‘বিএনপি – জিয়া পরিবারের প্রতিনিধি = ???’

by zainuddin sani

এদেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল মুখে যতই গণতন্ত্রের জন্য নাকি কান্না কাঁদুক, একটা ব্যাপারে দুই দলই একমত, রাজতন্ত্র ছাড়া দল টেকানো সম্ভব না। সমস্যাটায় প্রথম পড়েছিল আওয়ামীরা। যে মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু সহ তাঁদের শীর্ষ চার নেতার নিধন হল, তারপর থেকেই শুরু হয়ে যায় শীর্ষ পদ দখলের কামড়াকামড়ি। প্রায় চার টুকরা হওয়ার পথে রওয়ানা দেয় দলটি। নৌকার হাল ধরতে অবশেষে আসতে হয় শেখ বংশের জীবিত দুই বংশধরের একজনকে।

এর কিছুদিন পরেই একই সমস্যায় পড়ে, দেশের অপর বৃহৎ দলটি। তাদেরও কমবেশি একই অবস্থা হয়েছিল। ম্যাডাম এসে কাস্তে হাতে তুলে না নিলে দলটি টুকরো হতো না ‘ভ্যানিস’ হতো তা হলফ করে কেউ বলতে পারবে না। তবে সেযাত্রা বেঁচে যায় এবং এরপর থেকে ঝড় ঝাপটা এলেও দলটি টিকে ছিল।

এরশাদ সাহেবের বদান্যতায় প্রায় নয় বছর ক্ষমতার বাইরে থাকলেও দল দুটির অনুগামীর সংখ্যায় যেমন কমতি হয়নি তেমনই নেতৃত্ব নিয়েও তেমন কোন ঝামেলা হয়নি। যদিও বিভিন্ন পদে কে অধিষ্ঠিত হবেন তা দল দুটির শীর্ষ নেত্রী কর্তৃক নাজিল হত কিংবা কাউন্সিল হলেও কোন কর্মীই সাহস করে জানাতেন না, তিনি নেতা হতে চান। ফলে দল দুটির দ্বিতীয় শীর্ষ পদ বলে তেমন কিছু ছিল না।

দল পরিচালনার জন্য যে একনায়কতন্ত্রকে সমাধান হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন দুই নেত্রী, সেই সমাধানই সমস্যা হয়ে আবির্ভূত হল, ১/১১তে। দুই শীর্ষ নেত্রী বন্দী হলেন। একটি দলে তখন হবু উত্তরাধিকারী চলে এসেছিল, তিনিও বন্দী হলেন। শীর্ষ পদ ফাঁকা হওয়ায় নেতা হতে আগ্রহী সেইসব নেতাদের হঠাৎ করে বিবেক জাগল। মনে পড়ল, ‘আরে তাইতো, দলে তো গণতন্ত্র নেই! কিছু একটা করা দরকার।’

সমাধান হিসেবে যা আসলো, তা ছিল দল দুটির ওপর আসা পুরনো সমস্যার নতুন এডিশান। সেই দুই পারিবারিরক প্রতিনিধিদ্বয় আসবার পূর্বে যে সমস্যা হয়েছিল, তা আবার ঘটবার সম্ভাবনা দেখা দিল। কাহিনী একটু বেশি আঘাত হানলো বিএনপিকে। হয়তো এখানে উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতার সংখ্যা বেশি ছিল কিংবা তাঁদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিমাণ বেশি ছিল। ঘটনা বেশ অনেকদূর গড়াল। তবে শেষরক্ষা হল রাজতন্ত্র দিয়ে। ম্যাডাম ফেরত এসে দলকে আবার ‘একটি দল’ বানালেন।

আওয়ামীদের অবস্থাও খুব ভালো কিছু ছিল না। বেশ বড় বড় নেতার ভেতরেই বিবেক জেগেছিল। আওয়ামীদের দুঃসময়ে যারা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে কামড়াকামড়ি করেছিলেন, সম্ভবতঃ নিজেদের ভেতর ভাগ বাটোয়ারা নির্ধারণ করে, তাঁরাও নেমে পড়েছিলেন শূন্য হওয়া শীর্ষ পদ দখল করতে। পরেননি, এবং তাঁদের এই অসম সাহস তাঁদের পরবর্তী জীবনও বেশ দুর্বিষহ করে দেয়।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, দুই বড় দলই সেই ‘এপিসোড’ থেকে শিক্ষা নেননি। কেউই দলে কোন সেকেন্ড ম্যান গণতান্ত্রিক ভাবে নির্ধারণের ঝুঁকি কিংবা প্রচেষ্টা নেননি। তবে তাঁর ফলাফল এখনও আওয়ামীরা ভোগ করেননি। কারণ তাঁদের ওপর সেই অর্থে বড় কোন দুর্যোগ আসেনি। উপনেতা কিংবা সাধারণ সম্পাদকও দলীয় নেত্রীর ইচ্ছামাফিক হয়েছে। কাউন্সিল হলেও কেউ আর এখন মুখ খোলে না। কেউই জানান না, তিনি কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। নেত্রীকে অধিকার দিয়ে দেন, কোন পদে কে বসবেন, সেই হুকুম নাজিল করার। এবং যথারীতি ‘লিস্টি’ আসে শীর্ষ নেত্রীর মুখ থেকে।

১/১১ পরবর্তী সময়ে হওয়া নির্বাচনে আওয়ামীরা ক্ষমতায় আসায়, তাঁদের সেই অর্থে বড়সড় কোন সমস্যা হয়নি। ‘বিবেক জাগা’ সেইসব নেতাদের দলে রাখলেও বেশ অপ্রয়োজনীয় করে রেখেছেন। তবে নেত্রী, মূল সমস্যার কোন সমাধান করেননি। দলে গণতন্ত্র তো আনেনই নি, বরং সবাইকেই জানিয়ে দিয়েছেন, দলটি ‘বিক্রি হওয়া কিছু মানুষ দিয়ে তৈরি’। তাই কাউকে ‘সেকেন্ড ম্যান করা সম্ভব না। যদি কেউ হয়, সে হবে ‘আমেরিকা প্রবাসী পরিবারের মানুষটি’।

১/১১ সবচেয়ে বড় ধাক্কা দেয় বিএনপিকে। একে তো নির্বাচনে পরাজয় হয়, তারওপর দলে দেখা দেয় অন্তর্কলহ। ঢাকা দখল নিয়ে দুই গ্রুপে মুখ দেখাদেখি বন্ধ। পুরনো নেতা আর নতুন নেতাদের মধ্যে লড়াই। ফলে মহাসচিব পদে আবার আনা হয়, ম্যাডাম কর্তৃক ‘নির্বাচিত’ ব্যক্তি। পছন্দের লোক বসানোর বসানোর অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসবার কোন ইচ্ছে নেত্রী দেখালেন না। সেই মহাসচিবের মৃত্যুর পরও যাকে ভারপ্রাপ্ত করা হল, তিনিও সেই একই ফর্মুলায় নাজিল হলেন। ফলাফল হল ভয়ঙ্কর। ম্যাডামের অবর্তমানে কে হবেন দলের কান্ডারী, তা কেউ জানে না।

