প্রিয় মার্ক

By Elora Zaman

বাংলাদেশ নামের একটি ক্ষুদ্র দেশের অখ্যাত এক গ্রাম থেকে লেখা একটি চিঠি। ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গকে উদ্দেশ্য করে লিখেছে সে দেশেরই একটি মেয়ে। মেয়েটি ফেইসবুকের মাধ্যমে পৃথিবীর বাকি মানুষদের সাথে কানেক্টেড থাকতো আর জানতে পারতো চমৎকার এই গ্রহের অপর প্রান্তের মানুষদের চিন্তা ভাবনা, জীবনাচারন।

নীচের ই-মেইলটি সেন্ড করলাম। যারা বাংলা পড়তে আরাম বোধ করেন তাদের জন্য নীচে বাংলায় ও লিখেছি। সবাই যদি এরকম টুকটাক লিখে পাঠান তবে অন্তত বিনাযুদ্ধে সুচাগ্র মেদিনী দেইনি বলতে পারবো।

প্রিয় মার্ক,
অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে আপনার কাছে লিখতে বাধ্য হয়েছি। বিগতদিনে আমরা দেখেছি আপনি বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একজন মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে আপনি বাংলাদেশীদের অন্তরে আছেন। সেই ভরসায় আজ কিছু বলতে চাই। জানিনা আমার এই চিঠি আপনি পাবেন কিনা। তবুও একান্ত অসহায় হয়ে লিখতে বসেছি।

আপনি হয়ত অবগত আছেন আমাদের সরকার এইদেশে ফেইসবুক বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কিছুদিন হল। প্রায় চার কোটি ফেইসবুক ইউজারদের ইচ্ছে অনিচ্ছাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তারা আমাদের বাক স্বাধীনতা হরণের কার্যক্রম বহাল রেখেছে। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা জোর করে মাত্র ৫% ভোটে ক্ষমতায় অবস্থান করছে। জনমানুষের জন্য তাদের চিন্তা নেই। জনগণের কথাকে তারা পাত্তা দেয়না। কেউ প্রতিবাদ করলেই হত্যা, গুম এবং বিভিন্ন ধরণের ভয় ভীতি দেখানো হয়। এদেশের প্রায় বেশিরভাগ জনগণ এখন প্রচন্ড অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছে। সরকারের বিপক্ষে যদি যৌক্তিক কোনো সংবাদ প্রচার করা হয় তবে সেই সংবাদ মাধ্যমকে বন্ধ করে দেয়া হয়। জনপ্রিয় কিছু সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইতিমধ্যে এবং তাদের মালিকেরা এখন কারাগারে।

সরকারের ইচ্ছে কেউ তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছুই যেন না বলতে সাহস পায়। কিন্তু তারা হয়ত ভুলে গিয়েছে জোর করে দেশের সব মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের দলে ভেড়াতে পারা যায়না। হিউম্যান ন্যাচার হল তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে। এদেশের মানুষেরা তাদের সেই প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিলো আপনার অবদান তাদের প্রিয় ফেইসবুকে। যে ছেলেটি রাজনীতিকে ঘৃণা করে সেই ছেলেটিও ভয়ংকর এই সরকারের স্বৈরনীতির বিরুদ্ধে উচ্চকন্ঠ হতে বাধ্য হয়েছিলো প্রিয় মাতৃভূমিকে ভালোবেসে। নিজের দেশকে ধ্বংসের মুখে ফেলতে দিতে চায়নি সে। অথচ আজ তা দূরে থাক, সে তার প্রিয় বন্ধুটির খবর ও নিতে পারছেনা ফেইসবুক বন্ধ থাকায়। ফেইসবুক ব্যাবহার যেহেতু তুলনামূলকভাবে সস্তা সেহেতু কোটি কোটি মানুষ একে আপন করে নিয়েছে, বেছে নিয়েছে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে। এতই প্রিয় এই ফেইসবুক আমাদের কাছে যে একদিন এতে প্রবেশ না করতে পারলে যেন সময়কে অপূর্ণ মনে হয়।

অথচ দুঃখজনক হল, সরকার চাইছে আপনি আপনার এতসব ইউজারদের প্রাইভেসীকে উপেক্ষা করে তাদের সকল ইনফরমেশন সরকারের কাছে দিয়ে দেন। যেনো তারা ইউজারদের ধরে নিয়ে গিয়ে জেলে রাখতে পারে, হয়রানী করতে পারে কিংবা ভীতি প্রদর্শন করে তাদের বিরুদ্ধে না লিখতে বাধ্য করতে পারে। এই সরকারের দ্বারা বিগতদিনে ১৭ বছরের বালক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন শুধুমাত্র ফেইসবুকে দুইলাইন লিখবার কারণে।

আশাকরি আপনি বুঝতে পারছেন আমরা কি ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। অন্যায় যে করে সে সর্বক্ষন ভয়ে থাকে, সবকিছুতেই ভয়ে থাকে যে এই বুঝি কেউ প্রতিবাদ করে ফেললো। আর তাই তারা প্রতিবাদী মানুষদের দমন করে কঠোর হাতে। সরকার ঘোষনা দিয়েছে আপনার সাথে চুক্তি করে ফেইসবুক ইউজারদের গোপন তথ্য জেনে নিয়ে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। তারা এতই ভীত তাদের অপকর্ম নিয়ে। এবং ক্ষমতায় জোর করে থাকবার জন্য মরিয়া যেনো বিশ্ববাসী তাদের অন্যায় সমূহ সম্পর্কে জানতে না পারে আর তারা রুল করতে পারে অস্ত্রের জোরে, দমননীতি গ্রহণ করে।

এমতাবস্থায় আপনি যদি আমাদের আশ্বস্ত করেন যে আপনি এই কোটি কোটি জনগণের পাশে থাকবেন, কোনো স্বৈরাচারী সরকারের পাশে নয়, এই সরকারের গুটিকয়েক মানুষের ইচ্ছায় আপনি আমাদের প্রাইভেসী ব্রিচ করবেন না কিংবা আমাদের কোনো ব্যাক্তিগত ইনফরমেশন তাদের হাতে তুলে দেবেন না, তবে আমরা স্বস্তি পাই। এইজন্যই আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করা। নিজ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে আমি বারবার কেঁদেছি। নিজেকে ধীক্কার দিয়েছি। তবে সরকার যখন মানুষের বিপরীতে অবস্থান নেয় শত্রুর মত, তখন একান্ত নিরুপায় হয়ে আপনাকে লিখতে বাধ্য হবার এই প্রয়াস ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। ভালো থাকবেন।
.
.

A young girl with her ever lush mind rediscovered herself in the contemporary world of networking and socialisation with free and fast paced information flow, as she wandered in the online virtual getaways from a physical location of a tiny village of a small country named Bangladesh. As the little world and yet so big that she lived in seemed to be on the verge of being shattered, she wrote a letter to Mark Zuckerberg. Facebook was not just more than a face and a book to her; it was her universe to her inquisitive amicable mind seeking to remain connected and informed of the lives and laughter of the people from the other side of the planet. She wrote:

Dear Mark,
I am compelled to write you this letter with a heavy heart. In the past, we have seen you have stood firmly beside the helpless people affected in various natural and humanitarian crises of the world. I can reaffirm that as a person with great sense of moral responsibility and principles, you have had always occupied an important place in the hearts of the Bangladeshis. It is this confidence that encourages me to say a few things through this letter, although I am unsure whether this letter will really reach you. However, I am writing it as I am totally helpless and do not see another option.

You may be aware that the government of Bangladesh has shut down access to facebook in Bangladesh for sometime now. By showing absolute disregard to the rights and preferences of some 40 million facebook users of Bangladesh, the government has kept on snatching our right of freedom of speech and expressions.

This government, as you may know, is not elected by people’s vote through a proper democratic process. They are just holding on to the power by force with a meagre 5% support of the total population. They possess no concerns for the people of the country whatsoever. They turn a blind eye to the opinion of the people. Anyone trying to protest against their evil intent and illegitimacies has to deal with their threats of murders, abduction or other forms of tortures and harassments. An overwhelming majority of the population is living helpless lives now a day. Any media broadcasting any news of utmost veracity but going against the government, is forcefully brought under complete closure. Already a number of popular newspapers and television channels have been oppressively closed down by the government, with their owners jailed in sheer isolations.

The Bangladesh government wants to create an environment so that no one can dare to exercise their right of freedom of expression, no matter how basic that could be, to say anything against them. However it looks like they have forgotten that it is not possible to keep all the people of the country intimidated and forced to be on their side. Inherent in human nature is to protest and remonstrance against all evils and injustices. With all options virtually ceasing to exist, the people of Bangladesh kept on their voices of protest heard so far through your unprecedented contribution: Facebook. Even the innocent young men who never affiliated themselves in politics, were bound to raise their voices out of their love for the motherland, to protest against the autocracies of the government using the facebook as their only platform. They didn’t want to let their country be pushed to the brink of collapse.

However, with the current shut down of facebook in the country, they are not even capable of connecting to their dear friends, let alone using facebook to pursue broader benefits and better causes. Because facebook is a complementary site for the account holders, millions of people of Bangladesh have embraced facebook as integral parts of their daily lives. We love facebook so much that any single day without accessing facebook seems rather unfulfilled.

However, it is very unfortunate that the government of Bangladesh wants you to provide the information of all the facebook users to them completely neglecting the privacy of these users. The government’s filthy intent is to arrest the users and keep them in custody, harass them or coerce them not to write anything against the government. In the past, many people, from a 17- year old lad to university professor have been arrested by the government only for writing something in facebook against the government.

I hope you understand what dire straits we are living in at the moment in this country. It is well known that the perpetrators and wrongdoers are always afraid of confronting protests against their evil deeds. Hence they tend to gruellingly repress the ones who protest and oppose, which is especially easy when they are the authorities themselves. The government of Bangladesh has announced that they will get into an agreement with you to access confidential information of the facebook users, to prosecute and bring them to judicial trial. The government is so frightened because they are fully aware of their misdemeanours and sins. They want to hold to the power by any means, by ensuring that the outside world remains ignorant of their mischiefs and they can continue their autocratic regime using guns and power to threaten and repress people.

Under the circumstances, it would be our ultimate relief to know that you will be beside the millions of us, and not with only a handful of people of the current autocratic oppressive government of Bangladesh, and you will not breach our privacy or provide any of our personal information to the government. This is what I wanted to draw your attention upon. Writing against the government of my own country has not been easy and I couldn’t resist shedding tears. I resented myself time and again. However, please forgive this endeavour of mine to be in touch with you and I hope you will understand how undone we are with the government taking a belligerent stance against its own people, which leaves us with no option other than to write to you to get our rights of freedom of speech and expression preserved through the facebook.

