উম্মতে মোহাম্মদীর একাল সেকাল by Atahar Hossayen

প্রকৃত উম্মতে মোহাম্মদী এবং পরবর্তীদের অবস্থার মধ্যে কি বিরাট একটি তফাত এসে যায়। দুটি ঘটনার মাধ্যমে আমি সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। একটি খলিফা ওমরের (রাঃ) সময়ে অন্যটা একজন উমাইয়া খলিফার সময়ে। ওমরের (রাঃ) সময়ে মিশরের শাসনকর্তা হাইয়ান ইবনে শারিহ খলিফাকে লিখলেন- আমীরুল মোমেনীন! অমুসলিমরা স্বেচ্ছায় এত সংখ্যায় ইসলাম গ্রহণ করছে যে, জিজিয়া আদায় অনেক কমে গেছে। এখন কি করা? ওমর (রাঃ) রাগান্বিত হয়ে জবাব দিলেন- জিজিয়া আদায় কমে যাচ্ছে বোলে অভিযোগ কোরতে তোমার একজন মুসলিম হিসাবে লজ্জা করলো না? তোমার মনে রাখা উচিৎ যে, রসুলুল্লাহ (দঃ) কর আদায় করার জন্য প্রেরিত হননি (সয়ুতি, ইদ্রীস আহমদ এবং decisive moments in the History of Islam- Inan)। ঠিক এমনি অভিযোগ এসেছিল একজন গভর্নরের কাছ থেকে এক উমাইয়া খলিফার কাছে। অমুসলিমরা মুসলিম হয়ে যাচ্ছে, জিজিয়া দেয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বোলে রাজকোষে সম্পদ কমে গেছে। ঐ খলিফা আদেশ দিলেন অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণ বন্ধ করে দাও। একই অভিযোগের দু’টি বিপরীতমুখী উত্তর। অভিযোগ শুনে ওমর (রাঃ) খুশী হয়ে ছিলেন, যদি জিজিয়া আদায় একেবারে বন্ধ হয়ে যেতো তাহলে তিনি সবচেয়ে বেশী খুশী হোতেন, কারণ তার মানে ঐ অঞ্চলের সমস্ত অমুসলিম মুসলিম হয়ে গেছে, মুসলিম উম্মাহ উদ্দেশ্য পূরণে তাদের প্রিয় নবীর (দঃ) আরদ্ধ কাজে আরও একটু অগ্রসর হয়েছে। আর ঐ উমাইয়া খলিফার সম্মুখে তখন আর সে উদ্দেশ্য নেই। তার জাতিরও সে উদ্দেশ্য নেই। উদ্দেশ্য বদলে গিয়ে হয়ে গেছে রাজত্ব ও আনুসঙ্গিক শান-শওকত। কাজেই তখন আর ঐ জাতি উম্মতে মোহাম্মদী নেই। কারণ উম্মতে মোহাম্মদীর উদ্দেশ্য ও তার পরের ঐ জাতির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ইতিহাস দেখুন, পরিষ্কার দেখতে পাবেন যে, ঐ উদ্দেশ্যচ্যুতি বা পরিবর্তন ঘটেছে ভবিষ্যতদ্রষ্টা বিশ্বনবীর (দঃ) ৬০ থেকে ৭০ বছর পর। লক্ষ্য করলে আরও একটি ব্যাপার দেখতে পাবেন। সেটা হলো রসুলাল্লাহর (দঃ) কাছ থেকে যারা সরাসরি ইসলাম শিক্ষা করেছিলেন অর্থাৎ আসহাব তারা কখনই ঐ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। বিচ্যুতি এলো তারা সবাই পৃথিবী থেকে চলে যাবার পর। যেহেতু উদ্দেশ্যের পরিবর্তন বা চ্যুতি হলো কাজেই ঐ জাতি আর উম্মতে মোহাম্মদী রোইলনা এবং আজ পর্য্যন্তও উম্মতে মোহাম্মদী নয়। তবে একথা মনের রাখতে হবে যে, আমি জাতি হিসাবে উম্মতে মোহাম্মদী বলছি। ৬০/৭০ বছর পর থেকে এই উম্মাহ জাতি হিসাবে উম্মতে মোহাম্মদী রইলো না কিন্তু ব্যক্তি ও দলগতভাবে অনেক লোকই রইলেন যারা ইসলামের সর্বপ্রধান লক্ষ্য ও রসুলাল্লাহর (দঃ) সুন্নাহ ভুলে গেলেন না। সাধারণ মুজাহিদ ও কিছু কিছু সেনাপতির আকীদা ঠিকই ছিলো যারা উর্দ্ধতন নেতৃত্বের আকীদা বিকৃতি সত্ত্বেও নিজেদের আকীদা ঠিক রেখে জেহাদ চালিয়ে গেলেন, যার ফলে ঐ বিকৃত আকীদার খলিফাদের সময়েও ইসলাম আরো বিস্তৃত হয়েছ। সিন্ধু বিজয়, স্পেন বিজয় ইত্যাদি অনেক বিজয়ের ঘটনা অনেক পরেও ঘটেছে। কিন্তু তা আর জাতিগতভাবে নয়। সেটা ব্যাক্তি উদ্যোগে কিংবা বড় জোর কোন নিষ্ঠাবান গভর্নরের মাধ্যমে। জাতিগতভাবে বাদশাহী শুরু হওয়ার পর থেকেই জাতিগত জেহাদ বর্জন করা হয়েছিল।

সত্যের অনুসন্ধান by মুহাম্মদ আব্দুল খালিক

বর্তমানকালে কোন কোন দার্শনিক মত পোষণ করেন যে, Absolute truth বা প্রকৃত সত্য বলে কিছু নেই। এখন যা সত্য বলে অনুভূত হচ্ছে কালের বিবর্তনে তা আর সত্য নাও থাকতে পারে। এখন প্রশ্নমানুষ কি এতই সীমিত জ্ঞানের অধিকারী? সৃষ্টি লগ্ন থেকে মানুষ কি প্রতিনিয়ত অনিশ্চিতভাবে জীবনযাপন করছে? প্রাকৃতিক বিধিবিধান (Natural law) কি মানুষকে কোন নির্দেশনাই দেয় না? সভ্যতার বাহ্যিক চাকচিক্য, মানুষের উন্নতি সভ্যতার শীর্ষে আরোহণের সব লম্ফঝম্ফ কি সবই মেকি? মানুষের দ্বারা জ্ঞানের এত শাখাপ্রশাখার বিকাশ কি মানুষকে নিশ্চিত কোন জ্ঞান দিতে সক্ষম নয়?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান সময়ে মানুষ তার মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করছে এবং এর বেশি ব্যবহার করতে গেলে মানুষের মানসিক অবসাদ বাড়বে, বেড়ে যাবে মানসিক রোগাক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও। প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষ তার মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করার পরও কি কোন প্রকৃত সত্য খোঁজে পেল না? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজলে তাদের দেয়া Principle-এর দূর্বলতা পরিলক্ষিত হবে।

প্রকৃত সত্য অবশ্যই আছে। সৃষ্টি লগ্ন থেকে প্রাকৃতিক আইন (Natural law) একটাই আছে। আর তাই মানুষের পক্ষেও খোঁজে পাওয়া সম্ভব প্রকৃত সত্যের। তবে এজন্য প্রয়োজননিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ, সত্যানুসন্ধানের সদিচ্ছা, প্রত্যয়, আর সর্বোপরি ভোগবাদী মানসিকতা পরিহার।

একজন মানুষের চিন্তা বুদ্ধির পরিপক্বতা আসার পর প্রথম এবং তার জীবনের সবচাইতে বড় যে দায়িত্ব তার কাঁধে চাপে তা হলোসত্যের অনুসন্ধান। বিশ্বজগ কিভাবে সৃষ্টি হলো? কে এটা সৃষ্টি করেছে? নাকি আদৌ কেউ করেনি? মানুষের জীবন চলার পাথেয় কী হওয়া উচিত? কোন আদর্শ অনুসারে মানুষের জীবন পরিচালিত হবে? মানুষ কি নিছক প্রাণসর্বস্ব জীব? নাকি নৈতিক মানসম্পন্ন উন্নত জীব? মানুষের বাহিরের সত্ত্বার গুরুত্ব বেশি নাকি ভেতরের সত্ত্বার? পৃথিবীতে মানুষ কি “survival for the fittest” নীতিতে চলবে? নাকি পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব সাম্যের নীতি অনুসরণ করবে? মানুষ কি পশুদের মত অবাধে যৌনাচার করবে? নাকি নৈতিক সীমাবদ্ধতার নীতি মেনে চলবে? মানুষ কি শুধু নিজের স্বার্থ উদ্ধারেই ব্রত থেকে বৈধঅবৈধ পথে টাকাপয়সা সম্পদ উপার্জন করবে? নাকি সুষম বন্টনের নীতি অনুসরণ করবে? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা খোঁজে পাওয়া প্রত্যেক মানুষের জন্য আবশ্যক।

দু:খের বিষয় হলোবিশ্বের বেশির ভাগ মানুষই এসব সম্পর্কে নিস্পৃহ। তারা গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। সারা বিশ্বে হাতে গোনা কিছু মানুষের ইচ্ছা, চিন্তা মতবাদের কাছে তারা নিজেদের সত্ত্বাকে সপেঁ দিয়েছে। নেতাদের বক্তৃতা আলোচনা, অন্যের লেখনী এবং মিডিয়ার প্রচারণার মাধ্যমে তারা উদ্বুদ্ধ হয়ে জীবন চালনা করে থাকে।

বেশির ভাগ মানুষই প্রকৃত সদিচ্ছা নিয়ে জীবন চালনার মূলমন্ত্র খোঁজার জন্য সত্যানুসন্ধানী হওয়ার তাগিদ অনুভব করে না। নিজেদের ঘৃণ্য স্বার্থ চিন্তায় তারা এতই মত্ত থাকে যে, হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ে। নিজেদের স্বার্থদ্ধোরে অন্যের অনিষ্ট সাধন করতেও পিছপা হয় না।

সত্যানুসন্ধানে এই অবহেলা নিস্পৃহতা মানুষের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসেনি। মানুষ নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ পরাধীনতার বন্ধনে, দাসত্বের নিগড়ে। মানুষের অসচেতনতার সুযোগে রাষ্ট্রযন্ত্র আজ এমন এক ভয়ানক অক্টোপাসে পরিণত হয়েছে, যা গুটিকয়েক অস স্বেচ্ছাচারী সম্পদশালী এবং ভ্রান্ত লোকদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানকালে রাষ্ট্র এমন এক দানবীয় শক্তি যা মানুষের কন্ঠ রোধ করে থাকে নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়ে। কিন্তু সকল মানুষ যদি সত্য অন্বেষণে নিজেকে নিয়োজিত রাখত তাহলে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহৃত হতে পারত মানুষের প্রকৃত মঙ্গলের কাজে, কল্যাণ রাষ্ট্র (Welfare state) হিসেবে।

আমাদের জীবনকে সত্যিকারার্থে সুন্দর সফল করতে; আমাদের সমাজকে শান্তি, প্রগতি, আর ভ্রাতৃত্ব ভালোবাসার বন্ধনে আরো সুদৃঢ় করতে; মানবতার কাঙ্খিত বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে সত্যের সত্যিকার অনুসন্ধানই হোক সকলের ব্রতী।

 

লেখক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলএম অধ্যয়নরত

কোন দিকে যাচ্ছে প্রজন্ম?

by Maruf Raihan Khan :

আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু একটা মেয়েকে পছন্দ করতো।
সে সাহস নিয়ে খুব আশা করে তার
বাবাকে বলতে গিয়েছিল, বাবা আমি বিয়ে করে ফেলব। সব
শুনে-টুনে আঙ্কেল এত ক্ষ্রিপ্ত হয়েছিলেন যে, তার যুবক
ছেলেকে মারধোর পর্যন্ত করেছিলেন। আমার বন্ধুর
মতো মানুষ খুব কম হয়। সে নিয়মিত নফল
রোজা রেখে ধৈর্যধারণ করে আর নিজের চরিত্র সংরক্ষণ
করতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়।

একটা ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে বিয়ে করতে চাইলে সবচে
প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়- “তুই
বিয়ে করে বউকে কী খাওয়াবি? তোকে ভরণ-পোষণ করেছি,
এখন তোর বউকেও আমি খাওয়াব?” স্যার শুনুন, আপনার
ছেলে গার্লফ্রেণ্ডের সাথে শুধু ফোনে কথা বলতে কত
টাকা খরচ করে তার হিসেব কি আপনি রাখেন?
প্রতি ডেটিঙে তার রেস্টুরেন্ট বিল কত হাজার অনুমান
করতে পারেন? ফ্যান্টাসি কিংডমে যেয়ে ওয়াটার
কিংডমের ফ্যান্টাসিতে ডুবে জলকেলি করতে একেবারে কম
খরচ
না কিন্তু। সেসব টাকাও কিন্তু আপনার মানিব্যাগ
থেকেই বিভিন্ন ছলে-বলে-কৌশলে যায়।
বাংলাদেশি একটা সাধারণ মেয়ের ভরণ-পোষণের খরচ
আর
কতইবা। নিশ্চয়ই আপনার ছেলের চরিত্রের দামের
চেয়ে বেশি না। এমনও তো হতে পারে, ছেলে-মেয়ের
মাঝে বিয়ে হয়ে থাকলো। মেয়ে মেয়ের বাসায়ই থাকবে।
ছেলে পাশ করার পর মেয়েকে তুলে আনবে। এরমাঝে তাদের
‘হালাল প্রেম’ চলতে থাকলো!

এইতো কিছুক্ষণ আগে আমার এক বন্ধু বলছিল,
“জানো আমি পর্ণোগ্রাফির নেশাটা এখনও
ছাড়তে পারিনি। অনেক চেষ্টা করেও। কিন্তু
আমি জানি বিয়ের পর আমার এ নেশাটা আর
থাকবে না।”

আমি আমার অনেক বন্ধুকে জানি, যারা পর্ণগ্রাফির
নেশায় প্রবলভাবে আসক্ত। এগুলো তাদের জীবনের অংশ
হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। সাইকোলজিটা সহজ। একটা প্রচণ্ড
ক্ষুধার্ত মানুষকে যদি দিনের পর দিন না খাইয়ে রাখা হয়,
তাহলে ক্ষুধার যন্ত্রণা আর সহ্য না করতে পেরে একসময়
তার চুরি করে খাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অস্বীকার
করার উপায়
নেই, যৌবনে পদার্পণ করার পর একটা মানুষ
শূন্যতা অনুভব
করতে থাকে, বিপরীত লিঙ্গের
আরেকটা মানুষকে সে নিবিড়ভাবে পেতে চায়। মন আর দেহ
দুটোই। এজন্যই বোধহয় বিয়ে প্রথার প্রচলন।

এক্সট্রিম পর্যায়ে চলে গেলে চলন্ত বাসে-ট্রেনে-ট্য
াক্সিতে, বোটানিক্যাল গার্ডেন-বলধা গার্ডেন-
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঝোপের আড়ালে,
লিটনের ফ্ল্যাটে, নগরীর হোটেল-বার-লাউঞ্জে, পাঁচ-
সাততারা আবাসিক
হোটেলে মানবতা রেইপড হয়। মানবতার আর্ত-চিতকার
আমাদের আল্ট্রামডার্ণ- ব্রডমাইণ্ডেড-ফ্যাশন সচেতন
কর্ণকুহরে পৌঁছুতে পারে না।

আর যখনই আমরা এই সহজাত-স্বাভাবিক
প্রক্রিয়াতে বাঁধা সৃষ্টি করি, তখনই ঘটে বিপত্তিটা। কিছু
তরুণ হয়তো প্রচণ্ড ধৈর্যশক্তির পরিচয়
দিয়ে বহুকষ্টে চরিত্রটা সুরক্ষিত রাখে। আর
অপরদিকে অজস্র তরুণ গা ভাসিয়ে দেয় বহমান স্রোতে,
গড্ডালিকা প্রবাহে। শুরু হয় নারীদেহের ভাঁজে-
খাঁজে তাকানো, বাসে অচেনা নারীর দেহে অবৈধ স্পর্শ,
রাতের গভীরে পর্ণগ্রাফিতে শান্তি খোঁজা আরও কত
কী।

সোসাইটির ভাব-সাব দেখে মনে হয়,
বেশি বয়সে বিয়ে করা মোটামুটি একটা আভিজাত্যের প্রতীক।
এটা অস্বীকার করব না, এখন আমাদের লাইফ-স্ট্যান্ডার্ড ঠিক
করে দেয় ওয়েস্টার্নরা। তাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণের মাঝেই
যেন কামিয়াবি! সেটা ভালো কি মন্দ তা বোঝার জন্য
মেধা খাটানোর সময় কই। এখন পশ্চিমাদের
দেখাদেখি যদি আমরাও যদি মধ্যত্রিশে-চল্ল
িশে গিয়ে বিয়ে করা শুরু করি তাহলে তো বিপদ!

আগে একটা ফ্যাক্ট বলে নিই। আমার ইউরোপে পড়ুয়া বন্ধু
বলছিল, তাদের হোস্টেলটা কম্বাইণ্ড, অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে একই
হোস্টেলে থাকে। যদিও ফ্লোর ভিন্ন। তো গভীর
নিশিতে কোনো মেয়েকে কোনো ছেলের রুমে আপত্তিকর
অবস্থায় পাওয়া যাওয়া বিস্ময়কর কিছু না। এছাড়া পশ্চিমাদের
সোসাইটিতে আছে লিভ-টুগেদার, গার্লফ্রেণ্ড-বয়ফ্রেণ্ড
কালচারে অবাধ যৌনাচার। কার গর্ভে যে কার সন্তান অনেকেই
তো বলতে পারে না। তো আমি বলি, তাদের বিয়ে করার
দরকারটা কী! কেন শুধু শুধু ঝামেলা করতে যাবে! যে যাই বলুক,
আমি বিশ্বাস করি, আমার দেশ এখনও অতটা নষ্ট হয়নি।
তবে প্রজন্ম যদি পশ্চিমাদের অনুসরণে ও সংস্কৃতির
দিকে এগুতে থাকে, তাহলে দায়ভার কে নেবে?
ভেবে দেখা যেতে পারে এখনই।

ভিন্ন কথায় আসি। আমাদের আগের জেনারেশানগুলোতে
বিয়ে কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম বয়সেই হোতো। তাদের প্রেম-
ভালোবাসা-আবেগ-অনুভূতি-রোমান্স-মায়া-মহব্বত-অনুরোধ-
অনুযোগ-অভিমান সব স্বামী-স্ত্রীকে ঘিরেই আবর্তিত হোতো।
ছিল না তাদের সময় সামাজিক এত বেহায়াপনা, প্রযুক্তির
অপব্যবহার কমই ছিল। এজন্যই হয়তো তারা আজকের তরুণের
মাইণ্ডটা ঠিকভাবে রিড করতে পারছেন না।

এই সমাজে যে তরুণটি পালিত হচ্ছে, সে দেখছে নির্বোধ যুবতীর
সেমিনগ্ন-কোয়ার্টারনগ্ন বিচরণ। মেয়েটি দেখছে অসভ্য-
বেহায়া-বর্বর পুরুষের লোভী চাহনী। ওরা দেখছে ফ্রি মিক্সিংয়ের
নামে বন্ধু-বান্ধবীদের একজন আরেকজনের গায়ে ঢলে পড়া।
টিভি চ্যানেলে চামড়া-ব্যবসা, রূপের পসরা সাজিয়ে বাণিজ্য।
সঙ্গীতে অশ্লীল শীতকার। সিনেমাতে ব্লুফিল্মের আবেশ।
কাব্য-গল্প-উপন্যাসের নামে চটি-সাহিত্য। সহজলভ্য
ইন্টারনেটে সহজলভ্য মহিলার বিষাক্ত গোপন সৌন্দর্য।
গার্লফ্রেণ্ড
নিয়ে সীসা লাউঞ্জে সীসা টানতে টানতে সেলফোন-
ট্যাবে পর্ণগ্রাফি দেখতে দেখতে ভাদ্র মাসের পাগলাটে কুকুর-
কুকুরীর মতো আচরণ। থার্টিফার্স্ট আর ভ্যালেন্টাইনস
ডেতে ফার্মেসিগুলোতে কনডম আর পোস্ট কয়টাল পিল বিক্রির
হিড়িক। বন্ধুদের আড্ডায় পিনিক নিতে এফ্রোডিসিয়াক
ইয়াবা আর গাঁজার ধোঁয়া। এ ধোঁয়া সমগ্র বাংলাদেশ অবক্ষয়ের
অনলে পুড়ে যাবার ধোঁয়া নয় তো?

এই সময়ে এই সমাজে একটা যুবক-যুবতীকে তার চরিত্র সুরক্ষিত
রাখতে কতটা কষ্ট-যন্ত্রণা-অপমান-অভিযোগ-পরীক্ষা-
ঠাট্টা-বিদ্রুপ আর ধৈর্যধারণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা কেবল
ভুক্তভোগীই জানে। আর কেউ বোঝে না। বোঝার চেষ্টাও
হয়তো করে না।
এক্সট্রিম পর্যায়ে চলে গেলে চলন্ত বাসে-ট্রেনে-ট্য
াক্সিতে, বোটানিক্যাল গার্ডেন-বলধা গার্ডেন-
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঝোপের আড়ালে,
লিটনের ফ্ল্যাটে, নগরীর হোটেল-বার-লাউঞ্জে, পাঁচ-
সাততারা আবাসিক
হোটেলে মানবতা রেইপড হয়। মানবতার আর্ত-চিতকার
আমাদের আল্ট্রামডার্ণ- ব্রডমাইণ্ডেড-ফ্যাশন সচেতন
কর্ণকুহরে পৌঁছুতে পারে না।

শাহবাগ আন্দোলনঃ আমার ভাবনা

by Sadat Shibli

ইদানিং প্রায়ই আমাকে পুলিশ আটকায়। আমার আবার থুতনিতে যে অল্প কয়টা হয় সে কয়টা দাড়ি আছে। শখে রাখসি। কাধে একটা ব্যাগ নিয়ে রিক্সায় করে অফিসে আসা-যাওয়া করি। পথে প্রায়ই পুলিশ থামায়। গম্ভির মুখে ব্যাগ চেক করে, ফায়দা মত কিছু না পেয়ে বলে “আচ্ছা যান, দিন-কাল খারাপতো তাই”/ চেহারায় সন্ত্রাসিভাব আছে কিনা বুঝতেসি না। অফিস কলিগদের জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনারা এই রকম পুলিশি চেকিং এ পড়সেন কিনা?” কেউই হ্যা বলল না। বললাম আমার চেহারায় কি সন্ত্রাসিভাব আছে? কেউ বলল – না, কেউ মুচকি হাসে। বুঝলাম চেহারাটাই মারসে। কালো হইলে যা হয় আরকি। ফরসাকারি ক্রিমওয়ালারা ফর্সা করার লোভ দেখাইয়া পকেট কাটে আর পুলিশ সন্ত্রাসী ভাইবা রাস্তায় ধরে। কি আর করা।

