আমায় ভাসাইলিরে, . আমায় ডুবাইলিরে

Bu Watchdog Bd

ওরা মারে, ওরা মরে…ওরা শীতলক্ষ্যার পানিতে ভাসে!

সিদ্ধিরগঞ্জ। আর দশটা জনপদের মত বাংলাদেশের আরও একটা জনপদ। পালাবদলের সাথে এখানেও বদল হয় ভগবানদের চেহারা। সাথে বদল হয় তাদের দোসর থানা পুলিশ, এসপি, ডিসি, আইন, আদালত ও বিচারক। রাষ্ট্র ও সরকারের সর্বোচ্চ পদে বসে অপরাধ ও অপরাধীদের লালন করার অভয়ারণ্য আমাদের জন্মভূমি। এখানে দস্যুবৃত্তির মাধ্যমে যেমন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করা যায়, তেমনি ক্ষমতার ছত্রছায়ায় প্রতিপক্ষকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে পোক্ত করা যায় লুটে পাওয়া সে ক্ষমতা। সিদ্বিরগঞ্জও এর বাইরে নয়। এখানেও ভগবান আছেন। তারা নিরাকার। খালি চোখে দেখা যায়না। কেবল ঘাড়ের কাছে তাদের নিশ্বাস অনুভব করা যায়। শিমরাইল টেক পাড়া এলাকার মৃত হাজি বদরুদ্দিনের ছেলে নুর হোসেন। কর্মজীবন শুরু করেন সিদ্ধিরগঞ্জ ইকবাল ট্রাক গ্রুপের হেল্পার হিসাবে। ১৯৮৯ সালে একই এলাকার ট্রাক চালক ও হেল্পার ইউনিয়নের নেতা বনে যান গায়ের জোর। ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাক চালক দাইমুদ্দিনকে উচ্ছেদ করে দখল নেন ইউনিয়নের এবং ক্ষমতাসীন দল জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে পোক্ত করে নেনে অবৈধ দখল। ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নাম লেখান বিএনপির রাজনীতিতে। ক্ষমতার সিঁড়ি টপকানোর শুরুটা হয় এখানেই। এরপর তরতর করে পদানত করেন ইউপি চেয়ারম্যানের মসনদ। ’৯৬ সালে জয়ী হন দ্বিতীয় টার্মেও। বিএনপি ছেড়ে হাত মেলান শামীম ওসমানের সাথে। বনে যান আওয়ামী নেতা। ২০০২ সাল পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় শিমরাইল মোড়ে গড়ে তোলেন চাঁদাবাজীর সিন্ডিকেট। ভগবানের চরণে নিয়মিত পূজা দিয়ে আবিস্কার করতে থাকেন সম্পদ আহরণের নতুন নতুন দিগন্ত। পরবর্তী স্টপেজ নারায়ণগঞ্জ ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ। ক্ষমতার সিঁড়ি বাংলাদেশে কখনোই মসৃণ হয়না। নুর হোসেনের বেলায়ও ব্যতিক্রম হয়নি। নজরুল ইসলাম একই এলাকার বাসিন্দা এবং ক্ষমতার সিঁড়ি টপকানোতে নুর হোসেনের প্রবল প্রতিপক্ষ। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে গিয়ে থামতে হয় নজরুল ইসলামকে। নুর হোসেনের সাথে নজরুল ইসলামের রেশারেশি ক্ষমতার রুটি হালুয়া নিয়ে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক সিন্ডিকেট, বেশ্যালয় সহ শত শত অবৈধ ব্যবসার মালিকানা নিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী লড়াই। ১৭ বছর একনাগাড়ে চলতে থাকে এ লড়াই।

10339700_10203944204584954_4392159966178853964_n

১৯৯৭ সালের ১৭ই জুলাই। মাগরিব নামাজের পর মিজমিজি চৌধুরী পাড়া এলাকায় নজরুলের ক্যাডারদের হাতে খুন হন সাইফুদ্দিন নামের এক ভদ্রলোক। পরে বের হয় ভুল টার্গেট ছিল এই সাইফুদ্দিন। নামের গোলমালে প্রাণ দিয়ে হয় তাকে। ২০০০ সালের ১৭ই আগষ্ট। নুর হোসেনের সমর্থক জহিরুল ইসলাম নামের এক সব্জি বিক্রেতা নির্বাচনী পোস্টার লাগানোর দায়িত্ব পালন করছিলেন। নজরুলের উপস্থিতিতে তার ক্যাডাররা খুন করে জহিরুল ইসলামকে। এর প্রতিদান ফিরিয়ে দিতে দেরি করেনি নুর হোসেন। তার ক্যাডাররা ১লা অক্টোবর স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে ঢুকে খুন করে নজরুলের সমর্থক যুবলীগ নেতা আবদুল মতিনকে। তারও আগে ১৯৯৬ সালে শিমরাইল মোড়ে নিহত হন আওয়ামী লীগ কর্মী আলী হোসেন। নুর হোসেনকে আসামী করা হলেও ভগবানের হাত ধরে অব্যাহতি পান মামলা হতে। নজরুলে ক্যাডার শিপন, রনি ও ফারুখ ২০০১ সালের ৩১শে মার্চ শিল্পী নামের এক তরুনীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। তার অপরাধ, বিয়ের প্রস্তাবে অনিচ্ছা প্রকাশ। ২০০০ সালের ৩রা মার্চ ধানমন্ডির ১৫ নং সড়কের ১৬নং বাড়িতে খুন হন এডভোকেট বাবর এলাহি। তদন্তে প্রকাশ পায় নজরুল ভাড়াটে খুনি দিয়ে খুন করায় তাকে। খুনের মূল্য ছিল ৫ লাখ টাকা। দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল ২০০৪ সালে নজরুলকে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করে। পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পালিয়ে যান এই নেতা। এবং ফিরে আসেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার বছর। হাইকমান্ডের নির্দেশে হাইকোর্টের আওয়ামী বিচারকগণের হাত ধরে খালাস পান খুনের মামলা হতে। ২০০৯ সালের ১৩ই অক্টোবর মিজমিজি পূর্বপাড়ার নিজ বাড়ির সামনে খুন হন বাংলাদেশ চুন প্রস্তুতকারক সমিতির সহ-সভাপতি জনাব আবু তালেব। তদন্তে পাওয়া যায় নজরুলের সংশ্লিষ্টতা।

২০১৪ সালের ৩০শে এপ্রিল। বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকা। এলাকার বুক চিড়ে বহমান শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ভাসমান কটা লাশ দেখে উৎসুক হয়ে উঠে স্থানীয় জনগণ। খবর দেয় স্থানীয় পুলিশকে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খবর দেয় আত্মীয়দের। লাশের মিছিলে খুঁজে পাওয়া যায় নজরুলের লাশ। সনাক্ত করেন তার স্ত্রী। অবশ্য ততদিনে নজরুলের পরিচয়ে কিছু উপাধি যুক্ত হয়ে হয়ে গেছে; যেমন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল চেয়ারম্যান। প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুলকে একা ভাসতে দেখা যায়নি শীতলক্ষ্যা নদীর ঠান্ডা পানিতে। সাথে ছিল তার তিন সহযোগী। সাথে কো-ল্যাটারাল ড্যামেজ হিসাবে প্রাণ হারায় এক এডভোকেট ও তার ড্রাইভার। তাদের অপরাধ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে সাংবাদিক সাগর-রুনির মত তারাও স্বাক্ষী হয়েছিল ভগবানদের বড় কোন অপরাধের।

পাঠক, এবার আসুন নজরুল ও নুর হোসেনদের কাপড় খুলে উন্মোচন করি তাদের লজ্জাশীন অঙ্গ সমূহ। অনেকের মত নজরুল-নুর গংদের জন্ম ক্ষমতার ঘরজামাই, বিশ্ব বেশ্যা সমিতির আজীবন চেয়ারম্যান জনাব হোমো এরশাদের জরায়ুতে। বেশ্যা ভোগের মত বেগম জিয়ার বাহিনীও ভোগ করে গেছে তাদের সার্ভিস। লগিবৈঠা বাহিনীর প্রধান ও ক্ষমতার জারজ কন্যা শেখ হাসিনা কেবল উপভোগই করেই ক্ষান্ত হননি, বরং জাতির গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন পচনশীল মহামারী হিসাবে। দেশের উচ্চ আদালতে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডার কাম বিচারকরাও বাইরে থাকেননি এ সিন্ডিকেটের। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়ে প্রমান করেছেন তারাও ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট খোর। চেতনার যোনিপথে ফিল্টার লাগিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধের সাথে সহবাস করছেন তাদের হীমশীতল নীরবতা এসব দানবদের উত্থানে ফার্টিলাইজার হিসাবে কাজ করেছে মাত্র। যে দেশে সরকার তার নাগরিকদের রাতের অন্ধকারে খুন করে ক্ষমতার পথ মসৃণ করার জন্য, সে দেশে নুর হোসেন তথা শামীম ওসমানরা নজরুল গংদের শীতলক্ষ্যার গভীর পানিতে সমাহিত করবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের বাতাসে এখন লাশের গন্ধ। এ গন্ধ বিচ্ছিন্ন কোন গন্ধ নয়। বরং এ গন্ধের মাথা আছে, মগজ আছে, হাত-পা আছে। গন্ধের সূত্র চাইলে তা শীতলক্ষ্যার গভীর পানিতে নয়, বরং সন্ধান করতে হবে ভগবানদের দরবারে।
http://www.amibangladeshi.org/blog/05-01-2014/1455.html

পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে সমর্থন দেয়া আসলেই কি অযৌতিক বা অনুচিত?

শেহজাদ আমান 

(১)

গত কিছুদিন আগে দেশে ক্রিকেট উৎসবের মহোৎসব বসেছিল এশিয়া কাপ আরটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সৌজন্যে।তার পাশাপাশি কিছু মানুষ দাবি তুলেছিল যেবাংলাদেশ ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের অন্য কোন দলকে সমর্থন করা চলবেনা। এরপাশাপাশি স্টেডিয়ামে অন্য দেশের পতাকা বহন করার এবং তা প্রদর্শন করা তোযাবেনা-ই।

এই ব্যাপারে তারা ব্লগে এবং মিডিয়ায় অনেক লেখালেখি করেছে। প্রথম আলোতেফারুক ওয়াসিফ এই ব্যাপারে একটা পুরো প্রন্ধই রচনা করে দিয়েছেন, “খেলায়পাকিস্তানকে সমর্থন কেন?”
( http://www.prothom-alo.com/opinion/article/166350 )

আমার বক্তব্য হল, ঢালাওভাবে বিষয়টা না দেখে আরও র্যাlশনালী বা লিবারেলভাবেবিষয়টা দেখা যেতে পারে। আমাদের দেশে স্পষ্টতই আইন আছে দেশের মাটিতেঅন্যদেশের পতাকা না উড়ানোর ব্যাপারেঃ

“Except as stated in the above Rules, the flag of a Foreign State shall not be flown on any car or building in Bangladesh without the specific permission of the Government of the People’s Republic of Bangladesh.”
(People’s Republic of Bangladesh Flag Rules, article 9.IV)
(http://www.cadetcollegeblog.com/adjutant/43624)

তো, এইখানে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মাটিতে অন্য দেশের পতাকা উড়ানো আসলেইএকটা বেআইনি কাজ। বাংলাশের অধিবাসী হয়ে অন্য দেশের পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামেঢোকা উচিত নয়। সেইক্ষেত্রে সংশয় বা অস্পষ্টতার কিছু নেই।

কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, কিছু মানুষ অন্য দেশকে সমর্থন দেয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভআর রাগ প্রকাশ করে ফেসবুক আর ব্লগে বিভিন্ন মতামত দিয়ে গেছেন। বিশেষ করে , বাংলাদেশের বলতে গেলে ৫০-৬০% লোক যে বাংলাদেশের পর পাকিস্তান ক্রিকেট দলকেসমর্থন করে, সেই ব্যাপারটা নিয়ে খুবই ক্ষুব্ধ। পাকিস্তানকে যে কোনমতেইসমর্থন করা যায়না, সেই ব্যাপারে তারা অনেকেই অনেক অনেক যুক্তির অবতারণাকরেছেন, এমনকি পাকিস্তানকে যারা সমর্থন করে, তাদের রাজাকার, নব্য রাজাকার, রাজাকারের দোসর, ছাগু, পাকি জারজ ইত্যাদি নানান ধরণের তকমা দিয়ে ভরিয়েফেলছিলেন।

কয়েক বছর আগে রাহিন রায়হান নামের এক ব্লগার (সম্পর্কে আমার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দের ছোট ভাই) প্রথম আলো ব্লগে লিখেছিলেন, “একালের নব্য যুদ্ধাপরাধীআবার কারা?আমি আসলে আমাদের তরুণ সমাজের সেই অংশটার কথা বলছি যারা নিজ দেশেরইতিহাস-ঐতিহ্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কে উদাসীন।দেশের তরুণসমাজের বড় একটা অংশ কিন্তু এদের অন্তর্ভুক্ত।পাকিস্তানের খেলা হলে তাদেরগ্যালারীতে দেখা যায় পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে উল্লাস করতে।তাদের গালে আঁকাথাকে পাকিস্তানের পতাকা।এবং হয়ত বুকেও। এমনকি বাংলাদেশের সাথে খেলা হলেওএরা অনেকেই প্রকাশ্যে এবং অনেকেই মনে মনে পাকিস্তানের শুভকামনা করেথাকে।বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে হারলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় “yahooooo Pakistan jitse.shabash Pakistan!!!!!!!!”. তখন বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।অবাকহয়ে ভাবি এরা কি আসলে বাংলাদেশি?এদের যুক্তি পাকিস্তানের প্লেয়াররাতো আর১৯৭১ এর জেনোসাইডে অংশ নেয়নি।তো তাদের সমর্থন করলে দোষ কোথায়?
না । এই যুক্তি আমি খন্ডাবো না।সত্যি বলতে আমার রুচি হয়না।এই নব্য রাজাকারদের আমার বোঝানোর কিছু নেই”।
(http://prothom-aloblog.com/posts/7/145671)

আসুন, আমরা বুঝতে চেষ্টা করি, এই ধরণের তকমা দেয়া আসলেই কতটা যুক্তিযুক্ত , সেই ব্যাপারটা। আর বুঝে দেখি আসলে এইসব ফ্যাসিস্ট জাতীয়তাবাদির দাবিগুলোআসলে কতটা বাস্তবসম্মত।

(২)

একসময় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল টেস্ট বা ওয়ানডে কিছুই খেলতো না। বাংলাদেশ১৯৯৭ সালে ওয়ানডে স্ট্যাস্টাস পায়, আর ২০০০ সালে পায় টেস্ট স্ট্যাটাস। তারআগ পযন্ত দীর্ঘদিন বাংলাদেশের মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই অন্য ক্রিকেট নেশনকেসমর্থন করতে হয়েছে।

পাকিস্তান একটি মুসলিম দেশ বলে বাংলাদেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবেইপাকিস্তানকে সমর্থন করে এসেছে। তবে এটি পাকিস্তানকে সমর্থন করার একমাত্রকারণ নয়। পাকিস্তান বিশ্ব ক্রিকেতের পরাশক্তিগুলোর অন্যতম অনেকদিন ধরেই।তারা ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট এবং ২০০৯ সালে টি-তোয়েন্টি বিশ্বকাপক্রিকটের শিরোপা জেতে। এর আগে ও পরে তারা অসংখ্য টুর্নামেন্ট এবংদ্বি-পাক্ষিয় সিরিজ জয়লাভ করেছে বিশ্বের সব ক্রিকেট শক্তির বিরুদ্ধে। তবে, শুধু সাফল্য দিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেত-উতকরষতা বিচার করা যাবেনা। ক্রিকেটঅনিশ্চয়তার খেলা যাকে বলা হয়, “The Game of Gloriuos Uncertainty”. আরক্রিকেট যদি অনিশ্চয়তার খেলা হয়, তবে এর সবচেয়ে সক্ষম ও বাস্তব উদাহরণ হলপাকিস্তান ক্রিকেট দল। তারা এমন একটা দল যারা একটা হারা ম্যাচ, যেখানে জয়অসম্ভব মনে হয়, সেখান থেকেও ম্যাচ জিতে আসে। তাদের খেলায় তাই আছেঅনিশ্চয়তা, রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা।

তবে, মানুষ যেহেতু জিততে জিততে হেরে যাওয়া ম্যাচের চেয়ে, হারতে হারতে জিতেযাওয়া ম্যাচের কথাই বেশি মনে রাখে, তাই পাকিস্তানের নৈপুণ্য ভাস্বর আসাধারণসব জয়কেই মানুষ বেশি মনে রাখে। যেমনঃ ১৯৮৪৫ সালে শারজায় জাভেদ মিয়াদাদেরশেষ বলে মারা ছক্কায় অথবা ২০১৪ সালে আফ্রিদির পরপর দুই বলে ছক্কা মেরে দলকেজেতানোর স্মৃতিই মানুষের চোখে বেশি ভাসে।

আমি যে কথা এখানে স্পস্ট করে বলতে চাচ্ছি, সেটা হল বাংলাদেশের মানুষ বাসকরে ঘোরতর অনিশ্চয়তার মধ্যে। তাদের নিজেদের জীবনেও অনেক রকম অনিশ্চয়তারমধ্যে থাকতে হয়। হরতাল, রাজনৈতিক সংঘরষের কারণে মানুষ জানেনা যে, সে আজবাসা থেকে বের হলে সুস্থমত ঘরে ফিরে আসতে পারবে কিনা? মধ্যবিত্ত বাঙালিজানেনা সামনের মাসের বাড়িভাড়া সে ঠিকমত দিতে পারবে কিনা, যদি বাড়িওয়ালাবছরের পর বছর ভাড়া বাড়িয়েই চলেন।

তবুও তারা দিনশেষে ‘যুদ্ধজয়’ করে বাসায় ফিরে আসে। মাস শেষে সে টেনেটুনে ভাড়া ঠিকই দেয়।
অনিশ্চয়তার ঘোরাটোপে বাস করা বাংলাদেশের মানুষ, তাই পাকিস্তানেরপারফরম্যান্স বা খেলার সাথেই যেন নিজেদের জীবনের মিল খুজে পায়। পাকিস্তানতাই নিজের অজান্তেই তাদের কাছে প্রিয় ক্রিকেট দলে পরিণত হয়েছে।

(৩)

আমাদের সমাজে বেশ কিছু মানুষ আছে যাদের কাছে প্রতিবাদের ভাষাই হল পাকিস্তানবিরোধিতা করা। উগ্র জাতীয়তাবাদী এই সকল লোক যে কোন ইস্যুতে পাকিস্তানেরসমালোচনা, নিন্দা আর মুন্ডুপাতকেই দেশপ্রেমের উদাহরণ হিসেবে মনে করেন, সেইস্যু বাস্তবসম্মত বা যুক্তিযুক্ত হোক বা না হোক।
যেমন সচলায়তন ব্লগে ধ্রুব আলম নামে একজন কিছুদিন আগে একটা লেখা লিখেছিলেন “পাকিস্তান ভাল খেলে, তাই সমর্থন দেই। আসলেই?” নামে। সেখানে তিনি কিছুহাস্যকর স্ট্যাটিসটিকস দিয়ে প্রমাণ চেষ্টা করেছেন যে, পাকিস্তান আসলেই অতটাভাল খেলেনাঃ
( http://www.sachalayatan.com/guest_writer/51688 )

অথচ, তার দেয়া পরিসংখ্যান থেকেই এটা বোঝা যায় যে, পাকিস্তান অসাধারণ একটাক্রিকেট দল। ধ্রুব আলম নিজেই লিখেছেন, ২০০০ সালের পর থেকে পাকিস্তান ভারতেরসাথে ৪৮ টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে জয়লাভ করেছে ২৫ টিতে, হেরেছে ২৩ টিতে।

সেই লেখার শেষে এই উগ্র জাতীয়তাবাদী লিখেছেন, “ছাগলামি ছাড়ুন, সাহস নিয়ে অন্তত স্বীকার করুন যে পাকিস্তান ভাল ক্রিকেট দল নয়। “

অথচ একজন পক্ষপাতহীন মানুষ তার লেখা দেখলেই বুঝতে পারবে যে এর মাধ্যমে পাকিস্তানের ভাল ক্রিকেট দলের স্বীকৃতিটাই লুকিয়ে আছে।

কাজেই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বাংলাদেশী সমর্থকদের ছাগল প্রমাণ করতে গিয়ে লেখক নিজেই যে একটা ছাগল সেটাই কি প্রমাণ করলেননা?

সুষুপ্ত পাঠক নামের এক ব্লগার তার ব্লগে লিখেছেন যে, “আমরা মুসলমান থেকে বাঙালি হতে পারলাম না।“
(https://www.amarblog.com/index.php?q=susupto-pathok/posts/177806)

এখানে বলে রাখা ভাল যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বড় কোন টুর্নামেন্টে ভালো করতেপারে না দেখেই কিন্তু মানুষ বাংলাদেশ বাদেও পাকিস্তান বা ভারতকে অনেকটাবাধ্য হয়েই সাপোর্ট করে। কারণ, তাদের শিরোপা জয়ের সামর্থ্য আছে, যেটাবাংলাদেশ দলের নেই। আর বাংলা ভাষাভাষী অন্য ধর্মের অন্য কোন দেশও তোসেমি-ফাইনাল বা ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তানের সাথে সাথে খেলে না যে বাংলাদেশেরমানুষ সেই দেশকে সমর্থন করবে। তাই, এখানে মুসলমান থেকে বাঙালি হতে পারলামনা’—সেই কথা বলাটাও বোকামি। আর এখানে প্রশ্ন রাখতে হয় যে, বাঙ্গালী হলে কিএকটা মুসলিম দেশ ভাল খেললে তাকে সাপোর্ট দেয়া যাবেনা?

এরকম আরও হাজারো ছাগল আমাদের দেশে রয়েছে, পাকিস্তান তো পাকিস্তান, পাকিস্তানের মানুষজনদের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ‘মারখোর উমুক’, ‘মারখোরতুমুক’ টাইটেল লাগিয়ে দেয়, সেই লোকটা বাংলাদেশের প্রতি যতটা সজ্জনই হোকনাকেন। দেশের প্রয়জনে, দেশের ক্রান্তিলগ্নে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করার, মাঠে নামার দরকার এরা অনুভব না করলেও মনে মনে একটা প্রশান্তি তারা লাভ করেএই ভেবে যে—“যাক, আর কিছু না হোক পাকিস্তান, পাকিস্তানী আর পাকিস্তানীক্রিকেট দলের সমর্থকদের তো অন্ততফেসবুক আর ব্লগে শোয়ায় দিছি…”

(৪)

খেলাধুলার ময়দানে মানুষ সেই সব ক্রিকেট শক্তিকেই সমর্থন দিয়ে থাকে, যারাকিনা অনেক দূর যাওয়ার, বিশেষ করে শিরোপা জয়ের ক্ষমতা রাখে। যেমন, সাফফুটবলে বাংলাদেশ শিরোপা জয়ের ক্ষমতা রাখে। তাই, সাফ ফুটবলে বাংলাদেশেরমানুষ বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোন দলকে সমর্থনের প্রয়োজন মনে করেনা।

তাইতো, সাফ ফুটবল বাংলাদেশে আয়োজন করা হলেও পাকিস্তানের বা ভারতের ম্যাচের সময় পাক বা ভারতী পতাকা উড়াবার ঘটনা চোখে পড়েনা।

কিন্তু, ক্রিকেট খেলার ব্যাপারতা ভিন্ন। ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশ কোনআন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ফেভারি্ট থাকেনা। এশিয়া কাপ বা বিশ্বকাপে তাদেরচ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যাতা নেই। বিশ্বের সেরা দল হিসেবে র‍্যাঙ্কিং-এর১-২-৩-এ থাকার যোগ্যতাও হয় নাই। এখানে স্বাভাবিকভাবেই তাই মানুষ চ্যাম্পিয়নহওয়ার মত দলকেই সাপোর্ট করে। তাইতো, ভারত বা পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কাকেসমর্থন দিতেই তাদের ম্যাচে বাংলাদেশের মানুষেরা ব্যানার-প্ল্যাকার্ডইত্যাদি নিয়ে আসে। এসব দলকে মানুষ সমর্থন দেয় এই জন্য যে, তারা চ্যাম্পিয়নদলের সমর্থনকারী হতে চায়। বাংলাদেশের যদি সেইসব টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়নহওয়ার যোগ্যতা থাকতো, তবে সাফ ফুটবলের মত সেইসব টুর্নামেন্টে বাংলাদেশইশুধুমাত্র সমর্থন পেত। অন্য কোন দেশের সমর্থন দিতে মানুষ টিভির সামনেবসতোনা, বা স্টেডিয়ামে যেতনা।

আর এটাও মাথায় রাখতে হবে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন। বাংলাদেশটেস্ট বা ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার অনেক আগে থেকেই পাকিস্তান বা ভারত বিশ্বক্রিকেটের সফল দল এবং বাংলাদেশের মানুষ অনেক আগে থেকেই তাদের সমর্থন করেএসেছে।

এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ যতদিন না পর্যন্ত ক্রিকেটীয় সাফল্যে ভারত-পাকিস্তানবা শ্রীলঙ্কার সমপর্যায়ে যেতে না পারছে, ততদিন পর্যন্ত মানুষ অন্য দলকেসাপোর্ট করবেই।

আর একটা মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকেই দেশের বেশিরভাগ মানুষসাপোর্ট করবে, এটাই স্বাভাবিক। কারণ, ইসলাম ধর্ম জিনিসটা বাংলাদেশেরমুসলিমদের লাইফস্টাইলের মধ্যে অনেক গভীরভাবে কাজকরে। পাকিস্তানেরচিত্তাকর্ষক, রোমাঞ্চকর খেলার ধরনের কথা না হয় আবার উল্লেখ নাই করলাম।এজন্য তাদের নব্য রাজাকার বলা শুধু ভুলই নয়, আমানুষিক। এখানে আমি ‘সবুজ’ নামে আমার এক ঢাকা কলেজ পড়ুয়া ছোট ভাইয়ের কথা উল্লেখ করবো, যে কিনাপাকিস্তানের সমর্থন করে, তবে অবশ্যই বাংলাদেশের পর। এইবারের এশিয়া কাপ২০১৪-এ বাংলাদেশ-পাকিস্তান’ ম্যাচে বাংলাদেশের নিশ্চিত জেতা ম্যাচ আফ্রিদিযখন একের পর এক ছক্কা মেরে বের করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন ও আমাকে বললো, “ভাই,আফ্রিদি একটা কইরাছক্কা মারে, আর আমার মনে হইতাছে কেউ আমার বুকেএকবার কইরা ছুরি মারতেছে ভাই”।

এখন, উগ্র জাতীয়তাবাদী ছোট ভাই রাহিন রায়হানের বক্তব্য অনুযায়ী আমার আরেকছোট ভাই সবুজতো তাহলে একজন ‘নব্য রাজাকার’। একজন ‘নব্য রাজাকার’-এরবাংলাদেশের পরাজয়ে বুকে ছুরির আঘাত পাওয়ার মত ব্যাথা হয়! ভালো তো, ভালো না?

সবুজের মত মানুষকে নব্য রাজাকার ট্যাগ দিতে গেলে বিশেষ পরিমাণেনিচুমনমানসিকতার মানুষ হতে হবে। রাহিন রায়হানের মত মানুষদের নিজেকে প্রশ্ন করাউচিত, আসলে তার নিজের মনমানসিকতা কোন পর্যায়ের…!

আমরা শুধু পাকিস্তান পাকিস্তান বলি, অন্য দেশগুলোর কথা বলি না কেন, ভারতেরকথা বলি না কেন? পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ যদি দেশকে ভালোবেসে হয়, তাহলেভালো কথা। কিন্তু ইসলাম বিরোধীতাঁর কারণে যদি হয় তাহলে সেটা দুঃখের বিষয়।

কই, ভারতকেতো দেশের ১০-১৫% লোক সাপোর্ট করে। ভারতকে সাপোর্ট করা ঠিকহবেনা, এমন কোন লেখা তো চোখে পড়ে নাই। ৭১’ সালের পর ভারত কি আমাদের সাথে কমকরেছে? গতকালই তো বিজেপির এক প্রভাবশালী নেতা দাবি করলেন, “বাংলাদেশেরখুলনা থেকে সিলেট, এক তৃতীয়াংশ নাকি ইন্ডিয়ার দখলে নেয়া দরকার”।

আর এটাওতো সত্য যে, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের প্রতি যতটা সহমরমী, অন্য কোন দেশের ক্রিকেটাররা তা কমই আছেন।

৭১’ সালে পাকিস্তানের বর্বর ভূমিকার কথা সবাই জানে। পাকিস্তান বাংলাদেশেরকাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সেজন্য ক্ষমা চায়নি, এটাও সত্য। কিন্তু, বাংলাদেশেসরকার তো অনেক আগেই পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিয় সম্পর্ক বজায়রেখেছে। সেটা যদি করা যায়, তাহলে ক্রিকেট ম্যাচে পাকিস্তানকে সমর্থন করাঅনৈতিক বা অনুচিত হবে কেন?

পরিশিষ্টঃ যারা পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে সমর্থনের বিরোধিতা করছেন, তারা আশাকরি পাকিস্তানের সাথে সবরকম কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিরোধিতাও করবেন ।সার্কের সদস্য হিসেবে পাকিস্তান যদি আঞ্চলিক উন্নয়নে একটা ভাল পরামর্শদেয়, আর বাংলাদেশ তাকে সমর্থন করে, তাহলেওতো (কিছু উগ্র জাতীয়তাবাদীরচোখে) একাত্তরের চেতনার অবমাননা হবে, তাই নয় কি…?

যাই হোক, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যদি ক্রিকেট-বিশ্বে সত্যিই পরাশক্তি হিসেবেআবির্ভূত হতে পারে, তবে আশা করা যায় পাকিস্তানসহ অন্য দেশগুলোকে সমর্থনদেয়ার প্রবণতা অনেক কমবে। ‘জেতা ম্যাচ হেরে যাওয়া’র বর্তমান ধারা বদলে তারা ‘নিশ্চিত হারা’ ম্যাচেও দেশকে জয় উপহার দেবে, নাটকীয় ও রোমাঞ্চকরভাবে।বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিকট ভবিষ্যতে সেই সুখের দিন আমাদের উপহার দেবে বলেবিশ্বাস রাখি।

Remembering Maulana Bhashani: The ‘Play’ of Religion and Politics in Bangladesh

1

In this article the Brethren explore some rarely mentioned aspects of Abdul Hamid Khan Bhashani’s political practice. A close reading of his oath of allegiance, adds a new dimension to our existing understanding of his political project. It excites and liberates us from the Manichean question of secular-versus-religious politics that dominates our discourse so unproductively. It is in the greater interest to supersede this intellectual roadblock, which causes national self-harm, but is woven into a narrow account of our people’s historical experience. It is high time to question current ‘banking’ education narratives and ask whether it is not time for a new ‘Historiography of the Oppressed’.

 Down I went into the Diaspora (Piraeus)

Have you heard the one about the Maulana and the Marxist?

My first brush with the meanings of Maulana Bhashani was at one of those social gatherings that are part of London diaspora life. It was at the height of the kitsch culture madness of Shahbag in early 2013, which was reaching its Islamophobic conclusion of calling for a banning of religion from politics in Bangladesh. I sat next to a former graduate of Sylhet’s famed MC College, a lifelong JSD (National Socialists Party) member, and a Maulana, a Qawmi Madrassa graduate. Their conversation soon descended into an argument, with the JSD member scolding the Maulana, ‘Why don’t you Mullahs give up politics?’ To this the Maulana replied, ‘How does the son question the existence of his father?’ He continued, ‘Without a free India and Pakistan there would be no Bangladesh, without Bhashani there is no Mujib, where do you think free India and Maulana Bhashani came from?’

 or the one about the ‘Bismillah Capitalist’?

Related to the above topic, I remember a conversation with the late Dhaka University’s Dr Aftab Ahmed, months before his 2006 assassination and the 2007 Diplomat’s Coup. He was puzzled by a conundrum that came out of study on Islami Chhatra Shibir alumni. He found that a minority progressed into the hierarchy of Jamaat e Islami, and a small number would leave to pursue their spiritual quest, mainly ending up in the ranks of the quietist Tablighi Jamaat. The majority went into the corporate world or private business, and became good capitalists.  He noted an important limitation of the party, that it was basically a modern one with a sprinkling of Islam here and there.

Living in London, which comically pitches itself as global Islamic Finance hub, I observe a similar phenomenon. We call them ‘Bismillah Capitalists’, capitalism with a sprinkling of Islam to make it palatable for an indigenous market, and switch off our people’s critical faculties.   A thread of the conversation I am sorry not to have developed was Dr Aftab’s call for a Liberation Theology amongst Muslims, and the courage to see and study the politics between the Prophet’s (pbuh) companions. Perhaps the optic of Maulana Bhashani’s soulful politics provides some yeast for the former.

Escape from the shadow of Lagado: Preventing Violent Eurocentrism (PVE)

 To understand the significance of Bhashani, we are minded to read him within his tradition.  Thus as readers we have to leave our prejudices and let the Maulana speak for himself and be understood in his own categories and definitions.

We must avoid the mistake of many academics at the Academy of Lagado (La-puta), who use Eurocentric monocles, even when gazing in the mirror. This use of an outdated and discredited tradition is unwittingly kept alive today in the field of Bangladesh Studies (BS) by the likes of Ali Riaz and his supporters of publicists and hangers on. It is an academic practice which claims to understand Islam and Muslims, but has no training in philology or religion but a combination of journalism, political science and interests in (self) sustainability. These experts take a cue from a section of their colleagues in Middle Eastern studies, and speak in the name of foreign policy and development, creating an arid landscape ready for the neo-con mind to wrap its talons around. The consequences of such misdirection is increased ignorance and grist to the burgeoning ‘War on Terror’ industry, with ever increasing collateral damage, bordering and crossing over into Islamophobia. An ignorance multiplier effect, exposed by Farhad Mazhar about media manipulation in general and specifically by a recent article on the editorial policy of a national newspaper in Bangladesh, the Dhaka Tribune.

This approach has been critiqued in terms of its professed political objectivity by Edward Said in his Orientalism’, and methodologically by the Native American scholar Ward Churchill in his seminal ‘White Studies’. For the interested, a good starting point for a constructive and knowledge-based philological study of Islam are the works the Malaysian thinker Syed Naquib al Attas, especially his Islam and Secularism’.

The Tao of Remembrance (Mudhakara)

Bhashani’s life reflects the journey of his people, born and educated during the British Raj, he mobilised throughout the United Pakistan period (when not incarcerated) and was revered in Independent Bangladesh. Politically he began with Jamiatul Ulema-e-Hind and signed off in the left wing National Awami Party.

One document that that might help us understand the essence of this enigmatic figure is the disciple’s oath (bayah) he administered to his followers. It is reproduced and translated below.

 “I give an undertaking that in Allah the Supreme I profess firm belief. I will believe with certainty that Rasulullah is the sent messenger. I will abide by all the regulations pertaining to the permitted and disallowed, as propagated by the Messenger.  

I will not bow my head to anyone besides Allah.

I will endeavour tirelessly  to establish socialism, the only way to relieve all forms of human extortion and embezzlement.  

I will join the volunteer’s corps of the peasantry to eradicate from society all forms of imperialism, capitalism, feudalism, usury and corruption.

I will perform litanies, contemplation, meditation, prayers and fasting… according to the tariqah of Qadria,  Naqshbandiya,  Chistiyyah.

Every year on the 19/20th January 5 Magh I will attend the large seminar at Santos, Tangail and assist in the advancement and progression of the Islamic University.”

The disciple’s oath presents two features of Islamic pedagogy; action melded with belief and an anchoring to an oral tradition. Action, or orthopraxy, is seen in the obligation of adherents to engage physically from prayer, fasting, to attending annual gatherings. It is similar to the Aristotelian concept of hexis, a state of being, conditioned by habits and practice known colloquially in Bangladesh as ‘adab’.

The oral tradition is seen in reference to the Chistiyyah, Qadiriya and Naqshbandi Sufi orders and their practices. The Islamic tradition is oral before being written, even the word Qur’an means recitation. Arabs often distinguish between the Qur’an as recitation, and the written copy of it, the mus’haf. Oral primacy is maintained in Islamic pedagogy: from Qur’an memorisation; to the science of understanding where a Prophetic tradition has been narrated from; to the teaching genealogies preserved in the supplications of the Sufis. Such live oral traditions continue to breathe in Bangladesh, through the independent, non-government Qawmi (community) Madrassas, and the Sufi orders.

People with Muslim heritage can relate to this oral tradition through their formative childhood experiences, through the teaching and memorisation of short verses of the Quran, to the method of how to perform the five canonical prayers. This cycle of instruction and embodied practice is communicated from the first community in Makkah with a template established during the early Prophetic period, with the Angel Gabriel teaching the Prophet (pbuh) to recite and memorise the first verses from the Quran, and showing him how to pray.

The principles of this epistemology are laid out in a Prophetic tradition found in the Muwatta of Imam Malik ibn Anas, founder of the Maliki legal school and author of the first book of sacred law. Imam Malik knew many traditions recommending the seeking of knowledge, but felt suffice just to narrate this single hadith on the matter, one which expresses the essence of seeking knowledge, heart to heart – ‘sina ar sina’, teacher to student all the way back to the Prophet (pbuh),

 Luqman the Sage (pbuh) made his will and counselled his son, saying, “My son! Sit with the learned men and keep close to them. For Allah gives life to the hearts with the light of wisdom as Allah gives life to the dead earth with the abundant rain of the sky.”

 

Genealogy of Resistance (Mujahada)

‘Let there be among you who enjoin what is right and forbid what is wrong’.

(Qur’an 3:104)

 The Oath affirms actions and a continuous struggle against imperialism and feudalism. Our 2013 Twin Towers of industrial and state crimes deserve better than, the paparazzi politics of the Reshma Rescue, the middle class guilt of Lungi March and the Dad’s Army that is Sushil Samaj. The Oath excites a soulful politics of the human solidarity and spiritual awakening – towards the creation of Al Insan al Kamil (the Perfect and Universal Man).

The impact of the Sacred on Bhashani’s political training can be seen not just in the oath’s content and monotheistic refusal to submit to all but God, but in the relationship of his teacher’s to the growing power of colonial capital. As T S Eliot wrote in ‘Tradition and the Individual Talent’,

 No poet, no artist of any art, has complete meaning alone. His significance, his appreciation, is the appreciation of his relation to the dead poets and artists. You cannot value him alone; you must set him, for contrast and comparison, among the dead.”

 Bhashani was the disciple of the Baghdadi Pir of Lakhimpur in Assam, who advised him to journey to the Deoband seminary in Uttar Pradesh to study under Maulana Mahmudul Hassan.  Bhashani’s chain of teachers were deeply committed to anti-imperial activities against the British before, during and after the 1857 War of Liberation.

 Mahmudul Hassan accompanied his father in the war as a boy, and his own teacher Rashid Ahmed Gangohi had to flee from the British for his participation, he was later caught and imprisoned. Gangohi was the spiritual disciple of the Sufi Master Haji Imdad Ullah Makki. The pictures below of Delhi show the ferocity of British retribution on the built environment in the aftermath of 1857, and the simplicity of the graves, reflecting the humility of those who took part in the struggle.

 All three scholars (Hassan, Gangohi and Makki) were either influenced, intimately took part in, or were inheritors of the Madrassa Rahimiyyah, the intellectual centre of resistance to the British in 1857. Scholars and students from Rahimiyyah participated in the war intellectually and physically, giving it moral legitimacy and directing movements and defences. Rahimiyyah, translates as an adjective of the enduring manifestation of Divine mercy, grace and love, as a consequence of human work, sacrifices and supplications. The madrassa was established in the 17th century during the reign of the Emperor Aurangzeb by Shah Abdul Rahim, who also helped to compile the Fatawa Alamgiri, a landmark codification of the Muslim legal tradition.

When the British eventually captured Delhi, amongst other civilising barbarities, their Army decided to destroy the leading Islamic educational institute in India, ordering the Rahimiyyah closed and selling it to Hindu businessman. The poet Mirza Ghalib is quoted in William Dalrymple’s The Last Mughal,

“The madrasas were almost all closed, and their buildings were again mostly bought up-and in time demolished – by Hindu moneylenders. The most prestigious of all, the Madrasa-i-Rahimiyyah was auctioned off to one of the leading baniyas, Ramji Das, who used it as a store (p463)”.

Out of the ashes of Rahimiyyah, its alumni began a new wave of Muslim institutional innovation, with Deoband (1866), Aligarh (1875) and Nadwatul Ulema (1894) founded to establish dignity, social justice and representation for radically disempowered Muslim communities. These institutions were supported across India, cascading regional developments. Without Deoband, Aligarh and Nadwatul Ulema, there would be no Hathazari or Dhaka University. They also schooled leaderships for the Indian National Congress and the Muslim League, who led the freedom struggle for Independence. This contribution was recognised in the anniversary celebrations of the Deoband Madrassa in March 1982, by the attendance of Prime Minister Indira Gandhi, and leading members of her opposition including Raj Narain, Jagjivan Ram, and Chandra Shekar.

