নতুন বাংলাদেশের সন্ধানে… আমিও থাকবো এ কাফেলায়!

1

by Watchdog BD

ঠিক আছে মেনে নিলাম ৭১’এর যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারের দলই আমাদের আসল সমস্যা। চারিদকে রব উঠছে এদের নির্মূল করলেই নাকি দেশের সব সমস্যায় ম্যাজিকেল চেঞ্জ আসবে। আসুন এবার এ সমস্যরা স্থায়ী সমাধানের দিকে চোখ ফেরাই। যুদ্ধাপরাধীদের নির্মুল এখন সময়ের ব্যপার মাত্র। এ নিয়ে নতুন কোন তেনা প্যাচানোর সুযোগ নেই। বাকি রইল রাজাকারের দল। এখানে আমাদের মূখ্যমন্ত্রীর বয়ান আমলে না নিলে দেশদ্রোহির খাতায় নাম লেখাতে হবে। এই যেমন তিনি বলেছিলেন ‘সব রাজাকারই যুদ্ধাপরাধী নয়’…বক্ত্যবের সাথে দ্বিমত করার কারণ দেখিনা। ৭১’সালে আমাদেরর বাড়ির কাজের ছেলে গিয়াস উদ্দিন নাম লিখিয়েছিল রাজাকারের খাতায়। সে বছর সেপ্টেম্বরের দিকে তার একটা ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। মূল উদ্দেশ্য ছিল বাড়ি হতে চুরি যাওয়া জিনিসগুলোর একটা হদিস করা। গিয়াস উদ্দিন গালভরা হাসি দিয়ে জানিয়েছিল চুরির ব্যপারটা তারই কাজ। তবে সে একা করেনি অপকর্মটা। সাথে জড়িত ছিল স্থানীয় রাজাকারের কমান্ডার। ডিসেম্বরের শেষ দিকে গেসুকে আটকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজন। বড় ধরনের চাঁদার দাবি মেটাতে না পারার কারণে তার গলা কেটে ঝুলিয়ে রাখা হয় শহরের মূল চত্বরে। গেসুর মত এমন অনেক রাজাকার ছিল যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসাবে বিবেচনা করা যায়না। যেমন যায়না আমাদের মূখ্যমন্ত্রীর বেয়াইকে(এই বেচারা কেন রাজাকারে নাম লিখিয়েছিল তা এখনো পরিস্কার হয়নি)… ওদের অনেকে পেটের দায়ে অথবা দাও মেরে ঝটপট মাল কামানোর উদ্দেশ্যে নাম লিখিয়েছিল শত্রু ক্যাম্পে। তর্কের খাতিরে এবং দেশের সুশিল সমাজের দাবি মেটাতে ধরে নিলাম এরাও রাষ্ট্রদ্রোহি এবং গণনির্মুলের আওতায় আনা হবে। ভুলে গেলে চলবেনা আমরা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে কথা বলছি। এবার আসা যাক বাকিদের প্রসঙ্গে। ধরে নিলাম ৭১’এর পরে জন্ম নেয়া জামাত-শিবিরের সদস্যরাও রাজাকার অথবা দেশকে পাকিস্তান বানানোর এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপরাধে রাষ্ট্রদ্রোহি। রাষ্ট্রদ্রোহিদের নির্মুল আইনের চোখে বৈধ। তালিকায় এদেরও নাম থাকবে।

এভাবে খুঁজতে থাকলে সংখ্যাটা কত দাঁড়াবে? অনেকে বলেন প্রায় ১ কোটি। মাদ্রাসার ছাত্র হতে শুরু করে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনদেরও বাদ দেয়া যাবেনা। কারণ তারাও রাজাকার তৈরীর ফ্যাক্টরীর সক্রিয় সদস্য। এবার আসুন এদের সবাইকে সমাজ হতে আলাদা করি। দ্ধিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের সৃষ্ট কনসেনষ্ট্রেশন ক্যাম্পের আদেলে ক্যাম্প বানাই। মাসের পর মাস অনাহারের অর্ধাহারে রেখে দুর্বল করার মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেই। দেশে গ্যাসের সমস্যা থাকলে কেন্দ্র (ভারত) হতে গ্যাস এনে গ্যাস চেম্বারে পুড়িয়ে মারি। এভাবে একদিন দেশ হতে রাজাকার, দেশদ্রোহি, রাজাকার তৈরীর মেশিনারীজ সহ সবকিছু নির্মুল হয়ে যাবে। ১ কোটি লাশ মাত্র ৫৫ হাজার বর্গমাইল এলাকায় কবর দিতে অসুবিধা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওসামা বিন লাদেনের লাশ দাফন করায় ওবামা প্রশাসনের পথ অবলম্বন করলে কাংখিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিতে হবে এসব লাশ। হাঙ্গর, কুমির, কুকুর, বেড়াল, হিংস্র মাছের শিকার হয়ে একদিন পৃথিবী হতে মুছে যাবে এদের উপস্থিতি। সমস্যার পাকাপোক্ত সমাধান চাইলে দেশের অলিগলিতে গজিয়ে উঠা মসজিদ, মাদ্রাসা গুলোও গুড়িয়ে দিতে হবে। যারা ধার্মিক হয়ে বেঁচে থাকতে চাইবে তাদের জন্মনিয়ন্ত্রনের আওতায় এনে স্থায়ী বন্ধ্যাত্ব বাধ্যতামূলক করতে হবে। এবার আসুন কল্পনা করি এবং স্বপ্ন দেখি এমন একটা বাংলাদেশের। ধরে নেই বাংলাদেশ এখন শাহরিয়ার কবির ও গণজাগরন মঞ্চের স্বপ্নের দেশ।

এ এক নতুন বাংলাদেশ। এখানে মৌলবাদের খুটি হয়েছে উৎপাটিত। জঙ্গিবাদ এখানে ইতিহাস শিক্ষার অধ্যায়। তার বদলে এখানে প্রবাহিত হচ্ছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্নিগ্ধ বাতাস। এখন মঙ্গল প্রদীপের আলোতে সন্ধ্যা নামে। সকাল বেলা আযানের ধ্বনিতে কলুষিত হয়না শহর, বন্দর, নগর, হাট, মাঠ, ঘাটের বাতাস। পাখিরাও কিচির মিচির শব্দে উচ্চারণ করেনা মৌলবাদী হামদ ও নাথ। বরং তাদের মুখে কবি গুরুর কবিতা ও গান। গৃহবধুদের জন্যও এখানে স্বামীর পাশাপাশি নাগর রাখার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এমন একটা সুজলা, সুফলা সোনার বাংলাদেশের জন্য আমার একটাই প্রশ্ন থাকবে, এখানে লুটেরাদের স্থান কি হবে? যে নেতা নেত্রীরা চেক দিয়ে চাঁদাবাজি করলেন হবে কি তাদের বিচার? পদ্মাসেতু খেকো আবুল চোরা, রেলখেকো সুরঞ্জিত চোরা, হলমার্ক ও ডেসটিনি খেকো রাজনীতিবিদ, আমলাদের পরিচয় কি হবে? দিনের পর দিন বছরের পর ধরে যারা জনগনের পকেট কেটে নিজেদের ভাগ্য গড়েছেন তাদের কি আনা হবে বিচার আওতায়? যে হায়েনা দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে মূখ্যমন্ত্রীর তকমা লাগালেন তার পরিণতিই বা কি হবে? বিচার হবে কি এসব অন্যায়, অনাচার আর কুকর্মের? যদি তা হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে আমিও নাম লেখাতে চাই এ কাফেলায়। অন্যায় কেবল রাজাকাররাই করেনি, অন্যায় করেছে এ দেশের রাজনীতিবিদ, আমলা, ডাক্তার, ইঞ্জিনীয়ার, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, উকিল, বিচারক সহ লাখ লাখ রক্তখেকো পশু। কাদের মোল্লার রুমমেট বানাতে তাদেরও কি পাঠানো হবে ম্যানিলা রশির দুয়ারে? যদি তা নিশ্চিত হয়, আমিও আছি জাতীয়তাবাদের কাতারে। তবু সুন্দর হউক আমাদের জন্মভূমি। কলংকমুক্ত হউক এ দেশের মাটি, আকাশ, বাতাস…
http://www.amibangladeshi.org/blog/01-14-2014/1437.html

Is Nazism rising in Bangladesh ? -1

2

by M Chowdhury

Comparative discussion of the characteristics of historic Nazi regime and current Bangladesh regime

I wrote earlier, how the propaganda strategy adopted by the current regime in Bangladesh is stunningly similar to that of the Nazis in 1930s and 40s; I held this view long before the rise of Shahbag.