কিন্তু হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসলো আগে তো পুলিশ এই সন্ত্রাসী চেহারা থাকা সত্ত্বেও কোথাও আটকায় নাই। তাইলে এখন কেন? বুঝলাম শাহবাগ আন্দোলনের ভুমিকা এইটা। যে দাড়ি, পাঞ্জাবি, টুপি ইসলাম এর ব্র্যান্ড ছিল তাকে জামাতিরা নিজেদের ব্র্যান্ড বানানোর মাধ্যমে ইসলামেরই বিরাট ক্ষতি করেছে। শাহবাগ এর তরুণ প্রজন্ম যদিও বলতেসে যে তাদের এ আন্দোলন ধর্মের বিরুদ্ধে না কিন্তু বিভিন্ন কার্টুন, কেরিকেচার ও লেখায় তারা কিন্তু এই পোশাককেই টারগেট করছেন, যার প্রভাব পরোক্ষভাবে হলেও ইসলামের উপর পড়ছে। একই সাথে তাঁরা এমন কিছু লোক নিয়ে আন্দোলন করছে যারা নিজেদেরকে নাস্তিক বলে প্রচার করলেও আসলে তারা ধর্মের বিরুদ্ধে উস্কানিমুলক ও আপত্তিকর লিখার মাধ্যমে মুলত ধর্মের চরম অবমাননাই করেছে। এটার ফলফল কি হচ্ছে আমরা কেউ ভেবে দেখছি না।  এখন অনেকেই দাড়ি, পাঞ্জাবি ও টুপিওয়ালা কাউকে দেখলেই বিরুপ মন্তব্য করে অথবা সরাসরি জামাত বা রাজাকারের তকমা দিয়ে দেয়।  আমার নিজের দেখা ঘটনা যেখানে দুজন বাচ্চা মাদ্রাসার ছাত্র টুপি ও পাঞ্জাবি পরে হেটে যাওয়ার সময় অন্য কিছু স্কুলের ছেলেরা তাদেরকে শুনিয়েই বলতেসিল “দেখ দেখ, রাজাকারের বাচ্চারা যায়”/  বাচ্চা দুটি মাথা নিচু করে হেঁটে চলে যায়। আমার কথা হল এই বাচ্চা দুটির দোষ কোথায়? তাদেরকে আমরা কিসের মধ্যে ফেলে দিচ্ছি ভেবে দেখার সময় চলে যায় নাই এখনো। অনেকে যারা জামাত ও করে না আবার রাজাকারও না, আবার দাড়ি, টুপি ও পাঞ্জাবি পরে তাদের মানসিক অবস্থাটা কি হচ্ছে তা কি কেউ ভাবছে??!!

আমরা আমাদের বাচ্চাদেরকে কি শিখাচ্ছি, বিচার না চেয়ে ফাসি চাওয়া!! এইবার না হয় আমরা ঠিক আছি, কিন্তু একবার যদি ফাসি চাওয়া শিখে যায় তখন মতের বিপক্ষে গেলেই কি এরা ফাসি চাওয়া শুরু করবে না!!! তখন বিচার বাবস্থার কি হবে!!?? এখন তো দেখি ব্র্যান্ডিং এর রাজনীতি চলতেসে।  রাজাকার হইতে নাকি দুই সেকেন্ড ও লাগে না। শাহবাগ এর মতের সাথে একটু এদিক কিংবা ঐদিক হইসেত আপনি রাজাকার হইয়্যা যাইবেন। অথবা “ছাগু”/ ছাগুর মানেটা ক্লিয়ার হইতে পারতেসি না, তবে মনে হয় ছাগলেরই অপভ্রংশ হবে। কাদের সিদ্দিকীর মত বাঘা মুক্তিযোদ্ধাও নাকি এখন রাজাকার।  তাঁকে কে “বঙ্গবীর” উপাধি দিসে এবং আদৌ তা যৌক্তিক কিনা তাও নাকি এখন খতিয়ে দেখতে হবে। জিয়াউর রহমানের মত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও নাকি পাকিস্তানের চর আসিল। সত্যিই কি বিচিত্র এই দেশের বাসিন্দারা। নিজের মতের সাথে না মিললে চরিত্র হননে আমাদের মত expert আর আছে কিনা, কে জানে।

শাহবাগ এর আন্দোলন নিয়ে আমার বিরাট আশা ছিল। এরকম স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন তো বাংলাদেশ আগে কখনও দেখে নাই। কিন্তু এদের কর্মকাণ্ড এবং বিপক্ষদের ঘায়েল করার চিরচারিত ও বিকৃত পদ্ধতি দেখে আমাকে এদের নিয়ে ভাবতেই হল। আমার ধারণা আমার মত আরও অনেককেই ভাবতে বাধ্য করেছে। এটি নাকি মুক্তচিন্তকদের আন্দোলন। মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার আন্দোলন। মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার মানে নিয়ে একটু টেনশানে আছি। এর মানে কি আমি যা বলব তাই সঠিক, অন্য কেউ কিছু বললেই জামাত নয়তো রাজাকার নয়তো ছাগু বলে ভোট দিয়ে দেওয়া নাকি বিভিন্ন্ মতামত সত্ত্বেও এক লক্ষে এগিয়ে যাওয়া। কেউ যদি একটু ক্লিয়ার করে দিতেন, এই অবুঝের বড়ই উপকার হত।  পাইকারি হারে মানুষ মারার (১০০+) পর ও এদের কাউরে দেখলাম না যে এর বিরুদ্ধে একটা শব্দ উচ্চারণ করতে। বরং তারা পুলিশ প্রেমে একেবারে মুগ্ধ। যখন সঙ্খালঘুদের বসতবাড়ি ও মন্দিরে হামলা করতে গিয়ে আওয়ামীলীগের লোকজন ধরা পড়ে দেখলাম না একটা কিছু বলতে। যখন বোমা বানাতে গিয়ে আওয়ামীলীগের ১ জন নিহত ও কয়কজন আহত হয় তখন ও দেখলাম না কাউকে কিছু বলতে। যেখানে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাবলম্বীদের মিছিলে পুলিশ গুলি করে পাখীর মত মানুষ মারে, যেখানে ঘটনাস্থল থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে থেকেও মির্জা ফখরুল ময়লার গাড়ি পোড়ানোর আসামী হয়ে জেল খাটেন, সেখানে দেশে এতগুলো সংখ্যালঘুর বাড়ী পোড়ানোর ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হবে না? এর মানে কি?? এগুলই কি মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার মানে। মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার মানেই কি বিরোধীদের গলা চেপে ধরা? নইলে সকল পত্রিকা পক্ষে থাকা সত্ত্বেও আসল দাবি থেকে সরে এসে একটি পত্রিকার সম্পাদককে গ্রেফতারের জন্য আল্টিমেটাম এর পর আল্টিমেটাম কেন? কেন তার কণ্ঠ রোধের এত চেষ্টা।  প্রায় সকল পত্রিকা পক্ষে থাকা সত্ত্বেও একটি পত্রিকার এত শক্তি কেন যে গণমানুষের এরকম একটি আন্দোলনকে ব্যর্থ করার ভয়ে তার সম্পাদককে গ্রেফতার করতে হবে। তাহলে তিনি যা বলছেন তাকি অনেক মানুষ বিশ্বাস করছেন। কেন? তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নাকি বানানো কথা লিখে মানুষকে উস্কে দিচ্ছেন। বানানো নাকি সত্য সেটা আরেক বিতর্ক। কিন্তু কথা হল তিনিত একা এগুলো ছাপান নাই। শুনেছি আরও দুটি পত্রিকাও নাকি ছাপিয়েছিল, কিন্তু এদেরকে কিছুই বলা হচ্ছে না কেন!!?? বিষয়টা যে কি, কিছুই বুঝতেসি না। এ লেখালেখিতেতো বরং লাভ হইসে দেখতেসি। সরকার এখন সবাইকে sms পাঠাচ্ছে যে “সরকার ইসলাম ও মহানবি (সাঃ) এর অবমাননা বন্ধে বদ্ধপরিকার”/ বলতেই হয় সরকারের এটি একটি ভাল উদ্যোগ।

শাহবাগ এর আন্দোলন নাকি ৭১ এর মতোই আরেক মুক্তিযুদ্ধ। শুনে হাসব না কাঁদবো বুঝতেসি না। এদের বেশিরভাগই ৭১ দেখে নাই (আমিও দেখি নাই, কিন্তু যারা দেখেছে ও যুদ্ধ করেছে তাদের কাছে শুনেছি), খুব সহজেই তুলনা করে ফেলে। ৭১ ছিল জীবন-মৃত্যুকে হাতে নিয়ে ঘোরা, চারিদিকে গোলাগুলির মধ্যে বাঁচা-মরা, Torture, Rape, সংঘাত, প্রিয়জনকে হারানো, মৃত্যু এবং তারমাঝেও বিজয়। ৭১ ছিল ৭১, তার সাথে কোনকিছুর তুলনা হতে পারে না। শাহবাগের মত সরকারি প্রহরায়, নাচ-গান ও স্লোগান নির্ভর কোন আন্দোলন এর তো নয়ই। যুদ্ধাপরাধিদের বিচার দেশের সবাই চায়। আমি শাহবাগের আন্দোলনকারি কারো চাইতে কোন কম অংশে যুদ্ধাপরাধিদের বিচার চাই তা না, বরং বেশিই চাই। কারণ একজন মুসলিম হিসেবে আমি জানি যে জামাতই এসব যুদ্ধাপরাধিদের নেতা বানিয়ে রাজনীতি করে ইসলামের সবচেয়ে ক্ষতি করেছে এবং এখনো করছে। কিন্তু এ রকম একটি বৃহত্তর  আন্দোলন থেকে যখন কেবল বিরোধীদলের যুদ্ধাপরাধিদের বিরুদ্ধেই ফাসি চাওয়া হয় এবং অন্য দল বিশেষ করে সরকারি দলে থাকা রাজাকার, যুদ্ধাপরাধিরা বগল বাজায়, তখন পুরো আন্দোলন এর পিছনে অন্ন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ জাগলে কি কাউকে দোষ দেওয়া যায়!

