ডোনাল্ড ট্রাম্পের র‍্যালি থেকে ফিরে (ছবি ও ভিডিও সহ)

1

শাফকাত রাব্বীঃ

ডোনাল্ড ট্রাম্পের র‍্যালি দেখার খুব শখ ছিল। দেখতে গিয়েছিলাম যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিন ডালাস শহরের একটা নাইট ক্লাবে। আমার টিকেট ছিল না, একারনে নাইট ক্লাবের ভিতরে ঢুকতে পারা যায় নাই। ক্লাবের বাইরে দাঁড়িয়ে শত শত সাপোর্টার আর প্রতিবাদকারীদের চিৎকার চেঁচামেচি, নাচা নাচি, গালাগালি, আর স্লোগান উপভোগ করে বাড়ি ফিরেছি।

13453014_10153505275905653_1716457272_o

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইলেকশনের অবস্থা ভালো না। আর মাত্র ৪ মাস পরে ইলেকশন। ডালাস-ফোর্টোয়ার্থ এলাকা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪র্থ বৃহত্তম জনবহুল এলাকা। এত গুরুত্বপূর্ন একটা এলাকায় ইলেকশনের মাত্র ক’মাস আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে র‍্যালি করতে দিতে  বড় কোন ভেন্যু নাকি রাজী হয়নি। এই কারনে ডালাসের দক্ষিন দিকের বাজে একটা এলাকার নাইট ক্লাবে ট্রাম্পকে তাঁর র‍্যালি করতে হয়েছে।

র‍্যালির এলাকায় গিয়ে দেখি এলাহী কারবার। শত শত পুলিশ। আকাশে ৫ টা হেলিকপ্টার উড়ছে, দুটা হেলিকপ্টার পুলিশের আর তিনটা মিডিয়ার। ঘোড়ার গাড়ি, বাই সাইকেল, মোটর সাইকেল, মোপেড, গাড়ী আর পায়ে হেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন সাজ সোজ্জার পুলিশ। উঁচা বিল্ডিং গুলোতে স্নাইপার রাইফেল নিয়ে সিক্রেট সার্ভিসের লোকজন। আমি এর আগে ডেমক্রাট পার্টির বার্নি স্যান্ডারস এবং রিপাব্লিকান পার্টির মার্কো রুবিও এর র‍্যালিতে গিয়েছি। কারো র‍্যালিতে এতো সিকিউরিটি এবং পুলিশি বাড়াবাড়ি লক্ষ্য করিনি।

13441854_10153505279685653_1651228186_o

র‍্যালি এলাকার মধ্যখানে পুলিশ কাধে কাধ দিয়ে হিউম্যান ব্যারিকেড দিয়েছে।  এক পাশে ট্রাম্প সাপোর্টার আর অন্য পাশে প্রতিবাদকারীর দল। কেউ কারো দিকে বেশী এগিয়ে গেলেই পুলিশ বাঁধা দিয়ে দূরে সড়িয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে থেকেই কোন কোন প্রতিবাদকারী হাটতে হাটতে অন্য সাইডে চলে যাচ্ছে, উত্তেজক দু চারটা কথা বলে ফিরে আসছে। ধরতে পারলে পুলিশ ধাক্কা দিয়ে সড়িয়ে দিচ্ছে। তখন আবার প্রতিপক্ষ খুশিতে স্লোগান দিচ্ছে।

র‍্যালির ঢুকার মুখেই দেখলাম একদল টেক্সাস মিলিশিয়া  দাঁড়িয়ে আছে। টেক্সাসে যে কোন সাধারন মানুষ তাঁর বন্দুক নিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় ঘুরাফিরা করতে পারে, মিলিশিয়া গঠন করতে পারে। এটা তাঁদের নাগরিক অধিকার। এটাকে বলে “ওপেন ক্যারি”।  র‍্যালির শুরুতেই ৭-৮ জন মিলিশিয়া বিশাল বিশাল বন্দুক, আর্মির মতো পোশাক, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট, সান গ্লাস পড়ে এই অধিকার ফলাচ্ছেন। এদেরকে পাহাড়া দিচ্ছে ১০-১২ জন পুলিশ যারা কিনা মিলিশিয়ার থেকে হাল্কা অস্ত্র শস্ত্র বহন করছে।

13410729_10153505281075653_912270260_o

একজন পিস লাভিং পাগলাটে লোক এই মিলিশিয়াদের মরে যাওয়া গাঁদা ফুল টাইপের একটা ফুল দিবার অনুমতি চাইল। মিলিশিয়ারা গম্ভীরমুখে অনুমতি দিল। পাগলাটে লোকটা বন্দুকের নলে গাঁদা ফুল পড়িয়ে দিল। আমরা সবাই ছবি তুললাম।

13446317_10153505279360653_1135201895_o

প্রতিবাদকারীদের এলাকার মধ্য খানে বিশাল একটা মেক্সিকোর পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে ছিল একজন মেক্সিকান আমেরিকান। তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল বাদবাকী প্রতিবাদকারীরা নানা ধরনের ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে। প্রতিবাদ কারীদের হাতে  অনেকগুলো মেক্সিকান পতাকা এবং সমকামীদের রেইনবো পতাকা দেখলাম। বড় সাইজের কোন আমেরিকান পতাকা চোখে পড়েনি। হয়তো আমি যখন ছিলাম তখন বড় পতাকা ওয়ালা প্রতিবাদকারী কেউ এসে পৌছায়নি।

13461317_10153505280130653_859908887_o

ট্রাম্পের সাপোর্টারদের মধ্যে  সাদা, খুবই আটো সাটো পোশাকের কয়েকজন তরুনী ছিল। দেখতে ভালো, এবং খুবই এগ্রেসিভ। বুঝাই যায় যে ট্রাম্প মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার মালিক।  নানা ধরনের শরীরি কসরতের মাধ্যমে এই  ট্রাম্প গার্লরা স্লোগান দিচ্ছিল। একজন পরীর মতো উড়ে বেড়ানোর একটা ভঙ্গিমা করছিল। এই পরী ইচ্ছা করে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ঢুকে পড়ছিল বারবার।

আমি পরীর সাথে কথা বললাম। জিজ্ঞেস করলাম ট্র্যাম্পের মহিলা বিষয়ক নানাবিধ মন্তব্য তাকে বদার করে কিনা। পরী উত্তরে বলল, ” আই ডোণ্ট গিভ আ শিট”। আমি বললাম ট্রাম্পের কোন জিনিসটা তোমার সবচাইতে ভালো লাগে? পরী জানালো, “বাকি সব ক্যান্ডিডেট হলো একদল পুসি”। প্রতিবাদকারীদের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলল, “এই যে এদের মতো। আর ট্রাম্প-ই  হলো একমাত্র আসল পুরুষ।”

13453188_10153505281520653_862247741_o

আমার কথা বলার মুহুর্তে একজন কালো একটা ছেলে এসে মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলো সে ঠিক ঠাক আছে কিনা। অর্থাৎ আমি পরীকে ডিস্টার্ব করছি কিনা। মেয়েটা বললো না। আমি মানে মানে সটকে পড়লাম।

এমন সময় দেখা হলো “ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটারস” নামে কালোদের সিভিল রাইট আন্দোলনের এক কর্মীর সাথে। আমি হাত বাড়িয়ে হ্যান্ড শেইক করলাম।  ছেলেটা পুরা র‍্যালিতে একমাত্র কালো মানুষ যে বন্দুক নিয়ে ওপেন ক্যারি করছে। অর্থাৎ সাদা মিলিশিয়াদের সাথে শেয়ানে শেয়ান পাল্লা দিয়ে এই কালো ছেলেটাও একটা বিশাল বড় বন্দুক নিয়ে এসেছে, ওপেন ক্যারি করার জন্যে। আমি তাঁর সাথে কিছু আলাপ সেড়ে তাঁর একটা ছবি তুললাম। খুব খুশী মনে ছবি তোলার পোজ দিল।

black lives

এখানে উল্লেখ্য, মাত্র ক’দিন আগে এধরনের একটা বিশাল বন্দুক দিয়েই  ৫০ জন মানুষকে মেরে ফেলা হয়েছে ফ্লোরিডাতে।

