তোমরা যারা বিএনপি বিদ্বেষী

খোমেনী ইহসান:
‘তোমরা যারা বিএনপি করো’ শিরোনামে ব্রাদার মনোয়ার রুবেল অনলাইন দৈনিক ‘বাংলানিউজ২৪ ডটকম’ এ একখান প্রচারণাপত্র লিখেছেন। মনোয়ার তার এই লেখায় অনেকখানি চক্রান্ত বিদ্যা চর্চা করেছেন। যা এই কারণেই হাস্যকর হয়েছে যে, বিএনপির লোকেরা তার কোনো কথাই গ্রহণ করবে না। মনোয়ার একবুক বিএনপি বিদ্বেষকে গোপন করে বিএনপি দরদী সাজলেও দলটির নেতাকর্মীদের আবেগানুভূতির প্রতি সামান্যতম সংহতিও দৃশ্যমান করতে পারেননি। বরং তিনি বিএনপির লোকেদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর লোকদের রাজনৈতিক ফারাক সূচিত করতে গিয়ে অসম্মান ও বিদ্বেষই জারি রেখেছেন।

খেয়াল করে দেখি মনোয়ার কী করছেন। তিনি লিখেছেন, ‘তোমরা বিএনপি/ছাত্রদল করো তারা হয়তো একটি জিনিস নিশ্চয়ই জানো, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি দল। শহীদ জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা। জিয়াউর রহমানের বীরত্বগাথা যুদ্ধের কাহিনী স্কুলগুলোতে পড়ানো হয়।’ মনোয়ার চালাকি করে সম্মান দেখানোর নামে জিয়াউর রহমানের প্রতি তাদের বিদ্বেষকে ঠিকই জারি রেখেছেন। কারণ যারা জিয়া বিদ্বেষী তারা তাকে শুধু মুক্তিযোদ্ধা মনে করে। বিদ্বেষের মধ্যে একটু উদারতা দেখাতে গিয়ে তারা কষ্ট করে স্বীকার করে যে জিয়া মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। কিন্তু জিয়া শুধুই মুক্তিযোদ্ধা বা সেক্টর কমাণ্ডার নন। জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। তার ঘোষণার মাধ্যমেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে আওয়ামী লীগের নেতারা পালিয়ে যান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী হানাদারদের তত্ত্বাবধানে গ্রেফতার বরণ করেন। অপারেশন সার্চ লাইটের তাণ্ডবে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রাণ্তে অগুণতি বাংলাদেশির লাশ ছড়িয়েছিটিয়ে পড়েছিল। বিপুল শোক, স্বজন হারানোর আহাজারি আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও দিক নির্দেশনাহীনতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় মুক্তিকামী জনতা। এ অবস্থায় বাংলাদেশের আপামর জনগণকে ইতিহাসের উত্থানপর্বে উন্নীত করতে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে এলেন মেজর জিয়া। প্রথমে তিনি নিজের নামেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনই যার প্রধান লক্ষ্য, তিনি কূটরাজনৈতিক বিবাদকে দানা বাধতে দিতে পারেন না। তাই পরের ঘোষণায় তিনি স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও অন্তর্ভূক্ত করে নিলেন। তার নামে নতুন করে ঘোষণা দিলেন। যার ফলাফল হলো জিয়ার প্রথম ঘোষণায় উজ্জীবিত জনগণ আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ়তার জমিনে আরো বেশি সিনা টানটান করে দাড়িয়ে গেলো। ইতিহাসের দুর্দান্ত সময়ে জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যে মহান কর্তব্য পালন করেছেন, যে সেনাপতিসুলভ প্রজ্ঞা দেখিয়েছেন এবং স্বাধীনতাকামী জনগণকে শোক-বেদনা-হতাশা উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধে শামিল হতে উদ্বুদ্ব করেছেন তার প্রতি বাংলাদেশের গণমানুষের বিপুল সমর্থন, সংহতি ও শ্রদ্ধা রয়েছে। জনগণের এই শ্রদ্ধাকে বিএনপি/ছাত্রদলের সব নেতাকর্মীই অন্তরে ধারণ করেন।

কাজেই জিয়াকে যখন শুধুই মুক্তিযোদ্ধা সম্বোধনে বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপদেশ খয়রাত করা হয় তখন তারা দেখতে পান উপদেষ্টাবন্ধুর মুখোশধারী লোকটি আসলে জিয়া বিদ্বেষী। কারণ এই দেশে যারা জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক স্বীকার করেন না তারা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি কী মনোভাব পোষণ করে তা আর অজানা নয়। এই বিদ্বেষীদের অনেকেই তো সংসদে, সংবাদ সম্মেলনে, জনসভায় শহীদ জিয়াকেজ স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অস্বীকার করেছেন। বলে বেড়িয়েছেন জিয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। শহীদ জিয়া নাকি আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার অভিনয় করেছেন। তারা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে এই মিথ্যাচারই করছেন না। তারা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ভূমিকার জন্যও জিয়াকে অপবাদ দেন। তারা বলেন জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য দায়ী। জিয়া সেই সময় সেনাবাহিনীর উপপ্রধান ছিলেন। ৫ আগস্ট ভোরে বঙ্গবন্ধু নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য সাহায্য চেয়ে তাকে ফোন করেননি। বঙ্গবন্ধু ফোন করেছিলেন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে।তিনি মুখের উপর বঙ্গবন্ধুর জীবন বাচাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। সেই শফিউল্লাহ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ক্যুদেতাদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। বিদেশে রাষ্ট্রদূতের চাকরি নিয়ে দেশ ছেড়ে গেছেন। কিন্তু শফিউল্লাহ আওয়ামী লীগের কাছে উপেক্ষিত থাকেননি।তিনি দলটির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জিয়া বিদ্বেষীরা অভিযোগ করেন তিনি রাজাকার-আলবদরদের রাজনীতিতে পুনর্বহাল করেছেন। কিন্তু তারা বলেন না যে জিয়া একাজটি করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর নীতির ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে। তার এই কথা ধামাচাপা দিতে গিয়েই আড়াল করে যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার-দালালদের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাকে। বঙ্গবন্ধু সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার না করে পাকিস্তানের সাথে সমঝোতার চুক্তি করেছিলো। মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ভুট্টোর সাথে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু গলাগলি ও কোলাকুলি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বিনা বিচারে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল কারবন্দি হাজার হাজার রাজাকার-দালালদেরকে। তারা শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়ার নজিরকে সামনে এনে শহীদ জিয়া বিরোধী যে প্রচারণা চালান তার মধ্যে কোন উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয় তাও তো কারো অজানা নয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম, সংবাদপত্র, বিচার বিভাগ ও বাক স্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে জাতীয় জীবনে নৈরাজ্য ও হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরির ফলে বাংলাদেশে জাতীয় সংহতি বিনষ্ট হয়েছিল। দেশ নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল আমাদের জন্মভূমি। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মহান সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ জিয়ার কাঁধে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্বভার অর্পিত হয়েছিল। জাতীয় সংহতির পথ উন্মোচিত করতে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্র-বিচার বিভাগ-বাক স্বাধীনতা কায়েম করেছিলেন। তিনি বাকশালে বিলুপ্ত আওয়ামী লীগ ও সিপিবিসহ সব রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। জিয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও দেশে ফেরত এনে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছেন।

