প্রিয় মার্ক

By Elora Zaman

বাংলাদেশ নামের একটি ক্ষুদ্র দেশের অখ্যাত এক গ্রাম থেকে লেখা একটি চিঠি। ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গকে উদ্দেশ্য করে লিখেছে সে দেশেরই একটি মেয়ে। মেয়েটি ফেইসবুকের মাধ্যমে পৃথিবীর বাকি মানুষদের সাথে কানেক্টেড থাকতো আর জানতে পারতো চমৎকার এই গ্রহের অপর প্রান্তের মানুষদের চিন্তা ভাবনা, জীবনাচারন।

নীচের ই-মেইলটি সেন্ড করলাম। যারা বাংলা পড়তে আরাম বোধ করেন তাদের জন্য নীচে বাংলায় ও লিখেছি। সবাই যদি এরকম টুকটাক লিখে পাঠান তবে অন্তত বিনাযুদ্ধে সুচাগ্র মেদিনী দেইনি বলতে পারবো।

প্রিয় মার্ক,
অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে আপনার কাছে লিখতে বাধ্য হয়েছি। বিগতদিনে আমরা দেখেছি আপনি বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একজন মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে আপনি বাংলাদেশীদের অন্তরে আছেন। সেই ভরসায় আজ কিছু বলতে চাই। জানিনা আমার এই চিঠি আপনি পাবেন কিনা। তবুও একান্ত অসহায় হয়ে লিখতে বসেছি।

আপনি হয়ত অবগত আছেন আমাদের সরকার এইদেশে ফেইসবুক বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কিছুদিন হল। প্রায় চার কোটি ফেইসবুক ইউজারদের ইচ্ছে অনিচ্ছাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তারা আমাদের বাক স্বাধীনতা হরণের কার্যক্রম বহাল রেখেছে। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা জোর করে মাত্র ৫% ভোটে ক্ষমতায় অবস্থান করছে। জনমানুষের জন্য তাদের চিন্তা নেই। জনগণের কথাকে তারা পাত্তা দেয়না। কেউ প্রতিবাদ করলেই হত্যা, গুম এবং বিভিন্ন ধরণের ভয় ভীতি দেখানো হয়। এদেশের প্রায় বেশিরভাগ জনগণ এখন প্রচন্ড অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছে। সরকারের বিপক্ষে যদি যৌক্তিক কোনো সংবাদ প্রচার করা হয় তবে সেই সংবাদ মাধ্যমকে বন্ধ করে দেয়া হয়। জনপ্রিয় কিছু সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইতিমধ্যে এবং তাদের মালিকেরা এখন কারাগারে।

সরকারের ইচ্ছে কেউ তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছুই যেন না বলতে সাহস পায়। কিন্তু তারা হয়ত ভুলে গিয়েছে জোর করে দেশের সব মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের দলে ভেড়াতে পারা যায়না। হিউম্যান ন্যাচার হল তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে। এদেশের মানুষেরা তাদের সেই প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিলো আপনার অবদান তাদের প্রিয় ফেইসবুকে। যে ছেলেটি রাজনীতিকে ঘৃণা করে সেই ছেলেটিও ভয়ংকর এই সরকারের স্বৈরনীতির বিরুদ্ধে উচ্চকন্ঠ হতে বাধ্য হয়েছিলো প্রিয় মাতৃভূমিকে ভালোবেসে। নিজের দেশকে ধ্বংসের মুখে ফেলতে দিতে চায়নি সে। অথচ আজ তা দূরে থাক, সে তার প্রিয় বন্ধুটির খবর ও নিতে পারছেনা ফেইসবুক বন্ধ থাকায়। ফেইসবুক ব্যাবহার যেহেতু তুলনামূলকভাবে সস্তা সেহেতু কোটি কোটি মানুষ একে আপন করে নিয়েছে, বেছে নিয়েছে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে। এতই প্রিয় এই ফেইসবুক আমাদের কাছে যে একদিন এতে প্রবেশ না করতে পারলে যেন সময়কে অপূর্ণ মনে হয়।

অথচ দুঃখজনক হল, সরকার চাইছে আপনি আপনার এতসব ইউজারদের প্রাইভেসীকে উপেক্ষা করে তাদের সকল ইনফরমেশন সরকারের কাছে দিয়ে দেন। যেনো তারা ইউজারদের ধরে নিয়ে গিয়ে জেলে রাখতে পারে, হয়রানী করতে পারে কিংবা ভীতি প্রদর্শন করে তাদের বিরুদ্ধে না লিখতে বাধ্য করতে পারে। এই সরকারের দ্বারা বিগতদিনে ১৭ বছরের বালক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন শুধুমাত্র ফেইসবুকে দুইলাইন লিখবার কারণে।

আশাকরি আপনি বুঝতে পারছেন আমরা কি ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। অন্যায় যে করে সে সর্বক্ষন ভয়ে থাকে, সবকিছুতেই ভয়ে থাকে যে এই বুঝি কেউ প্রতিবাদ করে ফেললো। আর তাই তারা প্রতিবাদী মানুষদের দমন করে কঠোর হাতে। সরকার ঘোষনা দিয়েছে আপনার সাথে চুক্তি করে ফেইসবুক ইউজারদের গোপন তথ্য জেনে নিয়ে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। তারা এতই ভীত তাদের অপকর্ম নিয়ে। এবং ক্ষমতায় জোর করে থাকবার জন্য মরিয়া যেনো বিশ্ববাসী তাদের অন্যায় সমূহ সম্পর্কে জানতে না পারে আর তারা রুল করতে পারে অস্ত্রের জোরে, দমননীতি গ্রহণ করে।

এমতাবস্থায় আপনি যদি আমাদের আশ্বস্ত করেন যে আপনি এই কোটি কোটি জনগণের পাশে থাকবেন, কোনো স্বৈরাচারী সরকারের পাশে নয়, এই সরকারের গুটিকয়েক মানুষের ইচ্ছায় আপনি আমাদের প্রাইভেসী ব্রিচ করবেন না কিংবা আমাদের কোনো ব্যাক্তিগত ইনফরমেশন তাদের হাতে তুলে দেবেন না, তবে আমরা স্বস্তি পাই। এইজন্যই আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করা। নিজ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে আমি বারবার কেঁদেছি। নিজেকে ধীক্কার দিয়েছি। তবে সরকার যখন মানুষের বিপরীতে অবস্থান নেয় শত্রুর মত, তখন একান্ত নিরুপায় হয়ে আপনাকে লিখতে বাধ্য হবার এই প্রয়াস ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। ভালো থাকবেন।
.
.

A young girl with her ever lush mind rediscovered herself in the contemporary world of networking and socialisation with free and fast paced information flow, as she wandered in the online virtual getaways from a physical location of a tiny village of a small country named Bangladesh. As the little world and yet so big that she lived in seemed to be on the verge of being shattered, she wrote a letter to Mark Zuckerberg. Facebook was not just more than a face and a book to her; it was her universe to her inquisitive amicable mind seeking to remain connected and informed of the lives and laughter of the people from the other side of the planet. She wrote:

Dear Mark,
I am compelled to write you this letter with a heavy heart. In the past, we have seen you have stood firmly beside the helpless people affected in various natural and humanitarian crises of the world. I can reaffirm that as a person with great sense of moral responsibility and principles, you have had always occupied an important place in the hearts of the Bangladeshis. It is this confidence that encourages me to say a few things through this letter, although I am unsure whether this letter will really reach you. However, I am writing it as I am totally helpless and do not see another option.

You may be aware that the government of Bangladesh has shut down access to facebook in Bangladesh for sometime now. By showing absolute disregard to the rights and preferences of some 40 million facebook users of Bangladesh, the government has kept on snatching our right of freedom of speech and expressions.

This government, as you may know, is not elected by people’s vote through a proper democratic process. They are just holding on to the power by force with a meagre 5% support of the total population. They possess no concerns for the people of the country whatsoever. They turn a blind eye to the opinion of the people. Anyone trying to protest against their evil intent and illegitimacies has to deal with their threats of murders, abduction or other forms of tortures and harassments. An overwhelming majority of the population is living helpless lives now a day. Any media broadcasting any news of utmost veracity but going against the government, is forcefully brought under complete closure. Already a number of popular newspapers and television channels have been oppressively closed down by the government, with their owners jailed in sheer isolations.

The Bangladesh government wants to create an environment so that no one can dare to exercise their right of freedom of expression, no matter how basic that could be, to say anything against them. However it looks like they have forgotten that it is not possible to keep all the people of the country intimidated and forced to be on their side. Inherent in human nature is to protest and remonstrance against all evils and injustices. With all options virtually ceasing to exist, the people of Bangladesh kept on their voices of protest heard so far through your unprecedented contribution: Facebook. Even the innocent young men who never affiliated themselves in politics, were bound to raise their voices out of their love for the motherland, to protest against the autocracies of the government using the facebook as their only platform. They didn’t want to let their country be pushed to the brink of collapse.

However, with the current shut down of facebook in the country, they are not even capable of connecting to their dear friends, let alone using facebook to pursue broader benefits and better causes. Because facebook is a complementary site for the account holders, millions of people of Bangladesh have embraced facebook as integral parts of their daily lives. We love facebook so much that any single day without accessing facebook seems rather unfulfilled.