13453305_10153505281060653_1680943089_o

এর পরে এক খুবই ইমশনাল ঘটনা ঘটলো। আমি খেয়াল করে দেখলাম একজন ৫০-৬০ বছরের মহিলা ফুটপাতে বসে কাঁদছেন। আমি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম সে ঠিক আছে কিনা। মহিলা জানালেন সে ঠিক আছেন, কিন্তু তাঁর ছাত্রের কথা মনে পড়ছে। যার জন্যে সে প্রতিবাদ করতে এসেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম ছাত্রের কি হয়েছে। জানালো পুলিশ মেরে ফেলেছে। ছাত্রটি কালো ছিল। তাঁর ভাষায় অসম্ভব মায়াবী একটা ছেলে ছিল,  পৃথিবীর সব চাইতে বড় হৃদয়বান, আর  ভালো ছেলে। বলতে বলতে মহিলা কান্নার মাত্রা বাড়িয়ে দিলেন। আমি আর জিজ্ঞেস করলাম না পুলিশ মেরেছে কেন। মহিলার নাম সুজান।

সুজান জানালেন সে ডালাসের কালো আর হিস্প্যানিক অধ্যুষিত একটা এলাকায় হাই স্কুলের টিচার। তাঁর বাবা মা দু’জন ডাক্তার। পরিবারের সবাই রিপাব্লিকান। সুজান ইচ্ছা করে মাত্র ৫০ হাজার ডলার বেতনের চাকরী নিয়েছেন, ডালাসের সব চাইতে খারাপ একটা এলাকায়।

সুজান জানালেন তিনি কাদছেন মানুষে মানুষের মধ্যে ঘৃনা দেখে। এতো ঘৃনা সে আগে কখনও দেখে নাই। সুজান বললেন পুলিশের দোষ নাই। পুলিশদের মধ্যে এতো ঘৃনা জোগাড় করে দেয় ট্রাম্পের মতো পলিটিশিয়ানরা। আরো অনেক কথা হলো সুজানের সাথে। আমি সুজানকে জানালাম তাঁর মতো মানুষ আছে বলেই আমেরিকান মাইনরিটিরা এখনও আশা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।

এমন সময় পুলিশদের সাপোর্ট করা পোস্টার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল একজন। সুজান আমাকে বললেন, সরি, তুমি আমার থেকে এখন একটু নিরাপদে দূরে গিয়ে দাড়াও। আমি এই পুলিশের সাপোর্টারের সাথে এখন ঝগড়া করবো। আমি সড়ে দাড়ালাম। মহিলা দেখলাম আস্তে আস্তে ঝগড়া শুরু করলেন। ঝগড়া শেষে আমাকে জানালেন সিচুয়েশন কোন কারনে খারাপ হলে তাকে জানাতে, তাঁর বাসা কাছেই একটা আপার্ট্মেন্টে, শেল্টার নিতে পারবো। আমি হাসি মুখে বললাম, “ওকে জানাবো তোমাকে”।

পুরো র‍্যালির ট্রাম্প সাপোর্টারদের সবাই সাদা। কিছু ভাড়া করা গুন্ডা টাইপের কালো ছেলেও ছিল। তাদের একজন প্রকাশ্যে চিৎকার করে সবাইকে জানাচ্ছিল যে কোন ট্রাম্প গার্ল-এর গায়ে কেউ যদি হাত দেয়, তাহলে তারা ফিস্ট ফাইটের জন্যে প্রস্তুত। এই কালো গুন্ডা গুলোর একজনই আমার সাথে কথা বলার সময় সেই পরীকে জিজ্ঞেস করেছিল সে ঠিক ঠাক আছে কিনা।

13446215_10153505279840653_523999363_o

প্রতিবাদকারীদের মধ্যে বেশি ভাগই দেখলাম হিস্প্যানিক আমেরিকান। তাদের সাথে প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছিল ইংরেজি সিনেমার গিক কিংবা ইন্টেলেকচুয়ালদের মতো দেখতে অনেকগুলো সাদা ছেলেমেয়ে। এদের সাথে ছিল ওয়ার্কিং ক্লাসের অনেক কালো মানুষ। এই প্রতিবাদকারীদের যেই বর্ননাটা দিলাম, এটাই হলো লিবারেল আমেরিকান কোয়ালিশন। সারা আমেরিকার যেকোন সিটিতে ইস্লামোফোবিয়া, এলজিবিটি, মেক্সিকান, ইমিগ্রেশন ইস্যু এই সব কিছুতে এই কোয়ালিশনটাকেই একশনে দেখা যায়।

ট্র্যাম্প সাপোর্টারদের স্লোগান ছিল বেশ বোরিং। স্লোগানের ভাষা কথা একটাই — “ইউ এস এ, ইউ এস এ”।  প্রতিবাদকারীদের ভাষার কারুকাজ অনেক আকর্ষনীয়, তবে মূল বক্তব্য  একটাই। সেটা হচ্ছে,  নো মোর হেইট , বা আর ঘৃনা নয়।

আমি র‍্যালিতে থাকার বেশির ভাগ সময়ই  ট্রাম্প সাপোর্টারদের সাইডেই ছিলাম। এটা করেছি প্রতিবাদকারীদের ছবি সামনে থেকে ভালো  ভাবে তোলার তাগিদ থেকে।  ছবি তোলার ফাকে,  অনেক ট্রাম্প সাপোর্টারের সাথে কথা হলো। একে বারে মুর্খদের মতো দেখতে যারা তাদের থেকে শুরু করে ভদ্র টাইপের অনেকের সাথেই। সবাই বেশ ফ্রেন্ডলি ব্যাবহারই  করলো।

এক ফাকে বন্দুক ধারী মিলিশিয়াদের কাছেও গেলাম। দু চারটি কথা বলে সরে গেলাম, এতো বড় বড় বন্দুক ওয়ালা সিভিলিয়ান দেখতে কেমন জানি আন কম্ফোর্টেবল লাগলো।

13467638_10153507611695653_325156753_o

আরো অনেক কিছুই বলার ছিল, কিন্তু লেখাটা  বিশাল হয়ে যাচ্ছে। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের  দেখে যা বুঝলাম, “নো মোর হেইট” এই মেসেজটা খুবই পাওয়ারফুল একটা মেসেজ।  এই মেসেজকে হারাতে ট্রাম্পের অনেক সমস্যা হবে।  কেননা আমেরিকার সাধারন মানুষগুলো খুবই সাদামাটা এবং ফেয়ার।

13461296_10153505279975653_2140286623_o

 

13441985_10153505280245653_2065440672_o

13446305_10153505280285653_594990252_o

ফ্যাসিজম ও ঘৃনার ব্যাবসার বিবর্তন

 শাফকাত রাব্বী অনীকঃ  ফ্যাসিজমের একটা পরিচিত বহিঃপ্রকাশ হলো কোন একটী ক্ষুদ্র গোষ্টীকে নিয়ে ঘৃণা ছড়ানো এবং এই ঘৃনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা। এক্ষেত্রে কোন একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্টিকে কোন দেশের সব সমস্যার কিংবা অতীতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার দায় চাপিয়ে দিয়ে ঘৃনার চর্চা চালিয়ে যাওয়াটা একটি পুরোন ফ্যাসিস্ট টেকনিক।

ঘৃণাকে কেন্দ্র করে যখন কোন ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যাবস্থা বা রাজনৈতিক মতাদর্শ গড়ে উঠে, তখন সময়ের সাথে সাথে রাজনৈতিক সুবিধার্থে এই ঘৃনার ডোজ বাড়াতে হয়। একারনে দেখা যায় ঘৃণার ব্যাবসা একবার শুরু করে দিলে, সময়ের সাথে সাথে মানুষকে খুশি রাখতে নতুন নতুন, তীব্র থেকে তীব্রতর ঘৃনাময় কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে হয়।

