Of Causes and Means


by Shafiqur Rahman

Power Politics means political action characterized by exercise of power and especially of physical force by a political group as a means of coercion in the attainment of its objectives. Like many political terms with aggressive undertones, the term came from the Germans, machtpolitik, who were determined to set out to develop the archetypes in un-subtlety in political actions  in their not too distant past. In Bangladesh too, the main political parties have been engaging in naked power politics since the dawn of the new democratic era in 1991 but it has reached hitherto unknown depth of depravity this time around.

In the everyday violent melee of the power politics it is sometimes easy to lose sight of the strategies behind the tactics. With some presumption, it is not hard to divine the broad strategies behind the two warring faction. Basically the AL government is pursuing a two pronged strategy. Its preferred strategy is to get BNP to participate in an election managed and supervised by AL so that the next AL government gets the stamp of legitimacy from domestic constituents and international partners. Failing that, ALs second option is to try to paint Jamaat as full-fledged terrorist organization internationally and BNP as its patron-accomplice and manage the low level insurgency by BNP and Jamaat indefinitely while seating snugly at the throne of state power.

BNPs strategy is singular; it is going by the tested and proved way to pry open the governments grip on power by preparing the ground for a third party to intervene. BNP incapable of creating that scenario on its own, that’s why Jamaat is so indispensable to them now. Few can doubt that if BNP can achieve the goal of power politics without the help of Jamaat, it will discard Jamaat in an instance like an used tissue paper.

In pursuance of this strategy BNP is again following the manual of tactics to create maximum destabilization by interrupting the regular life of the country. But this year the BNP led opposition has upped the ante. Not only the life of the general people are being interrupted but also their life itself is being targeted. Especially the series of vehicle burning with people inside has aroused universal disgust and apprehension of this dastardly deed becoming regular part of Bangladesh politics.

The ruling Awami League on the other hand is using state power in unprecedented crushing of political opposition. Whole ranks of senior leadership has been rounded up and all mass-political activity has been clamped upon. In scenes reminiscing brutal foreign occupation, law enforcement agencies are using lethal forces without restraint.

In the daily barrage of the atrocities and excesses of the political power players it is easy to lose sight of the root cause that underlie this current round of confrontation. BNP wants a free and fair election; a election that most neutral observers agree that BNP will win handsomely. AL also recognizes that and that why it is determined to hold an election under its term and deny the people have its say. This foundational subtext of power politics is not due to any inherent virtue of the two parties, the situation is essentially reverse of what was in place in1996 and 2006. The only difference being that this time, opinion polls and local elections have repeatedly underscored this fact of ground.

The AL government is aware of the original sin of its position that is why it is throwing around a host of allegations about BNP to obfuscate the issue. BNP doesn’t want election, it wants to free war-criminals. BNP do not want to respect the rule of law as enshrined in the constitution recently amended by AL to uphold democracy. BNP wants to install a religious theocracy. BNP is colluding with hostile foreign entities. BNP wants to reverse the great developmental achievements of the AL government. BNP is joined in the hip with Jamaat, a terrorist organization. Terror tactics cannot be allowed to succeed. Terrorism is the biggest threat facing the country and so on.

Every time I hear this litany of complaint from AL leaders and apologists, I am reminded of the world’s most contentious issue, the Israel-Palestinian conflict. The global community broadly recognizes the fundamental injustice at the heart of the Is-Pal conflict, an occupying power appropriating land from a native people and denying them freedom to choose their own destiny. Again to obfuscate the core injustice, apologists of Israeli lebensraum employ myriad complaints against the Palestinians.

They say that Israel doesn’t have a reliable partner in Palestinians for peaceful settlement. Palestinians do not want peace. Palestinian authority is deeply in cahoots with religious absolutists and terrorists. Palestinians use heinous terror tactics. Palestinians are backed by foreign entities determined to annihilate Israel. Palestinians are living far better under Israeli occupation than their counterparts living in Arab absolutist regimes. Israel is an oasis of civilization and progress in the midst of a sea of barbarism. Sound’s familiar? And all the while Israel is busy changing the facts in the ground so that a peaceful settlement becomes all but impossible.

Just like Israel-Palestinian issue, the current political problem in Bangladesh is complex and there is no easy solution that will satisfy all parties. But this should not mask the simple injustice lying at the heart of the issue. The controversy about the means used in the political confrontation should not mask the cause of the conflict.

এ অরাজকতা থামাতে হবে – Shah Alam

Shah Alam

না ! আর থাকতে পারলাম না। ছোট ছোট আশংকা গুলোর বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি । মস্তিস্কে আরও ভয়াবহ শঙ্কা বাসা বেধেছে। দেশ কি তবে যুদ্ধে উপনীত ? আবার যুদ্ধ ? ভাবতেই ভয়ানক আতংকে চমকে উঠছি  প্রতি মুহূর্তে । তাহলে কি বাঙ্গালী জাতি আরেকবার ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠবে ক্ষমতার উৎকট উষ্ণ স্বাদের জন্য ? প্রতিদিন মৃতের মিছিল ভারি হচ্ছে । দেশ- জনপদ অরাজকতার কিনারায় গা ঘেঁষাঘেঁষি করছে । দাউ দাউ করে জলছে গাড়ী-বাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা। কৃষকরা সোনার ফসল নিয়ে কেঁদে কেঁদে ফিরছে । অশান্তির আগুনে পুড়ছে গার্মেন্টস শ্রমিক। মালিকরা দেউলিয়াত্তের হাতছানি দেখতে পাচ্ছে । ন্যুনতম সম্মানবোধও বিসর্জন দিয়ে স্রমিকদের মতই রাস্তায় নামছে । কি এক ভয়ানক জাঁতাকলে সবাই পিষ্ট হচ্ছে । না ! অসহ্য । শৈত্য প্রবাহের মধ্যেও শরীর ঘামছে ।

মানবাধিকার কর্মীরা একবারও ভাবছেনা সহিংস কর্মকাণ্ড ও প্রতিঘাত প্রতিনিয়ত মানবাধিকার পদদলিত করছে । নারি নেত্রীরা ভাবছেনা দেশ-জনপদের এই সংঘাত অনেক নারিকে বিধবা করছে, হয়ত পেটে অনাগত সন্তান, কি জবাব দেবে তার শিশুকে ? কই তার বাবা ? তৈরি হবে আরেকটি অসুস্থ প্রজন্ম । আরেকটা শ্রেণিসমাজের আত্মপ্রকাশ ঘটবে । সপ্নের বাংলাদেশ মধ্যযুগে বন্দী হবে । না, এসব তারা ভাবছে না । হয়ত ধ্বংসযজ্ঞের পরে ভাববে । বিশাল হল-রুমে সংবাদ সম্মেলন করে বলবে “ বাল মে কুছ কালা হ্যাঁয়” । ধিক্কার তোমাদের ।

ইতিহাসবিদরা ভাবছে অন্যকথা । পুরনো ইতিহাস অনেক আগেই বিকৃত হয়ে গন্ধ ছড়িয়েছে । তাতে  ঘৃণা বেড়েছে বৈকি।  আবার নতুন ইতিহাস হবে । মুক্তিযোদ্ধা, বীর সৈনিক, রাজাকার, সংগ্রাম কমিটি, প্রতিরোধ কমিটি নামে জাতিসত্তা খণ্ডবিখণ্ড হবে। ইতিহাসবিদদের নিরন্তর প্রচেষ্টায় উঠে আসবে গা শিওরে ওঠা বীভৎস সব চিত্র । কোন এক তরুণ বুদ্ধিজীবী কালজয়ী সিনেমা বানাবে । বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হবে । একদল গবেষক বলবে, ২ লক্ষ মারা গেছে, পঙ্গু হয়েছে ২০ লক্ষ, ৭০ হাজার নারি সম্ভ্রম হারিয়েছে, ৩০ লক্ষ শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। নতুন করে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ, প্রত্যক্ষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ কোটি আর সমগ্রিক অর্থনীতি দুর্ভিক্ষে পতিত । আরেক দলের প্রতিবেদন আরও ভয়াবহ। ইতিহাস হয়ত আরও নির্মম হবে । জাতিসংঘের ত্রান নিয়ে আবার কাড়াকাড়ি শুরু হবে। ইউনিসেফের সরবরাহকৃত শিশু-খাদ্য এনজিও গুলো হস্তগত করে বস্তাপচা খাবার বিতরন করবে। ভিক্ষা নির্ভর অসুস্থ রোগাক্রান্ত একটি জাতি তৈরি হবে।  বিজয়ী পক্ষ বিরোধীদের সব অপকর্মের দায় চেপে দেবে। একদল সুশীল তাতে মৌনসূচক সম্মতি দেবে। নতুন নতুন চাটুকার তৈরি হবে। হলুদ খ্যাতির আশায় বিকৃত ইতিহাস সৃষ্টি হবে। আরেক প্রজন্ম এসে বিচার দাবি করবে। আবার হানাহানি- সংঘাত হবে । এ যেন এক নিরন্তর খেলা যা চক্রাকারে ঘুরে ফেরে আসে। শুনেছি জলবায়ু পরিবর্তনের মত মহাদুর্যোগগুলো চক্রাকারে আসে নির্দিষ্ট সময় পরপর। দুর্যোগপ্রবণ বাঙ্গালী জাতি বোধহয় ভাঙ্গা-গড়ার শিক্ষাটা সেখান থেকেই নিয়েছে। কবি সাহিত্যিকেরা এরকম কথা দিয়েই অমর সাহিত্য রচনা করবে সিক্ত ভালোবাসা আর অর্থের মোহনিয় আশায়। সাহিত্যে পুতে রাখবে বিভক্তির উর্বর বীজ। বাঙ্গালীদের এই নিরন্তর হোলি খেলা চলতেই থাকবে ।

ইতিহাসবিদদের মানবিকতা আর নৈতিকতার চিন্তা করা চলেনা। তাতে পেটে ভাত জোটে না । মনের মাধুরী মিশিয়ে নতুন নতুন ইতিহাস বানিয়ে হইচই ফেলে দিতে পারলেই হোল। অর্থ, সুনাম, যশ একেবারে হুড়োহুড়ি। সে কেন মানবিকতাই গা ভাসাবে ? দাঙ্গা-হাঙ্গামা, অনাচার-ব্যাভিচার, অভাব-দুর্ভিক্ষ এসব সাহিত্যের অমুল্য মাল-মসলা। এসব না ঘটলে সাহিত্যিকের রক্ত গরম হয়না। আবেগ অংকুরিত হয়না । শুধু গাঁজার নেশায় বুঁদ হয়ে মগজে বুদ্ধির বজ্রপাত হয়না। ঘটার পরে টের পায় । বুদ্ধি মাথা থেকে কলমের আগায় জোয়ারের মত প্রবাহিত হয়। গরম কফিতে চুমুক দিতে দিতে তোমরা সে রকম একটি সময়ের জন্যই করনীয় ঠিক কর। মনুষ্যত্বকে নেশাগ্রস্থ করে বিকৃত সুখ নাও। তোমরা কখনও অরাজকতা বন্ধ করতে পারনি, এবারো করতে হবেনা।  মানুষ বৃদ্ধ হলে রক্তের তেজ কমে যায়, দুর্বল হয়ে পরে । প্রবল প্রতাপশালীও ঠাণ্ডা হয়ে যায়। জাতির যদি বৃদ্ধকাল থাকে তবে বাঙ্গালী জাতি হয়ত বৃদ্ধ হয়েই শান্ত হবে। ততদিনে লাল সবুজের এই দেশ স্তব্ধ হয়ে যাবে। বীভৎস-বিভীষিকাময় এক জনপদ প্রত্যক্ষ হবে । দিনের আকাশে শকুনের আনাগোনা, রাতে অজস্র লোকালয়ে আলো জ্বলবেনা, শুনশান নিরবতার মাঝে শিয়াল কুকুরের মল্ল-যুদ্ধ চলবে ।