May Allah bless you! Stay safe.

Missed Calling: No Exit: November.

Missed Calling: No Exit: November.

 

                                                                                                                                    Seema Amin

The month of November, with its scheduled nascent coolness, has been the unofficial portent of a three month winter season of staged ‘culture’ for years; the capacious capital boasts its social capital (the synergies of its urban, global, and now, ‘trans-rural’ agglomerations) in established platforms like Hay (Dhaka International Literary Festival) and Bengal’s Classical Indian Music fest as well as the more recent ‘blockbusters’of Samdani Art Summit and BPL/ICC.  This year, rehearsed loudly in the habitual corporate brochures, event catalogues and free/ VIP registration circuits, a new entree has entered the menu of the spectacle.

The Dhaka International ‘folk’ festival, a rather pink fountain for variously colored thirsts—popular Lalon and Sufi exponents branded or re-branded ‘folk’ in the well-protected precincts of the Army stadium—had its debut, as highbrow, lowbrow and middlebrow sat in classified and declassified zones during the hallowed trinity– three nights of ‘Bliss’ not to ‘miss’ — together in concert as they almost never are, except possibly…. in queue on voting day. Ai! The month is a harbinger, too, of not only Jibananda’s once punctually rapturous rural winter and the hemanta harvesting of amon rice but the municipality polls, 2015. The barely audible static surrounding these polls, in contrast to the April 28 mayor polls, hardly interfered with our recreational sublime.  One would have to be exceptionally and easily bored to notice the odd man out in the rose-colored screen that dropped over the writer/publisher serial murders and the posthumously advertised petrol bombs of January: blue prison vans here and there, uploading busloads of new arrivals in the already overloaded Dhaka Central Jail. If one cared to, however, one might notice the bars of music synchronized to the bars of the prison vans, inside which only the hands of anonymous prisoners are visible…Outside Jahingar gate that opens to the cantonment where urban vintage and musical ‘enlightenment’ is tasted… zig-zagging traffic through Shahbag… No Prussian or electric blue, no warm or fluffy blue: the prison blue of the prison van.

On a sudden, if a staccato rhythm suddenly jerks our gaze and we see thirteen brown hands shaking the small bars that open to the outside world inside the moving penitentiary…our imagination might take us somewhere…quite far, as far as a Passage to India..or rather haphazardly…as mine did, to Grameenphone. I imagined, for I am particularly and peculiarly imaginative, that these thirteen hands, shaking the van for what it’s worth, picked up from god knows where, were missed calling the Dhaka Folk festival, the one that almost tempted me with its constellation of stars and the understated smell of dried roses.

Such an understatement: prison.  The headlines from September do not overstate the bodies it contains: 17,000 workers/activists of the (unofficial, major) opposition. The subheading on the front page of the Daily Star from November 21: Party Claims 500 of its prospective candidates detained this month. Elsewhere:  “Every day, three hundred of our workers are picked up…”  Forget the cases against 22,000 of its leaders and activists. Just count the number detained each day…hell, if there were three consecutive storms in the south not as many rickshawallahs could show up in the capital.

We live in insecure times, alias, very secured times. From bleeding Paris to burning Dhaka, a blanket of security, a grid of surveillance and its alter ego– mass arrest and mass detention, is thrown over us.  Before we had time to swallow the enormity of the ‘insecurity’ posed by five bloggers and a publisher killed in the last eight months, we were covered up in a ‘blanket of security’.   Before we could register the one-party municipal election we are about to enjoy, two eagerly awaited hangings were announced.  Thus, and so:

“Nirapothar chadore dheke rakha hoyechhe Dhaka Central Jail.”  Good, in fact thank you, but has the blanket been lifted since? Will this coldness, this fear, ever thaw? And did the blanket really come down that fateful night when history was served or was it already keeping us warm in an ever warmer earth?

Precedents are perhaps all we are about… “Amader first hote hobbe, tai na…” An IUB faculty and friend was sarcastically referring to biometric SIM registration and how we were proudly stepping into unchartered territory, with the exception of one or two African states.  Terrorism calls for terrific measures. But if the opposition, and its hundreds of thousands of supporters, is not a banned terrorist outfit—in spite of endless rhetoric that would have it even more illegitimate than Jamaat, not even just by association anymore—this form of ‘delegitimizing’ a political party would normally have the effect of delegitimizing the state that has declared an unofficial war against almost forty percentage of its population.

While the imprisonment of leaders before the nonetheless performed spectacle of petrol bombs during January’s post electoral blockade can be post facto argued as “pre emptive,” the pre-emptive ‘strike’ of November has no deductive or inductive logic behind it. It is simply justified—if it is justified at all, no one feels the need in a climate of generalized ‘terror’– by the suspicion of potential sabotage (albeit sabotage of ‘normalcy’ as much as anything else). One man’s sabotage is another man’s subterfuge:  will potential provocateurs and saboteurs, disciplined, remanded, be released in time for elections?  Discipline and Punish: just don’t make this spectacle so damn obvious.  News from yesterday: We are looking forward to Awami-Awami violence, in case we miss the normal bipartisan blood spilled.  Thousands languish in Bangladeshi prisons since time immemorial (that’s colonial Greenwich standard time); but the hundreds of thousands in prison now herald the zeitgeist of a new political age (If we are to look for precedents in our own history, the parallels could get tricky, from the Pakistani period to BAKSAL)

The question occurs, under what climate, in what world, through which discourse, can a society accept this form of ‘open’-literally, for many are in a permanent ‘makeshift’ prison in tents–incarceration of tens of thousands of its people? The grassroots workers in jail, those who ‘do’ the BNP (just as their counterparts who ‘do’ the Awami League), are not separate form this society.  Their party has not been declared ‘illegal’ or even ‘illicit’ as Jamaat’s has—even– rhetorically;  yet, by all means, if there is any path towards such a historic moment, then the mass detention of the (unofficial) opposition’s workers certainly entail that inexorable destiny. In world and national history it is one-party or one-man/woman dictatorships that have been synonymous with such mass detention (apart from episodes of ethnic cleansing, etc).

Not a few fingers point to a state that has one, inviolable source of legitimacy: the war crimes tribunal (i.e. a historic burden of Chetona).  In itself, it is no mean source, with genuine support if not national consensus, much more powerful than the regime’s growth rhetoric.  Yet, apparently it is not sufficient to ensure the sound sleep of our rulers, underneath that blanket of security: complete acquiescence seems necessary, the slightest divergence/dissent somehow points at the threat of a critical mass, ‘democracy’ seems as much a threat as ‘terror.’ Critical mass (the threshold on which the status quo one day dissipates) where the foundations cannot hold. Thought is almost as ‘unfree’ as action.

Again, let me repeat, not to say that AL does not have support, the highest members of the ‘culture literati’ paid homage to the PM for her ‘environmental achievements’ even as UNESCO finally expressed alarm at Rampal power plant in the Sundarbans.

But these same supporters, who ‘cover’ with a shroud of protective love, fierce rhetoric and sometimes, sometimes, genuine feeling, never even feel they have to answer why thousands of BNP’s workers are being rounded up before the polls, rather than—just for comparison’s sake– thousands of Jamaat’s workers before the verdict of a war criminal. The threat of the BNP organizing its grassroots workers (leaders in September declared they had begun work in 74 units) seems sufficient condition for such blatantly totalitarian actions by the regime.

But I have a proposition: remember how ‘we’ were comparing the BNP to the Naxals? Absurd to some, perfectly logical to others, but hey, for rationality’s sake/if not realpolitik: why don’t we just follow through and do what India did with them? Why don’t we declare them illegal? At least then that section of Bangladesh considering opposition politics as a legitimate form of protest will know that somehow their actions have crossed a boundary that never existed when their counterparts were in their place ( history begins and ends with the victors and why should this be different?)— know that they have been so ‘burnt’ in the eyes of the public, in poetic banners and graffiti all over town, that they are not allowed to function legally?

Look into the legal question.  Lock the terror away—no, confiscate, quarantine, suffocate, squelch, corner, liquidate… No…they will only throw blockbuster shows, while the prison vans carry them away…

Alas, the question is not legal.  In a country of one hundred sixty million people, if the forty percent of the population that constitutes BNP’s core vote is incarcerated and ‘incarcerable’, the prison-bail-remand industry becomes a lucrative source of profit.  And more importantly, virtually endless. Prison, after all, is not just perianal amusement, mind you, but often referred to as an industrial complex, with a vibrant economy.  In America, the ‘military-industrial’ complex has its own GDP, if you will.

One of the biggest (baddest, baby) ‘throwers’ of parties in Bangladesh is the military: so are the US Marines stationed here in Dhaka.  The military has always been a key player in Bangladeshi politics, but its cultural import should not be considered insignificant; for reasons both profound and ironic, it still inspires respect, awe and submission. The army stadium, just one platform for civic ‘togetherness’ is just a token ‘cultural refreshment’, only a mocktail after all, not a Molotov…

Now, this article is not another brick in the wall of the well-established discourse of a militarized, police state. Or an obituary for the opposition; or even, the slightest death threat to the ruling regime.  It is, if anything, a missed call to the uncritical ‘mass/class’ here and there orbiting November, December, January… To pretend everything is normal as long as the wheels of growth do not grind to a halt is the great virtue of the capitalist mode of production and, if you will, mode of ‘life’ and death. And, if anything, the ‘culture’ precedes the politics.

‘Art’ replaced God in the west a long time ago as the ‘opium’ of the m/asses, as a professor of literature in the University of Geneva once declared to me…The tourists may come to the biggest show in town in February, the Samdani Art Summit, through different borders than the dealers in arms, but the circuits of pleasure and pain somewhere do meet, perhaps in the no man’s land of spectacle. Oishi will have a noose on her neck, but the security forces and godfathers who deal in yaba will not.  War criminals who facilitated or participated in the torture of so many will hang but those who keep well-identified torture cells today will not. The age of the spectacle does not let us mourn the horrors of a terror attack or the loss of our freedoms long, sublimating everything into fear and/or joy,  lest we recognize other crimes, other criminals, repeating history piecemeal,  like the bullet-perforated path of a third world war. And the prison vans pass us by, on our way to the ‘theatre’. Yesterday’s news of ISIS, tomorrow’s news of Ansarullah Bahini, and a promise of more of the same.  Nothing, nothing between pleasure and pain, the keyboard set to this scale. No third taste, no minor chord.  Once in the theatre, that old Arabic root word next to the Latin: No exit.

