বিশ্ব বেহায়া হতে থুতু এরশাদ…অভিনন্দন হোসেইন মো এরশাদকে

by WatchDog Bd

হোসেন মোহম্মদ এরশাদকে অভিনন্দন না জানালে তার প্রতি অন্যায় করা হবে। বাংলাদেশের কর্দমাক্ত রাজনীতির মাঠে অনেক বড় বড় খেলোয়াড় খেলেতে গিয়ে ঘায়েল হয়েছেন। বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই আহত নিহত হয়ে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। শেখ মুজিবের মত আজন্ম রাজনীতিবিদও নিজেকে নিরাপদ রেখে খেলেতে পারেননি। জিয়ার মত জাদরেল জেনারেলকেও বিদায় নিতে হয়েছে অত্যন্ত করুণ ভাবে। সে তুলনায় জেনারেল এরশাদ অনেকটাই সফল। অন্তত গদি হতে বিদায় পর্বে পূর্বসূরিদের ভাগ্য বরণ করে বিদায় নিতে হয়নি। জেনারেলের ভরা যৌবন ও ভাটা পর্বের প্রায় সবটা সময় দেশে ছিলাম। তাই তার শাসনামলের অটোপসি জানতে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট খোর স্বদেশি মিডিয়ার সাহায্য নিতে হয়না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একটা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান শর্ত। এ অর্থে এরশাদ আমলকে দুভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, স্বৈরতান্ত্রিক উপায়ে হোক আর যেভাবেই হোক তার আমলের কটা বছর দেশ রাজনৈতিক ঝামেলামুক্ত ছিল। ফলশ্রুতিতে ক্ষুদ্র শিল্পের একটা ভিত্তি গড়ে উঠার প্রবণতা শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, তার আমলের অন্তিম লগ্নেই বপিত হয় ক্ষমতা পালাবদলের নতুন বীজ, ক্যান্সার। গাজী গোলাম মোস্তফাকে দুর্নীতির আদি পিতা বললে বোধহয় খুব একটা অন্যায় হবেনা। কারণ রেডক্রসের প্রধান হয়ে কম্বল চুরির মাধ্যমে এই নেতাই দেশে দুর্নীতি নামক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিলেন। পরবর্তীতে এ অধ্যায় শাখা প্রশাখা বিস্তার করে গোটা বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছিল হিমালয়ের চূড়ায়। আজকের পদ্মা সেতুর আবুল ও রেলের কালো বিড়াল সুরঞ্জিত গাজি গোলাম মোস্তফার কম্বল চুরিরই ’গর্বিত’ সন্তান। এ লাইনে মোহম্মদ এরশাদ হোসেনের সাফল্য ছিল অনেকটা নীরব বিপ্লবের মত। বলতে গেলে গাজীর বপিত বীজ হতে এরশাদ বিশাল এক বটগাছের জন্ম দিয়েছিলেন। এবং এ বটের ছায়ায় রাজনৈতিক চোরের দল অনেকটা নীরবে নিঃশব্দে রূপান্তরিত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় ডাকাত দলে।

এরশাদ মন্ত্রিসভার অনেকের সাথে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভাবে জানা শোনা ছিল। গৃহপালিত এসব মন্ত্রিদের মুখ হতেই শোনা জেনারেলের দুর্নীতির লোমহর্ষক উপাখ্যান। এরশাদ নিজ হাতে অর্থকড়ি নিতেন না। টাকা পয়সা দুই উপায়ে জমা হত তার ভাণ্ডারে। এক, রওশন এরশাদ। সরকারী সূতিকাগারে জন্ম নেয়া কোন প্রকল্পই রওশন এরশাদকে বাইপাস করার সুযোগ পেতনা। বাকিতে কাজ করতে অভ্যস্ত ছিলেন না এই মহিলা। এমনকি দলের মন্ত্রীরাও ব্যক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্বে রওশনের পাওনা পরিশোধ করতে বাধ্য ছিলেন। এর হেরফের হলে মধ্যরাতে সক্রিয় হতেন স্বামী এরশাদ। মন্ত্রিদের ফোন করে ঘুম ভাঙ্গাতেন এবং মনে করিয়ে দিতেন মিসেসের গোস্বার কথা। ঐ আমলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সবটাই নির্ভর করত রওশন এরশাদের গোস্বা দূরীকরণের উপর। অবাধ্য মন্ত্রীদের শায়েস্তা করার জন্য জেনারেল নিজেই মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ করতেন এবং তাদের হাতে তুলে দিতেন মন্ত্রীদের নাম ও তাদের দুর্নীতির বিবরণ। জেনারেল এরশাদের মূল আয় ছিল বিদেশ ভিত্তিক কমিশন। আর্ন্তজাতিক দরপত্র ও বিদেশি পণ্য দেশীয় বাজারে বিপনন করতে চাইলে এরশাদের বিদেশি একাউন্টের স্বাস্থ্য স্ফীত করা ছিল জরুরি। মন্ত্রিদের মতে স্ত্রী রওশন এরশাদকে অর্থকড়ি আদায়ের স্বাধীনতা দিতেন বিশেষ কিছু কারণে। তার অন্যতম নিজ রক্ষিতাদের ভোগ করার মূল্য। রক্ষিতাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম ছিলনা। এদের পিছনেও রাষ্ট্রকে অনেক অর্থ ব্যায় করতে হত। পরবর্তীতে যারা এরশাদকে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে উৎখাত করার আন্দোলনে নেমেছিলেন তাদের প্রায় সবাই গোপনে জেনারেলের অনুকম্পায় নিজেদের ভাগ্য গড়েছিলেন। এদের তালিকায় এমন কিছু নাম আছে যা প্রকাশ পেলে চমকে উঠতে হবে।

হোসেন মোহম্মদ এরশাদ জাতিকে আবারও চমক উপহার দিয়েছেন। সদলবলে মহাজোটের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে নতুন করে প্রমান করেছেন বাংলাদেশের রাজনীতির প্রায় সবটাই বেশ্যাবৃত্তি এবং এ লাইনের তিনি সফল দালাল। এরশাদ কোন দলে যোগ দেবেন, কার সঙ্গে জোট বাঁধবেন আর কার সঙ্গ ত্যাগ করবেন তা একান্তই তার নিজস্ব ও দলীয় ব্যাপার। এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার মাঠ রাজনীতিবিদদের জন্য কেউ বন্ধ করেনি। কিন্তু এ পথে হাঁটার জন্য এরশাদ যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তা একান্তই একজন দেহপসারিনী দালালের পথ। বিশ্ব বেহায়া উপাধি হতে অনেকটাই নিরাপদে ছিলেন নিজের পার্টনার-ইন-ক্রাইম শেখ হাসিনার কারণে। কিন্তু এ যাত্রায় ’থুথু এরশাদ’ উপাধি বলতে গেলে নিজেই নিজের কপালে এঁটে দিলেন। এরশাদকে থুতু আখ্যা দিলে আমি বলবো থুতু কে অপমান করা হবে। থুতুর একটা রং আছে, পরিচয় আছে, ধর্ম আছে। কিন্তু হোসেন মোহম্মদ এরশাদ তার ধারে কাছেও নেই। এরশাদের মত একজন প্রফেশনাল মহিলাবাজ, রাষ্ট্রীয় ডাকাত অন্য একজন নির্লজ্জ ক্ষমতালিপ্সু দস্যুর সাথে আঁতাত করবে এতে যারা অবাক হয়েছেন তাদের উচিৎ হবে দেশীয় রাজনীতির ধারাপাত পড়ে দেখা। এরশাদকে আমি অভিনন্দন জানাই, কারণ ১৫ কোটি জনগণের ৩০ কোটি খোলা চোখের সামনে এ ধরণের বেশ্যাবৃত্তি করাও এক ধরনের সাফল্য।

http://www.amibangladeshi.org/blog/11-24-2013/1416.html

হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ – Emrul Mahmud

একই ঘটনা বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মত ঘটল; শুধুমাত্র কুশীলবদের স্থান পরিবর্তন। অনেকেই অনেক ভাবে এরশাদ কে নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন। আমি বলব হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ।
বাংলাদেশের রাজনিতিতে একমাত্র খালেদা জিয়াই প্রিঞ্চিপাল ঠিক রেখে রাজনীতি করে আসছেন। ১৯৮৬ সালে যেমন তিনি স্বৈরশাসকের সাথে আপোষ করেননি, ঠিক তেমনি ২০০৭ সালেও মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের অবৈধ সরকারের নিকট মাথা নত করে দেশ ত্যাগ করতে রাজি হননি। শেখ হাসিনা কিন্তু সে সময়ে ঠিকই দেশত্যাগ করেছিলেন। খালেদা জিয়ার এই ক্লিন ইমেজের কারনেই তাকে আপোষহীন নেত্রী বলা হয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী প্রোপাগান্ডার মিথ্যাচারগুলো আপনি একটু সজাগ হলে খুব সহজেই ধরতে পারবেন। আওয়ামীলীগ যে বিষয়গুলো নিজেদের জন্য প্রযোজ্য তাই বিএনপির উপর চাপিয়ে দেয়। আওয়ামীলীগ বলে থাকে বিএনপি ক্যান্টনমেন্টের দল। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আপনি দেখতে পাবেন ক্যান্টনমেন্টের সাথে আওয়ামীলীগেরই সখ্যতা বেশি। বাংলাদেশের সব সামরিক অভ্যুত্থানের সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত। পঁচাত্তরে সেনাবাহিনী আসছে মোশতাক আহমেদের হাত ধরে। বিরাশিতে যখন এরশাদ আসলো তখন এই শেখ হাসিনা বিবিসিকে বলেছিলেন ‘আই অ্যাম নট আনহ্যাপি’, আওয়ামী লীগের তৎকালীন মুখপাত্র বাংলার বাণী লিখেছিল ‘এত সুন্দর একটা ক্যু, এক ফোঁটা রক্তও ঝরে নাই’/ ছিয়ানব্বিতে নাসিমের ক্যুয়ের সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত ছিল। এরপর মঈন উদ্দীনের ক্যুয়ের সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত ছিল। ২০০৭ সালে শেখ হাসিনা বলেছিলেন মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকারের বৈধতা দিবেন। খালেদা জিয়া সে সময়ে মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের অবৈধ সরকারকে স্বাগত জানাননি।
দ্বিতীয় আরেকটি প্রোপাগান্ডা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি যে জাতীয় পার্টির নেতাদের সাথে বিএনপির সখ্যতা বেশি। অথচ স্বৈরাচারী এরশাদের দল কখনই বিএনপির সাথে যুক্ত হয়নি। ১৯৯৬ সালে এরশাদ আওয়ামীলীগকে মেজরিটি পেতে সহায়তা করে। ২০০১ সালেও নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এরশাদ ডিগবাজী দিয়ে চারদলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। ২০০৭ সালেও মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের অবৈধ সরকার আসার পিছনে কাজ করেছিল এরশাদের নির্বাচন বরজনের ঘোষণা। আর ২০০৮ সালের নির্বাচনে এরশাদ অংশগ্রহন করেছিল আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অধীনে।
গত কিছুদিন যাবত এরশাদ বলে আসছিল আমি মহাজোটের সর্বদলীয় সরকারে গেলে লোকে আমাকে থুতু মারবে, জাতীয় বেঈমান বলবে। আর আজ সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়ে প্রমান করলেন যে উনি আসলেই জাতীয় বেঈমান। এরশাদ এর স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে একটি সভায় বলেছিলেন “শুধুমাত্র একটি জাতীয় বিশ্বাসঘাতক এই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন,” / এই ঘোষণার একদিন পরে শেখ হাসিনা নির্বাচনে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এবং জাতীয় বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই এরশাদ এর অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি অংশগ্রহন করেনি। ১৯৮৬ সালের ওই নির্বাচনের পর এরশাদ (১৯৮৮ সালের একদলীয় নির্বাচন ব্যতীত) আর কোন নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদাটুকুও পাননি। উনি এ যাবতকাল বাংলাদেশের রাজনিতিতে টিকে আছেন বানরের ন্যায় ডাল বেয়ে বেয়ে। আওয়ামীলীগ কি পাতানো নির্বাচন করে সেই পরিনতির দিকেই যাবে?

আমেরিকার কংগ্রেসে বাংলাদেশ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ শুনানি এবং কিছু কথা

by Shafquat Rabbee

সম্প্রতি আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের উপর আমেরিকান কংগ্রেশনাল হেয়ারিং। দেশে এখন আর বাংলাদেশ বিষয়ে অবজেক্টিভ কথা বলার মানুষ বেশি নেই। দলীয় লেজুরবৃত্তি-উন্মাদনা আর ভয়ের এক বিশ্রি ককটেলে সচেতন-সুশীল সমাজ এখন ন্যায্য কথা বলতেই ভুলে গেছেন। এই রকম দমবন্ধকর অবস্থায়, কংগ্রেসনাল হেয়ারিং-এ বাংলাদেশের যে মোটামুটি একটা অবজেক্টিভ চিত্র ফুটে উঠেছে তা সবার দেখা উচিত।

বাংলাদেশ বিষয়ে আমেরিকান ডিসিশন মেকিং করে থাকে কয়েকটি সংস্থা। নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ নিয়ে এনালাইজ করে স্টেট ডিপারটমেন্ট আর গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। আইন প্রণয়নকারি সিনেট ও কংগ্রেসনাল সাব-কমিটির ভুমিকা থাকে প্রয়োজন অনুসারে বাংলাদেশ বিষয়ক আইনগত পলিসি নির্ধারণ করা। আমেরিকান আর্মির প্যাসিফিক কমান্ড এর লোকজন মিলিটারি এঙ্গেল থেকে বাংলাদেশকে এনালাইজ করে। আর এর বাইরে প্রেসিডেন্ট এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বিশেষ ভুমিকা থাকে বাংলাদেশ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ নীতি নিরধারনে। ১৯৭১ সালে আমেরিকান একজিকিউটিভ ব্রাঞ্চ উপরে উল্লিখিত একাধিক ব্রাঞ্চের কথা উপেক্ষা করে পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষে থাকার ভুল সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল। এক্ষেত্রে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা উপদেষ্টার বিশেষ ভুমিকা ছিল বলে ধারণা করা হয়।

আমেরিকান কংগ্রেশনাল হেয়ারিং এর মুল্য অসীম। এটা আমাদের দেশীয় সংসদ সদস্যদের সময়-ক্ষেপণ, পদলেহন, আর একে অপরের পিন্ডি-চপকানোর সেশন না। বিশেষ করে ছোট খাটো দেশের উপরে চালানো হেয়ারিং-এ কংগ্রেসম্যানরা সাধারণত বেশ তাড়াতাড়ি ফাইনাল সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন। নিশ্চিত ভাবে ধরে নিতে পারেন, বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ে আমেরিকান সিদ্ধান্ত আগামি দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই ফাইনাল হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে গত কালকের হিয়ারিং গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।

গতকালকের হিয়ারিং এর পূর্ব প্রকাশিত মূল বিষয়বস্তু ছিল তিনটি। ১) নির্বাচনকালীন সরকার, ২) পোশাক কারখানা শ্রমিকদের নিরাপত্তা, আর ৩) মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনাল। তবে হিয়ারিং এর দিন হঠাৎ করে যোগ হয়ে যায় “হিন্দু জেনসাইড” এর বিষয়টি।

এটা উল্লেখ্য যে, আমার জানা মতে এর আগে কোন বাংলাদেশ বিষয়ক কংগ্রেশনাল হিয়ারিং হয়নি যেখানে একসাথে দু’জন বাংলাদেশী কথা বলেছেন। এটা এবারই প্রথম হয়েছে বলে আমার ধারণা।

শুনানিতে অংশ নিতে যাওয়া মেজর জেনারেল মুনিরুজ্জামান বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন। আলি রিয়াজ আমেরিকাতেই থাকেন। উনার বইয়ের তালিকায় ইসলাম ও সন্ত্রাস নিয়ে অনেকগুলো বই আছে, তার সাথে আছে তসলিমা নাসরিনের উপরে লেখা একটি বই। উনি বাম কিংবা আওয়ামীপন্থী ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত অনেকের কাছে। উনি প্রথম আলো সহ আরও কিছু আওয়ামী বান্ধব পত্রিকায় লেখেন। অপর আলোচক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জন সিফটোন একজন আমেরিকান ব্যাক্তি। তরুন আইনজীবী তুরিন আফরোজের নেতৃত্বে এই ভদ্রলোকের নামে একটি মামলা করা হয়েছিল কিছু দিন আগে।

আলোচনার শুরুতেই মার্কিন কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট অল্প সময় ধরে শুনানির একটি ভুমিকা দেন। তার ভুমিকাতে মুলত নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন, শ্রমিক নিরাপত্তা, আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বক্তব্য ছিল। উনার কথার ডিটেইল থেকে এটা নিশ্চিত বুঝা যাচ্ছিল যে উনি বাংলাদেশের নির্বাচন আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন।

স্টিভ শ্যাবটের স্পিচে মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিপু মনির একটা কথা উল্লেখ করা হয়। শ্যাবট বলেন যে বাংলাদেশে এসে উনি পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যুদ্ধপরাধী ট্রাইবুনাল আন্তরজাতিক স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলছে না কেন? উত্তরে মাননীয় মন্ত্রী নাকি বলেছিলেন যে তারা “নতুন আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করছেন”! বলাই বাহুল্য এই কথাটি উল্লেখ করে স্টিভ শ্যাবট তার কলিগদের বুঝাতে চেয়েছেন ট্রাইবুনালের বর্তমান অবস্থা।

পুরা আলোচনায় মেজর জেনারেল মুনিরুজ্জামানের কথা বলার স্টাইল আর প্রেজেন্টেশন যেকোন বাংলাদেশীকে গর্বিত করবে বলে মনে করি। উনি যেভাবে বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে, এবং বর্তমান সংকটকে নির্মোহভাবে বর্ণনা করেছেন, তা শুনে অনেকেই আশ্বস্ত হবেন। বিশেষত রাস্ট্রের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল সেনাবাহিনীর উপর আমেরিকানরা সহ দেশের সংখ্যাগরিস্ট মানুষের আস্থা বজায় রাখার কাজটি মেজর জেনারেল মুনিরুজ্জামান খুব ভালো ভাবে করতে পেরেছেন।

জন সিফটোনের কথা ছিল একজন সত্যিকারের প্রফেসনাল মানবতাবাদীর মতোই। উনি একবারের জন্যেও বাংলাদেশ সরকারের হাতে তার সংস্থার হেনস্তা হবার কথা বলেননি। শাহাবাগের আইনজীবী তুরিন আফরোজরা হয়তো এই ভদ্রতা থেকে কিছুটা হলেও শিখতে পারবেন। আলোচনায় মাত্র একবার মুহাম্মদ ইউনুসের প্রসঙ্গ উঠেছিল, তবে কোন ফলো-আপ আলোচনা হয়নি।

হেয়ারিং-এ উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লোকজন ছিলেন অনেকে। জামাতের কেউ কেউ ছিলেন। অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য হারে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান হিন্দু এসোসিয়েশনের লোকজন। এদের অনেকেই নিয়ে গিয়েছিলেন একাধিক রঙিন কাগজ পত্র, যেখানে দেখানো হচ্ছিল বাংলাদেশে “হিন্দু নিধন” হচ্ছে, যাকে তারা তাদের ভাষায় হিন্দু জেনোসাইড বলেছেন। দেশে জেনসাইড হচ্ছে কি হচ্ছে না সেই তর্কে না গিয়ে এটুক বলা যেতে পারে যে, হিন্দু এসোসিয়েশনের বিলি করা কাগজপত্রে বর্তমান সরকারের বিশেষ কোন লাভ হয়নি। বরং কংগ্রেসম্যানরা হয়তো ভেবেছেন বর্তমান সরকারের হাতেও হিন্দু জেনসাইড হচ্ছে। তার উপর মেজর জেনারেল মুনিরুজ্জামান যখন বলেছেন যে পাবনাতে হিন্দুদের উপর অত্যাচার করেছে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিদের লোকজন, তখন বর্তমান সরকারের বিপদ আসলেই বেড়েছে।

পুরো শুনানিতে অনেক প্রশ্ন এসেছে। কিন্তু একটি ব্যাপারে কেউ কথা বাড়াননি। সেটা হলো তত্তবাবধায়ক সরকারের ইস্যু। কংগ্রেসম্যানরা সহ প্রতিটি বক্তা এই পদ্ধতির সমর্থন করেছেন। একাধিক বক্তা বলেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোন নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হবে না। এই ইস্যুতে কেউ কোন দ্বিতীয় প্রশ্নও করেননি। মনে হয়েছে এই ইস্যুটা এতোটাই কমনসেন্স ইস্যু ছিল যে কেউ প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করতে চাননি। এতে করে তত্বাবোধায়ক ইস্যুতে আমেরিকানদের কংগ্রেসম্যানদের মনোভাব কিছুটা হলেও বুঝা গিয়েছে।

একাধিক বক্তাদের কথা বার্তায় বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনটি পথের ধারণা পাওয়া গেছেঃ ১) সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন, যার সম্ভাবনা দিনে দিনে কমছে, ২) একক নির্বাচন ও ব্যাপক হানা হানি, এবং ৩) সামরিক শাসন।

