শান্তি‬ ‪ও একচক্ষু‬ ‪‎হরিন‬

by Imtiaz Mirza

১৯৭১ এর সেপ্টেম্বর মাস । একটি তরুনের বাবাকে পাকিবাহিনী হত্যা করেছে , মুক্তিকামী জনতাকে সরকারী অস্ত্রশস্ত্র বিলিয়ে দেয়ার জন্য ।
তরুনটি চিন্তা করে যুদ্ধে যাবে , পাকিবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিবে , দেশকে মুক্ত করবে অচলাবস্থা থেকে । কল্পনায় সে রাইফেল চালায় , পাকিদের মেরে খতম করে , রাজাকারদের ফুটো করে দেয় ।
ভাবতে ভাবতে হঠাৎ সে গুলির শব্দ শুনতে পায়, সচকিত হয়ে সে খেয়াল করে গুলির শব্দ কাছাকাছি কোথাও থেকেই আসছে ।
পাশের ঝোপের মধ্যে সে পালিয়ে যায় , কিছুক্ষন পর টের পায় , উষ্ণ জলধারা তার প্যান্ট ভিজিয়ে দিয়েছে ।
ভিজে ভিজে গরম অনুভূতি নিয়ে সে অস্ফুটে বলে , যুদ্ধ নয় শান্তি চাই , একটুখানি শান্তি চাই , শান্তি মতো জলত্যাগের অধিকার চাই।
_____
১৯৭১ এর ডিসেম্বর মাস , ভারতীয় বাহিনী যুদ্ধ শুরু করেছে , প্যান্ট ভেজানো তরুন যুদ্ধে যায়নি বরং রাজাকার পীরের মুরীদ হয়ে , টুপি লাগিয়ে প্রানে বেচেছে ।
ভারতীয় বাহিনীর যুদ্ধটিকেই তরুনটি আসল যুদ্ধ মনে করে , সে মনে মনে ঠিক করে সে আসল যুদ্ধে যাবে , গেরিলা যুদ্ধের মতো ছিচকে যুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদের মতো গ্ল্যামারহীন যোদ্ধা হয়ে তার পোষাবে না । এর মাঝে সে সবাইকে বলে বেরিয়েছে , যুদ্ধ নয় শান্তি চাই , শ্রমিকরা ঘরে ফিরবে তাদের আপন জনের কাছে , তারা যুদ্ধ জানে না , তারা শান্তি চায় ।
মুক্তিযোদ্ধাদের শান্তির কথা বলবা মাত্র তাকে মেরে হাকিয়ে দিয়েছে তাকে , এই উত্তুঙ্গ সময়ে কেউ শান্তির কথা শুনতে চায় না ।

সে মনে মনে শান্তির জন্য যুদ্ধের পরিকল্পনা করতে শুরু করলে , “মাত্র তের দিনের যুদ্ধে ” পাকবাহিনী আত্মসমর্পন করে ।

______

প্যান্ট ভেজানো তরুন , ধীরে ধীরে একচক্ষু হরিনে পরিনত হয়েছে । সে সবাইকে গণতন্ত্রহীনতার কথা শিখাতে চেষ্টা করে । সে খুব সুন্দর করে বোঝাবার চেষ্টা করে , যে জগতে মাত্র পাচটা মানুষের পিএইচডি আছে , আর বাকী সবার ক্লাস ফাইভ ফেল করার অভিজ্ঞতা আছে , যেহেতু
ক্লাস ফাইভেই ফেল করেছে , তাই কারো পিএইচডি করতে চাওয়া উচিত না ।

অর্থ্যাৎ বিশ্বের পাচটা দেশে মৌলিক গণতন্ত্র আছে বিধায় , অন্যান্য দেশ গুলোতে নূন্যতম নির্বাচনও থাকা উচিত না ।

কারন আমরা কখনো পিএইচডি করতে পারবো না , কেন আমরা ক্লাস ফাইভের পরীক্ষা আবার দিবো ? আমরা দেশকে উন্নত করতে পারবো না কখনোই এইকারনে আমাদের দেশে গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা নেই ।

সে সবাইকে বোঝাতে চেষ্টা করে গণতন্ত্র নয় , শান্তিই সবার প্রয়োজন ।
_______

১৯৭১ এ শান্তির দরকার ছিলো , ৬৯ এও ছিলো , ৫২ তে ছিলো , ৯০ তে ছিলো ,
শান্তি দরকার উন্নত জাতি হতে হলে । শান্তির প্রয়োজনীয়তাটা কখনো কম ছিলো না ।

কিন্তু প্যান্ট ভেজানো একচক্ষু হরিনের বক্তব্য মেনে নিলে , লাখ লাখ মানুষ মারার পরো ১৯৭১ এ শান্তির দায়ে , পাকিবাহিনীর ঘেটুপুত্র হয়ে বসে থাকা উচিত ছিলো । আইয়ুব খানের সীমিত গণতন্ত্র অর্থ্যাৎ এলিটদের গণতন্ত্র মেনে চুপ করে বসে থাকা দরকার ছিলো । রাষ্ট্রভাষা উর্দুর মেনে শান্তি মতো বাংলা চর্চার দরকার ছিলো । লম্পট স্বৈরাচারকে দেশ ভর্তি দুর্নীতি করতে দিয়ে
শান্তিকামী জনতার রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনা দরকার ছিলো ।

প্রকৃতপক্ষে , যারা প্যান্টভেজানো একচক্ষু , যারা একটা দলকে নিজের ধর্মবিশ্বাসের চেয়ে পবিত্র মনে করে , দলের নেতাকে ধর্মাবতার জ্ঞান করে , তারা কখনো শান্তি আর অশান্তির পার্থক্য বুঝতে চায়নি । তাদের কাছে নিজের দল যেকোন মূল্যে ক্ষমতায় মানেই শান্তি।

প্রকৃতপক্ষে , হরতাল , অবরোধ , জ্বালাও-পোড়াও , গুলি , ক্রসফায়ার , বালুর ট্রাক , বিরোধী দলের মানুষ হত্যার পূর্বেও দেশে শান্তি ছিলো না , থাকতে পারে না । অশান্তি, ঘুনপোকার মতো দেশকে কাটছিলো , মানুষের হৃদয়মগজ খুড়ছিলো। অশান্তি মানুষের স্বাভাবিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো , মানুষের নায্য পাওনা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছিলো । অশান্তি , অবৈধ সরকার হয়ে
মানুষের টাকা লুটপাট করে উলটো মানুষকে চোখ রাঙ্গানি দিচ্ছিলো । অশান্তি , নূন্যতম নাগরিক অধিকার , মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিলো । অশান্তি, বন্দুকে গুলি হয়ে শত শত বিরোধীদলের কর্মীকে হত্যা করেছিলো।
অশান্তি , মানুষকে তার অবেগে দিয়ে ব্লাকমেইল করিয়ে তার যাবতীয় অপকর্মকে শুদ্ধ করে নিচ্ছিলো ।

_______

শান্তি প্রয়োজন , শ্রমিকের , কৃষকের , নাগরিকের , পথশিশুর, অফিস যাত্রীর, গৃহিনীর ।
শান্তি আসবে দূর্নীতির ঘুণপোকা অশান্তি বিদায় নিলে, শান্তি আসবে অবৈধ স্বৈরাচারীর বুলেট স্তব্ধ হলে।

শান্তি আসবে তখনই যখন একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে , যেখানে সবার সমান সুযোগ থাকবে, কেউ নিজের পছন্দ মতো গদি আকড়ে থাকবে না ।

শান্তি আসবে শুধু মাত্র তখনই, যখন প্রতিটা নাগরিক ব্যালট বাক্স দিয়ে তাদের উপর অন্যায়-অত্যাচারের জবাব দিতে পারবে ।

https://www.facebook.com/sunno.aronnok

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বৈরাচারবিরোধী জনমত তৈরির জন্য সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারের উপায়

যারাই ব্লগে ফেসবুকে আছেন অনেক দিন থেকে তারা জানেন সোস্যাল মিডিয়ার শক্তি অনেক খানি। পৃথিবীর যেকোন খবর এখন সবার আগে টুইটারে প্রকাশ পায় । গুরুত্বপূর্ন এমন কোন নিউজ সার্ভিস নাই যাদের টুইটার একাউন্ট নাই ।

হ্যাশট্যাগকের কাজটা হলো , একই ট্যাগ দেয়া বা একই টপিকে সব খবর গুলো একত্র করা ।
এটা ব্যাবহার করা সহজ । আর একই সাথে সার্চিং সর্টিং কাউন্টিং করতে সুবিধা।

অনেকেই ভাবেন যে লেখালেখি করে কি হয় , আসল কাজ না করে । তারা আসলে ভুল ধারনা করেন । যেকোন পপুলার মুভমেন্টে মানুষের ইনভল্ভমেন্ট লাগে । ১০জন লোকে মিছিল আর ১ লাখ লোকের মিছিল সমান কথা না ।
১ লাখ লোকের মিছিল হতো না যদি সবাই ভাবতো যে আমি তো মিছিলের একটা মুখ।
ঠিক একই ভাবে আপনার একটা সাপোর্ট একটা লেখাও মিছিলের একটা মুখের মতো বড়ো জনমত তৈরি করতে সাহায্য করবে ।

হ্যা আপনার হ্যাশট্যাগের কারনে এখনি কারো পতন হবে , কোন যুদ্ধ থেমে যাবে না সাথেসাথেই ।
কিন্তু মানুষের সচেতনতা তৈরি করতে সহায়তা করবে । এবং সেটাই পজেটিভ ইফেক্ট নিয়ে আসবে । যারা আসল কাজ করতে সক্ষম তারা এতো সাপোর্ট দেখে , নড়েচড়ে বসবে।

যেকোন সামাজিক আন্দোলনে হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু করতে পারুন । এটা শুধু স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন না  । দেশের যেকোন ইস্যুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসাবে ব্যবহৃত হবে ।

যেহেতু বাংলাদেশীরা ফেসবুক ব্যবহার করে অভ্যস্ত , তাই তাদের পক্ষে টুইটারে লেখা একটু কষ্টকর।
কিন্তু টুইটার ফেসবুকের চেয়ে অনেক বেশী সচেতন করার বেলায় শক্তিশালী , বাইরের দেশের মানুষের মনোযোগ আকৃষ্ট হয় । হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড মানুষের চোখে পড়ে ।

তাই উপায় হলো ফেসবুকের পোষ্ট গুলোকেই টুইটারে পাবলিশ করা ।

খুব সহজেই সেই কাজটা করতে পারবেন ।

১। টুইটার একাউন্ট খুলুন। http://www.twitter.com

২। একাউন্ট থাকলে একই ব্রাউজারের অন্য ট্যাবে লগইন করুন টুইটারে ।

৩। https://www.facebook.com/twitter/ ফেসবুকে লগইন থাকা অবস্থায় এই লিংকে জান ।

৪। সেভ করুন ।

একটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার মনে রাখতে হবে । টুইটারে 140 অক্ষরের চেয়ে বেশী এ্যালাও করে না । তাই হ্যাশট্যাগগুলো
পোষ্টের প্রথমে দেয়ার চেষ্টা করুন । ইংরেজিতে লিখলে মানুষ বেশি পড়তে পারবে।
তাই গুরুত্বপূর্ন মেসেজ বা সামারী হ্যাশট্যাগের পরপর ইংরেজিতে লিখুন ।

আপনার বাকি পোষ্ট অর্থাৎ 140 অক্ষরের বেশী হলেও কোন সমস্যা নাই টুইটার একটা লিংক বানিয়ে দিবে খুব সহজেই
সেই লিংক ক্লিক করলে পড়তে পারবে মানুষ ।

এছাড়াও ফেসবুকও জনপ্রিয় হ্যাশট্যাগকে ট্র্যান্ডিং হিসাবে দেখায় । তাই একই স্ট্যাটাস ব্যবহার করে ফেসবুকেও জনমত সৃষ্টি করা যাবে ।

#DemocracyNow #Bangladesh #BDFairElection
Rampant killing by Govt. lenient officials, UN human rights office alarmed at ‘deepening’ political violence

http://www.un.org/apps/news/story.asp?NewsID=49813#.VLlVPyvF9kk
হ্যাশট্যাগ জনপ্রিয় করার উপায় হচ্ছে,  সবাই একই ধরনের হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা ।   যেমন
#DemocracyNow   #BDFairElection #StepDownBakshal #PeaceForBangladesh #Bangladesh #PoliceViolence #FreeSpeech

হ্যাশট্যাগের সাথে  , ইংরেজিতে  অল্প কিছু কথা জুড়ে দিতে হবে , যেমন টুইটার হতে পারে একটি

#DemocracyNow    #PeaceForBangladesh #Bangladesh #PoliceViolence
BD Govt. killed  more than 15 people in 10 days for protesting against them for #BDFairElection

আরেকটা টুইটার হতে পারে ,

#DemocracyNow    #PeaceForBangladesh #Bangladesh
154 MP’s elected without a single vote cast,  we want #BDFairElection

আরেকটা টুইটার হতে পারে ,

#DemocracyNow    #PeaceForBangladesh #Bangladesh
Corrupt Govt. taken power with 5% vote cast   #BDFairElection

আরেকটা টুইটার হতে পারে ,

#DemocracyNow    #PeaceForBangladesh #Bangladesh
Corrupt Govt. making election a mockery , rampant fake vote cast  #BDFairElection

অবৈধ স্বৈরাচারি সরকারের বিরুদ্ধে ইমেজে ইংরেজিতে লিখুন তাদের কারসাজি , তারপর সেসব ছড়িয়ে দিন ।
হ্যাশট্যাগ দিয়ে  রিলেটেড ইংরেজি নিউজ পেপার , বাইরের নিউজ গুলো টুইট করতে থাকুন । তবে লক্ষ্যনীয় ব্যাপার সর্বজন গ্রাহ্য কোন নিউজ না হলে , সত্য নিউজ না হলে
ভেরিফাইড নিউজ না হলে সেসব খবর শেয়ার করা যাবে না ।  একটা মিথ্যাই স্বৈরাচারীদের অস্ত্র হয়ে দাড়াতে পারে ।

একে অপরের টুইটকে রিটুইট করতে হবে , তাতে হ্যাশট্যাগটা জনপ্রিয় হবে । কার্টুনও শেয়ার করা যাবে হ্যাশট্যাগ দিয়ে ।

মানুষকে কোন ব্যাপারে জানাতে হলে টুইটারে জুরি নাই তাই ফেসবুক ব্যবহার করার সাথে সাথে টুইটার ব্যবহার করা শিখুন ।

2015: What is Left of the Political Field and What is at stake.

By Seema Amin

 

BLOODSTAINS ON THE FLAG,
FLAGSTAINS ON THE SKY,
SKYSTAINS ON THE EYE LATER ON
YOU’LL HAVE TO DREDGE WITH THE CORNER OF YOUR HANDKERCHIEF.

  • Roque Dalton, Tavern

The degradation of Bangladesh is at its zenith. A perverse, almost psycho-sexual arousal at the humiliation and degradation of one’s chosen victim-slash-enemy and the callous force-feeding of a ‘Law’ that is standing on its head (the upside down world of 2015 post January Fifth that surpasses the combined absurdities and doublethink of both 1984 and Animal Farm), makes me look beyond the genre of satire à la Orwell or Tagore’s oft-cited Hirok Rajar deshe, to the experimental science fiction of J. G. Ballard.  In J.G. Ballard’s The Atrocity Exhibition montage newsreels of Presidents and Generals were substituted for actual newsreels of torture of the Viet Cong; sexual arousal of viewers was measured so that an optimum sexual arousal sequence could be created, i.e. repeated violation of an eight year old Vietnamese girl, specifically of her perennial wounds, elicited the most thrills.  Ballard’s condensed novel has been said to exemplify the pervasive, irrational violence of the present world, connecting psycho-sexuality with the gratifications of ‘perverse’ politics.  But the psychology of the violent orgy, if we are to see the connections with our new year, does not exist in a social or economic vacuum; it was German psychologist Reich (Dialectical Materialism, 1970) who wrote on the   ‘psycho sexual’ gratification of a particular class’s particular fantasies/repressions/needs.  Reich suspected the ideological realization of the petit bourgeoisie in the organized mobs of fascist Nazi Germany as being located in this psycho-social lack.

Fast-forward to a particularly Bangladeshi kind of fascism.  Joy Bangla! chanted with sticks and arms in one’s hands; I can hardly distinguish this slogan from Allahuwakbar before murdering Kafirs in ’71, or Hail Hitler. Hysterical Bangladesh. Thirteen trucks, not enough. Pepper spray.  Not enough. Call a freedom fighter a razakar: Joy Bangla!  Jouissance! Everyone breathes easier when the cartoons merely signify reality. Throw some Light on the Lion’s Face, Tim Van Dyke:

“the absolute need to be believed, to disperse all other belief
in an hysterical combination of passion and assimilation —
The hysteric has no intimacy, emotion, no secrecy—
The lion’s face succeeds in making its own body a barrier
a seductress paralyzed
who seeks to petrify others in turn—“

Udvot o Odvot. Unmadonna. Let’s turn the man on his head again.

January Fifth came and went.  Democracy ‘was victorious.’ It was Democracy Victory Day; the sacred Constitution decreed, the men with sticks and guns ensured. Maya, whose son led RAB-11 in the 7 Narayanganj murders, true to his word, sat smugly, in a pure white lungi, ready to ‘Give them some’ if they dared hold a rally, in the morning. By night, a few more trucks had been sent to ‘dig a grave’  in the opposite side of town at the (actual) opposition’s Gulshan office; a case was filed against Mirza Fakrul Islam Alamgir that night, just in case such a thing is even needed when those pretending to be Projonmo are Ready! Set! Go! In the morrow, the dogs of ‘courage’, Goliath’s ‘petua bahini’( the ones that had forced him to leave the public auditorium for the Club itself the evening before), zoomed in on an unarmed and alone David in Press Club. Bangladesh’s Second Most Wanted Man. Bon Courage, Bangladesh!

There is something too spectacular about soap (Shaban) entering the press club, purportedly trying to clean up the messiness of partisanship, while the very dirt  came like a fascist flood over the gates. Perhaps he was trying to clean up a murder, ‘democracy dead’, that one; it gets messy, murder. And so the premises was cordoned, for all but those with gloves and the right slogan.  My question is, though, who is that class nursing bludgeons inside the velvet gloves of power, today? We call them latial, goonda, the ones who will create ‘ganopitani.’  Who scream Action! Action! Dressed up with a banner that was never questioned (Muktijoddher Projonmo League, which projonomo?), they were never arrested for coming armed into the Press Club.

