ভ্যালেন্টাইন উইশ

by Jahid Islam

শোন তুমি, তোমাকে আজ সৃষ্টি জগতের সেরা গল্পটা বলব।
ঠিকই ধরেছ তুমি, ইউসুফের গল্পটির কথাই আমি বলছি।

ইউসুফ কিন্ত ছিলেন অতি সুদর্শন, আমরা এ যুগে যাকে বলি ‘গুড লুকিং বয়’
নগরের মহিলারা ত তাকে দেখে এতটাই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল যে,
ভোজসভায় যখন তাকে ডাকা হল
তাকে দেখে তারা ছুরি দিয়ে নিজেদের হাত কেটে ফেলল।
এরপর বলল –“এ ব্যক্তি ত মানব নয়,এ তো মহান ফেরেশতা”।
আশাকরি তিনি কত সুদর্শন ছিলেন এবারে তুমি বুঝতে পেরেছ।

তবে আমাদের আজকের আসল গল্পটা কিন্তু এটা নয়।
গল্পের যে অংশটি আমি তোমাকে বলতে চাই সেটি হল,
যে মহিলার ঘরে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন ক্রীতদাস হিসেবে
সে মহিলা তাকে ফুসলাতে লাগল
এরপর আচমকা একদিন নির্জনে ইউসুফকে তার ঘরে ডাকল,
এরপর কক্ষের দরজাসমূহ বন্ধ করতে তালা ঝুলিয়ে দিল,
একটি নয়, একে একে অনেকগুলো,
যাতে ইউসুফ কোন অবস্থাতেই বেরিয়ে যেতে না পারেন।

ইউসুফ ত তার উপর আল্লাহর রহমতকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন,
আর তাই তিনি সীমালঙ্ঘন না করার ব্যপারে আল্লাহর সাহায্য চাইলেন।

সে পাপাচারী মহিলার উদ্দ্যেশ্য বুঝতে পেরে

তিনি দরজার দিকে দৌড়ে আসলেন,
সে মহিলা তাকে চিৎকার করে পেছন থেকে বলল,
“এদিকে আস তুমি”।
এরপর তাকে কাবু করতে না পেরে

তার শার্ট টেনে ধরল পেছন থেকে
এতে গায়ের শার্ট ছিড়ে গেল তার ।
তবে আল্লাহর ইচ্ছায় সে পরিবারেরই একজন
ইউসুফের সৎ চরিত্র নিয়ে সাক্ষ্য দিল।

তোমাকে আসলে যা বলতে চাইছি সেটা হল-
ইউসুফের জ্ঞান ছিল এ কথা সত্য,
তিনি ত ছিলেন আল্লাহর নবী যার জ্ঞান থাকাই স্বাভাবিক,
তবে এখানে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার হল তার দৃঢ়তা।

জেনে রাখবে তুমি, জ্ঞান দিয়ে লালসাকে অতিক্রম করা যায় ,
তবে পুরোটা যায় না, সাথে লাগে দৃঢ়তা।
আর শোন, বলছি তোমাকে – “ পাপ কাকে বলে ? ”
যেটা তোমারে অন্তরে আঘাত করে,
এবং লোকের সামনে প্রকাশিত হয়ে গেলে লজ্জা পাবে তুমি।

আমার ইচ্ছা তোমার মধ্যেও দৃঢ়তা সৃষ্টি হোক,
ঠিক আল্লাহর নবী ইউসুফের মত।
তোমার অন্তঃকরণ হোক সফেদ সাদা
যাতে তুমিও প্রত্যাখান করতে পার নির্জনে কোন সুন্দরী রমণীর আহবানকে।
এরপর নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তোমাকে ভালবাসবেন
তোমার নামও থাকবে তাঁর প্রিয় বান্দাদের তালিকায়।
ফেরেশতাদের ডেকে তিনি বলবেন-
তিনি তোমাকে ভালবাসেন,
অতএব, তারাও যেন তোমাকে ভালবাসে।

তুমি সম্মানিত হবে দুনিয়া এবং আসমান বাসীদের কাছে,
এরপর তিনি কেয়ামতের তপ্ত দিনে তোমাকে ডেকে নিবেন
তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিতে,
যেদিন মানুষের আশ্রয় নেবার মত আর কোন ছায়া থাকবে না।
তোমাকে ভালবেসে এটাই তোমার প্রতি আমার ভ্যালেন্টাইন উইশ।

জননী জন্মভূমি…

by Watchdog Bd

বিএনপির দ্বিতীয় টার্মের সময় তখন। প্রবাস জীবনে ব্রেক নিয়ে দেশে অবস্থান করছি। বাবার মৃত্যুর পর অর্ধশতাব্দি পুরানো আমাদের পারিবারিক শিল্পকারখানার চরম দুরবস্থা। জীবন প্রদীপ নিভু নিভু করছে প্রায়। এ অবস্থা হতে বেরিয়ে আসতে হবে এবং যথাসম্ভব দ্রুত…এমন একটা দায়িত্ব নিতে মার জরুরি তলবের কারণে অস্ট্রেলিয়া হতে ফিরে আসতে হল। বছর দেড়েক লাগল নড়বড়ে অবস্থা গুছিয়ে নিতে। এবং দুই বছরের মাথায় শুরু হল নতুন যাত্রা। কর্তন বর্ধনের পর প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী নিয়ে শিল্পের ভিত্তিটা শক্ত পায়ের উপর দাঁড়িয়ে গেল।