পুরো আলোচনায় ভারতের বাংলাদেশ বিষয়ক অতি-উৎসাহ নিয়ে কেউ কোন আলোচনা করেননি। এটা কেউ করলে খুব ভালো হতো। আলি রিয়াজ তার বক্তব্যে বাংলাদেশের নিরাপত্তার কথা না বলে, ভারতের নিরাপত্তার কথা আগ বাড়িয়ে বলেছেন। শুনানির আলোচকদের উচিত ছিল আমেরিকানদের জানানো যে ভারতের সর্মথনে বাংলাদেশে এমন একটি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে যেখানে বাংলাদেশতো বটেই, খোদ ভারত ও আমেরিকার স্বার্থও এখন হুমকির মুখে। যদিও জন সিফটন একবার বলেছেন যে, ভারতের উচিত হবে না বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দলের সাইড নেয়া।

শুনানিতে একাধিক বক্তা বর্তমান সরকারের সংবিধান সংশোধনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। সকল সমস্যার মূল হিসেবেও এই সংশোধনকে বলা হয়েছে। একাধিক বক্তা বলেছেন যে দেশে হিংসা হানাহানি হলে ইসলামপন্থীদের উত্থান ঘটবে।

বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে মেজর জেনেরাল মুনিরুজ্জামান সামরিক বাহিনীর লোক হয়েও সিভিল সোসাইটির একাধিক ইস্যু তুলে ধরেছেন, যা আলি রিয়াজ তুলে ধরেননি। যেমন, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, টিভি চ্যানেল বন্ধ করার মতো ইস্যুগুলো আলি রিয়াজের মতো লেখক কাম অধ্যাপকের বলার কথা ছিল, একজন মেজর জেনেরালের না।

শুনানির দিন সকাল বেলায় প্রভাবশালি আমেরিকান পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটা অত্যন্ত ডাইরেক্ট এডিটোরিয়াল এসেছে। যেখানে শেখ হাসিনাকে বর্তমান অচলাবস্থার জন্যে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। যুদ্ধপরাধিদের বিচারকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। কংগ্রেস হেয়ারিং ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের এডিটরিয়ালের টাইমিং খুবই গুরুত্ববহ। এর আগে ইন্ডিয়ার দৈনিক হিন্দুতেও একই সুরের একটি এডিটরিয়াল এসেছে।

পরিশেষে বলতে চাই, এভাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দেশের সিভিল সোসাইটি/মিডিয়া যদি ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করে, তাহলে তা দেশের জন্য কতটুকু মঙ্গল বয়ে আনবে তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।

যারা হেয়ারিং-টি দেখেননি, দেখে নিন নিচের লিঙ্ক থেকে- (৫০ মিনিট থেকে দেখুন)

একটি গণতান্ত্রিক বাদর নাচ

দুই টাকার বাদাম চাবাইতে চাবাইতে বৈকালিক ভ্রমনে বের হয়েছি । পথিমধ্যি দেখি এক দাদী বয়সী মহিলা বাদর নাচ দেখাচ্ছে । রঙ্গ দেখার লোভে জনতার ভিড়ে উলুক ঝুলুক করে ঠেলে ঠুলে দাঁড়িয়ে পড়লাম । সামনের পোলাপান গুলো বলছে – বুবু বুবু – ডিগবাজি দেয়ান ।
দাদী বয়সী বুবু বাদরের গলার দড়ি ধরে টান দিতে বাদরটি ডিগবাজি দিলো ।
পোলাপান হাততালি দিলো দেদারসে । এরপর বুবু বাদরটিকে কিছু প্রশ্নোত্তর জিজ্ঞেস করলেন —
তুই জোটে থাকবি?
বাদর মাথা ঝাকায় – হ্যা ।
তুই জোটে থাকবি না ।
বাদর ডিগবাজি দেয়া।
তুই নির্বাচনে যাবি ?
বাদর লজ্জা পাওয়ার ভান করে মুখ ঢাকে । মাথা নাড়ে – অর্থ্যাৎ না ।
তুই ১৩ দফা দিবি –
বাদর উচ্ছাস প্রকাশ করে । লম্ফ ঝম্ফ দেয় ।
বুবু বাদরটিকে একটা কলা পুরুস্কার ঘোষনা করে – জিজ্ঞেস করে – নির্বাচনে যাবি।
বাদরটি আনন্দে আত্মহারা হয়ে – মাথা ঝাকায় হ্যা হ্যা । কলাটি পুরুষ্কার হিসাবে পায় ।

এরমধ্যে একটি সুন্দরী মেয়েকে দেখে বাদরটা শিষ দেয় ।
বুবু তাকে কড়া শাসন করে । বাদরটি তার গলার রশি ধরে টানাটানি করে – সুন্দরীর কাছে যাবার জন্য প্রতিবাদ করে ।
বুবু বাদরের লেজ ধরে আচ্ছা করে মচকে দেন ।
বাদরটি কাদো কাদো ভঙ্গিতে জড়ো সরো হয়ে যায় ।
বুবু বলে – এবার রাজনৈতিক নেতার ভাব ধরো ।
বাদরটি বেশভূষা ঠিকঠিকা করে – গলাবাজির ভান ধরে ।
বুবু বাদরটিকে ছেড়ে দেয় – বাদরটি বুবুকে ভেঙচি কাটে । প্রতিবাদী হয় ।
বুবু বাদররটিকে খাচায় পোড়ার হুমকি দেয় ।
বাদরটি গণতান্ত্রীক ভাবে বুবুর স্বৈরাচার মেনে নেয় ।
বাদরটি ভায়োলেন্স, ভেঙ্গচি , অসহোযোগ বাদ দিয়ে – বুবুকে কনভিন্স করতে থাকে কেন –
তাকে স্বাধীনতা দেয়া উচিত – তার গলায় প্রেসিডেন্সির মালা দেয়া উচিত ।

সামনের সারির প্রগতীশীল পোলাপানরা বাদরের গণতান্ত্রীক আচরনে মুগ্ধ হয়ে – তাকে পয়সা ছুড়ে দেয় । হাততালি দেয় – বাদরটি কতো সহবত জানে ।

কিন্তু আমার নজর এড়ায় না – বুবু শক্ত হাতে একটা হান্টার মুঠোবন্ধি করে রেখেছিলো – আড়াল করে — বাদরটি একবারের জন্যও হান্টার থেকে চোখ সরায়নি ।

বাদাম চিবুতে চিবুতে নব্যস্বৈরাচারীর গণতান্ত্রিক বাদর নাচ দেখে মাথা নাড়তে নাড়তে বৈকালিক ভ্রমণের ইতি টানি

=========
ImageImageImageImageImageImageImageImage

“বাকশালীদের দিন শেষ, তারেক জিয়ার বাংলাদেশ…”

by WatchDog

ভিন্ন জনের ভিন্ন কারণ থাকতে পারে, আমার জন্য আওয়ামী বিরোধিতার মূল কারণ ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস। বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের মত জনসংখ্যাবহুল তৃতীয় বিশ্বের দেশকে অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়াতে চাইলে চাই উন্নত বিশ্বের সার্বিক সহযোগীতা। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দাবিদার বৈরী দুটি রাজনৈতিক দল এ কাজে কতটা সফল তার প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। দাতা গুষ্টির কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বিদেশ হতে দয়া দাক্ষিণ্য এনে বার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন একটা উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারেনা। তার জন্য চাই উচ্চাকাক্ষী এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। যারা সুদকে অভিশাপ আখ্যা দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা নিয়ে আহাজারি করছেন তাদের বেশির ভাগই দলকানা নেত্রীদাস অথবা নেত্রীকানা দলদাসের সদস্য। নেত্রী সুদখোর বলেছেন বিধায় এসব দাসদের মুখেও সুদখোরের গিবত। অবস্থা রাতারাতি পালটে যাবে যদি আগামীকাল একই নেত্রী ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে অন্যভাবে আখ্যায়িত করেন। এমনটাই আজকের বাস্তবতা। গোটা বিশ্বের অর্থনীতি চলে সুদের উপর। আমাদের ব্যবসা বানিজ্য, বিনিয়োগ, দৈনন্দিন জীবন, রিটায়ারমেন্ট সহ সবকিছু এখন ব্যাংক ভিত্তিক। ব্যাংক মানেই সুদ। তাই সুদ নিয়ে রাজনীতি করার রাস্তা সীমিত। নেত্রীরা বিদেশ হতে অল্প সুদে ঋণ এনে দেশে বেশি সুদে লগ্নি খাটান এবং তাতে যা লাভ হয় তা দিয়ে সরকার চালান। মন্ত্রি, প্রধানমন্ত্রী সে সরকারেরই অংশ। এ অর্থে তারা সবাই সুদখোর। ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে সুদখোর বলে সুদকে অবজ্ঞা করা এক ধরণের হিপোক্রেসি এবং নোংরা রাজনীতি। আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতির প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতা অনেক পুরানো রোগ। এ কাজে লবিং করার জন্য দেশে অলিখিত মন্ত্রনালয় কাজ করে থাকে। আগের টার্মে আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীরের নেত্রীত্বে সরকারী অর্থায়নে গোটা এক বাহিনী নিয়োজিত ছিল পদক যোগারের কাজে। গোটা দশেক পিএইচডি সে মিশনেরই বাই-প্রোডাক্ট। এ টার্মে পদক আহরণে ভাটা লাগে মূলত ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের কারণে। এবং এখানেই শুরু ইউনূস সাগা। গ্রামীন ব্যাংকের সাথে যৌথভাবে নোবেল পাওয়াটা যেন ছিল বেচারার জন্য রাষ্ট্রীয় অপরাধ। পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক ভাবে স্বীকৃত চোর আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের অযোগ্যতাই প্রমাণ করেননি বরং প্রমাণ করেছেন রাষ্ট্রীয় চোরদের আসল অভিভাবক তিনি নিজে। ইউনূস দেবতা নন। তিনি নিজেও তা দাবি করেন না। তাকে দেবতার আসনে বসানোর কাজে গোপন কোন মিশনও কাজ করছেনা। বরং উন্নত বিশ্ব সহ বাকি বিশ্বের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা ই ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে কাছে টানছেন এবং আগ্রহ প্রকাশ করছেন ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসায়। আজকে ডক্টর মোহম্মদ যে আসনে বসে আছেন তার কাছাকাছি পৌঁছতে শেখ হাসিনাকে হিমালয় পাড়ি দিতে হবে। এমনটা বুঝতে পেরেই হয়ত ইউনূসের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রের সবকটা ইনস্টিটিউশনকে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শেখ হাসিনা ইদানিং যা করছেন তা নিয়ে যারা চিন্তিত তাদের ভাল করেই জানা আছে দেশীয় রাজনীতির দুই রাজনৈতিক শক্তি একে অপরের পরিপূরক, মুদ্রার এ পীঠ ও পীঠ। দুই মহিলার একজনকে ক্ষমতায় দেখতে চাইবো অথচ হরতাল, জ্বালাও, পোড়াও দেখতে চাইব না এ অলীক ও অবাস্তব চাওয়া। রাজপথের লাশ নিয়ে আজকে যারা আহাজারি করছেন তারা আসলে মৃতদের জন্য আহাজারি করছেন না, করছেন লাশকে পুঁজি বানিয়ে নির্বাচনী মুনাফার জন্য। এতটাই রুগ্ণ আমাদের রাজনীতি এবং এর সাথে জড়িত দলদাসের দল।

তারেক জিয়ার অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলার রায় বেরিয়েছে। অনেকের জন্য এ রায় ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত। হয়ত খোদ তারেক জিয়ার আইনজীবীরাও এমনটা আশা করেননি। যার প্রমান রায়ের আগে বিবাদী পক্ষের প্রতিবাদের প্রস্তুতি। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা এবং এর উচ্চ নিম্ন আদালত সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকার প্রধান এবং উনার লেফটেন্যান্টদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার কাজে আদালত ক্ষমতাসীনদের সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করে থাকে। তাই সবাই আশা করছিল তারেক জিয়াকে শাস্তি প্রধানের মাধ্যমে আদালত আরও একজন শত্রু নিধনে সরকার প্রধানকে সহযোগীতা করবে। ঠিক যেমনটা করা হয়েছিল ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের বেলায়। কি এমন ঘটল যার দরুন নিম্ন আদালতের বেতনভুক্ত কর্মচারী বিচারক মহাশয় সরকারকে হতাশ করলেন? এখানে দুটি সম্ভাবনা থাকতে পারে। এক, এ রায় সরকারের নতুন কোন মিশনের অংশ; দুই, বিচারক মহাশয় নির্বাচনী হাওয়া অনুভব করছেন এবং আগ বাড়িয়ে নিজের পদোন্নতি নিশ্চিত করার জন্যে এ রায় দিয়েছেন। সন্দেহ নেই বিএনপি ক্ষমতা ফিরে পেলে এই বিচারকের স্থান হবে উচ্চ আদালতে। বিচার ব্যবস্থার এই কলঙ্কিত অধ্যায় ধারাবহিকভাবে অবদান রেখে যাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায়। সরকারের হাতে আরও ১৩ মামলার অস্ত্র আছে যা দিয়ে তারেক জিয়াকে ঘায়েল করা যাবে। হতে পারে অর্থ পাচার মামলার রায় সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ যার মূল আর্কিটেক্ট আমারের প্রতিবেশী। তবে একটা বাস্তবতা এখানে উল্লেখ না করলে তারেক জিয়া গংদের প্রতি অবিচার করা হবে। খাম্বা মামুনের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের দুর্নীতির যে চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল তা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে বর্তমান সরকারের লুটপাটের কাছে। সরকারের অর্থমন্ত্রী বলছেন লুট হয়ে যাওয়া ৪০০০ কোটি টাকা এমন কোন অংক নয় যা নিয়ে সময় ব্যায় করতে হবে। স্টক মার্কেট এবং কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে যে টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে তার তুলনায় খাম্বা মামুনদের খাম্বা চুরি মহাসমুদ্রে এক ফোটা বৃষ্টি মনে হতে বাধ্য। তারেক জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে জেলে নিতে সরকারের কালো বিড়ালদের ক্ষমতা হারানোর পরবর্তী বাস্তবতাও চিন্তা করতে হবে। হতে পারে এটাও একটা কারণ।

বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতা দুটি পরিবারের জন্য সংবিধিবদ্ধ সম্পত্তি। পাকিস্তান আমলে যা ছিল ২২ পরিবারের তা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে এসে ঠেকেছে দুইয়ে। ছাগলের ৩নং বাচ্চা হিসাবে আমরা ১৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ জন নাগরিক চাইলে এ নিয়ে গর্ব করতে পারি। ‘বাকশালীদের দিন শেষ, তারেক জিয়ার বাংলাদেশ…’আদালতে শত শত শিক্ষিত আইনজীবীদের এই একটা স্লোগানই নির্ধারন করে আমাদের গন্তব্য। অন্তত আগামী পাচ বছরের জন্য।

দুটি ঘটনার সূত্র –

সায়ান তানভি

ঘটনা -১
এক নবদম্পতি গাড়ীতে করে যাচ্ছিল ।দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোজাম্মেল দলবলসহ গাড়িটি আটক করে ,ড্রাইভার আর নববধূর স্বামীকে হত্যা করে ,মেয়েটিকে সবাই মিলে ধর্ষণ করে ,অতঃপর তিনদিন পর তাঁর লাশ পাওয়া যায় টঙ্গি ব্রীজের নীচে ।
পৈশাচিক এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র ।বিশেষ অভিযানে দায়িত্বরত মেজর নাসেরের হাতে মোজাম্মেল ধরা পড়ে ,মোজাম্মেল মেজরকে বলে ,ঝামেলা না করে আমাকে ছেড়ে দিন ,আপনাকে তিন লাখ টাকা দেবো ।বিষয়টা সরকারি পর্যায়ে নেবেন না ।স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমি ছাড়া পাবো ।আপনি পড়বেন বিপদে ।আমি তুচ্ছ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে জড়াতে চাই না ।মেজর নাসের হুঙ্কার ছাড়লেন ,এটা তুচ্ছ বিষয় ?আমি অবশ্যই তোমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবার ব্যবস্থা করবো ।তোমার তিনলাখ টাকা তুমি তোমার গুহ্যদ্বারে ঢুকিয়ে রাখো ।
এরপরের কাহিনী অতি সরল ।কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোজাম্মেলের বাবা ,দুই ভাই গেল শেখ মুজিবের কাছে ,তিনি আসতেই তার পা জড়িয়ে কান্নার রোল পড়লো ।মুজিব জিজ্ঞাসিলেন ,ঘটনা কি ?টঙ্গি আলীগের সভাপতি বললেন ,আমাদের সোনার ছেলে মোজাম্মেল মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে ।মেজর নাসির তাকে ধরে নিয়ে গেছে ,বলেছে তিন লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দিবে ।কাঁদতে কাঁদতে আরো বললো ,এই মেজর আলীগের নাম শুনলেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে ।সে প্রকাশ্যে ঘোষনা করেছে ,টঙ্গিতে আমি আলীগের কোন শূয়োর রাখবো না ।বঙ্গবন্ধু !আমি নিজেও এখন ভয়ে অস্থির !টঙ্গিতে থাকি না ।ঢাকায় চলে আসছি ।এবার হুঙ্কার ছাড়লেন বঙ্গবন্ধু ,কাঁদার মতো কিছু হয় নাই ।আমি এখনো বেঁচে আছি ,মরে যাই নাই ।এখনি ব্যবস্থা নিচ্ছি ।
অতঃপর মোজাম্মেলকে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং মেজর নাসেরকে টঙ্গি থেকে সরিয়ে দেয়া হলো ।
ঘটনা -২
নারায়নগন্জের নাগরিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নেতা ,সন্ত্রাস-চাদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বীর ছেলে ,স্কুল পড়ুয়া ত্বকীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ।অতঃপর তারা দায় চাপায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর ।সুনির্দিষ্ট প্রমান এবং অভিযোগের পরও পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনরুপ ব্যবস্থা নেয়ার আগ্রহ দেখায় নি ,অথবা বলা যায় কোন
প্রভাবশালী উচ্চ মহল থেকে তাদের নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল ।তবে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত র্যাব একটু সাহসী কাজই করে ফেলে ,তারা হত্যাকান্ডে জড়িত একজনকে ধরে ফেলে এবং তার জবানবন্দি অনুযায়ী হত্যাকান্ডের মূল অভিযুক্ত শামীম ওসমানদের একটি টর্চার সেলে অভিযান চালায় ,উদ্ধার করে রক্তমাখা জিনস প্যান্ট ,গজারির লাঠি ,নাইলনের রশি ।দেয়ালে ও শোকেসে অসংখ্য গুলির
আলামত খুজে পায় ।অথচ প্রধানমন্ত্রী তখনো বললেন ,আইভি এবং শামীমের বিরোধকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী পক্ষই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে ।

র্যাবের ঐ অভিযানের পর অভিযুক্ত শামীম ওসমান র্যাবের বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদগার করেন ,এবং এর পরপরই ত্বকী হত্যা মামলার তদারককারী কর্মকর্তা র্যাব ১১ এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর আলমকে চট্টগ্রামে র্যাব ৭ এ বদলি করা হয় ।থমকে যায় আলোচিত এ মামলার তদন্তকাজ ।পাঠক ,প্রথম ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন ,অবিশ্বাস্যরকম মিল খুজে পাবেন ।খুন ,অতঃপর প্রধানমন্ত্রীর অকুন্ঠ সমর্থন ,খুন করেও সর্বসমক্ষে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানো ,তদন্তকারী সেনা কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক অপসারন ।ওহ কি আশ্চর্য মিল ।পিতার আদর্শ সন্তানই বটে ।একেবারে কার্বন কপি ।আমার এক প্রেমিকা ছিল একদা ,বাবার মতোই ,শ্যামল বর্ণের ,প্রগলভ ,বাচাল ,নির্বোধ ,রুক্ষ ,অসৎ ,অযোগ্য ,দাম্ভিক অথচ বাইরে থেকে মনে হতো দয়াদ্র ,স্নেহপ্রবন ,যদিও এ সবই ছিল বাহুল্য ,লোক দেখানো ,ছ্যাবলামি ।
আজ ১৫ নভেম্বরের প্রথম আলোর খবর ,ত্বকী হত্যাকান্ডে জড়িত আরেকজন র্যাবের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন খুনটি শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানই করেছিল ।এবার প্রধানমন্ত্রী কি বলবেন ,তবুও কি বলবেন বিরোধী দলই হত্যাকান্ডে জড়িত ?তিনি কি আরেক দফা র্যাবের কর্মকর্তাকে বদলির ব্যবস্থা করবেন ?অবশ্য তিনি যদি বঙ্গবন্ধুর (সোনার বাংলা!) গড়ার স্বপ্নই দেখে থাকেন শয়নে স্বপনে ,তাহলে প্রশ্নের উত্তর না দিলেও চলবে ।উত্তর আমাদের জানাই আছে ।

সায়ান তানভি

চেতনা বনাম গনতন্ত্র

2

গত কয়েকমাসে আওয়ামী লীগ সমর্থক বুদ্ধিজীবিদের বিভিন্ন কলাম ও টকশো এর বক্তব্যগুলি থেকে একটি টকিং পয়েন্ট বার বার উঠে এসেছে। যখনই তারা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে যে এককভাবে জনগনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দিয়ে আওয়ামী সরকার গনতন্ত্র ও ভোটাধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে কি না, তখনই তারা নানাভাবে ইতস্তত করে একটি বক্তব্যই বার বার বলেছে। তারা বলে থাকে যে গনতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার আগে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে যারা দেশের ‘স্বাধীনতার চেতনা’র বিরুদ্ধে, যারা যুদ্ধাপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়, তাদেরকে কি আমরা আবার ক্ষমতায় আসতে দিবো কি না। তারা বলে যে নির্বাচনের আগে আমাদের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র পক্ষ বিপক্ষের ক্ষমতা নিয়ে মীমাংসা করতে হবে। এই বক্তব্যের পরে অনিবার্য প্রতিপ্রশ্ন এসে যায় যে তবে কি এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গনতন্ত্র সাংঘর্ষিক? সংগত ও বোধগম্য কারনেই এই প্রশ্নটি আমরা এতোদিন গনমাধ্যমে উপস্থাপিত হতে দেখি নি।

কিন্তু এখন এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। গতকাল ইন্টারনেটে একটি টকশো এর অংশ দেখছিলাম। বুধবারে ‘বৈশাখী’ চ্যানেলের এই টকশোতে উপস্থিত দুই ব্যাক্তিত্বই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রতিনিধি বলে পরিচিত। সিপিবি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও কলামিস্ট অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী। অনুষ্ঠানে চলার সময়ে অধ্যাপক পাটোয়ারীর নানা বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উপস্থাপক অবশেষে প্রশ্নটি করেই ফেললেন যে, “আজকের দিনে কি পরিস্থিতিটি কি মুক্তিযুদ্ধ বনাম গনতন্ত্রের লড়াইতে এসে দাড়িয়েছে’? খুব সংগত কারনেই রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবি দুজনেই এই প্রশ্নটি এড়িয়ে গেলেন। কিন্তু জনগনের চিন্তার মধ্যে এই প্রশ্নটি এড়ানোর কোন উপায় নেই। আজকে এই প্রশ্নটি সবার সামনে জ্বলন্ত হয়ে উপস্থাপিত হচ্ছে যে চেতনা ও গনতন্ত্র কি মুখোমুখি সংঘর্ষে উপস্থিত?