‘জিয়া অরফ্যানেজ’ আর ‘জিয়া চ্যারিটেবল’ এই দুই মামলা ট্রাম্প কার্ড হিসেবে রেখে দিয়েছিলেন, আওয়ামী নেত্রী। ব্যাপারটা ব্যবহার করবেন কি না তা নিয়ে সম্ভবতঃ বিএনপি কিছুটা দ্বিধায় ছিল। হয়তো ভেবেছিল, এতোটুকু ভদ্রতা অন্ততঃ আওয়ামীরা দেখাবে। হয়তো ভেবেছিল, শীর্ষ নেত্রীকে গ্রেফতারের মত সিদ্ধান্ত নিবে না। হয়তো ভেবেছিল, ‘কখন পরস্থিতি পাল্টে যায়, এই ভেবে’ হয়তো আওয়ামীরা শীর্ষ নেতৃত্বকে ছেড়ে কথা বলবে।

মঙ্গলবারে যখন তড়িঘড়ি আয়োজন করা সাংবাদিক সম্মেলনের খবর আসলো, তখন মনে হয় না সাংবাদিকদের বুঝতে বাকী ছিল, সেই আশার গুড়ে বালি পড়তে যাচ্ছে। সম্ভবতঃ আওয়ামীদের ভেতরে থাকা তাঁদের গুপ্তচররা জানিয়েছে, আওয়ামীরা তাঁদের সেই ‘ট্রাম্প কার্ড’ দেখিয়ে ‘ব্ল্যাকমেইল’ না করে সরাসরি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি যেভাবে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে, তাতে ম্যাডামকে বাইরে রাখা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ভাবছে।

মূল যে সমস্যা দল দুটির ভেতরে আগেও ছিল এবং এখনও আছে, তা হচ্ছে, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, দ্বিতীয় আর কোন নেতা নেই। দলে গণতন্ত্র না থাকায়, কোন নেতা কতোটা জনপ্রিয় তা কেউই জানেও না। কোন কাজ করার সুযোগ না থাকায়, কেউই জানেন না, ‘স্ট্রেটেজি’ তৈরিতে কে কতোটা দক্ষ। ফলে সেই পুরনো সমস্যা নতুন করে বেশ বড়সড় বিষফোড়া হয়ে দেখা দিয়েছে।

‘ট্রাম্প কার্ড’ সম্ভবতঃ অচিরেই ব্যবহার হবে। তবে সেই পরিস্থিতিতে কি করবে, কিভাবে তাঁরা দল চালাবেন, কিভাবে আন্দোলন করবেন, তা যে তাঁরা জানেন না তা যেভাবে ‘শুকনো মুখ’ নিয়ে বিএনপির দ্বিতীয় সারির নেতারা হাজির হলেন, তা দেখে বেশ স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছিল। তাই যখন তাঁরা আওয়ামী প্ল্যান জানালেন, তখন একটি ব্যাপার বেশ স্পষ্টভাবে তাঁদের চেহারায় জ্বলজ্বল করছিল, তাঁদের অসহায় মুখ বলছিল, ‘ম্যাডাম গ্রেফতার হলে বিএনপির কি হবে?’

সময় হয়তো হাতে খুব বেশি নেই। ৫ই জানুয়ারী আসছে। সেই সময়ে কিছু করতে পারবে কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও মনে হচ্ছে, আওয়ামীরা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তাই শীতকালটা কোন ঝামেলা ছাড়াই পার করতে যেকোন দিন আসতে পারে আওয়ামী আঘাত। এবং সেই আঘাত কিভাবে মোকাবেলা করবে, কে নেতৃত্ব দিবে, তা এখনও খুব একটা স্পষ্ট না। সেকেন্ড ইন কম্যান্ডও দেশে নেই এবং তাঁর মাথায়ও ঝুলছে মামলা, তাই তিনিও মনে হয়না ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরবেন। ফলে জিয়া পরিবারের প্রতিনিধির অবর্তমানে নেতৃত্বের কি হবে ব্যাপারটা বিএনপি স্পষ্ট করবে, না সাসপেন্স থ্রিলার গল্পের মতো দেশবাসীর মনে জাগিয়ে রাখবে সেই জটিল প্রশ্ন, ‘বিএনপি – জিয়া পরিবারের প্রতিনিধি = ???’

অভিনন্দন, বেগম খালেদা জিয়া!

2

২৩ বছর পর বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি থেকে পতাকা নেমে গেছে। এতে কষ্টের কিছু নাই। আশাহত হওয়ারও কোনো কারণ দেখিনা। মানুষের পোড়া মাংসের গন্ধ, বারুদে দীর্ণ হয়ে যাওয়া খেটে খাওয়া শরীর কিম্বা রাতের আঁধারে-দিনের আলোতে ইজ্জত হারা নারীর কাছে এই ‘গণতন্ত্র’ ও ‘সংবিধান’ রক্ষার ‘নির্বাচনে’র কোনো মূল্য নাই। এ রকম নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজের জন্য সরকারি গাড়ি, বাড়ি আর পতাকা বরাদ্দ না নিয়ে ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছেন বেগম থালেদা জিয়া। অর্জন করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 

তারেক মোরতাজা:

গণতন্ত্র’, ‘সংসদ’, ‘সংবিধান’ এবং ‘নির্বাচন’ নিয়ে ৪২ বছর বয়সী যে দেশটির মানুষ দ্বিধা বিভক্ত। যে দেশে জামায়াত শিবিরের গুটি কতক মানুষের ভয়ে আওয়ামী লীগের মত একটা দল এক তরফা ‘নির্বাচন’ নামের একটা জুয়াখেলাকে নিজেদের জন্য ফরজ করে নিয়েছে। সে দেশেও আমাদের আশা আছে!