চারদিকের বাণিজ্য বাতাস তখন অস্বাভাবিক ভারী। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কাছ হতে দেখলে গোটা শহরকে মনে হবে চাঁদাবাজীর লাস ভেগাস। সহজ আয়ের এসব বীর সৈনিকদের সংখ্যা হাতে গুনে মুখস্ত রাখা সমস্যা হয়ে দেখা দিল। শেষপর্যন্ত মাছের ভাগার মত ভাগ করতে বাধ্য হলাম। এক ভাগা বিএনপির, এক ভাগা ছাত্রদলের, এক ভাগা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোদ্ধাদের, এক ভাগা মসজিদ, মাদ্রাসা, ওয়াজ, মিলাদ, জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে, খৎনা, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ও একভাগা মাননীয় সরকার মহোদয়ের বেতনভুক কর্মচারীদের। ডিসি সাহেব চাঁদার ইংরেজী তরজমা করে এর গায়ে কন্ট্রিবিউশন তকমা লাগিয়ে ঘন ঘন এলান ফরমানো শুরু করলেন। ওসি সাহেবের কেবল টাকা নয়, সুন্দর এক সকালে এত্তেলা পাঠালেন স্ত্রী ঢাকা যাবেন মার্কেটিংয়ে, আমাদের গাড়িটা দরকার। সাথে থাকতে হবে ট্যাংকভর্তি তেল। বাংলাদেশ নামক দেশটার জন্মের উষালগ্ন হতে দেশের বাইরে। তাই অনেক কিছুর উপর নূন্যতম ধারণা ছিলনা। একটা জাতি সন্মিলিতভাবে এভাবে নোংরামির কোমর পানিতে নামতে পারে আমার জন্য তা ছিল অভাবনীয়, বিস্ময়কর।

দুপুরের খাবারের জন্য বাসায় ফিরছি। কড়া রোদ। রিক্সা নেই কোথাও, তাই হেঁটেই রওয়না দিলাম। কয়েক শ গজ যাওয়া হয়নি, ঘ্যাচ করে হুড খোলা একটা জীপ পথরোধ করে ফেলল। পুলিশ। থ্রি নট থ্রি রাইফেল তাক করে মাটিতে শুয়ে পরার তাগাদা দিল। আমি মূর্তির মত ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম। অন্য একজন ওকিটকিতে কথা বলতে শুরু করল।
-স্যার একজনরে ধরছি। মসজিদের সামনে। বাকিরা পলাইছে। ঠিক আছে, জলদি আসেন।
একটু পর পালের গোদা থানার ওসি এসে হাজির। এসেই মা-বাবার নামে কুৎসিত একটা গালি দিল এবং সহকারীকে নির্দেশ দিল পাশের সেলুন হতে কাঁচি এনে আমার চুল গুলো কেটে দিতে। প্রমাদ গুনলাম। হিসাব কষে দেখলাম নিজকে প্রকাশের এটাই উত্তম সময়। অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক হিসাবে সাময়িক ভিসা নিয়ে বাস করছি বাংলাদেশে। নিজের অধিকার সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। বাংলা নয়, ইংরেজিতেই শুরু করলাম চোর-পুলিশ খেলা।
হু দ্যা ফাক ইউ আর টু কাট মাই হেয়ার?
স্তম্ভিত হয়ে গেল কথিত একজন সন্ত্রাষীর মুখে ইংরেজি শুনে।
তুই বড় চুলের মাস্তান। তোর কাছে এতকিছুর জবাব দিতে বাধ্য নই।
ডাজ কনষ্টিটিউশন অব বাংলাদেশ লিমিটস ইটস সিটিজেনস রাইট টু হেভ লং হেয়ার? ইফ সো, প্রভাইড মি এভিডেন্স।
এবার থেমে গেল ওসির মুখ। হয়ত আশা করেনি তর্কের সবটা ইংরেজিতে চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ।
– ইউ আর আন্ডার এরেষ্ট।
– নো প্রবলেম। লেট মি টক টু মাই এম্বাসি এন্ড গেট সাম হেল্প।
সংখ্যায় ওরা ছিল ৭/৮ জন। পিনপতনের নীরবতা নেমে এল ঘটনাস্থলে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের ড্রাইভিং লাইসেন্সটা পকেটেই ছিল। নিজের পরিচয় যেচেই প্রকাশ করলাম। দমে গেল পুলিশ বাহিনী। এ ফাঁকে খবর চলে গেলে আমাদের কারখানায়। শিফট বন্ধ করে প্রায় ১০০ শ্রমিক ঘেরাও করে ফেললো গোটা এলাকা। চারদিকে টান টান উত্তেজনা। পুলিশ দল নিজেদের ভেতর ফিসফাস শুরু করে দিল। একজন এসে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি রহমান সাহেবের ভাই?
– নট রিয়েলি, আই এম নট, রাদার হি ইজ মাই ব্রাদার। ইংগার ব্রদার।
– আমরা কি আপনাদের কারখানায় গিয়ে কথা বলতে পারি? অতি বিনয়ের সাথে পালের গোদা অনুরোধ জানালেন।
– অভার মাই ডেড বডি। উই উইল স্কয়্যার আওয়ার ইস্যু রাইট হেয়ার।
এবার পুলিশের ঘাড়ে চেপে বসলাম আমি। শুধু শুধু নাম ধাম জিজ্ঞেস করতে থাকলাম। শুরু হল ক্ষমা পর্ব। ভাষ্য মতে কত গুলো মাস্তানকে ধাওয়া করছিল ওরা। তাদের সবার মাথায় লম্বা চুল। দেখতে আমিও নাকি তাদের মত। ততক্ষণে জনতার স্রোত বাড়তে শুরু করল। ঘটনাস্থলে আমাদের পারিবারিক বন্ধু পৌরসভার চেয়ারম্যানকে দেখতে পেলাম। সাথে আমার ছোট ভাই। ওরা শহরের হোমরা চোমরা, মুরুব্বি। জোর করে সরিয়ে আনল আমাকে। রক্তের দাপাদাপি থামাতে ডাক্তার ডাকা হল। তিনদিনের মাথায় সবকিছু থিতু হয়ে এল।

