মধ্যপ্রাচ্য, যুদ্ধ ও শান্তি…

by WatchdogBD

জানুয়ারি ৩, ২০০১ সাল। হোয়াইট হাউস হতে ঘোষণা এলো মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা সমাধান পাওয়া গেছে। ঘোষণার সমর্থনে ইসরায়েলই কর্তৃপক্ষও ঘোষণা দিল সতর্ক আশাবাদের। অন্য ক্যাম্প হতেও স্বীকার করা হল ত্রি-পক্ষীয় বুঝাপড়ার। এর আগে ২৩ সে ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন চারদিনের সময় দিয়ে দরকষাকষি করা যাবেনা এমন একটা প্রস্তাব উত্থাপন করেন শান্তি আলোচনায়। প্রস্তাবের সারমর্ম ছিলঃ প্যালেষ্টাইনিরা পশ্চিম তীরের শতকার ৯৬ ভাগের দখল পাবে, বাকি চার ভাগ যাবে ইসরায়েলদের দখলে। পূর্ব জেরুজালেমে বসতি-স্থাপনকারী ইহুদিদের শতকরা ৮০ ভাগ এলাকা পাবে ইসরাইল, বাকিটার দখল পাবে প্যালেস্টাইনই কর্তৃপক্ষ। জর্ডান ভ্যালিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপস্থিতিতে অস্থায়ী ভাবে অবস্থান করবে ইসিরায়েলি বাহিনী এবং প্যালেস্টাইনই গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য তিনটা আর্লি ওয়ার্নিং ক্যাম্প গড়ার অধিকার থাকবে ইসরাইলের। বিনিময়ে প্যালেষ্টাইনিদের হাতে পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকবে তাদের আকাশ সীমার। উদ্বাস্তুরা ইসরাইলে ফিরে যাওয়ার অধিকার হারাবে। তবে প্যালেস্টাইনে ফিরতে তাদের কোন বাধা দেয়া হবেনা। প্রস্তাবে গাজা উপত্যকার ভাগ্য নিয়ে কোন কিছু উল্লেখ না থাকায় প্যালেষ্টাইনিরা তা প্রত্যাখ্যান করে। জানুয়ারির ৭ তারিখ ক্লিনটন অফিস হতে ঘোষণা দেয়া হয় গাজা হবে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাউন্টার প্রস্তাবে ইসরাইল গাজা ভ্যালিতে তার অবস্থান স্থায়ী করার প্রস্তাব করে। স্বাক্ষর করার জন্য কলম হাতে নিয়েও পিছিয়ে যান পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাত। অজুহাত হিসাবে প্যালেস্টাইনই জনগণকে সামনে আনেন এবং দাবি করেন এ ধরনের প্রস্তাব মেনে নিলে তার নিজের জনগণই তাকে হত্যা করবে। পিছিয়ে যান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ইয়াহুদ বারাক। কারণ এক মাস পরেই ছিল দেশটার সাধারণ নির্বাচন এবং সব ইঙ্গিত বলছিল ব্যাপক ব্যবধানে পরাজিত হবে ক্ষমতাসীন দল। ফলে যা হবার তাই হল, ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা। এক মাস পর ইসরাইলে ক্ষমতাসীন হল কট্টর রক্ষণশীল দল লিকুদ পার্টি। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আবির্ভূত হন বৈরুত ম্যাসাকারের অন্যতম জল্লাদ আরিয়েল শ্যারন। ওদিকে গাজায় শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে জঙ্গি হামাস ও ইসলামিক জিহাদ।

এর আগে ২০০০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তার গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ভবন ক্যাম্প ডেভিডে আমন্ত্রণ জানান মধ্যপ্রাচ্যের বৈরী দুই পক্ষকে। ঐ আলোচনায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ইয়াহুদ বারাক পশ্চিম তীরের ৫-১০% দাবি করে অবৈধ সেটেলারদের শতকরা ৮৫ ভাগ নিজেদের দখলে রাখার প্রস্তাব করেন। সমস্যা দেখা দেয় পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে। শহরের ঘন ইহুদি বসতি সম্পন্ন এলাকা ইসরাইলের এবং আরব বসতি এলাকা প্যালেস্টাইনদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার প্রস্তাব করেন। উদ্বাস্তুদের ইসরাইল ফিরে যাওয়ার অধিকার স্থায়ীভাবে বাতিল করার পরিবর্তে ইয়াহুদ বারাক ক্ষতিপূরণ হিসাবে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব করেন। কিন্তু আবারও থেমে যান ইয়াসির আরাফাত। পালটা কোন প্রস্তবা দিতে ব্যর্থ হন। ভেস্তে যায় ক্যাম্প ডেভিড আলোচনা। অনেকের ধারণা ইয়াসির আরাফাতের নিষ্ক্রিয়তার মূলে ছিল গাজায় হামাসের সশস্ত্র শক্তি মহড়া। পৃথিবীর মানচিত্র হতে ইসরাইলকে মুছে ফেলার অলৌকিক ও জেহাদি দাবি নিয়ে গাজা-বাসীকে নিজেদের ছায়াতলে সমবেত করতে সক্ষম হয় হামাস। এ ধরনের বায়বীয় প্রস্তাবে গোপন সমর্থন যোগায় মোল্লাদের ইরান ও লেবাননের তাদের সমর্থক হিজবুল্লাহ।

এভাবে যুগের পর যুগ দীর্ঘায়িত হচ্ছে প্যালেস্টাইন সমস্যা। নিজদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে মাঝে মধ্যে অকার্যকর রকেট ছুড়তে বাধ্য হয় হামাস। ১২ হতে বিশ বছরের তরুণ তরুণীদের বুকে বোমা বেধে পাঠিয়ে দেয় ইসরাইলের অভ্যন্তরে। ঘন লোকালয় অথবা যানবাহনে নিজদের উড়িয়ে দেয়। সাথে নিয়ে কিছু সাধারণ ইসরাইলিদের জীবন। জেগে উঠে ইসরাইলী দানব। স্থল ও আকাশ পথে শুরু হয় তাদের নির্মম ও পৈশাচিক আনাগোনা। শিশু, কিশোর ও মহিলা নির্বিশেষে পশুর মত হত্যা করতে শুরু করে প্যালেষ্টাইনিদের। এসব হামলার পেছনে নীরব সমর্থন থাকে প্রতিবেশী দেশ মিশর ও জর্ডানের। কারণ প্যালেস্টাইনী উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দিতে গিয়ে তারা নিজেরাও ক্ষতবিক্ষত। ইসলামের ধ্বজাধারী মধ্যপ্রাচ্যের রাজা বাদশার দল পৃথিবীর দেশে দেশে ইহুদিদের সাথে বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে সূরা ও সাকির তৃষ্ণা মেটাতে প্রকারান্তে সহযোগিতা করে থাকেন ইহুদি রাষ্ট্রের অর্থনীতির ভীতকে। যার ফলাফল দেখা যায় ইসরাইলীদের সমরশক্তিতে।