কারণ এ দেশটা এখন নতুন প্রজন্মের হাতে যাচ্ছে, ধীর লয়ে। যখন পুরোপুরি দ্বৈত নাগরিক ও দ্বৈত আদর্শের লোকরা রাজনীতি থেকে অবসরে যাবেন কিম্বা বয়সের কাছে হার মানতে বাধ্য হবেন- তখন নতুন, ভালো এবং উদার কিছু আশা করা সম্ভব।

২৩ বছর পর বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি থেকে পতাকা নেমে গেছে। এতে কষ্টের কিছু নাই। আশাহত হওয়ারও কোনো কারণ দেখিনা। মানুষের পোড়া মাংসের গন্ধ, বারুদে দীর্ণ হয়ে যাওয়া খেটে খাওয়া শরীর কিম্বা রাতের আঁধারে-দিনের আলোতে ইজ্জত হারা নারীর কাছে এই ‘গণতন্ত্র’ ও ‘সংবিধান’ রক্ষার ‘নির্বাচনে’র কোনো মূল্য নাই। এ রকম নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজের জন্য সরকারি গাড়ি, বাড়ি আর পতাকা বরাদ্দ না নিয়ে ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছেন বেগম থালেদা জিয়া। অর্জন করেছেন মানুষের ভালোবাসা।

বাংলাদেশের সৃষ্টির সাথে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল জিয়া সরাসরি জড়িত ছিলেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বেগম জিয়া ছিলেন আপসহীন। মানুষ মনে রেখেছে। রাজনীতি মানে কেবলই ক্রমাগত বল প্রয়োগ কিম্বা মানুষ হত্যা নয়। অনেকে বলবেন বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী অভিযুক্ত করছেন। এ রকম অভিযুক্ত অনেকেই হযেছে। এথেন্সে সক্রেটিসকেও অভিযুক্ত করে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু সত্য টিকে গেছে।

জামায়াত বিএনপির সাথে আন্দোলনে আছে। আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সাথে ছিল। যে সময় সরকারি অফিসগামি কর্মীকে রাস্তায় ন্যাংটা করা হয়েছে সে সময় আওয়ামী লীগ-জামায়াত সখ্য দেখেছে মানুষ।
এখন যেহেতু জামায়াত বিএনপির সাথে, তাই এটাকে অপরাধ বিবেচনা করা হচ্ছে- কারণ জামায়াত আওয়ামী লীগের সাথে নেই। আওয়ামীলীগের সাথে থাকলে আমরা সবাই চুপ করে থাকাটা কর্তব্যমনে করতাম। যে রকম হাসিনার এরশাদ প্রাপ্তিকে জ্ঞান করি।

আওয়ামী লীগ এত জামায়াত বিরোধি মনোভাব দেখায় তো তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করছে না কেনো? উত্তর একটাই তাইলে যুদ্ধাপরাধী আর স্বাধীনতা বিরোধি তাবিজের বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এইবার নাকি নিষিদ্ধ করবে!

২৯শে ডিসেম্বরের রাজনীতি by রোমেল আহমেদ

 

অনেকে বলেন ২৯ ডিসেম্বর বিএনপি জনসভা করতে পারে নাই, বিএনপি ব্যর্থ হইছে। কিন্তু ফলাফলটা দেখেন, ঠান্ডা মাথায়।

 

সবার কাছে, জনগনের কাছে, বিদেশীদের কাছে কী মেসেজ গেছে-

১ ) বিএনপি কে শান্তিপূর্ন কর্মসূচি করতে দেয়া হয় নাই।

২ ) বিএনপি জনসভা করলে মানুষ আসত, মানুষ আসলেই কী? মানুষকে কিসের ভয়। এত জনাতঙ্ক কেন ?

৩) যেই জনসমুদ্র হবে, তাঁকে আওমি লীগ কী মোকাবিলা করতে পারবে না?

৪) সবচেয়ে ভয়ের ব্যপার, বিরোধী দলকে ঠেকানোর জন্য জনগণকে, এমনকি কূটনীতিকদের জিম্মি করে রাখা হইছে।

৫) ৬ মিনিটের অগ্নি বৃষ্টি।

 

সবাই, জনগন, বিদেশীরা কী বুঝল-

১) আওমি লীগ একটা ফ্যাসিস্ট দল।

২) যারা প্রেস ক্লাব, সুপ্রিম কোর্টে নারকীয় আক্রমন করতে পারে।

৩) বিএনপি-এর জন্য হরতাল বা অবরোধ ছাড়া কোন স্পেস এই সরকার খোলা রাখে নাই ।

৪) মুল তান্ডব কারিরা , আওমি লীগ, এক্সপোজড।

৫) পুলিশ খুব পারটীজান রোল প্লে করে।

বিবেচনা করলে দেখা যাবে, এই জনসভা না করা , কিংবা না করতে পারা , বিএনপির জন্য লাভজনক হইছে।

 

এখন দেখা যাক,

আমি আপনি যে কোন সিধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পজেটীভ, নেগেটীভ দুইটাই ভেবে নেই-

এই জনসভা ঘোষণার ব্যাপারেও দুইটা অনুসিধান্ত নেয়া হইছে –

১) পজেটীভ।- জনসভা করতে দিলে তো ভালই ।

২) নেগেটীভ ।

বিএনপির থিংক-টেঙ্ক কি আশা করছিল আওমি লীগ এই জনসভার ব্যাপারে একটুও ছাড় দিবে? গত ৫ বছরের, বিশেষ করে ২০১৩ এর অভিজ্ঞতা একটুও বিবেচ্য হইলে বিএনপির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এই আশা করে নাই । এই জন্যই পাতানো সংলাপের ফাদে বিএনপি পা দেয় নাই।

আর বিএনপির থীঙ্ক ট্যাঙ্ক জনসভার ঘোষণা দিয়ছিল দুই অনুসিধান্ত কে মাথায় রেখেই, বিশেষ করে আওমি লীগ যে কোন উপায়ে জনসভা আটকাবে- এই চিন্তা মাথায় রেখেই।

হাসিনার গেস্তাপো বাহিনী ঠিক পাতানো ফাদেই পা দিয়ে দিছে।

যা যা কাহিনি করছে সব অসাধারণ । ইতিহাসের সবচে ন্যাক্কারজনক কাজ গুলা । ঠিক অনেক ইভেণ্ট না , কিছু দারুন হাইলাইট – আওমি লীগ কি চিজ -একদম এক্স পোজড।

 

এবং আউটকাম ইজ মাচ মোর দেন এক্সপেক্টেড ফ্রম দ্য ট্র্যাপ ।

হাসিনা , কট বাই ছাত্রলিগ যুবলীগ বোল্ড খালেদা ।

বেগম খালেদা জিয়া শহীদ জিয়ার রাজনীতি অনুসরণ করুন

খোমেনী ইহসান: 