যেকোন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই কয়েকটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। একেবারে সামনা সামনি সবচেয়ে প্রত্যক্ষ লড়াই হলো ব্যাক্তির সাথে ব্যাক্তির (যেমন খালেদা বনাম হাসিনা)/ এর পরের স্তর বলা যেতে পারে এই লড়াই দল ও সমর্থকদের মধ্যে। আরো উচ্চস্তরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হলো চিন্তা ও আদর্শের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এই বছরে চিন্তার জগৎ এ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে অনেক রকম লেবেল দেয়া হয়েছিলো, বিচার বনাম অবিচার, ধর্মীয় মৌলবাদ বনাম ধর্মনিরপেক্ষতা, এরকম আরো বেশ কিছু। কিন্তু এই সব লেবেল পরিত্যাক্ত হয়ে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের সামনে এসে এই মতবাদের লড়াই পর্যবাসিত হয়েছে চেতনা ও গনতন্ত্রের মধ্যে।

দেশজুড়ে সমর্থকেরা যেভাবেই এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে দেখুক না কেনো, দুই বৃহৎ প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতারা ও কর্মীরা কিন্তু খুব ভালোভাবেই জানে এই লড়াই শুধুমাত্র পার্থিব ক্ষমতার লড়াই। বাংলাদেশে এখন ক্ষমতায় আসীন হওয়া মানে সাম্রাজ্যের অধিপতি হওয়া সহ আলাদীনের চেরাগ পাওয়া। আর ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হওয়া মানে বনবাসে নির্বাসন, নির্যাতন, ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যু পর্যন্ত। সুতরাং তারা খুবভালো করেই জানে এই লড়াই আসলে কিসের জন্যে।

এই রাজনীতিবিদদের কাছে বিভিন্ন রকম চিন্তা-আদর্শের বুলি হলো ক্ষমতার জন্যে তাদের নগ্ন-লোভী যুদ্ধকে জনসাধারনের কাছ থেকে ঢেকেঢুকে রাখার জন্যে একটি ছদ্মাবরন মাত্র। কিন্তু রাজনীতির সমর্থকেরা, যারা একেকটি রাজনৈতিক পরিচয়ের সাথে নিজের আত্মপরিচয় এক করে ফেলেছে, তাদের কাছে এই দ্বন্দ্ব হলো চিন্তা ও আদর্শের লড়াই, যে লড়াই এর জয় পরাজয়ে নির্ধারিত হয় নিজের আত্মপরিচয়েরও স্বীকৃতি। রাজনীতিবিদদের সরাসরি লড়াই এর চেয়ে কিন্তু এই চিন্তা ও আদর্শের লড়াই কম গুরুত্বপূর্ন নয় কারন সময়ের দীর্ঘমেয়াদী স্কেলে, ব্যাক্তিত্ব ও দল ছাপিয়ে এই চিন্তার লড়াইটিই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথ দেখায়।

২০১৩ এর শেষে, এই রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও চিন্তার লড়াই কিন্তু অনেক আগে থেকেই স্পষ্ট অনিবার্য ছিলো। ২০১১ তে একক ইচ্ছায় তত্বাবধয়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দেয়ার সময়েই এই সংঘর্ষের স্ক্রীপ্ট লেখা হয়ে গিয়েছিলো। যেকোন সচেতন নাগরিকের কাছে এটাও স্পষ্ট ছিলো যে ক্ষমতা নামের আলাদীনের চেরাগকে সুসংহত করতেই ক্ষমতাসীন দল এই অজনপ্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছিলো। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকেরা এই স্পষ্ট রাহাজানিটিকে জনতার সমানে গ্রহনযোগ্য করে তোলার জন্যে নানারকম মজাদার কথাবার্তা উপস্থাপন করতো। একটি কথা এই গ্রীষ্মে প্রায়ই শোনা যেতো যে শেখ হাসিনা নাকি বাংলাদেশে গনতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্যে বদ্ধপরিকর। তিনি নাকি তত্বাবধায়ক নামের জোড়াতালি ব্যবস্থা বাদ দিয়ে পুরোপুরি নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গনতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে যেতে চান এবং এটিকেই তার সবচেয়ে বড়ো লিগ্যাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যেতে চান।

কিন্তু গত কয়েকমাসে নির্বাচন কমিশনের একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপে ও সাজানো নির্বাচন থেকে বিএনপি’কে যে কোন প্রকারে থেকে দূরে রাখার চেষ্টার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আসলে পুরোটাই ছিলো সেই পুরাতন ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতাকে কুক্ষীগত রাখার চেষ্টামাত্র। সর্বশেষ যে খোড়া অজুহাত ছিলো সংবিধান সমুন্নত রাখার দৃঢ়তা, সেটিও জনতার সামনে হাস্যকরভাবে বাতিল হয়েছে মন্ত্রীদের পদত্যাগের অ্যাবসার্ড নাটকের মতো ঘটনায়। এখন চেতনা ছাড়া আর কোন আদর্শের তীর নেই তূনীরে।

বর্তমানের এই চেতনা এবং গনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে দেশের জনগনের অবস্থান কোথায়? আগের দিনের মতো এই প্রশ্নের উত্তর খোজার জন্যে এখন আর বুদ্ধিজীবি-বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা এখন জনমত জরীপের যুগে প্রবেশ করেছি, এটা পুরাতন রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা বুঝতে যত দেরীই করুক না কেন। এই বছরে প্রকাশিত চার-পাচটি জরীপে বের হয়ে আসা ফলাফল দ্ব্যর্থহীন, দেশের কমপক্ষে ৭০ -৮০% জনগন চায় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, কারন তারা মনে করে কোন রাজনৈতিক সরকার তাদের ভোটাধিকারের সুরক্ষা করবে না। আর যারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র ক্ষমতার লড়াইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে-বিপক্ষের লড়াই বলে অভিষিক্ত করেন, তাদের এই মতই জনতার মধ্যে কতটুকু প্রতিফলিত? সর্বশেষ প্রকাশিত জরীপগুলোতে দেখা গেছে এখন বিএনপি’র জনপ্রিয়তা ৫০% এর উপরে আর আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা নিম্ন তিরিশ কিংবা তারও নীচে।

রাজনীতির লড়াইকে বুদ্ধিজীবি-সমর্থকেরা যে কোন আদর্শিক লেবেলই লাগাক না কেন, জনগনের কাছে এটি সেই পুরাতন ক্ষমতাসীন আর ক্ষমতাসীনদের সড়ানোর জন্যে একমাত্র সক্ষম প্রতিপক্ষেরই লড়াই।আওয়ামী লীগ-বিএনপি’ লড়াইতে এই জনমতের এই বিপুল পরিবর্তনের কারনটাও প্রথম পরিসংখ্যানটিই স্পষ্ট করে দেয়। কুশাসনের প্রতিযোগিতায় এই দুই দলের অতীত কেউ কারো চেয়ে কম কলংকিত না হলেও জনগন জানে এই সময়ে কোন দলটি তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রে মগ্ন। সাধারন জনতার কাছে গনতন্ত্রের একমাত্র অবশিষ্ট অধিকার, ভোটাধিকারকে নিয়ে চরম অবিবেচক পদক্ষেপই ক্ষমতাসীন দলের গনভিত্তিতে বিশাল ফাটল ধরিয়েছে।

চেতনার পক্ষের যারা কিছুটা বাস্তব সচেতন তারা আর এখন দেশের রাজনীতি ও জনসমর্থনের ভূপ্রকৃতির এই স্পষ্ট রূপটিকে অগ্রাহ্য করতে পারে না। এদের অনেকেই এখন সরাসরি বলে যে গনতন্ত্রের ভোটের মাধ্যম্যে দুই কুকুরের ক্ষমতার হাড্ডি নিয়ে চলা দশকের পর দশক লড়াই এর চেয়ে তাদের কাছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন ও তার রায়ের পূর্ন বাস্তবায়ন হওয়া অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ন। তারা বলে যে যতক্ষন না দেশের জন্মলগ্নের এই আদি কলংকের মোচন ঘটছে ততক্ষন মানুষের ভোটাধিকারের সুষ্ঠু প্রয়োগ হলো কি না এটি তাদের কাছে বড়ো বিবেচ্য নয়। কোনো সন্দেহ নেই যে এই অত্যেন্ত সচেতন নাগরিকদের এই মতটির পেছনে যুক্তি আছে, ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে চলমান বিচার প্রক্রিয়া যে পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু পাচ বছর সময় পাওয়ার পরও বিচারের অজুহাতে গনতন্ত্রকে আপাতত পর্দার অন্তরালে সড়িয়ে রাখার এই চিন্তাটি দেশের জনগনের বৃহদংশ তো দূরের কথা, এক উল্লেখযোগ্য অংশই ধারন করে কি না সেটি নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ আছে। আর গনতন্ত্রে একজন উচ্চশিক্ষিত, চেতনায় ভরপুর নাগরিকের মতামত, আর নয় কোটি নিরানব্বই লক্ষ, নিরানব্বই হাজার, নয়শ নিরানব্বই জনের চেয়ে সামান্যতম বেশী দামী নয়। চেতনার অজুহাতে একটি ক্ষুদ্র অংশের মতকে জনগনের বৃহদংশের উপরে চাপিয়ে দেয়ার প্রতিক্রিয়া অবশ্যই হবে চেতনার জন্যে অনেক বেশী প্রতিকূল।

আমাদের দেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতার চেতনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি ফ্যাক্টর হওয়া সত্বেও এই চেতনার স্বরূপ কি কিংবা দেশের জনগনের মধ্যেই এর প্রতিফলন কতটুকু, এই সব নিয়ে নিরাবেগ আলোচনা কখনো হয় নি। এর অন্যতম কারন অবশ্যই হলো যে এই চেতনা, যুদ্ধাপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীদের মতো অমীমাংসিত বিষয়ের কারনে আমাদের কাছে অতীতের কোন ব্যাপার নয় বরং জলজ্যান্ত বর্তমানে তীব্র আবেগের আধার। তবে আশা করা যায় যে অবশেষে ২০১৩ এই তুমুল ঘটনাপ্রবাহ যখন স্তিমিত হয়ে যাবে তখন আমরা এই অতি প্রয়োজনীয় আলোচনাটি শুরু করতে পারবো। আমি এই লেখায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্লেষনের মতো বিশাল কাজ নেয়ার স্পর্ধা করতে পারি না তবে লেখার মূল বক্তব্য তুলে ধরার জন্যেই চেতনা নিয়ে কিছু কথা সংক্ষেপে হলেও বলা প্রয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধের চে্তনা বলতে কি বুঝায় এই প্রশ্নের উত্তরে বহুদিন ধরে স্ট্যান্ডার্ড উত্তর ছিলো আমাদের ১৯৭২ এর সংবিধান এর চার মূলনীতি, বাংগালী জাতীয়তাবাদ, গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সময়ের সাথে সাথে এক অখন্ড চেতনার সাথে এই চার মূলনীতির সামন্জস্যতা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন এলেও এসব নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা খুব কম হয়েছে। এর কারন অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের মতো ইতিহাসে একক ঘটনার সাথে এই নীতিগুলিকে সম্পৃক্ত করে ফেলা। কিন্তু এখন আর এই অসামন্জস্যতাগুলো এড়ানোর কোনো উপায় নেই। গনতন্ত্রের সাথে সমাজতন্ত্র সামন্জস্যপূর্ন নয়। জাতীয়তাবাদের মতো একটি রক্ষনশীল মতবাদের স্থান উদার গনতন্ত্রে কতটুকু এনিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে তো বটেই, সেই মুক্তিযুদ্ধের সময়েও মুক্তিকামী সংগ্রামীদের কতজন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চেয়েছিলো সেটি নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ আছে।

চেতনা হলো মানুষের মনের মধ্যে উৎসারিত বৃহৎ কোন অনুভূতি, কিন্তু কোন দুটি মানুষের মন যেমন এক রকম হয় না ঠিক তেমনি কোনো দুটি মানুষের চেতনা অবিকল এক হয় না। মুক্তিযুদ্ধের মত বিশাল ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেও প্রতিটি মুক্তিকামী যোদ্ধা, জনতা ও নেতা পুরোপুরি একই রকম চেতনায় আন্দোলিত হয় নি, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবন, অভিজ্ঞতা ও মানসিকতার পার্থক্যে চেতনার মধ্যেও কমবেশি পার্থক্য ছিলো। কিন্তু আমরা যদি চেতনাকে একটি অখন্ড বোধ হিসেবে না দেখে একটি স্তরে স্তরে বিন্যস্ত সাধারন মূল্যবোধ হিসেবে দেখি তবে আমরা বিশাল জনতার মধ্যে অনিবার্য পার্থক্যকেও চেতনার মধ্যে ধারন করতে পারবো।

আমি মনে করি আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন চেতনার প্রাথমিক স্তরে অর্থাৎ সকল মুক্তিকামী মানুষের মধ্যে বিস্তারিত চেতনার প্রথমে রয়েছে স্বাধীনতা। সেই সময়ে মুক্তিকামী প্রত্যেকেই পাকিস্তান নামে দুই হাজর মাইল দূরের একটি বিজাতীয় দেশ কতৃক আমাদের দেশের উপরে শ্রেফ ধর্মের অজুহাতে প্রভুত্ব চালানোর বিরোধী ছিলো। বিদেশীদের থেকে স্বাধীনতার মতো মানব ইতিহাসের অত্যন্ত প্রাচীন কিন্তু মৌলিক একটি গোষ্ঠীগত চেতনাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক চেতনা। আমার মতে এর পরের স্তরে, অর্থাৎ প্রথম স্তরের চেয়ে কম হলেও পরবর্তী ব্যাপক বিস্তারিত চেতনা ছিলো গনতন্ত্র। মুক্তিকামী লোকদের অধিকাংশই মনে করতো এই দেশে, জনগনের ভাগ্য নিয়ন্তা হবে জনগনই। এই দুটি প্রাথমিক চেতনার স্তরের পরেই ছিলো অন্যান্য আকাংখা বৈষম্যহীন সমাজ, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাংগালী সংষ্কৃতি এরকম অন্যান্য। এর কোনটি অন্য কোনটির আগে অথবা পরে এটি আলোচনা করা এখানে সম্ভব নয়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কিছুটা বিশ্লেষন করলেই আজকে এই ‘চেতনা বনাম গনতন্ত্রে’র দ্বন্দ্বে ভয়াবহ কন্ট্রাডিকশনটি চোখে পড়ে সরাসরি। গনতন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম প্রধান অংশ। চেতনা সেই গনতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে নিজেকেই একটি চরম সেলফ কন্ট্রাডিকশনের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই কন্ট্রাডিকশনটি যদি দ্রুত নিরাময় না করা হয় তবে এর পরিনতি কি হবে এটি অনুমান করা শক্ত নয়। গনতন্ত্রের মতো আধুনিক মানুষের মৌলিক এবং সার্বজনীন একটি চেতনার বিরুদ্ধে দাড়িয়ে অক্ষত অবস্থায় দ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, সেটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতো শক্তিশালী অনুভূতি হলেও।

কিন্তু আরো আশংকার কথা যে ২০১৩ এর শেষে চেতনাকে শুধুমাত্র গনতন্ত্রের মতো শক্তিশালী একটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দাড় করানো হয় নি, ঘটনা প্রবাহের পরিনতিতে চেতনা অবস্থান হয়ে পড়ছে আরো মৌলিকতম একটি চেতনা ও আবেগের বিরুদ্ধে। সেটি হলো বিজাতীয় শক্তির প্রভূত্বের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আকাংখা। চেতনা যদি স্বাধীনতার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয় তবে জনগনের মধ্যে তার অবস্থান কি হতে পারে এটি তুলে ধরার কোন প্রয়োজন পড়ে না।

আমরা যদিও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জনগনের কাছে স্পষ্ট করি নি তবু স্বাধীনতার পরে গত চার দশকে এই চেতনা আমাদের গনতন্ত্র ও রাজনীতিতে অনেক গুরূত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় মৌলবাদের মতো প্রচন্ড শক্তিশালী একটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই চেতনাই এখনো আমাদের গনতন্ত্রের সবচেয়ে বড়ো অবলম্বন কারন আমাদের জাতির মধ্যে উদারনৈতিক মূল্যবোধের প্রসার এখনো ঘটে নি। একারনে গনতন্ত্রের সাথে চেতনাকে বিরোধে জড়িয়ে ফেলাতে মৌলবাদের পথই আরো সুগম হচ্ছে। যারা চেতনা রক্ষার সরব-উচ্চকন্ঠ, তাদের একটা জিনিষ বোঝা উচিৎ যে রাজনীতিতে পট পরিবর্তন ঘটে সময়ের স্কেলে খুব দ্রুততার সাথেই। কেউই কখনো একাধারে এগিয়ে বা পিছিয়ে থাকে না, দ্রুত পরিবর্তনই রাজনীতির চিরায়ত বৈশিষ্ট। কিন্তু কোনো আদর্শ বা চিন্তা যদি একবার জনগনের মধ্যে বিচ্যুত, পতিত বলে গণ্য হয়, তবে তার পূর্নবাসন হতে সময় লাগে অনেক অনেক বেশী, কখনো সেটি আর হয়ে ওঠেই না।

ভারত বনাম আমেরিকাঃ খেলা কোন পথে?

by Shafquat Rabbee Anik

দেশে-বিদেশে ক্রমেই একা হয়ে যাওয়া আওয়ামি-শাহাবাগিদের শেষ সম্বল এখন ভারত। তাদের ধারণা ভারতের মতো বিচক্ষন একটি দেশ, সকল প্রকার কমনসেন্স হারিয়ে, নিজের জিও-পলিটিকাল সিকিউরিটি বিপন্ন করে আওয়ামি-শাহাবাগিদেরকে সুপার ম্যানের মতো এযাত্রায় বাঁচিয়ে দেবে। স্বাধীনতার চেতনা বিক্রি করে খাওয়া এই আওয়ামি-শাহাবাগিরা কেন একটি বিদেশী রাস্ট্রের কাছে নিজেদের সর্বস্য বিক্রি করে দিয়ে বুভুক্ষের মতো তাকিয়ে আছে এটা নিয়ে একাডেমিক স্টাডি করা প্রয়োজন।

অনেক দুঃখ নিয়ে বলতে হচ্ছে, দেশ এখন সার্বভৌম কেবল নামকাওয়াস্তে। আমেরিকা, ভারত, আর চীনের হাতেই খেলার চাবি কাঠি।

আমেরিকানদের মতিগতি ফাইনাল বুঝা যাবে নিশা দেসাই বিশাল নামে ভারতীয় বংশদ্ভুত আমেরিকান উপ-পররাস্ট্র মন্ত্রির বাংলাদেশ সফরকালে। উনি নভেম্বর এর ১৬ তারিখে তিন দিনের সফরে বাংলাদেশ আসবেন। এটুক বলতে পারি, আমেরিকায় জন্ম নেয়া এই ভদ্র মহিলার বাবা-মা ভারতীয় বলে খুব বেশি চিন্তিত কিংবা আশান্নিত কোনটাই হবার প্রয়োজন নেই। আমেরিকান সিস্টেমে একক ব্যাক্তির সিদ্ধান্তে কোন কাজ হবে না।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে আমেরিকা থেকে ডিপ্লমেটিক বার্তা গেছে ইন্ডিয়াতে। সেখানে বলা ছিল আমেরিকা বাংলাদেশ প্রশ্নে কোন নিরদিস্ট রাজনৈতিক দলে “ইনভেস্টেড” না। তারা শুধু মাত্র একটা সুস্থ “প্রসেসে” ইনভেস্টেড। আমেরিকান ডিপ্লমেসির এই ভাষার ট্রান্সলেশন হলো, আওয়ামি-শাহাবাগিদের বিক্রি করা চেতনা কিংবা জঙ্গিবাদের মলম আমেরিকায় এখন পর্যন্ত ভালো ভাবে বেচা বিক্রি হয় নাই। একারণে, সুস্থ প্রসেসে (অর্থাৎ ইলেকশনে) যে কেউ পাওয়ারে আসলেই আমেরিকানরা খুশি।