corrupt-police
মাস না গড়াতেই মার সাথে বুঝাপড়ায় বসতে হল। স্বপ্ন আর বাস্তবতার লড়াইয়ে বাস্তবতাই জয়ী হল। ফিরে গেলাম দত্ত্বক নেয়া দেশ অস্ট্রেলিয়ায়।…

ক্ষমতার পালাবদল কি বদলাতে পারবে এসব অসূস্থ সংস্কৃতি? নাকি নতুন বোতলে পুরানো মদ ঢালার মত জাতীয়তাবাদিরাও ঢালতে শুরু করবে চরিত্র সংকটের নতুন সিফিলিস? তাহলে আর কিসের জন্য এ হা হুতাস…কারণ আমার জন্য স্বাধীনতা মানে চুলেরও স্বাধীনতা, গণতন্ত্র মানে মুক্ত বাতাসে চলাফেরার স্বাধীনতা…

আধুনিকতা নাকি নগ্নতা …by Husasain Sumrat

সোশ্যাল মিডিয়াতে ঘুরতে যেয়ে একটি লিঙ্কে যেয়ে একটি লেখা পড়লাম ও এর কমেন্টে দেখালাম যারা হিজাব পরে তাঁদেরকে খুব অবজ্ঞার চোখে দেখে অনেকে।ঠিক তখনই লেখাটি লেখি।লেখাটির মূল লিঙ্ক

(https://www.facebook.com/HussainSumrat/notes) ।

আধুনিকতা বলতে কি বুঝাই?কোথাও আমি এর সংজ্ঞার্থ পড়িনি।তবে নিজে নিজে একটি সংজ্ঞা তৈরি করে নিয়েছিলাম এবং সেটাই ছিল আমার কাছে যথেষ্ট।তাই কখনও কোথাও খুঁজতে যাইনি।কিন্তু আজ আমি যখন ভাবলাম আমার চারপাশের মানুষরা কি বলছে বা কি করছে এই আধুনিকতা নিয়ে।তখন আমি কিছুটা চুপ হয়ে যাই।যদিও আমি আমার তৈরি করা সেই সংজ্ঞার্থ থেকে সরে আসিনি।কারণ আমি আমার সংজ্ঞার্থ বিশ্বাস করি।এটা আমার কোন ধারণা না এটা আমার বিশ্বাস।যাইহোক,আমি খুবই ভীত হয়ে যাই যখন শুনি মেয়েদের পরাধীন করে রাখা যাবেনা।ভীত হবার কারণ একটাই স্বাধীনতা বলতে তাঁদের কি করা হচ্ছে।আমিও চাই মেয়েরা চার-দেয়ালের মাঝে নিজেদের বন্দী করে না রাখুক।কিন্তু চাই না তাঁরা কোন ডিস্ক বারের ডিস্ক গার্ল হোক।যদি এটাই হয় স্বাধীনতা তাহলে আমি চাইব মেয়েদের স্বাধীনতা দরকার নাই।আমাদের দাদি-নানিদের মতো তাঁরা শুধু রান্নার কাজই করুক।আধুনিক হওয়ার দরকার নেই।আমাদের মতো গরীব দেশে অনেকেই লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার বানানোর নোংরামি কাজে টাকা খরচ করবে কিন্তু কোন ছেলে বা মিয়ে টাকার অভাবে ভাল ভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারছেনা সেটার দিকে নজর দিবেনা।অবশ্য কাউকে সুপারস্টার বানানো গেলে তারা তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ব্যাবহার করতে পারবে। সেদিক থেকে ভাবলেতো মন্দ হয়না টাকা খরচ করলে।আমাদের আপুমনিরা অবশ্য তাদেরকে আধুনিক বানাইতে খুবই ততপর।এই আধুনিক হওয়াটা যদি তারা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে হতেন তাইলে কোন কিছু বলার ছিলনা।কিন্তু না…তারা ঐশ্বরিয়া, ক্যাটরিনাদের অ্যাড দেখে লাক্স সাবান ব্যাবহার করবে আর সুপারস্টার হওয়ার চিন্তাই বিভর থাকবে।তাতে যদি আই বি এর মতো প্রতিষ্ঠান থেকে বিতারিত হতেও হয় তারা রাজি।তারা কি একটুও ভেবে দেখেনা যে তাদের দেহের এপাশ ওপাশ সবপাশ দেখিয়ে সুপারস্টার কি নাহলেই না।এতে আসলে অনেকেই আমাকে বলবেন ধুর তুমি খুব সেকেলে।আমি তাদের বলব আমি আপনার স্ত্রী আপনার মেয়ের সাথে একরাত বারে ডিস্ক নাচ নাচতে চাই।তখন তারা আবার বলবেন এ যুগের ছেলে-পেলেরা খুব বেয়াদব হয়ে গেছে।আরে ভাই আপনি একজন মেয়ের এপাশ ওপাশ দেখছেন আর সুপারস্টার বানাচ্ছেন আর আমি একরাত আপনার মেয়ের সাথে ডিস্ক করতে গেলেই বেয়াদব আর আপনি এইসব করেও সমাজের আধুনিক মানুষ।আমাদের আফামুনিরা কি একটুও ভেবে দেখেনা – ঐশ্বরিয়া বা ক্যাটরিনা কখনই এই লাক্স সাবান ব্যাবহার করেনা এবং করবেও না।মেয়েদের শালীনতা নিয়ে কথা বলতে গেলে আবার অনেকেই আমাকে বলবেন আমি জঙ্গিবাদী।আবার অনেকেই বলবেন গোরা মুসলমান।আমি তাদের বলব চিপাচাপা জিন্স আর টিশার্ট পরলেই আধুনিক হওয়া যাইনা।আপনি এই পৃথিবীকে কতটা ভাল কিছু দিতে পারছেন সেটাই আপনার মাপকাঠি।