বাংলাদেশ সিকিম নয়। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া একটি দেশ। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ শুধু ঔপনিবেশিক পাকিস্তানকে পরাস্ত করেনি, ভারতকেও হারিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে বাংলাদেশতে নিয়ে অনেক কুবাসনাই করেছিল ভারত। এজন্য মুক্তি বাহিনীর বাইরে মুজিব বাহিনীর মতো একটি স্বশস্ত্র গ্রুপেরও জন্ম দিয়েছিল তারা। যেই বাহিনীকে ভারত সামরিক ও রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, যেন তারা ৭১ এর পরেও পাঁচটি বছর ভারতের হয়ে বাংলাদেশে সক্রিয় থাকে।

কিন্তু বাংলাদেশের মু্ক্তিযুদ্ধের রিয়েল ফাইটারদের কারণে এটা সম্ভব হয়নি। মুজিব বাহিনীকে ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধারা, যারা বেশির ভাগই ভারতে আশ্রয় বা প্রশিক্ষণ নেননি এবং দেশটির মতাদর্শিক দীক্ষা নেননি, সফল হয়েছিল। তারাই সম্মুখ সমরে পাকিস্তানী হানাদারদের একের পর এক পরাজয় ছুঁড়ে দিয়েছিলেন।

খোদ ভারতে যাওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের বেশির ভাগও ভারতীয় রাজনীতির গুটি হননি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়লে আমরা দেখতে পাই প্রবাসী সরকারের বেশির ভাগ সদস্য ভারতের ভূমিকার ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকে যেন ভারত নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে দখলে নিতে না পারে এজন্য তাদের সচেতনতা ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের।

আমরা দেখেছি ভারতের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার স্বীকার করেও কিভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভারতীয় আধিপত্য এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। শেখ মুজিব তাই ২৫ মার্চ রাতে ভারতে পালিয়ে না গিয়ে গ্রেফতার হয়ে পাকিস্তানে নীত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়েল পর পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি প্রথমে লন্ডনে গেছেন। পরে ভারতে গেছেন। সেক্যুলার রাষ্ট্র পরিগঠনের পরেও তিনি মুসলিম দেশগুলোর সাথে দ্রুত সম্পর্ক তৈরি করেছেন। এমনকি ১৯৭১ এর গণহত্যার অন্যতম খলনায়ক ভুট্টোকে বুকে টেনে নিয়েছেন। লালগালিচা সম্বর্ধনা দিয়েছেন।

আমরা ভুলে যাই যে শেখ মুজিব স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বিমানবন্দরে দাড়িয়েই ভারতকে বলেছেন তার সৈন্য-সামন্ত ফিরিয়ে নিতে। অথচ ভারত চেয়েছিল অনেক বছরের জন্য সৈন্য মোতায়েন রাখতে। ভারত বাংলাদেশের সিভিল প্রশাসনেও নিজস্ব লোক বসাতে চেয়েছিল। এমনকি অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থাও চেয়েছিল। বুড়ো-বুড়িরা নিশ্চয় মনে করতে পারবেন যে স্বাধীনতার পর কিছু দিন ভারতীয় মুদ্রা চলেছিলও বটে।

ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত টানতে পারি যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কখনোই ভারতের ব্যাপার অসতর্ক ছিলোনা। তারা ভারতের সহযোগিতা নিলেও বাংলাদেশের স্বাধীন সত্ত্বা কায়েমের প্রতি জোর দিয়েছেন। তবে স্বাধীনতাকে পুঁজি করে একটি দল, গোষ্ঠী ও শ্রেণীর ক্ষমতা লিপ্সা চরিতার্থ হওয়ার কারণে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিগঠন হয়নি, যার ফলে বাংলাদেশের স্বাধীন সত্ত্বা পুরোপুরি বিকশিত হতে পারেনি।

কিন্তু আমি অন্য একটি জায়গা ফোকাস করতে চাই। বিশ্ব বাস্তবতা ও নিজস্ব সক্ষমতার প্রশ্নে ভারত ১৯৭১ এ বাংলাদেশকে দখল করে নেয়নি এটি সত্য। কিন্তু ভারত যদি চাইতো তবে কি এটি অসম্ভব ছিলো? ভারত কি কিছু দিনের জন্য, কয়েক মাস বা বছরের জন্যও এটা পারতো না?

আমি মনে করি বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব বেশি জানে ভারত। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে সবচেয়ে ভালো জানে বলেই ১৯৭১ সালে এদেশকে বাগে পেয়েও দখলের সাহস করেনি। কুবাসনা তাদের মধ্যে থাকতেই পারে। কিন্তু সাহস দৃশ্যমান করেনি, এটাই বাস্তবতা।

কেন দখল করেনি ভারত? তারা জানে বাংলাদেশকে দখল করলে খবর আছে। মানে ১৯৪৭ এর সীমানা মুছে দিলে বাংলাদেশীরা সাবেক সুবে বাংলা এবং অরুনাচল ও সেভেন সিস্টার নিয়ে আবার স্বাধীন হওয়ার জন্য সংগ্রাম করে দেবে বলে ভারতের একটা সন্দেহ আছে।

বৃটিশ উপনিবেশ ও পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের জনগণ কী আচরণ করেছে এটা তো ভারত দেখেছে। ভারত ভালো করেই জানে যে ভারতবর্ষের অন্য জায়গার লোকেরা যখন ইংরেজদের গোলামি করাকে নিয়তি মেনে নিয়েছিল তখনও সুবে বাংলার মানুষেরা লড়াই করেছিল। ১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ পর্যন্ত বৃটিশের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র সংগ্রাম চলেছে। ভারতবর্ষের অন্য এলাকার মানুষেরা ইংরেজি শিখেছে, মদ খেয়েছে, ফর্সা মেয়েদের সাথে শুয়েছে। কিন্তু হাতে গোণা কিছু উচ্চ বর্নের হিন্দু-মুসলমান ছাড়া অন্যরা এসব করেনি।

অনেককেই দেখি বদরাজনীতি করতে গিয়ে ইতিহাস-নৃতত্ত্বও গুড়িয়ে দিতে চান। সুবে বাংলার বিশেষ করে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের ইতিহাসও বৃটিশের দালালির ইতিহাস নয়। ফকিরদের সময় থেকেই তারা লড়াই করেছে। এই যে পাকিস্তান হয়েছে তার পক্ষেও তারা লড়াই করেছে। দুই পাঞ্জাবের স্থানান্তর আর পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার স্থানান্তর সম্পর্কে খোঁজ নিলেই বুঝা যাবে এখানকার হিন্দুরা মাতৃভূমির সাথে কিভাবে সম্পর্কিত।