‘Chele khela holleo hoto, kintu aita vidguthe’—we are suffocating, cries an artist, for whom perhaps it would be easier to throw the awful burden of feelings into a manhole. The Chetona Nazis are here to stay. But it isn’t enough or even sufficient to throw light on this lion’s face. For the Bangladesh that the Nazis hope to call ‘theirs’ manipulates a psycho-moral landscape invested with the aura of an original sin more akin to Israel than to Germany after WWI and before WWII. It is the sin of an original injustice, an eternal victimhood that prevents all other suffering from making any claims of immediate and equally necessary redress.  Israel has constructed entire museums of suffering, embracing a past truth, but erected on effacing the present.

The liberation war museum houses history; but the platform in front of it performs history. For the performers of the platform that remains of what was Shahbag once, justice more and more is not a principle but a decree: it has no application beyond the one hysterical sign- the signified is not all great injustice, it is only one particular injustice, instrumentalized, and thus degraded of the dignity of calling for justice.  The moral ramifications of the war beyond the war, the continuation of injustice, state terror and chauvinism in the present political field is (now) completely terrorized into silence and non- existence. Even the political signification of the struggle for democratic self-determination is a backdrop where the hysterical sign cries Terror as it terrorizes (should sound very familiar, global village et al.).The state and religious repression that enabled such crimes to take place, its deeply chauvinistic nature, is not understood as a context of immorality and degradation that could repeat itself in principle if not in exact moral equivalences. Justice simply has no referent but one injustice.  But the Chetona Nazis are not just the League, Sarkar and Co., or puppets thereof and the student opportunists or even the well meaning among them– the easy come easy go pinkish reds, civil society partisans, etc.; they are drawn from a “goonda constituency/class” that can be rounded up at any moment to perform the ‘Action! Action!’ of preventing dissent, or, any change in the status quo well outside the parameters of their ‘moral territory.’ Their self-righteous (since it is not moral in its new perversions, it is merely fascist) frontier now encompasses the whole country, but not because justice can be applied to new contexts, no, but so that no other injustice can ever threaten the aura of those who claim to be the sole redeemers of our original sin; in other words, so that the status quo, the state itself, remains intact. These Chetona Nazis are colonizers of civil space—Shahbag, Press Club, etcetera; they want a permanent seat in all the Houses of liberty.  Effect: Joy Bangla sung with such triumphal fatality on a no-rally day that the ‘Bir’ Left taking refuge in their offices to avoid the confrontation meant for the key players. And these Chetona Nazis degrade nothing else as much, as those they seek to redeem.  There is a notion in Islam that ‘spiritual pride’ is a cardinal sin; similarly, the self-righteousness of those who perform ‘justice’ but never apply it in context, those who merely hysterically ‘signify’ that might is right because right is their property….theirs is not the world of dignity that liberation insisted on, theirs is a world with such little shame it can even claim to represent ‘MuktiJudhhor Projonmo’ and call itself ‘proud.’

There are other groups who are well endowed to perform our history, i.e. non-fascist artists (a minority sometimes), the (Left of) left, even a civil society that may well be in the offing, so many others; but they were very deliberately sidelined from this platform, in Shahbag, and beyond, for the very fact that in their world of dignity and justice, any true meaning of the Joy Bangla that was shouted with dignity during the war but almost never soon after it, one would have to apply moral law. One would have to swallow the very simple but sad (look at Israel in Palestine) truth that the victims of history do become the perpetrators of crime, that chauvinism can take charge again, that chauvinism will not only manfiest itself as the military or Jamaat or anyone who comes in connection to their contagious blood, but may do so again, as the state and as the mob, the Pretenders.  Thence: to whom and to what shall we look for the protection of the ‘blood’ of the martyrs of Ekattor. Well, one tends to look to that intellectualizing, ‘glorious left’ that can read justice as applicable, not as a dead sign of a sign.  None of what is happening should shock them; after all, they’ve lost heroically to the Chetona Nazis once before, and fatally.

But what is at stake, this time? If tomorrow, what is left of the political field is not dignified, if the left and what is left of the rest of us who empathize, criticize or harness new energies in its orbit, continues to be a walking shadow for a performance that never happens, then we can all forever hold our peace. But what is it that the left is shrinking from, for it surely can’t be Terror. Today, the field is theirs. The whites are bloodied, the blue is a raging maniac, hysterical, and it is time the rest risk the danger of communion, rather than fixate on the bogey of Jamaat. It is solidarity, coalition, lasting connection, with the unorganized and manifold potential.  And what is at stake? Well, just one thing. Not national pride, not the flag, but dignity.  Like ‘artists masturbating in a gallery that is nothing more than a cage’ (a simile I have taken from a poet who will remain anonymous), no one who is disturbed if not outraged, including the press, the left, everyone else, can claim to be trying to change anything at this moment, if they do not get out of this gallery, this cage, The Atrocity Exhibition, and reach out in the language of solidarity outside one’s known alliances. Else, we are doomed to the interminable posturing and posing of sign, mere words used to silence meaning…endless aura in an aura-tic universe.

 

Seema Amin is author of two books of verse and Senior Feature Writer at Depart Art Magazine

 

বাংলাদেশী মধ্যবিত্ত শ্রেনী ও বিএনপি’র আন্দোলন-একটি বিতর্ক

ফাহাম আবদুস সালাম 

5th January

একটা প্রশ্ন অনেকেই করেন জিয়া হাসানও করছেন যে বিএনপির আন্দোলন সফল না হওয়ার মূল কারণ হোলো তারা নাকি বাংলাদেশের মানুষকে কনভিন্সড করতে পারে নাই। আমি এই মত পোষণ করি না।

দেশে যে গণতন্ত্র নাই এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয় হইছে যে দুইটা কারণে (স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র) সেই দুইটা জিনিসই যে বাংলাদেশে অনুপস্থিত সেইটা আবার কনভিন্স করার কী আছে? আপনি যদি এইটা না বুইঝা থাকেন তাহলে আপনে হয় আওয়ামী লীগ করেন নাইলে ভালোমন্দ খাইছেন কিছু। সমস্যা কনভিন্স করা না করার মইধ্যে না। সমস্যা হইলো কনভিন্স হওয়ার ঠিক পরের স্টেজটা নিয়া।

বাংলাদেশ সম্বন্ধে মিডল ক্লাসের “যেকোনো” – আবার বলতেছি “যেকোনো” বয়ান সন্দেহের চোখে দেখতে হইবে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু কইরা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো মোড় বদলে দেয়া আন্দোলনে আরবান মিডল ক্লাস পার্টিসিপেট করে নি। কিন্তু এই ইভেন্টগুলোর সব থেকে বড় বেনেফিসিয়ারী তারাই। খেয়াল কইরা দেখবেন বাসায় রাখা আপনার মামা চাচা যিনি ৭১ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আছিলেন তাগো বেশীরভাগেরই অস্ত্র হাতে ব্ল্যাক এন্ড ওয়াইট ছবি আছে এবং সেই ছবিতে তিনি প্রায় সুটেড-বুটেড হয়ে আছেন। সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি তোলার সময় ছিলো না।

কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সবার আগে ভালো অবস্থায় যাইতে পারছে এই আরবান মিডল ক্লাস।

এই ব্যাপারটা তারা খুব ভালো করে বোঝেন বলে তাদের মাঝে একটা গিলটি কমপ্লেক্স কাজ করে। এই গিলটি কমপ্লেক্স থেকে উদগত সব থিকা উল্লেখযোগ্য প্রডাক্ট হোলো গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিয়ে, বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে মধ্যবিত্ত যে মহাবয়ান তৈরী করেছে তার প্রতিটি বাক্য লেখা হইছে অপরাধ বোধের কালি দিয়ে। তাই যে যুদ্ধ করছে তার চেতনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শামিল হয় নি, কিন্তু যে নয় মাস পলায়া বেড়াইছে তার চেতনাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

মুক্তিযুদ্ধে যে পার্টিসিপেট করছে তার এতো সফিস্টিকেটেড আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছিলো না। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য দেশের প্রতি তীব্র ভালোবাসা আর ইনসটিংটই যথেষ্ট ছিলো, মুক্তিযুদ্ধে না যাওয়ার জন্য, পলায়া বেড়ানোর জন্য আর ইসলাম রক্ষার নামে রাজাকারী করার জন্য চেতনার প্রয়োজন ছিলো।

মধ্যবিত্ত তাগো নিজেদের ক্লীবতা ঢাকার জন্য আজগুবি, অবিশ্বাস্য সব গল্প ফাঁদছে যেই গল্পের পরতে পরতে আছে শুধু সিম্বলিজম আর লাল-সবুজ।

একইভাবে আজো মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখে গণতন্ত্রের কিন্তু এই গণতন্ত্র আনার জন্য সে রাস্তায় নামবে না – কাজটা কইরা দেবে বিএনপি। কিন্তু যেদিন আওয়ামী লীগ প্রেক্ষাপট থেকে বিতাড়িত হবে, দেখবেন সবচেয়ে ফেনায় ফেনায় গণতন্ত্র বিষয়ে শুদ্ধ বাংলায় সবক দেবে মধ্যবিত্ত। “এই সে মহান মাটি যার পুষ্টি গণতন্ত্রে” “এসো মোরা অবগাহন করি গণতন্ত্রের বজ্রকপট শপথে”, “এই সোনার মাটির বন্ধন তো শুধু গণতন্ত্রের সাথেই” – এই লাইনের ল্যাটকামি।

মধ্যবিত্ত ন্যায্যতার স্বপ্ন দেখে না, দেখে চাকরির স্বপ্ন কিন্তু এই কথা মাইনষে শুনলে বলবে ছোটলোক। তাই সে গল্প ফান্দে গণতন্ত্রের। এই গণতন্ত্র রক্ষার জইন্যে সে ভুলেও রাস্তায় নামবো না কিন্তু যে নামবে তারে বলবে তুই তো নামসোস ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার জন্য। এইটা তার অপরাধবোধ। সে চায় গ্লোরী কিন্তু কসরৎ করবার জন্য রাজী না। টিভিতে বিপ্লব দেখলে তার গরমে অর্গাজম হইয়া যায় কিন্তু রাস্তায় নামতে তার গরম লাগে সূর্যের।

এই অপরাধবোধ থিকা সে বিএনপির গুষ্টি উদ্ধার করে। বিএনপি হেন পারে না তেন পারে না। কথা সত্য। বিএনপি অনেক কিছুই পারে না কিন্তু তুমি তো অনেক কিছু পারো – তুমি কী করছিলা? তুমি কি গণতন্ত্রের জন্য রাস্তায় নামছিলা? বিএনপির কথা বাদ দেও। তারা তো ক্ষমতায় যাওয়ার জইন্যে রাস্তায় নামছে মাইনা নিলাম কিন্তু তোমারে তো চল্লিশ বছরে কখনোই নামতে দেখলাম না।

যারাই কয় যে বিএনপির কৌশল ঠিক না তারা সমালোচনায় ঠিক আছেন কিন্তু খাইসলতে দর্শক। কিন্তু বিএনপির কৌশল ঠিক হইলেও এই চ্যাটারিং ক্লাস আন্দোলনে পার্টিসিপেট করতো না কারণ সে বাংলাদেশরে ঔন করে না – সে ঔন করে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একটা আইডিয়ারে এবং সেই আইডিয়ায় সব সময়ই কসরৎ না করার যথেষ্ট অজুহাত মজুদ আছে।

বিএনপির সব থিকা বড় সমস্যা হইলো তাগো সাপোর্ট বেইজ হইলো এই দর্শক শ্রেণী।

 

জিয়া হাসান

6th January

ফাহাম ভাই,আমি আপনার স্ট্যাটাসের প্রশ্ন গুলো এই খানে জবাব দিচ্ছি, আমার বন্ধুদেরকেও আলোচনায় আনার সুবিধার জন্যে। এইটা আপনার ওইখানেও কমেন্ট দিবো। এই ইন্ডিসেন্সিরটার জন্যে ক্ষমা করবেন।

আমি আপনার স্ট্যাটাসের প্রথম এজাম্পশনের সাথে ১০০% সহমত। বাংলাদেশে যে, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র নাই, এই নিয়ে কনভিন্সড না হওয়ার কিছু নাই। এবং সমস্যা হইলো, কনভিন্সড হওয়ার পরের স্টেজ নিয়ে।

এই কনভিন্স হওয়ার পরে আপনার যেই লজিক এবং আরগুমেন্ট দিলেন সেইটা ফান্ডামেন্টালি ভুল। সেইটা হইলো, বাংলাদেশের মোড় বদলে দেয়া আন্দোলনে আরবান মিডল ক্লাস পারটিসিপেট করেনি। আপনি একাত্তুরের রেফারেন্স দিছেন। আমি একাত্তুরের রেফারেন্স দেইনা, কারন আমি একাত্তুর দেখি নাই।

কিন্তু, বাংলাদেশে একাত্তুরের পরে সব চেয়ে বড় যে গন আন্দোলনে, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, যেই সময়ে আমি মোটামুটি বালেগ ছিলাম তখন আমি স্বচক্ষে দেখেছি, সেই আন্দোলন আরবান মিডল ক্লাস, লিড করছে, পারটিসিপেট করছে। এবং শুধু মাত্র ৯০ সালে না, আশির দশকের সম্পূর্ণ সময়টাতে আরবান মিডল ক্লাস এই আন্দোলনের সাথে এলাইন্ড ছিল। রাস্তায় নামছে। এইটা আমার স্বচক্ষে দেখা। এই ভুল এজাম্পশনে দাড়ায় আপনি যা বলছেন, সেই গুলোকেও আমি একটু আমার অবস্থান থেকে ব্যাখা করি।

আপনি বলেছেন, মধ্যবিত্ত যেহেতু এই সব মুভমেন্ট করে নাই, বা মুক্তিযুদ্ধে পারটিসিপেট করে নাই, এই জন্যে তার মধ্যে একটা গিল্ট কমপ্লেক্স কাজ করে। এবং এই গিল্ট থেকে উদ্যত প্রডাকট হইলো, গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।কারন সে যুদ্ধ করে নাই। যুদ্ধ করছে, আপনার হিসেবে, নিম্নবিত্তের এবং সাধারন খেটে খাওয়া জনগণ।

ইন্টেরেস্টিংলি। মধ্যবিত্ত যুদ্ধ করে নাই, নিম্নবিত্ত যুদ্ধ করছে এবং নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের স্টেক আলাদা- এই ভাবনা গুলো আমার বিগত পাঁচ বছরের প্রডাক্ট মনে হইছে। এই গুলো সাধারণত বিএনপির লোকজনের কাছ থেকে আসে, কেন মিডল ক্লাস রাস্তায় নামে নাই, সেইটার একটা বয়ান তৈরি করার উদ্দেশ্যে।

রাষ্ট্রের কাছে জনগণের যেই দাবী, একটা দুর্নীতিমুক্ত শাসন,অর্থনৈতিক মুক্তি, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং ন্যায় বিচার- যা দিতে পোস্ট নব্বইয়ের দলগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল কিন্তু ব্যর্থ হইছে – এই গুলোর প্রতি চাওয়া এবং এই গুলোর স্টেক নিম্নবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত উভয়ের সেম। উভয়েই, এই গুলোর অভাবে খতিগ্রসত এবং উভয়েই এই অবস্থার পরিবর্তন চায়।

আপনারে একটা ক্লাসিক প্রশ্ন করি। মধ্যবিত্ত না হয়, তার যুদ্ধ না করার গিল্ট কন্সাস নিয়ে, গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার চেতনার এই সব হাইপারবোল সৃষ্টি করছে।এবং সেই গিল্ট নিয়া তারা বিএনপির মিছিলে নামে নাই কিন্তু তাইলে বিএনপির মিছিলে, নিম্ন বিত্তরা কই ?
আওয়ামী লীগের ৫ বছরে, আমি বিএনপির সেই সব মিছিল দেখছি, যেই খানে , বিএনপির প্রাক্তন নেতাদেরকে ৭ থেকে ১০ জনের মিছিল নিয়ে হেঁটে যেতে দেখেছি, হরতালের সময়ে। এবং ওরা সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ে, আমার রিক্সাওয়ালা ভাই একটা ক্লাসিক চিটাগনিয়ান গালি দিছে তাদের দিকে তাকিয়ে , যেই গালিটা এই খানে উল্লেখ করা যাবেনা, কিন্তু সজ্জনেরা বুঝে নিবেন। tongue emoticon

আমি নিজের দিকে তাকায় জানি। আমার বন্ধু, কলিগ, পরিচিত সবার চেহারা দেখে জানি, আমাদের মধ্যবিত্তের কোন গিল্ট নাই।এই নিয়া তার কোন মাথা ব্যথাও নাই। তার আছে, একজিস্টেনস ক্রাইসিস। তার আয় সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। ব্যবসায়, চাকরিতে তার সুযোগ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। তার দিস্পজেব্ল ইঙ্কাম মাই। সে কোর্টে গিয়া ন্যায় বিচার পায়না, পুলিশে গিয়া সে হয়রানি হয়-তাকে ধরতে হয় রাজনৈতিক কানেকশানের কে আছে। তার পরিবারের নতুন গ্রাজুয়েটদের কাজের সুযোগ সীমিত। মামা চাচা না থাকলে, চাকরির সুযোগ নাই। ব্যবসার সুযোগ গুলোতেও এখন রাজনৈতিক লোকজন ঢুকে পরতাছে। সে দেখতাছে, তার ঢাকা থেকে চিটাগন যাওয়ার রাস্তা ৫ বছরেও তৈরি হয় নাই। সে এখন দুর্নীতিরেও মাইনা নিছে। সে জাস্ট একটু সুযোগ চায় যেন, সরকারী চাকরিতে কেউ কোটা খাইয়া না ফেলে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেন সহনশীল থাকে যেন ব্যবসা বানিজ্যে গতি আসে। এই খানে কোন গিল্ট ফিল্ট নাই। এইটা তার একজিস্টেন্সিয়াল ক্রাইসিস। তার একজিস্টেনশিয়াল ক্রাইসিসের যে সমাধান দিতে পারবে, সে তার পক্ষে থাকবে।

আমি আপনার প্রশ্ন গুলোতে অবাক হই, যখন আমি দেখি, এই ক্রাইসিস গুলো সমাধানের চিন্তা করতে বিএনপির ব্যর্থতাকে হাইলাইট করার বদলে আপনি মধ্যবিত্তরে গাইল দিতাছেন, তার ক্ষুধা লাগতাছে সে কান্তাছে ক্যান, সেই এটিচুড নিয়া। যেই এর থেকে বুঝা যায়, এই দেশের মানুষের জীবন যাপনের ক্রাইসিসের সাথে বিএনপির মানসিক দূরত্ব কত দূরে।