However, it is very unfortunate that the government of Bangladesh wants you to provide the information of all the facebook users to them completely neglecting the privacy of these users. The government’s filthy intent is to arrest the users and keep them in custody, harass them or coerce them not to write anything against the government. In the past, many people, from a 17- year old lad to university professor have been arrested by the government only for writing something in facebook against the government.

I hope you understand what dire straits we are living in at the moment in this country. It is well known that the perpetrators and wrongdoers are always afraid of confronting protests against their evil deeds. Hence they tend to gruellingly repress the ones who protest and oppose, which is especially easy when they are the authorities themselves. The government of Bangladesh has announced that they will get into an agreement with you to access confidential information of the facebook users, to prosecute and bring them to judicial trial. The government is so frightened because they are fully aware of their misdemeanours and sins. They want to hold to the power by any means, by ensuring that the outside world remains ignorant of their mischiefs and they can continue their autocratic regime using guns and power to threaten and repress people.

Under the circumstances, it would be our ultimate relief to know that you will be beside the millions of us, and not with only a handful of people of the current autocratic oppressive government of Bangladesh, and you will not breach our privacy or provide any of our personal information to the government. This is what I wanted to draw your attention upon. Writing against the government of my own country has not been easy and I couldn’t resist shedding tears. I resented myself time and again. However, please forgive this endeavour of mine to be in touch with you and I hope you will understand how undone we are with the government taking a belligerent stance against its own people, which leaves us with no option other than to write to you to get our rights of freedom of speech and expression preserved through the facebook.

May Allah bless you! Stay safe.

No Country for Old Men: The Niloy Chatterjee killing and the roots of Violence in Bangladesh

Recent murder of Niloy Chatterjee, and the accompanying outcry, has again lead to the thesis in the domestic and  international media that religion, in this case Islam, is at the heart of all violence in Bangladesh. The article looks at depth into such reporting and seeks to answer the question: Is the current practice of Islam responsible for the recent upsurge in violence in Bangladesh?

By Surma

The Killing Fields of Bangladesh

baby

Picture of Baby shot in the womb of his mother in Magura, Bangladesh, by political cadres of the current ruling Awami League .

Bangladesh this summer again is revisited with the spectre of the another gruesome killing of an online activist, this time Niloy Chatterjee. The killing is not isolated but is part of an epidemic of disappearances, murder, torture and kidnappings which are occurring all over the country. Human Rights activist, at great risk, have tried to highlight this ‘dirty war’, pointing their collective fingers towards the current Awami League government and its security forces.

In Bangladesh, in this context of mainly state sponsored violence, there has been much discussion in social media, about the circumstances surrounding the Niloy Chatterjee’s death. Some commentators, came up with an interesting hypothesis, not attributing the gruesome killings to Ayman Zawahiri and Al Qaida, but that to other possible players. A good summary can be found in the writings of the social media activist Talukdar Shaheb.

It now appears, according to the domestic press in Bangladesh, that individuals connected to the ruling ‘secular’ Awami League government have been arrested, in particular a nephew of the Minister for Labour and Employment. In contrast to the vibrant discussion in Bangladesh surrounding Chatterjee’s death on social media, sadly many international journalists, it seems, are happy to ignore the present context and trot out the usual lazy stereotypes of starry eyed ‘Mad Mullahs’ running amok in Bangladesh.

A Bollywood Rerun of Burke’s Law

Burke's_lawniloy

‘Burke’s Law’, now solving international crimes: Above: Screenshot of TV Series Burke’s Law. Below: Picture of the late Niloy Chatterjee

One particular example of this type of lazy journalism is Jason Burke’s piece in the London Guardian, an investigative piece on the face of it but with closer reading, it becomes a pale imitation of US TV hit show Burke’s Law. In the TV series Amos Burke, a millionaire police captain, is chauffeured around in a Rolls Royce, simultaneously solving murders while sipping champagne and enjoying the high life. In our case Jason Burke is over thousand miles away in Delhi, chauffeured through the mental terrain of Bangladesh by his trusted sidekick Saad Hammadi, solving crimes in Bangladesh without having to step inside the country.

In the piece Jason Burke follows the age old technique of developing a distorted picture of Bangladesh for his readers. First he whitewashes the story in a strong solution of decontextualization, by failing to mention in detail the wider spate of killing and violence that has been engulfing the country for the past years. Second, he distorts his piece with unequal representation, there is a direct quote from Imran H Sarkar but no quotes from Conservative Muslims in Bangladesh that oppose Mr Sarkar. Thirdly this unequal representation, allows the picture to develop in a dark room of non being. Where one side is humanised, and has a name and simultaneously the Conservative Muslim voice, is dehumanised into mindless mob, tenuously linked to the murder  and transformed into non beings at the same time.

One is surprised that such epistemic racism is allowed to flourish at the left leaning progressive Guardian. Also I expected Jason Burke, being the Guardian’s expert on the ‘War on Terror’ (having authored four books according to the website), to have a more nuanced and thoughtful article. However when reading his other works in the newspaper I am not surprised. In a piece on key books on Muslim Extremism, Jason Burke summarises, ‘The Islamist’, an autobiographical work by the British Bangladeshi Ed Husain, as: “Excellent on the cultural gap between first generation Pakistani Immigrants and their children in the UK”. I guess according to Jason Burke and the application of his ‘Burke’s Law’, all us Pakis look the same!

(Paki is a derogatory term used by racists in the UK to describe all South Asians)

Burke’s article on Bangladesh follows the memes of many writings by Westerners on Bangladesh, who in essence argue that religion is at the heart of all violence in Bangladesh. This sentiment is echoed in academic circles, where even violence and repression perpetrated by the ‘Progressive and Secular’ Awami League government is blamed on religion. For example David Lewis at the LSE somewhat justifies government repression in Bangladesh, as a defensive posture against religious violence. Leading to the question, is religion, in our case Islam at the heart of all violence in Bangladesh?

The tradition of tolerance in Bangladesh

Jean-Leon-Gerome-396883

Interpreting the picture: Familiar medieval scene of congregation prayer, with a Qalandar (Baul) in the corner (right of the picture) left unharassed and tolerated by the orthodox members of the congregation. Ibn Taymiyyah in his Majmua al Fatawah, upholds the prevalent tradition, by advocating  tolerance of the unorthodox Qalandars.

Looking at the available data on violence in Bangladesh, majority of violence is either attributed to criminal gangs or state security forces. Even one looks at violence by political parties, two out of the three main players are secular, therefore using a rough rule of thumb majority of political violence in the country is non religious. This leaves us the theoretical question, is the practice and articulation of Islam in Bangladesh one that is necessary or in essence violent ? Again the historical and empirical data would suggest otherwise, historically and until the present day, dotted across many villages in Bangladesh Muslims and Hindus communities have coexisted together. Also contrary to popular perception, Islam in Bangladesh has never been monolithic nor uniform, with various theological schools within Sunni Islam, living side by side with no outbreaks of any sectarian violence.

As a way of explaining such discrepancies, many writers have posited the binary of Syncretic Bengali Islam vs Foreign Wahhabi Islam. Wahabi Islam gaining the upperhand in Bangladesh due to the unlimited oil money of the Saudis. Again looking at the empirical data the influence is negligible. For example, looking at the core and regular practice of prayer (namaz/salah),  in Saudi Arabia the practice is to pray with hands above the navel or single cycle of prayer (rakat)  performed for the late evening Witr prayer, but in Bangladesh, anecdotally wherever I went, everyone prayed with their hands below the navel and three cycles of prayers were performed for the Witr Prayer.

Sections of the elite as well as writers and journalists still continue with the argument, pointing not to quantifiable practices but to a an abstract foreign ‘Wahhabi’ ideology that has infected the body politic of Bangladesh, in particular the works of Ibn Taymiyyah.

Such theories appear to be convenient fig leafs for inconvenient facts, leaving more questions unanswered than solved. If the Wahabi movement has been around for over 200 years, if it is so powerful, why does it have an impact now? Why does Saudi Arabia, despite being bordered by the failed states of Iraq and Yemen, the motherland of such violent ideology, has a lower violence and crime statistics than Bangladesh and many Western countries? Why is this myth still peddled by elites, writers and journalists in Bangladesh, when it has already been debunked in academic circles?

An unbiased review of the current data and evidence, points to an alternative source to the violence that is engulfing Bangladesh. We should not be fooled  by the fact that the violence may be couched in religious symbols or language. The manipulation of religion is not a recent phenomena in Bangladesh, nor is it the sole prerogative of the ‘religious right’, it is a universal and established practice of the powerful. Who can forget the pronouncements of the ‘secular’ Awami League government, in following the Medinan Constitution or that no laws will go against Quran or Sunnah.

caption competition

Caption Competition Bangladesh: ‘Security Forces Foil Islamist Attack Against Civilised Folks’ or ‘The Haves in Bangladesh Keeping Under Their Heels the Have-nots’, you choose !

Rediscovering the Lost Art of Compromise

“When two elephants fight it is the grass thats gets hurt.”

African Proverb

Taking a step back from the present, without the prejudice against the sacred traditions of the land and looking back into the history of Bangladesh, the spikes in violence cannot be attributed to the constant of deep attachment the Bangladeshi people had for the sacred. The spikes of violence that we witnessed in our recent history in 1947, the crisis leading to and including 1971, the BAKSAL of 1973 and now the violence of the current political crisis, lies squarely instead at the inability of the elites of the country to come to a compromise rather than the religious beliefs held by the common people.