As a result, I have often receive few kinds words from fellow “sushils” who seems to think of this as a political blasphemy. In my personal opinion this sheer horror is generated by most sushil getting Fascism confused with dictatorship ( a hated one, that is) ; because I often get asked if I have any doubt about the massive public support AL  commanded. “Hey, Hitler was popular too” – is always my simple answer.  The point is, a Fascist regime does not necessarily need have zero public support, in the contrary history shows us that Fascist regime can start off with significant public support or the delusion of so.

19799175316C741A87

Fascism as an ideology is quite hard to define, however it has been proven to display some common characteristics. A close observation of these characteristics, with comparison of current Bangladeshi regime can that the fear of rising fascism in Bangladesh might not be yet another political claim.

“Extreme” Nationalism

Extreme Nationalist, combined with a totalitarian authority is Fascism’s distinctive property. Fascist regimes, throughout the history made constant use of extreme nationalism. This serves the purpose of creating the common ground for creating a “mass movement” in which the middle-class can prevail. This also creates a sense of comradeship, a mindset of being in a “war” with the political opponents and a sense of sacrifice for the mission of  national regeneration.

In post-world war 1 Germany, Hitler’s Nazi used the national regeneration theme with colossal success and sold Nazi party to be the only viable option to regain the lost Germanic pride. While the Nazis used nationalism in the backdrop of a lost war and “humiliating” Versailles Treaty, Bangladesh’s fascist could not have used such tactics in their ground for mass movement because of two problems. Firstly, we don’t have a lost war, we have a war where we were valiantly victorious against all odds.

130234080557829814

The second and much bigger one is that of India; any self-respectful patriotic or nationalist movement is bound to be vocal about the biggest and greatest aggressive entity the nation has been facing for over four decades, in Bangladesh’s case which is India with its border aggression and BSF brutality, water sharing issues and economic and cultural aggression etc. As India also happens to be AL’s greatest foreign ally, the AL intelligentsia needed to conceive a different type of nationalism.

18494650003E86C7CF18391768406C741A87

As a result, a fusion is created where AL, the leftists parties, liberation war, 71, Father of the Nation etc are jumbled in to a fallacy called 71’s “chetona” and the fascist propaganda machine played its part in sanctifying this so called chetona. This does a lot of good for a fascist movement in rise; it gives them a ground for mass movement, takes the focus of any patriotic sentiment away from India, gives AL the right to identify anyone as the enemy of the chetona and gives the young hot-blooded recruits a shadow war to fight against the so called enemies.

18614982557829814

The young generation trapped into this fallacy grows up learning that the chetona is sacred, so much so that a regime can do it whatever it likes in the name of 71. They never stops to ask  why the leftist party leaders today becomes the guardian of 71 when they stayed away from the liberation war describing it as the fight of two dogs, they never ask how media censorship is aligned with the spirit of free democratic Bangladesh. They never hesitate  to call Kader Siddiqui, the 71 war hero as a “razakar” and idolizes certain sci-fi author as national hero and forgets to ask him why wasn’t he in the war front in 1971.  These ultra nationalists are so lost in their fallacy that they forget to demand justice for Bishyajit, they chant “Fashi ” and not “Justice”   and while in the nation is in turmoil, they are happy setting the world record for creating the biggest flag.

This patriotism is extreme, blind and delusive; it teaches young men to dresses up in green and red the regime is killing democracy; it teaches them to shut their eyes and rejoice the coming back of the saviour of chetona while the regime is self electing itself for a second term and moving towards a total authoritarian structure.

-13900090983E86C7CF

Another important aspect of the German Nazi ultra-nationalist is its display through paraphernalia. There were slogans, mottos, songs and flags. A similar trend can be observed in Bangladesh, especially in regime backed rallies, gathering etc; there is a inclination of creating this delusion of unity and a silent  effort of  fuelling the urge to join the common ground of chetona.

-1404623626056FEACD

The way the current regime has created the fallacy of Nationalist and were able to create a cult culture around it is very similar to the ultra nationalist extremism created by Nazi regimes in the past and it does make one to wonder, Is Nazism rising in Bangladesh ?

( Thanks to work of R. Verma and Emilio Gentile)

চেতনার মর্মবাণী জাগাও প্রাণে

নিরীহ পাবলিক

২৭ ডিসেম্বর ২০১৩/ দুই দিন আগেও যেই সরকার আর্মি, পুলিশের সশস্ত্র পাহারায় জোর পূর্বক গাড়ি চলাচলে বাধ্য করছিলো তারাই এখন আবার সেই আর্মি, পুলিশ দিয়েই জোর পূর্বক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ঢাকার আবাসিক হোটেলগুলোর কর্তৃপক্ষকে সরকারীভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তারা যেন অপরিচিত কাউকে রুম ভাড়া না দেয়। হোটেল ওয়ালার জ্ঞাতী গোষ্টি ছাড়া কেউ যদি থাকতে না পারে তাহলে তাকে হোটেক বলার মানে কি? সরকারের এইসব ভাঁড়ামো কর্মকান্ডে এমন নিদারুণ পরিস্থিতেও নিরীহ পাবলিক কৌতুক বোধ করে। কিন্তু যাদের সব দেহছিদ্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঠাসা তারা নিশ্চয় এসবের মর্মার্থ বুঝতে পারেন, বুঝতে পেরেই মনে মনে তাদের চেতনাবাদী নেত্রীর প্রশংসা করেন। গত চল্লিশ বছরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নানান দিক নিত্যনতুন আলোকে উদ্ভাসিত হয়েছে। বিগত কিছুদিন যাবত এই চেতনা উপচে পড়ছে। চেতনায় উদ্ভাসিত এইসব কর্মকান্ডে কৌতুকবোধ না করে বরং এগুলোকে সরবে বা নিরবে আত্নস্ত্ব করার মধ্যেই প্রকৃত বাঙ্গালীত্ব নিহিত আছে। এছাড়াও চেতনাপন্থী বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিকদের গত চার দশকের কর্মকান্ডে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কতিপয় মৌলিক বৈশিষ্ট্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা রাজাকার ব্যতীত সকল বাঙ্গালীরই গলাধঃকরন করা কর্তব্য। চেতনার তিন লক্ষণঃ

১/ মিথ্যাচারঃ যে যত বেশী মিথ্যা বলতে পারবে সে তত বড় চেতনাধারী। গাঁজাখুরি গল্পের আবেগী বয়ান বিশেষভাবে চেতনা বর্ধক। শুনেছিলাম গ্রামদেশে পলাতক মুক্তিযোদ্ধার কৌতুক প্রচলিত আছে- যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়া যুবক এখন গর্বের সাথে নিজের বীরত্ব জাহির করে বেড়ায়, ‘আমিতো পাঞ্জাবীদের সাথে একবার মুখোমুখি যুদ্ধ করেছি, সে-কি গোলাগুলি! হঠাৎ একটা বুলেট আমার কানের পাশ দিয়ে সাঁই করে চলে যাচ্ছিলো, তাকাইয়া দেখি বুলেটের গায়ে লেখা ‘মেইড ইন চায়না’/ আমাদের চেতনাবাদী পলাতক মুক্তিযোদ্ধারাও এমন গল্প করেন এবং সেগুলোই চেতনাবাদীদের চেতনার মূল উপজীব্য, মুক্তিচেতনা জাগিয়ে রাখার একমাত্র ভাবসম্পদ। আর আমাদের চেতনাবাদী শাসকগোষ্ঠির মিথ্যাচার তো এখন মহাকাব্যের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

