Cut the Gordian knot

by Nuraldin Zia

This year started with a rude awakening for the elite Bangladeshi law enforcement agency, Rapid Action Battalion, popularly known as RAB. In an official letter to the inspector general of Bangladesh police, the United States authorities notified that individual members and units of the Rapid Action Battalion are ineligible for any further US training and assistance because of acts of gross violation of human rights committed by the members this elite force.

This allegation against RAB is not a new one. Since its inception as an elite force in March 2004, RAB has continuously been implicated in gross violation of basic human rights. Killing people with alleged criminal backgrounds in the name of crossfire became the ‘signature’ tactic of the force. Human rights groups so far tallied more than 2000 extrajudicial killings which were attributed to RAB.

Despite all the initial allegations against the battalion members, the government of Britain and United States continued their support for years. While the battalion continued to receive military training from Britain and the United States, despite all the allegation of extra judicial killing, the sudden change in heart of the major western backers of RAB is a clear indication that something went very wrong with the way RAB is perceived in the west. The embargo on any further US sponsored training, which was put on the members of RAB is a major blow to the credibility to a force which earned its name and fame fighting Islamic terrorism.

One possible reason the west might have continued supporting RAB despite allegations of extra judicial killing was its success in annihilating the home grown Islamic terrorism that rattled parts of Bangladesh during early part of this decade. Other factors that might weigh in the west’s decision to support RAB was it widespread popularity, professional work ethics as well as its politically blind modus operandi.

However RAB’s work ethics and professionalism started to take a turn towards the worse with ascent of Awami League as ruling party. Starting as early as 2008, RAB, previously criticized for extra-judicial killings of highly vetted criminals, allegedly started getting involved in abductions of businessmen and politicians. In 2009, three RAB men were arrested[i] on charges of abducting two businessmen and robbing them of gold and money.

On June 20 2011, two RAB men were captured by a crowd as they unsuccessfully try to abduct Chowdhury Alam, a local government leader and opposition leader, from Gulshan area of the capital. Later a patrol team of Police rushed to the spot and rescued them. One of the rescued was a RAB personnel identified by the meida as ASI Md Billal Hossain (ID No 314772 and Personnel No 4016801)[ii] belonging to RAB headquarters. Five days later, another group of people allegedly identifying themselves as RAB members kidnapped Mr. Chowdhury Alam. Mr. Alam has not been seen since then.

Apart from abductions, extortions and robbery, RAB continued with extra judicial killings through incidences knows as crossfires and shoot outs. In a recent development, Ain O Salish Kendra – ASK (Legal Aid and Human Rights Organization), Bangladesh cited 49 incidents of extrajudicial killings by law enforcement agencies mostly by RAB, only in the first the two months of 2014. The organization also confirmed 179 extrajudicial deaths in the year 2013. As a result of changing tactics of RAB, ASK could directly attribute 24 such deaths to RAB, 18 to police and for another 137 incidents, an agency could not clearly be linked.

On February 11, 2014 plain clothed armed men identifying themselves as RAB picked up Mridul Kumar Chowdhury in front of his house in Hazari Lane area of Chittagong. Prior to the incident, the gold trader lodged a case against some RAB personnel as they allegedly snatched a consignment of gold he sent to Dhaka. In an interview after being released from RAB custody, Mridul Kumar Chowdhury said that while being tortured by the abductors, he was asked time and again how he ‘dared’ file the case against RAB.

However, a probe committee consisting of law enforcement agency members surprisingly quashed the allegation[iii] clearing RAB of any involvement with the abduction.

The international human rights defender, Human Rights Watch, in all its recent communiques regarding Bangladesh, has recommended disbanding RAB. According to one of its’ recent reports titled ‘Democracy in Crossfire’ HRW unambiguously attributed extrajudicial killings, enforced disappearances, arbitrary arrests and unlawful destruction of private property on RAB personnel.

Human Rights Watch also repeated its call to the government to end the reign of impunity enjoyed by members of Bangladesh’s security forces working in RAB. They also urged to try the RAB members responsible for criminal offences.

Although RAB has been involved in such crimes for the last several years, the recent murder of seven people in Narayanganj has put RAB back into intense public scrutiny. As one followed the series of events leading to the discovery of seven corpses in Shitalakhya, it seemed that the RAB had turned into a mercenary force, a ruthless group of professional killers, who instead of working against the criminal godfathers had started working for the criminal godfathers in exchange of a hefty sum of money. Under intense publicity of the incident and as a result of loud public hue and cry, three seniors officers of RAB perceived to be responsible for the Narayanganj killings have been forced to go into retirement.

Data received from the RAB Headquarters says that almost two thousand RAB men[iv] faced departmental actions for committing criminal offences since 2004. That means, on an average, 16 members of the battalion had to be disciplined every month. These numbers draw an alarming picture of the current state of RAB. First, when 2000 members of a force with total membership of approximately 11000 are convicted of criminal offense, meaning nearly 1 in 5 RAB personnel are convicted of some form of crime and secondly when totally mind-blowing and credible allegations of acting as professional killers on behalf of notorious criminals surfaces against the whole senior leadership of a battalion; it becomes a very legitimate question whether this agency should exist as a guardian of rule of law. One of the most serious allegations about RAB is that the government has lost its control over the force.

There are clear indications that the force is totally demoralized and has lost its way. It is high time to take the sternest decision regarding this rogue force and disband it if needed. The sooner, the better.

 

[i] http://bdnews24.com/bangladesh/2009/10/04/rab-men-arrested-on-abduction-mugging-charges

 

[ii] http://archive.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=163708

 

[iii] http://bdnews24.com/bangladesh/2014/03/18/rab-cleared-of-abduction-charge

 

[iv] http://bdnews24.com/bangladesh/2014/05/11/2000-rab-men-punished-in-10-years

RAB বিলুপ্তি কোন সমাধান হতে পারে কি !

 

By KMB Bappy

যখন কেউ খুন-অপহরণের সমাধান দিতে গিয়ে বলেন- “RAB বিলুপ্ত করা হোক” তখন আমার মনে পড়ে যায় পিলখানার ঘটনায় কেউ কেউ বিডিআর বিলুপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন । তাদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়েই সম্ভবত বিজিবি নামকরণ করা হয়েছিলো । লাভটা কি হয়েছিলো বা কাদের পকেটে মুনাফা গিয়েছিলো সেটা এখন সবাই নিশ্চিত । এভাবে একটি প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী বিলুপ্ত করে দেয়া যায়না বা এর পরিণতি কখনোই ভালো হয়না । কারণ-


১। তাদের অপকর্মের দায় নেবার জন্য তখন আর কেউ থাকবেনা । বিচারের পথ রুদ্ধ হয়ে যায় চিরদিনের জন্য । যে মানুষগুলো অন্যায়ের শিকার হয়েছেন তারা আজীবন চেষ্টা করলেও বিচার পাবেন না । সকল অপরাধী রক্ষীবাহিনীর মতো পার পেয়ে যাবে । তাদের জমানো কাড়ি কাড়ি টাকার হিসাব নেবারও কোন উপায় থাকবেনা । তাদের পরিবারগুলো আরো শান্তিতে থাকবে তখন । কোন সাংবাদিকের ক্যামেরা বা জনতার চোখ তাদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিতে পারবেনা ।

২। র‌্যাব বিলুপ্ত করা হলে এই সদস্যরা তখন পুরাতন বাহিনীতে ফিরে যাবে । র‌্যাব এর দায় সেনা বা পুলিশ বাহিনী কখনো নেবেনা । সেনাবাহিনীতে বা পুলিশে মিলে যাবার পর একই ব্যক্তি নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে পরিবর্তিত মানুষ হয়ে যাবে তা ভাবার কোনই কারণ নেই ।

৩। যে অপরাধে র‌্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গ তোলা হচ্ছে, একই অপরাধে গত পাঁচ বছরের মধ্যেই পুলিশ বিলুপ্ত হয়ে যাবার কথা ছিলো । সেনাবাহিনীতেও সব ফেরেশতাদের বিচরণ ভাবা বাতুলতা হবে । অতএব বাহিনীকে দোষারুপ করার কোন যৌক্তিক কারণ আর থাকেনা ।

৪। তারপরও অনেকে হয়তো বলবেন র‌্যাব বিলুপ্ত করলে অন্তত গুম-খুন কিছুটা কমবে । অর্থাৎ আমরা কতোটা স্বার্থপর জাতি সেটা তখন প্রকাশ পেয়ে যাবে । নিজে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চাই যেভাবেই হোক । এর জন্য শেখ হাসিনা কে প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে তার কাছেই আবেদন জানানো হবে যেনো র‌্যাব বিলুপ্ত করা হয় । অথচ সকল বাহিনীর মূল চালিকাশক্তি হলেন শেখ হাসিনা । বিলুপ্ত করবেন কাকে ?

৫। আওয়ামী লীগের মূল টার্গেট হলো দেশের প্রতিটি এলাকায় গডফাদারভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গোটা দেশ দখলে রাখা । নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান কিছুটা বোকা বলেই সামনে চলে আসে বেশি । কিন্তু প্রতিটি এলাকায় মানুষেরা বিপদে পড়ে যেসব আওয়ামী নেতার বাসায় সহযোগিতার আশায় ভীড় করে তারা হলো বুদ্ধিমান গডফাদার । এরা শোষণ করে কিন্তু মজলুমকে বুঝতেই দেয়না । এরা নির্বাচনে যখন ভোট কারচুপি করে একক ভাবে পাশ করে আসে তখনো কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না । এদের একটি ফোনে/আহবানে যখন কোন বিপদ কেটে যায় বা কাজ সম্পন্ন হয়ে যায় তখন মানুষেরা আর চিন্তা করতে চায়না এদেরকে এতো ক্ষমতা কে দিয়েছে । এসব গডফাদারদের হাতে নির্বিঘ্নে দেশ তুলে দেয়ার জন্য র‌্যাব-পুলিশকে বিতর্কিত করে ফেলা এবং দুর্বল করে দেয়া একটা আওয়ামী কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয় ।