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে স্বৈরাচারের সাফাই

by Ariful Hossain Tuhin

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে একটা মতামত বিশ্লেষণ ছাপা হয়েছে (link at the bottom of article) বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কথাবার্তার ফাকে একটি অনুচ্ছেদ বেশ চোখে পরার মত —

“But the battle between the BNP and Ms. Hasina’s Awami League—marked by pitched street battles and paralyzing strikes—isn’t between two equally bad parties. Ms. Hasina stands for a country whose Muslim majority lives in harmony with both its own distinctive Bengali cultural traditions and with other faiths. The BNP, by allying with Jamaat-e-Islami and condoning violence to force fresh elections, mostly offers strife and intolerance.”

প্রথম আলো অথবা ডেইলী স্টারেও আসলে এই ভাষায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অপ-এড ছাপা হয় না। ২০০৯ সালের দিকে আনিসুল হকরা লিখতেন “ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড বাদ দিলে সরকারটা আওয়ামী লীগ খারাপ চালায় না”। আনিসুল হকের ঐ বক্তব্যের কনটেক্সট ছিল কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কিছু “কৃষিবান্ধব” পলিসি। ২০১৫ সালে আনিসুল হক এইভাবে লেখার সাহস করেন না। আসলে আবদুল গাফফার চৌধুরী ছাড়া কেউই বোধহয় ২০১৫ সালে এইভাবে লিখতে পারবেন না।

ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল রুপার্ট মারডকের মিডিয়া এম্পায়ারের অংশ। তাদের এডিটরিয়াল স্ট্যান্স প্রধানত নিও-লিবারাল পলিসির কট্টর এবং আন কম্প্রোমাইজিং সমর্থন দ্বারা পূর্ণ।

এই কারনেই এই অনুচ্ছেদের সাথে কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রের মিশর পলিসির সাথে মিল খুজে পান, তাহলে তাকে দোষ দেয়া যায় না।

আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্রএর মধ্য আমেরিকায় বিভিন্ন অন্যায্য কাজকর্ম যেমন সরকার উতখাত, গনহত্যাকারীদের সহায়তা দেয়া থেকে শুরু করে মাদক চোরাচালানীদের সাহায্য করা, কোনকিছুই বাদ পরেনি। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল রিগান এডমিনিস্ট্রেশনের ইরান-ইরাক যুদ্ধের “সাস্টেইন” করানোর নীতি। ইরান-কন্ট্রা স্ক্যাণ্ডালের সময় দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দুই পক্ষকেই অস্ত্র বিক্রি করছে।

গনতন্ত্রের নামে এক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অন্য স্বৈরাচারের পক্ষে দাড়ানোর স্ববিরোধিতাটুকু কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা সমাধান করত? এই স্ববিরোধিতাটুকু সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের অস্বস্তি ছিল। কিন্তু তারা একটি যুক্তি দাড়া করিয়েছিল।

যুক্তিটি কিম্ভুত।

যুক্তিটি হচ্ছে “অথোরেটারিয়ান” আর “টোটালিটারিয়ান” সিস্টেমের মধ্যে পার্থক্য করা।

১৯৭৯ সালে Jeane Kirkpatrick কমেন্টারী ম্যাগাজিনে এই বিখ্যাত ধারনাটির সুত্রপাত করেন। তিনি অবশ্য হানাহ আর্ডান্টের একটি ধারনাকে ঘুরিয়ে পেছিয়ে এই আর্টিকেলে উপস্থাপন করেন। তার বক্তব্য থেকে কিছু উদ্ধৃতি দেয়া প্রয়োজন —

“There is a damning, contrast between the number of refugees created by Marxist regimes and those created by other autocracies: more than a million Cubans have left their homeland since Castro’s rise (one refugee for every nine inhabitants) as compared to about 35,000 each from Argentina, Brazil, and Chile. In Africa more than five times as many refugees have fled Guinea and Guinea Bissau as have left Zimbabwe Rhodesia, suggesting that civil war and racial discrimination are easier for most people to bear than Marxist-style liberation.”

তার মতে বর্ণবাদ-গৃহযুদ্ধ থেকেও মার্কিস্ট একনায়করা খারাপ!

বুঝলাম মার্কিস্ট একনায়করা খারাপ। ভালো কথা। কিন্তু মার্কিস্ট না হওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রিয় ডিক্টেটরদের “ভালো গুনগুলো” কি? মানে এল সালভেদর কিংবা নিকারাগুয়া কিংবা এপার্থিড দক্ষিণ আফ্রিকা কেন বেশ ভালো এইটা বুঝতে তার প্রবন্ধটি আরেকটু পড়তে হবে —

“Since many traditional autocracies permit limited contestation and participation, it is not impossible that U.S. policy could effectively encourage this process of liberalization and democratization, provided that the effort is not made at a time when the incumbent government is fighting for its life against violent adversaries, and that proposed reforms are aimed at producing gradual change rather than perfect democracy overnight.”

হুম বুঝলাম। যেহেতু অন্য একনায়করা তাদের জনগনকে পার্টিসিপেইট করতে দেয় না, সেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের পলিসির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকা ঐসব সরকারের পক্ষে সহজ হবে। সুতরাং দেশের জনগন এখানে গুরুত্বপূর্ণ না। এমনকি গনতন্ত্র তখনই গুরুত্বপূর্ণ যদি সেই গণতন্ত্র থেকে এমন কোন পন্থা না বেড়িয়ে আসে যা যুক্তরাষ্ট্রের হেজেমনিকে আক্রমণ করতে পারবে।

তাহলে আসল গনতন্ত্রীর সংজ্ঞা কি?

এই সংজ্ঞাও লেখিকা দিয়েছেন —

“If, moreover, revolutionary leaders describe the United States as the scourge of the 20th century, the enemy of freedom-loving people, the perpetrator of imperialism, racism, colonialism, genocide, war, then they are not authentic democrats”

মানে যারা যুক্তরাষ্ট্রের পাপের খতিয়ান রাখে তারা “আদি এবং আসল” গনতন্ত্রী নয়। বেশ সোজাসাপ্টা হিসেব আসলে। গনতান্ত্রিক হতে গেলে নিজের দেশের জনগনের অংশগ্রহন নিশ্চিত করনের কোন দরকার নাই। গুরুত্বপূর্ণ পলিসি ইস্যুতে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সঠিক সুরে কথা বলতে পারেন, তাহলে আপনিও হয়ে যেতে পারেন “আসল গনতন্ত্রী”।

কিছুদিন আগে ইয়েমেনে সৌদি বোমা হামলার সমর্থন এর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে ওবামা এডমিনিস্ট্রেশনের একজন মন্তব্য করেছিলেন,

“The measure of the US policy should not be graded against the success or stability of the Yemeni government, that’s a separate enterprise. The goal of US policy toward Yemen has never been to try to build a Jeffersonian democracy there. The goal of US policy in Yemen is to make sure that Yemen cannot be a safe haven that extremists can use to attack the West and to attack the United States.”

৯/১১ এর পরে যুক্তরাষ্ট্রের পলিসির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বের অধিকারী বিষয়গুলোর মধ্যে উঠে এসেছে মিলিট্যান্ট ইসলামকে প্রতিরোধ করা। এখন কোনটা আসলে “মিলিট্যান্ট ইসলাম” সেটা অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারন সাদা চোখে অগনতান্ত্রিক, নিয়ন্ত্রনবাদী ইসলামিক রাজনীতিকেই যদি আমরা মিলিট্যান্ট ইসলামের প্রধান উপাদান ধরি তাহলে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্রই “মিলিট্যান্ট ইসলাম” নামের ছাতার তলে এসে জমা হয়। অন্যদিকে যারা “নিয়ন্ত্রনবাদী-অগনতান্ত্রিক” নয়, তারাও যদি যুক্তরাষ্ট্রের হেজেমনিকে অস্বীকার করে, যেমন ইয়েমেনের “হুতি”রা, তাহলে তারাও সন্ত্রাসবাদের তকমা পাবে।

এইসব ক্যাটাগোরাইজেশন করার সময় অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ পলিসিমেকার গাঁজা খেয়ে থাকেন বলে আমি বিশ্বাস করি। কারন একজন শিশুর কাছেও প্রতীয়মান হওয়ার কথা যে ইয়েমেনে বোমা হামলা এবং ততপরবর্তী নৈরাজ্যে সবচেয়ে লাভবান হবে AQAP( Al qaida in Arabian Peninsula)

এই “ব্রেইন ডেড” ডক্ট্রিনের উপর ভিত্তি করেই ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের এই প্রবন্ধটির গোড়াপত্তন। এই মুহুর্তে আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্রের পলিসির কাছাকাছি ন্যারেটিভে চলছে। সুতরাং এই মুহুর্তে বাঙ্গালদেশের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোন কথা হবে না। শুধু সরকার বিরোধীদের সন্ত্রাসই এখন সেই পলিসির চশমায় চোখে পরবে। এর সাথে দেশের মানুষের ইচ্ছা-আশা-আকাঙ্খার কোণ সম্পর্ক নেই।

আর এই কারনেই বিএনপিও বিভিন্ন চ্যানেলে বার বার সকলকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে, যে তারা কোনভাবেই যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের হেজেমনিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করবে না। তারাও সুবোধ বালকের মতই এই হেজেমনির আধিপত্যের ছায়ার তলে থেকে নিজেদের আখের গোছাবে।

এই খেলায় জনগন এবং তার ইচ্ছার কোন গুরুত্ব শেষ পর্যন্ত নেই। ৪৪ বছর ধরে চলা ব্যর্থ এক্সপেরিমেন্টকে ধাক্কা দেয়ার জন্যে যেমন ইনোভেটিভ চিন্তাভাবনার দরকার ছিল তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সেখানে শুধু প্রভুর প্রশাস্তি এবং প্রভুর আশীর্বাদে উদরপূর্তি একমাত্র লক্ষ্য।

http://www.wsj.com/articles/bangladeshs-good-fight-against-islamism-1429718057

বুয়েট ভ্যানটেইজ পয়েন্টঃ উপসংহার

By: Aman Abduhu

বুয়েট শিক্ষক পেটানোর ঘটনায় বিশাল তিন পর্বের ফিকশন লিখে ফেললাম। কেন লিখলাম জানিনা। সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা হওয়াতে। বিশ্ববিদ্যালয় শুনলেই মনে হয়, পড়ালেখা আর কো-কারিকুলারে ব্যস্ত ইয়ং ছেলেমেয়ে। বিভিন্নরকম ক্রিয়েটিভ কাজ আর প্রতিযোগিতা। টিচারদের সাথে বিভিন্ন সুযোগে বিতর্ক, সেমিনার। এখানে ওখানে নোটিশ আর এনাউন্সমেন্ট, বিভিন্ন রকম বৈচিত্র্যময় কাজ পড়ালেখা আর এসাইনমেন্টে দিন সপ্তাহ মাস বছরগুলো চোখের পলকে চলে যাওয়া। জীবনের সবচেয়ে সেরা সময়। বিশাল বিশাল ভবন, দীর্ঘ করিডোর, নিরব লাইব্রেরী আর পুরনো বইএর গন্ধ। সাথে নতুন নতুন সব প্রযুক্তির সুযোগ সুবিধা। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেখি, সাথে সাথে বুকের মাঝে একটু কষ্ট হয়, যদি আমাদের দেশে এমন থাকতো।

সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা হয়, বিষয়টা কল্পনা করে অবাক লাগে। আমি বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করি। সাথে সাথে পার্টটাইম টিউটর হিসেবে পড়াই। ঐসব ছাত্রছাত্রীরা আমাকে, অথবা কোন ফুল ফ্লেজেড টিচারকে পেটাচ্ছে, ভাবা যায় না। তাই হয়তো নাড়া খেয়েছি। যাইহোক, শেষকথাগুলো হলোঃ

১. ফিকশনে বাস্তবতার শতভাগ প্রতিচ্ছবি আশা করা বোকামী। ইতিহাস আর গল্প একসাথে লেখা একটি শাহবাগি কাজ। আমি গল্প লিখেছি, ইতিহাস না। বিস্তারিত ফুটনোটে*১ এ প্রসঙ্গে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা থেকে নেয়া কিছু কথা আছে। একই সাথে বাস্তবতার সাথে বিরোধী বা অসততা যেন না হয়, তা খুব দরকারী বিষয়। যেমন শুভ্রজ্যোতি শেরাটনের বারে গিয়ে এলকোহল টেনে সেলিব্রেশন করছিলো, এটা ফিকশন। কিন্তু ধর্ষক চাঁদাবাজ খুনী ছাত্রলীগের নেতাদের জন্য এটা স্বাভাবিক। কিংবা রাগিব হাসান সরাসরি কোথাও বলেনি এই শিক্ষককে জামায়াত করার অপরাধে বের করে দেয়া হোক, কারণ সে বুদ্ধিমান এবং তার কথার কনসিকোয়েন্স সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু এই কথা, চিন্তা ও কাজগুলোকে সে সবসময় মোটিভেট ও প্রমোট করেছে।

২. এই জঘন্য ঘটনার কারণ হলো ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ালেখার জায়গা। পিরিয়ড। টিচাররা কেউ আওয়ামী লীগ করবে, কেউ জামায়াত করবে, কেউ বিএনপি করবে, ভিসি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক নিয়োগ হবে দলীয় বিবেচনায়, ঐ শিক্ষাঙ্গনে খুন ধর্ষণ আর মারামারি করাটাই স্বাভাবিক। এই হলো বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়।

৩. সবসময় বলি, আওয়ামী-শাহবাগি এটা একটা দুষ্টচক্র। সব আওয়ামী শাহবাগি, কিন্তু সব শাহবাগি আওয়ামী না। জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির রাতে অনলাইনে জামায়াত সমর্থক শিক্ষককে তার জামায়াত সমর্থক মন্তব্যের কারণে গালমন্দ করা হয়েছে, ব্যান করা হয়েছে, তাচ্ছিল্যের সুরে তাকে ট্রিট করা হয়েছে। সেই থেকে অন্যরা শিখেছে যে শাহবাগী মতের ভিন্ন মতের শিক্ষককে বেয়াদবীর সুরে কথা বলা যায়, ধমক দেওয়া যায়, গালি দেওয়া যায়। পরের দিন ছাত্রলীগ যে বেয়াদবী করেছে তার শিক্ষা তারা ঐ গ্রুপের এডমিন এবং বেয়াদব কিছু ছাত্রদের থেকে পেয়েছে। আমি যতদূর জানি, এর আগে ছাত্রলীগ বুয়েটের কোন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার সাহস করেনি। কিন্তু শাহবাগীরা সেই সাহস তাদের যোগান দিয়েছে। সুতরাং প্রমাণ হয়ে যায়, শাহবাগিরা পলিসি মেকার, আর ছাত্রলীগের গুন্ডারা হলো তাদের মাসলম্যান।

৪. ঐ শিক্ষক জয় মা কালী, জয় ইনডিয়া লিখে মন্তব্য করেছিলেন। আসলেই কি তা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য? আমি মনে করিনা। বরং তা বাস্তব সত্যভাষণ। বাংলাদেশের ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন এবং ডিসক্রিমিনেশন করা হচ্ছে পরিস্কার। এবং এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও জঙ্গিবাদ উসকে দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দীর্ঘমেয়াদে বেনিফিশিয়ারী হতে চায়। দেশ আর সমাজ ধ্বংস হোক, ব্যাপার না। ক্ষমতায় থাকাটাই বড় কথা। হিন্দুরা এখানে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

৫. বাংলাদেশে স্বাধীনতার চেতনার নামে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে। এখানে দ্বিমত পোষণ করার অর্থ, রাজনৈতিক মতভিন্নতার অর্থ হলো বাংলাদেশী থাকার সুযোগ হারানো। আপনাকে পাকিস্তান চলে যেতে হবে। ঐ শিক্ষক জামায়াত করেন, তার অর্থ যদি হয় তাকে ক্যাম্পাসে পেটানো এবং নির্মমভাবে অপমান অপদস্থ করা বৈধ, তাহলে তা পরিস্কার করে বলা উচিত।

৬. সবশেষে, এ ঘটনা কোন সুস্থ স্বাভাবিক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটলে, সাথে সাথে নিরপেক্ষ তদন্ত হতো, গুন্ডাগিরি করা ছাত্রদেরকে প্রশাসনিক শাস্তি তো দেয়া হতোই, সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সরকারী আইন শৃংখলা কতৃপক্ষ তাদেরকে ফিজিকাল এসল্ট, এটেম্প টু মার্ডার সহ বিভিন্ন মারাত্বক অপরাধের শাস্তি হিসেবে বেশ কয়েকবছরের কারাদন্ড দিতো নিশ্চিত। পাশাপাশি ঐ ভিকটিম শিক্ষক তাকে নিরাপত্তা দেয়ার ব্যর্থতার কারণে ভার্সিটি থেকে কয়েক কোটি টাকা কমপেনসেশন বা ক্ষতিপূরণ পেতেন। বাংলাদেশে কি হবে? শুভ্রজ্যোতি আর কনকদের মতো গুন্ডারা মন্ত্রী এমপি এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দাঁত বের করে ছবি তুলে ফেইসবুকে আপলোড করবে আর দামী গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াবে।

জয় বাংলা।

*১ in my view, although I do agree with Churchwell on the paramount importance of meticulous research. But novelists are not history teachers. It’s not our job to educate people, and if we start using words like “duty” and “responsibility” about historical fiction – or any fiction – we’re in danger of leaching all the vigour out of it with a sense of worthiness. A novelist has no real duty to anything except the story he or she is creating, the characters who inhabit it and whatever view of the world he or she is offering with the novel’s ending. But if you are going to play fast and loose with historical fact for the sake of a good story, you’d better have done your research thoroughly if you want readers to take you seriously; only then will you have the authority to depart from those facts.

বুয়েট ভ্যানটেইজ পয়েন্টঃ দুই

By: Aman Abduhu
আজকে শুভ্রর মনটা বেশ ফুরফুরে। ফুর্তিতে তার আকাশে উড়তে ইচ্ছা করছে। সন্ধ্যার সময় ফোনে মন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে পেরেছিলো ফাঁসির কথা। তারপর থেকে ক্যাম্পাসে ঘুরাঘুরি আড্ডা, টিএসসি শাহবাগে মেয়েদের দেখে চোখের ব্যায়াম সেরে নতুন গাড়িতে চড়ে স্টার কাবাব। বুয়েট ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে সে এ ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়িটা ব্যবহার করছে। ঠিক সাড়ে দশটার সময়, যখন ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে, তখন সে দলবল নিয়ে কাচ্চি খাচ্ছিলো। পরের কয়েক ঘন্টা সে কাটালো হোটেল শেরাটনের বারে, দলের সহকর্মী বন্ধুদের সাথে। ফুর্তি আর ফুর্তি। দুনিয়াটাকে পায়ের নিচের কার্পেট মনে হয়। বিচার বিভাগ পুলিশ আর্মি সরকারী অফিস আদালত সব এখন শুভ্রজ্যোতিদের কথায় উঠে আর বসে। সে মাঝে মাঝে কল্পনা করে এভাবে দশ পনেরো বছর যেতে পারলে সেও একদিন পলক ভায়ের মতো তরুণ মন্ত্রী হয়ে যাবে। এখন গাড়িতে পতাকা নেই। তখন পতাকা থাকবে, পুলিশের এসকর্ট থাকবে।

শেষ রাতে হলে ফেরার পথে ফোনটা আসলো। তার এক চ্যালা জানালো, ফেইসবুকের বুয়েটের গ্রুপে জাহাঙ্গীর স্যার একটা মন্তব্য করেছে। ব্লগার পোলাপান তাকে ওখানে চেপে ধরেছে। ছাত্র ইউনিয়নের পোলাপান আবার লেখালেখিতে ভালো। তারা ফেইসবুকে লিখে স্যারকে চেপে ধরেছে। শেষ পর্যন্ত স্যারকে তারা ঐ গ্রুপ থেকে ব্যানই করে দিয়েছে। তারা যা করার করেছে, বাকিটা ছাত্রলীগের হাতে। বিস্তারিত শুনে সে বললো, এই সুযোগে জামাতি টিচারটাকে একটা শিক্ষা দিতে হবে। কাল তোরা ক্যাম্পাসে দেখা করিস। প্রথম কাজ হবে এইটা।

বারোটার দিকে তার শুভ্রর ভেঙেছে কনকের ফোন পেয়ে। তার সেক্রেটারী। খুব জোশিলা ছেলে, সবসময় তার হাত পা চলে, মুখ ততটা চলে না। নাজমুল ভাই ওবায়দুল কাদের ভাইদের সাথে সবসময় যোগাযোগ মেইনটেইন করে। শুভ্র জানে, কনকও মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবে সে কনককে হুমকি মনে করেনা। শুভ্র হিন্দু, তার কিছু বাড়তি সুযোগ আছে। এখন সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেই হলো। কিন্তু প্রতিযোগিতাও অনেক, প্রতিযোগী অনেক।

