য বস্নিয়ানদের হত্যার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে, প্রিন্সিপাল ফরস হিসেবে, অক্সিলারী হিসাবে নয় । কিন্ত তবুও, সেই দলটির বসনিয়াতে রাজনীতি করার অধিকার কেউ হরন করতে পারে নাই। সেই দেশের পারলামেন্টে তাদের প্রতিনিধি আছে আজ। গনতন্ত্র বোধ হয় এটাকেই বলে। জামাতের রাজনীতি করা নিয়ে বোধ হয় এখানে সরাসরি কিছু না বললেও আপনারা আশা করি বুঝতে পেরেছেন আমি কি বোঝাতে চাচ্ছি।

পরিশেষে বলব ১৯৭১ আমাদের অহংকার। সেটাকে পুঁজি করে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ চরিতার্থের কোনও চেষ্টাই কিন্তু বুমেরাং হবে। আশা করি কোনও অপশক্তিই সে সাহস দেখাবেনা। প্রকৃত অপরাধীদের অবশ্যই সাজা পেতে হবে। কিন্তু কেউ নিজ হাতে কাউকে হত্যা না করলে, বা নিজে কাউকে ধর্ষণ না করলেও সাজা তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়াটাও একটা অপরাধ। সেটা যদি কোনও হীন স্বার্থ চরিতার্থের জন্য হয়, তবে সেটা গুরুতর অপরাধ।

The Hay Festival Dhaka: The Potemkin Village of the Secular Liberal Elite in Bangladesh

anams

Nuraldeen  argued that our ‘illiberal’ cultural elites and their supportbase are comfortably numb and vulgarly civil when it comes to the celebration of ‘culture’ as they ignore the  turbulent political context  and questionable political process behind the formation of a cultural event. With a special request from a guest writer Jamuna we’re running this article that critically examines the political context of Hay Festival Dhaka and the role of our cultural elites. The Blog was originally published in Khichuri on 15th November,2013.

By Jamuna

In the next few days, Bangladesh’s ‘liberal’ ‘secular’ establishment will convene at the Hay Festival Dhaka. Just like the original  Hay Festival in Wales, the event will assemble a bevy of personalities who dominate the English-speaking public sphere. It is a time for publics to explore, for a chosen few new writers to gain exposure and approval, established columnists to issue compilations, publishers to push their wares and agendas, and intercultural interpretation.

Big names such as Pankaj Mishra, Ahdaf Soueif and Tariq Ali will be joined by more local figures such as Tahmina Anam, who is a co-organiser and a rather dull novelist as well as a key gatekeeper between literary establishments in Bangladesh and Britain. Ms Anam’s father, Mahfuz Anam is the editor of the Transcomm Group associated Daily Star, Bangladesh’s largest English language daily, on-and-off cheerleader of the Awami League regime and – wait for it – the title sponsor.

Cultural inbreeding and nepotism are not a new phenomenon in any society, after all The Krays were brothers and the Redgraves are fabulous, but it makes Hay Dhaka intriguing, worrying and important not to take at face value given Anam Snr’s recent warning that The Sons are Coming. It is intriguing because we can read into its inclusions and silences about Bangladesh’s contested cultural frames, and concerning because – like the debate around the Commonwealth Heads of Government meeting in nearby Sri Lanka – one questions the wisdom of organising such an event in a country that is in the midst of such tumultuous transition, and crackdown on dissent.

Granted, the level and nature of state violence and suppression witnessed this year could hardly have been foreseen in the festival’s planning horizon. But what is concerning is that the festival is in collaboration with the cheerleaders and PR men of the Awami League regime: people who have covered up, justified and even applauded their violent actions. This regime and its client intelligentsia have serious questions to answer for gross human rights abuses, including: the mass killing of unarmed demonstrators in May; the internationally discredited war crimes tribunals; the illegal closure of opposition media; and detention of human rights defenders.

Freedom of (who’s) expression?

One might also ask: why have state censors granted permission for this festival to go ahead while other, more indigenous, non-elite cultural expressions remain suppressed? The annual Mela in honour of the legendary political leader, renowned as the Red Maulana and Father of the Oppressed, Moulana Bhashani in Tangail that was due to commence on his 37th death anniversary next week has been refused permission. Furthermore a demonstration by the community-based religious establishment, demanding investigation of the killings of 6th May in Dhaka, was pencilled in for Friday 15th. But this has been challenged by the government’s own religious puppets hungry for coalition seats in the next parliament.

posters

We might conclude that Hay Dhaka is more than a legitimising PR exercise, but that thought control, patrol and presentation are key functions of it. Indeed, such bread and circuses have their place and provide some relief for the world-weary, but in Bangladesh’s climate of fear, massacre and political illegitimacy, they also need to be read as they are and through the sycophancy, flattery and pretentiousness upon which they are based.

Assembling a Potemkin Village

Legend has it that the aristocrat Grigory Potemkin erected fake settlements along the banks of the Dnieper River in order to impress his lover, the Russian Empress Catherine II during her visit to Crimea in 1787. This ruse is now known as the ‘Potemkin village’, a phrase to describe literal and figurative constructs whose sole purpose is to dupe observers with an agreeable depiction of affairs. So keen was Potemkin to influence his lover, his villages became mobile, were demolished and then rebuilt downstream to keep up with Catherine’s barge, with his own men pretending to be the local peasant population.

Fast forward to two and a half centuries to Dhaka in November 2013 and we see another Potemkin village reassembled by the Dhaka Metropolitan elite for its literary development partners in front of the hallowed grounds of the Bangla Academy. Just like an end of year review put on for parents and school governors, we have the usual assemblage of actors, wealth, echo chambers, clichés, and cronies, courtesy of The Daily Star. No mention of massacres by security forces,  kidnapping and detentions of political opponents, the hounding of dissent and the muzzling of the opposition press, or the controversial war crimes tribunals. Instead, visitors will be treated to the airbrushed Never Never Land of Golden Bengal, the land of tolerance and sophistication, with a smattering of Nazrul Islam, Tagore and Lalon.

The Usual Suspects

Providing media promotion and a fair chunk of economic capital is the aforementioned Mahfuz Anam, school master of ‘right thinking’ secular liberals everywhere and a media baron popular in diplomatic quarters. Another Daily Star luminary, Syed Badrul Ahsan, The Oracle and Keeper of the True Historical Record, makes a cameo appearance, ironically in a session on short stories. His adulation of the Prime Minister and applause for her government’s brutality grows more deranged with every passing day. The model student, co-organiser and schoolmaster’s daughter, Tahmima Anam, graces the stage twice over the festival, including once in a cringingly titled ‘Best Young Novelist’ session. Nepotism? Who? Us?

In a set up whose geopoetics could not be made up, we see Zafar Sobhan, understudy to the school master for so many years, currently trying to edit pro government propaganda sheet, the Dhaka Tribune. At the festival he is moderating a conversation about ‘Egypt and Beyond’ with Ahdaf Soueif and a random Etonian. Soueif’s justification, then tepid explanations of the Egyptian coup and the violence against those deposed – together with Sobhan’s participation in the government disinformation campaign regarding this May’s Dhaka Massacre – are interesting parallels to explore from the point of view of reputational risk management at home and abroad in a time of massacre and injustice. It has been a bloody year in both the Bengal and Nile delta’s, with the origin of fascistic violence clearly emanating from the purportedly secular liberal quarter in both cases. #Tamarod and #Shahbag, in polite and less polite forms, have much in common with each other for those who reflect.

From a technocratic point of view, the programme has much to praise, official diversity guidelines and feedback from the previous festival have been responded to, there are sessions in Bengali, coverage of other languages and dialects, Zafar Iqbal has been let loose on the children and the country’s Shi’i Muslim literary heritage even gets a look in. The highlights promise to be Pankaj Mishra’s interventions, his recent book ‘From the Ruins of Empire: The Revolt against the West and the Remaking of Asia’ offers – ironically – the most interconnected and sympathetic perspectives on pan-Islamism in the subcontinent permitted at the event, and may serve as a safe portal for alternate political imaginaries.

Conclusion: Last Days of Empire

The Hay Festival in Dhaka represents the completion of a narrative which began with Macaulay’s Minute on Indian Education and terminates with the internalisation of Anglo-Saxon culture by the hegemonic establishment elites of Dhaka, as exemplified by the festival’s corporate media backers. This is a process whose ramifications on Bangladesh have been covered extensively by Nurul Kabir, the editor of the New Age newspaper.

However, as any student of Hindu theology will explain, the completion of a cycle or narrative results in its Shiva-like destruction and the creation of new cycle. This dance of Shiva has been and is continuously being played out in the streets of Dhaka, and in the many mufassil towns and villages dotted across the country. Starting with the police firings of 28th Februarythe Long March on 5th April and the 5/6th of May Massacre, the political chemistry and discourse of the country is being transformed by a resurgent expressions of Muslimness, deriving inspiration not just from Westminster, but the hallowed and sacred grounds of Mecca and Medina and the Bengal Muslim’s own heritage. This is visible in the  Bangladeshi Prime Minister’s own recent claim that her government would be run according to the Medinan charter of the Prophet Muhammad. These trajectories of Political Islams in the country have not been set in stone, as all the major political players, from the Awami League, BNP, Jamaat to the ‘new kids on the block’, Hefazot-e-Islam and Tariqat Federation are all trying to capture, fashion and benefit from them.

Hay Dhaka 2013 presents a largely besieged mentality, of an elite trying to hang onto illusory certainties in turbulent times and an absolute failure to connect with the masses in whose names they claim to speak, as epitomised by the program of the festival and its Potemkin-like objectives. We have been here before, several times. The medieval Arab historian Ibn Khaldun gave the average empire/dynasty the lifespan of 150 years. Time travelling back from Dhaka to Delhi just over 150 years, and one might perceive a resemblance with a scene of a decadent outdated elite being replaced by a more contemporary vigorous movement.

The scene is that of 1857, and the last day of the Mughal Empire after the failed Indian Independence War. There is an apocryphal story that the last Mughal Emperor, Bahadur Shah II, called one final session of the court. In full knowledge of the failure of the uprising against the British which he symbolically led, the Last Emperor invited the poet Ghalib to the Empire’s last supper. Amidst the backdrop of a burning city besieged by the British, the Emperor and his courtiers sought solace in their wine cups and each other’s company in the Red Fort. They listened attentively to Ghalib and his panegyrics, reminiscing the past glories.

History has cyclical, linear, multidirectional and cosmic qualities. In 2013 the besiegers have now become the besieged.  In this historical loop in Dhaka, the metropolitan elite, the descendants of earlier besiegers the British Raj, are themselves besieged in the Hay Festival, their version of the Red Fort by the descendants of those who lay besieged in an earlier age. One historical cycle was representing an aggressive Europe, the other a resurgent and ever increasingly confident Muslim identity.

কেওস-কণ্টক

Image

The greatest tragedy in this world is not that the only underlying principle which is recognizable, functional and ceaseless is “chaos” – it is our predisposition to think otherwise, that there is order and harmony. Successful minority of the very few who understand this secret are busy ripping off benefits from chaos, and those who don’t – namely the majority – are busy unweaving the rainbow, leaning on to some sort of idealism.

আমাদের সমাজে কোনো আইন নেই, নেই শৃঙ্খলা – এ অভিযোগ সবার মুখে। সেই দু-তিন শ বছর আগে এ অঞ্চলের মানুষ যেমন দুর্নীতির নালিশ করতো, আজোও করে; বিস্তর বর্ণনা মিলবে আমাদের সাহিত্যে, দলিল-দস্তাবেজে। সাধারণত এ জাতীয় কথা-ভাজা শেষ হয় একটি আর্জি দিয়ে। আহ! এই দেশে যদি একটু আইন-কানুন, নিয়ম-শৃঙ্খলা থাকতো, তাহলে আমরা কই উঠে যেতাম! সত্যিই কি তাই হোতো?

আমাদের সমাজে পশ্চিমের উন্নত দেশগুলোর মতোন নিয়ম-শৃঙ্খলা থাকলে অর্থনীতিক ভাবে আজকে যে অবস্থানে আছি তার চেয়ে উপরে থাকতাম বলে মনে হয় না। বিশৃঙ্খল, দুর্নীতিগ্রস্থ, মিথ্যাবহুল সমাজে বেড়ে ওঠার কারণে এমন কিছু বিচিত্র বৈশিষ্ট্যের দৌরাত্ম্য আমাদের এখানে হয়েছে যেগুলো আমাদের এখানে ভীষণ কার্যকরী ও প্রাসঙ্গিক। যেগুলো ছাড়া দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এখন এগিয়ে যাওয়া কষ্টকর, অন্তত অর্থনীতি যখন প্রাসঙ্গিক।

Image

পৃথিবীর মুখোমুখি হওয়ার তালিম আমরা পাওয়া শুরু করি পরিবার ও স্কুল থেকে। এই প্রশিক্ষণ আমাদেরকে এক ধরনের আদর্শ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখায়, যে পৃথিবীতে ন্যায় আছে, শৃঙ্খলা আছে, আছে কার্য-কারণের মাঝে সমন্বয়। আমরা আশ্বস্ত হই যে এমন একটা পৃথিবী এই মুহূর্তে না থাকলেও ভবিষ্যতে হতে পারে অবশ্যই – আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। আমাদের মতো যাদের জন্ম তৃতীয় বিশ্বে, তারা স্বপ্ন দেখি যেন একটি সমৃদ্ধ ও সঙ্গত পৃথিবী উপহার দিয়ে যেতে পারি পরের প্রজন্মকে (মূলত নিজের দেশকে নিয়েই এই স্বপ্ন)। সমস্যা হোলো, সৃষ্টিকর্তার পৃথিবীতে শৃঙ্খলা থাকলেও থাকতে পারে কিন্তু মানুষের পৃথিবীতে নিশ্চিতভাবে আছে chaos, যা ব্যাখ্যা করা যায় শুধুমাত্র ঘটনাটা ঘটে যাওয়ার পর। এক অতিপ্রাকৃত বিশৃঙ্খলা ঘিরে রেখেছে আমাদের সর্বব্যাপী। আমরা যে তা উপলব্ধি করি না, তা না। কিন্তু মেনে নিতে মন চায় না। এক অসম্ভম তাড়না আমাদের প্রশ্রয় দেয় – বিশৃঙ্খলার ওপর শৃঙ্খলার কর্তৃত্বেই বুঝি মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব।

প্রাকৃতিক ভাবে মানুষ জন্মেছিলো এই কেওসকে মোকাবিলা করার জন্য, প্রাতিষ্ঠানিক এবং অতি শিক্ষা মানুষের এই অপার সম্ভাবনাটিকে কিছুটা হলেও নষ্ট করে বলে আমার অনুমান। কেওস থেকে লাভবান হওয়ার চেষ্টা মানুষসহ সকল প্রাণীর প্রবৃত্তি, এর মাঝে লজ্জা পাওয়ার কিছু আছে বলে মনে হয় না, এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষার কারণে সে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা বাদ নিয়ে অন্য কাজে ব্রতী হয় প্রায়ই, সে প্রথমত কেওসকে বোঝার চেষ্টা করে, দ্বিতীয়ত সে বুঝতে ব্যর্থ হয়ে এর নাম দেয় “সমস্যা” এবং তৃতীয়ত কোনো আদর্শবাদ এই সমস্যার সমাধান বলে সে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। এই প্রস্তুতি কেবল একটি পরম সত্য থেকেই তাকে বিস্মৃত করেঃ কেওস থেকে নিস্তার মানুষের নেই। তবে হ্যাঁ, কোন ধরনের কেওস নির্বাচ্য সে উদ্দামতায় মানুষের শ্রেয়তর বিচারবোধের উপযোগিতা আছে ভীষণ।

মেজাজের দিক থেকে মানুষ যুক্তিপ্রবণ না, শিক্ষা তাকে যুক্তি দিয়ে ভাবতে শেখায়। শিক্ষার এই প্রক্রিয়াটা ভীষণ গোলমেলে এবং দ্বান্দ্বিক। প্রবৃত্তি বলছে প্রয়োজনে ছিনিয়ে নাও, ধর্ম বলছে প্রয়োজনে বিলিয়ে দাও। আবার ধর্ম জোড় দিচ্ছে বিশ্বাসের ওপর, বিজ্ঞান বলছে যুক্তির স্থান সবার ওপর। হিচেন্স বলছেন ইরাকের ওপর আমেরিকার আক্রমণ উচিৎ হয়েছে, চমস্কি বলছেন সেটা ছিলো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। শেখ হাসিনা বলছেন তারাই মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী, খালেদা জিয়া বলছেন মুক্তিযুদ্ধে যারা ছিলেন অনুপস্থিত(শারীরিকভাবে) তারা নেতৃত্ব দেয় কী করে? এতোসব পরস্পরবিরোধী তথ্য ও মতের অনিবার্য প্রকাশ হলো মানুষের আনপ্রেডিক্টেবিলিটি। তার যুক্তি, আবেগ, মানবতাবোধ সবকিছুই হয়ে যায় বিশেষায়িত, একই মানুষ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করে, যা কোনো যুক্তি দিয়ে বিচার করা সম্ভব না। যে মানুষটি পরম বিশ্বাসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে, সে মানুষটিই অফিসে গিয়ে ঘুষ খাচ্ছে। যে মানুষটি ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসার জন্যে দিনরাত ব্যয় করে গবেষণা করছে, সেই দুঘণ্টা পরপর ল্যাবের বাইরে গিয়ে ধোঁয়া ফুঁকে। যে মানুষটি বুদ্ধিজীবীদের নৃশংস গুপ্তহত্যা নিয়ে বিচলিত ও চরম ক্রোধান্বিত, সে একই মানুষ ঘটমান বর্তমানের একই দিনে সংঘটিত গুপ্তহত্যা নিয়ে সামান্যতমও চিন্তিত না। বিষয়টি সমালোচনার না, বলতে চাইছি যে এটিই মানুষের প্রকৃতি, ক্ষমাহীন স্বভাব।

ব্যক্তি থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের উত্তরণে পরিস্থিতি আরোও বহু পাকে মনোহর হয়ে ওঠে। কেননা তখন মানুষের স্বভাবের সাথে যোগ হয় এমন সব এলোপাথাড়ি দৈব প্রভাবকের যার ওপর মানুষের বিন্দুমাত্র নিয়ন্ত্রণ নেই। স্বভাবতই সে ভীষণ বিচলিত হয়ে ওঠে। কেননা তার চারপাশের পৃথিবী, এমন কি হয়তো নিজের আচরণও কোনো সেন্স-মেক করে না। এই উপলব্ধি একেকজনের মাঝে একেক ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কেউ ভাবে যুক্তি, কেউ ভাবে বিশ্বাস – পৌছে দেবে গন্তব্যে। কারোও আস্থা অর্জিত জ্ঞানে, কারোও আস্থা দৈব হস্তক্ষেপে – আদর্শবাদই পারে কেওস থেকে উত্তরণে, শক্তি আর নৈতিকতার শুভত্ব দিয়ে।

যাদেরকে আমরা বলি ভবিষ্যতদ্রষ্টা আর কেবল “স্ট্রীট-স্মার্ট” বলে যারা পান না যথাযথ কৃতিত্ব (কম বয়সে যাদের অনেককেই “চাল্লু-ম্যান” বলে ডেকেছি স্কুলে) তারা কিন্তু কেওসের মুখোমুখি হন সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। এরা কেওসের ডায়নামিক্স নিয়ে চিন্তিত নন, সমাধানেও নেই কোনো আগ্রহ। এদের চিন্তা কেবল একটিইঃ এই গ্যাঞ্জামে আমার জন্য কী আছে?