২/ গুম, খুন, লাশোল্লাসঃ গুম করে খুন করা কিংবা খুন করে গুম করা। সদল বলে পিটিয়ে কোন নিরস্ত্র মানুষকে লাশ বানানো, লাশ নিয়ে মানুষখেকো জংলী কায়দায় লাফালাফি করে উল্লাস করা এসবই এখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অংশ হয়ে গেছে। চেতনাপন্থীদের রাজত্ব আর কিছু দিন চললে ডিসকোভারী চ্যানেল আমাজন জংগল ছেড়ে ঢাকা শহরে আসবে মানুষখেকোদের ভিডিও দৃশ্য ধারন করতে। হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ দূরত্বে বসে তারা ভিডিও করবে আর চেতনাপন্থী লগী বৈঠা বাহিনী রক্ত মাখা দাঁত বের করে অট্টহাসি দেবে টিভির পর্দায়।

৩/ ভারতের দালালীঃ ভারতের দালালী না করে কেউই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাধারী হতে পারে না। ভারতের জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানানো হবে, দেশে দূর্ভিক্ষ লাগিয়ে হলেও ভারতের স্বার্থে বাঁধ নির্মান করা হবে, ভারতকে ট্রানজিট দিতে নদীর মাঝখানে রাস্তা বানিয়ে দেয়া হবে, ভারতীয় বাহিনী যাকে যখন খুশি গুলি করে মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখবে। একমাত্র রাজাকার ছাড়া কেউ এসবের বিরুদ্ধে কথা বলবে না, বলতে পারে না। এজন্যই এর আগে যখনই ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোন মিছিল সমাবেশ হয়েছে তাতে চেতনাধারী বাহিনী হামলা করেছে। করাই স্বাভাবিক। কারণ বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে ভারতের শাসকগোষ্ঠির সেবাদাসী হিসেবে টিকে থাকার জন্য। বন্ধু রাষ্ট্রের গুলিতে সীমান্তে বীর বাঙ্গালী বেঘোরে প্রান দিবে-এটাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অংগীকার, জাতির পিতার স্বপ্ন। বন্ধুরাষ্ট্রের দেয়া বাঁধে বাংলার জনতা পানির অভাবে আর্সেনিক খেয়ে মরবে এটাই আমাদের গৌরবের অর্জন। এই সত্য যারা এখনো বুঝতে পারে নাই তারাই ভারতের বিরোধীতা করে- তারাই রাজাকার। মূর্খরা ভাবে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করেছে। চেতনাধারীরা ঠিকই জানে এইদিন বাংলাদেশের অধীনতা পাকিস্তানের কাছ থেকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে মাত্র।

 

 

 

 

 

 

 

টিক্কা খানের আসনে আওয়ামী লীগ!

by Watchdog Bd
কাদের মোল্লার ফাঁসির তাবিজ গলায় ঝুলিয়ে ডেডিকেটেড আওয়ামী একটিভিষ্টরা অনলাইনে যেসব গান গাইছে তা এখন লাশ নিয়ে গোরস্তানে যাওয়ার গানের মত শোনাচ্ছে। মিহি সুরের এসব গানে আগের মত প্রাণ নেই। গলায়ও নেই তেমন জোর। অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচারকে ডিফেন্ড করার বাংলা শব্দের ভান্ডার খুব ধনী নয়। লম্বা সময় ধরে এসব সীমিত শব্দের ব্যবহার খেই হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা তৈরী করে মাত্র। ছাগল, ছাগু ও পাকি, এই তিন শব্দের কীর্তন এ মুহূর্তে নেতিয়ে পরা চেতনা উজ্জীবিত করার জন্য যথেষ্ট হবে বলে মনে হচ্ছেনা। কারণ আওয়ামী লীগ এখন ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খানের আসনে। আর আপনারা যারা এদের নিয়ে নাচতে গিয়ে অন্তর্বাস খুলে ফেলছেন তারা বসেছেন কাদের মোল্লা, আমিনি, নিজামীদের চেয়ারে। অন্যায়, অবিচার আর অত্যাচারের কোন দেশ, কাল, পাত্র থাকেনা। সব দেশে সব কালে এরা খুনি, তস্কর ও লুটেরা হিসাবেই চিহ্নিত হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের জন্য এ মুহূর্তে নতুন কোন সংজ্ঞা তৈরী হবে তার সম্ভাবনাও কম। আপনাদের লীগ এখন মরা হাতী। যারা কাকের মত কা কা সুরে এই হাতির ঘুম ভাঙ্গাতে চাইছেন তাদের চেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা একবারেই শূন্য। মরা হাতী এক সময় লায়াবিলিটি হয়ে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত কেউ না কেউ উদ্যোগ নিয়ে ছুড়ে ফেলবে ভাগাড়ে। আরও কটা দিন হয়ত হাতে রাইফেল নিয়ে পুলিশের তাফালিং চলবে, অন্ধকারে চোখে কালো চশমা লাগিয়ে র‌্যাব নিজেদের র‌্যাম্বো ভাবতে থাকবে, সেনাবাহিনীর কামানে চড়ে হানিফ, লতিফ, ইনু, হাসানদের টেংরা মাছের নাচ অব্যাহত থাকবে।

৭১’এ কাদির কসাইরাও একই নাচ নেচেছিল। কিন্তু হায়, নাচের সমুদ্র এক সময় নদী হয়ে যায়, নদী হয় পুকুর এবং পুকুর রূপান্তরিত হয় ডোবায়। ডোবার টেংরা মাছ অক্সিজেনের অভাবে চিতপটাং দিয়ে নেচে নেয় শেষ নাচ এবং বিদায় নেয় ইহজগৎ হতে। ৭৫ সালে ক্ষমতার দাপট এবং তা চিরস্থায়ী করার লিপ্সা হতে শেখ মুজিব যে ভুল করেছিলেন দল হিসাবে সে ভুলের মাশুল আওয়ামী লীগকে গুনতে হয়েছিল অনেকদিন। এবং অনেক গুলো বছর। ২০১৩’তে এসে শেখ হাসিনা যে ভুল করলেন তার মূল্য দল হিসাবে আওয়ামী লীগকেই শোধ করতে হবে। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিলনা। আওয়ামী ছিল জনগণের দল। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ছিল তাদের ভাগ্য। পাকিস্তানী সামরিক স্বৈরশাসক, ৭১’এর ইয়াহিয়া-টিক্কা চক্র, এরশাদ চক্রের নয় বছর হতে মুক্তির লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ ছিল অগ্রপথিক। কিন্তু একজন মহিলা তছনছ করে দিল এ ঐতিহ্য। নিজের ইচ্ছা, পারিবারিক স্বার্থ আর প্রতিবেশী দেশের তাবেদারি করতে গিয়ে খেয়াল খুশিমতো দলকে ব্যবহার করলেন এবং টেনে আনলেন এমন একটা অবস্থায় যেখান হতে দলীয় পরিচয়ে নেতা কর্মীরা জনগণের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে। কারণ তাদের জন্য দেশের অলিগলিতে পাতা আছে মৃত্যু ফাঁদ। এ ফাঁদ কেবল জামাতি ফাঁদ নয়, সাধারণ জনগণেরও ফাঁদ। বন্দুকের নলের মুখে দেশ শাসন ইয়াহিয়া টিক্কা খানদের শোভা পায়, আওয়ামী লীগের মত জনগণের দলকে নয়।

জামাতি, পাকি আর রাজাকার বচন হয়ত ক্ষণিকের আনন্দ দেয়, উল্লাস করতে খোরাক যোগায়। কিন্তু তা ক্ষতির জায়গায় ইট-সুরকি সিমেন্ট বসাতে সহায়তা করেনা। রাজনীতি করতে নেতা-নেত্রীর পাশাপাশি জনগণ লাগে। এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সব আছে। আছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী, একদল নেত্রীকানা দলদাস। কেবল নেই জনগণ। প্রমান চাইলে সব ছেড়েছুড়ে নির্বাচনে গিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করে আসুন। দুঃখ পাবেন, কষ্ট লাগবে। জান নিয়ে পালিয়ে আসতে পারলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করবেন।
http://www.amibangladeshi.org/blog/12-27-2013/1428.html