 

The Academy and the Maulana : Escaping the Cave

Talking about Bhashani connects with wider narratives of religion, politics and the subaltern Bangladesh. He is claimed by most factions as their own, from members of Jamiatul Ulema to Marxists who place his picture beside Marx and Lenin. He continues to suffer poor treatment from the Joy Bangla Kitsch Culture Machine.  Recovering Bhashani washes away the formaldehyde into which Bangladesh’s (mis)leadership has tried to drown and trade religion, and remove dynamic religion from both the political sphere and informed public debate. Recovering Bhashani transcends this bourgeois political cul-de-sac of the post-Liberation era.

 In the unfortunate political shorthand of our times, leftists are invariably considered atheists who battle with rightists, who invariably aren’t. Figures who cross these two immiscible currents are pathologised if not dismissed outright, for example the case of Abul Hashem, author of ‘The Revolutionary Character of the Kalima’, a formative influence on the Awami League and proponent of Islamic Socialism. His son, Marxist-Leninist historian Badruddin Umar is on the record as saying that his father was ‘a political schizophrenic’.

 Between the politics of competition and class considerations, enchantment with the Maulana is not shared by all. In a certain camp of Political Islam, Bhashani has even been takfired upon. His politics of the dispossessed disturbs the tactical movements for business as usual, but with beards. A deconstruction of the cold war politics and the personal anxieties of the individual allegedly behind this dismissal is long overdue. Looking through the eyes of the colonially colour blinded, it seems Bhashani was a flash in the pan never to be found again. Yet the same kind of personalities and struggles against oppression can be found all over the Muslim world.

 To the West, in Syria we have Abd al Rahman al Shaghouri (1914 – 2004), a scholar of sacred law, poet and sufi. Originally a weaver, then a textile mechanic and later foreman of technicians at a fabric plant, his story has more than a few lessons of how we think of our garments workers. Al Shagouri was instrumental in unionising workers in Damascus and was part of the team that led the Syrian Textile Workers Union to a successful 40 day strike for workers compensation. To the East, in Malaysia we see Nik Abdul Aziz, graduate of indigenous punduk seminaries and elected premier of Kelantan State for a period of 23 years. Last year we saw a coalition of his Islamic party, Chinese Malaysians and Anwar Ibrahim’s Kedalan forming Pakatan Ryat, The People’s Alliance, and mount the biggest challenge to the Malay ethnonationalist UMNO establishment so far.

 Nearly four decades after Bhashani, there seems to be a deliberate attempt to cover up his politics and enduring contributions. The erasure takes several forms, from the demotion of his life in textbooks, to the  festival cancellation, following his annual death memorial prayers. In Bangladesh today there is only room for the cultural hegemony of the feudal-industrial complex, which splices the dynasty of ‘The Sheikh’ to the kitsch culture of Shahbag. Judging by the quantity of faces on billboards, or media mentions, or columns in print, the legacy of Maulana has  faded away.

 The urge to forget emanates from a structural push by literary custodians of elite history to exorcise the undecidability and derailment that Bhashani brings to their ‘Little Boxes’. The false dichotomies we see bandied around today, of religious vs secular, urban vs rural etc, were delivered by ‘Biman’s’ own ‘cabin crew’. The court painters of the Republic’s history have stopped exercising their memory and have forgotten themselves. Their reliance on external marks of writing instead of their internal capacity to remember and relate, holds them hostages to their own appearances.  Seemingly knowledgeable and connected, but unfortunately quite the opposite, they are thoroughly intolerant of dissenting views. We see this attitude evident in the ‘Academy’ of Bangladesh today, like three prongs of the same thrusting trident. The  flat earth mantra of 3 million war dead, mediated by faux objective civil society speak, and somewhat more sophisticated but juvenile ersatz Jean-Luc Godard, Marxist Existentialist mirages of ‘Utopia’.

Can the subaltern remember?

Unfortunately for his detractors, the ghost of the Maulana and the legacy he represents refuses to die and continues to live in the body politics of Bangladesh. He is the tip of an iceberg of a living collective memory and continuity that permeates and ennobles the lives of ordinary people. Bhashani is more than politics, and in many ways emblematises the country’s story (mistakes included) of an uphill struggle for truth, justice and dignity. It is a narrative which also unfolds in India, as expressed by Mahmood Madani in a recent intervention with Tehelka.

 Such a narrative disrupts the orthodoxies of contemporary politics, from the traditional far left arguments of religion being an opium of the masses, to the public Islam offered by Jamaat, of an Islam in the public sphere, relegated to the Islami Bank, local shopping centres, and a few ministries in a coalition government. Tariq Ramadanechoes a similar view when he observes that the present generation of Political Islam in Egypt had strayed from his interpretation of their original raison d’etre – of Liberation Theology.  Bhashani’s anchoring in the Sacred speaks to a greater narrative of the Bangladeshi people, which we visit next.

The struggle continues: (left) Maulana Bhashani (1880 – 1976) and (right) Aminul Islam (1973 -2012) trade unionist who struggled for workers rights, and was tortured and killed by individuals linked to the security services of the current Bangladeshi government.

Uncovering the Story(ies) of Bangladesh

 Clifford Geertz’s definition of culture as ‘the stories we tell ourselves about ourselves’. 

In 1989 the British Broadcaster Channel 4, commissioned a three part documentary called the ‘The Story of Bangladesh’. It was directed Faris Kermani, and the theme was betrayal, from Plassey to the modern day. Following the tumultuous events of 2013 and our most farcical election in January it’s hard to say anything has changed. Maybe it’s time for critical introspection, into whether these are isolated events or woven into an overarching narrative of self harm.

The nation’s elite and their foreign partners tout the creation of Bangladesh in 1971 as the end of history. It is a story, of a land without progress and development for progressives and developers without a land. A story which is the exclusive property and achievement of the elites. The villain on this blank canvass is the country bumpkin, who doubles up as an Islamic militant if not a microloan borrower, in a tale faithfully retold recently in the Washington Post.

Viewing the world with this history explains the radio silence and editorial misdirection of its adherents regarding the government’s human rights violations, hamstringing of oppositional voices and state crimes in Bangladesh. The case for investigation has been submitted and is being processed by the International Criminal Court (ICC). Contrast this complicit silence with the amplitude of humane concern when that same alleged state sponsored violence spills over into the homes of minority religious communities. The secret, open to all who work in and know the sector, is in the funding streams and the agendas that frame them.

 Towards a Historiography of the Oppressed

 There are other histories, for those who listen, rarely recorded by foreign observers and their native informants, but spoken and heard locally and regionally, amongst the people. This Deshnama has its roots in the deeper history of the Bangladeshi people, the places they have been and the peoples from whom they are descended. It is where the history of a sacred land meets its residents, a memory that not only has its (re)source in the Medinan community of the Prophet Muhammad (pbuh), but connects with precedents in the edicts of Ashoka.

 It is a familiar synthesis, to the incorporation of the Ethics of Aristotle and the Republic of Plato, into Christian thought by St Augustine and St Aquinas, co-authored and harmonised in the works of medieval Muslim theologians such as Al Ghazali, Al Razi and Averroes. These authors, books and ideas are still read and heard in the mosques, madrassas, churches and temples that bejewel Bangladesh today. The country’s music and poetry is filled with the same cosmopolitan religious symbolism shared and contested by all those who live within it.

Near my abode, there is a wondrous City of Mirror,

where my Great Neighbour lives.

(The Great Neighbour’ – Lalon Shah)

 It is a chronicle prologued by Atish Dipankar, who arose amidst the general background of the Buddhist struggle in Bengal against the hegemony of the Brahmin led caste system. To invoke a few Prophetic paradigms, it is like a replay of the battle between the Prophet David (pbuh) and Goliath with the dialogue of the Prophet Moses (pbuh) with Pharaoh.

 Oppression (zulm) transforms with time from local rajas, Delhi Emperors, the inimitable British East India Company, The British Crown, Calcutta zamindars, military juntas to Indian hegemony. The same can be said for the movements and figures that champion the oppressed (mazlum) like Shahjalal, Isa Khan,Nuraldeen,Titu Mir, Dudu Mian,  and Bhashani. Post independence, we might observe Ziaur Rahman’s struggles and achievements, against internal and external opposition, in this vein, in laying the foundations of a modern democratic state amongst the ‘basket case’ ruins of despotictotalitarianism and the devastating 1974 Famine .

 This is a story of people with a rich culture, entangled in global and regional developments, and a history of struggling against great odds, with great losses, for justice and dignity, inspired and strengthened by the Sacred. In this narrative, 1971 is a continuation of that history and not its end.

 When an individual participates in this of sort historical experience, he or she comes to a new sense of awareness of self, has a new sense of dignity, and is stirred by a new hope. It gives the individual the tools to take on the arrogance, violence and false ending, that characterises the power discourse in Bangladesh today, or at least partially defang it.

Finally, have you heard the one about the Maulana and the Britisher Teacher?

During my research on the 2013 May Massacre in Dhaka, I was fortunate to meet a graduate of the Hathazari Madrassa. He had moved to the UK, taken up a career in business and was now married with children. In our discussions on the importance of education placed by the historian Ibn Khaldun (1332 – 1406), he narrated an anecdote.

That one day, his son came home from school and told him that he learnt from his teacher that Bangladesh was a poor and backward country, to which the UK government gives a lot of money for development. The next day, instead of dropping his son off to school, the Maulana took him on a day out, stopping first at the Tower of London. As they stood looking at the crown jewels, the Maulana pointed at the Kohi Noor stone and asked his son, ‘where do you think that came from?’ All day father and son visited various landmarks throughout London, which breathes heavily with the impacts of colonial capital, and discussed their history.

 The next day at school the furious head teacher wanted to take the Maulana to task for taking his son out of education. When pressed by the head teacher for an explanation, the Maulana indicated to his son to reply. His response and act of defiance is something worth sharing across our amnesiac nation, ‘We learnt in school that Bangladesh was a poor country but that’s a lie, because all its wealth is here in the UK along with the riches of other nations stolen by the British Empire’.

“But the Emperor has nothing at all on!” said a little child.

(Emperor’s New Clothes –

Hans Christian Anderson)

 As practitioners of the ‘Academy, Journalism and Art’ and as seasoned desh watchers, our roles should be to listen and record the stories that the people of Bangladesh tell us, not the ones that our foreign ‘development partners’ (funders & masters) pay for and want to hear. The challenge is to cultivate a dignifying and polyphonic history to humanise each other and heal the divisions that plague Bangladesh  – a new ‘Historiography of the Oppressed’.

 

O you who have attained to faith!,

Be ever steadfast in upholding equity,

bearing witness to the truth for the sake of God,

even though it be against yours own selves,

or your parents and kinsfolk.

Whether the person be rich or poor;

God’s claim takes precedence over [the claims of] either of them.

Do not then, follow your own desires,

lest you swerve from justice:

for if you distort [the truth], behold,

God is indeed aware of all that you do!

(Quran 4:135)

_________________________

We would like to dedicate this article to Mohammed Burhan Uddin who passed on a few days ago in Tangail, Bangladesh. Pictured here in his mid 80s, he was one of Bhashani’s oldest surviving disciples (mourides). He became involvedas a young man in the 1950s when he heard Maulana Bhashani pray openly  ‘don’t do anything for my kids but provide freedom for all’.

He was a cultivator who had not finished his primary education, but well informed about Syria and American Imperialism in general. He was part of a cultivator’s committee which went around checking prices of fish from market to market – just to make sure people were not getting swindled.

A few years ago on the 20th night of Ramadan,  Bhashani appeared to him in a dream instructing him to struggle, (Shongram kor) and that modern technology was insufficient, only a people’s movement would work.

 

সোনার বাংলা

by  কালের সিপাহি

কয়েকদিন আগেই কুয়ালালামপুর থেকে দেশে ফিরছিলাম। সঙ্গী হিসেবে আমার স্ত্রী। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সে আরাম করে কিন্তু ভয়ে ভয়ে বসেছি মাত্র। পাশে চোখ গেল। দু’জন খুবই সাদাসিদা রকমের মানুষ। তাঁদের একজন অনেক বয়ষ্ক, পাজামা-পাঞ্চাবী পরা। মনে হচ্ছে, ঠিক মত নিজের পাজামাও বাঁধতে পারেনা। আরেকজনের বয়স ৪৫-এর আশেপাশে হবে। দু’জন অতি পরিচিতের মত কথা বলছেন। কিছুক্ষন পরে দেখলাম, বৃদ্ধ মানুষটির কোলে ছোট ছোট অনেক স্বর্নের গহনা! এত গহনা স্বর্নের দোকান ছাড়া আমি আর কোথাও দেখিনি। এত স্বর্ন দেখে আমি-আমার স্ত্রী দু’জনই তাজ্জব বনে গেলাম।

দুইজনই খুব আরামসে গহনা খুলে দেখে দেখে আমার প্যাকেটে নিয়ে জায়গামত রাখছেন। কম বয়ষ্কজন রাখছেন না, বরং কেমন ধরনের একটা প্যাকেটে করে বৃদ্ধ মানুষটার পাজামার ভিতরে নিরাপদে রাখলেন। বুঝলাম, বৃদ্ধ মানুষটাকে হয়তো আনাই হয়েছে এই কাজ করানোর জন্য। ঘটনাটা হয়তো অনেকের কাছেই খুব ছোট্ট মনে হবে, কিন্তু সেই মুহুর্তে সেই দুইজন মানুষ পোশাকআশাক এবং স্বর্নের পরিমান দেখে আমি এবং আমার স্ত্রী একদম বোকা বনে গিয়েছিলাম।

গত কয়েকমাস ধরেই সংবাদে দেখছি, এখানে সেখানে স্বর্ন চোরাচালানী ধরা হচ্ছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, গত ৩-৪ মাসে কম পক্ষে ৭০০-৮০০ কেজি স্বর্ন ধরা পড়ার নিউজ পড়েছি। বিশেষ করে, ঢাকা বিমানবন্দরে। তারপর দেখি, এখন রাস্তাঘাটেও স্বর্ন চোরাচালান ধরা খাচ্ছে। বিশেষ করে, যখন থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেশি রকমের বেড়ে গিয়েছিল, তখন থেকে এটা শুরু হয়েছে। প্রথমে ভেবেছিলাম, দেশের স্বর্ন ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে টুকটাক স্বর্ন চোরাচালানী করছে। কিন্তু দিনদিন এর পরিমান বাড়তেই থাকাতে অন্য কারন নিয়ে চিন্তা না করে পারা যায়নি। যে আইন-শৃংখলা বাহিনী এই চোরাচালানী রোধ করবে, এখন তারাই কিনা স্বর্ন নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করেছে।

প্রশ্ন হল, হঠাৎ করে দেশে এই স্বর্ন বর্ষনের কারন কি?

তাহলে কি দেশে কোন কারনে স্বর্নের চাহিদা বেড়ে গেছে? মানুষের আয় কি খুব বেড়ে গেছে, যে কারনে মানুষ স্বর্ন মজুদের দিকে ঝুঁকছে? তাতো হওয়ার কথা না। অর্থনীতির অবস্থাতো অনেক দিন ধরেই তথৈবচ।

তাহলে কি মানুষ ব্যাংক ব্যবস্থার বাজে হাল দেখে সঞ্চয় কিংবা বিনিয়োগের আর কোন নিরাপদ মাধ্যম না পেয়ে স্বর্ন জমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে? তা কি করে হয়? দেশে যে হারে ডাকাতি-রাহাজানি হচ্ছে, নিরাপদে স্বর্ন রক্ষিত করা যাবে, তার তো কোন নিশ্চয়তা নাই।

তাহলে কি ভবিষ্যতে স্বর্ন দাম বাড়তে পারে, এমন কোন খবর আছে, যে কারনে মানুষ এখন স্বর্ন কিনে রাখছে? না, দেশে বা বিদেশের গনমাধ্যমে সেরকম তো কোন খবর নেই।

কে যেন কিছুদিন আগে একটা নিউজ জানালো। ভারতের সরকার নাকি স্বর্নের উপর ট্যারিফ বাড়িয়েছে। আমি নিজেও পরে খোঁজ নিলাম। খোঁজ নিয়ে যা জানা গেল, তা অনেকটা এরকমঃ পেট্রোলিয়ামের পর স্বর্ন হচ্ছে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানী পন্য। অর্থাৎ স্বর্ন আমদানীর জন্য ভারতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডলার খরচ করতে হয়। আমরা অনেকেই হয়তো জানি, কিছুদিন থেকেই ভারতকে চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার কারনে বেশ ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। তাই চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে ভারত সরকার স্বর্ন আমদানী নিরুৎসাহিত করতে স্বর্ন আমদানীর উপর ট্যারিফ বসাচ্ছে। দয়া করে নিচের লিঙ্কগুলো পড়বেন, তাহলে পরিষ্কার হওয়া যাবে।
(http://timesofindia.indiatimes.com/business/india-business/Govt-raises-golds-import-tariff-value/articleshow/32130381.cms)
(http://online.wsj.com/news/articles/SB10001424127887324665604579080961422779936)
(http://www.bloomberg.com/news/2014-03-27/gold-shipments-into-india-seen-rebounding-by-billionaire-jeweler.html)

প্রশ্ন হলঃ ভারতের স্বর্ন আমদানীর উপর ট্যারিফ বাড়ানোর সঙ্গে আমাদের স্বর্ন চোরাচালানীর কি সম্পর্ক?

বৈশ্বিক স্বর্নের অন্যতম প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক এবং কুয়ালালামপুর। আবার, ভারত হচ্ছে স্বর্ন সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ভারতে সরকার যেমন স্বর্ন ক্রয় করে, তেমনি বেসরকারী পর্যায়েও অন্য যেকোন দেশের তুলনায় বেশী হারে স্বর্ন ক্রয় হয়ে থাকে।

ঢাকা ট্রিবিউনের নিচের লেখা থেকে এটা পরিষ্কার যে, দেশে জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৩ তে যে পরিমান চোরাচালানীর চালান ধরা হয়েছে, তার ৮৬% ছিল স্বর্নের। মূল্যের হিসেবে গননা করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ। দেখা যায়, একই সময়ে যে পরিমান চোরাচালানী পন্য ধরা হয়েছে, তার ৯৫% হচ্ছে স্বর্ন চোরাচালানী। হিসেবে দেখা যায়, ২০১৩ সালে শেষের ছয় মাসে সে পরিমান স্বর্ন ধরা হয়েছে, তার মূল্য ২৫১ কোটি টাকার মত। ঢাকা ট্রিবিউনের লেখা থেকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর খবর যেটা পাওয়া যায়, তা হলঃ যে পরিমান স্বর্ন চোরাচালান হয়, তার মাত্র ১-২% ধরা যায়, বাকিরা যেকোন ভাবেই পার পেয়ে যায়! এই হিসেব থেকে বলা যায়, ২০১৩ সালে শেষের ছয় মাসে প্রায় ১২,৫০০ কোটি থেকে ২৫,০০০ কোটি টাকার স্বর্ন চোরাচালান হয়েছে! আপনি কি একটু ভাবতে পারেন?
http://www.dhakatribune.com/crime/2014/apr/02/smuggled-gold-accounts-86-all-contraband

কিছু মৌলিক প্রশ্ন এখান থেকে করা যায়। এক, ভারতের স্বর্নকারবারীরা বাংলাদেশকে কতটা নিরাপদ মনে করলে এই বিশাল পরিমান স্বর্ন চোরাচালান করার জন্য বাংলাদেশকে সবচেয়ে নিরাপদ রূট মনে করে। আমরা কি মনে করব, এরা কোন ধরনের সরকারী আশ্বাস ছাড়াই এত বড় একটা ঝুঁকি নিচ্ছে? এটাতো কোনভাবেই বিশ্বাসযোগ্য না।

দুই, কি ধরনের শিথিল ইমিগ্রেশন নিয়ম থাকলে আন্তর্জাতিক চোরাচালানীরা এই ধরনের কাজে উৎসাহী হতে পারে? এই বিশাল পরিমানের চোরাচালান বাংলাদেশের বিমানবন্দর দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে আসে, তেমনি দেশের ভূমি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হয়। তার মানে কত বিশাল পরিমান এবং শক্তিশালী চক্র এর সঙ্গে জড়িত থাকলে এমন একটা কাজ করা সম্ভব। আমরা কি মনে করব, কোন রকম সরকারী সাহায্য ছাড়াই এরা নির্বিঘ্নে এমন একটা কাজ করতে পারছে?

ভারতের স্বর্ন ব্যবসায়ী এবং চোরাচালানীদের কাছে আমার একটা সরল প্রশ্নঃ কেন ভাই নিজেদের ঝামেলা আমাদের ঘাড়ে এসে ফেলেন? ভারতের জন্য বাংলাদেশের মানুষ আর কত ত্যাগ স্বীকার করবে? ভারতকে বৈধ পন্যের যাতায়াতের জন্য আমরা আমাদের ভুমি উন্মুক্ত করে দিয়েছি, এখন আবার অবৈধ পন্যের জন্যও তাই করতে হচ্ছে? বাংলাদেশ যেখানে একটা শক্তিশালী অর্থনীতির দিকে ধাবিত হচ্ছে, সেখানে দেশকে চোরাচালানীর এক স্বর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলছি? কারা এটা করছে, এবং কাদের স্বার্থে এসব হচ্ছে? 

গণজাগরণ মঞ্চের রাজনীতি, সংঘাত ও একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প!

5
রাষ্ট্রের বিচার বিবেচনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে এভাবেই লক্ষাধিক মানুষ প্রথমে গণজাগরণ মঞ্চে যোগ দিয়েছিলো।

রাষ্ট্রের বিচার বিবেচনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে এভাবেই লক্ষাধিক মানুষ প্রথমে গণজাগরণ মঞ্চে যোগ দিয়েছিলো।

যে সাধারণ মানুষের আবেগ ও স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি হয়েছিলো সেই মানুষদের হয়ে রাজনীতি করার যোগ্যতা যে গণজাগরণ মঞ্চের নেই এবং তারা যে মানুষের রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে না, সেটা আমি প্রায় ১১ মাস আগে বলেছিলাম যখন তারা রানা প্লাজায় ‘উদ্ধার অভিযান ফটো সেশন’ করতে এসেছিলো।

রাজনীতি তো মানুষের কথা বলবে। শেয়ার বাজারে পুঁজি হারানো মানুষের কথা বলবে, গার্মেন্টস শ্রমিকের অধিকারের কথা বলবে, পাঁচ বছর পর একদিনের রাজা ভোটারের ভোটের অধিকারের কথা বলবে, বলবে দেশের তেল-গ্যাস-বন্দর লুট হওয়ার কথা, রামপাল, টিপাইমুখ, সীমান্ত হত্যা, অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা, ধার্মিকের ধর্ম পালনের আর অধার্মিকের ধর্ম না পালন করার অধিকারের কথা।

গণজাগরণ মঞ্চ একটি বিশাল জন সমর্থন নিয়ে এই রাজনীতির কথাগুলো বলে দেশের রাজনীতিকে পাল্টে দিতে পারতো। কিন্তু তা না করে শাহবাগে প্রতিবাদী মানুষের জমায়েতকে এই মঞ্চ স্বৈরাচারী কায়দায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একটি মাত্র চেতনা নাৎসী দাবীতে আটকে রেখেছিলো দিনের পর দিন। দাবী একটাই, ‘ফাঁসি’! অন্য কোন দাবী মানেই ‘ছাগু’! বাংলা পরীক্ষা দিতে হবে দিনের পর দিন মাসের পর মাস; অন্য কোন পরীক্ষার দিনক্ষণ জানতে চাওয়ার মানে হচ্ছে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি, রাজাকারের তালিকায় নাম লেখানো!

নিজেদের চেতনা নাৎসী আদর্শের কারণে মাত্র এক বছরের মধ্যেই গণজাগরণ মঞ্চের মিছিল এমন শীর্ণ হয়ে গিয়েছে।

নিজেদের চেতনা নাৎসী আদর্শের কারণে মাত্র এক বছরের মধ্যেই গণজাগরণ মঞ্চের মিছিল এমন শীর্ণ হয়ে গিয়েছে।

এই মঞ্চের আড়ালে টিকফা চুক্তিতে লুট হয়ে গেছে আমাদের ভোক্তা অধিকার, রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার চুক্তির মাধ্যমে চুড়ান্ত করা হয়েছে সুন্দরবন ধ্বংশের নীল নকশা। এমন কী তাজরীন আর রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায় বিচারের আর্তনাদকেও টুটি চেপে স্তব্ধ করে রেখেছিলো এই চেতনা নাৎসী মঞ্চ।

এখানেই শেষ নয়। এই গণজাগরণ মঞ্চ থেকেই বিরোধী মিডিয়া বন্ধ করে বিরোধী কন্ঠস্বরকে রূদ্ধ করার এবং বিনা বিচারে হত্যাকে সমর্থন করে একটি চেতনা নাৎসী জনমত তৈরী করে দেয়া হয়েছিলো। কাউকে ‘ছাগু’ প্রমান করতে পারলেই তাকে বিনা বিচারে হত্যা করা বৈধ, বৈধ তার কণ্ঠস্বর চেপে ধরে জেলে পাঠিয়ে দেয়া বা গুম করে দেয়া। এই চেতনা নাৎসী জনমতের কারণেই রাষ্ট্র বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত প্রতিবাদী মিছিলে সরাসরি গুলি করে মানুষ হত্যার ম্যান্ডেট পেয়েছিলো এবং নির্বিচারে প্রতিবাদী মানুষকে হত্যা করা শুরু করেছিলো; যে ধারা এখনো বর্তমান। এই মঞ্চের ফ্যাসিবাদী দাবী রক্ষার্থেই সরকার বন্ধ করে দিয়েছে ‘আমার দেশ’, ‘দিগন্ত টিভি’, ‘ইসলামী টিভি’সহ অনেক গণমাধ্যম এবং জেলে পাঠানো হয়েছে মাহামুদুর রহমানের মত সম্পাদক ও আদিলুর রহমান শুভ্রর মত মানবাধিকার কর্মীকে।

গত ৪ এপ্রিল ২০১৪, শুক্রবার গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশটির সাথে এভাবেই পুলিশের সংঘাত হয়!

গত ৪ এপ্রিল ২০১৪, শুক্রবার গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশটির সাথে এভাবেই পুলিশের সংঘাত হয়!

জনগণের দাবীকে টুটি চেপে ধরে যে গণজাগরণ মঞ্চ রাষ্ট্রের সমান্তরাল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো, চাইলেই যারা জাতীয় পতাকা উঠানো-নামানোর এবং শপথ করিয়ে মানুষকে হেদায়েত করতে পারতো, তা মাত্র এক বছরের মাথায় এখন আর নেই! এখন তাদেরকে সরকারী দলের অঙ্গ সংগঠনের কর্মী এবং একদা প্রহরী পুলিশের সংঘাতে জড়িয়ে হেনস্তা হতে হচ্ছে!

এই হেনস্তা হবার ঘটনায় বিভিন্ন জন বিভিন্ন অনুমান ও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। যার মধ্যে একটি অনুমান হচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চ সরকারী দমন নিপীড়নের শিকার হয়ে মানুষের সহানুভূতি অর্জন করতে চাচ্ছে এবং ভারতের ‘আম আদমী পার্টি’র অনুরূপ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাচ্ছে।

গণজাগরণ মঞ্চকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভারত পন্থী মিডিয়াগুলোর যে একটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা আছে, সেটা ৫ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে প্রকাশিক দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠা দেখলে বোঝা যায়। যে পত্রিকাটি পুলিশের নিয়মিত ট্রিগার হ্যাপী আচরণ বা ক্রস ফায়ারে সরকার বিরোধী রাজনীতিবিদদের হত্যাকাণ্ডের খবর ছাপে না, তারা সামান্য পুলিশি টানা হেঁচড়াকে তিন কলামে প্রায় সিকি পৃষ্ঠা জুড়ে কাভারেজ দিয়েছে।

গত ৫ এপ্রিল ২০১৪, শনিবার দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় গণজাগরণ মঞ্চের সাথে পুলিশের সংঘাতকে এভাবেই গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়!

গত ৫ এপ্রিল ২০১৪, শনিবার দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় গণজাগরণ মঞ্চের সাথে পুলিশের সংঘাতকে এভাবেই গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়!

বর্তমানে ভারত রাষ্ট্রটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিলেও তারা ক্ষমতাসীন দলটির অজনপ্রিয়তায় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিকে খুঁজছে, যারা ভারতের মিত্র হিসেবে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারবে। শুরু থেকেই গণজাগরণ মঞ্চের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ভারত তাই এখন আম আদমী পার্টির স্টাইলে এদেরকে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।

লক্ষ্য করুন, গণজাগরণ মঞ্চ কিন্তু আজ পর্যন্ত টিপাইমুখ, রামপাল, সীমান্ত হত্যা, তিস্তাসহ বাংলাদেশের নদীগুলো থেকে ভারতের পানি প্রত্যাহার বিষয়ে টু শব্দটি করে নাই। আর ভারতের পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ থাকলে মঞ্চের অন্যতম সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু কী ভাষায় ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছিলো তা মনে করার চেষ্টা করুন।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বরাবরই মানুষকে বোকা বানিয়ে সারপ্রাইজ দিতে পছন্দ করে। ৯১ সালে এরশাদকে জেলে পাঠানোর দাবী করে ৯৬ সালে এরশাদের সাথে জোট করা আর ৯৩ সালে গোলাম আযমকে জেলে পাঠানোর দাবী করে ৯৪ সালে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট করা এর অন্যতম প্রমাণ। সে কারণে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সরকারের এই সংঘাত যদি ভারতের পরিকল্পিত ছকে নতুন গৃহপালিত বিরোধী দল সৃষ্টির জন্য করা হয়ে থাকে তাহলে অবাক হবার কিছুই থাকবে না।

এ কারণেই শিরোনামে লিখেছি গণজাগরণ মঞ্চ ও সরকারের সংঘাতের মধ্যে একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প আছে। আর সেই গল্পটির বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রথম পক্ষ ভারতের ভালোবাসার দাবীদার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পক্ষ আওয়ামী লীগ এবং গণজাগরণ মঞ্চের মধ্যে সংঘাত (পরিকল্পিত বা অপরিকল্পিত)।

অনেকেই কৌতুহলী হয়ে আছেন জাফর ইকবাল, শাহরিয়ার কবির, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, ড. আনোয়ার হোসেনরা এখন কোন পক্ষ নেন সেটা দেখতে। উনারা সবাই সেফ সাইডে খেলেন। যদি মিডিয়ার হাইপ তুলে আসলেই গণজাগরণ মঞ্চকে একটি রাজনৈতিক প্লাটফরম হিসেবে গড়ে তোলা যায় তাহলে উনারা মঞ্চের পক্ষ নিয়ে গৃহপালিত বিরোধী দলীয় নেতা বনে যাবেন। যদিও মিডিয়ায় হাইপ তুলে সেলিব্রেটি তৈরী করা গেলেও এখনো পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক নেতা তৈরী করতে পারার দৃষ্টান্ত নেই। সেই ক্ষেত্রে স্যার জাফররা আপাতত নিরপেক্ষ থেকে আকাশের তারা গুনবেন বলেই মনে হচ্ছে।

সাংবিধানিক ফ্যাসিবাদ : স্বৈরতন্ত্রের কবলে বংলাদেশ

-রেজাউল করিম রনি

 

‘A revolution is not a dinner party, or writing an essay, or painting a picture, or doing embroidery; it cannot be so refined, so leisurely and gentle, so temperate, kind, courteous, restrained and magnanimous. A revolution is an insurrection, an act of violence by which one class overthrows another.’ [ Mao Tes-Tung; selected work Vol.1p.28]

 

বাংলাদেশের এখনকার রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বুঝবার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলা আলোচনা করা দরকার তা আমরা এখনও ঠিক করে ওঠতে পারিনি। অথবা বলা যায়, যে তরিকায় রাজনীতির আলোচনা উঠলে, নিদেনপক্ষে শিক্ষিত পরিমণ্ডলে রাজনীতির তর্কটা একচক্ষু এলিট মার্কা খুপরির জগৎ থেকে মুখ তুলে বিকশিত হবার সুযোগ পেতো তা আমরা শুরু করতে পারিনি। এর দায় তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের। এর মূলে আছে গণবিরোধী বুদ্ধিজীবীতাকে মূলধারা হিসেবে হাজির করার খামতি। বাংলাদেশকে রাজনৈতিকভাবে পরাধীন করে রাখার জন্য বুদ্ধিজীবীরাই যথেষ্ট।

images (1)

আনন্দের কথা হল, সাধারণ জনসমাজে এইসব বিকট বিকট বুদ্ধিজীবীদের দুই পয়সারও দাম নাই। তাদের প্রভাব মিডিয়া পরিমণ্ডল নেতা-নেত্রীর গোপন বৈঠক বা পর্দা বা বেপর্দার টেবিল টকেই সীমাবদ্ধ। যাহোক, আজ আমরা কয়েকটি পয়েন্টে এই মুহূর্তের রাজনৈতিক চরিত্র বুঝবার চেষ্টা করবো। বলাই বহুল্য আমাদের এখানে যে তরিকায় চলমান রাজনীতিকে ব্যাখ্যা করা হয় তার ধার আমরা ধারি না। দুই দলের শত্রুতাকে আমরা বাংলাদেশের রাজনীতির মূল সমস্যা মনে করি না। তথাপি এইসব দলদারির রাজনীতি আমরা বিচার করি। করব। কিন্তু তাঁর অভিমুখটা হবে নয়া বাংলাদেশের উদ্বোধনকে তাতিয়ে দেয়া।

আর এটা করতে গেলে ক্ষমতার রাজনীতির গণবিচ্ছিন্ন চরিত্রটা পরিস্কারভাবে বুঝতে হবে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্যটা হবে গণক্ষমতার নতুন সামাজিক-নৈতিক একই সাথে রাজনৈতিক স্বত্তাটা বিকশিত করা। এটাই বাংলাদেশে এখনকার কাজ। আর এটাই তথাকথিতমূল ধারার বুদ্ধিজীঈতা বা সুশীল ধারা বিশ্রিভাবে এড়িয়ে কাগুজে আলাপে পর্দা ফাটিয়ে ফেলে। তারা সুভদ্র আলোচনার শ্রোতে ভয়ের সংস্কৃতিকে সামাজিকীকরণ করে চলেছে নিত্যদিন। সেই দিকে সতর্ক থেকে আজকে আমরা কয়েকটি প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করব।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের আত্মপরিচয়ের সঙ্কট :

শুরুতেই আনন্দের কথা জানাইতে চাই। শেখ হাসিনা সরকার খানিকটা কৌশলে বাকিটা জবরদস্তি করে ক্ষমতা আকড়ে ধরে থাকাতে বাঙালি জাতীয়বাদি রাজনীতি ঐতিহাসিক সঙ্কটে পড়েছে। একে তো এর আত্মপরিচয়ের ঐতিহাসিক মীমাংসা করা হয়নি। তার উপর ফাঁসির দড়ির ওপর ভর করে সাংবিধানিক  ফ্যাসিবাদ কায়েমের কারণে এতো দিন যে সব বুদ্ধিজীবীরা চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে যে কোনো বিরোধীতাকে জামায়াত-বিএনপির ষড়যন্ত্র ঠাওরেছেন তাদের মুখে জুতার কালি পড়েছে। তাদের আর কোনো সামাজিক বৈধতা নাই। গলাবাজির সব রাস্তা হাসিনা বন্ধ করে দিয়েছেন। শাহবাগ কে র্নিলজ্জভাবে মুক্তিযুদ্ধের মিথের ওপর দাঁড়করানোর জন্য যে সব বুদ্ধিজীবীরা আওয়ামী জেহাদে শরিক হয়ে ছিলেন সাংবিধানিক ফ্যাসিবাদের আমল হাজির হওয়ায় তাদের সব রকম নাগরিক ভূমিকার নিকাশ হয়ে গেছে। এই গুণ্ডাবাজির পরিণতিতে আজ বাংলাদেশ নিয়মান্ত্রিক এক স্বৈর-অবস্থায় নিপতিত হয়েছে।

যা হোক বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে যে সব গণবিচ্ছিন্ন চাটুকার তথাকথিত শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী নামধারী প্রতিবন্ধীরা গলাবাজি করেছেন তারা এখন চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন। কোনো কথা বলার নৈতিক বৈধতা হারিয়ে তারা এখন নিজেদের আদর্শে কি ত্রুটি আছে তা খুঁজে দেখতে মনযোগী হয়েছেন। এটা কম কৌতুকের জন্ম দেয় না। আমি নজির হিসেবে প্রথম আলোর থিং-ট্যাঙ্ক প্রকাশনা ‘প্রতিচিন্তার’ সর্ব শেষ সংখ্যার (প্রতিচিন্তা, জানুয়ারী-মার্চ ২০১৪ সংখ্যা) প্রথম লেখাটার দিকে পাঠকের নজর ফেরাতে বলব।

‘বাঙালি জাতয়িতাবাদ চার দশক পর’- শিরোনামের  এক লেখায় বদরুল আলম খান লিখেছেন,
‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবল স্রোতে ৪২ বছর আগে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্ব সভায় স্থান করে দিয়েছিল। আজ সে দেশ একটি সংঘাতময় দেশ হিসেবে পরিচিত। মধ্যবিত্ত জীবনের সীমানায় যারা দাঁড়িয়ে আছে, তাদের জন্য দেশের এই পরিচয় এক অদ্ভুত বিড়ম্বনার জন্ম দিচ্ছে। তারা দেখছে কীভাবে সংঘাতে ঋজুতা রাজনীতিকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। দুই বৃহৎ রাজনৈতিক জোট দেশের বিধাতা হলেও তাদের মধ্যে সহযোগিতা বা সমঝোতা নেই। তারা যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে নিয়োজিত।’

তিনি এই লেখায় অনেক চমকপ্রদ বিষয়ের অবতারনা করেছেন। যদিও তার চিন্তার এনলাইটমেন্ট সীমাবদ্ধতার কারণে এইটা দিয়ে বেশিদূর আগানো যাবে না। কিন্তু এমন সব বিষয়কে আমলে নিয়েছেন যা সত্যিই অমাদের জন্য সুখবর। তিনি জানাচ্ছেন,
‘বাঙালির প্রধান দুই আত্মপরিচয়, ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়কে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত করা হয়েছে। ৪২ বছর পার হলেও ওই দুই পরিচয় কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। দুই পরিচয়ের দ্বন্দ্ব সে কারণে এখানে তীব্র ও রক্তাক্ত।’

এই এতোটুকু বোধ যে সুশীলদের মধ্যে জেগেছে তার জন্য শুকরিয়া আদায় না করে উপায় নাই। আমরা শুরু থেকে শাহবাগ, ফাঁসির রাজনীতি ও কর্পোরেট জাতীয়তাবাদের উপনিবেশী সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়ে আসছি। একই সাথে বলে আসছি বাংলাদেশে ইসলামের একটা পর্যালোচনা লাগবে। নিদেন পক্ষে ইসলাম ও রাজনীতির প্রশ্নে তথাকথিত প্রগতীশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরির্বতন না হলে রক্তপাত এড়ানো যাবে না। আওয়ামী লীগ মানেই গুণ্ডা বা ধর্মদ্রোহী এই মনোভাব সমাজে কেন প্রবলতরো হচ্ছে তাও খতিয়ে দেখতে চেয়েছি। অন্য দিকে বিএনপি কোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা মতাদর্শ না হাজির করেও কি করে ক্ষমতার রাজনীতির প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে উঠল তারও হদিস করতে চেয়েছি। পাশাপাশি জামায়াত ও অন্য ইসলামী ধারাগুলোর বিচার বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে একটা মতাদর্শিক সংগ্রামকে বেগবান করার কথাও শুরু থেকে বলে আসছি। কিন্তু এর ফল হয়েছে উল্টা। আমাদের রাজাকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী হিসেবে হেয় করা হয়েছে। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে। ফলে এখন কৌতুক অনুভব না করে পারছি না। আওয়ামী লীগ যখন তার উপনিবেশী সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের জোড়ে ক্ষমতায় বসে গেল তখন চেতনার আফিম খোরদের আর আপসোসের সীমা রইল না। এতোদিনে যে জল অনেকদূর গড়িয়ে গেছে সেই হুশ নাই। এখন আল-কায়েদা ও মার্কিন অনন্তযুদ্ধের ছঁকে পরে গেছে বাংলাদেশ। আর তা গৃহযুদ্ধের প্রবল প্রতাপ নাগরিক জীবন কে ভীত করে তুলছে। বিরোধীদল নিধনের ক্রসফায়ার গল্পও চালু হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবিতা স্বমূলে তার বৈধতা বা পাবলিক লেজিটিমেসি হারিয়েছে। তথাকথিত নাগরিক সমাজ, মিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এমন এক সঙ্কটে পড়েছে যে এর রাজনৈতিক সম্ভানা ঐতিহাসিকভাবে বিনাশ হওয়ার দ্বার প্রান্তে চলে গেছে। এখন গণক্ষমতার উত্থানের অপেক্ষা জনমনে ফিরে এসেছে প্রবলভাবে। এইটা একদিক থেকে স্বাস্থ্যকর বলতে হবে। যা হোক আমরা এই লেখায় বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের ধরন ও নয়া স্বৈরতন্ত্রের হালহকিকত নিয়ে আলোচনা করব।

বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ : 

ফ্যাসিবাদ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। দেশে বিদেশে ফ্যাসিবাদ নিয়ে আলোচনার ঐতিহ্যেও ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাঁক বদল ঘটে গেছে। ফ্যাসিবাদ, বলাই বাহুল্য পশ্চিমা রাজনৈতিক তাত্ত্বিকতার  আলোচনায় অতি জোড়ালোভাবে হাজির রয়েছে। আমাদের দেশে এই বিষয় নিয়ে চিন্তাশীল অধ্যায়ন এখনও শৈশব অবস্থা পার করেছে বলা যাবে না। ফ্যাসিবাদ এখানে রেটরিক বা কথার কথা বা গালি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর তাত্ত্বিক বা নিদেন পক্ষে একাডেমিক আলোচনার বেহাল দশা লজ্জাজনক।

বাংলাদেশে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনার এক নম্বর সমস্যা হল অতি পণ্ডিতি। আর লোক দেখানো বিদ্যার গড়িমা। ফলে এখানকার লেখক বুদ্ধিজীবীরা অতি মাত্রায় জাজমেন্টাল। কোনো কিছু খতিয়ে দেখার ধৈর্য্য এদের ধাতে নাই। আগেই ভাল মন্দ নির্ধারণ করে দিয়ে নিজে ন্যায়ের পরাকাষ্ঠা সাজার হীন চেষ্টা করে বসেন। আর রাষ্ট্র ও রাজনীতি চিন্তা এখনও  বিদ্যাসাগর বা রবী ঠাকুরের আছড় কাটাইয়ে ওঠতে পারে নাই। যা হোক আমরা ফ্যাসিবাদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এখানে পাব না। মানে দার্শনিক দিক থেকে বিষয়টি যতটা অবিনিবেশ দাবি করে তা এখানে করব না। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের ধরণ বুঝবার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক আলোচনার মধ্যেই সীমিত থাকব।

প্রথম কথা হলো ক্লাসিক অর্থে ফ্যাসিবাদ বলে যা বুঝায় বাংলাদেশে তা নাই। সম্ভব না। তাই প্রশ্ন করতে হবে এতো ফ্যাসিবাদ ফ্যাসিবাদ শুনি কেন? এইখানে ফ্যাসিবাদের ধরণটা হল উপনিবেশী চিন্তা ও রুচি নির্ভরতা। এর রুট বাংলাদেশের মাটিতে না। এটা উনিশ শতকের কলকাতার যে রেনেসা এবং এর ভেতর দিয়ে যে হিন্দু যা মূলত ব্রাক্ষ্মণ্যবাদি জাগরণ আকারে হাজির হয়েছে তার বয়ানের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের আত্মপরিচয়ই এখনও পরিস্কার হয়নি ফলে এর দ্বারা ফ্যাসিজম কায়েমের কোন সম্ভাবনা নাই।  কিন্তু এর অদ্ভুত রকম শাসনতান্ত্রিক বিকার ঘটেছে। এটা এই রাষ্ট্রের শুরুর আমল থেকেই ঘটেছে। সর্বশেষ তথাকথিত পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সাংবিধানিক ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে। এটা কে আমি ফ্যাসিবাদ বলি সাংস্কৃতিক অর্থে। এটার নাম দিয়েছি কালচারাল-ফ্যাসিজম।

মনে রাখতে হবে ফ্যাসিবাদ আলোচানার বিষয়ে পরিণত হয়েছে দুইটা বিশ্ব যুদ্ধের পরে। দুইটা বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতার মধ্যেই ক্লাসিকাল ফ্যাসিবাদের আলোচনার ভিত্তিভূমি তৈয়ার হয়েছে। যার সাথে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কোনো মিল নাই। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম একটা রক্তাক্ত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে হয়েছে কিন্তু এই যুদ্ধ এক দিকে যেমন মহান মুক্তিযুদ্ধ অন্য দিকে বিপুল সাধারণ মানুষ সময়টাকে চিহ্নত করে গণ্ডগোলের সাল বলে। এই কথাটা বিশেষভাবে বললাম জাতীয় চেতনার কমিউনাল চরিত্রকে সহজে বুঝবার জন্য। অন্যদিকে ক্ল্যাসিকাল ফ্যাসিজমে যেটা খুব জরুরি তা হলো এমন একটা টোটালেটিরিয়ান বা সমগ্রতাবাদি আচরণ যার নিরিখে অন্যকে আলাদা করা, শত্রু জ্ঞান করার তীব্র আচরণ হাজির থাকে। এই অপরকে বিনাশ করার জন্য শুধু সাংগঠনিক শক্তি থাকলেই তাকে ফ্যাসিবাদ মনে করার কোন কারণ নাই। এর মতাদর্শিক জোড়টাই আসল কথা। আমাদের মনে রাখতে হবে। মতাদর্শও অস্ত্র। খুব গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। সেই দিক থেকে বাংলাদেশ তো দূরের কথা বাংলাদেশ যার সাস্কৃতিক উপনিবেশ সেই ভারতেও ফ্যাসিবাদি শক্তি আকারে হাজির হবার কোন শর্ত নাই। ভারতের সমাজে মুসলমানকে বাহিরের শক্তি এবং এনিমি আকারে দেখা হয়। এর পরেও তার টোটালিটি নিয়ে সে দাঁড়াতে পারে নাই। তাকে বিশ্ব পুঁজির সাথে তালমিলিয়ে চলতে হয়। ফলে ভারতে সমাজের ভেতরে যেটা রয়েগেছে সেটা হলো কমিউনালিটি। এই কমিউনালিটির ভয়াবহতাকেই লোকে বলে  সাম্প্রদায়িকতা। আমি বলি এটা পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স। কারণ এই সব কমিউনিটি কখনও মতের ভিন্নতার জন্য রক্তা-রক্তি করেছে এমন নজির নাই। প্রতিটি ভায়োলেন্সের সাথেই ক্ষমতার রাজনীতির সম্পর্ক আছে। এটা বাংলাদেশের দিকে তাকালে আরও ভাল বুঝা যাবে। সমাজের মধ্যে মত-ভিন্নতা আছে কিন্তু এই ভিন্নতার কারণে রক্তরক্তি হয় না। মানে সমাজের মৌল প্রবণতাকেই সাম্প্রদায়িক বলা যাবে না। কেন না নানা কারণে কমিউনিটি  টু কমিউনিটি– চিন্তা, আদর্শ বা আচরণের ভিন্নতা হতে পারে। এর আলোকে কোন কমিউনিটি যদি সংগঠিত হয় এবং রাজনীতিতে হাজির হয় তাইলে এটাকে খুব স্বাভাবিকই বলতে হবে। আর এতে এক কমিউনিটি অন্য কমিউনিটিকে শত্রু মনে করে বলপ্রয়োগে নামলে তাকে হোলসেল সাম্প্রদায়িকতা বলা যাবে না। এটা রাজনীতির স্বাপেক্ষে যখন হয় তখন আর এটা সাম্প্রদায়িকতা থাকে না। এটা তখন হয়ে দাঁড়ায় রাজনৈতিক বলপ্রয়োগ। এক গোষ্ঠী আর এক গোষ্ঠীর ওপর এই বলপ্রয়োগ করে। এটা পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স। যা হোক এটা নিয়ে আরেক লেখায় আলাপ করেছি।

bangladesh-fascist
বাংলা ভাষায় ফ্যাসিবাদ নিয়ে আলোচনা অনেক দিনের। এই বিষয়ে প্রথম প্রকাশিত বই হলো, সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ফ্যাসিজম’। ১৯৩৪ সালে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের মার্কসবাদি আন্দোলনের পথিকৃতদের একজন। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা দিশারি তুল্য। নাৎসিবাদের ঝোড়ো উত্থানের সময় তিনি ছিলেন জার্মানিতে। তিনি নাৎসি মতাদর্শ ও সাহিত্য ভালভাবে পড়েছেন তা তার লেখায় স্পষ্ট বুঝা যায়। তার বইটি পড়লে অবাকই হতে হয়। তিনি মার্কসবাদি ছিলেন ফলে মার্কসবাদের আলোকে সেই সময়ে তিনি ফ্যাসিবাদকে যে তরিকায় দেখেছেন আজকের এইদেশের মাকর্সবাদিরা এর চেয়ে খুব বেশি আগাইছে এমনটি মনে হয় না। এমন কি আমাদের তুখোর বুদ্ধিজীবীরাও তাকে ছাড়াতে পারেননি। কিন্তু ফ্যাসিবাদের তর্কটা আর সেই জায়গায় থেমে নেই। এর  এতো বিস্তৃতি ঘটেছে যে আমদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা সেই তুলনায় খুব পশ্চাৎপদই রয়ে গেছেন। অন্য মার্কসবাদিদের মতো তিনিও মনে করতেন শ্রমিক শ্রেণির বিপ্লবের দ্বারা জাতীয়তাবাদি আন্দোলনের অভিমূখ ঘুরিয়ে দিয়ে ন্যাশনালিজম ভায়া হয়ে যে বিকট ক্ষমতার উত্থান হয় সেই ফ্যাসিজমের থাবাকে ঠেকিয়ে দিতে হবে। এবং বুর্জোয়াদের কে ফ্যাসিজমের জন্য দায়ী মনে করতেন। বুর্জোয়ারা ফ্যাসিজমের পক্ষে থাকে এটা কম বেশি বিভিন্ন সমাজে দেখা গেছে।

কিন্তু খোদ মার্কসবাদে ফ্যাসিজম নিয়ে আলোচনার অন্য খামতি আছে। লেলিন ‘রাষ্ট্র ও বিপ্লব’ লিখছেন কিন্তু ফ্যাসিজম নিয়ে তিনি কোনো আলাপে গেলেন না। এটা হতে পারে সেই সময়ে এই ইস্যু হাজির করা সম্ভব হয়নি। মার্কসবাদের ঘরে এই বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক আলোচনা করেছেন কাউটস্কি।যদিও আমরা তাকে হোল সেল এনারকিস্ট বলে তার চিন্তার প্রতি কখনও মনযোগী হয়নি। এটা আমাদের মার্কসবাদিদের দৈন্যতাকে আরও প্রকট করেছে। ফ্যাসিজমের আলোচনায় এদের আর কোনো পটেনশিয়াল ভূমিকা নাই। এরা নিজেরা ভিষণ রবীন্দ্র-প্রবণ হয়ে সরা-সরি ফ্যাসিবাদের খাদেমে পরিণত হয়েছে। যে কারণে সৌমেন্দ্রনাথ থেকে আলোচনা শুরু করেছি তা বলে নিই। সৌমেন্দ্রনাথ যেমন মার্কসবাদের ভেতর থেকে ফ্যাসিজমকে দেখেছেন, বিরোধীতা করেছেন এমন দেখা-দেখি ও বিরোধীতা আজও জারি আছে। অন্য দিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই সময় যে ভূমিকা নিয়েছেন তা আজ আরও ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। এরা রবীন্দ্রনাথের ঘারে চড়ে সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের সৈনিক হয়েছে বাংলাদেশে। এর অরিজিন খোদ রবীন্দ্রনাথে হাজির আছে।

নাৎসিবাদের পক্ষে সাফাই গাইবার কারণে রবীন্দ্রনাথকে মাকর্সবাদিরা কম হেনস্থা করেননি। এটা আজও জারি আছে। আমি এটা মার্কসবাদিদের মতো করে দেখতে চাই না। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের রাষ্ট্র চিন্তার সাথে যদি আমরা বুঝা-পড়ার চেষ্টা করি তাইলে দেখব এটা খুব স্বাভাবিক প্রবণতাই। দিপেশ চক্রবর্তী তার ন্যাশন এন্ড ইমাজিনেশন প্রবন্ধে এটা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন। তিনি রবীন্দ্র ন্যাশনালিজমের ফিলেনথ্রপিক আদর্শকে ক্রিটিক করে একে প্রবলেমেটিক বলে সাবস্ত করেছেন। কাব্য, চিন্তা, কল্পনা ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গের দুর্দান্ত বিশ্লেষণ করে রাষ্ট্র চিন্তায় রাবীন্দ্রিক দৈন্য দশা উদাম করে দেখিয়েছেন। আমি সে দিকে যাব না। বাংলাদেশের মানুষ চিন্তায় অতি মাত্রায় সাহিত্যগ্রস্ত হওয়ার ফলে এখানে ফ্যাসিজম একটা কালচারাল লড়াইয়ে রুপ নিয়েছে সহজেই। সাংস্কৃতিক প্রশ্নে রক্তা-রক্তির ঘটনা ঘটছে। কোনো নতুন রাজনীতি জন্ম নিচ্ছে না বাট রক্ত ঝরছে নানা ছলে।

সৌমেন্দ্রনাথ ১ নভেস্বর ১৯৩৩ সালে প্যারিস থেকে রবীন্দ্রনাথ কে লিখছেন, ‘তুমি নাৎসিবাদের সমর্থনের দ্বারা ইয়োরোপের ইন্টেলেকচুয়াল কেন্দ্রে তোমার বিরুদ্ধে যে তীব্রতা জাগিয়ে তুলেছ সেই সম্বন্ধে তোমাকে জানিয়ে দেওয়ার জন্যই এই চিঠি লেখা।…..

তোমার বিরুদ্ধে যে-আক্রমণ গজিয়ে ওঠেছে তার প্রধান পয়েন্টগুলি হচ্ছে, তুমি যদি না বদলে থাক, তা হলে তুমি জার্মান ফ্যাসিজম যা আজ নাৎসিবাদের নাম নিয়েছে তার সমর্থন কোন মতেই করতে পার না।…..

তোমার উক্তির তীব্র প্রতিবাদ তো হবেই, শুধু তাই নয় তোমার নামের সঙ্গে এই অপবাদ চিরকালের মতো জড়িয়ে থাকবে….। [ ঠাকুর-ফ্যাসিবাদ, পৃষ্ঠা ৯৫, মনফকিরা প্রকাশনী,কলকাতা]

সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা ফলে গিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ এই চিঠির বক্তব্যের সাথে একমত হবেন না। রবীন্দ্রপ্রবণ ভক্তকূলও এর প্রতিবাদ করবেন। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় আমি যা বলতে চাইছি তা বাদ-প্রতিবাদের ধার আর ধারবে না। এই রবীন্দ্র চেতনার আর বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে সম্পর্ক তার সাথে সোনার বাংলার মিথ ও ভাষার আধিপত্যবাদি অনুরাগ আজ সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। এই জাহেলি জুলুম বাজের ‘কাল’কে বৈধতা দেবার জন্য সাংবিধানিক যুক্তিও তৈয়ার করেছে। এই কালচারাল ফ্যাসিবাদ ক্ষমতার স্বাদ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করার জন্য যে আমলের সূচনা করেছে এরই নতুন নাম হলো সাংবিধানিক ফ্যাসিবাদ। এর  সাথে বিশ্ব পুঁজি, জাতীয় চেতনা, বিজ্ঞাপনী ভোগ সংস্কৃতি, মধ্যবিত্ত চৈতন্যের গণবিচ্ছিন্নতা, ৭১ এর মিথ, পরিকল্পিতভাবে ঘৃণার সংষ্কৃতি তৈরি -এই সবের সম্পর্ক অতি জটিল রুপ নিয়ে জড়িয়ে আছে। এই সবের সাথে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কটা এতো জটিল আকারে জাড়িয়ে আছে যে রবীন্দ্রনাথকে আমরা যে ভালবাসব তার সুযোগ আর পাচ্ছি কই। রবীন্দ্রনাথের নামে আজ রক্ত ঝরে।  রবীন্দ্রনাথ কি করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ফ্যাসিবাদি সাংস্কৃতিক শক্তিতে পরিণত হলো তা খতিয়ে দেখা অতি জরুরি কাজ আকারেই হাজির হয়েছে। আমি নিজে রবীন্দ্র ভক্ত মানুষ। কবি হবার কারণে রবীন্দ্রনাথের সাথে এক ধরনের সম্পর্কও ফিল করি। তথাপি রক্তঝরানো রবীন্দ্রনাথকে এখন সাফ-সুতোরো না করলে আর উপায় নাই। যা হোক রবীন্দ্রনাথ ফ্যাসিবাদের সমর্থক ছিলেন এটা প্রমাণ করা আমার প্রকল্প না। আমি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের রুট খুজতেছি। এর অপজিটে অনেকে বলবেন তাইলে তো ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ বলে একটা ব্যাপার আছে। এটা চিনপন্থি মার্কসবাদিদের পপুলার থিসিস। আমি বলব এরা ফ্যাসিজমের তর্ক করার তরিকায়ই জানে না। ধর্মের সাথে ফ্যাসিজমের তর্ক এক করে করা যাবে না। তবে ধর্মের কোনো কোনো ইন্টার পিটেশনকে ফ্যাসিবাদি কাজে ব্যবহার করার নজির বেশ পুরানা। কিন্তু খোদ ধর্ম ফ্যাসিবাদের আছড়ে নাই। কারণ ধর্মের সাথে ডিভাইনিটির যে যোগ তা ফ্যাসিবাদের সাথে যায় না। ফ্যাসিবাদ  ইহলৌকিক সঙ্কল্পের মধ্যে জন্ম নেয়। আমরা যদি ফ্যাসিবাদের দার্শনিক ইতিহাস খেয়াল করি তাইলে বিষয়টি পরিস্কার দেখতে পাব। তখন মার্কসবাদিদের খামতিও চোখে পড়বে।

প্রথমে আমার যদি দেখি মার্কসবাদিরা ফ্যাসিজমকে কিভাবে বুঝেছে তাইলে পুরো ব্যাপারটি সহজেই ধরে ফেলতে পারব। স্বীকার করতে হবে ফ্যাসিবাদের তাত্ত্বিক আলোচনায় মার্কসবাদিদের অবদান অসামান্য। কিন্তু কর্পোরেট ক্যাপিটালিজমের মধ্যে এসে তারা দেখলো এতো দিন তারা যা বলে এসেছে তা তো আর কাজ করছে না। তারা যে টোটালিটিরিয়ান এপ্রোচের কথা বলেছে তা তো সাম্রাজ্যবাদ বা পুঁজি নিজ বৈশিষ্ট্যগুণেই ধারণ করে। তাইলে ফ্যাসিজমের তর্কটা যেভাবে তারা জাতীয় আন্দোলনের সাথে শ্রমিক শ্রেণিকে হাজির করার মধ্য দিয় উৎরে যেতে চেয়েছেন তা তো ফেইল করেছে। খোদ রাশিয়াতে শ্রমিক বিপ্লবের পরে উত্থান ঘটেছে ভয়াবহ সমাজতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদের। তখন পোস্টমর্ডান এরেনার অনেক তাত্ত্বিক সাইকোলজির আলোচনা করে মার্কসবাদের মধ্যে ফ্যাসিবাদের আলোচনার পদ্ধতিগত খামতি দূর করার চেষ্টা করেছেন। এতে মেথডলজিক্যাল মাত্রা যোগ হয়েছে সন্দেহ নাই কিন্তু ফ্যাসিজমকে মার্কসবাদ দিয়ে মোকাবেলা করা যাবে এই বিশ্বাস বা নজির কায়েম হয় নাই।

বিশেষ করে বলতে হবে, রাষ্ট্রে এবং জাতীয়তাবাদের ধারণার সাথে ফ্যাসিবাদকে যেভাবে একসাথে আলোচনা করা হয় তা এখন ইরিলিভেন্ট। কারণ রাষ্ট্র এখন আর ষাটদশকের রাষ্ট্র ধারণায় আটকে নাই। টেকনোলজি আর কর্পোরেট গ্লোবাল ওয়াল্ড অর্ডার এমন এক অবস্থার সৃষ্টি করেছে যে হিটলার বা মুসুলিনি টাইপের ফ্যাসিজমের দিন শেষ। স্টেট মেশিনারির ভূমিকাটা অতি ফাংশনাল। এর ইডিওলজিক্যাল স্টেন্থ বা বল আর বাস্তব কারণেই এতো জোড়ালো হবে না। সে যতো মহান জাতীয়তাবাদই হোক। কনজিওমার কালচারাল সোসাইটিরর সাথে আধুনিকতার যোগ এর সাথে বিজ্ঞাপনী স্বদেশ প্রেম মিলে বড়জোর একটা সাংস্কৃতিক ফ্যাসিজম তৈরি হতে পারে। যেটা বাংলাদেশে হয়েছে। কিন্তু এর ভবিষৎ অতি করুণ পরিণতিতেই শেষ হবে। কারণ নতুন রাজনৈতিক চৈতন্য দাঁড়ানোর সাথে সাথে এই সাংস্কৃতিক আধিপত্য ধসে যাবে। সেটা যদি বুর্জোয়াও হয় তাও এই সাংস্কৃতিক ফ্যাসিজম দাঁড়াতে পারবে না। কোন কারণ নাই। এখন মিডিয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,  তথাকথিত প্রজন্ম দেখে আমরা যদি ভড়কে যাই তাইলে খুব হাস্যকর হবে ব্যাপারটা। শাহবাগ গোটা বাংলাদেশ না।

এই ধরনের ফ্যাসিজম লিবারিলজমকে উৎসাহিত করে। গণতন্ত্রের কথা বলে, উন্নয়নের কথা বলে। এর আসল গোমরটা হলো,    “Fascism steals from the proletariat its secret: organisation. … Liberalism is all ideology with no organisation; fascism is all organisation with no ideology.” (Bordiga)

শ্রমিকরা দ্রুতই লিবারাল জাতীয়তাবাদি আদর্শের দিকে ফিরে আসে, তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যে অবস্থা গড়ে ওঠে তাকে লিবারাল বলা হলেও, এই লিবারাল শক্তি যখন ক্ষমতার ধারক-বাহক হয়ে ওঠে তখন আর তার কোনো আদর্শ থাকে না। সাংগঠনই তার এক মাত্র ভরসা। সেই দিক থেকে কোনো রজনৈতিক দল যদি মনে করে যে দেশে একমাত্র তারাই থাকবে আর কারো থাকার দরকার নাই তাইলে তাকে ফ্যাসিস্ট বলা হয়। এই প্রবণতায় বাংলাদেশ জন্মের সময়ই আওয়ামী লীগ আক্রান্ত হয়েছিল। পরে এর করুণ অবসান আমরা দেখেছি। এখনকার বাস্তবতায় কোনভাবেই আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নাই। সেই মতাদর্শিক শক্তি যেমন নাই। লোটপাটের রাজনীতির কারণে সাংগঠনিক কাঠামো দিয়েও ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখা যাবে না। ভারসা পুলিশ-র্যা ব-সেনা। যা এখন চলছে। সারাদেশের মানুষের কাছে আওয়ামী লীগের নেতারা গণ প্রতিরোধের মুখে পড়ছেন। পুলিশের রাইফেলের নলের ওপর ক্ষমতা টিকে আছে। এটা অতি মামুলি সরকারের নমুনা। একটা সাধারণ জনপ্রতিরোধই এটা ধসিয়ে দিতে পারে। ফলে ফ্যাসিজম বলতে যে অতি সংগঠিত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর সার্বিকীকরণ বুঝায় তার কোনো বৈশিষ্ট্যই এখানে হাজির নাই।

সবচেয়ে বড় কথা হলো ফ্যাসিজমের জন্য ‘অপর’ বা মোরল এনিমি লাগে। এটা বাংলাদেশে সম্ভব না। অন্তত আওয়ামী লীগ কোনো মোরাল এজেন্সি আকারে হাজির হতে পারবে না। এই ক্ষেত্রে তার একমাত্র ভরসা ৭১ এর চেতনার সাথে ডিজিটালইজড কালচারের উল্লম্ফনকে উন্নয়ন বলে চালু করা। এটা করাও হয়েছে। কিন্তু এই ধারাটা সাবস্ত্য হয়েছে নাস্তিক্যবাদি ধারা বলে। ব্লগ বা কম্পিউটার টেকনোলজির ধারক-বাহকরা যে চৈতন্য নিয়েই হাজির হোক না কেন জনসমাজে এরা ধর্মদ্রোহীর সিল খেয়ে গেছে। শাহবাগ এই অবস্থার তৈয়ার করেছে। ফলে বিজ্ঞাপনী স্বদেশ প্রেম ও চেতনার ঢোল দিয়ে ক্ষমতার বৈধতা পাওয়া যাবে না। জনসম্মতি এই চেতনার বিপরীতে দাঁড়িয়ে নতুন শক্তির অপেক্ষায় আছে। আবুল মনসুর আহমদ অনেক আগে যেটা বলেছেন তা খুব খাঁটি কথা। তিনি আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিচালনার ভার এমন সব অতি-প্রগতিবাদি লোকের হাতে পড়িতেছে যারা ইসলামী রাষ্ট্র আর মুসলিম রাষ্ট্রের পার্থক্য বুঝেন না বা বুঝিতে চাহেন না।’

এই সমাজের বহুত্ববাদি ধারা এতো পাশাপাশি থাকে যে এই সমাজে কমিউনাল আচরণই রুটেট হয় নাই। যে কারণে ব্রাক্ষ্মণ্যবাদ এখানে সুবিধা করতে পারেনি। ফলে ঐতিহাসিক বাংলাদেশের দিক তাকালে আমরা দেখব এখানে ক্লাসিক অর্থে ফ্যাসিবাদ সম্ভব না। হতে পারে না।কতিপয় ফেটিশ মিডেলক্লাস ভোগবাদি আধুনিক চেতনার সাথে কর্পোরেট জাতীয়তাবাদির চেতনার আলোকে যে সাংস্কৃতিক বিভাজন তৈরি করেছে তাকে অকাট্য সত্য আকারে ধরে নেবার কোনো মানে হয় না।

মার্কসবাদিরাও যে এই সাংস্কৃতিক বিভাজন এর রাজনীতি বুঝেন না এমন নয়। তারা বার বারই সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কথা বলে আসছেন। কথা হলো আধুনিকতার কোনো পর্যালোচনা না করে কি করে আপনি মার্কসবাদ দিয়ে সাংস্কৃতিক বিপ্লব করবেন? মার্কসের অরিয়েন্টাল প্রবলেম তো আর অজানা নয়। ধর্ম ও রাষ্ট্র প্রশ্নে মার্কসের চিন্তার খামতিগুলো তো আপনাকে আগায় নিতে পারবে না। এই দিকগুলা নিয়া এখনও যথেষ্ট আলাপ হচ্ছে বলে মনে হয় না।

বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কথাটা অনেক বেশি মিসইউজ করা হয়। খুব বেশি রেটিরিক্যাল ব্যবহার হয়েছে কথাটার।
‘ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ’ বইতে ফরহাদ মজহার যে আলোচনা করেছেন আর ১৯৩৪ সালে সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর যে আলোচনা করেছেন তার তরিকা বা পদ্ধতি প্রায় একই। আমরা এই দুই আলোচনার গুরুত্ব স্বীকার করে বিষয়টিকে আর বিষদভাবে বুঝার চেষ্টা করছি।

ফরহাদ মজহার বলছেন, ফ্যাসিবাদ শ্রমিক শ্রেণির গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে। তিনি মনে করেন ফ্যাসিবাদ পুঁজিবাদি ব্যবস্থার অর্থনৈতিক সঙ্কটও বটে। ফ্যাসিবাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদি উগ্রতা অনিবার্য বলে তিনি মনে করেন। তিনি মার্কসিস্ট জায়গা থেকে বেশ জোরালো আলোচনা করে ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের আছড় ব্যাখ্যা করেছেন। এই ব্যাখার সাথে অনেকে দ্বিমত করতে পারেন। আমি এই ব্যাখ্যার রেটরিক্যাল পয়েন্টের সাথে একমত আছি। কিন্তু এসেনশিয়াল আর্গুমেন্টে আমি অন্য জায়গা থেকে তর্ক তুলব।

রাষ্ট্র,গণতন্ত্র আর ফ্যাসিবাদের সম্পর্ক নিয়া পুরোনো ধাচের আলোচনায় আর কোনো ফায়দা হবে বলে মনে হয় না। গণতন্ত্রের শাসনতান্ত্রিক ফাঁকি এখন সুবিদিত। কেউ আর গণতন্ত্রকে আদর্শ ধরে রাষ্ট্রের আলোচনা করেন না। সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৩৪ সালেই বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা করায়ত্তকরণকে বিপ্লব বলে অভিহিত করলে থিওরেটিক্যাল নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেওয়া ছাড়া কিছুই হবে না। শ্রমিক-বিপ্লবকে বিধ্বস্ত করে বুর্জোয়াদের ক্ষমতা বজায় রাখাই ফ্যাসিস্ট আন্দোলনের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল এবং আজও আছে।’ [ঠাকুর, ফ্যাসিজম পৃষ্ঠা ২০]

ফলে মার্কসবাদের রাষ্ট্র সম্পর্কে যেমন অমীংসা রয়ে গেছে তেমনি ফ্যাসিজমকে দেখবার ধরনেও গলদ রয়েগেছে। তারা মনে করেন জাতীয়তাবাদি আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণির গণতান্ত্রিক ক্ষমতা অর্জনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিজম ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু এই অবস্থার স্বপক্ষে এখন আর কোনো যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না।

বিখ্যাত চিন্তক, দার্শনিক আলী শরিয়তী বিষয়টি বেশ ভাল ভাবেই ধরতে পেরেছেন। শ্রমিক শ্রেণির একনায়কত্বকে তিনি ফ্যাসিজমের সাথে মিলিয়ে পাঠ করেন। তিনি মনে করেন,‘মার্কসবাদ ও ফ্যাসিবাদ উভয়ে শ্রমিকশ্রেণের দিকে না ঝুকে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব অন্বেষণ করেছে। তাই মধ্যবিত্ত বুর্জোয়ারাই এটির অনুগামী হয়েছে ব্যাপকহারে।’
[ ম্যান মার্কসিজম এন্ড ইসলাম-আলী  শারিয়াতী]

এখন লেলিন বলছেন শ্রমিক শ্রেণি বাইডেফিনেশন পেটি-বুর্জোয়া। তাইলে এরে দিয়া ফ্যাসিবাদ ঠেকানো তো দূরের কথা উল্টাটাই হয়। এরা জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে যে তাড়না থেকে ঝাপিয়ে পড়েন, পরে তার বাসনাই তাকে ফ্যাসিবাদে শরিক করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরর্বতী সময়ে রক্ষী বাহিনী সাংবিধানীক জুলুমবাজি শুরু করলে নগদ সুবিধার লোভে অনেক মানুষ এতে শরিক হয়েছিল।

আমারা দেখলাম মার্কসবাদ এই প্রশ্নের মীমাংসা করতে পারেনি। আমাদের এখানেও ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে আলোচনা খুব বেশি আর আগায়নি। এখানকার অবস্থা আরও ভয়াবহ। মুজিবের হাতে মাওবাদিদের নিধন শুরু হয়েছিল এটা বিএনপিও কনটিনিও করেছে, ক্রসফায়ার করে কমিউনিস্ট খতম করেছে। আর অন্য বামগুলা কম বেশি সরকারি বামে পরিণত হয়েছে। যারা বাইরে আছে তারা মুখে বলে দুনিয়ার মজদুর কিন্তু চর্চা করে এলিট সংস্কৃতি। তাদের সাহিত্য থেকে শুরু করে জীবন যাপনে গণবিচ্ছিন্নতার খুপড়ি কালের অভিশাপের মতো আঁটা।  জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম তা গণতন্ত্রের নামে বা সমাজতন্ত্রের নামে যে ভাবেই চালু হোক না কেন তার ফ্যাসিবাদি একটা রোল কয়েক দিনের মধ্যেই চাড়া দিয়ে ওঠে। এটা পৃথিবীর নানা দেশের ইতিহাসের দিকে বা শাসনতান্ত্রিক খামতির দিকে তাকালে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারব। এর সাথে সাম্রাজ্যবাদ, গণতন্ত্র,  ওয়ার অন টেরর ও কর্পোরেট জাতীয়তাবাদের মিশেলের কারণে ফ্যাসিবাদের তর্কটা ক্লাসিকাল বা কেসেলে ধারার মধ্যে রেখে দিলে এখন আর কিছুই বোঝা যাবে না। মধ্যবিত্ত শ্রেণির বাসনা ও সিভিল সমাজের বিকৃত খায়েসের কারণে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদই সাংস্কৃতিক মূলধারা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। মিডিয়া ও সংস্কৃতি নিয়ে আগের আলোচনা যারা খেয়াল করেছেন তারা বিষয়টি এতো দিনে পরিস্কারভাবে ধরে ফেলেছেন বলেই তা আর লিখছি না। এবার আমরা সংক্ষেপে ফ্যাসিবাদের গোড়ার আলোচনার দিকে ফিরব।

ফ্যাসিবাদের আলোচনা কতগুলো ফ্যাশন্যাবল স্টুপিডিটির জন্ম দিয়েছে। এই স্টুপিডিটির আবার দুইটা দিক আছে। এক. তাত্বিক উৎস নিয়া বিভ্রান্তি(মনে করা হয় মহান জার্মান দার্শনিক ফ্রেডারিক নিৎসে এইটার জনক) দুই. ঐতিহাসিক বিকাশধারা হিসেবে এবং আদর্শগত দিক থেকেও ইতালি এবং জার্মানিকে সব সবময় নজির আকারে পাঠ করা হয়।

ফ্যাসিবাদের আসল আদল খুঁজতে হবে মানুষের আচরণগত ও নিজের সম্পর্কে নিজের ধারণার মধ্যে। বা আমরা অন্যের সাথে কি ভাবে সম্পর্ক করি তার ধারণা ও ধরণের মধ্যেই ফ্যাসিবাদের হদিস করতে হবে। পরে এর সাথে নানা কিছুর যোগ আমরা খতিয়ে দেখতে পারব। সেটা প্রাসঙ্গিকও বটে।

পশ্চিমে রেনেসা বিপ্লবের কালে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের পরম বিকাশের কালে ফ্যাসিবাদের সম্ভাবনা প্রথম যার হাতে বুনিয়াদি ভিত্তি লাভ করে তার নাম, ডেভিড হিউম। তার ১৭৩৯ সালে প্রকাশিত ‘মানবের প্রকৃতি’ বইটির উপ শিরোনাম ছিল নৈতিক বিষয়ে যুক্তির পরীক্ষামূলক পদ্ধতির সূচনার চেষ্টা। হিউম কে মনে করা হয় বুদ্ধিবাদি চিন্তক। কিন্তু তার বুদ্ধিবাদ এরিস্টটলীয় নয়। তিনি বেকন পন্থি। তিনি বিজ্ঞানকে ধর্মতত্ত্বের মতো ভ্রমাত্মক মনে করতেন। দেকার্ত যে যুক্তির জগৎ হাজির করেছেন তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দর্শনের নতুন দরজা খুলে দেন হিউম। তিনি যুক্তির জগৎকে হোলসেল মেনে নেননি। তিনি মনে করেন, আমাদের কর্মের নিয়ামক যুক্তি নয় আবেগ এবং আবেগের অনুবর্তী হওয়াই যুক্তির একমাত্র কাজ। তার বইয়ের শুরুতেই তিনি আবেগ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি ‘প্যাশন’ শব্দটিও ব্যবহার করেছেন। তিনি আবেগ অর্থেই এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন।  হিউম রাষ্ট্র ধারণার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে প্রায় সুপার পাওয়ার টাইপের কোনো শক্তি এবং সব রকম কর্তৃত্ব কায়েমের হাতিয়ার মনে করতেন। সেই দিক থেকে তার চিন্তার মধ্যে ফ্যাসিবাদের উপাদান খুঁজে পেয়েছেন পশ্চিমা দর্শনের ইতিহাসবিদরা। কিন্তু তার চিন্তার গুরুত্ব এতই যে কান্ট বলেছেন, হিউম তাকে র্নিবিচারবাদি তন্দ্রা থেকে জাগিয়ে দিয়েছেন।

হিউমের মধ্যে যে উম্মদগ্রস্ততা ছিল তা পরবর্তী সময়ে ফিরে এসেছে। হিউমের দর্শনের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে হাজির হন কান্ট। তিনি বিশুদ্ধ যুক্তি খোঁজ করলেন। কান্টের অনুসারী বিখ্যাত ফিশতে দর্শন থেকে রাজনীতিতে এসে শুরু করলেন ‘জাতীয় সমাজতন্ত্র’। এই বাদ-বিবাদের মূলে যে জিনিসটি নিয়ে এতো জল ঘোলা হলো তার নাম হলো যুক্তি। যুক্তি দিয়ে পরম সত্যে পৌঁছানোর দার্শনিক এক দুর্দান্ত লড়াই চলেছে পুরো সময়টা জুড়ে। পশ্চিমা দার্শনিকরা মনে করেন এই বাদ-বিবাদে যুক্তি যতই পিছে হটেছে ততই ফ্যাসিবাদের সম্ভাবনা বেড়েছে দার্শনিক ভাবে। এই দার্শনিক তর্কের মধ্যে যুক্তি বিরোধী শিবির যখন মুক্তি নয় ক্ষমতার প্রশ্নে নিজেদের চিন্তার অভিমুখকে তাতিয়ে তুলল তখনই ফ্যাসিবাদের বিকাশ সম্ভব হয়ে উঠল। এমনটাই মনে করেন পশ্চিমা দর্শনের ইতিহাসবিদরা। আধিপত্য করার বাসনা থেকে জড়িত হয়ে পড়েন রাজনীতির সঙ্গে। এই তালিকাতে আছেন, ফিশতে, কার্লাইল, মাৎসিনি, নিৎসে। এদের মধ্যে নিৎসে হলেন সবচেয়ে শক্তিশালী দার্শনিক। তার মতে মানবতা হলো একটি পরীক্ষামূলক বস্তু। তার প্রস্তাব হলো, পর্যাপ্ত মহৎ শক্তি অর্জন করা। ঢালাওভাবে যে ভাবে নিৎসে কে ফ্যাসিবাদের জনক মনে করা হয় তা ঠিক না। তিনি দার্শনিক হিসেবে অতিগুরুত্বপূর্ণ জেনিওলজি ধারণার পয়দা করেছেন। ইতিহাস ও ভবিষৎ কে নির্মাণের পদ্ধতিগত চিন্তার জন্য তিনি আজও যথেষ্ট গুরুত্ব দাবি করেন। অনেকে মনে করেন তিনি যেহেতু ইচ্ছা, অনুভূতি এবং সুখের চেয়ে ক্ষমতার আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন তাই তিনি ফ্যাসিবাদের প্রস্তাব করেছেন। এতো সরল হিসাবে দেখলে আমারা কিছুই ধরতে পারব না। আমি সাধারণ একটা লাইনআপ দেখালাম। এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দরকার আছে।

৯০ এর দশকের পরে ফ্যাসিবাদের আলোচনায় ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গিগত পরির্বতন এসেছে। এখন ফ্যাসিবাদ কে শুধুমাত্র আর ইডিওলজির মামলা আকারে দেখা হয় না। এখন বরং মাস-মুভমেন্ট ও এর সাথে আদর্শের সম্পর্কের মধ্যে ফ্যাসিজমের আলোচনা করা হয়। এই বিষয়ে গুরুত্বপুর্ণ আলোচনা শুরু করেছেন ডেভি রেনটন। আদর্শ এবং মাসমুভমেন্ট কি ভাবে ফাংশন করে সেই দিক থেকে ফ্যাসিজমকে বুঝার প্রস্তাব করেছেন রেনটন। তিনি মনে করেন, Fascism should not be understood primarily as an ideology,  but as a specific form of reactionary mass movement.

