ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবি হত্যা, কিছু প্রশ্ন

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে কতজন বুদ্ধিজীবিকে হত্যা করা হয়েছিলো? সাধারন বাংলাদেশীদের মনে সম্ভবত এই সংখ্যাটি বেশ বড়ো, তবে সেটা ব্যাক্তিভেদে যে কোনো কিছু হতে পারে। অনেকেই মনে করেন এই সংখ্যা শত শত, কিংবা হাজার হাজার। এই বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া দুষ্কর। কিছু কিছু তথ্য যা সহজে পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে,

১৯৭১ এর ডিসেম্বরে মে: জেনারেল রাও ফরমান আলীর ডাইরীতে করা ২৫০ টি নামের তালিকা যাদেরকে হত্যার টার্গেট করা হয়েছিলো(1)। বাংলাপেডিয়া’র বুদ্ধিজীবি গনহত্যা পাতায় বলা হয়েছে যে ১৬ই ডিসেম্বরের তিন চারদিন আগ থেকে বুদ্ধিজীবি হত্যার কার্যক্রম শুরু হয় এবং ১৪ই ডিসেম্বর রাতে ২০০ জনেরও বেশী বুদ্ধিজীবিকে তাদের বাসা হতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় (2)।এছাড়া আরো দেখা যায় ১৯৭১ এর ডিসেম্বর ২২ তারিখে আজাদ পত্রিকার একটি সংবাদ যেখানে ভারতের আকাশবাণীকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশ সরকারের একজন কর্মকর্তা, রুহুল কুদ্দুস, বলেন যে কমপক্ষে ২৮০ জন পেশাজীবি ও বুদ্ধিজীবিকে ডিসেম্বরের ১৪ ও ১৫ তারিখে হত্যা করা হয়েছে ঢাকা, সিলেট, খুলনা ও ব্রাম্মনবাড়িয়ায়(3)।  এই রকম আরো কিছু তথ্যের ভিত্তিতে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক যে ডিসেম্বরের ১২-১৫ তারিখের মধ্যে ঢাকায় ও সারাদেশে কয়েকশত বুদ্ধিজীবি হত্যা করা হয়েছে।

আমরা মোটামুটি সবাই জানি যে ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবি হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়া সবচেয়ে কুখ্যাত ঘাতক হলো সেই সময়ে ইসলামী ছাত্র সংঘ নেতা ও আল বদর নেতা চৌধুরী মইন উদ্দীন এবং আশরাফুজ্জামান খান।  এদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে অভিযোগ ও মামলা করা হয়ে এবং অভিযুক্তরা পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদন্ড শাস্তি পায়। এই শাস্তিটি তাদের অপরাধ অনুযায়ী কোনক্রমেই অবাক করার মতো কিছু নয়, কিন্তু অবাক করার মতো ব্যাপার হলো যে ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবি হত্যায় নেতৃত্ব দেয়া এই দুই অপরাধীর বিরুদ্ধে যখন প্রসিকিউশন চার্জ গঠন করে তখন তাদের কে কেবল মাত্র ঢাকায় ১৮ জন বুদ্ধিজীবি হত্যায় অভিযুক্ত করা হয় (4)। প্রসিকিউশনের রিপোর্ট বলে যে এই ১৮ জন বুদ্ধিজীবির মধ্যে রয়েছেন ৯ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ৬ জন সাংবাদিক ও তিন জন চিকিৎসক।

আমরা অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি যে প্রতি বছর ১৪ই ডিসেম্বর আসলে শত বুদ্ধিজীবি হত্যার কথা বলা হয়, রাও ফরমান আলীর শত জনের লিস্টের কথা বলা হয়, কিন্তু পত্রিকায় নাম ও ছবি আসে ১৫ থেকে ১৯ জনেরই মাত্র। নামসহ যাদের ছবিটি উপরে দেয়া হয়েছে। আমরা আরো দেখলাম যে কোর্টে মামলার জন্যে যখন সুনির্দিষ্ট তথ্যের দরকার পড়লো তখন প্রসিকিউশন মাত্র ১৮ জনেরই একটা লিস্ট হাজির করলো, যে লিস্টটি খুব সম্ভবত প্রতি বছর ১৪ই ডিসেম্বরে পত্রিকার লিস্টটির অনুলিপি মাত্র।

 

এই থেকে আমাদের মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে ১৪ ই ডিসেম্বর কতজন বুদ্ধিজীবিকে হত্যা করা হয়েছে? এই ১৮ জন ছাড়া আর কাকে কাকে হত্যা করা হয়েছে? তাদের নাম, ছবি আমরা ১৪ই ডিসেম্বরে কেনো দেখি না? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আজকেই পত্রিকার পাতায় (১৪/১২/১৪)। আজকের New Age পত্রিকায় বলা হয়েছে পুরো ১৯৭১ এ কতো জন বুদ্ধিজীবি হত্যা করা হয়েছে এ সম্পর্কে জাতির কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের কাছে কোনো পূর্নাংগ লিস্ট নেই তবে কিছু সরকারী ও ব্যক্তিগত এস্টিমেশন রয়েছে যার সংখ্যার রেন্জ ২৩২থেকে ১১১১ পর্যন্ত(5)। আজকের The Daily Star এ বলা হয়েছে যে এই বছর ৭ই ফেব্রুয়ারী আওয়ামী লীগ সরকার পার্লামেন্টে ঘোষনা করেছিলো যে ২০১৪ এর জুন মাসের মধ্যেই ১৯৭১ এ শহীদ সকল বুদ্ধিজীবির একটি পূর্নাংগ তালিকা প্রকাশ করবে (3)। জুন পেরিয়ে এখন ২০১৪শেষ হবার পথে, তবে সেরকম কোনো লিস্ট দেখা যাচ্ছে না।

 

উপরে New Age পত্রিকায় যে ১১১১জনের কথা বলা হয়েছে সেটি সম্ভবত বাংলাপেডিয়ার এস্টিমেট। এই এস্টিমেট অনুযায়ী পুরো ১৯৭১ এ নিহত বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে ২১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবি ও প্রায় ৯৫০ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাতীত বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক রয়েছেন(2)। তবে এটি একটি ব্যাক্তিগত এস্টিমেটই, কোনো নির্ভরযোগ্য তালিকা নয়। আজকের New Age পত্রিকায় স্বয়ং শাহরিয়ার কবিরই বলেছেন যে বুদ্ধিজীবি হত্যার কয়েকটি কেস ছাড়া অধিকাংশ তথ্য ও অভিযোগের উপরে কোনো রিসার্চ করা হয় নি (5)।

 

১৯৭১ এর পরে আরো তেতাল্লিশটি ১৪ই ডিসেম্বর আসলেও আমরা এখনো এই প্র্শ্নের উত্তর দিতে পারি না যে ১২-১৫ ই ডিসেম্বর কতো জন বুদ্ধিজীবিকে হত্যা করা হয়েছে? পরিচিত ১৮ জনের বাইরে আর কাদের হত্যা করা হয়েছে? তাদের নাম ছবি কেনো আমরা দেখি না কোনো ১৪ ই ডিসেম্বরে?