 

রাজাকার : ‘৭১ বনাম ২০১৩ এডিশন

razakar 3

ভারতীয় অলিখিত ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদি আধিপত্যকামীদের একটা স্থুল কৌশল হল _ এভাবেই বার বার ‘৭১ এর ধূয়া তুলে পাকিস্তান জামাত-শিবির ইত্যাদি জুজু দেখিয়ে চলমান রাষ্ট্রীয় সহিংসতার ‘বর্তমানের চালচিত্র’ কে আড়াল করে রাখার ধুরন্ধর এক অপকৌশল। ‘৭১ এর রাজাকারদের তুলনায় ২০১৩ এর রাজাকাররা অত মোটাদাগের নয়, অনেক বেশি চিকনদাগের সুক্ষবুদ্ধিসম্পন্ন ক্রিমিনাল। আগের মত মোটাদাগের অপরাধ করে ধরা খাওয়া বা জাতীয়-আন্তর্জাতিক-ঐতিহাসিকভাবে নিন্দিত হওয়ার বিপদ এড়িয়ে ধুরন্ধর ডিজিটাল কৌশলে ‘সাংবিধানিক’ উপায়ে রাজাকারির নিত্যনত্যুন পন্থা যেমন আবিষ্কৃত হয়ে চলেছে, তেমনি সেগুলোকে মহিমান্বিত করার প্রয়াসে সাংষ্কৃতিক-বুদ্ধিবৃত্তিক বিদূষকসুলভ চাটুকারিতা একটি আলাদা শিল্পের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সাধারণ মুসলিম হিসেবে আমি কার পক্ষ নেব ? ‘৭১ এর প্রেক্ষাপটে আমি পশ্চিমা হানাদার ও তদীয় দোসরদের পক্ষ নিতে পারি না কারণ তারা অবর্ণনীয় জুলুম করেছে নিরস্ত্র নিরীহ সাধারণ জনগণের ওপর, মতাদর্শিক ভিন্নতার কারণে তো বটেই, সেই রাগ তুলতে গিয়ে যারা কোন দলের ছিল না সেই আপামর সিভিলিয়ান জনগণ তথা গোটা জাতির ওপরই শ্বাপদসুলভ রক্তলোলুপ হিংস্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারা। ‘ভারতীয় হিন্দু’ ‘পাকিস্তানের দুশমন’ ইত্যাদি জুজু দেখিয়ে সেই অজুহাতে বিরোধীদমনের নামে চলছে শহরে বন্দরে-গ্রামে গঞ্জে-মাঠে প্রান্তরে নির্বিচারে চালিয়েছে গুলি, বসতবাটি ধ্বংস-অগ্নিসংযোগ, অবিশ্রান্ত হত্যা-ধর্ষণ-লুটপাটের ক্রমাগত দীর্ঘমেয়াদী কালোরাত্রির অদ্ভূতুড়ে আঁধারে ঘেরা অমাবস্যা।

সেই কারণে আমি একজন অতি সাধারণ, অতি নগণ্য মুসলিম হিসেবে ‘৭১ এর নরঘাতক জালিমদের সমর্থন করি না, করতে পারি না।

আজ এই ২০১৩ তে একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সাধারণ মুসলিম হিসেবে আমি কার পক্ষ নেব ? আজকের প্রেক্ষাপটে আমি ভারতীয় হানাদার ও তদীয় দোসরদের পক্ষ নিতে পারি না কারণ তারা ‘৭১ এর পশ্চিমাদের মত নগ্নভাবে না হলেও সুক্ষ কৌশলে আরো ভয়ংকরভাবে খামচে ধরেছে আমার মাতৃভূমির প্রিয় লাল-সবুজের পতাকার বুক। সাম্প্রদায়িক বর্ণবাদি ভারতীয় হিন্দুদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেশীয় দালালবাহিনী একে একে দেশের সম্পদ সব তুলে দিচ্ছে তাদের প্রভুর হাতে, দেশের প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, মানুষের ধন-মান-প্রাণ সবই অনায়াসে কুক্ষিগত করতে সহযোগীর অক্লান্ত ভূমিকায় পালন করে চলেছে তারা। ভারত থেকে লোক এনে দেশের মানুষকে হত্যা করাচ্ছে তারা। ‘জঙ্গি’ ‘জামাত-শিবির’ জুজু দেখিয়ে সেই অজুহাতে বিরোধীদমনের নামে চলছে শহরে বন্দরে-গ্রামে গঞ্জে-মাঠে প্রান্তরে নির্বিচারে চালিয়েছে গুলি, বসতবাটি ধ্বংস-অগ্নিসংযোগ, অবিশ্রান্ত হত্যা-ধর্ষণ-লুটপাটের ধারাবাহিকতার ‘সূচনা’ হতে দেখছি। সাতক্ষীরায় ‘৭১ এর মতই হত্যা-লুটপাট-বসতবাটিতে অগ্নিসংযোগ _ এমনকি বুলডোজার নিয়ে গিয়ে বাড়ি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত গুঁড়িয়ে দিয়ে আসা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে ৫০ জনের অধিক নারী সমভ্রম হারিয়েছেন, সমভ্রম হারানোর ভয়ে গ্রামত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক নারী।

তাহলে ২০১৩ তে জালিম কারা আর মজলুমই বা কারা সে প্রশ্ন নিজেকে কখনো করেছি ? ‘৭১ এর ব্যাপারে আমি যদি পূর্ব পাকিস্তানের আপামর মজলুম জনসাধারণের পক্ষ নিয়ে থাকি _ ২০১৩ তে এসে আমি নতুন মোড়কে প্যাকেট হয়ে আসা জালিম ভারতীয় রাজাকারদের পক্ষ নিতে যাব কেন ?

razar 2

অনেকে বলেন ‘৭১ এ পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধাবস্থা ছিল সে কারণে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অগণিত সিভিলিয়ান হত্যা-লুটপাট-অগ্নিসংযোগ-নির্বিচারে গুলি-ধর্ষণ এসব হয়েই থাকে, সেটা যুদ্ধেরই অঙ্গ। কিন্তু এই মাটির সন্তান হয়ে যারা এই দেশমাতৃকাকে, দেশমাতৃকার সহোদর-সহোদরাদের পিশাচসুলভ নীচতায় বিদেশী হানাদারদের হাতে হত্যা-ধর্ষণের জন্য তুলে দিতে পেরেছিল _ তাদের ক্ষমা করা অতি অতি দুঃসাধ্য ব্যাপার। ভাল কথা, তাহলে স্বাধীনতা পাওয়ার পর ক্ষমতা হাতে পেয়েও কেন তাদের উপযুক্ত বিচার করা হল না ? কেন তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে এত সহজে ছেড়ে দেয়া হল ? ৪২ বছর ধরে রক্তবীজ থেকে বাড়তে বাড়তে বিশাল অরণ্যে রুপান্তরিত হতে দেয়ার পর এত যুগ পর এখন কেন এই প্রজন্মের ওপর এত বিশাল বিভক্তি-ধ্বংসযজ্ঞ-গৃহযুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হল ? ‘৭১ ধূয়া বার বার তুলে প্রতারণাপূর্ণভাবে ২০১৩ এ এসে ভারতের সেবাদাসত্ব করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ১২টা যারা বাজাচ্ছে চোখের সামনে ভারত কর্তৃক নির্মমভাবে সবকিছু লুন্ঠিত হতে দেখেও সুশীলসমাজ এবং মানবতাবাদিরা নিশ্চুপ কেন ? কেন তারা বর্তমান এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশের নৃশংস হত্যা দেখেও অন্ধের মত চোখ বন্ধ রেখে বার বার ৪২ বছর আগের অতীতের কথা নিয়ে এসে নাটকীয়তা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালায় ?

