ফাঁসি,পাকিস্তানফোবিয়া ও বাংলাদেশের সঙ্কট

2

রেজাউল করিম রনি

It is crucial to address the issue on these three distinctive levels, which are the exploitation, politicization and institutionalization of Islamophobia at various levels. In the present globalized world, peaceful and harmonious coexistence among diverse religions and cultures is not an option but the only means to enduring human cohabitation. The objective of the protagonists of Islamophobia is none other than to create division between the West and theMuslim World.

[SIXTH OIC OBSERVATORY REPORT ON ISLAMOPHOBIA October 2012 – September 2013]

noose

আমার ঘরের চাবি পরের হাতে

সাম্প্রতিক সময়ের কূটনৈতিক ঝগড়া এমনভাবে উদাম হয়েছে যে, রাজনীতির ব্যাপারে একদম উদাসীন গৃহবধূরাও জানেন, আমাদের কোনো সংকটের সমাধান দেশের রাজনীতিবিদদের মর্জির ওপর নির্ভর করে না। মার্কিন ও ভারতের পররাষ্ট্র-লড়াই এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, একে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ প্রশ্নে এক দিকে ভারত অন্যদিকে গোটা পশ্চিমা বিশ্ব। আর এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বা লক্ষ্য করবার বিষয় হল, এই প্রথম পাকিস্তান সরব ভূমিকায় হাজির হয়েছে। পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ায় এখন পর্যন্ত মার্কিন নীতির সবচেয়ে অনুগত বন্ধু। এই আনুগত্যই ধর্মযুদ্ধের সম্ভাবনাকে পাঁকিয়ে তুলতে সাহায্য করবে। কিভাবে সেটা ঘটবে আমরা জানি না। আমরা কেবল কয়েকটি লক্ষণ পর্যালোচনা করতে পারি।

ফাঁসির ব্যাপারটা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে একটা চাপা অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। অপরাধীর বিচার হবে-এটা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ কোনো আপত্তি কখনও করেনি। আপত্তিটা উঠেছে মূলত গণআকাঙ্খার সাথে সরকারের কৌশলী আচরণকে কেন্দ্র করে। বিচারের প্রক্রিয়ার মধ্যে শুরু থেকে একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আন্দাজ করা যাচ্ছিল। নির্বাচনের সব রকম প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তথাকথিত সাংবিধানিক নিয়মে আওয়ামী লীগ যেভাবে ক্ষমতালিপ্সার নজিরবিহীন রাজনীতি শুরু করেছে, তাতে বিচারপ্রক্রিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কালিমা এড়াতে পারেনি।

জামায়াত স্বাভাবিকভাবেই এটাকে জুডিশিয়াল কিলিং আখ্যায়িত করে ব্যাপক সহিংসতার পথ ধরে। ফাঁসির পরে সারা দেশে যেন লাশের উৎসব শুরু হয়। সরকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন অংশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নির্মূলের রাজনীতি বাস্তবায়ন করতে নেমে পড়েছে তা দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। পাল্টা আক্রমণের কৌশল দেখে স্পষ্টতই মানুষ বুঝে গেছে দেশে শুরু হয়েছে গৃহযুদ্ধ। এই অবস্থায় কোনোকিছু নির্বিকারভাবে পর্যালোচনার স্থিতিশীলতাও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। যথারীতি শাহবাগ আগের ভূমিকায় আবার ফিরে এসেছে। কিন্তু এবারের ফিরে আসাটা আরও ভয়ানক পরিস্থিতির দিকে আমাদের নিয়ে যাবে। এই দিকটি নিয়ে আমরা কিছু কথা বলব আজকে।

বাংলাদেশ কিম্বা বর্তমান বিশ্বের কেউ আর ‘৭১ সালের বাস্তবতায় নেই। কিন্তু তাই বলে ‘৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা যাবে না তা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিচার আমরা চাই। বিচার হতে হবে। কিন্তু সেটা বিচারই হতে হবে। কোনো প্রেশার গ্রুপকে সংযুক্ত করে বিচার নিয়ে রাজনীতি হলে সেটা হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বেইমানি। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সীমাহীন সম্ভাবনা চিরতরে বিনষ্ট হয়। জাতি বিভক্ত হয়ে পড়ে চলমান রাজনৈতিক ক্ষমতার হিংসার আলোকে। ফলে জাতীয় চেতনার নামে একতরফা জবরদস্তি বা যেটাকে আমরা ফ্যাসিবাদ বলে জানি তা হাজির হয়। এর মধ্যে কোনো ইসলামী দলের নেতাকে ফাঁসি দিয়ে চেতনার জোয়ার তুলে ক্ষমতার রাজনীতি যে বিভাজন তৈরি করে তা ধর্মযুদ্ধের পরিবেশ প্রস্তুত করে দেয়। তখন মুখোমুখি দাঁড়ায় ইসলাম ও জাতীয় চেতনা।

কিন্তু এটা এত সরলভাবে ঘটলে আতংকিত হওয়ার মহান কোনো কারণ ছিল না! ব্যাপারটা আমদের নিজেদের দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। মার্কিন রাজনীতির ছক অনুযায়ী আমরা যদি ব্যাপারটা খেয়াল করি তাইলে পরস্থিতি যা ইঙ্গিত করে তাতে আঁতকে না উঠে উপায় নাই।

আমরা দেখেছি, ওয়ার অন টেররের প্রজেক্টে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন ইন্টারভেনশন হয় ইসলামপন্থি জাতীয়তাবাদীদের কাজে লাগিয়ে। সরকারের ফ্যাসিবাদি আচরণের কারণে সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতার রাজনীতি করা একটি দলকে নির্মূল করবার কারণে সমাজে একটা বদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলকে তুরুপের তাসের মত উড়িয়ে দিচ্ছে লীগ সরকার। এই জবরদস্তিতে কৌশলে সেনাবাহিনীকেও যুক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সৈনিক মর্যাদার ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই সতর্ক। কিন্তু এখকার সেনাবাহিনীর পুলিশি ভুমিকা সেনার ইজ্জতের দিক থেকে যেমন হুমকি, তেমনি জনমানুষ এই সেনাকে সরকারের খেয়ালখুশির পুতুল বলে মনে করবে। দেশের মানুষ সেনাবাহিনীর এই ভূমিকায় আহত বোধ করবে সন্দেহ নাই।

এই অবস্থায় পাল্টা প্রতিরোধ যেটা গড়ে উঠবে বা যারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়াইয়ে শামিল হবে সেটা কোনো না কোনো ভাবে ইসলামী শক্তি। তার নাম যাই হোক তার সাথে ইসলামের কোনো না কোনো যোগ আছে। এই ধারার ইসলামী আন্দোলন যেন মার্কিন আধিপত্যকে কোনোভাবেই হাল্কা করতে না পারে তার জন্য ৯/১১-এর পরে আমেরিকা একটা প্রকল্প চালু করে এর নাম ‘র‍্যান্ড’ প্রজেক্ট। এতে সালাফিস্ট ধারাকে উৎসাহিত করা হলেও মূলত প্রাধান্য দেয়া হয় পশ্চিমা ধাচের গণতন্ত্র মেনে যেন মুসলিম দেশগুলো একটা আধুনিকতাবাদি পুঁজিবাদের অনুকূলে রাষ্ট্রকাঠামো দাঁড় করাতে পারে।

সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন এনজিওগুলোকে ব্যাপক তহবিল সবারহ করা হয়। এর টেস্ট কেইস আকারে ঘটানো হয় আরব স্প্রিং। বলাই বাহুল্য এই  ‘র‍্যান্ড’ প্রকল্প ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে। আরব স্প্রিং আধুনিকতাবাদি পথ ধরে মুসলিম দেশগুলোকে পরিচালনার কাজে হাত না নিয়ে সেখানে বরং বিভিন্ন জেহাদি গ্রুপ শক্তিশালী ভিত গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এটা উল্টা ফল ফলেছে।

শুরুতে অনেকে শাহবাগকে ‘র‍্যান্ড’ প্রজেক্টের সাথে যুক্ত বলে অনুমান করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন যেতেই পরিষ্কার হল, এই অনুমানের কোন ভিত্তি নাই। বরং গেইমটা উল্টা দিক থেকে দেখা যেতে পারে। শাহবাগ না এখন বিবেচনায় চলে আসবে শাপলা। অবশ্যই অগ্রভাগে থাকবে জামায়াত। যদিও আমরা জানি, জামায়াত আর হেফাজত এক না। কিন্তু আদর্শের দ্বন্দ্ব আর লড়াইয়ের মাঠ এক না -এটাও আমরা জানি। কিন্তু কোনো মার্কিন ছক হুবহু কাজে আসবে না তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি। কারণ অলরেডি জিহাদি সংগঠন তালেবান গণজাগরণকে থ্রেট করে বসেছে। সাম্প্রতিক এক ভিডিও ভাষণে আলকায়েদা প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরী বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এই ঘটনা অবশ্যই অতি গুরুত্বের সাথে আমাদের আমলে নিতে হবে। তিনি সেখানে বলছেন, “বাংলাদেশের মাটিতে ইসলামের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেখানে সরকার আলেমদের শহীদ করছে, তাদেরকে জেলে বন্দী করে রাখছে, নবী করিমকে (সা.) নিয়ে কটুক্তিকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, হাজার হাজার সাধারণ মুসলমানদেরকে শহীদ করা হচ্ছে।’’ [http://www.youtube.com/watch?v=2CryRD4OTb8]

ফলে  ‘র‍্যান্ড’ প্রজেক্ট এর মতো কোনোকিছু বাংলাদেশে করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। তবে এই বিষয়ে আগাম কথা বলার কিছু নাই। মাঠের লড়াই তো আর সবসময় বইয়ে ত্তত্ব মেনে হয় না। গ্র্যান্ড ডিজাইনের সাথে পরিচয় থাকাটাই আমাদের জন্য প্রাথমিক কাজ। এই প্রজেক্ট যে কোনো কাজে আসবে না তা আল-জাজিরার সাথে এক সাক্ষাৎকারে ইউসুফ আল কারযাভী পরিষ্কারভাবে বলে দেন, “আমেরিকা তার সুবিধার জন্য একটা ইসলাম চায়। কিন্তু সেটা আর ইসলাম হবে না। সেটা হবে আমেরিকান ইসলাম।”

তিনি আরও বলেন, চরমপন্থা ৯/১১-র ঘটনার আগে থেকেই ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। চরমপন্থীরা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। শুধু মুসলমানদের মধ্যে চরমপন্থা আছে, এটা মোটেও ঠিক নয়। চরমপন্থীরা ইহুদীদের মধ্যেও আছে। চরমপন্থীরা রবিনকে হত্যা করেছে। চরমপন্থার আরো বড় বড় উদাহরণ রয়েছে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা দুর্ঘটনা। ব্রিটেন, জাপান, ভারতসহ দেশে দেশে চরমপন্থীরা রয়েছে। তাহলে কেন মূলত ইসলামের সাথে চরমপন্থা ও সহিংসতার অপবাদ জুড়ে দেয়া হচ্ছে? এটি ভয়াবহ অবিচার” [আল-কারযাভী: আল-জাজিরা,বিন কিন্নাহ-এর সাথে আলাপ]

সেই দিক থেকে বিচার করলে বাংলাদেশের ব্যাপারে একটা নীতিগত অবস্থান আমেরিকার আছে। এটা বোঝা যায়, জামায়াতের সাথে তাঁদের সম্পর্কের ধরণ দেখলে। সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতের উত্থান এই সম্পর্কের ধরণে নতুন ডাইমেনশান তৈরি করেছে। ফলে বাংলাদেশের ইসলাম যখন রাজনৈতিক ময়দানে হাজির এবং গৃহযুদ্ধের অবস্থা বিরাজ করছে, এই অবস্থায় সাম্রাজ্যবাদের নীতি আমাদের ছেড়ে দিবে না তা হলফ করে বলতে পারি।

ইতিমধ্যে ২৫ নভেম্বরে তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১১৫ জন নিহত হয়েছে। এদের বেশিরভাগ জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। অন্যদিকে বাংলাদেশে ইসলামের কোনো ধরণের জাগরণ হলে এর প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্ব-ব্যবস্থায়। সবচেয়ে হুমকিতে পড়বে ভারত। আমেরিকা ৯/১১ এর পরে মুসলমানদের ব্যাপারে কোনো একতরফা বিবেচনা আর বজায় রাখেনি। ইসলামের সেকুলার ধারাকে ক্ষমতার রাজনীতে সে বরাবরই উৎসাহিত করে আসছে। এখন কী ভুমিকা নেবে তা দেখবার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে, বলা যায় দুইটা অপশন সামনে আছে, এক.হাসিনাকে যে কোন মূল্যে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা এবং বিএনপি-জামায়াত জোটকে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। ২. শেখ হাসিনা যদি নির্মূলের পথ থেকে সরে না আসে তাহলে যে ইসলামী জাগরণের সৃষ্টি হবে তার সুযোগে ওয়ার আন টেররের প্রকল্পের আদলে বাংলাদেশে মার্কিন খবরদারি বৈধ করা। প্রথম সমাধানের দিকে এখনও পশ্চিমা দেশগুলো বেশি মনযোগী।

আর দ্বিতীয় ধাপটি চূড়ান্ত অ্যাকশন হিসেবে বিবেচনায় আসবে। কিন্তু কোনোভাবেই ভারতের হাতে দক্ষিণ এশিয়ার খবরদারি দেয়া যাবে না। ভারতের ব্যাপারে কঠোর মার্কিন মনোভাব পরিষ্কার হয়ে গেছে। দেবযানীকে উলঙ্গ (স্টিভ সার্চ) করা নিয়ে ভারতের প্রতিবাদের প্রতি ভ্রক্ষেপ করেনি আমেরিকা। ভারতের সব আপত্তি উড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিনীদের এই কঠোর অবস্থান অনেককে অবাক করেছে। কিন্তু তাঁদের পররাষ্ট্রনীতির বৈশিষ্ট্যের দিকে তাকালে বিষয়টাকে আর অস্বাভাবিক মনে হবে না। বিখ্যাত মার্কিন পররাষ্ট্র ব্যাক্তিত্ব হেনরি কিসিঞ্জার তাঁর সুবিদিত ডিপ্লোমেসি বইতে বলেন, “Almost as if according to some natural law, in every centuty there seems to emerge a country with the power, the will, and the intellectual and moral impetus to shape the entire international sestem in accordance with its own values.”

[The New world Order, DIPLOMACY; Henry Kissinger: SIMON&SCHUSTER PAPERBACKS, NEWYORK edition]

এই শতাব্দী মার্কিন আধিপত্যের শতাব্দী এটা তাঁরা প্রাকৃতিক নিয়মের মতোই মনে করে। বলাই বাহুল্য এই শিক্ষা ইউরোসেন্ট্রিক শিক্ষা। পরে কিসিঞ্জার ইউরোপের অন্য দেশগুলোর আধিপত্যের ফিরিস্তি হাজির করে এখনকার মার্কিন আধিপত্য যে গোটা বিশ্বব্যবস্থার জন্য খুব স্বাভাবিক -এই আলোচনা করেন। এই সাম্রাজ্যিক বাসনার দিকে যদি আমরা খেয়াল রাখি তাহলে আমরা সহজেই বুঝতে পারব আগামী দিনে আমাদের সামনে যে লড়াই হাজির হচ্ছে তাতে মার্কিন হস্তক্ষেপ অবধারিত। এই লড়াইয়ে আমরা কী করব তাই দেখবার বিষয়। আরামপ্রিয় দ্বি-দলীয় ক্ষমতা বৃত্তের বাইরে এই প্রথম বাংলাদেশে নয়া বাস্তবতা বড়ই অসময়ে হাজির হচ্ছে।

ফলে এই জাতীয় প্রতিরোধ ইসলামের চেহারা যেমন নিবে, এর সাথে দুনিয়ার অন্য ইসলামী লড়াকু শক্তিও শামিল হবে। এটাকে থামাতে এবার পরাশক্তির হস্তক্ষেপের পথে আর কোনো বাঁধা থাকবে না। ফলে যতই মনে হোক জামায়াতের পক্ষে আমেরিকা আছে, বিএনপির পক্ষেও আছে। খোলা চোখে যতই মনে হোক এক ভারত ছাড়া আর সবাই তাদের পক্ষে আছে, ব্যাপারটা তেমন সরল না। মার্কিন আধিপত্য কোনো সুযোগকে হাতছাড়া করবে -এমনটা মনে করার কোন কারণ নাই। এটা আমি বলছি ইতিহাসের শিক্ষা থেকে। বাংলাদেশে হুবহু একই ঘটনা ঘটবে তা বলছি না। প্রত্যেক ঘটনার কিছু সৃষ্টিশীল ডাইমেনশান থাকে, যা আগাম বলে দেবার কিছু নাই। তারপরেও এখনকার ঘটনাসমূহ পর্যালোচনা করলে আমরা বিষয়গুলো পরিষ্কার ধরতে পারব।

ফাঁসি ও জাতীয় চেতনার ফাঁদ

একটা ছোট চায়ের দোকান। ১২.১২.১৩ ইং, রাত ১১টায় টিভিতে ইমরান এইচ সরকার কথা বলছিলেন নিউজ বাইটে। ফাঁসির খবরে তখন শাহবাগ আনন্দে ভাসছে। সেই আনন্দে দোকানের কিছু লোকও দেখলাম হাসতেছে। হঠাৎ দোকানদার বলতেছে- ‘হালারা কেমুন, জিন্দা একটা মানুষ মইরা গেল আর হালারা নিটকাইতেছে কেলাই দিয়া খবর দেখতাচে’ একটু আগেও মানুষটা জীবীত ছিল।‘ অবাক হইলাম, সে যে রাজাকার ছিল তা তো দোকানদার একবার বলতেছে না । এটা তো তার মনে আইল না। কেন? সমস্যা কী?

আর রাতে ফেসবুক-ব্লগে আনন্দ আর বেদনার পাল্টাপাল্টি জোয়ার ছিল। আর যারা একাত্তরকে ক্রিটিক্যালি দেখেন সেই সব মানুষের মধ্যে এক চাপা অস্বস্তি বিরাজ করছিল। জামায়াত কাদের মোল্লাকে সাইয়েদ কুতব অব বাংলাদেশ ঘোষণা করেছে ফাঁসির সাথে সাথে। তাঁরে ইসলামের জন্য শহীদ ঘোষণা করেছে। সেই মোতাবেক পরদিন জুমার নামাজের পর ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক সহিংসতা ঘটায় দলটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মিরা। এই আগুন ছড়িয়ে পরে সারা দেশে, শুরু হয় পাল্টাপাল্টি খুনাখুনি। খবরের কাগজ লাশের খবরে ভরে ওঠে।

অবাক হয়ে খেয়াল করি, কাদের মোল্লার ফাঁসি জনসমাজে একটা ভুতুড়ে অবস্থা তৈরি করেছে। সাধারণ পাবলিক প্রশ্ন করছে, আচ্ছা লোকটা না অপরাধী ছিল তাইলে তাঁর জন্য যে আবার আন্দোলন হচ্ছে? সে নাকি চিঠি দিয়ে কইছে কসাই কাদের আর সে এক না। মরার আগে মানুষ তো আর মশকারি করে না?

আমরা যদি এই জনমনোভাবকে বুঝবার চেষ্টা করি, তাইলে অনেকগুলো বিষয় বুঝতে সুবিধা হবে। এক. ৭১ এর ন্যারেশন কি আদতেই একটা মধ্যবিত্ত ন্যারেশনে পরিণত হয় নাই এত দিনে? কারণ কসাই ইমেজ তো মধ্যবিত্তের বাইরে খুব বেশি কমিউনিকেটিভ হচ্ছে না। দুই. এই চেতনার প্রতি তো সরকারের অবস্থানের কারণেই মানুষের আর আস্থা নাই। এই অবস্থায় শাহবাগ যদি প্রবল প্রতাপ গড়ে তুলতে না পারে তাইলে তো সরকার বিপদে পড়ে যাবে। তাই শাহবাগ আছে সরব ভুমিকায়।

স্কাইপে কেলেংকারি আর বিচারপতিদের খামখেয়ালি তো মানুষ জানে। আদালতের প্রতি কোন সুস্থ মানুষের তো আস্থা নাই। ফলে দুর্বল জাতীয়তাবাদী চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে এই ধরণের একটা ফাঁসি আওয়ামী লীগের জন্য অনেক ঝুঁকির হয়েছে সন্দেহ নাই। এখন একাত্তরের ন্যারেশনকে খুব শক্তিশালীভাবে হাজির করতে হবে। কোনো গাফিলতি করা চলবে না।

এই হাজিরা বলাই বাহুল্য, একাত্তরের আকাঙ্খা মেটাতে পারবে না। এটা কাজ করবে সাংবিধানিক ফ্যাসিজম কায়েম করতে। এইটা বিনা মুশকিলে হলে সমস্যা ছিল না। কিন্তু ঝামেলা হয়ে গেছে, জামায়াত কাদের মোল্লাকে ইসলামের জন্য শহীদ ঘোষণা করে ফেলেছে। মোল্লাও বলে গেছেন তাঁর রক্তের বিনিময়ে যেন ইসলাম কায়েম করা হয়। ফলে ইসলামের ন্যারেশনের সাথে ‘৭১ এর আওয়ামী ন্যারেশনের লড়াই শুরু হয়ে গেল। জামায়াতের ইসলাম একমাত্র ইসলাম না, এটা আমরা সবাই জানি। জামায়াতের বাইরেই আছে ইসলামের মূল ধারা। কিন্তু জামায়াত ইসলামের নামে রাস্তায় যখন মার খাবে, তখন ধর্মযুদ্ধ শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

লীগের বা বামদের ইসলামকে পশ্চাৎপদ মনে করার যে কালচারাল এটিচুড তা মানুষ এতদিনে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে ফেলেছে। ফলে এই অবস্থার মধ্যে লড়াইয়ে কালচারাল শক্তিটা যে প্রতিরোধের মুখে পড়বে তা এখনও আমরা পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। যারা এখনও রাজাকারী ডিসকোর্স নিয়ে আছে, এটা তাদের বুঝবার কথাও না। রাজনীতি বহু আগেই রাজাকারের পরিমণ্ডল পার করে ফেলেছে।

ক্ষমতার ব্যবহারিক বা এখনকার বাস্তব প্রশ্নটাই মানুষ আগে বিচার করছে। শুধু বুদ্ধিজীবিরা স্মৃতি কাতর হয়ে আছেন এখনও। ফলে মানুষের মনে ফাঁসিকে কেন্দ্র করে ‘৭১-এর মতোই অস্বস্তি আবার ফিরে আসল। এতে সরকারের পক্ষে লোক থাকবে না বা সরকার ভ্যানিশ হয়ে যাবে -এটা মনে করার কোন কারণ নাই। আমি শুধু বলছি, এই গুমট মনোভাবের মধ্যে ভায়োলেন্সের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়ে আছে তা নতুন রাজনীতি দিতে না পারলেও (নতুন রাজনীতির তো এজেন্সি হাজির নাই -এটাই সঙ্কট) এই প্রথম, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নে বাংলাদেশে রক্তারক্তি হতে যাচ্ছে।