হিটলারের পাপের ফসল আজকের ইসরাইল। ইউরোপের এই ক্যান্সার মধ্যপ্রাচ্যে রফতানির মাধ্যমে নিজদের ‘রোগমুক্ত’ করার কাজে মূল অবদান ছিল ব্রিটিশদের। অস্ত্র হিসাবে তারা ব্যবহার করেছে জাতিসংঘকে। ইসরাইলী নারকীয় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে ইউরোপীয়রা বরাবরই সোচ্চার ছিল। কিন্তু আল কায়েদার নিউ ইয়র্ক, লন্ডন ও মাদ্রিদ হামলার পর বদলে যায় নন-মুসলিম বিশ্বের মন-মানসিকতা। আজকের দুনিয়ায় মুসলমানদের অন্যতম পরিচয় তারা জঙ্গি, দাঙ্গাবাজ এবং আলোচনার টেবিলে সমস্যা সমাধানে অনিচ্ছুক একটা ধর্ম। বলাই বাহুল্য দেশে দেশে আল-কায়েদার মত জঙ্গি সংগঠনের অপ-তৎপরতার আসল ফসল ঘরে তুলছে ইসরাইল। টেবিল হতে আর্কাইভে স্থান পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা। ২০০০ সালে প্যালেস্টাইনই নেতা ইয়াসির আরাফাতকে যে মানচিত্র অফার করা হয়েছিল তার চার ভাগের একভাগও অফার করতে রাজী নয় আজকের ইসরাইল। পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় ক্ষমতাসীন রয়েছে ইসরাইলকে পৃথিবী হতে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার মিশনে ব্যস্ত হামাস।

ইহুদি তাণ্ডবের দায়-দায়িত্বের একটা বিরাট অংশ নিতে হবে প্যালেস্টাইনই নেত্রীবৃন্দকে। সুযোগ পেয়েও তারা শান্তিকে প্রধান্য দেয়নি। বরং সমস্যা জিয়িয়ে রেখে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার ব্যবস্থা করে গেছেন মাত্র। খোদ ইয়াসির আরাফাতও এ হতে মুক্ত ছিলেন না। মৃত্যুর পর তার স্ত্রীর ধন-সম্পদ তাই প্রমাণ করে। প্যালেস্টাইনি শিশু কিশোরদের বিকৃত ও বিভীৎস মৃতদেহ গণমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে আমরা হয়ত নিজেদের রাগ, ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করতে কার্পণ্য করছিনা। কিন্তু তাতে প্যালেস্টাইনই সমস্যার প্রতি কতটা আন্তরিকতা প্রকাশ করা হচ্ছে এ নিয়ে তর্ক হতে পারে। ইসরাইলের অস্তিত্ব অস্বীকার করে এ অঞ্চলে শান্তির কথা বলা একান্তই বাচালতা। ইহুদি মেধা ও সম্পদের কাছে গোটা বিশ্ব এখন পদানত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হতে শিক্ষা নিয়ে ওরা নিজেদের তৈরি করেছে কি করে বৈরী পৃথিবীতে বাস করা যায়। একবিংশ শতাব্দীর জটিল আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে টিকে থাকতে চাইলে প্যালেষ্টাইনীদেরও খুঁজে বের করতে হবে সহাবস্থানের নতুন ফর্মুলা।

শামীম, নিজাম ও ইলিয়াস…একই জরায়ুতে জন্ম

By Watchdog BD

পরিচিত একজনের স্ট্যাটাসে তথ্যটা পড়ে যার পর নাই অবাক হলাম। নিজকে ধিক্কার দিলাম জন-গুরুত্বপূর্ণ এমন একটা তথ্য জানা নেই বলে। বিহারী ক্যাম্পে পুড়িয়ে মারা দশজনের সবাই নাকি গোলাম আজমের বংশধর এবং তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ভেতর অন্যায় কিছু নেই। ইনিয়ে বিনিয়ে তিনি যা বলতে চেয়েছেন তা হল এ হত্যা ৭১’এর হত্যারই প্রতিশোধ। প্রথমে ভেবেছিলাম নিহত দশজনের সবাই ছিল রাজাকার এবং ৭১’এর গণহত্যার সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। রক্তের বদলা রক্ত, এ নতুন কোন ঘটনা নয়। সভ্যতা বিবর্তনের অলিগলি ঘাঁটলে ভুরি ভুরি উদাহরণ পাওয়া যাবে এ ধরনের প্রতিশোধের। কৌতূহলী হয়ে নিহতদের বিস্তারিত জানার চেষ্টা করলাম। এবং খুঁজে পেলাম উপরের ছবিটা। অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন না হলে এ শিশুর রাজাকার হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। অবশ্য গোলাম আজমের বংশধর বলতে কেবল রাজাকার বুঝানো হয়েছে তাও নয় নিশ্চয়। হতে পারে বৃদ্ধ গোলাম আজমের সাথে শিশুটির মার অবৈধ সম্পর্ক ছিল অথবা হতে পারে জনাব আজমের ধর্ষণের ফসল এই শিশু। অথবা তার মা-বাবা গোলাম আজমকে দীক্ষা গুরু হিসাবে মানতেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নস্যাতের কাজে শিশুটিকে ব্যবহার করতেন। এসব তত্ত্বের পক্ষে এ পর্যন্ত কেউ সাক্ষী প্রমাণ নিয়ে জাহির হননি। স্বভাবতই ধরে নেব শিশুটি যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত রাজাকার নয়, এবং কোন বিবেচনায়ই গোলাম আজমের বংশধর না। এতদিন জানতাম শিশু কেবল শিশুই, নিরপরাধ, ইনোসেন্ট এবং সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে। চেতনার ভায়াগ্রা খেয়ে যারা জাতির পশ্চাৎ-দেশে নুর হোসেন আর আরিফ-তারিক নামক পতিতাদের ঢুকাতে ব্যস্ত, তাদের জন্য একবিংশ শতাব্দীর শিশু বিংশ শতাব্দীর রাজাকার হবে, খুব একটা অবাক হইনা।

