নাটকে ভরা নির্বাচন এবং জনগণের প্রজ্ঞা

election

যায়নুদ্দিন সানী

বেশ নাটকীয় একটা নির্বাচন হচ্ছে। বাঙালির জীবনে বিনোদনের সাম্প্রতিক ঘাটতি মেটাতে এই নাটকীয় নির্বাচন বেশ বিনোদন এনে দিয়েছে। হরতাল অবরোধ নিয়ে যখন বিএনপির বেশ ত্রিশঙ্কু অবস্থা, না পারছে তুলে নিতে, না পারছে চালিয়ে যেতে, ঠিক সেই সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। মেয়র ইলেশানের এই ঘোষণা বিএনপির সাথে সাথে দেশবাসীকেও বেশ স্বস্তি এনে দেয়। বিএনপি স্বস্তি পায় কারণ হরতাল অবরোধ প্রত্যাহারের একটা সুযোগ পেলো বলে আর দেশবাসীর স্বস্তি, এই দুই নেত্রীর জেদাজেদির হাত থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বলে।

আমাদের রাজনৈতিক নেতারাও যেমন নাটক করতে জানেন, আমাদের জনগণও এই নাটক তেমন উপভোগ করতে জানেন। বিএনপি যদিও প্রথমে ভাব দেখাচ্ছিল, ‘নির্বাচন করবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় আছে।‘ ‘লন্ডন থেকে অনুমুতির অপেক্ষায় আছে’। তবে জনগণের বুঝতে সমস্যা হয়নি, ব্যাপারটা নাটক। বিশেষকরে যখন দেখা গেল হঠাৎ করে বিএনপির থিঙ্কট্যাঙ্ক বলতে শুরু করেছে ‘কৌশল’ হিসেবে এই নির্বাচনে যাওয়া উচিৎ তখনি সবাই বুঝে গেল সামনে আরও নাটক আসছে। আর শুরু হতে যাচ্ছে এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা—‘নির্বাচন’।

তবে অন্য যেকোন নির্বাচনের চেয়ে, এবারের নির্বাচনে, নাটকীয়তার পরিমাণ অনেক বেশি। কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ বেশ নাটকীয়তা দিয়েই নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন নির্বাচন কমিশন। তার আগে অবশ্য কিছুদিন পত্র পত্রিকায় নাটকের কানাঘুষা প্রচার হল। ‘সিটি কর্পোরেশানের নির্বাচন হতে পারে’ জাতীয় খবর প্রকাশ হল ‘বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে’। এরপরে নাটকের প্রথম পর্ব প্রচারিত হল। নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। এবং বল চলে গেল বিএনপির ‘কোর্টে’। আবার ৫ই জানুয়ারী টাইপ নির্বাচন না দুইদলের অংশগ্রহণে নির্বাচন।

উত্তর সরাসরি আসবে এমন প্রত্যাশা কেউই করেনি। নাটক হবে, সবাই জানতো। এবং হলোও। ঠিক একটা নাটক না, বলা যায় নাটকের সিরিজ শুরু হল। একটার পর একটা নাটকীয়তা আসছে তো আসছেই। বিএনপি আসবে কি আসবে না, অবরোধের কি হবে, হরতালের কি হবে, আন্দোলনের কি হবে, তত্ত্বাবধায়ক সাহেবেরই বা কি গতি হবে—এমন দারুণ সব সাসপেন্সে প্রথমে আমাদের দিকে ছুঁড়ে দেয়া হল।

আমাদের নেতারা যে সরাসরি উত্তর দেবেন না, তা জনগণ জানে। ফলে সবাই অপেক্ষা করে থাকল, নাটক মঞ্চায়নের জন্য। এবং জনগণকে নিরাশ না করে একে একে বেশ নাটকীয় স্টাইলে উত্তরগুলো আসতে শুরু করল। বিএনপি নির্বাচন করবে। আর এমন সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে বেশ প্রভাব ফেলল আগের দফায় সিটি কর্পোরেশান নির্বাচনে জয়ের স্মৃতি। টিপিক্যাল কিছু ছোটখাট নাটকীয়তা সেরে বিএনপি ঝাঁপিয়ে পড়ল নির্বাচনে। এবং শুরু হল নাটকের দ্বিতীয় পর্ব।

মিন্টু সাহেব ছোটখাট একটা নাটক দেখালেন। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে প্রার্থী হওয়ার জন্য সাধারণতঃ নাটক হয়, তবে এবার উল্টো ঘটনা ঘটল। মিন্টু সাহেব প্রার্থী হবেন না। আবার সেকথা ম্যাডামকে মানাতেও পারছেন না। ফলে নাটক করতে হল। এবার ম্যাডাম মানলেন। মাঝে কিছুদিন মাহী সাহেব দৌড়ঝাঁপ করলেন। তবে শিকে ছিঁড়ল না। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন কি না, তা নিয়ে কিছু নাটক হল এবং অবশেষে জানালেন, ‘করবেন না’।

কাহিনী ভালোই এগোচ্ছিল। তবে নাটকে আওয়ামীরা পুরোপুরি খুশি কিনা ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না। ‘বিএনপি নির্বাচনে আসুক’ কথাটা মুখে বললেও সত্যি সত্যি তাঁরা কি চায়, তা নিয়ে কিছু সাস্পেন্স ছিল। কটাক্ষ, শ্লেষ যেমন চলছিল তেমনি চলছি ধরপাকড়। বিএনপির বহু প্রার্থীই পলাতক কিংবা আটক। এদেশে মামলা দেয়া যেহেতু কোন ব্যাপার না, তাই ব্যাপারটা পরিকল্পিত না ‘আইনের নিজস্ব গতিতে চলা’ তা নিয়ে কিছু সংশয় অনেকের মনে দেখা যাচ্ছে। অন্ততঃ বিএনপি চাইছে যেন ‘সংশয়’টা দেখা যায়।

এরমাঝে গাড়িবহরে হামলা হল। দুই পক্ষই দাবী করল নাটক। ভিডিও ফুটেজে সেই নাটক সবাই দেখল। নিজ নিজ রাজনৈতিক মত অনুযায়ী দুই দলই একে অন্যকে নাট্যকার আখ্যা দিলেন। আওয়ামী নেত্রী ছবি দেখালেন। এদেশে নিরপেক্ষ সংবাদ মাধ্যম বলে যেহেতু কিছু নেই, তাই জনগণও আর কারো ভাষ্য বিশ্বাস করে না। সবাই নিজের নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, ‘নাটকটা কার লেখা’। হামলা অবশ্য একটায় থামল না। মাহী আর রতন সাহেবের ওপরও হল। এবং যথারীতি সেই নাট্যকার বিতর্ক হল। কাউই মানতে রাজী না এতো সুন্দর নাটকের তিনিই নাট্যকার। ফলে জনগণের প্রজ্ঞাই ভরসা।

ওদিকে মীর্জা সাহেব সামনে আসবেন কি না, জামিন হবে কি না, কেস চলবে কি না, বিএনপি শেষ পর্যন্ত কি করবে, এমন ছোটখাট সাসপেন্স থাকলেও বিএনপি যে নির্বাচন করবে তা নিয়ে খুব একটা সন্দেহ কারো মনেই ছিল না। তবে নির্বাচনের পরে কি হবে তা নিয়ে এখনও সাসপেন্স আছে। পরাজয় হলে সেই ‘টিপিক্যাল’ কারচুপি ফর্মুলা যে হাজির হবে, তা অনেকটাই নিশ্চিতভাবে বলা যায়। তবে বোঝা যাচ্ছে না, বিএনপি জিতলে কি হবে কিংবা ঢাকার দুই অংশে দুইজন জিতলে কি হবে।

যাক, গতকিছুদিন সময়টা বেশ ভালোই কাটল। বিজয়ী প্রার্থী নগরের জন্য আদৌ কিছু করবেন কি না, তা নিয়ে কেউ সত্যিকার অর্থে কেউ ভাবিত না। নির্বাচনে জয়ের পরে যে প্রার্থীর টিকির দেখা পাওয়া যাবে না, একথা কমবেশি সবাই জানেন। এসব রাজনৈতিক নেতাদের কাছে কোন রকম প্রত্যাশা বহু কাল আগেই তিরোহিত হয়েছে। এখন জনগণের কাজ একটাই, হিসাব করা—‘কে জিততে পারে’। তবে এই নির্বাচন আরও একটি চিন্তার খোরাক যুগিয়েছে, ‘নির্বাচনের পরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কি হবে?’