জিয়া বিদ্বেষীরা অভিযোগ করেন জিয়া জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলছি স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকার যে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল তার প্রমাণ দেখান। তিনি ভারতের সাথে কলা ২৫ সালা গোলামীর চুক্তি মোতাবেক সংবিধানে জোর করে ধর্মনিরপেক্ষতা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। এর ফলে জামায়াত রাজনীতি করার সুযোগ হারিয়েছিল কিন্তু তিনি তো কখনোই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেননি। সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি বাঙ্গালীর জাতীয়তাবাদকে সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। অথচ বাংলাদেশে আরো কমপক্ষে ৫০টি জাতি সত্ত্বা রয়েছে। তারপরেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাংবিধানিকভাবে সাম্প্রদায়িকতা কায়েম করা হলে। অথচ বাঙ্গালীদের মতো বাংলাদেশে মুসলমানরাও সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের ধর্মকে উপেক্ষা করে ধর্মনিরপেক্ষতা কায়েম হতে পারে না। সত্যিকারের সেক্যুলার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাইলে এটা সম্ভব নয়। এ কারণে জিয়া ইসলামপন্থী দলগুলোকেও জাতীয় ঐক্যের মধ্যে আসতে দিয়েছেন। এটা তার অপরাধ ছিল না, বরং তার সুদূরপ্রসারী ঐক্য চিন্তার সৌন্দর্য্য। জাতীয় ঐক্য ও সংহতির মতো মহান লক্ষ্যের জন্য জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে রাজনীতি করতে দেয়ায় বিএনপি ও জিয়া বিদ্বেষীরা অপরাজনীতি করে বেড়ায়। অথচ তারা তো একবারও বলেনা যে শুধু বিএনপি বিরোধী আন্দোলন করতে ও ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগ কিভাবে জামায়াতের সাথে এক টেবিলে বসে রাজনীতি করে।কিভাবে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করে? কিভাবে অধ্যাপক গোলাম আযমের কাছে আওয়ামী লীগ দলীয় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দোয়া আনতে যায়? আওয়ামী লীগের ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করা যদি দোষের না হয় তবে জিয়ার সিদ্ধান্ত কেন মহাননুভবতা হিসেবে স্বীকৃত হবে না?

মনোয়ার রুবেল তার লেখার সমালোচনার কারণে বিএনপি ও ছাত্রদলের লোকদের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের সাথে সুর মেলানোর অভিযোগ করেছেন। তার এ অভিযোগ অপবাদই নয় শুধু বিএনপি ও জিয়া পরিবার বিরোধী চক্রান্তেরই অংশ। কারণ আমরা দেখেছি গত ৫টি বছর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাতে গিয়ে প্রায় সময়েই জিয়া বিদ্বেষীরা বলেছে বিএনপি ও জামায়াত একই রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী। তারা স্বাধীনতার ঘোষক ও দেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার দলকে বলে বেড়ায় পাকিস্তানপন্থী দল। এসব অপবাদ তো শুধু অপবাদ ছিল না। এই অপবাদ ছিলো বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ইশতেহারের অংশ। তাইতো আমরা দেখি তারা খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে নিষ্ঠুরভাবে ঈদের আগে উচ্ছেদ করেছে। অথচ রাষ্ট্রের কাছ থেকে বরাদ্দ পেয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ঢাকায় বাড়ি করেছেন। তার বাড়ি কিন্তু বহাল আছে। সরকার মুজাহিদ পরিবারকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ দূরে থাক, এ জন্য একটি শব্দও খরচ করেননি জিয়া বিদ্বেষীরা। আমরা দেখেছি বিদ্বেষীরা কিভাবে দিনের পর দিন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও কোকোকে অপবাদ দিয়েছে। তারেকের বিরুদ্ধে তারা আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআইয়ের লোকদের সাক্ষী হিসেবে উড়িয়ে এনে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন তিনি দুর্নীতিবাজ। কিন্তু আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে তারেক নির্দোষ। আদালতের এই ঘোষণার পর কিন্তু তারা একবারও ‘সরি’ বলেনি।

আজকে বিএনপি ও জামায়াতের সুর এক হয়ে গেছে বলে তারা অভিমান করছেন। ছাত্রদলের ছেলেরা শিবিরের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে কথা বলছে বলে গোস্বা করছেন। কিন্তু বিএনপি সব সময় জানিয়েছে তাদের আদর্শ বাংলাদেশী জাতীয়তবাদ। তারা জামায়াতের সাথে আদর্শিক ঐক্য নয়, ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের জোট করেছে। যার প্রমাণ আমরা বিএনপির কথা ও কাজে দেখেছি। কিন্তু যারা আজ বিএনপি দরদী তারা কি বিএনপি ও জামায়াতের সাথে কোনো ফারাক করেছে? তাহলে জামায়াত-শিবিরকে হত্যা-গুমের মতো করে তারা বিএনপি বা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হত্যা-গুম করে? বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল মনে করার নমুনা কি ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, ছাত্রদল নেতা আশিককে গুম করা? মাঝরাতে মই বেয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে অনুপ্রবেশ করে রিজভী আহমেদকে তুলে নিয়ে যাওয়া? ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এমকে আনোয়ার, ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, আসম হান্নান শাহকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি করে রাখা? ছাত্রদল ও শিবিরের সাথে পার্থক্য করার মানে কি ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ও হাবিবুর রশীদ হাবিবকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি করে রাখা। গত এক মাসে ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছেন। আমরা দেখিনি কেউ ছাত্রদলকে শিবিরের থেকে আলাদা ছাত্রসংগঠন মনে করে তাদের পক্ষে দুটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন।

সত্যি কথা কি, আওয়ামী লীগ বিনা ইশতেহারে, প্রতীকে, ভোটে যখন ১৫৪টি আসনে নিজেকে বিজয়ী করে ফেলে তখন কূটনীতিকরা হতভম্ব হয়ে যান। তারা সেই সরকারের আমন্ত্রণে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে হাস্যকর সরকারের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকেন। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এর কূটনৈতিক মূল্য বুঝেন। তাই যারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষে থাকার কথা বলে ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থার পক্ষে নির্লজ্জভাবে অবস্থান নেয় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রতিবাদী বক্তব্যকে অনুধাবন করে ফ্যাসিবাদকে সমর্থনের জন্য যখন কেউ দুঃখিত-লজ্জিত না হয়ে যখন বিএনপি/ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জামায়াত/শিবির করার জন্য অভিযুক্ত করা হয় তখন সব কিছু পষ্ট হয়ে যায়। বিএনপি ও জিয়া পরিবার বিদ্বেষীরা আজ আস্তিনে খঞ্জর লুকিয়ে ভালো সাজতে এসেছে! কিন্তু তাদের কথা শুনে বিএনপি/ছাত্রদল নিঃস্ব হয়ে পড়লে যে খঞ্জর নিয়ে ঝাপিয়ে পড়বে না তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য নজির নাই।

মহিলা ডিপ্লোম্যাট উলঙ্গ করা নিয়ে ভারত ও আমেরিকার টানাপোরন

5

By শাফকাত রাব্বী অনীকঃ আজকের ভারতীয় মিডিয়া পড়লে মনে হবে যে কোন কারণ ছাড়াই আমেরিকানরা ভারতীয় নারী কূটনীতিকদের ধরে উলঙ্গ করে ছেড়ে দিচ্ছে নিউ ইয়র্ক শহরে। আর একারণেই প্রতিবাদে ফেটে পরেছে ভারতীয় মিডিয়া। দেশপ্রেমের উন্মাদনায় ঝাপিয়ে পরেছে নব্য ডলারের স্বাদ পাওয়া ভারতীয় মিডলক্লাস। আর পাশে দাড়িয়ে তালি বাজাচ্ছে খোলা আকাশে বড় কাজ সাড়া দলিত-ক্লাস। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের অনেকে ভারতীয়দের দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ ভেবে রোমান্টিকতায় ভুগছেন।

