মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ

 

By Faiz Taiyeb

কুকুরের লেজ যেমন সোজা হয় না, তেমন অত্যাচারী শাসক ও ভালো কাজ করতে পারে না। স্বৈরাচারী শাসক এবং নাগরিক স্বার্থে ভালো কাজ করা, এই দুই আসলে “মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ”।
৫ জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচনের আগে আওয়ামীলীগ পন্থী বুদ্ধিজীবিরা ইনিয়ে বিনিয়ে উপর্যপুরি বলার চেষ্টা করেছেন, অবৈধ কিন্তু সাংবিধানিক (!) নির্বাচনের পর হাসিনা ভালো কিছু কাজ করে মানুষের মন জয় করবেন। আমারও সেরকম অনেক আশা ছিল। কারন এই মহিলা ৩ বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তিনি দলে একনায়ক, দেশের সেনাবাহিনী কে আর্থিক প্রাচুর্যের বিহ্বলতায় চড়িয়েছেন, আদালতকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেছেন, নির্বাচন কমিশন কে হুকুমের চাকর বানিয়েছেন, রাজনৈতিক চালে বিরোধীদের কুপোকাত করেছেন। মোটকথা দেশের নিরুঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী প্রধান নির্বাহী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। অধুনা একনায়করাও সম্ভভত এইধরনের একচেটিয়া ক্ষমতা ভোগ করেন না। কিন্তু অতীতে যাই করুক না কেন, প্রান্তিক নাগরিক হিসেবে অধিকাংশই চায় এই দুর্নীতিবাজ প্রতারক নেতা গুলান ভালো হয়ে যাক। সবাই আসলে একটি নতুন ভোরের অপেক্ষায়। ভালো কাজ করতে শুরু করলেই এই বঞ্চিত নির্যাতিত লোক গুলো অতীতের সব গ্লানি ভুলে এদের মাফ করে দিবে। আমরা বড়ই ইমোশনাল এক জাতি।
সুতরাং রক্তক্ষয়ী হিংস্র ক্ষমতার লড়াইয়ে জয়ী হয়ে ষাটোর্ধ একজন লেডির সেলফ সেটেস্ফিকশন আসবে এটা ভাবা খুব কঠিন ছিল না। কিন্তু বিধি বাম। তাই ওইসব বুদ্ধিজীবী আর সেইসব আশার কথা শুনাচ্ছেন না। বরং পুরা রাজনৈতিক কালচার কে দোষারোপ করছেন। ইন্টারপোল লিস্ট এ থাকা মস্তান কর্তিক একজন ফাঁসির আসামির খুন হয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার মৃদু বিবৃতি দিয়ে সমর্থনের লেজ আকড়ে ধরে উছিস্ট ভোগের সাময়িক ফন্দি ঠিক রেখছেন ।
এইদিকে, আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী রা আছেন ভিন্ন হিসেব নিয়ে, ইউএস, ই ইঊ র নীরব সমর্থন বেশি টিকবে না ভেবে সবাই আগের গোছাতে ব্যস্ত, সবাই বেসামাল বেপারয়া লুটপাটে লিপ্ত। এতই বেপরোয়া যে, দলের ভিতর বাহির যেখান থেকেই বাধা আসুক সবাইকে কচুকাটা করা হচ্ছে। সমানে ভিতর বাইরের বিরোধীদের ধরে নিয়ে গলাটিপে নদীতে বস্তাবন্দী করে ফেলা দেবার কি হিংস্র এক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত সবাই। এমন উৎসাহ যে এলিট ফোর্স র‍্যাব ও বসে থাকতে পারছেনা। কিছু কন্ট্রিবিউট করছে।
তাই পদ্মা সেতুর অর্থায়নও আর শুরু হয় না, বরং এই সল্প সময়ে কিভাবে ভারত কে স্থল ট্রানজিট গছিয়ে দেয়া যায় সেটা নিয়ে কিছুটা তোড়ঝোড় দেখা যাচ্ছে। যাতে এটা বেচে আবার কিছু একটা করা যায়।
অবৈধ বেপরোয়া ক্ষমতা আর ভালো কাজ একসাথে চলে না, পৃথিবীর কোথায়ও চলে নি কোন কালে। সতরাং এইসব জনবিচ্ছিন্ন অত্যাচারী শাসকের বিদায় দরকার, অন্তত সমস্যার সাময়িক সমাধান এর নিমিত্তে। এর পর দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান পেতে সমাজ, নাগরিক ও নাগরিক সংঘঠন সমূহকে ঠিক করতে হবে, তারা কি গণতান্ত্রিক সিস্টেমের মধ্যেই কয়েকজন চোর এর মধ্যে ছোট চোরকে বেছে নিবে, নাকি তাদের সৎ পথে আনার সাহস দেখাবে আর বাধ্য করবে, নাকি এই চোরদের চুরি প্রতিহত করার সিস্টেম দাঁড়া করাবে।
কৈফিয়ত
সবসময় চেষ্টা করি প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধি করন নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা করতে। নেতাদের সমালোচনা না করতে। কারন আমরা সব পেশার লোকেরাই রাষ্ট্রকে সমানে বলাৎকার করছি নিয়ত। সমস্যা হলো সব জায়গাতেই রাজনৈতিক দুরব্রিত্ত্বায়নের ছোবল এতটা গভীর যে এই অযোগ্য অপদার্থ লোক গুলারে (জাতে মাতাল কিন্তু টাকা মারার তালে ঠিক) আলোচনায় না এনে পারা যায় না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, সুশাসন, লোভ মুক্ত নেতৃত্ব, নৈতিকতার ও নিয়মতান্ত্রিকতার কিংবা দূরদর্শিতার যে বেইজ এডুকেশন এটা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই, সব গুলো দলই ভন্ডে ভরা। সবার উদ্দেশ্যই দেশের আর দেশের মানুষের টাকা মারা, যখন পারে, যেভাবে পারে। এটা করতে গিয়ে দেশের সব কিছু তারা অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ভরে ফেলেছে। অথচ দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ভাল নেতৃত্ব লাগবেই লাগবে। এর দ্বিতীয় কোন বিকল্প জানা নাই।
২ বার, ৩ বার এক একজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, দেশের লক্ষ কোটি শিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত আর অশিক্ষিত জনতা তাদের ভয় বা সম্মান করেন (মন থেকে কিংবা বাধ্য হয়ে)। আর কি কি পেলে উনাদের আত্ব তৃপ্তি আসবে? ওনারা পৃথিবীর কত কত জনপদ দেখেন, কত কত দেশ ঘুরেন, একটি বারও কি উনাদের ইচ্ছে করে না, এই দেশটাকে ঠিক করে দেয়ার চেষ্টা করবেন। আজ রাজনৈতিক ইস্যু সমাধান বা ধামাচাপা দেয়ার জন্যে যে তোড়ঝোড়, এত এত ফোরস ডিপ্লয়ম্নেট, এত চিন্তা, এত কালক্ষেপণ, এর সামান্য যদি আমরা ঘুষ, দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যয় করি তাহলে দেশটা ঠিক হয়ে যায়। ২ টা মাত্র দল। ক্ষমতাসীন হলেই অসীম শক্তি আর প্রতিপত্তি, মানুষ কে নির্দেশনা দেয়া ও সহজ তাদের জন্য।
ব্যাপারটা তো এরকম নয় যে, দেশ উন্নত হয়ে গেলে হাসিনা বা খালেদা (মুজিব আর জিয়া পরিবার) গরীব হয়ে যাবে, তাদের সম্মান কমবে। ব্যাপারটা তো উল্টো। যে দেশ যত উন্নত তার নেতৃত্ব তত বেশি সম্মানিত, দেশে আর দেশের বাইরে।
আল্লাহ্‌ পাক আমাদের নেতৃত্ব কে বুঝ দিন। আমাদেরকেও বুঝ দিন। হতে পারে ব্যাপারটা এমন যে, ব্যক্তি জীবনমান আর সামাজিক উন্নয়ন আমাদেরকে সামাজিক আন্দোলন করেই আদায় করে নিতে হবে। অধিকার এমনি এমনি আসে না গরীব আর অভাগাদের কপালে।

 

RAB বিলুপ্তি কোন সমাধান হতে পারে কি !

 

By KMB Bappy

যখন কেউ খুন-অপহরণের সমাধান দিতে গিয়ে বলেন- “RAB বিলুপ্ত করা হোক” তখন আমার মনে পড়ে যায় পিলখানার ঘটনায় কেউ কেউ বিডিআর বিলুপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন । তাদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়েই সম্ভবত বিজিবি নামকরণ করা হয়েছিলো । লাভটা কি হয়েছিলো বা কাদের পকেটে মুনাফা গিয়েছিলো সেটা এখন সবাই নিশ্চিত । এভাবে একটি প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী বিলুপ্ত করে দেয়া যায়না বা এর পরিণতি কখনোই ভালো হয়না । কারণ-


১। তাদের অপকর্মের দায় নেবার জন্য তখন আর কেউ থাকবেনা । বিচারের পথ রুদ্ধ হয়ে যায় চিরদিনের জন্য । যে মানুষগুলো অন্যায়ের শিকার হয়েছেন তারা আজীবন চেষ্টা করলেও বিচার পাবেন না । সকল অপরাধী রক্ষীবাহিনীর মতো পার পেয়ে যাবে । তাদের জমানো কাড়ি কাড়ি টাকার হিসাব নেবারও কোন উপায় থাকবেনা । তাদের পরিবারগুলো আরো শান্তিতে থাকবে তখন । কোন সাংবাদিকের ক্যামেরা বা জনতার চোখ তাদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিতে পারবেনা ।

২। র‌্যাব বিলুপ্ত করা হলে এই সদস্যরা তখন পুরাতন বাহিনীতে ফিরে যাবে । র‌্যাব এর দায় সেনা বা পুলিশ বাহিনী কখনো নেবেনা । সেনাবাহিনীতে বা পুলিশে মিলে যাবার পর একই ব্যক্তি নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে পরিবর্তিত মানুষ হয়ে যাবে তা ভাবার কোনই কারণ নেই ।

৩। যে অপরাধে র‌্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গ তোলা হচ্ছে, একই অপরাধে গত পাঁচ বছরের মধ্যেই পুলিশ বিলুপ্ত হয়ে যাবার কথা ছিলো । সেনাবাহিনীতেও সব ফেরেশতাদের বিচরণ ভাবা বাতুলতা হবে । অতএব বাহিনীকে দোষারুপ করার কোন যৌক্তিক কারণ আর থাকেনা ।

৪। তারপরও অনেকে হয়তো বলবেন র‌্যাব বিলুপ্ত করলে অন্তত গুম-খুন কিছুটা কমবে । অর্থাৎ আমরা কতোটা স্বার্থপর জাতি সেটা তখন প্রকাশ পেয়ে যাবে । নিজে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চাই যেভাবেই হোক । এর জন্য শেখ হাসিনা কে প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে তার কাছেই আবেদন জানানো হবে যেনো র‌্যাব বিলুপ্ত করা হয় । অথচ সকল বাহিনীর মূল চালিকাশক্তি হলেন শেখ হাসিনা । বিলুপ্ত করবেন কাকে ?

৫। আওয়ামী লীগের মূল টার্গেট হলো দেশের প্রতিটি এলাকায় গডফাদারভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গোটা দেশ দখলে রাখা । নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান কিছুটা বোকা বলেই সামনে চলে আসে বেশি । কিন্তু প্রতিটি এলাকায় মানুষেরা বিপদে পড়ে যেসব আওয়ামী নেতার বাসায় সহযোগিতার আশায় ভীড় করে তারা হলো বুদ্ধিমান গডফাদার । এরা শোষণ করে কিন্তু মজলুমকে বুঝতেই দেয়না । এরা নির্বাচনে যখন ভোট কারচুপি করে একক ভাবে পাশ করে আসে তখনো কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না । এদের একটি ফোনে/আহবানে যখন কোন বিপদ কেটে যায় বা কাজ সম্পন্ন হয়ে যায় তখন মানুষেরা আর চিন্তা করতে চায়না এদেরকে এতো ক্ষমতা কে দিয়েছে । এসব গডফাদারদের হাতে নির্বিঘ্নে দেশ তুলে দেয়ার জন্য র‌্যাব-পুলিশকে বিতর্কিত করে ফেলা এবং দুর্বল করে দেয়া একটা আওয়ামী কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয় ।

তারপরেও ধরে নিলাম সরকার জাতির স্বার্থে র‌্যাব বিলুপ্ত ঘোষণা করলো । তারপর কি হবে ? আপনারা যারা এটা কামনা করেছিলেন- কেউ কি ফুলের তোড়া দিতে যাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ? নাকি আপনারা ধরে নিবেন আওয়ামী লীগ সঠিক পথে ফিরে এসেছে ? কোনটাই করতে পারবেন না । কারণ বিলুপ্তি ঘোষণা/নিষিদ্ধ ঘোষণা কোনদিনও সমাধান হতে পারেনা । বরং ততদিনে হয়তো সমুদ্র জয়ের মতো অপরাধ দমন শীর্ষক আরেকটি নাটকের মঞ্চ বানাবে সরকার । এভাবে নিজেদের ভুলে আওয়ামী লীগের হাতে যারা আরেকটি কার্ড তুলে দিতে চাচ্ছেন তাদেরকে এখনি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ।

শেষকথা হলো- আমাদের প্রতিটি বাহিনী জনগণের টাকায় পরিচালিত । অতএব তাদের যাবতীয় কর্মকান্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহীতা থাকতে হবে । খুনি-অপরাধী যেই বাহিনীতে থাকবে সেই বাহিনীর আইনে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে । রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে আত্মীয়তার সুযোগে কেউ যেনো রাজনীতির ঘুটিতে পরিণত না হয় সেই পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে । এই কাজগুলো সরকার করবেনা । যারা সত্যিকার অর্থে দেশকে ভালোবাসে তাদেরকেই করতে হবে । র‌্যাব-পুলিশ-সেনাবাহিনী কেউ যদি না থাকতো দেশের সবচেয়ে লাভবান হতো আওয়ামী লীগ- এটা আমাদেরকে মাথায় রাখতে হবে । যদি সত্যিকার অর্থেই বিলুপ্ত করতে হয়- আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় অভিশাপকেই বিলুপ্ত করতে হবে । সেটা উপরওয়ালা করবেন নাকি জনগণ করবে এটা সময় বলে দেবে ।

 

ফাঁস হয়ে পড়া পরিকল্পনায় সংঘঠিত খুন এবং সাধারনের নিরাপত্তা

Vy Faiz Tayieb

ক্ষমতাসীন দলের একজন নির্বাচিত সিটি কমিশনার রাষ্ট্র কর্তৃক সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়া নিজের বিনা বিচার হত্যা সম্পর্কে জেনে গিয়েছিলেন। অত্যন্ত ট্র্যাজিক ব্যাপার এই যে, আগেই রাষ্ট্রীয় হত্যার পরিকল্পনা যেনে ফেলার পরও এবং ক্ষমতা বলয়ের লোক হবার পরেও এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি হবার পরেও তিনি ক্ষমতাবলয় কে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে প্রভাবিত করতে পারেননি। সম্ভভত রক্তক্ষয়ী ক্ষমতার যুদ্ধ এমনই। এর নিয়তি একমুখী। হয় তুমি স্বার্থের ধারক, নতুবা তুমি শত্রু, তোমার মৃত্যু অবধারিত।

তিনি মৃত্যুর ২ সপ্তাহ পূর্বেই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে গিয়ে স্বয়ং সাক্ষাতে পরিকল্পিত খুনীদের নাম প্রকাশ করে তার জীবনের আকুতি জানিয়েছেন অর্থাৎ ব্যক্তি নজরুল রাষ্ট্রের কাছে ফাঁস হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় হত্যার বিপরীতে আত্মসমর্পণ করে অপ্রাঠিস্থানিক ভাবে প্রান ভিক্ষা করেছেন।

“স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের জ্ঞাতসারেই চার সহযোগীসহ খুন হয়ে গেলেন নারায়ণগঞ্জের সিটি কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম। খুন হওয়ার আগে তিনি অপহূত হয়েছেন। তারও দুই সপ্তাহ আগে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে তাঁকে বলেছিলেন, তাঁকে হত্যা করা হবে। যারা তাঁকে হত্যা করতে চায়, তাদের নামও তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বলেছিলেন।

 

তার সপ্তাহ দুই পর চার সহযোগীসহ সত্যিই অপহূত হলেন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম। এবার তাঁর স্বজনেরা কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে হাজির হলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাসায়। নজরুলের বৃদ্ধ মা মন্ত্রীর কাছে আকুতি জানালেন, ‘বাবা, যে করেই হোক, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দেন।’ কিন্তু নজরুল জীবিত ফিরে এলেন না। অপহূত আরও ছয়জনের সঙ্গে তিনিও লাশ হয়ে ভাসলেন শীতলক্ষ্যা নদীতে।

সুত্রঃ প্রথম আলো

কোন সাড়া না পেয়ে তিনি তার গডফাদার শামীম ওসমান এর কাছে গিয়ে  আবারো অপ্রাঠিস্থানিক ভাবে প্রান ভিক্ষা করেছেন। যে তাকে খুনের পরোক্ষ ইঙ্গিত অথবা সতর্কতা দিয়ে সাবধান করেছেন।

“শামীম বলেন, মৃত্যুর আগের দিন নজরুল আমার কাছে এসেছিল। জানিয়েছিল আমার জামিনের প্রয়োজন। আমি বারের এক্স প্রেসিডেন্টকে বললাম ওর জামিনের প্রয়োজন। একটু করিয়ে দিয়েন। নজরুলকে বলেছি যাবা যখন বি কেয়ারফুল। সাবধানে যাবা। একসঙ্গে চার পাঁচজন যাবা। আমার একটা কমন সেন্স ছিল চার পাঁচজন হলে কেউ কিছু করবে না। করলেও জানা যাবে কারা করেছে। কেন করেছে। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা যে বাংলাদেশে ঘটতে পারে।

 

সুত্রঃ মানবজমিন” আরো লক্ষণীয় যে গডফাদার বলছেন তিনি রাষ্ট্রের নির্বাহী কে ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই জানিয়েছেন।

 

“শনিবার বেসরকারি ইন্ডিপেডেন্ট টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনা ঘটার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জানিয়েছেন।

সুত্রঃ ইন্ডিপেডেন্ট টেলিভিশন , মানবজমিন”

লক্ষণীয় ভাবে তার এই অপ্রথিস্থানিক প্রান ভিক্ষায় আদালত জড়িত নয়, অর্থাৎ তিনি যেনে বুঝে আদালতে না গিয়ে ক্ষমতা বলয়ের চেইন কে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে প্রানপন চেষ্টা চালিয়েছেন। এটা সময়ের বিবেচনায় যুক্তিযুক্ত, সাম্ভাভ্য হত্যার মুখে পতিত (সন্ত্রাসের অভিযুক্ত) ব্যক্তিও এই ক্রুয়েল আর অমানবিক রাস্ট্রের চরিত্র বুঝে আদলতের শরণাপন্ন হন নি।

এখানে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ভাবে ক্ষমতাবলয়ের চেইন অফ কমান্ড প্রকাশিতঃ

 

রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় >> সন্ত্রাসের ডাকসাইটে গডফাদার >> রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী।

গডফাদার এই পর্যায়ে এসে নিজ দলের রাষ্ট্রের নির্বাহী বা রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কে অভিযুক্ত না করে, অভিযোগের অঙ্গুলি দেখালেন কিছু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যের প্রতি, যা তার পূর্বের স্বীকারোক্তির সাথে পুরপুরি অসামাঞ্জস্য পূর্ণ এবং  ঘটনা আড়ালের পরিষ্কার পরিকল্পনা।

“”

 

আপনি কি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি ইঙ্গিত করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, সর্ষের মধ্যে ভূত আছে। কিছু না কিছু সহযোগীতা আছে। বিষয়টা রাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। ইউদিন টেন মিনিটস। প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন, মানে আপনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন? জবাবে শামীম বলেন, সমস্ত কিছু জানিয়েছি।

সুত্রঃ ইন্ডিপেডেন্ট টেলিভিশন , মানবজমিন

ঘটনা প্রবাহে এখানে অনিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে ঘটনা আড়ালের এই  পরিষ্কার পরিকল্পনা রাস্ট্রের যা গডফাদার সাংসদ এর মাধ্যমে প্রকাশিত।

র‍্যাবের বিরুদ্ধে তদন্ত কমটি ঘঠিত হবার পর বের হওয়া সংবাদ বলছে রাষ্ট্র এবং ভিক্টিম দুয়ের অভিযোগ ভিন্ন দিকে, যা রাষ্ট্রের ভন্ডামী কে আরো প্রকট করে তুলছে।

 

“”স্বামী অপহরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শামীম ওসমানের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম। গতকাল সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঘটনার পরপরই শামীম ওসমানের কাছে ছুটে যাই। আমি তাঁকে বলি, নূর হোসেন আমার স্বামীকে অপহরণ করেছে। আপনি আমার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন। তিনি আমাকে বলেন, “নূর হোসেন এই কাজ করতে পারেন না।” ২৭ এপ্রিল নজরুল অপহরণের পর সাংবাদিকেরা খোঁজ করে জানতে পারেন, নূর হোসেন ও শামীম ওসমান একসঙ্গে রাইফেল ক্লাবে আছেন। সেখানে গেলে শামীম ওসমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘নূর হোসেন কখনোই নজরুলকে হত্যা করতে পারেন না।’এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম ওসমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নজরুল ও নূর হোসেন দুজনেই আমার কর্মী ছিল। আমি কখনোই ভাবিনি, নূর হোসেন এভাবে অপহরণ করে হত্যা করতে পারে। নজরুল কিছুদিন আগে আমার কাছে এসে জানিয়েছিল, তাকে মেরে ফেলা হবে। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সবাইকে বলে দিয়েছিলাম। সর্বশেষ মামলার হাজিরা দিতে কোর্টে আসার আগে আমার সঙ্গে নজরুল দেখা করতে এসেছিল। আমি তখন তার জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য আইনজীবী আনিসুর রহমানকে বলে দিই। আমি তাকে বলেছিলাম, একা চলাফেরা কোরো না। পাঁচ-ছয়জন লোক নিয়ে থেকো। আমি ভেবেছিলাম, বেশি লোকজন থাকলে কেউ তার কিছু করতে পারবে না। কিন্তু তার পরও তাকে মেরে ফেলা হলো।’

 

ঘটনার পরপরই নজরুলের পরিবার নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও আপনি নূর হোসেনের পক্ষ নিয়েছিলেন। জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, নূর হোসেন সর্বোচ্চ হাতাহাতি করতে পারে। কিন্তু সে যে এভাবে নজরুলকে মেরে ফেলবে, সেটা আমি বুঝতে পারিনি।’

সুত্রঃ প্রথম আলো “”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কার্যকলাপ হতে এটা বুঝা যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই  হত্যা সম্পর্কে সরাসরি অবহিত, ঘটনার ৬/৭ দিন পর হত্যা কারীর বাসায় তল্লাশি, একজন সন্ত্রাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে কতিপয় বাহিনীর সদস্যকে অভিযুক্ত করন এবং তদন্ত কমিটি ঘটন, এই অবিচারী এবং হিংস্র রাষ্ট্রের সাধারন চরিত্র। এখানে একটি নামমাত্র তদন্ত কমিটি গঠনই রাষ্ট্রের দায় দায়িত্ত্বের শেষ।

এটাই কি উত্থান আর পতনের ধারিবাহিকতা , এটা কি চলবে?

 

উত্তর হ্যাঁ।

চাঁদাবাজি, খুন, সন্ত্রাস, অন্যের সম্পদ লুটপাট ইত্যাদি কাজে সহায়তা করা চামচা দের এটাই পরিনতি। গডফাদার এবং সন্ত্রাসী দলের নির্বাচিত নির্বাহী সবাই এই চেলাদের দুরবলতা জানেন। এদের জনসংস্লিটতা নেই। এদের খারাপ কাজ এদেরই, টুকটাক ভালো কাজের সাফল্য গদফাদার দের।  নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি এবং বল প্রয়োগের মাধ্যমে এরা সাময়িক জনপ্রতিনিধি হন, তাও গডফাদার জানেন, তাই দুনিয়া থেকে তাদের সরিয়ে দেয়া ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ সৃষ্টি করে না তার জন্য। আদালত গডফাদার দের কাজের প্রমান পায় না, এই চেলাদেরই মাঝে মধ্যে ধরে। তাই তারাও আদালতে যায় না। তাই এই নিয়তি একমুখী।

এই হিংস্র গল্প ক্ষমতাবলয়ের অবাধ্য লোকের নিয়তির। এবার বলি সাধারনের কথা। ব্যাক্তি নাগরিকের হত্যার  পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে পড়ার বা ভিতর থেকে তা বের করে আনার লোক এই রাষ্ট্র কাঠামোতে নেই। তার নেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক্সেস, তার নেই প্রতাপশালী গডফাদার। তার নেই রাষ্ট্রের নির্বাহীর কার্যকর চ্যানেল যার মাধ্যমে ” ইউদিন টেন মিনিটস” অপহরনের খবর পৌঁছে যাবে। অর্থাৎ তার ভাগ্য নির্ধারিত। তাকে ক্ষমতার স্বার্থে কাজ করতে হবে, উপার্জিত কিংবা উত্তরাধিকারের ব্যক্তি সম্পদের ভাগ বন্টন শেয়ার করতে হবে। ভুল করে হলেও অন্যের অপকর্ম দেখে ফেলা যাবে না, আড়িপাতা তো দুরের কথা। ব্যাত্যয় হলে তার প্রান যাবে। সাধারনের নিরাপত্তা এই সমাজে ক্ষমতার কৃপা।

ব্যক্তি নাগরিকে প্রানে বেঁচে থাকতে হলে হয়-  ক্ষমতার স্বার্থে তার সব কাজ, পরিকল্পনা, সম্পদ এবং সহায় নিবেদিত করতে হবে। চাহিবা মাত্র চাঁদা দিতে হবে।

খুন, গুম, অপহরন, ঘুষ, টেন্ডার ইত্যাদিতে অংশগ্রহন করা সন্ত্রাসীর পদচিহ্ন জ্ঞাতে কিংবা অজ্ঞাতে ফলো করা যাবে না। অগত্যায় সম্পদ চলে আসলে, সন্ত্রাসের ব্যাপার যেনে ফেললে নিজের যান হাতে নিয়ে থাকতে হবে, রাষ্ট্র তার মন্ত্রী, সাংসদ কে জানানো যাবে না। ক্ষমতাবলয়ের সব, সব কাজ কর্ম সমর্থন করতে হবে।

নতুবা  জ্ঞাতে এবং অজ্ঞাতে, ইচ্ছায় এবং অনিচ্ছায় মানুষেরই অপকর্মে ডুবে যাওয়া সমাজে সাধারনের একমাত্র গন্তব্য প্রতিপালকের কাছে আত্মসমর্পণ আর ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ-দেশ সংস্কার/সংশোধন এর প্রানান্ত চেষ্টা।   স্রষ্টার কাছে কৃপা চেয়ে প্রান হাতে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিপ্লব করতে হবে, সমাজকে জাগ্রত করতে হবে, মানুষ কে ঘরে ঘরে গিয়ে বুঝাতে হবে, সুশাসন, মানবাধিকার আর ন্যায়বিচার প্রঠিস্থার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। সুশাসন আর ন্যায় বিচার এমনি এমনি আসবে না, অনেক অনেক ত্যাগ করতে হবে এর জন্য।

সমাজের প্রতি স্তরে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার নিয়মতান্ত্রিক বিপ্লব করতে হবে। নিজে দুর্নীতি মুক্ত, লোভ মুক্ত, সৎ এবং  সাধারণ জীবন যাপন করতে হবে, সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে। চোর, প্রতারক, সুদখোর, ঘুষখোর নিজ দলের হলেও তাকে নসিহত এবং প্রয়োজনে প্রতিহত করতে হবে।

”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

 

বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার নিকট,

 

মানুষের অধিপতির নিকট, মানুষের মা’বুদের নিকট।

 

সুরা আন-নাস, আয়াত:১-৩

 

আল কুরআন

‘‘তোমরা সর্বোত্তম জাতি, তোমদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করবে।”

সূরা আলে ইমরান: আয়াত:১১০

 

আল কুরআন

”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

Reflections on Islamist politics in the Bangladesh context

5

by Anon

Let us define the Islamist voter as someone who would blindly vote any party or candidate basing their platform on Islam.  Vast majority of such voters in Bangladesh do not have more than few years of formal schooling.  And the small minority that is educated are not capable of leading the rest because these two groups of Islamist voters have quite different visions of Islam.