আর এতে নানা কারণে ইসলাম ও বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ মুখোমুখি দাঁড়ানো। এই অবস্থায় কূটনৈতিক বুঝের সমাধান যে কোন কাজে আসছে না তা আমরা ধারাবাহিক ভাবে দেখছি। পিল্লাই সতর্ক করেছেন, তারানকো ব্যার্থ হয়ে ফিরে গেছেন। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, সবাই চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছে বাংলাদেশের ব্যাপারে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে বাংলাদেশ এখন গৃহযুদ্ধ কবলিত এমন খবরই ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। এই অবস্থা আমাদের কোনো শুভ পরিণতির দিকে যে নিয়ে যাচ্ছে না তা পরিষ্কার বুঝা যায়।

এর কারণ হল, ৭১ এর চেতনাকে আমরা গণবিচ্ছিন্ন ক্ষমতার কাজে ব্যবহার করেছি। এই চেতনার প্রকৃত অর্থে কোন সামাজিকীকরণ করিনি। বরং উপনিবেশি সাংস্কৃতিক ও জীবনদৃষ্টি উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে এমন একটা ভাব পয়দা করেছে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে ভোগবাদী জীবনচর্চা মিশে একাকার হয়ে গেছে। এর সাথে আধুনিকতার উগ্র ইসলাম বিদ্বেষ যুক্ত হয়ে প্রগতিশীলতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দাঁড় করিয়েছে ইসলামকে। এই একরোখা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এখন মরণ ফাঁদ হয়ে নেমে আসছে। মোহনায় দাঁড়িয়ে উৎসের দিকে ফিরে তাকাতে হয়-এটা আমরা স্বাধীনতার বেয়াল্লিশ বছরেও করিনি।

ইতিহাসকে দলীয় ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করে বিভাজন জিয়িয়ে রেখেছি। বিভাজনটা সমাজে পরিষ্কার হয়ে গেছে। শাহবাগ আর শাপলা। শাপলার ভাগে আছে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ যারা সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে তথাকথিত মূলধারার চেতনার চেয়ে পিছিয়ে আছে। তাদের আমরা সমাজের বাইরে আলাদা রেখে নিজেরা একতরফা চেতনার অনুসারী হয়ে আধুনিকতার জীবনদৃষ্টিকে কবুল করে নিয়েছি। ওদের বলেছি মধ্যযুগীয়, বর্বর পশ্চাৎপদ। কারণ তিনারা আজও ধর্মতত্বের আদর্শকে জীবনের মূল আদর্শ মনে করে। আমরা ইসলামের সাথে বাংলার সামজিক বিকাশের সম্পর্কের আলোকে নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী আকারে গড়ে উঠিনি। অতি ক্ষুদ্র শ্রেণীস্বার্থে ব্যবহার করেছি ‘৭১-এর চেতনাকে। মুক্তিযুদ্ধের তাবত অবদানকে স্বাধীনতার পরপরই কুক্ষিগত করেছি নিজ নিজ স্বার্থে। স্বাধীনতার সামাজিকীকরণ হয় নাই বাংলাদেশে। তাই সবার অংশ গ্রহণে ‘৭১ হলেও শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা হয়ে উঠেছে এলিটিস্ট মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধকে আমরা গণচেতনা করে তুলতে পারিনি। কেন পারিনি তার হদিস খুব কঠিন কিছু না। নানা কারণের একটা হল সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছি শুরু থেকেই।


পাকিস্তানফোবিয়া

পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে আর্ন্তজাতিক মনযোগের কেন্দ্রে আছে গত কয়েক দশক ধরেই। সেনাবাহিনীর সাথে পাকিস্তানের জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে অনেক বড় বড় গবেষণা হয়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন গোত্র ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে আলাদা আলাদা ডাইমেনশান নিয়ে হাজির আছে। পশতুন জাতীয়তাবাদের প্রভাবের কারণে আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক শুধুমাত্র কৌশলগত নয়। আমরা দেখেছি, পাকিস্তান একই সাথে আলকায়েদা, তালেবান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের তৎপরতা জারি রেখেছে ওয়ার অন টেরর প্রকল্পে। বিশ্বরাজনীতিতে পাকিস্তানের এখনকার ভূমিকা গ্লোবাল রাজনীতিতে অতি গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়।

আমরা একাত্তরে যে ঘাতক সামরিক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সেই পাকিস্তান আর আগের জায়গায় স্থির নেই। কিন্তু আমরা পাকিস্তানের জান্তা নিপীড়নের প্রতি যে ঘৃণা ধরে রেখেছি তা গোটা পাকিস্তান সম্পর্কে আমাদের চিন্তাকে বর্ণবাদি ক্ষুদ্র জায়গায় আটকে রেখেছে। চলমান বিশ্ব রাজনীতিতে পাকিস্তান এর ভূমিকাকে র্নিমোহভাবে দেখবার কোনো গরজ আমরা অনুভব করি না। এটা আমাদের জন্য খুবই অনুতাপের বিষয়।

এবারের ওআইসি সম্মেলনে ইসলামোফোবিয়া নিয়ে একটা রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পশ্চিমা বিশ্ব ইসলামোফোবিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিকভাবে এমন জায়গায় দাঁড় করিয়েছে যে, পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ইসলামের বিভক্তিকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আর এই কাজের জন্য যে ভুমিকে পশ্চিমারা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছে তার নাম ‘পাকিস্তান’ / ফলে আামাদের এখানে পাকিস্তানফোবিয়া আর ইসালোমোফোবিয়া একই অর্থ বহন করে। আর এটাকে উস্কে দেবার জন্য আছে অতীত পৈশাচিক শাসকদের প্রতি ঘৃণাকে পাকিস্তানের নামে ছড়িয়ে দেয়ার কূট-রাজনীতি। পাকিস্তান নিয়া এখানে আলাপের অবসর নাই। আমি কয়েকটা পয়েন্টে বাংলাদেশে পাকিস্তান -সম্পর্কে দৃষ্টি ভঙ্গি ও সাম্প্রতিক পারিপার্শিকতা তুলে ধরব মাত্র।

এক. পাকিস্তান সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা ছিল শ্রেণী ঘৃণার। ৯/১১ -এর পরে এর সাথে যুক্ত হয়েছে ইসলামোফোবিয়া। এখন পাকিস্তানফোবিয়ার দুই মৌল উপাদান হল : ১. একাত্তরের শাসকদের প্রতি ঘৃণা থেকে উৎসারিত ঘৃণা। পাকিস্তান মানেই বর্বর, অসভ্য, ধর্ষক ইত্যাদি রটনার রাজনীতি। ২. পাকিস্তান আধুনিক গণতন্ত্রের পথে কোনো সফলতা হাসিল করতে পারেনি। এটা তালেবানের ঘাঁটি। এরা আলকায়দার মদদদাতা। লাদেনকে এরা পালে। এরা জঙ্গি। এদের কোনো ভবিষ্যৎ নাই। ওরা নিকৃষ্ট।

এই দুইটা দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে প্রচারণার প্রভাব ছাড়া আর কিছু নাই। একাট্টা পাকিস্তান বলে কিছু নাই। সেখানে নানা শ্রেণীর মধ্যে সংঘাত আছে। ইসলাম প্রশ্নেও সমাজিক ও রাজনৈতিক নানা ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি আছে। কিন্তু সমাজে ইসলামের একটা প্রভাব সেখানে বরাবরই ছিল। এবং এখনও আছে। যা হোক শাসক শ্রেণী আর পাকিস্তানের জনগণ এক না। এটা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। একাত্তরে পাকিস্তান সরকারের ভুমিকা আজকের সরকারের মতই ছিল। পাকিস্তান কী করেছে তা বুঝার জন্য একাত্তরে জন্ম নেবার দরকার নাই। লীগ ও যৌথবাহিনী এখন যা করছে পাকিস্তান ও তাদের অনুসারীরা একই কাজ করেছে। তবে তখন কিছু কিছু কাজের লক্ষ্য ছিল মানুষকে বাঁচানো। এখন একমাত্র লক্ষ্য হল মারা। হিংসার আগুনে জ্বলছে জনপদ।

দুই. ‘৭১-এ যাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই ছিল সেই পাকিস্তানি শাসক আর এখনকার পাকিস্তান রাষ্ট্র এক জিনিস নয়। এখনকার পাকিস্তান বিশ্ব-রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আমি বলি, আমেরিকা যদি হয় সন্ত্রাসের আব্বা, তাহলে পাকিস্তান তার পালক পিতা। ওয়ার অন টেরর প্রজেক্টে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এবং এই অংশীদারি গোলামীর মত নয়। সে মাঝে মাঝেই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড শো করছে। যেটা আমলে নেবার মত বিষয়। ( এই প্রজেক্টে- র, সিআইএ, আইএসআই, গলায় গলায় ভাব বজায় রেখে বাংলাদেশে ফাংশন করেছে, এখন এজেন্সিগুলা আলাদা হয়ে যাচ্ছে। ভারতের একতরফা জবরদস্তির কারণে এটা ঘটছে। অলরেডি ভারত-আমেরিকা কূটনৈতিকভাবে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। নারী কূটনীতিক দেবযানিকে স্ট্রিপ সার্চ করে আমেরিকাই প্রচার করিয়েছে যে, ন্যাংটা করে তল্লাশি করা হয়েছে। আর ইন্ডিয়া তো আত্নপীড়ায় ভুগছে। পাল্টা পদক্ষেপও নেয়ার হুমকি দিয়েছে। আমাদের মিডিয়াও বেশ রসিয়ে এই খবর প্রচার করছে। এতে কূটনেতিকভাবে আমরিকা যে মেসেজ দিছে তার সরল মানে হল, ‘তুমি মাতবরি করলে ন্যাংটা কইরা ছাইড়া দিব’ যাহোক কূটনৈতিক লড়াইয়ে অনেক প্রতীকী ব্যাপার থাকে যার গুরুত্ব অপরিসীম। এখানেও তাই হইছে। আর দেবযানী আজ যে প্রতীকী অপমানের শিকার হয়েছেন তার জন্য বাংলাদেশ নিয়ে আমরিকার সাথে সুজাতার বেয়াদবী দায়ি -এটা ভারতের কূটনীতি বিশ্লেষকরা স্বীকার করেছেন। সূত্র: বিডিনিউজ)

তিন. মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে বেহুদা পাকিস্তানফোবিয়া ছড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের মুক্তিকামী মানুষের সাথে আমাদের শত্রুতা থাকতে পারে না। হাসিনাও শাসক, ইয়াহিয়াও শাসক। ‘৭১ কইরা আমরা কী করলাম? বিদেশি লোক বাদ দিয়া দেশি বোনের অত্যাচার মেনে নিচ্ছি -এখন এই তো অবস্থা।

চার. যে প্রজন্ম আজ লীগের কূটনৈতিক গেইম না বুঝে পাকিস্তান বিদ্বেষ ছড়ানোকে চেতনার দায়িত্ব আকারে নিয়েছে, তাদের বলি পাকিস্তান কি চিজ তা যদি বুঝতা তাইলে আর এই আরামের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ করতা না। পাকিস্তানকে জড়ানোর কূটনৈতিক তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। তার পুরোটা এখনই আমরা বলতে পারব না। তবে যে লক্ষণ হাজির হয়েছে তা ঘটনা কোন দিকে যাচ্ছে তা বুঝতে কাজে লাগে। এর মধ্য দিয়ে তালেবানের ইন্টারভেনশন নিশ্চিত হয়ে পড়ল। তালেবান হুমকি দিয়েছে গণজাগরণ বন্ধ না করলে পাকিস্তানে বাংলাদেশের দূতাবাস উড়িয়ে দেয়া হবে [সূত্র: পরির্বতন ডটকম]

যুদ্ধটা জাতীয় চেতনা বনাম ইসলামী চেতনার দিকে যাচ্ছে। এর সাথে বিদেশি অস্ত্রধারী সংগঠন যোগ হলে ঘটনা কোথায় যাবে তা আপনাদের অনুমান করতে পারার কথা। তালেবান যখন একে-৪৭ ধরে বলবে, ”গাওতো চেতনার গান”/ রবীন্দ্র সঙ্গীত কি আমাদের রক্ষা করতে পারবে? ফলে সাংস্কৃতিক ঘৃণার পার্ট আকারে যারা পাকিস্তান মানেই বর্বর আর খারাপ এই রকম রেসিস্ট দৃষ্টিভঙ্গি পালন করেন তাদের বলব, পশ্চিমা একাডেমিতে গিয়ে একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন। পাকিস্তান একবাল আহমেদের মত দুনিয়া কাঁপানো তাত্ত্বিকদের জন্ম দিতে পারে, ইংরেজি সাহিত্যে হাল আমলের অনেক শক্তিশালী লেখক পাকিস্তানের জঙ্গিদশার মধ্যেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সেখানে বাংলাদেশ তো এখনও অনেক নবিশ।

আমি তুলনামূলক আলোচনার জন্য কথাটা বলিনি। বা এইগুলো করতে পারলেই জাতি মহান হয়ে যাবে, আমি তাও মনে করি না। যাস্ট অমূলক ঘৃণার চেতনাটা দেখাতে কথাটা বলা। এবং যারা পাকিস্তানকে ঘৃণা করেন, কিন্তু নিজেরা আবার পশ্চিমা দুনিয়ায় আসন পেতে চান, পাকিস্তান তাদের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে আছে। এটা কেমনে সম্ভব হল বিবেচনা করবার বিষয় বটে।

পাঁচ. ক্ষমতার রাজনীতির দিক থেকে এখনকার এই কূটনীতিক গেইমের মর্ম হল, ইউএস লবিকে বুঝানো যে, যেই পাকিস্তান এত দিন র, সিআইএ’র সাথে একইতালে বাংলাদেশে কাজ করেছে তাকে তো আমি কিছু বলি নাই। এখন দেশে চেতনার জোয়ার চলছে। জনগণ ক্ষ্যাপা। আমি অসহায়। প্রতিদিন গণজাগরণের সমাবেশে ক্রমাগত লাঠিপেটা করেও তো থামানো যাচ্ছে না। দেশে তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জোয়ার। আমি কী করব?

মানুষ আমারে চায়… দেখ দেখ দূতাবাস পর্যন্ত পাবলিক খায়া ফেলতে চাইতেছে। আমি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। -সরকারের ওপর ক্রমাগত বিদেশি চাপকে পাশকাটানোর জন্য এই গেইম সরকারের দিকে থেকে ভাল। আমি এর প্রশংসা করি। এতে লাভ দুইটা। ১. পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণাটা উস্কে দেয়া চেতনার ফ্যান্টাসিটা আবার ছড়ানো। ২.আন্তর্জাতিক মহলকে নিজের পিপল বেইস যে মজবুত তা জানান দেয়া।

বলাই বাহুল্য, এই দুইটাই ফ্যাসিবাদের দামি কৌশল। ক্লাসিক কৌশল। কিন্তু ফ্যাসিবাদের জন্য যে ন্যাশনাল ভিত লাগে তা বাংলাদেশের নাই। বাংলাদেশের এই ফেনোমেনাকে আমি বরাবরই কালচারাল ফ্যাসিজম বলেছি। এই কালচারাল ফ্যাসিজম সাম্রাজ্যবাদি রাজনীতির কৌশলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অক্ষম। ফলে এই একরোখা গণবিচ্ছিন্ন ক্ষমতার জেদ শেষ পর্যন্ত বুশের ধর্মযুদ্ধকে দেশে ডেকে আনবে, এতে কোন সন্দেহ নাই। মজার ব্যাপার হল, গণজাগরণের কর্মিদের সরকারী এসাইনমেন্টে হেনস্থা করা হচ্ছে। গণজাগরণের কর্মি জাগরণকন্যা লাকী বলছিলেন, পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হচ্ছে নাস্তিকের বাচ্চা, মালাউনের বাচ্চা বলে গালি দিতে দিতে। এই ঘৃণার আগুণ এখন সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। হাসিনা কোনোভাবেই এই অবস্থায় জনগণের কাম্য নেতা হতে পারেন না।

ছয়. পাকিস্তানের প্রতি বর্ণবাদি আচরণের কোন মানে হয় না। আমাদের বুদ্ধিজীবিরা পাকিস্তানকে একটা দানব আকারে হাজির করছেন তাদের বলা দরকার, এটা ‘৭১ সাল না। এখন পাকিস্তান অনেক কমপ্লেক্স গেইমে নিজেরে শামিল রাখছে। রিজিওনাল গেইমে পাকিস্তানরে কোনোদিন হম্বিতম্বি করতে দেখবেন না। কিন্তু সে আছে, তার ভুমিকা সমেত আছে। আইএসআই আর সিআইএর দোস্তি তো সুবিদিত। এখন কাদের মোল্লার ব্যাপারে অন্য দেশগুলা যা করছে, পাকিস্তান তাঁর চেয়ে বেশি কিছু করেছে বলে মনে হয় না।

তুরষ্ক বাংলাদেশের সরকারকে দ্বিতীয় ইসরায়েল বলেছে। কেরিও ক্ষেপছেন। তাহলে পাকিস্তানের দোষটা এত বেশি কেন হইছে? কারণ এই তথাকথিত প্রজন্মকে তো পাকিস্তান আক্রমণের স্বাদ দেয়া যাবে না। তাই দূতাবাসমুখি ক্ষিপ্র গমনের মধ্যে একটা যুদ্ধের স্বাদ দেয়া। এটা নগদ লাভ। কিন্তু সাম্রজ্যবাদী চাল তো নগদ লাভে চলে না। তার পরিকল্পনা সুদূর প্রসারী। ‘১৪ সাল এর পরে আফগানিস্তান মিশন শেষ করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন উপস্থিতির জন্য বাংলাদেশ অতি গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক দিন আগে খবরে প্রকাশ হাতিয়া দ্বীপ এলাকায় যৌথ সামরিক উপস্থিতির জন্য বিশাল ভূমি নির্বাচন করা হয়েছে। এটা নিয়ে পরে আর কোনো ফলোআপ দেখিনি।

সাত. আমরা বলতে চাই, খামাখা পাকিস্তানঘৃণার কোনো কারণ দেখি না। বরং পাকিস্তানের নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শামিল হবার জন্য আমাদের প্রস্তুতি দরকার। জালেম শাসক তা যত মহান চেতনারই হোক, তার বিরুদ্ধে আমি মজলুম জনগোষ্ঠির ঐক্যের পক্ষে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করা দরকার।

শ্রেণী ঘৃণা..জাতি ঘৃণা আমাদের অমানুষে পরিণত করে ফেলবে। মানবিক সত্তার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে জাত-পাত শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে নিজেদের চৈতন্যকে বিকশিত করতে না পারলে আগামী দিনের বিপ্লবী লড়াইয়ে বাংলাদেশ কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না। নিজেদের জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক উত্থানের সাথে এই উদার মানসিকতার চর্চাও অতিজরুরি।

ভারতের এনডিটিভি খবরে জানিয়েছে, ২০১৪ সালের টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বাংলাদেশে আসা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান উদ্বোধনী ম্যাচ বাংলাদেশে না হলে ২৫ ভাগ আয় থেকে বঞ্চিত হবে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। খেলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব পুঁজির যে প্রসার, তাতে বাঁধ সাধল রাজনৈতিক কারণে উস্কে দেয়া পাকিস্তান বিদ্বেষ। এর ফলে বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক ভাবে জঙ্গি অবস্থায় নিপতিত হয়েছে, বিশ্ব মিডিয়ায় সেই খবর ঘটা করে প্রচার করা হবে। এটা আমাদের ইমেজের জন্য ভয়াবহ সংঙ্কট সন্দেহ নাই।

এখনকার সংকট

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে এতদিন যারা হাসিনা খালেদার ক্ষমতার লড়াই আকারে দেখেছেন, তাদের গণধিক্কার দিতে হবে। এই ধারা বিচার-বিশ্লেষণের ঐতিহ্য আমাদের রাজনৈতিক পর্যালোচনার পরিমণ্ডলকে যথেষ্ট সংকীর্ণ করে রেখেছে। আমরা গ্লোবালাইজড কথাটা মুখে বলি বটে কিন্তু এর সাথে আমাদের সম্পর্কের ধরণ ও নিজেদের অবস্থানকে কখনও বিচার করে দেখি না। ফলে বাংলাদেশ কিভাবে বিশ্বরাজনীতির সাথে সম্পর্কিত তার সমগ্র পরিচয়টি আমাদের সামনে ধরা পড়ে না। কিছু মুখস্ত কথাবার্তা শুনেই আমরা কাজ চালিয়ে নেই।

যা হোক সেনাবাহিনী নামবে এই রব অনেক আগেই জারি হয়েছে। সেনা নেমেছে ঘোষণা দিয়েই। খবরে প্রকাশ, ‘নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এবার সশস্ত্র বাহিনীর ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এরা ভোটগ্রহণের পরও বেশ কয়েক দিন মাঠে থাকবেন। এ কারণে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত বাজেটও দ্বিগুণ করা হচ্ছে। [প্রথম আলো ২১-১২-২০১৩]

সেনাবাহিনী এখন পুলিশি ভুমিকায় নামল। এতে যে আমাদের দেশের মানুষের কাছে সৈনিকের মর্যাদা আর আগের জায়গায় থাকল না তা আমাদের জন্য অনুতাপের বিষয়। আমাদের সেনাদের সৈনিক মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এ ব্যাপারে গণসচেতনতার খামতি অপরীসীম। এটা নিয়ে আলাদা লিখব।

বাংলাদেশের এখনকার পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ার রিপোর্টিংয়ের ধরণ খুব মনযোগ দিয়ে খেয়াল করবার বিষয়। ফাঁকে বলে নিই, এর আগে এক লেখায় (বিচার নিয়ে রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের আর্বিভাব : আমার দেশ) বলেছিলাম, মার্কিন দেশের সাথে জামায়াতের মিত্রতার কৌশলগত দিক খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁরা একদিকে যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায়, আর অন্যদিকে মানবাধিকারের দাবি তুলে জামায়াতকে উস্কে দিচ্ছে। জে র‍্যাপের সফরের সময়ই ব্যাপারটা আঁচ করা গিয়েছে। এখন এই সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমা মিডিয়া যে স্টাইলে বাংলাদেশ নিয়ে রিপোর্টিং করছে তা দেখলে পরিষ্কার হবে যে আমি কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা বলছি না।