সত্যই যদি এরকম ঘটে! এই ভাবনা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে অজস্র মানুষকে। যারা রাষ্ট্রের অতিসাধারন তাদেরকে। আর্ত চিৎকারে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে লক্ষ্য লক্ষ তরুনের। জাতির অবিভাবকরা সম্বিত ফিরে পাচ্ছেনা । কে হবে কাণ্ডারি?  পথহারা জাতিকে কে এসে বাঁচাবে? সবায় হয়ত চেয়ে আছে আরেকজন বঙ্গবন্ধু আসবে। কিন্তু সে সম্ভাবনা একেবারেই নেই । মানবাধিকার কর্মী নারি নেত্রী, সুশীল, কবি-সাহিত্যিক তোমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে সামনের কাতারে। দেশের তৃনমূল জনসাধারন শান্তি চায় । তাদের পাশে দাড়াও। রাজনিতিকে কলুষমুক্ত কর। সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে রাজনিতিকদের সমঝোতার চাপ দাও। একবারের জন্য তোমাদের মানবিকতাকে জাগাও । অন্তত এবার একটি ভাল কাজ কর । বিপন্ন  জাতি তোমাদের কাছেই আশ্রয় চায় ।

পাদটীকাঃ নোবেল জয়ী ড. ইউনুস ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্রতাকে জাদুঘরে পাঠাতে চেয়েছেন। তরুণ প্রজন্মকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর উৎকর্ষতার সাথে সাথে সামাজিক কল্পকাহিনীর কথা বলেছেন। মানুষের জন্য কল্যাণকর অতি উচু মানের সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখতে বলেছেন। রাজনীতি যদি গণতন্ত্রের জন্য হয়, মানুষের কল্যাণের জন্য হয় তবে রাজনিতিকরাই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে। রাজনীতির সৃষ্টি সে জন্যই । সকল রাজনিতিক একসাথে হাত রাখ, এখন পর্যন্ত যা ঘটেছে সেখান থেকেই বেরিয়ে আস তাতে ক্ষতি সামান্যই হয়। নয়ত জাতির জন্য বিভীষিকা অপেক্ষা করছে। ড. ইউনুসের সোশ্যাল ফিকশান উল্টে যাবে। ২০৩০ সালের আগেই দারিদ্রতার পরিবর্তে রাজনিতিকদের মানুষ যাদুঘরে পাঠাবে। ভয়ংকর বীভৎসতার নিদর্শন স্বরূপ।


by Mohsen Alam

‘ঘাতক’ শব্দটা কি যে একটা দোতন্যাময় আঘাত দিয়ে গেল মনে।

একজন পুলিশের কথা মনে পড়ল, যে বিশটা মত ক্রসফায়ারের কর্তা-সাক্ষী হয়ে একদিন সেতু থেকে নদীতে ঝাপিয়ে বড় শান্তির ঘুমে ঘুমাইছিল। কেন গো এত যাতনা? মনে হয়, যখন সে লাফ দিচ্ছিল, ঘাতক শব্দের অর্থ তাঁর চেয়ে ভালো কেউ বুঝে নাই দুনিয়াতে।
এই একটা ঘটনা আমার অস্তিত্ত্বকেই নাই করে দেয়ার মত জর্জরিত করে। কারন, আমি-আমরা তো সেইসব মানুষ যারা প্রতিটি ক্রসফায়ার নাটকের পান্ডুলিপি পাঠ করতাম বড় বেশী নির্লিপ্ত চিত্তে। সেই পাঠগুলি কোনো বিকার ঘটাতো না, মাঝে মাঝে তৃপ্তির হাসি ফুটতো গালে। সেই সব হাসিগুলো বোধহয় জমা হয়েছিল ওই পুলিশের ঘাড়ে, যার ভার নিতে ক্লান্ত হয়ে একটু ঘুমের দরকার ছিল।
আমরা তখন কত শত যুক্তি দিয়েছিলাম, এখনো কতকেউ কত শত যুক্তি দেয় সেইসব খুনের ব্যাপারে, কিন্তু সব যুক্তি তো উল্টে হয়ে ফিরে আসে নিজেদের খুনের সাক্ষ্য হয়ে ওই লাফদেওয়া পুলিশের ঘুমের ঘটনাতে।
সেতু থেকে নদীর পানি, তারপর পানিতে পানিতে ফুসফুস বন্ধ হয়ে যাওয়ার যতগুলি মুহূর্ত সবগুলি আমার চোখে ভাসে, আর নিজের খুনীর পরিচয় প্রকাশ করে দেয়। সে ফুসফুস ভরা পানি নিয়ে সে প্রমান করে দিল যে, সে যে বড় নির্লিপ্তে চিত্তে গুলি ছুড়ে দিতে তা মিথ্যা, আমরা যে বড় করে শ্বাস নিয়ে ফুসফুস ফুলিয়ে ফেলতাম অক্সিজেনে তা মিথ্যা ছিল। নিজের জীবনের কতগুলি শ্বাস-প্রশ্বাস মিথ্যা ছিল তার হিসাব করি আজ। এই হিসাব করতে বসার আগে ভুলে যেতে হয়, কতক্ষন শ্বাস বন্ধ থাকলে মৃত্যু ঘটে।

ঘাতকের একাল-সেকাল আছে কিনা জানিনা, তবে ঘাত হওয়া সব মানুষেরা একই কালের মানুষ। খুনের কালের মানুষ। জন্মের চেয়ে মৃত্যু বড়, তাই মৃত্যুকাল দিয়ে মানুষের কাল বিচার করলে সবাই একই খুনের কালের মানুষ।

একজন খুন হয়েছে, আরেকজন খুনী। এই গাণিতিক সরল অঙ্কের চেয়ে একটুখানি কম বুঝি বলে জানি যে, একজন খুনের শিকার হওয়া মানে সেই খুনীর ন্যায়-বিচার যতদিন না হবে ততদিন খুনের দায় মাথায় থাকা। আর রাষ্ট্রীয় খুনের শিকার কেউ হলে তো ওইখানে শুধু দায় না, নিজেই সম্পূর্ন দায়ী। কারন আমরা টাকা দিয়েছি বলেই খুন সংঘটিত হয়েছে।

বাংলা, তুমি আজ ধন্য হে। স্বাধীন হয়েছ বলেই সব নাগরিক খুনের স্বাধীনতা পেয়েছে।
জয় বাংলা, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

আসাদুজ্জামান নুরের হত্যাচেষ্টা ও একজন বাকের ভাইয়ের ফাঁসি…

by WatchDog

জনাব আসাদুজ্জামান নুর , রাজনীতির মাঠে আপনি বাকের ভাই নন যার উপর আক্রমনের প্রতিবাদে আমাদেরও চোখের পানি ফেলতে হবে। এদেশের জীবন হতে সে সব দিন বিদায় নিয়েছে যখন নাটকের বাকের ভাইয়ের জন্যও মানুষ সহমর্মিতা দেখাত। সে হৃদয় আজ শকুনের ছোবলে ক্ষতবিক্ষত। নুর সাহেব, আপনি সেসব শকুনদেরই একজন। আপনি তাদেরই একজন যারা এদেশকে আলীবাবা চল্লিশ চোরের সিসিম ফাঁক মন্ত্রবলে ফাঁক করেছে, ধর্ষণ করেছে, লুটেছে, চাটার মত চেটেপুটে খেয়েছে। রাজনীতির খাতায় প্রথম যেদিন নাম লিখিয়েছিলেন সাথে শকুনের খাতায়ও নাম লিখিয়েছিলেন সেদিন। বাংলাদেশের রাজনীতি, রাজনৈতিক দল ও তার খেলোয়াড়দের পরিচয় না জেনে এ পথে পা বাড়িয়েছিলেন বিশ্বাস করা কঠিন। আশাকরি ভুলে যাননি লুটের পয়সায় সন্তানকে লন্ডন পাঠানোর ইতিবৃত্ত। সুসংবাদ হচ্ছে, এ পথে আপনি একা নন। আপনার আশপাশের সবাই একই পথের পথিক। দেশকে গৃহযুদ্ধের আগুনে ঠেলে দিয়ে আপনারা উত্তাপ নিচ্ছেন শীত নিবারণের। জ্বলজ্যান্ত মানুষকে গুম করছেন, বছরের পর বছর ধরে লম্বা করছেন লাশের মিছিল। কেবল এক ব্যক্তির সেবা করতে গিয়ে বিসর্জন দিয়েছেন মানুষ হিসাবে পরিচয় দেয়ার ন্যূনতম মনুষ্যত্ব। নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তামাশা করতে গিয়েছিলেন নীলফামারীর জনপদে। নুর সাহেব, ভেবে দেখুন একজন বাকের ভাইয়ের ফাঁসির জন্য যে নীলফামারীর মানুষ রাস্তায় নেমেছিল একই মানুষ তাদের প্রিয় আসাদুজ্জামান নুর ভাইকে হত্যার জন্য ককটেল, গ্রেনেড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরতে দ্বিধা করেনি। একবারও কি ভেবে দেখেছেন কেন এমনটা হয়? যারা আপনাকে মারতে গিয়েছিল তারা এলিয়ন নয়। এদেশেরই সন্তান। রাজনৈতিক পছন্দ মানুষের জন্মগত অধিকার। আপনি যেমন একটা দল বেছে নিয়েছেন, তাদেরও অধিকার আছে বেছে নেয়ার। মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রতিপক্ষ নির্মূল করার অধিকার আপনাদের কেউ দেয়নি। কিন্তু আপনারা তাই করছেন।