The roots of the present violence, sprout from the feet of the current Awami League Government. The crisis was sparked by the mishandling/politicisation of the War Crimes Trials and the suspension of free and fair elections. These unilateral steps by the Government has shattered the political consensus that existed  in the country since the 1990s. It has created a political vacuum, creating a winner takes all situation for the Government and and a do die situation for its opponents, thus giving the illusion of violence as the panacea for the malaise perceived by both parties.

On the other hand, International backers of the Awami League government either in Delhi or in the West, instead of restraining the violence, maintain and fan it. They are all too eager to prop up and paint the current crisis in a clash of civilisation colours. This manufacturing of a new front on the ‘War on Terror’, has the desired effect in justifying new budgets for their ever burgeoning Military Industrial Complex (cue the useful idiots of Bangladesh Studies).

The history of Bangladesh has not been a continuous orgy of violence, there have been long periods that did see stability and reduction of violence. The catalyst for the periods of peace, was the ability of the elites of the country to compromise. The first instance was in 1975, in a series outlined by the blogger Jyoti Rahman, it was Zia Rahman’s genius for compromise that steered the country from the initial chaos under the Awami League dictatorship, to stability and normalcy. The second period was the unified effort by all parties to depose the Ershad dictatorship and the formation of a new democratic political arrangement in the 1990s.It is the abandonment of this ancient wisdom of tolerance and compromise that has lead to the spate of violence in Bangladesh. Intolerance emanating from the elites feeding down to the common man in the street as innocent victims of collateral damage.

Looking at the privileged young marchers of Shahbag and their slogans, reading the opinions pieces and accompanying comments on Bangladesh, a silent melancholy sigh takes over the soul. I hear in my heart the lament of W B Yeats, in his poem Byzantium. The young have forgotten the age old wisdom of their elders, thus mistaking the onward march of intolerance with the onward march of progress…

“THAT is no country for old men. The young

In one another’s arms, birds in the trees

– Those dying generations – at their song,

The salmon-falls, the mackerel-crowded seas,

Fish, flesh, or fowl, commend all summer long

Whatever is begotten, born, and dies.

Caught in that sensual music all neglect

Monuments of unageing intellect”

W B Yeats – Sailing to Byzantium

shahbag rally375965038-torchlight-procession-torch-fire-deployment-reichstag

March to Progress or Intolerance? Left: Torchlight Rally at Shahbag and Right: Torchlight Rally in Nazi Germany

Further Reading:

  1. ‘Ibn Taymiyya’s “New Mardin Fatwa”. Is genetically modified Islam (GMI) carcinogenic?’ by Yahya Michot
  2. ‘Ibn Taymiyya against Extremisms’ by Yahya Michot
  3. ‘God’s Unruly Friends: Dervish Groups in the Islamic Middle Period 1200-1550’ by Ahmet T Karamustafa

নাটকে ভরা নির্বাচন এবং জনগণের প্রজ্ঞা

election

যায়নুদ্দিন সানী

বেশ নাটকীয় একটা নির্বাচন হচ্ছে। বাঙালির জীবনে বিনোদনের সাম্প্রতিক ঘাটতি মেটাতে এই নাটকীয় নির্বাচন বেশ বিনোদন এনে দিয়েছে। হরতাল অবরোধ নিয়ে যখন বিএনপির বেশ ত্রিশঙ্কু অবস্থা, না পারছে তুলে নিতে, না পারছে চালিয়ে যেতে, ঠিক সেই সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। মেয়র ইলেশানের এই ঘোষণা বিএনপির সাথে সাথে দেশবাসীকেও বেশ স্বস্তি এনে দেয়। বিএনপি স্বস্তি পায় কারণ হরতাল অবরোধ প্রত্যাহারের একটা সুযোগ পেলো বলে আর দেশবাসীর স্বস্তি, এই দুই নেত্রীর জেদাজেদির হাত থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বলে।

আমাদের রাজনৈতিক নেতারাও যেমন নাটক করতে জানেন, আমাদের জনগণও এই নাটক তেমন উপভোগ করতে জানেন। বিএনপি যদিও প্রথমে ভাব দেখাচ্ছিল, ‘নির্বাচন করবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় আছে।‘ ‘লন্ডন থেকে অনুমুতির অপেক্ষায় আছে’। তবে জনগণের বুঝতে সমস্যা হয়নি, ব্যাপারটা নাটক। বিশেষকরে যখন দেখা গেল হঠাৎ করে বিএনপির থিঙ্কট্যাঙ্ক বলতে শুরু করেছে ‘কৌশল’ হিসেবে এই নির্বাচনে যাওয়া উচিৎ তখনি সবাই বুঝে গেল সামনে আরও নাটক আসছে। আর শুরু হতে যাচ্ছে এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা—‘নির্বাচন’।

তবে অন্য যেকোন নির্বাচনের চেয়ে, এবারের নির্বাচনে, নাটকীয়তার পরিমাণ অনেক বেশি। কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ বেশ নাটকীয়তা দিয়েই নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন নির্বাচন কমিশন। তার আগে অবশ্য কিছুদিন পত্র পত্রিকায় নাটকের কানাঘুষা প্রচার হল। ‘সিটি কর্পোরেশানের নির্বাচন হতে পারে’ জাতীয় খবর প্রকাশ হল ‘বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে’। এরপরে নাটকের প্রথম পর্ব প্রচারিত হল। নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। এবং বল চলে গেল বিএনপির ‘কোর্টে’। আবার ৫ই জানুয়ারী টাইপ নির্বাচন না দুইদলের অংশগ্রহণে নির্বাচন।

উত্তর সরাসরি আসবে এমন প্রত্যাশা কেউই করেনি। নাটক হবে, সবাই জানতো। এবং হলোও। ঠিক একটা নাটক না, বলা যায় নাটকের সিরিজ শুরু হল। একটার পর একটা নাটকীয়তা আসছে তো আসছেই। বিএনপি আসবে কি আসবে না, অবরোধের কি হবে, হরতালের কি হবে, আন্দোলনের কি হবে, তত্ত্বাবধায়ক সাহেবেরই বা কি গতি হবে—এমন দারুণ সব সাসপেন্সে প্রথমে আমাদের দিকে ছুঁড়ে দেয়া হল।

আমাদের নেতারা যে সরাসরি উত্তর দেবেন না, তা জনগণ জানে। ফলে সবাই অপেক্ষা করে থাকল, নাটক মঞ্চায়নের জন্য। এবং জনগণকে নিরাশ না করে একে একে বেশ নাটকীয় স্টাইলে উত্তরগুলো আসতে শুরু করল। বিএনপি নির্বাচন করবে। আর এমন সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে বেশ প্রভাব ফেলল আগের দফায় সিটি কর্পোরেশান নির্বাচনে জয়ের স্মৃতি। টিপিক্যাল কিছু ছোটখাট নাটকীয়তা সেরে বিএনপি ঝাঁপিয়ে পড়ল নির্বাচনে। এবং শুরু হল নাটকের দ্বিতীয় পর্ব।

মিন্টু সাহেব ছোটখাট একটা নাটক দেখালেন। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে প্রার্থী হওয়ার জন্য সাধারণতঃ নাটক হয়, তবে এবার উল্টো ঘটনা ঘটল। মিন্টু সাহেব প্রার্থী হবেন না। আবার সেকথা ম্যাডামকে মানাতেও পারছেন না। ফলে নাটক করতে হল। এবার ম্যাডাম মানলেন। মাঝে কিছুদিন মাহী সাহেব দৌড়ঝাঁপ করলেন। তবে শিকে ছিঁড়ল না। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন কি না, তা নিয়ে কিছু নাটক হল এবং অবশেষে জানালেন, ‘করবেন না’।

কাহিনী ভালোই এগোচ্ছিল। তবে নাটকে আওয়ামীরা পুরোপুরি খুশি কিনা ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না। ‘বিএনপি নির্বাচনে আসুক’ কথাটা মুখে বললেও সত্যি সত্যি তাঁরা কি চায়, তা নিয়ে কিছু সাস্পেন্স ছিল। কটাক্ষ, শ্লেষ যেমন চলছিল তেমনি চলছি ধরপাকড়। বিএনপির বহু প্রার্থীই পলাতক কিংবা আটক। এদেশে মামলা দেয়া যেহেতু কোন ব্যাপার না, তাই ব্যাপারটা পরিকল্পিত না ‘আইনের নিজস্ব গতিতে চলা’ তা নিয়ে কিছু সংশয় অনেকের মনে দেখা যাচ্ছে। অন্ততঃ বিএনপি চাইছে যেন ‘সংশয়’টা দেখা যায়।

এরমাঝে গাড়িবহরে হামলা হল। দুই পক্ষই দাবী করল নাটক। ভিডিও ফুটেজে সেই নাটক সবাই দেখল। নিজ নিজ রাজনৈতিক মত অনুযায়ী দুই দলই একে অন্যকে নাট্যকার আখ্যা দিলেন। আওয়ামী নেত্রী ছবি দেখালেন। এদেশে নিরপেক্ষ সংবাদ মাধ্যম বলে যেহেতু কিছু নেই, তাই জনগণও আর কারো ভাষ্য বিশ্বাস করে না। সবাই নিজের নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, ‘নাটকটা কার লেখা’। হামলা অবশ্য একটায় থামল না। মাহী আর রতন সাহেবের ওপরও হল। এবং যথারীতি সেই নাট্যকার বিতর্ক হল। কাউই মানতে রাজী না এতো সুন্দর নাটকের তিনিই নাট্যকার। ফলে জনগণের প্রজ্ঞাই ভরসা।