ইলিয়াস মোল্লা। অবৈধ নির্বাচনের আরও এক জারজ ফসল। ৫ই জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন এলাকায় জন্ম নেয়া তিনশ জারজ সন্তানদের একজন। অবশ্য নিজকে দাবি করেন মিরপুর এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসাবে। নারায়ণগঞ্জের শামীম, ফেনীর নিজাম, কক্সবাজারের বদির মত এই জারজ সন্তানের জন্মও একই মায়ের জরায়ুতে। ভৌগলিক সীমা ও কাপড়ের পতাকাই যদি একটা দেশ ঘোষণার উপকরণ হয়ে থাকে বাংলাদেশ নিশ্চয় একটা দেশ। তবে মনুষ্যত্বের আরও কিছু চাহিদা ও দাবি থাকে যা পূরণে অক্ষম একটা জাতিকে জাতি বলা যায়না। আজকের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তেমনি একটা দেশ। অক্ষম জাতির টিকে থাকার আবাসভূমি। ইলিয়াস মোল্লার জন্ম, উত্থান এবং আজকের অবস্থান নারায়ণগঞ্জের নুর হোসেনেরই কার্বন কপি। মাথায় ভাসানী টুপি, ক্লিন শেভ মুখ এবং ঠোঁটে দেলোয়ার হোসেন সায়েদী কায়দায় মুক্তিযুদ্ধের প্রলাপের আড়ালে লুকিয়ে আছে খুন, গুম, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজী, দখল, উৎখাত সহ শত শত অপরাধের লৌমহর্ষক কাহিনী। একদল ক্ষুধার্ত খুনিদের নিয়ে চলাফেরা করেন। তাদের ভরন পোষণ করেন প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য। মিরপুরের প্রতিবেশী দুটি বস্তি। একটা কালসী। প্রতিবেশী বস্তিতে বিদ্যুৎ নেই। অসুবিধা কি, আছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ। অবৈধ সাংসদ ইলিয়াস মোল্লা তার ক্যাডারদের অতিরিক্ত আয়-রোজগারের ব্যবস্থা হিসাবে কালসী বস্তি হতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেন প্রতিবেশী বস্তিতে। কিন্তু তাতে বাধ সাধে কালসী বস্তির বৈধ গ্রাহকরা। কারণ সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ এক বস্তির জন্যই যথেষ্ট ছিলনা। স্বভাবতই লোড সেডিং বাড়তে শুরু করে ঐ বস্তিতে। ইলিয়াস মোল্লার সশস্ত্র ক্যাডারদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায় বস্তিবাসী। দুয়েক জনকে ধোলাই দিতেও পিছপা হয়নি তারা। রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হন খোদ গডফাদার ইলিয়াস মোল্লা। আদেশ দেন অবৈধ সরকারের জারজ এমপি যা বলবে তাই এ দেশের আইন। তাতেও দমে যায়নি প্রতিবাদকারীরা। প্রতিবাদের এক পর্যায়ে হেনস্তা করে প্রফেশনাল মার্ডারর এই অবৈধ সাংসদকে। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে হুমকি দিয়ে যান দুদিনের ভেতর দেখে নেয়ার।

এবং কথা রাখেন ইলিয়াস মোল্লা। দুদিনের ভেতর বস্তিতে হাজির হয় সোহেল রানা। মন্ত্রীর ডান হাত। স্থানীয় যুবলীগের নেতা এবং প্রফেশনাল খুনি। এক পরিবারের সবাইকে জীবন্ত পুড়িয়ে বীর-দর্পে ফিরে যান রক্ষকের ডেরায়। তা ছাড়া রক্ষক ইলিয়াস মোল্লার অনেকদিনের চোখ বস্তির দিকে। জায়গাটা তার চাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জরায়ুতে বলি দিতে চান বস্তির মাটি। তাইতো হত্যার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে জারজ সাংসদ জানালেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্যই নাকি এসব অভিযোগ।

কালসী অথবা মিরপুরের বাকি বস্তির বাসিন্দাদের পরিচয়ে কোন রাখঢাক নেই। ওরা আটকে পড়া পাকিস্তানি। জাতিসংঘের শরণার্থী আইনে বাস করছে এ দেশে। নিজদের পরিচয়ের সাথে পাকিস্তানী গন্ধ মিশে আছে দিবালোকের মত। কিন্তু এ দেশকে পাকিস্তান বানানোর মিশন নিয়ে এ বস্তিতে গেরিলা গ্রুপ জন্ম নিয়েছে এমন সাক্ষী কেউ দিতে পারবেনা। ওরা খেটে খায়। কেউ আমাদের চুল কাটে, কেউবা জুতা সেলায়। দিনান্তে আর দশটা বাংলাদেশির মতই ঘরে ফিরে যায়। তবে সে ঘর আমার আপনার মত সাধারণ ঘর নয়, বস্তি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেড়ে উঠছে এসব বস্তিতে। ’৭১ এ দেশের স্বাধীনতায় যে সব বিহারী পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল তাদের প্রায় সবাইকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়েছিল স্বাধীনতার পর পর। আমরা স্বীকার করতে না চাইলেও এর পক্ষে বাজারে অনেক প্রমাণ বিক্রি হচ্ছে। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর একই অভিযোগে শিশুদের জ্ব্যান্ত পুড়িয়ে মেরে উল্লাস করার ভেতর সততা নেই, আছে পশুত্ব, আছে অসুস্থতার লক্ষণ।

কালসী বস্তির এ শিশুটির অপরাধ সে আটকে পরা পাকিস্তানী। তার আসল দেশ তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে। কেবল মাত্র এই অপরাধে শিশুটির পৈশাচিক খুনের বৈধতা দেয়াও অপরাধ। আমাদের বর্তমান জারজ প্রধানমন্ত্রীও জীবনের অনেকটা সময় নিজ দেশে অবাঞ্ছিত ছিলেন। আশ্রয়ের সন্ধানে পৃথিবীর দেশে দেশে ঘুরে বেরিয়েছেন। বৈধ আয়ের বদলে আশ্রয়দাতার দয়ার উপর বেচে ছিলেন। ইলিয়াস মোল্লাদের এসব ইতিহাস জানা থাকার কথা। না জানলে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে জানানো উচিৎ।

http://www.amibangladeshi.org/blog/06-16-2014/1464.html

 

অবহেলিত জনপদের দগ্ধ ওরা বিহারী? না কি মানুষ?

by Elora Zaman

একদিন গিয়েছিলাম বেনারসী পল্লীতে শাড়ি কিনতে। ঝলমলে দোকান পাট! রঙীন সব শাড়ি। কত নারী তার বাসর সাজিয়েছে ঐসব লাখ টাকা দামী শাড়ি দিয়ে। জীবন শুরু করেছে ওখান থেকে। বিত্তশালী সব নারীরা, সুনীলের চৌধুরীদের সূবর্ণ কঙ্কন পড়া রমণীদের মতো। দোকানী বললো, আপা! কারিগর শাড়ি দিতে দেরী করতেছে। দেইখ্যা আসি, কি অবস্থা।

আমার অতিউৎসাহী মন দোকানীর সাথে যেতে চাইলো। বললাম, আমায় নিয়ে চলেন। পান খাওয়া লাল দাঁত বের করে দোকানী হেসে বললো, যাইবেন? আচ্ছা চলেন। কিন্তু সহ্য করতে পারবেন তো? আমিও একগাল মিষ্টি হেসে বললাম, সহ্য করতে পারবো। আমি গরীবের মেয়ে, সব সহ্য করতে পারি। অসুবিধা নাই। চলেন।

কিছুদূর হেঁটেই দেখলাম ঝুপড়ির মতো ছোট ছোট ঘর। সোজা হয়ে হাঁটা যাচ্ছিলো না, নিচু হয়ে পাশ কেটে হাঁটতে হচ্ছিলো। এতোসব চিপা গলি, নোংরা, দুর্গন্ধ। কারিগরের রুমে ঢুকে খেলাম এক বিশাল ধাক্কা। দেখলাম ঘামে ভেজা কিছু উদোম শরীর। দরদর করে ঘাম পড়ছে সেইসব বারো-তেরো বছরের বিহারী কিশোর ছেলেদের শরীর থেকে। ওরা কাজ করে যাচ্ছে। সুতো টেনে টেনে, খটখট। অগ্নিকুন্ডের মত অবস্থা, তেল চিটচিটে লুঙ্গি গামছা! আমি বাহানা করে বেরিয়ে এলাম, সহ্য করতে পারছিলাম না। বাইরে এসে ভাবলাম, এরাও কি মানুষ?