মূল ঘটনা কি হয়েছিল বলছি। ভারতের ৩৯ বছরের মহিলা ডেপুটি কনসাল জেনেরাল দেবযানী খোবরাগাডেকে নিউ ইয়র্কের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে। ভদ্রমহিলা ভারত থেকে কাজের মহিলা এনেছিলেন ভিসার মাধ্যমে। ভিসার এপ্লিকেশনে উল্লেখ করেছিলেন ঘন্টায় ৯ ডলার ৭৫ সেন্ট বেতন দিবেন। নিউ ইয়র্কে বৈধ ভাবে কাউকে ৭ ডলার ৫০ সেন্ট এর নিচে বেতন দেয়া যায় না। ঘটনাক্রমে আমেরিকানরা জেনে গিয়েছিল যে কাজের মহিলাকে ঘন্টায় মাত্র ৩ ডলার বেতন দিচ্ছেন দেবযানী। ব্যাস, নিউ ইয়র্ক পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল দেবযানীকে।

আমেরিকান থানা হেফাজতে ঢুকানোর আগে উলঙ্গ করে শরীর চেক করা হয়। শরীরের কোন বিশেষ গহবরে টাকা-পয়সা, ছোট্ট চাকু, বিষ, ড্রাগস ইত্যাদি লুকানো আছে কিনা তা দেখার জন্যেই মনে হয় এমন স্ট্রিপ সার্চ করা হয়। একে বেশ ডিটেইল চেক-আপ বলা যেতে পারে। দেবযানী ভদ্রমহিলাকেও ঠিক এভাবেই চেক-আপ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা যায়। ভদ্রমহিলাকে  যে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল সেখানে রুমমেট হিসেবে উনি পেয়েছিলেন ড্রাগস ও পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত আরো কিছু ভদ্র মহিলাকে। নিউ ইয়র্কের প্রেক্ষাপটে এটাও কোন অস্বাভাবিক ঘটনা না।

দেবযানী বিষয়ক উপরোক্ত খবর ভারতীয়দের জানানোর সময় ভারতের মিডিয়া বেশ চালাকি করেছে। কি কারণে ভদ্রমহিলাকে হাজতে নেয়া হয়েছিল তা আড়াল করে, কেন তাকে উলঙ্গ করে চেক করা হয়েছে এবং কেন পতিতার সাথে একই হাজতে রাখা হয়েছে তা নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। উলঙ্গপনা ও পতিতাবৃত্তি — এই দুটো বিষয় ভারতীয়দের বেশ টাচ করে।

তবে একটা বিষয়ে আমি ভারতীয়দের সাথে একমত। এই পুরো ঘটনায় দেবযানীকে আমেরিকানরা  ডিপ্লোম্যাট হিসেবে একটু খাতির করলেই পারতো । তার অপরাধ যাই হোক না কেন। বিশেষ কোন একটা কারণে আমেরিকানরা তাকে ডিপ্লম্যাটের সুযোগ-সুবিধা দেন নাই। এটা ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির জন্যে একটা চাঞ্চল্যকর এবং আশংকাজনক বিষয়। কেন এমনটা হলো তা এখনই নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে না।

ইদানিংকালে বেশ কিছু বিষয়ে ভারতের সাথে আমেরিকানদের ডিপ্লোম্যাটিক সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠছিল। ভারতের জন্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু আছে। সর্বাধিক গুরুত্বের দিক থেকে চিন্তা করলে, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মায়ানমার বিষয়ক ইস্যু তে আমেরিকার সাথে ভারতীয়রা দরকষা কষি করে। এর মধ্যে কোন কোন ইস্যুতে ভারত বর্তমানে আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক কমিউনিটির বেপরোয়া বিরোধিতা শুরু করেছে।

ভারতের রাজনীতিতে এখনো আমেরিকা বিরোধী মনোভাব ভোটের সংখ্যা বাড়ায়। সামনে ভারতে নির্বাচন। ঐতিহাসিক ভাবে আমেরিকা-বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস এখন ক্ষমতায়। তাদের রাজনৈতিক অবস্থা আমাদের শেখ হাসিনার চাইতে একটু ভালো। তবে খুব বেশি ভালো না। অর্থাৎ কংগ্রেসের আবার ভোটে জিতার সম্ভাবনা অনেকটাই কম। একারণে যে কোন উছিলায় এন্টি-আমেরিকান মনোভাব দেখিয়ে ভোট বাড়ানোর চেষ্ঠা করে থাকতে পারে নোংরা-রাজনীতির জন্যে বিখ্যাত কংগ্রেস পার্টী। আর কংগ্রেস যদি আমেরিকার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে, তাহলে হিন্দু-মৌলবাদী বিজেপি নিজেদের আমেরিকা-পন্থী মনোভাব ঢাকতে কংগ্রেসকেই ফলো করবে, এটাই স্বাভাবিক।

ভারতীয়রা অতি উৎসাহী হয়ে বেশ কিছু এন্টি-আমেরিকান কান্ড ঘটিয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব সম্পূর্ণ কয়েকজন আমেরিকান কংগ্রেসম্যান এই মুহূর্তে ভারত সফরে আছেন। ভারতের শীর্ষ নেতা-নেত্রিরা এদের সাথে দেখা করেননি। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দুই প্রধান মন্ত্রী রাহুল গান্ধী এবং নরেন্দ্র মোদী উভয়েই একই কাজ করেছেন। এই প্রতিবাদটা যদিও বেশ ভদ্র প্রতিবাদ। ভারতীয়রা এখানে থামলেই ভালো করতো। কিন্তু তা না করে, ভারতীয়রা আরও কিছু বাড়াবাড়ি প্রতিবাদ করেছে। আমেরিকানদের কাজের লোকের বেতনের রিসিট তলব করেছে, মদ ও বিলাসী পন্য আমদানির ক্ষমতা বিলোপ করেছে, আইডী কার্ড কেড়ে নিয়েছে, আমেরিকান স্কুলের টিচারদের বেতন ও ট্যাক্স নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করেছে। এগুলোকে আপাতত দৃষ্টিতে খুব বাহবা দেবার মতো প্রতিবাদ মনে হলেও, ভারতের অর্থনীতির আমেরিকা নির্ভরতা বিচার করলে এগুলো আসলে নির্বোধের প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু না। ভারত সব চাইতে বাড়াবাড়ি করেছে আমেরিকান এম্বাসির নিরাপত্তা ব্যাবস্থা শিথিল করে দিয়ে। এটা মারাত্মক রকমের একটা বেয়ারা আচরন। বিদেশী অতিথির নিরাপত্তা প্রত্যাহার খুবই নিচু শ্রেণীর মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

এতো হম্বি তম্বি করার সময় ভারত হয়তো ভুলে যাচ্ছে যে তারা কিন্তু চীন না। ভারতের হাজার হাজার আইটি কর্মী তীর্থের কাকের মতো আমেরিকায় কাজের প্রত্যাশায় এখনও বসে থাকে। ভারতের কয়েকটা প্রদেশের দু’বেলার খাদ্য জোটে আমেরিকানদের সাথে টেলিফোনে কথা বলে। আমেরিকান বিলাসী প্রেমিকা কিংবা স্ত্রীরা তাদের প্রিয় পুরুষের বীর্য শিশিতে করে ভারতে পাঠিয়ে দেন। তারপরে ভারতীয় মহিলারা সেই বীর্য তাদের শরীরে ভরে ১০ মাস ১০ দিনের ডেলিভারি সারভিস দেন। এর নাম ম্যাটারনিটি আউট সরসিং। ভারতের অনেক হিট সিনেমার শুটিং আমেরিকায় করার জন্যে বাইজীর বহর নিয়ে ভারতীয়রা আমেরিকায় যায়।