 

আপনি কি জানেন – গত মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপে সেরাদের সেরা একটি দল হয়েছিল কাতারের এক দল।যাদের সবাই ছিল মেয়ে এবং হিজাব পরিহিত।তোমরা যারা সুপারস্টার তারা ওদের কাছে কিছুই না।তোমরা আসলে ওইসব পারবানা দেখেই শরীর দেখিয়ে বেরাও।আপনারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন কয়দিন পর রমনা পার্কের ১০০ টাকার এক মেয়ে আর আপনাদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবেনা।ওরা হল কম টাকার Prostitute আর আপনারা চড়া দামের।আপনি এখনও জানেননা মজিলা আর গুগল এর মধ্যে পার্থক্য আর হাইহিল পরে নিজেকে আধুনিক মনে করেন।আগের যুগে মেয়েদেরকে জোর করে এইরকম করা হত আর এখন মেয়েরা নিজের ইচ্ছাতেই এইরকম হয়ে যাচ্ছে।এতে আপনারা আধুনিক হতে পারছেন না বরং হয়ে যাচ্ছেন পণ্য।আমাদের উপর তালার লোকেরা মধ্য-রাতে স্কছ-হুইছকির সাথে সাথে আপনাদের রুপের সুধা নিয়ে যাচ্ছে।কর্পোরেট বেনিয়াদের কাছে নিজেকে তুলে দিয়ে আধুনিক হওয়ার দরকার নেই।আপনি যখন একটি পর্যায়ে পৌছবেন তখন আপনার নাম এমনিতেই প্রচার হবে।অর্ধনগ্ন হওয়ার দরকার পরবেনা।শালীনতা মানে পিছিয়ে পরা না।বরং এভাবে নাম কামানো মানেই পিছিয়ে পরা।চামড়াকে ডলে ডলে সাদা করার দরকার নেই।আপনি কি জানেন আপনার স্বপ্নের দেশ আমেরিকার অনেক কালো চামড়ার লোকেরাই মার্সিডিজে চড়ে, আর অনেক সাদা চামড়া ভিক্ষা করে।আমরা যদি এইভাবে চলতে থাকি তাহলে আমাদের অবস্থা খুব একটা ভাল হবেনা।আমরা আসলে ততদিন পর্যন্ত আধুনিক হতে পারবনা যতদিন পর্যন্ত শুধু বাইরের রুপ দেখব।৩৬-২৪-৩৬ ফিগার না করে জ্ঞানী-মেধাবী-বুদ্ধিমান হন।নইলে সবাই একদিন বলবে ওই শালী বেশ্যা…

ওয়াজ, আলেম ওলামাগণ এবং সুশীল সমাজ…

2

by Ammena Tarannum

গত রাতে আমার বাসার সামনের মাঠে কনসার্ট হয়ে গেলো।কি বৃত্তান্ত?রেড ক্রিসেন্টের কোন একটি ক্যাম্প চলছিলো সেই মাঠে সপ্তাহ খানেক ধরে।সেখানে সারাদিন মাইক পূজা চলতোই।মাঠের পাশে মসজিদ,সেদিকে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ ছিলনা।নামাজ-আযানে তাঁরা ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন কিনা-সে নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা দেখা যায়নি।তা এগুলো তাঁদের কাছে ব্যাপার না…সুশীল সমাজ বলে কথা!বলি,সুশীল সমাজ তো সমাজ নিয়ে এবং তার মানুষ নিয়ে চিন্তিত হবার কথা বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন!কিন্তু এই সুশীলরা সেরকম কিছু তাদের কাজে-কর্মে প্রমাণ করতে পারলেননা।দিন-রাত মাইকে সুকণ্ঠ-কুকণ্ঠ মিলিয়ে গান-কবিতা শুনিয়ে এলাকাবাসীর কান ঝালাপালা করেছেন গেলো কিছুদিন।কাল রাতে তা চরম আকার ধারন করলো কনসার্ট এবং ফ্যাশন শোর মাধ্যমে…মধ্যরাত পর্যন্ত কানের বারোটা বাজিয়ে তবে তাঁরা চুপ করেছেন।

waz

শব্দ দূষণ…এ আমার যেন নিত্য সঙ্গী!যে যা ভয় পায়,তাকে তা-ই তাড়া করে ফেরে,আমি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।যেসব জায়গায় এই অধম ছোটবেলা থেকে শুরু করে আজ অবধি বাস করে আসছি সে জায়গাগুলোর উপর এই দূষণটির কারনে আমি ত্যক্ত-বিরক্ত।জিজ্ঞেস করুন,কিভাবে?বলছি।