আলতো নজরে মনে হয় যে সব নষ্টের গোড়াই হোলো এ স্বার্থপর দৃষ্টিভঙ্গি; অতর্কিতে এ দৃষ্টিভঙ্গি সামনে চলে এলে আমাদের রুচিবোধ রুষ্ট হয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে আমরা বেসামাল হয়ে পড়ি। কিন্তু বাস্তবতা হোলো এই “স্বার্থপরতা” ছাড়া সভ্যতা এগোয় না (তবে এটা অর্ধসত্য; সভ্যতার এগিয়ে যাওয়ার জন্য স্বার্থপরতার যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনি প্রয়োজন আছে মহানুভবতার)।

প্রকৃতির দিকে চোখ ফেরালে ধারণাটা কব্জা হয় অনায়াসে। বিবর্তনের একটা প্রবণতা হোলো সহজ থেকে জটিলতর অস্তিত্বের দিকে যাত্রা। প্রথমে এসেছে এককোষী প্রাণী; সেখান থেকে বহুকোষী জটিলতর প্রাণের উন্মেষ। এবার আমরা ফিরে যাই একটু পিছে, প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে। প্রায় হিমালয়ের সমান একটা উল্কা প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীতে এসে আঘাত হানে মেহিকোর য়ুকাতান পেনিনসুলায়। আঘাতের বিভীষিকাঃ সম্মিলিতভাবে মোট ১০ কোটি এটম বম্বের সমান। ফলাফলঃ ১৬ কোটি বছর ধরে যে ডায়নোসর চড়ে বেড়িয়েছিলো এই পৃথিবীতে দাপটের সাথে তারা হয়ে গেলো বিলুপ্ত। শুধু ডায়নোসর কেন, পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক স্পিসিস শেষ হয়ে গেলো কেবল ঐ একটি আঘাতে। ডিলেমাটি লক্ষ করুন, খুব মজার। যে লক্ষ-কোটি বছরের পোক্ত শৃঙ্খলা “বিবর্তন” চাইছে শক্তিবহুল, সমর্থ প্রাণীর টিকে থাকা, এই উল্কার কারণে মারা পড়লো তারাই সবার প্রথমে। কেবল একটি দুর্ঘটনা বদলে দিলো পুরো “জীবনের” ইতিহাস, যেটা না হলে মানুষের উদ্ভব হোতো কি না কে জানে? যে কেওসের কথা আমি বলছিলাম তার একটা মহাজাগতিক চরিত্রও আছে। তো শেষমেশ টিকলো কারা? সবচেয়ে শক্তিশালী কিংবা বুদ্ধিমান প্রাণীটি টেকে নি, টিকেছিলো তারাই যারা এমন চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে নেয়ার মতো সক্ষম ছিলো।

বিবর্তনের এই ধারার সাথে মানুষের সমাজের তফাৎ আছে বিস্তর, সত্য। কিন্তু একটা মূলসুর আমাদের সমাজেও একইভাবে কার্যকর। পরিবেশ যেখানে বিশৃঙ্খলাময় এবং আনপ্রেডিক্টেবল, সেখানে প্রয়োজনীয় নয় যে আমাদের পছন্দের, আয়ত্তের কিংবা কোনো পুস্তক-সত্যায়িত দক্ষতাই রক্ষাকবচ হবে।

আসুন এ ছাঁচে একবার বাংলাদেশকে ফেলি। পৃথিবীর ইতিহাসে কখনোই বাংলাদেশের মতো এতো ছোটো ভূ-খণ্ডে এক প্রজাতির এতো বিপুল সংখ্যক অগ্রসর স্তন্যপায়ী প্রাণী একসাথে হয়তো বাস করে নি। এমন অভূতপূর্ব ঘটনার অভূতপূর্ব প্রতিক্রিয়া না হওয়ার কোনো কারণ নেই। বলাই বাহুল্য, আমাদের এখানে পুষ্টি, সম্পদ, সুযোগ প্রভৃতির জন্য কাড়াকাড়ি অচিন্তনীয় রকমের উদগ্র। জীবনের বিবর্তনে যেমন, সমাজের বিবর্তনেও এমন গলা-কাটা প্রতিযোগিতায় সাড়া না দেয়ার উপায় নেই। জন্ম হচ্ছে এমন সব সক্ষমতার যেগুলোকে বর্ণনা করার মতো যুতসই শব্দ নেই আমার তহবিলে।

আমার স্কুলবেলার এক বন্ধুর পারিবারিক ব্যবসা খুব বড়। বন্ধুটি কথায় কথায় একদিন জানালো বাংলাদেশে একটি ব্যবসায় তার আগ্রহের কথা। অংক করে দেখলাম যে ডলারের হিসাবে তার বিনিয়োগের পরিকল্পনা হোলো প্রায় আশি মিলিয়নের। আশ্চর্যের ব্যাপার হোলো এই প্রকল্পের কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয় নি তখনও, শুধুমাত্র ইন্সটিঙ্কট থেকে তার এই আগ্রহ। পশ্চিমে আশি মিলিওন ডলারের বিনিয়োগ হতে যাচ্ছে কোনো ধরনের মার্কেট রিসার্চ ছাড়া (পণ্যটি অভিনব কিংবা যুগান্তকারী না, রোজই কোটি মানুষ ব্যবহার করে), এটা শুনলে বলবে মাথার ডাক্তার দেখাও। কিন্তু ব্যবসাটা শুরু করলে দেখা যাবে যে সবাই ভুল ছিলো, সেই ঠিক ছিলো; লাভ হচ্ছে তরতর করে। গত বিশ বছরে বাংলাদেশী অন্টাপ্রেনিওরদের সাফল্যের মূলে যে এমন বিচিত্র বিচারবুদ্ধিরহিত উচ্ছ্বাস ও লোভ রয়েছে সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রশ্ন হোলো কোনো আইন ও শৃঙ্খলার দেশে এমন যুক্তিহীন প্রাণোচ্ছলতাকে ধারণ ও লালন করার উপায় আছে কি?

এই বন্ধুটিকেই প্রশ্ন করেছিলাম তারা পশ্চিমে ব্র্যান্ড শুরু করে না কেন (তাদের মূল ব্যবসা চামড়াজাত পণ্য)? অস্ট্রেলিয়ার মতো ছোটো মার্কেটে আশি মিলিওন ডলারের এক শতাংশের চেয়েও কম বিনিয়োগ করে বহু সফল ব্র্যান্ড বেরুচ্ছে হরহামেশা। এখানে আইন-কানুন আছে, বিশাল অঙ্কের লাভ আছে, নেই চাঁদাবাজি-রাজনৈতিক উপদ্রব, নেই লোডশেডিং। এখানে তো ব্যবসা করা অনেক সহজ হওয়ার কথা। কিন্তু না, পশ্চিমে আমার বন্ধুর বা বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের স্টার্ট-আপ ব্যবসায়ে কোনো আগ্রহ নেই। ঐ যে বলছিলাম, বিশৃঙ্খলার মাঝে একটা স্ট্র্যাটেজিক এডভান্টেজ আছে, এটা কেউ খোয়াতে রাজী নয়।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হোলো বিশৃঙ্খলা যদি কারো স্ট্র্যাটেজিক এডভান্টেজ হয় রাষ্ট্রের সেখানে কী করার আছে? এর উত্তর আমার জানা নেই। জানা নেই এজন্য যে এমন প্রশ্নের উত্তরে চোখা-চিন্তার সুযোগ কম। যে সমস্যায় এক-দুজন না, পুরো সমাজটা জড়িত, সে সমস্যায় আমরা কার্যকারিতার চেয়ে নৈতিকতার মানদণ্ডকে প্রাধান্য দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আর নৈতিকতা এমনই এক ব্যাখ্যাক্রান্ত বিষয় যে এ নিয়ে ভাবাবেগবর্জিত আলোচনা করা এক কথায় অসম্ভব।

তাহলে এই কেওস-কন্টক পৃথিবীতে আমার আপনার জন্য কী করার আছে?

প্রথমে একটা কথা আবারো স্মরণ করিয়ে দেবো যে কেওস থেকে মানুষের নিস্তার নেই, তা আপনি যেখানে যে দেশেই থাকুন। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা এমন কেওসের ব্যবস্থা করেছি যেটা খুব আদিম ও বন্য। এমন বিশৃঙ্খলায় লাভবান হতে চাইলে প্রায়ই ইতরামির শরণাপন্ন হতে হয়। কিন্তু মনে রাখবেন কোনো আইন, কোনো মতবাদ কিংবা কোনো আদর্শই এই বিশৃঙ্খলাকে শৃঙ্খলায় রূপান্তরিত করতে পারবে না, এটা ধ্রুব সত্য। আমরা কেবল এক ধরনের বিশৃঙ্খলার চেয়ে অন্য ধরনের বিশৃঙ্খলাই বেছে নিতে পারি।

এছাড়া কেবল একটিই কথা বলার আছে আমার। ইনটুয়িশানকে (শব্দটির কোনো যুতসই বাংলা জানা নেই আমার। সহজ ভাবে বলা যেতে পারে “মন যা বলে”) প্রাধান্য দিন সবার আগে, এমন কি নৈতিকতারও আগে।

এই কথাটির তাৎপর্য আছে। একটু ব্যাখ্যা করি। আমরা মানুষেরা, নৈতিকতার প্রশ্নকে কীভাবে মোকাবেলা করি বলুন তো? আমার ধারণা, বেশীরভাগ পাঠক উত্তর করবেন যে আমরা ভেবে-চিন্তে ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর হলে সিদ্ধান্ত দেই যে ব্যাপারটি অনৈতিক। দুঃখের বিষয়ঃ মানুষের মস্তিষ্ক এভাবে কাজ করে না। সে প্রথমে চিন্তা করে না, হুট করে সিদ্ধান্তে আসে, তারপরে নিজের মতোন করে যুক্তি খাড়া করে। এই যুক্তিগুলোও খুব মজার। সে যদি মনে করে কোনো একটি বিষয় অনৈতিক, তাহলে সে কল্পনায় কাউকে না কাউকে ভিক্টিম বানাবেই, বাস্তব যাই হোক না কেন (মানুষের মোরাল সাইকোলজি এক অনবদ্য বিষয় যা নিয়ে আলাদা একটা আলোচনার প্রয়োজন, সেটা ভবিষ্যতের খাতায় তোলা থাক)। অর্থাৎ সূক্ষ্ম বিচারে নৈতিকতার ব্যাপারটি ইনটুয়িটিভ, র্যাশনাল না। সমস্যা হোলো ঐ যে হুট করে সিদ্ধান্তে আসা – এই প্রক্রিয়াটাকে মানুষ স্বীকার করতে চায় না, মনুষ্যত্বের অবমাননা হবে বলে। আমি বলছি, হুট করেই যদি সিদ্ধান্তে আসি, না ভেবে-চিন্তে, তাহলে ঐ একটি সিদ্ধান্তের প্রতিই এতো আস্থা কেন?

ইনটুয়িশান যদি বলে কাউকে খুন করতে তাহলে কি তাকে খুন করতে হবে? না, অবশ্যই তা না কিন্তু মানুষের বাস্তব সমস্যায় “সঠিকত্ব” বা “ন্যায়বিচারই” একমাত্র বিচার্য না, আরোও বহু দিক আছে। নৈতিকতার বাধন অনেক সময়ই এই দিকগুলো দেখতে দেয় না (এ প্রবণতাটা খুব সহজেই মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা করে প্রমাণ করা যায়)। আমার প্রস্তাব শুধু এতোটুকু যে ইনটুয়িশানকে অগ্রাধিকার দিলে এমন বহু সুযোগ, বহু সমস্যার সমাধান আপনি দেখতে পাবেন যেটা নৈতিকতার চশমা পরে থাকলে নাও দেখতে পারেন।

আমাদের জাতীয় ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হোলো ’৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান যার পেছনে সবচেয়ে বড় দুটো প্রভাবকের একটি ছিলো আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা (মামলাটির সরকারী নাম ছিলো ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্যদের বিচার’)। আমরা জানি যে রাষ্ট্রদ্রোহের এই মামলাটি ছিলো মিথ্যা ও নিবর্তনমূলক। কিন্তু এই মামলার একজন আসামী (বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা) সহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে মামলাটি মিথ্যা ছিলো না। সবকিছু বাদ দিয়ে নৈতিকতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একবার নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করুন তো, মামলাটি সত্য হলে এবং কোনো রাষ্ট্রের আওতায় থেকে এর অখণ্ডতাকে ভাঙতে চাইলে প্রচলিত আইনে একে রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে কি না? কিন্তু আমরা সে প্রয়াসকে এভাবে দেখি না, কারণ নৈতিকতার ওপরে আমরা স্থান দেই সময়ের প্রয়োজন, কার্যকারিতা – এসবকে।

আমার বক্তব্য ছিলো এটাই; কেওস-কন্টক পৃথিবীতে সাফল্যের জন্য সবার আগে প্রয়োজন সক্ষমতার। যে নৈতিকতা সক্ষমতাকে নিস্তেজ করে সে নৈতিকতাকে মহিমান্বিত করার আগে দুবার প্রশ্ন করুন, হয়তো কাজে দেবে।

(ছবি ইন্টার নেট থেকে মাইকেল ফ্ল্যাম এর তোলা ও Imagevat থেকে নেয়া ছবি)

বাবার কাধ

1

images (2)

আজ ৩০ দিন হলো ব্যারিস্টার রফিক কারারুদ্ধ। সম্পূর্ণ বানোয়াট অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমানাদি ছাড়া একজন নাগরিককে বন্দী করে রাখা বাংলাদেশেই সম্ভব। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ চার্জশিট দাখিলে ব্যর্থ হয়- এমতাবস্থায় নিম্ন আদালত সাধারনত মামলা বাতিল করে দেয়। কিন্তু এক্ষেত্রে উল্টো তদন্তের সময় দিয়ে অভিযুক্তদের কারাগারে প্রেরণ করে- যেই তদন্ত হবার কথা গ্রেপ্তারের আগেই- এও এক নতুন দৃষ্টান্ত। তদন্তকারী গোয়েন্দারা ব্যারিস্টার রফিক কে বলে ‘স্যার, আমাদের কোনো প্রশ্ন নাই’।

রাজনীতির প্যাচ এ পড়া এসব গোয়েন্দাদের জন্য দুখ্যই হয় – বেচারারা জীবিকার তাগিদে স্বৈরাচারের চাকর এখন – তাদেরতো চাকুরী করতেই হবে।

আব্বা কিন্তু খুব সফল আইনজীবী – রাজনীতি থেকে দুরে থেকে আর দশটা সুশীলের মত ঘরের সোফায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দেবার কথা তার। তিনি আর তার ছেলেমেয়েরা ‘নাগরিকের’ বেশে তাদের বিত্তবান জীবন উপভোগ করবেন – আর্ট এক্সিবিশন এ যাবেন, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত এর আসরে মাথা দুলাবেন আর রাজনীতিবিদদের কটু গন্ধে নাক সিটকাবেন – এমনটাই হবার কথা। যখন তাদের নিরাপত্তার বলয় ভেঙ্গে যাবে, তখন তারা দোষারোপ করবেন সেই কটু রাজনীতিকেই। যেই মানুষটি ষষ্ট শ্রেণী থেকেই নিজের জীবন-জীবিকা নিজেই উপার্জন করেছেন, তিনি এই বিলাশিতাতুকু করতেই পারতেন ।

কিন্তু তিনি কখনই দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। তিনি আমাদের প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দিয়েছেন সুবিধাপ্রাপ্ত সক্ষম মানুষ হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্বের কথা। আর সেই দায়িত্ব সবচেয়ে কার্যকরীভাবে পালন করা যায় দেশের নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখে – সেই লক্ষেই রাজনীতিতে অংশগ্রহন। রাজনীতি অবশ্যই সেচ্ছানীতি নয়, এই উপলব্ধিটা আমাদের রক্তের মধ্যে মিশিয়ে দিতে চেয়েছেন তিনি- সারাজীবন।

আমার ছোটবেলার সবচেয়ে মধুর স্মৃতি আব্বার জন্য জোর করে জেগে থাকা – তিনি খুব রাত করে ফিরতেন। সারাদিন হয়ত ঠিকঠাক খাওয়াও হয়নি, কিন্তু বাড়ি ফিরে তার প্রথম কাজ ছিল আমাকে কাধে নিয়ে ঘুম পাড়ানো – তা তিনি যতই ক্লান্ত-ক্ষুধার্ত হন না কেন । যেই পরম মমতায় তিনি আমাকে কাধে নিতেন, দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন তার থেকে হাজারগুন বেশি ভালবাসায়- আর কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক – তার পরিবারের এই একটি বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই।

আজ সেই রাজনীতির দায়ে এক সেচ্ছাচারী স্বৈরাচারী শাসকের শিকার তিনি। আর কতদিন বন্দী থাকবেন তা একমাত্র স্বৈরচারই জানে। আমার বাবাকে কাধে নেবার শক্তি বা সামর্থ আমার নেই – কিন্তু আমার বিশ্বাস যে দেশকে তিনি পরিবার করে নিয়েছেন , সেই দেশের অবশ্যই আছে।

Politics is hard work — are we willing?