 

আমাদের দেশের লোকের একটু লিস্টের ব্যাপারে এলার্জি আছে এটা মেনে নিয়েও বলা যায় লক্ষ-মিলিয়নের লিস্ট না হোক, হাজার জনের লিস্ট তো করা যেতেই পারে, তাই না?

 

[ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবি হত্যা নিয়ে সমর্থিত-অসমর্থিত সকল রকম সংবাদ ও বিশ্লেষনের একটা ভালো সংগ্রহ রয়েছে চৌধরী মইনউদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান এর বিচারের রায়ে। দেড়শ পাতার এই রিপোর্টের পিডিএফ কপি রয়েছে এই লিংকে। https://www.dropbox.com/s/3xckpr73pyzap4p/bangladesh_tribunal_chowdhury_mueenuddin_judgment.pdf  ]

 

Reference

(1) http://www.genocidebangladesh.org/?page_id=32

(2) http://www.banglapedia.org/HT/K_0330.htm

(3) http://www.thedailystar.net/cold-killing-design-55227

(4) http://www.dhakatribune.com/bangladesh/2013/oct/31/mueen-ashraf-verdict-sunday

(5) http://newagebd.net/76478/no-complete-list-of-martyred-intellectuals-44-years-on/#sthash.PcYoLBRk.dpbs

Des(h)i progressives’ nightmare

“But see, I don’t want to vote for AL. I do not think AL should return to power. We need checks and balances. BNP should come. But how can I vote for BNP when they are in an alliance with JI.”

That’s what a friend told me in December.  I have the deepest respect for this person’s sincerity.  She is a genuine progressive.  She wants a democratic Bangladesh — of this I have no doubt.  And I understand her reasons for aversion to Jamaat — never mind 1971, Jamaat categorically rejects some liberal-progressive tenets such as equal citizenship rights.  Had she said “I will not vote for Jamaat”, I would have accepted it.

But that’s not what she said.  She implicitly rejected BNP for its electoral alliance with Jamaat.

I didn’t engage in a prolonged conversation with her.  She is hardly the only person I know who made that leap about conflating Jamaat and BNP.  Bangladesh is full of self-proclaimed progressives who choose to reject democracy,never mind the facts.  I just don’t have the mental energy to engage in fruitless debates these days.  At least my friend had the decency to not engage in that kind of sophistry.

I didn’t engage in a political discussion with her, but was reminded of her comment after the Indian election.  You see, I had heard similar stuff from my Indian progressive friends.  Way back in the early 2000s, I heard people say “don’t want to vote for Congress, don’t like the sycophancy/dynasty, and the Vajpayee government isn’t so bad, but you know, how can BJP be supported when they have someone like Modi”.

And now Modi is the prime minister.

My Indian friends could have supported Vajpayee or other moderates in BJP/NDA government.  They could have provided the left flank of a genuinely centrist alternative to Congress.  But their self-inflicted intellectual blind spot meant that they couldn’t even contemplate such a course — never mind that such an alternative would have served India well.

A lot of things contributed to Mr Modi’s rise to power.  The progressives’ blind spot is just one factor, and probably not even an important one.  But to the extent that he represents a lot of things progressives loath, they have no one but themselves to blame.

I fear whether someday my Bangladeshi progressive friend will wake up to her political nightmare.  Jamaat’s importance in Bangladesh is constantly over-rated, and BNP’s strength under-rated, by everyone.  Of course, Jamaat benefits from the inflated power projection.  And the Jamaat bogey suits the Awamis fine.  The thing is, as the centrist opposition is systematically denied any political space, and as the ruling party degenerates into an orgy of violence (google Narayanganj / Feni murders), Islamists (Jamaat or otherwise) may well emerge as the only alternative.

My friend is genuine progressive, not a closet Awami fascist.  Will people like her act to prevent their own worst nightmare?

http://jrahman.wordpress.com/

দ্য আলটিমেট হেফাজত

3

by: Aman Abduhu

হেফাজতে ইসলাম প্রসঙ্গে অনেক কথা হয়েছে। আরো কিছু কথা যোগ না করলেই হচ্ছেনা। রাজনীতি এবং অরাজনীতি; দুইটা ভিন্ন জিনিস। হেফাজত নিজেকে অরাজনৈতিক সংগঠন দাবী করে। কিন্তু তাদের আন্দোলনের পদ্ধতি রাজনৈতিক, তাদের ইস্যুগুলো বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে জড়িত। শাহবাগ একটা রাজনীতিসংশ্লিষ্ট আন্দোলন ছিলো। সে আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের বড় একটা অংশ ইসলাম-বিদ্বেষী। তাদের ঘৃণ্য কাজকর্মের প্রতিবাদ জানানোটা একজন মুসলিমের দায়িত্ব। সে দায়িত্বটা অরাজনৈতিকভাবে পালন করতে হলে সিভিল পদ্ধতিতেই দেশের সরকারের কাছে জানাতে পারতো হেফাজত।

কিন্তু তা না করে তারা রাজনৈতিক দলের মতো মহাসমাবেশ, মিছিল, বিবৃতি, বিক্ষোভের পথে গিয়েছে। আবার একই সাথে নিজেদের অরাজনৈতিকতার পরিচয়ও দাবী করে গিয়েছে। এটা ভন্ডামী। এই ভন্ডামীর কারণে কিছুটা সুফল পেয়েছে রাজনৈতিক আরেকটা পক্ষ জামায়াতে ইসলামী। সুফল কিছুটা পেয়েছে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। একই সাথে তারা স্বভাবসুলভ রাজনৈতিক আচরণ করেছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও কৌশল বেশি। কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হেফাজত।

হেফাজত যেহেতু ইসলামকে ধারণ করে, তাদের কর্তব্য ছিলো অরাজনৈতিকতার ইসলামী পন্থার দিকে তাকানো। ইসলামী উলামাদের সামাজিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টার ঐতিহ্যের দিকে তাকানো। ইসলামের সালাফ সালেহীন স্কলাররা ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন। কিন্তু মূলধারায় তারা থেকেছেন পুরোপুরি অরাজনৈতিক উপায়ে। এটাই ইসলামী স্কলারদের ঐতিহ্যগত পন্থা। তারা শাসকদের কাছে গিয়েছেন। প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু জনগণকে মোবিলাইজ করেন নাই। নিজেদের কাজের জায়গাতে জ্ঞানচর্চা করে গিয়েছেন। ইসলামী জ্ঞানের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও উন্নয়ন করে গিয়েছেন। ঐটা ছিলো তাদের মৌলিক কাজ।

