প্রিয় মার্ক

By Elora Zaman

বাংলাদেশ নামের একটি ক্ষুদ্র দেশের অখ্যাত এক গ্রাম থেকে লেখা একটি চিঠি। ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গকে উদ্দেশ্য করে লিখেছে সে দেশেরই একটি মেয়ে। মেয়েটি ফেইসবুকের মাধ্যমে পৃথিবীর বাকি মানুষদের সাথে কানেক্টেড থাকতো আর জানতে পারতো চমৎকার এই গ্রহের অপর প্রান্তের মানুষদের চিন্তা ভাবনা, জীবনাচারন।

নীচের ই-মেইলটি সেন্ড করলাম। যারা বাংলা পড়তে আরাম বোধ করেন তাদের জন্য নীচে বাংলায় ও লিখেছি। সবাই যদি এরকম টুকটাক লিখে পাঠান তবে অন্তত বিনাযুদ্ধে সুচাগ্র মেদিনী দেইনি বলতে পারবো।

প্রিয় মার্ক,
অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে আপনার কাছে লিখতে বাধ্য হয়েছি। বিগতদিনে আমরা দেখেছি আপনি বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একজন মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে আপনি বাংলাদেশীদের অন্তরে আছেন। সেই ভরসায় আজ কিছু বলতে চাই। জানিনা আমার এই চিঠি আপনি পাবেন কিনা। তবুও একান্ত অসহায় হয়ে লিখতে বসেছি।

আপনি হয়ত অবগত আছেন আমাদের সরকার এইদেশে ফেইসবুক বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কিছুদিন হল। প্রায় চার কোটি ফেইসবুক ইউজারদের ইচ্ছে অনিচ্ছাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তারা আমাদের বাক স্বাধীনতা হরণের কার্যক্রম বহাল রেখেছে। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা জোর করে মাত্র ৫% ভোটে ক্ষমতায় অবস্থান করছে। জনমানুষের জন্য তাদের চিন্তা নেই। জনগণের কথাকে তারা পাত্তা দেয়না। কেউ প্রতিবাদ করলেই হত্যা, গুম এবং বিভিন্ন ধরণের ভয় ভীতি দেখানো হয়। এদেশের প্রায় বেশিরভাগ জনগণ এখন প্রচন্ড অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছে। সরকারের বিপক্ষে যদি যৌক্তিক কোনো সংবাদ প্রচার করা হয় তবে সেই সংবাদ মাধ্যমকে বন্ধ করে দেয়া হয়। জনপ্রিয় কিছু সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইতিমধ্যে এবং তাদের মালিকেরা এখন কারাগারে।

সরকারের ইচ্ছে কেউ তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছুই যেন না বলতে সাহস পায়। কিন্তু তারা হয়ত ভুলে গিয়েছে জোর করে দেশের সব মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের দলে ভেড়াতে পারা যায়না। হিউম্যান ন্যাচার হল তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে। এদেশের মানুষেরা তাদের সেই প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিলো আপনার অবদান তাদের প্রিয় ফেইসবুকে। যে ছেলেটি রাজনীতিকে ঘৃণা করে সেই ছেলেটিও ভয়ংকর এই সরকারের স্বৈরনীতির বিরুদ্ধে উচ্চকন্ঠ হতে বাধ্য হয়েছিলো প্রিয় মাতৃভূমিকে ভালোবেসে। নিজের দেশকে ধ্বংসের মুখে ফেলতে দিতে চায়নি সে। অথচ আজ তা দূরে থাক, সে তার প্রিয় বন্ধুটির খবর ও নিতে পারছেনা ফেইসবুক বন্ধ থাকায়। ফেইসবুক ব্যাবহার যেহেতু তুলনামূলকভাবে সস্তা সেহেতু কোটি কোটি মানুষ একে আপন করে নিয়েছে, বেছে নিয়েছে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে। এতই প্রিয় এই ফেইসবুক আমাদের কাছে যে একদিন এতে প্রবেশ না করতে পারলে যেন সময়কে অপূর্ণ মনে হয়।

অথচ দুঃখজনক হল, সরকার চাইছে আপনি আপনার এতসব ইউজারদের প্রাইভেসীকে উপেক্ষা করে তাদের সকল ইনফরমেশন সরকারের কাছে দিয়ে দেন। যেনো তারা ইউজারদের ধরে নিয়ে গিয়ে জেলে রাখতে পারে, হয়রানী করতে পারে কিংবা ভীতি প্রদর্শন করে তাদের বিরুদ্ধে না লিখতে বাধ্য করতে পারে। এই সরকারের দ্বারা বিগতদিনে ১৭ বছরের বালক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন শুধুমাত্র ফেইসবুকে দুইলাইন লিখবার কারণে।

আশাকরি আপনি বুঝতে পারছেন আমরা কি ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। অন্যায় যে করে সে সর্বক্ষন ভয়ে থাকে, সবকিছুতেই ভয়ে থাকে যে এই বুঝি কেউ প্রতিবাদ করে ফেললো। আর তাই তারা প্রতিবাদী মানুষদের দমন করে কঠোর হাতে। সরকার ঘোষনা দিয়েছে আপনার সাথে চুক্তি করে ফেইসবুক ইউজারদের গোপন তথ্য জেনে নিয়ে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। তারা এতই ভীত তাদের অপকর্ম নিয়ে। এবং ক্ষমতায় জোর করে থাকবার জন্য মরিয়া যেনো বিশ্ববাসী তাদের অন্যায় সমূহ সম্পর্কে জানতে না পারে আর তারা রুল করতে পারে অস্ত্রের জোরে, দমননীতি গ্রহণ করে।

এমতাবস্থায় আপনি যদি আমাদের আশ্বস্ত করেন যে আপনি এই কোটি কোটি জনগণের পাশে থাকবেন, কোনো স্বৈরাচারী সরকারের পাশে নয়, এই সরকারের গুটিকয়েক মানুষের ইচ্ছায় আপনি আমাদের প্রাইভেসী ব্রিচ করবেন না কিংবা আমাদের কোনো ব্যাক্তিগত ইনফরমেশন তাদের হাতে তুলে দেবেন না, তবে আমরা স্বস্তি পাই। এইজন্যই আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করা। নিজ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে আমি বারবার কেঁদেছি। নিজেকে ধীক্কার দিয়েছি। তবে সরকার যখন মানুষের বিপরীতে অবস্থান নেয় শত্রুর মত, তখন একান্ত নিরুপায় হয়ে আপনাকে লিখতে বাধ্য হবার এই প্রয়াস ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। ভালো থাকবেন।
.
.

A young girl with her ever lush mind rediscovered herself in the contemporary world of networking and socialisation with free and fast paced information flow, as she wandered in the online virtual getaways from a physical location of a tiny village of a small country named Bangladesh. As the little world and yet so big that she lived in seemed to be on the verge of being shattered, she wrote a letter to Mark Zuckerberg. Facebook was not just more than a face and a book to her; it was her universe to her inquisitive amicable mind seeking to remain connected and informed of the lives and laughter of the people from the other side of the planet. She wrote:

Dear Mark,
I am compelled to write you this letter with a heavy heart. In the past, we have seen you have stood firmly beside the helpless people affected in various natural and humanitarian crises of the world. I can reaffirm that as a person with great sense of moral responsibility and principles, you have had always occupied an important place in the hearts of the Bangladeshis. It is this confidence that encourages me to say a few things through this letter, although I am unsure whether this letter will really reach you. However, I am writing it as I am totally helpless and do not see another option.

You may be aware that the government of Bangladesh has shut down access to facebook in Bangladesh for sometime now. By showing absolute disregard to the rights and preferences of some 40 million facebook users of Bangladesh, the government has kept on snatching our right of freedom of speech and expressions.

This government, as you may know, is not elected by people’s vote through a proper democratic process. They are just holding on to the power by force with a meagre 5% support of the total population. They possess no concerns for the people of the country whatsoever. They turn a blind eye to the opinion of the people. Anyone trying to protest against their evil intent and illegitimacies has to deal with their threats of murders, abduction or other forms of tortures and harassments. An overwhelming majority of the population is living helpless lives now a day. Any media broadcasting any news of utmost veracity but going against the government, is forcefully brought under complete closure. Already a number of popular newspapers and television channels have been oppressively closed down by the government, with their owners jailed in sheer isolations.

The Bangladesh government wants to create an environment so that no one can dare to exercise their right of freedom of expression, no matter how basic that could be, to say anything against them. However it looks like they have forgotten that it is not possible to keep all the people of the country intimidated and forced to be on their side. Inherent in human nature is to protest and remonstrance against all evils and injustices. With all options virtually ceasing to exist, the people of Bangladesh kept on their voices of protest heard so far through your unprecedented contribution: Facebook. Even the innocent young men who never affiliated themselves in politics, were bound to raise their voices out of their love for the motherland, to protest against the autocracies of the government using the facebook as their only platform. They didn’t want to let their country be pushed to the brink of collapse.

However, with the current shut down of facebook in the country, they are not even capable of connecting to their dear friends, let alone using facebook to pursue broader benefits and better causes. Because facebook is a complementary site for the account holders, millions of people of Bangladesh have embraced facebook as integral parts of their daily lives. We love facebook so much that any single day without accessing facebook seems rather unfulfilled.

However, it is very unfortunate that the government of Bangladesh wants you to provide the information of all the facebook users to them completely neglecting the privacy of these users. The government’s filthy intent is to arrest the users and keep them in custody, harass them or coerce them not to write anything against the government. In the past, many people, from a 17- year old lad to university professor have been arrested by the government only for writing something in facebook against the government.

I hope you understand what dire straits we are living in at the moment in this country. It is well known that the perpetrators and wrongdoers are always afraid of confronting protests against their evil deeds. Hence they tend to gruellingly repress the ones who protest and oppose, which is especially easy when they are the authorities themselves. The government of Bangladesh has announced that they will get into an agreement with you to access confidential information of the facebook users, to prosecute and bring them to judicial trial. The government is so frightened because they are fully aware of their misdemeanours and sins. They want to hold to the power by any means, by ensuring that the outside world remains ignorant of their mischiefs and they can continue their autocratic regime using guns and power to threaten and repress people.

Under the circumstances, it would be our ultimate relief to know that you will be beside the millions of us, and not with only a handful of people of the current autocratic oppressive government of Bangladesh, and you will not breach our privacy or provide any of our personal information to the government. This is what I wanted to draw your attention upon. Writing against the government of my own country has not been easy and I couldn’t resist shedding tears. I resented myself time and again. However, please forgive this endeavour of mine to be in touch with you and I hope you will understand how undone we are with the government taking a belligerent stance against its own people, which leaves us with no option other than to write to you to get our rights of freedom of speech and expression preserved through the facebook.

May Allah bless you! Stay safe.

Missed Calling: No Exit: November.

Missed Calling: No Exit: November.

 

                                                                                                                                    Seema Amin

The month of November, with its scheduled nascent coolness, has been the unofficial portent of a three month winter season of staged ‘culture’ for years; the capacious capital boasts its social capital (the synergies of its urban, global, and now, ‘trans-rural’ agglomerations) in established platforms like Hay (Dhaka International Literary Festival) and Bengal’s Classical Indian Music fest as well as the more recent ‘blockbusters’of Samdani Art Summit and BPL/ICC.  This year, rehearsed loudly in the habitual corporate brochures, event catalogues and free/ VIP registration circuits, a new entree has entered the menu of the spectacle.

The Dhaka International ‘folk’ festival, a rather pink fountain for variously colored thirsts—popular Lalon and Sufi exponents branded or re-branded ‘folk’ in the well-protected precincts of the Army stadium—had its debut, as highbrow, lowbrow and middlebrow sat in classified and declassified zones during the hallowed trinity– three nights of ‘Bliss’ not to ‘miss’ — together in concert as they almost never are, except possibly…. in queue on voting day. Ai! The month is a harbinger, too, of not only Jibananda’s once punctually rapturous rural winter and the hemanta harvesting of amon rice but the municipality polls, 2015. The barely audible static surrounding these polls, in contrast to the April 28 mayor polls, hardly interfered with our recreational sublime.  One would have to be exceptionally and easily bored to notice the odd man out in the rose-colored screen that dropped over the writer/publisher serial murders and the posthumously advertised petrol bombs of January: blue prison vans here and there, uploading busloads of new arrivals in the already overloaded Dhaka Central Jail. If one cared to, however, one might notice the bars of music synchronized to the bars of the prison vans, inside which only the hands of anonymous prisoners are visible…Outside Jahingar gate that opens to the cantonment where urban vintage and musical ‘enlightenment’ is tasted… zig-zagging traffic through Shahbag… No Prussian or electric blue, no warm or fluffy blue: the prison blue of the prison van.

On a sudden, if a staccato rhythm suddenly jerks our gaze and we see thirteen brown hands shaking the small bars that open to the outside world inside the moving penitentiary…our imagination might take us somewhere…quite far, as far as a Passage to India..or rather haphazardly…as mine did, to Grameenphone. I imagined, for I am particularly and peculiarly imaginative, that these thirteen hands, shaking the van for what it’s worth, picked up from god knows where, were missed calling the Dhaka Folk festival, the one that almost tempted me with its constellation of stars and the understated smell of dried roses.

Such an understatement: prison.  The headlines from September do not overstate the bodies it contains: 17,000 workers/activists of the (unofficial, major) opposition. The subheading on the front page of the Daily Star from November 21: Party Claims 500 of its prospective candidates detained this month. Elsewhere:  “Every day, three hundred of our workers are picked up…”  Forget the cases against 22,000 of its leaders and activists. Just count the number detained each day…hell, if there were three consecutive storms in the south not as many rickshawallahs could show up in the capital.

We live in insecure times, alias, very secured times. From bleeding Paris to burning Dhaka, a blanket of security, a grid of surveillance and its alter ego– mass arrest and mass detention, is thrown over us.  Before we had time to swallow the enormity of the ‘insecurity’ posed by five bloggers and a publisher killed in the last eight months, we were covered up in a ‘blanket of security’.   Before we could register the one-party municipal election we are about to enjoy, two eagerly awaited hangings were announced.  Thus, and so:

“Nirapothar chadore dheke rakha hoyechhe Dhaka Central Jail.”  Good, in fact thank you, but has the blanket been lifted since? Will this coldness, this fear, ever thaw? And did the blanket really come down that fateful night when history was served or was it already keeping us warm in an ever warmer earth?

Precedents are perhaps all we are about… “Amader first hote hobbe, tai na…” An IUB faculty and friend was sarcastically referring to biometric SIM registration and how we were proudly stepping into unchartered territory, with the exception of one or two African states.  Terrorism calls for terrific measures. But if the opposition, and its hundreds of thousands of supporters, is not a banned terrorist outfit—in spite of endless rhetoric that would have it even more illegitimate than Jamaat, not even just by association anymore—this form of ‘delegitimizing’ a political party would normally have the effect of delegitimizing the state that has declared an unofficial war against almost forty percentage of its population.

While the imprisonment of leaders before the nonetheless performed spectacle of petrol bombs during January’s post electoral blockade can be post facto argued as “pre emptive,” the pre-emptive ‘strike’ of November has no deductive or inductive logic behind it. It is simply justified—if it is justified at all, no one feels the need in a climate of generalized ‘terror’– by the suspicion of potential sabotage (albeit sabotage of ‘normalcy’ as much as anything else). One man’s sabotage is another man’s subterfuge:  will potential provocateurs and saboteurs, disciplined, remanded, be released in time for elections?  Discipline and Punish: just don’t make this spectacle so damn obvious.  News from yesterday: We are looking forward to Awami-Awami violence, in case we miss the normal bipartisan blood spilled.  Thousands languish in Bangladeshi prisons since time immemorial (that’s colonial Greenwich standard time); but the hundreds of thousands in prison now herald the zeitgeist of a new political age (If we are to look for precedents in our own history, the parallels could get tricky, from the Pakistani period to BAKSAL)

The question occurs, under what climate, in what world, through which discourse, can a society accept this form of ‘open’-literally, for many are in a permanent ‘makeshift’ prison in tents–incarceration of tens of thousands of its people? The grassroots workers in jail, those who ‘do’ the BNP (just as their counterparts who ‘do’ the Awami League), are not separate form this society.  Their party has not been declared ‘illegal’ or even ‘illicit’ as Jamaat’s has—even– rhetorically;  yet, by all means, if there is any path towards such a historic moment, then the mass detention of the (unofficial) opposition’s workers certainly entail that inexorable destiny. In world and national history it is one-party or one-man/woman dictatorships that have been synonymous with such mass detention (apart from episodes of ethnic cleansing, etc).

Not a few fingers point to a state that has one, inviolable source of legitimacy: the war crimes tribunal (i.e. a historic burden of Chetona).  In itself, it is no mean source, with genuine support if not national consensus, much more powerful than the regime’s growth rhetoric.  Yet, apparently it is not sufficient to ensure the sound sleep of our rulers, underneath that blanket of security: complete acquiescence seems necessary, the slightest divergence/dissent somehow points at the threat of a critical mass, ‘democracy’ seems as much a threat as ‘terror.’ Critical mass (the threshold on which the status quo one day dissipates) where the foundations cannot hold. Thought is almost as ‘unfree’ as action.

Again, let me repeat, not to say that AL does not have support, the highest members of the ‘culture literati’ paid homage to the PM for her ‘environmental achievements’ even as UNESCO finally expressed alarm at Rampal power plant in the Sundarbans.

But these same supporters, who ‘cover’ with a shroud of protective love, fierce rhetoric and sometimes, sometimes, genuine feeling, never even feel they have to answer why thousands of BNP’s workers are being rounded up before the polls, rather than—just for comparison’s sake– thousands of Jamaat’s workers before the verdict of a war criminal. The threat of the BNP organizing its grassroots workers (leaders in September declared they had begun work in 74 units) seems sufficient condition for such blatantly totalitarian actions by the regime.

But I have a proposition: remember how ‘we’ were comparing the BNP to the Naxals? Absurd to some, perfectly logical to others, but hey, for rationality’s sake/if not realpolitik: why don’t we just follow through and do what India did with them? Why don’t we declare them illegal? At least then that section of Bangladesh considering opposition politics as a legitimate form of protest will know that somehow their actions have crossed a boundary that never existed when their counterparts were in their place ( history begins and ends with the victors and why should this be different?)— know that they have been so ‘burnt’ in the eyes of the public, in poetic banners and graffiti all over town, that they are not allowed to function legally?

Look into the legal question.  Lock the terror away—no, confiscate, quarantine, suffocate, squelch, corner, liquidate… No…they will only throw blockbuster shows, while the prison vans carry them away…

Alas, the question is not legal.  In a country of one hundred sixty million people, if the forty percent of the population that constitutes BNP’s core vote is incarcerated and ‘incarcerable’, the prison-bail-remand industry becomes a lucrative source of profit.  And more importantly, virtually endless. Prison, after all, is not just perianal amusement, mind you, but often referred to as an industrial complex, with a vibrant economy.  In America, the ‘military-industrial’ complex has its own GDP, if you will.

One of the biggest (baddest, baby) ‘throwers’ of parties in Bangladesh is the military: so are the US Marines stationed here in Dhaka.  The military has always been a key player in Bangladeshi politics, but its cultural import should not be considered insignificant; for reasons both profound and ironic, it still inspires respect, awe and submission. The army stadium, just one platform for civic ‘togetherness’ is just a token ‘cultural refreshment’, only a mocktail after all, not a Molotov…

Now, this article is not another brick in the wall of the well-established discourse of a militarized, police state. Or an obituary for the opposition; or even, the slightest death threat to the ruling regime.  It is, if anything, a missed call to the uncritical ‘mass/class’ here and there orbiting November, December, January… To pretend everything is normal as long as the wheels of growth do not grind to a halt is the great virtue of the capitalist mode of production and, if you will, mode of ‘life’ and death. And, if anything, the ‘culture’ precedes the politics.

‘Art’ replaced God in the west a long time ago as the ‘opium’ of the m/asses, as a professor of literature in the University of Geneva once declared to me…The tourists may come to the biggest show in town in February, the Samdani Art Summit, through different borders than the dealers in arms, but the circuits of pleasure and pain somewhere do meet, perhaps in the no man’s land of spectacle. Oishi will have a noose on her neck, but the security forces and godfathers who deal in yaba will not.  War criminals who facilitated or participated in the torture of so many will hang but those who keep well-identified torture cells today will not. The age of the spectacle does not let us mourn the horrors of a terror attack or the loss of our freedoms long, sublimating everything into fear and/or joy,  lest we recognize other crimes, other criminals, repeating history piecemeal,  like the bullet-perforated path of a third world war. And the prison vans pass us by, on our way to the ‘theatre’. Yesterday’s news of ISIS, tomorrow’s news of Ansarullah Bahini, and a promise of more of the same.  Nothing, nothing between pleasure and pain, the keyboard set to this scale. No third taste, no minor chord.  Once in the theatre, that old Arabic root word next to the Latin: No exit.

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে স্বৈরাচারের সাফাই

by Ariful Hossain Tuhin

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে একটা মতামত বিশ্লেষণ ছাপা হয়েছে (link at the bottom of article) বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কথাবার্তার ফাকে একটি অনুচ্ছেদ বেশ চোখে পরার মত —

“But the battle between the BNP and Ms. Hasina’s Awami League—marked by pitched street battles and paralyzing strikes—isn’t between two equally bad parties. Ms. Hasina stands for a country whose Muslim majority lives in harmony with both its own distinctive Bengali cultural traditions and with other faiths. The BNP, by allying with Jamaat-e-Islami and condoning violence to force fresh elections, mostly offers strife and intolerance.”

প্রথম আলো অথবা ডেইলী স্টারেও আসলে এই ভাষায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অপ-এড ছাপা হয় না। ২০০৯ সালের দিকে আনিসুল হকরা লিখতেন “ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড বাদ দিলে সরকারটা আওয়ামী লীগ খারাপ চালায় না”। আনিসুল হকের ঐ বক্তব্যের কনটেক্সট ছিল কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কিছু “কৃষিবান্ধব” পলিসি। ২০১৫ সালে আনিসুল হক এইভাবে লেখার সাহস করেন না। আসলে আবদুল গাফফার চৌধুরী ছাড়া কেউই বোধহয় ২০১৫ সালে এইভাবে লিখতে পারবেন না।

ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল রুপার্ট মারডকের মিডিয়া এম্পায়ারের অংশ। তাদের এডিটরিয়াল স্ট্যান্স প্রধানত নিও-লিবারাল পলিসির কট্টর এবং আন কম্প্রোমাইজিং সমর্থন দ্বারা পূর্ণ।

এই কারনেই এই অনুচ্ছেদের সাথে কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রের মিশর পলিসির সাথে মিল খুজে পান, তাহলে তাকে দোষ দেয়া যায় না।

আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্রএর মধ্য আমেরিকায় বিভিন্ন অন্যায্য কাজকর্ম যেমন সরকার উতখাত, গনহত্যাকারীদের সহায়তা দেয়া থেকে শুরু করে মাদক চোরাচালানীদের সাহায্য করা, কোনকিছুই বাদ পরেনি। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল রিগান এডমিনিস্ট্রেশনের ইরান-ইরাক যুদ্ধের “সাস্টেইন” করানোর নীতি। ইরান-কন্ট্রা স্ক্যাণ্ডালের সময় দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দুই পক্ষকেই অস্ত্র বিক্রি করছে।

গনতন্ত্রের নামে এক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অন্য স্বৈরাচারের পক্ষে দাড়ানোর স্ববিরোধিতাটুকু কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা সমাধান করত? এই স্ববিরোধিতাটুকু সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের অস্বস্তি ছিল। কিন্তু তারা একটি যুক্তি দাড়া করিয়েছিল।

যুক্তিটি কিম্ভুত।

যুক্তিটি হচ্ছে “অথোরেটারিয়ান” আর “টোটালিটারিয়ান” সিস্টেমের মধ্যে পার্থক্য করা।

১৯৭৯ সালে Jeane Kirkpatrick কমেন্টারী ম্যাগাজিনে এই বিখ্যাত ধারনাটির সুত্রপাত করেন। তিনি অবশ্য হানাহ আর্ডান্টের একটি ধারনাকে ঘুরিয়ে পেছিয়ে এই আর্টিকেলে উপস্থাপন করেন। তার বক্তব্য থেকে কিছু উদ্ধৃতি দেয়া প্রয়োজন —

“There is a damning, contrast between the number of refugees created by Marxist regimes and those created by other autocracies: more than a million Cubans have left their homeland since Castro’s rise (one refugee for every nine inhabitants) as compared to about 35,000 each from Argentina, Brazil, and Chile. In Africa more than five times as many refugees have fled Guinea and Guinea Bissau as have left Zimbabwe Rhodesia, suggesting that civil war and racial discrimination are easier for most people to bear than Marxist-style liberation.”

তার মতে বর্ণবাদ-গৃহযুদ্ধ থেকেও মার্কিস্ট একনায়করা খারাপ!

বুঝলাম মার্কিস্ট একনায়করা খারাপ। ভালো কথা। কিন্তু মার্কিস্ট না হওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রিয় ডিক্টেটরদের “ভালো গুনগুলো” কি? মানে এল সালভেদর কিংবা নিকারাগুয়া কিংবা এপার্থিড দক্ষিণ আফ্রিকা কেন বেশ ভালো এইটা বুঝতে তার প্রবন্ধটি আরেকটু পড়তে হবে —

“Since many traditional autocracies permit limited contestation and participation, it is not impossible that U.S. policy could effectively encourage this process of liberalization and democratization, provided that the effort is not made at a time when the incumbent government is fighting for its life against violent adversaries, and that proposed reforms are aimed at producing gradual change rather than perfect democracy overnight.”

হুম বুঝলাম। যেহেতু অন্য একনায়করা তাদের জনগনকে পার্টিসিপেইট করতে দেয় না, সেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের পলিসির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকা ঐসব সরকারের পক্ষে সহজ হবে। সুতরাং দেশের জনগন এখানে গুরুত্বপূর্ণ না। এমনকি গনতন্ত্র তখনই গুরুত্বপূর্ণ যদি সেই গণতন্ত্র থেকে এমন কোন পন্থা না বেড়িয়ে আসে যা যুক্তরাষ্ট্রের হেজেমনিকে আক্রমণ করতে পারবে।

তাহলে আসল গনতন্ত্রীর সংজ্ঞা কি?

এই সংজ্ঞাও লেখিকা দিয়েছেন —

“If, moreover, revolutionary leaders describe the United States as the scourge of the 20th century, the enemy of freedom-loving people, the perpetrator of imperialism, racism, colonialism, genocide, war, then they are not authentic democrats”

মানে যারা যুক্তরাষ্ট্রের পাপের খতিয়ান রাখে তারা “আদি এবং আসল” গনতন্ত্রী নয়। বেশ সোজাসাপ্টা হিসেব আসলে। গনতান্ত্রিক হতে গেলে নিজের দেশের জনগনের অংশগ্রহন নিশ্চিত করনের কোন দরকার নাই। গুরুত্বপূর্ণ পলিসি ইস্যুতে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সঠিক সুরে কথা বলতে পারেন, তাহলে আপনিও হয়ে যেতে পারেন “আসল গনতন্ত্রী”।

কিছুদিন আগে ইয়েমেনে সৌদি বোমা হামলার সমর্থন এর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে ওবামা এডমিনিস্ট্রেশনের একজন মন্তব্য করেছিলেন,

“The measure of the US policy should not be graded against the success or stability of the Yemeni government, that’s a separate enterprise. The goal of US policy toward Yemen has never been to try to build a Jeffersonian democracy there. The goal of US policy in Yemen is to make sure that Yemen cannot be a safe haven that extremists can use to attack the West and to attack the United States.”

৯/১১ এর পরে যুক্তরাষ্ট্রের পলিসির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বের অধিকারী বিষয়গুলোর মধ্যে উঠে এসেছে মিলিট্যান্ট ইসলামকে প্রতিরোধ করা। এখন কোনটা আসলে “মিলিট্যান্ট ইসলাম” সেটা অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারন সাদা চোখে অগনতান্ত্রিক, নিয়ন্ত্রনবাদী ইসলামিক রাজনীতিকেই যদি আমরা মিলিট্যান্ট ইসলামের প্রধান উপাদান ধরি তাহলে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্রই “মিলিট্যান্ট ইসলাম” নামের ছাতার তলে এসে জমা হয়। অন্যদিকে যারা “নিয়ন্ত্রনবাদী-অগনতান্ত্রিক” নয়, তারাও যদি যুক্তরাষ্ট্রের হেজেমনিকে অস্বীকার করে, যেমন ইয়েমেনের “হুতি”রা, তাহলে তারাও সন্ত্রাসবাদের তকমা পাবে।

এইসব ক্যাটাগোরাইজেশন করার সময় অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ পলিসিমেকার গাঁজা খেয়ে থাকেন বলে আমি বিশ্বাস করি। কারন একজন শিশুর কাছেও প্রতীয়মান হওয়ার কথা যে ইয়েমেনে বোমা হামলা এবং ততপরবর্তী নৈরাজ্যে সবচেয়ে লাভবান হবে AQAP( Al qaida in Arabian Peninsula)

এই “ব্রেইন ডেড” ডক্ট্রিনের উপর ভিত্তি করেই ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের এই প্রবন্ধটির গোড়াপত্তন। এই মুহুর্তে আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্রের পলিসির কাছাকাছি ন্যারেটিভে চলছে। সুতরাং এই মুহুর্তে বাঙ্গালদেশের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোন কথা হবে না। শুধু সরকার বিরোধীদের সন্ত্রাসই এখন সেই পলিসির চশমায় চোখে পরবে। এর সাথে দেশের মানুষের ইচ্ছা-আশা-আকাঙ্খার কোণ সম্পর্ক নেই।

আর এই কারনেই বিএনপিও বিভিন্ন চ্যানেলে বার বার সকলকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে, যে তারা কোনভাবেই যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের হেজেমনিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করবে না। তারাও সুবোধ বালকের মতই এই হেজেমনির আধিপত্যের ছায়ার তলে থেকে নিজেদের আখের গোছাবে।

এই খেলায় জনগন এবং তার ইচ্ছার কোন গুরুত্ব শেষ পর্যন্ত নেই। ৪৪ বছর ধরে চলা ব্যর্থ এক্সপেরিমেন্টকে ধাক্কা দেয়ার জন্যে যেমন ইনোভেটিভ চিন্তাভাবনার দরকার ছিল তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সেখানে শুধু প্রভুর প্রশাস্তি এবং প্রভুর আশীর্বাদে উদরপূর্তি একমাত্র লক্ষ্য।

http://www.wsj.com/articles/bangladeshs-good-fight-against-islamism-1429718057

বুয়েট ভ্যানটেইজ পয়েন্টঃ উপসংহার

By: Aman Abduhu

বুয়েট শিক্ষক পেটানোর ঘটনায় বিশাল তিন পর্বের ফিকশন লিখে ফেললাম। কেন লিখলাম জানিনা। সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা হওয়াতে। বিশ্ববিদ্যালয় শুনলেই মনে হয়, পড়ালেখা আর কো-কারিকুলারে ব্যস্ত ইয়ং ছেলেমেয়ে। বিভিন্নরকম ক্রিয়েটিভ কাজ আর প্রতিযোগিতা। টিচারদের সাথে বিভিন্ন সুযোগে বিতর্ক, সেমিনার। এখানে ওখানে নোটিশ আর এনাউন্সমেন্ট, বিভিন্ন রকম বৈচিত্র্যময় কাজ পড়ালেখা আর এসাইনমেন্টে দিন সপ্তাহ মাস বছরগুলো চোখের পলকে চলে যাওয়া। জীবনের সবচেয়ে সেরা সময়। বিশাল বিশাল ভবন, দীর্ঘ করিডোর, নিরব লাইব্রেরী আর পুরনো বইএর গন্ধ। সাথে নতুন নতুন সব প্রযুক্তির সুযোগ সুবিধা। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেখি, সাথে সাথে বুকের মাঝে একটু কষ্ট হয়, যদি আমাদের দেশে এমন থাকতো।

সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা হয়, বিষয়টা কল্পনা করে অবাক লাগে। আমি বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করি। সাথে সাথে পার্টটাইম টিউটর হিসেবে পড়াই। ঐসব ছাত্রছাত্রীরা আমাকে, অথবা কোন ফুল ফ্লেজেড টিচারকে পেটাচ্ছে, ভাবা যায় না। তাই হয়তো নাড়া খেয়েছি। যাইহোক, শেষকথাগুলো হলোঃ

১. ফিকশনে বাস্তবতার শতভাগ প্রতিচ্ছবি আশা করা বোকামী। ইতিহাস আর গল্প একসাথে লেখা একটি শাহবাগি কাজ। আমি গল্প লিখেছি, ইতিহাস না। বিস্তারিত ফুটনোটে*১ এ প্রসঙ্গে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা থেকে নেয়া কিছু কথা আছে। একই সাথে বাস্তবতার সাথে বিরোধী বা অসততা যেন না হয়, তা খুব দরকারী বিষয়। যেমন শুভ্রজ্যোতি শেরাটনের বারে গিয়ে এলকোহল টেনে সেলিব্রেশন করছিলো, এটা ফিকশন। কিন্তু ধর্ষক চাঁদাবাজ খুনী ছাত্রলীগের নেতাদের জন্য এটা স্বাভাবিক। কিংবা রাগিব হাসান সরাসরি কোথাও বলেনি এই শিক্ষককে জামায়াত করার অপরাধে বের করে দেয়া হোক, কারণ সে বুদ্ধিমান এবং তার কথার কনসিকোয়েন্স সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু এই কথা, চিন্তা ও কাজগুলোকে সে সবসময় মোটিভেট ও প্রমোট করেছে।

২. এই জঘন্য ঘটনার কারণ হলো ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ালেখার জায়গা। পিরিয়ড। টিচাররা কেউ আওয়ামী লীগ করবে, কেউ জামায়াত করবে, কেউ বিএনপি করবে, ভিসি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক নিয়োগ হবে দলীয় বিবেচনায়, ঐ শিক্ষাঙ্গনে খুন ধর্ষণ আর মারামারি করাটাই স্বাভাবিক। এই হলো বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়।

৩. সবসময় বলি, আওয়ামী-শাহবাগি এটা একটা দুষ্টচক্র। সব আওয়ামী শাহবাগি, কিন্তু সব শাহবাগি আওয়ামী না। জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির রাতে অনলাইনে জামায়াত সমর্থক শিক্ষককে তার জামায়াত সমর্থক মন্তব্যের কারণে গালমন্দ করা হয়েছে, ব্যান করা হয়েছে, তাচ্ছিল্যের সুরে তাকে ট্রিট করা হয়েছে। সেই থেকে অন্যরা শিখেছে যে শাহবাগী মতের ভিন্ন মতের শিক্ষককে বেয়াদবীর সুরে কথা বলা যায়, ধমক দেওয়া যায়, গালি দেওয়া যায়। পরের দিন ছাত্রলীগ যে বেয়াদবী করেছে তার শিক্ষা তারা ঐ গ্রুপের এডমিন এবং বেয়াদব কিছু ছাত্রদের থেকে পেয়েছে। আমি যতদূর জানি, এর আগে ছাত্রলীগ বুয়েটের কোন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার সাহস করেনি। কিন্তু শাহবাগীরা সেই সাহস তাদের যোগান দিয়েছে। সুতরাং প্রমাণ হয়ে যায়, শাহবাগিরা পলিসি মেকার, আর ছাত্রলীগের গুন্ডারা হলো তাদের মাসলম্যান।

৪. ঐ শিক্ষক জয় মা কালী, জয় ইনডিয়া লিখে মন্তব্য করেছিলেন। আসলেই কি তা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য? আমি মনে করিনা। বরং তা বাস্তব সত্যভাষণ। বাংলাদেশের ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন এবং ডিসক্রিমিনেশন করা হচ্ছে পরিস্কার। এবং এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও জঙ্গিবাদ উসকে দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দীর্ঘমেয়াদে বেনিফিশিয়ারী হতে চায়। দেশ আর সমাজ ধ্বংস হোক, ব্যাপার না। ক্ষমতায় থাকাটাই বড় কথা। হিন্দুরা এখানে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

৫. বাংলাদেশে স্বাধীনতার চেতনার নামে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে। এখানে দ্বিমত পোষণ করার অর্থ, রাজনৈতিক মতভিন্নতার অর্থ হলো বাংলাদেশী থাকার সুযোগ হারানো। আপনাকে পাকিস্তান চলে যেতে হবে। ঐ শিক্ষক জামায়াত করেন, তার অর্থ যদি হয় তাকে ক্যাম্পাসে পেটানো এবং নির্মমভাবে অপমান অপদস্থ করা বৈধ, তাহলে তা পরিস্কার করে বলা উচিত।

৬. সবশেষে, এ ঘটনা কোন সুস্থ স্বাভাবিক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটলে, সাথে সাথে নিরপেক্ষ তদন্ত হতো, গুন্ডাগিরি করা ছাত্রদেরকে প্রশাসনিক শাস্তি তো দেয়া হতোই, সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সরকারী আইন শৃংখলা কতৃপক্ষ তাদেরকে ফিজিকাল এসল্ট, এটেম্প টু মার্ডার সহ বিভিন্ন মারাত্বক অপরাধের শাস্তি হিসেবে বেশ কয়েকবছরের কারাদন্ড দিতো নিশ্চিত। পাশাপাশি ঐ ভিকটিম শিক্ষক তাকে নিরাপত্তা দেয়ার ব্যর্থতার কারণে ভার্সিটি থেকে কয়েক কোটি টাকা কমপেনসেশন বা ক্ষতিপূরণ পেতেন। বাংলাদেশে কি হবে? শুভ্রজ্যোতি আর কনকদের মতো গুন্ডারা মন্ত্রী এমপি এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দাঁত বের করে ছবি তুলে ফেইসবুকে আপলোড করবে আর দামী গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াবে।

জয় বাংলা।

*১ in my view, although I do agree with Churchwell on the paramount importance of meticulous research. But novelists are not history teachers. It’s not our job to educate people, and if we start using words like “duty” and “responsibility” about historical fiction – or any fiction – we’re in danger of leaching all the vigour out of it with a sense of worthiness. A novelist has no real duty to anything except the story he or she is creating, the characters who inhabit it and whatever view of the world he or she is offering with the novel’s ending. But if you are going to play fast and loose with historical fact for the sake of a good story, you’d better have done your research thoroughly if you want readers to take you seriously; only then will you have the authority to depart from those facts.