শাহবাগ উত্থানের পরে প্রথম যে লেখাটি লেখি তার শিরোনাম ছিল-গণহত্যার রাজনীতি ধর্মযুদ্ধে প্রবেশ (চিন্তা ডটকম, ৬ মার্চ ২০১৩)/  তাতে জামায়াতের রাজনীতিকে জঙ্গিবাদি রাজনীতি আকারে হাজির করে নির্মূলের তাৎপর্য ব্যাখ্য করার চেষ্টা করেছিলাম। পরে ঘটনাটা সেই দিকে ধিরে ধিরে বাঁক নিলে বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। ক্ষমতাধর সাময়িকী ইকোনোমিস্ট সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে লিখেছে,

“আওয়ামী লীগ জিতবে, তবে বাংলাদেশ হেরে যাবে। ইকোনোমিস্টের অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নিজের শাসনকাল বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সেগুলোকে একজন ইউরোপীয় কূটনীতিক ‘ধাপে ধাপে চলা অভ্যুত্থান’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রধান বিরোধী দল ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছে। এ সুযোগে নিশ্চিত জয়ের পথে চলছে শেখ হাসিনার দল। বৈধতার প্রশ্ন এখানে বাহুল্যমাত্র।”

[www.economist.com/news/asia/21591887-ruling-party-will-win-bangladeshs-election-country-will-los]

এই অভ্যুত্থান কে করছে? সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের লাইনে বিএনপি তো নাই। বিএনপি টেবিল রাজনীতির সমাধানে অনেক বেশি আগ্রহী। সাথে চাপ প্রয়োগের জন্য ধারাবাহিক অবরোধ চলছে। গণঅভ্যুত্থান তাইলে কে ঘটাবে? বলাই বাহুল্য, জামায়াত জীবন-মরণ লড়াইয়ে নিপতিত হয়েছে। গ্রামে গ্রামে যেভাবে লীগ-যৌথবাহিনী ও জামায়াত যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে তাতে ‘মর না হয় মারো’ এমন পরিস্থিতি তৈয়ার হয়েছে। দেশে গৃহযুদ্ধ চলছে। সামনে এটা আরও বেগবান হবে নানা ডাইমেনশান তৈয়ার হবে তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। অভ্যুত্থান হবে সেটা গণ না কী তা বলা যাচ্ছে না।

গণঅভ্যুত্থান কল্পনার জিনিস না। তার জন্য সমাজে গণরাজনীতির ভিত মজবুত করতে হয়। এন্টি ইম্পেরিয়াল ও ভারতের আধিপত্যকে যারা সশস্ত্র পদ্ধতিতে মোকাবেলা করতে ভূমিকা রাখতে পারতো সেই সব বিপ্লবী রাজনীতির নেতাকর্মীদের গত বিএনপির সময় ক্রসফায়ার নাটকের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সমূলে তাদের অস্তিত্ব বিনাশ করে দেয়া হয়েছে। এই কাজটি করার ফলে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে সাম্রাজ্যবাদের নকশার বাইরে লড়াকু আর কোনো শক্তি সমাজে হাজির রইল না।

অন্যদিকে ইসলামের নামে যারা লড়াই করবে তাদের কারণে ধর্মযুদ্ধ দেশি পরিমন্ডল ছাড়িছে দ্রুতই এটা আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিষয়ে পরিণত হবে।

একই প্রতিবেদনে ইকোনোমিস্ট বলছে, “সংঘাতময় পরিস্থিতি যত খারাপ হচ্ছে, ভারতের মিত্র আওয়ামী লীগকে ইসলামবিরোধী হিসেবে দেখানোর সম্ভাবনাও তত বাড়ছে। শেখ হাসিনার ক্ষমতা কুক্ষিগত করাকে সমর্থন করলে তা ভারতের জন্য উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। তা হবে ‘অপেক্ষাকৃত উগ্র ও কম সেক্যুলার বাংলাদেশ।” (প্রাগুক্ত; ইকোনোমিস্ট)

এই অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে আমরা কোন কাগুজে আশার বালী শোনাতে পারছি না। বাস্তবত এটা সম্ভব না। আমরা দেখেছি, হেফাজতের উত্থানের সময় এখানকার তথাকথিত সুশীলরা বাংলাদেশে মার্কিন হস্তক্ষেপ কামনা করে বড় বড় সেমিনার সিম্পেজিয়াম করেছেন। বিশাল প্রবন্ধ লিখেছেন, ন্যাটোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

এই অবস্থায় বাংলাদেশের সংকট ত্রিমূখী রূপ নিয়েছে। একদিকে হাসিনা সরকারের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য হাস্যকর সব আয়োজন, ২. চেতনার ডামাডোলে বিচারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে ফাঁসির রাজনীতি। ৩. চলতি গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার গ্রাউন্ড তৈরি করে সব দল মিলে নির্বাচন করে আবার কোন দলকে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আনা।

কিন্তু জনঅসন্তোষ যে চরম রূপ নিয়েছে তাতে শান্তিপ্রিয় সমাধানের পথ কঠিন হয়ে গেছে। সরকারী দলের নেতারা ঢাকার বাইরে যেতে পারছেন না। তাদের আচমকা আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে। সহিংস অবস্থার চরম বিস্তার ঘটেছে। এর মধ্যে সরকারের তরফে বিরোধীদের দমনের মাত্রাও নানাভাবে বাড়ানোর ঘোষণা আসছে ক্রমাগত। এই অবস্থায়ও শেষের পয়েন্টেই সুশীল প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু । কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যে এমটি হওয়া কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে বড় কথা হল এটা বাংলাদেশের জন্য কোন সমাধানও নয়। আমাদের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী আকারে গড়ে উঠবার জন্য ধর্ম, বিশ্বাস, জাত, শ্রেণী -নির্বিশেষে যে জনঐক্য ত্বরান্বিত করা দরকার সেটাই এখনকার রাজনৈতিক কাজ। পুরানা চালের সাংবিধানিক রাজনীতি বারবার সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্রই বয়ে আনছে। জনগণের মুক্তির আকাঙ্খা কাগজের পৃষ্ঠায় বন্দি করে গণতন্ত্রের নামে মুষ্টিমেয় কিছু লোকের লুটপাটের রাজনৈতিক বিধান উচ্ছেদ করেই বাংলাদেশ নতুন জন্মের গৌরব নিয়ে নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারে। তার জন্য চাই জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের আপসহীন ঐক্য। আমরা যদি সর্বময় ঐক্য গড়ে তুলতে না পারি তাইলে জাতীয় আন্দোলনে ইসলামকে সামনে রেখে যারা লড়বেন তাদের ধর্মযুদ্ধের সৈনিক বা জঙ্গি যাই বলুন তাতে কিচ্ছু হেরফের হবে না। নতুন ক্ষমতা কাঠামো তৈরি হবে ধর্মের আশ্রয়েই। ফলে সাংস্কৃতিক ও শ্রেণী ঘৃণার ঘেরাটোপ পার হয়ে আমাদের দ্রুত ঐক্যের পথ খোঁজা ছাড়া উপায় নাই। দেশি-বিদেশী নিপীড়ন থেকে মুক্তির জন্য মজলুমর ঐক্যের বিকল্প নাই।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

নতুন বাংলাদেশের সন্ধানে… আমিও থাকবো এ কাফেলায়!

1

by Watchdog BD

ঠিক আছে মেনে নিলাম ৭১’এর যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারের দলই আমাদের আসল সমস্যা। চারিদকে রব উঠছে এদের নির্মূল করলেই নাকি দেশের সব সমস্যায় ম্যাজিকেল চেঞ্জ আসবে। আসুন এবার এ সমস্যরা স্থায়ী সমাধানের দিকে চোখ ফেরাই। যুদ্ধাপরাধীদের নির্মুল এখন সময়ের ব্যপার মাত্র। এ নিয়ে নতুন কোন তেনা প্যাচানোর সুযোগ নেই। বাকি রইল রাজাকারের দল। এখানে আমাদের মূখ্যমন্ত্রীর বয়ান আমলে না নিলে দেশদ্রোহির খাতায় নাম লেখাতে হবে। এই যেমন তিনি বলেছিলেন ‘সব রাজাকারই যুদ্ধাপরাধী নয়’…বক্ত্যবের সাথে দ্বিমত করার কারণ দেখিনা। ৭১’সালে আমাদেরর বাড়ির কাজের ছেলে গিয়াস উদ্দিন নাম লিখিয়েছিল রাজাকারের খাতায়। সে বছর সেপ্টেম্বরের দিকে তার একটা ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। মূল উদ্দেশ্য ছিল বাড়ি হতে চুরি যাওয়া জিনিসগুলোর একটা হদিস করা। গিয়াস উদ্দিন গালভরা হাসি দিয়ে জানিয়েছিল চুরির ব্যপারটা তারই কাজ। তবে সে একা করেনি অপকর্মটা। সাথে জড়িত ছিল স্থানীয় রাজাকারের কমান্ডার। ডিসেম্বরের শেষ দিকে গেসুকে আটকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজন। বড় ধরনের চাঁদার দাবি মেটাতে না পারার কারণে তার গলা কেটে ঝুলিয়ে রাখা হয় শহরের মূল চত্বরে। গেসুর মত এমন অনেক রাজাকার ছিল যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসাবে বিবেচনা করা যায়না। যেমন যায়না আমাদের মূখ্যমন্ত্রীর বেয়াইকে(এই বেচারা কেন রাজাকারে নাম লিখিয়েছিল তা এখনো পরিস্কার হয়নি)… ওদের অনেকে পেটের দায়ে অথবা দাও মেরে ঝটপট মাল কামানোর উদ্দেশ্যে নাম লিখিয়েছিল শত্রু ক্যাম্পে। তর্কের খাতিরে এবং দেশের সুশিল সমাজের দাবি মেটাতে ধরে নিলাম এরাও রাষ্ট্রদ্রোহি এবং গণনির্মুলের আওতায় আনা হবে। ভুলে গেলে চলবেনা আমরা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে কথা বলছি। এবার আসা যাক বাকিদের প্রসঙ্গে। ধরে নিলাম ৭১’এর পরে জন্ম নেয়া জামাত-শিবিরের সদস্যরাও রাজাকার অথবা দেশকে পাকিস্তান বানানোর এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপরাধে রাষ্ট্রদ্রোহি। রাষ্ট্রদ্রোহিদের নির্মুল আইনের চোখে বৈধ। তালিকায় এদেরও নাম থাকবে।

এভাবে খুঁজতে থাকলে সংখ্যাটা কত দাঁড়াবে? অনেকে বলেন প্রায় ১ কোটি। মাদ্রাসার ছাত্র হতে শুরু করে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনদেরও বাদ দেয়া যাবেনা। কারণ তারাও রাজাকার তৈরীর ফ্যাক্টরীর সক্রিয় সদস্য। এবার আসুন এদের সবাইকে সমাজ হতে আলাদা করি। দ্ধিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের সৃষ্ট কনসেনষ্ট্রেশন ক্যাম্পের আদেলে ক্যাম্প বানাই। মাসের পর মাস অনাহারের অর্ধাহারে রেখে দুর্বল করার মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেই। দেশে গ্যাসের সমস্যা থাকলে কেন্দ্র (ভারত) হতে গ্যাস এনে গ্যাস চেম্বারে পুড়িয়ে মারি। এভাবে একদিন দেশ হতে রাজাকার, দেশদ্রোহি, রাজাকার তৈরীর মেশিনারীজ সহ সবকিছু নির্মুল হয়ে যাবে। ১ কোটি লাশ মাত্র ৫৫ হাজার বর্গমাইল এলাকায় কবর দিতে অসুবিধা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওসামা বিন লাদেনের লাশ দাফন করায় ওবামা প্রশাসনের পথ অবলম্বন করলে কাংখিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিতে হবে এসব লাশ। হাঙ্গর, কুমির, কুকুর, বেড়াল, হিংস্র মাছের শিকার হয়ে একদিন পৃথিবী হতে মুছে যাবে এদের উপস্থিতি। সমস্যার পাকাপোক্ত সমাধান চাইলে দেশের অলিগলিতে গজিয়ে উঠা মসজিদ, মাদ্রাসা গুলোও গুড়িয়ে দিতে হবে। যারা ধার্মিক হয়ে বেঁচে থাকতে চাইবে তাদের জন্মনিয়ন্ত্রনের আওতায় এনে স্থায়ী বন্ধ্যাত্ব বাধ্যতামূলক করতে হবে। এবার আসুন কল্পনা করি এবং স্বপ্ন দেখি এমন একটা বাংলাদেশের। ধরে নেই বাংলাদেশ এখন শাহরিয়ার কবির ও গণজাগরন মঞ্চের স্বপ্নের দেশ।

এ এক নতুন বাংলাদেশ। এখানে মৌলবাদের খুটি হয়েছে উৎপাটিত। জঙ্গিবাদ এখানে ইতিহাস শিক্ষার অধ্যায়। তার বদলে এখানে প্রবাহিত হচ্ছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্নিগ্ধ বাতাস। এখন মঙ্গল প্রদীপের আলোতে সন্ধ্যা নামে। সকাল বেলা আযানের ধ্বনিতে কলুষিত হয়না শহর, বন্দর, নগর, হাট, মাঠ, ঘাটের বাতাস। পাখিরাও কিচির মিচির শব্দে উচ্চারণ করেনা মৌলবাদী হামদ ও নাথ। বরং তাদের মুখে কবি গুরুর কবিতা ও গান। গৃহবধুদের জন্যও এখানে স্বামীর পাশাপাশি নাগর রাখার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এমন একটা সুজলা, সুফলা সোনার বাংলাদেশের জন্য আমার একটাই প্রশ্ন থাকবে, এখানে লুটেরাদের স্থান কি হবে? যে নেতা নেত্রীরা চেক দিয়ে চাঁদাবাজি করলেন হবে কি তাদের বিচার? পদ্মাসেতু খেকো আবুল চোরা, রেলখেকো সুরঞ্জিত চোরা, হলমার্ক ও ডেসটিনি খেকো রাজনীতিবিদ, আমলাদের পরিচয় কি হবে? দিনের পর দিন বছরের পর ধরে যারা জনগনের পকেট কেটে নিজেদের ভাগ্য গড়েছেন তাদের কি আনা হবে বিচার আওতায়? যে হায়েনা দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে মূখ্যমন্ত্রীর তকমা লাগালেন তার পরিণতিই বা কি হবে? বিচার হবে কি এসব অন্যায়, অনাচার আর কুকর্মের? যদি তা হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে আমিও নাম লেখাতে চাই এ কাফেলায়। অন্যায় কেবল রাজাকাররাই করেনি, অন্যায় করেছে এ দেশের রাজনীতিবিদ, আমলা, ডাক্তার, ইঞ্জিনীয়ার, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, উকিল, বিচারক সহ লাখ লাখ রক্তখেকো পশু। কাদের মোল্লার রুমমেট বানাতে তাদেরও কি পাঠানো হবে ম্যানিলা রশির দুয়ারে? যদি তা নিশ্চিত হয়, আমিও আছি জাতীয়তাবাদের কাতারে। তবু সুন্দর হউক আমাদের জন্মভূমি। কলংকমুক্ত হউক এ দেশের মাটি, আকাশ, বাতাস…
http://www.amibangladeshi.org/blog/01-14-2014/1437.html

Fascist Entropy of an once-Democratic Politics in Bangladesh

M. Aktaruzzaman (Zaman)

“Fascism denies, in democracy, the absurd conventional untruth of political equality dressed out in the garb of collective responsibility ….” Benito Mussolini.

 

Even after a decade of Mussolini’s pronouncement as to the basic reactionary tenets of fascism, the word rapidly suffered a massive interpretative inflection, that George Orwell in his 1944-essay “What is Fascism” could not come up with a good definition of what fascism is and wrote in desperation: “all one can do for the moment is to use the word with a certain amount of circumspection and not, as is usually done, degrade it to a level of a swearword.” In the today’s miasmic milieu of Bangladeshi Politics, in addition to the swearword “razakar”, the word “fascist” is also being thrown around in random both by BNP and its perpetual nemesis AL. It may not have poignancy right at this point, but it certainly is very important to examine the issue further for the future politics of our country. In this write up I would like expound the situation a little further.

 

What is Fascism?

“Fascis” (an Italian word) means bundle or unit, while “fasces” (a Latin word) is a symbol of bound sticks used as a totem of power in ancient Rome. These two roots aptly describes the basic tenets of fascism: unity and power. However, the nature of fascism espoused by Hitler in Germany, Mussolini in Italy or Franco in Spain is not exactly the same, still there are some basic features than characterizes any fascist movement:

Authoritarian leadership: A fascist state requires a single leader with absolute authority who is all-powerful and lords over the totality of the state affairs with no limits whatsoever. There also can be a cult of personality around the leader.

Absolute power of state: “the fascist state organizes the nation, but leaves a sufficient margin of liberty to the individual; the latter is deprived of all useless and possibly harmful freedom, but retains what is essential; the deciding power in this question can not be the individual, but the state alone” – thus goes Mussolini to encapsulate the fact that there is no law or other power that can limit the authority of the state. This is an antithesis of liberal doctrines of individual autonomy and rights, political pluralism and representative government as espoused by the likes of Rousseau – yet it envisions broad popular support.

Strict social order: To eliminate the possibility of chaos than can undermine state authority, fascism maintains a social order in which every individual has a specific place that can not be altered. This “new order” often is in clash with traditional institution and hierarchies

Nationalism and super-patriotism: Fascism digs into the past with unreal romanticism and espouses an historic mission and national rebirth.

Jingoism: Aggression is felt to be a virtue while pacifism a cowardice. This is how Mussolini writes – “fascism ….. believes neither in the possibility nor the utility of perpetual peace….. war alone brings up to its highest tension all human energy and puts the stamp of nobility upon the people who have the courage to meet it.”

Dehumanization and scapegoating of the enemy: Typically every fascist regime seek out certain group or groups of people – ethnic or religious or ideological as enemy.

 

Is the Current Bangladesh Regime Fascist?

With the above features of fascism in mind, let’s see how our current regime in Bangladesh fares:

Leadership: In democratic states, power of state is kept in check by constitutional provisions whereby the stately business is run, usually, by three co-equal branches of government, namely, executive, legislative and judicial. In Bangladesh, the legislative wing is clipped by article 70 for many years. Its integrity also is jeopardized by a lack of intra-mural democracy in most of the political parties including the ruling Awami League. Coupled with the prevailing trickle-down politics, where leadership is bestowed upon as a blessing from the party chief for nonpolitical reasons that at times can be plainly nefarious, has brewed a miasma where the party chief enjoys a demi-God status.  Judiciary independence, in addition, is a total sham as evidenced by open executive intervention in judicial matters. In fact, the current regime abetted by its myriad of political outfits, has shown a keen interest in using judiciary for the sole purpose of harassment, intimidation and silencing of opposing voices. Thus all the three branches of government has now morphed into a single behemoth bent to serve the wish one single person who is none but the all-powerful Prime Minister – Sheikh Hasina Wajed.

 

She wields extraordinary power beyond her constitutional ambit. Borrowing a certain amount of mana from her slain father, she also has cultivated a cult where, even her ministers kisses her feet with no shame whatsoever. It is widely reported that even the Awami League leadership was not in favor of the 15th. amendment, and it was not part of her election pledges in 2008, yet it happened only because of the singular wish of Sheikh Hasina. The eventual entropy that has befallen on today’s Bangladesh thus falls squarely on her shoulder. Now after a flawed election on 01/2014, even though her electoral popularity is at nadir, she continues to remain the only person whose opinion matters. With over 3/4th majority in the 10th. parliament, and with Article 70 in place, she still has the capacity to rule by further amendment in constitution, if she chooses.

Although the Prime Minister continues to chant the popular democratic slogans, actually she has become a hindrance by disenfranchising more than 50% of voting population by cunning political games.

State Power: Power of state is on the rise for more than a decade in Bangladesh. Although there is no declared state of emergency at over the past years, the case Limon vs Government is not only a forme fruste, but a routine daily fact of national life. State outfits like Rapid Action Battalian, Police etc. can trample individual rights with impunity. Slapping of a national pride – Shohag Gazi is a daily happenstance. State can now put political leaders behind bar even without prima facie evidence of any wrongdoing. Given the prevailing politicization of Judiciary, individual rights almost to the point of forfeiture. Benito Mussolini conceptualized the process as “all within the state, nothing outside the sate, nothing against the sate.”

Social Order: By introducing three hundred fiefdoms, each headed by a member of the parliament; by nominating non-politician businessmen and thugs for member of parliament; by decapitating the law-making power of the MPs; and by clipping the wings of the elected local governing bodies – the government has instituted a social order where the cadres of government-affiliated outfits (“leagues” and “porishods” of variegate Awami shades and colors) rule over the commoners with impunity. On top on that, there are governmental outfits like police, RAB etc. also continue to be used as enforcers of governmental whims. At the same time, traditional non-political institutions and hierarchies are being decapitated by rampant politicization (both by the ruling Awami League and by its perpetual nemesis Bangladesh Nationalist Party).

Nationalism and Superpatriotism and dehumanization and/or scapegoating of enemies: The government, instead of promoting quiet inclusive nationalism, is bent on promoting a super-patriotism at the expense of non-Bengali Bangladesh nationals. Denial of existence of indigenous ethnic population by our ex-foreign minister is just a naked example. It also is curious, how blatantly the ruling party labels every opposing voice as “rajakar-sympathizer”. It has divided the nation two camps; pro-Liberation and anti-Liberation. Even valiant and decorated heroes of liberation war are not being spared.

Jingoism: Well, militarily, Bangladesh is not powerful enough to consider military expansion, yet it’s portrayal of simple wining of a legal battle as “somudra-bijoy” talks of its mental makeup. But, yes, they are in a permanent war against those whose voice are not in sync with the ideas and ideals of the ruling Awami League.

How about BNP?

Authoritarian leadership is a staple in BNP-politics since its inception. This has now morphed into a family-owned enterprise of the “lesser Rahman” – I mean General Ziaur Rahman. Their intolerance to opposing (or even neutral) view is amply exemplified by the way the treated one of their founder member – Dr. B. Chowdhury. Despite a disastrous leadership during “2006 to 2008-debacle” Khaleda Zia continues to rule over the party with an authority that is unheard of in any any democracy sans Bangladesh. Her heir apparent, Tareq Zia, despite his reprehensible Hawa-Vobon activities during the last BNP-regime, still welds more power than the any senior party leaders. It is a widely reported story that Khaleda once forfeited all the cellular devices from her senior leadership during a meeting, is just an example of her crude power that overwhelms the collective power of the party leaders. Just like in Awami League, they also a slain leader who has become more like a cult-leader in BNP-culture.