হিটলারের জার্মানী প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে হেরে যাবার পরে তাদের সমস্ত সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যার্থতার দায়ভার নগন্য সঙ্খ্যক জার্মান ইহুদিদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিল। খুব ক্ষুদ্র জনগোষ্টি হলেও ইহুদিরা শিক্ষার দিক্ষায় ব্যবসায় বানিজ্যে অনেক এগিয়ে ছিল। আর ঐতিহাসিক কারনে ইহুদিদের প্রতি সারা ইউরোপ জুড়ে, বিশেষকরে সাবেক প্রাষিয়ান সম্রাজ্যে ব্যাপক ঘৃণার লালন পালন ছিল। গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত হিটলার এই ঘৃণাকে কেন্দ্র করে তাঁর রাজনীতি শুরু করেছিলেন। এই ঘৃণাকে ব্যবহার করে তিনি ইলেকশন জিতেছিলেন – ফ্রি এন্ড ফেয়ার।

ঘৃণাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি পরিচালনার ফলাফল কি হয়, কিভাবে ঘৃণার ডোজ বাড়াতে বাড়াতে মানুষ উন্মাদ হয়ে যায়, তা দেখতে পারবেন মাত্র দশ বছরের নিচের টাইম লাইনে।

January 1933 – এডলফ হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হন। তখন জার্মানির ইহুদী জনসংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ লক্ষ ছেষট্টি হাজার।

April 1933 – হিটলারের নাজি বাহিনী ইহুদীদের ব্যাবসা ও দোকান পাট বর্জনের ডাক দেয়।

April 1933 – নাজি বাহিনি ঠিক করে দেয় বাপ-দাদার বংশ ও ধর্মের ভিত্তিতে কে হতে পারবে খাটী জার্মান। এই আইন অনুযায়ী, কারো ফ্যামিলিতে যদি একজন দাদা-নানা কিংবা বাবা-মা ইহুদী হন তাহলে তাকে খাটি জার্মান বলা যাবে না ( আরিয়ান)। তখন জার্মানীকে খাটি আরিয়ানদের বসতভুমি বানানোর কাজ চলছিল হিটলারের তত্তাবধানে।

July 1933 – নাজি বাহিনিকে জার্মানির এক মাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল ঘোষণা করা হলো। পোলান্ড থেকে আগত ইহুদীদের জার্মান নাগরিকত্ব বাতিল করা হলো।

September 1933 – ইহুদীদের আইন করে জমি-জমার মালিকানা পাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়।

October 1933 – ইহুদীদের আইন করে পত্রিকার সম্পাদক হওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়।

May 1934 – হেলথ ইন্সুরেন্স থেকে ইহুদীদের বাদ দেয়া হয়।

May 1935 – ইহুদীদের সামরিক বাহিনীতে ঢোকা বন্ধ করে দেয়া হয়।

February 1936 – ইহুদীদের বন্দী করে রাখার জন্যে সৃষ্টি করা গেস্তাপো জেইলকে আইনের উর্ধে নিয়ে যাবার আইন পাশ করা হয়।

January 1937 – ইহুদীদের প্রফেশনাল চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেয়া হয়। যেমন ইহুদিরা আর কোন জার্মান নাগরিকদের শিক্ষক হিসেবে পড়াতে পারবেন না, দাতের ডাক্তারি করতে পারবেন না, একাউন্টেন্ট হতে পারবেন না ইত্যাদি। ইহুদিরা সেসময় এই পেশা গুলোতে অধিক মাত্রায় ঢুকতো।

April 1938 – সকল ইহুদীকে তাঁর সহায়-সম্পত্তি, জমি-জামার হিসেব সরকারকে দিতে বলা হয়।

July 1938 – ইহুদিদের যাদের বয়েস ১৫ বছরের বেশী তাদেরকে পুলিশের কাছ থেকে স্পেশাল আইডি কার্ড নিতে বলা হয়।

July 1938 – ইহুদী চিকিৎসকদের আইন করে চিকিৎসা পেশায় থাকা নিষিদ্ধ করা হয়।

August 1938 – সকল ইহুদী মহিলার নামের শেষে সারাহ, আর ইহুদী পুরুষের নামের শেষে ইসরাইল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়।

September 1938 – ইহুদীদের সকল প্রকার আইন পেশা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।

October 1938 – ইহুদিদের পাস্পোর্টে স্পেশাল ইংলিশ “J” অক্ষর বড় করে লিখে দেয়া হয় (জিউইশ বুঝানোর জন্যে)

November 1938 – ইহুদী ছাত্র-ছাত্রিদের সাধারন স্কুল কলেজ থেকে বহিষ্কার করা শুরু হয়।

December 1938 – আইন করে ইহুদী ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গুলো রাষ্ট্রীয়করন শুরু হয়।

February 1939 – ইহুদীদের হাতে থাকা সমস্ত সোনা ও রূপার গয়না হিটলারের নাজি পার্টিকে দিয়ে দিতে বলা হয়।

April 1939 – ইহুদীদের শুধু মাত্র ইহুদী বাড়ি ওয়ালার বাসায় ভাড়া থাকার আইন করা হয়।

July 1939 – ইহুদীদের সরকারী চাকরিতে ঢোকার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়।

September 1939 – গ্রীষ্মকালে রাত আটটার পরে আর শীত কালে রাত নয়টার পরে ইহুদিদের বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষেধ করে দেয়া হয়।

September 1939 – ইহুদিদের ওয়ারলেস রেডিও কেনা বা সাথে রাখা আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়।

October 1939 – পোলিশ ইহুদীদের যাদের বয়েস ১৪ থেকে ৬০, তাদেরকে বাধ্যতামূলক শ্রমিক বানানোর আইন করা হয়।

November 1939 – সকল পোলিশ ইহুদী যাদের বয়েস ১০ এর বেশি তাদের বুকে একটা হলুদ রঙের তারা চিনহ লাগিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়।

January 1940 – নাজি খবরের কাগজে বলা হয়, ” ইহুদিদের বিচার শুরু হয়েছে, এবং এই বিচার শেষ হবে যখন সকল ইহুদির খবর পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার কাজ শেষ হবে”।

হিটলারের সহচর হিমলার এই সময় ঘোষনা দেন, ” আমাদের সর্বচ্চো নেতা নির্দেশ দিয়েছেন ইহুদী প্রশ্নে আমাদের শেষ সলুশনের কাজ শুরু করতে ( Final Solution of the Jewish question)”. এই কথার মাধ্যমে ভদ্র ভাষায় গনহত্যা চালানোর নির্দেষনা বোঝাতো নাজি জার্মানি।

September 1941 – সকল জার্মান ইহুদীকে হলুদ তারা মার্কা চিনহ পড়ে ঘুরা ফেরা করতে বলা হয়।

April 1942 – জার্মান ইহুদিদের ট্রেনে, বাসে চলা বন্ধ করে দেয়া হয়।

June 1942 – ফ্রান্স, হল্যান্ড, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভাকিয়া, রোমানিয়াতে ইহুদিদের হলুদ তারা মার্কা পরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়।

May 1943 – হিটলারের নাজি বাহিনী জার্মানীর রাজধানী বার্লিনকে ইহুদী মুক্ত ঘোষনা দেয়। অর্থাৎ বার্লিনের সকম ইহুদী নারী, পুরুষ, শিশুর হত্যা নিশ্চিত করে।

 
 
 
 
 

কেউ কি স্যারকে ধরবেন?