আজ যেসব যুবক-কিশোর-তরুণ জামাতশিবির করছে তারা কি ‘৭১ এ রাজাকার ছিল ? তাদের তো জন্মও হয় নি সেদিন। যে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পর পাইকারী হারে ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষনা করে, ১৯৯৬ এ জামাতের সাথে আঁতাত করে ক্ষমতার স্বাদ নেয়, একমাত্র বিএনপির সাথে জামাত জোটবদ্ধ হওয়ায় ‘রাজনৈতিক’ কারণেই কি তারা অনেকাংশে জামাতের বিরোধিতা করছে না ? চেতনার হোলসেলাররা যদি আদৌ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হত তাহলে অন্যান্যদের মত তাদেরও একেকজন রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুকুরচুরি করে কেউ শতগুণ কেউ সহস্রগুণ ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি করে কিভাবে ? এই কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ? তাহলে আর ১০টা চোরবাটপাড়ের সাথে তাদের পার্থক্য সূচিত হয় ঠিক কোন জায়গায় ?

আজ বাংলাদেশে ‘৭১ এর মত কোন ঘোষিত যুদ্ধাবস্থা নেই ঠিকই, কিন্তু ভারতীয় সাংষ্কৃতিক-সামরিক-রাজনৈতিক-বাণিজ্যিক হানাদার দস্যুদের অঘোষিত কিন্তু ভীষণভাবে পরিচালিত এই আগ্রাসনে যারা দেশীয় তাঁবেদারের ভূমিকায় নির্লজ্জভাবে অবতীর্ণ হয়ে নিজের দেশমাতৃকার বিরুদ্ধে বীভৎস বিশ্বাসঘাতকের মতো দাঁড়িয়েছে _ আমার কাছে তাদের সাথে ‘৭১ এর রাজাকারদের কোন পার্থক্য নেই। পার্থক্য এতটুকুই যে ‘৭১ এর ঘটনা সম্পূর্ণভাবে ঘটে কালের আবর্তে মিলিয়ে গেছে, ২০১৩ এর রাজাকারদের বিশ্বাসঘাতকতা-নির্যাতন-লুটপাট রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক ছদ্মাবরণে আমাদের চোখের সামনে ঘটছে।

‘৭১ আমাদের পূর্বসূরীদের অতীত _ ২০১৩ আমাদের রক্তাক্ত বর্তমান। যে সঙ্গীন মানবতাবিরোধী অপরাধে ‘৭১ এর অপরাধী নরাধমদের বিচার দাবি করছি, সেই একই যুক্তিতে ২০১৩ এর নব্য রাজাকারদের দুঃশাসন-গুম-খুন-হত্যারও আশু প্রতিকার চায় বাংলার জনগণ। খুব বেশি দেরি হয়ে গেলে হয়তো জনগণ নিজের হাতেই আইন তুলে নিতে বাধ্য হবে, যেমনটি হয়েছিল ‘৭১ এ, রাষ্ট্রের কাঠামো তখন চুর চুর করে চোখের সামনে ভেঙে পড়তে থাকবে তাসের ঘরের মত, মিলিয়ে যেতে থাকবে কর্পূরের মত আমাদের সাধারণ জনগণের অক্লান্ত পরিশ্রমে তিল তিল করে গড়া ৪২ বছরের অর্জন, অনিশ্চয়তার অজানা চোরাবালিতে অসহায়ভাবে তলিয়ে যেতে থাকবে আমাদের ভবিষ্যতকে ঘিরে দেখা শত স্বপ্নের স্বর্ণজাল _ কাজেই তার আগেই সচেতনভাবে জেগে উঠতে হবে বাস্তব দেশপ্রেমের মধুর জ্বালাময় কষাঘাতে _ অদেখা পূর্বসূরীদের প্রাগৈতিহাসিক গৌরবগাঁথায় নয়, নিজেদের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ বর্তমানের ঘূর্ণিতে সটান যোদ্ধার মত দুঃসাহসিক আগুনের পরশমণি বুকে নিয়ে।

নির্বাচনী হলফনামা ও চেতনার পাইকারী ব্যবসা…

মনোনয়নপত্র জমা দিতে তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে এলাকায় গেলেন এবং জমা শেষে একই ফ্লাইটে ঢাকা ফিরে এলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ এক নতুন সংযোজন এবং মনে হচ্ছে তা টিকে থাকার জন্য এসেছে। পরিবর্তনের এ ধারা কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছিলাম শেষবার বাংলাদেশ বেড়াতে গিয়ে। এক বছর আগের ঘটনা। জর্জ (ছদ্ম নাম) আমার ছোটবেলার বন্ধু। তার বাবা ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়ামের সদস্য। মারা যাওয়ার আগে জীবনের শেষ পাঁচটা বছর ভাগ্যের সাথে অসফল লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন। দলের তখন ভাদ্র মাস। চারদিকে নাই নাই ভাব। টেবিলে তিন বেলা খাবার যোগার দিতে রীতিমত হিমসিম খেতে হয়। আয় বলতে কেবল শহরের বানিজ্যিক এলাকায় মার্কেট ভাড়া। জীবন যুদ্ধের এ কঠিন বাস্তবতা আগে কোনদিন মোকাবেলা করতে হয়নি বনেদি এ পরিবারকে। নিউ ইয়র্কে বসে খবর পাই জর্জের বাবার মৃত্যুর। তত্ত্বাবধায়ক নামক ঝামেলার শেষে আওয়ামী লীগ যেদিন ক্ষমতার শপথ নেয় সেদিন আমি দেশে। বাবা নেই, তাই বলে জর্জ বসে থাকেনি। সুদিনকে স্বাগত জানাতে গুলসান এলাকায় মাসিক ৭৫ হাজার টাকায় ফ্লাট ভাড়া নিতে অসুবিধা হয়নি। কারণ জিজ্ঞেস করতে রহস্যজনক হাসি দিয়ে এড়িয়ে গেল সে প্রসঙ্গ। কিছুটা হলেও ধারণা ছিল কি হতে যাচ্ছে এর পর।

২০১২ সালে দেশে গিয়ে যা জানার জানলাম, যা দেখার তাই দেখলাম। ছুরির মত ধারালো শরীরের স্বল্প বসনা এক তরুণী আমাকে ওয়েটিংরুমে বসিয়ে ভেতরে গেল বসের সন্ধানে। চারদিক ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম। রূপকথার মত মনে হল সবকিছু। শান সৈকতের এমন জটিল ও ভয়াবহ সমাহার কেবল কল্পলোকেই সম্ভব। সবকিছু সাজানো গোছানো। চারদিকে মৃতপুরীর স্বব্দতা। মাঝে মধ্যে ফাইল হাতে দুয়েকজন এদিক সেদিক করছে। তাও খুব সন্তর্পণে। বাবার মতই বদমেজাজ ছেলের। সামান্য কিছুতে রেগে যায় এবং ছোটবড় কারও উপর হাত তুলতে দ্বিধা করেনা। এ অফিসের কিসের ব্যবসা হয় জানিনা, কিন্তু কর্মচারীদের চেহারা দেখলে আন্দাজ করতে পারি এ আমার বন্ধু জর্জের ব্যবসা। আমরা একসাথে বড় হয়েছি। পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমন করেছি। অনেক ভ্রমর হতে একসাথে মধু পান করেছি। কিছুটা হতাশ হলাম বন্ধুর দর্শনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে। আগে কখনও এমনটা হয়নি। সাধারণত তাকেই অপেক্ষা করতে হয়েছে। মন হল মেয়েটা ইচ্ছা করে নিতম্ব দোলাচ্ছে। স্কার্টের উপর সাদা শার্টের দুটা বোতাম খোলা রাখছে বিশেষ উদ্দেশ্যে। তার বাবার কথা মনে পড়ল। ভদ্রলোকের চরিত্রও ছিল ভেজালে ভর্তি। ব্যবসায় সুন্দরী সেক্রেটারি তার অন্যতম। পর নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক অনেকটা খোলামেলা ভাবেই প্রকাশ করতে পছন্দ করতেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সাথে টানাপোড়নের অন্ত ছিলনা। আমি ছিলাম তাদের ভেতরের মানুষ। সব পক্ষই আমাকে স্বাক্ষী মানতে স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করত। নিতম্বের শেষ দোলাটা আমার ঠিক মুখটার কাছে এসে শেষ হল। যান্ত্রিক একটা হাসি দিয়ে জানাল একটু দেরি হবে, স্যার এখন ব্যস্ত। আমার নিজেরও সময় ছিলনা। তাই উঠতে হল। নামটা জিজ্ঞেস করে একটা ম্যাসেজ রেখে দরজার দিক পা বাড়ালাম। হয়ত গলার আওয়াজেই হুস হল বন্ধুর। ঝড়ো গতিতে বেরিয়ে এল এবং আমাকে দেখে উল্লাসে ফেটে পরল। কর্মচারীরা মনে হল ভূত দেখার মত কিছু একটা দেখল তাদের অফিসে।