তারপরেও ধরে নিলাম সরকার জাতির স্বার্থে র‌্যাব বিলুপ্ত ঘোষণা করলো । তারপর কি হবে ? আপনারা যারা এটা কামনা করেছিলেন- কেউ কি ফুলের তোড়া দিতে যাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ? নাকি আপনারা ধরে নিবেন আওয়ামী লীগ সঠিক পথে ফিরে এসেছে ? কোনটাই করতে পারবেন না । কারণ বিলুপ্তি ঘোষণা/নিষিদ্ধ ঘোষণা কোনদিনও সমাধান হতে পারেনা । বরং ততদিনে হয়তো সমুদ্র জয়ের মতো অপরাধ দমন শীর্ষক আরেকটি নাটকের মঞ্চ বানাবে সরকার । এভাবে নিজেদের ভুলে আওয়ামী লীগের হাতে যারা আরেকটি কার্ড তুলে দিতে চাচ্ছেন তাদেরকে এখনি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ।

শেষকথা হলো- আমাদের প্রতিটি বাহিনী জনগণের টাকায় পরিচালিত । অতএব তাদের যাবতীয় কর্মকান্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহীতা থাকতে হবে । খুনি-অপরাধী যেই বাহিনীতে থাকবে সেই বাহিনীর আইনে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে । রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে আত্মীয়তার সুযোগে কেউ যেনো রাজনীতির ঘুটিতে পরিণত না হয় সেই পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে । এই কাজগুলো সরকার করবেনা । যারা সত্যিকার অর্থে দেশকে ভালোবাসে তাদেরকেই করতে হবে । র‌্যাব-পুলিশ-সেনাবাহিনী কেউ যদি না থাকতো দেশের সবচেয়ে লাভবান হতো আওয়ামী লীগ- এটা আমাদেরকে মাথায় রাখতে হবে । যদি সত্যিকার অর্থেই বিলুপ্ত করতে হয়- আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় অভিশাপকেই বিলুপ্ত করতে হবে । সেটা উপরওয়ালা করবেন নাকি জনগণ করবে এটা সময় বলে দেবে ।

 

ফাঁস হয়ে পড়া পরিকল্পনায় সংঘঠিত খুন এবং সাধারনের নিরাপত্তা

Vy Faiz Tayieb

ক্ষমতাসীন দলের একজন নির্বাচিত সিটি কমিশনার রাষ্ট্র কর্তৃক সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়া নিজের বিনা বিচার হত্যা সম্পর্কে জেনে গিয়েছিলেন। অত্যন্ত ট্র্যাজিক ব্যাপার এই যে, আগেই রাষ্ট্রীয় হত্যার পরিকল্পনা যেনে ফেলার পরও এবং ক্ষমতা বলয়ের লোক হবার পরেও এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি হবার পরেও তিনি ক্ষমতাবলয় কে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে প্রভাবিত করতে পারেননি। সম্ভভত রক্তক্ষয়ী ক্ষমতার যুদ্ধ এমনই। এর নিয়তি একমুখী। হয় তুমি স্বার্থের ধারক, নতুবা তুমি শত্রু, তোমার মৃত্যু অবধারিত।

তিনি মৃত্যুর ২ সপ্তাহ পূর্বেই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে গিয়ে স্বয়ং সাক্ষাতে পরিকল্পিত খুনীদের নাম প্রকাশ করে তার জীবনের আকুতি জানিয়েছেন অর্থাৎ ব্যক্তি নজরুল রাষ্ট্রের কাছে ফাঁস হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় হত্যার বিপরীতে আত্মসমর্পণ করে অপ্রাঠিস্থানিক ভাবে প্রান ভিক্ষা করেছেন।

“স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের জ্ঞাতসারেই চার সহযোগীসহ খুন হয়ে গেলেন নারায়ণগঞ্জের সিটি কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম। খুন হওয়ার আগে তিনি অপহূত হয়েছেন। তারও দুই সপ্তাহ আগে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে তাঁকে বলেছিলেন, তাঁকে হত্যা করা হবে। যারা তাঁকে হত্যা করতে চায়, তাদের নামও তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বলেছিলেন।

 

তার সপ্তাহ দুই পর চার সহযোগীসহ সত্যিই অপহূত হলেন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম। এবার তাঁর স্বজনেরা কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে হাজির হলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাসায়। নজরুলের বৃদ্ধ মা মন্ত্রীর কাছে আকুতি জানালেন, ‘বাবা, যে করেই হোক, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দেন।’ কিন্তু নজরুল জীবিত ফিরে এলেন না। অপহূত আরও ছয়জনের সঙ্গে তিনিও লাশ হয়ে ভাসলেন শীতলক্ষ্যা নদীতে।

সুত্রঃ প্রথম আলো

কোন সাড়া না পেয়ে তিনি তার গডফাদার শামীম ওসমান এর কাছে গিয়ে  আবারো অপ্রাঠিস্থানিক ভাবে প্রান ভিক্ষা করেছেন। যে তাকে খুনের পরোক্ষ ইঙ্গিত অথবা সতর্কতা দিয়ে সাবধান করেছেন।

“শামীম বলেন, মৃত্যুর আগের দিন নজরুল আমার কাছে এসেছিল। জানিয়েছিল আমার জামিনের প্রয়োজন। আমি বারের এক্স প্রেসিডেন্টকে বললাম ওর জামিনের প্রয়োজন। একটু করিয়ে দিয়েন। নজরুলকে বলেছি যাবা যখন বি কেয়ারফুল। সাবধানে যাবা। একসঙ্গে চার পাঁচজন যাবা। আমার একটা কমন সেন্স ছিল চার পাঁচজন হলে কেউ কিছু করবে না। করলেও জানা যাবে কারা করেছে। কেন করেছে। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা যে বাংলাদেশে ঘটতে পারে।

 

সুত্রঃ মানবজমিন” আরো লক্ষণীয় যে গডফাদার বলছেন তিনি রাষ্ট্রের নির্বাহী কে ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই জানিয়েছেন।

 

“শনিবার বেসরকারি ইন্ডিপেডেন্ট টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনা ঘটার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জানিয়েছেন।

সুত্রঃ ইন্ডিপেডেন্ট টেলিভিশন , মানবজমিন”

লক্ষণীয় ভাবে তার এই অপ্রথিস্থানিক প্রান ভিক্ষায় আদালত জড়িত নয়, অর্থাৎ তিনি যেনে বুঝে আদালতে না গিয়ে ক্ষমতা বলয়ের চেইন কে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে প্রানপন চেষ্টা চালিয়েছেন। এটা সময়ের বিবেচনায় যুক্তিযুক্ত, সাম্ভাভ্য হত্যার মুখে পতিত (সন্ত্রাসের অভিযুক্ত) ব্যক্তিও এই ক্রুয়েল আর অমানবিক রাস্ট্রের চরিত্র বুঝে আদলতের শরণাপন্ন হন নি।

এখানে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ভাবে ক্ষমতাবলয়ের চেইন অফ কমান্ড প্রকাশিতঃ

 

রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় >> সন্ত্রাসের ডাকসাইটে গডফাদার >> রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী।

গডফাদার এই পর্যায়ে এসে নিজ দলের রাষ্ট্রের নির্বাহী বা রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কে অভিযুক্ত না করে, অভিযোগের অঙ্গুলি দেখালেন কিছু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যের প্রতি, যা তার পূর্বের স্বীকারোক্তির সাথে পুরপুরি অসামাঞ্জস্য পূর্ণ এবং  ঘটনা আড়ালের পরিষ্কার পরিকল্পনা।

“”

 

আপনি কি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি ইঙ্গিত করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, সর্ষের মধ্যে ভূত আছে। কিছু না কিছু সহযোগীতা আছে। বিষয়টা রাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। ইউদিন টেন মিনিটস। প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন, মানে আপনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন? জবাবে শামীম বলেন, সমস্ত কিছু জানিয়েছি।

সুত্রঃ ইন্ডিপেডেন্ট টেলিভিশন , মানবজমিন

ঘটনা প্রবাহে এখানে অনিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে ঘটনা আড়ালের এই  পরিষ্কার পরিকল্পনা রাস্ট্রের যা গডফাদার সাংসদ এর মাধ্যমে প্রকাশিত।

র‍্যাবের বিরুদ্ধে তদন্ত কমটি ঘঠিত হবার পর বের হওয়া সংবাদ বলছে রাষ্ট্র এবং ভিক্টিম দুয়ের অভিযোগ ভিন্ন দিকে, যা রাষ্ট্রের ভন্ডামী কে আরো প্রকট করে তুলছে।

 

“”স্বামী অপহরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শামীম ওসমানের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম। গতকাল সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঘটনার পরপরই শামীম ওসমানের কাছে ছুটে যাই। আমি তাঁকে বলি, নূর হোসেন আমার স্বামীকে অপহরণ করেছে। আপনি আমার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন। তিনি আমাকে বলেন, “নূর হোসেন এই কাজ করতে পারেন না।” ২৭ এপ্রিল নজরুল অপহরণের পর সাংবাদিকেরা খোঁজ করে জানতে পারেন, নূর হোসেন ও শামীম ওসমান একসঙ্গে রাইফেল ক্লাবে আছেন। সেখানে গেলে শামীম ওসমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘নূর হোসেন কখনোই নজরুলকে হত্যা করতে পারেন না।’এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম ওসমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নজরুল ও নূর হোসেন দুজনেই আমার কর্মী ছিল। আমি কখনোই ভাবিনি, নূর হোসেন এভাবে অপহরণ করে হত্যা করতে পারে। নজরুল কিছুদিন আগে আমার কাছে এসে জানিয়েছিল, তাকে মেরে ফেলা হবে। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সবাইকে বলে দিয়েছিলাম। সর্বশেষ মামলার হাজিরা দিতে কোর্টে আসার আগে আমার সঙ্গে নজরুল দেখা করতে এসেছিল। আমি তখন তার জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য আইনজীবী আনিসুর রহমানকে বলে দিই। আমি তাকে বলেছিলাম, একা চলাফেরা কোরো না। পাঁচ-ছয়জন লোক নিয়ে থেকো। আমি ভেবেছিলাম, বেশি লোকজন থাকলে কেউ তার কিছু করতে পারবে না। কিন্তু তার পরও তাকে মেরে ফেলা হলো।’

 

ঘটনার পরপরই নজরুলের পরিবার নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও আপনি নূর হোসেনের পক্ষ নিয়েছিলেন। জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, নূর হোসেন সর্বোচ্চ হাতাহাতি করতে পারে। কিন্তু সে যে এভাবে নজরুলকে মেরে ফেলবে, সেটা আমি বুঝতে পারিনি।’

সুত্রঃ প্রথম আলো “”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কার্যকলাপ হতে এটা বুঝা যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই  হত্যা সম্পর্কে সরাসরি অবহিত, ঘটনার ৬/৭ দিন পর হত্যা কারীর বাসায় তল্লাশি, একজন সন্ত্রাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে কতিপয় বাহিনীর সদস্যকে অভিযুক্ত করন এবং তদন্ত কমিটি ঘটন, এই অবিচারী এবং হিংস্র রাষ্ট্রের সাধারন চরিত্র। এখানে একটি নামমাত্র তদন্ত কমিটি গঠনই রাষ্ট্রের দায় দায়িত্ত্বের শেষ।

এটাই কি উত্থান আর পতনের ধারিবাহিকতা , এটা কি চলবে?