হেফাজতের আলেমরা অন্য নামে রাজনীতিও করেন। ইসলামী ঐক্যজোট তথা শাসনতন্ত্র, নেজামে ইসলাম ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেকগুলো দল উপদল। আওয়ামী লীগের সাথে স্বাক্ষর দিয়ে মৈত্রী চুক্তি করেন। কিন্তু এখন কেন তারা অরাজনৈতিকতার নামে এই ভন্ডামী করতে গেলেন? কারণ, এখন নিজেদের অরাজনৈতিক ঘোষণা দিয়ে মাঠে দৌড়াদৌড়ি করলে তার কিছু না কিছু সুবিধা তারা নির্বাচনের সময় পাবেন। হয়তো ভেবেছিলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ে মাঠে নামলে যুদ্ধাপরাধী বিচার ট্রাইবুনাল ইস্যুতে জড়িয়ে যেতে হবে। হয়তো এসবের সাথে ভালো কোন উদ্দেশ্যও ছিলো। ইসলামের প্রতি আলেম উলামাদের ভালোবাসা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি, তা নিয়ে প্রশ্ন করাও বোকামী। কিন্তু এখানে হেফাজত স্বাভাবিক রাজনৈতিক নীতিহীনতাটা করে বসেছে। এবং সেই নীতিহীনতার বড় একটা প্রকাশ দেখা গেলো বৃদ্ধ ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেম মাওলানা শফি (আল্লাহ তাকে রহম করুন) কতৃক আওয়ামী লীগকে বন্ধু ঘোষণার কথায়।

আলেম উলামারা আমাদের সমাজেরই মানুষ। তারা খেজুর গাছ বা মিনার মার্কায় ভোট পেয়ে এমপি মন্ত্রী হতে চাইতেই পারেন। তারা তুলনামূলকভাবে সৎ ও ভালো মানুষ। সুতরাং সমাজের সেবা তারা করতেই পারেন। আর মানুষ যদি ভোট দেয় তাহলে আমার আপত্তি করার কি অধিকার আছে? কিন্তু একদিকে ভোটের সময় মিনার মার্কায় দাঁড়াবেন, অন্যদিকে রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে অরাজনৈতিক আন্দোলন করবেন, বিষয়টা একটু কেমন যেন ইয়ে হয়ে গেলো না?

তারা যদি নিজেদের অবস্থানে থেকে নিখাদ ইসলামের জন্য কিছু করার উদ্দেশ্য নিয়ে এ প্রতিবাদ করতেন, তাহলে দেশের সাধারণ মুসলমান নাগরিকদের ইসলামী জ্ঞান বৃদ্ধিতেই তাদের অবদান বেশি দেখা যেতো। নাস্তিকদের বদমায়েশি প্রসঙ্গে তারা নিজ নিজ এলাকার মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতেন। প্রশাসনের কাছে যেতেন। সরকারের কাছে যেতেন। কিন্তু তা না করে তারা প্রটেস্ট করেছেন। প্রটেস্ট করার পরও হয়তো একে সোশাল মুভমেন্ট বলা যেতো, যদি না নির্বাচনের সময় একই আন্দোলনের লোকজন, মাদ্রাসার আলেমরা বিভিন্ন মার্কা নিয়ে ভোটযুদ্ধে না নামতেন। বিভিন্ন নাম নিয়ে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সাথে জোট না করতেন।

ধর্ম আর রাজনীতিও কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির বিষয়। দুইটার মাঝে যোগাযোগ প্রচুর, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে গিয়ে পৃথক বিবেচনার প্রয়োজন হয়। ধর্মে নীতিহীনতার কোন স্থান নেই। আর রাজনীতিতে উদ্দেশ্যসাধনের কোন বিকল্প নাই। এ নিয়ে বিস্তারিত তর্ক করা যাবে, কিন্তু এখন না। এখন যেই জিনিসটা দেখা যাচ্ছে তা হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সা. কে নিয়ে শাহবাগিদের শয়তানির প্রতিবাদে হেফাজত অরাজনৈতিকতা দাবী করে রাজনীতির মাঠে দৌড়াদৌড়ি করছে। আর যখন রাজনীতির নীতিহীনতা তাদেরকে স্পর্শ করছে তখন পেছন থেকে ধর্মের শিল্ডটা বের করে এনে সামনে ধরে বসছেন। তারা কর্দমাক্ত মাঠে ফুটবল খেলতে নেমেছেন, কিন্তু সাদা পাঞ্জাবীতে একটা দাগ পড়লে গোস্বা করেন।

তাদের কেউ কেউ মাওলানা শফির বক্তব্যকে ইলহাম/সুডো-ঐশীজ্ঞান ও বানিয়ে দিচ্ছে। এখন শেষপর্যন্ত আর না পেরে জামায়াতের হেকমতে ভাগ বসিয়েছেন। একদিন তারা এও দাবী করবেন যে তাদের মিনার মার্কায় ভোট না দিলে কাফের হয়ে যেতে হবে। অথবা খেজুর গাছে না দিলে আধা কাফের। কিংবা রিক্সায় না দিয়ে কোয়ার্টার। হয়তো ঈমানও চলে যাবে। এইটা হলো একটা ইগো-ইস্যু। রাজনীতি করতে আসলে অনেক কিছু সহ্য করতে হবে। কিন্তু তাদের নিয়ে স্যাটায়ার করলে উম্মত থেকে বের করে দেবেন। ওয়ারাসাতুল আনবিয়া!! হাস্যকর।

আরেকটা ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, এই ধরণের দ্বিমুখীতা দিয়ে বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে পারার কথা ছিলো। কিন্তু তা হেফাজত পারবে না, কারণ প্রমাণিত বাস্তবতা হলো তারা ভন্ডামীটা দক্ষভাবে করার যোগ্যতা রাখেনা। তারা তুলনামূলক ভালো মানুষ। বরং খেলার ঘুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার অন্যদিকে এইসব করতে গিয়ে তাদের নিজেদের ধর্মীয় যে পবিত্রতা তাও তারা নষ্ট করছে। উল্টা আরও বৃটিশদের বিরুদ্ধে কওমী আলেমদের এই অবদান সেই অবদান ইতিহাস টেনে টেনে নিজেদের যথার্থতা প্রমাণের চেষ্টা করছেন এখন। খাঁটি বাংলাদেশী পশ্চাতপদ রাজনৈতিক অভ্যাস। চল্লিশ পঞ্চাশ বছর পেছনে পরে থাকা। আর তা নিয়ে বাগাড়ম্বর করে যাওয়া। বর্তমানে অবদান কি আছে তার কোন খবর নাই।