শুধু বিগত এক বছরে না, ২০১৩ সালের পূর্বে, পাঁচ বছরে সাধারন মানুষ বেশ কিছু ইস্যুতে যেই পরিমাণ মাইর খাইছে সরকারের কাছে, বিশেষত শেয়ার বাজার ইস্যুতে বিএনপির উদাসীনতা ছিল “ক্রিমিনাল”। বিএনপির আগের আমলে বিএনপিকে নিয়ে যে দুর্নীতি অভিযোগ সেইটা নিয়েও বিএনপি কখনো ক্ষমা চায় নাই। জাস্ট একটা একজাম্পল দেই। ঢাকা শহরে যখন সিএনজি নামাইলো, তখন প্রতিটা সিনএজিতে কত টাকা নেয়া হইছে, এবং সেই এই দুর্নীতির কারনে, ঢাকা শহরের পাবলিক কি ভোগান্তিতে আছে সেইটা মনে করেও, বিএনপির প্রতিদিন মধ্যবিত্তরে সালাম দেয়া উচিত এখনো সে তাকে আওয়ামী লীগের অল্টারনেটিভ মনে করে বলে।

অবাক হই যখন দেখি, আপনেরা সেই সব কারনে, বিএনপিরে ধরেন না কিন্তু মধ্যবিত্তরে, তার পেটের খুধার কান্দনের জন্যে, ইজ্জত লুকিয়ে পাছার কাপড় আঁকড়ে ধরে রাখার জন্যে গালি দেন।

পাবলিকে লেয়ার বাই লেয়ার, দিনের পর দিন, বিএনপির সিন্সিয়ারিটির অভাবটা দেখছে, পাঁচ বছর + ১ বছর। বিগত নির্বাচনের আগে, কে কোন পদ নিবে, সেইটা নিয়া মারামারি শুরু হইয়া গ্যাছিল বিএনপির লোকদের মধ্যে। মানুষ এদের চেহারা বডি ল্যঙ্গুয়েজ দেখে বুঝে, এরা তাদের ব্যাংক একাউন্টে শান দিচ্ছে। প্রস্তুতি নিচ্ছে।এই জন্যে মানুষ বিএনপির ইন্টেন্টকে ডাউট করে। মধ্যবিত্তও করে, নিম্নবিত্তও করে।

বিএনপি যে গণতন্ত্র চায় বলে সেইটা যে ভুল এইটা নিয়ে, আরও একটা বড় নোট লেখা যাবে। অই দিকে যাইতাছিনা। বটম লাইন হইলো, বাংলাদেশের মানুষের এস্পিরেসান আর আগাইতাছেনা এখন কোন মতে, লেসার অফ দা টু ইভিল হইলেও পাব্ললিকের চলবে, এইটা ভুল।

অথচ স্যাডলি এই মধ্যবিত্তের বড় অংশ উপায় না দেখে, বিশেষত আদর্শিক চেতনা দিয়ে দেশের সকল দুর্নীতি এবং লুটপাটকে লুকিয়ে রাখার আওয়ামী স্ট্রেটেজিতে বিরক্ত হয়ে, হয়তো কিছু হবে, এই ভাবনা থেকে বিএনপিকে ভোট দিতে রেডি ছিল।ভোটের সুযোগ পাইলে, বিএনপিরে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে এনে, আরও একটা বড় বাম্বু খাইতে নিজেরে রেডি করছিল। কিন্তু, তারপরেও বিএনপি মধ্যবিত্তরে গাইল দেয়, রাস্তায় নেমে তাকে বাংলার সিংহাসনে বসিয়ে না আনার জন্যে। বিএনপির এই সেন্স অফ এন্টাইটেল্মেন্ট, এই উত্তরাধিকারের ধারনা বিএনপিরে কোথাও নিয়ে যাইতে পারবেনা। আওয়ামী লীগ যেই স্বৈরতন্ত্র এবং কাঠামো তৈরি করছে তাকে ২০৪২ পর্যন্ত টেনে নেয়ার মানি, মাসল, বুলেট, ইন্টেলিজেন্স, পোষা ইন্টেলিজনসিয়া, আইডিয়ালস এবং প্রশাসন ইনফিল্ট্রেসান করা হইছে। এইটাকে ভাংতে হইলে, বিএনপিকে মধ্যবিত্তকে তার শত্রুপক্ষ হিসেবে নিলে হবেনা। তাকে কনভিন্সড করতে হবে। করতে হইলে, বিএনপিরে অনেক ফান্ডামেন্টাল চেঞ্জ করতে হবে। তার ইন্টেন্ট এবং কাঠামো এবং প্ল্যানে, তাকে দেখাইতে হবে, বাংলাদেশের ভুখা শুখা মানুষ নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত সকলকে এগিয়ে নেয়ার মত পরিকল্পনা এবং সিন্সিয়ারিটি তার আছে। নইলে আওয়ামী ল্যাংয়ে উস্টা খাইতে খাইতে বিএনপি ২০১৬ ৫ জানুয়ারি হইতে, ২০৪৩ এর ৫ জানুয়ারি পার করবে, অথবা বিশ্ব ইজতেমার কাছাকাছি ডেট ফালাইতে হবে, কিছু একটা মিরাকলের আশায়।

এই মধ্যবিত্ত নির্বিরোধী শেয়ারে মাইর খাইয়া যখন তার সেভিংস মাইর গেলো, তখনও সে রাস্তায় নামে নাই?মতিঝিলে জরো হইয়া, কিছু মিছিল করার চেষ্টা যারা করছিল, তারা দুইটা লাঠির বাড়ী খাইয়াই, পলাই গ্যাছে।

এইটা তার পলায়নপরতা- এইটা তার ইজ্জতের ক্রাইসিস, এইটা তার নিঃস্পৃহতা। এই জন্যে, তারে আমিও গালি দেই। কিন্তু, অন্তত বিএনপির তাকে গালি দেয়ার কোন অধিকার নাই।

 

আরিফুল হোসেন তুহীন

6th January

জিয়া হাসান সাহেব বিএনপির ডাকে লোকজন আসে না কেন এইটা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন বিএনপি জনগনের পাশে দাঁড়ায় না, এর জন্যে জনগন কনভিন্সড না তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে।

ফাহাম আবদুস সালাম সাহেব এর বিরোধিতা করে লিখেছেন যে, এইসব সমালোচনা যারা করে তারা হচ্ছে আরবান মিডল ক্লাসের সুবিধাবাদী পার্টি। তারা এইবার কেন, কোনদিনও রাস্তায় নামে নাই। তারা এইসব বলতেছে তাদের গিল্ট কমপ্লেক্স থেকে।

এইখানে আমি দুইটা কথা যোগ করি।

এই দেশের অধিকাংশ নিম্নবর্গের মানুষকে যদি প্রশ্ন করা হয় তাহলে তারা দুই পার্টি নিয়েই নাক কুচকাবে। এর কারন হচ্ছে স্বাধীনতার পরে এই দুই পার্টির কোনদিন কোন ইতিহাস নাই সাধারন মানুষের পক্ষে লড়াই করার। সাধারন মানুষের জন্যে প্রয়োজনীয় পলিসি তৈরী করার ইতিহাস তাদের কোনদিনও ছিল না। তাদের সাফল্য হিসেবে যেসকল জিনিস দেখানো হয়, সেগুলো নিওলিবারেল ইকোনমিক পলিসিগুলোর আধাখেচড়া বাস্তবায়নের চেষ্টা। এর বাইরে এই দলগুলোর পারফর্ম্যান্স কার্যত শুন্য। এই নিওলিবারেল ইকোনমিক পলিসির কে কত ভালো প্রয়োগ করতে পেরেছে তা নিয়ে দুইবেলা কাইজ্জা করে এই দুই দল। এখন কথা হচ্ছে নিও লিবারেল  ইকোনমিক পলিসি বাঙ্গালদেশের কি কি ধরনের সুফল নিয়ে এসেছে। জিডিপি গ্রোথ অবশ্যই বেড়েছে। অমর্ত্য সেন আমাদের শিখিয়েছেন, জিডিপি দিয়ে উন্নয়ন না মাপতে। উন্নয়ন মাপা উচিত নাগরিকদের ইফেক্টিভ সক্ষমতা কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে সেটি দিয়ে মাপতে। তাহলে বাংলাদেশ বিশেষ এগোয়নি। এবং জিডিপি বৃদ্ধির ফ্রেইম ওয়ার্কের বাইরে এই দুইদলের কোণ চিন্তাভাবনার কোন নিশানাও পাওয়া যায় নি। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়েও এই দুইদলের কোন ধরনের পার্থক্য নেই। সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পঙ্গু করে দিয়ে প্রাইভেটাইজেশনের যৌক্তিকতা প্রমাণের প্রক্রীয়ায় এই দুই দলই একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে। অবশ্য বিএনপি প্রাইভেটাইজেশনের ব্যাপারে বেশী আগ্রহী। সামনে বিএনপি আসলে ইলেক্ট্রিসিটি/পোস্টাল সার্ভিস ইত্যাদিও প্রাইভেটাইজড হওয়া সময়ের ব্যাপার। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজেও ফ্রী চিকিতসার দিন শেষ হতে সময় নিবে না। আওয়ামী লীগের ইকোনমিক কর্মকাণ্ড এর থেকে দূরে নয়।

ইকোনমিক চিন্তাভাবনা যদি বাদ দেই, তাহলে আসবে তাদের শাসন সম্পর্কিত দর্শন। দুই দলই সংবিধানের অগনতান্ত্রিক অংশগুলোর প্রতি একমত। দুই দলের কেউই দলের অভ্যন্তরে গনতন্ত্রের চর্চা করে না। দুই দলের কেউই এক্সেকিউটিভ এবং লেজিসলেটিভ ব্রাঞ্ছের ভিন্ন প্রধান চায় না। দুই দলের কেউই আর্টিকেল ৭0 এর বিলোপ চায় না। দুই দলই পুলিশী প্রশাসনে বিশ্বাসী।

১০০ জন রিকশাওয়ালাকে যদি জিজ্ঞাসা করি কোন দলের প্রতি তার আত্নিক টান, কেউই কোন রাজনৈতিক দলের নাম বলবে না। তারা ডেসপারেট জীবন যাপন করে, তাদের পাশে এসে কেউই দাঁড়ায় নি কোনদিন, ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে বলে মনে হয় না।

এখন প্রশ্ন দাঁড়াতে পারে ভোটাভুটি নিয়া হাঙ্গামা করা জরুরী কিনা সাধারন মানুষের জন্যে। অবশ্যই প্রয়োজনীয়। ভোটাভুটি কিছুটা হলেও লাগাম দিতে পারে এই দুই লুটপাটতান্ত্রিক দলগুলোকে। অন্তত প্রত্যেকটি দলই পালাক্রমে ক্ষমতার বাইরে থাকার স্বাদ পায় এবং কিছুটা শক্তির ভারসাম্য আসে।

কিন্তু আমাদের পাবলিক ডিসকোর্স শুধুমাত্র ভোটাভুটি কেন্দ্রীক হবে কেন?

এলিট এবং সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেনীর সবসময়ের একটি প্রবণতা হচ্ছে, সাধারন জনগনকে বেকুব ভাবা। তারা সবসময়েই ভাবেন, তারা সবাত্তে বেশী বুঝেন, শুধু বেকুব অশিক্ষিতরাই বুঝলো না। ফাহাম সাহেব বুঝেন ভোটাভুটির জন্যে রাস্তায় নামনই এখন একমাত্র দায়িত্ব। কিন্তু অশিক্ষিত মেরুদণ্ডহীন সাধারন জনতা সেইটা না করে বিএনপিকে দুষাইতেছে।

এইধরনের চিন্তাভাবনার মূল উতস হচ্ছে সাধারন জনগনকে “এজেন্সিশুন্য” ভাবা। তাদেরকে প্যাসিভ ভাবা, তাদের এক্ট করার ক্ষমতা নাই সেইটা ভাবা। আপনি তাদের জন্যে ন্যারেটিভ তৈরী করে দিবেন। তারপর তারা যদি সেই ন্যারেটিভ না গিলে, তাইলে সেইটা তাদের দোষ। কারন আপনি সবাত্তে বেশী বুঝেন।

দুঃখিত ভাইজান। জনগনকে এজেন্সিশুন্য ভাববেন না। তাদের এক্ট করার ক্ষমতা এবং ইচ্ছা দুইই আছে। তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মত এক্ট করে থাকে। নিজের ন্যারেটিভ বানিয়ে নিতে পারে। এলিটগো সাহায্য তার লাগে না। তার জীবনযাপনে এলিটরা কোন কাজে আসে না, এলিটগো কামড়া কামড়িতে তারা কেন যাবে? বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের মোট কর্মী সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ হবে কিনা সন্দেহ। সুতরাং এই কামড়াকামড়িতে বাকি ৯৯ শতাংস যথেষ্ট ইন্সেটিভ ছাড়া আসবে না। এইটাই হচ্ছে বটমলাইন।

জনগন বিএনপির হয়ে মরণপন লড়াই করতেছে না, সেই লড়াই তারা আম্লীগের জন্যেও করবে না কারন তাদের লড়াই করনের কোন ইন্সেটিভ নাই। তাদের বাস্তব সমস্যা সমাধানের আশা তারা ছেড়ে দিছে অনেক আগেই।

ভিয়েতনাম যুদ্ধ সমাপ্ত হবার পরপরই নিয় ইয়র্ক টাইমস এর এডিটোরিয়ালে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে বলা হয়। কিন্তু তাদের সমালোচনা ছিল অনেকটা ট্যাক্টিকাল। তারা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সমালোচনা করেছে। কিন্তু একবার উচ্চারনই করেনি যে যুদ্ধটা আদতে লেজিটিমেইট ছিল কিনা? চমস্কি এর প্রতিক্রীয়ায় বলেছিলেন কিভাবে শক্তির কেন্দ্রগুলো পাবলিক ডিসকোর্সকে সংকুচিত করে। একটি বিশাল সামাজিক সমস্যার বয়ানকে ছোট করে একটি কিংবা দুইটি সহজপাচ্য প্রশ্নে এসে স্থির করে।

একই ঘটনা ঘটেছে এইদেশের রাজনীতিতেও। এলিটরা সবসময় পাবলিক ডিসকর্স ছোট করে নিয়ে আসতে চায়। কারন তারা চায় “টপ ডাউন ম্যানেজমেন্ট”। গত ৫০ বছরে সবকিছুকে বিজনেস এডমিনের দৃষ্টি থেকে দেখার একটি প্রবণতা শুরু হয়েছে। যার ফলে তারা মনে করেন সবকিছুর মূলে হচ্ছে কস্ট বেনিফিট এনালাইসিস। একারনে দক্ষ লোকের সঠিক ম্যানেজমেন্টেই সকল সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে। কন্টেক্সট অথবা সেন্সিটিভিটি বুঝনের দরকার নাই। তারা কখনই বুঝেন না রাষ্ট্র একটি কোম্পানীর মত না। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যান ১৯৯৩ সালে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পেপার লিখেছিলেন, যেখানে তিনি প্রমান করেছেন, কেন রাষ্ট্র একটি কোম্পানী নয় এবং কেন একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক একজন সফল সিইও থেকে মূলগতভাবে আলাদা।

ফাহাম সাহেব জিয়াউর রহমানের ভক্ত। তার এই ভক্তির অন্যতম কারন হচ্ছে জিয়াউর রহমান “মেরিটোক্রেসি” কে গুরুত্ব দিতেন। ফাহাম সাহেব মেরিটোরিয়াস মানুষ, পিএচডিধারী জ্ঞানী মানুষ, সুতরাং তার এই চিন্তা আসতেই পারে, দেশের সমস্যা সমাধানের প্রধান উপায় হচ্ছে মেধাবীদের নিয়ে আসা, সম্ভবহলে সকল যায়গায় পিএইচডিদের ইন্সটল করা। তিনি অনেক সময় আওয়ামী লীগের “গ্রাম্যতা” এবং “লাড্ডাগাড্ডা” প্রবণতার সমালোচনা করে। এই সমালোচনা যতটা না আওয়ামী লীগের তারচেয়ে বেশী “গ্রাম্যতার” সমালোচনা। তার উচ্চরুচি এইসব গ্রাম্যতা দ্বারা আহত হয়। এইসব “গ্রাম্যতা” বিষয়ক ডিসকোর্স পুরোপুরিই সামাজিক সেগ্রেগেশনের জন্যে উদ্ভাবিত তত্ব। বড় বড় দুর্নীতিবাজের পাশে বসে খেতে আমাদের জাত যায় না, রিকশাওয়ালার পাশে খেতে আমাদের জাত যায়। সুতরাং তিনি যে মেরিটোক্র্যাসি অথবা পিএচডিপন্থার প্রতি আস্থা রাখছেন, সেটি কতটুকু মেরিটের জন্যে আর কতটুকু সমাজের উচ্চবর্গের অহমিকা থেকে উতসারিত সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়।

এই দেশের প্রধান সমস্যা এইটা নয় যে এই দেশ যারা চালায় তাদের সবার পিএইচডি নেই। এই দেশের প্রধান সমস্যা এইটাও নয়, যে গ্রামের রিকশাওয়ালা গড়গড় করে কীটস কিংবা নীতশে আওড়ায় না। অনেক পিএইচডি ধারী দুই দলের ধামা নিয়ে ঘুরছেন। সুতরাং মেরিট অটোম্যাটিক্যালি সমাধান নিয়ে আসবে এইটা সম্পূর্ণ ভূল এবং বিভ্রান্ত ধারনা। এই ধারনার উতসও হচ্ছে নিম্নবর্গের সাধারন মানুষকে “এজেন্সিশূণ্য” ভাবা। তাদের ভালোমন্দ ভাবার ক্ষমতা তাদের নেই সেটি ভাবা। তাদের ভালোমন্দ শুধু বুঝবে এলিটরা। পিএইচডীওয়ালারা।

বারট্রাণ্ড রাসেল বারবার শিক্ষিত এবং নিম্নবর্গের সাথে বিচ্ছিন্ন বুরোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে বলেছেন। এর অন্যতম কারন, এরা যে পলিসি তৈরী করে, সেই পলিসি যে সমাজ বাস্তবতায় প্রয়োগকৃত হবে, সেই বাস্তবতায় ঐ আমলারা বসবাস করেনা। সুতরাং সকল প্রকার মেরিটোক্র্যাসির নামে প্লুটোক্র্যাসি আদপে সমাজের অর্ডার ও স্ট্যাটাস কো বজায় রাখনের হাতিয়ার।