 

উত্তর হ্যাঁ।

চাঁদাবাজি, খুন, সন্ত্রাস, অন্যের সম্পদ লুটপাট ইত্যাদি কাজে সহায়তা করা চামচা দের এটাই পরিনতি। গডফাদার এবং সন্ত্রাসী দলের নির্বাচিত নির্বাহী সবাই এই চেলাদের দুরবলতা জানেন। এদের জনসংস্লিটতা নেই। এদের খারাপ কাজ এদেরই, টুকটাক ভালো কাজের সাফল্য গদফাদার দের।  নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি এবং বল প্রয়োগের মাধ্যমে এরা সাময়িক জনপ্রতিনিধি হন, তাও গডফাদার জানেন, তাই দুনিয়া থেকে তাদের সরিয়ে দেয়া ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ সৃষ্টি করে না তার জন্য। আদালত গডফাদার দের কাজের প্রমান পায় না, এই চেলাদেরই মাঝে মধ্যে ধরে। তাই তারাও আদালতে যায় না। তাই এই নিয়তি একমুখী।

এই হিংস্র গল্প ক্ষমতাবলয়ের অবাধ্য লোকের নিয়তির। এবার বলি সাধারনের কথা। ব্যাক্তি নাগরিকের হত্যার  পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে পড়ার বা ভিতর থেকে তা বের করে আনার লোক এই রাষ্ট্র কাঠামোতে নেই। তার নেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক্সেস, তার নেই প্রতাপশালী গডফাদার। তার নেই রাষ্ট্রের নির্বাহীর কার্যকর চ্যানেল যার মাধ্যমে ” ইউদিন টেন মিনিটস” অপহরনের খবর পৌঁছে যাবে। অর্থাৎ তার ভাগ্য নির্ধারিত। তাকে ক্ষমতার স্বার্থে কাজ করতে হবে, উপার্জিত কিংবা উত্তরাধিকারের ব্যক্তি সম্পদের ভাগ বন্টন শেয়ার করতে হবে। ভুল করে হলেও অন্যের অপকর্ম দেখে ফেলা যাবে না, আড়িপাতা তো দুরের কথা। ব্যাত্যয় হলে তার প্রান যাবে। সাধারনের নিরাপত্তা এই সমাজে ক্ষমতার কৃপা।

ব্যক্তি নাগরিকে প্রানে বেঁচে থাকতে হলে হয়-  ক্ষমতার স্বার্থে তার সব কাজ, পরিকল্পনা, সম্পদ এবং সহায় নিবেদিত করতে হবে। চাহিবা মাত্র চাঁদা দিতে হবে।

খুন, গুম, অপহরন, ঘুষ, টেন্ডার ইত্যাদিতে অংশগ্রহন করা সন্ত্রাসীর পদচিহ্ন জ্ঞাতে কিংবা অজ্ঞাতে ফলো করা যাবে না। অগত্যায় সম্পদ চলে আসলে, সন্ত্রাসের ব্যাপার যেনে ফেললে নিজের যান হাতে নিয়ে থাকতে হবে, রাষ্ট্র তার মন্ত্রী, সাংসদ কে জানানো যাবে না। ক্ষমতাবলয়ের সব, সব কাজ কর্ম সমর্থন করতে হবে।

নতুবা  জ্ঞাতে এবং অজ্ঞাতে, ইচ্ছায় এবং অনিচ্ছায় মানুষেরই অপকর্মে ডুবে যাওয়া সমাজে সাধারনের একমাত্র গন্তব্য প্রতিপালকের কাছে আত্মসমর্পণ আর ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ-দেশ সংস্কার/সংশোধন এর প্রানান্ত চেষ্টা।   স্রষ্টার কাছে কৃপা চেয়ে প্রান হাতে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিপ্লব করতে হবে, সমাজকে জাগ্রত করতে হবে, মানুষ কে ঘরে ঘরে গিয়ে বুঝাতে হবে, সুশাসন, মানবাধিকার আর ন্যায়বিচার প্রঠিস্থার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। সুশাসন আর ন্যায় বিচার এমনি এমনি আসবে না, অনেক অনেক ত্যাগ করতে হবে এর জন্য।

সমাজের প্রতি স্তরে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার নিয়মতান্ত্রিক বিপ্লব করতে হবে। নিজে দুর্নীতি মুক্ত, লোভ মুক্ত, সৎ এবং  সাধারণ জীবন যাপন করতে হবে, সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে। চোর, প্রতারক, সুদখোর, ঘুষখোর নিজ দলের হলেও তাকে নসিহত এবং প্রয়োজনে প্রতিহত করতে হবে।

”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

 

বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার নিকট,

 

মানুষের অধিপতির নিকট, মানুষের মা’বুদের নিকট।

 

সুরা আন-নাস, আয়াত:১-৩

 

আল কুরআন

‘‘তোমরা সর্বোত্তম জাতি, তোমদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করবে।”

সূরা আলে ইমরান: আয়াত:১১০

 

আল কুরআন

”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

আমায় ভাসাইলিরে, . আমায় ডুবাইলিরে

Bu Watchdog Bd

ওরা মারে, ওরা মরে…ওরা শীতলক্ষ্যার পানিতে ভাসে!

সিদ্ধিরগঞ্জ। আর দশটা জনপদের মত বাংলাদেশের আরও একটা জনপদ। পালাবদলের সাথে এখানেও বদল হয় ভগবানদের চেহারা। সাথে বদল হয় তাদের দোসর থানা পুলিশ, এসপি, ডিসি, আইন, আদালত ও বিচারক। রাষ্ট্র ও সরকারের সর্বোচ্চ পদে বসে অপরাধ ও অপরাধীদের লালন করার অভয়ারণ্য আমাদের জন্মভূমি। এখানে দস্যুবৃত্তির মাধ্যমে যেমন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করা যায়, তেমনি ক্ষমতার ছত্রছায়ায় প্রতিপক্ষকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে পোক্ত করা যায় লুটে পাওয়া সে ক্ষমতা। সিদ্বিরগঞ্জও এর বাইরে নয়। এখানেও ভগবান আছেন। তারা নিরাকার। খালি চোখে দেখা যায়না। কেবল ঘাড়ের কাছে তাদের নিশ্বাস অনুভব করা যায়। শিমরাইল টেক পাড়া এলাকার মৃত হাজি বদরুদ্দিনের ছেলে নুর হোসেন। কর্মজীবন শুরু করেন সিদ্ধিরগঞ্জ ইকবাল ট্রাক গ্রুপের হেল্পার হিসাবে। ১৯৮৯ সালে একই এলাকার ট্রাক চালক ও হেল্পার ইউনিয়নের নেতা বনে যান গায়ের জোর। ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাক চালক দাইমুদ্দিনকে উচ্ছেদ করে দখল নেন ইউনিয়নের এবং ক্ষমতাসীন দল জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে পোক্ত করে নেনে অবৈধ দখল। ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নাম লেখান বিএনপির রাজনীতিতে। ক্ষমতার সিঁড়ি টপকানোর শুরুটা হয় এখানেই। এরপর তরতর করে পদানত করেন ইউপি চেয়ারম্যানের মসনদ। ’৯৬ সালে জয়ী হন দ্বিতীয় টার্মেও। বিএনপি ছেড়ে হাত মেলান শামীম ওসমানের সাথে। বনে যান আওয়ামী নেতা। ২০০২ সাল পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় শিমরাইল মোড়ে গড়ে তোলেন চাঁদাবাজীর সিন্ডিকেট। ভগবানের চরণে নিয়মিত পূজা দিয়ে আবিস্কার করতে থাকেন সম্পদ আহরণের নতুন নতুন দিগন্ত। পরবর্তী স্টপেজ নারায়ণগঞ্জ ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ। ক্ষমতার সিঁড়ি বাংলাদেশে কখনোই মসৃণ হয়না। নুর হোসেনের বেলায়ও ব্যতিক্রম হয়নি। নজরুল ইসলাম একই এলাকার বাসিন্দা এবং ক্ষমতার সিঁড়ি টপকানোতে নুর হোসেনের প্রবল প্রতিপক্ষ। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে গিয়ে থামতে হয় নজরুল ইসলামকে। নুর হোসেনের সাথে নজরুল ইসলামের রেশারেশি ক্ষমতার রুটি হালুয়া নিয়ে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক সিন্ডিকেট, বেশ্যালয় সহ শত শত অবৈধ ব্যবসার মালিকানা নিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী লড়াই। ১৭ বছর একনাগাড়ে চলতে থাকে এ লড়াই।

10339700_10203944204584954_4392159966178853964_n

১৯৯৭ সালের ১৭ই জুলাই। মাগরিব নামাজের পর মিজমিজি চৌধুরী পাড়া এলাকায় নজরুলের ক্যাডারদের হাতে খুন হন সাইফুদ্দিন নামের এক ভদ্রলোক। পরে বের হয় ভুল টার্গেট ছিল এই সাইফুদ্দিন। নামের গোলমালে প্রাণ দিয়ে হয় তাকে। ২০০০ সালের ১৭ই আগষ্ট। নুর হোসেনের সমর্থক জহিরুল ইসলাম নামের এক সব্জি বিক্রেতা নির্বাচনী পোস্টার লাগানোর দায়িত্ব পালন করছিলেন। নজরুলের উপস্থিতিতে তার ক্যাডাররা খুন করে জহিরুল ইসলামকে। এর প্রতিদান ফিরিয়ে দিতে দেরি করেনি নুর হোসেন। তার ক্যাডাররা ১লা অক্টোবর স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে ঢুকে খুন করে নজরুলের সমর্থক যুবলীগ নেতা আবদুল মতিনকে। তারও আগে ১৯৯৬ সালে শিমরাইল মোড়ে নিহত হন আওয়ামী লীগ কর্মী আলী হোসেন। নুর হোসেনকে আসামী করা হলেও ভগবানের হাত ধরে অব্যাহতি পান মামলা হতে। নজরুলে ক্যাডার শিপন, রনি ও ফারুখ ২০০১ সালের ৩১শে মার্চ শিল্পী নামের এক তরুনীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। তার অপরাধ, বিয়ের প্রস্তাবে অনিচ্ছা প্রকাশ। ২০০০ সালের ৩রা মার্চ ধানমন্ডির ১৫ নং সড়কের ১৬নং বাড়িতে খুন হন এডভোকেট বাবর এলাহি। তদন্তে প্রকাশ পায় নজরুল ভাড়াটে খুনি দিয়ে খুন করায় তাকে। খুনের মূল্য ছিল ৫ লাখ টাকা। দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল ২০০৪ সালে নজরুলকে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করে। পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পালিয়ে যান এই নেতা। এবং ফিরে আসেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার বছর। হাইকমান্ডের নির্দেশে হাইকোর্টের আওয়ামী বিচারকগণের হাত ধরে খালাস পান খুনের মামলা হতে। ২০০৯ সালের ১৩ই অক্টোবর মিজমিজি পূর্বপাড়ার নিজ বাড়ির সামনে খুন হন বাংলাদেশ চুন প্রস্তুতকারক সমিতির সহ-সভাপতি জনাব আবু তালেব। তদন্তে পাওয়া যায় নজরুলের সংশ্লিষ্টতা।