 

And this difference in how Islam is to be envisaged goes many years back to the 11th century, when a schism emerged among the Muslims on education and knowledge.  Specifically, Imam Gazali called for madrassah education to focus only on religious study, ignoring science, statecraft, philosophy and mathematics.

 

When Muslims conquered Syria they came across hundreds of books by Greek philosophers and mathematicians. During the Abbasid Caliphate starting from 750 AD, Muslims actively searched, translated and disseminated such books of knowledge under royal patron ship. Although many of the ideas in those books contradicted Muslim cultural and religious beliefs at that time, they still went ahead with studying and distributing them in the interest of acquiring knowledge. Meanwhile Europe was in the dark ages where all scholarship was confined into monastery based theological studies.

 

But things turned upside down from the effects of Crusade and then Mongol invasion. From the interactions of European Christians and Arab Muslims, the Europeans acquired the secular study of knowledge in the Arab lands and the Muslims took up the Church-based education of Europe. The hope continuing the tradition of Ibne Rushd, Ibne Sina, Al-Beruni, Al-Khwarizmi, Al-Farabi, Al-Kindi, Jabir Al-Haiyan etc, withered into nothing.

 

Imam Gazali was chiefly responsible for this. He forbid all heretical ideas and thoughts to preserve Islam. He fiercely attacked Ibne Sina in his book Tahafut Al Falasifa. Because of the vehemence of his attacks, even bold thinkers like Omar Khayyam withdrew from broadcasting their ideas vigorously. Because of Gazali, madrassah education, which was the only mass education system for youth apart from the universities for higher education, confined itself only on religious studies. But there were oppositions to this restriction in mass education in different parts of the Muslim world.

 

Eventually, this schism led to three regional schools: a science oriented one based on Egypt’s Al Azhar; a syncretistic one in Turkey; and a religion-focused one based in Samarkent.

 

Bangladesh’s madrassahs are the heir to the Islamic discourse written in Farsi a millennium ago in Samarkent.  The Samarkent school was abolished by the Soviets, but its literature survived in the madrassahs of Afghanistan, Pakistan, India (Deoband) and Bangladesh’s qaumi madrassahs.

 

The textbooks used in Bangladeshi madrassahs are all based on the Samarkent school literature, and are written in Farsi or archaic Urdu.  Indeed, there are instances of Hadiths of questionable authenticity taught in our madrassahs based on this literature.  For example, only recently such a dubious Hadith was circulated in social media, claiming that the Prophet (pbuh) ordered us to attack India.  Being the heir of the Samarkent school, madrassah students of Bangladesh tend to read archaic Urdu and Farsi more than modern Arabic-Farsi-Urdu.

 

After 9/11/2001, modernisation of Bangladesh’s madrassahs became a priority.  The then BNP government, with the assistance of Jamaat and large foreign funding, attempted a modernisation drive.  This led to an intense conflict between qaumi madrassahs and aliya madrassahs and those trained from Medina University — with the latter denounced as Jew-trained-heretic by some eminent leaders of the qaumi madrassahs.

 

The Imams of nine out of ten mosques in Bangladesh are from these qaumi madrassahs.  They are the role models of Bangladeshi Islamists.  Scholars from different schools are viewed with suspicion by those trained in the Samarkent tradition. To expect modernising Islamists like Fetullah Gulen or Tariq Ramadan is thus unrealistic in the Bangladeshi context.

 

And how big is the Islamist vote in Bangladesh anyway?  Let’s think about it through attendance at mosques.  The same mosque that can’t fit the jamaat on a Friday, causing a traffic jam outside, can’t find a single line of Muslims for the Fajr prayer.  That is the blunt reality of Islamism in Bangladesh.

 

The apparent rise of Islamism in today’s Bangladesh is a socio-cultural reaction against Awami misrule and Shahbagi cultural hubris.  It is similar to the socio-cultural reaction against the upper caste Hindu chauvinism a century ago.  Just like the Muslim League politics ended after partition, sympathy for the Islamists will also wane once the political scene changes.

 

Before an Islamic revolution is even plausible in Bangladesh, Islam has to be actually practiced along side science and technology.  Vast majority of us practice neither.  Those who practice both however don’t represent the Samarkent traditionalists, who are the actual Islamists.

 

And that’s why Islamist politics is a non-starter in Bangladesh.

(Picture Bayt al-Hikma was a librarytranslation institute and school established in Abbasid-era BaghdadIraq)

প্রসঙ্গ অ্যামেরিকার ‘সোফা’ চুক্তি এবং জাতীয় মেরুদণ্ড প্রশ্নে বাংলাদেশ

 

 Banda Reza ul Kabir

খুবই জনগুরুত্বপুর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সুকৌশলে জনসাধারণের চোখের আড়ালে রেখে দেয়া একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অনেকদিন থেকেই প্রসঙ্গটা আমার বোর্ডের টু-ডু লিস্টে স্টিক করা ছিলো। সময় সুযোগের অভাবে লেখা হয়ে উঠছিল না।

Status of Forces Agreement সংক্ষেপে SOFA হল আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির এক গুরুত্বপূর্ন একটি অধ্যায়; যার ব্যাপারে আমেরিকা এবং চুক্তিতে আবদ্ধ দেশটির জনসাধারণকে পরিকল্পিতভাবে অন্ধকারে রাখা হয়। সাধারনত সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিরা ছাড়া এই চুক্তির ব্যাপারে অন্য কেউ কিছু জানে না, আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে কাউকে এ ব্যাপারে জানতে দেয়া হয় না।

আমেরিকান কংগ্রেশনাল রিসার্চ সেন্টারের ভাষ্যমতে (Chuck Masson নামক একজন আমেরিকান আইন বিশেষজ্ঞ ও এটর্নী কর্তৃক লিখিত সোফা চুক্তির উপর বিস্তৃত গবেষনাপত্র) সোফা চুক্তি হলো এমন কতগুলো ধারা, যার মাধ্যমে অন্য একটি দেশের সাথে আমেরিকার সামরিক সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে। এই চুক্তির ধারাগুলোই নির্ধারন করে চুক্তিবদ্ধ দেশের অভ্যন্তরে একজন আমেরিকান সামরিক অফিসার বা রিপ্রেজেন্টেটিভ কী কী বিশেষ সুবিধা লাভ করবে। মূলত এই চুক্তিবলেই তারা অন্য দেশের মধ্যে দাপ্তরিক কাজকর্ম থেকে শুরু করে সামরিক অপারেশন পর্যন্ত যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারে। এসব কাজ করার সময় আমেরিকান প্রতিনিধির উপর চুক্তিবদ্ধ দেশের আইন কানুনের সাধারন প্রয়োগ হবে না। চুক্তির শর্ত ও ধারাগুলোই নির্ধারন করে দিবে যে আইনের কোন কোন অংশ আমেরিকানদের জন্যে শিথিল বা অপ্রযোজ্য হবে।

সোফা চুক্তির কোন আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক দলিল দস্তাবেজ থাকে না। এতে কোন সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা আওতাধীন বিষয়বস্তর তালিকাও থাকে না। এমনকি এই চুক্তিকে কোন সুনির্দিষ্ট শিরোনামের মাঝেও ফেলা যায় না। এর পেছনে কারন হল আমেরিকার স্বার্থ রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তা বাস্তবায়নের জন্যে চুক্তিবদ্ধ দেশের উপর সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সোফা চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ধারাগুলোর একটা হল, আমেরিকান সামরিক কর্মকর্তাদের উপর চুক্তিবদ্ধ দেশের কোন আইনী নিয়ন্ত্রন থাকবে না। বিনা বাধায় আমেরিকান সামরিক প্রতিনিধিদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ন কার্যালয় সমূহে প্রবেশাধিকার থাকবে। এসময় তাদের উপর সামরিক ইউনিফর্ম পরিধানের জন্যে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যাবে না। তারা সকল কর ও শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। কোন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তারা আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও ব্যবহার করতে পারবে। বেতার তরংগ ব্যবহারের সুবিধা পাবে। লাইসেন্স ও অন্যান্য নীতিমালার ব্যপারে তাদের উপর ততটুকুই নিয়ন্ত্রন আরোপ করা যাবে যতটুকুর ব্যাপারে তারা নিজেরা সম্মতি দেবে।

উল্লেখ্য যে এখানে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলতে শুধুমাত্র সেনাবাহিনীতে কর্মরত লোকদেরকেই বুঝানো হয়নি; বরং স্বশস্ত্র বাহিনীগুলোর সবগুলোই এর আওতাভুক্ত। উপরন্ত প্রতিরক্ষা বিভাগের বেসামরিক কর্মকর্তা বা প্রতিরক্ষা বিভাগ কর্তৃক নিযুক্ত চুক্তিবদ্ধ বেসামরিক কন্ট্রাকটাররাও এই চুক্তির আওতায় পড়বে।

ন্যাটোর সাথে সোফা চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকা ন্যাটোভুক্ত প্রতিটি দেশের কাছ থেকেই এই কাজের জন্যে সমর্থন আদায় করে নিয়েছে। যেহেতু সামরিক দিক থেকে ন্যাটো ও মার্কিন স্বশস্ত্র বাহিনীগুলো একে অপরের সহযোগী তাই ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর জন্যে সোফা চুক্তিকে আবদ্ধ না হয়ে কোনো উপায় নেই।

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে সোফা চুক্তিকে কোন ধরনের সীমারেখার গন্ডিতে ফেলা যায় না। কোন ধরনের আইনের কাছে এটি মুখাপেক্ষী নয়। ক্ষেত্রবিশেষে এই চুক্তির ধারাগুলো এত সংক্ষিপ্ত হতে পারে যে এক পৃষ্ঠাতেই পুরো চুক্তিনামা লিপিবদ্ধ করা যায়। উদাহরণস্বরুপ ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের সাথে আমেরিকার চুক্তির কথা উল্লেখ করা যায়। এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সাথে আমেরিকার একটি যৌথ সামরিক মহড়া করা। চুক্তিটিতে মাত্র ৫টি ধারা ছিল। তবে মূল উদ্দেশ্য একটাই ছিল, যা ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে বতসোয়ানার সাথে আমেরিকার চুক্তির কথাটিও উল্লেখ করা যায়, যার মাধ্যমে আমেরিকা বতসোয়ানার সরকারের দ্বারা আইনানুগ ভাবে সেদেশের মাটিতে মানবিক সাহায্যের নামে কার্যক্রম শুরু করলেও বেসামরিক দাপ্তরিক কাজকর্ম থেকে শুরু করে সামরিক মহড়া ও ট্রেনিং এর সুযোগ পায়। বস্তত এসকল ধারাগুলোর অন্তরালে আমেরিকার উদ্দেশ্য একটিই, আর তা হল একটি দেশে ঔপনিবেশিকতার সূচনা করা ও ধীরে ধীরে বিভিন্নভাবে দেশটির আভ্যন্তরীন ও প্রতিরক্ষা কাঠামোকে দূর্বল করে দেশটির উপর সার্বিক নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করা।

এ চুক্তির মাধ্যমে তারা দেশটির আইন শৃংখলা বাহিনীর উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠাপূর্বক নিজস্ব মানদন্ডে প্রনীত “ন্যায়নীতি” ও “শান্তি-শৃংখলা” রক্ষা করতে চায়। মূলত এর পেছনে থাকে তথাকথিত সন্ত্রাস দমন, জঙ্গীবাদ নির্মূল সহ এধরনের অন্যান্য উদ্দেশ্য; যদিও অধিকাংশ থেকে এটা করা হয়ে থাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন বা মানবাধিকার নিশ্চিতকরনের মত বাহ্যয় মহৎ কার্যক্রমের ছদ্মাবরনে।

 

উল্লেখযোগ্য কিছু দেশে সোফা চুক্তিঃ

 

আফগানিস্তানঃ

সেপ্টেম্বর ১১ এর হামলার পর আল ক্বায়েদা ও তালেবানের মূলোতপাটনের লক্ষে আমেরিকা আফগানিস্তানে হামলা চালায়। এরই সূত্র ধরে ২০০২ সালে নবপ্রতিষ্ঠিত আফগান পুতুল সরকারের সাথে আমেরিকা কতগুলো পত্রবিনিময়ের আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে নিজ কর্তৃত্ব বজায় রাখার যাবতীয় বন্দোবস্ত সেরে ফেলে। আমেরিকান ভিন্ন দেশকে সাহায্য প্রদান আইন ১৯৬১ মোতাবেক আফগানিস্তানে আর্থিক সাহায্য দেয়ার শর্তসাপেক্ষে উক্ত চুক্তি আফগানিস্তানে সামরিক প্রশিক্ষন থেকে শুরু করে অপারেশন, এমনকি ঘাটি স্থাপনের সুযোগ করে দেয়। একারণে খুব সহজেই আফগানিস্তানকে তারা সামরিকভাবে কব্জা করে নিতে পারে। এই চুক্তির ধারামতে আমেরিকার সকল প্রতিনিধি আফগানিস্তানের সকল ফৌজদারী আইনের আওতার বাইরে থাকবে। অর্থাৎ আমেরিকার মনোনীত কোন ব্যক্তি যদি আফগানিস্তানে খুন বা ধর্ষণের মতো অপরাধও করে তবুও আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় আইনে তার বিচার করা যাবে না। এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ন ধারা হল যে, অন্য কোন দেশ থেকে কোন আমেরিকান নাগরিক যদি কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে আফগানিস্তানে আশ্রয় নেয় তাহলে আফগানিস্তান সরকার সেই অপরাধীকে সেই দেশের কাছে তুলে দিতে পারবে না। আফগান সরকার সরাসরি ও প্রকাশ্যে আমেরিকার এই চুক্তিকে মেনে নেয়।

২০০৫ সালের ২৩মে তে হামিদ কারজাই ও বুশের মধ্যকার একটি যৌথ ঘোষনাপত্রের মাধ্যমে আফগানিস্তান ও আমেরিকার পারস্পরিক ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়, যার মাধ্যমে আমেরিকান সেনারা আফগানিস্তানে পূর্ন নিয়ন্ত্রনাধিকার তো পাবেই উপরন্ত এই চুক্তির মাধ্যমে তারা আফগান সৈন্যদেরকেও নিজস্ব কর্মকান্ডে ব্যবহার করতে পারবে। সরকারের কাছে এরুপ প্রস্তাব করা হয় যে আফগানিস্তানের জনগনকে বুঝাতে হবে যে তারা এখনো নিজ দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়ে উঠেনি; তাই নিজেদের স্বার্থেই তাদের উচিত হবে আমেরিকান সৈন্যদের কাছ থেকে প্রশিক্ষন গ্রহন করা, যাতে তারা ভবিষ্যতে তালেবান থেকে ‘নিরাপদ’ থাকতে পারে।

 

জার্মানিঃ

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে জার্মানির মত ক্ষমতাবান একটি দেশ আমেরিকার সাথে এমন লজ্জাস্কর একটা চুক্তিতে আবদ্ধ! জার্মানির ন্যাটোতে যোগদানের চার বছর পর আমেরিকার সাথে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যা ন্যাটো সোফা চুক্তি ১৯৫৩ নামে খ্যাত। এই চুক্তির আওতায় আমেরিকা-জার্মানির মধ্যে একটি সামরিক সম্পর্কের সেতু স্থাপিত হয়। চুক্তির ধারাসমূহ বেশ বিস্তৃত এবং প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার সুবিশাল পরিসরের। এর মাধ্যমে জার্মানির অভ্যন্তরে আমেরিকা অপারেশান চালানোর সুযোগ পায়।

জাপানঃ

জাপানের সাথে আমেরিকার এই চুক্তির মাধ্যমে জাপানের অভ্যন্তরে কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত আমেরিকান বিনা বাধায় পার পেয়ে যেতে পারবে। ১৯৫৭ সালে একজন আমেরিকান সেনা কর্মকর্তা একজন জাপানি নাগরিককে হত্যা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তবে চুক্তিতে আবদ্ধ থাকার কারনে আমেরিকা তার সৈন্যের পক্ষে জোর দাবি জানিয়ে বলতে সক্ষম হয় যে, এই হত্যাকান্ড ছিল তাদের সামরিক কার্যক্রমেরই একটা অংশমাত্র। জাপান সরকার এটিকে ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে প্রমান করার জন্য সকল জোড়ালো প্রমান উপস্থাপনের কারণে আমেরিকা এটি মানতে বাধ্য হয় এবং তাকে জাপানের হাতে তুলে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্ত ঐ সেনা কর্মকর্তা নিজের পক্ষে আমেরিকার ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট অব কলম্বিয়াতে রীট করে। ঐ রীটটি খারিজ হয়ে গেলেও ঐ সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে আমেরিকান সরকার জাপান সরকারকে বিচার কাজ না চালাবার জন্যে চাপ প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি আমেরিকান সুপ্রীম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

ইরাকঃ

২০০৩ এর মার্চ থেকে শুরু করে ২০১০ এর আগস্ট মাস পর্যন্ত ইরাকের অভ্যন্তরে আমেরিকা বহু সামরিক অপারেশন পরিচালনা করে। প্রথমত এর উদ্দেশ্য ছিল সাদ্দাম হুসেনের অপসারন, যদিও পরবর্তীতে তাদের আরো অনেক উদ্দেশ্য প্রকাশ পায়। ইরাকের সাথে আমেরিকার চুক্তির কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলঃ

এই চুক্তির আওয়াতায় আমেরিকা ইরাকী সরকারকে ‘সহায়তা’ করবে; ইরাকী নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষন দিতে পারবে; তাদেরকে প্রয়োজনীয় সাজ সরঞ্জাম ও আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করতে পারবে। ইরাকী সরকারকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী’ যুদ্ধে অংশগ্রহনের জন্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে যাতে তারা আল কায়েদা ও এর মত ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়তে পারে। পাশাপাশি পূর্বেকার অপরাধী সরকারগুলোর অবশিষ্ট কোন বাহিনীর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ চালাতে পারে। সর্বোপরি ইরাকে বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা হবে এবং ইরাকের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হবে।

উল্লেখ্য যে ইরাকের সাথে আমেরিকার এই চুক্তি আইনী দিক থেকে সকল বিধি-নিষেধের উর্ধ্বে এবং এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক একটি চুক্তি, যার মাধ্যমে ইরাকের নিরাপত্তা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এমনকি আইন প্রয়োগ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির উপরও আমেরিকা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে।

এসবের সাথে আরো যুক্ত ছিল যে, ইরাকের অভ্যন্তরে আমেরিকার যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে ইরাক সরকারকে অবশ্যই সম্মত হতে হবে এবং তার নিজ বাহিনী দ্বারা আমেরিকাকে পূর্ন সহযোগিতা করতে হবে। চুক্তির প্রতিটি ধারাই নগ্নভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হওয়া সত্ত্বেও অনেক গোড়া আমেরিকান সামরিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, এটি আমেরিকার স্বার্থ আদায়ের জন্য যথেষ্ট নয়।

এছাড়াও আর যেসব দেশের সাথে আমেরিকার এই চুক্তি রয়েছে তার মধ্যে ফিলাপাইন্স ও দক্ষিন কোরিয়ার নাম প্রনিধানযোগ্য।

 

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সোফা চুক্তিঃ

Cold war পরবর্তী সময়ে দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে আমেরিকার আগ্রহ যেন হঠাত করেই বেড়ে যায়। এই অঞ্চলের উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করতে উঠে পড়ে লাগে। এখানকার কোন দেশে পারমানবিক শক্তিকেন্দ্র স্থাপিত হবে, কোন দেশের সাথে কোন দেশের কী ধরণের ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদিত হবে ইত্যাদি সকল কাজেই আমেরিকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উপস্থিতি লক্ষনীয়। কৌশলগত ভৌগলিক গুরুত্বের কারণে বাংলাদেশের প্রতি আমেরিকার এই আগ্রহ যেন একটু বেশিই।

প্রথমত সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের যা অবস্থা, তাতে এদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে শুরু করে শেষ শস্যদানাটুকুও যদি আমেরিকা হাইড্রলিক পাম্প লাগিয়ে নিয়ে নিতে চায় সেক্ষেত্রে চুপচাপ তাকিয়ে দেখা ছাড়া আমাদের হয়তো কিছুই করার থাকবে না।

SOFA-05

দ্বিতীয়ত, এই দেশের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলে দক্ষিন এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের উপর প্রভাব বিস্তার করা সহজ হয়। বাংলাদেশে আমেরিকার “প্রফিট” এর সম্ভাবনা যথেষ্ঠ। এটা বুঝতে কোনো বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমেরিকার ইতিহাস থেকে এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে বৃহৎ কোন স্বার্থ ছাড়া আমেরিকা কোন দেশের পেছনে এভাবে সময় বা সম্পদ কখনোই ব্যয় করে না।

বাংলাদেশে সোফা চুক্তির সূচনা হয় ১৯৯৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের সময়; যদিও বিএনপি-জামাত সরকার পরবর্তিতে মোটেই এর বিরোধিতা করেনি; যা এ চুক্তির প্রতি তাদের প্রত্যক্ষ সমর্থনই প্রমাণ করে। আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট বিল রিচার্ডসন এর সূচনা করেন এবং পরবর্তীতে ততকালীন আমেরিকান সেনাপ্রধান বাংলাদেশ সফরে এসে চুক্তিটি কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যান।

১৯৯৮ সালে যখন প্রথম এই চুক্তিটি সূচনা করা হয় তখন এর ধারাগুলো এত সুবিস্তৃত ও গভীর ছিল না; তখন এটা শুধু আমেরিকান সেনাবাহিনীর সাথে যৌথ সামরিক মহরার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে চুক্তির ধারাগুলো যখন স্পষ্ট করা হয় তখন দেখা যায় যে তা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য এক সুস্পষ্ট হুমকি। চুক্তির ধারাগুলো নিম্নরুপঃ

১. ‘জরুরী প্রয়োজনে’ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমেরিকান সামরিক বাহিনীর বিনা বাধায় প্রবেশ পারবে
২. আমেরিকান সামরিক কর্মকর্তারা এদেশের পাসপোর্ট ও ভিসা-নীতির উর্ধ্বে থাকবে
৩. বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যেকোন ধরনের সরঞ্জাম (যুদ্ধাস্ত্র বা সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহার্য যন্ত্রাদি) কাস্টমস ছাড়াই বিনা বাধায় প্রবেশ এবং পরিবহনের পূর্ন অধিকার থাকবে।
৪. প্রশিক্ষন ও মহড়ার জন্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমেরিকান সৈন্যদের স্বশস্ত্র অবস্থায় প্রবেশের অধিকার থাকবে।
৫. প্রশিক্ষন ও মহড়া চলাকালীন সময়ে তাদের দ্বারা রাষ্ট্রের কোন ক্ষতি হলে তার কোনো দায়ভার তারা বহনে বাধ্য থাকবে না।
৬. বাংলাদেশে অবস্থানরত সামরিক সদস্যদেরকে দেশের আইন ব্যবস্থার ঊর্ধ্বে রাখা।
৭. অন্য কোন দেশে কোন অপরাধ সংঘটন করে আমেরিকান সামরিক বাহিনীর কেউ যদি বাংলাদেশে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় চায় তাহলে তা দিতে হবে এবং তাকে সে দেশের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।
৮. দেশের যে কোন স্থাপনাসমূহে আমেরিকান সামরিক কর্মকর্তাদের বিনা বাধায় প্রবেশাধিকার থাকতে হবে।
৯. এদেশের যে কোন নাগরিকের পেছনে গোয়েন্দাগিরী,  তাকে গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ, এমনকি তাকে আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার অধিকার থাকবে আমেরিকার সামরিক কর্মকর্তাদের।

এই চুক্তির আওতায় আমেরিকান সৈন্যরা বাংলাদেশে যখন খুশী তখন বিনা বাধায় আসতে পারবে এবং বাংলাদেশী সৈন্যরা শর্ত সাপেক্ষে প্রশিক্ষনের জন্যে আমেরিকায় যেতে পারবে, তবে কোনভাবেই বাংলাদেশী সৈন্যদের জন্যে সেসব সুবিধার কিছুই প্রযোজ্য হবে না যে সুবিধাগুলো আমেরিকা সৈন্যরা এদেশে ভোগ করতে পারবে।

এদেশের সাধারণ মানুষ এসব বিষয়ের কেবল ততটুকুই জানে যতটুকু সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে জানতে দেয়া হয়। এই কথাটি আমেরিকার জনগণের ক্ষেত্রে আরো বেশি বাস্তব। এজন্যে উভয় দেশের নাগরিকরাই নিজ সরকারের এমন হীন পদক্ষেপগুলোর ব্যপারে অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে, ফলে প্রতিবাদ তো দূরে থাকুক, এসব বিষয়ে জনমতও গড়ে উঠছে না। টিকফা বা অন্যান্য চুক্তি নিয়ে কিছু কথা-বার্তা কেউ কেউ বললেও তার চেয়ে হাজারো গুন মারাত্মক ভয়াবহ চুক্তি সোফা নিয়ে তেমন কারো মাথাব্যথাই দেখা যায় না। অন্যদিকে এমন কিছু প্রো আমেরিকান সংগঠনের অস্তিত্বও এদেশে আছে যারা এই চুক্তিকে সমর্থন জানায় এবং একে দেশের জন্য কল্যাণকর হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করে। তাদের বক্তব্যমতে আমেরিকা বাংলাদেশের বন্ধু এবং দুই দেশের পারস্পারিক সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশের উন্নতি সম্ভব। শাহারিয়ার কবির নামক তথাকথিত এক দেশপ্রেমিক তো বলেই দিয়েছে “জঙ্গি মৌলবাদ দমনে আমেরিকার সহায়তা প্রয়োজন।” গত ২০১৩ এর ৬ই জানুয়ারির ভয়েজ অফ আমেরিকার বাংলা অনলাইন সংস্করণে তা প্রকাশও হয়েছে। (লিঙ্কঃ http://www.voabangla.com/content/interview-with-shahriar-kabir-on-his-film-against-jihad-06-january-2013/1578761.html)

Shahariar-Kabir-VOABangla

উল্লেখ্য যে সোফা চুক্তির এই ভয়াবহ ধারাগুলো ২০০৯ পরবর্তী শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই যুক্ত হয়েছিল। ২০১২ তে আমেরিকান পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরের পর এই চুক্তি নবায়ন হয়। আওয়ামীলীগের সাথে হাজারো বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও এক্ষেত্রে বিএনপি-জামাত কিন্তু নিজেদের মুখে কুলুপ এটে রেখেছিলো।

দেশ ও জাতি তথা বিশ্বের কাছে আত্মমর্যাদাহীন ও পরাজিত ব্যর্থ সরকার হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আশঙ্কা ছাড়াও এই চুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার আরও কিছু জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-