1

শাফকাত রাব্বী অনীকঃ একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাস হওয়া নিয়ে স্যার জাফর তার স্বভাব সুলভ ও আপাত দৃষ্টিতে শিশুতোষ একটি লেখা লিখেছেন। লেখার টাইটেলে স্যারের নির্দোষ প্রশ্ন “কেউ কি আমাকে বলবেন?” টাইটেলটা অনেকটা সাদাসিদা ভাবে “কেউ আমারে ধর” টাইপের শুনালেও, আসলে কিন্তু চালাকিতে ভরা।

ক্যাজুয়াল রিডারদের বোকা বানানোর জন্যে স্যার জাফরের লেখার স্টাইল খুবই এফেক্টিভ । পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই ক্যাজুয়াল রিডার, আমি নিজেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাই। তবে স্যার জাফরের লেখা গুলো এন্টেনা খাড়া করে, বেশ ক্রিটিকাল ভাবে পড়ি। কেননা স্যার জাফর উপরে-উপরে সাদাসিদা ভাব ধরলেও, তার প্রতিটি লেখা দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। এন্টেনা উচা করে না পড়লে সেই দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ধরা পরে না।

যেমন ধরুন নিজে সিভিল সমাজের একজন লোক হয়েও স্যার জাফর মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের কর্ণধার আদিলুর রহমান শুভ্রর জেলে যাওয়ার সাফাই গেয়ে সাদাসিদে প্রতারণা মূলক নিবন্ধ লিখেছিলেন। প্রতারনামূলক কেন বললাম তা জানতে সে সময় আমার লেখা আরটিকেলটি (http://www.priyo.com/shafquatrabbee/2013/08/16/27087.html) পড়ে দেখতে পারেন। আমার জানা নেই পৃথিবীর অন্য কোন দেশে লিডিং কোন প্রফেসর পাওয়া যাবে কিনা যিনি তার দেশের আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিত মানবাধিকার কর্মির জেলে যাওয়াকে সাফাই গেয়ে লেখা দিতে রাজী হবেন। এমন পিকিউলিয়ার ইন্টেলেকচুয়াল পৃথিবীতে বিরল। এমনকি দালাল ও কোম্প্রমাইজিং ক্যারেক্টারে ভরা বাংলাদেশেও।

৫ই জানুয়ারী নির্বাচন থামাতে সিভিল সোসাইটির বড় বড় হর্তাকর্তারা একত্রিত হয়ে সরকারকে একতরফা নির্বাচন রহিত করতে বলেছিলেন নির্বাচনের ঠিক আগে একটি জরুরী সভায়। ডেইলি ষ্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ সহ উচ্চ বর্নের আওয়ামী ঘরনার সেকুলার সুশিলদের উপস্থিতি এই হাই-ভোল্টেজ মিটিংএ ছিল উল্লেখ করার মতো। সেই হাই ভোল্টেজ মিটিং এর ড্যামেজ কন্ট্রল করতে, তরিঘরি করে সেকন্ড গ্রেডের সেকুলার সুশিলদের নিয়ে একটি পাল্টা-পাল্টি সভা ডাকা হয়েছিল। স্যার জাফর ছিলেন সেই সভার মূল আকর্ষন। এই সভাতেই স্যার জাফর তার বিখ্যাত ফিল্টার থিওরি উপস্থাপন করেছিলেন। দেশের বাকি সুশীলদের শাসিয়ে দিয়ে, ইনিয়ে বিনিয়ে, সাদাসিদে, শিশুসুলভ, ও আবেগী গল্প ফেঁদে স্যার জাফর ফিল্টার থিউরীর প্রয়োগ করে বোঝাতে চেয়েছিলেন কেন, কিভাবে তখন একটি একতরফা নির্বাচন দেশের জন্যে খারাপ হতো না।

সেই স্যার জাফরই এখন কিনা নির্দোষ প্রশ্ন করছেন, “কেউ কি আমাকে বলবে, সদ্য নবায়নকৃত সরকারের অধীনে একের পর এক প্রশ্ন পত্র লিক হওয়া নিয়ে আমার কোমলমতি ছাত্রীকে আমি কি উত্তর দিবো?” নিজে একজন শিক্ষক হিসেবে স্যার জাফরের খুব ভালো ভাবে জানা থাকার কথা প্রশ্ন কিভাবে আউট হয়, কেন আউট হয়, এবং এর প্রতিকারই বা কি? তাই একজন স্যার হিসেবে নিজে প্রশ্ন না করে, তার তো উচিত সমস্যার উত্তর বা সলিউশন খুজে দেয়া! সেই সলিউশন কর্তৃপক্ষ না শুনলে প্রতিবাদে ফেঁটে পড়া!

সাধারণ মানুষেরই বরং উচিত স্যার জাফরের কাছে গিয়ে জিগ্গেস করা, স্যারের দেয়া চেতনার বাস্তবায়নকারী সরকারের আমলে কেন একের পর এক প্রশ্নপত্র লিক হচ্ছে? এই সরকার যেহুতু স্যার জাফরের ফিল্টার পাশ, তাহলে সেই মহান ফিল্টারে কেন আউট হয়ে যাওয়া প্রশ্নপত্রগুলো আটকে যাচ্ছে না?

স্যার জাফররা ঘৃনা আর বিভাজনের চাষবাস করে একটা পারফেক্ট জঙ্গল সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। তাদের স্বপ্নের সেই জংগল হবে এমনই পারফেক্ট জঙ্গল যেখানে জংলি আইন- কানুন, অধিকারহীনতা, লাঞ্চনা, বঞ্চনা, ভোটাধিকারহীনতা — সব কিছু শুধু স্যার জাফরদের প্রতিপক্ষকেই সইতে হবে। আর তাদের পক্ষের মানুষজন পারফেক্ট জঙ্গলের পারফেকশন উপভোগ করে সুখে শান্তিতে, চেতনাময় দিন কাটাবে।

সরি স্যার জাফর, জঙ্গলকে নিজেদের জন্যে যতই পারফেক্ট বানানোর চেষ্ঠা করুন, দেয়ার ইজ নো পারফেক্ট জঙ্গল। তাই দায়িত্ব এড়ানোর জন্যে নিজে থেকে প্রশ্ন না ছুড়ে, আপনার কোমলমতি ছাত্রীদের বরং বোঝান এই জঙ্গল সৃষ্টিতে আপনার কোন ভূমিকা ছিল কিনা।

জিয়াউর রহমান সাহেবের প্রথম প্রেসিডেন্সি প্রসঙ্গে

3

শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

অতীত ও ইতিহাস নির্ভরতা কোন জাতির এগিয়ে যাওয়ার পথে সহায়ক হতে পারেনা। ইতিহাস ও অতীত নিয়ে মারামারি দেশের একটি দল ও তার সমর্থকরা বেশি করলেও, অপর দল ও তার সমর্থকরাও মাঝে মধ্যে খামাখাই যোগ দেন। এই মুহুর্তে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সব চাইতে হট আলোচনার বিষয় হলো বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন।

বিএনপি সাইডের কথা বার্তা শুনে যা বুঝলাম, জিয়াউর রহমান সাহেবকে দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ডিক্লেয়ার করার আগে নাকি বেশ কিছু সংবিধান বিশেষজ্ঞর পরামরর্শ নেয়া হয়েছিল। তারা গ্রিন সিগনাল দেবার পরেই এই ঘোষণা লন্ডন থেকে এসেছে। ঘটনা সত্য হলেও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়।

প্রথম প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে এমন বিশেষজ্ঞ কতজন আছেন যারা আওয়ামী কিংবা বিএনপির সর্বোচ্চ নেতাদের মুখের উপর বস্তুনিষ্ঠ অপিনিয়ন দিতে পারেন? যেমন ধরুন, যদি শেখ হাসিনা দেশের শীর্ষ ১০ জন সংবিধান বিশেষজ্ঞকে ডেকে বলেন, “দেখুনতো আমার আব্বাকে সংবিধানের আলোকে এক্স-ওয়াই-জেড টাইটেল দেয়া যায় কিনা?” আমার ধারণা এই আবদার শোনা মাত্র বিশেষজ্ঞের দল সমস্বরে বলে উঠবেন, ” অবশ্যই যায়, আলবত যায়, যাবে না কেন? বরং আমরাতো লজ্জিত এটা ভেবে যে এই ব্যাপারটি আপনার মতো আমাদের মাথায় এতো দিন এলো না কেন!! আপনি একজন জিনিয়াস, একে বারে বাবার মতোন”।

উপরের বাস্তবতা আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে বেশী প্রযোজ্য হলেও, বিএনপির বিশেষজ্ঞরাও কতটা সঠিক পরামর্শ দিয়েছেন তা নিয়েও সন্দেহের অবকাশ আছে।