জনাব নুর, আপনারা দেশকে ভাগ করেছেন। শহর-বন্দর, হাট-বাজার, নদী-নালা সহ সবকিছু ভাগ করেছেন। ভাগ করেছেন প্রতিটা পরিবার। কেবল দেশ নয়, বাংলাদেশের প্রতিটা পরিবার এখন যুদ্ধের মাঠ। এখানে ভাই লড়ছে ভাইয়ের বিরুদ্ধে, বাপ লড়ছে সন্তানের বিরুদ্ধে, এথনিক ক্লিনজিংয়ের দোর গোড়ায় দাড়িয়ে প্রিয় জন্মভূমি। এবং সবকিছু হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নামে। রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পারিবারিক লড়াইকে আপনারা নাম দিয়েছেন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। জনাব, জাতি হিসাবে আমাদের বয়স ৪২ বছর পেরিয়ে গেছে। অনেক কিছু বুঝতে শিখেছি আমরা। আপনাকে চিনতেও ভুল হয়নি। আপনি তাদেরই একজন যাদের হাতে জিম্মি ১৫ কোটি মানুষের জীবন। ট্যাংক, কামান, থানা, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও প্রতিবেশী দেশের শক্তিশালী প্রভু নিয়ে রক্তাক্ত করছেন দেশের অলিগলি রাজপথ। যে প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তাদের উন্মাদ বানিয়েছেন, শিরায় শিরায় পৌছে দিয়েছেন ঘৃণার বিষাক্ত বীজ। জনাব, ভুলে গিয়েছেন কি এ দেশের মানুষ কেন পাকিস্তানী সেনা শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল? আপনার মত সেবাদাসদের ক্ষমতায় পাঠিয়ে বিশেষ পরিবারের সেবা করার জন্য নয় নিশ্চয়? পাকিস্তানী সামরিক স্বৈরশাসক ও তাদের দোসর ২২ পরিবারের শোষন, নিপীড়ন হতে মুক্তি পাওয়ার জন্যই এদেশের মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়েছিল। অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা, মাথার উপর ছাদ, স্বাভাবিক জন্ম-মৃত্যুর নিশ্চয়তার জন্য স্বাধীনতা এনেছিল। অথচ আপনার মত কৃতদাসরা আমাদের মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছেন রাজাকার নিধন আর জামাতি নিশ্চিহ্ন করার অপর নামই নাকি স্বাধীনতা।

জনাব নুর, যুদ্ধের মাঠে আপনি একজন সৈনিক। এবং প্রতিপক্ষের বৈধ টার্গেট। নীলফামারীর যুদ্ধে আপনি চার সহযোগী হারিয়েছেন। কাঁদছেন কেন? চোখের পানি আর নাকের পানি একাকার করে আপনি যখন হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা বর্ণনা করছেন একই সময় আপনার পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও দলীয় ক্যাডারের দলও ট্যাংক, কামান নিয়ে বিরান করছে দেশের বিভিন্ন জনপদ। মানুষ মারছে পাখির মত। হত্যাই যদি সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে রাজনীতির মাঠে কেবল আপনারা হত্যা করবেন আর প্রতিপক্ষ পালাতে থাকবে তা হতে পারেনা। ওরাও হত্যা করবে এবং তা হবে বৈধ। চাইলে যুদ্ধ সংক্রান্ত জেনেভা কনভেনশন পড়ে দেখতে পারেন।

রক্তের দাগ হাতে নিয়ে বাকের ভাইয়ের ভালবাসা চাওয়ার ভেতর গৌরবের কিছু নাই,…… আছে পরাজয়ের গ্লানি। যতদুর জানি শেখ হাসিনার সৈনিকদের অভিধানে পরাজয় বলে কোন শব্দ নেই…শুভ কামনা।


Rogue ইনসটিটিউশন এবং নাগরিক আনুগত্য

by  সায়নুল হোসেন

জিয়া হাসানের “ইনস্টিটিউশন এর পক্ষে থাকুন – আমার স্টেটাস এর সমালোচকদের সমালোচনার জবাব“ শিরোনামের পোস্ট-টিতে যে মত-বিনিময় হচ্ছে এবং তার উত্তর দিতে গিয়ে জিয়া হাসান যে স্ট্যান্ডার্ড দাঁড় করাচ্ছেন, তাতে একটি জিনিস পরিষ্কার,  স্বাধীন বাংলাদেশে ডাবল স্ট্যান্ডার্ডই যেন একমাত্র স্ট্যান্ডার্ড।


   সম্মানিত সংসদ-সদস্য বা বিশিষ্ট সংস্ক্রৃতি-ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামানের গাড়ি-বহরের উপড় যে হামলা হয়েছিল, তা একটি নিন্দনীয় অপরাধ। জিয়া হাসান তুলে ধরতে চেয়েছিলেন কেন তা অপরাধ। তুলে ধরতে গিয়ে, ইনস্টিটিউটের ভায়োলেন্সের রাইট আছে বলেছেন। তাহলে কখন ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে ভায়োলেন্স জায়েজ হবে? তাঁর উত্তর অনুযায়ী, সোশাল মোরাল সেটি ঠিক করবে। সমাজ যখন মনে করবে, জায়েজ, তখন ভায়োলেন্স জায়েজ। জনতা যে আন্দোলনে  সম্পৃক্ত হবে, সেখানে আইন-বাহিনীর সব চেক-পোস্ট কর্পূরের মত উড়ে যাবে। এইটা তাঁর স্টান্স। এই জায়গাতে তাঁর সাথে আমার ভিন্নমত।

   তাঁর কথা যদি মেনে নিই, তবে নূরের গাড়িতে যদি কয়েকজন জামাতী আক্রমণ না করে কয়েক লক্ষ বাঙ্গালী আক্রমণ করত, তবে তা হত জায়েজ। আর আমি মনে করি, নূরের গাড়িতে লক্ষ লোক কেন, যদি ষোল কোটি লোকও আক্রমণ করত, তা-ও হত নিন্দনীয়, বিচারযোগ্য অপরাধ। কিংবা আরও সহজভাবে বলি, শাহবাগের লক্ষ লক্ষ জনতা যদি হাতের সামনে মাহমুদুর রহমানের গাড়ি পেয়ে সেখানে সামান্য একটা ঢিল দিত, সামাজিক নৈতিকতার আধিক্য বা প্রাধান্য দিয়ে সেটাকে জায়েজ ভাবার কোন কারণই নেই।

   জিয়া হাসান এই পোস্টটিতে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড যেখানে আমাদের একটিমাত্র সিংগল স্ট্যান্ডার্ড, সেখানে ইন্সটিউশনের ভায়োলেন্সের রাইট নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড লিখতে গেলে তাকে আরও কয়েকটা নোট লিখে যেতে হবে মনে হচ্ছে। তাঁর লেখাগুলোর অপেক্ষায় রইলাম। তবে, আমি কেন লিখতে বসেছি? কারণ, এই বিতর্ক আমার বড় কাম্য বিতর্ক। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড-এর যে ধুম্রজাল গত বিয়াল্লিশ বছর ধরে আমাদেরকে অন্ধ করে রেখেছে, সে ধুম্রজালটি সরাতে হবে এখনই।

   এবং, এই ধুম্রজাল সরানোর জন্যে, চলুন, দবির-কবীর-এর উদাহরণের আশ্রয় নিই। ধরুন, দবীর তার প্রিয় সাইকেলটি হারিয়ে ফেলল (বা কেউ সেটাকে চুরি করে নিয়ে গেল)। একদিন দবীর দেখল, সাইকেলটি তার পাড়ার কবীর দিব্যি চালিয়ে বেড়াচ্ছে। সাইকেলটি রাখাও হচ্ছে কবীরের বাড়িতে। দবীর এখন কি করতে পারে?

(১) কবীরের কাছ থেকে জোড় করে সাইকেলটি তুলে নিয়ে আসতে পারে (কারণ, সাইকেলের আসল মালিক তো দবীরই)।

(২) পাড়ার সরকারী ছাত্রনেতাকে অনুরোধ করতে পারে সাইকেলটি উদ্ধার করে দেয়ার জন্যে (কারণ, ছাত্ররাই তো জনগণের অধিকার রক্ষার আদায়ে বারবার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছে)

(৩) দবীর নিজের সাইকেলের কথা ভুলে গিয়ে অন্য কোন নিরীহ সাবের-এর সাইকেলটি চুরি করে নিজেই চালাতে পারে (“যে রাষ্ট্রে যে নিয়ম”, সমাজের মোরাল হয়তো এখানে যেতে পারে)

(৪) উপড়ের সবগুলোই

   উপড়ের প্রশ্নের উত্তর নিয়ে ভাবতে থাকুন। সে ফাঁকে, জাপানে ইন্‌জিনিয়ারের চাকুরি করেও ম্যানেজমেন্টে আইন নিয়ে সামান্য যে জ্ঞান নিতে হয়েছে, তার কিছুটা শেয়ার করি।

   গণতান্ত্রিক সমাজ-ব্যবস্থায় আইনের একটি মূল নীতি হল, ব্যক্তির নিজের সিদ্ধান্ত নিজের নেয়ার মৌলিক অধিকার অন্য কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আপনি দিনে ষাট টাকা রোজগার করে পঞ্চাশ টাকার চটপটি খাওয়ার ইচ্ছা করলে, আইন বলবে, আপনার সেটা খাওয়ার অধিকার আছে। “এত সামান্য উপার্জনের লোক-এর চটপটি খাওয়ার দরকারটি কি?”-এ নিয়ে নৈতিকতার বিতর্ক হয়তো করা যায়, কিন্তু ষোলকোটি লোক তাকে ছিঃ ছিঃ করলেও কোনভাবেই তার চটপটি খাওয়ার অধিকারকে বাধা দিতে পারবে না। এটাই গণতন্ত্রে আইনের অধিকার। একইভাবে ব্যক্তি তার পছন্দমত সাইকেল কিনবে, সেটা তার মৌলিক অধিকার।  আমার-আপনার বা রাষ্ট্র নামক কোন ইনস্টিটিউশনের ক্ষমতা নেই তার এই সাইকেলের স্বত্বাধিকার থেকে তাকে বঞ্চনা করার।

   আইনের আরেকটি মূল নীতি হল, আইন প্রয়োগের ক্ষমতা আম-জনতার নেই। উপড়ের দবীর-কবীর-এর উদাহরণে দবীরের সাইকেলটি কবীরের বাসা থেকে নিয়ে আসার ক্ষমতা আছে শুধু পুলিশের, এবং এই নির্দেশটি দেয়ার দায়িত্ব আছে শুধু বিচারকের। আপনার সাইকেল, তাই বলে আপনি নিজে গিয়ে নিয়ে আসবেন, এই অধিকার আপনার নেই। এই অধিকারটি আছে শুধু সরকারের (বা পুলিশের)। জিয়া হাসান ভাই-এর এখানেই ভুল। রাষ্ট্রের ভায়োলেন্সের অধিকার আছে যে তত্ত্বটি দিয়েছে, তা সঠিক নয় । রাষ্ট্রের কেবল আইন প্রয়োগের অধিকার আছে।