১. বাংলাদেশে অন্য কোন দেশের সৈন্য প্রবেশের নিরঙ্কুশ অধিকার অনুমোদন করার বিষয়টি শুধু আইনী বা রাজনৈতিক দিক থেকেই অসমীচীন নয় বরং এদেশের সংবিধানেরও সুস্পষ্ট পরিপন্থী একটা ব্যাপার।

২. “সার্ক” ভুক্ত দেশ হবার কারণে বাংলাদেশ সার্ক এর কিছু নীতিমালা মেনে চলতে বাধ্য, যার মধ্যে অন্যতম হল স্থানীয় সীমারেখায় বহিরাগতদের প্রবেশাধিকারের উপর নিয়মতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রন আরোপ করা। সোফা চুক্তির আড়ালে আমেরিকাকে এই অবৈধ সুবিধা প্রদান করা মানেই সার্কের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক নষ্ট করা।

এসমস্ত ভয়াবহ পরিনতির কথা বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে এই চুক্তির বিষয়টি শুধুমাত্র নীতিনির্ধারক মহল পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার আড়ালে বিষয়টি জনগনের কাছে গোপন করা হচ্ছে।

আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক ১৯৮০ সালের পর থেকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধিই পেয়েছে। সেসময় ৩০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশী সামরিক কর্মকর্তা আমেরিকায় প্রশিক্ষন নিয়েছেন এবং তখন থেকেই আমেরিকা-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে অনেক অপারেশান ও মহড়া হয়ে আসছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের সাইক্লোনকে কেন্দ্র করে অপারেশন সী এঞ্জেল।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশ দুটি প্রধান আন্তর্জাতিক দ্বন্ধে আমেরিকাকে সামরিকভাবে সমর্থন দিয়েছে।

ক) ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ, যাতে বাংলাদেশ প্রায় ২৩০০ সৈন্য পাঠায়

খ) ১৯৯৪ সালের হাইতি মিশন, যাতে বাংলাদেশের কন্টিনজেন্ট প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত ছিল

আমেরিকান নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তারা সোফা চুক্তির পেছনে তাদের যেসব প্রধান উদ্দেশ্যের কথা প্রকাশ করেছেন তা নিম্নরূপ-

১. মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে কার্যক্রম জোরদার করা

২. প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সময়ে ত্রানসাহায্য সরবরাহ করা

৩. জল ও আকাশ পথে উদ্ধারকাজ চালনা ও অপারেশন পরিচালনা করা

৪. স্কুল স্থাপন ও অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন

৫. চিকিৎসা সুবিধার ব্যবস্থা করা ও প্রশিক্ষন

প্রকাশ্যে এধরণের মানবিক সাহায্যের কথা বলে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ বরাবর বুঝাতে চেয়েছে যে সোফা কোন সামরিক চুক্তি নয় এবং এর পেছনে আমেরিকার ও মানবিক সাহায্য প্রদান ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যই নেই। তারা কখনই সোফা চুক্তির পেছনে লুকায়িত স্বার্থের কথা প্রকাশ করে না। উপরন্ত তারা এমন প্রস্তাবও করেছে যে এধরনের “লাভজনক” একটি চুক্তি করা থেকে বিরত থাকা মানে বাংলাদেশের নিজেরই ক্ষতি করা। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিয়েগো গার্সিয়ার পর বাংলাদেশের মত একটা সুইট স্পটে সামরিক কর্তৃত্ব স্থাপন করার ব্যাপারে তারা সত্য-মিথ্যা যেকোন কিছুরই আশ্রয় নিবে এটাই স্বাভাবিক।

Hillary Rodham Clinton with Bangladeshi Prime Minister Sheikh Hasina and Foreign Minister Dipu Moni

হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরের অব্যবহিত পরেই ডেইলি স্টার পত্রিকা সোফা চুক্তির ব্যাপারে স্বল্প পরিসরে কিছুটা আলোকপাত করেছিলো। একথা স্পষ্ট যে সোফা চুক্তিতে আবদ্ধ হবার মানেই হচ্ছে আমেরিকার কাছে জাতীয় সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দেওয়া। কারন এই চুক্তির ধারা মোতাবেক দেশের মধ্যেও কোন আমেরিকানের উপর দেশের আইন বলবত থাকছে না। তাছাড়া এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ন তথ্যাদির উপরও সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকছে না।

US Secretary of State Hillary Rodham Cllinton

সোফা চুক্তির ব্যাপারে আমাদের দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নীরবতা সত্যিই অদ্ভূত। এমনকি হিলারি ক্লিনটনের সরাসরি টিভি সাক্ষাৎকারে প্রখ্যাত সাংবাদিকদের সোফা চুক্তির বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নিরবতা বিস্ময়কর। আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী নীতির সাথে যারা একটু হলেও পরিচিত তারা খুব ভালভাবেই জানেন যে, কিভাবে একটি দেশকে আমেরিকা ধীরে ধীরে তার হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয়। অতীতে এর অসংখ্য উদাহরন রয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত আছে। জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারে রাজনৈতিক মহলের অবাক করা নীরবতা রাজনীতিবিদদের স্বার্থান্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। আমেরিকাকে সন্তষ্ট করতে নিজ দেশের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে দিনশেষে বাংলাদেশের লাভের খাতায় যে কিছুই থাকবে না, বরং যা ছিল তার সবই যাবে—এই সহজ সমীকরনটা বুঝতে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা যত দেরী করবেন দেশ ও দেশের জনগণ ততই নিরাপত্তা হারাবে।

 

 
 

Wassalam,
Banda Reza ul Kabir
…until I taste what Hamza bin Abdul Muttalib (RA) tasted

Read me @ www.bandareza.com

Subscribe my videos on www.youtube.com/bandareza313
 

 

ঘৃণা আর কদমবুচি

by Hafiz M Ullah

 

আমাদের অভিধানে এবং সংস্কৃতিতে একদিকে “ঘৃণা” আর তার পাশেই “কদমবুচি” করার চল এতোটাই গেড়ে বসেছে যে, কয়েকটা জেনেরেশন পার হতে হবে এই পঙ্কিলতা থেকে পরিত্রান পেতে। এভাবেই আমাদের মন-মানসিকতা গড়া হয়েছে যে জীবনের অন্তিমকালে এসে সেগুলি unlearn and relearn এর সুযোগ নেই। বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

আমরা সাধারন নাগরিক আমাদের পাশের দেশের তুলনায় পিছিয়েই থাকব। কারন তারা চায় না প্রতিবেশী আবার প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। সেজন্য তারা আমাদের দুই দেশের মাঝের বিদ্যমান সমস্যাগুলি সমাধান না করে যুগ যুগ ধরে ঝুলিয়ে রাখছে। তাদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার জন্য অনুদানের বা সুবিধা দেয়ার তুলনায় তাদের উতপাদিত পণ্য ও মেডিক্যালসেবা আমাদের কাছে বিক্রির চেস্টা নানান কৌশলে করে থাকে।

আমি ১৯৭৩-৭৪ সালের দিকে ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয় একজন শিক্ষক এর সাথে দেখা করতে গেলে উনি দুইটা ইংরেজী শব্দ ব্যাবহার করেছিলেন তার প্রফেসি (prophecy) হিসাবে যে, “আজ থেকে কয়েকযুগ পরে আমাদের দেশে intellectual bankruptcy দেখা দিবে” (Intellectual means involving a person’s ability to think and to understand ideas and information। Bankruptcy: A person who is totally lacking in a specified resource or quality)। আজ আমি সেটার নজির রাস্ট্রের সর্বোচ্চ লেভেল থেকে সাধারান জনগনের মাঝে প্রকট আকারে দেখছি। আমরা যুক্তিতর্ক প্রয়োগ না করে ধমকের সাথে বা গায়ের জোরে প্রতিপক্ষকে কাবু করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করি।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সেই বিখ্যাত ছবির গরুর গাড়ীর চাকার মত বাংলাদেশকেও যেন আজও কাদামাটি থেকে ধাক্কা দিয়ে তোলা যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাহেব তার এক ভাষনে বলেছিলেন যে, বিএনপি যদি কখনো উত্তর দিকে দৌড় দেয় তবে আওয়ামী লীগ চোখ বন্ধ করে দক্ষিন দিকে দৌড়াবে এবং vice versa (with the order reversed; the other way around) এর মানে, তুমি যেটা বিশ্বাস করবে বা করতে চাইবে আমি তার উল্টোটা করব। নইলে আমি তোমার ফলোয়ার হয়ে গেলাম। যেটা আমার নিজের আর দলের জন্য অবমাননাকর ব্যাপার। তাই, সব কিছুতে বিরোধীতা করা চাই।

এই বাজে vicious cycle (one trouble leads to another that aggravates the first) থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হলে দলমত নির্বিশেষে একজন গ্রহনযোগ্য নেতার প্রয়োজন। যিনি হয়ত নিজ থেকে উড়ে এসে জুড়েও বসতে পারেন। কিন্তু দেশটাকে একছন্দে আর তালে এগিয়ে নেয়ার স্পৃহা জনগনের মাঝে প্রথিত করে যেতে পারেন তেমন নেতার প্রয়োজন ছিল। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের জানুয়ারীর ১০ তারিখে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্য (লন্ডন) হয়ে পথে কলকাতায় থেমে পরে ঢাকায় আমাদের মাঝে এসেছিলেন। তখন তিনিই আমাদের সেই স্বপ্নের নেতা হিসাবে সদ্যস্বাধীন দেশের মাঝে অনেক আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন। সেই সময়ে আমরা সমগ্র ৭৫ মিলিয়ন বাংগালী (বাংলাদেশী) ওনার মুখের দিকে অনেক আশা নিয়ে চেয়েছিলাম। এমন কোন কাজ ছিল না যেটা উনি দেশবাসীকে বলতেন বা আমাদের কাছ থেকে চাইতেন আর সেটা তখন মানা হত না বা আমরা করতাম না। কিন্তু যে কোন কারনেই হউক উনি নিজেকে জনগনের সম্মুখ থেকে গুটিয়ে নিয়ে রাস্ট্রের রুটিন কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। যার ফলে তখন আমরা আমাদের তখনকার দিনের প্রিয় নেতাকে ৭৩ সাল থেকেই হারাতে শুরু করেছিলাম আর ৭৫ সালে সম্পুর্ণ ভাবে হারিয়েছিলাম। সেই ৭২-৭৫ সালে আমারা বাংলাদেশের ম্যানেজার হিসাবে শেখ মুজিবকে পেয়েছিলাম। কিন্তু তখন আমাদের একজন স্টেটসম্যান দরকার ছিল। যেটাতে উনি পুরোপুরি ব্যার্থ হয়েছিলেন। বাদ বাকিটা তো ইতিহাস হয়ে আছে।

বাই দ্যা ওয়ে, Four Qualities of a True Statesman (1) A Bedrock of Principles (2) A Moral Compass (3) A Vision and (4) The Ability to Build a Consensus to Achieve that Vision

http://www.naturalawakeningsmag.com/Natural-Awakenings/October-2012/The-Four-Qualities-of-a-True-Statesman/

শ্রমিক দিবসের চেতনা এবং প্রাসঙ্গিক দৃষ্টিকোন- মুজতাহিদ বাপ্পী

1
আমাদের প্রজন্মের একটি দোষ হচ্ছে বর্তমান পৃথিবীর কোন প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকেই আমরা সরলভাবে বিশ্বাস করতে পারিনা । মাঝে মাঝে মনে হয় একবিংশ শতাব্দী সম্পূর্ণরুপে একটা এন্টি-ট্রাস্ট ফেইজ । আমরা এমন কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে গড়ে উঠতে পারিনি যেই ব্যবস্থা বাহ্যিক উৎকর্ষের সাথে সাথে শতভাগ আত্মার প্রশান্তি এনে দেবে । এজন্যেই বিশ্বাসের ভিত্তি যেমন দুর্বল হয়েছে, মনের খুঁতখুতে স্বভাবও বেড়েছে । জেনারেশন এক্স-ওয়াই-জেড পার হয়ে আমরা এখন কোন টাইম-স্পেস ফ্রেইমে অবস্থান করছি সেটাও সুনির্দিষ্ট নয় ।যাইহোক, এরকম সন্দিহান মন নিয়ে এবারের মহান মে দিবসে কি করণীয় হতে পারে তাই ভাবছিলাম । আমাদের দেশেও দেখলাম অনেক মহল ঘটা করেই মে দিবস পালনের চেষ্টায় ব্রতী হয়েছেন । উইকিপিডিয়াতে জানতে চাইলাম মে দিবস কিভাবে পালন করতে হবে ! ওখানে বলা আছে এটা হলো উত্তর গোলার্ধের বসন্ত উৎসব । এইদিন প্যাগানদের উপাসনার জন্য বিখ্যাত । ছোটশিশুরা হোমওয়ার্ক বাদ দিয়ে সারাদিন মে-পোল নামক একটা সার্কাসের চারিদিকে ঘুরতে থাকবে, তরুণীরা কুমারী মেরী সেজে একটা ঝুড়িতে ফুল-ফল নিয়ে প্রতিবেশীদেরকে বিতরণ করতে থাকবে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সমুদ্রসৈকতে মাইলটেস্ট দিতে থাকবে, কিছু অনুষ্ঠানসর্বস্ব সুবিধাভোগীর দল মরিস ড্যান্সিং নামে রাস্তায় রাস্তায় একটা প্যাগান রিচুয়েল পালন করতে থাকবে । মে দিবসের এহেন কর্মকান্ড দেখে আমি অবাক হয়ে এনসাইক্লোপিডিয়া খুলে বসলাম ।
হায় হায়, এরাও বলতেসে মে দিবস মোটামুটি চৌদ্দ-পনেরটা উৎসবের সম্মিলিত দিন ! এ কি অবস্থা ! আমরা সারাজীবন মুখস্ত করে এলাম এটা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, শ্রমিকেরা আন্তর্জাতিক কর্মঘন্টার স্বীকৃতি আদায়ে রক্ত দিয়েছে, ঘর্ম দিয়েছে, চর্ম দিয়েছে, আরো কতো কি ! সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনেই মে দিবসের এমন ভিন্ন রুপ ! পরে বৃহত্তর কিউরিওসিটি নিয়া গুগলিং করে করে যা বুঝলাম তা হইলো পুরা মে দিবস জিনিসটা অন্যান্য আন্তর্জাতিক দিবসের মতোই নিছক একটা দাবার চাল ছাড়া আর কিছুই নয় । এই দিনে কোন শ্রমিক নিহত হয়নি । এই দিনে কোন মালিক উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত মালিকানা হারায়নি । এই দিনে কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান দুর্ঘটনায় ধ্বসে পড়তেও দেখা যায়নি । শুধুই একটা অন্ধ প্রচলনের কক্ষপথে পুরা পৃথিবী যেনো আবর্তন করে যাচ্ছে ।মে দিবসের নামে যে ঘটনাটি প্রচার করা হয় তার সাথে ভ্যালেন্টাইন দিবসের কাহিনীর মিল আছে । কারণ দুইটির একটিও কোন নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত নয় । আবার শিকাগো শহরের হে-মার্কেট রায়ট নামে যে ঘটনার বর্ণনা আমাদের কাস্তে-কোদাল চিণ্হিত লালমহলে জোরেশোরে আলোচিত হয় সেটিও ঘটেছিলো ১৮৮৬ সালের ৪ মে, পহেলা মে-তে নয় । শ্রমিকদের একটি র‌্যালি থেকে নিক্ষিপ্ত বোমা বিস্ফোরিত হয়ে সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয় । তারপর পুলিশের গুলিতে চারজন শ্রমিক নিহত হয় । তাতে একটি সাময়িক দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে বিচারের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে ফাঁসিতে মৃত্যদন্ড দেওয়া হয় । ব্যস্ এই হলো ঘটনা । যেটা আমাদের দেশে ছাড়াও পৃথিবীর বহু দেশে এখন নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র । কিন্তু সেই ঘটনাকে টেনে নিয়ে ঘুটি চালাচালি শুরু করলো রাজনৈতিক তৃতীয় পক্ষ । ১৮৮৯ সালে ফরাসী বিপ্লবের শতবর্ষ পালন উপলক্ষ্যে “সোশালিস্ট ইন্টারন্যাশনাল” নামে একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম শুরু হয় প্যারিসে । রুশ বিপ্লবের নায়ক লেনিন ছিলেন এই সংগঠনের কর্মী । অল্প সময়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়ার উপায় হিসেবে তারা শিকাগোর ঘটনা এবং পূর্বের শতাব্দিতে সংঘটিত ফরাসি বিপ্লবকে সামনে নিয়ে আসে । এইভাবে তারা ঘোষণা দেয় মে মাসের এক তারিখ হবে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, যদিও তারা নিজেরা এমন ঘোষণা দেয়ার কতটুকু সক্ষমতা বা গ্রহণযোগ্যতা রাখে সেটাই প্রশ্নবিদ্ধ । তারাই আবার ১৯১০ সালে ঘোষণা দেয় মার্চ মাসের ৮ তারিখ হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ! নিছক রাজনীতি ছাড়া একটির পর একটি দিবস ঘোষণা করা কোন দলের কাজ নয় এটা বোঝার ক্ষমতা আধুনিক বিশ্বে মোটামুটি সবাই রাখেন ! আর সত্যিই যদি শ্রমিকদের কোন স্বার্থে এই দিবস ঘোষণা করা হতো, তবে একই সংগঠন প্রলেতারিয়েত রাজনীতিতে অংশ নেবে কেন ? যাইহোক দিবসনির্ভর রাজনীতি চালিয়ে বেশিদূর যেতে পারলোনা দলটি । প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা খেয়ে তারা নিরুদ্দেশ হয়ে গেলো ১৯১৬ সালের মধ্যে । কিন্তু তাদের ফেলে যাওয়া দিবস দুখানি (মে দিবস এবং নারী দিবস) এখনো পৃথিবীর আনাচে কানাচে অসহায় মানুষের জন্য মিথ্যে আশা কুহকিনী হয়েই বেঁচে রইলো যেনো ।কারণ যতোটুকু শ্রমিকদের স্বার্থে ব্যবহার হবার কথা ছিলো, মে দিবস তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি ব্যবহৃত হয়েছে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া তৃতীয় সুবিধাবাদী গোষ্ঠির দাবার চাল হিসেবে ।এবার দেখে নেয়া যাক রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে মে দিবসের ভূমিকা কেমন ছিলো । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মে দিবস পালনের নামে নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠি সবসময় রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টায় সক্রিয় ছিলো । বিশেষ করে ১৯৩০ সালের দিকে গ্রেট ডিপ্রেশনকে কাজে লাগিয়ে তারা দিবসটি পালন করতো এবং নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, সিয়াটল প্রভৃতি স্থানে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করতো । অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকার মে দিবসের বদলে শ্রমিক দিবস অন্য দিনে নির্ধারণ করায় এই প্রচেষ্টা কখনো সফলতা পায়নি । যুক্তরাষ্ট্রে এখনো শ্রমিক দিবস পালিত হয় সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সোমবার । এমনকি কানাডাতেও শ্রমিক দিবস সেপ্টেম্বরে পালিত হয় । এছাড়া অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট জাতীয় আন্দোলনগুলো সবসময় মে দিবসের সংবেদনশীলতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে । জার্মানীতে মে দিবসকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা বাঁধানোর ইতিহাস প্রায় পঁচিশ বছরের । এমনকি ২০১০ সালেও বামপন্থী শিবিরের প্ররোচনায় বার্লিনে দাঙ্গা হয়েছে মে দিবসে । রাশিয়াতে মে দিবস মানেই বলশেভিক বনাম মেনশেভিক দ্বন্দ্ব । ২০১৪ সালের মে দিবসে সম্ভবত পুতিনের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্যে রেড স্কোয়ারে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ান ফেডারেল ট্রেড ইউনিয়ন । মুসলিম বিশ্বের মধ্যে তুরস্কে ১৯৭৭ সালে তাকসিম স্কয়ারে কম্যুনিস্টরা মে দিবস পালনের নামে যে দাঙ্গা শুরু করে তা শেষ পর্যন্ত ১৯৮০ সালের সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেষ হয় । বর্তমানে এরদোগান সরকার তাকসিম স্কয়ারে সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করার পূর্ব পর্যন্ত নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠি মে দিবসের প্রতি মানুষের সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বারবার সরকার পতনের চেষ্টা চালিয়েছে দিনটিকে উপলক্ষ্য বানিয়ে ।

 

সম্ভবত এসব দাঙ্গা-নৈরাজ্যের কথা মাথায় রেখেই ইরান, জাপান, কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি রাষ্ট্র মে দিবসের সরকারি ছুটি বাতিল করেছে । দোষ কিন্তু মে দিবসের নয় । বরং সুবিধাভোগী বিশেষ বিশেষ গং দের ট্রেড ইউনিয়নের আড়ালে দেশের শিল্প-বাণিজ্যকে রাজনৈতিক কূটচালের উপকরন হিসেবে ব্যবহার করাই মূল সমস্যা । যদি কোন সত্যিকার দেশপ্রেমিক সরকার ক্ষমতায় আসে, তবে চক্রান্তকারীদের প্রথম আক্রমণের জায়গা হয় দেশের অর্থনীতি । আর এসময় শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার নাম করে কতিপয় ট্রেড ইউনিয়ন নামের মুখোশধারী দাঙ্গাবাজ পলিটিক্যাল থাগ দের খেলা শুরু হয় । অতএব দেশরক্ষার ভবিষ্যৎ ক্যালকুলেশনে শুধু সামাজিক ইস্যু ভ্যালেন্টাইন ডে-পহেলা বৈশাখের অশ্লীলতা নিয়ে ভাবলেই চলবেনা, রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে শ্রমিক দিবসের নামে শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা এবং রাজনৈতিক স্বার্থে শ্রমিকদের ব্যবহার নিয়েও বোধহয় নতুন করে ভাবা দরকার ।

 

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে শ্রমিক সংঘের নাম আছে । অথচ শ্রমিকদের সত্যিকার বেতন-ভাতা নির্ধারণ, কাজের সুন্দর পরিবেশ তৈরি, সামাজিক সম্মান বা কোন দুর্ঘটনায় জানমালের ক্ষতি হলে সঠিক ক্ষতিপূরণের জন্যে কেউই তেমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে জানা নেই । নির্যাতনকারী মালিকপক্ষকে ভাসা ভাসা তিরস্কার, বুঝেও না বোঝার ভান, মৃদু ভৎসর্নার নীতি গ্রহণ, অর্থনীতির সঞ্চারপথে খুব একটা সুখকর ভবিষ্যৎ বয়ে আনেনা ।

 

অতএব- কেবল দিবসে দিবসে চেতনার বুদবুদ গ্রহণের পূর্বে একটু সতর্ক হবার সময় এসেছে বলেই মনে করি । আমরা চাই বছরের প্রতিটি দিন যেনো শ্রমিকেরা তাদের প্রাপ্য মর্যাদা এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা নিয়ে কাটাতে পারেন সেই পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হোক । শ্রমিকদের জন্য দুর্ঘটনা-ভাতার ব্যবস্থা করা হোক । তাদের সন্তানদেরকে যেনো লেখাপড়ায় ইস্তফা দিয়ে শিশুশ্রমিক হিসেবে অল্পবয়সে জীবিকার সন্ধানে বের হতে না হয় সেই রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা বিধান করা হোক । হয়তো তাহলেই সত্যিকার শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত হবে । নিছক দিবসের আড়ালে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি বন্ধ হবে । শ্রমিক দিবস তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে । সেদিন হয়তো “দুনিয়ার কুলি-মজুর এক হও লড়াই করো” শ্লোগানের বিপরীতে নতুন শ্লোগান হবে “মোরা সভ্যতার কারিগর- স্বদেশ করবো স্বনির্ভর” ।

 

আমায় ভাসাইলিরে, . আমায় ডুবাইলিরে

Bu Watchdog Bd

ওরা মারে, ওরা মরে…ওরা শীতলক্ষ্যার পানিতে ভাসে!