ভারতীয়রা খুব নগ্ন ভাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে এতদিন। কিন্তু এই নগ্ন সমর্থনটিকে আজীবনের পাওনা হিসেবে ধরে নিয়ে আওয়ামীরা অপচয় করেছে। এটা ভাবার কোনই কারণ নেই যে ভারতীয়রা আওয়ামী লীগের ব্যারথ রাষ্ট্র পরিচালনায় খুব খুশি। আমার ধারণা, ভারতীয়রা আওয়ামী লীগের উপর যথেষ্টই বিরক্ত। তবে তারা নিতান্তই বাংলাদেশের ভালো চেয়ে বিরক্ত কিনা তা বলতে পারবো না। তারা খুব সম্ভবত বিরক্ত তাদের নিজেদের সাজান বাগান বেকুব মালির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে– এই কারণে।

ভারতে এখন কংগ্রেস সরকারের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। আগামি ইলেকশনে কংগ্রেসের জিতার সম্ভাবনা খুব বেশি না। ভারত ও বাংলাদেশে একই সময়ে ইলেকশন হবার কথা। একারণে ভারতের কংগ্রেস চাইছে না আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ভরাডুবিতে পড়ুক। কারণ কংগ্রেস-আওয়ামি প্রেমের গল্প বাংলাদেশ ও ভারতে এক যোগে প্রচারিত। আওয়ামী লীগের ভরাডুবি একারণেই ভারতীয় নির্বাচনে কংগ্রেসকে বেকায়দায় ফেলবে। কিন্তু তার মানে এও না যে ভারতীয় প্রফেসনাল আমলারা সারা জীবন কংগ্রেস ও আওয়ামী লিগের ব্যারথতার বোঝা বহন করবেন। একারণে ধারণা করা যেতে পারে, যেকোন সময় কংগ্রেস ও আওয়ামী লীগ বিমুখ হয়ে যাবে ভারতীয় আমলাযন্ত্র। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় আমলারা, যেকোন একটা তরিকা বেড় করে তাদের বাগান রক্ষা করতে সচেষ্ট হবেন অচিরেই। প্রথম আলো , ডেইলি স্টারের মতো ভারতীয় পত্রিকার জরিপ ও সাম্প্রতিক লেখালিখির মতিগতি এ ধারনাই দেয়। এই পুরো ঘটনায় বিএনপির লাভ হবে কিনা জানি না, তবে এটা নিশ্চিত, আওয়ামী-শাহাবাগিদের লাভ হবে না এযাত্রায়।

ইদানিং একটা শঙ্কা খুবই প্রচলিত। অনেকেই বলছেন ভারতের চাপে আমেরিকা মাথা নোয়াবে। এই শঙ্কা আমি মানতে রাজী না। আমার জীবনে আমি অসংখ্য ইন্ডিয়ান দেখেছি আর আমেরিকান দেখেছি। আমার জীবনে আমি কোনদিন কোন ইন্ডিয়ানকে আমেরিকান তো দুরের কথা, সাদা চামড়ার কোন মানুষকেই ডমিনেট করতে দেখিনি। এরোগেন্স এর খেলায় ভারতীয়রা এখনও নতুন। আরও কিছু দিন সময় লাগবে তাদের এরোগেন্ট হতে। একারণে, বিদেশি-বিদেশির মারামারিতে, আমেরিকা ও পশ্চিমা শক্তি যা চাইবে, তাই হবে। এটাই ফাইনাল কথা।

আপাতত এটুকুই। ইনশা আল্লাহ আগামি কিছু দিনের মধ্যে সব কিছু আরও ক্লিয়ার হয়ে যাবে। তবে এটুক নিশ্চিত, আওয়ামী-শাহাবাগিদের হারতে হবেই। ইট ইজ নট এ কয়েশ্চেন অফ ইফ, ইট ইজ নাও এ কয়েশ্চেন অফ হয়েন।

নভেম্বর ১৫, ২০১৩

শেষ হোলো আমার শৈশব

Image

টেন্ডুলকার আমার কাছে শুধু শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যানই নন, আমার কৈশোরের সাথে শেষ যোগসূত্রও – যতোবার তাকে দেখি, মনে হয় কোনো এক অদ্ভূত কারণে, সোনার দিনগুলো আমার আছে মোহাফিজ। এই লোকটার ব্যাট দিয়েই আমি যেকোনো সময়ে চলে যাবো সেই নব্বুই এ – ইচ্ছে হলেই। ব্যাট হাতে টেন্ডুলকার মানেই আমার কৈশোরের সেই নানান রঙের দিনগুলো।

আজকে যারা কিশোর তাদের পক্ষে কল্পনা করা কঠিন হবে ৮০’র দশকে কী বোরিং ক্রিকেট খেলতো ভারত। শ্রীকান্ত আর আজহার ছাড়া ধুন্ধুমার কোনো ব্যাটসম্যান নেই। কপিল মাঝে মাঝে পেটাতে পারে এবং ওই একটি মাত্র বোলার – বাকী সব কে কার থেকে স্লো বল করতে পারে সেই প্রতিযোগিতা। ৮৮ সালে এশিয়া কাপ ক্রিকেট হয়েছিলো ঢাকায়, প্রথম বড় ধরনের আয়োজন। টিভিতে কমেন্টেটর ছিলো আলী জাকের, আজকের হিসাবে খুবই গরিবী আয়োজন কিন্তু ক্লাস ফাইভের এই ছেলেটার কাছে পৃথিবী বদলে যাওয়া ঘটনা (আজকের কিশোরদের কাছে কল্পনা করা হয়তো সম্ভবই না যে ৮৯ সালে ঢাকায় একটা আন্তর্জাতিক কুস্তি প্রতিযোগিতা হয়েছিলো এবং সেটা লাইভ দেখানো হয়েছিলো টিভিতে। সেই বিজ্ঞ কমেন্ট্রি থেকেই জানতে পারি যে প্যাচ যেটাই হোক কমেন্টেটর সেটাকে বোস্টন ক্র্যাবই বলবেন। আমার কাছে সেটাও ওয়ার্ল্ড চেঞ্জিং ইভেন্ট) । মনে আছে আরশাদ আইয়ুব নামের এক অখ্যাত অফ স্পিনার (রাজেশ চৌহানের ঠিক আগে খেলতো ভারতের হয়ে) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট নিয়ে বসে ২০ না ২১ রানে। কিন্তু গ্যালারিতে ভারতের একেবারেই সাপোর্ট নেই। মানে একটাও তালি পড়ে না, কিন্তু পাকিস্তানের জন্য দর্শকরা হাত ফাটিয়ে ফেলছে। আমার কাছে তখন মনে হয়েছিলো এটা মুসলমানির কারবার। কিন্তু এই একই মাঠে ১০ বছর পরে যখন পাকিস্তান ইন্ডিয়া ম্যাচ হোলো তখন বলা যায় সাপোর্ট ৬০-৪০ (পাকিস্তানের পক্ষে)। কারণটা আসলে ধর্ম ছিলো না, ছিলো টেন্ডুলকার। দশ বছর আগের এক বোরিং টিম শচিনের হাত ধরে হয়ে গেছে ফাইটিং আউটফিট।

আমাদের চেয়ে যারা দশ বারো বছরের বড় তাদের থেকে নিয়ে আমরাই শেষ – এ পর্যন্ত যে প্রজন্ম – তাদের কাছে ইমরান খান যে ড্যাশিং ফাইটার, আমাদের পর থেকে আজকের ছানাপোনা এই দীর্ঘ প্রজন্মের কাছে টেন্ডুলকার ঠিক তাই। ইমরান খানের সাপোর্টার থেকে আমাদের প্রজন্ম হয়েছিলো পাকিস্তানের সাপোর্টার, আর টেন্ডুলকারের সাপোর্টার থেকে আমাদের পরের প্রজন্ম হয়েছে ভারতের সাপোর্টার।

আমার ছেলেবেলা কেটেছে ওল্ড ডিওএইচএসে – সেখানে ৮৯ সালেও প্রায় পুরো বছর ক্রিকেট খেলা হতো। কায়সার হামিদের ভাই সোহেল হামিদ সেখানে তখন ষ্টার ক্রিকেটার। জাতীয় দলের হয়ে খেলা পেস বোলার হাসিবুল হোসেন তখন উঠতি তারকা মাত্র ক্লাস সেভেন-এইটেই। ওখানেই মনে হয় প্রথম শুনি যে ইন্ডিয়ার একটা বাচ্চা ছেলে খুব ভালো খেলে। ৯০ এ চলে যাই ক্যাডেট কলেজ। ক্যাডেট কলেজগুলো এখন কী রকম জানি না তখন কিন্তু পুরোপুরি ফুটবল প্রধান ছিলো। তবে বহু ক্যাডেট খেলার খবর রাখার দিক থেকে প্রাণান্ত ছিলো। আশ্চর্যের বিষয়: প্রায় কেউই ইন্ডিয়ার ডাই হার্ড ফ্যান ছিলো না (আমাদের এক ব্যাচ সিনিয়র ফাইয়াদ ভাই ছাড়া)। কিন্তু টেন্ডুলকার বিষয়ে সবারই খুব আগ্রহ ছিলো। ভিনোদ কাম্বলির সাথে ৬শ রানের পার্টনারশিপের কথা সবার মুখে মুখে।

অবস্থা বদলে যায় ৯২ এর বিশ্বকাপের পরে। ক্রিকেট দেখাটা অনেক সহজ হয়ে যায় এবং খেলার পরিমাণও বাড়তে থাকে। মনে আছে পাকিস্তানের সাথে খেলায় কাম্বলি আর টেন্ডুলকার ব্যাটিং করছিলো (এই দিনটায় আমরা কলেজ থেকে ছুটিতে বাড়ি আসছিলাম) আর বল করছিলো ইমরান খান। দুজনের মিলিত বয়স ইমরানের সমান না। কিন্তু কী দারুন ছিলো টেন্ডুলকার।

ওই বয়সের একটা বিশেষত্ব ছিলো কীভাবে প্রমাণ করা যায় আমি যে টিম সাপোর্ট করি সেটাই বেস্ট এবং অন্য টিম কেন ধর্তব্যই না সেটাও প্রমাণ করা। ইন্ডিয়া যে বাজে টিম পরিসংখ্যানের দিক থেকে প্রমাণ করা খুব সহজ ছিলো। ইন ফ্যাক্ট ইন্ডিয়া উইনিং টিম হয়েছে এই তো সেদিন – ২০০৩ এর দিকে এসে। কিন্তু একজন ব্যাটসম্যানকে প্রায় সবাইই সমীহ করতো- সেটা ছিলো টেন্ডুলকার।

কোনো swagger নেই এমন একটা স্পোর্টসম্যানকে সবাই ভালোবাসে তার বিনয়ের জন্য, বিষয়টা কল্পনা করা খুব কঠিন – শচীন সেটা করে দেখিয়েছে। সত্যিই আশ্চর্য এই মানুষটা। কোনো একটা কাজ ২৪ বছর ধরে সমান উদ্যমে মানুষ ভালোবাসে কী করে এটাই আমি বুঝে পাই না।

টেন্ডুলকারকে আর দেখা যাবে না এটা ভাবলেই মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আমার শৈশবের এই মানুষটাকে আর দেখা যাবে না খেলার মাঠে, ভাবতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। বড় আমি হয়েই গেলাম তাহলে, শেষমেষ।

দলকানা নেত্রীদাস ও নেত্রীকানা দলদাস…প্রসঙ্গ তত্ত্ববধায়ক সরকার

by    WatchDog Bd

বিচারপতি হাসান, বিচারপতি আজিজ, ইয়েস উদ্দিন আর লাশের উপর ব্রাজিলিয়ান সাম্বা নাচের জরায়ুতে জন্ম নিয়েছিল সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। হরতালের পর হরতাল, দানবীয় ভাংচুর, সীমাহীন নৈরাজ্য আর লাশের মিছিলে পথ পাকা করে ক্ষমতা নামক সোনার হরিনের দেখা পেয়েছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু হায়, ক্ষমতার স্বাদ তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রীর বলেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারণেই না-কি ১/১১ এসেছিল। বাক্যটা তিনি অসম্পূর্ণ রেখেছেন হয়ত ইচ্ছে করেই। কিন্তু আমরা যারা শেখ আর রহমান পরিবারের নেশায় নেশাগ্রস্ত নই তাদের ভাল করেই জানা আছে এই ১/১১’র কারণেই আওয়ামী লীগ আজ ক্ষমতায়। ’এই সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল, এদের সব কাজের বৈধতা দেব আমরা’ – কথাগুলো কি অন্য গ্রহের এলিয়ন শেখ হাসিনার কথা ছিল? হয়ত চাটুকার আর মোসাহেবদের বলয় ভেদ করে খবরটা পৌছে গেছে প্রধানমন্ত্রীর অন্দরমহলে, নৌকায় চড়ে নির্বাচনী বৈতরনী পাড়ি দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা এ যাত্রায়। একই ম্যাসেজ বেগম জিয়াও হাতে পেয়েছিলেন এবং যথাযত ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন ক্ষমতার জোরে আইন পাশ করিয়ে পছন্দের বিচারপতিকে ক্ষমতায় বসালেই নিশ্চিত হয়ে যাবে তারেক জিয়ার রাজত্ব। কিন্তু হয়নি, কারণ আইনের জন্যে মানুষ নয়, মানুষের জন্যে আইন, আর ক্ষমতাও পারিবারিক সম্পত্তি নয়। এ সহজ সত্যগুলো রাজনীতিবিদেরা কেন জানি ক্ষমতারোহনের প্রথম দিনেই ভুলে যান। সরকারী কোষাগারের চাবিটা হাতে পেয়েই ভাবতে শুরু করেন এ আমার, এ আমার সন্তানের, এ সন্তানের সন্তানের। হাসান আর খয়রুলরা এ দেশেরই সন্তান। বিচারপতি প্রফেশন হলেও এদের আসল পরিচয় পারিবারিক দাস হিসাবে। প্রভুর আইনী স্বার্থ দেখভাল করার জন্যেই এদের ক্ষমতায় বসানো হয়। খায়রুল সে দাস বংশেরই একজন। কলমের এক খোচায় ১৫ কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেয়ার কোন অধিকার ছিলনা এসব গোলামদের।
রাজনীতিবিদেরা মুখ খুলে না বললেও আমরা বুঝতে পারি নাজিম উদ্দিন রোডের স্মৃতি তাড়া করছে উনাদের। ক্ষমতায়নের মোক্ষম অস্ত্র শেখ হাসিনার হরতাল এখন বেগম জিয়ার হাতে। এ কেবল শুরু। বেগম জিয়া আসলেই যদি ক্ষমতা ফিরে পেতে চান উনাকে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। সে পথে থাকবে হরতাল ম্যারাথন, ভাংচুরের মহাপ্রলয়, জীবন্ত পুড়িয়ে মারার দানবীয় চিত্র আর লগি-বৈঠার তান্ডব। এ গুলোই আমাদের রাজনীতি। এ সব নিয়ে উদ্বেগ করার কোন কারণ দেখি না। শেখ হাসিনার বেলায় যা বৈধ তা অন্য কারও বেলায় বৈধ হতে বাধ্য। বেগম জিয়া এই অন্যদেরই একজন। আসুন উপভোগ করতে শিখি রাজনীতি নামের এই পশুত্ব। কেবল হাসান বা খয়রুলই নয়, আমরা বাকিরাও রাজনীতির কেনা গোলাম, শেখ আর রহমান পরিবারের কুন্তাকিন্তে। এক কথায় দলকানা নেত্রীদাস অথবা নেত্রীকানা দলদাস।

Not a mindless atrocity but an atrocity of ‘war’

 

Death relieves his pain | http://www.thedailystar.net

Death relieves his pain |
http://www.thedailystar.net

The boy Monir died at last after three days of indescribable pain from burning of 95% of his body. The whole country silently prayed that Monir die sooner than later, prayed so that the merciful god takes Monir in his peaceful embrace and deliver him from the hell on earth called Bangladesh. We have seen the pictures. Monir sitting on the ground with his whole body blackened with third degree burn. Monir’s father carrying the charred but still living body of his beloved son. No words can convey the thoughts and emotions that go through a sentiment human when watching these images.

 

Read the Rest at AlaloDulal.org

Not a mindless atrocity but an atrocity of ‘war’

Arson attack on bus kills 9 -Daily Star June 05, 2004

Flames grow higher on a state-owned double-decker, left, on the Gulistan-Mirpur Road that came under bomb attack in front of Dhaka Sheraton Hotel yesterday; and a girl, right, tries to climb down the burning vehicle in her desperate bid to survive the terror. PHOTO: Anisur Rahman

Flames grow higher on a state-owned double-decker, left, on the Gulistan-Mirpur Road that came under bomb attack in front of Dhaka Sheraton Hotel yesterday; and a girl, right, tries to climb down the burning vehicle in her desperate bid to survive the terror. PHOTO: Anisur Rahman

 

 

 

Arson attack on bus kills 9
Bomb hurled on transport in several city areas
Staff Correspondent

Unknown assailants carried out an arson attack on a double-decker bus in front of Dhaka Sheraton Hotel, killing nine passengers including a two-year-old girl and injuring 15 in one of a series of assaults on public transport in the capital last night.

The flames soon leapt to both decks of the state-owned BRTC bus on the Gulistan-Mirpur route, prompting most passengers to storm out except for the nine who got trapped inside.

Police and witnesses said six people were incinerated in the bus, a fire-burnt man jumped to death on the street and two others including a two-year-old child died from injuries at Dhaka Medical College Hospital (DMCH).

 

Three of the nine dead are identified as Meem, 2,Yasmin, 25, and Tahura, 27. Thirteen of the 15 injured admitted to the DMCH are Meem’s mother Monwara, 22, Wahed, 14, Abdur Rahim, 35, Abul Kalam, 45, Rowshan Ara, 30, her son Rony, 12, Alamgir, 14, Jognu Akhter, 18, Mustafiz, 40, Saidur, 22, Babu, 8, Kabir, 40, and Rabbi, 4.

 

The fire left the bus in a charred, blackened metal structure, burning out all seats and other flammables before fire fighters could douse the blaze.

“I have no idea who carried out the grisly attack, but they are very cold-blooded murderers who worked to a well-orchestrated plan,” Dhaka Metropolitan Police (DMP) Commissioner Ashraful Huda told reporters after the arson.

 

“This sort of incidents take place before every hartal and you also know the perpetrators,” he said.

Terming the incident a bestial one, the DMP commissioner said, “The nature of the fire suggests the killers poured gunpowder on both decks of the bus before setting it on fire.”

A string of bomb attacks on public transports was also reported in other areas of the city last night, hours before a 24-hour countrywide opposition strike from 6:00am today and visit of US Defence Secretary Donald Rumsfeld in the afternoon.

The attacks largely came on buses and minibuses near Mirpur Heart Foundation Hospital, National Zoo, Pallabi, Rampura TV Station, Mugda and Shyampur.

Explosions also rocked Gulshan-1, Shukrabad, Gabtali, Motijheel and Paltan areas.

The double-decker, coming from Minto Road direction, caught fire soon after it reached the road stretch in front of the hotel, unfolding a scene of horror.

“Sitting close to the driver, I saw fire behind the driver’s seat all on a sudden which was fast spreading,” 35-year-old Rahima Begum said, adding she rushed out of the bus with her son Ali.

 

As the bus driver sped, fire engulfed the vehicle and the busload of passengers including men, women and children found it difficult to come out through an exit and half-closed windows.

“The fire caught my wife Yasmin and burnt her alive before my eyes on the upper deck,” said Abdur Rahim, driver of an autorickshaw, bursting into tears.

 

“But I didn’t lose my sense and whisked my niece Litu off the bus,” said Rahim, who took the vehicle at Gulistan for Mirpur-12.

Meem, who was on the upper deck with her mother and other relatives, was incinerated on her mother’s lap. Her mother Monwara, 22, survived the blaze with serious burns all-over and is now being treated at the DMCH.

Meem’s aunt Rowshan Ara and her 12-year-old son Rony also suffered burns before falling on the street from the bus amid a crushing scramble.

Her cousin Jognu Akhter, 18 and Alamgir, 14, also received injuries jumping to the street from the upper deck.

The fire left Wahed, 13, all burnt and he was fighting a grim battle with death with little hope for his life.

Rana, an 11-year-old boy who survived the inferno, said: “All on a sudden we saw a red flame leaping from just behind the driver’s seat.”

“My elder brother Badal and myself could jump out of the exit, leaving masses of passengers scrambling to get out of the exit behind,” he told The Daily Star, disconsolate with grief.

Habib, a bookseller, said, “The passengers were desperately pushing for the exit, but a crowd blocked the narrow staircase. I saw some trying to get out through the windows.”

“Casualty could have been lowered, had the driver stopped the bus immediately after it caught fire,” he said, adding the driver kept going on despite hearing screams.

 

Sergeant Rakibuddin, who was on duty near the crossing, said, “Flames engulfed the whole bus in a moment.”

“Seeing passengers trying to escape through the door, I shouted at them to jump through the windows,” Rakibuddin said, adding he saved two who jumped down.