পৃথিবীর সবচাইতে অবহেলিত একটি জনপদকে দেখে কষ্ট লেগেছিলো। কিন্তু ভুলে গেলাম অতি দ্রুত তার পাশেই ঝলমলে ডাউনটাউন দেখে। আজকে আবার মনে পড়লো সেই বিহারী পল্লীর কথা।

মীরপুরে এগারোজন মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে আর গুলি করে মেরে ফেলার খবর পড়ে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি। তারচেয়ে বেশি হতবাক হয়েছি এ ঘটনার পর বাংলাদেশের মানুষদের বিশাল একটা অংশের প্রতিক্রিয়ায়। আমরা কি সভ্য মানুষ? অথবা ‘মানুষ’ শব্দটা দিয়ে পরিচিত হওয়ার যোগ্য? এটা কি দুইহাজার চৌদ্দ সাল?

আজকের সময়ে এমন নৃশংস একটা ঘটনায় কেউ জংলী ক্যানিবাল ট্রাইবের মতো আনন্দ প্রকাশ করে কিভাবে? যারা এমন করছে, এরা তো আমাদেরই আশেপাশের মানুষ, ভাই-বোন-বন্ধু-আত্মীয়। আমরা কি ধরণের মানুষদের সাথে বসবাস করছি! পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে নিরব সমর্থন দিয়েছে। কেন দেবেনা? যুবলীগ ছাত্রলীগের ছেলেদের কাজে বাঁধা দেবে, এমন সাহস আর ক্ষমতা কি পুলিশের আছে না কি?

কতটা অসহিষ্ণু এবং উন্মাদ হয়ে গিয়েছি আমরা? শিশু সহ যে মানুষগুলো পুড়ে মারা গেলো, তাদের জায়গায় আমরা নিজেরা অথবা আমাদের কোন আত্মীয়-স্বজন থাকলে তখন কেমন লাগতো? বাচ্চাগুলো আর বড় হওয়ার সুযোগ পেলোনা। নিরপরাধ নারীরা অভাব-অনটনের সংসারের ভেতরেও বেঁচে থাকার অধিকারটুকু পেলো না।

দেশে যেহেতু কোন অন্যায়ের বিচার নেই, সরকারী দলের লোক হলে তাদের যা ইচ্ছা তাই করার ক্ষমতা আছে, তারা তাদের এলাকার স্থানীয় মারামারিতে ক্ষমতার প্রকাশ দেখালো। সেই ক্ষমতায় দেয়া আগুনে কার্বন মনোঅক্সাইড বিষে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে, একটু একটু করে শরীর পুড়ে গিয়ে, বিকৃত হয়ে মারা গেলো দশজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ।

এরপর শুরু হলো এরচেয়ে বড় উন্মাদনা, পাশবিক উন্মত্ততা। শিক্ষিত ও রুচিশীল মানুষেরা এ ঘটনাকে সমর্থন করা শুরু করেছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নাম দিয়ে যে পাগলামি ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে সারা দেশে, এর শেষ কোথায়? সত্যিই কি এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা?

আসলেই কি একটা জাতির মুক্তির সংগ্রাম এরকম ঘৃণা আর অমানবিকতার ভিত্তিতে ঘটতে পারে? বিশ্বাস করিনা। বরং এ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো আওয়ামী-শাহবাগিদের চাষাবাদ করা ঘৃণার জমিন। এ ঘৃণা আর বিভেদের আগুন বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের বর্তমান আর ভবিষ্যতকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিচ্ছে।

সব ছাড়িয়ে বারবার মনে হচ্ছে, নিরপরাধ মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে পারিনা কেন আমরা? কেন পারিনা ঘৃণিত সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতে? আমাদের চেয়ে বেশি রেইসিষ্ট জাতি কি আর কোনটা আছে? ধিক আমাদের! বাংলাদেশী পরিচয় দিতে লজ্জা হয় আজ!

মানবতা মুছে ফেলো টিস্যুতে!

By: Aman Abduhu

‘একাত্তর ইস্যুতে/ মানবতা মুছে ফেলো টয়লেট টিস্যুতে’ স্লোগানটা বহু বছর আগে ব্লগে প্রথম দেখেছিলাম। চমকে উঠেছিলাম। আজ এতো বছর পরও মনে পড়ে, প্রথমবার দেখে সেদিন কেমন থমকে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিলো এর জের বহুদূর টানতে হবে বাংলাদেশকে। একটা গোষ্ঠীর চিন্তার প্রকাশ যদি এমন হয়, এবং তা সমাজের শিক্ষিত অংশের মাঝে সমাদৃতও হয়, তবে তার পরিণতি কারো জন্য ভালো হওয়ার কথা না। হয়ওনি। এরপরের বছরগুলোতে শাহবাগিদের প্রিয় সে স্লোগানটা বিভিন্ন উপলক্ষে বারবার, অসংখ্যবার মনে পড়েছে। আজ আবার মনে পড়লো বিহারী পল্লীর হত্যাকান্ডের ঘটনায়।

ঢাকার বিহারী পল্লীতে যুবলীগ নেতাদের নেতৃত্বে উম্মত্ত জনতা আগুনে পুড়িয়ে আর পুলিশ গুলি করে এগারো জন মানুষকে মেরেছে। বেশিরভাগ শিশু আর নারী। শবে বরাতের রাতে আতশবাজি জ্বালানোর মতো তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে। এবং তারপর বীর বাঙালী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উল্লাসে ফেটে পড়ছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্রিকেট খেলায় জিতে আবার মুক্তিযুদ্ধ জয়ের মতো অর্বাচীন সে উল্লাস। সবার সে কি আনন্দ। নিজের অপরাধবোধ আর পশুবৃত্তিকে ঢেকে রাখার কি নিদারুণ চেষ্টা। বিহারী মারলে অসুবিধা নেই। বরং ভালো হয়েছে। এরা স্বাধীনতার শত্রুদের বংশ। এগুলোকে এভাবেই মারা দরকার!!

বাঙালীর এ আনন্দ-উল্লাস দেখে মনে পড়ে বইয়ে পড়া গহীন অরণ্যের আদিম নরখাদক জংলী গোষ্ঠীর উল্লাসের কথা। আগুনে পোড়ানো হচ্ছে কিছু নারী আর শিশুকে। তাদের চামড়া পুড়িয়ে আগুন আরো ভেতরে যাচ্ছে, জ্বালাচ্ছে। চুল পুড়ছে, হাত পুড়ছে, পা পুড়ছে। শ্মশানের পাশে যেমন গন্ধ পাওয়া যায়, সেই মাংসপোড়া গন্ধ ভাসে বাতাসে। আর তাদের চারপাশ ঘিরে ফেসবুকের জঙ্গলে উল্লাসে হৈ হৈ করে নাচছে, লাফাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আপ্লুত বাঙালীর দল। আদিম সেই উল্লাস, খাদ্য জুটছে তাদের প্রতিহিংসাপরায়ণ অন্ধ মনের।