আমেরিকা নির্ভরতার উপরের উদাহরনের আলোকে বলা যায়, ভারতীয়দেড় মাত্রাতিরিক্ত রিয়াকশোন দেখানোর ফলাফল হবে খুবই সিম্পল। চিরাচরিত ভারতীয় কায়দায়, ভারতের কোন শিংকে আমেরিকা এসে আমেরিকান কারো কাছে মাফ চেয়ে যেতে হবে খুব শিঘ্রই। এটাই হলো বাস্তবতা। একারণে খামাখা এতোটা হম্বি তম্বি না করলেই পারতো ভারত।

পরিমিতিবোধ জিনিসটি ভারতীয়দের শুধু টাকাকড়ি বিষয়ক কিপ্টামিতেই সীমাবদ্ধ। বোঝা যাচ্ছে ভারতীয় সিনেমার মতোই ভারতীয় ডিপ্লমেসিতেও পরিমিতি বোধের অভাব প্রকোট। প্রতিহিংসাপরায়নতাও ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের মতো তাদের ডিপ্লোম্যাসিতে ঢুকে পড়েছে। বাংলাদেশিরা এই বিষয় গুলো বেশ ভালোই জানেন। এখন আমেরিকানরাও জানলো। ঘটনার টাইমিং এবং প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেললেও অবাক হবো না।

মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি, তবে…

1

অতিথি লেখক- খোমেনী এহসান 

আমি আগের কোনো একটা লেখায় বলেছিলাম যে দেশে ৬৯ এর মতো গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমি আজকের লেখায় বলছি দেশে ১৯৭১ এর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতোই রাষ্ট্রের পক্ষের (পাকিস্তানের বদলে এখন বাংলাদেশ) হানাদার বাহিনী ও রাজাকারেরা দেশের নানান জায়গায় স্বৈরশাসক ( ইয়াহিয়া খানের বদলে শেখ হাসিনা) বিরোধীদের বাড়িঘরে হানা দিচ্ছে। বিরোধীদের দেখামাত্রই গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে।এসবই ফ্যাক্ট। ঘটনা। বাস্তবতা। গণমাধ্যম প্রচার করুক বা না করুক। ঘটনা ঘটছে। মানুষ খুন হচ্ছে। গণহত্যা হচ্ছে। ক্লিনজিং চলছে। নির্মূলাভিযান। ১৯৭১ এও প্রচার নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। ধামাচাপা দিয়েছে গণমাধ্যম। কিন্তু হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি।
২.
আমি খুব বেশি আবেগতাড়িত থাকতে পারছি না। তাই বলছি, নাগরিকদের বিরুদ্ধে স্বৈরশাসকদের যে ভূমিকা তা শুধু শেখ হাসিনাই পালন করছেন না। এই ভূমিকা স্বাধীন বাংলাদেশের সব সরকারই কমবেশি পালন করেছে।এটা বুঝতে হলে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফের বদলে ধর্ম বা জাতীয়তাবাদ দিয়ে গঠিত রাষ্ট্র মাত্রই জুলুমের রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্রের সব সরকারই স্বৈরশাসন চালায়। কেউ বেশি চালায় আর কেউ কম চালায়। মাত্রা কমবেশির কারণে আমরা স্বৈরশাসন নিয়ে আবেগ তাড়িত থাকি। শেখ মুজিবকে ভালোবাসি বা জিয়াকে গালি দেই। আবার জিয়াকে ভালোবাসি বা শেখকে গালি দেই। একইভাবে শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি বা খালেদা জিয়াকে গালি দেই। আবার খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি বা শেখের বেটিকে গালি দেই।

কিন্তু ইয়াহিয়া খানের শাসন, পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্র, পাকিস্তানী আর্মি-পুলিশের মতো হানাদার বাহিনী ও দালাল-রাজাকারদের চিনে নেওয়ার জন্য একটি বিষয়ই যথেষ্ট। রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধায়নে নাগরিকদের হত্যা। ব্যস, চেনা হয়ে গেলে। লাশ দেখে আমরা রাষ্ট্রকে চিনে নিতে পারি। আমার ভাই ১৯৭১ এ না ২০১৩ এ খুন হয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ কে খুন করছে। কে আমাদের বুকে বন্দুক তাক করে রেখেছে। নিশ্চয় চূড়ান্ত ধান্দাবাজ জালেম ছাড়া কেউ এ কথা বলতে পারে না যে পাকিস্তানীদের হাতে খুন হতে কষ্ট লাগে, আর বাংলাদেশীদের হাতে খুন হতে আরাম লাগে। খুনের স্বাদ সব স্থান কাল পাত্র ভেদে একই। যেমন মায়ের দুধের স্বাদ, মা ইংরেজ না বাঙালী ভেদে আলাদা নয়।
৩.
মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি বিরাজ করলেই যে সব সময় মুক্তিযুদ্ধ চলে এটা ঠিক নয়। দুনিয়া জুড়েই মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশেও স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪২ বছর ধরেই মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ হয়নি।
শেখ মুজিবের সময় শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার চেষ্টা করেছিলেন। পারেননি। জিয়ার সময় চেষ্টাও ছিল না। সেনাবাহিনীতে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শুধু লাশ পড়েছে। এরশাদের সময় একটা চেষ্টা ছিলো। সেনাশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াই। ছাত্ররা নতুন গঠনতন্ত্রের আওয়াজ তুলেছিলেন যদিও। কিন্তু গণতন্ত্রের লড়াই শেষ পর্যন্ত ত্রিদলীয় জোটের রূপরেখায় এরশাদের শাসনের বৈধতা, ধারাবাহিকতার নামে বিদ্যমান সংবিধান বহাল রাখা ও সামন্ত প্রভুদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে পরিণত হয়েছে।
অত্যন্ত নোংরা কাজ হয়েছে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সরকারগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়। এখানে জনগণের পক্ষে কোনো দাবি দাওয়া ছিল না। বিরোধী দলের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন হয়েছে। সরকারগুলান টিকে থাকতে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে একবারই সুযোগ এসেছিল। এক এগারর সেনা-সুশীল শাসনের দুই বছরের সময়। কিন্তু ছাত্ররা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। রাজনৈতিক দলের ভাড়া খাটার দাস মানসিকতা আর নতুন রাষ্ট্র গড়ার বাসনার অনুপস্থিতিই এর কারণ।
৪.
মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্যমান হওয়া নাগরিকদের রাজনৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। এটা অবশ্য করতে হয় রাজনৈতিক দলকে। ১৯৭১ এ এটা শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সম্ভব করেছিল।আজ আমরা স্বীকার করতে চাই যে, মুক্তিযুদ্ধটা সম্ভব হয়েছিল সত্যিকার অর্থেই শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের কারণে। ধরেন শেখ মুজিব ভুট্টোর সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে রাজি হলেন। তাহলে কি মুক্তিযুদ্ধ হতো? হতো না।কে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবে, কে গোটা পাকিস্তান শাসন করবে এই প্রশ্নের সুরাহা না হওয়ায় যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তা ঠিক না। পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার যে দ্বন্দ্ব তাকে ক্ষমতার জায়গার চেয়ে জাতিগত দ্বন্দ্ব হিসেবে হাজির করতে পেরেছিল আওয়ামী লীগ। তারা শুধু এট হাজিরই করেনি। বরং তারা গোটা পাকিস্তানের মসনদে আওয়ামী লীগের বসতে পারা না পারারা প্রশ্নকে পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির প্রশ্নে পরিণত করেছিল।
আমরা দেখতে পেলাম পশ্চিম পাকিস্তানীরা রাজনৈতিকভাবে সমঝোতার বৈঠকে এ প্রশ্নের সুরাহা করতে পারেনি। তারা বরং বন্দুকের জোরে এই প্রশ্নের জবাব দিতে চেয়েছে। যার ফলে মুক্তিযুদ্ধ হয়ে গেল। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হলো। শেখ মুজিব কী পেলো, আওয়ামী লীগ কী পেলো এটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ না। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার স্বাদ পেতে গিয়ে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপহার দিয়েছে। এখন এই স্বাধীনতাকে আমরা কতখানি অর্থবহ করতে পারি সেটার সাফল্য ব্যর্থতা আমাদেরই। আওয়ামী লীগ তার চাওয়ার মধ্যেই খাবি খাবে এটাই স্বাভাবিক।
৫.
তাহলে আমরা এ আলোচনার উপসংহারে পৌছাতে পারি। বিরোধী দলও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার দাবি তুলে আন্দোলন করেছে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের প্রশ্নটি সরকার রাজনৈতিকভাবে সমঝোতার বৈঠকে সুরাহা করতে চায়নি। তারা ইয়াহিয়া খানের মতো বন্দুক বেছে নিয়েছে।ইয়াহিয়ার মতোই এ সরকারের তাকত। কারণ ইয়াহিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যেমন ছিল তেমনি শেখ হাসিনার পাশে ভারত আছে। তবে ভারত অপেক্ষাকৃত দুর্বল, শেখ হাসিনাও দুর্বল। তাই ১৯৭১ এর মতো বড় গণহত্যা হচ্ছে না। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো বিরোধী দল নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিকে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নের বাইরে বড় পরিসরে হাজির করতে পারেনি। তারা বলতে পারছে না যে কেন শেখ হাসিনার বদলে তাদের ক্ষমতায় আনতে হবে। তাদের ক্ষমতায় আনলে শেখ হাসিনার চেয়ে আলাদা কী উপহার দেবে তারা?
দুঃখের বিষয় খালেদা জিয়া মাঝেমধ্যে নানা সংবাদ সম্মেলনে বা জনসভায় এই প্রশ্নের একটা গোজামিলের জবাব দেন। তিনি বলেন ক্ষমতায় গেলে শেখ হাসিনার চেয়ে কম মাত্রায় শোষণ জুলুম করবেন। তাই তো তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে তারা ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার সরকার করবেন। দুর্নীতি করবেন না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করবেন, সব গণমাধ্যমকে সুযোগ দেবেন। কিন্তু খালেদা জিয়া কিন্তু একবারও বলেন না স্বৈরতান্ত্রিক সংবিধান বদলাবেন, র‌্যাব ভেঙ্গে দেবেন, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার করবেন, বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থা বাতিল ও দুর্নীতিবাজ দলীয় বিচারপতিদের বিচার করবেন। এমনকি তিনি বলেন না যে সাংবিধানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী পদকে যেভাবে হিটলারের মতো নাৎসীগিরি করার সুযোগ দেয়া হয়েছে তা থেকে তিনি বিরত থাকবেন এবং তিনি এই অসহ্য ক্ষমতাকে তিনি হ্রাস করবেন। তিনি বলেন না যে ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করবেন। তিনি বলেন না রাষ্ট্রের সর্বত্র না পারেন অন্তত ক্ষমতাসীন দলে তিনি গণতন্ত্র কায়েম করবেন।কাজেই মুক্তিযুদ্ধ পরিস্থিতিতে অসংখ্য মানুষের খুন দুঃখজনক অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন আমাদের কাজ হলো এই সব খুন বন্দ করা এবং বিরোধী দল-সরকারের মধ্যে সমঝোতা করা।
মুক্তিযুদ্ধ হলে আমরা অবশ্য নিজেরাই মুক্তিযোদ্ধা হতে পাত্তুম।