দূর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ

2
বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ওয়াবসাইট থেকে দেখা যায় তাদের প্রকাশিত Corruption Perception Index-এ বাংলাদেশ প্রথম ব্যাপক আলোচিত হয় ২০০১ সালে প্রকাশিত ২০০০-২০০১ সালের CPI তালিকায়।
সেই হিসাবে এই তালিকায় বাংলাদেশ গত এক যুগ ধরে বিভিন্ন স্কোর পেয়ে বিভিন্ন অবস্থানে ছিলো।
এই তালিকায় আমাদের গত একযুগে কখন কি অবস্থা ছিলো তা নিয়ে কিছু বিশ্লেষণ প্রয়োজন, কারণ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে বিভিন্ন ভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যে তালিকা প্রকাশ করে থাকে তা হচ্ছে মূলত জরিপের উপর জরিপ।
অন্তত তিনটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যের উপর জরিপ করে স্কোর নির্ধারণ করে এই তালিকায় তা উল্লেখ করাহয়।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে ERC (Ethics Resource Center), EIU (Economics Intelligence Unit)-সহ আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে যেকয়টা CPI-এর হদিস পাওয়া গেছে সেই সবকয়টা মিলিয়ে এখনপর্যন্ত সবচেয়ে কম স্কোর উঠেছে ২০০১ সালে প্রকাশিত রিপোর্টেই- ০.৪ (বর্তমানে ১০০-এর স্কেলে যা ৪)।
এই বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী বাংলাদেশ।বলাই বাহুল্য নিচের দিক থেকে প্রথম অবস্থানটাও আমাদেরই ছিল।আমাদের নিকটতম দেশ ছিল নাইজেরিয়া, যাদের স্কোর ছিল আমাদের চেয়ে আড়াইগুণ বেশি (১.০)।
CPI2001

তখন মহাপরাক্রমশালী আওয়ামীলীগ সরকারের শেষ বছর চলছিলো। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মরহুম এস এম কিবরিয়া এই রিপোর্ট সরাসরি প্রত্যাখান করেছিলেন, যদিও দেশে দুর্নীতির অবস্থা আসলেই খারাপ ছিলো।

১৯৯৬সালে ক্ষমাতায় এসেই ১৯৯১ থেকে বন্ধ কালোটাকা সাদা করার বিধানকে চালু করে দেন কিবরিয়া সাহেব তাঁরপ্রথম বাজেটেই। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চর দখলের মতো দখল করে সভাপতির পদে বসে পড়েন নেতারা।শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারীর রেশ তখনও কাটেনি। এই স্কোর তাই অনুমিতই ছিলো।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার।

এই সরকারকে মানুষ অনেক আশা নিয়ে ক্ষমতায় বসালেও এদের সময়ও দুর্নীতি খুব একটা কমেনি, তবে বাড়েনি তা নিশ্চিত। প্রমাণ দেয়া হবে।

কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কারণে ২০০২ সালে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের কোন পরিবর্তননা হলেও স্কোর বেড়ে দাঁড়ায় ১.২-এ (বর্তমান স্কেলে ১২)।

নিকটতম রাষ্ট্র ছিল দুর্নীতি জর্জরিত নাইজেরিয়া ১.৬ পয়েন্ট নিয়ে। বাংলাদেশের সাথে ব্যবধান ছিল ০.৪ পয়েন্টের, আগেরবছর যা ছিল ০.৬ পয়েন্ট।

২০০২ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হলে বাংলাদেশের স্কোর ২০০৩ সালের তালিকায় সামান্য বেড়ে ১.৩-এ দাঁড়ায়(বর্তমান স্কেলে ১৩)।

এবছরও নিকটতম রাষ্ট্র ছিল নাইজেরিয়া ১.৪ পয়েন্ট নিয়ে। এবছর বাংলাদেশের সাথে নিকটতম রাষ্ট্রের ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ০.১-এ।

২০০৪ সালের প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায় আমাদের স্কোর সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ১.৫-এ (বর্তমান স্কেলে ১৫)। আগের বছরের তুলনায় যা ছিল ০.২ বেশি। এবছর আমাদের সাথে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ‘গৌরবে’ ভাগ বসায় হাইতি। নিকটতম রাষ্ট্র ছিল নাইজেরিয়া, যাদের স্কোর ছিল ১.৬।

অর্থাৎ আমাদের সাথে নিকটতম রাষ্ট্রের ব্যবধান আগের বছরের মতই ০.১-এই আটকে ছিলো।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে ইফতেখারুজ্জামানের নালিশ

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে ইফতেখারুজ্জামানের নালিশ

২০০৪ সাল থেকে শুরু হয় প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল। অর্থের বিনিময়ে কাজ দেয়ার কিছু ঘটনাও বের হয়ে আসা শুরু করে। জ্বালানীমন্ত্রীকে জিপ কেলেঙ্কারী নিয়ে সরে যেতে হয়। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে আরও অনেকের বিরুদ্ধে। এর প্রভাব পড়ে ২০০৫ সালের রিপোর্টে। বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে। স্কোরের বৃদ্ধি ছিল আগের মতই। তবে আমাদের সাথে আগের বছর একই অবস্থানে থাকা হাইতি কিছুটা উন্নতি করে নিকটতম রাষ্ট্রের কাতারে চলে যায় ০.১ পয়েন্টের ব্যবধান নিয়ে। হাইতির জায়গায় আসে চাদ। ২০০৫ সাল মিলিয়ে বাংলাদেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।

২০০৫-২০০৬ সাল ছিল রাজনৈতিকভাবে টালমাটাল একটা বছর। অবশ্য বিরোধীদলের প্রবল আন্দোলনের কারণে এ বছর মাঠপর্যায়ে সরকারি কাজও ছিল কম, তাই দুর্নীতিও কম হয় যার ফলে ২০০৬ সালের জোট সরকারের আমলের শেষ রিপোর্টে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান থেকে বেরিয়ে আসে।

তবে এই বছরের টিআইবি রিপোর্টের সাথে টিআইবির কর্তাব্যক্তিদের কথায় মিল ছিল কম। অনেকের অনেক কাজ ছিল সন্দেহজনক। টিআইবির ইফতেখারুজ্জামানকে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে বাংলাদেশের দুর্নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে রীতিমত নালিশ করতে দেখা যায়। তিনি খালেদা জিয়া এবং তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে বিভিন্ন খতিয়ান দেন যা পরবর্তীতে উইকিলিকসে প্রকাশিত হয়।

ইফতেখারুজ্জামান নিজেই পরে একে নীতিমালা বহির্ভুত কাজ হিসেবে স্বীকার করেন

কিন্তু ২০০৬ সালের টিআইবির প্রতিবেদন ছিল এর উলটো। ২০০৬ সালে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের স্কোর বেড়ে দাঁড়ায় ২.০-তে। অবস্থানও হয় তৃতীয়। যা ইফতেখারুজ্জামানকে ভুল প্রমাণিত করে। যদিও damages were done, বাংলাদেশ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নেতিবাচক তাঁরবার্তা পাঠানো হয়।

শুধু তাই নয়, তারেক রহমান এবং কোকোর ব্যাপারে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম কারণ ইফতেখারুজ্জামানেরা।

এই ছয় বছরের টিআই’র খতিয়ান দেখলে দেখা যায় বাংলাদেশের স্কোরে উন্নতি হয় ১.৬ (বর্তমান স্কেলে ১৬) পয়েন্ট। বাংলাদেশ দুর্নীতি কমিয়ে এনেছে, তথা বাংলাদেশে ২০০০ সালের তুলনায় ২০০৬ সালে দুর্নীতি কম হচ্ছে এমন মত প্রকাশ করে ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। অন্তত তাদের প্রতিবেদনের স্কোর এবং অবস্থান তাই নির্দেশ করে।

তবে বাংলাদেশের অতি উৎসাহী একটি শ্রেণী ঠিকভাবে রিপোর্ট না দেখেই বিভিন্ন মন্তব্য করে থাকেন যা অনভিপ্রেত। টিআই’র রিপোর্টে শুধুই একটা দেশের অবস্থান দেয়া থাকে না; একই সাথে সেই দেশের গত বছরের অবস্থান, দুর্নীতির ক্ষেত্রে দেশটির স্কোর- এগুলোও থাকে, যা অনেকেই খেয়াল করেন না। করলে অবশ্যই বুঝতেন বাংলাদেশ কিভাবে দুর্নীতি কমে এসেছিল।

এরপর দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী ক্ষমতা নেয় সেনা সমর্থিত সরকার। এই সরকার দুর্নীতি দমনের নামে বেশ কিছু অভিযান চালায়। তবে এই সকল অভিযানের একটা বড় অংশই ছিল লোকদেখানো। এই সময় দুর্নীতির তেমন কোন হেরফের ঘটেনি। বরং জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশের স্কোর বৃদ্ধির যে ধারা বজায় ছিল তাও থেমে যায়। জোট সরকারের শেষ বছরের স্কোর ২.০ থেকে এক দশমিক পয়েন্টও বাড়েনি ২০০৭ সালের টিআই’র দুর্নীতির ধারণাসূচকে। যেখানে ছিল সেখানেই থাকে।

উলটো সেনা সমর্থিত সেই সরকারের সময় ব্যবসায়ীদের ধরে এনে চাঁদাবাজির সাথেও জড়িয়ে পড়ে অনেক সেনা কর্মকর্তা। দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক কর্মযজ্ঞের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ২০০৮ সালের টিআই’র সূচকে বাংলাদেশ মাত্র ০.১ শতাংশ যোগ করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবী করে তখন সেনাদের একাংশ দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিল। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালের এগারোই জানুয়ারির পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুবছরের শাসনামলে সশস্ত্র বাহিনীর একাংশ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অর্থ ও সম্পদ অর্জন করে এবং গণমাধ্যমের ওপরও তারা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

এরপর ক্ষমতা নেয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। মহাজোট মন্ত্রীসভার অধীনে প্রথম বছর যথেষ্ট ভালো কাটে বাংলাদেশের। এছাড়া ঐ বছর কিংবা তার পরের বছরও কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা যায়নি। এছাড়া বড় ধরণের দুর্নীতির অভিযোগও ওঠেনি। যার প্রভাব পড়ে টিআই’র সূচকেও। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের স্কোর বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২.৪ এ (বর্তমান স্কেলে ২৪)।

পরের বছর, ২০১০ সালেও অবশ্য এই স্কোরের কোন পরিবর্তন হয়নি। যদিও তেমন কোন বড় ঘটনা ঘটেনি। কিংবা সরকারও কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়নি নিজেদের দুর্নীতির মামলাগুলো প্রত্যাহার করা ছাড়া।

২০১১ সালে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২.৭, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। তবে ২০১১ সালে কিছু মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা বাদে দুদক তেমন কোন কাজই করেনি। তবে উল্লেখ্য যে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-সাংসদের বিরুদ্ধে এই বছরে অভিযোগ উঠতে থাকে। এদের কয়েকজনকেই দুদক তলব করে।

২০১২ সাল ছিল এক বোমা ফাটার বছর। একের পর এক দুর্নীতি উন্মোচিত হতে থাকে। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দেয় বিশ্বব্যাংক। বের হতে থাকে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারী। যার সামান্য প্রভাব পড়ে টিআই’র সূচকেও। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ধারণা সূচকে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায়বাংলাদেশের অবস্থান ২০১১ সালের মতো ২০১২ সালেও ১৩তম অবস্থানে থাকলেও কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশেরতালিকায় (উচ্চক্রমে) বাংলাদেশের অবস্থান ২৪ ধাপ পিছিয়েছে। স্কোর কমে দাঁড়ায় ২.৬-এ, বর্তমান স্কেলে ২৬।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং ভীতিকর বিষয় হচ্ছে গত প্রায় এক যুগের মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশের স্কোরে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেল। যার অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ যেভাবে গত এক যুগে ধীরে ধীরে হলেও দুর্নীতি কমিয়ে আনছিল তা এই বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় এই অবস্থা আরও হতাশাজনক।

এক যুগের মধ্যে সূচকে বাংলাদেশের প্রথম পয়েন্ট খোয়ানো

এক যুগের মধ্যে সূচকে বাংলাদেশের প্রথম পয়েন্ট খোয়ানো

এ অবস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন,
এই অবস্থান প্রমাণ করে, গত বছরের তুলনায় দুর্নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থার অবনতি হয়েছে।বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতির কারণ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা লিখিত মূল্যায়নে বলা হয়, দুর্নীতি দমনে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ক্রমবর্ধমান ঘাটতি, পদ্মা সেতু, রেলওয়ে কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজার, হলমার্ক কেলেঙ্কারির মতো বহুল আলোচিত দুর্নীতির অভিযোগ, ক্ষমতাবানদের নির্বিচারে জমি ও নদীর জলাশয় দখল, ক্ষমতাশালীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ না করা, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা হ্রাসের উদ্যোগ, উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতির ব্যাপারে দুদকের বিতর্কিত ভূমিকা, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাপকসংখ্যক ফৌজদারি ও দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার, বয়কট ও স্বার্থের দ্বন্দ্বে জর্জরিত সংসদ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর রাজনীতিকীকরণ, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রাখা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা দুর্বল থেকে দুর্বলতর হওয়ার ঘটনা সার্বিক সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এক যুগে বাংলাদেশের স্কোরের তুলনাচিত্র

এক যুগে বাংলাদেশের স্কোরের তুলনাচিত্র

সার্বিক বিবেচনায় দেখা যায় জোট সরকার যেখানে স্কোরের হিসেবে ১.৬ বা বর্তমান স্কেলে ১৬ উন্নতি করেছিল, মহাজোট সরকার করেছে মাত্র ০.৫ বা বর্তমান স্কেলে ৫ পয়েন্ট।
তাই দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের গান যারা শোনায় তাদের জন্যে একটাই কথা। আপনারা দুর্নীতি করে স্কোর কুয়ার মধ্যে ফেলে গেছিলেন। কোন কিছু কুয়াতে ফেলা যত সহজ তোলা তত সহজ না। যা এখন সম্ভবত হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। কারা আসল চ্যাম্পিয়ন তাও এখন বোঝা যাচ্ছে।
কটা কথা মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশ তথা টিআই’র ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্কোর আওয়ামী লীগেরই কীর্তিস্তম্ভ।

উইলিয়াম ওয়ালেস ও আয়েমন আকবর; মুক্তিযোদ্ধার ব্রেইভ হার্ট বনাম সাজেদা চৌধুরির লম্বা হাত!

by Watchdog BD

চুরির রূপকথা…
পাঠক, আপনাদের কি হলিউড মুভি ‘ব্রেইভ হার্ট’ দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল? না হয়ে থাকলে অনুরোধ করব ছবিটা দেখে নেয়ার জন্যে। হলিউড ফ্যাক্টরী হতে এ পর্যন্ত যতগুলো ভাল ছবি বের হয়েছে ’ব্রেইভ হার্ট’ তার মধ্যে অন্যতম। স্বীকৃতি হিসাবে ৬৮তম একাডেমি এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এ ছবির অভিনেতা ও নির্মান কৌসুলিদের ভাগ্যে জুটেছিল একাধিক পুরস্কার। মুক্তিকামী মানুষের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা আর আত্মত্যাগের মর্মস্পর্শী কাহিনী নিপুণ ভাবে ফুটে উঠেছে বিশাল ক্যানভাসের এ ছবিতে। প্রেক্ষাপট ১২৮০ খ্রীষ্টাব্দ। ইংরেজ রাজা প্রথম এডওয়ার্ডের দখলদার বাহিনীর অত্যাচারে জর্জরিত স্কটিশ জনগণ। প্রকৃতির লীলাভূমির দেশ স্কটল্যান্ডের নয়নাভিরাম পাহাড় পর্বতকে ঘিরে আবর্তিত হওয়া ইংরেজ তাড়ানোর লড়াই নিয়ে ছবির কাহিনী। নায়ক উইলিয়াম ওয়ালেসের প্রেম, ভালবাসা, বিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ আর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এমন এক কালজয়ী ছবি আঁকা হয়েছে যা যুগ যুগ ধরে মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকবে।

হতে পারত তা নতুন কোন কালজয়ী ছায়াছবির পারফেক্ট প্রেক্ষাপট। স্কটল্যান্ড হতে ফরিদপুর। হোক তা যোজন যোজন দূরত্বের দুটি দেশের কাহিনী। কিন্তু খুঁজলে কোথাও না কোথাও মিল পাওয়া যেত হয়ত। অন্তত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার কৌশল সমকালের ফরিদপুরবাসী আর খ্রীষ্টাব্দ ১২৮০ সালের স্কটিশদের মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য হত বলে মনে হয়না। অন্তত উপরের ছবিটা তাই বলে। ঘটনা ঘটতে গিয়েও ঘটেনি উপর হতে হস্তক্ষেপের কারণে। কাজে কর্মে তিনি কোন দেশের বাদশাহ নন।।।

অপকর্মের বাদশাহ বললে হয়ত বাড়িয়ে বলা হবেনা। ’মাটির টানে’ ফিরে যাচ্ছিলেন আপন শহর ফরিদপুরে। তিনি আর কেউ নন, সংসদ উপনেতা জনাবা সাজেদা চৌধুরীর পুত্র জনাব আকবর আয়েমন। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দেশের রাজনৈতিক পরিবারগুলোর জীবন কতটা চমকপ্রদ হয় এই আকবর বাদশাহ তার পৌরাণিক উদাহরণ। বনখেকো ওসমান গনির কথা আশাকরি পাঠকদের স্মৃতি হতে মুছে যায়নি। সেই ওসমান গনি যিনি লোটা কম্বল ছাড়াও অন্তর্বাসের ভেতর পর্যন্ত লুটের টাকা লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হতেন। মনে আছে আপনাদের? বনের গাছ আর মন্ত্রনালয়ের মানুষকে বদলির নামে এদিক সেদিক করে কম করে হলেও ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত কামিয়েছিলেন। মন্ত্রনালয়ের সামান্য একজন কর্মকর্তার পক্ষে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে এত ধন-সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব এমনটা বোধহয় দেশের হদ্দ পাগলও বিশ্বাস করবে না। আসুন সে দিকটায় একটু চোখ ফেরাই। সাজেদা চৌধুরী তখন বন মন্ত্রনালয়ের ভগবান। ’বন-ভগবানের’ সৃস্টি পেয়ারের আদম আকবর বাদশাহর হাতে ধরেই উত্থান বনখেকো ওসমান গনির। এমনটাই তিনি বলেছিলেন যৌথবাহিনীর ইন্টারোগেশন সেলে। সরকারী কোষাগার লুটপাটের ’গৌরবোজ্জ্বল’ উপাখ্যানের সাথে সাজেদা চৌধুরী নাম উচ্চারিত হয়না, কারণ তিনি এখন বিশাল এক বোয়াল মাছ, যা ধরতে গেলে বাংলাদেশের সমস্ত ছাই এক করলেও যথেষ্ট হবেনা। কিন্তু ধরা পরেছিল অন্য জন, যদিও তা ছিল কাগজে কলমে। আয়েমন বাদশাহ। যৌথবাহিনীর ডান্ডা ও ডিম্ব থেরাপি হতে বাচার জন্যে বাদশাহ চলে গিয়েছিলেন বনবাসে। রাক্ষস-খোক্কসদের রাজত্ব শেষে নতুন করে বুঝে নিয়েছিলেন আপন রাজত্ব। রাজা-বাদশার দল প্রজাদের দেখতে গ্রামে-গঞ্জে যায়, এটা নতুন কোন কাহিনী নয়। একই উদ্দেশ্যে আয়েমন বাদশাহও হয়ত রওয়ানা দিয়েছিলেন ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে। বিধি বাম! ওখানে যে অন্য রাজার রাজত্ব! এঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন! ফরিদপুরের এই উইলিয়াম ওয়ালেস এবং তার সহযোগীরা আগ বাড়িয়ে ঘোষনা দিয়েছিল, পীর আউলিয়ার শহর ফরিদপুরের মাটিতে চৌধুরী পরিবার অবাঞ্চিত। চৌধুরীদের আগমন ঠেকাতে ওয়ালেস বাহিনী মাঠে নামিয়ে দেয় হোম মেড অস্ত্র সহ ভুখানাংগা শহরবাসীকে। অমোঘ পরিণতি হতে শহরবাসীকে রক্ষা করেন সব ভগবানের আসল ভগবান জনাবা শেখ হাসিনা।

ছাত্রজীবনে নগুয়েন ঢিক থি ছিল আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন। জাতিতে ভিয়েতনামি। উত্তর-দক্ষিনে তখন যুদ্ধের দামামা। মার্কিন সৈন্য আর তাদের ন্যাপাম বোমায় জ্বলছে ভিয়েতনামের জনপদ। ভিয়েতনামের মাটি হতে মার্কিনীদের বিদায়ের পর অনেকে মনে করেছিল দুই তত্ত্বে বেড়ে উঠা দুই ভিয়েতনামের মধ্যে শুরু হবে গৃহযুদ্ধ। আজকের ভিয়েতনাম কি তাই বলে? যুদ্ধোত্তর ইউনাইটেড ভিয়েতনামে উত্তরের নগুয়েনদের অবাঞ্চিত করতে শোনা যায়নি দক্ষিণের নগুয়েনদের। ওরা আজ এক এবং দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে আবির্ভুত হতে চলছে। মার্কিন বাজারে ভিয়েতনামি পণ্যের প্রবেশ নিয়ে কেউ এখন হা হুতাশ করেনা, কারণ এমনটাই বর্তমান বিশ্বের চাহিদা। স্বাধীনতা এমনই একটা প্রাপ্তি যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে এক করে তাদের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির লড়াইয়ের জন্যে। ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ আমাদেরও এক করেছিল কমন উদ্দেশ্যে। স্বাধীনতার ৪২ বছরে আজ আমরা আওয়ামী-বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকার, আবাহনী-মোহামাডান, সাজেদা-মোশারফ, এ ধরণের হাজারো ধারায় ভক্ত বিভক্ত। শুধু ফরিদপুর কেন, আমরা একজন অন্যজনকে অবাঞ্চিত করছি লন্ডন, প্যারিস আর নিউ ইয়র্কের মত পরদেশের পর শহরে। আমাদের আভ্যন্তরীণ লড়াইকে আমরা বিক্রি করছি বাংলাদেশের ঘরে ঘরে, ছড়িয়ে দিচ্ছি পৃথিবীর দেশে দেশে। সাজেদা চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই মোশারফ হোসেনকে রাজাকার পরিবারের সদস্য বলায় মন্ত্রী বেজার। বাংলাদেশে বেজারের আরও একটা ভাষা আছে যার নাম শক্তি। শক্তি দিয়ে ব্যাক্তিগত সমীকরণ সমাধা করার যে সাংস্কৃতি আমাদের দেশে চালু হয়েছে তার প্রভাব কতটা সুদূর প্রসারী হবে তার কিছুটা হলেও নমুনা আমরা পেতে শুরু করেছি।

