ভাতের বদলে চেতনা খান, দিদির উপর চাপ কমান

by নিরীহ পাবলিক:

গুম, হত্যা, খুনাখুনি, বোমাবাজী, অবরোধ, হরতাল, অস্ত্র মিছিলে দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। শত শত গার্মেন্টস বন্ধের পথে, ঘর্মাক্ত কৃষক তার সারা বছরের সাধনার ফসল বেচতে না পেরে নিজেই তাতে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে ফেলছে, ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প প্রতিষ্ঠান সব কিছু কার্যত অচল। আর এরই ব্যাকগ্রাউন্ডে চেতনা’বাদী সরকার বিশ্বরেকর্ড করা পতাকা বানিয়ে তার অচেতন সমর্থকদের নিয়া চোখ বুঝিয়া গাহিতেছে, ‘ওমা ফাগুনে তোর আমার বনে ঘ্রানে পাগল করে’। চোখ খুলিয়া একটু ঘিলু খাটালেই তাদের বুঝার কথা এই ঘ্রান আমের নয়- এই ঘ্রান গোলা-বারুদ আর রক্তের। কিন্তু আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর মনুষ্য ঘিলু একই মানবদেহে থাকতে পারে না। তাই এই চেতনাবাদীদের ঘিলু খাটানোর প্রশ্নই আসে না। বিদেশী শক্তির দাসত্ব করতে করতে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এনে এখন ভূখা নাঙ্গা দিশেহারা পাবলিকদের চেতনায় চেতাইয়া দিদি ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কতিপয় ঘিলু বিহীন দ্বিপদী তাতে চোখ বুজে চন্দ্রনৃত্য করবে সেটা বলাই বাহুল্য। ১০ টাকা কেজি চাল, ডিজিটাল বাংলাদেশ আর দিন বদলের মুলা দেখিয়ে দিদি ক্ষমতায় এসেছিলেন। আর তার বিদেশী প্রভুদের কাছে প্রতিজ্ঞা করে এসেছিলেন ইসলামী রাজনীতির ঠেকানোর, বোরখা বিক্রি কমানোর, সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে ইসলামী চেতনা দূর করে সেনাবাহিনীকে ভারত প্রেমিক করে তোলার, দেশকে সম্পূর্নরূপে ভারতের সেবাদাসী বানানোর। দিদি তার বিদেশী প্রভূদের কাছে দেয়া নির্বাচনী ওয়াদা ঠিক মতোই পালন করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। আর দেশের পাবলিকের কাছে ১০ টাকা কেজি চাল দেয়ার ওয়াদা ভোলাতে চেতনার বাণিজ্যে নেমেছেন। চালের বদলে চেতনা চিবিয়ে এখন দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে হবে।

কিন্তু সমস্যা অন্যখানে। হাসিনার বাপের আমলে চেতনার ডিব্বা সবচেয়ে বেশী টইটম্বুর ছিলো। তবুও বাঙ্গালী ভাতের বদলে চেতনা খেতে রাজী হয় নাই- ক্ষেপে গিয়ে তারা বরং উড্ডীন পতাকা আর মানচিত্র খেতে চেয়েছিলো। এই কালে হাসিনা তার ঘিলু বিহীন দ্বিপদীদের কাঁধে ভর করে কতদিন বাঙ্গালীদের ভাতের বদলে চেতনা খাওয়াইয়া অচেতন করে রাখতে পারবে! শেষে না বাঙ্গালী আবার বিছানো পতাকা খেতে চায়! বিশ্ব রেকর্ড সাইজের পতাকায়ও তাতে কুলাবে না। কারন চেতনাবাদী বুদ্ধিজীবিদের এতো ঘ্যানর ঘ্যানর, প্যানর প্যানর, ছাত্রলীগের রাম-দা, চাপাতী আর হাসিনার এতো নাকি কান্না সত্ত্বেও দেশে এখন মুক্তিযোদ্ধার চাইতে রাজাকারের সংখ্যা বেশী।

হিংসার দৌড় জিঘাংসা পর্যন্ত

by Fakaruddin Ahmed:

আমার মতোই অনেকেই আছেন, যারা কাদের মোল্লার নামই হয়ত শুনি নাই বা শুনলেও মনে রাখি নাই । আজকে তাদেরও পরিস্থিতির কারনে এই ব্যাক্তির নাম শুনতে হইছে, জানতে হইছে। চেতনার কেরামতিতে আরও কতকাল যে এই ব্যাক্তির নাম শুনতে হবে , আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন ।

এইতো সেদিন ঢাকা মানুষে মানুষে ভরে উঠল। পুরো মিরপুরে কয় ঘর লোক ছিল, আমি তো সেই ছোট থেকেই যাই। সেইখানে ২২-২৪ বছরের এক শিক্ষিত তরুণ অমন অস্থির দিন গুলাতে বলা নাই কয়া নাই, একেবারে সব চিনে ফেলবে, তারপর পাড়ার- গ্রামের- এলাকার সবচেয়ে বড় রংবাজ হয়ে উঠবে, তারপর সেই সব মানুষকে এমন কেয়ামত দেখায়া ছাড়বে ! বুঝি না কেমনে সম্ভব ! তামিল ছবির স্টোরি শুনতেছি না , তো।

আবার কেরানীগঞ্জ ! মিশন ইমপসিবল – ২ !

জামায়াত ইসলামির পলিটিকাল চেইন দুমড়ে মুচড়ে একাকার হয়ে যাওয়ার পর তৈরি হইছে এক ভয়াবহ সমস্যা। এই সমস্যা কেবল জামাতের না এইটা সবার সমস্যা । তৃনমূলের জামাতিদের কনটেঈন করা যাইতেছে না। এইটা যে একটা এক-কালিন সমস্যাই কেবল না এর ভবিষ্যৎ মুখি ডায়নামিক্স আছে ।

সমাধানের পথ , একটা হইতেছে – শান্তিপূর্ণ , মেধাবি সবার জন্য উইন-উইন  এবং দীর্ঘ মেয়াদে ফলপ্রশু। এই পথ ধরে হেঁটেছে সব সফল জাতি। আর সেই পথ ধরে সাঊথ আফৃকায় গড়ে উঠে রেইনবো নেশন । একেই বলে নেশন বিল্ডিং।

সমাধানের পথ আরেকটা হচ্ছে- ক্লিনসিং -যেইটা আওয়ামি লীগ করতেছে। নির্মূল তাত্ত্বিকদের নির্মূল তত্ত্ব একজিকিউট করাই এমন  সমাধআনের পথ , সেই পটহের শেষ আছে কিনা কেউ জানি না, দেখছিও না , কিন্তু যে উন্মাদনা দেখছি তা ভয়ের।

হিংসা , অবিশ্বাসের , অশ্রদ্ধা , প্রবঞ্চনার, ফ্যসিজমের, ভুল ত্তত্বের আর তার বিপরীতে প্রতিরোধের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়ে গেছে সমাজে ।
কেমন করে আগাব আগামির দিনগুলাতে সেই ভয় তো সবাই পাচ্ছি।
আর এই ক্লিন্সিং ডকট্রিন কাজ করে না , যেইটা ইসরাইলী(ফিলিস্থিনি) , হিন্দুস্থানি(কাস্মিরি), রাশান (চেচেন), চিন(উইঘ্র) উদাহরণ থেকে শিখে নিতে পারলে সবচে ভাল হয়।
কাদের মোল্লা, সাইদির মত লেসার , স্ট্যাটিক, ভুলে যাবার মত পলিটিকাল ফিগার দের কিভাবে এনলার্জ আর ডায়নামিজম দেয়া হইল , সেইটা সাধারণ মানুষ জানে , কিন্তু জাতির ঘাড়ে চেপে বসা অসাধারণ মানুষগুলা জানে না, বুঝবেও না। কারন  হিংসার দৌড় জিঘাংসা পর্যন্ত , সত্য আর সুন্দর পর্যন্ত পৌছায় না।
আমার আপনার নিজের চেতনার, রাগের, প্রতিশোধের না হয় বিজয় হবে
কিন্তু আমার পরেও আমি থাকব, আমাদের সন্তানেরা , ছোট ভাইরা থাকবে;
তাদেরও কি এক বৃত্তে আটকে থাকতে হবে।

দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে​র সাথে প্রথম মুক্তিযুদ্ধে​র সামঞ্জস্যতা এবং উত্তরণের ধারনাঃ

by Abdullah Mahmud
 
লেখাটা যখন লিখছি তখন চলছে সরকারের পেটুয়া যৌথ বাহিনীর অভিযান। অনেকেই বর্তমান সংকটকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। সংকটের মূল কিন্তু একজায়গায়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছিল কিন্তু পাকিস্তানের স্বৈরশাসক ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে ছিল। স্বৈরশাসক ক্ষমতা হস্তান্তর না করাতে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল ১৯৭১ সালে। সংকট শুধুমাত্র ক্ষমতা হস্তান্তর না করার প্রেক্ষাপটই ছিলনা সাথে যুক্ত হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানের দীর্ঘ দিনের শোষণ-নিপীড়ন এবং জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে জনগণের বিস্ফোরণ। অনেকেই বর্তমান সংকট কে মুক্তিযুদ্ধের সাথে তুলনা করে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর তাই দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সাথে প্রথম মুক্তিযুদ্ধের সামঞ্জস্যতা খোঁজার একটা প্রয়াস থেকেই এই লেখা।
 
২০১৩ সালের সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের প্রথম সামঞ্জস্যতা হোল; ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরির অন্যতম কারন ছিল জনগণের রায়ে নির্বাচনে জয়ী দলকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে স্বৈরশাসকের জোরপূর্বক ক্ষমতা ধরে রাখা। ২০১৩ সালের  সংকটের মুলেও জনগণের মতকে তোয়াক্কা না করে স্বৈরশাসকের ন্যায় জোরপূর্বক ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা।
 
২০১৩ সালের সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের দ্বিতীয় মিল হোল; ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরির আরকটি কারন হোল পশ্চিম পাকিস্তানের দীর্ঘ দিনের শোষণ-নিপীড়ন এবং জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে জনগণের বিস্ফোরণ। আজকের প্রেক্ষাপটেও যে সংকট তৈরি হয়েছে তা শুধুমাত্র নির্বাচন কেন্দ্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয় না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ১৯৭১ সালের মতই সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ-নিপীড়ন এবং জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে জনগণের বিস্ফোরণ। গ্রামে গঞ্জে সাধারন জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে।
 
২০১৩ সালের সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের তৃতীয় মিল হোল; ১৯৭১ সালে প্রভাবশালী রাষ্ট্রের বেশির ভাগই পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যায় যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। ২০১৩ সালের সংকটেও এখন পর্যন্ত বুজা যাচ্ছে প্রভাবশালী রাষ্ট্রের বেশির ভাগই আওয়ামীলীগের অন্যায়কে পরোক্ষ ভাবে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে।
 
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের চতুর্থ সামঞ্জস্যতা হোল; ১৯৭১ সালে আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতারা সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি, তাদের অধিকাংশের নিকট প্রথম দিকে প্রেক্ষাপটটা ছিল ক্ষমতায় যাওয়ার আর তাই কেউ স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেছিলেন কেউবা ভারতে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছিলেন। ক্ষমতার জন্য আন্দোলন আর জনগণের মুক্তির জন্য সংগ্রাম এক জিনিস নয়। জনগণের মুক্তির সংগ্রাম অধিকাংশ স্বার্থপর রাজনীতিবিদরা করতে পারেননা। মুক্তি সংগ্রামে যে ধরনের সততা, ঐকান্তিকতা এবং নিষ্ঠার প্রয়োজন হয়, তা দুর্নীতিপরায়ন রাজনীতিবিদদের থাকেনা। ২০১৩ সালে এসেও বিএনপির অধিকাংশ নেতারা ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করছেন, জনগণের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করতে পারছেননা। জনগণের মুক্তির সংগ্রাম করতে পারছেননা বলেই সারাদেশে মানুষ যখন তীব্র আন্দোলন করছে তখন ঢাকায় নেতারা ১৯৭১ সালের মতই কেউ স্বেচ্ছায় কারাবরণ করছেন আর কেউবা আত্মরক্ষার জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের পঞ্চম মিল হোল; ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষ নিগ্রহের শিকার হয়েছিল অন্য অঞ্চল থেকে আসা পশ্চিম পাকিস্তানিদের রাষ্ট্রযন্ত্রের সিদ্ধান্তের দ্বারা। ২০১৩ সালে এসেও মানুষ নিগৃহীত হচ্ছে অন্য অঞ্চল ভারত থেকে সরাসরি রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়ন্ত্রনের দ্বারা।
 
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের ষষ্ট মিল হোল; ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানিরা পাক হানাদার বাহিনী দ্বারা নির্বিচারে পাখির মত গুলি করে মানুষ মেরেছিল। এখনকার সরকারও নিজেদের স্বৈরশাসন আঁকড়ে রাখার জন্য পাক হানাদার বাহিনির ন্যায় যৌথ বাহিনী দিয়ে নির্বিচারে পাখির মত গুলি করে মানুষ মারছে।
 
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের সপ্তম মিল হোল; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সংকটে অপরচুনিস্ট গ্রুপ অনেক ছিল। ইনফ্যাকট শেখ মুজিবুর রহমান তার লেজিটিমেট ক্ষমতা চেয়েছিলেন; স্বাধীনতা বা স্বাধীন বাংলাদেশের ধারনা উনার নিকট ছিলনা। ২০১৩ সালের সংকটেও অনেক ধরনের অপরচুনিস্ট গ্রুপ কাজ করছে।
 
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের অষ্টম মিল হোল; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম আরেকটি কারন হোল মুষ্টিমেয় গুষ্ঠির স্বার্থ, সংস্কৃতি রক্ষার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের উপর রাষ্ট্রযন্ত্রের নিষ্পেষণ, ২০১৩ সালে এসেও  মুষ্টিমেয় গুষ্ঠির স্বার্থ, সংস্কৃতি রক্ষার জন্য রাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের উপর নিষ্পেষণ চালাচ্ছে।
 
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের নবম মিল হোল; ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের মিডিয়ার অধিকাংশই পাকিস্তান সরকারের অন্যায় দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। ২০১৩ সালে এসেও বাংলাদেশের অধিকাংশই মিডিয়াই সরকারের অন্যায় দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বর্তমান সংকটের সাথে ১৯৭১ সালের দশম সামঞ্জস্যতা হোল; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের কিছু মানুষ পাকিস্তানকে রক্ষার জন্য দেশের সাথে বেঈমানি করে রাজাকার হয়েছিল। ২০১৩ সালে এসেও এদেশেরই কিছু মানুষ চেতনা রক্ষার নামে দেশের অধিকংশ মানুষের মতের বিরুদ্ধে ভারতের দালালী করছেন।
 
এভাবে আরও অনেক সামঞ্জস্যতা আপনি খুঁজে পাবেন  ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সাথে ২০১৩ সালের সংকটের। এই সংকট থেকে উত্তরনের পথ সম্পর্কে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের কথা বলছেন। উত্তরনের সম্ভাব্য উপায় কি হতে পারে সে সম্পর্কে  আলকপাত করছি-
যারা বলছেন দুইদলের মধ্যে সংলাফের মাধ্যমে সমাধান করতে; তাদের বুজা উচিত আওয়ামীলীগ চাইলেও সমঝোতায় পৌঁচতে পারবেনা, কেননা আওয়ামীলীগ চালাচ্ছে ভারতের নীতিনির্ধারক। ভারতের এজেনডা বাস্তবায়নের জন্যই ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসেছে। (সত্যিকার জনগণের ভোটে সরকার ক্ষমতায় আসেনি- এ সহজ হিসাব বুজার জন্য পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর ভোট কাস্টিঙের পরিসংখ্যান দেখলেই বুজতে পারবেন)।
 