সিদ্ধিরগঞ্জ। আর দশটা জনপদের মত বাংলাদেশের আরও একটা জনপদ। পালাবদলের সাথে এখানেও বদল হয় ভগবানদের চেহারা। সাথে বদল হয় তাদের দোসর থানা পুলিশ, এসপি, ডিসি, আইন, আদালত ও বিচারক। রাষ্ট্র ও সরকারের সর্বোচ্চ পদে বসে অপরাধ ও অপরাধীদের লালন করার অভয়ারণ্য আমাদের জন্মভূমি। এখানে দস্যুবৃত্তির মাধ্যমে যেমন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করা যায়, তেমনি ক্ষমতার ছত্রছায়ায় প্রতিপক্ষকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে পোক্ত করা যায় লুটে পাওয়া সে ক্ষমতা। সিদ্বিরগঞ্জও এর বাইরে নয়। এখানেও ভগবান আছেন। তারা নিরাকার। খালি চোখে দেখা যায়না। কেবল ঘাড়ের কাছে তাদের নিশ্বাস অনুভব করা যায়। শিমরাইল টেক পাড়া এলাকার মৃত হাজি বদরুদ্দিনের ছেলে নুর হোসেন। কর্মজীবন শুরু করেন সিদ্ধিরগঞ্জ ইকবাল ট্রাক গ্রুপের হেল্পার হিসাবে। ১৯৮৯ সালে একই এলাকার ট্রাক চালক ও হেল্পার ইউনিয়নের নেতা বনে যান গায়ের জোর। ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাক চালক দাইমুদ্দিনকে উচ্ছেদ করে দখল নেন ইউনিয়নের এবং ক্ষমতাসীন দল জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে পোক্ত করে নেনে অবৈধ দখল। ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নাম লেখান বিএনপির রাজনীতিতে। ক্ষমতার সিঁড়ি টপকানোর শুরুটা হয় এখানেই। এরপর তরতর করে পদানত করেন ইউপি চেয়ারম্যানের মসনদ। ’৯৬ সালে জয়ী হন দ্বিতীয় টার্মেও। বিএনপি ছেড়ে হাত মেলান শামীম ওসমানের সাথে। বনে যান আওয়ামী নেতা। ২০০২ সাল পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় শিমরাইল মোড়ে গড়ে তোলেন চাঁদাবাজীর সিন্ডিকেট। ভগবানের চরণে নিয়মিত পূজা দিয়ে আবিস্কার করতে থাকেন সম্পদ আহরণের নতুন নতুন দিগন্ত। পরবর্তী স্টপেজ নারায়ণগঞ্জ ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ। ক্ষমতার সিঁড়ি বাংলাদেশে কখনোই মসৃণ হয়না। নুর হোসেনের বেলায়ও ব্যতিক্রম হয়নি। নজরুল ইসলাম একই এলাকার বাসিন্দা এবং ক্ষমতার সিঁড়ি টপকানোতে নুর হোসেনের প্রবল প্রতিপক্ষ। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে গিয়ে থামতে হয় নজরুল ইসলামকে। নুর হোসেনের সাথে নজরুল ইসলামের রেশারেশি ক্ষমতার রুটি হালুয়া নিয়ে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক সিন্ডিকেট, বেশ্যালয় সহ শত শত অবৈধ ব্যবসার মালিকানা নিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী লড়াই। ১৭ বছর একনাগাড়ে চলতে থাকে এ লড়াই।

10339700_10203944204584954_4392159966178853964_n

১৯৯৭ সালের ১৭ই জুলাই। মাগরিব নামাজের পর মিজমিজি চৌধুরী পাড়া এলাকায় নজরুলের ক্যাডারদের হাতে খুন হন সাইফুদ্দিন নামের এক ভদ্রলোক। পরে বের হয় ভুল টার্গেট ছিল এই সাইফুদ্দিন। নামের গোলমালে প্রাণ দিয়ে হয় তাকে। ২০০০ সালের ১৭ই আগষ্ট। নুর হোসেনের সমর্থক জহিরুল ইসলাম নামের এক সব্জি বিক্রেতা নির্বাচনী পোস্টার লাগানোর দায়িত্ব পালন করছিলেন। নজরুলের উপস্থিতিতে তার ক্যাডাররা খুন করে জহিরুল ইসলামকে। এর প্রতিদান ফিরিয়ে দিতে দেরি করেনি নুর হোসেন। তার ক্যাডাররা ১লা অক্টোবর স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে ঢুকে খুন করে নজরুলের সমর্থক যুবলীগ নেতা আবদুল মতিনকে। তারও আগে ১৯৯৬ সালে শিমরাইল মোড়ে নিহত হন আওয়ামী লীগ কর্মী আলী হোসেন। নুর হোসেনকে আসামী করা হলেও ভগবানের হাত ধরে অব্যাহতি পান মামলা হতে। নজরুলে ক্যাডার শিপন, রনি ও ফারুখ ২০০১ সালের ৩১শে মার্চ শিল্পী নামের এক তরুনীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। তার অপরাধ, বিয়ের প্রস্তাবে অনিচ্ছা প্রকাশ। ২০০০ সালের ৩রা মার্চ ধানমন্ডির ১৫ নং সড়কের ১৬নং বাড়িতে খুন হন এডভোকেট বাবর এলাহি। তদন্তে প্রকাশ পায় নজরুল ভাড়াটে খুনি দিয়ে খুন করায় তাকে। খুনের মূল্য ছিল ৫ লাখ টাকা। দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল ২০০৪ সালে নজরুলকে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করে। পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পালিয়ে যান এই নেতা। এবং ফিরে আসেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার বছর। হাইকমান্ডের নির্দেশে হাইকোর্টের আওয়ামী বিচারকগণের হাত ধরে খালাস পান খুনের মামলা হতে। ২০০৯ সালের ১৩ই অক্টোবর মিজমিজি পূর্বপাড়ার নিজ বাড়ির সামনে খুন হন বাংলাদেশ চুন প্রস্তুতকারক সমিতির সহ-সভাপতি জনাব আবু তালেব। তদন্তে পাওয়া যায় নজরুলের সংশ্লিষ্টতা।

২০১৪ সালের ৩০শে এপ্রিল। বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকা। এলাকার বুক চিড়ে বহমান শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ভাসমান কটা লাশ দেখে উৎসুক হয়ে উঠে স্থানীয় জনগণ। খবর দেয় স্থানীয় পুলিশকে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খবর দেয় আত্মীয়দের। লাশের মিছিলে খুঁজে পাওয়া যায় নজরুলের লাশ। সনাক্ত করেন তার স্ত্রী। অবশ্য ততদিনে নজরুলের পরিচয়ে কিছু উপাধি যুক্ত হয়ে হয়ে গেছে; যেমন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল চেয়ারম্যান। প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুলকে একা ভাসতে দেখা যায়নি শীতলক্ষ্যা নদীর ঠান্ডা পানিতে। সাথে ছিল তার তিন সহযোগী। সাথে কো-ল্যাটারাল ড্যামেজ হিসাবে প্রাণ হারায় এক এডভোকেট ও তার ড্রাইভার। তাদের অপরাধ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে সাংবাদিক সাগর-রুনির মত তারাও স্বাক্ষী হয়েছিল ভগবানদের বড় কোন অপরাধের।

পাঠক, এবার আসুন নজরুল ও নুর হোসেনদের কাপড় খুলে উন্মোচন করি তাদের লজ্জাশীন অঙ্গ সমূহ। অনেকের মত নজরুল-নুর গংদের জন্ম ক্ষমতার ঘরজামাই, বিশ্ব বেশ্যা সমিতির আজীবন চেয়ারম্যান জনাব হোমো এরশাদের জরায়ুতে। বেশ্যা ভোগের মত বেগম জিয়ার বাহিনীও ভোগ করে গেছে তাদের সার্ভিস। লগিবৈঠা বাহিনীর প্রধান ও ক্ষমতার জারজ কন্যা শেখ হাসিনা কেবল উপভোগই করেই ক্ষান্ত হননি, বরং জাতির গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন পচনশীল মহামারী হিসাবে। দেশের উচ্চ আদালতে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডার কাম বিচারকরাও বাইরে থাকেননি এ সিন্ডিকেটের। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়ে প্রমান করেছেন তারাও ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট খোর। চেতনার যোনিপথে ফিল্টার লাগিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধের সাথে সহবাস করছেন তাদের হীমশীতল নীরবতা এসব দানবদের উত্থানে ফার্টিলাইজার হিসাবে কাজ করেছে মাত্র। যে দেশে সরকার তার নাগরিকদের রাতের অন্ধকারে খুন করে ক্ষমতার পথ মসৃণ করার জন্য, সে দেশে নুর হোসেন তথা শামীম ওসমানরা নজরুল গংদের শীতলক্ষ্যার গভীর পানিতে সমাহিত করবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের বাতাসে এখন লাশের গন্ধ। এ গন্ধ বিচ্ছিন্ন কোন গন্ধ নয়। বরং এ গন্ধের মাথা আছে, মগজ আছে, হাত-পা আছে। গন্ধের সূত্র চাইলে তা শীতলক্ষ্যার গভীর পানিতে নয়, বরং সন্ধান করতে হবে ভগবানদের দরবারে।
http://www.amibangladeshi.org/blog/05-01-2014/1455.html

Islamophobia is no Cry Wolf (A compilation)

In a huffingtonpost article, “The Phobia of Being Called Islamophobic” (28/4/14) by Ali A. Rizvi a Pakistani-Canadian writer is saying that Muslims in the west are using Islamophobia label to suppress genuine criticism of Muslims and Islam. He is saying that just as powerful Jewish groups have suppressed objective criticism of Israel’s policy and practice by the Anti-Semitic label in the past decades, Muslim groups in the west are now seeking to quash all criticism of Islam and Muslims. In Author’s own words

 

“In addition to calling out prejudice against Muslims (a people), the term “Islamophobia” seeks to shield Islam itself (an ideology) from criticism. It’s as if every time you said smoking was a filthy habit, you were perceived to be calling all smokers filthy people. Human beings have rights and are entitled to respect. But when did we start extending those rights to ideas, books, and beliefs? You’d think the difference would be clear, but it isn’t. The ploy has worked over and over again, and now everyone seems petrified of being tagged with this label.

The phobia of being called “Islamophobic” is on the rise — and it’s becoming much more rampant, powerful, and dangerous than Islamophobia itself.”

(http://www.huffingtonpost.com/ali-a-rizvi/the-phobia-of-being-calle_b_5215218.html)

The main example the author puts in the article is a recent, much publicized episode about Brandeis University and Ayaan Hirsi Ali. (Those who are not familiar with Ayaan Hirsi Ali should please look her up in Wikipedia). The latest controversy began when Brandeis  University, a well-known Liberal US university known for its progressive Jewish roots, decided to confer honorary Doctorate to Ayann Hirsi Ali and few other noted personalities.

The decision immediately drew widespread condemnation from different groups, some of them Islamic, because of Ms Ali’s widely known anti-Islamic views. Bloggers and students took the initiative in protesting the decision of Brandeis  University and then Muslim advocacy groups joined them.  Council on American-Islamic Relations contacted its members though email and social media, and urging them to complain to the university. Ibrahim Hooper, a spokesman for CAIR said “She is one of the worst of the worst of the Islam haters in America, not only in America but worldwide. I don’t assign any ill will to Brandeis. I think they just kind of got fooled a little bit.”

(http://www.nytimes.com/2014/04/09/us/brandeis-cancels-plan-to-give-honorary-degree-to-ayaan-hirsi-ali-a-critic-of-islam.html)

Even the faculty of Brandeis  University joined the protest. In a publicized open letter signed by many of them, they said,

Dear President Lawrence,

We are writing to urge you to rescind immediately the invitation to Ms. Ayaan Hirsi Ali for an honorary doctorate, a decision about which we are shocked and dismayed, owing to her virulently anti-Muslim public statements. 

A few of many examples will suffice. David Cohen quotes Ms. Hirsi Ali as saying: “Violence is inherent in Islam – it’s a destructive, nihilistic cult of death. It legitimates murder. The police may foil plots and freeze bank accounts in the short term, but the battle against terrorism will ultimately be lost unless we realise that it’s not just with extremist elements within Islam, but the ideology of Islam itself….Islam is the new fascism” (LondonEvening Standard, 2-7-07).

We are filled with shame at the suggestion that the above-quoted sentiments express Brandeis’s values.

We are saddened that Brandeis would choose to honor such a divisive individual at commencement, a moment of unity for the Brandeis community.  Her presence threatens to bring unnecessary controversy to an event that should rightly be about celebrating Brandeis’ graduates and their families. 

The selection of Ms. Hirsi Ali further suggests to the public that violence toward girls and women is particular to Islam or the Two-Thirds World, thereby obscuring such violence in our midst among non-Muslims, including on our own campus. It also obscures the hard work on the ground by committed Muslim feminist and other progressive Muslim activists and scholars, who find support for gender and other equality within the Muslim tradition and are effective at achieving it. We cannot accept Ms. Hirsi Ali’s triumphalist narrative of western civilization, rooted in a core belief of the cultural backwardness of non-western peoples.”

(http://www.truthrevolt.org/news/revealed-brandeis-faculty-letter-pressured-president-drop-hirsi-ali)

Faced with such diverse criticism,Brandeis  University withdrew the decision to confer PHD to Ayaan Hirsi Ali. Its statement said, “We cannot overlook that certain of her past statements are inconsistent with Brandeis University’s core values. Ms. Hirsi Ali is welcome to join us on campus in the future to engage in a dialogue. Universities consider it important to make a distinction between inviting a speaker who may air unpopular or provocative views that the institution does not endorse, and awarding an honorary degree, which is more akin to affirming the body of a recipient’s work.”

Immediately after Brandeis  made this decision to withdraw, the right wing and anti-Islam dedia in USA erupted in furious condemnation. A sample of their view of the matter.

“conservative media figures have rushed to defend Hirsi Ali, some using her life experience to explain away her Islamophobic comments. Weekly Standard editor Bill Kristol called the move an “example of a war on women” and argued that the university had “caved to Muslim thugs.” Fox News’ Sean Hannity said the university’s decision was an “example of left-wing appeasement.” On April 10, Fox contributor Monica Crowley asked, “Where are the moderate Muslims? Where are people who, like Ali, have left the faith and are willing to courageously speak about it? And yet when somebody does show the guts and gets out there to do it, this is how they’re treated?”

(http://mediamatters.org/blog/2014/04/11/why-aayan-hirsi-ali-gets-a-conservative-media-s/198856)

This view of ‘Muslim thugs’ using Islamophobia label to stop debate and discussion of Islam is the main topic of the article I first mentioned. Reading the article in the morning, I got reminded of the famous Aesop story of ‘Cry Wolf’, how the boy cried wolf when the wolf is not there. But the problem is that often the wolf is really there, waiting to devour the herd of sheep. One can easily find lots of example of Ayaan Hirsi Ali’s deeply prejudiced and hateful words against Islam and Muslims. Just a small sample here would suffice.

In An interview with Reason magazine in 2007 is where she elaborated her view on Islam most clearly.

Reason: Should we acknowledge that organized religion has sometimes sparked precisely the kinds of emancipation movements that could lift Islam into modern times? Slavery in the United States ended in part because of opposition by prominent church members and the communities they galvanized. The Polish Catholic Church helped defeat the Jaruzelski puppet regime. Do you think Islam could bring about similar social and political changes?

Hirsi Ali: Only if Islam is defeated. Because right now, the political side of Islam, the power-hungry expansionist side of Islam, has become superior to the Sufis and the Ismailis and the peace-seeking Muslims.

Reason: Don’t you mean defeating radical Islam?

Hirsi Ali: No. Islam, period. Once it’s defeated, it can mutate into something peaceful. It’s very difficult to even talk about peace now. They’re not interested in peace.

Reason: We have to crush the world’s 1.5 billion Muslims under our boot? In concrete terms, what does that mean, “defeat Islam”?

Hirsi Ali: I think that we are at war with Islam. And there’s no middle ground in wars. Islam can be defeated in many ways. For starters, you stop the spread of the ideology itself; at present, there are native Westerners converting to Islam, and they’re the most fanatical sometimes. There is infiltration of Islam in the schools and universities of the West. You stop that. You stop the symbol burning and the effigy burning, and you look them in the eye and flex your muscles and you say, “This is a warning. We won’t accept this anymore.” There comes a moment when you crush your enemy.

Reason: Militarily?

Hirsi Ali: In all forms, and if you don’t do that, then you have to live with the consequence of being crushed.

 

Reason: In Holland, you wanted to introduce a special permit system for Islamic schools, correct?

Hirsi Ali: I wanted to get rid of them. I wanted to have them all closed, but my party said it wouldn’t fly. Top people in the party privately expressed that they agreed with me, but said, “We won’t get a majority to do that,” so it never went anywhere.

Reason: Well, your proposal went against Article 23 of the Dutch Constitution, which guarantees that religious movements may teach children in religious schools and says the government must pay for this if minimum standards are met. So it couldn’t be done. Would you in fact advocate that again?

Hirsi Ali: Oh, yeah.

Reason: Here in the United States, you’d advocate the abolition of—

Hirsi Ali: All Muslim schools. Close them down. Yeah, that sounds absolutist. I think 10 years ago things were different, but now the jihadi genie is out of the bottle. I’ve been saying this in Australia and in the U.K. and so on, and I get exactly the same arguments: The Constitution doesn’t allow it. But we need to ask where these constitutions came from to start with—what’s the history of Article 23 in the Netherlands, for instance? There were no Muslim schools when the constitution was written. There were no jihadists. They had no idea.

 

(http://reason.com/archives/2007/10/10/the-trouble-is-the-west/singlepage)

 

We all know of the Norwegian Islamophobe Anders Brevik who killed 80 young kids and adults because he felt Europe was silently falling under Muslim domination. Ayaan Hisri Ali was an inspiration for Brevik. Hirsi Ali later in a speech said that she should not be blamed for Brevik’s hate crime but the culture of silence about true nature of Islam.

 

[T]hat one man who killed 77 people in Norway, because he fears that Europe will be overrun by Islam, may have cited the work of those who speak and write against political Islam in Europe and America – myself among them – but he does not say in his 1500 page manifesto that it was these people who inspired him to kill. He says very clearly that it was the advocates of silence. Because all outlets to express his views were censored, he says, he had no other choice but to use violence.”

(http://www.loonwatch.com/2012/05/ayaan-hirsi-ali-sympathizes-with-terrorist-anders-behring-breivik/)

We can really see that sometimes Islamophobe label is very appropriate. People like Ayaan Hirsi Ali promote hatred and intolerance that should not be awarded recognition in a democratic society. But the most important take in this episode is how Islamophobia has fallen from fashion to stigma in US public life. 8-10 years ago, Ayaan Hirsi Ali’s views would have been mainstream and Muslim groups would not dare to be very vocal against such bigotry. If if they protested, their protest would have been drowned by a flood of anti-Islam rhetoric from the right and the left. But the world has changed and particularly America. Muslims and Islam are increasingly seen as essential part of American life.

A blog post in Economist magazine perhaps gives the best verdict of the latest Ayaan Hirsi Ali brouhaha from a detached point of view.

“ In deciding to rescind its offer of an honorary degree to her, Brandeis was in part drawing a line between the kind of discourse on religion that is acceptable in mainstream American intellectual life, and the kind that has arisen over the past decade and a half in the Netherlands. The university was not silencing Ms Hirsi Ali; it still invited her to come to the university to “engage in a dialogue”. As Isaac Chotiner puts it, the “controversy isn’t about shunning someone from polite society. It is about giving a person an honorary degree.” Asking Ms Hirsi Ali to speak to students at Brandeis is a great idea; giving her an honorary degree as part of graduation ceremonies suggests that Brandeis thinks calling for a war on Islam is an acceptable statement within the bounds of normal political and social discourse. The fact that such statements are not welcomed in American public discourse is one reason why the American model of integration and tolerance works better than the Dutch model, and why the Netherlands continues to be wracked by tensions over Islam and integration—years after those tensions forced Ms Hirsi Ali herself to leave.”

(http://www.economist.com/blogs/democracyinamerica/2014/04/ayaan-hirsi-ali)

কেউ কি স্যারকে ধরবেন?

1

শাফকাত রাব্বী অনীকঃ একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাস হওয়া নিয়ে স্যার জাফর তার স্বভাব সুলভ ও আপাত দৃষ্টিতে শিশুতোষ একটি লেখা লিখেছেন। লেখার টাইটেলে স্যারের নির্দোষ প্রশ্ন “কেউ কি আমাকে বলবেন?” টাইটেলটা অনেকটা সাদাসিদা ভাবে “কেউ আমারে ধর” টাইপের শুনালেও, আসলে কিন্তু চালাকিতে ভরা।

ক্যাজুয়াল রিডারদের বোকা বানানোর জন্যে স্যার জাফরের লেখার স্টাইল খুবই এফেক্টিভ । পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই ক্যাজুয়াল রিডার, আমি নিজেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাই। তবে স্যার জাফরের লেখা গুলো এন্টেনা খাড়া করে, বেশ ক্রিটিকাল ভাবে পড়ি। কেননা স্যার জাফর উপরে-উপরে সাদাসিদা ভাব ধরলেও, তার প্রতিটি লেখা দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। এন্টেনা উচা করে না পড়লে সেই দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ধরা পরে না।

যেমন ধরুন নিজে সিভিল সমাজের একজন লোক হয়েও স্যার জাফর মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের কর্ণধার আদিলুর রহমান শুভ্রর জেলে যাওয়ার সাফাই গেয়ে সাদাসিদে প্রতারণা মূলক নিবন্ধ লিখেছিলেন। প্রতারনামূলক কেন বললাম তা জানতে সে সময় আমার লেখা আরটিকেলটি (http://www.priyo.com/shafquatrabbee/2013/08/16/27087.html) পড়ে দেখতে পারেন। আমার জানা নেই পৃথিবীর অন্য কোন দেশে লিডিং কোন প্রফেসর পাওয়া যাবে কিনা যিনি তার দেশের আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিত মানবাধিকার কর্মির জেলে যাওয়াকে সাফাই গেয়ে লেখা দিতে রাজী হবেন। এমন পিকিউলিয়ার ইন্টেলেকচুয়াল পৃথিবীতে বিরল। এমনকি দালাল ও কোম্প্রমাইজিং ক্যারেক্টারে ভরা বাংলাদেশেও।

৫ই জানুয়ারী নির্বাচন থামাতে সিভিল সোসাইটির বড় বড় হর্তাকর্তারা একত্রিত হয়ে সরকারকে একতরফা নির্বাচন রহিত করতে বলেছিলেন নির্বাচনের ঠিক আগে একটি জরুরী সভায়। ডেইলি ষ্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ সহ উচ্চ বর্নের আওয়ামী ঘরনার সেকুলার সুশিলদের উপস্থিতি এই হাই-ভোল্টেজ মিটিংএ ছিল উল্লেখ করার মতো। সেই হাই ভোল্টেজ মিটিং এর ড্যামেজ কন্ট্রল করতে, তরিঘরি করে সেকন্ড গ্রেডের সেকুলার সুশিলদের নিয়ে একটি পাল্টা-পাল্টি সভা ডাকা হয়েছিল। স্যার জাফর ছিলেন সেই সভার মূল আকর্ষন। এই সভাতেই স্যার জাফর তার বিখ্যাত ফিল্টার থিওরি উপস্থাপন করেছিলেন। দেশের বাকি সুশীলদের শাসিয়ে দিয়ে, ইনিয়ে বিনিয়ে, সাদাসিদে, শিশুসুলভ, ও আবেগী গল্প ফেঁদে স্যার জাফর ফিল্টার থিউরীর প্রয়োগ করে বোঝাতে চেয়েছিলেন কেন, কিভাবে তখন একটি একতরফা নির্বাচন দেশের জন্যে খারাপ হতো না।

সেই স্যার জাফরই এখন কিনা নির্দোষ প্রশ্ন করছেন, “কেউ কি আমাকে বলবে, সদ্য নবায়নকৃত সরকারের অধীনে একের পর এক প্রশ্ন পত্র লিক হওয়া নিয়ে আমার কোমলমতি ছাত্রীকে আমি কি উত্তর দিবো?” নিজে একজন শিক্ষক হিসেবে স্যার জাফরের খুব ভালো ভাবে জানা থাকার কথা প্রশ্ন কিভাবে আউট হয়, কেন আউট হয়, এবং এর প্রতিকারই বা কি? তাই একজন স্যার হিসেবে নিজে প্রশ্ন না করে, তার তো উচিত সমস্যার উত্তর বা সলিউশন খুজে দেয়া! সেই সলিউশন কর্তৃপক্ষ না শুনলে প্রতিবাদে ফেঁটে পড়া!

সাধারণ মানুষেরই বরং উচিত স্যার জাফরের কাছে গিয়ে জিগ্গেস করা, স্যারের দেয়া চেতনার বাস্তবায়নকারী সরকারের আমলে কেন একের পর এক প্রশ্নপত্র লিক হচ্ছে? এই সরকার যেহুতু স্যার জাফরের ফিল্টার পাশ, তাহলে সেই মহান ফিল্টারে কেন আউট হয়ে যাওয়া প্রশ্নপত্রগুলো আটকে যাচ্ছে না?

স্যার জাফররা ঘৃনা আর বিভাজনের চাষবাস করে একটা পারফেক্ট জঙ্গল সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। তাদের স্বপ্নের সেই জংগল হবে এমনই পারফেক্ট জঙ্গল যেখানে জংলি আইন- কানুন, অধিকারহীনতা, লাঞ্চনা, বঞ্চনা, ভোটাধিকারহীনতা — সব কিছু শুধু স্যার জাফরদের প্রতিপক্ষকেই সইতে হবে। আর তাদের পক্ষের মানুষজন পারফেক্ট জঙ্গলের পারফেকশন উপভোগ করে সুখে শান্তিতে, চেতনাময় দিন কাটাবে।

সরি স্যার জাফর, জঙ্গলকে নিজেদের জন্যে যতই পারফেক্ট বানানোর চেষ্ঠা করুন, দেয়ার ইজ নো পারফেক্ট জঙ্গল। তাই দায়িত্ব এড়ানোর জন্যে নিজে থেকে প্রশ্ন না ছুড়ে, আপনার কোমলমতি ছাত্রীদের বরং বোঝান এই জঙ্গল সৃষ্টিতে আপনার কোন ভূমিকা ছিল কিনা।

কাকু,আব্বু, আমি ও বাকি ত্রিশ লাখ…

by Watchdog BD

খবরে প্রকাশ নতুন করে আদমশুমারী করতে যাচ্ছে সরকার। শীঘ্রই এ ব্যাপারে লোকবল ও অর্থ বিনিয়োগ সংক্রান্ত ঘোষনা দেয়া হবে। যে কোন উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে সঠিক পরিসংখ্যান। হোক তা উন্নত বিশ্বে অথবা বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে। আমাদের পরিসংখ্যান খাত বাকি দশটা খাতের মতই দুর্নীতির মহামারিতে আক্রান্ত। বিনিয়োগকৃত অর্থ পকেটস্থ করার উদ্দেশ্যে অনেক পরিসংখ্যানই জন্ম নেয় টেবিলে। গরু ঘাস খায়, গাধা ঘাস খায়, সুতরাং গরু = গাধা, এ ধরনের উদ্ভট ম্যাথমেটিক্যাল মডেলিং কায়দায় সমাধান করা হয় পরিসংখ্যান বিষয়ক সমীকরণ। যার দরুন দেশের মোট জনসংখ্যা নিয়ে রয়েছে বহুমুখি সন্দেহ। লিমিট মডেলিংয়ে সংখ্যাটার উপরের ভ্যালু পনের হলে নীচেরটা হবে সতের। অর্থাৎ পনের কোটি হতে সতের কোটির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে দেশের মোট জনসংখ্যা। আমদানী নির্ভর একটা দেশের অর্থনীতির জন্য এ ধরণের উঠানামা খুবই ভয়ংকর যা বিশ্ব অর্থনীতির সমসাময়িক বাস্তবতায় খাদ্য ও জ্বালানী নিরাপত্তায় ডেকে আনতে পারে নজিরবিহীন বিপর্যয়। এসব নিয়ে ক্ষমতাসীনদের আদৌ কোন মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয়না। বাস্তবতা হল, এখানে রাজনীতিকে অর্থনীতি ডমিনেট করেনা, বরং তার উল্টোটাই বাংলাদেশের বেলায় প্রযোজ্য। তারও আছে বহুবিধ কারণ। যেমন, ক্ষমতা ধরে রাখা অথবা ফিরে পাওয়ায় এ দেশে অর্থনীতির কোন ভূমিকা নেই। সকাল-সন্ধ্যা বিরামহীন ব্যক্তি বন্দনাই মসৃণ করে ক্ষমতার সিঁড়িঁ । আদমশুমারী সংক্রান্ত সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পেছনেও হয়ত রয়ে গেছে ব্যক্তি বিশেষের নতুন ইচ্ছা অথবা অভিপ্রায় বাস্তবায়নের নীলনকশা। এটাই আমাদের রাজনীতি, এটাই আমাদের অর্থনীতি। এবং এমনটাই আমাদের নিয়তি। আদমশুমারী নামক গৌরি সেনের টাকায় নতুন শ্রাদ্ধের সাথে চাইলে নতুন একটা ইস্যু যোগ করা যায়। এর জন্য নতুন কোন বাজেটের যেমন দরকার হবেনা, তেমনি দরকার হবেনা অতিরিক্ত কোন লোকবল অথবা বাহুবলের। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে নিহত ত্রিশ লাখ শহীদ ও তিন লাখ ধর্ষিতা বীরাঙ্গনার একটা তালিকা। সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আসুন পরিসংখ্যান নিয়ে আরও কিছুটা সময় ব্যায় করি।