সব মুভমেন্টকে বিচার না করেও আপাদত খালি শাহবাগকে বিচার করলেই এখনকার ফ্যাসিবাদের চরিত্র উদাম হবে। ছোট্টো একটা উদাহরণ দেই, রবীন্দ্রনাথের ন্যাশন কি ভাবে পরে মাতৃতান্ত্রিক ফ্যাসিজমের হাতিয়ার হলো তা দেখতে পারা ইন্টারেস্টিং কাজ হতে পারে।
দিপেশ চক্রবর্তী যেমন বলেন, The prosaic and the poetic thus came to share a division of labor in Tagore’s writing…
The golden bangla of nationalist sentiments.  [ Nation  and Imagination]

পরে আমরা দেখলাম বিভিন্ন আন্দোলনে এই সোনার বাংলা মিথ হাজির হলো। দেশকে মা, পবিত্র ভূমি, স্বর্গ হিসেবে উপস্থাপনার যে রেওয়াজ জারি ছিল তার হাত ধরে আমরা শাহবাগে দেখলাম মাতৃতান্ত্রিক ফ্যাসিজমের দূর্বল মহড়া। জাহানারা ইমাম কে দেখলাম জাতির মা হতে। তরুণরা সব রুমি হতে গড়ে তুলল ‘রুমি স্কয়ার্ড’-এই সব ঘটনা আমরা সেকেলে ফ্যাসিবাদের ধারণা দিয়ে ব্যাখা করতে পারব না। এর জন্য বিজ্ঞাপনী স্বদেশ প্রেমের সাথে উপনিবেশী ভোগবাদি সংস্কৃতির যে হেজিমনি বা আধিপত্য গড়ে ওঠেছে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে কেন্দ্র করে তার হদিস করতে হবে। এই রুমিরা ভিষণ রকম রবীন্দ্রপ্রবণ। তাদের অস্তিত্বের মর্মমূলে রবীন্দ্র চেতনা সব সময় জেগেই থাকে। এরা ঘুমায় না!  রবীন্দ্র নেশন তো পরাজিত হয়েছে দিল্লির কাছে। বেঁচে আছে এর কালচারাল আক্রোস। যা বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক উপনিবেশ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এর সাথে কর্পোরেট দেশ প্রেম, মূলধারা, মিডিয়া, ৭১ ও ভাষা মিলে এটা এখন কালচারাল ফ্যাসিবাদের রুপ নিয়েছে বাংলাদেশে। যেহেতু রাষ্ট্র গঠনের বুনিয়াদি কাজ এই বাঙালি চেতনা করতে পারেনি ফলে এর সম্ভাবনাও দিন দিন দূর্বল হচ্ছে। মিডিয়া ও সিলি-সিভিল সমাজের ক্ষুদ্র একটা গোষ্ঠী এর প্রাণভোমরা হয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চেতনার বিপরীতে ক্ষমতার রাজনীতিতে মেতে আছে। ফলে এটার সব রকম ফ্যাসিবাদি ন্যাশন থাকা সত্ত্বেও এটা কালচারাল ফ্যাসিবাদের বেশি কিছু হয়ে উঠতে পারছে না।

বিশেষ করে মনে রাখতে হবে ষাটের দশকের পরে পশ্চিমে ফ্যাসিবাদের আলোচনটা একটা পরিণত রুপ নিয়েছে। পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থায় মার্কিন আধিপত্য ও ইরোপের সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ ফ্যাসিবাদের সম্ভাবনাকে নষ্ট করেছে। অন্য দিকে দুইটা বিশ্বযুদ্ধের নগদ অভিজ্ঞতা থেকে পশ্চিম আর কোনো শিক্ষা না নিলেও  পশ্চিমা সমাজে ফ্যাসিবাদ নিয়ে আর কোনো মোহ ধরে রাখা যায়নি। ফ্যাসিবাদ যখন বলে মহত্বের আর কোনো বৈশিষ্ট্য নাই, যুদ্ধে সফল হওয়া ছাড়া। এই যুদ্ধে সাম্যবাদি শক্তি ফ্যাসিবাদকে রুখতে পারেনি। মার্কসবাদিরা ভুলে যান যে যুদ্ধের নিজস্ব মনস্তত্ব আছে। ফলে গণতন্ত্রকে আকড়ে ধরে পশ্চিমা সমাজ নতুন বিশ্বব্যাবস্থার প্রজেক্টে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দোসর হয়ে হাজির হলো। কারণ ফ্যাসিবাদের পক্ষে অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না। যাই হোক খুব সংক্ষেপে আমরা ফ্যাসিবাদের একটা পরিচিতিমূলক আলাপ সারলাম। এর আলোকে বাংলাদেশের এখনকার সমস্যাকে মোকাবেলা করার শিক্ষাই হবে কাজের কাজ।

download (1)

স্বৈরতন্ত্রের কবলে বাংলাদেশ :

ফ্যাসিবাদের বয়ানে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র একাকার হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্র ও জনগোষ্ঠীর ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য ছাড়া ফ্যাসিবাদ সম্ভব না। বাংলাদেশে যার কোনো ছিটেফোঁটাও নাই। তাই আমাদের অবস্থাকে ফ্যাসিবাদ না বলে শাসতান্ত্রিক বিকার বলাই ভাল। এই বিকার নানা বয়ানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ তৈরির চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু এই চেষ্টার সফল ব্যবহার সম্ভাবনা জিরোপারসেন্ট। কারণ বাঙালি জাতীয়তাবাদ ভাষা, চেতনা ও আদর্শ বলে যা চিনে, বুঝে তা ১৯ শতকের উপনিবেশি কলকাতার বাবু সংস্কৃতিজাত। এর সাথে বাংলাদেশের কোন যোগ নাই। ফলে এই মধ্যবিত্তপনা দিয়া ফ্যাসিবাদ হবে না। এর দৌড় কালচারাল এলিটিজম পর্যন্তই। ফাঁকে পুলিশ ও ভারতের এবং মার্কিন রাজনীতির ছকে থেকে ক্ষমতার লিজিংটা ধরে রাখা। এটা সামন্য গণউত্থানেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

এখন মনে হচ্ছে, জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম নিয়ে মিথিক্যাল গৌরব গাঁথা এই ফ্যাসিবাদকে নিয়মতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা জারি রাখতে সাহয্য করে। আজকে জনগণের ইচ্ছার তোয়াক্কা না করে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় টিকে আছে তখন আর ব্যাখ্যা করার দরকার হয় না শাহবাগ কি দরকারী ভূমিকা পালন করেছে। সমাজের মৌলিক দুইটা চেতনার মধ্যে বিভাজন তৈরির করতেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফাঁসির দড়ি আকারে হাজির করেছে তথাকথিত প্রজন্মের কাছে। এদের কাছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গঠন, প্রশাসন, আইন ও অন্যান্য ব্যবস্থার ভয়াবহ গাফিলতি কোনো ইস্যু হয় নাই। এই যে বিভাজনের রাজনীতি এর আবার স্পষ্ট শ্রেণি ও ধর্মীয় চরিত্র আছে। এর সাথে যোগ আছে মার্কিন ও ভারতের নিজ নিজ স্বর্থবাদি রাজনীতি। ফলে এখন বাংলাদেশের সঙ্কট আর ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। এই দিক থেকে দেখলে আমরা অধিকার হরণের রাজনীতির তাৎপর্য মূল শাসসহ ধরতে পারব। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর আফগানিস্তান নিয়ে যে ভূমিকা বাংলাদেশ নিয়ে এই ভূমিকায় হাজির হতে চায় ভারত। এই রাজনীতি ক্রমশ পরিস্কার হয়ে ওঠছে। জামায়াতকে দিয়ে ইসলামোফোবিক প্রপাগান্ডা তৈরি করে এটা কে জঙ্গি আকারে দাঁড় করিয়ে ধর্মযুদ্ধের নকশার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। এই লেখা যখন লিখছি তখন দুইটা ঘটনা আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। এক. জেএমবির সদস্যদের ফিল্মি কায়দায় দাঁড় করে পুলিশের ভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। দুই. সশস্ত্র গোষ্ঠীর তালিকায় তালেবানের পরে শিবির । প্রথম আলো খবর করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংগঠন আইএইচএসের টেররিজম এন্ড ইনসারজেন্সি এটাক ইনডেক্স এই জরিপ করেছে। এর পরেও রাজনীতি বুঝতে কারো বাকি থাকার কথা না। কি ভাবে গণহত্যা হয়ে দেশ ধর্মযুদ্ধের আর্ন্তজাতিক ক্ষেত্র হয়ে উঠছে তা দিন দিন পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদের অনিবার্য যুদ্ধটা ধর্মযুদ্ধ আকারে হাজির হচ্ছে বাংলাদেশে। যে কোনো লেবেলের ফ্যাসিবাদ যুদ্ধ ছাড়া টিকতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা যে যুদ্ধের আউট লাইন দেখছি তা তো আর ইনটারনাল যুদ্ধ থাকছে না। তালেবান-আলকায়দা-জামায়াত-হেফাজত কে একাকার করে ট্রিট করার যে রাজনীতি তা আমাদের কে ফ্যাসিবাদের নিপুণ প্রহারায় ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

এই ছক বুঝে জামায়াত এখনও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের লাইনে আছে। সরাসরি প্রতিরোধ যুদ্ধে নামেনি। যদিও দেশে একপ্রকার গৃহযুদ্ধের অবস্থা বিরাজ করছে। পরিক্ষামূলক ভাবে কিছু জামায়াত-শিবির এর লোকজনকে ক্রসফায়ারে দেয়া হয়েছে। যেহেতু সমাজ সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ ও ৭১ এর মিথে বিভক্ত ফলে এই ক্রসফায়ার নিয়া মানবাধিকারের জায়গা থেকেও কোন আপত্তি উঠেনি। ফলে, এই গৃহযুদ্ধে ইসলামকে এনিমি বানানোর ফলে এটা দ্রুতই ধর্মযুদ্ধের রুপ নিবে এতে কোন সন্দেহ নাই। এর সাথে আন্তর্জাতিক রাজনীতির হিসাব মিল রেখে পাঠ করলে এই দিকটি বুঝতে পারা খুব কঠিন কিছু না।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদি রুপান্তর শুরু হয়েছে জন্মের সময় থেকে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র সাংবিধানিকভাবেই উপনিবেশি উত্তরাধিকার ধরে রেখেছে। এখন আমাদের সংবিধানের ব্রিটিশি কাঠামো অটুট আছে। দলীয় চাকরবাকর মিলে একটা সংবিধান লিখে তা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিলো স্বাধীনতার পরে। যার কলিজার মধ্যে ব্রিটিশ ও পাকিস্তনী শাসন কাঠামোর মূল শাস রয়েছে। পরে এই সাংবিধানিক উপনিবেশিকতা জন্ম দিয়েছে স্বৈরতান্ত্রিক গণতন্ত্র। দেশে এখন কায়েম হয়েছে সাংবিধানিক ফ্যাসিবাদ। এই সংবিধান এখন হয়ে ওঠেছে জবরদস্তিমূলক শাসনের কাগুজে ছল।

সংবিধান নিয়ে ৭২ সালেই আপত্তি জানিয়েছেন মওলানা ভাসানী। আবুল মনসুর আহমেদ সংবিধান প্রশয়ণের প্রতিভা দেখে বিস্মিত হয়ে ছিলেন। তিনি ইত্তেফাকে বড় প্রবন্ধ লিখে হুঁশিয়ার করেছিলেন। তিনি লিখেন, রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের মতাদর্শকে জনগণের মত ও ইচ্ছা বলিয়া চালাইয়াছেন বহুবার বহু দেশে। সব সময়ই যে তা খারাপ হইছে তাও নয়। আবার সব সময়ে তা ভালও হয় নাই। পাকিস্তানের সংবিধানের বেলায় ‘ইসলাম’ ও বাংলাদেশের সংবিধানের বেলায় ‘সমাজতন্ত্র’ জাতীয়তা ও ধর্ম-নিরপেক্ষতাও তেমনি অনাবশ্যক ভাবে উল্লেখিত হইয়া আমাদের অনিষ্ট করিয়াছে। আমাদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বহু জটিলতার সৃষ্টি করিয়াছে। [ সংবিধানের বিধানিক ত্রুটি,‘ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ পৃষ্ঠা ৪৭৯]

ভাষানীর পত্রিকা ‘হক কথা’ এই সাংবিধানিক বিকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে লড়াই চালিয়েছে। এবং অবাক করা ব্যাপার হলো বাংলাদেশে প্রত্যেক সরকারই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার মধ্যেই স্বৈরতন্ত্র কায়েম করার সুযোগ নিয়েছে। সংবিধানকে নিজের ইচ্ছা মতো ব্যবহার করেই স্বৈরতন্ত্র কায়েম করা হয়। এখন সাংবিধানিক ফ্যাসিবাদের কবলে নতুন যে স্বৈরতন্ত্র দেখছি তার হিসেবে যেহেতু আন্তর্জাতিক স্বার্থ সরা-সরি জড়িত ফলে এর হিসাবটাও আর আগের মতো হবে না। এটা ইসলামকে এনিমি করার মধ্য দিয়ে ধর্মযুদ্ধের মার্কিন ছঁকে খেলছে। এর পরিণতি যে ভয়াবহ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

স্বৈরতন্ত্র তো সাংবিধানিকভাবে সবসময়ই ছিল। লিবারাল বুদ্ধিজীবীরা সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নিয়া অনেক দিন থেকে কথা বলে আসছেন। তাদের সাবধান বাণী ব্যার্থ করে দিয়ে এই সরকারের আমলে এসে স্বৈরতন্ত্রের উল্লম্ফণ ঘটেছে বলা যায়। বিরোধীতার কোনো কিছুই সরকারের আর ধাতে সইছে না। সংবিধানকে এমন এক ত্যানায় পরিণত করেছে এটা দিয়া আর ময়লা-অবর্জনাও পরিস্কার করার জো নাই। রাজনীতিতে বিরোধীতার শর্ত হাজির থাকবেই। এটা জানা কথা। কিন্তু হাসিনা সরকার কোনো বিরোধীতাই মেনে নিবেন না। তার শাসন কাল কে তিনি কাগুজে সংবিধান দিয়ে ইচ্ছামত বাড়িয়ে নিবেন। বিরুদ্ধ মত কে গুলি করে দমন করবেন! কোনো প্রতিবন্ধকতাই তিনি আমলে নিবেন না হিসাবই আর তিনি ধর্তব্য মনে করছেন না। এই অবস্থাকে বাংলায় বলে, ‘ধরা কে শরা জ্ঞান করা’।

আর এই কাজে তিনি যা করছেন ইংরেজিতে তাকে বলে, ‘পলিটিক্যাল ইউজ অব দা পাস্ট’। ৭১ এর মতো একটা ইভেন্টকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছেন। ফলে স্বাধীনতার ঐতিহাসিকতা এখন কৌতুকে পরিণত হয়েছে।

এই অবস্থায় কোনো নাগরিকেরই অধিকার রক্ষা হতে পারে না। তা হচ্ছেও না। চেতনার নামে মধ্যবিত্ত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসই উস্কে দিয়েছেন। চেতনার রাজনীতির উল্টা পিঠে আবির্ভাব ঘটেছে হেফাজতে ইসলামের। সেই সব ঘটনা কমবেশি সবারই জানা। কিন্তু সরকার হেফাজতকে দমনের যে নজীরবিহীন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী লাইন নিয়েছে তা খোদ লীগের নেতাদেরই বিপদে ফেলে দিয়েছে। এমপিরা নিজ এলাকায় নিগৃহীত হচ্ছেন। ভোটের হিসেবে নেমে এসেছে কালবৈশাখী।

দুর্বল হোক সবল হোক যে কোনো ফ্যাসিবাদের জন্য যুদ্ধ হলো অনিবার্য। যুদ্ধ ছাড়া ফ্যাসিবাদ টিকতে পারে না। ফলে দেশে তো চোরা গৃহযুদ্ধ চলছে এক প্রকারে। এর সাথে দিন দিন যে ভাবে জামায়াতকে ও হেফাজতের মতো নাগরিক আন্দোলনকে একাকার করে শত্রুর কাতারে ঠেলে দেয়া হয়েছে তার পরিণতিতে ধর্মযুদ্ধের মেঘ পাকিয়ে উঠছে। এর সাথে মার্কিন ইন্টারভেনশন ও ভারতের স্বার্থও এসে জুটেছে একতালে। এই অবস্থায় নিদেন পক্ষে দেশে ভয়ের সংস্কৃতি চালু না করলে ফ্যাসিবাদের রাজত্ব টিকিয়ে রাখা মুশকিল। লেডি হিটলার তাই সঠিক সময়ে সঠিক কাজটিই করেছেন বলতে হবে। আর ঠিক এই ফাঁকেই হাসিনা গং বাজাবেন জঙ্গিবাদের পুরানা কেসেট। অনন্ত যুদ্ধের প্রোজেক্টে হাসিনা নিজেকে আইরন লেডি প্রমাণ করার জন্য এই সকল রেফারেন্স পয়েন্ট ক্রিয়েট করছেন। ইউনূস এবং মার্কিন আপত্তির প্রতি সরকারের থোরাই কেয়ার ভাবের রাজনৈতিক পাঠ এখানেই নিহিত। এর প্রমাণ হিসেবে আপনারা মনে করে দেখতে পারেন, হাসিনা যখন নিজ দেশে নাগরিকদের গুলি করে মারছেন। তখন হোয়াইট হাউস জঙ্গি দমনে হাসিনার প্রসংশা করে তা আবার হল্লা করে প্রচার করেছে। এই ধারাবাহিকতায় রাজনীতির মাঠে হাসিনা সরকার টিকে যাবে কি না তা আগাম বলার কিছু নাই।

রাজনীতির সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়ানোর রাস্তা যেহেতু সরকার খোলা রাখে নাই। কোনো দাবির প্রতিই তার সায় নাই। সন্ত্রাসের বয়ান উৎপাটনে কাজে লাগনো হচ্ছে, মিডিয়া, চেতনা, ধর্ম, ডিজিটাল বয়ান, বিলবোর্ড ইত্যাদি নানা কৌশল।

জনগণের অধিকার হরণ করে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না। এই অধিকার হরণের রাজনীতির পরেও যদি জনগণের হুস না হয় তাইলে ফ্যাসিবাদের কবলে বাংলাদেশের রাজনীতি আটকা পড়বে। অদ্ভুত এক স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থার মধ্যে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে কতিপয় লোকের লোটের রাজ্য।

এই অবস্থার জন্য আমরা নিজেরা কি প্রস্তুত হয়েই বসে আছি? আমার কেন এখনও নিজেদের মৌলিক তর্কগুলা হাজির করতে পারছি না। কেন আজও সব কিছু ধোয়াসা। পার্থ চট্রোপাধ্যায় যেমন বলেন, ভারতবর্ষের ইতিহাসে, তার নানা পরির্বতন, বিরোধ, নতুন ধর্মের প্রবর্তন, শাস্ত্রীয় ধর্ম আর লোকধর্মের নানা সংমিশ্রণের মধ্যে উচ্চ-নিচের পারস্পরিক ক্ষমতার বিরোধ দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু এই ইতিহাস আমরা অনুসন্ধান করে দেখিনি। ফলে ভারতীয় সমাজের মৌলিক দ্বন্দ্বের চরিত্র এখনও আমাদের কাছে অস্পষ্ট[জাত-জাতি-জাতিয়তা: ইতিহাসের উত্তরধিকার]

কিন্তু বাংলাদেশে ব্যাপারটা এতো অস্পষ্ট না। গণতন্ত্র ঐতিহাসিকভাবে এখানে গণবিরোধী ধারা হিসেবে নিজেকে হাজির করেছে ফটকা কথা-বার্তা দিয়ে। বামরা হয়েছে হাস্যকর জীব। ৭১ চেতনা হয়েছে গণহত্যাকারী। শহুরে বা মধ্যবিত্ত সমাজ আধুনিকতার এমন এক আফিমের ঘোরে মত্ত যে এর দ্বারা কোনো রাজনীতির সম্ভাবনা ক্ষীণ। এমন পরিসস্থিতিতে আমাদের ইতিহাসের নতুন ইভেন্টের দরকার পড়বে। আর ইসলামের সাথে জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে আন্দোলনের যে অবহেলিত ইতিহাস এই জনগোষ্ঠী আজও লালন করে তার প্রত্যাবর্তন দেখতে পাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিতুমীর দুদ্দ শাহ ঘুমায় নাই এই শ্লোগান শুনা গেলে অবাক হবার কিছু নাই। ফলে ফ্যাসিবাদি কালচারাল মধ্যবিত্ত শক্তির বিরুদ্ধে যে শক্তি রাজনৈতিক হিম্মত নিয়ে আগাবে। যে নৈতিক এজেন্সি আকারে হাজির হবে। যে ইনসাফ প্রশ্নে আপোষহীন হবে আগামী বাংলাদেশর ইতিহাস হবে তাদের বিচরণ ক্ষেত্র। সে ইসলাম বা বৌদ্ধ যে চেতনারই হোক তা ধর্তব্য নয়। অন্যদিকে ইসলামের যে গ্লোবাল লড়াই জারি আছে তার আছড়ও বাংলাদেশে পড়বে। পড়াটাই স্বাভাবিক। ফলে আমাদের জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও নৈতিক ঐক্য  ছাড়া আমরা আগামী দিনের লড়াইয়ে টিকতে পারবে না। এই দিকগুলো খেয়ালে রেখে আমাদের আগামী দিনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করাই এখন জরুরি কাজ। মজলুমের ঐক্যবদ্ধ লড়াই জালেমের জমানার অবসান ঘটাতে পারে। অন্যায় বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোটাই ন্যায় যুদ্ধ। পাল্টা বলপ্রয়োগের বৈধতাও এভাবে তৈয়ার হয়। এর মধ্য দিয়ে সমাজে কায়েম হয় নতুন ন্যায়। এটা ডিনার পার্টি বা প্রবন্ধ লেখার মতো কাজ না। ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য পাল্টা ক্ষমতা তৈরি করার মামলা। এর জন্য প্রথম প্রয়োজন মতাদর্শ ও সাংস্কৃতিক লড়াইকে সংগঠিত করা। ফ্যাসিবাদের সমস্ত দুর্গ ধসিয়ে দেয়া।  আর এই লড়াইয়ে ইসলাম অবশ্যই মজলুমের পক্ষে।

‘জালেম ও শোষক যে কোনো ধর্মের, যে কোনো বর্ণের, যে কোনো দেশের বা সমাজের হউক না কেন তাহারা আল্লাহর শত্রু, সমাজের দুশমন। ইহা সর্বদাই শোষিত ভাই-বোনেরা মনে রাখিবেন। অন্তঃকরণ হইতে সর্বপ্রকার ভয়ভীতি দূর করিয়া জালেম ও শোষকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে জেহাদ করিতে না পারিলে শোষিত মজলুম মানুষের দুঃখ দুর্দশা কিছুতেই দূর হইবে না এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনও সম্ভব হইবে না’ [মওলানা ভাসানী ‘হক কথা’ প্রথম বর্ষ ২৬ তম সংখ্যা, ১৯৭২ সাল ২৫ আগস্ট]

 images (2)

আমাদের জনগণের লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে হাজির করতে হবে নতুন ন্যায়। ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে আমরা নিজেদের রাষ্ট্র দাঁড় করাতে না পারলে খুনের রাজত্বে লাশ পাশে নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। লাশ…আমার আপনার আপনজনের লাশ। নিজেও লাশ হয়ে যেতে পারেন যে কোনো সময়। আপনার লাশ হওয়ার জন্য আদলতই যথেষ্ট। আছে পুলিশ লীগ, দলীয় ক্যাডার। মৃত্যু ফাঁদে আটকে পড়ছে বাংলাদেশ।

এই অবস্থায় নাগরিক অধিকার হরণের যেকোনো রাজনীতিকে সরাসরি প্রতিহত করা ছাড়া মানুষের মানবিক সম্মান রক্ষা হতে পারে না। প্রতিরোধের সংস্কৃতি আমাদের আছে। ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আমাদের প্রতিরোধের পথে ফিরতে হবে। মানবিক মর্যাদা রক্ষার লাড়াই সবচেয়ে পবিত্র লড়াই। অধিকার হরণ করলে মানুষের মান থাকে না। নি:সন্দেহে বাংলাদেশ এখন লড়াইয়ের দ্বারপ্রান্তে অপেক্ষা করছে। মানুষ বেরিয়ে আসবে তার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। কোনো দলের না কোনো গোষ্ঠীর না বাংলদেশের মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই। জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই। এই লড়াইয়ে বাংলাদেশই জিতবে কোনো ফ্যাদিবাদি স্বৈরতান্ত্রিক অপশক্তি নয়।

রেজাউল করিম রনি
কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Ssh! No Islam Please, We’re Bengali

This article investigates the seemingly Islamophobic editorial policy of the Dhaka Tribune, and relates it to the deeper question of why Bangladesh’s current ruling elite have such an aversion to the Islam and Muslim culture of their subjugated population. It is high time that this state of affairs was transformed.

man reading newspaper in bangladesh.jpg

‘The Matrix’ that is Bangladesh: Which pill will you take, the red pill or the blue pill, reality or rhetoric?

Two Worlds Apart

In late February 2014 two meetings were held on the rights of ‘indigenous’ people. One was held in Dhaka at the Cirdap auditorium, the other in London at King’s College. Both were talking about the rights of indigenous people, the threats they faced and depictions of Islam.

The Bangladesh conference talked in alarmist tones of the epidemic of indigenous children being converted shock horror, to Islam in Muslim majority Bangladesh. There was no mention of Christian missionary activity, but only Muslims propagating their faith. In the imaginary world of the organisers, Islam is not a universal and dynamic tradition, but a static religion established 1400 years ago, it became the second largest religious tradition, purely on the reproductive abilities of its original adherents.

This view runs against the everyday reality experienced by Muslims in their lives and throughout their histories. From the earliest community, lead by the Prophet (pbuh), down to the Sufi giants of the Indian subcontinent, calling people to God has been one of the essential foundations of the faith and community. Frustration at the double standards applied towards Muslim vis a vis Christian missionary work in the Chittagong Hill Tracts region was expressed in Hefazat e Islam’s tenth point in their first set of demands last year.

Stop anti-Islamic activities in Chittagong propagated by several NGOs and Christian missionaries under the guise of religious conversion.

The Dhaka gathering stood in stark contrast in attitude to the one held in London by Reprieve, a human rights organisation that works for fair trials and justice for the most vulnerable and powerless against the most powerful states. Reprieve’s intervention aimed to highlight the plight of large communities in the tribal areas of Pakistan who live under constant fear of extrajudicial killing from drone attacks by the United States with the complicity of sections of the Pakistani state and wider society. Theirs is risky work, their key speaker, journalist Kareem Khan, whose son and father had been extrajudicially killed in a drone strike in December 2009, had been kidnapped then released in Pakistan only days earlier. The 2012 report Living Under Drones is well worth digesting for more background. The key difference here was that neither the participants nor their western liberal audience viewed Islam as an anathema, but instead as a source of strength in the struggle for universal humanity and rule of law. From Kareem Saheb’s opening prayer with the prayer of the Prophet Moses before facing his Pharaonic stepfather, to the supplications of solidarity he extended to the victims of state crimes in Dhaka last May. Kareem Saheb, took the same message of shared humanity,  universal rights and pride in Islam to the European Parliament. The European Parliament showed their approval of the message by passing a resolution demanded European Union Member States not to “perpetrate unlawful targeted killings or facilitate such killings by other states” and called on them to “oppose and ban practices of extra judicial targeted killings.

Comparing both conferences, what I found incredulous were not the views expressed in Dhaka, Muktasree Chakma Sathi is entitled to her opinions, misunderstandings and key performance indicators. There is a  need for more genuine, faithful interfaith space in Bangladesh, and in the absence of justice for any majority, minorities are vulnerable to co-option, division and rule. I was dumbfounded at how these views could be produced and published in the Dhaka Tribune without any challenge or right to reply.

‘Crusading’ Churnalism from Dhaka to London

crusading knight.jpg

‘Crusading’ journalism at the Dhaka Tribune proving indeed that ‘the pen is  mightier than the sword’.

This is not the first time the newspaper has run a negative, irrational news story on Islam and Muslims. Over its short lifespan of a year, there is a recurring pattern of negative and irrational attitudes toward the belief of the Muslim community in Bangladesh. From cursory, non-scientific search of the stories run by the Dhaka Tribune using the adjective Islamic, between a third to half of the stories are related to violence, militancy and terrorism. This gives any reader, prone to believing what they read in print, the impression that Islam is a regressive and violent religion, with a large section of its adherents engaged in militant terrorist activities.

It is worth scratching the skin of a particularly smug example or the irrational Muslim meme. On Language Day the Dhaka Tribune published an article with the title ‘New Fatwa deems Mars Trips Haram’. It was a story that clerics in the UAE had given a legal opinion that it is prohibited for a Muslim to fly to Mars, deliberately distorting the facts by a fatwa to the Mars One mission. The actual relevance of the story to Bangladesh I am yet to figure out (answers on a postcard please), but the psychic intention is clear. The Dhaka Tribune claimed that following the fatwa, ‘Muslims banking on a holiday to Mars will have to cancel their plans on space travel.’

This particular piece came just days after the right wing anti-immigrant Daily Mail published the story in the UK. The Daily Mail is currently being investigated by the UK Press Complaints Commission after it published a racist and Islamophobic op-ed piece ‘satirising’ a private community visit to a children’s theme park. The piece, which wrote of busses, with Muslim children on, blowing themselves up, was met with right wing revelry and public revulsion. More than 25 national Muslim groups wrote a letter of complaint to the editor  with regards to the paper’s piece on Islam and Muslims, arguing that the piece has increased the risk of attack on Muslims from far right groups.

The story, printed by both the neocon Daily Mail and ‘progressive’ Dhaka Tribune for similar effect is patently untrue. A rebuttal was issued from the UAE, explaining that the answer was to a kamikaze-like, one-way trip to Mars. Given the Muslim moral abhorrence of suicide, the answer was a prohibition rather than an affirmation. The entire episode is lampooned elsewhere on the internet.

It begs the question of why the Dhaka Tribune would publish a story so clearly negative about Muslims, of no relevance to Bangladesh, echoing a right wing anti immigrant newspaper, and which was based on a cruel twisted half truth. To put the impression this gives of Dhaka Tribune’s professionalism, integrity and agenda even more clearly, the Daily Mail piece in the UK was actually much better.  They at least buried the correct context of the story in the text beneath their sensationalist Muslim-negative headline, whereas the Dhaka tribune further spun the story out of context with its own Fatwa saying it meant that flying to Mars was morally reprehensible (haraam).

The American Muslim cleric Musa Furber, argued the episode demonstrated a deliberate media distortion of facts. He stated, the type of voyage Mars One plans is not analogous to the type of voyage presented in the article. Mars One aims to establish a permanent and sustainable human colony on Mars, as is apparent from its mission goals, roadmap, and the risks and challenges involved. It is obvious that this isn’t the type of voyage addressed in article, nor is it the type deemed impermissible in UAE fatwa authorities clarification.

The Ignorance Multiplier Effect and The War on Terror Economy

Needless to say, the story underscores the ignorance, and ignorance multiplier effect of the Dhaka Tribune on Islam, as it was misleading its audience that a fatwa issued in the UAE was somehow a binding space-exploration legislation upon all Muslims over all time and space, like the equivalent of a Catholic papal bull. The exact opposite is the truth and as this is a recurring error, briefly outlined next.

A fatwa is nothing more than a personal legal opinion, optional for everyone else to follow and morally binding only upon the person who issues it. An analogy might be made to the issue of legal opinions from courts in common-law systems. Fatwās generally contain the details of the scholar’s reasoning, typically in response to a particular case, and are considered a binding precedent by those Muslims who have morally bound themselves to that scholar, including future muftis. Mere rulings can be compared to memorandum opinions. The primary difference between common-law opinions and fatwās however, is that fatwās are not universally binding. The Islamic legal traditions are not universally consistent nor are they hierarchically structured. Contrary to what some would have us know, fatwās do not carry the sort of weight that secular common-law opinions do.

A well-trodden social response to the editorial policy of the Dhaka Tribune, would be to judge that its editor, staff and proprietors are anti-Muslim. A similar accusation was raised by a staff member at the paper, arguing that the paper was promoting intellectual attacks on Islam.   Proponents of such a view might point to editor Zafar Sobhan’s facebook page where he suggests Salman Rushdie’s ‘Satanic Verses’, a book banned in Bangladesh, to be one of his favourite.

zs.jpg

Zafar Sobhan’s facebook page is a regular portal for the Dhaka flatterati to pay tribute.

Such arguments are too blunt for the challenge at hand, but have indicative value. They are dismissed, by the religiously indifferent of course, with statements like ‘but there is a prayer room in the Gencom building’, or some derivation of ‘brown people can’t be racist’, and ‘how can he have an irrational antipathy towards Islam when he was born Muslim?’ Vocal objection to this publication’s apparent approach to perhaps the majority of its reader’s, if not their parent’s din might even be met with the well worn liberal-sounding excuse of “Well if you don’t like it, nobody is asking you to read it.”

Yet it is very much in the public interest to dwell on the matter for longer.  As the War on Terror economy booms in Bangladesh, it becomes steadily more deadly and systematic as corporate media and corrupt scholarship seek more control over our intellects, bodies and relations with each other. We must penetrate deeper than observation and frustration at systematic bias, to examine the broken record that plays us for fools.

 Introducing the Three Bankruptcies of Islamophobia in Bangladesh

The irrational antipathy the paper has towards Islam and Muslims in Bangladesh, emanates from a three pronged bankruptcy: intellectual, economic and moral, which have their origins and development deep in history. It creates an anaesthetising alienation and a homebrew Southern Comfort for the powerful and the privileged.

It is a crying shame that the self proclaimed liberal elites of Bangladesh do not deem it fit to extend such values of tolerance and compassion to their less advantaged neighbours. Instead of honouring their expensive educations by partnering with fellow citizens in tough predicaments, they continue to lap up the global war on terror narrative to preserve the status quo, keeping their neighbours, and themselves, in their place.

This is in sharp contrast to the acts and works of Professor Akbar S Ahmed, who in his latest volume The Thistle and the Drone, advocates the rights of ordinary citizens on the periphery of modern states who have found themselves victimised like the Pakistani tribesman by drones, the Age of Globalisation’s most terrifying kill technology.

The Islamophobia manifesting through the Dhaka Tribune is more insidious than Bollywood, and its buzz reverberates amongst many within the current power elite and ‘polite’ circles that Mr Sobhan services. It is the result of internalisation of a racist 19th century Britisher argument which at it core says that one cannot be both a Liberal and a practicing Muslim. It is as if they are two static, mutually exclusive categories. According to such a warped development indicator, one measures progress by the distance one keeps from living Muslim traditions. It is an outdated, bankrupt ‘essentialist’ view of Islam, ignoring its diversity and dynamics, gaining inspiration from the dictum of the imperialist British poet Rudyard Kipling: ‘OH, East is East, and West is West, and never the twain shall meet…’

J S Mill.jpg

Do as I say not as I do: J S Mill was one of the founders of modern liberalism, who also worked in the British Imperial Indian Civil Service

This argument has its roots in the works of J S Mill, who made it clear in On Liberty and Representative Government that his views there could not be applied to India, because Indians were civilizationally, if not racially inferior. This powerful view continues, tacitly and explicitly, despite vivid contradictory evidence, from Reprieve’s work with Pakistanis against drones, to Hasan Suroor’s recent study with Indian Muslims.  It is an opinion that sheds more light on the insecurities of its advocates than the inadequacies of non-European civilisations.

Revis(it)ing Two Economies and The Song of Bangladesh

Indian classical festival.jpg

Indian fiddling while Dhaka burns: Bengal Classical Music Festival (BCMF) held at the Army Stadium from November 28 to December 1 2013 – during which time when opposition party members were being rounded up and killed by security services for their agitation for free and fair elections.

The Dhaka Tribune, with its combination of op-ed declamation, hypnotic kitsch history, mass choreography of facts and dramatic partisan lighting finds its model in a party street rally rather than the liberal newspaper it purports to be. A construction of a grandiose theatre rather than debate, its readership are offered images of themselves as the editorials want, with little correspondence with reality.

It would appear that Mr Sobhan is trying  to recreate a spectacle of a Bangladesh in his reader’s mind that shall forever be Calcutta, and a second-rate one at that, with a colonially capital driven and Muslim-lite metropolis extracting resources and cheap labour for global markets from a Muslim rural hinterland. A century on and  The Song Remains the Same.

In this two (cultural) economy theory, Eastern Bengal (Bangladesh) has a dependent and binary relationship with its Western half. According to the theory, the ruling elites of Bangladesh, in return for economic concessions and precious foreign exchange,  purchase kitsch manufactured cultural products, political attitudes and certainties from a Delhi directed West Bengal. This attitude is exemplified in the newspaper’s favourable attitude towards the Indian government and turning a blind eye to the increasing Indian interference in domestic politics and domination over the economy.

The paper’s metropolitan myopia barely picks up the looming environmental crisis in rural Bangladesh, amongst other factors caused by the unilateral construction of upstream dams by the Indian government. A recent classical music festival is given more coverage than barrages and rivers in a country where millions are displaced environmental refugees. Multiple environmental crises are devastating certain parts of the rural economy and society, causing rural depopulation and driving desperate throngs into the crowded slums of Dhaka, where many are compelled to accept dangerous working conditions for meager wages. It is a labour market where wages are artificially kept low by the ruthless clampdown on dissent, as witnessed by the brutal torture and murder of labour activist Aminul Islam by individuals linked to the security forces. The Rana Plaza industrial disaster and its production are not the exception to the rule, but a tip of the iceberg of the two economies of Bangladesh.

It is a familiar image, but with different technology, of the absentee landlord, his rent collector and the tenant farmer, a return to the supposed ‘cultural’ heydays of British Raj following the 1793 Permanent Settlement, where centuries-old flexible land tenures were unilaterally appropriated then handed over by the British to a select, pliant moneyed class. This fundamental, multi-generational mutilation of social and ecological relations fueled the much celebrated 19th century Bengali renaissance that rested on the back of dispossession and pauperisation in the countryside.

A reminder of the true human cost of Bengal under the British is recorded in Noam Chomsky’s, World Orders Old and New:

“A British enquiry commission in 1832 described the effect of sponsored government created through Permanent Settlement Act of British Parliament. The commission found “the settlement fashioned with great care and deliberation has to our painful knowledge subjected almost the whole of the lower classes to most grievous oppression.” In the words of Director of East India Company, “The misery hardy finds a parallel in the history of commerce. The bones of cotton weavers are bleaching the plains of India” Nevertheless Governor-General of India, Mr. Bentinck, was unmoved and observed, ” The permanent settlement, … has this great advantage, at least , of having created vast body of rich landed proprietors deeply interested in the continuance of the British Dominion and having complete command over mass of the people.”

Let them eat culture: (l) An illustration of famine victims of the Permanent Settlement Acts, and (r ) the 19th century Bengali Renaissance was result of a joint venture interaction between British Administrators and their Bengali Zamindari (feudal) colleagues.

Let them eat culture: (l) An illustration of famine victims of the Permanent Settlement Acts, and (r ) the 19th century Bengali Renaissance was result of a joint venture interaction between British Administrators and their Bengali Zamindari (feudal) colleagues.

The fear, and reality, of economic bankruptcy is an under-explored driver of human behaviour. Politically produced famines have claimed the lives and hopes of millions of our forefathers and mothers  through 1770, 1943 and most recently 1974.  In the shadow of such absence, this verse of Joan Baez’s haunting lament over our most recent military war is given new layers of meaning.

The story of Bangladesh

Is an ancient one again made fresh

By blind men who carry out commands

Which flow out of the laws upon which nations stand

Which is to sacrifice a people for a land

Morality and The ‘New’ Anandabazar School of Journalism

Intellectual, economic and moral factors intermingle in the messiness of real life, but the moral sphere is our next zone of interest. For those who can remember as far back as 2007, Mr Sobhan once reimagined the theatre of Bangladesh using the Christian Biblical story of Original Sin. Exhibiting symptoms of the Clark Kent ‘Ubermensch’ syndrome, Sobhan urged his countrymen to, ‘cleanse the poison from our bloodstream’. Since taking power in 2008 the Awami League government has obliged, we continue to see a rising number of political disappearances and deaths, not to mention mass incarceration and criminalisation of opposition activists.

This concept of Original Sin is opposed by the Qur’anic narrative and Muslim world view of Adam (ah) and his progeny – us – of original innocence, forgiveness, spiritual equality and personal responsibility. Original Sin is a fatalistic doctrine of Western Christianity, which is an anathema to and challenged by the egalitarian spirit of Islam.

A more apt Qur’anic and Judaic narrative that speaks to the reality of Bangladesh would be that of Cain and Abel.  Cain, who killed his brother Abel the herdsman, and built a city, prefigured the modern call one hears from the polite circles of Dhaka, of the necessary cost of ‘progress’. The story gives us a framework to  understand how ‘civilised’ people like Zafar Sobhan can dehumanise and applaud brutality against their fellow citizens, as we saw from the Dhaka Tribune’s production and coverup of the 6th of May Massacre.

zsliveblog.jpg

In an interview for the University of Liberal Arts Bangladesh, Dhaka Tribune Editor Zafar Sobhan extols the virtues of media ethics and modern technology, stumbling ( choking? ) over a reference to his paper’s live blogging of  “May 5th, 6th… the Hefazot in Dhaka”.

This attitude reenacts the tragic history of the bloody fields of Plassey in 1757 in modern day Bangladesh. At the heart of the tragedy lies the betrayal by Mir Jafar of Siraj Ud Daulah, a tragedy we replay time and again, one betrayal after another, of brother against brother, all in the name of  a misconceived notion of ‘progress and development’.

marchofprogress

The onward march of ‘progress’ in the history of the Bangladeshi people: (l) From the fratricide of Cain and Abel, to the (c) 1757 betrayal at Plassey and  a (r)  scene from the May Massacre in Dhaka .