বিশেষ একটা কক্ষ। থরে থরে সাজানো লাল নীল বোতল। এক কোনায় সিংহাসনের মত একটা খাট। পূর্ব লন্ডনের একটা সরকারী ফ্লাট কটা দিন একসাথে শেয়ার করেছি বন্ধুর সাথে। তখনই তার মুখে শুনতাম হবু ব্যবসার স্বপ্নীল কাহিনী। অফিস এবং সাথে সাজানো গোছানো একটা রুম। পুরনো মদের কালেকশন এবং যৌবনা নারী। কাজ আর আনন্দে কেটে যাবে জীবন। কোন কিছুই বাদ রাখেনি স্বপ্নপূরীর সে অফিস হতে। খুব দ্রুত পরিচয় করিয়ে দিল সখের মদ কালেকশনের সাথে। অন্তরঙ্গ মুহুর্তে নতুন করে পরিচয় হল একটু আগে দেখা মেয়েটার সাথে। তার রক্ষিতা। খুব উঁচু পরিবারের কেউ না হলেও ট্রেনিং দিয়ে তাকে উঁচুতে উঠানো হয়েছে। ব্যবসায়িক মনোরঞ্জন তার মূল পেশা। তবে সবকিছুই হয় বিদেশে। থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া সহ ইউরোপের অনেক দেশে তার যাতায়াত। লাভের অংক আশাতীত হওয়ার পরই কেবল উপঢৌকন হিসাবে কদিনের জন্য ছেড়ে দেয়া হয় ক্লায়েন্টের হাতে। শর্ত একটাই, দেশের বাইরে। দু দুটা অসফল বিয়ের পর বন্ধু এখন একা। মনে হল এ নিয়ে খুশির অন্ত নেই তার। যৌন মিলনের ঝাঁপিটা খোলার আগেই থামাতে হল তাকে।

ব্যবসা প্রসঙ্গ আসতে বদলে গেল সবকিছু। তালিকাটা লম্বা। যোগ বিয়োগ শেষে যা বুঝাতে চাইল তার পরিমান মাসিক ২ হতে ৩ কোটি টাকা নীট মুনাফা। এলাকায় অনেককে পালন করতে হয়, তাই লাভের অংশ এতটা ’কম।’ দুয়েকজন কমন বন্ধুর তুলনা দিয়ে জানাল তাদের মাসিক আয় ১০-১৫ কোটির উপরে। দুয়েকটা উপরওয়ালার নাম চাইলে বন্ধু সজাগ হয়ে গেল এবং কৌশলে এড়িয়ে গেল। অবশ্য না বললেও আমি জানি তাদের। কারণ তার বাবার মুখেই শুনেছি কারও কারও নাম। বন্ধু তার পুরানো আক্ষেপটা নতুন করে প্রকাশ করল। আমি দেশে থাকলে তার আয় রোজগার নাকি দশ গুনা বাড়ানো সম্ভব ছিল। মগজ এবং কানেকশনের সমাহার অনেক কিছু বদলে দেয় বাংলাদেশে, চাইলে আমরা দুজনে হতে পারতাম তার চমৎকার উদাহরন। এসব কথাবার্তায় কোন চমক ছিলনা আমার জন্য। টাকা পয়সা আর বিত্ত বৈভবের গল্প বেশিক্ষন শোনা যায়না। বিরক্ত লাগে। এক সময় ক্রোধ এসে জড়ো হতে থাকে। কক্সবাজার ঘুরে আসার প্রস্তাবটা বন্ধুই দিল। পুরানো স্মৃতি রোমন্থন নাকি আসল উদ্দেশ্য। সময় এবং ট্রাফিক জ্যামের কারণ দেখিয়ে এড়াতে চাইলে হো হো করে হেসে উঠল। একটু অবাক হলাম তার অপ্রাসঙ্গিক হাসির জন্য। উওরে জানাল ট্রাফিক কোন সমস্যা নয়, আমরা হেলিকপ্টার ভাড়ায় নিয়ে যাবো। কেবল তখনই কিছুটা হলে আন্দাজ করতে পারলাম বন্ধুর সম্পদের পরিমান। নিউজিল্যান্ডের রটোরোয়া বলে একটা হট স্প্রীং এলাকা আছে। হেলিকপ্টারে চড়ার অভিজ্ঞতা ওখানেই সেরে নিয়েছি জানাতে বন্ধু দমে গেল। রাতে একটা প্রাইভেট ক্লাবে আসার দাওয়াত দিল। অনেক সিনে ও টিভি তারকাদের খোলামেলা জীবনের সাথে চাইলে নাকি পরিচিত হওয়া যাবে। এসব আমার জন্য সব চাইতে অনাকাঙ্খিত উপাদান। তাই ধন্যবাদ জানিয়ে প্রত্যাখান করলাম। বিদায়টা খুব সুখকর হলনা। বন্ধু বুঝতে পারল আমি বিরক্ত হচ্ছি। খালাম্মার কথা জিজ্ঞেস করে অনেকটা গায়ের জোরে বিদায় নিলাম।

গুলসানের এ এলাকাটা খুব অপরিচিত লাগল আমার কাছে। বাড়ি ঘর, রাস্তা ঘাট সবকিছু মনে হল এক একটা অর্থ কামানোর ফ্যাক্টরি। এক সময় জর্জের সাথে প্রতিটা রাস্তা চষে বেড়িয়েছি। অমাবশ্যা জোৎস্না রাতে গলির ধারের ট্রলি হতে ফুচকা খেয়েছি। মিটমিটে আলোর রেষ্টুরেন্ট হতে গরম গরম পরোটা ও ভাজি দিয়ে রাতের খাবার সেরেছি। আর্থিক কষ্ট নিয়ে দুজনের কেউই আমরা বড় হয়নি। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতা ছিল। তাই সবকিছু শেয়ার করেছি। মাঝে মধ্যে রিক্সা ভাড়া নিয়ে দ্বিধায় পরেছি, তর্ক করেছি। আবার হাতে পয়সা এলে দুহাত উজার করে খরচ করেছি। কিন্তু এত বছর পর কোথায় যেন একটা ছন্দপতন অনুভব করলাম। আমার সব চাইতে কাছের বন্ধু এখন কয়েক শ কোটি টাকার মালিক। এবং বয়স তার মাত্র ৪৩ বছর। রাজনীতি নামক ক্যান্সার সমাজের পরতে পরতে চষে বেড়ায় জানতাম, কিন্তু তা এত কাছে আসতে পারে কল্পনা করিনি। বন্ধুর নারায়ণগঞ্জ বাসার তিন তলার ছাদে কত রাত আমরা জোৎস্না দেখেছি, নির্জন শহর দেখার লোভে হাটতে বেরিয়েছি। কিছুই মেলাতে পারলাম না আজ। মনে হল রাজনীতি আসলে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ, যার ছোঁয়ায় রাতকে দিন আর দিনকে রাত করা যায়। আমেরিকার হিংস্র পশ্চিমে অখ্যাত শহরে আমার বাড়িটার কথা মনে পড়ল। রক্ত পানি করা কামানো অর্থের কিছুটা আগাম দিয়ে বাড়িটা কিনতে হয়েছে। বাকিটা শোধ করতে হয়ত আমার এক বছরের ছোট কন্যাকেও এক সময় হাল ধরতে হবে। কর্পোরেট আমেরিকার মাসে দুবার করে পে-চেকের অংকটার কথা মনে হতে দ্বিধায় পরে গেলাম। আমি কি তাহলে জীবন নামক দৌড়ে ব্যর্থ!