যাই হোক বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের এখনো আতঙ্ক আছে। তাই তারা বাংলাদেশ দখল করতে চায় না। তারা ভালো করেই জানে বাংলাদেশ সিকিম, আসাম-ত্রিপুরা, কাশ্মীর বা আহমেদাবাদ নয়। এই সব দেশের স্বাধীন সত্ত্বা, তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, স্বাধীনতা টেকানোর সক্ষমতা ও জনগণের রাজনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশের মতো ছিলো না। এই সব দেশের ভারতের সাথে মিশে যাওয়ার কিছু বাস্তবতাও ছিল।

আর বাংলাদেশ মানে বাংলাদেশ। এটি এমন একটি দেশ যার স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস আছে। পৃথিবীর আর কোনো দেশের বিজয় দিবস নেই।

আমি বলছি না যে ভারত বাংলাদেশকে সকাল বিকাল চুমো খেতে চায়। বলছি না যে, ভারত প্রতিনিয়ত সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশের জনগণকে হত্যা করে না। আন্তর্জাতিক নদীতে ফারাক্কাসহ অন্যান্য বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করছে না। ফেন্সিডিল ও চোরাচালান দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষতি করছে না। বাংলাদেশের মেয়েদেরকে ভারতীয় ব্রোথেলগুলোতে পাচার করছে না। অন্তর্ঘাতমূলক নানা কর্মকাণ্ড করছে না।

আমি এই সব ঘটনাঘটন স্বীকার করেও বলছি যে ভারত অবশ্যই বাংলাদেশকে দখল করতে চেষ্টা করছে না। তাহলে ভারত কী করছে? তারা এমন কিছু করছে যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অস্বাভাবিক ও অস্বীকৃত নয়। ভারত অবশ্যই বাংলাদেশে আধিপত্য করছে।

বাংলাদেশে ভারত নিজেদের নিয়ন্ত্রণন কায়েম করতে চায়। এজন্য তারা এখানে বশংবাদ সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে চায়। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পদে নিজের নাগরিকদের, নিদেনেপক্ষে ভারতীয় দালালদের বসাতে চায়। বাংলাদেশের গণমাধ্যম, সংস্কৃতি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা ও পুলিশিংয়ে ভারত আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। আরো অনেক কিছু চায় এবং তার জন্য ভারত কাজ করে।

ভারতের এই আচরণকে আমরা স্বাভাবিক ও স্বীকৃতি ব্যাপারই মনে করি। কারণ এটি দুনিয়ার সব শক্তিশালী দেশ তার দুর্বল প্রতিবেশীর সাথে করে থাকে। আমাদের কাছে বিষয়টি পষ্ট হবে যদি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিাকোর, সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবেক রাষ্ট্রগুলোর সাথে রাশিয়ার, সিরিয়ার সাথে লেবাননের, সৌদির সাথে বাহরাইন ও ইয়েমেনের, কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার সাথে পাশের দেশগুলানের সম্পর্ককে বিচার করে দেখি।

এখন কথা হচ্ছে রাজনীতি করতে চাইলে তো কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। সব দুর্বল দেশেই হায় হায় করার রাজনীতি আছে। সিকিম টাইপের সিনড্রোম আছে। কিন্তু প্রতিবেশী শক্তির আধিপত্য যদি খর্ব করতে হয় তবে হায় হায় করার কিছু নাই। সিকিমের জিগির তোলারও প্রয়োজন নাই। কিভাবে, কোথায়, কেন আধিপত্য তৈরি হচ্ছে কিভাবে হচ্ছে তাকে বুঝে ঠিক কাজটি করাই দরকারি।

ঠিক কাজ হলো দুর্বলতা কাটিয়ে উঠা। সক্ষমতা অর্জন করা। সমৃদ্ধি অর্জন করা। কেন আমার দেশের মানুষ প্রতিবেশী দেশের দালালি করছে, তার কারণ খুঁজে সমাধান দেওয়া। কেন ৫৮ সিট পাওয়া বিরোধী দলটি বাধ্য হয়ে ভারতের বশংবদ হয়ে গেছে তার জন্য কার কতখানি দায়-দায়িত্ব আছে তার প্রতিকার করা।

ঠিক কাজটি না করে শুধু শুধ কথা খরচ করলে কী লাভ হবে যে ভারত বাংলাদেশের সব কিছুর মালিকহয়ে গেছে? কী লাভ এ কথা বলায় যে সেনাবাহিনীতের র’র পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলছে? কী লাভ এ কথা বলায় যে গণভবন পাহাড়া দিচ্ছে ভারতীয় অফিসাররা? কী লাভ এ কথা বলায় যে বাংলাদেশে কে ক্ষমতায় বসবে, না আসবে তার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দিল্লীর সাউথ ব্লক?

আমি মনে করি প্রতিবেশী দেশ সব নিয়ে গেল, নিয়ে গেল বলে চিৎকার করাটা প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি। বাংলাদেশে এই রাজনীতির কোনো সফলতা নাই। বরং এই রাজনীতি আত্মঘাতী।

১৯৭১ এও ভারতকে নিয়ে বাড়বাড়ন্ত ভীতি ছড়ানো হয়েছিল। যেই ভীতির চোটে জামায়াত-মুসলিম লীগ আত্মহত্যা করেছে। ভারতের ব্যাপারে তাদের সতর্কতা ঠিক থাকলেও একে ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা, হানাদারকে সমর্থক হওয়াটা ভালো কোনো ব্যাপার নয়।

যাই হোক বাংলাদেশের পরিণতি সিকিমের মতো হচ্ছে মনে করে খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার দরকার নাই। আতঙ্কের রাজনীতির বদলে তার উচিত সাহসের রাজনীতি করা। দেশ দখল হয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করার বদলে তার উচিত জিয়ার মতো ভাবা কিভাবে দেশকে গড়ে তোলা যায়, কিভাবে প্রতিযোগীকেও টেনশনে রাখা যায়।

বেগম খালেদা জিয়া, আপনি জিয়ার রাজনীতি করেননি। এবং করছেন না। দেশ ভারত দখল করবে মনে করে অপশক্তির রাজনৈতিক মতাদর্শের ফাঁদে পড়া আর দেশকে স্বাধীন করতে জিয়ার মতো এগিয়ে যাওয়া এক ব্যাপার নয়।

আপনার কাছে অনেক যোগ্য লোক, সাহসী ও সৃজনশীল এক সমর্থক বাহিনী আছে। তাদের নিয়ে আপনি রাজনীতি পুনর্গঠন করুন। প্রতিষ্ঠান গড়ুন। যারা সৃজনশীল তাদের কাজের সুযোগ দিন। যারা এখন আপনাকে ভুল রাজনীতি করিয়ে অসহায় করে তুলছে তাদের তাড়িয়ে দিন। তারা আপনাকে ব্যবহার করছে, নিরাপদে থেকে ব্যবহার করছে, কিন্তু আপনার বিপদের সময়ে পাশে দাড়াচ্ছে না।