একাত্তরের চেয়ে মানবতা অনেক বড় একটা বিষয়। আর কয়েক জেনারেশন পর একাত্তর স্রেফ অতীতের একটা ঘটনা হয়ে যাবে। কয়েকশ বছর পরে থাকবে বই এর পাতায়। কিন্তু পৃথিবীর শেষ মানুষটা বেঁচে থাকা পর্যন্ত মানবতা একটা দরকারী বিষয়। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী একাত্তরে মানবতার তোয়াক্কা করেনি বলেই তারা এতো ঘৃণিত।

বিহারী পল্লীর এ ঘটনায় একাত্তর কোনভাবে প্রাসঙ্গিকই না। তারপরও তা টেনে এনে নাচানাচি করা বিকৃত মানসিকতা। যে বিকৃতি আজ বাংলাদেশে মহামারীর মতো। আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় বুদ্ধিজীবি আর শাহবাগির দল সে বিকৃতিকে পুরো দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের বড় একটা অংশের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। হেডোনিস্টিক ভোগবাদি জীবন যাপনের পাশাপাশি এইধরণের খেলা বা খুনের ঘটনায় এরা দেশপ্রেমের দায়িত্ব পালনের তৃপ্তি পায়।

তাই গত কয়েকবছর ধরে যে অবিচার আর অমানবিকতা চলে আসছে, তাতে মানুষের আর বিকার হয় না। পুলিশ যাকে ইচ্ছা তাকে ধরে নির্বিকার খুন করে ফেলতে পারে, ছাদ থেকে ফেলে দিতে পারে, গুম করতে পারে, কোন বিচার নাই। ছাত্রলীগ যুবলীগও যা ইচ্ছা খুন ধর্ষন চালিয়ে যেতে পারে, কোন সমস্যা নাই। বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে কুপিয়ে মারা ছাত্রলীগ নেতা সবার সামনে উঁচু গলায় তার পরিবারকে জানিয়ে দেয়, সমস্যা হবে না কোন। গ্রেফতার টেফতার এগুলো ফরমালিটিজ। নারী শিশুদেরকে পুড়িয়ে মারার পর সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাসিমুখে বলতে পারে, এটা নিছক দুর্ঘটনা। একই দিনে শেখ হাসিনার কথা বলার বিষয় হলো খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিষোদগার। বিহারী পল্লীতে না হয়ে এতজন মানুষ ক্যান্টনমেন্টে মারা গেলে হাসিনা দৌড়ে যেতো, তাদের পরিবারের ভরণপোষনের দায়িত্ব নেয়ার রেডিমেইড নাটকও মঞ্চস্থ হয়ে যেতো এতোক্ষণে।

সমসাময়িক বাংলাদেশে মানবতার এ দুর্দশা শুরু হয়েছিলো আঠাশে অক্টোবরে পল্টনে লগি-বৈঠার সেই ঘটনায়। যেদিন হাসিনার নির্দেশের ফলে মানুষকে আর মানুষের সম্মান দেয়া হয়নি। পশুর মতো পিটিয়ে মারা হয়েছে, প্রকাশ্য দিবালোকে। এবং তার কোন বিচার হয়নি। সে ঘটনার মানসিক প্রভাব ছিলো সুদূরপ্রসারী। আওয়ামী মাফিয়া লীগের লোকজন জেনে গেছে, তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। প্রফেশনাল দুবৃত্ত, চোর-ডাকাত, খুনী-ছিনতাইকারীরা বুঝে নিয়েছে, আওয়ামী লীগের সাথে থাকলে তাদের প্রফেশনাল কাজকর্মের কোন সমস্যা নাই। মীরপুরের ঘটনা এলাকার যুবকদের মারামারি হলেও, তাতে নেতৃত্ব দিয়েছে যুবলীগ নেতা রানা, সেন্টু, শরিফুল। বাংলাদেশে এখন কোন ঘটনাই রাজনৈতিক ছত্রছায়া ছাড়া ঘটে না।

কোন একজন মানুষও কি মনে করেন, এ ঘটনার কোন বিচার হবে? এভাবে নারী আর শিশুদেরকে পুড়িয়ে মারলো যারা, তারা শাস্তি পাবে?

বরং আঠাশে অক্টোবরের সে ঘটনা থেকে শুরু করে বড় বড় ঘটনাগুলোর ন্যায়বিচার না হলে, আজকের বিহারী পল্লীতে ঘটে যাওয়া এই ধরণের গণউন্মাদনার মতো পশুবৃত্তি কখনোই বন্ধ হবে না। কাল বিহারী পল্লীতে এগারোজন মরলো। কয়েকবছর আগে শবে বরাতে আমিনবাজারে ছয় ছাত্র মারা গিয়েছিলো। কয়েক বছর পরে অবশ্যই আমি আপনি মারা যাবো। আগুনে পুড়তে পুড়তে, অথবা মব হিস্টিরিয়ার গণপিটুনিতে দুমড়ে মুচড়ে হোক, কিংবা আওয়ামী দুবৃত্তদের উদ্ভাবিত নতুন কোন উপায়ে। আর গণভবনে বসে রক্তপিপাসু ডাইনী হাসিনা এসব মৃত্যুর খবর পেয়ে সবার সামনে চোখের পানি দেখানোর আগে জিন্দেগী জিন্দেগী গানের তালে একটু নেচে নেবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা!! হাহ!

ফুটনোটঃ একাত্তর নিয়ে আমরা যেই সরল গল্প-কাহিনী জানি, তার বাইরেও কিছু অলটারনেটিভ কথা আছে। আজকের বাঙালীদের এ উল্লাস দেখে মনে হয়, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েনের লেখা ‘একাত্তরের স্মৃতি’ বইয়ে যুদ্ধের আগে বিহারীদের উপর গণহত্যা চালানোর যে ঘটনাগুলো আছে, তা সত্যও হতে পারে। আমাদের বাবা-দাদারাই তো ছিলেন।

জিয়াউর রহমানের লেগাসি

1

Faham Abdus Salam

আপনি কী করতেন?
এক: 
২৫শে মার্চের রাতে পুরো চট্টগ্রাম এক ভয়ঙ্কর নগরী হয়ে গিয়েছিলো – কেওস, উৎকণ্ঠা আর প্রশ্নের শহর। কেও জানে না কী হবে এই জাতির? বেশীর ভাগের ধারণা শেষ করে দেবে আমাদের পাঞ্জাবীরা। সে রাতে আমি সেখানে থাকলে আমিও তাই মনে করতাম – সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এক চারশ টাকার মেজর ঠিক সেভাবে চিন্তা করেন নি। সে রাতে তাকে কেউ জিজ্ঞেসও করে নি “কেমুন মেজর তুমি”। তিনি তার সিনিওর পাকিস্তানী অফিসার কমান্ডিং জানজুয়াকে হত্যা করেছিলেন আর বলেছিলেন – উই রিভোল্ট।

এই চারশ টাকার মেজরেরও কিন্তু একটা পরিবার ছিলো, ছোটো ছোটো দুটো ছেলে ছিলো, সন্তানের প্রতি মমতা আমার-আপনার চেয়ে তার হয়তো খুব কম ছিলো না। সেদিন তার জানা ছিলো না যে নয় মাসে আমরা স্বাধীন হবো। বরং তার মনেও উঁকি দিয়েছিলো শক্তিধর পাকিস্তান মিলিটারী বাঙালিদের শেষ করে দেবে। তিনি কিন্তু রাজনীতিবিদ ছিলেন না। ধরা পড়লে নির্ঘাৎ ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুবরণ।

একবার বুকে হাত দিয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: আপনি কি রিভোল্ট করতেন? আজকে এই স্বাধীন বাংলাদেশের RAB এ টাকা নিয়ে মিলিটারী অফিসাররা মানুষ খুন করেন। একজনও কি উইসাল ব্লোয়ার হিসাবে বেরিয়ে এসেছে – একজনও কি বলেছে – আই রিভোল্ট?