10314583_10203911655491247_6497602888689130159_n

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ হতে ১৬ই ডিসেম্বর। মাসের হিসাবে ৮ মাস ২৩ দিন। দিনের হিসাবে ২৬৭দিন। ঘন্টার হিসাবে ৬৬৭৫ ঘন্টা, মিনিটের হিসাবে ৪,০০০,৫০০ মিনিট এবং সেকেন্ডের হিসাবে মোট ২,৪০,৩০,০০০ সেকে¨। বলা হয় ২৬৭ দিনের যুদ্ধে পাকিস্তানিরা মোট ৩০,০০,০০০ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছিল। এবার আসুন যোগ বিয়োগ, পুরন ভাগ দিয়ে সংখ্যাটার একটা ফ্রিকোয়েন্সি দাঁড় করানোর চেষ্টা করি। যা বেরিয়ে আসবে তাতে দেখা যায় পাকিস্তানিরা প্রতিদিন মোট ১১,২৩৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছিল। ঘন্টার হিসাবে তা হবে ঘন্টায় ৪৫০জন, মিনিটে ৭।৫ জন এবং সেকেন্ডের হিসাবে ০।১২ জন। এবার আসুন এই ত্রিশ লাখ শহীদের লাশের একটা বিহিত করার চেষ্টা করি। বলা হয় প্রতিটা মুসলমানকে দাফন করতে মোট সাড়ে তিন হাত মাটির প্রয়োজন হয়। এ হিসবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ১,০৫,০০০,০০ হাত জায়গার প্রয়োজন হয়েছিল ত্রিশ লাখ দাফনের জন্য। আমরা যদি গজের হিসাবে দুই হাত সমান এক গজ ধরি তা দাঁড়াবে ৫২,৫০,০০০ গজে। যদি ভুল না হয় ৫,২৮০ গজ সমান এক মাইল। এ হিসাবে মোট গজকে মাইলে নিয়ে গেলে তা হবে ৯৯৪ মাইল। এবং কিলোমিটারের হিসাবে ১৫৯০ কিলোমিটার। ৫৪ হাজার বর্গমাইল আয়তনের একটা দেশে ত্রিশ লাখ লাশ দাফন করতে কত বর্গমাইল জায়গার দরকার তা বের করার দায়িত্বটা পাঠকদের উপরই ছেড়ে দিলাম। অনেকে বলবেন ত্রিশ লাখের সবাইকে দাফনের ব্যবস্থা করা গেছে এমনটা নয়। অনেকে আবার প্রশ্ন তুলবেন শহীদদের অনেকেই ছিল অমুসলিম এবং স্বভাবতই তাদের দাফন করার প্রশ্ন আসেনি। খুবই যুক্তিপূর্ণ প্রশ্ন। এটাও সত্য ত্রিশ লাখ শহীদদের কাউকেই বাংলাদেশের বাইরে হত্যা করা হয়নি। দাফন না করা গেলে তাদের মৃতদেহ কোথাও না কোথাও ঠাঁই পেয়েছিল। যদি স্বতন্ত্রভাবে সবাই দাফন করা সম্ভব না হয়ে থাকে প্রশ্ন উঠবে শত শত গণকবরের। হিন্দুদের ব্যাপারটা খুব সোজা। ৭১সালে বাংলাদেশের কোথাও কোন চিতায় আগুন জ্বলেনি। পাকিস্তানিরা জ্বলতে দেয়নি। তাদের লাশও কংকাল হয়ে বাংলাদেশের মাটিতে কোথাও না কোথাও ঠাঁই পেয়েছে। পরিসংখ্যান গুলো একত্র করলে একটা প্রশ্ন জন্ম নিতে বাধ্য, আট মাস তেইশ দিনে আসলেই কি সম্ভব ছিল ত্রিশ লাখ হত্যা করার? নিশ্চয় অসম্ভব কিছু নয়। আমরা যদি সমসাময়িক সময়ে আফ্রিকার রুয়া¨ায় ঘটে যাওয়া গণহত্যার দিকে চোখ ফেরাই তাহলে একবাক্যে স্বীকার করবো বাংলাদেশেও সম্ভব ছিল। ১০০ দিনের গৃহযুদ্ধে ১০ লাখ রুয়া¨ান প্রাণ হারিয়েছিল, যা ছিল দেশটার মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগ। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড গোটা পৃথিবীর সামনে ঘটেছে। লাশের মিছিল ট্রাকে করে ময়লা আবর্জনার মত গণকবর দেয়া হয়েছে। যুদ্ধ শেষে সে সব গণকবরের সন্ধান করে দেশটার সরকার তথা গোটা বিশ্ব নিহতদের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করেছে।

৭১’এ পাকিস্তানিরা এ দেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। সংখ্যা এদিক ওদিক করে এ অপরাধ লঘু করার কোন উপায় নেই। বর্বরদের বর্বরতা ইতিহাস কোনদিন ক্ষমা করেনা, আমারাও করবো না। কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন উঠতে বাধ্য, এই যে ত্রিশ লাখের কথা বলছি তার কোন তালিকা তৈরীর কেন চেষ্টা করছিনা? নাকি খুঁজতে গেলে পাওয়া যাবেনা এ সংখ্যা? পরিচিত এক আওয়ামী নেতা আমাকে বলেছিলেন মৃতদের নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে নাকি পাপ হয়। আত্মারা অভিশাপ দেয়। আপাদমস্তক একজন চোরের মুখে হঠাৎ করে পাপের কথা শুনলে শিউরে উঠতে হয়। আমি অবশ্য অবাক হয়নি, বরং চমকিত হয়েছি। লাশের সংখ্যাকে রাজনৈতিক উপাদান বানিয়ে ক্ষমতার বাজারে মুনাফা লোটা খুব সোজা। বিশেষ করে ৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তাদের জন্য এ সংখ্যা ঈশ্বরের ওহী বাণীর মত কাজ করতে বাধ্য। যার প্রতিফলন দেখা যায় আজকের সোস্যাল মিডিয়ায়। ত্রিশ লাখ সংখ্যার প্রবর্তক আওয়ামী লীগ জেনশুনে কাজটা করে থাকলে সাধুবাদ জানাতে হয় তাদের সুদুরপ্রসারী চিন্তাভাবনার জন্য। জাতিকে একটা বিশেষ পরিবারের সেবাদাস বানাতে এর চাইতে ভাল অস্ত্র দলটা হাতে পাবে বলে মনে হয়না। একবার ভেবে দেখুন, প্রতিবেশী একটা দেশের পানি আগ্রাসনে আমাদের নদী গুলো এখন সর্বশান্ত। নদী তীরের জীবন এখন ইতিহাস। খা খা করছে ফসলের মাঠ। ওরা সীমান্ত হতে আমাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। পশু পাখির মত হত্যা করছে, পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। যাকেই দরকার নিজেদের গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে খোদ রাজধানী হতে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অসম বানিজ্যিক ভারসাম্যের বোঝা কাধে চাপিয়ে জাতিকে করেছে বিকলাঙ্গ। ড্রাগ এবং অস্ত্রের পাশাপাশি উন্মুক্ত তথ্য প্রবাহের সুযোগ নিয়ে নিজেদের বিকৃত সংস্কৃতি দিয়ে লন্ড ভন্ড করে দিচ্ছে আমাদের সামাজিক ভারসাম্য। এসব নিয়ে প্রশ্ন তুললে ত্রিশ লাখ শহীদের মায়াকান্নায় সমাহিত করে দিচ্ছে আজকের বেচে থাকা। লুটেরার দল দেশ লুটছে, খুন করছে, গুম করছে, করছে ভোট ডাকাতি। এবং দিন শেষে পাপ মোচন হিসাবে ব্যবহার করছে ত্রিশ লাখ শহীদের লাশ।

বাস্তবতা হচ্ছে ৭১’এ ত্রিশ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়নি এ দেশে। কোনভাবেই সম্ভব ছিলনা এ ধরণের পাইকারি সংখ্যা। মিনিটে ৭ জনের লাশ পরেনি এ দেশে। অন্তত আমরা যারা ৭১’এ দেশে ছিলাম এমনটা দেখিনি। মাটি খুঁড়লেও পাওয়া যাবেনা এত লাশ। হাজার হাজার লাশের গণকবরও নেই আমাদের দেশে। কারও সন্দেহ থাকলে আসুন নিজের পরিবার হতে শুরু করি এর যাচাই। কজন প্রাণ হারিয়েছিল আপনার পরিবারে? গ্রামে অথবা শহরে? সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যার ত্রিশ লাখ মানে শতকরা প্রায় ৪ ভাগ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন বাংলাদেশির ৪জন করে প্রাণ হারিয়ে ছিল সে যুদ্ধে। সে হিসাবে আমাদের প্রত্যেকের হাতে থাকার কথা স্বজন হারানোর তালিকা। আছে আপনার হাতে? তাহলে প্রকাশ করুন। এ সংখ্যার ফয়সালা জরুরি পাকিদের পাপ হাল্কা করার জন্য নয়, বরং একদল ক্ষমতালোভী রাক্ষসদের লাশ বানিজ্য বন্ধ করার জন্য। সোস্যাল মিডিয়া হতে পারে এ শুরুর আসল প্ল্যাটফর্ম। আসুন ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধে নিহত প্রতিটা লাশের পরিচয় লিপিবদ্ধ করি। এ সংখ্যা যদি ত্রিশ লাখে দাঁড়ায় সেটাই হবে আমাদের আসল সংখ্যা। শ্রদ্ধাভরে সন্মান জানবো সে সংখ্যাকে। কিন্তু আমরা প্রত্যেক শহীদের নাম জানতে চাই। জানতে চাই তার যাপিত জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ। এ দেশের রাস্তাঘাটের নাম দেখতে চাই এ সব শহীদদের নামে। এক শেখ মুজিবের নাম গোটা বাংলাদেশের রাস্তা-ঘাট, নদী-নালা, মুতখানা, লঙ্গরখানা কভার করার জন্য যথেষ্ট নয়। চাই আরও নাম। যুদ্ধের প্রথম প্রহরে যে ব্যক্তি শত্রু ক্যাম্পের মেহমান হয়ে নিজের রাজনৈতিক চামড়া বাচাতে সচেষ্ট ছিলেন তার নামের বন্যায় গোটা দেশ ভেসে যাবে, আর বাকি ত্রিশ লাখ কেবল মায়াকান্নার উপাদান হিসাবে রয়ে যাবে তা হতে পারেনা।

এবারের আদমশুমারী হতে পারে শহীদ সংখ্যা তালিকাভুক্ত করার মোক্ষম মাধ্যম। শুমারির কাজে সরকারী লোকজন দেশের প্রত্যেকটা দুয়ারে কড়া নাড়বে। মাথা গুনবে মোট জনসংখ্যা নির্ধারণের অংশ হিসাবে। একই লোকজন পাশাপাশি আরেকটা তথ্য বের করে আনতে পারে, আর তা হল ৭১’এর শহীদদের নাম, ধাম ও পরিচয়। মনে আছে হুমায়ুন আহমেদের ’বহুব্রীহি’ নাটকের শেষ পর্বের কথা? আবুল হায়াত গরুর গাড়িতে চড়ে অজানার পথে বেরিয়ে পরছেন নতুন এক দায়িত্ব নিয়ে। সে দায়িত্ব ছিল ত্রিশ লাখ শহীদের পরিচয় উদ্বারের দায়িত্ব। কাউকে না কাউকে নিতে হবে সে দায়িত্ব।

http://www.amibangladeshi.org/blog/04-27-2014/1454.html

স্বাধীন প্রক্রিয়ায় কাজ করছে কি ?

বিনু মাহ্‌বুবা

সব সময় শুনে আসছি প্রত্যাকটি সংস্থা স্বাধীনভাবে নিজ নিজ কাজ করবার সুযোগ পাচ্ছে এবং করেও যাচ্ছে ।
আবার উল্টো এমন দেখছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নজর না দিলে বা আদেশ না দিলে কিছুই হয়না …
এমন কি ট্যাক্সি ভাড়া কতো হবে তাও নির্ধারণ তাঁকেই করে দিতে হয় ।ধানমন্ডি খেলার মাঠ । সব সি টি কর্পোরেশনের আওতায় আবাসিক এলাকায় পার্ক ,মসজিদ,স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার্র, শপিংমল ইত্যাদি থাকাবেই আর তা উন্মুক্ত থাকবার কথা (যদিও ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে মন্দির গির্জা বা প্যাগোডা থাকেনা) । কেউ কি ইচ্ছে করলেই সরকারী কোনো যায়গায় নিজের নামে কিছু গড়ে তুলতে পারে ? ক্ষমতাবানরা যে কোনো যায়গা লিজ নিয়ে এমন ইচ্ছে মতো খেয়ালখুশিতে নানা কিছুই করে নিতে পারেন এতে তেমন অসুবিধা দেখিনা ।এতোদিন দেখলাম ধানমন্ডি মাঠ বনাম পরিবেশবাদীদের সাথে আবাহনী মাঠের কর্মকর্তা কিছু প্রাক্তন খেলোয়ারদের বাক যুদ্ধ ,মামলা মোকদ্দমা । এমন কি এ ও বলতে শুনেছি পরিবেশবাদীরা ধান্দাবাজ । আশ্চর্য ব্যাপার হলো দেশে যে এই কঠিন গরম আবহাওয়া তাপমাত্রা দিন দিন আগের দিনগুলো ছাড়িয়ে যাচ্ছে এদিকে কারো ভ্রুক্ষেপ নেই !
ঘরে ঘরে পানির অভাব ,নদীতে জল নেই স্রোত নেই চরে নৌকো লঞ্চ স্টিমার আটকে যায় … কিচ্ছু ভাব্বার নেই ? পরিবেশবাদীরা ধান্দাবাজ ?

যা বলছিলাম … ধানমন্ডি মাঠ সি টি কর্পোরেশনের অধীনে । এতো দিন ও তাই ছিলো ।
এতদিন তারা জানতেন না তাদের কি নিয়ম কি করতে হবে …
এখন মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী আদেশ দেবার পর মুখ খুলেছে সি টি কর্পোরেশন …”উন্মুক্ত করে দেয়া হলো জনসাধারণের জন্য মাঠ”(সি টি কর্পোরেশন) ।
আবাহনির খেলোয়ারদের এই মাঠেই খেলার অনুশীলন চালিয়ে যেতে ওই আবাসিক এলাকায় ই থাকতে হবে কেনো ? ঐ এলাকার জনসাধারণের মাঠ এটা … সেই হিসেবেই মানুষ প্লট বাড়ি বানিয়েছিলো সেখানে উল্লেখ ছিলোনা এই মাঠ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হবে ।

এখন কথা হলো সংস্থাগুলো সত্যি কি স্বাধীন হয়ে কাজ করে এদেশে ?
যদি তাই হতো তবে এতোদিন কেনো সি টি কর্পোরেশন কিছু বল্লো না ??

 

পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে সমর্থন দেয়া আসলেই কি অযৌতিক বা অনুচিত?

শেহজাদ আমান 

(১)

গত কিছুদিন আগে দেশে ক্রিকেট উৎসবের মহোৎসব বসেছিল এশিয়া কাপ আরটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সৌজন্যে।তার পাশাপাশি কিছু মানুষ দাবি তুলেছিল যেবাংলাদেশ ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের অন্য কোন দলকে সমর্থন করা চলবেনা। এরপাশাপাশি স্টেডিয়ামে অন্য দেশের পতাকা বহন করার এবং তা প্রদর্শন করা তোযাবেনা-ই।

এই ব্যাপারে তারা ব্লগে এবং মিডিয়ায় অনেক লেখালেখি করেছে। প্রথম আলোতেফারুক ওয়াসিফ এই ব্যাপারে একটা পুরো প্রন্ধই রচনা করে দিয়েছেন, “খেলায়পাকিস্তানকে সমর্থন কেন?”
( http://www.prothom-alo.com/opinion/article/166350 )

আমার বক্তব্য হল, ঢালাওভাবে বিষয়টা না দেখে আরও র্যাlশনালী বা লিবারেলভাবেবিষয়টা দেখা যেতে পারে। আমাদের দেশে স্পষ্টতই আইন আছে দেশের মাটিতেঅন্যদেশের পতাকা না উড়ানোর ব্যাপারেঃ

“Except as stated in the above Rules, the flag of a Foreign State shall not be flown on any car or building in Bangladesh without the specific permission of the Government of the People’s Republic of Bangladesh.”
(People’s Republic of Bangladesh Flag Rules, article 9.IV)
(http://www.cadetcollegeblog.com/adjutant/43624)

তো, এইখানে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মাটিতে অন্য দেশের পতাকা উড়ানো আসলেইএকটা বেআইনি কাজ। বাংলাশের অধিবাসী হয়ে অন্য দেশের পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামেঢোকা উচিত নয়। সেইক্ষেত্রে সংশয় বা অস্পষ্টতার কিছু নেই।

কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, কিছু মানুষ অন্য দেশকে সমর্থন দেয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভআর রাগ প্রকাশ করে ফেসবুক আর ব্লগে বিভিন্ন মতামত দিয়ে গেছেন। বিশেষ করে , বাংলাদেশের বলতে গেলে ৫০-৬০% লোক যে বাংলাদেশের পর পাকিস্তান ক্রিকেট দলকেসমর্থন করে, সেই ব্যাপারটা নিয়ে খুবই ক্ষুব্ধ। পাকিস্তানকে যে কোনমতেইসমর্থন করা যায়না, সেই ব্যাপারে তারা অনেকেই অনেক অনেক যুক্তির অবতারণাকরেছেন, এমনকি পাকিস্তানকে যারা সমর্থন করে, তাদের রাজাকার, নব্য রাজাকার, রাজাকারের দোসর, ছাগু, পাকি জারজ ইত্যাদি নানান ধরণের তকমা দিয়ে ভরিয়েফেলছিলেন।

কয়েক বছর আগে রাহিন রায়হান নামের এক ব্লগার (সম্পর্কে আমার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দের ছোট ভাই) প্রথম আলো ব্লগে লিখেছিলেন, “একালের নব্য যুদ্ধাপরাধীআবার কারা?আমি আসলে আমাদের তরুণ সমাজের সেই অংশটার কথা বলছি যারা নিজ দেশেরইতিহাস-ঐতিহ্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কে উদাসীন।দেশের তরুণসমাজের বড় একটা অংশ কিন্তু এদের অন্তর্ভুক্ত।পাকিস্তানের খেলা হলে তাদেরগ্যালারীতে দেখা যায় পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে উল্লাস করতে।তাদের গালে আঁকাথাকে পাকিস্তানের পতাকা।এবং হয়ত বুকেও। এমনকি বাংলাদেশের সাথে খেলা হলেওএরা অনেকেই প্রকাশ্যে এবং অনেকেই মনে মনে পাকিস্তানের শুভকামনা করেথাকে।বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে হারলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় “yahooooo Pakistan jitse.shabash Pakistan!!!!!!!!”. তখন বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।অবাকহয়ে ভাবি এরা কি আসলে বাংলাদেশি?এদের যুক্তি পাকিস্তানের প্লেয়াররাতো আর১৯৭১ এর জেনোসাইডে অংশ নেয়নি।তো তাদের সমর্থন করলে দোষ কোথায়?
না । এই যুক্তি আমি খন্ডাবো না।সত্যি বলতে আমার রুচি হয়না।এই নব্য রাজাকারদের আমার বোঝানোর কিছু নেই”।
(http://prothom-aloblog.com/posts/7/145671)

আসুন, আমরা বুঝতে চেষ্টা করি, এই ধরণের তকমা দেয়া আসলেই কতটা যুক্তিযুক্ত , সেই ব্যাপারটা। আর বুঝে দেখি আসলে এইসব ফ্যাসিস্ট জাতীয়তাবাদির দাবিগুলোআসলে কতটা বাস্তবসম্মত।

(২)

একসময় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল টেস্ট বা ওয়ানডে কিছুই খেলতো না। বাংলাদেশ১৯৯৭ সালে ওয়ানডে স্ট্যাস্টাস পায়, আর ২০০০ সালে পায় টেস্ট স্ট্যাটাস। তারআগ পযন্ত দীর্ঘদিন বাংলাদেশের মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই অন্য ক্রিকেট নেশনকেসমর্থন করতে হয়েছে।

পাকিস্তান একটি মুসলিম দেশ বলে বাংলাদেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবেইপাকিস্তানকে সমর্থন করে এসেছে। তবে এটি পাকিস্তানকে সমর্থন করার একমাত্রকারণ নয়। পাকিস্তান বিশ্ব ক্রিকেতের পরাশক্তিগুলোর অন্যতম অনেকদিন ধরেই।তারা ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট এবং ২০০৯ সালে টি-তোয়েন্টি বিশ্বকাপক্রিকটের শিরোপা জেতে। এর আগে ও পরে তারা অসংখ্য টুর্নামেন্ট এবংদ্বি-পাক্ষিয় সিরিজ জয়লাভ করেছে বিশ্বের সব ক্রিকেট শক্তির বিরুদ্ধে। তবে, শুধু সাফল্য দিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেত-উতকরষতা বিচার করা যাবেনা। ক্রিকেটঅনিশ্চয়তার খেলা যাকে বলা হয়, “The Game of Gloriuos Uncertainty”. আরক্রিকেট যদি অনিশ্চয়তার খেলা হয়, তবে এর সবচেয়ে সক্ষম ও বাস্তব উদাহরণ হলপাকিস্তান ক্রিকেট দল। তারা এমন একটা দল যারা একটা হারা ম্যাচ, যেখানে জয়অসম্ভব মনে হয়, সেখান থেকেও ম্যাচ জিতে আসে। তাদের খেলায় তাই আছেঅনিশ্চয়তা, রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা।

তবে, মানুষ যেহেতু জিততে জিততে হেরে যাওয়া ম্যাচের চেয়ে, হারতে হারতে জিতেযাওয়া ম্যাচের কথাই বেশি মনে রাখে, তাই পাকিস্তানের নৈপুণ্য ভাস্বর আসাধারণসব জয়কেই মানুষ বেশি মনে রাখে। যেমনঃ ১৯৮৪৫ সালে শারজায় জাভেদ মিয়াদাদেরশেষ বলে মারা ছক্কায় অথবা ২০১৪ সালে আফ্রিদির পরপর দুই বলে ছক্কা মেরে দলকেজেতানোর স্মৃতিই মানুষের চোখে বেশি ভাসে।

আমি যে কথা এখানে স্পস্ট করে বলতে চাচ্ছি, সেটা হল বাংলাদেশের মানুষ বাসকরে ঘোরতর অনিশ্চয়তার মধ্যে। তাদের নিজেদের জীবনেও অনেক রকম অনিশ্চয়তারমধ্যে থাকতে হয়। হরতাল, রাজনৈতিক সংঘরষের কারণে মানুষ জানেনা যে, সে আজবাসা থেকে বের হলে সুস্থমত ঘরে ফিরে আসতে পারবে কিনা? মধ্যবিত্ত বাঙালিজানেনা সামনের মাসের বাড়িভাড়া সে ঠিকমত দিতে পারবে কিনা, যদি বাড়িওয়ালাবছরের পর বছর ভাড়া বাড়িয়েই চলেন।

তবুও তারা দিনশেষে ‘যুদ্ধজয়’ করে বাসায় ফিরে আসে। মাস শেষে সে টেনেটুনে ভাড়া ঠিকই দেয়।
অনিশ্চয়তার ঘোরাটোপে বাস করা বাংলাদেশের মানুষ, তাই পাকিস্তানেরপারফরম্যান্স বা খেলার সাথেই যেন নিজেদের জীবনের মিল খুজে পায়। পাকিস্তানতাই নিজের অজান্তেই তাদের কাছে প্রিয় ক্রিকেট দলে পরিণত হয়েছে।

(৩)

আমাদের সমাজে বেশ কিছু মানুষ আছে যাদের কাছে প্রতিবাদের ভাষাই হল পাকিস্তানবিরোধিতা করা। উগ্র জাতীয়তাবাদী এই সকল লোক যে কোন ইস্যুতে পাকিস্তানেরসমালোচনা, নিন্দা আর মুন্ডুপাতকেই দেশপ্রেমের উদাহরণ হিসেবে মনে করেন, সেইস্যু বাস্তবসম্মত বা যুক্তিযুক্ত হোক বা না হোক।
যেমন সচলায়তন ব্লগে ধ্রুব আলম নামে একজন কিছুদিন আগে একটা লেখা লিখেছিলেন “পাকিস্তান ভাল খেলে, তাই সমর্থন দেই। আসলেই?” নামে। সেখানে তিনি কিছুহাস্যকর স্ট্যাটিসটিকস দিয়ে প্রমাণ চেষ্টা করেছেন যে, পাকিস্তান আসলেই অতটাভাল খেলেনাঃ
( http://www.sachalayatan.com/guest_writer/51688 )

অথচ, তার দেয়া পরিসংখ্যান থেকেই এটা বোঝা যায় যে, পাকিস্তান অসাধারণ একটাক্রিকেট দল। ধ্রুব আলম নিজেই লিখেছেন, ২০০০ সালের পর থেকে পাকিস্তান ভারতেরসাথে ৪৮ টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে জয়লাভ করেছে ২৫ টিতে, হেরেছে ২৩ টিতে।

সেই লেখার শেষে এই উগ্র জাতীয়তাবাদী লিখেছেন, “ছাগলামি ছাড়ুন, সাহস নিয়ে অন্তত স্বীকার করুন যে পাকিস্তান ভাল ক্রিকেট দল নয়। “

অথচ একজন পক্ষপাতহীন মানুষ তার লেখা দেখলেই বুঝতে পারবে যে এর মাধ্যমে পাকিস্তানের ভাল ক্রিকেট দলের স্বীকৃতিটাই লুকিয়ে আছে।

কাজেই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বাংলাদেশী সমর্থকদের ছাগল প্রমাণ করতে গিয়ে লেখক নিজেই যে একটা ছাগল সেটাই কি প্রমাণ করলেননা?

সুষুপ্ত পাঠক নামের এক ব্লগার তার ব্লগে লিখেছেন যে, “আমরা মুসলমান থেকে বাঙালি হতে পারলাম না।“
(https://www.amarblog.com/index.php?q=susupto-pathok/posts/177806)

এখানে বলে রাখা ভাল যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বড় কোন টুর্নামেন্টে ভালো করতেপারে না দেখেই কিন্তু মানুষ বাংলাদেশ বাদেও পাকিস্তান বা ভারতকে অনেকটাবাধ্য হয়েই সাপোর্ট করে। কারণ, তাদের শিরোপা জয়ের সামর্থ্য আছে, যেটাবাংলাদেশ দলের নেই। আর বাংলা ভাষাভাষী অন্য ধর্মের অন্য কোন দেশও তোসেমি-ফাইনাল বা ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তানের সাথে সাথে খেলে না যে বাংলাদেশেরমানুষ সেই দেশকে সমর্থন করবে। তাই, এখানে মুসলমান থেকে বাঙালি হতে পারলামনা’—সেই কথা বলাটাও বোকামি। আর এখানে প্রশ্ন রাখতে হয় যে, বাঙ্গালী হলে কিএকটা মুসলিম দেশ ভাল খেললে তাকে সাপোর্ট দেয়া যাবেনা?