‘বিশ্বকাপ এবং বিরোধীদলের আন্দোলন’— শিরোনামে থাকবার লড়াই

world cup1

by zainuddin sani

বিএনপির জন্য সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে। না, সরকারী কঠোর মনোভাব কিংবা জ্বালানো পোড়ানো নিয়ে তৈরি নেতিবাচক প্রচারণাকে সমস্যা বলছি না। সমস্যা তৈরি করবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। এতোদিন পর্যন্ত যেভাবেই হোক, বিরোধী দলের আন্দোলন ব্যাপারটা সংবাদের শিরোনামে ছিল। নেত্রীর গৃহবন্দী অবস্থা কিংবা পুত্রের মৃত্যু, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না করা— কোন না কোনভাবে টিভি চ্যানেল আর পত্রিকার লীড নিউজে তাদেরকে রেখেছিল। টেলিফোন আলাপ থেকে শুরু করে সরকারী বক্তব্য কিংবা পাতি নেতাদের হুঙ্কার, সব কিছুই সাহায্য করছিল তাঁদের প্রচারণায়। শিরোনামে রাখছিল বর্তমান পরিস্থিতিকে। বোঝা যাচ্ছিল, দেশে এখন স্বাভাবিক অবস্থা চলছে না। হরতালে রাস্তায় প্রচুর বাস কিংবা প্রাইভেট গাড়ী দেখা গেলেও, শিরোনামে থাকতো ৭২ ঘণ্টা হরতাল।

খুব দ্রুত পরিস্থিতি না পাল্টালে, সেখানে অচিরেই ছেদ পড়বে। এবং বেশ ভালভাবেই পড়বে। শিরনাম হতে তখন টক্কর দিতে হবে ক্রিকেট বিশ্বকাপের সঙ্গে। ক্রিকেট পাগল এই জাতির জন্য তখন, বিরোধী দলের একঘেয়ে আন্দোলনের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় বিষয় হবে, ক্রিকেট। সঙ্গে যদি যোগ হয় বাংলাদেশের জয়, তবে তো কথাই নেই। বাঙালির উন্মাদনা তখন হবে দেখার মত। আফগানিস্তানের সঙ্গে হারলেও, শিরোনাম চলে যাবে ক্রিকেটের দখলে। তখন বাঙালির গালিগালাজও হবে আকাশচুম্বী। ভারত পাকিস্তান খেলা নিয়েও যে বাজার গরম হয়ে উঠবে, তা নিয়েও সন্দেহ নেই। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে, এই উন্মাদনা চলবে পুরো দেড় মাস, মার্চের শেষ নাগাদ।

যেভাবে একটা দুটা ঝলসানোর খবরে আমরা অভ্যস্ত হতে শুরু করেছি, মনে হয় না, খুব মর্মান্তিক কিছু না ঘটলে, তা তখন শিরোনামে আসবে। শুনতে খারাপ লাগলেও, এটিই অমানবিক সত্য— এই জ্বালাও পোড়াও আর বার্ন ইউনিটের দগ্ধ মানুষগুলোকে দেখতে দেখতে আমরা ধীরে ধীরে অভ্যস্থ হতে শুরু করেছি। এখন অনেক সহজেই আমরা পাতা উল্টিয়ে পরের খবরে চলে যাই। আর তেমনটা হতে শুরু করলে, সম্পাদক সাহেবরাও আর সেগুলোকে শিরোনামে রাখবেন না। নেতিবাচক হোক আর ইতিবাচক হোক, বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রচারণায় তখন ছেদ পড়বে।

শিরোনাম করতে আমরা কতোটা মরিয়া তাঁর জলজ্যান্ত প্রমাণ এসব ঝলসানো নিয়ে শুটিং, কিংবা খাওয়া থেকে উঠিয়ে ছবির জন্য পোজ দেয়ানো। অসভ্য আচরণ মনে হলেও, খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা এটি। যতই তিরস্কার করি, বিশ্বজিতের কোপানোর দৃশ্য যে সাংবাদিক বা ভিডিওম্যান খুব ভালভাবে ধারণ করতে পেরেছে, সে কিন্তু সেদিন তাঁর সম্পাদকের বাহাবা পেয়েছে। চ্যানেলগুলোর ভেতর সেদিন ছিল, সেই দৃশ্য দেখানোর প্রতিযোগিতা। আগুনে পোড়ানো নিয়েও আমার মনে হয় না ব্যতিক্রম হচ্ছে। পোড়ানো নিয়ে একদিকে যেমন বিরোধীদলকে সমানে ধিক্কার জানিয়ে একরাশ খবর ছাপা হচ্ছে, ঠিকই আবার সেই খবরগুলোকে শিরোনাম করা হচ্ছে। সেসব আক্রান্তদের নিয়ে হৃদয় বিদারক রিপোর্টিং যেমন হচ্ছে, আক্রমণকারীদের চোদ্দ গুষ্টি যেমন উদ্ধার হচ্ছে, তেমনি এটাও সত্য, সেই রিপোর্ট ছাপানোর সময় নৃশংস একটি ছবির খোঁজও হচ্ছে। আর যেসব ফটোগ্রাফার সেসবের ছবি যারা জোগাড় করছেন, ‘গ্রেট জব’ বলে একটা পিঠ চাপরানি কিন্তু তারাই পাচ্ছেন।

যা বলছিলাম, এই মুহূর্তে আন্দোলনের সাফল্যের মূলমন্ত্র হচ্ছে, শিরোনামে থাকা। যেভাবেই হোক, যত নৃশংস কাজ করেই হোক, শিরোনামে থাকা চাই। প্রথম খবরটাই যেন হয়, বিরোধী দলের আন্দোলন সংক্রান্ত। দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় লিড হওয়া মানেই, পিছিয়ে পড়া। আর একবার পেছনের পাতায় চলে গেলে, আন্দোলন শেষ। ফলে এখন ২৪ ঘণ্টার হরতাল আর ডাকা হচ্ছে না। কারণ এতো ছোট হরতাল আর এখন শিরোনাম না। ৭২ ঘণ্টার হরতালকেও শিরোনাম পেতে ঘাম ঝরাতে হচ্ছে। বরং শিরোনাম হয়, কিংবা মনে প্রশ্ন জাগে, সপ্তাহের বাকী দিন বাদ দিল কেন? হরতালের ডাক শিরোনামে ফিরে আসে, যখন হরতাল প্রলম্বিত করে ৬ দিন করা হয়।

শান্তিপূর্ণ হরতাল, নিঃসন্দেহে বিরোধী দলকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিবে। প্রচুর গাড়ী চলছে এমন কোন হরতালের ছবি পরের দিন পত্রিকায় ছাপা হওয়া বিরোধী দলের জন্য একটি অশনি সংকেত। কোন হরতালে ভাঙচুর না হলে, ‘এটা কোন হরতালই হয়নি’— ক্যাডাররা রাস্তায় নেই, জনসমর্থন নেই, বিরোধী দল আন্দোলন তৈরিতে ব্যর্থ। অবরোধ, হরতালে দেশের কি অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে কেউই কিছু বলছেন না। অবরোধের কারণে চাষীরা কি মর্মান্তিক অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে, কিভাবে সস্তায় তাদেরকে পণ্য বিক্রি করে দিতে হচ্ছে, তা নিয়ে কেউ কথা বলছেন না। কিংবা বললেও, শিরোনাম করছেন না। কারণ, সেখানে নৃশংসতা নেই বা পাবলিক খাবে না।

বিএনপির গেমপ্ল্যান ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আপাততঃ লাগাতার হরতাল আর সপ্তাহ জুড়ে হরতাল দিয়েই কাজ চালাচ্ছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এসএসসি পরীক্ষা পেছানো, এবং সেই ব্যাপারটা শিরোনাম হওয়া, আপাততঃ এটাই তাঁদের টার্গেট। পরীক্ষা হতে না পারলে, সরকারকে সবাই যত অথর্ব মনে করবে, পরীক্ষা হতে পারলে বিরোধী দলকে ততোটাই অকর্মণ্য ভাববে। সরকারী দল চাইছে, জনগণ ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে বিরোধী দলের ওপর ক্ষেপে উঠুক আর বিরোধী দল চাইছে, সরকারী দলকে কিংবা রাষ্ট্রকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে। আর এই জেদাজেদিতে কে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তা নিয়ে কারোরই মাথা ব্যাথা নেই। এদেশের সরকার এবং বিরোধী দুই দলেরই যেহেতু দূরদৃষ্টি বলে কিছু নেই, তাই ধরে নেয়া যায়, এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে কেউই এগিয়ে আসবে না।

সরকার যেভাবে শুক্রবারে পরীক্ষা নিয়ে পরিস্থিতি সামলাচ্ছে, মনে হচ্ছে শিরোনামে থাকবার জন্য অচিরেই হয়তো শুক্রবারেও হরতাল আসবে। জ্বালাও পোড়াও যদিও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তারপরও শিরোনামে টিকে থাকবার লোভে, সেই কাজেও বিরাম আসবে না। হয়তো নিজের নেতা কর্মীকে দিয়ে না করিয়ে, ভাড়াটে সেনার আমদানী হবে। দরদ দেখানো বুদ্ধিজীবীদের নড়াচড়া শুরু হয়ে গেছে। তাঁদের বক্তব্য নিজেদের পক্ষে না গেলে, মনে হয় না তাঁদের সঙ্গে কোন দল সহযোগিতা করবে।

