ড্রোনাচার্য জাফর স্যার এখন থাবা বাবার ভ্যালেন্টাইন?

2

By শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

বাংলা-বিহার-উরিস্যার স্বঘোষিত ড্রোনরাজ, চেতনাৎসী মতাদর্শের প্রধান প্রচারক ও লিপিকার, বিশ্বখ্যাত ফিল্টার থিউরির জনক, এবং বাংলা সাহিত্যের প্ল্যাজিয়ারিজম ধারার কর্নধার জনাব ডক্টর জাফর স্যার আবারও ফাপরবাজী করতে গিয়ে মারাত্মক ধরা খেয়েছেন।

আমার গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের ছোটভাই, বিখ্যাত শাহাবাগি ব্লগার, প্রথম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লেখক, দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম “শহীদ” এবং বিশিষ্ট ইসলাম গবেষক জনাব মরহুম থাবা বাবা ওরফে রাজিব হায়দারের সাথে নিজের দেখা হবার সাদা-সিধে গল্প ফাঁদতে গিয়ে এবার জাফর স্যার চিপায় পড়েছেন।

জাফর স্যার খেলনা প্লেনকে ড্রোন বলে চালিয়ে দেবার সাদা-সিধে ফন্দি করে ধরা খাবার ঝক্কি সামলিয়ে উঠতে না উঠতেই থাবা বাবাকে নিয়ে প্লেইন-এন্ড-সিম্পল মিথ্যে কথা বলে ধরা খেয়ে তাঁর ভক্তকূলকে রীতিমত লজ্জায় ফেলে দিয়েছেন।

Thaba Baba 2

স্যার তাঁর বিডিনিউজ২৪ এর লেটেস্ট সাদা-সিধা কলামে লিখেছেন (http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/15172) ঃ

“আমি হেঁটে হেঁটে ট্রাকের পিছনে গিয়েছি, তখন লম্বা একটা ছেলের সঙ্গে কথা হল। মাথায় হলুদ ফিতা, তাই সেও নিশ্চয়ই একজন ব্লগার, আমাকে বলল, “স্যার, একটা বিষয় জানেন?’ আমি বললাম, “কী?” সে বলল, “এই পুরো ব্যাপারটি শুরু করেছি আমরা ব্লগাররা, কিন্তু এখন কেউ আর আমাদের কথা বলে না!” কথা শেষ করে ছেলেটি হেসে ফেলল। আমি তখনও জানতাম না যে এই ছেলেটি রাজীব এবং আর কয়েকদিন পরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে একত্র হওয়া এই তরুণদের ‘নাস্তিক’ অপবাদ দিয়ে বিশাল একটা প্রচারণা শুরু হবে, আর সেই ষড়যন্ত্রের প্রথম বলি হবে এই তরুণটি।”

এক্ষেত্রে বলে নেয়া ভালো উপরের কথোপকোথন আদৌ হয়েছে কিনা তা ভেরিফাই করার তেমন কোন উপায় নেই। স্যার এর আগেও তাঁর লেখা প্লেইন-এন্ড-সিম্পল গারবেজগুলোতে জাতির বিশেষ সব ক্রান্তি লগ্নে নানা বিধ কাল্পনিক চরিত্রের সাথে নিজের কথোপকথনের ফিরিস্তি দিয়েছেন। বলা বাহুল্য এই কাল্পনিক কথোপকথনগুলোকে স্যার এক্কেবারে রিয়াল ফ্লেভার দিয়ে নিয়মিত চালিয়ে দেন। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই কথোপকথনগুলো যাদের সাথে হয় তারা হয় কোন অন্যায়-অবিচারের ভিক্টিম, কিংবা ভবিষ্যতে ভিক্টিম হয়ে যাবে-যাবে এমন দুঃচিন্তাগ্রস্থ তরুন-তরুনী।

জাফর স্যারের থাবা বাবা বিষয়ক এবারের ফাপরবাজীটা আর কারও কাছে না হোক আমার জন্যে ধরা খুব সহজ ছিল। কেননা জনাব থাবা বাবা ওরফে রাজিব হায়দার সম্পর্কে আমার জানা শোনা স্যারের চাইতে বেশী। স্কুল জীবনের যেই স্মৃতি রাজিব সম্পর্কে আমার আছে, তাতে ওকে আমার এককথায় লম্বা হিসেবে পরিচয় দেবার মতো কেউ বলে মনে পরে না। রাজীবের দাড়িয়ে থাকা ছবি ঘাঁটলেও আমার এই কথার সত্যতা যাচাই করতে পারবেন যে কেউ।

রাজীব বিষয়ে স্যারের দ্বিতীয় মিথ্যাচার ছিল ছেলেটির কপালে বাঁধা “ফিতে” নিয়ে। রাজীবের যে ছবিগুলো পাওয়া যায়, তাতে দেখা যায় ওর মাথায় সাদা পট্টি থাকতো, স্যারের বর্ণনায় দেয়া হলুদ পট্টি না। যদিও তর্কের খাতিরে মেনে নিতেই হবে সাদার পাশাপাশি হলুদ পট্টীও রাজীব পরে থাকতেই পারে। যদিও হাতে থাকা এভিডেন্স তা বলে না।