বুয়েট ভ্যানটেইজ পয়েন্টঃ দুই

By: Aman Abduhu
আজকে শুভ্রর মনটা বেশ ফুরফুরে। ফুর্তিতে তার আকাশে উড়তে ইচ্ছা করছে। সন্ধ্যার সময় ফোনে মন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে পেরেছিলো ফাঁসির কথা। তারপর থেকে ক্যাম্পাসে ঘুরাঘুরি আড্ডা, টিএসসি শাহবাগে মেয়েদের দেখে চোখের ব্যায়াম সেরে নতুন গাড়িতে চড়ে স্টার কাবাব। বুয়েট ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে সে এ ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়িটা ব্যবহার করছে। ঠিক সাড়ে দশটার সময়, যখন ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে, তখন সে দলবল নিয়ে কাচ্চি খাচ্ছিলো। পরের কয়েক ঘন্টা সে কাটালো হোটেল শেরাটনের বারে, দলের সহকর্মী বন্ধুদের সাথে। ফুর্তি আর ফুর্তি। দুনিয়াটাকে পায়ের নিচের কার্পেট মনে হয়। বিচার বিভাগ পুলিশ আর্মি সরকারী অফিস আদালত সব এখন শুভ্রজ্যোতিদের কথায় উঠে আর বসে। সে মাঝে মাঝে কল্পনা করে এভাবে দশ পনেরো বছর যেতে পারলে সেও একদিন পলক ভায়ের মতো তরুণ মন্ত্রী হয়ে যাবে। এখন গাড়িতে পতাকা নেই। তখন পতাকা থাকবে, পুলিশের এসকর্ট থাকবে।

শেষ রাতে হলে ফেরার পথে ফোনটা আসলো। তার এক চ্যালা জানালো, ফেইসবুকের বুয়েটের গ্রুপে জাহাঙ্গীর স্যার একটা মন্তব্য করেছে। ব্লগার পোলাপান তাকে ওখানে চেপে ধরেছে। ছাত্র ইউনিয়নের পোলাপান আবার লেখালেখিতে ভালো। তারা ফেইসবুকে লিখে স্যারকে চেপে ধরেছে। শেষ পর্যন্ত স্যারকে তারা ঐ গ্রুপ থেকে ব্যানই করে দিয়েছে। তারা যা করার করেছে, বাকিটা ছাত্রলীগের হাতে। বিস্তারিত শুনে সে বললো, এই সুযোগে জামাতি টিচারটাকে একটা শিক্ষা দিতে হবে। কাল তোরা ক্যাম্পাসে দেখা করিস। প্রথম কাজ হবে এইটা।

বারোটার দিকে তার শুভ্রর ভেঙেছে কনকের ফোন পেয়ে। তার সেক্রেটারী। খুব জোশিলা ছেলে, সবসময় তার হাত পা চলে, মুখ ততটা চলে না। নাজমুল ভাই ওবায়দুল কাদের ভাইদের সাথে সবসময় যোগাযোগ মেইনটেইন করে। শুভ্র জানে, কনকও মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবে সে কনককে হুমকি মনে করেনা। শুভ্র হিন্দু, তার কিছু বাড়তি সুযোগ আছে। এখন সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেই হলো। কিন্তু প্রতিযোগিতাও অনেক, প্রতিযোগী অনেক।

কাঁচা ঘুম ভেঙে এলকোহলের হ্যাংওভারে মাথাটা ব্যাথা করছে অনেক। কিন্তু ঐদিকে কনক চিৎকার করে যাচ্ছে সমানে। ফেইসবুকের ঐ জাহাঙ্গির স্যারের মন্তব্য নিয়ে না কি অনেক কিছু হয়ে গেছে। এই সুযোগে সবার সামনে একটা উদাহরণ রাখা দরকার। জামাতি হলে কারো মাফ নাই, এমনকি টিচার হলেও। পোলাপান সবাই কেন্টিনে আছে। কনফার্ম খবর আছে, জাহাঙ্গীর স্যার অফিসে এসেছে সাড়ে বারোটার দিকে। তারা সবাই এখন নেতার জন্য অপেক্ষা করছে। টায়ার্ড লাগলেও সে আর দেরি করলো না। হাতমুখ ধুয়ে বেরিয়ে পড়লো।

পরের ঘটনাগুলো সব দ্রুত ঘটে গেলো। স্যার প্রথমে একটু অবাক হয়ে তাকিয়েছিলেন। উথালপাথাল লাথি আর ঘুষি আর থাপ্পড় শুরু হওয়ার পর অবশ্য আর তাকানোর অথবা কোন কিছু বলার সুযোগ পেলেন না। পরে কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিলেন। ততক্ষণে তারা স্যারকে মারতে মারতে পাঁচতলা থেকে নামিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার সামনের রাস্তাটা হয়ে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর সামনে নিয়ে এসেছে। পচা ডিম আর মিষ্টিতে মাখামাখি হয়ে জাহাঙ্গীর স্যারের অবস্থা করুণ। শেষপর্যন্ত অবশ্য শুভ্রর একটু খারাপই লাগলো। তাছাড়া সিনিয়র স্যাররাও বের হয়ে আসছেন। ভিসি এসে পড়বেন যে কোন সময়। সে অন্যদের বললো, যথেষ্ট হইছে। এবার সবাই চল।

তারা হৈ হৈ করে আনন্দ করতে করতে হলের দিকে ফিরে যাচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা সবাই ভয় আর সমীহমাখানো দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে। সবার সামনে হিন্দি সিনেমার নায়কের মতো শুভ্রজ্যেতি। পুরনো সেই অনুভুতিটা তার আবারও হচ্ছে। দুনিয়াটাকে ইদানিং তার পায়ের তলায় বিছানো কার্পেটের মতো মনে হয়।

Real Face of Danger: Harassing University Teacher in Bangladesh

By: Elora Zaman

Bangladesh, a tiny country, is going through a lot these days; so many things are happening there everyday that one can easily loose tracks. However, a particular event needs attention in my opinion. Harassing and beating a university teacher is not an insignificant thing, especially when it takes place in the context of current emotion-based political issues. Such a phenomenon would drive us to the dark age of ignorance and injustice. Such a task, if it will be left unattended and untreated, would only make a rotten society of us.

Ahmad Safa, a renowned Bangladeshi intellectual, once said, the nation is halted for one year if the university is closed for one day. Teachers are the architects of the society. So the question is, why they are prohibited from thinking freely, and expressing their opinion honestly and openly in current Bangladesh in the hands of the so-called freethinkers and liberals?

Good governance is strongly associated with good and proper education. Good educators are essential in the society for manufacturing good citizens and honest human beings, who will be capable of establishing and maintaining good governance. In our society, these educators are being harassed and beaten by political thugs, and those thugs get their shelter from the government. This is a greatest irony.

Last week, some students beat Jahangir Alam, a professor of the Civil Engineering Department in Bangladesh University of Engineering and Technology, BUET, in the campus, even inside a classroom. They were not content by verbally and virtually abusing him, they started beating him on the following day of his alleged crime. His crime was to express his opinion in a facebook group regarding the ongoing Tribunal of Crime against Humanity in Bangladesh, especially one of its verdicts that hanged a political leader on that night.

The students in our society are known for respecting their teachers, traditionally, and treating them with more honour than their own parents. This respect is considered as one of the major elements in our socio-psychological construct. Unlike Western culture, our eastern culture conventionally sees that the teachers have rights even to beat their pupils occasionally in order to teach them. That’s why it is extra-ordinarily shocking to see that one of those respected teachers are now being verbally and physically abused by the hand of their own students. Which is more shocking is to see that thousands of teachers in Bangladesh are silent today; they don’t protest and seek justice in this regard. All these are taking place only with the support of current oppressive regime of Awami League, led by the hardliner Prime Minister Sheikh Hasina. Now it has become a commonplace to see that our teachers are forced to act like obedient pets in front of the political leaders.

We can see that many oppressive rulers and monarchs treated the teachers with honour. Many kings are ill-reputed in the history for their deeds, but even they were usually respectful towards the teachers and the scholars. What is happening in current Bangladesh in the name of 1971 war-industry doesn’t know any bound in this regard. Now, every conscious soul is mistreated if they dare to express their opinion freely. Naturally, the educators have become a primary victim in that closed and fascist structure. Do those political thugs and leaders know the place of the educator class in a human society? Or they forget everything due to their physical power and dare to destroy the power of intellectual beings? I urge to everyone concerned about Bangladesh to be aware of the significance of this event and to protest against this with all means possible.

বাংলাদেশের আস্তিক-নাস্তিক বাইনারী নিয়ে একটি “বিজ্ঞানমনষ্ক” আলোচনা

2

ফাহাম আব্দুস সালাম

বাংলাদেশে ‘বিজ্ঞানমনষ্ক’ বলে একটা টার্ম আছে। সম্ভবত যারা বিজ্ঞানী নন, বিজ্ঞান নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করেন নি কিন্তু পরিপার্শ্বকে বোঝার জন্য বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করেন তাদের নির্দিষ্ট করতে এই টার্মটি ব্যবহার করা হয়। এই নির্দিষ্টকরণে একটা ফাঁক আছে – বেশ বড় ফাঁক। পরিপার্শ্বকে বোঝার জন্য বিজ্ঞানকে একেবারেই ব্যবহার করেন না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব বেশী আছেন বলে আমার মনে হয় না। যাদের আমরা গণ্ডমূর্খ ধরে নিয়ে নিজেদের বিজ্ঞানমনষ্ক বলি তারাও অনেক কিছু বোঝার জন্য রিপিটেবল অবজারভেশন এবং যুক্তি ব্যবহার করেন। হ্যা, তাদের হয়তো দিলখুশ সংজ্ঞা জানা নেই, হয়তো তারা তাদের অবজারভেশনকে গুছিয়ে প্রকাশ করতে পারেন না কিন্তু তারা অতশত না জেনেও বিজ্ঞানকে ব্যবহার করেন।

কিন্তু তাদেরকে আমরা বিজ্ঞানমনষ্ক বলি না – কারণ দুয়েকটি ব্যাপারে তারা বিজ্ঞানমনষ্ক হলেও তাদের জীবনে অবিজ্ঞানমনষ্কতা আছে বেএন্তেহা – তারা তুকতাকে বিশ্বাস করেন। কিন্তু কতোটুকু অবিজ্ঞানমনষ্কতা এতোটাই দূষিত করে ফেলে যে একজনকে আর বিজ্ঞানমনষ্ক বলে আর ঠাওর করা যাবে না এ ব্যাপারে কোনো কনসেনসাস নেই।

হয়তো তারা বোঝান যে পরিপার্শ্বকে বোঝার জন্য যারা ‘কেবলমাত্র’ বিজ্ঞানলব্ধ এবং বিজ্ঞানচর্চিত জ্ঞানকেই সঠিক ও নিরাপদ মনে করেন তারাই বিজ্ঞানমনষ্ক।

ফিজিকাল ওয়ার্ল্ডকে বোঝার জন্য বৈজ্ঞানিক চিন্তা প্রক্রিয়া সর্বশ্রেষ্ঠ ও অদ্বিতীয় হলেও মানুষ তার পরিপার্শ্বকে বোঝার সময়ে ফিজিকাল ও মেটাফিজিকাল – ব্যাপার দুটোকে সবসময় খাড়া দাগে আলাদা করতে পারে না। আমাদের সবার মাঝে একটা উদগ্র ও অনিঃশেষ বাসনা আছে – আমরা জানতে চাই। আমরা সব ধরনের প্রশ্নের উত্তর পেতে চাই। এ কথা সত্য যে বেশীরভাগ প্রশ্নের উত্তরের জন্য বিজ্ঞানই যথেষ্ট এবং বিজ্ঞানই একমাত্র নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাকারী। কিন্তু এমন কিছু প্রশ্ন আছে যার উত্তর বিজ্ঞান দিতে পারে না। তার কারণ এই না যে বিজ্ঞান ইনফেরিয়র – কারণ সে সব প্রশ্ন বিজ্ঞানের আওতায় পড়ে না। সমস্যা হোলো – ঠিক এই প্রশ্নগুলোই মানব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা প্রশ্ন।

যেমন ধরুন “জগৎ সংসারে আমি কেন এসেছি” – প্রতিটি মানুষকে কোনো না কোনো সময়ে কিংবা সারাজীবন এই প্রশ্নটি তাড়িয়ে বেড়ায়। কোনো বিজ্ঞানী কোনোদিনও এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারবেন না। কিন্তু স্টিভেন হকিন্স এর উত্তর দিতে পারবেন না বলে কি আপনি আপনার জানার তেষ্টাকে অনিবারিত করে রাখবেন? অবশ্যই না। কোনো ধরনের দর্শন ছাড়া এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর নেই – এটাই পরমসত্য এবং এখানেই ধর্মের উপযোগিতা (ধার্মিকদের কাছে ধর্মের আরো অনেক উপযোগিতা আছে)।

আপনি যখন বলবেন যে বিজ্ঞানই আমার পরিপার্শ্বকে বোঝার একমাত্র সহায় তখন আপনাকে দুটো কাজ করতে হবে: আপনার মাথাকে বোঝাতে হবে যে মেটাফিজিকাল প্রশ্নের কোনো প্রয়োজন নেই, তাই এর উত্তরেরও কোনো প্রয়োজন নেই। অথবা যেহেতু এসব প্রশ্নের ‘নির্ভুল’ উত্তরের কোনো সম্ভাবনা নেই তাই আমি এসব প্রশ্ন নিয়ে চিন্তিত না। বলাই বাহুল্য, যেকোনো প্রশ্নের উত্তর জানার যে হিউম্যান স্পিরিট তার সাথে এ ধরনের অবস্থান সঙ্গত না। তাই বেশীরভাগ মানুষ দুটো গিয়ারে চলেন অর্থাৎ তারা ফিজিকাল এবং মেটাফিজিকাল প্রসঙ্গকে আলাদা আলাদা ভাবে বোঝার চেষ্টা করেন এবং স্বভাবতই তাদের ‘বিজ্ঞানমনষ্কতার’ ভেতরে ‘অবিজ্ঞানমনষ্কতা’ ঢুকে পড়ে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এই বিজ্ঞানমনষ্কতা একটা আলাদা আলোচনাও দাবী করে।

অনেকের লেখা পড়ে আমার মনে হয়েছে যে তারা নাস্তিকতা, মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা – এই টার্মগুলোকে ইন্টারচেঞ্জেবলি ব্যবহার করেন। সে সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ প্রমাণে এই শব্দ এবং শব্দবন্ধগুলো টেনে আনেন। আমার ধারণা, তারা বিজ্ঞান না বোঝার কারণে এই ভুলগুলো করেন। খুলে বলি। নাস্তিকতা, শেষ বিচারে একটি দার্শনিক অবস্থান, কোনো বৈজ্ঞানিক অবস্থান না। খোদাতালা আছেন কিংবা নেই – কোনোটিই আপনি ‘প্রমাণ’ করতে পারবেন না। এবং খোদাতালায় বিশ্বাস করা বা না করা – কোনোটিই আপনার বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের কোনো স্বাক্ষর না। উনবিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ ৫ জন ম্যাথমেটিশিয়ানের একজন গিয়োর্গ কানটোর মনে করতেন যে খোদাতালা তার কানে কানে গণিত নিয়ে কথা বলতেন। আল্লাহতে বিশ্বাস করা এবং খোদাতালার কানে কানে গণিত নিয়ে কথা বলার কারণে তিনি হুমায়ুন আজাদ কিংবা তসলিমা নাসরিনের চেয়ে ইন্টেলেকচুয়ালি ইনফেরিয়র – এমন দাবী যিনি করবেন তার সাথে যদি কানে কানে পাহাড়-নদী, মামদো ভূত ও সুচিত্রা সেন কথা বলেন রোজ – ওষুধ খাওয়ার আগে – শুনলে আশ্চর্য হবো না।

Image-1

বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ মোটা মোটা বই এসপার-ওসপার করে দেয়া না, সুন্দর করে বাংলা আর ইংরেজি লেখা না; বরং জ্ঞান সৃষ্টি করা। টমাস এডিসন পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ একজন ইনভেনটর। তার সাথে কাজ করেছিলেন ইতিহাসের সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ কয়েকজন বিজ্ঞানীদের একজন; নিকোলা টেসলা। টেসলার মতামত যদি আমরা সঠিক বলে ধরে নিই তাহলে ধরে নেয়া যায় যে টমাস এডিসন আদতে একজন গাড়ল ধরনের মানুষ ছিলেন। মানে খুবই পরিশ্রমী কিন্তু পড়ালেখা জানেন না তেমন, বুদ্ধিও খুব বেশী না। নিঃসন্দেহে আমাদের ব্লগস্ফেয়ারের অনেক মানুষ এডিসনের চেয়ে অনেক বেশী পড়ালেখা জানা মানুষ – কিন্তু তারা “জ্ঞান”কে সমৃদ্ধ করতে পারেন নি এতোটুকু – যেটা এডিসন পেরেছিলেন।

জ্ঞান সৃষ্টি করার সাথে পরিশ্রম, কল্পনাশক্তি আর ইন্সপিরেশান জড়িত – খোদাতালায় বিশ্বাস করা বা না করার সাথে প্রায় এর কোনোই যোগাযোগ নেই। জ্ঞান সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে খোদাতালায় বিশ্বাস করা প্রতিবন্ধক; এমন বিতর্কে যে কাওকে আমি আমন্ত্রণ জানাচ্ছি – যে কোনো সময়ে আমি প্রস্তুত।

এছাড়াও কিছু লক্ষণ আমার চোখে পড়েছে। আমি বলবো না যে বাংলা ব্লগস্ফেয়ারে ইসলামোফোবিয়ার জোয়ার বয়ে যাচ্ছে কিংবা “মুক্তমনা” নামক ব্লগে নাস্তিকরা ব্যাকটেরিয়ার মতো বৃদ্ধি পাচ্ছে। বরং বেশীরভাগ লেখাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। যারা সেখানে লেখেন তারা যে খুব ভালো লেখেন সেটা মনে হয় নি কিন্তু তারা ফ্রি এনকোয়েরির স্পিরিটেই লেখেন। তবে এও সত্য যে কিছু লেখা সত্যিই ইসলামোফোবিক এবং যে লেখাগুলো ইসলামোফোবিক সেগুলোতে কিংবা সেই লেখকরা অন্যত্র খুব উৎকট মাত্রার হেইট স্পীচ দেন (মুক্তমনার কিছু লেখককে মনে হয় দেখেছি যে তারা অন্যত্র সন্দেহাতীত ভাবে ইসলামোফোবিক হেইট স্পীচ দিয়েছেন এবং উগ্রতাবাদীরা অত্যন্ত অন্যায্যভাবে এর দায়ভার অভিজিৎ রায়ের ওপর চাপিয়েছেন)। এর কারণ মনে হয়েছে দুটো: প্রথমটি হোলো তারা নিজেদের যা দাবী করেন সেটি তারা নন অর্থাৎ ‘বিজ্ঞানমনষ্ক’ নন। তারা একজন দের হাজার বছর আগের ঐতিহাসিক চরিত্রকে মূল্যায়ন করেন আজকের পৃথিবীর মাপকাঠিতে এবং সেটিও করেন খুব অল্প পড়ালেখা করে। বাংলাদেশের ‘পাইছি’ সাংবাদিকতার মতো। একজায়গায় ইংরেজি ভাষায় লেখা কোনো আর্টিকেল পড়লেন, বাস ওটা ব্যবহার করতেই হবে। বিজ্ঞানমনষ্ক হলে তারা যাচাই বাছাই করে নিজেদের কুসুম কুসুম পাণ্ডিত্য জাহির করা থেকে নিবৃত হতেন। আর দ্বিতীয় কারণটি হোলো আমাদের ভাষা। বাংলা ভাষায় কাওকে শুয়োরের বাচ্চা না বললে নিজের ক্ষোভ সুষম ভাবে প্রকাশ পেলো না বলেই অনেক লেখক অভিমান করেন।

যেমন ধরুন কা’ব ইবেন আল-আশরাফ নামক এক ইহুদি নেতাকে রসুল ব্যাঙ্গাত্মক কবিতা লেখার জন্য হত্যা করিয়েছিলেন বলে তারা সমালোচনা করেন। এবং সে ঘটনার সাথে অভিজিৎ রায়ের হত্যার ‘ইসলামী’ যোগসূত্রের সন্ধান দেন পাঠকদের (অর্থাৎ ফ্যানাটিকরা যে রসুলের বিদ্রূপকারীদের হত্যা করে তার উদাহরণ রসুল নিজেই সৃষ্টি করেছিলেন)। তারা যে কথাগুলো বলতে কিংবা পড়তে ভুলে যান সেটা হোলো কা’ব ইবেন আল-আশরাফ বানু নাদির গোত্রের ইহুদি ছিলেন এবং এই গোত্রটি মদিনা সনদের সিগনেটরী। এই চুক্তি মোতাবেক কোনো গোত্র মক্কার কুরাইশদের সাথে প্যাক্ট করতে পারবে না এবং মদিনাবাসীরা কারো দ্বারা আক্রান্ত হলে সবাই এক সাথে প্রতিহত করবেন।

তা চুক্তি ভঙ্গ হলে কী হবে? আপনার খারাপ লাগতে পারে কিন্তু সে সময়ের যে আইন তাতে মৃত্যুদণ্ডই যে এর সাজা সেটা সবার জানা ছিলো – মদিনার মুসলমান এবং ইহুদি সবাইই এটা জানতেন। আপনি নিশ্চই আশা করেন না যে বিভিন্ন ধর্মের ও বিভিন্ন গোত্রের অংশগ্রহণে যে চুক্তি তাতে ইসলামী আইন বলবৎ হবে কিংবা আজকের আমাল আলামুদ্দিন ও জেফরি রবার্টসনকে বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। কা’ব ইবেন আল-আশরাফ মক্কার আবু সুফিয়ানের সাথে চক্রান্তের জন্য মিলিত হয়েছিলেন এবং এর শাস্তি তখনকার বিচারে মৃত্যুদণ্ডই ছিলো। তাছাড়া রসুল সে সময়ে কেবল ধর্মীয় নেতাই ছিলেন না, বিচারক ও প্রশাসকও ছিলেন। তার অথোরিটি ছিলো এই আদেশের। কোনো সাহাবী স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কিংবা ইসলামী জজবায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তাকে হত্যা করেন নি।

এরপরও যদি আপনার রসুলকে সমালোচনা করার ইচ্ছা হয় করুন – কিন্তু তার ভাষাটা শালীন হওয়া উচিত। গালিগালাজ করা, কিংবা এই একটি ঘটনা থেকে ইসলামকে ভায়োলেন্ট বলাটা নেহাৎ ‘অবিজ্ঞানমনষ্ক’ হওয়ার লক্ষণ। আমি ধর্ম বিষয়ে পড়ালেখা করি নিয়মিত – সব ধর্মেই আমার আগ্রহ। আমার কখনোই মনে হয় নি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মই ইনহেরেন্টলি ভায়োলেন্ট। কিন্তু মানুষের চরিত্রে একটা প্রকৃতিগত ভায়োলেন্স আছে। তাই সব ধর্মই ভায়োলেন্ট হয়ে উঠতে পারে। বরং অন্তত কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে যে ধর্ম হয়তো ভায়োলেন্স কমাতে সাহায্য করে।

আসল বিষয় হোলো সে ধর্মের অনুসারীদের, সংখ্যার দিক থেকে একটা ক্রিটিকাল মাস আছে কি না? জীব হত্যা যে ধর্মে হারাম সে শান্তির ধর্ম পালনকারী বৌদ্ধরা মায়ানমারে মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। নাস্তিকতার যখন যথেষ্ট-সংখ্যক অনুসারী হবে, যখন তারা অর্গানাইজড হবে এবং যখন তারা মনে করবে যে আক্রমণ করলে জেতার সম্ভাবনা প্রবল – তখন নাস্তিকরাও ভায়োলেন্ট হবে। ভায়োলেন্স মানুষের খাসলত – এটা ঐতিহাসিক সত্য। ধর্ম একটা অনুঘটক সন্দেহ নাই – কিন্তু আরো অনেক অনুঘটক আছে যেগুলোকে নির্দিষ্ট করার একটা দায়িত্ব আছে, যদি আপনি বিজ্ঞানমনষ্ক হয়ে থাকেন। উদাহরণ দেই –

কারোই জানা নেই অভিজিৎ রায়কে কারা হত্যা করেছে। সন্দেহ করা মোটেও অমূলক না যে কাজটা ধর্মীয় ফ্যানাটিকদের। সেটা ধরে নিলেও আমার জানা মতে এ ধরনের ধর্মীয় কারণে হত্যা এবং হত্যাপ্রচেষ্টা হয়েছে মোট চারজনের ওপর: হুমায়ুন আজাদ, থাবা বাবা, আসিফ মহিউদ্দিন এবংঅভিজিৎ রায়। ধরে নিই সংখ্যাটা এর দ্বিগুণ (যেহেতু সঠিক সংখ্যাটি আমার জানা নেই)। গত পাঁচ বছরে শুধুমাত্র বিএনপি করার জন্য কিংবা জামায়েত এবং হেফাজত করার জন্য সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা মাথায় বিনা বিচারে, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে পুলিশ এবং RAB হত্যা করেছে তার চেয়ে অ-নে-ক বেশী মানুষ। এমন কি ছাত্রলীগও তাদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে এর চেয়ে বেশীসংখ্যক মানুষকে হত্যা করেছে। বিজ্ঞানমনষ্ক হলে আপনার এমপিরিকাল ডেটার ওপর নির্ভর করার কথা। সেক্ষেত্রে হত্যা প্রচেষ্টার জন্য ইসলামকে ইনহেরেন্টলি ভায়োলেন্ট বললে আপনাকে অন্তত এটা মানতে হবে যে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ উভয়ই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কালের কনটেক্সটে ইসলামের চেয়ে অ-নে-ক বেশী ভায়োলেন্ট।

দেখুন নিজেকে বিজ্ঞানমনষ্ক দাবী করার একটা সমস্যা হোলো আপনাকে সব সময় একটা নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড ধরে রাখতে হবে। সারা রাত ফিফটি শেডস দেখে ভোর বেলায় ফজর নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পড়ার মতো না ব্যাপারটা।

তবে এ কথাও সত্য যে শুধুমাত্র আক্রমণের সংখ্যা দিয়ে ধর্মীয় ফ্যানাটিসিজমের মাত্রা মাপা সম্ভব না। বাংলাদেশে ইসলামী ফ্যানাটিসিজম আছে – এটা সত্য এবং আমার কাছে যেটা ভয়ঙ্কর লেগেছে সেটা হোলো বিপুল সংখ্যক মানুষ যারা নিজেদের ঈমানদার মুসলমান হিসেবে জ্ঞান করেন তারাও অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডকে নৈতিকভাবে সমর্থন করেছেন। তারা কয়েকটি সত্য খুব সুবিধাজনকভাবে ভুলে যান যে রসুল তার বিরোধী পক্ষের মানুষ, যারা তাকে দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রণা করেছেন তাদেরকে ক্ষমা করেছিলেন। এমনটা কল্পনা করা মোটেও অসঙ্গত না যে কুরাইশরা তার অনুপস্থিতিতে তার সাহাবীদের সামনে তাকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর কথা বলতো। তার সাহাবীরা যদি কুরাইশদের হত্যা করার চেষ্টা না করে থাকে এখনকার মুসলমানরা কি সাহাবীদের চাইতেও বড় মুসলমান যে রসুলকে নিয়ে আপত্তিকর কোনো কথা বললেই কাওকে হত্যা করতে হবে বলে তারা মনে করে? এই প্রশ্নগুলো এখনকার মুসলমানদের করা প্রয়োজন।

image-2

সিরিয়া আরবদের নিয়ন্ত্রণে আসে রসুলের মৃত্যুর কিছুদিন পরেই কিন্তু সিরিয়ার জনসংখ্যার ৫০% মুসলমান হতে সময় লাগে প্রায় পাঁচশ বছর। সাহাবী এবং তাদের বংশধররা আছে, আছে মুসলমানদের শাসন। তারপরেও মোট জনসংখ্যার অর্ধেককে মুসলমান করতেই লেগে গেছে পাঁচটি শতক (ইসলাম প্রকৃতিগত ভাবে ভায়োলেন্ট হলে আরো কম সময় লাগা উচিত ছিলো বলে আমার ধারণা)। দের হাজার বছর পর আজকের পৃথিবীর এক বিলিয়নের বেশী মানুষ নিজেদের মুসলমান বলে দাবী করেন। কিন্তু ফ্যানাটিকদের মর্সিয়া শুনলে মনে হয় কাল সকালের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাবে। দের হাজার বছর যা টিকে থাকতে পারে সেটা নিজের মেরিটেই টেকে – এটা বোঝার জন্যে আপনাকে আইনস্টাইন হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ফ্যানাটিকদের গেল গেল রব শুনলে মনে হয় রসুলকে নিয়ে কোথাকার এক হরিদাস পাল একটা ব্লগ লিখলেই তার নিজের এবং ইসলামের সব মানসম্মান ভূ-লুন্ঠিত হয়ে যাবে।

এবং এও সত্য যে সাম্প্রতিক কালে ইসলামী ফ্যানাটিসিজমের যে উৎকট প্রকাশ – সেটা উস্কে দেয়ার পেছনে বাংলাদেশে মুক্তমনের যারা দাবীদার তাদের একটা বড় অংশের খুব বড় দায়ভার আছে।

লাইফ সায়েন্স আমার পেশা। আমার বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের সাথে যে আড্ডাবাজি তার একটা বড় অংশ ধর্মের পেছনে ব্যয় হয়। সব ধর্ম নিয়েই আলোচনা হয় কিন্তু আমার দুয়েকজন বন্ধু ছাড়া বাকীদের ধর্মবিশ্বাস যে কী সেটা নিয়ে আমার কোনো ধারণাই নেই। সম্ভবত আমার বেশীরভাগ সহকর্মীই নাস্তিক অথবা অজ্ঞেয়বাদী। হ্যা, যারা বিবর্তনবাদকে অস্বীকার করে তাদের মূর্খতা নিয়ে আমিও রঙ্গতামাশা করি – সন্দেহ নেই। কিন্তু কখনোই কোনো ধর্মকে আক্রমণ করার কোনো প্রয়োজন কারো মধ্যে আমি দেখি না।

কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তমনাদের অনেকের মাঝে আমি ইভানজেলিক জজবা দেখতে পাই। যুক্তির কাজ আপনাকে চোক-স্ল্যাম দেয়া না। যুক্তির কাজ হোলো সবচেয়ে অল্প ও সহজ ভাষায় সত্যটাকে উপস্থাপন করা – আপনাকে ঘায়েল করা না। তাই নাস্তিকতা ও ফ্রি এনকোয়ারির একটা দায়বদ্ধতা আছে যে সেটা যেন সংঘবদ্ধ ধর্মের মতো অন্যকে আঘাত না করে। এই চুক্তি বাংলাদেশের মুক্তমনারা মানেন না।

তাদের অনেকগুলো টুপি আছে। কখন তারা বিজ্ঞানমনষ্কতার টুপি পরেন, কখন তারা শাহবাগের টুপি পরেন আর কখন যে তারা আওয়ামী লীগের টুপি পরেন সেটা বোঝা মুশকিল। কিন্তু তাদের আবদার হোলো ভিন্ন ভিন্ন টুপি পরার এই ক্রমপর্যায় সকল দর্শককে সব সময় মাথায় রাখতে হবে। অর্থাৎ আপনি যখন শাহবাগে গিয়ে ফাঁসি ফাঁসি করবেন কিংবা একটি ফ্যাসিস্ট রেজিমের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেবেন তখন আপনার ভাষ্যমতে যারা আপনার ও আপনার বন্ধুদের মূল শত্রু তাদেরকে ভুলে যেতে হবে যে আপনিই ইসলামোফোবিক হেইট স্পীচও দিয়েছিলেন। এই কঠিন আবদার গ্রাহ্য করা সহজ কাজ না।

আপনি যদি মোরাল হাউ গ্রাউন্ড দাবী করেন তাহলে আপনাকে কিছু ভ্যালুজকে বিনা শর্তে, সব সময়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সারা পৃথিবীর লিবারেল লেফট মোটা দাগের কয়েকটা বিষয়কে অনতিক্রম্য ধরে নেন। যেমন ধরুন যারা সমাজের একদম দুর্বল ও মার্জিনালাইজড অংশ তাদের পক্ষে দাড়ান, সব পক্ষের সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উচ্চস্বর হন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভোকাল তো বটেই ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার পরিচয়ও দেন, ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। বাংলাদেশে যারা নিজেদের লিবারেল দাবী করে ফ্রি স্পিরিটের চেতনায় পূণ্যস্নান করেন তাদের অনেকেই এই প্রতিটি শর্তের বরখেলাপ করেন হরহামেশা। বাংলাদেশে মাদ্রাসা ছাত্রদের মতো দুর্ভাগা জনগোষ্ঠী খুব বেশী নেই। রাষ্ট্রীয় বাহিনী এদের হত্যা করলে তারা পুলক বোধ করেন। আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করলে তারা তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। অনেকেই বলেন যে বাংলাদেশে ফাঁসি নিষিদ্ধ হয়ে যাক অসুবিধা নাই, কিন্তু সেটা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেয়ার পরে। বাংলাদেশে একটি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক সরকার একটি হাস্যকর নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ার ধরে রাখলে তারা বলেন গণতন্ত্রের আগে উন্নয়ন প্রয়োজন।

এরকম স্ববিরোধিতা নিয়ে মোরাল হাইগ্রাউন্ড দাবী করাটা শুধুমাত্র হাস্যকর হলে আপত্তি ছিলো না – এটা বিপজ্জনকও বটে। তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত ফেমিনিস্ট। তিনি যখন খালেদা জিয়ার ভ্রু আঁকা নিয়ে বিশ্রী ভাষায় কটাক্ষ করেন তখন “অনারীবাদী” পুরুষেরা একটা স্বাভাবিক প্রশ্ন তোলেন যে এই একই কাজটা আমি করলে কুৎসিত শভিনিস্ট কিন্তু আপনি করলে ঠিক আছে কারণ আপনার ভ্যাজাইনা আছে আর আমার তা নেই। এবং এ জাতীয় কথাভাজা শেষ হয় সাধারণত একটি বাক্য দিয়ে, গুষ্টি মারি তোর এই ফেমিনিজমের। ফেমিনিস্ট মুভমেন্টের যে কথাগুলো শোনা পুরুষদের জন্য ফরজ ছিলো সে কথাগুলো হারিয়ে যায় ফেমিনিস্টদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড এর জন্য।

আমাদের সমাজ যে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক কূপমোন্ডুকতায় বিপর্যস্ত সেটা কোনো খবর না। বিজ্ঞান ও মুক্তচিন্তা সত্যিই পারে আমাদের সমাজের চিন্তার মুক্তি ঘটাতে (চিন্তার মুক্তি মানে আপনাকে আঘাত করে কোনো প্রত্যাঘাতের ইমিউনিটি না)। সে নিরীখে আমাদের দেশে প্রয়োজন আছে মুক্তমনা’র মতো ব্লগের। কিন্তু সেই চেষ্টা মাঠে মারা যাবে যদি আপনি যাদের কাছে টানতে চান তাদেরকেই খোচানো শুরু করেন সবার আগে। তর্কে জেতাকে আপনি শিরোপা মনে করেন, তার জন্য ফ্রি-স্টাইল কুস্তিতে আপনার আগ্রহ। যাকে আপনি আপনার দলে নিতে চান তাকেই আপনি শত্রু বানাতে চান সবার আগে। অল্প বিদ্যা ও বেশী জজবার এটাই হোলো কুইনটেসেনশিয়াল লক্ষণ।

image-3

প্রশ্ন ওঠে যে যারা মুক্তচিন্তার পক্ষের মানুষ তারা মুসলমানদের নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যে – এমন কি ইসলামকে নিয়ে ন্যায্য সমালোচনা করলেও কি ধর্মীয় ফ্যানাটিকরা উন্মত্ত হয়ে উঠবে না? এমন কি হয় নি বাংলাদেশে? প্রশ্নটা ন্যায্য এবং এই প্রশ্নের সদুত্তর দেয়া প্রয়োজন। হ্যা, বাংলাদেশে ইসলামী ফ্যানাটিসিজম আছে এবং হ্যা, তারা বহু প্রয়োজনীয় সংস্কারেরও উৎকট প্রতিক্রিয়া দেখান। এ কথার বিরোধিতা হয় না।

এর একটা বড় কারণ সম্ভবত আপনি নিজে – সৎভাবে প্রশ্ন করুন। সম্ভবত মানুষ হিসেবে দাড়িটুপি ওয়ালারা আপনাকে কনফিডেন্সে নেয় না কারণ রাজাকারের প্রসঙ্গ আসলেই আপনি একটা দাড়িটুপি ওয়ালা ব্যক্তিকে খাড়া করান। এতিম বাচ্চাদের দেখভাল করার দায়িত্ব তো এতিমখানার না, রাষ্ট্রের – কিন্তু রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব পালনে বাধ্য তো আপনি করানই না বরং রাষ্ট্র এদের বিপক্ষে গেলে আপনি তালি দেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব যে মাদ্রাসাগুলো পালন করে চলেছে যুগের পর যুগ ধরে সেজন্য তাদের কোনোদিনও সামান্য ধন্যবাদ দেন নি। আপনি গণতন্ত্রের কথা বলেন কিন্তু একটি অবৈধ অত্যাচারী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করলে আপনি বলেন যে গণতন্ত্রের আগে উন্নয়ন প্রয়োজন। আপনি যদি একটু নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করেন তাহলে দেখবেন যে আসল সমস্যা এটা না যে আপনি তাদের মতোন না বরং আপনি নিজে যা দাবী করেন সেটা আপনি নন। এই দাড়িটুপিওয়ালাদের একটা বিশাল অংশ নোম চমস্কির বিশাল ফ্যান। কৈ, চমস্কির নাস্তিকতা আর বিজ্ঞানমনষ্কতা তো তার মুসলমানদের হিরো হওয়াতে কোনো সমস্যা হয়ে দাড়ায় নি। কারণ তার নাস্তিকতার চেয়েও বড় ব্যাপার হোলো তার উচ্চ নৈতিকতা ও সেই স্ট্যান্ডার্ড এর ওপর অবিচল আস্থা। তিনি প্রতিষ্ঠানের বিপক্ষে গিয়ে সত্যের পক্ষে দাড়ান। এই শক্তি যদি আপনার থাকতো, আপনার বন্ধুদের থাকতো তাহলে দাড়িটুপি ওয়ালারাও আপনার সাথে থাকতো।

একটা প্রশ্ন আপনার নিজেকে করা খুবই প্রয়োজন। আপনি নিজে কোন পক্ষের মানুষ? আপনার কার্যকলাপ কি ফ্যানাটিসিজম উস্কে দেয় না নিবারণ করে। যদি ফ্যানাটিসিজম উস্কে দেয় তাহলে তো আপনার লক্ষ্য অর্জিত হবে না। আপনার কি সত্যিই প্রয়োজন আছে আঘাত করার? কেন আপনি বিশ্বাস করতে পারেন না যে যুক্তির নিজস্ব যে শক্তি সেটাই যথেষ্ট অন্ধবিশ্বাসকে মোকাবেলা করার। ডারউইনের তো প্রয়োজন হয় নি খোদাতালা নেই – এই দাবী করার। তার বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট ছিলো বিবর্তনবাদ যে সত্য সেটা প্রমাণ করার জন্য।

যে কেও দশটা ইসলামিক ইতিহাসের বই পড়ে মুসলমানদের ইতিহাসের, তাদের সমাজের, তাদের রাজনীতির সমালোচনা করে একটা খাসা বই বাংলায় লিখে ফেলতে পারেন, কিংবা মুসলমানদের কিছু ঐতিহাসিক প্রিয় চরিত্রের সমালোচনা করতে পারেন। এর মধ্যে কোনো কেরদানি নাই, দুঃখিত। কঠিন কাজ হোলো আজকের সমস্যাকে আজকে মোকাবেলা করা, আজকের রসদ দিয়ে। এই দিক থেকে চিন্তা করলেই বুঝবেন যে আমাদের আসল সমস্যা ধর্মতাত্ত্বিক না। আমাদের দেশের মানুষেরা এখনও শিক্ষার অভাবে চিন্তা করতে শেখে নি। আপনি যদি বলতে থাকেন যে তুই ব্যাটা মুসলমান বলে চিন্তাই করতে পারোস না, তাহলে আপনার জিঘাংসা মিটবে একটু বটে কিন্তু সে তার নিজের কমফোর্ট জোনে আরো বেশী করে খাবি খাবে। তাকে আপনি আরো বেশী উগ্র হতে সাহায্য করবেন।

কিন্তু আপনি যদি তাকে বলেন যে আপনার মেটাফিজিকাল দুনিয়া নিয়ে আমার কোনো কথা নেই এবং সেটা নিয়ে আপনি আপনার মতো থাকেন। কিন্তু এই ফিজিকাল দুনিয়ায় বিজ্ঞান ছাড়া আর কোনো ব্যাখ্যা নেই তাহলে সে হয়তো আপনার কথাটা মনোযোগ দিয়ে শুনবে। যদি বলেন যে আপনার ধর্ম আপনি মনোযোগ দিয়ে পালন করুন কিন্তু আমার কথাটা শুনুন কারণ বিজ্ঞান আর যুক্তি ছাড়া এই পৃথিবীতে সফল হওয়া কঠিন তাহলে বলা যায় না সে একদিন হয়তো ধর্ম বিষয়েও আপনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে। বিবর্তনবাদ খুবই প্রয়োজনীয় বিষয় এবং প্রত্যেকের সেটা বোঝা প্রয়োজন। আপনি নিজে বিবর্তনবাদের আধুনিক প্রসঙ্গগুলো বোঝেন না ঠিকমতোন কিন্তু অন্যকে বোঝাতে হবে আপনি এর ওস্তাদ। তাই বিবর্তনবাদকে এমনভাবে হাজির করেন যেন এর একমাত্র উপযোগিতা হোলো খোদাতালা যে নেই আর আদম-হাওয়া বলে কেউ আসে নি সেটা প্রমাণ করা। একবারও বোঝার চেষ্টা করেন না যে আপনি যদি বলতেন যে – খোদাতালা আছে কি নেই এ নিয়ে আপনি আপনার মতো করে সিদ্ধান্ত নেবেন কিন্তু এই হচ্ছে বিবর্তনবাদ – তাহলে আপনার শ্রোতা লাইফ সায়েন্সের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই তত্ত্বটিকে অন্তত মনোযোগ দিয়ে শুনতো। আপনি যদি তার ধর্ম বিশ্বাসের সাথে বিবর্তনবাদের বোঝাপড়ার দায়িত্ব তার ওপরেই ছেড়ে দিতেন তাহলে হয়তো সে অন্তত একটা সৎ চেষ্টা করতো বিবর্তনবাদ কী এটা জানার জন্য। সে হয়তো উপলব্ধি করতো যে পুরো লাইফ সায়েন্স দাড়িয়ে আছে বিবর্তনবাদের ওপর এবং এটা কোনো হাইপোথিসিস না, প্রমাণিত সত্য। এই গুরুত্বপূর্ণ মেসেজটা তাকে পৌঁছাতে না পারার পেছনে আপনি নিজে যে একটা বড় প্রতিবন্ধক সেটা আপনি স্বীকার করতে রাজি নন কারণ আপনার কাছে বিবর্তনবাদ হচ্ছে আপনার দার্শনিক অবস্থানকে বৈজ্ঞানিক অবস্থান বলে প্রমাণ করার একটা কৌশল মাত্র।

সম্ভবত আপনার বদ্ধমূল ধারণা যে মৌলবাদীদের “শেষ” করে দিতে হবে। তাদের পরাস্ত না করতে পারলে আপনার বিজ্ঞানমনষ্কতা সমাজে শেকড় গাড়বে না। এই যদি হয় আপনার সিদ্ধান্ত, বলতে বাধ্য হচ্ছি আপনার কাণ্ডজ্ঞানের ঘাটতি আছে। নাহ, “তাদেরকে” আপনি শেষ করতে পারবেন না। কারণ তাদের একটা ক্রিটিকাল মাস আছে যেটা আপনাদের নেই। হ্যা বদলাতে আপনি পারবেন যদি আপনি নিজেকে বদলাতে সম্মত হন। যদি আপনি তার বিশ্বাসকে সম্মান করে সহবস্থানে রাজী হন তাহলে, যদি আপনি আপনার অটল নৈতিকতায় বিশ্বাস রেখে একটা হাত বাড়াতে সম্মত হন, তাহলে সেও আপনার বিজ্ঞানবাদ গ্রহণ করে উপকৃত হবে। বলা যায় না অনেকে আপনার মতো হওয়ারও চেষ্টা করতে পারে।

এজন্যেই কি আপনি লেখালিখি শুরু করেন নি?

ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে নেয়া কিন্তু ফোটোগ্রাফার করা খুঁজে বের করতে না পারায় কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা গেল না। মাফ করবেন।

Against the Polite Islamophobia of the Bengali ‘Bhadralok’ : The Bangladesh Unreader

9

The article explores perhaps the most powerful and distracting misreading of desh today, the Islamic vs Secular smokescreen. Its origins are traced through the ‘colon’ narrative which paints the majority of it’s inhabitants as an inferior other, to Aryanisation, an attitude supported by another rotten European theory – racial anthropology. Connecting with manifestations of colonial continuity in the Algerian, Muslim experience of France and the doubling up of Aryanisation on the Muslims of Bengal, the debilitating terrorism rents and settlements of the new jomidary are presented along with sacred, indigenous histories of resistance from which we might draw strength, hope and mobilisation.

Allahumma Salli Ala Muhammadi Nabiyil Ummi – O Allah! Send Prayers upon Muhammad, the Unlettered (Ummi) Prophet

 

Once upon a time in New York, Paris and Dhaka…

” (Islamophobia in) France is the worst in Europe and tries to mask it by proclaiming its secular values (sound familiar?), but these values don’t apply to Islam. In fact, French secularism means anything but Islam” Tariq Ali

In a New York meeting during September 2014, Abdul Latif Siddiqui, the then Bangladesh cabinet minister for Post and Communications (formerly for Jute and Textiles) made a statement denigrating the Hajj pilgrimage, crudely commodifying all of its pilgrims and racially slurring Arabs as the descendants of robbers. The minister was a senior member of the ruling Awami League, returned to government earlier in the year in perhaps South Asia’s most dubious general elections ever. There was widespread revulsion as to how a senior politician of a country of over 100 million Muslims could make such statements in public, and after protests he was eventually sacked.

Unlike many, I was not shocked by the contempt shown to the indigenous Muslim culture of Bangladesh by members of the elite who rule in their name. I came across many such instances in recent years whilst researching and discussing the suppression of urban industrial workers in 2012 and the massacre of protesters mainly from rural madrassas in May 2013.

In an academic forum, I witnessed the spectacle of seeing a Bangladeshi academic describing the massacre victims of May 2013 (over 60 unarmed protesters killed) as feral animals that needed to be culled, and another academic justifying the massacre on the basis that the protestors were causing unnecessary traffic congestion in Dhaka.   Bangladesh is not exceptional in having to suffer such Macaulayan Misleadership, that is to say firmly in the thrall of white supremacy and its epistemicidal traditions. To the bemusement of many observers, outrageous colonial continuities are explicitly written into much of Francophone Africa’s independence documentation.

Recognition of the globality and gravity of this condition is the first step to unreading Bangladesh. The next step being, unwinding the roots and after effects of the racial supremacy woven into the fabric of Bengali nationalist selfhood, eventually creating new spaces for indigenous discourse to be heard.

We saw another manifestation of this contempt for the local and thrall for the colonial as a large section of elite in the social media in Bangladesh gave unequivocal support (#jesuischarlie) to the French magazine, Charlie Hebdo, following the massacre there, whilst maintaining their silence on Bangladesh governments systematic destruction of press freedom.  In their submission, they conveniently ignored the fact that the magazine disproportionately targeted the marginalised Muslim minority of France, viewing them as a ‘Clandestino’ fifth column. Commentators such as Richard Seymour and Professor Tariq Ramadan, rightly called out the publication as racist, while a former writer for the publication, Olivier Cyran, had previously pointed out that,

“Belief in one’s own superiority, accustomed to looking down on the common herd, is the surest way to sabotage one’s own intellectual defences and to allow them to fall over in the least gust of wind.”

In fact, to the observant eye, this contempt can be seen running through the corporate media of Bangladesh as well as the  elite, in their political pronouncements, reporting and academic masquerades. Here, the urban and rural poor and their mainly Muslim culture, is infantalised, primitivised and decivilised into an essentialised mindless mob. To rephrase Fanon, talking down to the mainly Muslim poor in Bangladesh, as well as ‘Islamophobic’ insults make the Muslim, “the eternal victim of an essence, of an appearance for which he is not responsible”. Thus the precursor to any oppression, exploitation and elimination is the process of differentiation and dehumanisation.

Take Tasneem Khalil’s recent op ed in the Dhaka Tribune, which blames Muslims worldwide for being somehow responsible for the January 7 attack in Paris. The newspaper cites attitudes of Egyptian Muslims in a poll, but omits that most of the respondents in the poll live in one of the most economically unequal and repressive countries in the world, as if to ask someone whose house is on fire, why he is so agitated? The article also misreads the opinion polls of respondents in Muslim countries, ignoring nuances, hence mimicking the method ,attitudes and conclusion of Islamophobes in the West, such as Bill Maher and Sam Harris.

If we skip back a few years, we can recall when the editor of the same ‘liberal’ newspaper, Zafar Sohban (then as assistant editor in the Daily Star) wrote/incited in a polite tone, for the elimination of Bangladesh’s  ‘Original Sin’ of Muslim identity based politics. Arguing for the restoration of ‘Mission 1971’ by the cleansing of poison from the bloodstream and righting history. In doing so he (un)intentionally resonates the mood music, intellectual cover and political anesthetic for the new ‘Guerra Sucia’ (Dirty War) afoot in Bangladesh. A Dirty War in which so many opposition political activists have been abducted, disappeared and murdered. Leaving in the wake orphans, widows and terrified communities throughout Bangladesh.

In the midst of the obligatory, hypocritical media cacophony, author Will Self made an insightful intervention on the justice of journalism, that it should afflict the comfortable and comfort the afflicted. In the elite  blogosphere and corporate press of Bangladesh, with its latent Islamophobia, such ‘crusading churnalism’ as in the case of the Dhaka Tribune, does the inverse, comforting the comfortable and afflicting the afflicted, thus reinforcing the hierarchy and power left over by former colonial masters, and kept intact by their successors.

Beyond the Fog of (the Phony) War: Decoding the riddle of Bangladesh

Give every man thy ear, but few thy voice.

Hamlet – William Shakespeare

Polite Islamophobia in Bangladesh is defended and justified by the myth of a ‘No Stopping the Cavalry – Long War’ of Bengali exceptionalism. This is an imaginary, intergenerational and Manichean struggle between the forces of a muscular ethnic and linguistic nationalism, wrapped in eurocentric values pitted against the global forces medieval Islamism. These goggles view the, ‘Cops of the World’ War on Terror as a boon for sapping the strength of this global Islamism, eventually leading to its elimination.

Grounding ourselves in current and historical data, we view this imaginary war as a smokescreen for a struggle between a privileged elite and an ever emboldening population, a distraction from the struggle for more visible participation in the state and society at large by a hitherto marginalised majority. The languages and symbolisms used in the struggle reflect the traditions inherited, internalised and embodied by its participants., the elite from their European colonial masters, the masses from their indigenous tradition, Islam, and everywhere inbetween. Globalisation, coupled with the War on Terror, has (re)turned the balance towards the masses, leading to the somewhat painful (re)emergence of Muslim nationalistic discourse and identity of the state, in Bangladesh.

Seeing past the smokescreen requires that we excavate behind the fairytale. We have to go beyond that the sitting regime came to power on the coat tails of a ‘development partner’  imposed military coup, and has manifested the fascistic one party state ideology that only it can yield. We must travel and dwell in the roots of the present ex-colonial state, if not further, with a wide angled lens and a longer duration, to comprehend the reality and after effects of the colonial encounter.  

Colonosibilite’ and the new ‘colons’

Sixty years ago in French occupied North Africa, familiar tensions existed between a foreign imposed ‘colon’ government and the mainly Muslim populace. Here, racist and Islamophobic prejudice combined with economic domination created an entrenched two-tier society, sitting on a tinderbox.

It was into this milieu that the Algerian Muslim writer and intellectual Malik Bennabi published his ‘Vacation de Islam’ (Vocation of Islam) in 1954, to synchronise with the outbreak of the Algerian War of Independence against the French. During this 8 year long war, 400 000 to 1 500 000 people are thought to have died, out of a population of 10 million, it was one of the defining anti-colonial struggles of the 20th century.

In the Vocation, Malik Bennabi presents the concept of colonsibilite’, the process through which elites in Algeria and other Muslim countries had declined culturally and intellectually to a stage where colonialism was inevitable. Bennabi distinguishes between a country simply conquered and occupied, and a colonised country. The latter having lost its own cultural bearings, internalising what we might call a ‘House Muslim’ mentality upon the perceived superiority of the colonial masters.

Unlike French colonialism in North Africa which was more direct, British imperial rule in Bengal was more indirect, tending to rule in partnership with local intermediaries, who in turn helped them exploit the local populace and ecology. In a familiar image and model to that painted by Bennabi and Fanon, but upon a different precolonial civilisational milieu, we have in the alienated culture of Bangladesh’s mental elite. Its ‘cultural’ heyday, of British Raj Calcutta, are situated upon the devastation of 1770 Bengal Famine, the land grab of the 1793 Permanent Settlement, and the production of a select and moneyed class, pliant and beholden to the British.

Flogging the dead horses of the Aryanisation Apocalypse: The Common Roots of Islamophobia

Liberte’, Egalite, Ambiguite

During the 19th Century, the multiculture of Bengal was subjected to Double Aryanisation from the blackboards of British administrators and their local rentier-landlord development partners. This mirrored the Aryanisation of Classical Civilisation in Europe at the time, and the expulsion of references to African and Asiatic influences on the Ancient Greeks, as demonstrated by Martin Bernal in his Black Athena series. Bernal shows that during the 19th century there was whitewashing of the origins of Western Civilization, a process which he termed Aryanisation.

Aryanisation is a product of an imagined Aryan identity formulated by the 18th century French Orientalist, Abraham-Hyacinthe Anquetil Duperron. In the 19th century the concept was developed further by the French Arthur de Gobineu into a hierarchy of races. In this hierarchy of scientific racism, ‘superior’ races like the Aryans are juxtaposed against inferior races, such as Semites (Arabs and Jews) and ‘Negroes’. It judges that inferior races have an incapacity to grasp metaphysics, philosophy or the arts.

Aryanisation was forged in a bigoted Europe, where in the zeitgeist of  Imperialism, nations and national cultures were given shape and supportive national myths. These artificial constructs provided soothing balms to conscience of the coloniser and his local side kick, justifying on a rational basis, through a racial anthropology, the economic and political exploitation of indigenous masses in an increasingly globalised capitalist system.

In colonial Bengal, Double Aryanisation was achieved through ideological linguistics and an elite schooling system that remains in service today, these are now busy reproducing inequalities despite two attempts at national self determination.  The eviction of references to Muslim (Persian and Arabic) influence on ‘pure’, ‘chaste’ Bengali language has been demonstrated by Anandita Ghosh’s recent work on the artificial construction of the Bengali language in the 19th century, functionally it delegitimises indigenous expressions and discomforts the subaltern.  As elsewhere in South Asia, this schooling of elites would create, what Professor Akbar Ahmed dubs, MacCaulay’s Chickens, a class of natives, Indian in appearance but Anglicised in term of education, taste and cultural norms. But in Bangladesh, ‘the Animals at the farm, in the form of chickens have been forcefully inbred by their farmers, to form a hybrid breed, twice removed from the original colonial encounter, and twice alienated from their natural environment.

Zooming out to other human experiences, the after effects of similar (but one-stage), ‘Road to Nowhere’ Aryanising projects unfolded in Iran through the writings of Mirza Agha Khan Kermani, put into practice by the Pahlavi dynasty. In Turkey initialising through the works of Ziya Gokalp, it reaching its zenith with the reforms of Mustafa Kamal.

The alienating and socially debilitating effects of the of this Aryanisation in Bengal during the British Raj was noted in the 20th century, by the historian Arnold J Toynbee in his A Study of History. He wrote of the anguish of British administrators, writing about the phenomena of Calcutta, creating an intellectually bankrupt class of rentier political activists and ideologues.

This sentiment was echoed nearly a hundred years on in independent Bangladesh, by the novelist Zia Rahman Haider. There in front of the ‘Bricks in the Wall’, on the hallowed grounds of ‘Oxford of the East’ Dhaka University, he declared, ‘Bangladesh as a land of dead ideas, where new concepts are throttled at birth and never get passed on because of social, political and class barriers.’

A good example of this double battery hen’s Aryanised epistemology at work in Bangladesh, is in the production of a mainly ‘Dark Side of the Moon’ academic attitude in Bangladesh. One facet of this psychological suffocating (‘Breathe’) malaise afflicting large sections of the intelligentsia can be seen in the Islamophobic discrimination against madrasah students in higher education. For example Dhaka and Jahangirnagar University’s have barred the admission of government run (Aliya) madrasa graduates into Arts and Science departments. This imposed barrier to learning and flourishing has nothing to do with merit,  Aliya graduates have occupied the top 20 positions in the admission test in Jahangirnagar University. The matter was taken up in the High Court and Supreme Court which lifted the bar but many universities are unwilling to admit madrasa graduates in many departments regardless. That the ‘Brain Damage’ university leaderships saw fit to segregate ‘Us and Them’  the different learning traditions of the society speaks volumes as to their intellectual insecurity, if not their fundamental institutional failure.

Frances Harrison in a presentation in London shed some light on this attitude. She explained that some university teachers in Bangladesh complained to her about their fear of being ‘Eclipsed’ by madrasah students in the class room. They explained that madrasah students knew more about religion than the actual teachers, and often corrected them, thus undermining their authority in front of other students.

War on Terror Times: The new Zamindery and its Terrorism Rent

If patriotism was the last refuge of the scoundrel in the 18th century, it has been replaced by the War on Terror in this one. The refuge, allows the continued oiling of ‘The Welcome to the Machine’ post independence status quo,  allowing a ‘colon elite’, to carry on their brutal and wasteful and dangerous reign over a population which does not share their values.

Recognition and analysis of this enterprise is broadening, with the idea of ‘Terrorism Rent’ describing how regimes frame their domestic political opposition as a security issue with the prism of the ‘War on Terror’. In this Faustian pact, international interests/donors turn a blind eye to internal suppression, while providing foreign aid, valued by many. to prop up corrupt regimes and their dependants. In return the host countries, allow Western interests to gain strategic influence and footholds, under the guise of military assistance and countering Chinese encroachment in the Third World. In this sense, the ‘War on Terror’ functions as an ideological narrative that underpins the capacity of Western and American states to sustain control over an increasingly fragile and changing international system. For example in Afghanistan  we have a Norwegian government report revealing how covert indirect US support to both to the Taliban in Afghanistan and overt support to the Afghan authorities, is used to ‘calibrate the level of violence’, thus sustaining support for US military intervention and presence in the region.

In sub saharan Africa we see a return of the French. In Bangladesh, there has been an increase in military assistance by the UK, focusing on counter insurgency under the comical doublespeak of ‘Democracy Stabilisation’.  A British ‘Democracy Stabilization’ experience gained in the decade long occupation of the Helmand Province of Afghanistan, where in 13 years British troops were responsible for the deaths of over 500 Afghan civilians and the injuries of thousands and yet did not capture or kill a single Al Qaida operative.

The unintended consequences of the ongoing ‘War on Terror’, and the accompanying intensification of Islamophobia that comes with it, is the counter intuitive awakening of an assertive Muslim identity and consciousness and what one would term the rise of Muslim nationalism. As in the face of such hostility and prejudice, even the most secular Muslim, as happened in Northern Ireland amongst Irish Catholics, is forced to defend Islam and the rights of a Muslim identity.

In Bangladesh, this is seen in the enduring support the massacred rural Madrassah students and their affiliates still receive in all sections of society, including ever growing numbers of the governing and commercial elite. Farhad Mazhar in London termed the massacre as a victory for the rural madrassah students, in terms of putting a halt to the de-Islamification and Aryanisation policies of the current Awami League government and being a catalyst for a re emerging of a mainstream Muslim political discourse and identity in Bangladesh. Six decades ago Fanon identified the same phenomenon amongst the native Algerians, vis a vis their French colon rulers.  In Fanon’s essay, Algeria Unveiled, the French attempt to unveil the Algerian women did not simply turn the veil into symbol of resistance, it become a technique to camouflage, a means of struggle. Thus every veiled women became a suspect and also at the same time a  sign of resistance.

To conclude, the reassertion of Muslim political discourse in Bangladesh, is not as what many colon elite academics home and abroad would market as the thin end of an edge of a rising global Islamic militancy. As elsewhere, it is profoundly connected to long term local experiences and demands on post colonial state institutions, to dignify and include the identity of those who they claim to represent. This concern is expressed in an indigenous tradition and language of the people, which in the case of Bangladesh, is Islam.

Emperors and Dervishes – The Mantle of the Prophet and a Tradition of Resisting Empire

If a wound touches you, a like wound already has touched the opposing ones; such days We deal out in turn among men, and that God may know who are the people of faith, and that He may take witnesses from among you; and God loves not the evildoers. (3:140)

Quran -verses referring to the Battle of Uhd

Countering external and internal Aryanising aggression, is the tradition of resisting Empire in Bangladesh, a Quranic semantic field of meaning consciously and subliminally deep rooted in the collective psyche. I was fortunate to be acquainted with an example of this living tradition, when I met  the Principal of a Qawmi Madrasah in Sylhet who was a scholar of prophetic traditions. A contemporary of Allama Shafi, the leader of Hefazot e Islam, the shaykh had the triple distinction of  being imprisoned and tortured by the British, arrested and imprisoned under the Pakistani generals of United Pakistan, and being physically assaulted and imprisoned in his last years by the first Awami League government of 1996 -2000. Everytime he was imprisoned he had with him the khirqa, shawl given to him by his teacher, who was imprisoned and tortured by the British, who in turn received the shawl from his teacher who was also imprisoned and tortured by the British, who in turn received a shawl from his teachers of the Madrasah Rahimiyyah in Delhi, and who were at the forefront at the 1857 War of Liberation against the British invaders. A tradition of the khirqa and seeking justice going back through the ages to the earliest Muslim community, to Imam Hussain in Karbala,  Abdullah ibn Zubair in Makkah and the Prophet Muhammad’s struggle against the Quraysh.

‘The greatest Jihad is to speak the truth in the face of an unjust tyrant.’

The Prophet Muhammad (pbuh)

We see the same non violent resistance in Turkey against the state in the life and struggles of the Naqshbandi Sufi and Kurd, Said Nursi. Who for his criticism of Mustafa Kemal, was imprisoned, starved and poisoned by the Turkish state. Yet the Turkey of today, with the reintroduction of the Ottoman Arabic script in the High Schools, is not the Turkey of Mustafa Kemal and the Kemalist generals but the Turkey of Said Nursi. The current political establishment of the late Menderes and Ozal,and the presently feuding Gulen and Erdogan were influenced by Said Nursi’s movement and teachings.

Straight after the Dhaka centred massacre of the 5/6th of May 2013, fully armed members of the Bangladeshi  security forces attempted to storm the Hathazari Madrassah near Chittagong, but were beaten back by local residents and students of the madrassah. Soon afterwards, I interviewed a graduate of Hathazari to gather more information. I asked him his thoughts post massacre, especially with Allama Shafi, the movement leader in police custody. He gave me a somewhat cryptic reply by narrating the story of the Indian Saint, Imam Rabbani –  Sheikh Ahmed Sirhindi.

The Naqshbandi Sirhindi was galvanised into a course diametrically opposed to the Mughal state when his father in law was executed by the then Emperor Akbar, for sacrificing a cow at Eid ul Adha. Sirhindi was eventually imprisoned by Akbar’s son Jahangir, arrested on the grounds of failing to bow to the Emperor.  After the arrest, rebellion broke out in the Empire in protest. The rebels eventually captured the Emperor and asked Sirhindi for advice. Contrary to expectations he ordered the rebels to release Jahangir.

Impressed with the Sufi Sheikh, the alcoholic Jahangir kept him imprisoned but not before elevating him to the role of advisor, eventually releasing him. The Emperor outlived this Dervish, as Sirhindi died a few years after his release, however, his own grandson Aurangzeb would be initiated into the Naqshbandi tariqah by Sirhindi’s son. Aurungzeb would go onto commission the codification of Islamic Law, the Fatwa Alamghiri and patronise the institution that co produced it, the Madrasah Rahmiyyah.

‘Gimme Shelter’ for ‘A Change is Gonna Come’

Aside from the enduring indigenous traditions and the impact on the War on Terror. Geo-economic shifts place Bangladesh into an interesting situation . With the centre of global economic and cultural activity returning from the mid Atlantic to the Indian Ocean, we are reminded of half a millenium ago, when Mughal India and Imperial China accounted for nearly two thirds of world manufacturing.

Such a change in resource and human flows opens up possibilities and multiple trajectories, of ‘Learning to Fly’ and take off, from one party rule in China, the managed democracy of Singapore and the petro-autocracies of the Gulf, to the more accommodating polities of West Asia and the populist democracies and liberation theologies of Latin America. Greater exposure to possible political futures is yeast for the imagination, of how we might be more reflective and inclusive of our traditions, values and historical experiences.

Surveying the present political field of Bangladesh, the ‘East Wind’ that is currently blowing through Bangladesh, does not originate from the current autocratic Awami League (AL) government, but goes back further, and is more systemic. from the silent, clenched buttocks of a ‘Bhadralok’ class.  An unwieldy coalition of military and civilian bureaucrats, civil society leaders and businessmen, who are now currently keeping the AL in power. Who by their desperation of holding on to colonial privileges, are creating a vacuum, by dismantling the very state that has been set up to protect them.

Faced with shifting global power geometries and historical patterns, the Double Aryanised elites of Bangladesh might perceive two stark choices before them. Either they equitably share power and resources with the indigenous mainly Muslim population, reflect their values in state institutions and respect their dignity, as what happened in Turkey, or they be dragged kicking and screaming to the firing squads as in Iran, during the revolution of 1979.

One option they do not have is the ‘Comfortably Numb’ King Canute fantasy of hoping to drive back the winds of change and sands of history that are enveloping them and their exclusive ethnic Bengali exceptionalism, proclaiming:

‘My name is Ozymandias, king of kings:

Look on my works, ye Mighty, and despair!’

A fitting reply being:

Nothing beside remains. Round the decay

Of that colossal wreck, boundless and bare

The lone and level sands stretch far away

Or as Led Zeppelin would say:

‘Your Time Is Gonna Come’.

 

Accompanying Videography with the Article

 

  1. Why Is Charlie Hebdo OK, But Not Dieudonne? (Al Etejah TV 2015)
  2. The Battle of Algiers (1966)
  3. Hur Adam (2011) – Biopic of Said Nursi

 

Accompanying Discography with Article:

  1. ‘Clandestino’ – Manu Chao
  2. “Stop the Cavalry” – Jona Lewie
  3. “Cops of the World” – Phil Ochs
  4. “Animals” – Pink Floyd
  5. “Road to Nowhere” – Talking Heads
  6. “Brick in the Wall” – Pink Floyd
  7. “The Dark side of the Moon” – Pink Floyd
  8. “Welcome to the Machine” – Pink Floyd
  9. ‘’Gimme Shelter’’ – Rolling Stones
  10. “ A Change is Gonna Come” – Sam Cooke
  11. “Learning to Fly” – Pink Floyd
  12. “Comfortably Numb” – Pink Floyd
  13. “Your Time is Gonna Come” – Led Zeppelin

শান্তি‬ ‪ও একচক্ষু‬ ‪‎হরিন‬

by Imtiaz Mirza

১৯৭১ এর সেপ্টেম্বর মাস । একটি তরুনের বাবাকে পাকিবাহিনী হত্যা করেছে , মুক্তিকামী জনতাকে সরকারী অস্ত্রশস্ত্র বিলিয়ে দেয়ার জন্য ।
তরুনটি চিন্তা করে যুদ্ধে যাবে , পাকিবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিবে , দেশকে মুক্ত করবে অচলাবস্থা থেকে । কল্পনায় সে রাইফেল চালায় , পাকিদের মেরে খতম করে , রাজাকারদের ফুটো করে দেয় ।
ভাবতে ভাবতে হঠাৎ সে গুলির শব্দ শুনতে পায়, সচকিত হয়ে সে খেয়াল করে গুলির শব্দ কাছাকাছি কোথাও থেকেই আসছে ।
পাশের ঝোপের মধ্যে সে পালিয়ে যায় , কিছুক্ষন পর টের পায় , উষ্ণ জলধারা তার প্যান্ট ভিজিয়ে দিয়েছে ।
ভিজে ভিজে গরম অনুভূতি নিয়ে সে অস্ফুটে বলে , যুদ্ধ নয় শান্তি চাই , একটুখানি শান্তি চাই , শান্তি মতো জলত্যাগের অধিকার চাই।
_____
১৯৭১ এর ডিসেম্বর মাস , ভারতীয় বাহিনী যুদ্ধ শুরু করেছে , প্যান্ট ভেজানো তরুন যুদ্ধে যায়নি বরং রাজাকার পীরের মুরীদ হয়ে , টুপি লাগিয়ে প্রানে বেচেছে ।
ভারতীয় বাহিনীর যুদ্ধটিকেই তরুনটি আসল যুদ্ধ মনে করে , সে মনে মনে ঠিক করে সে আসল যুদ্ধে যাবে , গেরিলা যুদ্ধের মতো ছিচকে যুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদের মতো গ্ল্যামারহীন যোদ্ধা হয়ে তার পোষাবে না । এর মাঝে সে সবাইকে বলে বেরিয়েছে , যুদ্ধ নয় শান্তি চাই , শ্রমিকরা ঘরে ফিরবে তাদের আপন জনের কাছে , তারা যুদ্ধ জানে না , তারা শান্তি চায় ।
মুক্তিযোদ্ধাদের শান্তির কথা বলবা মাত্র তাকে মেরে হাকিয়ে দিয়েছে তাকে , এই উত্তুঙ্গ সময়ে কেউ শান্তির কথা শুনতে চায় না ।

সে মনে মনে শান্তির জন্য যুদ্ধের পরিকল্পনা করতে শুরু করলে , “মাত্র তের দিনের যুদ্ধে ” পাকবাহিনী আত্মসমর্পন করে ।

______

প্যান্ট ভেজানো তরুন , ধীরে ধীরে একচক্ষু হরিনে পরিনত হয়েছে । সে সবাইকে গণতন্ত্রহীনতার কথা শিখাতে চেষ্টা করে । সে খুব সুন্দর করে বোঝাবার চেষ্টা করে , যে জগতে মাত্র পাচটা মানুষের পিএইচডি আছে , আর বাকী সবার ক্লাস ফাইভ ফেল করার অভিজ্ঞতা আছে , যেহেতু
ক্লাস ফাইভেই ফেল করেছে , তাই কারো পিএইচডি করতে চাওয়া উচিত না ।

অর্থ্যাৎ বিশ্বের পাচটা দেশে মৌলিক গণতন্ত্র আছে বিধায় , অন্যান্য দেশ গুলোতে নূন্যতম নির্বাচনও থাকা উচিত না ।

কারন আমরা কখনো পিএইচডি করতে পারবো না , কেন আমরা ক্লাস ফাইভের পরীক্ষা আবার দিবো ? আমরা দেশকে উন্নত করতে পারবো না কখনোই এইকারনে আমাদের দেশে গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা নেই ।

সে সবাইকে বোঝাতে চেষ্টা করে গণতন্ত্র নয় , শান্তিই সবার প্রয়োজন ।
_______

১৯৭১ এ শান্তির দরকার ছিলো , ৬৯ এও ছিলো , ৫২ তে ছিলো , ৯০ তে ছিলো ,
শান্তি দরকার উন্নত জাতি হতে হলে । শান্তির প্রয়োজনীয়তাটা কখনো কম ছিলো না ।

কিন্তু প্যান্ট ভেজানো একচক্ষু হরিনের বক্তব্য মেনে নিলে , লাখ লাখ মানুষ মারার পরো ১৯৭১ এ শান্তির দায়ে , পাকিবাহিনীর ঘেটুপুত্র হয়ে বসে থাকা উচিত ছিলো । আইয়ুব খানের সীমিত গণতন্ত্র অর্থ্যাৎ এলিটদের গণতন্ত্র মেনে চুপ করে বসে থাকা দরকার ছিলো । রাষ্ট্রভাষা উর্দুর মেনে শান্তি মতো বাংলা চর্চার দরকার ছিলো । লম্পট স্বৈরাচারকে দেশ ভর্তি দুর্নীতি করতে দিয়ে
শান্তিকামী জনতার রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনা দরকার ছিলো ।

প্রকৃতপক্ষে , যারা প্যান্টভেজানো একচক্ষু , যারা একটা দলকে নিজের ধর্মবিশ্বাসের চেয়ে পবিত্র মনে করে , দলের নেতাকে ধর্মাবতার জ্ঞান করে , তারা কখনো শান্তি আর অশান্তির পার্থক্য বুঝতে চায়নি । তাদের কাছে নিজের দল যেকোন মূল্যে ক্ষমতায় মানেই শান্তি।

প্রকৃতপক্ষে , হরতাল , অবরোধ , জ্বালাও-পোড়াও , গুলি , ক্রসফায়ার , বালুর ট্রাক , বিরোধী দলের মানুষ হত্যার পূর্বেও দেশে শান্তি ছিলো না , থাকতে পারে না । অশান্তি, ঘুনপোকার মতো দেশকে কাটছিলো , মানুষের হৃদয়মগজ খুড়ছিলো। অশান্তি মানুষের স্বাভাবিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো , মানুষের নায্য পাওনা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছিলো । অশান্তি , অবৈধ সরকার হয়ে
মানুষের টাকা লুটপাট করে উলটো মানুষকে চোখ রাঙ্গানি দিচ্ছিলো । অশান্তি , নূন্যতম নাগরিক অধিকার , মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিলো । অশান্তি, বন্দুকে গুলি হয়ে শত শত বিরোধীদলের কর্মীকে হত্যা করেছিলো।
অশান্তি , মানুষকে তার অবেগে দিয়ে ব্লাকমেইল করিয়ে তার যাবতীয় অপকর্মকে শুদ্ধ করে নিচ্ছিলো ।

_______

শান্তি প্রয়োজন , শ্রমিকের , কৃষকের , নাগরিকের , পথশিশুর, অফিস যাত্রীর, গৃহিনীর ।
শান্তি আসবে দূর্নীতির ঘুণপোকা অশান্তি বিদায় নিলে, শান্তি আসবে অবৈধ স্বৈরাচারীর বুলেট স্তব্ধ হলে।

শান্তি আসবে তখনই যখন একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে , যেখানে সবার সমান সুযোগ থাকবে, কেউ নিজের পছন্দ মতো গদি আকড়ে থাকবে না ।

শান্তি আসবে শুধু মাত্র তখনই, যখন প্রতিটা নাগরিক ব্যালট বাক্স দিয়ে তাদের উপর অন্যায়-অত্যাচারের জবাব দিতে পারবে ।

https://www.facebook.com/sunno.aronnok

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বৈরাচারবিরোধী জনমত তৈরির জন্য সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারের উপায়

যারাই ব্লগে ফেসবুকে আছেন অনেক দিন থেকে তারা জানেন সোস্যাল মিডিয়ার শক্তি অনেক খানি। পৃথিবীর যেকোন খবর এখন সবার আগে টুইটারে প্রকাশ পায় । গুরুত্বপূর্ন এমন কোন নিউজ সার্ভিস নাই যাদের টুইটার একাউন্ট নাই ।

হ্যাশট্যাগকের কাজটা হলো , একই ট্যাগ দেয়া বা একই টপিকে সব খবর গুলো একত্র করা ।
এটা ব্যাবহার করা সহজ । আর একই সাথে সার্চিং সর্টিং কাউন্টিং করতে সুবিধা।

অনেকেই ভাবেন যে লেখালেখি করে কি হয় , আসল কাজ না করে । তারা আসলে ভুল ধারনা করেন । যেকোন পপুলার মুভমেন্টে মানুষের ইনভল্ভমেন্ট লাগে । ১০জন লোকে মিছিল আর ১ লাখ লোকের মিছিল সমান কথা না ।
১ লাখ লোকের মিছিল হতো না যদি সবাই ভাবতো যে আমি তো মিছিলের একটা মুখ।
ঠিক একই ভাবে আপনার একটা সাপোর্ট একটা লেখাও মিছিলের একটা মুখের মতো বড়ো জনমত তৈরি করতে সাহায্য করবে ।

হ্যা আপনার হ্যাশট্যাগের কারনে এখনি কারো পতন হবে , কোন যুদ্ধ থেমে যাবে না সাথেসাথেই ।
কিন্তু মানুষের সচেতনতা তৈরি করতে সহায়তা করবে । এবং সেটাই পজেটিভ ইফেক্ট নিয়ে আসবে । যারা আসল কাজ করতে সক্ষম তারা এতো সাপোর্ট দেখে , নড়েচড়ে বসবে।

যেকোন সামাজিক আন্দোলনে হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু করতে পারুন । এটা শুধু স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন না  । দেশের যেকোন ইস্যুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসাবে ব্যবহৃত হবে ।

যেহেতু বাংলাদেশীরা ফেসবুক ব্যবহার করে অভ্যস্ত , তাই তাদের পক্ষে টুইটারে লেখা একটু কষ্টকর।
কিন্তু টুইটার ফেসবুকের চেয়ে অনেক বেশী সচেতন করার বেলায় শক্তিশালী , বাইরের দেশের মানুষের মনোযোগ আকৃষ্ট হয় । হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড মানুষের চোখে পড়ে ।

তাই উপায় হলো ফেসবুকের পোষ্ট গুলোকেই টুইটারে পাবলিশ করা ।

খুব সহজেই সেই কাজটা করতে পারবেন ।

১। টুইটার একাউন্ট খুলুন। http://www.twitter.com

২। একাউন্ট থাকলে একই ব্রাউজারের অন্য ট্যাবে লগইন করুন টুইটারে ।

৩। https://www.facebook.com/twitter/ ফেসবুকে লগইন থাকা অবস্থায় এই লিংকে জান ।

৪। সেভ করুন ।

একটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার মনে রাখতে হবে । টুইটারে 140 অক্ষরের চেয়ে বেশী এ্যালাও করে না । তাই হ্যাশট্যাগগুলো
পোষ্টের প্রথমে দেয়ার চেষ্টা করুন । ইংরেজিতে লিখলে মানুষ বেশি পড়তে পারবে।
তাই গুরুত্বপূর্ন মেসেজ বা সামারী হ্যাশট্যাগের পরপর ইংরেজিতে লিখুন ।

আপনার বাকি পোষ্ট অর্থাৎ 140 অক্ষরের বেশী হলেও কোন সমস্যা নাই টুইটার একটা লিংক বানিয়ে দিবে খুব সহজেই
সেই লিংক ক্লিক করলে পড়তে পারবে মানুষ ।

এছাড়াও ফেসবুকও জনপ্রিয় হ্যাশট্যাগকে ট্র্যান্ডিং হিসাবে দেখায় । তাই একই স্ট্যাটাস ব্যবহার করে ফেসবুকেও জনমত সৃষ্টি করা যাবে ।

#DemocracyNow #Bangladesh #BDFairElection
Rampant killing by Govt. lenient officials, UN human rights office alarmed at ‘deepening’ political violence

http://www.un.org/apps/news/story.asp?NewsID=49813#.VLlVPyvF9kk
হ্যাশট্যাগ জনপ্রিয় করার উপায় হচ্ছে,  সবাই একই ধরনের হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা ।   যেমন
#DemocracyNow   #BDFairElection #StepDownBakshal #PeaceForBangladesh #Bangladesh #PoliceViolence #FreeSpeech

হ্যাশট্যাগের সাথে  , ইংরেজিতে  অল্প কিছু কথা জুড়ে দিতে হবে , যেমন টুইটার হতে পারে একটি

#DemocracyNow    #PeaceForBangladesh #Bangladesh #PoliceViolence
BD Govt. killed  more than 15 people in 10 days for protesting against them for #BDFairElection

আরেকটা টুইটার হতে পারে ,

#DemocracyNow    #PeaceForBangladesh #Bangladesh
154 MP’s elected without a single vote cast,  we want #BDFairElection

আরেকটা টুইটার হতে পারে ,

#DemocracyNow    #PeaceForBangladesh #Bangladesh
Corrupt Govt. taken power with 5% vote cast   #BDFairElection

আরেকটা টুইটার হতে পারে ,

#DemocracyNow    #PeaceForBangladesh #Bangladesh
Corrupt Govt. making election a mockery , rampant fake vote cast  #BDFairElection

অবৈধ স্বৈরাচারি সরকারের বিরুদ্ধে ইমেজে ইংরেজিতে লিখুন তাদের কারসাজি , তারপর সেসব ছড়িয়ে দিন ।
হ্যাশট্যাগ দিয়ে  রিলেটেড ইংরেজি নিউজ পেপার , বাইরের নিউজ গুলো টুইট করতে থাকুন । তবে লক্ষ্যনীয় ব্যাপার সর্বজন গ্রাহ্য কোন নিউজ না হলে , সত্য নিউজ না হলে
ভেরিফাইড নিউজ না হলে সেসব খবর শেয়ার করা যাবে না ।  একটা মিথ্যাই স্বৈরাচারীদের অস্ত্র হয়ে দাড়াতে পারে ।

একে অপরের টুইটকে রিটুইট করতে হবে , তাতে হ্যাশট্যাগটা জনপ্রিয় হবে । কার্টুনও শেয়ার করা যাবে হ্যাশট্যাগ দিয়ে ।

মানুষকে কোন ব্যাপারে জানাতে হলে টুইটারে জুরি নাই তাই ফেসবুক ব্যবহার করার সাথে সাথে টুইটার ব্যবহার করা শিখুন ।

বাংলাদেশী মধ্যবিত্ত শ্রেনী ও বিএনপি’র আন্দোলন-একটি বিতর্ক

ফাহাম আবদুস সালাম 

5th January

একটা প্রশ্ন অনেকেই করেন জিয়া হাসানও করছেন যে বিএনপির আন্দোলন সফল না হওয়ার মূল কারণ হোলো তারা নাকি বাংলাদেশের মানুষকে কনভিন্সড করতে পারে নাই। আমি এই মত পোষণ করি না।

দেশে যে গণতন্ত্র নাই এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয় হইছে যে দুইটা কারণে (স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র) সেই দুইটা জিনিসই যে বাংলাদেশে অনুপস্থিত সেইটা আবার কনভিন্স করার কী আছে? আপনি যদি এইটা না বুইঝা থাকেন তাহলে আপনে হয় আওয়ামী লীগ করেন নাইলে ভালোমন্দ খাইছেন কিছু। সমস্যা কনভিন্স করা না করার মইধ্যে না। সমস্যা হইলো কনভিন্স হওয়ার ঠিক পরের স্টেজটা নিয়া।

বাংলাদেশ সম্বন্ধে মিডল ক্লাসের “যেকোনো” – আবার বলতেছি “যেকোনো” বয়ান সন্দেহের চোখে দেখতে হইবে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু কইরা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো মোড় বদলে দেয়া আন্দোলনে আরবান মিডল ক্লাস পার্টিসিপেট করে নি। কিন্তু এই ইভেন্টগুলোর সব থেকে বড় বেনেফিসিয়ারী তারাই। খেয়াল কইরা দেখবেন বাসায় রাখা আপনার মামা চাচা যিনি ৭১ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আছিলেন তাগো বেশীরভাগেরই অস্ত্র হাতে ব্ল্যাক এন্ড ওয়াইট ছবি আছে এবং সেই ছবিতে তিনি প্রায় সুটেড-বুটেড হয়ে আছেন। সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি তোলার সময় ছিলো না।

কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সবার আগে ভালো অবস্থায় যাইতে পারছে এই আরবান মিডল ক্লাস।

এই ব্যাপারটা তারা খুব ভালো করে বোঝেন বলে তাদের মাঝে একটা গিলটি কমপ্লেক্স কাজ করে। এই গিলটি কমপ্লেক্স থেকে উদগত সব থিকা উল্লেখযোগ্য প্রডাক্ট হোলো গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিয়ে, বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে মধ্যবিত্ত যে মহাবয়ান তৈরী করেছে তার প্রতিটি বাক্য লেখা হইছে অপরাধ বোধের কালি দিয়ে। তাই যে যুদ্ধ করছে তার চেতনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শামিল হয় নি, কিন্তু যে নয় মাস পলায়া বেড়াইছে তার চেতনাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

মুক্তিযুদ্ধে যে পার্টিসিপেট করছে তার এতো সফিস্টিকেটেড আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছিলো না। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য দেশের প্রতি তীব্র ভালোবাসা আর ইনসটিংটই যথেষ্ট ছিলো, মুক্তিযুদ্ধে না যাওয়ার জন্য, পলায়া বেড়ানোর জন্য আর ইসলাম রক্ষার নামে রাজাকারী করার জন্য চেতনার প্রয়োজন ছিলো।

মধ্যবিত্ত তাগো নিজেদের ক্লীবতা ঢাকার জন্য আজগুবি, অবিশ্বাস্য সব গল্প ফাঁদছে যেই গল্পের পরতে পরতে আছে শুধু সিম্বলিজম আর লাল-সবুজ।

একইভাবে আজো মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখে গণতন্ত্রের কিন্তু এই গণতন্ত্র আনার জন্য সে রাস্তায় নামবে না – কাজটা কইরা দেবে বিএনপি। কিন্তু যেদিন আওয়ামী লীগ প্রেক্ষাপট থেকে বিতাড়িত হবে, দেখবেন সবচেয়ে ফেনায় ফেনায় গণতন্ত্র বিষয়ে শুদ্ধ বাংলায় সবক দেবে মধ্যবিত্ত। “এই সে মহান মাটি যার পুষ্টি গণতন্ত্রে” “এসো মোরা অবগাহন করি গণতন্ত্রের বজ্রকপট শপথে”, “এই সোনার মাটির বন্ধন তো শুধু গণতন্ত্রের সাথেই” – এই লাইনের ল্যাটকামি।

মধ্যবিত্ত ন্যায্যতার স্বপ্ন দেখে না, দেখে চাকরির স্বপ্ন কিন্তু এই কথা মাইনষে শুনলে বলবে ছোটলোক। তাই সে গল্প ফান্দে গণতন্ত্রের। এই গণতন্ত্র রক্ষার জইন্যে সে ভুলেও রাস্তায় নামবো না কিন্তু যে নামবে তারে বলবে তুই তো নামসোস ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার জন্য। এইটা তার অপরাধবোধ। সে চায় গ্লোরী কিন্তু কসরৎ করবার জন্য রাজী না। টিভিতে বিপ্লব দেখলে তার গরমে অর্গাজম হইয়া যায় কিন্তু রাস্তায় নামতে তার গরম লাগে সূর্যের।

এই অপরাধবোধ থিকা সে বিএনপির গুষ্টি উদ্ধার করে। বিএনপি হেন পারে না তেন পারে না। কথা সত্য। বিএনপি অনেক কিছুই পারে না কিন্তু তুমি তো অনেক কিছু পারো – তুমি কী করছিলা? তুমি কি গণতন্ত্রের জন্য রাস্তায় নামছিলা? বিএনপির কথা বাদ দেও। তারা তো ক্ষমতায় যাওয়ার জইন্যে রাস্তায় নামছে মাইনা নিলাম কিন্তু তোমারে তো চল্লিশ বছরে কখনোই নামতে দেখলাম না।

যারাই কয় যে বিএনপির কৌশল ঠিক না তারা সমালোচনায় ঠিক আছেন কিন্তু খাইসলতে দর্শক। কিন্তু বিএনপির কৌশল ঠিক হইলেও এই চ্যাটারিং ক্লাস আন্দোলনে পার্টিসিপেট করতো না কারণ সে বাংলাদেশরে ঔন করে না – সে ঔন করে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একটা আইডিয়ারে এবং সেই আইডিয়ায় সব সময়ই কসরৎ না করার যথেষ্ট অজুহাত মজুদ আছে।

বিএনপির সব থিকা বড় সমস্যা হইলো তাগো সাপোর্ট বেইজ হইলো এই দর্শক শ্রেণী।

 

জিয়া হাসান

6th January

ফাহাম ভাই,আমি আপনার স্ট্যাটাসের প্রশ্ন গুলো এই খানে জবাব দিচ্ছি, আমার বন্ধুদেরকেও আলোচনায় আনার সুবিধার জন্যে। এইটা আপনার ওইখানেও কমেন্ট দিবো। এই ইন্ডিসেন্সিরটার জন্যে ক্ষমা করবেন।

আমি আপনার স্ট্যাটাসের প্রথম এজাম্পশনের সাথে ১০০% সহমত। বাংলাদেশে যে, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র নাই, এই নিয়ে কনভিন্সড না হওয়ার কিছু নাই। এবং সমস্যা হইলো, কনভিন্সড হওয়ার পরের স্টেজ নিয়ে।

এই কনভিন্স হওয়ার পরে আপনার যেই লজিক এবং আরগুমেন্ট দিলেন সেইটা ফান্ডামেন্টালি ভুল। সেইটা হইলো, বাংলাদেশের মোড় বদলে দেয়া আন্দোলনে আরবান মিডল ক্লাস পারটিসিপেট করেনি। আপনি একাত্তুরের রেফারেন্স দিছেন। আমি একাত্তুরের রেফারেন্স দেইনা, কারন আমি একাত্তুর দেখি নাই।

কিন্তু, বাংলাদেশে একাত্তুরের পরে সব চেয়ে বড় যে গন আন্দোলনে, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, যেই সময়ে আমি মোটামুটি বালেগ ছিলাম তখন আমি স্বচক্ষে দেখেছি, সেই আন্দোলন আরবান মিডল ক্লাস, লিড করছে, পারটিসিপেট করছে। এবং শুধু মাত্র ৯০ সালে না, আশির দশকের সম্পূর্ণ সময়টাতে আরবান মিডল ক্লাস এই আন্দোলনের সাথে এলাইন্ড ছিল। রাস্তায় নামছে। এইটা আমার স্বচক্ষে দেখা। এই ভুল এজাম্পশনে দাড়ায় আপনি যা বলছেন, সেই গুলোকেও আমি একটু আমার অবস্থান থেকে ব্যাখা করি।

আপনি বলেছেন, মধ্যবিত্ত যেহেতু এই সব মুভমেন্ট করে নাই, বা মুক্তিযুদ্ধে পারটিসিপেট করে নাই, এই জন্যে তার মধ্যে একটা গিল্ট কমপ্লেক্স কাজ করে। এবং এই গিল্ট থেকে উদ্যত প্রডাকট হইলো, গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।কারন সে যুদ্ধ করে নাই। যুদ্ধ করছে, আপনার হিসেবে, নিম্নবিত্তের এবং সাধারন খেটে খাওয়া জনগণ।

ইন্টেরেস্টিংলি। মধ্যবিত্ত যুদ্ধ করে নাই, নিম্নবিত্ত যুদ্ধ করছে এবং নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের স্টেক আলাদা- এই ভাবনা গুলো আমার বিগত পাঁচ বছরের প্রডাক্ট মনে হইছে। এই গুলো সাধারণত বিএনপির লোকজনের কাছ থেকে আসে, কেন মিডল ক্লাস রাস্তায় নামে নাই, সেইটার একটা বয়ান তৈরি করার উদ্দেশ্যে।

রাষ্ট্রের কাছে জনগণের যেই দাবী, একটা দুর্নীতিমুক্ত শাসন,অর্থনৈতিক মুক্তি, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং ন্যায় বিচার- যা দিতে পোস্ট নব্বইয়ের দলগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল কিন্তু ব্যর্থ হইছে – এই গুলোর প্রতি চাওয়া এবং এই গুলোর স্টেক নিম্নবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত উভয়ের সেম। উভয়েই, এই গুলোর অভাবে খতিগ্রসত এবং উভয়েই এই অবস্থার পরিবর্তন চায়।

আপনারে একটা ক্লাসিক প্রশ্ন করি। মধ্যবিত্ত না হয়, তার যুদ্ধ না করার গিল্ট কন্সাস নিয়ে, গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার চেতনার এই সব হাইপারবোল সৃষ্টি করছে।এবং সেই গিল্ট নিয়া তারা বিএনপির মিছিলে নামে নাই কিন্তু তাইলে বিএনপির মিছিলে, নিম্ন বিত্তরা কই ?
আওয়ামী লীগের ৫ বছরে, আমি বিএনপির সেই সব মিছিল দেখছি, যেই খানে , বিএনপির প্রাক্তন নেতাদেরকে ৭ থেকে ১০ জনের মিছিল নিয়ে হেঁটে যেতে দেখেছি, হরতালের সময়ে। এবং ওরা সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ে, আমার রিক্সাওয়ালা ভাই একটা ক্লাসিক চিটাগনিয়ান গালি দিছে তাদের দিকে তাকিয়ে , যেই গালিটা এই খানে উল্লেখ করা যাবেনা, কিন্তু সজ্জনেরা বুঝে নিবেন। tongue emoticon

আমি নিজের দিকে তাকায় জানি। আমার বন্ধু, কলিগ, পরিচিত সবার চেহারা দেখে জানি, আমাদের মধ্যবিত্তের কোন গিল্ট নাই।এই নিয়া তার কোন মাথা ব্যথাও নাই। তার আছে, একজিস্টেনস ক্রাইসিস। তার আয় সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। ব্যবসায়, চাকরিতে তার সুযোগ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। তার দিস্পজেব্ল ইঙ্কাম মাই। সে কোর্টে গিয়া ন্যায় বিচার পায়না, পুলিশে গিয়া সে হয়রানি হয়-তাকে ধরতে হয় রাজনৈতিক কানেকশানের কে আছে। তার পরিবারের নতুন গ্রাজুয়েটদের কাজের সুযোগ সীমিত। মামা চাচা না থাকলে, চাকরির সুযোগ নাই। ব্যবসার সুযোগ গুলোতেও এখন রাজনৈতিক লোকজন ঢুকে পরতাছে। সে দেখতাছে, তার ঢাকা থেকে চিটাগন যাওয়ার রাস্তা ৫ বছরেও তৈরি হয় নাই। সে এখন দুর্নীতিরেও মাইনা নিছে। সে জাস্ট একটু সুযোগ চায় যেন, সরকারী চাকরিতে কেউ কোটা খাইয়া না ফেলে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেন সহনশীল থাকে যেন ব্যবসা বানিজ্যে গতি আসে। এই খানে কোন গিল্ট ফিল্ট নাই। এইটা তার একজিস্টেন্সিয়াল ক্রাইসিস। তার একজিস্টেনশিয়াল ক্রাইসিসের যে সমাধান দিতে পারবে, সে তার পক্ষে থাকবে।

আমি আপনার প্রশ্ন গুলোতে অবাক হই, যখন আমি দেখি, এই ক্রাইসিস গুলো সমাধানের চিন্তা করতে বিএনপির ব্যর্থতাকে হাইলাইট করার বদলে আপনি মধ্যবিত্তরে গাইল দিতাছেন, তার ক্ষুধা লাগতাছে সে কান্তাছে ক্যান, সেই এটিচুড নিয়া। যেই এর থেকে বুঝা যায়, এই দেশের মানুষের জীবন যাপনের ক্রাইসিসের সাথে বিএনপির মানসিক দূরত্ব কত দূরে।

শুধু বিগত এক বছরে না, ২০১৩ সালের পূর্বে, পাঁচ বছরে সাধারন মানুষ বেশ কিছু ইস্যুতে যেই পরিমাণ মাইর খাইছে সরকারের কাছে, বিশেষত শেয়ার বাজার ইস্যুতে বিএনপির উদাসীনতা ছিল “ক্রিমিনাল”। বিএনপির আগের আমলে বিএনপিকে নিয়ে যে দুর্নীতি অভিযোগ সেইটা নিয়েও বিএনপি কখনো ক্ষমা চায় নাই। জাস্ট একটা একজাম্পল দেই। ঢাকা শহরে যখন সিএনজি নামাইলো, তখন প্রতিটা সিনএজিতে কত টাকা নেয়া হইছে, এবং সেই এই দুর্নীতির কারনে, ঢাকা শহরের পাবলিক কি ভোগান্তিতে আছে সেইটা মনে করেও, বিএনপির প্রতিদিন মধ্যবিত্তরে সালাম দেয়া উচিত এখনো সে তাকে আওয়ামী লীগের অল্টারনেটিভ মনে করে বলে।

অবাক হই যখন দেখি, আপনেরা সেই সব কারনে, বিএনপিরে ধরেন না কিন্তু মধ্যবিত্তরে, তার পেটের খুধার কান্দনের জন্যে, ইজ্জত লুকিয়ে পাছার কাপড় আঁকড়ে ধরে রাখার জন্যে গালি দেন।

পাবলিকে লেয়ার বাই লেয়ার, দিনের পর দিন, বিএনপির সিন্সিয়ারিটির অভাবটা দেখছে, পাঁচ বছর + ১ বছর। বিগত নির্বাচনের আগে, কে কোন পদ নিবে, সেইটা নিয়া মারামারি শুরু হইয়া গ্যাছিল বিএনপির লোকদের মধ্যে। মানুষ এদের চেহারা বডি ল্যঙ্গুয়েজ দেখে বুঝে, এরা তাদের ব্যাংক একাউন্টে শান দিচ্ছে। প্রস্তুতি নিচ্ছে।এই জন্যে মানুষ বিএনপির ইন্টেন্টকে ডাউট করে। মধ্যবিত্তও করে, নিম্নবিত্তও করে।

বিএনপি যে গণতন্ত্র চায় বলে সেইটা যে ভুল এইটা নিয়ে, আরও একটা বড় নোট লেখা যাবে। অই দিকে যাইতাছিনা। বটম লাইন হইলো, বাংলাদেশের মানুষের এস্পিরেসান আর আগাইতাছেনা এখন কোন মতে, লেসার অফ দা টু ইভিল হইলেও পাব্ললিকের চলবে, এইটা ভুল।

অথচ স্যাডলি এই মধ্যবিত্তের বড় অংশ উপায় না দেখে, বিশেষত আদর্শিক চেতনা দিয়ে দেশের সকল দুর্নীতি এবং লুটপাটকে লুকিয়ে রাখার আওয়ামী স্ট্রেটেজিতে বিরক্ত হয়ে, হয়তো কিছু হবে, এই ভাবনা থেকে বিএনপিকে ভোট দিতে রেডি ছিল।ভোটের সুযোগ পাইলে, বিএনপিরে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে এনে, আরও একটা বড় বাম্বু খাইতে নিজেরে রেডি করছিল। কিন্তু, তারপরেও বিএনপি মধ্যবিত্তরে গাইল দেয়, রাস্তায় নেমে তাকে বাংলার সিংহাসনে বসিয়ে না আনার জন্যে। বিএনপির এই সেন্স অফ এন্টাইটেল্মেন্ট, এই উত্তরাধিকারের ধারনা বিএনপিরে কোথাও নিয়ে যাইতে পারবেনা। আওয়ামী লীগ যেই স্বৈরতন্ত্র এবং কাঠামো তৈরি করছে তাকে ২০৪২ পর্যন্ত টেনে নেয়ার মানি, মাসল, বুলেট, ইন্টেলিজেন্স, পোষা ইন্টেলিজনসিয়া, আইডিয়ালস এবং প্রশাসন ইনফিল্ট্রেসান করা হইছে। এইটাকে ভাংতে হইলে, বিএনপিকে মধ্যবিত্তকে তার শত্রুপক্ষ হিসেবে নিলে হবেনা। তাকে কনভিন্সড করতে হবে। করতে হইলে, বিএনপিরে অনেক ফান্ডামেন্টাল চেঞ্জ করতে হবে। তার ইন্টেন্ট এবং কাঠামো এবং প্ল্যানে, তাকে দেখাইতে হবে, বাংলাদেশের ভুখা শুখা মানুষ নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত সকলকে এগিয়ে নেয়ার মত পরিকল্পনা এবং সিন্সিয়ারিটি তার আছে। নইলে আওয়ামী ল্যাংয়ে উস্টা খাইতে খাইতে বিএনপি ২০১৬ ৫ জানুয়ারি হইতে, ২০৪৩ এর ৫ জানুয়ারি পার করবে, অথবা বিশ্ব ইজতেমার কাছাকাছি ডেট ফালাইতে হবে, কিছু একটা মিরাকলের আশায়।

এই মধ্যবিত্ত নির্বিরোধী শেয়ারে মাইর খাইয়া যখন তার সেভিংস মাইর গেলো, তখনও সে রাস্তায় নামে নাই?মতিঝিলে জরো হইয়া, কিছু মিছিল করার চেষ্টা যারা করছিল, তারা দুইটা লাঠির বাড়ী খাইয়াই, পলাই গ্যাছে।

এইটা তার পলায়নপরতা- এইটা তার ইজ্জতের ক্রাইসিস, এইটা তার নিঃস্পৃহতা। এই জন্যে, তারে আমিও গালি দেই। কিন্তু, অন্তত বিএনপির তাকে গালি দেয়ার কোন অধিকার নাই।

 

আরিফুল হোসেন তুহীন

6th January

জিয়া হাসান সাহেব বিএনপির ডাকে লোকজন আসে না কেন এইটা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন বিএনপি জনগনের পাশে দাঁড়ায় না, এর জন্যে জনগন কনভিন্সড না তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে।

ফাহাম আবদুস সালাম সাহেব এর বিরোধিতা করে লিখেছেন যে, এইসব সমালোচনা যারা করে তারা হচ্ছে আরবান মিডল ক্লাসের সুবিধাবাদী পার্টি। তারা এইবার কেন, কোনদিনও রাস্তায় নামে নাই। তারা এইসব বলতেছে তাদের গিল্ট কমপ্লেক্স থেকে।

এইখানে আমি দুইটা কথা যোগ করি।

এই দেশের অধিকাংশ নিম্নবর্গের মানুষকে যদি প্রশ্ন করা হয় তাহলে তারা দুই পার্টি নিয়েই নাক কুচকাবে। এর কারন হচ্ছে স্বাধীনতার পরে এই দুই পার্টির কোনদিন কোন ইতিহাস নাই সাধারন মানুষের পক্ষে লড়াই করার। সাধারন মানুষের জন্যে প্রয়োজনীয় পলিসি তৈরী করার ইতিহাস তাদের কোনদিনও ছিল না। তাদের সাফল্য হিসেবে যেসকল জিনিস দেখানো হয়, সেগুলো নিওলিবারেল ইকোনমিক পলিসিগুলোর আধাখেচড়া বাস্তবায়নের চেষ্টা। এর বাইরে এই দলগুলোর পারফর্ম্যান্স কার্যত শুন্য। এই নিওলিবারেল ইকোনমিক পলিসির কে কত ভালো প্রয়োগ করতে পেরেছে তা নিয়ে দুইবেলা কাইজ্জা করে এই দুই দল। এখন কথা হচ্ছে নিও লিবারেল  ইকোনমিক পলিসি বাঙ্গালদেশের কি কি ধরনের সুফল নিয়ে এসেছে। জিডিপি গ্রোথ অবশ্যই বেড়েছে। অমর্ত্য সেন আমাদের শিখিয়েছেন, জিডিপি দিয়ে উন্নয়ন না মাপতে। উন্নয়ন মাপা উচিত নাগরিকদের ইফেক্টিভ সক্ষমতা কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে সেটি দিয়ে মাপতে। তাহলে বাংলাদেশ বিশেষ এগোয়নি। এবং জিডিপি বৃদ্ধির ফ্রেইম ওয়ার্কের বাইরে এই দুইদলের কোণ চিন্তাভাবনার কোন নিশানাও পাওয়া যায় নি। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়েও এই দুইদলের কোন ধরনের পার্থক্য নেই। সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পঙ্গু করে দিয়ে প্রাইভেটাইজেশনের যৌক্তিকতা প্রমাণের প্রক্রীয়ায় এই দুই দলই একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে। অবশ্য বিএনপি প্রাইভেটাইজেশনের ব্যাপারে বেশী আগ্রহী। সামনে বিএনপি আসলে ইলেক্ট্রিসিটি/পোস্টাল সার্ভিস ইত্যাদিও প্রাইভেটাইজড হওয়া সময়ের ব্যাপার। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজেও ফ্রী চিকিতসার দিন শেষ হতে সময় নিবে না। আওয়ামী লীগের ইকোনমিক কর্মকাণ্ড এর থেকে দূরে নয়।

ইকোনমিক চিন্তাভাবনা যদি বাদ দেই, তাহলে আসবে তাদের শাসন সম্পর্কিত দর্শন। দুই দলই সংবিধানের অগনতান্ত্রিক অংশগুলোর প্রতি একমত। দুই দলের কেউই দলের অভ্যন্তরে গনতন্ত্রের চর্চা করে না। দুই দলের কেউই এক্সেকিউটিভ এবং লেজিসলেটিভ ব্রাঞ্ছের ভিন্ন প্রধান চায় না। দুই দলের কেউই আর্টিকেল ৭0 এর বিলোপ চায় না। দুই দলই পুলিশী প্রশাসনে বিশ্বাসী।

১০০ জন রিকশাওয়ালাকে যদি জিজ্ঞাসা করি কোন দলের প্রতি তার আত্নিক টান, কেউই কোন রাজনৈতিক দলের নাম বলবে না। তারা ডেসপারেট জীবন যাপন করে, তাদের পাশে এসে কেউই দাঁড়ায় নি কোনদিন, ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে বলে মনে হয় না।

এখন প্রশ্ন দাঁড়াতে পারে ভোটাভুটি নিয়া হাঙ্গামা করা জরুরী কিনা সাধারন মানুষের জন্যে। অবশ্যই প্রয়োজনীয়। ভোটাভুটি কিছুটা হলেও লাগাম দিতে পারে এই দুই লুটপাটতান্ত্রিক দলগুলোকে। অন্তত প্রত্যেকটি দলই পালাক্রমে ক্ষমতার বাইরে থাকার স্বাদ পায় এবং কিছুটা শক্তির ভারসাম্য আসে।

কিন্তু আমাদের পাবলিক ডিসকোর্স শুধুমাত্র ভোটাভুটি কেন্দ্রীক হবে কেন?

এলিট এবং সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেনীর সবসময়ের একটি প্রবণতা হচ্ছে, সাধারন জনগনকে বেকুব ভাবা। তারা সবসময়েই ভাবেন, তারা সবাত্তে বেশী বুঝেন, শুধু বেকুব অশিক্ষিতরাই বুঝলো না। ফাহাম সাহেব বুঝেন ভোটাভুটির জন্যে রাস্তায় নামনই এখন একমাত্র দায়িত্ব। কিন্তু অশিক্ষিত মেরুদণ্ডহীন সাধারন জনতা সেইটা না করে বিএনপিকে দুষাইতেছে।

এইধরনের চিন্তাভাবনার মূল উতস হচ্ছে সাধারন জনগনকে “এজেন্সিশুন্য” ভাবা। তাদেরকে প্যাসিভ ভাবা, তাদের এক্ট করার ক্ষমতা নাই সেইটা ভাবা। আপনি তাদের জন্যে ন্যারেটিভ তৈরী করে দিবেন। তারপর তারা যদি সেই ন্যারেটিভ না গিলে, তাইলে সেইটা তাদের দোষ। কারন আপনি সবাত্তে বেশী বুঝেন।

দুঃখিত ভাইজান। জনগনকে এজেন্সিশুন্য ভাববেন না। তাদের এক্ট করার ক্ষমতা এবং ইচ্ছা দুইই আছে। তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মত এক্ট করে থাকে। নিজের ন্যারেটিভ বানিয়ে নিতে পারে। এলিটগো সাহায্য তার লাগে না। তার জীবনযাপনে এলিটরা কোন কাজে আসে না, এলিটগো কামড়া কামড়িতে তারা কেন যাবে? বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের মোট কর্মী সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ হবে কিনা সন্দেহ। সুতরাং এই কামড়াকামড়িতে বাকি ৯৯ শতাংস যথেষ্ট ইন্সেটিভ ছাড়া আসবে না। এইটাই হচ্ছে বটমলাইন।

জনগন বিএনপির হয়ে মরণপন লড়াই করতেছে না, সেই লড়াই তারা আম্লীগের জন্যেও করবে না কারন তাদের লড়াই করনের কোন ইন্সেটিভ নাই। তাদের বাস্তব সমস্যা সমাধানের আশা তারা ছেড়ে দিছে অনেক আগেই।

ভিয়েতনাম যুদ্ধ সমাপ্ত হবার পরপরই নিয় ইয়র্ক টাইমস এর এডিটোরিয়ালে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে বলা হয়। কিন্তু তাদের সমালোচনা ছিল অনেকটা ট্যাক্টিকাল। তারা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সমালোচনা করেছে। কিন্তু একবার উচ্চারনই করেনি যে যুদ্ধটা আদতে লেজিটিমেইট ছিল কিনা? চমস্কি এর প্রতিক্রীয়ায় বলেছিলেন কিভাবে শক্তির কেন্দ্রগুলো পাবলিক ডিসকোর্সকে সংকুচিত করে। একটি বিশাল সামাজিক সমস্যার বয়ানকে ছোট করে একটি কিংবা দুইটি সহজপাচ্য প্রশ্নে এসে স্থির করে।

একই ঘটনা ঘটেছে এইদেশের রাজনীতিতেও। এলিটরা সবসময় পাবলিক ডিসকর্স ছোট করে নিয়ে আসতে চায়। কারন তারা চায় “টপ ডাউন ম্যানেজমেন্ট”। গত ৫০ বছরে সবকিছুকে বিজনেস এডমিনের দৃষ্টি থেকে দেখার একটি প্রবণতা শুরু হয়েছে। যার ফলে তারা মনে করেন সবকিছুর মূলে হচ্ছে কস্ট বেনিফিট এনালাইসিস। একারনে দক্ষ লোকের সঠিক ম্যানেজমেন্টেই সকল সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে। কন্টেক্সট অথবা সেন্সিটিভিটি বুঝনের দরকার নাই। তারা কখনই বুঝেন না রাষ্ট্র একটি কোম্পানীর মত না। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যান ১৯৯৩ সালে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পেপার লিখেছিলেন, যেখানে তিনি প্রমান করেছেন, কেন রাষ্ট্র একটি কোম্পানী নয় এবং কেন একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক একজন সফল সিইও থেকে মূলগতভাবে আলাদা।

ফাহাম সাহেব জিয়াউর রহমানের ভক্ত। তার এই ভক্তির অন্যতম কারন হচ্ছে জিয়াউর রহমান “মেরিটোক্রেসি” কে গুরুত্ব দিতেন। ফাহাম সাহেব মেরিটোরিয়াস মানুষ, পিএচডিধারী জ্ঞানী মানুষ, সুতরাং তার এই চিন্তা আসতেই পারে, দেশের সমস্যা সমাধানের প্রধান উপায় হচ্ছে মেধাবীদের নিয়ে আসা, সম্ভবহলে সকল যায়গায় পিএইচডিদের ইন্সটল করা। তিনি অনেক সময় আওয়ামী লীগের “গ্রাম্যতা” এবং “লাড্ডাগাড্ডা” প্রবণতার সমালোচনা করে। এই সমালোচনা যতটা না আওয়ামী লীগের তারচেয়ে বেশী “গ্রাম্যতার” সমালোচনা। তার উচ্চরুচি এইসব গ্রাম্যতা দ্বারা আহত হয়। এইসব “গ্রাম্যতা” বিষয়ক ডিসকোর্স পুরোপুরিই সামাজিক সেগ্রেগেশনের জন্যে উদ্ভাবিত তত্ব। বড় বড় দুর্নীতিবাজের পাশে বসে খেতে আমাদের জাত যায় না, রিকশাওয়ালার পাশে খেতে আমাদের জাত যায়। সুতরাং তিনি যে মেরিটোক্র্যাসি অথবা পিএচডিপন্থার প্রতি আস্থা রাখছেন, সেটি কতটুকু মেরিটের জন্যে আর কতটুকু সমাজের উচ্চবর্গের অহমিকা থেকে উতসারিত সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়।

এই দেশের প্রধান সমস্যা এইটা নয় যে এই দেশ যারা চালায় তাদের সবার পিএইচডি নেই। এই দেশের প্রধান সমস্যা এইটাও নয়, যে গ্রামের রিকশাওয়ালা গড়গড় করে কীটস কিংবা নীতশে আওড়ায় না। অনেক পিএইচডি ধারী দুই দলের ধামা নিয়ে ঘুরছেন। সুতরাং মেরিট অটোম্যাটিক্যালি সমাধান নিয়ে আসবে এইটা সম্পূর্ণ ভূল এবং বিভ্রান্ত ধারনা। এই ধারনার উতসও হচ্ছে নিম্নবর্গের সাধারন মানুষকে “এজেন্সিশূণ্য” ভাবা। তাদের ভালোমন্দ ভাবার ক্ষমতা তাদের নেই সেটি ভাবা। তাদের ভালোমন্দ শুধু বুঝবে এলিটরা। পিএইচডীওয়ালারা।

বারট্রাণ্ড রাসেল বারবার শিক্ষিত এবং নিম্নবর্গের সাথে বিচ্ছিন্ন বুরোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে বলেছেন। এর অন্যতম কারন, এরা যে পলিসি তৈরী করে, সেই পলিসি যে সমাজ বাস্তবতায় প্রয়োগকৃত হবে, সেই বাস্তবতায় ঐ আমলারা বসবাস করেনা। সুতরাং সকল প্রকার মেরিটোক্র্যাসির নামে প্লুটোক্র্যাসি আদপে সমাজের অর্ডার ও স্ট্যাটাস কো বজায় রাখনের হাতিয়ার।

নিম্নবর্গের সাধারন মানুষের জন্যে যেটি প্রয়োজন সেটি পিএইচডিদের খবরদারী নয়। তাদের দরকার তথ্য। পিএইচডিরা যদি আদপেই রেসিস্ট চিন্তাভাবনা থিকা মুক্ত হত, তাহলে নিম্নবর্গের মানুষকে তথ্য সরবরাহ করত। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক খবরদারী থেকে দূরে থাকত। সমস্যা হচ্ছে এলিটরা সেইটা কখনই করে না। তারা তথ্য নিজের কাছে রাখে। নিম্নবর্গের সাথে কমিউনিকেট করে না। এবং হঠাত করে নিম্নবর্গের মানুষের উপর নেমে আসে পিএইচডিধারীদের তৈরী পলিসি। যেই পলিসি তৈরীর সময় তার সাথে কথা বলার কোন প্রয়োজন এলিটরা বোধ করে না। কারন, তারা যথারীতি সবাত্তে বেশী বুঝে।

শাহবাগ আন্দোলনের সময় বিএনপিওয়ালার নাখোশ হচ্ছিলেন কারন শাহবাগওয়ালার কেন রাষ্ট্রের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কিছু বলছে না এই জন্যে। আজকে ফাহাম সাহেব নাখোশ হচ্ছেন, কেন বিএনপিকে ভোটের বাইরে অন্যকোন পরিবর্তনের কথা বলতে হবে? এই মুহুর্তে তো ভোটই নাই, অন্যকিছু বলে তাই লাভ নাই।

সুতরাং ফাহাম সাহেবের এই বক্তব্যে বৃত্তটি সম্পূর্ণ হল। এককালে তিনি বিরোধীপক্ষকে পাবলিক ডিসকোর্স সংকুচিত করার দায়ে দোষারোপ করছিলেন। আজকে তিনি নিজে বিএনপির সংকুচিত ডিসকোর্সকে প্রাণপনে ডিফেণ্ড করছেন।

যতদিন আমদের রাজনৈতিক দলগুলো ভাববে গনতন্ত্রে নির্বাচনের চেয়ে জরুরী কিছু নেই, আর নির্বাচনের বাইরে রাজনৈতিক কোন স্পেইস নেই, ততদিন তাদের কামড়াকামড়ি জমিদারদের কামড়াকামড়ি হয়েই থাকবে। এর কোন মূল্য সাধারন মানুষের কাছে তৈরী হবে না। সাধারন মানুষ এই ফানুশের পেছনে দৌড়াবেও না। গুণ্ডাপাণ্ডারা একে অপরের মাথায় লাঠির বাড়ি মেরে শক্তির লড়াই খেলবে। বিএনপির কর্মসূচীতে মানুষ না থাকাই উলটা মানুষকে দোষারোপ করার এই আকুতি প্রমাণ করে আসলে তাদের কোথায় লাগছে। আওয়ামী লীগের গুণ্ডাপাণ্ডাদের সাথে তাদের গুণ্ডাপাণ্ডারা পেরে উঠছে এইখানেই তাদের ক্ষোভ। মাইরপিট এবং লুটপাট যেই রাজনৈতিক দলগুলোর বৈশিষ্ট্য এবং যারা শক্তিপরীক্ষায় কখনই পিছিয়ে যেতে চায় না, তারা আজকে মার খেয়ে যদি বলে “আমি ভদ্র, মারামারি করি না” সেইটা হাস্যকর কথা হয়ে যায়।

এখন পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলনে প্রমাণ হয়েছে তাদের গুণ্ডামি করার ক্ষমতা আওয়ামী লীগের চেয়ে কম। এইটা এফিশিয়েন্সির ব্যাপার। নীতির নয়। আজকে যদি বিএনপি আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশী গুণ্ডামীর সুযোগ পেত, তারা তাদের “আমরা ভদ্রের দল” ইত্যাদি বলে পাশ না কাটিয়ে সেই গুণ্ডামীর সর্বোচ্চ সুযোগ গ্রহন করত।

ফাহাম সাহেবের একটি কথা দিয়ে শেষ করি। তিনি বলেছেন সাধারন মুক্তিযুদ্ধাদের চিন্তাভাবনা এত সফিস্টিকেটেড ছিল না। এইখানেও তিনি ভেবেছেন বাংলার সাধারণ যে কৃষকটি যুদ্ধে গিয়েছে তার কোন এজেন্সি নেই। আসলে যেটি নেই সেটি হচ্ছে তার আশা আকাঙ্খাকে এলিটদের উপযোগী ভাষায় প্রকাশের ক্ষমতা। কিন্তু যুদ্ধের ন্যায্যতা তার কাছে ঠিকভাবেই প্রতিভাত হয়েছে। জনযুদ্ধের জন্যে যা কিছু প্রয়োজনীয় সবই তার ছিল। ছিলনা শুধু এলিটদের সাথে কমিউনিকেট করার ক্ষমতা। জনযুদ্ধের জন্যে এই গুনের কোন দরকার নেই। এই গুনের দরকার পরে যুদ্ধের পরে, যখন এলিটরা লুটপাট শুরু করে, সেই এলিটদের কাছে আবেদন জানানোর জন্যে।

এই লুটপাটতান্ত্রিক এবং গুণ্ডাপাণ্ডানির্ভর সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি অনাস্থা জানাইলাম। আমি অনেক দেরীতে জানাইছি। সাধারন জনগন বহু আগেই অনাস্থা জানাইছে।

আরিফুল হোসেন তুহীন-2

6th January

আমার আগের নোটটির [১] প্রতিক্রীয়া হিসবে Shafiqur Rahman নীচের মন্তব্যটি করেছেন।

“What is the use of this kind of speculations without the support of any empirical social science research? Before constructing castles of social hypotheses, one should at least try to build a foundation of information. I think it is very irresponsible to ascribe motives upon general masses without knowing what they really think. The common people ofcourse spent more time worrying about bread and butter issues but they are human beings too and 20th century social science have taught us one thing repeatedly, higher order purpose and dignity is important for human beings of all classes”

আমার নোটে প্রধানত দুইটি ব্যাপার ছিল।

প্রথমত সাধারন মানুষের এজেন্সি। দ্বিতীয়ত সাধারন মানুষের রাজনৈতিক আইডিন্টেটি রক্ষার জন্যে ইন্সেটিভ স্ট্রাকচারটি আসলে কি? এই দুইটি ধারনা কি এম্পিরিক্যালি এস্টাবলিশ করা যায়?

প্রথমেই এজেন্সির প্রসঙ্গে আসি।

এজেন্সির যে আলোচনা বিংশ শতকের দ্বিতীয়ভাগে হয়েছে সেটি কিন্তু কোণ “তথ্য” অথবা “টেক্সট” কে অস্বীকার করে না। বরং “তথ্য” বা “টেক্সট” কে ভিন্নভাবে পড়ার কিছু উপায়ের কথা বলে। তাদের দাবীটি হচ্ছে, একই তথ্য বা টেক্সটকে আগে যেভাবে পড়া হত এবং ইন্টারপ্রেট করা হত, সেই পড়ার পেছনে পাঠকের কিছু বায়াস কাজ করেছে। সুতরাং টেক্সটগুলো নতুন করে পড়তে হবে।

একটি সাধারন উদাহরন দেই।

ব্রিটিশ ঐতিহাসিকরা এই অঞ্চলে ত্রয়োদশ শতক থেকে শুরু হওয়া তুর্কি/আফগানী শাসনকে “ইসলামী” শাসন এবং সেই শাসনকে ধর্মের মাধ্যমে চিহ্নিত করা শুরু করেন। তাদের সামনে প্রধানত যে তথ্য প্রমাণ ছিল, সেগুলো হচ্ছে, প্রত্যেকটি সুলতানের দরবারে তার কাজকর্ম ক্রনিকেল লেখার জন্যে কয়েকজন নিযুক্ত থাকত। এরা প্রধানত সুলতান কতটুকু ইসলামভক্ত এবং ইসলামের প্রচার প্রসারে কতটুকু কাজ করত সেগুলো ডালাপালা দিয়ে বর্ণিত থাকত। এছাড়াও প্রতিটি সুলতান বিভিন্ন পীর দরবেশের আশীর্বাদ লাভের চেষ্টা করতেন সেটিরও বর্ণনা থাকত। বলা বাহুল্য এইসব অতিরঞ্জিত বয়ানে বাস্তবতা সামান্যই থাকত। পরবর্তীতে একই টাইম ফ্রেইমের বিভিন্ন সংক্সৃত লিটারেচার ঘেটে দেখাগেল উচ্চবর্ণের হিন্দুরা এই আক্রমণকারী শাসকদের “মুসলিম” হিসেবে আইডেন্টিফাই করতেছেন না। আইডেন্টিফাই করতেছেন “টার্ক” বা “আফগানী” হিসেবে। যার ফলে উনিশ শতকের ব্রিটিশ ঐতিহাসিকদের “ইন্টারপ্রেটেশন” বিপদের মুখে পরে। নতুন ইন্টারপ্রেটেশন কিন্তু আগের তথ্যকে অস্বীকার করেনি। কিন্তু নতুন ইন্টারপ্রেটেশন যেটি করেছে, সেটি হচ্ছে আগের তথ্যের সাথে তথ্য উতপত্তির কনটেক্সট যোগ করেছে। ব্রিটিশ ঐতিহাসিকরা কনটেক্সট বোঝেননি। রাজদরবারে লেখা সুলতানের প্রশস্তিমূলক ক্রনিকেলকে তারা নির্ভরযোগ্য ইতিহাসের উতস মনে করেছেন। কোণ পরিস্থিতিতে ক্রনিকেলগুলো লেখা হয়েছে সেই কনটেক্সটি এখানে যোগ করার গুরুত্ব অনেক পরের ঐতিহাসিকরা বুঝতে পেরেছেন।

এখন নিম্নবর্গের মানুষ সম্পর্কে সাধারন যে চিন্তা আছে সেটিকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ আছে।

যেমন বাংলাদেশে একটি সাধারন ধারনা প্রচলিত আছে, যে দেশের অধিকাংশ মানুষ শিক্ষিত নয় তাই দেশের লোকে কিছু বুঝতেছেনা, এবং বারবার লুটেরা রাজনীতির কাছেই আত্নসমর্পন করতেছে। যদিও এইটা মোটামুটি প্রমাণিত, উচ্চশিক্ষা সবসময় মানুষকে নৈতিকতা, সাম্য ইত্যাদির শিক্ষা দেয় না। শিক্ষিত মানুষরা দুই নাম্বারি করতে কখনই পিছিয়ে থাকে না। সুতরাং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রায়োগিক গুরুত্বের বাইরে তাকে “সঠিক নাগরিক” হওনের মাপকাঠি চিন্তা করার মাঝে ঘাপলা আছে। শিক্ষা মানুষের চিন্তাভাবনা সংগঠনের কিছু টুলস প্রোভাইড করে। কিন্তু এই টুলসগুলো দিয়ে আমি কি করব সেইটি পুরোপুরি আমি এবং আমার সমাজ বাস্তবতায় ঠিক হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কোন মানুষের ইন্ট্রিন্সিক গুন নয়। এইটা নির্ভর করে সুযোগ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচারের উপর। যাদের এই প্রিভিলেজ থাকে তারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পায়। তাদের কাছে তথ্যের পরিমাণ বেশী থাকে।

আধুনিক সমাজের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে আমরা মনে করি জ্ঞান = ক্ষমতা। অর্তাত আপনি যদি বেশী তথ্যের অধিকারী হন, কম তথ্যের অধিকারীদের উপর আপনার খবরদারী করনের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়। অথচ, বিষয়টা হওয়া উচিত ছিল ভিন্ন। যেহেতু আমরা এই ব্যাপারে একমত হতে পারি, যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষের কোন জন্মগত গুন নয়, সেহেতু যার কাছে তথ্য বেশী, তার উচিত ছিল যার কাছে তথ্য কম তাকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করা। তার উপর খবরদারী করা নয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমরা মনে করি যাদের “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা” নাই, তাদের “এজেন্সিও” নাই। সুতরাং তাদের নিজেদের ভালোমন্দ বুঝারও ক্ষমতা নাই। তাই বেশী তথ্যওয়ালারা কমতথ্যোয়ালাদের উপরে খবরদারী করবে। কারন বেশী তথ্যোয়ালারা বেশী বুঝে। এই প্যারাডাইমের সমস্যা হচ্ছে, আমরা ভুলে যাই কনটেক্সট এর কথা। উড়িরচরের আইজুদ্দীনের সমস্যা সচিবালয়ের আইজুদ্দীন সমাধান করতে পারবে না। যেটা হওয়া উচিত, উড়িরচরের আইজুদ্দীনকে জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো তথ্য সরবরাহ করবে। এবং উড়িরচরের আইজুদ্দীন যেইটা ঠিক মনে করবে সেইটা করবে। বিশ্বব্যাপি পাবলিক হেলথ প্রজেক্টগুলো মোটামুটি সফল হয়েছে, কারন তারা এই কনটেক্সটের ব্যাপারটা মাথায় রেখেছে। তারা শুধু মায়া বড়ি আর পোলিও টিকা নিয়া গ্রামে যায় নাই, তারা এর কনজাম্পশনের জন্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছে। এবং শেষপর্যন্ত সিস্টেমটাকে ভলান্টারি রেখেছে। যাতে মানুষ স্বত”স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহন করে।

কিন্তু সামাজিক অর্থনৈতিক প্রজেক্টগুলো , এই প্রোজেক্টের সাবজেক্ট পপুলেশনের মতামত বা সেই পপুলেশনকে কনভিন্স করার প্রয়োজন খুব একটা মনে করে না। এর কারন যথারীতি সাধারন জনগনকে “এজেন্সিশুন্য” ভাবা। তাদেরকে প্যাসিভ ভাবা, তাদের এক্ট করার ক্ষমতা নাই, এইটা ভাবা।

এখন জনগনের এজেন্সি আছে কি নাই, সেইটা কি স্পেকুলেটিভ না এম্পিরিক্যাল?