এবার আসা যাক বিশেষজ্ঞ মহলের মূল যুক্তির দিকে। যতদূর বুঝেছি, বিশেষজ্ঞদের যুক্তির তিনটি মূল স্তম্ভ রয়েছে। প্রথমত, জিয়াউর রহমান সাহেব তার প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণায় বলেছিলেন যে তিনি নিজের হাতে কমান্ড তুলে নিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, ১৯৭১ সালের মার্চের ২৬ তারিখ থেকে শুরু করে এপ্রিল এর মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশে কিংবা প্রবাসে স্থাপিত কোন সরকার ছিল না। সুতরাং, জিয়া সাহেবের প্রথম ঘোষণা অনুযায়ী তিনিই প্রথম সরকার প্রধান। তৃতীয়ত, যেহুতু সরকার প্রধানই কেবল মাত্র যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন, সেহুতু জিয়া সাহেব উপরের প্রথম ও দ্বিতীয় যুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন সরকার প্রধান বা প্রেসিডেন্ট হিসেবেই।

উপরের যুক্তিগুলো নিয়ে যুক্তি খন্ডন করার কাজটি ভালো করতে পারবেন উভয় দলের বিশেষজ্ঞরা। আমি লে-ম্যান হিসেবে যুক্তি খন্ডনে যাবো না। জাতীয়তবাদী ভাবধারা ও দল হিসেবে বিএনপির সমর্থক হিসেবে, আমি তর্কের খাতিরে ধরেও নিতে রাজী আছি যে উপরের যুক্তিগুলো সঠিক। কিন্তু তার পরেও বেশ কিছু কথা বলা উচিত, চুপ না থেকে।

আমার মতে, উপরের প্রতিটি যুক্তিগুলোকে বলা যেতে পারে টেকনিকাল, আইনী কিংবা আমলাতান্ত্রিক। জিয়াউর রহমান সাহেবের যে ইমেজ দেশের হাজারো মানুষের মনে এখনও বেঁচে আছে, তা এই সব আমলাতান্ত্রিক কিংবা টেকনিকাল যুক্তিলব্ধ টাইটেল-ফাইটেল এর ধার ধারার কথা না।

জিয়া সাহেব দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন, নাকি প্রথম ফিল্ড মার্শাল ছিলেন, স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক ছিলেন নাকি দ্বিতীয় ঘোষক ছিলেন সেগুলোও টেকনিকাল আলোচনা। এগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন তারা, যারা ইতিহাসকে “ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্পিং ডিসিশন” এর মতো কিছু একটা ভাবেন। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের কাছে, বিশেষ করে যারা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছেন, কিংবা জীবিত ছিলেন, তাদের চোখে জিয়াউর রহমান হলেন সেই ব্যাক্তি যার যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব, রেডিওতে ভেসে আসা ঘোষণা মানুষ নিজের কানে শুনেছে, চোখে দেখেছে। থার্ড আম্পেয়ারের স্ক্রিনে দেখেনি।

২৬ এ মার্চের গণহত্যার রাতে দেশের তৎকালীন শীর্ষ রাজনৈতিক মহলের সবাই যার যার জান হাঁতে নিয়ে, যে যে দিকে পেরেছেন পালিয়েছিলেন। সেই রাত্রে যেই ইয়াং ছেলেটি পুরা দেশের মানুষের মনের কথা, নিজ দায়িত্বে, শুরুতে নিজের নামে, পরবর্তিতে একজন স্বেচ্ছায় ধরা খাওয়া শীর্ষ নেতার নামে রেডিওতে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই ইয়াং ছেলেটি ছিলেন জিয়াউর রহমান। তাকে কি নামে, কি উপাধিতে ডাকা হবে, তা নিয়ে গ্যালারির দর্শকেরা চিল্লা চিল্লি করতে পারে। তাতে জিয়ার ইমেজ বাড়া কিংবা কমার কথা না।

২৬ শে মার্চে জিয়া সাহেবের কিন্তু একটা ব্যক্তিগত স্টোরীও ছিল। তিনি কোন বিপ্লবী-বিবাগী ছিলেন না। তিনি সংসারী ছিলেন। তার ছোট্ট ছেলে ছিল, তার বউ ছিল। ২৬ সে মার্চের সেই রাতে তিনি যখন ঘোষণা দিয়েছিলেন, “উই রিভোল্ট” তখন তার নিশ্চয়ই ভয় হয়েছিল যে তার সেই সংসার, তার সেই ছোট্ট ছেলেকে আর কোনদিন না দেখার। আপনি জিয়াকে মহান না ভাবতে পারেন, তার নেতৃত্ব না মানতে পারেন, আশা করি যারা সন্তানের জনক তারা অন্তত দেশের জন্যে বাবা হিসেবে জিয়ার মৃত্যু ভয় জয় করতে পারার বিষয়টিকে সাধুবাদ দেবেন। জিয়া একজন বীরের মতো সেই ভয় জয় করেছিলেন, শত্রুর আঘাতের প্রথম রাত্রেই। তিনি ওয়েট এন্ড সি পলিসিও  নিতে পারতেন। তা না নিয়ে, প্রথম রাত্রেই প্রত্যাঘাতের কাজ শুরু করেছিলেন। একারণে বলতে হবে, জিয়া শুধু মাত্র একজন অসাধারণ সাহসী যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রত্যুৎপন্নমতি যোদ্ধা। এটাই ওনার সব চাইতে বড় পরিচয়। উনি কবে জেনেরাল ছিলেন, কবে মেজর ছিলেন, সেগুলো টাইটেল মাত্র।

বিএনপির যেই বিশেষজ্ঞরা তারেক রহমান বা খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দেন, তাদের জন্যে একটা ছোট্ট পরামর্শ। আপনারা যদি জিয়া সাহেবকে শেখ মুজিব সাহেবের সাথে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতাতে নামাতেই চান, তাহলে শুধু একটা বিষয়কে হাই লাইট করুন। সেটি হলো, এই ব্যাক্তিদ্বয়ের একজন ছিলেন আঘাতের রাত্রে স্বেচ্ছায় ধরা খাওয়া, আর একজন ছিলেন  যুদ্ধ শুরু করে দেয়া মানুষ। এই ছোট্ট সিম্পল সত্যটি বেশী করে হাইলাইট করুন। এই কাজে আপনাদের কোন টেকনিকাল বা আমলাতান্ত্রিক যুক্তির প্রয়োজন হবে না। শিশু থেকে শুরু করে সংবিধান বিশেষজ্ঞও এক বাক্যে এই কম্পারিজন বুঝতে পারবেন।

জিয়ার মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, হেড কাউন্টে বাংলাদেশের সব চাইতে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট ও একজন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর কমান্ডারের আর নতুন কোন টাইটেল লাগার কথা না, আইন কানুণে যাই থাকুক না কেন।

 

 

যুদ্ধ পূজারীর হাতে জিম্মি স্বাধীনতা

3

By শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আজকাল আর বেইল নেই। বেইল শুধু যুদ্ধ-পুজারীদের।

যোদ্ধারা যুদ্ধ করে, গুলি চালায়, রক্ত দেয়, জীবন হারায়। মরলে হয় শহীদ, আর বাঁচলে গাজী । সেদিক থেকে যুদ্ধ-পুজারীর ঝক্কি ঝামেলা কম। পুজারীর দল যুদ্ধকালে ধরা দেয়, পালায়; তা না পারলে চুপচাপ সুশীল হয়ে বসে থাকে। কেউ কেউ শত্রুর চাকরিও কন্টিনিউ করে। তারপরে যুদ্ধ শেষে এই পুজারীর দল প্রকৃত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ, বীরত্ব-গাঁথা আর রক্তের হিসেব নিকেশ নিয়ে সত্য-মিথ্যা গল্প ফাঁদে। যুদ্ধের পুজা বসায়। যার মন্ডপে যতো লোক, সে হয়ে যায় ততো বড় যুদ্ধ-পুজারী।

উপরের বাস্তবতায়, বন্দুক হাতে যুদ্ধ করা প্রেসিডেন্ট জিয়া আজ হয়ে গেছেন রাজাকার। কাদের সিদ্দিকী জামাতি। আর মুক্তিযোদ্ধাদের তৈরী রাজনৈতিক দল হয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি।

অন্য দিকে যুদ্ধকালে পীরের বাড়িতে লুকানো ব্যাক্তি, শত্রু সেনার মুরগি সাপ্লাইকারী, শত্রুর চাকরি-পালনকারী, কিংবা যুদ্ধের পুরোটা সময় পালিয়ে বেড়ানো ব্যাক্তিদের দল হয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি। এই পরিনতির পিছনে মুক্তিযোদ্ধাদের দোষ ছিল একটাই। তারা যুদ্ধটা ফাটিয়ে করতে পারলেও, যুদ্ধের পুজোটা ভালো দিতে পারেননি।