যারা ভাবছেন জাতিসংঘ কিংবা বিভিন্ন পরাশক্তির হস্তক্ষেপে সমাধান হতে পারে; তাদের ধারনাও ভুল। কোন দেশেরই সংকট উত্তরণে জাতিসংঘ কিংবা বিভিন্ন পরাশক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনা যদিনা তাদের সরাসরি স্বার্থজড়িত থাকে। সে দিক থেকে চিন্তা করলে আমাদের উল্টো আতঙ্কিত হতে হয়; কেননা পরাশক্তির পক্ষে যায় এমন উপকরন সরকার লালন করছে।
 
আরেকটি ধারনা হোল সেনাবাহিনীর ক্যুর মাধ্যমে সমাধান হতে পারে। তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি; পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করা হয়েছিল একারনেই যে ভারতের স্বার্থপরিপন্থী কোন দেশপ্রেমিক এবং আপোষহীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যাতে তাদের ছকের বাধা না হতে পারে। এখনকার সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসাররা ভারতের প্রতি নতজানু। কেন ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার কথা বলা হয় তা বোধকরি ব্যাখ্যা করার প্রয়জন নেই।
 
সংকট থেকে মুক্তির আরেকটা ধারনা হোল সুশীলসমাজ এবং বুদ্ধিজীবীদের নেত্রিত্তে এই সরকারকে উৎখাত করে তৃতীয় শক্তির মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন। সে ধরনের সম্ভাবনাও খুবই ক্ষীণ। আর সেটা হলেও সংকট থেকে উত্তরনের সুযোগ থাকবেনা। তৃতীয় শক্তির এমন কোন শক্তি নেই যে তারা সার্বভৌমত্ত রক্ষা করে দেশ চালাবেন। তৃতীয় শক্তি আসলে তা ভারতের নিকট নতজানু হয়েই আসবে। রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের কোন জনসম্পৃক্ততা নেই। জনগণের মুক্তির আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকার আর আঁতাতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকারের রুপ, সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকতার ধরনও আলাদা হবে। তাই তৃতীয় শক্তির মাধ্যমে সমাধান হলে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না হয়ে পরাশক্তিদের উদ্দেশ্যের বাস্তবায়ন হবে।
 
এতক্ষন সংকট উত্তরণের ধরনগুলো শুনে অনেকেই হয়তোবা হতাশ হয়ে পড়েছেন। যেকোনো সংকট হলে তা থেকে উত্তরণের পথ অবশ্যই থাকে। অনেকগুলো ওয়ে আউটের মধ্যে বেস্ট অপশানটা কি হতে পারে তার জন্যই সকল অপশানের পর্যালোচনা।
 
বেস্ট অপশানটা তাহলে কি? আমার মতে বেষ্ট অপশান হোল জনগণের মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয় এমন সরকারের বাস্তবায়ন। সেক্ষেত্রে মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহনকারী যোগ্য নেতাদের, যারা হীন ব্যাক্তি কিংবা গোষ্ঠী স্বার্থের উদ্দেশ্যে আন্দোলন না করে জনগণের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করছেন, তাদেরকে ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। জনগণের মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহন না করে আত্মরক্ষার জন্য পালিয়ে বেড়ানো নেতাদের রাষ্ট্রযন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করলে দেশ ১৯৭২ সালের মতই সংকটে পড়বে।  পাকিস্তান আমাদের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার থেকে বঞ্চিত করেছিল বলেই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা লাভ করেছিলাম।  ১৯৭২ এ যে সংবিধান প্রণীত হয়েছিল তাতে বাংলাদেশের সকল মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। আর এই জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলিত না হওয়ার কারন হোল যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন না করে দিল্লী বসেছিল তারাই ৭২ এ এসে ভারতের সংবিধানের আদলে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেছিল।
 
এতো গেল সংকট থেকে উত্তরণের পরের ধাপ। প্রশ্ন হোল বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কি? উত্তর হল জনতার মুক্তি সংগ্রাম। সেই সংগ্রাম শুরু হয়ে গেছে। গ্রামে গঞ্জে সাধারন জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন পাকহানাদার বাহিনির ন্যায় সরকারের পেটুয়া যৌথবাহিনী পাখির মত গুলি করে মানুষ মারছে। সাধারন জনতা বুলেটের মোকাবেলা করছে বাঁশ, লাঠি আর ইট-পাটকেল দিয়ে। প্রশ্ন হোল এভাবে কি পারা যাবে? না এভাবে পারা যাবেনা। এ সংগ্রামে জয়ী হতে হলে যৌথবাহিনীর দেশপ্রেমিক সিপাহীদেরকে সাধারন জনগণের পক্ষে এসে দাড়াতে হবে। যৌথবাহিনীর সকল সদস্য সরকারের পাচাটা গোলাম নয়; অনেকেই বাধ্য হয়ে কর্তব্য পালন করছে মাত্র। এ মুহূর্তে একজন মেজর জিয়াউর রহমানের প্রয়োজন। যিনি কিনা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও এদেশের স্বার্থে পাকিস্তান সরকারকে তোয়াক্কা না করে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। আজ জাতি এমন একজন জিয়াউর রহমানের অপেক্ষায় যার ডাকে রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে বহু দেশপ্রেমিক পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রের অন্যায় যুদ্ধের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।  যুদ্ধ অবশ্য সকলে করতে পারেনও না। ১৯৭১ সালেও বহু মানুষের যুদ্ধ করার বয়স এবং সামর্থ্য থাকার পরেও যুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি। এ সংকটেও তারাই এগিয়ে আসবেন, যারা সততা এবং ন্যায়পরায়ণতার সাথে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণের মুক্তি সংগ্রামের পাশে দাঁড়াবেন।  রাষ্ট্রযন্ত্রের দেশপ্রেমিক নাগরিকগন এ সংকট মুহূর্তে এগিয়ে না আসলে বহু রক্তে অর্জিত সার্বভৌমত্ত আর টিকে থাকবেনা। এদেশ সিরিয়ার ন্যায় গৃহযুদ্ধে দুকে দুকে মরবে।

শাহবাগঃ আত্মপরিচয়ের সন্ধান বনাম আত্মপ্রতারণা — আমান আবদুহু

by Aman Abduhu

আমি শাহবাগকে অভিনন্দন জানাই। ওরা তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে সফল। বাংলাদেশের রাম-বামপন্থী প্রগতিশীলের দল কিছু লাফাঙ্গা ছেলেমেয়েকে এক জায়গায় জড়ো করে বড় একটা কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে। বরং ওরা এমন একটা কাজ করতে পেরেছে, যে কাজের কোন কন্ট্রোল-অল্টার-ডিলিট বাটন নেই।

বর্তমান বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে বড় প্রসঙ্গ। একটা জাতি স্বাধীনতার চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় পরে এসে নিজের শেকড়ের সন্ধানে, নিজের ইতিহাস খননে, সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছে। সাদা চোখে দেখলে খুব অভূতপূর্ব একটা ঘটনা। সমস্যা হলো, এই পৃথিবী আর পৃথিবীর মানুষগুলো এতো জটিল যে সাদাচোখে কিছু দেখাটা নিরেট বোকামি। ঐ বোকামী না করতে গেলে দেখতে হয়, কারা এই আন্দোলন করেছে? কারা বাস্তবায়ন করলো বাংলাদেশে ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার’?