আমার লেখায় অনেকগুলো “বিচার চাই কিন্তু…যদি…তবে” ইত্যাদি ভাব চলে এসেছে। সুত্র মতে আমি হয় ছাগু নয় রাজাকার অথবা উভয়ই। শ  তে শিবলী তুই রাজাকার তুই রাজাকার…।

আমি শাহবাগ দেখেছি

by Asif Shibgat Bhuiyan

শাহবাগী ভাঙননৃত্য শেষ হলে কয়েকটি জিনিস ধীরে ধীরে প্রতিভাত হবে বলে আমার ধারণা। এখানে বলে ফেলি।
বহুদিন ধরে একটি মহলের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক হেজিমনির মূল উৎস ছিলো ১৯৭১ এর জুজুর ভয় দেখানো। গত ৪২ বছর ধরে একটি একচেটিয়া পারসেপশন তারা মানুষের মাঝে তৈরি করে রেখেছে। গত এক বছরে এই পারসেপশনের নাটকীয় পতন ঘটেছে। অত্যাচারী ভিলেনের সাথে চির অত্যাচারিত হিরোর একটি অসম লড়াই যাতে হিরোরা প্রাথমিকভাবে জয়ী হলেও ওঁতপেতে থাকা ভিলেন যে কোনও সময় আবার আক্রমণ করবে – এই চিত্র আমাদের মর্মমূলে একেবারে গেঁথে দেয়া হয়েছিলো। এই মানসিক দৃশ্যপট এখনকার তরুণ প্রজন্মটির মনে গেঁথে ছিলো গত বছর পর্যন্তও। এ বছরে এসে প্রথম হিরোদের সাথে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভিলেনরা মাটি পাওয়া শুরু করেছে। এতে ভিলেনদের তেমন কিছু করতে হয়নি। হিরোরা হঠাৎই অহেতুক ফাউল করে নিজেদের ফেয়ার প্লে নষ্ট করেছে এবং সুযোগ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের সমর্থন ধীরে ধীরে বাড়িয়ে তোলার। এই আত্মহননে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে হিরোদের অফিশিয়াল চিয়ারলিডাররা – শাহবাগীরা।

একটি রাজনৈতিক সিদ্ধিলাভের প্রহসনের বিচার কার্যে শাহবাগীরা কেবল সমর্থনই দেয়নি, ইন্ধন যুগিয়েছে। তাদের মনোভাব ছিলো একরোখা “রাজনীতি বুঝি না, ফাঁসি চাই”। বরং তারা ট্রাইব্যুনালের ফাঁক ফোকরগুলো খেয়াল করে যদি এই দাবী তুলতো যে “অবিলম্বে সুষ্ঠ বিচার চাই এবং প্রকৃত অপরাধীর বিপক্ষে মজবুত প্রমাণ সাপেক্ষে শাস্তি চাই।” তাহলে সেটা সবদিক থেকেই ফেয়ার হতো, যুদ্ধাপরাধের দায়মুক্তিও হতো এবং পুরো প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক ফাউল প্লে থেকে মুক্ত থাকতো। সেটা না করে শাহবাগ ঐ কাজটাই করল যা এই বিচার পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্যকে সার্ভ করে – রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধি।

শাহবাগীরা দ্বিতীয় যে ব্লান্ডারটি করল সেটি হোলো এই দেশের জনমনে সবচেয়ে বড় যে দুটি চেতনা একই সাথে মানুষ লালন করে এসেছে এতদিন, সে দুটির মাঝে ক্ল্যাশ লাগিয়ে দেয়া। ৭১ এর চেতনা এবং ইসলামি চেতনা। শাহবাগীরা মঞ্চের প্রাথমিক সাফল্যে দ্বিতীয় চেতনাটিকে তাচ্ছিল্য করে বসেছিলো। এখানে বলে রাখা ভালো যে অন্তত ২০১২ পর্যন্ত মডারেট ইসলামি চেতনা ও ৭১এর জাতীয়তাবাদী চেতনা মানুষ একসাথে যত্নে লালন করে এসেছে। এটি একটি ফ্যাক্ট – এটাকে অস্বীকার করা বিরাট বোকামো। এ দুটি চেতনার কোনও একটি এক্সট্রিম (অপরটিকে আমল না দিয়ে) এদেশের মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। এটার প্রমাণ হোলো যে জামাতের এতদিনকার কোনঠাসা অবস্থা। কারণ জামাতের ইসলামি চেতনার ঝান্ডাটি হাতে থাকলেও, ৭১ এর ব্যাগেজের কারণে তারা এতদিন কোনঠাসা ছিলো। সেক্যুলাররা তো বটেই, সাধারণ অজামাতি মুসলিমদের একটি বড় অংশ তাদের বখে যাওয়া সৎ ভাই হিসেবে দেখতো। জামাতিদের প্রত্যাখ্যান করার কারণ যতটা ছিলো ইসলামিক মতবিরোধ তার চেয়েও বেশি তাদের এই ব্যাগেজ।

শাহবাগীরা নিজেদের পায়ে কুড়ালটা মেরেছে যুদ্ধাপরাধের বিচার চেয়ে নয় অবশ্যই, বরং অন্য দুটি কারণে। এক, একটি ভুল বিচার পদ্ধতিকে আরও ইন্ধন যুগিয়ে এবং দুই, ৭১ এর চেতনার সাথে ইসলামি চেতনার যে ডেলিকেট ব্যালেন্স এই দেশে রক্ষা করে চলতে হয় সেটি করতে ব্যর্থ হয়ে। এই অর্ডার আমি সময়ের প্রেক্ষিতে করেছি নতুবা সমস্যা শুরু হয়েছে বরং দ্বিতীয়টা দিয়ে। তাদের প্রাথমিক সাফল্যের ব্যাপারে মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে যখন তারা এদেশের অরিজিনাল সিন করে বসল – ইসলামি চেতনাটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিতে পেরে, বরং পায়ে ঠেলে। তারা বলেছে অবশ্য সময়ে সময়ে যে এটা তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু আন্দোলন কেবল ইমোশানের ওপর চলে না, তার ট্যাক্টিক্স ঠিক থাকতে হয়। তাদের আগেই বোঝা উচিৎ ছিলো যে দুটি চেতনার মাঝে ব্যালেন্স না করলে চলবে না। যখন তাদের বিরুদ্ধে ইসলামকে অবজ্ঞা করার অভিযোগ আসল এবং একই সাথে বিচারের বিভিন্ন অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও শাহবাগীরা সেটিকে সাপোর্ট করে গেল, তখন সাধারণ মানুষ দুই দুইয়ে চার করা শুরু করল। শাহবাগীদের জাতীয়তাবাদী চেতনার চেয়ে প্রাধান্য পেল তাদের অইসলামি চেতনা।

শাহবাগীরা যখন বুঝলো যে ইসলামি চেতনাকে তাচ্ছিল্য করার প্রবলেমটা তারা এটা বিভিন্ন ভাবে বোঝাতে শুরু করল যে তাদের মূল দাবী ছিলো যুদ্ধাপরাধের বিচার, ইসলামের সাথে তাদের কোনও বিরোধ নেই। তাদের এই দাবীও ছিলো যে এটা যারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায় না তারা এই তকমা তাদের গায়ে লাগিয়ে দিতে চাইছে। এটা একটা ভালো যুক্তি, এবং নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষদের অনেকেই, বিশেষ করে যারা তাদের সেকেন্ড চান্স দিতে চেয়েছে, তাদের যুক্তিটি মনে ধরেছিলো। আপনাদের মনে থাকবে নিশ্চয়ই মঞ্চে একজন মহিলাকে দিয়ে কুরআন পড়ানো এবং আরেকজনকে শ্রোতা হিসেবে রাখার কৌতুহলোদ্দীপক ছবিটির কথা। কিন্তু এরপরই শাহবাগ করল একটি আত্মঘাতী কাজ যা থেকে তারা আর রিকাভার করতে পারেনি এবং আর কখনও পারবেও না আমার ধারণা।

৬ মের ভোরে সরকার কর্তৃক হেফাযতকে উৎখাত করার ঘটনা এবং সেই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে যখন একটি পাল্টাপাল্টি কনফিউশান চলছিলো তখন শাহবাগীদের হাতে একটি সুবর্ণ সু্যোগ ছিলো নিজেদের ইসলামি চেতনা রিলেটেড ইমেজটিকে পুনরুদ্ধার করার। তারা এই বিষয়টিতে সম্পূর্ণ চুপ থাকতে পারত। তদের ঘটে বুদ্ধি আর একটু বেশি থাকলে তারা ইন ফ্যাক্ট সরকারের কাছে এই দাবীও জানাতে পারত যে ৬ই মের ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত হোক। আশ্চর্যজনক ভাবে তারা, বিশেষ করে সোশাল মিডিয়াতে তাদের নেতারা এবং অন্যান্য পাতি চেলাচামুন্ডারা ঘটনাটি নিয়ে রসিকতা করা শুরু করে, বিশেষ করে হেফাযতের দাবী করা সংখ্যাটিকে ঘিরে। তারা ভুলে গিয়েছিলো যে ৩০ লাখের ট্যালিসমান সংখ্যাটি তারা এতদিন জপে এসেছে সেটা ঠিক ততটাই বায়বীয় ছিলো যতটা ছিলো হেফাযতেরটি। আমি পূর্ণ কনফিডেন্স নিয়ে বলতে চাই যে এটাই ছিলো গেইম, সেট, ম্যাচ। শাহবাগীদের বিপক্ষে।

কেন শাহবাগীরা এরকম হঠকারিতা করল? বোঝা ডিফিকাল্ট। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে গোয়ার্তুমি বা রেকলেস স্বভাব। আফটার অল তারা দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক। আসলে কারণ এটি নয় আমার মতে। শাহবাগীরা তাদের মূল দাবীতে কখনই সৎ ছিলো না, তারা যুদ্ধাপরাধের আড়ালে একটি সেক্যুলার প্যারাডাইম শিফটের কাজ করতে চেয়েছিলো ঠিকই। শুধু মাত্র বিপদের সময়ই তারা সেটাকে ঢাকতে চেয়েছিলো। সেটা ছিলো থাবাবাবার মৃত্যুপরবর্তী হেফাযতের মিটিয়রিক উত্থানের সময়টি। কিন্তু যে দুবার তারা মনে করেছে তারা কন্ট্রোলে চলে এসেছে সে দুবারই তারা তাদের সেক্যুলার অ্যাটিচিউড ও অবজেক্টিভ লুকাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রথমত, শাহবাগের প্রাথমিক উত্থানের সময় এবং দ্বিতীয়ত, ৬ই মেতে হেফাযতের উৎখাতের পর। অন্যভাবে বলতে গেলে তাদের সকল বাগাড়ম্বর ছিলো সরকারের ছত্রছায়ায়। সরকার যেমন তাদের ব্যবহার করেছে তারাও সরকারের লেজ ধরেই ঝুলে ছিলো।

এখন শাহবাগ যে আস্ফালনগুলো থেকে থেকে দেখাচ্ছে এটা বিপ্লবীদের হুংকার নয়, বরং চিয়ারলিডারদের কত্থক। সরকার যখনই গোল দিচ্ছে শাহবাগীরা উদ্বাহু নৃত্য শুরু করছে। লক্ষ্য করবেন যে সরকার এখন ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে যাচ্ছে যার ফলে দেশে একটি অরাজক অবস্থা তৈরি হয়েছে। এসময় তাদের উচিৎ ছিলো, যদি সত্যিকার দেশপ্রেমিক তারা হয়ে থাকতো, এই অবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। একটি সাংগঠনিক ভিত্তি যেহেতু দাঁড়িয়েই গেছে তারাই ছিলো এই কাজের সবচেয়ে উপযুক্ত দল। পাঠকরা নিশ্চয়ই ইমরান এইচ সরকারের সেই দম্ভোক্তি ভুলে যাননি যখন সে বলেছিলো সরকারের চেয়ে শাহবাগই বেশি শক্তিশালী। কিন্তু দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে শাহবাগ তাদের চিয়ারলিডিঙের কাজেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলো। প্রথমে তারা ইসলামি চেতনার পরীক্ষায় লাড্ডু মেরেছে, এবার তারা জাতীয়তাবাদী চেতনাতেও ফেল করে বসল।

দেশের প্রধান দুটি চেতনার পরীক্ষায় ডাব্বা মারা দলটি একটি দূর্নীতিপরায়ণ “স্কুল কমিটির” খুঁটির জোরে স্কুলে টিকে থাকলো তো বটে, কিন্তু এই টিকে থাকা তো আর সত্যিকারের বেঁচে থাকা নয়, বরং লাইফ সাপোর্টে বেঁচে থাকার শামিল। আপনি স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন হলে বুঝবেন যে এই সরকার পরিবর্তিত হয়ে গেলে শাহবাগকে বসতে দেয়া হবে না এটা যেমন ঠিক – তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে শাহবাগ নিজেই আর বসবে না। আন্দোলন আর চিয়ারলিডিঙের মাঝে যে স্থুল পার্থক্য – তা এতদিন যদি আপনার কাছে পরিষ্কার না হয়ে থাকে, সেদিন হবে।