নিজেদের নীতি ও উদ্দেশ্য পরিস্কারভাবে না বুঝে এরকম চালাতে থাকলে এখন যেমন রাজনীতিতে অগুরুত্বপূর্ণ একটা ফেউমার্কা শক্তি, তেমনই থাকতে হবে। কোন উন্নতি হবে না। ইফেকটিভ ভাবে নিজেদের ভালো কোন দাবী আদায়ও সম্ভব হবে না। আবার বলা যায় না, যদিও ধর্মশিক্ষার ইনষ্টিটিউশনের মতো স্থায়ী একটা ভিত্তি আছে তারপরও রাজনৈতিক মাঠে হয়তো তাদেরকে একসময় আম ছালা দুটাই হারিয়ে উদ্দেশ্যহীন অগস্ত্যযাত্রায় রওনা দিতে হতে পারে। পৃথিবীতে অনেক বড় বড় আন্দোলন অর্থহীনভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

এইসব ঘটনা সাদাচোখে দেখা যায়, কিন্তু এসবের পেছনে অন্য কিছু থাকার কথা। হেফাজত এবং শাহবাগ, দুইটা আন্দোলনই বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু গ্রেটার পারপাস সার্ভ করছে। হেফাজত তার নিজ সত্ত্বাতে স্থায়ীভাবে এমন কোন বড় রাজনৈতিক শক্তি না যে আওয়ামী লীগের তাকে খুব একটা পাত্তা দিতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াত, দুই পক্ষের কাছেই হেফাজত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে। এবং দড়ি টানাটানিতে সম্ভবত আবারও আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে যাচ্ছে।

হেফাজত নিয়ে এই মাথাব্যাথার কারণ হলো, এসব ঘটনা ঘটার সময়কাল। মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির চুড়ান্ত রায় শীঘ্রই হতে যাচ্ছে। আওয়ামী সরকার যখন পরিস্থিতি সুবিধা মনে করবে, এক সপ্তাহ থেকে এক বা দুই মাসের ভেতর যে কোন সময় এ রায় হবে। সরকার যে রায় সুবিধা মনে করবে, ফাঁসি বা যাবজ্জীবন তাই হবে এ আপিলের রায়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্ল্যান বি, সি, এমনকি ডি ও প্রস্তুত রাখার কথা। প্ল্যানের অংশ হিসেবে এই বড় ঘটনাটার আগে আরো কিছু ইস্যু আসবে নিঃসন্দেহে। এইসব একটার পর একটা ইস্যু নিয়ে বিরোধীপক্ষ চরম ব্যস্ততায় দিন কাটাবে। তারপর যখন ঘটনাটা ঘটবে, তখন সারা বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসার ধর্মপরায়ণ জনগণের নেটওয়ার্কটা সরকারের সমর্থনে থাকা প্রয়োজনীয়। প্রথম রায়ের পর পুরো দেশে কি ঘটেছিলো, তা আওয়ামী লীগ কখনো ভুলে যায়নি।

যেহেতু মাওলানা সাঈদীর ইসলাম-সংশ্লিষ্ট পরিচয় তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে বড়, তাই এখন শাহবাগের বিদায়ের সময় হয়ে গেছে। সময় এসেছে হেফাজতের সাথে ঘর করার, যদি পর্দার আড়ালে হয় তবুও। হেফাজত যদি নেগোসিয়েশনে দক্ষ হতো, কিছু শাহবাগি নাস্তিকের ভালো একটা বিচারিক শাস্তি তারা এই সময়ে আদায় করে নিতে পারতো। এখন দেখার অপেক্ষা, কি হতে যাচ্ছে। এবং দোয়া করি, অনুমান ভুল হোক। ভালো কিছু হোক বাংলাদেশে।

Jamaat should preempt sanctions

1


It’s now clear that the big winner in the first round of Upzilla Elections is Jamaat-e-Islami. The party contested in 23 seats and won in 12 in conjunction or independently of its political ally BNP.  This is a huge shot in the arms to JI who has been going through its most critical period since its revival in independent Bangladesh. The party has been beleaguered from all fronts in the last few months. The bulk of its apex leadership is either behind bars, waiting in the death row or lying six feet under. The Awami League government and its foreign friend have been quite successful in branding Jamaat as a violent and extremist party. Even western governments, on whose support BNP depended so much, have been hinting that they like BNP to dissociate it from Jamaat. Moreover, Jamaat is barred from taking part in elections in the foreseeable future and the court case of complete political ban is hanging over its shoulder like a sword on a thread. I would argue that JI must take this show of support and window of breathing space to preempt all sanctions by re-launching and re-branding itself as a new organization.

There is no doubt that Jamaat has considerable direct and indirect support throughout the country. Polls after polls conducted in the last few months have shown that although people of Bangladesh disproved of Jamaat’s rampant violence, a majority of them consistently supported its right to take part in politics and elections. However, Jamaat must not mistake the extent of public toleration as validation of its legitimacy. Even in a democracy, right and wrong are not determined by majority vote; a convicted criminal do not get to be absolved of crimes even if he is elected in office by a thumping majority. There is an indelible mark of Cain on JI-Bangladesh. It fought with the losing side in the War of Liberation of Bangladesh and actively collaborated with foreign invaders in committing atrocities against fellow countrymen. The state of Bangladesh has eminent right backed by widespread precedence to refuse continuance of such an organization even if that organization is tolerated by a large number of citizens.

Jamaat must be aware of the potential and peril awaiting before them. The arc of history of the last couple of decades have shown that conservative-religious politics in a democratic framework has great prospects in the developing nations. In this post ideological age religious values are often a source of conviction that other political ideals fail to muster. Throughout Muslim world, wherever  democratic politics is taking hold, Islamic parties that adopted practices of participatory democracy are gaining influence.  In Bangladesh too, there is a huge space for religious values politics. If the two main parties in Bangladesh continue in their trajectory of dynastic reign and control by cronyism, the space for religious value driven politics will only get wider.

Jamaat must see that the mainstream religious political space is Bangladesh is its to take if it can just only shed its criminal past. There is no other visible claimant, either from below or laterally. The wax and wane of Hefazot in 2013 has once again showed that subaltern politics in Bangladesh remains hopelessly inadequate to mount serious challenge to affect leadership of a country that has 150 million people and a interconnected economy of $ 150 billion. Only a religious party that has a deep bench of career politicians, processionals, academics, experts and thinkers can get a permanent place in the top rungs of power structure.