নিম্নবর্গের সাধারন মানুষের জন্যে যেটি প্রয়োজন সেটি পিএইচডিদের খবরদারী নয়। তাদের দরকার তথ্য। পিএইচডিরা যদি আদপেই রেসিস্ট চিন্তাভাবনা থিকা মুক্ত হত, তাহলে নিম্নবর্গের মানুষকে তথ্য সরবরাহ করত। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক খবরদারী থেকে দূরে থাকত। সমস্যা হচ্ছে এলিটরা সেইটা কখনই করে না। তারা তথ্য নিজের কাছে রাখে। নিম্নবর্গের সাথে কমিউনিকেট করে না। এবং হঠাত করে নিম্নবর্গের মানুষের উপর নেমে আসে পিএইচডিধারীদের তৈরী পলিসি। যেই পলিসি তৈরীর সময় তার সাথে কথা বলার কোন প্রয়োজন এলিটরা বোধ করে না। কারন, তারা যথারীতি সবাত্তে বেশী বুঝে।

শাহবাগ আন্দোলনের সময় বিএনপিওয়ালার নাখোশ হচ্ছিলেন কারন শাহবাগওয়ালার কেন রাষ্ট্রের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কিছু বলছে না এই জন্যে। আজকে ফাহাম সাহেব নাখোশ হচ্ছেন, কেন বিএনপিকে ভোটের বাইরে অন্যকোন পরিবর্তনের কথা বলতে হবে? এই মুহুর্তে তো ভোটই নাই, অন্যকিছু বলে তাই লাভ নাই।

সুতরাং ফাহাম সাহেবের এই বক্তব্যে বৃত্তটি সম্পূর্ণ হল। এককালে তিনি বিরোধীপক্ষকে পাবলিক ডিসকোর্স সংকুচিত করার দায়ে দোষারোপ করছিলেন। আজকে তিনি নিজে বিএনপির সংকুচিত ডিসকোর্সকে প্রাণপনে ডিফেণ্ড করছেন।

যতদিন আমদের রাজনৈতিক দলগুলো ভাববে গনতন্ত্রে নির্বাচনের চেয়ে জরুরী কিছু নেই, আর নির্বাচনের বাইরে রাজনৈতিক কোন স্পেইস নেই, ততদিন তাদের কামড়াকামড়ি জমিদারদের কামড়াকামড়ি হয়েই থাকবে। এর কোন মূল্য সাধারন মানুষের কাছে তৈরী হবে না। সাধারন মানুষ এই ফানুশের পেছনে দৌড়াবেও না। গুণ্ডাপাণ্ডারা একে অপরের মাথায় লাঠির বাড়ি মেরে শক্তির লড়াই খেলবে। বিএনপির কর্মসূচীতে মানুষ না থাকাই উলটা মানুষকে দোষারোপ করার এই আকুতি প্রমাণ করে আসলে তাদের কোথায় লাগছে। আওয়ামী লীগের গুণ্ডাপাণ্ডাদের সাথে তাদের গুণ্ডাপাণ্ডারা পেরে উঠছে এইখানেই তাদের ক্ষোভ। মাইরপিট এবং লুটপাট যেই রাজনৈতিক দলগুলোর বৈশিষ্ট্য এবং যারা শক্তিপরীক্ষায় কখনই পিছিয়ে যেতে চায় না, তারা আজকে মার খেয়ে যদি বলে “আমি ভদ্র, মারামারি করি না” সেইটা হাস্যকর কথা হয়ে যায়।

এখন পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলনে প্রমাণ হয়েছে তাদের গুণ্ডামি করার ক্ষমতা আওয়ামী লীগের চেয়ে কম। এইটা এফিশিয়েন্সির ব্যাপার। নীতির নয়। আজকে যদি বিএনপি আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশী গুণ্ডামীর সুযোগ পেত, তারা তাদের “আমরা ভদ্রের দল” ইত্যাদি বলে পাশ না কাটিয়ে সেই গুণ্ডামীর সর্বোচ্চ সুযোগ গ্রহন করত।

ফাহাম সাহেবের একটি কথা দিয়ে শেষ করি। তিনি বলেছেন সাধারন মুক্তিযুদ্ধাদের চিন্তাভাবনা এত সফিস্টিকেটেড ছিল না। এইখানেও তিনি ভেবেছেন বাংলার সাধারণ যে কৃষকটি যুদ্ধে গিয়েছে তার কোন এজেন্সি নেই। আসলে যেটি নেই সেটি হচ্ছে তার আশা আকাঙ্খাকে এলিটদের উপযোগী ভাষায় প্রকাশের ক্ষমতা। কিন্তু যুদ্ধের ন্যায্যতা তার কাছে ঠিকভাবেই প্রতিভাত হয়েছে। জনযুদ্ধের জন্যে যা কিছু প্রয়োজনীয় সবই তার ছিল। ছিলনা শুধু এলিটদের সাথে কমিউনিকেট করার ক্ষমতা। জনযুদ্ধের জন্যে এই গুনের কোন দরকার নেই। এই গুনের দরকার পরে যুদ্ধের পরে, যখন এলিটরা লুটপাট শুরু করে, সেই এলিটদের কাছে আবেদন জানানোর জন্যে।

এই লুটপাটতান্ত্রিক এবং গুণ্ডাপাণ্ডানির্ভর সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি অনাস্থা জানাইলাম। আমি অনেক দেরীতে জানাইছি। সাধারন জনগন বহু আগেই অনাস্থা জানাইছে।

আরিফুল হোসেন তুহীন-2

6th January

আমার আগের নোটটির [১] প্রতিক্রীয়া হিসবে Shafiqur Rahman নীচের মন্তব্যটি করেছেন।

“What is the use of this kind of speculations without the support of any empirical social science research? Before constructing castles of social hypotheses, one should at least try to build a foundation of information. I think it is very irresponsible to ascribe motives upon general masses without knowing what they really think. The common people ofcourse spent more time worrying about bread and butter issues but they are human beings too and 20th century social science have taught us one thing repeatedly, higher order purpose and dignity is important for human beings of all classes”

আমার নোটে প্রধানত দুইটি ব্যাপার ছিল।

প্রথমত সাধারন মানুষের এজেন্সি। দ্বিতীয়ত সাধারন মানুষের রাজনৈতিক আইডিন্টেটি রক্ষার জন্যে ইন্সেটিভ স্ট্রাকচারটি আসলে কি? এই দুইটি ধারনা কি এম্পিরিক্যালি এস্টাবলিশ করা যায়?

প্রথমেই এজেন্সির প্রসঙ্গে আসি।

এজেন্সির যে আলোচনা বিংশ শতকের দ্বিতীয়ভাগে হয়েছে সেটি কিন্তু কোণ “তথ্য” অথবা “টেক্সট” কে অস্বীকার করে না। বরং “তথ্য” বা “টেক্সট” কে ভিন্নভাবে পড়ার কিছু উপায়ের কথা বলে। তাদের দাবীটি হচ্ছে, একই তথ্য বা টেক্সটকে আগে যেভাবে পড়া হত এবং ইন্টারপ্রেট করা হত, সেই পড়ার পেছনে পাঠকের কিছু বায়াস কাজ করেছে। সুতরাং টেক্সটগুলো নতুন করে পড়তে হবে।

একটি সাধারন উদাহরন দেই।

ব্রিটিশ ঐতিহাসিকরা এই অঞ্চলে ত্রয়োদশ শতক থেকে শুরু হওয়া তুর্কি/আফগানী শাসনকে “ইসলামী” শাসন এবং সেই শাসনকে ধর্মের মাধ্যমে চিহ্নিত করা শুরু করেন। তাদের সামনে প্রধানত যে তথ্য প্রমাণ ছিল, সেগুলো হচ্ছে, প্রত্যেকটি সুলতানের দরবারে তার কাজকর্ম ক্রনিকেল লেখার জন্যে কয়েকজন নিযুক্ত থাকত। এরা প্রধানত সুলতান কতটুকু ইসলামভক্ত এবং ইসলামের প্রচার প্রসারে কতটুকু কাজ করত সেগুলো ডালাপালা দিয়ে বর্ণিত থাকত। এছাড়াও প্রতিটি সুলতান বিভিন্ন পীর দরবেশের আশীর্বাদ লাভের চেষ্টা করতেন সেটিরও বর্ণনা থাকত। বলা বাহুল্য এইসব অতিরঞ্জিত বয়ানে বাস্তবতা সামান্যই থাকত। পরবর্তীতে একই টাইম ফ্রেইমের বিভিন্ন সংক্সৃত লিটারেচার ঘেটে দেখাগেল উচ্চবর্ণের হিন্দুরা এই আক্রমণকারী শাসকদের “মুসলিম” হিসেবে আইডেন্টিফাই করতেছেন না। আইডেন্টিফাই করতেছেন “টার্ক” বা “আফগানী” হিসেবে। যার ফলে উনিশ শতকের ব্রিটিশ ঐতিহাসিকদের “ইন্টারপ্রেটেশন” বিপদের মুখে পরে। নতুন ইন্টারপ্রেটেশন কিন্তু আগের তথ্যকে অস্বীকার করেনি। কিন্তু নতুন ইন্টারপ্রেটেশন যেটি করেছে, সেটি হচ্ছে আগের তথ্যের সাথে তথ্য উতপত্তির কনটেক্সট যোগ করেছে। ব্রিটিশ ঐতিহাসিকরা কনটেক্সট বোঝেননি। রাজদরবারে লেখা সুলতানের প্রশস্তিমূলক ক্রনিকেলকে তারা নির্ভরযোগ্য ইতিহাসের উতস মনে করেছেন। কোণ পরিস্থিতিতে ক্রনিকেলগুলো লেখা হয়েছে সেই কনটেক্সটি এখানে যোগ করার গুরুত্ব অনেক পরের ঐতিহাসিকরা বুঝতে পেরেছেন।

এখন নিম্নবর্গের মানুষ সম্পর্কে সাধারন যে চিন্তা আছে সেটিকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ আছে।

যেমন বাংলাদেশে একটি সাধারন ধারনা প্রচলিত আছে, যে দেশের অধিকাংশ মানুষ শিক্ষিত নয় তাই দেশের লোকে কিছু বুঝতেছেনা, এবং বারবার লুটেরা রাজনীতির কাছেই আত্নসমর্পন করতেছে। যদিও এইটা মোটামুটি প্রমাণিত, উচ্চশিক্ষা সবসময় মানুষকে নৈতিকতা, সাম্য ইত্যাদির শিক্ষা দেয় না। শিক্ষিত মানুষরা দুই নাম্বারি করতে কখনই পিছিয়ে থাকে না। সুতরাং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রায়োগিক গুরুত্বের বাইরে তাকে “সঠিক নাগরিক” হওনের মাপকাঠি চিন্তা করার মাঝে ঘাপলা আছে। শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনা সংগঠনের কিছু টুলস প্রোভাইড করে। কিন্তু এই টুলসগুলো দিয়ে আমি কি করব সেইটি পুরোপুরি আমি এবং আমার সমাজ বাস্তবতায় ঠিক হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কোন মানুষের ইন্ট্রিন্সিক গুন নয়। এইটা নির্ভর করে সুযোগ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচারের উপর। যাদের এই প্রিভিলেজ থাকে তারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পায়। তাদের কাছে তথ্যের পরিমাণ বেশী থাকে।

আধুনিক সমাজের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে আমরা মনে করি জ্ঞান = ক্ষমতা। অর্তাত আপনি যদি বেশী তথ্যের অধিকারী হন, কম তথ্যের অধিকারীদের উপর আপনার খবরদারী করনের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়। অথচ, বিষয়টা হওয়া উচিত ছিল ভিন্ন। যেহেতু আমরা এই ব্যাপারে একমত হতে পারি, যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষের কোন জন্মগত গুন নয়, সেহেতু যার কাছে তথ্য বেশী, তার উচিত ছিল যার কাছে তথ্য কম তাকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করা। তার উপর খবরদারী করা নয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমরা মনে করি যাদের “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা” নাই, তাদের “এজেন্সিও” নাই। সুতরাং তাদের নিজেদের ভালোমন্দ বুঝারও ক্ষমতা নাই। তাই বেশী তথ্যওয়ালারা কমতথ্যোয়ালাদের উপরে খবরদারী করবে। কারন বেশী তথ্যোয়ালারা বেশী বুঝে। এই প্যারাডাইমের সমস্যা হচ্ছে, আমরা ভুলে যাই কনটেক্সট এর কথা। উড়িরচরের আইজুদ্দীনের সমস্যা সচিবালয়ের আইজুদ্দীন সমাধান করতে পারবে না। যেটা হওয়া উচিত, উড়িরচরের আইজুদ্দীনকে জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো তথ্য সরবরাহ করবে। এবং উড়িরচরের আইজুদ্দীন যেইটা ঠিক মনে করবে সেইটা করবে। বিশ্বব্যাপি পাবলিক হেলথ প্রজেক্টগুলো মোটামুটি সফল হয়েছে, কারন তারা এই কনটেক্সটের ব্যাপারটা মাথায় রেখেছে। তারা শুধু মায়া বড়ি আর পোলিও টিকা নিয়া গ্রামে যায় নাই, তারা এর কনজাম্পশনের জন্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছে। এবং শেষপর্যন্ত সিস্টেমটাকে ভলান্টারি রেখেছে। যাতে মানুষ স্বত”স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহন করে।

কিন্তু সামাজিক অর্থনৈতিক প্রজেক্টগুলো , এই প্রোজেক্টের সাবজেক্ট পপুলেশনের মতামত বা সেই পপুলেশনকে কনভিন্স করার প্রয়োজন খুব একটা মনে করে না। এর কারন যথারীতি সাধারন জনগনকে “এজেন্সিশুন্য” ভাবা। তাদেরকে প্যাসিভ ভাবা, তাদের এক্ট করার ক্ষমতা নাই, এইটা ভাবা।

এখন জনগনের এজেন্সি আছে কি নাই, সেইটা কি স্পেকুলেটিভ না এম্পিরিক্যাল?

এইগুলো এম্পিরিক্যাল বেসিসের উপরে বসানো যায়।

আবারো উদাহরন দেই। উনিশ শতকের আমেরিকায় যখন দাস প্রথা প্রচলিত ছিল, তখন দাসদের মধ্যে ভিন্ন একধরনের “সংস্কৃতি” চালু ছিল যা তার সাদা প্রভুদের থেকে আলাদা। এইটা একটা এম্পিরিক্যাল ফ্যাক্ট। এখন এইটাকে ইন্টারপ্রেট করার চেষ্টা করা যাক। একই টাইম স্পেইসে দুইটি জনগোষ্টী বসবাস করেও কেন তারা ভিন্ন সংস্কৃতি লালন করবে। দাস প্রত্যক্ষভাবেই তার সাদা প্রভুদের সংস্কৃতি দেখতেছিল। এখন তারা সাদাদের সংস্কৃতি কিন্তু এমুলেট করার চেষ্টা করে নাই।

উনিশ শতকের বাংলায় বাংলা ইংরেজী নাটক/সাহিত্যের হিড়িক পরেছিল। ধরেন যেই বাগানবাড়িতে এইসব নাটক হইত, সেখানকার কর্মচারীরা এইগুলো দেখত। কিন্তু সেই কর্মচারী যখন নিজের সামাজিক স্পেইসে ফেরত যাইত তখন তার সংস্কৃতি নির্দিষ্টভাবে ভিন্ন ছিল তার প্রভুদের সংস্কৃতি থিকা। তারাও প্রভুদের এমুলেট করার চেষ্টা করে নাই।

এই ঘটনাটার ইন্টারপ্রেট কিভাবে করা যায়?

একটা সহজ ইন্টারপ্রেটেশন হচ্ছে, এরা অশিক্ষিত লোকজন, তারা হ্যামলেট/শর্মিষ্ঠার মূল্য বোঝে না। ভালো যুক্তি। কিন্তু এই যুক্তির একটা বড় সমস্যা হইতেছে, এইটা প্রথমেই ধরে নেয়, “হ্যাম্লেট”, “শর্মিষ্ঠা” উন্নত সংস্কৃতি, এবং নিম্নবর্গের মানুষ সেইটা অনুসরন করতেছে না অজ্ঞতাপ্রসূত। অর্তাত এইখানে প্রশ্নটা সক্ষমতার। উচ্চবর্গের শিক্ষিত মানুষের “হ্যামলেট” বোঝনের ক্ষমতা আছে। নিম্নবর্গের মানুষেরাও এইগুলো করত যদি তাদের সেই সক্ষমতা থাকত। কিন্তু হোয়াট ইফ, নিম্নবর্গের মানুষের কাছে এইগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনেই হয় নাই? কারন যদি এমন হতো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হইছে তারা চেষ্টা করত এগুলো এমুলেট করতে। সেই এমুলেশন হয়ত বেশী ভালো হইত না। কিন্তু এইরকম কোন আগ্রহ তারা দেখায় নাই।

এখন পৃথিবীর সকল এলাকায় নিম্নবর্গের মানুষ যে তার প্রভুদের থিকা ভিন্ন সংস্কৃতি লালন করছে। কেন করছে সেইটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। কলোনাইজার কিংবা তাদের দেশীয় সহযোগীদের কাছে এর ব্যাখ্যা হচ্ছে, তারা এতই নির্বোধ যে কলোনাইজারদের সংস্কৃতি যে উন্নত সেইটা বুঝতেছে না।

এই নির্বুদ্ধিতার যুক্তি ধোপে টেকে না। অন্যকিছু বাদ দেন। শুধুমাত্র বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাস্টা দেখেন। তারা কিধরনের বুদ্ধি, সাহস ইত্যাদি দেখাইছে। তারা এমন কঠিন পরিবেশে অপারেট করছে, যেই কঠিন পরিবেশের কথা আজকের বিম্পি কিংবা আম্লীগ কল্পনাও করতে পারবে না। অপ্রেশন কাকে বলে এই মেইনস্ট্রীম রাজনৈতিক দলের আসলে জানাই নাই।

সুতরাং দেখাযাচ্ছে তাদেরকে সংগঠিত হবার ক্ষমতা, আত্নত্যাগের ক্ষমতা, কোনটারই কমতি নাই। তাহলে তারা মেইনস্ট্রীম রাজনীতিতে আসে না কেন?