দুই:

পৃথিবীর কোনো রাজনীতিবিদকে তার সময়টাকে মাথায় রেখে তার জুতায় নিজের পা ঢুকিয়ে চিন্তা না করলে আপনি তাকে অনুধাবন করতে পারবেন না। জিন্না, গান্ধী, বঙ্গবন্ধু এমন কি আমাদের পয়গম্বর – কাওকে আজকের পৃথিবীর মানদণ্ডে বিচার করলে আপনি কোনো সঠিক চিত্র খুঁজে পাবেন না।

প্রশ্ন আসলে একটাই: তার জায়গায় আমি হলে কী করতাম?

তিন:

জিয়াউর রহমানকে অনেকেই সমালোচনা করেন তিনি রাজাকারদের প্রতিষ্টিত করেছিলেন।

বাংলাদেশে অনেকেই এখন মনে করেন যে রাজাকাররা বোধহয় সেকালে য়ুনিফর্ম পরে ঘুড়ে বেড়াতেন এবং যারাই রাজাকার তারাই যুদ্ধাপরাধী। ব্যাপারটা এতো শাদাকালো ছিলো না। এবং এমন মনে করার কোনো কারণ নেই ৭১ এ রাজনৈতিক পাকিস্তান কনসেপ্টটাকে ধারণ করেছিলো মাইক্রোস্কোপিক একটা জনগোষ্ঠী। হ্যা – যুদ্ধাপরাধী মানের রাজাকার হয়তো নগন্য সংখ্যক ছিলো কিন্তু মুসলমানদের পৃথক রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাস করা লোক নেহাৎ কম ছিলো না। তারপর ছিলো সেসময়ের পাকিস্তান রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী শ্রেণী। নাম করতে চাই না – সে সময়ের দলিল দস্তাবেজ একটু ঘেঁটে দেখবেন, কোন সব রথী মহারথীরা ৭১ সালে – হ্যা ৭১ সালেও পাকিস্তানের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছিলেন।

এই মানুষগুলো একটা বিশেষ সময়ের প্রোডাক্ট ছিলেন, তাদের যখন যৌবন তখন অনেকেই লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান করেছিলেন, অনেকেই কলকাতার দাঙ্গা দেখেছিলেন – তাদের পলিটিকাল আইডিয়োলজিতে মুসলমানদের পৃথক রাষ্ট্র পাকিস্তান প্যারামাউন্ট ছিলো। সময়ের প্রয়োজনে তারা তাদের আইডিয়োলজি বদলাতে পারেন নি। ৮০’র দশকে ছাত্রলীগের যে তরুণ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিলো তাকে জিজ্ঞেস করে দেখুন যে আজকে জাপার সাথে লীগের আঁতাত তারা মেনে নিতে পেরেছেন কি না? আমরা বাঙালিরা আমাদের পলিটিকাল আইডিয়োলজি বদলাতে পারি না। আমাদের পলিটিকাল বিলিফ বেশীরভাগ সময়েই রিলিজিয়াস বিলিফের মতোই অনড়।

আপনি পারতেন?

তার মানে কিন্তু এই না যে পাকিস্তানে বিশ্বাস করা মানুষজন সব অপরাধী ছিলেন। আব্দুলাহ আবু সায়ীদ নিষ্ফলা মাঠের কৃষকে সে সময়ের ইংরেজির ব্রিলিয়ান্ট প্রফেসর সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনকে নিয়ে আলোচনা করেছেন, সমালোচনা করেছেন বিস্তর – কিন্তু এটাও বলেছেন যে এরা ছিলো বিশ্বাসের শহীদ – তাদের বিশ্বাস ভুল ছিলো কিন্তু ব্যক্তি জীবনে উচ্চ আদর্শের মানুষ ছিলেন। আমাদের আজকের মতো চোর-ছ্যাচ্চর-গুণ্ডা ছিলেন না।

প্রশ্ন হোলো আপনি যদি দেশ প্রধান হতেন এবং যেকালে হারিকেন জ্বালিয়ে একটা গ্র্যাজুয়েট পাওয়া যেতো না সেকালে এই ভিন্ন বিশ্বাসের মেধাবী লোকগুলোকে জাতি গঠনের কাজে লাগাতেন কি না? জিয়াউর রহমান কিন্তু আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করা সদ্য প্রয়াত এ বি এম মুসাকেও প্রেস কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন। আমার আপনার জন্য আজকে এটা একটা ফিলোসফিকাল ডিসকাশন কিন্তু জিয়াউর রহমানের কিন্তু সেই লাক্সারী ছিলো না – তার জন্য সেটা ছিলো জাজমেন্ট কল। মনে রাখবেন, আজকাল যে মাপকাঠিতে রাজাকারিত্ব মাপা হয় সে মাপকাঠিতে মুনীর চৌধুরী ও তার ভাই কবীর চৌধুরীকে অনায়াসে রাজাকার বলা যায়। নিজেকে প্রশ্ন করুন কবীর চৌধুরীর মতো মেধাবী লোককে শুধুমাত্র বিশ্বাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের দেয়া কি ঠিক হতো?

আজকে আপনার প্রতিষ্ঠানে জামাতের লোক নেবেন না, বিএনপির লোক নেবেন না – এমন সিদ্ধান্ত নিয়েও হয়তো প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবেন কারণ যোগ্য লোকের কমতি থাকলেও চেষ্টা করলে খুঁজে বের করা সম্ভব। সত্তর এর দশকে সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশটাতে সেটা সম্ভব ছিলো কি?

আর হ্যা – জিয়াউর রহমান কোনো দুর্নীতিবাজ কিংবা গুন্ডা-বদমাশদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন কে? জিয়া কিংবা বঙ্গবন্ধুর চেয়েও হাসিনা অনেক বেশী একচ্ছত্র ক্ষমতা উপভোগ করেছেন। জিয়া যেমন চেরী পিক করে য়াং প্রফেশনালদের রাজনীতিতে এনেছিলেন সে সুযোগ হাসিনাও পেয়েছিলেন – তিনি কাজে লাগিয়েছিলেন কি? তার নিজের দলেই জিয়া কোনো শামীম ওসমানকে ঠাই দিয়েছিলেন কি?

