লেন্দুপ দর্জির ইতিহাস

বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া পুলিশ ও সরকারকে লেন্দুপ দর্জির ইতিহাস পড়তে বলেছেন। আসুন আমরা জেনে নেই কে এই লেন্দুপ দর্জি ?

সিকিম ভারতের উত্তরাংশে অবস্থিত তিব্বতের পাশের একটি রাজ্য। রাজ্যটির স্বাধীন রাজাদের বলা হত চোগওয়াল। ভারতে বৃটিশ শাসন শুরুর পুর্বে সিকিম তার পার্শ্ববর্তী নেপাল আর ভুটানের সাথে যুদ্ধ করে স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল। বৃটিশরা আসার পর তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নেপালের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় সিকিম। এসময় রাজা ছিলেন নামগয়াল।কিন্তু বৃটিশরা তিব্বতে যাওয়ার জন্য এক সময় সিকিম দখল করে নেয় এবং ১৮৮৮ সালে রাজা নামগয়াল আলোচনার জন্য কলকাতা গেলে তাঁকে বন্দী করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ১৮৯২ সালে তাকে মুক্তি দেয়া হয় এবং সিকিমের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়া হয়। প্রিন্স চার্লস ১৯০৫ সালে ভারত সফরে আসলে সিকিমের চোগওয়ালকে রাজার সম্মান দেয়া হয়। চোগওয়ালপুত্র সিডকং টুলকুকে অক্সফোর্ডে লেখাপড়া করতে পাঠানো হয়।টুলকু নামগয়াল মতায় বসে সিকিমের ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন। বৃটিশের কাছে সিকিম তার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা লাভ করে।

পরবর্তী চোগওয়াল (রাজা) থাসী নামগয়ালের সময়ে বৃটিশরা ভারত ছেড়ে গেলে গণভোটে সিকিমের মানুষ ভারতের বিরুদ্ধে রায় দেয় এবং ভারতের পন্ডিত নেহরু সিকিমকে স্বাধীন রাজ্য হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হন।

১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর সিকিমের গুরুত্ব বেড়ে যায়। ১৯৬৩ সালে থাসী নামগয়াল এবং ১৯৬৪ সালে নেহরু মারা গেলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। চোগওয়াল হন পাল্ডেন থন্ডুপ নামগয়াল। এ সময় ভারতের প্রধানমস্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সর্বশক্তি নিয়োগ করেন সিকিমকে দখল করার জন্য। তিনি কাজে লাগান সিকিমের প্রধানমন্ত্রী কাজী লেন্দুপ দর্জিকে। ১৯৭০ সালে নেহেরু প্রভাবিত সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসকে লেন্দুপ দর্জি ব্যবহার করে অরাজকতা সৃষ্টি করেন। রাজপ্রাসাদের সামনে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে ইন্দিরা সরকার রাজার নিরাপত্তার কথা বলে ভারতীয় বাহিনী পাঠায়। কিন্তু তারা রাজাকে গৃহবন্দী করেন। বহির্বিশ্বের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং বিএস দাশকে ভারত সরকার সিকিমের প্রধান প্রশাসক নিয়োগ করে। এই সময় আমেরিকান এক পর্বতারোহী গোপনে সিকিম প্রবেশ করেন এবং সিকিমের স্বাধীনতা হরণের খবর বিশ্বের নিকট তুলে ধরেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে যায়। সিকিম জাতিসংঘের সদস্য পদভুক্তিরও প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এর মধ্যে ভারতের তাঁবেদার লেনদুপ দর্জির নেতৃত্বাধীন সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস (এসএনসি) ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পার্লামেন্টের ৩২ আসনের মধ্যে ৩১টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে জিতে ২৭ মার্চ ১৯৭৫ প্রথম ক্যাবিনেট মিটিং-এ প্রধানমন্ত্রী লেনদুপ দর্জি রাজতন্ত্র বিলোপ ও জনমত যাচাইয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত নেন। ততদিনে সিকিমে ভারতীয় সেনাবাহিনী ঘাঁটি গেড়ে ফেলেছে। তারা বন্দুকের মুখে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করে। পুরো ঘটনা ছিল সাজানো। ৬ এপ্রিল ১৯৭৫ সালের সকালে সিকিমের রাজা যখন নাস্তা করতে ব্যস্ত সে সময় ভারতীয় সৈন্যরা রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে এবং রাজাকে বন্দী করে প্রাসাদ দখল করে নেয়। তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে গ্রাস করে ভারতের প্রদেশে পরিণত করে।সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো সিকিম সেনাবাহিনীকে সহায়তা ও প্রশিণ দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী।

ভারতীয় সাংবাদিক সুধীর শর্মা ‘পেইন অব লুজিং এ নেশন’ (একটি জাতির হারিয়ে যাওয়ার বেদনা) নামে একটি প্রতিবেদনে জানান, ভারত তার স্বাধীনতার গোড়া থেকেই সিকিম দখলের পরিকল্পনা করেছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওয়াহের লাল নেহেরু অনেকের সাথে কথোপকথনে তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সাবেক পরিচালক অশোক রায়না তার বই ‘ইনসাইড স্টোরী অব ইন্ডিয়াস সিক্রেট সার্ভিস’-এ সিকিম সম্পর্কে লিখেন, ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ১৯৭১ সালেই সিকিম দখল করে নেয়া হবে। সে ল্েয সিকিমে প্রয়োজনীয় অবস্থা সৃষ্টির জন্য আন্দোলন, হত্যা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছিল।তারা ছোট ছোট ইস্যুকে বড় করার চেষ্টা করে এবং সফল হয়। তার মধ্যে হিন্দু- নেপালী ইস্যু অন্যতম। সাংবাদিক সুধীর শর্মা লিখেন, লেনদুপ দর্জি নিজেই শর্মাকে বলেছেন, ‘ভারতের ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর লোকেরা বছরে দু’তিনবার তার সাথে দেখা করে পরামর্শ দিত কিভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা যাবে। তাদের একজন এজেন্ট তেজপাল সেন ব্যক্তিগতভাবে তাকে অর্থ দিয়ে যেতো এআন্দোলন পরিচালনার জন্য। এ অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক সন্ত্রাস পরিচালিত হতো।’শর্মা আরো লিখেছেন, এই ‘সিকিম মিশনের’ প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা, যা সর্বত্র ‘র’ নামে পরিচিত।

ক্যাপ্টেন ইয়াংজু লিখেছেন, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক পোশাকে রাজার বিরুদ্ধে গ্যাংটকের রাস্তায় মিছিল, আন্দোলন ও সন্ত্রাস করত। নেহেরুর পরামর্শ, মদদ ও উৎসাহে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন লেনদুপ দর্জি। শ্লোগান তুলেছিলেন, ‘গণতন্ত্রের সংগ্রাম চলছে, চলবে’/লেনদুপ দর্জির গণতন্ত্রের শ্লোগান শুনে সিকিমের সাধারণ জনগণ ভাবতেই পারেনি, এই শ্লোগানের পিছনে প্রতিবেশী দেশ একটি জাতির স্বাধীনতা হরণ করতে আসছে।সিকিমের জনগণকে দ্বিধাবিভক্ত করে ভারত তার আগ্রাসন সফল করতে এবং এক পকে মতায় এনে তাদের দ্বারা দেশ বিক্রির প্রস্তাব তুলে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছিল।সিকিমের মত ঘটনার অবতারণা বাংলাদেশেও যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে দলমতনির্বিশেষে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। কারণবাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রতিরা ভারত দিনের পর দিন জোরদার করে চলেছে। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের ভেতরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়ে চলেছে। এই কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত সীমান্ত আউট পোস্টগুলোর (বিওপি) একটি থেকে আরেকটির দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার থেকে হ্রাস করে ৪/৫কিলোমিটারে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং এগুলোতে বিএসএফ-এর শক্তি দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