   কথা হল, কবীর যদি বিচারপতির নির্দেশ সত্বেও সাগ্রহে সাইকেলটি পুলিশের বা রাষ্ট্রের হাতে দিতে রাজী না হয়, রাষ্ট্রের তো তখন ভায়োলেন্স প্রয়োগ করতেই হবে। আমি সেখানে একমত। তবে, বুঝতে হবে, এটি আইনের মধ্যে থাকা শক্তি-প্রয়োগ। কবীরকে গুলি করে সাইকেলটি নিয়ে আসার ক্ষমতা রাষ্ট্রকে দেয়া হয় নি। সাইকেলটি কবীরের কাছ থেকে নিয়ে আসার জন্যে “সমানুপাতিক” শক্তি-প্রয়োগের বাইরে রাষ্ট্র কোন ভায়োলেন্স-এ যেতে পারবে না। আর, রাষ্ট্র নিজেই ঐ সাইকেলটি নিজের বলে দাবী করতে পারবে না। দুটোই বে-আইনী।

   প্রশ্ন হল, পুলিশ বা বিচারক উভয়ই যদি আইনের বাইরে যায়, তাহলে কি হবে? বিচারক যদি বলে সাইকেলটা দবীরের হলেও সাইকেল চালাতে পারবে কেবল কবীরই কিংবা পুলিশ গিয়ে যদি দবীরকে বলে, সাইকেলটা দবীর নিজের দাবী করলেই দবীরকে জামাত-শিবির নামে আখ্যায়িত করা হবে, সুতরাং, অফ্‌ যাওয়াই ভাল, তাহলে দবীর কি করবে? তার অধিকার রক্ষার দায়িত্ব এবং ক্ষমতা যাদের দেয়া হয়েছে, তারাই যদি সংবিধান বা আইন না মেনে চলে, তবে কে আইন প্রয়োগ করবে?

এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। ফুটবল খেলায় একটি বলের বদলে দুইটি বল দিয়ে খেললে কি হবে তার উত্তর যেমন আমার জানা নেই, ব্যাপারটিও তাই। একটি নৈরাজ্য তৈরি হবেই। সেখানে সন্দেহ নেই। এবং এই নৈরাজ্যের কারণে দবীর বা কবীর-এর চাইতে হাজারো গুণ বেশি দায়ী হবে বিচারক বা পুলিশ (সরকার) কারণ ক্ষমতা ও প্রিভিলেজ তাদেরকে বেশি দেয়া হয়েছিল।

   একাত্তরে (সত্যিকার অর্থে, সত্তরের নির্বাচনে) পাকিস্তান নামক দেশ শাসনের ক্ষমতা বঙ্গবন্ধু অর্জন করেছিলেন। আইনানুযায়ী বঙ্গবন্ধুর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা। রাষ্ট্র (মিলিটারী জান্তা) নিজেই আইন ভঙ্গ করলো। উল্টো হানাদার হয়ে আক্রমণ করলো নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের। দবীর বা কবীর নয়, রাষ্ট্র নিজেই আইনের বাইরে চলে গেল। এখানে রাষ্ট্রের উপড় ভরসা করার আর কোন আইনগত ভিত্তি ছিল না। কাজেই, নতুন করে আইনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে এই  পাকিস্তান নামক হানাদার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ছাড়া উপায় ছিল না। একাত্তরে খানসেনাদের মারাটা জায়েজ ছিল কি-না, সরকার যেখানে নিজেই আইনকে তোয়াক্কা করে নি, সেখানে এই প্রশ্নটি অবান্তর। তখনকার জামাতী-মুসলিম লিগারদের মোরাল-এর বিচারে যাওয়ার আগে, আইনের জায়গায়ই এখানে ওরা নিজেদেরকে বে-আইনী হয়ে গেছে, সেটা উপলব্ধি করাটা জরুরী।

   আজকের অবস্থা কি একই রকম? আজকের আওয়ামী লীগের সরকার আর একাত্তরের ইয়াহিয়ার সরকারের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? অর্থাৎ সরকার আইনের বাইরে নিজেকে নিয়ে গেছে কি? বিচারপতিরাও সংবিধান-রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে নিজেদেরকে সংবিধানের উপড়ে ভাবা শুরু করছে কি? রাষ্ট্র (সরকার ও বিচার বিভাগ) যখন দবীর-কবীরের অধিকার রক্ষা না করে নিজেকে আইনের বাইরে নিয়ে যায়, তখনও দবীর-কবীর-রা কি আইনের খেলা খেলবে? আমি জানি, জিয়া হাসান কি উত্তর দেবেন। উনি বলবেন, জনগণ যদি বাঁধ-ভাঙ্গা স্রোতের মত বের হয়, তবে সব স্বৈরাচার বিদায় নেবে। কিন্তু, এই উত্তরে একাধিক সমস্যা আছে। প্রথমত, সব জনগণ বের হবে না (যেমন, কবীরের মত সুবিধাভোগীরা বা দবীরের মত নীরবে নিভৃতে ক্রন্দনকারীরা)/যারা ঘরে থাকবে তাদেরকে কি হিসেবে চিহ্নিত করবেন? বাধ-ভাংগার পক্ষে না বিপক্ষে? মোরাল হ্যাজার্ড যে চলে আসবে না তা কিভাবে বুঝবেন (অর্থাৎ, অসৎ উদ্দেশ্যের লোকেরাই যে জোর-গলায় শ্লোগান দেবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়?)/ দ্বিতীয়ত, এই বাঁধ-ভাঙ্গার কাজটি রমনার বটতলায় বসে বৈশাখীর গান শোনার মত ফ্রি হবে না, অনেক জীবন যাবে এখানে। তাহিরির স্কয়ারের জোয়ার আনতে গিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই বার শ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। তার বদলে কোন এক বে-আইনী লোক হোসনী মোবারক-কে গুলি করে তাকে সরিয়ে দিলে ১১শ নিরানব্বই লোকের জীবন বাচতো। জিয়া হাসানের সমাধানে এই ১১শ নিরানব্বই লোকের জীবন বাঁচানোর অপ্‌শন নেই।

   উপসংহার হল, রাষ্ট্র স্বৈরাচারী হয়ে গেলে সবকিছু অমানবিক হয়ে যায়। আইনের সোপান ব্যর্থ হয়। এখানে ফল্ট্‌-টলারেন্ট সিস্টেম কাজ করে না। আমার-আপনার সবচাইতে পবিত্র দায়িত্ব আমাদের সরকারকে স্বৈরাচারী না হতে দেয়া। এখানে মোরাল-এর মত সাব্‌জেক্টিভ বিষয় আনতে গেলে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড অনিবার্য ভাবে চলে আসবে। লক্ষ লক্ষ শাহবাগী দিয়ে মাহমুদুর রহমানকে ভয় দেখানো আর কয়েক ডজন জামাতী দিয়ে নূরকে আঘাত করা দুটোই বে-আইনী, কে করছে তা দিয়ে ন্যায্যতা যাচাই করার ব্যাপার এটা না। আমাদের এমন কিছুকে আস্কারা দেয়া ঠিক হবে না, যেখানে বে-আইনী হওয়াটা অনিবার্য আইন হয়ে উঠে।

   পুনশ্চঃ আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-কে অবরোধ করার কর্মসূচীর বিরুদ্ধে। দবীর-কবীর-এর উদাহরণে অবরোধ বা পিকেটিং-এর কোন ন্যয্যতা নেই। কেউ নিজেকে বঞ্চিত মনে করলে বিচারকের কাছে যান। বিচারক বঞ্চিত-এর বিরুদ্ধে রায় দিলে মেনে নিতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণ-আন্দোলন বলে কোন শর্ট-কার্ট নেই। স্বৈরাচার সরানোর কোন গণতান্ত্রিক উপায়ও নেই।

Sainul Hossain’s Blog is www.prottasha-bd.com

মৃত্যুর মিছিলে আরও কজন

“মৃত্যুর মিছিলে আরও দুজন”- আজকের প্রথম আলোর হেডিং। বাসে আগুনে পুড়ে  দুটো মানুষ মরে গেলো। কী জঘন্য, কী ভয়ংকর! এই অপরাধের কোনো মাফ নেই। এই অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার হওয়া উচিত। এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার হওয়া খুব দরকার , শাহবাগে এ সকলের একত্রিত হওয়া দরকার। বাংলাদেশের “জেগে উঠা” দরকার। “ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই”, বলে স্লোগানে স্লোগানে মাতিয়ে দেওয়া দরকার “স্বাধীন” বাংলার আকাশ বাতাস। 

সেদিন ১৪ আর ১৬ বছরের দুটো ছেলে মরে গেল,  তবে আগুনে নয়, পুলিশের গুলিতে । গত কদিনে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে প্রায় ৫০ জনের মত। বেশীরভাগই তরুণ, কিশোর। সেই মৃত্যু- মিছিল আরো বড়, অনেক বড়। এভাবে গত ক’ বছরে হাজার হাজার নেতা-কর্মী মারা গেছে, গুম হয়েছে, জেলে গেছে।  প্রথম আলো কিংবা ডেইলি স্টার এদের নিয়ে  “সম্পূর্ণ রঙ্গীন” কোনো রিপোর্টিং করে না। এদের নিয়ে কোনো হৃদয়বিদারক টাইটেল হয় না। একই টাইটেল, মাসের পর মাস। “পুলিশের গুলিতে নিহত”।

কেনই বা করবে?  এরা তো গরীব “মানুষ” নয়। এরা গরীব “জানোয়ার”। “জানোয়ারের” আবার মানবাধিকার কী? এদের “জানোয়ার” ছানাপোনাগুলো চিৎকার করে আকাশ বাতাস কাঁদিয়ে তুললেও কোনো ফটোগ্রাফারের কিছু যায় আসে না। এদের মা “জানোয়ার” গুলো এদের কবরে বার বার হাত বুলালেও কিছুই যায় আসে না, আমাদের সেলিব্রিটি কলামিস্টদের।  ভ্রু কুচকে ভাবে-  “কেন” যে এরা  আমাদের “ট্রিগার হ্যাপী ” পুলিশের গুলির সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়!  এদের জীবনে কোনো “গল্প” নেই। এদের কোনো স্বপ্ন ছিল না । এরা কেউ স্কুলে প্রথম হয় নি! এদের তো প্রেয়সী থাকতেই নেই। “জানোয়ারের” জীবনে আবার কিসের প্রেম?