অনেকে বলবেন রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। দ্বিমত নেই। কিন্তু ফরিদপুরের ঘটনায় মত পার্থক্যটা কোথায় তাই বুঝা গেলনা। এখানে কে উইলিয়াম ওয়ালেস আর কে লংস্যাঙ্ক কিং এডয়ার্ড তা আলাদা করার পরিস্কার কোন উপায় নেই। রাজাকার পরিবারের বেয়াই আর চোরাই পরিবারের রাজা-রানীদের লুটপাটের কাহিনীকে যদি দেশ শাসনের অংশ হিসাবে জাতিকে হজম করতে বলা হয় এবং আমরা তা যুগ যুগ ধরে হজম করতে থাকি আমি বলব জাতি হিসাবে আমাদের রক্তে পতনের পূজ প্রবাহিত হচ্ছে।

মনে আছে ব্রেইভ হার্টের শেষ এপিসোডের প্রেক্ষাপট? গিলোটিনে শুয়ে আছে উইলিয়াম ওয়ালেস। আকাশে উড়ছে খন্ড খন্ড মেঘ। জনতার ভিড়ে ওয়ালেস দেখতে পায় তার মৃত স্ত্রীকে… জানতে ইচ্ছে করে আমাদের নেতা-নেত্রী সেবকদের যখন ক্রসফায়ারের বধ্যভূমিতে নেয়া হয় কার ছবি তাদের সামনে আসে, স্ত্রী? পুত্র-কন্যা? পিতা-মাতা? না-কি নেতা নেত্রীদের?? সে যাই হোক , মেল গিবসনের তৈরী অবিস্মরণীয় ঐ ছবিটা দেখার জন্যে অনুরোধ রইল। কে জানে হয়ত ঐ ছবিতে লুকানো আছে আমাদের সব প্রশ্নের উত্তর।

ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন

false-flag-pic

ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন হলো এমন ধরনের মিলিটারী অথবা ইন্টেলিজেন্স অপারেশন যেখানে দুনিয়ার সবাইকে বিভ্রান্ত করতে কোনো একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধ পক্ষের ছদ্মবেশ ধারন করে নিজ দলের বা নিজ সমর্থকদের উপরে এক বা একাধিক সহজে দৃশ্যমান আক্রমন পরিচালনা করে। এই আক্রমন গুলির প্রধান উদ্দ্যেশ্যই হলো সবার সামনে প্রতিপক্ষকে হীন প্রমান করে প্রতিপক্ষের উপরে আক্রমনের বিশ্বাসযোগ্য অজুহাত পাওয়া। সামরিক ও ইন্টেলিজেন্স ইতিহাসে ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশনের অসংখ্য ঘটনা আছে। এর মধ্যে একটি বিখ্যাত ঘটনা হলো ঠিক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার আগে, ইউরোপে গ্লাইভিৎজ এর ঘটনা।

১৯৩৯ এর গ্রীষ্মের শেষে হিটলারের জার্মানী পোল্যান্ড আক্রমনের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করে এনেছিলো। কিন্তু এমনকি হিটলারের মতো সরকারেরও অন্য একটি দেশ আক্রমনের আগে পৃথিবীর দেশগুলির সামনে ও জার্মানীর জনগনের কাছে একটি সরাসরি কারন দেখানো দরকার ছিলো। এজন্যে ১৯৩৯ এর অগাস্টে শুরু হয় সংবাদপত্র ও রেডিও মিডিয়ার সাহায্যে নানারকম উত্তেজক খবর। পোল্যান্ডে জার্মান বংশদ্ভুতদের উপরে অত্যাচার চলছে, পোলিশ সন্ত্রাসীরা হঠাৎ হঠাৎ জার্মান সীমানায় ঢুকে লুটপাট করে বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে এরকম খবর বের হতে থাকে প্রতিদিন। এই অপারেশনের চূড়ান্ত রূপ নেয় ৩১শে আগস্ট।

সেই রাতে নাৎসী জার্মানীর কুখ্যাত গোয়েন্দাবাহিনী গেস্টাপোর একটি দল, পোল্যান্ডের সৈনিকদের পোশাক পরে, পোল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি চেকোস্লোভাকিয়ার (তখন জার্মানীর অধীনে) গ্লাইভিৎজ (Gleiwitz) শহরে একটি অভিযান চালায়। গ্লাইভিৎজে ছিলো সেই সময়ে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ একটি রেডিও ট্রান্সমিশন কেন্দ্র। পোলিশ সৈন্যদের ছদ্মবেশে গেস্টাপো’র সেই দলটি কিছু সময়ের জন্যে রেডিও স্টেশনটি দখল করে জার্মান বিরোধী নানা রকম উস্কানিমূলক প্রচার করে। এর পর তারা উধাও হয়ে যায়।

এই ফলস আক্রমনটিকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করতে গেস্টাপো বাহিনী ডাখাউ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প থেকে কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দীকে ধরে জার্মান পুলিশ আর পোলিশ সৈন্যদের ইউনিফর্ম পরিয়ে গুলী করে মেরে ফেলে। তারপরে তাদের লাশ গ্লাইভিৎজ রেডিও স্টেশনের আশেপাশে এমনভাবে ফেলে রাখে যেনো মনে হয় ৩১শে আগস্ট রাতে সত্যিই এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ করে পোলিশ সৈন্যরা রেডিও স্টেশন দখল করেছিলো। জার্মান সরকার সেই রাত পার না হতেই এই ‘ঘৃন্য’ পোলিশ আক্রমন নিয়ে মিডিয়া, কূটনৈতিক মহলে বিশাল হৈ চৈ শুরু করলো। আমেরিকান সাংবাদিক, কূটনীতিবিদদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হলো গ্লাইভিৎজ রেডিও স্টেশনে। তাদেরকে দেখানো হলো সেই রাতের হীন, কাপুরুষোচিত আক্রমনের অবশিষ্ট।

অবশ্য বিদেশীরা গ্লাইভিৎজ আক্রমনের এই কাহিনী মোটেই বিশ্বাস করে নি। গোটা ইউরোপ তখন হিটলারের জার্মানীর উন্মত্ত শক্তি নিয়ে আতংকিত। এই অবস্থায় পোল্যান্ড যেচে পরে নিজের উপরে আক্রমনকে উৎসাহিত করবে এটা বাইরের কারো বিশ্বাস হয় নি। কিন্তু তাতে কি হয়েছে। নিজ দেশেই জার্মান জনগনকে একটা কারনে দেখানো ও যুদ্ধ শুরুর একটা উপলক্ষ তো পাওয়া গেলো। ১লা সেপ্টেম্বরেই জার্মান বাহিনী ষাট ডিভিশন সৈন্য নিয়ে পোলান্ডের উপরে ঝাপিয়ে পড়লো। শুরু হলো পৃথিবীর ইতিহাসে বৃহত্তম যুদ্ধ।

বিশ্বযুদ্ধপূর্ব ইউরোপের মতো এপিক ক্যানভাস না হলেও, আমাদের এই দেশে এখন সেই রকম ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশনের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।

1/ সাঁথিয়ার ঘটনায় টুকুকে দুষছে সিপিবি-বাসদ

527f3befeab8c-tuku

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) দাবি করেছে, পাবনার সাঁথিয়ায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় প্রশ্রয় দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এই দল দুটি।

2/ http://www.thedailystar.net/beta2/news/some-attackers-seen-with-tuku/

Attack-on-Hindus

3// ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন বেশি ঘটেছে মহাজোট সরকারের আমলে’

ঢাকা: মহাজোট সরকারের আমলে দেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ মাইনরিটি পার্র্টির সভাপতি শচীন্দ্র লাল দে।  তিনি চলতি বছরের এক পরিসংখ্যান উল্লেখ্য করে বলেন, এবার ৪৭৮টি মঠ ও মন্দির, ১২৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে  হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে

 

একধাপ এগিয়ে এ দলঃ বি দলের করনীয় কি?

132017991_101n

By Shikin Aman      পূর্ববর্তী সূত্রঃ http://shikinaman.wordpress.com/2013/11/03/strategy2/

সরকারী দল হওয়ার সুবাদে এ দলের কিছু ইনহেরেন্ট সুবিধা থাকারই কথা, এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে দলটি তার এই সুবিধাকে ম্যাক্সিমাইজ করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, মিডিয়া ও বিচার বিভাগের উপর প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রন এর বহিঃপ্রকাশ। তাছাড়া ধারণা করা যায় যে জেলা প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের উপর তাদের যথেষ্ট আস্থা আছে, যা তাদেরকে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের সময় সাহায্য করবে। তারা নিজেদের দুর্বলতাগুলোকে জনগণের দৃষ্টি ও বিরোধীদের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য একটি সমন্বিত ষ্ট্র্যটেজি নিয়েছে যা ইতিমধ্যে তাদেরকে একটি নিরাপত্তাবোধ দিয়েছে। অপরদিকে বি দলকে তারা চতুর্মখী আক্রমনের মাধ্যমে বিপর্যস্ত করে রেখেছে (লিস্ট) যার ফলে বি দল অবিরাম হরতাল ছাড়া আর কিছু করণীয় খুজে পাচ্ছেনা। এ দল পরিকল্পনায় একধাপ এগিয়ে থাকায় হরতালেও তারা বি দলকে ব্যাকফুটে নেয়ার একটি কার্যকর কৌশল বের করে ফেলেছে। তার সাথে তারা পরবর্তী একটি ধাপের জন্য জাল পেতে চলেছে, যেটার লক্ষ্য হতে পারে বি দলের একটি অংশকে পাতানো নির্বাচনে অংশ নেয়ানো। আজকের লেখাতে এই দুইটি বিষয়ে আলোচনা করবো।

হরতাল প্রসংগঃ

শান্তিপূর্ণ হরতাল বলে কোন হরতাল কালচার বাংলাদেশে নেইঃ এটা নিয়ে কোন দ্বিমত করার অবকাশ নাই। এখনকার পরিস্থিতিতে পিকেটিং মানেই পুলিশের বা এ দলীয় ক্যাডারদের সাথে মারামারি অবধারিত। পুলিশ আসলে নিজ দ্বায়িত্ব পালন করছে মাত্র। এ দলীয় ক্যাডাররা করছে মাঠ দখলের চেষ্টা। এক্ষেত্রে পুলিস যে কাজটি আইনসঙ্গতভাবে করছেনা সেটা হচ্ছে, এ দলের সমর্থকরা অস্ত্রধারী হয়েও পুলিশের কাছ থেকে কোন বাধা পাচ্ছেনা। দ্বিতিয়ত কোথাও কোথাও পুলিশ অপ্রয়োজনে গুলি করছে। খালী হাতে থাকা জনতার উপর গুলিবর্ষণ পুলিস কোন আইন দিয়ে বৈধ করতে পারবেনা। উপরস্থ কর্মকর্তার আদেশে হলেও এটা বৈধ আদেশ হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক না। কিন্তু  বেআইনি কাজটাকে এ দল এক ঢিলে দুই পাখি মারতে ব্যবহার করছে। একদিকে এটা দ্বারা বি দলের আন্দোলনকে শক্ত বাধার মুখে ফেলে দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের একটা বাকশালী ড্রাগ দেয়া হচ্ছে। ড্রাগ বললাম কারণ সুস্থমাথায় নিজের দেশের লোকের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো সম্ভব না (দলীয় ক্যাডার থেকে পুলিস হওয়া ব্যতীত), অন্যদিকে একবার খুন করার পরে একটা বোধ কাজ করে যে এই কাজের জন্য আবার বিচার হবেনা তো? তখনই না চাইলেও বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখার একটা প্রবণতা চলে আসবে। বুদ্ধিমান এ দলের তো লাভই লাভ।

দ্বিতীয় ইস্যু হচ্ছে পুড়িয়ে বা বোমা মেরে সাধারণ মানুষকে হত্যা। এইটাও সাধারণ সুস্থমস্তিষ্কের লোকের কাজ হতে পারেনা। সাধারণ মানুষের সম্পত্তির ক্ষতিও মেনে নেওয়া যায়না।এটা চললে বি দলের জনমতে ক্ষয় ধরবে। বিশ্বজিত হত্যার পরে ছাত্রলিগের ইমেজের একটা বড় ক্ষতি হয়েছিল। লক্ষ্য করে থাকবেন, মনির হত্যার পর কিছু এ দলের নুন খাওয়া ও অন্ধভক্ত কেন এটাকে বিশ্বজিত হত্যার সাথে তুলনা করা হচ্ছেনা এই নিয়ে অনেক কান্নাকাটি করেছে। এই দুইটা সাধারণের চোখে সমান হয়নি কারণ প্রথম হত্যাকান্ডটি চিনহিত এ দলীয় ক্যাডার বাহিনী দ্বারা টিভি ক্যামেরার সামনে করা খুন। আর দ্বিতিয়টি হরতালে গাড়িতে আগুন দেয়ার সময় সঙ্ঘটিত  হত্যাকান্ড (ইচ্ছাকৃত হত্যা কিনা নিশ্চিত না)।

এ হত্যাকান্ডের হোতারা কোন দলের চিনহিত নেতা নয়। সুতরং ঢালাওভাবে এর দায় কারো উপরে দেয়া সম্ভব না। কিন্তু এ দল ইতোমধ্যে দলীয় মিডিয়া ও অনলাইন প্রপাগান্ডার মাধ্যমে একে সম্ভব হলে ম্যাডামের প্রত্যক্ষ আদেশে সংঘটিত হত্যা প্রমাণ করতে চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের বিপদ এখানেই শেষ না। সাধারণের লাশের রাজনীতির ধারা বলে, এখন বি দলকে কেন্দ্রীয় নির্দেশ দিয়েও এই ধরণের হত্যা রুখতে বেগ পেতে হবে। এখন প্রয়োজনে এ দলের লোক (নিজেরা মেরে হলেও) এই ধারা বজায় রাখবে, কারণ এতে বি দলের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ জনগণ এখানে শুধুই খেলার পুতুল।

সুতরাং বি দলের এই অবস্থায় করণীয় কি?

প্রথমেই কেন্ত্রীয়ভাবে এই ধরণের হত্যাকান্ডের প্রতি দলের অসমর্থন ও নিন্দা জ্ঞাপন করে নিজ দলের সমর্থকদের এ জাতীয় কাজ থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দিতে হবে। দলের মধ্যে যারা আদেশ পাওয়ার পরও এ কাজে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করবে, তাদেরকে হাতে নাতে ধরে প্রয়োজনে পুলিশে সমর্পন করতে হবে, কারণ তারা আসলে দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে (হয়ত এ দলের টাকার বিনিময়ে)।

হরতাল চলাকালীন পয়েন্টে পয়েন্টে নিজস্ব ক্যামেরাম্যান রাখতে হবে। যদি অন্য কোন দলের লোক এই ধরনের কাজ করে, তাদের ছবি তুলে রাখতে হবে। পুলিসের মাত্রাতিরিক্ত শক্তিপ্রয়গের প্রমাণ ও কেন্ত্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তবে একে সূক্ষভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে যাতে এ দলের এক ঢিলে দুই পাখী মারার (উপরে বর্ণিত) নীতি কার্যকর না হয়। সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ধংস যথাসম্ভব এড়াতে হবে। টায়ার পোড়ানো বা অবস্থান দখলের মাধ্যমে হরতাল কার্যকর করার চেস্টা করা যেতে পারে। ভাংচুর এর মাধ্যমে নয়। এ দলের ক্যাডারদের রাজপথ থেকে দূরে রাখতে পরলে এম্নিতেই হরতাল সফল ও কার্যকর হবে। বি দল তার সমস্ত শরিকদের নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করলেই এটা সম্ভব। এ দল গ্রেফতার ও নির্যাতনের শংকা তৈরি করে বি দলের নেতাদের রাজপথে থাকতে দিবেনা, আর পাশাপাশি পোষা মিডিয়াতে সর্বশক্তিতে প্রচার চালাবে যে বি দলের নেতারা মাঠে থাকেনা। আজকের দিনে রেগুলার, অনলাইন সব পোষা লেখকদের লেখা ও ষ্ট্যাটাস এ এর প্রমাণ পাবেন। এতে বি দলের কর্মীদের নেতাদের উপর আস্থা হারালে চলবে না। বরং নেতাদের ছিনিয়ে নিতে আসা যে কাউকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করেই এর জবাব দেয়া সম্ভব। এর ফলে সারা দেশের কর্মীদের কাছে পসিটিভ মেসেজ পৌছে যাবে।

নির্বাচন প্রসংগঃ

নির্বাচনে বি দলকে না নিতে পারলে সে নির্বাচন আন্তর্জাতিক সিকৃতি পাবেনা, এটা সবাই বূঝে। সুতরাং এ দল এখন যেসব কাজ করছে তার অন্যতম লক্ষ্য থাকবে বি দলকে নির্বাচনে নেয়া। সম্ভব না হলে বি দলের বর্তমান বা পুরাতন কিছু নেতাকে দল ভাঙ্গিয়ে বি দল হিসেবে নির্বাচনে নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। যেহেতু সংসদ চলবে, এক্ষেত্রে কোন নির্বাচনী আইন বা সংবিধান (!)  সংশোধণ প্রয়োজন হলে সেটাও করা হবে! অবাক হওয়ার আসলে আর কোন স্কোপ নাই। প্রয়োজনে কোর্ট আদেশ দিবে দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে বি দলের আগ্রহী অংশকে নির্বাচনে অংশ নিতে। এই মগের মুল্লকে কিছুই অসম্ভব না।

ব্যাপারটা বি দলের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল ও হতে পারে। যাতে চাপে পরে বি দল সাজানো নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে বি দল ইতোমধ্যে তাদের তিন ধাপের কৌশল নির্ধারণ করেছে। তফশীলের আগে, তফশীলের পরে আর নির্বাচনের দিন ও তার পরেঃ এই তার তিন ধাপ। আমি আশা করব বি দল এর বাইরেও কিছু কন্টিনজেন্সি ষ্ট্র্যটেজি নির্ধারণ করেছে। সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে নির্বাচন প্রতিহত করার কৌশল কি হবে,  কোন নেতা দলত্যাগের চেষ্টা করলে তার জন্য করণীয় কি, নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি কি ইত্যাদি নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি কুটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ডাঃ ইউনুসের প্রভাবকে যতটা সম্ভব দেশের স্বার্থে পসিটিভলি ব্যবহার করা যেতে পারে।

শেষকথাঃ

বি দলের জন্য এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের সমর্থন।  দল এতে ভাঙ্গন ধরানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। বি দলকে যেকোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে এদিকে লক্ষ রাখতে হবে। JSC  পরীক্ষা, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এগুলো ভুলে গেলে চলবে না। মানুষের কাছে নিজেদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা (ইস্তেহার) তুলে ধরতে হবে। প্রিন্ট, ভিজুয়াল ও অনলাইন মিডিয়াতে সমন্বিতভাবে নিজেদের সুস্থ মনোভাব ও দেশের জন্য সুন্দর পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে থানায় থানায় প্রিন্টিং প্রেস বা বিকল্প প্রিন্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের মনোভাবকে পৌছে হবে। মানূষ পরিবর্তন চায়। তাদেরকে সেই স্বপ্নের পথ দেখাতে হবে। এ ব্যাপারে পরে আবার লিখার আশা রইলো।

পিছু হটার এখনই সময়…

by WatchDog originally published http://www.amibangladeshi.org/blog/11-10-2013/1414.html

রাজনৈতিক সংকট ও সংঘাত যতই ঘনিভূত হচ্ছে ততই বাড়ছে জাতি হিসাবে আমাদের অস্থিত্বের আশংকা। এমনটা ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে। দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি কূটনীতিবিদদের বিরামহীন তৎপরতা, পাশাপাশি দেশী বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের খবর বিশ্বাস করলে আমরা ধরে নিতে পারি রাজনীতির ভাগ্য এখন আমাদের হাতে নেই, বরং তা নির্ধারিত হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারত হতে। স্বার্থ-বান্ধব আওয়ামী সরকার ভারত সরকারের একমাত্র পছন্দ, এমন একটা উপসংহারে আসতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন হয়না। বুলেট খরচ না করেই অনুপচাটিয়া গংদের হাতের মুঠোয় পাওয়া, নিজ দেশের নদী ভরাট করে প্রতিবেশী দেশের ট্রানজিটের ব্যবস্থা করা, এমন ঐশ্বরিক সম্প্রদানের নজির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে খুজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ হয়। ভারত আমাদের তিন দিকের প্রতিবেশি। আয়তন, লোকসংখ্যা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সহ অনেক কিছুতেই ওরা এগিয়ে। কিন্তু একটা জায়গায় ওদের নিকৃষ্টতা পৃথিবীর বাকি সব নিকৃষ্টতাকে হার মানাতে বাধ্য, প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক।

