দুর্নীতির চেক এন্ড ব্যালান্স করার জন্যে এই প্যাটার্ন টাকে ভাঙ্গা – বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষার একটা বড় প্রশ্ন

1

জিয়া হাসানঃ  তত্ত্বাবধায়ক এর সাথে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্বের একটা বড় সংকটের সমাধান বা মেনেজমেন্ট ইস্যু জড়িত |

আমার উভয় দল দুর্বৃত্তায়িত –তাদের হাতে খাওয়ার সুযোগ ছিল কিন্তু খায় নাই এমন কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ আমাদের দেশে আর অস্তিত্ব নাই | এইটা স্বাধীনতার পর থেকেই ঘটে যাচ্ছে এবং গত বিশ বছরের এই খাওয়া খাওয়ির সিস্টেমটা একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্নে চলছে |

সেইটা হইলো পাচ বছরে একটা দল রাষ্ট্রীয় সম্পদের সম্ভব সর্বোচ্চ পরিমান লুটপাট করে এবং সর্বোচ্চ পরিমান স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পরবর্তী ইলেকশনটাকে তার নিজের ইচ্ছামত করার একটা আয়োজন করছে |

জনগণ রিয়ালায়জ করছে, এই দুর্বৃত্তায়িত প্রশাসন কে ভেঙ্গে যদি নতুন করে কনস্ট্রাকট না করা যায় এবং যদি আরো পাচ বছর একই স্ট্রাকচারটা বহাল থাকে তো তাদের দুর্বৃত্তায়নের ফাউন্ডেশন এত শক্ত হবে যে তারা একটা ভয়ঙ্কর রূপ নিবে এবং তাদেরকে আবার ভাঙ্গা অসম্ভব হবে | এই চেতনা থেকে ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু করে প্রতিটা সরকার পরিবর্তন এর সময় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নির্দলীয় জনগণ যারা ভোটারদের সব চেয়ে বড় অংশ তারা বিরোধী দল এর সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করছে এবং সাথে থাকছে | এবং তাদের নিজের হাতে গড়া প্রশাসনের হাতে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই প্যাটার্ন টা ভাঙ্গা অসম্ভব চিন্তা করে তারা নির্দিধায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইছে |Continue Reading

খাদের কিনারে বাংলাদেশ

image credit-http://thisisourbangladesh.blogspot.com/

image credit-http://thisisourbangladesh.blogspot.com/

মো. আদনান আরিফ সালিম

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে টক-শোজীবি শুশীল আর আমরা আমজনতা সবার ধুকপুক করতে থাকা হৃদয় ও চঞ্চল মনে ঐ একই প্রশ্ন কী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে? ২৪ অক্টোবরের পর সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আর তিন মাস বাকি ছিলো। হিসেব অনুযায়ী নিয়ম মাফিক নির্বাচন দিতে হলে ঐ দিনই সংসদ ভেঙে দেয়াটা উচিত ছিলো। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আর ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের ঋণ অস্বীকার করে সরকার সেটি না করে পুরো দেশকে একটি অনিবার্য সংঘাত ও রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। নির্লজ্জতার শেষ সীমায় দাঁড়িয়ে এও ঘোষণা দেয়া হয়েছে সংসদ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হবে যা নজিরবিহীন ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য একটি কলংকস্বরূপ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী (যিনি এখনো নিজেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করছেন) বি.এন.পি সভানেত্রীকে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য ফোন করেছিলেন। পুরো জাতি আর কিছু না হোক অন্তত সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে একটু আশার আলোর ঝলকানি দেখতে পায়। কিন্তু ফলাফল আখেরে হয়েছে শূন্য। তিনি তার কটুবাক্য আর একগুঁয়ে অবস্থানের মাধ্যমে বি.এন.পি কে সংলাপে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নে সৃষ্ট জটিলতা যে আরো বাড়বে বৈ কমবে না এই ঘটনার মধ্য দিয়েই তিনি তা সুস্পষ্ট করেছেন।Continue Reading