এরকম আরও হাজারো ছাগল আমাদের দেশে রয়েছে, পাকিস্তান তো পাকিস্তান, পাকিস্তানের মানুষজনদের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ‘মারখোর উমুক’, ‘মারখোরতুমুক’ টাইটেল লাগিয়ে দেয়, সেই লোকটা বাংলাদেশের প্রতি যতটা সজ্জনই হোকনাকেন। দেশের প্রয়জনে, দেশের ক্রান্তিলগ্নে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করার, মাঠে নামার দরকার এরা অনুভব না করলেও মনে মনে একটা প্রশান্তি তারা লাভ করেএই ভেবে যে—“যাক, আর কিছু না হোক পাকিস্তান, পাকিস্তানী আর পাকিস্তানীক্রিকেট দলের সমর্থকদের তো অন্ততফেসবুক আর ব্লগে শোয়ায় দিছি…”

(৪)

খেলাধুলার ময়দানে মানুষ সেই সব ক্রিকেট শক্তিকেই সমর্থন দিয়ে থাকে, যারাকিনা অনেক দূর যাওয়ার, বিশেষ করে শিরোপা জয়ের ক্ষমতা রাখে। যেমন, সাফফুটবলে বাংলাদেশ শিরোপা জয়ের ক্ষমতা রাখে। তাই, সাফ ফুটবলে বাংলাদেশেরমানুষ বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোন দলকে সমর্থনের প্রয়োজন মনে করেনা।

তাইতো, সাফ ফুটবল বাংলাদেশে আয়োজন করা হলেও পাকিস্তানের বা ভারতের ম্যাচের সময় পাক বা ভারতী পতাকা উড়াবার ঘটনা চোখে পড়েনা।

কিন্তু, ক্রিকেট খেলার ব্যাপারতা ভিন্ন। ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশ কোনআন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ফেভারি্ট থাকেনা। এশিয়া কাপ বা বিশ্বকাপে তাদেরচ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যাতা নেই। বিশ্বের সেরা দল হিসেবে র‍্যাঙ্কিং-এর১-২-৩-এ থাকার যোগ্যতাও হয় নাই। এখানে স্বাভাবিকভাবেই তাই মানুষ চ্যাম্পিয়নহওয়ার মত দলকেই সাপোর্ট করে। তাইতো, ভারত বা পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কাকেসমর্থন দিতেই তাদের ম্যাচে বাংলাদেশের মানুষেরা ব্যানার-প্ল্যাকার্ডইত্যাদি নিয়ে আসে। এসব দলকে মানুষ সমর্থন দেয় এই জন্য যে, তারা চ্যাম্পিয়নদলের সমর্থনকারী হতে চায়। বাংলাদেশের যদি সেইসব টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়নহওয়ার যোগ্যতা থাকতো, তবে সাফ ফুটবলের মত সেইসব টুর্নামেন্টে বাংলাদেশইশুধুমাত্র সমর্থন পেত। অন্য কোন দেশের সমর্থন দিতে মানুষ টিভির সামনেবসতোনা, বা স্টেডিয়ামে যেতনা।

আর এটাও মাথায় রাখতে হবে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন। বাংলাদেশটেস্ট বা ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার অনেক আগে থেকেই পাকিস্তান বা ভারত বিশ্বক্রিকেটের সফল দল এবং বাংলাদেশের মানুষ অনেক আগে থেকেই তাদের সমর্থন করেএসেছে।

এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ যতদিন না পর্যন্ত ক্রিকেটীয় সাফল্যে ভারত-পাকিস্তানবা শ্রীলঙ্কার সমপর্যায়ে যেতে না পারছে, ততদিন পর্যন্ত মানুষ অন্য দলকেসাপোর্ট করবেই।

আর একটা মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকেই দেশের বেশিরভাগ মানুষসাপোর্ট করবে, এটাই স্বাভাবিক। কারণ, ইসলাম ধর্ম জিনিসটা বাংলাদেশেরমুসলিমদের লাইফস্টাইলের মধ্যে অনেক গভীরভাবে কাজকরে। পাকিস্তানেরচিত্তাকর্ষক, রোমাঞ্চকর খেলার ধরনের কথা না হয় আবার উল্লেখ নাই করলাম।এজন্য তাদের নব্য রাজাকার বলা শুধু ভুলই নয়, আমানুষিক। এখানে আমি ‘সবুজ’ নামে আমার এক ঢাকা কলেজ পড়ুয়া ছোট ভাইয়ের কথা উল্লেখ করবো, যে কিনাপাকিস্তানের সমর্থন করে, তবে অবশ্যই বাংলাদেশের পর। এইবারের এশিয়া কাপ২০১৪-এ বাংলাদেশ-পাকিস্তান’ ম্যাচে বাংলাদেশের নিশ্চিত জেতা ম্যাচ আফ্রিদিযখন একের পর এক ছক্কা মেরে বের করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন ও আমাকে বললো, “ভাই,আফ্রিদি একটা কইরাছক্কা মারে, আর আমার মনে হইতাছে কেউ আমার বুকেএকবার কইরা ছুরি মারতেছে ভাই”।

এখন, উগ্র জাতীয়তাবাদী ছোট ভাই রাহিন রায়হানের বক্তব্য অনুযায়ী আমার আরেকছোট ভাই সবুজতো তাহলে একজন ‘নব্য রাজাকার’। একজন ‘নব্য রাজাকার’-এরবাংলাদেশের পরাজয়ে বুকে ছুরির আঘাত পাওয়ার মত ব্যাথা হয়! ভালো তো, ভালো না?

সবুজের মত মানুষকে নব্য রাজাকার ট্যাগ দিতে গেলে বিশেষ পরিমাণেনিচুমনমানসিকতার মানুষ হতে হবে। রাহিন রায়হানের মত মানুষদের নিজেকে প্রশ্ন করাউচিত, আসলে তার নিজের মনমানসিকতা কোন পর্যায়ের…!

আমরা শুধু পাকিস্তান পাকিস্তান বলি, অন্য দেশগুলোর কথা বলি না কেন, ভারতেরকথা বলি না কেন? পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ যদি দেশকে ভালোবেসে হয়, তাহলেভালো কথা। কিন্তু ইসলাম বিরোধীতাঁর কারণে যদি হয় তাহলে সেটা দুঃখের বিষয়।

কই, ভারতকেতো দেশের ১০-১৫% লোক সাপোর্ট করে। ভারতকে সাপোর্ট করা ঠিকহবেনা, এমন কোন লেখা তো চোখে পড়ে নাই। ৭১’ সালের পর ভারত কি আমাদের সাথে কমকরেছে? গতকালই তো বিজেপির এক প্রভাবশালী নেতা দাবি করলেন, “বাংলাদেশেরখুলনা থেকে সিলেট, এক তৃতীয়াংশ নাকি ইন্ডিয়ার দখলে নেয়া দরকার”।

আর এটাওতো সত্য যে, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের প্রতি যতটা সহমরমী, অন্য কোন দেশের ক্রিকেটাররা তা কমই আছেন।

৭১’ সালে পাকিস্তানের বর্বর ভূমিকার কথা সবাই জানে। পাকিস্তান বাংলাদেশেরকাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সেজন্য ক্ষমা চায়নি, এটাও সত্য। কিন্তু, বাংলাদেশেসরকার তো অনেক আগেই পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিয় সম্পর্ক বজায়রেখেছে। সেটা যদি করা যায়, তাহলে ক্রিকেট ম্যাচে পাকিস্তানকে সমর্থন করাঅনৈতিক বা অনুচিত হবে কেন?

পরিশিষ্টঃ যারা পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে সমর্থনের বিরোধিতা করছেন, তারা আশাকরি পাকিস্তানের সাথে সবরকম কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিরোধিতাও করবেন ।সার্কের সদস্য হিসেবে পাকিস্তান যদি আঞ্চলিক উন্নয়নে একটা ভাল পরামর্শদেয়, আর বাংলাদেশ তাকে সমর্থন করে, তাহলেওতো (কিছু উগ্র জাতীয়তাবাদীরচোখে) একাত্তরের চেতনার অবমাননা হবে, তাই নয় কি…?

যাই হোক, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যদি ক্রিকেট-বিশ্বে সত্যিই পরাশক্তি হিসেবেআবির্ভূত হতে পারে, তবে আশা করা যায় পাকিস্তানসহ অন্য দেশগুলোকে সমর্থনদেয়ার প্রবণতা অনেক কমবে। ‘জেতা ম্যাচ হেরে যাওয়া’র বর্তমান ধারা বদলে তারা ‘নিশ্চিত হারা’ ম্যাচেও দেশকে জয় উপহার দেবে, নাটকীয় ও রোমাঞ্চকরভাবে।বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিকট ভবিষ্যতে সেই সুখের দিন আমাদের উপহার দেবে বলেবিশ্বাস রাখি।

Remembering Maulana Bhashani: The ‘Play’ of Religion and Politics in Bangladesh

1

In this article the Brethren explore some rarely mentioned aspects of Abdul Hamid Khan Bhashani’s political practice. A close reading of his oath of allegiance, adds a new dimension to our existing understanding of his political project. It excites and liberates us from the Manichean question of secular-versus-religious politics that dominates our discourse so unproductively. It is in the greater interest to supersede this intellectual roadblock, which causes national self-harm, but is woven into a narrow account of our people’s historical experience. It is high time to question current ‘banking’ education narratives and ask whether it is not time for a new ‘Historiography of the Oppressed’.

 Down I went into the Diaspora (Piraeus)

Have you heard the one about the Maulana and the Marxist?

My first brush with the meanings of Maulana Bhashani was at one of those social gatherings that are part of London diaspora life. It was at the height of the kitsch culture madness of Shahbag in early 2013, which was reaching its Islamophobic conclusion of calling for a banning of religion from politics in Bangladesh. I sat next to a former graduate of Sylhet’s famed MC College, a lifelong JSD (National Socialists Party) member, and a Maulana, a Qawmi Madrassa graduate. Their conversation soon descended into an argument, with the JSD member scolding the Maulana, ‘Why don’t you Mullahs give up politics?’ To this the Maulana replied, ‘How does the son question the existence of his father?’ He continued, ‘Without a free India and Pakistan there would be no Bangladesh, without Bhashani there is no Mujib, where do you think free India and Maulana Bhashani came from?’

 or the one about the ‘Bismillah Capitalist’?

Related to the above topic, I remember a conversation with the late Dhaka University’s Dr Aftab Ahmed, months before his 2006 assassination and the 2007 Diplomat’s Coup. He was puzzled by a conundrum that came out of study on Islami Chhatra Shibir alumni. He found that a minority progressed into the hierarchy of Jamaat e Islami, and a small number would leave to pursue their spiritual quest, mainly ending up in the ranks of the quietist Tablighi Jamaat. The majority went into the corporate world or private business, and became good capitalists.  He noted an important limitation of the party, that it was basically a modern one with a sprinkling of Islam here and there.

Living in London, which comically pitches itself as global Islamic Finance hub, I observe a similar phenomenon. We call them ‘Bismillah Capitalists’, capitalism with a sprinkling of Islam to make it palatable for an indigenous market, and switch off our people’s critical faculties.   A thread of the conversation I am sorry not to have developed was Dr Aftab’s call for a Liberation Theology amongst Muslims, and the courage to see and study the politics between the Prophet’s (pbuh) companions. Perhaps the optic of Maulana Bhashani’s soulful politics provides some yeast for the former.

Escape from the shadow of Lagado: Preventing Violent Eurocentrism (PVE)

 To understand the significance of Bhashani, we are minded to read him within his tradition.  Thus as readers we have to leave our prejudices and let the Maulana speak for himself and be understood in his own categories and definitions.

We must avoid the mistake of many academics at the Academy of Lagado (La-puta), who use Eurocentric monocles, even when gazing in the mirror. This use of an outdated and discredited tradition is unwittingly kept alive today in the field of Bangladesh Studies (BS) by the likes of Ali Riaz and his supporters of publicists and hangers on. It is an academic practice which claims to understand Islam and Muslims, but has no training in philology or religion but a combination of journalism, political science and interests in (self) sustainability. These experts take a cue from a section of their colleagues in Middle Eastern studies, and speak in the name of foreign policy and development, creating an arid landscape ready for the neo-con mind to wrap its talons around. The consequences of such misdirection is increased ignorance and grist to the burgeoning ‘War on Terror’ industry, with ever increasing collateral damage, bordering and crossing over into Islamophobia. An ignorance multiplier effect, exposed by Farhad Mazhar about media manipulation in general and specifically by a recent article on the editorial policy of a national newspaper in Bangladesh, the Dhaka Tribune.

This approach has been critiqued in terms of its professed political objectivity by Edward Said in his Orientalism’, and methodologically by the Native American scholar Ward Churchill in his seminal ‘White Studies’. For the interested, a good starting point for a constructive and knowledge-based philological study of Islam are the works the Malaysian thinker Syed Naquib al Attas, especially his Islam and Secularism’.

The Tao of Remembrance (Mudhakara)

Bhashani’s life reflects the journey of his people, born and educated during the British Raj, he mobilised throughout the United Pakistan period (when not incarcerated) and was revered in Independent Bangladesh. Politically he began with Jamiatul Ulema-e-Hind and signed off in the left wing National Awami Party.

One document that that might help us understand the essence of this enigmatic figure is the disciple’s oath (bayah) he administered to his followers. It is reproduced and translated below.

 “I give an undertaking that in Allah the Supreme I profess firm belief. I will believe with certainty that Rasulullah is the sent messenger. I will abide by all the regulations pertaining to the permitted and disallowed, as propagated by the Messenger.  

I will not bow my head to anyone besides Allah.

I will endeavour tirelessly  to establish socialism, the only way to relieve all forms of human extortion and embezzlement.  

I will join the volunteer’s corps of the peasantry to eradicate from society all forms of imperialism, capitalism, feudalism, usury and corruption.

I will perform litanies, contemplation, meditation, prayers and fasting… according to the tariqah of Qadria,  Naqshbandiya,  Chistiyyah.

Every year on the 19/20th January 5 Magh I will attend the large seminar at Santos, Tangail and assist in the advancement and progression of the Islamic University.”

The disciple’s oath presents two features of Islamic pedagogy; action melded with belief and an anchoring to an oral tradition. Action, or orthopraxy, is seen in the obligation of adherents to engage physically from prayer, fasting, to attending annual gatherings. It is similar to the Aristotelian concept of hexis, a state of being, conditioned by habits and practice known colloquially in Bangladesh as ‘adab’.

The oral tradition is seen in reference to the Chistiyyah, Qadiriya and Naqshbandi Sufi orders and their practices. The Islamic tradition is oral before being written, even the word Qur’an means recitation. Arabs often distinguish between the Qur’an as recitation, and the written copy of it, the mus’haf. Oral primacy is maintained in Islamic pedagogy: from Qur’an memorisation; to the science of understanding where a Prophetic tradition has been narrated from; to the teaching genealogies preserved in the supplications of the Sufis. Such live oral traditions continue to breathe in Bangladesh, through the independent, non-government Qawmi (community) Madrassas, and the Sufi orders.

People with Muslim heritage can relate to this oral tradition through their formative childhood experiences, through the teaching and memorisation of short verses of the Quran, to the method of how to perform the five canonical prayers. This cycle of instruction and embodied practice is communicated from the first community in Makkah with a template established during the early Prophetic period, with the Angel Gabriel teaching the Prophet (pbuh) to recite and memorise the first verses from the Quran, and showing him how to pray.

The principles of this epistemology are laid out in a Prophetic tradition found in the Muwatta of Imam Malik ibn Anas, founder of the Maliki legal school and author of the first book of sacred law. Imam Malik knew many traditions recommending the seeking of knowledge, but felt suffice just to narrate this single hadith on the matter, one which expresses the essence of seeking knowledge, heart to heart – ‘sina ar sina’, teacher to student all the way back to the Prophet (pbuh),

 Luqman the Sage (pbuh) made his will and counselled his son, saying, “My son! Sit with the learned men and keep close to them. For Allah gives life to the hearts with the light of wisdom as Allah gives life to the dead earth with the abundant rain of the sky.”

 

Genealogy of Resistance (Mujahada)

‘Let there be among you who enjoin what is right and forbid what is wrong’.

(Qur’an 3:104)

 The Oath affirms actions and a continuous struggle against imperialism and feudalism. Our 2013 Twin Towers of industrial and state crimes deserve better than, the paparazzi politics of the Reshma Rescue, the middle class guilt of Lungi March and the Dad’s Army that is Sushil Samaj. The Oath excites a soulful politics of the human solidarity and spiritual awakening – towards the creation of Al Insan al Kamil (the Perfect and Universal Man).

The impact of the Sacred on Bhashani’s political training can be seen not just in the oath’s content and monotheistic refusal to submit to all but God, but in the relationship of his teacher’s to the growing power of colonial capital. As T S Eliot wrote in ‘Tradition and the Individual Talent’,

 No poet, no artist of any art, has complete meaning alone. His significance, his appreciation, is the appreciation of his relation to the dead poets and artists. You cannot value him alone; you must set him, for contrast and comparison, among the dead.”

 Bhashani was the disciple of the Baghdadi Pir of Lakhimpur in Assam, who advised him to journey to the Deoband seminary in Uttar Pradesh to study under Maulana Mahmudul Hassan.  Bhashani’s chain of teachers were deeply committed to anti-imperial activities against the British before, during and after the 1857 War of Liberation.

 Mahmudul Hassan accompanied his father in the war as a boy, and his own teacher Rashid Ahmed Gangohi had to flee from the British for his participation, he was later caught and imprisoned. Gangohi was the spiritual disciple of the Sufi Master Haji Imdad Ullah Makki. The pictures below of Delhi show the ferocity of British retribution on the built environment in the aftermath of 1857, and the simplicity of the graves, reflecting the humility of those who took part in the struggle.

 All three scholars (Hassan, Gangohi and Makki) were either influenced, intimately took part in, or were inheritors of the Madrassa Rahimiyyah, the intellectual centre of resistance to the British in 1857. Scholars and students from Rahimiyyah participated in the war intellectually and physically, giving it moral legitimacy and directing movements and defences. Rahimiyyah, translates as an adjective of the enduring manifestation of Divine mercy, grace and love, as a consequence of human work, sacrifices and supplications. The madrassa was established in the 17th century during the reign of the Emperor Aurangzeb by Shah Abdul Rahim, who also helped to compile the Fatawa Alamgiri, a landmark codification of the Muslim legal tradition.

When the British eventually captured Delhi, amongst other civilising barbarities, their Army decided to destroy the leading Islamic educational institute in India, ordering the Rahimiyyah closed and selling it to Hindu businessman. The poet Mirza Ghalib is quoted in William Dalrymple’s The Last Mughal,

“The madrasas were almost all closed, and their buildings were again mostly bought up-and in time demolished – by Hindu moneylenders. The most prestigious of all, the Madrasa-i-Rahimiyyah was auctioned off to one of the leading baniyas, Ramji Das, who used it as a store (p463)”.

Out of the ashes of Rahimiyyah, its alumni began a new wave of Muslim institutional innovation, with Deoband (1866), Aligarh (1875) and Nadwatul Ulema (1894) founded to establish dignity, social justice and representation for radically disempowered Muslim communities. These institutions were supported across India, cascading regional developments. Without Deoband, Aligarh and Nadwatul Ulema, there would be no Hathazari or Dhaka University. They also schooled leaderships for the Indian National Congress and the Muslim League, who led the freedom struggle for Independence. This contribution was recognised in the anniversary celebrations of the Deoband Madrassa in March 1982, by the attendance of Prime Minister Indira Gandhi, and leading members of her opposition including Raj Narain, Jagjivan Ram, and Chandra Shekar.

 

The Academy and the Maulana : Escaping the Cave

Talking about Bhashani connects with wider narratives of religion, politics and the subaltern Bangladesh. He is claimed by most factions as their own, from members of Jamiatul Ulema to Marxists who place his picture beside Marx and Lenin. He continues to suffer poor treatment from the Joy Bangla Kitsch Culture Machine.  Recovering Bhashani washes away the formaldehyde into which Bangladesh’s (mis)leadership has tried to drown and trade religion, and remove dynamic religion from both the political sphere and informed public debate. Recovering Bhashani transcends this bourgeois political cul-de-sac of the post-Liberation era.

 In the unfortunate political shorthand of our times, leftists are invariably considered atheists who battle with rightists, who invariably aren’t. Figures who cross these two immiscible currents are pathologised if not dismissed outright, for example the case of Abul Hashem, author of ‘The Revolutionary Character of the Kalima’, a formative influence on the Awami League and proponent of Islamic Socialism. His son, Marxist-Leninist historian Badruddin Umar is on the record as saying that his father was ‘a political schizophrenic’.

 Between the politics of competition and class considerations, enchantment with the Maulana is not shared by all. In a certain camp of Political Islam, Bhashani has even been takfired upon. His politics of the dispossessed disturbs the tactical movements for business as usual, but with beards. A deconstruction of the cold war politics and the personal anxieties of the individual allegedly behind this dismissal is long overdue. Looking through the eyes of the colonially colour blinded, it seems Bhashani was a flash in the pan never to be found again. Yet the same kind of personalities and struggles against oppression can be found all over the Muslim world.

 To the West, in Syria we have Abd al Rahman al Shaghouri (1914 – 2004), a scholar of sacred law, poet and sufi. Originally a weaver, then a textile mechanic and later foreman of technicians at a fabric plant, his story has more than a few lessons of how we think of our garments workers. Al Shagouri was instrumental in unionising workers in Damascus and was part of the team that led the Syrian Textile Workers Union to a successful 40 day strike for workers compensation. To the East, in Malaysia we see Nik Abdul Aziz, graduate of indigenous punduk seminaries and elected premier of Kelantan State for a period of 23 years. Last year we saw a coalition of his Islamic party, Chinese Malaysians and Anwar Ibrahim’s Kedalan forming Pakatan Ryat, The People’s Alliance, and mount the biggest challenge to the Malay ethnonationalist UMNO establishment so far.

 Nearly four decades after Bhashani, there seems to be a deliberate attempt to cover up his politics and enduring contributions. The erasure takes several forms, from the demotion of his life in textbooks, to the  festival cancellation, following his annual death memorial prayers. In Bangladesh today there is only room for the cultural hegemony of the feudal-industrial complex, which splices the dynasty of ‘The Sheikh’ to the kitsch culture of Shahbag. Judging by the quantity of faces on billboards, or media mentions, or columns in print, the legacy of Maulana has  faded away.

 The urge to forget emanates from a structural push by literary custodians of elite history to exorcise the undecidability and derailment that Bhashani brings to their ‘Little Boxes’. The false dichotomies we see bandied around today, of religious vs secular, urban vs rural etc, were delivered by ‘Biman’s’ own ‘cabin crew’. The court painters of the Republic’s history have stopped exercising their memory and have forgotten themselves. Their reliance on external marks of writing instead of their internal capacity to remember and relate, holds them hostages to their own appearances.  Seemingly knowledgeable and connected, but unfortunately quite the opposite, they are thoroughly intolerant of dissenting views. We see this attitude evident in the ‘Academy’ of Bangladesh today, like three prongs of the same thrusting trident. The  flat earth mantra of 3 million war dead, mediated by faux objective civil society speak, and somewhat more sophisticated but juvenile ersatz Jean-Luc Godard, Marxist Existentialist mirages of ‘Utopia’.

Can the subaltern remember?

Unfortunately for his detractors, the ghost of the Maulana and the legacy he represents refuses to die and continues to live in the body politics of Bangladesh. He is the tip of an iceberg of a living collective memory and continuity that permeates and ennobles the lives of ordinary people. Bhashani is more than politics, and in many ways emblematises the country’s story (mistakes included) of an uphill struggle for truth, justice and dignity. It is a narrative which also unfolds in India, as expressed by Mahmood Madani in a recent intervention with Tehelka.

 Such a narrative disrupts the orthodoxies of contemporary politics, from the traditional far left arguments of religion being an opium of the masses, to the public Islam offered by Jamaat, of an Islam in the public sphere, relegated to the Islami Bank, local shopping centres, and a few ministries in a coalition government. Tariq Ramadanechoes a similar view when he observes that the present generation of Political Islam in Egypt had strayed from his interpretation of their original raison d’etre – of Liberation Theology.  Bhashani’s anchoring in the Sacred speaks to a greater narrative of the Bangladeshi people, which we visit next.

The struggle continues: (left) Maulana Bhashani (1880 – 1976) and (right) Aminul Islam (1973 -2012) trade unionist who struggled for workers rights, and was tortured and killed by individuals linked to the security services of the current Bangladeshi government.

Uncovering the Story(ies) of Bangladesh

 Clifford Geertz’s definition of culture as ‘the stories we tell ourselves about ourselves’. 

In 1989 the British Broadcaster Channel 4, commissioned a three part documentary called the ‘The Story of Bangladesh’. It was directed Faris Kermani, and the theme was betrayal, from Plassey to the modern day. Following the tumultuous events of 2013 and our most farcical election in January it’s hard to say anything has changed. Maybe it’s time for critical introspection, into whether these are isolated events or woven into an overarching narrative of self harm.

The nation’s elite and their foreign partners tout the creation of Bangladesh in 1971 as the end of history. It is a story, of a land without progress and development for progressives and developers without a land. A story which is the exclusive property and achievement of the elites. The villain on this blank canvass is the country bumpkin, who doubles up as an Islamic militant if not a microloan borrower, in a tale faithfully retold recently in the Washington Post.

Viewing the world with this history explains the radio silence and editorial misdirection of its adherents regarding the government’s human rights violations, hamstringing of oppositional voices and state crimes in Bangladesh. The case for investigation has been submitted and is being processed by the International Criminal Court (ICC). Contrast this complicit silence with the amplitude of humane concern when that same alleged state sponsored violence spills over into the homes of minority religious communities. The secret, open to all who work in and know the sector, is in the funding streams and the agendas that frame them.

 Towards a Historiography of the Oppressed

 There are other histories, for those who listen, rarely recorded by foreign observers and their native informants, but spoken and heard locally and regionally, amongst the people. This Deshnama has its roots in the deeper history of the Bangladeshi people, the places they have been and the peoples from whom they are descended. It is where the history of a sacred land meets its residents, a memory that not only has its (re)source in the Medinan community of the Prophet Muhammad (pbuh), but connects with precedents in the edicts of Ashoka.

 It is a familiar synthesis, to the incorporation of the Ethics of Aristotle and the Republic of Plato, into Christian thought by St Augustine and St Aquinas, co-authored and harmonised in the works of medieval Muslim theologians such as Al Ghazali, Al Razi and Averroes. These authors, books and ideas are still read and heard in the mosques, madrassas, churches and temples that bejewel Bangladesh today. The country’s music and poetry is filled with the same cosmopolitan religious symbolism shared and contested by all those who live within it.

Near my abode, there is a wondrous City of Mirror,

where my Great Neighbour lives.

(The Great Neighbour’ – Lalon Shah)

 It is a chronicle prologued by Atish Dipankar, who arose amidst the general background of the Buddhist struggle in Bengal against the hegemony of the Brahmin led caste system. To invoke a few Prophetic paradigms, it is like a replay of the battle between the Prophet David (pbuh) and Goliath with the dialogue of the Prophet Moses (pbuh) with Pharaoh.

 Oppression (zulm) transforms with time from local rajas, Delhi Emperors, the inimitable British East India Company, The British Crown, Calcutta zamindars, military juntas to Indian hegemony. The same can be said for the movements and figures that champion the oppressed (mazlum) like Shahjalal, Isa Khan,Nuraldeen,Titu Mir, Dudu Mian,  and Bhashani. Post independence, we might observe Ziaur Rahman’s struggles and achievements, against internal and external opposition, in this vein, in laying the foundations of a modern democratic state amongst the ‘basket case’ ruins of despotictotalitarianism and the devastating 1974 Famine .

 This is a story of people with a rich culture, entangled in global and regional developments, and a history of struggling against great odds, with great losses, for justice and dignity, inspired and strengthened by the Sacred. In this narrative, 1971 is a continuation of that history and not its end.

 When an individual participates in this of sort historical experience, he or she comes to a new sense of awareness of self, has a new sense of dignity, and is stirred by a new hope. It gives the individual the tools to take on the arrogance, violence and false ending, that characterises the power discourse in Bangladesh today, or at least partially defang it.

Finally, have you heard the one about the Maulana and the Britisher Teacher?

During my research on the 2013 May Massacre in Dhaka, I was fortunate to meet a graduate of the Hathazari Madrassa. He had moved to the UK, taken up a career in business and was now married with children. In our discussions on the importance of education placed by the historian Ibn Khaldun (1332 – 1406), he narrated an anecdote.

That one day, his son came home from school and told him that he learnt from his teacher that Bangladesh was a poor and backward country, to which the UK government gives a lot of money for development. The next day, instead of dropping his son off to school, the Maulana took him on a day out, stopping first at the Tower of London. As they stood looking at the crown jewels, the Maulana pointed at the Kohi Noor stone and asked his son, ‘where do you think that came from?’ All day father and son visited various landmarks throughout London, which breathes heavily with the impacts of colonial capital, and discussed their history.

 The next day at school the furious head teacher wanted to take the Maulana to task for taking his son out of education. When pressed by the head teacher for an explanation, the Maulana indicated to his son to reply. His response and act of defiance is something worth sharing across our amnesiac nation, ‘We learnt in school that Bangladesh was a poor country but that’s a lie, because all its wealth is here in the UK along with the riches of other nations stolen by the British Empire’.

“But the Emperor has nothing at all on!” said a little child.

(Emperor’s New Clothes –

Hans Christian Anderson)

 As practitioners of the ‘Academy, Journalism and Art’ and as seasoned desh watchers, our roles should be to listen and record the stories that the people of Bangladesh tell us, not the ones that our foreign ‘development partners’ (funders & masters) pay for and want to hear. The challenge is to cultivate a dignifying and polyphonic history to humanise each other and heal the divisions that plague Bangladesh  – a new ‘Historiography of the Oppressed’.

 

O you who have attained to faith!,

Be ever steadfast in upholding equity,

bearing witness to the truth for the sake of God,

even though it be against yours own selves,

or your parents and kinsfolk.