The consolidation of the state power to the verge of tyranny, in fact, began during the previous BNP-regime by introducing the now-infamous Operation Clean Heart that rapidly degenerated into an Operation Heart Attack! And the origin of RAB and the the concept of extra-judicial execution by “cross-fire” is of BNP-origin.

Just like AL, BNP also is guilty of promoting the gradual degeneration of traditional social order by empowering parliament members at the expense of local government. Pan-politicization of every sphere of national life is also a staple of BNP.

However, BNP did not had a jingoistic attitude, however, their favorite scapegoat, under the leadership of Khaleda Zia, remained India.

 

Conclusion:

Yes, definition of fascism fluid, but is definitely not democracy as its biggest proponent Mussolini once said, “democracy is beautiful in theory; in practice it is a fallacy”. And it will not be an untrue statement if one posits that the state of democracy in Bangladesh, currently in a state of total shamble. Election occurred where voter participation was an all-time low and where more than fifty percent voters were disenfranchised to begin with. As per an eminent Bangladeshi jurist – Shahdin Malik, it was more negotiated and predetermined than was competitive.

 

Given the reasons and the facts in ground, it is very easy to label a regime with characteristics of the current Awami League regime as fascist. There can be arguments both pro and con, but certain facts are undeniable. BNP right now, is not in power. However, the history of BNP under the leadership of Khaleda Zia is not very kosher either.

In a previous op-ed in the daily start (December 19th, 2013) I hoped for sanity to prevail. But the leadership of our God-forsaken homeland, apparently, has a bigger saint to heed to:

history of saints is a history of insane people”. (Benito Mussolini

M. Aktaruzzaman (Zaman)

জনগণের নির্বাচন ও ‘সাংবিধানিক’ নির্বাচন

1

by মুহাম্মদ আব্দুল খালিক

 

১.

সমাজ বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে মানুষ সমাজ থেকে রাষ্ট্রের পত্তন করেছে। প্রথমে ছোট ছোট নগর রাষ্ট্র, তারপর বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠেছে অধুনা রাষ্ট্রব্যবস্থা। সাম্য, সমানাধিকার, সমসুযোগ, স্বাধীনতা, মানবাধিকার রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিতকরণকে সামনে রেখে উদ্ভব ঘটেছে রাষ্ট্রব্যবস্থার। আর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ‘গণতন্ত্রকে’ বিবেচনা করা হয় সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও উত্তম ব্যবস্থা হিসেবে। এর মাধ্যমে নিজ নিজ রাষ্ট্রের জনগণ নির্ধারণ করে তাদের শাসক। নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের জন্য জনগণ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ‘ম্যান্ডেট’ দিয়ে থাকে। আর এসবই পরিচালনা করা হয় রাষ্ট্রের সংবিধানের আলোকে। প্রত্যেক রাষ্ট্রেই ঐ রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন। আমরা জানি যে, রাষ্ট্র গঠনের মূল উপাদান ৪টি- ভূখণ্ড, জনসমষ্টি, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। এখানে লক্ষণীয় যে, রাষ্ট্রের মূল উপাদানের মধ্যে ‘সংবিধানের’ উল্লেখ নেই, তবে ‘সংবিধান’ অবশ্যই রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

পৃথিবীব্যাপী যা কিছু আছে সবই মানুষকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। রাষ্ট্রও গড়ে ওঠেছে মানুষের প্রয়োজনের তাগিদেই। মানুষ রাষ্ট্রকে গড়েছে তাদের জীবনযাত্রার মানকে উন্নত ও শৃঙ্খলার সাথে পরিচালনা করতে, সম্মিলিতভাবে উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে। তাই সব ব্যবস্থাতে মানুষের কল্যাণই মুখ্য বিষয়। আর এ বিষয়টি পৃথিবীর সকল জাতিরাষ্ট্রের সংবিধানেই প্রতিধ্বনিত হয়েছে ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’-এই নীতিটি সন্নিবেশিত করার মাধ্যমে। তাই আপাত দৃষ্টিতে কোনো বিষয় সংবিধানসম্মত মনে হলেও যদি তা ‘জনগণের ক্ষমতাকে’ অবজ্ঞা করে তাহলে অবশ্যই তা পরিবর্তনীয়।

 

২.

গণতন্ত্র বা ডেমোক্রেসী শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ ডেমোক্রেসিয়া থেকে, যার অর্থ ‘জনগণের শাসন’/ শব্দটির উৎপত্তি ডেমোস (জনগণ) ও ক্রাটোস (ক্ষমতা) থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতকে এথেন্স ও অন্যান্য নগর রাষ্ট্রে বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝাতে শব্দটির প্রথম ব্যবহার করা হয়। গণতন্ত্র হলো কোন জাতিরাষ্ট্রের (অথবা কোন সংগঠনের) এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের নীতিনির্ধারণ বা সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমান ভোট বা অধিকার আছে। গণতন্ত্রে আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন ও তৈরির ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের অংশগ্রহণের সমান সযোগ রয়েছে, যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হয়ে থাকে।

 

৩.

আন্তর্জাতিকভাবে যে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মর্মে বিবেচিত হতে হলে তিনটি শর্ত পূরণের আবশ্যকতা রয়েছে। যথা- (ক) নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে হবে, (খ) নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হতে হবে এবং (গ) সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃত দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে হবে। দশম সংসদ নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, এ তিনটি শর্তের কোনোটিই পূরণ হওয়ার মতো পরিস্থিতি বিদ্যমান নেই। তাই এ নির্বাচনটিকে কোনো বিবেচনাতেই গ্রহণযোগ্য ও ‘জনগণের নির্বাচন’ বলে যায় না এবং এটি গণতন্ত্রের মৌলিক শর্তাবলিও পূরণ করে না।

 

৪.

তবে সরকারদলীয় নেতা-নেত্রী ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশের মাঝে এই নির্বাচনকে সংবিধানসম্মত বলে প্রতিষ্ঠিত করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা বলতে চাচ্ছেন যে, সংবিধানের বিধান মেনে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই এটি সংবিধানসম্মত। এখানে কোনো দলের (এমনকি একমাত্র বিরোধী দল হলেও) অংশগ্রহণ করা না-করা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এতে নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। তারা এমনকি এটাও বলে থাকেন যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই গণতন্ত্রের স্বার্থেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াটা জরুরি। তাদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারও একই কথা বলেছেন।

তাদের এ সব যুক্তিগুলো পর্যালোচনা করলে খুবই বিস্মিত হতে হয়। লক্ষণীয় যে তারা খুবই খেলোভাবে এমন সব বিষয়ের মাধ্যমে দশম নির্বাচনকে ‘সংবিধানসম্মত’ বলার চেষ্টা করছেন যা সচেতন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবার কথা নয়। তারা বলছেন যে, সংবিধানে সরকার মেয়াদ শেষে নির্দিষ্ট সময়ের শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা আছে, তাই এর ব্যত্যয় ঘটাবার সুযোগ নেই; কিন্তু তারা এটা বলছেন না যে, সংবিধানের মূলনীতিতে জনগণের সমসুযোগ তৈরি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিতকরণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’।

 

৫.

যেখানে ১৫৪টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে গেল তাকে কি নির্বাচন বলা চলে? এছাড়া বাকী আসনগুলোতে ভোটারবিহীন নামমাত্র যে নির্বাচন হলো তা কি নির্বাচনের পর্যায়ভুক্ত? সেখানে কি যোগ্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল? ৫৩% ভোটার যেখানে তাদের ভোট প্রদানের সুযোগই পেল না তাকে কি গণতন্ত্র বলা যাবে? যেখানে কোনো আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক ছিল না সেটা কি সুষ্ঠু নির্বাচনের বৈধতা পাবে? বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল যে নির্বাচনে অংশ নিল না সে নির্বাচন কি জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী বলা যাবে?

বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থাকে এমনিতেই বলা হয় সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র; যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে সব রকমের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে (আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগ)। দশম নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কি তা ১৯৭৪ সালের বাকশাল বা স্বৈরতন্ত্রের দিকে এগিয়ে গেল? একদলীয় এই নির্বাচন দেশকে কোন বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যায় তাই এখন দেখার পালা।

লেখক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলএম অধ্যয়নরত।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণিত নাটক

২০১৩ সালে বাংলাদেশের মানুষকে অনেকগুলো নাটক উপহার দিয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ।  এ ধরনের নাটক স্বাধীন বাংলাদেশে ইতিপূর্বে দেখা যায়নি। রেশমা নাটক, পদত্যাগ নাটক, এরশাদ চাচার গ্রেপ্তার নাটক, সর্বোপরি বছর জুড়েই ছিল শাহবাগিদের নাটক। সকল নাটকের মূল নাটক আজ ৫ই জানুয়ারি ২০১৪ তে মঞ্চস্থ হয়েছে সমগ্র দেশ জুড়ে। ২০১৩ সালের নাটকগুলো মঞ্চস্থিত হয়েছিল ২০১৪ সালের এই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্যই। আজকের নির্বাচনী নাটকের ব্যাকগ্রাউন্ড সকলেরই জানা। নাটক করে মাঠ ফাঁকা করা হয়েছে; তাতেও কাজ হয়নি। কি ধরনের হাস্যকর নির্বাচনী নাটক জাতিকে আওয়ামীলীগ উপহার দিল তার কিছু নমুনা আপনারা দেখতে পাবেন নিচের ভিডিও লিংকগুলোতে। ভিডিও লিংকগুলো গনমাধ্যমেই প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া কাভারেজেও এই চিত্র ফুটে উঠেছে। বাস্তবতা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা আমরা সকলেই অবহিত।
১. ভোট দিয়েও আবার লাইনে আছেন ভোটার !
 ২. “মাঠ যেন ফাঁকা না থাকে, একশ ছেলে সবসময় লাইনে থাকবে।”

আওয়ামী লীগের নির্দেশনা মোতাবেক ভোটকেন্দ্রে ভোটার দেখাতে নিয়ে আসা হচ্ছে ভোটার তালিকায় নামই ওঠেনি এমন কিশোরদের। দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে লাইনে।

একুশে টিভির ধরা পড়ে গেল এমনই কয়েকজন যারা ঘন্টাব্যাপী শুধু লাইনেই দাঁড়িয়ে আছে, ভোট দিচ্ছে না। বুথেও ঢুকছে না।

৩. সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদে ভোট হচ্ছে ঢাকায়… আর সেই ঢাকার একটি ভোটেকেন্দ্রের দৃশ্য দেখিয়েছেন চ্যানেল ২৪ এর রিপোর্টার সাহেদ আলম… ৩ ঘন্টায় কেন্দ্রটিতে ভোট পড়েছে মাত্র ১টি…. এমন রিপোর্ট দেখে হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা…..
৪. ৬ ঘন্টায় ভোট পড়েছে ২টি…
সময় : দুপুর দেড়টা..
স্থান : রাজধানীর উত্তরার একটি ভোটকেন্দ্র…
রিপোর্টার : শাহেদ আলম, চ্যানেল ২৪..
৫. নবাবপুরে লাইনে লাইনে ভুয়া ভোটার।

বৈধ কাগজ-পত্র ছাড়াই আওয়ামী লীগের নির্দেশে দাঁড়িয়ে আছে সুযোগ পেলেই বুথে ঢোকার অপেক্ষায়। মিডিয়ার ক্যামেরা দেখেই কেঁটে পড়ে।

৬. খুলনায় প্রচুর জালভোট দেওয়া হচ্ছে। একসাথে ৫০ জন ঢুকে ভোট দিচ্ছেন। ৫ আঙ্গুলে কালির দাগ। ৫ জায়গায় ভোট দিয়েছেন এক ভোটার
৭. বিধ্বস্ত সাতক্ষীরাবাসীর নিরব প্রতিবাদ

ভোট পড়েনি একটিও। দলমত নির্বিশেষে ভোট দিতে যাননি কেউ।

৮. জাল ভোট দিয়ে দৌড়ে পালানোর সময় জাল ভোটকারীকে হাতেনাতে ধরলো একুশে রিপোর্টার । অনেক ক্ষণ দৌড়ানোর পর পিছন দিক থেকে তার কলার চেপে ধরে আটকি ফেলে সেই সাহসী রিপোর্টারটি। প্রচুর সংখ্যক পুলিশ সেখানে থাকলেও জালভোট প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানালো রিপোর্টারটি।
৯. ভোট চুরি কাকে বলে! ভিডিওটি দেখবেন আর বিচারের ভার আপনাদের।
১০. ৬৪৭টি ভোটের মধ্যে পড়েছে মাত্র ২২টি।
এছাড়াও কথিত নির্বাচনে কিছু লোক ভোট দিতে এসেও ভোট দিতে পারেনি আওয়ামী জালিয়াতির কারনে।
শেয়ার করে আ.লীগের এই ডিজিটাল শয়তানী মানুষকে জনান
১১. এজেন্টের কান্নার দৃশ্য
অনেকেই বলছেন আওয়ামীলীগ এই ভোট নাটক করে আরো ভয়ানকরূপে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরবে। তারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার জন্য অবশ্যই আরো বহু মানুষ কে মারবে; কিন্তু কোন ইন্সিডেন্টই তাদেরকে শক্তিশালী করবেনা, বরং আরো দুর্বল করবে। একটা মিথ্যাকে ঢাকার জন্য তারা হাজারটা মিথ্যা জন্ম দিচ্ছে। আর হাজারটা অন্যায়কে ঢাকার জন্য তারা লক্ষটি অন্যায় করে যাবে। কিন্তু কোন প্রচেষ্টাই তাদের এই প্যাঁচ থেকে উত্তরন করবেনা। তাই যারা হতাশ হচ্ছেন; তাদেরকে বলছি জালিম স্বৈরাচারের পতন অবশ্যম্ভাবী। ইটস নট কোয়েশ্চেন এবাউট হাউ, ইটস এবাউট হয়েন? যত তাড়াতাড়ি হবে তত ভালোভাবে আওয়ামীলীগ বিদায় নিবে। আর যত দেরিতে আওয়ামীলীগ বিদায় নিবে তত তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে হারিয়ে যেতে থাকবে।

প্রহসনের নির্বাচন ও বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যত নিয়ে কিছু ব্যাক্তিগত ভাবনা

by Sazzad Rahman

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র সোল এজেন্ট বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। রাজনীতির মাঠের প্রাচীনতম ও দর্শকনন্দিত এই খেলোয়াড় এখন এতটাই জনবিছিন্ন হয়ে পড়েছে যে তাদের আহবানে দেশের সাধারণ ভোটারদের একশতাংশও আজকে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসেনি। গণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদ, ভারতের আধিপত্যবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতার বিরুদ্ধে এক নীরব বিপ্লব দেখলো আজকে বাংলাদেশ। সম্ভবত আমার এই কথার সাথে তারাই দ্বিমত পোষণ করবেন যারা বিটিভি, চ্যানেল আই, একাত্তর ইত্যাদি “নিরপেক্ষ” মিডিয়া ও রাকিবউদ্দিন গংদের “নিরপেক্ষ” কমিশনের একান্ত গুণমুগ্ধ বংশবদ। একপক্ষীয়ভাবে নগ্ন সমর্থন দিয়ে ভারত আওয়ামীলীগের মত একটি ঐতিহ্যবাহী দলকে একেবারে খাদের কিনারায় নিয়ে এসেছে।

 

ভারত নাকি সুপার পাওয়ার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু সুপার পাওয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখা একটি দলের ডিপ্লোমেসি এতটা অপরিপক্ক কিভাবে হয় তা আমার বুঝে আসেনা। ভারতেরই পত্র-পত্রিকারই ভাষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের মানুষের ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্টে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। দীর্ঘদিনের সাংষ্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে তারা দেশের মানুষের মাঝে যতটা আসন গেঁড়ে নিয়েছিল তার অনেকটাই তারা খুইয়েছে গণবিরোধী একটি দলকে অন্ধভাবে সমর্থন দিয়ে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট এখন এতটাই প্রবল যে সম্ভবত সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালানো ছাড়া বাংলাদেশকে পুরোপুরিভাবে ভারতের নিয়ন্ত্রনে আনা কতটা সম্ভব তা প্রশ্নসাপেক্ষ। ভারত অনেক বড় সামরিক শক্তি সেটা যেমন বাস্তব তেমনি এটাও বাস্তব তাদের চেয়েও শতগুণ বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকেও ইরাক-আফগানিস্তানে সামরিক আগ্রাসনের বোঝা বইতে গিয়ে প্রায় দেউলিয়া হতে হয়েছিল। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রই হাবুড়ুবু খায় সেখানে ভারত কি সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালানোর মত দুঃসাহস দেখাবে? মনে রাখতে হবে ভারতের পঞ্চাশ শতাংশের বেশি মানুষ এখনোও খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়।

 

ভারতের সামনে দ্বিতীয় পথ যেটি খোলা থাকে তা হলো আওয়ামীলীগকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় রাখা। কিন্তু আওয়ামীলীগ ভারতের হাতের পুতুল হতে গিয়ে যেভাবে পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে তাতে পশ্চিমারা যদি একবার অর্থনৈতিক অবরোধ দেয় তাহলে ভারতের পক্ষে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের বোঝা বহন করা কতটা সম্ভব তা ভাববার বিষয়। তার উপর ইসলাম বিদ্বেষী অবস্থান নেওয়ার কারণে মুসলিম বিশ্বের সাথেও আওয়ামীলীগের সম্পর্ক শীতল। আর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনামান ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনমানের চেয়ে কোন অংশেই কম না, বরং অনেক ক্ষেত্রেই তা অনেক উন্নত।

 

এখনোও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র গণক্ষোভ জমা হয়েছে। কিন্তু মানুষ যখন চলমান ব্যাবসায়িক অচলাবস্থা ও সম্ভবত আসন্ন অর্থনৈতিক অবরোধর কারণে না খেয়ে থাকবে তখন এই গণক্ষোভ গণবিষ্ফোরণে পরিণত হবে যা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, যৌথবাহিনী দিয়েও তা ঠেকানো যাবেনা। এমনকি ভারতের দাদাবাবুরাও তা সামাল দিতে পারবেনা, যেমনটা ইরানে শাহদের বিরুদ্ধে চলা গণবিষ্ফোরণকে সামলাতে পারেনি খোদ যুক্তরাষ্ট্রই।

তামাশার নির্বাচন ও আওয়ামীপন্থীদের উদ্দেশ্যে কিছু প্রশ্ন

 

আতিক হাসান
 

১. ২০০৬ সালে  সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল বিচারপতি কে এম হাসানের। কিন্তু জনাব হাসানকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে সাংবিধানিক সেই বাধ্যবাধকতাকে আওয়ামীলীগ তখন মানেনি। তাহলে বলুন, শেখ হাসিনা নিজেই সরকারপ্রধান হিসেবে থেকে নির্বাচন করলে এবং সেই নির্বাচনকে ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা’ আখ্যা দিলে সেটা কি বিএনপির মেনে নেয়া উচিত? কে এম হাসানের অধীনে নির্বাচনে আস্থা রাখা না গেলে শেখ হাসিনার অধীনে আস্থা রাখা যায় কি?

২. আওয়ামীপন্থী সুশীলরা বলছেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া যেমন অধিকার, ঠিক তেমনি নির্বাচনে অংশ না নেয়াও কোনো রাজনৈতিক দলের অধিকার। তাহলে বলুন, এরশাদকে জোর করে নির্বাচনে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করল কেন আ’লীগ? মনোনয়ন প্রত্যাহার করা সত্ত্বেও জাপার বহু সদস্যের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হয়নি কেন? নির্বাচনে অংশ না নেয়া কি শুধু বিএনপিরই অধিকার? জাপার সেই অধিকার নেই???

৩. শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে সংলাপে যোগ না দেয়ায় আওয়ামীপন্থী সুশীলরা বেগম জিয়াকে দোষী করেন এবং বলতে চান যে সেই সংলাপটি অনুষ্ঠিত হলেই বুঝি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত! আসলেই কি বেগম জিয়া শেখ হাসিনার সংলাপে অংশ নিলেই সব কিছুর সমাধান হয়ে যেত? ধরলাম, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে খুব ভুল করেছেন। কিন্তু বিএনপির সিনিয়র নেতারা তো ঠিকই আ’লীগের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সঙ্গে তারানকোর মধ্যস্থতায় সংলাপে বসেছিলেন! সংলাপের মধ্য দিয়েই সমঝোতা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকলে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হলো কেন?

৪. আ’লীগ-বিএনপি উভয় দলকেই ছাড় দেয়া দরকার বলে সুশীলরা বলেছেন। কিন্তু বিএনপির কাছ থেকে কোন ধরনের ছাড় আশা করেন তারা? বিএনপি তো হুবহু ত্রয়োদশ সংশোধনীর আদলে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়নি, চেয়েছে যেকোনো ফরম্যাটের একটা নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার। রাষ্ট্রপতির অধীনে নির্বাচন করতে চাইলেও বিএনপি তা মেনে নিত বলে দলটির নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে সেরকম নমনীয়তা দেখা গেছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচন করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বার কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। কিন্তু এরকম কোনো প্রস্তাবকেই গ্রাহ্য করেনি আ’লীগ।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, তার হাতে অসীম ক্ষমতা রেখেই নির্বাচন করতে চেয়েছে আ’লীগ। এমতাবস্থায় বিএনপির কি উচিত ছিল ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষের সমর্থনপুষ্ট নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ছাড় দেয়া?

৫. আ’লীগের অধীনে নির্বাচনে গেলে সেটা যে বিএনপির জন্য পায়ে কুড়াল মারা হতো, সেটা কি এই নির্বাচন কমিশনের আচরণ থেকে স্পষ্ট হয়নি? মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরও এই নির্বাচন কমিশন জাপার প্রাথীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেনি; আবার প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও আওয়ামীপন্থীদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী করার জন্য বিপক্ষ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে প্রার্থীদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন কিন্তু আ’লীগের চাপে সেই তথ্য ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আওয়ামীলীগ আইন লঙ্ঘন করে প্রচার-প্রচারণা চালালেও নির্বাচন কমিশন আপত্তিটুকুও জানায়নি। সাবেক আওয়ামী মন্ত্রী আবু সাঈদ এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী প্রার্থীর পক্ষে খোদ পুলিশ নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছে! এরকম ভূরি ভূরি নজিরের পরও কি আওয়ামীপন্থী সুশীলরা বলবেন যে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হওয়া সম্ভব ছিল?