বিএসএফ এই সীমান্তে থারমাল নাইটভিশন ডিভাইস, টেলিস্কোপিক বন্দুকসহ উচ্চমানের হাতিয়ার মোতায়েন রেখেছে। এই সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার এলাকাকে কাঁটাতারের বেড়াসহ ফাড লাইটের আওতায় আনার এবং প্রশিতি কুকুর মোতায়েন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনেকটা এগিয়েছে বলে জানা গেছে।বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের ২৭৭ কিলোমিটার এলাকা ফাড লাইটের আওতায় আনার কাজ দু’বছর আগেই সম্পন্ন হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৯৯ সালের কারগিল কনফিক্টের পর থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিরা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত- প্রতিরা শক্তিশালী করার এই উদ্যোগ নেয়া হয়।ভারত তার বাংলাদেশ সীমান্তে প্রথম পর্যায়ে ৮৫৪ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণ করে এবং একই সঙ্গে পাকা সড়ক নির্মাণ করে ২ হাজার ৬শ’ ৬ কিলোমিটারের বেশী এলাকা।দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ২ হাজার ৪শ’ ৩০ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণ, ৭শ’ ৯৭ কিলোমিটার সড়ক এবং ২৪ কি.মি সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে । প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম সীমান্তে বেড়া ও সড়ক নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। ২০০৬ সাল নাগাদ ভারত মোট ২ হাজার ৫শ’ ৩৬ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া এবং ৩ হাজার ২শ’ ৫১ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করেছে বলে ভারতীয় একটি সূত্রে জানা গেছে।

যদিও ১৯৭৪ সালের ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোন প্রতিরা কাঠামো নির্মাণ করা নিষিদ্ধ, তবুও ভারত তা করে চলেছে। বলাবাহুল্য, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সড়ক তৈরী প্রতিরা কাজের মধ্যেই পড়ে । ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত দু’দেশের বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হলেও তা কোন ফল দেয়নি। ভারতের বর্তমান প্রস্তুতি অনুযায়ী সীমান্ত সড়ক দিয়ে অনায়াসে সমর যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এরফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিরা ব্যবস্থাও জোরদার করতে পারবে।

ভারতের বর্ডার আউট পোস্ট-বিওপি’র সংখ্যা পূর্বের তুলনায় অন্তত তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এগুলোতে মোতায়েন জওয়ানের সংখ্যাও সে তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।একারণেই বাংলাদেশের জনসাধারণের মধ্যে ‘সিকিমফোবিয়া’ কাজ করছে প্রবলভাবে। ভারতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অবিশ্বাসের অন্যতম কারণ হলো বাংলাদেশও সিকিমের পরিণতি বরণ করে কিনা। আর সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টিতে এজেন্ট তৈরীর নানা প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে । বড় দেশ হিসেবে ভারতের অন্যতম কৌশল হলো, ছোট দেশের কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, কূটনীতিক পর্যায়ের প্রভাব সৃষ্টিকারী ব্যক্তিবর্গের মগজগুলো কিনে নেয়া। ভারত যদি বাংলাদেশকে স্বাধীন-স্বার্বভৌম দেখতে চায় তবে মাথা কেনার কৌশল বাদ দিতে হবে। এই বিষয়গুলোর ব্যাপারেও ভারতের কাছ থেকে ব্যাখ্যা-বক্তব্য আসা উচিত- যাতে বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর হতে পারে । তাছাড়া নতুন বাঙালী প্রজন্মকে সিকিমের করুণ পরিণতির ইতিহাস জানাতে হবে। ইতিহাস বলে,ভারত সিকিমে এ কৌশলে চেষ্টা করে সফল হয়েছে। এখানেও সেই চেষ্টা করছে বলে অনেকেই সন্দেহ করেন। এসব কাজ অব্যাহত থাকলে সেটা হবে অবন্ধুসুলভ। মূলতঃ সিকিমের ইতিহাস হলো ভারতের সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার সবচেয়ে প্রকৃষ্ট উদাহরন ।

(সংগ্রহীত)

http://wp.me/p43ryU-1C

Where Are We Heading?

1

By Sabuz Khan

Since the 1947’s India-Pakistan separation – West Pakistan imposed Urdu as the official language of East Pakistan and proposed to write Bengali in Arabic scripts. Fuelling outrage amongst the people, where the majority (54%) speaks in Bengali, leading to a country-wide Language Movement outcry and criticism. Pakistan finally decided to recognise Bangla as the second official language in 1956, followed by the major protest in 1952. The thought of having an independent country has started since then.

What a wonderful language. Many have given lives; you’re familiar with some of them. Now we speak Bengali (some speaks Hingli*) – and proudly celebrate 21st February every year.

CHANGE IN STATE OF PLAY!
India is a passing craze! Indian TV channels are getting increasingly popular in Bangladesh, influencing the country’s culture and lifestyles. Bangladesh pays hefty annual subscription fees of appx. BDT 1,706,532,410, whereas Bangla channels are banned in India.

Bollywood songs are played in Bangla serials & movies, including the concerts paying tribute to the national events days. People happily use Hindi terms/words in their daily conversations and Social Medias. Non-resident Bangladeshis’ shamelessly speaks in Hindi/Urdu. National politics itself is far involved with India, than any time before!

The idea is pathetic. We have given lives to earn our independence from one country – now handing over ourselves to another.

এবারের সংগ্রাম ‘অস্তিত্বরক্ষার’ সংগ্রাম

সাদাতসহ আরো অনেকেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন। আমি নিজেও মনে করি এই টার্মের আগে সারাজীবন ধরে চেতনাব্যবসায়ী লীগের বিরুদ্ধে ভারততোষণের যে অভিযোগ আরোপ করা হত সেটাকে অনেকেই ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবেই নিত। মানুষ মনে করত লীগ ভারতঘেঁষা একটা গোষ্ঠি। কিন্তু এবারের টার্মে ভারততোষণ, চাটুকারিতা ও সেবাদাসত্বের যে নজির তারা স্থাপন করেছে ইতিপূর্বে তা দেখা যায়নি, কল্পনার সীমাকে তারা অতিক্রম করেছে এ ব্যাপারে। দেশীয় স্বার্থকে সম্পূর্ণ জলাঞ্জলি দিয়ে একের পর এক যেসব পদক্ষেপ তারা নিয়েছে তাতে মনে হয় বিরাট কোন সাম্রাজ্যবাদি চক্রান্তের ঔপনিবেশিক সেবাদাস হিসেবে তারা দেশ ও জাতির সর্বনাশ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ‘৪৭ এ রাজনৈতিকভাবে ভাগ হওয়া অখন্ড পাকিস্তানের এক অংশ পূর্ব পাকিস্তানের সাথে বিভিন্ন বৈষম্যমূলক শোষণের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠতে থাকে _ ক্রমান্বয়ে যার পরিণতিতে অবশেষে ‘৭১ এর রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালিদের এক সাগর রক্ত ও সীমাহীন ত্যাগতীতিক্ষার বিনিময়ে ‘বাংলাদেশ’ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যূদয় ঘটান। সেই যুদ্ধে ভারত আমাদের জন্যে অনেক কিছু করেছে, প্রায় কোটির কাছাকাছি শরনার্থীকে আশ্রয় দেয়া থেকে শুরু করে সামরিক সাহায্য-সহযোগিতা পর্যন্ত। রাজনৈতিক কারণেও বটে, তাদের কাছে যুদ্ধটা ছিল আসলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, পাকিস্তান ছিল এবং আজও ভারতের আজন্ম শত্রু।

এরপর থেকে যা শুরু হয় তা ভারতের আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা। বিপুল পরিমাণ অস্ত্র যা পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণের সময় রেখে যায় তা ন্যায্যতঃ বাংলাদেশের প্রাপ্য হলেও বাংলাদেশকে তা দেয়া হয়নি। প্রায় সমুদয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসম্ভার ভারতীয় সেনাবাহিনী নিজের কব্জায় নিয়ে নেয়। স্বাধীনতা পরবর্তী আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তিসমূহের মধ্যে একটি শর্ত ছিল এই যে _ ‘বাংলাদেশের কোন ‘বর্ডার গার্ড’ বা সীমান্ত রক্ষীবাহিনী থাকতে পারবে না।’

১৯৭১ সালে যে সব শর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সামরিক সাহায্য দেয়, তার অন্যতম শর্ত ছিল “Frontier Guards will be disbanded” (CIA Report SC 7941/71). অর্থাৎ বাংলাদেশের কোনো বর্ডার গার্ড থাকবে না। কিন্তু স্বাধীনতার পরে নানা কারনে পাকিস্তান রাইফেলস বালাদেশ রাইফেলসে (বিডিআর) রূপ নেয়। বিডিআর বাহিনীটি ছিলো আধাসামরিক বাহিনী, যার মূল কমান্ড ও ট্রেনিং ছিলো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মত। অন্যদিকে ভারতের বিএসএফ ছিলো সিভিল বাহিনী, যাদের ট্রেনিং, জনবল সবই ছিলো নিম্নমানের। এসব কারনে বর্ডারে কোনো যু্দ্ধ হলে তাতে বিডিআর সামরিক পেশাদারিত্ব দিয়ে বিজয়ী হত।