The prospects can turn very perilous for Jamaat too.  The seemingly ripple-less crack down on Muslim Brotherhood in Egypt has shown that international community has little sympathy for religious organizations that veers to radicalism to some extent even if they command generous public support. In Bangladesh politics, Jamaat’s fate is now largely dependent upon the jostling and maneuvering of the two contenders for power, AL and BNP. The business and professional class will demand a faster resolution to the maneuvers of balance of the two heavyweights and it will increasingly see a decision on Jamaat a quick way to downgrade the complexity and uncertainty of the political game.

We have read that Jamaat leadership has, from time to time, discussed overhauling and rebranding the organization under a new name. Allegedly, the main stumbling block was that the old guard regarded such a move as completely betrayal to hundreds of Jamaat activists (“martyrs” in its jargon)  that have died for the organization in political violence over the last three decades. Jamaat members should know that ‘Blood of Martyrs’ is the most often used but also most often useless excuse. Every political side have martyrs dying in every calendar day of the year. It is only by giving lip service to martyrs memories but going forward by passing them that the world functions at all. If every organization or entity in the world stuck unrelenting with their martyrs causes then the world will be a continuous free-form war.

Pragmatism is mostly a very dirty word for religious political parties because they often equate pragmatism with compromise with core beliefs. But it is pragmatism that has enabled thousand year old religions to survive and prosper in a ever changing world. If Jamaat can recast itself to a new organization and get rid of the fascistic components in its ideology, it will find that there is great prospect for them in Bangladesh political arena. If it fails to do so, few will mourn its disappearance, whichever way the end comes.

আল কায়েদা হুমকি ও ক্ষমতা সমীকরণের মধুচন্দ্রিমা..

by Watchdog BD

পাঠকদের মনে থাকতে পারে বিএনপির শেষ টার্মের শেষ দিকের কিছু ঘটনা। হঠাৎ করে ভারতীয় মিডিয়া ইনিয়ে বিনিয়ে প্রচার করতে শুরু করে আল কায়েদার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মিশরীয় ডাক্তার আইমেন আল জাওহিরি নাকি বাংলাদেশে। এবং বাংলাদেশি সরকার তাকে সব ধরণের সহযোগীতা দিয়ে লুকিয়ে রাখছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র সফরের আসেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী জনাবা শেখ হাসিনা। তিনি পরিষ্কার ভাষায় মার্কিনিদের জানিয়ে দেন এখনই ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে পরবর্তী আফগানিস্থান। ভাষাগত দুর্গন্ধে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই মহিলার দাবির প্রেক্ষাপটে তাৎক্ষণিক মার্কিন কোন সৈন্য বাংলাদেশে হয়ত পা রাখেনি অথবা পাকিস্তানের মত ড্রোন হামলা চালিয়ে নির্বিচারে নারী,পুরুষ ও শিশু হত্যা করেনি। তবে সতর্ক বার্তাকে হেলাফেলা করেও উড়িয়ে দেয়নি মার্কিন কতৃপক্ষ। গ্রিনকার্ডধারী গোটা বাংলাদেশি সমাজকে তাৎক্ষণিকভাবে ইমিগ্রেশনে রিপোর্ট করে তাদের চলাচলের রোডম্যাপ অবহিত করতে ডিক্রি জারি করে দেশটার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়। অনেকের মত ব্যাক্তিগতভাবে আমিও বিশ্বাস করি খালেদা অধ্যায়ের করুণ পরিণতি, আহমদ গংদের উত্থান এবং শেখ ডাইনেস্টির ক্ষমতারোহনের অন্যতম ইনগ্রেডিয়েন্ট হিসাবে কাজ করেছিল ভারতীয় মিডিয়ার এ অপপ্রচার এবং পাশাপাশি নেত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর। অন্তত উদ্দিন গংদের প্রতি মার্কিন তথা পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন এ বিশ্বাসকে আরও জোরালো করে। পাঠকদের আরও মনে থাকার কথা তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে শেখ হাসিনার মন্তব্য, … ‘এ আমাদের আন্দোলনের ফসল’ এবং ‘ক্ষমতায় গেলে তাদের সব কাজের বৈধতা দেব’।

jawahiri-ed

দেশীয় রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হিসাবে আবারও হাজির হয়েছেন আল জাওহিরি। মার্কিনিদের সন্ত্রাসী তালিকায় এই ব্যাক্তির নাম সবার উপরে। এবং তারা যে কোন মূল্যে আল কায়েদার কমান্ডার-ইন-চীফকে নির্মূল করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ উন্নত বিশ্বের কোন দেশই সন্তুষ্ট নয়। প্রায় প্রতিদিনই মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকাগুলো এ নিয়ে লেখালেখি করছে। পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী সিনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটিতে শুনানী হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে নেত্রীর চামচারা যতই লম্ফঝম্ফ করুন না কেন অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পশ্চিমা বিশ্বের সহযোগীতা বাধ্যতামূলক। পদ্মা সেতুর অর্থায়নে সরকার বৈদেশিক মুদ্রার রেকর্ড পরিমান রিজার্ভে হাত দিতে যাচ্ছে। অনিশ্চিত মানব সম্পদ রফতানি এবং তৈরী পোষাক শিল্পের উপর পশ্চিমাদের উপর্যুপরি হুমকির প্রেক্ষাপটে রিজার্ভের উপর হাত দেয়া কতটা বিপদজনক তা মাল মুহিত সহ অর্থনীতিবিদদের জানা থাকার কথা। এ অনিশ্চিত অবস্থা হতে উত্তরণে অতীতের মত আবারও আইমেন আল জাওহিরি ফ্যাক্টরকে সামনে আনা হয়েছে।

সরকারের বহুমুখী আক্রমণে জামাত সহ বাংলাদেশের সবকটা বিরোধী দল এখন বিধ্বস্ত। হামলা মামলার পাশাপাশি গুম ও বন্দুকযুদ্ধ নাটকের শিকার হয়ে দলের নেতারা হাটে মাঠে ঘাটে প্রাণ হারাচ্ছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে হেফাজত-জামাতের পক্ষে আল কায়েদার সমর্থন কার হাত শক্তিশালী করবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক  নির্বাচন হতে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্যই আল কায়েদা হুমকির সূত্রপাত।

এখন বাকি থাকবে বাংলাদেশের জনবহুল কোন অংশে আল কায়েদার নামে বোমা মেরে বেশ কিছু মানুষ হত্যা করা। ৫ই জানুয়ারীর ভোট ডাকাতির ধারাবাহিকতা ও ক্ষমতা নামক সমীকরণের অংশ হিসাবে আইমেন আল জাওহিরির উপস্থিতি পশ্চিমা দুনিয়ায় কাজ করলেও খোদ বাংলাদেশে তা কাজ করবেনা। কারণ দেশের ১৫ কোটি মানুষের প্রায় সবাই জানে শেখ হাসিনা হয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় পর্যন্ত শেখ ডায়নাস্টি টিকিয়ে রাখতে এ মুহূর্তে এর কোন বিকল্প নেই।

নতুন বাংলাদেশের সন্ধানে… আমিও থাকবো এ কাফেলায়!