ওদিকে মীর্জা সাহেব সামনে আসবেন কি না, জামিন হবে কি না, কেস চলবে কি না, বিএনপি শেষ পর্যন্ত কি করবে, এমন ছোটখাট সাসপেন্স থাকলেও বিএনপি যে নির্বাচন করবে তা নিয়ে খুব একটা সন্দেহ কারো মনেই ছিল না। তবে নির্বাচনের পরে কি হবে তা নিয়ে এখনও সাসপেন্স আছে। পরাজয় হলে সেই ‘টিপিক্যাল’ কারচুপি ফর্মুলা যে হাজির হবে, তা অনেকটাই নিশ্চিতভাবে বলা যায়। তবে বোঝা যাচ্ছে না, বিএনপি জিতলে কি হবে কিংবা ঢাকার দুই অংশে দুইজন জিতলে কি হবে।

যাক, গতকিছুদিন সময়টা বেশ ভালোই কাটল। বিজয়ী প্রার্থী নগরের জন্য আদৌ কিছু করবেন কি না, তা নিয়ে কেউ সত্যিকার অর্থে কেউ ভাবিত না। নির্বাচনে জয়ের পরে যে প্রার্থীর টিকির দেখা পাওয়া যাবে না, একথা কমবেশি সবাই জানেন। এসব রাজনৈতিক নেতাদের কাছে কোন রকম প্রত্যাশা বহু কাল আগেই তিরোহিত হয়েছে। এখন জনগণের কাজ একটাই, হিসাব করা—‘কে জিততে পারে’। তবে এই নির্বাচন আরও একটি চিন্তার খোরাক যুগিয়েছে, ‘নির্বাচনের পরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কি হবে?’

Militant Atheism, Madrasahs and Bangladesh: Midnight at the Noon of Golden Bengal

 

We try to interrogate the Truth of the Events unfolding in Bangladesh, and claims of the death of secularism. We ask if society is experiencing a silenced, spiritual revolution and present important reference materials to make sense of the politics of curricular change, the times of Al Ghazali and the contents of the much maligned Darse Nizami. With both secular and more than secular spaces struggling to make space for history, epistemic plurality and colonial continuity we travel through China, East London and Sylhet to demonstrate how texts and people flow and interact. We amplify excluded voices, to give new readings to Events in Bangladesh today.

Avijit Roy Murder: In the search of the Truth after the Event

When the then British Prime Minister, Harold Macmillan was asked what can most easily steer a government off course, he answered “Events, dear boy. Events”. One of the truisms of the statement being, is that our subjective perception of the truth is tied to ‘Events’ that we witness in our lives.

In recent times in Bangladesh, the Avijit Roy murder, seems to have shifted the knowledge of what Bangladesh means. Avijit was the joint founder of the website Mukto Mona, and was slain in mysterious circumstances in February 2015. The Bangladesh government of the day as well the corporate media has blamed the death on shadowy Islamist terrorists. The meaning derived from the ‘Event’ being, Bangladesh is now an irrational conservative Islamic country, where secular and atheist bloggers and writers fear for their lives. Even The New York Times joined in the chorus following the murder, declaring in an op ed piece, the end of secularism in Bangladesh.

In sharp contrast, two years ago, during the Shahbag protests for the hanging of Abdul Quader Mollah. The ‘Event’ was described mainly as knowledge that Bangladesh was a secular and progressive country, where as an exception to the rule, conservative Islamic forces have been beaten back and were in full retreat. So looking at the current coverage of Bangladesh, it appears the country has gone through some kind of revolution, where there has been a dramatic shift in society, within a short period of time. Or has it?

Could it be that much of the current English and Bangla social commentary on recent developments in Bangladesh is ill informed, malicious and self censored? For example if the supposed epidemic in ‘Atheist Killings’ weren’t confusing enough, Ahmede Hussain recently confused Deoband with Aligarh, in regards to being supported by the British Empire. Systematically appalling coverage prevents the public from learning and discussing underlying issues, and frames everything in terms of a third rate Hindi soap opera, produced through the pockets of the power elite.

Rage against the Nastiks (Militant Atheists): Voices from the ‘Other’ Bangladesh

Glorified is My Lord, The Magnificent: An image of congregational prayer on the streets of Dhaka 2013. Islami Andolon Bangladesh gathered in the capital to protest corruption and nepotism as well as demand restoration of the caretaker government system for political transition and new legal protections against religious defamation

Proponents and supporters of Mukto Mona would posit their writings in terms of progress and modernity, and would see themselves as the intellectual successors to the 19th century, Calcuttan, Bengali Renaissance. Their core proposition is that religion poisons everything, that it is a belief based on feeling rather than fact, hence religion is at the root of most of the problems of Bangladesh. This seems to be the general view that seems to permeate elite discourse within the country, conscious or otherwise.

However, when searching for the Truth of the ‘Event’, we have to go beyond the knowledge and discourse generated by the power structure , in our case the Bangladeshi government, elite commentators and the corporate media. We have to listen and address the voices excluded, and observe the material being reconfigured, in order to have a complete picture of the Truth. Incorporating both sides of the binary, whilst queering that binary challenges the interests gathered around the dominant pole. From a socioeconomic perspective, both sides of the debate generally fit into social classes created by widening economic inequality, initiated in colonial times and maintained by the post colonial state.

Conservative, mainly excluded voices in Bangladesh, would place the writings of Mukto Mona and its supporters within the binary of the ‘Astik vs Nastik’ debate, or militant atheist vs people of faith debate. In a background of increasing political turmoil and state security suppression, the  disenfranchised conservative mood in the country manifested itself in the 2013 Hefazote protests in Dhaka. Where on two separate  occasions, it is believed that over 1 million people participated in the protests. The organisers, Hefazote Islam, had a 13 point demand, the second point of the demand being:

“to stop all the anti-islamic propaganda of the self declared atheist and murtad leaders of so-called Shahbag movement and bloggers who propagate lies against the Prophet (saw)  and to punish them.”

In the run up to and in the aftermath of the Dhaka massacre of May 2013, I asked Hefazote supporters as to the meaning of the 2nd point in their 13 point demand, and as to why they were so agitated by insults from atheists and former Muslim writers.

One made the issue of the difference in terms if genealogies, which leads to misunderstandings. Apostasy, in the English language, means for someone to change their minds about religion. Apostasy and apostates, using an Islamic genealogy is better translated as ‘nifaq or ‘munafiq’’. He then went onto argue, that the Prophet Muhammad (saw), knew who the apostates were and didn’t kill them. Many made the point that they were simply asking for the implementation of existing laws against hate speech.

Nearly all gave a reply that one had to distinguish between atheism and what they termed Militant Atheism. Atheism on its own is a non positive assertion, it is to believe there is no god, it is ambivalent as to whether god or religion is force for good or evil. They pointed out the Muslims in past have had a long history of coexisting with atheists, from the earliest community to the present time. For example there are the famous public debates Imam Abu Hanifah had with the atheists of his time.

‘Nastiks’ or Militant Atheists, they argued, step outside the prism of a traditional atheist, from a passive position to an aggressive one, from ‘I have no god’ to ‘you should have no god’. These ‘Nastiks’ they argued, are not equal in their hatred of religions, they are entirely fixated with Islam. As an example, they stated that this discrimination and hatred against Islam in Bangladesh is expressed explicitly, from the ban on University admissions to Madrassah students, to bans on the headscarf (hijab) in various workplaces. Implicitly it is found in reading the works of famous novelists and images in the media, in the portrayal of  the characters of religious people. Such evidences are replete in Bengali dramas, novels, stories and other media and genres. An evil character is always portrayed by the image of an Islamic person, with the beard, outfits such as tupi, long dresses and lungi or pyjamas.

In conversations, social media and in their writings, proponents of such discrimination and prejudice towards observant Muslims and Islam in Bangladesh, would justify it in the name of muscular secularism. They lay out a dichotomy between a Medieval God centred Muslim culture in opposition to an Aryanising progressive world view. Thus discrimination and suppression of Muslim culture and practices is the necessary price of progress and development. Concluding, that Islam and Muslim culture in its very essence is barbaric and backwards, and its effect on society should be limited and mitigated where possible.

Black Swans: A Snapshot of the Qawmi Experience in the UK

1797394_10153179730239082_8916651365772898322_n

A seminar on the Philosophy of Islamic Science and Modern Technology by Professor Datuk Osman Bakar in a Qawmi Madrassah in East London, attended by madrassah students, professionals, medics and academics. March 2015.

Looking at statistical evidence worldwide the argument that Muslims and Islam at their very essence are anti modern or development, does not hold. Many Muslim countries enjoy high per capita wealth income, some with higher than or equal to many Western countries.  Even if we restrict the field to the context of  Bangladesh, using the extreme example of Qawmi Madrassas both in UK and Bangladesh, the argument seems not to hold.