আজ উপমহাদেশে ভারতের বৃহত্তম বাজারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার তৈরি হতে দেয়া হয়নি, সর্বতোভাবে বাংলাদেশের ওপর সাংষ্কৃতিক-সামরিক-অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে যা যা করা দরকার ভারত তার সবই করেছে। বিডিআর বাহিনীকে ধ্বংস করার পেছনে তাদের পরিকল্পনা সাফল্য লাভ করতে পারতো না কখনো, যদি তাদের দেশীয় তাঁবেদার বাহিনী জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাদের সুযোগ করে না দিত। শেয়ার বাজার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেশের লাখো পরিবারকে সর্বস্বান্ত করে নির্বিঘ্নে প্রায় সম্পূর্ণই তাদের গ্রাস করতে দেয়া হয়েছে, ভয়াবহ ধরণের অবিশ্বাস্য ধরণের অসম চুক্তি করে বিপুল মুনাফা লুন্ঠনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাত গ্রাস করতে দেয়া হচ্ছে এমনভাবে _ আগামি দিনে খোদ বাংলাদেশের নিজের দেশে নিজেদেরই কোন নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হবে কিনা সন্দেহ। তথ্য প্রযুক্তি খাতের রিসোর্সগুলি অতি অল্প মূল্যে তাদের দিয়ে দেয়া হচ্ছে যা ধরে রেখে কাজে লাগালে বাংলাদেশের তরুণেরা আগামী দিনে প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাতে পারত। তৈরি পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করতে হাজার হাজার ভারতীয় উদ্যোক্তাদের এই সেক্টরে অবাধে প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে, লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের এক বিশাল কর্মীবাহিনীকে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে আমাদের কর্মসংস্থানের বিরাট সংকট থাকা সত্বেও। আবাসন শিল্পে চট করে ঢুকতে পারেনি তবে চেষ্টা অব্যহত আছে, অচিরেই ঘুকে পড়বে যদি তাদের তাঁবেদাররা আবার ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়। এই তালিকা আরো অনেক দীর্ঘ হবে রেফারেন্স টানলে। ভারতীয়রা আমাদের উন্নয়ন চায় না, আমাদের সমস্ত সেক্টরকে ধ্বংস করতে চায় শুধু তাদের নিজেদের স্বার্থে, টিপাইমুখ বাঁধের মাধ্যমে পানিশূণ্য করতে চায় শুধু তাদের স্বার্থে, আমাদের ধর্মের প্রসারেও এমনকি পালনেও তাদের আপত্তি, আজকাল বিভিন্ন ব্লগে উপমহাদেশে আমাদের পূর্বপুরুষদের আদি ধর্ম সনাতনধর্মে আবার ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে হিন্দু মৌলবাদিদের পক্ষ থেকে, ভয়ংকরভাবে জেগে উঠছে হিন্দু মৌলবাদিদের দল, ৩-৫ বছরের মধ্যে ভারতের সাথে বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তান-চায়নার সর্বব্যাপী যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার বিরাট সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়ে হাদিসের ভবিষ্যদ্বাণীও রয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার অনেকগুলো ইঙ্গিত দৃশ্যমান। এ ব্যাপরে বিস্তারিত আলাদাভাবে বলার ইচ্ছে আছে।

কাজেই ‘৪৭ এ যেমন সম্প্রদায়গত স্বার্থ রক্ষায় সময়ের প্রয়োজনে মুসলিমদের ‘পাকিস্তান’ গঠন করতে হয়েছে, ‘৭১ এ যেমন নৃতাত্ত্বিক জাতিগত সাংষ্কৃতিক পরিচয়গতভাবে পশ্চিম পাকিস্তানীদের অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ‘বাংলাদেশ’ গঠন করতে হয়েছে _ ঠিক তেমনিভাবে এই ২০১৩ তে নগ্ন ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে অযুত কন্ঠে গর্জে উঠতে হবে, পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে নির্লজ্জা ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। তার প্রথম পদক্ষেপ হল ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদিদের দেশীয় তাঁবেদার গোষ্ঠিকে ‘না’ বলা। এইবার প্রতিরোধ করতে না পারলে সামনে যা যা হতে পারে, তাতে ‘৭১ এর হানাদার বাহিনীর অত্যাচারকে ভুলে যাবে বাংলার মুসলমানগণ, ভারতে এবার আসছে বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির একাংশ ইতিমধ্যেই ‘বাংলাদেশ চলো’ পদযাত্রার প্রাথমিক ঘোষণা দিয়েছে, যাতে লক্ষ লক্ষ হিন্দু মৌলবাদির সমাবেশ ঘটানোর হুমকি দেয়া হয়েছে। এইবার ভুল করলে ‘৭১ এর মত এক সাগর নয়, এক মহাসাগর রক্তের বিনিময়েই আবার হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতাকে খুঁজে ফিরতে হবে।

বাংলাদেশে কলকাতার আনন্দবাজারের দাদাগিরি

anandabazar_patrika-400x400বলাই
নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যালয়ে বাংলাদেশের সাহিত্যের গতি-প্রকৃতির ওপর একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। হাইকমিশনের উদ্যোগেই ছিল এ আয়োজন। বাংলাদেশের সুপরিচিত লেখকদের অনেকেই সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন। সেমিনারে আলোচ্যসূচীর মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশের উপন্যাসের ভাষা কী রকম হবে।সেমিনারে সভাপতি ছিলেন সুনীল গঙ্গেপাধ্যায়। বাংলাদেশের লেখকরা একে একে তাদের বক্তব্য পেশ করার পর আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের পালা এল। তিনি ডায়াসে দাড়িয়ে কাটা কাটা কথায় বলেছিলেন, বাংলাদেশের সাহিত্যের ভাষা হবে বাংলাদেশের জনগণের মুখের ভাষার কাছাকাছি, তাতে করে যদি পশ্চিম বাংলার ভাষার চাইতে বাংলাদেশের সাহিত্যের ভাষা, বিশেষ করে উপন্যাসের ভাষা যদি সম্পূর্ণ আলাদা খাতে প্রবাহিত হয়ে যায়, সেটা সকলের স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া উচিত।

ইলিয়াসের এই বলিষ্ঠ উচ্চারণ যে পশ্চিমবাংলার সাহিত্যের মোড়লদের অনেকেরই ভালো লাগেনি সেদিন সন্ধ্যাতেই তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। কলকাতার সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক আনন্দবাজার গ্রান্ড হোটেলে বাংলাদেশের লেখকদের সম্মানে একটি ডিনারের আয়োজন করেছিল। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সব লেখককে সেখানে নিমন্ত্রণ করা হলেও ইলিয়াসকে ডাকা হয়নি। আনন্দবজারের এই অভদ্র আচরণে ইলিয়াস খুব ব্যাথিত হয়েছিলেন, অপমানিত বোধ করেছিলেন। দেশে ফিরে সমসাময়কি লেখকদের কাছে সে ক্ষোভের কথা গোপন করেননি তিনি। পরে তার জবাবটাও দিয়েছিলেন খাসা। বাংলাদেশের উপন্যাসের ভাষা কিভাবে বাংলাদেশের মানুষের মুখের ভাষার অনুবর্তী হয় খোয়াবনামা লিখে তার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেখিয়েছিলেন তিনি।

হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রগঠনের গোপন বাসনা থেকে বঙ্কিম তার আনন্দমঠ উপন্যাসে যে সোশাল ডিসকোর্স তৈরি করেছিলেন ইলিয়াস তার খোয়াবনামায় সেটাকে ভেঙ্গে খান খান করে দেন। তবে ইলিয়াস আনন্দমঠের ডিসকোর্স ভাঙতে পারলেও আনন্দবাজার গোষ্ঠীর তাতে খুব সমস্যা হয়নি। কারণ এক ইলিয়াস প্রতিবাদ জানালেও বাংলাদেশের নামকরা অনেক জিনিয়াসই ততদিনে দাদাদের পকেটে ঢুকে গেছেন। আনন্দবাজার ভেতরে ভেতরে তার হিন্দুত্ববাদী আদর্শকে লালন করলেও উপরে উপরে অসাম্প্রদায়িকতার মিথ্যা বুলি আউড়ে যাচ্ছে। আসলে আনন্দবাজারের চোখে বাংলাদেশ কখনই স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়নি। বরং তারা বাংলাদেশকে বরাবর ‘ছোটভাই’ হিসেবে দেখতেই অভ্যস্ত। প্রযোজনে একে ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ব্যবসায়িক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে তারা।

humayunsunil

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম লেখক। তার লেখার ধরন, মান নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন কারোরই নেই। এপার-ওপার মিলিয়ে সমসাময়িক লেখকদের তুলনায় জনপ্রিয়তায় তার অবস্থান ছিল শীর্ষে, এ নিয়ে দ্বিমত করলে বাজিতে হারতে হবে। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকাগুলো বিশেষ সংখ্যা বের করেছে। আর আনন্দবাজার হুমায়ূনের মৃত্যু সংবাদ ছেপেছে টুকরো খবরে। শিরোনাম ছিল ‘প্রয়াত কথাকার হুমায়ূন আহমেদ’। আনন্দবাজার গোষ্ঠী তাদের দেশ পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় হুমায়ূনের লেখা ছাপতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও হুমায়ূনের মৃত্যু সংবাদ তাদের মনে শোকের ভাব জাগায়নি। কারণ জীবীত হুমায়ূনকে নিয়ে ব্যবসায় সুযোগ থাকলেও মৃত হুমায়ূনে তাদের কোনো আগ্রহ ছিল না।