1

by Watchdog BD

ঠিক আছে মেনে নিলাম ৭১’এর যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারের দলই আমাদের আসল সমস্যা। চারিদকে রব উঠছে এদের নির্মূল করলেই নাকি দেশের সব সমস্যায় ম্যাজিকেল চেঞ্জ আসবে। আসুন এবার এ সমস্যরা স্থায়ী সমাধানের দিকে চোখ ফেরাই। যুদ্ধাপরাধীদের নির্মুল এখন সময়ের ব্যপার মাত্র। এ নিয়ে নতুন কোন তেনা প্যাচানোর সুযোগ নেই। বাকি রইল রাজাকারের দল। এখানে আমাদের মূখ্যমন্ত্রীর বয়ান আমলে না নিলে দেশদ্রোহির খাতায় নাম লেখাতে হবে। এই যেমন তিনি বলেছিলেন ‘সব রাজাকারই যুদ্ধাপরাধী নয়’…বক্ত্যবের সাথে দ্বিমত করার কারণ দেখিনা। ৭১’সালে আমাদেরর বাড়ির কাজের ছেলে গিয়াস উদ্দিন নাম লিখিয়েছিল রাজাকারের খাতায়। সে বছর সেপ্টেম্বরের দিকে তার একটা ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। মূল উদ্দেশ্য ছিল বাড়ি হতে চুরি যাওয়া জিনিসগুলোর একটা হদিস করা। গিয়াস উদ্দিন গালভরা হাসি দিয়ে জানিয়েছিল চুরির ব্যপারটা তারই কাজ। তবে সে একা করেনি অপকর্মটা। সাথে জড়িত ছিল স্থানীয় রাজাকারের কমান্ডার। ডিসেম্বরের শেষ দিকে গেসুকে আটকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজন। বড় ধরনের চাঁদার দাবি মেটাতে না পারার কারণে তার গলা কেটে ঝুলিয়ে রাখা হয় শহরের মূল চত্বরে। গেসুর মত এমন অনেক রাজাকার ছিল যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসাবে বিবেচনা করা যায়না। যেমন যায়না আমাদের মূখ্যমন্ত্রীর বেয়াইকে(এই বেচারা কেন রাজাকারে নাম লিখিয়েছিল তা এখনো পরিস্কার হয়নি)… ওদের অনেকে পেটের দায়ে অথবা দাও মেরে ঝটপট মাল কামানোর উদ্দেশ্যে নাম লিখিয়েছিল শত্রু ক্যাম্পে। তর্কের খাতিরে এবং দেশের সুশিল সমাজের দাবি মেটাতে ধরে নিলাম এরাও রাষ্ট্রদ্রোহি এবং গণনির্মুলের আওতায় আনা হবে। ভুলে গেলে চলবেনা আমরা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে কথা বলছি। এবার আসা যাক বাকিদের প্রসঙ্গে। ধরে নিলাম ৭১’এর পরে জন্ম নেয়া জামাত-শিবিরের সদস্যরাও রাজাকার অথবা দেশকে পাকিস্তান বানানোর এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপরাধে রাষ্ট্রদ্রোহি। রাষ্ট্রদ্রোহিদের নির্মুল আইনের চোখে বৈধ। তালিকায় এদেরও নাম থাকবে।

এভাবে খুঁজতে থাকলে সংখ্যাটা কত দাঁড়াবে? অনেকে বলেন প্রায় ১ কোটি। মাদ্রাসার ছাত্র হতে শুরু করে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনদেরও বাদ দেয়া যাবেনা। কারণ তারাও রাজাকার তৈরীর ফ্যাক্টরীর সক্রিয় সদস্য। এবার আসুন এদের সবাইকে সমাজ হতে আলাদা করি। দ্ধিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের সৃষ্ট কনসেনষ্ট্রেশন ক্যাম্পের আদেলে ক্যাম্প বানাই। মাসের পর মাস অনাহারের অর্ধাহারে রেখে দুর্বল করার মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেই। দেশে গ্যাসের সমস্যা থাকলে কেন্দ্র (ভারত) হতে গ্যাস এনে গ্যাস চেম্বারে পুড়িয়ে মারি। এভাবে একদিন দেশ হতে রাজাকার, দেশদ্রোহি, রাজাকার তৈরীর মেশিনারীজ সহ সবকিছু নির্মুল হয়ে যাবে। ১ কোটি লাশ মাত্র ৫৫ হাজার বর্গমাইল এলাকায় কবর দিতে অসুবিধা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওসামা বিন লাদেনের লাশ দাফন করায় ওবামা প্রশাসনের পথ অবলম্বন করলে কাংখিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিতে হবে এসব লাশ। হাঙ্গর, কুমির, কুকুর, বেড়াল, হিংস্র মাছের শিকার হয়ে একদিন পৃথিবী হতে মুছে যাবে এদের উপস্থিতি। সমস্যার পাকাপোক্ত সমাধান চাইলে দেশের অলিগলিতে গজিয়ে উঠা মসজিদ, মাদ্রাসা গুলোও গুড়িয়ে দিতে হবে। যারা ধার্মিক হয়ে বেঁচে থাকতে চাইবে তাদের জন্মনিয়ন্ত্রনের আওতায় এনে স্থায়ী বন্ধ্যাত্ব বাধ্যতামূলক করতে হবে। এবার আসুন কল্পনা করি এবং স্বপ্ন দেখি এমন একটা বাংলাদেশের। ধরে নেই বাংলাদেশ এখন শাহরিয়ার কবির ও গণজাগরন মঞ্চের স্বপ্নের দেশ।