এইখানে আসবে ইন্সেন্টিভ এর কথা। আমার নোটের এই অংশটা আসলে সাধারন অর্থনীতি। ইন্সেন্টিভ ছাড়া কিছুই হয় না। ইন্সেন্টিভ বলতে শুধু ম্যাটেরিয়াল জিনিসপাতি বোঝায় না। ইন্সেন্টভ বলতে বোঝায় , একজন ব্যক্তি যাকিছু গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।

এখন সহজ একটি উদাহরন দেই। যেকোন মানুষের কাছে আত্নসম্মান গুরুত্বপূর্ণ। এখন একজন রিকশাওয়ালা নিয়মিত চড় খেয়ে থাকে। কাজের বুয়া খুন্তির খোচা খেয়ে থাকে। এইগুলো তাদের আত্নসম্মানে আঘাত করে। এখন এমন কোন আন্দোলন যদি হত, যা নিম্নবর্গের মানুষের এইসব অসম্মান বন্ধ করার জন্যে কাজ করছে, এই মানুষগুলোর ইন্সেন্টিভ থাকত সেই আন্দোলনে যোগ দেয়ার।

এমনি করে অসংখ্য ইন্সেন্টিভের লিস্ট করা যাবে যেগুলো অধিকাংশ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

এই লিস্টের অনেক নীচে অবস্থান করে শাস্তি দেয়ার প্রবনতা। (কিছু এম্পিরিক্যাল স্টাডি আছে, যে মানুষ ক্ষতিপূরণ পাইলে শাস্তি দিতে আগ্রহী হয় না) এই শাস্তি দেওনের প্রবনতা থেকে বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেয় প্রধানত। বাংলাদেশের সকলের মনে এই ধারনাটা বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে “সরকার পরিবর্তনের সাথে কোন কিছুই পরিবর্তন হবে না”। সুতরাং ভোট দেয়াটা মূলত একধরনের কনভিনিয়েন্ট প্রটেস্ট যা ছুটির দিনে ৩০ মিনিট খরচ করে করা যায়। এইখানকার খুব কম ভোটই “পরিবর্তনের আশায়” ভোট।

এখন মধ্যবিত্তের সমস্যা হচ্ছে ভিন্ন। মধ্যবিত্ত/উচ্চবিত্ত সামাজিক ভাবে নিম্নবর্গের মানুষের মত অসম্মান এবং নিগ্রহের জীবন যাপন করে না। সুতরাং তাদের কাছে সম্মান বা ডিগনিটির চিন্তাভাবনা নিম্নবর্গের মানুষের থেকে আলাদা। তারা উদারনৈতিক গনতান্ত্রিক মূল্যবোধের ব্যাপারে সেন্সেটিভ। এইসব ভায়োলেট হলে তারা ক্ষেপে উঠে।

আপনার আমার দুইবেলা চড় খাওনের সমাজ বাস্তবতা নাই। সুতরাং এখন আপনি আর আমি বসে যদি বলি “মোরাল এবং লজিক্যাল” দাবীগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তখন সেইটা আমাদের সমাজ বাস্তবতায় পুরোপুরি ঠিক আছে। কিন্তু ভিন্ন সমাজ বাস্তবতার একজনের কাছে যদি এই “মোরাল এবং লজিক্যাল” দাবীগুলো “কম” গুরুত্বপূর্ণ হয়(গুরুত্বহীণ না কিন্তু) তাইলে তাদের দোষানোর কিছু নাই। এইটাই আমার বক্তব্য। আমি যদি প্রতিদিন লাথি খাইতাম, এবং জানতাম, এই লাথি খাওনের কোন শেষ অদুর ভবিষ্যতে নাই, তখন, আমি যদি সিদ্ধান্ত নিতাম আমি “লাথি না খাওনের” রাজনীতিতে মনোযোগ দিব, ইলেক্টোরাল পলিটিক্স এর চেয়ে তাইলে আমাকে দোষ দেয়া কি ঠিক? যে রাজনৈতিক শক্তি আমার লাথি খাওন আটকাতে পারবে না, এবং আমাকে লাথি দেয়া লোকজনের সাথে মৈত্রী করে চলবে, তার প্রতি যদি আমি অনাস্থা জানাই, তাইলে আমাকে দোষারোপ করা ঠিক কি না?

সমাজের কোন মানুষের সার্বজনীন দায়িত্ব কর্তব্যের বয়ান তৈরী করার মধ্যে একটা হিপোক্র্যাসি আছে।

সমাজ বাস্তবতা না বিবেচনা করে সবার কাছে একই জিনিস “মোরাল এবং লজিক্যাল” প্রতিভাত হয়না এই আণ্ডারস্ট্যাণ্ডিং তৈরী হওনেরও দরকার আছে।

 

ফাহাম আবদুস সালাম -2

7th January

বাংলাদেশের আরবান মিডল ক্লাসকে নিয়ে আমি এক খান লেখা লিখেছিলাম দুদিন আগে। তার প্রতিক্রিয়ায় জিয়া হাসান, আরিফুল হোসেন তুহিন ও জায়েদ উল্লাস তিনটা লেখা লিখেছেন। তার প্রতিক্রিয়ায় এই লেখা।

তিনটা লেখার অনেক ব্যাপারেই আমি একমত। বিশেষত বিএনপির রাজনীতির সমালোচনায় তারা যা লিখেছেন আমি তা মোটামুটি সমর্থন করি। কিন্তু এই তিনটা লেখার একটা মূলসুর আছে যার সাথে আমি একমত না। তারা প্রত্যেকেই বলেছেন যে বাংলাদেশে দুই দলের কামড়াকামড়ি চলছে। আরবান মিডল ক্লাস ভাবছে যে এই কাজিয়ায় আমার কোনো ইনসেনটিভ নাই (আরিফুল হোসেন তুহিনের আরবান মিডল ক্লাস ও “নিম্নবর্গের” মাঝে বিপজ্জনক রকমের ওভারল্যাপ মনে হয়েছে আমার কাছে)। বিএনপিও তাদের কনভিন্স করতে পারে নাই । কাজেই আরবান মিডল ক্লাস যে বিএনপির ক্ষমতার লড়াইয়ে পার্টিসিপেট করবে না – এই ব্যাপারটাকে তারা “জাস্টিফাই” করেছেন।

এবং সে সাথে তারা আমার বক্তব্যকেই রিইনফোরস করেছেন। বুঝিয়ে বলি।

গণতন্ত্র স্ট্যাবলিশ হতে যে সময় লাগে এ ব্যাপারে কেউ আশা করি ভিন্ন মত পোষণ করবেন না। বৃটেনের দুইশ বছর আগের গণতন্ত্রের যে রূপ ছিলো সেটা এমন কি আজকের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও হাস্যকর ঠেকতে পারে। কিন্তু তাদের উত্তরণ ঘটেছে। দেড়শ বছর আগের ব্রিটেনে মেয়েদের ভোটাধিকার নাই দেখে জন স্টুয়ার্ট মিল পড়া উচ্চ-মধ্য বিত্তের সাফ্রাজিস্ট নারীদের জন্য খুব সহজ ছিলো দর্শক হয়ে বসে থাকা – ভাবা যে সমাজের সব পুরুষ কামড়াকামড়িতে ব্যস্ত আমাদের কী দরকার এই কাজিয়ায় যাওয়ার? কিন্তু তারা আন্দোলন করে ভোটাধিকারের দাবী আদায় করে নিয়েছিলেন।

এই উত্তরণ পর্ব কিন্তু বন্ধ হয়ে যায় নি – এখনও চলছে। প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশে এখনো চলছে – কেউ এগিয়ে আছে, কেউ পিছিয়ে। বাংলাদেশে যে লুটপাটতন্ত্র চলছে সেটা বাংলাদেশের একক আবিষ্কার না। প্রায় প্রতিটি দেশেরই কোনো না কোনো পর্যায়ে কাছাকাছি মাপের লুটপাটতন্ত্র জারি ছিলো। তো এই লুটপাটের বেনিফিশিয়ারিরা আল্লাহর ভয়ে লুটপাট বন্ধ করবে – এমনটা নিশ্চই কোনো কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন মানুষ আশা করবেন না। সে সব দেশে লুটপাট সীমিত হয়েছে কীভাবে? এর সরল কোনো উত্তর নেই কিন্তু একটা মৌলিক মিল আছে সব গণতান্ত্রিক দেশে। জনগণ লড়াই করে তার অধিকার স্ট্যাবলিশ করে রাজনীতিবিদদের তাদের পক্ষে পলিসি বানানোর জন্য বাধ্য করেছে। য়েস, খেয়াল করুন – জনগণ লড়াই করেছে এবং পলিসি মেকারদের বাধ্য করেছে।

লুটপাট তুরুপ বন্দোবস্ত – এটা এমনি এমনি সীমিত হয় না।

বাংলাদেশে যে এই মুহুর্তে খুবই কুৎসিত একনায়িকাতন্ত্র চলছে এটা কারো অজানা না। ভোট গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত না – মানি কিন্তু ভোটাধিকার গণতন্ত্রের সর্বপ্রথম শর্ত। সেই ভোটাধিকারও বাংলাদেশের মানুষের আজকে নেই। ২০০৬ সালে বিএনপি ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলো কিন্তু তারা সফল হয় নি। কারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছিলো। যদিও ২০০৯ এর নির্বাচন ষড়যন্ত্রমূলক ছিলো কিন্তু আমি এই নির্বাচনকে এক্সেপ্ট করি কারণ নির্বাচনের দিনে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলো। এবং এও মানি যে নির্বাচন ষড়যন্ত্রমূলক না হলেও বিএনপি হারতো কারণ জনগণ বিএনপিকে চায় নি।

আপনি যদি গণতন্ত্রে ঈমান আনেন তাহলে তাহলে আপনাকে স্বীকার করতে হবে যে জনগণের কিছু ইনভায়োলেবল রাইটস আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন তার মধ্যে অন্যতম। প্রশ্ন হোলো এই রাইটস যখন অনুপস্থিত তখন সেটা স্ট্যাবলিশ করার দায় কার?

তিনজন লেখকই এই দায় থেকে আরবান মিডল ক্লাসকে মুক্তি দিতে চান কারণ তারা জানেন যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের যে পার্থক্য সেটা লুটপাটের মাত্রার পার্থক্য – আদর্শের পার্থক্য না। জনগণ কেন তাদের কামড়াকামড়ির দায় নেবে? মিডল ক্লাসের এই কনশাস ডিসিশন সম্পূর্ণ এক্সেপ্টেবল তাদের কাছে।

তাদের এই চিন্তাই প্রমাণ করে কেন আমরা আজো পলিটি হতে পারি নি, কেন আমরা সমাজ বুঝি কিন্তু রাষ্ট্র বুঝি না। সমাজে দুই জনের কাজিয়ায় দর্শক হওয়ার সুযোগ আছে কারণ সমাজের কাজিয়া কমপ্লেক্স না। রাষ্ট্রের কাজিয়ায় আমাদের সবার স্বার্থ জড়িয়ে আছে – এটাকে ইগনোর করার কোনো উপায় নেই। সমাজের বাইরে যাওয়ার আপনার সুযোগ আছে, ধর্মের বাইরে যাওয়ার আপনার সুযোগ আছে কিন্তু আপনার রাষ্ট্র-নিরপেক্ষ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

জিয়া হাসানের ভাষায় এই কাজিয়ায় জনগণের কোনো ইনসেনটিভ নাই। ওয়েল, এই কাজিয়ায় বিএনপি জিতলে আর কিছু না হলেও জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে। এইটা যদি জনগনের ইনসেনটিভ না হয়ে থাকে তাহলে আরবান মিডল ক্লাসের গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা এইসব গালভরা কথা মুখে আনা উচিত না।

আমি বলছি অবশ্যই ভোটাধিকার জনগনের জন্য একটা ইনসেনটিভ। ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারা যদি আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনে আমাদের অবশ্যই সেটা মেনে নিতে হবে।

তারা মনে করছেন খারাপ থেকে খারাপতর হয়ে ওঠাই একমাত্র গন্তব্য – তাই এই যাত্রায় দর্শক হয়ে থাকাটা উচিত না হলেও একসেপ্টেবল। আমি বলছি না। এই লুটপাটতন্ত্র থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি যদি সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে আরবান মিডল ক্লাস এই রাষ্ট্রের ওপর তাদের ঔনারশীপ এসার্ট করে।

আপনাকে বিএনপিকে কেন সাপোর্ট করতে হবে? বিএনপি লুটেরাদের দল মেনে নিলাম কিন্তু বিএনপির আন্দোলনের কজটা তো আমার আপনার সবার কজ। সাধারণ মানুষ তার ঔনারশীপ এসার্ট করে না দেখেই তো বিএনপি-লীগ লুটপাটের সুযোগ পায়। আপনি মনে করেন যে বিএনপি-আওয়ামী লীগ খারাপ। ভালো কথা। থার্ড কোনো ফোর্সকে তো তাহলে আসতে দিতে হবে। একনায়িকাতন্ত্রে তো সে উপায় নেই। ব্যাপারটা কি এমন না যে আপনার দর্শক হয়ে থাকাটাই লুটপাটতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ইন্ধন?

চেষ্টা করে দেখতে পারেন – নাক টিপে বন্ধ করে আপনি যদি কমলা (বাংলাদেশে যে ফলটাকে মালটা বলা হয়) খাওয়ার চেষ্টা করেন কোনোদিনও বুঝবেন না যে আপনি আসলে কী খাচ্ছেন। এটাই বাস্তবতা। আমাদের আরবান মিডল ক্লাস এই অসম্ভব কাজটাই করতে চান। তারা গণতন্ত্র চান কিন্তু লীগ-বিএনপির কাজিয়া চান না। তারা বুঝতে চান না যে লীগ-বিএনপির কাজিয়া থেকে আপনার বাঁচার কোনো উপায় নেই। আরবান মিডল ক্লাসই শুধু পারে দুই দলকে গণতন্ত্রে বাধ্য করতে। এই দায়িত্ব যতোদিন তারা অগ্রাহ্য করবে ততোদিন লালুভুলুদের অত্যাচার থেকে তাদের নিস্তার নাই।

 

নায়েল রহমান

7th January

 

নিউজফীড জুইড়া বিতর্কের কারণে নাক গলানোর একটা তাগিদ বোধ করলাম। নিজের মিডেল ক্লাস ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণেই কিনা পৃথিবীর সবচেয়ে হতভাগ্য (ম্যালাইন্ড সেন্সে) ইকনোমিক ক্লাস হিসেবে মিডেল ক্লাসরেই মনে হয়। বাংলাদেশেতো আরও বেশি। পলিটিক্যাল স্পেক্ট্রামের বাম থেকে শুরু করে (ইদানীংকালের) ডান পর্যন্ত সবাই এর উপর খাপ্পা। সবাইর ধারণা এই ক্লাসটার নিরুত্তাপ আচরণের কারণেই দেশে কিছু ‘হয়টয়’ না। মাঝেমধ্যে মনে হয় মানবসভ্যতার সকল পরিবর্তনের জন্যেও মানুষ এদেরেই দায়ী করে। বওহাত আচ্ছা। সব দোষ মিডেল ক্লাসের ধইরা নিয়াই একটু চিন্তাভাবনা করা শুরু করলাম, যার ফলাফল নিচে সন্নিবেশিত হইলঃ

মিডেল ক্লাস কী করেনাই তা নিয়া অনেকেই অনেক কিছু বলেন তাই গত দুয়েকদিন ধইরা ভাবতেছিলাম বাংলাদেশ নামের এই স্যুডো-স্টেইবল, পারশালি ফেইল্ড স্টেইটে (গায়ে লাগলে কিছু করার নাই ৪৩ বছর বয়সের একটা দেশ নিয়া আমার এক্সপেক্টেশন আপনার তুলনায় অনেক হাই) এ মিডেল ক্লাস কী কিছুই করেনা? এই নিয়া চিন্তা করতে গিয়া কিছু ঝামেলায় পড়লাম। নাগরিক হিসেবে মিডেল ক্লাসের কাছ থেইকা রাষ্ট্র কি পায় তা নিয়াই প্যাঁচটা লাগলো। এইখানে একটা জাফর ইকবালীয় সাদাসিধে ডিসক্লেইমার দিতে বাধ্য হইতেছিঃ আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বুঝিনা সুতরাং রাষ্ট্র তার নাগরিকের কাছ থেইকা কি আশা করে তার পুঁথিগত জ্ঞান আমার নাই। ঘটে যা অল্পবেশি বুদ্ধি আছে তা আমারে বলে যে রাষ্ট্র কমের মধ্যে আশা করতে পারে যে তার নাগরিক ঝুট ঝামেলা (দ্যাট ইজ বেআইনি কাজকারবার) দেখে দূরে থাইকা নিজের খায়েশ মিটাইতে অপররে ঝামেলায় ফালাবেনা, রাষ্ট্র চালানোর জন্য ট্যাকসো দিবে এবং অন্তত তার আওতায় থাকা মানুষ (দারা-পুত্র-পরিবার এটসেটরা) গুলারে নিদেনপক্ষে শিক্ষিত (হোপফুলি সুনাগরিক) কইরা তুলবে।

এই তিন ক্রাইটেরিয়ার বেইসিসে মিডেল ক্লাসরে একটু জাজ করতে গিয়া স্যারের মতন এট্টু চমকায়া গেলাম। বিস্মিত হইয়া দেখলাম যে, অপরাধের গুরুত্ব এবং সংখ্যার বিচারে এই মাচ-ম্যালাইন্ড মিডেল ক্লাসই দেখি সবচেয়ে সুবোধ বালক। মিডেল ক্লাস অন্যদের মতন (১) নিজে লাঠালাঠি করেনা, এবং (২) লাঠিয়াল ভাড়াও করতে পারেনা। [লাঠালাঠি দেইখা ভাইকেরিয়াস প্লেসার অনুভব করতেই পারে … যা এজ ইফ অন্যেরা কেউ করেনা হা হা হা] এইটারে একটু অন্যভাবে বললে দেশের সর্বনিম্ন আইনঅমান্যকারী (দ্যাট ইজ সর্বাধিক আইনমান্যকারী) শ্রেণীটাই হইলো এই হ্যাপলেস মিডেল ক্লাস। [হ্যাঁ সুযোগের অভাবে সে ভালো কিনা তা নিয়া ডিবেইট চালাইতেন পারেন তবে কোন অবস্থায় সে সুযোগ পায় তা বিশ্লেষণ করতে গেলেই ঝামেলায় পইড়া যাবেন। তবে এইখানে বইলা রাখা ভালো এই মিডেল ক্লাসের একটা চালাকচতুর অংশের ক্ষেত্রে উপরের এই কথা প্রযোজ্য না কারণ তারা বাই ডিফল্ট রুলিং ক্লাসের অংশ। সোশ্যালি কারেক্ট থাকার জন্য এর বেশি আর কিছু বললাম না এবং বলবোনা।]