এইগুলো এম্পিরিক্যাল বেসিসের উপরে বসানো যায়।

আবারো উদাহরন দেই। উনিশ শতকের আমেরিকায় যখন দাস প্রথা প্রচলিত ছিল, তখন দাসদের মধ্যে ভিন্ন একধরনের “সংস্কৃতি” চালু ছিল যা তার সাদা প্রভুদের থেকে আলাদা। এইটা একটা এম্পিরিক্যাল ফ্যাক্ট। এখন এইটাকে ইন্টারপ্রেট করার চেষ্টা করা যাক। একই টাইম স্পেইসে দুইটি জনগোষ্টী বসবাস করেও কেন তারা ভিন্ন সংস্কৃতি লালন করবে। দাস প্রত্যক্ষভাবেই তার সাদা প্রভুদের সংস্কৃতি দেখতেছিল। এখন তারা সাদাদের সংস্কৃতি কিন্তু এমুলেট করার চেষ্টা করে নাই।

উনিশ শতকের বাংলায় বাংলা ইংরেজী নাটক/সাহিত্যের হিড়িক পরেছিল। ধরেন যেই বাগানবাড়িতে এইসব নাটক হইত, সেখানকার কর্মচারীরা এইগুলো দেখত। কিন্তু সেই কর্মচারী যখন নিজের সামাজিক স্পেইসে ফেরত যাইত তখন তার সংস্কৃতি নির্দিষ্টভাবে ভিন্ন ছিল তার প্রভুদের সংস্কৃতি থিকা। তারাও প্রভুদের এমুলেট করার চেষ্টা করে নাই।

এই ঘটনাটার ইন্টারপ্রেট কিভাবে করা যায়?

একটা সহজ ইন্টারপ্রেটেশন হচ্ছে, এরা অশিক্ষিত লোকজন, তারা হ্যামলেট/শর্মিষ্ঠার মূল্য বোঝে না। ভালো যুক্তি। কিন্তু এই যুক্তির একটা বড় সমস্যা হইতেছে, এইটা প্রথমেই ধরে নেয়, “হ্যাম্লেট”, “শর্মিষ্ঠা” উন্নত সংস্কৃতি, এবং নিম্নবর্গের মানুষ সেইটা অনুসরন করতেছে না অজ্ঞতাপ্রসূত। অর্তাত এইখানে প্রশ্নটা সক্ষমতার। উচ্চবর্গের শিক্ষিত মানুষের “হ্যামলেট” বোঝনের ক্ষমতা আছে। নিম্নবর্গের মানুষেরাও এইগুলো করত যদি তাদের সেই সক্ষমতা থাকত। কিন্তু হোয়াট ইফ, নিম্নবর্গের মানুষের কাছে এইগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনেই হয় নাই? কারন যদি এমন হতো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হইছে তারা চেষ্টা করত এগুলো এমুলেট করতে। সেই এমুলেশন হয়ত বেশী ভালো হইত না। কিন্তু এইরকম কোন আগ্রহ তারা দেখায় নাই।

এখন পৃথিবীর সকল এলাকায় নিম্নবর্গের মানুষ যে তার প্রভুদের থিকা ভিন্ন সংস্কৃতি লালন করছে। কেন করছে সেইটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। কলোনাইজার কিংবা তাদের দেশীয় সহযোগীদের কাছে এর ব্যাখ্যা হচ্ছে, তারা এতই নির্বোধ যে কলোনাইজারদের সংস্কৃতি যে উন্নত সেইটা বুঝতেছে না।

এই নির্বুদ্ধিতার যুক্তি ধোপে টেকে না। অন্যকিছু বাদ দেন। শুধুমাত্র বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাস্টা দেখেন। তারা কিধরনের বুদ্ধি, সাহস ইত্যাদি দেখাইছে। তারা এমন কঠিন পরিবেশে অপারেট করছে, যেই কঠিন পরিবেশের কথা আজকের বিম্পি কিংবা আম্লীগ কল্পনাও করতে পারবে না। অপ্রেশন কাকে বলে এই মেইনস্ট্রীম রাজনৈতিক দলের আসলে জানাই নাই।

সুতরাং দেখাযাচ্ছে তাদেরকে সংগঠিত হবার ক্ষমতা, আত্নত্যাগের ক্ষমতা, কোনটারই কমতি নাই। তাহলে তারা মেইনস্ট্রীম রাজনীতিতে আসে না কেন?

এইখানে আসবে ইন্সেন্টিভ এর কথা। আমার নোটের এই অংশটা আসলে সাধারন অর্থনীতি। ইন্সেন্টিভ ছাড়া কিছুই হয় না। ইন্সেন্টিভ বলতে শুধু ম্যাটেরিয়াল জিনিসপাতি বোঝায় না। ইন্সেন্টভ বলতে বোঝায় , একজন ব্যক্তি যাকিছু গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।

এখন সহজ একটি উদাহরন দেই। যেকোন মানুষের কাছে আত্নসম্মান গুরুত্বপূর্ণ। এখন একজন রিকশাওয়ালা নিয়মিত চড় খেয়ে থাকে। কাজের বুয়া খুন্তির খোচা খেয়ে থাকে। এইগুলো তাদের আত্নসম্মানে আঘাত করে। এখন এমন কোন আন্দোলন যদি হত, যা নিম্নবর্গের মানুষের এইসব অসম্মান বন্ধ করার জন্যে কাজ করছে, এই মানুষগুলোর ইন্সেন্টিভ থাকত সেই আন্দোলনে যোগ দেয়ার।

এমনি করে অসংখ্য ইন্সেন্টিভের লিস্ট করা যাবে যেগুলো অধিকাংশ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

এই লিস্টের অনেক নীচে অবস্থান করে শাস্তি দেয়ার প্রবনতা। (কিছু এম্পিরিক্যাল স্টাডি আছে, যে মানুষ ক্ষতিপূরণ পাইলে শাস্তি দিতে আগ্রহী হয় না) এই শাস্তি দেওনের প্রবনতা থেকে বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেয় প্রধানত। বাংলাদেশের সকলের মনে এই ধারনাটা বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে “সরকার পরিবর্তনের সাথে কোন কিছুই পরিবর্তন হবে না”। সুতরাং ভোট দেয়াটা মূলত একধরনের কনভিনিয়েন্ট প্রটেস্ট যা ছুটির দিনে ৩০ মিনিট খরচ করে করা যায়। এইখানকার খুব কম ভোটই “পরিবর্তনের আশায়” ভোট।

এখন মধ্যবিত্তের সমস্যা হচ্ছে ভিন্ন। মধ্যবিত্ত/উচ্চবিত্ত সামাজিক ভাবে নিম্নবর্গের মানুষের মত অসম্মান এবং নিগ্রহের জীবন যাপন করে না। সুতরাং তাদের কাছে সম্মান বা ডিগনিটির চিন্তাভাবনা নিম্নবর্গের মানুষের থেকে আলাদা। তারা উদারনৈতিক গনতান্ত্রিক মূল্যবোধের ব্যাপারে সেন্সেটিভ। এইসব ভায়োলেট হলে তারা ক্ষেপে উঠে।

আপনার আমার দুইবেলা চড় খাওনের সমাজ বাস্তবতা নাই। সুতরাং এখন আপনি আর আমি বসে যদি বলি “মোরাল এবং লজিক্যাল” দাবীগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তখন সেইটা আমাদের সমাজ বাস্তবতায় পুরোপুরি ঠিক আছে। কিন্তু ভিন্ন সমাজ বাস্তবতার একজনের কাছে যদি এই “মোরাল এবং লজিক্যাল” দাবীগুলো “কম” গুরুত্বপূর্ণ হয়(গুরুত্বহীণ না কিন্তু) তাইলে তাদের দোষানোর কিছু নাই। এইটাই আমার বক্তব্য। আমি যদি প্রতিদিন লাথি খাইতাম, এবং জানতাম, এই লাথি খাওনের কোন শেষ অদুর ভবিষ্যতে নাই, তখন, আমি যদি সিদ্ধান্ত নিতাম আমি “লাথি না খাওনের” রাজনীতিতে মনোযোগ দিব, ইলেক্টোরাল পলিটিক্স এর চেয়ে তাইলে আমাকে দোষ দেয়া কি ঠিক? যে রাজনৈতিক শক্তি আমার লাথি খাওন আটকাতে পারবে না, এবং আমাকে লাথি দেয়া লোকজনের সাথে মৈত্রী করে চলবে, তার প্রতি যদি আমি অনাস্থা জানাই, তাইলে আমাকে দোষারোপ করা ঠিক কি না?

সমাজের কোন মানুষের সার্বজনীন দায়িত্ব কর্তব্যের বয়ান তৈরী করার মধ্যে একটা হিপোক্র্যাসি আছে।

সমাজ বাস্তবতা না বিবেচনা করে সবার কাছে একই জিনিস “মোরাল এবং লজিক্যাল” প্রতিভাত হয়না এই আণ্ডারস্ট্যাণ্ডিং তৈরী হওনেরও দরকার আছে।

 

ফাহাম আবদুস সালাম -2

7th January

বাংলাদেশের আরবান মিডল ক্লাসকে নিয়ে আমি এক খান লেখা লিখেছিলাম দুদিন আগে। তার প্রতিক্রিয়ায় জিয়া হাসান, আরিফুল হোসেন তুহিন ও জায়েদ উল্লাস তিনটা লেখা লিখেছেন। তার প্রতিক্রিয়ায় এই লেখা।

তিনটা লেখার অনেক ব্যাপারেই আমি একমত। বিশেষত বিএনপির রাজনীতির সমালোচনায় তারা যা লিখেছেন আমি তা মোটামুটি সমর্থন করি। কিন্তু এই তিনটা লেখার একটা মূলসুর আছে যার সাথে আমি একমত না। তারা প্রত্যেকেই বলেছেন যে বাংলাদেশে দুই দলের কামড়াকামড়ি চলছে। আরবান মিডল ক্লাস ভাবছে যে এই কাজিয়ায় আমার কোনো ইনসেনটিভ নাই (আরিফুল হোসেন তুহিনের আরবান মিডল ক্লাস ও “নিম্নবর্গের” মাঝে বিপজ্জনক রকমের ওভারল্যাপ মনে হয়েছে আমার কাছে)। বিএনপিও তাদের কনভিন্স করতে পারে নাই । কাজেই আরবান মিডল ক্লাস যে বিএনপির ক্ষমতার লড়াইয়ে পার্টিসিপেট করবে না – এই ব্যাপারটাকে তারা “জাস্টিফাই” করেছেন।

এবং সে সাথে তারা আমার বক্তব্যকেই রিইনফোরস করেছেন। বুঝিয়ে বলি।

গণতন্ত্র স্ট্যাবলিশ হতে যে সময় লাগে এ ব্যাপারে কেউ আশা করি ভিন্ন মত পোষণ করবেন না। বৃটেনের দুইশ বছর আগের গণতন্ত্রের যে রূপ ছিলো সেটা এমন কি আজকের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও হাস্যকর ঠেকতে পারে। কিন্তু তাদের উত্তরণ ঘটেছে। দেড়শ বছর আগের ব্রিটেনে মেয়েদের ভোটাধিকার নাই দেখে জন স্টুয়ার্ট মিল পড়া উচ্চ-মধ্য বিত্তের সাফ্রাজিস্ট নারীদের জন্য খুব সহজ ছিলো দর্শক হয়ে বসে থাকা – ভাবা যে সমাজের সব পুরুষ কামড়াকামড়িতে ব্যস্ত আমাদের কী দরকার এই কাজিয়ায় যাওয়ার? কিন্তু তারা আন্দোলন করে ভোটাধিকারের দাবী আদায় করে নিয়েছিলেন।

এই উত্তরণ পর্ব কিন্তু বন্ধ হয়ে যায় নি – এখনও চলছে। প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশে এখনো চলছে – কেউ এগিয়ে আছে, কেউ পিছিয়ে। বাংলাদেশে যে লুটপাটতন্ত্র চলছে সেটা বাংলাদেশের একক আবিষ্কার না। প্রায় প্রতিটি দেশেরই কোনো না কোনো পর্যায়ে কাছাকাছি মাপের লুটপাটতন্ত্র জারি ছিলো। তো এই লুটপাটের বেনিফিশিয়ারিরা আল্লাহর ভয়ে লুটপাট বন্ধ করবে – এমনটা নিশ্চই কোনো কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন মানুষ আশা করবেন না। সে সব দেশে লুটপাট সীমিত হয়েছে কীভাবে? এর সরল কোনো উত্তর নেই কিন্তু একটা মৌলিক মিল আছে সব গণতান্ত্রিক দেশে। জনগণ লড়াই করে তার অধিকার স্ট্যাবলিশ করে রাজনীতিবিদদের তাদের পক্ষে পলিসি বানানোর জন্য বাধ্য করেছে। য়েস, খেয়াল করুন – জনগণ লড়াই করেছে এবং পলিসি মেকারদের বাধ্য করেছে।

লুটপাট তুরুপ বন্দোবস্ত – এটা এমনি এমনি সীমিত হয় না।

বাংলাদেশে যে এই মুহুর্তে খুবই কুৎসিত একনায়িকাতন্ত্র চলছে এটা কারো অজানা না। ভোট গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত না – মানি কিন্তু ভোটাধিকার গণতন্ত্রের সর্বপ্রথম শর্ত। সেই ভোটাধিকারও বাংলাদেশের মানুষের আজকে নেই। ২০০৬ সালে বিএনপি ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলো কিন্তু তারা সফল হয় নি। কারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছিলো। যদিও ২০০৯ এর নির্বাচন ষড়যন্ত্রমূলক ছিলো কিন্তু আমি এই নির্বাচনকে এক্সেপ্ট করি কারণ নির্বাচনের দিনে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলো। এবং এও মানি যে নির্বাচন ষড়যন্ত্রমূলক না হলেও বিএনপি হারতো কারণ জনগণ বিএনপিকে চায় নি।

আপনি যদি গণতন্ত্রে ঈমান আনেন তাহলে তাহলে আপনাকে স্বীকার করতে হবে যে জনগণের কিছু ইনভায়োলেবল রাইটস আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন তার মধ্যে অন্যতম। প্রশ্ন হোলো এই রাইটস যখন অনুপস্থিত তখন সেটা স্ট্যাবলিশ করার দায় কার?

তিনজন লেখকই এই দায় থেকে আরবান মিডল ক্লাসকে মুক্তি দিতে চান কারণ তারা জানেন যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের যে পার্থক্য সেটা লুটপাটের মাত্রার পার্থক্য – আদর্শের পার্থক্য না। জনগণ কেন তাদের কামড়াকামড়ির দায় নেবে? মিডল ক্লাসের এই কনশাস ডিসিশন সম্পূর্ণ এক্সেপ্টেবল তাদের কাছে।

তাদের এই চিন্তাই প্রমাণ করে কেন আমরা আজো পলিটি হতে পারি নি, কেন আমরা সমাজ বুঝি কিন্তু রাষ্ট্র বুঝি না। সমাজে দুই জনের কাজিয়ায় দর্শক হওয়ার সুযোগ আছে কারণ সমাজের কাজিয়া কমপ্লেক্স না। রাষ্ট্রের কাজিয়ায় আমাদের সবার স্বার্থ জড়িয়ে আছে – এটাকে ইগনোর করার কোনো উপায় নেই। সমাজের বাইরে যাওয়ার আপনার সুযোগ আছে, ধর্মের বাইরে যাওয়ার আপনার সুযোগ আছে কিন্তু আপনার রাষ্ট্র-নিরপেক্ষ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

জিয়া হাসানের ভাষায় এই কাজিয়ায় জনগণের কোনো ইনসেনটিভ নাই। ওয়েল, এই কাজিয়ায় বিএনপি জিতলে আর কিছু না হলেও জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে। এইটা যদি জনগনের ইনসেনটিভ না হয়ে থাকে তাহলে আরবান মিডল ক্লাসের গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা এইসব গালভরা কথা মুখে আনা উচিত না।

আমি বলছি অবশ্যই ভোটাধিকার জনগনের জন্য একটা ইনসেনটিভ। ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারা যদি আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনে আমাদের অবশ্যই সেটা মেনে নিতে হবে।

তারা মনে করছেন খারাপ থেকে খারাপতর হয়ে ওঠাই একমাত্র গন্তব্য – তাই এই যাত্রায় দর্শক হয়ে থাকাটা উচিত না হলেও একসেপ্টেবল। আমি বলছি না। এই লুটপাটতন্ত্র থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি যদি সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে আরবান মিডল ক্লাস এই রাষ্ট্রের ওপর তাদের ঔনারশীপ এসার্ট করে।

আপনাকে বিএনপিকে কেন সাপোর্ট করতে হবে? বিএনপি লুটেরাদের দল মেনে নিলাম কিন্তু বিএনপির আন্দোলনের কজটা তো আমার আপনার সবার কজ। সাধারণ মানুষ তার ঔনারশীপ এসার্ট করে না দেখেই তো বিএনপি-লীগ লুটপাটের সুযোগ পায়। আপনি মনে করেন যে বিএনপি-আওয়ামী লীগ খারাপ। ভালো কথা। থার্ড কোনো ফোর্সকে তো তাহলে আসতে দিতে হবে। একনায়িকাতন্ত্রে তো সে উপায় নেই। ব্যাপারটা কি এমন না যে আপনার দর্শক হয়ে থাকাটাই লুটপাটতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ইন্ধন?

চেষ্টা করে দেখতে পারেন – নাক টিপে বন্ধ করে আপনি যদি কমলা (বাংলাদেশে যে ফলটাকে মালটা বলা হয়) খাওয়ার চেষ্টা করেন কোনোদিনও বুঝবেন না যে আপনি আসলে কী খাচ্ছেন। এটাই বাস্তবতা। আমাদের আরবান মিডল ক্লাস এই অসম্ভব কাজটাই করতে চান। তারা গণতন্ত্র চান কিন্তু লীগ-বিএনপির কাজিয়া চান না। তারা বুঝতে চান না যে লীগ-বিএনপির কাজিয়া থেকে আপনার বাঁচার কোনো উপায় নেই। আরবান মিডল ক্লাসই শুধু পারে দুই দলকে গণতন্ত্রে বাধ্য করতে। এই দায়িত্ব যতোদিন তারা অগ্রাহ্য করবে ততোদিন লালুভুলুদের অত্যাচার থেকে তাদের নিস্তার নাই।

 

নায়েল রহমান

7th January

 

নিউজফীড জুইড়া বিতর্কের কারণে নাক গলানোর একটা তাগিদ বোধ করলাম। নিজের মিডেল ক্লাস ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণেই কিনা পৃথিবীর সবচেয়ে হতভাগ্য (ম্যালাইন্ড সেন্সে) ইকনোমিক ক্লাস হিসেবে মিডেল ক্লাসরেই মনে হয়। বাংলাদেশেতো আরও বেশি। পলিটিক্যাল স্পেক্ট্রামের বাম থেকে শুরু করে (ইদানীংকালের) ডান পর্যন্ত সবাই এর উপর খাপ্পা। সবাইর ধারণা এই ক্লাসটার নিরুত্তাপ আচরণের কারণেই দেশে কিছু ‘হয়টয়’ না। মাঝেমধ্যে মনে হয় মানবসভ্যতার সকল পরিবর্তনের জন্যেও মানুষ এদেরেই দায়ী করে। বওহাত আচ্ছা। সব দোষ মিডেল ক্লাসের ধইরা নিয়াই একটু চিন্তাভাবনা করা শুরু করলাম, যার ফলাফল নিচে সন্নিবেশিত হইলঃ

মিডেল ক্লাস কী করেনাই তা নিয়া অনেকেই অনেক কিছু বলেন তাই গত দুয়েকদিন ধইরা ভাবতেছিলাম বাংলাদেশ নামের এই স্যুডো-স্টেইবল, পারশালি ফেইল্ড স্টেইটে (গায়ে লাগলে কিছু করার নাই ৪৩ বছর বয়সের একটা দেশ নিয়া আমার এক্সপেক্টেশন আপনার তুলনায় অনেক হাই) এ মিডেল ক্লাস কী কিছুই করেনা? এই নিয়া চিন্তা করতে গিয়া কিছু ঝামেলায় পড়লাম। নাগরিক হিসেবে মিডেল ক্লাসের কাছ থেইকা রাষ্ট্র কি পায় তা নিয়াই প্যাঁচটা লাগলো। এইখানে একটা জাফর ইকবালীয় সাদাসিধে ডিসক্লেইমার দিতে বাধ্য হইতেছিঃ আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বুঝিনা সুতরাং রাষ্ট্র তার নাগরিকের কাছ থেইকা কি আশা করে তার পুঁথিগত জ্ঞান আমার নাই। ঘটে যা অল্পবেশি বুদ্ধি আছে তা আমারে বলে যে রাষ্ট্র কমের মধ্যে আশা করতে পারে যে তার নাগরিক ঝুট ঝামেলা (দ্যাট ইজ বেআইনি কাজকারবার) দেখে দূরে থাইকা নিজের খায়েশ মিটাইতে অপররে ঝামেলায় ফালাবেনা, রাষ্ট্র চালানোর জন্য ট্যাকসো দিবে এবং অন্তত তার আওতায় থাকা মানুষ (দারা-পুত্র-পরিবার এটসেটরা) গুলারে নিদেনপক্ষে শিক্ষিত (হোপফুলি সুনাগরিক) কইরা তুলবে।

এই তিন ক্রাইটেরিয়ার বেইসিসে মিডেল ক্লাসরে একটু জাজ করতে গিয়া স্যারের মতন এট্টু চমকায়া গেলাম। বিস্মিত হইয়া দেখলাম যে, অপরাধের গুরুত্ব এবং সংখ্যার বিচারে এই মাচ-ম্যালাইন্ড মিডেল ক্লাসই দেখি সবচেয়ে সুবোধ বালক। মিডেল ক্লাস অন্যদের মতন (১) নিজে লাঠালাঠি করেনা, এবং (২) লাঠিয়াল ভাড়াও করতে পারেনা। [লাঠালাঠি দেইখা ভাইকেরিয়াস প্লেসার অনুভব করতেই পারে … যা এজ ইফ অন্যেরা কেউ করেনা হা হা হা] এইটারে একটু অন্যভাবে বললে দেশের সর্বনিম্ন আইনঅমান্যকারী (দ্যাট ইজ সর্বাধিক আইনমান্যকারী) শ্রেণীটাই হইলো এই হ্যাপলেস মিডেল ক্লাস। [হ্যাঁ সুযোগের অভাবে সে ভালো কিনা তা নিয়া ডিবেইট চালাইতেন পারেন তবে কোন অবস্থায় সে সুযোগ পায় তা বিশ্লেষণ করতে গেলেই ঝামেলায় পইড়া যাবেন। তবে এইখানে বইলা রাখা ভালো এই মিডেল ক্লাসের একটা চালাকচতুর অংশের ক্ষেত্রে উপরের এই কথা প্রযোজ্য না কারণ তারা বাই ডিফল্ট রুলিং ক্লাসের অংশ। সোশ্যালি কারেক্ট থাকার জন্য এর বেশি আর কিছু বললাম না এবং বলবোনা।]

আচ্ছা এরপর চিন্তা করা যাক ট্যাকসো পে করার ব্যাপারে। এইখানেও ইন্ট্রেস্টিং সেনারিও। শালার ভিতু মিডেল ক্লাস তার আয়ের অনুপাতে খুব সম্ভবত ট্যাকসো দেয় সবার চেয়ে বেশি। [আফটার অল, এই মিডেল ক্লাস চাকুরিজীবি শ্রেণীর বেতন থেইকা এট সোর্স কাইটা নেয়া হয় ট্যাক্স। দিতে না চাইলেও উপায় নাই।] কথাটা হয়তো খুব কনভিন্সিং মনে হইতেছেনা তাই একটু রিফ্রেইজ করার প্রয়োজন বোধ করতেছিঃ দেশে আয়ের অনুপাতে সবচেয়ে কম ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া অংশটাই হইলো মিডেল ক্লাস। [আশা করি এখন ক্লিয়ার হইছে।] যাহ! রাষ্ট্রের ভরণপোষণ করার দিক থেইকাও দেখি মিডেল ক্লাস খুব একটা পিছায়া নাই। ধারণা করা যাইতে পারে চাকুরিজীবি এই অংশই ব্যাংকে অল্পবিস্তর টাকাও রাখে, প্লাস নাদান হওয়ার কারণে ট্যাক্স রিবেইটের জন্যে সরকারি সেভিংস ইন্সট্রুমেন্টও এরাই সবচেয়ে বেশি কেনে।

এরপর চিন্তা করা যাক নাগরিক গইড়া তোলার ব্যাপারটা। এইখানে তুলনামুলক আলোচনা করার স্কোপ আছে। উচ্চ বা নিম্নবিত্তে অবস্থান করলে যে নামকাওয়াস্তে শিক্ষা বা অশিক্ষা নিয়ে আপনি চলতে পারবেন তা মিডেল ক্লাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। তার যেভাবেই হোক ছেলেমেয়েরে লেখাপড়া করাইতে হবে … তাও এক্কেবারে ভার্সিটি পর্যন্ত। এইটা বাঁচামরার কেইস। এই ফ্রেইমওয়ার্কে পাবলিক ইউনিভারসিটিতে কেউ চান্স পাইলে ভালো আর না পাইলে গলাকাটা (প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি)। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপারটা হইলো যে এই মিডেল ক্লাসের মেধাবী অংশটা এইখানে থাইমা থাকবেনা। তারা নিজ গরজেই বাইরে উচ্চশিক্ষা নেয়ার চেস্টা করবে। উচ্চবিত্তের সবচেয়ে মেধাবীর পক্ষে যেই ইউনিভার্সিটিতে যাওয়া সম্ভব মধ্যবিত্তের সবচেয়ে মেধাবীর তাতেই যাওয়া সম্ভব। যেই পয়েন্টটা তুইলা ধরার চেস্টা করতেছি সেইটা হইলো যে মিডেল ক্লাস থেইকা যেই পরিমাণ একাডেমিক ওভারএচিভার আসছে সেইটা মনে হয় তাদের মোর প্রিভিলেজড ক্লাসের ক্ষেত্রে হয়নাই।

তা এই সীমিত ফ্রেইমওয়ার্কে মিডেল ক্লাসের অবস্থা খুব একটা খারাপ না মনে হয়? কী বলেন? ট্যাঞ্জিবল সেন্সে এদের সুনাগরিক বলতে পারবেন কি? অথবা কুনাগরিক বলা থেকে বিরত থাকতে পারবেন কি? উত্তর যদি হ্যাঁ হয় সাথে থাকেন, না হইলে আইএমএইচও ইয়োর ইন ডিনায়াল। তাহইলে এতকিছুর পরেও এই শ্রেণীর উপর মানুষের এত ক্ষোভ কেন? বর্তমান কনটেক্সটে একটাই – সেইটা হইলো ফিজিক্যাল সেন্সে (?) তাদের রাজনৈতিক অসম্পৃক্ততা। এইখানে কিছু কম্পিটিং থিওরি কাজ করতেছে। অতি চিন্তায় ব্রেইন ফ্রিজ হওয়ার কারণে সেই বিষয়ে কালকে। :p

 কোমল ক্ষমতার প্রত্যাবর্তন

–রেজাউল করিম রনি

 

বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্কটের চরিত্র এক একজনের কাছে এক এক রকম। বুদ্ধিজিবিরা প্রতিবন্ধির মতো আচরণ করতে থাকে। কোন কিছুকে গোড়া থেকে বুঝবার অক্ষমতা  ডাকতে ফাও গল্পের ডালি খুলে বসে। বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা ও চাতুরী উদাম হয়ে যায় ক্ষনে ক্ষনে। আামাদের চিন্তাশীল নাগরিকের অভাব খুব জ্যান্ত হয়ে ধরা পরে তখন।

ক্ষমতা পরিবর্তনের হাওয়া বইতে থাকলে পাল্টাপাল্টি প্রতিযোগিতা ও প্রচার-প্রপাগান্ডার সময়ে এই অভাব প্রকটভাবে চোখে লাগে। বুদ্ধিজীবীরা দলীয় নীতির প্রতি অনুগত থেকে জাতীয় সমস্যা নিয়ে কথা বলার যে ঐতিহ্য এতদিন ধরে চর্চা করে আসছে -এখন তা আরও নোংরা জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের প্রায় সবাই এই দুই দলের ভারসাম্যের মধ্য থেকে চলতি সঙ্কট নিয়ে আলোচনা ও মিডিয়া প্রপাগান্ডায় অংশ নিয়ে থাকেন। এর মধ্যে গত এক দশক ধরে একটা পরিবর্তন এসেছে। জামায়াতের তরফেও কিছু বুদ্ধিজীবী নতুন করে জাতীয় রাজনীতিতে হাজির হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই ছদ্ম চরিত্রের। এরা বিএনপির সঙ্গে থেকে জামায়াতের স্বার্থকে টিকিয়ে রাখতে তৎপর থাকেন। এটা একটা নতুন মাত্রা। এর ফলে চতুর্মুখী বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এই বিভ্রান্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে একটা নিশ্চল পাহাড়ের মতো একই জায়গায় আটকে রাখে। ‘রাজা যায় রাজা আসে’ কিন্তু রাজনীতির কোনো গুণগত তফাত্ বা উন্নতি ঘটে না। এই দিকগুলো নজরে রেখে আজকে আমরা চলতি রাজনৈতিক হালচাল নিয়ে সংক্ষেপে কয়েকটি পয়েন্ট ধরে আলোচনা করব।

 

কৌতুকের রাজনীতি:

খালেদা নিজ অফিসে অবরুদ্ধ বা আটক আছেন। গত ৩ জানুয়ারি রাতে পুলিশ এই কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা দেয়। পুলিশ ইচ্ছামতো তালা দেয় আর খোলে। কিন্তু ক্ষমতার চাবি পরের হাতে। একই সঙ্গে কার্যালয়ের সামনে বিপুল পুলিশ মোতায়েন এবং রাস্তায় ইট, বালু ও মাটিভর্তি ট্রাক দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৫ জানুয়ারি বের হওয়ার চেষ্টা করলে পিপার স্প্রে ছোড়ে পুলিশ। এরপর থেকে খালেদা জিয়া কার্যালয়েই আছেন। এরপরে গত বৃহস্পতিবারও দিনের বেলায় ফটকের তালা খুলে দিয়ে রাতে আবার তালা দেয় পুলিশ। এই তালা দেওয়া আবার খুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কৌতুক জমে ওঠে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা গণতন্ত্র রক্ষায় বালির ট্রাকের বহুমুখী ভূমিকার কথা জানান মিডিয়াকে। এইসব ট্রাক হাজির করা হয়েছে নিরাপত্তার জন্য, কেউ কেউ বলেন, খালেদা জিয়ার বাড়িতে মেরামতের কাজ হবে। তাদের ব্যাখ্যা সার্কাস দলের জোকসে পরিণত হয় দ্রুত। তাদের কাণ্ডজ্ঞানহীন আস্ফাালন ও কুরুচিপূর্ণ রসিকতা আওয়ামী লীগের ওপর জন-অসন্তোষকে আরও শক্তিশালী করে। জাতির সঙ্গে এই তামাশাপূর্ণ আচরণ লীগকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় দ্রুত। লীগের চূড়ান্ত পশ্চাদপসরণ ঘটে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়ার আত্মবিশ্বাসী ও সংযত ভাষণের পরে। এই ভাষণে খালেদা জিয়া যে সংযমের পরিচয় দেন তা ক্ষমতার রাজনীতিতে অতি উঁচু স্তরের বিচক্ষণতার পরিচয়।

অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া ও তার দলের মহিলা সদস্যদের ওপর পিপার স্প্রে করেছে পুলিশ। পিপার স্প্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ করে হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে। অথচ পুলিশ মিডিয়ার সামনেই আইন ভঙ্গ করছে। আর সব মিলিয়ে ২৬টি ইট-বালির ট্রাক, পুলিশের যানবাহন দিয়ে খালেদার পথরোধ করে দিয়েছে এবং ৫ জানুয়ারি ঢাকার সঙ্গে বাংলাদেশের বাইরের রেল, সড়ক, লঞ্চ সব যোগাযোগ নিজেই বন্ধ করে দিয়েছেন। আর তত্ক্ষণাত্ খালেদা জিয়া অবরোধ কর্মসূচি ডিক্লেয়ার করেন। এতে সরকারের গেম ভেস্তে যায়। সরকারের অবরোধ প্রচেষ্টা বেশ সফল হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার তাত্ক্ষণিক অবরোধ ডাকার ফলে এই সফলতার প্রাথমিক নজরানা বিএনপির কোর্টে জমা হয়। এর মধ্যে মিডিয়ার সঙ্গে সরকারের আচরণ জনগণকে আর ক্ষিপ্ত করেছে। তথ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন, একুশে টিভি বন্ধ করা হয়নি। কিন্তু চ্যানেলটির প্রধান কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, মানুষ একুশে টিভি দেখতে পাচ্ছে না। তারেক রহমানের ভাষণ প্রচারের জন্য এই খেসারত দিতে হচ্ছে বলে মনে করেন সাংবাদিকরা। যদিও মামলা হয়েছে পর্নোগ্রাফি আইনে। পরে অবশ্য রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাও হয়েছে। অদ্ভুত এক অবস্থা তৈরি হয়েছে।

আদালতের এখতিয়ার আর রাজনীতির পরিমণ্ডল এ দুটোকে সচেতনভাবে গুলিয়ে ফেলা বাংলাদেশের তথাকথিত ‘আইনের শাসনের’ (আসলে দলীয় শাসনের) ঐতিহাসিক নজির হয়ে গেছে।

ধরেন, তারেক রহমান অপরাধী। কিন্তু অপরাধীর ‘মানবাধিকার’ বা স্বাভাবিক অধিকার বা আইনি অধিকার হল ‘কথা বলার অধিকার’। যত ভয়ঙ্কর অপরাধীই হোক না কেন, তার অপরাধের জন্য জবান বন্ধ রাখার কোনো বিধান নেই। এটা আইনের একটা বেআইনি প্রচেষ্টা মাত্র। দুই নাম্বার পয়েন্ট হল, মিডিয়া কী প্রচার করবে তা কোনোভাবেই আদালতের রায়ে নির্ধারণ করে দেওয়া যায় না। এই হাস্যকর কাজটি করে আদালতের সম্মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে সরকার।

এরকম চোখে-মুখে মিথ্যা ও চাতুরি এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণাপূর্ণ আচরণের জন্য বর্তমান সরকারকে কী মূল্য দিতে হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

খালেদা জিয়া আর বিএনপি এক নয়। বিএনপির চারপাশে দুষ্টলোকদের আখড়া এই অভিযোগ অনেক দিনের। কিন্তু খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগ ও প্রতীকী গুরুত্বকে আওয়ামী লীগ যেভাবে নস্যাত্ করার চেষ্টা করছে তাতে উল্টো ফল ফলতে শুরু করেছে। অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া গণতন্ত্রহীনতার প্রতীকে পরিণত হচ্ছেন ক্রমে ক্রমে। তার ৭-দফা ‘নরম’ দাবি লীগ যেভাবে উড়িয়ে দিয়েছে, হম্বিতম্বি করেছে, তা লীগকে ক্ষমতা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে দিন দিন।

সরকার অবরোধ ঠেকানোর জন্য ইজতেমার ইস্যুটিকে কাজে লাগাতে পারবে বলে ভেবেছিল। কিন্তু ইজতেমার মধ্যেও অবরোধ চলছে। সরকার ঘোষণা করেছে, রাস্তায় গাড়ির ক্ষতি হলে সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে। এতে জনমনে আরও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। লাশের ক্ষতিপূরণের রাজনীতি জনগণ মেনে নেয়নি। এ ধরনের ঘোষণাও হঠকারী হয়েছে। ঢাকায় অবরোধ জোরদার হয়েছে বলা যাবে না। কিন্তু প্রতিদিন গাড়িতে আগুন জ্বলছে। জনমনে আতঙ্ক ক্রমে ঘনীভূত হচ্ছে। ৬ জানুয়ারি প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গার্ডিয়ান লিখেছে, “Hasina and Zia have between them ruled Bangladesh for most of the last three decades. They have a notoriously poisonous relationship and frequently exchange insults and barbs about each other’s families.” তাদের সম্পর্ককে গার্ডিয়ান ‘বিষাক্ত-সম্পর্ক’ বলেছে। মিথ্যাচার আর হিংসাই এখানে উত্কটভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।

যেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অবস্থার সৃষ্টি -তার রাজনৈতিক বয়ান তৈরি নিয়ে এখন সহিংসতা পরিণত হয়ে উঠছে। সরকার সাংবিধানিকভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে একটি জবরদস্তিমূলক নির্বাচন করে ক্ষমতাকে নিজেদের দলীয় সম্পত্তি করে নিয়েছে। এবং এই দিনটিকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তুতি নিয়েছিল। অন্যদিকে শুরু থেকে বিএনপির ডাক ছিল ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে পালন করা হবে। কে হত্যাকারী, কে রক্ষাকরী-এ নিয়ে বিবাদের শুরু। এটাকেই আমরা বলছি কৌতুকের রাজনীতি। বলাই বাহুল্য, এই প্রতিযোগিতায় ক্ষমতার দম্ভ পরাজিত হয়েছে। বিএনপি এগিয়ে আছে। বিএনপির প্রতি গণসমর্থন তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাদের রসিকতা ও কুরুচিপূর্ণ নিষ্ঠুরতা খালেদা জিয়ার প্রতি গণসমর্থন তৈরিতে বেশ ভালোভাবে কাজে দিয়েছে। ক্ষমতা মানে যে গায়ের জোর বা গোন্ডামি না তা আবারও প্রমাণিত হল। খালেদার ‘সফট-পাওয়ার’ বা কোমল ক্ষমতার স্ট্র্যাটেজি এগিয়ে গেল। পরে এই প্রসঙ্গে আবার ফিরব। তার আগে আমরা দেখে নিবো টাউট বুদ্ধিজিবি কি ভাবে বিএনপিকে ‘জিন্দামরা’ দলে পরিণত করতে কূটচাল চেলে যাচ্ছে।