খালেদা জিয়ার বক্তব্য

2

খোমেনী ইহসান:
খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তাকে অনেকে বিকৃত করছে। যারা এটা করছে, তারা আসলে স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানাচ্ছেন। এদের চরিত্র সম্পর্কে মানুষ হুঁশিয়ার হোক। মুর্খরা কথা বিকৃত করে নিজেদের বিদ্যা ফলাতে চায়। নাহলে বুঝতো যে তাদের মানুষ কতখানি প্রত্যাখ্যান করে। 

সরকারের প্রতি বক্তব্য  

‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে না দেয়ায় খালেদা জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনা রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিচ্ছেন। এই রক্তের গঙ্গার ওপর দিয়ে তিনি তার নৌকায় চড়ে ক্ষমতায় বসবেন। এই আশা দুরাশা। সেটা ভুলে যেতে বলেন। দেখবো কতদিন আটকে রাখতে পারেন। কর্মসূচি চলবে যতদিন এ রকম করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ভুলে যাইনি সেই দিনগুলোর কথা। আজকে সারা দেশকে কি অবস্থা করে রেখেছেন। সাহস থাকলে ছেড়ে দিতেন। দেখতেন যে কিভাবে জনগণ রাস্তায় নেমে আসে। মা-বোন, ভাই, কৃষক-শ্রমিক, মেহনতি জনতা, ছাত্র-যুবক সব বেরিয়ে আসতো আজকে।

আপনারা জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছেন। দেশের প্রতিটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছেন। এই সরকারই না বলেছিল, খালেদা জিয়া বের হোক রাস্তায়? আজকে আমি রাজপথে যেতে চাই। কেন বাধা দিচ্ছেন? তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তাদের তো রাজপথে নামার সাহস নেই। দুনিয়ার সিকিউরিটি নিয়ে চলেন, আর মানুষ মারেন। মানুষ গুম করেন। মানুষ খুন করেন। সারা দুনিয়া জেনে গেছে যে হাসিনা কত মানুষ খুন করেছে। কত মানুষ গুম করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব বাহিনী। কাজেই, আজকে না হলে কালকে হবে এই অবস্থান। কালকে আমাদের মিছিল হবে। বন্ধ করুন আপনারা, আমরাও দেখবো। আর কত মানুষ মারবেন? তা-ও দেখবো। এর আগেও তো মেরেছেন। তার পিতা ক্ষমতায় থেকে ৩০ হাজার লোক মেরেছেন। আর এখন আরও মারছেন। মারেন।

এর পরিণতি যে শুভ হবে না- তা তারা বুঝেছেন। জনগণ দেখেছে। এর পরিণতি শুভ হয় না। এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও কঠিন। জবাবদিহি করার জন্য প্রস্তুত থাকেন। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আইনজীবীদের ওপর আক্রমণ করেন, গ্রেপ্তার করেন, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন, মা-বোনদের ওপর নির্যাতন করছেন। আপনি না (প্রধানমন্ত্রী) মহিলা। আপনার মহিলাদের প্রতি এতটুকু সম্মান নেই। এতটুকু দরদ নেই। যে, আমরা মহিলাদের অন্তত সম্মানটা রক্ষা করি। সেটাতো আপনারা করেন না। কি আচরণ করেছেন?

অথচ আমাদের সময় ১৭৪ দিন আপনারা হরতাল করেছেন। অবরোধ করেছেন। নানা রকম বিশৃঙ্খলা করেছেন। লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ মেরেছেন। একটা গুলিও আমি চালাইনি। দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি দরদ আছে আমাদের। মায়া আছে। সেজন্যই আমরা জনগণকে গুলি করে হত্যা করতে পারি না। কিন্তু আপনারা যেভাবে নৃশংসভাবে গুলি করছেন, হত্যা করছেন। তার জবাবদিহি করতে হবে। তার জবাব আপনাদেরকে দিতে হবে। এই রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে নৌকা তার গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে না। আজকে রক্তের সাগরে নৌকায় করে উনি হাওয়া খেতে যাচ্ছেন। দেখতে পাবেন ক’দিন পরেই তার পরিণতি।

এই সমাবেশ আজকে হয়নি। আবার কালকে করবো। দেখবো, আপনারা আসেন, বসে থাকেন গেটের কাছে। ঠিক আছে। প্রতিদিন আমিও একই কাজই করবো। চলুক কতদিন চলে। আপনি মনে করেছেন কি? দেশটা কি আপনাদের একার? পৈতৃক সম্পত্তি হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের- যে গুণ্ডা বাহিনী দিয়ে আমাদের সমাবেশ বন্ধ করতে চায়, পুলিশ বাহিনী দিয়ে সমাবেশ বন্ধ করতে চায়? সাহস থাকলে কাউন্টার প্রোগ্রাম করে দেখাতেন। সাহস নেই। ১০টা লোকও আসে না। ভাড়াটিয়া লোক আনে। ডিসি-এসপিদের দিয়ে লোক আনায়। বুঝি এটা আমরা। না হলে এমন করুণ পরিণতি হয়? ১৫৪টা আসন আনকনটেস্টেড হয়ে যায়? আর বাকি রয়েছে কি? বাকিগুলোও করে ফেলবেন। ওটা কোন ইলেকশন নয়। এটা যে সিলেকশন হয়েছে তা আজকে জাতির কাছে পরিষ্কার। দেশের মানুষের কাছে পরিষ্কার। তাই মানুষ আজকে ধিক্কার দিচ্ছে। ধিক্কার দেই আমরা এই সরকারকে।

পুলিশের প্রতি বক্তব্য 
পুলিশকে লক্ষ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, কি করছেন? আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। আপনারা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু আমি মনে করি যে, দায়িত্বটা সুন্দরভাবে পালন করুন। সম্মানের সঙ্গে থাকুন যেন আমরাও কাজ করতে পারি। আপনারাও কাজ করতে পারেন। আপনারা পুলিশ বাহিনী। কিন্তু এটা তো ঠিক নয় যে, আমাকে আমার বাড়ি থেকে বের হতে দেবেন না। এটা তো ঠিক নয়। এখানে আপনাদের যে অফিসার ছিল, সে গেল কোথায়। তার সঙ্গে তো আমি কথা বলতে চেয়েছি। সে কোথায়? কেন আমার পথ আটকিয়েছে? কেন সে আসছে না এখন সামনে? এতক্ষণ তো অনেক কথা বললেন। এখন মুখটা বন্ধ কেন? এই যে মহিলা। আপনার মুখটা এখন বন্ধ কেন? বলেন তো কি বলছিলেন এতক্ষণ ধরে। মুখটা বন্ধ কেন এখন? দেশ কোথায়? গোপালী? গোপালগঞ্জ জেলার নামই বদলে যাবে বুঝেছেন? গোপালগঞ্জ আর থাকবে না।