In recent times in Bangladesh, most of the debate around Qawmi Madrasahs, under the influence and guidance of foreign governments, is around how they are creating a large pool of graduates unable to function in a modern economy and society. Most of the arguments concluding that they need to come under state control under the guise of curriculum reform. Images of Qawmi Madrassah’s and graduates are used often in the corporate press both at home in Bangladesh and abroad to front negative articles, represented in the stories by journalists as anti progress and development forces.

Qawmi Madrassah, also known as Darul Ulooms, mainly in South Asia, are independent community run madrasahs, who are distinguished by the fact that they receive no government funding and teach one of many variations of the Darse Nizami Curriculum. The Darse Nizami curriculum is an educational syllabus which was formulated and crystallized in Lucknow, in the late Mughal period. The curriculum traces its origins and influences back into the medieval period, to Nizamuddin Awliya and Al Ghazali.

As in Bangladesh, the Qawmi Madrasahs in the UK receive no government funding, however the medium of instruction is mainly English. The difference in the UK being that madrassah students face no bar with regards to employment in public services or access to universities, hence the majority of graduates, who I encountered, go onto careers other than that of an Imam at a Mosque. A large portion go on to working in the public sector, in the NHS and Prison Services as part of the chaplaincy service, one even ended up as a chaplain for the British armed services. Many go on to universities, either through the traditional route of sitting A-Levels, entering as mature students or the unconventional route of getting the qawmi madrassah certificates accredited by the Pakistani High Commission. After graduating many have gone on to pursue careers either in Teaching, Law or Finance and Accounting. One graduate of Lalbagh Qawmi Madrassah in Dhaka, has gone on to graduate in Chemical Engineering at Imperial College London and then onto running a successful construction company.

The other phenomenon in London, when it comes to the Darse Nizami is the rise in the number of ‘Midnight Madrassas’, evening and part time classes aimed at professionals, workers and students. Here after work or study, students attend classes on religious texts. Many of whom, increasing number being women, have no intention in going onto becoming religious leaders or Imams in the mosque. This brings into question as to what is the essential function of these texts in society, past and present.

 

DMC-14-080

 Picture of British Armed Services Chaplain, Darul Uloom graduate Asim Hafiz (OBE) 2014.

The Roles of Classical Texts  in the Land of the Rising Sun

“When the Sages arose, they framed the rules of propriety (ritual) in order to teach men, and cause them, by their possession of them, to make a distinction between themselves and brutes.”

Liji – The Confucian Book of Rites

Formally the Darse Nizami, does not confer on its graduates the right to be a religious leader or Imam. What it does confer is the right to read unaided the canon of Arabic religious literature, as well as being a transmitter of the oral tradition that is at his heart. A good comparison and model of understanding, is the similarity between the roles of the Darse Nizami texts and those of the Confucian classics, in Imperial China.

Confucian texts formed the basis of the examination system of the Imperial bureaucracy in China. Thus the dissemination of the texts created a literary class in Chinese society who acted as the guardians and repository of Chinese culture from the 500 BCE upto the beginning of the 20th century. A self appointed class, whose function was to act as the guardians of Chinese civilisation and to be a bedrock of stability in times of economic and political upheaval.

“The Sage of the West, Muhammad was born after Confucius and lived in Arabia. He was so far removed in time and space from the Chinese Sages that we do not know exactly by how much. The languages they spoke are mutually unintelligible. How is it then that  their ways are in full accord? The answer is that they were of one mind. Thus their Way is the same.”

Liu Zhi – Tianfang dianli

A similar observation was made by the historian and philosopher Ibn Khaldun. Ibn Khaldun in his Muqaddimah distinguished between tribalism or asabiyyah on the basis of blood and that on the basis of a shared educational experience. These networks and bonds of shared educational experience, in the Muslim world today, they can be traced through the distribution and acceptance of certain key texts. A good example is the spread of the core Darse Nizami text, the Hidayah, which was first written in the then Persian region of Greater Khorasan (the land of the rising sun). Today the Hidayah can found being taught in Europe (Bosnia and the Greek Region of Thrace), through Turkey and Central Asia, on to South Asia and even as far as Ningxia in China and  Kazan in Russia. Thus it appears the texts and curriculum have a dual function not just instructing individuals in religious rites or dogma, but also creating a collective experience and memory, that supersedes the nation state, that of a shared Islamic Civilisation, the ummah.

“The Way of the Sage is none other than the Way of Heaven.”

Liu Zhi – Tianfang dianli

A Living Intellectual Tradition: In the Shadow of Shahjalal

birds220px-Sylhet02

( L) The birds at the Shahjalal Shrine in Sylhet, descendents of the original birds given to him by the Chisti Nizamuddin Auliya in Delhi ( R) Tomb of Shah Jalal in Sylhet

As in the UK, similar Black Swans to the dominant narrative of medieval Islamism versus a modernising Aryanism/Atheism can be found in Bangladesh, in this case, in Sylhet. At the heart of Sylhet city is the complex dedicated to the grave of the Sufi Shahjalal. The grave of the saint sits on top of a mound , and in its shadow at the foot of the mound, next to the main gate, within the complex is a Qawmi Madrassah, known locally as the Dargah Madrassah.

Nearly a decade ago I was visiting a friend from the UK, who enrolled on to the final year of the madrassah. During the visit, I got him to conduct a brief straw survey of his class, asking respondents about their backgrounds and motivation.

The students in the class fell broadly into three categories, corresponding to where they sat in the class (front, middle and back). Around 10% of respondents wanted to pursue a career in teaching, further learning or research. This group normally sat at the front of the class, and for sitting at the front had the privilege to read out the Prophetic traditions that were going to be studied on that day.

The second group comprising of about 60% were made up of students, who came into the madrassah for ‘welfare reasons’. The madrassah life provided them with free or subsidised lodging and food. Graduation from the madrasah, provides a route out of poverty as well as increased social status.Most wanting to opt for a quiet life of an Imam  in a village or a small urban mosque.

The third group, 30% (which normally sat at the back of the class) were the most interesting. The students came from a varied background and had diverse ambitions. Many came from the state Aliyah Madrassah sector, but enrolled to access the oral tradition still preserved within the Qawmi madrassas. There were others who were products of the secular education system. For example there was an engineering student, simultaneously completing his degree while attending lectures at the madrasah.  Then there was the budding journalist, drafting his articles while the traditions and commentaries were being read out in the class. All of the individuals in this group wanted to pursue a career outside the mosque or madrassa but saw madrassah education as an important companion along those career paths. When asked about the barriers that they face due to prejudice and misconception, they accepted it as a necessary price to pay for the commitment to their beliefs. They saw no contradiction between the modern society they occupy and the image of themselves as successors of a living tradition, first brought to Sylhet by Shahjalal.

Al Ghazali and the Incoherence of the Juktibadi: Then and Now

Shahjalal came to Sylhet from the then Seljuk Turk city of  Konya, famous for being the resting place of Rumi. He was a product of the state sponsored education system, that was designed and pioneered by Al Ghazali nearly 200 hundred years earlier and 900 years before our time. Ghazali near the end of his life, penned his autobiography, ‘The Deliverance from Error’, where he described his intellectual and spiritual journey. On the one hand, he wrote about his encounters with religious fundamentalist, who he described as ignorant fools who do more harm than good, by rejecting science and reason in the name of defending Islam.

On the other, he wrote about the militant atheists of his day, who described themselves as free thinkers or ‘philosophers’.These free thinkers in the name of science and reason, declared Islam as a social ill towards progress and development. After various encounters and reading their works, Ghazali concluded, that despite their declarations of following reason, at the very core of their beliefs and attitudes was an irrational prejudice against religion, a domination of the ego over the intellect.

The irrational prejudice, written about by Ghazali over 900 years ago, is alive and kicking in powerful circles in Bangladesh today. This modern manifestation of the ego over the intellect has two parts. First, the argument one hears that religion is the root of most or all of the world’s problems. An irrational belief, given the last 100 years produced the mass slaughters of World War I and II, colonialism, Communism, imperialism, Korea, Vietnam and the Iraq war – all of which had nothing to do with religion.

Second, the doctrine that if one can educate and manipulate enough religious believers to ‘truth’, then the world will be perfect and all our problems will disappear. An irrational myth, following on from the Enlightenment, that physical and social environments could be transformed through scientific and rational manipulations. An irrational dogma that gave us the false utopias, of the Nazis, and Stalinism and the killing fields of Cambodia.  As Chris Hedges writes, this irrational belief in, “rational and scientific manipulation of human beings to achieve a perfect world has consigned millions of hapless victims to persecution and death”.

ntma1496-05

It is not just religious Zealots that incite violence against and kill people for their beliefs. Above: Picture of victims following the state massacre of madrassah students in May Dhaka 2013.

The on going struggle (Jihad) of Liberating Theology, Past and Present

madani 1madani 2

Above attempt by British Raj administrators in trying to thwart the civil disobedience campaign of Hussain Ahmed Madani.

Al Ghazali and his Seljuk patrons, saw their education policy as a prerequisite in their political programme to liberate Muslim lands in the aftermath of the European Crusades. Thus following in the footsteps of Al Ghazali, in 1857 amongst the ashes of Delhi, then burnt down by the British, the seeds of the Qawmi Madrassah movement were sown. The original pioneers saw their educational movement as an essential prerequisite to freeing South Asia from British colonial rule.