অথচ একই বছরের ২৩ অক্টোবর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর আনন্দবাজার আট কলামে ব্যানার শিরোনামে সংবাদ ছেপেছিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠতে পারে, একই অঙ্গনের জনপ্রিয় দুই ব্যক্তিত্বকে নিয়ে পত্রিকায় কাভারেজ দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বৈষম্য কেন? এক কথায় এর উত্তর হলো, ব্যবসায়িক স্বার্থ। সঙ্গে সাম্প্রদায়িক চেতনা। সাহিত্যের ক্ষেত্রে আনন্দবাজার এমন একটি ভাব দেখায় যেন তারা বাংলা সাহিত্যের একমাত্র ধারক ও বাহক। অভিভাবকও। তাই বাংলাদেশের সাহিত্যের বাজারটাও তাদের দখলে থাকাটাই বাংলা সাহিত্যের জন্যই মঙ্গলজনক। এ বাজারটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তারা নানারকম কূটকৌশল নিয়ে থাকে। সেগুলোর প্রকাশও নানারকম। কখনো বাংলাদেশের কোনো লেখক-লেখিকার বই ছেপে বিতর্ক সৃষ্টি করে পয়সা রোজগারের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে, কখনো এ দেশের লেখকদের একাংশকে সম্মাননা দিয়ে নিজেদের স্বার্থরক্ষার খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আনন্দবাজার গোষ্ঠী। আর কোনো ব্যক্তিকে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ সিদ্ধির অন্তরায় মনে করলে তাকে সমূলে ধ্বংস করতেও কখনো কুণ্ঠিত হয় না তারা। আন্দবাজারের ষড়যন্ত্রের কারণে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি লাঞ্ছিত হয়েছে।

এখানে প্রসঙ্গক্রমেই এসে যাবে তসলিমা নাসরিনের কথাও। ভারতে মৌলবাদীরা যখন বাবরি মসজিদ ভাঙলো এবং তার জেরে ধরে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় সপ্তাহখানেক সময়ের মধ্যে প্রায় এক হাজার মানুষ খুন হয়ে গেল তখন পৃথিবীজুড়ে মানুষ ভারতের দিকে সমালোচনার আঙ্গুল তুলেছিল। তারা বলেছিল ভারত একটি নিপীড়নকারী রাষ্ট্র, সেখানে সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা নেই। এ নিয়ে ভারতীয় বুদ্ধিজীবীমহল যখন চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিল, ঠিক তখনই তাদের সামনে ‘আলোর রেখা’ হয়ে হাজির হয়েছিল তসলিমা নাসরিনের ‘লজ্জা’। ‘লজ্জা’ দিয়ে নিজেদের অপরাধবোধ চাপা দেওয়ার মস্ত সুযোগ পেয়েছিলেন তারা। আনন্দবাজার তসলিমার একটি ভাবমূর্তি তৈরি করতে টানা তিন বছর ধরে ক্রমাগত চেষ্টা করে গেছে। এপার-ওপার বাংলায় তাদের পোষা বুদ্ধিজীবীরা তসলিমাকে নিয়ে অব্যাহতভাবে কলম চালিয়ে গেছেন। লজ্জাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল সেদিকে বিশ্বের নজর ঘুরিয়ে দেওয়াই ছিল তাদের মূল কাজ। যাতে ভারতের সংঘটিত দাঙ্গার ওপর থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘুরে যায়। বাস্তবে তা হয়েছিলও বৈকি! বাংলাদেশে বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার দাবি উঠেছিল।লক্ষণীয় বিষয় হলো প্রয়োজন শেষে আনন্দবাজার কিন্তু তসলিমাকে ঠিকই ছুড়ে ফেলেছে।

সাহিত্য ছেড়ে খেলার মাঠের দিকে এগুলেও একই চিত্র পাওয়া যাবে। ক্রিকেটে আজ বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত শক্তিই বলা যায়। আজ এ খেলায় বাংলাদেশকে বলে-কয়ে হারানোর দিন শেষ। কিন্তু ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো সাফল্যই আনন্দবাজার গোষ্ঠীর বাহবা পায় না। গত ৪ নভেম্বরে এক-দিবসী ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। পরদিন বাংলাদেশের পত্রিকাগুলো এ নিয়ে প্রধান বা দ্বিতীয় শিরোনামে খবর ছাপলেও আন্দবাজারে একটি লাইনও লেখা হয়নি। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল ঢাকায়। টেলিগ্রাফ, বিবিসি, ক্রিকইনফো, সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের রিপোর্টে বলা হল, ঢাকায় দুর্দান্ত অনুষ্ঠান হয়েছে। অথচ একই অনুষ্ঠান কাভার করে আনন্দবাজারের গৌতম ভট্টচার্য্য যে লেখা লিখলেন তাতে মূল বিষয় বাদ দিয়ে সাংবাদিকদের একটু হেটে প্রেসবক্সে ঢোকার কষ্টটাকে ফুটিয়ে তোলাতেই নজর ছিল বেশি। অথচ গৌতমরা ভুলে যান, ১৯৯৬ সালে কলকাতা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ওপেনিং করতে গিয়ে লেজার শোর নামে কেলেঙ্কারি করে ফেলেছিল। সেদিন সারা পৃথিবীতে ‘ছি ছি’ পড়ে গিয়েছিল। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ একযুগ পার করলেও আজ পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশকে তাদের দেশে খেলার আমন্ত্রণ জানায়নি। এ নিয়ে কিন্তু আনন্দবাজারের কোনো রা নেই।

সাহিত্য, খেলা ছাপিয়ে যদি রাজনীতির কথা ওঠে তো দেখা যাবে সেখানে আরেক কাঠি এগিয়ে আছে আনন্দবাজার গোষ্ঠী। যে পত্রিকায় হুমায়ূনের মৃত্যু সংবাদ ছাপা হয় টুকরো খবরে, নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশের খবরই ছাপা হয় না, সেই একই পত্রিকায় বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে খবর ছাপা হয় হর-হামেশা। যেন বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তাদের আগ্রহ অসীম। যদিও সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে তারা বেশিরভাগ খবরেই বস্তুনিষ্ঠতার ধার ধারে না। বরং নিজেদের মতো করে একপাক্ষিকভাবে খবর প্রকাশের দিকেই মনোযোগ বেশি। সম্প্রতি প্রায় প্রতিদিনই আনন্দবাজারে বাংলাদেশ নিয়ে খবর থাকছে। খালেদা, হাসিনা, এরশাদ, জামায়াত কবে কখন কী করল, কী বলল তার সবই নিজেদের মতো ছাপছে তারা।কিছুদিন আগে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তারেক রহমানকে আইএসআইয়ের সহযোগী বানিয়ে সংবাদ ছাপিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল তারা। জামায়াত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোপনে নাশকতার চেষ্টা করছে, জঙ্গি দল গঠন করছে বলে খবর ছড়াচ্ছে তারা। অথচ আগামী লোকসভা নির্বাচন ঘিরে বিজেপির মতো কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল যে কংগ্রেসকে চোখ রাঙাচ্ছে সেদিকে যেন চোখ নেই আনন্দবাজার গোষ্ঠীর। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে বলে আনন্দবাজারের যে উদ্বেগ সেই একই উদ্বেগ ভারতের বেলায় দেখাচ্ছে না তারা। মূল কথা হলো বাজার দখলে রাখা। সেটা সাহিত্য-সংস্কৃতি থেকে শুরু করে, রাজনীতি, অর্থনীতি সবখানেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে তাদের বাজার দখলে রাখতে সুবিধা হয়, তাই বিএনপির উত্থান ঠেকাতে তারা মরিয়া।