২০১৪ সালের ৩০শে এপ্রিল। বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকা। এলাকার বুক চিড়ে বহমান শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ভাসমান কটা লাশ দেখে উৎসুক হয়ে উঠে স্থানীয় জনগণ। খবর দেয় স্থানীয় পুলিশকে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খবর দেয় আত্মীয়দের। লাশের মিছিলে খুঁজে পাওয়া যায় নজরুলের লাশ। সনাক্ত করেন তার স্ত্রী। অবশ্য ততদিনে নজরুলের পরিচয়ে কিছু উপাধি যুক্ত হয়ে হয়ে গেছে; যেমন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল চেয়ারম্যান। প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুলকে একা ভাসতে দেখা যায়নি শীতলক্ষ্যা নদীর ঠান্ডা পানিতে। সাথে ছিল তার তিন সহযোগী। সাথে কো-ল্যাটারাল ড্যামেজ হিসাবে প্রাণ হারায় এক এডভোকেট ও তার ড্রাইভার। তাদের অপরাধ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে সাংবাদিক সাগর-রুনির মত তারাও স্বাক্ষী হয়েছিল ভগবানদের বড় কোন অপরাধের।

পাঠক, এবার আসুন নজরুল ও নুর হোসেনদের কাপড় খুলে উন্মোচন করি তাদের লজ্জাশীন অঙ্গ সমূহ। অনেকের মত নজরুল-নুর গংদের জন্ম ক্ষমতার ঘরজামাই, বিশ্ব বেশ্যা সমিতির আজীবন চেয়ারম্যান জনাব হোমো এরশাদের জরায়ুতে। বেশ্যা ভোগের মত বেগম জিয়ার বাহিনীও ভোগ করে গেছে তাদের সার্ভিস। লগিবৈঠা বাহিনীর প্রধান ও ক্ষমতার জারজ কন্যা শেখ হাসিনা কেবল উপভোগই করেই ক্ষান্ত হননি, বরং জাতির গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন পচনশীল মহামারী হিসাবে। দেশের উচ্চ আদালতে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডার কাম বিচারকরাও বাইরে থাকেননি এ সিন্ডিকেটের। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়ে প্রমান করেছেন তারাও ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট খোর। চেতনার যোনিপথে ফিল্টার লাগিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধের সাথে সহবাস করছেন তাদের হীমশীতল নীরবতা এসব দানবদের উত্থানে ফার্টিলাইজার হিসাবে কাজ করেছে মাত্র। যে দেশে সরকার তার নাগরিকদের রাতের অন্ধকারে খুন করে ক্ষমতার পথ মসৃণ করার জন্য, সে দেশে নুর হোসেন তথা শামীম ওসমানরা নজরুল গংদের শীতলক্ষ্যার গভীর পানিতে সমাহিত করবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের বাতাসে এখন লাশের গন্ধ। এ গন্ধ বিচ্ছিন্ন কোন গন্ধ নয়। বরং এ গন্ধের মাথা আছে, মগজ আছে, হাত-পা আছে। গন্ধের সূত্র চাইলে তা শীতলক্ষ্যার গভীর পানিতে নয়, বরং সন্ধান করতে হবে ভগবানদের দরবারে।
http://www.amibangladeshi.org/blog/05-01-2014/1455.html

Islamophobia is no Cry Wolf (A compilation)

In a huffingtonpost article, “The Phobia of Being Called Islamophobic” (28/4/14) by Ali A. Rizvi a Pakistani-Canadian writer is saying that Muslims in the west are using Islamophobia label to suppress genuine criticism of Muslims and Islam. He is saying that just as powerful Jewish groups have suppressed objective criticism of Israel’s policy and practice by the Anti-Semitic label in the past decades, Muslim groups in the west are now seeking to quash all criticism of Islam and Muslims. In Author’s own words

 

“In addition to calling out prejudice against Muslims (a people), the term “Islamophobia” seeks to shield Islam itself (an ideology) from criticism. It’s as if every time you said smoking was a filthy habit, you were perceived to be calling all smokers filthy people. Human beings have rights and are entitled to respect. But when did we start extending those rights to ideas, books, and beliefs? You’d think the difference would be clear, but it isn’t. The ploy has worked over and over again, and now everyone seems petrified of being tagged with this label.

The phobia of being called “Islamophobic” is on the rise — and it’s becoming much more rampant, powerful, and dangerous than Islamophobia itself.”

(http://www.huffingtonpost.com/ali-a-rizvi/the-phobia-of-being-calle_b_5215218.html)

The main example the author puts in the article is a recent, much publicized episode about Brandeis University and Ayaan Hirsi Ali. (Those who are not familiar with Ayaan Hirsi Ali should please look her up in Wikipedia). The latest controversy began when Brandeis  University, a well-known Liberal US university known for its progressive Jewish roots, decided to confer honorary Doctorate to Ayann Hirsi Ali and few other noted personalities.

The decision immediately drew widespread condemnation from different groups, some of them Islamic, because of Ms Ali’s widely known anti-Islamic views. Bloggers and students took the initiative in protesting the decision of Brandeis  University and then Muslim advocacy groups joined them.  Council on American-Islamic Relations contacted its members though email and social media, and urging them to complain to the university. Ibrahim Hooper, a spokesman for CAIR said “She is one of the worst of the worst of the Islam haters in America, not only in America but worldwide. I don’t assign any ill will to Brandeis. I think they just kind of got fooled a little bit.”

(http://www.nytimes.com/2014/04/09/us/brandeis-cancels-plan-to-give-honorary-degree-to-ayaan-hirsi-ali-a-critic-of-islam.html)

Even the faculty of Brandeis  University joined the protest. In a publicized open letter signed by many of them, they said,

Dear President Lawrence,

We are writing to urge you to rescind immediately the invitation to Ms. Ayaan Hirsi Ali for an honorary doctorate, a decision about which we are shocked and dismayed, owing to her virulently anti-Muslim public statements. 

A few of many examples will suffice. David Cohen quotes Ms. Hirsi Ali as saying: “Violence is inherent in Islam – it’s a destructive, nihilistic cult of death. It legitimates murder. The police may foil plots and freeze bank accounts in the short term, but the battle against terrorism will ultimately be lost unless we realise that it’s not just with extremist elements within Islam, but the ideology of Islam itself….Islam is the new fascism” (LondonEvening Standard, 2-7-07).

We are filled with shame at the suggestion that the above-quoted sentiments express Brandeis’s values.

We are saddened that Brandeis would choose to honor such a divisive individual at commencement, a moment of unity for the Brandeis community.  Her presence threatens to bring unnecessary controversy to an event that should rightly be about celebrating Brandeis’ graduates and their families. 

The selection of Ms. Hirsi Ali further suggests to the public that violence toward girls and women is particular to Islam or the Two-Thirds World, thereby obscuring such violence in our midst among non-Muslims, including on our own campus. It also obscures the hard work on the ground by committed Muslim feminist and other progressive Muslim activists and scholars, who find support for gender and other equality within the Muslim tradition and are effective at achieving it. We cannot accept Ms. Hirsi Ali’s triumphalist narrative of western civilization, rooted in a core belief of the cultural backwardness of non-western peoples.”

(http://www.truthrevolt.org/news/revealed-brandeis-faculty-letter-pressured-president-drop-hirsi-ali)

Faced with such diverse criticism,Brandeis  University withdrew the decision to confer PHD to Ayaan Hirsi Ali. Its statement said, “We cannot overlook that certain of her past statements are inconsistent with Brandeis University’s core values. Ms. Hirsi Ali is welcome to join us on campus in the future to engage in a dialogue. Universities consider it important to make a distinction between inviting a speaker who may air unpopular or provocative views that the institution does not endorse, and awarding an honorary degree, which is more akin to affirming the body of a recipient’s work.”

Immediately after Brandeis  made this decision to withdraw, the right wing and anti-Islam dedia in USA erupted in furious condemnation. A sample of their view of the matter.

“conservative media figures have rushed to defend Hirsi Ali, some using her life experience to explain away her Islamophobic comments. Weekly Standard editor Bill Kristol called the move an “example of a war on women” and argued that the university had “caved to Muslim thugs.” Fox News’ Sean Hannity said the university’s decision was an “example of left-wing appeasement.” On April 10, Fox contributor Monica Crowley asked, “Where are the moderate Muslims? Where are people who, like Ali, have left the faith and are willing to courageously speak about it? And yet when somebody does show the guts and gets out there to do it, this is how they’re treated?”

(http://mediamatters.org/blog/2014/04/11/why-aayan-hirsi-ali-gets-a-conservative-media-s/198856)

This view of ‘Muslim thugs’ using Islamophobia label to stop debate and discussion of Islam is the main topic of the article I first mentioned. Reading the article in the morning, I got reminded of the famous Aesop story of ‘Cry Wolf’, how the boy cried wolf when the wolf is not there. But the problem is that often the wolf is really there, waiting to devour the herd of sheep. One can easily find lots of example of Ayaan Hirsi Ali’s deeply prejudiced and hateful words against Islam and Muslims. Just a small sample here would suffice.

In An interview with Reason magazine in 2007 is where she elaborated her view on Islam most clearly.