Following in the footsteps of Zafar Sobhan in the use of Christian Biblical terms, the best summation of the Dhaka Tribune and its editor is:

And the LORD said unto Cain, Where is Abel thy brother? And he said, I know not: Am I my brother’s keeper?

(King James Bible, Genesis 4:9)

or as Sher e Bangla Fazlul Haq is reported to have said:

‘I worry the day when I see that the Anandabazar* has printed something positive about me, because that is the day I understand that I have done something against the interest of the Bengali Muslims’.

sher e bangla.jpg

The Lion of Bengal ‘Sher e Bangla’, A K Fazlul Haq, founder of the Krishak Praja Party (Farmer’s People’s Party) and the first elected premier of Bengal

* Anandabazar Patrika is a Kolkata based Bangla daily newspaper, founded in 1922, it was then seen as representing the interests of absentee landlords against their mainly Muslim tenant farmers.

সীমান্তের এপার ওপার – পর্ব ২

 by WatchDog

ব্ল্যাক-মেইলিং’এর এমন মুখোরচক গল্পের সাথে একেবারে যে পরিচয় ছিলনা তা নয়, কিন্তূ তা সীমাবদ্ব ছিল কেবল খবরের কাগজে। কিন্তূ এ ধরনের অভিজ্ঞতা সাক্ষাৎ যমদূত হয়ে আমার নিজের সামনে হাজির হবে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি। একদিকে অফিসে আমার সততা, অন্যদিকে দু’টো বাসা পর ভালবাসার মানুষটার কথা মনে হতেই মনে হল আমি ঘামছি। ভারি বৃষ্টির কারণে অনেকেই আফিসে আসতে পারেনি সেদিন, আর যার কথা ভেবে বেশী চিন্তিত হচ্ছিলাম সে ছিল রাজশাহীতে, ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজে ভর্তি পর্ব সমাধানে ব্যস্ত। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বুকে সাহষ নিয়ে মুখোমুখি হলাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক জারজ সন্তানদের। এবং এটা ছিল এ ধরনের অনেক মুখোমুখির শুরু মাত্র।

আমার জন্যে অপেক্ষা করছিল রাজ্যের বিস্ময়। এক; রিং লীডার যার নেত্রীত্ত্বে স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনারের ছত্রছায়ায় এ লাভজনক ব্যবসা প্রসার লাভ করছিল, সম্পর্কে সে আমার মামা, মার আপন খালাত ভাই। বহু বছর মামাবাড়ি যাওয়া হয়নি বলে এমন আজরাইল উত্থানের সাথে পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়নি আমার। মামা এ জন্যে হাজার আফসোস করতে লাগলেন। সাংগ পাংগদের বের করে দুপা জড়িয়ে রাজ্যের মাফ চাওয়া শুরু করল আমার মামা। কথা দিতে হল আমার জেলা শহরের কাউকে এ ঘটনার কথা জানতে দেবনা। আগামী নির্বচনে বিএনপির আশীর্বাদ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা তার। সব ভন্ডুল হয়ে যেতে পারে আমার গল্পে। তা ছাড়া আমাদের পারিবারিক প্রত্যাঘাত সামলাবার মত কোমরের জোড় আমার মামুর যে ছিলনা তা বলাই বাহুল্য।

দুই; গল্পের নায়িকার প্রসংগ আসতেই জানতে পারলাম চমকপ্রদ এক কাহিনী। বাংলাদেশের রাজপুটিন আজিজ মোহম্মদ ভাইয়ের সুন্দরী নেটওয়ার্কের সে ছিল পোষ্য সদস্য, ব্যবসার অন্যতম অংশীদার ছিল তার মা। কালের চক্রে এই টিভি সুন্দরীর সাথে ভিন্ন পরিস্থিতীতে দেখা হয়েছিল, কথা হয়েছিল তার মার সাথে। সে কাহিনী লিখতে গেলে বিশাল এক উপন্যাসের সূত্রপাত হয়ে যাবে, যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনীতি এবং এর সূবিধাভোগীদের নিয়ে স্ল্যাম ডগ মিলিওনিয়ারের মত মহাকাব্যিক এক ছায়াছবি বানানো যাবে হয়ত। তুলে রাখা যাক এ কাহিনী অন্য এক সময়ের জন্যে। এ ফাকে বলে রাখা ভাল, এ ঘটনার পর অফিসে চাঁদাবাজি ভোজাবাজির মত মিলিয়ে যায়।

মন এমনিতেই তিতিয়ে ছিল ঢাকা শহরের প্রতি, মডেল কন্যার ঘটনাটা সিদ্বান্তটা এগিয়ে আনতে সাহায্য করল। আমি ঢাকা ছেড়ে নিজ শহরে চলে যাচ্ছি। কোটি মানুষের ঢাকা শহর আমার মত নগন্য একজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাবে তার কোন সম্ভাবনাই ছিলনা, বাস্তবেও হল তাই। চোরের মত পালিয়ে গেলাম এ শহর ছেড়ে। ক’টা মাস আগেও জীবন ছিল মস্কো, লন্ডন, বার্লিন এবং ইউরোপের বিভিন্ন জমকালো শহর ভিত্তিক, অথচ ঢাকায়ও আমার জায়গা হলনা আজ। যাওয়ার আগে এক বন্ধুর পরামর্শে হাজার দশেক টাকা খরচ করে স্কীল মাইগ্রেশনের জন্য গুলসানস্থ অষ্ট্রেলিয়ান দূতাবাসে একটা দরখাস্ত জমা দিয়ে গেলাম।

যে বাড়িতে আমার জন্ম, যেখানে আমি বড় হয়েছি, বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যে মেঘনা নদীর কুল ঘিরে বেড়ে উঠেছে আমার শৈশব, কৈশোর, সে মাটিতে আমি ফিরে গেলাম। মাঝ খানে অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেছে, নদীতে গড়িয়ে গেছে অনেক পানি। দু’টা মাস শুধু ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলাম; ইউরোপের ক্লান্তি, ঢাকা শহরের ক্লান্তি সব ধুয়ে মুছে কোন এক সুন্দর ঝলমল সকালে হাজির হলাম পারিবারিক শিল্প-প্রতিষ্ঠানে। এখানে আমাকে কাটাতে হবে পরবর্তী বেশ ক’টা বছর, মুখোমুখি হতে হবে রাজনীতির কদার্য এবং কুৎসিত চেহারার সাথে। আমরা যারা বাংলাদেশের রাজনীতিকে নেত্রী এবং দল ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভেবে মূল্যয়ন করতে অভ্যস্ত, তাদের জন্যে আমার পরবর্তী লেখাগুলো হতে পারে চক্ষু উন্মোচনের শুরু হিসাবে।

চলবে..

Posted Wed, 04/22/2009 – 00:35

সীমান্তের এপার ওপার – পর্ব ১

by Watchdog Bd

সময়টা ’৯৫ সাল, অষ্ট্রেলিয়াতে সবেমাত্র মাইগ্রেট করেছি। সিডনির কেনসিংটনে ২ রুমের একটা ফ্লাটে আরও দু বাঙালীর সাথে শেয়ার করছি। ১১ বছরের ইউরোপীয় জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছিলাম মা, মাটি আর মানুষের টানে। প্রথম চাকরী, প্রথম প্রেম, প্রথম ভালবাসা, প্রথম বিরহ, এমন অনেক কিছুই ছিল প্রথম, যার মাঝে মিশে গিয়ে কখন যে মাছে-ভাতের বাঙালী বনে গিয়েছিলা বুঝতেও পারিনি। আমি না বুঝলে কি হবে, আমাকে বুঝিয়ে দেয়ার মানুষের কিন্তূ অভাব হলনা। রাজনীতির পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত একটা দেশে সূস্থ হয়ে বেচে থাকতে চাই ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদ, সে আশীর্বাদ পাওয়ার যোগ্যতা আমার কোন কালেই ছিলনা, কারণ ঈশ্বরের অস্তিত্ত্ব নিয়েই আমি ছিলাম দ্বিধান্নিত। রোজার ঈদ সামনে, চারদিকে মহা আয়োজন। বরেন্দ্র গভীর নলকুপ বিদ্যুতায়ন প্রকল্প নিয়ে নওগা জেলার হাওর-বাওর চষে বেড়াচ্ছি। ৭/৮ জন সহকারী প্রকৌশলী সহ একটা টিম নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি গাধার মত। ঈদের সময়, সবার বেতন চাই, ভাতা চাই, বোনাস চাই, চারদিকে শুধু চাই আর খাই খাই ভাব। কাজের পারিশ্রমিক আদায়ের লক্ষ্যে রাজশাহী বিদ্যুৎ অফিসে বিল জমা দিতেই আমার জন্যে অপেক্ষা করছিল অন্য এক জন্মভূমি। চাঁদপুরের অধীর সাহা নির্বাহী প্রকৌশলী, খুলনার আবু বকর সহকারী প্রকৌশলী, রহিম সাহেব প্রধান প্রকৌশলী, ইত্যাদি ইত্যাদি, সবাই আমাকে ডেকে পাঠাল আপন কুঠুরীতে, ব্যক্ত করল নিজ নিজ চাহিদা। শুভ্র দাড়িওয়ালা দুই হাতে ১১ আংগুলের আবু বকরকে সৃষ্টিকর্তা বোধহয় অতিরিক্ত একটা আংগুল দিয়েছিলেন পাপের টাকা গোনার জন্যে। সেই আঙ্গুল দিয়েই গুনলেন টাকাগুলো এবং তা ছিল শেষ তারাবির ওজু অবস্থায়। মসজিদে ওজুরত প্রকৌশলীর ঘুষ গ্রহন, এ দৃশ্যটা আমাকে সাড়া জীবন তাড়িয়ে বেড়াবে ঈশ্বরের নৈকট্য হতে।

1796695_10203414187734864_514804841_n

পত্নীতলা, বদলগাছি, মহাদেবপুর এবং ধামুইরহাটের ধানচাষীদের সাথে অন্যরকম একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এক বছরে, তাদের অনেকের আতিথেয়তা আবু বকরদের মত অসৎ মানুষদের কলুষতার নীচে চাপা পড়তে দেয়নি। আমার মুখ হতে শোনা বিদ্যুৎ আগমনী বার্তা তাদের কাছে ছিল রূপকথার কল্প-কাহিনীর মত। পৃথিবীর উত্তর দক্ষিন মেরুর অনেক প্রান্ত চষে বেড়িয়েছি, হরেক রকম মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি, কিন্তূ নওগা জেলার সীমান্ত এলাকার ঐ মানুসগুলোর কথা আমার এই কাচা কলম দিয়ে মূল্যায়ন করলে তাদের প্রতি অবিচার করা হবে। বরং তাদের কথা, এবং সে এলাকার মানুষ গুলোর বেচে থাকার লড়াইয়ের কথা জন্মভূমির ভাল কোন কিছুর প্রতীক হিসাবে তুলে রাখব হূদয়ের খুব গভীরে। ঈদ শেষে প্রমোশন পেয়ে প্রকল্প প্রকৌশলী হতে প্রকল্প পরিচালক হয়ে মুক্তি পাই অবৈধ লেনদেনের এই অস্বাস্থ্যকর চক্র হতে, কিন্তূ পাশাপাশি মিস করতে শুরু করি খুব কাছ হতে জন্মভূমিকে দেখার র্নিভেজাল সূযোগকে।

বেশীদিন টিকতে পারিনি ঢাকা শহরে, মোহম্মদপুরের ছোট অফিসটায় রাজনীতি নামের গুন্ডাদলের নিয়মিত পদধূলি জীবন অতিষ্ঠ করে তুলে। সকালে চাঁদা, বিকেলে চাদা, রাতে চাঁদা, বিএনপির চাদা, আওয়ামী চাদা, ওয়াজ মাহফিল, ব্যডমিন্টন টুর্নামেন্ট, একুশে ফেব্রুয়ারী, রাস্তায় নিহত পথচারী সৎকারের চাঁদা, চাঁদার সমুদ্রে হাবুডুবু খেতে গিয়ে একটা সময় এল যখন জীবন যুদ্বের এ পর্ব পূনঃমূল্যায়ন করতে বাধ্য হলাম। অনেক আগে বাংলাদেশ বিমানের একটা কমার্শিয়াল দেখতে খুব ভাল লাগত, ‘ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী‘। হঠাৎ করে আমার পৃথিবীও কেমন যেন ছোট মনে হল, শ্বাষ নিতেও কষ্ট হয়। কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিতে আমার অফিসে কোন এক সুন্দর সকালে হাজির হয় খোলা তরবারির মত ধারালো অনিত্য সুন্দরী এক টিভি মডেল, তার ফোন করা দরকার। এভাবেই শুরু, তারপর তাকে প্রায়ই দেখা যেত আমাদের অফিসে, না না ছুতায়, হরেক রকম বাহানায়।

দিনটা ভূলে যাওয়ার মত ছিলানা, অঝোর বর্ষনে কাঁদছিল ঢাকা শহর। শ্রাবনের বর্ষনে ভরা এমন একটা দিনের কথা ইউরোপে বাস করতে গিয়ে কত শতবার যে কল্পনা করেছি তার হিসাব নেই। গভীর তন্ময়ে মোহগ্রস্থ হয়ে গিলছিলাম বৃষ্টির বিরামহীন কান্না। দলবেধে তারা এল, বয়স ১৮ হতে ৩০/ হাতে হরেক রকম অস্ত্র; ছুরি, রামদা, নানচাকু, পিস্তল। বাসা হতে পালিয়েছে টিভি কন্যা, যাওয়ার সময় বান্ধবীদের বলে গেছে মোহম্মদপুর অফিসের ঐ প্রকৌশলীর সাথে জীবন গড়তে পা বাড়াচ্ছে অচেনা পথে।

চলবে…

Posted Sun, 04/19/2009 – 15:51 by WatchDog

“ওয়ার অন টেরর”: বাংলাদেশ অধ্যায়

1

by Jahid Islam

সোভিয়েত-আফগানিস্তান যুদ্ধ থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দীর এ সময় পর্যন্ত নির্মিত বাস্তব দুনিয়ার সবচেয়ে সেরা থ্রিলিং সিনেমার নাম ‘ওয়ার অন টেরর’/ এটা সিকুয়েল মুভি,পার্ট অনেক। সিরিয়ালও বলা যেতে পারে। ‘লিও স্ট্রাউস’ নাকি ‘স্যামুয়েল হান্টিংটন’ কে এই সিনেমার স্ক্রিপ্ট রাইটার সেটা নিয়ে তর্ক হতে পারে। আবার দুই জনের থিওরি জোড়া লাগিয়েও বানানো হতে পারে। তবে মানতেই হবে মাস্টার স্ক্রিপ্ট। প্রধান চরিত্রে এ শতাব্দীতে ইতিমধ্যে অভিনয় করেছেন জর্জ বুশ,টনি ব্লেয়ার। এরপর এসেছেন বারাক ওবামা, নিকোলাস সারকোজি, এবং সর্বশেষে এসেছেন ফ্রাঙ্কয়িস হলান্ডে। কাহিনী ও সময়ের বাস্তবতায় চরিত্রগুলো পরিবর্তন হয়েছে।

wot

সিনেমার শুটিং হয়েছে আফগানিস্থান, পাকিস্থান, ইয়েমেন, কেনিয়া, তানজানিয়া, ইরাক, মালি, নাইজেরিয়া, লিবিয়া, সিরিয়া সহ পৃথিবীর নানান প্রান্তে। অনেকগুলো স্পটে চিত্রায়ন এখনো চলছে।

সাধারণ দর্শকের দৃষ্টিকোণ থেকে আলকায়েদার সাথে এ খেলায় অংশ গ্রহণকারীদেরকে তাদের ভুমিকার ভিত্তিতে চার ভাগে ভাগ করা যায় বলে আমার মনে হয়েছেঃ-

 ১/ প্লেয়ারঃ যারা সরাসরি এ খেলায় অংশগ্রহণ করে। যেমন- আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স।

২/ সহযোগীঃ যারা এই ওয়ার অন টেররে আমেরিকারকে সাহায্য করে। যেমন- পাকিস্থান।

৩/ ডাবল সাইডেড প্লেয়ারঃ যারা আলকায়েদাকে আর্থিক অনুদান এবং লোকবল সরবরাহ করে, আবার আমেরিকারকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে ওয়ার অন টেররে সাহায্য করে । যেমন –সৌদি আরব।

 ৪/ খেলায় অংশগ্রহণের ভয় দেখায়ঃ কতিপয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ক্ষমতায় থাকার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে একে ব্যবহার করতে চান। তাদের মূল বক্তব্য হল, “আমি এবং আমার দল ক্ষমতায় না থাকলে দেশ আফগানিস্থান, পাকিস্থান হয়ে যাবে অথবা আল কায়েদার ঘাঁটি হয়ে যাবে”। এ প্রপোজিশন নিয়ে খেলায় অংশ গ্রহণ করেছেন লিবিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফি । তার খেলা শেষ। এখনো খেলে যাচ্ছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। তবে এ খেলা মনে হয় সহজে শেষ হবেনা। প্রফেসর ড. তারিক রমাদানের মত আমিও বিশ্বাস করি এ খেলা শেষ না হওয়ার ব্যপারে দুই পক্ষের মধ্যে (এক পক্ষে আমেরকা, অন্য পক্ষে রাশিয়া এবং চীন) ঐক্য আছে। এছাড়াও এখানে অন্য রিজিওনাল প্লেয়াররাও জড়িত আছে যারা নিজেদের আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় খেলছে। যেমন- ইরান, তুরস্ক, কাতার, ও সৌদি আরব।

যাই হোক, এটা হল ভূমিকা। এবার আসি আসল কথায়।  সম্প্রতি আইমান আল জাওয়াহিরি’র ভিডিও টেপ বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়ার প্রকাশিত হয়েছে। এটি দেখিয়ে শেখ হাসিনা চার নম্বর গ্রুপে যোগ দিবেন দিবেন করছেন। যারা এ খবরে অবাক হয়েছেন, আসলে তাদের অবাক হওয়া দেখে আমি অবাক হয়েছি। আমার কাছে এর কারণ খুব পরিস্কার। যারা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে তারা চিরকাল বেঁচে থাকবে না। এর মধ্যেই এক জনের ফাঁসি হয়েছে, একজন জেলে মারা গেছে। সম্ভাবনার বিচারে বাকিদেরও ফাঁসি হওয়ার কথা, একজাক্টলি কি হবে আল্লাহই জানেন। ফাঁসি না হলেও এরা সবাই বয়স্ক। ৮/১০ বছরের মধ্যেই অনেকে স্বাভাবিকভাবেই মারা যাবেন। অতপর এ খেলা শেষ। এরপর কি হবে ?

খেলার নিয়ম অনুসারে এরপর অন্য কোন ইস্যু আসার কথা।  ইসলামিক টেররিজম কিংবা আঞ্চলিক নিরাপত্তা একটা ভাল ইস্যু।  বাজারে এর চাহিদা আছে।  তাই একে সামনে ঠেলে দিতে হবে। এ কাজ করবে কে ? উত্তর সহজ। প্রচারের প্রধান ভূমিকায় থাকবে এই দেশের ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ অর্থাৎ দেশি নিউকনিয়ান সেপাইদের প্রমোশনাল ভেহিকল ‘প্রথম আলো’ ।  ‘নিউইয়র্ক টাইমস এবং ‘প্রথম আলো’ এর মধ্যে সমন্বয় করার কাজটি করবেন মাহফুজ আনাম এবং তার মেয়ে বিশিষ্ট ‘ফিকশন লেখিকা’ তাহমিমা আনাম। ভারতের ‘আনন্দবাজার’ ও থাকবে এ দলে । এ ছাড়াও এ দেশ থেকে থিঙ্ক  ট্যাঙ্কে থাকবেন আবুল বারাকাত, শাহরিয়ার কবির,মুন্তাসির মামুন, সজীব ওয়াজেদ জয়, দীপু মনি ও গওহর রিজভী। এরা প্রমিনেন্ট প্লেয়ার, অনেকে থাকবেন পর্দার আড়ালে।

তবে এ খেলায় সরাসরি আমেরিকা নামবে না। বাংলাদেশের এ গোষ্ঠী চাইলেও না। কেননা ডেমোক্রেসি প্রতিষ্ঠা করার মত যথেষ্ট তেল সম্পদ বাংলাদেশে নেই। আমেরিকা চায় বাংলাদেশ মোটামুটি  স্থিতিশীল থাক। তাই তারা সবাইকে  রাজনীতিতে ইনক্লুড করার কথা বলে। এমনকি জামায়াতকেও। এতে সব দলকে একজিস্টিং ফ্রেমওয়ার্কে আনা যাবে যাতে অবস্থা স্থিতিশীল থাকবে।

তবে এখানে আছে লোকাল ভেন্ডর ভারত যাদের এ হিসেবে একটু আপত্তি আছে । ফলে দরকষাকষির মাধ্যমে যেটাতে মার্কেটে ইকুইলিব্রিয়াম এসেছে সেটা হল, আমেরিকা খেলাটা মনিটর করবে। কিন্তু সেটা রিজিওনাল এলাই হিসেবে গ্রেটার ইন্টারেস্টের কথা চিন্তা করে আউটসোর্স করে দিবে ভারতকে। ভারতের এখানে বহুমুখী লাভ আছে। যেমন- আসাম সহ অন্যান্য অস্থিতিশীল অংশগুলোতে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, বাংলাদেশের উপর দিয়ে অবাদে বিনা খরচে পণ্য পরবিবহন, নামে মাত্র মূল্যে বন্দর ব্যবহার করা, দেশের অভ্যন্তরে গেরিলা নিয়ন্ত্রন করা ইত্যাদি। সর্বোপরি, বাংলাদেশ যদি ভারতের একটি স্থিতিশীল অঙ্গরাজ্য হিসেবে কাজ করে তাহলে সবচেয়ে ভাল হয়।
এটা করতে হলে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় থাকতে হবে যে কোন মূল্যে। এর জেন্য দরকার লং এবং শর্ট টার্ম প্ল্যান। শর্ট টার্ম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আওয়ামীলীগ এবার ক্ষমতায় এসেছে, এতে আনপ্রেসিডেন্টেড সমর্থন দিয়েছে ভারত। ফলাফল হিসেবে ভারত প্রতিদানও পেয়েছে একেবারে হাতে নাতে। উলফা কে আর্মস সরবরাহ এর অভিযোগে অভিযুক্তদের ফাঁসি হয়েছে। এরপর, লংটার্ম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসেছে এ নতুন প্রপোজিশন। ৩ মাসের পুরনো ভিডিও টেপ নিয়ে মাতামাতির ব্যপারটি আমি এভাবেই দেখি।

তবে এ খেলার আরেকটি মজার দিক আছে যেটি সাধারণত চার নম্বর ক্যটাগরির লোকেরা আগে থেকে বুঝতে পারেনা, অন্তত এখনো পর্যন্ত কেউ পারে নি।  যারাই এ খেলায় অংশগ্রহন করে দেশের জনগণের সাথে “আল-কায়দা আল-কায়দা” খেলেছেন তাদের পরিণতি খুব একটা সুখকর হয়নি। উধাহরণ- গাদ্দাফি, পারভেজ মোশাররফ। এদেরকে ব্যবহার শেষে যথাস্থানে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে ঠিক যেমন মীর জাফর কে ছুঁড়ে ফেলেছিল ইংরেজরা।

ইতিহাস বলে থেকে মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না। শিক্ষা না নেওয়ার পেছনে যুক্তি দেখায়- দিজ টাইম ইট ইজ কোয়াইট ডিফরেন্ট। লেটস সি হোয়াট হেপেন্স দিস টাইম !

বাঙালি মধ্যবিত্তের মন ও মাদ্রাসা শিক্ষার ভবিষ্যৎ

1

by Alauddin Mohammad

 

বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জের নিম্নবিত্ত মুসলমানরা এখনো ১০০ টাকা আয় করলে পরম ভক্তিভরে ১০ টাকা রেখে দেয় এলাকার মসজিদ ও মাদ্রাসায় দানের জন্য। অনেক অঞ্চলে নতুন ফসল ঘরে তোলার আগেই স্থানীয় মাদ্রাসায় চলে যায় একটা অংশ। আর এভাবেই টিকে আছে দেশের মোট শিক্ষার্থীর প্রতি ৩ জনের ১ জনের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অংশ। আর এই মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে শহুরে মধ্যবিত্ত ভদ্রলোকেদের দৃষ্টিভঙ্গি আবার খুব একটা সুবিধার নয়।

Madrassa

তাদের অনেকেরই এই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর শুভ্র জোব্বায় ভীষণ ভয়। আর ’৭১ এর একটি বিশেষ গোষ্ঠীর দোহাই দিয়ে তাঁদের গল্প-উপন্যাস-সিনেমায় মাদ্রাসা শিক্ষিত মোল্লা-মুন্সীদের খলনায়ক বানানোর চিরস্থায়ী প্রকল্প তো চলছেই। ইদানিংকালে আবার যুক্ত হয়েছে জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের ঠেকানোর জিহাদ। এ অবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নীরব থাকাটাও একটা নাগরিক ব্যাধি।

 

বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ কোন মাত্রায় আছে কিংবা আদৌতেই আছে কিনা এখানে সে তর্কে যাব না। তবে বর্তমান সরকারের কর্মপরিধির একটা বিরাট অংশজুড়ে যে রয়েছে ‘জঙ্গিবাদের উত্থান’ ঠেকানো এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের মূলেও যে রয়েছে এই জঙ্গিবাদ ফ্যাক্টর সেটা নিয়ে অবশ্য তর্কের অবকাশ নেই। বাংলাদেশে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ইসলামী জঙ্গিবাদকেই বুঝিয়ে থাকেন। এই ইসলামী জঙ্গিবাদের সাথে ইসলামী শিক্ষার রয়েছে এক শক্তিশালী সম্পর্ক।

 

উপমহাদেশের মুসলমানদের শিক্ষার সূচিকাগার মাদ্রাসা শিক্ষা এভাবেই জড়িয়ে যায় জঙ্গিবাদের আমলনামায়। মাদ্রাসা শিক্ষা বললেই আমাদের মাথায় ইসলামী শিক্ষার একটা চিত্র ভেসে উঠলেও এই মাদ্রাসা শিক্ষাও কিন্তু একমুখী নয়। শিশুশিক্ষণ মক্তবের বাইরে বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের মাদ্রাসা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রথম প্রকারে আছে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত আলীয়া মাদ্রাসা এবং দ্বিতীয় প্রকারে আছে ওয়াহাবী দর্শনের মাদ্রাসা যেটি কওমী নামেই বেশি পরিচিত।

 

ঐতিহাসিকভাবেই এই দুই ধরনের মাদ্রাসা আলাদা আঙ্গিকে গড়া। ব্রিটিশ ভারতে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৮০ সালে প্রথম আলীয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। গোঁড়া থেকেই এই মাদ্রাসার সাথে রয়েছে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার সম্পর্ক। অন্যদিকে কওমী মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষা ওয়াহাবী দর্শনের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। উপমহাদেশে উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনের শুরুটাই হয়েছে ওয়াহাবীদের দ্বারা যারা উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের জন্য ভারতের উত্তর প্রদেশে ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেওবন্দ দারুল ওলুম মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসার পথিকৃৎ হল শহীদ সৈয়দ আহমদ বেরেলভীর আদর্শ। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কংগ্রেসের প্রথম সারির মুসলিম নেতারা দেওবন্দ মাদ্রাসার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং মাদ্রাসার স্কলারগণ শায়খুল হাদিস হোসাইন আহমদ মাদানির নেতৃত্বে পাকিস্তান ধারণার সক্রিয় বিরোধিতাও করেন।

deoband

মাদ্রাসাটি আজো দেওবন্দ অঞ্চলের মুসলিমদের অনুদান বিশেষত এলাকাবাসীর ফসলের একটা অংশের দ্বারা পরিচালিত। বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোও দেওবন্দের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সরকারবহির্ভূত খাতের সাহায্যেই টিকে আছে।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২০১১ সালের তথ্যমতে, আলিয়া মাদ্রাসার মোট সংখ্যা ৭০০০ এবং তাহমিমা আনামের গার্ডিয়ানে প্রদত্ত তথ্যমতে, দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কলা এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের শতকরা ৩২ শতাংশই এই আলিয়া মাদ্রাসা থেকে শিক্ষালাভ করেছেন।

 

অন্যদিকে দেশে কওমী মাদ্রাসা রয়েছে প্রায় ৬৫০০টি এবং এর মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষের মতো। এই সংখ্যা তাহমিমা আনামসহ বাঙালি মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় পাঠ করছেন ভয়ার্তভাবে! কারণ এই মাদ্রাসা শিক্ষিতরা সমাজের যে তলানি থেকে উঠে আসছেন তাদের বিশ্বাস করা যায় না। যেকোনো সময় এরা অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে! অথচ এই তলানিতে যে তলে তলে একটা নূন্যতম শিক্ষার ছোঁয়া পৌঁছে গিয়েছে সেদিকে তাঁহাদের নজর পড়বে না।

 

মসজিদে মাদ্রাসা শিক্ষিত মৌলভীদের পেছনে নামাজ আদায় আর বাবার জানাজার জন্য মহল্লার সবচেয়ে বুজুর্গ মাওলানাটির খোঁজ করা হলেও সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি কোন শ্রদ্ধাপূর্ণ দৃষ্টি নেই। মাদ্রাসা শিক্ষিত দাঁড়ি-টুপিওয়ালাদের কথা মাথায় আসলেই একটা অবজ্ঞার ভঙ্গি ফুটে উঠে তাদের মানস-চরিত্রে। তারা মাদ্রাসাশিক্ষিতদের দেখতেও চান সিনেমা-নাটকে রাজাকার-দেশদ্রোহী কিংবা দুষ্ট চরিত্রের অবয়ব হিসেবে। অথচ প্রকৃত বিচারে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের তুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষিতদের সামাজিক অপরাধে সংশ্লিষ্টতার হার সিকি ভাগও নয়। ইদানিংকালে এই মাদ্রাসা শিক্ষিতদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা মধ্যবিত্তের অবজ্ঞা ও উন্নাসিক মনোভাবকে আরো উস্কে দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষিতদের কল্পিত প্রতিপক্ষ হিসেবেই দাঁড় করিয়েছে।

 

এ অবস্থায় আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিতদের কাছ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিও একটি রাজনৈতিক দাবি হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। এর অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ এই মাদ্রাসার সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।

 

মাদ্রাসা শিক্ষার কিছু কিছু দিক হয়তো বর্তমান বাস্তবতায় সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ক্ষেত্রেও অনেকখানি সত্য। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাটা মূলত ধর্মশিক্ষা কিংবা পরকালীন বিশ্বাসকেন্দ্রিক জীবন চেতনা থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বহুদূরে অবস্থিত। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা টিকেই আছে এক দ্বৈত চেতনার সম্মিলন হিসেবে। এ কথা বলা হয়তো অন্যায় হবে না যে, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ইহলৌকিকতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এবং মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ইহলৌকিকতা স্বীকারপূর্বক পরলৌকিক মুক্তির আলোকে প্রতিষ্ঠিত।

 

মাদ্রাসা শিক্ষার এই ইহলৌকিক জায়গাটা নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষিতদের পুনর্বিবেচনা সময়ের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিতরা যখন নিজেদের একটা ঊর্ধ্বতন স্থানে ভেবে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কারের দাবি তোলেন তখন মাদ্রাসা শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ তাদের দাবিকে লেজ কাটা বানরের পরামর্শতুল্যই ভেবে থাকেন। আর এভাবে তারা হয়ে উঠেন একে অপরের প্রতিপক্ষ।

 

এই মুখোমুখি অবস্থানের পরোক্ষ ফল হচ্ছে গণবিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রান্তিকীকরণ। বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়ে থাকে। এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যারা যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুযোগ তার জন্যই অবধারিত হওয়ার কথা। কার্যত সে রকম একটা ব্যবস্থাই ঐতিহাসিকভাবে চলে এসেছে। সে ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে অনেক মাদ্রাসা শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গই জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পেয়েছেন। ঢাকার দুই প্রান্ত যাত্রাবাড়ী এবং টঙ্গীকেন্দ্রীক উন্নতমানের আলীয়া ও ক্যাডেট মাদ্রাসার উত্থান মাদ্রাসা ছাত্রদের এ সুযোগকে আরো প্রসারিত করেছে। সে সুবাদে গত দুই দশক ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাদ্রাসা ছাত্রদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে এই বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের সহাবস্থান দিয়েছে আধুনিক শিক্ষার সাথে মাদ্রাসা শিক্ষিতদের এক সমন্বয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় আসতে শুরু করে গুণগত পরিবর্তন যেখানে একই শ্রেণীকক্ষে ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীদের চিন্তার সংশ্লেষণ বাড়তে থাকে। এক কথায় মাদ্রাসা শিক্ষিতদের আধুনিক শিক্ষায় স্বাগতম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ওয়ালারা এ পরিবর্তনকে যেন মেনে নিতে পারলেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকগণ এক এক করে প্রথম পছন্দের বিভাগগুলোকে মাদ্রাসা ছাত্রদের জন্য অবাঞ্চিত ঘোষণা শুরু করলেন। যে নীতিনির্ধারকেরা মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার ও আধুনিকীকরণে সদা ব্যতিব্যস্ত তাঁরাই মাদ্রাসা শিক্ষিতদের জন্য আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবাঞ্চিত করলেন। রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এ দ্বৈত ভূমিকা যেকোন বিচারেই অবৈধ এবং এটি শিক্ষাব্যবস্থার সংকটকে গভীরতর করেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রান্তিকীকরণ মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকীকরণের প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিতদের বহু বছর ধরে চলে আসা দাদাগিরিকে ভণ্ডামির পৈতা পরিয়ে দিয়েছে। এমনকি সরকারি ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাতে ধর্মীয় শিক্ষার পরিবর্তে ব্রতচারী কিংবা মানবতাবাদী শিক্ষা বাস্তবায়নের চেষ্টা মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে উচ্চকণ্ঠদের প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষকদের অনাস্থা, ঘৃণা ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। সে প্রেক্ষাপটে মাদ্রাসা শিক্ষা কীরূপে আধুনিক হবে ও কতটুকু আধুনিক হওয়া দরকার তার অনুধাবন ও দাবি মাদ্রাসা শিক্ষিতদের মধ্য থেকেই আসতে হবে। অন্যদিকে সংস্কারের দাবিদারদের এটাও মাথায় রাখতে হবে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতরা ‘আধুনিকতা’কে যেভাবে ইহলৌকিকতা অর্থে গ্রহণ করে থাকেন মাদ্রাসা শিক্ষার মূলনীতির সাথে এর কোন তফাৎ আছে কিনা।

 

একদল অসভ্য বর্বর শ্রেণীকে সভ্য করতে হবে এই রকম ‘হোয়াইট ম্যান’স বার্ডেন’ জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার দিকে তাকানো বাংলাদেশি মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও নীতিনির্ধারকদের এক ধরনের মানসিক হীনমন্যতা। মাদ্রাসা শিক্ষার সামাজিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে স্বীকারপূর্বকই কেবল এই ব্যবস্থার পরিবর্তন কিংবা কালোপযোগীকরণ নিয়ে কথা বলা যায় এবং সেটা আসতে হবে মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকেই। সে পরিবেশ কীভাবে তৈরি করা যায় সেটা নিয়েই রাষ্ট্রযন্ত্রের ভাবনা-চিন্তা করা উচিত।

 

সেক্যুলার বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিকগণ বাংলাদেশের প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীর একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী হওয়ার অবস্থাকে ভয়ানক বলে দাবি করছেন। পরিস্থিতি সত্যিকার অর্থেই ভয়ানক কিনা এটা বলা মুশকিল। তবে এ তথ্যকে আমরা একটু অন্যভাবে পাঠ করতে পারি। যেহেতু বাংলাদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাদ্রাসার চেয়ে ব্যক্তি ও সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা অধিক সে হিসাবে প্রতি ছয় জন শিক্ষিতের একজন ব্যক্তি অনুদানের মাদ্রাসার উদ্যোগে ন্যূনতম শিক্ষার আলো লাভ করছে। আর সে বিচারে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সামাজিকভাবে মানুষ হিসেবে তুলে ধরায় ও শিক্ষার বিস্তারে এই মাদ্রাসাগুলোর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে যে কারণে মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে যুক্ত হয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কেন্দ্রে উঠে আসার সংগ্রাম।

 

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত নীতিনির্ধারকগণ যদি এইভাবে মাদ্রাসা শিক্ষার দিকে দৃষ্টি দিতে সক্ষম হন কেবল তখনই তারা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মবিশ্বাস আশ্রিত শিক্ষাব্যবস্থাটির নৈর্বক্তিক মূল্যায়নে সক্ষম হবেন। আর এ কাজটি করতে পারলে মাদ্রাসা শিক্ষিত এবং মাদ্রাসা শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার গ্রহণযোগ্য দিকটির প্রতি আকৃষ্ট করা যাবে। তাতে দুইটি ভিন্ন ধারায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটা আস্থার সম্পর্ক তৈরি হবে।

 

তখন হয়তো একটি অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকেও অধিকতর বিজ্ঞানমুখী এবং আধুনিক করে গড়ে তোলা যাবে। এটা না করে জঙ্গিবাদের ধোঁয়া তুলে স্বল্পকালীন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য যেভাবে একটি প্রান্তিক শ্রেণিকে নির্মূলের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে তা আখেরে রাষ্ট্রের ভিতকেই নাড়িয়ে তুলতে পারে।