1

by Jyoti Rahman

Will future historians think of 2013 as a pivotal year for Bangladesh?  If they were to do so, it will not be because of anything that happened in the first half of this eventful year.  The Shahbag Awakening, violence following the verdict in Delwar Hossain Sayedee’s war crimes case, peaceful and violent rallies by Hefazot-e-Islam, the Rana Plaza tragedy — none of these will rate alongside even 1975 or 1990, let alone 1947 or 1971.

All those events, and yet, as the year draws to a close, we are seeing replays of a drama we witnessed in Decembers past, where a government wants to hold an election come what may, citing the Holy Constitution, while the opposition wants to resist it at any cost, citing the fear of rigging.  The political gridlock leads to violent images like this.

That image is from 28 October 2006.  The December of that year was much like this December, and the one from 1995, and that of 1987.  And as in every such December, our opinionmaking, chattering, urban bhadralok class is up in arms about how our politicians are yet again failing us, how Bangladeshis are held hostage to the two feuding leaders, how the people are victims who don’t care about either parties and vote for them because there is no choice.

Are the people really victims who lack any alternative, hostages to the whims of the two sides?  Nearly a quarter century, four national elections and dozens of local ones —how long does it take for an alternative to emerge?  And it’s not like no one has tried to break through —leftists, Islamists, NGOwallahs, army officers, barristers, doctors, businessmen, HM Ershad, Kamal Hossain, Salman F Rahman, Kader Siddiqui, Badruddoza Chowdhury, Oli Ahmed, Mohammad Yunus, Moeen U Ahmed, Mannan Bhuiyan, there haven’t been any shortage of third force aspirants.

Chances are that when, rather than if, an election is held, four out of five voters will vote for the same parties and candidates who won the last four elections.  Even if there is a military coup, and the generals successfully send the two ladies packing, they will still rely on the same individuals who make up the two largest parties.

Perhaps it’s time the chattering bhadraloks finally accept that politics is hard work, and the politicians actually do cater, albeit in a haphazard and less-than-satisfactory ways, to the people.

——–

Politics is hard work.  Not just in Bangladesh, but everywhere.  It’s tedious, unglamorous.  Quite boring really.  In fact, the exciting stuff, the kind that gets you in the cover of the Time magazine, that stuff is usually all tip, and little iceberg.

The cover of the Time Magazine?  Let’s go back a few years, to 2011.  That year, the Time Magazine named ‘the protester’ the person of the year.  That year begun with popular uprisings that toppled long standing regimes in Tunisia and Egypt.  In Libya, the uprising turned into an insurgency that, with the help of NATO airpower, brought down the Qaddafi regime.  Massive protests rocked depression affected economies of southern Europe.  Closer to home, India saw large rallies against corruption.  In America, the Occupy movement captured a lot of media attention.

It would be quite unfair to say that the protests achieved nothing.  Arguably, Tunisia is a better place today for the protests.  Arguably, President Obama would not be talking about inequality had it not been for the Occupy movement.  But the contemporaneous commentaries about the protests seem quite hyperbolic with the benefit of hindsight.  These were not quite earth shattering, world changing events.  President Obama can have a dozen speeches about inequality, but it’s unlikely to change a single thing in the Capitol Hill.

And whatever gains have been made in Tunis is clearly off set by the setbacks in Cairo.  In the largest Arab country, secular liberal urbanites —at the risk of oversimplifying, the kind of people who flocked to Shahbag —could not organise themselves into a credible political party, lost terribly to the Islamists at the polling booth, went back to the street again to bring down a democratically elected president, and handed the country back to the generals who rule by decree, much like Hosni Mobarak did for three decades.

Politics is hard work.  Protesting this, demanding that, marching in the street, singing rousing anthems —that’s not politics.

Even if they get you in the cover of the Time Magazine, that stuff, without any organisation, will matter naught.

Did the Shahbag revelers really believe that they were changing the course of history?  Their naivete might be forgiven, but what excuse did their elder cheerleaders have?  How could those who lived through the 1968-69 uprising that brought down the Ayub regime —across the political aisle this includes everyone from Motia Chowdhury, Nurul Islam Nahid, Rashed Khan Menon to Mirza Fakhrul Islam Alamgir and Tariqul Islam —ever believe that nonsense?  Did they forget that despite taking a leading role in that uprising, the leftists lost the political advantage to Sheikh Mujibur Rahman and the Awami League?

Did the leftist cheerleaders of Shahbag learn nothing from their lived experience, never mind the histories of other uprisings in Tehran and St Petersburg and Paris?

Did they forget that politics is hard work, that one needed an organisation, a clear manifesto, and some strategies to attain power?

Those pundits who are now braying for some messiah to deliver us from the two battling begums — do they understand politics is hard work?

—–

Faham Abdus Salam writes about the bhadralok mentality here:

বাংলাদেশের এক নাম করা ইংরেজি কলামিস্টের সাথে আলোচনায় টিপিকাল সুশীল মানসিকতার পরিচয় পেলাম – এটাআলোচনা করা দরকার। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তার মত হোলো Why doesn’t the two hire a place and fight it out and leave us alone. ….  তোমারা লীগ, বিএনপি মারপিট করো – আমাদেরকে দু দণ্ড শান্তি দাও।

I agree with Faham’s thesis:

এই দেশটা শেখ হাসিনা কিংবা খালেদা জিয়ার কোনো সম্পত্তি না – এই কথাটা সবাই বিশ্বাস করে কিন্তু যা বিশ্বাস করে না তাহলো – এই দেশটা আমার, আমি ওন করি এবং আমার দায় আছে পরবর্তী প্রজন্মকে একটা বাসযোগ্য দেশ উপহার দেয়ার।তাই আমাদের সবার দায় আছে এটা নিশ্চিত করার যে কোনো মানুষই যেন এই দেশটাকে তার ইচ্ছার পুতুল বানিয়ে না ফেলে।বিএনপি, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রিয়ালিটি – আপনার কাজ শুধু ভোট দেয়া না, এই দুটো দলে যেন কখনোই কোনোহাসিনা কেউ হয়ে উঠতে না পারে, সেদিকে নিশ্চিত না করলে নিশ্চিত থাকুন: আপনি আপনার নিজের শান্তিটুকু খোয়াবেন।

He ends by asking:

আপনি জিজ্ঞেস করুন নিজেকে সততার সাথে – আপনার সন্তান যদি কখনো প্রশ্ন করে, সে উত্তর দিতে যতোটুকু সততা লাগেততোটুকু সততার সাথে, দেশটাকে যখন হাসিনা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য তার খেলনা ঘর বানিয়ে ফেলছিলেন আপনি কিআপনার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছিলেন তাকে থামাতে?

The thing is, I am not sure any amount of trying by any bhadralok pundit would have mattered.  For one thing, on a number of issues, Awami-leaning elders such as ABM Musa or Rehman Sobhan did caution the Prime Minister.  And she snubbed them.

Why wouldn’t she?  Try seeing things from her perspective.  Politics in Bangladesh is winner-takes-all.  The rules of the game —unitary state, unicameral legislature, first-past-the-post voting, the Article 70 —were not set by Hasina Wajed.  She is not the first one to try to win at any cost.  She has merely taken things further than her predecessor.  We don’t know if the BNP chief would have been quite as ruthless —I personally doubt that she would have—but what the Prime Minister is doing is hardly madness, there is in fact a lot of method in it.

The Prime Minister is playing a high stake game, one that has been entirely predictable, and was indeed predicted:

The prime minister knows she can count on the millions of AL voters, in every moholla and para of every city, town and village. If BNP leadership can be neutralised, that will be sufficient for a re-election. If not, in the lead up to the election, in 30,000 centres around the country, many anti-AL voters could be disenfranchised through targeted violence and intimidation. Essentially, what many Hindu voters in southern Bangladesh experienced in previous elections could happen to the anti-AL voters across the country.

And all these could happen days and weeks before the actual election day, with the state machinery playing an active role in it. Indeed, the election day could well be very peaceful, even festive.

Even if they tried, what difference could a Zafar Sobhan or an Afsan Chowdhury have made to the Prime Minister’s high stake gambit?

Politics is had.  Hasina Wajed knows it, even if the bhadraloks don’t.

Perhaps these bhadraloks had a better shot trying to shape BNP’s thinking?  I personally think so.  But I doubt most of the chattering class feels that way.

Here is how Shayan S Khan has put things recently in his facebook wall:

খালেদা জিয়া বলেন, “একদিকে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের মিথ্যা অভিযোগে মামলা হচ্ছে, অন্যদিকে এক মন্ত্রীবলেছেন যে, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেললে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। এসব থেকে পরিষ্কার হয় যে, বিরোধী দলেরনেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।”

When Khaleda Zia makes a point like the one above, instead of holding on to the offer as a political card, it signals an essential difference between herself and Sheikh Hasina, whose every pronouncement seems aimed at scraping whatever political advantage she can for herself out of any situation.

Thanks to a media and cultural environment historically more saddled in its disposition towards Awami League politics, for a very long time now, an impression has been cemented in the collective psyche of a certain segment of the population (largely confined to the chattering classes of the capital) that Bangabandhu’s daughter, riding the good ship Joy Bangla that her father built, was obviously more preferable to Zia’s widow. I know within my social and familial setting it was as if axiomatic. It was hard to realise this “truth” seemed erected on a strange, untouchable pedestal bereft of any objective analysis, or evidence emerging to support it. To be fair, one didn’t really come across much overwhelming evidence to the contrary either.

But it lasted only until I learned to think for myself, and became open to the idea that supposed “truths” we’d been fed before developing a way to think could be overturned. And if more of us could affect the same, and carry out a fair assessment of the two women’s words and deeds over the last 12 years in particular, the least we would realise is this: at no point did Khaleda Zia take any prerogative to assume this country’s fate was subservient to her own will to power, or that the essence of its 140-50-60 million people, its raison d’être, hers to fashion.

Sad but true.

—–

So, instead of trying to shape the mainstream politics, our chattering class —with one important exception —is either willing or unwitting accomplice to possible dictatorship.

The exception is, of course, Mahmudur Rahman.

He might not consider himself a bhadralok.  And others of his class might not want to treat him as one of their own.  But make no mistake, a graduate of the country’s two best educational institutions, a successful executive in both private and public sector, Mahmudur Rahman is every bit bhadralok as Mahfuz Anam or Abed Khan.  And more than any other bhadralok of our time, Mr Rahman has thrown himself whole heartedly into politics, embracing lengthy prison terms for his cause.

Politics is hard work, and hard work is not something Mahmudur Rahman shies away from.  He is willing.

And yet, he has failed.

He single handedly took on the mighty Shahbag, broke it, and then, then nothing.

Politics is hard work, and merely willing is not enough.

Again, let’s go back to Egypt.  Muslim Brotherhood won decisively at the ballot box.  They had been waiting for eight decades.  Here was an organisation with a clear manifesto that finally attained power, and lost it before they could implement anything.

A different example perhaps, from an established democracy.  The American Tea Party movement has gained control of one of their two mainstream parties.  This faction controls the agenda in the American Congress.  In October, they tried to break the Obama presidency, risking US sovereign default and a possible global economic meltdown in the process.  And they lost.

Politics is hard work.  It’s more than just protest.  Even grabbing power is not enough.  One needs to exercise that power to achieve one’s ends.

Mahmudur Rahman, of course, did not even attain power.  But one must ask, what would he have done had the government fallen in the first week of May?

And if toppling the government was not the main point of Hefazot, then what was it he was trying to achieve?  Of course, there was brutality on 5 May.  Of course, AL’s hands are bloody.  But Mahmudur Rahman’s aren’t clean either.

—–

And that brings us to today’s crisis.  One way or other, the current gridlock will be resolved before long.  Something will give.  In fact, we can with some confidence predict how things will end.  There are really three options.

It is quite possible that there will be some compromise — perhaps the prime minister will step down, or BNP will agree to join even with the PM at the end — followed by an election, which if the polls are any guide, BNP wins comfortably.  That’s the optimistic scenario.

More pessimistically, there will not be any compromise, and we will be looking at either a neo-Bakshal regime or a good old fashioned military coup.

Many of our pundit classes are already braying for the last outcome.  Let me put it to these folks as bluntly as possible: stop think of the army as the deus ex machina; the situation currently playing out was perfectly predictable years ago; your silence and passive acceptance at that time also implies acceptance of the current state of crisis.

We just can’t live like this, lurching from crisis to crisis every five years, and then acting all surprised and puzzled when things fall apart.  Our political culture will never mature until we stop expecting army interventions anytime things go south.  I always hear the common lament that democracy in this country is limited to voting every five years.  Well, our bhadraloks need to start participating in the hard work of politics more frequently than once every five years.

And if a neo-Bakshali dictatorship is a necessary step in that process, so be it.

(First posted in Mukti-http://jrahman.wordpress.com/ ).

রেসিপি: মিট(Meat) কাবাব

সকালে খালি পেটে প্রচুর পরিমান কাবাবের মশলা খান। গলা পর্যন্ত মশলা খাওয়া হলে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে একটি লোকাল বাসে উঠুন। এবার পেট্রোল বোমার জন্য অপেক্ষা করতে থাকুন। বাসে পেট্রোল বোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দিলে বের হবার চেষ্টা না করে চুপ করে বসে থাকুন। পুড়তে কষ্ট হলে দেশ ও জাতির কথা চিন্তা করে ‘গণতন্ত্র, গণতন্ত্র’ রবে জিকির করতে থাকুন। অবশ্য বাড়ি থেকে বের হবার আগে পরিবারের সদস্যদের বলে যাবেন আপনি পুড়ে কাবাব হয়ে যাবার পরে আপনার দুই রান অর্থাৎ পা প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চে অথবা ডিনারে পরিবেশন করতে আর অবশিষ্ট অংশ যেন সরকারের অন্যান্য শরীক দলের মাঝে সমানভাবে বন্টন করে দেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যদের বলে রাখতে পারেন যে সৌন্দর্য্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে পরিবেশনের আগে আপনার দুই রানে সালাদ দিয়ে লিখে দেয়া যেতে পারে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একজন নাগরিক হিসাবে আমার নিরাপত্তা দিবার সাংবিধানিক দায়িত্ব আপনার। আপনি অগাধ নিরাপত্তা দিয়াছেন। আমি কত সহজে সুস্বাদু কাবাবে পরিনত হইয়াছি। আপনি আমার কবাব খাইয়া আপনার সংবিধানকে সমুন্নত রাখিবার সংগ্রামে আমাকে শরীক হইবার সুযোগ দান করুন।”

সর্তকতা: বিহঙ্গ বাসে উঠিবেন না। বিহঙ্গ বাস লইয়া আলোচনার পরে বিহঙ্গ বাসে আর কোন সমস্যা হইবেনা। তবে লঞ্চে চেষ্টা করিয়া দেখিতে পারেন। কারন, নৌ পরিবহন মন্ত্রী কিছুদিন আগে বলিয়াছেন তাহাদের নিকট তথ্য রহিয়াছে লঞ্চে আগুন দেওয়া হইবে। তাহাদের তথ্য ভুল হইবার নহে। আমাদের পোড়া কপাল তাহারা লঞ্চে আগুন দিবার তথ্য আগে আগে পাইলেও কাহারা, কখন কোন লঞ্চে আগুন ধরাইবে এই তথ্য পায়না।

Our ‘Comfortably Numb’ Citizens and Their Vulgar Civility

1

comfortably-numb-brick

By Nur Hossain

In reply to my article in ‘Classical Music Festival 2013, India and our vulgar civility,’ published in this blog, writer Tibra Ali in a blog of AlalDulal, borrowing a term from the Czech writer Milan Kundera, accused me of being a Political ‘Misomusist,’ to refer a person who hates arts.

He dismissed my effort of raising an important point about the political process behind this festival as ‘pot-shot,’  that tries to invalidate the rich and shared cultural heritage of South Asia.

Ali, further mentions that against his intention, he had to write criticism of my ‘so called political commentary ’ cause he is worried that people might be misguided with my intention of raising a point about politicisation of our culture space and he stresses that events such as Bengal Music Festival celebrating Indian classical music requires to be evaluate apolitically, otherwise we’ll do a ‘great disservice to us as people.’

I think, Ali’s careless use of words such as ‘pot-shot’  to reject my argument without defining ‘pot-shot,’  his intention of not explaining the historical context behind the emergence of the term ‘Misomusist’  and  how it applies in my case, reveals what I call a ‘fundamentalist’ pattern in his reaction. This pattern underpins emotional not logical reaction of a person who is not willing to accept logical discussion and engage in a respectful debate on an issue or belief that is close to their heart.