Reason: Should we acknowledge that organized religion has sometimes sparked precisely the kinds of emancipation movements that could lift Islam into modern times? Slavery in the United States ended in part because of opposition by prominent church members and the communities they galvanized. The Polish Catholic Church helped defeat the Jaruzelski puppet regime. Do you think Islam could bring about similar social and political changes?

Hirsi Ali: Only if Islam is defeated. Because right now, the political side of Islam, the power-hungry expansionist side of Islam, has become superior to the Sufis and the Ismailis and the peace-seeking Muslims.

Reason: Don’t you mean defeating radical Islam?

Hirsi Ali: No. Islam, period. Once it’s defeated, it can mutate into something peaceful. It’s very difficult to even talk about peace now. They’re not interested in peace.

Reason: We have to crush the world’s 1.5 billion Muslims under our boot? In concrete terms, what does that mean, “defeat Islam”?

Hirsi Ali: I think that we are at war with Islam. And there’s no middle ground in wars. Islam can be defeated in many ways. For starters, you stop the spread of the ideology itself; at present, there are native Westerners converting to Islam, and they’re the most fanatical sometimes. There is infiltration of Islam in the schools and universities of the West. You stop that. You stop the symbol burning and the effigy burning, and you look them in the eye and flex your muscles and you say, “This is a warning. We won’t accept this anymore.” There comes a moment when you crush your enemy.

Reason: Militarily?

Hirsi Ali: In all forms, and if you don’t do that, then you have to live with the consequence of being crushed.

 

Reason: In Holland, you wanted to introduce a special permit system for Islamic schools, correct?

Hirsi Ali: I wanted to get rid of them. I wanted to have them all closed, but my party said it wouldn’t fly. Top people in the party privately expressed that they agreed with me, but said, “We won’t get a majority to do that,” so it never went anywhere.

Reason: Well, your proposal went against Article 23 of the Dutch Constitution, which guarantees that religious movements may teach children in religious schools and says the government must pay for this if minimum standards are met. So it couldn’t be done. Would you in fact advocate that again?

Hirsi Ali: Oh, yeah.

Reason: Here in the United States, you’d advocate the abolition of—

Hirsi Ali: All Muslim schools. Close them down. Yeah, that sounds absolutist. I think 10 years ago things were different, but now the jihadi genie is out of the bottle. I’ve been saying this in Australia and in the U.K. and so on, and I get exactly the same arguments: The Constitution doesn’t allow it. But we need to ask where these constitutions came from to start with—what’s the history of Article 23 in the Netherlands, for instance? There were no Muslim schools when the constitution was written. There were no jihadists. They had no idea.

 

(http://reason.com/archives/2007/10/10/the-trouble-is-the-west/singlepage)

 

We all know of the Norwegian Islamophobe Anders Brevik who killed 80 young kids and adults because he felt Europe was silently falling under Muslim domination. Ayaan Hisri Ali was an inspiration for Brevik. Hirsi Ali later in a speech said that she should not be blamed for Brevik’s hate crime but the culture of silence about true nature of Islam.

 

[T]hat one man who killed 77 people in Norway, because he fears that Europe will be overrun by Islam, may have cited the work of those who speak and write against political Islam in Europe and America – myself among them – but he does not say in his 1500 page manifesto that it was these people who inspired him to kill. He says very clearly that it was the advocates of silence. Because all outlets to express his views were censored, he says, he had no other choice but to use violence.”

(http://www.loonwatch.com/2012/05/ayaan-hirsi-ali-sympathizes-with-terrorist-anders-behring-breivik/)

We can really see that sometimes Islamophobe label is very appropriate. People like Ayaan Hirsi Ali promote hatred and intolerance that should not be awarded recognition in a democratic society. But the most important take in this episode is how Islamophobia has fallen from fashion to stigma in US public life. 8-10 years ago, Ayaan Hirsi Ali’s views would have been mainstream and Muslim groups would not dare to be very vocal against such bigotry. If if they protested, their protest would have been drowned by a flood of anti-Islam rhetoric from the right and the left. But the world has changed and particularly America. Muslims and Islam are increasingly seen as essential part of American life.

A blog post in Economist magazine perhaps gives the best verdict of the latest Ayaan Hirsi Ali brouhaha from a detached point of view.

“ In deciding to rescind its offer of an honorary degree to her, Brandeis was in part drawing a line between the kind of discourse on religion that is acceptable in mainstream American intellectual life, and the kind that has arisen over the past decade and a half in the Netherlands. The university was not silencing Ms Hirsi Ali; it still invited her to come to the university to “engage in a dialogue”. As Isaac Chotiner puts it, the “controversy isn’t about shunning someone from polite society. It is about giving a person an honorary degree.” Asking Ms Hirsi Ali to speak to students at Brandeis is a great idea; giving her an honorary degree as part of graduation ceremonies suggests that Brandeis thinks calling for a war on Islam is an acceptable statement within the bounds of normal political and social discourse. The fact that such statements are not welcomed in American public discourse is one reason why the American model of integration and tolerance works better than the Dutch model, and why the Netherlands continues to be wracked by tensions over Islam and integration—years after those tensions forced Ms Hirsi Ali herself to leave.”

(http://www.economist.com/blogs/democracyinamerica/2014/04/ayaan-hirsi-ali)

প্রতিবাদ। গুম, গুলি, অপহরন সংস্কৃতি। সামাজিক ও নাগরিক প্রঠিস্থান এর দায়বদ্ধতা!