 

ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীর নসিহত:

 

বিএনপির সাংগঠনিক দুরবস্থার কথা কারও অজানা নয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপারটি হল, কিছু মতলববাজ ও ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীর খপ্পরে পড়ে বিএনপি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তথাকথিত ইসলামিস্টদের নিয়ে রাজনৈতিক গেম খেলার কুপরামর্শ বিএনপিকে ক্ষমতার দৌড়ে পিছিয়ে দিচ্ছে। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির গণসম্পৃক্ততার ধরন একই রকম। এরা প্রত্যেকে মুখে জনগণের কথা বলে বটে কিন্তু কাজের কাজে জনগণ বলতে এরা বোঝে পার্টি জন। দলীয় ক্ষুদ্রতার ঊর্ধ্বে উঠে জনরাজনীতির পরিমণ্ডলে দুই দলই গরহাজির। এই অবস্থার মধ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি বা প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে কূটনৈতিক দেনদরবার। আর ঠিক এখানেই বিএনপির নজর ও ভরসা। জনগণের জন্য কোনো দাবিদাওয়া নেই এমন অভিযোগ পাশ কাটিয়ে ক্ষমতার দৌড়ে নির্বাচনবাদী ৭-দফা নিয়ে বিএনপি মাঠে হাজির হতে চাইছে। ফলে পুরনো বামপন্থী জায়গা থেকে জনগণের জন্য কোনো কর্মসূচি ছাড়াই বিএনপি ক্ষমতার জন্য নির্বাচনের দাবি নিয়ে কেন হাজির হল-এমন অভিযোগ করলে এখনকার অান্তর্জাতিক কূটনৈতিক হালচাল আমরা বুঝতে পারব না। ফরহাদ মজহার বিএনপির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন। এটা বহু পুরনো অভিযোগ। ক্ষমতার পালাবদলের আগে সাধারণত বামপন্থীরা এমন অভিযোগ করে থাকেন।

 

‘৪ জানুয়ারির অবরোধ : নগদ লাভ’ শিরোনামে ফরহাদ মজহার একটি প্রপাগান্ডা কলাম লিখেছেন। শিরোনাম পড়ে মনে হবে এটা একটা গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল টাইপের রচনা। খালেদা জিয়া এখনও অবরুদ্ধ। সরকার পুলিশি অ্যাকশন বহাল রেখেছে। আর মজহার সাহেব ‘নগদ লাভ’ খুঁজছেন। হ্যাঁ লাভটা তিনি খুঁজতেই পারেন। সুযোগসন্ধানী কুযুক্তি দিয়ে তিনি আবারও চোরা ভাবে জামায়াতের লাভের অঙ্ককে কৌশলে হাজির করছেন। বলাই বাহুল্য, এতে জামায়াত বা বিএনপি কারও লাভই হবে না। মজহারের লাভ হলেও হতে পারে।

 

তিনি লিখেছেন,

“কামাল হোসেন ও মাহমুদুর রহমান মান্না আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় ফ্রন্ট হওয়ার সাধনা অব্যাহত রেখেছেন। যদিও দলছুট আওয়ামীপন্থীদের মধ্য থেকে নতুন কোনো রাজনীতি পয়দা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ‘আওয়ামী লীগ, তুমি ভালো হয়ে যাও’ জাতীয় নীতিবাগীশ আওয়ামী রাজনীতিও যে বর্তমান ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রধান কারণ সে ব্যাপারে কামাল হোসেন, মাহফুজ আনাম কিংবা মাহমুদুর রহমান মান্না বেহুঁশ সেটা বলা যাবে না। তারা তা জেনেছেন কিন্তু এ ক্ষেত্রে অপরিসীম অবদানে তারা নিত্যই তৃপ্ত। কিন্তু তারা খালেদা জিয়ার এই দুর্দশায় তার প্রতি সমব্যথী হয়েছেন। খালেদা জিয়া তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে চাইছেন। বোঝা যাচ্ছে, খালেদা জিয়া অনেক মিত্রকে হারালেও আওয়ামীপন্থী সুশীলদের করুণা ও সমবেদনা কিছুটা পাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির জোটবদ্ধ হওয়া তাদের কাছে বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করারা ভালো একটি অজুহাত, যা তাদের স্বভাবসুলভ ইসলামোফোবিয়াকে আড়াল করে রাখতে সাহায্য করে। তাদের বাসনা খালেদা ইসলামপন্থীদের ছেড়ে সুশীল রাজনীতির কাতারে আসুক। তারা তখন হাসিনাকে থুয়ে খালেদাকে বেছে নেওয়ার একটা যুক্তি খুঁজে পাবে। প্রতারিত হওয়ার এই হাতছানি থেকে বিএনপির নেতৃত্ব মুক্ত নয়।” (চিন্তাডটকম, ৮ জানুয়ারি ২০১৪)

 

খালেদা জিয়া তাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইছেন এমন কোন খবর আমরা দেখি নি। মাহমুদুর রহমান মান্না ও ড. কামাল হোসেন মজহারের এই উদ্ভট ও কাল্পনিক গল্পগাথা নিয়ে এই লেখকের কাছে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আমার পয়েন্ট এখানে না। কামাল হোসেন, মান্না বা মাহফুজ আনামদের সাংস্কৃতিক পজিশনের ক্রিটিক মজহার করছেন রাজনীতির নিরিখে। রাজনীতিও সংষ্কৃতিকে আলাদা ভাবে আলোচনার জরুরত এখনও উনি রপ্ত করে উঠতে পারেন নি। উনিও আবার কালচারাইজেশন অব পলিটিকস বলে ত্তত্ব কপচার। উনারা সেকুলার এতে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু মজহার নিজে কি? মজহার আরও নোংরা ভাবে সেকুলার। এটা কেমনে বুঝবেন? তাঁর জিবন যাপন চিন্তা পদ্ধতী এগুলা সবই সেকুলার। মজহারের উপদেশকে বলা যয়,‘এক কানা কয় আরেক কানারে চলো এবার ভব পারে’ । মুখে ধর্মের কথা বললেই কউ ইসলামিস্ট হয়ে যায় না। মজহারও সেকুলার মুখে যাই জপেন না কেন। এই দিক থেকে যদিও না বুঝেন তাইলে এখানেই বুঝবার মতো পয়েন্ট টা আছে। উনি জামায়াতকে ‘ইসলামিস্ট’ বলে সেকুরারদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। সোজা কথা হলো জামায়াত যে ধরনের ইসলামচর্চা করে এটাকে পশ্চিম গুডমুসলিম বলবে। এর গালভরা নাম হলো, মডারেড মুসলিম। মিলিটেন্ট ইসলামের দুনিয়াব্যাপি বিস্তারের যুগে জামায়াতকে ‘ইসলামিস্ট’ শক্তি মনে করা নিন্তান্তই সেকুলার বাতিক যা শাহবাগিরা করে থাকেন। ফলে মজহার যথন জামায়তকে ‘ইসলামিস্ট’ বলে হাজির করেন আর কালচারাল সেকুলারদের ইসলামোফোবিক বলেন তখন উনার ইসলাম বুঝের হাল-হকিকত দেখে হাসি পায়। জামায়াত নিজেকে ইসলামিস্ট বলে হাজির করতে চায় না। সে বিশ্বাস অর্থে ইসলাম করে। রাজনতি অর্থে সে গণতন্ত্রের গোলাম। সে গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিই করে। আইনী লড়াইয়ে সে ব্যাপক উৎসাহে হাজির হয়। ফলে জামায়াতকে ইসলামিস্ট বলে হাজিরের রাজনীতি অতি ধান্ধাজাত। ৭১ এ জামায়াত কি করছে সেই আলোচনা এখানে প্রাসঙ্গি না। ওটা আলাদা তর্ক।

 

মজহার জামায়াতকে ইসলামিস্ট বলে হাজির করছেন, আর বিএনপিকে বলছেন সুশীলদের পরামর্শ শুনে সে যেন জামায়াতকে ত্যাগ না করে। জামায়াতের সাথে যেন আরও শক্ত ভাবে লেগে থাকে মানে আরও প্রকাশ্যে যেন জামায়াতকে সাথে নিয়ে মাঠে হাজির হয়। মাঠের সম্পর্ক আর জামায়াতের সাথে বিএনপির টেবিলের সম্পর্ক যে এক না তা বুঝতে পারেনি মজহার। জমায়াত তার নিজ গরজে ও প্রয়োজনে মাঠের একশনে আছে, থাকবে। হাসিনার জঙ্গিবাদি টার্মকাডকে চেক দিতে হলে বিএনপি এখন যে কৌশলে আছে তাকেই জুতসই বলতে হবে। জামায়াতের সাথে সম্পর্ককে মাঠে ও টেবিলে আলাদা ভাবে ভাগ করেই আগাতে হবে। এতে কূটনৈতিক মহলের সুবিধাটা পুরোপুরি পাবে বিএনপি। এটা জামায়াতও বুঝে। মজহারের মতো হঠকারি চিন্তার খপ্পরে পড়লে আবারও হেফাজত আমলের মতো পরিণতি হবে বিএনপির। তখনও এই টাউট বুদ্ধিজিবি সক্রিয় ছিল। ফলে এখনই সাবধান হতে হবে।

 

খেয়াল করলে দেখবেন, জামায়াতের প্রতি বিএনপি এক ধরনের নিস্পৃহ আচরণ দেখিয়েছে। এই আচরণের ফলে এখনকার ‘সুশীল’ রাজনৈতিক সমাজ বিএনপির উপর খুশি। এবং কূটনৈতিক দেনদরবারে বিএনপির এই অবস্থান সহায়ক হচ্ছে। মজহারের ভণ্ডামি হচ্ছে, জামায়াতকে বিএনপির সঙ্গে একজোট হয়ে থাকার পরামর্শ দিয়ে যাওয়া, আবার জামায়াতকে ইসলামিস্ট বলে হাজির করা, এর ফলে জঙ্গিবাদের ট্রাম্পকার্ড চেলে আবারও বিএনপিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগকে সুযোগ করে দেওয়া। এটাকেই বলে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বা দ্বিমুখী গাদ্দারি। অন্যদিকে জামায়াত কোনো ইসলামিস্ট শক্তি নয়। জামায়াত কোনো জঙ্গি শক্তিও নয়। জামায়াতের সঙ্গে লীগেরও মিত্রতা হয়েছিল ক্ষমতার প্রয়োজনে। বিএনপির মিত্রতাও ক্ষমতার প্রয়োজনে। জামায়াত তার হিসাব তার মতো করেই পুষিয়ে নেয়। জামায়াতের সঙ্গে আমেরিকার ভালো সম্পর্ক সবারই জানা। আমেরিকা কোনো জঙ্গি শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে এটা ভাবাও যায় না। ফলে জামায়াতকে জঙ্গি শক্তি আকারে বা ইসলামিস্ট আকারে হাজির করা, আবার এর প্রতিবাদ করা, আবার বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গে অবিচ্ছিন্নভাবে লেগে থাকার পরামর্শকে ভণ্ডামিপূর্ণ চতুরতা হিসেবে দেখতে হবে।  সম্পর্কটাকে আদর্শিক করে তুললে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হবে আর সুবিধা পাবে হাসিনার তখাকথিত জঙ্গিবাদের ও চেতনার রাজনীতি। ফলে মজহারের কুপরার্মশ থেকে বিএনপি দূরে থেকে সঠিক সীধান্ত নিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

এই অবস্থায় বিএনপি যে লাইনে আগাচ্ছে তা স্রেফ কূটনৈতিক লাইন। আর এখানে জামায়াতের অবস্থানও নির্ধারিত। আদর্শিকভাবে জামায়াতের তথাকথিত ইসলামপন্থার সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রকল্পের’ জন্য সুবিধাজনক হবে। ফলে যারা বিএনপিকে জামায়াতময় হয়ে উঠতে পরামর্শ দেয় এরা সরাসরি মার্কিন যুদ্ধ প্রকল্পের দালাল। এরা সরকারের একমুখী নীতিরও গোপন সঙ্গী। প্রকাশ্যে বিশাল বিপ্লবী। বাংলাদেশের এই চাতুরী বুদ্ধিজীবীতা রাজনৈতিকভাবে আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।  বিএনপি কেন সঠিক লাইনে আছে তা বুঝতে হলে আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির দিকে একটু তাকাতে হবে।

 

কোমল ক্ষমতা কূটনৈতিক পরাধীনতার রাজনীতি:

রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রশ্নের নানার ডাইমেনশন বা বৈচিত্র্য দেখা যায়। ঠাণ্ডা যুদ্ধের অবসানের পরে সারা দুনিয়ায় মার্কিন ক্ষমতা বেশ পোক্ত হতে শুরু করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের বছরেই (১৯৯০ সালে) হারভার্ড তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানী জোসেফ ন্যাই-ই ফরেন পলিসিতে একটি প্রবন্ধ লেখেন সফট পাওয়ার বা কোমল ক্ষমতা নামে। তিনি তর্ক তোলেন ক্ষমতাটা সব সময় অস্ত্র বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হাসিল বা তৈরি করা যায় না। কোমল ক্ষমতা বলে একটা ব্যাপার আছে যা কূটনৈতিকভাবে আমেরিকাকে সারা দুনিয়ায় প্রভাবশালী করে তুলছে। তিনি মত দেন, শুধু বাহুবল নয়, বাহুবলের বাইরে কোমল ক্ষমতার প্রভাব অনেক বেশি সম্প্রসারিত। প্রথম প্রথম বেশ ঠাট্টা-মশকরা করা হয়েছিল তার এই তত্ত্বায়ন নিয়ে। ৯/১১-এর পরে আমেরিকা যখন অনেকগুলো যুদ্ধে পর পর জড়িয়ে গেল কিন্তু যুদ্ধের ফলে মার্কিন প্রভাব বাড়ার বদলে কমতে থাকল তখন কূটনৈতিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও মতাদর্শিক কিছু উদ্যোগ আমেরিকাকে বেশ সুবিধা দেয়, তখন জোসেফ আবার আলোচনায় আসেন। তিনি মনে করেন, প্রপাগান্ডা শুধু প্রপাগান্ডা নয়, এটা দ্বারা ক্ষমতা তৈরি করা যায়। এবং দেনদরবার ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ সেনা হস্তক্ষেপের চেয়ে কম কার্যকর নয়। এর ফলে মার্কিন নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসে। যুদ্ধকে পাশ কাটিয়ে কোমল ক্ষমতার বিস্তার ঘটানোই এখন মার্কিন নীতির গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।

এই দিকটি মাথায় রাখলে আমরা খালেদা জিয়ার পেশিশক্তির ঘাটতিকে নতুন ক্ষমতার পটভূমি আকারে বুঝতে পারব। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে খালেদা জিয়ার আচরণ খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বারবার অহিংস আন্দোলনের কথা বলেন। তাকে অবরুদ্ধ করে তার প্রতীকী ক্ষমতাকে কোমলভাবে বিস্তার ঘটাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দুনিয়ায় কোমল ক্ষমতার কদর আগের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে খালেদার কোমল আচরণ গণতান্ত্রিক ভাবে পশ্চিমের কাছে বেশি গ্রহণ যোগ্য হবে। লীগ যতই গোন্ডামি করবে ততই পিছাবে ক্ষমতা থেকে আর এগিয়ে যাবে এক্সজিট ডোরের কাছে।

 

সঙ্গে কূটনৈতিক পরাধীনতার রাজনীতিটাও খেয়াল করা দরকার। ১০ জানুয়ারি দৈনিক সকালের খবর শিরোনাম করেছে, ‘বিবৃতি ও ফোন নিয়ে ধূম্রজাল’। খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা ও তারেক রহমানের খবর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের বিবৃতি দেওয়ার খবর নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এদিকে এখন আলোচিত খবর হল, বিজেপির প্রধান অমিত শাহ খালেদা জিয়াকে ফোন করেছেন। মারুফ কামাল সোহেল স্বাক্ষরিত একটা বিবৃতির সূত্রে এটা মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ এটা ভুয়া বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে। বিএনপির তরফে যারা অতিউতৎসাহী হয়ে এ ধরনের খবর মিডিয়ায় প্রচার করে সুবিধা নিতে চেয়েছেন তাদের কোনোভাবেই বিএনপির জন্য কল্যাণকর শক্তি বলা যাবে না। এরা বিএনপির মধ্যে এক একটা কালসাপ হয়ে বসে আছে। অন্যদিকে সরকার যেভাবে এটাতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তাতে মনে হচ্ছে অমিত শাহের ফোনে বাংলাদেশের ক্ষমতার হেরফের হয়ে যেতে পারে। রাজনীতিতে জনসম্পৃক্ততার কথা বলছিলাম একটু আগে। আওয়ামী লীগ বা বিএনপির জনসম্পৃক্ত ধারণ এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের সময় বারবার উদোম হয়ে যায়। সরাকার অমিত ইসূকে এমন ভাবে হাজির করল যাতে সরকারের ভারত অবসেশন আবারও আমরা জানতে পারলাম। আর জানতে পারলাম বিএনপিকে নষ্ট করার জন্য ঘরের লোকই যথেষ্ট। এইসব খুচরা চালকি পাশ কাটিয়ে সাউথ এশিয়াতে কোমল ক্ষমতার নীতি এখন বেশি গুরুত্ব পাবে। বিজিপির ক্ষমতায় আসার আগে মার্কিন নীতির পুরোপুরি বিজেপীর জন্য অনূকূল হয়ে উঠেছিল। কেজরি ওয়ালকে দিয়ে কনগ্রেসকে বেশ ভাল দাবড়ানি দেয়া হয়েছিল। ফলে বিজেপী কনগ্রেসের মতো বাংলাদেশে আমেরিকার উপর অভারটার্ম করবে না এমনটা সহজেই অনুমান করা যায়। ফরে আমেরিকা ও পশ্চিমের কোমল নীতি আর মাঠের গ্রহণযোগ্যতা ও অচালবস্থা বিএনপিকে আরও পরিণত করবে। ধীরে ধীরে ক্ষমতার জন্য পিপল কজ তৈরি হবে। এতে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে সরকার সুবিধা করতে পারবে না। কারণ নীতির পরির্বতনের সাথে সাথে কিং মেকার কাগজগুলোর ( প্রথম আলো ও ডিইলীস্টর দেকলে বুজবেন) ভূমিকা ইতিমধ্যে পাল্টে গেছে। ফলে কোমল ক্ষমার প্রত্যবির্তন আমরা দেখতে পাচ্ছি।

 

আর এই সময়ে বুদ্ধিজীবীরা জাতির বিবেক সেজে ক্ষমতাধরদের অনুকূলে জাতীয় রাজনীতিকে এমনভাবে সাজান যেন একটা নির্বাচন হলেই জাতীয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এই নির্বাচনবাদী গণতন্ত্রের বয়ান আমাদের কাবু করে রাখছে। আমাদের শাসনকাঠামোতে গণশক্তির গরহাজিরা পলিটিক্যাল ও ননপলিটিক্যাল এলিট ও তাদের অনুসারী বুদ্ধিজীবী মিলে পরিস্থিতিকে ভৌতিক করে তুলছে। গণতন্ত্রের নামে, জনগণের নামে জনবিরোধী রাজনীতির খুন উত্সব দেখছি কেবল। এ ধরনের দেউলিয়া আচরণ আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে, আমাদের রাজনীতি ও ক্ষমতার চাবি আমাদের দেশের জনগণ ও মানুষের হাতে নেই। বাইরের কূটনৈতিক শক্তি ও তাদের এলিট এজেন্টরা ক্ষমতার চাবিকাঠি নাড়েন। মিডিয়াও সেভাবে জনমতের সেইপ বুঝে খবর করে। আমরা নির্বাচন বা ক্ষমতা পরিবর্তন নিয়ে ভাবতে থাকি। ভায়োলেন্স চলে। সহিংসতার ভাষ্য তৈরি করা হয় জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য। চলে রটনার খেলা। প্রধান আকর্ষণ থাকে দেশের নয়, বাইরের নজর ফেরাবার চেষ্টা। কূটচালের ফেরে আমরা বুঝতে পারি আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।

 

লেখক : কবি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

A Lear’s Fool to King Tarique

There is no shortage of punditry along the line of BNP-is-in-trouble, most being pretty vacuous like this.  Shuvo Kibria had a better attempt a few weeks ago:

সরকার ….. নিজের আস্থাহীনতার সঙ্কট আছে।….. জনব্যালটে তার ভরসা নেই। …..সরকার চাইবে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপিকে সমূলে উৎপাটিত করতে। বিএনপির চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।  (The government has its own crisis of confidence…. It doesn’t rely on public ballot…. The governent will want to uproot BNP as a political force.  BNP’s challenge is to re-establish itself as a political force).

I think the above is in on the whole correct.  And there may be a degree of validity in this as well:

বিএনপির প্রথম সারির নেতাকর্মীদের মাঠে নেমে প্রমাণ করতে হবে দলের স্বার্থে তারা যেকোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।  (BNP’s front row leaders and workers will need to prove their willingness to take any risk for the party by getting into the field).

But I think even Kibria misses some key nuances.

Let’s start with a few observations.

First, on BNP’s failure in the streets.  By all accounts, BNP rank-and-file gave it a pretty good shot this time last year.  And they came short.  They could not stop the government from ramming through a one-sided election as a result of which Hasina Wajed continues to be the prime minister.  But BNP’s failure is not qualitatively different from MK Gandhi’s in the early 1920s, or Sheikh Mujibur Rahman’s in the mid-1960s.  Our history is full of failed street movements.  The historical reality is, most andolons fail, just like BNP’s did.

The past is not always an accurate guide to the future.  But I am quite skeptical of any analysis that concludes with ‘BNP must launch a vigorous andolon that will lead to a mass upsurge’.  Even if BNP could mount one, in and of itself, what would another round of street protests, blockades and hartals achieve?

Second, BNP failed to win over the bastions of power that ultimately matter Bangladesh.  Above everything else, powers-that-be want a stable Bangladesh.  And BNP failed to convince the civil-military bureaucracy, corporate sector and foreign stakeholders that it could provide stability.  Of course, in a two-horse race, one doesn’t have to be particularly good — simply being just not as bad as the other side makes one win such races.  It’s not that everyone is inspired by the Prime Minister.  It’s just that when all is said and done, sufficiently large number of key stakeholders simply didn’t respond to BNP, and accepted Mrs Wajed.

Third, from BNP leadership’s actions, we can deduce something about its self-assessment.  Recall, we can summarise BNP’s travails as one of either marketing or management or product.  By making it abundantly clear that Tarique Rahman is the party’s future, BNP is signalling that it believes the problem is not management.  Therefore, it must believe the focus should either be marketing or product or a combination.

As would be clear by the end of the piece, I do not necessarily agree with BNP’s choice (and that’s putting it mildly).  But it matters little what I think.  Leaving my views aside, let’s accept for now that BNP has got it right — Mr Rahman is the best it has got.  Fine.  So, how should he try to win over the powers-that-be?

If we assume that BNP’s middle-of-the-road, don’t-rock-the-boat pragmatic Burkean conservatism is the appropriate ‘product’ for Bangladesh — full disclosure: I personally do — then the challenge before Mr Rahman is simple: he needs to establish himself as acceptable to the establishment.  Currently, he patently is not.  Believing that the establishment will choose him over the Prime Minister is like claiming the earth is flat.  Railing against the establishment for its alleged hypocrisy on this count is futile.  Bottomline: senior state functionaries, big shot businessmen, and interested foreigners don’t think much of Mr Rahman.

They didn’t think much of him last winter.  And since then, sporadic forays in our pathetic history wars have done nothing to improve his standing.  They create media buzz, senior Awami League leaders end up looking quite stupid, and BNP rank-and-file feel fired up for a while.  But what do they do to alleviate Mr Rahman’s extremely negative image?

To ask is to answer.

Right.  So, what should Tarique Rahman do?

In the first instance, he should stop appearing in silly videos with stupid titles like Deshnayak, or never, ever, indulge in the circus of cutting supersized birthday cakes.  As it happens, it is quite rational for even a sensible and erudite person like Mirza Fakhrul Islam Alamgir to engage in these acts.  After all, in a party that is by design bereft of any strong ideological mooring but the politics of synthesis of centrist, pragmatic nationalism, if there is no internal organisational rejuvenation, how else are the party workers and leaders to signal their allegiance but to foster a personality cult?  Of course, by doubling down with Mr Rahman, organisation rejuvenation has been made just that much harder.

That is, BNP — or rather, Tarique Rahman — has created a vicious cycle. Its current senior leaders — and note the word senior, these are old men and women — have no alternative to engaging in obscene Tarique-mania, which puts off otherwise sympathetic elements of the establishment, which compounds BNP’s problems, which creates further distrust among its leaders, who must then engage in further sycophancy, and so it goes.

If Tarique Rahman ever wants to govern Bangladesh, he must end this now.  If he doesn’t get the irony of being called a deshnayak while living in bidesh, if he thinks he is the embodiment of youth at 50 — an age by which his father had been president for nearly four years, or Sheikh Mujibur Rahman was already hailed as Bangabandhu — he will never make it.

Dramatically cutting off the circus would be a good first step, and a low hanging fruit.  Mr Rahman will need to follow that up with more speeches and public appearances, and not just to the choir in East London about Sheikh Mujib’s Pakistani passport (do we really need to replace Hasina Wajed with someone who seriously thinks Mujib needed a passport in Heathrow airport in January 1972?).

This is not to say he should shy away from hitting hard on the haloed Mujib myth.   Like it or not, history wars is a key part of our politics that BNP cannot shy away from.  Apparently Tarique paid respect at Mujib’s grave several times when BNP was in power.  Why on earth did they keep that a secret?  Why not talk about it now?  And then, the respect for Mujib-the-nationalist-hero notwithstanding, draw the parallel between 1974-75 and the present day, maybe in a frank series of interviews with Zafar Sobhan — now, wouldn’t that be something?

And yet, that would not be enough.  Even if he is humanised and shown to be a normal, decent person, to the establishment there are grave doubts about his associates.  The establishment wants to feel comfortable that Tarique Rahman’s associates are their own.  On this, Mr Rahman will do well to learn from, wait-for-it, Mrs Wajed.

Yes, believe it or not, once upon a not too distant past, the establishment did not trust the Prime Minister and her party.  Even in the early 1990s, the stereotype was that those few Awami Leaguers qualified enough to govern were unreconstructed socialists, while most AL-ers were simply not fit for office.  This changed in the lead up to 1996 election, when Mrs Wajed made it clear that people like the late SAMS Kibria or AHSK Sadeq were in her inner sanctum.  This paved the way for a rapprochement between the League and the establishment.

Tarique Rahman needs to do something similar for his party.  Appointing a fresh-faced PhD in marketing, I’m afraid, simply doesn’t do that.

Therein lies the rub.  Mr Rahman needs people who are already established in their fields — business, professions, academia, at home and abroad — by his side.  But such people simply don’t like him much.  Why would they put their trust in someone whose only claim to fame is his parents (and infamy from his lifelong friends)?  Dynasty didn’t do it for a dud like Rahul Gandhi.  Why should Tarique be any different?

Mr Rahman has odds stacked against him.  Therefore, it follows that he has to shake things up.

Two acts come to mind, neither easy, and one carry high risks.

Firstly, Tarique Rahman must produce a game-changing idea.  Not nice ideas like how to improve agricultural yield as he did in an early London speech in 2013 — that kind of stuff can go well with his little chinwag with Mr Sobhan.  But that won’t shake things up.  No, he needs to do what Mujib did in 1966 by presenting Six-Points.

Back then, Ayub Khan dominated over Pakistan.  Grand old men like HS Suhrawardy were either dead or marginalised.  Younger, leftist firebrands were beginning to turn on each other, taking their cue from Beijing and Moscow.  Mujib’s peers like Ataur Rahman Khan looked tired with their calls for restoration of democracy.  Ayub could simply ignore them.  But Mujib with his Six-Points was different.  Here was a paradigm shift.  Fiscal autonomy.  Monetary autonomy.  East Pakistan’s own oreign trade missions and paramilitary.  Mujib called for an end to not just Ayub regime, but Pakistan-as-it-existed.  Ayub knew he had to use the ‘language of weapon’.  So he did.  Mujib went to jail, and came out after the regime collapsed.

It’s very important to understand that the 1968-69 uprising that led to Ayub’s fall was not a step-by-step escalation of any andolon programme by Mujib or his party.  An urban uprising started in West Pakistan from a clash between students and army jawans in the beginning of winter 1968, and by the end of the winter, both wings of erstwhile Pakistan was aflame.  At the centre of the uprising was Maolana Bhashani.  But not only was Bhashani without a party, he was also a man without any compelling ideas for the post-Ayub world, and zero support among the establishment.  When the Pakistani establishment had turned on Ayub, the emergent East Bengali establishment squarely stood with Mujib.

That’s the act Tarique has to emulate.  He has to produce a coherent vision that the current Bangladeshi establishment could rally behind when, rather than if, Mrs Wajed’s regime unravels.  And unravel the current regime will, sooner or later — let me quote myself from January:

….. she stands on the precipice of chaos, for the simple reason that Bangladesh — a super-densely populated humid swamp — is always at the edge of chaos.  Usually, mandate from a democratic election, or the prospect of the next one, keeps us from falling over the cliff.  By taking away the option of a democratic election, the Prime Minister has effectively put a ticking time bomb on herself.

Tarique has to make sure that when the time comes, he is not brushed aside like the old Maolana.  And for that, a compelling vision for a post-Hasina Bangladesh — hard as that might be to conjure — is not necessary, but not sufficient for Tarique.  He still needs to demonstrate that he as an individual has what it takes.  He must demonstrate his grit.  His sickly, elderly mother does that every time she goes out to one of those rallies.  Mrs Wajed did that in 2007 when she defied the 1/11 regime and returned home, or in 2004 as the subject of an assassination attempt, or in 1988 when police open fired on her rally.  His father demonstrated grit in the battlefields in 1965 and 1971, and every day between 3 November 1975 and 30 May 1981.  Sheikh Mujibur Rahman demonstrated grit by never compromising with the Pakistanis despite spending much of the 1950s and 1960s in jail.

That’s the standard Tarique Rahman has to live up to.  A London exile simply doesn’t cut it.  He has to return home, embrace a prison sentence, and possible threat to his life.

That’s the bottomline for him.

As things stand, with Tarique Rahman in his current avatar as BNP’s chosen future, I am afraid the future is bleak, and we might soon be discussing BNP’s past.

How to lose the history wars

by Jyoti Rahman

I said in the previous post:

They didn’t think much of him last winter. And since then, sporadic forays in our pathetic history wars have done nothing to improve his standing. They create media buzz, senior Awami League leaders end up looking quite stupid, and BNP rank-and-file feel fired up for a while. But what do they do to alleviate Mr Rahman’s extremely negative image?

Obviously, I don’t approve of the way Tarique Rahman is engaging in the ‘history wars’.  It occurs to me that I should elaborate and clarify.  Hence this post.  I don’t agree with Mr Rahman’s interpretation of history.  More importantly, from a partisan political perspective, I think they cause more harm than good for BNP.  And most frustratingly, a few solid points that BNP could make very usefully are utterly wasted.

Let’s start with the claim made about Sheikh Mujibur Rahman — that he was a Pakistani collaborator who compromised with the Yahya regime because he was after personal power.  I paraphrase, but this is the gist.  And this is about as sensible as the claim that Ziaur Rahman was a Pakistani spy.

Let me refer to GW Chowdhury, Abul Mansur Ahmed, and Moudud Ahmed.  Hardly disciples of the cult of Mujib, any of these men.  And yet, all three write how Mujib might have compromised on the Six Points at any time between the winter of 1968-69 and the summer of 1971, and become Pakistan’s prime minister.  Ayub and Yahya offered him the job in February 1969.  There was a general expectation that the Six Points were Mujib’s ambit claim, and he would compromise after the election.  ZA Bhutto calculated that.  Yahya Khan calculated that.

But Mujib did not.

In fact, by officiating a public ceremony where he led the Awami League legislators-elect to swear an oath on the Quran to never compromise on the Six Points, Mujib left himself little wiggle room to compromise even if he had wanted to.  What Mujib stood for in 1970 elections was abundantly clear, and he did not compromise from that.

Mujib wanted to compromise for personal gain — is Tarique Rahman trying to become the jatiyatabadi Omi Rahman Pial?

Of course, it gets worse.  What does one make of the claim that Mujib traveled on a Pakistani passport in January 1972?  I am sure Shafiq Rehman can conjure a brilliant political satire about the Heathrow immigration officer asking ‘Right, Sheikh eh, since when Pakis had Sheikhs’.  But the joke here is at the expense of anyone who believes Mujib would have needed a passport to pass through Heathrow that January.

And in this comedy, BNP loses a chance to score a sound political point.  No, Mujib wasn’t a Pakistani collaborator.  That’s nonsense.  What’s not nonsense, what’s undeniable, is that he did not prepare for an armed resistance, that he was absent from the war.  Now, it is possible to argue that Mujib did not want to lead a war of national liberation, and he had good reasons for taking the course he did — I have made that argument myself, and I stand by it.

But that’s just my interpretation of events.  And even if I am right, it’s legitimate to say that Mujib got it wrong big time.  Politically, the potent argument here is — the nation trusted Mujib with its future, and Mujib failed the nation in the dark night of 25 March 1971, not because Mujib was a bad guy, not because he was a collaborator, not because he was greedy or coward or anything, but far worse, he made the wrong judgment.

Salahuddin Quader Chowdhury once (in)famously made that point.  Repeatedly made, that would be a killer punch against the haloed Mujib myth.  What Tarique Rahman offers is not worth more than infantile facebook banter.

So, why does he do it?

Perhaps this passage from 2012 would provide some method behind this madness:

A blogger friend sounds a pessimistic note: ‘Our countrymen are maybe more blatant about it than most, but there is no “true” history anywhere in the world. It’s all air-brushed, covered with pancake makeup, and then dipped into rosewater.’ He suggests that these history wars are just a form of dialectic struggle, perhaps a healthy one at that.

That discussion was had at a time when Awami League cabinet ministers all the way to people like Muntassir Mamoon would routinely call Ziaur Rahman a Pakistani spy or sleeper agent.  Here is the full quote:

What will happen when BNP returns to power? Maybe what MM is doing is in anticipation of BNP returning to power. I mean, let’s face it, our countrymen are maybe more blatant about it than most, butthere is notruehistory anywhere in the world. It’s all airbrushed, covered with pancake makeup, andthen dipped into rosewater. Think of these “history wars” as a dialectic struggle, and whatever emerges out of this is what Bangladeshi children, fifty years on, will learn. And they won’t be any worse off for it.

Additionally, remember, when BNP comes to power, where MM leaves off is where BNP has to start. So the more AL-oriented the history is, the more effort BNP will have to put in to revert just back to the mid-point state, let alone make it pro-BNP.

So, calling Mujib a collaborator is perhaps the dialectic tat for the tit of Zia being a Pakistani spy.

Maybe.  And maybe in the long run this will all be washed out.  But right now, this isn’t doing Tarique Rahman any good.  Maybe if BNP ever came to power, it could start its version of history.  But right now, Tarique should remember what happened to Hasina Wajed in February 1991.

In the lead up to the parliamentary election of that month — the first one held after the fall of the Ershad regime — Mrs Wajed repeatedly launched personal attack on Zia, calling him a murderer and drunkard, including in her nationally televised (this was when there was nothing but the BTV) campaign speech.  Mr Rahman is old enough to remember how aghast the chattering classes were at Mrs Wajed.  This was a time when Zia was fondly remembered by our establishment.

Over the past quarter century, Zia’s image has faded, and Mujib’s has been given a new gloss.  Right now, the establishment reaction to Tarique is similar to the visceral reaction the Awami chief caused in 1991.

Mr Rahman seems to be learning the wrong lesson from Mrs Wajed.

So, what do I suggest?

Let me answer that with reference to why and how I believe BNP must engage in history wars:

BNP needs to win back today’s and tomorrow’s Saifur-Oli-Huda.  Without professionals, entrepreneurs, artists and intellectuals, BNP’s future will be dominated by the likes of Lutfuzzaman Babar. Winning the history wars is essential for avoiding that dark future.

…..

our history of political-social-economic struggles that predates 1971 and continues to our time.  This would not mean ignoring 1971, but to put that seminal year in its proper context.  …. our founding leaders like Fazlul Huq and HS Suhrawardy who came before Sheikh Mujibur Rahman and Ziaur Rahman, putting these men in their proper historical context.

….. we have struggled for a democratic polity, or social justice, from the time of British Raj.  Sometimes these struggles have been violent, at other times we had peaceful ‘ballot revolutions’.  Sometimes the leaders betrayed the trust people put on them.  Sometimes they made mistakes.  But overall, we have been making progress.  And ….. make the case for BNP in the context of that march of history.

That’s BNP’s overall challenge for the history wars.  And I do not suggest Mr Rahman has to fight a solo battle.  But if he must engage in political dog fight about dead presidents, I would suggest leaving Mujib alone, and focusing on restoring Zia.

Arguably, Tarique’s initial foray at the history wars was an attempt at this.  Unfortunately, he seems to have made a hash of it, losing the forest for the trees.

For a long time, BNP has tried to establish Zia as the one who declared independence.  In the process, the argument got to a minutae of who got to the radio station and held the mike first, completely missing the historical significance of Zia’s multiple radio speeches.  What was the significance?  The significance was that a serving major in Pakistani army publicly, in English, severed ties with Pakistan and called for an armed resistance.  The significance was not that it was a declaration of independence.  The significance was that it was a declaration of war.  That significance was completely lost.

Now the claim is that Zia was Bangladesh’s first president.  Well, in his first speech, Zia claimed that he was the head of the provisional government.  In the next version, he dropped that bit.  So, is he or isn’t he the first president?

Well, the founding legal document of the country is the Mujibnagar Proclamation, and that says:

We the elected representatives of the people of Bangladesh, as honour bound by the mandate given to us by the people of Bangladesh whose will is supreme duly constituted ourselves into a Constituent Assembly, and having held mutual consultations, and in order to ensure for the people of Bangladesh equality, human dignity and social justice,

Declare and constitute Bangladesh to be sovereign Peoples’ Republic and thereby confirm the declaration of independence already made by Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman,

AND

do hereby affirm and resolve that till such time as a Constitution is framed, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman shall be the President of the Republic and that Syed Nazrul Islam shall be the Vice President of the Republic

So we can have a nice legal argument that tries to make Zia the first president, and in the process lose a very important aspect of Zia’s action — something that is directly relevant in today’s Bangladesh.

Because Tarique said so, it’s now becoming BNP’s holy truth that Zia was the first president.  In the process, the fact that Major Zia swore allegiance and subservience to a democratically elected civilian political leadership is completely lost.  Zia’s bravery is March 1971 is to be lauded.  But for BNP, it’s also important to highlight his political maturity, and dedication to civilian, constitutional rule.  And that is exactly what he displayed on 15 August 1975, when he reminded Major General Shafiullah that the president might be dead, there was still a constitution and a vice president.  Whether in 1971 or 1975, Zia deferred to the civilian leadership and constitutionalism.   The relevance for an eventual post-AL Bangladesh is self-evident.

As it happens, Tarique Rahman was not the first person to claim that Zia is our first president.  In November-December 1987, Dhaka was rocked by a series of hartals that nearly brought down the Ershad regime.  Emergency had to be declared, and most opposition politicians were arrested.  Then, on 15-16 December, posters emerged around the city.  One had Mujib’s wireless message to Chittagong declaring independence, apparently sent before the midnight crackdown.  The other claimed Zia as the first president.

Oh, Ershad stayed in power for three more years.  How much more time is BNP’s history wars giving the current regime?