আশ্চর্যজনক ব্যাপার যে শাহবাগ নিজেদের কর্মকান্ডকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে দেখাতে চেয়েছিলো। প্রথম মুক্তিযুদ্ধের সাথে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের মিল একটিই – কম বেশি একই সময় স্থায়ী ছিলো দুটোই। কিন্তু মিলের এখানেই সমাপ্তি। কোথায় একটি বিদেশী শক্তির সাথে ৭১ এর প্রাণপন গেরিলা যুদ্ধ আর কোথায় এই বিরানীর গন্ধে ভুর ভুর করা পরিবেশে নৃত্যপটিয়সদের রোমাঞ্চকর মিলনমেলা। হায়, যে জাফর স্যার দূর্বার যৌবনকালেও কোনও এক অজানা কারণে মুক্তিযুদ্ধ মিস করে ফেলেছিলেন, আজ এই বার্ধক্যের করাল গ্রাসকে ফাঁকি দিয়ে তিনিও চলে এলেন যুদ্ধনৃত্যে যোগ দিতে।

দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের নামে যে তামাশা শাহবাগীরা করল আগামি যত মাস এই সরকার থাকে তাতে চিয়ারলিডিং তারা চালিয়ে যেতে পারবে সন্দেহ নেই। কিন্তু যবনিকা পতনের পর দুটি জিনিস প্রতিভাত হবে স্পষ্ট ভাবে আমার বিশ্বাস:

১. “দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের” ভিস্যুয়াল সার্কাসের কারণে প্রথমটির ব্যাপারে যে কাল্পনিক রোমাঞ্চ এই প্রজন্ম এতদিন মনে মনে পুষে এসেছিলো সেটি অনেকাংশেই নষ্ট হয়ে গেছে।

২. এতদিন ৭১ ভিত্তিক জাতীয় চেতনা ও ইসলামি চেতনার মাঝে যে সমতা বিরাজ করছিলো সেটি নষ্ট হয়ে গেছে। এগিয়ে এসেছে ইসলামি চেতনা। ইসলামপন্থিরা যদি বিশাল গাধামো না করে তবে সামনে তাদের জন্য সুদিন রয়েছে। যদিও তাদের গাধামো করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না, সেটা একটা ভ্যালিড সম্ভাবনা বটে। কিন্তু সে আরেকদিনের কথা।

সেমি-নগ্নতা + কোয়ার্টার নগ্নতা = পুরুষের মনোরঞ্জন

images (1)

By Tarannum

আমার মনে হলো আমি কোন ইংলিশ/হিন্দি মুভির ট্রেলার দেখছি!যেমন মেয়েটির পোশাক,তেমনি ছেলেটিরও।তবে ইংলিশ মুভিতে নায়িকা থেকে নায়ক আলাদা করা যায়,এখানে দেখলাম আলাদা করাটা একটু না,ভালোই টাফ।পিছন থেকে কনফিউজিং বেশ,হু ইজ হোয়াট!কারণ নায়কের চুল নায়িকার চুলের প্রায় সমান লম্বা,হাতে চুড়ির মতো কি তা ঠিক বুঝলামনা।হবে হাল ফ্যাশানের কিছু একটা,ভেবে আমি গবেষণা থেকে ক্ষান্ত দিলাম।তবে যে গবেষণা থেকে ক্ষান্ত দেয়া গেলনা তা হলো এদের ঘনিষ্ট হয়ে বসার ভঙ্গি এবং মেয়েটির অতীব ‘আধুনিক’ পোশাক।পোশাকের বিবরণে আমি যাবনা।তবে তা বাঙালী কেন,গোটা উপমহাদেশীয় ট্র্যাডিশনাল পোশাকের ধারেকাছেও নাই।

বলছি,আমি একটি নামী প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বছর পাঁচেক আগে এমবিএ-তে ভর্তি হতে গিয়েছিলাম।সেখানকারই ঘটনা।আমি হিজাবী মানুষ,ওখানে গিয়ে যথেষ্ট হকচকিয়ে গিয়েছিলাম,কুন্ঠিতও হয়েছিলাম।মনে হচ্ছিল আমাকে ওখানে মানাচ্ছেনা,২-৩ ঘন্টায় যেসব মেয়েদের দেখলাম তাদের কারোর পোশাকই আমার মতো ‘ক্ষ্যাত’ নয়,বড়ই ‘আধুনিক’!তা সে ৫ বছর আগের কথা এবংপরবর্তীতে কিছুদিন পর্যন্ত এই ঘটনা মনে পড়লে এই ভেবে সান্ত্বনা দিতাম নিজেকে যে যাদের দেখেছিলাম তারা সবাই বড়লোক বাপের “বড়মানুষ” বাচ্চাকাচ্চা,তারা কি আর আমার দেশের ৮০% মানুষকে রিপ্রেজেন্ট করে?

তবে এই ভেবে শান্তিতে কিন্তু বেশীদিন থাকা গেলনা।এমবিএ-তে ভর্তি না হয়ে চলে গেলাম মৌলভীবাজারে চাকরী করতে।সিলেট নাকি ওলি-ওয়ালাদের এলাকা,সেখানে উপরের ঘটনার মতো কিছু ঘটতে দেখার চিন্তাও করিনি কখনো।কিন্তু সেখানেই ‘লন্ডনী’ কন্যাদেরকে রাস্তায়-রেস্টুরেন্টে আমি লন্ডনের পরিবেশের অভাব পূরণ করে নিতে দেখলাম,এ্যামেজিং!খোদ সিলেট শহরে যখন পোস্টিং হলো তখনতো লন্ডনী,সেমি-লন্ডনী (লন্ডনীদের আত্মীয়) মেয়েদের দৌরাত্ম্যে অবাক লাগা বিরক্তিতে পরিণত হলো।ইউনিভার্সিটি এলাকা যেখানে লন্ডনী,সেমি-লন্ডনী নাই,সেখানে?শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে আমরা যখন পড়তাম তখনও কিছু মেয়ের পোশাক কখনোই অতটা শালীন পর্যায়ের ছিলোনা,সেটা তখন এ্যাবনরমাল কিছুও মনে হতোনা।কারণ কিছু মানুষ কখনোই গোটা এলাকার রিপ্রেজেন্টেটিভ হয়না এবং হাতের পাঁচ আঙ্গুল সমানও হয়না।তাই সেগুলো এ্যালার্মিং কিছু ভাবিনি।কিন্তু চাকরী করতে আবার সিলেট গিয়ে দেখলাম ২-৩ বছরে সাস্টের চেহারা পুরাই পাল্টে গেছে আর সেখানকার মেয়েরাও এ্যাবনরমাল রেটে পোশাকের শালীনতা/পরিমিতিবোধ হারাচ্ছে।ফ্যাশন বদলাতে পারে,কিন্তু শালীনতা/পরিমিতিবোধ এতো দ্রুত পাল্টায়?তাও ধনাত্মক নয়,ঋণাত্মক দিকে!

এরপর লক্ষ্য করলাম সমাজের সবখানেই এই অবস্হা শুরু হয়ে গেছে।হয়তো আরও আগেই শুরু হয়েছে,আমিই লক্ষ্য করেছি দেরীতে।উদাহরণ দেই,’প্রথম আলো’ ছাড়া আর কোন পত্রিকা পড়া হতোনা তখন (মনে হতো এরা কম নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্বের দিক থেকে,তাই মন্দের ভাল বলে পড়তাম),তাই অন্যদের কথা বলতে পারবোনা।কিন্তু এই পত্রিকাটি আমাকে বড়ই অবাক করে ‘নকশা’ নামের প্রতি মঙ্গলবারের ফিচার পাতায় মেয়েদের এমন সব ছবি দিতে লাগলো যে আমি হতভম্ব শুধু না,মর্মাহত হতে লাগলাম।কারণ এইসব ছবি দেখার জন্যে আমার এক্স ছেলে কলিগরা প্রায় প্রতি মঙ্গলবার ম্যানেজারের রুমে ‘নকশা’ পাঠানো বাদ দিয়ে দিলো এবং এসব ছবি নিয়ে ‘রসালো’ আলাপের মাঝে তারা মেয়েদের আগমণ পছন্দ করতোনা,আমাদের বলতো-পরে আসো,’অনলি বয়েজ’ আলোচনা চলছে!মেয়েরা কিছু বললে তাদের উত্তর হতো,’তোমরা আমাদের ‘দেখাচ্ছো’,আমরা দেখবোনা?!’এ ছিলো তাদের বিনোদন,বিবাহিত-অবিবাহিত,নামাজী-বেনামাজী নির্বিশেষে।ওদের দেখে আমার মনে হতো বলি,তোমাদের মাঝে তো ৯৫%-ই মুসলমান!ইসলাম কেবল কি মেয়েদের পর্দা করতে বলেছে?প্রথম আদেশ/নির্দেশ তো মেয়েদের না,ছেলেদের উদ্দেশ্যে!তাদের চোখের পর্দা নিয়ে!একটি মেয়ের নাহয় নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে,কিন্তু সেটা কেন ছেলেটির নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হবে?

কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায় ছিল।কারণ যে মেয়ে স্বেচ্ছায় নিজেকে ছেলেদের বিনোদনের বস্তু বানিয়ে রেখেছে তার হয়ে আমি ওদের কিছু বলেই বা কি করবো? যে মেয়ে নিজেকে পণ্য বানিয়ে মহান ‘আধুনিকা’ হয়ে পত্রিকায় মডেল হয়েছে,তার এমন পোশাক পড়ার কারণ কি?সে কাকে এমনআবেদনময়ী স্বরুপ দেখাতে চেয়েছে?আরেকটি মেয়েকে??নাকি ছেলেদেরকেই যারা তাকে দেখবে?আচ্ছা,তার মনে কি কখনো প্রশ্ন আসে,’আমার সাথে মাঝে-মাঝে যে ছেলেটি মডেল হয়,তার পোশাক তো আমার মতো হয়না!সে কেন পুরো কাপড় পরে মডেল হবে আর আমি কেন স্লিভলেস পরে,পাতলা শাড়ী পরে,কোমড় দেখিয়ে তবেই মডেল হবো?তবে কি তার অভিনয়-শৈলী,অভিব্যাক্তি ফুটিয়ে তোলার যোগ্যতা আমার চেয়ে বেশী বলেই আমাকে অতিরিক্ত কিছু করে(পোশাক খুলে) ছবি তুলতে হচ্ছে যাতে লোকেরা তার পাশে আমাকেও কিছুটা দেখে?’না,এই প্রশ্ন তার ‘নারী স্বাধীনতা’-র ধোঁয়া তুলে ওয়াশকৃত ব্রেইনে আসেনা।তাই প্রকৃত নারীবাদী হয়ে পুরুষ কলিগদেরকে জোর গলায় কিছু বলার মতো উপায় আমার ছিলোনা।

ঢাকায় এলাম এরপর,একটি নামী প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি–তে আবারো ভর্তি হলাম…অনুমান করে নেয়ার জন্যে ধন্যবাদ এখানে আমাকে গত দুই বছরে কত কিছু দেখতে হয়েছে।শুধু মেয়েদের নৈতিক অবক্ষয় না,তার সাথে পাল্লা দিয়ে ছেলেদের শালীনতা,রুচি,বিনোদন জ্ঞান পাতালের নিকষ অন্ধকারে নেমেছে।একটা প্রবাদ আছে,‘একে তো নাচুনী বুড়ি,তার উপর যদি পায় ঢোলের বাড়ি!’ছেলেরা হলো সেই বুড়ি,আর মেয়েরা ঢোলে বাড়ি দিচ্ছেন ঢুলী হয়ে।এখন প্রশ্ন হলো,কেন এমন হচ্ছে?সমস্যা কোথায়?