পাকিস্তানের কথা বাদই দিলাম, নেপাল, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ সহ কোন প্রতিবেশীকেই কেন জানি ক্ষমতাধর ভারতীয় সরকার সার্বভৌম দেশ হিসাবে মানতে রাজি নয়। ভয়াবহ বানিজ্য ঘাটতি ও চোরাচালানি বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক আয়তনে ছোট একটা দেশকে গলাধঃকরণ করেই ক্ষান্ত থাকেনি, বরং একতরফা মিডিয়া আগ্রাসনের মাধ্যমে দেশের আন্তসামাজিক ও আন্তপারিবারিক সমীকরণে ধরিয়ে দিয়েছে ভয়াবহ ফাটল। পরিকল্পিত ভাবে সীমান্ত উন্মুক্ত করে এ দেশে ঠেলে দেয়া হচ্ছে ফেন্সিডিল, ইয়াবার মত নেশার বস্তু, সাথে আসছে অস্ত্র। যুবসমাজ নেশায় ধুকছে, হাতে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য দিবা লোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে হায়েনার মত। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করছে বিদেশি সংস্কৃতির নোংরা থাবা। ক্ষুদ্র ও ভারী শিল্প বলতে বাংলাদেশে যা ছিল তার সবই এখন জাদুঘরে। স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিবেশী হিসাবে আমাদের ক্রিকেট দলকেও তাদের দেশের মাঠে নিতে অনীহা। এমনটাই আমাদের প্রতিবেশী। এমন একটা প্রতিবেশীর পছন্দের সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার। এ যেন দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে যাওয়ার সমীকরণের মত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এক দেশের সরকার ও অন্যদেশের রাজনৈতিক দল একে অপরের পরিপূরক।

ভারতকে ফিরিয়ে দেয়ার মত কৃতজ্ঞতার তালিকা এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যাওয়ার নয় শেখ হাসিনার জন্য। সবাইকে হারিয়ে শেখ পরিবারের দুই সন্তানকে আশ্রয় নিতে হয়েছিল প্রতিবেশী দেশে। সন্তানদের ভরন পোষন সহ সব খরচ বহন করেছিল দেশটার সরকার। স্বভাবতই দুই পক্ষের বর্তমান আচরণে লেনদেনের অলিখিত প্রভাব খুজে পাওয়া যায়। ব্যক্তি হাসিনার অনেক কিছু দেয়ার আছে রাষ্ট্র ভারতকে এবং ভারতেরও অনেক কিছু পাওয়া আছে শেখ হাসিনার কাছে। সমস্যা হচ্ছে, শেখ হাসিনাই গোটা বাংলাদেশ নয়, শেখ পরিবারও এ দেশের ইজারা নেয়নি। যে দেশের সরকার গরু চোরাচালানির জন্য তার প্রতিবেশী দেশের গরীব সাধারণ মানুষকে পশু পাখির মত গুলি করে মারে, তাদেরই মালামাল পারাপারের জন্য আমরা নদী ভরাট করে দেই সামন্যতম চিন্তা না করে, এখানেই আসে আন্তদেশীয় সম্পর্কের চাইতে ব্যক্তি সম্পর্কের লেনাদেনার প্রশ্ন। দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও ভারত ও শেখ পরিবারের জন্য লেনাদেনা, দায় শোধ ও কৃতজ্ঞতার বিনিময়ের মত। ধীরে ধীরে পরিস্কার হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা বাতিল করে ব্যক্তি হাসিনার অধীনে নির্বাচন আয়োজনের করার আসল কারিগরের চেহারা। এ কারিগর ভারত। স্বার্থ-বান্ধব সরকারের পূত গন্ধময় শাসনের ফলাফল আগ বাড়িয়ে বুঝতে পেরেছিল এসব নিরামিষ খোর ধূর্ত শয়তানের দল। দেশের মানুষ বুঝে উঠার আগেই তাদের গলায় ঝুলিয়ে দেয় মৃত্যুদণ্ড। দেশের বিচার ব্যবস্থার ঘাড়ে বন্দুক রেখে তিতাস নদী ভরাটের মতই ভরাট করে রেখেছিল দেশের নির্বাচন নদী। ভেবেছিল এ নদীতে সাতার কেটে জনম জনম ধরে শোসন করতে থাকবে তিন দিক হতে বন্দী কোটি কোটি মানুষের একটা দেশকে। আসলে বাংলাদেশ প্রতিবেশী বেনিয়াদের বিবেচনায় কোন দেশ নয়, বরং ব্যবসা-বানিজের হাট। অনেকটা বাবুর হাটের মত।

বয়স ছোট হলেও স্পষ্ট মনে আছে ঘটনা গুলো। ৬৯’এর গন-আন্দোলন হতেই বোধহয় শুরু। আইয়ুব খান মোনায়েম খান গং পাইকারি হারে গ্রেফতার করছে বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দকে এবং এই গংদের দেশীয় দোসরা উল্লাস করছে আইনশৃংখলার দোহাই দিয়ে, আস্ফালন করছে পেশি শক্তির মহড়া প্রদর্শনের মাধ্যমে। ৭১’এ মুক্তিযুদ্ধে চলাকালীন একজন মুক্তিযোদ্ধা অথবা তাদের পরিবারের কাউকে গ্রেফতার অথবা লাশ ফেললে একই কায়দায় উল্লাসে মেতে উঠত পাকিস্তানি দোসরের দল । বিজয় মিছিল, হুমকি, হাজার বছরে লড়কেলেঙ্গা পাকিস্তানের পক্ষে স্তুতি আর পাক সেনাদের বীরত্বের মহাভারত লেখায় মেতে উঠত এসব ভাড়াটিয়া সেবাদাসের দল। আজ একবিংশ শতাব্দির প্রথমাংশে এসে আবারও দেখতে হচ্ছে এসব কুলাঙ্গারদের প্রেতাত্মা। ওরা আইয়ুব, ইয়াহিয়া আর মোনায়েম খাঁ’দের মতই আস্ফালন করছে এবং ভয় দেখাচ্ছে শক্তি দিয়ে দমিয়ে দেবে দেশের অধিকাংশ মানুষের ইচ্ছা।

১৭৩ দিন হরতাল, শত শত মানুষ খুন এবং নিজেদের জরায়ুতে তত্ত্বাবধায়ক নামক সরকারের জন্ম দিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার স্বাদ নিয়েছিলেন। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে ঠেলে দিয়ে উদ্বার করেছিলেন প্রতিবেশী দেশের স্বার্থ। পাচ বছর ধরে রাষ্ট্রকে নিবিড় লুটপাটের পর দেশের মানুষ উনাদের জন্য এখন মোহম্মদী বেগের মত। তাই বাঁচার জন্য আবারও দ্বারস্থ হয়েছে ভারতীয় গনিকাদের দুয়ারে। এবং তাদের ঔরস হতেই জন্ম নিয়েছে গণতন্ত্র রক্ষার নতুন হযরতে আলা, শেখ হাসিনা। এসব ভন্ডামি, নষ্টামির সাথে এ দেশের মানুষ অনেকটাই এখন পরিচিত। আগের বার বেগম জিয়া যেমন পারেন নি, এ যাত্রায় শেখ হাসিনাও পারবেন না। এ ইতিহাসের অমেঘো পরিণতি, এ হতে ইয়াহিয়া আইয়ুব, হিটলার মুসোলিনি, শেখ মুজিব জেনারেল জিয়া, এরশাদ বেগম জিয়া যেমন রেহাই পাননি, শেখা হাসিনাও রক্ষা পাবেন না। যুদ্ধের মাঠে বুদ্ধিমানরাই পিছু হটে। শেখ হাসিনা বুদ্ধিমান হয়ে থাকলে পিছু হটার এখনই সময়। অন্তত প্রাণে বাচতে পারবেন।

গল্পটা শুনে ওনারা হাসতেই পারেন………

Appolo vi

প্রায় মাসখানেক আগে ফেইসবুকে দেয়া একটা পোষ্টকে কেন্দ্র করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তরুণ পরিবেশ আন্দোলনকারী এবং জনপ্রিয় অনলাইন এ্যাকটিভিষ্ট জনাব ওয়াহিদুজ্জামান এ্যাপোলো ভাইর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। হাইকোর্ট তাকে কিছুদিনের জামিন দিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হবার সময়সীমা বেঁধে দেয়। বেঁধে দেয়া সময়সীমার কিছু আগেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি নিম্নআদালতে আত্নসমর্পন করলে তাকে নতুন করে জামিন না দিয়ে জেল হাজতে পাঠান হয়। এখনো তিনি জেলে আছেন। সরকার যেখানে আদালত চালায়  সেখানে এই মামলার ভবিশ্যত কি সেটা আইনের প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়। এই মামলার পরিণতি নিশ্চিতভাবে সরকারের ভবিশ্যত পরিণতির সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। এ্যাপোলো ভাইর পরিবার এবং তার শুভাকাঙ্খীদের আতঙ্কের কারণ এটাই।

এই সময়ের বাঙলাদেশের রাজনৈতিক হট্টগোলের গুরুত্বের বিবেচনায় এ্যাপোলো ভাই ব্যাক্তি হিসেবে অতোটা গুরুত্ব পাবার কথা নয়। দেশে একদিকে চলছে নির্বাচন নিয়ে সরকারের একরোখা অবস্থান এবং একে কেন্দ্র করে সারা দেশে আন্দোলনের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে পাশ্ববর্তী বৃহৎ প্রতিবেশী দেশের অনাকাংখিত হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। বাঙলাদেশের একান্ত নিজস্ব সমস্যা এখন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সাথে জড়িয়ে গেছে। ঠিক এই মুহুর্তে একজন তরুণ পরিবেশবিদের কোন কারণে জেলে যাওয়ার ঘটনা দেশের মূলধারার মিডিয়ার কাছে কোন মতেই গুরুত্বপূর্ণ খবর হতে পারে না। তবুও বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মূলতঃ দু’টি কারণে। প্রথমতঃ এ্যাপোলো ভাইর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে জেলে পুরার ঘটনা কিছু বিষয়কে উৎকটভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। বাঙলাদেশে চলছে এক তরফা রাজনৈতিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা। এর বিরুদ্ধে কারো অবস্থান তা যতোই যৌক্তিক হোক না কেন সরকার কর্তৃক সমর্থিত নয়। সারা দেশে এই কারণে বিভিন্ন ইস্যুতে হাজার হাজার মানুষ জেলে বন্দী হয়ে আছেন। এ্যাপোলো ভাইর ঘটনা মূলতঃ দেশের মধ্যকার সেই সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। দ্বিতীয়তঃ তার গ্রেফতার করার প্রেক্ষাপটটা। এ্যাপোলো ভাইর উপরে সরকার যে অত্যন্ত বেজার তা আজকের ঘটনা নয়। অনেকেই বলে থাকেন, তাকে গ্রেফতারের মূল কারণ কথিত সেই ষ্ট্যাটাস নয়, বরং তিনি নিরবিচ্ছিন্নভাবে, অত্যন্ত বলিষ্ট যুক্তি দিয়ে এবং তথ্য প্রমাণসহ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য বিষয়ে ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং সেই সাথে বর্তমান সরকারের নতজানু নীতির কারণে বাঙলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেবার বিষয়গুলো খুবই সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে তুলে এনেছেন।

একটু আগে বললাম, এ্যাপোলো ভাইর নামে ‘মিথ্যা মামলা’ দেয়া হয়েছে। মামলাটা মিথ্যা তার কারণ হোল, এ্যাপোলো ভাইর নাম এবং ছবি ব্যবহার করে যে পোষ্টটি দেয়া হয় সেটা তার নিজস্ব নয়। দুঃখজনক বিষয় হোল, অধিকাংশ পত্রিকায় এর আগে এবং এবারও এ্যাপোলো ভাইর ফেইসবুকে দেয়া ষ্ট্যাটাস নিয়ে অর্ধসত্য কথা ছাপা হয়েছে। যে পোষ্টটিকে তার নামে চালান হচ্ছে সেটা মূলতঃ তার কোন এক ভক্ত তার নামে পেজ খুলে সেই পেজে দিয়েছিল। বেশ কিছুদিন আগে যখন বারবার সরকারদেলীয় লোকজন গণ রিপোর্টিং করে তার আইডিটা ব্লক করে দিচ্ছিল ঠিক তখন তার কোন এক ফলোয়ার বা ফেইসবুক বন্ধু হয়তো তার নামেএই পেজ খুলে থাকবেন। এটা ভার্সুয়াল জগতে খুবই সাধারণ একটা ঘটনা। যে পোষ্টটার জন্য তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে সেটা অশালীনতা বা তথ্য বিকৃতি কোন অভিযোগের মধ্যেও পড়ে না। তারপরেও এটা তার নামে চালিয়ে দিয়ে মিথ্যা মামলা ঠুকে দেয়া হোল।

এ ব্যাপারে জেলে যাবার আগে তিনি একটা লেখা লিখেন যেটা অনলাইন নিউজ পোর্টাল উন্মোচনে প্রকাশিত হয়।  এখানে তিনি দেখিয়েছেন, কিভাবে তিনি এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলার শিকার হন।

http://www.unmochon.com/2013/11/06/55157.html#.Un3VBTYbodl

তাছাড়া তিনি তো এখন জেলে আছেন। তার পক্ষে তো কোন পোষ্ট দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু যদি নিচের পেজে যান তবে দেখবেন তার জেলে যাবার পরেও অনেক পোষ্ট ছাড়া হয়েছে। এর থেকে কি প্রমাণিত হয় না যে পোষ্টটার কারণে তাকে জেলে পাঠান হয়েছে তার দায়দায়িত্ব তার নয়?

https://www.facebook.com/AkmWahiduzzamanApollo

এ রকম তার নামে আরো কয়েকটি পেজ খোলা হয় তার ভক্তদের দ্বারা। এর বাইরেও বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধ মতাবলম্বী বিশেষ করে সরকারীদলের অন্ধ সমর্থকরা তার নাম এবং ছবি ব্যবহার করে ফেক  আইডি খুলে। এবং তা থেকে নানা আপত্তিকর পোষ্ট দিয়ে চরিত্রহণনের চেষ্টা চালিয়েছিল। এ্যাপোলো ভাইকে তবু কমবেশী অনেকেই চিনেন। সেই তুলনায় আমি একদম অখ্যাত। আমার নামেও একবার এ রকম ফেক আইডি খুলে বন্ধুদের করা মন্তব্যের জবাব খুব বাজে শব্দ ব্যবহার করে দেয়া হচ্ছিল।  অনলাইনের এই ভালনারাবিলিটির কথা কি সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার আইটি বিশেষজ্ঞরা জানে না? অবশ্যই জানে। বরং আমার আপনার চেয়েও বেশ ভাল জানেন। তারপরেও এই ধরনের হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা প্রমাণ করে সরকারের ফ্যাসিষ্ট চরিত্রকে।

এই মামলার মাধ্যমে প্রমাণিত হোল, নতুন এই তথ্য প্রযুক্তি আইন ভবিশ্যতে কতোটা ভয়াবহভাবে ব্যবহার হতে পারে। শত্রুতাবশতঃ যে কেউ যে কারো নামে তার ছবি ব্যবহার করে এ রকম পেজ বা ভুয়া আইডি খুলে কোন আপত্তিকর পোষ্ট দিয়ে তাকে ফাঁসিয়ে দিতে পারে। আর এই আইনের সাজা এতোটা মারাত্নক যে, গাড়ী চাপা দিয়ে মানুষ মারার চেয়ে ভয়াবহ। এমনকি অনেকক্ষেত্রে ডাকাতি, মানুষ জখম করার চেয়েও কঠিন সাজা।

তাছাড়া কটুক্তি আমরা কাকে বলব? রাজনীতি করে এমন ব্যাক্তির অনেক কাজই সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। এক্ষেত্রে তাদের কি অধিকার নেই রাজনীতিবিদদের এসব কাজের সমালোচনা করার? রাজনীতিবিদদের কাজের সমালোচনা করা কি কটুক্তির পর্যায়ে পড়বে? এ্যাপোলো ভাই তার ফেইসবুকের সমস্ত পোষ্ট জুড়ে ভারতের কাছে বাঙলাদেশ সরকারের নতজানু পররাস্ট্রনীতি এবং একপেঁশে বন্ধুতের ফলস্বরূপ দেশের স্বার্থ বলি হবার বিরুদ্ধে তথ্যমূলক এবং বিশ্লেষণধর্মী লেখা লিখেছেন। এটাই কি তার জন্য কাল হোল? আমাদের নেতানেত্রীরা প্রত্যহ যেভাবে একে অন্যকে আক্রোশমূলক ভাষায় আক্রমণ করে তাতে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। দু’দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বক্তব্যে খালেদা জিয়ার পরচুলা নিয়ে অত্যন্ত বাজেভাবে আক্রমণ করেছেন। আদালত যদি নিরপেক্ষ হোত, আইন যদি দেশের সকল নাগরিকের জন্য সমান হোত, তবে শেখ হাসিনারও কি তার বক্তব্যের জন্য জবাবদিহি করতে হোত না? নতুন তথ্য প্রযুক্তি আইনে জেলে যেতে হোত না?

সবশেষে একটা প্রচলিত কৌতুক বলে শেষ করব।

এক রাবনের রাজত্বে  তিন ব্যাক্তি বেড়াতে গেল। সেই কথা শুনে রাবনতো মহা রাগান্বিত।  বাহিনীকে হুকুম করল, তিনজনকে ধরে আনার। যথাযথভাবে তা পালিত হোল। রাবণ তাদের সামনে পেয়ে বাজখাই গলায় জানতে চাইল, কেন তারা রাবণের অনুমতি না নিয়েই এখানে ঢুকে পড়েছে।  অতএব, আইন অমান্যের জন্য তাদের মৃত্যুদন্ড ঘোষনা করা হোল। তিনজনই ভয়ে কাঁচুমাচু। রাবণ বেশ মজাই পেল। অবশেষে সে হুংকার দিয়ে বলল, ঠিক আছে। তোদের ক্ষমা করতে পারি এক শর্তে। এই মুহুর্তে তোরা বনে বের হয়ে পড়বি। সবাইকে এমন একটা করে ফল আনতে হবে যে, যেটা আমি জীবনে কখনোই খাইনি। যদি তা না পারিস তবে যে যেটা আনবি সেটা তার পশ্চাৎদেশ দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়া হবে। এটাই হবে তোদের শাস্তি। সবাই বের হয়ে পড়ল এমন অদেখা ফলের সন্ধানে। বেশ কিছু সময় পরে প্রথমজন ফিরে এলো। হাতে একটা বড় আম। রাবণ তাই দেখেতো মহা খেপা। যেই কথা সেই কাজ। আমটা পাচার করা হোল উক্ত ব্যাক্তির নির্দিষ্ট জায়গা দিয়ে। লোকটা ব্যাথায় কাতরাতে থাকল।

দ্বিতীয়জন ফিরে এলো হাতে একটা ছোট সাইজের বেল নিয়ে। এবারও রাবণ খেপে গিয়ে একই কাজ করল। কিন্তু একটু পড়েই রাবণতো অবাক! কি ব্যাপার! কিছুক্ষণ আগেই সামান্য আমের কষ্ট সইতে না পেরে একজনের জান যায় যায় অবস্থা। অথচ দ্বিতীয়জন গোটা বেলটা পশ্চাৎদেশে হজম করে দিয়ে দিব্যি হো হো করে হাসছে। ব্যাপারটা কি? জিজ্ঞেস করতেই দ্বিতীয় ব্যাক্তি করজোড়ে বলল, রাবণরাজ, না হেসে পারলাম না। কারণ একটু আগে দেখে  এলাম তৃতীয়জন ইয়া বড় সাইজের কাঁঠাল নিয়ে আপনার দরবারের দিকে আসছে। কাঁঠালটা কথিত পথে ঢুকালে ওর কি অবস্থা হবে সেই কস্টে আমি নিজের দুঃখ বেমালুম ভুলে গিয়ে হাসছি।

যাইহোক, বাকশালী নির্যাতনের শিকার আজকের তথ্যমন্ত্রী জনাব ইনু সবকিছু ভুলে গিয়ে বর্তমান সরকারের সাথে থেকে আবারো সেই পথে হাঁটছেন। যে ফ্যাসিবাদের শিকার হয়েছিলেন তিনি এবং তার দল, আজ এতোটা বছর পরে তিনিই সেই দলের সহযোগী হয়ে একই কাজ করলেন। আজকে যারা এই নতুন আইনের বলি হচ্ছেন, তারা কষ্ট না পেয়ে হাসতেই পারেন। কারণ বেলটা তাদের ভাগ্যে পড়লেও ক্ষমতা হারালে কাঁটাযুক্ত ইয়া সাইজের কাঁঠাল অপেক্ষা করছে ইনুদের জন্য।

Mahalom72@msn.com

মুহম্মদ জাফর ইকবাল-এই দশকের আগাচৌ

2

[এই লেখাতে প্রথমে বলা হয়েছিলো যে জাফর ইকবাল চরম মিথ্যাচার করেছেন এই বলে যে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে হেফাজতের ১৩ দফা বাস্তবায়ন করবে। বিএনপি যদিও এপ্রিলে ১৩ দফা দেয়ার পরে বলেছিলো যে তারা ১৩ দফা কে পুরো সমর্থন করে না তবু এর পরে অনেক নেতা এমন সব বিবৃতি দিয়েছেন যাতে মনে হয় বিএনপি হেফাজতের ১ দফাকে সমর্থন করে। সুতরাং এই ক্ষেত্রে জাফর ইকবালকে মিথ্যাচার করেছেন বলা যায় না।]