এই মুহূর্তে যে ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ গেম চলছে, সেখানে বিরোধী দলের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে আসবে, ক্রিকেট বিশ্বকাপ। আর সে কারণে শিরোনামে থাকবার সুযোগ হাতছাড়া হলে, হয়তো তখন আলোচনায় যোগ দিতে রাজী হবে বিরোধী দল। সরকারী দলও সুযোগটা নেবে বলেই ধারণা। আলোচনা আলোচনা খেলা খেলে যদি কিছু সময় পার করা যায়, তবে আন্দোলনে ভাটা পড়বে। আর একবার আন্দোলনে ভাটা পড়লে, বিরোধী দলের পক্ষে আর উঠে দাঁড়ান সম্ভব হবে না। সামনে কিছুদিনের ভেতরই বিরোধী দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আন্দোলন কিভাবে আর কতদিন চালাবে। সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নের সমাধান করতে হবে তা হচ্ছে, বিশ্বকাপের সময় কিভাবে বিরোধীদল শিরোনামে থাকবে।

কবে প্রভুরা ঠিক করবেন, ‘কে হবে আমাদের প্রভু।‘

download (2)

by zainuddin sani

প্রায় মাস খানেক হতে চলল, দুই পক্ষের জেদাজেদির কারণে দেশ স্থবির হয়ে আছে। একে অপরকে হারাতে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু সাধন নিয়ে আসছে। এই সিরিজে অংশ হিসেবে, বাজারে নতুন এসেছে এক পক্ষের নেত্রীর ফোনালাপের অডিও। সেখানে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে বেশ কর্কশ ভাষায় নির্দেশ দেয়া আর রাস্তায় থাকবার তাগিদ দেয়া। বিতর্ক দেখা দিয়েছে, ‘রাস্তায় থাকা’ মানে কি—তা নিয়ে। কারো মতে এটাই নাশকতার নির্দেশ, কারো মতে এটি আন্দোলন করার নির্দেশ। আর হুকুম দেয়াটার সাথে মেলানোর চেষ্টা হচ্ছে ‘জেনারেলের স্ত্রী’ ব্যাপারটাকে। ফোনালাপগুলো কিভাবে ইউটিউবে আসল, তা নিয়ে খুব একটা আলোচনা হচ্ছে না। ধরেই নেয়া হচ্ছে, কোন না কোন ভাবে সরকার এর সঙ্গে জড়িত।

কোকোর মৃত্যুর পরে, কোকোর স্ত্রী এবং দুই কন্যা বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিছুদিনে আগে, এক পক্ষের নেত্রীকে একা রেখে তাঁরা ফিরে গেছেন। কোকো কন্যা এবং তাঁর স্ত্রীর মালয়েশিয়া ফেরত যাওয়া নিয়েও বেশ কটাক্ষ চলছে। কটাক্ষের কারণ, তাঁদের পরীক্ষার কারণে তাঁরা গিয়েছে। আর এদেশের এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। আর তা হয়েছে একপক্ষের নেত্রী বা তাঁদের দাদীর ডাকা হরতাল আর অবরোধের কারণে। ব্লগ, ফেসবুক আর মিডিয়ায় চলছে ব্যাপারটাকে কতোটা মশলা মাখিয়ে উপস্থাপন করা যায়। ‘নিজের নাতনীদের পরীক্ষা দেয়ার জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছেন আর দেশের লাখ লাখ পরীক্ষার্থী যে পরীক্ষা দিতে পারছে না, সেদিকে খেয়াল নেই।‘

খেলা কে জিতছে, তা এখনও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, খেলা ধীরে ধীরে ক্লাইমেক্সের দিকে এগোচ্ছে। একজন বলছে আর এক সপ্তাহ। অন্যদিকের বক্তব্য হচ্ছে ১৩ই ফেব্রুয়ারী। ফেসবুক, ব্লগ আর পত্রিকার কলামে এখন রীতিমত চামচাগিরির প্রতিযোগিতা চলছে। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের আপাততঃ মনোযোগ ‘পেট্রোল বোমা’ আর অন্যদিকের মনোযোগ নেত্রীর ওপর চালানো নির্যাতন। একদিকের ইউএসপি হচ্ছে ‘পোড়া লাশ’ আর অন্যদিকে ‘নেত্রীর বিদ্যুৎ সংযোগ’। কোনদিকে জনসমর্থন বেশি, তা নিয়েও বুদ্ধিজীবী মহল নিজ দলের গুণ গাইছেন। এককথায় পরিস্থিতি এখন, ‘ক্লোজ টু ফিনিশ’ পর্যায়ে রয়েছে।

একটা ব্যাপারে অবশ্য সবাই একমত, সমাধান এদেশ থেকে আসবে না। আসবে ওপর থেকে। এতদিন এদেশের প্রভুত্বের দ্বায়িত্বে ছিল একটি দেশ। সম্প্রতি সেই দেশটি অপর একটি দেশের সান্নিধ্য লাভের জন্য বেশ উৎসুক। আর এই সান্নিধ্য পেতে যদি তাঁদের হাতে বাংলাদেশকে তুলেও দিতে হয়, দেশটি ‘না’ বলবে না। এমনই যখন অবস্থা, সেই সময় ঘটল মজার এক ঘটনা। ঘটনাটা খুব সাধারণ হলেও, মজার বলছি কারণ, এই নিয়ে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের লম্ফঝম্ফ ছিল দেখার মত। মানসিকভাবে আমরা যে কত অনায়াসে এই দেশগুলোর প্রভুত্ব মেনে নিয়েছি, তা এতো স্পষ্টভাবে বুদ্ধিজীবীরা আগে বলেননি।

প্রভু হিসেবে পরিচিত, আমাদের পাশের দেশের পররাষ্ট্র সচিবের বরখাস্তের পরে মনে হয়েছিল, এক পক্ষের জয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। মনে হয়েছিল, তাঁর চাকরী যাবার একমাত্র কারণই হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর নগ্ন হস্তক্ষেপ কিংবা অপর পক্ষকে জয় পাইয়ে দেয়া। আমেরিকার বিরুদ্ধে গিয়ে এদেশের ৫ই জানুয়ারীকে সমর্থন করার খেসারত দিতে হয়েছে তাঁকে। তাঁরা ধারণা করছেন সম্প্রতি ওবামা এসে সেই প্রভু দেশকে ধমক দেয়ার কারণেই সচিব মহাশয়কে অফিস খালি করতে হয়েছে। এখন ধমক খাওয়ার পালা এদেশের প্রধানমন্ত্রীর। নরেন্দ্র মোদীর বিজয়ের পরে এই সম্ভাবনাই দেখেছিল এক পক্ষ। আর তা এখন সত্যি হতে চলেছে। অতএব, সেই পক্ষের জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বুদ্ধিজীবীদেরও সময় হয়ে গেছে, দল পাল্টাবার কিংবা বুঝে শুনে কথা বলবার।

ভারতীয় কিছু টিভি চ্যানেল আর ভারতীয় ব্লগেও এই বরখাস্ত নিয়ে আলাপ চলছে। তবে সেখানে ঘটনার ব্যাখ্যা বেশ অন্যরকম। মাত্র দুদিনের জন্য তিনি এই চাকরি হারিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদীর কাজ করার যে স্টাইল, সেই অনুসারে তিনি চান সব এলাকায় নিজের বিশ্বস্ত লোক। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য তাঁর নির্বাচিত এই বিশ্বস্ত লোকটি হচ্ছেন সুব্রমনিয়াম জয়শঙ্কর। এই ভদ্রলোককে, মোদীর পূর্বসূরি, মনমোহন সিংও পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে চেয়েছিলেন। কিন্তু সোনিয়া গান্ধীর ইচ্ছার কারণে তা হয়নি। তাঁকে নিয়োগ দিতে হয় সুজাতা সিংকে। আর সেখানকার নিয়ম অনুসারে, পররাষ্ট্রসচিবের কার্যকাল হচ্ছে ২ বৎসর। এই বছর, জুলাই মাসে তাঁর সেই মেয়াদ শেষ হত। হয়তো তিনি সেই সময় পর্যন্তই থাকতেন। তবে সমস্যা হয়ে দাঁড়াল জয়শঙ্করের বয়স। আর মাত্র দুইদিন পরেই তাঁর সরকারী চাকুরীর বয়সসীমা শেষ হয়ে যাবে। তাই এই মুহূর্তে তাঁকে দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগটি না দিলে, তা আর দেয়া সম্ভব হত না। তাই ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত কোন পররাষ্ট্রসচিবকে বরখাস্তের ঘটনা ঘটল।