৭৫’এর হত্যা যদি অবৈধ হয় এ হত্যাও অবৈধ…

by Watchdog Bd
নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে মানুষ। ভুতুরে কায়দায় হাওয়া হয়ে যাচ্ছে ওরা। নগর, বন্দর, হাট-মাঠ-ঘাট হতে কোন এক অলৌকিক শক্তিবলে উধাও হচ্ছে দু’হাত দু’পা ওয়ালা আদম। ১৯৩৯ হতে ৪৫ সাল পর্যন্ত ইউরোপে অহরহই ঘটতো এ ঘটনা। ১৯৭৩-৭৫ সালে সদ্য জন্ম নেয়া বাংলাদেশও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল নিখোঁজ হওয়ার ভৌতিক অধ্যায়। হিটলারের গেস্টাপো আর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীর রক্ষীবাহিনী নীরবে, নিঃশব্দে, অনেকটা ’ইনভিজিবল ম্যান’ কায়দায় হানা দিত দুয়ারে। এ যেন মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে খোদ আজরাইলের আগমন। এ ধরণের শাহী আগমনের শেষ গন্তব্য কোন বন্দর তা জানতে আমাদের হয়ত কবর হতে উঠিয়ে আনতে হবে ৫০ হতে ৭০ মিলিয়ন ইউরোপীয়, এশিয় আর আফ্রিকান জীবন। বাংলাদেশের বেলায় এর সঠিক পরিসংখ্যান আমরা কোনোদিনই জানতে পারবো না মেরুকরণ নামক রাষ্ট্রীয় কলেরার কারণে। পরিসংখ্যান ব্যুরো কেন, কবরেও আমাদের মেরুকরণের ভুত। এ ভুত যেনতেন ভুত নয়, খোদ আজরাইল নিযুক্ত যান্ত্রিক ভুত, যা দম দেয়া পুতুলের মত খোঁড়াক যোগায় রাষ্ট্রীয় ’তামাশার’… হিটলার ও তার গেস্টাপো বাহিনী এখন ইতিহাস। মানব সভ্যতার এ কলংকিত অধ্যায় সভ্যতা মূল্যায়নের উপকরণ হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সামনেও করে যাবে আরও হাজার বছর। কিন্তু হায়! বিনা বিচারে নাগরিক হত্যা ঠাই নিতে পারেনি আমাদের ইতিহাসে। বরং এ অবৈধ সাংস্কৃতি স্থায়ী আসন করে নিয়েছে শাসন ব্যবস্থার কাঠামোতে। শেখ মুজিব হতে শুরু করে জিয়া, এরশাদ, খালেদা এবং হাসিনা চক্রের কোন চক্রই বেরিয়ে আসতে পারেনি দেশ শাসনের এই আজরায়েলি ভুত হতে। খালেদা জিয়া সরকার RAB নামের যে গেস্টাপো বাহিনীর জন্ম দিয়েছিল হাসিনা সরকারের ছায়াতলে পল্লবিত হয়ে তা পরিণত হয়েছে বিশাল মহীরুহে। ম্যান্ডেট নিয়ে দেশ শাসনের গণতান্ত্রিক রেওয়াজে অলিখিত আইন হয়ে গেছে বিনা বিচারে হত্যা নামের পশুত্ব। এবং তা বৈধতা পাচ্ছে সরকার ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় হতে। ক্রসফায়ার নামক হুমায়ুন আহম্মদিয় নাটক শুরুতে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল শাসন ব্যবস্থার অক্ষমতা ও নাগরিক অধিকার ফিরে পাওয়ার আকুতি হতে। শত শত হত্যাকান্ডের পর কতটা সফল হয়েছে এ আয়োজন? স্বাভাবিক জন্মমৃত্যু সহ একটা সহজ সরল জীবনের কতটা কাছে যেতে পেরেছি আমরা? দুর্নীতি, হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ সহ সমাজের অবক্ষয় গুলো কতটা কমানো গেছে হত্যাকান্ডের মাধ্যমে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এখন ঘরের বাইরে যেতে হয়না, বরং দুয়ারে এসে জানিয়ে দেয় দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নামক রাষ্ট্রীয় অলংকারের শক্তিমত্তা। দুর্নীতিতে উপর্যুপরি চ্যাম্পিয়নশীপ জাতি হিসাবে আমাদের এনে দিয়েছিল বিশ্বখ্যাতি। এ অধ্যায়ের সফলতম সংযোজন হিসাবে কাজ করছে আজকের বিনাবিচারে হত্যাকান্ড। বিশ্ব মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে মানবতাবিবর্জিত বাংলাদেশি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। স্বভাবতই সরকারকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে আর্ন্তজাতিক চাপ। এবং এখানেই হয়ত অন্যের সাথে নিজের পার্থক্য ও বুদ্ধিমত্তা তুলে ধরতে পেরেছেন দেশপ্রেমের ১নং দাবিদার আমাদের প্রধানমন্ত্রী। হয়ত প্রতিপক্ষের সৃষ্টি হত্যাযন্ত্র ভোতা হয়ে আসছিল ডিজিটাল যুগে। তাই আবিস্কার করতে বাধ্য হন এর ডিজিটাল সংস্করণ। রাতের আধারে ক্রসফায়ার নাটক সাজানোর বাংলাদেশি মিথ্যাচার সহজে গেলানো যাচ্ছিল না আর্ন্তজাতিক মহলে। স্বভাবতই হুমকির মুখে পরছিল দেশটার বৈদশিক সম্পর্ক। সমস্যার এমন সহজ ও কার্যকর সমাধানের জন্যে চাইলে হাসিনা সরকারকে নোবেল দেয়া যেতে পারে। আসলেই তো, প্রয়োজন কি রাতের আধারে ক্রসফায়ার নামক মঞ্চনাটকের! বরং ’শক্তিধর’ শত্রুকে ভুত বানিয়ে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা অথবা দেশটার হাওর-বাওর, বিলে ফেলে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়! কেউ জানবে না কে হত্যা করেছে, কেন করেছে, এবং এ নিয়ে জবাবদিহিতারও প্রয়োজন হবেনা আর্ন্তজাতিক মহলে। আইন-আদালত সহ দেশিয় বিচার ব্যবস্থার প্রায় সবটাই তুলে দেয়া হয়েছে দলীয় কর্মীদের হাতে। দলীয় ক্যাডার হতে সদ্য প্রমোশন পাওয়া আদালতের বিচারকগণও টগবগ করছেন সরকার প্রধানের প্রতিদান ফিরিয়ে দিতে। আইনী ঝামেলার দেশীয় ফ্রন্ট সরকারের জন্য ঝামেলামুক্ত।

6a00e0097e4e6888330120a67ddcd2970c-500wi

রাষ্ট্র ও সমাজের শক্র হিসাবে জুয়েল, মিজান, রাজিব ও ইসমাইলদের কতটা কুপ্রভাব ছিল যা দুর করতে তাদের লাশ ডোবা নালায় পুত্‌তে হল? স্থানীয় এসব পেটি-দুষ্কৃতিকারীদের জন্ম ও উত্থানের পেছনে কাদের হাত থাকে নাগরিক হিসাবে আমাদের সবার জানা। বিচার দুরে থাক এ নিয়ে কথা বলাও রাষ্ট্রীয় অপরাধ। এবং এ অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে এক পায়ে দাড়িয়ে থাকে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা। একজন আবুল মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয় নয়, বরং সমসাময়িক বিশ্বের অর্থনৈতিক মোড়ল খোদ বিশ্বব্যাংকের। তাদের অভিযোগ, মন্ত্রীর ক্ষমতাবলে এই বাংলাদেশি বিশ্বব্যাংকের মত আর্ন্তজাতিক সংস্থায় ক্যাডার পাঠিয়েছিল অবৈধ লেনাদেনার তাগাদা দিতে। ক্ষমতা না থাকায় চাইলেও তারা পারেনি আবুল হোসেনকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে। কিন্তু তারা যা করেছে তা ১৫ কোটি মানুষের পেটে লাথি মারার শামিল। অথচ বিচারের দায়িত্বটা ছিল সরকারের। একই সরকার যারা শাস্তির নামে জুয়েল, ইসমাইলদের বিনাবিচারে জীবন্ত কবর দেয়, পাশাপাশি পুরস্কৃত করে আবুল মন্ত্রীর মত মেগা লুটেরাদের। রাজনীতির অন্দরমহলে কথাটা নিয়ে ফিসফাস চলে, অনেক সময় হাসি-ঠাট্টা পর্যন্ত গড়ায়। বলা হয়, আবুল মন্ত্রী নগদ ৬০ কোটি টাকায় মন্ত্রিত্ব ক্রয় করে নিয়েছেন । তাই বিচার দুরে থাক, মন্ত্রীসভা হতে বিদায়ের রাস্তাও নাকি তার জন্যে ছিল বন্ধ। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের বিশাল এক প্রকল্প এই আবুল হোসেনের জন্যে থমকে গেছে। অথচ সরকার প্রধান আসামীর কাঠগড়ায় দাড় করাচ্ছেন বিশ্বব্যাংকের মত আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানকে। সংসদ ভবনের রাজকীয় আসনে বসে দেশের আইন-আদালত আর ন্যায় অন্যায় নিয়ে যারা কথা বলেন তাদের শতকরা ৯৯ জনের ব্যাকগ্রাউন্ড ঘাঁটলে কি বেরিয়ে আসবে তা অনুমান করার জন্যে মনোবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। এসব আউলিয়াদের কাহিনী কি একজন জুয়েল অথবা ইসমাইলের চাইতেও ভয়াবহ নয়?

প্রধানমন্ত্রী হয়ত ভুলে গেছেন অথবা জেনেও না জানার ভান করেন, ১৯৭৫ সালে উনার পিতাকে হত্যা করার প্রেক্ষাপটও কিন্তু তৈরী করা হয়েছিল অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে। এসব অভিযোগ আদালতে উঠানোর সুযোগ না দিয়ে রাতের আধারে তাকে হত্যা করা হয়েছিল কাপুরুষের মত। প্রধানমন্ত্রী নিজেও কি একই কাজ করছেন না? RAB দিয়ে গুম করিয়ে গোপনে যাদের হত্যা করছেন তারাও কি কারো পিতা, সন্তান অথবা ভাই নন? পার্থক্যটা কোথায়? জাতির পিতার সন্তানদের শোক কি তাহলে বাকি শোকের চাইতে ভিন্ন? জানতে চাইলে জিজ্ঞেস করে দেখতে হবে মিজান অথবা রাজীব পরিবারের কাউকে। ৭১’এর আত্মস্বীকৃত খুনি আর ধর্ষকদের বিচারের জন্যে আয়োজন করা হয়েছে কোটি টাকার আদালত। অথচ ক্রসফায়ার নাটকে কাউকে বলি করতে চাইলে তা হওয়া উচিৎ ছিল গোলাম আযম, নিজামী, আমিনী আর সাকা চৌধুরীর দল। একজন ইসমাইলের অপরাধ কি তাহলে নিজামীর অপরাধের চাইতে বেশি?

মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্যতম অধিকার তার স্বাভাবিক জন্ম-মৃত্যুর নিশ্চয়তা। ব্যর্থ রাজনীতি আর অপশাসন-কুশাসনের কুটজালে আটকে মানুষ আজ নাম লেখাতে বাধ্য হচ্ছে অন্যায় আর অবৈধ পথে বেচে থাকার মিছিলে। এ মিছিলের হোতা আর নেত্রীত্বে যারা আছে তাদের গায়ে হাত না দিয়ে যদু, মধু, রাম, শ্যামদের মতো বাই-স্ট্যান্ডার্ডদের গায়ে হাত দিয়ে আর যাই হোক সুশাসন কায়েম যে সম্ভব নয় তা অনুধাবন করার সময় এসেছে। ১৯৭৫ সালে যেমন সম্ভব হয়নি ২০১১ সালেও তা সম্ভব হবেনা।

জননী জন্মভূমি…

by Watchdog Bd

বিএনপির দ্বিতীয় টার্মের সময় তখন। প্রবাস জীবনে ব্রেক নিয়ে দেশে অবস্থান করছি। বাবার মৃত্যুর পর অর্ধশতাব্দি পুরানো আমাদের পারিবারিক শিল্পকারখানার চরম দুরবস্থা। জীবন প্রদীপ নিভু নিভু করছে প্রায়। এ অবস্থা হতে বেরিয়ে আসতে হবে এবং যথাসম্ভব দ্রুত…এমন একটা দায়িত্ব নিতে মার জরুরি তলবের কারণে অস্ট্রেলিয়া হতে ফিরে আসতে হল। বছর দেড়েক লাগল নড়বড়ে অবস্থা গুছিয়ে নিতে। এবং দুই বছরের মাথায় শুরু হল নতুন যাত্রা। কর্তন বর্ধনের পর প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী নিয়ে শিল্পের ভিত্তিটা শক্ত পায়ের উপর দাঁড়িয়ে গেল।

চারদিকের বাণিজ্য বাতাস তখন অস্বাভাবিক ভারী। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কাছ হতে দেখলে গোটা শহরকে মনে হবে চাঁদাবাজীর লাস ভেগাস। সহজ আয়ের এসব বীর সৈনিকদের সংখ্যা হাতে গুনে মুখস্ত রাখা সমস্যা হয়ে দেখা দিল। শেষপর্যন্ত মাছের ভাগার মত ভাগ করতে বাধ্য হলাম। এক ভাগা বিএনপির, এক ভাগা ছাত্রদলের, এক ভাগা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোদ্ধাদের, এক ভাগা মসজিদ, মাদ্রাসা, ওয়াজ, মিলাদ, জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে, খৎনা, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ও একভাগা মাননীয় সরকার মহোদয়ের বেতনভুক কর্মচারীদের। ডিসি সাহেব চাঁদার ইংরেজী তরজমা করে এর গায়ে কন্ট্রিবিউশন তকমা লাগিয়ে ঘন ঘন এলান ফরমানো শুরু করলেন। ওসি সাহেবের কেবল টাকা নয়, সুন্দর এক সকালে এত্তেলা পাঠালেন স্ত্রী ঢাকা যাবেন মার্কেটিংয়ে, আমাদের গাড়িটা দরকার। সাথে থাকতে হবে ট্যাংকভর্তি তেল। বাংলাদেশ নামক দেশটার জন্মের উষালগ্ন হতে দেশের বাইরে। তাই অনেক কিছুর উপর নূন্যতম ধারণা ছিলনা। একটা জাতি সন্মিলিতভাবে এভাবে নোংরামির কোমর পানিতে নামতে পারে আমার জন্য তা ছিল অভাবনীয়, বিস্ময়কর।

দুপুরের খাবারের জন্য বাসায় ফিরছি। কড়া রোদ। রিক্সা নেই কোথাও, তাই হেঁটেই রওয়না দিলাম। কয়েক শ গজ যাওয়া হয়নি, ঘ্যাচ করে হুড খোলা একটা জীপ পথরোধ করে ফেলল। পুলিশ। থ্রি নট থ্রি রাইফেল তাক করে মাটিতে শুয়ে পরার তাগাদা দিল। আমি মূর্তির মত ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম। অন্য একজন ওকিটকিতে কথা বলতে শুরু করল।
-স্যার একজনরে ধরছি। মসজিদের সামনে। বাকিরা পলাইছে। ঠিক আছে, জলদি আসেন।
একটু পর পালের গোদা থানার ওসি এসে হাজির। এসেই মা-বাবার নামে কুৎসিত একটা গালি দিল এবং সহকারীকে নির্দেশ দিল পাশের সেলুন হতে কাঁচি এনে আমার চুল গুলো কেটে দিতে। প্রমাদ গুনলাম। হিসাব কষে দেখলাম নিজকে প্রকাশের এটাই উত্তম সময়। অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক হিসাবে সাময়িক ভিসা নিয়ে বাস করছি বাংলাদেশে। নিজের অধিকার সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। বাংলা নয়, ইংরেজিতেই শুরু করলাম চোর-পুলিশ খেলা।
হু দ্যা ফাক ইউ আর টু কাট মাই হেয়ার?
স্তম্ভিত হয়ে গেল কথিত একজন সন্ত্রাষীর মুখে ইংরেজি শুনে।
তুই বড় চুলের মাস্তান। তোর কাছে এতকিছুর জবাব দিতে বাধ্য নই।
ডাজ কনষ্টিটিউশন অব বাংলাদেশ লিমিটস ইটস সিটিজেনস রাইট টু হেভ লং হেয়ার? ইফ সো, প্রভাইড মি এভিডেন্স।
এবার থেমে গেল ওসির মুখ। হয়ত আশা করেনি তর্কের সবটা ইংরেজিতে চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ।
– ইউ আর আন্ডার এরেষ্ট।
– নো প্রবলেম। লেট মি টক টু মাই এম্বাসি এন্ড গেট সাম হেল্প।
সংখ্যায় ওরা ছিল ৭/৮ জন। পিনপতনের নীরবতা নেমে এল ঘটনাস্থলে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের ড্রাইভিং লাইসেন্সটা পকেটেই ছিল। নিজের পরিচয় যেচেই প্রকাশ করলাম। দমে গেল পুলিশ বাহিনী। এ ফাঁকে খবর চলে গেলে আমাদের কারখানায়। শিফট বন্ধ করে প্রায় ১০০ শ্রমিক ঘেরাও করে ফেললো গোটা এলাকা। চারদিকে টান টান উত্তেজনা। পুলিশ দল নিজেদের ভেতর ফিসফাস শুরু করে দিল। একজন এসে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি রহমান সাহেবের ভাই?
– নট রিয়েলি, আই এম নট, রাদার হি ইজ মাই ব্রাদার। ইংগার ব্রদার।
– আমরা কি আপনাদের কারখানায় গিয়ে কথা বলতে পারি? অতি বিনয়ের সাথে পালের গোদা অনুরোধ জানালেন।
– অভার মাই ডেড বডি। উই উইল স্কয়্যার আওয়ার ইস্যু রাইট হেয়ার।
এবার পুলিশের ঘাড়ে চেপে বসলাম আমি। শুধু শুধু নাম ধাম জিজ্ঞেস করতে থাকলাম। শুরু হল ক্ষমা পর্ব। ভাষ্য মতে কত গুলো মাস্তানকে ধাওয়া করছিল ওরা। তাদের সবার মাথায় লম্বা চুল। দেখতে আমিও নাকি তাদের মত। ততক্ষণে জনতার স্রোত বাড়তে শুরু করল। ঘটনাস্থলে আমাদের পারিবারিক বন্ধু পৌরসভার চেয়ারম্যানকে দেখতে পেলাম। সাথে আমার ছোট ভাই। ওরা শহরের হোমরা চোমরা, মুরুব্বি। জোর করে সরিয়ে আনল আমাকে। রক্তের দাপাদাপি থামাতে ডাক্তার ডাকা হল। তিনদিনের মাথায় সবকিছু থিতু হয়ে এল।

corrupt-police
মাস না গড়াতেই মার সাথে বুঝাপড়ায় বসতে হল। স্বপ্ন আর বাস্তবতার লড়াইয়ে বাস্তবতাই জয়ী হল। ফিরে গেলাম দত্ত্বক নেয়া দেশ অস্ট্রেলিয়ায়।…

ক্ষমতার পালাবদল কি বদলাতে পারবে এসব অসূস্থ সংস্কৃতি? নাকি নতুন বোতলে পুরানো মদ ঢালার মত জাতীয়তাবাদিরাও ঢালতে শুরু করবে চরিত্র সংকটের নতুন সিফিলিস? তাহলে আর কিসের জন্য এ হা হুতাস…কারণ আমার জন্য স্বাধীনতা মানে চুলেরও স্বাধীনতা, গণতন্ত্র মানে মুক্ত বাতাসে চলাফেরার স্বাধীনতা…

মাদ্রাসা শিক্ষাঃ সাব-অল্টার্নের ক্ষমতা

খন্দকার রাক্বীব, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Madrassa

ক্ষমতার প্রশ্নে খুব বড় দু’জন তাত্ত্বিক হলেন গ্রামসি আর ফুকো। গ্রামসির বক্তব্য ছিল হেজেমনিক লোকরা দলিত শ্রেনির লোকদের উপর ক্ষমতাবান। ফুকো এই মতবাদ খারিজ করে দিয়ে বলেন ‘সাব-অল্টার্ন’রাও ক্ষমতাবান হইতে পারে। তার বিখ্যাত উক্তি ছিল ‘পাওয়ার ইজ ইভরিহোয়ার’।

ফুকোর এই বক্তব্য আমার চিন্তার নতুন ধার খুললো। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে বসে ওরিয়েন্টাল ডিসকোর্স খারিজ করে পশ্চিমা কিছু তাত্ত্বিকের তত্ত্ব নির্ভর করে আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করি তা যথার্থ না। আমাদের জানা কথা যে উপমহাদেশে ‘মেইনস্ট্রিম’ শিক্ষাধারার বাইরে মাদ্রাসা শিক্ষার ‘ইন্সটিটিউশনালাইজেশন’ শুরু হয় মূলত ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের পরে, এক ধরনের উপনিবেশবিরোধি আন্দোলনের মোড়কে। ১৮৩১ সালে বালাকোটের যুদ্ধে পরাজয়ের পর মুসলিম শিক্ষাবিদরা এবং ফারায়েজিরা একটা বিশাল ধাক্কা খায়। পরবর্তিতে ১৮৫৭সালে সিপাহি বিপ্লবে ফারায়েজি মুসলিমরা উপনিবেশবাদবিরোধী সিপাহি আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে আবার পরাজিত হয়। যে পরাজয়ের মাশুলও তাদের দিতে হয় চরমভাবে। শেরশাহ’র ‘সড়ক-ই-আজম’ এর পাশে এমন কোন গাছ ছিলনা যার পাশে মুসলিম উলামাদের লাশ ঝুলানো ছিলনা।

উপনিবেশবাদি শক্তির বিরুদ্ধে মুসলিম উলামারা যখন এভাবে টিকতে ব্যর্থ হচ্ছিল তখন তারা উপনিবেশবিরোধি আন্দোলনের চিহ্ন আর নিজস্ব স্বকিয়তা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে সমাজের মূল স্রোতধারার বাইরে চলে যায়। ফারায়েজিদের সহায়তায় নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে। অসংখ্য মাদ্রাসা-মক্তব তৈরি করে। মাওলানা নানুতবি এসময়ে তৈরি করেন দেওবন্দ মাদ্রাসা।

 

তারা উপনিবেশবাদবিরোধি সংগ্রামে পর্যদুস্ত হয়ে এক ধরণের রেসিস্ট্যান্স মনোভাব নিয়ে ‘প্রান্তিক’ পর্যায়ে চলে যায়। আজো তারা ফিরে আসেনি। আমরাও তাদের দূরে ঠেলে দিয়েছি, কখনো কাছে টানার চেষ্টা করিনি, সংকীর্ন রাজনৈতিক কারণ আর একান্ত প্রয়োজন ছাড়া। তাদের সুযোগ-সুবিধা, সুখ-দুঃখ তাদের ভাষায় না বুঝে আমাদের ভাষায় বুঝতে চেয়েছি। আমরা নিজেদের ‘কেন্দ্র’ ভেবে ওদের ভাবলাম ‘প্রান্তিক’ হিসেবে। প্রান্তের ক্ষমতায়ন অস্বীকার করলাম, যেমন করি প্রান্তে যেতেও।  যেটা ছিল আমাদের মারাত্মক ভুল।

 

পবিত্র কুরআনে ‘সূরা ইয়াছিনে’ পড়েছিলাম  ‘‘জনপদের প্রান্ত থেকে এক লোক শহরবাসির কাছে দৌড়াতে দৌড়াতে এসে বলল ‘হে আমার জনপদের লোকেরা তোমরা দয়াময় আল্লাহ্‌র এ রসুলদের অনুসরণ কর। এরা এমন রসুল যারা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চায় না।’ যারাই তার অনুসরণ করবে তারাই হবে হেদায়াত প্রাপ্ত। ……আফসোস যদি আমার জাতি এটা জানতে পারত(আয়াত-২০-২৬)’’

 

উপরের এই আয়াত সমূহ আমাকে খুব ভাবিয়েছে এই যুক্তিতে যে, এখানে পষ্টভাবে প্রান্তিক শক্তির কথা বলা হয়েছে। আমরা যারা নিজেদের কেন্দ্রের মানুষ ভাবি, আমাদের জানার ক্ষেত্রে অনেক ঘাটতি থাকে, যা আল্লাহ’র ভাষায় ‘আফসোস যদি কেন্দ্রের লোকরা এটা জানত’/ এটাও পষ্ট যে, প্রান্তিকরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রের থেকেও ভালো যানে, এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলও বেশী। যা আমরা বুঝতে পারি না, অনেক ক্ষেত্রে অস্বীকার করি। আজ আমাদের মাঝে কেন্দ্রে যাবার প্রবনতা বেশী, কেউ প্রান্তিক হতে চায় না। অথচ আরাফাতের ভাষণের পর ইসলাম ধর্মের প্রচারকরা সবাই প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে গেছে। উপনিবেশবাদি আর সাম্রাজ্যবাদীদের দেখি তারাও প্রান্তে প্রান্তে ছড়ানো। মার্কিন গবেষকদের একটা বিশাল অংশ আছে যারা কখনো তাদের নিজ দেশের রাজধানী শহরেও যায়নি, কিন্তু ঠিক-ই মধপ্রাচ্যের কোন একটা অঞ্চলে এসে আরবি ভাষা শিখে নিজের থিসিস দেশে গিয়ে জমা দিচ্ছে। আমাদেরও প্রান্তে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আমেরিকা না, আফ্রিকাতেও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা যায় সে চেতনা লালন করা দরকার।

 

মাদ্রাসা শিক্ষিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাই বলা চলে নিজেদের অবস্থান থেকেও ক্ষমতাবান। মনে রাখা দরকার, একরোখা চিন্তা অনুকরণে আমরা যখন এগ্রিকালচারকে  এগ্রিবিজনেসের দিকে নিয়ে যাচ্ছি, তখন তারা আজও আমাদের সে আবহমান ‘গ্রামীণ’ সংস্কৃতি আর এগ্রিকালচারকে টিকিয়ে রেখেছে।

 

রেনেসাঁ যুগে অসংখ্য পশ্চিমা তাত্ত্বিকদের অনেকের লেখায় দেখেছি, আমাদের ভারতীয় মুসলিমদের লেখার উদ্ধৃতি দিতে। আমাদের মনে রাখা দরকার ১৮৩৫সালের আগে এখানকার মুসলিমদের ভাষা ছিল ফার্সি আর উর্দু। মুসলিমরা ঐ সময়ে সাহিত্য-কলা-সমাজ-বিজ্ঞান-আইন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অসংখ্য বই লিখেছে আরবি-ফার্সি-উর্দু ভাষায়। যেগুলো আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সম্পদ, আমাদের গর্ব। এগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, যা সংরক্ষন করা জরুরী। রাজা রামমোহনের পরে এগুলো নিয়ে খুব কম লেখালেখি হয়েছে। আমাদের জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক একসময় আফসোস করেছিলেন আমাদের মাঝে ‘আরবি-ফার্সি-উর্দু’ ভাষা চর্চা হারিয়ে যাচ্ছে বলে। মাদ্রাসা শিক্ষিতরা এখনো এগুলো ধারণ করে-লালন করে, কিন্তু প্রকাশ খুব কম-ই করে।

সম্প্রতি তাদের সরকারি স্বীকৃতির কথা উঠেছে, কিন্তু আমরা আবার আগের ভুল করছি। আমাদের মত করে তাদের সমস্যা ব্যাখ্যা করছি, তাদের উপর আমাদের চিন্তা চাপিয়ে দিচ্ছি। তাদের সুযোগ-সমস্যা তাদের মত বুঝতে চাই নি। তাদের সমস্যা তাদের মুখে শুনতে হবে, তাদের মত করে তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে। আমাদের মত করে ‘মেইনস্ট্রিম’ না ভেবে তারা কিভাবে তাদের ‘মেইনস্ট্রিম’ ভাবছে সেটা বিবেচনা করতে হবে। তবেই প্রান্তিকতার বয়ান একটা সুনির্দিষ্ট যথার্থ জায়গায় নিজেকে সমাসীন করতে পারবে।

ফাঁসি,পাকিস্তানফোবিয়া ও বাংলাদেশের সঙ্কট

2

রেজাউল করিম রনি

It is crucial to address the issue on these three distinctive levels, which are the exploitation, politicization and institutionalization of Islamophobia at various levels. In the present globalized world, peaceful and harmonious coexistence among diverse religions and cultures is not an option but the only means to enduring human cohabitation. The objective of the protagonists of Islamophobia is none other than to create division between the West and theMuslim World.

[SIXTH OIC OBSERVATORY REPORT ON ISLAMOPHOBIA October 2012 – September 2013]

noose

আমার ঘরের চাবি পরের হাতে

সাম্প্রতিক সময়ের কূটনৈতিক ঝগড়া এমনভাবে উদাম হয়েছে যে, রাজনীতির ব্যাপারে একদম উদাসীন গৃহবধূরাও জানেন, আমাদের কোনো সংকটের সমাধান দেশের রাজনীতিবিদদের মর্জির ওপর নির্ভর করে না। মার্কিন ও ভারতের পররাষ্ট্র-লড়াই এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, একে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ প্রশ্নে এক দিকে ভারত অন্যদিকে গোটা পশ্চিমা বিশ্ব। আর এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বা লক্ষ্য করবার বিষয় হল, এই প্রথম পাকিস্তান সরব ভূমিকায় হাজির হয়েছে। পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ায় এখন পর্যন্ত মার্কিন নীতির সবচেয়ে অনুগত বন্ধু। এই আনুগত্যই ধর্মযুদ্ধের সম্ভাবনাকে পাঁকিয়ে তুলতে সাহায্য করবে। কিভাবে সেটা ঘটবে আমরা জানি না। আমরা কেবল কয়েকটি লক্ষণ পর্যালোচনা করতে পারি।

ফাঁসির ব্যাপারটা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে একটা চাপা অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। অপরাধীর বিচার হবে-এটা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ কোনো আপত্তি কখনও করেনি। আপত্তিটা উঠেছে মূলত গণআকাঙ্খার সাথে সরকারের কৌশলী আচরণকে কেন্দ্র করে। বিচারের প্রক্রিয়ার মধ্যে শুরু থেকে একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আন্দাজ করা যাচ্ছিল। নির্বাচনের সব রকম প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তথাকথিত সাংবিধানিক নিয়মে আওয়ামী লীগ যেভাবে ক্ষমতালিপ্সার নজিরবিহীন রাজনীতি শুরু করেছে, তাতে বিচারপ্রক্রিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কালিমা এড়াতে পারেনি।

জামায়াত স্বাভাবিকভাবেই এটাকে জুডিশিয়াল কিলিং আখ্যায়িত করে ব্যাপক সহিংসতার পথ ধরে। ফাঁসির পরে সারা দেশে যেন লাশের উৎসব শুরু হয়। সরকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন অংশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নির্মূলের রাজনীতি বাস্তবায়ন করতে নেমে পড়েছে তা দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। পাল্টা আক্রমণের কৌশল দেখে স্পষ্টতই মানুষ বুঝে গেছে দেশে শুরু হয়েছে গৃহযুদ্ধ। এই অবস্থায় কোনোকিছু নির্বিকারভাবে পর্যালোচনার স্থিতিশীলতাও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। যথারীতি শাহবাগ আগের ভূমিকায় আবার ফিরে এসেছে। কিন্তু এবারের ফিরে আসাটা আরও ভয়ানক পরিস্থিতির দিকে আমাদের নিয়ে যাবে। এই দিকটি নিয়ে আমরা কিছু কথা বলব আজকে।

বাংলাদেশ কিম্বা বর্তমান বিশ্বের কেউ আর ‘৭১ সালের বাস্তবতায় নেই। কিন্তু তাই বলে ‘৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা যাবে না তা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিচার আমরা চাই। বিচার হতে হবে। কিন্তু সেটা বিচারই হতে হবে। কোনো প্রেশার গ্রুপকে সংযুক্ত করে বিচার নিয়ে রাজনীতি হলে সেটা হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বেইমানি। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সীমাহীন সম্ভাবনা চিরতরে বিনষ্ট হয়। জাতি বিভক্ত হয়ে পড়ে চলমান রাজনৈতিক ক্ষমতার হিংসার আলোকে। ফলে জাতীয় চেতনার নামে একতরফা জবরদস্তি বা যেটাকে আমরা ফ্যাসিবাদ বলে জানি তা হাজির হয়। এর মধ্যে কোনো ইসলামী দলের নেতাকে ফাঁসি দিয়ে চেতনার জোয়ার তুলে ক্ষমতার রাজনীতি যে বিভাজন তৈরি করে তা ধর্মযুদ্ধের পরিবেশ প্রস্তুত করে দেয়। তখন মুখোমুখি দাঁড়ায় ইসলাম ও জাতীয় চেতনা।

কিন্তু এটা এত সরলভাবে ঘটলে আতংকিত হওয়ার মহান কোনো কারণ ছিল না! ব্যাপারটা আমদের নিজেদের দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। মার্কিন রাজনীতির ছক অনুযায়ী আমরা যদি ব্যাপারটা খেয়াল করি তাইলে পরস্থিতি যা ইঙ্গিত করে তাতে আঁতকে না উঠে উপায় নাই।

আমরা দেখেছি, ওয়ার অন টেররের প্রজেক্টে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন ইন্টারভেনশন হয় ইসলামপন্থি জাতীয়তাবাদীদের কাজে লাগিয়ে। সরকারের ফ্যাসিবাদি আচরণের কারণে সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতার রাজনীতি করা একটি দলকে নির্মূল করবার কারণে সমাজে একটা বদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলকে তুরুপের তাসের মত উড়িয়ে দিচ্ছে লীগ সরকার। এই জবরদস্তিতে কৌশলে সেনাবাহিনীকেও যুক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সৈনিক মর্যাদার ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই সতর্ক। কিন্তু এখকার সেনাবাহিনীর পুলিশি ভুমিকা সেনার ইজ্জতের দিক থেকে যেমন হুমকি, তেমনি জনমানুষ এই সেনাকে সরকারের খেয়ালখুশির পুতুল বলে মনে করবে। দেশের মানুষ সেনাবাহিনীর এই ভূমিকায় আহত বোধ করবে সন্দেহ নাই।

এই অবস্থায় পাল্টা প্রতিরোধ যেটা গড়ে উঠবে বা যারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়াইয়ে শামিল হবে সেটা কোনো না কোনো ভাবে ইসলামী শক্তি। তার নাম যাই হোক তার সাথে ইসলামের কোনো না কোনো যোগ আছে। এই ধারার ইসলামী আন্দোলন যেন মার্কিন আধিপত্যকে কোনোভাবেই হাল্কা করতে না পারে তার জন্য ৯/১১-এর পরে আমেরিকা একটা প্রকল্প চালু করে এর নাম ‘র‍্যান্ড’ প্রজেক্ট। এতে সালাফিস্ট ধারাকে উৎসাহিত করা হলেও মূলত প্রাধান্য দেয়া হয় পশ্চিমা ধাচের গণতন্ত্র মেনে যেন মুসলিম দেশগুলো একটা আধুনিকতাবাদি পুঁজিবাদের অনুকূলে রাষ্ট্রকাঠামো দাঁড় করাতে পারে।

সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন এনজিওগুলোকে ব্যাপক তহবিল সবারহ করা হয়। এর টেস্ট কেইস আকারে ঘটানো হয় আরব স্প্রিং। বলাই বাহুল্য এই  ‘র‍্যান্ড’ প্রকল্প ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে। আরব স্প্রিং আধুনিকতাবাদি পথ ধরে মুসলিম দেশগুলোকে পরিচালনার কাজে হাত না নিয়ে সেখানে বরং বিভিন্ন জেহাদি গ্রুপ শক্তিশালী ভিত গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এটা উল্টা ফল ফলেছে।

শুরুতে অনেকে শাহবাগকে ‘র‍্যান্ড’ প্রজেক্টের সাথে যুক্ত বলে অনুমান করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন যেতেই পরিষ্কার হল, এই অনুমানের কোন ভিত্তি নাই। বরং গেইমটা উল্টা দিক থেকে দেখা যেতে পারে। শাহবাগ না এখন বিবেচনায় চলে আসবে শাপলা। অবশ্যই অগ্রভাগে থাকবে জামায়াত। যদিও আমরা জানি, জামায়াত আর হেফাজত এক না। কিন্তু আদর্শের দ্বন্দ্ব আর লড়াইয়ের মাঠ এক না -এটাও আমরা জানি। কিন্তু কোনো মার্কিন ছক হুবহু কাজে আসবে না তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি। কারণ অলরেডি জিহাদি সংগঠন তালেবান গণজাগরণকে থ্রেট করে বসেছে। সাম্প্রতিক এক ভিডিও ভাষণে আলকায়েদা প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরী বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এই ঘটনা অবশ্যই অতি গুরুত্বের সাথে আমাদের আমলে নিতে হবে। তিনি সেখানে বলছেন, “বাংলাদেশের মাটিতে ইসলামের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেখানে সরকার আলেমদের শহীদ করছে, তাদেরকে জেলে বন্দী করে রাখছে, নবী করিমকে (সা.) নিয়ে কটুক্তিকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, হাজার হাজার সাধারণ মুসলমানদেরকে শহীদ করা হচ্ছে।’’ [http://www.youtube.com/watch?v=2CryRD4OTb8]

ফলে  ‘র‍্যান্ড’ প্রজেক্ট এর মতো কোনোকিছু বাংলাদেশে করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। তবে এই বিষয়ে আগাম কথা বলার কিছু নাই। মাঠের লড়াই তো আর সবসময় বইয়ে ত্তত্ব মেনে হয় না। গ্র্যান্ড ডিজাইনের সাথে পরিচয় থাকাটাই আমাদের জন্য প্রাথমিক কাজ। এই প্রজেক্ট যে কোনো কাজে আসবে না তা আল-জাজিরার সাথে এক সাক্ষাৎকারে ইউসুফ আল কারযাভী পরিষ্কারভাবে বলে দেন, “আমেরিকা তার সুবিধার জন্য একটা ইসলাম চায়। কিন্তু সেটা আর ইসলাম হবে না। সেটা হবে আমেরিকান ইসলাম।”

তিনি আরও বলেন, চরমপন্থা ৯/১১-র ঘটনার আগে থেকেই ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। চরমপন্থীরা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। শুধু মুসলমানদের মধ্যে চরমপন্থা আছে, এটা মোটেও ঠিক নয়। চরমপন্থীরা ইহুদীদের মধ্যেও আছে। চরমপন্থীরা রবিনকে হত্যা করেছে। চরমপন্থার আরো বড় বড় উদাহরণ রয়েছে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা দুর্ঘটনা। ব্রিটেন, জাপান, ভারতসহ দেশে দেশে চরমপন্থীরা রয়েছে। তাহলে কেন মূলত ইসলামের সাথে চরমপন্থা ও সহিংসতার অপবাদ জুড়ে দেয়া হচ্ছে? এটি ভয়াবহ অবিচার” [আল-কারযাভী: আল-জাজিরা,বিন কিন্নাহ-এর সাথে আলাপ]

সেই দিক থেকে বিচার করলে বাংলাদেশের ব্যাপারে একটা নীতিগত অবস্থান আমেরিকার আছে। এটা বোঝা যায়, জামায়াতের সাথে তাঁদের সম্পর্কের ধরণ দেখলে। সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতের উত্থান এই সম্পর্কের ধরণে নতুন ডাইমেনশান তৈরি করেছে। ফলে বাংলাদেশের ইসলাম যখন রাজনৈতিক ময়দানে হাজির এবং গৃহযুদ্ধের অবস্থা বিরাজ করছে, এই অবস্থায় সাম্রাজ্যবাদের নীতি আমাদের ছেড়ে দিবে না তা হলফ করে বলতে পারি।

ইতিমধ্যে ২৫ নভেম্বরে তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১১৫ জন নিহত হয়েছে। এদের বেশিরভাগ জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। অন্যদিকে বাংলাদেশে ইসলামের কোনো ধরণের জাগরণ হলে এর প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্ব-ব্যবস্থায়। সবচেয়ে হুমকিতে পড়বে ভারত। আমেরিকা ৯/১১ এর পরে মুসলমানদের ব্যাপারে কোনো একতরফা বিবেচনা আর বজায় রাখেনি। ইসলামের সেকুলার ধারাকে ক্ষমতার রাজনীতে সে বরাবরই উৎসাহিত করে আসছে। এখন কী ভুমিকা নেবে তা দেখবার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে, বলা যায় দুইটা অপশন সামনে আছে, এক.হাসিনাকে যে কোন মূল্যে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা এবং বিএনপি-জামায়াত জোটকে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। ২. শেখ হাসিনা যদি নির্মূলের পথ থেকে সরে না আসে তাহলে যে ইসলামী জাগরণের সৃষ্টি হবে তার সুযোগে ওয়ার আন টেররের প্রকল্পের আদলে বাংলাদেশে মার্কিন খবরদারি বৈধ করা। প্রথম সমাধানের দিকে এখনও পশ্চিমা দেশগুলো বেশি মনযোগী।

আর দ্বিতীয় ধাপটি চূড়ান্ত অ্যাকশন হিসেবে বিবেচনায় আসবে। কিন্তু কোনোভাবেই ভারতের হাতে দক্ষিণ এশিয়ার খবরদারি দেয়া যাবে না। ভারতের ব্যাপারে কঠোর মার্কিন মনোভাব পরিষ্কার হয়ে গেছে। দেবযানীকে উলঙ্গ (স্টিভ সার্চ) করা নিয়ে ভারতের প্রতিবাদের প্রতি ভ্রক্ষেপ করেনি আমেরিকা। ভারতের সব আপত্তি উড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিনীদের এই কঠোর অবস্থান অনেককে অবাক করেছে। কিন্তু তাঁদের পররাষ্ট্রনীতির বৈশিষ্ট্যের দিকে তাকালে বিষয়টাকে আর অস্বাভাবিক মনে হবে না। বিখ্যাত মার্কিন পররাষ্ট্র ব্যাক্তিত্ব হেনরি কিসিঞ্জার তাঁর সুবিদিত ডিপ্লোমেসি বইতে বলেন, “Almost as if according to some natural law, in every centuty there seems to emerge a country with the power, the will, and the intellectual and moral impetus to shape the entire international sestem in accordance with its own values.”