৬. অনেকেই বলছেন, বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত আন্দোলন তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন, আ’লীগ যে বন্দুকের শাসন কায়েম করেছে, শত শত মানুষ হত্যা-গুম করেছে, তার বিপরীতে সাধারণ নিরস্ত্র মানুষ যে প্রতিরোধ তৈরি করেছে, সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন নয় কি? বঙ্গবন্ধুর মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বকে হত্যার পর তার প্রতিবাদ জানাতে বন্দুকের মুখে মানুষ রাস্তায় নামতে পারেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে পূর্বে কখনোই এবারের মতো বন্দুকের নলের শাসন কায়েম হয়নি। কখনোই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানুষের ওপর এভাবে নির্বিচারে গুলি চালায়নি, গুম করেনি (আওয়ামীপন্থী আইন ও সালিস কেন্দ্র বলছে, কেবল ২০১২ সালের অর্ধেক পর্যন্ত এই সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে একশরও বেশি মানুষ গুম হয়েছে)। সুতরাং, বন্দুকের শাসনের মুখে বঙ্গবন্ধুর খুনের বিরুদ্ধে যেখানে মানুষ প্রতিবাদ করতে পারেনি, সেখানে অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা-গুমের পরও যে বিরোধী দলের কর্মীরা এখনো রাস্তায় নামছে, প্রতিরোধের চেষ্টা করছে, সেটা কম কিসে?

এই মুহূর্তে কেবল বিরোধী দলের সক্রিয় কর্মীরা মাঠে নামছে, সাধারণ মানুষ নীরবে আ’লীগের নির্যাতন প্রত্যক্ষ করছে, নির্বাচন হলে তারা ব্যালটের মধ্য দিয়ে আ’লীগকে শাস্তি দিত, যার আভাস পাওয়া গিয়েছিল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনগুলিতে। আগামীতে আওয়ামী সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইলে নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষও অতীষ্ঠ হয়ে একসময় মাঠে নামবে। ইতিহাস তেমনটাই বলে না কি?

ফ্যাসিজম, একটি দাবী এবং আমাদের নিরপেক্ষতা by মোহাম্মাদ হাসান

#রাষ্ট্রযন্ত্র দখল রেখে ভোটের আগেই অর্ধেক পার্লামেন্টারিআন বাছাই  ছিল ভোটের অধিকার হরণ ও ক্ষমতার চিরস্থায়িত্ব প্রতিষ্ঠার একটি নির্লজ্জ উদাহরন। একটি রাষ্ট্রের কাঠামো  যখন তার সর্বশক্তি ও মেধা শুধু ক্ষমতা ধরে রাখা আর বিরুধী মত নিশ্চিহ্ন করায় ব্যাস্ত  থাকে তাকে  ফ্যাসিজম ছাড়া আর কিই বা  বলা যায়।এই ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থার দুটি বড় মহীরুহ হল  মিডিয়া ও দলীয় আজ্ঞাবাহী দ্বিমুখীশাসন যন্ত্র প্রতিষ্ঠানসমূহ।

* বর্তমানে মিডিয়াতে বিরোধী মতের অপর নিপীড়নের সিকিভাগও উঠে আসছেনা।নিজস্ব মিডিয়া চ্যানেল, অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকা দ্বারা হলুদ সাংবাদিকতার রাজত্ব প্রতিষ্ঠা বিপরীতে বিরধি মত প্রচারের জন্য চ্যানেল ১, দিগন্ত, ইসলামী টিভি বন্ধ এবং আমারদেশ পত্রিকার অফিস ও প্রকাশনা বন্ধ করা হয়েছে । *যেখানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে মারা হয়েছিল তার দম্ভোক্তি আমার কিছুই হবে না আর বিপরীতে সারা দেশের বিরুধী দলের নেতা পর্যায়ে যারা ছিলেন তারা হয় জেলে বন্দি নতুবা খুন হয়েছেন নতুবা  পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অথবা গ্রেফতার আতঙ্কে গৃহবন্দি হয়ে আছেন।

#তারপরও বর্তমানে বিরুধী দলের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন থেমে নেই কেননা জনসমর্থন এই দলের প্রতি দিন দিন বাড়ছে যার প্রমান সর্বশেষ ৫ টি মেয়র নির্বাচন।এই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী মেনে নেয়া হয়েছিল আওয়ামীলীগের দাবীর  প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে এবং সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের  অধীনে অনুষ্ঠিত ৩ টি নির্বাচনের দুটিতেই (গত নির্বাচন সহ) বিএনপি পরাজিত হয়েছে।অর্থাৎ বিএনপির এই আন্দোলন যে ক্ষমতার দখল নয় বরং আপনার আমার ভোটের প্রয়োগের ওপরই ভরসা করছে টা অনেক্তাই স্পষ্ট।আবার এই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা কেড়ে নিয়েছে এই আওামিলিগই সকল মতকে অগ্রাহ্য করে আর কেন করেছে সেই উদ্দেশ্য তো এখন পরিষ্কার।  আওয়ামীলীগ আজ যে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে তারা কি কখনো বিএনপির অধিনে নির্বাচনে যেত?  যে   বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে তা হল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটা পুরো দেশ মেনে নিয়েছিল আর এতে জবাবদিহিতা ও ক্ষমতার এক ধরনের চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স হত। আমরা যারা নিজেদের নিরপেক্ষ দাবী করি তাদের উচিত সবার আগে  নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী নিয়ে সোচ্চার হওয়া কেননা আমাদের নিরবতা  আওয়ামী ফ্যাসিজমের পক্ষালম্বনেরই সামিল।

২৯শে ডিসেম্বরের রাজনীতি by রোমেল আহমেদ

 

অনেকে বলেন ২৯ ডিসেম্বর বিএনপি জনসভা করতে পারে নাই, বিএনপি ব্যর্থ হইছে। কিন্তু ফলাফলটা দেখেন, ঠান্ডা মাথায়।

 

সবার কাছে, জনগনের কাছে, বিদেশীদের কাছে কী মেসেজ গেছে-

১ ) বিএনপি কে শান্তিপূর্ন কর্মসূচি করতে দেয়া হয় নাই।

২ ) বিএনপি জনসভা করলে মানুষ আসত, মানুষ আসলেই কী? মানুষকে কিসের ভয়। এত জনাতঙ্ক কেন ?

৩) যেই জনসমুদ্র হবে, তাঁকে আওমি লীগ কী মোকাবিলা করতে পারবে না?

৪) সবচেয়ে ভয়ের ব্যপার, বিরোধী দলকে ঠেকানোর জন্য জনগণকে, এমনকি কূটনীতিকদের জিম্মি করে রাখা হইছে।

৫) ৬ মিনিটের অগ্নি বৃষ্টি।

 

সবাই, জনগন, বিদেশীরা কী বুঝল-

১) আওমি লীগ একটা ফ্যাসিস্ট দল।

২) যারা প্রেস ক্লাব, সুপ্রিম কোর্টে নারকীয় আক্রমন করতে পারে।

৩) বিএনপি-এর জন্য হরতাল বা অবরোধ ছাড়া কোন স্পেস এই সরকার খোলা রাখে নাই ।

৪) মুল তান্ডব কারিরা , আওমি লীগ, এক্সপোজড।

৫) পুলিশ খুব পারটীজান রোল প্লে করে।

বিবেচনা করলে দেখা যাবে, এই জনসভা না করা , কিংবা না করতে পারা , বিএনপির জন্য লাভজনক হইছে।

 

এখন দেখা যাক,

আমি আপনি যে কোন সিধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পজেটীভ, নেগেটীভ দুইটাই ভেবে নেই-

এই জনসভা ঘোষণার ব্যাপারেও দুইটা অনুসিধান্ত নেয়া হইছে –

১) পজেটীভ।- জনসভা করতে দিলে তো ভালই ।

২) নেগেটীভ ।

বিএনপির থিংক-টেঙ্ক কি আশা করছিল আওমি লীগ এই জনসভার ব্যাপারে একটুও ছাড় দিবে? গত ৫ বছরের, বিশেষ করে ২০১৩ এর অভিজ্ঞতা একটুও বিবেচ্য হইলে বিএনপির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এই আশা করে নাই । এই জন্যই পাতানো সংলাপের ফাদে বিএনপি পা দেয় নাই।

আর বিএনপির থীঙ্ক ট্যাঙ্ক জনসভার ঘোষণা দিয়ছিল দুই অনুসিধান্ত কে মাথায় রেখেই, বিশেষ করে আওমি লীগ যে কোন উপায়ে জনসভা আটকাবে- এই চিন্তা মাথায় রেখেই।

হাসিনার গেস্তাপো বাহিনী ঠিক পাতানো ফাদেই পা দিয়ে দিছে।

যা যা কাহিনি করছে সব অসাধারণ । ইতিহাসের সবচে ন্যাক্কারজনক কাজ গুলা । ঠিক অনেক ইভেণ্ট না , কিছু দারুন হাইলাইট – আওমি লীগ কি চিজ -একদম এক্স পোজড।

 

এবং আউটকাম ইজ মাচ মোর দেন এক্সপেক্টেড ফ্রম দ্য ট্র্যাপ ।

হাসিনা , কট বাই ছাত্রলিগ যুবলীগ বোল্ড খালেদা ।

লেন্দুপ দর্জির ইতিহাস

বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া পুলিশ ও সরকারকে লেন্দুপ দর্জির ইতিহাস পড়তে বলেছেন। আসুন আমরা জেনে নেই কে এই লেন্দুপ দর্জি ?

সিকিম ভারতের উত্তরাংশে অবস্থিত তিব্বতের পাশের একটি রাজ্য। রাজ্যটির স্বাধীন রাজাদের বলা হত চোগওয়াল। ভারতে বৃটিশ শাসন শুরুর পুর্বে সিকিম তার পার্শ্ববর্তী নেপাল আর ভুটানের সাথে যুদ্ধ করে স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল। বৃটিশরা আসার পর তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নেপালের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় সিকিম। এসময় রাজা ছিলেন নামগয়াল।কিন্তু বৃটিশরা তিব্বতে যাওয়ার জন্য এক সময় সিকিম দখল করে নেয় এবং ১৮৮৮ সালে রাজা নামগয়াল আলোচনার জন্য কলকাতা গেলে তাঁকে বন্দী করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ১৮৯২ সালে তাকে মুক্তি দেয়া হয় এবং সিকিমের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়া হয়। প্রিন্স চার্লস ১৯০৫ সালে ভারত সফরে আসলে সিকিমের চোগওয়ালকে রাজার সম্মান দেয়া হয়। চোগওয়ালপুত্র সিডকং টুলকুকে অক্সফোর্ডে লেখাপড়া করতে পাঠানো হয়।টুলকু নামগয়াল মতায় বসে সিকিমের ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন। বৃটিশের কাছে সিকিম তার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা লাভ করে।

পরবর্তী চোগওয়াল (রাজা) থাসী নামগয়ালের সময়ে বৃটিশরা ভারত ছেড়ে গেলে গণভোটে সিকিমের মানুষ ভারতের বিরুদ্ধে রায় দেয় এবং ভারতের পন্ডিত নেহরু সিকিমকে স্বাধীন রাজ্য হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হন।

১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর সিকিমের গুরুত্ব বেড়ে যায়। ১৯৬৩ সালে থাসী নামগয়াল এবং ১৯৬৪ সালে নেহরু মারা গেলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। চোগওয়াল হন পাল্ডেন থন্ডুপ নামগয়াল। এ সময় ভারতের প্রধানমস্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সর্বশক্তি নিয়োগ করেন সিকিমকে দখল করার জন্য। তিনি কাজে লাগান সিকিমের প্রধানমন্ত্রী কাজী লেন্দুপ দর্জিকে। ১৯৭০ সালে নেহেরু প্রভাবিত সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসকে লেন্দুপ দর্জি ব্যবহার করে অরাজকতা সৃষ্টি করেন। রাজপ্রাসাদের সামনে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে ইন্দিরা সরকার রাজার নিরাপত্তার কথা বলে ভারতীয় বাহিনী পাঠায়। কিন্তু তারা রাজাকে গৃহবন্দী করেন। বহির্বিশ্বের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং বিএস দাশকে ভারত সরকার সিকিমের প্রধান প্রশাসক নিয়োগ করে। এই সময় আমেরিকান এক পর্বতারোহী গোপনে সিকিম প্রবেশ করেন এবং সিকিমের স্বাধীনতা হরণের খবর বিশ্বের নিকট তুলে ধরেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে যায়। সিকিম জাতিসংঘের সদস্য পদভুক্তিরও প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এর মধ্যে ভারতের তাঁবেদার লেনদুপ দর্জির নেতৃত্বাধীন সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস (এসএনসি) ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পার্লামেন্টের ৩২ আসনের মধ্যে ৩১টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে জিতে ২৭ মার্চ ১৯৭৫ প্রথম ক্যাবিনেট মিটিং-এ প্রধানমন্ত্রী লেনদুপ দর্জি রাজতন্ত্র বিলোপ ও জনমত যাচাইয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত নেন। ততদিনে সিকিমে ভারতীয় সেনাবাহিনী ঘাঁটি গেড়ে ফেলেছে। তারা বন্দুকের মুখে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করে। পুরো ঘটনা ছিল সাজানো। ৬ এপ্রিল ১৯৭৫ সালের সকালে সিকিমের রাজা যখন নাস্তা করতে ব্যস্ত সে সময় ভারতীয় সৈন্যরা রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে এবং রাজাকে বন্দী করে প্রাসাদ দখল করে নেয়। তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে গ্রাস করে ভারতের প্রদেশে পরিণত করে।সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো সিকিম সেনাবাহিনীকে সহায়তা ও প্রশিণ দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী।

ভারতীয় সাংবাদিক সুধীর শর্মা ‘পেইন অব লুজিং এ নেশন’ (একটি জাতির হারিয়ে যাওয়ার বেদনা) নামে একটি প্রতিবেদনে জানান, ভারত তার স্বাধীনতার গোড়া থেকেই সিকিম দখলের পরিকল্পনা করেছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওয়াহের লাল নেহেরু অনেকের সাথে কথোপকথনে তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সাবেক পরিচালক অশোক রায়না তার বই ‘ইনসাইড স্টোরী অব ইন্ডিয়াস সিক্রেট সার্ভিস’-এ সিকিম সম্পর্কে লিখেন, ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ১৯৭১ সালেই সিকিম দখল করে নেয়া হবে। সে ল্েয সিকিমে প্রয়োজনীয় অবস্থা সৃষ্টির জন্য আন্দোলন, হত্যা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছিল।তারা ছোট ছোট ইস্যুকে বড় করার চেষ্টা করে এবং সফল হয়। তার মধ্যে হিন্দু- নেপালী ইস্যু অন্যতম। সাংবাদিক সুধীর শর্মা লিখেন, লেনদুপ দর্জি নিজেই শর্মাকে বলেছেন, ‘ভারতের ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর লোকেরা বছরে দু’তিনবার তার সাথে দেখা করে পরামর্শ দিত কিভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা যাবে। তাদের একজন এজেন্ট তেজপাল সেন ব্যক্তিগতভাবে তাকে অর্থ দিয়ে যেতো এআন্দোলন পরিচালনার জন্য। এ অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক সন্ত্রাস পরিচালিত হতো।’শর্মা আরো লিখেছেন, এই ‘সিকিম মিশনের’ প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা, যা সর্বত্র ‘র’ নামে পরিচিত।

ক্যাপ্টেন ইয়াংজু লিখেছেন, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক পোশাকে রাজার বিরুদ্ধে গ্যাংটকের রাস্তায় মিছিল, আন্দোলন ও সন্ত্রাস করত। নেহেরুর পরামর্শ, মদদ ও উৎসাহে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন লেনদুপ দর্জি। শ্লোগান তুলেছিলেন, ‘গণতন্ত্রের সংগ্রাম চলছে, চলবে’/লেনদুপ দর্জির গণতন্ত্রের শ্লোগান শুনে সিকিমের সাধারণ জনগণ ভাবতেই পারেনি, এই শ্লোগানের পিছনে প্রতিবেশী দেশ একটি জাতির স্বাধীনতা হরণ করতে আসছে।সিকিমের জনগণকে দ্বিধাবিভক্ত করে ভারত তার আগ্রাসন সফল করতে এবং এক পকে মতায় এনে তাদের দ্বারা দেশ বিক্রির প্রস্তাব তুলে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছিল।সিকিমের মত ঘটনার অবতারণা বাংলাদেশেও যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে দলমতনির্বিশেষে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। কারণবাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রতিরা ভারত দিনের পর দিন জোরদার করে চলেছে। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের ভেতরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়ে চলেছে। এই কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত সীমান্ত আউট পোস্টগুলোর (বিওপি) একটি থেকে আরেকটির দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার থেকে হ্রাস করে ৪/৫কিলোমিটারে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং এগুলোতে বিএসএফ-এর শক্তি দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

বিএসএফ এই সীমান্তে থারমাল নাইটভিশন ডিভাইস, টেলিস্কোপিক বন্দুকসহ উচ্চমানের হাতিয়ার মোতায়েন রেখেছে। এই সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার এলাকাকে কাঁটাতারের বেড়াসহ ফাড লাইটের আওতায় আনার এবং প্রশিতি কুকুর মোতায়েন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনেকটা এগিয়েছে বলে জানা গেছে।বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের ২৭৭ কিলোমিটার এলাকা ফাড লাইটের আওতায় আনার কাজ দু’বছর আগেই সম্পন্ন হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৯৯ সালের কারগিল কনফিক্টের পর থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিরা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত- প্রতিরা শক্তিশালী করার এই উদ্যোগ নেয়া হয়।ভারত তার বাংলাদেশ সীমান্তে প্রথম পর্যায়ে ৮৫৪ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণ করে এবং একই সঙ্গে পাকা সড়ক নির্মাণ করে ২ হাজার ৬শ’ ৬ কিলোমিটারের বেশী এলাকা।দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ২ হাজার ৪শ’ ৩০ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণ, ৭শ’ ৯৭ কিলোমিটার সড়ক এবং ২৪ কি.মি সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে । প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম সীমান্তে বেড়া ও সড়ক নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। ২০০৬ সাল নাগাদ ভারত মোট ২ হাজার ৫শ’ ৩৬ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া এবং ৩ হাজার ২শ’ ৫১ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করেছে বলে ভারতীয় একটি সূত্রে জানা গেছে।

যদিও ১৯৭৪ সালের ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোন প্রতিরা কাঠামো নির্মাণ করা নিষিদ্ধ, তবুও ভারত তা করে চলেছে। বলাবাহুল্য, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সড়ক তৈরী প্রতিরা কাজের মধ্যেই পড়ে । ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত দু’দেশের বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হলেও তা কোন ফল দেয়নি। ভারতের বর্তমান প্রস্তুতি অনুযায়ী সীমান্ত সড়ক দিয়ে অনায়াসে সমর যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এরফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিরা ব্যবস্থাও জোরদার করতে পারবে।

ভারতের বর্ডার আউট পোস্ট-বিওপি’র সংখ্যা পূর্বের তুলনায় অন্তত তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এগুলোতে মোতায়েন জওয়ানের সংখ্যাও সে তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।একারণেই বাংলাদেশের জনসাধারণের মধ্যে ‘সিকিমফোবিয়া’ কাজ করছে প্রবলভাবে। ভারতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অবিশ্বাসের অন্যতম কারণ হলো বাংলাদেশও সিকিমের পরিণতি বরণ করে কিনা। আর সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টিতে এজেন্ট তৈরীর নানা প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে । বড় দেশ হিসেবে ভারতের অন্যতম কৌশল হলো, ছোট দেশের কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, কূটনীতিক পর্যায়ের প্রভাব সৃষ্টিকারী ব্যক্তিবর্গের মগজগুলো কিনে নেয়া। ভারত যদি বাংলাদেশকে স্বাধীন-স্বার্বভৌম দেখতে চায় তবে মাথা কেনার কৌশল বাদ দিতে হবে। এই বিষয়গুলোর ব্যাপারেও ভারতের কাছ থেকে ব্যাখ্যা-বক্তব্য আসা উচিত- যাতে বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর হতে পারে । তাছাড়া নতুন বাঙালী প্রজন্মকে সিকিমের করুণ পরিণতির ইতিহাস জানাতে হবে। ইতিহাস বলে,ভারত সিকিমে এ কৌশলে চেষ্টা করে সফল হয়েছে। এখানেও সেই চেষ্টা করছে বলে অনেকেই সন্দেহ করেন। এসব কাজ অব্যাহত থাকলে সেটা হবে অবন্ধুসুলভ। মূলতঃ সিকিমের ইতিহাস হলো ভারতের সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার সবচেয়ে প্রকৃষ্ট উদাহরন ।

(সংগ্রহীত)

http://wp.me/p43ryU-1C

বাংলাদেশের মিডিয়া – এক্সিস অফ ইভিল

by  রোমেল আহমেদ:

কিংবদন্তি গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলী একটা গল্প বললেন ,এক কুখ্যাত ডাকাত মৃত্যুর পূর্বে তার সন্তানদের ডেকে বলল- ‘বাবারা আমার মৃত্যুর পর তোমরা এমন কাজ কইরো যাতে লোকেরা আমাকে ভালো বলে’ , সেই ডাকাতের সন্তানেরা সেদিনের পর থেকে কোন বাড়িতে ডাকাতি শেষে ফেরার সময় সেই বাড়িতে আগুন দিয়ে আসত, ফলে লোকেরা সহসাই বলাবলি করা শুরু করলো ‘আহা ওদের বাবাই ভালো ছিল লোকটা শুধু ডাকাতিই করত, ছেলেদের মত আগুন দিত না’। ইশপের শিক্ষাঃ আম্লীগের বর্তমান কাজকাম অতিতের বাকশালের স্মৃতি কে মধুর করে দিচ্ছে ।

স্বাধীনতার যুদ্ধের মাঝের সময় থেকে শুরু করে ৭৫ পর্যন্ত সময়ে ভাশানি ন্যাপ সহ সব বিরোধী দল্কে যেই অত্যাচারের স্টিম রোলার সইতে হইছে – এরই ধারাবাহিকতা বি এন পির নিরযাতিত চেহারা । আর জাসদের সাথে যা হইছে তার উদাহরণ আজকের প্রতিবাদি লাখ তরুণরা – যারা নানা ভাবে আওয়ামি জাহেলিয়াতের শিকার । আমার লেখায় যাদের একটু খটকা আছে, তাদের ইনু মিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটে ঘুরে আসা দরকার, রনো-র লেখা , ভাশানির হক কথা পড়া উচিত।

স্বাধীন বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, আওয়ামী লিগ একটি দুর্বৃত্ত , সন্ত্রাসি , উগ্র-উদ্ভট মানসিকতার ফ্যাসিবাদি দলে পন্থি দলে পরিবর্তিত হয়েছে।

দুর্বৃত্তআয়নের কারনেই সন্ত্রাসী বাহিনির জন্ম দিতে হয়েছে, আর দুর্বৃত্তআয়ন-এর জন্যই দরকার ছিল চাতুকারিতা, নেতাকে দেবতা বানানোর অপচেস্টা। আর এই অপচেষ্টা চলতে থাকা সময়কালে প্রকৃতি যখন শায় হলও না , নিজেদের দাম্ভিকতার কারনে তৈরি হয় দুর্ভিক্ষ । জনরোষএর ভয়েই হোক, আর সমাজতন্ত্রের পেত্নির লোভে পরেই শুরু বাকশাল-এর। এক উগ্র-উদ্ভট মানসিকতার বিকাশ । দুরবৃত্তায়ন, সন্ত্রাস, দুর্ভিক্ষ ঢাকার জন্য দরকার হয় এক শ্রেণির গোয়েবলশের , উগ্র-উদ্ভট মানসিকতার বিকাশএর জন্য দরকার হয়ে পরে ইকবাল সোবহানদের,বাংলার বানির। পোশা মিডিয়ার , প্রাভদার মতন ।

হীটলারের। স্টালিনে্র, চসেস্কু, মুগাবের মত কুখ্যাত ডিক্টেটরদের দরকার; পোষা মিডিয়ার যারা যে কোন ঊপায়ে প্রভুকে রক্ষা করবে ।

এই ধরনের মীডীয়ার কাজ এক নায়কের, বা নায়িকার পোষা গেস্তাপো বাহিনির স্যতানি আড়াল করবে, আড়াল করবে পারটির ক্যাডারদের শিশ্ন , যারা আরাল করবে সালমান-তাপস- আজিজ খান- মনজুর এলাহিদের সম্পদের কালা পাহাড়। এই ধরনের পোষা পশুদের কাজ হইতেছে এদের প্রভুর ইচ্ছা- অনিচ্ছাকে সুবিধা মত হালাল -হারামের তকমা দেওয়া। এদের মনুষ্যত্ব সততা প্রত্যাশা করে কোন পাগল ! স্বাধীন বাংলাদেশের সবচে বড় দুর্ভাগ্য আওমিলিগ না ।

বরং আওয়ামি ঊরদু লিগাররা যে দালাল মিডিয়ার “এক্সিস অফ ইভিল” “একটা পয়জন আইভি” তৈরি করতে পারছে -সেইটাই সবচে বড় দুর্ভাগ্য ।

 আর এক্সিস অফ ইভিল- জন্ম দিছে আজকের দুনিয়ার সবচে ধূর্ত ডিক্টেটরকে ।

কালেকটিভ কনশানস বা গণনৈতিকতা -বিএনপির ২৯ ডিসেম্বর এর ফাকা মাঠ আন্দোলন এর একটি কারণ বিশ্লেষণ

 আজকের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি নিয়ে বিএনপির এক্সপেকটেশন কি ছিল, তা আমি এখনো ক্লিয়ার হতে পারছিনা।

তারা কি ভাবছিল,হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে ? আওয়ামী লিগ যে সব কিছু ব্লক করবে, তাতো জানা কথা। বিএনপি কি ভাবছিল যে, আওয়ামী লিগ এর গুণ্ডাদের সকল বাধা আর পুলিশ এর বাধার মুখে জনতা রাস্তায় নামবে ?