2
by ফয়েজ তৈয়্যব
বিগত অর্ধ দশকে রাজনীতিবিদদের গুমের সংস্কৃতি বেশ জমজমাট অথবা ভায়াবহ আকার ধারন করেছে। সেই সাথে প্রায় এক যুগ থেকে নিয়মিত বা অনিয়মিত বিরতিতে ক্রমবর্ধমান হারে র‍্যাবের তথাকথিত ক্রসফায়ার চলছেই। যুক্ত হয়েছে পুলিশেরও এঙ্কাউন্টার। সম্ভভত বিজিবি এই ধারায় এনলিস্টেড হবার অপেক্ষায়!
এই সময়ে আমরা দেখেছি জামাতিদের মিছিলে নির্বিচার গুলির মহাসমারোহ। বিশেষভাবে মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পরবর্তীতে। আমাদেরকে বলা হয়েছিল শিবির বা জামাতিরা রাজাকার তাইদেশে থাকার অধিকার রাখে না, তাই তাদের উপর নির্বিচার গুলি চালানো বৈধ। (ঠিক এই মুহূর্তে সেই বৈধতা বহাল কিনা সংশয়ে আছি, তবে সময়ে যে হয়ে যাবে সে ব্যাপারে আমি নিঃসংশয়!)। আত্মরক্ষার নামে যে কোন আমলে বিরোধী দের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির বটিকা তো আছেই। একদিনে তাই দেশে যুদ্ধাবস্থা ছাড়াই সভ্য দেশে শতাধিক লোক নিহত হতে পারে।
রাজনৈতির মাঠে শক্তি প্রদর্শনে আপাত পরাজিত দল বিএনপি এই দশকে গুম ও অপহরন উভয়ের নির্মম শিকার বলা চলে। প্রথমে বিএনপি নিজেদের কিছু অবাধ্য নেতা কে নিজেরাই সিলেক্টেড ক্রসফায়ার করেছিল যার জন্য তারা সমাজে প্রশংসিতও হয়েছিল। (বলা হয়ে থাকে এটা ক্ষমতা আর আধিপত্যের রক্তক্ষয়ী রাজনীতিতে তাদেরকে দুর্বল করেছে )। সেই সাথে ছিল অন্যান্ন দলের সন্ত্রাসীদের ও ক্রসফায়ার। দ্বিতীয় ধাপ আওয়ামীলীগ শুরু করে, এটা একটা একমুখী গুম এবং গুলি চালানোর সরল প্রশিক্ষণ। সম্ভভত চৌধুরী আলম কে দিয়ে এই ব্যাপক হত্যা যজ্ঞের রাজনৈতিক প্লটের সুত্রপাত। এর মাত্র দুটি পর্যায়। হয় গুম ফোলোড বাই নদীতে লাশ ভেশে উঠা, নয়ত ক্রসফায়ার।  অবশ্য মুক্তিপণ আদায়ে দেশে ব্যবসায়িক অপহরনের সামান্য চল ছিল আগেই থেকেই। বিএনপি নেতা জামালুদ্দীন তাঁর প্রমান।
আওয়ামী গডফাদার কেন্দ্রিক সন্ত্রাসের ব্যাপক বিস্তারের প্রেক্ষাপটে বিএনপি আমলে সৃষ্ট এলিট ফোর্স র‍্যাব ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় কিছু চাঞ্চ্যল্লকর ঘটনায়  বিএনপি  সহ  প্রায় সব দলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী হাত্যার মাধ্যমে। মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা এতটাই নাজুক ছিল যে দেশের নাগরিক এবং দেশে অবস্থানরত ভিনদেশী সবাই এই এলিট ফোর্স এর কর্মকাণ্ড কে স্বাগত জানিয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে আমরা উতফুল্ল ছিলাম। অন্যতম একটা উদাহরণ ছিল নাঃগঞ্জের জুবদল নেতা ডেভিড হত্যা। পরিবহন খাত বন্ধন প্রাইভেট লিমিডেট নামক পরিবহন ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রক জেলার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিড র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়।রাজপথে তাঁর লাশ নগর জীবনে স্বস্তি এলে দিয়েছিল। এই অসামান্য ঘটনা আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণে ব্যাপক তাৎপর্য মন্ডিত।
অর্থাৎ আমাদের এমন এক সমাজ যেখানে আমরা বিনা বিচারে হত্যা কে জেনে বুঝে সমর্থন করছি বা করতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু দেশের বাইরে বিনা বিচারে হত্যা নিয়ে সকল মহল অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, কারন আধুনিক সমাজে এটা চুড়ান্ত অসভ্যতা।
এইসব বিনা বিচার হত্যার সমর্থনের যায়গা গুলো অত্যন্ত নাজুক যা আক্রান্ত ব্যক্তি, তার পরিবার, সংশ্লিষ্ট এলাকা  কিংবা জাতীয় পর্যায়েরও হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশেষ দলের ব্যক্তি সমর্থন তাঁর দল কর্তৃক বিনা বিচার হত্যার সমর্থনের প্লট তৈরি করে দেয়।
সরল বিশ্বাসে বলা যায়, অধিকাংশ রাজনীতিবিদই ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতি গ্রস্ত, গরীব আর রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠনকারী এবং প্রতারক হবার কারনে তাদের এই অপমৃত্যু অনেক মানুষকে ভাবায় না। বিশেষ ভাবে বলা চলে সরকারী দলের সরব বা মৌন সমর্থক রা এতে যার পর নাই উতফুল্ল হয়। উল্লেখ্য যে দুঃশাসন এর শৃঙ্খলে বন্ধী দেশে নাগরিক সমাজের শিক্ষিত একাংশ সবসময়য়েই ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভোগী হয়ে থাকে। তারা এইসময় মৌনতা অবলম্বন করেন।
এই উভয় ধারাই দুরব্রিত্তয়ায়িত রাজনীতিতে বিরোধী মত দমন এবং ন্যায় ও সত্য চর্চার বিকাশে ব্যাপক প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়া করায়। অর্থাৎ প্রথমে আঘাত আসে ক্ষমতার প্রতিপক্ষের উপর। পরবর্তী পর্যায়ে আসে নাগরিক সমাজের সেই অংশের উপর যারা সত্যিকার ভাবে দুর্নীতির বিরোধিতা করে, সুশাসনের কথা বলে, চুরি ঠেকানোর কথা বলে কিংবা রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনা চলা বা রাষ্ট্রীয় প্রঠিস্থানের ক্ষমতায়নের কথা বলে অথবা ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলে। এই দ্বিতীয় স্তরের আঘাতেই আসলে দেশ আর তাঁর স্বায়তসাশিত সঙ্ঘঠন সমুহু বিলীন হতে থেকে। বাংলাদেশে এই ধারা ১৯৭২ ই শুরু হয়। পরবর্তী প্রতিটি সরকার একে বেগবান করেছে। বর্তমান আমলে ইহা মহামারীর এক ভয়ঙ্কর বিপর্যস্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নাগরিক সমাজ এই অপশাসনের প্রতিবাদ বিরোধী দলের কাছে আশা করে, কিন্তু চারিত্রিক সংঘর্ষ না থাকায় বিরোধীরা দুর্নীতি ও প্রাঠিস্থানিক ধ্বংস সাধনের এই কর্মকাণ্ডে মৌনতা দেখায়। শুধুমাত্র লাভের যায়গাটি ব্যতিরেকে।  কিন্তু কাউকে না কাউকে প্রতিবাদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব না নিলে একটি রাষ্ট্র সফল টিকে থাকে না। অর্থাৎ গরীবের আর্থিক মুক্তি আর সামাজিক নিরাপত্তার রাষ্ট্রীয় লক্ষ বহাল থাকে না। থাকে শুধু ধনী আর ক্ষমতাসীন তোষণের একটা অন্যায় আর অবিচারী ব্যবস্থা। বাংলাদেশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও যাতনাদায়ক পথে অগ্রসরমান।
রাজনৈতিক দল সমুহের কে বা কারা দুর্নীতি, অপশাসন, লুটপাটের বর্তমান সুবিধাভগী বা কারা অতিত সুবিধা ভোগী ছিল, সেই চরিত্র নির্ণয়ের পাসাপাশি আমাদেরকে আমাদের রাষ্ট্রের অঙ্গ প্রঠিস্থানের চরিত্র নির্ণয় করতে হবে। যাতে করে একটি প্রঠিস্থানিক সত্ত্বা বিদ্যমান থাকে  যা নাগরিক ও তার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কে সুরক্ষা দিবে।
উদাহরণ স্বরূপ বর্তমান ও সাবেক আমলে যাওয়া কিছু অঘটন আলোচনায় আনবো।
এই আমলে রাষ্ট্রের একাধিক আর্থিক প্রথিস্থান এ যার পর নাই লুটপাট হয়েছে (শেয়ার বাজার, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক), আদালত কে তাঁর মৌলিক বিচারকি কাজে বিরত রেখে রাজনৈতিক  সমস্যা সমাধানে ব্যাস্ত রাখা হয়েছে,
কৃষি পণ্য পরিবহন এর চেইন নষ্ট করা হয়েছে,
দৃষ্টিকটু ভারত তোষণে নদী ও নদীর পানির জলাঞ্জলি দেয়া হয়েছে,
ভারতকে ফ্রি সড়ক, নৌ ট্রানজিট দেয়ার পরিকল্পনা হয়েছে,
টেলি ট্রানজিট দেয়া হয়েছে,
বিদ্যুৎ ট্রানজিট দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে,
ব্যাপক হারে প্রশ্ন ফাঁস করে পাশের হারের ব্যাপকতা বাড়ানো হয়েছে,
ঘোষণা দিয়ে সরকারী নিয়োগে দলীয়করন করা হয়েছে,
প্রসাশনে অপসন্দের কর্মকর্তা দের ও এস ডি করামকরত,
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আন্দলোনে আদালত পুলিশ আর দলীয় কর্মী দ্বারা  বাঁধা দেয়া হয়েছে
লজ্জাজনক ভাবে নির্বাচন কিমিশন কে দলীয় কার্যালয়ে পরিনত করা হয়েছে
দুর্নীতি দমন কমিশন কে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে
রাষ্ট্রের নির্বাহী ও তার পরিবার সরাসরি একটি সেতু বিষয়ক কেলেঙ্কারি তে জড়িয়ে দেশের অবকাঠামো খাতের সহনীয় ফান্ডিং হারিয়েছে
ডেস্টিনি বা অন্যান্য কো অপারাটিভ সমিতির যোগসাজশে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কারী দের মূলধন গায়েব করা হয়েছে। দলীয় ছাত্র সংঘটন এর দৌরাত্বে একাডেমিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট
অর্থ পাচার
ব্যক্তির অনুকুলে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ খাতের অতীব ব্যবহুল স্বল্প মেয়াদের প্রকল্প চালু
গুম সংস্কৃতির আবির্ভাব
অসম চুক্তি সাধন
জঙ্গী সংস্কৃতি কে রাজনৈতিক ফায়দার মোড়কে পুনর্বাসনের চেষ্টা
ইত্যাদি
পূর্ববর্তী সময়ের উল্লেখ যোগ্য অঘটনঃ
দুর্নীতির প্রাঠিস্থানিকি করন
সমান্তরাল প্রশাসন সৃষ্টি
অর্থ পাচার
কৃষক এর উপর গুলি
বিদ্যুৎ খাতে অবহেলা
ক্রসফায়ার
অসম চুক্তি
জঙ্গী সংস্কৃতি কে গুরুত্ব না দেয়া
ইত্যাদি ইত্যাদি
উপরের প্রত্যেকটি অঘটনের সাথে নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তায় আঘাত হানার ব্যাপার জড়িত। সেই সাথে আছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার সমস্যা তৈরির অদূরদর্শী ব্যাপার সমূহ।
তাই আজ যখন পরাজিত বিরোধীরা নাগরিক স্বার্থের অনুকুলে নেই বা অসমর্থ, তখন প্রয়োজন আমাদের চিন্তাশীল নাগরিক, নাগরিক সংঘটন, রাষ্ট্রীয় সংঘটন এর মিলিত শক্তি। আর এই পর্যায়ে আঘাত আসবে অরাজনৈতিকের উপর যারা কিনা সত্যিকারের নীতিবান, অথবা সেই সব সঙ্ঘঠন এর উপর যারা নাগরিকের স্বার্থ তার ভবিষ্যৎ, তার আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বলে, যারা সুশাসনের কথা বলে।
ফ্রেডরিক গুস্তাভ এমিল মার্টিন নাইমোলার এর বিখ্যাত কবিতা First They Came এর কিছু লাইন (অনুবাদ) দিয়ে শেষ করব। আমাদের জাতীয় জীবনে যেন সেই অবস্থা  আর সময় না হয়, যখন আমরা প্রতিবাদের চরিত্র দ্বন্দের ফাঁদে হারিয়ে ফেলব, যখন স্বম্ভিত ফিরে পাব তখন বড্ড দেরি হয়ে যাবে আর সেই সময় ব্যক্তির উপর নির্বিচার খড়্গ নেমে আসবে। এই আঘাত সম্মিলিত। ক্ষমতাসীন, তার উচ্ছিষ্ট ভোগী বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া, সাম্রাজ্যবাদী আর অর্থনৈতিক আগ্রাসী, দেশি বিদেশী কর্পোরেট সবাই ভিন্ন ভিন্ন বা সম্মিলিত ফ্রন্টে আঘাত হানবে।
গনতন্ত্রায়নের ২৫ বৎসর সব আমল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে পরখ করার পর আমাদের সব নাগরিকেরই মেনে নিতে হবে “সরকার তোমার বন্ধু নয়”। ক্ষমতা বলয় জনস্বার্থে কাজ করে না। সতরাং প্রতিবাদ ই বিকল্প।
First They Came  (অনুবাদ)
ফ্রেডরিক গুস্তাভ এমিল মার্টিন নাইমোলার
প্রথমে ওরা এলো কমিউনিস্টদের ধরতে, আমি প্রতিবাদ করিনি­
কেননা আমি কমিউনিস্ট ছিলাম না।
তারপর তারা সোস্যালিস্টদের ধরতে এসেছিল, আমি প্রতিবাদ করিনি­
কারণ আমি সোস্যালিস্ট ছিলাম না।
তারপর তারা এলো ট্রেড ইউনিস্টদের ধরতে, আমি প্রতিবাদ করিনি­
কারণ আমি ট্রেড ইউনিয়নপন্থী ছিলাম না।
তারপর তারা এলো ইহুদিদের ধরতে, আমি প্রতিবাদ করিনি­
কারণ আমি ইহুদি ছিলাম না।
তারপর ওরা আমাকে ধরতে এলো­
তখন আর আমার হয়ে প্রতিবাদ করার কেউ ছিল না।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সরকার: এদেশ – ওদেশ

1

শিবলী সোহায়েল

 

মোবাইলটা বেজে উঠতেই রিমি ফোন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ভাবল কোন ওভারসিস কল হবে। ফোনটা রিসিভ করেই বুঝল ঠিকই ধরেছে, রাজিতের কল। গাল ভরা হাসি নিয়ে রিমি বলল, কি খবর? অনেক দিন পর?