জামাতের জঙ্গি আচরণেকে ইঙ্গিত করে আসলে তারা বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে চায়। তাই আওয়ামী লীগ আমলে ফেলানি হত্যা, তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি না হওয়া কিংবা স্থল সীমান্ত চুক্তি নিয়ে মমতার অনাগ্রহ নিয়ে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে নীরব ভূমিকা পালন করে।তবে বাজার দখলে রাখার ক্ষেত্রে বিএনপি বেশি সুবিধা দিলে আওয়ামী লীগকে ছুড়ে ফেলতে এক মুহূর্তও ভাববে না তারা। যে বাঙালী জাতিয়তাবাদের কথা আনন্দবাজার বলে বেড়ায় সেটা আসলে সাম্প্রদায়িক চেতনায় ধারণ করা জাতীয়তাবাদ। বস্তুত আমাদের অসাম্প্রদায়িক ভাবনার সঙ্গে তাদের জাতিয়তাবাদের ধরন মেলে না। ব্রিটিশ আমলে দ্রুত ইংরেজী শিখে ইংরেজের দালালি করে কাচা পয়সা রোজগার করে যে মধ্যবিত্ত বাঙালী হিন্দু শ্রেণী বিকাশ লাভ করেছিল সেই শ্রেণীর বানানো হিন্দুত্ববাদী জাতিয়তাবাদেকই ধারণ করছে আনন্দবাজার।

এখনো মুসলমানদের পিছিয়ে পড়া আতরাফ জনগোষ্ঠীর অংশ ভাবতেই পছন্দ করে তারা। আর নিজেদের ভাবে আশরাফ। নিজের অঞ্চলে নিজেদের ভাবনা প্রতিষ্ঠা করলে সমস্যা ছিল না, সমস্যা তখনই বাধে যখন তাদের ভাবনা তারা জোর করে আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে বাণিজ্য করে যায়।

সিকিম হবে না কিন্তু পাকিস্তান-আফগানিস্তান হয়ে যাবে

by আজগর খান 

//আওয়ামী সুশীলঃ বিএনপি জামাত আবার ক্ষমতায় আসবে, দেশ পাকিস্তান আর আফগানিস্তান হয়ে যাবে।

জনৈক ব্যক্তিঃ হ্যাঁ ঠিক আছে, আওয়ামীলীগ আসলে দেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য হবে, আমরা সবাই ভারতীয় হবো! তাজমহল, গোয়া, কাশ্মীর, কন্যাকুমারী, দার্জিলিং সব জায়গায় বিনা পাসপোর্ট যখন তখন ঘুরতে পারবো। বলিউডের সুন্দর সুন্দর মুভিগুলা ভারতের অন্যান্য জায়গার সাথে আমাদের পূর্ব বাংলায় ও একযোগে মুক্তি পাবে। কি মজা!

আমি চাই আওয়ামীলীগই ক্ষমতায় আসুক!

পাকিস্তান আফগানিস্তানের চাইতেও ভারত ভাল তো! ভালো না? মেরা ভারত মহান!

আওয়ামী সুশীলঃ (ধরা খাইসে, এখন আমতা আমতা করে বলতেসে)

না না! ঐরকম কেন বলছেন? দেশ ভারত হবে কেন? বাংলাদেশই থাকবে? ঐসবে কান দেবেন না! কথাতো ঐ একটাই শিখছেন, ভারতের অঙ্গরাজ্য! ভারতের অঙ্গরাজ্য! আপনি কিভাবে বুঝলেন দেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য হবে?

জনৈক ব্যক্তিঃ তো *** **(!) তুই কিভাবে বুঝলি দেশ পাকিস্তান আর আফগানিস্তান হবে?//

* (সংগৃহীত একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস)

 

চেতনার হোলসেলার লীগ এবং শাহবাগিরা দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ-ফেসবুক-পোস্ট-কমেন্টে বিরোধীমতের যত লোককে ভার্চুয়ালি ‘ফাকিস্তানে’ পাঠিয়েছেন তার মোট সংখ্যা বোধকরি বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যার চেয়ে বেশি না হলেও খুব কম হবে না ! রাজনৈতিক একটি ধর্মমতকে তারা প্রায় একটি ধর্মের মর্যাদায় নিয়ে গেছে, সামাজিক-সাম্প্রদায়িকভাবে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী হলেও মূলতঃ তাদের মূল ধর্ম হিসেবে ‘চেতনা’ কেই তারা বার বার তুলে ধরে থাকে।  ভিন্নমত হওয়া বা যূথবিচ্ছিন্ন হওয়ামাত্রই তারা ‘বঙ্গবীর’ কে মূহুর্তে রাজাকার বানিয়ে দিতেও কসুর করে না, স্বাধীন সংবিধান রচয়িতাকেও ‘বিভীষণ’ তকমা দিয়ে দেয় _ এই ২য় প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধারা ‘৭১ না দেখেও প্রয়োজনের সময় হয়ে ওঠেন ‘৭১ এর আসল মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়েও অনেক বড় মুক্তিযোদ্ধা !

বাংলাদেশে ইসলামের ইতিহাস প্রায় হাজার বছরের পুরনো। এর মাঝে মুহাম্মাদ-বিন-কাসিমের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বহু শতাব্দী গত হলেও দেশ আজ পর্যন্ত কখনো পাকিস্তান বা আফগানিস্তান হয় নি। এমনকি খোদ পাকিস্তান আমলেও এই জাতি ঠিক ‘পাকিস্তানি’ হতে পারেনি, ‘৫২ র ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুকে রাষ্ট্রীয় ভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে এসে অকাতরে গুলির মুখে গর্জে উঠে রক্তদান করা জাতি এই জাতি, আজ ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে সারা বিশ্বে আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারীই পালিত হয় _ পৃথিবীর কোন জাতি মাতৃভাষার জন্য এত প্রগাঢ় আবেগ দেখাতে পারেনি। পাকিস্তান আমলেও কিন্তু কোলকাতায় তথা বিভক্ত ভারতে, এবং এই বাংলায় ‘পূর্ব বাংলা’ ‘পূর্ববঙ্গ’ ‘এপার বাংলা’ বলা হত।  ‘৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ করে হানাদারদের নারকীয় শোষণ-নিপীড়ন থেকে সুদীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়া এই জাতি ‘৭১ এর আগে হাজার বছরে কিংবা ‘৭১ পরবর্তী ৪২ বছরে কখনো পাকিস্তান বা আফগানিস্তান হয় নি। শুধু গত কয়েক দশকেই তো ইসলামের বিরাট বিরাট নানান আওয়াজ এই বদ্বীপ প্রকম্পিত করেছে। সারা দুনিয়া থেকে আগত প্রায় কোটি-অর্ধকোটি লোকের সমাগমে ঢাকার টঙ্গীতে ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হয় _ দেশ কি ‘পাকিস্তান’ বা ‘আফগানিস্তান’ হয়েছে ?

এর মাঝে চেতনার হোলসেলাররা যদি ২ বার(যে করেই হোক না কেন) ক্ষমতায় এসে থাকে তাহলে তাদের অভিযুক্ত ‘বিএনপি-জামাত গং’ ৩ বার ক্ষমতায় এসেছে _ তখনো দেশ ‘পাকিস্তান’ বা ‘আফগানিস্তান’ হয়নি। তাহলে আজ কেন এই অভিযোগ ?

অভিযোগ এজন্য যে তারা নিকৃষ্টতম ঘেঁটুপুত্র হিসেবে যাদের সেবাদাসত্ব করে যাচ্ছে সেও ভারতীয় বর্ণবাদি সাম্রাজ্যবাদি গোষ্ঠির ‘প্রেসক্রিপশন’-‘ব্লুপ্রিন্ট’ অনুযায়ী যা প্রদত্ত সিলেবাস তার বাইরে যাওয়ার মত ব্যক্তিত্ব-সৎসাহস-দেশপ্রেম কোনটাই তাদের নেই। ক্রীতদাসসম ঘেঁটুপুত্রদের অবশ্য তা থাকার কথাও নয়। যাদের প্রভুরা হচ্ছে রাজা লক্ষণ সেনের বংশধর, যিনি বখতিয়ার খিলজির মাত্র ১৭ জন অশ্বারোহীর হ্রেষাধ্বনি শুনে বিচলিত হয়ে মধ্যাহৃভোজন অসমাপ্ত রেখেই রান্নাঘরের দরজা দিয়ে পত্রপাঠ পলায়ন করেন _ তার বংশধর, ইসলাম তথা মুসলিমবিদ্বেষ-মুসলিমভীতি যাদের রক্তে জেনেটিক্যালি শত শত বছর ধরে প্রবাহিত হচ্ছে, তার থেকে আলাদা কিছু কিভাবে হবে ?