ছোটবেলা ছিলাম ছোট জায়গায়,মফস্বল শহরে।শীতকাল আসলেই বাড়ি থেকে একটু দূরে ধানের জমি খালি থাকতো,সেখানে রাতের বেলা দশদিগন্তকে শোনানোর ব্যবস্হা করে ওয়াজ শুরু হতো।শীত ছাড়াও হতো,যেকোনো দিন বিকাল বেলায় ঘোষণা দেয়া হতো”আজ রাতে আমাদের মাঝে উপস্হিত হবেন উপমহাদেশের নয়নমনি,জগদ্বিখ্যাত,বিশিষ্ট ওলামা অমুক…”

ব্যস,রাতের ঘুম শেষ সুমধুর সুরেলা কন্ঠের ঝংকারে।সবচে’ খারাপ যা তা হলো,আপনি যে জেগে থেকে উনাদের বিতরণকৃত জ্ঞান আহরণ করে ধন্য হবেন..নৈব নৈব চ!কারন কিছু দূর থেকেই বক্তব্য আর কিছু বোঝা যায়না,খালি দূর্বোধ্য কান ফাটানো গগনবিদারী চিৎকার ছাড়া কিছুই আপনি বুঝবেন না।তাহলে কি দাঁড়ালো?আমার না হলো ঘুম,না হলো কোন ধর্মীয় উপকার।কেন এই শাস্তি তাহলে মেনে নিতে হচ্ছে?আর ধর্ম কি বলে এই ব্যাপারে?ইসলাম তো অন্যের ঘুম নষ্ট করে কুর’আন জোরে পড়তেও নিষেধ করে!

“Sometimes, it is Makruh (reprehensible) to recite the Qur’an as when one recites it in a loud voice disturbing other reciters or worshipers, or annoying those who are sleeping.

http://www.alifta.net/Fatawa/FatawaChapters.aspx?languagename=en&View=Page&PageID=37&PageNo=1&BookID=15

ইসলাম আরো বলে,Narrated Anas bin Malik (رضي الله عنه‏): The Prophet (صلى الله عليه وسلم) said, “Facilitate things to people (concerning religious matters), and do not make it hard for them and give them good tidings and do not make them run away (from Islam).”

[Sahih Bukhari, Volume 1, The Book of Knowledge, No. 69]

তো আমরা মুসলিমরা যদি এভাবে চিল চিৎকার করে মানুষের রাতের ঘুম হারাম করতে থাকি,তবে মানুষ ধর্মের কাছে আসবে না দূরে যাবে?একজন অমুসলিম যদি ঠিক ওয়াজের মাঠের পাশে বাস করেন,তার কি প্রতিক্রিয়া হবে??

দুটি ঘটনা উল্লেখ করছিঃ

১/আয়েশা (রাঃ) একজন মুসলিম বক্তাকে বলেছিলেন,Restrict your voice to your audience and address them only as far as they are attentive to your speech. When they turn their faces from you, stop.

২/আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ “An orator used to deliver his sermons before the door of Ai’sha (R.A). She complained to ‘Umar (R.A) saying, “This man has caused me discomfort and has left me in a position that I cannot hear anything (except the voice of the orator).” ‘Umar (R.A) sent a message to the orator asking him to refrain from speaking so loudly before the door of the mother of the Muslims. But the orator repeated his practice once again. When ‘Umar (R.A) was informed about it, he himself went to him and subjected him to punishment.”

http://bookmyla.com/deeni%20books/Contemporary%20Fatawa/Salah_Namaz/misuseloudspeaker.htm

http://www.sunniforum.com/forum/archive/index.php/t-51758.html

এই ঘটনা গুলো কি আমাদের হুজুরদের আর আলেমদের অজানা?তাঁরা কি কখনো সত্যিকারের ইসলামিক রীতিনীতি নিয়ে মাথা ঘামান?

যাই হোক,আমার ঘটনায় ফেরত যাই;এরপর এলাম সিলেট শহরে।সেখানেও দরগাহ-র মাঠে গগনবিদারী সুরেলা ওয়াজ হতো।আবার ঘুম হারাম!এরপর উত্তরা,ঢাকা..এখানেও একই না হলেও বিরক্তি উদ্রেক করার মতো যথেষ্ট ওয়াজ দূষণ বিদ্যমান।ওয়াজ ছাড়াও ভোরে ফজরের নামাজের আগে মসজিদে যেদিন ইচ্ছা হয় সেদিন জিকির,সূরা পাঠ কিংবা হামদ-নাত শুরু হয়ে যায় আমাদের দেশে…কি বলে একে?হ্যাঁ,out of the blue!এতে কারো কি লাভ হচ্ছে? না,ক্ষতি হচ্ছেঃ

১/কেউ যদি ফজরের নামাজের আগে তাহাজ্জুদ পড়েন,এতে তাঁর নামাজের ব্যাঘাত ঘটে। বিশেষ করে তাঁর বাসা/বাড়ি যদি মসজিদের কাছে হয়,তাহলে তো বলাই বাহুল্য।রমজান মাসে এরকম সমস্যা প্রতিদিন ঘটে।

২/ যিনি অমুসলিম,তাঁর দুঃখের তো আর সীমাসংখ্যা থাকেনা।তিনি ভোরের ঘুম হারাম হওয়ার পর মুসলিমদের চৌদ্দ পুরুষদের মনে মনে নিষ্ফল গালমন্দ না করে আর কি করতে পারবেন?ইসলামের প্রতি তাকে বীতশ্রদ্ধ করার এই অধিকার মসজিদের হুজুরদের কে দিলো?