আচ্ছা এরপর চিন্তা করা যাক ট্যাকসো পে করার ব্যাপারে। এইখানেও ইন্ট্রেস্টিং সেনারিও। শালার ভিতু মিডেল ক্লাস তার আয়ের অনুপাতে খুব সম্ভবত ট্যাকসো দেয় সবার চেয়ে বেশি। [আফটার অল, এই মিডেল ক্লাস চাকুরিজীবি শ্রেণীর বেতন থেইকা এট সোর্স কাইটা নেয়া হয় ট্যাক্স। দিতে না চাইলেও উপায় নাই।] কথাটা হয়তো খুব কনভিন্সিং মনে হইতেছেনা তাই একটু রিফ্রেইজ করার প্রয়োজন বোধ করতেছিঃ দেশে আয়ের অনুপাতে সবচেয়ে কম ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া অংশটাই হইলো মিডেল ক্লাস। [আশা করি এখন ক্লিয়ার হইছে।] যাহ! রাষ্ট্রের ভরণপোষণ করার দিক থেইকাও দেখি মিডেল ক্লাস খুব একটা পিছায়া নাই। ধারণা করা যাইতে পারে চাকুরিজীবি এই অংশই ব্যাংকে অল্পবিস্তর টাকাও রাখে, প্লাস নাদান হওয়ার কারণে ট্যাক্স রিবেইটের জন্যে সরকারি সেভিংস ইন্সট্রুমেন্টও এরাই সবচেয়ে বেশি কেনে।

এরপর চিন্তা করা যাক নাগরিক গইড়া তোলার ব্যাপারটা। এইখানে তুলনামুলক আলোচনা করার স্কোপ আছে। উচ্চ বা নিম্নবিত্তে অবস্থান করলে যে নামকাওয়াস্তে শিক্ষা বা অশিক্ষা নিয়ে আপনি চলতে পারবেন তা মিডেল ক্লাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। তার যেভাবেই হোক ছেলেমেয়েরে লেখাপড়া করাইতে হবে … তাও এক্কেবারে ভার্সিটি পর্যন্ত। এইটা বাঁচামরার কেইস। এই ফ্রেইমওয়ার্কে পাবলিক ইউনিভারসিটিতে কেউ চান্স পাইলে ভালো আর না পাইলে গলাকাটা (প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি)। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপারটা হইলো যে এই মিডেল ক্লাসের মেধাবী অংশটা এইখানে থাইমা থাকবেনা। তারা নিজ গরজেই বাইরে উচ্চশিক্ষা নেয়ার চেস্টা করবে। উচ্চবিত্তের সবচেয়ে মেধাবীর পক্ষে যেই ইউনিভার্সিটিতে যাওয়া সম্ভব মধ্যবিত্তের সবচেয়ে মেধাবীর তাতেই যাওয়া সম্ভব। যেই পয়েন্টটা তুইলা ধরার চেস্টা করতেছি সেইটা হইলো যে মিডেল ক্লাস থেইকা যেই পরিমাণ একাডেমিক ওভারএচিভার আসছে সেইটা মনে হয় তাদের মোর প্রিভিলেজড ক্লাসের ক্ষেত্রে হয়নাই।

তা এই সীমিত ফ্রেইমওয়ার্কে মিডেল ক্লাসের অবস্থা খুব একটা খারাপ না মনে হয়? কী বলেন? ট্যাঞ্জিবল সেন্সে এদের সুনাগরিক বলতে পারবেন কি? অথবা কুনাগরিক বলা থেকে বিরত থাকতে পারবেন কি? উত্তর যদি হ্যাঁ হয় সাথে থাকেন, না হইলে আইএমএইচও ইয়োর ইন ডিনায়াল। তাহইলে এতকিছুর পরেও এই শ্রেণীর উপর মানুষের এত ক্ষোভ কেন? বর্তমান কনটেক্সটে একটাই – সেইটা হইলো ফিজিক্যাল সেন্সে (?) তাদের রাজনৈতিক অসম্পৃক্ততা। এইখানে কিছু কম্পিটিং থিওরি কাজ করতেছে। অতি চিন্তায় ব্রেইন ফ্রিজ হওয়ার কারণে সেই বিষয়ে কালকে। :p

 কোমল ক্ষমতার প্রত্যাবর্তন

–রেজাউল করিম রনি

 

বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্কটের চরিত্র এক একজনের কাছে এক এক রকম। বুদ্ধিজিবিরা প্রতিবন্ধির মতো আচরণ করতে থাকে। কোন কিছুকে গোড়া থেকে বুঝবার অক্ষমতা  ডাকতে ফাও গল্পের ডালি খুলে বসে। বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা ও চাতুরী উদাম হয়ে যায় ক্ষনে ক্ষনে। আামাদের চিন্তাশীল নাগরিকের অভাব খুব জ্যান্ত হয়ে ধরা পরে তখন।

ক্ষমতা পরিবর্তনের হাওয়া বইতে থাকলে পাল্টাপাল্টি প্রতিযোগিতা ও প্রচার-প্রপাগান্ডার সময়ে এই অভাব প্রকটভাবে চোখে লাগে। বুদ্ধিজীবীরা দলীয় নীতির প্রতি অনুগত থেকে জাতীয় সমস্যা নিয়ে কথা বলার যে ঐতিহ্য এতদিন ধরে চর্চা করে আসছে -এখন তা আরও নোংরা জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের প্রায় সবাই এই দুই দলের ভারসাম্যের মধ্য থেকে চলতি সঙ্কট নিয়ে আলোচনা ও মিডিয়া প্রপাগান্ডায় অংশ নিয়ে থাকেন। এর মধ্যে গত এক দশক ধরে একটা পরিবর্তন এসেছে। জামায়াতের তরফেও কিছু বুদ্ধিজীবী নতুন করে জাতীয় রাজনীতিতে হাজির হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই ছদ্ম চরিত্রের। এরা বিএনপির সঙ্গে থেকে জামায়াতের স্বার্থকে টিকিয়ে রাখতে তৎপর থাকেন। এটা একটা নতুন মাত্রা। এর ফলে চতুর্মুখী বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এই বিভ্রান্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে একটা নিশ্চল পাহাড়ের মতো একই জায়গায় আটকে রাখে। ‘রাজা যায় রাজা আসে’ কিন্তু রাজনীতির কোনো গুণগত তফাত্ বা উন্নতি ঘটে না। এই দিকগুলো নজরে রেখে আজকে আমরা চলতি রাজনৈতিক হালচাল নিয়ে সংক্ষেপে কয়েকটি পয়েন্ট ধরে আলোচনা করব।

 

কৌতুকের রাজনীতি:

খালেদা নিজ অফিসে অবরুদ্ধ বা আটক আছেন। গত ৩ জানুয়ারি রাতে পুলিশ এই কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা দেয়। পুলিশ ইচ্ছামতো তালা দেয় আর খোলে। কিন্তু ক্ষমতার চাবি পরের হাতে। একই সঙ্গে কার্যালয়ের সামনে বিপুল পুলিশ মোতায়েন এবং রাস্তায় ইট, বালু ও মাটিভর্তি ট্রাক দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৫ জানুয়ারি বের হওয়ার চেষ্টা করলে পিপার স্প্রে ছোড়ে পুলিশ। এরপর থেকে খালেদা জিয়া কার্যালয়েই আছেন। এরপরে গত বৃহস্পতিবারও দিনের বেলায় ফটকের তালা খুলে দিয়ে রাতে আবার তালা দেয় পুলিশ। এই তালা দেওয়া আবার খুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কৌতুক জমে ওঠে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা গণতন্ত্র রক্ষায় বালির ট্রাকের বহুমুখী ভূমিকার কথা জানান মিডিয়াকে। এইসব ট্রাক হাজির করা হয়েছে নিরাপত্তার জন্য, কেউ কেউ বলেন, খালেদা জিয়ার বাড়িতে মেরামতের কাজ হবে। তাদের ব্যাখ্যা সার্কাস দলের জোকসে পরিণত হয় দ্রুত। তাদের কাণ্ডজ্ঞানহীন আস্ফাালন ও কুরুচিপূর্ণ রসিকতা আওয়ামী লীগের ওপর জন-অসন্তোষকে আরও শক্তিশালী করে। জাতির সঙ্গে এই তামাশাপূর্ণ আচরণ লীগকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় দ্রুত। লীগের চূড়ান্ত পশ্চাদপসরণ ঘটে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়ার আত্মবিশ্বাসী ও সংযত ভাষণের পরে। এই ভাষণে খালেদা জিয়া যে সংযমের পরিচয় দেন তা ক্ষমতার রাজনীতিতে অতি উঁচু স্তরের বিচক্ষণতার পরিচয়।

অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া ও তার দলের মহিলা সদস্যদের ওপর পিপার স্প্রে করেছে পুলিশ। পিপার স্প্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ করে হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে। অথচ পুলিশ মিডিয়ার সামনেই আইন ভঙ্গ করছে। আর সব মিলিয়ে ২৬টি ইট-বালির ট্রাক, পুলিশের যানবাহন দিয়ে খালেদার পথরোধ করে দিয়েছে এবং ৫ জানুয়ারি ঢাকার সঙ্গে বাংলাদেশের বাইরের রেল, সড়ক, লঞ্চ সব যোগাযোগ নিজেই বন্ধ করে দিয়েছেন। আর তত্ক্ষণাত্ খালেদা জিয়া অবরোধ কর্মসূচি ডিক্লেয়ার করেন। এতে সরকারের গেম ভেস্তে যায়। সরকারের অবরোধ প্রচেষ্টা বেশ সফল হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার তাত্ক্ষণিক অবরোধ ডাকার ফলে এই সফলতার প্রাথমিক নজরানা বিএনপির কোর্টে জমা হয়। এর মধ্যে মিডিয়ার সঙ্গে সরকারের আচরণ জনগণকে আর ক্ষিপ্ত করেছে। তথ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন, একুশে টিভি বন্ধ করা হয়নি। কিন্তু চ্যানেলটির প্রধান কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, মানুষ একুশে টিভি দেখতে পাচ্ছে না। তারেক রহমানের ভাষণ প্রচারের জন্য এই খেসারত দিতে হচ্ছে বলে মনে করেন সাংবাদিকরা। যদিও মামলা হয়েছে পর্নোগ্রাফি আইনে। পরে অবশ্য রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাও হয়েছে। অদ্ভুত এক অবস্থা তৈরি হয়েছে।

আদালতের এখতিয়ার আর রাজনীতির পরিমণ্ডল এ দুটোকে সচেতনভাবে গুলিয়ে ফেলা বাংলাদেশের তথাকথিত ‘আইনের শাসনের’ (আসলে দলীয় শাসনের) ঐতিহাসিক নজির হয়ে গেছে।

ধরেন, তারেক রহমান অপরাধী। কিন্তু অপরাধীর ‘মানবাধিকার’ বা স্বাভাবিক অধিকার বা আইনি অধিকার হল ‘কথা বলার অধিকার’। যত ভয়ঙ্কর অপরাধীই হোক না কেন, তার অপরাধের জন্য জবান বন্ধ রাখার কোনো বিধান নেই। এটা আইনের একটা বেআইনি প্রচেষ্টা মাত্র। দুই নাম্বার পয়েন্ট হল, মিডিয়া কী প্রচার করবে তা কোনোভাবেই আদালতের রায়ে নির্ধারণ করে দেওয়া যায় না। এই হাস্যকর কাজটি করে আদালতের সম্মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে সরকার।

এরকম চোখে-মুখে মিথ্যা ও চাতুরি এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণাপূর্ণ আচরণের জন্য বর্তমান সরকারকে কী মূল্য দিতে হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

খালেদা জিয়া আর বিএনপি এক নয়। বিএনপির চারপাশে দুষ্টলোকদের আখড়া এই অভিযোগ অনেক দিনের। কিন্তু খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগ ও প্রতীকী গুরুত্বকে আওয়ামী লীগ যেভাবে নস্যাত্ করার চেষ্টা করছে তাতে উল্টো ফল ফলতে শুরু করেছে। অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া গণতন্ত্রহীনতার প্রতীকে পরিণত হচ্ছেন ক্রমে ক্রমে। তার ৭-দফা ‘নরম’ দাবি লীগ যেভাবে উড়িয়ে দিয়েছে, হম্বিতম্বি করেছে, তা লীগকে ক্ষমতা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে দিন দিন।

সরকার অবরোধ ঠেকানোর জন্য ইজতেমার ইস্যুটিকে কাজে লাগাতে পারবে বলে ভেবেছিল। কিন্তু ইজতেমার মধ্যেও অবরোধ চলছে। সরকার ঘোষণা করেছে, রাস্তায় গাড়ির ক্ষতি হলে সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে। এতে জনমনে আরও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। লাশের ক্ষতিপূরণের রাজনীতি জনগণ মেনে নেয়নি। এ ধরনের ঘোষণাও হঠকারী হয়েছে। ঢাকায় অবরোধ জোরদার হয়েছে বলা যাবে না। কিন্তু প্রতিদিন গাড়িতে আগুন জ্বলছে। জনমনে আতঙ্ক ক্রমে ঘনীভূত হচ্ছে। ৬ জানুয়ারি প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গার্ডিয়ান লিখেছে, “Hasina and Zia have between them ruled Bangladesh for most of the last three decades. They have a notoriously poisonous relationship and frequently exchange insults and barbs about each other’s families.” তাদের সম্পর্ককে গার্ডিয়ান ‘বিষাক্ত-সম্পর্ক’ বলেছে। মিথ্যাচার আর হিংসাই এখানে উত্কটভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।

যেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অবস্থার সৃষ্টি -তার রাজনৈতিক বয়ান তৈরি নিয়ে এখন সহিংসতা পরিণত হয়ে উঠছে। সরকার সাংবিধানিকভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে একটি জবরদস্তিমূলক নির্বাচন করে ক্ষমতাকে নিজেদের দলীয় সম্পত্তি করে নিয়েছে। এবং এই দিনটিকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তুতি নিয়েছিল। অন্যদিকে শুরু থেকে বিএনপির ডাক ছিল ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে পালন করা হবে। কে হত্যাকারী, কে রক্ষাকরী-এ নিয়ে বিবাদের শুরু। এটাকেই আমরা বলছি কৌতুকের রাজনীতি। বলাই বাহুল্য, এই প্রতিযোগিতায় ক্ষমতার দম্ভ পরাজিত হয়েছে। বিএনপি এগিয়ে আছে। বিএনপির প্রতি গণসমর্থন তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাদের রসিকতা ও কুরুচিপূর্ণ নিষ্ঠুরতা খালেদা জিয়ার প্রতি গণসমর্থন তৈরিতে বেশ ভালোভাবে কাজে দিয়েছে। ক্ষমতা মানে যে গায়ের জোর বা গোন্ডামি না তা আবারও প্রমাণিত হল। খালেদার ‘সফট-পাওয়ার’ বা কোমল ক্ষমতার স্ট্র্যাটেজি এগিয়ে গেল। পরে এই প্রসঙ্গে আবার ফিরব। তার আগে আমরা দেখে নিবো টাউট বুদ্ধিজিবি কি ভাবে বিএনপিকে ‘জিন্দামরা’ দলে পরিণত করতে কূটচাল চেলে যাচ্ছে।

 

ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীর নসিহত:

 

বিএনপির সাংগঠনিক দুরবস্থার কথা কারও অজানা নয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপারটি হল, কিছু মতলববাজ ও ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীর খপ্পরে পড়ে বিএনপি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তথাকথিত ইসলামিস্টদের নিয়ে রাজনৈতিক গেম খেলার কুপরামর্শ বিএনপিকে ক্ষমতার দৌড়ে পিছিয়ে দিচ্ছে। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির গণসম্পৃক্ততার ধরন একই রকম। এরা প্রত্যেকে মুখে জনগণের কথা বলে বটে কিন্তু কাজের কাজে জনগণ বলতে এরা বোঝে পার্টি জন। দলীয় ক্ষুদ্রতার ঊর্ধ্বে উঠে জনরাজনীতির পরিমণ্ডলে দুই দলই গরহাজির। এই অবস্থার মধ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি বা প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে কূটনৈতিক দেনদরবার। আর ঠিক এখানেই বিএনপির নজর ও ভরসা। জনগণের জন্য কোনো দাবিদাওয়া নেই এমন অভিযোগ পাশ কাটিয়ে ক্ষমতার দৌড়ে নির্বাচনবাদী ৭-দফা নিয়ে বিএনপি মাঠে হাজির হতে চাইছে। ফলে পুরনো বামপন্থী জায়গা থেকে জনগণের জন্য কোনো কর্মসূচি ছাড়াই বিএনপি ক্ষমতার জন্য নির্বাচনের দাবি নিয়ে কেন হাজির হল-এমন অভিযোগ করলে এখনকার অান্তর্জাতিক কূটনৈতিক হালচাল আমরা বুঝতে পারব না। ফরহাদ মজহার বিএনপির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন। এটা বহু পুরনো অভিযোগ। ক্ষমতার পালাবদলের আগে সাধারণত বামপন্থীরা এমন অভিযোগ করে থাকেন।

 

‘৪ জানুয়ারির অবরোধ : নগদ লাভ’ শিরোনামে ফরহাদ মজহার একটি প্রপাগান্ডা কলাম লিখেছেন। শিরোনাম পড়ে মনে হবে এটা একটা গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল টাইপের রচনা। খালেদা জিয়া এখনও অবরুদ্ধ। সরকার পুলিশি অ্যাকশন বহাল রেখেছে। আর মজহার সাহেব ‘নগদ লাভ’ খুঁজছেন। হ্যাঁ লাভটা তিনি খুঁজতেই পারেন। সুযোগসন্ধানী কুযুক্তি দিয়ে তিনি আবারও চোরা ভাবে জামায়াতের লাভের অঙ্ককে কৌশলে হাজির করছেন। বলাই বাহুল্য, এতে জামায়াত বা বিএনপি কারও লাভই হবে না। মজহারের লাভ হলেও হতে পারে।

 