 

ব্যক্তিগতভাবে আমি সাঈদি বা শেখ মুজিব কারোরই ভক্ত-টক্ত না বা কারোর ব্যাপারেই মোহাচ্ছন্ন না _ কিন্তু সামান্য রিংটোনের মত একটা মামুলি বিষয় নিয়ে বৃদ্ধ একজন মানুষকে একদল তরুণ যে চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বীরদর্পে বেদম পিটিয়ে থানায় সোপর্দ করে _ সেই ‘চেতনা’ সম্পর্কে চিন্তিত হতেই হয়। একই যুক্তিতে আগামী দিনে ৭ ই মার্চের ভাষণ কারো রিংটোনে বেজে উঠলে একইরকম ঘটনা রিভার্স হওয়াও কি খুব বিচিত্র কিছু ?

 

ফ্ল্যাশব্যাকে মনে পড়ে যায় ৬ ই এপ্রিল জাগরণমঞ্চের কর্মীদের একটা ছবি প্রকাশিত হয়েছিল রমনা পার্কে একদল তরুণের একজন পক্ককেশ বৃদ্ধকে প্রচন্ড মারধর করে রক্তাক্ত করে পাঞ্জাবির কলার ধরে বীরদর্পে এগিয়ে যাওয়ার বিরল দৃশ্য। আসল বীরপুরুষ আসলে ছিলেন ‘৭১ এর আসল মুক্তিযোদ্ধারা, যাদের বুকে ছিল আগুন, যারা অমিতবিক্রমে বুকে মাইনে বেঁধে ট্যাংকের সামনে নির্দ্বিধায় ঝাঁপিয়ে পড়তেন, তারা আসলেই অকুতোভয় ছিলেন। কারণ কি ? কারণ ‘৭১ কে নিজের চোখে দেখার কারণে, সে আগুনের সাথে ‘ইনভলভড’ হবার কারণেই সেই আগুণের পরশমণি হৃদয়ে ধারণ করতে পেরেছিলেন। তারা নিজেরাই পশ্চিম পাকিস্তানীদের শোষণ-বঞ্চনা-অত্যাচার-স্বজন হারানোর বেদনার প্রত্যক্ষ অংশীদার ছিলেন _ সেজন্যে ‘৭১ এর মহান চেতনাকে ‘কল্পনা’ করে তাদের ধারণ করতে হয় নি, রীতিমত এক অনিবার্য প্রাকৃতিক অবশ্যম্ভাবীতায় তা তাদের রক্ত-অস্থিমজ্জায় মিশে গিয়েছিল, যেতে বাধ্য হয়েছিল। ওনাদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই ‘৭১ এর চেতনা ‘ন্যাচারাল’ একটি বিষয়, যা অপরিহার্য-অবিচ্ছেদ্য একটি প্রত্যঙ্গের মত।

 

আজকের শাহবাগিদের চেতনা মোটেই সেরকম বা তার ধারেকাছে কিছু নয় ! শাহবাগি চেতনা একটি টকসিকেটেড ভালগার রোমান্টিসিজম। ৪২ বছর আগের একটি সময় যার সাথে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-ভৌগোলিক-সমাজতাত্ত্বিক-সাংষ্কৃতিক কোন রকমের কোন সাযুজ্যতা নেই, কোনরকম কোন সংযোগ নেই, কোনরকম কোন ‘সংশ্লিষ্টতা’ বা ‘ইনভলভমেন্ট’ সরাসরি নেই _ নিতান্ত রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে একটি সাম্রাজ্যবাদি গোষ্ঠি ও তাদের ‘প্রাদেশিক’ তাঁবেদার শ্রেণীর ঘটানো একটি কৃত্রিম অভ্যুত্থান _ যাকে আসল বিপ্লব না বলে ‘উৎপ্লব’ বলে অভিহিত করা যায়। অতিমাত্রায় কৃত্রিমতা এবং অন্তঃসারশূণ্যতার কারণে গৃহপালিত মতলববাজির ফসল অস্বাভাবিক এক ‘উৎপ্লব’।

 

প্রথম কয়েকদিন চমক সৃষ্টি করলেও অচিরেই এই উৎপ্লব এক ঐতিহাসিক তামাশায় পরিণত হয়, না হয়ে উপায়ও অবশ্য ছিল না। কারণ এই ‘২য় মুক্তিযুদ্ধ’ এর মহান বিপ্লবীরা ছিলেন ‘৭১ এর সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থায়। ‘৭১ এর আসল মুক্তিযোদ্ধারা যে ভীষণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রথম সারির একটি পেশাদার সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়েছিলেন অনন্যোপায় হয়ে, নারকীয় বঞ্চনা আর অগ্নিগর্ভ ক্ষোভের যে আগুন তাদের বুকে ছিল তার কিছুই শাহবাগিদের দেখতে হয়নি, ফেস করতে হয়নি। অনাহারে-অর্ধাহারে নিরস্ত্র হয়েও সে আগুন তাদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছিল বাংলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে বিক্ষুব্ধ ঝঞ্ঝার মত।

 

শাহবাগি প্রেক্ষাপটে শহরের সুবিধাভোগী পেটি বুর্জোয়া শ্রেণীর একপাল বালকবালিকা, ক্ষমতাসীন সরকারের পরম পৃষ্ঠপোষকতায় চোখের সামনে ৩ স্তরের সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা বেষ্টনী/ ব্যক্তিগত গানম্যান/ সরকারি খরচে মঞ্চ/ প্রচুর অর্থ/দেশবিদেশ থেকে আসা বিপুল পরিমাণ চাঁদা/ বিভিন্ন সুযোগসুবিধা/ রেগুলার গরমাগরম বিরিয়ানির প্যাকেট/ মোবাইল টয়লেট/স্লিপিং ব্যাগ লেপতোষক/ অবাধে নারীসঙ্গে দিনরাত নাচে-গানে-স্লোগানে নরক গুলজার করার জন্য উম্মুক্ত রঙ্গমঞ্চে মুক্তকচ্ছ উল্লম্ফনের জন্য ৩ মাসব্যাপী নিশ্চিন্ত আবাস ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।  আসল মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার কিছুই শাহবাগিদের ফেস করতে হয় নি _ ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। ফার্মের মুরগি দিয়ে আর যাই হোক _ বিপ্লব হয় না।

 

ফার্মের মুরগিকে দানা, মানে এক জায়গায় বসিয়ে দীর্ঘকাল ধরে অনবরত পোলট্রি ফিড খাওয়াতে খাওয়াতে যেমন সেগুলো নির্জীব একদল স্বাস্থ্যবান মুরগিতে পরিণত হয়, যা শুধুমাত্র জনজীবনে মাংসের ৩য় শ্রেণীর চাহিদা মেটাতে বিস্বাদ একটি বিকল্প _ শাহবাগিরা তার চেয়ে বেশিমাত্রায় লীগদের শুধু হতাশই করেনি, ৬৫ বছরের পুরনো একটি রাজনৈতিক দলকে দীর্ঘকালস্থায়ী বিপদের মধ্যে নিপতিত করেছে। যে কারণে প্রথমদিকে মঞ্চে ওঠার জন্যে লীগ নেতারা পাগলপারা হলেও আজ ভুলক্রমেও তাদের শাহবাগের নাম নিতেও শোনা যায় না, শাহবাগ এখন চেতনার হোলসেলারদের কাছে একটি অব্যক্ত দুঃস্বপ্নের মত। একদল ফার্মের মুরগিকে দিয়ে লড়াকু বিপ্লবের দুঃস্বপ্ন দেখার অশুভ ক্ষণটিকে আজ হয়তো শুধু অব্যক্ত গালাগালি দিয়ে যাচ্ছে, তবে আগামী দিনে চেতনার হোলসেলাররা বছরের পর বছর ধরে আসল ভুক্তভোগী হতে হতে অবিরাম অভিশাপ-শাপশাপান্ত করে যাবে শাহবাগিদেরকে।

 