উপরের ছবিটি দেখুন। বাচ্চা মেয়েটির চোখগুলো দেখছেন? বিস্ময়। অগাধ বিস্ময়। মেয়েটি দেখছিল তার বাবাকে হত্যার দৃশ্য। নাটোরের বাবুর হত্যার দৃশ্য। বাংলাদেশে অবশ্য  আওয়ামী লীগ যারা করেন, এদের সমর্থক এবং যারা রাজনীতিকে “ঘৃণা” করেন, এদের ছাড়া আর কারো মানবাধিকার নেই। মেয়েটি সেটা জানে না। তার আছে “জানোয়ারের” অধিকার। তাইতো তার বাবা, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্তেও , রাস্তায়, প্রকাশ্য দিবালোকে, আওয়ামীদের হাতে “জানোয়ারের”  মৃত্যু বরণ করে, দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে  তাকে হত্যা  করা হয়। ফুটফুটে  মেয়েগুলো, বাবুর তিন মেয়ে, বিস্ময়ের সাথে দেখে তাদের বাবার জানোয়ার হওয়ার দৃশ্য। প্রথম আলো কিংবা ডেইলি স্টার এদের নিয়ে  “সম্পূর্ণ রঙ্গীন” কোনো রিপোর্টিং করে জানায় না এরা কেমন আছে। পাঠক জানতে পারে না,  ফুটফুটে মেয়েগুলো কত বড় হলো! বাবুর বউ, মহুয়া নামের রূপসী মেয়েটি, কেমন আছে!

ইলিয়াস আলী হঠাৎ এক রাতে হারিয়ে যায়। তার ছোটো মেয়েটা কাঁচা হাতে চিঠি লেখে। বাবাকে খুঁজে। ইলিয়াসের বউ, ছেলে মেয়ে নিয়ে ছুটে যায় গণভবনে। বিশাল ক্ষমতার অধিকারিনী, বাংলাদেশ আল্লাহর পরে যার ক্ষমতা (এবং কারো কারো মতে যার ক্ষমতা সেই একজনেরও নীচে না) সেই মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর পায়ে পড়ে যায়। “দিন না খুঁজে ইলিয়াসকে”/তার আগে এবং পরে  হারিয়ে গেছে আরো হাজার হাজার নেতা কর্মী। পুলিশের কাস্টডিতে মরে যায় মইন নামের এক মেধাবী তরুণ আইনজীবী। ছোট্ট একটি বাচ্চা নিয়ে মইন এর তরুণী স্ত্রী নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। নেতাকে না পেয়ে তার বউ, মেয়ে, জামাই, শাশুড়ি এমনকি শালার বৌকে পর্যন্ত ধরে নিয়ে যায় এরা। ঠিকই তো আছে, শুধু নেতা কেন, নেতার চৌদ্দ পুরুষের মানবাধিকার থাকতে নেই, থাকতে পারে না।  নেতার বাসায় ককটেল ছুরুক, নেতার মেয়ের গাড়ী “দুর্বৃত্তদের” আক্রমণে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাক, জমানো টাকা শেষ হয়ে যাক মামলার পেছনে, পাড়ার লোকদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়া “মানুষেরা” রেখে যায় বোতল ভর্তি পেট্রোল, উদ্দেশ্য পুড়িয়ে দিবে, জ্বালিয়ে দেবে নেতার সব, কী হয়েছে তাতে? নেতা তো “মানুষ” না। শুধু নেতা কেন, নেতার চৌদ্দ পুরুষের মানবাধিকার থাকতে নেই, থাকতে পারে না।

নেতা ভালো ছাত্র ছিল, বাবার আশা ছিলো ছেলে পিএইচডি করে থিতু হবে। কোথায় কি? দেশ জ্বলছে অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে। নেতা ফিরে আসে দেশে। ঝাঁপিয়ে পড়ে  মুক্তি সংগ্রামে। কোথায় যায় ক্যারিয়ার!  যোগ দেয় শিক্ষকতায়। সারাজীবন সমঝোতা করেছেন বিবাদমান দলগুলোর মাঝে, তবে সমঝোতা করেন নি আদর্শের সাথে। আদর্শ খেতে খেতে নেতার বউ এর উঠে নাভিশ্বাস।  পাতি নেতা এসে বলে, স্যার, লাল কুমার বড্ড জ্বালায়। ভোট তো এমনিতেই দিবে না, একটু ঠাণ্ডা করে দেই স্যার? নেতা চিৎকার করে উঠে। খবরদার! একজন লাল কুমার ও যেন কষ্টে না থাকে। কিন্তু লাল কুমার ভোট দেয় না। লাল কুমারদের বড় দুঃখ, সবইতো ঠিক আছে,  নেতার মার্কাটা কেন নৌকা হইলো না!

সারাজীবন ভদ্র লোকের রাজনীতি করেছেন। এই নেতা তার কর্মীদের উজ্জীবিত করতে বলে ” শুধু দু একটি গাড়ি ভাঙলেই আন্দোলন হয় না, রাস্তায় হাজারে হাজারে নামতে হবে, সরকারের পতন ঘটাতে হবে”/এই কথা শুনে নড়ে চড়ে উঠে “মানুষেরা”/ তথ্য বাবা এবং তার চেলা চামুন্ডারা শুরু করে তথ্য বিকৃতি। যেন নেতার আদেশেই বাস পুড়ছে!  টপাটপ মামলা। মামলার সংখ্যা আর নেতার বয়স প্রায় ছুই ছুই – ৬৫ হয়ে গেছে মনে হয় এরই মধ্যে! তবুও নেতাকে টলানো যায় না। এরপর শুরু হয় তথ্যবাবার ফুট সোলজারদের আরেক কান্ড। তার স্বাক্ষর নকল করে ভুয়া পদত্যাগ পত্র প্রকাশ যার সারমর্ম আবার অহিংস – মানে তার প্রেসক্রিপশান মতো অহিংস আন্দোলন না হওয়াতেই পদত্যাগ! দলের “সহিংস” কর্মকাণ্ড সহ্য করতে না পেরে নেতা প্রস্থান করছেন! কতো দেউলিয়া আজ তথ্যবাবা এবং তার চেলারা। ষড়যন্ত্রে, প্রপাগান্ডায় কনসিস্টেন্সি পর্যন্ত রক্ষা করতে পারে না!

বাংলাদেশে গত দুবছর নেতার সাথে মেয়ের দেখা হয়েছে শুধু কাশিমপুর জেলে। চারদিকে গোয়েন্দারা বসে, নেতা গল্প করে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভয়াবহ শক্তির কথা,  গল্প করে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের কথা,  গল্প করে বিচার ব্যবস্থার দেউলিয়াত্বের কথা।  নেতাকে মেয়ে লেখে। বাবা, ভীষণ চিন্তা হচ্ছে। এই বয়সে , এই শরীরে তুমি কোথায় আছো, কী খাচ্ছো ! দিনের পর দিন, রাতের পর রাত। আর কত দিন? কবে ভোর হবে?

ভোর তিনটায় নেতাকে গ্রেফতার করে অফিস থেকে, পায়ে তার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলির ক্ষত;  লাঠিটি পর্যন্ত নিতে দেওয়া হয় না। তো কী হয়েছে? এরা তো  “মানুষ” নয়। এদের নেই “মানুষের” অধিকার। তাই ভীষণ যন্ত্রনায় পুড়ে ছারখার হয়ে গেলেও বলি- তবু দেশটা শান্তিতে থাকুক। দেশে আজ যে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে তা নিভে যাক। দেশটা স্বাধীন থাকুক, সার্বভৌম থাকুক। আর একটা “মানুষও” যেন না মরে। দেবতারা সব মর্ত্যে নামুক। জয় হোক “মানুষের”।

এরপরেও  কথা থাকে। আমার শিক্ষা, মূল্যবোধ না হয় আমাকে  গান্ধীবাদে  দীক্ষা দিলো .এবং নিরাপদ আস্তানায় বসে এধরনের অদ্ভূত প্রার্থনায় উদ্বুদ্ধ  করলো.কিন্তু, আজ  রাস্তার ওই মিছিলটা, যেটা  বড় হচ্ছে খুব দ্রুত, ওই মিছিলটা কিন্তু একটা সিম্বল হয়ে যাচ্ছে। আরো হাজার হাজার মানুষ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে, প্রার্থনায় নয়, বরং “জানোয়ারের” মৃত্যু বরণে। দেশের প্রচন্ড ক্ষমতাশীল ঐ “মানুষটি” পারবে না এই প্রলয় রুখতে। আর সেই প্রলয়ে ভাসবে কিন্তু সবাই। “মানুষ” এবং “জানোয়ার” সবাই।

বাঙ্গালীর “গণহত্যা”

by Saleh Hasan Naqib

শাহবাগিরা তখন তুঙ্গে। ট্রাইব্যুনালের রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে ব্যপক সহিংসতা। দেখতে দেখতে নিহতের সংখ্যা শত ছাড়িয়ে যায়। পুলিশ গুলি করেছে point blank range থেকে। কখনো বা পড়ে থাকা মানুষের গায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে। মারা পরেছে নারীও শিশু। খালেদা বললেন, “গনহত্যা” বন্ধ করুন। শাহবাগিদের গায়ে আগুন ধরে গেল। কয়েকশত মানুষের মৃত্যুকে বলে “গণহত্যা”/ মুক্তিযুদ্ধের “চেতনাকে” অপমান!!! তখন কষ্ট পেয়েছি। মানুষের জীবনের ক্ষয় যাদের কাছে অপাংক্তেয় তারা কখনো সুবিচারের পক্ষে দাঁড়াতে পারে না। “ফাঁসি” চাওয়া পর্যন্তই এদের দৌড়। গতকাল অগ্নিদগ্ধদের দেখতে যেয়ে হাসিনা বললেন, “গণহত্যা” বন্ধ করুন। এবার ঠিক আছে। হাসিনা যখন বলেছেন, তখন নিশ্চয়ই গণহত্যা হচ্ছে। প্রতিটি অগ্নিদগ্ধ মানুষ আমাদের হৃদয়কে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে ঠিক যেমনটি অনুভব করেছি ফেব্রুয়ারি, মার্চ বা মে মাসে রক্তাক্ত মানুষের লাশ দেখে। শাহবাগিরা অন্য প্রজাতি। এদের বোঝা আমার দৌড় নয়। এরা বেশির ভাগ “খাঁটি বাঙ্গালী”/ রবীন্দ্রনাথের ভাষাতে বলতে হয় “রেখেছ বাঙ্গালী করে মানুষ করনি”।

বাসে মানুষ পুড়িয়ে মারলে কার ফায়দা হতে পারে ?