– হ্যাঁ অনেকদিন পর। আজ এখানে অস্ট্রেলিয়ায় হারমনি ডে মানে সম্প্রীতি দিবস তো তাই সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব বন্ধুদের ফোন করে খবরাখবর নিচ্ছি।

– ও তাই? তো তোমাদের এই সম্প্রীতি দিবস টা কি? প্রশ্নটা করেই রিমি ভাবল এবার শুরু হবে রাজিতের তত্ত্ব কথা। শুনতে অবশ্য খারাপ লাগেনা। জানা যায় বেশ কিছু আর নিজের ভাবনাগুলোও শেয়ার করা যায়।

রাজিত সোৎসাহে শুরু করল, প্রেমপ্রীতি ছাড়া যেমন সংসার টেকে না, তেমনি সম্প্রীতি ছাড়াও দেশ টেকে না। অস্ট্রেলিয়া তাই প্রতি বছর ২১ শে মার্চ পালন করে সম্প্রীতি দিবস। আদিবাসীরা ছাড়াও এখানে বসবাস করে পৃথিবীর কোনা-কাঞ্চি থেকে উড়ে আসা, ভেসে আসা হাজার ধর্মের, হাজার বর্ণের, বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষেরা। ভিন্নতা সত্ত্বেও সবাই যেন একে অপরকে শ্রদ্ধা করে মিলেমিশে থাকে সেটাই উদ্দেশ্য। এই দিন বাচ্চারা সবাই নিজ নিজ সংস্কৃতি অথবা ধর্মীয় পরিচয় বহন করে এমন পোশাক পড়ে স্কুলে যায় আর একসাথে গান ধরে-

“উই আর ওয়ান বাট উই আর মেনি

এন্ড ফ্রম অল দি ল্যান্ডস অন আর্থ উই কাম

উই শেয়ার এ ড্রিম এন্ড সিং উইথ ওয়ান ভয়েস

আই এম, ইউ আর, উই আর অস্ট্রেলিয়ান…”

আমার সাত বছরের মেয়েটাও যাচ্ছে টুকটুকে লাল শাড়ী পড়ে। তাও আবার কুঁচি দিয়ে না, ঐ যে গ্রামের মেয়েরা যেমন করে পড়েনা সেই রকম। ফুটফুটে লাগছে…

রাজিতের উৎসাহী কণ্ঠে তাল মিলিয়ে রিমি বলল, মজার তো। তোমাদের ওখানে তাহলে তো দেখছি সম্প্রীতিতে ভরপুর। কোন ক্যাচাল, কোন ঝগড়া-লড়াই নেই একদম?

– একেবারে যে নেই তা না। শতভাগ পারফেক্ট বলে কি দুনিয়ায় কিছু আছে? কোথাও কম কোথাও বেশী, এই যা। মানুষের কাজ হচ্ছে এই ক্যাচালগুলোকে কমিয়ে রাখা, ঝামেলাবাজদের দমিয়ে রাখা। আর এ ব্যাপারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে সরকার।

– সরকারের ভূমিকা? সে আবার কি রকম? আমাদের বাংলাদেশে তো এখন সরকারই ইস্যু তৈরি করছে, বিতর্ক উস্কে দিচ্ছে এমনকি ঢালিউডের সিনেমার কাহিনীও তৈরি করছে ।রেশমা নাটকের কথা তো নিশ্চয় শুনেছ?

রিমির প্রশ্নের জবাব না দিয়ে একটু তাত্ত্বিক ভঙ্গিতে বলে চলল রাজিত, সমাজে কিছু কিছু মানুষ থাকবেই যাদের কাজ হচ্ছে বিদ্বেষ ছড়ানো আর উস্কানি দেয়া। মিডিয়ার কাজ হচ্ছে এই উস্কানিকে উৎসাহ না দেওয়া। সরকারের কাজ হচ্ছে সতর্কতার সাথে বিষয়টাকে দমিয়ে দেয়া।

– তাঁর মানে কি ওখানেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্যাচাল লেগে যায়? রিমি জিজ্ঞেস করল।

– ওয়ান্স ইন এ ব্লু মুন। কালে ভদ্রে বলতে পার। যেমন ধর প্রায় বছর আটেক আগে ২০০৫ সালে ঘটেছিল একবার। সিডনীর ক্রনুলা নামে এক জায়গায়। দোষটা মূলত ছিল মাইগ্রেটেড মিডিল-ইস্টার্ন কিছু বখাটেদের। ওরা ক্রনুলা সমুদ্র সৈকতে ভলান্টারি লাইফ সেভার মেয়েদের উত্যক্ত করল। ঘটনার শুরু সেখান থেকেই। মেয়েগুলো ছিল ‘অসি’ (Aussie)।

– অসি?

images (2)

– হ্যাঁ ‘অসি’।কয়েক পুরুষ ধরে বসবাসকারী  ইউরোপিয়ানদেরকেই মূলত এরা ‘অসি’ (Aussie)   বলে। এই ঘটনায় ক্ষেপে গিয়ে এলাকার সব  অসিরা মিডিল-ইস্টার্ন  বখাটেদের শায়েস্তা করতে জোট বেধে রাস্তায় নেমে গেল। কিন্তু কিছু সাম্প্রদায়িক চেতনাবাজ অসিরা এই ক্যাচালকে কাজে লাগিয়ে শ্লোগান তুলল, “উই গ্রিউ হিয়ার, ইউ ফ্লিউ হিয়ার”।মানে হচ্ছে, “আমরা এখানে বেড়ে উঠেছি আর তোমরা এখানে উড়ে এসেছ”।স্লোগানটা বেশ নির্দোষ শোনালেও এখানে ধারাল বিদ্বেষের বিষ আছে। এটা এক নিমিষে জাতীকে বিভক্ত করতে পারে মাইগ্রেন্ট এবং নন-মাইগ্রেন্ট এই দুই ভাগে। এখানকার সরকার জানে যে এই চেতনার জোয়ার প্লাবিত হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে সারা দেশে। আর তাই মোটেও দেরি না করে চেতনাবাজ স্লোগান ধারিদের ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করলো দুদিনেই। যদিও শুরুটা হয়েছিল মিডিল-ইস্টার্ন বখাটেদের দোষে কিন্তু কিছু সাম্প্রদায়িক চেতনা ব্যবসায়ীদের কারণে মার খেতে হোল বেচারা অসিদেরকেই। এখানে সরকারের ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসা করার মত। ভোট ব্যাঙ্কের পরোয়া না করে সরকার দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব পালন করল।

-তো ঐ মিডিল ইস্টার্ন বখাটেদের কিছু হলো না?

-অবশ্যই, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

রিমি ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, হুম, মনে হচ্ছে বাংলাদেশেও সম্প্রীতি দিবসের আয়োজন করতে হবে, যা শুরু হয়েছে আজকাল। আগে কখনই এর প্রয়োজন হয়নি। আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তোমাদের অস্ট্রেলিয়ার চাইতেও ভাল ছিল। তাই দিবস টিবসের কখনো দরকার হয়নি।

– কি বলছ? উপমহাদেশের প্রায় সব কটা দেশেই তো সাম্প্রদায়িক সমস্যা মারাত্মক রকমের। অবাক কণ্ঠে বলল রাজিত।

– তা সত্যি, তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কিন্তু যথেষ্ট ভিন্ন। স্বাধীনতার পর থেকে উল্লেখ করার মত সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা পাবে মাত্র হাতে গোনা ৪ থেকে ৫ টি। এই ধর ১৯৯০ সালের ঘটনা, ২০১২ সালের রামুর ঘটনা, ২০১৩ সালের নভেম্বরে পাবনা ও বরিশালের ঘটনা এবং ২০১৪-র জানুয়ারিতে যশোরের ঘটনা।

– তাই নাকি? রাজিতের কণ্ঠে হালকা অবিশ্বাস।

– রিমি কিছুটা জোর দিয়েই বলল, হ্যাঁ তাই, “List of Ethnic Riots” গুগল করে দেখ, বাংলাদেশে উল্লেখ করার মত মাত্র এই কয়েকটা ঘটনাই ঘটেছে।

রাজিত আবার অবাক কণ্ঠে বলল, ‘ভেরি ইন্টারেস্টিং! দেখতে হবে তো! ১৯৯০ সালের পর বাকি সবগুলো ঘটনাই তো দেখছি একেবারে রিসেন্ট। তবে ৯০ এর ঘটনাটাকে আমি সাম্প্রদায়িক  বলতে পারছিনা। আমি তখন দেশে ছিলাম, নিজে দেখেছি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। এই আন্দোলনের মোড় ঘুরাতে এরশাদই একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধাবার চেষ্টা করেছিল। ওটা ছিল মোর পলিটিকাল।

রিমি বলল, হ্যাঁ সবারই তাই মত, ভারতের বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার পরপরই এই ইস্যুটাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল এরশাদ। আর হাঙ্গামা বাধাবার জন্য কিছু উগ্রবাদী তো সবসময়ই থাকে। সেইসময় বাবরী মসজিদ নিয়ে যে সাম্প্রদায়িক জোয়ার উঠেছিল তার ধাক্কা বাংলাদেশ লাগাটা খুব অস্বাভাবিক ছিলোনা। কিন্তু বাংলাদেশ সত্যিই ব্যতিক্রম ছিল।

-আমার এখনও মনে আছে সেসময় আমার বাপ চাচারা অন্যান্য মুসল্লিদেরকে নিয়ে সারারাত বসে ছিলেন নারিন্দার গড়িয়া মঠের সামনে, যাতে কেউ মন্দির আক্রমণ করতে না পারে। কি আজব! সরকার উস্কানি দিচ্ছে আর সাধারণ মানুষ চেষ্টা করছে থামাতে! কৌতুক মেশানো কণ্ঠে বলল রাজিত।

Ramu

-২০১২, ১৩ র ঘটনা গুলো তো আরও আজব যেমন ধর রামুর ঘটনা। হাজার বছর ধরে বৌদ্ধ-মুসলিম সেখানে একসাথে বসবাস করছে, কখনো কিন্তু কিছুই শোনা যায়নি। হঠাৎ  করেই কি ভয়ানক একটা ঘটনা ঘটে গেল ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ মধ্যরাতে। তুমি বলছিলে সরকারের ভূমিকার কথা। ধরে নিচ্ছি ঘটনাটা ঘটে গেছে হঠাৎ  করেই চোখের পলকে সরকারের কোন কিছু করার ছিলোনা। মেনে নিলাম। কিন্তু এটা তো একটা সাধারণ প্রত্যাশা যে এরপর সরকার দোষীদের কে ধরবে, সাজা দেবে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। অবাক হবার মত ঘটনা কি জান, সরকার তদন্ত টদন্ত না করেই দোষ দিলো রোহিঙ্গাদের।তার মানে তারা আরেকটা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উস্কে দিতে চাইলো। অকল্পনীয়। জানিনা আর কোন দেশে এমন উদাহারন পাওয়া যাবে কিনা।

অবাক হয়ে বলল রাজিত, বল কি? কি করে সম্ভব?