কাঁচা ঘুম ভেঙে এলকোহলের হ্যাংওভারে মাথাটা ব্যাথা করছে অনেক। কিন্তু ঐদিকে কনক চিৎকার করে যাচ্ছে সমানে। ফেইসবুকের ঐ জাহাঙ্গির স্যারের মন্তব্য নিয়ে না কি অনেক কিছু হয়ে গেছে। এই সুযোগে সবার সামনে একটা উদাহরণ রাখা দরকার। জামাতি হলে কারো মাফ নাই, এমনকি টিচার হলেও। পোলাপান সবাই কেন্টিনে আছে। কনফার্ম খবর আছে, জাহাঙ্গীর স্যার অফিসে এসেছে সাড়ে বারোটার দিকে। তারা সবাই এখন নেতার জন্য অপেক্ষা করছে। টায়ার্ড লাগলেও সে আর দেরি করলো না। হাতমুখ ধুয়ে বেরিয়ে পড়লো।

পরের ঘটনাগুলো সব দ্রুত ঘটে গেলো। স্যার প্রথমে একটু অবাক হয়ে তাকিয়েছিলেন। উথালপাথাল লাথি আর ঘুষি আর থাপ্পড় শুরু হওয়ার পর অবশ্য আর তাকানোর অথবা কোন কিছু বলার সুযোগ পেলেন না। পরে কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিলেন। ততক্ষণে তারা স্যারকে মারতে মারতে পাঁচতলা থেকে নামিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার সামনের রাস্তাটা হয়ে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর সামনে নিয়ে এসেছে। পচা ডিম আর মিষ্টিতে মাখামাখি হয়ে জাহাঙ্গীর স্যারের অবস্থা করুণ। শেষপর্যন্ত অবশ্য শুভ্রর একটু খারাপই লাগলো। তাছাড়া সিনিয়র স্যাররাও বের হয়ে আসছেন। ভিসি এসে পড়বেন যে কোন সময়। সে অন্যদের বললো, যথেষ্ট হইছে। এবার সবাই চল।

তারা হৈ হৈ করে আনন্দ করতে করতে হলের দিকে ফিরে যাচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা সবাই ভয় আর সমীহমাখানো দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে। সবার সামনে হিন্দি সিনেমার নায়কের মতো শুভ্রজ্যেতি। পুরনো সেই অনুভুতিটা তার আবারও হচ্ছে। দুনিয়াটাকে ইদানিং তার পায়ের তলায় বিছানো কার্পেটের মতো মনে হয়।

Real Face of Danger: Harassing University Teacher in Bangladesh

By: Elora Zaman

Bangladesh, a tiny country, is going through a lot these days; so many things are happening there everyday that one can easily loose tracks. However, a particular event needs attention in my opinion. Harassing and beating a university teacher is not an insignificant thing, especially when it takes place in the context of current emotion-based political issues. Such a phenomenon would drive us to the dark age of ignorance and injustice. Such a task, if it will be left unattended and untreated, would only make a rotten society of us.

Ahmad Safa, a renowned Bangladeshi intellectual, once said, the nation is halted for one year if the university is closed for one day. Teachers are the architects of the society. So the question is, why they are prohibited from thinking freely, and expressing their opinion honestly and openly in current Bangladesh in the hands of the so-called freethinkers and liberals?

Good governance is strongly associated with good and proper education. Good educators are essential in the society for manufacturing good citizens and honest human beings, who will be capable of establishing and maintaining good governance. In our society, these educators are being harassed and beaten by political thugs, and those thugs get their shelter from the government. This is a greatest irony.

Last week, some students beat Jahangir Alam, a professor of the Civil Engineering Department in Bangladesh University of Engineering and Technology, BUET, in the campus, even inside a classroom. They were not content by verbally and virtually abusing him, they started beating him on the following day of his alleged crime. His crime was to express his opinion in a facebook group regarding the ongoing Tribunal of Crime against Humanity in Bangladesh, especially one of its verdicts that hanged a political leader on that night.

The students in our society are known for respecting their teachers, traditionally, and treating them with more honour than their own parents. This respect is considered as one of the major elements in our socio-psychological construct. Unlike Western culture, our eastern culture conventionally sees that the teachers have rights even to beat their pupils occasionally in order to teach them. That’s why it is extra-ordinarily shocking to see that one of those respected teachers are now being verbally and physically abused by the hand of their own students. Which is more shocking is to see that thousands of teachers in Bangladesh are silent today; they don’t protest and seek justice in this regard. All these are taking place only with the support of current oppressive regime of Awami League, led by the hardliner Prime Minister Sheikh Hasina. Now it has become a commonplace to see that our teachers are forced to act like obedient pets in front of the political leaders.

We can see that many oppressive rulers and monarchs treated the teachers with honour. Many kings are ill-reputed in the history for their deeds, but even they were usually respectful towards the teachers and the scholars. What is happening in current Bangladesh in the name of 1971 war-industry doesn’t know any bound in this regard. Now, every conscious soul is mistreated if they dare to express their opinion freely. Naturally, the educators have become a primary victim in that closed and fascist structure. Do those political thugs and leaders know the place of the educator class in a human society? Or they forget everything due to their physical power and dare to destroy the power of intellectual beings? I urge to everyone concerned about Bangladesh to be aware of the significance of this event and to protest against this with all means possible.

বাংলাদেশের আস্তিক-নাস্তিক বাইনারী নিয়ে একটি “বিজ্ঞানমনষ্ক” আলোচনা

2

ফাহাম আব্দুস সালাম

বাংলাদেশে ‘বিজ্ঞানমনষ্ক’ বলে একটা টার্ম আছে। সম্ভবত যারা বিজ্ঞানী নন, বিজ্ঞান নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করেন নি কিন্তু পরিপার্শ্বকে বোঝার জন্য বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করেন তাদের নির্দিষ্ট করতে এই টার্মটি ব্যবহার করা হয়। এই নির্দিষ্টকরণে একটা ফাঁক আছে – বেশ বড় ফাঁক। পরিপার্শ্বকে বোঝার জন্য বিজ্ঞানকে একেবারেই ব্যবহার করেন না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব বেশী আছেন বলে আমার মনে হয় না। যাদের আমরা গণ্ডমূর্খ ধরে নিয়ে নিজেদের বিজ্ঞানমনষ্ক বলি তারাও অনেক কিছু বোঝার জন্য রিপিটেবল অবজারভেশন এবং যুক্তি ব্যবহার করেন। হ্যা, তাদের হয়তো দিলখুশ সংজ্ঞা জানা নেই, হয়তো তারা তাদের অবজারভেশনকে গুছিয়ে প্রকাশ করতে পারেন না কিন্তু তারা অতশত না জেনেও বিজ্ঞানকে ব্যবহার করেন।

কিন্তু তাদেরকে আমরা বিজ্ঞানমনষ্ক বলি না – কারণ দুয়েকটি ব্যাপারে তারা বিজ্ঞানমনষ্ক হলেও তাদের জীবনে অবিজ্ঞানমনষ্কতা আছে বেএন্তেহা – তারা তুকতাকে বিশ্বাস করেন। কিন্তু কতোটুকু অবিজ্ঞানমনষ্কতা এতোটাই দূষিত করে ফেলে যে একজনকে আর বিজ্ঞানমনষ্ক বলে আর ঠাওর করা যাবে না এ ব্যাপারে কোনো কনসেনসাস নেই।

হয়তো তারা বোঝান যে পরিপার্শ্বকে বোঝার জন্য যারা ‘কেবলমাত্র’ বিজ্ঞানলব্ধ এবং বিজ্ঞানচর্চিত জ্ঞানকেই সঠিক ও নিরাপদ মনে করেন তারাই বিজ্ঞানমনষ্ক।

ফিজিকাল ওয়ার্ল্ডকে বোঝার জন্য বৈজ্ঞানিক চিন্তা প্রক্রিয়া সর্বশ্রেষ্ঠ ও অদ্বিতীয় হলেও মানুষ তার পরিপার্শ্বকে বোঝার সময়ে ফিজিকাল ও মেটাফিজিকাল – ব্যাপার দুটোকে সবসময় খাড়া দাগে আলাদা করতে পারে না। আমাদের সবার মাঝে একটা উদগ্র ও অনিঃশেষ বাসনা আছে – আমরা জানতে চাই। আমরা সব ধরনের প্রশ্নের উত্তর পেতে চাই। এ কথা সত্য যে বেশীরভাগ প্রশ্নের উত্তরের জন্য বিজ্ঞানই যথেষ্ট এবং বিজ্ঞানই একমাত্র নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাকারী। কিন্তু এমন কিছু প্রশ্ন আছে যার উত্তর বিজ্ঞান দিতে পারে না। তার কারণ এই না যে বিজ্ঞান ইনফেরিয়র – কারণ সে সব প্রশ্ন বিজ্ঞানের আওতায় পড়ে না। সমস্যা হোলো – ঠিক এই প্রশ্নগুলোই মানব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা প্রশ্ন।

যেমন ধরুন “জগৎ সংসারে আমি কেন এসেছি” – প্রতিটি মানুষকে কোনো না কোনো সময়ে কিংবা সারাজীবন এই প্রশ্নটি তাড়িয়ে বেড়ায়। কোনো বিজ্ঞানী কোনোদিনও এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারবেন না। কিন্তু স্টিভেন হকিন্স এর উত্তর দিতে পারবেন না বলে কি আপনি আপনার জানার তেষ্টাকে অনিবারিত করে রাখবেন? অবশ্যই না। কোনো ধরনের দর্শন ছাড়া এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর নেই – এটাই পরমসত্য এবং এখানেই ধর্মের উপযোগিতা (ধার্মিকদের কাছে ধর্মের আরো অনেক উপযোগিতা আছে)।

আপনি যখন বলবেন যে বিজ্ঞানই আমার পরিপার্শ্বকে বোঝার একমাত্র সহায় তখন আপনাকে দুটো কাজ করতে হবে: আপনার মাথাকে বোঝাতে হবে যে মেটাফিজিকাল প্রশ্নের কোনো প্রয়োজন নেই, তাই এর উত্তরেরও কোনো প্রয়োজন নেই। অথবা যেহেতু এসব প্রশ্নের ‘নির্ভুল’ উত্তরের কোনো সম্ভাবনা নেই তাই আমি এসব প্রশ্ন নিয়ে চিন্তিত না। বলাই বাহুল্য, যেকোনো প্রশ্নের উত্তর জানার যে হিউম্যান স্পিরিট তার সাথে এ ধরনের অবস্থান সঙ্গত না। তাই বেশীরভাগ মানুষ দুটো গিয়ারে চলেন অর্থাৎ তারা ফিজিকাল এবং মেটাফিজিকাল প্রসঙ্গকে আলাদা আলাদা ভাবে বোঝার চেষ্টা করেন এবং স্বভাবতই তাদের ‘বিজ্ঞানমনষ্কতার’ ভেতরে ‘অবিজ্ঞানমনষ্কতা’ ঢুকে পড়ে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এই বিজ্ঞানমনষ্কতা একটা আলাদা আলোচনাও দাবী করে।