We see such reactionary pattern in radical Christians or radical Hindus or radical Islamist who use ‘quotes from Holy Books’ to dismiss opposing views but ignore explaining the historical context behind the emergence of such quote and relevance of using it in present context. Researchers found that in most cases, literal use of quotes or terms, that were emerged in a historical context, does not do any justice to the term itself if  used in present context. Therefore, I am interested to know more about the history of ‘Misomusist’ and relevance and explanation for using the term to define my work.

Before going into the main response, let me clarify two points raised by Ali. Firstly, quoting Afsan Chowdhury, Ali said, usage of Felani in my writing serves ‘narrow political purpose.’ This is an  interesting and a vague statement. If I agree with Ali and Chowdhury, I wonder, would they agree with the argument that the construction of Jahanara Imam as a Shaheed Janani, or Bangabandhu as the Father of the Nation too serves narrow political interests?Even if they agree, one would raise the question, so what?  I’m in support of ‘narrow political interest’ as I think this is the reality in which we have to live, at least at the moment.

Secondly, I think Ali is right in spotting the disconnection between my careless use of ‘public demand’ and ‘a section of upper middle class’ in my writing. Even though I did not mean upper middle classes are excluded from public, my careless use of the two variables gave such impression to Ali. I think this is a fair point. Let me now answer main criticisms’ of Ali.

My Response

This is a useful effort of Ali to raise an important point about the usefulness of cultural exchange across nation states. It is true that without exchanging various languages of cultures i.e music, cinema, drama, visual arts, people across nation states wouldn’t have learned about diverse customs of the world and be respectful of each other. Therefore, I agree with Ali that sharing and celebrating cultural products across nation states is an absolute necessity.

However, I’m afraid that Ali missed the whole point of my writing. While I’ve been trying to raise awareness about the political process behind the organisation of such ‘musical festival,’ Ali seems busy justifying the usefulness about the content or ‘art’ of the festival. I find premise of such criticism is irrelevant, misguided and unnecessary as a reply to my piece as both of us are answering different questions.

However, Ali’s delusional approach about ignoring the political process behind organisation of this ‘musical festival’ makes my point stronger. An audience must know about the political process through which this event was organised. One must also know why they are listening to this genre of music at a period when India- Bangladesh are striking what Badruddin Umar said, ‘unclear deals supporting Indian imperialism in Bangladesh and against the interest of Bangladesh’ and when powerful Bangladeshi liberals decide to cover up/ not questioning dirty tale of political and economic arrangement between AL and India, subverting public interest.

One must know further, who are the key actors behind this festival and what is the broader objective behind this program. Or why pro-government and anti-BNP civil society forces alongside with Indian High Commission officials have seen to be supporting such program. Or what is the key objective behind the promotion of ‘what ITC-SRA,’ one of the organisers of the program, says, ‘propagation of Hindustani Classical Music in Bangladesh?’  and finally why this program is exclusive of  presence of any BNP leader in capacity of guests? Is it incidental? I guess, these are not co-incidence and apolitical arrangement!

Awareness about the nexus between the process of a production and identification of actors involved with production and the nature of the content of production have always been a politically significant question. Otherwise, the liberals of Bangladesh or a section of it, wouldn’t raise questions about the nexus between extremism and some  preaching session or Waz Mahfils, content of which may soothe some listeners’  apolitical spiritual hunger only. The point is, it is plausible to evaluate Waz Mahfils apolitically but that does no rule out the political side of that Mahfil.

Similarly, one must acknowledge that application of an apolitical framework to understand ‘classical music festival’ does not invalidate the political nature of the event or nullify political aspect about heavy engagement of influential political actors of certain quarter behind this program.

I argued that this festival is an event promoting public diplomacy of Bangladesh and India, supported by the partnership of two corporations (Bengal and ITC-SRA), to influence public attitudes in a manner that they become supportive of their foreign policy and national interests. I stand by my point.

I argue that the political intention of this event is to neutralise negative public image of AL-India nexus that has been striking ‘unclear deals’ and now undermining public voice while ready to put peoples’ lives in danger knowing that BNP would unleash a violent protest if AL does not step down even though 90% people of the country said they want an election under a neutral caretaker government. I also defend the using  the death of Felani as a symbol that refers Indian disregard to the  people of Bangladesh. I see there is little scope of disconnecting the timing of this event and political upheaval on the ground as organisers of this festival and mastermind of political doldrums are close allies, if not same actors.

Therefore, my point about our vulgar civility of not protesting double standard of Indian policy is justified.

Finally, I am in full favour of exchanging cultural languages across political boundaries. I am also in favour of celebrating ‘Hindustani Music’ in Bangladesh and Bangladeshi music in India. I think constructive flow of cultural ideas is an important aspect to underpin cultural bondage between two countries  in order to serve common political interest.

However, I am not in support of Ali’s apolitical approach, if it is not intentional, to understand this event. I call Ali’s approach a ‘comfortably numb’ approach, borrowing the title from a famous Pink Floyd song, to underpin his state of delirium detached from reality to justify his disregard to political process of this program. For that matter, his effort of borrowing a term from Milan Kundera to define me as a ‘Misomusist’ is a reflection of his ‘comfortable numbness.’ This is a poor choice to justify his ‘vulgar civility’ by which I mean selfish and unquestionable justification of endorsing a process deeply rooted in a questionable political arrangement which formed a legacy to disregard popular opinion of Bangladesh.

মৃত্যুর মিছিলে আরও কজন

“মৃত্যুর মিছিলে আরও দুজন”- আজকের প্রথম আলোর হেডিং। বাসে আগুনে পুড়ে  দুটো মানুষ মরে গেলো। কী জঘন্য, কী ভয়ংকর! এই অপরাধের কোনো মাফ নেই। এই অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার হওয়া উচিত। এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার হওয়া খুব দরকার , শাহবাগে এ সকলের একত্রিত হওয়া দরকার। বাংলাদেশের “জেগে উঠা” দরকার। “ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই”, বলে স্লোগানে স্লোগানে মাতিয়ে দেওয়া দরকার “স্বাধীন” বাংলার আকাশ বাতাস। 

সেদিন ১৪ আর ১৬ বছরের দুটো ছেলে মরে গেল,  তবে আগুনে নয়, পুলিশের গুলিতে । গত কদিনে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে প্রায় ৫০ জনের মত। বেশীরভাগই তরুণ, কিশোর। সেই মৃত্যু- মিছিল আরো বড়, অনেক বড়। এভাবে গত ক’ বছরে হাজার হাজার নেতা-কর্মী মারা গেছে, গুম হয়েছে, জেলে গেছে।  প্রথম আলো কিংবা ডেইলি স্টার এদের নিয়ে  “সম্পূর্ণ রঙ্গীন” কোনো রিপোর্টিং করে না। এদের নিয়ে কোনো হৃদয়বিদারক টাইটেল হয় না। একই টাইটেল, মাসের পর মাস। “পুলিশের গুলিতে নিহত”।

কেনই বা করবে?  এরা তো গরীব “মানুষ” নয়। এরা গরীব “জানোয়ার”। “জানোয়ারের” আবার মানবাধিকার কী? এদের “জানোয়ার” ছানাপোনাগুলো চিৎকার করে আকাশ বাতাস কাঁদিয়ে তুললেও কোনো ফটোগ্রাফারের কিছু যায় আসে না। এদের মা “জানোয়ার” গুলো এদের কবরে বার বার হাত বুলালেও কিছুই যায় আসে না, আমাদের সেলিব্রিটি কলামিস্টদের।  ভ্রু কুচকে ভাবে-  “কেন” যে এরা  আমাদের “ট্রিগার হ্যাপী ” পুলিশের গুলির সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়!  এদের জীবনে কোনো “গল্প” নেই। এদের কোনো স্বপ্ন ছিল না । এরা কেউ স্কুলে প্রথম হয় নি! এদের তো প্রেয়সী থাকতেই নেই। “জানোয়ারের” জীবনে আবার কিসের প্রেম?

Image

উপরের ছবিটি দেখুন। বাচ্চা মেয়েটির চোখগুলো দেখছেন? বিস্ময়। অগাধ বিস্ময়। মেয়েটি দেখছিল তার বাবাকে হত্যার দৃশ্য। নাটোরের বাবুর হত্যার দৃশ্য। বাংলাদেশে অবশ্য  আওয়ামী লীগ যারা করেন, এদের সমর্থক এবং যারা রাজনীতিকে “ঘৃণা” করেন, এদের ছাড়া আর কারো মানবাধিকার নেই। মেয়েটি সেটা জানে না। তার আছে “জানোয়ারের” অধিকার। তাইতো তার বাবা, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্তেও , রাস্তায়, প্রকাশ্য দিবালোকে, আওয়ামীদের হাতে “জানোয়ারের”  মৃত্যু বরণ করে, দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে  তাকে হত্যা  করা হয়। ফুটফুটে  মেয়েগুলো, বাবুর তিন মেয়ে, বিস্ময়ের সাথে দেখে তাদের বাবার জানোয়ার হওয়ার দৃশ্য। প্রথম আলো কিংবা ডেইলি স্টার এদের নিয়ে  “সম্পূর্ণ রঙ্গীন” কোনো রিপোর্টিং করে জানায় না এরা কেমন আছে। পাঠক জানতে পারে না,  ফুটফুটে মেয়েগুলো কত বড় হলো! বাবুর বউ, মহুয়া নামের রূপসী মেয়েটি, কেমন আছে!

ইলিয়াস আলী হঠাৎ এক রাতে হারিয়ে যায়। তার ছোটো মেয়েটা কাঁচা হাতে চিঠি লেখে। বাবাকে খুঁজে। ইলিয়াসের বউ, ছেলে মেয়ে নিয়ে ছুটে যায় গণভবনে। বিশাল ক্ষমতার অধিকারিনী, বাংলাদেশ আল্লাহর পরে যার ক্ষমতা (এবং কারো কারো মতে যার ক্ষমতা সেই একজনেরও নীচে না) সেই মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর পায়ে পড়ে যায়। “দিন না খুঁজে ইলিয়াসকে”/তার আগে এবং পরে  হারিয়ে গেছে আরো হাজার হাজার নেতা কর্মী। পুলিশের কাস্টডিতে মরে যায় মইন নামের এক মেধাবী তরুণ আইনজীবী। ছোট্ট একটি বাচ্চা নিয়ে মইন এর তরুণী স্ত্রী নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। নেতাকে না পেয়ে তার বউ, মেয়ে, জামাই, শাশুড়ি এমনকি শালার বৌকে পর্যন্ত ধরে নিয়ে যায় এরা। ঠিকই তো আছে, শুধু নেতা কেন, নেতার চৌদ্দ পুরুষের মানবাধিকার থাকতে নেই, থাকতে পারে না।  নেতার বাসায় ককটেল ছুরুক, নেতার মেয়ের গাড়ী “দুর্বৃত্তদের” আক্রমণে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাক, জমানো টাকা শেষ হয়ে যাক মামলার পেছনে, পাড়ার লোকদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়া “মানুষেরা” রেখে যায় বোতল ভর্তি পেট্রোল, উদ্দেশ্য পুড়িয়ে দিবে, জ্বালিয়ে দেবে নেতার সব, কী হয়েছে তাতে? নেতা তো “মানুষ” না। শুধু নেতা কেন, নেতার চৌদ্দ পুরুষের মানবাধিকার থাকতে নেই, থাকতে পারে না।

নেতা ভালো ছাত্র ছিল, বাবার আশা ছিলো ছেলে পিএইচডি করে থিতু হবে। কোথায় কি? দেশ জ্বলছে অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে। নেতা ফিরে আসে দেশে। ঝাঁপিয়ে পড়ে  মুক্তি সংগ্রামে। কোথায় যায় ক্যারিয়ার!  যোগ দেয় শিক্ষকতায়। সারাজীবন সমঝোতা করেছেন বিবাদমান দলগুলোর মাঝে, তবে সমঝোতা করেন নি আদর্শের সাথে। আদর্শ খেতে খেতে নেতার বউ এর উঠে নাভিশ্বাস।  পাতি নেতা এসে বলে, স্যার, লাল কুমার বড্ড জ্বালায়। ভোট তো এমনিতেই দিবে না, একটু ঠাণ্ডা করে দেই স্যার? নেতা চিৎকার করে উঠে। খবরদার! একজন লাল কুমার ও যেন কষ্টে না থাকে। কিন্তু লাল কুমার ভোট দেয় না। লাল কুমারদের বড় দুঃখ, সবইতো ঠিক আছে,  নেতার মার্কাটা কেন নৌকা হইলো না!

সারাজীবন ভদ্র লোকের রাজনীতি করেছেন। এই নেতা তার কর্মীদের উজ্জীবিত করতে বলে ” শুধু দু একটি গাড়ি ভাঙলেই আন্দোলন হয় না, রাস্তায় হাজারে হাজারে নামতে হবে, সরকারের পতন ঘটাতে হবে”/এই কথা শুনে নড়ে চড়ে উঠে “মানুষেরা”/ তথ্য বাবা এবং তার চেলা চামুন্ডারা শুরু করে তথ্য বিকৃতি। যেন নেতার আদেশেই বাস পুড়ছে!  টপাটপ মামলা। মামলার সংখ্যা আর নেতার বয়স প্রায় ছুই ছুই – ৬৫ হয়ে গেছে মনে হয় এরই মধ্যে! তবুও নেতাকে টলানো যায় না। এরপর শুরু হয় তথ্যবাবার ফুট সোলজারদের আরেক কান্ড। তার স্বাক্ষর নকল করে ভুয়া পদত্যাগ পত্র প্রকাশ যার সারমর্ম আবার অহিংস – মানে তার প্রেসক্রিপশান মতো অহিংস আন্দোলন না হওয়াতেই পদত্যাগ! দলের “সহিংস” কর্মকাণ্ড সহ্য করতে না পেরে নেতা প্রস্থান করছেন! কতো দেউলিয়া আজ তথ্যবাবা এবং তার চেলারা। ষড়যন্ত্রে, প্রপাগান্ডায় কনসিস্টেন্সি পর্যন্ত রক্ষা করতে পারে না!

বাংলাদেশে গত দুবছর নেতার সাথে মেয়ের দেখা হয়েছে শুধু কাশিমপুর জেলে। চারদিকে গোয়েন্দারা বসে, নেতা গল্প করে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভয়াবহ শক্তির কথা,  গল্প করে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের কথা,  গল্প করে বিচার ব্যবস্থার দেউলিয়াত্বের কথা।  নেতাকে মেয়ে লেখে। বাবা, ভীষণ চিন্তা হচ্ছে। এই বয়সে , এই শরীরে তুমি কোথায় আছো, কী খাচ্ছো ! দিনের পর দিন, রাতের পর রাত। আর কত দিন? কবে ভোর হবে?

ভোর তিনটায় নেতাকে গ্রেফতার করে অফিস থেকে, পায়ে তার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলির ক্ষত;  লাঠিটি পর্যন্ত নিতে দেওয়া হয় না। তো কী হয়েছে? এরা তো  “মানুষ” নয়। এদের নেই “মানুষের” অধিকার। তাই ভীষণ যন্ত্রনায় পুড়ে ছারখার হয়ে গেলেও বলি- তবু দেশটা শান্তিতে থাকুক। দেশে আজ যে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে তা নিভে যাক। দেশটা স্বাধীন থাকুক, সার্বভৌম থাকুক। আর একটা “মানুষও” যেন না মরে। দেবতারা সব মর্ত্যে নামুক। জয় হোক “মানুষের”।

এরপরেও  কথা থাকে। আমার শিক্ষা, মূল্যবোধ না হয় আমাকে  গান্ধীবাদে  দীক্ষা দিলো .এবং নিরাপদ আস্তানায় বসে এধরনের অদ্ভূত প্রার্থনায় উদ্বুদ্ধ  করলো.কিন্তু, আজ  রাস্তার ওই মিছিলটা, যেটা  বড় হচ্ছে খুব দ্রুত, ওই মিছিলটা কিন্তু একটা সিম্বল হয়ে যাচ্ছে। আরো হাজার হাজার মানুষ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে, প্রার্থনায় নয়, বরং “জানোয়ারের” মৃত্যু বরণে। দেশের প্রচন্ড ক্ষমতাশীল ঐ “মানুষটি” পারবে না এই প্রলয় রুখতে। আর সেই প্রলয়ে ভাসবে কিন্তু সবাই। “মানুষ” এবং “জানোয়ার” সবাই।

You arrogant ass! You killed us!

1

You arrogant ass! You killed us! অহংকারী গর্দভ! তুমি আমাদেরকেই মেরে ফেললে!