সমস্যা মেয়েদেরকে দেখার,বোঝার দৃষ্টিভঙ্গিতে।

সেই আদ্যিকাল থেকে পুরুষ শাসিত সমাজ মেয়েদেরকে বারবার নিজের পায়ের তলায় ঠেলে দিয়েছে।তাই মেয়েরা যোগ্যতায়, মেধায়-মননে,উৎকর্ষতায় কখনোই তাদের ছাপিয়ে উপরে উঠে আসতে পারেনি।
ইসলাম এলো,নারী এবং পুরুষ নির্বিশেষে শান্তির এই ধর্মটি জানালো তাদের পারষ্পরিক সম্পর্ক কেমন হবে;কেউ কারো প্রতিদন্ধী নয় বলল,দুজনকেই পরষ্পরের জায়গা দেখিয়ে দিলো।বললোঃ
“And one of the signs of His existence and power is this: He has created for you helpmates in order to make you feel comfortable with one another, and He ordained between you love and mercy. There are lessons in this sign for those who reflect” (Al-Qur’an 30:21).

দুঃখজনক এবং দুভার্গ্যজনকভাবে এই শান্তির ধর্মকে অশান্তির বানানোর যারা হোতা তারা মেয়েদের ইসলামীক অধিকারকেও সমানভাবে অশান্তির করে তুললেন।যুগে-যুগে মেয়েরা ইসলামে নিজেদের সম্মানিত স্হানতো পায়ইনি,বরং অসম্মানের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে লাগলো।ইসলামের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সবই হতে লাগলো ভুলভাবে এবং মেয়েদের সেই পুরনো পুরুষ শাসিত সমাজের পায়ের তলাতেই জায়গা হতে লাগলো।পর্দার ভুল ব্যাখ্যা এবং তার দোহাই দিয়ে মেয়েদের আবারও বন্দী করা হলো চার-দেয়ালের কারাগারে।বলা হলো তোমার জায়গা রান্নাঘরে,বাচ্চা মানুষ করায়,আর কোথাও তোমার লম্বা নাক ভুলেও গলাতে যেওনা।যে ইসলাম মেয়েদের মুক্তির দূত হয়ে এসেছিলো,সেই ইসলামকে বুমেরাং বানিয়ে মেয়েদের দাসত্ব যুগ ফিরিয়ে আনা হলো।

এ তো গেলো ভয়াবহতার একদিক,পশ্চিমা পুরুষ শাসিত সমাজ/দেশগুলো এরমাঝে নারীর মুক্তির নামে,তাকে ন্যায় বিচার দেবার নামে,ভয়াবহ আরেক শাসনব্যবস্হা কায়েম করে ফেললো।’ঘর আর তোমার জায়গা নয়,ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসো,আমাদের হাতে হাত মিলাও,আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে তোমরা’-এই মন্ত্রনা দিয়ে তারা মেয়েদের ঘরের খাঁচা খেকেতো বের করে আনলো,তবে তা আবারও মেয়েদের জন্য প্রহসনের রুপে ধরা দিলো ভিন্ন আঙ্গিকে,ভিন্ন মাত্রায়।মেয়েরা আসলে খাঁচা ছেড়ে বেরোলো না,নতুন করে খাঁচার জন্তুতে পরিণত হলো,নতুন খাঁচার নতুন জন্তু।এবং নির্বোধ নারী ভাবলো,‘আহ্!অবশেষে আমি মুক্তি পেলাম!’কিন্তু কি সেই মুক্তি?

মুক্তির নামে নগ্নতার/যৌনতার প্রদর্শনের শৃঙ্খল-বেড়ী সেচ্ছায় নিজ গলায়/পায়ে জড়িয়ে নিলো তারা।পুরুষের শিখিয়ে দেয়া পথে চলে তারা পুরুষ শাসনের অর্গলেই নিজেদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিলো।আর তারই ফল দাঁড়ালো মিস ওয়ার্ল্ড/মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগীতার নামে নারীদের পণ্য বানানো,পত্রিকায়-ম্যাগাজিনে-টিভি-ইন্টারনেটে-বিজ্ঞাপণে নারীকে পণ্য বানানো…সর্বত্র নারী হয়ে দাঁড়ালো পণ্য,পণ্য আর পণ্য।পুরুষেরা ধন্য!আসলেই তারা সৃষ্টির রাজা বটে!কি চালে দাসী নারীকে তারা কুপোকাত করেছে বেকুব নারী টেরও পায়নি।ঘরের খাঁচার জন্তু বাইরে এসেও তাকে এখন বিনোদন দিচ্ছে,আগের চেয়ে অনেক বেশী আকর্ষণীয় রূপে/অনেক বেশী রোমান্চকরভাবে!জয়তু পুরুষ!

আর আমার দেশেও পালে তার-ই হাওয়া লেগেছে…সে অনেকদিন হল।আমার দেশের আজকের ‘নকশা’-র মেয়েরা,বিজ্ঞাপণের ‘আরসি-র মজা কত,তোমার মতো যখন যেমন চাই’ মেয়েরা,বিলবোর্ডের অর্ধনগ্ন,কোয়ার্টার-নগ্ন ‘আবেদনময়ী’ মেয়েরা,প্রাইভেট/পাবলিক ইউনিভার্সিটির তথাকথিত ‘আধুনিক শিক্ষিত’ মেয়েরা,মধ্যবিত্ত মেয়েরা..সবাই পশ্চিমা পুরুষদের দাসীদের অনুকরণশীল বান্দরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।মারহাবা!মারহাবা!!

কোথায় স্বাধীন মেয়েরা!কোথায়?এ লজ্জা আর অপমান কোথায় রাখি যখন আমার দেশের মোল্লারা প্রেম করার অপরাধে ছেলেটিকে বাদ দিয়ে কেবল মেয়েটিকে দোররা মারেন,পাশের দেশে বাসে মেয়ে গণধর্ষণের স্বীকার হয়ে মারা যায়,যখন অভিশপ্ত দেশ পাকিস্তানে তালেবানরা মেয়েদের পড়তে চাওয়ার দোষে গুলি করে,আবার যখন সেই মেয়েকে নিজ দেশে স্হান দেয়া ইংল্যান্ডে শোবিজে কাজ করতে আসা মেয়েরা দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের স্বীকার হয় এবং সেসব উন্নত দেশের উন্নত মেয়েরা কাউকে বলার মতো,অভিযোগ করার মতো অবস্হায়ও থাকেনা,যখন সেসব দেশের পত্রিকায় রিপোর্ট আসেঃ Three decades ago one out of three rape attacks reported to the police ended in conviction; today it is just one in 20 (দি গার্ডিয়ান),যখন দেখি সেসব দেশে বিখ্যাত বাবা নিজের মেয়েকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন করে বেড়ান,টেনিসে মেয়েদের পোশাক আরো ছোটো না করলে থেলা আকর্ষণীয় হচ্ছেনা বলা হয়?..কোথায় আমি স্বাধীন??ব্যাসিক্যালি,কোথাও না!এ সব দেশের মেয়েদের অবস্হা দেখুনঃ

(http://www.theguardian.com/media/2012/oct/14/savile-tv-culture-of-female-harassment

http://www.theguardian.com/media/2012/oct/12/jimmy-savile-broadmoor-volunteer-role

http://www.theguardian.com/uk/2013/jan/11/jimmy-savile-police-report

http://www.theguardian.com/media/2013/jan/12/jimmy-savile-deborah-orr

http://www.theguardian.com/commentisfree/2006/mar/31/politics.ukcrime?INTCMP=SRCH

http://www.theguardian.com/world/2013/jan/10/klaus-kinski-rape-claims-daughter?INTCMP=SRCH)
কিন্তু তবু কিছু বেল্লিক(বুদ্ধিজীবী??)আছেন আমাদের দেশে যারা ওইসব দেশকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিয়ে ওদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন,বলেন:ওদের দেশের মেয়েদের মতো হতে হবে আমাদের মেয়েদের,তবেই মহিলা মুক্তি সম্ভব!আর গন্ডমূর্খ মেয়েরাও তালিয়া বাজায়,’চলো,চলো,আমরাও ওদের মতো হবো।পাশের দেশ পশ্চিমাদের অনুকরণে যেমন গায়িকা-নায়িকা-‘নাচ-বালিয়ে’ বানিয়ে বিশাল নারী দেহ নির্ভর ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলেছে,আমরাও সেভাবেই ‘উন্নত’ হবো!মাথা খাটানোর দরকার নেই;অরুন্ধতী রায় হবার দরকার নেই,কে চেনে ওঁর মতোদের?চেনেতো প্রিয়াংকা চোপড়াকে,চেনেতো সিরিয়ালের ‘খুশী’কে যারা ফেয়ার এন্ড লাভলীর এড করে ফর্সা চামড়া-শরীর দেখিয়ে বেড়ায় তাদের।দ্যান,হোয়াট আর উই ওয়েটিং ফর!আমরাও লাক্স সুন্দরী হবো!মাথা খাটানোর যত ক্ষেত্র তার সব ছেলেদের দখলে ছেড়ে আমরা কাপড়ের কোথায় কোন ছাটটা অমুক হলিউডি/বলিউডি নায়িকার মতো হলো সেই প্রতিযোগীতায় নামবো’।

আশ্চর্য লাগে যখন নামী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এইসব ‘হাই-ফাই ফ্যাশন্যাবল’ মেয়েদের দেখি হিন্দি সিরিয়ালের কাহিনী নিয়ে ঘন্টা দুয়েক আলাপ করতে,অফিসের কোন কাজ করতে গেলে চৌদ্দটা গন্ডগোল করতে,আর ইংলিশে দুই কলম লিখতে তিন কলম ভুল বানান লিখতে।আবার এরাই থার্টি-ফার্স্ট নাইটে নামী হোটেলে স্বামীর সাথে মদ খেতে যান।এরাই আমাদের ‘আধুনিক নারী’!! হলিউডি/বলিউডি অনুকরনে অন্ধ,শরীর সর্বস্ব,মাথা খালি।না,কেউ যদি বলেন,এ শুধু উচ্চবিত্তের কাহিনী,তবে তিনি ভুল করছেন।বাসার কাজের মেয়েটাও এখন ঈদে হিন্দি সিরিয়ালের নায়িকার মতো ড্রেস বানায়।গ্রামের মেয়েদের আমি কাঁধ থেকে নেটের ট্রান্সপারেন্ট হাতওয়ালা জামা পড়তে দেখেছি,গ্রামের মেয়েরাও এখন ‘আনারকলি’ পরে,ওড়না বুক থেকে গলায় তুলে নিয়েছে ওরাও কয় বছর আগেই!নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত নাকি জাতির আধার,এরাই দেশকে রিপ্রেজেন্ট করে।তো আমাদের রিপ্রেজেন্টিটিভদের এই হলো দশা!