[The New world Order, DIPLOMACY; Henry Kissinger: SIMON&SCHUSTER PAPERBACKS, NEWYORK edition]

এই শতাব্দী মার্কিন আধিপত্যের শতাব্দী এটা তাঁরা প্রাকৃতিক নিয়মের মতোই মনে করে। বলাই বাহুল্য এই শিক্ষা ইউরোসেন্ট্রিক শিক্ষা। পরে কিসিঞ্জার ইউরোপের অন্য দেশগুলোর আধিপত্যের ফিরিস্তি হাজির করে এখনকার মার্কিন আধিপত্য যে গোটা বিশ্বব্যবস্থার জন্য খুব স্বাভাবিক -এই আলোচনা করেন। এই সাম্রাজ্যিক বাসনার দিকে যদি আমরা খেয়াল রাখি তাহলে আমরা সহজেই বুঝতে পারব আগামী দিনে আমাদের সামনে যে লড়াই হাজির হচ্ছে তাতে মার্কিন হস্তক্ষেপ অবধারিত। এই লড়াইয়ে আমরা কী করব তাই দেখবার বিষয়। আরামপ্রিয় দ্বি-দলীয় ক্ষমতা বৃত্তের বাইরে এই প্রথম বাংলাদেশে নয়া বাস্তবতা বড়ই অসময়ে হাজির হচ্ছে।

ফলে এই জাতীয় প্রতিরোধ ইসলামের চেহারা যেমন নিবে, এর সাথে দুনিয়ার অন্য ইসলামী লড়াকু শক্তিও শামিল হবে। এটাকে থামাতে এবার পরাশক্তির হস্তক্ষেপের পথে আর কোনো বাঁধা থাকবে না। ফলে যতই মনে হোক জামায়াতের পক্ষে আমেরিকা আছে, বিএনপির পক্ষেও আছে। খোলা চোখে যতই মনে হোক এক ভারত ছাড়া আর সবাই তাদের পক্ষে আছে, ব্যাপারটা তেমন সরল না। মার্কিন আধিপত্য কোনো সুযোগকে হাতছাড়া করবে -এমনটা মনে করার কোন কারণ নাই। এটা আমি বলছি ইতিহাসের শিক্ষা থেকে। বাংলাদেশে হুবহু একই ঘটনা ঘটবে তা বলছি না। প্রত্যেক ঘটনার কিছু সৃষ্টিশীল ডাইমেনশান থাকে, যা আগাম বলে দেবার কিছু নাই। তারপরেও এখনকার ঘটনাসমূহ পর্যালোচনা করলে আমরা বিষয়গুলো পরিষ্কার ধরতে পারব।

ফাঁসি ও জাতীয় চেতনার ফাঁদ

একটা ছোট চায়ের দোকান। ১২.১২.১৩ ইং, রাত ১১টায় টিভিতে ইমরান এইচ সরকার কথা বলছিলেন নিউজ বাইটে। ফাঁসির খবরে তখন শাহবাগ আনন্দে ভাসছে। সেই আনন্দে দোকানের কিছু লোকও দেখলাম হাসতেছে। হঠাৎ দোকানদার বলতেছে- ‘হালারা কেমুন, জিন্দা একটা মানুষ মইরা গেল আর হালারা নিটকাইতেছে কেলাই দিয়া খবর দেখতাচে’ একটু আগেও মানুষটা জীবীত ছিল।‘ অবাক হইলাম, সে যে রাজাকার ছিল তা তো দোকানদার একবার বলতেছে না । এটা তো তার মনে আইল না। কেন? সমস্যা কী?

আর রাতে ফেসবুক-ব্লগে আনন্দ আর বেদনার পাল্টাপাল্টি জোয়ার ছিল। আর যারা একাত্তরকে ক্রিটিক্যালি দেখেন সেই সব মানুষের মধ্যে এক চাপা অস্বস্তি বিরাজ করছিল। জামায়াত কাদের মোল্লাকে সাইয়েদ কুতব অব বাংলাদেশ ঘোষণা করেছে ফাঁসির সাথে সাথে। তাঁরে ইসলামের জন্য শহীদ ঘোষণা করেছে। সেই মোতাবেক পরদিন জুমার নামাজের পর ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক সহিংসতা ঘটায় দলটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মিরা। এই আগুন ছড়িয়ে পরে সারা দেশে, শুরু হয় পাল্টাপাল্টি খুনাখুনি। খবরের কাগজ লাশের খবরে ভরে ওঠে।

অবাক হয়ে খেয়াল করি, কাদের মোল্লার ফাঁসি জনসমাজে একটা ভুতুড়ে অবস্থা তৈরি করেছে। সাধারণ পাবলিক প্রশ্ন করছে, আচ্ছা লোকটা না অপরাধী ছিল তাইলে তাঁর জন্য যে আবার আন্দোলন হচ্ছে? সে নাকি চিঠি দিয়ে কইছে কসাই কাদের আর সে এক না। মরার আগে মানুষ তো আর মশকারি করে না?

আমরা যদি এই জনমনোভাবকে বুঝবার চেষ্টা করি, তাইলে অনেকগুলো বিষয় বুঝতে সুবিধা হবে। এক. ৭১ এর ন্যারেশন কি আদতেই একটা মধ্যবিত্ত ন্যারেশনে পরিণত হয় নাই এত দিনে? কারণ কসাই ইমেজ তো মধ্যবিত্তের বাইরে খুব বেশি কমিউনিকেটিভ হচ্ছে না। দুই. এই চেতনার প্রতি তো সরকারের অবস্থানের কারণেই মানুষের আর আস্থা নাই। এই অবস্থায় শাহবাগ যদি প্রবল প্রতাপ গড়ে তুলতে না পারে তাইলে তো সরকার বিপদে পড়ে যাবে। তাই শাহবাগ আছে সরব ভুমিকায়।

স্কাইপে কেলেংকারি আর বিচারপতিদের খামখেয়ালি তো মানুষ জানে। আদালতের প্রতি কোন সুস্থ মানুষের তো আস্থা নাই। ফলে দুর্বল জাতীয়তাবাদী চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে এই ধরণের একটা ফাঁসি আওয়ামী লীগের জন্য অনেক ঝুঁকির হয়েছে সন্দেহ নাই। এখন একাত্তরের ন্যারেশনকে খুব শক্তিশালীভাবে হাজির করতে হবে। কোনো গাফিলতি করা চলবে না।

এই হাজিরা বলাই বাহুল্য, একাত্তরের আকাঙ্খা মেটাতে পারবে না। এটা কাজ করবে সাংবিধানিক ফ্যাসিজম কায়েম করতে। এইটা বিনা মুশকিলে হলে সমস্যা ছিল না। কিন্তু ঝামেলা হয়ে গেছে, জামায়াত কাদের মোল্লাকে ইসলামের জন্য শহীদ ঘোষণা করে ফেলেছে। মোল্লাও বলে গেছেন তাঁর রক্তের বিনিময়ে যেন ইসলাম কায়েম করা হয়। ফলে ইসলামের ন্যারেশনের সাথে ‘৭১ এর আওয়ামী ন্যারেশনের লড়াই শুরু হয়ে গেল। জামায়াতের ইসলাম একমাত্র ইসলাম না, এটা আমরা সবাই জানি। জামায়াতের বাইরেই আছে ইসলামের মূল ধারা। কিন্তু জামায়াত ইসলামের নামে রাস্তায় যখন মার খাবে, তখন ধর্মযুদ্ধ শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

লীগের বা বামদের ইসলামকে পশ্চাৎপদ মনে করার যে কালচারাল এটিচুড তা মানুষ এতদিনে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে ফেলেছে। ফলে এই অবস্থার মধ্যে লড়াইয়ে কালচারাল শক্তিটা যে প্রতিরোধের মুখে পড়বে তা এখনও আমরা পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। যারা এখনও রাজাকারী ডিসকোর্স নিয়ে আছে, এটা তাদের বুঝবার কথাও না। রাজনীতি বহু আগেই রাজাকারের পরিমণ্ডল পার করে ফেলেছে।

ক্ষমতার ব্যবহারিক বা এখনকার বাস্তব প্রশ্নটাই মানুষ আগে বিচার করছে। শুধু বুদ্ধিজীবিরা স্মৃতি কাতর হয়ে আছেন এখনও। ফলে মানুষের মনে ফাঁসিকে কেন্দ্র করে ‘৭১-এর মতোই অস্বস্তি আবার ফিরে আসল। এতে সরকারের পক্ষে লোক থাকবে না বা সরকার ভ্যানিশ হয়ে যাবে -এটা মনে করার কোন কারণ নাই। আমি শুধু বলছি, এই গুমট মনোভাবের মধ্যে ভায়োলেন্সের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়ে আছে তা নতুন রাজনীতি দিতে না পারলেও (নতুন রাজনীতির তো এজেন্সি হাজির নাই -এটাই সঙ্কট) এই প্রথম, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নে বাংলাদেশে রক্তারক্তি হতে যাচ্ছে।

আর এতে নানা কারণে ইসলাম ও বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ মুখোমুখি দাঁড়ানো। এই অবস্থায় কূটনৈতিক বুঝের সমাধান যে কোন কাজে আসছে না তা আমরা ধারাবাহিক ভাবে দেখছি। পিল্লাই সতর্ক করেছেন, তারানকো ব্যার্থ হয়ে ফিরে গেছেন। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, সবাই চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছে বাংলাদেশের ব্যাপারে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে বাংলাদেশ এখন গৃহযুদ্ধ কবলিত এমন খবরই ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। এই অবস্থা আমাদের কোনো শুভ পরিণতির দিকে যে নিয়ে যাচ্ছে না তা পরিষ্কার বুঝা যায়।

এর কারণ হল, ৭১ এর চেতনাকে আমরা গণবিচ্ছিন্ন ক্ষমতার কাজে ব্যবহার করেছি। এই চেতনার প্রকৃত অর্থে কোন সামাজিকীকরণ করিনি। বরং উপনিবেশি সাংস্কৃতিক ও জীবনদৃষ্টি উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে এমন একটা ভাব পয়দা করেছে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে ভোগবাদী জীবনচর্চা মিশে একাকার হয়ে গেছে। এর সাথে আধুনিকতার উগ্র ইসলাম বিদ্বেষ যুক্ত হয়ে প্রগতিশীলতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দাঁড় করিয়েছে ইসলামকে। এই একরোখা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এখন মরণ ফাঁদ হয়ে নেমে আসছে। মোহনায় দাঁড়িয়ে উৎসের দিকে ফিরে তাকাতে হয়-এটা আমরা স্বাধীনতার বেয়াল্লিশ বছরেও করিনি।

ইতিহাসকে দলীয় ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করে বিভাজন জিয়িয়ে রেখেছি। বিভাজনটা সমাজে পরিষ্কার হয়ে গেছে। শাহবাগ আর শাপলা। শাপলার ভাগে আছে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ যারা সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে তথাকথিত মূলধারার চেতনার চেয়ে পিছিয়ে আছে। তাদের আমরা সমাজের বাইরে আলাদা রেখে নিজেরা একতরফা চেতনার অনুসারী হয়ে আধুনিকতার জীবনদৃষ্টিকে কবুল করে নিয়েছি। ওদের বলেছি মধ্যযুগীয়, বর্বর পশ্চাৎপদ। কারণ তিনারা আজও ধর্মতত্বের আদর্শকে জীবনের মূল আদর্শ মনে করে। আমরা ইসলামের সাথে বাংলার সামজিক বিকাশের সম্পর্কের আলোকে নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী আকারে গড়ে উঠিনি। অতি ক্ষুদ্র শ্রেণীস্বার্থে ব্যবহার করেছি ‘৭১-এর চেতনাকে। মুক্তিযুদ্ধের তাবত অবদানকে স্বাধীনতার পরপরই কুক্ষিগত করেছি নিজ নিজ স্বার্থে। স্বাধীনতার সামাজিকীকরণ হয় নাই বাংলাদেশে। তাই সবার অংশ গ্রহণে ‘৭১ হলেও শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা হয়ে উঠেছে এলিটিস্ট মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধকে আমরা গণচেতনা করে তুলতে পারিনি। কেন পারিনি তার হদিস খুব কঠিন কিছু না। নানা কারণের একটা হল সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছি শুরু থেকেই।


পাকিস্তানফোবিয়া

পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে আর্ন্তজাতিক মনযোগের কেন্দ্রে আছে গত কয়েক দশক ধরেই। সেনাবাহিনীর সাথে পাকিস্তানের জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে অনেক বড় বড় গবেষণা হয়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন গোত্র ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে আলাদা আলাদা ডাইমেনশান নিয়ে হাজির আছে। পশতুন জাতীয়তাবাদের প্রভাবের কারণে আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক শুধুমাত্র কৌশলগত নয়। আমরা দেখেছি, পাকিস্তান একই সাথে আলকায়েদা, তালেবান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের তৎপরতা জারি রেখেছে ওয়ার অন টেরর প্রকল্পে। বিশ্বরাজনীতিতে পাকিস্তানের এখনকার ভূমিকা গ্লোবাল রাজনীতিতে অতি গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়।

আমরা একাত্তরে যে ঘাতক সামরিক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সেই পাকিস্তান আর আগের জায়গায় স্থির নেই। কিন্তু আমরা পাকিস্তানের জান্তা নিপীড়নের প্রতি যে ঘৃণা ধরে রেখেছি তা গোটা পাকিস্তান সম্পর্কে আমাদের চিন্তাকে বর্ণবাদি ক্ষুদ্র জায়গায় আটকে রেখেছে। চলমান বিশ্ব রাজনীতিতে পাকিস্তান এর ভূমিকাকে র্নিমোহভাবে দেখবার কোনো গরজ আমরা অনুভব করি না। এটা আমাদের জন্য খুবই অনুতাপের বিষয়।

এবারের ওআইসি সম্মেলনে ইসলামোফোবিয়া নিয়ে একটা রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পশ্চিমা বিশ্ব ইসলামোফোবিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিকভাবে এমন জায়গায় দাঁড় করিয়েছে যে, পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ইসলামের বিভক্তিকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আর এই কাজের জন্য যে ভুমিকে পশ্চিমারা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছে তার নাম ‘পাকিস্তান’ / ফলে আামাদের এখানে পাকিস্তানফোবিয়া আর ইসালোমোফোবিয়া একই অর্থ বহন করে। আর এটাকে উস্কে দেবার জন্য আছে অতীত পৈশাচিক শাসকদের প্রতি ঘৃণাকে পাকিস্তানের নামে ছড়িয়ে দেয়ার কূট-রাজনীতি। পাকিস্তান নিয়া এখানে আলাপের অবসর নাই। আমি কয়েকটা পয়েন্টে বাংলাদেশে পাকিস্তান -সম্পর্কে দৃষ্টি ভঙ্গি ও সাম্প্রতিক পারিপার্শিকতা তুলে ধরব মাত্র।

এক. পাকিস্তান সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা ছিল শ্রেণী ঘৃণার। ৯/১১ -এর পরে এর সাথে যুক্ত হয়েছে ইসলামোফোবিয়া। এখন পাকিস্তানফোবিয়ার দুই মৌল উপাদান হল : ১. একাত্তরের শাসকদের প্রতি ঘৃণা থেকে উৎসারিত ঘৃণা। পাকিস্তান মানেই বর্বর, অসভ্য, ধর্ষক ইত্যাদি রটনার রাজনীতি। ২. পাকিস্তান আধুনিক গণতন্ত্রের পথে কোনো সফলতা হাসিল করতে পারেনি। এটা তালেবানের ঘাঁটি। এরা আলকায়দার মদদদাতা। লাদেনকে এরা পালে। এরা জঙ্গি। এদের কোনো ভবিষ্যৎ নাই। ওরা নিকৃষ্ট।

এই দুইটা দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে প্রচারণার প্রভাব ছাড়া আর কিছু নাই। একাট্টা পাকিস্তান বলে কিছু নাই। সেখানে নানা শ্রেণীর মধ্যে সংঘাত আছে। ইসলাম প্রশ্নেও সমাজিক ও রাজনৈতিক নানা ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি আছে। কিন্তু সমাজে ইসলামের একটা প্রভাব সেখানে বরাবরই ছিল। এবং এখনও আছে। যা হোক শাসক শ্রেণী আর পাকিস্তানের জনগণ এক না। এটা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। একাত্তরে পাকিস্তান সরকারের ভুমিকা আজকের সরকারের মতই ছিল। পাকিস্তান কী করেছে তা বুঝার জন্য একাত্তরে জন্ম নেবার দরকার নাই। লীগ ও যৌথবাহিনী এখন যা করছে পাকিস্তান ও তাদের অনুসারীরা একই কাজ করেছে। তবে তখন কিছু কিছু কাজের লক্ষ্য ছিল মানুষকে বাঁচানো। এখন একমাত্র লক্ষ্য হল মারা। হিংসার আগুনে জ্বলছে জনপদ।

দুই. ‘৭১-এ যাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই ছিল সেই পাকিস্তানি শাসক আর এখনকার পাকিস্তান রাষ্ট্র এক জিনিস নয়। এখনকার পাকিস্তান বিশ্ব-রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আমি বলি, আমেরিকা যদি হয় সন্ত্রাসের আব্বা, তাহলে পাকিস্তান তার পালক পিতা। ওয়ার অন টেরর প্রজেক্টে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এবং এই অংশীদারি গোলামীর মত নয়। সে মাঝে মাঝেই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড শো করছে। যেটা আমলে নেবার মত বিষয়। ( এই প্রজেক্টে- র, সিআইএ, আইএসআই, গলায় গলায় ভাব বজায় রেখে বাংলাদেশে ফাংশন করেছে, এখন এজেন্সিগুলা আলাদা হয়ে যাচ্ছে। ভারতের একতরফা জবরদস্তির কারণে এটা ঘটছে। অলরেডি ভারত-আমেরিকা কূটনৈতিকভাবে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। নারী কূটনীতিক দেবযানিকে স্ট্রিপ সার্চ করে আমেরিকাই প্রচার করিয়েছে যে, ন্যাংটা করে তল্লাশি করা হয়েছে। আর ইন্ডিয়া তো আত্নপীড়ায় ভুগছে। পাল্টা পদক্ষেপও নেয়ার হুমকি দিয়েছে। আমাদের মিডিয়াও বেশ রসিয়ে এই খবর প্রচার করছে। এতে কূটনেতিকভাবে আমরিকা যে মেসেজ দিছে তার সরল মানে হল, ‘তুমি মাতবরি করলে ন্যাংটা কইরা ছাইড়া দিব’ যাহোক কূটনৈতিক লড়াইয়ে অনেক প্রতীকী ব্যাপার থাকে যার গুরুত্ব অপরিসীম। এখানেও তাই হইছে। আর দেবযানী আজ যে প্রতীকী অপমানের শিকার হয়েছেন তার জন্য বাংলাদেশ নিয়ে আমরিকার সাথে সুজাতার বেয়াদবী দায়ি -এটা ভারতের কূটনীতি বিশ্লেষকরা স্বীকার করেছেন। সূত্র: বিডিনিউজ)

তিন. মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে বেহুদা পাকিস্তানফোবিয়া ছড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের মুক্তিকামী মানুষের সাথে আমাদের শত্রুতা থাকতে পারে না। হাসিনাও শাসক, ইয়াহিয়াও শাসক। ‘৭১ কইরা আমরা কী করলাম? বিদেশি লোক বাদ দিয়া দেশি বোনের অত্যাচার মেনে নিচ্ছি -এখন এই তো অবস্থা।

চার. যে প্রজন্ম আজ লীগের কূটনৈতিক গেইম না বুঝে পাকিস্তান বিদ্বেষ ছড়ানোকে চেতনার দায়িত্ব আকারে নিয়েছে, তাদের বলি পাকিস্তান কি চিজ তা যদি বুঝতা তাইলে আর এই আরামের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ করতা না। পাকিস্তানকে জড়ানোর কূটনৈতিক তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। তার পুরোটা এখনই আমরা বলতে পারব না। তবে যে লক্ষণ হাজির হয়েছে তা ঘটনা কোন দিকে যাচ্ছে তা বুঝতে কাজে লাগে। এর মধ্য দিয়ে তালেবানের ইন্টারভেনশন নিশ্চিত হয়ে পড়ল। তালেবান হুমকি দিয়েছে গণজাগরণ বন্ধ না করলে পাকিস্তানে বাংলাদেশের দূতাবাস উড়িয়ে দেয়া হবে [সূত্র: পরির্বতন ডটকম]

যুদ্ধটা জাতীয় চেতনা বনাম ইসলামী চেতনার দিকে যাচ্ছে। এর সাথে বিদেশি অস্ত্রধারী সংগঠন যোগ হলে ঘটনা কোথায় যাবে তা আপনাদের অনুমান করতে পারার কথা। তালেবান যখন একে-৪৭ ধরে বলবে, ”গাওতো চেতনার গান”/ রবীন্দ্র সঙ্গীত কি আমাদের রক্ষা করতে পারবে? ফলে সাংস্কৃতিক ঘৃণার পার্ট আকারে যারা পাকিস্তান মানেই বর্বর আর খারাপ এই রকম রেসিস্ট দৃষ্টিভঙ্গি পালন করেন তাদের বলব, পশ্চিমা একাডেমিতে গিয়ে একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন। পাকিস্তান একবাল আহমেদের মত দুনিয়া কাঁপানো তাত্ত্বিকদের জন্ম দিতে পারে, ইংরেজি সাহিত্যে হাল আমলের অনেক শক্তিশালী লেখক পাকিস্তানের জঙ্গিদশার মধ্যেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সেখানে বাংলাদেশ তো এখনও অনেক নবিশ।

আমি তুলনামূলক আলোচনার জন্য কথাটা বলিনি। বা এইগুলো করতে পারলেই জাতি মহান হয়ে যাবে, আমি তাও মনে করি না। যাস্ট অমূলক ঘৃণার চেতনাটা দেখাতে কথাটা বলা। এবং যারা পাকিস্তানকে ঘৃণা করেন, কিন্তু নিজেরা আবার পশ্চিমা দুনিয়ায় আসন পেতে চান, পাকিস্তান তাদের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে আছে। এটা কেমনে সম্ভব হল বিবেচনা করবার বিষয় বটে।

পাঁচ. ক্ষমতার রাজনীতির দিক থেকে এখনকার এই কূটনীতিক গেইমের মর্ম হল, ইউএস লবিকে বুঝানো যে, যেই পাকিস্তান এত দিন র, সিআইএ’র সাথে একইতালে বাংলাদেশে কাজ করেছে তাকে তো আমি কিছু বলি নাই। এখন দেশে চেতনার জোয়ার চলছে। জনগণ ক্ষ্যাপা। আমি অসহায়। প্রতিদিন গণজাগরণের সমাবেশে ক্রমাগত লাঠিপেটা করেও তো থামানো যাচ্ছে না। দেশে তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জোয়ার। আমি কী করব?

মানুষ আমারে চায়… দেখ দেখ দূতাবাস পর্যন্ত পাবলিক খায়া ফেলতে চাইতেছে। আমি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। -সরকারের ওপর ক্রমাগত বিদেশি চাপকে পাশকাটানোর জন্য এই গেইম সরকারের দিকে থেকে ভাল। আমি এর প্রশংসা করি। এতে লাভ দুইটা। ১. পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণাটা উস্কে দেয়া চেতনার ফ্যান্টাসিটা আবার ছড়ানো। ২.আন্তর্জাতিক মহলকে নিজের পিপল বেইস যে মজবুত তা জানান দেয়া।

বলাই বাহুল্য, এই দুইটাই ফ্যাসিবাদের দামি কৌশল। ক্লাসিক কৌশল। কিন্তু ফ্যাসিবাদের জন্য যে ন্যাশনাল ভিত লাগে তা বাংলাদেশের নাই। বাংলাদেশের এই ফেনোমেনাকে আমি বরাবরই কালচারাল ফ্যাসিজম বলেছি। এই কালচারাল ফ্যাসিজম সাম্রাজ্যবাদি রাজনীতির কৌশলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অক্ষম। ফলে এই একরোখা গণবিচ্ছিন্ন ক্ষমতার জেদ শেষ পর্যন্ত বুশের ধর্মযুদ্ধকে দেশে ডেকে আনবে, এতে কোন সন্দেহ নাই। মজার ব্যাপার হল, গণজাগরণের কর্মিদের সরকারী এসাইনমেন্টে হেনস্থা করা হচ্ছে। গণজাগরণের কর্মি জাগরণকন্যা লাকী বলছিলেন, পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হচ্ছে নাস্তিকের বাচ্চা, মালাউনের বাচ্চা বলে গালি দিতে দিতে। এই ঘৃণার আগুণ এখন সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। হাসিনা কোনোভাবেই এই অবস্থায় জনগণের কাম্য নেতা হতে পারেন না।

ছয়. পাকিস্তানের প্রতি বর্ণবাদি আচরণের কোন মানে হয় না। আমাদের বুদ্ধিজীবিরা পাকিস্তানকে একটা দানব আকারে হাজির করছেন তাদের বলা দরকার, এটা ‘৭১ সাল না। এখন পাকিস্তান অনেক কমপ্লেক্স গেইমে নিজেরে শামিল রাখছে। রিজিওনাল গেইমে পাকিস্তানরে কোনোদিন হম্বিতম্বি করতে দেখবেন না। কিন্তু সে আছে, তার ভুমিকা সমেত আছে। আইএসআই আর সিআইএর দোস্তি তো সুবিদিত। এখন কাদের মোল্লার ব্যাপারে অন্য দেশগুলা যা করছে, পাকিস্তান তাঁর চেয়ে বেশি কিছু করেছে বলে মনে হয় না।

তুরষ্ক বাংলাদেশের সরকারকে দ্বিতীয় ইসরায়েল বলেছে। কেরিও ক্ষেপছেন। তাহলে পাকিস্তানের দোষটা এত বেশি কেন হইছে? কারণ এই তথাকথিত প্রজন্মকে তো পাকিস্তান আক্রমণের স্বাদ দেয়া যাবে না। তাই দূতাবাসমুখি ক্ষিপ্র গমনের মধ্যে একটা যুদ্ধের স্বাদ দেয়া। এটা নগদ লাভ। কিন্তু সাম্রজ্যবাদী চাল তো নগদ লাভে চলে না। তার পরিকল্পনা সুদূর প্রসারী। ‘১৪ সাল এর পরে আফগানিস্তান মিশন শেষ করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন উপস্থিতির জন্য বাংলাদেশ অতি গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক দিন আগে খবরে প্রকাশ হাতিয়া দ্বীপ এলাকায় যৌথ সামরিক উপস্থিতির জন্য বিশাল ভূমি নির্বাচন করা হয়েছে। এটা নিয়ে পরে আর কোনো ফলোআপ দেখিনি।

সাত. আমরা বলতে চাই, খামাখা পাকিস্তানঘৃণার কোনো কারণ দেখি না। বরং পাকিস্তানের নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শামিল হবার জন্য আমাদের প্রস্তুতি দরকার। জালেম শাসক তা যত মহান চেতনারই হোক, তার বিরুদ্ধে আমি মজলুম জনগোষ্ঠির ঐক্যের পক্ষে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করা দরকার।

শ্রেণী ঘৃণা..জাতি ঘৃণা আমাদের অমানুষে পরিণত করে ফেলবে। মানবিক সত্তার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে জাত-পাত শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে নিজেদের চৈতন্যকে বিকশিত করতে না পারলে আগামী দিনের বিপ্লবী লড়াইয়ে বাংলাদেশ কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না। নিজেদের জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক উত্থানের সাথে এই উদার মানসিকতার চর্চাও অতিজরুরি।

ভারতের এনডিটিভি খবরে জানিয়েছে, ২০১৪ সালের টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বাংলাদেশে আসা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান উদ্বোধনী ম্যাচ বাংলাদেশে না হলে ২৫ ভাগ আয় থেকে বঞ্চিত হবে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। খেলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব পুঁজির যে প্রসার, তাতে বাঁধ সাধল রাজনৈতিক কারণে উস্কে দেয়া পাকিস্তান বিদ্বেষ। এর ফলে বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক ভাবে জঙ্গি অবস্থায় নিপতিত হয়েছে, বিশ্ব মিডিয়ায় সেই খবর ঘটা করে প্রচার করা হবে। এটা আমাদের ইমেজের জন্য ভয়াবহ সংঙ্কট সন্দেহ নাই।

এখনকার সংকট

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে এতদিন যারা হাসিনা খালেদার ক্ষমতার লড়াই আকারে দেখেছেন, তাদের গণধিক্কার দিতে হবে। এই ধারা বিচার-বিশ্লেষণের ঐতিহ্য আমাদের রাজনৈতিক পর্যালোচনার পরিমণ্ডলকে যথেষ্ট সংকীর্ণ করে রেখেছে। আমরা গ্লোবালাইজড কথাটা মুখে বলি বটে কিন্তু এর সাথে আমাদের সম্পর্কের ধরণ ও নিজেদের অবস্থানকে কখনও বিচার করে দেখি না। ফলে বাংলাদেশ কিভাবে বিশ্বরাজনীতির সাথে সম্পর্কিত তার সমগ্র পরিচয়টি আমাদের সামনে ধরা পড়ে না। কিছু মুখস্ত কথাবার্তা শুনেই আমরা কাজ চালিয়ে নেই।

যা হোক সেনাবাহিনী নামবে এই রব অনেক আগেই জারি হয়েছে। সেনা নেমেছে ঘোষণা দিয়েই। খবরে প্রকাশ, ‘নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এবার সশস্ত্র বাহিনীর ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এরা ভোটগ্রহণের পরও বেশ কয়েক দিন মাঠে থাকবেন। এ কারণে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত বাজেটও দ্বিগুণ করা হচ্ছে। [প্রথম আলো ২১-১২-২০১৩]

সেনাবাহিনী এখন পুলিশি ভুমিকায় নামল। এতে যে আমাদের দেশের মানুষের কাছে সৈনিকের মর্যাদা আর আগের জায়গায় থাকল না তা আমাদের জন্য অনুতাপের বিষয়। আমাদের সেনাদের সৈনিক মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এ ব্যাপারে গণসচেতনতার খামতি অপরীসীম। এটা নিয়ে আলাদা লিখব।

বাংলাদেশের এখনকার পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ার রিপোর্টিংয়ের ধরণ খুব মনযোগ দিয়ে খেয়াল করবার বিষয়। ফাঁকে বলে নিই, এর আগে এক লেখায় (বিচার নিয়ে রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের আর্বিভাব : আমার দেশ) বলেছিলাম, মার্কিন দেশের সাথে জামায়াতের মিত্রতার কৌশলগত দিক খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁরা একদিকে যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায়, আর অন্যদিকে মানবাধিকারের দাবি তুলে জামায়াতকে উস্কে দিচ্ছে। জে র‍্যাপের সফরের সময়ই ব্যাপারটা আঁচ করা গিয়েছে। এখন এই সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমা মিডিয়া যে স্টাইলে বাংলাদেশ নিয়ে রিপোর্টিং করছে তা দেখলে পরিষ্কার হবে যে আমি কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা বলছি না।

শাহবাগ উত্থানের পরে প্রথম যে লেখাটি লেখি তার শিরোনাম ছিল-গণহত্যার রাজনীতি ধর্মযুদ্ধে প্রবেশ (চিন্তা ডটকম, ৬ মার্চ ২০১৩)/  তাতে জামায়াতের রাজনীতিকে জঙ্গিবাদি রাজনীতি আকারে হাজির করে নির্মূলের তাৎপর্য ব্যাখ্য করার চেষ্টা করেছিলাম। পরে ঘটনাটা সেই দিকে ধিরে ধিরে বাঁক নিলে বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। ক্ষমতাধর সাময়িকী ইকোনোমিস্ট সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে লিখেছে,

“আওয়ামী লীগ জিতবে, তবে বাংলাদেশ হেরে যাবে। ইকোনোমিস্টের অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নিজের শাসনকাল বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সেগুলোকে একজন ইউরোপীয় কূটনীতিক ‘ধাপে ধাপে চলা অভ্যুত্থান’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রধান বিরোধী দল ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছে। এ সুযোগে নিশ্চিত জয়ের পথে চলছে শেখ হাসিনার দল। বৈধতার প্রশ্ন এখানে বাহুল্যমাত্র।”

[www.economist.com/news/asia/21591887-ruling-party-will-win-bangladeshs-election-country-will-los]

এই অভ্যুত্থান কে করছে? সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের লাইনে বিএনপি তো নাই। বিএনপি টেবিল রাজনীতির সমাধানে অনেক বেশি আগ্রহী। সাথে চাপ প্রয়োগের জন্য ধারাবাহিক অবরোধ চলছে। গণঅভ্যুত্থান তাইলে কে ঘটাবে? বলাই বাহুল্য, জামায়াত জীবন-মরণ লড়াইয়ে নিপতিত হয়েছে। গ্রামে গ্রামে যেভাবে লীগ-যৌথবাহিনী ও জামায়াত যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে তাতে ‘মর না হয় মারো’ এমন পরিস্থিতি তৈয়ার হয়েছে। দেশে গৃহযুদ্ধ চলছে। সামনে এটা আরও বেগবান হবে নানা ডাইমেনশান তৈয়ার হবে তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। অভ্যুত্থান হবে সেটা গণ না কী তা বলা যাচ্ছে না।

গণঅভ্যুত্থান কল্পনার জিনিস না। তার জন্য সমাজে গণরাজনীতির ভিত মজবুত করতে হয়। এন্টি ইম্পেরিয়াল ও ভারতের আধিপত্যকে যারা সশস্ত্র পদ্ধতিতে মোকাবেলা করতে ভূমিকা রাখতে পারতো সেই সব বিপ্লবী রাজনীতির নেতাকর্মীদের গত বিএনপির সময় ক্রসফায়ার নাটকের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সমূলে তাদের অস্তিত্ব বিনাশ করে দেয়া হয়েছে। এই কাজটি করার ফলে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে সাম্রাজ্যবাদের নকশার বাইরে লড়াকু আর কোনো শক্তি সমাজে হাজির রইল না।

অন্যদিকে ইসলামের নামে যারা লড়াই করবে তাদের কারণে ধর্মযুদ্ধ দেশি পরিমন্ডল ছাড়িছে দ্রুতই এটা আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিষয়ে পরিণত হবে।

একই প্রতিবেদনে ইকোনোমিস্ট বলছে, “সংঘাতময় পরিস্থিতি যত খারাপ হচ্ছে, ভারতের মিত্র আওয়ামী লীগকে ইসলামবিরোধী হিসেবে দেখানোর সম্ভাবনাও তত বাড়ছে। শেখ হাসিনার ক্ষমতা কুক্ষিগত করাকে সমর্থন করলে তা ভারতের জন্য উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। তা হবে ‘অপেক্ষাকৃত উগ্র ও কম সেক্যুলার বাংলাদেশ।” (প্রাগুক্ত; ইকোনোমিস্ট)

এই অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে আমরা কোন কাগুজে আশার বালী শোনাতে পারছি না। বাস্তবত এটা সম্ভব না। আমরা দেখেছি, হেফাজতের উত্থানের সময় এখানকার তথাকথিত সুশীলরা বাংলাদেশে মার্কিন হস্তক্ষেপ কামনা করে বড় বড় সেমিনার সিম্পেজিয়াম করেছেন। বিশাল প্রবন্ধ লিখেছেন, ন্যাটোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

এই অবস্থায় বাংলাদেশের সংকট ত্রিমূখী রূপ নিয়েছে। একদিকে হাসিনা সরকারের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য হাস্যকর সব আয়োজন, ২. চেতনার ডামাডোলে বিচারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে ফাঁসির রাজনীতি। ৩. চলতি গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার গ্রাউন্ড তৈরি করে সব দল মিলে নির্বাচন করে আবার কোন দলকে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আনা।

কিন্তু জনঅসন্তোষ যে চরম রূপ নিয়েছে তাতে শান্তিপ্রিয় সমাধানের পথ কঠিন হয়ে গেছে। সরকারী দলের নেতারা ঢাকার বাইরে যেতে পারছেন না। তাদের আচমকা আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে। সহিংস অবস্থার চরম বিস্তার ঘটেছে। এর মধ্যে সরকারের তরফে বিরোধীদের দমনের মাত্রাও নানাভাবে বাড়ানোর ঘোষণা আসছে ক্রমাগত। এই অবস্থায়ও শেষের পয়েন্টেই সুশীল প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু । কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যে এমটি হওয়া কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে বড় কথা হল এটা বাংলাদেশের জন্য কোন সমাধানও নয়। আমাদের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী আকারে গড়ে উঠবার জন্য ধর্ম, বিশ্বাস, জাত, শ্রেণী -নির্বিশেষে যে জনঐক্য ত্বরান্বিত করা দরকার সেটাই এখনকার রাজনৈতিক কাজ। পুরানা চালের সাংবিধানিক রাজনীতি বারবার সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্রই বয়ে আনছে। জনগণের মুক্তির আকাঙ্খা কাগজের পৃষ্ঠায় বন্দি করে গণতন্ত্রের নামে মুষ্টিমেয় কিছু লোকের লুটপাটের রাজনৈতিক বিধান উচ্ছেদ করেই বাংলাদেশ নতুন জন্মের গৌরব নিয়ে নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারে। তার জন্য চাই জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের আপসহীন ঐক্য। আমরা যদি সর্বময় ঐক্য গড়ে তুলতে না পারি তাইলে জাতীয় আন্দোলনে ইসলামকে সামনে রেখে যারা লড়বেন তাদের ধর্মযুদ্ধের সৈনিক বা জঙ্গি যাই বলুন তাতে কিচ্ছু হেরফের হবে না। নতুন ক্ষমতা কাঠামো তৈরি হবে ধর্মের আশ্রয়েই। ফলে সাংস্কৃতিক ও শ্রেণী ঘৃণার ঘেরাটোপ পার হয়ে আমাদের দ্রুত ঐক্যের পথ খোঁজা ছাড়া উপায় নাই। দেশি-বিদেশী নিপীড়ন থেকে মুক্তির জন্য মজলুমর ঐক্যের বিকল্প নাই।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

Flying with broken wings

Jyoti Rahman

Pakistani voters queue outside a polling

A magical realist masterpiece, Salman Rushdie’s Midnight’s Children has weird and improbable events and people juxtaposed against the history of the 20th century South Asia up to the late 1970s. One such improbable fact was that at the time of writing, and thus the story’s culmination, military rulers of the erstwhile two wings of Pakistan had the same first name.

This is not the only parallel between the political history of Bangladesh and post-1971 Pakistan.

Both successor states of United Pakistan started with larger-than-life charismatic leaders, whose rules ended in tragic denouement inconceivable in 1972.  Both giants found governance to be much harder than populist rhetoric, both resorted to un-democracy, and both ended up meeting cruel ends at the hand of their trusted guards.  Both countries succumbed to dictatorships in the 1980s, although the extent and mechanism varied.  In both countries democratic opposition developed.  In both countries, some form of democratic politics came into practice by the 1990s.

But democracy has failed to take root in either, with military interventions or threats thereof, remaining a constant feature.  In both countries, electoral democracy has meant two mutually antagonistic parties/coalitions who differ little on policy, but much on personality and the thirst for power over patronage and privilege.  Both countries have experienced increasing religious extremism. More recently, in both countries, judiciary and media are experimenting with new found powers, not always to the best effect.

Throw in the political economy of NGO-led development in Bangladesh, or the misfortune of being next to a theatre of the Great Game for Pakistan, and it’s easier to see why democracy may have had such a hard time in these countries. Indeed, with increasing NGO activities in Pakistan and the Great Game coming to Myanmar — a theatre closer to Bangladesh — both countries have much to learn from each other’s misfortunes.

2014-01-05T144958Z_01_DHA056_RTRIDSP_3_BANGLADESH-ELECTION-8825

Of course, in Bangladesh, the discourse around Pakistan is so full of vitriolic jingoism that any suggestion of learning something from the Pakistani experience is likely to be met with scorn.  But even outside Bangladesh, there is not much by way of comparative studies of Bangladesh and Pakistan.

William B Milam’s Bangladesh and Pakistan: flirting with failure in South Asia is a rare exception.  This slender —276 pages including reference and index —volume begins with a brief history of the erstwhile united Pakistan, and then tracks the military-civilian back-and-forth in the two countries up to 2008.  The author, a former American Ambassador to both countries, can bring unique perspective to the subject matter.  And the book’s conclusion —the tipping points between real democracy and more of the same in Bangladesh and Pakistan are yet to be reached—is something one can hardly quibble with.

One does not read a retired career diplomat for facts and figures.  And this book is not full of facts and figures.  However, one might expect a lot of interesting anecdotes from someone who served in Bangladesh as the Ershad regime ended and in Pakistan when the Musharraf regime started.  Sadly, Milam does not give us such tidbits.

Instead, he opens up a range of questions that could be, ought to be, explored in depth.  Truth be told, it’s a tad disappointing that Milam does not push any of these issues further.  But then again, at least Milam has written a book.  Surely there are others who can add to the literature.

What are these questions?  One is about the role of India in the two country’s politics.  Another is Islam.  I am going to skirt over these two, not because they are unimportant, but because these are fairly well trodden grounds.

Instead, let me pick up the issue of military involvement, and withdrawal, from politics in the two countries.

From the vantage point of December 1971, one might have expected some form of military involvement in Bangladeshi politics.  The nucleus of the Bangladesh army was the victorious Mukti Bahini, and its commanders like Ziaur Rahman might have expected some say in the new country’s affairs — historically, states founded by guns tend to give armed men some (if not all) power.

However, it should have been a different matter in what was left of Pakistan.  If there was a state where the army rule, directly or otherwise, should have been thoroughly repudiated, it should have been Pakistan after December 1971.  Army rule had lost half the country.  A quarter of the army itself was taken prisoner-of-war by the ‘hated enemy’.  The country was bankrupt, with its major port severely damaged.  The idea that generals could save Pakistan should have died in the swamps of Bengal.

Of course, it didn’t.

ZA Bhutto used the army to silence legitimate dissent in Balochistan. And then, in 1977, he tried to rig an election that he might have won anyway, resulting in months of street violence and political gridlock, which paved the way for Gen Zia-ul-Huq’s grim rule.

That’s the most straightforward reading of things.  Writers as diverse as Tariq Ali or Anatol Lieven agree that Mr Bhutto deserves to be blamed, if not solely or in whole measure, then at least substantially, for the remilitarisation in Pakistan.  So, the question then is, was Pakistan just unlucky to have Bhutto, or was there something about Pakistan that made his power grabs more likely?