Whether the person be rich or poor;

God’s claim takes precedence over [the claims of] either of them.

Do not then, follow your own desires,

lest you swerve from justice:

for if you distort [the truth], behold,

God is indeed aware of all that you do!

(Quran 4:135)

_________________________

We would like to dedicate this article to Mohammed Burhan Uddin who passed on a few days ago in Tangail, Bangladesh. Pictured here in his mid 80s, he was one of Bhashani’s oldest surviving disciples (mourides). He became involvedas a young man in the 1950s when he heard Maulana Bhashani pray openly  ‘don’t do anything for my kids but provide freedom for all’.

He was a cultivator who had not finished his primary education, but well informed about Syria and American Imperialism in general. He was part of a cultivator’s committee which went around checking prices of fish from market to market – just to make sure people were not getting swindled.

A few years ago on the 20th night of Ramadan,  Bhashani appeared to him in a dream instructing him to struggle, (Shongram kor) and that modern technology was insufficient, only a people’s movement would work.

 

রানা প্লাজা হত্যাকাণ্ডে ‘নিখোঁজ’ ঘোষিত ১৪৬ জনকে ‘নিহত’ ঘোষনা করুন প্লিজ

২৩ এপ্রিল ২০১৩ যখন রানা প্লাজায় ফাঁটল দেখা দেয় তখনই ঐ ফাটলগুলো পর্যবেক্ষণের পর বিপদজনক ঘোষনা করে একজন প্রকৌশলী একুশে টিভিতে সাক্ষাৎকার দেন। কিন্তু সন্ধায় ভবনের মালিক সোহেল রানা সাভারের তৎকালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে বৈঠক শেষে ঐ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সোহেল রানা দুই জনই একুশে টিভিতে ভবনটি সম্পূর্ন নিরাপদ ঘোষনা করেন। (উল্লেখিত দিনে একুশে টিভির সন্ধা সাতটার খবরটির ফুটেজ আর্কাইভ থেকে যোগাড় করলেই এটা পাওয়া যাবে)।

 

২৪ এপ্রিল ২০১৩ সকালে হরতাল বিরোধী মিছিল করার জন্য যুবলীগের কর্মী সমর্থকরা রানা প্লাজার নীচে সোহেল রানার অফিসে জড়ো হয়। অন্যদিকে গার্মেন্টসের শ্রমিকরা রানা প্লাজার বাইরে জড়ো হয়ে ঝুঁকিপূর্ন ভবনে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানাতে থাকে। গার্মেন্টস এর কর্মকর্তারা বিষয়টি সোহেল রানাকে জানালে সে তার দলীয় কর্মীদের দিয়ে জোর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে শ্রমিকদের ভবনটিতে গিয়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে।

 

শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবার কিছুক্ষণ পরেই লোড শেডিং শুরু হয় এবং ভবনটির বিভিন্ন তলায় থাকা জেনারেটরগুলো একসাথে চালু হয়। এর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই রানা প্লাজা ধ্বসে যেতে শুরু করে। ধারণা করা হয়, জেনারেটরগুলোর সম্মিলিত কম্পন ফাঁটল ধরা রানা প্লাজার দুর্বল স্তম্ভগুলো সহ্য করতে পারে নাই।

 

একটি ঝুঁকিপূর্ন ভবনকে নিরাপদ ঘোষনা কারা করেছিলো, তার প্রমান টিভি ফুটেজে রয়েছে। কারা জোর করে শ্রমিকদের ঐ ভবনে পাঠিয়েছিলো তার প্রমানও বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের সাক্ষাৎকারে পাওয়া যায়। তাহলে কী কারণে এখনো এই এক বছর পরও তদন্ত শেষ হলো না? রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঝুঁকিপূর্ন ভবনকে নিরাপদ ঘোষনা করার পর সেখানে শ্রমিকদের জোর করে কাজ করানোর কারনে এই ঘটনাকে আর ‘দুর্ঘটনা’বলার উপায় নেই; বরং এটি একটি ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’!

 

রানা প্লাজার হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক রূপ দিতে গিয়ে দেয়া দুইজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির দেয়া নির্মম বক্তব্য আজো সবাইকে পীড়া দেয়। সেগুলো হচ্ছে-

“যারা মারা গেছে তারা মূল্যবান সামগ্রী সরাতে গিয়েছিলো”

“পিলার ধরে হরতালকারীরা নাড়া দেয়ায় ভবন ধস”

 

একজন মানুষ নিহত হলে তার পরিবার ও উত্তরাধীকারীরা তার সম্পদের বন্টন করতে পারে, তার জন্য বরাদ্দ ক্ষতিপূরণ পেয়ে ঐ কর্মক্ষম লোকটির ওপর নির্ভরশীল মানুষগুলো বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু নিখোঁজ ঘোষনা করলে পরিবার ও উত্তরাধীকারীরা এই ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হবার পাশাপাশি স্বজনদের ফিরে পাবার এক দুরাশা নিয়ে দিন কাটায়। বিষয়টা যে কী পরিমান কষ্টকর তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে না।

 

নিখোঁজ ঘোষিতদের স্বজনদের অপেক্ষা

নিখোঁজ ঘোষিতদের স্বজনদের অপেক্ষা

হে আমার রাষ্ট্র ও কর্তৃপক্ষ, আপনারা যদি মানবিক যুক্তি না বুঝতে চান তাহলে পাশবিক যুক্তি দিয়েই বোঝাই। ধরে নিন একটি বাক্সে ১০টি গিনিপিগ আছে। বাক্সটিকে যদি একটি ল্যান্ড রোলারের নীচে চাপা দেন তাহলে কী কয়েকটি গিনিপিগ নিখোঁজ হয়ে যাবে?

 

রাষ্ট্র ও কর্তৃপক্ষের কাছে কড়জোরে অনুরোধ করছি, রানা প্লাজা হত্যাকাণ্ডে ‘নিখোঁজ’ ঘোষিত ১৪৬ জনকে ‘নিহত’ ঘোষনা করুন প্লিজ।

 

এমন নির্মম অপেক্ষার ছবি আর দেখতে চাই না।

 

(ছবির উৎস:  ইন্টারনেট)

বাম-আক্রান্ত রাজনৈতিক শ্বাসকষ্ট

by: Aman Abduhu

বাংলাদেশে ডানপন্থীদের নির্বুদ্ধিতা দেখে কষ্ট লাগে। চোখে পড়লো একজনের উদাত্ত আহবান ‘অমুক এবং অমুক মিলে তমুক টিভি চ্যানেলে ভারতকে ফাটাচ্ছে!!’। ভাবটা এমন, হে দেশপ্রেমিক ভাইয়েরা আসুন এবার উনাদের গুরু মেনে নিয়ে কোমরে বোমা বেঁধে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ি। এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম।

দেখে থমকে গেলাম। আমরা এতোটা বোকা কেন? নিরুপায় হতভাগা কোন বর্গাচাষীর মতো। শরীরে শক্তি আছে, তবু কোন উপায় নেই। কিছু করার নেই। হাত-পা ছেড়ে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। তারপর গ্রামের সুদী-ব্যাবসায়ী আবুল হোসেন এসে মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিলেই ডুকরে কেঁদে উঠি। ভিটে-বাড়ির দলিলপত্র কাবিননামা সব তার হাতে তুলে দিয়ে বলি, আমাকে বাঁচান। আমার আর কেউ নাই!

কেউ কোন কথা বললে বা কাজ করতে পারলেই হলো। তিনি আসলে কি বলছেন, কি উদ্দেশ্য নিয়ে বলতে পারেন অথবা এর ফলাফল কি হতে পারে, এসব চিন্তা করার ন্যুনতম ক্ষমতা আমাদের নেই। তারচেয়ে বড় বোকামী হলো, আমরা অতীত ভুলে যাই। বিন্দুমাত্র মনে রাখিনা। আবেগের স্রোতে অতীত বর্তমান ভবিষ্যত সব হাবুডুবু ভাসতে থাকে।

তাই ডানপন্থীদের নেতৃত্বের উপদেষ্টার কাজ করেন শফিক রেহমান। সরকারী দলের নির্যাতনের বিপক্ষে আসিফ নজরুল কথা বললে আমরা উদ্বেলিত হই। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কিছু বলা মাত্র পিয়াস করিমের কোলে উঠে পড়ি। ইসলামের পক্ষে কিছু বললে হলো, শেষ করার আগে ফরহাদ মজহারকে ঘাড়ে বসিয়ে নাচতে শুরু করি। বিএনপি বা জামায়াতের পক্ষে যায় এমন একটা বাক্য লিখলে আবুল মকসুদকে চুমা দিয়ে ভিজিয়ে ফেলি। দেশের প্রধান পত্রিকাগুলোর সম্পাদক কে? মতিউর, মতিউর রহমান চৌধুরী, আবেদ খান।

দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজকর্মের বর্তমান অবস্থা খেয়াল করলে এ বিষয়টা কৌতুহল জাগায়। এমনকি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের বিবেক ও কণ্ঠস্বর হিসেবে ধরে নিয়ে যাদের পেছনে আমরা দৌড়াচ্ছি, তাদের প্রায় সবাই জীবনের ফর্মেটিভ বছরগুলোতে বাম রাজনৈতিক আদর্শের কর্মী ছিলেন। সব রসুনের গোড়া এক জায়গায়।

দৃঢ়ভাবে ধারণা করি, আগামী কিছু বছরের পর বামপন্থীরাই এদেশ চালাবে। বামদের মাঝে একটা বিবর্তন ঘটেছে। তারা নিজেদের মাঝে ভিন্নমতকে একোমোডেট করেছে। প্রশস্ত হয়েছে। যখন প্রশস্ত হওয়া সম্ভব হয়নি তখন আলাদা দল করেছে। তারা যখন শত শত গ্রুপে বিভক্ত হয়ে চার পাঁচজন নিয়ে মিছিল মিটিং করেছে, আমরা বিদ্রুপের হেসেছি। কিন্তু নিজেদের মাঝে এ প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে নিজেদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ভিত্তি দাঁড় করানোর জন্য তাদেরকে খাটতে হয়েছে। তাদের বু্দ্ধি ও চিন্তাশক্তি শানিত হয়েছে। অন্যদিকে ডানপন্থীদের দিকে তাকালে মানুষ দেখিনা। দেখি একপাল ভেড়া ম্যা ম্যা কলরবে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তুলছে।

এ অবস্থার জন্য দায়ী আমরা নিজেরাই, আমাদের পূর্বসূরীর দল। ডানপন্থীদের মাঝে ভিন্নমত কিংবা সমালোচনার পরিণতি হলো সমাজচ্যুত হওয়া। তারা বেশিরভাগ সময় ধান্দাবাজি আর পাওয়ার পলিটিক্স নিয়ে ব্যস্ত থেকেছে। ফলশ্রুতিতে সত্তর আশির দশকের যে তরুণ প্রজন্ম আজকে বাংলাদেশের হাল ধরেছে, তাদের মাঝে বামপন্থীরা হয়ে উঠেছে বুদ্ধিমান, ধারালো এবং যোগ্য। ডানপন্থীরা ঐসবের ধারেকাছেও যেতে পারেনি। তারা হয় ধনী হয়েছে। অথবা নির্বোধ হয়েছে। এক দঙ্গল ছাগল অনুসারীর সামনে থাকা মিথ্যাবাদী রাখাল হয়েছে।

আধুনিক রাজনীতি-শাস্ত্র অনুযায়ী, বাম রাজনীতি মানুষের অধিকার ও সম্পদ বন্টনের ইস্যুগুলো নিয়ে কথা বলে। পৃথিবীর অনেক দেশে তারা দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বেরও প্রবক্তা। অন্যদিকে ডান রাজনীতি সরকারের গঠন, ধর্ম, অথবা দেশের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক উন্নতি এসব নিয়ে কথা বলে। বাংলাদেশের অবস্থা ভিন্নরকম হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশে ডান বাম সব ধরণের ইস্যু নিয়ে ভোকাল কর্ড হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে নিয়েছে বামপন্থীরা। আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক দিকে জাত-বামপন্থীদেরকেই নেতা বানিয়ে নিয়েছি, এ বাস্তবতা স্বীকার করি অথবা না করি। তারা ছড়িয়ে পড়েছে প্রয়োজনীয় প্রতিটি সেক্টরে। এমনকি তারা দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতা-মন্ত্রী-পলিসি মেকারও হয়ে গিয়েছে।

বামপন্থীদের একটা বৈশিষ্ট্য হলো তারা উদ্দেশ্যসাধনে যে কোন উপায় অবলম্বন করতে দ্বিধা করেনা। সারা পৃথিবীতে এটা দেখা গেছে। রাশিয়া চীন দক্ষিণ এশিয়া ল্যাটিন আমেরিকা, সব জায়গাতেই। বাংলাদেশের বামরা তাদের মূল যে চিন্তা, সম্পদের বন্টন বিষয়ে তাদের যে আশা, সে আশা বাস্তব করার জন্য যে কোন দল করতে পারে। র বা সিআইএ, যে কোন অর্গানাইজেশনের হয়ে কাজ করতে পারে। ঐসব দিকে তাদের নৈতিক কোন সমস্যা নাই।

বর্তমানে বাংলাদেশ ধ্বংস করছে বামেরা। হাসিনাকে ইনষ্ট্রাকশন দেয় ইনু। দেশ ধ্বংসের প্রতিবাদও করে বামেরা। র এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে সাহসী কথা বলেছেন ফরহাদ মজহার।

বামদের এ সফলতার কারণ হিসেবে তাদের যোগ্যতার পাশাপাশি অন্যদের অযোগ্যতাও কম না। এদেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য কোন আদর্শিক বা স্থায়ী কোন নৈতিক অবস্থান নেই। একমাত্র জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিকে ভিত্তি করে ডানপন্থী একটা বাংলাদেশী আইডিওলজি দাঁড় করানোর চেষ্টা শুরু করেছিলেন। তার মৃত্যুতে ঐটা ভেস্তে যায়। জামায়াতের নিজস্ব আদর্শ থাকলেও তারা অন্ধ। নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করতেই পারে, কিন্তু সে প্রমাণিত ভুলকে আজীবন অস্বীকার করে যাওয়ার মতো অন্ধত্ব দুনিয়াতে বিরল। পঙ্গু একজন মানুষের হাতে ডুকাটি সুপার-বাইক তুলে দেওয়ার একটা ঐতিহাসিক উদাহরণ।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আদর্শের দিক থেকে সবচেয়ে দেউলিয়া দল হলো আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার পর থেকে লুটপাট দুর্নীতি আর ধর্ষণ ছাড়া আওয়ামী লীগের অন্য কোন আদর্শ নেই। বামরা ক্ষমতাকেন্দ্রের কাছে গিয়েছে আওয়ামী লীগকে অবলম্বন করেই বেশি। আর বাকীরা আওয়ামী বিরোধীতা করেই অবস্থান তৈরী করেছে। আমি খাড়ায়া যামু তুমি বসায়া দিবা’র ক্লাসিক নমুনা।

সুতরাং জ্ঞান-বুদ্ধির দিক থেকে এগিয়ে থাকা এই বামপন্থীরা, এককালের আদর্শবাদী যুবকের দল আর আজকের সমাজে পথিকৃৎ, এরা বাংলাদেশকে যেদিকে নিয়ে যাবে, আগামী দশ বিশ বছর পর বাংলাদেশ ঐ জায়গাতেই গিয়ে দাঁড়াবে। চল্লিশ পঞ্চাশ বছরের সাধনার ফল তারা এক দেড়শ বছর ভোগ করলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই স্বপ্নপূরণে সহায়তার প্রতিদানও ভারত নেবে।

তবে ভারতের মতো বড় একটা দেশের নাগরিক হওয়া নিয়ে সিলেট খুলনার মানুষদের খুব একটা আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। ওখানে কিছু মারামারি হলেও হতে পারে। কিন্তু আলটিমেটলি হাতে পায়ে ধরলেও ভারত সরাসরি বাংলাদেশের বোঝা নিজের কাঁধে কখনো তুলে নেবে না। আমরা ওখানে জমি রক্ষায় লাফাতে থাকবো। ফাকতালে হয়তো পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বাধীন একটা দেশ জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে। অথবা বৈদ্যবাবুদের স্বপ্নের বঙ্গভূমি কায়েম হবে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের বিশ-একুশটা জেলা নিয়ে। আর বাংলাদেশের হতভাগা নির্বোধ জনগণ ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়া বেকুবের মতো হা করে বসে থাকবে। এর কোন বিকল্প সম্ভবত এই জাতির কপালে নাই। সার্ভাইভাল ফর দ্য ফিটেষ্ট।

আবারও বলি, এরজন্য দায়ী ডানদের অযোগ্যতা। মেধাহীনতা। ব্যাক্তিগত ক্ষমতার লালসা। আদর্শহীনতা। আর কোথাও আদর্শ থাকলেও বন্ধ্যাত্ব এবং অন্ধত্ব।

সুতরাং যখন বারবার দেখি ডানপন্থী মানুষ নামের পোকামাকড়ের দল আকাশের দিকে তাকিয়ে এই জাতির বিবেকদের মুখ থেকে নেমে আসা দিকনির্দেশনায় আপ্লুত হচ্ছে, আসিফ নজরুল শফিক রেহমান নুরুল কবির মাহমুদুর মান্নাদের হাতে ভিটে-বাড়ির দলিলপত্র, বিশ্বাসের ঘরের চাবি তুলে দিচ্ছে, তখন মাকসুদের মতো করে গাইতে ইচ্ছা করে- কোন পথে এই বলদের দল চলছে/ হায় পরোয়ারদিগার!!

প্রতিবাদ। গুম, গুলি, অপহরন সংস্কৃতি। সামাজিক ও নাগরিক প্রঠিস্থান এর দায়বদ্ধতা!

2
by ফয়েজ তৈয়্যব
বিগত অর্ধ দশকে রাজনীতিবিদদের গুমের সংস্কৃতি বেশ জমজমাট অথবা ভায়াবহ আকার ধারন করেছে। সেই সাথে প্রায় এক যুগ থেকে নিয়মিত বা অনিয়মিত বিরতিতে ক্রমবর্ধমান হারে র‍্যাবের তথাকথিত ক্রসফায়ার চলছেই। যুক্ত হয়েছে পুলিশেরও এঙ্কাউন্টার। সম্ভভত বিজিবি এই ধারায় এনলিস্টেড হবার অপেক্ষায়!
এই সময়ে আমরা দেখেছি জামাতিদের মিছিলে নির্বিচার গুলির মহাসমারোহ। বিশেষভাবে মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পরবর্তীতে। আমাদেরকে বলা হয়েছিল শিবির বা জামাতিরা রাজাকার তাইদেশে থাকার অধিকার রাখে না, তাই তাদের উপর নির্বিচার গুলি চালানো বৈধ। (ঠিক এই মুহূর্তে সেই বৈধতা বহাল কিনা সংশয়ে আছি, তবে সময়ে যে হয়ে যাবে সে ব্যাপারে আমি নিঃসংশয়!)। আত্মরক্ষার নামে যে কোন আমলে বিরোধী দের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির বটিকা তো আছেই। একদিনে তাই দেশে যুদ্ধাবস্থা ছাড়াই সভ্য দেশে শতাধিক লোক নিহত হতে পারে।
রাজনৈতির মাঠে শক্তি প্রদর্শনে আপাত পরাজিত দল বিএনপি এই দশকে গুম ও অপহরন উভয়ের নির্মম শিকার বলা চলে। প্রথমে বিএনপি নিজেদের কিছু অবাধ্য নেতা কে নিজেরাই সিলেক্টেড ক্রসফায়ার করেছিল যার জন্য তারা সমাজে প্রশংসিতও হয়েছিল। (বলা হয়ে থাকে এটা ক্ষমতা আর আধিপত্যের রক্তক্ষয়ী রাজনীতিতে তাদেরকে দুর্বল করেছে )। সেই সাথে ছিল অন্যান্ন দলের সন্ত্রাসীদের ও ক্রসফায়ার। দ্বিতীয় ধাপ আওয়ামীলীগ শুরু করে, এটা একটা একমুখী গুম এবং গুলি চালানোর সরল প্রশিক্ষণ। সম্ভভত চৌধুরী আলম কে দিয়ে এই ব্যাপক হত্যা যজ্ঞের রাজনৈতিক প্লটের সুত্রপাত। এর মাত্র দুটি পর্যায়। হয় গুম ফোলোড বাই নদীতে লাশ ভেশে উঠা, নয়ত ক্রসফায়ার।  অবশ্য মুক্তিপণ আদায়ে দেশে ব্যবসায়িক অপহরনের সামান্য চল ছিল আগেই থেকেই। বিএনপি নেতা জামালুদ্দীন তাঁর প্রমান।
আওয়ামী গডফাদার কেন্দ্রিক সন্ত্রাসের ব্যাপক বিস্তারের প্রেক্ষাপটে বিএনপি আমলে সৃষ্ট এলিট ফোর্স র‍্যাব ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় কিছু চাঞ্চ্যল্লকর ঘটনায়  বিএনপি  সহ  প্রায় সব দলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী হাত্যার মাধ্যমে। মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা এতটাই নাজুক ছিল যে দেশের নাগরিক এবং দেশে অবস্থানরত ভিনদেশী সবাই এই এলিট ফোর্স এর কর্মকাণ্ড কে স্বাগত জানিয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে আমরা উতফুল্ল ছিলাম। অন্যতম একটা উদাহরণ ছিল নাঃগঞ্জের জুবদল নেতা ডেভিড হত্যা। পরিবহন খাত বন্ধন প্রাইভেট লিমিডেট নামক পরিবহন ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রক জেলার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিড র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়।রাজপথে তাঁর লাশ নগর জীবনে স্বস্তি এলে দিয়েছিল। এই অসামান্য ঘটনা আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণে ব্যাপক তাৎপর্য মন্ডিত।
অর্থাৎ আমাদের এমন এক সমাজ যেখানে আমরা বিনা বিচারে হত্যা কে জেনে বুঝে সমর্থন করছি বা করতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু দেশের বাইরে বিনা বিচারে হত্যা নিয়ে সকল মহল অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, কারন আধুনিক সমাজে এটা চুড়ান্ত অসভ্যতা।
এইসব বিনা বিচার হত্যার সমর্থনের যায়গা গুলো অত্যন্ত নাজুক যা আক্রান্ত ব্যক্তি, তার পরিবার, সংশ্লিষ্ট এলাকা  কিংবা জাতীয় পর্যায়েরও হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশেষ দলের ব্যক্তি সমর্থন তাঁর দল কর্তৃক বিনা বিচার হত্যার সমর্থনের প্লট তৈরি করে দেয়।
সরল বিশ্বাসে বলা যায়, অধিকাংশ রাজনীতিবিদই ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতি গ্রস্ত, গরীব আর রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠনকারী এবং প্রতারক হবার কারনে তাদের এই অপমৃত্যু অনেক মানুষকে ভাবায় না। বিশেষ ভাবে বলা চলে সরকারী দলের সরব বা মৌন সমর্থক রা এতে যার পর নাই উতফুল্ল হয়। উল্লেখ্য যে দুঃশাসন এর শৃঙ্খলে বন্ধী দেশে নাগরিক সমাজের শিক্ষিত একাংশ সবসময়য়েই ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভোগী হয়ে থাকে। তারা এইসময় মৌনতা অবলম্বন করেন।
এই উভয় ধারাই দুরব্রিত্তয়ায়িত রাজনীতিতে বিরোধী মত দমন এবং ন্যায় ও সত্য চর্চার বিকাশে ব্যাপক প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়া করায়। অর্থাৎ প্রথমে আঘাত আসে ক্ষমতার প্রতিপক্ষের উপর। পরবর্তী পর্যায়ে আসে নাগরিক সমাজের সেই অংশের উপর যারা সত্যিকার ভাবে দুর্নীতির বিরোধিতা করে, সুশাসনের কথা বলে, চুরি ঠেকানোর কথা বলে কিংবা রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনা চলা বা রাষ্ট্রীয় প্রঠিস্থানের ক্ষমতায়নের কথা বলে অথবা ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলে। এই দ্বিতীয় স্তরের আঘাতেই আসলে দেশ আর তাঁর স্বায়তসাশিত সঙ্ঘঠন সমুহু বিলীন হতে থেকে। বাংলাদেশে এই ধারা ১৯৭২ ই শুরু হয়। পরবর্তী প্রতিটি সরকার একে বেগবান করেছে। বর্তমান আমলে ইহা মহামারীর এক ভয়ঙ্কর বিপর্যস্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নাগরিক সমাজ এই অপশাসনের প্রতিবাদ বিরোধী দলের কাছে আশা করে, কিন্তু চারিত্রিক সংঘর্ষ না থাকায় বিরোধীরা দুর্নীতি ও প্রাঠিস্থানিক ধ্বংস সাধনের এই কর্মকাণ্ডে মৌনতা দেখায়। শুধুমাত্র লাভের যায়গাটি ব্যতিরেকে।  কিন্তু কাউকে না কাউকে প্রতিবাদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব না নিলে একটি রাষ্ট্র সফল টিকে থাকে না। অর্থাৎ গরীবের আর্থিক মুক্তি আর সামাজিক নিরাপত্তার রাষ্ট্রীয় লক্ষ বহাল থাকে না। থাকে শুধু ধনী আর ক্ষমতাসীন তোষণের একটা অন্যায় আর অবিচারী ব্যবস্থা। বাংলাদেশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও যাতনাদায়ক পথে অগ্রসরমান।
রাজনৈতিক দল সমুহের কে বা কারা দুর্নীতি, অপশাসন, লুটপাটের বর্তমান সুবিধাভগী বা কারা অতিত সুবিধা ভোগী ছিল, সেই চরিত্র নির্ণয়ের পাসাপাশি আমাদেরকে আমাদের রাষ্ট্রের অঙ্গ প্রঠিস্থানের চরিত্র নির্ণয় করতে হবে। যাতে করে একটি প্রঠিস্থানিক সত্ত্বা বিদ্যমান থাকে  যা নাগরিক ও তার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কে সুরক্ষা দিবে।
উদাহরণ স্বরূপ বর্তমান ও সাবেক আমলে যাওয়া কিছু অঘটন আলোচনায় আনবো।
এই আমলে রাষ্ট্রের একাধিক আর্থিক প্রথিস্থান এ যার পর নাই লুটপাট হয়েছে (শেয়ার বাজার, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক), আদালত কে তাঁর মৌলিক বিচারকি কাজে বিরত রেখে রাজনৈতিক  সমস্যা সমাধানে ব্যাস্ত রাখা হয়েছে,
কৃষি পণ্য পরিবহন এর চেইন নষ্ট করা হয়েছে,
দৃষ্টিকটু ভারত তোষণে নদী ও নদীর পানির জলাঞ্জলি দেয়া হয়েছে,
ভারতকে ফ্রি সড়ক, নৌ ট্রানজিট দেয়ার পরিকল্পনা হয়েছে,
টেলি ট্রানজিট দেয়া হয়েছে,
বিদ্যুৎ ট্রানজিট দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে,
ব্যাপক হারে প্রশ্ন ফাঁস করে পাশের হারের ব্যাপকতা বাড়ানো হয়েছে,
ঘোষণা দিয়ে সরকারী নিয়োগে দলীয়করন করা হয়েছে,
প্রসাশনে অপসন্দের কর্মকর্তা দের ও এস ডি করামকরত,
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আন্দলোনে আদালত পুলিশ আর দলীয় কর্মী দ্বারা  বাঁধা দেয়া হয়েছে
লজ্জাজনক ভাবে নির্বাচন কিমিশন কে দলীয় কার্যালয়ে পরিনত করা হয়েছে
দুর্নীতি দমন কমিশন কে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে
রাষ্ট্রের নির্বাহী ও তার পরিবার সরাসরি একটি সেতু বিষয়ক কেলেঙ্কারি তে জড়িয়ে দেশের অবকাঠামো খাতের সহনীয় ফান্ডিং হারিয়েছে
ডেস্টিনি বা অন্যান্য কো অপারাটিভ সমিতির যোগসাজশে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কারী দের মূলধন গায়েব করা হয়েছে। দলীয় ছাত্র সংঘটন এর দৌরাত্বে একাডেমিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট
অর্থ পাচার
ব্যক্তির অনুকুলে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ খাতের অতীব ব্যবহুল স্বল্প মেয়াদের প্রকল্প চালু
গুম সংস্কৃতির আবির্ভাব
অসম চুক্তি সাধন
জঙ্গী সংস্কৃতি কে রাজনৈতিক ফায়দার মোড়কে পুনর্বাসনের চেষ্টা
ইত্যাদি
পূর্ববর্তী সময়ের উল্লেখ যোগ্য অঘটনঃ
দুর্নীতির প্রাঠিস্থানিকি করন
সমান্তরাল প্রশাসন সৃষ্টি
অর্থ পাচার
কৃষক এর উপর গুলি
বিদ্যুৎ খাতে অবহেলা
ক্রসফায়ার
অসম চুক্তি
জঙ্গী সংস্কৃতি কে গুরুত্ব না দেয়া
ইত্যাদি ইত্যাদি
উপরের প্রত্যেকটি অঘটনের সাথে নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তায় আঘাত হানার ব্যাপার জড়িত। সেই সাথে আছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার সমস্যা তৈরির অদূরদর্শী ব্যাপার সমূহ।
তাই আজ যখন পরাজিত বিরোধীরা নাগরিক স্বার্থের অনুকুলে নেই বা অসমর্থ, তখন প্রয়োজন আমাদের চিন্তাশীল নাগরিক, নাগরিক সংঘটন, রাষ্ট্রীয় সংঘটন এর মিলিত শক্তি। আর এই পর্যায়ে আঘাত আসবে অরাজনৈতিকের উপর যারা কিনা সত্যিকারের নীতিবান, অথবা সেই সব সঙ্ঘঠন এর উপর যারা নাগরিকের স্বার্থ তার ভবিষ্যৎ, তার আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বলে, যারা সুশাসনের কথা বলে।
ফ্রেডরিক গুস্তাভ এমিল মার্টিন নাইমোলার এর বিখ্যাত কবিতা First They Came এর কিছু লাইন (অনুবাদ) দিয়ে শেষ করব। আমাদের জাতীয় জীবনে যেন সেই অবস্থা  আর সময় না হয়, যখন আমরা প্রতিবাদের চরিত্র দ্বন্দের ফাঁদে হারিয়ে ফেলব, যখন স্বম্ভিত ফিরে পাব তখন বড্ড দেরি হয়ে যাবে আর সেই সময় ব্যক্তির উপর নির্বিচার খড়্গ নেমে আসবে। এই আঘাত সম্মিলিত। ক্ষমতাসীন, তার উচ্ছিষ্ট ভোগী বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া, সাম্রাজ্যবাদী আর অর্থনৈতিক আগ্রাসী, দেশি বিদেশী কর্পোরেট সবাই ভিন্ন ভিন্ন বা সম্মিলিত ফ্রন্টে আঘাত হানবে।
গনতন্ত্রায়নের ২৫ বৎসর সব আমল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে পরখ করার পর আমাদের সব নাগরিকেরই মেনে নিতে হবে “সরকার তোমার বন্ধু নয়”। ক্ষমতা বলয় জনস্বার্থে কাজ করে না। সতরাং প্রতিবাদ ই বিকল্প।
First They Came  (অনুবাদ)
ফ্রেডরিক গুস্তাভ এমিল মার্টিন নাইমোলার
প্রথমে ওরা এলো কমিউনিস্টদের ধরতে, আমি প্রতিবাদ করিনি­
কেননা আমি কমিউনিস্ট ছিলাম না।
তারপর তারা সোস্যালিস্টদের ধরতে এসেছিল, আমি প্রতিবাদ করিনি­
কারণ আমি সোস্যালিস্ট ছিলাম না।
তারপর তারা এলো ট্রেড ইউনিস্টদের ধরতে, আমি প্রতিবাদ করিনি­
কারণ আমি ট্রেড ইউনিয়নপন্থী ছিলাম না।
তারপর তারা এলো ইহুদিদের ধরতে, আমি প্রতিবাদ করিনি­
কারণ আমি ইহুদি ছিলাম না।
তারপর ওরা আমাকে ধরতে এলো­
তখন আর আমার হয়ে প্রতিবাদ করার কেউ ছিল না।