এর শেষ কোথায়?কবে মেয়েরা জানবে তালেবান আর এ দেশীয় মোল্লা যেমন তার শত্রু,দিপিকা পাড়ুকোনে কিংবা শাকিরা-ও তার সমান শত্রু তাকে পুরুষের বগলদাবা হতে চাওয়া শোপিস বানানোর জন্যে?কবে আমরা জানবো যে বেগম রোকেয়ার বলা ২০০ রকমের আচার,৪০০/৫০০ রকমের চাটনী-মোরব্বা বানানোর সময় আমরা পুরুষের পেটের ক্ষুধা মেটাতাম আর এখন সেখান থেকে বেড়িয়ে ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আমরা তাদের শারীরিক আনন্দ/চোখের আনন্দ মেটাচ্ছি?কবে আমরা প্রশ্ন করতে শিখবো-
১.স্কুলে কেন ছেলেরা ফুল স্লিভ/হাফ স্লিভের সাথে ফুল প্যান্ট পরবে আর মেয়েরা স্কার্ট পরে পা বের করে ঘুরবে?ছোটবেলা থেকেই প্রভুর মনোরঞ্জন করা শুরু হতে হবে?
২.অফিসে ড্রেস কোডে ছেলেদের জন্যে ফুল স্লিভ,ফুল প্যান্ট আর মেয়েদের জন্যে ফ্ল্যাশি(?) ছাড়া বাকি সব জায়েজ কেন?যাতে মেয়েরা বাহু-কোমড় অবমুক্ত রেখে,আঁটোসাটো কাপড়ে খাঁজভাজ দেখিয়ে প্রভুর মনোরঞ্জন করতে পারে?
৩.বিয়েতে ছেলেরা পায়জামা-পাঞ্জাবী-শেরওয়ানী পড়বে,পাঁচ মিনিটে তৈরি হয়ে যাবে আর মেয়েরা শাড়ী-লেহেঙ্গা-ঘাগড়া পরে হাজার হাজার টাকা খরচ করে বিউটি পার্লার গিয়ে তিন-চার ঘণ্টা খরচ করে ‘মোহিনী-রমণী’ কেন সাজবে?কাদের দেখার জন্য?নাহলে বিয়ে হবেনা?
৪.পুরুষ সোনার চামুচ,সে বাঁকা হলেই কি!তাই তাদের পোশাক রংবিহীন হয়,আর নারীর জন্য দুনিয়ার রং নিয়ে কাপড়-চোপড়ের বাহার সাজিয়ে রেখেছে বস্তুবাদী দুনিয়ার বস্তুবাদী সব মার্কেট।কেন??আমরা কি ইমিটেশানের চামুচ??

এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু করো নারী,এই একুশ শতকেও না খুঁজলে আর কবে খুঁজবে?আর কতো খেলনা হবে সখার?নাকি তুমি এই-ই চাও?তোমাকে আপত্তিকর শব্দ রমণী (রমণ থেকে যার পত্তি!) ডেকে কবিতা লিখবে ওরা,আর তুমি আহলাদে গদগদ হয়ে ভাববে,‘ওয়াও!আমার পূজা-অর্চনা হচ্ছে,আমি শ্রেষ্ঠ!’ ধিক তোমার বুদ্ধিবৃত্তির!চিন্তা করতে শিখো মেয়ে,বিধাতা মাথা দিয়েছেন চিন্তা করার জন্যে,শুধু বালিশে রেখে ঘুমাবার জন্যে নয়।

বাকস্বাধীনতা কেবল মুসলিম বিদ্বেষী, গনহত্যাকামীদের জন্যে

দেশে অস্থিরতা-সহিংসতার বিস্তার রোধ করার অজুহাত তুলে, মিথ্যাচার ও বিদ্বেষ এর অভিযোগ এনে আমারদেশ, দিগন্ত টিভি, সোনার বাংলা এরকম অনেক মিডিয়া হাউসকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কোনো রকম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই। এদিকে আওয়ামী লীগের সরাসরি তত্বাবধানে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ব্লগগুলিতে, আওয়ামী সমর্থনের নামে চলছে তীব্র মুসলিম বিদ্বেষ। এটা শুধু ইসলাম বা মুসলিম ধর্ম বিদ্বেষ নয়, এটি মুসলিম নামধারী মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার মতো তীব্র বিদ্বেষ। লেখাগুলি দেখলেই বোঝা যায় এগুলি কোনো প্রাক্তন মুসলিম নাস্তিকের লেখা নয়। একজন নাস্তিকও নিজের পিতা-মাতা, আত্মীয় স্বজন, নিজ সমাজবাসীকে নিশ্চিহ্ন করার মতো বিদ্বেষ কখনোই ধারন করতে পারে না। এগুলি কেবল মাত্র অন্য ধর্মের তীব্র বিদ্বেষীদের পক্ষেই সম্ভব। আওয়ামী সমর্থকেরা, যারা অনেকেই ধর্ম পালন করার চেষ্টা করে, তারা দলীয় সমর্থনের নামে এই বিজাতীয় ধর্মবিদ্বেষকে দেখেও না দেখার ভান করছে কিংবা উৎসাহিত করছে। তাদের বিন্দুমাত্র হুশ নেই নেই স্বধর্মী অন্য রাজনীতির মানুষদের দমনের জন্যে নেকড়ে দের উৎসাহিত করার মাধ্যমে তারা নিজেরাই কতো ভয়ংকর পরিনতি কে আহবান করছে।

বাংলা ব্লগ জগতে ‘আমারব্লগ’ বেশ পরিচিতো। আওয়ামী লীগের সরাসরি তত্বাবধানে পরিচালিত এই ব্লগটিই হলো অমি পিয়াল, আইজুদ্দীন নামের ব্লগজগতের বড়ো বড়ো মহারথীদের লালনভূমি বলে পরিচিতো। এই ব্লগে বিএনপি, জামাত বিরোধিতা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানোর ফাকে ফাকে তীব্র ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া হয়। এটা এমনভাবে চলে যে সাধারন আওয়ামী সমর্থকেরা সাধারন রাজনৈতিক প্রচারণার ফাকে এই বিদ্বেষকে আলাদা করতে পারে না। এটা হলো Subliminal message এর উৎকৃষ্ট ব্যবহার। কিন্তু সময়ে, সময়ে কোনো কোনো সংবাদে এই বিধর্মী নেকড়েগুলি এতোই উল্লসিত হয়ে উঠে যে তারা তাদের নখদাতগুলি আড়াল করতে ভুলে যায় এবং এদের স্বরূপ বেড়িয়ে আসে।

সম্প্রতি আফ্রিকার এংগোলায় ইসলাম ও মসজিদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই নামে একটি বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদে ইসলাম বিরোধী মহলে তীব্র আনন্দল্লাস বয়ে যায় এবং একের পর এক ইসলামবিরোধী পোস্ট প্রকাশ করা হয়। আমারব্লগে বর্তমানে তীব্র বিএনপি বিরোধী ও আওয়ামী সমর্থক ব্লগারদের মধ্যে ঋতানৃত তূর্য্য নামের একজন আছেন। তার বিএনপি বিরোধী ব্লগার পরিচয়ের আড়ালে যে এক ভয়ংকর মুসলিম বিদ্বেষী, গনহত্যাকামী রয়েছে সেটা আর তিনি আড়াল রাখতে পারেন নি। সেদিনই “নিষিদ্ধ ইসলাম! এমনই হবার ছিলো…” (তারিখঃ সোমবার, ২৫/১১/২০১৩ – ২৩:৪৩) নামের একপোস্টে তিনি বাংলাদেশের ইসলাম ও মুসলিমদের স্পষ্ট হুমকি দিলেন বিশ্বজুড়ে গনহত্যার ভয় দেখিয়ে। তার নিজের কথাতেই,

” পৃথিবী থেকে মুসলমানদের নাম-নিশানা মুছে দেয়ার বহুবিধ কারণ আছে। আমি কেবল দু-তিনটি পয়েন্ট উল্লেখ করবো-
– মুসলমানেরা পৃথিবীকে কি দিয়েছে বা দিচ্ছে??

– এমনিতেই পৃথিবী জনসংখ্যার ভারে নূজ্ব্য তার উপরে মুসলমানেরা “মুখ দিয়াছেন যিনি, আহার দেবেন তিনি” -মনে মনে জপতে জপতে বছর বছর সন্তান উৎপাদন করেন। যেনো বিয়া করা হৈছে সন্তান উৎপাদনের মেশিন হিসেবে! আর তা হবেই বা না কেনো। কোনো এক হাদীসে আছে, নবী বলেছেন- যে মেয়ের বংশ “বহুপ্রসবা” সে মেয়েবে বিয়া করতে; বংশে বন্ধ্যা থাকলে সেখানে বিয়া না করতে। এই বিপুল জনসংখ্যা পৃথিবীর বোঝাই শুধু বাড়াচ্ছে।

– পৃথিবীর খাদ্যভাণ্ডার ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। এমনকি প্রাকৃতিক সম্পদও। আর আল্লাও সেই পৃথিবী তৈরির সময় যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়েছিলেন সেটার আপডেট করেননি। ফলে যারা দুনিয়ার জন্য বোঝা তাদের আখিরাতে পাঠাবার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এ দৌড়ে মুসলমানেরাই এগিয়ে। অবশ্য আফ্রিকার কয়েকটি দেশও ইনক্লুড হতে পারে।

সুতরাং আবারো বলছি, এখনো সময় আছে- ধর্মীয় ভাতৃত্ববোধ বজায় রাখুন। ষংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু টার্মগুলো মস্তিষ্ক থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন; আখেরে ভালো হবে। ভুলে যাবেন না- বাপেরও বাপ থাকে…”

এই বাপের বাপ বলতে কাকে বোঝাচ্ছেন এই ব্লগার তা নিশ্চই না বোঝার কারন নেই। এই রকম স্পষ্ট গনহত্যাকামী, ধর্মবিদ্বেষী লেখা স্বত্বেও আমারব্লগের মতো আওয়ামী ব্লগগুলো কোন চিন্তা ছাড়াই চলে দিনের পর দিন। আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তীর্যক মন্তব্যের ভূয়া অভিযোগে খ্যাতনামা ব্লগারদের জামিন ছাড়াই জেলে আটকে রাখা হয় মাসের পর মাস। ভবিষৎ-এ আওয়ামী লীগের শাসনের বাংলাদেশ এর চিত্র কল্পনা করতে এই ইংগিতগুলিই যথেষ্ট।

এখানে সেই ব্লগপোস্ট টির লিংক দেয়া হলো। সেই সাথে মুছে ফেলার আগেই রেকর্ডের জন্যে দুটি স্ক্রীনশট।

https://www.amarblog.com/Rheetanreeto-Tourzoo/posts/175374

Amar 2

amar

ইসলামবিদ্বেষীদের নবআবিষ্কৃত ‘তেঁতুল তত্ত্ব’ ও কিছু বিশ্লেষণ

by আজগর খান

ইসলাম ও মুসলিমের ছিদ্রান্বেষণে চিরঅক্লান্ত ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠি তথা ধর্মনিরপেক্ষ ধারার মূল ধ্বজাধারীরা সম্প্রতি একটি নতুন আবিষ্কার করে অনলাইনে ব্যপকভাবে ও বাস্তবে থেমে থেমে কিছুটা উল্লম্ফনে মত্ত হয়েছেন। ব্যক্তিচরিত্রে কালিমা লেপনের মত নারীঘটিত দলিল তন্ন তন্ন করে খুঁজেও না পেয়ে হতাশ হয়ে তারা আল্লামা শফির যারা জীবনের ওয়াজ-বক্তব্য খুঁজে খুঁজে, ঘেঁটে ঘেঁটে যাচাই বাছাই করতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত মোটামুটি দাঁড় করানোর মত একটাই তত্ত্ব পাওয়া গেল যেটাকে কিছুটা টুইস্টেড ভঙ্গিতে পরিবেশন করতে পারলে দলের যম হেফাজতের সর্বগ্রাসী প্রভাব কমানোয় ধন্বন্তরি ওষধির কাজ দিলেও দিতে পারে। তারা ধরেই রেখেছিলেন এই তত্ত্বের যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে হেফাজতকর্মী থেকে শুরু করে আপামর ইসলামপ্রিয় জনতা যারা ইসলামের সাম্প্রতিক প্রাধান্য বিস্তারে পুলকিত হয়েছিলেন তারা মুষড়ে পড়বেন। আদতে নিজেরাই গণবিচ্ছিন্ন হওয়ায় পর্বতের মূষিক প্রসবের মত এত মারাত্মক অস্ত্র নিক্ষেপ করেও এত অল্প ফলাফল পাওয়া যাবে এ আশা ঘুণাক্ষরেও তারা করেননি। যাই হোক এই পোস্টের আলোচনা আল্লামা শফির অবস্থানকে কিছুটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টাকে ঘিরেই আবর্তিত হবে।