– তুমি অনেক বছর ধরে বাইরে আছ তাই অবাক হচ্ছ। এদেশে আজকাল অনেক কিছুই সম্ভব হচ্ছে। বিশ্বাস করবে, যেদিন রাতে এই ঘটনা ঘটলো সেদিন বিকেলে সরকারীদলের লোকজন উস্কানিমূলক মিছিল করছিল রামুতে? আমার কথা বিশ্বাস করার দরকার নেই তুমি ২৪ অক্টোবর ২০১২ এর ডেইলি স্টার খুলে দেখ। সত্যিই এগুলো বলতে মোটেই ভাল লাগেনা, কি দেশটা ধিরে ধিরে যে কি হয়ে যাচ্ছে! বলতে গিয়ে রিমির গলায় একটুখানি আবেগ আটকে গেল তাই গলাটা একটু ঝেড়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করল, ২০১৩ সালের পাবনা সাথিয়ার ঘটনাটা তো শুনেছ?

– হ্যাঁ শুনেছি।

– ৭ ই নভেম্বর ২০১৩-র ডেইলি স্টারের রিপোর্টটা চোখে পড়েছে? হেডিংটা দেখেছ? “Some attackers seen with Tuku”। টুকু কে জান তো? টুকু হচ্ছে তখনকার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

– কি বললে? স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী? মানে হোম …

রাজিতকে শেষ করেতে না দিয়েই বলল রিমি, হ্যাঁ, যার দায়িত্ব দেশের সকল মানুষকে নিরাপত্তা দেয়া। সেসময়কার নিউজগুলো পড়লে যে কারো মাথা খারাপ হতে বাধ্য। কোন কোন পত্রিকা লিখেছে “হিন্দুদের ওপর হামলা, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিয়াই তসলিম উদ্দিন খান কে গ্রেফতার” আবার কেউ কেউ লিখেছে, “চাপে পড়ে পরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিয়াই তসলিম উদ্দিন খানকে ছেড়ে দেয়া হয়”।

– বরিশাল আর যশোরের ঘটনাও কি একই রকম? জিজ্ঞেস করল রাজিত।

– বরিশালের ঘটনায় ২১ নভেম্বর ২০১৩ সরকারী সমর্থক পত্রিকা কালের কণ্ঠের রিপোর্টটা দেখ, “বরিশালে মন্দির ও বাড়িতে আগুন দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা!” আর যশোরের ঘটনাটা ঘটলো ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে, নির্বাচনের পরপরই। বিষয়টি ছিল, পরাজিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল ওহাব বনাম একই দলের এমপি রণজিতের বিরোধ। ওহাব তার প্রতিপক্ষ বিজয়ী রণজিতের সাথে পেরে না উঠে হামলা পরিচালনা করে। যেহেতু ওহাব নাম ধারী মুসলমান, বিজয়ী রণজিৎ হিন্দু, তাই সহজেই এটাকে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। জানুয়ারি মাসের পেপার পত্রিকা এবং টিভি রিপোর্ট থেকে এই ধারনাই পাওয়া যায়।

– তুমি কি আজকাল বিরোধীদল কর নাকি? শুধু সরকারকেই দোষ দিচ্ছ? সরকার কেন এসব করতে যাবে? একটু খোঁচা দিয়ে প্রশ্ন করল রাজিত।

– না আমি মোটেই সরকারকে দোষ দিতে চাচ্ছি না। আমি বলছি সরকারের ভূমিকার কথা। ঘটনা যাই হোক, দোষী যেই হোক সেটা খুঁজে বের করা তো সরকারের দায়িত্ব নাকি? কখনও কি শুনেছ সরকার এর ওর ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে চুপচাপ বসে থাকে? এই যে সেদিন মালয়েশিয়ান প্লেনটা হারিয়ে গেলো। মালয়েশিয়ান সরকার কি টেররিস্টদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বসে আছে? ওদের ট্রান্সপোর্ট মিনিস্টারের তো এখন রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। ওরা চীন, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল, সন্ধানী দল সবাই কে সাথে নিয়ে খোজা খুজি করছে হারিয়ে যাওয়া প্লেনটা।শুধু তাই না হারিয়ে যাওয়া যাত্রীদের পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা, সাহায্য দিতে নিয়োগ করেছে ৭০০ জন সেবক- সেবিকা ।তারা রাত দিন ২৪ ঘণ্টা এই পরিবারগুলোর দেখ-ভাল করছে। আর আমরা? সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর মন্ত্রীরা এর-ওর উপর দোষ চাপিয়ে, নড়া চড়া তত্ত্ব দিয়ে, বিদেশী সাহায্যে কে নাকচ করে দিয়ে একটা যা তা অবস্থা। কথা হচ্ছে সমস্যা একটা হতেই পারে কিন্তু তারপর আমরা কি করছি। যে দায়িত্ব দিয়ে মানুষ সরকারকে বসিয়েছে সে দায়িত্ব সরকার পালন করছে কিনা? অবিশ্বাস্য হচ্ছে উপরের ঘটনাগুলোর একটি ক্ষেত্রেও সরকার তা করেনি। তাই প্রশ্ন উঠেছে সরকারের ভূমিকা নিয়ে। তাছাড়া তুমি যদি লক্ষ্য কর দেখবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকার কোন না কোন একটা ইস্যুকে ধামা চাপা দিয়েছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলোকে সামনে এনে।

-মানে?

-মানে হচ্ছে ঠিক ১৯৯০ সালে এরশাদ যা করতে চেয়েছিল এখনও সম্ভবত তাই হচ্ছে।এটা মোটেও নতুন কিছু নয়। কিছুদিন আগে মিশরের সামরিক জান্তা সংখ্যালঘু খৃষ্টান-চার্চে আক্রমণ করিয়ে বিরোধীদের দোষারোপ করল। আরে বাবা আন্দোলন যখন দানা বেধে উঠেছে, বিরোধীরা কোন আক্কেলে কপ্টিক চার্চ আক্রমণ করে আন্দোলনকে ভণ্ডুল করবে? একটু খেয়াল করে দেখ, বাংলাদেশে ২০১৩–র নভেম্বরে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন তুঙ্গে তখনই কিন্তু ঘটল পাবনা আর বরিশালের ঘটনা। আর নির্বাচনের পর যখন একতরফা কারচুপির নির্বাচন নিয়ে সরকার দেশে বিদেশে প্রবল সমালোচনার মুখে তখন ঘটলো যশোরের ঘটনাটা। ব্যাপারগুলো কি একেবারেই কাকতালীয়? শুধু আমিই না হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন গুলোও সরকারের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি সরকারী মানবাধিকার কমিশনও এই একই কথা বলে কিঞ্চিৎ দৌড়ের উপর আছে।

রিমির রাশভারী যুক্তিগুলো শুনে রাজিত একটু গম্ভীর স্বরে বলল, অবিশ্বাস্য বটেই, কোন কোন সরকার অনেক সহনশীল জনগণকে নিয়েও সম্প্রীতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে আর কোন কোন সরকার অসংখ্য চরমপন্থিদের নিয়েও সম্প্রীতি ধরে রেখেছে শুধুমাত্র আইন, সুশাসন, সুবিচার ও সমতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে। যেমন ধর দক্ষিণ আফ্রিকা অথবা ধর আমাদের কাছের দেশ মালয়েশিয়া অথবা সিঙ্গাপুরের কথা। মাত্র ৩০/৪০ বছর আগেও ওদের সাম্প্রদায়িক সমস্যা কতটাই না  গভীর ছিল। অথচ সরকারের সঠিক ভূমিকার ফলে সব কিছুকে পিছনে ফেল ওরা কতটা এগিয়ে গেছে, এগিয়ে যাচ্ছে।

– সেটাই। যাক অনেকদিন পর অনেক কথা হোল। দেশের সম্পর্কে অনেক ভালো ভাল কথা বলতে ইচ্ছে করে, ভাবতে ইচ্ছে করে। কিন্তু কি করার আজকাল শুধু সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষই নয় রাজনৈতিক বিদ্বেষের বিষ ছড়ানো হচ্ছে আরও বেশী।

– সেদিন প্রথম আলোতে সৈয়দ আবুল মকসুদ এর একটা লিখা পড়লাম। খুব ভাল লাগলো। লিখাটা উনি শেষ করেছেন এভাবে, সেদিন মুক্তিযুদ্ধ হয়েই ছিল একটি সংহত, সম্প্রীতি-পূর্ণ ও আত্মমর্যাদা শীল জাতি গঠনের জন্য, যেখানে থাকবে না হিংসা, ঘৃণা ও বৈষম্যের কোনো স্থান।এই পরিস্থিতিতে এসে আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরাও যখন একটি সংহত, সম্প্রীতি-পূর্ণ ও আত্মমর্যাদা শীল জাতির কথা বলছে, তোমার আমার মত দেশের সাধারণ মানুষও যেহেতু সম্প্রীতি-পূর্ণ সমাজের প্রয়োজন বুঝতে পারছে, সরকারকেও বুঝতে হবে আজ অথবা কাল।

রিমি এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, দোয়া করো যেন তাড়াতাড়ি বোঝে, মেঘনায় আর কোন লাশ ভাসা দেখতে চাই না।

 

রাজিত এবার একটু মজা করেই বলল, এক কাজ করো তোমরাও অস্ট্রেলিয়ার মত একটা সম্প্রীতি দিবস পালন কর। যেদিন বিভিন্ন ধর্ম, দল ও আদর্শের সবাই একসাথে জড়ো হবে। কেউ ধুতি পড়ে, কেউ টুপি পড়ে, কারো গলায় হোলী ক্রস, কারো গায়ে মুজিব কোট, কারো হাতে তারবীরের ছবি, কারো হাতে তারপিরের ছবি। সবাই একসাথে মিলে, হাতেহাত ধরে দাঁড়িয়ে লাখ কণ্ঠে সম্প্রীতি সঙ্গীত গাইবে, বিশ্ব রেকর্ড গড়তে নয়, সম্প্রীতি গড়তে-

 Flag Old

নানা ধর্মের, নানা মতের তবু আমরা মানুষ এক

এই মাটিতেই আমরা সবাই জন্মেছি এক ঝাঁক,

আমরা একই স্বপ্ন দেখি ধরি একই গলায় গান

আমি, তুমি, আমরা সবাই বাংলার সন্তান।।