General Ershad: The Brutal Dictator or The Saviour of Democracy?

Noor Hossain:

It is ironic that I’m writing this piece on our Victory Day that marked the end of our quest for freedom in 1971 . This is the day we’ve achieved territorial freedom.  The history says, we have achieved our political freedom in 1990 when the autocratic regime of Ershad had fallen against years of mass movement.   After the fall of Ershad, we have achieved  freedom for democracy– the freedom of politics in Bangladesh.

Perhaps my narrative would hurt the memories of Noor Hossain or Dr. Milon, two iconic martyrs who were fallen in our struggle to democracy and freedom during the autocratic regime of Ershad.

However, the responsibility of insult, if any to the fallen martyrs, requires to be taken by Awami League, who in the name of democracy and freedom, confiscated freedom and democracy in Bangladesh, step by step, day by day, by force and by bullets –all in the name of freedom and democracy.

Ershad was brutal too. He ruled Bangladesh for about nine years. He curtailed freedom of media, picked up people, played with parliament and so forth. However, no body had seen Ershad or law enforcers were firing indiscriminately to the citizens of Bangladesh, months after months, with little care.

Indeed, Ershad did not declare war against the people of Bangladesh to save his regime. Not to the extent we’re seeing it today. This year, hundreds have been dead in political violence and more are to be dead as Awami League decided to crack down on the opponents with the help of law-enforcing agencies. They’re to launch the attack from December 17, according to reports by newspapers.

Yes you read it right, Awami League decided to crack down opponents. I suggest you to read that  Awami League would shoot down opponents with the help of law-enforcers in this case.

Imagine the picture, a group of civilians are going to kill civilians from opposition with support from state institutions of law enforcing agencies by subverting judicial procedures. It seems, we are in the dress rehearsal session for Afghanistan or Iraq in Bangladesh, where mercenaries are to join hands with militaries to counter oppositions. After all Chatroleagues are mercenaries, they are paid to avail socio-political privileges, in exchange of their dirty work to protect a monarchy or that type!

This means the judicial institution of the state is compromised. It has been done long ago but it is official now. Interestingly, extra-judicial killings of opponents by Awami League who are using state institutions to support its dirty agenda, is not without support from our public intellectuals as Facebook celebrity Zia Hassan or Prothom-Alo editorial member Sohrab Hosain, who publicly urged in separate forms, to support, ‘State Institution’ that  in reality  is compromised by a political party or ‘  Rab and Police to encounter opposition’ against the backdrop of mayhem and chaos, deliberately created by the ruling party to deviate public attention from election issue.

In this state when intellectuals are at their lowest ebb of morality and ethics and the government had pushed the country on the verge of a civil war with its agenda to go ahead with an  one sided election, surprisingly a man stood up in favour of political freedom and democracy–it was Generel Ershad.

As a repercussion of his decision,  Ershad was arrested for not supporting a sham election. He even divorced his wife in accusation of betraying for striking a dirty deal with the current government to support an one-sided election, at least publicly. Skeptics argue that Ershad is staging a soap opera to divert attention.

After 23 years of the fall of his tyrannical regime, it remains to be seen though how Ershad is to be evaluated in course of history.  Will we see him as a former autocrat who stood up against a present autocrat to save democracy in 2013?

Nevertheless, we need to agree that  Ershad is the rock n roll star of Bangladesh politics. Cause no body in the history of Bangladesh politics could rock and roll with the beat of political doldrums and sustain the way Ershad did.

NINETEEN SEVENTY-FIVE (1975): A Defining Year for Bangladesh

mujib_zia

What is clear is that just as in Pakistan when Bengali Muslims were not willing to allow the destruction of their Bengali identity, in Bangladesh they were not willing to allow their Muslim identity to be undermined.  They are both Bengalis and Muslims at the same time.