কিছু আভ্যন্তরীণ রাজনীতিও কাজ করেছে। ভারতীয় জনতা পার্টিতে চলা দলীয় কোন্দলের এক অংশে রয়েছে নরেন্দ্র মোদী আর অন্য অংশে রয়েছে লাল কৃষ্ণ আদভানী। আদভানী লবি এই মুহূর্তে রয়েছে বেশ কোণঠাসা অবস্থায়। সেই লবী থেকে মন্ত্রীসভায় সুযোগ পাওয়া নেত্রী হচ্ছেন, সুষমা স্বরাজ। আর তাঁর দায়িত্বে রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মোদী সাহেব, অনানুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন। সাম্প্রতিক হয়ে যাওয়া সকল বিদেশ সফরে, সুষমা স্বরাজের চেয়ে বেশি দেখা গেছে নরেন্দ্র মোদীকে। অনেকেই বলা শুরু করেছেন, সুষমা হচ্ছেন, ডামী। এবার মোদী আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বসাতে চাইছেন, নিজের বিশ্বস্ত লোক। যেন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সব সিদ্ধান্তের খবরই তিনি পান। কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্র্যাক্টিক্যালি তাঁর নির্দেশেই চলে।

ভারতীয় রাজনীতিতে ভবিষ্যতে কি হবে, তা এই মুহূর্তে বোঝার উপায় নেই। তবে আপাততঃ বিজেপি এবং ভারত সরকার পুরোটাই মোদীর ইচ্ছেমত চলছে। দলীয় নীতি কিংবা সিদ্ধান্ত বলে কিছু নেই। তাঁর কথাই, শেষ কথা। আর তাঁর ইচ্ছায়ই সুজাতা সিংয়ের চাকরি ‘নট’ হয়েছে। বাংলাদেশ কিংবা ওবামা খুব বড় কোন ইস্যু এখানে ছিল না। তবে এটাও ঠিক, বাংলাদেশ প্রশ্নে কোন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না—এমন কথাও কেউ হলফ করে বলতে পারবে না। সব চোখ এখন তাই নতুন পররাষ্ট্রসচিবের দিকে। তিনি কি বক্তব্য দেন বাংলাদেশকে নিয়ে।

ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক, আমাদের ভবিষ্যৎকে আমরা অনেক আগেই অন্য প্রভুর হাতে সঁপে দিয়েছি। এখন আর তা হয়তো আমাদের হাতে নেই। আমরা নামে গণতন্ত্র হলেও, এখানে কে ক্ষমতায় বসবেন, কে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে নেই। আমাদের কাজ শুধু আগুনে পোড়া, সরকারের ‘এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে’ শোনা, বুদ্ধিজীবীদের দলীয় ব্যাখ্যা শোনা আর দিন গোনা, কবে প্রভুরা ঠিক করবেন, ‘কে হবে আমাদের প্রভু।‘

‘আচ্ছা বলো, কোন অ্যানিম্যাল সবাইকে উঠাতে পারে?’

download (2)

by zainuddin sani

প্রসঙ্গটা নিয়ে লিখবো না ভেবেছিলাম। এমনই একটি ব্যাপার, দুঃখ প্রকাশ ছাড়া আর তেমন কিছু বলার নাই। তবে এদেশের রাজনীতিবিদদের যা মেধা এবং যে মনোবৃত্তি, তাতে ব্যাপারটা নিয়ে যে রাজনীতি হবে, তা ভেবেছিলাম। কতোটা হবে আর কতদিন ধরে হবে, সেটা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চিত ছিলাম। এই ব্যাপারটা নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুড়ি করতে কবে নাগাদ আমাদের রুচিতে বাঁধবে, তা নিয়েই ছিল আমার সবচেয়ে বেশি শঙ্কা। আমার শঙ্কা সত্যি প্রমাণ করে এখনও দুই দল এবং তাদের চামচা বাহিনী যথারীতি কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি করে যাচ্ছেন।

আমাদের যে মন মানসিকতা এবং দলকানা স্বভাব, তাতে ব্যাপারটা এতো সহজে থামবে বলে মনে হচ্ছে না। অন্ততঃ যতদিন পত্রিকা খবরগুলোকে ঝাল মশলা সহযোগে পরিবেষণ করছে, ততদিন তো অবশ্যই না। মনে হচ্ছে, খবরটি এখন জনপ্রিয়তার দিক থেকে ‘যে পাঁচটি কথা স্ত্রীকে কখনই বলবেন না’ জাতীয় খবরের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। শুধু প্রত্যাশা করেছিলাম, দুই দলে অন্ততঃ কিছু বুদ্ধিমান লোক আছেন, হয়তো তাঁরা ব্যাপারটা আরও নোংরা হওয়ার হাত থেকে বাঁচাবেন। দেখতেই পাচ্ছেন, আমার আশার গুড়ে এই মুহূর্তে বালি কিচকিচ করছে। প্রায় প্রতিদিনই দুই দলের দলকানা সমর্থক আর নেতা কর্মীদের অতি উৎসাহী বক্তব্যে এই মুহূর্তে ব্লগ, ফেসবুক আর পত্রিকা ভাসছে।

ভাবছি, এই ঝগড়ার ভেতর প্রবেশ না করে, বরং আজকে বাড়িতে কি রান্না হয়েছে কিংবা পুত্রকে হোম ওয়ার্ক করাতে গিয়ে কি কি সমস্যায় পরেছি তা নিয়ে একটা কলাম লিখি। কিংবা আজকে বুয়ার সঙ্গে সহধর্মিণীর যে বচসা হয়েছে তার বিবরণ। কিছুদিন আগেও গিন্নির ধারাবাহিক নালিশ পর্ব চলছিল। বিষয় ছিল সন্তানদের স্কুল শেষে, বছর শেষে পাওয়া ছুটিতে এবার কারা কারা কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছে তাঁদের লিস্টি। সঙ্গে আরও যোগ হচ্ছিল সেই আনন্দ ভ্রমণের সময় তাঁরা কি কি আনন্দ করেছে তার বিবরণ। সেই অনুযোগ এখন থেমেছে। এখন পরিস্থিতি বেশ উল্টো। এখন আমার বুদ্ধিমত্তার জয় জয়াকার চলছে। কারণ ইদানীং তিনি যেসব গল্প শুনছেন সেখানে আনন্দ ভ্রমণের চেয়ে ভোগান্তির গল্পই বেশি। বেশ কয়েকজন অবরোধের কারণে সেখানে আটকেছে। এখন অবশ্য তার কণ্ঠে আনন্দের বন্যা, ‘ঠিক হয়েছে।‘ সঙ্গে যোগ হচ্ছে, ‘আমাদেরও যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু দেশের অবস্থা দেখে যাইনি। এখন দেখছি ভালোই করেছি।‘ টপিক হিসেবে এটাও মন্দ না।

পত্র পত্রিকা দেখে মনে হচ্ছে, এদেশে সত্যিকার অর্থেই ‘স্টোরি’র আকাল চলছে। একটা কোন কাহিনী পেলে তা নিয়ে টানা হেঁচড়া করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। সেই কবে থেকে যে শুরু হয়েছে ‘যে পাঁচটি কথা কখনও প্রেমিকাকে বলবেন না’ জাতীয় লেখা— বোধহয় পত্রিকাগুলো নিজেও বলতে পারবে না। থামাথামির নাম তো নেইই, বরং প্রতিদিন এই জাতীয় লেখা এখন অত্যাবশ্যকীয় হয় দাঁড়িয়েছে। অবিরাম এই ধরনের খবরের ‘সাপ্লাই’ দেখে মনে হচ্ছে এসব খবর পাবলিক বেশ ভালোই খাচ্ছে। তাই এসব তথ্যের সম্প্রচার বেশ বিরামহীন ভাবেই চলছে।

প্রায় প্রতিটি অনলাইন পত্রিকা খুললে, এজাতীয় কিছু লেখা পাওয়া পাওয়া যাবেই। লেখাগুলো যে নিজেদের রিসার্চ প্রোডাক্ট, তা কিন্তু না। অনলাইনে প্রচুর ওয়েব সাইট আছে, যেখানে এধরনের প্রচুর তথ্য গিজগিজ করছে। সেসব থেকে বেছে বেছে কিছু তথ্য অনুবাদ করে এনে হাজির করা হচ্ছে। নর নারীর প্রেম কিংবা সম্পর্ক সম্বন্ধীয় কথাবার্তা গুলোই বেশি অনুদিত হচ্ছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত কিছুটা যৌন নির্দেশক তথ্য আসছিল। ইদানীং সেখানে যৌনতার মিশাল বাড়ছে। কেন যেন মনে হচ্ছে, আমরা আসলে এগুলোই চাই। গুগলে পর্ণ সার্চে আমরা এখনও পাকিস্তান থেকে পিছিয়ে আছি। বোধহয়, খুব বেশি দেরী হবে না, ওদেরকে পিছে ফেলতে।