২০১৩ প্রজন্ম ‘৭১ দেখেনি, কিন্তু তারা চোখের সামনে দেখছে কিভাবে শক্তিশালী প্রতিবেশী ভারত সুন্দরবন গ্রাস করতে চাচ্ছে, ট্রানজিটের নামে দেশের সড়কগুলোর ১২টা বাজিয়ে ভারী ভারী লরি নিয়ে বেনাপোল থেকে ত্রিপুরা বিনামূল্যে নির্বিঘ্নে চলে যাচ্ছে ত্রিপুরায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য, বাংলাদেশকে সেজন্যে মূল্য বা বিদ্যুতের পরিবর্তে দেয়া হচ্ছে শুকনো ‘ধন্যবাদ’, চড়া মূল্যে ভারত ঠিকই বিক্রি করছে বিদ্যুত আলাদা চুক্তি করে, ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যান্ডউইডথ ভারতকে ২০ বছরের নবায়নযোগ্য চুক্তিতে মাত্র ৮০ কোটি(!!) টাকায় দিয়ে দেয়া হচ্ছে, প্রতিদিন সীমান্তে ৩য় শ্রেণীর নোংরা বিএসএফ হত্যা করছে বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে, ফেলানির লাশ ঝুলে থাকছে কাঁটাতারের বেড়ায় বেকসুর খালাস পাচ্ছে ফেলানির খুনি _ আরো হাজার ঘটনা কিন্তু এই প্রজন্ম নিজের চোখে দেখছে, দেখে যাচ্ছে। তারাই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বেকুব _ যারা মনে করে এই ‘দেখে যাওয়া’ র কোন প্রতিক্রিয়াই বাংলাদেশের ২০১৩ প্রজন্মের যুবকদের থেকে কখনো হবে না।

তারা যদি মনে করে সমস্ত অপকর্ম ‘চেতনা’ নামতা শুনিয়ে এভাবেই চালিয়ে যাবে _ তার মূল্য বড় মর্মান্তিকভাবে তাদের অচিরেই শোধ করতে হবে, একইভাবে তাদের উত্তরসূরীদেরকেও এর দায় বহন করে যেতে হবে। সত্যি বলতে কি এর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশে।

এখন ঘটনার উত্তাল পালাবদলে না হোক, কালক্রমে তারা বুঝতে সমর্থ হবে যে কি কুক্ষণেই না অভিশপ্ত এক ইডিয়সীর শিকার হয়ে তারা ৮৫% মুসলমানের দেশে ‘সেকুলারগিরির’ এর প্যাকেজে শয়তানের মুত্র ভরে অমৃতজ্ঞানে আকন্ঠ পান করেছিল !

সুজাতার সফর

3

Zia Hassan

আপনার দেশকে নিয়ে আপনি যা ইচ্বছা বলতে পারেন কিন্তু একটা বিদেশির মুখে শুনলে আপনার রাগে গা জ্বলে যাবে।
এই জন্যেই , সারা প্রিথিবিতেই কূটনীতিকরা আরেকদেশ সম্পর্কে কি বলবেন, তাতে অনেক সতর্ক থাকেন । এইটা কূটনৈতিক শিষ্টাচার।
দুইটা দেশের কূটনীতিকরা যখন এই টুকু শিষ্টাচার বাদ দিয়ে কথা বলে তখন বুঝে নিতে হয় যে,দেশ দুইটির সম্পর্ক আর স্বাভাবিক নাই।

এরশাদ এর সাথে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র সচিব সুজাতার সাক্ষাতকার শুনে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন। ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে সেই শিষ্টাচার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর থাকছে না। এবং জাতি হিসেবে বাংলাদেশের বাঙ্গালি জাতি সব ধরনের আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে এখন জাস্ট একটা লেঙ্গুট পড়ে বসে আছে। আমাদের আর কোন লজ্জার অবিশিষ্ট নাই।

আওয়ামী লীগ যেই নির্বাচন করছে তা একটা বিতর্কিত নির্বাচন। এই জন্যে বাংলাদেশে এখন প্রতিটা মানুষের জিবনে অশনিসংকেত নেমে এসেছে। এবং এই নির্বাচন হলে আরো অনেক বছর ধরে বাংলাদেশ একটা অস্থিতিশীলতার মধ্যে পরবে।

কিন্তু, এই নির্বাচন নিয়ে সুজাতা বাংলাদেশে এসেছেন এবং জনে জনে গিয়ে ওকালতি করেছেন সেই দৃশ্য দেখতে হলও।

উনি এরশাদকে বলেছেন ” জাপা নির্বাচনে না গেলে যদি অন্য কোনো দল জয়ী হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান হবে। ”
মিস সুজাতা। এইটা বাংলাদেশের মানুষের কন্সারন। হু ইজ ইন্ডিয়া টু টেল জামাত আসলে কি হবে নাকি হেফাজত আসলে কি হবে নইলে নাস্তিক আসলে কি হবে ? আমরা কি বলি নাকি, তোমাদের বিজেপি আসলে কি হবে ? ডোন্ট পক ইউর ডারটি নজ অন আস।

সুজাতা সিং বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক ভালো কাজ করেছেন।করতেই পারে। উনি আমাদের পাচ বছর মেয়াদি প্রাইম মিনিস্টার। করবেই তো।

কিন্তু, সুজাতা সিং আপনি কে আমাদের দেশে এসে বলার কি ভাল কে খারাপ ? কোন সাহসে আপনারা বাংলাদেশে এসে প্রকাশ্যে একটা রাজনৈতিক দলের পক্ষ নিয়ে ওকালতি করছেন ?
এই নির্লজ্জ হস্তক্ষেপে , আওয়ামী লীগ বিএনপি সহ সকল দল এর লোক এর লজ্জায় অপমানে মাথা হেট হয়ে যাচ্ছেনা এইটা চিন্তা করেই লজ্জা পেতে হয়।

এবং সুজাতা সিং কে গন্ধমাধ্যমের কর্মীরা যেই ভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ওপেন প্রশ্ন করছে সেইটা দেখে যে কোন মানুষের চোখের পানি চলে আসা উচিত।

আমরা একটা দেশ! বাংলাদেশ!! আমরা স্বাধীন!!! ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা পাইছি। সেই স্বাধীনতা থেকে প্রাপ্ত আত্মমর্যাদা এরা সুয়ারেজে ফেলে দিছে।
শেম শেম শেম!!

ভারতীয় চেতনানাশক ‘স্বাধীনতার চেতনার’ মাদক ও বিপন্ন গার্মেন্ট শিল্প। বাংলাদেশটাকে বাঁচান প্লীজ!

???????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????

 

পটভূমি 

এদেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ভাবে গণতন্ত্রের চর্চা করে প্রতি ৫ বছর পর পর একবার। এই পাঁচ বছর পরে একটি দিন মানুষ সত্যিকারভাবেই ক্ষমতার মালিক হয় । এবারকার ভোট পদ্ধতি নিয়ে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৯০- ভাগ মানুষ চায় তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। অথচ এই একটি দিনের জন্যও শেখ হাসিনা জনগনকে বিশ্বাস করছেনা। যদিও তিনি জনগনের প্রধান মন্ত্রী। তার মানে হচ্ছে শেখহাসিনার ক্ষমতার উত্স আর জনগণ নয়। তার ক্ষমতার মূল হচ্ছে ভারত। এর মানে কি দাড়ালো? নিজ দেশেই এদেশের জনগণ পরাধীন।কারণ তার গণতান্ত্রিক ভোটাধিকারের প্রক্রিয়া ঠিক করে দেয় আরেক দেশ।

ভারতীয় চেতনানাশক মাদক  ‘স্বাধীনতার চেতনা’ 

ভারত চায় যে কোনো মূল্যে শেখহাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে। এর ফলে ভারতের অর্থনৈতিক লাভ অনেক। আর আওয়ামীলীগের লাভ হচ্ছে দেশের সবথেকে বড় প্রতিবেশী ভারতের ছত্রছায়ায় তার শত্রুপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করা।এই লক্ষ্যে এখন মনে হচ্ছে ভারত এবং আওয়ামিলিগ কাজ করছে গত কয়েক বছর ধরে।এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় চলেছে সংবিধানে তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করা যদিও এ ব্যাপারে আওয়ামিলিগ জনগনের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নেয় নাই। অর্থাৎ তারা নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে এ ব্যাপারটি রাখেনি। একারণে আমরা একে সংবিধান-ক্যু বলতেই পারি।