উত্তরায় বিশ্ব ইজতেমার সময় আরেক ব্যাপার হয়।প্রায় সকল রোড-এ মাইক লাগিয়ে ইজতেমার ওয়াজ এবং দোয়া শোনানোর ব্যবস্থা করা হয়।আজব!এর দরকারটা কোথায়?যিনি প্রয়োজন মনে করবেন,তিনি ইজতেমায় গিয়ে এসব শুনে আসবেন।তার উপর একটি লাইনও স্পষ্ট বোঝার উপায় পর্যন্ত নেই।শুধুই উচ্চ হাউকাউ-এ আপনার জান জেরবার!

এতো গেলো  ধর্মীয় দিকের কথা।আমাদের সুশীল সমাজের সমস্যাও এখানে প্রকট যার উদাহরণ লেখার শুরুতেই দিয়েছিলাম।তারাও খোলা জায়গা যেখানে পান সেখানে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।12-12-12উদযাপন,নিউ ইয়ার(বাংলা, ইংলিশ, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান যাই হোক)উদযাপন,শহীদ দিবস,বিজয় দিবস,৭ই মার্চ,বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস,জিয়ার মৃত্যু দিবস…দিবসের কোন শেষ তাদের নাই।এবং সেগুলোতে তাদের মাইক চর্চার বাড়াবাড়ির কোন শেষও নাই।

ও হ্যাঁ,এই এলাকায় আবার গোঁদের উপর বিষফোঁড়ার মতো মাঝেমাঝে হিন্দুদের ভজন আর গান বাজনাও শুরু হয়ে যায়রাতব্যাপী..দীর্ঘশ্বাস!অভাগা যেদিকে চায়,সাগর শুকায়ে যায়(আমার বেলায় চায় না,যায় হবে শব্দটা)…

বলি,এদের সবাইকে সবিনয়ে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করে,নিজেরা কিছু উদযাপন করতে চাইলে,ধর্মীয়,অধর্মীয় যাবতীয় ওয়াজ-মাহফিল,জ্ঞান অর্জন,শ্রদ্ধা নিবেদন,স্মৃতিচারণ-যে কোন রকমের অনুষ্ঠান করতে চাইলে সেটা কি নিজেদের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখা যায়না?কেন এমন ভাবা জরুরী যে আমরা যা করছি তাতে অন্যরাও সামিল আছে?অন্যরাও আমাদের আনন্দে অথবা দুঃখে সমান ভাগ পেতে চায়?কেন ভাবা জরুরী যে আমরা যখন জ্ঞান আহরণ করছি তখন অন্যরাও তা-ই করতে চায়?আমরা যখন গান গাইছি তখন অন্যরা সেটা শোনার জন্যে উদগ্রীব?আমাদের আগ্রহ কেন অন্যের অসুবিধার কারণ হবে?কেন একটি হল ঘরে ওয়াজ/কনসার্ট হবেনা?কেন সেখানে এমন সাউন্ড সিস্টেম হবেনা যা হলের বাইরে পৌঁছে অন্যদের বিরক্ত করবেনা?এই প্রশ্নগুলো শব্দ দূষণকারীদের কাছে রইলো,সাথে দেশের শব্দদূষণ আইনের(আছে কী এদেশে এমন কোন আইন?!)কাছেও রইলো।রক্ষা করুন সাধারণ মানুষদেরকে মাইক পূজার বাড়াবাড়ি আবেগ আর উৎসাহ থেকে!দোহাই আপনাদের!

যে বন্ধু কষ্টে আছে…Maruf Raihan Khan

আমি এখন যে কথা বলব, সে সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা অনেকেরই থেকে থাকবে। আমার ছোট বোনের এক ক্লাসমেট আছে, ও খালার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। পারিবারিক স্ট্যাটাস খুব একটা স্বচ্ছল না বোধহয়। ফলে অন্যান্য উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের বন্ধুদের মায়েরা যতটা যত্ন নিয়ে, আবেগ ও মমতা নিয়ে টিফিন পিরিয়ডের জন্য টিফিন বানিয়ে দেবেন— ওর জন্য নিশ্চয়ই অতটা কখনও বরাদ্দ থাকবে না। অন্য বন্ধুরা টিফিনে যে টাকাটা চকোলেট- চিপস-চটপটি-বার্গারে ব্যয় করবে, তার পক্ষে সেটা সম্ভব হবে না।