After a 150 years it seems,  as opposed to many other countries around the world, that in Bangladesh, with a deteriorating human rights situation, the  struggle has not finished and still continues. The Avijit Murder of 2015 occurred against a backdrop in Bangladesh, where universal franchise, in terms of free and fair elections, has been suspended and where foreign interests take precedence over domestic concerns. Thus the supposed war on terror on alleged fanatics, provides a convenient figleaf for increasing repression by the security forces against legitimate opposition activists.

These recent battle cries of the war on terror, echo earlier calls against shadowy Islamists at the time of the British Raj. Nearly a hundred years earlier, a madrassah teacher, Hussain Ahmed Madani, arrived at the Nayasorok mosque in Sylhet, to teach and instigate a non violent local movement for home rule against the British. For his activities, he and his followers were persecuted, tortured and labelled as fanatics by the Britishers. Thus it appears a century on, nothing much has changed, after two attempts at independence, things appear to have reverted back to their original state. Thus the Truth after the Event in Bangladesh is this, ‘Yes, the British have left, but they have left behind in charge, bastard offsprings with their Hindustani manservants.’  

Following the Dhaka Massacre of May 2013, I had a discussion with Qawmi Madrassa teacher in the UK. He was privy to the discussions of the current and previous Bangladeshi government’s attempt at Qawmi Madrassah reform. He said all parties want reform, the madrassas want to end discrimination against their students, in terms of public sector employment and access to University education. However he added due to ideological vested interests on the Government side, negotiations have been sabotaged both in the previous BNP government and now in the current Awami League one.

He conceded that there are some vested interests within the Qawmi madrassah movement, ‘political opportunists’, who benefit from the status quo, as it gives them ownership over a ghettoised frustrated vote bank. In spite of the lack of resources and existing institutional barriers, he pointed to interesting examples of internal reforms. In the Sylhet region, following a model established in Lucknow, Arabic intensive institutions, with an accelerated Darse Nizami programme have been established. He also cited the example of a Qawmi madrasah in Comilla, which has modern IT facilities and train’s common law judges and public officials in the intricacies of Shariah Law.

As a counter example to Bangladesh, he cited pragmatically oriented reforms in Turkey, where in the 1980s barriers were removed in terms of employment and education to madrassah students (graduates of the Imam Hatip Schools). After those barriers were removed, more than a third of the students went on to graduate in Law, Finance and Business. The current President of Turkey, Recep Erdogan, being an example of an Imam Hatip school graduate choosing a mainstream career path.

When I asked him, whether the same pragmatic reasoning, as in Turkey will triumph over ‘Aryanising’ ideological hatred in Bangladesh. The Maulana answered by reciting the prayer derived from the Prophet Jacob (as):

Allahu Musta’an Sabran Jamil – Allah it is Whose Help is sought, with comely patience

eclipse

Solar Eclipse Northern Europe March 2015

“Remember: oppression is temporary. Reality is light, but darkness overtook it. Islam came with a light to extinguish these tyrants, dictators and ignoramuses. Their darkness has covered us, but darkness does not last forever. This is a sign that oppression must come to an end, that this age of tyrannical rule is coming to a close, just as the light follows darkness…”

The late Naqshbandi Sheikh Nzaim Haqqani – on the Eclipse Prayer, Salaat Al Kusoof

———————————————————————————————————————————————————————————–

Resources and Further Reading:

  1. PDF Library of the entire Darse Nizami curriculum as well as other associated texts in English, Arabic and Urdu.
  2. Life and Times of Al Ghazali Dr T J Winter Part 1 and Part 2
  3. When Atheism Becomes Religion: America’s New Fundamentalists by Chris Hedges
  4. ‘Intellectual Legacy of Shah Wali Allah’: Diagram below showing the fluid and interlinking student teacher relationships in all the varied religious movement in South Asia and the Arabian  Peninsula.                                                 1919659_293189130881135_2277404462243665975_n
  5. Silsilah of the Chistiyyah Sufi Tariqah: Spiritual Chain of Transmission which includes at the end, prominent political figures at the time of Independence from the British (Sulayman Nadwi and Hussain Ahmed Madani).                                               10500559_668068936607145_8404940639204063411_n

বুয়েট ভ্যানটেইজ পয়েন্টঃ এক

By: Aman Abduhu
জাহাঙ্গীর আলম সাহেবের মনটা বেশ বিষণ্ণ। বাংলাদেশে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মারা যায়। মানুষের মৃত্যুতে এতো বিষণ্ণ হওয়ার কিছু নেই। তবে কয়েক মিনিট আগে ফাঁসিতে নিহত কামারুজ্জামান সাহেবের জন্য একটু বেশিই খারাপ লাগছে। মানুষটাকে তিনি দেখেননি। কিছু ঘনিষ্ঠ পরিচিতদের কাছ থেকে শুনেছেন তার কথা। যেসব অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে এসবের মিথ্যা হওয়া নিয়ে, ট্রাইবুনালের অন্যায় ও অবিচার নিয়ে তার যথেষ্ট অনুযোগ আছে। কিন্তু কিছু করার নেই। একটা রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের মেকানিজম আর বেশিরভাগ মানুষ মিলে এমন অন্যায় করতে পারে, এসব ভেবে তার ভালো লাগছে না। অসহায় লাগছে খুব। আগামীকাল সকালে ক্লাশ নেই, তাই মন খারাপ কাটাতে রাতের বেলাতেও ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছেন বুয়েটের শিক্ষক প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম। কিছু করতে পারছেন না। বারবার নিউজ সাইটগুলোতে খবরের আপডেট আর ফেইসবুকে বিভিন্ন লেখা আর মন্তব্য পড়ে যাচ্ছেন।

বন্ধু জামিলের কথা মনে পড়ছে। দুজন একসাথে পিএইচডি করেছিলেন জাপানে। পিএইচডি শেষে জামিল ওখানে থেকে যায়। হোন্ডা রোবোটিকস এ চাকরী নিয়ে। তার নিজের রেজাল্ট বরং জামিলের চেয়ে বেশি ভালো ছিলো। চাকরীর সুযোগ তার বেশি ছিলো। জামিলও অনেক বুঝিয়েছিলো। ভেবে দেখ দোস্ত, গাড়ি বাড়ি নিরাপত্তা শান্তি। আমরা গরীব দেশের মানুষ। আর কি চাই? এখানে নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ আছে, কাজের সুযোগ আছে। মানসিক শান্তি পাবি। বাংলাদেশে গিয়ে কি করবি? ঐ দেশের মানুষ আর মানুষ নাই। আল্লাহ এখানে সুযোগ দিয়েছেন, থেকে যা দোস্ত।

জাহাঙ্গীর তখন মুচকি হেসেছিলেন। তার শুধু মায়ের কথা মনে পড়ে। প্রিয় বুয়েট ক্যাম্পাসের কথা মনে পড়ে। গ্রামের কথা মনে পড়ে। এমনকি হাতিরপুল বাজারের ডাস্টবিনের ময়লাগুলোকেও তার কাছে টোকিওর সাজানো গুছানো পার্কের চেয়ে সুন্দর মনে হয়। পরীক্ষার আগের রাতে রিভিশন শেষ করে ক্লান্ত হয়ে পলাশীর মোড়ে গিয়ে এক কাপ চা খেতে ইচ্ছা হয়। তার মনে হয়, পাবলিক ভার্সিটিতে জনগণের টাকায় পড়ালেখার দায় পুরোটা শোধ না হলেও কিছু অন্তত শোধ করা যাবে ওখানে পড়িয়ে। ওখানে চাকরী করে। ক্লাসরুমে বসে উম্মুখ তাকিয়ে থাকা, শিখতে ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদেরকে শেখাতে আর নতুন নতুন বিষয় জানাতে তার ভালো লাগে। সে এদেশে ফিরে এসেছিলো।

এলোমেলো এইসব ভাবনার সাথে জাহাঙ্গীর আলম সাহেব ফেইসবুকে বিভিন্নজনের বিভিন্ন লেখাও পড়ছিলেন। বুয়েটিয়ানদের একটা গ্রুপ আছে, নাম ‘বুয়েটে আড়িপেতে শোনা’। হঠাৎ গ্রুপের একটা পোস্ট ভেসে আসলো টাইমলাইনে। দীপু সরকার নামে এক ছাত্র কামারুজ্জামানের ফাঁসির খবর শেয়ার করেছে। তার নিচে চন্দ্রনাথ নামে আরেকজন উল্লাসের সাথে লিখেছে, জয় বাংলা। আধাঘন্টাও হয়নি ফাঁসি দেয়া হয়েছে। একজন ইসলামিক নেতার মৃত্যুতে হিন্দুদের এইসব লাফালাফি দেখে তার ভালো লাগছে না। তিনি জানেন এখন চুপ করে থাকাই ভালো। কিন্তু পারলেন না, ওখানে মন্তব্যে করে বসলেন ‘জয় মা কালী, জয় ইনডিয়া”।