যোদ্ধা আর পুজারীর কাজের পার্থক্যও বিস্তর। যোদ্ধার কাজ হলো যুদ্ধ করা। একারণে যুদ্ধ শেষ, যোদ্ধার কাজও শেষ। আর পুজারীর কাজ শুরু হয় ঠিক সেখানে, যেখানে যোদ্ধার কাজ হয় শেষ।

যোদ্ধার চোখে যুদ্ধ বড়ই নির্মম, হিংস্র, এবং অমানবিক। যোদ্ধা যুদ্ধকে ভাবে এমন এক বাস্তবতা, যা সে চায় না তার প্রিয় কেউ কখনও দেখুক। অন্যদিকে যুদ্ধ-পুজারীর কাছে যুদ্ধ হলো রূপকথার বীরত্ব-গাঁথা। কিছুটা রসালো ফেইরি টেইলের মতো। এমন কিছু যা বেঁচে খাওয়া যায়। গল্পে বিভোর কোন ফ্রিকের কাছে যুদ্ধ হয়ে যেতে পারে মিস হয়ে যাওয়া, না দেখা এক তামাশা। তাই পূজারিদের কেউ কেউ রিওয়াইন্ড করে সেই তামাশা দেখতে চায়। মানুষকে দেখাতে চায়।

যোদ্ধার কাছে যুদ্ধের সমাপ্তি খুবই কাং্খিত, রিলিভিং। যুদ্ধের সমাপ্তি যোদ্ধার কাছে কোন ভাবেই কম গর্বের কোন বিষয় নয়। পুজারির কেইস এক্ষেত্রে ভিন্ন।পুজারিদের যেহুতু যুদ্ধ ফুদ্ধ করা লাগে না, তাদের চোখে যুদ্ধ যতোবেশী স্থায়ী হবে, পুজোর ব্যাবসা ততোটাই জমবে। গল্প ফান্দার প্লটও বাড়বে।

প্রকৃত যোদ্ধারা যুদ্ধকে এড়িয়ে চলতে চান। নিতান্ত বাধ্য না হলে যুদ্ধের ডাক দেন না। কেননা তিনি জানেন যুদ্ধ কি জিনিস। পুজারিদের কিন্তু এতোটা দায়িত্ববান হবার ঝামেলা নেই। কেননা তারা যুদ্ধ করেন না। একারনে দু’দিন পরপর নতুন নতুন যুদ্ধের হাক-ডাক দিতে পিছ পা হননা যুদ্ধ-পুজারীর দল। যে কাজ নিজে করা লাগে নাই, তার হাওয়া তুলে মানুষকে লাড়িয়ে বেড়ানোর শিশুতোষ আনন্দে তারা বিহ্বল হন।

প্রকৃত যোদ্ধাদের অনেকেই যুদ্ধের গল্প বলতে চাননা। কেননা শত্রুর হাঁতে নিজের সহ-যোদ্ধার মৃত্যু তাকে পিড়া দেয়। আবারএকই ভাবে তার স্মৃতিতে পিড়া দেয় সহযোদ্ধা হত্যার প্রতিশোধ তুলতে গিয়ে নিজের হাঁতে হত্যাকৃত শত্রু সেনার বীভৎস লাশ । একারণে যুদ্ধ ফেরত সৈনিকদের সাথে কথা বলার অভিজ্ঞতা সম্পন্নরা বলেন যে প্রকৃত যোদ্ধার চোখে যুদ্ধ হলো মানব-মনের সবচাইতে পরিত্যাজ্য, অনাকাঙ্ক্ষিত, ভয়াবহ এবং হিংস্র এক বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে প্রকৃত যোদ্ধারা কখনও তাদের ভাগ্যের পরিনতি, কিংবা কখনও দেশপ্রেম বা দায়িত্ববোধের আলোকে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করেন বাকীটা জীবন।

যুদ্ধ পূজারীরা এখত্রেও অনেক লাকি। তাদের যুদ্ধ বিষয়ক এত্তসব কমপ্লেক্স ফিলিংস নিয়ে বাঁচতে হয়না। প্রকৃত যোদ্ধাদের বীরত্বগাথা কিংবা শত্রুর হিংসাত্মতার গল্প দাঁত কেলিয়ে, বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলে পূজা জমানোতেই ব্যাস্ত থাকেন পূজারীর দল । শুধু মুখে মুখে যুদ্ধের গল্প, কবিতা, কাব্য আউড়িয়ে চেতনার ফেনা তুলে যুদ্ধ-পুজোর মন্ডপে লোকের সমাগম বাড়ানোই থাকে পুজারির মূল লক্ষ্য। মন্ডপে লোক জমানোর বিশ্ব রেকর্ড করতে পারলেতো কথাই নেই।

আমি জানি যুদ্ধ-পুজারীদের ভয়ানক ভিড়ে দেশে এখনও বেঁচে আছেন প্রকৃত যোদ্ধার বংশধরেরা। তাদের অনেকেই হয়তো হাসেছেন যুদ্ধ-পুজোরীর কান্ড দেখে। কেননা তারা জানেন, যদি আবার যুদ্ধ লাগে, এই যুদ্ধ-পূজারীর দল তাদের পূর্ব-সুরীর মতোই পীরের আস্তানায় পালাবে, ধরা দেবে, সুশীল থাকবে, না হয় শত্রু-প্রভুর চাকরিটাই কন্টিনিউ করবে।

আবারও যুদ্ধে যাবে তারাই, যাদের পুর্বসুরীরাও যুদ্ধে গিয়েছিল। কেননা যোদ্ধারা হলো একটা বিশেষ জাতের মানুষ। তারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে যোদ্ধাই থেকে যায়। যোদ্ধার রক্ত যার গায়ে, তাকে আবারো যোদ্ধা হতে আবৃতির আসর কিংবা কোরাস গানের মচ্ছব বসানো লাগে না।

কোনদিন সেই প্রকৃত যোদ্ধারা আবারও জেগে উঠবেন। সেই প্রত্যাশাতেই আছি। সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

 

ড্রোনাচার্য জাফর স্যার এখন থাবা বাবার ভ্যালেন্টাইন?

2

By শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

বাংলা-বিহার-উরিস্যার স্বঘোষিত ড্রোনরাজ, চেতনাৎসী মতাদর্শের প্রধান প্রচারক ও লিপিকার, বিশ্বখ্যাত ফিল্টার থিউরির জনক, এবং বাংলা সাহিত্যের প্ল্যাজিয়ারিজম ধারার কর্নধার জনাব ডক্টর জাফর স্যার আবারও ফাপরবাজী করতে গিয়ে মারাত্মক ধরা খেয়েছেন।

আমার গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের ছোটভাই, বিখ্যাত শাহাবাগি ব্লগার, প্রথম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লেখক, দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম “শহীদ” এবং বিশিষ্ট ইসলাম গবেষক জনাব মরহুম থাবা বাবা ওরফে রাজিব হায়দারের সাথে নিজের দেখা হবার সাদা-সিধে গল্প ফাঁদতে গিয়ে এবার জাফর স্যার চিপায় পড়েছেন।

জাফর স্যার খেলনা প্লেনকে ড্রোন বলে চালিয়ে দেবার সাদা-সিধে ফন্দি করে ধরা খাবার ঝক্কি সামলিয়ে উঠতে না উঠতেই থাবা বাবাকে নিয়ে প্লেইন-এন্ড-সিম্পল মিথ্যে কথা বলে ধরা খেয়ে তাঁর ভক্তকূলকে রীতিমত লজ্জায় ফেলে দিয়েছেন।

Thaba Baba 2

স্যার তাঁর বিডিনিউজ২৪ এর লেটেস্ট সাদা-সিধা কলামে লিখেছেন (http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/15172) ঃ