তিনি লিখেছেন,

“কামাল হোসেন ও মাহমুদুর রহমান মান্না আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় ফ্রন্ট হওয়ার সাধনা অব্যাহত রেখেছেন। যদিও দলছুট আওয়ামীপন্থীদের মধ্য থেকে নতুন কোনো রাজনীতি পয়দা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ‘আওয়ামী লীগ, তুমি ভালো হয়ে যাও’ জাতীয় নীতিবাগীশ আওয়ামী রাজনীতিও যে বর্তমান ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রধান কারণ সে ব্যাপারে কামাল হোসেন, মাহফুজ আনাম কিংবা মাহমুদুর রহমান মান্না বেহুঁশ সেটা বলা যাবে না। তারা তা জেনেছেন কিন্তু এ ক্ষেত্রে অপরিসীম অবদানে তারা নিত্যই তৃপ্ত। কিন্তু তারা খালেদা জিয়ার এই দুর্দশায় তার প্রতি সমব্যথী হয়েছেন। খালেদা জিয়া তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে চাইছেন। বোঝা যাচ্ছে, খালেদা জিয়া অনেক মিত্রকে হারালেও আওয়ামীপন্থী সুশীলদের করুণা ও সমবেদনা কিছুটা পাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির জোটবদ্ধ হওয়া তাদের কাছে বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করারা ভালো একটি অজুহাত, যা তাদের স্বভাবসুলভ ইসলামোফোবিয়াকে আড়াল করে রাখতে সাহায্য করে। তাদের বাসনা খালেদা ইসলামপন্থীদের ছেড়ে সুশীল রাজনীতির কাতারে আসুক। তারা তখন হাসিনাকে থুয়ে খালেদাকে বেছে নেওয়ার একটা যুক্তি খুঁজে পাবে। প্রতারিত হওয়ার এই হাতছানি থেকে বিএনপির নেতৃত্ব মুক্ত নয়।” (চিন্তাডটকম, ৮ জানুয়ারি ২০১৪)

 

খালেদা জিয়া তাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইছেন এমন কোন খবর আমরা দেখি নি। মাহমুদুর রহমান মান্না ও ড. কামাল হোসেন মজহারের এই উদ্ভট ও কাল্পনিক গল্পগাথা নিয়ে এই লেখকের কাছে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আমার পয়েন্ট এখানে না। কামাল হোসেন, মান্না বা মাহফুজ আনামদের সাংস্কৃতিক পজিশনের ক্রিটিক মজহার করছেন রাজনীতির নিরিখে। রাজনীতিও সংষ্কৃতিকে আলাদা ভাবে আলোচনার জরুরত এখনও উনি রপ্ত করে উঠতে পারেন নি। উনিও আবার কালচারাইজেশন অব পলিটিকস বলে ত্তত্ব কপচার। উনারা সেকুলার এতে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু মজহার নিজে কি? মজহার আরও নোংরা ভাবে সেকুলার। এটা কেমনে বুঝবেন? তাঁর জিবন যাপন চিন্তা পদ্ধতী এগুলা সবই সেকুলার। মজহারের উপদেশকে বলা যয়,‘এক কানা কয় আরেক কানারে চলো এবার ভব পারে’ । মুখে ধর্মের কথা বললেই কউ ইসলামিস্ট হয়ে যায় না। মজহারও সেকুলার মুখে যাই জপেন না কেন। এই দিক থেকে যদিও না বুঝেন তাইলে এখানেই বুঝবার মতো পয়েন্ট টা আছে। উনি জামায়াতকে ‘ইসলামিস্ট’ বলে সেকুরারদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। সোজা কথা হলো জামায়াত যে ধরনের ইসলামচর্চা করে এটাকে পশ্চিম গুডমুসলিম বলবে। এর গালভরা নাম হলো, মডারেড মুসলিম। মিলিটেন্ট ইসলামের দুনিয়াব্যাপি বিস্তারের যুগে জামায়াতকে ‘ইসলামিস্ট’ শক্তি মনে করা নিন্তান্তই সেকুলার বাতিক যা শাহবাগিরা করে থাকেন। ফলে মজহার যথন জামায়তকে ‘ইসলামিস্ট’ বলে হাজির করেন আর কালচারাল সেকুলারদের ইসলামোফোবিক বলেন তখন উনার ইসলাম বুঝের হাল-হকিকত দেখে হাসি পায়। জামায়াত নিজেকে ইসলামিস্ট বলে হাজির করতে চায় না। সে বিশ্বাস অর্থে ইসলাম করে। রাজনতি অর্থে সে গণতন্ত্রের গোলাম। সে গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিই করে। আইনী লড়াইয়ে সে ব্যাপক উৎসাহে হাজির হয়। ফলে জামায়াতকে ইসলামিস্ট বলে হাজিরের রাজনীতি অতি ধান্ধাজাত। ৭১ এ জামায়াত কি করছে সেই আলোচনা এখানে প্রাসঙ্গি না। ওটা আলাদা তর্ক।

 

মজহার জামায়াতকে ইসলামিস্ট বলে হাজির করছেন, আর বিএনপিকে বলছেন সুশীলদের পরামর্শ শুনে সে যেন জামায়াতকে ত্যাগ না করে। জামায়াতের সাথে যেন আরও শক্ত ভাবে লেগে থাকে মানে আরও প্রকাশ্যে যেন জামায়াতকে সাথে নিয়ে মাঠে হাজির হয়। মাঠের সম্পর্ক আর জামায়াতের সাথে বিএনপির টেবিলের সম্পর্ক যে এক না তা বুঝতে পারেনি মজহার। জমায়াত তার নিজ গরজে ও প্রয়োজনে মাঠের একশনে আছে, থাকবে। হাসিনার জঙ্গিবাদি টার্মকাডকে চেক দিতে হলে বিএনপি এখন যে কৌশলে আছে তাকেই জুতসই বলতে হবে। জামায়াতের সাথে সম্পর্ককে মাঠে ও টেবিলে আলাদা ভাবে ভাগ করেই আগাতে হবে। এতে কূটনৈতিক মহলের সুবিধাটা পুরোপুরি পাবে বিএনপি। এটা জামায়াতও বুঝে। মজহারের মতো হঠকারি চিন্তার খপ্পরে পড়লে আবারও হেফাজত আমলের মতো পরিণতি হবে বিএনপির। তখনও এই টাউট বুদ্ধিজিবি সক্রিয় ছিল। ফলে এখনই সাবধান হতে হবে।

 

খেয়াল করলে দেখবেন, জামায়াতের প্রতি বিএনপি এক ধরনের নিস্পৃহ আচরণ দেখিয়েছে। এই আচরণের ফলে এখনকার ‘সুশীল’ রাজনৈতিক সমাজ বিএনপির উপর খুশি। এবং কূটনৈতিক দেনদরবারে বিএনপির এই অবস্থান সহায়ক হচ্ছে। মজহারের ভণ্ডামি হচ্ছে, জামায়াতকে বিএনপির সঙ্গে একজোট হয়ে থাকার পরামর্শ দিয়ে যাওয়া, আবার জামায়াতকে ইসলামিস্ট বলে হাজির করা, এর ফলে জঙ্গিবাদের ট্রাম্পকার্ড চেলে আবারও বিএনপিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগকে সুযোগ করে দেওয়া। এটাকেই বলে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বা দ্বিমুখী গাদ্দারি। অন্যদিকে জামায়াত কোনো ইসলামিস্ট শক্তি নয়। জামায়াত কোনো জঙ্গি শক্তিও নয়। জামায়াতের সঙ্গে লীগেরও মিত্রতা হয়েছিল ক্ষমতার প্রয়োজনে। বিএনপির মিত্রতাও ক্ষমতার প্রয়োজনে। জামায়াত তার হিসাব তার মতো করেই পুষিয়ে নেয়। জামায়াতের সঙ্গে আমেরিকার ভালো সম্পর্ক সবারই জানা। আমেরিকা কোনো জঙ্গি শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে এটা ভাবাও যায় না। ফলে জামায়াতকে জঙ্গি শক্তি আকারে বা ইসলামিস্ট আকারে হাজির করা, আবার এর প্রতিবাদ করা, আবার বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গে অবিচ্ছিন্নভাবে লেগে থাকার পরামর্শকে ভণ্ডামিপূর্ণ চতুরতা হিসেবে দেখতে হবে।  সম্পর্কটাকে আদর্শিক করে তুললে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হবে আর সুবিধা পাবে হাসিনার তখাকথিত জঙ্গিবাদের ও চেতনার রাজনীতি। ফলে মজহারের কুপরার্মশ থেকে বিএনপি দূরে থেকে সঠিক সীধান্ত নিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

এই অবস্থায় বিএনপি যে লাইনে আগাচ্ছে তা স্রেফ কূটনৈতিক লাইন। আর এখানে জামায়াতের অবস্থানও নির্ধারিত। আদর্শিকভাবে জামায়াতের তথাকথিত ইসলামপন্থার সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রকল্পের’ জন্য সুবিধাজনক হবে। ফলে যারা বিএনপিকে জামায়াতময় হয়ে উঠতে পরামর্শ দেয় এরা সরাসরি মার্কিন যুদ্ধ প্রকল্পের দালাল। এরা সরকারের একমুখী নীতিরও গোপন সঙ্গী। প্রকাশ্যে বিশাল বিপ্লবী। বাংলাদেশের এই চাতুরী বুদ্ধিজীবীতা রাজনৈতিকভাবে আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।  বিএনপি কেন সঠিক লাইনে আছে তা বুঝতে হলে আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির দিকে একটু তাকাতে হবে।

 

কোমল ক্ষমতা কূটনৈতিক পরাধীনতার রাজনীতি:

রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রশ্নের নানার ডাইমেনশন বা বৈচিত্র্য দেখা যায়। ঠাণ্ডা যুদ্ধের অবসানের পরে সারা দুনিয়ায় মার্কিন ক্ষমতা বেশ পোক্ত হতে শুরু করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের বছরেই (১৯৯০ সালে) হারভার্ড তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানী জোসেফ ন্যাই-ই ফরেন পলিসিতে একটি প্রবন্ধ লেখেন সফট পাওয়ার বা কোমল ক্ষমতা নামে। তিনি তর্ক তোলেন ক্ষমতাটা সব সময় অস্ত্র বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হাসিল বা তৈরি করা যায় না। কোমল ক্ষমতা বলে একটা ব্যাপার আছে যা কূটনৈতিকভাবে আমেরিকাকে সারা দুনিয়ায় প্রভাবশালী করে তুলছে। তিনি মত দেন, শুধু বাহুবল নয়, বাহুবলের বাইরে কোমল ক্ষমতার প্রভাব অনেক বেশি সম্প্রসারিত। প্রথম প্রথম বেশ ঠাট্টা-মশকরা করা হয়েছিল তার এই তত্ত্বায়ন নিয়ে। ৯/১১-এর পরে আমেরিকা যখন অনেকগুলো যুদ্ধে পর পর জড়িয়ে গেল কিন্তু যুদ্ধের ফলে মার্কিন প্রভাব বাড়ার বদলে কমতে থাকল তখন কূটনৈতিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও মতাদর্শিক কিছু উদ্যোগ আমেরিকাকে বেশ সুবিধা দেয়, তখন জোসেফ আবার আলোচনায় আসেন। তিনি মনে করেন, প্রপাগান্ডা শুধু প্রপাগান্ডা নয়, এটা দ্বারা ক্ষমতা তৈরি করা যায়। এবং দেনদরবার ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ সেনা হস্তক্ষেপের চেয়ে কম কার্যকর নয়। এর ফলে মার্কিন নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসে। যুদ্ধকে পাশ কাটিয়ে কোমল ক্ষমতার বিস্তার ঘটানোই এখন মার্কিন নীতির গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।

এই দিকটি মাথায় রাখলে আমরা খালেদা জিয়ার পেশিশক্তির ঘাটতিকে নতুন ক্ষমতার পটভূমি আকারে বুঝতে পারব। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে খালেদা জিয়ার আচরণ খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বারবার অহিংস আন্দোলনের কথা বলেন। তাকে অবরুদ্ধ করে তার প্রতীকী ক্ষমতাকে কোমলভাবে বিস্তার ঘটাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দুনিয়ায় কোমল ক্ষমতার কদর আগের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে খালেদার কোমল আচরণ গণতান্ত্রিক ভাবে পশ্চিমের কাছে বেশি গ্রহণ যোগ্য হবে। লীগ যতই গোন্ডামি করবে ততই পিছাবে ক্ষমতা থেকে আর এগিয়ে যাবে এক্সজিট ডোরের কাছে।

 

সঙ্গে কূটনৈতিক পরাধীনতার রাজনীতিটাও খেয়াল করা দরকার। ১০ জানুয়ারি দৈনিক সকালের খবর শিরোনাম করেছে, ‘বিবৃতি ও ফোন নিয়ে ধূম্রজাল’। খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা ও তারেক রহমানের খবর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের বিবৃতি দেওয়ার খবর নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এদিকে এখন আলোচিত খবর হল, বিজেপির প্রধান অমিত শাহ খালেদা জিয়াকে ফোন করেছেন। মারুফ কামাল সোহেল স্বাক্ষরিত একটা বিবৃতির সূত্রে এটা মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ এটা ভুয়া বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে। বিএনপির তরফে যারা অতিউতৎসাহী হয়ে এ ধরনের খবর মিডিয়ায় প্রচার করে সুবিধা নিতে চেয়েছেন তাদের কোনোভাবেই বিএনপির জন্য কল্যাণকর শক্তি বলা যাবে না। এরা বিএনপির মধ্যে এক একটা কালসাপ হয়ে বসে আছে। অন্যদিকে সরকার যেভাবে এটাতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তাতে মনে হচ্ছে অমিত শাহের ফোনে বাংলাদেশের ক্ষমতার হেরফের হয়ে যেতে পারে। রাজনীতিতে জনসম্পৃক্ততার কথা বলছিলাম একটু আগে। আওয়ামী লীগ বা বিএনপির জনসম্পৃক্ত ধারণ এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের সময় বারবার উদোম হয়ে যায়। সরাকার অমিত ইসূকে এমন ভাবে হাজির করল যাতে সরকারের ভারত অবসেশন আবারও আমরা জানতে পারলাম। আর জানতে পারলাম বিএনপিকে নষ্ট করার জন্য ঘরের লোকই যথেষ্ট। এইসব খুচরা চালকি পাশ কাটিয়ে সাউথ এশিয়াতে কোমল ক্ষমতার নীতি এখন বেশি গুরুত্ব পাবে। বিজিপির ক্ষমতায় আসার আগে মার্কিন নীতির পুরোপুরি বিজেপীর জন্য অনূকূল হয়ে উঠেছিল। কেজরি ওয়ালকে দিয়ে কনগ্রেসকে বেশ ভাল দাবড়ানি দেয়া হয়েছিল। ফলে বিজেপী কনগ্রেসের মতো বাংলাদেশে আমেরিকার উপর অভারটার্ম করবে না এমনটা সহজেই অনুমান করা যায়। ফরে আমেরিকা ও পশ্চিমের কোমল নীতি আর মাঠের গ্রহণযোগ্যতা ও অচালবস্থা বিএনপিকে আরও পরিণত করবে। ধীরে ধীরে ক্ষমতার জন্য পিপল কজ তৈরি হবে। এতে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে সরকার সুবিধা করতে পারবে না। কারণ নীতির পরির্বতনের সাথে সাথে কিং মেকার কাগজগুলোর ( প্রথম আলো ও ডিইলীস্টর দেকলে বুজবেন) ভূমিকা ইতিমধ্যে পাল্টে গেছে। ফলে কোমল ক্ষমার প্রত্যবির্তন আমরা দেখতে পাচ্ছি।

 

আর এই সময়ে বুদ্ধিজীবীরা জাতির বিবেক সেজে ক্ষমতাধরদের অনুকূলে জাতীয় রাজনীতিকে এমনভাবে সাজান যেন একটা নির্বাচন হলেই জাতীয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এই নির্বাচনবাদী গণতন্ত্রের বয়ান আমাদের কাবু করে রাখছে। আমাদের শাসনকাঠামোতে গণশক্তির গরহাজিরা পলিটিক্যাল ও ননপলিটিক্যাল এলিট ও তাদের অনুসারী বুদ্ধিজীবী মিলে পরিস্থিতিকে ভৌতিক করে তুলছে। গণতন্ত্রের নামে, জনগণের নামে জনবিরোধী রাজনীতির খুন উত্সব দেখছি কেবল। এ ধরনের দেউলিয়া আচরণ আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে, আমাদের রাজনীতি ও ক্ষমতার চাবি আমাদের দেশের জনগণ ও মানুষের হাতে নেই। বাইরের কূটনৈতিক শক্তি ও তাদের এলিট এজেন্টরা ক্ষমতার চাবিকাঠি নাড়েন। মিডিয়াও সেভাবে জনমতের সেইপ বুঝে খবর করে। আমরা নির্বাচন বা ক্ষমতা পরিবর্তন নিয়ে ভাবতে থাকি। ভায়োলেন্স চলে। সহিংসতার ভাষ্য তৈরি করা হয় জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য। চলে রটনার খেলা। প্রধান আকর্ষণ থাকে দেশের নয়, বাইরের নজর ফেরাবার চেষ্টা। কূটচালের ফেরে আমরা বুঝতে পারি আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।

 

লেখক : কবি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

A Lear’s Fool to King Tarique

There is no shortage of punditry along the line of BNP-is-in-trouble, most being pretty vacuous like this.  Shuvo Kibria had a better attempt a few weeks ago:

সরকার ….. নিজের আস্থাহীনতার সঙ্কট আছে।….. জনব্যালটে তার ভরসা নেই। …..সরকার চাইবে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপিকে সমূলে উৎপাটিত করতে। বিএনপির চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।  (The government has its own crisis of confidence…. It doesn’t rely on public ballot…. The governent will want to uproot BNP as a political force.  BNP’s challenge is to re-establish itself as a political force).

I think the above is in on the whole correct.  And there may be a degree of validity in this as well:

বিএনপির প্রথম সারির নেতাকর্মীদের মাঠে নেমে প্রমাণ করতে হবে দলের স্বার্থে তারা যেকোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।  (BNP’s front row leaders and workers will need to prove their willingness to take any risk for the party by getting into the field).

But I think even Kibria misses some key nuances.

Let’s start with a few observations.