এ এক নতুন বাংলাদেশ। এখানে মৌলবাদের খুটি হয়েছে উৎপাটিত। জঙ্গিবাদ এখানে ইতিহাস শিক্ষার অধ্যায়। তার বদলে এখানে প্রবাহিত হচ্ছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্নিগ্ধ বাতাস। এখন মঙ্গল প্রদীপের আলোতে সন্ধ্যা নামে। সকাল বেলা আযানের ধ্বনিতে কলুষিত হয়না শহর, বন্দর, নগর, হাট, মাঠ, ঘাটের বাতাস। পাখিরাও কিচির মিচির শব্দে উচ্চারণ করেনা মৌলবাদী হামদ ও নাথ। বরং তাদের মুখে কবি গুরুর কবিতা ও গান। গৃহবধুদের জন্যও এখানে স্বামীর পাশাপাশি নাগর রাখার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এমন একটা সুজলা, সুফলা সোনার বাংলাদেশের জন্য আমার একটাই প্রশ্ন থাকবে, এখানে লুটেরাদের স্থান কি হবে? যে নেতা নেত্রীরা চেক দিয়ে চাঁদাবাজি করলেন হবে কি তাদের বিচার? পদ্মাসেতু খেকো আবুল চোরা, রেলখেকো সুরঞ্জিত চোরা, হলমার্ক ও ডেসটিনি খেকো রাজনীতিবিদ, আমলাদের পরিচয় কি হবে? দিনের পর দিন বছরের পর ধরে যারা জনগনের পকেট কেটে নিজেদের ভাগ্য গড়েছেন তাদের কি আনা হবে বিচার আওতায়? যে হায়েনা দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে মূখ্যমন্ত্রীর তকমা লাগালেন তার পরিণতিই বা কি হবে? বিচার হবে কি এসব অন্যায়, অনাচার আর কুকর্মের? যদি তা হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে আমিও নাম লেখাতে চাই এ কাফেলায়। অন্যায় কেবল রাজাকাররাই করেনি, অন্যায় করেছে এ দেশের রাজনীতিবিদ, আমলা, ডাক্তার, ইঞ্জিনীয়ার, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, উকিল, বিচারক সহ লাখ লাখ রক্তখেকো পশু। কাদের মোল্লার রুমমেট বানাতে তাদেরও কি পাঠানো হবে ম্যানিলা রশির দুয়ারে? যদি তা নিশ্চিত হয়, আমিও আছি জাতীয়তাবাদের কাতারে। তবু সুন্দর হউক আমাদের জন্মভূমি। কলংকমুক্ত হউক এ দেশের মাটি, আকাশ, বাতাস…
http://www.amibangladeshi.org/blog/01-14-2014/1437.html

জামাতে ইসলামি সম্বন্ধে আমার ধারণা

Asif Shibgat Bhuiyan

এমফ্যাসিস দেখুন প্রথমত, আমার ধারণা। তার মানে হচ্ছে এখন আমি যে কথাগুলো বলব সেগুলো কুরআন হাদীসের আপ্ত বাণী নয়, সেই এক্সপেকটেশান আমার কাছে করাও ভুল। এই ধারণায় আমার ব্যক্তিগত ইসলামি চিন্তার প্রভাব রয়েছে এবং নিঃসংকোচে মানতে রাজি আছি যে আমার ব্যক্তিগত ইসলামি চিন্তা সবাইকে গ্রহণ করতে হবে না। যে কেউ আমার সাথে এ ব্যাপারে দ্বিমত করতে পারেন এবং আমিও যে কারও সাথে দ্বিমত করতে পারি। কমেন্টে খিস্তি খেউড় করে বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করে লাভ নেই। তবে সমালোচনা করতেই পারেন, সেই সমালোচনা গ্রহণ বা বর্জন করার এক্সক্লুসিভ রাইট আমার রয়েছে।

এই লেখাটি একটা তাগিদ থেকে লিখছি। মানুষজনের কথাবার্তা শুনলে মনে হয় একজন ইসলামপন্থি হতে হলেও আমাকে জামাতকে অচ্ছ্যুৎ ঘোষণা করে কথা বলতে হবে। আমি সেটা একদমই সাপোর্ট করি না।

আমি জামাতের সদস্য নই আমি জামাত করি না। পিরিয়ড। তবে আমার জামাত না করাটা আমার জন্য কোনও ক্রেডিটের কথা নয় এবং জামাতের জন্যও কোনও ডিসক্রেডিটের কথা না। আমি এত গুরুত্বপূর্ণ কেউ নই এবং সেটা আমি প্রিটেন্ডও করব না। আমি কি জামাতকে রাজনৈতিক ভাবে সাপোর্ট করি? কমপ্লিকেটেড প্রশ্ন। আমি কোনও ইসলামি দলকে একক ভাবে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখতে চাই না, না জামাত, না তাবলীগ, না আহলে হাদীস, না এইচটি। আমি শরি’আর পক্ষপাতী কিন্তু সেটা বাংলাদেশের মানুষের শরি’আ বাস্তবায়নের যে হাস্যকর ইম্ম্যাচিউর আন্ডারস্ট্যান্ডিং সেই শরি’আ না। যেহেতু এই স্ট্যাটাস এই বিষয়ের না, আমি বিশদ ব্যাখ্যায় যাবো না। আবার আমি কোনও সেক্যুলার পন্থি দলকেও একা সরকারে দেখতে চাই না। আমার ব্যক্তিগত ধারণা যে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় ইসলামি দল সহ কয়েকটি ডানপন্থি দলের যে জোট – এটিই এই মুহুর্তে বেটার। খেয়াল করবেন যে এটা আমার প্র্যাকটিকাল স্ট্যান্স, আইডিওলজিকাল স্ট্যান্স না। আইডিয়ালি কী হওয়া উচিৎ, সেটা অ্যাকাডেমিক আলোচনা, আরেকদিন। সুতরাং আমি রাজনীতিতে বিএনপি-জামাত ও অন্যান্য দল সম্বলিত জোটকে সাপোর্ট করি। একা বিএনপিকেও না, একা জামাতকেও না।