পাঠক, নির্বাচনী হলফনামা বলতে প্রার্থীদের যে আমলনামা বেরিয়েছিল তা পড়তে গিয়ে আপনার কি নিজেকে একবারও ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা বলে মনে হয়নি? ওরা রাজনীতির চাক হতে চুকচুক করে মধু লুটছে আর আপনি সে লোটায় উদ্বেলিত হয়ে তালি দিচ্ছেন, একবারও কি এরকম কিছু মনে হয়নি? স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধের চেতনা, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, কাদির মোল্লা, খালেদা জিয়ার জন্মদিন, ফাঁসি – এসব কথন একবারও কি মনে হয়নি বাংলাদেশ নামক দেশটাকে নেংটা করার সিসিম ফাঁক মন্ত্র মাত্র? পড়ে থাকলে মনে আছে কি আলীবাবা চল্লিশ চোরের সে গল্প? আমার কিন্তু মনে আছে। কারণ আমার বন্ধু জর্জদের বাসায় আমি দেখেছি চেতনা বিকাশের এসব সৈনিকদের তৎপরতা। ১৫ই আগষ্ট ওদের বাসায় রান্না বন্ধ থাকে। ২১শে ফেব্রুয়ারী কেটে যায় শহীদ মিনারের পাদদেশে। ১৬ই ডিসেম্বর আসে মহোৎসবের প্রলয় নিয়ে, দলবেঁধে ছুটে যায় জাতীয় শহীদ মিনারে। ওরা রাজাকার নিধনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, খালেদা জিয়া উৎখাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আবার ১লা বৈশাখের সকাল কাটে পানি পান্তায়। কিন্তু দিনশেষ ওদের কুলায় ফিরতে হয়। এবং নামতে হয় বিরামহীন ধান্ধায়। এ ধান্ধা যেনতেন ধান্ধা নয়, দেশকে উলংগ করার ধান্ধা, ধর্ষনের ধান্ধা। তেতাল্লিশ বছর বয়সে কয়েক শ কোটি টাকার মালিক বনতে চাইলে বাংলাদেশে রাস্তা একটাই, চেতনার পাইকারি ব্যবসা। বাকি সব ধাপ্পাবাজি, ধোকাঁবাজি, চাপাবাজি, ছলচাতুরি, ফটকাবাজি ।

বাংলাদেশের জীবনযাত্রায় নাটকের প্রভাব

by Jahid Islam

বাঙ্গালি জাতির নাটকপ্রিয়তা নিয়ে জ্ঞানীগুণী গবেষকরা হয়ত ইতিমধ্যেই বিস্তর লিখেছেন। নাটক ব্যাপারটি যে আমাদের মজ্জাগত-ছোটখাট কিছু উদাহরণ এর মধ্য দিয়ে এই পুরনো সত্যটিকে আবারও তুলে ধরার চেষ্টা থেকে এই লেখার প্রয়াস।

আমি যখন ছোট, আমাদের গ্রামের অনেক বাড়িতেই তখন টেলিভিশন ছিলনা। তবে আমাদের ঘরে একটা সাদা কালো টিভি ছিল। এতে রাতে সাপ্তাহিক বা প্যাকেজ নাটক দেখতে আসা উপচে পড়ার ভিড়ের কথা আমার এখনো মনে আছে। আমাদের যে রুমটাতে টিভি ছিল ঠিক সেই রুমের বিছানাটার মাঝখানের একটা তক্তা ভেঙ্গে গেছে একটা সময়। হয়ত ঘুণে ধরা কাঠ ছিল। তবু আমার বিশ্বাস এতে হাউসফুল দর্শকের একটা না একটা ভূমিকা না থেকে যায় না। “কোথাও কেউ নেই” নাটকে বাকের ভাইয়ের আসন্ন ফাঁসির কথা কল্পনা করে ভক্তকুলের মধ্যে যারা মহিলা দর্শক ছিলেন (আমি এবং আমার ভাই ছাড়া প্রায় সবাই এবং তারা বেশীর ভাগ ছিলেন আমার চাচি ও ফুপু সম্প্রদায়ের) কয়েক পর্ব ধরে তাদের সে কি মলিন চেহারা ! এমনকি এই নাটকে বাকের ভাইয়ের ফাঁসির বিরুদ্ধে ঢাকা শহরে মিছিল এবং হুমায়ূন আহমদের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের মত ঘটনা শুনেছি। ঘটনার সত্যতা যাচাই করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে যদি সত্য নাও হয় তবু এই ধরনের জনশ্রুতি তৈরির ব্যাপারটি নাটকের প্রতি আমাদের ভালবাসাকেই নির্দেশ করে।

নাটকের এই প্রভাব গ্রামীণ সাদাসিধে মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চ শ্রেণীর শিক্ষিত মানুষ,সবার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। এমনকি এই দেশের আদালতে পর্যন্ত। যোদ্ধাপরাধীদের বিচারে আসামীর বিরদ্ধে অপরাধের প্রমাণ স্বরূপ যে সব ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হয় তাতে স্থান পেয়েছে মুনতাসির মামুনের লেখা নাটক। হেরেসিম লেবেদেফ যিনি বাংলা নাটকের সূত্রপাত করেন বলে এক সময় মাধ্যমিক শ্রেণীর বইয়ে পড়েছিলাম আজ বেঁচে থাকলে তাকে হয়ত জিজ্ঞেস করা যেত, “ ভাইসাব আপনার উদ্ভাবিত জিনিসটির এই সাফল্য দেখে আপনার অনুভূতি কেমন” ?  তিনি যে জিনিস চালু করেছিলেন তার প্রভাব যে একদিন একটা গোটা জাতির প্রাত্যহিক জীবনে পড়বে এবং এ দিক থেকে যে তিনি একদিন শেকসপিয়ারকেও ছাড়িয়ে যাবেন তিনি কি তা কখনো চিন্তাও করেছিলেন ?

দেশীয় রাজনীতিতে নাটকের প্রভাব আরও প্রকট। আর তাই  নাট্যকাররা  জনপ্রিয় পলিটিক্যাল কমেনট্রিও লিখে থাকেন দৈনিক পত্রিকায়। এমনকি টিভি টকশোতও রয়েছে তাদের প্রাধান্য। তাদের যুতসই বিশ্লেষণ পড়ে পাঠক চলে যান কল্পনার রাজ্যে। দর্শক বা পাঠকের উদ্ভাবনী শক্তিকে উসকে দেন এই নাট্যকাররা। ঘোরতর সঙ্কট হতে জাতিকে রক্ষা করার জন্য জাতীয় পতাকা দিয়ে রেকর্ড করার মত নাটকীয় বিষয়টি খুঁজে বের করেন সমঝদার পাঠকবৃন্দ। এখানেই শেষ নয়। এই নাটকের অভিনেতারা অনেকেই দেশের সেবায় নিয়োজিত সাংসদ। তাঁরা যে কোন সঙ্কটে দেশকে রক্ষা করবেন ঠিক সেভাবে যেমনটা সিনেমাতে প্রিয় গোথাম নগরীকে রক্ষা করেন ব্যাটম্যান।

পিছিয়ে নেই মঞ্চ নাটকও। সমানতালে এর প্রভাবও রয়েছে দেশের রাজনীতিতে। মঞ্চ নাটকে যেমন জোরে জোরে সংলাপ বলা হয়, আমাদের রাজনীতিবিদরাও বক্তৃতায় অনেকটা সে কাজই করেন। যিনি যত জোরে সংলাপ বলবেন তিনিই এই মঞ্চে তত ভাল বক্তা বা অভিনেতা। এমনকি নাটকের আদলে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ সাজানোও ত আমাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্যেরই অংশ।