আপনি কি খেয়াল করেছেন যতবারই বাসের আগুনে মানুষ পুড়ে ততবারই জনবিছিন্ন আওয়ামীলিগ যেনো নয়াজীবন পায়? দেশের ৯০% মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে একদলীয় নির্বাচন করার সিদ্ধ্বান্ত থেকে সরে না আসার জন্য যখন দেশের আপামর জনগণ শেখহাসিনার বেহায়াপনায় বিরক্ত, ঠিক সে সময় কিছু দিন পর পর বাসে আগুন ধরিয়ে সাধারণ মানুষ পুড়িয়ে কার রাজনৈতিক লাভ হয় বলেনতো ? বিএনপি তো সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার আদায়ের লড়াই করছে, তারা কেনো মানুষ পুড়িয়ে মারবে? একটু ভেবে দেখেন যখনি বাস ভর্তি সাধারণ মানুষ পুড়িয়ে মারা হয় তখনই আওয়ামীলীগের দালালরা নড়ে চড়ে বসে। পোড়া মানুষগুলো যেন তাদের নতুন জীবনীশক্তি দান করে। পোড়া দেহ গুলোর ছবিগুলো ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট করে আওয়ামিলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠন প্রচার শুরু করে এই বলে যে ‘দেখেন বিএনপির নেত্রীতাধীন ১৮ দল কত খারাপ। এরা মানুষ পুড়িয়ে মারে।’ দালাল মিডিয়াগুলাও কোনো প্রমান ছাড়া একই সুরে তাল মিলায়। এর পরে চলে মামলা এবং ধরপাকড়। গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির নেতাদের। এই প্যাটার্নটা এখন খুবই স্পস্ট। এখন বলাই যায় আওয়ামিলীগ তিনটি কারণে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা হতে পারে । ১ নম্বর কারণ হচ্ছে বিরোধী দলের আন্দোলনের বিরুদ্ধে জনমত তৈরী করা। কারণ এই সরকারের আমলে সীমাহীন দুর্নীতি, অত্যাচার ও লাশের সারি দেখতে দেখতে মানুষ এখন আওয়ামীলীগের উপর বিরক্ত। আওয়ামীলীগের জনসমর্থন শুন্যের কোঠায়। মানুষ পুড়িয়ে মেরে মানুষের পোড়া লাশের গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে বিএনপির উপর দোষ চাপিয়ে আওয়ামিলীগ তার হারানো জনসমর্থন আদায়ের অসুস্থ খেলায় মেতে উঠেছে। ২ নম্বর কারণ হচ্ছে অহেতুক সাধারণ মানুষদের পুড়িয়ে তাদের মেরে ফেলে আওয়ামীলিগ চায় বিরোধীদলের আন্দোলন দমন করতে। এজন্যই তারা কোনো রকম তদন্ত ছাড়া বাসে মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ৩ নম্বর কারণ হচ্ছে এরকম হৃদয়বিদারক ও নির্মম হত্যাকান্ড ঘটিয়ে আওয়ামীলীগ চায় বিরোধীদলের তত্তাবধায়ক সরকারের যে নায্য দাবী তা থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে ফেলতে। কথাগুলোর যৌক্তিকতা একটু ভেবে দেখবেন। পোড়া মানুষের গন্ধে হতবিহব্বল আপনি আমি হতেই পারি, তাদের কষ্টে আমাদের দু-চোখ জলে ভিজে যেতেই পারে , গলা ফাটিয়ে অসহায়ত্তের কান্নায় আমরা ভেঙ্গে পরতেই পারি। কিন্তু আমাদের যৌক্তিক বিচার বুদ্ধি রাখাটা এই সময় সবচেয়ে জরুরী। কারণ এখন একটি পক্ষ যেকোনো মূল্যে ক্ষমতার গদি আকড়ে পড়ে থাকতে চাচ্ছে। মনে রাখবেন কথাটা হচ্ছে —–যে কোনো মূল্যে। তা আপনের আমার পোড়া দেহের মূল্যে হলেও।

কঠোর আন্দোলন ও সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষাঃ পরস্পরবিরোধী? করণীয় কি??

by Shikin Aman

১।   দেশব্যাপী বাকশালের বিরুদ্ধে শক্তিশালী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার এখনই সময়। হরতাল অবরোধ কখনোই শান্তিপূর্ণ হয়না, অনিবার্যভাবেই সহিংসতা এর সাথে জড়িত। অনেকক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করলেও সরকারী বাহিনীর আক্রমনে বা প্ররোচনায় সহিংসতা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু কিছু ব্যাপারে সতর্ক থাকা দল দেশের স্বার্থে প্রয়োজন অনেকের দ্বিমত থাকতে পারে, সেইসব দ্বিমতের ব্যাপারে আমি শ্রদ্ধাশীল। আমি শুধুই নিজের বিবেক ও জ্ঞানত যা ঠিক মনে হয় তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলামঃ


ক।    অবরোধ কার্যকর করার জন্য এর সাথে সম্পর্কযূক্ত নয় এমন কারো প্রাইভেট গাড়ি ভাংচুর করা কতটা যুক্তিসংগত? হরতাল কার্যকর করার জন্য পিকেটিং দরকার আছে, মানলাম। সে জন্যে টায়ার জ়্বালিয়ে বা গুরুতপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিয়ে  রাস্তা দখল করে রাখতে পারলে এমনিতেই সব গাড়ি চলা বন্ধ করবে। এর পরও যদি কোন গাড়ি এগিয়ে আসে, হয়ত তার প্রয়োজনটা তার জানমালের নিরাপত্তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। দুই একটা গাড়ীকে মানবিক বিবেচনায় ছাড় দিলে হরতাল/অবরোধ ব্যর্থ হবেনা। বরং হরতালকারীদের মানবিকতার পরিচয় পাওয়া যাবে। এর সুফল দল নির্বাচনের সময় পাবে। এর বাইরেও অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি ভাংচুর করা হয়। আমার মনে হয় ত্রাস সৃষ্টির চেয়ে এই ধরণের কাজ মানুষের মনে ঘৃণা সৃষ্টি করে বেশী, আর দল হারায় একটি পুরো পরিবারের সহানূভূতি ও ভোট। আমরা কি আর একটু সুবিবেচক হতে পারিনা?

খ।    হরতাল সফল করার অংশ হিসেবে নিরপরাধ পথচারী, নারী, বৃদ্ধ, শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কিছু করা কি ঠিক? হ্যা আমি জনসমাগম এলাকায় বোমাবাজী, মানুষসহ পাবলিক বা ব্যাক্তিগত ট্রান্সপোর্টে আগুন, বা গরিব রিকশাওয়ালা বা সিএনজিওয়ালার জীবিকার একমাত্র সম্বল জ্বালিয়ে  দেয়ার কথা বলছি। আমরা কি একটু মানবিক হতে পারি না? রিকশার হাওয়া ছাড়া আর সিএনজি পথ আটকানো পর্যন্ত মানলাম, এর উপরে যাওয়ার আগে একবার কি আমরা আমাদের মতই একজন গরীব মানূষের তিল তিল করে করে গড়া স্বপ্ন পোড়ার কথা ভেবে দেখি? জেনেশুনে মানূষ পোড়ার কথা আমি বলবনা- আমি বিষ্বাস করতে চাই এই কাজ সুস্থ মস্তিস্কের আমাদের কেউ করেনা। হয় এটা কোন অসুস্থ মস্তিস্ক লোকের কান্ড, অথবা এটা আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার অপকৌশল। এভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন ভেঙ্গে বা পূড়িয়ে কি আমরা আসলে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে পারবো? ভাবার বিষয় আছে নিঃসন্দেহে!

গ।    এরপর আসি সরকারী বেসরকারী যানবাহন আর সম্পত্তি ধংসের ব্যাপারে।বিআরটিসি বাস, ট্রেন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, সরকারি গাড়ি, সরকারী সম্পত্তি এগুলো পোড়ালে যে ক্ষতি হয় তা বুবুজানের সংগিদের গায়ে লাগে বলে আপনি মনে করেন?? বুকে হাত দিয়ে বলেন তো! যারা ক্ষমতায় থাকতে দেশ বিক্রি করতে পিছপা হয়না, তাদের কাছে তো সরকারী সম্পত্তি ধ্বংস নস্যি! এইসব নেতাদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট থাকে সুইটজারল্যান্ড, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, ইউকে এইসব দেশে। সারাদেশ জ্বলে যাওয়ার পর তারা টিভিটা বন্ধ করে পরিবারকে বলবে, চলো কিছুদিন বিদেশ থেকে ঘুরে আসি। এই ট্রেন গাড়ি কিনার জন্য তারা বিদেশ থেকে আপনার আমার নামে লোন নিবে, যা আমাদের ট্যাক্সের টাকা থেকেই বিশ বছর ধরে কাটা যাবে। সুতরাং এগুলো পোড়ানো আর নিজের বাড়িতে আগুন লাগানো একই কথা।

ঘ।    আমি আপনাদের আবেগের কথা অনুভব করতে পারি, হরতাল সফলের জন্য ত্রাসের প্রয়োজনীয়তাও বুঝি। কিন্তু আমাদের সব কার্যাবলী পরিস্থিতি আর দলের প্রয়োজনের সাথে মিলিয়ে করা দরকার। এই মূহুর্তে দলের দরকার সম্পূর্ণ জনগোষ্টির সমর্থন (বালকানা ব্যাতীত) যাতে সতঃস্ফুর্তভাবে মানুষ এই জালিম বাকশাল সরকারকে প্রতিহত করে। তাছড়া এই আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা আছে নিঃসন্দেহে। সেই ক্ষেত্রে প্রতিদিন এমন হাজার হাজার লোককে খেপিয়ে তোলা কতটুকু কার্যকর হবে?

২।  অভিজ্ঞ কর্মীরা হয়ত বলবেন, এই কাজ তো আমরা একা করছিনা। এই বাল যখন বিরোধী দলে ছিল, তখন তারা এর চেয়ে বেশী নৈরাজ্য করেছে। কিন্তু মনে করে দেখেন, ১৯৯৬ বা ২০০৭ সালে সাধারণ মানুষ হত্যা করে কোন ফলাফল আসেনি। সরকার তখনই আন্তর্জাতিক মহল বা সামরিক বাহিনীর চাপের মুখে পড়েছিল যখন রাজনৈতিক দলগুলো মুখোমুখি হয়ে একটা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। অর্থাৎ আপনার আক্রমনের লক্ষ্য হতে হবে আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সাধারণ মানুষ কখনোই না!  সাধারণ মানুষের জানমালে হামলা করতে থাকলে পুলিশ, বিজিবি স্বাভাবিক নিয়মেই তা রক্ষা করতে গুলি চালাবে। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করা তাদের মৌলিক এবং আইনি দ্বায়িত্ব। এক্ষেত্রে যদি সেনাবাহিনীও নামানো হয়, তারাও নির্দ্বিধায় গুলি চালাবে। কারণ তারা এটাকে সাধারণ মানুষের জীবন বাচানো হিসেবে দেখবে। তখন আন্দোলনের গতি যে থমকে যাবে তা বুঝতে হলে বেশী জ্ঞানী হওয়া লাগে কি? বহির্বিশ্বের কোন দেশও এই ধরণের কাজ ঠেকাতে সরকারের নেয়া কোন পদক্ষেপকে নিন্দা জানাবে না।  গুলি করে শত শত মানুষ মারলেও না। ২৫ নভেম্বরে মজিনা ভাইয়ের বক্তব্যে এর আভাস পাওয়া গেছে। এই বছরও আমেরিকা ড্রোন হামলা করে ইয়েমেনে একজন আমেরিকান নাগরিক হত্যা করেছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে! সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকী মোকাবেলায় তাদের দেশের পুলিশও গুলি করার ক্ষমতা রাখে। সুতরাং সাধারণ মানুষকে হত্যা করলে, বা সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ধ্বংস করে সরকারকে এক চুলও নড়ানো যাবেনা। আপনারা এই কাজ করবেন আশা করেই বুবু তার বিখ্যাত ‘এক চুল না নড়ার’ ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এখনও পর্যন্ত সফলভাবে কথা রেখে যাচ্ছেন!