ব্যাস, তান্ডব শুরু হয়ে গেলো। বুয়েটের অনেক ছাত্র-শিক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়লো ঐ পোষ্টে। শাহবাগ সমর্থক এবং শাহবাগি নিয়ে একটিভ ছাত্রদের ওখানে মারাত্বক সব মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে। সবাই জাহাঙ্গীর আলম সাহেবের ঐ মন্তব্য নিয়ে ব্যস্ত। তুমুল প্রতিক্রিয়া। মন্তব্য প্রতিমন্তব্য গালাগালি। তাকে স্বাধীনতার শত্রু, সাম্প্রদায়িক, বাংলাদেশে থাকা পাকি জারজ বানানো হলো। অন্যান্য শাহবাগিরাও প্রচন্ড চিৎকারে ফেটে পড়ছে। একজন শত্রু পাওয়া গেছে। একে ধ্বংস করার আনন্দে শাহবাগিরা দলবেধে উৎফুল্ল ভয়ংকর এখন। তারা অনেক দেশপ্রেমিক।

এক ঘন্টা ধরে জাহাঙ্গীর সাহেব এসব দেখলেন। ক্লান্ত লাগছে। অসহয়ায় লাগছে। তিনি মন্তব্য এডিট করে লিখলেন ‘জয় ইনডিয়া, জয় মাসল পাওয়ার, জয় নেসটি পলিটিক্স, জয় ইনজাস্টিস’। একটু পরেই হঠাৎ দেখলেন গ্রুপে মিশকাত আল-আলভী নামে এক শাহবাগি প্রগতিশীল ছাত্র, যে গ্রুপের একজন এডমিনও, সে পোস্ট দিয়েছে ‘কেপি টেস্টে সাফল্যের সাথে পাশ করার জন্য বুয়েট শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রুপ থেকে ব্যান করা হলো। ধন্যবাদ। ছাগুসব করে রব ফাঁসি হইলো।’

কিছুক্ষণ পর থেকে তিনি আর গ্রুপে ঢুকতে পারলেন না। বুঝতে পারলেন তাকে বুয়েটিয়ানদের ঐ গ্রুপে ব্যান করা হয়েছে। একজন প্রফেসর হয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে ছাত্রদের কাছ থেকে, সহকর্মী শিক্ষকদের কাছ থেকে এ ধরণের আচরণ পেয়ে তার বেশ মন খারাপ হলো।

পরদিন দুপুর দেড়টা। জাহাঙ্গীর আলম সাহেব ডিপার্টমেন্টে তার অফিসে বসে একটা জার্নালে চোখ বুলাচ্ছেন। দরজা ঠেলে রুমে ঢুকলো কয়েকজন ছাত্র। একটু চমকে উঠলেন তিনি। আবু সাইদ কনককে তিনি চেনেন। বুয়েট ছাত্রলীগের সেক্রেটারী। আর শুভ জ্যোতি টিকাদারকে তো সবাই চেনে। বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি। সাথে আরো সাত আটজন। কয়েকজন তার পরিচিত, বাকীরা অপরিচিত। তবে বুঝা যায় সবাই এখানকার ছাত্র। তিনি বললেন, কি ব্যাপার?

ছাত্রদের একজন চিৎকার করে বললো, শুয়েরের বাচ্চা, রাজাকারের বাচ্চা। কি ব্যাপার জিগাস? তিনি অবাক হয়ে গেলেন। কি বলবেন বুঝতে পারছেন না।

এর মাঝেই শুভজ্যোতি এগিয়ে এসে তার কলার ধরে টেনে তাকে দাঁড় করিয়ে দিলো। গালে এসে পড়লো কনকের জোরালো থাপ্পর। বাকিরাও এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করলো। কাপড় ছিড়ে চুল এলোমেলো হয়ে বিশৃংখল অবস্থা। জাহাঙ্গীর সাহেব হঠাৎ এসবের মুখে পড়ে শকড হয়ে গেলেন। কি করবেন বুঝতে পারছেন না। এর মাঝেই তাকে এই ছাত্রের দল মারতে মারতে আর ধাক্কাতে ধাক্কাতে বের করে নিয়ে আসে। ডিপার্টমেন্টের আশেপাশের অফিস থেকে অন্য শিক্ষকরা আর ক্লাসরুম গুলো থেকে শত শত ছাত্রছাত্রী বের হয়ে এসেছে। সবাই চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। কারো কিছু বলার সাহস নেই।

লজ্জায় অপমানে প্রফেসর জাহাঙ্গীর সাহেবের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। তিনি বুঝতে পারছেন না ঠিক কি হচ্ছে। মার খেতে খেতে তিনি বুঝতে পারলেন শুভজ্যোতি তার মাথায় একটা ডিম ভেঙ্গে লেপটে দিচ্ছে। বাকিরাও প্রচন্ড উৎসাহিত হয়ে পড়লো। তারাও ডিম নিয়ে তার মুখে ভেঙ্গে লেপটে দিতে লাগলো। ডিমের কুসুম আর আঠালো রসে তার মুখ চুল নোংরা হয়ে একাকার একাকার। কনক একটা প্যাকেট থেকে আঠালো মিস্টি নিয়ে তার নাকে মুখে ঢুকিয়ে দিলো। আর হাসতে হাসতে বললো, এইটা তোর বাপ রাজাকারের ফাসির মিষ্টি। খা শুয়োরের বাচ্চা। রাশেদ নামের তারই আরেক ছাত্র কয়েকটা মিষ্টি তার পিঠে ডলে দিলো।

আনন্দ করতে করতে, তাকে লাথি আর থাপ্পড় দিতে দিতে সবাই মিলে তাকে পাঁচতলা থেকে নামাতে থাকলো। সিড়িতে ছাত্রছাত্রীরা এসব দেখে আঁতকে সরে দাড়াচ্ছে। অনেক শিক্ষক চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। পরবর্তী দশ পনেরো মিনিট যাবত তাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এ গ্রুপটা কুকুরের মতো মারতে মারতে ক্যাফেটেরিয়ার সামনের রাস্তায় নিয়ে গেলো। ওখানে দেখানো শেষ হলে রেজিষ্ট্রার বিল্ডিং এর সামনেও নিয়ে যাওয়া হলো।

শেষপর্যন্ত তাদের মনের সব আনন্দ মিটে গেলে, শুভজ্যোতি চিৎকার করে বললো, শুয়োরের বাচ্চা আর কোনদিন পারলে মা কালী অথবা ইনডিয়ার নাম নিস। তখন তোর জিহবা টেনে ছিড়ে ফেলবো। আজকে ছেড়ে দিলাম। এই চল। বাকী সবাইকে সে আদেশ দেয়ার পর সবাই উল্লাসে জয় বাংলা স্লোগান দিতে দিতে একাডেমিক বিল্ডিং এর দিকে চলে গেলো। আজ অনেক উত্তেজনা হয়েছে। এখন বোতল খুলে সেলিব্রেট করতে হবে। তার আগে হাত ধুতে হবে। ডিম মিস্টি রক্ত সব লেগে আছে হাতে। অবশ্য রাশেদ জিনসের প্যান্টে হাতটা মুছে নিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়েছে।

ছেড়া শার্ট আর বাকি সব ময়লাতে মাখামাখি হয়ে প্রফেসর জাহাঙ্গীর রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর রাস্তায় পড়ে আছেন। প্রচন্ড মার খেয়েও তিনি তেমন একটা ব্যাথা অনুভব করছেন না অবশ্য। শিক্ষক মানুষ, অপমানবোধ একটু বেশি প্রখর। অপমানের যন্ত্রণায় তার শরীরের ব্যাথা ঢেকে গেছে। এটা একটা ভালো দিক।

Correction: This Article previously said that  রাগিব হাসান নামের পুরনো শাহবাগি নেতাও বেশ আবেগঘন বয়ান দিয়ে যাচ্ছে। তার আর বুয়েটের শিক্ষক থাকার অধিকার নেই। তাকে বুয়েট থেকে বের করে দেয়া হোক। Mr Ragib Hasan protested that although he condemned the comments of Mr Zahangir, he never said he cannot be a BUET teacher anymore and he also vehemently protested the attack on Mr Zahangir. We apologize for the mis-attribution in the article.

Real Face of Danger: Harassing University Teacher in Bangladesh

By: Elora Zaman

Bangladesh, a tiny country, is going through a lot these days; so many things are happening there everyday that one can easily loose tracks. However, a particular event needs attention in my opinion. Harassing and beating a university teacher is not an insignificant thing, especially when it takes place in the context of current emotion-based political issues. Such a phenomenon would drive us to the dark age of ignorance and injustice. Such a task, if it will be left unattended and untreated, would only make a rotten society of us.

Ahmad Safa, a renowned Bangladeshi intellectual, once said, the nation is halted for one year if the university is closed for one day. Teachers are the architects of the society. So the question is, why they are prohibited from thinking freely, and expressing their opinion honestly and openly in current Bangladesh in the hands of the so-called freethinkers and liberals?

Good governance is strongly associated with good and proper education. Good educators are essential in the society for manufacturing good citizens and honest human beings, who will be capable of establishing and maintaining good governance. In our society, these educators are being harassed and beaten by political thugs, and those thugs get their shelter from the government. This is a greatest irony.

Last week, some students beat Jahangir Alam, a professor of the Civil Engineering Department in Bangladesh University of Engineering and Technology, BUET, in the campus, even inside a classroom. They were not content by verbally and virtually abusing him, they started beating him on the following day of his alleged crime. His crime was to express his opinion in a facebook group regarding the ongoing Tribunal of Crime against Humanity in Bangladesh, especially one of its verdicts that hanged a political leader on that night.