কিন্তু ওর শখ-আহ্লাদ তো কখনই কম হবার কথা না, পেটের ক্ষুধাটাও ওর সাথে খুব বেশি কম্প্রোমাইজ করবে না বেশিক্ষণ। ঐ মেয়েটা একসময় না পেরে তার বন্ধুকে যদি ন্যুডলস খেতে দেখে বলে, “কী খাচ্ছ? তোমার ন্যুডলসটা খুব মজা হয়েছে মনেহয় আজকে!” কিংবা পার্ক/ কিটক্যাট খেতে দেখে যদি বলে “জানো, আমার না পার্ক চকোলেট খুব পছন্দের।” বন্ধুরা তখন নিজেদের খাবারটা শেয়ার করে ওর সাথে। আমার বোনের মতো করে হয়তো বলে, আমি সকালে খেয়ে এসেছি, তুমি এটা খাও। হয়তো প্রথমে একটু-আধটু না করবে, কিন্তু আরেকটু সাধলে সে খাবে।
একটা জিনিস খেয়াল করুন— কলেজে পড়ুয়া একটা মেয়ের আত্নাভিমান কিন্তু প্রকট থাকে। আমার বোন এ ঘটনা বলার পর থেকে আমার মাঝে মাঝেই ঐ মেয়েটার কথা মনে হয়, যেমন আজকে মনে হচ্ছে। ও নিশ্চয়ই একবুক কষ্ট নিয়ে ওর বন্ধুদের টিফিন খাওয়া দেখে, এক্সট্রিম পর্যায়ে লজ্জার মাথা খেয়ে বন্ধুদেরকে পরোক্ষভাবে বোঝ ও ক্ষুধার্ত। নিশ্চয়ই ওর আত্নসম্মানে বাঁধে। হয়তো ভাবে, সবাই ওরকম আর শুধু আমিই কেন এরকম!

সমস্যা হচ্ছে, এদেরকে কিন্তু সরাসরি সাহায্যও করা যায় না যে, তুমি এ টাকাটা রাখো। নিজের কাছেই লজ্জা লাগে, আর ওরাও নিশ্চয়ই কষ্ট পায়, ভীষণ লজ্জিত হয়, হীনমন্যতায় ভোগে। কারণ সে একটা ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ে, ভালো রেজাল্ট করে। আমার ব্যক্তিগত সাজেশান হচ্ছে, এই মানুষগুলোকে এমনভাবে ট্রিট করা যাতে ওরা বুঝতে না পারে ওদেরকে স করা হচ্ছে, খুব কাছের বন্ধুর মতো পাশে থাকা। একটু মাথা খাটালে আরও বুদ্ধি বের হওয়া সম্ভব। আর কিছু না পারলেও, ওদেরকে নিয়ে যেন আমরা কখনও হাসি-ঠাট্টা না করি, তুচ্ছ- তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে না দেখি। কথার বিষাক্ত কাঁটায় অন্তর রক্তাক্ত না করে দিই।

সমকালীন বাঙালি মুসলমান তরুণ প্রজন্মের ইসলাম-বিমুখতা প্রসঙ্গে একটি বিশ্লেষণ

মনোয়ার শামসী সাখাওয়াত

সমকালীন বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সাধারণ-শিক্ষায়-শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ‘প্রগতিশীলতা’ ও ‘আধুনিকতা’র নামে একধরনের ইসলাম-বিমুখতা (এমনকি বিদ্বেষ) লক্ষ করা যায়। এই শ্রেণীর তরুণেরা পাশ্চাত্য এনলাইটেনমেন্ট চিন্তার প্রভাবে ইউরোপীয় ইহজাগতিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ভাবাদর্শের প্রতি সাধারণত আকৃষ্ট হয়ে থাকে। কিন্তুতারা ভুলে যায় যে ইউরোপীয় ইহজাগতিকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিকাশ ঘটেছিল সেখানকার ইতিহাসের একটি বিশেষ প্রেক্ষিতে। সেটা আসলে ঘটেছিল মধ্যযুগের খ্রিষ্টীয় চার্চের নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে বুর্জোয়া উত্থানের বিশেষ ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে।

অথচ বাংলার ইতিহাসে ইসলামের আবির্ভাব ও ভূমিকা মধ্যযুগের খ্রিষ্টান ধর্মের মত নয়। একটি তীব্র সামাজিক নিপীড়নমূলক হিন্দু বর্ণভেদ প্রথার বিপরীতে মুক্তিদায়ী চেতনা হিসেবে মধ্যযুগের বাংলায় ইসলামের আগমন। এই জনপদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিম্নবর্গ কৃষিজীবী শ্রেণী যাঁরা আর্য বর্ণভেদ সমাজব্যবস্থার অধীনে কোনও যথার্থ স্থান পাননি, তাঁরা প্রথমে বৌদ্ধ ধর্মের সমতাভিত্তিক ব্যবস্থায় আশ্রয় খুঁজেছেন এবং পরবর্তী্কালে সুমহান ইসলামের আওতায় এসে সমতার মর্যাদা অর্জনে প্রয়াসী হয়েছেন।

পরবর্তীকালে ইংরেজ আমলে এই বাঙালি মুসলিম কৃষক শ্রেণীই ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ প্রথার অধীনে পুনরায় শোষণ বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বর্ণ হিন্দু জমিদার শ্রেণীর দ্বারা। এই বর্ণ হিন্দু জমিদার শ্রেণীর জুলুম থেকে ও ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি পেতে বাংলার মুসলিম কৃষক শ্রেণী ধারাবাহিকভাবে শহীদ তিতুমীর, হাজী শরীয়তউল্লাহ ও মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে সংগ্রাম করেছেন। এক্ষেত্রেও ইসলাম একটি প্রগতিশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছিল। কাজেই মধ্যযুগের ইওরোপে খ্রিস্টান ধর্মের ভূমিকা নেতিবাচক হলেও বঙ্গদেশে ইসলামের ভূমিকা মধ্যযুগ থেকে আজ অবধি অত্যন্ত ইতিবাচক।