অনেকের লেখা পড়ে আমার মনে হয়েছে যে তারা নাস্তিকতা, মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা – এই টার্মগুলোকে ইন্টারচেঞ্জেবলি ব্যবহার করেন। সে সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ প্রমাণে এই শব্দ এবং শব্দবন্ধগুলো টেনে আনেন। আমার ধারণা, তারা বিজ্ঞান না বোঝার কারণে এই ভুলগুলো করেন। খুলে বলি। নাস্তিকতা, শেষ বিচারে একটি দার্শনিক অবস্থান, কোনো বৈজ্ঞানিক অবস্থান না। খোদাতালা আছেন কিংবা নেই – কোনোটিই আপনি ‘প্রমাণ’ করতে পারবেন না। এবং খোদাতালায় বিশ্বাস করা বা না করা – কোনোটিই আপনার বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের কোনো স্বাক্ষর না। উনবিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ ৫ জন ম্যাথমেটিশিয়ানের একজন গিয়োর্গ কানটোর মনে করতেন যে খোদাতালা তার কানে কানে গণিত নিয়ে কথা বলতেন। আল্লাহতে বিশ্বাস করা এবং খোদাতালার কানে কানে গণিত নিয়ে কথা বলার কারণে তিনি হুমায়ুন আজাদ কিংবা তসলিমা নাসরিনের চেয়ে ইন্টেলেকচুয়ালি ইনফেরিয়র – এমন দাবী যিনি করবেন তার সাথে যদি কানে কানে পাহাড়-নদী, মামদো ভূত ও সুচিত্রা সেন কথা বলেন রোজ – ওষুধ খাওয়ার আগে – শুনলে আশ্চর্য হবো না।

Image-1

বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ মোটা মোটা বই এসপার-ওসপার করে দেয়া না, সুন্দর করে বাংলা আর ইংরেজি লেখা না; বরং জ্ঞান সৃষ্টি করা। টমাস এডিসন পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ একজন ইনভেনটর। তার সাথে কাজ করেছিলেন ইতিহাসের সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ কয়েকজন বিজ্ঞানীদের একজন; নিকোলা টেসলা। টেসলার মতামত যদি আমরা সঠিক বলে ধরে নিই তাহলে ধরে নেয়া যায় যে টমাস এডিসন আদতে একজন গাড়ল ধরনের মানুষ ছিলেন। মানে খুবই পরিশ্রমী কিন্তু পড়ালেখা জানেন না তেমন, বুদ্ধিও খুব বেশী না। নিঃসন্দেহে আমাদের ব্লগস্ফেয়ারের অনেক মানুষ এডিসনের চেয়ে অনেক বেশী পড়ালেখা জানা মানুষ – কিন্তু তারা “জ্ঞান”কে সমৃদ্ধ করতে পারেন নি এতোটুকু – যেটা এডিসন পেরেছিলেন।

জ্ঞান সৃষ্টি করার সাথে পরিশ্রম, কল্পনাশক্তি আর ইন্সপিরেশান জড়িত – খোদাতালায় বিশ্বাস করা বা না করার সাথে প্রায় এর কোনোই যোগাযোগ নেই। জ্ঞান সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে খোদাতালায় বিশ্বাস করা প্রতিবন্ধক; এমন বিতর্কে যে কাওকে আমি আমন্ত্রণ জানাচ্ছি – যে কোনো সময়ে আমি প্রস্তুত।

এছাড়াও কিছু লক্ষণ আমার চোখে পড়েছে। আমি বলবো না যে বাংলা ব্লগস্ফেয়ারে ইসলামোফোবিয়ার জোয়ার বয়ে যাচ্ছে কিংবা “মুক্তমনা” নামক ব্লগে নাস্তিকরা ব্যাকটেরিয়ার মতো বৃদ্ধি পাচ্ছে। বরং বেশীরভাগ লেখাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। যারা সেখানে লেখেন তারা যে খুব ভালো লেখেন সেটা মনে হয় নি কিন্তু তারা ফ্রি এনকোয়েরির স্পিরিটেই লেখেন। তবে এও সত্য যে কিছু লেখা সত্যিই ইসলামোফোবিক এবং যে লেখাগুলো ইসলামোফোবিক সেগুলোতে কিংবা সেই লেখকরা অন্যত্র খুব উৎকট মাত্রার হেইট স্পীচ দেন (মুক্তমনার কিছু লেখককে মনে হয় দেখেছি যে তারা অন্যত্র সন্দেহাতীত ভাবে ইসলামোফোবিক হেইট স্পীচ দিয়েছেন এবং উগ্রতাবাদীরা অত্যন্ত অন্যায্যভাবে এর দায়ভার অভিজিৎ রায়ের ওপর চাপিয়েছেন)। এর কারণ মনে হয়েছে দুটো: প্রথমটি হোলো তারা নিজেদের যা দাবী করেন সেটি তারা নন অর্থাৎ ‘বিজ্ঞানমনষ্ক’ নন। তারা একজন দের হাজার বছর আগের ঐতিহাসিক চরিত্রকে মূল্যায়ন করেন আজকের পৃথিবীর মাপকাঠিতে এবং সেটিও করেন খুব অল্প পড়ালেখা করে। বাংলাদেশের ‘পাইছি’ সাংবাদিকতার মতো। একজায়গায় ইংরেজি ভাষায় লেখা কোনো আর্টিকেল পড়লেন, বাস ওটা ব্যবহার করতেই হবে। বিজ্ঞানমনষ্ক হলে তারা যাচাই বাছাই করে নিজেদের কুসুম কুসুম পাণ্ডিত্য জাহির করা থেকে নিবৃত হতেন। আর দ্বিতীয় কারণটি হোলো আমাদের ভাষা। বাংলা ভাষায় কাওকে শুয়োরের বাচ্চা না বললে নিজের ক্ষোভ সুষম ভাবে প্রকাশ পেলো না বলেই অনেক লেখক অভিমান করেন।

যেমন ধরুন কা’ব ইবেন আল-আশরাফ নামক এক ইহুদি নেতাকে রসুল ব্যাঙ্গাত্মক কবিতা লেখার জন্য হত্যা করিয়েছিলেন বলে তারা সমালোচনা করেন। এবং সে ঘটনার সাথে অভিজিৎ রায়ের হত্যার ‘ইসলামী’ যোগসূত্রের সন্ধান দেন পাঠকদের (অর্থাৎ ফ্যানাটিকরা যে রসুলের বিদ্রূপকারীদের হত্যা করে তার উদাহরণ রসুল নিজেই সৃষ্টি করেছিলেন)। তারা যে কথাগুলো বলতে কিংবা পড়তে ভুলে যান সেটা হোলো কা’ব ইবেন আল-আশরাফ বানু নাদির গোত্রের ইহুদি ছিলেন এবং এই গোত্রটি মদিনা সনদের সিগনেটরী। এই চুক্তি মোতাবেক কোনো গোত্র মক্কার কুরাইশদের সাথে প্যাক্ট করতে পারবে না এবং মদিনাবাসীরা কারো দ্বারা আক্রান্ত হলে সবাই এক সাথে প্রতিহত করবেন।

তা চুক্তি ভঙ্গ হলে কী হবে? আপনার খারাপ লাগতে পারে কিন্তু সে সময়ের যে আইন তাতে মৃত্যুদণ্ডই যে এর সাজা সেটা সবার জানা ছিলো – মদিনার মুসলমান এবং ইহুদি সবাইই এটা জানতেন। আপনি নিশ্চই আশা করেন না যে বিভিন্ন ধর্মের ও বিভিন্ন গোত্রের অংশগ্রহণে যে চুক্তি তাতে ইসলামী আইন বলবৎ হবে কিংবা আজকের আমাল আলামুদ্দিন ও জেফরি রবার্টসনকে বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। কা’ব ইবেন আল-আশরাফ মক্কার আবু সুফিয়ানের সাথে চক্রান্তের জন্য মিলিত হয়েছিলেন এবং এর শাস্তি তখনকার বিচারে মৃত্যুদণ্ডই ছিলো। তাছাড়া রসুল সে সময়ে কেবল ধর্মীয় নেতাই ছিলেন না, বিচারক ও প্রশাসকও ছিলেন। তার অথোরিটি ছিলো এই আদেশের। কোনো সাহাবী স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কিংবা ইসলামী জজবায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তাকে হত্যা করেন নি।

এরপরও যদি আপনার রসুলকে সমালোচনা করার ইচ্ছা হয় করুন – কিন্তু তার ভাষাটা শালীন হওয়া উচিত। গালিগালাজ করা, কিংবা এই একটি ঘটনা থেকে ইসলামকে ভায়োলেন্ট বলাটা নেহাৎ ‘অবিজ্ঞানমনষ্ক’ হওয়ার লক্ষণ। আমি ধর্ম বিষয়ে পড়ালেখা করি নিয়মিত – সব ধর্মেই আমার আগ্রহ। আমার কখনোই মনে হয় নি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মই ইনহেরেন্টলি ভায়োলেন্ট। কিন্তু মানুষের চরিত্রে একটা প্রকৃতিগত ভায়োলেন্স আছে। তাই সব ধর্মই ভায়োলেন্ট হয়ে উঠতে পারে। বরং অন্তত কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে যে ধর্ম হয়তো ভায়োলেন্স কমাতে সাহায্য করে।

আসল বিষয় হোলো সে ধর্মের অনুসারীদের, সংখ্যার দিক থেকে একটা ক্রিটিকাল মাস আছে কি না? জীব হত্যা যে ধর্মে হারাম সে শান্তির ধর্ম পালনকারী বৌদ্ধরা মায়ানমারে মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। নাস্তিকতার যখন যথেষ্ট-সংখ্যক অনুসারী হবে, যখন তারা অর্গানাইজড হবে এবং যখন তারা মনে করবে যে আক্রমণ করলে জেতার সম্ভাবনা প্রবল – তখন নাস্তিকরাও ভায়োলেন্ট হবে। ভায়োলেন্স মানুষের খাসলত – এটা ঐতিহাসিক সত্য। ধর্ম একটা অনুঘটক সন্দেহ নাই – কিন্তু আরো অনেক অনুঘটক আছে যেগুলোকে নির্দিষ্ট করার একটা দায়িত্ব আছে, যদি আপনি বিজ্ঞানমনষ্ক হয়ে থাকেন। উদাহরণ দেই –