৩।  আমার মনে হয় এতক্ষনে আমার উপরে অনেকেই ক্ষেপে গেছেনঃ গালি দিচ্ছেন ভাদা বলে। একটু ধৈর্য ধরে লেখাটা পড়ে শেষ করেন। কিন্ত আমি আসলে নিজেকে বাংলাদেশের দালাল ভাবতে গর্ববোধ করি। আমার চিন্তাচেতনার লক্ষ্য আমার দেশের সামগ্রিক উন্নতি। আমার কাছে দলের চেয়ে দেশ বড়। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। বাকশাল সরকারকে হটানো দরকার কারণ তারা দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েছে এবং আরো দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের জীবন, জীবিকা, শেষ সম্বল ধ্বংস করে দলকে ক্ষমতায় নেয়ার চেষ্টা আমার বিবেকের পরিপন্থী। সেটা আসলে কোন পথও না। কারণটা উপরের প্যারায় বলেছি। এটা এই বাকশাল সরকার জানে, এইজন্যেই তারা এতো আত্মবিশ্বাসী! তাহলে এই জালিম সরকার হটানোর উপায় কি?

৪।  আমাদের এই যুদ্ধকে বিশ্বের দরবারে রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক দন্দ্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে তা আন্দোলনকে শুধুই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে! রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মাঠে নামানোর ব্যবস্থা করে তাদের টার্গেট করতে হবে। বেশিদিন তারা ঘরে থাকবেনা, তাদের ইগো তাদের এটা করতে দিবেনা। তখন এই যুদ্ধকে রাজনৈতিক রূপ দেয়ার মোক্ষম সময়। অনেক সময় মিছিলে পুলিশ অকারণে (সাধারণ মানুষের জানমাল বাচাতে নয়) গুলি চালায়। এমন কার্যকলাপকারী সদস্যরা অনেকেই কিছুদিন আগেও ছিল বালের ক্যাডার। এখন উর্দি পরে তারা বেআইনি কাজ করছে। এমন সদস্যদের উপযুক্ত প্রমাণসহ (ভিডিও) চিনহিত করতে হবে এবং পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। সাধারণ/ নিরিহ পুলিশসদস্য যারা নিতান্তই কর্মকর্তার আদেশে দ্বায়িত্ব পালনে এসেছে, তাদের হঠাত বাগে পেয়ে হেনস্তা করাটা আসলে নিতান্তই অমানবিক। সঠিক লোককে ধরতে হবে। এই ট্রেন্ড যদি শুরু করা যায় খুব শীঘ্রই সাধারণ পুলিশ সদস্যদের সহানুভূতি আপনারা পেতে শুরু করবেন। এটা খুবই গুরূত্বপূর্ণ- বিলিভ মি। হরতাল সফলের জন্য পাড়ায় পাড়ায় জনগণের কাছে দল বেধে যেতে হবে, বুঝাতে হবে। তাদের সাহায্যে রাস্তা দখল করে হরতাল সফল করতে হবে, সেক্ষেত্রে বাধা আসলে উপরে ফেলতে হবে।

৫।  আমি যেগুলো বললাম এটা সাধারণ কর্মীরা হয়তো পুরোপুরি অনুধাবণ করতে পারবে না। এগুলোর সাথে স্বাধীণ দেশের সরকারের কার্যক্রমে (বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া ) যেকোন শক্তির হস্তক্ষেপ রোধকারী আন্তর্জাতিক আইন জড়িত।  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর শানুভূতি অর্জনের সাথে সম্পর্কিত মানসিক ও মানবিক বিষয়গুলিও জড়িত। তাই নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় মোটিভেশন করতে হবে। কেন্দ্র থেকে এই ব্যাপারে নির্দেশনা আসতে হবে। তবেই এই আন্দোলনের কাঙ্খিত ফল পাওয়া যাবে। যখনই আপনার মনে হবে বালও তো মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, নিজেকে মনে করিয়ে দিবেনঃ মানুষ মানুষের জন্য। আমরা বাল না আমরা মানুষ!!!

Not a mindless atrocity but an atrocity of ‘war’


Death relieves his pain | http://www.thedailystar.net

Death relieves his pain |

The boy Monir died at last after three days of indescribable pain from burning of 95% of his body. The whole country silently prayed that Monir die sooner than later, prayed so that the merciful god takes Monir in his peaceful embrace and deliver him from the hell on earth called Bangladesh. We have seen the pictures. Monir sitting on the ground with his whole body blackened with third degree burn. Monir’s father carrying the charred but still living body of his beloved son. No words can convey the thoughts and emotions that go through a sentiment human when watching these images.


Read the Rest at AlaloDulal.org

Not a mindless atrocity but an atrocity of ‘war’

Arson attack on bus kills 9 -Daily Star June 05, 2004

Flames grow higher on a state-owned double-decker, left, on the Gulistan-Mirpur Road that came under bomb attack in front of Dhaka Sheraton Hotel yesterday; and a girl, right, tries to climb down the burning vehicle in her desperate bid to survive the terror. PHOTO: Anisur Rahman

Flames grow higher on a state-owned double-decker, left, on the Gulistan-Mirpur Road that came under bomb attack in front of Dhaka Sheraton Hotel yesterday; and a girl, right, tries to climb down the burning vehicle in her desperate bid to survive the terror. PHOTO: Anisur Rahman




Arson attack on bus kills 9
Bomb hurled on transport in several city areas
Staff Correspondent

Unknown assailants carried out an arson attack on a double-decker bus in front of Dhaka Sheraton Hotel, killing nine passengers including a two-year-old girl and injuring 15 in one of a series of assaults on public transport in the capital last night.

The flames soon leapt to both decks of the state-owned BRTC bus on the Gulistan-Mirpur route, prompting most passengers to storm out except for the nine who got trapped inside.

Police and witnesses said six people were incinerated in the bus, a fire-burnt man jumped to death on the street and two others including a two-year-old child died from injuries at Dhaka Medical College Hospital (DMCH).


Three of the nine dead are identified as Meem, 2,Yasmin, 25, and Tahura, 27. Thirteen of the 15 injured admitted to the DMCH are Meem’s mother Monwara, 22, Wahed, 14, Abdur Rahim, 35, Abul Kalam, 45, Rowshan Ara, 30, her son Rony, 12, Alamgir, 14, Jognu Akhter, 18, Mustafiz, 40, Saidur, 22, Babu, 8, Kabir, 40, and Rabbi, 4.


The fire left the bus in a charred, blackened metal structure, burning out all seats and other flammables before fire fighters could douse the blaze.

“I have no idea who carried out the grisly attack, but they are very cold-blooded murderers who worked to a well-orchestrated plan,” Dhaka Metropolitan Police (DMP) Commissioner Ashraful Huda told reporters after the arson.


“This sort of incidents take place before every hartal and you also know the perpetrators,” he said.

Terming the incident a bestial one, the DMP commissioner said, “The nature of the fire suggests the killers poured gunpowder on both decks of the bus before setting it on fire.”

A string of bomb attacks on public transports was also reported in other areas of the city last night, hours before a 24-hour countrywide opposition strike from 6:00am today and visit of US Defence Secretary Donald Rumsfeld in the afternoon.

The attacks largely came on buses and minibuses near Mirpur Heart Foundation Hospital, National Zoo, Pallabi, Rampura TV Station, Mugda and Shyampur.

Explosions also rocked Gulshan-1, Shukrabad, Gabtali, Motijheel and Paltan areas.

The double-decker, coming from Minto Road direction, caught fire soon after it reached the road stretch in front of the hotel, unfolding a scene of horror.

“Sitting close to the driver, I saw fire behind the driver’s seat all on a sudden which was fast spreading,” 35-year-old Rahima Begum said, adding she rushed out of the bus with her son Ali.


As the bus driver sped, fire engulfed the vehicle and the busload of passengers including men, women and children found it difficult to come out through an exit and half-closed windows.

“The fire caught my wife Yasmin and burnt her alive before my eyes on the upper deck,” said Abdur Rahim, driver of an autorickshaw, bursting into tears.


“But I didn’t lose my sense and whisked my niece Litu off the bus,” said Rahim, who took the vehicle at Gulistan for Mirpur-12.

Meem, who was on the upper deck with her mother and other relatives, was incinerated on her mother’s lap. Her mother Monwara, 22, survived the blaze with serious burns all-over and is now being treated at the DMCH.

Meem’s aunt Rowshan Ara and her 12-year-old son Rony also suffered burns before falling on the street from the bus amid a crushing scramble.

Her cousin Jognu Akhter, 18 and Alamgir, 14, also received injuries jumping to the street from the upper deck.

The fire left Wahed, 13, all burnt and he was fighting a grim battle with death with little hope for his life.

Rana, an 11-year-old boy who survived the inferno, said: “All on a sudden we saw a red flame leaping from just behind the driver’s seat.”

“My elder brother Badal and myself could jump out of the exit, leaving masses of passengers scrambling to get out of the exit behind,” he told The Daily Star, disconsolate with grief.

Habib, a bookseller, said, “The passengers were desperately pushing for the exit, but a crowd blocked the narrow staircase. I saw some trying to get out through the windows.”

“Casualty could have been lowered, had the driver stopped the bus immediately after it caught fire,” he said, adding the driver kept going on despite hearing screams.


Sergeant Rakibuddin, who was on duty near the crossing, said, “Flames engulfed the whole bus in a moment.”

“Seeing passengers trying to escape through the door, I shouted at them to jump through the windows,” Rakibuddin said, adding he saved two who jumped down.

একধাপ এগিয়ে এ দলঃ বি দলের করনীয় কি?