আসলে খবর হিসেবে আমরা প্রত্যাশা করে থাকি দুটো ব্যাপার। হয় ঝগড়াঝাটি, মারামারি, কাটাকাটি এসব আর নয়তো যৌনতা। কোকোর মৃত্যু পরবর্তী ঘটনাবলী নিয়ে যেভাবে দুই দলের সাঙ্গপাঙ্গরা মেতে উঠল, তা দেখে মনে হচ্ছে, সবাই বেশ খুশি। ঝগড়ার বিষয় পাওয়া গেছে। এই দল ঐ দলকে গালি দিচ্ছে। ঐ দল অন্য দলকে অভদ্র বলছে। বুদ্ধিজীবীরা সারাংশ আবিস্কার করছে। ‘কার দোষ বেশি’। কোথায় যেন একধরনের আনন্দ বিরাজ করছে সবার মনে। ‘লাগুক ঝগড়া, মজা দেখা যাবে’। অচিরেই হয়তো আরেকটা লেখা বাজারে আসবে, ‘যে পাঁচটি কারণে একজন মানুষ ঝগড়া দেখে আনন্দ পায়।‘

আরও একটি খবর আসা উচিৎ। ‘যে পাঁচটি কারণে বাসায় পুরনো খাবার খেতে হয়।‘ তার একটি বলে দিতে পারি। মাইক্রোওয়েভ। আজকে আমার তেমনই একটি দিন গেল। খাবার টেবিলে একমাত্র উৎসাহিত ব্যক্তি আমার পুত্র। সে আজকে নতুন একটি ধাঁধা শিখেছে। ‘আচ্ছা আব্বু, বল দেখি, একজন অ্যাস্ট্রোনট রকেটে করে সূর্যে গেল কিন্তু পুড়ল না, কিভাবে হতে পারে।‘ যদিও ধাঁধাটার উত্তর আমি জানি না, তারপরও এধরনের পরিস্থিতিতে আমার আপাততঃ কাজ একটাই, ইচ্ছে করে হেরে যাওয়া। কিছুক্ষণ চিন্তার ভান করে বললাম, জানি না। আমার পরাজয় দেখে পুত্র যারপরনাই আনন্দিত। ‘প্রিন্সিপ্যাল স্যারকেও জিজ্ঞেস করেছিলাম, পারেনি।‘ আমার বোকামি কিছুটা জাতে উঠল। এবার আমার কাজ, উত্তরটা শুনে অবাক হওয়া কিংবা পুত্রর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশংসাসূচক কিছু বলা।

‘কারণ অ্যাস্ট্রোনট রাতের বেলা গিয়েছিল।‘ উত্তর আসবার পরে একবার ভাবলাম আহ্নিক গতি ব্যাপারটা বোঝাই। রাত হওয়া মানে এই না যে সূর্যের তাপ কমে গেছে। তারপরে ভাবলাম, দরকার কি। শুধু শুধু ওর আনন্দ মাটি করে। পরাজয় মেনে নিলাম। বিজয়ী পুত্র সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় প্রশ্ন শোনাল। ‘আচ্ছা বল, কোন অ্যানিম্যাল সবাইকে উঠাতে পারে?’ এবারও আমার কাজ, ইচ্ছে করে পরাজিত হওয়া। উত্তরটা এবারও আমার অজানা। কিছুক্ষণ চেস্টার ভান করলাম। ধাঁধাটায় মূল সমস্যা সম্ভবতঃ ‘ডাবল মিনিং’ কোন একটি শব্দ কিংবা বাক্যের অন্য কোন অর্থ দাঁড়ায়। আর সেখানেই লুকিয়ে আছে চালাকী। কিছুক্ষণ সত্যিই চেষ্টা করলাম। ‘উঠাতে পারা’ মানে কি? শক্তিশালীতম প্রাণী? তিমি বা তেমন কিছু?

কিছুক্ষণ চিন্তা করে পরাজয় মেনে নিলাম। আবার সেই বিজয়ীর হাসি। ‘উত্তর হচ্ছে মোরগ। মোরগই তো সবাইকে ঘুম থেকে উঠায়।‘ কাহিনী বোধহয় এখানেই থামবে না। এই প্রশ্নগুলো হয়তো সে আবার কাউকে করবে। তাঁর বিবেচনায় যে মানুষগুলো বুদ্ধিমান, তাঁদের সবাইকেই সম্ভবতঃ সে একে একে প্রশ্নটা করবে আর লিস্টি শোনাবে, পৃথিবীর কোন কোন বুদ্ধিমান প্রাণী তার এই সহজ প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারেনি।

আমাদের সবার ভেতরই সম্ভবতঃ এই শিশুটি বেঁচে আছে। আরেকজনকে হারাবার মধ্য দিয়েই নিজের জয় খোঁজা শিশু। কখনও এরা সত্যিই জেতে কখনও সামনের মানুষের ইচ্ছাকৃত পরাজয়ে যেতে। কিন্তু শিশুটির হাসিটিতে যে দুজনেরই জয় হয়, এই তথ্য হয়তো শিশুটি বোঝে না। এই শিশুটি যখন বাবা হবে, হয়তো সেও এমনটিই করবে। ইচ্ছে করে হারবে। আরেকটি শিশুর মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। আর বাবা হিসেবে হয়তো একটি কথা বলতে গিয়েও থেমে যাবে। হয়তো বলবে না, মোরগ সবাইকেই ঘুম থেকে ওঠাতে পারে না। জেগে জেগে ঘুমানো দলকানা নেতা আর সমর্থকদের ঘুম থেকে ওঠানোর সাধ্য কারো নাই। আর পরাজয়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জয় দেখবার চোখ ও এসব দলবাজদের নেই। আর তাই আমাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কেউই হাসিমুখে পরাজয় মেনে নেবে না।

শুধু জানান, আমাদের এই জিম্মি অবস্থার অবসান কবে

download (2)