Let’s look at the issue from a different perspective.  Milam ends his book with the observation that the prospect of democracy, indeed the very survival of the state, was bleaker in Pakistan than Bangladesh.

As of 2008, Bangladesh army —not formally in charge in the first place — was in the process of handing over power to a democratically elected government.  In Pakistan, on the other hand, there was a shaky coalition facing jihadi violence, with everyone assuming that it was the clean-shaved general and not the mustached civilian who had the ultimate power.

As of 2008, hardly anyone doubted that the incoming Awami League government would finish its five year term.  After all, three previous elected governments had finished their full terms, something no elected government (with possible exception of Mr Bhutto, depends on how one sees things) in Pakistan had done until then.  In Pakistan, at the time, hardly anyone expected Asif Ali Zardari to finish his term peacefully and hold an election in five years’ time.

As it happens, the Awami League did finish its five year term, and has just elected itself —not sure how else to put it politely —for another five years.  But surprising everyone, Mr Zardari also lasted five years in office, as did the Pakistani parliament that was elected in 2008.  For the first time in Pakistan’s history, a democratically elected civilian government handed over power to another such government last year.

So, did Pakistan get lucky with Zardari (or Nawaz Sharif, or Gen Ashfaq Kayani)?  Or did something about Pakistan change between the 1970s, or even the 1990s, to now?

Bangladesh army has shown little interest in running the country in recent years.  Had it wanted to, there were many occasions in the past year where the army could have toppled the government, with a large section of the civil society and opinionmaking class fully cheering on any coup.  But by all accounts, the army has chosen to remain out of politics.  Even its 2007 not-quite-formally-a-coup was at best a half-hearted affair, with full insistence of constitutional fig leaves, no matter how muslin-thin the leaves might have been.

What had changed about Bangladesh army from its coup-prone past?

Why do armies intervene, or not intervene?  Let’s go through a few conjectures.

At the simplest level, perhaps it’s all about the base, corporate interest.  Pay them well, and the armies will be happily in the barracks?  This may well be a major story in Bangladesh.  After all, dal-bhaat grievances were a major (though by no means the only) factor in soldiers’ mutinies of 1975 and 2009.  However, considering the lavishes spent on the forces by the current government, money should not matter for any would be Bangladeshi coupmaker.  And to the extent that no one —not even Bhutto le pere—tried to clip the army’s economic interests in Pakistan, it’s hard to argue that this has been a deciding factor there.

Perhaps the story is a bit more highbrow?

As is widely accepted, Pakistan army sees itself as the ultimate arbiter of that country’s foreign and defense policies, particularly when it comes to relations with India. As long as these domains are untouched, perhaps the generals are content to let the civilians govern.  In that respect, perhaps Pakistan army is similar to the ‘guardian’ armies of Turkey or various Arab republics or Thailand, where the army decides, for whatever historical reasons, that certain areas are no-go for civilian politicians, and they enforce the no‑go-zones through coups if necessary.

Does Bangladesh army see itself in such a guardian role?  When a crisis hits, does it see its role as the national saviour?  In the blood-soaked 1970s, individual officers saw themselves as potential national heroes—call it the curse of the majors.  But from the 1980s onwards, as a collective, perhaps Bangladesh army waits for orders rather than marching to their own bit?  After all, in February 2009, the entire brass held fire and waited for orders that never came.

Of course, this is exactly how it should be.  Armies are meant to be guards, not guardians.  On balance, it’s a good thing that the army has not intervened during Bangladesh’s latest political drama.

But can that remain the case indefinitely?  After all, it was Bhutto’s hubris that allowed Zia’s power grab in 1977.  Could something like that happen yet again?

Even if it doesn’t, it’s important to understand that military rule is not the only obstacle to democracy in Bangladesh and Pakistan —a theme that runs through Milam’s book, and one that needs to be explored further.  After all, it was Mr Bhutto who opened the door for the generals to march back in.  So, the question again, was Pakistan unlucky with Mr Bhutto, or was there something about Pakistan?  And more recently, did it get lucky with Messrs Zardari and Sharif, or has something changed there?

Here is another conjecture —for all their personal genius, foibles and shortcomings, it wasn’t the individuals, rather, something did change in Pakistan between the time of Bhutto and Zardari.  In the intervening years, multiple centres of power —not just the army-bureaucracy and a towering politician, but also political parties representing different provinces and ethnicities and constituencies, as well as media, judiciary and other civil society organisations —developed in Pakistan.  While this fragmentation of authority may hamper its policy deliberations, it probably has driven home to Pakistani politicians the need to coexist and tolerate each other.  Papa Bhutto stood above everyone, and couldn’t countenance anyone else’s existence.  Sharif brothers had learnt to live with others.  Perhaps that’s what has saved Pakistan, at least for now.

What about Bangladesh?

This is what Milam says in the penultimate page: Perhaps there is more hope that a real, sustainable democratic culture can develop in Bangladesh, but old habits die hard.

And thus we come to today’s Bangladesh, on which, Milam observes:

…a government which, because of the perverted institutions of the state, is in a position to eliminate the opposition as a force to be reckoned with, and move towards a one-party state. This election, instead of deja vu all over again, could be the tipping point to something entirely new on the subcontinent.

Bangladesh may well have come a full circle in the past four and half decades.  At the beginning of the 1970s, with the left fractious and the right discredited for its role in the country’s freedom struggle, Awami League was the only major organised political force in Bangladesh.  Whatever we have, it’s not democracy.

And, Sheikh la fille may well prove to be more successful than her father.  Again, over to Milam:

But politics aside, it is 2014 in Bangladesh. The chronic instability and near-anarchy, as well as the abject poverty that prevailed in 1975, have long since disappeared. Bangladesh, while still poor and in the stage of economic development where gains can easily be reversed, is now wired into the global economy with its vibrant garment and other export industries. Growth has been strong for most of the past two decades, and the country as a whole is much more prosperous. More importantly, it has a much more literate and healthy population because of the strides that have been made in mass education and in reducing gender disparity.

In Shame, his novel on not-quite-Pakistan, Rushdie calls the country Peccavistan. Peccavi in Latin means I have sinned.  This is the message Sind’s English conqueror sent back to the John Company after he took the country by deception and ‘rascality’.  Pakistan used to be governed by deception and rascality, hence the name Peccavistan.

When the results of Pakistan’s first general election became known 37 years ago, a western journalist quipped that Pakistan would soon be replaced by Mujibdesh and Bhuttostan.  As things stand, we should rename our country East Peccavistan.

And things will remain as they are unless we choose democratic politics.  Make no mistake, that’s hard work.  But that’s what it comes down to.  A bird cannot fly with broken wings.  Our democracy is broken.  People governing the country are doing so not with democratic mandate.  Choosing democracy means opposing this deception and rascality.  Only by joining and fixing the opposition, so that when the table turns it lives and lets live, can we end East Peccavistan.

Dear reader, the choice is yours, will you choose Bangladesh?

Where Are We Heading?

1

By Sabuz Khan

Since the 1947’s India-Pakistan separation – West Pakistan imposed Urdu as the official language of East Pakistan and proposed to write Bengali in Arabic scripts. Fuelling outrage amongst the people, where the majority (54%) speaks in Bengali, leading to a country-wide Language Movement outcry and criticism. Pakistan finally decided to recognise Bangla as the second official language in 1956, followed by the major protest in 1952. The thought of having an independent country has started since then.

What a wonderful language. Many have given lives; you’re familiar with some of them. Now we speak Bengali (some speaks Hingli*) – and proudly celebrate 21st February every year.

CHANGE IN STATE OF PLAY!
India is a passing craze! Indian TV channels are getting increasingly popular in Bangladesh, influencing the country’s culture and lifestyles. Bangladesh pays hefty annual subscription fees of appx. BDT 1,706,532,410, whereas Bangla channels are banned in India.

Bollywood songs are played in Bangla serials & movies, including the concerts paying tribute to the national events days. People happily use Hindi terms/words in their daily conversations and Social Medias. Non-resident Bangladeshis’ shamelessly speaks in Hindi/Urdu. National politics itself is far involved with India, than any time before!

The idea is pathetic. We have given lives to earn our independence from one country – now handing over ourselves to another.

সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ : বিপক্ষের যুক্তি

5

by শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

প্রতি ৫ বছর পর পর সামরিক বাহিনীর দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকা জাতি পৃথিবীতে কম আছে। দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উভয় প্রকার দুর্যোগে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ বাংলাদেশীরা খুব খুশি মনে মেনে নেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের উভয় সাইডের পাবলিকদেরকে গত দশ বছরের কোন না কোন সময় সামরিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করতে দেখা গেছে। ফক-ইউ-আহমেদ-দের ২ বছরের শাসন আমলে দেশের সাধারণ মানুষদের একটি বড় অংশকে রীতিমতো সামরিক শাসন এনজয় করতেও দেখা গেছে।

শোনা যায় বর্তমানে দেশের একটা বড় জনগোষ্ঠি মনে প্রানে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। ধারণা করা যেতে পারে খোদ সরকারপন্থীদের অনেকেও সামরিক হস্তক্ষেপ মেনে নেবেন। তারপরেও তারা বিরোধী জোটের হাতে ক্ষমতা দেবেন না।

এখন প্রশ্ন হলো সামরিক বাহিনী কি ভাবছে? দেশের যে পরিমান ক্ষতি ইতোমধ্যে হয়ে গেছে, যতো মানুষকে গুলি করে মারা হয়েছে, যতো মানুষ আগুনে পুড়েছে, যতো প্রকার নির্লজ্জ বিদেশী হস্তক্ষেপ হয়েছে, এবং সর্বোপরি জনমনে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা যতোটা বেড়েছে, সাধারণ দৃষ্টিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করার এর চাইতে বেশি যুক্তি সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন হবার কথা না । তারপরেও সামরিক হস্তক্ষেপ হচ্ছে না কেন? রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সামরিক বাহিনীর অনাগ্রহী হবার অনেকগুলো কারনের মধ্যে নীচের ইস্যু গুলো থাকবেঃ

– জেনেরালদের অনেকে মনে করেন প্রতি ৫ বছর পরপর সামরিক হস্তক্ষেপ করা কোন দেশের মিলিটারির দায়িত্ব হতে পারে না। আজকে এ দল নামাতে মাঠে নামলে, পাঁচ বছর পরে অন্য দল ঠেঙ্গাতে মাঠে নামা লাগবে। এর চাইতে চুপচাপ প্রফেশনালভাবে রাজনীতিবিদদের উন্মত্ততা দেখে গেলে এক সময় না এক সময় অযোগ্য রাজনীতিবিদরাই শেষ হয়ে যাবেন, অথবা নিজেদের অসুস্থ রাজনীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হবেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপে।

– ১/১১ এর অভিজ্ঞতা সামরিক বাহিনীর জন্যে ভালো ছিল না। যদিও একথা সত্য যে সামরিক বাহিনীর কেউ কেউ ১/১১ এর সময় বেশ বাড়াবাড়ি করেছিলেন। কেউ হয়তো নিজের ইচ্ছায় একটু বেশি এডভেঞ্চার করতে গিয়েছিলেন, আর কেউ হয়তো অন্য কারও হুকুমে নিরুপায় হয়ে বাড়াবাড়ি করেছিলেন। ২০০৮-এর পরে কয়েক ডজন বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাকে তাদের জীবনের নিরাপত্তায় বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। এদের বেশীর ভাগই এখন আছেন আমেরিকায়। এরা কবে দেশে ফিরতে পারবেন কেউ জানে না।

– ১/১১ এর পেছনে আমেরিকা ও ইন্ডিয়ার ভুমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু আশ্রয় নেবার ক্ষেত্রে আমেরিকাকেই বেছে নিয়েছেন সামরিক বাহিনীর অনেকেই। আমেরিকানরা গ্রিন কার্ড কিংবা অন্যকোন বিশেষ ব্যাবস্থায়  নিয়ে গেছে ১/১১ এর বিতর্কিত মিলিটারি কর্মকর্তাদের। কিন্তু আমেরিকা তাদের জীবনের নিরাপত্তা দেবার বাইরে আর বেশি কিছু দেয়নি। একারণে কর্মকর্তাদের অনেকেই ছোটখাটো কাজ করে আমেরিকায় কষ্টকর জীবন যাপন করছেন। একজন অত্যন্ত ক্ষমতাবান সামরিক ব্যাক্তি পিজ্জা ডেলিভারির কাজ করতে যেয়ে ক্যামেরা বন্দি হয়েছিলেন নিউ ইয়র্কের বাংলা পত্রিকায়। এসব অভিজ্ঞতা সামরিক বাহিনীর জন্যে সুখকর নয়।

– পরিবর্তিত সংবিধানে সামরিক হস্তক্ষেপের শাস্তি মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। সামরিক বাহিনীর জেনেরালরা জানেন যে কোন না কোন দিন আজকে যাদের সরিয়ে দেয়া হবে, তাদের দল আবার ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে। তখন এসে বিচার শুরু করলে, দেশের উভয় রাজনৈতিক দলের কাছ থেকেই কোন সাহায্য নাও পাওয়া যেতে পারে। সামরিক কর্মকর্তাদের চাকরি জীবনের ও ক্ষমতার রিটায়ারমেন্ট আছে। রাজনীতিবিদদের কোন রিটায়ারমেন্ট নেই। একারণে রাজনীতিবিদদের প্রতিশোধ নেবার সুযোগ ও সময় থাকে অফুরন্ত।

– বর্তমান বিএনপির উপর সামরিক বাহিনীর ডানপন্থীদের অনেকেই খুশি না। ফারুক-রশিদ-ডালিমদের পরিনতি সামরিক বাহিনী দেখেছে। বিএনপির শাসন আমলের পুরোটা সময় ফারুক-রশিদদের অনেককেই জেলে থাকতে হয়েছে। অনেকের দৃষ্টিতে ফারুক-রশিদদের সৃষ্ট ইতিহাসের পূর্ণ রাজনৈতিক বেনিফিট বিএনপি পেলেও, বিএনপি প্রতিদান স্বরূপ ফারুক-রশিদদের দুঃসময়ে পাশে এসে দাঁড়ায়নি। তাদের বিচার শুরু হয়ে যাবার পরে বিএনপির নিরবতাকে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। এই ঘটনায় অনেকে মনে করেন রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সুবিধাবাদিতা ফুটে উঠেছিল। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ইস্যুতেও বিএনপি নিরবতাপালন করেই চলেছে। যা অনেকের চোখে সুবিধাবাদিতা হিসেবে ধরা দিচ্ছে। সামরিক বাহিনীর কেউ মনে করতেই পারেন বিএনপি কখনই সেই সব মানুষের পাশে দাঁড়ায় না, যারা এই দলটির জন্যে রিস্ক নেয়।

– সামরিক বাহিনীর জীবন সব সময়ই সিভিলিয়ানদের থেকে ঝামেলা মুক্ত ছিল। হরতাল অবরোধ হানাহানি তাদের স্পর্শ করতো না আগেও, এখনও করে না। এই নির্ঝঞ্ঝাট জীবনে এখন যোগ হয়েছে বিদেশে যেয়ে হালাল টাকা রোজগারের উপায়। একারণে দেশীয় রাজনীতির ঝামেলায় জড়িয়ে পরার কোন কারণ সামরিক বাহিনীর অনেকে দেখেন না।

– বিভিন্ন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রভাব বেড়েছে সামরিক বাহিনীর উপর। একটি দেশ না, একাধিক দেশ। জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণও বেড়েছে, কেননা জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর সার্ভিস নিয়ে থাকে। অনেক বেতন দেয়। জাতিসংঘ চায় না তাদের ভাড়া করা সেনাবাহিনী কোন দেশে ক্ষমতা দখল করুক। বিদেশী রাষ্ট্রের কিংবা গোষ্ঠির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব সামরিক বাহিনীর রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামানো দুরূহ করে দিয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, রাজনীতি বিমুখ হয়ে বাংলাদেশের সেনা বাহিনী যদি সত্যিই তাদের প্রফেশনাল ইমেজ বজিয়ে রাখতে পারে, তাহলে দেশের দীর্ঘ মেয়াদী লাভ হবে। তবে সেনা বাহিনীর উচিত হবে সব সময় খেয়াল রাখা তারা যেন পুলিশ, র‍্যাব, কিংবা বিজিবির মতো ঠ্যাঙ্গারে বাহিনী হিসেবে কোনও রাজনৈতিক শক্তির দ্বারা ব্যবহৃত না হন। সাধারণ মানুষকে কিংবা যে কোন দলের রাজনৈতিক কর্মীদের যেন তাদের হাতে কোনদিন গুলি খেয়ে মরতে না হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার একমাত্র স্তম্ভ হচ্ছে আমাদের সেনা বাহিনী। সকল দল ও মতের মানুষের সাথে সেনা বাহিনীর সুসম্পর্ক থাকা একারণে খুবই জরুরী।

আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনীর উচিত হবে কোন ভাবেই দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠির সাথে সরাসরি মারামারিতে জড়িয়ে না যাওয়া। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধরে রাখতে হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সাথে সেনা বাহিনীর নিবিড় আস্থার সম্পর্ক প্রয়োজন। কোন একটি রাজনৈতিক সরকারের হঠকারিতায় এই আস্থায় যেন চিড় না ধরে তা সেনা বাহিনীকেই নিশ্চিত করতে হবে।

তোমরা যারা বিএনপি বিদ্বেষী

খোমেনী ইহসান:
‘তোমরা যারা বিএনপি করো’ শিরোনামে ব্রাদার মনোয়ার রুবেল অনলাইন দৈনিক ‘বাংলানিউজ২৪ ডটকম’ এ একখান প্রচারণাপত্র লিখেছেন। মনোয়ার তার এই লেখায় অনেকখানি চক্রান্ত বিদ্যা চর্চা করেছেন। যা এই কারণেই হাস্যকর হয়েছে যে, বিএনপির লোকেরা তার কোনো কথাই গ্রহণ করবে না। মনোয়ার একবুক বিএনপি বিদ্বেষকে গোপন করে বিএনপি দরদী সাজলেও দলটির নেতাকর্মীদের আবেগানুভূতির প্রতি সামান্যতম সংহতিও দৃশ্যমান করতে পারেননি। বরং তিনি বিএনপির লোকেদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর লোকদের রাজনৈতিক ফারাক সূচিত করতে গিয়ে অসম্মান ও বিদ্বেষই জারি রেখেছেন।

খেয়াল করে দেখি মনোয়ার কী করছেন। তিনি লিখেছেন, ‘তোমরা বিএনপি/ছাত্রদল করো তারা হয়তো একটি জিনিস নিশ্চয়ই জানো, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি দল। শহীদ জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা। জিয়াউর রহমানের বীরত্বগাথা যুদ্ধের কাহিনী স্কুলগুলোতে পড়ানো হয়।’ মনোয়ার চালাকি করে সম্মান দেখানোর নামে জিয়াউর রহমানের প্রতি তাদের বিদ্বেষকে ঠিকই জারি রেখেছেন। কারণ যারা জিয়া বিদ্বেষী তারা তাকে শুধু মুক্তিযোদ্ধা মনে করে। বিদ্বেষের মধ্যে একটু উদারতা দেখাতে গিয়ে তারা কষ্ট করে স্বীকার করে যে জিয়া মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। কিন্তু জিয়া শুধুই মুক্তিযোদ্ধা বা সেক্টর কমাণ্ডার নন। জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। তার ঘোষণার মাধ্যমেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে আওয়ামী লীগের নেতারা পালিয়ে যান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী হানাদারদের তত্ত্বাবধানে গ্রেফতার বরণ করেন। অপারেশন সার্চ লাইটের তাণ্ডবে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রাণ্তে অগুণতি বাংলাদেশির লাশ ছড়িয়েছিটিয়ে পড়েছিল। বিপুল শোক, স্বজন হারানোর আহাজারি আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও দিক নির্দেশনাহীনতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় মুক্তিকামী জনতা। এ অবস্থায় বাংলাদেশের আপামর জনগণকে ইতিহাসের উত্থানপর্বে উন্নীত করতে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে এলেন মেজর জিয়া। প্রথমে তিনি নিজের নামেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনই যার প্রধান লক্ষ্য, তিনি কূটরাজনৈতিক বিবাদকে দানা বাধতে দিতে পারেন না। তাই পরের ঘোষণায় তিনি স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও অন্তর্ভূক্ত করে নিলেন। তার নামে নতুন করে ঘোষণা দিলেন। যার ফলাফল হলো জিয়ার প্রথম ঘোষণায় উজ্জীবিত জনগণ আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ়তার জমিনে আরো বেশি সিনা টানটান করে দাড়িয়ে গেলো। ইতিহাসের দুর্দান্ত সময়ে জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যে মহান কর্তব্য পালন করেছেন, যে সেনাপতিসুলভ প্রজ্ঞা দেখিয়েছেন এবং স্বাধীনতাকামী জনগণকে শোক-বেদনা-হতাশা উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধে শামিল হতে উদ্বুদ্ব করেছেন তার প্রতি বাংলাদেশের গণমানুষের বিপুল সমর্থন, সংহতি ও শ্রদ্ধা রয়েছে। জনগণের এই শ্রদ্ধাকে বিএনপি/ছাত্রদলের সব নেতাকর্মীই অন্তরে ধারণ করেন।

কাজেই জিয়াকে যখন শুধুই মুক্তিযোদ্ধা সম্বোধনে বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপদেশ খয়রাত করা হয় তখন তারা দেখতে পান উপদেষ্টাবন্ধুর মুখোশধারী লোকটি আসলে জিয়া বিদ্বেষী। কারণ এই দেশে যারা জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক স্বীকার করেন না তারা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি কী মনোভাব পোষণ করে তা আর অজানা নয়। এই বিদ্বেষীদের অনেকেই তো সংসদে, সংবাদ সম্মেলনে, জনসভায় শহীদ জিয়াকেজ স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অস্বীকার করেছেন। বলে বেড়িয়েছেন জিয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। শহীদ জিয়া নাকি আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার অভিনয় করেছেন। তারা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে এই মিথ্যাচারই করছেন না। তারা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ভূমিকার জন্যও জিয়াকে অপবাদ দেন। তারা বলেন জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য দায়ী। জিয়া সেই সময় সেনাবাহিনীর উপপ্রধান ছিলেন। ৫ আগস্ট ভোরে বঙ্গবন্ধু নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য সাহায্য চেয়ে তাকে ফোন করেননি। বঙ্গবন্ধু ফোন করেছিলেন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে।তিনি মুখের উপর বঙ্গবন্ধুর জীবন বাচাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। সেই শফিউল্লাহ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ক্যুদেতাদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। বিদেশে রাষ্ট্রদূতের চাকরি নিয়ে দেশ ছেড়ে গেছেন। কিন্তু শফিউল্লাহ আওয়ামী লীগের কাছে উপেক্ষিত থাকেননি।তিনি দলটির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জিয়া বিদ্বেষীরা অভিযোগ করেন তিনি রাজাকার-আলবদরদের রাজনীতিতে পুনর্বহাল করেছেন। কিন্তু তারা বলেন না যে জিয়া একাজটি করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর নীতির ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে। তার এই কথা ধামাচাপা দিতে গিয়েই আড়াল করে যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার-দালালদের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাকে। বঙ্গবন্ধু সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার না করে পাকিস্তানের সাথে সমঝোতার চুক্তি করেছিলো। মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ভুট্টোর সাথে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু গলাগলি ও কোলাকুলি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বিনা বিচারে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল কারবন্দি হাজার হাজার রাজাকার-দালালদেরকে। তারা শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়ার নজিরকে সামনে এনে শহীদ জিয়া বিরোধী যে প্রচারণা চালান তার মধ্যে কোন উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয় তাও তো কারো অজানা নয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম, সংবাদপত্র, বিচার বিভাগ ও বাক স্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে জাতীয় জীবনে নৈরাজ্য ও হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরির ফলে বাংলাদেশে জাতীয় সংহতি বিনষ্ট হয়েছিল। দেশ নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল আমাদের জন্মভূমি। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মহান সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ জিয়ার কাঁধে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্বভার অর্পিত হয়েছিল। জাতীয় সংহতির পথ উন্মোচিত করতে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্র-বিচার বিভাগ-বাক স্বাধীনতা কায়েম করেছিলেন। তিনি বাকশালে বিলুপ্ত আওয়ামী লীগ ও সিপিবিসহ সব রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। জিয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও দেশে ফেরত এনে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছেন।

জিয়া বিদ্বেষীরা অভিযোগ করেন জিয়া জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলছি স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকার যে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল তার প্রমাণ দেখান। তিনি ভারতের সাথে কলা ২৫ সালা গোলামীর চুক্তি মোতাবেক সংবিধানে জোর করে ধর্মনিরপেক্ষতা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। এর ফলে জামায়াত রাজনীতি করার সুযোগ হারিয়েছিল কিন্তু তিনি তো কখনোই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেননি। সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি বাঙ্গালীর জাতীয়তাবাদকে সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। অথচ বাংলাদেশে আরো কমপক্ষে ৫০টি জাতি সত্ত্বা রয়েছে। তারপরেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাংবিধানিকভাবে সাম্প্রদায়িকতা কায়েম করা হলে। অথচ বাঙ্গালীদের মতো বাংলাদেশে মুসলমানরাও সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের ধর্মকে উপেক্ষা করে ধর্মনিরপেক্ষতা কায়েম হতে পারে না। সত্যিকারের সেক্যুলার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাইলে এটা সম্ভব নয়। এ কারণে জিয়া ইসলামপন্থী দলগুলোকেও জাতীয় ঐক্যের মধ্যে আসতে দিয়েছেন। এটা তার অপরাধ ছিল না, বরং তার সুদূরপ্রসারী ঐক্য চিন্তার সৌন্দর্য্য। জাতীয় ঐক্য ও সংহতির মতো মহান লক্ষ্যের জন্য জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে রাজনীতি করতে দেয়ায় বিএনপি ও জিয়া বিদ্বেষীরা অপরাজনীতি করে বেড়ায়। অথচ তারা তো একবারও বলেনা যে শুধু বিএনপি বিরোধী আন্দোলন করতে ও ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগ কিভাবে জামায়াতের সাথে এক টেবিলে বসে রাজনীতি করে।কিভাবে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করে? কিভাবে অধ্যাপক গোলাম আযমের কাছে আওয়ামী লীগ দলীয় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দোয়া আনতে যায়? আওয়ামী লীগের ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করা যদি দোষের না হয় তবে জিয়ার সিদ্ধান্ত কেন মহাননুভবতা হিসেবে স্বীকৃত হবে না?

মনোয়ার রুবেল তার লেখার সমালোচনার কারণে বিএনপি ও ছাত্রদলের লোকদের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের সাথে সুর মেলানোর অভিযোগ করেছেন। তার এ অভিযোগ অপবাদই নয় শুধু বিএনপি ও জিয়া পরিবার বিরোধী চক্রান্তেরই অংশ। কারণ আমরা দেখেছি গত ৫টি বছর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাতে গিয়ে প্রায় সময়েই জিয়া বিদ্বেষীরা বলেছে বিএনপি ও জামায়াত একই রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী। তারা স্বাধীনতার ঘোষক ও দেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার দলকে বলে বেড়ায় পাকিস্তানপন্থী দল। এসব অপবাদ তো শুধু অপবাদ ছিল না। এই অপবাদ ছিলো বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ইশতেহারের অংশ। তাইতো আমরা দেখি তারা খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে নিষ্ঠুরভাবে ঈদের আগে উচ্ছেদ করেছে। অথচ রাষ্ট্রের কাছ থেকে বরাদ্দ পেয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ঢাকায় বাড়ি করেছেন। তার বাড়ি কিন্তু বহাল আছে। সরকার মুজাহিদ পরিবারকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ দূরে থাক, এ জন্য একটি শব্দও খরচ করেননি জিয়া বিদ্বেষীরা। আমরা দেখেছি বিদ্বেষীরা কিভাবে দিনের পর দিন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও কোকোকে অপবাদ দিয়েছে। তারেকের বিরুদ্ধে তারা আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআইয়ের লোকদের সাক্ষী হিসেবে উড়িয়ে এনে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন তিনি দুর্নীতিবাজ। কিন্তু আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে তারেক নির্দোষ। আদালতের এই ঘোষণার পর কিন্তু তারা একবারও ‘সরি’ বলেনি।

আজকে বিএনপি ও জামায়াতের সুর এক হয়ে গেছে বলে তারা অভিমান করছেন। ছাত্রদলের ছেলেরা শিবিরের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে কথা বলছে বলে গোস্বা করছেন। কিন্তু বিএনপি সব সময় জানিয়েছে তাদের আদর্শ বাংলাদেশী জাতীয়তবাদ। তারা জামায়াতের সাথে আদর্শিক ঐক্য নয়, ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের জোট করেছে। যার প্রমাণ আমরা বিএনপির কথা ও কাজে দেখেছি। কিন্তু যারা আজ বিএনপি দরদী তারা কি বিএনপি ও জামায়াতের সাথে কোনো ফারাক করেছে? তাহলে জামায়াত-শিবিরকে হত্যা-গুমের মতো করে তারা বিএনপি বা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হত্যা-গুম করে? বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল মনে করার নমুনা কি ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, ছাত্রদল নেতা আশিককে গুম করা? মাঝরাতে মই বেয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে অনুপ্রবেশ করে রিজভী আহমেদকে তুলে নিয়ে যাওয়া? ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এমকে আনোয়ার, ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, আসম হান্নান শাহকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি করে রাখা? ছাত্রদল ও শিবিরের সাথে পার্থক্য করার মানে কি ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ও হাবিবুর রশীদ হাবিবকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি করে রাখা। গত এক মাসে ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছেন। আমরা দেখিনি কেউ ছাত্রদলকে শিবিরের থেকে আলাদা ছাত্রসংগঠন মনে করে তাদের পক্ষে দুটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন।

সত্যি কথা কি, আওয়ামী লীগ বিনা ইশতেহারে, প্রতীকে, ভোটে যখন ১৫৪টি আসনে নিজেকে বিজয়ী করে ফেলে তখন কূটনীতিকরা হতভম্ব হয়ে যান। তারা সেই সরকারের আমন্ত্রণে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে হাস্যকর সরকারের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকেন। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এর কূটনৈতিক মূল্য বুঝেন। তাই যারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষে থাকার কথা বলে ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থার পক্ষে নির্লজ্জভাবে অবস্থান নেয় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রতিবাদী বক্তব্যকে অনুধাবন করে ফ্যাসিবাদকে সমর্থনের জন্য যখন কেউ দুঃখিত-লজ্জিত না হয়ে যখন বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জামায়াত/শিবির করার জন্য অভিযুক্ত করা হয় তখন সব কিছু পষ্ট হয়ে যায়। বিএনপি ও জিয়া পরিবার বিদ্বেষীরা আজ আস্তিনে খঞ্জর লুকিয়ে ভালো সাজতে এসেছে! কিন্তু তাদের কথা শুনে বিএনপি/ছাত্রদল নিঃস্ব হয়ে পড়লে যে খঞ্জর নিয়ে ঝাপিয়ে পড়বে না তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য নজির নাই।

মহিলা ডিপ্লোম্যাট উলঙ্গ করা নিয়ে ভারত ও আমেরিকার টানাপোরন

5

By শাফকাত রাব্বী অনীকঃ আজকের ভারতীয় মিডিয়া পড়লে মনে হবে যে কোন কারণ ছাড়াই আমেরিকানরা ভারতীয় নারী কূটনীতিকদের ধরে উলঙ্গ করে ছেড়ে দিচ্ছে নিউ ইয়র্ক শহরে। আর একারণেই প্রতিবাদে ফেটে পরেছে ভারতীয় মিডিয়া। দেশপ্রেমের উন্মাদনায় ঝাপিয়ে পরেছে নব্য ডলারের স্বাদ পাওয়া ভারতীয় মিডলক্লাস। আর পাশে দাড়িয়ে তালি বাজাচ্ছে খোলা আকাশে বড় কাজ সাড়া দলিত-ক্লাস। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের অনেকে ভারতীয়দের দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ ভেবে রোমান্টিকতায় ভুগছেন।

মূল ঘটনা কি হয়েছিল বলছি। ভারতের ৩৯ বছরের মহিলা ডেপুটি কনসাল জেনেরাল দেবযানী খোবরাগাডেকে নিউ ইয়র্কের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে। ভদ্রমহিলা ভারত থেকে কাজের মহিলা এনেছিলেন ভিসার মাধ্যমে। ভিসার এপ্লিকেশনে উল্লেখ করেছিলেন ঘন্টায় ৯ ডলার ৭৫ সেন্ট বেতন দিবেন। নিউ ইয়র্কে বৈধ ভাবে কাউকে ৭ ডলার ৫০ সেন্ট এর নিচে বেতন দেয়া যায় না। ঘটনাক্রমে আমেরিকানরা জেনে গিয়েছিল যে কাজের মহিলাকে ঘন্টায় মাত্র ৩ ডলার বেতন দিচ্ছেন দেবযানী। ব্যাস, নিউ ইয়র্ক পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল দেবযানীকে।

আমেরিকান থানা হেফাজতে ঢুকানোর আগে উলঙ্গ করে শরীর চেক করা হয়। শরীরের কোন বিশেষ গহবরে টাকা-পয়সা, ছোট্ট চাকু, বিষ, ড্রাগস ইত্যাদি লুকানো আছে কিনা তা দেখার জন্যেই মনে হয় এমন স্ট্রিপ সার্চ করা হয়। একে বেশ ডিটেইল চেক-আপ বলা যেতে পারে। দেবযানী ভদ্রমহিলাকেও ঠিক এভাবেই চেক-আপ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা যায়। ভদ্রমহিলাকে  যে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল সেখানে রুমমেট হিসেবে উনি পেয়েছিলেন ড্রাগস ও পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত আরো কিছু ভদ্র মহিলাকে। নিউ ইয়র্কের প্রেক্ষাপটে এটাও কোন অস্বাভাবিক ঘটনা না।

দেবযানী বিষয়ক উপরোক্ত খবর ভারতীয়দের জানানোর সময় ভারতের মিডিয়া বেশ চালাকি করেছে। কি কারণে ভদ্রমহিলাকে হাজতে নেয়া হয়েছিল তা আড়াল করে, কেন তাকে উলঙ্গ করে চেক করা হয়েছে এবং কেন পতিতার সাথে একই হাজতে রাখা হয়েছে তা নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। উলঙ্গপনা ও পতিতাবৃত্তি — এই দুটো বিষয় ভারতীয়দের বেশ টাচ করে।

তবে একটা বিষয়ে আমি ভারতীয়দের সাথে একমত। এই পুরো ঘটনায় দেবযানীকে আমেরিকানরা  ডিপ্লোম্যাট হিসেবে একটু খাতির করলেই পারতো । তার অপরাধ যাই হোক না কেন। বিশেষ কোন একটা কারণে আমেরিকানরা তাকে ডিপ্লম্যাটের সুযোগ-সুবিধা দেন নাই। এটা ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির জন্যে একটা চাঞ্চল্যকর এবং আশংকাজনক বিষয়। কেন এমনটা হলো তা এখনই নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে না।

ইদানিংকালে বেশ কিছু বিষয়ে ভারতের সাথে আমেরিকানদের ডিপ্লোম্যাটিক সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠছিল। ভারতের জন্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু আছে। সর্বাধিক গুরুত্বের দিক থেকে চিন্তা করলে, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মায়ানমার বিষয়ক ইস্যু তে আমেরিকার সাথে ভারতীয়রা দরকষা কষি করে। এর মধ্যে কোন কোন ইস্যুতে ভারত বর্তমানে আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক কমিউনিটির বেপরোয়া বিরোধিতা শুরু করেছে।

ভারতের রাজনীতিতে এখনো আমেরিকা বিরোধী মনোভাব ভোটের সংখ্যা বাড়ায়। সামনে ভারতে নির্বাচন। ঐতিহাসিক ভাবে আমেরিকা-বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস এখন ক্ষমতায়। তাদের রাজনৈতিক অবস্থা আমাদের শেখ হাসিনার চাইতে একটু ভালো। তবে খুব বেশি ভালো না। অর্থাৎ কংগ্রেসের আবার ভোটে জিতার সম্ভাবনা অনেকটাই কম। একারণে যে কোন উছিলায় এন্টি-আমেরিকান মনোভাব দেখিয়ে ভোট বাড়ানোর চেষ্ঠা করে থাকতে পারে নোংরা-রাজনীতির জন্যে বিখ্যাত কংগ্রেস পার্টী। আর কংগ্রেস যদি আমেরিকার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে, তাহলে হিন্দু-মৌলবাদী বিজেপি নিজেদের আমেরিকা-পন্থী মনোভাব ঢাকতে কংগ্রেসকেই ফলো করবে, এটাই স্বাভাবিক।

ভারতীয়রা অতি উৎসাহী হয়ে বেশ কিছু এন্টি-আমেরিকান কান্ড ঘটিয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব সম্পূর্ণ কয়েকজন আমেরিকান কংগ্রেসম্যান এই মুহূর্তে ভারত সফরে আছেন। ভারতের শীর্ষ নেতা-নেত্রিরা এদের সাথে দেখা করেননি। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দুই প্রধান মন্ত্রী রাহুল গান্ধী এবং নরেন্দ্র মোদী উভয়েই একই কাজ করেছেন। এই প্রতিবাদটা যদিও বেশ ভদ্র প্রতিবাদ। ভারতীয়রা এখানে থামলেই ভালো করতো। কিন্তু তা না করে, ভারতীয়রা আরও কিছু বাড়াবাড়ি প্রতিবাদ করেছে। আমেরিকানদের কাজের লোকের বেতনের রিসিট তলব করেছে, মদ ও বিলাসী পন্য আমদানির ক্ষমতা বিলোপ করেছে, আইডী কার্ড কেড়ে নিয়েছে, আমেরিকান স্কুলের টিচারদের বেতন ও ট্যাক্স নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করেছে। এগুলোকে আপাতত দৃষ্টিতে খুব বাহবা দেবার মতো প্রতিবাদ মনে হলেও, ভারতের অর্থনীতির আমেরিকা নির্ভরতা বিচার করলে এগুলো আসলে নির্বোধের প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু না। ভারত সব চাইতে বাড়াবাড়ি করেছে আমেরিকান এম্বাসির নিরাপত্তা ব্যাবস্থা শিথিল করে দিয়ে। এটা মারাত্মক রকমের একটা বেয়ারা আচরন। বিদেশী অতিথির নিরাপত্তা প্রত্যাহার খুবই নিচু শ্রেণীর মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

এতো হম্বি তম্বি করার সময় ভারত হয়তো ভুলে যাচ্ছে যে তারা কিন্তু চীন না। ভারতের হাজার হাজার আইটি কর্মী তীর্থের কাকের মতো আমেরিকায় কাজের প্রত্যাশায় এখনও বসে থাকে। ভারতের কয়েকটা প্রদেশের দু’বেলার খাদ্য জোটে আমেরিকানদের সাথে টেলিফোনে কথা বলে। আমেরিকান বিলাসী প্রেমিকা কিংবা স্ত্রীরা তাদের প্রিয় পুরুষের বীর্য শিশিতে করে ভারতে পাঠিয়ে দেন। তারপরে ভারতীয় মহিলারা সেই বীর্য তাদের শরীরে ভরে ১০ মাস ১০ দিনের ডেলিভারি সারভিস দেন। এর নাম ম্যাটারনিটি আউট সরসিং। ভারতের অনেক হিট সিনেমার শুটিং আমেরিকায় করার জন্যে বাইজীর বহর নিয়ে ভারতীয়রা আমেরিকায় যায়।

আমেরিকা নির্ভরতার উপরের উদাহরনের আলোকে বলা যায়, ভারতীয়দেড় মাত্রাতিরিক্ত রিয়াকশোন দেখানোর ফলাফল হবে খুবই সিম্পল। চিরাচরিত ভারতীয় কায়দায়, ভারতের কোন শিংকে আমেরিকা এসে আমেরিকান কারো কাছে মাফ চেয়ে যেতে হবে খুব শিঘ্রই। এটাই হলো বাস্তবতা। একারণে খামাখা এতোটা হম্বি তম্বি না করলেই পারতো ভারত।

পরিমিতিবোধ জিনিসটি ভারতীয়দের শুধু টাকাকড়ি বিষয়ক কিপ্টামিতেই সীমাবদ্ধ। বোঝা যাচ্ছে ভারতীয় সিনেমার মতোই ভারতীয় ডিপ্লমেসিতেও পরিমিতি বোধের অভাব প্রকোট। প্রতিহিংসাপরায়নতাও ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের মতো তাদের ডিপ্লোম্যাসিতে ঢুকে পড়েছে। বাংলাদেশিরা এই বিষয় গুলো বেশ ভালোই জানেন। এখন আমেরিকানরাও জানলো। ঘটনার টাইমিং এবং প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেললেও অবাক হবো না।