কারোই জানা নেই অভিজিৎ রায়কে কারা হত্যা করেছে। সন্দেহ করা মোটেও অমূলক না যে কাজটা ধর্মীয় ফ্যানাটিকদের। সেটা ধরে নিলেও আমার জানা মতে এ ধরনের ধর্মীয় কারণে হত্যা এবং হত্যাপ্রচেষ্টা হয়েছে মোট চারজনের ওপর: হুমায়ুন আজাদ, থাবা বাবা, আসিফ মহিউদ্দিন এবংঅভিজিৎ রায়। ধরে নিই সংখ্যাটা এর দ্বিগুণ (যেহেতু সঠিক সংখ্যাটি আমার জানা নেই)। গত পাঁচ বছরে শুধুমাত্র বিএনপি করার জন্য কিংবা জামায়েত এবং হেফাজত করার জন্য সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা মাথায় বিনা বিচারে, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে পুলিশ এবং RAB হত্যা করেছে তার চেয়ে অ-নে-ক বেশী মানুষ। এমন কি ছাত্রলীগও তাদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে এর চেয়ে বেশীসংখ্যক মানুষকে হত্যা করেছে। বিজ্ঞানমনষ্ক হলে আপনার এমপিরিকাল ডেটার ওপর নির্ভর করার কথা। সেক্ষেত্রে হত্যা প্রচেষ্টার জন্য ইসলামকে ইনহেরেন্টলি ভায়োলেন্ট বললে আপনাকে অন্তত এটা মানতে হবে যে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ উভয়ই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কালের কনটেক্সটে ইসলামের চেয়ে অ-নে-ক বেশী ভায়োলেন্ট।

দেখুন নিজেকে বিজ্ঞানমনষ্ক দাবী করার একটা সমস্যা হোলো আপনাকে সব সময় একটা নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড ধরে রাখতে হবে। সারা রাত ফিফটি শেডস দেখে ভোর বেলায় ফজর নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পড়ার মতো না ব্যাপারটা।

তবে এ কথাও সত্য যে শুধুমাত্র আক্রমণের সংখ্যা দিয়ে ধর্মীয় ফ্যানাটিসিজমের মাত্রা মাপা সম্ভব না। বাংলাদেশে ইসলামী ফ্যানাটিসিজম আছে – এটা সত্য এবং আমার কাছে যেটা ভয়ঙ্কর লেগেছে সেটা হোলো বিপুল সংখ্যক মানুষ যারা নিজেদের ঈমানদার মুসলমান হিসেবে জ্ঞান করেন তারাও অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডকে নৈতিকভাবে সমর্থন করেছেন। তারা কয়েকটি সত্য খুব সুবিধাজনকভাবে ভুলে যান যে রসুল তার বিরোধী পক্ষের মানুষ, যারা তাকে দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রণা করেছেন তাদেরকে ক্ষমা করেছিলেন। এমনটা কল্পনা করা মোটেও অসঙ্গত না যে কুরাইশরা তার অনুপস্থিতিতে তার সাহাবীদের সামনে তাকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর কথা বলতো। তার সাহাবীরা যদি কুরাইশদের হত্যা করার চেষ্টা না করে থাকে এখনকার মুসলমানরা কি সাহাবীদের চাইতেও বড় মুসলমান যে রসুলকে নিয়ে আপত্তিকর কোনো কথা বললেই কাওকে হত্যা করতে হবে বলে তারা মনে করে? এই প্রশ্নগুলো এখনকার মুসলমানদের করা প্রয়োজন।

image-2

সিরিয়া আরবদের নিয়ন্ত্রণে আসে রসুলের মৃত্যুর কিছুদিন পরেই কিন্তু সিরিয়ার জনসংখ্যার ৫০% মুসলমান হতে সময় লাগে প্রায় পাঁচশ বছর। সাহাবী এবং তাদের বংশধররা আছে, আছে মুসলমানদের শাসন। তারপরেও মোট জনসংখ্যার অর্ধেককে মুসলমান করতেই লেগে গেছে পাঁচটি শতক (ইসলাম প্রকৃতিগত ভাবে ভায়োলেন্ট হলে আরো কম সময় লাগা উচিত ছিলো বলে আমার ধারণা)। দের হাজার বছর পর আজকের পৃথিবীর এক বিলিয়নের বেশী মানুষ নিজেদের মুসলমান বলে দাবী করেন। কিন্তু ফ্যানাটিকদের মর্সিয়া শুনলে মনে হয় কাল সকালের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাবে। দের হাজার বছর যা টিকে থাকতে পারে সেটা নিজের মেরিটেই টেকে – এটা বোঝার জন্যে আপনাকে আইনস্টাইন হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ফ্যানাটিকদের গেল গেল রব শুনলে মনে হয় রসুলকে নিয়ে কোথাকার এক হরিদাস পাল একটা ব্লগ লিখলেই তার নিজের এবং ইসলামের সব মানসম্মান ভূ-লুন্ঠিত হয়ে যাবে।

এবং এও সত্য যে সাম্প্রতিক কালে ইসলামী ফ্যানাটিসিজমের যে উৎকট প্রকাশ – সেটা উস্কে দেয়ার পেছনে বাংলাদেশে মুক্তমনের যারা দাবীদার তাদের একটা বড় অংশের খুব বড় দায়ভার আছে।

লাইফ সায়েন্স আমার পেশা। আমার বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের সাথে যে আড্ডাবাজি তার একটা বড় অংশ ধর্মের পেছনে ব্যয় হয়। সব ধর্ম নিয়েই আলোচনা হয় কিন্তু আমার দুয়েকজন বন্ধু ছাড়া বাকীদের ধর্মবিশ্বাস যে কী সেটা নিয়ে আমার কোনো ধারণাই নেই। সম্ভবত আমার বেশীরভাগ সহকর্মীই নাস্তিক অথবা অজ্ঞেয়বাদী। হ্যা, যারা বিবর্তনবাদকে অস্বীকার করে তাদের মূর্খতা নিয়ে আমিও রঙ্গতামাশা করি – সন্দেহ নেই। কিন্তু কখনোই কোনো ধর্মকে আক্রমণ করার কোনো প্রয়োজন কারো মধ্যে আমি দেখি না।

কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তমনাদের অনেকের মাঝে আমি ইভানজেলিক জজবা দেখতে পাই। যুক্তির কাজ আপনাকে চোক-স্ল্যাম দেয়া না। যুক্তির কাজ হোলো সবচেয়ে অল্প ও সহজ ভাষায় সত্যটাকে উপস্থাপন করা – আপনাকে ঘায়েল করা না। তাই নাস্তিকতা ও ফ্রি এনকোয়ারির একটা দায়বদ্ধতা আছে যে সেটা যেন সংঘবদ্ধ ধর্মের মতো অন্যকে আঘাত না করে। এই চুক্তি বাংলাদেশের মুক্তমনারা মানেন না।

তাদের অনেকগুলো টুপি আছে। কখন তারা বিজ্ঞানমনষ্কতার টুপি পরেন, কখন তারা শাহবাগের টুপি পরেন আর কখন যে তারা আওয়ামী লীগের টুপি পরেন সেটা বোঝা মুশকিল। কিন্তু তাদের আবদার হোলো ভিন্ন ভিন্ন টুপি পরার এই ক্রমপর্যায় সকল দর্শককে সব সময় মাথায় রাখতে হবে। অর্থাৎ আপনি যখন শাহবাগে গিয়ে ফাঁসি ফাঁসি করবেন কিংবা একটি ফ্যাসিস্ট রেজিমের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেবেন তখন আপনার ভাষ্যমতে যারা আপনার ও আপনার বন্ধুদের মূল শত্রু তাদেরকে ভুলে যেতে হবে যে আপনিই ইসলামোফোবিক হেইট স্পীচও দিয়েছিলেন। এই কঠিন আবদার গ্রাহ্য করা সহজ কাজ না।

আপনি যদি মোরাল হাউ গ্রাউন্ড দাবী করেন তাহলে আপনাকে কিছু ভ্যালুজকে বিনা শর্তে, সব সময়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সারা পৃথিবীর লিবারেল লেফট মোটা দাগের কয়েকটা বিষয়কে অনতিক্রম্য ধরে নেন। যেমন ধরুন যারা সমাজের একদম দুর্বল ও মার্জিনালাইজড অংশ তাদের পক্ষে দাড়ান, সব পক্ষের সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উচ্চস্বর হন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভোকাল তো বটেই ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার পরিচয়ও দেন, ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। বাংলাদেশে যারা নিজেদের লিবারেল দাবী করে ফ্রি স্পিরিটের চেতনায় পূণ্যস্নান করেন তাদের অনেকেই এই প্রতিটি শর্তের বরখেলাপ করেন হরহামেশা। বাংলাদেশে মাদ্রাসা ছাত্রদের মতো দুর্ভাগা জনগোষ্ঠী খুব বেশী নেই। রাষ্ট্রীয় বাহিনী এদের হত্যা করলে তারা পুলক বোধ করেন। আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করলে তারা তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। অনেকেই বলেন যে বাংলাদেশে ফাঁসি নিষিদ্ধ হয়ে যাক অসুবিধা নাই, কিন্তু সেটা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেয়ার পরে। বাংলাদেশে একটি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক সরকার একটি হাস্যকর নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ার ধরে রাখলে তারা বলেন গণতন্ত্রের আগে উন্নয়ন প্রয়োজন।

এরকম স্ববিরোধিতা নিয়ে মোরাল হাইগ্রাউন্ড দাবী করাটা শুধুমাত্র হাস্যকর হলে আপত্তি ছিলো না – এটা বিপজ্জনকও বটে। তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত ফেমিনিস্ট। তিনি যখন খালেদা জিয়ার ভ্রু আঁকা নিয়ে বিশ্রী ভাষায় কটাক্ষ করেন তখন “অনারীবাদী” পুরুষেরা একটা স্বাভাবিক প্রশ্ন তোলেন যে এই একই কাজটা আমি করলে কুৎসিত শভিনিস্ট কিন্তু আপনি করলে ঠিক আছে কারণ আপনার ভ্যাজাইনা আছে আর আমার তা নেই। এবং এ জাতীয় কথাভাজা শেষ হয় সাধারণত একটি বাক্য দিয়ে, গুষ্টি মারি তোর এই ফেমিনিজমের। ফেমিনিস্ট মুভমেন্টের যে কথাগুলো শোনা পুরুষদের জন্য ফরজ ছিলো সে কথাগুলো হারিয়ে যায় ফেমিনিস্টদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড এর জন্য।