The Hunt for Red October মুভীটি অনেকেই দেখেছেন। সদ্যপ্রয়াত লেখক টম ক্ল্যান্সি’র থ্রিলার অবলম্বনে বানানো এই ছবিটিকে সাবমেরিন লড়াইএর যাবতীয় মুভীগুলির অন্যতম সেরা বলা হয় (সাধারনত জার্মান ক্ল্যাসিক Das Boot ছবির পরেই)/ টান টান, রুদ্ধশ্বাসের পুরো ছবিটির ক্ল্যাইম্যাকটিক একশন দৃশ্যটি থিলার এর চরম উৎকর্ষতায় উন্নীত। এই ক্ল্যাইম্যাক্স সীন থেকেই মনে দাগ কেটে থাকা উপরের লাইনটি নেয়া। নীচে ইউটিউবের দুই মিনিটের ভিডিওটিতে এই চূড়ান্ত মূহুর্ত গুলি আছে। তার আগে যারা ছবিটি দেখেন নি কিংবা উইকিপেডিয়া বা IMDb তে যাওয়ার সময় নেই, তাদের জন্যে কিছুটা অবতরনিকা।

৮০’র দশকের শুরুতে কোন এক তীব্র শীতের ভোরে এক সোভিয়েত নেভাল বেস থেকে প্রথম পে্ট্রলে বের হলো সোভিয়েত নেভীর নতুনতম সংযোজন, টাইফুন ক্লাস মিসাইল সাবমেরিন Red October। এই নতুন সাবমেরিনে প্রথম সংযোজিত হয়েছে এক রিভলিউশনারী প্রযুক্তি, ম্যাগনেটো-হাইড্রোডাইনামিক প্রোপালশন সিস্টেম, যেটা কোনো প্রপেলার ছাড়া নি:শব্দে পানি নীচে সাবমেরিনকে চালিত করবে। নি:শব্দে , রাডার এড়িয়ে চলতে পারাই সাবমেরিনের সবচেয়ে আকাংখিত বৈশিষ্ট্য। নতুন প্রযুক্তির এই নতুন সাবমেরিনের ক্যাপ্টেনের দ্বায়িত্ব দেয়া হলো সোভিয়েত নেভীর সবচেয়ে চৌকষ আর অভিজ্ঞ সাবমেরিনার মার্কো রেমিয়াস (শন কনোরী) কে। কিন্তু নেভীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মোটেই আচ করতে পারে নি যে ক্যাপ্টেন মার্কো রেমিয়াস এর মনে রয়েছে সম্পূর্ন অন্যরকম বাসনা।

দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে রেমিয়াস সোভিয়েত রাষ্ট্রব্যবস্থার উপরে বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠছিলেন। তিনি ভালোই বুঝতে পেরেছিলেন যে এই নতুন নি:শব্দ প্রযুক্তি শীতলযুদ্ধের ব্যালেন্স ওফ পাওয়ার কি রকম উল্টে দেবে। কারন এই প্রযুক্তির সাহায্যে ষোলটি নিউক্লিয়াস মিসাইল সমৃদ্ধ এক একটি টাইফুন-ক্ল্যাস সাবমেরিন একেবারে আমেরিকার উপকূলে চুপকরে বসে থাকতে পারবে এবং এর ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন যেকোন সময়ে অতি দ্রুত মিসাইল লন্চ করে ব্যালেন্স পাল্টে দেয়া আকস্মিক ফার্স্ট স্ট্রাইক ক্যাপেবিলিটি অর্জন করবে। রেমিয়াস সিদ্ধান্ত নেয় যে সে এই নতুন সাবমেরিন নিয়েই আমেরিকার পক্ষে ডিফেক্ট করবে যেনো এই প্রযুক্তি একটি পরাশক্তির কুক্ষিগত না থাকে। রেমিয়াস তার সাবমেরিনের অন্যান্য অফিসারদেরকেও আগে থেকে বুঝিয়ে সুজিয়ে সম্মিলিত ডিফেকশনের পক্ষে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। রেমিয়াস Red October ঘাটি ত্যাগ করার আগ মূহুর্তে পাঠানো এক চিঠিতে নেভীর উচ্চতম কর্মকর্তাদের তার ডিফেকশনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়।

এই সংবাদটি পাওয়া মাত্রই সোভিয়েত নেতৃত্বে চরম তোলপাড় শুরু হয়। আটলান্টিকে থাকা সকল সোভিয়েট নৌযানকে আদেশ দেয়া হয় যেভাবেই হোক রেড অক্টোবরকে খুজে পেয়ে ধ্বংস করতে। রেড অক্টিবরের আমেরিকা যাত্রাপথে সবচেয়ে কাছা কাছি ছিলো সোভিয়েট অ্যাটাম সাবমেরিন (সাবমেরিন শিকারী) Konovalov আর আমেরিকান সাবমেরিন ইউএসএস ডালাস। এদের কাছে কিছুক্ষনের জন্যে রেড অক্টোবরের উপস্থিতি রাডারে ধরা পরে। এরপরেই শুরু হয় আটলান্টিকের গভীরে রেড অক্টোবর, কোনোভালভ আর ডালাস এই তিন সাবমেরিনের ইদুর-বেড়াল খেলা এবং এটিই ছবিটির মূল ঘটনা।

শিকারী সাবমেরিন কোনোভালভ এর ক্যাপ্টেনের দ্বায়িত্বে ছিলো ভিক্তর তুপোলেভ নামের একজন অফিসার। এই তুপোলেভ আবার রেড অক্টোবরের ক্যাপ্টেন রেমিয়াসেরই একজন প্রাক্তন ছাত্র এবং সাবমেরীন যুদ্ধের আসল দীক্ষাই তার হয়েছে রেমিয়াসের হাতে। কিন্তু অহংকারী, দূর্বিনীত এবং মতান্ধ তুপোলেভ, তার লিবারেল, জনপ্রিয় শিক্ষক রেমিয়াস মনে মনে আগে থেকেই তীব্র অপছন্দ করতো এবং এবার আসল সাবমেরীন যুদ্ধে তার শিক্ষককে হারিয়ে দিয়ে ধ্বংস করার সুযোগ পেয়ে তুপোলেভ একেবারে মরীয়া এবং একরোখা হয়ে পড়ে। রেড অক্টোবরকে ধাওয়া করার মধ্যে মরীয়া তুপোলেভ একের পর এক ঝুকিপূর্ন সিদ্ধান্ত নিতে থাকে। তুপোলেভ এর অধীনস্থ অফিসাররা, বিশেষত তার এক্স-ও (এক্সিকিউটিউভ অফিসার) বার বার তুপোলেভকে সতর্ক করে যে তার পদক্ষেপগুলি কোনোভালভকেই বিপন্ন করতে পারে। কিন্তু একগুয়ে, অহংকারী তুপোলেভ কোনো কথাই কানে তোলে না। আর জাহাজে ক্যাপ্টেনের আদেশের অমান্য করা মানে সরাসরি বিদ্রোহ করা, যা নেভীতে প্রায় অমার্জনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত।

অ্যাকশনের চূড়ান্ত মূহুর্তে রেড অক্টোবরকে হাতের কাছে পেয়ে তুপোলেভ আরেকটি হটকারী সিদ্ধান্ত নেয়। সাবমেরীন থেকে নিক্ষেপ করা টর্পেডোতে একটি সেফটি সুইচ থাকে, যে সুইচটি নিক্ষেপের পর বেশ কিছুদূর যাওয়ার পরে অটোমেটিক্যালী ওফ হয়ে যেয়ে টর্পেডোর বিস্ফোরককে আর্মড করে ফেলে। এর কারন যদি সেফটি অন না থাকে, তবে এই সব টার্গেট সিকিং টর্পেডো সবচেয়ে নিকটস্থ জাহাজ হিসেবে, নিক্ষেপকারী সাবমেরীনকেই টার্গেট চিহ্নিত করে ঘুরে আসতে পারে। রেড অক্টোবর যখন খুব কাছে, তখন এক্স-ও’র তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে, নিজেই সুইচ টিপে, তুপোলেভ কোনোভালভ সাবমেরিন থেকে সেফটি ওফ করা টর্পেডো ছুড়ে রেড অক্টোবরের দিকে।

রেড অক্টোবরের ক্যাপ্টেন রেমিয়াসের কৌশলের ফলে শেষ মুহুর্তে তুপোলেভ এর ছোড়া টর্পেডো ঘুরে আসে তার সাবমেরীন কোনোভালভ এর দিকেই অমোঘভাবে। যখন নিশ্চিৎ মৃত্যু আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড দূরে, তখন তুপোলেভ এর এক্স-ও তীব্র ঘৃনাভরে তুপোলেভকে বলে

You arrogant ass! You killed us! অহংকারী গর্দভ! তুমি আমাদেরকেই মেরে ফেললে!

একেবারে শেষমুহুর্তে নিস্ফল গালি দেবার চেয়ে আগে থেকেই কোনো পদক্ষেপ নেয়া দরকার নয় কি?

আপনি কি চেষ্টা করেছিলেন তাকে থামাতে?

6

ক্লাস টেনের এক ক্লাস রুম। প্রতিদিন সকালে কেউ এসে ক্লাসের সবার চোখে পড়ে এমন একটা জায়গায় মেথামফেটামিন (য়াবা) রেখে যায়। প্রথম কিছুদিন কেউ ছুঁয়ে না দেখলেও শেষ পর্যন্ত কয়েকজন ধরেই ফেলে ড্রাগটা। মনে রাখবেন – সবাই না, কয়েকজন।

এই এডিকশানের জন্য দোষী কে?

এই প্রশ্নের উত্তর একেকজন একেকভাবে দেবে। যে সব ছাত্র য়াবা খাওয়া শুরু করলো না তারা বলবে কৈ আমরা তো খাই নি; যারা খেয়েছে তারাই দোষী। যারা খাওয়া শুরু করলো তারা বলবে এখানে না রাখা হলে আমরা য়াবা খেতাম না। আওয়ামী লীগ বলবে এটা এইট পাশ খালেদার কাজ আর বিএনপি বলবে আওয়ামী লীগের আমলে সামান্য ক্লাসরুমও য়াবার থাবা থেকে রক্ষা পায় নাই। বাম-পন্থীরা সারা পৃথিবীর দোষ খুঁজে পাবে শুধুমাত্র ক্লাসরুমের ছেলেপুলে ছাড়া। সুশীলরা বলবে কি এক সময় আসলো যে বাচ্চারা রবীন্দ্রনাথ না পড়ে য়াবায় পড়ে থাকে – এজন্যেই কি আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম? আর ইসলামিস্টদের ব্যাখ্যা বরাবরই খুব সহজ – মুসলমানের ঈমান কমজোড় হয়ে গেলেই সব আপদ।

আমি আইডিয়ালিস্ট নই, হার্ডকোর রিয়ালিস্ট। আমার ব্যাখ্যা সাদাসিধা । যারা য়াবা খাওয়া শুরু করলো, তারা ক্লাসে য়াবা না পেলেও কোনো না কোনো দিন হয় তো শুরু করতো কিন্তু “আমি যদি পাখি হতাম” লাইনের যুক্তিতর্কে আমার রুচি নেই। বাস্তবতা হোলো বাচ্চা বাচ্চা দশটা ছেলের হাতের নাগালে ড্রাগ রাখলে সবাই হয়তো খাবে না কিন্তু কয়েকজন খাবেই খাবে – এর অন্যথা হবে না। এটা আপনি আটকাতে পারবেন না। কাজেই দোষী সে যে ড্রাগটা ওখানে রাখে প্রতিদিন। পাগলকে সাঁকোর মাঝখানে যে মনে করিয়ে দেয় পাগল ভালো হয়ে গেছে – দোষটা তার, পাগলের না।

আমি বলছি না যে আমার দৃষ্টিভঙ্গিই একমাত্র সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। আপনি যদি এ সমস্যা নিয়ে কবিতা লিখতে চান তাহলে, হয়তো বামপন্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি কাজে দেবে। যদি ফেসবুকে লাইক চান, সম্ভবত সুশীলদের দৃষ্টিভঙ্গি কাজে দেবে। কিন্তু আপনি যদি সমস্যার সমাধান করতে চান তাহলে একমাত্র আমার দৃষ্টিভঙ্গিই কাজে দেবে। হ্যা, কেবলমাত্র রিয়ালিস্টরাই যে কোনো সামাজিক সমস্যার টেকসই সমাধান দিতে পারে। আইডিয়ালিস্টরা সমস্যাকে ঘনীভূত করে।

আজকে বাংলাদেশের সমস্যা জটিল। আপনি নানানভাবে আপনার সুবিধামতোন এর ব্যাখ্যা করতে পারেন। বিজ্ঞানীদের এর চেয়েও জটিলতর সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় হর-হামেশা (তবে সে সব সমস্যার কারণে মানুষ মরে না)। তারা সফল হন খুব বেশি কারণ তারা অসম্ভব জটিল সমস্যার সরলতম ন্যারেটিভ বের করতে পারেন – মানে ঐ “মোদ্দা কথায়” যেতে পারেন তাড়াতাড়ি। ছোটো মানুষেরা ফালতু আলাপে দিনভর থাকেন পেরেশান। মতিকন্ঠ করে, অপছন্দের মানুষটিকে খুবই ক্রিয়েটিভ, মনপসন্দ গালি দিয়ে আপনার পিংপং বল সাইজের ইগোটা একটু ফুলে টেনিস বল হয়ে উঠতে পারে বৈকি কিন্তু তাতে সমস্যার কোনো সমাধান হবে না।

আজকের বাংলাদেশী রাজনীতির স্টেল মেটের “মোদ্দা কথাটা” তাহলে কী?

বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে খুব ভালোবাসে এবং এই কাজটার মাঝেই তাদের নাগরিক কর্তব্য সম্পন্ন করতে চায়। গণতন্ত্রের একমাত্র বিষয় ভোট না, কিন্তু প্রথম বিষয় ভোট। কাজেই জনগণের এই স্বপ্নটা ন্যায্য (তাদের আরোও অনেক স্বপ্ন দেখার কথা ছিলো, যেটা তারা দেখে না)। সমস্যা হোলো খালেদা কিংবা হাসিনা কিংবা তাদের দল ভোটগ্রহণের কাজটা নিরপেক্ষভাবে করবে এটা কেউ বিশ্বাস করে না – এবং ন্যায্য কারণেই করে না। কিন্তু হাসিনার খুব সাধ ২০২১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার। এই সাধ হওয়াটা দোষের না কিন্তু তিনি চান খালি মাঠে গোল দিতে। মানে হয় একাই নির্বাচন করে জিতবেন, নয়তো ভোটে ইয়ে করে জিতবেন। সেজন্য তিনি সংবিধানটাকে দেবব্রত চাকীর অঙ্কের নোটবই বানিয়েছেন (এই নোটবই নাকি ছয়ের দশক থেকে আছে, আমাদের সময়েও ছিলো, চাকী সাহেব মরে ভূত, সিলেবাস বদলেছে সতেরবার কিন্তু “দেবব্রত চাকী নোটবই” টিকে ছিলো – আছে হয়তো এখনো)।

বাস্তবতা হোলো আপনি যখনই বাংলাদেশে এলেকশান নিয়ে চাতুরীর আশ্রয় নেবেন, টালবাহানা করবেন; আন্দোলন হবে, মানুষ মরবে। এটা রিয়ালিটি। শেখ হাসিনা ঠিক এই কাজটা করেছেন এবং করছেন। এটা সত্য এবং তা অস্বীকারের উপায় নেই। দায়ের কথা বলার, বিচার করার সময় পড়ে আছে। এখন দরকার এই মানুষ মারার রাজনীতি বন্ধ করা।

এখান থেকে বেরিয়ে আসার কেবল একটিই উপায় আছে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। কারণ হাসিনা বা খালেদার আন্ডারে কোনো সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব না। তার চেয়েও সত্য কথা: হাসিনা পদত্যাগ না করলে হত্যার রাজনীতি বন্ধ তো হবেই না – সম্ভবত আমরা এমন একটা phase এ ঢুকে যাবো যেখান থেকে বেরিয়ে আসতে এক প্রজন্ম ব্যয় হয়ে যেতে পারে – য়েস ইট ইজ দ্যাট সিরিয়াস।

                              ………………………………….

বাংলাদেশের এক নাম করা ইংরেজি কলামিস্টের সাথে আলোচনায় টিপিকাল সুশীল মানসিকতার পরিচয় পেলাম – এটা আলোচনা করা দরকার। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তার মত হোলো Why doesn’t the two hire a place and fight it out and leave us alone. এটা কোনো ছাগু বা চেতনাইজড লো লাইফের কথা না, সার্টিফায়েড এল্ডার সুশীলের কথা। ফেসবুকেও এই লাইনের হাজার হাজার মানুষ আছে। তোমারা লীগ, বিএনপি মারপিট করো – আমাদেরকে দু দণ্ড শান্তি দাও।

এই খোকাবাবুরা মনে করেন যে বিএনপি-লীগ তাদের থেকে আলাদা কোনো এক স্ফেয়ারে ফাংশান করে। তারা নিজেরা মারপিট করলে করুক – আমাদের বাউন্ডারীর মধ্যে না ঢুকলেই হোলো। এই ভদ্রলোকের ইতিহাসের ওপর যথেষ্ট কাজ থাকা সত্ত্বেও এতোটুকু জানেন না যে পীস টাইম কোনো “রিয়ালিটি” না, কন্ডিশান। শান্তি ওহী মারফৎ নাজিল হয় না। এর জন্য নাগরিকদের তার দায় শোধ করতে হয়। যখন হাসিনার মাঝে বাংলাদেশের সংবিধান, জুডিশিয়ারি, নির্বাহী বিভাগ সব ফানা ফি হাসিনা হয়ে যাচ্ছিলো তখন “ইয়া হাসিনা ইয় লীগ” বলে জিকির করে এখন যদি আশা করেন হুট করে সব সুন্দর হয়ে যাবে তাহলে দুঃখিত: জিকিরের আগে একটু ভালো মন্দ কিছু খেতেও হবে।

Image

এই দেশটা শেখ হাসিনা কিংবা খালেদা জিয়ার কোনো সম্পত্তি না – এই কথাটা সবাই বিশ্বাস করে কিন্তু যা বিশ্বাস করে না তা হলো – এই দেশটা আমার, আমি ওন করি এবং আমার দায় আছে পরবর্তী প্রজন্মকে একটা বাসযোগ্য দেশ উপহার দেয়ার। তাই আমাদের সবার দায় আছে এটা নিশ্চিত করার যে কোনো মানুষই যেন এই দেশটাকে তার ইচ্ছার পুতুল বানিয়ে না ফেলে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রিয়ালিটি – আপনার কাজ শুধু ভোট দেয়া না, এই দুটো দলে যেন কখনোই কোনো হাসিনা কেউ হয়ে উঠতে না পারে, সেদিকে নিশ্চিত না করলে নিশ্চিত থাকুন: আপনি আপনার নিজের শান্তিটুকু খোয়াবেন। আপনি জিজ্ঞেস করুন নিজেকে সততার সাথে – আপনার সন্তান যদি কখনো প্রশ্ন করে, সে উত্তর দিতে যতোটুকু সততা লাগে ততোটুকু সততার সাথে, দেশটাকে যখন হাসিনা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য তার খেলনা ঘর বানিয়ে ফেলছিলেন আপনি কি আপনার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছিলেন তাকে থামাতে?