 

সারাদেশের আলেমওলামা তথা তাওহীদি জনতা এবং সাধারণ ধর্মভীরু জনগণের কাছে আল্লামা শফি একটি অতি সম্মানিত নাম। যাঁর এক ডাকে সারা দেশের এক এক জেলায় লক্ষ লক্ষ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসে তাঁর চেয়ে আলোকিত মানুষ আর কে হতে পারে ? এই মূহুর্তে বাংলাদেশের ইতিহাসে জনপ্রিয়তম একটি নাম হচ্ছে আল্লামা শফি। উনি এবং ওনার ডাকে মানুষ কাফন পরে শাহাদাতের জন্য তৈরি হয়ে যায়, এখনো ডাক দিলে আবার আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ হবে। একমাত্র ইসলামের খাঁটি দুশমন যারা তারা ছাড়া আর বাকি সবার কাছে উনি শুধু আলোকিত না, জ্যোতির্ময় একটি নাম।

 

হ্যাঁ সরকার ও সরকাররের অন্ধ সমর্থকদের জন্য অবশ্য উনি খুবই বিপজ্জনক একটি নাম। কারণ বিএনপি-জামাতকে প্রায় হজম করে ফেলে ২০২১ পর্যন্ত নিজেরা ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশকে লুটেপুটে সর্বস্বান্ত করা ও অবশেষে ভারতের অঘোষিত উপনিবেশে পরিণত করার ব্যবস্থা যখন প্রায় পাকা _ ঠিক তখনই আল্লামা শফি আহুত স্মরণকালের বৃহত্তম গণআন্দোলনে সেই পরিকল্পনা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমানে এই হেফাজতের প্রভাবেই প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে যত্নের সাথে অপ্রতিরোধ্যভাবে হেরে ভূত হয়ে চলেছে সরকার। জনসমর্থন স্মরণকালের নিম্নতম শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে ৬৫ বছরের ইতিহাসে এই আল্লামা শফির আন্দোলনের কারণেই। সেজন্যেই আল্লামা শফি ও হেফাজত এখন সরকারি দলের আতঙ্কের আরেক নাম, যাকে যুগপৎ ভীষণ ভয় ও ঘৃণা করে সরকার এবং সরকারের অন্ধ সমর্থকরা।

 

মাওলানা শফির ওয়াজ সাধারণ ইসলামপ্রেমী মানুষের জন্য। উনি আঞ্চলিক ভাষায় ওয়াজ করেন। ইসলামে যা আছে তাই বলেছেন বাড়তি কিছু বলেন নি। আঞ্চলিক ভাষায় করা সাবলীল এই ওয়াজটি অধিকাংশ মডারেট মুসলিমদের মত ‘উচ্চশিক্ষিত’ রুচিবান’ ‘শহুরে’ মানুষদের জন্য নয়, যেহেতু না মানতে না মানতে ইসলামের খুব কম হুকুম মানার যোগ্যতাই এখন তাদের অবশিষ্ট আছে। আল্লাহর দ্বীনকে তারা মোটামুটি খেলতামাশার বস্তু বানিয়ে ফেলেছেন যেটুকু ইচ্ছা হয় মানেন, যেটুকু ইচ্ছা হয় না মানেন না। এই ওয়াজ তাদের মত মানুষদের জন্য না, যারা মানতে অভ্যস্ত ও মানতে পারেন সেইসব কম শিক্ষিত কিন্তু অনুগত সহজ সরল সাধারণ মানুষদের জন্য। সাধারণভাবে মডারেট মুসলিমদের জন্য জন্য সহজপাচ্য ওয়াজ ও ফতওয়াও মাওলানা শফি দিয়েছেন। যেমন ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটুকু পর্দা করেন বা পোষাক পরেন, সেটুকু পর্দা করলে বা পোষাক পরলেও গ্রহণযোগ্য হবে।’ মনে পড়ে এই কথাও শফি সাহেব বলেছিলেন ?

 

আগের যুগে পুঁথি পড়া হত, নামতার সুরে গ্রামবাংলার অজ পাড়াগেঁয়ে মানুষের কথ্য ‘প্রাকৃত’ ভাষায় যেসব অপভ্রংশনির্ভর পালাগান রচনা করা হত _ যার প্রতিফলন যাত্রা-পালাগানেও আমরা এখনো দেখতে পাই, সেটি আবহমান বাংলার গ্রামীণ লোকায়ত সংষ্কৃতির আবহের সাথে যতটা সাযুজ্যপূর্ণ, উপভোগ্য, ইন্টারএ্যাকটিভ _ শহুরে আধুনিক নগরসভ্যতার ঘুণচক্করের পাঁচমিশালি মিশ্রশংকর বাকপটু জটিল সংষ্কৃতি প্লাস কোলকাতার বাবুসংষ্কৃতির কুটিল মিশ্রণে ‘গোছানো’ কথাবার্তায় অভ্যস্ত শহরবাসীদের মানসিক গঠনের কাছে ততটাই দূর্বোধ্য, বিরক্তিকর। এখন শহুরে ভাষায় ওয়াজ করলে তা হবে গ্রাম্য মানুষদের কাছে দূর্বোধ্য _ তাদের জীবনযাপন-রঙ্গরসিকতা-বোধগম্যতা কিছুই শহরের মানুষদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এখন পালাগান গায়কই হোক বা ধর্মজ্ঞানী আল্লামা শফিই হন _ যার যার যে মেসেজ গ্রাম্য মানুষদের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন সেটি তাদের মত করেই তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। আমার ধারণা আল্লামা শফি এই ক্ষেত্রে মূল বক্তব্যটি পৌঁছাতে পেরেছেন।

 

বলা বাহুল্য আজকের দিনে পুঁথিপাঠ-পালাগান গ্রামের সহজিয়া সংষ্কৃতির ধারক কৃষক-শ্রমিকদের কাছে এখনো যে আবেদন রাখে, রাত জেগে পরম আগ্রহ নিয়ে সরলমনে যেভাবে তারা শোনে _ শহরের মানুষ পাঁচ মিনিট শুনলেই হাই তুলতে শুরু করবে, বিরক্তি প্রকাশ করবে। পুঁথিপাঠ-পালাগানের মতই সহজিয়া সংষ্কৃতির আরেকটি অনুসঙ্গ হচ্ছে ‘ওয়াজ মাহফিল’, যে লিংকটি দিয়েছেন সেটি গ্রামের ওয়াজ মাহফিল যাতে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করে সাধারণ গ্রামবাংলার মানুষের কাছে সহজ সরল ভাষায় কিন্তু ‘তাদের মত করে’ ‘উপভোগ্য’ করে ‘সহজবোধ্য’ করে ধর্মের বাণী পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এখন এই গ্রাম্য অডিয়েন্সের সামনে আঞ্চলিক ওয়াজকে যদি আপনি ‘আধুনিক শহুরে রুচির’ পাল্লায় মাপেন তাহলে সেটি ‘অবিচার’ হবে।

 

উপসংহার :

 

যারা আজ আল্লামা শফির বক্তব্যের ছিদ্রান্বেষণে পাগলপারা হচ্ছে তারা কারা এবং তাদের উদ্দেশ্য ও বিধেয় কি তা বাংলাদেশের আপামর তাওহীদি জনতার অজানা নেই। ৫ টি নির্বাচনে গণমানুষের কাছে তাদের অবস্থান কোথায় তাও স্পষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দলের পুরনোদের কাছেও তাদের পারফরমেন্স আজ বিপজ্জনকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় মরিয়া হয়ে তারা আত্মরক্ষার পথ খুঁজছে। হেফাজত ঝড়ে তাদের ২০০৮ এর নির্বাচনী রণতরী আজ ভাঙ্গাতরী হয়ে টালমাটাল অবস্থায় বিক্ষুব্ধ সমুদ্রে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে। বেদিশা হয়ে তাই মিশন নিয়েছে কি করে হেফাজতের প্রভাব খর্ব করা যায়। কারণ জনমনে হেফাজতের যে প্রভাব তা কমাতে না পারলে আগামী নির্বাচনে জয়লাভ তো দূরের কথা পিঠের চামড়া অক্ষত থাকবে কি না সেটাই এখন জ্বলজ্যান্ত দুশ্চিন্তা হিসেবে তাদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।

 

সেজন্যেই তারা একদিকে ইসলামবিদ্বেষীদের তোষণ করে, আরেকদিকে আলেমওলামাদের গণহত্যা করে ‘লালরঙ’ তত্ত্ব দিয়ে বিদ্রুপ করে। কোরআন নিয়ে কুৎসিত ব্যঙ্গবিদ্রুপাত্মক রচয়িতা থাবা বাবাকে শহীদ আখ্যা দেয় _ আবার নিজেরা কোরআন পুড়িয়ে জীবন্ত কোরআন আলেমওলামা-হাফেজ সাহেবানদের ওপর কোরআন পোড়ানোর অপবাদ চাপাতে কসুর করে না। এরাই একদিকে ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে সারাদেশে ধর্ষণের মহোৎসবে মেতে ওঠে _ আবার শফি সাহেবের পুরনো ওয়াজ ঘেঁটে ‘তেঁতুল তত্ত্ব’ আবিষ্কার করে নারীর দরদে দরদি হয়।

 

তবে কিনা চোরের দশদিন গৃহস্থের একদিন। এদের ছলাকলা চাতুরি শয়তানি পাবলিকের সামনে এমন স্পষ্টভাবে নগ্ন হয়ে গেছে যে এখন কোন জারিজুরিতেই আর কাজ হবে না।

[Previously published in Shodalap Blog]

আওয়ামী ধর্মের সমালোচনা এবং একটি প্রশ্ন

নিজের চোখে ইতিহাস সৃষ্টি হতে দেখলাম(যদিও কানের উপর দিয়ে প্রচুর প্রেশার গেলো) খুব বেশী দূরে না – আজকে থেকে ৫ মাস পরই ফেসবুক ভরে যাবে খালেদা জিয়ার “হ্যা অবশ্যই” পর্যন্ত অডিও ক্লিপে।
গ্রুপে গ্রুপে ঘৃণা ছড়ানো হবে ।
৫ বছর পর বলা হবে – খালেদা জিয়া রাজাকার বাহিনীর প্রধান ছিলেন ১৯৭১ এ।
আরো ৫ বছর বাচ্চাদের ইতিহাস বই-এ ছাপা হবে – খালেদা জিয়ার নির্দেশে ইয়াহিয়া,( শেখ সাহেবের প্রিয়)
ভূট্টো আর টিক্কা খান মিলে বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছিলো।
Continue Reading