এ কলংকমুক্তির আন্দোলনের মূল শক্তি হলো পনেরো ষোল বছর বয়সী কিশোর কিশোরী থেকে শুরু করে ত্রিশ পয়ত্রিশ বছর বয়সী যুবক যুবতীর দল। এরা মুক্তিযুদ্ধ চোখে দেখা দূরের কথা, জন্মই নিয়েছে বহু বছর পরে। আর যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছে, যুদ্ধের সময় বিভিন্ন কষ্ট করেছে, ঐ প্রজন্মটা চুপ করে বসে থেকেছে। কি চমৎকার? যার বিয়ে তার খবর নাই, পাড়াপড়শীর ঘুম নাই।

তাহলে ঠিক কি কারণে এই নতুন প্রজন্ম হ্যামিলনের ইঁদূরের পালের মতো দলে দলে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাস্তবায়ন করাটাকে তাদের জীবন যৌবনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে নিয়েছে? আমার মতে এ প্রশ্নের উত্তরে মাঝেই আছে বর্তমান বাংলাদেশ কে সঠিকভাবে বুঝবার উপায়।

মানুষ পৃথিবীতে শান্তির সাথে, আনন্দের সাথে বাঁচতে চায়। মানুষের বেসিক চাওয়া হলো নিরাপদে নিজ পরিবার বন্ধু সমাজের সাথে ভালোভাবে জীবনটা কাটানো। এরপর গিয়ে মানুষ ন্যায় অন্যায় হিসাব করে, নিজ মতপ্রকাশের অধিকার চায়। আব্রাহাম মাসলোর হায়রার্কি।

বাংলাদেশ একটা পশ্চাতপদ দেশ। পৃথিবীর অন্য দেশে, যেখানে মানুষের অধিকার আর স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার স্বাভাবিক গ্যারান্টি আছে, ওখানে গেলে বিষয়টা ভালোভাবে বুঝা যায়। বাংলাদেশে একটা নির্বোধ মানুষও কিশোরবেলাতেই বুঝে যায়, ভবিষ্যতে কি হবে তার কোন ঠিক ঠিকানা নাই। ন্যায় অন্যায়ের কোন বালাই নাই, সবজায়গাতে চুরি দুর্নীত ধান্দাবাজি আর শক্তির জয়জয়কার। ফলে মোটামুটিভাবে সবার ভেতরে অবচেতনে একধরণের বিক্ষুদ্ধ হতাশা গুমড়ে মরে। ঠিক এটাকেই কাজে লাগিয়েছে আওয়ামী ও বামপন্থীরা। নতুন প্রজন্মের সব হতাশা আর নপুংসকতার ক্ষোভের জন্য পত্র পত্রিকা আর জাফর ইকবালের দলদের দিয়ে বেশ কবছর ধরে স্কেপগোট বানিয়ে তুলেছে জামায়াতকে। সত্যিকার যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তান আর্মিকে হাতে কাছে না পাওয়ার ক্ষোভ এই রাগকে আরো ভালোভাবে ফেনিয়ে তুলেছে।

নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করে, স্বাধীনতার মূল চেতনা হলো যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করে, যুদ্ধাপরাধ করেছে জামায়াত। এ বিশ্বাসের আগুনে আগুনে লাকড়ির যোগান দিয়েছে জামাত নেতাদের নির্বুদ্ধিতা। এবং একটা মানুষ যখন কিছু বিশ্বাস করে, তার শক্তি অনেক বেশি। নতুন প্রজন্ম আরো অবচেতনে গিয়ে বিশ্বাস করে, এই রাস্তা ধরে হাটলে তারপরে সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। নতুন সুর্য উঠবে, তার সোনালী রোদে হেসে খেলে নেচে গেয়ে ঘুরতে থাকবে বাংলাদেশীরা।

বর্তমান বাংলাদেশ আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর জার্মানীর মাঝে আশ্চর্যজনক সব সাদৃশ্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটা যখন বিধ্বস্ত, চাকরি বাকরি খাবার নিরাপত্তা কিছুর গ্যারান্টি নাই, তখন হিটলার মানুষের সে ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ করেছিলো। সেই একই সংঘবদ্ধ ক্ষোভকে শক্তিকে পরিণত করেছে রাম-বামপন্থী ফ্রগতিশীলরা। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার স্বার্থে তাকে কাজে লাগাচ্ছে। সুতরাং জাতি এখন বিপুল ক্ষোভে বুকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ, যদিও ক্ষোভটা আসলে মুক্তিযুদ্ধের না, এদের তো যুদ্ধের সময় জন্মই হয়নাই, বরং ক্ষোভটা হলো নিজের অক্ষমতার। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কলংক মোচনের পথে যাত্রা শুরু করেছে দানবীয় একটা শক্তি। যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে।

সমস্যা হলো মুক্তিযুদ্ধের কলংকমোচনের পরও বাংলাদেশ সেই পশ্চাতপদ, অনুন্নত, সন্ত্রাসাক্রান্ত এবং নিজেরা নিজেদের ধ্বংস করতে ব্যস্ত একটা দেশ হিসেবেই থেকে যাবে অবধারিতভাবে। বরং সংঘর্ষে সংঘর্ষে অবস্থা আরো খারাপ হবে। তখন এই শাহবাগিরা হতবাক হয়ে একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করবে, কামডা কি হইলো? এবং তখন এই ফ্রান্কেষ্টাইন দানবের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য দরকার হবে নতুন নতুন স্কেপগোটের।

তবে মুনতাসির মামুন আর জাফর ইকবালের দল আপনার আমার ধারণার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান। তারা ইসলামী জঙ্গিবাদকে সেই ভিকটিম হিসেবে ফর্ম করার জন্য এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে। যারা বাংলাদেশের ভালো চান,তাদের উচিত দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা উন্নত করার জন্য কাজ করা। তা যদি না হয়, তাহলে এই জাতি আজীবন বিপ্লবী হিসেবে থেকে যাবে এবং দানবীয় একটা সাপের মতো নিজেই নিজের লেজ চাবাতে থাকবে।

জামাতের সাথে যা হয়েছে, তাতে জামাত পয়েন্ট অভ নো রিটার্ণে চলে গেছে। সরাসরি সংঘাত না হলেও, ঘৃণা আর বিভক্তির এই সীমারেখা বাংলাদেশে আর কোনদিন মুছবে না। এবং আগামী দিনগুলোতে একাত্তর নিয়ে আরো অনেক কথাবার্তা হবে। একাত্তরের যুদ্ধের মূল কারণ কি ছিলো? পশ্চিম পাকিস্তানিদের অত্যাচার? না কি গাদ্দার মুজিবের সাথে ভারতের ষড়যন্ত্র? এইসব প্রশ্ন আরো অনেক বেশি শোনা যাবে। আমার জন্ম একাত্তরের বহু পরে। এখন আমি যদি শর্মিলা বসুর মতো তথ্যনির্ভর একটা বই লিখে ফেলতে পারি অথবা একটা মুভি বানিয়ে ফেলতে পারি, তখন শাহবাগ প্রাণপণে চেষ্টা করবে যুদ্ধাপরাধ যেহেতু সম্ভব না, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে আমাকে ফাঁসি দিতে। শাহবাগ এমন একটা শক্তি, যার কাছে বিচারের অর্থ হলো ফাঁসি। শাহবাগের হাত ধরে বাংলাদেশের এই দেশপ্রেম এমনটা শক্তি হিসেবে বড় হবে, যার কাছে বিরোধী মতের একমাত্র প্রতিকার হলো ফাঁসি।

কিন্তু সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা যখন পার হয়ে যাবে, তখন রাষ্ট্র হিসেবে এই বাংলাদেশের গর্ব করার আর কিছু থাকবেনা। তখন একাত্তরের সাত বীরশ্রেষ্ঠকে নতুন ইতিহাসে লেখা হবে সাত বিশ্বাসঘাতকশ্রেষ্ঠ হিসেবে। মুক্তিযোদ্ধারা কেউ হবে বেকুব,আর কেউ হবে এ মাটির সাথে বিশ্বাসঘাতকারী। এমনটা হলে তা হবে সেই আত্মত্যাগকারী মহান মানুষগুলোর চুড়ান্ত অবমাননা। তারা কেউ আওয়ামী লীগ নেতাদের মতো কলকাতায় দলে দলে গিয়ে মদ মাংসের উৎসবে দিন কাটাননি। ঐ মানুষগুলোর ত্যাগের সত্যিকার মূল্যয়ন সত্য ইতিহাস দিয়েই সম্ভব, মিথ্যা আর গণউন্মত্ততা কোনদিন তাদের জন্য সম্মান আনবে না।

বরং বাংলাদেশ যদি স্বাভাবিক ও মধ্যআয়ের দেশ না হয়,রাজনৈতিক হানাহানি যদি চলতেই থাকে, তাহলে আমাদের পরের প্রজন্মকে আমরা বর্তমান বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ একটা জাহান্নামে রেখে যাবো। কলংকমোচন তো দূরের কথা, বেঁচে থাকার জন্য চিৎকারই হবে ঐ বাংলাদেশের একমাত্র আকুতি।