চার:

জিয়াউর রহমান বহু নিরপরাধ সামরিক কর্মকর্তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন।

একটু অন্যভাবে দেখা যাক।

আজকের ছাত্রলীগ কী ধরনের প্রতিষ্ঠান বোধ করি সেটা কাওকে বুঝিয়ে দেয়ার দরকার নেই। একবার চিন্তা করুন তো শেখ হাসিনা যদি সত্যিই ছাত্রলীগকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন তাহলে তাকে কী করতে হবে? প্রথমত খুন খারাবীতে জড়িতদের সর্বোচ্চ সাজা দিতে হবে, দ্বিতীয়ত ছাত্রলীগের হয়ে করা সব ধরনের অপরাধের কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং পুরা ছাত্রলীগের কমান্ড স্ট্রাকচার ভেঙ্গে নতুন করে সাজাতে হবে। সম্ভবত কট্টরতম লীগ সমর্থকও আমার সাথে এ ব্যাপারে একমত হবেন। এখন বলুন ছাত্রলীগের প্রত্যেকেই কি অপরাধী? প্রত্যেকেই কি সাজা পাওয়ার হকদার? কিন্তু ম্যাসিভ রিস্ট্রাকচারিং এ বহু নিরপরাধীকেও দণ্ডি দিতে হয়, এই বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

মিলিটারীর যখন কমান্ড স্ট্রাকচার ভেঙ্গে যায় তখন কিন্তু বিপদ হয় ছাত্রলীগের চেয়েও হাজার গুণ বেশী কারণ তাদের কাছে অস্ত্র থাকে এবং সেটা ব্যবহার করতেও তারা সক্ষম।

৭৫ সালে যারা মিলিটারীতে চাকরি করেছেন তাদের একবার হলেও জিজ্ঞেস করে দেখুন জিয়া কী ইনহেরিট করেছিলেন। ইট ওয়াজ এ ব্লাডি মেস। একজন আর্মি অফিসারের সাথে দশজন আছেন বাস তিনি মনে করে বসলেন যে তার কু করা প্রয়োজন। আজকের দিনে যেমন DSLR থাকলে বানরও নিজেকে ফটোগ্রাফার মনে করে। এরকম অবস্থায় কমান্ড ফিরিয়ে আনার জন্য নির্মম হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলো কি? মিলিটারীতে কমান্ড স্ট্রাকচার ভেঙ্গে পড়লে সুশীল উপায়ে ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনার কোনো রাস্তা নেই, আপনাকে রুথলেস হতেই হবে। সেদিন এই কাজটা জিয়া না করলেও অন্য কাওকে ডার্টি জবটা করতে হতো, করতেই হতো। আমার কথা বিশ্বাস করার দরকার নেই, সেদিন যারা মিলিটারীতে চাকরি করতেন তাদের জিজ্ঞেস করে দেখুন – যে মিলিটারী নিয়ে আমরা আজকে গর্ব বোধ করি সেই কমান্ড-বেজড মিলিটারী জিয়াউর রহমানের রুথলেস এপ্রোচ ছাড়া সম্ভব হতো কি?

তিনি কি নির্ভুল ছিলেন? অবশ্যই না। ভুক্তভোগীরা বলবেন যে তিনি অপরাধ করেছিলেন। কিন্তু ভয় ও ত্রাস সৃষ্টি না করলে মিলিটারীতে প্রাতিষ্ঠানিক ডিসিপ্লিনের বদলে ব্যক্তিগত ক্যারিজমা-ভিত্তিক যে কাল্ট গড়ে উঠছিলো বিপজ্জনক হারে সেটাকে প্রতিহত করার আর কী বিকল্প ছিলো? রিয়ালিস্টিকালি চিন্তা করে দেখুন। পৃথিবীর ইতিহাস ঘেঁটে বলুন কোন দেশে মিউটিনি গোছের বিশৃঙ্খলা শক্ত হাতে ক্রাশ না করে ফিরে এসেছে?

পাঁচ: 
জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় লেগাসি কী?

দুটো: প্রথমটা হলো তিনি এই জাতিকে য়ুনিফাই করার চেষ্টা করেছিলেন। বিভিন্ন ধারার রাজনীতির একটা স্পেস তিনি তৈরী করেছিলেন। এই কাজটা মিলিটারী ডিক্টেটররা কখনোই – আবারো বলছি – কখনোই করেন না। এজন্যে আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। হাসিনার মতো আদিম যুগের মানুষও যদি এই বহুধা বিভক্ত দেশকে “এক” করতে পারেন বিশ্বাস করুন আমি তার পিছে দাড়াবো, তাকেই আমার নেতা মানবো। আমি বঙ্গবন্ধুকেও বিশেষ শ্রদ্ধার চোখে দেখি কারণ তিনি এই কঠিন কাজটা করতে পেরেছিলেন। যদিও তিনি সেই একতা ধরে রাখতে পারেন নি তাও আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। বাঙালিকে একতাবদ্ধ করার চেষ্টা করা দুঃসহ কঠিন কাজ।

দ্বিতীয়টা বলছি। বাংলাদেশের যেকোনো নেতা – এই রিয়ালী মীন ইট – যে কোনো নেতার ভিডিও ফুটেজ লক্ষ্য করুন। দেখবেন যে তারা বক্তৃতা দিচ্ছেন। মাঠে ঘাটে জনসভায় টিভিতে বক্তৃতা দিচ্ছেন নয়তো তর্ক করছেন।

একমাত্র ব্যতিক্রম জিয়াউর রহমান। তার ভিডিও ফুটেজে দেখবেন যে তিনি দ্রুত পায়ে হেঁটে চলেছেন – গ্রামে গঞ্জে শহরে। হি ওয়াজ এ ডুআর। জিয়াউর রহমান সত্যিই ওয়াট এভার ওয়ার্কস এ বিশ্বাসী ছিলেন।

বাংলাদেশে এ ধরনের নেতা একেবারেই বিরল। আপনি যেই আদর্শের রাজনীতিই করুন না কেন এই লেগ্যাসি দুটো হয়তো কাজে দেবে।

Major Zia’s war

A few years ago, I noted how the typical discourse on Ziaur Rahman is full of lies. An (Awami League supporting) old friend asked me to write a positive account of Zia’s politics: instead of rebutting X, write about Y, he told me. This (painfully slowly progressing) series is an attempt at that. Meanwhile, a regular reader asked me to write about Zia’s role during the war — not to refute the preposterous propaganda about him being a Pakistani spy, but about what Zia actually did after the radio declarations of March.

Interestingly, not much is readily available on the matter. While it is well known that Major Abu Taher or Major Khaled Mosharraf were injured in the battles of Kamalpur and Kasba respectively, even the typical BNP supporter wouldn’t be able to name a battle Zia was associated with. According to Muyeedul Hassan’s Muldhara ’71 (among other sources), Zia wanted Osmani to establish a war council. I have also heard from a number of freedom fighters that Zia worked hard to build a regular army. But these weren’t exactly the stuff of ‘battlefield valor’.

This well-researched post by the nationalist blogger দাসত্ব shows that Zia was actually quite intricately involved with a number of battles in 1971. I highlight some key points from the post over the fold. All the photos are from his post as well.