1553326_10152168922021007_2081839109_o

[ From Facebook Page of Journalist জ.ই. মামুন

ব্লগার রাজীব হায়দারকে আমি চিনতাম না, তার নৃশংস হত্যাকান্ডের পরেই অন্য অনেকের মত তার নাম জেনেছি। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে আমার ক্যামেরায় তার একটি ছবি আছে। শাহবাগ আন্দোলন গণজাগরণ মঞ্চ নাম ধারণের আগেই, অর্থাৎ গতবছরের ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ শাহবাগে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে তরুণ সমাজের আন্দোলন শুরুর পরদিন, ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আমি কমবেশি প্রতিদিন শাহবাগে যেতাম, সাথে থাকতো আমার শখের ক্যামেরা। কোনো কারন ছাড়াই ছবি তুলতাম। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম সমাবেশের দিন সন্ধ্যার আগে আগে দেখি মঞ্চের পেছনে কয়েকটা ছেলে মেয়ে ল্যাপটপে কাজ করছে। কেন যেন একটা ক্লিক করেছিলাম। এতদিন পর কাল সেই ছবিগুলো দেখতে দেখতে লাকি Lucky Akter বলল, এটাই রাজীব হায়দার! বিন্মিত হলাম, তাই আজ ছবিটা আপলোড করছি। তবু আমি নিশ্চিত নই এটি আসলেই রাজিব কি না। গণজাগরণ মঞ্চের বন্ধুরা নিশ্চিত করতে পারবেন

তবে রাজীব বিষয়ে জাফর স্যারের সবচাইতে বড় ফাপরবাজীটি হলো থাবা বাবাকে নাস্তিকতার অভিযোগ থেকে পরিত্রান দেবার হাল্কার উপর ঝাপসা এটেমট নেবার ব্যাপারটি।

জাফর স্যারের মতো নির্লজ্জ স্বরচিত ইতিহাসবীদ হয়তো ভুলে গিয়েছেন যে শাহাবাগ কিন্তু তিতাল্লিশ বছর আগে ঘটে যাওয়া  ১৯৭১ না,  যে বর্তমান প্রজন্ম তাঁর মতো ফিকশনাল ইতিহাসবিদকে বেনেফিট অব ডাউট দিবে।

থাবা বাবা নিয়ে আমার মতো মানুষের জাফর স্যারের লেখা স্বরচিত ইতিহাস পড়া লাগে না, কেননা এখত্রে আমরা নিজেরাই থাবা বাবার জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষী। আমি নিজে সাক্ষী দিয়ে বলতে পারবো থাবা বাবা কোথায় কি লিখত।

তবে শক্তকণ্ঠে বলে নিচ্ছি, রাজীবের নৃশংস খুনের পুর্নাংগ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার আমি কামনা করি স্কুলের বড় ভাই হিসেবে। কিন্তু তাই বলে রাজীব যে ধর্ম নিয়ে নিকৃষ্ট কথা বার্তা বলে সেলিব্রিটি হয়েছিল সেই ইতিহাসতো আর আমি জাফর স্যারকে ফাপরবাজী করে গায়েব করে দিতে আলাউ করতে পারি না। আর তাছাড়া রাজীবের মৃত্যুর আগে তাঁর সাত হাজার ছয়শ এর মতো ফলোয়ার ছিল। এই সাত হাজার মানুষ খুব ভালো করেই জানে রাজীব কি কি লিখত।

রাজীবের পুরো ফেইসবুক প্রোফাইলের পিডিএফ নিশ্চয়ই কেউ না কেউ সেইভ করে রেখেছিলেন ওর মৃত্যুর ঠিক পরে পরেই।

ওর মৃত্যুর পরে কোন কোন শাহাবাগি কার কার কাছে গিয়েছিলেন থাবা বাবার ফেইসবুক প্রোফাইল বিটিয়ারসি থেকে ব্লক করে দিতে, সে ইতিহাসও বের হয়ে গেছে ইতমধ্যেই। কেন তখন শাহাবাগিরা প্যানিক করেছিল থাবা বাবার প্রোফাইল নিয়ে, তা কিন্তু জাফর স্যার তাঁর স্নেহ ধন্য কোন শাহাবাগিকে এখনও জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে পারেন।

জাফর স্যার ভ্যালেন্টাইন ডে তে শাহাবাগের থাবা বাবার ইমেজ রিপেয়ার করার ধান্দা করার মাধ্যমে একটা ইন্টেরেস্টিং মেজেস দিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। বুড়ো বয়েসে স্যারের ভ্যালেন্টাইন প্রেম হয়তো এখন শাহাবাগি থাবা বাবা ওরফে রাজীব হায়দারের সাথে।

তবে খারাপ লাগছে এই ভেবে যে জাফর স্যারের ড্রোন নিয়ে ফাপরবাজীটা ছোটলোকি হলেও শিশু সুলভ ছোটলোকি ছিল। কিন্তু এবার থাবা বাবা নিয়ে এক প্যারাগ্রাফে একাধিক মিথ্যে কথা বলতে গিয়ে স্যার একেবারে ড্রোন থেকে নেমে ড্রেনে পা ফেলেছেন।