by zainuddin sani

দেশের অবস্থাকে ঠিক কিসের সঙ্গে তুলনা করা যায়? দাবা খেলার ‘স্টেলমেট’ না টেস্ট ক্রিকেট বা ফুটবল খেলার ‘ড্র’। খেলার সঙ্গে তুলনা করার একটি সমস্যা আছে। কিছু খেলায় সময় নির্ধারিত আছে, এখানে নেই। কেউই জানে না কবে নাগাদ একটা ফয়সালা হবে। সেদিক দিয়ে ভাবলে দাবার সঙ্গে তুলনা করা যায়। কারণ এখানে খেলায় সময় নির্ধারিত নেই, তবে সেখানে খেলার অবস্থা বুঝে ‘ড্র’ মেনে নেয়ার মত সুযোগ আছে। তবে দেশের বর্তমান অবস্থায় ‘ড্র’য়ের কোন সুযোগ নেই। প্রাচীন রোমের ‘গ্ল্যাডিয়েটর’দের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার মত অবস্থা বলা যায়। বিশাল এক দর্শক শ্রেণীও যেমন আছে, একজনের পরাজয়ের ভেতর দিয়ে খেলা শেষ হওয়ার নিয়মও তেমনি আছে। সময়ের কোন সীমানা নেই। তবে সেখানে তৃতীয় একজনের জেতার সম্ভাবনা নেই। রাজনীতির এই খেলায় এই ব্যাপারটা আবার আছে।
খুব সাধারণ কিসিমের একজন জনতাকে জিজ্ঞেস করলাম, কিছু হচ্ছে না কেন? উনি উত্তর দিলেন, টেস্ট ক্রিকেট চলছে, এখানে তো টি টুয়েন্টির মত দ্রুত রেজাল্ট এক্সপেক্ট করতে পার না। তুলনাটা খারাপ লাগলো না। তারপরও, পুরোপুরি মেনে নিতে পারছি না। যদিও টেস্ট ক্রিকেট, ক্রিকেটের ‘লঙ্গার ভার্সান’ তারপরও এর একটি লিমিট আছে। খেলাটা তো আর অনির্দিষ্ট কালের জন্য খেলা হয় না। বর্তমান অবস্থার মেয়াদ তো বোঝাই যাচ্ছে না। কখনও মনে হচ্ছে, আজকেই শেষ হয়য়ে যাবে, আবার মনে মনে হচ্ছে, থামবেই না।
খেলাটায় যদিও লাশ পড়ছে, মানুষ পুড়ছে, তারপরও বলা যায়, দুই দলের সমর্থকরা গোঁয়ারের মত বসে আছে, ‘চলুক খেলা, দেখি কে জেতে’। দোষ কার তা নিয়ে দুই দলের সমর্থকরা কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি করছে আর এই বিশ্বাস নিয়ে এখনও ফেসবুক আর ব্লগে আশাবাদ জানিয়ে যাচ্ছে ‘জয় আমাদের হবেই’। শুধু কি তাঁরা, দেশবাসীও কিছুদিন আগে পর্যন্ত চাইছিল, চলুক খেলা। হয়য়ে যাক একটা হেস্তনেস্ত। যদিও এই মুহূর্তে বোঝার কোন উপায়ও নেই কে জিতছে, যদিও বোঝার উপায় নেই কোন এক পক্ষের জয় নিয়ে দেশবাসীর খুব বেশি মাথাব্যাথা আছে কি না, তবে একটি ব্যাপার নিশ্চিত, আর তা হচ্ছে দেশবাসীর খেলা দেখার শখ মিটে গেছে। প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়য়ে ওঠা দেশবাসীর এখন একটাই প্রত্যাশা, যে ই জিতুক, একজন কেউ জিতুক।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ঘটনা আটকে আছে তো আছেই। কোন পরিণাম নেই, ফলাফল নেই। কেউই জিতছেও না, হারছেও না। অবস্থা এমন হয়েছে যে, তা দেখে ভবিষ্যৎবাণী করবার উপায়ও নেই, কে জিতবে বা কে হারবে?
কে জিতবে তা নিয়েও চলছে সাসপেন্স। জয় ব্যাপারটা পেন্ডুলামের দোলকের মত দুলছে আর বেশ ভালভাবেই দুলছে। একসময় আওয়ামীদের দিকে তো অন্যদিন বিএনপির দিকে। একবার মনে হচ্ছে, আওয়ামীদের পেছানো ছাড়া উপায় নেই, পর মুহূর্তেই মনে হচ্ছে বিএনপির আর কোন আশা নেই। আবার কেমন করে যেন দুই দলই প্রতিযোগিতায় ফিরে আসছে। এখন পর্যন্ত, ‘কেহ নাহি কম যায় সমানে সমান’ চলছে। মনোবল দুই দলের নেতাকর্মীরই চাঙ্গা। জনতা, যারা দুরু দুরু বক্ষে অপেক্ষায় ছিল খেলাটির একটি ‘নেইল বাইটিং’ ফিনিশ দেখবার জন্য, তাঁদের এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। তাঁদের এখন একটি ব্যাপার নিয়েই মাথা ব্যাথা, আর তা হচ্ছে, কতদিন ধরে চলবে এই খেলা। কিংবা কবে নাগাদ পাওয়া যাবে একটি ‘ডিসাইসিভ’ ফলাফল।
সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন, খেলা কি এই গতিতেই চলবে? উত্তরটা হয়তো সামনের কিছু দিনের ভেতরেই বোঝা যাবে। সরকার হার্ডলাইনে যাবে এমন কথা শোনা যাচ্ছে। কিছু ক্রস ফায়ার হয়েছে, প্রায় সাত হাজার গ্রেফতার। হার্ড লাইনের ভেতর আর কি পড়ে বোঝা যাচ্ছে না। সম্ভবতঃ বিএনপির যেকয়জন নেতা বাইরে আছে, তাঁদের একটা গতি করা। আর সেই মিলিয়ন ডলার কোশ্চেন, ম্যাডামকে গ্রেফতার করা হবে কি না। কার্যালয়ে অন্তরীন রাখার সিদ্ধান্তের যেভাবে হঠাৎ করে ইতি ঘটল, তাতে মনে হচ্ছে না সরকার সেদিকে পা বাড়াবে।
অন্যদিকেও বেশ বড়সড় একটা প্রশ্ন বোধক চিহ্ন ঝুলছে। বিএনপি এভাবে কতদিন চালাবে? যত দিন যাচ্ছে, জ্বালাও পোড়াও ব্যাপারটা ব্যাকফায়ার করছে। যদিও তাঁরা বলছে, পেট্রোল বোমা আর ককটেল তাঁরা ছুঁড়ছে না, তবে পুরোটা বিশ্বাস মনে হয় না করাতে পারছে। আওয়ামী স্যাবোটাজ হয়তো কিছু হচ্ছে, তবে বিএনপি একটাও কক্টেল ছুঁড়েনি, তা বোধহয় পাবলিককে গেলানো যাবে না। ফলে তাঁদেরও এই চিন্তা তাড়িয়ে নিচ্ছে, আর কি করা যায়।
দুই বড় দলের মানসিকতা এমন হয়েছে যে একদল জিতলে, অন্যদল সংসদে যাবে না, একদল যা চাইবে, অন্যদল ঠিক তাঁর উল্টোটা চাইবে, একজন ক্ষমতায় থাকা কালীন নির্বাচন দিলে অন্যদল নির্বাচনে যাবে না। জনগণ এ ও জানে, দুই দলের নেত্রীর এই দা কুমড়া সম্পর্ক নিয়েই দেশবাসীকে চলতে হবে। ক্ষমতায় থাকা কালীন পাঁচ বছর, বিরোধীদল শীতকাল আসলেই কিছু আন্দোলন করবে আর সারা বছর মোটামুটি খুচরা কিছু হরতাল আর অবরোধ দিবে, আর আমাদের এসব মেনে নিয়েই চলতে হবে।
দুই নেত্রীর প্রতিই আমাদের প্রত্যাশা এখন এতোটাই কমেছে যে এই মুহূর্তে শুধু একটাই প্রত্যাশা, শুধু আমাদের জানান যে এই জিম্মি অবস্থা থেকে আপনারা কবে নাগাদ আমাদের মুক্তি দিবেন।

এঞ্জয় দ্যা গ্ল্যাডিয়েটরিয়াল ফাইট

roman-gladiators-5

by zainuddin sani

‘সো? হু ইজ উইনিং?’ এই মুহূর্তে সবার মনে কেবল এই একটাই প্রশ্ন। নেতা নেত্রীদের কথার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সবাই এই একটা প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন। সমঝোতার কথা কে বেশি বলছে? তার মানে সে হারু পার্টি। পাতি নেতাদের কাজই হচ্ছে জ্বালাময়ী কথা বলা। বিএনপির পাতি নেতারা ‘দাঁত ভাঙ্গা জবারে’র কথা বলে বলে নিজেদেরই দাঁত ক্ষয় করে ফেলেছেন আর আওয়ামী পাতি নেতারা সারাক্ষণ হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ‘তাঁরা চাইলে বিএনপির কি দুর্গতি করতে পারেন’। এবং যথারীতি কোন পক্ষই কিছু করতে পারছে না। ফলাফল হচ্ছে, সাধারণ মানুষ কেউই আর এইসব পাতিনেতাদের কথা পাত্তা দিচ্ছেন না।

সব চোখ এখন বড় দুই নেত্রীর দিকে। হার্ডলাইনে যাওয়া থেকে সরে আসবার কোন কথা কি নেত্রী বলছেন? কিংবা আন্দোলন আরও বেগবান না করে আলোচনা করার কথা কি নেত্রী বলছেন? বাক্যের শব্দগুলো কত কর্কশ কিংবা কত মোলায়েম তা দেখে সবাই ঠিক করে নিচ্ছেন, বল এখন কার কোর্টে। বাকি যত দর্শক আছেন, সুশীল থেকে কুশিল, দেশি হোক আর বিদেশী, সবার মুখে এখন একই নামতা, ‘আলোচনা কর’। এদের পাত্তা দেয়ার তেমন কিছু নেই। এরা সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে এই কথা বলে আসছেন, আর আমাদের নেতারা তাঁর তোয়াক্কা না করেই নিজেদের গোঁয়ার্তুমি যথারীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। মূল যে প্রভু, তিনি যতক্ষণ কোন একটি দলের সঙ্গে আছেন, অন্য কেউ তাঁর কিচ্ছু করতে পারবে না। তাঁরা অবশ্য প্রকাশ্যে কিছু বলেন না, নেতা নেত্রীদের মুখের ভাষা শুনে বুঝে নিতে হবে, বাতাস ঘুরে গেছে কি না।

আওয়ামীরা যে লাইনে ফাইট দিচ্ছে তা হচ্ছে হরতাল অবরোধে হওয়া মৃত্যুগুলোকে হাইলাইট করার চেষ্টা করে যতটা ফায়দা লোটা যায়। ভয়াবহতম মৃত্যুগুলোকে নিয়েই সবেচেয়ে সেন্টিমেন্টাল ফায়দা হাসিল করা যায়। পত্রিকায়, টিভিতে কিংবা টক শোর আলোচনায় যত বেশিবার এই টপিক আসবে, ততো বেশি সুবিধা আওয়ামীদের। নিজেদের পত্রিকা আর টিভি চ্যানেলে তাই বারবার এই বিষয়গুলো আনবার চেষ্টা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির এই মুহূর্তের প্রধান চিন্তা, আন্দোলনে যেন ছেদ না পড়ে। লাশগুলো কিছুটা ব্যাকফায়ার করছে, তবে অবরোধ আর হরতাল তাঁর ইমপ্যাক্টও ফেলছে। সরকারকে যে বিচলিত করে ফেলেছে তা আওয়ামী পাতি নেতাদের লম্ফঝম্ফ দেখে আন্দাজ করে নেয়া যাচ্ছে।