By M Ahmedullah, PhD in Epistemology and Politics

BAKSAL

Nineteen seventy-five (1975) was both a momentous and traumatic year for Bangladesh.  On the one hand, the dream that inspired the Bengalis of East Pakistan to fight against the dominance of West Pakistan and the non-democratic rule of the military lay shattered with the ‘second revolution’ and the creation of BAKSAL.  It was a political system designed for one-party rule – the newly created party BAKSAL was to rule Bangladesh under the supreme leadership of Sheikh Mujib, and no other party was to be allowed to function.  All, but four, newspapers were banned.  The expectation of economic benefits arising from the ending of Pakistani rule did not materialize – in fact, in many respects, matters only became worse.  Off course, Bangladesh faced a gigantic task of rehabilitating millions of displaced people and rebuilding the shattered economy in the aftermath of the devastating war of liberation.  However, given the post-war assistance Bangladesh received from sympathetic nations around the world, corruption and incompetence of the Mujib government quickly began to be seen to be the main factors behind the lack of progress.  Added to that, the summer flood of 1974, a factor that caused the subsequent famine and the loss of a large number of innocent lives, were fresh in the minds of the people.  Again, Mujib and his government were blamed.  The sacrifices that the unarmed people made in 1971 to liberate Bangladesh in the name of ‘Jatir Pita Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman’ were beginning to be seen to have been in vain.  The people of Bangladesh trusted Mujib and thought that his democratic vision for Bangladesh was based on a clear and deep understanding of political theory and the process of democratic politics.  The BAKSAL was seen as another experiment of a confused leader that had very little knowledge or understanding of politics and economy.

The assassination of Sheikh Mujib and the Rise of General Zia

On the other hand, Bangladesh became faced with a very dangerous political crisis with the assassination of the ‘Father of the Nation’ in August 1975, which unfolded for several months before the situation began to stabilize after the 7th November soldiers uprising and the installation of General Ziaur Rahman as the ruler of Bangladesh under a military dictatorship.  The irony is that many individuals, both military personnel and politicians, who fought the war of liberation under the leadership of Mujib, including many of his close associates, joined those who killed ‘Bangabandhu’.  This included Zia, who was known for both his service during the liberation struggle and his declaration of independence from Chittagong radio on 26 March 1971 when the Pakistani military assault began.  Although Zia was not directly linked to the killing of Sheikh Mujib, his position as the military ruler and many of the changes he instituted are definitely antithetical to the ideology of both Awami League and BAKSAL. Further, as the situation in Bangladesh continued to stabilize, the reputation and acceptance of Zia increased progressively.  The question that comes to mind is, how can it be explained that individuals like Zia, who fought bravely during the liberation war under the leadership of Mujib, de facto supported his removal from power and subsequently initiated steps to dismantle the ideology of Mujibbad?  Many factors no doubt contributed to this, and people do go through conversions.  However, not only did Zia challenge the ideological dominance of the Awami League and Mujibbad, he also created an opposite ideology and called it ‘Bangladeshi Nationalism’.  This was created to particularly challenge the identity definition of Bengali Nationalism as propagated by the Awami League.  Further, how can it also be explained that even after 32 years of the assassination of Zia, the ideology of Bangladeshi Nationalism still attracts support from a very sizeable population of people in Bangladesh?

Off course, the political process since 1971 has been rather complex and therefore the precise answers to the above questions may be difficult to unearth.  Further, it may never be possible to grasp the totality of the processes, induced by diverse related and unrelated factors, that lead to the alienation of a large section of the Bangladesh from Mujib and his leadership.  However, there may be some pointers that could lead to an improved understanding.

Lessons from creation of Pakistan and Liberation of Bangladesh

A comparison with the creation of Pakistan and certain subsequent events may throw some lights in the right direction.  Nobody doubts that the vast majority of the Muslim people of Bengal supported the creation of Pakistan, including the leadership of many parties.  This does not however mean that they were all ideologically united under one single clearly defined Islamic political vision.  There seems to be two main reasons why various Muslim groups and the Muslim population supported the creation of Pakistan.  On the one hand, they wanted to escape from actual and perceived Hindu domination, partly the result of historical experiences and the fear that they developed about living in a future independent India under Hindu domination.  On the other hand, they wanted to develop their society according to Islamic principles.  After the creation of Pakistan, it became quite clear that not all the Muslim people of Bengal, who supported the creation of Pakistan, did so for the same reasons, and disputes soon arose as to what kind of Pakistan one should build.  One principle on which the vast majority of the Bengalis in East Pakistan was united under was on the question of their Bengali identity.  Although they supported the creation of Pakistan to safeguard their interest as Muslims, they were not prepared to allow the destruction of their Bengali identity.  The struggle to preserve their Bengali identity, together with their struggle against economic injustice and military dictatorship, lead to the 1971 Liberation War.  The struggle’s undisputed champion was Sheikh Mujib, who was called by the people ‘Jatir Pita Bangabandhu Sheikh Mujib’.   Just as before, when they struggled to create Pakistan under Jinnah’s undisputed leadership, the vast majority of the Muslim Bengalis supported the creation of Bangladesh under Sheikh Mujib, who was their brave champion.

What is General Zia’s Bangladeshi Nationalism?

Similarly, soon after the creation of Bangladesh disputes began to arise about what kind of Bangladesh one should build.  Zia created Bangladeshi Nationalism to reflect the Muslim and Bengali aspirations of the people of Bangladesh, and he has mass support in this regard.  What does this show?  Clearly, despite what the proponents of Bengali Nationalism say, a large section of the people of Bangladesh are very proud of their Islamic identity.  They want to see a future that incorporates the Bengali and Islamic elements of their experiences, way of life, culture and identity, and fuses them into one whole to march forward into the future.  The struggle for freedom of the Bengalis in Pakistan began because certain sections of the Muslim League and Pakistani ruling class wanted to obliterate element of their Bengali identity.  Similarly, the alienation of a large section of the Bangladeshi people from Mujib began, in the immediate aftermath of the Liberation War, because Bengali nationalism did not accept that eight hundred years of Islam in Bengal meant that the culture of the people of Bangladesh was based on deep Islamic roots.  What is clear is that just as in Pakistan when Bengali Muslims were not willing to allow the destruction of their Bengali identity, in Bangladesh they were not willing to allow their Muslim identity to be undermined.  They are both Bengalis and Muslims at the same time.

Bangladesh’s Pro-Government Supporters : Are they Intellectually defendable?

1

https://www.facebook.com/photo.php?v=657179600971982

By Shafquat Rabbee:

Although decreasing in number, openly enthusiastic defenders of the current Bangladesh government should find their defense of the government intellectually un-defendable. The ruling Awami League, which traditionally have been a center-left political party, with a massive organization from the cities to the rural towns, is behaving more like a cult of delusional suicide-teens, following an increasingly demented leader.

Gone are the concerns for ever having to contest in a democratic election or care for human rights and dignity. Even self-interest driven concern for preservation of wealth accumulated during the last 5 years seems to be missing among the ruling class. With ever increasing political brinkmanship, which defies popular and global will (excluding that of India’s), the Awami League supporters are now running the risk of losing both their “tangibles” and “intangibles”, if/when Sheikh Hasina, leaves the scene — willingly or unwillingly.

In this write-up, a few key examples of intellectual bankruptcy of the Awami League supporters will be highlighted. It is to be noted that, by Awami League supporters, one has to take into consideration its coalition partners, most of who are from a number of communist parties. Besides the communists, there are the new kids-in-town: the Shahabag movement youth– popularly known as the Shahbagis. All of these elements of the Bangladeshi political spectrum are now can safely be deemed as “pro-government”.

Tricky waters of Caretaker:

Pakistan, the country from which Bangladesh earned its independence only 42 years ago, has just held its general election using a Caretaker government in 2013. It is to be noted, Bangladesh’s political disharmony is almost as chaotic as that of Pakistan; absent just the car-bombs and the Talebans. Another South-Asian country Nepal, which is almost equal in land size as Bangladesh, is using a Caretaker administration to fix its constitution. And of course, Bangladesh, one of the laboratories of the Caretaker system for poll time administration, had held 4 of its last 23 years’ general elections using caretaker administrations. Yet, fully knowing the South Asian and Bangladeshi realities, the government supporters and intellectuals, are now supporting complete abolition of the caretaker system based on a court verdict.