ফিরে যাওয়া

আবুধাবীতে ছোটখাটো একটা যাত্রাবিরতী – মনে মনে প্রস্তুত ছিলাম – আবুধাবী ঢাকা রুটের যাত্রীরা উপচে পড়া বাক্স পেটরা নিয়ে বিমানে উঠবে এবং সাথে থাকবে ডিউটী ফ্রী শপ থেকে কেনা গোটা চারেক ব্যাগ ভরা সিগারেট কার্টুন, দুধ, পারফিউম, কম্বল ইত্যাদি। একটা বেশ কেওস এর জন্য রেডী হয়ে থাকা। ঈদ মাত্র তিনদিন পরে –

বিমানে বসে কিছুটা অবাক ই হলাম – ওভারহেড কম্পার্টমেন্ট গুলো গড়ের মাঠের মত খালি – সীট ও প্রায় অর্ধেক এর উপর খালি। তবে প্লেন ছাড়ার একেবারে আগে আগে – হুড়মুড় করে হাজির হোল শতের উপর যাত্রী। তবে এরা কিভাবে জানি কিছুটা ভিন্ন – কোথায় জানি কিছু একটা মিলছে না। প্রথম যা চোখে লাগল – এরা সবাই ঘরোয়া পোষাক পড়া – স্যান্ডেল, দু একজন তো লুঙ্গি পড়া। এদের কারো হাতেই কোন বাক্স পেটরা নেই – এমনকি একটি হাত ব্যাগ ও নেই। সবার হাতে স্ট্যেপল করা দু পাতা কাগজ। আমার পাশেই একজন, আশে পাশে এরা সবাই।

এর পর পরই প্লেন ছাড়ার সব আনুষ্ঠানিকতায় – ওদিকে আর মন দেয়া হয় নি- ক্রুইসিং লেভেল এ যাবার ঘোষনা শোনার পরই ল্যাপটপ খুলে ওদিকে মন দেবার চেষ্টা করছিলাম। আমার সারির উইন্ড সীটের তরুনের সাথে মাঝের সীটের যাত্রীটির কথা বার্তা শুনে আবার ভালো করে তাকালাম ওদের দিকে।

এই মিডল ইষ্ট ঢাকা রুটের ফ্লাইট গুল অভিভাসী বাংলাদেশীদের এক মিলন মেলায় পরিনত হয় – উইন্ডো সীটের তরুনটি লন্ডনে একটি কলজে প্রকশৌল বিষয়ে পড়াশোনা করে যুক্তরাজ্যেই কোথাও চাকুরী করছে। সে তীব্র আবেগ নিয়ে হৃদয় এর সবটুকু সহমর্মিতা নিয়ে মাঝের সিটের যাত্রীটির কথা শুনছে।

 

এই এয়ারক্রাফটে তারা ১১৭ জন আছে – ওদের সবাই মাত্র দুবাই জেল থেকে ছাড়া পেল, জেল থেকে বাসে করে বিমানবন্দরে নিয়ে এসে ওদের কে প্লেনে তুলে দেয়া হয়। সবাই ই আরব আমীরাতে বিভিন্ন শহরে আবৈধ ভাবে কাজ করছিল – কেউ ধরা পরেছে এক মাস আগে – কেউ ছয় মাস কেউ আরো বেশী সময় ধরে জেলে আছে।

একেক জনের একেক ধরনের গল্প। পাশের আইল সীটের তরুনের দিকে তাকালাম- শিশুর মত আগ্রহ নিয়ে অনভ্যস্ত হাতে সামনের এন্টারটেইনমেন্ট রিমোট নিয়ে দেখছে – এক হাতে মুখ মোছার টাওয়েল টা, মুখ না মুছে, খুব যত্ন করে ধরে আছে – আমি ই কথা শুরু করলাম –

ওর নাম কাদের – ভিসা আছে ওমানের- ওমানের ভিসা পাওয়া যায় – কিন্তু ওমানে চাকুরী নাই – আর আমিরাতে অনেক চাকুরী – কিন্তু আমীরাত ভিসা দেয় না। আগে বাংলাদেশে টঙ্গির কাছে এক বাজারে সবজী বিক্রি করত। আট মাস আগে সহায় সম্পদ সব বিক্রী করে ওমান এসেছিল – পরে টাকার বিনিময়ে অবৈধ ভাবে গভীর মরুভুমি দিয়ে দুবাই এসেছে – এবং এসে একটা কাজ ও করছিল। “ওই দিন কি যে হইল – কাম থিকা বাসায় ফিরতাছি – রাস্তার মধ্যে দেশী ভাই দাড়াইয়া আছে – আমারে ডাক দিল – গেলাম – গপ্প সপ্প শুরু করলাম – আর কোথা থিকা পুলিশ আইসা ধইরা লইয়া গেল আমাগো সবাইরে”।

এরা একেকজন একেক ভাবে এরেষ্ট হয়েছে – এক প্রৌড় ভদ্রলোক প্রায় ত্রিশ বছর আছে মধ্যপ্রাচ্যে – বললেন- “রাত তিনটার সময় যহন দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা শুনলাম – তখনই বুইঝা ফালাইলাম দেশে যাওয়ার সময় হইছে” । আমীরাত পুলিশ ইদানিং খুব এগ্রেসিভ ভাবে রাস্তা ঘাটে, বাসা, কাজে রেইড দিয়ে অবৈধ অভিভাসী শ্রমিক গ্রেফতার করছে। কেউ মাত্র দুশপ্তা হল প্রথম বারের মত বিদেশে এসেছে – এসেই ধরা পড়েছে ভুয়া ভিসার জন্য, কেউ ধরা পড়েছে তিন মাসের মাথায়, কেউ ত্রিশ বছর থাকার পর এমনিতেই পাততারি গুটাচ্ছিলেন।

 

বিমানের প্রতিটি যাত্রী গভীর সহমর্মিতার সাথে  ওদের কথা শুনছে – টুক টাক এটা সেটা জিজ্ঞেস করছে – “জেলে কেমন ব্যাবহার করত” – আমি জিজ্ঞেস করি জনে জনে। কারো মাঝেই এই উত্তরের খুব একটা আগ্রহ নেই। এক জন একটু বিরক্ত ভাবেই বলে- “ আরে ওই গুলা মানুষ নি?”

 

জানা গেল – যেহেতু এরা মুসলমান দেশের ওবৈধ অভিভাসী – হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে এই রোযার মাসে ওদেরকে সেহেরী আর ইফতারের সময় রুটী দেয়া হত। জিজ্ঞেশ করি জেল এর ভিতরের অবস্থা কেমন।

পাশের তরুন খুব আগ্রহ নিয়ে বলা শুরু করে – “ ভাই দুবাই জেল হইল পৃথিবীর দুই নম্বার জেল, এক নম্বার হইল অস্ট্রেলিয়ার জেল – আর দুবাই র টা দুই নাম্বার।“ ওর কথা শুনে মনে হচ্ছিল পৃথিবীর দুই নম্বর জেলে থাকতে পেরে সে খুব ই গর্বিত।

 

জানতে চেষ্টা করি কেন আমিরাত পুলিশ এগুল করছে – একেক জন একেক কথা বলে- ওরা বড় পলিসি বঝে না। কেউ বলে “হাসিনা রাশিয়া রে ভোট দিছে, আমিরাত রে ভোট দেয় না- এইটা শুইনা আমিরাতীরা রাইগা গেছে”। আমি বলি ভারতীয় দের ও তো গ্রেফতার করছে – ওরা কোন ব্যাখ্যা দিতে পারে না।

একজন জানায় জেল ভরা পাকিস্তানী, ভারতীয় আর বাংলাদেশী। সে খুব সরল ভাবে ক্লাসিফাই করে – “ইন্ডিয়ান রা জেলে গেছে ব্যাঙ্ক, শেয়ার, টাকা পয়সা ঘাপলা করার লাইগ্যা, পাকিস্তানীরা জেলে গেছে চুরি, যচ্চুরী, খুন, জখম, রাহাজানী, বদমাইশী করার লাইগ্যা অ্যান্ড বাংলাদেশীয়া জেলে গেছে ভিসা না থাকার লাইগ্যা”।

 

বাংলাদেশের এম্বারকেশন ফর্ম ফিলআপ করে দিলাম অনেকের। ওদের সম্বল দুটি মাত্র কাগজ। একটা বাংলাদেশ দুতাবাসের এক কর্মকর্তার প্রত্যয়ন পত্র যে এরা বাংলাদেশী নাগরিক ( ওদের কারুর ই পাসপোর্ট নেই) – আরেকটি ছোট আরবী লিখা চিরকূট- সম্ভবত জেল কর্তৃপক্ষের রিলিজ লেটার।

 

এর মাঝে এয়ার হোস্টেস রা খাবার নিয়ে আসে- অনেকে রোযা- অনেকে বুভুক্ষের মত চেটে পুটে খেল একটু “ভাল” খাবার – অনেক দিন পর।

ওদের গিজ্ঞেস করলাম দেশে ফিরে যাবার টিকেট কিনে দিয়েছে কে। ওদের কোন ধারনাই নেই। বললাম “বাংলাদেশ সরকার নিশ্চয়?” –  দু তিন জন সমস্বরে থামিয়ে দিল “ হুর ভাই” – “বাংলাদেশ সরকার আমরার টিকেট কিনা দিত?  – আপনের মাথা খারাপ হইসে?”। “তাহলে নিশ্চয় আমিরাত সরকার” – আমি বলি। “ না না – ওগুলা তো জালীম। হেরা আমাগো টিকেট কিনা দিত না”। তাহলে কে কিনল এই টিকেট? কেউ জানে না। একজন ব্যাখ্যা দেয়- “এইদা সৌদি গো মিসকীন ফান্ড এর টাকা”। আমি বলি “ আমিরাত অবৈধ বাংলাদেশী ফেরত পাঠাচ্ছে – সৌদি আরব কেন খরচ দেবে”। কারো উত্তর নেই।

 

কেউ একজন সাথের জনকে জিজ্ঞেস করে – “ আপনারা যে দেশে ফিরছেন আজ – দেশে কেউ কি জানে”। না কেউ জানে না- ওরা জেলে ছিল – ওরাই জানত না যে ওরা আজ সকালেই প্লেনে চড়বে। আর একজন অনেক সঙ্কোচের সাথে জিজ্ঞেস করে “ আপনাদের সাথে টাকা পয়সা কি কিছু আছে?” – কারো কাছেই একটা কপর্দক ও  নেই।

“ঢাকা বিমানবন্দরে নেমে কি করবেন?” – “কিভাবে বাড়ী যাবেন? “ – কারো বাড়ী নোয়াখালী, কার চট্টোগ্রাম, কেউ টাঙ্গাইল। “ব্যাবস্থা একটা হইব”। এইটাই কমন উত্তর। কাদের সাহেব বলনে – আমার টঙ্গি বাজার পর্যন্ত পৈছাইতে পারলেই হইল – তাইলে আর সমস্যা না।

 

উইন্ডো সীটে বসা যুক্ত রাজ্য প্রবাসী তরুন ভাঙ্গা গলায় জিজ্ঞেস করে –

“ দেশে গিয়ে কি করবেন” – “জানি না”।

সে খুব অপরাধীর মত – যতটা গোপনীয়তা ধরে রাখা যায় – পকেটে থাকা বাংলাদেশী সব গুলো টাকা মাঝের সীটে বসা যাত্রীর হাতে ধইয়ে দেবার চেষ্টা করেন । আমাদের তিন জনের চোখ ই জ্বলে ছল ছল।

 

“দেখি যাই দেশে , কিছু একটা ব্যাবস্থা হইব – জীবন দিসে আল্লা – রিজিক দিব আল্লা”। আবার পর মুহুর্তেই মত বদলায় – “ধার কর্জ কিছু পাইলে আবার আমু- দেশে কি করতাম? কি আছে দেশত?”

 

ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের পি এ সিস্টেমে গম গম করে ভেসে আসে ঘোষনা – পাইলটের কন্ঠে ভেসে যায় আমাদের টুক টাক কথপোকথন –

“২১, ২২, ২৩ নভেম্বর আবুধাবীতে ফর্মুলা ওয়ান ইতিহাদ আবুধাবী গ্রান্ড প্রিক্স – আমাদের সবার সাদর আমন্ত্রন –“

জিয়া হায়দার ও জাফর ইকবাল

1

রেজাউল করিম রনি

জাফর ইকবালের আবেগী ফটকাবাজি ও জিয়া হায়দার রহমানের সূত্রধরে আামদের বুদ্ধিজিবিতা নিয়ে কুইক মন্তব্য:

“within any given system, there are claims, which are true but which cannot be proven to be true…
–Zia Haider Rahman, `In the light of what we know’.

“ওর কান্ডজ্ঞান আমারে মুগদ্ধ করছে। প্লেবয় সশী থারোরে জিয়া যখন ধুয়ে দিল তখনই অামি বুজেছি এই চিজ অন্য কিসিমের। রাবীন্দ্রিক বলয় ভেঙ্গে ফেলতে ওর প্যাটার্নটা কাজে লাগবে। যদিও ও একটু হট মেঝাজের পুলা।”– রেজাউল করিম রনি ( ওর সাথে দেখা করার পরে,২৩ নভেম্বর ২০১৪ তে প্রথম স্টেটাস এ কথা কইছিলাম)
বাংলাদেশের মিডিয়া বিশেষ করে প্রথম আলো যখন জিয়াকে ব্যাপক কাভারেজ দিতে শুরু করছে,তখন একটু অবাক হইছিলাম। এটা তো করার কথা না। কারণ জিয়া তো পাকিস্তানকে ঘৃণা করে না। জিয়া সেক্যুিলারিটিকে ধুয়ে ফেলছে। জিয়া পশ্চিমা আধুনিকতার তলায় হেমার দিয়া এমন এক বারি মারছে যে এর তলাটা ফুটা হয় হয় করতাছে। পশ্চিমে উপন্যাসের বাজার তৈরিতে যেসব ম্যাকানিজম কাজ করে তা সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা নাই। গার্ডিয়ান জিয়াকে লাইম লাইটে আনছে ( এতে মূল ভূমিকা নিছে এজেন্টরা)। প্রথম আলো ও অন্য কাগজগুলা গার্ডিয়ানকে ফলো করছে কানার মতো। যা হোক অামি জিয়ার একটা ইন্টারভিউ করেছি ঢাকাতে। তার পরে দ্রুত বইটা পড়ে একটা খসড়া লেখা লিখেছি(নিচে লেখার লিঙ্কটা দিছি), দেখলাম যারা জিয়াকে নিয়ে কথা বলছে এদের বেশির ভাগই জিয়ার বইটা পড়ে নাই। আর সবচেয়ে অবাক হইলাম এরা কেউ বলতে পারছে না জিয়া কেন জরুরী। মিডিয়া হুজুগের বাইরে জিয়া আসলে কেন গুরুত্বপূর্ণ তার কোন রিডিং আমি দেখি নাই। জিয়ার বইটা হজম করার জন্য যে ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে সুবিধা হয় তা বাংলাদেশের পাঠকদের সবার নাই্। পাঠকরা দেখলাম আহাম্মকের মতো জিয়াকে প্রশ্ন করতেছে, ‘আপনার বইয়ের চরিত্র ( যে ঘনটা বর্ণনা করছে) হেতে পাকিস্তানী কেন?
জিয়া পাঠকদের প্রশ্ন শুনে বেশ বিরক্ত হইছে। কিছু ভাল প্রশ্ন ছিল অবশ্য। বাংলাদেশের হাকাও জাতীয়তাবাদ একটা ঘৃণার সংস্কৃতির উপর প্রতিষ্ঠিত এটা জিয়া চক করে ধরে ফেলেছেন। ফলে সে বাংলাদেশের চতনাধারি লোকদের একরকম ইগনোরই করছে। বাংলাদেশ নিয়া সে যে প্রগতীশীলদের মতো গদগদ না এটা বইটার রিভিউ পড়েই টের পাইছিলাম। পরে হাতে নাতে প্রমাণ পাইলাম। যাক মূল আলাপে ফিরি।

আবুল মকসুদ একজন পেশাদার বুদ্ধিজিবি। তাঁর বুদ্ধির চেয়ে কাফনের কাপড় জড়াই হাটাচলা উনারে বেশি পরিচিতি দিছে এটা অনেকে মনে করেন। এটা হতেই পারে। প্রতিকের একটা গুরুত্ব আছে। সহজে চেনার জন্য এটা ভাল। আপনি যদি সব জায়গায় কাফনের কাপড় পড়েন, ফাইভ স্টার হোরেঠে লুঙ্গি পড়ে যান আপনাকে দ্রুত চোখে পড়বে। এটা ভাল টেকনিক। উনার কোন লেখা না পড়লে বাংলাদেশের কোন বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষতি হবে না। মানে চিন্তার ব্যাসিক কোন কনট্রিবউশন নাই। বাট, কিছু কোদালি কাজ করছেন তিনি। বেশ কিছূ গবেষণা বই আছে। যারা এসব বিষয়ে কাজ করবেন পরে এদের জন্য এগুলা ইউজফুল হবে। যাক তিনি জিয়ার একটা কথা ধরে প্রথম আলোতে একটা চিকনা কলাম লেখছেন। কলাম লিখে তিনি জিয়ার কথার সাথে গভীর অসন্তোষে সহমত পোষন করেছেন। কথাটা হলো, ‘বাংলাদেশ মৃত আইডিয়ার দেশ’

পরে গত শুত্রবার বাংলার বুদ্ধিজিবিতার জিবন্ত ‘কৌতুক’ জাফর ইকবাল একটা লেখা লিখেছেন। জাফর ইকবালের লেখা-লেখি বাংলা সিনেমার থিউরি ফলো করে আগায়। আপনি যদি ‘আবগে না কান্দেন’ -তাইলে মূল্য ফেরত টাইপের লেখক তিনি। তিনি মেইনট্রিম মানে আওয়ামী স্টিমারের যাত্রী। প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানপ্রচারক( আধুনিক কালের যাজক বরতে পারে) তিনি ড্রোন বিশেষজ্ঞ। আলোর ঠিকাদার। উনি বুদ্ধিজিবিতা বলতে বুঝেন, ‘চেতনা’ ‘কলোনিয়াল দেশ প্রেম’ ‘৭১’ তিরিশ লাখ’ মা-বোনের ইজ্জত’ তিনি বিভিন্ন এনজিও টাইপের উদ্যোগকে বিপ্লব মনে করেন এবং এগুলার খাস সৈনিক তিনি। ফলে শহরের ফার্মের মুরগি টাইপের কিছু পুলাপান জাফর ষ্যার বলতে অজ্ঞান। এইসব মিলে তিনি একজন মিষ্টি মানুষ। দুনিয়া সম্পর্কে কোন খোঁজ খবর রাখার দক্ষতা তার আছে এটার কোন প্রমাণ আমি পাই নাই। মনে হয় সব কিছুতে একটা সমাধান হইল আবেগঘন একটা লেখা লিখে ফেলা-এটাই ইকবালীয় স্টাইল। কাঁদো কাঁদো আবেগে ফেটে পড়তেই উনার পাঠক রেডি থকে। তার কোন রকম ইনটেলেক বা ইনন্টারভেনশনাল রোল এই যাবৎ দেখা যায় নাই (শাহবাগে তিনি জাতীয় পতাকার দায়িত্ প্রজন্মে হাতে দিছিলেন, পরে প্রজন্ম গানজার কলকি হাতে নিছে এই দায়িত্ব ফালায়া)।
অন্য অনেকের মতো আবেগের জাহজে উঠায়া তিনি কিছু মিসকনফিডেন্ট শো করেন এটা বাংলাদেশের অক্ষম রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্রের সাথে একাকার ( মনে রাখুন রানা প্লাজা শ্রমিক উদ্ভার নিয়ে সরকারের মিথ্যা বাচালতা)। বাংলাদেশের বুদ্ধিজিবিতার মতো অসুস্থ্য কোন খাত আছে কি না খুজে দেখতে হবে। এখানে এখনও কাল্টফিগার বানানোর প্রতিযোগিতা চলে। ব্যাপক অযোগ্যতা নিয়া শিক্ষার অহংকারে ফেটে পড়ে আমাদের প্রগতী-অন্ধরা। যাক জাফর ইকবাল কি লিখল? লেখাটা মধ্যে ২ টা পয়েন্ট আছে। তিনি নিজেকে জিয়া হায়দার ও আবুল মকসুদের চেয়ে বিশ প্রগতীশীল বলে দাবি করলেন। ২. তিনিও ১৮ বছর বিদেশে ছিলেন এবং বিদেশে থেকে দেশ নিয়ে কথা বলা অনুচিত তাই তিনি দেশে এসে দেশ নিয়ে কথা বলছেন। এর বাইরে আর কোন পয়েন্ট আমি পাই নাই। এটা আমার মূর্খতা হলেও হতে পারে।

১. জিয়া ও মকসুদ সাহেব দুজনেই বলেছেন, ২ মহিলা দেশকে মৃতদের লাশের উপর ভর করে শাসন করছে(রিপোর্টসূত্রে)। এরা দু জন যে ‘প্রধানমন্ত্রি’ এটা না বলে ‘মহিলা’ বলাটা পশ্চাৎপদতা। জাফর ইকবাল এখানে নারীবাদি পজিশন নিয়ে নিজেকে এই দুজনের চেয়ে বেশি প্রগতীশীল প্রমাণ করলেন। আশা করি আপনারা একমত হবেন, এটা নিয়ে কথা বলার কোন মানে হয় না। এই ২ জন নারী-পুরুষ বা বনমানুষ যাই হোক না কেন তাতে জিয়ার কথার মেরিট নষ্ট হয় না। আর ক্ষমতার কোন জেন্ডার নাই। ফলে নারীকে নারী নামে ডাকার মধ্যে কোন সমস্যা নাই। জাফর ইকবাল এখনও গ্রাম্যতা ত্যাগ করে পুরাপুরি আধুনিক হওয়ার লড়াইয়ে আছেন ফলে এটা তাঁর কাছে একটা কঠিন চিন্তার বিষয় হইছে।

২. বাংলাদেশের যারা বিদেশে পড়ে দেশে ফিরে এরা কিছু টার্ম মুখস্ত করে নিজেরে পন্ডিত ভাবতে শুরু করে। এটা আমারে কইছিল আজফার ভাই। আমার কাছে এদের অবস্থা হলো, এমন একটা গরুর মতো যে তার গোয়াল চিনতে পারতেছে না। গোয়াল ঘর না চিনতে পেরে আবুল তাবুল ছুটাছুটি করতে করতে গোবরের নালায় এসে উস্টা খায়, এবং তখন শুরু করে সাগরের গপ্প।

এই হলো বিদেশ ফেরত বুদ্ধিজিবির হালত।

এরা কেউ অরগানিক হইতে পারে না হীনমন্যতার কারনে। পশ্চিম নিয়ে একটা অবসেশন থেকে যায়। এরা নিজেরে ব্রক্ষণ মনে করে। বাট কেউ এদের পুছে না। কারণ এরা যে চিন্তায় আটকা পড়ে আছে তা পশ্চিমে ২০০ বছর আগেই বাদ হয়ে গেছে। এটাই দেশে এসে অণুবাদ করতে যায়া তালগোল পাকায় ফেলে। গ্লোবাল এপরোচটা ধরতে পারে না। খালি সুযোগ দিতে চায়। বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে বুদ্ধিজিবিরা আামদের দেশে যাতা আমদানি করেছে এতোদিন। এখন এই অবস্থাটার অবসান হতে চলেছে। কারণ গ্লোব ইজ এভরি হয়ার। ফলে জাফর ইকবাল যখন বলেন, আমিও ১৮ বছর বিদেশে থেকেছি। পড়েছি। তিনি উম্মাদের মতো জিয়াকে পশ্চিমা দলের লোক বলে নিজে জাতীয়তাবাদি বীর সাজতে চান। অথচ বাস্তবতা হলো জিয়া পশ্চিমকে যে থাপ্পরটা দিয়েছেন, এটা কল্পনা করলেই জাফরদের দম শুকায়া যাবে। তার লেখা পড়ে বুঝা যায় জিয়ার এই সফলতা তারে প্যারা/পিড়া দিতেছে। ১৮ বছর কেন ১৮ হাজার বছর বিদেশ থাকলেও যার কান্ডজ্ঞানই থাকে না তার ডেলিভারি জাফরইকবাল টাইপেরই হবে। বিদেশে পড়াটা বা যাওয়াটা যারা জাতীয় ঘটনা মনে করে এরা যাস্ট কুশিক্ষার প্রোডাক্ট। জিয়া আইডিয়া ও চিন্তাশীলতার যে জায়গায় গিয়ে পশ্চিমকে ধোলাই দিছে এটা করতে হলে যে পরিশ্রম ও অভিনিবেশ লাগে তা কোন ভাড় বুদ্ধিজিবিতা দিয়ে এচিভ করা যাবে না। জিয়ার বইটা নিয়ে জাফরের কোন কথা চোখে পড়েনি, তার কি কথা নিয়ে মিডিয়া রিপোর্ট করেছে এতে বাংলাদেশের ইজ্জত গেছে –তাই নিয়ে উনি চিন্তিত। জাফর ইকবাল টাইপের লোকজন যতদিন তথাকথিত মূল ধারা থাকবে ততদিন বাংলাদেশের কোন ইনটেলেকচুয়াল ইজ্জত তৈরি হবে না আমি বাজি ধরে বলতে পারি এটা। বাংলাদেশের লোকজন (শিক্ষিতরা) কি পরিমান ফাটকা তা জিয়াকে নিয়ে মিডিয়াবাজি ও জাফর ইকবালের অক্ষম আউটবাস্ট দেখে বুঝা গেল। বাংলাদেশে চিন্তাশীলতার নামে কিছু লোক জাতীয়তাবাদি জিকির তুলছে, কিছু লোক তাত্বিক কেলেঙ্কারি করছে… আর কিছু লোক নিজের অশিক্ষা-কুশিক্ষাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোড়ে জ্ঞান বলে চালিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের অরগানিক ইনটেলেকচুয়াল কই? আর একটা দল আছে এরা অরগানিক ধান্ধাবাজ। কোন ইনডেপ্থ ক্যাপাসিটি নাই খালি রেটরিক্যাল কথা বলে বাজার গরম করতে মরিয়া হয়। ইস্যু দেকলে আলোর পতঙ্গের মতো ঝাপাই পরে। এদের নষ্টামিকে আমি থিওরিটিক্যাল স্কেন্ডাল বলি, এরা সবচেয়ে বেশি বিভ্রন্ত করতে সক্ষম। এর বাইরে কিছু পার্টিজান লোক আছে বুদ্ধিজিবি নামে। আর ব্যাপক ভাবে আছে নিজেকে কাল্ট ফিগার বানানোর প্রতিযোগিতা। আমি থিওরিটিক্যাল ভায়োলেন্স করে এই সব কাল্টফিগার ও মিসকনফিডেন্ট কেরেকটার ভেঙ্গে দিতে আপনাদের দাওয়াত দিতে চাইতাছি আপদত।

জিয়াকে নিয়ে আমার লেখা থেকে কয়েক প্যারা…
“সাম্প্রতিক এক আলাপে বলেছেন, বাংলাদেশ মৃত্য আইডিয়ার উপত্যকা। কী অর্থে, এখানে আইডিয়া দ্বারা আলোড়িত হওয়ার চেয়ে মৃতদের ছায়ার দ্বারা আমরা বেশি আলোড়িত। তিনি মনে করেন, এখানকার ক্ষমতাসীনরা মৃতদের ছায়ার ওপর দাঁড়িয়ে একটা পারিবারিক শাসন কাঠানো তৈরি করেছে।
তিনি বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন টেরিটরির বা ভাষার অর্থে বোঝেন না। তিনি বোঝেন বিশ্ব বা গ্লোবের মধ্যে অন্য সব বিষয় আশয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত করে। বাংলাদেশের হূদয় হতে এ যেন একটা প্রকৃত বিশ্ব আওয়াজ। কথাটা ঠিক হল না সিলেটি হূদয় হতে বিশ্ব আওয়াজ। বাংলাদেশে বা এ ধরনের সাংস্কৃতিক-কলোনিয়াল এলাকার জন্য জিয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ লেখক এজন্য না যে তিনি গ্রামে বা রুরালের জন্ম নিয়ে বিশ্ব ফেনোমেনা হয়েছেন।
তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, তিনি মানবসত্তার লড়াইটা ধরতে পারেন। তিনি বোঝেন আইডিয়া বা চিন্তার লড়াই দিয়ে কেন্দ্র-প্রান্ত একাকার করে দেওয়া যায়। তিনি পশ্চিমকে ডিসেন্টারিং যেমন করতে চেয়েছেন তেমনি প্রান্তের টেনশনকে লোকাল সংস্কার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। বিদ্রোহের এমন ধারালো, ক্ষ্যাপাটে ধরন পৃথিবীর জন্য অতি জরুরি ছিল। ২১ শতক যেন জিয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। জিয়ার আওয়াজ শুনছে বিশ্ব।”

(জিয়া হায়দার রহমান: এক বিস্ময়কর বিশ্ব-আওয়াজ–রেজাউল করিম রনি, দৈনিক সকালের খবরে প্রথম প্রকাশিত)

“জিয়া হায়দার রহমান এখন একটা ফেনোমেনা/ঘটনা। আর বাংলাদেশের মিডিয়াতে জিয়াকে নিয়ে যা চলছে তা ফ্যাশনের পর্যায়ে চলে গেছে। শুরু থেকে জিয়া হায়দার রহমানকে যে কারণে বাংলাদেশে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তা হল, তিনি ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত’ বলে। মজার ব্যাপার হল, আপনি যদি জিয়ার লেখা পড়েন বা জিয়ার প্রকৃত কাজের জায়গাটা ধরতে পারেন দেখবেন তাঁকে বাংলাদেশের ব্যাপারে খুব আবেগাপ্লুত দেখা যাবে না।
জিয়ার কথাতেও আপনি হতাশ হতে পারেন। ফলে মিডিয়া যে অতিরিক্ত দরদ তৈরি করছে তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। এবং এই দরদি কাভারেজ জিয়ার কাজের গুরুত্ব বুঝতে ও ‘পাঠ’ তৈরিতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। সেদিকে মনোযোগ রেখে আমরা সংক্ষেপে জিয়ার কাজের জায়গাটা বুঝতে চেষ্টা করব।
বিশ্বসাহিত্য ও জিয়া : জিয়া যেই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে লেখালেখিকে এগিয়ে নিয়ে যান এর জন্য তাঁকে কোনো রকম কেন্দ্র-প্রান্ত ধারণার আশ্রয় নিতে হয় না। তারপরেও বাস্তবতা থাকে, তিনি প্রান্তদেশীয় লোক হিসেবে কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক করতে গিয়ে যে ধরনের মুশকিলের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন তা জিয়াকে কিছুটা ক্ষ্যাপা করে তুলেছে।
এটাকে বলতে পারেন, সাংস্কৃতিক শ্রেণি সংগ্রাম। জিয়া বারবার শ্রেণির কথা বলে। এই সংগ্রামটা জিয়াকে করতে হয়েছে। এটা করতে করতে তিনি নিজেকে ব্যাপকভাবে ভেঙেছেন। কেন্দ্র-প্রান্তের টেনশন কাটিয়ে নিজের কাজের পদ্ধতিটা ধরতে পেরেছেন। এটা খুব নতুন প্রবণতা, এমনটা বলা যাবে না।
২০০৫ সালে গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক একটা বই লিখেছেন, ‘ডেথ অব অ্যা ডিসিপ্লিন’। তিনি এর মধ্য দিয়ে তিনি তুলনামূলক সাহিত্যের মৃত্যু ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, তুলনামূলক সাহিত্য বলে কোনো সাহিত্য নেই এই কালে, যা রচিত হচ্ছে তা ‘সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া সাহিত্য’, যা প্রকৃত অর্থে বিশ্বসাহিত্য।
এটা যেখানে বসেই রচিত হোক না, এটা এখন বিশ্বসাহিত্য হয়ে উঠতে পারে। এই ধারণাটা পরিষ্কার করতে গায়ত্রী ‘প্ল্যানেটরি’ শব্দটি ব্যবহার করেন। জিয়াও সীমানা ছড়িয়ে গেলেন। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া তরুণ এই লেখক কীভাবে সীমানা ছাড়িয়ে গেলেন? ইংরেজিতে তো অনেকেই লিখে। কিন্তু জিয়া কেন এত গুরুত্ব পাবেন?
প্রথম কথা হল, পশ্চিমে বা ইংরেজি ভাষাভাষি লেখালেখির জগতে বিশেষ করে উপন্যাসের বাজার তৈরিতে এজেন্টদের ভূমিকা লেখকদের চেয়ে বেশি। লেখক লিখেন। বাকি কাজটা খুব ঝমকালোভাবে করা হয়। নানা লেখককে নিয়ে বাজার গরম করার জন্য পেশাদার এজেন্ট খুব শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেন। এরা মিডিয়াতে গিমিক তৈরি করতে বেশ পারদর্শী।
এর ফলে অনেক সময় মিডিয়ার হুজুগ দেখে কোনো লেখককে পাঠ করতে গিয়ে হতাশ হচ্ছেন ঘন ঘন। তেমনি জিয়াকে নিয়ে বিশ্বমিডিয়ার কাভারেজেও এই হাইপ বা ওভারটোনটা ছিল। কিন্তু এই হাইপ কাটিয়ে জিয়া ধীরে ধীরে আপন গুরুত্বে ফিরতে শুরু করেছেন।
জিয়ার কাজের গুরুত্ব আঁচ করে সবচেয়ে কার্যকর ২০০১৪ সালের ১৯ মে ‘দ্য ওয়ার্ল্ড এজ উই নো ইট’ নামে নিউইয়র্কারে লিখেন জেমস উড। উডের লেখাটা জিয়ার গুরুত্বকে বুঝতে প্রাধমিকভাবে বেশ সাহায্য করে। জিয়া ইংরেজি ভাষা লিখে সীমানা অতিক্রম করেননি। বিশ্বের লেখকে পরিণত হননি। তিনি সীমানা অতিক্রম করেছেন ‘আইডিয়া’ ডিল করে। তাঁর উপন্যাসের ভূগোলও ব্যাপক।”

ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবি হত্যা, কিছু প্রশ্ন

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে কতজন বুদ্ধিজীবিকে হত্যা করা হয়েছিলো? সাধারন বাংলাদেশীদের মনে সম্ভবত এই সংখ্যাটি বেশ বড়ো, তবে সেটা ব্যাক্তিভেদে যে কোনো কিছু হতে পারে। অনেকেই মনে করেন এই সংখ্যা শত শত, কিংবা হাজার হাজার। এই বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া দুষ্কর। কিছু কিছু তথ্য যা সহজে পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে,

১৯৭১ এর ডিসেম্বরে মে: জেনারেল রাও ফরমান আলীর ডাইরীতে করা ২৫০ টি নামের তালিকা যাদেরকে হত্যার টার্গেট করা হয়েছিলো(1)। বাংলাপেডিয়া’র বুদ্ধিজীবি গনহত্যা পাতায় বলা হয়েছে যে ১৬ই ডিসেম্বরের তিন চারদিন আগ থেকে বুদ্ধিজীবি হত্যার কার্যক্রম শুরু হয় এবং ১৪ই ডিসেম্বর রাতে ২০০ জনেরও বেশী বুদ্ধিজীবিকে তাদের বাসা হতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় (2)।এছাড়া আরো দেখা যায় ১৯৭১ এর ডিসেম্বর ২২ তারিখে আজাদ পত্রিকার একটি সংবাদ যেখানে ভারতের আকাশবাণীকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশ সরকারের একজন কর্মকর্তা, রুহুল কুদ্দুস, বলেন যে কমপক্ষে ২৮০ জন পেশাজীবি ও বুদ্ধিজীবিকে ডিসেম্বরের ১৪ ও ১৫ তারিখে হত্যা করা হয়েছে ঢাকা, সিলেট, খুলনা ও ব্রাম্মনবাড়িয়ায়(3)।  এই রকম আরো কিছু তথ্যের ভিত্তিতে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক যে ডিসেম্বরের ১২-১৫ তারিখের মধ্যে ঢাকায় ও সারাদেশে কয়েকশত বুদ্ধিজীবি হত্যা করা হয়েছে।

আমরা মোটামুটি সবাই জানি যে ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবি হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়া সবচেয়ে কুখ্যাত ঘাতক হলো সেই সময়ে ইসলামী ছাত্র সংঘ নেতা ও আল বদর নেতা চৌধুরী মইন উদ্দীন এবং আশরাফুজ্জামান খান।  এদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে অভিযোগ ও মামলা করা হয়ে এবং অভিযুক্তরা পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদন্ড শাস্তি পায়। এই শাস্তিটি তাদের অপরাধ অনুযায়ী কোনক্রমেই অবাক করার মতো কিছু নয়, কিন্তু অবাক করার মতো ব্যাপার হলো যে ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবি হত্যায় নেতৃত্ব দেয়া এই দুই অপরাধীর বিরুদ্ধে যখন প্রসিকিউশন চার্জ গঠন করে তখন তাদের কে কেবল মাত্র ঢাকায় ১৮ জন বুদ্ধিজীবি হত্যায় অভিযুক্ত করা হয় (4)। প্রসিকিউশনের রিপোর্ট বলে যে এই ১৮ জন বুদ্ধিজীবির মধ্যে রয়েছেন ৯ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ৬ জন সাংবাদিক ও তিন জন চিকিৎসক।

আমরা অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি যে প্রতি বছর ১৪ই ডিসেম্বর আসলে শত বুদ্ধিজীবি হত্যার কথা বলা হয়, রাও ফরমান আলীর শত জনের লিস্টের কথা বলা হয়, কিন্তু পত্রিকায় নাম ও ছবি আসে ১৫ থেকে ১৯ জনেরই মাত্র। নামসহ যাদের ছবিটি উপরে দেয়া হয়েছে। আমরা আরো দেখলাম যে কোর্টে মামলার জন্যে যখন সুনির্দিষ্ট তথ্যের দরকার পড়লো তখন প্রসিকিউশন মাত্র ১৮ জনেরই একটা লিস্ট হাজির করলো, যে লিস্টটি খুব সম্ভবত প্রতি বছর ১৪ই ডিসেম্বরে পত্রিকার লিস্টটির অনুলিপি মাত্র।

 

এই থেকে আমাদের মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে ১৪ ই ডিসেম্বর কতজন বুদ্ধিজীবিকে হত্যা করা হয়েছে? এই ১৮ জন ছাড়া আর কাকে কাকে হত্যা করা হয়েছে? তাদের নাম, ছবি আমরা ১৪ই ডিসেম্বরে কেনো দেখি না? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আজকেই পত্রিকার পাতায় (১৪/১২/১৪)। আজকের New Age পত্রিকায় বলা হয়েছে পুরো ১৯৭১ এ কতো জন বুদ্ধিজীবি হত্যা করা হয়েছে এ সম্পর্কে জাতির কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের কাছে কোনো পূর্নাংগ লিস্ট নেই তবে কিছু সরকারী ও ব্যক্তিগত এস্টিমেশন রয়েছে যার সংখ্যার রেন্জ ২৩২থেকে ১১১১ পর্যন্ত(5)। আজকের The Daily Star এ বলা হয়েছে যে এই বছর ৭ই ফেব্রুয়ারী আওয়ামী লীগ সরকার পার্লামেন্টে ঘোষনা করেছিলো যে ২০১৪ এর জুন মাসের মধ্যেই ১৯৭১ এ শহীদ সকল বুদ্ধিজীবির একটি পূর্নাংগ তালিকা প্রকাশ করবে (3)। জুন পেরিয়ে এখন ২০১৪শেষ হবার পথে, তবে সেরকম কোনো লিস্ট দেখা যাচ্ছে না।

 

উপরে New Age পত্রিকায় যে ১১১১জনের কথা বলা হয়েছে সেটি সম্ভবত বাংলাপেডিয়ার এস্টিমেট। এই এস্টিমেট অনুযায়ী পুরো ১৯৭১ এ নিহত বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে ২১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবি ও প্রায় ৯৫০ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাতীত বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক রয়েছেন(2)। তবে এটি একটি ব্যাক্তিগত এস্টিমেটই, কোনো নির্ভরযোগ্য তালিকা নয়। আজকের New Age পত্রিকায় স্বয়ং শাহরিয়ার কবিরই বলেছেন যে বুদ্ধিজীবি হত্যার কয়েকটি কেস ছাড়া অধিকাংশ তথ্য ও অভিযোগের উপরে কোনো রিসার্চ করা হয় নি (5)।

 

১৯৭১ এর পরে আরো তেতাল্লিশটি ১৪ই ডিসেম্বর আসলেও আমরা এখনো এই প্র্শ্নের উত্তর দিতে পারি না যে ১২-১৫ ই ডিসেম্বর কতো জন বুদ্ধিজীবিকে হত্যা করা হয়েছে? পরিচিত ১৮ জনের বাইরে আর কাদের হত্যা করা হয়েছে? তাদের নাম ছবি কেনো আমরা দেখি না কোনো ১৪ ই ডিসেম্বরে?

 

আমাদের দেশের লোকের একটু লিস্টের ব্যাপারে এলার্জি আছে এটা মেনে নিয়েও বলা যায় লক্ষ-মিলিয়নের লিস্ট না হোক, হাজার জনের লিস্ট তো করা যেতেই পারে, তাই না?