বাকস্বাধীনতা কেবল মুসলিম বিদ্বেষী, গনহত্যাকামীদের জন্যে

দেশে অস্থিরতা-সহিংসতার বিস্তার রোধ করার অজুহাত তুলে, মিথ্যাচার ও বিদ্বেষ এর অভিযোগ এনে আমারদেশ, দিগন্ত টিভি, সোনার বাংলা এরকম অনেক মিডিয়া হাউসকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কোনো রকম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই। এদিকে আওয়ামী লীগের সরাসরি তত্বাবধানে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ব্লগগুলিতে, আওয়ামী সমর্থনের নামে চলছে তীব্র মুসলিম বিদ্বেষ। এটা শুধু ইসলাম বা মুসলিম ধর্ম বিদ্বেষ নয়, এটি মুসলিম নামধারী মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার মতো তীব্র বিদ্বেষ। লেখাগুলি দেখলেই বোঝা যায় এগুলি কোনো প্রাক্তন মুসলিম নাস্তিকের লেখা নয়। একজন নাস্তিকও নিজের পিতা-মাতা, আত্মীয় স্বজন, নিজ সমাজবাসীকে নিশ্চিহ্ন করার মতো বিদ্বেষ কখনোই ধারন করতে পারে না। এগুলি কেবল মাত্র অন্য ধর্মের তীব্র বিদ্বেষীদের পক্ষেই সম্ভব। আওয়ামী সমর্থকেরা, যারা অনেকেই ধর্ম পালন করার চেষ্টা করে, তারা দলীয় সমর্থনের নামে এই বিজাতীয় ধর্মবিদ্বেষকে দেখেও না দেখার ভান করছে কিংবা উৎসাহিত করছে। তাদের বিন্দুমাত্র হুশ নেই নেই স্বধর্মী অন্য রাজনীতির মানুষদের দমনের জন্যে নেকড়ে দের উৎসাহিত করার মাধ্যমে তারা নিজেরাই কতো ভয়ংকর পরিনতি কে আহবান করছে।

বাংলা ব্লগ জগতে ‘আমারব্লগ’ বেশ পরিচিতো। আওয়ামী লীগের সরাসরি তত্বাবধানে পরিচালিত এই ব্লগটিই হলো অমি পিয়াল, আইজুদ্দীন নামের ব্লগজগতের বড়ো বড়ো মহারথীদের লালনভূমি বলে পরিচিতো। এই ব্লগে বিএনপি, জামাত বিরোধিতা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানোর ফাকে ফাকে তীব্র ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া হয়। এটা এমনভাবে চলে যে সাধারন আওয়ামী সমর্থকেরা সাধারন রাজনৈতিক প্রচারণার ফাকে এই বিদ্বেষকে আলাদা করতে পারে না। এটা হলো Subliminal message এর উৎকৃষ্ট ব্যবহার। কিন্তু সময়ে, সময়ে কোনো কোনো সংবাদে এই বিধর্মী নেকড়েগুলি এতোই উল্লসিত হয়ে উঠে যে তারা তাদের নখদাতগুলি আড়াল করতে ভুলে যায় এবং এদের স্বরূপ বেড়িয়ে আসে।

সম্প্রতি আফ্রিকার এংগোলায় ইসলাম ও মসজিদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই নামে একটি বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদে ইসলাম বিরোধী মহলে তীব্র আনন্দল্লাস বয়ে যায় এবং একের পর এক ইসলামবিরোধী পোস্ট প্রকাশ করা হয়। আমারব্লগে বর্তমানে তীব্র বিএনপি বিরোধী ও আওয়ামী সমর্থক ব্লগারদের মধ্যে ঋতানৃত তূর্য্য নামের একজন আছেন। তার বিএনপি বিরোধী ব্লগার পরিচয়ের আড়ালে যে এক ভয়ংকর মুসলিম বিদ্বেষী, গনহত্যাকামী রয়েছে সেটা আর তিনি আড়াল রাখতে পারেন নি। সেদিনই “নিষিদ্ধ ইসলাম! এমনই হবার ছিলো…” (তারিখঃ সোমবার, ২৫/১১/২০১৩ – ২৩:৪৩) নামের একপোস্টে তিনি বাংলাদেশের ইসলাম ও মুসলিমদের স্পষ্ট হুমকি দিলেন বিশ্বজুড়ে গনহত্যার ভয় দেখিয়ে। তার নিজের কথাতেই,

” পৃথিবী থেকে মুসলমানদের নাম-নিশানা মুছে দেয়ার বহুবিধ কারণ আছে। আমি কেবল দু-তিনটি পয়েন্ট উল্লেখ করবো-
– মুসলমানেরা পৃথিবীকে কি দিয়েছে বা দিচ্ছে??

– এমনিতেই পৃথিবী জনসংখ্যার ভারে নূজ্ব্য তার উপরে মুসলমানেরা “মুখ দিয়াছেন যিনি, আহার দেবেন তিনি” -মনে মনে জপতে জপতে বছর বছর সন্তান উৎপাদন করেন। যেনো বিয়া করা হৈছে সন্তান উৎপাদনের মেশিন হিসেবে! আর তা হবেই বা না কেনো। কোনো এক হাদীসে আছে, নবী বলেছেন- যে মেয়ের বংশ “বহুপ্রসবা” সে মেয়েবে বিয়া করতে; বংশে বন্ধ্যা থাকলে সেখানে বিয়া না করতে। এই বিপুল জনসংখ্যা পৃথিবীর বোঝাই শুধু বাড়াচ্ছে।

– পৃথিবীর খাদ্যভাণ্ডার ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। এমনকি প্রাকৃতিক সম্পদও। আর আল্লাও সেই পৃথিবী তৈরির সময় যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়েছিলেন সেটার আপডেট করেননি। ফলে যারা দুনিয়ার জন্য বোঝা তাদের আখিরাতে পাঠাবার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এ দৌড়ে মুসলমানেরাই এগিয়ে। অবশ্য আফ্রিকার কয়েকটি দেশও ইনক্লুড হতে পারে।

সুতরাং আবারো বলছি, এখনো সময় আছে- ধর্মীয় ভাতৃত্ববোধ বজায় রাখুন। ষংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু টার্মগুলো মস্তিষ্ক থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন; আখেরে ভালো হবে। ভুলে যাবেন না- বাপেরও বাপ থাকে…”

এই বাপের বাপ বলতে কাকে বোঝাচ্ছেন এই ব্লগার তা নিশ্চই না বোঝার কারন নেই। এই রকম স্পষ্ট গনহত্যাকামী, ধর্মবিদ্বেষী লেখা স্বত্বেও আমারব্লগের মতো আওয়ামী ব্লগগুলো কোন চিন্তা ছাড়াই চলে দিনের পর দিন। আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তীর্যক মন্তব্যের ভূয়া অভিযোগে খ্যাতনামা ব্লগারদের জামিন ছাড়াই জেলে আটকে রাখা হয় মাসের পর মাস। ভবিষৎ-এ আওয়ামী লীগের শাসনের বাংলাদেশ এর চিত্র কল্পনা করতে এই ইংগিতগুলিই যথেষ্ট।

এখানে সেই ব্লগপোস্ট টির লিংক দেয়া হলো। সেই সাথে মুছে ফেলার আগেই রেকর্ডের জন্যে দুটি স্ক্রীনশট।

https://www.amarblog.com/Rheetanreeto-Tourzoo/posts/175374

Amar 2

amar

Awami League’s Rite of Passage

To any progressive, dispassionate observer of Bangladesh politics, one thing must seem very puzzling and intriguing. He would wonder, why Awami League, one of the two main political parties that has experience of governing this diverse country for many years, is still so intolerant, fundamentalist and exclusionary in its words and outlook? Why cannot Awami League accept that there are other political parties in the country that have values and programs that are respectable and legitimate by the criteria of any other democracies in the world? Why does Awami League think that it has a divine mandate to rule the Land of Bangalees and all other parties with stints in power are usurpers? Why does Awami League supporters still so underestimates the popular support base of their opponents in spite of suffering repeated humiliating defeats in fair elections accepted by everyone else? Why do Awami League intellectuals still think that they can pass off their highly parochial, ethnic and history based cultish ideology as progressive liberalism in this day and age?

The answers to these questions are surely complex and require analysis comprising hundreds of thousands of words but I think a deceptively simple answer underlies as a unifying strand among all the analyses. I think a simple answer is that Awami League didn’t have the benefit of a simple rite of passage that would hand deliver it to political maturity and normalcy. In the absence of that rite of passage, Awami League is still stuck in an emotional age of political juvenility.

Rites of passage are ceremonial occasions that celebrate a person’s passage from one significant stage of life to another. Everybody knows about popular rites of passage like the Jewish Bar Mitzvah or the Baby Shower of the first expectant mother. The political rite of passage that Awami League missed out is the normal Bangladeshi experience of a governing party to lose power in face of wide and violent popular unrest. Awami League has not yet lost power by yielding to a popular street movement and thus missed out its rite of passage.

[This was a Bangla post before, now it is translated for timely relevance]

 

হায়রে চেতনা!

by Shikin Aman

(এই লেখার পূর্ববর্তী ভার্সনে সুশীলতা ছিল, এই ভার্সনটা বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে পরিমার্জিত। বাকশালী মনোভাবের লোকজনকে লেখাটি এড়িয়ে যেতে বিনীতভাবে অনুরোধ রইলো)

unnamed

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। আড়াইশত বছর পরাধীনতার পরে আমরা একটা স্বাধীণ দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাড়াই এই মহান যুদ্ধের মাধ্যমে। এই যুদ্ধে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তারা আমাদের জাতীয় বীর।দেশের একটা ক্রান্তিলগ্নে তারা আমাদের মুক্তির পথের দিশারী ছিলেন। তাদের সেই মহান আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন কি আমরা করতে পেরেছি, নাকি আমরা তাদের অর্জনকে শুধু ক্ষুদ্রস্বার্থে (চেতনা) ব্যাবসার কাজে লাগাচ্ছি? আমাদের দেশের উন্নতির জন্য কি এই মহান স্মৃতি পথিকৃত এর ভুমিকা রাখছে, নাকি এর অপব্যাবহারে আমাদের উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে? দেশের উন্নতির জন্য ভবিষ্যত সরকারের কাছে আমাদের কি চাওয়া থাকতে পারে?

  • মুক্তিযোদ্ধা প্রসংগঃ

আজকে ৪২ বছর গত হয়েছে সেই মহান স্বাধীণতা যুদ্ধের। দেশ আর দেশের মানুষ এখন অনেক বদলে গেছে। সেই সময়ে যারা যুদ্ধে গিয়েছিলেন তারা সবাই আজকে ষাঠোর্ধ বৃদ্ধ।

দেশের কাছ থেকে বিনিময়ে কিছু নিবেন এমন মনোভাব নিয়ে যুদ্ধে গেছেন এমন যোদ্ধা পাওয়া যাবে কিনা আমার সন্দেহ আছে।বিভিন্ন সময় তাদের সাক্ষাতকারে আমি দেখেছি, সাধারণ যোদ্ধাদের একমাত্র চাওয়া ছিল একটা শোষণ ও নির্যাতনমুক্ত সমাজ। শিক্ষিতদের চাওয়া ছিল রাজনৈতিক স্বাধীণতা, দেশের সম্পদ দেশে থাকার নিশ্চয়তা, মুক্তচিন্তার বিকাশ, সাথে একটা উন্নত দেশের স্বপ্ন। তবে হ্যা, রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকে হয়তো ভাবতেন, স্বাধীণ দেশে মন্ত্রী মিনিস্টার হবেন, পতাকা লাগানো গাড়ীতে ঘুরবেন।আমি মনে করি এই স্বপ্ন তারা দেখতেই পারেন। সেইজন্যে তারা দেশের মুক্তির জন্য তদবীর করেছেন। কোলকাতায় কষ্ট করে থেকেছেন (১৯৭০ সালে নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে কয়জন যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন? সাংসদ বাদ দিলাম, কতজন বড় নেতা যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন? কিন্তু ভুলবেন না, তারা তখন স্বামর্থবান ছিলেন) এই প্রসংগটা আনতাম না।(ভুল বুঝবেন না প্লিস।। আমি অবশ্যই মানি যুদ্ধকালীন একটা সরকার আবশ্যক ছিল, তবে সব নেতাদেরই কোলকাতায় বসে থাকা দরকার ছিলো কিনা তাতে আমার সন্দেহ আছে) এই প্রসংগ আনার কারণ হচ্ছে, রাজনীতিবিদরা সাধারণ যোদ্ধাদের মনোভাব আর নিজেদের মনোভাব এক করে ফেলেন। তাই যুদ্ধের ৪২ বছর পরেও তারা ওই যুদ্ধ নিয়ে রাজনীতি করে চলেছেন।তারা মনে করেন মুক্তিযোদ্ধারা হয়তো তাদের মতই স্বাধীণ দেশের কাছে পাওনা (!) বুঝে পেতে চাইবেন।তারা ভুলে যান, এই যোদ্ধারা জীবন যৌবন বাজী রেখে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। কিছু পাওয়ার লোভ থাকলে, নিরাপদ কোথাও আত্মগোপনে থাকতেন, সম্মুখ সমরে যাওয়ার সাহস করতেন না। আর যে মহান যোদ্ধা বুলেটের মুখে হাসিমুখে দৌড়ে যেতে পারেন, সে জীবনযুদ্ধে অন্যের সাহায্যের আশায় বসে থাকবেন, এটা আমার কাছে দুরুহকল্পনা। যুদ্ধাহত যোদ্ধাদের কথা আলাদা। তারা না চাইলেও রাষ্ট্রের উচিত পুনর্বাসন করা। তবে সেই সময়ও পার হয়ে গেছে। ৪২ বছর পরে এসে এই প্রসংগ অবান্তর।

এই কথাগুলো বলার উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে, এতদিন পরেও আমারা মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ বিতরন করে চলেছি, আর ক্যান্সেল করে চলেছি। তাদের নাতি নাতনিদের কোটা দিয়ে বেড়াচ্ছি।প্রকৃত যোদ্ধারা এইসব নিয়ে মাতামাতি করবে আমার বিশ্বাস হয়না। যারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীণ করার মতো সাহস রাখে, তারা রাষ্ট্রের দয়ার জন্য বসে আছেন, এটা কখনই সম্ভব না। (আমি কোটা নিয়ে বিতর্কের সময় খেয়াল করেছি, অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেছেন, তার কাছে বাবার সনদ আছে, কিন্তু তিনি নিজ যোগ্যতায় ক্যারিয়ার গড়েছেন। তারা গর্বিত যোদ্ধার গর্বিত সন্তান)।

তাহলে, এই সনদ ব্যাবসায়ীরা কারা? অনিচ্ছা স্বত্তেও আমার চোখ চলে যায়, তাদের দিকে যারা আসলে যুদ্ধটাকে একটি ব্যাবসা হিসেবে গণ্য করে। যারা মনে করে দেশ স্বাধীণ হয়েছে, এখন বিদেশি শোষকরা যে ভাগটুকু নিয়ে যেতো তা আমার প্রাপ্য!! আমাদের দুর্ভাগা জাতি, শত বছরের বিদেশী শাষণ শেষে যার দেশীয় রক্ষকরা ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ন?

  • রাজাকার প্রসংগঃ

এবার আসি রাজাকার প্রসংগে।। স্বাধীণতা যুদ্ধের সময় আমাদের দেশেরই কিছু লোক স্বাধীণতার বিপক্ষে ছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল একটি রাজনৈতিক দলঃ জামায়াতে ইসলাম। তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। তাদের অনেক সদস্য আল বদর, আল শামস ইত্যাদি দল গঠন করে স্বাধীনতা ্যুদ্ধের বিরোধীতা করেছে। তাছাড়াও অনেক সুযোগ সন্ধানীরা এই সময় দেশের অস্থিতিশীলতার সুযোগে এইসকল সংগঠনে যোগ দিয়ে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করেছে।এখানে দুই ধরনের লোক আছে। একদল লোক মনে করতেন পাকিস্তান একটি ইসলামী রাষ্ট্র, ভারত চক্রান্ত করে তাকে দ্বিখন্ডিত করার চেষ্টা করছে, তাই তারা এই বিচ্ছিন্নতা বাদের বিরুদ্ধে। তারা দেশের কোটি লোকের আবেগ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। কিন্তু তাদের অনেকেই আমানবিক যুদ্ধাপরাধের সাথে যুক্ত ছিলেন না। আরেকদল লোক ছিলেন যারা দেশের শত্রুদের হাতে হাত মিলিয়ে যুদ্ধাপরাধ করেছেন।সিভিল লোকদের হত্যা, নির্দ্ধাযাতন, ধর্ষণ, লুটপাট ইত্যাদি এর অন্তর্ভূক্ত।যারা এইসব গর্হিত কাজ করেছে তারা কোন মতাদর্শের জন্য এসব করেনি। তারা অমানুষ, তাদের বিবেকবোধ লালসায় নিমজ্জিত ছিল তাই সুবিধাবাদী কাজ করেছে। এদের মধ্যে সকল দলের লোক ছিল, যেমন আজকের দিনেও সব দলেই খারাপ লোক আছে। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে একজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলেছি, যার পরিবার স্বাধীণতার পর তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা নির্যাতন ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। এই স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা (অদ্যাক্ষর মো হো মা) মুখে কাপড় বেধে ডাকাতি করছিলেন, একপর্যায়ে তার মুখের কাপড় সরে যায়। তিনি এখন চেতনার ধজ্জাবাহক।

সুতরাং দল মত নির্বিশেষে যারা এইসব কুকর্ম করেছেন, তারা নিঃসন্দেহে অপরাধী। তাদেরকে স্বাধীণতার পরপরই ঝুলিয়ে দেয়া দরকার ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা অনেক ক্ষেত্রেই এই শুভকাজটি সম্পন্ন করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে করতে পারেননি বিভিন্ন কারণে।এরপর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্বায়িত্ব ছিল তাদের বিচারের কাঠগরায় দাড়া করানোর। বেশ কিছু অপরাধীকে বিচার করাও হয়। আমাদের স্বাধীণতা আন্দোলনের মহান নেতা বংগবন্ধু তখন নেতৃত্বে ছিলেন। আমার বিশ্বাস তিনি সেই সময়ের সকল নেতার চেয়ে বেশী দেশপ্রেমী ও ভবিষ্যতদ্রষ্টা ছিলেন। তিনি সল্প সময়ের মধ্যেই এই বিষয় নিয়ে মাতামাতি বন্ধ করেন। এর কারণ কি?