The students in our society are known for respecting their teachers, traditionally, and treating them with more honour than their own parents. This respect is considered as one of the major elements in our socio-psychological construct. Unlike Western culture, our eastern culture conventionally sees that the teachers have rights even to beat their pupils occasionally in order to teach them. That’s why it is extra-ordinarily shocking to see that one of those respected teachers are now being verbally and physically abused by the hand of their own students. Which is more shocking is to see that thousands of teachers in Bangladesh are silent today; they don’t protest and seek justice in this regard. All these are taking place only with the support of current oppressive regime of Awami League, led by the hardliner Prime Minister Sheikh Hasina. Now it has become a commonplace to see that our teachers are forced to act like obedient pets in front of the political leaders.

We can see that many oppressive rulers and monarchs treated the teachers with honour. Many kings are ill-reputed in the history for their deeds, but even they were usually respectful towards the teachers and the scholars. What is happening in current Bangladesh in the name of 1971 war-industry doesn’t know any bound in this regard. Now, every conscious soul is mistreated if they dare to express their opinion freely. Naturally, the educators have become a primary victim in that closed and fascist structure. Do those political thugs and leaders know the place of the educator class in a human society? Or they forget everything due to their physical power and dare to destroy the power of intellectual beings? I urge to everyone concerned about Bangladesh to be aware of the significance of this event and to protest against this with all means possible.

বাংলাদেশের গ্রেট ডিভাইডঃ ইতিহাসের প্রেক্ষিতে

by: Aman Abduhu
রোমান সম্রাজ্যে যখন গ্ল্যাডিয়েটরদেরকে বাঘ-সিংহের মুখে ছেড়ে দেয়া হতো, অথবা নিজেদের মধ্যে মৃত্যু পর্যন্ত মারামারি করতে হতো, তখন কলোসিয়াম বা স্টেডিয়ামে জড়ো হওয়া হাজার হাজার দর্শক সেইসব বন্য মারামারি দেখে চরম আনন্দে ফেটে পড়তো। এরা অন্যায়ভাবে মারা যাচ্ছে, না কি সম্পদ বা খ্যাতির জন্য এ কাজ করছে, না কি অত্যাচারী সম্রাটের ইচ্ছার সামনে অসহায় হয়ে এরেনাতে গিয়ে দাঁড়ানো ছাড়া তার আর কোন গত্যন্তর নেই, এসব কোন ধর্তব্য বিষয় ছিলো না মানুষের কাছে। মানুষ বিভৎস মারামারি দেখতে ভালোবাসতো। একজন আরেকজনকে খুঁচিয়ে মেরে ফেলছে, অথবা কোন পশু এসে একটা মানুষকে কামড়ে কামড়ে ছিড়ে নিচ্ছে এসব দেখতে তারা ভালোবাসতো। বাস্তবতার যাতাকলে পিষ্ট মানুষজনের কাছে এগুলো ছিলো বিনোদন, কিছুটা বাঁচার আনন্দ। যত বেশি নিষ্ঠুরতা তত বেশি আনন্দ। এসব দেখতে দেখতে তারা সোৎসাহে মহাউল্লাসের চিৎকারে ফেটে পড়তো। চল্লিশ পঞ্চাশ হাজার মানুষের গর্জনে আকাশ বাতাস ভরে যেতো। আর প্রধানমন্ত্রী কিংবা সম্রাটের সিংহাসনে বসে ক্যালিগুলা, নিরো অথবা টাইবেরিয়াসের মতো অত্যাচারী বিলাসপ্রবণ সম্রাটের দল মুচকি মুচকি হেসে আনন্দ নিতো। সবশেষে বুড়ো আঙ্গুল নিচু করে হত্যার ইশারা করতো, অনুমতি দিতো। তখন স্পার্টাকাস, ক্রিক্সাস অথবা ভেরাসের মতো গ্ল্যাডিয়েটররা হয় মারতো, অথবা মরে যেতো। সম্রাট হয়তো মহাউত্তেজনা শেষে হেলান দিয়ে বসে সুরাপাত্রে একটা চুমুক দিতেন। ক্ষমতার স্বাদ বড় মধুর।

সেই প্রাচীন রোমের সাথে আজকের তথাকথিত আধুনিক যুগের বাংলাদেশের তেমন বেশি একটা তফাৎ নেই। তখনও বেশ প্রতিষ্ঠিত বিচারব্যাবস্থা ছিলো, আনুষ্ঠানিক রায় দেয়া হতো। এখনও ট্রাইবুনালের নামে মোটামোটি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। স্বাক্ষী মিথ্যাবাদী অথবা স্বাক্ষী নেই কিংবা জাল দলিলপত্র অথবা বাস্তবে বিবাদী ছিলো অন্য কোথাও, এসব বিবেচ্য বিষয় না। বিষয় হলো মানুষের দাবী পুরণ। মানুষ বাস্তবে দেখে বাংলাদেশ একটি ব্যার্থ অথর্ব রাষ্ট্র, দুর্নীতি সন্ত্রাস শ্রেণীবৈষম্য অনায্যবন্টন নিরাপত্তাহীনতা সব মিলে দেশটা দিন দিন পাতালে যাচ্ছে। সুতরাং মানুষের একটু রিলিফ দরকার। দেশ নিয়ে গর্বের জায়গাতে মলমের প্রলেপ দেয়ার জন্য ফাঁসি দরকার। এভাবে তথাকথিত কলংকমুক্তির সান্তনা দরকার।

দুইহাজার বছর পরে এসে এখন রোমান সাম্রাজ্য নিয়ে অনেক বই অনেক মুভি হয়। ওখানে কোন গ্ল্যাডিয়েটর অত্যাচারের শিকার হলে দেখানো হয়। সম্রাট নিরো অথবা কমোডাস এর মতো রাজাদের অত্যাচারের কাহিনী দেখানো হয়। তাতে অবশ্য সেইসব গ্ল্যাডিয়েটর অথবা রাজাদের কি আসে যায় আমি বুঝি না। তারা যারা মারার মেরেছে, যারা মরার মরেছে, যারা অত্যাচার শোষণ করার করে গেছে। এখনও যার ফাঁসি হয় সে তার জীবনে যা করার করে গেছে। যে ফাঁসি দেয় সেও গরীব দেশের গরীব মানুষকে ভুখা রেখে রাজকীয় বিলাস করে যায়। আর আমরা গরীবের দল সেই ফাঁসি কখন দেয়া হবে, কিভাবে দেয়া হবে, এখনো দেয়া হচ্ছে না কেন, লাশ নিয়ে কি হবে, কে ভি চিহ্ন দেখিয়ে আঙ্গুল দিয়ে চেতনাকে সমস্যাগ্রস্থ করে দিলো, কে সাহসী হয়ে আদর্শের জন্য ত্যাগ স্বীকার করলো আর কে কলংকমুক্তিজনিত পুলক পেলো এইসব নিয়ে মেইনস্ট্রিম আর অল্টারনেটিভ মিডিয়াতে সেই দুইহাজার বছর আগের প্রাচীন রোমের উন্মাদ জনগণের মতো হিস্টিরিয়াগ্রস্থ চিৎকার করে যাই।

‘রাম যদি হেরে যেতো রামায়ণ লেখা হতো/ রাবণ দেবতা হতো সেখানে’।

আসল কথা একটাই। সময় একটা চলমান প্রক্রিয়া দুনিয়ার বাকী সব থেমে গেলেও যেইটা কখনো থামেনা। সুতরাং একজন মানুষের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত অথবা একটা প্রসেসের সমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ব্যর্থ অথবা সফল বলার পুরোপুরি সুযোগ আসে না। এবং সে মূল্যায়নে যে চলে গেছে তার কিছু আসে যায় না। কেউ টাইবেরিয়াসের মতো আটাত্তর বছর বয়সে গিয়ে মরে, একজন অত্যাচারী রাজার পক্ষে যা করা সম্ভব তা করে। অথবা কেউ নিরোর মতো মাত্র তের চৌদ্দ বছর রাজত্ব করার সুযোগ পায় আত্বহত্যার আগে, তবে এই অল্প সময়ে যা করে তাতেই অত্যাচার অনাচারের ইতিহাসে অমর হয়ে যায়। কোন গ্ল্যাডিয়েটর দীর্ঘদিন এমফিথিয়েটারে রাজত্ব করে। কেউ যোগ্যতা অথবা ভাগ্যের মারপ্যাচে পড়ে অল্পদিন পরে শেষ হয়ে যায়। ইতিহাস তাকে কিভাবে বিচার করলো বা না করলো তাতে ঐ মানুষটার কিছু আসে যায় না। সে নিজের কাছে নিজেকে কিভাবে বুঝে নিলো, উপভোগ করলো না কি হতাশ হলো, ততটুকুই তার প্রাপ্তি। আর আমরা আমজনতা থেকে যাই বিভিন্ন ব্যাখ্যা আর অর্থহীন লম্ফঝম্ফ নিয়ে ব্যস্ত।

মানুষের সমাজে জনগণ কেবলমাত্র তখনই মূল্যবান হয়ে উঠে যখন বিপ্লব সংঘটিত হয়। যখন মানুষ তার অমিত শক্তি নিয়ে জেগে উঠে সব সাজানো এমফিথিয়েটার তছনছ করে দিতে পারে। আর বাকী সব কিছু উপলক্ষ এবং পার্শ্বপ্রসঙ্গ।