One has to remember that only 7 years ago, the Awami League did not accept a university professor and another retired Chief Justice, both with solid professional track records, as the head of caretaker/poll time administration, accusing them of being partisan. Yet, the same Awami League now has no qualms forcing its own leader, Sheikh Hasina, as the head of the poll time administration, as both a player and a referee in the upcoming national election!

“Fetish” over the constitution:

Several scientific polls conducted by globally respected polling firms have shown solid 80% support for the caretaker government system in Bangladesh. Even Awami League’s own poll, conducted by party sympathizer Aly Zaker / Iresh Zaker’s polling firm MRC Mode showed more than 70% support for the caretaker government. Yet, the Awami League and its supporters defend the abolition of the caretaker system, taking their fetish-like adherence to the constitution.

It has become a habit of the government supporters to state that the election will be held “as per the constitution”. However, no one ever states the fact that the very constitution in question was changed only a year ago. And comically, the same people who changed the constitution are now defending tooth-n-nail the amended constitution, clearly defying more than 70% of the popular will!

The government’s handling of the constitution have become so farcical, that Sheikh Hasina, herself has now become the constitution! Often time several key senior leaders and eminent pro-government scholars have been noticed saying sentences as follows: “Things will happen as per the constitution, but if Sheikh Hasina wants, she can decide to entertain opposition demands … …!!” Translation: Sheikh Hasina can always find her preferred way, as long as the constitution is concerned.

Hindu minority oppression by the government goons:

The Awami League, as a party is known to be popular among the Hindu population of the country. Yet, they pro-government supporters go silent when there were glaring evidences suggesting that the Hindu minority population of the country were victims of heinous crimes committed by the local leaders of the Awami League. Case in point, there were clear evidence of involvement of a Minister’s supporters in burning of several Hindu houses in Pabna. Several venerable dailies, including the Daily Star, published photos of goons responsible for the Hindu house burning incidence, standing right behind a Minister in a political procession. Yet, the pro-government supporters remained quiet in general.

There are several other instances of Hindu minority oppressions in the hands of the government party operatives. For example, an eminent TV journalist Anjan Roy’s ancestral land was illegally taken away by pro-government goons. Anjan Roy, himself being deemed as a pro-government intellectual, eventually took up his pen to write Op-editorials detailing his sad situation. Such land related issues between Hindu minority and the pro-government goons are widespread across Bangladesh at the moment. Yet, very few pro-government supporters have been seen voicing the issue, despite the fact that the Awami League often claims itself to be the protector of the Hindu minority,

Super-partial defense of human rights:

It started with the arrest of four bloggers who were victims of the government’s uncivilized detentions according to international standards, after they published religiously offensive rants. The pro-government supporters voiced strong oppositions and protested those arrests citing those very standards. However, these same supporters then became ecstatic when another writer cum Editor of a national daily, Mahmudur Rahman, was not only illegally detained, but also remanded and tortured by the government forces, violating all internationally accepted standards.

Then came the night of 5th May, where the government supporters logically and validly criticized some of the violence orchestrated by the Hefajot activists. However, these same individuals became ecstatic when the government very clearly violated international norms of crowd control and used excessive force on that fatal night of May 5th, for which the death toll is still a matter of serious contention.

Defying all international norms and protests, these same government supporters were happy when the government arrested Bangladesh’s leading Human Rights activist Adilur Rahman for merely carrying out and providing an estimate of the death toll on the night of May 5th.

Currently the government supporters are validly and reasonably concerned about the bus-arsons and countrywide violence during the days of anti-government protests. However, these same folks are not questioning the excessive use of force, i.e., rubber bullets, metal bullets, which are being randomly shot by the police all across the country to disperse even the most regular of street protests. Point to note, direct firing of bullets was never a common occurrence in Bangladesh before the current government. In fact, there was even a myth among the political activists in Bangladesh that “a minister’s signature is necessary before police can open fire”. No such myth exists no more!

Making matters even more horrific, plain clothed gun-men (as seen in the picture above), are shooting unarmed protesters from point-blank distance. Many of the guns are allegedly from the legitimate government forces, but their bearers are often not known,. Government party leaders have been seen wearing government forces uniforms, according to eye witnesses. Yet, no government supporting intellectual questions such wanton violation of police norms and human rights!

Disregard for almost every international institution:

The situation has become so reckless and unprofessional, that the government supporters and party operatives ridicule and question the credibility of almost every international organization; let that be Human Rights Watch, Amnesty International, The Economist, The Guardian, The New York Times, The House of Lords or The European Parliament. Almost any observer that voices any concern about issues that the pro-government folks care, gets the accusation that it was bought by money! There are no qualms about professional dignity or concerns.

The latest episode of such delusion was visible when The New York Times published a very direct editorial criticizing the Bangladesh government for its blatant abuse of human rights. The pro-government folks immediately accused The New York Times for being bought with money!

In this delusional state of affairs, the pro-government supporters appear almost like a group of paranoid schizophrenics, who believe that a global web of conspiracy is buying-off everything to destroy what the Awami League finds near and dear!

Emotional and intellectual bankruptcy of the pro-government supporters, intellectuals, and media personnel have created a situation where the most legitimate of grievances of the opposition camp is being suppressed in the crudest of manners. Such humiliating disregard for human rights and dignity can only result in radicalization and irreparable division among the population, where the moderate and the centrists will take the side line, and only the extremists will collide.

We are sitting on a ticking time bomb, and all relevant parties should be strongly warned.

জাফর স্যারের পদত্যাগ ও আমার বাজিতে হেরে যাওয়া

26

শাফকাত রাব্বী অনীকঃ   চেতনার ফেরিওয়ালা ও শাহাবাগী উন্মাদনার অভিবাবক ড: জাফর ইকবাল স্যার পদত্যাগ করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। যদিও এখনো নিশ্চিত না উনি আসলেই পদত্যাগ করেছেন, নাকি শুধু “পদত্যাগের অভিপ্রায়” জানিয়েছেন।মনে রাখা প্রয়োজন, স্যার যদি শুধুমাত্র “পদত্যাগের অভিপ্রায়” জানিয়ে থাকেন, তাহলে উনার মুরুব্বিদের আওয়ামী মন্ত্রিসভার মতো উনিও নিশ্চিন্তে আজীবন পদত্যাগী প্রফেসর হিসেবে তার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। বাড়তি সুবিধা হিসেবে খামাখা আর ক্যাম্পাসে যেতে হবে না।

চেতনার ফেরীওয়ালার জাফর স্যারের আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে একটা ইংরেজি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। মেজাজ খুব বেশি খারাপ থাকায় ড: জাফর স্যারকে “ফাপর দালাল” ডেকে বসেছিলাম। এটা নিয়ে কিছু শাহাবাগী ভদ্রলোক খুব মাইন্ড করেছিলেন। আমার সভাবসুলভ লেখায় ব্যক্তিগত গালি গালাজ সাধারনত থাকে না। একারণে জাফর স্যারকে “ফাপর দালাল” ডাকার কাজটি করে নিজেরও ভালো লাগছিলো না। একারণে শাহাবাগী মানুষ ও নরমাল মানুষ – সবার কাছেই নি:শর্ত মাফ চেয়ে নিচ্ছি।