First, on BNP’s failure in the streets.  By all accounts, BNP rank-and-file gave it a pretty good shot this time last year.  And they came short.  They could not stop the government from ramming through a one-sided election as a result of which Hasina Wajed continues to be the prime minister.  But BNP’s failure is not qualitatively different from MK Gandhi’s in the early 1920s, or Sheikh Mujibur Rahman’s in the mid-1960s.  Our history is full of failed street movements.  The historical reality is, most andolons fail, just like BNP’s did.

The past is not always an accurate guide to the future.  But I am quite skeptical of any analysis that concludes with ‘BNP must launch a vigorous andolon that will lead to a mass upsurge’.  Even if BNP could mount one, in and of itself, what would another round of street protests, blockades and hartals achieve?

Second, BNP failed to win over the bastions of power that ultimately matter Bangladesh.  Above everything else, powers-that-be want a stable Bangladesh.  And BNP failed to convince the civil-military bureaucracy, corporate sector and foreign stakeholders that it could provide stability.  Of course, in a two-horse race, one doesn’t have to be particularly good — simply being just not as bad as the other side makes one win such races.  It’s not that everyone is inspired by the Prime Minister.  It’s just that when all is said and done, sufficiently large number of key stakeholders simply didn’t respond to BNP, and accepted Mrs Wajed.

Third, from BNP leadership’s actions, we can deduce something about its self-assessment.  Recall, we can summarise BNP’s travails as one of either marketing or management or product.  By making it abundantly clear that Tarique Rahman is the party’s future, BNP is signalling that it believes the problem is not management.  Therefore, it must believe the focus should either be marketing or product or a combination.

As would be clear by the end of the piece, I do not necessarily agree with BNP’s choice (and that’s putting it mildly).  But it matters little what I think.  Leaving my views aside, let’s accept for now that BNP has got it right — Mr Rahman is the best it has got.  Fine.  So, how should he try to win over the powers-that-be?

If we assume that BNP’s middle-of-the-road, don’t-rock-the-boat pragmatic Burkean conservatism is the appropriate ‘product’ for Bangladesh — full disclosure: I personally do — then the challenge before Mr Rahman is simple: he needs to establish himself as acceptable to the establishment.  Currently, he patently is not.  Believing that the establishment will choose him over the Prime Minister is like claiming the earth is flat.  Railing against the establishment for its alleged hypocrisy on this count is futile.  Bottomline: senior state functionaries, big shot businessmen, and interested foreigners don’t think much of Mr Rahman.

They didn’t think much of him last winter.  And since then, sporadic forays in our pathetic history wars have done nothing to improve his standing.  They create media buzz, senior Awami League leaders end up looking quite stupid, and BNP rank-and-file feel fired up for a while.  But what do they do to alleviate Mr Rahman’s extremely negative image?

To ask is to answer.

Right.  So, what should Tarique Rahman do?

In the first instance, he should stop appearing in silly videos with stupid titles like Deshnayak, or never, ever, indulge in the circus of cutting supersized birthday cakes.  As it happens, it is quite rational for even a sensible and erudite person like Mirza Fakhrul Islam Alamgir to engage in these acts.  After all, in a party that is by design bereft of any strong ideological mooring but the politics of synthesis of centrist, pragmatic nationalism, if there is no internal organisational rejuvenation, how else are the party workers and leaders to signal their allegiance but to foster a personality cult?  Of course, by doubling down with Mr Rahman, organisation rejuvenation has been made just that much harder.

That is, BNP — or rather, Tarique Rahman — has created a vicious cycle. Its current senior leaders — and note the word senior, these are old men and women — have no alternative to engaging in obscene Tarique-mania, which puts off otherwise sympathetic elements of the establishment, which compounds BNP’s problems, which creates further distrust among its leaders, who must then engage in further sycophancy, and so it goes.

If Tarique Rahman ever wants to govern Bangladesh, he must end this now.  If he doesn’t get the irony of being called a deshnayak while living in bidesh, if he thinks he is the embodiment of youth at 50 — an age by which his father had been president for nearly four years, or Sheikh Mujibur Rahman was already hailed as Bangabandhu — he will never make it.

Dramatically cutting off the circus would be a good first step, and a low hanging fruit.  Mr Rahman will need to follow that up with more speeches and public appearances, and not just to the choir in East London about Sheikh Mujib’s Pakistani passport (do we really need to replace Hasina Wajed with someone who seriously thinks Mujib needed a passport in Heathrow airport in January 1972?).

This is not to say he should shy away from hitting hard on the haloed Mujib myth.   Like it or not, history wars is a key part of our politics that BNP cannot shy away from.  Apparently Tarique paid respect at Mujib’s grave several times when BNP was in power.  Why on earth did they keep that a secret?  Why not talk about it now?  And then, the respect for Mujib-the-nationalist-hero notwithstanding, draw the parallel between 1974-75 and the present day, maybe in a frank series of interviews with Zafar Sobhan — now, wouldn’t that be something?

And yet, that would not be enough.  Even if he is humanised and shown to be a normal, decent person, to the establishment there are grave doubts about his associates.  The establishment wants to feel comfortable that Tarique Rahman’s associates are their own.  On this, Mr Rahman will do well to learn from, wait-for-it, Mrs Wajed.

Yes, believe it or not, once upon a not too distant past, the establishment did not trust the Prime Minister and her party.  Even in the early 1990s, the stereotype was that those few Awami Leaguers qualified enough to govern were unreconstructed socialists, while most AL-ers were simply not fit for office.  This changed in the lead up to 1996 election, when Mrs Wajed made it clear that people like the late SAMS Kibria or AHSK Sadeq were in her inner sanctum.  This paved the way for a rapprochement between the League and the establishment.

Tarique Rahman needs to do something similar for his party.  Appointing a fresh-faced PhD in marketing, I’m afraid, simply doesn’t do that.

Therein lies the rub.  Mr Rahman needs people who are already established in their fields — business, professions, academia, at home and abroad — by his side.  But such people simply don’t like him much.  Why would they put their trust in someone whose only claim to fame is his parents (and infamy from his lifelong friends)?  Dynasty didn’t do it for a dud like Rahul Gandhi.  Why should Tarique be any different?

Mr Rahman has odds stacked against him.  Therefore, it follows that he has to shake things up.

Two acts come to mind, neither easy, and one carry high risks.

Firstly, Tarique Rahman must produce a game-changing idea.  Not nice ideas like how to improve agricultural yield as he did in an early London speech in 2013 — that kind of stuff can go well with his little chinwag with Mr Sobhan.  But that won’t shake things up.  No, he needs to do what Mujib did in 1966 by presenting Six-Points.

Back then, Ayub Khan dominated over Pakistan.  Grand old men like HS Suhrawardy were either dead or marginalised.  Younger, leftist firebrands were beginning to turn on each other, taking their cue from Beijing and Moscow.  Mujib’s peers like Ataur Rahman Khan looked tired with their calls for restoration of democracy.  Ayub could simply ignore them.  But Mujib with his Six-Points was different.  Here was a paradigm shift.  Fiscal autonomy.  Monetary autonomy.  East Pakistan’s own oreign trade missions and paramilitary.  Mujib called for an end to not just Ayub regime, but Pakistan-as-it-existed.  Ayub knew he had to use the ‘language of weapon’.  So he did.  Mujib went to jail, and came out after the regime collapsed.

It’s very important to understand that the 1968-69 uprising that led to Ayub’s fall was not a step-by-step escalation of any andolon programme by Mujib or his party.  An urban uprising started in West Pakistan from a clash between students and army jawans in the beginning of winter 1968, and by the end of the winter, both wings of erstwhile Pakistan was aflame.  At the centre of the uprising was Maolana Bhashani.  But not only was Bhashani without a party, he was also a man without any compelling ideas for the post-Ayub world, and zero support among the establishment.  When the Pakistani establishment had turned on Ayub, the emergent East Bengali establishment squarely stood with Mujib.

That’s the act Tarique has to emulate.  He has to produce a coherent vision that the current Bangladeshi establishment could rally behind when, rather than if, Mrs Wajed’s regime unravels.  And unravel the current regime will, sooner or later — let me quote myself from January:

….. she stands on the precipice of chaos, for the simple reason that Bangladesh — a super-densely populated humid swamp — is always at the edge of chaos.  Usually, mandate from a democratic election, or the prospect of the next one, keeps us from falling over the cliff.  By taking away the option of a democratic election, the Prime Minister has effectively put a ticking time bomb on herself.

Tarique has to make sure that when the time comes, he is not brushed aside like the old Maolana.  And for that, a compelling vision for a post-Hasina Bangladesh — hard as that might be to conjure — is not necessary, but not sufficient for Tarique.  He still needs to demonstrate that he as an individual has what it takes.  He must demonstrate his grit.  His sickly, elderly mother does that every time she goes out to one of those rallies.  Mrs Wajed did that in 2007 when she defied the 1/11 regime and returned home, or in 2004 as the subject of an assassination attempt, or in 1988 when police open fired on her rally.  His father demonstrated grit in the battlefields in 1965 and 1971, and every day between 3 November 1975 and 30 May 1981.  Sheikh Mujibur Rahman demonstrated grit by never compromising with the Pakistanis despite spending much of the 1950s and 1960s in jail.

That’s the standard Tarique Rahman has to live up to.  A London exile simply doesn’t cut it.  He has to return home, embrace a prison sentence, and possible threat to his life.

That’s the bottomline for him.

As things stand, with Tarique Rahman in his current avatar as BNP’s chosen future, I am afraid the future is bleak, and we might soon be discussing BNP’s past.

How to lose the history wars

by Jyoti Rahman

I said in the previous post:

They didn’t think much of him last winter. And since then, sporadic forays in our pathetic history wars have done nothing to improve his standing. They create media buzz, senior Awami League leaders end up looking quite stupid, and BNP rank-and-file feel fired up for a while. But what do they do to alleviate Mr Rahman’s extremely negative image?

Obviously, I don’t approve of the way Tarique Rahman is engaging in the ‘history wars’.  It occurs to me that I should elaborate and clarify.  Hence this post.  I don’t agree with Mr Rahman’s interpretation of history.  More importantly, from a partisan political perspective, I think they cause more harm than good for BNP.  And most frustratingly, a few solid points that BNP could make very usefully are utterly wasted.

Let’s start with the claim made about Sheikh Mujibur Rahman — that he was a Pakistani collaborator who compromised with the Yahya regime because he was after personal power.  I paraphrase, but this is the gist.  And this is about as sensible as the claim that Ziaur Rahman was a Pakistani spy.

Let me refer to GW Chowdhury, Abul Mansur Ahmed, and Moudud Ahmed.  Hardly disciples of the cult of Mujib, any of these men.  And yet, all three write how Mujib might have compromised on the Six Points at any time between the winter of 1968-69 and the summer of 1971, and become Pakistan’s prime minister.  Ayub and Yahya offered him the job in February 1969.  There was a general expectation that the Six Points were Mujib’s ambit claim, and he would compromise after the election.  ZA Bhutto calculated that.  Yahya Khan calculated that.

But Mujib did not.

In fact, by officiating a public ceremony where he led the Awami League legislators-elect to swear an oath on the Quran to never compromise on the Six Points, Mujib left himself little wiggle room to compromise even if he had wanted to.  What Mujib stood for in 1970 elections was abundantly clear, and he did not compromise from that.

Mujib wanted to compromise for personal gain — is Tarique Rahman trying to become the jatiyatabadi Omi Rahman Pial?

Of course, it gets worse.  What does one make of the claim that Mujib traveled on a Pakistani passport in January 1972?  I am sure Shafiq Rehman can conjure a brilliant political satire about the Heathrow immigration officer asking ‘Right, Sheikh eh, since when Pakis had Sheikhs’.  But the joke here is at the expense of anyone who believes Mujib would have needed a passport to pass through Heathrow that January.

And in this comedy, BNP loses a chance to score a sound political point.  No, Mujib wasn’t a Pakistani collaborator.  That’s nonsense.  What’s not nonsense, what’s undeniable, is that he did not prepare for an armed resistance, that he was absent from the war.  Now, it is possible to argue that Mujib did not want to lead a war of national liberation, and he had good reasons for taking the course he did — I have made that argument myself, and I stand by it.

But that’s just my interpretation of events.  And even if I am right, it’s legitimate to say that Mujib got it wrong big time.  Politically, the potent argument here is — the nation trusted Mujib with its future, and Mujib failed the nation in the dark night of 25 March 1971, not because Mujib was a bad guy, not because he was a collaborator, not because he was greedy or coward or anything, but far worse, he made the wrong judgment.

Salahuddin Quader Chowdhury once (in)famously made that point.  Repeatedly made, that would be a killer punch against the haloed Mujib myth.  What Tarique Rahman offers is not worth more than infantile facebook banter.

So, why does he do it?

Perhaps this passage from 2012 would provide some method behind this madness:

A blogger friend sounds a pessimistic note: ‘Our countrymen are maybe more blatant about it than most, but there is no “true” history anywhere in the world. It’s all air-brushed, covered with pancake makeup, and then dipped into rosewater.’ He suggests that these history wars are just a form of dialectic struggle, perhaps a healthy one at that.

That discussion was had at a time when Awami League cabinet ministers all the way to people like Muntassir Mamoon would routinely call Ziaur Rahman a Pakistani spy or sleeper agent.  Here is the full quote:

What will happen when BNP returns to power? Maybe what MM is doing is in anticipation of BNP returning to power. I mean, let’s face it, our countrymen are maybe more blatant about it than most, butthere is notruehistory anywhere in the world. It’s all airbrushed, covered with pancake makeup, andthen dipped into rosewater. Think of these “history wars” as a dialectic struggle, and whatever emerges out of this is what Bangladeshi children, fifty years on, will learn. And they won’t be any worse off for it.

Additionally, remember, when BNP comes to power, where MM leaves off is where BNP has to start. So the more AL-oriented the history is, the more effort BNP will have to put in to revert just back to the mid-point state, let alone make it pro-BNP.

So, calling Mujib a collaborator is perhaps the dialectic tat for the tit of Zia being a Pakistani spy.

Maybe.  And maybe in the long run this will all be washed out.  But right now, this isn’t doing Tarique Rahman any good.  Maybe if BNP ever came to power, it could start its version of history.  But right now, Tarique should remember what happened to Hasina Wajed in February 1991.

In the lead up to the parliamentary election of that month — the first one held after the fall of the Ershad regime — Mrs Wajed repeatedly launched personal attack on Zia, calling him a murderer and drunkard, including in her nationally televised (this was when there was nothing but the BTV) campaign speech.  Mr Rahman is old enough to remember how aghast the chattering classes were at Mrs Wajed.  This was a time when Zia was fondly remembered by our establishment.

Over the past quarter century, Zia’s image has faded, and Mujib’s has been given a new gloss.  Right now, the establishment reaction to Tarique is similar to the visceral reaction the Awami chief caused in 1991.

Mr Rahman seems to be learning the wrong lesson from Mrs Wajed.

So, what do I suggest?

Let me answer that with reference to why and how I believe BNP must engage in history wars:

BNP needs to win back today’s and tomorrow’s Saifur-Oli-Huda.  Without professionals, entrepreneurs, artists and intellectuals, BNP’s future will be dominated by the likes of Lutfuzzaman Babar. Winning the history wars is essential for avoiding that dark future.

…..

our history of political-social-economic struggles that predates 1971 and continues to our time.  This would not mean ignoring 1971, but to put that seminal year in its proper context.  …. our founding leaders like Fazlul Huq and HS Suhrawardy who came before Sheikh Mujibur Rahman and Ziaur Rahman, putting these men in their proper historical context.

….. we have struggled for a democratic polity, or social justice, from the time of British Raj.  Sometimes these struggles have been violent, at other times we had peaceful ‘ballot revolutions’.  Sometimes the leaders betrayed the trust people put on them.  Sometimes they made mistakes.  But overall, we have been making progress.  And ….. make the case for BNP in the context of that march of history.

That’s BNP’s overall challenge for the history wars.  And I do not suggest Mr Rahman has to fight a solo battle.  But if he must engage in political dog fight about dead presidents, I would suggest leaving Mujib alone, and focusing on restoring Zia.

Arguably, Tarique’s initial foray at the history wars was an attempt at this.  Unfortunately, he seems to have made a hash of it, losing the forest for the trees.

For a long time, BNP has tried to establish Zia as the one who declared independence.  In the process, the argument got to a minutae of who got to the radio station and held the mike first, completely missing the historical significance of Zia’s multiple radio speeches.  What was the significance?  The significance was that a serving major in Pakistani army publicly, in English, severed ties with Pakistan and called for an armed resistance.  The significance was not that it was a declaration of independence.  The significance was that it was a declaration of war.  That significance was completely lost.

Now the claim is that Zia was Bangladesh’s first president.  Well, in his first speech, Zia claimed that he was the head of the provisional government.  In the next version, he dropped that bit.  So, is he or isn’t he the first president?

Well, the founding legal document of the country is the Mujibnagar Proclamation, and that says:

We the elected representatives of the people of Bangladesh, as honour bound by the mandate given to us by the people of Bangladesh whose will is supreme duly constituted ourselves into a Constituent Assembly, and having held mutual consultations, and in order to ensure for the people of Bangladesh equality, human dignity and social justice,

Declare and constitute Bangladesh to be sovereign Peoples’ Republic and thereby confirm the declaration of independence already made by Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman,

AND

do hereby affirm and resolve that till such time as a Constitution is framed, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman shall be the President of the Republic and that Syed Nazrul Islam shall be the Vice President of the Republic

So we can have a nice legal argument that tries to make Zia the first president, and in the process lose a very important aspect of Zia’s action — something that is directly relevant in today’s Bangladesh.

Because Tarique said so, it’s now becoming BNP’s holy truth that Zia was the first president.  In the process, the fact that Major Zia swore allegiance and subservience to a democratically elected civilian political leadership is completely lost.  Zia’s bravery is March 1971 is to be lauded.  But for BNP, it’s also important to highlight his political maturity, and dedication to civilian, constitutional rule.  And that is exactly what he displayed on 15 August 1975, when he reminded Major General Shafiullah that the president might be dead, there was still a constitution and a vice president.  Whether in 1971 or 1975, Zia deferred to the civilian leadership and constitutionalism.   The relevance for an eventual post-AL Bangladesh is self-evident.

As it happens, Tarique Rahman was not the first person to claim that Zia is our first president.  In November-December 1987, Dhaka was rocked by a series of hartals that nearly brought down the Ershad regime.  Emergency had to be declared, and most opposition politicians were arrested.  Then, on 15-16 December, posters emerged around the city.  One had Mujib’s wireless message to Chittagong declaring independence, apparently sent before the midnight crackdown.  The other claimed Zia as the first president.

Oh, Ershad stayed in power for three more years.  How much more time is BNP’s history wars giving the current regime?