আর ঢাকার বাহিরের মানুষের ঢাকা আসার কথা বলছেন কেন ? ঢাকার মধ্যে এক কোটি মানুষ আছে। এরা কই ছিল ?

এরা কেন নামে নাই।

হেফাজত এর মুভমেন্ট এর আগে, ঠিক একই রকম বাধা দেয়া হইছিল (হয়ত মাত্রা আরো বেশি ছিল) কিন্তু মানুষের জোয়ার এর মুখে সকল বাধা ভেঙ্গে পরছিল।

এরা আসছেনা কেন ?এই প্রশ্নটা বিএনপি কি নিজেকে করছে ?

বিএনপির আন্দোলন এর লেজিটিমেসি আছে, কিন্তু বিএনপির কি লেজিটিমেসি আছে ? এইটা বিএনপি কখনো নিজেদের জিজ্ঞেস করছে ।

রাষ্ট্র যখন, ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার দাস হয়ে যায়, সকল ইন্সটিটিউশন যখন ভেঙ্গে পরে যখন কোন নিরপেক্ষ মিডিয়া থাকেনা, মানুষ যখন আদর্শিক ভাবে বিভাজিত হয়ে পরে, সংবিধান যখন সরকার এর ক্ষমতা রক্ষার পুস্তকে পরিণত হয়  তখন যেই সব দল শুধু নাকি কান্না গাইতে থাকে তারা ইতিহাসের থেকে কোন শিক্ষা নেয় নাই।

সেই শিক্ষা হল, এই ধরনের অবস্থায় জন মানুষের কালেকটিভ নৈতিকতা বা কালেকটিভ মরালিটি সব চেয়ে  গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়।

সমাজের কালেকটিভ মরালিটি, কালেকটিভ কনশানস বা জন-নৈতিকতা কি বলে, সেইটা হয়ে যায় সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান।

এই সংবিধান ধরা যায় না, এইটা লিখতে হয় না। এইটা প্রতিটা মানুষের মনে তখন গাথা হয়ে থাকে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা ধরেন। প্রতিটা মানুষ তখন বিশ্বাস করতো এই দেশকে নিজের রক্ত দিয়ে মুক্ত করতে হবে। মানুষ তখন অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরছে।

৯০ এর এরশাদ এর পতনের কথা ধরেন। প্রতিটা মানুষ জানত, ওই লুচ্চা রে নামাইতে হবে। এইটা কালেকটিভ মরালিটি, কালেকটিভ কনশানস জনতার বিবেক। লুচ্চাটা আর্মির সাপোর্ট  ধরেও আর  টিকে থাকতে পারে নাই । আর্মিও শেষ পর্যন্ত সমর্থন প্রত্যাহার  করে নিছে ।

আজকে তাই বিএনপি কে প্রশ্ন করতে হবে, কেন আজকের এত অত্যাচার , অন্যায়, রাষ্ট্রের পেটে ছুরি চালিয়ে ইন্ডিয়ার দালালি  আর সীমাহীন  লুটপাট এবং পরিষ্কার অগণতান্ত্রিক আচরণ দেখেও তাদের ডাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে নাই ?

আওয়ামী পুলিশের বাধা, আর ছাত্র লিগ এর গুণ্ডা দের ভয়ে ?

৭১ এ আর্মি ছিল এলএমজি হাতে তাও মানুষ পাত্তা দেয় নাই – আর এই কয়টা ছাত্র লিগ , আর রেব পুলিশ ? ফুহ।

আজকে তাই  প্রশ্ন করতে হবে, আওয়ামী  লিগ যদি আরো ৫ বছর যদি অবৈধ ভাবে দেশ শাসন করে যায়, তাও কি সাধারণ মানুষ কি মাঠে নেমে তাদের বিরুদ্ধে গণ মিছিলে নামবে, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এর মত ?

পাঁচ বছর পরের কথা জানিনা, কিন্তু আজকে সে পরিস্থিতি এখনো হয় নাই।

এই কালেকটিভ  মরাল কনশানস টা এখন দানা বাধতাছে মাত্র – এখনো ফর্ম করে নাই। কিন্তু, তার আগেই বিএনপি মানুষরে রাস্তায় চায়।

বটম লাইন হইলো, বিএনপি নিজের নৈতিকতা মানুষের কাছে পরিষ্কার করতে পারে নাই।

বিএনপি এখন পর্যন্ত চিন্তা করতে পারে নাই, একটা মূল কাজ বাদ দিয়ে তারা আন্দোলন এ নামছে । তাদের মানুষকে একটা ভিশন দেখাতে হবে  বা আগের পাপের জন্যে ক্ষমা চাইতে হবে  বা দেখাতে হবে  যে তারা একটা সোল সার্চিং করছে- কোন লিপ সার্ভিস না।

সবাই মনের চক্ষে দেখতে পাচ্ছে , বিএনপি শান দিচ্ছে তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট এ–আরো জোর গতিতে লুটপাট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে, কালেকটিভ মরাল কনশানস – বিএনপির পক্ষে দাড়ায় নাই।

সাধারণ মানুষ একটা সুন্দর জীবিকা নিয়ে, পরিবার পরিজন সহ সুন্দর ভাবে বেচে থাকতে চায়, দুর্নীতির থেকে মুক্তি চায়- বিএনপি কি সেই ভিশন দেখাইতে পারছে সাধারণ মানুষ কে ? নাকি মানুষ জানে, বিএনপি আসলে তারা আরো জোর গতিতে বিগত পাঁচ বছরের হারানো সম্পদ ফিরে পেতে জোর গতিতে লুটপাট শুরু করবে ।

জনমানুষের এই কালেকটিভ মরালিটির বিষয়ে বিএনপি চিন্তাও করে নাই। করতাছেনা। তারা জাস্ট ক্ষমতা চায়, যে কোন মূল্যে যেন এইটা তাদের বাপ এর তালুক, যেন এইটা তার রাইট। তারা জাস্ট ধরে নিচ্ছে, আওয়ামী লিগ এর উপর মানুষ চেতা, স মানুষ এখন দলে দলে তাদের পক্ষে নেমে ক্ষমতা তাদের হাতে তুলে দিবে ।

আমি পরিষ্কার, আওয়ামী লিগ এই অবৈধ নির্বাচন করে আরো কয় এক বছর ক্ষমতা ধরে রাখার মত দলীয়, সাংগঠনিক,প্রাতিষ্ঠানিক,আন্তর্জাতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক সক্ষমতা এবং  কুটচালি বুদ্ধি রাখে।

শেখ হাসিনা অনেক হেডস্ট্রং লেডি। ডক্টর ইয়ুনুস ইস্যুতে উনি বছর এর পর বছর আমেরিকার মত পরাশক্তির হাজারো কান্না কাটি পাত্তাও দেন নাই। প্লাস উনার সাথে ইন্ডিয়া আছে। স, উনার একজিট রুট রেডি। প্লাস দেশের আনাচে কানাচে প্রাশনের আনাচে কানাচে আওয়ামী লিগ জায়গা মত  বসে আছে।

তারা এখন দেখতে পাচ্ছে, তাদের আর কোন নৈতিকতার ধার ধরতে হচ্ছেনা ফলে এখন তাদের আর কোন চক্ষু লজ্জা দেখাতে হচ্ছেনা। কারণ, এই  হাস্যকর নির্বাচন এর কারণে তাদের অবস্থান এখন এত দিনের আলোর মত অবৈধ । ফলে, নৈতিকতার ধার তাদের আর ধরতে হচ্ছেনা ।

ফলে, তারা এখন যা ইচ্ছা তা করতে পারবে এবং কারো কোন নিষেধ শোনার তাদের প্রয়োজন নাই। তারা জানে তারা এখন  চাইলেই, ঘরে ঢুকে মানুষ মেরে যদি জাস্ট ডিক্লেয়ার করে দেয়, লাশ টা জামাতের কেও কোন প্রশ্ন করবেনা। তারা জানে, একটা ওপেন মিছিলে গুলি মেরে মানুষকে মেরে ওরা যদি  বলে, এইটা ছিল হিজবুত তাহরীর তো, সবাই চুপ মেরে যাবে। তারা জানে, তাদের নেতারা সব গুলো সিরিয়ালি  চুরি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা খাইছে  নেতাদের নিজেদের হলফ করা সম্পদ এর বিবরণী থেকে- ফলে তারা এখন এইটা নিয়েও আর চিন্তিত না। তারা বুঝে, একটা ইলেকশনে ১৫৪ জনকে আগে নির্বাচিত করেও তারা গণতন্ত্র আর সংবিধান এর নাম, পার পেয়ে যাবে- সমাজের এক দল মানুষ তাদের সাথে থাকবে, যুদ্ধাপরাধী বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র বলে।

ফলে, আওয়ামী লিগ  জানে, কেও তাদের  জোর না করলে, তাদের  কিছু ছাড়তে হবেনা।

ফলে,রাজতন্ত্রের আরেক ক্রাউন প্রিন্স বিএনপিকে  আরো অনেক বছর ধরে ফ্রাস্ট্রেটেড হতে হবে।

এবং  যত দিন তারা মানুষের কালেকটিভ মরাল কনশানসটা অর্জন না করবে এই ধরনের আন্দোলন আওয়ামী লিগ ফু  মেরে উড়িয়ে দিবে, আজকে যেমন করেছে । আওয়ামী লিগকে সহজে কেও নাড়াতে পারবেনা।

এইটা ঠিক, আওয়ামী লিগ যত অন্যায় করতে থাকবে, তত বেশি তার বিরুদ্ধে মরাল কনশানস জমা হবে, কিন্তু, আওয়ামী লিগ এর নেগেটিভ কনশানস ইজ নট ইকুয়াল টু বিএনপির পজিটিভ কনশানস।

বিএনপির নিজেরটা নিজেকে অর্জন করতে হবে। মানুষ বোঝে, এই সেই বিএনপি যার নেতারা ৫ বছরে ধরে দেশকে লুট করছিল । এই সেই বিএনপি যে নিজেও, ক্ষমতা দখল করে রাখার জন্যে অনেক কুটচাল চালছে ।

বিএনপিকে যদি ক্ষমতার ধরে কাছে যেতে হয় তবে অবশ্যই একটা সোল সার্চিং করে, নিজের ভুল স্বীকার করে সত্যিকার এর পরিবর্তন হইছে তার কনভিনসিং  প্রমাণ দিয়ে মানুষের কাছে আসতে হবে ।

নইলে, অনলাইন এ বা রাস্তা ঘাটে আওয়ামী লিগ এর বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ কে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে ধরে নিয়ে যদি, আন্দোলন প্ল্যান তাদের চরম ভাবে হতাশ করবে।

ফলে, আরো অনেক  বছর ধরে, যদি এই আন্দোলন চলে জন ভোগান্তি, অর্থনীতি ধ্বংসের চক্র চলতেই থাকবে।

এবং আওয়ামী লিগ এর ক্ষমতার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন যদি আরো দুই থেকে পাঁচ  বছর ধরেও চলে, আমি অবাক হবনা।

কারণ, আওয়ামী লিগ এখন ডেস্পারেট। এবং আগামী ৫ জানুয়ারি ইলেকশন এর পরে, তারা আরো বেশি ডেস্পারেট হবে তাদের দল এর প্রায় ২ লক্ষ লোক রুজি রোজগার এর ইস্যু এইটা- এইটা তারা ছাড় দিবেনা।

তাই যখন সংবিধান যখন ক্ষমতাসীন এর ক্ষমতা টেকানোর অস্ত্র তখন জনগণের কালেকটিভ কনশানস নিজের পক্ষে  নিয়ে আসাটা আজকে যে কোন রাজনৈতিক দল এর আন্দোলন এর প্রধান ভিত্তি হয়ে দাড়ায় ।

এবং জন-নৈতিকতা এবং জনগণ এর কালেকটিভ কনশানস যদি বিএনপির তার পক্ষে আনতে না পারে , তাহলে আর যতই ডাক দিক কোন গন-জোয়ার বিএনপির পক্ষে নামবে  না। আওয়ামী লিগ নিজেই  হয়তো এইটা সেইটা করে, পরিস্থিতি গরম করে রাখবে –কারণ তারা এত অনৈতিক দল যে সম্পূর্ণ বিবেক বর্জিত হয়ে তারা এখন যে কোন কিছু করতে পারে। কিন্তু, গণ-মানুষ এর জোয়ার বিএনপির পক্ষে নামবে বলে মনে হয় না । নামলে অবাক হব ।

আজকে যারা কিবোর্ডে ঝড় তুলে ফাটায় ফেলতাছে, টক শোতে নিজের একটা কথা শোনানোর জন্যে ঘণ্টার অপর ঘণ্টা  ফোন টিপ্তাছেন, আড্ডায়, ফেসবুকে এমপিদের অবৈধ সম্পদ, অবৈধ ইলেকশন , মানুষের মৃত্যু,এই ফ্যাসিবাদী সরকার  কিভাবে নিজেই ঢাকা অবরোধ করলো – এইটা সেইটা বলে ঝড় তুলতাছেন  – এবং নৈতিক সাহস টা নিজের সাথে না থাকার কারণে

এই কিবোর্ড বিপ্লবী আর চা এর কাপে ঝড় তোলা লোক গুলোই বিএনপির হয়ে আওয়ামী গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে না।   

বাকি সাইলেন্ট মেজরিটি  তো আরো অনেক দুরের বিষয়।

Is Nazism rising in Bangladesh ? -1

2

by M Chowdhury

Comparative discussion of the characteristics of historic Nazi regime and current Bangladesh regime

I wrote earlier, how the propaganda strategy adopted by the current regime in Bangladesh is stunningly similar to that of the Nazis in 1930s and 40s; I held this view long before the rise of Shahbag.

As a result, I have often receive few kinds words from fellow “sushils” who seems to think of this as a political blasphemy. In my personal opinion this sheer horror is generated by most sushil getting Fascism confused with dictatorship ( a hated one, that is) ; because I often get asked if I have any doubt about the massive public support AL  commanded. “Hey, Hitler was popular too” – is always my simple answer.  The point is, a Fascist regime does not necessarily need have zero public support, in the contrary history shows us that Fascist regime can start off with significant public support or the delusion of so.

19799175316C741A87

Fascism as an ideology is quite hard to define, however it has been proven to display some common characteristics. A close observation of these characteristics, with comparison of current Bangladeshi regime can that the fear of rising fascism in Bangladesh might not be yet another political claim.

“Extreme” Nationalism

Extreme Nationalist, combined with a totalitarian authority is Fascism’s distinctive property. Fascist regimes, throughout the history made constant use of extreme nationalism. This serves the purpose of creating the common ground for creating a “mass movement” in which the middle-class can prevail. This also creates a sense of comradeship, a mindset of being in a “war” with the political opponents and a sense of sacrifice for the mission of  national regeneration.

In post-world war 1 Germany, Hitler’s Nazi used the national regeneration theme with colossal success and sold Nazi party to be the only viable option to regain the lost Germanic pride. While the Nazis used nationalism in the backdrop of a lost war and “humiliating” Versailles Treaty, Bangladesh’s fascist could not have used such tactics in their ground for mass movement because of two problems. Firstly, we don’t have a lost war, we have a war where we were valiantly victorious against all odds.

130234080557829814

The second and much bigger one is that of India; any self-respectful patriotic or nationalist movement is bound to be vocal about the biggest and greatest aggressive entity the nation has been facing for over four decades, in Bangladesh’s case which is India with its border aggression and BSF brutality, water sharing issues and economic and cultural aggression etc. As India also happens to be AL’s greatest foreign ally, the AL intelligentsia needed to conceive a different type of nationalism.

18494650003E86C7CF18391768406C741A87

As a result, a fusion is created where AL, the leftists parties, liberation war, 71, Father of the Nation etc are jumbled in to a fallacy called 71’s “chetona” and the fascist propaganda machine played its part in sanctifying this so called chetona. This does a lot of good for a fascist movement in rise; it gives them a ground for mass movement, takes the focus of any patriotic sentiment away from India, gives AL the right to identify anyone as the enemy of the chetona and gives the young hot-blooded recruits a shadow war to fight against the so called enemies.

18614982557829814

The young generation trapped into this fallacy grows up learning that the chetona is sacred, so much so that a regime can do it whatever it likes in the name of 71. They never stops to ask  why the leftist party leaders today becomes the guardian of 71 when they stayed away from the liberation war describing it as the fight of two dogs, they never ask how media censorship is aligned with the spirit of free democratic Bangladesh. They never hesitate  to call Kader Siddiqui, the 71 war hero as a “razakar” and idolizes certain sci-fi author as national hero and forgets to ask him why wasn’t he in the war front in 1971.  These ultra nationalists are so lost in their fallacy that they forget to demand justice for Bishyajit, they chant “Fashi ” and not “Justice”   and while in the nation is in turmoil, they are happy setting the world record for creating the biggest flag.

This patriotism is extreme, blind and delusive; it teaches young men to dresses up in green and red the regime is killing democracy; it teaches them to shut their eyes and rejoice the coming back of the saviour of chetona while the regime is self electing itself for a second term and moving towards a total authoritarian structure.

-13900090983E86C7CF

Another important aspect of the German Nazi ultra-nationalist is its display through paraphernalia. There were slogans, mottos, songs and flags. A similar trend can be observed in Bangladesh, especially in regime backed rallies, gathering etc; there is a inclination of creating this delusion of unity and a silent  effort of  fuelling the urge to join the common ground of chetona.

-1404623626056FEACD

The way the current regime has created the fallacy of Nationalist and were able to create a cult culture around it is very similar to the ultra nationalist extremism created by Nazi regimes in the past and it does make one to wonder, Is Nazism rising in Bangladesh ?