প্রায় বছর খানেক আগে জাফর স্যারের রিসার্চের দৌড় কতদূর তা নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তখন খুব অবাক হয়ে বুঝতে পেরেছিলাম জাফর স্যার আন্তর্জাতিক তো দুরের কথা, দেশীয় কোন জার্নালেও তেমন উল্লেখ করার মতো কোন রিসার্চ পাবলিকেশন করেননি ১৯৯২-২০১২ সালের মধ্যে। স্যারের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় পেইজ থেকে স্যারের গবেষনার যে তালিকা আছে তাতে দেখা যায় তিনি ১৯৯২-২০১২ এই ২০ বছরে সিলেট থেকে প্রকাশিত একটা জার্নালের বাইরে আর কোথাও কিছু পাবলিশ করেননি। ৯২ এর পরে স্যারের গবেষনার কাজ সংখ্যায় খুবই অপ্রতুল। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত যে জার্নালে স্যারের কিছু লেখা এসেছে, সেই জার্নালের এডিটর আবার জাফর স্যার নিজেই।তবে নিজের এডিট করা জার্নালেও স্যার বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা ছাপিয়েছেন সাকুল্যে ৪-৫টি, তাও দীর্ঘ ২০ বছরে। স্যারের নিজের পেইজ থেকে রিসার্চের তালিকা দেয়া হলো।

http://www.sust.edu/department/eee/index.php/en/faculty/88-dr-muhammed-zafar-iqbal

বলা বাহুল্য, স্যারের ১৯৯২ সালের আগে বেশ কিছু বিজ্ঞান বিষয়ক একাডেমিক লেখা রয়েছে।তবে নব্বই এর দশকের শুরুর দিকে জাফর স্যার আমেরিকায় বিজ্ঞান গবেষনার ঝামেলাপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত চলে আসেন। তখন থেকে তিনি সাদা মানুষ তৈরির কারখানা, ভারতের বন্ধু-সভা, এবং চেতনা ব্যবসায় ফুলটাইম মনোনিবেশ করেন।

যে কেউ http://www.jstor.org , http://www.pubmed.com এবং http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/ — ইত্যাদি রিসার্চ ডাটাবেজ ঘেটে স্যারের কোন সাম্প্রতিক পাবলিকেশন খুঁজে পাবেন না। উপরোক্ত সাইটগুলি কি জিনিস যারা জানেন না, তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, এই ডাটাবেজে যদি আপনার পাবলিকেশন খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে মোটামোটি ভাবে নিশ্চিত হতে পারেন আপনার রিসার্চ আন্তর্জাতিক ভাবে সীকৃত হবার সম্ভাবনা খুবই কম। স্যারের উইকিপিডিয়া পেইজ http://en.wikipedia.org/wiki/Muhammed_Zafar_Iqbal এও উল্লেখযোগ্য কোন সাম্প্রতিক রিসার্চের খবর নেই।

এক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হবে, কয়েক বছর আগে একটি সংস্থা বাংলাদেশে বিজ্ঞান বিষয়ে একাডেমিক অবদান রাখার জন্যে ড: জাফর স্যারকে পুরস্কার দিতে চেয়েছিল। পুরস্কারের ক্যান্ডিডেট যাচাই বাছাই করার সময় সংস্থাটি জানতে চেয়েছিল জাফর স্যারের বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল পাবলিকেশন কতোদূর কি আছে। সেই কমিটিতে ছিলেন এমন একজন আমাকে জানিয়েছেন যে, স্যারের বিজ্ঞান বিষয়ক লেখার উদাহরণ হিসেবে কে-বা কাহারা নাকি একগাদা শিশুতোষ বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনীর তালিকা পাঠিয়েছিল। বলাই বাহুল্য বিজ্ঞান বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের পাবলিকেশন পাওয়া না যাওয়ায় জাফর স্যারকে একাডেমিক পুরুস্কার দেবার ব্যাপারে সে সংস্থা তখন আর এগুতে পারেনি।

আমার গতকালকের স্ট্যাটাসের কমেন্টস সেকশনে একজন ছোট ভাইকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম যে সে যদি গত ২০ বছরে জাফর স্যারের একটি পাবলিকেশন বেড় করতে পারে যা কোন একটা আন্তর্জাতিক জার্নালে বের হয়েছে, তাহলে আমি আমার স্টাটাসটি তুলে নেব। কেননা স্টেটাসে আমি অভিযোগ করেছিলাম যে শিক্ষকতা কিংবা গবেষণা করা এই জাফর স্যারের মেইন বিজনেস না। খুব ইন্টারেষ্টিং ভাবে গতকাল জাফর স্যারের একজন ভক্ত স্যারের প্রকাশিত একটা লেখা খুঁজে বের করেছেন যা “সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং” এ পাবলিশ করা হয়েছে ২০১২ সালের মে মাসে । আমার চ্যালেঞ্জ-এ আমি জার্নালের কোয়ালিটি নিয়ে কোন কন্ডিশন দেইনি। অর্থাৎ ভুয়া জার্নাল হলেও মেনে নিবো এমন আভাস দিয়েছিলাম। একারণে এই লেখাটি আবিষ্কার হয়ে যাওয়ায়, নির্দিধায় মেনে নিচ্ছি যে আমি টেকনিকালি হেরে গেছি আমার দেয়া বাজিতে। কেননা আমি বলেছিলাম যে ২০ বছরে মাত্র একটা লেখা পাওয়া গেলেই চলবে। ২০ বছরে স্যারের ঠিক একটা “আন্তর্জাতিক” লেখাই পাওয়া গেছে!

২০ বছর সাধনা করে জাফর স্যার যে একটি মাত্র “আন্তর্জাতিক” জার্নালে লিখেছেন তার ওয়েব সাইট ও এডিটর এর নাম-পরিচয় নিচে লিঙ্কে দেয়া হলো। জানা গেল যুক্তরাস্ট্রের “ওল্ড ডমিনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের” জনৈক আহমেদ কে নুর এই সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান জার্নালের এডিটর! আনা কয়ালাস্কা নামক জনৈকা ভদ্রমহিলা, যিনি পোল্যান্ডের “রকলাও ইউনিভার্সিটিতে” কাজ করেন, তিনি হচ্ছেন ম্যানেজিং এডিটর। জার্নালটির কোন “ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর” নেই, যা কিনা জার্নালের গুরুত্বের একক হিসেবে পরিচিত। সাইটেশন নেই বললেই চলে। যারা এটা প্রকাশ করেন, সেই কোম্পানির ওয়েব সাইটে গিয়ে জানা গেল শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং না, তাদের কোম্পানি জ্ঞান বিজ্ঞানের খুব কম ডিসিপ্লিন বাকি আছে যার উপর জার্নাল প্রকাশ করেন না। অনেকগুলোই “অনলাইন” জার্নাল, যার কোন প্রিন্ট কপি নাই।

জার্নাল কোম্পানিটির লিংক: http://versita.com/serial/ceje/#tabs-editorial

যাই হোক, জাফর স্যার চেতনা বাণিজ্য করার নানা ব্যস্ততার মাঝে , সুদীর্ঘ ২০ বছর পরে “সেন্ট্রাল ইউরোপের” একটি অনলাইন জার্নালে যেহুতু বিজ্ঞান বিষয়ে একটা পেপার লিখেছেন, একারণে বলতে হবে আমি আমার দেয়া বাজিতে টেকনিকালি হেরে গিয়েছি। একারণে বাজির শর্ত অনুসারে আমার আগের দেয়া স্টেটাসটি তুলে নিলাম।

মানী লোকের সম্মান হানি করে কথা বলা আমার স্টাইল না। জাফর স্যারকে কটু কথা বলে যাদের দু:খ দিয়েছি, তাদের কাছে আবার ক্ষমা চেয়ে নিলাম। তবে খুব মজা লেগেছে যখন দেখেছি দেশের যাবতীয় মানুষের নাম বিক্রিতকারী, ড: ইউনুসের অপমানকারী, কাদের সিদ্দিকিকে অপমানকারী–শাহাবাগির দল আমার হাতে তাদের প্রাণ প্রিয় জাফর স্যারের অপমান কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না।

ফ্যানাটিকদের একটা বড় বৈশিস্ট হলো তারা নিজেদের কখনো আয়্নায় দেখে না।

নভেম্বর ২৭, ২০১৩