আমাদের সমাজ যে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক কূপমোন্ডুকতায় বিপর্যস্ত সেটা কোনো খবর না। বিজ্ঞান ও মুক্তচিন্তা সত্যিই পারে আমাদের সমাজের চিন্তার মুক্তি ঘটাতে (চিন্তার মুক্তি মানে আপনাকে আঘাত করে কোনো প্রত্যাঘাতের ইমিউনিটি না)। সে নিরীখে আমাদের দেশে প্রয়োজন আছে মুক্তমনা’র মতো ব্লগের। কিন্তু সেই চেষ্টা মাঠে মারা যাবে যদি আপনি যাদের কাছে টানতে চান তাদেরকেই খোচানো শুরু করেন সবার আগে। তর্কে জেতাকে আপনি শিরোপা মনে করেন, তার জন্য ফ্রি-স্টাইল কুস্তিতে আপনার আগ্রহ। যাকে আপনি আপনার দলে নিতে চান তাকেই আপনি শত্রু বানাতে চান সবার আগে। অল্প বিদ্যা ও বেশী জজবার এটাই হোলো কুইনটেসেনশিয়াল লক্ষণ।

image-3

প্রশ্ন ওঠে যে যারা মুক্তচিন্তার পক্ষের মানুষ তারা মুসলমানদের নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যে – এমন কি ইসলামকে নিয়ে ন্যায্য সমালোচনা করলেও কি ধর্মীয় ফ্যানাটিকরা উন্মত্ত হয়ে উঠবে না? এমন কি হয় নি বাংলাদেশে? প্রশ্নটা ন্যায্য এবং এই প্রশ্নের সদুত্তর দেয়া প্রয়োজন। হ্যা, বাংলাদেশে ইসলামী ফ্যানাটিসিজম আছে এবং হ্যা, তারা বহু প্রয়োজনীয় সংস্কারেরও উৎকট প্রতিক্রিয়া দেখান। এ কথার বিরোধিতা হয় না।

এর একটা বড় কারণ সম্ভবত আপনি নিজে – সৎভাবে প্রশ্ন করুন। সম্ভবত মানুষ হিসেবে দাড়িটুপি ওয়ালারা আপনাকে কনফিডেন্সে নেয় না কারণ রাজাকারের প্রসঙ্গ আসলেই আপনি একটা দাড়িটুপি ওয়ালা ব্যক্তিকে খাড়া করান। এতিম বাচ্চাদের দেখভাল করার দায়িত্ব তো এতিমখানার না, রাষ্ট্রের – কিন্তু রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব পালনে বাধ্য তো আপনি করানই না বরং রাষ্ট্র এদের বিপক্ষে গেলে আপনি তালি দেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব যে মাদ্রাসাগুলো পালন করে চলেছে যুগের পর যুগ ধরে সেজন্য তাদের কোনোদিনও সামান্য ধন্যবাদ দেন নি। আপনি গণতন্ত্রের কথা বলেন কিন্তু একটি অবৈধ অত্যাচারী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করলে আপনি বলেন যে গণতন্ত্রের আগে উন্নয়ন প্রয়োজন। আপনি যদি একটু নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করেন তাহলে দেখবেন যে আসল সমস্যা এটা না যে আপনি তাদের মতোন না বরং আপনি নিজে যা দাবী করেন সেটা আপনি নন। এই দাড়িটুপিওয়ালাদের একটা বিশাল অংশ নোম চমস্কির বিশাল ফ্যান। কৈ, চমস্কির নাস্তিকতা আর বিজ্ঞানমনষ্কতা তো তার মুসলমানদের হিরো হওয়াতে কোনো সমস্যা হয়ে দাড়ায় নি। কারণ তার নাস্তিকতার চেয়েও বড় ব্যাপার হোলো তার উচ্চ নৈতিকতা ও সেই স্ট্যান্ডার্ড এর ওপর অবিচল আস্থা। তিনি প্রতিষ্ঠানের বিপক্ষে গিয়ে সত্যের পক্ষে দাড়ান। এই শক্তি যদি আপনার থাকতো, আপনার বন্ধুদের থাকতো তাহলে দাড়িটুপি ওয়ালারাও আপনার সাথে থাকতো।

একটা প্রশ্ন আপনার নিজেকে করা খুবই প্রয়োজন। আপনি নিজে কোন পক্ষের মানুষ? আপনার কার্যকলাপ কি ফ্যানাটিসিজম উস্কে দেয় না নিবারণ করে। যদি ফ্যানাটিসিজম উস্কে দেয় তাহলে তো আপনার লক্ষ্য অর্জিত হবে না। আপনার কি সত্যিই প্রয়োজন আছে আঘাত করার? কেন আপনি বিশ্বাস করতে পারেন না যে যুক্তির নিজস্ব যে শক্তি সেটাই যথেষ্ট অন্ধবিশ্বাসকে মোকাবেলা করার। ডারউইনের তো প্রয়োজন হয় নি খোদাতালা নেই – এই দাবী করার। তার বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট ছিলো বিবর্তনবাদ যে সত্য সেটা প্রমাণ করার জন্য।

যে কেও দশটা ইসলামিক ইতিহাসের বই পড়ে মুসলমানদের ইতিহাসের, তাদের সমাজের, তাদের রাজনীতির সমালোচনা করে একটা খাসা বই বাংলায় লিখে ফেলতে পারেন, কিংবা মুসলমানদের কিছু ঐতিহাসিক প্রিয় চরিত্রের সমালোচনা করতে পারেন। এর মধ্যে কোনো কেরদানি নাই, দুঃখিত। কঠিন কাজ হোলো আজকের সমস্যাকে আজকে মোকাবেলা করা, আজকের রসদ দিয়ে। এই দিক থেকে চিন্তা করলেই বুঝবেন যে আমাদের আসল সমস্যা ধর্মতাত্ত্বিক না। আমাদের দেশের মানুষেরা এখনও শিক্ষার অভাবে চিন্তা করতে শেখে নি। আপনি যদি বলতে থাকেন যে তুই ব্যাটা মুসলমান বলে চিন্তাই করতে পারোস না, তাহলে আপনার জিঘাংসা মিটবে একটু বটে কিন্তু সে তার নিজের কমফোর্ট জোনে আরো বেশী করে খাবি খাবে। তাকে আপনি আরো বেশী উগ্র হতে সাহায্য করবেন।

কিন্তু আপনি যদি তাকে বলেন যে আপনার মেটাফিজিকাল দুনিয়া নিয়ে আমার কোনো কথা নেই এবং সেটা নিয়ে আপনি আপনার মতো থাকেন। কিন্তু এই ফিজিকাল দুনিয়ায় বিজ্ঞান ছাড়া আর কোনো ব্যাখ্যা নেই তাহলে সে হয়তো আপনার কথাটা মনোযোগ দিয়ে শুনবে। যদি বলেন যে আপনার ধর্ম আপনি মনোযোগ দিয়ে পালন করুন কিন্তু আমার কথাটা শুনুন কারণ বিজ্ঞান আর যুক্তি ছাড়া এই পৃথিবীতে সফল হওয়া কঠিন তাহলে বলা যায় না সে একদিন হয়তো ধর্ম বিষয়েও আপনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে। বিবর্তনবাদ খুবই প্রয়োজনীয় বিষয় এবং প্রত্যেকের সেটা বোঝা প্রয়োজন। আপনি নিজে বিবর্তনবাদের আধুনিক প্রসঙ্গগুলো বোঝেন না ঠিকমতোন কিন্তু অন্যকে বোঝাতে হবে আপনি এর ওস্তাদ। তাই বিবর্তনবাদকে এমনভাবে হাজির করেন যেন এর একমাত্র উপযোগিতা হোলো খোদাতালা যে নেই আর আদম-হাওয়া বলে কেউ আসে নি সেটা প্রমাণ করা। একবারও বোঝার চেষ্টা করেন না যে আপনি যদি বলতেন যে – খোদাতালা আছে কি নেই এ নিয়ে আপনি আপনার মতো করে সিদ্ধান্ত নেবেন কিন্তু এই হচ্ছে বিবর্তনবাদ – তাহলে আপনার শ্রোতা লাইফ সায়েন্সের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই তত্ত্বটিকে অন্তত মনোযোগ দিয়ে শুনতো। আপনি যদি তার ধর্ম বিশ্বাসের সাথে বিবর্তনবাদের বোঝাপড়ার দায়িত্ব তার ওপরেই ছেড়ে দিতেন তাহলে হয়তো সে অন্তত একটা সৎ চেষ্টা করতো বিবর্তনবাদ কী এটা জানার জন্য। সে হয়তো উপলব্ধি করতো যে পুরো লাইফ সায়েন্স দাড়িয়ে আছে বিবর্তনবাদের ওপর এবং এটা কোনো হাইপোথিসিস না, প্রমাণিত সত্য। এই গুরুত্বপূর্ণ মেসেজটা তাকে পৌঁছাতে না পারার পেছনে আপনি নিজে যে একটা বড় প্রতিবন্ধক সেটা আপনি স্বীকার করতে রাজি নন কারণ আপনার কাছে বিবর্তনবাদ হচ্ছে আপনার দার্শনিক অবস্থানকে বৈজ্ঞানিক অবস্থান বলে প্রমাণ করার একটা কৌশল মাত্র।

সম্ভবত আপনার বদ্ধমূল ধারণা যে মৌলবাদীদের “শেষ” করে দিতে হবে। তাদের পরাস্ত না করতে পারলে আপনার বিজ্ঞানমনষ্কতা সমাজে শেকড় গাড়বে না। এই যদি হয় আপনার সিদ্ধান্ত, বলতে বাধ্য হচ্ছি আপনার কাণ্ডজ্ঞানের ঘাটতি আছে। নাহ, “তাদেরকে” আপনি শেষ করতে পারবেন না। কারণ তাদের একটা ক্রিটিকাল মাস আছে যেটা আপনাদের নেই। হ্যা বদলাতে আপনি পারবেন যদি আপনি নিজেকে বদলাতে সম্মত হন। যদি আপনি তার বিশ্বাসকে সম্মান করে সহবস্থানে রাজী হন তাহলে, যদি আপনি আপনার অটল নৈতিকতায় বিশ্বাস রেখে একটা হাত বাড়াতে সম্মত হন, তাহলে সেও আপনার বিজ্ঞানবাদ গ্রহণ করে উপকৃত হবে। বলা যায় না অনেকে আপনার মতো হওয়ারও চেষ্টা করতে পারে।

এজন্যেই কি আপনি লেখালিখি শুরু করেন নি?

ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে নেয়া কিন্তু ফোটোগ্রাফার করা খুঁজে বের করতে না পারায় কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা গেল না। মাফ করবেন।