“আমি হেঁটে হেঁটে ট্রাকের পিছনে গিয়েছি, তখন লম্বা একটা ছেলের সঙ্গে কথা হল। মাথায় হলুদ ফিতা, তাই সেও নিশ্চয়ই একজন ব্লগার, আমাকে বলল, “স্যার, একটা বিষয় জানেন?’ আমি বললাম, “কী?” সে বলল, “এই পুরো ব্যাপারটি শুরু করেছি আমরা ব্লগাররা, কিন্তু এখন কেউ আর আমাদের কথা বলে না!” কথা শেষ করে ছেলেটি হেসে ফেলল। আমি তখনও জানতাম না যে এই ছেলেটি রাজীব এবং আর কয়েকদিন পরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে একত্র হওয়া এই তরুণদের ‘নাস্তিক’ অপবাদ দিয়ে বিশাল একটা প্রচারণা শুরু হবে, আর সেই ষড়যন্ত্রের প্রথম বলি হবে এই তরুণটি।”

এক্ষেত্রে বলে নেয়া ভালো উপরের কথোপকোথন আদৌ হয়েছে কিনা তা ভেরিফাই করার তেমন কোন উপায় নেই। স্যার এর আগেও তাঁর লেখা প্লেইন-এন্ড-সিম্পল গারবেজগুলোতে জাতির বিশেষ সব ক্রান্তি লগ্নে নানা বিধ কাল্পনিক চরিত্রের সাথে নিজের কথোপকথনের ফিরিস্তি দিয়েছেন। বলা বাহুল্য এই কাল্পনিক কথোপকথনগুলোকে স্যার এক্কেবারে রিয়াল ফ্লেভার দিয়ে নিয়মিত চালিয়ে দেন। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই কথোপকথনগুলো যাদের সাথে হয় তারা হয় কোন অন্যায়-অবিচারের ভিক্টিম, কিংবা ভবিষ্যতে ভিক্টিম হয়ে যাবে-যাবে এমন দুঃচিন্তাগ্রস্থ তরুন-তরুনী।

জাফর স্যারের থাবা বাবা বিষয়ক এবারের ফাপরবাজীটা আর কারও কাছে না হোক আমার জন্যে ধরা খুব সহজ ছিল। কেননা জনাব থাবা বাবা ওরফে রাজিব হায়দার সম্পর্কে আমার জানা শোনা স্যারের চাইতে বেশী। স্কুল জীবনের যেই স্মৃতি রাজিব সম্পর্কে আমার আছে, তাতে ওকে আমার এককথায় লম্বা হিসেবে পরিচয় দেবার মতো কেউ বলে মনে পরে না। রাজীবের দাড়িয়ে থাকা ছবি ঘাঁটলেও আমার এই কথার সত্যতা যাচাই করতে পারবেন যে কেউ।

রাজীব বিষয়ে স্যারের দ্বিতীয় মিথ্যাচার ছিল ছেলেটির কপালে বাঁধা “ফিতে” নিয়ে। রাজীবের যে ছবিগুলো পাওয়া যায়, তাতে দেখা যায় ওর মাথায় সাদা পট্টি থাকতো, স্যারের বর্ণনায় দেয়া হলুদ পট্টি না। যদিও তর্কের খাতিরে মেনে নিতেই হবে সাদার পাশাপাশি হলুদ পট্টীও রাজীব পরে থাকতেই পারে। যদিও হাতে থাকা এভিডেন্স তা বলে না।

1553326_10152168922021007_2081839109_o

[ From Facebook Page of Journalist জ.ই. মামুন

ব্লগার রাজীব হায়দারকে আমি চিনতাম না, তার নৃশংস হত্যাকান্ডের পরেই অন্য অনেকের মত তার নাম জেনেছি। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে আমার ক্যামেরায় তার একটি ছবি আছে। শাহবাগ আন্দোলন গণজাগরণ মঞ্চ নাম ধারণের আগেই, অর্থাৎ গতবছরের ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ শাহবাগে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে তরুণ সমাজের আন্দোলন শুরুর পরদিন, ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আমি কমবেশি প্রতিদিন শাহবাগে যেতাম, সাথে থাকতো আমার শখের ক্যামেরা। কোনো কারন ছাড়াই ছবি তুলতাম। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম সমাবেশের দিন সন্ধ্যার আগে আগে দেখি মঞ্চের পেছনে কয়েকটা ছেলে মেয়ে ল্যাপটপে কাজ করছে। কেন যেন একটা ক্লিক করেছিলাম। এতদিন পর কাল সেই ছবিগুলো দেখতে দেখতে লাকি Lucky Akter বলল, এটাই রাজীব হায়দার! বিন্মিত হলাম, তাই আজ ছবিটা আপলোড করছি। তবু আমি নিশ্চিত নই এটি আসলেই রাজিব কি না। গণজাগরণ মঞ্চের বন্ধুরা নিশ্চিত করতে পারবেন

তবে রাজীব বিষয়ে জাফর স্যারের সবচাইতে বড় ফাপরবাজীটি হলো থাবা বাবাকে নাস্তিকতার অভিযোগ থেকে পরিত্রান দেবার হাল্কার উপর ঝাপসা এটেমট নেবার ব্যাপারটি।

জাফর স্যারের মতো নির্লজ্জ স্বরচিত ইতিহাসবীদ হয়তো ভুলে গিয়েছেন যে শাহাবাগ কিন্তু তিতাল্লিশ বছর আগে ঘটে যাওয়া  ১৯৭১ না,  যে বর্তমান প্রজন্ম তাঁর মতো ফিকশনাল ইতিহাসবিদকে বেনেফিট অব ডাউট দিবে।

থাবা বাবা নিয়ে আমার মতো মানুষের জাফর স্যারের লেখা স্বরচিত ইতিহাস পড়া লাগে না, কেননা এখত্রে আমরা নিজেরাই থাবা বাবার জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষী। আমি নিজে সাক্ষী দিয়ে বলতে পারবো থাবা বাবা কোথায় কি লিখত।

তবে শক্তকণ্ঠে বলে নিচ্ছি, রাজীবের নৃশংস খুনের পুর্নাংগ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার আমি কামনা করি স্কুলের বড় ভাই হিসেবে। কিন্তু তাই বলে রাজীব যে ধর্ম নিয়ে নিকৃষ্ট কথা বার্তা বলে সেলিব্রিটি হয়েছিল সেই ইতিহাসতো আর আমি জাফর স্যারকে ফাপরবাজী করে গায়েব করে দিতে আলাউ করতে পারি না। আর তাছাড়া রাজীবের মৃত্যুর আগে তাঁর সাত হাজার ছয়শ এর মতো ফলোয়ার ছিল। এই সাত হাজার মানুষ খুব ভালো করেই জানে রাজীব কি কি লিখত।

রাজীবের পুরো ফেইসবুক প্রোফাইলের পিডিএফ নিশ্চয়ই কেউ না কেউ সেইভ করে রেখেছিলেন ওর মৃত্যুর ঠিক পরে পরেই।

ওর মৃত্যুর পরে কোন কোন শাহাবাগি কার কার কাছে গিয়েছিলেন থাবা বাবার ফেইসবুক প্রোফাইল বিটিয়ারসি থেকে ব্লক করে দিতে, সে ইতিহাসও বের হয়ে গেছে ইতমধ্যেই। কেন তখন শাহাবাগিরা প্যানিক করেছিল থাবা বাবার প্রোফাইল নিয়ে, তা কিন্তু জাফর স্যার তাঁর স্নেহ ধন্য কোন শাহাবাগিকে এখনও জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে পারেন।

জাফর স্যার ভ্যালেন্টাইন ডে তে শাহাবাগের থাবা বাবার ইমেজ রিপেয়ার করার ধান্দা করার মাধ্যমে একটা ইন্টেরেস্টিং মেজেস দিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। বুড়ো বয়েসে স্যারের ভ্যালেন্টাইন প্রেম হয়তো এখন শাহাবাগি থাবা বাবা ওরফে রাজীব হায়দারের সাথে।

তবে খারাপ লাগছে এই ভেবে যে জাফর স্যারের ড্রোন নিয়ে ফাপরবাজীটা ছোটলোকি হলেও শিশু সুলভ ছোটলোকি ছিল। কিন্তু এবার থাবা বাবা নিয়ে এক প্যারাগ্রাফে একাধিক মিথ্যে কথা বলতে গিয়ে স্যার একেবারে ড্রোন থেকে নেমে ড্রেনে পা ফেলেছেন।

খালেদা কি চাইলেই তারেক কিংবা জামাতকে ছাড়তে পারবেন?