By Shikin Aman      পূর্ববর্তী সূত্রঃ http://shikinaman.wordpress.com/2013/11/03/strategy2/

সরকারী দল হওয়ার সুবাদে এ দলের কিছু ইনহেরেন্ট সুবিধা থাকারই কথা, এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে দলটি তার এই সুবিধাকে ম্যাক্সিমাইজ করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, মিডিয়া ও বিচার বিভাগের উপর প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রন এর বহিঃপ্রকাশ। তাছাড়া ধারণা করা যায় যে জেলা প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের উপর তাদের যথেষ্ট আস্থা আছে, যা তাদেরকে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের সময় সাহায্য করবে। তারা নিজেদের দুর্বলতাগুলোকে জনগণের দৃষ্টি ও বিরোধীদের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য একটি সমন্বিত ষ্ট্র্যটেজি নিয়েছে যা ইতিমধ্যে তাদেরকে একটি নিরাপত্তাবোধ দিয়েছে। অপরদিকে বি দলকে তারা চতুর্মখী আক্রমনের মাধ্যমে বিপর্যস্ত করে রেখেছে (লিস্ট) যার ফলে বি দল অবিরাম হরতাল ছাড়া আর কিছু করণীয় খুজে পাচ্ছেনা। এ দল পরিকল্পনায় একধাপ এগিয়ে থাকায় হরতালেও তারা বি দলকে ব্যাকফুটে নেয়ার একটি কার্যকর কৌশল বের করে ফেলেছে। তার সাথে তারা পরবর্তী একটি ধাপের জন্য জাল পেতে চলেছে, যেটার লক্ষ্য হতে পারে বি দলের একটি অংশকে পাতানো নির্বাচনে অংশ নেয়ানো। আজকের লেখাতে এই দুইটি বিষয়ে আলোচনা করবো।

হরতাল প্রসংগঃ

শান্তিপূর্ণ হরতাল বলে কোন হরতাল কালচার বাংলাদেশে নেইঃ এটা নিয়ে কোন দ্বিমত করার অবকাশ নাই। এখনকার পরিস্থিতিতে পিকেটিং মানেই পুলিশের বা এ দলীয় ক্যাডারদের সাথে মারামারি অবধারিত। পুলিশ আসলে নিজ দ্বায়িত্ব পালন করছে মাত্র। এ দলীয় ক্যাডাররা করছে মাঠ দখলের চেষ্টা। এক্ষেত্রে পুলিস যে কাজটি আইনসঙ্গতভাবে করছেনা সেটা হচ্ছে, এ দলের সমর্থকরা অস্ত্রধারী হয়েও পুলিশের কাছ থেকে কোন বাধা পাচ্ছেনা। দ্বিতিয়ত কোথাও কোথাও পুলিশ অপ্রয়োজনে গুলি করছে। খালী হাতে থাকা জনতার উপর গুলিবর্ষণ পুলিস কোন আইন দিয়ে বৈধ করতে পারবেনা। উপরস্থ কর্মকর্তার আদেশে হলেও এটা বৈধ আদেশ হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক না। কিন্তু  বেআইনি কাজটাকে এ দল এক ঢিলে দুই পাখি মারতে ব্যবহার করছে। একদিকে এটা দ্বারা বি দলের আন্দোলনকে শক্ত বাধার মুখে ফেলে দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের একটা বাকশালী ড্রাগ দেয়া হচ্ছে। ড্রাগ বললাম কারণ সুস্থমাথায় নিজের দেশের লোকের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো সম্ভব না (দলীয় ক্যাডার থেকে পুলিস হওয়া ব্যতীত), অন্যদিকে একবার খুন করার পরে একটা বোধ কাজ করে যে এই কাজের জন্য আবার বিচার হবেনা তো? তখনই না চাইলেও বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখার একটা প্রবণতা চলে আসবে। বুদ্ধিমান এ দলের তো লাভই লাভ।

দ্বিতীয় ইস্যু হচ্ছে পুড়িয়ে বা বোমা মেরে সাধারণ মানুষকে হত্যা। এইটাও সাধারণ সুস্থমস্তিষ্কের লোকের কাজ হতে পারেনা। সাধারণ মানুষের সম্পত্তির ক্ষতিও মেনে নেওয়া যায়না।এটা চললে বি দলের জনমতে ক্ষয় ধরবে। বিশ্বজিত হত্যার পরে ছাত্রলিগের ইমেজের একটা বড় ক্ষতি হয়েছিল। লক্ষ্য করে থাকবেন, মনির হত্যার পর কিছু এ দলের নুন খাওয়া ও অন্ধভক্ত কেন এটাকে বিশ্বজিত হত্যার সাথে তুলনা করা হচ্ছেনা এই নিয়ে অনেক কান্নাকাটি করেছে। এই দুইটা সাধারণের চোখে সমান হয়নি কারণ প্রথম হত্যাকান্ডটি চিনহিত এ দলীয় ক্যাডার বাহিনী দ্বারা টিভি ক্যামেরার সামনে করা খুন। আর দ্বিতিয়টি হরতালে গাড়িতে আগুন দেয়ার সময় সঙ্ঘটিত  হত্যাকান্ড (ইচ্ছাকৃত হত্যা কিনা নিশ্চিত না)।

এ হত্যাকান্ডের হোতারা কোন দলের চিনহিত নেতা নয়। সুতরং ঢালাওভাবে এর দায় কারো উপরে দেয়া সম্ভব না। কিন্তু এ দল ইতোমধ্যে দলীয় মিডিয়া ও অনলাইন প্রপাগান্ডার মাধ্যমে একে সম্ভব হলে ম্যাডামের প্রত্যক্ষ আদেশে সংঘটিত হত্যা প্রমাণ করতে চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের বিপদ এখানেই শেষ না। সাধারণের লাশের রাজনীতির ধারা বলে, এখন বি দলকে কেন্দ্রীয় নির্দেশ দিয়েও এই ধরণের হত্যা রুখতে বেগ পেতে হবে। এখন প্রয়োজনে এ দলের লোক (নিজেরা মেরে হলেও) এই ধারা বজায় রাখবে, কারণ এতে বি দলের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ জনগণ এখানে শুধুই খেলার পুতুল।

সুতরাং বি দলের এই অবস্থায় করণীয় কি?

প্রথমেই কেন্ত্রীয়ভাবে এই ধরণের হত্যাকান্ডের প্রতি দলের অসমর্থন ও নিন্দা জ্ঞাপন করে নিজ দলের সমর্থকদের এ জাতীয় কাজ থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দিতে হবে। দলের মধ্যে যারা আদেশ পাওয়ার পরও এ কাজে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করবে, তাদেরকে হাতে নাতে ধরে প্রয়োজনে পুলিশে সমর্পন করতে হবে, কারণ তারা আসলে দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে (হয়ত এ দলের টাকার বিনিময়ে)।

হরতাল চলাকালীন পয়েন্টে পয়েন্টে নিজস্ব ক্যামেরাম্যান রাখতে হবে। যদি অন্য কোন দলের লোক এই ধরনের কাজ করে, তাদের ছবি তুলে রাখতে হবে। পুলিসের মাত্রাতিরিক্ত শক্তিপ্রয়গের প্রমাণ ও কেন্ত্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তবে একে সূক্ষভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে যাতে এ দলের এক ঢিলে দুই পাখী মারার (উপরে বর্ণিত) নীতি কার্যকর না হয়। সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ধংস যথাসম্ভব এড়াতে হবে। টায়ার পোড়ানো বা অবস্থান দখলের মাধ্যমে হরতাল কার্যকর করার চেস্টা করা যেতে পারে। ভাংচুর এর মাধ্যমে নয়। এ দলের ক্যাডারদের রাজপথ থেকে দূরে রাখতে পরলে এম্নিতেই হরতাল সফল ও কার্যকর হবে। বি দল তার সমস্ত শরিকদের নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করলেই এটা সম্ভব। এ দল গ্রেফতার ও নির্যাতনের শংকা তৈরি করে বি দলের নেতাদের রাজপথে থাকতে দিবেনা, আর পাশাপাশি পোষা মিডিয়াতে সর্বশক্তিতে প্রচার চালাবে যে বি দলের নেতারা মাঠে থাকেনা। আজকের দিনে রেগুলার, অনলাইন সব পোষা লেখকদের লেখা ও ষ্ট্যাটাস এ এর প্রমাণ পাবেন। এতে বি দলের কর্মীদের নেতাদের উপর আস্থা হারালে চলবে না। বরং নেতাদের ছিনিয়ে নিতে আসা যে কাউকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করেই এর জবাব দেয়া সম্ভব। এর ফলে সারা দেশের কর্মীদের কাছে পসিটিভ মেসেজ পৌছে যাবে।

নির্বাচন প্রসংগঃ

নির্বাচনে বি দলকে না নিতে পারলে সে নির্বাচন আন্তর্জাতিক সিকৃতি পাবেনা, এটা সবাই বূঝে। সুতরাং এ দল এখন যেসব কাজ করছে তার অন্যতম লক্ষ্য থাকবে বি দলকে নির্বাচনে নেয়া। সম্ভব না হলে বি দলের বর্তমান বা পুরাতন কিছু নেতাকে দল ভাঙ্গিয়ে বি দল হিসেবে নির্বাচনে নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। যেহেতু সংসদ চলবে, এক্ষেত্রে কোন নির্বাচনী আইন বা সংবিধান (!)  সংশোধণ প্রয়োজন হলে সেটাও করা হবে! অবাক হওয়ার আসলে আর কোন স্কোপ নাই। প্রয়োজনে কোর্ট আদেশ দিবে দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে বি দলের আগ্রহী অংশকে নির্বাচনে অংশ নিতে। এই মগের মুল্লকে কিছুই অসম্ভব না।

ব্যাপারটা বি দলের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল ও হতে পারে। যাতে চাপে পরে বি দল সাজানো নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে বি দল ইতোমধ্যে তাদের তিন ধাপের কৌশল নির্ধারণ করেছে। তফশীলের আগে, তফশীলের পরে আর নির্বাচনের দিন ও তার পরেঃ এই তার তিন ধাপ। আমি আশা করব বি দল এর বাইরেও কিছু কন্টিনজেন্সি ষ্ট্র্যটেজি নির্ধারণ করেছে। সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে নির্বাচন প্রতিহত করার কৌশল কি হবে,  কোন নেতা দলত্যাগের চেষ্টা করলে তার জন্য করণীয় কি, নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি কি ইত্যাদি নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি কুটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ডাঃ ইউনুসের প্রভাবকে যতটা সম্ভব দেশের স্বার্থে পসিটিভলি ব্যবহার করা যেতে পারে।


বি দলের জন্য এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের সমর্থন।  দল এতে ভাঙ্গন ধরানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। বি দলকে যেকোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে এদিকে লক্ষ রাখতে হবে। JSC  পরীক্ষা, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এগুলো ভুলে গেলে চলবে না। মানুষের কাছে নিজেদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা (ইস্তেহার) তুলে ধরতে হবে। প্রিন্ট, ভিজুয়াল ও অনলাইন মিডিয়াতে সমন্বিতভাবে নিজেদের সুস্থ মনোভাব ও দেশের জন্য সুন্দর পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে থানায় থানায় প্রিন্টিং প্রেস বা বিকল্প প্রিন্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের মনোভাবকে পৌছে হবে। মানূষ পরিবর্তন চায়। তাদেরকে সেই স্বপ্নের পথ দেখাতে হবে। এ ব্যাপারে পরে আবার লিখার আশা রইলো।