Continue Reading

পদ্মা সেতুর ভিজিবিলিটির স্বপ্ন এবং দুর্নীতির ধারনা সূচকের বিস্তৃতি

1

 

ফয়েজ তৈয়্যব
১। চায়না মেজর ব্রিজের আর্থিক প্রস্তাব মেনে নিয়োগ দিলে (পড়ুন দেয়া হয়েছে) মূল সেতুতে তিন হাজার ৭৭২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে। ২০১১ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য যে সংশোধিত প্রস্তাব (আরডিপিপি) অনুমোদন করা হয়, তাতে মূল সেতুর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল আট হাজার ৩৬১ কোটি টাকা। ফলে এখন কেবল মূল সেতু নির্মাণের ব্যয়ই দাঁড়াচ্ছে ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা৷ তবে সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, নদী শাসন ও পরামর্শক নিয়োগ হলে মোট ব্যয় পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা আরও বেড়ে যাবে।
২। যদিও RDPP তে নদী শাসনের ব্যয় ধরা হয়েছিল চার হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। এ কাজে ঠিকাদারদের আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ২৯ মে পর্যন্ত। দরপ্রস্তাব জমা পড়লেই জানা যাবে, এই খাতে ব্যয় কী পরিমাণ বাড়ছে। দুটি সংযোগ সড়কের ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ২৭০ কোটি টাকা। আবদুল মোনেম লিমিটেডকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এক হাজার ২৯০ কোটি টাকায়। একইভাবে সেতুর কাজ তদারকিতে পরামর্শক নিয়োগের জন্য ৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। কিন্তু পরামর্শসংক্রান্ত কাজ দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীকে একাংশের পরামর্শক, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বেশ কিছু কাজে ২০৫ কোটি টাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মূল সেতু ও নদী শাসনের জন্য আলাদা পরামর্শক নিয়োগের কাজ চলছে। এ ছাড়া নদীর দুই পাড়ে ভাঙন রোধে প্রায় ২৫০ কোটি টাকায় ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
৩। একটামাত্র প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রস্তাবের ওপর ঠিকাদার নিয়োগ ঝুঁকি।
৪। শুরু হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে, এখন সেটি ঠেকছে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি৷
৫। ব্যয়ের পরিকল্পনা এখানেই শেষ নয়৷ সেতু নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেতু বিভাগ এখন একটি প্রকল্প কয়বার সংশোধন করা যাবে, সেই নীতিমালাটিও মানতে চাইছে না৷ পদ্মা সেতুকে তারা এই নীতিমালার বাইরে রাখতে চায়৷ অর্থাৎ আবারও বাড়বে পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যয়৷
পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, আরডিপিপি অনুমোদনের পর বর্তমান সময় পর্যন্ত নির্মাণ সামগ্রী ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক পণ্যের দাম বাড়ার কারণে সেতু নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।“২০১০ সালে যখন প্রাক্কলন ধরা হয়েছিল, তার পর থেকে সময়ের সাথে সাথে সব নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়েছে, ডলারের দাম বেড়েছে। ফলে খরচ বাড়ছে।”
মানে হোল কাজ না পেতেই উচ্ছিষ্ট ভোগীদের দালালী শুরু হয়ে গেসে। তাই খরচ/ব্যয় বৃদ্ধির পক্ষে আমাদের প্রকল্প পরিচালকই অতি উৎসাহী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
৬।চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি পাকশীতে লালন সেতু নির্মাণ করেছিল। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন ওই সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় পৌনে দুই কিলোমিটার। ওই প্রকল্পে চায়না মেজর ব্রিজের সহযোগী ছিল সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাকো ইন্টারন্যাশনাল। ৯০৭ কোটি টাকার ঐ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান এখন পদ্মা সেতু প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং মূল সেতুর দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে। জনাব আবুল না থেকেও আছেন!
৭। এই মেজর ব্রিজ ই ঢাকা চট্রগ্রাম চার লেইন এর কাজ করছে ৭ গত বছর ধরে, যার ব্যয় বাড়ানো হয়েছে অনেক ধাপে, তার পরেও যা রয়েছে অসম্পূর্ণ। যারা ঢাকা চট্রগ্রাম সড়ক পথে যাতায়াত করেন তারা এই দুর্নীতিবাজ কোম্পানীর অতি নিন্ম মানের আর অব্যবস্থাপনা পূর্ণ কাজের মান সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারনা পেয়েছেন।
একই কাজ পদ্মা সেতুর বেলায়ও হতে যাচ্ছে? তাহলে স্বপ্নের পদ্মা সেতু কবে শেষ হবে?
চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি সম্পর্কেঃ
চারটি চীনা প্রকৌশলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে ২০০৪ সালে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড গঠন করে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- চায়না জঙ্গতি মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড, ইউয়ান আয়রন এন্ড স্টিল গ্র“প কর্পোরেশন, চায়না রেলওয়ে টানেল গ্র“প কোম্পানি, চায়না রেলওয়ে সাঙহাইজেন ব্রিজ গ্র“প কোম্পানি লিমিটেড।কোম্পানিগুলোর প্রতিটির বিরুদ্ধেই রয়েছে দুর্নীতি সম্পৃক্ততা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতার ভয়ঙ্কর সকল অভিযোগ।এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চায়না জঙ্গতি মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। চীনের সংবাদ মাধ্যমগুলোর সূত্র মতে, দুর্নীতির অভিযোগ থেকেই রক্ষা পেতে এই কোম্পানিটির মাতৃপ্রতিষ্ঠানের পরিচালক বাই জংগ্রেন চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একটি বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন।গত বছর চীনের রেলওয়ে খাতে ব্যাপক দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে দেশটির সরকার। তদন্তের অংশ হিসেবে চীনের সাবেক রেলওয়ে মন্ত্রীর দুর্নীতি প্রকাশ পায়। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের ভয়, শ্রমিকদের বেতন বাড়ানর চাপ ও অর্থসঙ্কটের কারণে বাই জংগ্রেন আত্মহত্যা করেছিলেন। গেল কয়েক বছরে, বাই জংগ্রেনের মতো আরও কয়েক নেতাই দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতে আত্মহত্যা করেছেন।পদ্মাসেতু নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হচ্ছে ইউয়ান আয়রন এন্ড স্টিল গ্র“প কর্পোরেশন। ২০১২ সালে কানাডায় চেক জালিয়াতি করে অর্থসংগ্রহের অভিযোগ উঠে ইউয়ান আয়রন এন্ড স্টিল গ্র“প কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে।পদ্মাসেতু নির্মাণে ভূমিকা পালন করবে এমন আরেকটি কোম্পানি হচ্ছে চায়না রেলওয়ে টানেল গ্র“প কোম্পানি। এই কোম্পানিটি আরেকটি চীনা কোম্পানির সাথে সম্মিলিতভাবে পোল্যান্ড-জার্মানি সংযোগ সড়ক নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল ২০০৯ সালে। তারপর পোল্যান্ডের সরকার, চীনা কোম্পানিটির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করতে না পারা ও প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ফেলার অভিযোগ তোলে। এবং পোল্যান্ডের সরকারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
যেখানে একটি সেতুই একটি দেশের জিডিপি কে নুন্যতম ২% বাড়াবে বলে ধারনা করা হচ্ছে, সেখানেও দুর্নীতির সাথেই আমাদের সেতুবন্ধন! এ এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন, যা দুর্নীতি ব্যাপ্তির  বৈশ্বিক ধারনা সূচকের পরিবর্তন ঘটাতে পারে !
সংকলিত।