এ ব্যাপারটি থেকে জনগনের দৃষ্টি সরিয়ে রাখার জন্য তৈরী করা হলো নাটক। নাটকের নাম শাহবাগ। মঞ্চের অভিনেতাদের মধ্যে আছেন এসময়ের তুমুল জনপ্রিয় কিছু শিক্ষক, সংস্কৃতি কর্মী-যাদের মধ্যে বলা হয় বেশ কয়েকজন ভারতীয় এজেন্ট। অবশ্য কোনো প্রমান নেই। উনারা গানের তালে তালে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিলেন এবং স্বাধীনতার ফেন্সি চেতনার নামে তরুণ সমাজকে গৃহযুদ্ধের ফর্মুলা ধরিয়ে দিলেন। টিভিতে, পত্রিকায়, ব্লগে সব জায়গায় দেখা যায় স্বাধীনতার চেতনা। আসলে এটা চেতনানাশক চেতনা। নাহলে যখন দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় দিনের পর দিন লোক মরছে , ব্যবসা-বানিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম, স্কুল কলেজ বন্ধ, তখনও চেতনা-নাশক ড্রাগে তরুণ সমাজ ঘুমিয়ে! স্বাধীনতার চেতনা নিশ্চয় ছিলোনা দেশকে মোটামুটি বসবাসের অযোগ্য করে তোলা?১৯৭১ ছিলো দেশ গড়ার যুদ্ধ আর ২০১৩র কথিত দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের নাম ভাঙ্গা হচ্ছে দেশ। এর কারণ ভারত চায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষতি। লাভ ভারতের। সংকীর্ণ দলীয় চিন্তায় আওয়ামিলীগ ও আটকে পড়েছে ভারতীয় জালে।

চেতনার মাদকের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আমাদের গার্মেন্ট শিল্পের ভয়াবহ সংকট 

ভারত কেনো আওয়ামীলীগকে একতরফা সাহায্য করছে?দুই কারণে।অর্থনৈতিক সুবিধা এবং নিজ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায়। প্রথিতজশা চিন্তাবিদ বদরুদ্দিন উমর বলেছেন,’হাসিনা সরকারের একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানে মদত জুগিয়ে ভারত আর সাম্রাজ্যবাদী চেহারা উন্মোচন করেছে।’ বদরুদ্দিন উমরের দাবি গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামীলিগ সরকার রাষ্ট্রের স্বার্থের বাইরে যায় এমন অনেক চুক্তি করেছে। সেটা তো আছেই। এছাড়াও আওয়ামী সরকারের ঘাড়ে বসে ভারত বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের চূড়ান্ত নকশায় মেতে উঠেছে। ব্যাপারটা এখন এমন মনে হচ্ছে- আওয়ামীলীগ ধংস করবে তার বিরোধী পক্ষ আর ভারত ধংস করবে বাংলাদেশ। একটা উদাহরণ হচ্ছে – এদেশের গার্মেন্ট শিল্প।

গত ২৬নভেম্বরে নয়াদিগন্তের এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরী এবং নাশকতার পিছনে ভারতীয় ইন্ধন আছে। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্প খাতে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার বিদেশী কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে ২০ হাজারই ভারতীয়। একেক কারখানায় ১০ থেকে ২০ জন ভারতীয় মিলে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ নয়া দিগন্তকে বলেন, “কারখানাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এসব কর্মকর্তা এতটাই ক্ষমতাশালী যে, অনেক সময় স্বল্পশিক্ষিত মালিকদের তারাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। কৌশলে তারাই শ্রমিকদের সাথে মালিকদের সম্পর্ক তিক্ত করেন।” নয়াদিগন্তের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত আট থেকে ১০ বছরে যেসব কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ হয়েছে তার বেশির ভাগই ছিল কমপ্লায়েন্ট। এসব কারখানায় কর্মপরিবেশ ভালো, নিয়মিত বেতন-ভাতা দেয়া হয়, ওভার টাইম দেয়া হয়, টিফিন থেকে শুরু করে বেশির ভাগ যুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেই এসব কারখানার শ্রমিকেরা সন্তুষ্ট। অথচ কখনো রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক মৃত্যুর অজুহাতে, কখনো শ্রমিক গুম কিংবা টয়লেটে ভূত থাকার মতো গুজব ছড়িয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করানো হচ্ছে এসব কারখানায়। কার লাভ হচ্ছে এসব করে?

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ালস্ট্রিটজার্নাল পত্রিকায় প্রকাশিত গত ২২ মার্চের প্রতিবেদনে দেখা যায় ‘স্বাধীনতার চেতনা’ সংক্রান্ত রাজনৈতিক গন্ডগোলের কারণে বিদেশী ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার সরিয়ে ভারতে দিয়েছে।গত ৫ ডিসেম্বরের ভারতের ইকনমিক টাইমস পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয় বাংলাদেশে রাজনৈতিক গন্ডগোলের কারণে ভারতের পোশাকরপ্তানী খাতের রপ্তানী প্রায় ১৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে দৈনিক প্রথম-আলোতে যাকে অনেকে গালি দেন ‘ভারতের -আলো’ নামে এসংক্রান্ত কোনো রিপোর্ট নেই।

চেতনার মাদকের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট 

ভারতীয়রা অভিযোগ করে ভারতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পরে গতবারের  বিএনপি -জামাত সরকারের আমলে। তাদের মতে পাকিস্তান ভারতকে বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করেছিল ভারতে সন্ত্রাসবাদ রপ্তানিতে। আর আওয়ামিলীগ অভিযোগ করে বিএনপি-জামাতের  একটিঅংশ হয়তো সরকারের অগোচরে পাকিস্তানের সয়াহতায় ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মত ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটিয়ে ছিলো। এ অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমান হয়নি। অনেকে বলে এটা একটা অজুহাত।

দেখা যাচ্ছে আওয়ামিলীগ এবং ভারতের সখ্যতার মূল ভিত্তি হচ্ছে শত্রু নিধন। অর্থাৎ নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি এবং অর্থনৈতিক ইন্টারেস্ট-এ এরা দুজনে দুজনার। আওয়ামিলীগ মারবে বিএনপি-জামাতকে, পাকিস্তানকে মারবে ভারত আবার বাংলাদেশকেও মারবে ভারত। এই আত্মঘাতী বন্ধনে আটকা পরেছে বাংলাদেশ।সমস্যাটা হচ্ছে এরা দেশটার জনগনের জান-মালের তোয়াক্কা করছেনা। স্বাধীনতার (পরাধীনতার) চেতনায় একটা তাবেদার সরকার দেশের কোনো তোয়াক্কা না করে, ভারতের বুদ্ধিতে নিজের দেশ ধংসের খেলায় মেতে উঠেছে, একের পর এক দেশ বিরোধী চুক্তি করছে, রাজনৈতিক স্থবিরতায় দেশকে অচল করে দিয়েছে, তার শত্রুকে ধ্বংশ করার জন্য।আরেদিক বাংলাদেশে পরম শক্তিশালী ভারতীয়রা দেশের গার্মেন্ট শিল্পের ধংসের নীলনকশায় মেতে উঠেছে।

শেষ কথা 

এর মানে কি এই যে আপনি ৭১এর মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার চাবেননা? অবশ্যই চাবেন, কিন্তু এর মানে এই না যে আপনি অন্যায়কে প্রশ্ন করবেননা? এর মানে এই না যে আপনি দুর্নীতিকে প্রশ্ন করবেননা? শ্রমিকের নায্য মজুরি নিয়ে প্রশ্ন তুলবেননা? রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে দলীয় সন্ত্রাস নিয়ে প্রশ্ন তুলবেননা? স্বাধীনতার চেতনা কি ছিল বাংলাদেশে ভারতকে একছত্র আধিপত্য দেয়া? এখনো সময় আছে স্বাধীনতার চেতনার মাদককে না বলুন। বাংলাদেশের পক্ষে দাড়ান দল-মত নির্বিশেষে।ভারতীয়দের দেখেননা তারা কতো দেশপ্রেমিক। আর আমরা? দলপ্রেমিক।দলের জন্য দেশটাকে বিসর্জন দিতে রাজি আছি। ভারতীয় মদদে তৈরী  চেতনা নাশক স্বাধীনতার বিষাক্ত চেতনার বড়ি গিলে সত্যিকারের স্বাধীনতাটাকে  বিকিয়ে দিচ্ছি। যে আবেগটা নিয়ে শাহবাগে গিয়েছিলেন সেই আবেগটা নিয়ে দেশটাকে বাঁচান। প্লীজ। গর্জে উঠে বলুন দেশটা পাকিস্তানকে দেই নাই, ভারতকেও দেবোনা।