একটা স্বাধীণ দেশের উন্নতির জন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন হলো জাতীয় একাত্মতা (national reconciliation)। প্রতিশোধ আর হানাহানির রাজনীতি কখনই দেশের জন্য সুফল আনেনা। বিচার ও শাস্তির সাইকোলজিকাল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যত অপরাধীদের  সতর্ক করা, সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখা। জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্বীকৃতি হয়ে যাবার পর আর পাকিস্তান একীভূত হওয়ার কোন আশংকা ছিলোনা। তাই তখন যুদ্ধুপরাধীদের বিচার সেই সাইকোলজিকাল গুরুত্ব হারায়। বঙ্গবন্ধু ঠিকই বুঝেছিলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে এইসব হানাহানি বন্ধ করতে হবে। তাই তিনি আইন করে জিঘাংসা রোধ করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি জাতীয় একাত্মতা প্রশ্নে একটু চরম্পন্থা নিয়ে ফেলেন (বাকশাল আইন)। তিনি হয়ত দেশের ভালই চেয়েছিলেন। কিন্তু যেই স্বাধীণতার জন্য এত জীবনদান, অনেকের কাছেই বাকশাল এর উলটো পথ!

এরপরে আসেন জেনারেল জিয়া।তার ক্ষমতার পথ যেমনই হোক, দেশের উন্নতির জন্য তার পরিকল্পনাও সদূরপ্রসারী ছিলো। স্বভাবতই তিনিও যুদ্ধকালীন কর্মকান্ড নিয়ে হানাহানির পথে যাননি। সকল মত আর পথকেই নিজের সাথে একীভূত করার চেষ্টা করেছেন। তার কাছেও নিঃসন্দেহে মূল প্রয়োজন ছিল দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন। এরপর আসলেন এরশাদ।তার শাষণ আমলেও দেশের মধ্যে যুদ্ধকালীন কর্মকান্ড নিয়ে মাতামাতি দেখা যায়না। এরপর আসলো সাধের গনতন্ত্র।।

৯১ গেলো, ৯৬ গে্লো, ২০০১ ও গেলো! ৯/১১ তে আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর দেশে দেশে সন্ত্রাসবাদ মাথা চাড়া দিল।আফগানিস্তান/ ইরাকের পশ্চিমা বিরোধী ঢেউ আমাদের দেশ সহ সব মুসল্মান দেশেই ছোয়া দিয়ে গেল। ফলে ওই সময়টাতে দেশে দেশে জঙ্গিবাদের দেখা মিলল। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া (বালির বোমাহামলা ভুলেননি নিশ্চয়ই) ইত্যাদি মুসলিমপ্রধাণ দেশগুলোও এর শিকার হয়। তাই এর সাথে দেশের সরকারকে সরাসরি যুক্ত করা ঠিক হবেনা।

২০০১ এর নির্বাচনে একটা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে।। আওয়ামিলীগ মোট ভোট বেশি পেয়েও, নির্বাচনে ব্যাপকভাবে হারে। ভোটের রাজনীতিতে যোগ হয় এক নতুন মাত্রা। হিসাবে দেখা যায়, বিএনপি ও জামাত জোট না বাধলে আওয়ামীলিগের অন্ধ ভোটারদের সমর্থনের জোরে আওয়ামীলিগ বার বার ক্ষমতায় যেতে পারে! এই নির্বাচনী হিসাবের প্রেক্ষিতে আওয়ামীলিগ ২০০১ নির্বাচনের পর থেকেই জামাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, যুদ্ধাপরাধ ইত্যাদি অভিযোগ আনতে থাকে। যদিও জঙ্গীবাদের মূল উতস ও কারণ কোনটাই জামাতের রাজনীতির সাথে যুক্ত না। এর কারণ আমেরিকার ঘোষিত global war on terrorism  আর দেশে দেশে চলমান গোপন আন্দোলন Islamic Caliphate। যেহেতু জামাতের কর্মীরা ইসলামপন্থী, তাদের কিছু প্রাক্তন সদস্য স্বাভাবিক ভাবেই আমেরিকার গ্লোবাল ওয়ার এর বিপক্ষে যোগ দিতে আফগানিস্তান ইরাক যায়, এবং ফলস্রুতিতে নিষিদ্ধ সংগঠনে যুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু দেশীয় রাজনীতির সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই বললেই চলে।তাছাড়া ততকালীন সরকার বিশেষ বাহিনী র‌্যাব গঠন করে বেশ কঠোর ভাবেই জঙ্গীবাদ দমন করে।বাংলা ভাই আর তার সাংগ পাংগদের ফাসী দিয়ে সেই কালো অধ্যায়ের ইতি ততকালীন সরকারই টেনে দেয়।

কিন্তু আওয়ামীলিগের জন্য এটা ছিল প্রধাণ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির নির্বাচনকালীন মিত্র জামাতকে ঘায়েল করার সুবর্ণ সুযোগ। তারা বিদেশী শক্তিদের কাছে  জামাতকে তথা সরকারকে জঙ্গীসংশ্লিষ্ট প্রমান করতে মরিয়া হয়ে উঠে।উপরে বর্ণিত কারণে (জামাতের কিছু সদস্যের পশ্চিমাবিরোধী যুদ্ধে যোগদানের প্রমাণ ও পরবর্তীতে দেশে ফিরে জঙ্গী সংগঠণের সাথে যোগাযোগের প্রমাণ) তারা এ ক্ষেত্রে সফলও হয়। একই সাথে তারা জামাতকে যুদ্ধাপরাধকারী দল হিসেবে তরূণ প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধের বিচার করার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী ম্যানিফ্যাস্টো করে। যেই national reconciliation বা জাতীয় ঐক্যের জন্য বঙ্গবন্ধু/ জিয়া ৪০ বছর আগে এই ইস্যুকে শেষ করেছিলেন, ক্ষমতায় যাবার জন্য আবার সেই ইস্যুকে জাগ্রত করা হয়

গত ৪২ বছরের মধ্যে আর কখনো বাঙ্গালী জাতি এতোটা দ্বিধাবিভক্ত ছিলোনা। কারণ দলকানা ছাড়া যে কেউ স্বীকার করবে এই বিচারের আসল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা। দেশের উন্নতি, অগ্রগতির সাথে এই বিশাল যজ্ঞের কোন সম্পর্ক নাই। নাহলে কেন যুদ্ধাপরাধীরা প্রায় সবাই একটা বিশেষ দলের টপ নেতাই? আর কোন যুদ্ধ অপরাধী দেশে নাই?? একজন অপরাধীর ফাসির আদেশের বিরোধীতা করতে গিয়ে শত লোকের জীবনদান, বাঙ্গালী ইতিহাসে তো দূরের কথা, পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তার মানে কি এই হাজার হাজার লোক যারা এই বিচারের বিরোধীতা করেছে সবাই ব্রেইন ওয়াশড? তার মানে কি বাঙ্গালি জাতির বিশাল অংশ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী? নাকি বাঙ্গালী এই বিচার ব্যাবস্থায় আস্থা রাখেনা?? যতদূর জা্না যায় এইসব যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সাক্ষী দেয়ার জন্য শত শত লোক ছিল কিন্তু আইন বদল করে তাদের সাক্ষী দিতে দেয়া হয় নাই। অপরদিকে বিপক্ষে সাক্ষী দেয়ার লোকদের সেফ হোমে রাখা হয়েছে। আদেশ মতো সাক্ষ্য না দিলে গুম করে ভারতের কারাগারে পাঠানোর উদাহরণও আছে! ( আমার মতে ৪০ বছর পরে একটা বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়া দূরুহ ব্যাপার। আর বাংলাদেশে আমরা যেভাবে দলকানা, তাতে  নেতা আদেশ করলে আমরা মিথ্যা সাক্ষ্য দিতেও পিছপা হবেনাঃ জনগনের উপর এই আস্থা আমার আছে।এই ধারা না বদল হলে আগামী দিনে আরো নতুন নতুন যুদ্ধাপরাধীর দেখা মিলবে বলে আমার বিশ্বাস!)   আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে বলে, ‘আমার দলে যোগ দিলে তুমি ভাল, আর নাহলে তুমি ছাগু’- এই তত্ত্বে যারা বিশ্বাসী, তাদেরই ব্রেইন প্রকৃতভাবে ওয়াশড! ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে একটা দেশের জনগনকে বিভক্ত করার এমন উদাহরণ ও পৃথিবীতে বিরল (রুয়ান্ডা একটা উদাহরণ হতে পারে)।

কোন সন্দেহ নাই রাজাকারের বিচার দরকার আছে।। তাহলে এতদিনে বিচার শেষ করে ফাসি/জেল দেয়া হলোনা কেন? পাচ ছয়জন লোকের বিচার করতে কি পাচ বছর লাগে? সরকার বিচারের রায়ের সময়কাল নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম এইটা বুঝতে আইনস্টাইন হওয়া লাগেএকসাথে সবগুলি আসামীকে  ফাসি দিলেও আমার মনে হয় এর চেয়ে বেশী রিয়াকশন হইত না। তার মানে বুঝা যাচ্ছে আপনাদের আসল উদ্দেশ্য এদের বিচার না!! আপনারা আশায় আছেন এদের ফাসি দেয়ার ধুয়া তুলে জনগণকে ব্ল্যাক্মেইল করবেন!! এদের ফাসি দেয়ার জন্য আপনাদের চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকা জরুরী! বাহ কি সুন্দর আপনাদের যুক্তিবোধ! এখানে আমার এক ফেসবুক ভাইয়ের ডায়লগ মনে পরে গেলঃ বাংগালীরে হাইকোর্ট দেখানো বন্ধ করেন!!

এটা পরিস্কার বোঝা যায়, যুদ্ধাপরাধী বিচার শুধুই একটা ইস্যুঃ উদ্যেশ্য এক ঢিল এ দুই পাখী! একঃ বিএনপি-জামাত জোট ভাঙ্গা। দুইঃ জনগনের ইমোশন নিয়ে খেলা করে ভোটের রাজনীতিতে লাভ করা। দেশের উন্নতি-অগ্রগতির সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই। এইখানে প্রসংগত গজা মঞ্চের কথা চলে আসে, কিন্তু সেইটা আরেক প্যাচঃ কে খেলোয়ার, কে কোচ, কে ফাইনান্সার আর গোলপোস্ট কোনদিকে সেইটা সল্পসংখক লোকেরই জানা আছে। এই মঞ্চ আসলে এই মুহুর্তে দেশের জন্য কোন ভুমিকা রাখার ক্ষমতাও রাখেনা। তাই এই লেখায় তাদের নিয়ে আলোচনায় যাবো না।

জনগণের চাওয়া কি?

আমি ভাই আমজনতা।স্বাধীনতা যুদ্ধ, যুদ্ধের সূর্যসন্তানরা আমার গর্ব। আমার মা বোনের ইজ্জত যারা নিসে তাদের আমি মনে প্রাণে ঘৃণা করি।বঙ্গবন্ধুকে আমি শ্রদ্ধা করি, ১৯৪৮ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত তার অসামান্য নেতৃত্বের জন্য। জিয়াকেও আমি শ্রদ্ধা করি এক দুঃসময়ে দেশের হাল শক্ত হাতে ধরার জন্য। কিন্তু তার মানে এই না ৪০ বছর আগের দুঃসপ্ন দেখায়া, বারবার মৃত সম্মানিত নেতাদের গল্প শুনায়া আমার ভোট আপনি নিয়া যাবেন। ওইসব গল্পের দিন শেষ। ব্যাকগ্রাউন্ড কাহিনী বাদ দেন।

এই লেখাটার পূর্ববর্তী ভার্সনে এই কথাগুলী দুই নেত্রীর উদ্দেশ্যে বলসিলাম। কিন্তু বিগত কয়েকদিনে সরকারী দলের বাকশালী কর্মকান্ড দেখে বুঝলাম, তাদের এইসব কথা বলে লাভ নাই। তারা চেতনা ব্যাবসা করেই দিন কাটাবে ঠিক করসে। এই আফিমের ঘোরে তারা দেশের কোটি কোটি লোককে আচ্ছন্ন করে রাখসে। এই চেতনা দিয়ে দেশের কোন উন্নতি হবেনা যেনেও তারা না জানার ভান করে আছে, কারণ ব্যাবসাটা তাদের জন্য বেশ লাভজনক। দেশের সম্পদ লুঠ, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী আর দেশের কাংখিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে দলীয় লোকদের দুর্নীতি প্রকাশ হওয়ার পর তাদের কাছে ক্ষমতায় টিকে থাকার একটা রাস্তাই খোলা আছে বলে মনে হয়- সেটা হলো চেতনা ব্যাবসা। ঘুমের অভিনয় করা লোককে তো আর ঘুম থেকে তুলা যায়না। তাই সে চেষ্টা ক্ষান্ত দিলাম। তাই এই ভার্সনে শুধু বি এন পি নেত্রীর প্রতি আহবান রইলো।

আপনি ইতিমদ্ধে দুইবার প্রধাণ মন্ত্রী হইসেন। দেশের মানুষ আপনাকে অনেক সম্মান দিসে। বয়স ও তো কম হইলো না! এইবার ই হয়তো শেষ সুযোগ দেশকে একটু এগিয়ে নেয়ার।শেষ সুযোগ দেশের জন্য সত্যিই কিছু করার। নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে সঠিক পথে চলার অংগীকার করার জন্য প্রচন্ড আন্তরিকতা ও সতসাহস প্রয়োজন। এটার রাজনৈতিক ঝুকিও আছে। কিন্তু কখনো কখনো ঝুকি নিলে তা বৃথা যায়না। আর আমার ব্যক্তিগতভাবে  মনে হয়  আপনার মধ্যে সেই প্রচন্ড সাহসটাও আছে। দেশের স্বার্থে একবার একটা বোল্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে দেখেন না!

আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবেনা সেই আশঙ্কা প্রবল। কিন্তু কমন্সেন্স বলে, বিএনপি যদি নিজেদের ভুলের জন্য জনসমর্থন না হারায়, তাহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবেনা কিংবা  নির্বাচন করে বেশীদিন ক্ষমতায় তারা থাকতে পারবেনা। সুতরাং বিএনপি কে এখন সঠিক পথে চলতে হবে, যাতে গণমানুষ তাদের উপর থেকে আস্থা না হারায়। রাজপথে যথেষ্ট সমর্থন অর্জন না করে জনদুর্ভোগ দীর্ঘায়িত করলে জনগণের আস্থা হারানোর সম্ভাবনা প্রবল। তাই এখনই সময় কিভাবে জনগণকে আপনাদের দাবীর সাথে সম্পৃক্ত করা যায় তা ভাবার। আমার মতে তা করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একটা সঠিক নির্বাচনী এজেন্ডা প্রকাশ করা যা জনগনের চাহিদাকে পূরণ করতে পারবে। এগুলো যাতে জনগণের কাছে  ফাকা বুলি মনে না হয়, সেজন্য প্রয়োজনে খসড়া আইন (দূর্নীতি দমন, টেন্ডার, আইন বিভাগ ইত্যাদি নিয়ে) প্রনয়ন ও প্রকাশ করতে হবে, যা আপনারা ক্ষমতায় গেলে কার্যকর করবেন। জনগন যদি আপনাদের কথা ও কাজে আন্তরিকতার ছোয়া পায় তাহলে, গণজোয়ার কেউ ঠেকাতে পারবেনা।

এই কথা নিশ্চিত যে দেশের জনগণের সমর্থন যদি পেতে চান, তাহলে তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন আপনাদের নির্বাচনি এজেন্ডায় পড়তে হবে। অন্য দল খারাপ এইজন্য ভোট দেন, এই হিসাবে হয়ত নির্বাচনে জেতা যায় কিন্তু এই আশায় থাকলে এইবার আর নির্বাচনে যাওয়া লাগবেনা। আপনাদের ছাড়াই ডিজিটাল নির্বাচনে ৮০% ভোট পড়ে যাবে। পুলিশ, আর্মী কেউই এর বিরোধিতা করবেনা। বরং আপনারা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে বিপদে পড়বেন। আর্মি মাঠে থাকলে নির্বাচন বানচাল করা কঠিনই হবে। তাই বলছি জনগনকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেন, যাতে এই নির্বাচন না হয় কিংবা জনগণ দৃশ্যমানভাবে নির্বাচন বর্জন করে। জনগণ আপনাদের কাছ থেকে কি চায় তা আপনারা ভালই জানেন। তবু এই অভাজন আপনাদের একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাইঃ

  • কথা দিতে হবে প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ আর দুর্নীতির রাজনীতি বন্ধ করবেন।
  • দল মত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের কাজে একত্রিভূত করবেন। মেধার মূল্যায়ন করবেন, দলীয় পরিচয়ের না।
  • দূর্নীতি দমনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের সম্পদের লুন্ঠন বন্ধ করবেন। দুর্নীতিবাজদের দমনে কঠিন আইন করবেন।
  • বিরোধী মতকে শক্তি দিয়ে দমন করবেন না। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন।
  • পুলিশকে পুলিশের কাজ করতে দিবেন, যাতে জনগন নিরাপদে থাকে। দলীয় কাজে ব্যাবহার করবেন না।
  • বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করবেন না। তাদের জনগনের সেবা করতে বাধ্য করবেন।
  • দলীয় টেন্ডারবাজী বন্ধ করে সচ্ছতা নিশ্চিত করবেন। উন্নত দেশের আদলে সচ্ছভাবে সরকারী টাকা খরচের হিসাব অনলাইনে দিবেন।
  • ছাত্র রাজনীতি সীমিত করে প্রকৃত ছাত্রদের নেতা বানাবেন। মেধার বিকাশ ও মূল্যায়নে সাহায্য করবেন। চাদাবাজদের দল থেকে বিতারিত করবেন।
  • আমদানি, রপ্তানী বানিজ্য, গার্মেন্টস, শেয়ারবাজার রাহুমুক্ত করবেন।
  • মানবসম্পদ রপ্তানী করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো, কূটনীতি, সাপোর্ট এর ব্যাবস্থা করবেন।
  • সংসদে বিরোধী দলকে হেয় করবেন না। সংবিধানে সংশোধনী এনে সকল এমপিদের দেশের স্বার্থে প্রয়জনে দলের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার সুযোগ দিবেন।
  • যোগ্য, তরুণ মেধাবীদের মন্ত্রী করবেন।দেশের সেরা মেধাগুলোকে একসাথে করে সরকারের সাথে নিয়ে দেশসেবায় নিয়োজিত করবেন।

নেত্রী আমার আশংকা হচ্ছে আপনার আশেপাশের ঝুনা নেতারা আপনাকে এই পথে আসতে বাধা দিবে। তারা যুক্তি দিবে, দুর্নীতি বন্ধ করলে আর দেশের স্বার্থ দেখলে কি এর সুবিধাভোগি ব্যাবসায়ী, আমলা, পার্শবর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, তাদের সাথে যুক্ত রাজনৈতিক দল, এরা আমাদের সরকারকে টিকতে দিবে? বছর না ঘুরতে ১/১১ সরকারের মতো বিপদে পড়বো আমরা! কিন্তু আসলে ১/১১ সরকার আর নির্বাচিত সরকার এক না।। আপনারা যদি দেশের সত্যিকার উন্নতির জন্য চেষ্টা করেন দেশের দেশপ্রেমী মানুষ, পুলিশ, আর্মী সবাই আপনার জন্য বুক পেতে দাড়ায়ে যাবে। হয়ত কিছুদিন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য জন্য জনগনের কষ্ট হবে, কিন্তু আপনারা আন্তরিক হলে জনগণ সব বুঝতে পারবে। আর বাংগালী একবার যদি জাগ্রত হয়, কারো সাধ্য নাই, তাদের দমিয়ে রাখে।

একবার সরকার গঠণ করলে পাচবছরের মধ্যে কারো ক্ষমতা নাই সরকারকে হটায়! কিন্তু পাচ বছরের মধ্যে দেশটা একটা ফ্লায়িং ষ্টার্ট পেতে পারে। সাথে আপনারাও হয়ত সক্ষম হবেন পাচ বছর পরেও জনপ্রিয়তা ধরে রাখার সুযোগ। আপানাদের আবার পাচ বছর পরে পাতানো নির্বাচনের চেষ্টা করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার প্রয়োজন হবে না। শুধু আপনাদের একটু সৎসাহস আর সদিচ্ছার মুখাপেক্ষি আমরা। দিবেন নাকি প্রকাশ্য জনসভায় বা মিডিয়াতে একটা যুগান্তকারী ঘোষনা??? দিবেন নাকি আমাদের একটা বিশ্বাসযোগ্য আর আন্তরিক আশ্বাস, সাদা-কালো রেফারেন্স সহ?  আমরা জনগনরা যেনো ভবিষ্যতে সেই রেফারেন্স দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি? আমার আন্তরিক বিশ্বাস এই দেশের জনগণের একটা বিশাল অংশ দেশের প্রকৃত উন্নতির জন্য প্রয়োজনে  ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।। তাদের অপেক্ষা শুধু একটা সৎ, দেশপ্রেমী আর যোগ্য নেতৃত্বের। পথ চেয়ে আছে বাংলাদেশ!

Is this the only way the people can have their say?

Intro: EC has announced election schedule without any compromise between the two parties.  particularly, opposition BNP is concerned with the partisan set up.  polls suggest that 80-90% agree with BNP’s demand.  within 24 hours of EC’s announcement, there has been protests around the country.  the govt is trying to maintain an appearance of stability in Dhaka, and mainstream media is either complicit or cowed into not reporting the truth.  this post highlights a few incidences of nationwide protest.
There cannot be no condoning of the violence and deaths taking place everyday. But one must also understand the context. We are essentially going through a hot and cold war where the two warring parties are trying to deny each other victory. Even the suave and civilized foreign interlocutors have essentially gave up trying to mediate and said the people of Bangladesh will decide their future. Is this the only way we can decide our future?
5 die on 2nd day of 48-hour blockade
Deadly clash in Rajshahi, 50 including city mayor injured

——

In Mymensingh, 120 km north of Dhaka, there were explosions in front of the residence of Mrs Rowshan Ershad — wife of former president HM Ershad, a minister in the AL-led coalition government.

Roads were blockaded and cars burnt in the port city of Chittagong.

The highway was blockaded in Dinajpur, 360km north of Dhaka.

Explosions rocked the Chief Election Commissioner’s Dhaka residence.

Explosions and fires around the capital, including the Dhaka University. Shots were fired at a rally of the ruling Awami League. A local office of Jatiya Party, junior partner in the governing coalition, was burnt.

Over 50 were injured in sustained clashes in Rajshahi, the largest northern city.

Around 25 shot by police around the country.

Police kills one in Comilla, 60km east of Dhaka.

Police under attack in Bogra, 200km north of Dhaka.

Cars burnt in Habiganj, 170km north east of Dhaka.

Cars burnt in Laxmipur-Dhaka highway southeast of the capital.

Cars burnt in Khulna, the largest southern city.

জাফর স্যারের পদত্যাগ ও আমার বাজিতে হেরে যাওয়া

26

শাফকাত রাব্বী অনীকঃ   চেতনার ফেরিওয়ালা ও শাহাবাগী উন্মাদনার অভিবাবক ড: জাফর ইকবাল স্যার পদত্যাগ করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। যদিও এখনো নিশ্চিত না উনি আসলেই পদত্যাগ করেছেন, নাকি শুধু “পদত্যাগের অভিপ্রায়” জানিয়েছেন।মনে রাখা প্রয়োজন, স্যার যদি শুধুমাত্র “পদত্যাগের অভিপ্রায়” জানিয়ে থাকেন, তাহলে উনার মুরুব্বিদের আওয়ামী মন্ত্রিসভার মতো উনিও নিশ্চিন্তে আজীবন পদত্যাগী প্রফেসর হিসেবে তার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। বাড়তি সুবিধা হিসেবে খামাখা আর ক্যাম্পাসে যেতে হবে না।

চেতনার ফেরীওয়ালার জাফর স্যারের আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে একটা ইংরেজি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। মেজাজ খুব বেশি খারাপ থাকায় ড: জাফর স্যারকে “ফাপর দালাল” ডেকে বসেছিলাম। এটা নিয়ে কিছু শাহাবাগী ভদ্রলোক খুব মাইন্ড করেছিলেন। আমার সভাবসুলভ লেখায় ব্যক্তিগত গালি গালাজ সাধারনত থাকে না। একারণে জাফর স্যারকে “ফাপর দালাল” ডাকার কাজটি করে নিজেরও ভালো লাগছিলো না। একারণে শাহাবাগী মানুষ ও নরমাল মানুষ – সবার কাছেই নি:শর্ত মাফ চেয়ে নিচ্ছি।

প্রায় বছর খানেক আগে জাফর স্যারের রিসার্চের দৌড় কতদূর তা নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তখন খুব অবাক হয়ে বুঝতে পেরেছিলাম জাফর স্যার আন্তর্জাতিক তো দুরের কথা, দেশীয় কোন জার্নালেও তেমন উল্লেখ করার মতো কোন রিসার্চ পাবলিকেশন করেননি ১৯৯২-২০১২ সালের মধ্যে। স্যারের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় পেইজ থেকে স্যারের গবেষনার যে তালিকা আছে তাতে দেখা যায় তিনি ১৯৯২-২০১২ এই ২০ বছরে সিলেট থেকে প্রকাশিত একটা জার্নালের বাইরে আর কোথাও কিছু পাবলিশ করেননি। ৯২ এর পরে স্যারের গবেষনার কাজ সংখ্যায় খুবই অপ্রতুল। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত যে জার্নালে স্যারের কিছু লেখা এসেছে, সেই জার্নালের এডিটর আবার জাফর স্যার নিজেই।তবে নিজের এডিট করা জার্নালেও স্যার বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা ছাপিয়েছেন সাকুল্যে ৪-৫টি, তাও দীর্ঘ ২০ বছরে। স্যারের নিজের পেইজ থেকে রিসার্চের তালিকা দেয়া হলো।

http://www.sust.edu/department/eee/index.php/en/faculty/88-dr-muhammed-zafar-iqbal

বলা বাহুল্য, স্যারের ১৯৯২ সালের আগে বেশ কিছু বিজ্ঞান বিষয়ক একাডেমিক লেখা রয়েছে।তবে নব্বই এর দশকের শুরুর দিকে জাফর স্যার আমেরিকায় বিজ্ঞান গবেষনার ঝামেলাপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত চলে আসেন। তখন থেকে তিনি সাদা মানুষ তৈরির কারখানা, ভারতের বন্ধু-সভা, এবং চেতনা ব্যবসায় ফুলটাইম মনোনিবেশ করেন।

যে কেউ http://www.jstor.org , http://www.pubmed.com এবং http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/ — ইত্যাদি রিসার্চ ডাটাবেজ ঘেটে স্যারের কোন সাম্প্রতিক পাবলিকেশন খুঁজে পাবেন না। উপরোক্ত সাইটগুলি কি জিনিস যারা জানেন না, তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, এই ডাটাবেজে যদি আপনার পাবলিকেশন খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে মোটামোটি ভাবে নিশ্চিত হতে পারেন আপনার রিসার্চ আন্তর্জাতিক ভাবে সীকৃত হবার সম্ভাবনা খুবই কম। স্যারের উইকিপিডিয়া পেইজ http://en.wikipedia.org/wiki/Muhammed_Zafar_Iqbal এও উল্লেখযোগ্য কোন সাম্প্রতিক রিসার্চের খবর নেই।

এক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হবে, কয়েক বছর আগে একটি সংস্থা বাংলাদেশে বিজ্ঞান বিষয়ে একাডেমিক অবদান রাখার জন্যে ড: জাফর স্যারকে পুরস্কার দিতে চেয়েছিল। পুরস্কারের ক্যান্ডিডেট যাচাই বাছাই করার সময় সংস্থাটি জানতে চেয়েছিল জাফর স্যারের বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল পাবলিকেশন কতোদূর কি আছে। সেই কমিটিতে ছিলেন এমন একজন আমাকে জানিয়েছেন যে, স্যারের বিজ্ঞান বিষয়ক লেখার উদাহরণ হিসেবে কে-বা কাহারা নাকি একগাদা শিশুতোষ বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনীর তালিকা পাঠিয়েছিল। বলাই বাহুল্য বিজ্ঞান বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের পাবলিকেশন পাওয়া না যাওয়ায় জাফর স্যারকে একাডেমিক পুরুস্কার দেবার ব্যাপারে সে সংস্থা তখন আর এগুতে পারেনি।

আমার গতকালকের স্ট্যাটাসের কমেন্টস সেকশনে একজন ছোট ভাইকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম যে সে যদি গত ২০ বছরে জাফর স্যারের একটি পাবলিকেশন বেড় করতে পারে যা কোন একটা আন্তর্জাতিক জার্নালে বের হয়েছে, তাহলে আমি আমার স্টাটাসটি তুলে নেব। কেননা স্টেটাসে আমি অভিযোগ করেছিলাম যে শিক্ষকতা কিংবা গবেষণা করা এই জাফর স্যারের মেইন বিজনেস না। খুব ইন্টারেষ্টিং ভাবে গতকাল জাফর স্যারের একজন ভক্ত স্যারের প্রকাশিত একটা লেখা খুঁজে বের করেছেন যা “সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং” এ পাবলিশ করা হয়েছে ২০১২ সালের মে মাসে । আমার চ্যালেঞ্জ-এ আমি জার্নালের কোয়ালিটি নিয়ে কোন কন্ডিশন দেইনি। অর্থাৎ ভুয়া জার্নাল হলেও মেনে নিবো এমন আভাস দিয়েছিলাম। একারণে এই লেখাটি আবিষ্কার হয়ে যাওয়ায়, নির্দিধায় মেনে নিচ্ছি যে আমি টেকনিকালি হেরে গেছি আমার দেয়া বাজিতে। কেননা আমি বলেছিলাম যে ২০ বছরে মাত্র একটা লেখা পাওয়া গেলেই চলবে। ২০ বছরে স্যারের ঠিক একটা “আন্তর্জাতিক” লেখাই পাওয়া গেছে!

২০ বছর সাধনা করে জাফর স্যার যে একটি মাত্র “আন্তর্জাতিক” জার্নালে লিখেছেন তার ওয়েব সাইট ও এডিটর এর নাম-পরিচয় নিচে লিঙ্কে দেয়া হলো। জানা গেল যুক্তরাস্ট্রের “ওল্ড ডমিনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের” জনৈক আহমেদ কে নুর এই সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান জার্নালের এডিটর! আনা কয়ালাস্কা নামক জনৈকা ভদ্রমহিলা, যিনি পোল্যান্ডের “রকলাও ইউনিভার্সিটিতে” কাজ করেন, তিনি হচ্ছেন ম্যানেজিং এডিটর। জার্নালটির কোন “ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর” নেই, যা কিনা জার্নালের গুরুত্বের একক হিসেবে পরিচিত। সাইটেশন নেই বললেই চলে। যারা এটা প্রকাশ করেন, সেই কোম্পানির ওয়েব সাইটে গিয়ে জানা গেল শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং না, তাদের কোম্পানি জ্ঞান বিজ্ঞানের খুব কম ডিসিপ্লিন বাকি আছে যার উপর জার্নাল প্রকাশ করেন না। অনেকগুলোই “অনলাইন” জার্নাল, যার কোন প্রিন্ট কপি নাই।

জার্নাল কোম্পানিটির লিংক: http://versita.com/serial/ceje/#tabs-editorial

যাই হোক, জাফর স্যার চেতনা বাণিজ্য করার নানা ব্যস্ততার মাঝে , সুদীর্ঘ ২০ বছর পরে “সেন্ট্রাল ইউরোপের” একটি অনলাইন জার্নালে যেহুতু বিজ্ঞান বিষয়ে একটা পেপার লিখেছেন, একারণে বলতে হবে আমি আমার দেয়া বাজিতে টেকনিকালি হেরে গিয়েছি। একারণে বাজির শর্ত অনুসারে আমার আগের দেয়া স্টেটাসটি তুলে নিলাম।

মানী লোকের সম্মান হানি করে কথা বলা আমার স্টাইল না। জাফর স্যারকে কটু কথা বলে যাদের দু:খ দিয়েছি, তাদের কাছে আবার ক্ষমা চেয়ে নিলাম। তবে খুব মজা লেগেছে যখন দেখেছি দেশের যাবতীয় মানুষের নাম বিক্রিতকারী, ড: ইউনুসের অপমানকারী, কাদের সিদ্দিকিকে অপমানকারী–শাহাবাগির দল আমার হাতে তাদের প্রাণ প্রিয় জাফর স্যারের অপমান কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না।

ফ্যানাটিকদের একটা বড় বৈশিস্ট হলো তারা নিজেদের কখনো আয়্নায় দেখে না।

নভেম্বর ২৭, ২০১৩

Right Cause, Wrong Ambassador

1

The decision to suspend combined admission test and imposing local quota system for Shahjalal University of Science and technology ( SUST) is a bbackward step and extremely worrisome development. This kind of development will have a long lasting effect on our higher education system and is a very ominous sign. Sensible, reasonable and education people concerned about Bangladesh should raise their voice against such change.

20131126-200615.jpg

I should be very happy at Dr Zafar Iqbal’s stand on this issue. Here he is standing for cause that really matters and is of future significance. His celebrity status should have helped the cause. But I am more worried at him throwing his weight behind this cause. I fear, by his support, he will do more harm to the issue than help it.

Dr. Zafar Iqbal had great following among the young people in Bangladesh. He could have become the universal role model for young Bangladeshis. But by his narrow politicking, blind partisan writings and activities – rather than becoming the role model, he has become a subject of hatred to a big chunk of Bangladeshi youth. Dr Iqbal never wanted to become the role model to whole Bangladesh, rather he opted to become a celebrity for a very narrow group of urban youth. He is now a lighting rod, his names incites passion among everyone. But I am afraid he incites a passion of hatred in the majority and a passion of love in a much smaller proportion.

Now I am afraid that – although Dr Iqbal has finally stood up for the right cause, because Dr. Iqbal is in favor of the cause, many youth will support the other side with the wrong cause. Now they will opt for the idiotic ideas of quota and local admission test for SUST. This is human nature. By supporting this good cause, Dear professor Iqbal, you have just done an irreparable harm to the cause. I really wish, dear Professor Iqbal, instead of doing all the self promoting drama of resignation and public letter, you could have used the good terms you have with your leaders, The Prime Minister and Education Minister and convince them no to change the rule. That would have been more effective.

You supporting the cause, Dr Iqbal, is equivalent to Iran’s Ahmednadaze or Al Qaeda leader endorsing in US Presidential election. Thanks, but no thanks.