হায়রে চেতনা!

by Shikin Aman

(এই লেখার পূর্ববর্তী ভার্সনে সুশীলতা ছিল, এই ভার্সনটা বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে পরিমার্জিত। বাকশালী মনোভাবের লোকজনকে লেখাটি এড়িয়ে যেতে বিনীতভাবে অনুরোধ রইলো)

unnamed

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। আড়াইশত বছর পরাধীনতার পরে আমরা একটা স্বাধীণ দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাড়াই এই মহান যুদ্ধের মাধ্যমে। এই যুদ্ধে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তারা আমাদের জাতীয় বীর।দেশের একটা ক্রান্তিলগ্নে তারা আমাদের মুক্তির পথের দিশারী ছিলেন। তাদের সেই মহান আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন কি আমরা করতে পেরেছি, নাকি আমরা তাদের অর্জনকে শুধু ক্ষুদ্রস্বার্থে (চেতনা) ব্যাবসার কাজে লাগাচ্ছি? আমাদের দেশের উন্নতির জন্য কি এই মহান স্মৃতি পথিকৃত এর ভুমিকা রাখছে, নাকি এর অপব্যাবহারে আমাদের উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে? দেশের উন্নতির জন্য ভবিষ্যত সরকারের কাছে আমাদের কি চাওয়া থাকতে পারে?

  • মুক্তিযোদ্ধা প্রসংগঃ

আজকে ৪২ বছর গত হয়েছে সেই মহান স্বাধীণতা যুদ্ধের। দেশ আর দেশের মানুষ এখন অনেক বদলে গেছে। সেই সময়ে যারা যুদ্ধে গিয়েছিলেন তারা সবাই আজকে ষাঠোর্ধ বৃদ্ধ।

দেশের কাছ থেকে বিনিময়ে কিছু নিবেন এমন মনোভাব নিয়ে যুদ্ধে গেছেন এমন যোদ্ধা পাওয়া যাবে কিনা আমার সন্দেহ আছে।বিভিন্ন সময় তাদের সাক্ষাতকারে আমি দেখেছি, সাধারণ যোদ্ধাদের একমাত্র চাওয়া ছিল একটা শোষণ ও নির্যাতনমুক্ত সমাজ। শিক্ষিতদের চাওয়া ছিল রাজনৈতিক স্বাধীণতা, দেশের সম্পদ দেশে থাকার নিশ্চয়তা, মুক্তচিন্তার বিকাশ, সাথে একটা উন্নত দেশের স্বপ্ন। তবে হ্যা, রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকে হয়তো ভাবতেন, স্বাধীণ দেশে মন্ত্রী মিনিস্টার হবেন, পতাকা লাগানো গাড়ীতে ঘুরবেন।আমি মনে করি এই স্বপ্ন তারা দেখতেই পারেন। সেইজন্যে তারা দেশের মুক্তির জন্য তদবীর করেছেন। কোলকাতায় কষ্ট করে থেকেছেন (১৯৭০ সালে নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে কয়জন যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন? সাংসদ বাদ দিলাম, কতজন বড় নেতা যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন? কিন্তু ভুলবেন না, তারা তখন স্বামর্থবান ছিলেন) এই প্রসংগটা আনতাম না।(ভুল বুঝবেন না প্লিস।। আমি অবশ্যই মানি যুদ্ধকালীন একটা সরকার আবশ্যক ছিল, তবে সব নেতাদেরই কোলকাতায় বসে থাকা দরকার ছিলো কিনা তাতে আমার সন্দেহ আছে) এই প্রসংগ আনার কারণ হচ্ছে, রাজনীতিবিদরা সাধারণ যোদ্ধাদের মনোভাব আর নিজেদের মনোভাব এক করে ফেলেন। তাই যুদ্ধের ৪২ বছর পরেও তারা ওই যুদ্ধ নিয়ে রাজনীতি করে চলেছেন।তারা মনে করেন মুক্তিযোদ্ধারা হয়তো তাদের মতই স্বাধীণ দেশের কাছে পাওনা (!) বুঝে পেতে চাইবেন।তারা ভুলে যান, এই যোদ্ধারা জীবন যৌবন বাজী রেখে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। কিছু পাওয়ার লোভ থাকলে, নিরাপদ কোথাও আত্মগোপনে থাকতেন, সম্মুখ সমরে যাওয়ার সাহস করতেন না। আর যে মহান যোদ্ধা বুলেটের মুখে হাসিমুখে দৌড়ে যেতে পারেন, সে জীবনযুদ্ধে অন্যের সাহায্যের আশায় বসে থাকবেন, এটা আমার কাছে দুরুহকল্পনা। যুদ্ধাহত যোদ্ধাদের কথা আলাদা। তারা না চাইলেও রাষ্ট্রের উচিত পুনর্বাসন করা। তবে সেই সময়ও পার হয়ে গেছে। ৪২ বছর পরে এসে এই প্রসংগ অবান্তর।

এই কথাগুলো বলার উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে, এতদিন পরেও আমারা মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ বিতরন করে চলেছি, আর ক্যান্সেল করে চলেছি। তাদের নাতি নাতনিদের কোটা দিয়ে বেড়াচ্ছি।প্রকৃত যোদ্ধারা এইসব নিয়ে মাতামাতি করবে আমার বিশ্বাস হয়না। যারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীণ করার মতো সাহস রাখে, তারা রাষ্ট্রের দয়ার জন্য বসে আছেন, এটা কখনই সম্ভব না। (আমি কোটা নিয়ে বিতর্কের সময় খেয়াল করেছি, অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেছেন, তার কাছে বাবার সনদ আছে, কিন্তু তিনি নিজ যোগ্যতায় ক্যারিয়ার গড়েছেন। তারা গর্বিত যোদ্ধার গর্বিত সন্তান)।

তাহলে, এই সনদ ব্যাবসায়ীরা কারা? অনিচ্ছা স্বত্তেও আমার চোখ চলে যায়, তাদের দিকে যারা আসলে যুদ্ধটাকে একটি ব্যাবসা হিসেবে গণ্য করে। যারা মনে করে দেশ স্বাধীণ হয়েছে, এখন বিদেশি শোষকরা যে ভাগটুকু নিয়ে যেতো তা আমার প্রাপ্য!! আমাদের দুর্ভাগা জাতি, শত বছরের বিদেশী শাষণ শেষে যার দেশীয় রক্ষকরা ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ন?

  • রাজাকার প্রসংগঃ

এবার আসি রাজাকার প্রসংগে।। স্বাধীণতা যুদ্ধের সময় আমাদের দেশেরই কিছু লোক স্বাধীণতার বিপক্ষে ছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল একটি রাজনৈতিক দলঃ জামায়াতে ইসলাম। তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। তাদের অনেক সদস্য আল বদর, আল শামস ইত্যাদি দল গঠন করে স্বাধীনতা ্যুদ্ধের বিরোধীতা করেছে। তাছাড়াও অনেক সুযোগ সন্ধানীরা এই সময় দেশের অস্থিতিশীলতার সুযোগে এইসকল সংগঠনে যোগ দিয়ে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করেছে।এখানে দুই ধরনের লোক আছে। একদল লোক মনে করতেন পাকিস্তান একটি ইসলামী রাষ্ট্র, ভারত চক্রান্ত করে তাকে দ্বিখন্ডিত করার চেষ্টা করছে, তাই তারা এই বিচ্ছিন্নতা বাদের বিরুদ্ধে। তারা দেশের কোটি লোকের আবেগ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। কিন্তু তাদের অনেকেই আমানবিক যুদ্ধাপরাধের সাথে যুক্ত ছিলেন না। আরেকদল লোক ছিলেন যারা দেশের শত্রুদের হাতে হাত মিলিয়ে যুদ্ধাপরাধ করেছেন।সিভিল লোকদের হত্যা, নির্দ্ধাযাতন, ধর্ষণ, লুটপাট ইত্যাদি এর অন্তর্ভূক্ত।যারা এইসব গর্হিত কাজ করেছে তারা কোন মতাদর্শের জন্য এসব করেনি। তারা অমানুষ, তাদের বিবেকবোধ লালসায় নিমজ্জিত ছিল তাই সুবিধাবাদী কাজ করেছে। এদের মধ্যে সকল দলের লোক ছিল, যেমন আজকের দিনেও সব দলেই খারাপ লোক আছে। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে একজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলেছি, যার পরিবার স্বাধীণতার পর তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা নির্যাতন ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। এই স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা (অদ্যাক্ষর মো হো মা) মুখে কাপড় বেধে ডাকাতি করছিলেন, একপর্যায়ে তার মুখের কাপড় সরে যায়। তিনি এখন চেতনার ধজ্জাবাহক।