আব্দুল গাফফার চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম, সংষ্কৃতি ও রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবি পরিমন্ডলে এক উজ্জল নক্ষত্র। জনগনের মধ্যে তিনি খ্যাতির চূড়ায় ওঠেন এরশাদের সময় হতে নব্বই দশকে। সেই সময়ে তার লেখা কলাম ছিলো দেশের সকল রাজনীতি সচেতন নাগরিকের জন্যে অবশ্যপাঠ্য। অবশ্য সেই সময়েই যারা দেশের সংবাদ মহলের পুরাতন দিকপালদের সাথে কথাবার্তা বলেছেন, তারাই আব্দুল গাফফার চৌধুরী সম্পর্কে অনেক অনেক অপ্রিয় কথা শুনেছেন। নিজের জীবন-অভিজ্ঞতা নিয়ে গালগল্প ফাদা, মিথ্যে name-dropping, সহকর্মীদের সাথে অসততা আরো অনেক কিছু। কিন্তু সেই সময়টা ছিলো মিডিয়া জগৎ এ অভিজাততন্ত্র। যারা ছিলেন মিডিয়া এলিট, তাদের কর্ম ও চিন্তা নিয়ে সাধারন নাগরিকদের সমালোচনা-বিশ্লেষন, মিডিয়ার দারোয়ানদের চোখ এড়িয়ে গনমাধ্যমে প্রকাশের উপায় ছিলো না।

আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-০১ সরকারের শেষ বছরগুলোতেই গাফফার চৌধুরীর নক্ষত্র পতন শুরু হয়। তার গালগল্পের সরস সমালোচনা ব্যংগ, মিডিয়ার নিজস্ব জগৎ ছাপিয়ে জনমানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়া শুরু হয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্ধ তোষন এবং সেই সরকারের দেশব্যাপী তষ্করসর্দারদের সমর্থন, সাধারন মানুষের কাছে গাফফার চৌধুরীর মনোবৃত্তিক সততার স্বরূপ উন্মোচিত করে ফেলে। এছাড়া রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে তার একের পর এক বিভ্রান্ত বিশ্লেষন তার বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতাও স্পষ্ট করে তোলে। অবস্থা এমন দাড়ায় যে তিনি পরিনত হন আগামী রাজনীতির দিক প্রকৃতির সবচেয়ে বিশ্বস্থ নির্দেশক হিসেবে, তিনি যেটি বলবেন তার উল্টোটাই ঘটবে এটা ধরে নেয়া হয় নিরাপদ। আব্দুল গাফফার চৌধুরীর চূড়ান্ত পতন ঘটে ২০০২-২০০৫ এর সময়ে। একের পর এক আজগুবী কলাম লিখে তিনি পরিনত হন দেশের হাস্যস্পদ পাত্রে। শেষ পর্যন্ত তার ঠাই হয় আওয়ামী দলীয় মুখপাত্রগুলির নির্জন লোকালয়ে। সেখান থেকে তিনি আজও বের হয়ে আসতে পারেন নি। স্বয়ং আওয়ামী সমর্থকরাই তাকে নিয়ে লজ্জিত। এখন সবচেয়ে ঘোর আওয়ামী সমর্থকেরাও গনমাধ্যমে, সোশ্যাল মিডিয়াতে আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখার রেফারেন্স, লিংক দিতে দ্বিধা বোধ করে। তার নাম নেয়াটাও মনে করে নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্মানের জন্যে দারুন ক্ষতিকর।

শিক্ষা-দীক্ষা এবং ব্যাক্তিগত-প্রফেশনাল অর্জনে মুহম্মদ জাফর ইকবাল আব্দুল গাফফার চৌধুরীর চেয়ে অনেক এগিয়ে কোন সন্দেহ নেই। নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতা লুকিয়ে আবেগের সুক্ষ ও দক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক মধ্যমপন্থী জনগন ও আধুনিকতার আদর্শবাদী তরুন প্রজন্মের কাছে তিনি এক ও অদ্বিতীয় অবস্থানে উঠে যান গত দুই দশকে। তার মনন জগৎএ যে এক তিক্ত ও বিশাল বিকলাংগতা আছে সেটা কেবলমাত্র যারা বিশ্বসচেতন এবং প্রকৃত প্রগতিশীলতা নিয়ে ওয়াকিবহাল ছিলেন তারাই দেখতে পেতেন। তিনি তার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকলাংগতাকে মানুষের কাছে অনেকদিক পর্যন্ত লুকিয়ে রাখতে পেরেছিলেন কারন তিনিও দেশের মিডিয়া জগৎ এর অপত্য স্নেহ ও সম্মানের পাহারাদারীতে সুরক্ষিত ছিলেন। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক বিকলাংগতা, শারীরিক সমস্যার মতোই জনসাধারনের সামনে বেশীদিন লুকিয়ে রাখা যায় না, বিশেষ করে যদি জনসম্মুখে বিচরন হয় প্রায়শ ও নিয়মিত।

গত কয়েক বছরে মুহম্মদ জাফর ইকবালের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা সাধারন মানুষের সামনে উন্মোচিত হতে শুরু হয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কারনে এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে সবার মাঝে অতি দ্রুত। তার চিন্তাচেতনা এখন আর আগের যুগের মতো অভিজাত মিডিয়ার অন্দরে সুরক্ষিত নয় বরং এখন তা পাবলিক ডিসকোর্সের অংশ এবং এই পাব্লিক ডিসকোর্স এর গতিপ্রকৃতি দেখে এটি ভবিষৎবাণী করা মোটাই রিস্কি নয় যে যে পথ যাত্রা করে আব্দুল গাফফার চৌধুরী আজকে রাজনৈতিক বোদ্ধামহলে হাস্যস্পদ ও অপাংক্তেয় পরিনত হয়েছেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল অতি দ্রুত সেই পথে অনেকদূর এগিয়ে গেছেন। সেই অনুমিতি আরো শক্ত হয়েছে তার সাম্প্রতিক প্রকাশিত কলাম, “ভাবনা ও দুর্ভাবনা” এর মাধ্যমে। তার লেখার প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠছে যথারীতি আগের মতোই, কিন্তু এই ঝড় সীমাবদ্ধ কেবল তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মধ্যেই। তার সমর্থক জনসাধারনও এখন তাকে নিয়ে এতোটা লজ্জিত বোধ করছে যে তারা আর নিজের নামকে জাফর ইকবালের চিন্তা-চেতনার সাথে জড়িত করতে দ্বিধা বোধ করছে।

জাফর ইকবাল যে একজন মৌলবাদী, অপ্রগতিশীল মানুষ এটা আর নতুন করে তুলে ধরার কিছু নেই, এটি এখন Public Knowledge। আমি আগের একটি লেখা, “একজন অনালোকিত মানুষ” এ জাফর ইকবালের মধ্যে Enlightenment মূল্যবোধের তীব্র অভাব নিয়ে লিখেছিলাম। অনেকেই বিভিন্ন বিশ্বাসে মৌলবাদীহতে পারে, মৌলবাদী হওয়া অনৈতিক কিছু নয়। কিন্তু তার সর্বশেষ লেখার মধ্য দিয়ে জাফর ইকবাল নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অনৈতিক, ভন্ড ও মিথ্যেবাদী হিসেবে। সাধারনের সামনে তার নৈতিক অবস্থানের আর কিছুমাত্র অবশিষ্ট নেই।

আজকের এই সময়ে, যখন দেশের মধ্যে বিশাল রকমের ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন হচ্ছে, যখন সারা জাতি চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন জাফর ইকবালের মতো একজন পতিত বুদ্ধিজীবি নিয়ে কথাবার্তা অযথা সময়ের অপচয় মনে হতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর পর একটি শবদেহকে যেমন চারিদিকে পচন ছড়ানো হতে বিরত রাখার জন্যে অতি দ্রুত সৎকার করা দরকার ঠিক তেমনি একজন প্রাক্তন প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবির নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পচনের পর তার দ্রুত সৎকার করা প্রয়োজন, তা না হলে সেই পতিত বুদ্ধিজীবিও চারিদিকে পচনের রেশ ছড়িয়ে যেতে থাকে।

জাফর ইকবালের সর্বশেষ কলামে তার দ্বিচারীতা ও মিথ্যাচার নিয়ে অনেক কথাই বলা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। তবু আরেকবার সেগুলির কিছু অংশ পয়েন্ট ধরে তুলে ধরা দরকার বলে মনে করি।

জাফর ইকবালের দ্বিচারীতার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরন  ২০১৩ এ বাংলাদেশে সবচেয়ে বড়ো অনিশ্চয়তার উৎস, তত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন নিয়ে তার নিস্তবদ্ধতায়। এই পুরো সময়টিতে জাফর ইকবাল মানুষের ভোটাধিকার এবং গনতন্ত্র নিয়ে কোন কথা বলে নি কারন তিনি জানেন দেশের অধিকাংশ মানুষ তার মতের বিরুদ্ধে। এই লেখায় তিনি তাচ্ছিল্যের সাথে বলেন, ” সামনে নির্বাচন। নির্বাচন কিভাবে হবে, সেটি এখনও দেশের মানুষ জানে না। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানী-গুণী মানুষেরা এই নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন। কাজেই নিশ্চয়ই কিছু একটা ফর্মুলা বের হয়ে যাবে, আমি সেটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না”/ অথচ তিনি কিন্তু ২০০৬ এর একই রকম পরিস্থিতিতে খুব ভালো মতোই মাথা ঘামিয়েছিলেন। অজস্র কথা বলেছিলেন সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে। তার সেই বিখ্যাত কলাম, ‘একজন অসুখী রাষ্ট্রপতি’ (০৩.১১.০৬)র কথা নিশ্চই তার স্মরনে আছে।

সেই লেখায় ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখার জন্যে সংবিধানের অজুহাত তোলা বিএনপি এবং বিএনপি সমর্থিত রাষ্ট্রপতি ইয়াজুদ্দীন নিয়ে জাফর ইকবাল অনেক কথাই বলেছিলেন। এমনকি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ক্ষোভকেও তিনি অতি সংবেদনশীলতায় অনুধাবন করতেন। “‘১৪ দলের কর্মীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং ক্রোধ বিস্ফোরনের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণটুকু একটা ষড়যন্ত্রের মতো, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা, ক্রোধোম্মত্ত কর্মীরা হাতের লগি এবং বৈঠা নিয়ে এখন কি করবে…?”  তিনি আওয়ামী নেতাকর্মীদের ক্ষোভকে খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারেন। আজকে প্রতিপক্ষের ক্ষোভ অনুধাবনের বিন্দুমাত্র চেষ্টা তার নেই।

আজকে আওয়ামী লীগের পুরোদেশের জনমতের বিরুদ্ধে যেয়ে সংবিধানের অজুহাত তুলে ক্ষমতা আকড়ে ধরা নিয়ে তার কোনো কিছু বলার নেই, ‘একজন অসুখী প্রধানমন্ত্রী’ লেখা তো দূরের কথা। এই জাফর ইকবাল একজন ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারী হতে পারেন, তিনি একজন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র অতন্দ্র সৈনিক হতে পারেন, কিন্তু তিনি কোনো রকমেই একজন গনতন্ত্রী নয়। তিনি একজন দলান্ধ, দ্বিচারী। এই জিনিষটি দেশের মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়েছে গত কয়েক মাসে।

জাফর ইকবাল যেই দলের একনিষ্ঠ অনুসারী, সেই দলকে রক্ষার সকল চেষ্টায় এতটাই উন্মত্ত হয়েছেন যে তিনি তার ইতিহাসজ্ঞানও পুরো গুলে ফেলেছেন। তিনি লিখেন, “একাত্তরে এই রাজনৈতিক দলটি যা যা করেছিল এখন তারা আবার ঠিক সেই একই কাজগুলো করতে শুরু করেছে। তারা হিন্দুদের আক্রমণ করছে, তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে, ট্রেন লাইন তুলে ফেলছে”/ দিনরাত ৭১ এর নাম জপরত জাফর ইকবাল বিস্মৃত হয়েছেন যে ১৯৭১ এ যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীই পাকহানাদার বাহিনীর চলাচল বিঘ্নিত করতে সংগত কারনেই রেললাইন, ব্রীজ ধ্বংস করতো। সেই সময়ে তার ঘৃনিত রাজাকার বাহিনীকেই পাকবাহিনী রেললাইন পাহাড়া দিতে নিয়োজিত করতো।

জাফর ইকবালের মধ্যে এই জ্ঞানটুকু থাকার আশা করা বৃথা যে ২০১৩ তে দেশের মধ্যে সংখ্যালঘুদের উপর যাবতীয় সংঘবদ্ধ আক্রমনে জামাত-শিবিরের চেয়ে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে অনেক বেশী। সম্প্রতি পাবনায় ঘটে যাওয়া আক্রমনে সংশ্লিষ্টদের সাথে আওয়ামী নেতৃত্বের সম্পর্ক দেখিয়ে দিয়েছে ডেইলী স্টারের ছবিতে। সিপিবি নেতা মুজাহিদ সেলিম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে , পাবনায় “সংখ্যালঘুদের উপরে হামলায় আওয়ামী লীগ জড়িত”/  স্বয়ং আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেছেন যে সাঁথিয়ার ঘটনার জন্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দায়ী। সংবাদের এই রূপ তার চোখে পরে না। সর্বত্র তিনি কেবল জামাত-শিবির আর বিএনপি’র কালো হাতই দেখেন। তার মনোবৈকল্য এতটাই হয়েছে যে তিনি যদি চোখের সামনে দেখেন শেখ হাসিনা সংখ্যালঘুদের বাসায় আগুন দিচ্ছে তবে তিনি লিখবেন হাসিনার ছদ্মবেশে খালেদাই এই হামলা করছে।

জাফর ইকবাল অনৈতিকতার চূড়ান্তে পৌছেছেন এই কথাগুলির মধ্য দিয়ে। ” আজকাল দেশের গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকাগুলো জরিপ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে নিয়ে আসছে। মজার ব্যাপার হলো, ১৬ কোটি মানুষের দেশে হাজার দেড়েক মানুষের জরিপ নিলেই ১৬ কোটি মানুষের মনের কথা বের হয়ে আসছে!” / জাফর ইকবাল নিজেকে বাংলাদেশে বিজ্ঞান সচেতনতার একজন পুরোধা মনে করেন। দেশের শিশু কিশোরদের গানিতিক দক্ষতার বিকাশে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। এই তিনিই তার রাজনৈতিক আনুগত্যের কারনে অতি সাধারন বিজ্ঞান ও গানিতিক জ্ঞান নিয়ে তাচ্ছিল্য করার মতো নীতি বিবর্জিত কাজ করতে দ্বিধা বোধ করেন না। পরিসংখ্যান নিয়ে জ্ঞাত, যে কোন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রই জানে র‍্যান্ডম স্যাম্পলিং এর শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বের কথা। আজকের দুনিয়ার রাজনীতি নিয়ে ওয়াকিবহাল যে কেউ জানে যে দেশে দেশে বিভিন্ন রকম পোলিং এর বহুল ও নিয়মিত ব্যবহারের কথা। জাফর ইকবাল আমেরিকা নিয়ে তরুন প্রজন্মকে উপদেশ দিতে খুবই পছন্দ করেন। তিনি নিশ্চই জানেন যে আমেরিকায় প্রায় প্রতিদিনই কিভাবে বিভিন্ন রকম পোলিং এর ফলাফল বের হয়। তিনি যদি গনিত নিয়ে সামন্যতম আগ্রহী হন তবে এটাও নিশ্চই জানেন যে আমেরিকায় ৩৩ কোটি লোকসংখ্যার জন্যে দেশব্যাপী পোলিং এর গড় স্যাম্পল সাইজ এক থেকে দেড় হাজার।

অথচ এই স্যাম্পল সাইজ নিয়েই গন্ডমূর্খের মতো জাফর ইকবাল বিনোদন করতে চান মজার কথা! আশ্চর্যবোধক চিহ্ন দিয়ে / আসল কথা জাফর ইকবাল জেনে শুনেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত থেকে দৃষ্টি অন্যত্র ফিরাতে চান। তিনি যে দলের অনুসারী, তাদের অগনতান্ত্রিক ক্ষমতাকে বৈধ করতে তিনি সবকিছু করতে প্রস্তুত। নিজের অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক মানসিকতাকে মানুষের কাছে স্পষ্ট-নগ্ন করার পূর্ন রিষ্ক নিয়েও।

সবার মনে হতে পারে যে আজকে যখন চারিদিকে এতো বড়ো বড়ো ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, রাজনীতির রুইকাতলাদের মধ্যে প্রবল আলোড়ন চলছে, নিকট ও দূরের পরাশক্তিরা যখন বাংলাদেশকে নিয়ে সবার সামনে অভূতপূর্ব দাবার চাল খেলছে, তখন জাফর ইকবালের মতো একটি ছোট মাছ নিয়ে সময় নষ্ট করার মানে কি? এর দরকার আছে। আমাদের রাজনীতি সচেতনায় জাফর ইকবাল একটি  confounding factor. আমাদের দেশের সমস্যার স্বরূপ বুঝতে পারা ও তার বিশ্লেষনকে তিনি দুই দশক ধরে তার কিশোর-সাহিত্যিক আবেগ ব্যবহার করে মানুষকে confound করেছেন। সৌভাগ্যক্রমে সাধারন মানুষ এই confounding factor টিকে অবশেষে আইডেন্টিফাই করতে পেরেছে। এখন এই   confounding factor টিকে যত দ্রুত isolate করে আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মতো রাজনীতির পাব্লিক ডিসকোর্স থেকে দূরে সরিয়ে ফেলা যাবে, ততই দেশের চিন্তা জগৎ এর পরবর্তী বিবর্তন ত্বরান্বিত হবে।

Links

1/ https://nuraldeen.com/2013/10/09/%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7/

2/ http://www.amadershomoybd.com/content/2013/11/07/news0025.htm

হরতাল বিষয়ক উপলব্ধি

হরতালে পুড়ে মারা যাওয়া একটা বাচ্চার ছবি দেখলাম । ভয়ংকর অবস্থা । ওয়াকিং  ডেড নামে একটা জম্বি সিরিয়াল দেখে  আর জম্বি মানুষের সমাজে বসবাস করে — কোন ধরনের অনুভূতিই আর অবশিষ্ট নাই। তারপরো একটু খারাপ লাগলো।
হরতাল নিঃসন্দেহে তুলে দেয়া উচিত । এক একটা হরতালে দেশের অর্থনীতির শত কোটি টাকা ক্ষতি হয় — এটা এখন সম্ভবত
বাচ্চা ছেলেরাও জানে ।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় — বাংলাদেশের যেই রাজনৈতিক কালচার – লাশ , আহত মানুষ, জনজীবনের চরম দুর্দশা ছাড়া ক্ষমতাসীনদের দৃষ্টি আকর্ষন করা যায় না । বিএনপি দাবী করছে – তত্ত্বাবধায়ক সরকার , একটা লেভেল প্লেইং ফিল্ড, একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন । তাদের এই নায্য দাবীকে আদায় করার অন্য কোন বিকল্প পদ্ধতি আছে ??

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভাবছে তাদের কখনোই ক্ষমতা ছাড়তে হবে না, আগের টার্মে একই ভুল বিএনপি করেছিলো —
সে সময়ে কি আওয়ামী লীগ হরতাল দেয়া বন্ধ রেখেছে ?? মানুষ পুড়িয়ে মারে নাই ?
শেরাটনের সামনে দোতালা বাসে গান পাউডার দিয়ে ১২-১৪ মানুষ মারা ইতিমধ্যে ভুলে গেছে মানুষ ?
নাকি লগি বৈঠার তান্ডব ভুলে গেছে মানুষ ?? ১ টা লাশ পড়লে ১০ টা ফেলার হুমকি ভুলে গেছে মানুষ ??

১৯৯১-১৯৯৬ সালে ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছে আওয়ামী লীগ ২০০১-২০০৬ সালে দিয়ে ১৩৩ দিন। শেখ হাসিনা নিজে প্রমিস করেছিলেন – বিরোধী দলে গেলে আর হরতালের রাজনীতি করবেন না , হরতাল দিবেন না । এসব কী ভুলে গেছে মানুষ ?

=====

খুব যৌক্তিক প্রশ্ন যে — হরতালে লোকক্ষয় হচ্ছে, নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছে, শত কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে, হরতাল দাঙ্গা ফ্যাসাদ বন্ধ করা উচিত; তো এখন যৌক্তিক দাবী আদায়ের উপায় কি ?
কোন উপায় নাই । ধ্বংসাত্মক কাজ ছাড়া কারো দৃষ্টি আকর্ষন করার কোন উপায় নাই ।

উপায় একটা ছিলো – সেটা হলো আওয়ামী ঘেষা , আওয়ামী পন্থী , আওয়ামী সহানুভূতিশীল মানুষদের উচিত ছিলো — নিরপেক্ষ নির্বাচন , ত্বত্তাবধায়ক সরকার এর দাবীতে বিএনপিকে সাপোর্ট দেয়া । এটা বিএনপির প্রতি সাপোর্ট না – এটা যেটা সঠিক , যেটা নায্য তার প্রতি সাপোর্ট । এসব নিয়ে লেখা লেখি করা । আমাদের দেশের একটা ভাইব্রেন্ট সিভিল সোসাইটি দরকার – যেটা যেকোন যৌক্তিক ইস্যুতে বিরোধী দল , সরকারী দলকে লাইনে রাখবে ।

আমি আপনাদের গ্যারান্টি দিতে পারি  আওয়ামী ঘেষা , আওয়ামীপন্থী , আওয়ামী সহানূভূতিশীল ৯৯% মানুষের ওয়ালে এই বিষয়ে কোন কথা দেখবেন না । তাদের কাছে এসব কোন ইস্যু না —
কিন্তু তাদের নিশ্চুপতার কারনে যদি একটা বাচ্চা ছেলেকে হরতালকারীরা পুড়িয়ে দেয় – তখন আবার সেটা তাদের ইস্যু হয়ে যায় ।

আশ্চর্য আমাদের দেশের মানুষ, আশ্চর্য তাদের মানসিকতা।burnt-in-hartal-1