জামাতের ১৯৭১ এর ভূমিকা – এটি আমার সিনসিয়ার স্বীকারোক্তি যে ১৯৭১ এর ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আমি কনফিউজ্‌ড। এটা এডুকেটেড কনফিউশান, আমি বেশ কিছু বই পড়েছি এবং রেসাল্ট দাঁড়িয়েছে এই যে পিকচারটা আমার কাছে গ্রে। গ্রে-কে আমি জোর করে সাদা বা কালো বানাতে পারব না। কোলাবরেশান – আমার কাছে কোনও ফ্যাক্টর নয়। সত্যি কথা বলতে আমি যখন চিন্তা করি যে ১৯৭১ সালে আমি থাকলে কী করতাম, আমার মাথা ব্ল্যাঙ্ক থাকে। দিস ইজ গড’স অনেস্ট ট্রুথ। ওয়ার ক্রাইম? অবশ্যই! আমি সেই নবীর গর্বিত উম্মতের সদস্য যিনি বলেছিলেন যা যদি তার মেয়ে ফাতিমাও চুরি করে, তাহলে তার হাত কেটে নেয়া হবে। আফসোস যে হতভাগারা ইসলামে চোরের হাত কাটা নিয়ে মানবতাবাদের মায়াকান্না দেখে, কিন্তু ইসলামের ইমপেকেব্‌ল সেন্স অফ জাস্টিস খুঁজে পায় না। মানবতাবাদ সুবিচার ছাড়া আর কী? যাই হোক জামাতের যে কোনও সদস্য যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী থাকলে বিচার হতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তিও হতে হবে। কিন্তু অবশ্যই অবশ্যই সুষ্ঠ বিচারের মাধ্যমে কোনও রকম পক্ষপাতিত্বের বিন্দুমাত্র সুযোগ না রেখে প্রকৃত অপরাধীকে শাস্তি দিতে হবে। একজন নিরাপরাধ ব্যক্তি শাস্তি পাওয়ার চেয়ে লাখ লাখ অপরাধী খালাস পেয়ে যাওয়া একটি ইসলামি প্রিন্সিপ্‌ল এবং মানবতার বেসিক দাবী। এটা নিয়ে কোনও কথাও হতে পারে না, অসম্ভব। আপনি চূড়ান্ত বুদ্ধু বা চূড়ান্ত পাজি না হলে এটা স্বীকার করে নেয়াটা আপনার মানুষ হওয়ার প্রমাণ। আমি মনে করি যে জামাতের নিজের উদ্যোগ নিয়ে সুষ্ঠ বিচারে সহায়তা করা উচিৎ। ঠিক যেমন ‘উমার তার নিজ ছেলেকে ব্যভিচারের শাস্তি দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি।

জামাতের ইসলামিক কমিটমেন্ট – জামাত রাজনৈতিক কর্মকান্ডে প্রচুর ভুল করেছে -পলিটিকাল, স্ট্র্যাটেজিকাল এবং ইসলামিকও। যে কোনও দল বা গ্রুপ মাত্রই ভুল করবে না এটা হওয়াটা অসম্ভব, অসম্ভব। জামাত, তাবলীগ, আহলে হাদীস, এইচটি, মুসলিম ব্রাদারহুড, দেওবন্দী সব্বার ভুল আছে। যে দল মনে করে তারা ভুল করে না তারা ডিসইলিউশনড। আমাদের দেশের একজন প্রসিদ্ধ স্কলার আমাকে বলেছেন যে তারা জামাতের থিংক ট্যাংককে কিছু সংস্কারের প্রস্তাব লিখিত আকারে দিয়েছিলেন। তারা গ্রহণ করেননি। সুতরাং হ্যাঁ, জামাতের ভুল আছে, সংখ্যায়ও সেগুলো কম নয়। অন্য সব দলের অবস্থা তথৈবচ। নবীজী (সা:) চলে যাওয়ার পর ত্রিশ বছর ইসলামি স্টেট একটা আদর্শিক অবস্থায় ছিলো, উইথ মাইনর হিকাপস। এরপর কিছু ডিস্ক্রিট রিজিনাল বা ইনডিভিজুয়াল ব্রিলিয়ান্স ছাড়া ইসলামিক স্টেট এবং এর সামষ্টিক অভিজ্ঞতা সবসময়ই প্রশ্নবোধক ছিলো। এতে এত উতলা হওয়ার কিছু নেই। ইসলাম মাসুম, মুসলিমরা নয়, ব্যক্তিগত ভাবেও নয়, সামষ্টিক ভাবেও নয়।

যে ব্যাপারটির আমি ঘোর বিরোধী সেটি হোলো জামাতকে ডিহিউম্যানাইজ করার ক্রমাগত চেষ্টা, কখনও তাদের ১৯৭১ এর ভূমিকা নিয়ে, কখনও তাদের ইসলামিক ভুলের দোহাই দিয়ে। ইদার কেস, আমি তাদের ডিহিউম্যানাইজ করার পক্ষপাতি নই। তাদের কড়া সমালোচনা করা হোক, তাদের ভুল পাবলিকলি আলোচিত হোক। যেমন আর সব দলকে করা হয়, হবে। কিন্তু তাদের মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, তাও যুগ-যুগান্ত ধরে, নাতি-পুতি সবাইকে? সমালোচনার পাশাপাশি তাদের সকল নাগরিক অধিকারকে ডিনাই করা (যার মাঝে তাদের রাজনৈতিক অধিকার) আমি সমর্থন করি না। এই ক্ষেত্রে আপামর মুসলিমদের ভূমিকার আমি নিন্দা জানাই। আজকে কাদের মোল্লার এই পরিণতির জন্য আপনি আমি তো ভাবের স্ট্যাটাস দিচ্ছি, কিন্তু এই অবস্থায় ব্যাপারটাকে নিয়ে আসার জন্য গত কয়েক দশক ধরে অজামাতি মুসলিমদের ভূমিকা রয়েছে। রক্তের দাগ আপনার আমার হাতেও।

জামাতের উল্লেখ করার মতো বহু কাজ আছে। প্রচুর ইসলামি বইয়ের পাবলিকেশন ও দোকান তাদের। বাংলাদেশে দুটি কনসেপ্টের আনডাউটেড পাইয়োনিয়ার তারা – ইসলামিক স্কুল এবং ইসলামিক ব্যাংকিং। আপনি এসবের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবেন না? আমি ইনশাআল্লাহ্‌ বুকে হাত দিয়ে করব। একটা ভায়োলেন্সের দায়ে অভিযুক্ত দলের নাগরিক অবদানগুলো যদি স্বীকার না করা হয় তবে তো তাদেরকে এক্সপায়েট করার কোনও সুযোগই আপনি রাখলেন না। এরপর যদি সেই দলের মূল নেতারা না হোক, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা যদি ধৈর্য হারায়, আপনি তো সমালোচনা করে খালাস, কিন্তু দায় কি এড়াতে পারবেন?

না শিবিরের সন্ত্রাস সমর্থনযোগ্য নয়, যেমনটি নয় ছাত্রদলের বা ছাত্রলীগের। বাংলাদেশের সবচেয়ে সন্ত্রাসী সংগঠন আর যেই হোক শিবির নয়। তার মানে এই নয় যে জামাত বা শিবির দায় এড়াতে পারবে। তার মানে এও নয় যে শুধুমাত্র জামাতকেই আপনি টার্গেট করে সলিটারি কনফাইনমেন্টে পাঠাবেন।

বহু জামাত কর্মী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে আমার কথা হয়েছে। তারা নর্মাল মানুষ, আমার মতোই, অনেকে আমার চেয়েও বেটার, অ্যাজ এ মুসলিম অ্যাজ এ পার্সন। এটা আমার হার্টফেল্ট বিলিফ যে সব মুসলিমই আমার চেয়ে বেটার মুসলিম।