সুতরাং দল মত নির্বিশেষে যারা এইসব কুকর্ম করেছেন, তারা নিঃসন্দেহে অপরাধী। তাদেরকে স্বাধীণতার পরপরই ঝুলিয়ে দেয়া দরকার ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা অনেক ক্ষেত্রেই এই শুভকাজটি সম্পন্ন করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে করতে পারেননি বিভিন্ন কারণে।এরপর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্বায়িত্ব ছিল তাদের বিচারের কাঠগরায় দাড়া করানোর। বেশ কিছু অপরাধীকে বিচার করাও হয়। আমাদের স্বাধীণতা আন্দোলনের মহান নেতা বংগবন্ধু তখন নেতৃত্বে ছিলেন। আমার বিশ্বাস তিনি সেই সময়ের সকল নেতার চেয়ে বেশী দেশপ্রেমী ও ভবিষ্যতদ্রষ্টা ছিলেন। তিনি সল্প সময়ের মধ্যেই এই বিষয় নিয়ে মাতামাতি বন্ধ করেন। এর কারণ কি?

একটা স্বাধীণ দেশের উন্নতির জন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন হলো জাতীয় একাত্মতা (national reconciliation)। প্রতিশোধ আর হানাহানির রাজনীতি কখনই দেশের জন্য সুফল আনেনা। বিচার ও শাস্তির সাইকোলজিকাল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যত অপরাধীদের  সতর্ক করা, সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখা। জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্বীকৃতি হয়ে যাবার পর আর পাকিস্তান একীভূত হওয়ার কোন আশংকা ছিলোনা। তাই তখন যুদ্ধুপরাধীদের বিচার সেই সাইকোলজিকাল গুরুত্ব হারায়। বঙ্গবন্ধু ঠিকই বুঝেছিলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে এইসব হানাহানি বন্ধ করতে হবে। তাই তিনি আইন করে জিঘাংসা রোধ করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি জাতীয় একাত্মতা প্রশ্নে একটু চরম্পন্থা নিয়ে ফেলেন (বাকশাল আইন)। তিনি হয়ত দেশের ভালই চেয়েছিলেন। কিন্তু যেই স্বাধীণতার জন্য এত জীবনদান, অনেকের কাছেই বাকশাল এর উলটো পথ!

এরপরে আসেন জেনারেল জিয়া।তার ক্ষমতার পথ যেমনই হোক, দেশের উন্নতির জন্য তার পরিকল্পনাও সদূরপ্রসারী ছিলো। স্বভাবতই তিনিও যুদ্ধকালীন কর্মকান্ড নিয়ে হানাহানির পথে যাননি। সকল মত আর পথকেই নিজের সাথে একীভূত করার চেষ্টা করেছেন। তার কাছেও নিঃসন্দেহে মূল প্রয়োজন ছিল দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন। এরপর আসলেন এরশাদ।তার শাষণ আমলেও দেশের মধ্যে যুদ্ধকালীন কর্মকান্ড নিয়ে মাতামাতি দেখা যায়না। এরপর আসলো সাধের গনতন্ত্র।।

৯১ গেলো, ৯৬ গে্লো, ২০০১ ও গেলো! ৯/১১ তে আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর দেশে দেশে সন্ত্রাসবাদ মাথা চাড়া দিল।আফগানিস্তান/ ইরাকের পশ্চিমা বিরোধী ঢেউ আমাদের দেশ সহ সব মুসল্মান দেশেই ছোয়া দিয়ে গেল। ফলে ওই সময়টাতে দেশে দেশে জঙ্গিবাদের দেখা মিলল। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া (বালির বোমাহামলা ভুলেননি নিশ্চয়ই) ইত্যাদি মুসলিমপ্রধাণ দেশগুলোও এর শিকার হয়। তাই এর সাথে দেশের সরকারকে সরাসরি যুক্ত করা ঠিক হবেনা।

২০০১ এর নির্বাচনে একটা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে।। আওয়ামিলীগ মোট ভোট বেশি পেয়েও, নির্বাচনে ব্যাপকভাবে হারে। ভোটের রাজনীতিতে যোগ হয় এক নতুন মাত্রা। হিসাবে দেখা যায়, বিএনপি ও জামাত জোট না বাধলে আওয়ামীলিগের অন্ধ ভোটারদের সমর্থনের জোরে আওয়ামীলিগ বার বার ক্ষমতায় যেতে পারে! এই নির্বাচনী হিসাবের প্রেক্ষিতে আওয়ামীলিগ ২০০১ নির্বাচনের পর থেকেই জামাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, যুদ্ধাপরাধ ইত্যাদি অভিযোগ আনতে থাকে। যদিও জঙ্গীবাদের মূল উতস ও কারণ কোনটাই জামাতের রাজনীতির সাথে যুক্ত না। এর কারণ আমেরিকার ঘোষিত global war on terrorism  আর দেশে দেশে চলমান গোপন আন্দোলন Islamic Caliphate। যেহেতু জামাতের কর্মীরা ইসলামপন্থী, তাদের কিছু প্রাক্তন সদস্য স্বাভাবিক ভাবেই আমেরিকার গ্লোবাল ওয়ার এর বিপক্ষে যোগ দিতে আফগানিস্তান ইরাক যায়, এবং ফলস্রুতিতে নিষিদ্ধ সংগঠনে যুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু দেশীয় রাজনীতির সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই বললেই চলে।তাছাড়া ততকালীন সরকার বিশেষ বাহিনী র‌্যাব গঠন করে বেশ কঠোর ভাবেই জঙ্গীবাদ দমন করে।বাংলা ভাই আর তার সাংগ পাংগদের ফাসী দিয়ে সেই কালো অধ্যায়ের ইতি ততকালীন সরকারই টেনে দেয়।

কিন্তু আওয়ামীলিগের জন্য এটা ছিল প্রধাণ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির নির্বাচনকালীন মিত্র জামাতকে ঘায়েল করার সুবর্ণ সুযোগ। তারা বিদেশী শক্তিদের কাছে  জামাতকে তথা সরকারকে জঙ্গীসংশ্লিষ্ট প্রমান করতে মরিয়া হয়ে উঠে।উপরে বর্ণিত কারণে (জামাতের কিছু সদস্যের পশ্চিমাবিরোধী যুদ্ধে যোগদানের প্রমাণ ও পরবর্তীতে দেশে ফিরে জঙ্গী সংগঠণের সাথে যোগাযোগের প্রমাণ) তারা এ ক্ষেত্রে সফলও হয়। একই সাথে তারা জামাতকে যুদ্ধাপরাধকারী দল হিসেবে তরূণ প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধের বিচার করার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী ম্যানিফ্যাস্টো করে। যেই national reconciliation বা জাতীয় ঐক্যের জন্য বঙ্গবন্ধু/ জিয়া ৪০ বছর আগে এই ইস্যুকে শেষ করেছিলেন, ক্ষমতায় যাবার জন্য আবার সেই ইস্যুকে জাগ্রত করা হয়