 

[ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবি হত্যা নিয়ে সমর্থিত-অসমর্থিত সকল রকম সংবাদ ও বিশ্লেষনের একটা ভালো সংগ্রহ রয়েছে চৌধরী মইনউদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান এর বিচারের রায়ে। দেড়শ পাতার এই রিপোর্টের পিডিএফ কপি রয়েছে এই লিংকে। https://www.dropbox.com/s/3xckpr73pyzap4p/bangladesh_tribunal_chowdhury_mueenuddin_judgment.pdf  ]

 

Reference

(1) http://www.genocidebangladesh.org/?page_id=32

(2) http://www.banglapedia.org/HT/K_0330.htm

(3) http://www.thedailystar.net/cold-killing-design-55227

(4) http://www.dhakatribune.com/bangladesh/2013/oct/31/mueen-ashraf-verdict-sunday

(5) http://newagebd.net/76478/no-complete-list-of-martyred-intellectuals-44-years-on/#sthash.PcYoLBRk.dpbs

নির্বাচনমুখী আন্দোলন বনাম লতিফ কার্ড!

|| এ.কে.এম ওয়াহিদুজ্জামান ||

১৭ বছর আগে নিজে হাজ্জ্ব পালন করার পরও গত সেপ্টেম্বরে আমেরিকা সফরের সময় হাজ্জ্ব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। বিএনপিসহ এবং ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো তখন তাকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণ এবং বিচার করার দাবী জানিয়েছিলো। সরকার সেটা মেনেও নিয়েছে। লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাকে মন্ত্রীসভা এবং আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। সেই গ্রেফতারী পরোয়ানা মাথা নিয়ে দেশে ফেরা এবং গ্রেফতার এড়িয়ে এয়ারপোর্ট ত্যাগ করার পর হেফাজতে ইসলামীর হরতাল এবং ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচী বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে সেই সময়ে, যখন বিএনপিসহ গণতান্ত্রিক দলগুলো নির্বাচনমূখী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএনপি’র সামনে এখন দুইটা পথ; লতিফ ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করা অথবা লতিফ ইস্যুকে উল্টো সরকারের কোর্টে ঠেলে দিয়ে নির্বাচনমূখী আন্দোলনটাই গড়ে তোলার চেষ্টা করা। ৯০ দশকে কম্যুনিজম বিরোধী স্বস্তা সেন্টিমেন্টের মৃত্যুর পর ইসলামী জঙ্গী বিরোধী স্বস্তা সেন্টিমেন্টের বাজার দর এখন চড়া। বিএনপি যদি এখন হেফাজতে ইসলামী এবং জামায়াতে ইসলামীকে সাথে নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী ইস্যুতে আন্দোলন শুরু করে, তাহলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক বাজারকে কেবল আরেকবার দেখিয়ে দেবে যে, বিএনপি গণতন্ত্র নয় বরং জঙ্গীবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। প্রয়োজনে ৬মে ২০১৩’র মত আরেকটা ঘটনা ঘটিয়ে প্রমানও করে দেবে যে, বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ঠেকাতে কেবলমাত্র আওয়ামী লীগই উপযুক্ত দল।

দ্বিতীয় পথ অনুসরণ করে বিএনপি যদি লতিফ ইস্যুকে উল্টো সরকারের কোর্টে ঠেলে দিয়ে বলে যে- সরকার তার বিচার করবে বলেছিলো এখন বিচার করুক, যদি বিচার না করে তাহলে সেটা সরকারের ব্যার্থতা। তাহলে বলটা সরকারের কোর্টে যাবে। সরকারকে তখন হয় লতিফ সিদ্দিকীর বিচার করতে হবে কিম্বা তাকে দিয়ে ভুল স্বীকার করিয়ে ক্ষমা প্রার্থনাশেষে তওবা করানোর ব্যবস্থা নিতে হবে, অথবা তাকে বিচারের আওয়তায় না এনে ইসলামিস্টদের আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রথম ক্ষেত্রে হেফাজতে ইসলামীর দাবী মেনে নিয়ে সরকার লতিফ সিদ্দিকীর বিচার করে, বা লতিফ সিদ্দিকী নিজেই হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় গিয়ে তওবা করে পুনরায় কলেমা পাঠ করে মুসলমান হয়ে একটা চমক সৃষ্টি করতে পারেন। যদিও এটা খুবই দুর্বল একটা সম্ভাবনা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ লতিফ সিদ্দিকী অনেক কাঠ-খড়-কেরোসিন পুড়িয়ে নিজের যাবতীয় দুর্নীতি ও অপকর্মের আলোচনা ধামাচাপা দিয়ে এখন সুশিল সমাজের মাধ্যমে দাউদ হায়দার ও তসলিমা নাসরীনের পাশে স্থান করে নিয়েছেন। এই স্থান থেকে সরে এসে নিজের দুর্নীতি ও অপকর্মের মামলাগুলোকে নিশ্চই তিনি প্রাধান্য দিয়ে আলোচনায় আনতে চাইবেন না।

Untitled-1

এমতাবস্থায় দ্বিতীয় বিকল্প অনুযায়ী, হেফাজতে ইসলামীর দাবী না মেনে নিয়ে সরকার তাদেরকে আন্দোলন করার সুযোগ করে দিতে পারে। যার নমূনা আজ ২৪ নভেম্বর দেখা গেছে। বিএনপির কোন সংগঠন পুলিশের গ্রেফতার-পিটুনীর কারণে রাস্তায় মিছিল করতে না পারলেও হেফাজতে ইসলামী মিছিল করতে পারছে। মানে সরকার তাদেরকে মিছিল করার সুযোগ দিচ্ছে। এটাকে তারা সাফল্য ভেবে চুড়ান্তভাবে ঢাকা অবরোধের ডাক দিলেও সম্ভবত সরকার সেটা করতে দেবে। এতে দ্বিমুখী লাভ। প্রথমত: এতে করে সরকার বিরোধী আন্দোলন করার মত শক্তিকে দ্বিখণ্ডিত করা যাবে, যাতে লাভবান হবে আওয়ামী লীগ। দ্বিতীয়ত: জঙ্গীবাদ তত্ত্ব প্রচার ও প্রমান এবং দমনের দক্ষতা প্রমাণের মোক্ষম সুযোগ। সরকার আগের মতই বিনাবাঁধায় হেফাজতে ইসলামী ও অন্য ইসলামিস্ট দলগুলোকে মিছিল, সমাবেশ এবং ভাংচুর করতে দিয়ে সেই দৃশ্য টিভি চ্যানেলে সম্প্রচার করে প্রথমে বর্হিবিশ্বকে জঙ্গীবাদের উত্থান দেখাবে, তারপর তা কঠোর হাতে দমন করে নিজেদের সক্ষমতা দেখাবে।

কিছুদিনের মধ্যেই নেপালে নরেন্দ্র মোদীর সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। তারপর দেশে আসবেন নিশা দেশাই বিসওয়াল। সেই সময় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রসঙ্গে আলোচনা এড়ানোর জন্য জঙ্গী ইস্যুর চেয়ে গরম ইস্যু আর কোনটা হতে পারে? মোদি সরকার আওয়ামী লীগের সাথে সাধারণ বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষা করলেও ভারতের পলিসিমেকার সাউথ ব্লক এখনো আওয়ামী লীগেরই কট্টোর সমর্থক। লতিফ সিদ্দিকী সেই ভারত হয়েই বাংলাদেশে ফিরেছেন। কাজেই তিনি আগুনে ঝাঁপ দিতে নয়, বরং আগুন নিয়ে খেলা করতে এসেছেন। এখন তার লেজে আগুন দিয়ে লঙ্কাকাণ্ড বাঁধানো দেখার অপেক্ষা।

এক্সিডেন্টাল জার্নালিস্ট

2

ফাহাম আব্দুস সালাম

এক
বড় মানুষদের, সফল মানুষদের শেষ বিচারে ভূমিকা আসলে একটাই: সেটা হোলো শিক্ষকের ভূমিকা। তারা মানুষকে শেখাতে চান – কেউ করে দেখান আর কেউ বা লেখেন (কিংবা বলেন)। শফিক রেহমানকে আমি কাছ থেকে দেখেছি গত পনের বছর। তার ভেতরকার সব থেকে বড় তাড়না আসলে একটাই : তিনি বাঙালিকে কিছু শেখাতে চান, জানাতে চান। পাঠকদের তিনি শিখিয়েছেন লিখে কিন্তু যারা সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত, যারা লেখালিখি করেন তাদেরকে শিখিয়েছেন সব থেকে বেশী – তিনি করে দেখিয়েছেন। এখন থেকে পনের বছর আগে বাংলাদেশে এমন পলিটিকাল কমেন্টেটর খুব বেশী ছিলো না যারা যায় যায় দিনে কলাম না লিখে বিখ্যাত হয়েছিলেন।

শিক্ষকের ভূমিকায় তিনি কি সফল হয়েছেন? জ্বী, আমার মতে হয়েছেন – সন্দেহ নেই তাতে। এর জন্য কি তাকে কোনো মূল্য হয়েছে? খুব চড়া মূল্য হয়েছে বলে আমার মনে হয়। নাহ, এরশাদের আমলে দেশছাড়া হওয়া কিংবা যায় যায় দিন হাতছাড়া হয়ে যাওয়া – এসবকে আমি চড়া মূল্য বলি না। বরং দেশছাড়া করে এরশাদ ব্যক্তি রেহমানের কিছু উপকারও করেছিলেন হয়তো।
218424_10150575383235578_1820514_o
তার স্বপ্ন ছিলো বাংলা ভাষার গুরুত্বপূর্ণ একজন ফিকশন লেখক কিংবা ফিল্মের স্ক্রিপ্ট রাইটার হওয়া (এটা আমার ধারণা, তিনি আমাকে কখনো বলেন নি) – সেটা তিনি হতে পারেন নি। আমার মনে হয় না শফিক রেহমান কোনদিনও সাংবাদিক হওয়াটাকে তার জীবনের মূল লক্ষ্য বলে মনে করেছিলেন। তার কাছে এই লেখক হওয়ার জন্য একটা প্রয়োজনীয় অন্তর্বর্তীকালীন ভূমিকা ছিলো সাংবাদিকতা – তৃতীয় তলায় উঠতে হলে দ্বিতীয় তলা বাদ দেয়া যায় না যেমন। কিন্তু সাংবাদিকতার বৃত্ত থেকে তিনি আর বের হতে পারেন নি।

পারিপার্শ্বিকতা তার স্বপ্নের সাথে তাকে আপোষ করতে বাধ্য করেছিলো। এটাই তার জীবনের সবচাইতে চড়া মূল্য।

সত্যিই কি তিনি এই ভাষার গুরুত্বপূর্ণ ফিকশন রাইটার হতে পারতেন? বলা মুশকিল কিন্তু আমার ধারণা তার পক্ষে সেটা সম্ভব ছিলো। আগ্রহী পাঠকরা পঞ্চাশের দশকে তার লেখা গল্প পড়ে দেখতে পারেন। হুমায়ুন আহমেদের আগে এরকম ঝরঝরে, নির্মেদ, টানটান বাংলা গদ্য খুব বেশী লেখক লিখতেন বলে মনে হয় না। তিনি একজন অনবদ্য স্টোরী টেলার – গল্প বলেই তিনি বিখ্যাত হয়েছেন। কিন্তু পলিটিকাল কমেন্ট্রির গল্প তো আর সাহিত্যের গল্প না – গল্পকে ব্যাকড্রপের চেয়ে বেশী কিছু হিসেবে ট্রীট করার সুযোগ তার ছিলো না। প্রশ্ন হোলো রেহমান কেন চেষ্টা করলেন না সাহিত্য করার জন্য?

এই প্রশ্নের উত্তরের মাঝেই লুকিয়ে আছে রেহমানের চরিত্রের সব থেকে উচ্চকিত বৈশিষ্ট্য। তার সব থেকে বড় যে শক্তি সেটা তার সব থেকে বড় দুর্বলতাও।

জীবনে তার মতো অফুরন্ত জীবনীশক্তিসম্পন্ন, উদ্দীপ্ত ও স্বাপ্নিক মানুষ আমি খুব কম দেখেছি। আশি বছর বয়সেও তিনি নতুন কিছু করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। কোন বিষয়ে তার আগ্রহ নেই? কিন্তু তিনি লিভ ইন দ্যা মোমেন্ট ঘরানার মানুষ – তার ইনস্ট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশানের চাহিদা আছে। নানান বিষয়ে তার যেমন আগ্রহ, সেই আগ্রহ তিনি হারিয়েও ফেলেন সহজে। প্রতিভা তার গল্প বলায় কিন্তু গল্পের বিস্তার আর বুনটের জন্য যে স্বভাব প্রয়োজন সেটা তার ছিলো না কোনোদিন; দু বছর ধরে গবেষণা করে তিন বছর ধরে উপন্যাস লেখার মানুষ তিনি নন। শফিক রেহমানের জীবনের সব থেকে বড় ট্র্যাজেডি: তার স্বভাব ও চরিত্র খুব বড় সাংবাদিক হওয়ার জন্য টেইলর-মেইড কিন্তু তার স্বপ্ন হোলো খুব বড় ফিকশন রাইটার হওয়া।

দুই:
আমি আগেও বলেছি, এখনো মত বদলাই নি – পলিটিকাল কমেন্ট্রি লেখার যে ক্রাফট (আমি টেকনিকের কথা বলছি, তার রাজনৈতিক আদর্শের কথা বলছি না) সেই ক্রাফটে তিনি আজও অদ্বিতীয়। বাংলা ভাষায় কেউ তার মতোন চোখা পলিটিকাল কমেন্ট্রি লিখতে পারেন না। কেন? এর অনেকগুলো কারণ আছে, বিস্তারিত আলোচনায় যাবো না – শুধু তার মূল প্রবণতা নিয়ে কিছু বলি। তিনি বাংলা ভাষাকে ইংরেজির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সত্যি বলতে কি, আমার মনে হয় যে তিনি ইংরেজিতে চিন্তা করেন আর বাংলায় তার অনুবাদ করেন।

তার এই প্রবণতাটাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। ব্যক্তিগত ভাবে আমি নিজে লিবারাল সোসিওপলিটিকাল ভিউজ এর অনুরক্ত এবং এতো ছোটো কিন্তু জনবহুল দেশে অন্য কোনো রাজনৈতিক আদর্শ আমাদের সবাইকে টিকিয়ে রাখতে পারবে বলে আমি মনে করি না। কখনোই মনে করি না যে লিবারাল সোসিওপলিটিকাল ভিউজ অনুধাবন ও আত্মস্থ করার জন্য ইংরেজি ভাষা জানাটা আবশ্যক কিংবা একমাত্র উপায় – কিন্তু এটা সম্ভবত সব থেকে সহজ উপায়।

রেহমান এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করে চলেছেন আজীবন – তিনি বাংলা ভাষাভাষীদের পশ্চিমের সাথে মিলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি অবিরত পশ্চিমের জাইটগাইস্ট আমাদের পাঠকদের উপহার দিয়েছেন – তার লক্ষ্য পশ্চিমের সাথে আমাদের যে সহজাত দ্বন্দ্ব, সেটা যেন কমে আসে। বাংলাদেশ কি তার এই লক্ষ্যে সাড়া দিয়েছে?

না দেয় নি। ভিন্ন মতের জায়গা বাংলাদেশে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

তার পাঠকরা কি সাড়া দিয়েছে? বলা মুশকিল কিন্তু তার বহু পাঠককে আধুনিক মনস্ক ও সহনশীল হওয়ার জন্য সম্ভবত কিছুটা হলেও ইতিবাচক ভুমিকা রেখেছেন।

তিন:
একেবারেই ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ। বহু বছর ধরে তার পত্রিকায় কলাম লেখা আর মানুষ হিসেবে সাহচর্যের পরে লেখক হিসেবে আমার নিজের ওপর তার প্রভাব কী ? এর কোনো সহজ উত্তর নেই কারণ আমি কোনোদিন সচেতনভাবে তার মতো করে লেখার চেষ্টা করি নি। কিন্তু তিনি আমাকে (এবং সম্ভবত আরো বহু লেখককে) দুটো রাস্তা দেখিয়েছেন।

প্রথমত, ইংরেজি থেকে শব্দ ধার করার সংকোচ কাটাতে তিনি আমার ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন। ছোটবেলা থেকেই আমার একটা প্রিয় কাজ হোলো বাংলা অভিধান ঘাটা। জানা শব্দের ভাণ্ডার তাই আমার একদম কম না কিন্তু ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে একদম অপ্রচলিত একটা তৎসম শব্দের চেয়ে প্রচলিত ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করা যে পাঠকের জন্য বেশী আরামদায়ক এই সাহসটা আমি পেয়েছি শফিক রেহমান থেকে।

তার দেখানো দ্বিতীয় রাস্তাটা খুবই প্রশস্ত, উঠেছেন অনেক লেখক।

বাংলাদেশের লেখকদের আবেগ অতিরিক্ত বেশী। কবিগানের ভনিতা ও ভক্তি আমরা পলিটিকাল কমেন্ট্রির মধ্যেও পারলে ঢেলে দিই। আমাদের এখনকার জনপ্রিয় গদ্য লেখকদের মধ্যে দুইজনকে আমার মনে হয়েছে ব্যতিক্রম – কেবল “বুদ্ধি দিয়েই” তারা লেখেন: ফরহাদ মজহার আর শফিক রেহমান (অজনপ্রিয় ও প্রয়াতদের যোগ করলে এই লিস্ট বেশ লম্বা হবে – সেখানে আহমেদ, আজাদ, ছফাসহ আরো অনেকে থাকবেন)। অন্যান্য কলামিস্টরা যেখানে ফিলার হিসাবে নিজের মতামত, মৃত মানুষের সাক্ষ্য আর “অশিক্ষিত পটুত্ব” জনিত তত্ত্ব কথা টেনে এনে খেই হারিয়ে ফেলেন – রেহমান সেখানে বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক আর ইনফরমেশনকে ফিলার হিসাবে হাজির করেন।

তিনি একটা রচনার স্ট্রাকচার খুব ভালো বোঝেন – সম্ভবত ভালো কলামিস্ট হওয়ার জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আপনাকে একটা গতি বজায় রাখতে হবে, একটা প্যারাগ্রাফে একটার বেশী আইডিয়া আনা যাবে না এবং দীর্ঘ প্যারাগ্রাফ লেখা কলামিস্টদের কাজ না, খুব লম্বা বাক্য ব্যবহার না করে ছোটো ছোটো বাক্যে ভাব প্রকাশ, শুরুর দু-তিনটা বাক্যের মধ্যে পুরো লেখা প্রসঙ্গে একটা পরিষ্কার ধারণা দিয়ে ধীরে ধীরে বিল্ড আপ এবং শেষে গিয়ে টেনশন রিলিজ – এই টেকনিকগুলো আমাদের কলামিস্টরা খুব ভালো বোঝেন বলে মনে হয় না। রেহমান এর সাথে যোগ করেন “বুদ্ধি” – তার থেকে যদি কেউ যদি শুধুমাত্র একটা বিষয় শিখতে চায়, সেটা হবে আমার মতে তার নো-ননসেন্স এপ্রোচ।

চার:
শফিক রেহমান সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত আছেন পঞ্চাশ বছরেরও বেশী সময় ধরে, সম্ভবত অভিজ্ঞতার বিচারে তিনি বাংলাদেশের প্রবীণতম সাংবাদিক। তার যে ব্যাপারটা আমাকে সবচেয়ে বিস্মিত করে সেটা হোলো – এখনো তিনি সাংবাদিকতাকে ভালোবাসেন। পঞ্চাশ বছর ধরে কোনো কিছু – আবার বলছি – কোনো কিছুকেই ভালোবাসা আমার কাছে এক বিস্ময়ের ব্যাপার। সেজন্যেই তিনি আজো ক্ষুরধার, আজো প্রাসঙ্গিক।

খুব বেশী মানুষ সম্বন্ধে আমি একথা বলতে পারবো না কিন্তু রেহমান প্রসঙ্গে বলি – তার দীর্ঘায়ু হওয়াটা খুব জরুরী – আমাদের জন্য। তার কাছ থেকে আমার ও আমাদের শেখার আছে এখনো অনেক বাকী।

আমি তার সুস্থতা কামনা করি।

১৯শে জুন, ২০১৪

বিচারাধীন মামলার গনযোগাযোগ সম্পর্কিত প্যারাডক্সঃ কামারুজ্জামান প্রসঙ্গে

1

By Ariful Hossain Tuhin

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট, মামলা চলাকালীন সময়ে, কোর্টরুমে ভিডিও ক্যামেরা নিষিদ্ধ করেছে অনেকদিন আগেই। এই নিয়মের পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে জাস্টিস স্কালিয়া বলেন [১]

For every ten people who sat through our proceedings, gavel to gavel, there would be 10,000 who would see nothing but a 30-second take-out from one of the proceedings

প্রতিটি মামলার বিবরণ যেহেতু সকলের জন্য উন্মুক্ত, এমনকি যেকোন নাগরিক মামলা চলাকালীন সময়ে উপস্থিত থাকতে পারেন, সেহেতু সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিরা, ক্যামেরা নিষিদ্ধের পেছনে যে চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে সেটি অবশ্যই গোপনীয়তা নয়। বিচারপতিরা ভাবছেন কেউ যদি আউট অফ কনটেক্সট ছোট একটি ভিডিও দেখেন তাহলে সুপ্রীম কোর্টের বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে ভুল ধারনা তৈরী হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

যেকোন মামলা একটি জটিল এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্বোধ্য প্রক্রীয়া। মামলা বোঝার জন্যে তাই শ্রম এবং একাগ্রতা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচারপতিরা তাই কোর্টরুমে কাগজ কলম ছাড়া আর কোন কিছুই এলাউ করেন না। কাগজ কলম নিয়ে মনোযোগ দিয়ে মামলা শোনা ছাড়া রিপোর্টারদের তাই আর কোন কিছু করার নেই।
সুতরাং একটি বিচারাধীন মামলা একটি জটিল প্রক্রীয়া। একে খুব সহজেই প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়, ভুলব্যাখ্যা কিংবা আউট অফ কনটেক্সট উদ্ধৃতি দিয়ে।

যেসকল দেশে জুরি ব্যবস্থা প্রচলিত আছে, সেখানে অনেক মনোযোগ দেয়া হয় যাতে জুরিরা কোর্টে উপস্থাপিত তথ্য প্রমাণাদির বাইরে কোন তথ্য দ্বারা প্রভাবিত না হন। তাদেরকে উপদেশ দেয়া হয় যাতে তারা নিজেরা এই ব্যাপারে স্বতপ্রনোদিত ভাবে কোন রিসার্চ না করে, পত্রিকা বা ইন্টারনেটে মামলা সংক্রান্ত খবর না দেখে, ইত্যাদি। কিন্তু সবসময়, বাস্তব সমস্যার জন্যেই এই ব্যবস্থা কাজ করে না।
দেখা যায় জুরিরা তাদের মামলা নিয়ে ইন্টারনেটে রিসার্চ করছেন।[২] এর ফলশ্রুতিতে অনেকসময় জুরিদের উপর কোর্ট বহির্ভূত প্রভাব পরে।
গনসংযোগ ক্যাম্পেইন(পি আর ক্যাম্পেইন) সাধারনত অভিযুক্ত আইনজীবির নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। কারন জনগনের মতামতের একটি পরোক্ষ প্রভাব বিচার প্রক্রীয়ায় থেকেই যায়। অন্যদিকে সরকারী প্রসিকিউটরদের কখোনো পি আর ক্যাম্পেইন চালাতে দেখা যায় না। পৃথিবীর সকল সরকারী কর্মচারীদের একটি সাধারন প্রবণতা হচ্ছে নিজেদের কাজের কোন “মার্কেটিং” না করা।

সরকারী কর্মচারীদের যে পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয়, তা “মার্কেটিং” এর জন্যে উপযোগী নয়। এছাড়াও সরকারী কর্মচারীদের আসলে “মার্কেটিং” এর কোন ইনসেন্টিভ নেই। তাদের পেশাগত সাফল্য নিজেদের কাজের মার্কেটিং এর উপর নির্ভর করে না। একারনে অনেক বিখ্যাত মামলায় দেখা যায় অভিযুক্ত পক্ষ হতে একপাক্ষিক প্রচারণা চলছে।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের ক্ষেত্রেও এই ব্যাপারটি সত্য। প্রধানত অভিযুক্ত এবং তার সহমর্মীরাই একপাক্ষিকভাবে বিভিন্ন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারী পক্ষ থেকে পালটা প্রচারণার কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সমর্থক যারা, অনেক সময়েই তারা মামলার টেকনিক্যাল ডিটেইলগুলো বেশী চিন্তিত নন। অবশ্যই এর গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম আছে। কিন্তু যদি অভিযুক্তদের প্রচারণার
পরিধি বিচার করা হয় তাহলে আসলেই এ পর্যন্ত পালটা প্রচারণা অথবা বিভ্রান্তির অবসান করার জন্যে তেমন কিছুই করা হয়নি।

পত্রিকায় নিয়মিত মামলার প্রসিডিংস প্রকাশিত হয়। সেগুলোতে নজর রাখলে বেশ কিছু বিষয় চোখে পরে। যেমন প্রসিকিউটরদের আশ্চর্যরকম অদক্ষতা। নিয়মিতভাবে দেখা যায় সম্মানিত বিচারকরা , প্রসিকিউটরদের ভর্তসনা করছেন তাদের বিভিন্ন “ট্রিভিয়াল” ভুলের জন্যে। এত গুরুত্বপূর্ণ মামলা অবহেলায় চলছে এমনটা বললে অতিরঞ্জিত হবে কিনা সেটি নিয়ে নিশ্চিত হবার সুযোগ কমেই ক্রমে আসছে।

সুতরাং তদন্তকারী সংস্থা/প্রসিকিউটরদের বিভিন্ন দক্ষতার অভাব এর সাথে অভিযুক্তদের বিরামহীন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মিলে অনেক মানুষের মনেই বিভিন্ন প্রশ্ন তৈরী হচ্ছে। এই প্রশ্নসমূহ অভিযুক্ত এবং তাদের রাজনৈতিক দল/মিত্রদের দাবীর লেজিটিমেসি তৈরী হবার ক্ষেত্রে সৃষ্টি করছে।

উদাহরন হিসেবে কামারুজ্জামানের রায় উচ্চ আদালতে বহাল থাকার পর, দোষীর পক্ষে যেসকল প্রচারণা চালানো হয়েছে সেগুলো অনেকের মনে সন্দেহ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। দোষীদের প্রচারনার প্রধান কৌশল ছিল বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন anecdot উল্লেখ করে মামলাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়া।

এটি অত্যন্ত পুরোনো প্রক্রীয়া। প্রথমে দেখা যাক দোষী পক্ষের কিছু অভিযোগের নমুনা। আপিল বিভাগে চুড়ান্ত রায় প্রকাশের পরপরই কামারুজ্জামানের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে সোহাগপুর ঘটনার সাথে কামারুজ্জামানের কোন সম্পৃক্ততা নেই এই দাবী করে তার ছেলে হাসান ইকবাল বলেন[৩]

‘এই মামলার মুল সাক্ষীর তালিকায় ৪৬ জনের নাম ছিলো। তাদের মধ্যে ১০ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার পর নতুন করে তিনজন মহিলাকে অতিরিক্ত সাক্ষী হিসেবে প্রসিকিউশন আদালতে উপস্থাপন করেন। ওই সাক্ষীরাও তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত জবানবন্দিতে গণহত্যার সময় আমার বাবা উপস্থিত ছিলেন এমন দাবি করেননি।’

মোটামুটি নির্দোষ দেখতে এই দাবীটির মাঝে বেশ কয়েকটি প্যাচ আছে। প্যাচগুলো একটি একটি করে আলোচনা করা যাক। প্রথমত সোহাগপুরের ঘটনার জন্যে রাষ্ট্রপক্ষ ঠিক কি ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে এনেছিল তা দেখা যাক।

 

রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপির(ট্রাইবুনালের রায়) ২৯১ অনুচ্ছেদ থেকে আমরা জানি [৪]

 

Muhammad Kamaruzzaman has been charged for
participating, substantially facilitating and contributing to the commission of
offences of ‘murder as crime against humanity’ or in the alternative for
‘complicity to commit such crime’

চার্জের প্রধান গুরুত্ব ছিল “সহোযগিতার”। এই ব্যাপারটি ডিফেন্স কাউন্সিলও তাদের যুক্তিতে উল্লেখ করেছে [৫]

the accused has been
indicted for providing ‘advices’to his accomplices in launching the attack and
it does not describe that the accused accompanied the principal perpetrators

কামারুজ্জামানের সহযোগিতা প্রধানত প্রমান হয় ততকালীন সময়ের আলবদর সদস্য এবং আলবদর ক্যাম্পের গার্ড মনোয়ার মুন্সির সাক্ষ্যে [৬]

Md.
Monwar Hossain Khan @ Mohan Munshi (63), a member of Al-Badar was
attached to the camp set up at Suren Saha’s house as a guard as directed by the
accused Muhammad Kamaruzzaman and in this way he worked at the camp
for the period of 4-5 months and not exceeding 07 months. It has also been
proved that accused Muhammad Kamaruzzaman used to attend meetings on
the first floor of the Al-Badar camp and he [P.W.2] and his ‘sir’
Kamaruzzaman [accused] had fled together from the camp two days before
Sherpur was liberated. As regards the event of Sohagpur massacre P.W.2 does
not claim to have witnessed the event

গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে মনোয়ার মুন্সীর কিন্তু দাবী করেনি সোহাগপুরেরে গনহত্যা প্রতক্ষ্য করার। এখন প্রশ্ন এসে যায় কেন এই সাক্ষীর গুরুত্ব বেশী, তা বোঝার আগে এই সাক্ষীর ব্যাপারে ডিফেন্স কাউন্সিল কি বলেছে একবার দেখা যাক। [৭]

the learned defence counsel has submitted that
the event of Sohagpur massacre is not disputed. But the witnesses who have
deposed in support of the charge implicating the accused are not credible.
P.W.1 and P.W.2 are hearsay witnesses

সুতরাং ডিফেন্সের প্রধান যুক্তি ছিল, মনোয়ার মুন্সি(PW2) ঘটনা (সোহাগপুরের গনহত্যা) নিজে দেখেনি(hearsay witness). মনোয়ার মুন্সির সাক্ষ্য সম্পর্কে দুই নম্বর চার্জের ক্ষেত্রে ডিফেন্স কাউন্সিলের যুক্তি ছিল [৮]

He has submitted
that P.W.3 cannot be relied upon as he stated inconsistent date of the event.
Statement made by P.W.2 and P.W.14 on some particulars is inconsistent. Due
to such inconsistencies it is immaterial to see whether the statement made by
them could be impeached by the defence through cross-examination.
Inconsistencies between statements of two witnesses by itself renders them
unreliable and tutored.

 

ডিফেন্স কাউন্সিল ঐ আলবদর ক্যাম্পে কামারুজ্জামানের উপস্থিতি ছিল না সেটি কি প্রমান করতে পেরেছে? সংবাদ সম্মেলনে বারবার হাসান ইকবাল সাহেব বিভিন্ন বই/প্রবন্ধের উল্লেখ করছিলেন যার মধ্যে কামারুজ্জামানের নাম নেই। নাম থাকা আর না থাকা সমান গুরুত্বের অধিকারী নয়। একটি গবেষণামূলক বইয়ে যদি একজনের বিরুদ্ধে কিছু তথ্য প্রমান উপস্থাপন করা হয় তাহলে তার অপরাধের “প্লজিবিলিটি” তৈরী হয়। কিন্তু কারও নাম উল্লেখিত না থাকা মানে এই না সে অপরাধ করেনি। কারন এটাও হতে পারে সে অপরাধ করেছে, কিন্তু “ডকুমেন্টেড” হয়নি। এই ক্ষেত্রে কামারুজ্জামানের পক্ষে এমন কোন শক্ত এলিবাই কি ডিফেন্স কাউন্সিল দাড়া করাতে পেরেছে যার ফলে প্রমান হয় কামারুজ্জামান ঐ টাইম ফ্রেইমে ঐ আল বদর ক্যাম্পে অবস্থান অসম্ভব ছিল? আমার মনে হয় না পেরেছে। তাদের প্রধান কৌশল ছিল প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের রিলায়েবিলিটি নষ্ট করা। যেমন একজন সাক্ষীর রিলায়েবিলিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারন হিসেবে ডিফেন্স কাউন্সিল উল্লেখ করেছে,[৯]

The learned defence counsel next argued on charge no.2. He has submitted
that P.W.3 cannot be relied upon as he stated inconsistent date of the event

সমস্যা হচ্ছে আমার জীবনে খুব বড় ঘটনার তারিখ জিজ্ঞেস করলেও আমি ভুলভাল বলতে পারি। ডিফেন্স যেটি পারত তা হচ্ছে, ঐ সাক্ষীর, ঐ ঘটনা প্রত্যক্ষ দেখার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে প্রমান উপস্থাপন করতে পারত। সেটি ডিফেন্স কাউন্সিল কি পেরেছে?

হাসান ইকবাল খুব জোর দিয়েছেন, সোহাগপুরে তার বাবার অনুপস্থিতিকে। যেহেতু কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গনহত্যার “সহোযোগিতা”র অভিযোগ আনা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ড সংগঠনের সময় তার উপস্থিতি কতটুকু জরুরী? যুক্তরাষ্ট্রের স্টিফেন র‍্যাপের বিবৃতিটি অনেক জোরে শোরে বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে ছাপা হয়েছে/প্রচার হয়েছে। বাশেরকেল্লায় সম্ভবত একাধিকবার শেয়ার করা হয়েছে খবরটি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, স্টিভেন র‍্যাপের বিবৃতিটিতে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে যায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা রয়েছে।

ডেভিড বার্গম্যানের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, [৯]

He stated that international law required in such aiding and abetting offences, that the Jamaat leader, knew that the [Al Badr] group was committing atrocities, that he provided assistance to the group with that knowledge. It was not necessary that he attend, but that the assistance that he provided needed to be substantial and in fact something that caused the atrocities committed

সুতরাং হাসান ইকবালের প্রধান দাবীটি, কামারুজ্জামান সোহাগপুরে উপস্থিত ছিলেন না, অপ্রয়োজনীয় হয়ে পরে। যেহেতু সোহাগপুরের গনহত্যার পরিকল্পনা আল বদর ক্যাম্পে হয়, (ডিফেন্স এর কোন বিরোধীতা করেনি), সেহেতু কামারুজ্জামানের এই চার্জ থেকে বাচার জন্যে একমাত্র এস্কেইপ হচ্ছে , তিনি সেখানে কোনভাবেই উপস্থিত ছিলেন না, এই ধরনের কোন প্রমান দাখিল করা।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল বহির্বিশ্বে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। এর অন্যতম কারন অবশ্যই দোষী এবং অভিযুক্ত পক্ষের প্রচারণা। কিন্তু আমার মনে হয়না অভিযুক্ত পক্ষের প্রচারণা এককভাবে দায়ী। নিজেদের বিভিন্ন লিমিটেশন গুলোকে স্বীকার করেই বলতে হয়, অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে প্রাণদণ্ড। বর্তমান পৃথিবী প্রাণদণ্ডের ব্যাপারে অনেক সেন্সিটিভ হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ, হয় প্রাণদণ্ড আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করেছে, অথবা প্রাণদণ্ডদানে বিরত আছে।[১০] এই কারনেই বহির্বিশ্বে এই বিচার নিয়ে ঋণাত্নক মনোভাব তৈরী হচ্ছে। এই সমস্যাটি নুরেমবার্গ কিংবা আইখম্যানের বিচারের সময় ছিল না।

 

বঙ্গবন্ধু হত্যামামলায় অনেক দোষীকে কখনই দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে না কারন তাদের প্রাণদণ্ড দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ দেশ , প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত অপরাধীদের ফেরত দেয় না। বুদ্ধিজীবি হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী চৌধুরী মাইনউদ্দিন কিংবা আশরাফুজ্জামানকেও দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না তাদের প্রাণদণ্ড হয়েছে বলেই।

 

প্রাণদণ্ডের একটি “ইমোশোনাল এপিল” আছে। ৭১ সালের গনহত্যা/ধর্ষণ ইত্যাদি আমাদের সমষ্টিক স্মৃতিতে একটি দগদগে ঘা। এই ঘায়ের মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও প্রলেপ দিতে পারে প্রাণদণ্ড। প্রাণদণ্ড প্রতিশোধমূলক শাস্তি। কিন্তু বর্তমানে পৃথিবীর অনেকেই প্রতিশোধ প্রবনতাকে রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাতারে ফেলতে চান না। রাষ্ট্রকে প্রতিশোধ প্রবণতার উর্ধে দেখতে চান। সেই কারনেই প্রাণদণ্ড ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে পৃথিবী জুড়ে।

আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, জামাত এবং অন্যান্য রাজাকার/আলবদর ইত্যাদির যেসকল অপরাধ করেছে তার প্রায় সমান গুরুত্বের দাবী রাখে এইসকল অপরাধের পেছনে যে মতাদর্শ কাজ করেছে। যেই ফ্যাসিবাদ প্রভাবিত রাজনৈতিক “থিওক্র্যাসি”তে জামাত এবং অন্যান্যরা আস্থা রাখত তা কোনক্রমেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিজের দেশের মানুষের উপর নেমে আসা এই মর্মান্তিক ধ্বংস, হত্যা, ধর্ষণের সময়ে যারা ঠাণ্ডা মাথায় পশ্চিম পাকিস্থানের পক্ষ নিতে পেরেছে, তাদের অপরাধের অংশীদারত্ব গ্রহন করেছে, তাদের সাইকোলজি অনেক ভয়ংকর এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্যে ক্ষতিকারক। সুতরাং তাদের অপরাধের শাস্তির সাথে সাথে তাদেরকে দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মতাদর্শিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া আমাদের জন্যে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্যে প্রয়োজন ছিল জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ঐক্যমত্য।

আবারো বলছি বিভিন্ন রাজনৈতিক কারন এবং নেগেটিভ প্রচারণার মাঝেও আমার মনে হয়, আমরা যদি প্রাণদণ্ড অপশনটি টেবিল থেকে সরিয়ে নিতাম, তাহলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ঐক্যমতে পৌছানো আমাদের জন্যে অনেক বেশী সহজ হত। কিছু বৃদ্ধ রাজাকারকে ফাসিতে ঝুলিয়ে যে তাতক্ষণিক আনন্দ পাওয়া যাবে, তার চেয়ে জাতি হিসেবে আমাদের ইতিহাসের সাথে শেষবারের মত বোঝাপড়া করা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা আন্তর্জাতিক ভাবে অনেক সমর্থন পেয়েছি। এর অন্যতম কারন ছিল, ন্যায় এবং ন্যায্যতা আমাদের পক্ষে ছিল।

ন্যায় এবং ন্যায্যতার দাবী এখন পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতিতে প্রাণদণ্ড ঢেকে ফেলছে বলেই আমার মনে হয়। এ প্রসঙ্গে অকালে চলে যাওয়া অধ্যাপক জালাল আলমগীরের বছর কয়েক আগে বলা কথাগুলো পুনরাবৃত্তি করছি[১১]

 

We should recognise honestly that after decades of complexities, secret deals, and depraved politics, justice, though necessary and urgent, will be limited.
Such limited justice can be morally justified only by a long-term commitment to truth.
To prioritise truth, we must de-prioritise capital punishment. In 1941, years before the Nuremberg trials, Winston Churchill planned summary executions for fifty top Nazis at war’s end. He considered this punishment a political decision, not a legal matter. But Harry Truman, the American president, wanted a tribunal. Josef Stalin cast the deciding vote. As the human rights scholar Geoffrey Robertson explained, Stalin “loved show trials as long as everyone was shot in the end.”
And so a severely flawed tribunal was held at Nuremberg. It punished crimes against humanity by using inhuman standards: twelve Nazis were hanged first and then burnt in the ovens of Dachau, one of the German concentration camps.
Nuremberg’s moment of success was not in the verdict but in the courtroom, when the Nazis were shown reels of the horrors that they had created. Some of them wept and sat stunned, as they came to grips with the truth. The punishment from exposing openly and publicly what they had done to humanity was far more compelling than what Churchill’s planned executions might have produced. It is from this public record that the world’s aversion to genocide began and Nazism, as an ideology, received its death penalty. South African apartheid also received its capital punishment through the Truth Commissions pioneered by Nelson Mandela and Bishop Desmond Tutu

 

First Published in  http://aftnix.wordpress.com/

সুত্রঃ

[১]http://www.economist.com/blogs/democracyinamerica/2014/03/cameras-supreme-court

[২]http://news.bbc.co.uk/2/hi/8519995.stm

[৩]http://www.banglanews24.com/beta/fullnews/bn/339310.html

[৪]Article 291  of the verdict , accessed at : http://www.ict-bd.org/ict2/ICT2%20judgment/MKZ.pdf

[৫]Article 81, ibid

[৬]Article 255, ibid

[৭]Article 267, ibid

[৮]Article 80, ibid

[৯]http://newagebd.net/65600/us-calls-for-halt-to-kamaruzzaman-execution/#sthash.MRsTjDaj.AM96NvMP.dpbs

[১০]http://www.amnestyusa.org/our-work/issues/death-penalty

[১১]http://archive.thedailystar.net/forum/2010/june/truth.htm