বাঙালি মুসলমান কৃষক শ্রেণী পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির প্রতি সমর্থন দিয়েছিলেন ইসলামের এই ধারাবাহিক মুক্তিদায়ী চেতনা ও ভূমিকার আলোকেই। পাকিস্তান আমলে যখন পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য অব্যাহত রইল এবং গণতন্ত্রের চর্চায় ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠলো, তখন এই বাঙালি মুসলমানেরা ভাষা ও স্বাধীকারের সংগ্রাম থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির দিকে এগিয়ে গেলেন। বাঙালি মুসলমান পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে বটে, কিন্তু তাই বলে কি বাংলাদেশে বাঙালি মুসলমানের সামাজিক ও জাতীয় বিকাশে ইসলামের মুক্তিদায়ী ভূমিকা শেষ হয়ে গেছে? এর উত্তর হল – না, বাংলাদেশ রাষ্ট্র বিনির্মাণে ও বাঙালি মুসলমানের জাতীয় বিকাশে ও অগ্রযাত্রায় ইসলামের সমষ্টিগত ভূমিকা এখনো অপরিসীম। বাঙালি মুসলমান পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য, রাজনৈতিক ও সামাজিক ইসলামের গণ্ডি থেকে খারিজ হবার জন্য নয়। হ্যাঁ, ইসলামের যে ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তিদায়ী ভূমিকা আমরা এই অঞ্চলে দেখে আসছি, মধ্যযুগে এর আগমন কাল থেকে, তা আজও বাংলাদেশে অতীব প্রাসঙ্গিক এবং অপরিহার্য।

তাই ‘আধুনিকতা’ ও ‘প্রগতিশীলতা’র নামে ইসলামের সমষ্টিগত মুক্তিদায়ী চেতনা থেকে বাঙালি মুসলমান তরুণ প্রজন্ম বিযুক্ত থাকতে পারে না। আর ইসলাম যেহেতু একাধারে ইহজাগতিক এবং পারলৌকিক, আবার ইসলাম যেহেতু অন্তর্নিহিতভাবে অসাম্প্রদায়িক ও সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই আলাদাভাবে ইউরোপীয় আদলে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চাও এখানে অপ্রয়োজনীয়।

বাঙালি মুসলমান তরুণ প্রজন্মকে আজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সৃষ্টিশীল ও উদ্যোগী হয়ে উঠতে হবে। এটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য খুবই দরকার। তাঁদেরকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ দৃঢ়ভাবে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই সঙ্গে তাঁদের আত্মসম্মানবোধ, আত্মবিশ্বাস ও চারিত্র্য সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য ইসলামী সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও আদর্শের অনুশীলন ও অনুসরণ করতে হবে। পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার সঙ্গেসঙ্গে একই মাত্রায় ইসলামী আদর্শ, জ্ঞান ও সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। মনে রাখতে হবে মধ্যযুগে ও ইংরেজ উপনিবেশ থেকে মুক্তির কালে ইসলাম যেমন বাঙালি মুসলমানের দিকনির্দেশিকা হিসেবে কাজ করেছে, ঠিক তেমনি আজও বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইসলাম বাঙালি মুসলমানের জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উৎস ও পথনির্দেশিকা হতে পারে।

তাই আমাদের প্রত্যাশা এই যে, এই সময়ের বাঙালি মুসলমান তরুণ পাশ্চাত্যের জন লক্, টমাস হব্স, এডাম স্মিথ, জন স্টুয়ার্ট মিল, কার্ল মার্ক্স, জন কেইন্স, নোয়াম চমস্কি, মিশেল ফুকো, জ্যাক দেরিদ্যা, এডওয়ার্ড সায়ীদ প্রমুখের লেখা ও চিন্তা চর্চার পাশাপাশি প্রাচ্যের মওলানা রুমি, আল গাজ্জালী, ইবনে তাইমিয়া, শাহ ওয়ালীউল্লাহ, আল্লামা ইকবাল, মওলানা মওদুদী, আকবর এস আহমেদ, মুহম্মদ আবদুহু, সাইয়িদ কুতুব, এল এফফেন্দি প্রমুখের রচনা ও চিন্তার প্রতিও সমান অভিনিবেশ নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠবে। শুধুমাত্র পশ্চিমা ধ্যান ধারণায় নিমগ্ন থেকে একধরনের উন্নাসিক আত্মশ্লাঘায় না ভুগে তাঁদের উচিত হবে নিজেদের মুক্তিদায়ী ইসলামী ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকেও প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন উৎস ও উপাদান আহরণ করে সময়োপযোগী গতিশীল শ্রেয়তর ইসলামী চেতনা ও সংস্কৃতির সৃষ্টি ও বিকাশ সাধন করা।


লেখক পরিচিতিঃ মনোয়ার শামসী সাখাওয়াত। ঢাকার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল স্কলাসটিকায় কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। তাঁর ইংরেজী ভাষায় রচিত ‘ডিসকভারিং বাংলাদেশ’ নামক একটি বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়ক গ্রন্থমালা  বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পাঠ্যবই হিসেবে প্রচলিত। তিনি সমকালীন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও শিল্প-সংস্কৃতির একজন নিবিড় পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষক।

ই-মেইলঃ  manwar.shamsi@gmail.com