2

শাফকাত রাব্বী অনীকঃ

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির দুর্গম পথের একজন যাত্রী। ওনার দুই হাতে দু’টা ওভার সাইজ ব্যাগেজ আছে। ব্যাগেজ গুলো অনেক ভারী। একটার নাম তারেক রহমান। আর একটার নাম জামাত-ই-ইসলাম।  এই ব্যাগেজ সঙ্গে করেই খালেদা জিয়া হেঁটে চলেছেন। ফিজিক্স  এর সুত্র অনুযায়ী, ভারী লাগেজ গুলো সরিয়ে দিলে, ওনার হাঁটতে আরাম হবার কথা। কিন্তু নিজের বিবেচনা অনুযায়ী এই ব্যাগেজ গুলো হাতে নিয়েই খালেদা হাঁটছেন।

অনেকেই খালেদাকে বিগত বছরগুলোতে বলেছেন এই ব্যাগেজ গুলোর কোন না কোনটা হাত থেকে সরানোর জন্যে।  পৃথিবীর যে কোন বস্তুর মতো, এই ব্যাগেজ গুলোরও উপকারিতা ও অপকারিতা উভয়ই নিশ্চয়ই আছে। সেই আলোচনায় না যেয়ে, ধরে নেয়া যাক যে এই ব্যাগেজ গুলো সরিয়ে দিতে খালেদা জিয়া রাজী হবেন। এখন দেখা যাক সরানোর প্রক্রিয়াটা কি হবে?

প্রথমেই আসা যাক তারেক রহমান প্রসঙ্গে। উনি গত অনেক বছর সপরিবারে লন্ডনে আছেন। উনি  বিএনপির নীতিনির্ধারণ করার মতো কোন কাজ করেন কি না সেটা বিএনপির ভিতরের মানুষ ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু বাইরের মিডিয়া, সাধারণ সমর্থক, ও সমালোচকরা অনেকে এখনও ভাবেন যে তারেক রহমান বিএনপিতে অনেক ক্ষমতাবান। এক্ষেত্রে বাস্তবতা হচ্ছে যে  যতদিন খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন থাকবেন, তারেক রহমান সম্পর্কে এই পাবলিক পারসেপশোন সরানো যাবে না।  মা ও তার বড় ছেলের সম্পর্ক ঘোষণা দিয়ে অন্তত পাবলিকের মনে দুর্বল করা যায় না ।

আরও একধাপ বাড়িয়ে বলা যেতে পারে যে, ব্যাক্তি তারেকের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত, যতদিন তার মা চেয়ারপারসন থাকবেন, ততদিন কেউ না কেউ বলতেই থাকবেন তারেক রহমান পিছনে থেকে কল-কাঠি নাড়ছেন। তারেক রহমানের জন্যে একেবারে মরে যাওয়া ছাড়া এই পারসেপশোন থেকে মুক্তি পাওয়া অনেক কঠিন।

বাংলাদেশের বড় দুটো দল থেকেই পরিবারতন্ত্র একেবারে শেষ হয়ে যাবার সম্ভাবনা এখনও অনেক কম। সেক্ষেত্রে, যদি খালেদার অবর্তমানে তার পুত্রবধু জোবাইদা রহমান হাল ধরেন (সোনিয়া গান্ধী স্টাইলে), তাহলেও দেখা যাবে যে তারেক রহমানকে নিয়ে একই কথাই হচ্ছে। তারেক তখন সমালোচিত হবেন আসিফ জারদারি (প্রয়াত বেনজির ভুট্টোর স্বামী) হিসেবে।

অর্থাৎ, মা , বউ, কিংবা পরিবারের অন্য কোন  সদস্য যেই বিএনপির প্রধান হোক না কেন, তারেক রহমান জীবিত থেকে কোনদিন প্রমান করতে পারবেন না যে তিনি পিছনে থেকে কল কাঠি নাড়ছেন না।  এটা ওনার জীবনের একটা বাস্তবতা। তারেক রহমানকে সরাতে হলে, হয় তাকে মরে যেতে হবে, কিংবা তার পুরো পরিবারকে বিএনপি থেকে সরে যেতে হবে। এর মাঝামাঝি কিছু নেই। উনি বিএনপি থেকে সত্যিকার অর্থেই ৪ হাজার মাইল দূরে থাকলেও, মানুষ বলতেই থাকবে উনিই বিএনপি চালান।

এরবার আসা  যাক জামাত প্রসঙ্গে। ইদানীং শোনা যায় যে কে-বা-কাহারা খালেদা জিয়াকে জামাত ছাড়তে বলেছেন। এধরনের কথা এই মুহূর্তে উনাকে  কেউ  বলছেন কিনা জানি না। কিন্তু একটি প্রতাপশালী দেশ একসময় খালেদা জিয়াকে জামাত ছাড়তে বলেছিল বলে শুনেছি। কিন্তু সে অবস্থান থেকে প্রতাপশালী দেশটি আপাতত সরে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।

তর্কের খাতিরে ধরে নেয়া হোক যে খালেদা জামাত পরিত্যাগের কথা জানিয়ে আসলেই প্রকাশ্য একটা ঘোষণা দেবেন।  এখন দেখা যাক ঘোষণা দেবার পরে, কিভাবে জামাত ত্যাগ করার ব্যাপারটি বাস্তবায়ন করা হবে।

জামাত ভবিষ্যতে ইলেকশন করতে পারবে না। কেননা ওদের রেজিষ্ট্রেশন নেই। এছাড়া ভবিষ্যতে  জামাতের উপর আরও নানা ধরণের আইনি ঝামেলাও আসতে পারে। জামাতের সমর্থন ৫% থেকে ১০% বলে ধারণা করা হয়। একারণে ১৬ কোটি মানুষের দেশে ৮০ লক্ষ থেকে দেড় কোটি  জামাত সমর্থক আছে বলে ধারণা করা যেতে পারে।

জামাতের রেজিষ্ট্রেশন যদি  না থাকে, ইলেকশন করার উপায় না থাকে, সরকারের অশেষ করুনায় যদি এতগুলো মানুষকে গণহত্যা করে মেরে না ফেলা হয়, কিংবা তাদের ভোটাধিকার কেড়ে না নেয়া হয়, তাহলে এই মানুষরা কাউকে না কাউকে ভোট দিবেন। এই মানুষগুলো কারও না কারও রাজনীতিক সভায় যোগ দিবেন। কারও না কারও ডাকা হরতালে পিকেটিং করবেন।

বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ যদি অটুট থাকে এবং জামাতের রেজিস্ট্রেশন যদি না থাকে, তাহলে জামাতের সমর্থকরা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন কোন জোটকে সমর্থন দেবার সম্ভাবনা বেশি, যতদিন তারা নতুন কোন পার্টি না বানাচ্ছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আছে, যেটা খুব কম মানুষ করছেন। সরকার নিজে জামাতকে নিষিদ্ধ না করে, কেন খালেদা জিয়াকে জামাত ছাড়তে বলছেন? সরকার নিষিদ্ধ করে দিলে তো আর খালেদা জিয়ার জামাত ছাড়া না ছাড়ার ব্যাপার থাকে না !!

খালেদার দু’হাতের দুটো ব্যাগেজ নিয়ে কথা বলে শুরু করেছিলাম।  সেই ব্যাগেজ গুলো ছাড়া উচিত কি উচিত না সেটা আজকের আলাপ ছিল না। আজকের আলাপ হলো, তারেক কিংবা জামাতকে ছেড়ে দেবার মতো কোন ফুল-প্রুফ উপায় খালেদার আছে কিনা।

দুই ব্যাগেজ যদি কনক্রিট কোন উপায়ে সরিয়ে দেবার উপায় না থাকে, তাহলে এই প্রস্তাবের চটকদারী মুল্য থাকলেও, বাস্তবিক কোন মুল্য থাকার কথা না।  দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বলতে হচ্ছে যে, চটকদারী বিষয়েই মানুষের আগ্রহ সবচাইতে বেশি।