গণজাগরণ মঞ্চে প্রথম-আলোর অর্থ সহায়তা: মতিউরের হাতে তরুনের লাল রক্ত

1

যাযাবর পর্যটক

প্রথম আলো ওয়েব সাইটে গণজাগরণ নামের মঞ্চ নাটকের অভিনেতা মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের একটা ভিডিও ইন্টারভিউ আছে। ইন্টারভিউটার মিনিট ৮ থেকে মিনিট ১৩র মধ্যে ইমরান এইচ সরকার বলছেন প্রথম আলো আমাদের টাকা দিয়েছে। এখান থেকে ভিডিওটা দেখে নিন: http://www.prothom-alo.com/video/watch/192747/ইমরান_এইচ_সরকার
সংবাদপত্রের কাজ কি? সংবাদ পরিবেশন করা, তৈরী করা নয়। অর্থাৎ ঘটনা ঘটানো সংবাদ পত্রের কাজ না। কিন্তু প্রথম আলো সংবাদ তৈরী করে, ঘটনা ঘটায় এবং ঐ ঘটনার প্রচারকাজে লিপ্ত হয়। এত জনপ্রিয় পত্রিকার এই ধরনের কাজ জাতির সাথে বেইমানী। শুধু তাইনা এই হলুদ সাংবাদিকতার জন্য বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনকারী দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক আজ জেল এ।

 

যখন গণজাগরণ নামের নাটক পরিবেশন করার জন্য শাহবাগে মঞ্চ তৈরী হয়, তখন থেকে আজকে পর্যন্ত প্রথম আলো লিখে যাচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চ এদেশের মানুষের প্রানের মঞ্চ। আসলে কি তাই? আমরা জানি যে এটা মিত্থ্যা কথা।

 

এখন প্রথম আলো কেন এটা লিখছে? কারণ হচ্ছে প্রথম-আলো গণজাগরণ মঞ্চে অর্থ সহায়তা দিয়েছে। মানে হচ্ছে প্রথম-আলো এই মঞ্চ নাটকে টাকা লগ্নি করেছে। এখন অন্য যেকোনো ব্যবস্যার মত বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রথম-আলো চালিয়ে যাচ্ছে তার বিনিয়োগকৃত ব্যবসার পক্ষে মিথ্যাচার। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা হিসেবে প্রথম আলো এই কাজটা করে অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়েছে। আরো হচ্ছে যে লাখো পাঠকের সাথে বেইমানী করেছে।

 

পৃথিবীর অন্যকোনো উন্নত দেশে হলে প্রথম-আলোর মতিউর এখন জেল এ থাকত। সংবাদপত্র হচ্ছে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এর মানে হচ্ছে সংবাদপত্র রাজনীতিকে সমালোচনার সাথে দেখবে। এর ভুল ত্রুটি ধরায় দিয়ে একটা চেক এন্ড ব্যালান্স তৈরী করবে। বিশ্বের সব দেশেই কোনো না কোনো রাজনীতির ভাবাদর্শের সাথে সংবাদপত্রের যোগসাজশ থাকে। কিন্তু প্রথম আলোর মত এইভাবে মঞ্চ নাটকে টাকা লগ্নি করে মঞ্চ নাটককে বাংলাদেশের মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওরার প্রেরণাকে মানসিক বিকৃতি ছাড়া অন্য কিছু বলার নাই।

 

আমরা জানি গণজাগরণ মঞ্চ নাটকটি আমাদের জাতির জীবনে এই বিপর্যয়গুলো বয়ে এনেছে :

১. মহান ৭১কে রাজনৈতিক ব্যবসার মূলধনে পরিনত করা হয়েছে।
২. ৭১ এর মানবতার বিরুদ্ধে বিচারকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে রূপান্তর করার একটা চেষ্টা দেখা গেছে। (বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কথা বলা মানার কারণে এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নাই এই মুহুর্তে)
৩. জনগনের প্রানের দাবি নিরপেক্ষ নির্বাচনকে যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের দাবির সাথে মিলিয়ে ফেলা হয়েছে।
৪. স্বাধীন বাংলাদেশের অনেক তরুণ যারা ৭১ এ জন্ম নেয় নাই কিন্তু জামাত এবং বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের তাজাপ্রানের ঝড়ে যাওয়াকে ৭১এর দোহাই দিয়ে সমর্থন করা।

 

এর প্রত্যেকটি ঘটনার সাথে প্রথম আলোর সমর্থন আছে. কারণ প্রথম আলো এই মঞ্চে অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং ‘তরুনদের আকুতি’ ইত্যাদি মিথ্যার আশ্রয় নেয়া ধারাবাহিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দেশে একটা জালিমের রাজনীতি কায়েম করেছে। আমি একজন তরুণ রংপুর থেকে এই লেখা যখন পাঠাচ্ছি তখন গায়ের লোম ভয়ে কাটা দিচ্ছে। এজন্য নিজের নাম লুকিয়ে লিখছি ছদ্মনামে। ধন্যবাদ প্রথম আলোর মতিউর রহমানকে তার হটকারী এবং অনৈতিক সিদ্বান্তে আজকে স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে নিজের মত প্রকাশে প্রচন্ড ভয় আমার।

লেখাটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন এবং বজ্র কন্ঠে আওয়াজ তুলুন মতিউর তোর হাত আমাদের তরুণ সমাজের লালরক্তে রঞ্জিত।

প্রথম বাংলা গে প্রাইড

image_73073.gay-rally

by আমান আবদুহু

সমকামিতা নতুন কোন ব্যাধি না। এর সাথে আমার প্রথম পরিচয় ক্লাশ ফাইভে।

বৃত্তি পরীক্ষার জন্য আমরা ভোরবেলায় জাহিদ স্যারের বাসায় গিয়ে অংক পড়তাম। আমাদের মধ্যে মাহমুদ ছিলো একটু বেশি সুন্দর। চট্টগ্রামের ভাষায় যাকে বলে লাল-পোয়া। স্যারের বাইরের রুমে প্রাইভেট পড়ানোর টেবিল ইউথ বেঞ্চি ছিলো। একদিন স্যার কি একটা কাজে ভেতরের রুমে গেছেন। উনার কলেজপড়ুয়া শ্যালক মফিজ এসে মাহমুদের পাশে বসলো। আমি তেমন কিছু খেয়াল করিনাই। অংক নিয়ে ঘাম বের হয়ে যাচ্ছে। একটু পড়ে স্যার আসার পর হঠাৎ মাহমুদ বলে উঠলো, স্যার, মফিজ ভাই আমাকে দিয়ে উনার *** ধরাইসে।

আমরা সবাই চমকে উঠলাম। তারপরেই জাহিদ স্যার স্বমুর্তিতে আবির্ভাব হলেন। সে কি মাইর! তখন এক ধরণের বেত নতুন এসেছিলো, বাদামী রংএর বৃত্ত ওয়ালা। আমরা ডাকতাম কেরাত বেত। সেদিন মফিজের সর্বাঙ্গে স্যার তিন চারটা কেরাত বেত ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। লিটারালি মাথার চুল থেকে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত। আর স্যারের বউ পর্দার আড়াল থেকে বারবার ডাকছিলেন আর থামতে অনুরোধ করছিলেন।

নিজে ভিকটিম হলাম ক্লাশ নাইনে উঠে। কিছুদিন ঢাকায় ছিলাম। প্রতিদিন সকালে বাসে করে মীরপুর থেকে ফার্মগেট যেতাম। শুরুর দিকে ভীড় থাকতো না, কাজীপাড়া শেওড়াপাড়া যেতে যেতে বাসের ভেতর দমবন্ধ ভীড় হয়ে যেতো। আমি আইল সিটে বসে আছি। হঠাৎ টের পেলাম কাঁধের নিচে বাহুতে একজনের উত্থিত অঙ্গ চেপে আছে। মনে করলাম ভীড়ের চোটে হইসে। ঝুঁকে সামনের সিটে মাথা রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। তারপর ঐ লোকও একটু সরে এসে আবার। তখন আবার নিজের সিটে হেলান দিয়ে বসলাম। আবার। লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি ক্লিনশেভ ত্যালতেলে চেহারার চল্লিশ পয়তাল্লিশ বছর বয়স্ক এক লোক। উদাসী দৃষ্টিতে বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে প্রচন্ড মনযোগের সাথে মানুষজন গাড়িঘোড়া দেখে যাচ্ছে। ভেতরে কি হচ্ছে তার যেন কোন খবর নাই। বললাম, ভাই সরে দাড়ান একটু। আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে সরে দাড়ালো।

দুইতিনদিন পরে আবার। হুবহু একই ঘটনা। একই লোক। এবার প্রথমবারেই মেজাজ চড়ে গেলো। বমি আসতেসিলো। সিট ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে পেছনে চলে গেলাম। এর কয়েকদিন পরে দেখি ঐ লোক আবার। তবে এইবার ঠেকায় নাই। আমি যে সিটে বসে আছে, তার কয়েক সিট সামনে দাড়িয়ে আছে। মাঝে মাঝে চোখাচোখি হলো। এর কয়েকদিন পর আমি জানালার পাশে সিট পেয়ে বসে আছি। কেন জানি অন্যমনস্ক ছিলাম। হঠাৎ পায়ের উপর কেউ হাত রাখাতে তাকিয়ে দেখি আমার সেই বন্ধু আমার পাশেই সিট পেয়ে গেছে। এবং আমি তাকানোতে হাত না সরিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, বাবু তোমার নাম কি? মুখে সেই ত্যালতেলে হাসি।

হালার পুত হালা। লম্বায় তখন আমি তার চাইতে এটলিষ্ট একফুট উঁচা। মাত্র শেভ করা শুরু করেছি। জাহাঙ্গীর স্যারের কাছে সপ্তাহে তিনদিন গিয়ে ইচ নি সান সি গো বলে চিৎকার করে গলা ফাটাই। আর আমারে ডাকে বাবু?? ব্যাগের বাইরের পকেটে একটা লার্জ সাইজের স্ন্যাপ-ব্লেড থাকতো তখন। বাংলাদেশে বলে এন্টি কাটার। টাকা পয়সা জমিয়ে কিনেছিলাম, এসডিআই ব্রান্ডের। প্লাস্টিকের না। বাইরের কাভারটাও চকচকে স্টিল বা এলুমুনিয়ামের ছিলো। একটু জং ধরতে শুরু করলেই ব্লেড বদলে ফেলতাম। বের করে ব্লেডটা ঠেলে বের করলাম। তারপর তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, ঐটা যদি গায়ে লাগে তাইলে কেটে দিবো। এখন হাত সরান।

দাড়ানো কয়েকজন তাকিয়ে ছিলো। আর ঐ বেচারা স্প্রিং এর মতো লাফ দিয়ে সিট থেকে উঠে পেছনের দিকে চলে গেলো। আর কোনদিন দেখিনাই তাকে।

এর অনেক বছর পরে অন্য একটা ঘটনার কথা জেনেছিলাম। তেমন কিছু করার ছিলো না। চেষ্টা করেছিলাম প্রতিবিধানের, কিন্তু আমার আওতার বাইরে ছিলো। এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেখেছি। জানি, এই বিকৃতি বাংলাদেশের সমাজে প্রচুর আছে। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা আত্মীয়দের হাতে নিগৃহীত হয়। তাদের মধ্যে অনেকে বড় হয়ে নিজেরাই নিগ্রহকারীর ভুমিকা নেয়। বাকীদের জীবনে মানসিক ট্রমা থেকে যায়, সারাজীবন কষ্ট দেয়।

আবার সমকামী জুটির মধ্যে সত্যিকার ভালোবাসা বা মানসিক টানও দেখেছি। দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছি। কিন্তু রোগ রোগই। কোন অজানা কারণে একজনের বেডসোর থেকে কেলভিন ক্লাইনের সুগন্ধি আসতে শুরু করলেও বেডসোরের পচন ও ক্ষতির পরিবর্তন হয়ে যাবেনা।

সবাই পুরুষ সমকামীদের দিকে ফোকাস করছেন। আমার ধারণা, বাংলাদেশে নারী সমকামী কম না। বরং বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। তাদের বিষয়টা বাইরে প্রকাশ হয়না। কিছু ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা যে দেখেছি বা জেনেছি, তার অনেকগুলোর ভিত্তিতে এ ধারণা। ছেলে মেয়ে যাই হোক, এরা সবাই মানসিক ভাবে অসুস্থ। এদেরকে জাহিদ স্যারের মতো ধোলাই দিলে কোন লাভ হবে না। ভালো কিছু হবে না। এদের কাউন্সেলিং দরকার, সামাজিক প্রেষণা দরকার সুস্থ জীবনযাপনের জন্য। পিতামাতা এমনকি দরকার হলে শিশু-কিশোরদেরও পর্যাপ্ত মাত্রায় সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার।

এ সমকামিতা অনেক পুরনো ব্যাধি হলেও, নতুন ব্যাধি হলো এর সামাজিক আত্মপ্রকাশের চেষ্টা। মানুষের ইতিহাসে এমনটা খুব বেশি দেখা যায়নি। আধুনিক যুগেও এটা আগে ছিলো ব্যাক্তিগত বিকৃতি। সামাজিকভাবে অপরাধ ছিলো। সুতরাং অনেক পটেনশিয়ালিটি আর বাস্তবে আসতো না। এখন এর জন্য উৎসাহমূলক পরিবেশ তৈরী হবে আস্তে আস্তে। একদিন আমার ছোট ভাই বা বোন হয়তো ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবে, প্রাউড টু বি এ হোমো!!

এখন এই বিকৃতিতে সুন্দর শব্দে এলজিবিটি নাম দিয়ে ডাকা হচ্ছে। ভার্সিটির মেইল আসে, নিচে রংধনু চিহ্ন দিয়ে লেখা থাকে, উই প্রাকটিস ডাইভার্সিটি। চুলের ডাইভার্সিটি। এবং এই শয়তানিকে মানুষের চিন্তায় সহ্য করিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন দেশে এরা সমকামিতার গর্ববোধক মিছিল বা গে প্রাইড প্যারেড বের করে। রাস্তাঘাটে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে ঘুরে বেড়ায়।

এই গর্ববোধক মিছিল শেষপর্যন্ত বাংলাদেশেও শুরু হলো। পয়লা বৈশাখে ঢাকায় প্রগতিশীল মঙ্গলযাত্রার সাথে এইসব সমকামিদের রঙীন শোভাযাত্রা দেখা গেলো। অনেকে বলছেন, একদিন বাংলাদেশে গে প্রাইড প্যারেড হবে। হবে কি? হয়েই তো গেছে। এইটা একটা বিশাল ঐতিহাসিক ঘটনা।

সুতরাং অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন। অভিনন্দন প্রিয় লেখক শফিক রেহমানকেও। তিনি এদেশে ভ্যালেন্টাইনস ডে এনেছেন। কড়া ষ্টিগমা না থাকলে এলজিবিটি রাইটস ও আনতেন বলে অনুমান করি। তিনি এখন যা করবেন তা হলো গে প্রাইড প্যারেডের ইতিহাস, দুনিয়ার কোথায় কোথায় হয় এবং কি হয়, তার সাথে রাজনৈতিক কিছু ঘটনা যেমন মালয়েশিয়াতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে সডমির মিথ্যা চার্জে ঘায়েল করার চেষ্টা, এসব মিলিয়ে মিশিয়ে একটা লেখা লিখবেন।

আরও অভিনন্দন জানাই সমস্ত শাহবাগি প্রগতিশীল চক্রকে। অভিনন্দন নাস্তিকচক্রকে, যারা দীর্ঘদিন থেকে বাংলা অনলাইনস্ফিয়ারে সমকামিতা এমনকি পশুকামিতা বা পারিবারিক অজাচারের পক্ষেও ওকালতি করে যাচ্ছেন। অভিনন্দন বাঙালী সংস্কৃতি বনাম ধর্মকে, যা উদযাপনের সুযোগে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম মার্দি গ্রাস প্যারেড হয়ে গেলো। পয়লা বৈশাখের দিনে এই কাজ হওয়াটা একটু কৌতুহল-উদ্দীপক। চারুকলা-টিএসসি-শাহবাগি কেন্দ্রিক প্রগতিশীল, যারা আবহমান বাঙালী সংস্কৃতি নির্ধারণ করেন, তাদের অনুষ্ঠানের সাথে সাথে এই অনুষ্ঠান উদযাপন উড়িয়ে দেয়ার মতো কিছু না। আজ থেকে পাঁচ-দশ বছর পরে গিয়ে কি তাহলে বাংলা গে প্রাইড শোভাযাত্রা করাটা মঙ্গল শোভাযাত্রা আর পান্তা-ইলিশের মতোই নববর্ষ উদযাপনের আরেকটা অংশ হয়ে দাড়াবে?

সমূদ্র স্নান বিশেষ করে সেন্ট মার্টিনে যাবার আগে জেনে নিন

3

সরকারী কলেজে চাকরী করার সময় পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবেই শিক্ষার্থীদের ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা সফরে নিয়ে যেতে হতো। মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা সব সময়ই কক্স বাজার, সেন্ট মার্টিন যেতে চাইতো। সেই সময়ের অভিজ্ঞতার আলোকেই কিছু কথা বলছি। হয়তো এই কথাগুলো কেউ পড়লে এবং মেনে চললে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মত অনাকাঙ্খিত প্রাণহানি আর ঘটবে না।

১/ আপনি সাঁতার জানেন তো? সাঁতার না জানলে সমূদ্রে আপনার নিরাপদ এলাকা হচ্ছে, ভাটার সময় গোড়ালি পর্যন্ত আর জোয়ারের সময় হাঁটু পর্যন্ত (তাও যদি আশেপাশে সাঁতার জানা লোক থাকে)

২/ সমূদ্রে নামার আগে জেনে নিন জোয়ার চলছে, না ভাটা চলছে। ভাটার সময় সমূদ্রে নামা ভয়ঙ্কর বিপদজনক! খুব বেশি নিরুপায় হলে ভাটার সময় বড়জোর পায়ের গোড়ালি ভেজাতে পারেন, এর বেশি নয়।

৩/ জোয়ারের সময় যদি সাতার কাঁটতে বা গোসল করতে পানিতে নামতে চান, তাহলে প্রথমে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জেনে নিয়ে নিশ্চিত হোন কোন জায়গাটা সাতার/গোসলের জন্য নিরাপদ। সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ কক্সবাজারের বিশাল সৈকতে সাতারের অভিজ্ঞতা নিয়ে টেকনাফ বা সেন্ট মার্টিনের সৈকতে সাতার/গোসল করতে নেমে বিপদে পরে। এই বিষয়টা ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নিন যে, কক্সবাজারের মত এত ধীর ঢালের এবং দীর্ঘ সৈকত পৃথিবীর খুব কম জায়গাতেই আছে। তাই হাটু পানি থেকে কোমর পানিতে যাবার আগে অবশ্যই দশবার চিন্তা করুন। ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন ওখানে কোন বিপরীত তলদেশীয় স্রোত বা ডুবো গর্ত আছে কী না।

৪/ আপনি নিশ্চিত সাঁতার জানেন। কিন্তু এটা খেয়াল আছে কী কতদিন আগে আপনি শেষবারের মত সাঁতার কেটেছেন? এ কথা সত্যি যে সাঁতার শিখলে তা ভোলা সম্ভব না। কিন্তু সাঁতার হচ্ছে একটি কঠিন ব্যায়াম যাতে শরিরের প্রায় প্রতিটি পেশি কাজ করে। যে কারণে দীর্ঘদিন পর সাঁতার কাটতে গেলে অনেক সময় পায়ের পেশি সংকোচন সমস্যা (কাফ মাসল বা থাই মাসল পুল) দেখা দেয়। পেশি সংকোচন হলে যে যন্ত্রণা হয় তাতে সাঁতার অব্যাহত রাখা মুশকিল হয়ে পরে। এই কারণে সমূদ্রের গভীর এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে অনেকে সাতার জানা থাকার পরও ডুবে যান।

৫/ সেন্ট মার্টিনে গিয়ে কখনো জেটি থেকে নেমেই ডান দিকের (দ্বীপের পূর্ব দিক) সৈকত ধরে আগাবেন না (ম্যাপে নীল চিহ্নিত দাগ)। তা না করে বরং মূল রাস্তা ধরে দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম অংশে চলে যান। সেখানে গিয়ে সমূদ্রে নামুন। তারপরও জোয়ার-ভাটার বিষয়ের সাথে সাথে খেয়াল রাখুন সেন্ট মার্টিন একটি প্রবাল দ্বীপ। এর সৈকত খুবই সংকীর্ণ এবং এখানে হাটু-পানির চেয়ে বেশি দূরত্বে যাওয়া মোটেই নিরাপদ নয় (তা আপনি যত বড় সাঁতারুই হোন)।

সেন্ট মার্টিনের বিপদজনক সৈকতের মানচিত্র

৬/ জেটি থেকে নামার পর নিতান্তই যদি আপনি সৈকতে হাটার লোভ সামলাতে না পারেন, তাহলে নীল দাগ ধরে হাটতে চাইলে হাটুন। তবে সাবধান! কোন ক্রমেই পানিতে নামবেন না। একবার পানিতে নামলে আপনার আর উঠতে ইচ্ছে করবে না এবং হাটতে হাটতে আপনি সেন্টমার্টিনের মৃত্যু অন্তরীপ উত্তর-পূর্ব সৈকতে চলে যাবেন। দ্বীপের এই সৈকতে পরষ্পর বিপরীতমূখী পৃষ্ঠ ও তলদেশীয় স্রোতের কারণে অনেকগুলো ডুবো গর্ত তৈরী হয়েছে। তাছাড়া তলদেশীয় বিপরীত স্রোত (বটম কারেন্ট) আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং অবশ্যই এই লাল চিহ্নিত বিপদজনক এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে সফরে যাবার বাজে অভিজ্ঞতার দিক হচ্ছে, ওখানে গেলে ওরা কেউ আর আমাদের কথা শুনতে চায় না, নিষেধ মানতে চায় না। ওরা স্বাধীনভাবে সব কিছু করতে চায়; সাহস দেখাতে চায়। অভিজ্ঞদের পরামর্শ না শুনে এবং অতিরিক্ত সাহস দেখিয়ে আর কোন জীবন যেন ঝরে না যায় সে বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে বোঝানোর প্রয়োজন অনুভব করছি।

রাষ্ট্রের প্রতি আমার কোন দাবী নেই। টানা পনেরো বছর পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা বিধানের অনুরোধ করে উপেক্ষিত হবার পর এটা বুঝেছি যে, রাষ্ট্র শুধু আমাদের মত আম জনতার কাছ থেকে নিতেই জানে। তারা দেয় কেবলমাত্র উঁচু তলার মানুষকে। তাই আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের নিজেদেরই দেখতে হবে।

পরিশেষে ওয়ার্ল্ডভিউ-২ উপগ্রহ থেকে তোলা ছেঁড়া দ্বীপসহ সেন্ট মার্টিন দ্বীপের একটি ফলস কালার ইনফ্রারেড কম্পোজিট ইমেজ।

সেন্ট মার্টিনের উপগ্রহ চিত্র