সরকারের প্রতি বক্তব্য 

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, আল্লার গজব পড়বে, আপনারা যা শুরু করে দিয়েছেন। কতগুলো আলেমকে হত্যা করেছেন। এতিমকে হত্যা করেছেন। কতগুলো বিডিআর অফিসারকে হত্যা করেছেন। সেদিন কোথায় ছিল হাসিনা? এতগুলো অফিসারকে মারলো। ৫৭ জন অফিসার হত্যা করলো। সেদিন হাসিনার এ ফোর্স কোথায় ছিল? কেন সে পাঠায়নি। আসলে তো সে নিজেই জড়িত ছিল বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে। সেজন্যই আজকে, নতুন নতুন অনেক অপরিচিত চেহারা দেখা যায়। যাদেরকে চেনা যায় না যে, তারা আসলেই বাংলাদেশী কিনা। বাংলাদেশের আজকের যে কর্মসূচি ছিল, আপনারা যদি দেশকে ভালবাসতেন, তাহলে আজকে ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মার্চ ফর ডেমোক্রেসি ছিল আমাদের কর্মসূচি। আপনারা গণতন্ত্রও চাবেন না, দেশ রক্ষা করতেও দেবেন না। গোলামি করবেন? দালালি করবেন? এই গোলাম তো রাখবে না। লেন্দুপ দোরজি’র ইতিহাসটা পড়ে দেখুন। সেও কিন্তু টেকেনি বেশিদিন। তাকেও বিদায় দিয়েছে এত দালালি করে, দেশ বিক্রি করে। কাজেই এই দেশ বিক্রি চলবে না। দেশ রক্ষা হবেই ইনশাআল্লাহ।

পুলিশের প্রতি বক্তব্য 

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, হাসিনার দালালি করে লাভ হবে না। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে থাকুন। জনগণের সঙ্গে থাকুন। দেশের মানুষের সঙ্গে থাকুন। তবেই কাজে দেবে। দেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে। আজকে সবার দায়িত্ব হয়ে গেছে দেশ বাঁচানোর। মানুষ বাঁচানোর। আর আপনারা ঘরে ঢুকে এখন মানুষ হত্যা করছেন। মনে করেন যে, এগুলোর হিসাব নেই? এই মা-বোনের কান্না। এই আলেমে দ্বীনের কান্না, বিডিআর অফিসারদের স্ত্রীদের কান্না এগুলো কি বৃথা যাবে? এগুলো কোনও দিনই বৃথা যাবে না। আজকে যারা এই জুলুম-নির্যাতন করছেন তাদেরকেও এদের মতো একদিন চোখের পানি ফেলতে ফেলতে চোখ বন্ধ হয়ে যাবে। এখনও সময় আছে।
এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। তখন তাদেরকে বিরোধী নেত্রী বলেন, ধাক্কাধাক্কি বন্ধ করুন। আমরা কোন ধাক্কাধাক্কি করতে আসিনি। আমি বলছি, আপনারা চাকরি করেন, চাকরি করবেন। কিন্তু এ রকম আমাদের গায়ের উপরে উঠে পড়বেন না। দূরে থাকুন। আপনাদের জায়গা যেখানে সেখানে থাকুন। আজ আপনাদের তো রাস্তার উপর থাকার কথা। আপনারা বাড়ির মধ্যে এসে গেছেন কেন? আপনাদের মেয়েরা এত ঝগড়া করে কেন? উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আরও বলেন, এই মেয়েরা। চুপ করো। ক’দিনের চাকরি হয়েছে যে, এত কথা বলো? কিসের জন্য এত কথা বলো? চুপ থাকো। বেয়াদব কোথাকার। আপনার অফিসার কোথায় গেল? আসলো না? তাদের বলবেন, আমার সঙ্গে দেখা করতে। আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাই। বুঝেছেন? কি বোঝেননি কথাটা। এটা তো বাংলাভাষা। নাকি অন্য কোন ভাষায় বলতে হবে আপনাদেরকে। বুঝেছেন? সেই অফিসার কোথায়? তাকে আমার সঙ্গে দেখা করতে বলবেন।’

Awaiting a Cassandra moment

2

by Mohammad Zaman

However loathsome they are, the matter of fact still remains germane that the two bickering ladies remain the sole arbiters of power in Bangladesh. Like her predecessor the sitting Prime Minister wields unfettered muscle even beyond her constitutional ambit. If desired she has the chance to undo even the most difficult of the Gordian Knots.

But the million dollar question is – does she has the desire … or does she still has the unfettered power she once had, for we know, political entropy has a life of its own.

Sheikh Mujibur Rahman once famously posited that he is surrounded by thieves. Such dawning was not followed by effective executive measures. If that was done, our history possibly would not have been so incarnadine. Well, following the widespread destruction of the infrastructure and an empty exchequer, he did not have the best hands to play well. However, things are different now. Bangladesh no longer is a bottomless basket. Entrepreneurs in Bangladesh are achieving international acclaim. Muhammad Yunus and Fazle Hasan Abed stand out – but there are thousand others.

Competent, smart and well educated Bangladeshi abounds both at home and abroad. They are the real engine of economy that, for lack of right governmental vision, continues to lumbar forward in struts and frets. A dream of joining the club of other Asian Tigers is yonder – separated only by the lack of a visionary leader.

For us, the chemistry is ripe. Although our Prime Minister has squandered five-years worth of time and even more of political capital – she, or her absence thereof, still remains the only option left. At this precipice, not much time left to reign on her non-ideologue sycophants who never cared for the country to begin with. It is high time; she begin to listen to the outside voices of sanity and unleash the power of governmental juggernaut for the right causes.

If the story from the news outlets is right and if the AL-goons start their mop-up operation under the aegis of government outfits, eventual chaos shall supervene… and her high flying wings of irrational grandiosity is sure to melt like those of Icarus…

Yes, the beautiful daughter of Priam was blessed with an ability to foretell and, at the same time, was cursed with a perpetual inability of being convincing enough. Or was it the stupidity of haughty politicians and macho warriors that lead to the disastrous consequence that befell on Troy?

But that was then when communication was not a cobweb surfed so easily. No, today there is no scope of such stupidity!

Nation voted for a change.
Nation voted for a Din Bodoler Ongokar.
Sheikh Hasina is bound by her promise.
Rightfully, nation deserves a Cassandra Moment.