( Thanks to work of R. Verma and Emilio Gentile)

চেতনার মর্মবাণী জাগাও প্রাণে

নিরীহ পাবলিক

২৭ ডিসেম্বর ২০১৩/ দুই দিন আগেও যেই সরকার আর্মি, পুলিশের সশস্ত্র পাহারায় জোর পূর্বক গাড়ি চলাচলে বাধ্য করছিলো তারাই এখন আবার সেই আর্মি, পুলিশ দিয়েই জোর পূর্বক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ঢাকার আবাসিক হোটেলগুলোর কর্তৃপক্ষকে সরকারীভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তারা যেন অপরিচিত কাউকে রুম ভাড়া না দেয়। হোটেল ওয়ালার জ্ঞাতী গোষ্টি ছাড়া কেউ যদি থাকতে না পারে তাহলে তাকে হোটেক বলার মানে কি? সরকারের এইসব ভাঁড়ামো কর্মকান্ডে এমন নিদারুণ পরিস্থিতেও নিরীহ পাবলিক কৌতুক বোধ করে। কিন্তু যাদের সব দেহছিদ্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঠাসা তারা নিশ্চয় এসবের মর্মার্থ বুঝতে পারেন, বুঝতে পেরেই মনে মনে তাদের চেতনাবাদী নেত্রীর প্রশংসা করেন। গত চল্লিশ বছরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নানান দিক নিত্যনতুন আলোকে উদ্ভাসিত হয়েছে। বিগত কিছুদিন যাবত এই চেতনা উপচে পড়ছে। চেতনায় উদ্ভাসিত এইসব কর্মকান্ডে কৌতুকবোধ না করে বরং এগুলোকে সরবে বা নিরবে আত্নস্ত্ব করার মধ্যেই প্রকৃত বাঙ্গালীত্ব নিহিত আছে। এছাড়াও চেতনাপন্থী বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিকদের গত চার দশকের কর্মকান্ডে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কতিপয় মৌলিক বৈশিষ্ট্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা রাজাকার ব্যতীত সকল বাঙ্গালীরই গলাধঃকরন করা কর্তব্য। চেতনার তিন লক্ষণঃ

১/ মিথ্যাচারঃ যে যত বেশী মিথ্যা বলতে পারবে সে তত বড় চেতনাধারী। গাঁজাখুরি গল্পের আবেগী বয়ান বিশেষভাবে চেতনা বর্ধক। শুনেছিলাম গ্রামদেশে পলাতক মুক্তিযোদ্ধার কৌতুক প্রচলিত আছে- যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়া যুবক এখন গর্বের সাথে নিজের বীরত্ব জাহির করে বেড়ায়, ‘আমিতো পাঞ্জাবীদের সাথে একবার মুখোমুখি যুদ্ধ করেছি, সে-কি গোলাগুলি! হঠাৎ একটা বুলেট আমার কানের পাশ দিয়ে সাঁই করে চলে যাচ্ছিলো, তাকাইয়া দেখি বুলেটের গায়ে লেখা ‘মেইড ইন চায়না’/ আমাদের চেতনাবাদী পলাতক মুক্তিযোদ্ধারাও এমন গল্প করেন এবং সেগুলোই চেতনাবাদীদের চেতনার মূল উপজীব্য, মুক্তিচেতনা জাগিয়ে রাখার একমাত্র ভাবসম্পদ। আর আমাদের চেতনাবাদী শাসকগোষ্ঠির মিথ্যাচার তো এখন মহাকাব্যের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

২/ গুম, খুন, লাশোল্লাসঃ গুম করে খুন করা কিংবা খুন করে গুম করা। সদল বলে পিটিয়ে কোন নিরস্ত্র মানুষকে লাশ বানানো, লাশ নিয়ে মানুষখেকো জংলী কায়দায় লাফালাফি করে উল্লাস করা এসবই এখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অংশ হয়ে গেছে। চেতনাপন্থীদের রাজত্ব আর কিছু দিন চললে ডিসকোভারী চ্যানেল আমাজন জংগল ছেড়ে ঢাকা শহরে আসবে মানুষখেকোদের ভিডিও দৃশ্য ধারন করতে। হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ দূরত্বে বসে তারা ভিডিও করবে আর চেতনাপন্থী লগী বৈঠা বাহিনী রক্ত মাখা দাঁত বের করে অট্টহাসি দেবে টিভির পর্দায়।

৩/ ভারতের দালালীঃ ভারতের দালালী না করে কেউই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাধারী হতে পারে না। ভারতের জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানানো হবে, দেশে দূর্ভিক্ষ লাগিয়ে হলেও ভারতের স্বার্থে বাঁধ নির্মান করা হবে, ভারতকে ট্রানজিট দিতে নদীর মাঝখানে রাস্তা বানিয়ে দেয়া হবে, ভারতীয় বাহিনী যাকে যখন খুশি গুলি করে মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখবে। একমাত্র রাজাকার ছাড়া কেউ এসবের বিরুদ্ধে কথা বলবে না, বলতে পারে না। এজন্যই এর আগে যখনই ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোন মিছিল সমাবেশ হয়েছে তাতে চেতনাধারী বাহিনী হামলা করেছে। করাই স্বাভাবিক। কারণ বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে ভারতের শাসকগোষ্ঠির সেবাদাসী হিসেবে টিকে থাকার জন্য। বন্ধু রাষ্ট্রের গুলিতে সীমান্তে বীর বাঙ্গালী বেঘোরে প্রান দিবে-এটাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অংগীকার, জাতির পিতার স্বপ্ন। বন্ধুরাষ্ট্রের দেয়া বাঁধে বাংলার জনতা পানির অভাবে আর্সেনিক খেয়ে মরবে এটাই আমাদের গৌরবের অর্জন। এই সত্য যারা এখনো বুঝতে পারে নাই তারাই ভারতের বিরোধীতা করে- তারাই রাজাকার। মূর্খরা ভাবে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করেছে। চেতনাধারীরা ঠিকই জানে এইদিন বাংলাদেশের অধীনতা পাকিস্তানের কাছ থেকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে মাত্র।

 

 

 

 

 

 

 

টিক্কা খানের আসনে আওয়ামী লীগ!

by Watchdog Bd
কাদের মোল্লার ফাঁসির তাবিজ গলায় ঝুলিয়ে ডেডিকেটেড আওয়ামী একটিভিষ্টরা অনলাইনে যেসব গান গাইছে তা এখন লাশ নিয়ে গোরস্তানে যাওয়ার গানের মত শোনাচ্ছে। মিহি সুরের এসব গানে আগের মত প্রাণ নেই। গলায়ও নেই তেমন জোর। অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচারকে ডিফেন্ড করার বাংলা শব্দের ভান্ডার খুব ধনী নয়। লম্বা সময় ধরে এসব সীমিত শব্দের ব্যবহার খেই হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা তৈরী করে মাত্র। ছাগল, ছাগু ও পাকি, এই তিন শব্দের কীর্তন এ মুহূর্তে নেতিয়ে পরা চেতনা উজ্জীবিত করার জন্য যথেষ্ট হবে বলে মনে হচ্ছেনা। কারণ আওয়ামী লীগ এখন ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খানের আসনে। আর আপনারা যারা এদের নিয়ে নাচতে গিয়ে অন্তর্বাস খুলে ফেলছেন তারা বসেছেন কাদের মোল্লা, আমিনি, নিজামীদের চেয়ারে। অন্যায়, অবিচার আর অত্যাচারের কোন দেশ, কাল, পাত্র থাকেনা। সব দেশে সব কালে এরা খুনি, তস্কর ও লুটেরা হিসাবেই চিহ্নিত হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের জন্য এ মুহূর্তে নতুন কোন সংজ্ঞা তৈরী হবে তার সম্ভাবনাও কম। আপনাদের লীগ এখন মরা হাতী। যারা কাকের মত কা কা সুরে এই হাতির ঘুম ভাঙ্গাতে চাইছেন তাদের চেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা একবারেই শূন্য। মরা হাতী এক সময় লায়াবিলিটি হয়ে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত কেউ না কেউ উদ্যোগ নিয়ে ছুড়ে ফেলবে ভাগাড়ে। আরও কটা দিন হয়ত হাতে রাইফেল নিয়ে পুলিশের তাফালিং চলবে, অন্ধকারে চোখে কালো চশমা লাগিয়ে র‌্যাব নিজেদের র‌্যাম্বো ভাবতে থাকবে, সেনাবাহিনীর কামানে চড়ে হানিফ, লতিফ, ইনু, হাসানদের টেংরা মাছের নাচ অব্যাহত থাকবে।

৭১’এ কাদির কসাইরাও একই নাচ নেচেছিল। কিন্তু হায়, নাচের সমুদ্র এক সময় নদী হয়ে যায়, নদী হয় পুকুর এবং পুকুর রূপান্তরিত হয় ডোবায়। ডোবার টেংরা মাছ অক্সিজেনের অভাবে চিতপটাং দিয়ে নেচে নেয় শেষ নাচ এবং বিদায় নেয় ইহজগৎ হতে। ৭৫ সালে ক্ষমতার দাপট এবং তা চিরস্থায়ী করার লিপ্সা হতে শেখ মুজিব যে ভুল করেছিলেন দল হিসাবে সে ভুলের মাশুল আওয়ামী লীগকে গুনতে হয়েছিল অনেকদিন। এবং অনেক গুলো বছর। ২০১৩’তে এসে শেখ হাসিনা যে ভুল করলেন তার মূল্য দল হিসাবে আওয়ামী লীগকেই শোধ করতে হবে। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিলনা। আওয়ামী ছিল জনগণের দল। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ছিল তাদের ভাগ্য। পাকিস্তানী সামরিক স্বৈরশাসক, ৭১’এর ইয়াহিয়া-টিক্কা চক্র, এরশাদ চক্রের নয় বছর হতে মুক্তির লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ ছিল অগ্রপথিক। কিন্তু একজন মহিলা তছনছ করে দিল এ ঐতিহ্য। নিজের ইচ্ছা, পারিবারিক স্বার্থ আর প্রতিবেশী দেশের তাবেদারি করতে গিয়ে খেয়াল খুশিমতো দলকে ব্যবহার করলেন এবং টেনে আনলেন এমন একটা অবস্থায় যেখান হতে দলীয় পরিচয়ে নেতা কর্মীরা জনগণের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে। কারণ তাদের জন্য দেশের অলিগলিতে পাতা আছে মৃত্যু ফাঁদ। এ ফাঁদ কেবল জামাতি ফাঁদ নয়, সাধারণ জনগণেরও ফাঁদ। বন্দুকের নলের মুখে দেশ শাসন ইয়াহিয়া টিক্কা খানদের শোভা পায়, আওয়ামী লীগের মত জনগণের দলকে নয়।

জামাতি, পাকি আর রাজাকার বচন হয়ত ক্ষণিকের আনন্দ দেয়, উল্লাস করতে খোরাক যোগায়। কিন্তু তা ক্ষতির জায়গায় ইট-সুরকি সিমেন্ট বসাতে সহায়তা করেনা। রাজনীতি করতে নেতা-নেত্রীর পাশাপাশি জনগণ লাগে। এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সব আছে। আছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী, একদল নেত্রীকানা দলদাস। কেবল নেই জনগণ। প্রমান চাইলে সব ছেড়েছুড়ে নির্বাচনে গিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করে আসুন। দুঃখ পাবেন, কষ্ট লাগবে। জান নিয়ে পালিয়ে আসতে পারলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করবেন।
http://www.amibangladeshi.org/blog/12-27-2013/1428.html

 

A Rejoinder to the opinion piece by Hammad Ali titled “Rights, Responsibilities and Privileges”

by M. Aktaruzzaman (Zaman):

http://opinion.bdnews24.com/2013/11/14/rights-responsibilities-and-privileges/

“Few things are harder to put up with than a good example”

The header of this write up is a borrowed quote from Mark Twain, the witty guy with a big mustache. I used to work in a little town on the mighty Mississippi, where Mark Twain lived his childhood days! Whenever, I visit downtown for a little coffee or anything else, on the hill, I see the Mark Twain Boyhood Museum and I think of this quote.

It, indeed, is very hard to put up with a good example. In the heydays of the current administration (early 20111), an honorable minister and Awami League (AL) secretary general again invoked the name our only Nobel laureate to give a little extra credit to our sitting prime minister (for she helped Yunus get the bank going!). Other ministers, AL leaders and even the attorney general, at various time, tried to spray an extra glow for the prime minister. Yes, the witty man with a big mustache from Hannibal said it right ….ha .. ha..

But why? Why the Prime Minister, having all the hard powers of the state juggernaut at her disposal consider her feat a lesser feat than that of Yunus? She has all the love (!) in the land. She is the undisputed heiress of the most powerful political Ghorana. She lacks nothing. And yet she longs for what Yunus never longed for! He dreamed and worked hard and he himself became an example international repute. And he got what he deserved!

For whatever reason, the nation has given our prime minister the biggest gift one can ever have. They gave her the opportunity to serve them for five years. And she had visions too. She came with a dream of Digital Bangladesh – that can make governing open and transparent thus reducing all the other maladies that accompany our “as usual” governance. If she just kept on working for this very noble goal, she can be a transformational leader ushering her poor millions in the new era of information and prosperity. I bet, Yunus and his intellectual tools are ready to be tapped for the benefit of the people. But naught … the long hand of the governmental juggernaut, instead, decided to discredit the Yunus for no good reason. The PM called him a blood sucker usurer, even though Yunus does not own the bank and even though she herself claims to be a facilitator for the whole enterprise. Her ministers called names. And her Attorney General even announced that the PM deserved the laurel for her extra-ordinary work for negotiating a peace treaty in Chittagong Hill Tracts.

With this prelude I would like to offer a rejoinder to Mr. Hammad Ali’s opinion piece “Rights, Responsibilities and Privileges” published on November 14, 2013.

In the third paragraph Mr. Ali posited, “Why would a man whose life mission is to eradicate poverty in his own motherland, a man who is above all trying to work for the common man, have his influence measured in terms of how many heads of states and business tycoons he knows?” The matter of fact is far from Mr. Ali’s contention. Muhammad Yunus, at the prime of his life, left a very highly ranked university in the US (Vanderbilt to be precise) and settled in the quaint outskirts of Chittagong in early 70’s. He was nothing more than a young economist with a desire to do the best for a nascent nation-state. “We are poor, because we are poor” – this aphorism is economics bothered Yunus. He desired and devined a pragmatic approach to provide capital to the poor without collateral. Thus came the village of Zobra and thus came the Grameen Bank. Yes, the then Prime Minister Sheikh Hasina deserves kudos for her helping hand. “True influence, I believe, has to be bottom up, and not top down” – Yes, this is what the story of Yunus is! He fact that his circle of influence is so wide is a function of his work that he started at the subaltern. It is never top town …

The second cliché point Mr. Ali mentioned is the notion that “Yunus has changed the national image for the better”. This has merit, but I agree with Mr. Ali when writes, “No, just knowing that your country produced a Nobel Laureate does not change their attitude about you overnight.” This especially is true when we also are doing certain non-kosher things like Hawa-Bhavon, Khamba, Hallmark, Padma and etc etc … Image of a nation is more like a kaleidoscope of myriad images that morphs with succession of images – good or bad. More images of the likes of Muhammad Yunus of GB, Sir Fazle Hasan Abed of BRAC and Quader of BIKASH someday shall make the image of Bangladesh brighter…

Yunus’ short but unsuccessful foray into politics in 2007 is dubbed as the “Main Issue” by the erudite scribe. He reasoned that Yunus’ venture to test the water of politics made him a lesser man.“If Dr. Yunus thought his credentials put him on fast track for political success, then he was probably not the man many of us thought he was” – thus goes Mr. Ali, however, he, I hope not, shall argue against the inalienable right of any citizen to enter the crowded political arena. Bangladesh yearns for a man of his stature and integrity to be in politics. I wish, he did not retreat in the face of less-than optimal support. It just is a measure of his less-than-expected political astuteness. It does not make him a lesser man. In fact, this makes him a better man because he tried to do what felt was right!
Then fast forward to Grameen Bank. The scribe says “I fail to understand why the government of a country cannot ask for greater monitoring of an organization that has already been questioned several times as to their methods.” Yes, questions were asked several times but no irregularities were discovered after extensive examinations. A government that loves to govern by judiciary shall not resort to judiciary proceedings in case of irregularities on the part of Yunus are hard to believe. Anyway, end-game is still to unfold. I only hope that the Nobel winning back does succumb to the Sonali-entropy!

The quote on red, Mr. Ali used, to waylay Yunus is jejune at best. It is nothing more than an cliché expression of an exasperated man. In the age of “Da-Kural” and “Logi-Boita” this is very very benign!!

At the end I would like share a personal story. Few years ago, we had a chance to meet Dr. Yunus when he delivered a lecture at Principia college in Illinois, USA. Yunus was simply electric. My daughter who just finished her college was inspired to do public good. She applied for a public service position. During the interview, because of my daughters ethnic origin the issue of Yunus came along. My daughter, believes that the inspirational image of Yunus helped her get that coveted position.

And such is the image of Muhammad Yunus outside the bounds of his own homeland.

(This was sent to bdnews24.com but was not published)

M. Aktaruzzaman (Zaman), MD, FACAAI
Potsdam, New York

Awaiting a Cassandra moment

2

by Mohammad Zaman

However loathsome they are, the matter of fact still remains germane that the two bickering ladies remain the sole arbiters of power in Bangladesh. Like her predecessor the sitting Prime Minister wields unfettered muscle even beyond her constitutional ambit. If desired she has the chance to undo even the most difficult of the Gordian Knots.

But the million dollar question is – does she has the desire … or does she still has the unfettered power she once had, for we know, political entropy has a life of its own.

Sheikh Mujibur Rahman once famously posited that he is surrounded by thieves. Such dawning was not followed by effective executive measures. If that was done, our history possibly would not have been so incarnadine. Well, following the widespread destruction of the infrastructure and an empty exchequer, he did not have the best hands to play well. However, things are different now. Bangladesh no longer is a bottomless basket. Entrepreneurs in Bangladesh are achieving international acclaim. Muhammad Yunus and Fazle Hasan Abed stand out – but there are thousand others.

Competent, smart and well educated Bangladeshi abounds both at home and abroad. They are the real engine of economy that, for lack of right governmental vision, continues to lumbar forward in struts and frets. A dream of joining the club of other Asian Tigers is yonder – separated only by the lack of a visionary leader.

For us, the chemistry is ripe. Although our Prime Minister has squandered five-years worth of time and even more of political capital – she, or her absence thereof, still remains the only option left. At this precipice, not much time left to reign on her non-ideologue sycophants who never cared for the country to begin with. It is high time; she begin to listen to the outside voices of sanity and unleash the power of governmental juggernaut for the right causes.

If the story from the news outlets is right and if the AL-goons start their mop-up operation under the aegis of government outfits, eventual chaos shall supervene… and her high flying wings of irrational grandiosity is sure to melt like those of Icarus…

Yes, the beautiful daughter of Priam was blessed with an ability to foretell and, at the same time, was cursed with a perpetual inability of being convincing enough. Or was it the stupidity of haughty politicians and macho warriors that lead to the disastrous consequence that befell on Troy?

But that was then when communication was not a cobweb surfed so easily. No, today there is no scope of such stupidity!

Nation voted for a change.
Nation voted for a Din Bodoler Ongokar.
Sheikh Hasina is bound by her promise.
Rightfully, nation deserves a Cassandra Moment.

MZ
Potsdam, New York 

একটি ফুটবল খেলা

By Ibrahim Mahmud:

গুরুত্বপূর্ন একটি ফুটবল খেলা শুরু হবে, এমন সময় একটি বিস্ময়কর জিনিস লক্ষ্য করা গেলো। গত ম্যাচের বিজয়ী দলের অধিনায়ক রেফারীর বাঁশি নিয়ে মাঠে ঢুকছে। গত ম্যাচ জেতায় এটা নাকি এখন তার অধিকার! বিদেশী কোন কোচ নাকি তার মাথায় এই বুদ্ধি দিছে। নতুন নিয়ম সে নিজেই করছে, সেটা এখন তার পকেটে শোভা পাচ্ছে।

সে মাঠে ঢুকেই প্রতিপক্ষের খেলোয়ারদের লাল কার্ড দেয়া শুরু করল। দর্শক নাকি কেবল তার দলের জার্সি যারা পরা তাদের খেলাই দেখতে চায়। কিছুক্ষনেই মাঠ খালি।

কেমন দেখায়! সাইড লাইন থেকে দুইটা খেলোয়ারকে ধরে আনা হল। তারাও মাঠে পা দিয়ে বুঝল ভুল করছে। বের হয়ে যেতে চাইল, কিন্তু জোর করে তাদের আটকে রাখা হল, মাঠে পা দিলে নাকি খেলতেই হবে!

এদিকে ফাঁকা মাঠ পেয়েতো তার দলের খেলোয়ারেরা মহা খুশি। খেলা শুরুর আগেই ডজন খানেক গোল দিয়ে ফেলল। স্কোরার আগেই হাত করা, সেও বলল গোল হইছে কিনা এটা দেখাই তার ব্যাপার, অন্য কিছু রেফারী বুঝবে। নিয়মের খাতায় তাই নাকি লেখা আছে। ফলে খেলা শুরুর আগেই স্কোর ১২-০।

এদিকে এমন অদ্ভুত খেলা দেখে দর্শক খেপে যাচ্ছে। তারা দুয়োধ্বনি দিচ্ছে।

কিন্তু অধিনায়কের কোনো বিকার নাই। বিদেশী কোচের আশ্বাসতো আছেই তার উপর এখন তার পকেটে নিয়মের খাতা আর হাতে রেফারীর বাঁশি। সে মনের আনন্দে পু পু করে বাঁশি বাজিয়ে চলছে…

রাজাকার : ‘৭১ বনাম ২০১৩ এডিশন

razakar 3

ভারতীয় অলিখিত ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদি আধিপত্যকামীদের একটা স্থুল কৌশল হল _ এভাবেই বার বার ‘৭১ এর ধূয়া তুলে পাকিস্তান জামাত-শিবির ইত্যাদি জুজু দেখিয়ে চলমান রাষ্ট্রীয় সহিংসতার ‘বর্তমানের চালচিত্র’ কে আড়াল করে রাখার ধুরন্ধর এক অপকৌশল। ‘৭১ এর রাজাকারদের তুলনায় ২০১৩ এর রাজাকাররা অত মোটাদাগের নয়, অনেক বেশি চিকনদাগের সুক্ষবুদ্ধিসম্পন্ন ক্রিমিনাল। আগের মত মোটাদাগের অপরাধ করে ধরা খাওয়া বা জাতীয়-আন্তর্জাতিক-ঐতিহাসিকভাবে নিন্দিত হওয়ার বিপদ এড়িয়ে ধুরন্ধর ডিজিটাল কৌশলে ‘সাংবিধানিক’ উপায়ে রাজাকারির নিত্যনত্যুন পন্থা যেমন আবিষ্কৃত হয়ে চলেছে, তেমনি সেগুলোকে মহিমান্বিত করার প্রয়াসে সাংষ্কৃতিক-বুদ্ধিবৃত্তিক বিদূষকসুলভ চাটুকারিতা একটি আলাদা শিল্পের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সাধারণ মুসলিম হিসেবে আমি কার পক্ষ নেব ? ‘৭১ এর প্রেক্ষাপটে আমি পশ্চিমা হানাদার ও তদীয় দোসরদের পক্ষ নিতে পারি না কারণ তারা অবর্ণনীয় জুলুম করেছে নিরস্ত্র নিরীহ সাধারণ জনগণের ওপর, মতাদর্শিক ভিন্নতার কারণে তো বটেই, সেই রাগ তুলতে গিয়ে যারা কোন দলের ছিল না সেই আপামর সিভিলিয়ান জনগণ তথা গোটা জাতির ওপরই শ্বাপদসুলভ রক্তলোলুপ হিংস্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারা। ‘ভারতীয় হিন্দু’ ‘পাকিস্তানের দুশমন’ ইত্যাদি জুজু দেখিয়ে সেই অজুহাতে বিরোধীদমনের নামে চলছে শহরে বন্দরে-গ্রামে গঞ্জে-মাঠে প্রান্তরে নির্বিচারে চালিয়েছে গুলি, বসতবাটি ধ্বংস-অগ্নিসংযোগ, অবিশ্রান্ত হত্যা-ধর্ষণ-লুটপাটের ক্রমাগত দীর্ঘমেয়াদী কালোরাত্রির অদ্ভূতুড়ে আঁধারে ঘেরা অমাবস্যা।

সেই কারণে আমি একজন অতি সাধারণ, অতি নগণ্য মুসলিম হিসেবে ‘৭১ এর নরঘাতক জালিমদের সমর্থন করি না, করতে পারি না।