নাটকের দৃশ্যে কাহিনীর প্রয়োজনে দৃশ্যপটে উঠে আসে হারিয়ে যাওয়া পুরনো চরিত্র। এমনটা আছে আমাদের রাজনীতিতেও। কয়েকদিন আগে দেখলাম শামীম ওসমান সাহেব বক্তৃতা দিচ্ছেন এবং জনতা এই মহান বীরকে তুমুল করতালি দিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছে। ঠিক যেন রোমান বীর জুলিয়াস সিজারের মত। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে তার ভোট না গণনা করেই যে প্রতিপক্ষের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা সম্ভব এ সত্যটিও এই মহান নেতা খুব ভাল করেই জানেন। কিন্তু তবু তিনি জনপ্রিয় নেতার ভূমিকায় অভিনয় করবেন এবং বাজারে এই অভিনয়ের সমঝদার দর্শকও কাছে। আওয়ামি লীগ যদি সত্যিই অনেক দিন  ক্ষমতায় থাকে তখন তিনি আসবেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যেমনটা আসতেন জয়নাল হাজারি । মানুষ তাকে নতজানু হয়ে সালাম দিবে। আর ভাব করবে এমন – “ আহা আপনাকেই ত জাতি চায়। এতো দিন কোথায় ছিলেন ? ”/ জাতির ক্রান্তি লগ্নে জাতিকে মূল্যবান পরামর্শ দেবার জন্য তিনি টকশোতেও হাজির হবেন। কিংবা “সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল” শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে তিনি আসতেই পারেন অতিথি বক্তা হিসেবে।

শাহবাগ আন্দলনের অন্যতম নায়ক ইমরান এইচ সরকার পুলিশের হাতে মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনিও এ জাতির আরেকজন দক্ষ নেতা (পড়ুনঃ অভিনেতা)/ ছোট বেলায় পড়েছিলাম দক্ষ নেতারা নাকি উপদেশের বদলে উদাহরণ দেন। তিনি যে সরকার দলের সমর্থক নন তা তিনি জাতিকে উদাহরণ দিয়ে (অভিনয় দিয়ে) বুঝিয়ে দিতে চাইলেন। আর তাই তিনি গুলশান নাটক মঞ্চস্থ করলেন। শুয়ে শুয়ে শ্লোগান দিয়ে (ডায়ালগ দিয়ে) যে নাটকে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করা যায় এখানেই বিশ্ব এই অভিনব কলার সাথে প্রথম পরিচিত হল।

 

থেমে নেই আমাদের প্রধানমন্ত্রীও। তিনি থেমে থাকলে চলবে কেন, তিনিই যে এ সময়ে নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র ! বর্তমান নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল যে কেবল আদালতের রায় ও সংবিধান সমুন্নত করার জন্যই এবং এটি যে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কোন স্বার্থ বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লোভ থেকে নয় গোটা জাতির সামনে কান্নার অভিনয়ের মাধ্যমে তা তিনি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে মৃত মানুষের পরিবারকে বা আগুনে ঝলসে যাওয়া মানুষকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তিনি যত দ্রুত কান্না করতে পারেন, তা দেখে বিজ্ঞজন মাত্রই স্বীকার করবেন যে সঠিক সময় এমেরিকায় জন্ম হলে তিনিই হতেন রোণাল্ড রিগ্যান কিংবা আর্নল্ড শোয়ারজনিগার এর মত অভিনয়ে পারদর্শীদের সবচেয়ে উপযুক্ত রাজনৈতিক প্রতিযোগী।

বর্তমান পরস্থিতিতে বিরোধী দলবিহীন এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিশ্চিতভাবেই  জয় লাভ করবে। এই নির্বাচন করা না করা সমার্থক। কিন্ত না, যে কোন মূল্যে এই “নির্বাচন-নির্বাচন” নাটকটি মঞ্চায়িত করতে হবে। এটিত আসলে ১৯৯৬ সালে মঞ্চায়িত নাটকটিরই দ্বিতীয় পর্ব। একদলীয় হলে কি ! সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে কোন ছাড় নেই। তাই সেনা মোতায়েনও করা হবে । এটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে কিনা তা দেখতে সদা তৎপর রয়েছে “৭১ টিভি” / সকাল হতে বিকেল তারা এর লাইভ কাভারেজ দিবে।

হাসিনা এই নির্বাচন না করেই ক্ষমতায় থাকতে পারতেন, যেমনটা স্বৈর শাসকরা করে থাকেন। একজন স্বৈর শাসকের সাথে তার গুণগত পার্থক্য না থাকলেও এই অভিনয় তিনি করবেন। সহ অভিনেতা হিসেবে এই নাটকে তিনি বেছে নিয়েছেন রাজনৈতিক নাটকের অন্যতম থ্রিলার কিংবদন্তী এরশাদকে। পার্শ্ব অভিনেত্রি হিসেবে রওশন বরাবরের মত এবারেও ভাল।

আমরা যে সরকারদলীয় মন্ত্রী, এমপিদের হলফনামা দেখে শোকে মুহ্যমান হবার ভান করি, তারা যে এরকম এই ব্যাপারটা কি আমাদের অজানা ছিল, নাকি তাদের চরিত্র সম্পর্কে আমাদের  যে ধারনা এই ঘটনা তার সাথে একেবারেই বেমানান ? তাও আমরা অবাক হবার ভান করি।কেননা এতে নাটকীয়তা বজায় থাকে।

নাটক যে আমাদের অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে সেটা আরও ভাল বুঝা যায় যখন আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতিরা (সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে নরম মনের মানুষেরা এই পদ অলংকৃত করেন) ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্ত আসামিকে মাফ করে দেন। তারা আবার পুনর্জীবন লাভ করে। দণ্ড মাফ প্রাপ্ত কৃতী সন্তানরা দেশ জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। কেউ কেউ তাই এম পি মন্ত্রী হয়ে জাতির সেবায় মগ্ন হন। আবার যাবজ্জীবন দণ্ড পেলেও হয়ত অনেকের মুক্তি নেই। কেননা দর্শকদের চাহিদা মাথায় রেখে তৈরি হয় নাটক। প্রয়োজনে চাহিদা অনুসারে কাহিনীর পরিবর্তন ঘটে। দর্শকের কাঙ্খিত ভিলেনের ফাঁসি হয়। দর্শক এবং নির্মাতা সকলেই নির্মল আনন্দ লাভ করেন।

 

তবে কেউ যেন ভাবতে না পারে যে দেশে সুবিচারের ব্যত্যয় হয়েছে সেই দিকেও রয়েছে সরকার বাহাদুরের কড়া দৃষ্টি। আর তাই  সরকার দলীয় এমপি মন্ত্রী পর্যন্ত  ন্যয় বিচারের দণ্ড থেকে রেহাই পান না। টাকার ব্যাগ সহ ধরা পড়লেও কে যে নির্দোষ, বিদেশী লবির অপপ্রচারনার শিকার কোন দেশ প্রেমিক নেতা কিংবা নিপাট ভদ্রলোক সেজে থাকেলও কে যে আসলে সাংবাদিক পেটান তার সব রহস্যই ভেদ করে সরকার। অনেকটা ডিটেকটিভ নাটকের সুক্ষ্ণদর্শী ডিটেকটিভের মত।

পরিশেষে, বলা যায় নাটক আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিছেদ্য অংশ। দেশের রাজনীতির তুলনা হতে পারে কোন জনপ্রিয় থ্রিলার নাটকের সাথে যার প্রতিটি মুহূর্তে আছে নাটকীয়তা। সমঝদার দর্শকই হয়ত সময়মত ব্জানিয়ে দেবেন যে তাঁরা ভবিষ্যতে কাকে মঞ্চে দেখতে চান আর কাকে চান না।