MZ
Potsdam, New York 

Concession, pragmatism and moving forward

4

A Statesman and Two Pragmatic leaders –

In a speech to the nation on November 30 1978, President Ziaur Rahman declared parliamentary election to be held on January 27 of the next year and also declared that martial law will be withdrawn immediately after the election. Although newly formed BNP and some other small parties started preparing for the polls – most major opposition political parties including both fractions of AL, Muslim league (still a big player then), JSD, NAP etc. decided to boycott the election unless their demands were met. The combined opposition’s demand included immediate withdrawal of martial law, resignation of Zia from army chief position, removing ban on open politics, repeal the fundamental rights suspension which was in effect since 1974, restoration of parliamentary democracy and 1972 constitution by repealing 4th amendment etc. On the face of boycott by major opposition political parties, Zia made a far reaching set of concessions. He restored fundamental rights, made proposals of sovereign parliament with ability to impeach the president. He also removed presidential veto power on bills passed by parliament, put a limit on technocrat ministers and conceded on opposition demand on the selection criteria of leader of the house.

After these concessions although Muslim league decided to join elections- other opposition parties including factions of AL, JSD etc. continued with the decision to boycott the polls.

To resolve the political impasse, President Zia called for a dialogue with political parties – all parties went to Bangavaban, prolonged deliberations took place but nothing fruitful came out of that dialogue.

As Awami League factions kept insisting on election boycott and as it seemed country is stuck in a hopeless deadlock, President Zia, against the advice of his political advisors, unilaterally made another set of sweeping concessions. He withdrew martial law restrictions regarding open politics, started the process of release of all political prisoners, and as demanded by opposition, pushed the election date back by a few weeks to give the opposition parties enough time to prepare for the elections.

President Zia’s gambles paid off, an all-party election was made possible, Bangladesh moved one big step closer to restoration of democracy – the rest is history.
IMG_0465

The Come Back of Awami League

This little snippet from the past shows how much and how little our politics has evolved in last 3 decades. Whatever Zia ‘a distractors  will say, Bangladesh is this Bangladesh today because Zia could hold his nerve during those tumultuous years of mid-late 70s and at the same time he made some very smart political moves including the series of concessions as described above. At the same time, the pragmatic reality based politics of AL leaders Mr. Abdul Malek Ukil and Mr. Mizanur Rahman Chowdhury did shape the history of Bangladesh. Within 4 years after supposedly annihilation of August 75, AL again came out as a major political party with intact wide grassroots support base. Although AL factions won only 41 seats in the election, it secured nearly 30% of the votes. In most seats where BNP won, AL came out close second.

It was a time the mere survival of the fledgling country of Bangladesh was uncertain. Yet concessions made by one political leader and pragmatic politics by the others made us defy the overwhelming odds against our survival.

Today as we are in another crossroads of the history, we need similar concessions and pragmatic reality based politics from our Prime Minister and the leader of the opposition.

Late president Zia was a military strongman running a turbulent country with martial law. Yet he made concession after concession to facilitate the democratic journey. Now it’s time for PM Hasina to show her political maturity and statesmanship and seal her image as the needed statesman for the time.

The Shelf life of The Administration –
Holding an opposition less election is not in the best or long term interest of the country as well as of the party of Prime Minister Hasina. Yes she can ignore opposition demands, and if she really wants to hold the elections unilaterally using brute state force, the opposition will not be able to stop her.  But by doing so – she will harm her country as well as her own party.
As a result of the election without all party participation, our fledgling democracy would go back by one decade. We will turn into another poor 3rd world autocracy. All sorts of militancy will start rising its ugly head in different corners of this impoverished country. Public disapproval of her government will reach unfathomable low. Extreme infighting will overrun her party. Leadership deprived of government positions and perks will get desperate to depose those enjoying all the perks and privileges. If the fictions and clashes during the five year term of current Hasina Government are indicators what Awami League has in its future as an incumbent party, it can be easily predicted that intra party feuds, sabotage will reach an epidemic proportion. Any political observer can safely predict that way before completing her second five year mark; PM Hasina’s government will be inches away from implosion.

Concessions – the need of the time –

On the other hand, if PM Hasina can be seen making the concession on her own, not under pressure, she will look like showing statesman quality Ziaur Rahman exhibited during late 70s. It is PM Hasina who has to take the steps to convince the opposition to join the elections. She has to do something tangible or convince the opposition come to elections. She will have to sort it out with the opposition and negotiate with them to bring them to election. Most likely she will lose the election. This loss will be the best exit strategy for her. This loss will pave the way for quick and another big comeback of her party.

It is almost certain that if BNP returns to power, it’s newly gained popularity will vanish rapidly. A return of Tarique Rahman will significantly curtail BNP’s support among middle of road BNP supporters.  Along with Tarique Rahman’s return to day to day affairs of governance, Anti-incumbency factors as well as upper hand of ultra-right wing political backers of BNP will quickly dissipate all the inroads BNP made in urban educated classes and ‘middle of the road’ Zia admirers through Mrs. Khaleda Zia’s visionary leadership style between 2008 and 2013.

Now PM Hasina will have to decide which option will be in the best long term interest of her country and her party. She can hang on for her second consecutive term, let her party implode and face an ignominious ouster to face another long term public rejection like it experienced post 1975. Or she can take a short term leave from power only to return to power with more popular, a better rooted and organized party. If Awami League cannot free itself of the curse of incumbency, there is no reason to believe that BNP will be free from the same curse next election cycle.
IMG_0466
Exit out of this Mayhem, options for the opposition parties

Leader of opposition led her party to an unprecedented come back from oblivion. She accomplished this major feat not by violent street confrontation but by avoiding exactly the same. It is understandable that after her bitter experience at the lack of level playing field during 2008 elections, this time it will be hard to convince her to join election in a suboptimal state of affairs pertaining to the elections. However the leader of the opposition also need to understand that with the type of organization she leads, it will be very difficult to stop the government from holding the election. And once an election is held, her party will be under more intense pressure from the state law enforcement agencies. Leader of opposition knows very well that under any condition, if BNP joins the election, it will be nearly impossible to deprive BNP a landslide victory. If the leader of the opposition weighs the options she has at her hand which are – launching brutal street agitation to force Government into accepting the demands or somehow find a way to join the election, even accepting a short term defeat about the election time government, BNP has much more to gain, much less to risk. Under current conditions – with more connectivity, aggressive media activity on the ground – mass scale rigging of election to change the total results will be nearly impossible and even if that happens – that government will not be able to hide the massive irregularities. A movement against a widely perceived rigged election will have better traction than a failed movement against a non-participatory election.  It seems no matter what the Government offers, for BNP, joining the elections is the best exit strategy out of the mayhem.

And exit out of this mayhem – that is what the whole country is eagerly rooting for.