আজ এই ২০১৩ তে একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সাধারণ মুসলিম হিসেবে আমি কার পক্ষ নেব ? আজকের প্রেক্ষাপটে আমি ভারতীয় হানাদার ও তদীয় দোসরদের পক্ষ নিতে পারি না কারণ তারা ‘৭১ এর পশ্চিমাদের মত নগ্নভাবে না হলেও সুক্ষ কৌশলে আরো ভয়ংকরভাবে খামচে ধরেছে আমার মাতৃভূমির প্রিয় লাল-সবুজের পতাকার বুক। সাম্প্রদায়িক বর্ণবাদি ভারতীয় হিন্দুদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেশীয় দালালবাহিনী একে একে দেশের সম্পদ সব তুলে দিচ্ছে তাদের প্রভুর হাতে, দেশের প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, মানুষের ধন-মান-প্রাণ সবই অনায়াসে কুক্ষিগত করতে সহযোগীর অক্লান্ত ভূমিকায় পালন করে চলেছে তারা। ভারত থেকে লোক এনে দেশের মানুষকে হত্যা করাচ্ছে তারা। ‘জঙ্গি’ ‘জামাত-শিবির’ জুজু দেখিয়ে সেই অজুহাতে বিরোধীদমনের নামে চলছে শহরে বন্দরে-গ্রামে গঞ্জে-মাঠে প্রান্তরে নির্বিচারে চালিয়েছে গুলি, বসতবাটি ধ্বংস-অগ্নিসংযোগ, অবিশ্রান্ত হত্যা-ধর্ষণ-লুটপাটের ধারাবাহিকতার ‘সূচনা’ হতে দেখছি। সাতক্ষীরায় ‘৭১ এর মতই হত্যা-লুটপাট-বসতবাটিতে অগ্নিসংযোগ _ এমনকি বুলডোজার নিয়ে গিয়ে বাড়ি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত গুঁড়িয়ে দিয়ে আসা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে ৫০ জনের অধিক নারী সমভ্রম হারিয়েছেন, সমভ্রম হারানোর ভয়ে গ্রামত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক নারী।

তাহলে ২০১৩ তে জালিম কারা আর মজলুমই বা কারা সে প্রশ্ন নিজেকে কখনো করেছি ? ‘৭১ এর ব্যাপারে আমি যদি পূর্ব পাকিস্তানের আপামর মজলুম জনসাধারণের পক্ষ নিয়ে থাকি _ ২০১৩ তে এসে আমি নতুন মোড়কে প্যাকেট হয়ে আসা জালিম ভারতীয় রাজাকারদের পক্ষ নিতে যাব কেন ?

razar 2

অনেকে বলেন ‘৭১ এ পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধাবস্থা ছিল সে কারণে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অগণিত সিভিলিয়ান হত্যা-লুটপাট-অগ্নিসংযোগ-নির্বিচারে গুলি-ধর্ষণ এসব হয়েই থাকে, সেটা যুদ্ধেরই অঙ্গ। কিন্তু এই মাটির সন্তান হয়ে যারা এই দেশমাতৃকাকে, দেশমাতৃকার সহোদর-সহোদরাদের পিশাচসুলভ নীচতায় বিদেশী হানাদারদের হাতে হত্যা-ধর্ষণের জন্য তুলে দিতে পেরেছিল _ তাদের ক্ষমা করা অতি অতি দুঃসাধ্য ব্যাপার। ভাল কথা, তাহলে স্বাধীনতা পাওয়ার পর ক্ষমতা হাতে পেয়েও কেন তাদের উপযুক্ত বিচার করা হল না ? কেন তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে এত সহজে ছেড়ে দেয়া হল ? ৪২ বছর ধরে রক্তবীজ থেকে বাড়তে বাড়তে বিশাল অরণ্যে রুপান্তরিত হতে দেয়ার পর এত যুগ পর এখন কেন এই প্রজন্মের ওপর এত বিশাল বিভক্তি-ধ্বংসযজ্ঞ-গৃহযুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হল ? ‘৭১ ধূয়া বার বার তুলে প্রতারণাপূর্ণভাবে ২০১৩ এ এসে ভারতের সেবাদাসত্ব করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ১২টা যারা বাজাচ্ছে চোখের সামনে ভারত কর্তৃক নির্মমভাবে সবকিছু লুন্ঠিত হতে দেখেও সুশীলসমাজ এবং মানবতাবাদিরা নিশ্চুপ কেন ? কেন তারা বর্তমান এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশের নৃশংস হত্যা দেখেও অন্ধের মত চোখ বন্ধ রেখে বার বার ৪২ বছর আগের অতীতের কথা নিয়ে এসে নাটকীয়তা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালায় ?

আজ যেসব যুবক-কিশোর-তরুণ জামাতশিবির করছে তারা কি ‘৭১ এ রাজাকার ছিল ? তাদের তো জন্মও হয় নি সেদিন। যে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পর পাইকারী হারে ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষনা করে, ১৯৯৬ এ জামাতের সাথে আঁতাত করে ক্ষমতার স্বাদ নেয়, একমাত্র বিএনপির সাথে জামাত জোটবদ্ধ হওয়ায় ‘রাজনৈতিক’ কারণেই কি তারা অনেকাংশে জামাতের বিরোধিতা করছে না ? চেতনার হোলসেলাররা যদি আদৌ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হত তাহলে অন্যান্যদের মত তাদেরও একেকজন রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুকুরচুরি করে কেউ শতগুণ কেউ সহস্রগুণ ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি করে কিভাবে ? এই কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ? তাহলে আর ১০টা চোরবাটপাড়ের সাথে তাদের পার্থক্য সূচিত হয় ঠিক কোন জায়গায় ?

আজ বাংলাদেশে ‘৭১ এর মত কোন ঘোষিত যুদ্ধাবস্থা নেই ঠিকই, কিন্তু ভারতীয় সাংষ্কৃতিক-সামরিক-রাজনৈতিক-বাণিজ্যিক হানাদার দস্যুদের অঘোষিত কিন্তু ভীষণভাবে পরিচালিত এই আগ্রাসনে যারা দেশীয় তাঁবেদারের ভূমিকায় নির্লজ্জভাবে অবতীর্ণ হয়ে নিজের দেশমাতৃকার বিরুদ্ধে বীভৎস বিশ্বাসঘাতকের মতো দাঁড়িয়েছে _ আমার কাছে তাদের সাথে ‘৭১ এর রাজাকারদের কোন পার্থক্য নেই। পার্থক্য এতটুকুই যে ‘৭১ এর ঘটনা সম্পূর্ণভাবে ঘটে কালের আবর্তে মিলিয়ে গেছে, ২০১৩ এর রাজাকারদের বিশ্বাসঘাতকতা-নির্যাতন-লুটপাট রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক ছদ্মাবরণে আমাদের চোখের সামনে ঘটছে।

‘৭১ আমাদের পূর্বসূরীদের অতীত _ ২০১৩ আমাদের রক্তাক্ত বর্তমান। যে সঙ্গীন মানবতাবিরোধী অপরাধে ‘৭১ এর অপরাধী নরাধমদের বিচার দাবি করছি, সেই একই যুক্তিতে ২০১৩ এর নব্য রাজাকারদের দুঃশাসন-গুম-খুন-হত্যারও আশু প্রতিকার চায় বাংলার জনগণ। খুব বেশি দেরি হয়ে গেলে হয়তো জনগণ নিজের হাতেই আইন তুলে নিতে বাধ্য হবে, যেমনটি হয়েছিল ‘৭১ এ, রাষ্ট্রের কাঠামো তখন চুর চুর করে চোখের সামনে ভেঙে পড়তে থাকবে তাসের ঘরের মত, মিলিয়ে যেতে থাকবে কর্পূরের মত আমাদের সাধারণ জনগণের অক্লান্ত পরিশ্রমে তিল তিল করে গড়া ৪২ বছরের অর্জন, অনিশ্চয়তার অজানা চোরাবালিতে অসহায়ভাবে তলিয়ে যেতে থাকবে আমাদের ভবিষ্যতকে ঘিরে দেখা শত স্বপ্নের স্বর্ণজাল _ কাজেই তার আগেই সচেতনভাবে জেগে উঠতে হবে বাস্তব দেশপ্রেমের মধুর জ্বালাময় কষাঘাতে _ অদেখা পূর্বসূরীদের প্রাগৈতিহাসিক গৌরবগাঁথায় নয়, নিজেদের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ বর্তমানের ঘূর্ণিতে সটান যোদ্ধার মত দুঃসাহসিক আগুনের পরশমণি বুকে নিয়ে।

নির্বাচনী হলফনামা ও চেতনার পাইকারী ব্যবসা…

মনোনয়নপত্র জমা দিতে তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে এলাকায় গেলেন এবং জমা শেষে একই ফ্লাইটে ঢাকা ফিরে এলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ এক নতুন সংযোজন এবং মনে হচ্ছে তা টিকে থাকার জন্য এসেছে। পরিবর্তনের এ ধারা কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছিলাম শেষবার বাংলাদেশ বেড়াতে গিয়ে। এক বছর আগের ঘটনা। জর্জ (ছদ্ম নাম) আমার ছোটবেলার বন্ধু। তার বাবা ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়ামের সদস্য। মারা যাওয়ার আগে জীবনের শেষ পাঁচটা বছর ভাগ্যের সাথে অসফল লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন। দলের তখন ভাদ্র মাস। চারদিকে নাই নাই ভাব। টেবিলে তিন বেলা খাবার যোগার দিতে রীতিমত হিমসিম খেতে হয়। আয় বলতে কেবল শহরের বানিজ্যিক এলাকায় মার্কেট ভাড়া। জীবন যুদ্ধের এ কঠিন বাস্তবতা আগে কোনদিন মোকাবেলা করতে হয়নি বনেদি এ পরিবারকে। নিউ ইয়র্কে বসে খবর পাই জর্জের বাবার মৃত্যুর। তত্ত্বাবধায়ক নামক ঝামেলার শেষে আওয়ামী লীগ যেদিন ক্ষমতার শপথ নেয় সেদিন আমি দেশে। বাবা নেই, তাই বলে জর্জ বসে থাকেনি। সুদিনকে স্বাগত জানাতে গুলসান এলাকায় মাসিক ৭৫ হাজার টাকায় ফ্লাট ভাড়া নিতে অসুবিধা হয়নি। কারণ জিজ্ঞেস করতে রহস্যজনক হাসি দিয়ে এড়িয়ে গেল সে প্রসঙ্গ। কিছুটা হলেও ধারণা ছিল কি হতে যাচ্ছে এর পর।

২০১২ সালে দেশে গিয়ে যা জানার জানলাম, যা দেখার তাই দেখলাম। ছুরির মত ধারালো শরীরের স্বল্প বসনা এক তরুণী আমাকে ওয়েটিংরুমে বসিয়ে ভেতরে গেল বসের সন্ধানে। চারদিক ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম। রূপকথার মত মনে হল সবকিছু। শান সৈকতের এমন জটিল ও ভয়াবহ সমাহার কেবল কল্পলোকেই সম্ভব। সবকিছু সাজানো গোছানো। চারদিকে মৃতপুরীর স্বব্দতা। মাঝে মধ্যে ফাইল হাতে দুয়েকজন এদিক সেদিক করছে। তাও খুব সন্তর্পণে। বাবার মতই বদমেজাজ ছেলের। সামান্য কিছুতে রেগে যায় এবং ছোটবড় কারও উপর হাত তুলতে দ্বিধা করেনা। এ অফিসের কিসের ব্যবসা হয় জানিনা, কিন্তু কর্মচারীদের চেহারা দেখলে আন্দাজ করতে পারি এ আমার বন্ধু জর্জের ব্যবসা। আমরা একসাথে বড় হয়েছি। পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমন করেছি। অনেক ভ্রমর হতে একসাথে মধু পান করেছি। কিছুটা হতাশ হলাম বন্ধুর দর্শনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে। আগে কখনও এমনটা হয়নি। সাধারণত তাকেই অপেক্ষা করতে হয়েছে। মন হল মেয়েটা ইচ্ছা করে নিতম্ব দোলাচ্ছে। স্কার্টের উপর সাদা শার্টের দুটা বোতাম খোলা রাখছে বিশেষ উদ্দেশ্যে। তার বাবার কথা মনে পড়ল। ভদ্রলোকের চরিত্রও ছিল ভেজালে ভর্তি। ব্যবসায় সুন্দরী সেক্রেটারি তার অন্যতম। পর নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক অনেকটা খোলামেলা ভাবেই প্রকাশ করতে পছন্দ করতেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সাথে টানাপোড়নের অন্ত ছিলনা। আমি ছিলাম তাদের ভেতরের মানুষ। সব পক্ষই আমাকে স্বাক্ষী মানতে স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করত। নিতম্বের শেষ দোলাটা আমার ঠিক মুখটার কাছে এসে শেষ হল। যান্ত্রিক একটা হাসি দিয়ে জানাল একটু দেরি হবে, স্যার এখন ব্যস্ত। আমার নিজেরও সময় ছিলনা। তাই উঠতে হল। নামটা জিজ্ঞেস করে একটা ম্যাসেজ রেখে দরজার দিক পা বাড়ালাম। হয়ত গলার আওয়াজেই হুস হল বন্ধুর। ঝড়ো গতিতে বেরিয়ে এল এবং আমাকে দেখে উল্লাসে ফেটে পরল। কর্মচারীরা মনে হল ভূত দেখার মত কিছু একটা দেখল তাদের অফিসে।

বিশেষ একটা কক্ষ। থরে থরে সাজানো লাল নীল বোতল। এক কোনায় সিংহাসনের মত একটা খাট। পূর্ব লন্ডনের একটা সরকারী ফ্লাট কটা দিন একসাথে শেয়ার করেছি বন্ধুর সাথে। তখনই তার মুখে শুনতাম হবু ব্যবসার স্বপ্নীল কাহিনী। অফিস এবং সাথে সাজানো গোছানো একটা রুম। পুরনো মদের কালেকশন এবং যৌবনা নারী। কাজ আর আনন্দে কেটে যাবে জীবন। কোন কিছুই বাদ রাখেনি স্বপ্নপূরীর সে অফিস হতে। খুব দ্রুত পরিচয় করিয়ে দিল সখের মদ কালেকশনের সাথে। অন্তরঙ্গ মুহুর্তে নতুন করে পরিচয় হল একটু আগে দেখা মেয়েটার সাথে। তার রক্ষিতা। খুব উঁচু পরিবারের কেউ না হলেও ট্রেনিং দিয়ে তাকে উঁচুতে উঠানো হয়েছে। ব্যবসায়িক মনোরঞ্জন তার মূল পেশা। তবে সবকিছুই হয় বিদেশে। থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া সহ ইউরোপের অনেক দেশে তার যাতায়াত। লাভের অংক আশাতীত হওয়ার পরই কেবল উপঢৌকন হিসাবে কদিনের জন্য ছেড়ে দেয়া হয় ক্লায়েন্টের হাতে। শর্ত একটাই, দেশের বাইরে। দু দুটা অসফল বিয়ের পর বন্ধু এখন একা। মনে হল এ নিয়ে খুশির অন্ত নেই তার। যৌন মিলনের ঝাঁপিটা খোলার আগেই থামাতে হল তাকে।

ব্যবসা প্রসঙ্গ আসতে বদলে গেল সবকিছু। তালিকাটা লম্বা। যোগ বিয়োগ শেষে যা বুঝাতে চাইল তার পরিমান মাসিক ২ হতে ৩ কোটি টাকা নীট মুনাফা। এলাকায় অনেককে পালন করতে হয়, তাই লাভের অংশ এতটা ’কম।’ দুয়েকজন কমন বন্ধুর তুলনা দিয়ে জানাল তাদের মাসিক আয় ১০-১৫ কোটির উপরে। দুয়েকটা উপরওয়ালার নাম চাইলে বন্ধু সজাগ হয়ে গেল এবং কৌশলে এড়িয়ে গেল। অবশ্য না বললেও আমি জানি তাদের। কারণ তার বাবার মুখেই শুনেছি কারও কারও নাম। বন্ধু তার পুরানো আক্ষেপটা নতুন করে প্রকাশ করল। আমি দেশে থাকলে তার আয় রোজগার নাকি দশ গুনা বাড়ানো সম্ভব ছিল। মগজ এবং কানেকশনের সমাহার অনেক কিছু বদলে দেয় বাংলাদেশে, চাইলে আমরা দুজনে হতে পারতাম তার চমৎকার উদাহরন। এসব কথাবার্তায় কোন চমক ছিলনা আমার জন্য। টাকা পয়সা আর বিত্ত বৈভবের গল্প বেশিক্ষন শোনা যায়না। বিরক্ত লাগে। এক সময় ক্রোধ এসে জড়ো হতে থাকে। কক্সবাজার ঘুরে আসার প্রস্তাবটা বন্ধুই দিল। পুরানো স্মৃতি রোমন্থন নাকি আসল উদ্দেশ্য। সময় এবং ট্রাফিক জ্যামের কারণ দেখিয়ে এড়াতে চাইলে হো হো করে হেসে উঠল। একটু অবাক হলাম তার অপ্রাসঙ্গিক হাসির জন্য। উওরে জানাল ট্রাফিক কোন সমস্যা নয়, আমরা হেলিকপ্টার ভাড়ায় নিয়ে যাবো। কেবল তখনই কিছুটা হলে আন্দাজ করতে পারলাম বন্ধুর সম্পদের পরিমান। নিউজিল্যান্ডের রটোরোয়া বলে একটা হট স্প্রীং এলাকা আছে। হেলিকপ্টারে চড়ার অভিজ্ঞতা ওখানেই সেরে নিয়েছি জানাতে বন্ধু দমে গেল। রাতে একটা প্রাইভেট ক্লাবে আসার দাওয়াত দিল। অনেক সিনে ও টিভি তারকাদের খোলামেলা জীবনের সাথে চাইলে নাকি পরিচিত হওয়া যাবে। এসব আমার জন্য সব চাইতে অনাকাঙ্খিত উপাদান। তাই ধন্যবাদ জানিয়ে প্রত্যাখান করলাম। বিদায়টা খুব সুখকর হলনা। বন্ধু বুঝতে পারল আমি বিরক্ত হচ্ছি। খালাম্মার কথা জিজ্ঞেস করে অনেকটা গায়ের জোরে বিদায় নিলাম।

গুলসানের এ এলাকাটা খুব অপরিচিত লাগল আমার কাছে। বাড়ি ঘর, রাস্তা ঘাট সবকিছু মনে হল এক একটা অর্থ কামানোর ফ্যাক্টরি। এক সময় জর্জের সাথে প্রতিটা রাস্তা চষে বেড়িয়েছি। অমাবশ্যা জোৎস্না রাতে গলির ধারের ট্রলি হতে ফুচকা খেয়েছি। মিটমিটে আলোর রেষ্টুরেন্ট হতে গরম গরম পরোটা ও ভাজি দিয়ে রাতের খাবার সেরেছি। আর্থিক কষ্ট নিয়ে দুজনের কেউই আমরা বড় হয়নি। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতা ছিল। তাই সবকিছু শেয়ার করেছি। মাঝে মধ্যে রিক্সা ভাড়া নিয়ে দ্বিধায় পরেছি, তর্ক করেছি। আবার হাতে পয়সা এলে দুহাত উজার করে খরচ করেছি। কিন্তু এত বছর পর কোথায় যেন একটা ছন্দপতন অনুভব করলাম। আমার সব চাইতে কাছের বন্ধু এখন কয়েক শ কোটি টাকার মালিক। এবং বয়স তার মাত্র ৪৩ বছর। রাজনীতি নামক ক্যান্সার সমাজের পরতে পরতে চষে বেড়ায় জানতাম, কিন্তু তা এত কাছে আসতে পারে কল্পনা করিনি। বন্ধুর নারায়ণগঞ্জ বাসার তিন তলার ছাদে কত রাত আমরা জোৎস্না দেখেছি, নির্জন শহর দেখার লোভে হাটতে বেরিয়েছি। কিছুই মেলাতে পারলাম না আজ। মনে হল রাজনীতি আসলে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ, যার ছোঁয়ায় রাতকে দিন আর দিনকে রাত করা যায়। আমেরিকার হিংস্র পশ্চিমে অখ্যাত শহরে আমার বাড়িটার কথা মনে পড়ল। রক্ত পানি করা কামানো অর্থের কিছুটা আগাম দিয়ে বাড়িটা কিনতে হয়েছে। বাকিটা শোধ করতে হয়ত আমার এক বছরের ছোট কন্যাকেও এক সময় হাল ধরতে হবে। কর্পোরেট আমেরিকার মাসে দুবার করে পে-চেকের অংকটার কথা মনে হতে দ্বিধায় পরে গেলাম। আমি কি তাহলে জীবন নামক দৌড়ে ব্যর্থ!

পাঠক, নির্বাচনী হলফনামা বলতে প্রার্থীদের যে আমলনামা বেরিয়েছিল তা পড়তে গিয়ে আপনার কি নিজেকে একবারও ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা বলে মনে হয়নি? ওরা রাজনীতির চাক হতে চুকচুক করে মধু লুটছে আর আপনি সে লোটায় উদ্বেলিত হয়ে তালি দিচ্ছেন, একবারও কি এরকম কিছু মনে হয়নি? স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধের চেতনা, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, কাদির মোল্লা, খালেদা জিয়ার জন্মদিন, ফাঁসি – এসব কথন একবারও কি মনে হয়নি বাংলাদেশ নামক দেশটাকে নেংটা করার সিসিম ফাঁক মন্ত্র মাত্র? পড়ে থাকলে মনে আছে কি আলীবাবা চল্লিশ চোরের সে গল্প? আমার কিন্তু মনে আছে। কারণ আমার বন্ধু জর্জদের বাসায় আমি দেখেছি চেতনা বিকাশের এসব সৈনিকদের তৎপরতা। ১৫ই আগষ্ট ওদের বাসায় রান্না বন্ধ থাকে। ২১শে ফেব্রুয়ারী কেটে যায় শহীদ মিনারের পাদদেশে। ১৬ই ডিসেম্বর আসে মহোৎসবের প্রলয় নিয়ে, দলবেঁধে ছুটে যায় জাতীয় শহীদ মিনারে। ওরা রাজাকার নিধনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, খালেদা জিয়া উৎখাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আবার ১লা বৈশাখের সকাল কাটে পানি পান্তায়। কিন্তু দিনশেষ ওদের কুলায় ফিরতে হয়। এবং নামতে হয় বিরামহীন ধান্ধায়। এ ধান্ধা যেনতেন ধান্ধা নয়, দেশকে উলংগ করার ধান্ধা, ধর্ষনের ধান্ধা। তেতাল্লিশ বছর বয়সে কয়েক শ কোটি টাকার মালিক বনতে চাইলে বাংলাদেশে রাস্তা একটাই, চেতনার পাইকারি ব্যবসা। বাকি সব ধাপ্পাবাজি, ধোকাঁবাজি, চাপাবাজি, ছলচাতুরি, ফটকাবাজি ।