গত ৪২ বছরের মধ্যে আর কখনো বাঙ্গালী জাতি এতোটা দ্বিধাবিভক্ত ছিলোনা। কারণ দলকানা ছাড়া যে কেউ স্বীকার করবে এই বিচারের আসল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা। দেশের উন্নতি, অগ্রগতির সাথে এই বিশাল যজ্ঞের কোন সম্পর্ক নাই। নাহলে কেন যুদ্ধাপরাধীরা প্রায় সবাই একটা বিশেষ দলের টপ নেতাই? আর কোন যুদ্ধ অপরাধী দেশে নাই?? একজন অপরাধীর ফাসির আদেশের বিরোধীতা করতে গিয়ে শত লোকের জীবনদান, বাঙ্গালী ইতিহাসে তো দূরের কথা, পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তার মানে কি এই হাজার হাজার লোক যারা এই বিচারের বিরোধীতা করেছে সবাই ব্রেইন ওয়াশড? তার মানে কি বাঙ্গালি জাতির বিশাল অংশ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী? নাকি বাঙ্গালী এই বিচার ব্যাবস্থায় আস্থা রাখেনা?? যতদূর জা্না যায় এইসব যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সাক্ষী দেয়ার জন্য শত শত লোক ছিল কিন্তু আইন বদল করে তাদের সাক্ষী দিতে দেয়া হয় নাই। অপরদিকে বিপক্ষে সাক্ষী দেয়ার লোকদের সেফ হোমে রাখা হয়েছে। আদেশ মতো সাক্ষ্য না দিলে গুম করে ভারতের কারাগারে পাঠানোর উদাহরণও আছে! ( আমার মতে ৪০ বছর পরে একটা বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়া দূরুহ ব্যাপার। আর বাংলাদেশে আমরা যেভাবে দলকানা, তাতে  নেতা আদেশ করলে আমরা মিথ্যা সাক্ষ্য দিতেও পিছপা হবেনাঃ জনগনের উপর এই আস্থা আমার আছে।এই ধারা না বদল হলে আগামী দিনে আরো নতুন নতুন যুদ্ধাপরাধীর দেখা মিলবে বলে আমার বিশ্বাস!)   আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে বলে, ‘আমার দলে যোগ দিলে তুমি ভাল, আর নাহলে তুমি ছাগু’- এই তত্ত্বে যারা বিশ্বাসী, তাদেরই ব্রেইন প্রকৃতভাবে ওয়াশড! ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে একটা দেশের জনগনকে বিভক্ত করার এমন উদাহরণ ও পৃথিবীতে বিরল (রুয়ান্ডা একটা উদাহরণ হতে পারে)।

কোন সন্দেহ নাই রাজাকারের বিচার দরকার আছে।। তাহলে এতদিনে বিচার শেষ করে ফাসি/জেল দেয়া হলোনা কেন? পাচ ছয়জন লোকের বিচার করতে কি পাচ বছর লাগে? সরকার বিচারের রায়ের সময়কাল নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম এইটা বুঝতে আইনস্টাইন হওয়া লাগেএকসাথে সবগুলি আসামীকে  ফাসি দিলেও আমার মনে হয় এর চেয়ে বেশী রিয়াকশন হইত না। তার মানে বুঝা যাচ্ছে আপনাদের আসল উদ্দেশ্য এদের বিচার না!! আপনারা আশায় আছেন এদের ফাসি দেয়ার ধুয়া তুলে জনগণকে ব্ল্যাক্মেইল করবেন!! এদের ফাসি দেয়ার জন্য আপনাদের চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকা জরুরী! বাহ কি সুন্দর আপনাদের যুক্তিবোধ! এখানে আমার এক ফেসবুক ভাইয়ের ডায়লগ মনে পরে গেলঃ বাংগালীরে হাইকোর্ট দেখানো বন্ধ করেন!!

এটা পরিস্কার বোঝা যায়, যুদ্ধাপরাধী বিচার শুধুই একটা ইস্যুঃ উদ্যেশ্য এক ঢিল এ দুই পাখী! একঃ বিএনপি-জামাত জোট ভাঙ্গা। দুইঃ জনগনের ইমোশন নিয়ে খেলা করে ভোটের রাজনীতিতে লাভ করা। দেশের উন্নতি-অগ্রগতির সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই। এইখানে প্রসংগত গজা মঞ্চের কথা চলে আসে, কিন্তু সেইটা আরেক প্যাচঃ কে খেলোয়ার, কে কোচ, কে ফাইনান্সার আর গোলপোস্ট কোনদিকে সেইটা সল্পসংখক লোকেরই জানা আছে। এই মঞ্চ আসলে এই মুহুর্তে দেশের জন্য কোন ভুমিকা রাখার ক্ষমতাও রাখেনা। তাই এই লেখায় তাদের নিয়ে আলোচনায় যাবো না।

জনগণের চাওয়া কি?

আমি ভাই আমজনতা।স্বাধীনতা যুদ্ধ, যুদ্ধের সূর্যসন্তানরা আমার গর্ব। আমার মা বোনের ইজ্জত যারা নিসে তাদের আমি মনে প্রাণে ঘৃণা করি।বঙ্গবন্ধুকে আমি শ্রদ্ধা করি, ১৯৪৮ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত তার অসামান্য নেতৃত্বের জন্য। জিয়াকেও আমি শ্রদ্ধা করি এক দুঃসময়ে দেশের হাল শক্ত হাতে ধরার জন্য। কিন্তু তার মানে এই না ৪০ বছর আগের দুঃসপ্ন দেখায়া, বারবার মৃত সম্মানিত নেতাদের গল্প শুনায়া আমার ভোট আপনি নিয়া যাবেন। ওইসব গল্পের দিন শেষ। ব্যাকগ্রাউন্ড কাহিনী বাদ দেন।

এই লেখাটার পূর্ববর্তী ভার্সনে এই কথাগুলী দুই নেত্রীর উদ্দেশ্যে বলসিলাম। কিন্তু বিগত কয়েকদিনে সরকারী দলের বাকশালী কর্মকান্ড দেখে বুঝলাম, তাদের এইসব কথা বলে লাভ নাই। তারা চেতনা ব্যাবসা করেই দিন কাটাবে ঠিক করসে। এই আফিমের ঘোরে তারা দেশের কোটি কোটি লোককে আচ্ছন্ন করে রাখসে। এই চেতনা দিয়ে দেশের কোন উন্নতি হবেনা যেনেও তারা না জানার ভান করে আছে, কারণ ব্যাবসাটা তাদের জন্য বেশ লাভজনক। দেশের সম্পদ লুঠ, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী আর দেশের কাংখিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে দলীয় লোকদের দুর্নীতি প্রকাশ হওয়ার পর তাদের কাছে ক্ষমতায় টিকে থাকার একটা রাস্তাই খোলা আছে বলে মনে হয়- সেটা হলো চেতনা ব্যাবসা। ঘুমের অভিনয় করা লোককে তো আর ঘুম থেকে তুলা যায়না। তাই সে চেষ্টা ক্ষান্ত দিলাম। তাই এই ভার্সনে শুধু বি এন পি নেত্রীর প্রতি আহবান রইলো।

আপনি ইতিমদ্ধে দুইবার প্রধাণ মন্ত্রী হইসেন। দেশের মানুষ আপনাকে অনেক সম্মান দিসে। বয়স ও তো কম হইলো না! এইবার ই হয়তো শেষ সুযোগ দেশকে একটু এগিয়ে নেয়ার।শেষ সুযোগ দেশের জন্য সত্যিই কিছু করার। নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে সঠিক পথে চলার অংগীকার করার জন্য প্রচন্ড আন্তরিকতা ও সতসাহস প্রয়োজন। এটার রাজনৈতিক ঝুকিও আছে। কিন্তু কখনো কখনো ঝুকি নিলে তা বৃথা যায়না। আর আমার ব্যক্তিগতভাবে  মনে হয়  আপনার মধ্যে সেই প্রচন্ড সাহসটাও আছে। দেশের স্বার্থে একবার একটা বোল্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে দেখেন না!

আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবেনা সেই আশঙ্কা প্রবল। কিন্তু কমন্সেন্স বলে, বিএনপি যদি নিজেদের ভুলের জন্য জনসমর্থন না হারায়, তাহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবেনা কিংবা  নির্বাচন করে বেশীদিন ক্ষমতায় তারা থাকতে পারবেনা। সুতরাং বিএনপি কে এখন সঠিক পথে চলতে হবে, যাতে গণমানুষ তাদের উপর থেকে আস্থা না হারায়। রাজপথে যথেষ্ট সমর্থন অর্জন না করে জনদুর্ভোগ দীর্ঘায়িত করলে জনগণের আস্থা হারানোর সম্ভাবনা প্রবল। তাই এখনই সময় কিভাবে জনগণকে আপনাদের দাবীর সাথে সম্পৃক্ত করা যায় তা ভাবার। আমার মতে তা করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একটা সঠিক নির্বাচনী এজেন্ডা প্রকাশ করা যা জনগনের চাহিদাকে পূরণ করতে পারবে। এগুলো যাতে জনগণের কাছে  ফাকা বুলি মনে না হয়, সেজন্য প্রয়োজনে খসড়া আইন (দূর্নীতি দমন, টেন্ডার, আইন বিভাগ ইত্যাদি নিয়ে) প্রনয়ন ও প্রকাশ করতে হবে, যা আপনারা ক্ষমতায় গেলে কার্যকর করবেন। জনগন যদি আপনাদের কথা ও কাজে আন্তরিকতার ছোয়া পায় তাহলে, গণজোয়ার কেউ ঠেকাতে পারবেনা।

এই কথা নিশ্চিত যে দেশের জনগণের সমর্থন যদি পেতে চান, তাহলে তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন আপনাদের নির্বাচনি এজেন্ডায় পড়তে হবে। অন্য দল খারাপ এইজন্য ভোট দেন, এই হিসাবে হয়ত নির্বাচনে জেতা যায় কিন্তু এই আশায় থাকলে এইবার আর নির্বাচনে যাওয়া লাগবেনা। আপনাদের ছাড়াই ডিজিটাল নির্বাচনে ৮০% ভোট পড়ে যাবে। পুলিশ, আর্মী কেউই এর বিরোধিতা করবেনা। বরং আপনারা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে বিপদে পড়বেন। আর্মি মাঠে থাকলে নির্বাচন বানচাল করা কঠিনই হবে। তাই বলছি জনগনকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেন, যাতে এই নির্বাচন না হয় কিংবা জনগণ দৃশ্যমানভাবে নির্বাচন বর্জন করে। জনগণ আপনাদের কাছ থেকে কি চায় তা আপনারা ভালই জানেন। তবু এই অভাজন আপনাদের একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাইঃ

  • কথা দিতে হবে প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ আর দুর্নীতির রাজনীতি বন্ধ করবেন।
  • দল মত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের কাজে একত্রিভূত করবেন। মেধার মূল্যায়ন করবেন, দলীয় পরিচয়ের না।
  • দূর্নীতি দমনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের সম্পদের লুন্ঠন বন্ধ করবেন। দুর্নীতিবাজদের দমনে কঠিন আইন করবেন।
  • বিরোধী মতকে শক্তি দিয়ে দমন করবেন না। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন।
  • পুলিশকে পুলিশের কাজ করতে দিবেন, যাতে জনগন নিরাপদে থাকে। দলীয় কাজে ব্যাবহার করবেন না।
  • বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করবেন না। তাদের জনগনের সেবা করতে বাধ্য করবেন।
  • দলীয় টেন্ডারবাজী বন্ধ করে সচ্ছতা নিশ্চিত করবেন। উন্নত দেশের আদলে সচ্ছভাবে সরকারী টাকা খরচের হিসাব অনলাইনে দিবেন।
  • ছাত্র রাজনীতি সীমিত করে প্রকৃত ছাত্রদের নেতা বানাবেন। মেধার বিকাশ ও মূল্যায়নে সাহায্য করবেন। চাদাবাজদের দল থেকে বিতারিত করবেন।
  • আমদানি, রপ্তানী বানিজ্য, গার্মেন্টস, শেয়ারবাজার রাহুমুক্ত করবেন।
  • মানবসম্পদ রপ্তানী করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো, কূটনীতি, সাপোর্ট এর ব্যাবস্থা করবেন।
  • সংসদে বিরোধী দলকে হেয় করবেন না। সংবিধানে সংশোধনী এনে সকল এমপিদের দেশের স্বার্থে প্রয়জনে দলের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার সুযোগ দিবেন।
  • যোগ্য, তরুণ মেধাবীদের মন্ত্রী করবেন।দেশের সেরা মেধাগুলোকে একসাথে করে সরকারের সাথে নিয়ে দেশসেবায় নিয়োজিত করবেন।

নেত্রী আমার আশংকা হচ্ছে আপনার আশেপাশের ঝুনা নেতারা আপনাকে এই পথে আসতে বাধা দিবে। তারা যুক্তি দিবে, দুর্নীতি বন্ধ করলে আর দেশের স্বার্থ দেখলে কি এর সুবিধাভোগি ব্যাবসায়ী, আমলা, পার্শবর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, তাদের সাথে যুক্ত রাজনৈতিক দল, এরা আমাদের সরকারকে টিকতে দিবে? বছর না ঘুরতে ১/১১ সরকারের মতো বিপদে পড়বো আমরা! কিন্তু আসলে ১/১১ সরকার আর নির্বাচিত সরকার এক না।। আপনারা যদি দেশের সত্যিকার উন্নতির জন্য চেষ্টা করেন দেশের দেশপ্রেমী মানুষ, পুলিশ, আর্মী সবাই আপনার জন্য বুক পেতে দাড়ায়ে যাবে। হয়ত কিছুদিন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য জন্য জনগনের কষ্ট হবে, কিন্তু আপনারা আন্তরিক হলে জনগণ সব বুঝতে পারবে। আর বাংগালী একবার যদি জাগ্রত হয়, কারো সাধ্য নাই, তাদের দমিয়ে রাখে।

একবার সরকার গঠণ করলে পাচবছরের মধ্যে কারো ক্ষমতা নাই সরকারকে হটায়! কিন্তু পাচ বছরের মধ্যে দেশটা একটা ফ্লায়িং ষ্টার্ট পেতে পারে। সাথে আপনারাও হয়ত সক্ষম হবেন পাচ বছর পরেও জনপ্রিয়তা ধরে রাখার সুযোগ। আপানাদের আবার পাচ বছর পরে পাতানো নির্বাচনের চেষ্টা করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার প্রয়োজন হবে না। শুধু আপনাদের একটু সৎসাহস আর সদিচ্ছার মুখাপেক্ষি আমরা। দিবেন নাকি প্রকাশ্য জনসভায় বা মিডিয়াতে একটা যুগান্তকারী ঘোষনা??? দিবেন নাকি আমাদের একটা বিশ্বাসযোগ্য আর আন্তরিক আশ্বাস, সাদা-কালো রেফারেন্স সহ?  আমরা জনগনরা যেনো ভবিষ্যতে সেই রেফারেন্স দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি? আমার আন্তরিক বিশ্বাস এই দেশের জনগণের একটা বিশাল অংশ দেশের প্রকৃত উন্নতির জন্য প্রয়োজনে  ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।। তাদের অপেক্ষা শুধু একটা সৎ, দেশপ্রেমী আর যোগ্য নেতৃত্বের। পথ চেয়ে আছে বাংলাদেশ!

মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীণতা ও আমাদের ভবিষ্যত

By Shikin Aman 

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। আড়াইশত বছর পরাধীনতার পরে আমরা একটা স্বাধীণ দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাড়াই এই মহান যুদ্ধের মাধ্যমে। এই যুদ্ধে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তারা আমাদের জাতীয় বীর।দেশের একটা ক্রান্তিলগ্নে তারা আমাদের মুক্তির পথের দিশারী ছিলেন। তাদের সেই মহান আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন কি আমরা করতে পেরেছি, নাকি আমরা তাদের অর্জনকে শুধু ক্ষুদ্রস্বার্থে ব্যাবসার কাজে লাগাচ্ছি? আমাদের দেশের উন্নতির জন্য কি এই মহান স্মৃতি পথিকৃত এর ভুমিকা রাখছে, নাকি এর অপব্যাবহারে আমাদের উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে? দেশের উন্নতির জন্য ভবিষ্যত সরকারের কাছে আমাদের কি চাওয়া থাকতে পারে?

Continue Reading