তবে দুই দলেরই মূল সমস্যা হচ্ছে ‘দীর্ঘসুত্রিতা’। আন্দোলন দীর্ঘ হলে আওয়ামী বিএনপি দুদলেরই সমস্যা। আওয়ামীদের সমস্যা হচ্ছে, প্রমাণ হয়ে যাবে তাঁরা অথর্ব, এই আন্দোলন দমানোর ক্ষমতা তাঁদের নেই। অন্যদিকে অবরোধ আরও কিছুদিন চললে বিএনপিও ঝামেলায় পড়বে। দেশের অর্থনীতির ওপর শুরু হওয়া চাপ এবং সেকারণে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া জনগণ কিছুটা হলেও তাদেরকে দায়ী করবে। আর মানুষের দেয়ালে পিঠ থেকে গেলে, তাঁরা ঠিক কি করবে, বোঝা ভার। দেশের হওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতি সম্পর্কে দুই দলই সচেতন, তবে এটাও জানে, ছাড় দিলেই অবধারিত মৃত্যু।

আওয়ামীদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র এবং বড় দুর্বলতার নাম আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। অবরোধে হওয়া জন দুর্ভোগ কিংবা জ্বালাও পোড়াও থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে আপাতত তাঁরা ব্যর্থ। এই ব্যর্থতা ঘোচাতে যা তাঁরা করতে পারে, তা হচ্ছে, ‘জিরো টলারেন্স’ দেখানো। তেমন করবার ইচ্ছে জানাতে গিয়ে পুলিশ, বিজিবি আর র‍্যাব প্রধান বেশ ঝামেলায় পড়ে যান। অতি দ্বায়িত্বশীলতা দেখাতে গিয়ে এমন কিছু কথা বলে ফেলেন, যে পরের দিন তাঁদের আবার ব্যাখ্যা দিয়ে জানান দিতে হয় যে তাঁরা রাজনীতি করেন না। সারাংশ হচ্ছে, যদি তাঁরা অ্যাকশানে যান এবং বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের লাশ পড়ে, তখন পরিস্থিতি কি হবে, তাঁরা নিজেরাও তা আঁচ করতে পারছেন না, আর সেকারণেই চাইছেন, ব্যাপারটা যেন সে পর্যন্ত না গড়ায়। হুমকি ধামকিতে কাজ হলে সবকুলই রক্ষা পায়।

এমন ‘স্টেলমেট’ অবস্থায় সরকারী বাহিনী তাই আপাতত গ্রেফতার পর্যন্তই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছেন। হুঙ্কার, হুমকি চলছেই, তবে সত্যিই তেমন হার্ডলাইনে তাঁরা যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ করছেন। অন্যপক্ষও খুব আরামে নেই। বিরোধী দলের প্রায় সব বড় নেতাই চোদ্দ শিকের পেছনে। আত্মগোপনে থাকা কিছু কিংবা সরকারের সঙ্গে মৃদু লিয়াজো করে চলা কিছু নেতা এখনও বাইরে আছেন। ওপর মহল থেকে প্রতি মুহূর্তের নির্দেশনা না আসায়, কর্মীরা বুঝে উঠতে পারছেন না কি করবেন। অতি উৎসাহে জ্বালাও পোড়াও করবেন? লুকিয়ে থাকবেন? না গ্রেফতার হয়ে নিজেদের অকুতোভয় প্রমাণ করবেন? ফলে দেখা যাচ্ছে, সরকারী দলের ওপর মহলের মত বিরোধী দলের তৃণমূলও এখন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।

একে অপরের ওপর করা গুপ্তচরবৃত্তিতে, মনে হচ্ছে এখন একটি স্থিতি অবস্থা বিরাজ করছে। বিএনপির কি হতে যাচ্ছে পরবর্তী সিদ্ধান্ত, তা ম্যাডাম আর তারেক সাহেব ছাড়া আর কেউ জানে না। অন্যদিকে আওয়ামীদের সিদ্ধান্ত বা গেম প্ল্যান প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ জানে না। বিভিন্ন পত্রিকা কিংবা টিভি চ্যানেল, ‘জানা যায়’ কিংবা ‘বিশ্বস্ত সূত্রের খবর’ বলে যা প্রচার করছে, এই মুহূর্তেই সেটারই কদর সবচেয়ে বেশি। কাকে বেশি চিন্তিত দেখাচ্ছে, কে বেশি হাসিখুশি, কে সাংবাদিকদের সঙ্গে বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে কথা বলছেন, এসবই হচ্ছে এখন ‘ব্রেকিং নিউজ’।

বালুর ট্রাক সরানো কিংবা পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলা কিসের ইঙ্গিত, তা নিয়ে সবাই এনালাইসিস শুরু করে দিয়েছেন। ভাইবার, ট্যাঙ্গো, হোয়াটস অ্যাপ ইত্যাদির ওপর নিষেধাজ্ঞায় জনগণের ভোগান্তির চেয়ে বেশি আলোচ্য হয়ে উঠছে, কেন সরকার এমনটা করল। ব্রিটেনে পাঠানো চিঠি কিংবা ‘সেনাবাহিনী নামানোর সময় এখনও হয়নি’ এসব ব্যাপার সরকারের আত্মবিশ্বাস প্রমাণ করছে না ‘নার্ভাসনেস’, তা সময়ই বলে দেবে। বিএনপিরও যে হরতাল আর অবরোধের বাইরে আর কিছু করার কোন ক্ষমতা নেই, তা আবার প্রমাণ করেছে। জনগণকে সাথে যুক্ত করবার তেমন কোন প্রচেস্টাই তাঁদের নেই। তাকিয়ে আছে জামায়াতের দিকে।

পাল্লা কোন একদিকে হেলে পড়ছে, তা বলবার সময় বোধহয় এখনও আসেনি। এই ‘স্টেলমেট; অবস্থা আর কতদিন চলবে, আর কত লাশ পড়বে, দেশের অর্থনীতির কত ক্ষতি হবে, তা সময়ই বলে দেবে। রোমের সেই গ্ল্যাডিয়েটর ফাইটের মত হয়েছে এদেশের দুই রাজনৈতিক দলের অবস্থা। কোন একজনের জয় ছাড়া এই যুদ্ধ থামবে না। যতক্ষণ যুদ্ধ শেষ না হয়, ততক্ষণ যেমন রোমের অধিবাসীরা উত্তেজিত হয়ে সেই ফাইট দেখত, এদেশের সাধারণ মানুষের এই মুহূর্তে একটাই কাজ, আমাদের দুই রাজনৈতিক নেত্রীর এই ‘গ্ল্যাডিয়েটরিয়াল ফাইট’ দেখা আর সম্ভব হলে ‘উপভোগ করা’।

আলোচনা? কাদের মধ্য? দুই দলের না দুই প্রভুর?

obamamodi

by zainuddin sani

সুশীল সমাজ যদিও তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, তারপরও এই ধরনের অবস্থায় তাঁরা ঘ্যান ঘ্যান করতে এগিয়ে আসে। সাম্প্রতিক কিছু লেখা পড়ে মনে হচ্ছে তাঁরা আবার হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে আসছেন। বক্তব্য তেমন নতুন কিছু না, সেই পুরনো আবদার। ‘আলোচনা করুন’। তাঁদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বুদ্ধি এই দলগুলোর নেই, তাই উপদেশটা দিতে হচ্ছে। ব্যাপারটা কি তাই? এদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায়, আলোচনা করতে চাওয়া মানে, আমার আন্দোলন করার ক্ষমতা নাই কিংবা আমার ক্ষমতা নাই, এই আন্দোলন দমাবার। আর তাই এদেশে কোন দলই সেধে আলোচনার প্রস্তাব দেয় না, বিশেষ করে অপর পক্ষ যখন দুর্বল অবস্থায় থাকে। এরপরও সুশীল সমাজের বুদ্ধিতে পূর্বে কিছু আলোচনা, চিঠি চালাচালি, আলোচনার জন্য বসাবসি, সবই হয়েছিল, এবং যথারীতি সেসবে কোন ফল আসেনি।

বাস্তবতা হচ্ছে, আন্দোলন করে দাবী আদায়ের ক্ষমতা না থাকলে, এদেশের কোন সরকারী দলই বিরোধী দলের দাবী মেনে নেয় না। আর আন্দোলন দমাবার ক্ষমতা থাকলে, সরকারী পক্ষ সেই আন্দোলনকে দমাবার কোন চেষ্টাই বাদ রাখেন না। তাই আন্দোলন করে দাবী আদায় করতে পারবে কি না, তা নির্ভর করছে, আন্দোলন কত জোড়ালো হচ্ছে আর অন্য পক্ষ কতোটা শক্তহাতে তা দমন করতে পারছে এই দুইয়ের ভারসাম্যের ওপর। বহুকাল হল, এদেশের কোন আন্দোলনে, সাধারণ জনতা অংশ নেয় না। ফলে এই মল্লযুদ্ধ মুলতঃ চলে সরকারী বাহিনী আর পিকেটারদের ভেতরে।