শিষ্ঠাচার, সংলাপ আর সংগ্রাম

আবেগ, আকাঙ্খা, হতাশা এই সবই যেমন মানব অনুভূতি, ঠিক তেমনিভাবে প্রতিবাদও সহজাত প্রবৃত্তি। নরম স্বরে, ভদ্র সুরে মিথ্যা অভিযোগ তুললেই তা সত্য হয়ে যায় না, আর মিথ্যার প্রতিবাদে উত্তেজিত হলেই প্রতিবাদ গ্রহণযোগ্যতা হারায় না।

আপনি একটি রাজনৈতিক দলকে সরকারের সমস্ত অঙ্গসংস্থা দিয়ে পাঁচ বছর নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবরুদ্ধ করে রাখবেন, দলটির নেতা কর্মীদের করের পয়সায় কেনা বুলেট দিয়ে হত্যা করবেন, গ্রেপ্তার,হয়রানি, গুম, নির্যাতন করবেন, ‘রক্ষক’ পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে স্বাধীনভাবে বিচরণের নুন্যতম অধিকারকে ক্ষুন্ন করবেন, দলটিকে ‘সন্ত্রাসী’ ট্যাগ দিয়ে তার রাজনৈতিক কার্যালয়কে একটি পুলিশের ফাড়িতে পরিনত করবেন, সংলাপের ডাক দিয়ে সভা-সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন – আর তারপর ‘শিষ্ঠাচারের’ নাম করে সাজানো বুলির ফাদে ফেলতে চাইবেন। এই শিষ্ঠাচারের থেকে ঔধত্ত অনেক উত্তম, আর সেই ঔধত্ত যদি হয় যুক্তিসঙ্গত, তাহলে তা অনুকরণীয়।

বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে যদি আমরা শিক্ষা নেই, তাহলে দেখি সংলাপের নামে কালক্ষেপন নতুন কিছু না। ইয়াহিয়া খান সংলাপের ডাক দিয়ে, সংলাপে বসেই গণহত্যার আয়োজন সম্পন্ন করেন। বর্তমান সরকারও একদিকে আলোচনার কথা বলে অন্য দিকে রাস্তায় সশস্র বি জি বি মোতায়েন করেছে আর  নাগরিকদের উপর গুলিবর্ষণের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু সব স্বৈরচারই একটা বিষয়ে ভুল করে – তারা ধরেই নেয় জনগণ তাদের আজ্ঞাবহ। তারা ভুলে যায়, জনগনই সকল ক্ষমতার উত্স। যত তারাতারি শাসক্গষ্টির এই উপলব্ধি হবে, তত তারাতারি সকলের মঙ্গল।

নেত্রী, অডিও লীকটা খালেদা জিয়ার দেয়া গোল নয়, আপনার ওউন গোল

sheikh-hasina-own-goal

কেমব্রিজ, ৩০ অক্টোবার ২০১৩

এইচ.টি. ইমামের বার্ধক্যে জর্জরিত স্টান্ট সত্ত্বেও শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপিই টেলি কনভার্সেশনের অডিও ফাঁস করেছে।

নেত্রী, গোলটা দিয়েছে আপনার টীমেরই প্লেয়ার, কিন্তু নিজেদের, দ্যাট মিনস আপনার নেটে। এটাকে ওউন গোল বলে। ওউন গোলের স্কোর সব সময়ে “বিরোধী” পক্ষেই কাউন্ট হয়। এটা এত প্রচার করে বলার কিছু নেই।

আর আপনি ওউন গোল খাবেন না বা কেন? আপনার এক প্লেয়ার বলেছিল আপনার বাবার জার্সি খুলে ডুগডুগি বানাবে। আরেক প্লেয়ার আপনার বাবাকে রেড কার্ড দেখানো সেলিব্রেট করতে ট্যাংকের উপর নেচেছিল। আরেক প্লেয়ার যারা রেড কার্ড দেখিয়েছে তাদের শপথ অনুষ্ঠান কনডাক্ট করেছে। এসব লোকজন আজ আপনার ফার্স্ট টীমের প্লেয়ার। এদের দেয়া গোল অপনেন্টের জালে না পড়ে আপনার জালে পড়বে, তাতে আশ্চর্যের কী আছে?
Continue Reading