গত ছয়বছর, এই পিকেটারের সাপ্লাইয়ে বেশ ঘাটতি ছিল। আর তাই, কোন আন্দোলনেই বিরোধী দল জুত করতে পারছিল না। যা তাঁরা করছিল কিংবা আন্দোলন চালাবার জন্য যা জরুরী হয়ে পড়েছিল, তা ছিল জনগণকে আন্দোলনের কর্মসূচীতে যোগ দিতে বাধ্য করার। এমন কোন কার্যক্রম, যেখানে জনগণ অংশ নিতে বাধ্য। হরতাল আর অবরোধ করতে আপনি বাধ্য। গাড়ী না চললে আপনি উঠবেন কোন বাহনে। আপনার গাড়ী ভাঙবে জানবার পরও আপনি নিশ্চয়ই গাড়ী বের করবেন না। ব্যাস হয়ে গেল, হরতাল সফল।

বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কার অনুকুলে, এখনও বোঝা যাচ্ছে না। দেশ গোল্লায় গেলেও, এই দুই দলের কারোরই কিছু যায় আসে না। তাঁদের একটাই চাওয়া, আর তা হচ্ছে, নিজের জয় বা অপর পক্ষের পরাজয়। এই যুদ্ধ এর আগেও বেশ কয়েকবার হয়েছে, এখন আমরা অভ্যস্থ হয়ে গেছি। তবে যে অংশকে নিয়ে বেশি টেনশানে থাকি, যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়ংকর যে অবস্থা, তা হচ্ছে ‘স্টেল মেট’। দাবা খেলার সেই অবস্থা, যেখান থেকে কারোরই বিজয় অর্জন সম্ভব না। টেস্ট ক্রিকেট কিংবা দাবায় যেমন ‘ড্র’ বলে একটা ব্যাপার আছে, রাজনীতিতে তেমনটা নেই। এখানে একজনের জয় কিংবা অন্যের পরাজয়, কোন একটা হতেই হবে। আর সেটা না আসা পর্যন্ত, অর্থাৎ এই ‘স্টেলমেট’ অবস্থা আমাদের সহ্য করা ছাড়া উপায় নেই। যারা আবদার করছেন, আলোচনার, তাঁরা ভালো করেই জানেন, কিছুই হবে না।

তারপরও এই আবদারগুলো জানানো হয়, এবং সাধারণতঃ তা জানানো হয় বেশ কিছু লাশ পড়ার পরে। আগেও বলা হয়, তবে দায়সারা ভাবে, এবং যথারীতি সেই আবদারে কেউ কর্ণপাত করেন না, মিডিয়ায় আসে না, পত্রিকায় কেউ কলাম লেখেন না। লাশ পড়া মানেই, অবস্থা গুরুতর। দুই পক্ষই বেশ শক্তিশালী। একদল সহিংস আন্দোলন করার ক্ষমতা অর্জন করেছে আর অন্যদল সেই আন্দোলন দমাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের প্রয়োজন বোধ করছে। তবে বর্তমান আন্দোলন অতিসম্প্রতি যেসব লাশ সরবরাহ করেছে, তাঁর পুরোটাই নিরুপায় জনতার লাশ। বিরোধীদলের আন্দোলনের আদেশ অমান্য করার কারণে লাশ। এই লাশ উৎপাদনের কৃতিত্ব এখনও কেউ নিচ্ছেন না, একে অন্যকে দায়ী করছেন। তবে এই লাশগুলো দেখে দুই দলের কারোরই এমন কোন বিবেক জাগছে না।

এসব আন্দোলনের জন্য খুব জরুরী হচ্ছে, আন্দোলনকারীদের লাশের যোগান। সেটাও আবার বড়সড় কোন নেতার। সেটা এখনও হয়নি, এবং ধারণা করা যায় আপাততঃ যোগান হবেও না। বড় সব নেতা আত্মগোপনে কিংবা চোদ্দ শিকের পেছনে। ওদিকে রাষ্ট্রীয় শক্তি, মাঠে নামব, নামব করছে। হুমকি, হুংকার দিচ্ছে, তবে এখনও অ্যাকশানে নামেনি। সেটা নামলে, আর তখন আরও কিছু লাশের যোগান হলে, সম্ভবতঃ খেলা জমে উঠবে। ‘স্টেল মেট’ অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।

খেলা অন্যদিকেও হচ্ছে। কূটনৈতিক পাড়ায় দৌড়ঝাপ শুরু হয়ে গেছে। নিজ নিজ প্রভুর কাছে গিয়ে আর্জি পেশ করা হয়েছে, ‘আমাকে বাঁচান’। তাঁরাও ধরি মাছ না ছুঁই পানি টাইপ বক্তব্য দিচ্ছেন। সুশীল সমাজ মুলত এই ধরনের অবস্থার জন্যই অপেক্ষা করে। কারণ এই ধরনের অবস্থায়ই তাঁদের কথা মিডিয়ায় একটু পাত্তা পায়। যে কয়জন সুশীলের গায়ে এখনও দলীয় তকমা লাগেনি, এই সময় তাঁদের কিছুটা কদর হয়। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় কলাম লিখে তাঁরা জানান দেন, অবস্থা এখন গুরুতর, দেশের বেশ ক্ষতি হচ্ছে, অতএব এবার আলোচনা করা যেতে পারে। আগে বলিনি কারণ তখন আমার কথা কেউ পাত্তা দিত না।

আলোচনা আদৌ হবে কি না, আর হলে সেখান থেকে কোন ফল আসবে কি না, তা নিয়ে সব দলই নিজ নিজ বক্তব্য দিচ্ছেন। সেই বক্তব্য অবশ্য আসল বক্তব্য না। সেটা ‘মেন্টাল গেম’। হুমকি দিয়ে অপর পক্ষকে ঘায়েল করা। আগামী কিছুদিনের ভেতর সম্ভবতঃ বড় নেতারা পরিষ্কার করবেন, আলোচনার নাটক করতে তাঁরা রাজী কি না। আরও কিছু ব্যাপার এখনও পরিষ্কার হয়নি। প্রভুরা কি সিদ্ধান্ত নেবেন, কোন প্রভু এবার নিজের দাবীতে অনড় থাকবেন কিংবা দুই প্রভুর কোনজন এবার বাংলাদেশকে অন্যজনের ঝুলিতে দেবেন, তা এখনও তাঁরা পরিস্কার করছেন না। প্রভু দুইজন ২৬শে জানুয়ারী ভারতে মিলিত হবেন। সেখানে যদি দয়া করে তাঁরা কোন সিদ্ধান্ত নেন, তবে রক্ষা, আর নয়তো কপালে আরও ভোগান্তি আছে।

দুই পক্ষই হুমকি দিয়ে রেখেছেন, খেলা আরও জোরদার হবে ২০ তারিখের পরে। অর্থাৎ দুই পক্ষই কোমর বাঁধবেন। আর এটাও ঠিক, তার আগে পর্যন্ত এই ভোগান্তি চলবে। ফেব্রুয়ারিতে অসহযোগের ডাক দেয়া হয়েছে। ওদিকে সেই সময়ে রয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। আগেকার আন্দোলন গুলোতে সাধারণতঃ শুক্র শনিকে রেহাই দেয়া হত, এখন সেটাও দেয়া হচ্ছে না। বিশ্ব ইজতেমার জন্যও তেমন কোন ছাড় দেয়া হয়নি। বেশ অনেক জেলায় জ্বালানী সংকট শুরু হয়েছে। অন্যদিকে বিজিবি দিয়ে পণ্য আর যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করানোর চেষ্টা চলছে। কতদিন চালানো সম্ভব, সময়ই বলে দেবে। জনগণকে জিম্মি করা এই নেতাকর্মী বিহীন আন্দোলন কতদিন টানা যাবে, সেটাও যেমন দেখবার বিষয় তেমনি সবাই অপেক্ষা করছে, সরকারী বাহিনী গুলি ছুঁড়লে আর লাশ পড়লে, খেলার দিক পরিবর্তন হয় কি না।

আপাততঃ আন্দোলনের ‘স্টেলমেট’ অবস্থার যে পরিবর্তন হবে না, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। আলোচনাও যে সমাধান এনে দেবে না, সেটাও সবাই জানে। আমাদের প্রভুরা, এবং তাঁদের নিয়োগ দেয়া কূটনীতিকরা কি করবে কিংবা অন্য কোন সমাধান আসবে কি না, তাঁর দিকেই সবাই তাকিয়ে আছে। এই মুহূর্তের মিলিয়ন ডলার যে প্রশ্ন তা হচ্ছে, ‘সমাধান কোন পথে?’ এই দুই দলের আলোচনায় না দুই প্রভুর আলোচনায়?